(খণ্ড: ১)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الكمال في أسماء الرجال القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تهذيب الكمال في أسماء الرجال
المؤلف: جمال الدين أبو الحجاج يوسف المزي (654 - 742 هـ)
حققه وضبط نصه وعلق عليه: د بشار عواد معروف
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، (1400 - 1413 هـ) (1980 - 1992 م)
عدد الأجزاء: 35
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল
লেখক: জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিযযি (৬৫৪ - ৭৪২ হিজরি)
সম্পাদনা, পাঠ-পরিমার্জন ও টীকা প্রদান: ড. বাশার আওয়াদ মারুফ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، (১৪০০ - ১৪১৩ হিজরি) (১৯৮০ - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ)
খণ্ড সংখ্যা: ৩৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١)
ـ[تهذيب الكمال في أسماء الرجال]ـ
المؤلف: يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف، أبو الحجاج، جمال الدين ابن الزكي أبي محمد القضاعي الكلبي الْمِزِّيّ (المتوفى: 742هـ)
المحقق: د. بشار عواد معروف
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1400 - 1980
عدد الأجزاء: 35
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي وضمن خدمة التراجم]
ـ[তাহযীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল]ـ
লেখক: ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ, আবু আল-হাজ্জাজ, জামালুদ্দীন ইবনুল জাকি আবি মুহাম্মদ আল-কুদায়ী আল-কালবি আল-মিজ্জি (মৃত্যু: ৭৪২ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ড. বাশার আওয়াদ মারুফ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০০ - ১৯৮০
খণ্ড সংখ্যা: ৩৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ, এটি পাদটীকা সংবলিত এবং জীবনী সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٥)
المجلد الأول
بسم الله الرحمن الرحيم
قالوا في الإمام المزي1- ووجدت بدمشق من أهل العلم الإمام المقدم والحافظ الذي فاق من تأخر من أقرانه ومن تقدم أبا الحجاج المزي، بحر العلم الزاخر، وحبره القائل من رآه: كم ترك الاوائل للاواخر.
ابن سيد الناس اليعُمَري ت (734)
2- كان خاتمة الحفاظ، وناقد الأسانيد والألفاظ، وهو صاحب معضلاتنا، وموضح مشكلاتنا، ما رأيت أحدًا في هذا الشأن أحفظ من الإمام أبي الحجاج المزي.
الذهبي ت (748)
3- ولم أَرَ في أشياخي بعد شيخنا أثير الدين في العربية مثله.
الصلاح الصفدي ت (764)
4- هو إمام المحدثين، والله لو عاش الدارقطني، لاستحيى أن يدرس مكانه.
تقي الدين السبكي ت (756)
5- شيخنا وأستاذنا وقدوتنا الشيخ جمال الدين أبو الحجاج المزي، حافظ زماننا، حامل راية السنة والجماعة، والقائم بأعباء هذه الصناعة، والمتدرع جلباب الطاعة، إمام الحفاظ كلمة لا يجحدونها، وشهادة على أنفسهم يؤدونها، ورتبة لو نشر أكابر الأعداء، لكانوا يودونها، واحد عصره بالإجماع، وشيخ زمانه الذي تصغي لما يقول الأسماع.
التاج، السبكي ت (771)
প্রথম খণ্ড
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ইমাম আল-মিযযী সম্পর্কে মনীষীদের মূল্যায়ন১- আমি দামেস্কে আলিমগণের মধ্যে এমন এক অগ্রগণ্য ইমাম ও হাফিযের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যিনি তাঁর সমসাময়িক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই ছাড়িয়ে গিয়েছেন; তিনি হলেন আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযী। তিনি ইলমের এক উত্তাল সমুদ্র এবং এমন এক বিদগ্ধ পণ্ডিত যাকে দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য হয়: "পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না রেখে গিয়েছেন।"
ইবনে সাইয়্যিদ আল-নাস আল-ইয়া'মারী, মৃত্যু (৭৩৪ হি.)
২- তিনি ছিলেন হাফিযগণের ধারাক্রমের সমাপ্তি এবং সনদ ও শব্দ-বিশ্লেষণে এক অনন্য সমালোচক। তিনি ছিলেন আমাদের জটিল বিষয়গুলোর সমাধানকারী এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাকারী। আমি হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযীর চেয়ে বড় কোনো হাফিয দেখিনি।
আদ-দাহাবী, মৃত্যু (৭৪৮ হি.)
৩- আমি আমার শিক্ষকদের মধ্যে আরবী ভাষায় আমাদের শাইখ আসীরুদ্দীনের পর তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি।
আস-সালাহ আস-সাফাদী, মৃত্যু (৭৬৪ হি.)
৪- তিনি হলেন মুহাদ্দিসগণের ইমাম। আল্লাহর কসম! যদি দারা কুতনী বেঁচে থাকতেন, তবে তাঁর আসনে বসে পাঠদান করতে লজ্জাবোধ করতেন।
তাকীউদ্দীন আস-সুবকী, মৃত্যু (৭৫৬ হি.)
৫- আমাদের শাইখ, উস্তাদ ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব শাইখ জামালুদ্দীন আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযী ছিলেন আমাদের যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ হাফিয, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পতাকাবাহী, হাদীস শিল্পের গুরুভার বহনকারী এবং আনুগত্যের চাদরে আবৃত এক মহান পুরুষ। "তিনি হাফিযগণের ইমাম"—এটি এমন এক স্বীকৃতি যা কেউ অস্বীকার করে না এবং এটি এমন এক সাক্ষ্য যা সবাই নিজের বিরুদ্ধে হলেও প্রদান করে। এটি এমন এক মর্যাদা যা তাঁর বড় বড় শত্রুরাও যদি পুনর্জীবিত হতো, তবে তারাও তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত। তিনি সর্বসম্মতভাবে তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সময়ের এমন এক শাইখ যার কথা শোনার জন্য সবাই কান পেতে থাকত।
তাজুদ্দীন আস-সুবকী, মৃত্যু (৭৭১ হি.)
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٦)
قالوا في التهذيب
1- وصنف كتاب"تهذيب الكمال"في أربعة عشر مجلدا، كسف به الكتب المتقدمة في هذا الشأن، وسارت به الركبان، واشتهر في حياته.
الصلاح الصفدي
2- وصَنَّف"تهذيب الكمال"المجمع على أنه لم يصنف مثله.
التاج السبكي.
3- كتاب عظيم الفوائد، جم الفرائد، لم يصنف في نوعه مثله، لأن مؤلفه أبدع فيما وضع، ونهج للناس منهجا لم يشرع.
علاء الدين مغلطاي ت (763)
4- أتى فيه بكل نفيسة، وبالغ ولم يأل في استيفاء شيوخ الشخص ورواته، وغرائبه وموافقاته، وعدالته وجرحاته، ومناقبه وهناته، وعُمَره ووفاته، فبقي حسرةً على من لم يحصله من الفضلاء، ولهفةً على من أعوزه الامكان.
الإمام الذهبي
'তাহজীব' সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অভিমত
১- তিনি চৌদ্দ খণ্ডে "তাহজীবুল কামাল" গ্রন্থটি রচনা করেন; যা এই বিষয়ের পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থকে ম্লান করে দিয়েছে। এটি দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করে।
আস-সালাহ আস-সাফাদি
২- তিনি "তাহজীবুল কামাল" রচনা করেছেন, যার সম্পর্কে সর্বসম্মত অভিমত এই যে, এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ ইতিপূর্বে রচিত হয়নি।
আত-তাজ আস-সুবকি।
৩- এটি এক মহান উপকারসমৃদ্ধ ও অনন্য তথ্যে ভরপুর গ্রন্থ। নিজ বিষয়ে এর সমতুল্য কোনো কিতাব সংকলিত হয়নি; কারণ এর লেখক তাঁর রচনায় চমৎকারিত্ব প্রদর্শন করেছেন এবং মানুষের জন্য এমন এক অনন্য পদ্ধতির সূচনা করেছেন যা ইতিপূর্বে প্রদর্শিত হয়নি।
আলাউদ্দীন মুগলতাই (মৃত্যু: ৭৬৩ হি.)
৪- তিনি এতে প্রতিটি মূল্যবান বিষয় সন্নিবেশিত করেছেন। কোনো ব্যক্তির উস্তাদ ও বর্ণনাকারী, তাঁদের বিরল ও সমর্থিত বর্ণনা, বিশ্বস্ততা ও সমালোচনা, গুণাবলি ও ত্রুটিসমূহ এবং তাঁদের বয়স ও ইন্তেকাল সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণে তিনি চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং কোনো ত্রুটি করেননি। ফলে এটি সেই সকল বিদগ্ধ ব্যক্তির জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে রয়েছে যারা এটি সংগ্রহ করতে পারেনি, আর তাদের জন্য এক গভীর তৃষ্ণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যাদের সামর্থ্য এর সংকুলান করেনি।
ইমাম আয-যাহাবি
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمدلله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد؛
فهذه دراسة تناولت فيها سيرة المزي، وكتابه"تهذيب الكمال"، وجعلتها في أربعة فصول:
خصصت الفصل الاول لحياة المزي ومكانته العلمية.
والفصل الثاني لمنهج كتابه تهذيب الكمال ومنزلته بين الكتب التي من بابته، وبيان تفضيله على جميع الكتب السابقة واللاحقة في فنه.
والفصل الثالث لعناية العلماء بهذا الكتاب النفيس استدراكا واختصارا.
والفصل الرابع وصفت فيه المنهج الذي اتبعته في تحقيق هذا الكتاب.
ثم ختمت الدراسة بوصف النسخ المعتمدة، وطباق السماعات التي عليها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর;<
এটি একটি গবেষণা যাতে আমি ইমাম আল-মিযযীর জীবনী এবং তাঁর গ্রন্থ "তাজহীবুল কামাল" নিয়ে আলোচনা করেছি এবং একে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদটি আমি আল-মিযযীর জীবন ও তাঁর ইলমী মাকাম বা পাণ্ডিত্যের মর্যাদার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তাঁর গ্রন্থ "তাজহীবুল কামাল"-এর পদ্ধতি, সমজাতীয় গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর অবস্থান এবং এই শাস্ত্রের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গ্রন্থের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনার জন্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদটি এই মূল্যবান গ্রন্থের প্রতি সম্পূরক রচনা ও সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে আলেমদের বিশেষ মনোযোগের বিষয়ে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তার বর্ণনা দিয়েছি।
অতঃপর আমি নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ এবং সেগুলোর ওপর থাকা শ্রবণলিপিসমূহের বর্ণনার মাধ্যমে গবেষণার সমাপ্তি টেনেছি।
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
الفصل الاولحياة المزي ومكانته العلميةمصادر ترجمته:تناول المزي جملة كبيرة من المؤرخين، فترجموا له تراجم تختلف في طولها وقصرها ونوعية المعلومات التي تقدمها ونجد بينهم رفاقا له في طلب العلم، وتلامذة، وتلامذة لتلامذته وهلم جرا إلى عصور متأخرة.
وقد ترجم له من معاصريه: ابن سيد الناس اليعُمَري (ت 734) (1) ، وعلم الدين البرزالي (ت 739) (2) ، وشمس الدين الذهبي (ت 748) (3) ، وابن الوردي (ت 749) (4) ، وصلاح الدين الصفدي (ت 764) (5) ، وابن شاكر الكتبي (ت 764) (6) ، وشمس الدين الحسيني (ت 765) (7) ، وتاج الدين السبكي (ت 771) (8) ، وجمال
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদআল-মিজ্জির জীবন ও তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদাতাঁর জীবনী সংক্রান্ত উৎসসমূহ:ইতিহাসবিদদের একটি বিশাল অংশ আল-মিজ্জির জীবনী নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা তাঁর এমন সব জীবনী রচনা করেছেন যা দৈর্ঘ্য-প্রস্থ এবং তথ্যের গুণগত মানে ভিন্ন ভিন্ন। তাঁদের মধ্যে আমরা তাঁর জ্ঞানার্জনের সময়ের সহপাঠীদের পাই, পাই তাঁর ছাত্রদের এবং তাঁর ছাত্রদের ছাত্রদের, যা পরবর্তী যুগগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত।
তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন: ইবনে সাইয়্যিদিন নাস আল-ইয়া’মারি (মৃ. ৭৩৪ হি.) (১), ইলমুদ্দিন আল-বারজালি (মৃ. ৭৩৯ হি.) (২), শামসুদ্দিন আয-যাহাবি (মৃ. ৭৪৮ হি.) (৩), ইবনুল ওয়ারদি (মৃ. ৭৪৯ হি.) (৪), সালাহুদ্দিন আস-সাফাদি (মৃ. ৭৬৪ হি.) (৫), ইবনে শাকির আল-কুতুবি (মৃ. ৭৬৪ হি.) (৬), শামসুদ্দিন আল-হুসাইনি (মৃ. ৭৬৫ হি.) (৭), তাজ উদ্দিন আস-সুবকি (মৃ. ৭৭১ হি.) (৮) এবং জামাল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الدين الاسنوي (ت 772) (1) وتقي الدين ابن رافع السلامي (ت 774) (2) ، وصهره عماد الدين ابن كثير (ت 774) (3) .
وترجم له بعد عصره جماعة، منهم: ابن ناصر الدين الدمشقي (ت 842) (4) ، والمقريزي (ت 845) (5) ، وابن قاضي شهبة (ت 851) (6) ، وابن حجر العسقلاني (ت 852) (7) ، وابن تغري بردي (ت 874) (8) ، والسخاوي (ت 902) (9) ، والسيوطي (ت 911) (10) ، والنعيمي (ت 927) (11) ، وابن طولون (ت 953) (12) ، وطاش كبري زادة (ت 967) (13) ، وابن هداية الله المصنف (ت 1014) (14) ، وابن العماد الحنبلي (ت 1089) (15) ، والشوكاني (ت 1250) (16) ، وغيرهم (17) .
--------------------------------------------
জামালুদ্দিন আল-এসাভি (মৃ. ৭৭২) (১), তাকিউদ্দিন ইবন রাফে আস-সালামি (মৃ. ৭৭৪) (২) এবং তাঁর জামাতা ইমাদুদ্দিন ইবন কাসির (মৃ. ৭৭৪) (৩)।
এবং তাঁর পরবর্তী যুগে একদল আলেম তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবন নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি (মৃ. ৮৪২) (৪), আল-মাকরিজি (মৃ. ৮৪৫) (৫), ইবন কাজি শুহবা (মৃ. ৮৫১) (৬), ইবন হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২) (৭), ইবন তাগরি বারদি (মৃ. ৮৭৪) (৮), আস-সাখাভি (মৃ. ৯০২) (৯), আস-সুয়ুতি (মৃ. ৯১১) (১০), আন-নুয়াইমি (মৃ. ৯২৭) (১১), ইবন তুলুন (মৃ. ৯৫৩) (১২), তাশ কুবরি জাদাহ (মৃ. ৯৬৭) (১৩), ইবন হিদায়াতুল্লাহ আল-মুসান্নিফ (মৃ. ১০১৪) (১৪), ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃ. ১০৮৯) (১৫), আশ-শাওকানি (মৃ. ১২৫০) (১৬) এবং অন্যান্য (১৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
وغالبا ما ينقل هؤلاء الواحد عن الآخر، لكننا وجدنا أكثر التراجم أصالة ومنفعة هي تراجم الذهبي والصفدي والسبكي وابن كثير وابن حجر لما حوته من معلومات متنوعة.
بيئة المزي ونشأته:كانت بلاد الشام منذ النصف الثاني من القرن السابع الهجري (الثالث عشر الميلادي) تعيش في ظل دولة المماليك البحرية التي قامت على أنقاض الدولة الايوبية، وأصبحت من أعظم مراكز القوى في العالم الاسلامي بسبب قدرتها على إيقاف التقدم المغولي المدمر الذي قضى على الخلافة العباسية ببغداد.
وعاشت دمشق آنذاك وهي تشهد عز الاسلام..عيدت أولا في سنة (658) على خير عظيم حينما تمكنت جيوشها من هزيمة جيوش المغول المدمرة شر هزيمة في "عين جالوت"غربي بيسان من أرض فلسطين الصابرة، وتنظيف البلاد الشامية من فلولهم المدحورة..
وعيدت ثانية في السنة نفسها بولاية مجاهد عظيم عليها هو السلطان العظيم الملك الظاهر ركن الدين أبو الفتوح بيبرس"658 676"، ثم شهدته بعد ذلك الانتصار وهو يكيل الضربات القوية للعدو الصليبي المخذول يحاول إزاحته من أرض العَرُوبَة والاسلام حتى أوهنه وأوهاه وأنحله وأضناه، وحرر القسم الاكبر من السواحل الشامية التي كانت بأيدي الغزاة الصليبيين (1) ، فأعاد بذلك سيرة السلطان المجاهد صلاح الدين يوسف الايوبي رضي الله عنه في الجهاد.
ثم شهدت هذه المدينة المجاهدة في سنة (690) تحرير آخر
--------------------------------------------
এই জীবনীকারগণ প্রায়শই একে অপরের থেকে তথ্য গ্রহণ করে থাকেন, তবে আমরা লক্ষ্য করেছি যে সবচেয়ে মৌলিক এবং তথ্যবহুল জীবনীগ্রন্থগুলো হলো আয-যাহাবি, আস-সাফাদি, আস-সুবকি, ইবনে কাসির এবং ইবনে হাজার-এর সংকলনসমূহ; কারণ এতে বিবিধ তথ্যের সমাবেশ ঘটেছে।
আল-মিযযির পরিবেশ ও তাঁর বেড়ে ওঠা:সপ্তম হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ (ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দ) থেকে শাম (সিরিয়া) অঞ্চল বাহরি মামলুক সালতানাতের অধীনে ছিল, যা আইয়ুবি রাজবংশের ধ্বংসাবশেষের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাগদাদে আব্বাসীয় খিলাফতকে ধ্বংসকারী মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার সক্ষমতার কারণে এটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে দামেস্ক ইসলামের গৌরব প্রত্যক্ষ করছিল। প্রথমত, ৬৫৮ হিজরি সনে এক মহা কল্যাণের মাধ্যমে বিজয় উদযাপিত হয়েছিল, যখন এর সেনাবাহিনী ধৈর্যশীল ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের বায়সানের পশ্চিমে অবস্থিত 'আইন জালুত'-এ মঙ্গোলদের ধ্বংসাত্মক বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল এবং শাম দেশ থেকে তাদের পরাজিত অবশিষ্টাংশকে বিতাড়িত করেছিল।
একই বছরে দ্বিতীয়বার উৎসবের আমেজ দেখা দেয় এক মহান মুজাহিদের শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে, তিনি হলেন মহান সুলতান আল-মালিকুজ জাহির রুকনুদ্দিন আবুল ফুতুহ বাইবার্স (৬৫৮-৬৭৬ হিজরি)। এরপর দামেস্ক সেই বিজয় প্রত্যক্ষ করে যখন তিনি পর্যুদস্ত ক্রুসেডার শত্রুদের ওপর একের পর এক শক্তিশালী আঘাত হানছিলেন এবং তাদেরকে আরব ও ইসলামের ভূমি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের শক্তিকে খর্ব ও হীনবল করে দেন এবং সিরীয় উপকূলের অধিকাংশ এলাকা ক্রুসেডার দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করেন (১)। এর মাধ্যমে তিনি জিহাদের ময়দানে মুজাহিদ সুলতান সালাহউদ্দিন ইউসুফ আইয়ুবি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
এরপর এই সংগ্রামী শহরটি ৬৯০ হিজরি সনে আরেকটি বিজয়ের সাক্ষী হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
شبر من أرض العَرُوبَة والاسلام وتنظيف البلاد من الغزاة الصليبيين على عهد السلطان الملك الاشرف صلاح الدين خليل (1)
..سمعت المنادي في مستهل ربيع الاول من السنة ينادي للغزاة في سبيل الله إلى عكا، وشاهدت المطوعة، وفيهم المحدثون والفقهاء والمدرسون والصالحون ينضمون إلى الجيش. قال الإمام الذهبي: وكان يومها شابا في السابعة عشرة من عُمَره: وجاءت إليه جيوش الشام بأسرها، وأمم لا يحصيهم إلا الله تعالى من المطوعة، فكانوا قدرالجندمرات" (2) ..شاهدت هؤلاء الأئمة الاعلام، وهم يجرون عجل المنجنيقات يرتلون القرآن الكريم، ويقرؤون أحاديث الجهاد، يتجهون نحو تحرير الارض، وصيانة حرمة الاسلام، فلم يلبث أن فتح المسلمون عكا في يوم واحد، كان يوم الجمعة المبارك السابع عشر من جمادى الاولى من السنة. وتوالت الانتصارات بعد فتح عكا، ففتحت صور، وصيدا، وبيروت، وغيرها حتى حررت جميع السواحل الشامية ونظفت من دنس الغزاة (3) .
وكانت بلاد الشام إلى جانب ذلك قد أصبحت مركزا كبيرا من مراكز الحركة الفكرية، فيها من المدارس العامرة، ودور القرآن والحديث العدد الكثير، عمل على تعميرها حكامها وبعض المياسير من أهلها، ونشطت في عهد الشهيد نور الدين محمود بن زنكي. وكانت العناية بالدراسات الدينية من تفسير وحديث وفقه وعقائد وما يتصل بها
--------------------------------------------
সুলতান আল-মালিক আল-আশরাফ সালাহউদ্দীন খলিল-এর শাসনামলে আরব ও ইসলামের ভূমির এক ইঞ্চি পরিমাণ ভূখণ্ড ক্রুসেডার আক্রমণকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা এবং দেশকে পরিচ্ছন্ন করার ইতিহাস (১)
..আমি সেই বছরের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ঘোষণাকারীকে আল্লাহর পথে এক্কা অভিমুখে যুদ্ধের আহ্বান জানাতে শুনেছি এবং আমি স্বেচ্ছাসেবকদের দেখেছি, যাদের মধ্যে মুহাদ্দিস, ফকীহ, শিক্ষক ও নেককার ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দিচ্ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবি—যিনি সে সময় সতেরো বছর বয়সী এক যুবক ছিলেন—বলেন: "সমগ্র শাম দেশের সেনাবাহিনী তাঁর কাছে উপস্থিত হলো এবং স্বেচ্ছাসেবকদের এমন এক বিশাল জনবাহিনী যোগ দিল যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না; তারা নিয়মিত সৈন্যবাহিনীর কয়েক গুণ ছিল" (২) ..আমি এই বরেণ্য ইমামদের দেখেছি যখন তারা মিনজানিকের চাকা টেনে নিচ্ছিলেন, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন এবং জিহাদ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করছিলেন; তারা ভূখণ্ড মুক্ত করা এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছিলেন। অনতিবিলম্বে মুসলমানগণ মাত্র একদিনে এক্কা বিজয় করেন; সেটি ছিল সেই বছরের জুমাদাল উলা মাসের সতেরো তারিখের মোবারক জুমার দিন। এক্কা বিজয়ের পর একের পর এক বিজয় আসতে থাকে; ফলে সোর, সাইদা, বৈরুত এবং অন্যান্য শহর বিজিত হয়, এমনকি শামের সমস্ত উপকূলীয় অঞ্চল মুক্ত হয় এবং আক্রমণকারীদের অপবিত্রতা থেকে পরিচ্ছন্ন হয় (৩)।
এর পাশাপাশি শাম দেশ বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের এক বৃহৎ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য সমৃদ্ধ মাদ্রাসা, দারুল কুরআন ও দারুল হাদীস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের শাসকগণ এবং বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ নির্মাণ করেছিলেন। শহীদ নুরুদ্দীন মাহমুদ বিন জানকির শাসনামলে এই কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়েছিল। তখন তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, আকাইদ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গবেষণার প্রতি গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
من علوم العربية هي السمة البارزة لهذا العصر، فأنتجت هذه الحركة أكلها في القرن الثامن الهجري الذي تبوأت فيه دمشق السيادة العلمية والفكرية في جميع أنحاء العالم الاسلامي بما أنتجت من تراث فكري، وأنجبت من علماء بارزين في هذه الميادين.
لكننا لاحظنا، ونحن نرصد هذه الحركة تباينا شديدا في قيمة الانتاج الفكري لهذه الفترة وأصالته، فوجدنا الكثير من المؤلفات الهزيلة التي لم تكن غير تكرار لما هو موجود في بطون الكتب السابقة، ثم وجدنا بعض المؤلفات التي امتازت بالاصالة والابداع والمناهج العلمية المتميزة. وقد زاد من صعوبة الابداع وخاصة في العلوم الدينية أن الواحد من العلماء كان يجد أمامه تراثا ضخما ممتدا عبر القرون في الموضوع الذي يوم التأليف فيه، وهو في وضعه هذا يختلف عن المؤلفين الاولين الذي لم يجابهوا مثل هذا التراث الغزير (1) .
في هذه البيئة السياسية والفكرية ولد الحافظ جمال الدين أبو الحجاج يوسف ابن الزكي عَبْد الرَّحْمَنِ بْن يُوسُف بْن علي بن عبد الملك بن علي بن أَبي الزهر الكلبي القضاعي المزي في ليلة العاشر من شهر ربيع الآخر سنة (654) بظاهر حلب (2) من عائلة عربية الاصل ترجع إلى قبيلة كلب القضاعية التي استوطنت البلاد الشامية منذ فترة مبكرة.
وانتقل جماد الدين إلى دمشق، فسكن المزة (3) القرية الكبيرة الغناء الواقعة في وسط بساتين دمشق جنوب غربيها والظاهر أن الكلبيين كانوا يكونون القسم الاكبر من سكانها منذ العهود الاسلامية الاولى،
--------------------------------------------
আরবি ভাষাতাত্ত্বিক শাস্ত্রসমূহ এই যুগের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত ছিল। এই জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের সুফল অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে পূর্ণতা লাভ করে, যখন দামেস্ক তার উৎপাদিত বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথিতযশা মনীষীদের জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে সমগ্র ইসলামি বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান দখল করে।
তবে আমরা যখন এই আন্দোলনের গতিধারা পর্যবেক্ষণ করি, তখন এই সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের মান ও মৌলিকত্বের মধ্যে এক চরম বৈষম্য লক্ষ্য করি। আমরা এমন অনেক দুর্বল রচনার সন্ধান পাই যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আবার এমন কিছু রচনারও দেখা মেলে যা ছিল মৌলিকত্ব, সৃজনশীলতা এবং অনন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমৃদ্ধ। সৃজনশীলতার এই পথ বিশেষ করে ধর্মীয় বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল, কারণ একজন লেখককে তার রচনার বিষয়ের ওপর কয়েক শতাব্দী ধরে বিস্তৃত এক বিশাল ঐতিহ্যের মোকাবিলা করতে হতো। এই বাস্তবতায় তিনি আদি লেখকদের থেকে ভিন্ন ছিলেন, যাঁদের এমন বিপুল জ্ঞান-ঐতিহ্যের সম্মুখীন হতে হয়নি (১)।
এই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপটে হাফেজ জামালুদ্দিন আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবন আল-জাকি আবদুর রহমান ইবন ইউসুফ ইবন আলী ইবন আব্দুল মালিক ইবন আলী ইবন আবি আল-যাহর আল-কালবি আল-কুযায়ি আল-মিজ্জি ৬৫৪ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসের দশম রজনীতে আলেপ্পোর উপকণ্ঠে জন্মগ্রহণ করেন (২)। তিনি একটি মূল আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যাদের বংশলতিকা কুযায়ি গোত্রের কালব শাখার সাথে যুক্ত, যারা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই সিরিয়া (শাম) অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল।
জামালুদ্দিন দামেস্কে চলে আসেন এবং মিজ্জায় বসতি স্থাপন করেন (৩)। এটি দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে উদ্যানবেষ্টিত একটি বৃহৎ ও সমৃদ্ধ জনপদ। প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকেই কালবি গোত্রের লোকেরা এই জনপদের জনসংখ্যার প্রধান অংশ গঠন করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
لذلك قيل فيها: مزة كلب"، قال الشاعرابن قيس الرَّقِّيّات:
حبذا ليلتي بمزة كلب • غال عني بها الكوانين غول
وبها على ما يروى قبر الصحابي دحية بن خليفة بن فروة الكلبي القضاعي (1) ، فلعل هذا هو الذي يفسر اختيار هذا المكان من دمشق سكنا له، إذ ربما كان له فيها بعض الاقرباء. ولا نعلم فيما إذا كان قدم دمشق وحده أم صحبة عائلته حيث تسكت المصادر عن ذلك، كما لا نعلم متى كان قدومه، ولكن يظهر أنه قدم منذ فترة مبكرة لقول تلميذه ورفيقه الإمام الذهبي: نشأ بالمزة" (2) .
وقرأ يوسف القرآن الكريم وشيئا من الفقه، لكن عائلته على ما يظهر، لم تعتن به العناية الكافية ولم توجهه إلى طلب الحديث منذ فترة مبكرة كما فعلت عائلة رفيقه وتلميذه الإمام الذهبي (3) ، ويبدو أنها لم تكن عائلة مشهورة بالعلم والطلب، ولم يكن والده من العلماء المشهورين (4) ، فلم يكن له إلا أن يطلبه هو بنفسه حينما بلغ الحادية والعشرين من عُمَره، فكان أول سماعه في سنة (675) (5) ، فلو كان له من يعتني به، ويستجيز له، ويوجهه، لادرك إسنادا عاليا، قال تلميذه
--------------------------------------------
এজন্য একে বলা হয়েছে: "মায্যাত কালব", কবি ইবনে কায়েস আল-রুকাইয়্যাত বলেছেন:
মায্যাত কালবে আমার সেই রাতটি কতই না চমৎকার ছিল • যখন কনকনে শীতের তীব্রতা আমার থেকে দূর হয়ে গিয়েছিল
বর্ণনা অনুসারে সেখানে সাহাবী দিহইয়া বিন খলিফা বিন ফারওয়া আল-কালবী আল-কুযাঈ (১)-এর কবর অবস্থিত। সম্ভবত এটিই দামেস্কের এই স্থানটিকে তাঁর আবাসন হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে, কারণ সেখানে সম্ভবত তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজন ছিল। তিনি দামেস্কে একা এসেছিলেন নাকি পরিবারের সাথে তা আমাদের জানা নেই; কারণ উৎসসমূহ এ বিষয়ে নীরব। একইভাবে তাঁর আগমনের সঠিক সময়ও আমাদের জানা নেই, তবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি খুব অল্প বয়সেই এসেছিলেন, কারণ তাঁর ছাত্র ও সহকর্মী ইমাম যাহাবী বলেছেন: "তিনি আল-মায্যাহ অঞ্চলে বেড়ে উঠেছেন" (২)।
ইউসুফ পবিত্র কুরআন এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিছুটা অধ্যয়ন করেছিলেন, কিন্তু দৃশ্যত তাঁর পরিবার তাঁর প্রতি পর্যাপ্ত যত্ন নেয়নি এবং তাঁর সহকর্মী ও ছাত্র ইমাম যাহাবীর পরিবারের মতো (৩) তাঁকে শৈশব থেকেই ইলমে হাদীস অন্বেষণে পরিচালিত করেনি। মনে হয় এটি জ্ঞান ও ইলম অন্বেষণে প্রসিদ্ধ কোনো পরিবার ছিল না, এবং তাঁর পিতাও কোনো প্রখ্যাত আলিম ছিলেন না (৪)। তাই যখন তিনি একুশ বছরে পদার্পণ করেন, তখন তিনি নিজেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং তাঁর প্রথম হাদীস শ্রবণ সংঘটিত হয় ৬৭৫ হিজরি সনে (৫)। যদি তাঁর এমন কেউ থাকত যে তাঁর যত্ন নিত, তাঁর জন্য ইজাযত সংগ্রহ করত এবং তাঁকে দিকনির্দেশনা দিত, তবে তিনি অবশ্যই উচ্চতর সনদ লাভ করতেন; তাঁর ছাত্র বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الصلاح الصفدي: ولم يتهيأ له السماع من ابن عبد الدائم (1) ولا الكرماني (2) ولا ابن أَبي اليسر (3) ونحوهم، ولا أجازوا له، مع إمكان أن تكون له إجازة المرسي (4) والمنذري (5) وخطيب مردا (6) واليلداني (7) وتلك الحلبة" (8) ، وَقَال الحافظ ابن حجر العسقلاني: ولو كان له من يسمعه صغيرا، لسمع من ابن عبد الدائم والكرماني وغيرهما، ولكنه طلب بنفسه في أول سنه خمس وسبعين"9.
سماعه وشيوخهكان أول سماعه الحديث على الشيخ المسند المعمر زين الدين أبي الْعَبَّاس أَحْمَد بْن أَبي الخير سلامة بن إبراهيم الدمشقي الحداد الحنبلي (678 589) ، فسمع أول ما سمع كتاب"الحلية"لابي نعيم ثم أكثر عنه (10) ، قال إمام المؤرخين شمس الدين الذهبي: وقرأ عليه المزي شيخنا شيئا كثيرا، وسمع منه"حلية الاولياء"، ورثاه بابيات بعد موته، وسألته عنه، فقال: شيخ جليل متيقظ، عُمَر، وتفرد بالرواية عن كثير من مشايخه، وحدث سنين كثيرة وسمعنا منه الكثير، وكان سهلا
--------------------------------------------
আস-সালাহ আস-সাফাদি বলেন: ইবনে আবদুদ দায়িম (১), আল-কিরমানি (২), ইবনে আবিল ইউসর (৩) এবং তাদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করা কিংবা তাদের থেকে ইজাযত লাভ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি; যদিও আল-মুরসি (৪), আল-মুনযিরি (৫), খাতিবে মারদা (৬), আল-イয়ালদানি (৭) এবং সেই প্রজন্মের আলিমদের থেকে ইজাযত লাভ করার সম্ভাবনা ছিল (৮)। হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেন: "শৈশবে যদি তাঁকে হাদীস শ্রবণ করানোর মতো কেউ থাকতেন, তবে তিনি ইবনে আবদুদ দায়িম, আল-কিরমানি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করতেন; কিন্তু তিনি স্বয়ং ৬৭৫ হিজরি সালের শুরুতে জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন" (৯)।
তাঁর হাদীস শ্রবণ ও শিক্ষকগণতাঁর হাদীস শ্রবণের সূচনা হয়েছিল দীর্ঘজীবী মুসনিদ শাইখ যাইনুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবিল খাইর সালামাহ বিন ইবরাহিম আদ-দিমাশকি আল-হাদ্দাদ আল-হাম্বালি (৫৮৯-৬৭৮ হি.)-এর নিকট। সর্বপ্রথম তিনি আবু নুয়াইমের 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থটি শ্রবণ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নিকট থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন (১০)। ঐতিহাসিকদের ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবি বলেন: "আমাদের উস্তাদ আল-মিযযি তাঁর কাছে প্রচুর পাঠ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে 'হিলয়াতুল আওলিয়া' শ্রবণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি শোকগাঁথাও রচনা করেছিলেন। আমি তাঁর (শাইখ হাদ্দাদ) সম্পর্কে তাঁকে (মিযযি) জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: 'তিনি একজন মর্যাদাবান ও সচেতন শাইখ ছিলেন, দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং তাঁর অনেক উস্তাদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে প্রচুর শ্রবণ করেছি; তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক।'"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
في الرواية" (1) . وكانت لأحمد هذا مكانة علمية رفيعة دللت عليها رواية جملة من ثقات العلماء عنه منهم: شرف الدين الدمياطي، وابن الحلوانية، وابن الخباز، وابن العطار، وشيخ الاسلام التقي ابن تيمية، والبرزالي، وطائفة سواهم، بل سمع منه ابن الحاجب الاميني بعرفات سنة (620) وخرج له في معجمه (2) ، وعاش ابن سلامة هذا بعد ابن الحاجب ثمانية وأربعين عاما (3) .
ومنذ ذلك الحين اتجهت همة المزي إلى سماع الحديث، فسمع من الجم الغفير، سمع عليهم الكتب الكبار الامهات مثل: الكتب الستة، ومسند الإمام أحمد، والمعجم الكبير لابي القاسم الطبراني، وتاريخ مدينة السلام بغداد للخطيب البغدادي، وكتاب النسب للزبير بن بكار، والسيرة لابن هشام، وموطأ الإمام مالك، والسنن الكبير، ودلائل النبوة كلاهما للبيهقي بحيث قال تلميذه الصلاح الصفدي: وأشياء يطول ذكرها، ومن الاجزاء ألوفا" (4) . وذكروا أن مشيخته نحو الالف شيخ (5) ، أورد الذهبي الكثير منهم في تاريخ الاسلام، وكان يسأله عن أحوال بعضهم (6) .
وتجول المزي في المدن الشامية، فسمع بالقدس الشريف، وحمص، وحماة، وبعلبك، وحج وسمع بالحرمين الشريفين. ورحل إلى البلاد المِصْرِية، فسمع بالقاهرة، والاسكندرية، وبلبيس، وكانت رحلته إليها في سنة (683) (7) ، وكان بالاسكندرية في سنة (684) حيث قرأ فيها على صدر الدين سحنون المتوفى سنة (695) (8) .
--------------------------------------------
বর্ণনার ক্ষেত্রে" (১)। আর এই আহমাদের উচ্চমর্যাদাপূর্ণ এক ইলমী অবস্থান ছিল, যার প্রমাণ মেলে তাঁর নিকট থেকে একদল বিশ্বস্ত আলেমদের বর্ণনার মাধ্যমে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শরাফ উদ্দিন আদ-দুমইয়াতি, ইবনুল হালওয়ানিয়্যাহ, ইবনুল খাব্বায, ইবনুল আত্তার, শাইখুল ইসলাম তাক্বি উদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-বির্যালি এবং আরও অনেকে। বরং ইবনুল হাজিব আল-আমিনি তাঁর নিকট থেকে ৬২০ হিজরীতে আরাফাতের ময়দানে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর 'মু'জাম'-এ তাঁর বর্ণনা সংকলন করেছেন (২)। আর এই ইবনে সালামাহ ইবনুল হাজিবের পর আরও আটচল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন (৩)।
সেই সময় থেকেই আল-মিযযীর মনোযোগ হাদীস শ্রবণের দিকে নিবদ্ধ হয়। তিনি অগণিত আলেমের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি তাঁদের নিকট উম্মাহর নির্ভরযোগ্য বৃহৎ গ্রন্থসমূহ পাঠ করেন, যেমন: কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ), ইমাম আহমাদের মুসনাদ, আবুল কাসিম আত-তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর, খতীব বাগদাদীর তারীখু মদিনাতিস সালাম বাগদাদ, যুবাইর ইবনে বাক্কারের কিতাবুন নাসাব, ইবনে হিশামের আস-সীরাহ, ইমাম মালিকের মুওয়াত্ত্বা, এবং আল-বাইহাক্বীর আস-সুনানুল কাবীর ও দালাঈলুন নুবুওয়াহ—উভয়টিই। এমনকি তাঁর ছাত্র সালাহ উদ্দিন আস-সাফাদি বলেছেন: "এমন অনেক কিছু রয়েছে যা বর্ণনা করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, আর ছোট ছোট পুস্তিকা বা জুয ছিল হাজার হাজার" (৪)। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর উস্তাদ বা মাশায়েখদের সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার (৫)। ইমাম আয-যাহাবী তাঁদের অনেকের কথা 'তারীখুল ইসলাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি আল-মিযযীকে তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন (৬)।
আল-মিযযী শামের শহরগুলোতে ভ্রমণ করেন। তিনি পবিত্র কুদস, হিমস, হামাত এবং বালবাক-এ হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হজ্জ পালন করেন এবং হারামাইন শরীফাইনে হাদীস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি মিশর সফর করেন এবং কায়রো, আলেক্সান্দ্রিয়া ও বিলবাইস-এ হাদীস শ্রবণ করেন। মিশরে তাঁর এই সফর ছিল ৬৮৩ হিজরীতে (৭)। তিনি ৬৮৪ হিজরীতে আলেক্সান্দ্রিয়ায় অবস্থান করছিলেন, যেখানে তিনি সদর উদ্দিন সাহনুন (মৃত ৬৯৫ হি.)-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وقد ذكر الصلاح الصفدي طبقات شيوخه على الاختصار، وذكر أبرزهم، فقال: سمع من أصحاب ابن طَبَرْزَذَ، والكندي، وابن الحرستاني وحنبل، ثم ابن ملاعب، والرهاوي، وابن البناء، ثم ابن أَبي لقمة، وابن البن، وابن مكرم والقزويني. ثم ابن اللتي، وابن صباح، وابن الزبيدي.
وأعلى ما سمع بإجازة ابن كليب وابن بوش، والجمال، وخليل بن بدر، والبوصيري وأمثالهم. ثم المؤيد الطوسي، وزاهر الثقفي، وعبد المعز الهروي.
وسمع أبا العباس ابن سلامة، وابْنُ أَبي عُمَر، وابْنُ عَلانَ، والشيخ محيي الدين النووي، والزواوي، والكمال عَبد الرحيم، والعز الحراني، وابن الدرجي، والقاسم الاربلي، وابن الصابوني، والرشيد العامري، ومحمد بن القواس، والفخر ابن البخاري، وزينب، وابن شيبان، ومحمد بن محمد بن مناقب، وإسماعيل بن العسقلاني، والمجد ابن الخليلي، والعماد ابن الشيرازي، والمحيي ابن عصرون، وأبا بكر بن الانماطي، والصفي خليلا، وغازيا الحلاوي، والقطب ابن القسطلاني وطبقتهم. والدمياطي شرف الدين، والفاروثي، واليونيني، وابن بلبان، والشريشي، وابن دقيق العيد، والظاهري، والتقي الاسعردي وطبقتهم. وتنازل إلى طبقة سعد الدين الحارثي (1) وابن نفيس (2) " (3) .
وعني المزي بدراسة العربية، فأتقنها لغة وتصريفا، ففاق أقرانه في ذلك بحيث قال الصلاح الصفدي فيه: ولم أر في أشياخي بعد
--------------------------------------------
আস-সালাহ আস-সাফাদি সংক্ষেপে তাঁর উস্তাদদের স্তরসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক বিশিষ্টদের কথা বর্ণনা করে বলেছেন: তিনি ইবন তাবরাজাদ, আল-কিন্দি, ইবনুল হারাসতানি এবং হানবালের শাগরিদদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। অতঃপর ইবন মুলা'ইব, আর-রাহাউয়ি, ইবনুল বান্না, অতঃপর ইবন আবি লুকমা, ইবনুল বান্ন, ইবন মাকরাম এবং আল-কাজউইনির নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন। এরপর ইবনুল লাতি, ইবন সাবাহ এবং ইবনুয যুবাইদির নিকট হাদিস শুনেছেন।
আর উচ্চতর সনদে তিনি ইবন কুলাইব, ইবন বুশ, আল-জামাল, খলিল ইবন বদর, আল-বুসিরি এবং তাঁদের সমমর্যাদার ব্যক্তিদের ইজাযতের মাধ্যমে হাদিস শ্রবণ করেছেন। এরপর আল-মুয়ায়্যাদ আত-তুসি, যাহির আস-সাকাফি এবং আবদুল মুইয আল-হারাউয়ি।
তিনি আবুল আব্বাস ইবন সালামাহ, ইবন আবি উমর, ইবন আল্লান, শাইখ মুহিউদ্দিন আন-নববী, আয-যাওয়াউয়ি, আল-কামাল আবদুর রহিম, আল-ইয আল-হাররানি, ইবনুদ্ দারজি, আল-কাসিম আল-ইরবিলি, ইবনুস সাবুনি, আর-রশিদ আল-আমেরি, মুহাম্মদ ইবনুল কাওয়াস, আল-ফখর ইবনুল বুখারি, যাইনাব, ইবন শাইবান, মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মানাকিব, ইসমাইল ইবনুল আসকালানি, আল-মাজদ ইবনুল খলিলি, আল-ইমাদ ইবনুশ শিরাজি, আল-মুহি ইবন আসরুন, আবু বকর ইবনুল আনমাতি, আস-সাফি খলিল, গাযি আল-হালাউয়ি, আল-কুতুব ইবনুল কাসতালani এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তদুপরি আদ-দুমইয়াতি শরাফ উদ্দিন, আল-ফারুসি, আল-ইউনিনি, ইবন বালবান, আশ-শারিশি, ইবন দাকিক আল-ঈদ, আয-যাহিরি, আত-তাকি আল-আসআরদি এবং তাঁদের স্তরের আলিমদের কাছেও শুনেছেন। এমনকি তিনি সা’দ উদ্দিন আল-হারিসি (১) এবং ইবন নাফিস (২)-এর স্তরের আলিমদের কাছেও নিম্নমুখী স্তরে হাদিস গ্রহণ করেছেন। (৩)।
আল-মিজ্জি আরবি ভাষা চর্চায় বিশেষ মনোনিবেশ করেছিলেন, ফলে তিনি ভাষা ও রূপতত্ত্বের (সারফ) ওপর পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, যে সম্পর্কে আস-সালাহ আস-সাফাদি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমি আমার উস্তাদদের মধ্যে তাঁর পরে আর কাউকে দেখিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
شيخنا أثير الدين في العربية مثله خصوصا في التصريف واللغة" (1)
وهذه شهادة عالم عارف نستبين قدرها إذا عرفنا مكانة أثير الدين أبي حيان الغرناطي أعظم علماء العربية في القرن الثامن الهجري غير مدافع (2) . وقد عرف أبو حيان نفسه قدر المزي، فأغدق الثناء عليه، وعلى علمه الجم (3) .
تأثره بالفكر السلفي
اتصل المزي اتصالا وثيقا بثلاثة من شيوخ ذلك العصر، وترافق معهم، وهم: شيخ الاسلام تقي الدين أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الحليم المعروف بابن تيمية الحراني (728 661) ، والمؤرخ المحدث علم الدين أبو محمد القاسم بن محمد البرزالي (665 739) ، ومؤرخ الاسلام شمس الدين أَبُو عَبْد اللَّهِ مُحَمَّد بْن أحمد الذهبي (748 673) (4) ، فكان المزي أكبرهم سنا، وكان بعضهم يقرأ على بعض فهم شيوخ وأقران في الوقت نفسه، وقرأ الثلاثة على المزي واعترفوا بأستاذيته، وافتخروا بها.
والظاهر أن المزي اتصل في شبيبته ببعض المتصوفة الغلاة. وكان التصوف منتشرا في البلاد انتشارا واسعا، وظهر بينهم كثير من المشعوذين الذين أثروا في العوام أيما تأثير (5) وانجذب إليهم بعض الشباب، فاغتر المزي في شبيبته بهم، فصحب الشاعر (6) الصوفي
--------------------------------------------
আমাদের শায়খ আসীরুদ্দীন আরবি ভাষায় তাঁর সমকক্ষ, বিশেষত শব্দরূপান্তর ও ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে।" (১)
এটি একজন অভিজ্ঞ জ্ঞানীর সাক্ষ্য, যার মর্যাদা আমরা তখন উপলব্ধি করতে পারি যখন আমরা অষ্টম হিজরি শতাব্দীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠ আরবি ভাষাবিদ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান আল-গারনাতির অবস্থান সম্পর্কে অবগত হই (২)। আবু হাইয়ান নিজেও আল-মিজ্জির মর্যাদা অনুধাবন করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর এবং তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন (৩)।
সালাফি চিন্তাধারার প্রভাব
আল-মিজ্জি সেই যুগের তিনজন প্রথিতযশা শায়খের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তাঁদের সাথে সহাবস্থান করেছিলেন। তাঁরা হলেন: শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম, যিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি (৬৬১-৭২৮ হি.) নামে পরিচিত; ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিস আলামুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-বির্জালি (৬৬৫-৭৩৯ হি.); এবং ইসলামের ইতিহাসবিদ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবি (৬৭৩-৭৪৮ হি.) (৪)। আল-মিজ্জি তাঁদের মধ্যে বয়সে বড় ছিলেন। তাঁরা একে অপরের নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন, ফলে তাঁরা একই সাথে শিক্ষক এবং সহপাঠী ছিলেন। উক্ত তিনজনই আল-মিজ্জির নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর শিক্ষকতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন ও তাতে গর্ববোধ করেছেন।
প্রকাশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, আল-মিজ্জি তাঁর যৌবনে কিছু চরমপন্থী সুফির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তখন দেশজুড়ে সুফিবাদ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেক ভণ্ড সাধকের আবির্ভাব ঘটেছিল যারা সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল (৫)। কিছু যুবক তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং আল-মিজ্জিও যৌবনে তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে তিনি উক্ত সুফি কবির (৬) সাহচর্য গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
عفيف الدين أبا الربيع سُلَيْمان بن علي التلمساني (1) (690 610) .
وكان العفيف هذا من غلاة الاتحادية القائلين بوحدة الوجود (2) على قاعدة ابن عربي، ونسبه جماعة إلى رقة الدين، وتعاطي المحرمات (3) ، فلما تبين للمزي انحلال العفيف واتحاده، تبرأ منه، وحط عليه (4) .
ولعل مفارقته للعفيف التلمساني واضرابه كانت نتيجة تأثره بالإمام تقي الدين ابن تيمية الذي أعجب به المزي أيما إعجاب، فكان أكثر رفاقه صلة ومحبة بالشيخ الإمام (5) .
وكانت شخصية الإمام ابن تيمية قد اكتملت في نهاية القرن السابع الهجري، فأصبح مجتهدا له آراؤه الخاصة التي تقوم في أصلها على اتباع آثار السلف، ونتقية الدين من الخرافات، والمعتقدات الطارئة عليه، وابتدأ منذ سنة 698 يدخل في خصومات عقائدية حادة مع علماء عصره المخالفين له (6) ، ويقيم الحدود بنفسه (7) ، ويحارب المشعوذين (8) ، ويمنع من تقديم النذور لغير الله (9) ، ويريق الخمور (10) ، ونحو ذلك من الأمر بالمعروف والنهي عَنِ المنكر.
وظهرت شخصية الإمام ابن تيمية السياسية في الحرب الغازانية سنة (699) بعد هزيمة الجيوش المِصْرِية والشامية أمام غزو غازان سلطان المغول في موقعة الخزندار، فقد قابل ابن تيمية غازان وكلمه
--------------------------------------------
আফিফ উদ্দীন আবুল রাবি সুলায়মান বিন আলী আল-তিলিমসানি (১) (৬১০ - ৬৯০ হিজরি)।
এই আফিফ ইবনুল আরাবীর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের এককত্ব)-এ বিশ্বাসী চরমপন্থী ইত্তিহাদিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একদল আলেম তাকে দ্বীনের শিথিলতা এবং নিষিদ্ধ কার্যে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন (৩)। ইমাম মিযযীর নিকট যখন আফিফের বিচ্যুতি ও ইত্তিহাদী মতবাদ স্পষ্ট হলো, তখন তিনি তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন এবং তার কঠোর সমালোচনা করেন (৪)।
সম্ভবত আফিফ তিলিমসানি ও তার সমমনাদের থেকে তাঁর এই বিচ্ছিন্নতা ছিল ইমাম তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়ার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফল, যাঁকে ইমাম মিযযী অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তিনি ছিলেন শায়খুল ইমামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং মুহাব্বতকারী সহচরদের অন্যতম (৫)।
সপ্তম হিজরী শতাব্দীর শেষদিকে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে এবং তিনি একজন মুজতাহিদ হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল যার মূল ভিত্তি ছিল সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ এবং ধর্মকে কুসংস্কার ও আগন্তুক ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে মুক্ত করা। ৬৯৮ হিজরী থেকে তিনি তাঁর বিরোধী সমকালীন আলেমদের সাথে তীব্র আকীদাগত বিতর্কে লিপ্ত হন (৬)। তিনি নিজেই দণ্ডবিধি (হুদুদ) কায়েম করতেন (৭), ভণ্ড ও জাদুকরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন (৮), আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে মানত পেশ করতে বাধা দিতেন (৯), মদ ঢেলে নষ্ট করে দিতেন (১০) এবং এভাবেই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব পালন করতেন।
৬৯৯ হিজরীতে গাযান যুদ্ধে ইমাম ইবনে তাইমিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। খাযানদারের যুদ্ধে মঙ্গোল সুলতান গাযানের কাছে মিসর ও শামের সেনাবাহিনীর পরাজয়ের পর ইবনে তাইমিয়া গাযানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার সাথে কথা বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
كلاما شديدا، وعمل على ثبات البلاد حينما خلت من الجيوش القادرة على رد الغزو المدمر، فكان يدور على الاسوار يحرض الناس على الصبر والقتال، ويتلو عليهم آيات الجهادو الرباط، وأقام معسكرات التدريب في كل مكان ومنها المدارس، فكان المحدثون والفقهاء يتعلمون الرمي، ويستعدون لقتال العدو (1) . ثم سافر إلى مصر يحض الدولة والناس على القتال حتى تمكن في سنة (702) من رص الصفوف، وتوحيد القلوب، وتحديد الهدف مما أدى إلى الانتصار الكبير في وقعة"شقحب"التي شارك الإمام ابن تيمية في القتال فيها يصحبه طلبة العلم من المحدثين والفقهاء والصالحين، وكان يحرض الجيش والمطوعة في ساحة القتال على البلاء ويبشرهم بالنصر (2) ، قال ابن كثير: وجعل يحلف بالله الذي لا إله إلا هو"إنكم منصورون عليهم هذه المرة، فيقول له الامراء: قل إن شاء الله، فيقول: إن شاء الله تحقيقا لا تعليقا، وأفتى الناس بالفطر مدة قتالهم وأفطر هو أيضا" (3) .
أقول: إن هذه الشخصية العظيمة جذبت المزي إليها، فأعجب المزي بابن تيمية الاعجاب كله، وترافق معه طيلة حياته، قال الذهبي: ترافق هو وابن تيمية كثيرا في سماع الحديث، وفي النظر في العلم، وكان يقرر طريقة السلف في السنة، ويعضد ذلك بمباحث نظرية وقواعد كلامية..وما وراء ذلك بحمدالله إلا حسن إسلام وحسبة لله مع أني لم أعلمه ألف في ذلك شيئا" (4) ، وَقَال التاج السبكي: واعلم أن هذه الرفقة أعني المزي والذهبي والبرزالي وكثيرا من أتباعهم، أضر بهم أبو العباس ابن تيمية إضرارا بينا،
--------------------------------------------
তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং যখন ধ্বংসাত্মক আক্রমণ প্রতিহত করার মতো সক্ষম সেনাবাহিনী ছিল না, তখন দেশ রক্ষায় দৃঢ়ভাবে কাজ করেন। তিনি দুর্গের প্রাচীরের ওপর ঘুরে ঘুরে মানুষকে ধৈর্য ও যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করতেন এবং তাদের সামনে জিহাদ ও সীমান্ত পাহারার (রিবাত) আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। তিনি সর্বত্র প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করেন, এমনকি মাদরাসাসমূহকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন। সেখানে মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ তীরন্দাজি শিখতেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন (১)। অতঃপর তিনি মিশরে গমন করে রাষ্ট্র ও জনগণকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন, যার ফলে ৭০২ হিজরিতে তিনি কাতারবদ্ধ হতে, হৃদয়ের ঐক্য ঘটাতে এবং লক্ষ্য নির্ধারণে সক্ষম হন। এর ফলে 'শাকহাব' যুদ্ধে এক বিশাল বিজয় অর্জিত হয়, যে যুদ্ধে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ স্বয়ং অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর সাথে ইলমে হাদিসের ছাত্র, ফকিহ ও পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বীরত্ব প্রদর্শনে উৎসাহিত করতেন এবং বিজয়ের সুসংবাদ দিতেন (২)। ইবনে কাসির বলেন: তিনি সেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে লাগলেন, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, "নিশ্চয়ই এবার তোমরা তাদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে।" তখন সেনাপতিগণ তাঁকে বললেন, "ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) বলুন।" তিনি বললেন, "ইনশাআল্লাহ, যা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, কেবল সম্ভাবনা হিসেবে নয়।" যুদ্ধের সময় তিনি সৈন্যদের রোজা ভঙ্গের ফতোয়া দেন এবং নিজেও রোজা ভঙ্গ করেন (৩)।
আমি বলব: এই মহান ব্যক্তিত্ব আল-মিজ্জিকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করেছিলেন। ফলে মিজ্জি ইবনে তাইমিয়্যার প্রতি পূর্ণরূপে মুগ্ধ হন এবং সারাজীবন তাঁর সঙ্গী ছিলেন। আয-যাহাবি বলেন: "তিনি এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ হাদিস শ্রবণ ও ইলমি পর্যালোচনায় দীর্ঘ সময় একসাথে অতিবাহিত করেছেন। তিনি সুন্নাহর ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করতেন এবং তাত্ত্বিক আলোচনা ও কালাম শাস্ত্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে একে সমর্থন করতেন। আল্লাহর প্রশংসায় এর পেছনে ইসলামের সৌন্দর্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না, যদিও আমি জানি না যে তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছু রচনা করেছেন কি না" (৪)। তাজ আল-সুবকি বলেন: "জেনে রাখুন যে, এই যে সঙ্গীদল—অর্থাৎ আল-মিজ্জি, আয-যাহাবি ও আল-বারজালি এবং তাঁদের অনুসারীদের অনেকে—আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁদের স্পষ্টভাবে প্রভাবিত করেছিলেন,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وحملهم من عظائم الامور أمرا ليس هينا، وجرهم إلى ما كان التباعد عنه أولى بهم، وأوقعهم في دكادك من نار المرجو من الله أن يتجاوزها لهم ولاصحابهم" (1) . وهذه النصوص تشير إلى قدم هذه العلاقة التي ابتدأت منذ أيام الطلب، وأخذت تنمو على مرور الايام، فتزيد متانة وصلابة.
وهكذا تكون فكر الحافظ المزي، فهو شافعي المذهب، سلفي العقيدة، أخلص الاخلاص كله لرفيقه ابن تيمية وآرائه التجديدية، وجعله مثله الاعلى، ويظهر ذلك جليا من دراسة سيرتيهما، فقد أوذي المزي بسبب ذلك: أوذي مرة، واختفى مدة من أجل تحديثه بتاريخ بغداد للخطيب البغدادي (2) ، وأوذي ثانية في رجب من سنة (705) حينما تناظر ابن تيمية مع الاشاعرة عند نائب السلطنة الافرم، وقرئت عقيدة ابن تيمية الواسطية وحصل البحث في أماكن منها، ثم اضطر المناظرون له إلى قبولها بعد أن أفحمهم شيخ الاسلام، فقعد المزي عندئذ تحت قبة النسر بجامع دمشق، وقرأ فصلا بالرد على الجهمية من كتاب"أفعال العباد"للامام البخاري بعد قراءة ميعاد البخاري، فغضب بعض الفقهاء الشافعية الحاضرون، وَقَالوا: نحن المقصودون بذلك، وشكوه إلى القاضي الشافعي نجم الدين أحمد بن صصرى، وكان عدوا للشيخ ابن تيمية، فسجن المزي، فبلغ الشيخ تقي الدين ذلك
--------------------------------------------
"এবং তিনি তাদের ওপর এমন সব গুরুতর বিষয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন যা মোটেই সহজ ছিল না, আর তাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে টেনে নিয়েছেন যা থেকে দূরে থাকাই তাদের জন্য শ্রেয় ছিল। তিনি তাদের আগুনের এমন সব গহ্বরে নিপতিত করেছেন, যেখান থেকে আল্লাহ তাআলা তাদের ও তাদের সঙ্গীদের ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায়" (১)। এই পাঠ্যসমূহ নির্দেশ করে যে, তাদের এই সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে, যা ইলম অন্বেষণের দিনগুলো থেকে শুরু হয়েছিল এবং সময়ের আবর্তনে তা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে আরও সুদৃঢ় ও মজবুত হয়ে ওঠে।
এভাবেই হাফিজ মিযযীর চিন্তাধারা গঠিত হয়েছিল; তিনি মাযহাবের দিক থেকে শাফিঈ এবং আকিদার দিক থেকে সালাফি ছিলেন। তিনি তার সুহৃদ ইবনে তাইমিয়া ও তার সংস্কারমূলক মতাদর্শের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন এবং তাকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের উভয়ের জীবনী পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এই কারণেই মিযযী নানাবিধ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন: একবার তিনি নিগৃহীত হন এবং খতীব বাগদাদীর 'তারীখে বাগদাদ' বর্ণনা করার কারণে দীর্ঘ সময় আত্মগোপন করে থাকেন (২)। ৭০৫ হিজরীর রজব মাসে তিনি দ্বিতীয়বার কষ্টের সম্মুখীন হন, যখন নায়েবে সুলতান আল-আফরামের দরবারে আশআরিদের সাথে ইবনে তাইমিয়ার বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ইবনে তাইমিয়ার 'আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' পাঠ করা হয় এবং এর বিভিন্ন স্থান নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। পরিশেষে শাইখুল ইসলাম প্রতিপক্ষকে লা-জওয়াব করে দেওয়ার পর তারা তা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। তখন মিযযী দামেস্ক জামে মসজিদের 'কুব্বাতুন নাসর'-এর নিচে বসেন এবং বুখারীর নির্ধারিত পাঠ শেষে ইমাম বুখারীর 'খালকু আফআলিল ইবাদ' গ্রন্থ থেকে জাহমিয়াদের খণ্ডনমূলক একটি অধ্যায় পাঠ করেন। এতে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শাফিঈ ফকীহ রাগান্বিত হন এবং তারা বলেন: "আমাদেরকেই এর দ্বারা লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।" অতঃপর তারা শাফিঈ কাযী নাজমুদ্দীন আহমদ ইবনে সসরীর কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করেন, যিনি শাইখ ইবনে তাইমিয়ার শত্রু ছিলেন। ফলে মিযযীকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং শাইখ তাকীউদ্দীন এই সংবাদ জানতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فتألم لحبس المزي، وذهب إلى السجن، وأخرجه بنفسه، ولم يحفل بالسلطة، وراح إلى القصر، فوجد القاضي ابن صصري هناك، فتقاولا بسبب المزي، فحلف ابن صصرى لا بد أن يعيده إلى السجن وإلا عزل نفسه، وكان الافرم غائبا عن دمشق ذلك اليوم، فأمر نائبه بإعادته تطييبا لقلب القاضي، فحبسه عنده أياما ثم أطلقه (1) .
وكان ابن تيمية كثير الاعتماد على المزي وعلمه ومعرفته، فحينما خرج من سجنه بمصر سنة (709) بعد عودة السلطان محمد بن قلاوون وجلس في القاهرة ينشر علمه، احتاج إلى بعض كتبه التي بالشام، فكتب إلى أهله كتابا يطلب جملة من كتب العلم التي له، وطلب منهم أن يستعينوا على ذلك، بجمال الدين المزي"فانه يدري كيف يستخرج له ما يريده من الكتب التي أشار إليها" (2) . وحينما ولي المزي أكبر دار حديث بدمشق هي دار الحديث الاشرفية سنة (718) فرح ابن تيمية فرحا عظيما بذلك وَقَال: لم يل هذه المدرسة من حين بنائها إلى الآن أحق بشرط الواقف منه" (3) . وقد وليها عظماء العلماء المحدثين منهم: تقي الدين ابن الصلاح (643 577) ، وابن الحرستاني (662 577) ، وأبو شامة (665 599) ومحيي الدين النووي (676 631) وغيرهم، فقد اعتمد ابن تيمية قول الواقف: ان اجتمع من فيه الرواية ومن فيه الدراية قدم من فيه الرواية" (4) ففضله ابن تيمية بذلك على جميع المتقدمين في الرواية.
ولما توفي شيخ الاسلام ابن تيمية مسجونا بقلعة دمشق، لم يسمح لاحد بالدخول أول الامر إلا لخواص أصحابه، قال ابن كثير:
--------------------------------------------
আল-মিজ্জির কারাবরণে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং কারাগারে গিয়ে নিজ উদ্যোগে তাঁকে বের করে নিয়ে আসলেন। তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো পরোয়া করেননি। এরপর তিনি প্রাসাদে গিয়ে সেখানে বিচারক ইবনে সাসরাকে দেখতে পেলেন। আল-মিজ্জির ইস্যুতে তাদের মধ্যে তুমুল তর্কাযুদ্ধ হলো। ইবনে সাসরা শপথ করলেন যে, আল-মিজ্জিকে অবশ্যই কারাগারে ফিরিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় তিনি পদত্যাগ করবেন। সেদিন আল-আফরাম দামেস্কের বাইরে ছিলেন, তাই বিচারকের মন রক্ষার্থে তার প্রতিনিধি আল-মিজ্জিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর তিনি মুক্তি পান (১)।
ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-মিজ্জি এবং তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিলেন। যখন তিনি ৭০৯ হিজরিতে সুলতান মুহাম্মদ বিন কালাউনের প্রত্যাবর্তনের পর মিসরের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কায়রোতে অবস্থান করে জ্ঞান প্রচার করছিলেন, তখন সিরিয়ায় থাকা তাঁর কিছু কিতাবের প্রয়োজন হলো। তিনি তাঁর পরিবারের কাছে একগুচ্ছ কিতাব চেয়ে পত্র লিখলেন এবং এই কাজে জামালুদ্দিন আল-মিজ্জির সহায়তা নিতে বললেন। তিনি লিখলেন, "কেননা তাঁর নির্দেশিত কিতাবসমূহ কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়, তা আল-মিজ্জি ভালোভাবেই জানেন" (২)। যখন ৭১৮ হিজরিতে আল-মিজ্জি দামেস্কের শ্রেষ্ঠ হাদিস শিক্ষা কেন্দ্র 'দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া'-র প্রধান নিযুক্ত হলেন, ইবনে তাইমিয়্যাহ এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "এই মাদ্রাসা নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কেউ এর ওয়াকফকারীর শর্ত পূরণে তাঁর চেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তি এই পদের দায়িত্ব পাননি" (৩)। অথচ ইতিপূর্বে সেখানে বহু মহান মুহাদ্দিস ও আলিম দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহ (৫৭৭-৬৪৩), ইবনুল হারাসতানি (৫৭৭-৬৬২), আবু শামাহ (৫৯৯-৬৬৫), মুহিউদ্দীন আন-নওয়াবী (৬৩১-৬৭৬) এবং অন্যান্যরা। ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়াকফকারীর এই উক্তিটির ওপর নির্ভর করেছিলেন যে: "যদি এমন ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটে যাদের মধ্যে রেওয়ায়েত (বর্ণনাসূত্র) এবং দিরেয়ায়েত (তত্ত্বজ্ঞান) উভয় গুণ বিদ্যমান থাকে, তবে রেওয়ায়েতবিদকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে" (৪)। এভাবেই ইবনে তাইমিয়্যাহ রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সকলের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
যখন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ দামেস্ক দুর্গে বন্দি অবস্থায় ইন্তেকাল করলেন, তখন প্রথমদিকে তাঁর একান্ত ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ব্যতীত অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ইবনে কাসির বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
"وكنت فيمن حضر هناك مع شيخنا الحافظ أبي الحجاج المزي رحمه الله وكشفت عن وجه الشيخ، ونظرت إليه وقبلته..ثم شرعوا في غسل الشيخ، وخرجت إلى مسجد هناك، ولم يدعوا عنده إلا من ساعد في غسله، منهم شيخنا الحافظ المزي، وجماعة من كبار الصالحين الاخيار أهل العلم، والايمان" (1) . ولما مات المزي بعد ذلك بأربعة عشر عاما، دفن غربي قبر رفيقه وصديقه ابن تيمية (2) رضي الله عنهما.
وظل الشيخ بعد وفاة ابن تيمية مؤمنا بهذه العقيدة، ولم يفتر عن دوام الايمان بها، فنجده مدافعا منافحا عن عقيدة الاسلام الصحيحة محاربا الخارجين المارقين عنها، فيشاهده الناس فِي ذي القعدة من سنة (741) وهو في الثامنة والثمانين من العُمَر يحضر المجلس بدار العدل مع رفيقه في العقيدة الإمام الذهبي عند محاكمة عثمان الدكالي، أحد المارقين عن الاسلام، قال ابن كثير: وتكلما، وحرضا في القضية جدا، وشهدا بزندقة المذكور بالاستفاضة وكذا الشيخ زين الدين أخو الشيخ تقي الدين ابن تيمية، وخرج القضاة الثلاثة المالكي والحنفي والحنبلي وهو نفذوا حكمه في المجلس، فحضروا قتل المذكور، وكنت مباشرا لجميع ذلك من أوله إلى آخره" (3) . ولم يكن الشافعية الاشاعرة، ومنهم قاضيهم تقي الدين السبكي، قد وافقوا على محاكمة هذا الرجل، قال ابن حجر في ترجمة الدكالي هذا: كان من الخانقاه السميساطية فدعا طائفة إلى مقالات الباجريقي، فشاع أمره، فأمسك، وقامت عليه البينة بالامور المنكرة فحبس، ثم حضر المزي والذهبي، فشهدا عليه بالاستفاضة بما نسب إليه، فحكم القاضي شرف الدين المالكي بإراقة دمه، ولم يكن ذلك
--------------------------------------------
"আমি আমাদের শাইখ হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলাম। আমি শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ)-এর মুখমণ্ডল উন্মোচন করলাম, তাঁর দিকে তাকালাম এবং তাঁকে চুম্বন করলাম... অতঃপর তারা শাইখকে গোসল করানো শুরু করলেন। আমি সেখানকার একটি মসজিদে চলে গেলাম। যারা তাঁকে গোসল করাতে সাহায্য করছিলেন তারা ব্যতীত আর কাউকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়নি; তাঁদের মধ্যে ছিলেন আমাদের শাইখ হাফেজ আল-মিজ্জি এবং একদল শীর্ষস্থানীয় নেককার ও শ্রেষ্ঠ আলেম ও ঈমানদার ব্যক্তিবর্গ।" (১) । এর চৌদ্দ বছর পর যখন আল-মিজ্জি ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁকে তাঁর সঙ্গী ও বন্ধু ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কবরের পশ্চিম পাশে দাফন করা হয় (২)।
ইবনে তাইমিয়্যাহর মৃত্যুর পরও শাইখ (আল-মিজ্জি) এই আকিদাহর ওপর অটল ছিলেন এবং এর প্রতি ঈমান রক্ষায় কখনও শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। তাই আমরা তাঁকে ইসলামের সঠিক আকিদাহর পক্ষে একজন লড়াকু ও জোরালো প্রতিবাদী হিসেবে এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত অবস্থায় পাই। ৭৪১ হিজরির জিলকদ মাসে মানুষ তাঁকে আটাশি বছর বয়সে তাঁর আকিদাহর সঙ্গী ইমাম আল-জাহাবীর সাথে 'দারুল আদল'-এ উপস্থিত থাকতে দেখেন, যখন ইসলাম থেকে বিচ্যুত উসমান আদ-দুকালির বিচার চলছিল। ইবনে কাসীর বলেন: "তাঁরা উভয়ে কথা বললেন এবং এই মামলায় অত্যন্ত জোরালো অবস্থান নিলেন। তাঁরা জনশ্রুতির ভিত্তিতে উল্লিখিত ব্যক্তির ধর্মদ্রোহিতার সাক্ষ্য দিলেন। শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর ভাই শাইখ জয়নুদ্দীনও অনুরূপ করলেন। মালিকি, হানাফি ও হাম্বলি—তিনজন বিচারক বের হয়ে এলেন এবং মজলিসেই তাঁর রায় কার্যকর করলেন। অতঃপর তাঁরা উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করলেন। আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম" (৩)। শাফেয়ি আশআরীগণ এবং তাঁদের বিচারক তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এই ব্যক্তির বিচারের বিষয়ে একমত ছিলেন না। ইবনে হাজার এই দুকালির জীবনীতে বলেন: "তিনি সুমাইসাতিয়া খানকাহর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি একদল মানুষকে আল-বাজরিকির মতবাদের দিকে আহ্বান জানান, ফলে তাঁর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর বিষয়াদির প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। এরপর আল-মিজ্জি ও আল-জাহাবী উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি আরোপিত বিষয়ের ওপর জনশ্রুতির ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ফলে মালিকি বিচারক শরফুদ্দিন তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। তবে বিষয়টি এমন ছিল না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
رأي النائب ألطنبغا ولا التقي السبكي" (1) .
منزلة المزي العلمية
1ـ أبرز آثارهاحتل المزي مكانة عظيمة بين علماء القرن الثامن الهجري في الحديث وعلومه، وما يتصل بهما، وقامت شهرته على أعظم كتابين ألفهما في فنهما هما"تحفة الاشراف""وتهذيب الكمال.
ويعد كتاب"تحفة الاشراف بمعرفة الاطراف (2) "من أعظم الكتب المؤلفة في أطراف الكتب الستة وبعض لواحقها، كان الغرض الاساس منه جمع أحاديث الكتب الستة وبعض لواحقها بطريق تسهل على القارئ معرفة أسانيدها المختلفة مجتمعة في موضع واحد. وقد رتبه على الأسانيد دون المتون، فصار معجما مرتبا على تراجم أسماء الصحابة والتابعين وأتباع التابعين، وفي بعض الاحيان أتباع أتباع التابعين فدونت جميع أحاديث الكتب الستة وبعض لواحقهما على هذه الأَسماء، فأصبح يتكون من (1395) مسندا منها (995) مسندا منسوبا إلى الصحابة بعد أن رتب أسماءهم على حروف المعجم، والباقية من المراسيل وعددها أربع مئة منسوبة إلى أئمة التابعين ومن بعدهم على حروف المعجم أيضا، وهو عمل هائل تعجز عنه العصبة (3) . يضاف إلى ذلك أن المزي لم يقتصر فيه على الكتب الستة كما ذكرنا، بل أضاف إليها من لواحق ومؤلفات أصحاب الستة: أ- مقدمة صحيح
--------------------------------------------
নায়েব আলতুনবুগার মতামত নাকি তাকিউদ্দীন আস-সুবকীর (১)।
আল-মিযযীর ইলমী মর্যাদা
১- তাঁর শ্রেষ্ঠ কর্মসমূহআল-মিযযী অষ্টম হিজরি শতকের হাদীস ও হাদীস সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের আলেমদের মধ্যে এক মহান উচ্চাসনে আসীন। তাঁর খ্যাতি মূলত তাঁর লিখিত এ শাস্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ দু’টি কিতাবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; তা হলো ‘তুহফাতুল আশরাফ’ এবং ‘তাহযিবুল কামাল’।
‘তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ’ (২) নামক গ্রন্থটি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু কিতাবের ‘আতরাফ’ (হাদীসের অংশবিশেষ) সংকলন হিসেবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কুতুবে সিত্তা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গ্রন্থের হাদীসসমূহকে এমনভাবে একত্র করা, যাতে পাঠক একই স্থানে হাদীসগুলোর বিভিন্ন সনদ বা সূত্রসমূহ সহজে জানতে পারেন। তিনি গ্রন্থটিকে মতন বা মূল পাঠের পরিবর্তে সনদের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন। ফলে এটি সাহাবী, তাবিঈ, তবে-তাবিঈ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তবে-তবে-তাবিঈদের নামের জীবনীভিত্তিক একটি অভিধানে পরিণত হয়েছে। কুতুবে সিত্তা ও এর আনুষঙ্গিক গ্রন্থগুলোর সমস্ত হাদীস এই নামগুলোর অধীনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে এটি ১৩৯৫টি ‘মুসনাদ’ বা সূত্রসমগ্র নিয়ে গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯৫টি মুসনাদ সরাসরি সাহাবায়ে কেরামের নামে বরাদ্দ (বর্ণনাকারীদের নাম অভিধানের ক্রমানুসারে সাজানোর পর)। অবশিষ্ট ৪০০টি হলো ‘মারাসীল’ বা মুরসাল হাদীস, যা তাবিঈ ইমামগণ ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নামে একইভাবে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। এটি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ, যা সম্পন্ন করা একটি শক্তিশালী দলের পক্ষেও দুষ্কর (৩)। এর সাথে আরও যোগ করা প্রয়োজন যে, মিযযী এতে শুধু কুতুবে সিত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি এই ছয়টি গ্রন্থের রচয়িতাদের অন্যান্য রচনা ও পরিশিষ্টগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন: ক- সহীহ মুসলিমের ভূমিকা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
مسلم. ب- كتاب المراسيل لابي داود. ج- كتاب العلل للترمذي، وهو الذي في آخر كتاب الجامع له. د- كتاب الشمائل للترمذي أيضا.
هـ كتاب عمل يوم وليلة للنسائي.
وحينما انتهى من تأليف الكتاب ألحق به بعد ذلك ذيلا سماه. "لحق الاطراف"تتبع فيه بعض الاحاديث التي لم ترد إلا برواية ابن الاحمر من كتاب النَّسَائي. وذكر الحافظ ابن حجر أنه شاهده في جزء لطيف، ثم شاهد نسخة ابن كثير من"التحفة"وعليها هذا اللحق بخط المؤلف (1) .
وقد ذكر ابن حجر أنه"قد حصل الانتفاع بهذا الكتاب شرقا وغربا، وتنافس العلماء في تحصيله بعدا وقربا (2) ". ونظرا لهذه المنزلة التي احتلها في هذا الفن، فقد تناوله العلماء بالاستدراك والتلخيص والتعليق، لانه صار الكتاب المعتمد في هذا الفن.
وقد اختصره تلميذه ورفيقه مؤرخ الاسلام الذهبي في مجلدين على ما ذكر الصفدي (3) وابن شاكر (4) والسبكي (5) والزركشي (6) وسبط ابن حجر (7) .
واختصره أبو العباس أحمد بن سعد بن محمد الاندرشي المتوفى سنة (750) وسماه"العمدة في مختصر الاطراف" (8) .
وألف العلامة علاء الدين مغلطاي بن قليج الحنفي المتوفى سنة (762) مستدركا على تحفة الاشراف ذكر ابن حجر أن فيه أوهاما منه.
--------------------------------------------
মুসলিম। খ- আবু দাউদ সংকলিত 'কিতাবুল মারাসিল'। গ- তিরমিজি সংকলিত 'কিতাবুল ইলাল', যা তাঁর 'জামি' গ্রন্থের শেষে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘ- তিরমিজি সংকলিত 'কিতাবুল শামায়িল'।
ঙ- নাসায়ি সংকলিত 'কিতাব আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'।
গ্রন্থটির রচনা সমাপ্ত করার পর তিনি এতে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেন যার নামকরণ করেন 'লাহকুল আতরাফ'। এতে তিনি এমন কিছু হাদিস অনুসন্ধান করে যুক্ত করেছেন যা ইমাম নাসায়ির গ্রন্থ থেকে কেবল ইবনুল আহমারের বর্ণনায় পাওয়া যায়। হাফেজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি একটি সংক্ষিপ্ত খণ্ডে প্রত্যক্ষ করেছেন; অতঃপর তিনি ইবনে কাসিরের নিকট রক্ষিত 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর একটি পাণ্ডুলিপি দেখেন যেখানে লেখকের নিজ হাতে লিখিত এই পরিশিষ্টটি বিদ্যমান ছিল (১)।
ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, "প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এই গ্রন্থ দ্বারা প্রভূত উপকার সাধিত হয়েছে এবং নিকট ও দূর-দূরান্তের আলেমগণ এটি সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন (২)"। এই শাস্ত্রে গ্রন্থটি যে সুউচ্চ অবস্থান দখল করে আছে, তার প্রেক্ষিতে আলেমগণ এর ওপর পরিমার্জন, সংক্ষিপ্তকরণ ও টীকা রচনা করেছেন; কারণ এটি এই শাস্ত্রের একটি নির্ভরযোগ্য ও মূল গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
সাফাদি (৩), ইবনে শাকির (৪), সুবকি (৫), যারকাশি (৬) এবং সিবত ইবনে হাজার (৭)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর ছাত্র ও সহকর্মী ইসলামের ইতিহাসবিদ ইমাম জাহাবি এটি দুই খণ্ডে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
আবু আব্বাস আহমদ বিন সাদ বিন মুহাম্মদ আল-আন্দারাশি (মৃত্যু ৭৫০ হি.) এটি সংক্ষিপ্ত করেন এবং এর নামকরণ করেন 'আল-উমদাহ ফি মুখতাসারিল আতরাফ' (৮)।
আল্লামা আলাউদ্দিন মুগলতাই বিন কলিজ আল-হানাফি (মৃত্যু ৭৬২ হি.) 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর ওপর একটি মুস্তাদরাক (পরিমার্জন) গ্রন্থ রচনা করেন, যে সম্পর্কে ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে তাতে তাঁর কিছু ভ্রম বা ভুলভ্রান্তি রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وكتب الحافظ زين الدين عَبد الرحيم بن الحسين المعروف بالحافظ العراقي المتوفى سنة (806) بعض المستدركات على هامش نسخته أفاد منها ولده العلامة ولي الدين العراقي المتوفى سنة (826) حينما ألف جزءا مستدركا على المزي بعد أن أضاف إليه بعض ما جمعه مغلطاي (1) .
ويبدو أن الثلاثة: الزين العراقي وولده ومغلطاي لم يطلعوا في أول الامر على"لحق الاطراف"الذي استدرك به المزي على نفسه.
ثم جمع الحافظ ابن حجر كل هذه المستدركات، وأضاف إليها وأخرجها في كتاب سماه"النكت الظراف (2) ". وجمع الحافظ محمد بن فهد المكي المتوفي سنة (871) بين كتابي المزي وابن حجر بكتابه"الاشراف على الجمع بين النكت الظراف وتحفة الاشراف (3) .
أما كتاب المزي الثاني، فهو"تهذيب الكمال"وهو كتابنا هذا، فإنه يعد أعظم كتاب ألف في فنه غير مدافع أربى فيه على من تقدمه وكسب مؤلفاتهم، ولم يستطع أحد بعده حتى اليوم أن يبلغ شأوه بله أن يأتي بأحسن منه، وسيأتي الكلام عليه مفصلا في الفصل الثاني من هذه المقدمة.
2- مناصبه العلميةونتيجة لما بلغه المزي من منزلة مرموقة بين علماء عصره، وما عرف عنه من ديانة متينة وحفظ وإتقان وبراعة في الحديث وعلومه، فقد ولي دار الحديث الاشرفية في يوم الخميس الثالث والعشرين من
--------------------------------------------
হাফেজ যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম ইবনুল হুসাইন, যিনি হাফেজ ইরাকী (মৃত্যু ৮০৬ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায় (পার্শ্বটীকা) কিছু মুস্তাদরাকাত (পরিশিষ্ট) লিখেছিলেন। তাঁর পুত্র আল্লামা ওয়ালীউদ্দীন আল-ইরাকী (মৃত্যু ৮২৬ হি.) তা থেকে উপকৃত হন যখন তিনি আল-মিযযীর ওপর একটি পরিশিষ্ট অংশ রচনা করেন; সেখানে তিনি মুগলতাই (১) সংগৃহীত কিছু সংযোজনও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
প্রতীয়মান হয় যে, এই তিনজন—যাইনুল ইরাকী, তাঁর পুত্র এবং মুগলতাই—শুরুতে "লাহকুল আতরাফ" সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, যার মাধ্যমে আল-মিযযী নিজেই নিজের গ্রন্থের পরিশিষ্ট লিখেছিলেন।
অতঃপর হাফেজ ইবনে হাজার এই সকল মুস্তাদরাকাত একত্রিত করেন এবং তাতে আরও কিছু সংযোজন করে "আন-নুকাতুয যিরাফ (২)" নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। আর হাফেজ মুহাম্মাদ ইবনে ফাহাদ আল-মাক্কী (মৃত্যু ৮৭১ হি.) তাঁর "আল-ইশরাফ আলাল জামই বাইনান নুকাতিয যিরাফ ওয়া তুহফাতিল আশরাফ (৩)" গ্রন্থের মাধ্যমে আল-মিযযী ও ইবনে হাজারের গ্রন্থদ্বয়ের সমন্বয় সাধন করেন।
আল-মিযযীর দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো "তাহযীবুল কামাল"—যা আমাদের বর্তমান আলোচ্য গ্রন্থ। এটি নিজ শাস্ত্রে রচিত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য। এতে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং তাঁদের রচনাগুলোকে ম্লান করে দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তাঁর পরে কেউ তাঁর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, তার চেয়ে উত্তম কিছু রচনা করা তো দূরের কথা। এই ভূমিকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
২- তাঁর ইলমী পদমর্যাদা ও কর্মভারআল-মিযযী তাঁর সমকালীন আলেমদের মাঝে যে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনদারী, হেফয (স্মৃতিশক্তি), নিখুঁত জ্ঞান ও হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যে অনন্য দক্ষতা ও পারদর্শিতা পরিচিতি পেয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতে তিনি বৃহস্পতিবার, তেইশে... তারিখে দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ذي الحجة سنة (718) (1) ، وليها على الرغم من معارضة الكثيرين بسبب صحبته لشيخ الاسلام ابن تيمية وتأييده لآرائه، لكن علمه وفضله، وهما مما لا يستطيع أن ينكره الاشاعرة ولا غيرهم، جعلهم يضطرون إلى توليته هذه الدار التي كانت تعد من أكبر دور الحديث بدمشق (2) . وعلى الرغم من أنه كتب بخطه حين وليها بأنه أشعري (3) ، فقد أبانوا عن سخطهم، فلم يحضروا حفل الافتتاح كما جرت العادة آنذاك، قال العماد ابن كثير: ولم يحضر عنده كبير أحد، لما في نفوس بعض الناس من ولايته لذلك مع أنه لم يتولها أحد قبله أحق بها منه، وما عليه منهم إذا لم يحضروا؟ فإنه لا يوحشه إلا حضورهم عنده، وبعدهم آنس، والله أعلم (4) .
وقد جرت محاولات عدة لاخراجه من مشيخة هذه الدار باءت كلها بالفشل لما كان يتمتع به الحافظ المزي من المكانة الرفيعة بدمشق، تلك المكانة التي اعترف بها المخالف قبل الموافق. واستمرت المكائد تحاك ضده حتى وهوفي آخر شيخوخته، ففي سنة (739) ولى تقي الدين السبكي قضاء الشافعية بدمشق (5) ، وما إن وصل دمشق حتى حضر عنده الشيخ صدر الدين سُلَيْمان بن عبد الحكيم المالكي بعد ليلة واحدة من دخوله (6) ، وكان صدر الدين
--------------------------------------------
৭১৮ হিজরির জিলহজ মাসে (১), শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর মতাদর্শের সমর্থক হওয়ার কারণে অনেকের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি এর (দারুল হাদিস আশরাফিয়ার) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তবে তাঁর অগাধ জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব—যা আশআরী বা অন্য কেউ অস্বীকার করতে সক্ষম ছিল না—তাদেরকে বাধ্য করেছিল তাঁকে দামেস্কের অন্যতম বৃহৎ এই হাদিস শিক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব প্রদান করতে (২)। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন যে তিনি একজন আশআরী (৩), তবুও তারা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ফলে তৎকালীন রীতি অনুযায়ী তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি। ইমাম ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির বলেন: "তাঁর নিকট উল্লেখযোগ্য কেউ উপস্থিত হননি, কারণ তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের কারণে কিছু মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল; অথচ তাঁর পূর্বে এই পদের জন্য তাঁর চেয়ে অধিক যোগ্য কেউ ছিলেন না। আর তারা যদি উপস্থিত না-ই হন, তাতে তাঁর কী আসে যায়? তাদের উপস্থিতিই বরং তাঁর জন্য অস্বস্তিকর ছিল এবং তাদের অনুপস্থিতিই ছিল তাঁর জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক। আল্লাহই ভালো জানেন" (৪)।
এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদ থেকে তাঁকে অপসারণের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু হাফিজ আল-মিজ্জি দামেস্কে যে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তার কারণে সেসব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সেই মর্যাদা স্বপক্ষীয়দের আগে বিরোধীরাই স্বীকার করে নিত। এমনকি তাঁর বার্ধক্যের শেষ দিনগুলোতেও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিল। ৭৩৯ হিজরিতে তাকিউদ্দীন আস-সুবকি দামেস্কের শাফেয়ী প্রধান বিচারক নিযুক্ত হন (৫)। তিনি দামেস্কে পৌঁছানোর মাত্র এক রাত পরেই শেখ সদরুদ্দীন সুলাইমান ইবনে আব্দুল হাকিম আল-মালিকি তাঁর নিকট উপস্থিত হন (৬)। আর সদরুদ্দীন ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أشعريا جلدا متعصبا على المخالفين (1) ، ولكن التقي السبكي كان يحبه (2) ، فروى التاج السبكي أن والده التقي قال: دخل إلي وقت العشاء الآخرة، وَقَال أمورا يريد بها تعريفي بأهل دمشق، قال: فذكر لي البرزالي وملازمته لي، ثم انتهى إلى المزي، فقال: وينبغي لك عزله من مشيخة دار الحديث الاشرفية، قال الشيخ الإمام (يعني التقي) ، فاقشعر جلدي، وغاب فكري، وقلت في نفسي: هذا إمام المحدثين، الله لو عاش الدارقطني استحيى أن يدرس مكانه. قال: وسكت، ثم منعت الناس من الدخول علي ليلا، وقلت: هذه بلدة كثيرة الفتن. فقلت أنا للشيخ الإمام: إن صدر الدين المالكي لا ينكر رتبة المزي في الحديث، ولكنه كأنه لاحظ ما هو شرط واقفها، من أن شيخها لابد أن يكون أشعري العقيدة، والمزي وإن كان حين ولي كتب بخطه بأنه أشعري إلا أن الناس لا يصدقونه في ذلك. فقال: أعرف أن هذا هو الذي لاحظه صدر الدين، ولكن من ذار الذي يتجاسر أن يقول: المزي ما يصلح لدار الحديث، والله ركني ما يحمل هذا الكلام (110) .
وقد استمر المزي متوليا لهذه الدار طيلة حياته، وكانت مسكنه، فكانت ولايته لها قرابة أربعة وعشرين عاما، ومنها نشر علمه الجم، وفيها حدث بكتابه العظيم تهذيب الكمال وغيره، وسمعها عليه الجلة من شيوخ العصر.
وكان المزي، إضافة إلى ذلك، شيخا لدار الحديث الحمصية المعروفة بحلقة صاحب حمص، وإن كنا لا ندري متى تولاها، ولكنه تنازل عنها لتلميذه الحافظ صلاح الدين خليل بن كيكلدي العلائي
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন একজন কট্টর আশআরি এবং বিরোধীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর (১), তবে তাকিউদ্দীন আস-সুবকি তাঁকে পছন্দ করতেন (২)। তাজউদ্দীন আস-সুবকি বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাকিউদ্দীন বলেছেন: তিনি এশার নামাজের সময় আমার কাছে আসলেন এবং দামেস্কের অধিবাসীদের সম্পর্কে আমাকে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বললেন। তিনি বলেন: তিনি আমার কাছে আল-বিরজালি এবং আমার সাথে তাঁর সাহচর্যের কথা উল্লেখ করলেন, এরপর আল-মিজ্জির প্রসঙ্গে আসলেন এবং বললেন: আপনার উচিত তাঁকে ‘দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া’র শায়খ পদ থেকে অপসারন করা। শায়খ ইমাম (অর্থাৎ তাকিউদ্দীন) বললেন: এ কথা শুনে আমার শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল এবং আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লাম। আমি মনে মনে বললাম: ইনি হলেন মুহাদ্দিসদের ইমাম; আল্লাহর কসম, যদি দারা কুতনি বেঁচে থাকতেন তবে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে শিক্ষকতা করতে লজ্জাবোধ করতেন। তিনি বলেন: এরপর আমি চুপ হয়ে গেলাম এবং রাতে আমার কাছে লোকদের আসা নিষিদ্ধ করে দিলাম। আমি বললাম: এটি ফেতনা-ফ্যাসাদে পূর্ণ একটি শহর। এরপর আমি (তাজউদ্দীন) শায়খ ইমামকে বললাম: সাদরুদ্দীন আল-মালিকি হাদিস শাস্ত্রে আল-মিজ্জির মর্যাদাকে অস্বীকার করেন না, তবে তিনি সম্ভবত ওয়াকফকারীর শর্তের দিকে লক্ষ্য করেছেন। শর্তটি হলো—এ প্রতিষ্ঠানের শায়খকে অবশ্যই আশআরি আকিদার হতে হবে; আল-মিজ্জি যদিও দায়িত্ব গ্রহণের সময় নিজ হাতে লিখে দিয়েছিলেন যে তিনি আশআরি, কিন্তু লোকেরা এ বিষয়ে তাঁকে বিশ্বাস করে না। তিনি (পিতা) বললেন: আমি জানি সাদরুদ্দীন এ বিষয়টিই লক্ষ্য করেছেন, কিন্তু কার এমন দুঃসাহস আছে যে বলবে—আল-মিজ্জি দারুল হাদিসের উপযুক্ত নন? আল্লাহর কসম, আমার বিবেক এই কথা সইতে পারছে না (১১০)।
আল-মিজ্জি আজীবন এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আসীন ছিলেন এবং এটিই ছিল তাঁর আবাসস্থল। প্রায় চব্বিশ বছর যাবত তিনি এর দায়িত্বে ছিলেন। এখান থেকেই তিনি তাঁর অগাধ ইলম প্রচার করেন এবং এই স্থানেই তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ ‘তাহজিবুল কামাল’ ও অন্যান্য কিতাব বর্ণনা করেন। সে যুগের বরেণ্য শায়খগণ তাঁর নিকট থেকে এই কিতাবগুলো শ্রবণ করেন।
এছাড়া আল-মিজ্জি ‘দারুল হাদিস আল-হিমসিয়্যাহ’রও প্রধান ছিলেন, যা ‘হালকাহ সাহিবে হিমস’ নামে পরিচিত ছিল। যদিও আমরা জানি না কবে তিনি এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি তাঁর ছাত্র হাফিজ সালাহুদ্দীন খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই-এর অনুকূলে এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
(761 694) فدرس العلائي بها في محرم سنة 728 (1) .
وحينما توفي رفيقه وتلميذه علم الدين البرزالي في ذي الحجة من سنة (739) تولى المزي أقدم دار حديث بدمشق وأعرقها هي دار الحديث النورية إلى حين وفاته، فوليها بعده تلميذه ابن رافع السلامي (2) .
وكان بدء تدريس المزي في هذه الدار في المحرم سنة (640) ، وكتب له تلميذه الصلاح الصفدي التوقيع بمشيختها أورد نصه الكامل في كتابه: أعيان العصر (3) .
3- تلاميذهأصبح الإمام المزي حافظ العصر غير مدافع، وفضله الإمام الذهبي في الحفظ على جميع من لقي من الحفاظ طيلة حياته، وأتاحت له معرفته الفذة في علم الرجال منزلة مميزة بين أساتيذ العصر، فأمه طلبة العلم من كل حدب وصوب. وكانت دار الحديث الاشرفية من أعظم الاماكن التي بث منها المزي علمه، وقد متعه الله بالعُمَر الطويل، وصحة الحواس، وقوة الجسم، فكان وهو في عشر التسعين معتدل القامة، قوي الركب، يصعد إلى الصالحية ماشيا، ولا يركب بغلة ولا حمارا، ويستحم بالماء البارد في الشيخوخة (4) ، ويحكم ترقيق الاجزاء وترميمها، ويعتني بكتابة الطباق عليها (5) ، فحدث زيادة على خمسين سنة (6) ، وقلما نجد عالما دمشقيا من أهل ذلك العصر إلا درس عليه، قال الذهبي: وغالب المحدثين من دمشق وغيرها قد تلمذوا له، واستفادوا منه، وسألوه عن المعضلات، فاعترفوا بفضيلته، وعلو ذكره" (7)
--------------------------------------------
(৭৬১ ৬৯৪) আল-আলাঈ ৭২৮ হিজরীর মুহররম মাসে সেখানে শিক্ষকতা করেন (১)।
যখন তাঁর সঙ্গী ও ছাত্র আলামুদ্দীন আল-বিরযালী ৭৩৯ হিজরীর যিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন, তখন আল-মিযযী দামেস্কের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দারুল হাদীস ‘দারুল হাদীস আন-নূরিয়্যাহ’-এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে বহাল থাকেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর ছাত্র ইবনে রাফে আস-সালামী এর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন (২)।
এই মাদরাসায় আল-মিযযীর শিক্ষকতার সূচনা ছিল ৬৪০ (৭৪০) হিজরীর মুহররম মাসে। তাঁর ছাত্র সালাহউদ্দীন আস-সাফাদী তাঁর জন্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিয়োগপত্র লিখেছিলেন, যার পূর্ণ পাঠ তিনি তাঁর ‘আইয়ানুল আসর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৩)।
৩- তাঁর ছাত্রবৃন্দইমাম আল-মিযযী অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে সমকালীন শ্রেষ্ঠ ‘হাফিয’ হিসেবে পরিগণিত হন। ইমাম আয-যাহাবী তাঁর সারা জীবনে যত হাফিযের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মুখস্থশক্তির দিক থেকে আল-মিযযীকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। ‘ইলমুর রিজাল’ বা বর্ণনাকারী বিষয়ক বিদ্যায় তাঁর অসাধারণ জ্ঞান তাঁকে সমকালীন শিক্ষকদের মাঝে এক অনন্য মর্যাদা দান করেছিল। ফলে চারদিক থেকে জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা তাঁর পানে ছুটে আসত। ‘দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়্যাহ’ ছিল তাঁর জ্ঞান বিতরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র। আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ জীবন, সুস্থ ইন্দ্রিয়শক্তি ও শারীরিক সামর্থ্য দান করেছিলেন। নব্বই বছর বয়সেও তিনি ছিলেন ঋজুদেহী ও শক্ত হাঁটুর অধিকারী; তিনি হেঁটে সালেহিয়্যাহ পাহাড়ে উঠতেন, কোনো খচ্চর বা গাধার পিঠে চড়তেন না। বার্ধক্যেও তিনি ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতেন (৪)। তিনি পাণ্ডুলিপির খণ্ডগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে মেরামত ও সংস্কার করতেন এবং সেগুলোর ওপর ‘তাবাকাত’ (পাঠ শ্রবণকারীদের তালিকা) লিপিবদ্ধ করার প্রতি যত্নবান ছিলেন (৫)। তিনি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাদীসের দরস দিয়েছেন (৬)। সে যুগের দামেস্কের এমন কোনো আলিম খুঁজে পাওয়া ভার যিনি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেননি। আয-যাহাবী বলেন: "দামেস্ক ও অন্যান্য অঞ্চলের অধিকাংশ মুহাদ্দিসই তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন; তাঁরা সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সুখ্যাতির স্বীকৃতি দিয়েছেন" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقد حدث بكتبه مرات عديدة، وحدث بصحيح البخاري مرات، وبالمسند للامام أحمد، وبالمعجم الكبير للامام الطبراني، وبدلائل النبوة للبيهقي، وبكتب كثيرة جدا، كما حدث بسائر أجزائه العالية، وبكثير من أجزائه النازلة (1) .
ويكفيه فخرا وفضلا أن عظماء العلماء من أساتيذه ورفاقه وتلامذته النجب قد أخذوا عنه، فسمع منه من العلماء الاعلام: شيخ الاسلام ابن تيمية الحراني (ت 728) ، وفتح الدين ابن سيد الناس اليعُمَري (ت 734) ، وإما المؤرخين والمحدثين شمس الدين الذهبي (ت 748) سمع منه سنة (694) وأخذ عنه صحيح البخاري غير مرة، والإمام العلامة تقي الدين السبكي (ت 756) وغيرهم. وبه تخرج أعاظم الرواة والمحدثين والمؤرخين من أعلامهم: علم الدين البرزالي (ت 739) ، وشمس الدين أبو عَبْد اللَّه بْن عَبْد الهادي (ت 744) ، وصلاح الدين خليل بن كيكلدي العلائي (ت 761) ، وعلاء الدين مغلطاي الحنفي (ت 762) ، وتقي الدين ابن رافع السلامي (ت 774) ، والشيخ عماد الدين ابن كثير صهره (ت 774) ، وخلق يطول ذكرهم.
4- آراء العلماء فيهونرى من المفيد أن نقتطف هنا آراء العلماء والنقاد المعاصرين فيه، لما لذلك من أهمية في توثيقه وبيان فضله ومنزلته. وقد نقلنا لك قبل قليل رأي شيخ الاسلام ابن تيمية واعترافه له، وأنبأناك بثنائه عليه غير مرة.
وقد اتصل به العلامة فتح الدين ابن سيد الناس اليعُمَري بعد
--------------------------------------------
তিনি বহুবার তাঁর গ্রন্থাবলি বর্ণনা করেছেন। তিনি কয়েকবার সহীহ আল-বুখারী, ইমাম আহমদের আল-মুসনাদ, ইমাম তাবারানীর আল-মু'জাম আল-কাবীর, বায়হাকীর দালায়েলুন নুবুওয়াহ এবং আরও অসংখ্য কিতাব বর্ণনা করেছেন। তদুপরি তিনি তাঁর সমস্ত উচ্চ সনদবিশিষ্ট (আলী) এবং অনেক নিম্ন সনদবিশিষ্ট (নাজিল) জুজ-সমূহও বর্ণনা করেছেন (১)।
তাঁর গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁর শিক্ষক, সহকর্মী ও মেধাবী ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত মহান আলেমগণ তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন। তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এমন প্রথিতযশা আলেমদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ আল-হাররানী (মৃত্যু ৭২৮ হি.), ফাতহুদ দ্বীন ইবনে সাইয়্যেদুন নাস আল-ইয়া’মারী (মৃত্যু ৭৩৪ হি.), এবং ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিসগণের ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হি.), যিনি তাঁর থেকে ৬৯৪ হিজরিতে শ্রবণ করেছেন এবং একাধিকবার তাঁর নিকট সহীহ আল-বুখারী পড়েছেন, এবং ইমাম আল্লামা তাকীউদ্দীন আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) ও অন্যান্যরা। তাঁর মাধ্যমেই প্রখ্যাত বর্ণনাকারী, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইলমুদ্দীন আল-বারযালী (মৃত্যু ৭৩৯ হি.), শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাদী (মৃত্যু ৭৪৪ হি.), সালাহুদ্দীন খলিল বিন কাইকালদী আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হি.), আলাউদ্দীন মুগলতাই আল-হানাফী (মৃত্যু ৭৬২ হি.), তাকীউদ্দীন ইবনে রাফে আস-সালামী (মৃত্যু ৭৭৪ হি.), তাঁর জামাতা শাইখ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।
৪- তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের অভিমততাঁর নির্ভরযোগ্যতা এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার গুরুত্বের খাতিরে আমরা এখানে তাঁর সম্পর্কে সমসাময়িক আলেম ও সমালোচকদের কিছু অভিমত উদ্ধৃত করা ফলপ্রসূ মনে করছি। এর কিছুক্ষণ আগেই আমরা আপনার নিকট শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মতামত ও তাঁর স্বীকৃতি উল্লেখ করেছি এবং আপনাকে অবহিত করেছি যে তিনি একাধিকবার তাঁর প্রশংসা করেছেন।
আল্লামা ফাতহুদ দ্বীন ইবনে সাইয়্যেদুন নাস আল-ইয়া’মারী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
سنة 690، فقال في حقه: ووجدت بدمشق من أهل العلم الإمام المقدم والحافظ الذي فاق من تأخر من أقرانه ومن تقدم أبا الحجاج المزي، بحر هذا العلم الزاخر وحبره القائل من رآه: كم ترك الاوائل للاواخر، أحفظ الناس للتراجم، وأعلم الناس بالرواة من أعارب وأعاجم، لا يخص بمعرفته مصرا دون مصر ولا ينفرد علمه بأهل عصر دون عصر..وهو في اللغة أيضا إمام..فكنت أحرص على فوائده لاحرز منها ما أحرز..وهو الذي حداني على رؤية شيخ الاسلام ابن تيمية" (1) .
وترجم له الذهبي في معجم شيوخه الكبير، فقال: العلامة الحافظ البارع أستاذ الجماعة جمال الدين أبو الحجاج، محدث الاسلام الكلبي القضاعي، المزي الدمشقي، الشافعي..طلب هذا الشأن سنة خمس وسبعين وهلم جرا إلى اليوم، فماونى، ولا فتر، ولا لها ولا قصر، وعني بهذا الشأن أتم عناية، وقرأ العربية، وأفاد، وأكثر من اللغة والتصريف. وصنف وأفاد..وكتب الكثير ورواه، مع السمت الحسن، والاقتصاد، والتواضع، والحلم، وعدم الشر، والله يصلحه وإياي. أخبرنا يوسف ابن الزكي الحافظ.. (2) .
وَقَال في "تذكرة الحفاظ": شيخنا الإمام العالم الحبر الحافظ الاوحد محدث الشام..وأما معرفة الرجال، فهو حامل لوائها، والقائم بأعبائها، لم تر العيون مثله..وأوضح مشكلات ومعضلات ما سبق إليها في علم الحديث ورجاله..وكان ثقة حجة، كثير العلم، حسن الاخلاق، كثير السكوت، قليل الكلام جدا، صادق
--------------------------------------------
৬৯০ হিজরি সনে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি দামেস্কে ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে এমন একজন অগ্রণী ইমাম ও হাফেজকে পেয়েছি, যিনি তাঁর সমসাময়িক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন; তিনি হলেন আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি। তিনি ইলমের এই উত্তাল সমুদ্র এবং প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, যাঁর সম্পর্কে দর্শক বলে ওঠে: 'পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!' তিনি জীবনী সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিধর এবং আরব-অনারব সকল বর্ণনাকারী সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁর জ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয় এবং কোনো নির্দিষ্ট যুগের মানুষের মাঝেও তিনি সীমাবদ্ধ নন... তিনি ভাষা বিজ্ঞানেও একজন ইমাম... আমি তাঁর ইলমি ফায়দা লাভে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম যাতে আমি তা থেকে যা সম্ভব অর্জন করতে পারি... তিনিই আমাকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাক্ষাত পেতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।" (১) .
ইমাম আয-যাহাবি তাঁর 'মু'জামুশ শুয়ুখ আল-কাবীর'-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "আল্লামা, দক্ষ হাফেজ, জামাতের উস্তাদ জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ, মুহাদ্দিসুল ইসলাম আল-কালবি আল-কুযাই, আল-মিজ্জি আদ-দিমাশকি, আশ-শাফিয়ি... তিনি ৬৭৫ হিজরি সন থেকে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে তা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কখনও অলসতা করেননি, ক্লান্ত হননি, অনর্থক কাজে মত্ত হননি কিংবা কোনো ত্রুটি করেননি। তিনি এই বিষয়ের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন, আরবি ভাষা পড়েছেন, অন্যকে উপকৃত করেছেন এবং ভাষা ও রূপান্তর বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন ও জ্ঞান দান করেছেন... তিনি প্রচুর লিপিবদ্ধ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন; সেই সাথে তিনি ছিলেন উত্তম স্বভাব, মিতব্যয়িতা, বিনয়, সহনশীলতা ও অমায়িক চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তাঁকে এবং আমাকে সংশোধন করুন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ ইউসুফ ইবনুল জাকি..." (২) .
তিনি 'তাযকিরাতুল হুফফায' গ্রন্থে বলেন: "আমাদের শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, অনন্য হাফেজ, শামের মুহাদ্দিস... আর বর্ণনাকারীদের পরিচয় (ইলমুর রিজাল) প্রসঙ্গে বলতে গেলে, তিনি এর পতাকাবাহী এবং এর গুরুভার বহনকারী। কোনো চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি... তিনি ইলমে হাদিস ও এর বর্ণনাকারীদের জ্ঞান সংক্রান্ত এমন সব জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় স্পষ্ট করেছেন, যা আগে কেউ করতে পারেনি... তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, সচ্চরিত্রবান, অধিক নীরবতা অবলম্বনকারী, অত্যন্ত স্বল্পভাষী এবং সত্যবাদী।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
اللهجة، لم تعرف له صبوة. وكان يطالع وينقل الطباق إذا حدث وهو في ذلك لا يكاد يخفى عليه شيء مما يقرأ، بل يرد في المتن والإسناد ردا مفيدا يتعجب منه فضلاء الجماعة (1) .
وَقَال الذهبي أيضا في معجمه المختص بمحدثي العصر (2) : كان خاتمة الحفاظ، وناقد الأسانيد والالفاظ، وهو صاحب معضلاتنا، وموضح مشكلاتنا..ولو كان لي رأي للازمته أضعاف ما جالسته، فإنني أخذت عنه هذا الشئ بحسبي لا بحسبه، وكان لا يكاد يعرف قدره إلا من أكثر مجالسته". وَقَال أيضا: وقد (3) كان مع حسن خطه ذا إتقان قل أن توجد له غلطة، أو تؤخذ عليه لحنة". وَقَال أيضا: وكان مأمون الصحبة، حسن المذاكرة، خير الطوية، محبا للآثار، معظما لطريقة السلف، جيد المعتقد، وكان اغتر في شبيبته وصحب العفيف التلمساني، فلما تبين له ضلاله، هجره، وتبرأ منه"
وكان الإمام الذهبي يورد سلسلة أعاظم الحفاظ، وكتبها بخطه وعنه أخذها الصلاح الصفدي، والتاج السبكي، وقراها عليه (4) ، قال الذهبي: ما رأيت أحدًا في هذا الشأن أحفظ من الإمام أبي الحجاج المزي، وسمعته يقول في شيخنا أبي محمد الدمياطي (5) إنه ما رأى أحفظ منه، وكان الدمياطي يقول: إنه ما رأى شيخا أحفظ من
--------------------------------------------
বাকভঙ্গি, তাঁর মধ্যে কোনো বিচ্যুতি বা চপলতা লক্ষ্য করা যেত না। তিনি অধ্যয়ন করতেন এবং যখন হাদীস পাঠ করা হতো তখন শ্রবণের প্রমাণাদি (তিবাক) লিপিবদ্ধ করতেন। এক্ষেত্রে তিনি যা পাঠ করতেন তার কোনো কিছুই তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকত না; বরং তিনি পাঠ্য (মাতন) এবং সনদ (সূত্র) বিষয়ে এমন সারগর্ভ মন্তব্য করতেন যা দেখে বিদগ্ধ মণ্ডলী আশ্চর্যান্বিত হতেন (১)।
ইমাম যাহাবী তাঁর সমকালীন মুহাদ্দিসগণের জীবনীর ওপর রচিত অভিধানে (২) আরও বলেন: তিনি ছিলেন হাফেজগণের সমাপ্তি রেখা, সনদ ও শব্দাবলীর সূক্ষ্ম পর্যালোচক। তিনি ছিলেন আমাদের জটিল বিষয়াদির সমাধানকারী এবং আমাদের সমস্যাবলির বিশদ ব্যাখ্যাকারী। আমার যদি সুযোগ থাকত, তবে আমি তাঁর সাথে যতটুকু সময় কাটিয়েছি তার কয়েকগুণ বেশি সময় তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করতাম। কারণ আমি তাঁর থেকে যা গ্রহণ করেছি তা ছিল আমার সামর্থ্য অনুযায়ী, তাঁর পূর্ণ যোগ্যতা অনুযায়ী নয়। আর তাঁর সান্নিধ্যে যারা অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন, তারা ছাড়া কেউ তাঁর প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারত না। তিনি আরও বলেন: সুন্দর হস্তাক্ষরের পাশাপাশি তাঁর নির্ভুলতা এমন পর্যায়ের ছিল যে, তাঁর লেখায় খুব কমই ভুল পাওয়া যেত অথবা তাঁর বক্তব্যে কোনো ভাষাগত ত্রুটি ধরা পড়ত না। তিনি আরও বলেন: তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত সহচর, চমৎকার আলোচনাপটু, নির্মল হৃদয়ের অধিকারী, হাদীস ও আছারের অনুরাগী, সালফে সালেহীনের পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশুদ্ধ আকীদার অধিকারী। যৌবনে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে আফিফ আত-তিলিমসানির সাহচর্যে গিয়েছিলেন; কিন্তু যখনই তাঁর কাছে তার পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট হলো, তখনই তিনি তাকে বর্জন করেন এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
ইমাম যাহাবী মহান হাফেজগণের একটি ধারা উল্লেখ করতেন এবং তা তিনি নিজ হস্তাক্ষরে লিখেছিলেন। তাঁর নিকট থেকে আস-সালাহ আস-সাফাদী এবং আত-তাজ আস-সুবকী তা গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট তা পাঠ করেন (৪)। যাহাবী বলেন: আমি এই বিদ্যায় ইমাম আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখিনি। আর আমি তাঁকে আমাদের শায়খ আবু মুহাম্মদ আদ-দামইয়াতি (৫) সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, তিনি তাঁর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখেননি। আবার আদ-দামইয়াতি বলতেন যে, তিনি এমন কোনো শায়খ দেখেননি যিনি তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তাহজীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
زكي الدين عبد العظيم (1) ..الخ.
ونقل الصفدي عن الذهبي قوله: لم يسألني ابن دقيق العيد إلا عنه" (2) .
وَقَال الذهبي نفسه في ترجمة الضياء المقدسي المتوفي سنة (643) من تاريخ الاسلام: سألت الحافظ أبا الحجاج المزي، وما رأيت مثله (3) .."
وَقَال شمس الدين الحسيني المتوفى سنة (765) : وكان مع تبحره في علم الحديث رأسا في اللغة العربية والتصريف، له مشاركة جيدة في الفقه وغيره، ذا حظ من زهد وتعفف، ويقنع باليسير. وقد شهد له بالإمامة جميع الطوائف، وأثنى عليه الموافق والمخالف (4) .
وَقَال الصلاح الصفدي: الشيخ الإمام العالم العلامة الحافظ الفريد الرحلة، إمام المحدثين..خاتمة الحفاظ، ناقد الأسانيد والالفاظ". وَقَال: كان شيخنا الحجة جمال الدين أبو الحجاج شيخ الزمان، وحافظ العصر، وناقد الاوان، لو عاصره ابن ماكولا، كان له مشروبا وماكولا، وجعل هذا الامر إليه موكولا".ثم أطنب في تعداد فضائله ومحاسنه وزهده وَقَال في حفظه: وسمعت صحيح مسلم على ذالبندنيجي وهو حاصر بقراءة ابن طغريل وعدة نسخ صحيحة حاضرة يقابل بها، فيرد الشيخ جمال الدين رحمه الله على ابن طغريل اللفظ، فيقول ابن طغريل: ما في النسخة إلا ما قرأه، فيقول من بيده بعض
--------------------------------------------
জাকিউদ্দীন আব্দুল আজিম (১) ..প্রমুখ।
আস-সাফাদী আদ-দাহাবি থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: "ইবনে দাকীকুল ঈদ আমাকে কেবল তাঁর সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন" (২)।
আদ-দাহাবি স্বয়ং 'তারিখুল ইসলাম'-এ ৬৪৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আদ-দিয়া আল-মাকদিসীর জীবনীতে বলেন: "আমি হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জিকে জিজ্ঞাসা করেছি, আর আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি (৩)..."
৭৬৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শামসুদ্দিন আল-হুসাইনি বলেন: "হাদিসশাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আরবি ভাষা ও ইলমুত তাসরিফ বা রূপতত্ত্ব শাস্ত্রেও শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রেও তাঁর প্রশংসনীয় পদচারণা ছিল। তিনি যুহদ (সংসারবিরাগ) ও আত্মমর্যাদাবোধে সমৃদ্ধ ছিলেন এবং সামান্যতেই তুষ্ট থাকতেন। সকল মাযহাবের অনুসারীরা তাঁর ইমামত বা নেতৃত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষের ও বিপক্ষের সকলেই তাঁর প্রশংসা করেছেন (৪)।"
আস-সালাহ আস-সাফাদী বলেন: "তিনি ছিলেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আল্লামা, অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাফেজ, ইলম অন্বেষণে যার নিকট মানুষ দেশ-দেশান্তর থেকে ছুটে আসত, মুহাদ্দিসগণের ইমাম... হাফেজগণের সিলমোহর, সনদ ও হাদিসের শব্দাবলির সূক্ষ্ম বিচারক।" তিনি আরও বলেন: "আমাদের শায়খ, হুজ্জাত জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ছিলেন জামানার শায়খ, যুগের হাফেজ এবং সমসাময়িকদের শ্রেষ্ঠ সমালোচক। যদি ইবনে মাকুলা তাঁর সমসাময়িক হতেন, তবে তিনি তাঁকে খাদ্য ও পানীয়ের মতো অপরিহার্য মনে করতেন এবং এই শাস্ত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপরই ন্যস্ত করতেন।" এরপর তিনি তাঁর ফজিলত, গুণাবলি ও যুহদের বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে বলেন: "আমি আল-বান্দানিজির উপস্থিতিতে ইবনে তুঘরিলের পাঠের মাধ্যমে সহীহ মুসলিম শুনেছি, যেখানে মেলাবার জন্য একাধিক সহীহ পাণ্ডুলিপি রাখা ছিল। শায়খ জামালুদ্দিন (রহ.) ইবনে তুঘরিলের পাঠের কোনো ভুল শব্দ সংশোধন করে দিতেন। তখন ইবনে তুঘরিল বলতেন: পান্ডুলিপিতে তাই আছে যা শায়খ পাঠ করেছেন। তখন যাদের হাতে অন্যান্য পাণ্ডুলিপি ছিল তারা বলতেন...
--------------------------------------------