(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
نظم ما انفرد به ابن تيمية   (سليمان بن سحمان)

القسم: الفقه العام


الكتاب: نظم ما انفرد به شيخ الإسلام ابن تيمية عن الأئمة الأربعة

المؤلف: سليمان بن سحمان بن مصلح بن حمدان بن مصلح بن حمدان بن مسفر بن محمد بن مالك بن عامر الخثعمي , التبالي , العسيري , النجدي (ت 1349هـ)

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 10

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার একক অভিমতসমূহের কাব্যিক বিন্যাস   (সুলাইমান বিন সাহমান)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: চার ইমামের বিপরীতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার একক অভিমতসমূহের কাব্যিক বিন্যাস

লেখক: সুলাইমান বিন সাহমান বিন মুসলিহ বিন হামদান বিন মুসলিহ বিন হামদান বিন মিসফার বিন মুহাম্মদ বিন মালিক বিন আমির আল-খাসআমি, আত-তাবালি, আল-আসিরি, আন-নাজদি (মৃত্যু ১৩৪৯ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
نَظْمُ ما انْفَرَدَ بِهِ شَيْخُ الإسْلامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ عَنِ الأَئِمَّةِ الأَرْبَعَةِ (1)

لِلعَلَاّمَةِ

سُلَيْمَان بن سَحْمَان

[1266 تقريباً ـ1349 هـ]

رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى

 

نَقَلَهَا إلى الشَّبَكَةِ

أبُو مُهَنَّدٍ النَّجدِيُّ

 

1 - بِحَمْدِ وَلِيِّ الْحَمْدِ مُسْدِي الْفَضَائِلِ … أُؤَلِّفُ نَظْمًا فائِقاً في الْمَسائِلِ

2 - مَسَائِلُ عَنْ شَيْخِ الْوُجُودِ أُولِي التُّقَى … مُبيدِ الْعِدَى مِنْ كُلِّ غَاوٍ وَجَاهِلِ (2)

3 - وَأَعْنِي بِهِ الْحَبْرَ بْنَ تَيْمِيَّةَ الرِّضَى … وَفي بَعْضِها جاءَتْ عُِضالُ الزَّلازِلِ (3)

4 - تَفَرَّدَ عَنْ نُعْمانَ فِيها وَمَالِكٍ … وَعَنْ أَحْمَدَ وَالشَّافِعِيِّ الأَماثِلِ

5 - وَقَدْ جاءَ بَعْضُ الصَّحْبِ يَسْأَلُ نَظْمَها … فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَحْظَى بِدَعْوَةِ سَائِلِ

6 - وَإِنْ لَمْ أَكُنْ ذَا خِبْرَةٍ وَدِرَايةٍ … وَلَسْتُ لِتَحْقِيقِ الْعُلُومِ بِآهِلِ

7 - وَلَكِنَّنِي أَرْجُو مِنَ اللهِ رَحْمَةً … وَعِلْمًا وَتَفْهِيمًا بِكُلِّ الْمَسَائِلِ

‌‌المسأَلة الأُولى

8 - فَأَوَّلُها قَصْرُ الصَّلاةِ لِكُلِّ ما … بِهِ سَفَرٌ يُسْمى لَدَى كُلِّ قَائِلِ

9 - وسيَّانِ عِنْدَ الشَّيْخِ كانَتْ طَوِيلَةً … مَسَافَتُهُ أَوْ دُونَهُ في التَّماثُلِ

--------------------------------------------

(1) طُبِعَت بِتَحقيقِ الشَّيخِ: محمد بن عمر العقيل أبي عبد الرحمن بن عقيل الظاهري وشارك في التصحيح والتعليق محمد خير رمضان يوسف وعبد المحسن بن عبد العزيز العسكر (ط: مكتبة الرشد) [1427 هـ] في السّفْر الّرابْع ص423 وانظر هذه المسائل بنصها في العقود الدرية لابن عبد الهادي ص 212.

تنبيه: يأتي أحياناً في الحاشية في (ب) فالمقصود ط الرويشد كما أشار إلى ذلك المحقق في المقدمة.

(2) الغَاوِيْ: الضَال.

(3) عضال الزلازل: المسائل التي تفرد بها وأثارت خصومه.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া চার ইমামের বিপরীতে যেসব মাসআলায় একক মত পোষণ (انفرد) করেছেন তার কাব্যিক সংকলন (১)

আল্লামা

সুলায়মান ইবনে সাহমান এর রচনা

[আনুমানিক ১২৬৬ - ১৩৪৯ হিজরি]

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

এটি ইন্টারনেটে পরিবেশন করেছেন

আবু মুহান্নাদ আন-নাজদী

 

১ - প্রশংসার মালিক ও গুণাবলীর দাতা আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে... আমি মাসআলাগুলোর বিষয়ে একটি উৎকৃষ্ট কাব্য রচনা করছি।

২ - সেই মাসআলাগুলো যা এসেছে মহৎ ও আল্লাহভীরু বিশ্বনন্দিত শাইখের পক্ষ থেকে... যিনি প্রত্যেক পথভ্রষ্ট ও মূর্খ শত্রুর বিনাশকারী। (২)

৩ - আমি এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি সুপ্রসিদ্ধ আলেম ইবনে তাইমিয়াকে, যাঁর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট... এবং এর কিছু বিষয় কঠিন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। (৩)

৪ - এই মাসআলাগুলোতে তিনি নুমান (আবু হানিফা), মালিক... আহমাদ এবং শ্রেষ্ঠ শাফিঈর থেকে একক মত পোষণ (تفرد) করেছেন।

৫ - কিছু দ্বীনি ভাই এটি কাব্য আকারে সংকলন করার অনুরোধ করেছিলেন... তাই আমি আবেদনকারীর দোয়া পাওয়ার আশায় তা পছন্দ করলাম।

৬ - যদিও আমার এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণমূলক গভীর জ্ঞান (دراية) নেই... এবং আমি ইলম তাহকীক করার যোগ্য নই।

৭ - তবে আমি আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করি... এবং প্রতিটি মাসআলায় জ্ঞান ও সঠিক সমঝশক্তি প্রার্থনা করি।

‌‌প্রথম মাসআলা

৮ - তার প্রথমটি হলো সেই সব ক্ষেত্রে সালাত কসর করা... যাকে প্রত্যেক প্রবক্তার নিকট সফর বলা হয়।

৯ - শাইখের নিকট সফরের দূরত্ব দীর্ঘ হওয়া... বা তার চেয়ে কম হওয়া উভয়ই সমান।

--------------------------------------------

(১) এটি শাইখ মুহাম্মদ বিন উমর আল-আকীল আবু আবদুর রহমান বিন আকীল আল-জাহিরীর তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে এবং এতে সংশোধন ও টীকা প্রদানে অংশগ্রহণ করেছেন মুহাম্মদ খাইর রমজান ইউসুফ এবং আবদুল মুহসিন বিন আবদুল আজিজ আল-আসকার (প্রকাশনী: মাকতাবাতুর রুশদ) [১৪২৭ হিজরি], চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২৩। আর এই মাসআলাগুলো হুবহু দেখুন ইবনে আব্দুল হাদির আল-উকুুদ আদ-দুররিয়্যাহ গ্রন্থের ২১২ পৃষ্ঠায়।

সতর্কতা: অনেক সময় টীকাতে (ب) আসে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রুওয়াইশিদ সংস্করণ, যেমনটি মুহাক্কিক ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

(২) আল-গাভী: পথভ্রষ্ট।

(৩) উদালুজ জালাজিল: সেই সব মাসআলা যাতে তিনি একক মত (تفرد) পোষণ করেছেন এবং যা তাঁর বিরোধীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
10 - وَذَا مَذْهَبٌ لِلظَّاهِرِيَّةِ قَدْ أَتَى … وَعَنْ بَعْضِ أَصْحابِ النَّبِيِّ الأَفَاضِلِ (1)

‌‌المسأَلة الثَّانية والثَّالثة

11 - وَتَسْتَبْرِئُ الْبِكْرُ الْكَبِيرَةُ عِنْدَهُمْ … وَكَانَ إلى أَقْوالِهِمْ غَيْرَ ماثِلِ

12 - وَيَخْتارُ ما اخْتارَ البُخاري وَقَدْ أَتَى … بِذا أَثَرٌ عَنْ نَجْلِ حُلوِ الشَّمائِلِ

13 - وَذَاكَ هُوَ الْفَارُوقُ وَالْقَوْلُ لابْنِهِ … وَثالِثُهَا ما قَالَهُ في الْمَسائِلِ (2)

14 - فَيَخْتارُ ما اخْتارُوا لِسَجْدَةِ قارِئٍ … بَغَيْرِ اشْتِراطٍ لِلْوُضُوءِ لِفاعِلِ (3)

‌‌المسأَلة الرَّابعة

15 - وَمُعْتَقِدًا لَيْلاً فَبانَ بِضِدِّهِ … لأَكْلٍ وَمَطْعُومٍ بِشَهْرِ الْفَضَائِلِ

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية: " وتقصر الصلاة في كل ما يسمى سفراً ، سواء قلّ أو كَثُر ، ولا يتقدر بمدة ، وهو مذهب الظاهرية ، ونصره صاحب المغني فيه ، وسواء كان مباحاً أو محرماً ". الأخبار العلمية من الإختيارات الفقهية للبعلي ص 72.

(2) وقال أيضاً: " ولا يجب استبراء الأمة البكر ، سواء كانت كبيرة أو صغيرة ، وهو مذهب ابن عمر واختيار البخاري ، ورواية عن أحمد. والأشبه: ولا يجب الاستبراء على من اشتراها من رجل صادق وأخبره أن لم يطأ ، أو وطئ واستبرأ. انتهى ".

(3) قال أبو العباس: والذي تبين لي: أن سجود التلاوة واجب مطلقاً في الصلاة وغيرها ، وهو رواية عن أحمد ، ومذهب طائفة من العلماء ، ولا يشرع فيه تحريم ولا تحليل هذا هو السنة المعروفة عن النبي صلى الله عليه وسلم ، وعليها عامة السلف وعلى هذا فليس هو صلاة ، فلا يشترط له شروط الصلاة ، بل يجوز على غير طهارة. كان ابن عمر يسجد على غير طهارة ، واختارها البخاري ، لكن السجود بشروط الصلاة أفضل ، ولا ينبغي أن يخل بذلك إلا لعذر ، فالسجود بلا طهارة خير من الإخلال به ". (الأخبار العلمية ص 60) .
10 - আর এটি যাহিরিয়াদের একটি মাযহাব যা বর্ণিত হয়েছে … এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের থেকে (১)

‌‌দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসআলা

11 - আর তাদের নিকট প্রাপ্তবয়স্কা কুমারী দাসীর ইস্তিবরা করতে হবে … আর তিনি তাদের মতামতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন না

12 - এবং তিনি তা-ই পছন্দ করেন যা ইমাম বুখারি পছন্দ করেছেন, আর এ বিষয়ে একটি বর্ণনা (أثر) এসেছে … সেই ব্যক্তির পুত্র থেকে যার গুণাবলি ছিল অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ

13 - আর তিনি হলেন আল-ফারুক, এবং বক্তব্যটি তাঁর পুত্রের; … আর মাসআলাসমূহের মধ্যে তাদের তৃতীয়টি হলো যা তিনি বলেছেন (২)

14 - সুতরাং তিনি তিলাওয়াতের সিজদার ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দকেই গ্রহণ করেন … আমলকারীর জন্য ওযুর শর্তারোপ করা ব্যতীত (৩)

‌‌চতুর্থ মাসআলা

15 - এবং রাত মনে করে (ভোর হওয়ার পূর্বে আহার করল), অতঃপর তার বিপরীতটি প্রকাশ পেল … ফযিলতের মাসে পানাহার ও খাদ্যের বিষয়ে

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সফর হিসেবে অভিহিত হয় এমন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সালাত কসর করতে হবে, তা অল্প দূরত্ব হোক বা বেশি, এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। এটি যাহিরিয়াদের মাযহাব এবং আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক এতে সমর্থন দিয়েছেন; সফরটি বৈধ (مباح) হোক বা নিষিদ্ধ (محرم)।" আল-বালি রচিত আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ থেকে আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭২।

(২) তিনি আরও বলেন: "কুমারী দাসীর ইস্তিবরা করা ওয়াজিব নয়, সে প্রাপ্তবয়স্কা হোক বা অপ্রাপ্তবয়স্কা। এটি ইবনে উমরের মাযহাব এবং বুখারির পছন্দ, এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। আর অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ মত হলো: ইস্তিবরা করা সেই ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব নয় যে এমন একজন সত্যবাদী লোকের কাছ থেকে দাসী ক্রয় করেছে, যে তাকে নিশ্চিত করেছে যে সে তার সাথে সহবাস করেনি অথবা সহবাস করলেও ইস্তিবরা সম্পন্ন করেছে। সমাপ্ত।"

(৩) আবুল আব্বাস বলেন: "আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো: তিলাওয়াতের সিজদা সালাতের ভেতরে বা বাইরে সর্বাবস্থায় ওয়াজিব। এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং একদল আলিমের মাযহাব। এতে কোনো তাহরিম (তাকবিরে তাহরিমা) বা তাহলিল (সালাম) বিধিবদ্ধ নয়—এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুপরিচিত সুন্নাহ (سنة), এবং এর ওপরই সাধারণ সালাফ (سلف) অটল ছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করে এটি কোনো সালাত নয়, তাই এর জন্য সালাতের শর্তাবলি আবশ্যক নয়; বরং পবিত্রতা (طهارة) ছাড়াও এটি বৈধ। ইবনে উমর পবিত্রতা (طهارة) ছাড়াই সিজদা করতেন এবং ইমাম বুখারি এটিই গ্রহণ করেছেন। তবে সালাতের শর্তাবলি মেনে সিজদা করা উত্তম, এবং ওজর ব্যতীত তা লঙ্ঘন করা অনুচিত। সুতরাং পবিত্রতা (طهارة) ছাড়া সিজদা করা তা বর্জন করার চেয়ে শ্রেয়।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৬০) ।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
16 - فَلَيْسَ الْقَضَا يَوْمًا عَلَيْهِ بِواجِبٍ … وَما حُكْمُهُ إلَاّ كَنَاسٍ وَجَاهِلِ

17 - وَما أَمَرَ الْمَعْصُومُ مَنْ كانَ مُخْطِئًا … مِنَ الصَّحْبِ أَنْ يَقْضِي الصِّيامَ فَسَائِلِ

18 - كَذَلِكَ بَعْضُ التَّابِعِينَ وَبَعْضُ مَنْ … إلى الْفِقْهِ مَنْسُوبٌ وَمَنْ لِلْفَضَائِلِ

19 - عَنَيْتُ بِهِ نَجْلَ الْخَلِيفَةِ ذِي التُّقَى … فَمَذْهَبُهُمْ أَلَاّ قَضاءَ لِفاعِلِ

20 - وَعُمْدَتُهُمْ ما في الصَّحِيحَيْنِ ذِكْرُهُ … وَقَدْ مَرَّ مَنْظُومًا فَكُنْ غَيْرَ غَافِلِ (1)

‌‌المسأَلة الخامسة

21 - وَمَنْ كانَ في حَجَّاتِهِ مُتَمَتِّعًا … بِفَرْضٍ وَإلَاّ في جَمِيعِ النَّوافِلِ

--------------------------------------------

(1) " ومن أكل في شهر رمضان معتقداً أنه ليل ، فبان نهاراً ، فلا قضاء عليه ، وكذا من جامع جاهلاً بالرفث ، أو ناسياً ، وهو إحدى الروايتين عن أحمد ". (الأخبار العلمية ص 109) والحديث الذي أشار إليه رواه البخاري (1959) عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنهما قَالَتْ

أَفْطَرْنَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ غَيْمٍ ثُمَّ طَلَعَتْ الشَّمْسُ قِيلَ لِهِشَامٍ فَأُمِرُوا بِالْقَضَاءِ قَالَ لَا بُدَّ مِنْ قَضَاءٍ. =

= قال شيخ الإسلام: لَا يَجِبُ الْقَضَاءُ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَوْ أَمَرَهُمْ بِالْقَضَاءِ لَشَاعَ ذَلِكَ كَمَا نُقِلَ فِطْرُهُمْ فَلَمَّا لَمْ يُنْقَلْ ذَلِكَ دَلَّ عَلَى إنَّهُ لَمْ يَأْمُرْهُمْ بِهِ (مجموع الفتاوى 25/231) .

تنبيه: القول بعد القضاء مشهور عن عمر في إحدى الروايتين عنه لابنه رضي الله عنهما يراجع المجموع 6/310 ، وفتح الباري 4/235 ، وحاشية الروض لابن القاسم 3/407.

تنبيه ثان: الحديث لم يروه مسلم وإنما هو في البخاري كما تقدم ، كما رواه أبو داود (2359) وابن ماجه (1674) .
16 - সুতরাং তার ওপর একদিনের কাজা (قضاء) ওয়াজিব নয় … আর তার বিধান বিস্মরণকারী (ناس) ও অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তির বিধানের মতোই।

17 - আর নিষ্পাপ (المعصوم) নবী সেই সাহাবীকে (الصحب) কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দেননি যিনি ভুল করেছিলেন, সুতরাং তুমি তা যাচাই করো।

18 - একইভাবে কিছু তাবেয়ি (تابعين) এবং ফিকহ (الفقه) ও মর্যাদাপূর্ণ গুণের সাথে সম্পৃক্ত কিছু আলিমও একই কথা বলেছেন।

19 - এর দ্বারা আমি মুত্তাকী খলিফার পুত্রকে (ইবনে উমর) বুঝিয়েছি... তাদের মাযহাব (مذهب) হলো এই যে, এমন আমলকারীর ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই।

20 - আর তাদের মূল ভিত্তি হলো যা দুই সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে... এবং তা ইতিপূর্বে কাব্য আকারে অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং তুমি উদাসীন থেকো না। (১)

‌‌পঞ্চম মাসয়ালা (المسألة)

21 - আর যে ব্যক্তি তার হজের সফরে তামাত্তুকারী (متمتعًا) ছিল... ফরজের ক্ষেত্রে কিংবা সকল প্রকার নফল (نوافل) ইবাদতের ক্ষেত্রে।

--------------------------------------------

(১) "আর যে ব্যক্তি রমজান মাসে রাত মনে করে আহার করল, অতঃপর প্রকাশ পেল যে তখন দিন ছিল, তবে তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সঙ্গম সম্পর্কে অজ্ঞ (جاهلاً) অবস্থায় কিংবা বিস্মৃত (ناسياً) হয়ে সহবাস করল; এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) একটি।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ. ১০৯)। তিনি যে হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বুখারি (১৯৫৯) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক মেঘলা দিনে ইফতার করেছিলাম, অতঃপর সূর্য উদিত হলো। হিশামকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে কি তাদের কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? তিনি বললেন: অবশ্যই কাজা (قضاء) করতে হবে। =

= শাইখুল ইসলাম বলেন: কাজা (قضاء) ওয়াজিব নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাদের কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দিতেন, তবে তা অবশ্যই প্রচার হতো যেমনভাবে তাদের ইফতারের বিষয়টি বর্ণিত (نقل) হয়েছে। যেহেতু তা বর্ণিত (نقل) হয়নি, তাই এটি প্রমাণ করে যে তিনি তাদের এর নির্দেশ দেননি। (মাজমুউল ফাতাওয়া ২৫/২৩১)।

সতর্কবার্তা: কাজা (قضاء) না থাকার এই অভিমতটি উমর (রা.) থেকে প্রাপ্ত দুটি বর্ণনার (روايتين) একটিতে এবং তাঁর পুত্রের সূত্রে প্রসিদ্ধ (مشهور)। দ্রষ্টব্য: আল-মাজমু ৬/৩১০, ফাতহুল বারি ৪/২৩৫, ইবনুল কাসিমের হাশিয়াতুর রওদ ৩/৪০৭।

দ্বিতীয় সতর্কবার্তা: হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেননি, বরং এটি বুখারিতে রয়েছে যেমন পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়া আবু দাউদ (২৩৫৯) এবং ইবনে মাজাহ (১৬৭৪) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
22 - فَيَكْفِيهِ سَعْيٌ واحِدٌ في اخْتِيارِهِ … وعنْ أحمدٍ يَرْوِيهِ بَعْضُ الأَفاضِلِ

23 - وَكانَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِذَلِكَ قائِلاً … فَأَعْظِمْ بِهِ مِنْ قُدْوَةٍ ذِي فَضَائِلِ (1)

‌‌المسأَلة السَّادسة

24 - وَقَدْ جَوَّزَ الشَّيْخُ السِّبَاقَ بَغَيْرِ أَنْ … يُحَلِّلَهُ ما لَيْسَ يَوْمًا بِجاعِلِ

25 - وَإِنْ أَخْرَجَا جُعْلاً وَهَذَا اخْتِيارُهُ … وَكانَ إمامًا عالِمًا بِالْمَسائِلِ (2)

‌‌المسأَلة السَّابعة والثَّامنة والتَّاسعة

26 - وَمَنْ تَفْتَدِي تَسْتَبْرِئَنَّ بِحَيْضَةٍ … وَفي ذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ في الْمَراسِلِ (3)

--------------------------------------------

(1) " والمتمتع يكفيه سعي واحد بين الصفا والمروة ، وهو إحدى الروايتين عن أحمد ، نقلها عبد الله عن أبيه كالقارن ". (الأخبار العلمية ص 118) .

(2) ويجوز المسابقة بلا محلل ، ولو أخرجه المتسابقان ، ويصح شرط السبق للإنشاد وشراء قوس وكراء حانوت ، وإطعام الجماعة ، لأنه مما يعين على الرمي. (الأخبار العلمية ص 160) .

(3) قال شيخ الإسلام: والمختلعة يكفيها الاعتداد بحيضة واحدة. وهو رواية عن أحمد ومذهب عثمان بن عفان وغيره. (الأخبار العلمية ص 282) .

وقال في مجموع الفتاوى 32/344: وَهَذَا الَّذِي دَلَّ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَالسُّنَّةُ وَآثَارُ أَكَابِرِ الصَّحَابَةِ - كَعُثْمَانِ وَغَيْرِهِ - مِنْ أَنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلَعَة: حَيْضَةٌ وَاحِدَةٌ.اهـ. =

= وذهبت طائفة إلى أن عدة المختلعة عدة المطلقة ثلاث حيض ، واستدل الأولون بما ورد أن امرأة ثابت بن قيس اختلعت من زوجها على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فأمرها النبي صلى الله عليه وسلم أن تعتد بحيضة ، رواه أبو داود (2221) والترمذي (1185) والبيهقي 7/450 ، كلهم رووه موصولاً عن ابن عباس به ، ورواه عبد الرزاق 6/506، عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً وهذا الذي أشار إليه الناظم.
২২ - তাঁর পছন্দের মতানুসারে একটি সাঈ-ই তাঁর জন্য যথেষ্ট … এবং ইমাম আহমাদ থেকে এটি কিছু গুণী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।

২৩ - ইবনে আব্বাসও এই মত পোষণ করতেন … সুতরাং বহু গুণের অধিকারী এমন আদর্শ ব্যক্তির কতই না মহিমা! (১)

‌‌ষষ্ঠ মাসআলা

২৪ - শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) ‘মুহাল্লিল’ (মধ্যস্থতাকারী) ছাড়াই প্রতিযোগিতাকে বৈধ বলেছেন … যা তিনি কখনোই হারাম বা অবৈধ সাব্যস্ত করেননি।

২৫ - যদিও উভয় পক্ষই পুরস্কারের অর্থ প্রদান করে থাকে, আর এটিই তাঁর পছন্দের মত … এবং তিনি মাসআলাসমূহে একজন বিজ্ঞ ইমাম ছিলেন। (২)

‌‌সপ্তম, অষ্টম ও নবম মাসআলা

২৬ - যে নারী মুক্তিপণ (খুলা) প্রদান করবে, সে এক হায়িয দ্বারা ইদ্দত পূর্ণ করবে … আর এ বিষয়ে 'মারাসিল' গ্রন্থে একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (৩)

--------------------------------------------

(১) "আর তামাত্তু হজকারী ব্যক্তির জন্য সাফা ও মারওয়ার মাঝে একটি সাঈ-ই যথেষ্ট। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটি; যা আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে ক্বিরান হজকারীর ন্যায় বর্ণনা করেছেন।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ. ১১৮)।

(২) মুহাল্লিল ছাড়াই প্রতিযোগিতা করা বৈধ, যদিও উভয় প্রতিযোগী পুরস্কারের অর্থ প্রদান করে থাকে। নাত বা কবিতা পাঠ, ধনুক ক্রয়, দোকান ভাড়া এবং দলবদ্ধভাবে ভোজনের শর্তে প্রতিযোগিতার পুরস্কার নির্ধারণ করা সঠিক (صحيح); কারণ এটি তীরন্দাজিতে সহায়তা করে। (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ. ১৬০)।

(৩) শাইখুল ইসলাম বলেন: খুলাকারিণী নারীর জন্য এক হায়িযের ইদ্দত পালনই যথেষ্ট। এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা এবং উসমান ইবন আফফান ও অন্যদের মাজহাব। (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃ. ২৮২)।

তিনি মাজমু আল-ফাতাওয়া (৩২/৩৪৪) গ্রন্থে বলেন: কুরআন, সুন্নাহ এবং উসমান ও অন্যদের ন্যায় বড় বড় সাহাবীদের আছার (آثار) দ্বারা এটিই প্রমাণিত যে, খুলাকারিণী নারীর ইদ্দত হলো এক হায়িয। সমাপ্ত।

= একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, খুলাকারিণী নারীর ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা নারীর ন্যায় তিন হায়িয। তবে প্রথম পক্ষ দলিল পেশ করেছেন যে, সাবিত ইবন কায়সের স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাঁর স্বামীর নিকট থেকে খুলা করেছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক হায়িয ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি আবু দাউদ (২২২১), তিরমিজি (১১৮৫) ও বায়হাকি (৭/৪৫০) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই এটি ইবনে আব্বাস থেকে সংযুক্ত (موصول) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুর রাজ্জাক (৬/৫০৬) এটি ইকরিমা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরাতে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। নাজিম (কবিতা রচয়িতা) মূলত এই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
27 - وَمَوْطُوءَةٍ يا صَاحِ أَعْنِي بُشُبْهَةٍ … وَمَنْ طُلِّقَتْ إحْدَى الثَّلاثِ الْكَوامِلِ (1)

‌‌المسأَلة العاشرة

28 - كَذا وَطْءُ مَنْ حِيزَتْ بِمُلْكِ إِباحَةٍ … مِنَ الْوَثَنِيَّاتِ الْحِسَانِ الْخَواذِلِ (2)

‌‌المسأَلة الحادية عشرة

--------------------------------------------

(1) قال أبو العباس في موضع آخر: الموطوءة بشبهة ملك تستبرأ بحيضة ، وهو رواية عن أحمد والمطلقة ثلاث تطليقات عهدتها حيضة واحدة. قلت: علق أبو العباس من الفؤاد بذلك عن ابن اللبان (الأخبار العلمية ص 282) .

(2) فلو وطئ إحدى الأختين المملوكتين لم تحل له الأخرى ، حتى يحرم على نفسه الأولى بإخراج عن ملكه ، أو تزويج قال ابن عقيل: ولا يكفي في رباحتها مجرد إزالة الملك حتى تمضي حيضة الاستبراء وتنقضي ، فتكون الحيضة كالعدة وقال أبو العباس: وليس هذا القيد من كلام أحمد ، وجماعة الأصحاب ، وليس هو في كلام علي وابن عمر ، مع أن علياً لا يجوّز وطء الأخت في عدة أختها ، ولو زال ملكه عن بعضها كفى ، وهو قياس قول لأصحابنا (الأخبار العلمية ص 212) .

وقال بعد كلام: " … وتحرير هذه المسائل: أن العدة إما أن تكون من نكاح صحيح ، فلا يجوز تزويج أختها ولا وطؤها بملك يمين ، وإن كانت من ملك يمين لم يصح النكاح على المشهورة ، ولا توطأ بنكاح ولا بملك يمين حتى تنقضي العدة ولا يجوز في عدة النكاح تزوج أربع سواها ، قولاً واحداً ويجوز ذلك في عدة ملك اليمين ، وإن كانت العدة من نكاح فاسد أو شبهة نكاح فهي كحقيقة النكاح في المشهور من المذهب ، وإن كانت العدة من نكاح فاسد أو شبهة ملك ، فإنما الواجب الاستبراء ، وذلك لا يزيد على حقيقة الملك (الأخبار العلمية ص 214 ، 215) .
27 - হে বন্ধু, আমি সেই নারীকে বুঝাচ্ছি যার সাথে সন্দেহের ভিত্তিতে সহবাস করা হয়েছে … এবং যাকে পূর্ণ তিন তালাকের একটির মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়েছে (১)

‌‌দশম মাসআলা

28 - তেমনিভাবে সেই নারীর সাথে সহবাস যাকে বৈধ মালিকানার মাধ্যমে অধিকারে নেওয়া হয়েছে … সুন্দরী এবং বিমুখকারী মূর্তিপূজারী নারীদের মধ্য থেকে (২)

‌‌একাদশ মাসআলা

--------------------------------------------

(১) আবু আব্বাস অন্য স্থানে বলেছেন: মালিকানার সন্দেহের ভিত্তিতে সহবাসকৃত মহিলার পবিত্রতা যাচাই (استبراء) একটি ঋতুস্রাবের মাধ্যমে করা হবে, এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। আর তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার অপেক্ষমাণ সময় (عدة) হলো একটি ঋতুস্রাব। আমি বলছি: আবু আব্বাস ইবনুল লাব্বান থেকে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৮২)।

(2) যদি কেউ মালিকানাধীন দুই বোনের একজনের সাথে সহবাস করে, তবে অন্যজন তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে প্রথমজনকে তার মালিকানা থেকে বের করে দিয়ে বা বিয়ে দিয়ে নিজের ওপর হারাম করে দেয়। ইবনে আকীল বলেছেন: তাকে হালাল করার জন্য কেবল মালিকানা অপসারণই যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না একটি ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে পবিত্রতা যাচাই (استبراء) সম্পন্ন হয়। ফলে এই ঋতুস্রাবটি অপেক্ষমাণ সময় (عدة)-এর মতো গণ্য হবে। আবু আব্বাস বলেছেন: এই শর্তটি আহমাদ এবং আমাদের একদল সঙ্গীর বক্তব্য নয়, আর এটি আলী এবং ইবনে উমরের বক্তব্যেও নেই। যদিও আলী এক বোনের অপেক্ষমাণ সময় (عدة) চলাকালীন অন্য বোনের সাথে সহবাস করার অনুমতি দেন না। যদি সে তার মালিকানার একাংশ ত্যাগ করে তবেই তা যথেষ্ট হবে, আর এটি আমাদের সাথীদের একটি মতের সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান (قياس)। (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২১২)।

আরও কিছু বক্তব্যের পর তিনি বলেছেন: "এই মাসআলাগুলোর বিশ্লেষণ হলো: অপেক্ষমাণ সময় (عدة) যদি শুদ্ধ (صحيح) নিকাহ থেকে হয়, তবে তার বোনকে বিয়ে করা বা মালিকানা সত্ত্বে তার সাথে সহবাস করা জায়েজ হবে না। আর যদি তা মালিকানা সত্ত্ব থেকে হয়, তবে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী নিকাহ শুদ্ধ (صحيহ) হবে না। অপেক্ষমাণ সময় (عدة) শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিকাহ বা মালিকানা কোনোভাবেই সহবাস করা যাবে না। আর বিয়ের অপেক্ষমাণ সময় (عدة) চলাকালীন সে ব্যতীত অন্য চারজনকে বিয়ে করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েজ। তবে মালিকানার অপেক্ষমাণ সময় (عدة)-এর ক্ষেত্রে এটি জায়েজ। যদি অপেক্ষমাণ সময় (عدة) ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) নিকাহ বা সন্দেহযুক্ত নিকাহ থেকে হয়, তবে মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা প্রকৃত নিকাহের মতোই গণ্য হবে। আর যদি অপেক্ষমাণ সময় (عدة) ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) নিকাহ বা মালিকানার সন্দেহ থেকে হয়, তবে কেবল পবিত্রতা যাচাই (استبراء) ওয়াজিব হবে, যা প্রকৃত মালিকানার অতিরিক্ত কিছু নয়।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২১৪, ২১৫)।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
29 - وَجَوَّزَ عَقْدًا لِلرِّداءِ لِمُحْرِمٍ … بِإحْرامِهِ فَافْهَمْ مَقَالَ الأَفاضِلِ (1)

‌‌المسأَلة الثَّانية عشرة

30 - وَجَوَّزَ يا صاحِ الطَّوافَ لِحائِضٍ … وَلَيْسَ لِما قَدْ أَوْجَبُوهُ بِمائِلِ

31 - إذا كانَ لَمْ يُمْكِنْ طَوافُ طَهارَةٍ … وَرُفقتُها قد قَرَّبوا لِلرَّواحِلِ (2)

‌‌المسأَلة الثَّالثة عشر (3)

32 - وَجَوَّزَ بَيْعًا لِلْعَصِيرِ بِأَصْلِهِ … كَزَيْتٍ بِزَيْتُونٍ فَكُنْ غَيْرَ غافِلِ (4)

‌‌المسأَلة الرَّابعة عشر

33 - كَذاكَ الْوُضُو ياصاحِ مِنْ كُلِّ مَاعَسَى … يُسَمَّى بِهِ الْما جَائِزٌ غَيْرُ حَائِلِ (5)

--------------------------------------------

(1) قال شيخ الإسلام: " … وَالرِّدَاءِ لَا يَحْتَاجُ إلَى عَقْدِهِ فَلَا يَعْقِدُهُ فَإِنْ احْتَاجَ إلَى عَقْدِهِ فَفِيهِ نِزَاعٌ وَالْأَشْبَهُ جَوَازُهُ حِينَئِذٍ " (مجموع الفتاوى 26/111) .

(2) " والمحصر بمرض أو ذهاب نفقة كالمحصر بعدو ، وهو إحدى الروايتين عن أحمد ، ومثله حائض تعذر مقامها وحرم طوافها ، ورجعت ولم تطف لجهلها بوجوب طواف الزيارة ، أو لعجزها عنه ، أو لذهاب الرفقة " (الأخبار العلمية ص 119 ـ 120 ، وينظر مجموع الفتاوى 26/242،224) .

(3) في (ب) : عشر. وهكذا في سائر المسائل.

(4) " وما خرج عن القوت بالصنعة فليس بربوي ، ولا بجنس نفسه ، فيباع خبز بهريسة ، وزيت بزيتون ، وسمسم بشيرج " (الأخبار العلمية ص 127) .

(5) في (ب) : ألما. وقد حُذفت الهمزة من " الماء " لضرورة الوزن.
29 - তিনি ইহরাম অবস্থায় চাদরে গিট দেওয়া বৈধ (جواز) করেছেন… তার ইহরামের ক্ষেত্রে, সুতরাং শ্রেষ্ঠ আলিমদের বক্তব্য অনুধাবন করো। (১)

‌‌দ্বাদশ মাসআলা

30 - হে বন্ধু! তিনি ঋতুবতী নারীর জন্য তাওয়াফ করা বৈধ (جواز) করেছেন… এবং তারা যা ওয়াজিব করেছেন তিনি সেদিকে ঝুঁকে পড়েননি।

31 - যখন পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা সম্ভব নয়… এবং তার সফরসঙ্গীরা যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। (২)

‌‌ত্রয়োদশ মাসআলা (৩)

32 - তিনি ফলের রসের বিনিময়ে তার মূল ফলের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ (جواز) করেছেন… যেমন জলপাই তেলের বিনিময়ে জলপাই, সুতরাং তুমি অসতর্ক থেকো না। (৪)

‌‌চতুর্দশ মাসআলা

33 - হে বন্ধু! একইভাবে এমন সকল পানি দ্বারা ওজু করা বৈধ (جائز), যাকে পানি নামে অভিহিত করা যায়, যা (পবিত্রতা অর্জনে) বাধা প্রদানকারী নয়। (৫)

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম বলেছেন: "…আর চাদর বাঁধার প্রয়োজন হয় না, তাই সে তাতে গিট দেবে না। তবে যদি গিট দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে এ বিষয়ে মতভেদ (نزاع) রয়েছে। আর সবচেয়ে শক্তিশালী মত হচ্ছে, এমতাবস্থায় এটি বৈধ (جواز)।" (মাজমুউল ফাতাওয়া ২৬/১১১)।

(২) "অসুস্থতা বা পাথেয় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে অবরুদ্ধ (محصر) ব্যক্তি শত্রু দ্বারা অবরুদ্ধ ব্যক্তির মতো। এটি আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। অনুরূপভাবে ঐ ঋতুবতী নারী, যার অবস্থান করা অসম্ভব এবং তার তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ ছিল, সে তাওয়াফে জিয়ারত ওয়াজিব হওয়ার কথা না জানার কারণে অথবা অক্ষমতার কারণে অথবা সফরসঙ্গীরা চলে যাওয়ার কারণে তাওয়াফ না করেই ফিরে গেছে।" (আল-আখবারুল ইলমিয়্যাহ পৃ. ১১৯-১২০; মাজমুউল ফাতাওয়া ২৬/২৪২, ২২৪ দ্রষ্টব্য)।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: দশ। অন্যান্য মাসআলার ক্ষেত্রেও অনুরূপ।

(৪) "যা প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে প্রধান খাদ্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেছে, তা সুদযুক্ত (ربوي) বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তার স্বগোত্রীয়ও নয়। ফলে হালুয়ার বিনিময়ে রুটি, জলপাইয়ের বিনিময়ে জলপাই তেল এবং তিলের তেলের বিনিময়ে তিল বিক্রি করা যাবে।" (আল-আখবারুল ইলমিয়্যাহ পৃ. ১২৭)।

(৫) (খ) পাণ্ডুলিপিতে: আলমা। ছন্দগত প্রয়োজনে 'আল-মা' (পানি) শব্দ থেকে হামজা বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
34 - سَواءٌ لَدَيْهِ مُطْلَقًا أَوْ مُقَيَّدًا … وَعَنْهُ رَأَيْنا مُطْلَقًا في الْمَسائِلِ (1)

‌‌المسأَلة الخامسة عشر

35 - وَجَوَّزَ بَيْعًا لِلْحُلِيِّ وَغَيْرِها … إِذا اتُّخِذَتْ في فِضَّةٍ بِالتَّفاضُلِ

36 - بِها وَالَّذِي قَدْ زادَ يُجْعَلُ لِلَّذِي … لِصَنْعَتِها في فاضِلٍ في الْمُقابِلِ (2)

‌‌المسأَلة السَّادسة عشر

--------------------------------------------

(1) " وتجوز طهارة الحدث بكل ما يسمى ماء ، وبمعتصر الشجر. قاله ابن أبي ليلى والأوزاعي والأصم وابن شعبان ، وبالمتغير بطاهر ، وهو رواية عن أحمد رحمه الله ، وهو مذهب أبي حنيفة ، وبماء خلت به امرأة لطهارة ، وهو رواية عن أحمد رحمه الله تعالى وهو مذهب الأئمة الثلاثة وبالمستعمل في رفع الحدث ، وهو رواية اختارها ابن عقيل وأبو البقاء وطوائف من العلماء.

وذهبت طائفة إلى نجاسته ، وهو رواية عن أحمد رحمه الله.

قال الخلال: حدثنا صالح بن أحمد قال: قلت لأبي: إذا اغتسل الجنب في البئر أو في الغدير وفيه الماء أكثر من قلتين؟

قال: يجزيه ذلك.

قال أحمد: أنجس الماء؟ =

= قول أحمد " قد أنجس الماء " ظن بعض أصحابه أنه أراد نجاسة الخبث فذكر رواية عنه ، وإنما أراد أحمد نجاسة الحدث ، كما يراد بالطهارة طهارة الحدث ، وأحمد رضي الله عنه لا يخالف سنة ظاهرة معلومة له قط ، والسنة في ذلك أبين من أن تخفى على أقل أتباعه. وحمل كلام الغدير يغتسل فيه أقل من قلتين من نجاسة الحدث ، وليست هذه المسألة من موارد الظنون ، يل هي قطيعة لا ريب.

ولا يستحب غسل الثوب والبدن منه ، وهو أصح الروايتين عنه.

وأول القاضي القول بنجاسة الماء بجعله في صفة النجس من منع الوضوء ، لا أنه تنجس حقيقة " (الأخبار العلمية ص 3) .

(2) " ويجوز بيع المصوغ من الذهب والفضة بجنسه من غير اشتراط التماثل ، ويجعل الزائدة في مقابلة الصنعة سواء كان البيع حالاً أو مؤجلاً ما لم يقصد كونها ثمناً " (الأخبار العلمية ص 127) .
৩৪ - তাঁর নিকট এটি সমান, চাই তা শর্তহীন (مطلق) হোক কিংবা শর্তযুক্ত (مقيد) … এবং তাঁর থেকে আমরা মাসআলাসমূহে শর্তহীন (مطلق) মতটিই দেখেছি (১)

‌‌পঞ্চদশ মাসআলা

৩৫ - আর তিনি অলঙ্কার এবং অন্যান্য জিনিসের বিক্রয় বৈধ করেছেন … যখন তা রূপার বিনিময়ে কম-বেশি (بالتفاضل) করে গ্রহণ করা হয়

৩৬ - তার মাধ্যমে, আর যা বৃদ্ধি পেয়েছে তা নির্দিষ্ট করা হবে তার জন্য … যা বিনিময়ের ক্ষেত্রে কারুকার্যের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য (২)

‌‌ষোড়শ মাসআলা

--------------------------------------------

(১) "আর যাকে 'পানি' বলা হয় এমন সব কিছু দিয়ে এবং গাছের নির্যাস দিয়ে অপবিত্রতা (حدث) থেকে পবিত্রতা (طهارة) অর্জন করা বৈধ। ইবনে আবি লায়লা, আল-আওজায়ি, আল-আসাম এবং ইবনে শাবান এ কথা বলেছেন। আর যা কোনো পবিত্র (طاهر) বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়েছে তা দিয়েও পবিত্রতা অর্জন বৈধ, এটি আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), আর এটিই আবু হানিফার মাযহাব। একইভাবে এমন পানি দ্বারাও পবিত্রতা বৈধ যা দ্বারা কোনো মহিলা পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছেন; এটি আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং এটি তিন ইমামের মাযহাব। আর যা অপবিত্রতা (حدث) দূর করতে ব্যবহৃত (المستعمل) হয়েছে তা দিয়েও পবিত্রতা অর্জন বৈধ; এটি একটি বর্ণনা (رواية) যা ইবনে আকিল, আবুল বাকা এবং ওলামাদের একদল পছন্দ করেছেন।

একদল ওলামা একে অপবিত্র (نجاسة) মনে করেছেন, আর এটি আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।

আল-খাল্লাল বলেন: সালিহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: যখন কোনো জুনুবি ব্যক্তি কূপে বা হাউজে গোসল করে আর তাতে পানির পরিমাণ দুই কুল্লার (قلتين) বেশি হয়?

তিনি বললেন: তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

আহমাদ বললেন: পানি কি অপবিত্র হয়েছে? =

= আাহমাদের কথা "পানি কি অপবিত্র হয়েছে" - তাঁর কোনো কোনো সাথী মনে করেছেন যে তিনি এর দ্বারা দৃশ্যমান অপবিত্রতা (نجاسة الخبث) বুঝিয়েছেন এবং তারা তাঁর থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন। অথচ আহমাদ এর দ্বারা কেবল অপবিত্রতা (نجاسة الحدث) বুঝাতে চেয়েছেন, যেমন পবিত্রতা (طهارة) দ্বারা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা (طهارة الحدث) বুঝানো হয়। আর আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট স্পষ্ট ও পরিচিত কোনো সুন্নাহ (سنة) এর কখনো বিরোধিতা করেন না। আর এই বিষয়ে সুন্নাহ (السنة) তাঁর সাধারণ অনুসারীদের কাছেও গোপন থাকার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। আর হাউজে গোসল করার বিষয়টি, যেখানে দুই কুল্লার (قلتين) কম পানি থাকে, তাকে অপবিত্রতা (نجاسة الحدث) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর এই মাসআলাটি ধারণার বশবর্তী হওয়ার মতো বিষয় নয়, বরং এটি সংশয়হীন চূড়ান্ত বিষয়।

তা থেকে কাপড় এবং শরীর ধৌত করা মুস্তাহাব (مستحب) নয়, আর এটিই তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।

আর কাজি পানির অপবিত্রতা (نجاسة) সংক্রান্ত মতটিকে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অজু করতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে একে অপবিত্রের (النجس) গুণ সম্পন্ন করেছেন, এমন নয় যে তা প্রকৃতপক্ষে অপবিত্র (تنجس) হয়ে গেছে।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩) ।

(২) "সোনা ও রূপার তৈরি অলঙ্কার সমজাতীয় বস্তুর বিনিময়ে সমতা (التماثل) নিশ্চিত করার শর্ত ছাড়াই বিক্রয় করা বৈধ। আর অতিরিক্ত অংশটি কারুকার্যের বিনিময়ে গণ্য হবে, চাই বিক্রয়টি নগদ হোক বা বাকিতে, যতক্ষণ না একে মূল্য হিসেবে গণ্য করার উদ্দেশ্য থাকে।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২৭) ।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
37 - وَإنْ وَقَعَتْ في مَائِعٍ مِنْ نَجاسَةٍ … سواءٌ قَلِيلاً أَوْ يَكُنْ غَيْرَ حَامِلِ

38 - وَلَمْ يَتَغَيَّرْ لَيْسَ يَنْجُسُ عِنْدَهُ … وَقَدْ كَانَ أَحْظَى مِنْهُمْ بِالدَّلائِلِ (1)

‌‌المسأَلة السَّابعة عشر

39 - وَمَنْ خافَ مِنْ عِيدٍ كَذاكَ وَجُمْعَةٍ … فَواتًا وَلَيْسَ الْماءُ يَوْمًا بِحاصِلِ

40 - فَإنْ يَتَيَمَّمْ كانَ ذَلِكَ عِنْدَهُ … يَجُوزُ فَقابِلْ بِالثَّنا كُلَّ فاضِلِ (2)

‌‌المسأَلة الثَّامنة عشر

41 - وَمِمَّا جَرَى مِنْها عَلَيْهِ فَوادِحٌ … عِظامٌ وَجاءَتْ نَحْوَهُ بِالزَّلازِلِ

42 - بِإفْتائِهِ أَنَّ الطَّلاقَ إذا أَتَى … ثَلاثًا بِلَفْظٍ واحِدٍ غَيْرُ كَامِلِ

43 - وَلا وَاقِعٌ بَلْ إنَّ تِلْكَ جميعَها … لَِواحِدَةٌ في قِيلِهِ كالأَماثِلِ

44 - مِنَ الصَّحْبِ في عَهْدِ النَّبِيِّ وَبَعْدَهُ … إلى أَنْ أُجِيزَتْ في عُقُوبَةِ عادِلِ

--------------------------------------------

(1) "ولا ينجس الماء إلا بالتغير وهو رواية عن أحمد اختارها ابن عقيل وابن المنى وأبو الظفر ، وابن الجوزي وأبو نصر وغيرهم من أصحابنا ، وهو مذهب مالك ، ولو كان تغيره في محل التطهير ، وقاله بعض … أصحابنا … " (الأخبار العلمية ص 127) .

(2) "ويجوز (أي التيمم) لخوف فوات صلاة الجنازة ، وهو رواية عن أحمد وإسحاق ، وهو قول ابن عباس ومذهب أبي حنيفة وقد ثبت أنه صلى الله عليه وسلم تيمم لرد السلام ، وألحق به من خاف فوات العيد " (الأخبار العلمية ص 20) .
37 - আর যদি কোনো তরল পদার্থে অপবিত্রতা পতিত হয় … চাই তা পরিমাণে অল্প হোক অথবা তা অপবিত্রতা বহনকারী (প্রভাবিতকারী) না হোক

38 - এবং যদি তা পরিবর্তিত না হয়, তবে তাঁর নিকট তা অপবিত্র হবে না … আর তিনি তাদের তুলনায় দলীল-প্রমাণের দিক থেকে অধিক অগ্রগামী ছিলেন (১)

‌‌সপ্তদশ মাসয়ালা

39 - আর যে ব্যক্তি অনুরূপভাবে ঈদ এবং জুমার নামাজ … ছুটে যাওয়ার ভয় করে এবং সেদিন পানি পাওয়া সম্ভব না হয়

40 - তবে সে যদি তায়াম্মুম করে, তা তাঁর নিকট … বৈধ; সুতরাং প্রত্যেক গুণী ব্যক্তির প্রশংসা করো (২)

‌‌অষ্টাদশ মাসয়ালা

41 - আর যা থেকে তাঁর ওপর এমন সব কঠিন বিপদসমূহ … আপতিত হয়েছিল যা তাঁর নিকট ভূমিকম্পের ন্যায় ধেয়ে এসেছিল

42 - তা হলো তাঁর এই ফতোয়া যে, যখন এক শব্দে তিন … তালাক প্রদান করা হয়, তখন তা পূর্ণাঙ্গ (তিন তালাক) হয় না

43 - আর তা কার্যকরও হয় না, বরং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী সেই সবগুলিই … একটি হিসেবে গণ্য হয়, যেমনটি পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অভিমত ছিল

44 - নবীজীর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে সাহাবীদের মধ্য থেকে … যতক্ষণ না একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের পক্ষ থেকে শাস্তিস্বরূপ তা কার্যকর করা হয়েছিল

--------------------------------------------

(১) "পরিবর্তন হওয়া ব্যতীত পানি অপবিত্র হয় না; এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), যা ইবনে আকিল, ইবনে আল-মুন্না, আবুল জাফর, ইবনুল জাওজি, আবু নাসর এবং আমাদের অন্যান্য সাথীবৃন্দ গ্রহণ করেছেন এবং এটি মালিকের মাযহাব। যদিও সেই পরিবর্তন পবিত্র করার স্থানে হয়ে থাকে। আমাদের কিছু সাথীও এটি বলেছেন..." (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২৭)।

(২) "জানাজার নামাজ ছুটে যাওয়ার ভয়ে তায়াম্মুম করা বৈধ। এটি আহমাদ ও ইসহাক থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। এটি ইবনে আব্বাসের অভিমত এবং আবু হানিফার মাযহাব। আর এটি প্রমাণিত (ثابت) যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য তায়াম্মুম করেছিলেন। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজ ছুটে যাওয়ার ভয় করে, তাকেও এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।" (আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২০)।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
45 - وَلَوْ فُرِّقَتْ أَيْضًا إذا هِيَ لَمْ تَكُنْ … عَلَى سُنَّةِ الْمَعْصُومِ أَفْضَلِ فاضِلِ (1)

‌‌المسأَلة التَّاسعة عشر

46 - وَمَنْ بِطلاقٍ حالِفٌ فَيَمِينُهُ … مُكَفَّرَةٌ لَكِنْ دُهِيَ بِالْقَلاقِلِ

47 - وَعُودِيَ بَلْ أُوذِي لإفْتائِهِ بِهَا … وَكَمْ مَرَّةٍ إلى ذا الآنَ مِنْ مُتَحامِلِ

48 - وَقَدْ كَتَبَ الشَّيْخُ الإمامُ مُصَنَّفًا … بِأَلْفٍ مِنَ الأَوْراقِ دَفْعًا لِصَائِلِ (2)

49 - وَلَكِنَّهُ مَعَ خَصْمِهِ سَوْفَ يَلْتَقَي … لَدَى اللهِ وَالرَّحْمَنُ أَعْدَلُ عادِلِ

50 - وَفي بَعْضِ ما قَدْ مَرَّ مِمَّا نَظَمْتُهُ … مَواقِفُ مِنْهُمْ لَهُ في الْمَسَائِلِ (3)

51 - وَقَدْ قالَ هَذا ما تَفَرَّدَ عَنْهُمُ … بِهِ الشَّيْخُ هَذا رَسْمُ خَطٍّ لِناقِلِ

52 - وَصَلِّ إِلَهِي كُلَّ ما هَبَّتِ الصَّبَا … وَما انْهَلَّ صَوْبُ السَّارِياتِ الْهَوامِلِ (4)

53 - عَلَى الْمُصْطَفَى الْهَادِي الأَمِينِ مُحَمَّدٍ … وَأَصْحابِهِ وَالآلِ أَهْلِ الْفَضَائِلِ (5)

--------------------------------------------

(1) "فتوى ابن تيمية في عدم وقوع الطلاق الثلاث مرة واحدة مشهورة ومبثوثة في أكثر من مصدر وقد أشاعر في البيت الثالث من المسألة التاسعة عشرة أنه دافع عن فتواه هذه في ألف صفحة ، وهو رقم تقريبي ولكنه قريب من الواقع وانظر الجزء 37 من فهرس مجموع فتاوى شيخ الإسلام لترى أرقام الصفحات لهذا المسألة من ص 3308: 310 ، وفي الأخبار العلمية انظر ص 258. والشطر الثاني منكسر.

(2) انظر أسماء مصنفات الشيخ في هذه المسألة في العقود الدرية ص 214 وكذلك خبر ما جرى لها بسببها والله المستعان.

(3) في الأصل: مواقف.

(4) الصبا: ريح مهبها من مشرق الشمس إذا استوى الليل والنهار. الصوب: المطر بقدر ما ينفع ولا يؤذي. الساري من السحاب: التي تجئ ليلاً الهوامل: السائلة.

(5) انظر في هذه المسألة الأخبار العلمية ص 256 ، 259 ، 260 ، 272.
৪৫ - আর যদি তা পৃথকও করা হয়, তবুও যদি তা শ্রেষ্ঠ ও ফযিলতপূর্ণ নিষ্পাপ (معصوم) ব্যক্তিত্বের সুন্নাহ মোতাবেক না হয়...

‌‌উনবিংশ মাসআলা (مسألة)

৪৬ - আর যে ব্যক্তি তালাকের শপথ করে, তার সেই শপথ কাফফারা (كفارة)যোগ্য; কিন্তু তাকে নানা অস্থিরতায় আক্রান্ত করা হয়েছে।

৪৭ - এবং এই বিষয়ে ফতোয়া (فتوى) প্রদানের কারণে তার সাথে শত্রুতা করা হয়েছে, এমনকি তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে; আর বর্তমান সময় পর্যন্ত কতজনই না বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে রয়েছে।

৪৮ - আর শায়খুল ইমাম আক্রমণকারীর প্রতিরোধকল্পে এই বিষয়ে এক হাজার পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৪৯ - তবে অচিরেই তিনি আল্লাহর দরবারে তাঁর প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন; আর দয়াময় আল্লাহ হলেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক।

৫০ - আর আমি যা ছন্দবদ্ধ করেছি তার পূর্বের কোনো কোনো অংশে এই মাসআলাগুলোর (مسائل) ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের কথা বর্ণিত হয়েছে।

৫১ - আর তিনি বলেছেন, এটি এমন বিষয় যাতে শায়খ তাদের থেকে একক অভিমত (تفرد) পোষণ করেছেন; এটি একজন নকলকারীর হস্তলিপি মাত্র।

৫২ - হে আমার ইলাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ পুবালি বাতাস (صبا) প্রবাহিত হয় এবং রাতের মেঘমালা থেকে অঝোর বৃষ্টিধারা বর্ষিত হয়।

৫৩ - পথপ্রদর্শক, বিশ্বস্ত মুস্তফা মুহাম্মাদ এবং তাঁর ফযিলতপূর্ণ পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর।

--------------------------------------------

(১) এক মজলিসে তিন তালাক কার্যকর না হওয়ার ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়্যাহর ফতোয়া (فتوى) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং একাধিক উৎসে তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। তিনি উনবিংশ মাসআলার তৃতীয় চরণে ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি তাঁর এই ফতোয়ার সমর্থনে এক হাজার পৃষ্ঠা লিখেছিলেন—যা একটি আনুমানিক সংখ্যা হলেও বাস্তবের খুব কাছাকাছি। শায়খুল ইসলামের মাজমুউল ফাতাওয়া-এর ৩৭তম খণ্ডের নির্ঘণ্টে ৩৩০৮ থেকে ৩১০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এই মাসআলার আলোচনা দেখা যেতে পারে। এছাড়াও আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ-এর ২৫৮ পৃষ্ঠা দেখুন। আর পঙক্তির দ্বিতীয় অংশটি ছন্দভঙ্গ (منكسر)।

(২) এই মাসআলায় শায়খের রচিত গ্রন্থসমূহের নামের জন্য আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ-এর ২১৪ পৃষ্ঠা দেখুন এবং সেই সাথে এর কারণে যা কিছু ঘটেছিল তার বিবরণও সেখানে রয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

(৩) মূলে রয়েছে: মওয়াফিক (مواقف)।

(৪) আস-সবা (الصبا): রাত ও দিন যখন সমান হয়, তখন সূর্যোদয়ের দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু। আস-সওব (الصوب): ততটুকু বৃষ্টি যা উপকারে আসে এবং ক্ষতি করে না। আস-সারী (الساري): সেই মেঘমালা যা রাতে আসে। আল-হাওয়ামিল (الهوامل): প্রবাহমান।

(৫) এই মাসআলার বর্ণনায় আল-আখবার আল-ইলমিয়্যাহ-এর ২৫৬, ২৫৯, ২৬০, ২৭২ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) নাজমু মানফারাদা বিহি ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
انتَهَت بِحَمدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রশংসার সাথে সমাপ্ত হলো।