(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المفصل في أحكام العقيقة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المفصل في أحكام العقيقة
المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة
الناشر: طبع القدس / فلسطين (طبع هذا الكتاب على نفقة فاعل خير جزاه الله أفضل الجزاء)
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 197
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1432
আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল আকিকাহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল আকিকাহ
লেখক: হুসামুদ্দিন বিন মুসা মুহাম্মদ বিন আফানা
প্রকাশক: কুদস মুদ্রণ / ফিলিস্তিন (এই বইটি জনৈক দাতা ব্যক্তির অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৭
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المُفَصَّل
في أحكام العقيقة
تأليف
الدكتور حسام الدين بن موسى عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول
كلية الدعوة وأصول الدين
جامعة القدس
আল-মুফাসসাল
আকীকার বিধানাবলি প্রসঙ্গে
রচনায়
ডক্টর হুসামুদ্দীন বিন মুসা আফানা
ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক
দাওয়াহ ও উসুলুদ দীন অনুষদ
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى
القدس / فلسطين
1424 هـ
2003 م
طبع هذا الكتاب على نفقة فاعل خير جزاه الله أفضل الجزاء
طباعة وتنسيق: شفاء بنت حسام الدين عفانه
প্রথম সংস্করণ
আল-কুদ্স / ফিলিস্তিন
১৪২৪ হিজরি
২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
এক দাতা ব্যক্তির সৌজন্যে এই বইটি মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন
মুদ্রণ ও বিন্যাস: শিফা বিনতে হুসামুদ্দিন আফফানা
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قالوا في العقيقة
- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى)
- قال الإمام مالك بن أنس: وليست العقيقة بواجبة ولكنها يستحب العمل بها وهي من الأمر الذي لم يزل عليه الناس عندنا.
- وقال أبو الزناد من فقهاء التابعين: العقيقة من أمر المسلمين الذي كانوا يكرهون تركه.
- وقال يحيى بن سعيد الأنصاري شيخ الإمام مالك: أدركت الناس لا يدعون العقيقة عن الغلام وعن الجارية.
- وقال سفيان الثوري: ليست العقيقة بواجبة وإن صنعت فحسن.
- وقال ابن الحاج المالكي: وفي فعل العقيقة من الفوائد أشياء كثيرة منها: امتثال السنة وإخماد البدعة ولو لم يكن فيها من البركة إلا أنها حرز للمولود من العاهات والآفات كما ورد فالسنة مهما فعلت كانت سبباً لكل خير وبركة والبدعة بضد ذلك.
আকীকা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ছেলের সাথে আকীকা রয়েছে, সুতরাং তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (পশু যবেহ করো) এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো।"
- ইমাম মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: "আকীকা ওয়াজিব (আবশ্যিক) নয়, তবে এর ওপর আমল করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং এটি এমন এক আমল যা আমাদের এখানে মানুষেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করে আসছে।"
- তাবিঈ ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত আবুয যিনাদ বলেছেন: "আকীকা মুসলিমদের এমন সব কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা বর্জন করাকে তারা অপছন্দ করতেন।"
- ইমাম মালিকের উস্তাদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বলেছেন: "আমি মানুষকে ছেলে এবং মেয়ে কারো পক্ষ থেকেই আকীকা বর্জন করতে দেখিনি।"
- সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: "আকীকা ওয়াজিব নয়, তবে করলে তা উত্তম।"
- ইবনুল হাজ আল-মালিকী বলেছেন: "আকীকা পালনের মধ্যে বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআতের মূলোৎপাটন। এতে যদি অন্য কোনো বরকত নাও থাকত, তবুও নবজাতকের জন্য এটি রোগব্যাধি ও আপদ-বিপদ থেকে সুরক্ষাস্বরূপ হতো, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। সুন্নাহর ওপর যে আমলই করা হোক না কেন তা সকল কল্যাণ ও বরকতের মাধ্যম হয়, আর বিদআত এর সম্পূর্ণ বিপরীত।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} آل عمران الآية 102.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} النساء الآية 1.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} الأحزاب الآيتان 70 - 71.
وبعد
…فقد كنت قبل حوالي عشر سنوات، قد ألَّفتُ كتاباً بعنوان أحكام العقيقة في الشريعة الإسلامية، جمعت فيه أهم أحكام العقيقة باختصار (70 صفحة)، وبعد إعادة النظر فيه، رأيت أن مسائل العقيقة تحتاج إلى بحث أوسع، ودراسة أكثر تفصيلاً، فعزمت على تأليف هذا الكتاب المفصل في أحكام العقيقة، وقد جاء بحمد الله، اسمه مطابقاً لمسماه، حيث إنني جمعت فيه كل مسائل العقيقة، التي تكلم عليها العلماء، مما وقفت عليه، وجمعت فيه كل ما وقفت عليه من الأحاديث النبوية الواردة في العقيقة، فبلغت ثلاثين حديثاً، وذكرت اثنين وعشرين أثراً، من الآثار عن الصحابة والتابعين، وفصلت المسائل الفقهية، بذكر أقوال أهل العلم وأدلتهم، ورجحت ما وسعني الترجيح، ثم جعلت ملحقاً للكتاب، ذكرت فيه السنن المتعلقة بالمولود، كالتحنيك، والأذان في أذن المولود، وحلق رأسه، وختانه
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (আলে ইমরান: ১০২)।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের দু’জন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} (আন-নিসা: ১)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।} (আল-আহজাব: ৭০-৭১)।
এরপর
…প্রায় দশ বছর আগে আমি ‘ইসলামি শরিয়তে আকিকার বিধান’ শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলাম, যাতে আমি সংক্ষেপে আকিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো (৭০ পৃষ্ঠা) জমা করেছিলাম। পরবর্তীতে এটি পুনর্বিবেচনা করার পর আমি দেখলাম যে, আকিকার মাসআলাগুলো আরও বিস্তৃত গবেষণা এবং আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। তাই আমি আকিকার বিধানাবলি সম্পর্কে এই বিস্তারিত গ্রন্থটি রচনার সংকল্প করলাম। আল্লাহর প্রশংসায় এর নাম এর বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে, কারণ আমি এতে আকিকা সংক্রান্ত সেই সমস্ত মাসআলা একত্রিত করেছি যা আলেমগণ আলোচনা করেছেন এবং যা আমি অবগত হয়েছি। আমি এতে আকিকা সম্পর্কে বর্ণিত নবি করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমস্ত হাদিস সংগ্রহ করেছি, যার সংখ্যা ত্রিশটিতে পৌঁছেছে। সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে প্রাপ্ত বাইশটি আছার (বর্ণনা) উল্লেখ করেছি। ফকিহদের মতামত ও তাঁদের দলিলসমূহ উল্লেখ করে ফিকহি মাসআলাগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রাধান্যযোগ্য মতটি বেছে নিয়েছি। এরপর বইটিতে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি, যেখানে নবজাতক সংশ্লিষ্ট সুন্নতগুলো উল্লেখ করেছি, যেমন: তাহনিক করা, নবজাতকের কানে আজান দেওয়া, মাথা মুণ্ডন করা এবং খতনা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتسميته، والتهنئة بقدومه. وبعد هذا كله أرجو أن يكون هذا الكتاب مفيداً لقارئه، ونافعاً بمضمونه كل من وهب له شيء من الأولاد، وإحياءً لسنة النبي صلى الله عليه وسلم، حيث إننا نعيش في زمان ابتعد فيه الناس عن السنن النبوية، واستبدلوها بالعادات والتقاليد الغربية، فيحتفلون بأعياد ميلاد أولادهم في كل عام، ويصنعون الحفلات وينشدون النشيد المعروف بهذه المناسبة، ويصنعون كعكة خاصة لهذه المناسبة ويضعون حولها الشموع، وتكون بعدد سنوات عمر الولد المحتفل به
… إلخ هذه التقاليد المستوردة، والمخالفة لهدي النبي صلى الله عليه وسلم، فقد ثبت في الحديث عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد) رواه مسلم. لهذا كله أحببت أن أجمع هذا الكتاب، لأقدم للناس البديل الشرعي لتلكم التقاليد الغربية الوافدة، وإحياءً لسنة النبي صلى الله عليه وسلم فقد ورد في الحديث عن بلال بن الحارث رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من أحيا سنة قد أُميتت بعدي، فإن له من الأجر مثل من عمل بها من الناس، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئاً، ومن ابتدع بدعة لا ترضي الله ورسوله، فإن له مثل إثم من عمل بها من الناس، لا ينقص ذلك من آثام الناس شيئاً) رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن، ورواه ابن ماجة أيضاً، وصححه الشيخ الألباني في صحيح سنن ابن ماجة 1/ 41 - 42
وختاماً أقول ما قاله العلامة ابن منظور صاحب لسان العرب: [وليس لي في هذا الكتاب فضيلة أّمتُّ بها ولا وسيلة أتمسك بها سوى أني جمعت فيه ما تفرق في كتب السابقين]. وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
29 جمادى الأولى 1422هـ
وفق 28/ 7/ 2003 م
… كتبه د. حسام الدين بن موسى عفانه
الأستاذ المشارك في الفقه والأصول / كلية الدعوة وأصول الدين
منسق برنامج ماجستير دراسات إسلامية معاصرة / جامعة القدس
এবং তার নামকরণ ও তার আগমনে শুভেচ্ছা জানানো। এই সবকিছুর পর, আমি আশা করি যে এই বইটি তার পাঠকের জন্য উপকারী হবে এবং এর বিষয়বস্তুর মাধ্যমে সেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হবে যাকে সন্তান দান করা হয়েছে। এছাড়াও এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনের মাধ্যম হবে; যেহেতু আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে মানুষ নববী সুন্নাহ থেকে দূরে সরে গেছে এবং সেগুলোকে পশ্চিমা রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিবর্তন করে নিয়েছে। ফলে তারা প্রতি বছর তাদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করে, অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং এই উপলক্ষে প্রচলিত গান গায়। তারা এই উপলক্ষে বিশেষ কেক তৈরি করে এবং তার চারপাশে মোমবাতি রাখে, যার সংখ্যা উদযাপন করা সন্তানের বয়সের বছরের সমান হয়
… ইত্যাদি এই সকল আমদানি করা ঐতিহ্য, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনার পরিপন্থী। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের এই দীনের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এই সকল কারণেই আমি এই বইটি সংকলন করা পছন্দ করেছি, যাতে মানুষের কাছে সেই সকল পশ্চিমা আগন্তুক ঐতিহ্যের শরয়ি বিকল্প পেশ করতে পারি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারি। বিলাল ইবনুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার পরে কোনো সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করবে যা মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল, তবে তার জন্য সেই সকল মানুষের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে যারা সেই সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির পরিপন্থী, তবে তার ওপর সেই সকল মানুষের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে যারা এর ওপর আমল করবে, এতে মানুষের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান হাদিস। ইবনে মাজাহও এটি বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানী ‘সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ’ ১/ ৪১-৪২ এ একে সহিহ বলেছেন।
পরিশেষে আমি ‘লিসানুল আরব’ প্রণেতা প্রখ্যাত আলিম ইবনে মানজুর যা বলেছেন তাই বলছি: [এই বইটিতে আমার এমন কোনো বিশেষত্ব নেই যার দ্বারা আমি গর্ব করতে পারি, আর না আছে কোনো মাধ্যম যা আমি আঁকড়ে ধরব; কেবল এটাই যে, আমি এতে পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে যা বিক্ষিপ্ত ছিল তা একত্রিত করেছি]। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।
২৯ জুমাদাল উলা ১৪২২ হিজরি
তদনুযায়ী ২৮/ ০৭/ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
… এটি লিখেছেন ড. হুসামুদ্দিন বিন মুসা আফানা
সহযোগী অধ্যাপক, ফিকহ ও উসুল বিভাগ / দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ
সমন্বয়ক, সমকালীন ইসলামি শিক্ষা মাস্টার্স প্রোগ্রাম / আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأولما يتعلق بالعقيقة وفيه المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف العقيقة.
المبحث الثاني: مشروعية العقيقة.
المبحث الثالث: معنى قول الرسول صلى الله عليه وسلم كل غلام مرتهن بعقيقته.
المبحث الرابع: الحكمة من مشروعية العقيقة.
المبحث الخامس: هل يكره تسمية العقيقة بهذا الاسم؟
المبحث السادس: حكم العقيقة واختلاف الفقهاء فيها وبيان الراجح
المبحث السابع: شروط العقيقة.
المبحث الثامن: ما هو الأفضل في العقيقة؟
المبحث التاسع: في حق من تشرع العقيقة.
المبحث العاشر: الاشتراك في العقيقة.
المبحث الحادي عشر: تفاضل الذكر والأنثى في العقيقة.
المبحث الثاني عشر: التصرف في العقيقة (الانتفاع بها).
المبحث الثالث عشر: حكم تلطيخ رأس المولود بدمها.
المبحث الرابع عشر: اجتماع الأضحية والعقيقة.
প্রথম অধ্যায়আকিকা সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আকিকার সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আকিকার বিধিবদ্ধতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— "প্রত্যেক শিশু তার আকিকার বিনিময়ে দায়বদ্ধ"—এর অর্থ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আকিকা বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমত বা তাৎপর্য।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আকিকাকে এই নামে নামকরণ করা কি অপছন্দনীয়?
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আকিকার হুকুম, এ বিষয়ে ফকিহগণের মতভেদ এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতের বর্ণনা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: আকিকার শর্তাবলি।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: আকিকার ক্ষেত্রে কোনটি সর্বোত্তম?
নবম পরিচ্ছেদ: কার পক্ষ থেকে আকিকা করা বিধিবদ্ধ?
দশম পরিচ্ছেদ: আকিকায় অংশীদারিত্ব।
একাদশ পরিচ্ছেদ: আকিকার ক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যাসন্তানের মধ্যকার পার্থক্য।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: আকিকার ব্যবহার (তা থেকে উপকৃত হওয়া)।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: নবজাতকের মাথায় আকিকার রক্ত মাখানোর বিধান।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: কুরবানি ও আকিকা একত্রে সম্পাদন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول تعريف العقيقة لغةً واصطلاحاًأولاً: تعريف العقيقة لغةً:
العقيقة: هي الشَّعر الذي يولد به الطفل لأنه يشق الجلد، قال امرؤ القيس:
أيا هند لا تنكحي بُوهةً
… عليه عقيقته أحسَبَا (1)
وهي مأخوذة من عَقَّ، يَعِقُّ ويعَقُّ، فنقول عق عن ابنه بمعنى حلق عقيقته أي حلق شعر رأسه أو ذبح الشاة المسماة عقيقة، قال ابن منظور: [وقيل للذبيحة عقيقة لأنها تذبح فيشق حلقومها ومريئها وودجاها قطعاً كما سميت ذبيحة بالذبح وهو الشق] (2).
وقال الجوهري: [وشعر كل مولود من الناس والبهائم الذي يولد عليه عقيقة
… ومنه سميت الشاة التي تذبح عن المولود يوم أسبوعه عقيقة] (3).
وقال الإمام النووي: [(عقق) قال الإمام أبو منصور الأزهري قال أبو عبيد قال الأصمعي وغيره العقيقة أصلها الشعر الذي يكون على رأس الصبي حين يولد وإنما سميت الشاة التي تذبح عنه في تلك الحال عقيقة لأنه يحلق عنه ذلك
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ আকিকার শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাপ্রথমত: আকিকার শাব্দিক সংজ্ঞা:
আকিকা: এটি হলো সেই চুল যা নিয়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়, কারণ তা চামড়া ভেদ করে নির্গত হয়। ইমরুল কায়েস বলেছেন:
হে হিন্দ, তুমি এমন কোনো দুর্বল ও নির্বোধ ব্যক্তিকে বিবাহ করো না
… যার মাথায় জন্মের চুল রয়ে গেছে এবং তা পেকে ধূসর হয়ে গেছে (১)
এটি ‘আক্কাহ’, ‘ইয়া‘ইক্কু’ এবং ‘ইয়া‘আক্কু’ ক্রিয়ামূল থেকে গৃহীত। তাই আমরা বলি ‘সে তার ছেলের পক্ষ থেকে আকিকা করেছে’, যার অর্থ হলো সে তার মাথার চুল মুণ্ডন করেছে অথবা আকিকা নামক বকরিটি জবাই করেছে। ইবনুন মানযুর বলেছেন: [জবাইকৃত পশুকে আকিকা বলা হয় কারণ এটি জবাই করার সময় এর কণ্ঠনালী, অন্ননালী এবং ঘাড়ের রগগুলো কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়, যেমন ‘জাবিহাহ’ নামকরণ করা হয়েছে ‘জাবাহ’ বা বিদীর্ণ করা থেকে] (২)।
জাওহারী বলেছেন: [মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুর প্রতিটি নবজাতকের যে চুল নিয়ে সে জন্মায় তাকে আকিকা বলা হয়
… আর এ থেকেই নবজাতকের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে যে বকরি জবাই করা হয় তাকে আকিকা নামকরণ করা হয়েছে] (৩)।
ইমাম নববী বলেছেন: [(আইন-কাফ-কাফ) ইমাম আবু মনসুর আল-আযহারী বলেন, আবু উবাইদ, আসমাঈ এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, আকিকার মূল অর্থ হলো সেই চুল যা জন্মের সময় শিশুর মাথায় থাকে। আর সেই অবস্থায় তার পক্ষ থেকে যে বকরি জবাই করা হয় তাকে আকিকা বলা হয় কারণ তখন তার সেই চুল মুণ্ডন করা হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشعر عند الذبح ولهذا قال في الحديث: (أميطوا عنه الأذى) يعني بالأذى ذلك الشعر الذي يحلق عنه. قال: وهذا مما قلت لك أنهم ربما سموا الشيء باسم غيره إذا كان معه أو من شبهه فسميت الشاة عقيقة لعقيقة الشعر. قال أبوعبيد: وكذلك كل مولود من البهائم فإن الشعر الذي يكون عليه حين يولد عقيقة وعقة. وقال الأزهري: ويقال لذلك الشعر عقيق بغير هاء. قال الأزهري: العق في الأصل الشق والقطع وسميت الشعرة الذي يخرج الولد من بطن أمه وهي عليه عقيقة لأنها إذا كانت على رأس الإنسي حلقت فقطعت وإن كانت على البهيمة فإنها تتنسل، وقيل للذبيحة عقيقة لأنها تذبح أي تشق حلقومها ومريئها وودجاها قطعاً كما سميت ذبيحة بالذبح وهو الشق. قال ابن السكيت: عق فلان عن ولده إذا ذبح عنه يوم أسبوعه، قال: وعق فلان أباه يعقه عقاً. وقال غيره: عق فلان والديه يعقهما عقوقاً إذا قطعهما ولم يصل رحمه منهما وجمع العاق القاطع لرحمه عققة، ويقال أيضاً: رجل عق، قال ابن الأعرابي: العقق قاطع الأرحام] (1).
ثانياً:
تعريف العقيقة اصطلاحاً:عرف الفقهاء العقيقة بعدة تعريفات منها:
- قال الإمام البغوي: [اسم لما يذبح عن المولود] (2).
- وقال الحافظ العراقي: [العقيقة: الذبيحة التي تذبح عن المولود] (3).
--------------------------------------------
যবেহ করার সময়ের পশম, আর এই কারণেই হাদিসে বলা হয়েছে: (তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো) অর্থাৎ কষ্টদায়ক বস্তু বলতে সেই চুলকে বোঝানো হয়েছে যা তার মাথা থেকে মুণ্ডন করা হয়। তিনি বলেন: এটি সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, তারা সম্ভবত কোনো বস্তুকে অন্য নামে অভিহিত করে যখন সেটি তার সাথে থাকে অথবা তার সদৃশ হয়; ফলে চুলের আকিকা (কাটা)-র কারণে ছাগলকে আকিকা নামকরণ করা হয়েছে। আবু উবাইদ বলেন: একইভাবে চতুষ্পদ জন্তুর প্রতিটি শাবক জন্মের সময় তার শরীরে যে পশম থাকে তাকেও আকিকা ও ইক্কাহ বলা হয়। আল-আযহারী বলেন: সেই চুলকে 'হা' বর্ণ ছাড়াই আকিক বলা হয়। আল-আযহারী বলেন: 'আক্ক' শব্দের মূল অর্থ হলো বিদীর্ণ করা ও কেটে ফেলা। আর সন্তান যখন তার মায়ের পেট থেকে বের হয় এবং তার শরীরে যে পশম থাকে তাকে আকিকা বলা হয়, কারণ এটি যদি মানুষের মাথার ওপর থাকে তবে তা মুণ্ডন করে কেটে ফেলা হয়, আর যদি পশুপাখির ওপর থাকে তবে তা ঝরে পড়ে। আর যবেহকৃত পশুকে আকিকা বলা হয় কারণ একে যবেহ করা হয়, অর্থাৎ এর শ্বাসনালি, খাদ্যনালি এবং ঘাড়ের প্রধান রক্তনালিদ্বয় বিদীর্ণ করে কেটে ফেলা হয়, যেমনভাবে যবেহ করার কারণে একে যাবিহা বলা হয়, আর যবেহ মানে হলো বিদীর্ণ করা। ইবনুস সিক্কিত বলেন: অমুক ব্যক্তি তার সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করেছে যখন সে তার জন্মের সপ্তম দিনে যবেহ করেছে। তিনি বলেন: অমুক ব্যক্তি তার পিতার অবাধ্য হয়েছে। অন্যজন বলেন: অমুক ব্যক্তি তার পিতা-মাতার অবাধ্য হয়েছে যখন সে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেনি। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী 'আক্ক'-এর বহুবচন হলো 'আকাকাহ'। আরও বলা হয়: 'রজুলুন আক্ক' (অবাধ্য ব্যক্তি)। ইবনুল আরাবী বলেন: 'আল-আকাক' মানে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী] (১)।
দ্বিতীয়ত:
পারিভাষিক অর্থে আকিকার সংজ্ঞা:ফকিহগণ আকিকার বেশ কিছু সংজ্ঞা দিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
- ইমাম বাগাবী বলেন: [নবজাতকের পক্ষ থেকে যা যবেহ করা হয় তারই নাম আকিকা] (২)।
- হাফিজ আল-ইরাকী বলেন: [আকিকা: সেই যবেহকৃত পশু যা নবজাতকের পক্ষ থেকে যবেহ করা হয়] (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال ابن عرفة المالكي: [العقيقة ما تقرب بذكاته من جذع ضأن أو ثني سائر الأنعام سليماً من عيب مشروطاً بكونه في نهار سابع ولادة آدمي حي] (1). وتعريف ابن عرفة هذا فيه شروط غير مسلمة عند جماعة من الفقهاء كما سيأتي بيانه.
ويمكنني القول بأن العقيقة هي: الذبيحة التي تذبح عن المولود يوم سابعه شكراً لله سبحانه وتعالى على نعمة الولد ذكراً كان أو أنثى (2).
وقد عرفها د. محمد أبو فارس بقوله: [هي الشاة التي تذبح عن المولود
… ] (3).
وهذا التعريف غير جامع لأن فيه قصراً للعقيقة على الشياه فقط وهذا على قول بعض الفقهاء الذين لا يجيزون العقيقة من الإبل والبقر وهو قول مرجوح كما سيأتي بيانه.
فالأولى أن نعبر بقولنا هي الذبيحة فإن ذلك يعم الغنم والبقر والإبل حيث تصح العقيقة من هذه الأنواع كما سيأتي.
وكلمة الذبيحة تقال في الشياه والبقر والإبل قال ابن منظور: [الذبيحة الشاة المذبوحة وشاة ذبيحة
… وكذلك الناقة
… قال الأزهري: الذبيحة اسم لما يذبح من الحيوان] (4).
--------------------------------------------
মালিকি ফকীহ ইবন আরাফাহ বলেছেন: [আকীকাহ হলো সেই পশু যা জবেহ করার মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়; যা হতে হবে মেষের জাযা' (ছয় মাস বয়সী শাবক) অথবা অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মধ্যে সানি (নির্দিষ্ট বয়সের), যা ত্রুটিমুক্ত হতে হবে এবং শর্ত হলো এটি জীবিত মানব সন্তান জন্মের সপ্তম দিনের দিনের বেলায় হতে হবে] (১)। ইবন আরাফাহর এই সংজ্ঞায় এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা একদল ফকীহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়, যা সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আমি বলতে পারি যে, আকীকাহ হলো: নবজাতক সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, তার জন্মের সপ্তম দিনে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সন্তানের নিআমতের শুকরিয়া স্বরূপ যে পশুটি জবেহ করা হয় (২)।
ড. মুহাম্মদ আবু ফারিস একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: [এটি হলো সেই ছাগল বা ভেড়া যা নবজাতকের পক্ষ থেকে জবেহ করা হয়
… ] (৩)।
এই সংজ্ঞাটি পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ এতে আকীকাহকে শুধুমাত্র ছাগল বা ভেড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এটি সেই সব ফকীহদের মত যারা উট এবং গরু দ্বারা আকীকাহ করা বৈধ মনে করেন না; তবে এটি একটি দুর্বল মত যা সামনে স্পষ্ট করা হবে।
তাই আমাদের এভাবে ব্যক্ত করাই অধিকতর উত্তম যে, এটি হলো একটি জবেহকৃত পশু (যাবিহাহ), কারণ এটি ছাগল-ভেড়া, গরু এবং উট—সবগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেহেতু এই সব প্রকার পশু দিয়েই আকীকাহ বিশুদ্ধ হয়, যা সামনে বর্ণিত হবে।
'যাবিহাহ' শব্দটি ছাগল-ভেড়া, গরু এবং উটের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ইবন মানযুর বলেছেন: [যাবিহাহ হলো জবেহকৃত ছাগল বা ভেড়া... অনুরূপভাবে উটকেও বুঝায়... আল-আযহারী বলেছেন: যাবিহাহ হলো প্রাণীদের মধ্যে যা কিছু জবেহ করা হয় তার নাম] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثانيمشروعية العقيقةوفيه مطالب:
المطلب الأول: العقيقة قبل الإسلام:كانت العقيقة معروفة عند العرب في الجاهلية، قال الماوردي: [فأما العقيقة فهي شاة تذبح عند الولادة كانت العرب عليها قبل الإسلام] (1).
وقال ولي الله الدهلوي: [واعلم أن العرب كانوا يعقون عن أولادهم وكانت العقيقة أمراً لازماً وسنةً مؤكدةً، وكان فيها مصالح كثيرة راجعة إلى المصلحة الملية والمدنية والنفسانية، فأبقاها النبي صلى الله عليه وسلم وعمل بها ورغب الناس فيها] (2).
ويدل على ذلك ما ورد في الحديث عن عبد الله بن بريدة عن أبيه قال: سمعت أبي - بريدة رضي الله عنه يقول: كنا في الجاهلية إذا ولد لأحدنا غلام ذبح شاة ولطخ رأسه بدمها فلما جاء الله بالإسلام كنا نذبح شاة ونحلق رأسه ونلطخه بزعفران]. رواه أبو داود والنسائي وأحمد والبيهقي وقال الحافظ في التلخيص: وسنده صحيح. وقال الشيخ الألباني: حسن صحيح. وصححه الحاكم وقال: على شرط الشيخين. ووافقه الذهبي. وقال الشيخ الألباني: إنما هو على شرط مسلم (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআকীকার শরীয়তসম্মত বিধানএতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলাম-পূর্ব যুগে আকীকা:জাহেলিয়াত যুগে আরবদের মাঝে আকীকা প্রচলিত ছিল। মাওয়ার্দী বলেন: [আকীকা হলো সেই বকরি যা জন্মের সময় যবেহ করা হয়; ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা এই প্রথার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল] (১)।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী বলেন: [জেনে রাখুন যে, আরবরা তাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আকীকা করত এবং আকীকা একটি অপরিহার্য বিষয় ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ছিল। এতে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানসিক কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত অনেক উপকারিতা বিদ্যমান ছিল। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বহাল রাখেন, এর ওপর আমল করেন এবং মানুষকে এর প্রতি উৎসাহিত করেন] (২)।
এর প্রমাণ হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: জাহেলিয়াত যুগে আমাদের কারো ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমরা একটি বকরি যবেহ করতাম এবং তার মাথায় রক্ত মাখিয়ে দিতাম। অতঃপর যখন আল্লাহ ইসলাম নিয়ে আসলেন, তখন আমরা বকরি যবেহ করতাম, তার মাথা মুণ্ডন করতাম এবং মাথায় জাফরান মাখিয়ে দিতাম।] এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ ও বায়হাকী। হাফেয (ইবনে হাজার) আল-তালখীস গ্রন্থে বলেন: এর সনদ সহীহ। শেখ আলবানী বলেন: হাসান সহীহ। আল-হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং বলেছেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে শেখ আলবানী বলেন: এটি মূলত কেবল মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويدل على ذلك أيضاً ما ورد عن عائشة رضي الله عنها في حديث العقيقة قالت: (وكان أهل الجاهلية يجعلون قطنة في دم العقيقة ويجعلونه على رأس الصبي فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يجعل مكان الدم خلوفاً) رواه البيهقي، وقال النووي إسناده صحيح (1).
وذكر السيوطي أن عبد المطلب جد النبي صلى الله عليه وسلم قد عق عنه في سابع ولادته (2).
وقال السيوطي: [وأخرج ابن عساكر عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما ولد النبي صلى الله عليه وسلم عق عنه عبد المطلب بكبش وسماه محمداً فقيل له يا أبا الحارث: ما حملك على أن سمّيته محمداً ولم تسمه باسم آبائه؟ قال: أردت أن يحمده الله في السماء ويحمده الناس في الأرض] (3) كما أن العقيقة كانت معروفة في شريعة موسى عليه السلام فقد ورد في الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن اليهود تعق عن الغلام ولا تعق عن الجارية فعقوا عن الغلام شاتين وعن الجارية شاه) رواه البيهقي، ورواه ابن أبي الدنيا، وقال محققه: وفي إسناده أبي حفص الشاعر وأبوه وهما مجهولان، ورواه البزار، وذكره الحافظ بن حجر ولم يتكلم عليه بشيء (4).
--------------------------------------------
এর ওপর আরও প্রমাণ বহন করে যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আকিকার হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা আকিকার রক্তে তুলা ভিজিয়ে শিশুর মাথায় রাখত। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যেন রক্তের পরিবর্তে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়)। এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নববী বলেছেন এর সনদ সহিহ (১)।
সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর পক্ষ থেকে আকিকা করেছিলেন (২)।
সুয়ূতী বলেন: [ইবনে আসাকির ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করলেন, আব্দুল মুত্তালিব একটি দুম্বা দিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আকিকা করলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন মুহাম্মদ। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আবুল হারিস: কিসে আপনাকে তাঁর নাম মুহাম্মদ রাখতে উদ্বুদ্ধ করল অথচ আপনি তাঁর পিতৃপুরুষদের কোনো নামে নাম রাখলেন না? তিনি বললেন: আমি চেয়েছি যেন আসমানে আল্লাহ তাঁর প্রশংসা করেন এবং জমিনে মানুষ তাঁর প্রশংসা করে] (৩)। তেমনিভাবে আকিকা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শরিয়তেও পরিচিত ছিল। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই ইহুদিরা পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করত এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করত না। সুতরাং তোমরা পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো)। এটি বায়হাকি ও ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন এবং এর গবেষক (মুহাক্কিক) বলেছেন: এর সনদে আবু হাফস আশ-শা'ইর ও তাঁর পিতা রয়েছেন এবং তাঁরা উভয়েই অপরিচিত (মাজহুল)। এটি বাজার বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال الألباني: [بإسناد رجاله ثقات لكن فيه عنعنة ابن جريج لكن قد صرح بالتحديث عند ابن حبان فصح الحديث والحمد لله] (1)، ورواه ابن حبان وقال شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح (2).
المطلب الثاني: العقيقة في الإسلام:ثبتت مشروعية العقيقة بالسنة النبوية من قول النبي صلى الله عليه وسلم ومن فعله، ووردت فيها آثار كثيرة عن السلف وإليك بيان ذلك:
أولاً:
السنة القولية فقد وردت فيها أحاديث كثيرة منها:
1. روى الإمام البخاري بسنده عن سلمان بن عامر الضبي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى) ورواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة وأحمد والدارمي والبيهقي (3).
وقوله: (فأهريقوا) مأخوذ من هرق بمعنى: أراق، تقول العرب: أراق الماء يريقه وهراقه يهريقه بفتح الهاء هراقة، ويقال فيه: أهرقت الماء أهرقه إهراقاً، وهذا فيه إبدال للهمزة بالهاء وقد يجمع بين البدل والمبدل منه كما في (أهريقوا) (4).
2. عن سَمُرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمَّى) رواه أبو داود واللفظ له، ورواه الترمذي
--------------------------------------------
আলবানী বলেন: [এমন একটি সনদের মাধ্যমে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এতে ইবনে জুরাইজের 'আনআনা' (عنعنة) রয়েছে; কিন্তু তিনি ইবনে হিব্বানের নিকট পরিষ্কারভাবে শ্রবণের (তহাদ্দিস) কথা উল্লেখ করেছেন, ফলে হাদীসটি সহীহ হয়েছে এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য] (১), এবং এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং শুআইব আল-আরনাউত বলেন: এর সনদ সহীহ (২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামে আকিকা:আকিকার বৈধতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজ দ্বারা সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে সালাফদের থেকে অনেক আছার (বর্ণনা) বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে তার বিবরণ তুলে ধরা হলো:
প্রথমত:
মৌখিক সুন্নাহ। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. ইমাম বুখারী তাঁর সনদে সালমান বিন আমের আদ-দাব্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (সন্তানের সাথে আকিকা রয়েছে, সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্ট দূর করো)। এটি আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারেমী এবং বায়হাকীও বর্ণনা করেছেন (৩)।
তাঁর উক্তি: (ফাহরিকু) শব্দটি 'হারাগা' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ: প্রবাহিত করা। আরবরা বলে: 'আরাকাল মাআ ইয়ুরিকুহু' (সে পানি প্রবাহিত করেছে) এবং 'হারাকাহু ইয়াহরিকুহু' 'হা' বর্ণে ফাতহাহ সহযোগে; আবার একে 'আহরাকতুল মাআ আহরিকুহু ইহরাকান'ও বলা হয়। এতে হামযাহকে 'হা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কখনও কখনও মূল বর্ণ ও পরিবর্তিত বর্ণ উভয়কে একত্রিত করা হয় যেমনটি (ফাহরিকু) শব্দে ঘটেছে (৪)।
২. সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে; তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করা হবে, তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং তার নাম রাখা হবে)। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই, এবং তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والنسائي وابن ماجة والبيهقي وأحمد والحاكم وصححه ووافقه الذهبي وقال الترمذي: حسن صحيح. وقال الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح (1).
3. عن أم كُرْز الكعبية رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أبو داود واللفظ له وأحمد والبيهقي (2).
قال الإمام النووي: [قوله صلى الله عليه وسلم: (شاتان مكافئتان) أي متساويتان وهو بكسر الفاء وبهمزة بعدها هكذا صوابه عن أهل اللغة وممن صرح به الجوهري في صحاحه قال: ويقوله المحدثون مكافَئتان يعني بفتح الفاء والصحيح كسرها] (3).
4. وفي رواية أخرى لحديث أم كرز أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة فقال: (نعم عن الغلام شاتان وعن الأنثى واحدة، لا يضركم ذكراناً أم إناثاً) رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجة وابن حبان والحاكم وأحمد، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وصححه الحاكم ووافقه الذهبي، وصححه النووي. وقال الألباني: صحيح. وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح (4).
--------------------------------------------
এবং নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, আহমাদ ও হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন; ইমাম হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম আয-যাহাবী তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানী বলেছেন: এটি সহীহ (১)।
৩. উম্মু কুরয আল-কাবিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (ছেলের পক্ষ থেকে দুটি সমপর্যায়ের বকরী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী)। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, এছাড়া আহমাদ ও বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
ইমাম নববী বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (দুটি সমপর্যায়ের বকরী) অর্থাৎ দুটি সমান; আর এটি ‘ফা’ বর্ণে কাসরা (জের) এবং এরপর হামযা যোগে গঠিত। ভাষাবিদদের নিকট এটিই সঠিক রূপ এবং জাওহারী তাঁর ‘সিহাহ’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: মুহাদ্দিসগণ একে ‘মুকাফাতানি’ অর্থাৎ ‘ফা’ বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে উচ্চারণ করেন, তবে সঠিক হলো কাসরা (জের) দিয়ে পড়া] (৩)।
৪. উম্মু কুরয-এর বর্ণিত অপর এক রেওয়ায়েতে আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: (হ্যাঁ, ছেলের পক্ষ থেকে দুটি বকরী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি। পশুগুলো পুরুষ নাকি স্ত্রী তা তোমাদের জন্য কোনো ক্ষতি করবে না)। এটি আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকিম ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমাম নববীও একে সহীহ বলেছেন। আলবানী বলেছেন: সহীহ। আর শেখ শুআইব আরনাউত বলেছেন: হাদীসটি সহীহ (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5. عن يوسف بن ماهك قال: دخلنا على حفصة بنت عبد الرحمن فسألناها عن العقيقة فأخبرتنا أن عائشة أخبرتها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (عن الغلام شاتان وعن الجارية شاة) رواه ابن حبان واللفظ له ورواه أحمد والترمذي وابن ماجة وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح (1).
6. وفي رواية أخرى للحديث السابق: (أن عائشة أخبرتهم أن الرسول صلى الله عليه وسلم أمرهم عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه الترمذي، وقال: حسن صحيح. ورواه أيضاً البيهقي وقال الألباني: صحيح (2).
7. عن أسماء بنت يزيد رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (العقيقة حق عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أحمد والطبراني وقال الهيثمي رواه أحمد والطبراني في الكبير ورجاله محتج بهم (3).
8. عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم قال: (مع الغلام عقيقة فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى) قال الهيثمي رواه البزار ورجاله رجال الصحيح (4).
9. عن يزيد بن عبدٍ المزني عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (يُعق عن الغلام ولا يُمس رأسه بدم) رواه ابن ماجة والطحاوي والطبراني في الأوسط وفي الكبير
--------------------------------------------
৫. ইউসুফ ইবনে মাহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা হাফসা বিনতে আব্দুর রহমানের নিকট গেলাম এবং তাকে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাদের অবহিত করলেন যে, আয়েশা (রা.) তাকে জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল) এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, আর এটি আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহীহ (১)।
৬. পূর্বোক্ত হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, ছেলের পক্ষ থেকে সমমানের দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল) এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান সহীহ। বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বলেছেন: সহীহ (২)।
৭. আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আকীকা একটি হক; ছেলের পক্ষ থেকে সমমানের দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল) এটি আহমদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামী বলেছেন: এটি আহমদ ও তাবারানী 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (৩)।
৮. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (ছেলের সাথে আকীকা রয়েছে, অতএব তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো) হাইসামী বলেছেন: এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী (৪)।
৯. ইয়াযীদ ইবনে আবদ আল-মুযানী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ছেলের পক্ষ থেকে আকীকা করা হবে এবং তার মাথায় রক্ত মাখানো হবে না) এটি ইবনে মাজাহ, তহাবী এবং তাবারানী তাঁর 'আল-আওসাত' ও 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال الهيثمي: ورجاله ثقات، وقال البوصيري في الزوائد: إسناده حسن وصححه الألباني (1).
10. عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بتسمية المولود يوم سابعه ووضع الأذى عنه والعق) رواه الترمذي وقال حسن غريب. وقال الألباني: حسن (2).
11. عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا كان يوم سابعه فأهريقوا عنه دماً وأميطوا عنه الأذى وسمُّوه) رواه الطبراني في الأوسط والكبير ورجاله ثقات كما قال الهيثمي (3).
12. عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (للغلام عقيقتان وللجارية عقيقة) قال الهيثمي: رواه البزار والطبراني في الكبير وفيه عمران بن عيينة وثقه ابن معين وابن حبان وفيه ضعف (4).
وقال الشيخ الألباني: أخرجه الطحاوي بسند جيد في الشواهد وذكر أن طريق الطحاوي سالمة من الضعف (5).
13. عن عائشة رضي الله عنها قالت في حديث العقيقة: (وكان أهل الجاهلية يجعلون قطنة في دم العقيقة ويجعلونه على رأس الصبي فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يجعل مكان الدم خلوفاً) (6).
--------------------------------------------
হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, এবং বুসিরি 'যাওয়াইদ'-এ বলেছেন: এর সনদ হাসান এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন (১)।
১০. আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখা, তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং আকিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান গারীব। আলবানী একে হাসান বলেছেন (২)।
১১. ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন (নবজাতকের) সপ্তম দিন আসবে, তখন তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (পশু জবাই করো), তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো এবং তার নাম রাখো।" তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' এবং 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি যেমনটি বলেছেন যে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (৩)।
১২. ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পুত্রের জন্য দুটি আকিকা এবং কন্যার জন্য একটি আকিকা।" হাইসামি বলেছেন: বাযযার এবং তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইমরান ইবনে উয়াইনা রয়েছেন, যাকে ইবনে মাঈন এবং ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে তার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে (৪)।
এবং শায়খ আলবানী বলেছেন: তহাবী এটি 'আশ-শাওয়াহিদ'-এ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তহাবীর বর্ণনা সূত্রটি দুর্বলতা থেকে মুক্ত (৫)।
১৩. আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি আকিকা সম্পর্কিত হাদিসে বলেন: "জাহেলি যুগের লোকেরা আকিকার রক্তে তুলা ভিজিয়ে তা শিশুর মাথায় লাগাতো, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যে রক্তের পরিবর্তে যেন খালুফ (এক প্রকার সুগন্ধি) ব্যবহার করা হয়" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
14. عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن اليهود تعق عن الغلام ولا تعق عن الجارية فعقوا عن الغلام شاتين وعن الجارية شاة) (1).
15. عن عبد الله بن بريدة عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (العقيقة تذبح لسبع أو أربع عشرة أو أحد وعشرين) رواه الطبراني، وقال: لم يروه عن قتادة إلا إسماعيل تفرد به الخفاف (2).
16. عن أم سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم في العقيقة قال: (من ولد له ولد فأحب أن ينسك عنه فليفعل) رواه الطبراني وقال: لم يرو هذا الحديث عن الزهري إلا إسماعيل، وإسماعيل بن مسلم ضعيف (3).
17. عن القاسم بن عبد الرحمن عن محمد بن علي عن أبيه قال: عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن والحسين عن كل واحد منهما بكبش ودينار ودخل رسول الله على فاطمة في عقيقة أحدهما فقال: (يا فاطمة ما فعل لحم عقيقتكم قالت: يا رسول الله أكلنا وأطعمنا وتصدقنا وقد بقي منه قالت فناولته الذراع وهو قائم فأكله بغير خبز ثم دخل في الصلاة وما مس ماءً) رواه ابن أبي الدنيا، وهو حديث مرسل في إسناده القاسم بن عبد الرحمن وهو ضعيف جداً (4).
18. عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: (سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة فقال: لا أحب العقوق، وكأنه كره الاسم. فقالوا: يا رسول الله إنما نسألك عن أحدنا يولد له. قال: من أحب منكم أن ينسك عن ولده فليفعل عن
--------------------------------------------
১৪. আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইহুদিরা ছেলের পক্ষ থেকে আকিকা করে কিন্তু মেয়ের পক্ষ থেকে আকিকা করে না। সুতরাং তোমরা ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করো।" (১)
১৫. আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আকিকা সপ্তম, চতুর্দশ বা একুশতম দিনে জবাই করতে হয়।" তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: কাতাদাহ থেকে ইসমাইল ব্যতীত কেউ এটি বর্ণনা করেনি, খাফফাফ এতে একক হয়ে গেছেন (২)।
১৬. উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকিকা সম্পর্কে বলেছেন: "যার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং সে তার পক্ষ থেকে কুরবানি করতে পছন্দ করে, সে যেন তা করে।" তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: যুহরি থেকে ইসমাইল ব্যতীত কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেনি, আর ইসমাইল ইবনে মুসলিম দুর্বল (৩)।
১৭. কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, মুহাম্মাদ ইবনে আলি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান এবং হুসাইনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের জন্য একটি করে ভেড়া এবং একটি দিনার দিয়ে আকিকা করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল তাঁদের একজনের আকিকার সময় ফাতিমার কাছে আসলেন এবং বললেন: "হে ফাতিমা, তোমাদের আকিকার গোশতের কী হলো?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা খেয়েছি, অন্যদের খাইয়েছি এবং সদকা করেছি, আর কিছু অবশিষ্ট আছে।" বর্ণনাকারী বলেন, ফাতিমা তাঁকে সামনের পায়ের গোশত দিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তা রুটি ছাড়াই খেলেন, এরপর নামাজে প্রবেশ করলেন এবং পানি স্পর্শ করেননি (নতুন করে ওজু করেননি)। ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি বর্ণনা করেছেন, এটি একটি মুরসাল হাদিস এবং এর সনদে কাসিম ইবনে আবদুর রহমান রয়েছেন যিনি অত্যন্ত দুর্বল (৪)।
১৮. আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি অবাধ্যতা (উকুক) পছন্দ করি না।" যেন তিনি এই নামটিকে অপছন্দ করেছিলেন। তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কেবল আমাদের কারো সন্তান জন্ম নিলে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি।" তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে তার সন্তানের পক্ষ থেকে কুরবানি করতে পছন্দ করে, সে যেন তা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة) رواه أحمد وأبو داود والنسائي والحاكم والبيهقي، وقال الحاكم: صحيح الإسناد ووافقه الذهبي.
وقال الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح.
وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: وهذا سند حسن.
والحديث رواه البيهقي من طريقين الأول طريق عمرو بن شعيب المذكورة أعلاه، والثانية عن زيد بن أسلم عن رجل من بني ضمرة عن أبيه فذكره ثم قال: [وهذا إذا انضم إلى الأول قويا] (1).
19. عن أبي رافع رضي الله عنه أن الحسن بن علي حين ولدته أمه أرادت أن تعق عنه بكبش عظيم فأتت النبي صلى الله عليه وسلم فقال لها لا تعقي عنه بشيء ولكن احلقي شعر رأسه ثم تصدقي بوزنه من الورق في سبيل الله عز وجل أو على ابن السبيل وولدت الحسين من العام المقبل فصنعت مثل ذلك) رواه البيهقي وقال: تفرد به ابن عقيل وهو إن صح فكأنه أراد أن يتولى العقيقة عنهما بنفسه كما رويناه فأمرها بغيرها وهو التصدق بوزن شعرهما من الوَرِق (2).
20. عن جعفر بن محمد عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في العقيقة التي عقتها فاطمة عن الحسن والحسين (أن يبعثوا إلى القابلة منها برجل وكلوا وأطعموا ولا تكسروا منها عظماً) رواه أبو داود في المراسيل كما ذكره البيهقي (3).
--------------------------------------------
ছেলে সন্তানের জন্য সমমানের দুটি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি বকরী) বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকেম এবং বায়হাকী। হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
শেখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী বলেছেন: হাসান সহীহ।
শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেছেন: এবং এই সনদটি হাসান।
হাদিসটি বায়হাকী দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: প্রথমটি উপরে উল্লিখিত আমর ইবনে শুআইবের সূত্র, আর দ্বিতীয়টি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বনু দামরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করে বলেন: [এটি যখন প্রথমটির সাথে যুক্ত হয় তখন শক্তিশালী হয়] (১)।
১৯. আবু রাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, হাসান বিন আলীর জন্মের সময় তাঁর মা তাঁর পক্ষ থেকে একটি বড় দুম্বা দিয়ে আকীকা করতে চাইলেন। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। নবীজি তাঁকে বললেন, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কিছু দিয়ে আকীকা করো না, বরং তাঁর মাথার চুল মুণ্ডন করো, এরপর তাঁর চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা আল্লাহর পথে অথবা মুসাফিরদের জন্য সদকা করো। পরবর্তী বছর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তিনি অনুরূপ কাজই করলেন) বর্ণনা করেছেন বায়হাকী এবং তিনি বলেছেন: ইবনে আকীল এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। আর এটি যদি সহীহ হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যেন নবীজি নিজেই তাঁদের উভয়ের আকীকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি, তাই তিনি ফাতিমাকে অন্য কাজের নির্দেশ দিয়েছেন আর তা হলো তাঁদের চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা সদকা করা (২)।
২০. জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে যে আকীকা করেছিলেন সে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তারা যেন তা থেকে ধাত্রীর কাছে একটি পা পাঠিয়ে দেয়; আর তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে খাওয়াও এবং এর কোনো হাড় ভেঙো না) বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ 'আল-মরাসীল' গ্রন্থে, যেমনটি বায়হাকী উল্লেখ করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
21. وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (عن الغلام عقيقتان وعن الجارية عقيقة) رواه الطحاوي والبزار والطبراني في الكبير وهو حديث صحيح كما قال الشيخ الألباني (1).
ثانياً:
السنة الفعلية الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنها أحاديث:
1. عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عقّ عن الحسن والحسين كبشاً كبشاً) رواه أبو داود (2). وقال النووي: رواه أبو داود بإسناد صحيح (3). وقال الألباني: وهذا إسناد صحيح على شرط البخاري وقد صححه عبد الحق الإشبيلي في الأحكام الكبرى (4). وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: وأخرجه ابن الجارود والطبراني وإسناده صحيح (5).
2. وفي رواية أخرى لحديث ابن عباس السابق: (أن الرسول صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين بكبشين كبشين) رواه النسائي وقال الألباني: صحيح (6).
3. عن بريدة رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم: (عق عن الحسن والحسين) رواه أحمد والنسائي والطبراني (7)، وقال النووي رواه النسائي بإسناد صحيح (8).
--------------------------------------------
২১. ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (পুত্রসন্তানের পক্ষ থেকে দুটি আকিকা এবং কন্যাসন্তানের পক্ষ থেকে একটি আকিকা)। এটি তহাবী, বাযযার এবং তাবারানী 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ হাদিস, যেমনটি শায়খ আলবানী (১) বলেছেন।
দ্বিতীয়ত:
কর্মগত সুন্নাহ যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত, তার মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত হাদিসগুলো:
১. ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি একটি করে দুম্বা আকিকা দিয়েছেন)। এটি আবু দাউদ (২) বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী বলেন: আবু দাউদ এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন (৩)। আলবানী বলেন: এটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী একটি সহিহ সনদ এবং আব্দুল হক আল-ইশবিলি এটি 'আল-আহকামুল কুবরা' (৪)-তে সহিহ বলেছেন। শায়খ শুআইব আল-আরনাউত বলেন: এটি ইবনুল জারুদ ও তাবারানীও বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ (৫)।
২. ইবনে আব্বাসের পূর্বোক্ত হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে দুটি দুটি করে দুম্বা আকিকা দিয়েছেন)। এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বলেছেন: সহিহ (৬)।
৩. বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): (হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা দিয়েছেন)। এটি আহমাদ, নাসাঈ ও তাবারানী (৭) বর্ণনা করেছেন এবং নববী বলেন: নাসাঈ এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال الألباني: صحيح (1). وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: وإسناده صحيح على شرط مسلم (2).
4. عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: (عقَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حسن وحسين بكبشين) رواه ابن حبان وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح (3).
وأخرجه الطحاوي في مشكل الآثار وأبو يعلى والبزار والبيهقي، وصححه عبدالحق في الأحكام الكبرى وقال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح. وقال الساعاتي ورجاله ثقات (4).
5. عن عائشة رضي الله عنها قالت: (عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حسن وحسين يوم السابع وسماهما وأمر أن يماط عن رأسهما الأذى) رواه ابن حبان وقال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن. ورواه البيهقي وقال النووي: بإسناد حسن (5)، ورواه الحاكم وصححه ووافقه الذهبي.
6. وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم: (عق عن الحسن والحسين وقال: قولوا بسم الله والله أكبر اللهم لك وإليك هذه عقيقة فلان) رواه البيهقي بإسناد حسن كما قال النووي (6).
--------------------------------------------
আলবানী বলেন: এটি সহীহ (১)। এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেন: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ (২)।
৪. আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে দুটি ভেড়া দ্বারা আকীকা করেছেন)। এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেন: হাদিসটি সহীহ (৩)।
তাহাবী এটি 'মুশকিলুল আসার' গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা, বাজ্জার ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। আব্দুল হক 'আল-আহকাম আল-কুবরা' গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন এবং হাইসামী বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী। আস-সাআতী বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (৪)।
৫. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম দিনে হাসান ও হুসাইনের আকীকা করেছেন এবং তাদের নামকরণ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের মাথা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা হয়)। এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউত বলেন: এর সনদ হাসান। বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং নববী বলেন: এর সনদ হাসান (৫)। এটি হাকেম বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
৬. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের আকীকা করেছেন এবং বলেছেন: (তোমরা বলো: আল্লাহর নামে, আল্লাহ সুমহান। হে আল্লাহ, এটি আপনারই জন্য এবং আপনারই সমীপে নিবেদিত; এটি অমুকের আকীকা)। বায়হাকী এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি ইমাম নববী বলেছেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
7. عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: (أن النبي صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين عن كل واحد منهما كبشين اثنين مثلين متكافئين) قال الشيخ الأرناؤوط: أخرجه الحاكم بسند حسن في الشواهد (1).
8. وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما: (أن الرسول صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين) رواه أبو يعلى والطبراني، قال الشيخ الألباني: [ورجاله كلهم ثقات رجال مسلم غير المغيرة بن مسلم وهو القسملي وهو ثقة لكن أبا الزبير مدلس وقد عنعنه ولولا ذلك لقلنا بصحته وقال الهيثمي: رواه أبو يعلى ورجاله ثقات] (2). وقال الساعاتي: رجاله ثقات (3).
9. عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: (عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن بشاة وقال يا فاطمة احلقي رأسه وتصدقي بزنة شعره فضة قال فوزنته فكان وزنه درهماً أو بعض درهم) رواه الترمذي وقال حديث حسن غريب. وحسنه الألباني (4).
ثالثاً:
هل عق النبي صلى الله عليه وسلم عن ولده إبراهيم؟
وردت بعض الأحاديث التي تفيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قد عقَّ عن ولده إبراهيم ولكن هذه الروايات فيها نظر فمن هذه الروايات:
--------------------------------------------
৭. আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন—উভয়ের পক্ষ থেকেই দুটি করে সমমানের ও সমতুল্য ভেড়া দিয়ে আকিকা করেছেন)। শাইখ আরনাউত বলেছেন: আল-হাকিম 'আশ-শাওয়াহিদ' গ্রন্থে এটি একটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন (১)।
৮. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে আকিকা করেছেন)। এটি আবু ইয়ালা ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানি বলেছেন: [এর বর্ণনাকারীদের সকলেই বিশ্বস্ত এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী, তবে মুগিরা ইবনে মুসলিম ব্যতীত; তিনি হলেন আল-কাসমালি এবং তিনি বিশ্বস্ত। কিন্তু আবু জুবাইর একজন 'মুদাল্লিস' এবং তিনি এটি 'আন' শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন; এটি না হলে আমরা একে সহিহ বলতাম। আর হাইসামি বলেছেন: আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত] (২)। আস-সাআতি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত (৩)।
৯. আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসানের পক্ষ থেকে একটি বকরি দিয়ে আকিকা করেছেন এবং বলেছেন: হে ফাতিমা, তার মাথা মুণ্ডন করো এবং তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা সদকা করো। তিনি বলেন: এরপর আমি তা ওজন করলাম এবং এর ওজন এক দিরহাম বা দিরহামের কিছু অংশ হলো)। এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি 'হাসান গারিব' হাদিস। আলবানি একে হাসান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (৪)।
তৃতীয়ত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে আকিকা করেছিলেন?
কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে আকিকা করেছিলেন, কিন্তু এই বর্ণনাগুলোর গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে পর্যালোচনা রয়েছে। সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
1. ما ذكره الزبير بن بكار الزبيري بسنده: (أن مارية القبطية وضعت إبراهيم فلما كان يوم سابعه عق عنه بكبش وحلق رأسه وتصدق بوزن شعره على المساكين وَرِقاً) (1).
2. وقال المحب الطبري: [الفصل الثالث في ذكر إبراهيم بن النبي صلى الله عليه وسلم وذكر أمه وميلاده وعقيقته وما يتعلق بذلك، أمه مارية القبطية
… فلما كان يوم سابعه عق عنه بكبش وحلق رأسه
… وسمَّاه يومئذ وتصدق بزنة شعره وَرِقاً على المساكين] (2).
3. وقال القسطلاني: [ولد في ذي الحجة سنة ثمان من الهجرة وقيل ولد بالعالية ذكره الزبير بن بكار وكانت سلمى زوج أبي رافع مولاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قابلته فبشر أبو رافع به النبي صلى الله عليه وسلم فوهب له عبداً وعق عنه يوم سابعه بكبشين وحلق رأسه أبو هند وسماه النبي صلى الله عليه وسلم يومئذ وتصدق بزنة شعره ورقاً على المساكين ودفنوا شعره في الأرض] (3).
وقال الزرقاني: [وعق عنه – أي عن إبراهيم - يوم سابعه بكبشين وفي العيون بكبش فيحتمل أنه تعدد الذبح فأخبر من حضر التعدد به ومن لم يحضره بخلافه] (4).
--------------------------------------------
১. যুবাইর ইবনে বাক্কার আল-যুবাইরি তার সনদে যা বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই মারিয়া আল-কিবতিয়া ইব্রাহিমকে জন্ম দিয়েছিলেন। যখন তার জন্মের সপ্তম দিন হলো, তখন তার পক্ষ থেকে একটি দুম্বা আকিকা করা হলো, তার মাথা মুণ্ডন করা হলো এবং তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা মিসকিনদের মাঝে সদকা করা হলো) (১)।
২. এবং আল-মুহিব্ব আত-তাবারী বলেন: [তৃতীয় অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিমের আলোচনা, তার মাতা, তার জন্ম, তার আকিকা এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদির বর্ণনায়; তার মা মারিয়া আল-কিবতিয়া ... যখন তার জন্মের সপ্তম দিন হলো, তখন তার পক্ষ থেকে একটি দুম্বা আকিকা করা হলো এবং তার মাথা মুণ্ডন করা হলো ... ওই দিনই তিনি তার নামকরণ করলেন এবং তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা মিসকিনদের মাঝে সদকা করলেন] (২)।
৩. এবং আল-কাসতালানি বলেন: [তিনি হিজরি অষ্টম সনের জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়েছে যে, তিনি আল-আলিয়া নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—এ কথা যুবাইর ইবনে বাক্কার উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাসী আবু রাফিকের স্ত্রী সালমা তার ধাত্রী ছিলেন। আবু রাফিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার জন্মের সুসংবাদ প্রদান করেন, যার ফলে তিনি তাকে একজন দাস উপহার দেন। জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে দুটি দুম্বা আকিকা করা হলো, আবু হিন্দ তার মাথা মুণ্ডন করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই দিনই তার নামকরণ করলেন। আর তার চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা মিসকিনদের মাঝে সদকা করা হলো এবং তারা তার চুল মাটিতে পুঁতে ফেললেন] (৩)।
এবং আল-জুরকানি বলেন: [তার পক্ষ থেকে—অর্থাৎ ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে—সপ্তম দিনে দুটি দুম্বা আকিকা করা হয়েছিল। আর 'আল-উয়ুন' গ্রন্থে আছে একটি দুম্বা। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, পশু জবেহ একাধিকবার হয়েছিল। তাই যারা একাধিক জবেহ প্রত্যক্ষ করেছিলেন তারা সেভাবে সংবাদ দিয়েছেন, আর যারা তা প্রত্যক্ষ করেননি তারা তার বিপরীত (একটি) সংবাদ দিয়েছেন] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4. وذكر ابن كثير عن الواقدي أنه لما ولدت مارية لرسول الله صلى الله عليه وسلم غلاماً سماه إبراهيم وعق عنه بشاة يوم سابعه وحلق رأسه وتصدق بزنة شعره فضة على المساكين وأمر بشعره فدفن في الأرض وسماه إبراهيم] (1).
5. وذكر الحافظ ابن عبد البر كلام الزبير بن بكار المتقدم، ثم قال: [والحديث المرفوع أصح من قوله وأولى إن شاء الله عز وجل حدثنا سعيد بن نصير قال حدثنا قاسم بن أصبغ قال حدثنا محمد بن وضاح قال حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا شبابة بن سوار قال حدثنا سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ولد لي الليلة غلام فسميته باسم إبراهيم) قال الزبير ثم دفعه إلى أم سيف امرأة قين بالمدينة يقال له أبو سيف، قال أبو عمر رحمه الله في حديث أنس تصديق ما ذكره الزبير] (2).
هذه هي الروايات التي وقفت عليها في عقيقة إبراهيم ابن النبي صلى الله عليه وسلم ولكن هذه الروايات ليست ثابتة كما قال أهل العلم. قال العلامة ابن كثير: [وكذا ما رواه الزبير بن بكار في كتاب النسب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن ولده إبراهيم وسماه إبراهيم فإسناده لا يثبت وهو مخالف لما في الصحيح ولو صح لحمل على أنه اشتهر اسمه بذلك يومئذ والله أعلم] (3).
وقال الحافظ ابن حجر: [وكذلك إبراهيم بن النبي صلى الله عليه وسلم وعبد الله بن الزبير فإنه لم ينقل أنه عق عن أحد منهم] (4).
--------------------------------------------
৪. ইবনে কাসীর আল-ওয়াকিদী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন মারিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন, তিনি তার নাম রাখলেন ইব্রাহীম, তার সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে একটি বকরি দিয়ে আকীকা দিলেন, তার মাথা মুণ্ডন করলেন, তার চুলের ওজনে রূপা মিসকিনদের মাঝে দান করলেন এবং তার চুল মাটিতে দাফন করার নির্দেশ দিলেন; আর তিনি তার নাম রেখেছিলেন ইব্রাহীম] (১)।
৫. হাফেজ ইবনে আব্দুল বার পূর্বে বর্ণিত জুবাইর বিন বাক্কারের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: [জুবাইরের বক্তব্যের চেয়ে মারফূ হাদীসটি অধিক সহীহ এবং ইনশাআল্লাহ অধিক গ্রহণযোগ্য। সাঈদ বিন নুসায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন কাসিম বিন আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শাবাবাহ বিন সাওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুলায়মান বিন আল-মুগীরাহ সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আজ রাতে আমার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে, অতঃপর আমি তার নাম ইব্রাহীম রেখেছি)। জুবাইর বলেন, অতঃপর তিনি তাকে মদীনার জনৈক কামার—যাকে আবু সাইফ বলা হতো—তার স্ত্রী উম্মে সাইফের কাছে অর্পণ করলেন। আবু ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আনাসের হাদীসটি জুবাইর যা উল্লেখ করেছেন তার সত্যতা প্রতিপন্ন করে] (২)।
এগুলোই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীমের আকীকা সম্পর্কে সেই বর্ণনাগুলো যা আমি অবগত হয়েছি, তবে এই বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত বা প্রমাণিত নয় যেমনটি ইলমে হাদীসের বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন। আল্লামা ইবনে কাসীর বলেন: [অনুরূপভাবে জুবাইর বিন বাক্কার ‘কিতাবুন নসব’-এ যা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের আকীকা দিয়েছেন এবং তার নাম ইব্রাহীম রেখেছেন; এর বর্ণনাসূত্র প্রমাণিত নয় এবং এটি সহীহ বর্ণনার পরিপন্থী। যদি এটি সহীহও হতো, তবে ধরে নেওয়া হতো যে সেদিন তাঁর এই নাম প্রসিদ্ধ হয়েছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন] (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: [অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীম এবং আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবাইর; তাঁদের কারও পক্ষ থেকেই আকীকা করার বিষয় বর্ণিত হয়নি] (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال التهانوي: [وأما عقيقة إبراهيم فهو قول الزبير بن بكار ولم يذكر له سنداً فكيف يجوز الاحتجاج بالقول الذي لا سند له ولو كان عقيقة إبراهيم ثابتاً لروي بالأسانيد الصحيحة كما رويت أحاديث الوليمة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فدل ذلك أنه ليس بثابت وصرح الحافظ في الفتح بأنه لم ينقل أحد أنه عق عنه، وإذا كان كذلك فهو حجة لنا لأنه لو لم ينتسخ العقيقة لكان إبراهيم أحق بالعقيقة من غيره ومما يرد قول الزبير أنه قال: سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم السابع.
وقد روى ابن عبد البر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه سماه إبراهيم ليلة ولد وقال: الحديث المرفوع أولى من قول الزبير وأسنده الطحاوي في مشكله عن ثابت البناني عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ولد لي الليلة غلام فسميته بأبي إبراهيم) رجاله كلهم ثقات وهو متفق عليه فدل ذلك أن قول الزبير جزاف ولا يلتفت إليه] (1).
وخلاصة الأمر أنه لم يثبت بطريق صحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم عق عن ولده إبراهيم والله أعلم.
رابعاً:
الآثار الواردة عن الصحابة والتابعين في العقيقة:
1. عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما (أنه لم يكن يسأله أحد من ولده عقيقة إلا أعطاه إياها وكان يعق عن أولاده شاة شاة عن الذكر والأنثى) رواه مالك والبيهقي (2).
--------------------------------------------
এবং আল-থানাভী বলেন: [আর ইব্রাহীমের আকীকা প্রসঙ্গে যে বিষয়টি আছে, তা হলো যুবায়ের ইবনে বাক্কারের উক্তি; অথচ তিনি এর কোনো সনদ (সূত্র) উল্লেখ করেননি। সুতরাং যে উক্তির কোনো সনদ নেই, তা দ্বারা দলিল পেশ করা কীভাবে বৈধ হতে পারে? যদি ইব্রাহীমের আকীকা প্রমাণিত হতো, তবে তা সহীহ সনদসমূহের মাধ্যমে বর্ণিত হতো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ওলীমার হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে বিষয়টি প্রমাণিত নয়। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ্ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেউ এটি বর্ণনা করেননি যে তাঁর পক্ষ থেকে আকীকা করা হয়েছে। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তা আমাদের পক্ষেই একটি দলিল। কেননা আকীকা যদি রহিত না হতো, তবে ইব্রাহীম অন্যদের চেয়ে আকীকা পাওয়ার অধিক হকদার হতেন। আর যুবায়েরের উক্তিটি খণ্ডনকারী বিষয়গুলোর একটি হলো তাঁর এই কথা যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তম দিনে তাঁর নামকরণ করেছিলেন।
ইবনুল বার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর জন্মের রাতেই তাঁর নাম ইব্রাহীম রেখেছিলেন। তিনি বলেন: মারফূ হাদীস যুবায়েরের উক্তির চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য। ইমাম তহাবী তাঁর ‘মুশকিল’ গ্রন্থে ছাবেত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আজ রাতে আমার এক পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাই আমি আমার পিতা ইব্রাহীমের নামে তাঁর নাম রেখেছি)। এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে যুবায়েরের উক্তিটি অনুমাননির্ভর এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।] (১)।
সারকথা হলো, সহীহ পন্থায় এটি প্রমাণিত নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের পক্ষ থেকে আকীকা করেছিলেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
চতুর্থত:
আকীকা সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের বর্ণিত আসার (বিবরণ) সমূহ:
১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত (তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেউ তাঁর কাছে আকীকার জন্য চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিতেন। তিনি তাঁর সন্তানদের পক্ষ থেকে পুত্র ও কন্যার জন্য একটি করে বকরী আকীকা করতেন)। মালিক ও বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2. عن هشام بن عروة أن أباه عروة بن الزبير كان يعق عن بنيه الذكور والإناث شاة شاة) رواه البيهقي (1).
3. عن أبي الزبير عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين بكبش كبش قال جابر: وفي العقيقة تقطع أعضاء وتطبخ بماء وملح ثم يبعث به إلى الجيران فيقال هذا عقيقة فلان قال أبو الزبير فقلت لجابر أيضع فيه خلاً؟ قال: نعم هو أطيب له. رواه ابن أبي الدنيا في كتاب العيال وقال محققه حديث صحيح وأبو الزبير وإن كان مدلساً إلا أنه صرح بسماعه من جابر كما في آخر الرواية وبهذا يزول التردد الذي وقع للشيخ الألباني في تصحيح هذا الحديث لعلة التدليس هذه (2).
4. عن عطاء قال سألت عائشة رضي الله عنها عن العقيقة قيل لها: أرأيت إن نحر إنسان جزوراً فقالت عائشة: السنة أفضل. رواه ابن أبي الدنيا (3).
5. عن ابن أبي مليكة قال قيل لعائشة وولد لابن أختها غلام فقالوا عقوا عن ابن أختك جزورتين قالت: معاذ الله ولكن ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم شاتان مكافئتان. رواه ابن أبي الدنيا في كتاب العيال وقال محققه إسناد حسن (4).
6. عن عطاء أنه قال في العقيقة تقطع جدولاً وتطبخ بماء وملح ولا تقدح ولا يكسر منها عظم. رواه ابن أبي الدنيا (5).
--------------------------------------------
২. হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা উরওয়াহ ইবনে যুবাইর তাঁর পুত্র ও কন্যা সন্তানদের পক্ষ থেকে একটি করে ছাগল আকিকা দিতেন। এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন (১)।
৩. আবু যুবাইর জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের পক্ষ থেকে একটি করে ভেড়া দিয়ে আকিকা করেছেন। জাবির (রা.) বলেন: আকিকার গোশত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুযায়ী (জোড়ায় জোড়ায়) কাটা হবে এবং পানি ও লবণ দিয়ে রান্না করা হবে। এরপর তা প্রতিবেশীদের কাছে পাঠানো হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের আকিকা। আবু যুবাইর বলেন, আমি জাবিরকে জিজ্ঞেস করলাম, এতে কি সিরকা দেওয়া যাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তা একে আরও সুস্বাদু করে। এটি ইবন আবিদ দুনিয়া তাঁর 'কিতাবুল ইয়াল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর মুহাক্কিক বলেছেন হাদিসটি সহিহ। আবু যুবাইর যদিও মুদাল্লিস, তবে বর্ণনার শেষে তিনি জাবির থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে শায়খ আলবানীর এই হাদিসটি সহিহ করার ক্ষেত্রে 'তাদলিস'-এর কারণে যে দ্বিধা ছিল তা দূর হয়ে যায় (২)।
৪. আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁকে বলা হলো: আপনার কী অভিমত যদি কোনো ব্যক্তি একটি উট জবেহ করে? আয়েশা (রা.) বললেন: সুন্নাহই উত্তম। ইবন আবিদ দুনিয়া এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
৫. ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.)-কে বলা হলো যে তাঁর ভাগনের একটি পুত্রসন্তান হয়েছে। তারা বলল, আপনার ভাগনের পক্ষ থেকে দুটি উট আকিকা করুন। তিনি বললেন: আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন—তা হলো সমমানের দুটি ছাগল। এটি ইবন আবিদ দুনিয়া 'কিতাবুল ইয়াল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর মুহাক্কিক বলেছেন এর সনদ হাসান (৪)।
৬. আতা থেকে বর্ণিত যে, তিনি আকিকা সম্পর্কে বলেছেন: এর অঙ্গগুলো জোড়ায় জোড়ায় আলাদা করা হবে এবং পানি ও লবণ দিয়ে রান্না করা হবে, আর এর কোনো হাড় ভাঙা হবে না। এটি ইবন আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
7. عن حسين المعلم قال سألت عطاء فقال عن الغلام شاتان وعن الجارية شاة تذبح يوم السابع إن تيسر وإلا فأربع عشرة وإلا فإحدى وعشرين. رواه ابن أبي الدنيا في كتاب العيال، وقال محققه إسناد صحيح (1).
8. عن جابر قال كان علي بن حسين يولم في الولادة. رواه ابن أبي الدنيا (2). 9. عن عون العقيلي قال أول مولود ولد بالبصرة عبد الرحمن بن أبي بكرة فنحر أبوه أبو بكرة جزوراً ودعا الناس وأطعمهم. رواه ابن أبي الدنيا (3).
10. قال ابن أبي الدنيا حدثني أبو بكر بن محمد قال سمعت أبا عبد الله أحمد ابن حنبل يُسأل عن العقيقة كيف يصنع بها قال: قال ابن سيرين اصنع بلحم العقيقة كيف شئت قيل كيف يأكلها كلها قال يأكل ويطعم. رواه ابن أبي الدنيا (4).
11. عن ابن سيرين قال: اصنع بلحم العقيقة كيف شئت. رواه ابن أبي الدنيا (5).
12. عن ابن جريج قال عطاء يبدأ بالذبح قبل الحلق ويعق عنه يوم سابعه فإن أخطأهم فالسابع الآخر وقال كل واهدِ. وقلت لعطاء ما المكافئتان قال مثلان والضأن أحب إليه من المعز، ذكرانها أحب إليه من إناثها رأي من عطاء. رواه ابن أبي الدنيا (6).
--------------------------------------------
৭. হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা-কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন, ছেলের পক্ষ থেকে দুটি বকরি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরি সপ্তম দিনে যবেহ করতে হবে যদি সম্ভব হয়। অন্যথায় চৌদ্দতম দিনে, অন্যথায় একুশতম দিনে। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কিতাবুল ইয়াল'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর গবেষক (মুহাক্কিক) বলেছেন এর সনদ সহিহ (১)।
৮. জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী বিন হুসাইন সন্তান জন্ম উপলক্ষে ভোজের (ওলিমা) আয়োজন করতেন। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (২)। ৯. আউন আল-উকাইলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বসরায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম সন্তান ছিলেন আব্দুর রহমান বিন আবি বাকরা। তখন তার পিতা আবু বাকরা একটি উট যবেহ করেন এবং লোকজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ান। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (৩)।
১০. ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেন, আবু বকর বিন মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে আকিকার গোশত কী করা হবে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তিনি বললেন, ইবনে সিরিন বলেছেন: আকিকার গোশত দিয়ে তোমার যা ইচ্ছা করো। বলা হলো, তিনি কি সবটুকুই খাবেন? তিনি বললেন, নিজে খাবে এবং অন্যকে খাওয়াবে। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (৪)।
১১. ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আকিকার গোশত দিয়ে তোমার যা ইচ্ছা তা-ই করো। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (৫)।
১২. ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আতা বলেছেন, মাথা মুণ্ডানোর পূর্বে যবেহ করা শুরু করতে হবে এবং সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকা করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তবে পরবর্তী সপ্তম দিনে। তিনি আরও বলেন, (গোশত) খাও এবং উপহার দাও। আমি আতা-কে বললাম, 'সমতুল্য দুটি' (মুকানিফাতান) বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, একই রকম দুটি। আর ছাগলের চেয়ে ভেড়া তার নিকট অধিক প্রিয় ছিল এবং মাদি প্রাণীর চেয়ে নর প্রাণী তার নিকট অধিক প্রিয় ছিল—এটি আতার ব্যক্তিগত অভিমত। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
13. وعن عطاء في لحم العقيقة تقطع أعضاءً، قال أبو عبد الله – أحمد بن حنبل - يعني لا يكسر لها عظم قال وهذا أعجب إلي. رواه ابن أبي الدنيا (1).
14. عن الحسن أن أنس بن مالك رضي الله عنه كان يعق عن ولده بالجزور (2).
15. عن سعيد قال: سئل قتادة كيف تنحر العقيقة؟ قال: يستقبل القبلة بها ثم يضع الشفرة على حلقها ثم يقول: اللهم منك ولك عقيقة فلان باسم الله، الله أكبر ثم يذبحها (3).
16. وعن قتادة قال: يُسمَّى على العقيقة كما يُسمَّى على الأضحية باسم الله عقيقة فلان (4).
17. عن محمد بن سيرين قال: لو أعلم أنه لم يعق عني لعققت عن نفسي (5).
18. عن يحيى بن سعيد عن محمد بن إبراهيم قال: كان يؤمر بالعقيقة ولو بعصفور (6).
19. عن محمد بن سيرين قال: كان لا يرى بأساً أن يعق قبل السابع أو بعده وكان يقول اجعل لحم العقيقة كيف شئت (7).
20. وعن الحسن قال: العقيقة شاة تذبح عنه يوم سابعه ويحلق رأسه ويسمى (8).
--------------------------------------------
১৩. এবং আতা হতে বর্ণিত, আকিকার গোশত সম্পর্কে তিনি বলেন, তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনুযায়ী কাটা হবে। আবু আব্দুল্লাহ — আহমাদ ইবন হাম্বল — বলেন, অর্থাৎ এর হাড় ভাঙা হবে না। তিনি বলেন, এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। এটি ইবন আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেছেন (১)।
১৪. হাসান হতে বর্ণিত যে, আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার সন্তানের পক্ষ হতে উট দ্বারা আকিকা করতেন (২)।
১৫. সাঈদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আকিকা কীভাবে জবেহ করা হবে? তিনি বললেন: সেটি নিয়ে কিবলামুখী হবে, অতঃপর তার গলায় ছুরি রাখবে এবং বলবে: হে আল্লাহ, এটি আপনার পক্ষ হতে এবং আপনারই জন্য, অমুকের আকিকা, আল্লাহর নামে, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; অতঃপর তা জবেহ করবে (৩)।
১৬. এবং কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরবানির ন্যায় আকিকার সময়ও নাম নেওয়া হবে যে—আল্লাহর নামে, অমুকের আকিকা (৪)।
১৭. মুহাম্মদ ইবন সিরিন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আমি জানতাম যে আমার পক্ষ হতে আকিকা করা হয়নি, তবে আমি নিজের পক্ষ হতে আকিকা করতাম (৫)।
১৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আকিকা করার আদেশ দেওয়া হতো, যদিও তা একটি চড়ুই পাখি দিয়ে হয় (৬)।
১৯. মুহাম্মদ ইবন সিরিন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি (ইবন সিরিন) সপ্তম দিনের আগে বা পরে আকিকা করাতে কোনো সমস্যা মনে করতেন না এবং বলতেন, আকিকার গোশত যেভাবে চাও সেভাবে বণ্টন করো (৭)।
২০. এবং হাসান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আকিকা হলো একটি বকরি, যা সপ্তম দিনে তার পক্ষ হতে জবেহ করা হবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করা হবে ও নাম রাখা হবে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
21. عن هشام عن الحسن وابن سيرين أنهما كانا يكرهان من العقيقة ما يكرهان من الأضحية وقال وهي عندهم بمنزلة الأضحية يأكل ويطعم (1).
22. وأخرج ابن حزم عن بريدة الأسلمي قال: إن الناس يعرضون يوم القيامة على العقيقة كما يعرضون على الصلوات الخمس (2).
--------------------------------------------
২১. হিশাম থেকে বর্ণিত যে, হাসান এবং ইবনে সিরিন আকিকার ক্ষেত্রে সেই বিষয়গুলো অপছন্দ করতেন যা তাঁরা কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন, তাঁদের নিকট এটি কোরবানির সমপর্যায়ের; ব্যক্তি তা থেকে নিজে আহার করবে এবং অন্যকেও আহার করাবে (১)।
২২. ইবনে হাজম বুরাইদাহ আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মানুষকে আকিকার বিষয়ে সেভাবেই উপস্থাপন করা হবে যেভাবে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিষয়ে উপস্থাপন করা হবে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثالثمعنى قول الرسول صلى الله عليه وسلم كل غلام مرتهن بعقيقتهورد في الحديث عن سَمُرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويسمَّى ويحلق رأسه) (1)، وفي رواية عند أحمد والنسائي: (كل غلام رهين بعقيقته) (2)، وفي رواية عند الترمذي وابن ماجة: (كل غلام مرتهن بعقيقته) (3)، وقد اختلف العلماء في تفسير ذلك:
1. قال الخطابي: [قال أحمد: هذا في الشفاعة يريد أنه إن لم يعق عنه فمات طفلاً لم يُشفع في والديه. وقوله (رهينة) بإثبات الهاء، معناه مرهون فعيل بمعنى مفعول، والهاء تقع في هذا للمبالغة، يقال فلان كريمة قومه أي محل العقدة الكريمة عندهم] (4).
وقول أحمد هذا روى البيهقي مثله عن عطاء الخراساني حيث روى بسنده عن يحيى بن حمزة قال: [قلت لعطاء الخراساني ما مرتهن بعقيقته؟ قال: يحرم شفاعة ولده] (5).
2. وقال الملا علي القاري: [(بعقيقته): يعني أنه محبوس سلامته عن الآفات بها أو إنه كالشيء المرهون لا يتم الاستمتاع به دون أن يقابل بها لأنه
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "প্রত্যেক নবজাতক তার আকীকার সাথে বন্ধক" এর অর্থসামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকীকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে, তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবেহ করা হবে, তার নামকরণ করা হবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করা হবে) (১)। আহমাদ ও নাসায়ীর একটি বর্ণনায় এসেছে: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকীকার সাথে দায়বদ্ধ) (২)। তিরমিযী ও ইবনে মাজাহর এক বর্ণনায় এসেছে: (প্রত্যেক নবজাতক তার আকীকার কারণে বন্ধকপ্রাপ্ত) (৩)। এ বিষয়ে আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন:
১. খাত্তাবী বলেন: [আহমাদ বলেছেন: এটি সুপারিশের বিষয়ে। এর অর্থ হলো, যদি তার পক্ষ থেকে আকীকা না দেওয়া হয় এবং সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তবে সে তার পিতামাতার জন্য সুপারিশ করবে না। আর তাঁর উক্তি (রাহিনাহ) 'হা' বর্ণ যুক্ত হওয়া মূলত 'রাহুন' তথা কর্মবাচক বিশেষ্যের (মাফউল) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর 'হা' এখানে অতিশয়তা (মুবালগা) বোঝাতে এসেছে। যেমন বলা হয় অমুক তার সম্প্রদায়ের 'কারীমাহ', অর্থাৎ তাদের কাছে সে পরম সম্মানের আধার] (৪)।
ইমাম আহমাদ রহ.-এর এই বক্তব্যের অনুরূপ বায়হাকী আতা আল-খুরাসানী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীয় সনদে ইয়াহইয়া বিন হামযাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: [আমি আতা আল-খুরাসানীকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তার আকীকার সাথে বন্ধক' বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন: সে তার সন্তানের সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হবে] (৫)।
২. মোল্লা আলী কারী বলেন: [(তার আকীকার সাথে): অর্থাৎ আপদ-বিপদ থেকে তার নিরাপত্তা এর সাথে আটকে থাকে, অথবা এটি এমন কোনো বন্ধকী বস্তুর মতো যা দ্বারা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ উপকার লাভ করা যায় না যতক্ষণ না তার বিপরীতে এটি (আকীকা) প্রদান করা হয়, কারণ তিনি...
--------------------------------------------