(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
رد البهتان عن إعراب آيات من القرآن الكريم   (يوسف العيساوي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: رد البهتان عن إعراب آيات من القرآن الكريم

المؤلف: د يوسف بن خلف بن محل العيساوي

الناشر: دار ابن الجوزي، الدمام - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 97

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহের ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ক অপবাদের খণ্ডন   (ইউসুফ আল-ঈসাভী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول)


গ্রন্থ: কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহের ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ক অপবাদের খণ্ডন

লেখক: ড. ইউসুফ বিন খালাফ বিন মাহাল আল-ঈসাভী

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী، দাম্মাম - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসানাইন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

ـ[رد البهتان عن إعراب آيات من القرآن الكريم]ـ

المؤلف: د. يوسف بن خلف بن محل العيساوي

الناشر: دار ابن الجوزي، الدمام - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

[পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অপবাদের খণ্ডন]

লেখক: ড. ইউসুফ বিন খালাফ বিন মাহাল আল-ঈসাভি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি, দাম্মাম - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمدُ لله رب العالمين، الذي جعل كتابه بلسان عربي مبين، والصَّلاة والسلام على نبينا محمّد خاتم المرسلين، ثم الرّضا عن آله وصحابته أجمعين، ومَنْ تَبِعهم بإحسانِ إلى يوم الدِّين.

وبعد:

فشاء الله سبحانه أن تكون العربية لغة كتابه ولسان وَحْيه، وأن يكون ذلك الكتاب الكريم آخر كُتبه وخاتمة رسالاته إلى عباده، قال تعالى: (إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (2)، وقال تعالى: (نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195)).

فالعربية وعاءُ الإسلام، وهي من الذين، لا تنفصل عنه ولا ينفصل عنها، وهذا التكرار لعربيّة القرآن في آياتٍ عدة؛ لينبّهنا إلى أهمية الصلة بين القرآن ولغته، الموصوفة بالبيان، والمتميّزة بالإعراب " الذي جعله الله وَشياً لكلامها، وحِلْيةً لنظامها، وفارقاً في بعض الأحوال بين الكلامين المتكافئين، والمَعْنيَيْنِ المختلفَيْن ".
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাবকে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রাসূলগণের সমাপ্তি আনয়নকারী; অতঃপর তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের প্রতিও।

অতঃপর:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চাইলেন যে, আরবি হবে তাঁর কিতাবের ভাষা এবং তাঁর ওহীর (وحي) জবান। আর এই সম্মানিত কিতাবটি হবে তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশেষ এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি প্রেরিত রিসালাতসমূহের সমাপ্তি। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো" (সূরা ইউসুফ: ২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আপনার হৃদয়ে বিশ্বস্ত রূহ (الروح الأمين) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" (সূরা আশ-শুআরা: ১৯৩-১৯৫)।

বস্তুত আরবি হলো ইসলামের ধারক; এটি দ্বীনেরই অংশ, যা থেকে একে আলাদা করা যায় না এবং দ্বীনকেও এটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এর আরবি হওয়ার বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে কুরআনের সাথে এর ভাষার নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতি আমাদের সচেতন করার জন্য। এই ভাষা সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان) দ্বারা গুণান্বিত এবং ই’রাব (إعراب) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, "যাকে আল্লাহ তাআলা এর বাক্যের অলংকার এবং এর পদ্ধতির ভূষণ করেছেন। আর যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমজাতীয় দুটি বাক্য এবং দুটি ভিন্ন অর্থের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে কাজ করে।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا الإعراب، الذي به تُعرف معاني آي الكتاب، ويُدفع عنها كلّ ارْتياب، هو عدَّة لأهل التفسير، وللمعربين النَّحارير؛ لبيان كلام العليّ القدير.

فبالإعراب نقف على أحكام القرآن، ونستخرج أسرار البيان، قال مكيّ بن أبي طالب: "من أعظم ما يجب على الطالب لعلوم القرآن، الراغب في تجويد ألفاظه، وفَهْم معانيه، ومعرفة قراءاته ولغاته، وأفضل ما القارئ إليه محتاج: معرفة إعرابه ".

وجاء عن السَّلف تفضيل إعراب القرآن والحضّ على تعلُّمه، فهو من الذين بمكانٍ معلوم. قال الإمام ابن عطيّة: "إعراب القرآن أصلٌ في الشَّريعة؛ لأنّ بذلك تقوم معانيه التي هي الشرع ".

ومنذ القديم وإلى اليوم يعمل أعداءُ الإسلام على محاربة أصل الإسلام وجذره، وهو القرآن الكريم، ومحاربة لغته: اللغة العربيّة، فحمل أعداءُ الإسلام على معاني القرآن بالتحريف والتضليل، وأرادوا لتفسيره التحويل والتبديل.

وعَمِل آخرون على الطَّعن في إعرابه، بغية إبطاله؛ ولكن هيهات، فهو كلام رب الأرض والسماوات، أُنزل بأحسن اللّغات، وأبلغ العبارات.
এই ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب), যার মাধ্যমে কিতাবের আয়াতসমূহের অর্থ জানা যায় এবং তা থেকে সকল প্রকার সংশয় দূর করা যায়, তা হলো তাফসিরবিদদের জন্য এবং দক্ষ ব্যাকরণবিদদের জন্য মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার এক অনন্য পাথেয়।

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) মাধ্যমেই আমরা কুরআনের বিধানসমূহ (أحكام) অনুধাবন করতে পারি এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহ উন্মোচন করতে পারি। মাক্কি ইবনে আবি তালিব বলেছেন: "কুরআন সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের তালিবে ইলম, যারা এর শব্দসমূহের তিলাওয়াত সুন্দর করতে এবং এর অর্থ বুঝতে ও এর কিরাত ও ভাষাসমূহ জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য যা জানা সবচেয়ে বেশি আবশ্যক এবং একজন ক্বারির জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।"

সালাফদের (السلف) পক্ষ থেকে কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে (إعراب) অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং তা শেখার প্রতি উৎসাহিত করার বর্ণনা এসেছে; কেননা এর গুরুত্ব অত্যন্ত সুনিশ্চিত। ইমাম ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন: "কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) শরিয়তের একটি মূল ভিত্তি; কারণ এর মাধ্যমেই কুরআনের অর্থসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, যা মূলত শরিয়ত।"

প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি ইসলামের শত্রুরা ইসলামের মূল ভিত্তি ও শেকড় তথা কুরআন এবং এর ভাষা আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের শত্রুরা বিকৃতি (تحريف) ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে কুরআনের মর্মার্থের ওপর আঘাত হেনেছে এবং তারা এর তাফসিরকে পরিবর্তন ও রূপান্তর করতে চেয়েছে।

আবার কেউ কেউ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর আপত্তি (طعن) উত্থাপনের চেষ্টা করেছে একে অসার প্রমাণের উদ্দেশ্যে; কিন্তু তা অসম্ভব! কেননা এটি আসমান ও জমিনের রবের বাণী, যা সর্বোত্তম ভাষায় এবং প্রাঞ্জলতম শব্দশৈলীতে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
ولنقرأ هذا القول للملاحدة أورده صاحب الانتصار: "إنّ الله - سبحانه - لا يجوز أن يتكلَّم باللَّحن، ولا ينزل القرآن ملحُوناً، وأنّ ذلك إنَّما هو تخليط ممّن جمعَ القرآن وكتب المصحف، وتحريفهم إما للجهل بذلك وذهابهم عن معرفة الوجه الذي أُنزل عليه، أو لقصد العناد والإلباس، وإفساد كتاب الله وإيقاع التخليط فيه ".

فهم - كما ترى - يريدون الطَّعن في القرآن، وفي أهل القرآن أهل الفصاحة والبيان، السابقين بالإيمان.

وهذا دَيْدن أتباعهم المعاندين، يقول الدكتور فضل حسن عبّاس: "والمستشرقون، والمبشّرون، والملاحدة، والذين يقلّدون هؤلاء وأُولئك، لم يألَوا جهداً أن ينالوا من لغة القرآن ".

واستغلّ أعداؤنا كلّ وسيلة للطعن في إعراب القرآن، وتلحين آياتٍ منه؛ فحتى الشبكة الدولية للمعلومات (الإنترنت) لم تَخْلُ من مواقع تنشرُ مناقشات إعرإبية لتخطئةِ آيات من جهة النَّحو والإعراب.
আসুন নাস্তিকদের এই বক্তব্যটি পাঠ করি যা 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থের লেখক উদ্ধৃত করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ—সুবহানাহু—ব্যাকরণগত ভুল (لحن) সহকারে কথা বলা থেকে পবিত্র এবং তিনি কুরআনকে ভুলযুক্ত (ملحون) অবস্থায় অবতীর্ণ করেননি। মূলত এটি কুরআন সংকলনকারী এবং মুসহাফ লেখকদের সংমিশ্রণ ও বিভ্রান্তি; আর তাদের এই বিকৃতি (تحريف) হয় এই বিষয়ে অজ্ঞতা এবং কুরআন যে পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে ঘটেছে, অথবা এটি হঠকারিতা ও সত্য গোপনের উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর কিতাবকে কলুষিত ও এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে করা হয়েছে।"

আপনি যেমনটি দেখছেন—তারা কুরআনের ওপর এবং কুরআনের অনুসারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করতে চায়, যারা ছিলেন বাকপটুতা ও প্রাঞ্জলতার অধিকারী এবং ঈমানের পথে অগ্রগামী।

আর এটিই তাদের হঠকারী অনুসারীদের চিরাচরিত অভ্যাস। ডক্টর ফাদল হাসান আব্বাস বলেন: "প্রাচ্যবিদগণ, মিশনারিগণ, নাস্তিকগণ এবং যারা তাদের অন্ধ অনুকরণ করে, তারা কুরআনের ভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেনি।"

আমাদের শত্রুরা কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) নিয়ে কটাক্ষ করতে এবং এর আয়াতগুলোকে ভুল সাব্যস্ত (تلحين) করার জন্য প্রতিটি উপায় অবলম্বন করেছে; এমনকি আন্তর্জাতিক তথ্যজাল (ইন্টারনেট) এমন সব ওয়েবসাইট থেকে মুক্ত নয় যা নাহু (نحو) এবং ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (إعراب) দিক থেকে আয়াতগুলোকে ভুল প্রমাণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাকরণিক আলোচনা প্রচার করে থাকে।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
فقد نشر الأستاذ الدكتور مازن المبارك مقالاً في صحيفة الخليج بعنوان (نحو الإنترنت) ردَّ فيه على كاتبٍ يدَّعي اللَّحن في آياتٍ من القرآن، وفي موقع (صيد الفوائد) مقال بعنوان (شبهات حول أخطاء قرآنية مزعومة) لكاتبٍ لم يذكر اسمه، ردَّ فيه على طاعنٍ في إعراب آي الكتاب.

فالطَّاعنون من الملاحدة والمنصرين، والمستشرقين وغيرهم، لديهم صبرٌ لا ينفد في استكشاف المخبوءات الواهيات، واستغلال الضعيف من الدّلالات، يؤيّدون بها ما يقرّرون من نظريّات، ويتركون الأدلَّة القاطعة، والحُجج الساطعة، وهذا ليس من العلم في شيءٍ، وإنما هو انحراف عن المنهج العلميّ السليم، والأخذ بمذهب سقيم.

ومن زمن وأنا اتابع الطاعنين، في إعراب الكتاب المبين؛ فسلكت ما تفرّق من مقالاتهم في هذا البحث اللّطيف؛ ليكون تذكرة للحصيف، وتبصرةً للغرّ الضعيف.

وسمّيته بـ (ردّ البهتان عن إعراب آياتٍ من القرآن).

وجاء البحث بعد هذه المقذمة في ثلاثة مباحث وخاتمة: المبحث الأوّل: الطَّاعنون في إعراب القرآن، وهو تقييد مُوجز لأصناف الطَّاعنين، وبيان تأثير هذه المقالة في صفوفهم.

المبحث الثاني: شُبَه الطَّاعنين في إعراب القرآن والجواب عنها: جمعتُ فيه أهمّ الشُّبَه التي يرتكز عليها هؤلاء، وبيَّنت فسادها وخطرها.
প্রফেসর ডক্টর মাজেন আল-মুবারক 'খালিজ' পত্রিকায় 'নাহু আল-ইন্টারনেট' শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি কুরআনের আয়াতসমূহে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) দাবি করা এক লেখকের জবাব দিয়েছেন। আর 'সাইদ আল-ফাওয়াইদ' ওয়েবসাইটে জনৈক নামহীন লেখকের 'কথিত কুরআনিক ভুল সম্পর্কিত সংশয়' শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যাতে তিনি কিতাবুল্লাহর বাক্যরীতির (إعراب) ওপর আক্রমণকারীর প্রতিবাদ করেছেন।

নাস্তিক, মিশনারি, প্রাচ্যবিদ এবং অন্যদের মধ্য থেকে যারা আক্রমণকারী, তাদের প্রচ্ছন্ন অসার বিষয়াদি অনুসন্ধান এবং দুর্বল (ضعيف) প্রমাণাদির অপব্যবহারে অফুরন্ত ধৈর্য রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা তাদের নির্ধারিত মতবাদসমূহকে সমর্থন যোগায় এবং অকাট্য দলীল ও উজ্জ্বল যুক্তিগুলো বর্জন করে। এটি কোনোভাবেই জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে বিচ্যুতি এবং একটি ত্রুটিপূর্ণ মতাদর্শ গ্রহণ মাত্র।

দীর্ঘকাল ধরে আমি সুস্পষ্ট কিতাবের বাক্যরীতির (إعراب) বিষয়ে আক্রমণকারীদের অনুসরণ করছি। অতঃপর আমি তাদের এই বিক্ষিপ্ত প্রবন্ধগুলোকে এই সুখপাঠ্য গবেষণায় সন্নিবেশিত করেছি, যাতে তা প্রজ্ঞাবানদের জন্য স্মারক এবং অনভিজ্ঞ দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্দৃষ্টির কারণ হয়।

আমি এর নাম রেখেছি: 'রাদ্দ আল-বুহতান আন ই'রাবি আয়াতিন মিনাল কুরআন' (কুরআনের আয়াতসমূহের বাক্যরীতি সম্পর্কিত অপবাদের খণ্ডন)।

এই ভূমিকার পর গবেষণাটি তিনটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত হয়েছে: প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের বাক্যরীতির (إعراب) ওপর আক্রমণকারীগণ। এটি মূলত আক্রমণকারীদের শ্রেণিবিভাগের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা এবং তাদের মাঝে এ ধরনের বক্তব্যের প্রভাবের বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বাক্যরীতি (إعراب) বিষয়ে আক্রমণকারীদের সংশয় এবং এর উত্তর। এতে আমি তাদের প্রধান প্রধান সংশয়গুলো একত্রিত করেছি যেগুলোর ওপর তারা নির্ভর করে এবং সেগুলোর অসারতা ও ভয়াবহতা স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثالث: آيات طُعِن في إعرابها وردُّ ذلك؛ وفيه الإجابة عن الآيات التي طُعِن في إعرابها - لا سيما - التي جاءت في ثنايا البحث.

الخاتمة: وأوردت فيها أهم التتائج المتحصلة من هذا الموضوع.

وتكمنُ أهمّية الموضوع فيما يأتي:

أؤلاً: تتبّع ظاهرة تلحين القرآن، والطعن في إعرابه؛ بمن بدأت ولمن آلت.

ثانياً: إفراد هذه الظاهرة الخطيرة ببحثٍ مستقلّ، فلم أجد مَنْ كتب فيها استقلالا؛ نعم هناك مَنْ كتب في إعراب آيات مشكلة، أو قضيّة تلحين القرّاء من بعض النحاة. ولكن هذا غير ما نحن بصدده؛ فحديثنا مع أُناسٍ من خارج الإسلام، أرادوا بتلحين القرآن إبطال نسبته لله - تعالى -.

ثالثاً: الكشف عن أساليب أعداء الإسلام، وبيان طعنهم بلغة القرآن؛ و"الفقيه كلّ الفقيه: مَنْ فقه في القرآن، وعرف مكيدة الشَّيطان ".

رابعاً: الجواب العلمي الموثق عن هذه التشكيكات، من مصادر علمائنا.

هذا، فما كان من صواب فمن الله - تعالى -، وما كان من خطأٍ فمن نفسي ومن الشيطان، ولا حول ولا قوّة إلا بالله.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সেসব আয়াত যেগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলোর খণ্ডন (رد); এতে সেই আয়াতগুলো সম্পর্কে উত্তর দেওয়া হয়েছে যেগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর আপত্তি করা হয়েছে - বিশেষ করে - যা এই গবেষণার বিভিন্ন স্থানে এসেছে।

উপসংহার: এতে আমি এই বিষয়টি থেকে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।

এই বিষয়ের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে নিহিত:

প্রথমত: কুরআনে ভাষাগত ভুল (لحن) সাব্যস্ত করার প্রবণতা এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর আপত্তির অনুসন্ধান; কার মাধ্যমে এটি শুরু হয়েছিল এবং কার কাছে গিয়ে শেষ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এই বিপজ্জনক প্রবণতাটিকে একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় স্থান দেওয়া, কারণ আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে লিখেছেন; হ্যাঁ, সেখানে এমন অনেকে আছেন যারা জটিল আয়াতসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) অথবা কিছু ব্যাকরণবিদের পক্ষ থেকে ক্বারীদের পাঠে ভুল (لحن) ধরার বিষয়ে লিখেছেন। কিন্তু আমরা যা নিয়ে আলোচনা করছি এটি তা থেকে ভিন্ন; কারণ আমাদের আলোচনা ইসলাম বহির্ভূত এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যারা কুরআনে ভাষাগত ভুল (لحن) সাব্যস্ত করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি এর সম্বন্ধকে বাতিল করতে চেয়েছিল।

তৃতীয়ত: ইসলামের শত্রুদের কৌশলসমূহ উন্মোচন করা এবং কুরআনের ভাষার প্রতি তাদের আপত্তির স্বরূপ বর্ণনা করা; আর "প্রকৃত ফকীহ (فقيه) সেই ব্যক্তি: যে কুরআন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেছে এবং শয়তানের চক্রান্ত বুঝতে পেরেছে।"

চতুর্থত: আমাদের আলেমদের উৎসসমূহ থেকে এই সংশয়গুলোর দালিলিক (موثق) ও বৈজ্ঞানিক উত্তর প্রদান করা।

পরিশেষে, যা সঠিক তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে, আর যা ভুল তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحثُ الأوّل

الطَّاعنون في إعراب القرآن

بعد البحث والتقصّي أرى أنّ الطاعنين في نحو القرآن خمسة أصناف:

 

‌‌الصّنف الأوّل: الزنادقة:

ذهب بعضٌ من أهل الزندقة والإلحاد إلى تخطئة آيات من جهة النَّحو، وادَّعى هؤلاء أنَّ في القرآن لحناً.

يقولُ الإمام ابنُ قتيبة: "وقد اعترض كتاب الله بالطَّعن ملحدون ولَغَوْا فيه وهجروا، واتّبعوا (مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ)، بأفهام كليلة، وأبصار عليلةٍ، ونظرٍ مَدْخُول؛ فحرَّفوا الكلامَ عن مواضعه، وعدلوه عن سُبُله. ثم قَضَوْا عليه بالتناقُض، والاسحالة، واللَّحْن، وفساد النَّظْم، والاختلاف ".

وخصّص لهم ابن قتيبة باباً للرَّد عليهم بعنوان: "باب ما ادّعي على القرآن من اللَّحْن ".

وقد وقفتُ على كلام متين للإمام الباقلانيّ يناقشُ هؤلاء في كتابه: (الانتصار للقرآن)؛ إذ وضع لهم باباً بعنوان: "باب
প্রথম পরিচ্ছেদ

কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর আক্রমণকারীগণ

গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর আমি দেখছি যে, কুরআনের ব্যাকরণ (نحو) নিয়ে যারা আপত্তি তুলেছেন, তারা পাঁচ শ্রেণির:

 

প্রথম শ্রেণি: ধর্মদ্রোহী (زنادقة):

একদল ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিক ব্যাকরণের (نحو) দিক থেকে বিভিন্ন আয়াতকে ভুল সাব্যস্ত করার অবতারণা করেছে এবং তারা দাবি করেছে যে, কুরআনে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) রয়েছে।

ইমাম ইবনে কুতায়বাহ বলেন: "নাস্তিকরা আল্লাহর কিতাবের ওপর আক্রমণ করে আপত্তি জানিয়েছে এবং তাতে অসার ও কটু কথা বলেছে। তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং মনগড়া ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করেছে; অথচ তাদের বোধশক্তি ছিল স্থবির, দৃষ্টি ছিল রুগ্ন এবং পর্যবেক্ষণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তারা শব্দাবলিকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করেছে এবং সেগুলোকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। অতঃপর তারা একে স্ববিরোধিতা, অসম্ভবতা, ব্যাকরণগত ভুল (لحن), গাঁথুনির ত্রুটি এবং অসংগতিপূর্ণ বলে রায় দিয়েছে।"

ইবনে কুতায়বাহ তাদের খণ্ডনে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন যার শিরোনাম হলো: "কুরআনের বিরুদ্ধে ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) যে দাবি করা হয়েছে, সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ"।

আমি ইমাম বাকিল্লানির একটি বলিষ্ঠ বক্তব্য পেয়েছি যা তিনি তাঁর আল-ইতিসার লিল-কুরআন গ্রন্থে তাদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন; সেখানে তিনি তাদের জন্য একটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন যার শিরোনাম: "পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
الكلام عليهم فيما طعنوا على القُرآن، ونحلوه من اللحْن "؛ فهم يرون أنه مما يدل على تحريف القرآن وتغييره، ما وجدوه من اللحْن الفاحش الذي لا يجوز على الله ورسوله صلى الله عليه وسلم حسب قولهم.

 

‌‌الصنف الثاني: المنصِّرون:

جردَ أعداءُ الإسلام حملاتِهم على القرآن الكريم بغية حصاره وتشويهه وتطويقه؛ فحملة تتناول أسلوبه بالنقد والتقبيح، وحملة تتناول قصصه وتزعم أنها أساطير، وحملة تتناول جمعه وتفسيره، وحملة تتناول معانيه، وحملات كثيرة لا تُحصى.

يقول فندر: "لو سلمنا بأن القرآن هو أفصح وأبلغ ما أُلف من الكتب في اللغة العربية، بحيث لا نظير له فيها، لم يترتب على ذلك أنه أفصح وأبلغ مما أُلف من الكتب في غيرها من اللغات أيضا. وقد أجمع علماءُ الإفرنج وتقرر عندهم أنه يوجد في اللغة اليونانية واللاتينتة والإنكليزية
কুরআনের প্রতি তাদের করা আপত্তিসমূহ এবং এতে ভাষাগত ভুলের (اللحن) যে অপবাদ তারা আরোপ করেছে সে সম্পর্কে আলোচনা: তারা মনে করে যে, কুরআনের মাঝে তারা যে জঘন্য ভাষাগত ভুল (اللحن) খুঁজে পেয়েছে, তা কুরআনের বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তনের (تغيير) প্রমাণ বহন করে; তাদের দাবি অনুযায়ী যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে প্রযোজ্য হওয়া অসম্ভব।

 

‌‌দ্বিতীয় শ্রেণি: মিশনারিগণ:

ইসলামের শত্রুরা পবিত্র কুরআনকে অবরুদ্ধ, বিকৃত ও কোণঠাসা করার হীন উদ্দেশ্যে নানামুখী অভিযান পরিচালনা করেছে; এর মধ্যে কোনো অভিযান এর শৈল্পিক অলঙ্কারকে সমালোচনা ও কুৎসিত প্রতিপন্ন করার জন্য, কোনোটি এর ঘটনাবলিকে অলীক কাহিনী বলে দাবি করার জন্য, কোনোটি এর সংকলন ও তাফসিরের বিষয়ে, কোনোটি এর অর্থ ও মর্মার্থ নিয়ে, এছাড়াও আরও অসংখ্য অগণিত অভিযান রয়েছে।

ফেন্ডার বলেন: "যদি আমরা এটি মেনেও নিই যে, কুরআন আরবি ভাষায় রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ এবং এ ভাষায় এর কোনো নজির নেই, তবুও এর দ্বারা এটি প্রমাণিত হয় না যে, এটি অন্যান্য ভাষায় রচিত গ্রন্থসমূহের চেয়েও অধিক প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ। ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, গ্রিক, লাতিন ও ইংরেজি ভাষায়..."
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
والفرنساويّة والنمساوية وغيرها من اللّغات مؤلَّفات أفصح وأبلغ من القرآن ".

وقد رمى صاحب " تذييل مقالة في الإسلام " القرآن الكريم بالإخلال بالفصاحة، ووسمه بضعف التأليف، قائلاً: "ثم إنّ للفصاحة في العربيّة قواعد وأصولاً وضعوها هم أنفسهم وعدّوا في جملتها سلامة الكلام من ضعف التأليف ومن الغرابة والتنافر ومخالفة القياس، وسترى أنّ في القرآن مِنْ ذلك ما يخالف قواعدهم، ونحن لا نذكر لك منهُ إلَّا ما كانت المخالفة فيه بينةً لا تحتمل التأوّل على علمٍ منَّا أنّ المفسرين قد تمحّلوا لكل من غلطاته تأوّلاً وعزب عنهم أن مجرد احتياجه إلى ذلك هو حجّةٌ عليه، ولو سلَّمنا لهم بما حاولوهُ من الحذف والتقدير؛ لِسَتْر غلطهِ تارةً وكشف معناهُ أخرى، لم يبقَ ثمَّ مِنْ داعٍ لوضع ما وضعوهُ من القواعد ولأصبح كل لحنٍ وتأوُّلهُ، بل عدهُ من أنول البديع ممكناً على طريقتهم؛ وإذا تقرّر هذا فلنشرع في تعقّب خطئه "، ثم ذكر آيات ادّعى فيها اللَّحْن.
"ফরাসি, অস্ট্রিয়ান এবং অন্যান্য ভাষায় এমন সব রচনা রয়েছে যা আল-কুরআনের চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ।"

“তাযয়ীল মাকালা ফিল ইসলাম” গ্রন্থের লেখক পবিত্র কুরআনকে প্রাঞ্জলতা (الفصاحة) ক্ষুণ্ন হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং একে রচনার দুর্বলতা (ضعف التأليف) হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন: "অতঃপর আরবী ভাষায় প্রাঞ্জলতার (الفصاحة) এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি (أصول) রয়েছে যা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করেছেন এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন রচনার দুর্বলতা (ضعف التأليف), শব্দের অপরিচিতি (الغرابة), শ্রুতিকটুতা (التنافر) ও ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের বৈপরীত্য (مخالفة القياس) থেকে বক্তব্যকে মুক্ত রাখাকে। আপনি অচিরেই দেখতে পাবেন যে কুরআনের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তাদের এই নিয়মগুলোর পরিপন্থী। আমরা আপনার নিকট কেবল সেগুলোই উল্লেখ করব যেগুলোর ক্ষেত্রে বৈপরীত্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং যা ব্যাখ্যার (التأوّل) অবকাশ রাখে না। আমরা এটা জেনেই বলছি যে, মুফাসসিরগণ এর প্রতিটি ভুলের সপক্ষে ব্যাখ্যার জন্য কষ্টসাধ্য চেষ্টা করেছেন, অথচ তারা এই বিষয়টি ভুলে গিয়েছেন যে, নিছক এই ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তাই এর বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ (حجّة)। তারা কোনো সময় ভুল গোপনের জন্য এবং অন্য সময় অর্থ প্রকাশের জন্য উহ্যকরণ (الحذف) ও অনুমিতকরণের (التقدير) যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তা যদি আমরা মেনে নিই, তবে তাদের প্রণীত ঐ সকল নিয়মাবলী নির্ধারণের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকে না। এমতাবস্থায় তাদের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাকরণিক ভুল (لحن) এবং সেটির ব্যাখ্যা প্রদান, এমনকি সেটিকে অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রকার হিসেবে গণ্য করাও সম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আসুন আমরা এর ভুলগুলো অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হই।" অতঃপর তিনি এমন কিছু আয়াত উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে তিনি ব্যাকরণিক ভুল (اللحن) থাকার দাবি করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي كتاب: (أدلَّة اليقين في الرد على كتاب ميزان الحقّ وغيره من مطاعن المبشّرين المسيحيين في الإسلام)، للشيخ عبد الرحمن الجزيريّ، نراه قد وضع مناقشة لهؤلاء بعنوان: "ما يتخيّله المبشّرون من أخطاء نحويّة في القرآن الكريم ".

وفي سنة (1357 هـ) الموافق (1938 م) نشرت مجلة (الرّسالة) سلسلة مقالات بعنوان: "كتاب المبشّرين الطَّاعن في عربيّة القرآن: أمسلم مصريّ أم مبشّر بروتستنتي؟ ". رد فيه صاحب هذه المقالات على مَنِ ادعى اللَّحن في القرآن الكريم، وكشف زيفهم ومقاصدهم.

 

‌‌الصنف الثالث: المستشرقون:

جال المستشرقون في ميدان الدراسات القرآنية، وكتبوا عن جوانب مهمّة وخطيرة؛ فأخرجوا كتبا تراثية تتّصل بعلوم القرآن، وألفوا في تاريخ القرآن، وتفسيره، والقراءات، وترجمته، ولغته وغير ذلك.
এবং শায়খ আবদুর রহমান আল-জাযায়িরীর 'আদিল্লাতুল ইয়াকীন ফির রাদ্দি আলা কিতাবি মীযানিল হাক্ক ওয়া গাইরিহি মিন মাতায়িনিল মুবাশশিরিনাল মাসিহিয়্যিনা ফিল ইসলাম' নামক গ্রন্থে আমরা দেখি যে, তিনি তাদের বিরুদ্ধে একটি আলোচনার অবতারণা করেছেন যার শিরোনাম: "পবিত্র কুরআনের ব্যাকরণগত ত্রুটি সম্পর্কে মিশনারিদের কল্পনাপ্রসূত ধারণাসমূহ।"

এবং ১৩৫৭ হিজরি (১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ) সালে 'আর-রিসালা' সাময়িকীতে একটি প্রবন্ধের ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়েছিল যার শিরোনাম ছিল: "কুরআনের আরবি ভাষার ওপর আক্রমণকারী মিশনারিদের কিতাব: কোনো মিসরীয় মুসলিম নাকি প্রোটেস্ট্যান্ট মিশনারি?"। এতে এই প্রবন্ধগুলোর লেখক ওই ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা পবিত্র কুরআনে ব্যাকরণগত ভুলের (اللحن) দাবি তুলেছিল এবং তিনি তাদের অসারতা ও উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচন করেছেন।

 

‌‌তৃতীয় শ্রেণী: প্রাচ্যবিদগণ (المستشرقون):

প্রাচ্যবিদগণ কুরআনিক গবেষণার ময়দানে বিচরণ করেছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দিক সম্পর্কে লিখেছেন। তারা কুরআনি বিজ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহ্যবাহী (تراثية) গ্রন্থসমূহ প্রকাশ করেছেন এবং কুরআনের ইতিহাস, তাফসির (تفسير), কিরাত (القراءات), অনুবাদ, ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
والمتتبّع لدراسات هؤلاء يرى خللاً عند الكثير منهم، لا سيما في المنهج الذي اعتمدوه، يقول أبو الحسن الندوي: "ومن دأب كثير من المستشرقين: أتهم يعيِّنون لهم غاية ويقررون في أنفسهم تحقيق تلك الغاية بكلّ طريق، ثم يقومون لها بجمع معلومات - من كلّ رطبٍ ويابس - ليس لها أيّ علاقة بالموضوع، سواء من كتب الديانة والتاريخ، أو الأدب والشّعر، أو الرواية والقصص، أو المجون والفكاهة، وإنْ كانت هذه المواد تافهة لا قيمة لها، وُيقدّمونها بعد التمويه بكلّ جرأة، ويبنون عليها نظريّة لا يكون لها وجود إلَّا في نفوسهم وأذهانهم ".

فصار هؤلاء يجمعون الصحيح والسَّقيم، من غير تمييزٍ بينهما، وقد يرجّحون السقيم وحجّتهم التوهّم، وطبيعة هذا المنهج يصفها المستشرق آرثر جفري بقوله: "وأمّا أهل التنقيب، فطريقتهم في البحث أن يجمعوا الآراء والظّنون والأوهام والتصوّرات بأجمعها؛ ليستنتجوا - بالفحص والاكتشاف - ما كان مطابقاً للمكان والزمان وظروف الأحوال معتبرين المتن دون الإسناد".
যারা এসকল গবেষকের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন, তারা তাদের অনেকের মধ্যেই ত্রুটি লক্ষ্য করেন, বিশেষ করে তাদের অনুসৃত পদ্ধতির ক্ষেত্রে। আবুল হাসান নদভী বলেন: "অনেক প্রাচ্যবিদের রীতি হলো: তারা নিজেদের জন্য একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেন এবং যেকোনো উপায়ে সেই উদ্দেশ্য সফল করার সংকল্প করেন। এরপর তারা এর অনুকূলে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন—ভালো-মন্দ নির্বিচারে—যার সাথে আলোচ্য বিষয়ের কোনোই সম্পর্ক নেই; হোক তা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে, কিংবা সাহিত্য ও কবিতা, অথবা বর্ণনা ও রূপকথা, এমনকি অসার কৌতুক থেকে। যদিও এসকল উপাদান তুচ্ছ ও মূল্যহীন হয়ে থাকে, তবুও তারা ছদ্মবেশে অত্যন্ত সাহসের সাথে তা উপস্থাপন করেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে এমন এক মতবাদ গড়ে তোলেন যার অস্তিত্ব কেবল তাদের কল্পনা ও চিন্তায় বিদ্যমান।"

ফলে তারা বিশুদ্ধ (الصحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (السقيم) সকল বর্ণনা কোনো পার্থক্য ছাড়াই একত্র করতে থাকেন। এমনকি কখনও কখনও তারা নিছক ধারণার বশবর্তী হয়ে ত্রুটিযুক্ত (السقيم) বর্ণনাকেই প্রাধান্য দেন। প্রাচ্যবিদ আর্থার জেফরি এই পদ্ধতির স্বরূপ বর্ণনা করে বলেন: "আর যারা অনুসন্ধানকারী, তাদের গবেষণার পদ্ধতি হলো সমস্ত মতামত, ধারণা, সংশয় ও কল্পনাকে সামগ্রিকভাবে একত্রিত করা; যাতে তারা বিশ্লেষণ ও উদঘাটনের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন যা স্থান, কাল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেখানে তারা সনদের (الإسناد) পরিবর্তে মতনকে (المتن) গুরুত্ব দেন।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وممّا زاد منهج المستشرقين خللاً الارتباط بين الاستشراق والتنصيرة فالأول في ميدان الفكر والثقافة، والثاني في ميدان العمل والتربية؛ فالاستشراق يقدم السموم والشبهات، والتنصير ينشرها بوسائله الظاهرة والخفية؛ إذن، فالمهمة مشتركة والهدف واحد، بل مِنَ المستشرقين دعاة للتنصير.

يقول الدكتور علي بن إبراهيم النملة: "وأنّ التنصير قد اتكأ كثيراً على الاستشراق في الحصول على المعلومات عن المجتمعات المستهدفة، لا سيما الإسلاميّة … وخاصة عندما اكتسب مفهوم التنصير معنى أوسع من مجرد الإدخال في النصرانية إلى تشويه الإسلام والتشكيك في الكتاب والسنة والسيرة وغيرها، فكان فرسان هذا التطور في المفهوم هم المستشرقون ".

فلا غرابة بعد هذا أنْ نجد من هؤلاء المستشرقين مَنْ يتطاول على لغة القرآن وأسلوبه وقراءاته ورسمه وغير ذلك، يقول الدكتور جواد علي: "ولا بُدَّ من الإشارة إلى رأيٍ أحدث ضجّة في حينه بين المستشرقين هو الرأي الذي أبداه المستشرق (كارل فولرس) عن اللغة الأصلية
প্রাচ্যবিদদের কর্মপদ্ধতির বিচ্যুতিকে যা আরও বৃদ্ধি করেছে তা হলো প্রাচ্যতত্ত্ব এবং মিশনারি কার্যক্রমের মধ্যকার গভীর সম্পৃক্ততা। প্রথমটি চিন্তা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে সক্রিয়, আর দ্বিতীয়টি সক্রিয় কর্মতৎপরতা ও শিক্ষার অঙ্গনে। প্রাচ্যতত্ত্ব বিষাক্ত মতবাদ ও সংশয়সমূহ উপস্থাপন করে, আর মিশনারি কার্যক্রম তার প্রকাশ্য ও গোপন মাধ্যমগুলোর সাহায্যে তা ছড়িয়ে দেয়। সুতরাং, তাদের দায়িত্ব অংশীদারিত্বমূলক এবং লক্ষ্য অভিন্ন; এমনকি প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা খ্রিস্টধর্মের একনিষ্ঠ প্রচারক হিসেবে কাজ করেন।

ড. আলী বিন ইব্রাহিম আন-নামলাহ বলেন: "মিশনারি কার্যক্রম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারিত সমাজগুলো, বিশেষ করে মুসলিম সমাজগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রাচ্যতত্ত্বের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে … বিশেষ করে যখন মিশনারি কার্যক্রমের ধারণাটি কেবল খ্রিস্টধর্মে অন্তর্ভুক্ত করার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসলামকে বিকৃত করা এবং কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ, সীরাত ও অন্যান্য বিষয়ে সংশয় সৃষ্টির মতো ব্যাপক অর্থ পরিগ্রহ করেছে; তখন এই ধারণাগত বিবর্তনের অগ্রসেনানী ছিলেন প্রাচ্যবিদরাই।"

অতএব, এরপর আর আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই প্রাচ্যবিদদের মাঝে এমন ব্যক্তিদের পাওয়া যাবে যারা কুরআনের ভাষা, শৈলী, ক্বিরাতসমূহ (قراءات), লিখনরীতি এবং অন্যান্য বিষয়ে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। ড. জাওয়াদ আলী বলেন: "প্রাচ্যবিদদের মধ্যে তৎকালীন সময়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি মতামতের দিকে ইঙ্গিত করা আবশ্যক; আর সেটি হলো মূল ভাষা সম্পর্কে প্রাচ্যবিদ কার্ল ভোলার্স কর্তৃক ব্যক্তকৃত মতামত।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
التي نزل بها الوحي ومتن القرآن الكريم، ولهذا الرأي علاقة كبيرة بالطبع بأصل اللّغة العربية الفصحى، زعم هذا المستشرق أنّ القرآن الكريم قد نزل في الأصل بلهجة محلّية من اللهجات العربية الغربيّة، وأنّه لم يكن معرباً ثم أُدخل الإعراب عليه على وفق قواعد لغة الشعر".

أمّا (تيدور نولدكه)، فقد قال عنه الدكتور عبد الرزّاق بن إسماعيل هرماس: "فهو لا يتوانى عن الطعن في إعراب القرآن، والصَّرف، وبلاغة الأسلوب ".

 

‌‌الصنف الرابع: مضلِّلون في شبكة المعلومات الدولية: من البدهي القول: إنّ شبكة المعلومات العالميّة (الإنترنت) ثورة معلوماتية، تفوقُ في أهمّيتها كلّ وسائل الاتصال، وهي مع ذلك تشهد تطوّراً متسارعاً في دنيا العلم يوميّاً؛ حتى أصبح العالم مع هذه الشبكة قريةً صغيرةً يتعرّف
যাতে ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা পবিত্র কুরআনের মূল পাঠ (متن); আর স্বাভাবিকভাবেই এই মতামতের সাথে বিশুদ্ধ ধ্রুপদী আরবি ভাষার উৎসের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রাচ্যবিদ দাবি করেছেন যে, পবিত্র কুরআন মূলত পশ্চিমী আরবীয় উপভাষাগুলোর একটি স্থানীয় উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এটি ই'রাব বা ব্যাকরণিক বিভক্তি (إعراب) যুক্ত ছিল না, বরং পরবর্তীতে কাব্যিক ভাষার নিয়ম অনুযায়ী এতে ই'রাব (إعراب) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে থিওডোর নোলডেকে সম্পর্কে ড. আব্দুর রাজ্জাক বিন ইসমাইল হারমাস বলেছেন: "তিনি কুরআনের ই'রাব (إعراب), শব্দরূপান্তর বিদ্যা (صرف) এবং এর শৈল্পিক বাচনভঙ্গির সমালোচনা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।"

 

‌‌চতুর্থ শ্রেণি: আন্তর্জাতিক তথ্য নেটওয়ার্কে বিভ্রান্তি বিস্তারকারী: এটি বলাই বাহুল্য যে, বিশ্বব্যাপী তথ্য নেটওয়ার্ক (ইন্টারনেট) একটি তথ্য বিপ্লব, যা গুরুত্বের দিক থেকে যোগাযোগের সকল মাধ্যমকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি এটি বিজ্ঞানের জগতে প্রতিদিন দ্রুততর বিবর্তন প্রত্যক্ষ করছে; এমনকি এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্ব আজ একটি ছোট গ্রামে পরিণত হয়েছে, যেখানে পরিচয় ঘটে...
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الإنسان المعلومات عنها في أي وقتٍ يشاء.

ولكن هذه الشبكة لا تخلو من مضارّ، فقد استغلّ مضلِّلون من أعداء القرآن مواقعَ لمحاربته، حتى جرت محاولات ساقطة لمعارضته.

ففي أحد المواقع ذهب أحدهم إلى القول بوجود لحن في آياتٍ قرآنية؛ فهذه صحيفة الخليج نشرت في العدد 85741) 4 رمضان 1423 هـ، الموافق 9/ 11 / 2002 م، مقالاً للأستاذ الدكتور مازن المبارك بعنوان (نحو الإنترنت)، جاء فيه: "دأب كاتب على نشر سلسلة مقالات في أحد المواقع على (الإنترنت) يذكر فيها ما يزعم أنّه خطأ نحويّ وقع في القرآن الكريم ".

وفي موقع (صيد الفوائد)، مقال بعنوان (شبهات حول أخطاء قرآنية مزعومة)، وهو رد على موقع يزعم وجود لحن في آيات قرآنيّة.
মানুষ যখনই ইচ্ছা এ সংক্রান্ত তথ্য লাভ করতে পারে।

কিন্তু এই নেটওয়ার্ক বা অন্তর্জাল অপকারিতা মুক্ত নয়; কোরআনের একদল বিভ্রান্তকারী (مضلِّلون) শত্রু এর বিরোধিতার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করেছে, এমনকি তা মোকাবিলার জন্য নানাবিধ অসার চেষ্টাও চালানো হয়েছে।

একটি ওয়েবসাইটে জনৈক ব্যক্তি কোরআনের আয়াত (آيات) সমূহে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) থাকার দাবি করেছে; আল-খালিজ পত্রিকা ৮৫৭৪১ সংখ্যায় (৪ রমজান ১৪২৩ হিজরি, মোতাবেক ৯/১১/২০০২ খ্রিস্টাব্দ) প্রফেসর ডক্টর মাজেন আল-মুবারকের 'নাহওয়াল ইন্টারনেট' শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, যাতে বলা হয়েছে: "একজন লেখক ইন্টারনেটের একটি সাইটে ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু নিবন্ধ প্রকাশ করে চলেছেন যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, পবিত্র কোরআনে ব্যাকরণগত ভুল (خطأ نحويّ) সংঘটিত হয়েছে।"

'সাইদুল ফাওয়াইদ' ওয়েবসাইটে 'কথিত কোরআনিক ভুল সংক্রান্ত সংশয়সমূহ' শিরোনামে একটি নিবন্ধ রয়েছে, যা মূলত কোরআনের আয়াত (آيات) সমূহে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) থাকার দাবি সম্বলিত একটি ওয়েবসাইটের প্রত্যুত্তর।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الصّنف الخامس: مغرَّرون:

صدق الإمام ابن قتيبة عندما قال - وهو يتحدّث عن شُبَه الطاعنين في لغة القرآن -: "وأدْلَوْا في ذلك بعلل ربَّما أمالت الضعيف الغُمْر، والحدَث الغِرّ، واعترضت بالشبه في القلوب، وقدَحت بالشّكوك في الصّدور".

نعم، لقد وافقت تلك الشُّبه قلباً مريضاً، خاوياً من علوم السَّلف؛ فصدَّقَ ما قال الطَّاعنون أو كاد، فأخذ يردد أقوالهم، ويسردُ شُبههم.

فقد قال صاحب مقالات: (كتاب المبشّرين الطَّاعن في عربيّة القرآن أمسلم مصريّ أم مبشّر بروتستنتيّ؟): "ثمّ جاءت الطَّامة الكبرى - أعني: الضّلال الضالّ في مجلة في القاهرة، فقد نجم فيها ناجم، وتهدَّم على هذا اللسان العربيّ وكتابه الكريم بالقول السخيف، مشيعاً بالرأي الركيك، والصّنع اللّئيم؛ ولو اقتصر هذا الخارجيّ على بقبقته في تقويض (القواعد) أو نسفها ما باليناه بالةً، ولقلنا: إنّما هو ضُحَكة جاء بأضاحيك، فيضحك الضاحكون، لكنّه شاء أن ينقلب لُعنة يلعنه اللّاعنون، فقد تمسَّك هذا الكاتب في هاتيك المجلة بالذيل أو (التذييل) بكتاب (مقالة
পঞ্চম শ্রেণি: প্রতারিত ব্যক্তিবর্গ (مغرَّرون):

ইমাম ইবনে কুতাইবা সত্যই বলেছেন যখন তিনি কুরআনের ভাষার ওপর আক্রমণকারীদের সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন— "তারা এ ক্ষেত্রে এমন কিছু কারণ বা যুক্তি পেশ করেছে যা হয়তো অনভিজ্ঞ দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি এবং অপরিণত যুবককে বিচ্যুত করে ফেলে, হৃদয়ে সংশয় তৈরি করে এবং বক্ষে সন্দেহের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়।"

হ্যাঁ, এই সংশয়গুলো এমন এক অসুস্থ হৃদয়ের সাথে মিলে গেছে যা সালাফদের জ্ঞান থেকে শূন্য; ফলে সে আক্রমণকারীদের কথাগুলো বিশ্বাস করেছে অথবা বিশ্বাসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, আর তাদের বক্তব্যগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে শুরু করেছে এবং তাদের সংশয়গুলো বর্ণনা করতে লেগেছে।

'মাকালাত' (প্রবন্ধসমগ্র) এর লেখক (কুরআনের আরবির ওপর আক্রমণকারী মিশনারিদের বইটি কি কোনো মিশরীয় মুসলিমের, নাকি কোনো প্রোটেস্ট্যান্ট মিশনারির?) নামক প্রবন্ধে বলেছেন: "অতঃপর এক মহাবিপদ নেমে এল—আমি বলতে চাচ্ছি: কায়রোর একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক ঘোর ভ্রষ্টতা; সেখানে এক নতুনের উদয় হয়েছে যে এই আরবি ভাষা এবং তার সম্মানিত কিতাবের ওপর অন্তঃসারশূন্য কথা দিয়ে আঘাত হেনেছে, দুর্বল মতবাদ এবং হীন চক্রান্ত ছড়িয়ে দিয়েছে। যদি এই বহিরাগত (خارجيّ) ব্যক্তিটি কেবল ব্যাকরণের নিয়মাবলী (القواعد) ধ্বংস করার বা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অর্থহীন প্রলাপে সীমাবদ্ধ থাকত, তবে আমরা তাকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করতাম না এবং বলতাম: সে কেবল এক হাস্যকর পাত্র যে কতগুলো হাসির খোরাক নিয়ে এসেছে, ফলে মানুষ হাসাহাসি করবে; কিন্তু সে চাইল এক অভিশাপে পরিণত হতে যার ওপর অভিশাপকারীরা অভিসম্পাত বর্ষণ করবে। এই লেখক ওই সাময়িকীতে 'মাকালা' নামক কিতাবের শেষাংশ বা পরিশিষ্টের (التذييل) আশ্রয় নিয়েছিলেন..."
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الإسلام) لجرجس سال الإنجليزي - (وهو الكتاب الذي نشرته جماعة التيسير، بل التضليل، من البروتستانت في مصر) - وانجرَّ أو استجرَّ مسلم ابن مسلمين - يا للأسف - للطاعنين في الدين، والمُقدمين - وقحين - على تنقيص القرآن، وتغليطه في العربية … ".

ويُحدثنا الأُستاذ أحمد عبد الغفور عطار في كتابه (الزحف على لغة القرآن) عن واحد من هذا النَوع، قائلا: "وحملة تتناول القرآن من الناحية اللغوية، فيزعمون أن به غلطات في النحو، وأن منا مَنْ زعم لي ذلك وقدم لي بضع غلطات كما زعم - قبحه الله -.

ولما رأيت ثلاث الغلطات التي قدمها أدركت المصدر وكشفته له، قال لي هذا الذي منا وزعم أن في القرآن غلطاً: إنني اكتشفت في القرآن أغلاطا لا تتفق مع قواعد العربية التي نعرفها، وها هي ذي:

1 - (تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ)، وحقها: (تِلْكَ عشرٌ كامِلَةٌ)؟ لأن المعدود مؤنث، ودليل التأنيث كلمة "كامِلَةٌ" و"تِلْكَ ".

2 - (وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا)، وفي هذه الآية خطآن، الأول: أنه أنث العدد مع أن القاعدة في
(ইসলামের বিষয়ে) ইংরেজ জর্জেস সেল-এর রচিত - (এটি সেই কিতাব যা মিশরের প্রোটেস্ট্যান্টদের আত-তায়সির, বরং বলা চলে বিভ্রান্তি গোষ্ঠী কর্তৃক প্রকাশিত) - এবং অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একজন মুসলিম পিতা-মাতার সন্তান দ্বীনের নিন্দাকারীদের দ্বারা প্ররোচিত বা আকৃষ্ট হয়েছে, যারা নির্লজ্জভাবে পবিত্র কোরআনের মর্যাদা হ্রাসে এবং এর আরবি ব্যাকরণে ভুল ধরার ধৃষ্টতা দেখায় … ".

অধ্যাপক আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার তাঁর ‘আজ-জাহফু আলা লুগাতিল কুরআন’ (কুরআনের ভাষার ওপর আগ্রাসন) গ্রন্থে এই ধরণের এক ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের বলেন: "একটি অভিযান যা পবিত্র কোরআনকে ভাষাগত দিক থেকে আক্রমণ করে; তারা দাবি করে যে এতে ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে। আমাদের মধ্য থেকেই একজন আমার কাছে এমন দাবি করেছিল এবং তার ধারণা অনুযায়ী কয়েকটি ভুল আমার সামনে পেশ করেছিল - আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন।

যখন আমি তার পেশ করা তিনটি ভুল দেখলাম, তখন আমি এর উৎস বুঝতে পারলাম এবং তার কাছে তা প্রকাশ করলাম। আমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোরআনে ভুল আছে বলে দাবি করেছিল, সে আমাকে বলল: আমি কোরআনে এমন কিছু ভুল পেয়েছি যা আমাদের জানা আরবি ব্যাকরণের নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, আর সেগুলো হলো:

১ - (তিলকা আশারাতুন কামিলাহ), অথচ ব্যাকরণ অনুযায়ী এর হক ছিল: (তিলকা আশরুন কামিলাহ)? কারণ এখানে যা গণনা করা হয়েছে তা স্ত্রীলিঙ্গ, আর স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার প্রমাণ হলো ‘কামিলাহ’ এবং ‘তিলকা’ শব্দ দুটি।

২ - (ওয়া কাত্তায়নাহুমুস-নাতাই আশরাতা আসবাতা), এই আয়াতে দুটি ভুল রয়েছে; প্রথমটি হলো: সংখ্যাটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়েছে অথচ ব্যাকরণগত নিয়ম হলো...
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
أحد عشر واثني عشر مطابقة العدد للمعدود، فالمعدود (أَسْبَاطًا) والسبْط مذكّر قطعا، فالقاعدة تُوجب أن يكون (اثني عشر سبطاً)، والثاني: أنّ تمييز أحد عشر واثني عشر يجب أن يكون مفرداً لا جمعاً، وفي القرآن نفسه: (إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا)، فالعدد والمعدود مذكران، والتمييز مفرد.

3 - (رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ).

(وَأَكُنْ) معطوفة على (فَأَصَّدَّقَ) المنصوب، فحقّها أن تكون: (فأصدق وأكون).

عندما سرد لي ما زعمه خطأ وذكر الأمثلة أدركت أنّه مقلّد لا مُبتكر، يريد أن يعظّم نفسه بين يديَّ بنقدِ أعظم ما لدينا، ولكنَّه ما زاد نفسه إلَّا حقارة وبرهن على الجهل والكفر وعمى البصيرة، وكشفتُ له أنّه ليس مبتكراً، بل يقلّد كَفَرة ملاعين، يقلّد القسيس (فندر) مؤلف كتاب: (ميزان الحقّ) ومَنْ سمّى نفسه (هاشماً العربيّ) في رسالته التي سمّاها "تذييل مقالة في الإسلام "؛ إذ زعما أنّ في القرآن من الغلطات ما لا تُجيزه قواعد العربيّة، وذكرا ما حسباه خطأ وفيه ثلاث الآيات الشَّواهد".
এগারো ও বারো সংখ্যার ক্ষেত্রে সংখ্যা ও গণনাকৃত বস্তুর মধ্যে লিঙ্গগত সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। এখানে গণনাকৃত বিষয়টি হলো 'আসবাতান' (গোত্রসমূহ) এবং 'সিবত' (গোত্র) শব্দটি নিশ্চিতভাবেই পুংলিঙ্গ; তাই ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী এটি 'ইত্নাই আশারা সিবতান' হওয়া আবশ্যক ছিল। দ্বিতীয়ত: এগারো ও বারো সংখ্যার ক্ষেত্রে স্পষ্টকারী পদটি একবচন হওয়া আবশ্যক, বহুবচন নয়। স্বয়ং কুরআনেই রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারো মাস।" এখানে সংখ্যা ও গণনাকৃত বস্তু উভয়ই পুংলিঙ্গ এবং স্পষ্টকারী পদটি একবচন।

৩ - (হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে নিকটবর্তী একটি সময় পর্যন্ত অবকাশ দিলেন না, তবে আমি দান-সদকা করতাম এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম)।

(ওয়া আকুন) শব্দটি নসবযুক্ত 'ফা-আসাদ্দাকা' শব্দের সাথে অন্বয়যুক্ত হয়েছে, তাই ব্যাকরণগতভাবে এটি 'ফা-আসাদ্দাকা ওয়া আকুনা' হওয়া উচিত ছিল।

সে যখন তার দাবিকৃত ভুলগুলো আমার কাছে বর্ণনা করল এবং উদাহরণগুলো পেশ করল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে সে কোনো মৌলিক চিন্তাবিদ নয় বরং একজন অন্ধ অনুসারী (مقلد)। সে আমাদের নিকট যা সবচেয়ে মহিমান্বিত তার সমালোচনা করে আমার সামনে নিজেকে বড় করতে চেয়েছিল, কিন্তু এতে সে কেবল নিজের হীনতাই বৃদ্ধি করেছে এবং নিজের মূর্খতা, কুফর ও অন্তর্দৃষ্টিহীনতার প্রমাণ দিয়েছে। আমি তার নিকট স্পষ্ট করে দিলাম যে সে কোনো উদ্ভাবক নয়, বরং সে অভিশপ্ত কাফিরদের অন্ধ অনুকরণ করছে। সে পাদ্রী ফেন্ডার—যিনি 'মিজানুল হক' গ্রন্থের লেখক—এবং যে নিজেকে 'হাশিম আল-আরাবি' নামে অভিহিত করেছে, তার "তাযয়ীল মাক্বালাহ ফিল ইসলাম" নামক পুস্তিকার অনুকরণ করছে। তারা উভয়েই দাবি করেছিল যে কুরআনে এমন কিছু ভুল রয়েছে যা আরবি ব্যাকরণের নিয়মে বৈধ নয় এবং তারা যেগুলোকে ভুল মনে করেছিল তার স্বপক্ষে এই তিনটি আয়াতকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছিল।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني

شُبَهُ الطَّاعنينَ في إعراب القرآن والجوابُ عنها

للطَّاعنين في إعراب القرآن الكريم شُبَه اتَّخذوها تكأة، أوردوها تقوية لمذاهبهم، حتى قالوا: "إنّ القرآن العزيز غيَّره الذين كتبوه وحرّفوه عن هيئة إنزالهِ وحالة كمالهِ، وزادوا فيه ونقصوا منه ".

وللوقوف على حقيقة هؤلاء الطّاعنين، سأذكرُ الشُّبَه التي احتجّوا بها، مع الجواب عن كلّ شُبهة، وبالله التوفيق:

 

‌‌الشُّبْهة الأُولى: الأخبار الباطلة:

اعتلّ الطَّاعنون بأخبارٍ واهية، ساقوها لإثبات اللَّحن في آيات من الكتاب العزيز، وأهمّ تلك الأخبار:

الأثر الأول: عند عبد الله بن فُطَيمة، عن يحيى بن يَعْمر، قال: قال عثمان بن عفَّان رضي الله عنه: "في القرآن لحن،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কোরআনের ইরব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) নিয়ে সমালোচকদের সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর জবাব

কোরআন মাজীদের ইরব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) নিয়ে সমালোচকদের কিছু সংশয় রয়েছে যা তারা অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা তাদের মতবাদকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এগুলো উপস্থাপন করেছে, এমনকি তারা বলেছে: "নিশ্চয়ই মহান কোরআনকে যারা লিপিবদ্ধ করেছে তারা একে পরিবর্তন করেছে এবং এর অবতীর্ণ হওয়ার রূপ ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থা থেকে বিকৃত করেছে, এতে তারা যোগ করেছে এবং তা থেকে বিয়োগ করেছে।"

এই সমালোচকদের প্রকৃত রূপ উদঘাটন করার জন্য, তারা যে সংশয়গুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছে সেগুলো আমি প্রতিটি সংশয়ের জবাবসহ উল্লেখ করব। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি:

 

প্রথম সংশয়: বাতিল (باطل) সংবাদসমূহ:

সমালোচকরা ভিত্তিহীন (واهية) সংবাদগুলোর মাধ্যমে অজুহাত পেশ করেছে, যা তারা মহান কিতাবের আয়াতসমূহে ব্যাকরণিক ভুল (লাহান) প্রমাণের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছে। সে সকল সংবাদের মধ্যে প্রধান হলো:

প্রথম আছার (أثر): আবদুল্লাহ বিন ফুতাইমা থেকে বর্ণিত, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার বলেন: ওসমান বিন আফফান (রা.) বলেছেন: "কোরআনে ব্যাকরণিক ভুল (লাহান) রয়েছে,
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
وستقيمه العربُ بألسنتها".

الأثر الثاني: عن أبي معاوية، عن هشام بن عروة، عن أبيه، قال: "سألتُ عائشة عن لحن القرآن: (إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ)، وعن قوله: (وَالْمُقِيمِينَ الصَّلَاةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكَاةَ)، وعن قوله: (وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ)؛ فقالت: يا ابن أُختي هذا عمل الكُتَّاب أخطأوا في الكتاب ".

وهذا القولُ الذي أشارت إليه الروايتان وأمثالهما، ممّا يفيد أنّ في القرآن لحناً، ونحو ذلك، قد عرض له علماؤنا - قديما وحديثا - ووجّهوا إليه سهام نقدهم من جهات متعذد -.

فهذه الروايات اتخذها أعداءُ الإسلام ذريعة للطعن فيه، والقدماء عندما ذكروها ما قصدوا الطعن في القرآن الكريم، يقولُ الشيخُ عبد الفتاح القاضي: "ذكر بعض العلماء هذه الروايات في كتبهم بحسن قصدٍ، من غير تحرّ ولا دقة؛ فاتخذها أعداءُ الإسلام من المارقين والمستشرقين ذريعة
এবং আরবরা তাদের নিজ নিজ ভাষারীতিতে একে সংশোধন করে নেবে।"

দ্বিতীয় বর্ণনা (أثر): আবু মুআবিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আয়েশাকে কুরআনের ভাষাগত বিচ্যুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: (নিশ্চয়ই এই দুইজন জাদুকর), এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এবং যারা নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী ও যারা জাকাত প্রদানকারী) সম্পর্কে, এবং তাঁর বাণী: (এবং যারা ইহুদি হয়েছে ও সাবিয়ীগণ) সম্পর্কে; তখন তিনি বললেন: হে আমার ভাগ্নে! এটি লেখকদের কাজ, তারা লিপি প্রস্তুতের সময় ভুল করেছে।"

এই বক্তব্যটি—যার দিকে এই বর্ণনাদ্বয় (رواية) ও এর অনুরূপ বর্ণনাগুলো ইঙ্গিত করছে এবং যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে কুরআনে ব্যাকরণগত বিচ্যুতি রয়েছে—আমাদের প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ তা বিশদভাবে আলোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর ওপর সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করেছেন—।

এই বর্ণনাগুলোকে (رواية) ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে আক্রমণ করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ প্রাচীনগণ যখন এগুলো উল্লেখ করেছিলেন, তখন তারা পবিত্র কুরআনের নিন্দা করার কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করেননি। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আল-ক্বাদী বলেন: "কিছু আলেম কোনো প্রকার সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও গভীর সতর্কতা ছাড়াই কেবল সদুদ্দেশ্যে তাদের কিতাবসমূহে এই বর্ণনাগুলো (رواية) উল্লেখ করেছেন; ফলে ধর্মত্যাগী ও প্রাচ্যবিদদের মধ্য থেকে যারা ইসলামের শত্রু, তারা একে একটি অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেছে।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
للطعن في الإسلام، وفي القرآن، ولتوهين ثقة المسلمين بكتاب ربهم ".

ولخطورة هاتين الروايتين - وما ماثلهما - سأُبين الصواب - إن شاء الله - فيهما؛ فأقولُ: يُجاب عن هذه الشُبهة من وجوهِ:

الوجه الأول: هذان الأثران - وما شابههما - لا يصحّان من جهة السند؛ وذلك لما يأتي:

أ - الأثر الأول: انتقد من قبل عبد الله بن فُطيمة، ويحيى بن يعمر:

أما إسناد عبد الله بن فُطيمة، فقد قال الإمام البخاريّ فيه: "عبد الله بن فُطيمة عن يحيى بن يعمر، روى قَتادة، عن نصر بن عاصم: منقطع ". وقال فيه الإمام الباقلاني: "رجل مجهول مشكوكٌ فيه، غير معروف ".

وأما يحيى بن يعمر، فقد رماه بعضهم بالتدليس،
ইসলাম এবং কুরআনের নিন্দা করার জন্য এবং তাদের রবের কিতাবের প্রতি মুসলিমদের আস্থাকে দুর্বল করার জন্য।

এই দুটি বর্ণনা (رواية)—এবং এর সমরূপ বিষয়গুলোর—ভয়াবহতার কারণে আমি এগুলোর সঠিক বিষয়টি—ইনশাআল্লাহ—স্পষ্ট করব; আমি বলছি: এই সংশয়ের উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে:

প্রথম দিক: এই দুটি বর্ণনা (أثر)—এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো—সনদের (سند) দিক থেকে সহিহ (صحيح) নয়; এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

ক - প্রথম বর্ণনা (أثر): এটি আবদুল্লাহ বিন ফুতাইমাহ এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর-এর সূত্রে সমালোচিত হয়েছে:

আবদুল্লাহ বিন ফুতাইমাহর সনদ (إسناد) সম্পর্কে ইমাম বুখারি বলেছেন: "আবদুল্লাহ বিন ফুতাইমাহ ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর থেকে, কাতাদাহ নসর বিন আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)"। এবং এই সম্পর্কে ইমাম বাকিল্লানি বলেছেন: "তিনি একজন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি যার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে এবং তিনি পরিচিত নন।"

আর ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুরের ব্যাপারে কেউ কেউ তাদলিসের (تدليس) অভিযোগ করেছেন,
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وألمح الحافظ ابن حجر إلى ذلك بقوله: "ثقة فصيح، وكان يُرسل "، وأطنب الإمام الدانِيّ بفساد هذه الرواية، فقال:

"قلت: هذا الخبر عندنا لا يقوم بمثله حجّة ولا يصح به دليل من جهتين: إحداهما أنّه مع تخليط في إسناده، واضطراب في ألفاظه مرسل؛ لأنّ ابن يعمر وعكرمة لم يسمعا من عثمان شيئأ ولا رأياه".

ب - الأثر الثاني: انتقد من قبل أبي معاوية، وهشام بن عروة:

أمّا أبو معاوية الضرير، فهو محمد بن خازم، الكوفِيّ، قال عنه الإمام أحمد: "أبو معاوية الضرير، في غير حديث الأعمش: مضطرب، لا يحفظها حفظا جيدا"، وقال الحافظ ابن حجر: "قال أبو داودة قلتُ لأحمد: كيف حديث أبي معاوية عن هشام بن عروة؟ قال: فيها أحاديث مضطربة، يرفع منها أحاديث إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم.
হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বাগ্মী ছিলেন, তবে তিনি মুরসাল বর্ণনা করতেন (يُرسل)"। আর ইমাম আদ-দানি এই বর্ণনার অসারতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেছেন:

"আমি বলি: আমাদের নিকট এই সংবাদের (الخبر) মাধ্যমে কোনো প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং এর দ্বারা দলিল (دليل) সহিহ (يصح) হয় না; আর এটি দুটি কারণে: প্রথমত, এর সনদে (إسناد) গোলযোগ (تخليط) এবং শব্দাবলিতে অসংগতি (اضطراب) থাকার পাশাপাশি এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل); কারণ ইবনে ইয়ামুর এবং ইকরামা উসমান (রা.) থেকে কিছুই শোনেননি এবং তাঁকে দেখেনওনি।"

খ - দ্বিতীয় বর্ণনা (الأثر): এটি আবু মুয়াবিয়া এবং হিশাম ইবনে উরওয়াহর পক্ষ থেকে সমালোচিত হয়েছে:

আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির হলেন মুহাম্মদ বিন খাযিম আল-কুফি। ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমাশের হাদিস ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির অসংগতিপূর্ণ (مضطرب); তিনি সেগুলো ভালোভাবে মুখস্থ রাখতেন না।" হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "আবু দাউদ বলেছেন, আমি আহমাদকে জিজ্ঞেস করলাম: হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত আবু মুয়াবিয়ার হাদিসগুলো কেমন? তিনি বললেন: এতে অসংগতিপূর্ণ (مضطربة) হাদিস রয়েছে, তিনি এর মধ্য থেকে কিছু হাদিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন (يرفع)।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهناك بعض الباحثين يرون الخطأ من قِبَل هشام بن عروة، وأوضح الدكتور سعد بن عبد الله آل حميِّد هذا الأمر بقوله: "وليس الخطأ فيه من أبي معاوية؛ لأنه قد تُوبع، فيحتمل أنْ يكون الخطأ من هشام بن عروة؛ فإنّ الذي حدَّث بهذا الحديث عنه من أهل العراق، وهما: أبو معاوية هنا، وعليّ بن مُسْهر كما سيأتي، وكلاهما كوفي، ورواية العراقيين عن هشام بن عروة فيها كلام سبق ذكره ".

والذي سبق ذكره ما جاء في (سير أعلام النبلاء): "وقال يعقوب بن شَيْبة: هشام لم يُنكر عليه إلَّا بعد مصيره إلى العراق؛ فإنّه انبسط في الرواية، وأرسل عن أبيه مما كان سمعه من غير أبيه عن أبيه.

قلتُ: في حديث العراقيّين عن هشام أوهام تُحتمل ".

لذا كان صوابا ما قرر أئمّتنا على هذه الروايات بعدم الصّحة، قال أبو بكر الأنباريّ، فيما نُسِب إلى عثمان رضي الله عنه: "لا تقومُ بها حجّة؛ لأنها منقطعة غير متصلة"، وقال الباقلانيّ: "في نقلهِ من الاضطراب ما يوجب ترك الإصغاء
কিছু গবেষক মনে করেন যে ভুলটি হিশাম বিন উরওয়ার পক্ষ থেকে হয়েছে। ডক্টর সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "ভুলটি এখানে আবু মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে নয়; কারণ তাকে সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعة) পাওয়া গেছে। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে ভুলটি হিশাম বিন উরওয়ার পক্ষ থেকেই হয়েছে; কারণ যারা তার থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তারা ইরাকবাসী। আর তারা হলেন: এখানে উল্লিখিত আবু মুয়াবিয়া এবং সামনে উল্লিখিত আলি বিন মুশহির। তারা উভয়েই কুফাবাসী। আর হিশাম বিন উরওয়া থেকে ইরাকিদের বর্ণনার (رواية) ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।"

আর পূর্বে যা উল্লিখিত হয়েছে তা হলো সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে যা এসেছে: "ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেছেন: হিশাম ইরাকে আসার আগে পর্যন্ত তার কোনো বর্ণনা অস্বীকার করা হয়নি; তবে তিনি সেখানে আসার পর বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে অতিশয় প্রসার ঘটান এবং তার পিতার সূত্রে এমন সব বিষয় বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (مرسل) করেন যা তিনি আসলে অন্যের মাধ্যমে তার পিতার থেকে শুনেছিলেন।"

আমি বলব: "হিশাম থেকে বর্ণিত ইরাকিদের হাদিসে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল (وهم) রয়েছে যা সহনীয়।"

একারণেই আমাদের ইমামগণ এই বর্ণনাগুলোর ব্যাপারে বিশুদ্ধ না হওয়ার (عدم الصحة) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা-ই সঠিক। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনার প্রেক্ষিতে আবু বকর আল-আনবারি বলেছেন: "এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং নিরবচ্ছিন্ন (متصل) নয়।" আর আল-বাকিল্লানি বলেছেন: "এর বর্ণনার মধ্যে এমন অসংগতি (اضطراب) রয়েছে যা একে গ্রহণ না করা আবশ্যক করে দেয়।"
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
إليه، والعمل عليه "، وقال المهدوي: "هذا الخبر لا يصح ".

وكذا ما نُسِب إلى أُم المؤمنين عائشة رضي الله عنها، فهو لا يصح أبداً، قال الباقلانيّ: "ولا سبيل إلى العلم بصحتها لا من ناحية الضرورة، ولا من جهة الدليل "، وقال الرازيّ: "إنّ المسلمين أجمعوا على أنّ ما بين الدفّتين كلام الله تعالى، وكلام الله تعالى لا يجوز أن يكون لحناً وغلطاً؛ فثبت فساد ما نُقِل عن عثمان وعائشة رضي الله عنها أنّ فيه لحناً وغلطاً"، وقال ابن هشام الأنصاريّ: "وهذا أيضاً بعيدُ الثبوت عن عائشة رضي الله عنها، فإنّ القراءات كلّها موجهة".

فخلاصة القول: إنّ هذه الروايات باطلة، ومردودة بائدة، وليس لذي عقل ونصفة أنْ يعارض بهذا الباطل ما ثبت بالتواتر جيلاً إثر جيلٍ إلى يومنا هذا.

الوجه الثاني: هذه الروايات مهما يكن سندها - عند بعضٍ - صحيحاً؛ فهي مخالفة للتواتر القاطع، ومعارض القاطع مردود.
এর প্রতি এবং তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে।" আর আল-মাহদাবী বলেন: "এই সংবাদটি সঠিক নয় (لا يصح)।"

একইভাবে যা মুমিন জননী আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তাও কখনোই সঠিক নয় (لا يصح)। আল-বাকিল্লানি বলেন: "এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জানার কোনো পথ নেই, আবশ্যকীয় জ্ঞানের দিক থেকেও নয় এবং প্রমাণের দিক থেকেও নয়।" আর রাজি বলেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, দুই মলাটের মাঝে যা রয়েছে তা মহান আল্লাহর কালাম; আর আল্লাহর কালামে ব্যাকরণগত ভুল বা ত্রুটি থাকা অসম্ভব। সুতরাং উসমান ও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে সেখানে ব্যাকরণগত ভুল বা ত্রুটি রয়েছে, তার অসারতা প্রমাণিত হলো।" ইবনে হিশাম আল-আনসারী বলেন: "এটিও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে প্রমাণিত হওয়া থেকে সুদূরপরাহত, কেননা সকল কিরাত বা পাঠরীতিই ব্যাকরণগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।"

সারকথা হলো: এই বর্ণনাগুলো ভিত্তিহীন (باطلة) এবং প্রত্যাখ্যাত ও অসার। কোনো বুদ্ধিমান ও ইনসাফপরায়ণ ব্যক্তির পক্ষে এই বাতিলের মাধ্যমে এমন কিছুকে বিরোধিতা করা সংগত নয় যা যুগ যুগ ধরে আমাদের এই সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন গণ-বর্ণনার (تواتر) মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় দিক: এই বর্ণনাগুলোর সনদ (سند) কারো কারো মতে সহিহ (صحيح) হলেও তা অকাট্য নিরবচ্ছিন্ন গণ-বর্ণনার (تواتر) পরিপন্থী; আর অকাট্য বিষয়ের বিরোধী যা কিছু তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال الفخر الرازي: "المصحف منقول بالنقل المتواتر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكيف يمكن ثبوت اللحن فيه؟ ".

وقال الدكتور محمد أبو شهبة: "إن هذه الرواية غير صحيحة عن عائشة رضي الله عنها، وعلى فرض صحتها، فهي رواية آحادية لا يثبت بها قرآن، وهي معارضة للقطعيّ الثابت بالتواتر، فهي باطلة ومردودة، ولا التفات إلى تصحيح مَنْ صحح هذه الرواية وأمثالها؛ فإن مِنْ قواعد المحدثين: أنّ مما يدرك به وضع الخبر، ما يؤخذ من حال المرويّ كأنْ يكون مناقضاً لنصِّ القرآن، أو السنَّة، أو الإجماع القطعيّ، أو صريح العقل، حيث لا يُقبل شيءٌ من ذلك التأويل، أو لم يحتمل سقوط شيءٍ منه يزول به المحذور، وهذه الروايات مخالفة للتواتر القطعيّ، الذي تلفته الأُمة بالقبول؛ فهي باطلة لا محالة".

الوجه الثالث: الأخذ بهذه المرويات الباطلة يقود إلى الطعن في الصحابة رضي الله عنهم، لا سيّما فيمن جاءت عنهم هذه الروايات، فَهُم القدوة والأئمة؛ إذ لو وَجَدوا في المصحف لحناً لَمَا فوضوا إصلاحه إلى غيرهم مِنْ بعدهم، مع تحذيرهم من الابتداع، وترغيبهم في الاتّباع.
ফখর আল-রাজি বলেন: "মুসহাফ রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং এতে ব্যাকরণগত ভুল প্রমাণিত হওয়া কীভাবে সম্ভব?"

ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ বলেন: "আয়েশা (রা.) থেকে এই বর্ণনাটি সহিহ (صحيحة) নয়। এর বিশুদ্ধতা ধরে নিলেও এটি একটি আহাদ (آحادية) বর্ণনা, যার দ্বারা কুরআন সাব্যস্ত হয় না। এটি মুতাওয়াতির (تواتر) দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়ের বিরোধী, ফলে এটি বাতিল (باطلة) ও প্রত্যাখ্যাত (مردودة)। যারা এই বর্ণনা বা এর অনুরূপ বর্ণনাকে সহিহ বলেছেন তাদের বক্তব্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না; কেননা হাদিস বিশারদগণের অন্যতম নীতি হলো: কোনো সংবাদ (الخبر) জালিয়াতি (وضع) হওয়া যে বিষয়গুলোর মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়, তার একটি হলো বর্ণিত প্রসঙ্গের অবস্থা। যেমন তা কুরআন, সুন্নাহ বা অকাট্য ইজমা (إجماع قطعيّ) অথবা স্পষ্ট বিবেকের এমন বিরোধী হওয়া যেখানে কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য নয়, অথবা এর মধ্যে এমন কিছু উহ্য থাকার সম্ভাবনা নেই যা আপত্তিকর বিষয়টিকে দূর করতে পারে। আর এই বর্ণনাগুলো অকাট্য মুতাওয়াতির (تواتر قطعيّ) বিরোধী, যা উম্মাহ কবুল করে নিয়েছে; সুতরাং এগুলো নিঃসন্দেহে বাতিল (باطلة)।"

তৃতীয় দিক: এই বাতিল বর্ণনাগুলো গ্রহণ করা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর প্রতি অপবাদের পথ খুলে দেয়, বিশেষ করে যাদের থেকে এই বর্ণনাগুলো এসেছে। অথচ তারা হলেন আমাদের আদর্শ ও অনুসরণীয় ইমাম; যদি তারা মুসহাফের মধ্যে কোনো ব্যাকরণগত ভুল দেখতেন, তবে তারা এর সংশোধনের দায়িত্ব তাদের পরবর্তী কারো হাতে ছেড়ে যেতেন না, যেখানে তারা বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهم أهل العدالة والتثبّت، والفهم الثاقب، وأهل اللّسان، العلماء بوجوه الخطاب، وما لا يجوزُ في الإعراب، قال الزجاج:

"وقال بعضهم: في كتاب الله أشياء استصلحها العرب بألسنتها، وهذا القول عند أهل اللّغة بعيدٌ جداً؛ لأن الَّذين جمعوا القرآن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم أهل اللّغة وهم القدوة وهم قريبو العهد بالإسلام، فكيف يتركون في كتاب الله شيئا يُصلحه غيرهم وهم الذين أخذوه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وجمعوه؟ وهذا ساقطٌ عَمَّنْ لا يَعْلَم بَعْدَهُمْ وساقط عَمَّنْ

يَعْلَمُ؛ لأنّهم يُقْتَدى بهم، فهذا ممّا لا ينبغي أن يُنْسب إليهم رحمةُ الله عليهم. والقرآن محكَم لا لَحْن فيه، ولا تتكلَّم العرب بأجود منه في الإعراب؛ كما قال عز وجل: (تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)، وقال: (بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ (195) … ".

الوجه الرَّابع: الصحابة رضي الله عنهم كانوا يتسارعون إلى إنكار أدنى المنكرات، فكيف يقرّون اللَّحن في القرآن الكريم، ولا كلفة عليهم في إزالته، مع أنّ طباعهم تأبى ذلك. وقال القشيريّ: "هذا المسلك باطلٌ؛ لأنّ الذين جمعوا الكتاب

তাঁরা হলেন ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও তথ্য যাচাইয়ে সুদৃঢ়তার (التثبّت) অধিকারী, গভীর প্রজ্ঞাবান এবং ভাষাবিজ্ঞানী, যাঁরা বক্তব্যের বিভিন্ন ধরণ ও ব্যাকরণগত যা কিছু অশুদ্ধ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। আয-যাজ্জাজ বলেছেন:

"কেউ কেউ বলেন: আল্লাহর কিতাবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আরবরা তাদের নিজস্ব ভাষারীতি অনুযায়ী সংশোধন করে নিয়েছে। ভাষাবিদদের নিকট এই উক্তিটি অত্যন্ত অসার; কারণ যাঁরা কুরআন সংকলন করেছিলেন তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। তাঁরা ছিলেন ভাষার পণ্ডিত, তাঁরা ছিলেন আদর্শ এবং তাঁরা ইসলামের প্রাথমিক যুগের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। সুতরাং তাঁরা আল্লাহর কিতাবে এমন কিছু কেন অবশিষ্ঠ রাখবেন যা অন্য কেউ এসে সংশোধন করবে, অথচ তাঁরাই স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন এবং সংকলন করেছেন? এটি তাঁদের পরবর্তী জ্ঞানহীন ও জ্ঞানী উভয়ের নিকটেই গ্রহণযোগ্যতা বর্জিত; কারণ তাঁরা হলেন অনুসৃত ব্যক্তিত্ব। সুতরাং এটি এমন একটি বিষয় যা তাঁদের প্রতি আরোপ করা সমীচীন নয়, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন। আর কুরআন সুসংহত, এতে কোনো ব্যাকরণগত বিচ্যুতি (لحن) নেই এবং আরবরা ব্যাকরণের বিচারে এর চেয়ে উত্তম কোনো ভাষায় কথা বলে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রসংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪২)), এবং তিনি বলেছেন: (সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় (১৯৫)) … "।

চতুর্থ দিক: সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সামান্যতম বর্জনীয় বা প্রত্যাখ্যাত বিষয় (المنكرات) প্রতিহত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। এমতাবস্থায় তাঁরা কীভাবে পবিত্র কুরআনে কোনো ব্যাকরণগত বিচ্যুতি (اللحن) থাকতে দেবেন? অথচ তা অপসারিত করতে তাঁদের বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হতো না এবং তাঁদের স্বভাবজাত রুচিও তা গ্রহণ করত না। আল-কুশাইরী বলেন: "এই পথটি বাতিল; কারণ যাঁরা কিতাব সংকলন করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
كانوا قدوةً في اللّغة، فلا يظنّ بهم أنّهم يدرجون في القرآن ما لم ينزل ".

الوجه الخامس: إنّ عثمان رضي الله عنه أمرَ الكَتَبَة أنْ يكتبوا المصحف بلسان قريش، وأمرهم بالرجوع إليه - أي إلى لسان قريش - عند الاختلاف؛ قال عثمان رضي الله عنه: إذا اختلفتم أنتم وزيد بن ثابت في عربيّة من عربيّة القرآن، فاكتبوها بلسان قريش، فإنّ القرآن أُنزل بلسانهم؛ ففعلوا".

ثم تعدّد المصاحف، وإجماع جماعة على كل مصحف، ثمّ وصول كلّ مصحف إلى بلدٍ فيه كثير من الصحابة والتابعين يقرأون القرآن، ويعتبرون ذلك بحفظهم، والإنسان إذا نسخ مصحفاً وغلط في موضع - مثلاً - عُرِف غلطه بمخالفة حفظة القرآن، وسائر المصاحف.

يقولُ الإمام الطبريّ: "قد ذُكِر أنّ ذلك في قراعةِ أُبي بنِ كعب: (والمقيمين)، وكذلك هو في مصحفهِ فيما ذَكَروا، فلو كان ذلك خطأً من الكاتبِ لكانَ الواجبُ أن يكونَ في كلّ المصاحفِ غير مصحفِنا الذي كتَبَه لنا الكاتبُ الذي أخْطأ في كتابتهِ، بخلافِ ما هو في مصحفِنا، وفي اتّفاقِ مصحفِنا ومصحفِ أُبي في ذلك، ما يدلُّ على أنّ الذي في مصحفِنا
তাঁরা ভাষাগত দিক থেকে অনুকরণীয় আদর্শ ছিলেন, তাই তাঁদের সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা যায় না যে, তাঁরা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করবেন এমন কিছু যা অবতীর্ণ হয়নি।

পঞ্চম দিক: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লিপিকারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা কুরাইশদের ভাষায় মুসহাফ লেখেন এবং মতভেদের সময় তাঁদেরকে সেদিকেই—অর্থাৎ কুরাইশদের ভাষার দিকেই—প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "কুরআনের কোনো ভাষাগত বিষয়ের ক্ষেত্রে যদি তোমরা এবং যায়েদ ইবনে সাবিত মতভেদে লিপ্ত হও, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লেখো; কেননা কুরআন তাঁদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।" অতঃপর তাঁরা তা-ই করেছিলেন।

এরপর মুসহাফের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিটি মুসহাফের ওপর একটি জামাতের ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর প্রতিটি মুসহাফ এমন সব জনপদে পৌঁছে যায় যেখানে বিপুল সংখ্যক সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়ী (التابعين) কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং নিজেদের মুখস্থ হিফযের মাধ্যমে তা যাচাই করতেন। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুসহাফ অনুলিপি করতে গিয়ে কোনো স্থানে ভুল করত—উদাহরণস্বরূপ—তবে কুরআনের হাফেজদের পাঠ এবং অন্যান্য মুসহাফের সাথে বৈসাদৃশ্যের কারণে তার সেই ভুল ধরা পড়ে যেত।

ইমাম তাবারী বলেন: "বর্ণিত হয়েছে যে, উবাই ইবনে কাবের কিরাআতে তা ছিল: 'ওয়াল মুকিমীন' (والمقيمين); এবং তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর মুসহাফেও বিষয়টি এভাবেই ছিল। যদি এটি লিপিকারের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হতো, তবে যে লিপিকার ভুল করেছেন বলে ধরা হচ্ছে তাঁর লিখিত আমাদের মুসহাফটি ব্যতীত অন্যান্য সকল মুসহাফে বিষয়টি ভিন্ন হওয়া আবশ্যক ছিল। অথচ আমাদের মুসহাফ ও উবাই-এর মুসহাফের মাঝে এই সামঞ্জস্য প্রমাণ করে যে, আমাদের মুসহাফে যা রয়েছে তা..."
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنْ ذلك صوابٌ غيرُ خطأٍ. مع أنّ ذلك لو كان خطأ من جهةِ الخط، لم يكن الذين أُخِذَ عنهم القرآنُ من أصحابِ رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلِّمون مَنْ علَّموا ذلك من المسلمين على وجهِ اللَّحْنِ، ولأصْلَحُوه بألسنَتِهم، ولقَّنوه الأمَّةَ تعليما على وجهِ الصوابِ. وفي نقلِ المسلمين جميعا ذلك قراءة على ما هو به في الخظ مرسومأ، أدلُّ الدليلِ على صحةِ ذلك وصوابِهِ، وأنْ لا صُنْعَ في ذلك للكاتبِ ".

الوجه السادس: مما يدلّ على بطلان تلك الأخبار أنّه لا يوجد حرفٌ او قراءةٌ - ثابتة - في كتاب الله إلَّا ولها وجهٌ حَسَنٌ في العربية؛ كيف لا وهو عُمْدتها، ومرجع اللّغات إليه؟ يقول الإمام المهدويّ: "ولم يوجد في القرآن حرفٌ إلَّا وله وجهٌ صحيحٌ في العربيّة، وقد قال تعالى: (لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)).

والقرآن محفوظ من اللَّحن والزيادة والنقصان ".

الوجه السابع: أوَّل قسمٌ من العلماء تلك الآثار - هذا على فرض صحتها مع أنه بعيد - بما يوافق المتواتر المنقول.
সেটি সঠিক (صواب), ভুল নয়। তদুপরি লেখার দিক থেকে যদি তাতে কোনো ভুল থাকতো, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে সকল সাহাবী থেকে কুরআন গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁরা মুসলিমদের নিকট তা ভুল উচ্চারণে (لحن) শিক্ষা দিতেন না; বরং তাঁরা নিজ মুখে তা সংশোধন করে দিতেন এবং উম্মতকে সঠিক (صواب) পদ্ধতিতেই তা শিক্ষা দিতেন। সমস্ত মুসলিমের মাধ্যমে লিখিত পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী তিলাওয়াত করার যে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা বিদ্যমান, তা-ই এর বিশুদ্ধতা (صحة) ও নির্ভুলতার অকাট্য দলিল, এবং এতে লেখকের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নেই।

ষষ্ঠ দিক: ঐ সকল সংবাদের অসারতা (بطلان) প্রমাণের একটি দিক হলো যে, আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো অক্ষর বা সাব্যস্ত (ثابتة) কিরাআত (قراءة) নেই যার আরবি ভাষায় কোনো উত্তম প্রয়োগ নেই; আর কেনই বা থাকবে না, যেখানে কুরআনই হলো এর প্রধান ভিত্তি এবং সকল ভাষার মূল উৎস? ইমাম মাহদাবী বলেন: "কুরআনে এমন কোনো অক্ষর নেই যার আরবি ভাষায় একটি সঠিক (صحيح) ভিত্তি নেই। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (এর সম্মুখ থেকে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, চির প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪২))।"

কুরআন ভাষাগত ত্রুটি (لحن) এবং কোনো প্রকার সংযোজন ও বিয়োজন থেকে সংরক্ষিত।

সপ্তম দিক: আলেমদের একটি অংশ ঐ সকল আসার (آثار)-এর এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত মুতাওয়াতির (المتواتر) বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—এটি তাদের সহিহ (صحة) হওয়ার অনুমান সাপেক্ষে, যদিও বিষয়টি সুদূরপরাহত।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
فمِنْ معانى اللَّحن هو: اللغة والقراءة، قال أمير المؤمنين عمر بن الخطّاب رضي الله عنه: "أُبَي أقرؤنا، وإنَّا لندع من لحن أُبي ".

قال ابن أبي داود: "يعني: لغة أُبَي "، وقال الحافظ ابن حجر: "قوله: (من لحن أُبَيّ): أي من قراءته، ولحن القول: فَحْواه، ومعناه المراد به هنا: القولُ ".

وقد تأوّل قومٌ اللَّحن الذي ورد - على تقدير صحته - بالرمز والإيحاء والإشارة، قال الإمام السخاويّ: "لو صح لاحتمل اللَّحن أن يكون بمعنى الإيماء في صور في القرآن، نحو (الكتب)، و (والصبرين)، وما أشبه ذلك من مواضع الحذف التي صارت كالرمز يعرفه القرّاءُ إذا رأوه".

ومنهم مَنْ أول ما نُسِب إلى عثمان رضي الله عنه بأنَّ اللَّحن محمولٌ على تقدير القراءة بظاهر الخط، ويعلق الدكتور عبد الصبور شاهين على ذلك قائلاً: "ومقتضى هذا أنْ نستبعد بصفة موضوعيّة تفسير اللَّحن بالخطأ؛ إذ لم يكن ذلك في لغة هذا الجيل، ولا هو من
'লাহন' (لحن)-এর অন্যতম অর্থ হলো ভাষা (لغة) ও তিলাওয়াত (قراءة)। আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন: "উবাই আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী, তবে আমরা উবাইয়ের কিছু 'লাহন' (لحن) পরিহার করি।"

ইবনে আবি দাউদ বলেন: "অর্থাৎ: উবাইয়ের ভাষা (لغة)"। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "তাঁর উক্তি: (উবাইয়ের লাহন থেকে): অর্থাৎ তাঁর তিলাওয়াত (قراءة) থেকে। আর 'লাহনুল কাওল' (لحن القول) বলতে এর মর্মার্থ (فحوى) বোঝায়, এবং এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কথা (قول)।"

একদল আলিম বর্ণিত 'লাহন' (لحن) শব্দটিকে—তার বিশুদ্ধতার (صحة) সম্ভাব্যতা অনুযায়ী—সাঙ্কেতিক চিহ্ন (رمز), ইঙ্গিত (إيحاء) ও ইশারার (إشارة) মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম সাখাভী বলেন: "যদি এটি সহিহ (صحيح) হয়, তবে 'লাহন' (لحن) শব্দটি কুরআনের কতিপয় শব্দের ক্ষেত্রে ইশারা বা ইঙ্গিত (إيماء) অর্থে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; যেমন 'আল-কিতুব' (الكتب) এবং 'ওয়াস-সাবিরিন' (والصبرين) এবং এ জাতীয় বিলোপের (حذف) স্থানসমূহ যা সাঙ্কেতিক চিহ্নের মতো হয়ে গেছে, ক্বারীগণ তা দেখলে চিনতে পারেন।"

তাদের মধ্যে কেউ কেউ উসমান (রা.)-এর প্রতি যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তাকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, 'লাহন' (لحن) বিষয়টি বাহ্যিক লিপির (خط) নিরিখে তিলাওয়াত (قراءة)-এর ওপর প্রযোজ্য। ডক্টর আবদুস সবুর শাহীন এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এর দাবি হলো আমরা বস্তুনিষ্ঠভাবে 'লাহন' (لحن)-কে ভুল (خطأ) হিসেবে ব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকব; কারণ সেই প্রজন্মের ভাষায় তা প্রচলিত ছিল না এবং তা..."
(খণ্ড: ১) রাদ্দুল বুহতান আন ইরাবি আয়াতিন মিনাল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
المدلولات المعروفة آنذاك، ولم يبق إلا أنْ يفسّر اللَّحن بوجوه القراءة".

ولنتأمّل تأويل الإمام أبي عمرو الداني ما نُسِب إلى أُم المؤمنين عائشة رضي الله عنها: "تأويله ظاهر، وذلك أنّ عروة لم يسأل عائشة فيه عن حروف الرسم التي تُزاد فيها لمعنى وتنقص منها لآخر، تأكيداً للبيان وطلباً للخفة - وإنما سألها فيه عن حروفٍ من القراءة المختلفة الألفاظ المحتملة الوجوه، على اختلاف اللغات التي أذن الله عز وجل لنبيّه صلى الله عليه وسلم ولأُمته في القراءة بها، واللّزوم على ما شاءت منها تيسيرا لها وتوسعةً عليها، وما هذا سبيله وتلك حاله، فعن اللَّحن والخطأ والوهم والزلل بمعزل؛ لفشوّه في اللغة ووضوحه في قياس العربيّة، وإذا كان الأمر في ذلك كذلك، فليس ما قصدته فيه بداخل في معنى المرسوم، ولا هو مِنْ سببه في شيءٍ، وإنَّما سمّى عروة ذلك لحناً وأطلقت عائشة على مرسومه كذلك الخطأ، على جهة الاتّساع في الأخبار وطريق المجاز في العبارة؛ إذ كان ذلك مخالفاً لمذهبهما وخارجاً عن اختيارهما.

وكان الأَوْجه والأَوْلى عندهما والأكثر والأفشى لديهما لا على وجه الحقيقة والتحصيل والقطع، لِمَا بينّاه من جواز
...সেই সময়ের পরিচিত অর্থসমূহ, এবং ভাষাগত বিচ্যুতি (لحن)-কে কিরাআতের পদ্ধতিসমূহের দ্বারা ব্যাখ্যা করা ব্যতীত আর কিছু অবশিষ্ট নেই।"

উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে সে সম্পর্কে ইমাম আবু আমর আদ-দানির ব্যাখ্যাটি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি: "এর ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট; আর তা হলো উরওয়াহ আয়িশা (রা.)-কে সেই লিখনরীতির বর্ণসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেননি যা অর্থের পরিস্ফুটনের জন্য বাড়ানো হয় অথবা সংক্ষিপ্তকরণের জন্য কমানো হয়। বরং তিনি তাকে বিভিন্ন কিরাআতের সেই বর্ণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যার শব্দগত উচ্চারণ ভিন্ন এবং যা বহুমুখী ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। এটি সেই বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মতকে কিরাআত পড়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাদের জন্য সহজসাধ্য ও প্রশস্ত করার লক্ষ্যে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনোটি গ্রহণ করা আবশ্যক করেছেন। আর যার গতিপ্রকৃতি ও অবস্থা এমন, তা ভাষাগত বিচ্যুতি (لحن), ত্রুটি (خطأ), ভ্রম (وهم) এবং বিচ্যুতি (زلل) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত; কারণ এটি আরবী ভাষার মধ্যে বহুল প্রচলিত এবং আরবী ব্যাকরণিক মানদণ্ডে সুস্পষ্ট। আর বিষয়টি যখন এইরূপ, তখন তিনি যা উদ্দেশ্য করেছেন তা লিখিত রূপ বা মরসুমের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর কারণসমূহের সাথেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। উরওয়াহ একে কেবল ভাষাগত বিচ্যুতি (لحن) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আয়িশাও (রা.) একইভাবে এর লিখিত রূপের ওপর ত্রুটি (خطأ) শব্দের প্রয়োগ করেছেন বর্ণনার ব্যাপকতা ও রূপক অভিব্যক্তির ভিত্তিতে; যেহেতু তা তাদের নিজস্ব মতাদর্শের পরিপন্থী এবং তাদের পছন্দের বহির্ভূত ছিল।

আর তা তাদের নিকট অধিকতর সঠিক ও উত্তম এবং অধিকতর প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ ছিল; প্রকৃত সত্য বা অকাট্য (قطع) কোনো বিষয় হিসেবে নয়, যেমনটি আমরা বৈধতার বিষয়ে বর্ণনা করেছি।