(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: -)
زهر العريش في تحريم الحشيش القسم: مسائل فقهية
الكتاب: زهر العريش في تحريم الحشيش
المؤلف: أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي الشافعي (ت 794هـ)
المحقق: د. أحمد فرج
الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر، المنصورة - مصر
الطبعة: الثانية،1411 هـ - 1990 م
عدد الصفحات: 139
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1432
জাহরুল আরীশ ফি তাহরিমিল হাশিশ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: জাহরুল আরীশ ফি তাহরিমিল হাশিশ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ বদর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আজ-যারকাশি আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি)
মুহাক্কিক: ড. আহমদ ফরাজ
প্রকাশক: দারুল ওয়াফা লিত তিবায়াতি ওয়ান নাশর, মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[زهر العريش في تحريم الحشيش]ـ
المؤلف: أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي الشافعي (المتوفى: 794هـ)
المحقق: د. أحمد فرج
الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر، المنصورة - مصر
الطبعة: الثانية،1411 هـ - 1990 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[জাহরুল আরিশ ফি তাহরিমিল হাশিশ]ـ
লেখক: আবু আবদুল্লাহ বদর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বাহাদুর আজ-জারকাশি আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি)
গবেষক: ড. আহমদ ফারাজ
প্রকাশক: দার আল-ওয়াফা মুদ্রণ ও প্রকাশনা, মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وهو حسبي ونعم الوكيل. قال الشيخ العلامة بدر الدين الزركشي رحمه الله تعالى: أحمد الله على إنعامه، والصلاة والسلام على سيدنا محمد صفوة أصفيائه، وعلى آله وصحبه خير أوليائه وبعد:
فهذه فصول في الكلام على الحشيشة، اقتضى الحال شرحها لعموم البلوى لكثير من السفلة بها، وتوقف كثير من الناس في حكمها لما لم يجدوا فيها للسلف كلاماً.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। শায়খ আল্লামা বদরুদ্দিন আজ-জারকাশী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: আমি আল্লাহর নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যারা তাঁর বন্ধুদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর:
এগুলো হাশিশ (গাঁজা) সংক্রান্ত আলোচনার কতিপয় পরিচ্ছেদ; উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এগুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, কারণ নিম্নস্তরের অনেক লোকের মাঝে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার (عموم البلوى) ফলে এক সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এর বিধান (حكم) সম্পর্কে অনেক মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে, যেহেতু তারা এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের (سلف) কোনো বক্তব্য খুঁজে পায়নি।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
الفصل الأولفي اسمها ووقت ظهورهاوالأطباء يسمونها القنب الهندي، ومنهم من يسميها ورق الشهدانج، وتسمى بالغبيراء، وبالحيدرية، وبالقلندرية، ويقال: كل
প্রথম পরিচ্ছেদএর নামকরণ এবং এর আবির্ভাবের সময় প্রসঙ্গেচিকিৎসাবিদগণ একে ভারতীয় শণ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ একে শাহদানাজ পত্র বলেন। একে গুবাইরা, হায়দারিয়া ও কালান্দারিয়া নামেও অভিহিত করা হয়; এবং বলা হয়: প্রত্যেক
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ورقة منها بقدر أصابع اليد، ثم قيل: كان ظهورها على يد حيدر في سنة خمسين وخمسمائة تقريباً؛ ولهذا سميت حيدرية، وذلك أنه خرج هائما بنفر من أصحابه، فمر على هذه الحشيشة، فرأى أغصانها تتحرك من غير هواء فقال في نفسه: هذا السر فيها، فاقتطف وأكل منها، فلما رجع إليهم أعلمهم أنه رأى فيها سراً وأمرهم بأكلها.
وقيل: ظهرت على يد أحمد المارجي القلندي، ولذلك سميت القلندرية.
এর একেকটি পাতা হাতের আঙুলের সমান। অতঃপর বলা হয়েছে (قيل): এটি আনুমানিক ৫৫০ হিজরি সনের দিকে হায়দারের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিল; আর এই কারণেই একে ‘হায়দারিয়া’ বলা হয়। এর কারণ এই যে, তিনি তাঁর একদল সাথীর সাথে উদ্দেশ্যহীনভাবে বেরিয়েছিলেন, অতঃপর এই গুল্মটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন যে এর ডালপালা বাতাস ছাড়াই নড়াচড়া করছে। তখন তিনি মনে মনে বললেন: এর মধ্যে কোনো রহস্য রয়েছে। এরপর তিনি তা ছিঁড়লেন এবং ভক্ষণ করলেন। যখন তিনি সাথীদের নিকট ফিরে এলেন, তখন তাদের জানালেন যে তিনি এতে রহস্য প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাদের এটি খাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
আরও বলা হয়েছে (قيل): এটি আহমদ আল-মারজি আল-কালান্দির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল, আর সেই কারণে একে ‘কালান্দারিয়া’ নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
قال أبو العباس بن تيمية: إنما لم يتكلم فيها الأئمة الأربعة رحمهم الله وغيرهم من علماء السلف لأنها لم تكن في زمنهم، وإنما ظهرت في أواخر المائة السادسة، وأول المائة السابعة حين ظهرت دولة التتار.
وكذا قال غيره: إنها كانت شر داخل على بلاد العجم، حين استولى على من فيها التتار ثم انتقلت إلى بغداد وقد علم ما جرى على أهلها من قبيح الأثر.
আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই চার ইমাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এবং পূর্বসূরি (سلف) অন্যান্য আলেমগণ এই বিষয়ে কোনো কথা বলেননি, কারণ এগুলো তাঁদের যুগে বিদ্যমান ছিল না। বরং এগুলো ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে এবং সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে তাতার সাম্রাজ্যের উত্থানের সময় প্রকাশ পেয়েছিল।
অনুরূপভাবে অন্যান্যরাও বলেছেন: এটি ছিল অনারব ভূখণ্ডে প্রবেশ করা এক অকল্যাণ, যখন তাতাররা সেখানকার অধিবাসীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। অতঃপর এটি বাগদাদে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানকার অধিবাসীদের ওপর যে জঘন্য প্রভাব পড়েছিল তা সর্বজনবিদিত।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الفصل الثانيفي مضارها في العقل والبدنوذكر بعضهم أنه جُمع فيها مائة وعشرون مضرة دينية ودنيوية، وقد أجمع الأطباء على أنها تورث الفكرة، والفكرة تثير الحرارة الغريزية، وربما قويت على الحرارة الغريزية فعزلتها عن الجسد، واستولت على البدن فجففت الرطوبات واستعد للأمراض الحارة والسيئة والحمايات.
قال محمد بن زكريا الرازي: أكل ورق الشهدانق البستاني يصدع الرأس ويقطع
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদবিবেক ও শরীরের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গেকেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এতে একশত বিশটি দ্বীনি ও পার্থিব অপকারিতা সন্নিবেশিত রয়েছে। আর চিকিৎসাবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এটি গভীর চিন্তার উদ্রেক করে, আর এই চিন্তা দেহের প্রাকৃতিক উষ্ণতাকে উত্তেজিত করে। অনেক সময় এটি প্রাকৃতিক উষ্ণতার ওপর প্রবল হয়ে তাকে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং শরীরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্দ্রতা শুষ্ক করে ফেলে। ফলে দেহ বিভিন্ন উত্তপ্ত ও মন্দ ব্যাধি এবং জ্বরের আক্রমণের অনুকূল হয়ে ওঠে।
মুহাম্মদ ইবন যাকারিয়া আর-রাযী বলেছেন: বাগানের শাহদানক (গাঁজা) পাতা সেবন করা মাথাব্যথা তৈরি করে এবং ছিন্ন করে...
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
المنى ويجففه، ويولد الفكرة، والعلة في ذلك أن رطوبات الأبدان الكائنة على حد الاعتدال تقع تبعاً لبقاء الحيوان، فما يجفف الرطوبة منه فإنه مضر معين على إتلافه، وهو يورث موت الفجاءة، واختلال العقل، والدق، والسل، والاستسقاء، والأبنة.
বীর্যকে শুষ্ক করে ফেলে এবং [অত্যধিক] চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। এর নিহিত কারণ (العلة) এই যে, শরীরের ভারসাম্যপূর্ণ আর্দ্রতা মূলত প্রাণীর জীবন রক্ষার অনুগামী হিসেবে বিদ্যমান থাকে। সুতরাং, যা এই আর্দ্রতাকে শুষ্ক করে দেয়, তা দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং তা বিনাশ করতে সহায়তা করে। এটি আকস্মিক মৃত্যু, মস্তিষ্কের বিকৃতি, জীর্ণকারী জ্বর, যক্ষ্মা, উদরী রোগ এবং নানাবিধ শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
وقال بعض الأئمة: كل ما في الخمر من المذمومات موجود في الحشيشة وزيادة، فإن أكثر ضرر الخمر في الدين لا في البدن، وضررها فيهما، وهي تشارك الخمر في السكر وفساد الفكر ونسيان الذكر وإفشاء السر وذهاب الحياء وكثرة المراء وعدم المروءة وكشف العورة وقمع الغيرة وإتلاف الكيس ومجالسة
জনৈক ইমাম (الأئمة) বলেছেন: মদের মধ্যে যেসব নিন্দনীয় বিষয় (المذمومات) রয়েছে, তার সবকিছুই গাঁজার (الحشيشة) মধ্যে বিদ্যমান, বরং আরও অতিরিক্ত কিছু রয়েছে। কেননা মদের অধিকাংশ ক্ষতি দ্বীনের ক্ষেত্রে, শরীরের ক্ষেত্রে নয়; যদিও উভয় ক্ষেত্রেই এর ক্ষতি বিদ্যমান। আর এটি মাদকতা (السكر), চিন্তার বিকৃতি (فساد الفكر), জিকির বিস্মৃতি (نسيان الذكر), গোপন তথ্য প্রকাশ (إفشاء السر), লজ্জা অপসৃত হওয়া (ذهاب الحياء), অধিক ঝগড়া-বিবাদ (كثرة المراء), মনুষ্যত্বহীনতা (عدم المروءة), সতর উন্মোচন (كشف العورة), আত্মমর্যাদাবোধ দমন (قمع الغيرة), বুদ্ধিবৃত্তি বিনষ্ট করা (إتلاف الكيس) এবং সাহচর্যের (مجالسة)...
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
إبليس وترك الصلاة والوقوع في المحرمات.
هذا بعض ضررها في الدين.
وأما البدن: فتفسد العقل، وتقطع النسل، وتولد الجذام، وتورث البرص، وتجلب الأسقام وتكسب الرعشة، وتنتن الفم، وتجفف المني، وتسقط شعر الأجفان، وتحرق الدم، وتحفر
ইবলিস, সালাত বর্জন এবং হারাম কার্যাবলিতে লিপ্ত হওয়া।
দ্বীনের ক্ষেত্রে এগুলো এর কিছু ক্ষতি।
আর শরীরের ক্ষেত্রে: এটি বিবেক-বুদ্ধিকে নষ্ট করে, বংশধারা বিচ্ছিন্ন করে, কুষ্ঠরোগ সৃষ্টি করে, ধবল রোগের সূত্রপাত ঘটায়, রোগ-ব্যাধি বয়ে আনে, শরীরে কম্পন সৃষ্টি করে, মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে, বীর্য শুকিয়ে ফেলে, চোখের পাতার পশম ঝরিয়ে দেয়, রক্ত দহন করে এবং ক্ষয় করে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
الأسنان، وتظهر الداء الخفي، وتضر الأحشاء، وتبطل الأعضاء، وتضيق النفس، وتقوي الهوس، وتنقص القوى، وتقل الحياء، وتصفر الألوان، وتسود الأسنان، وتثقب الكبد، وتوهج المعدة، وتولد في الفم البخر، وفي العين الغشاوة، وقلة النظر، وفي المخيلة كثرة الفكر.
দাঁতসমূহ; এটি প্রচ্ছন্ন ব্যাধি প্রকাশ করে দেয়, অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের ক্ষতি সাধন করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অকেজো করে দেয়, শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে, মানসিক বিভ্রমকে প্রবল করে, শারীরিক শক্তি হ্রাস করে, লজ্জা ও সংকোচ কমিয়ে দেয়, শরীরের বর্ণ ফ্যাকাশে করে দেয়, দাঁতকে কালো করে দেয়, কলিজায় ছিদ্র সৃষ্টি করে এবং পাকস্থলীতে দহন বা জ্বালাপোড়া তৈরি করে। এটি মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে, চোখে ঝাপসাভাব ও দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা তৈরি করে এবং কল্পনার জগতে চিন্তার আধিক্য ঘটায়।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
ومن أوصافها المذمومة أنها تكسب آكلها الكسل، وتورثه الفشل، وتجعل الأسد كالعجل، وتصير العزيز ذليلا، والصحيح عليلا، إن أكل لا يشبع، وإن أعطى لا يقنع، وإن كلم لا يسمع، تجعل الفصيح أبكما، والفطيح به أبلما، تسقط المروءة، وتزيل الفتوة، ثم إنها تفسد الفكرة، وتبلد الفطرة، وتخمد الفطنة، وتولد البطنة، تجعل الأكل فنه،
এর নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো এটি ভক্ষণকারীর মাঝে অলসতা সৃষ্টি করে এবং তাকে ব্যর্থতার গহ্বরে পতিত করে। এটি সিংহকে বাছুরের ন্যায় হীনবল করে দেয়, সম্মানিত ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করে এবং সুস্থ (صحيح) ব্যক্তিকে রুগ্ন (عليل) করে তোলে। সে আহার করলেও পরিতৃপ্ত হয় না, তাকে প্রদান করা হলেও সে সন্তুষ্ট হয় না এবং তাকে সম্বোধন করা হলে সে শ্রবণ করে না। এটি প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তিকে নির্বাক করে দেয় এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে নির্বোধ করে তোলে। এটি মনুষ্যত্ব (مروءة) ক্ষুণ্ণ করে এবং শৌর্য-বীর্য বিলোপ করে। তদুপরি, এটি চিন্তাশক্তিকে কলুষিত করে, স্বভাবজাত বুদ্ধিকে স্থবির করে দেয়, প্রখর মেধাকে নিস্তেজ করে এবং উদরপূর্তির প্রবণতা সৃষ্টি করে; এমনকি আহার করাকেই ব্যক্তির শিল্পে পরিণত করে,
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
والنوم له مظنة، فهو بعيد عن السنة، طريد من الجنة، موعود من الله تعالى باللعنة، إلا أن يقلع من الندم سنه، ويحسن بالله تعالى ظنه، ولله در القائل:
وأصغر دائها والداء جم
… بغاء أو جنون أو نشاف
قلت: ومن أعظم دائها أن متعاطيها لا يكاد يتوب لتأثيرها في مزاجه، وأنت ترى أهلها أكثر الخلق ضلالاً وتجافياً عن الاستقامة، وأقرب إلى الدنية
এবং নিদ্রা (তথা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব) হলো এর সম্ভাব্য ক্ষেত্র, যা সুন্নাহ (سنة) থেকে যোজন দূরে, জান্নাত থেকে বিতাড়িত এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত; যদি না ব্যক্তি অনুশোচনার মাধ্যমে সেই অভ্যাস পরিত্যাগ করে এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিজের ধারণাকে সুন্দর করে। আর কতই না চমৎকার বলেছেন কবি:
এর ক্ষুদ্রতম ব্যাধি—অথচ ব্যাধি তো অত্যন্ত ব্যাপক—হলো ব্যভিচার, অথবা উন্মাদনা কিংবা শারীরিক শুষ্কতা।
আমি বলি: এর অন্যতম গুরুতর ব্যাধি হলো, এর সেবনকারী ব্যক্তি তার মেজাজ বা স্বভাবের ওপর এর প্রভাবের দরুন প্রায় তওবা করতে পারে না। আর আপনি এর অনুসারীদের দেখবেন তারা সৃষ্টির মাঝে সর্বাধিক পথভ্রষ্ট এবং সঠিক পথে সুদৃঢ় থাকা (استقامة) থেকে বিমুখ ও হীনতার অতীব নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وأسفه أحلاماً، وأفسد تصرفاً، ولله در القائل:
قل لمن يأكل الحشيشة جهلا
… يا خسيسا قد عشت شر معيشة
دية العقل بدرة فلماذا يا سفيها قد بعتها بحشيشة
এবং তিনি প্রজ্ঞা ও বিচারে ছিলেন সবচেয়ে বেশি নির্বোধ (أسفه) এবং আচরণে সবচেয়ে বেশি কলুষিত। আর সেই কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:
অজ্ঞতাবশত যে ব্যক্তি হাশিশ ভক্ষণ করে তাকে বলো
… হে হীন ব্যক্তি! তুমি তো নিকৃষ্টতম জীবন অতিবাহিত করেছ।
বিবেকের রক্তপণ (دية) হলো বিপুল পরিমাণ সম্পদ; হে নির্বোধ (سفيه)! কেন তুমি তা সামান্য হাশিশের বিনিময়ে বিক্রয় করলে?
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الفصل الثالثفي أنها مسكرة ومفسدة للعقلوالذي أجمع عليه الأطباء والعلماء لأحوال النبات أنها مسكرة منهم: أبو محمد عبدالله بن أحمد المالقى العشاب، ابن البيطار في كتاب: " الجامع لقوى الأدوية والأغذية " قال: ومن القنب الهندي نوع ثالث يقال له: القنب، ولم أره بغير مصر، ويزرع في البساتين، وتسمى الحشيشة أيضا، وهو يسكر جدا، إذا تناول منه الإنسان يسيراً قدر درهم أو درهمين،
তৃতীয় পরিচ্ছেদএটি মাদক (مسكرة) এবং বিবেক বিনষ্টকারী হওয়া প্রসঙ্গেউদ্ভিদবিদ্যার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আলেমগণ যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তা হলো—এটি মাদক (مسكرة); তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-মালিকি আল-আশশাব, ইবনে আল-বায়তার তাঁর "আল-জামি লি-কুওয়িল আদবিয়া ওয়াল আগযিয়া" গ্রন্থে বলেছেন: ভারতীয় শণ বা ক্যানাবিসের একটি তৃতীয় প্রকার রয়েছে যাকে কান্নাব বলা হয়; আমি এটি মিসর ব্যতীত অন্য কোথাও দেখিনি। এটি বাগানে চাষ করা হয় এবং একে হাশিশও বলা হয়। এটি অত্যন্ত তীব্রভাবে মাদকতা (يسكر) তৈরি করে, যখন কোনো মানুষ তা থেকে এক বা দুই দিরহাম পরিমাণ সামান্য কিছু সেবন করে,
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
حتى إن من أكثر منه أخرجه إلى حد الرعونة، وقد استعمله قوم فاختلت عقولهم، وربما قتل.
وقال في علاجه: القيء بسمن وماء سخن حتى تنقى المعدة، وشراب الحماض لهم في غاية النفع.
وأما الفقهاء: فقد صرحوا بأنها مسكرة منهم: أبو إسحاق الشيرازي رحمه الله، في كتاب " التذكرة في الخلاف "، والشيخ محيي
এমনকি যারা এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করে, এটি তাদের নির্বুদ্ধিতার (رعونة) পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যায়। একদল লোক এটি ব্যবহার করেছিল যার ফলে তাদের বিবেক-বুদ্ধি বিকল হয়ে পড়েছিল এবং কখনও কখনও এটি প্রাণঘাতীও হয়।
তিনি এর চিকিৎসায় বলেছেন: ঘি এবং গরম পানির সাহায্যে বমি করানো যাতে পাকস্থলী পরিচ্ছন্ন হয়; আর তাদের জন্য টক ফলের শরবত (شراب الحماض) অত্যন্ত ফলদায়ক।
আর ফকিহগণের (الفقهاء) বিষয়ে বলতে গেলে: তারা স্পষ্টভাবে একে নেশাজাতীয় (مسكرة) দ্রব্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ইসহাক আল-শিরাজি (রহমতুল্লাহি আলাইহি), তাঁর "আত-তাযকিরাহ ফিল খিলাফ" গ্রন্থে, এবং শেখ মুহি
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الدين النووي رحمه الله في " شرح المهذب "، ولا يعرف فيه خلاف عندنا، وقد يدخل في حدهم السكران، بأنه الذي اختلط كلامه المنظوم، وباح بسره المكتوم، أو الذي لا يعرف السماء من الأرض، ولا الطول من العرض. ويحكى عن بعض من تناولها أنه إذا رأى القمر يظنه لجة ماء، فلا يقدم عليه.
وبلغني عن أبي العباس ابن تيمية أنه قال: الصحيح أنها مسكرة كالشراب، فإن أكلتها ينشون عنها، ولذلك يتناولونها، بخلاف البنج وغيره،
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) 'শারহুল মুহাযযাব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আমাদের নিকট এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। মাতালের (السكران) সংজ্ঞায় তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যার সুসংবদ্ধ কথাবার্তা এলোমেলো হয়ে যায় এবং যে গোপন রহস্য প্রকাশ করে দেয়, অথবা যে আকাশ ও জমিনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের তফাৎ বুঝে না। যারা এটি (নেশাজাতীয় দ্রব্য) গ্রহণ করে তাদের কারো সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সে যখন চাঁদ দেখে তখন তাকে পানির গভীর আধার মনে করে, ফলে সে সেদিকে অগ্রসর হয় না।
আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি পানীয়র মতোই মাদক (مسكرة), কারণ যারা এটি খায় তারা এর দ্বারা নেশাগ্রস্ত হয় এবং মূলত এ কারণেই তারা এটি গ্রহণ করে; যা ভাঙ ও অন্যান্য জিনিসের চেয়ে ভিন্ন,
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
فإنه لا ينشى ولا يشتهى. ولم أر من يخالفه في ذلك، إلا أبا العباس القرافي في قواعده فقال: نص العلماء بالنبات في كتبهم على أنها مسكرة، والذي يظهر لي أنها مفسدة. قال: وتحرير الفرق بين المفسد، والمرقد، والمسكر أن المتناول من هذه إما أن يغيب عنه الحواس أو لا، فإن غابت عنه الحواس كالسمع والبصر واللمس والشم والذوق فهو المرقد، وإن لم يغب عنه الحواس، فإما أن يحدث معه نشوة وسرور أو قوة عند التناول غالباً أم لا، فإن حدث فهو المسكر،
কারণ এটি মত্ততা (نشوة) তৈরি করে না এবং এর প্রতি কোনো লালসাও জাগে না। আর এ বিষয়ে আমি তাঁর কোনো ভিন্নমতাবলম্বী দেখিনি, একমাত্র আবুল আব্বাস আল-কারাফি ব্যতীত। তিনি তাঁর কাওয়াইদ গ্রন্থে বলেছেন: উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি মাদক (مسكر), তবে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো এটি বুদ্ধিবিনাশকারী (مفسد)। তিনি বলেন: বুদ্ধিবিনাশকারী (مفسد), অবেদনকারী (مرقد) এবং মাদক (مسكر)-এর মধ্যকার পার্থক্যের বিশ্লেষণ হলো—এগুলো গ্রহণকারীর বাহ্যিক সংজ্ঞাবোধ বা ইন্দ্রিয় লোপ পাবে কি পাবে না? যদি শ্রবণ, দর্শন, স্পর্শ, ঘ্রাণ ও স্বাদের ন্যায় ইন্দ্রিয়সমূহ লোপ পায়, তবে তা অবেদনকারী (مرقد)। আর যদি ইন্দ্রিয়সমূহ লোপ না পায়, তবে গ্রহণের ফলে সাধারণত মত্ততা (نشوة) ও আনন্দ অথবা শক্তিমত্তার উদ্ভব ঘটে কি না? যদি ঘটে, তবে তা মাদক (مسكر)।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وإلا فهو المفسد، فالمسكر هو المغيب للعقل مع نشوة وسرور كالخمر، والمفسد: هو المشوش للعقل مع عدم السرور الغالب كالبنج.
ويدل على ضابط المسكر قول الشاعر:
অন্যথায় তা বুদ্ধিবিনাশকারী (مفسد); সুতরাং মাদক (مسكر) হলো যা উল্লাস ও আনন্দের সাথে বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, যেমন— মদ (خمر)। আর বুদ্ধিবিনাশকারী (مفسد) হলো যা বুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে কিন্তু যাতে সাধারণত কোনো আনন্দ অনুভূত হয় না, যেমন— ভাঙ (بنج)।
আর মাদকের (مسكر) সংজ্ঞার মানদণ্ডের ওপর কবির এই উক্তিটি প্রমাণ বহন করে:
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
ونشربها فتتركنا ملوكا
… وأسدا ما ينهنهنا اللقاء
فالمسكر يزيد في الشجاعة والمروءة، وقوة النفس، والميل إلى البطش في الأعداء والمنافسة في العطاء، ومنه قول القاضي عبد الوهاب المالكي رحمه الله تعالى:
زعم المدامة شاربوها أنها تنفي الهموم وتصرف الغما
صدقوا سرت بعقولهم فتو هموا أن السرور لهم بها تما
سلبتهم أديانهم وعقولهم أرأيت عادم دينه، مغتما
قال: فظهر بهذا أن الحشيشة مفسدة، وليست مسكرة لوجهين:
আমরা তা পান করি, আর তা আমাদের রাজা বানিয়ে দেয়
... এবং এমন সিংহ বানিয়ে দেয় যাদেরকে রণক্ষেত্রে কেউ দমাতে পারে না।
বস্তুত মাদকদ্রব্য (المسكر) সাহসিকতা, মনুষ্যত্ব, মানসিক শক্তি, শত্রুদের ওপর কঠোরতা প্রদর্শনের প্রবণতা এবং দান-সদকার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি করে। আর এ প্রসঙ্গেই কাজী আব্দুল ওয়াহাব আল-মালিকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
মদ্যপানকারীরা দাবি করে যে, শরাব দুঃখ-কষ্ট দূর করে এবং দুশ্চিন্তা বিদায় দেয়।
তারা সত্যই বলেছে, কেননা তা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, ফলে তারা কল্পনা করে যে এর মাধ্যমেই তাদের আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছে।
তা তাদের দ্বীন ও আকল ছিনিয়ে নিয়েছে; তুমি কি এমন কাউকে দেখেছ যে তার ধর্ম হারিয়েও বিষণ্ণ থাকে?
তিনি বলেন: এর দ্বারা এটি প্রতীয়মান হলো যে, হাশিশ বা গাঁজা হলো অনিষ্টকারী (مفسدة), তা মাদকদ্রব্য (مسكرة) নয়; আর এটি দুটি কারণে:
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
أولهما: أنها تثير الخلط الكامن في الجسد كيفما كان، فصاحب الصفراء تحدث له حدة، وصاحب البلغم تحدث له سباتا وصمتا، وصاحب السوداء تحدث له بكاء وجزعاً، وصاحب الدم تحدث له سروراً يقدر حاله، فتجد منهم من يشتد بكاؤه، ومنهم من يشتد صمته.
وأما الخمر والمسكرات: فلا تكاد تجد أحدا ممن يشربها إلا وهو نشوان مسرور بعيد عن صدور البكاء والصمت.
প্রথমটি হলো: এটি শরীরের অভ্যন্তরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা উপাদানসমূহকে (হিউমার) যেভাবে আছে সেভাবেই উত্তেজিত করে। ফলে পিত্তপ্রধান ব্যক্তির মধ্যে এটি উগ্রতা সৃষ্টি করে, কফপ্রধান ব্যক্তির মধ্যে তন্দ্রা ও নিস্তব্ধতা তৈরি করে, কৃষ্ণপিত্ত প্রধান ব্যক্তির মধ্যে রোদন ও ব্যাকুলতা সৃষ্টি করে এবং রক্তপ্রধান ব্যক্তির মধ্যে তার অবস্থা অনুযায়ী প্রফুল্লতা তৈরি করে। ফলে আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যার ক্রন্দন প্রবল হয়ে ওঠে, আবার কাউকে দেখবেন যার নীরবতা দীর্ঘ হয়।
পক্ষান্তরে মদ ও মাদকদ্রব্যের বিষয় হলো: যারা তা পান করে, তাদের প্রায় সকলকেই আপনি মাতাল ও প্রফুল্ল অবস্থায় পাবেন, যা কান্না ও নীরবতা প্রকাশ পাওয়া থেকে যোজন দূরে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وثانيهما: إننا نجد شراب الخمر تكثر عربدتهم، ووثوب بعضهم على بعض بالسلاح، وهو معنى البيت المتقدم في قوله:
* وأُسْدًا مَا يُنَهْنِهُنا اللِّقَاءُ *
وأكلة الحشيش خلاف ذلك، بل هم رقدة سكوت، وهم أشبه شيء بالبهائم، وذلك أن القتلاء توجد كثيرا مع شراب الخمر دون
এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আমরা লক্ষ্য করি যে মদ পানকারীদের মধ্যে মাতলামি ও বিশৃঙ্খলা অধিক মাত্রায় পরিলক্ষিত হয় এবং তাদের একে অপরের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার প্রবণতা থাকে। আর এটিই পূর্বে বর্ণিত কাব্যের পঙক্তির অর্থ:
* এবং তারা এমন সিংহ যাদেরকে রণক্ষেত্রে কোনো কিছুই নিবৃত্ত করতে পারে না *
পক্ষান্তরে হাশিশ সেবনকারীদের অবস্থা এর বিপরীত; বরং তারা নিস্তেজ ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকে এবং তারা চতুষ্পদ পশুর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এই কারণেই খুনের ঘটনা মদ পানকারীদের মধ্যেই অধিক পাওয়া যায়, যা অন্যদের ক্ষেত্রে হয় না।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
أكلة الحشيش.
وهذا الذي قاله القرافي ممنوع، ولا يساعد عليه دليل. وقوله: إن المغيب للحواس هو المرقد يرد عليه: الإغماء والنوم فإنهما مغيبان للحواس، وليسا بمرقد، والبيت الذي أنشده ليس دليلاً على ضابط المسكر، لكن على تأثير الخمر في هذا القائل وأضرابه، ولا يساوي الخمر غيرها في هذه الخصال، وإن تحققنا فيه الإسكار، كالمزر.
وما ذكره في الوجه الأول في الفرق، ليس باستقراء صحيح،
গাঁজা সেবনকারী।
আল-কারাফি যা বলেছেন তা অগ্রহণযোগ্য এবং কোনো দলীল একে সমর্থন করে না। তাঁর এই উক্তি: "যা ইন্দ্রিয়সমূহকে আচ্ছন্ন করে তা হলো অচেতক (المرقد)", এর উত্তরে বলা যায়—মূর্ছা যাওয়া এবং ঘুমও ইন্দ্রিয়কে আচ্ছন্নকারী, অথচ সেগুলো অচেতক (مرقد) নয়। তিনি যে কাব্য পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করেছেন তা নেশা উদ্রেককারীর (المسكر) সংজ্ঞার সপক্ষে কোনো দলীল নয়, বরং তা কেবল এই বক্তা এবং তাঁর সমমনাদের ওপর মদের প্রভাবের প্রমাণ। আর এই গুণাবলির ক্ষেত্রে মদ অন্য কোনো কিছুর সমতুল্য নয়, যদিও আমরা সেগুলোর মধ্যে নেশাগ্রস্থতা (الإسكار) নিশ্চিতভাবে দেখতে পাই, যেমন মিজর।
পার্থক্যের ক্ষেত্রে প্রথম দিক থেকে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা সঠিক (صحيح) আরোহ (استقراء) পদ্ধতি নয়।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
فقد بلغني عن بعض الناس أنه إذا سكر بكى بكاء شديداً.
وأما أهل الحشيش فقد رأيناهم في أول التناول ذوي نشأة وطرب، ثم يعتريهم الخمود والغيبة.
وكذلك في أهل الخمر من يفضي به الحال إلى شبه الميت، إما بحسب الأمزجة، وإما بحسب قلة التناول، أو كثرته فيهما، فهي وما ذكره في الوجه الثاني بالحل أيضا، فإن الخمر كما قلنا هي مراد الشاعر، وهو صاحب هذه الخاصية، وقد ثبت الإسكار لغيره من أنواع الأشربة، وهو دونه في ذلك، وعلى التناول فإنه من تأثير الأخلاط الرديئة كما
আমি কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছি যে, যখন তারা নেশাগ্রস্ত হয় তখন ভীষণভাবে কাঁদতে থাকে।
আর গাঁজা সেবনকারীদের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে, সেবনের শুরুতে তাদের মধ্যে এক প্রকার উদ্দীপনা ও প্রফুল্লতা কাজ করে, কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিস্তেজতা ও সংজ্ঞাহীনতায় আক্রান্ত হয়।
একইভাবে মদ্যপায়ীদের মধ্যেও এমন লোক রয়েছে যাদের অবস্থা মৃতপ্রায় পর্যায়ে পৌঁছে যায়; এটি হয় তাদের মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতির ভিন্নতা অনুসারে অথবা উভয় ক্ষেত্রেই সেবনের স্বল্পতা বা আধিক্যের কারণে। এটি এবং দ্বিতীয় দিকটিতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা সমাধানের ক্ষেত্রেও অভিন্ন। কেননা আমরা যেমনটি বলেছি যে, কবি এখানে মদই বুঝিয়েছেন এবং এটিই এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অন্যান্য পানীয়ের ক্ষেত্রেও নেশা সৃষ্টিকারী গুণ (إسكار) প্রমাণিত হয়েছে, তবে তা মদের তুলনায় কম। আর সেবনের ক্ষেত্রে এটি মূলত দূষিত শারীরিক উপাদানের প্রভাবের কারণেই ঘটে থাকে যেমন...
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
سلف في الحشيش، فإن المجرم الداعي الذي تحدث عنده زيادة عربدة كما في الشراب، فظهر بهذا أن في الحشيش من الإسكار والإفساد ما يساوي الخمر في أحكامه ويزيد بمزيد الإفساد.
والصواب أنها مسكرة، كما أجمع عليه العارفون بالنبات، ويجب الرجوع إليهم، كما رجع إليهم في غيرها من الخواص.
ويدل على أن الحشيشة مسكرة، أن معنى الإسكار تغطية العقل وقد قال تعالى:
… (إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا) أي غطيت.
গাঁজা সম্পর্কে যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাতে সেই অপরাধী প্ররোচনাকারীর ক্ষেত্রে মদ্যপানের ন্যায় অতিরিক্ত মাতলামি পরিলক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, গাঁজার মধ্যে এমন মাদকতা (إسكار) এবং অনিষ্টকারিতা রয়েছে যা বিধিবিধানের ক্ষেত্রে মদ (خمر) এর সমতুল্য এবং অধিকতর অনিষ্টের কারণে তা আরও বৃদ্ধি পায়।
আর সঠিক অভিমত হলো এটি মাদক (مسكر), যেমনটি উদ্ভিদবিদ্যায় অভিজ্ঞগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। আর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ন্যায় এই বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক।
গাঁজা যে মাদক (مسكر) তার প্রমাণ হলো, মাদকতা (إسكار) এর অর্থ হলো বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করা। মহান আল্লাহ বলেছেন:
… "আমাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করা হয়েছে (سُكِّرَتْ)", অর্থাৎ ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
وقد دل العقل على أنه يحدث عند تناولها حالة لم تكن قبل تناولها، فتلك الحالة هي مبادئ تغيير العقل، فإن كان المعني بالإسكار هذا فذاك، وإن كان المراد من الإسكار، تغيير العقل الحادث في المزاج المضر بالأفعال الاختيارية، المخرج عن حد الاعتدال إلى الإفراط والتفريط، فهو موجود فيه.
আর যুক্তি (عقل) নির্দেশ করে যে, এটি সেবনের ফলে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয় যা সেবনের পূর্বে ছিল না। সুতরাং এই অবস্থাটিই হলো বুদ্ধি পরিবর্তনের সূচনা। যদি মাদকতা (إسكار) বলতে এটাই বোঝানো হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণিত। আর যদি মাদকতা (إسكার) বলতে মেজাজের মধ্যে সংঘটিত বুদ্ধির এমন পরিবর্তন উদ্দেশ্য হয় যা ঐচ্ছিক কার্যাবলীর জন্য ক্ষতিকর এবং যা পরিমিতিবোধের সীমা অতিক্রম করে আতিশয্য (إفراط) ও শিথিলতার (تفريط) দিকে নিয়ে যায়, তবে তা এতে বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
وقول من قال: إنها مفسدة للعقل باطل لأنه إن فسد لجن صاحبه، إذ فساد العقل ذهابه.
আর যারা বলেন যে এটি বুদ্ধিবৃত্তির বিনাশকারী, তাদের কথা বাতিল (باطل); কারণ বিবেক যদি নষ্ট হতো তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পাগল হয়ে যেত, যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তির বিনাশ মানেই হলো তার বিলুপ্তি।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
الفصل الرابعفي أنها حراموقد تظاهرت الأدلة الشرعية والعقلية على ذلك.
أما الكتاب والسنة، فالنصوص الدالة على تحريم المسكر تناولتها، وفي صحيح مسلم: (كل مسكر خمر، وكل خمر حرام)
চতুর্থ পরিচ্ছেদএটি নিষিদ্ধ (حرام) হওয়া প্রসঙ্গেএর সপক্ষে শরয়ি এবং যৌক্তিক প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হয়েছে।
কিতাব ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে, নেশাজাতীয় দ্রব্যের নিষিদ্ধকরণ (تحريم) নির্দেশকারী বক্তব্যসমূহ একে অন্তর্ভুক্ত করে; এবং সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: (প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ, আর প্রত্যেক মদই নিষিদ্ধ (حرام))
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وأيضاً فإنها تصد عن ذكر الله، وعن الصلاة، وما كان هذا وصفه كان حراماً كالخمر، وقد قال الله تعالى: (وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ) الأعراف
অধিকন্তু, এটি আল্লাহর জিকির এবং সালাত হতে বিমুখ করে; আর যার বৈশিষ্ট্য এরূপ, তা মদের ন্যায় হারাম। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর তিনি তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন” (সূরা আল-আরাফ)।
(খণ্ড: ১)
যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
وأي خبيث أعظم مما يفسد العقول التي اتفقت الملل والشرائع على إيجاب حفظها، وقد حرم الله تعالى إذهاب العقول باستعمال ما يزيلها، أو يفسدها أو يخرجها عن مخرجها المعتاد،
আর বুদ্ধি-বিবেক বিনষ্টকারী বিষয়ের চেয়ে বড় জঘন্য বিষয় আর কী হতে পারে, যার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আবশ্যকতা সম্পর্কে সকল ধর্ম ও শরয়ি বিধানসমূহ ঐকমত্য পোষণ করেছে। বস্তুত মহান আল্লাহ এমন সব বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে বুদ্ধি-বিবেক বিলোপ করা হারাম করেছেন যা তা বিলুপ্ত করে দেয়, অথবা একে কলুষিত করে কিংবা তার স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়।