(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الباعث الحثيث   (حسن أبو الأشبال الزهيري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب الباعث الحثيث

المؤلف: أبو الأشبال حسن الزهيري آل مندوه المنصوري المصري

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

শারহ কিতাব আল-বাঈস আল-হাসিস   (হাসান আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


কিতাব: শারহ কিতাব আল-বাঈস আল-হাসিস

লেখক: আবু আল-আশবাল হাসান আল-জুহাইরি আল মানদুহ আল-মানসুরি আল-মিসরি

কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الباعث الحثيث -‌‌ المستخرجات والمستدركات وموطأ مالك

لقد صنف أهل العلم في علوم الحديث وفنونه كتباً كثيرة، منها المستدركات والمستخرجات، كمستدرك الحاكم ومستخرج الإسماعيلي، ومنها المعاجم وغيرها من فنون الحديث وكتبه.
শারহ কিতাব আল-বায়িস আল-হাসিস -‌‌ আল-মুস্তাখরাজাত, আল-মুসতাদরাকাত এবং মুয়াত্তা মালিক

নিশ্চয়ই আলেমগণ হাদিস বিজ্ঞান এবং এর বিভিন্ন শাখায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মুসতাদরাকাত এবং মুস্তাখরাজাত; যেমন হাকিমের মুসতাদরাক এবং ইসমাইলীর মুস্তাখরাজ। এছাড়াও রয়েছে মু'জামসমূহ এবং হাদিস বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা ও কিতাবসমূহ।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ضابط المستدركات

مثال المستدرك: أن البخاري يقول: أنا سأخرج الأحاديث التي توافر فيها الشرط الفلاني والشرط الفلاني، فخرج والتزم هذا الشرط، ولكن فاتته أحاديث، فعندما آتي وأستدرك عليه الأحاديث التي لم يخرجها وهي على شرطه، ففي هذه الحالة سأقول: إنني استدركت على البخاري حديثاً على شرطه ولم يخرجه في الصحيح، مثلما فعل الحاكم في مستدركه صنع هذا الصنيع، أورد أحاديث يستدرك فيها ما فات البخاري ومسلم في صحيحيهما، ويقول: هذا حديث على شرط البخاري ولم يخرجه هذا حديث على شرط مسلم ولم يخرجه هذا الحديث على شرط البخاري ومسلم ولم يخرجاه؛ فكأنه يستدرك عليهما ما فاتهما مما توافرت فيه الشروط.

ولا يشترط أن يلتقي مع المصنف وشيخ شيخه أو في شيخه كما هو في المستخرج، وكذلك يشترط في المستدرك ألا يكون من نفس طريق المستدرَك عليه، الذي هو البخاري ومسلم؛ لأنه إذا التزم إسناده، ففي هذه الحالة لا تقدر أن تقول: إن الحاكم في هذه الحالة استدرك عليه؛ فلا بد أن يكون إسناد المستدرِك من غير طريق المستدرَك عليه.

والإمام الدارقطني عمل كتاباً على الصحيحين اسمه: الإلزامات والتتبع، ومعنى الإلزامات، أي: الاستدراكات، أي: أن الإمام الدارقطني يلزم البخاري ومسلماً بإخراج الحديث الذي فاتهما؛ لأنه قد تحقق فيه شروط البخاري ومسلم، أو شروط البخاري، أو شروط مسلم، فيقول: إن هذا الحديث على شرط البخاري ولم يخرجه، أو على شرط مسلم ولم يخرجه، أو على شرطهما ولم يخرجاه، ففي هذه الحالة وكأنه يلزم الإمام البخاري أو الإمام مسلماً أنه كان ينبغي لهما أن يخرجا هذا الحديث، ولذلك سماه: الإلزامات.

أما مسألة التتبع فهي تتبع أحاديث الصحيحين التي لم تكن على شرط صاحبها، بأن يتتبع بعض الأحاديث عند البخاري لم يتوافر فيها الشرط، فهو تتبع البخاري حديثاً حديثاً، ومسلماً حديثاً حديثاً، فأي حديث وجد أنه ليس من شرط البخاري بين أنه لم ينطبق فيه شرطه، وليس معنى ذلك أن الحديث ضعيف؛ لأن هذه الشروط إنما هي في داخل الكتاب فقط، ليس في أصل الصحة.

يقول الحافظ ابن الأخرم: قل ما يفوت البخاري ومسلماً من الأحاديث الصحيحة.

ابن الأخرم يقول: إن البخاري ومسلم لم يتركا من الحديث الصحيح إلا القليل جداً، وابن الأخرم رجل عالم، وحتى نحسن الظن به نقول: هذا الكلام صحيح إن كان يقصد شرط البخاري ومسلم، فيكون فاتهما الشيء القليل، إنما لو كان يقصد مطلق الصحة فلا وألف لا، وهذا الكلام مردود؛ لأن البخاري نفسه فيه من الأحاديث الصحيحة أربعة ألاف فقط.

والبخاري نفسه يقول: أحفظ من الصحيح مائة ألف، يعني: ستة وتسعون ألف حديث صحيح كانت عند البخاري من حفظه لم يخرجها في الصحيح، فهل يستقيم هذا الكلام مع كلام ابن الأخرم: أن البخاري ومسلماً رويا من الصحيح شيئاً يسيراً جداً؟ أبداً، لكن لو كان ابن الأخرم يقصد ما كان على شرطهما فكلامه بلا شك معقول شيئاً ما، أما إذا كان يقصد مطلق الصحة فهذا الكلام مردود بلفظ البخاري ولفظ مسلم أيضاً.

وابن الصلاح ناقش ابن الأخرم في ذلك، وذكر أن الحاكم قد استدرك عليهما أحاديث كثيرة، وإن كان في بعضها مقال، إلا أنه يصفو له شيء كثير؛ لأن الحاكم استدرك على البخاري ومسلم أحاديث كثيرة، هذه الأحاديث ربما تكون في ظن الحاكم في محلها، والصحيح والصواب غير ذلك؛ لأن مستدرك الحاكم فيه الصحيح والحسن والضعيف، بل والموضوع، فكيف يكون صحيحاً، بل كيف يكون على شرط البخاري ومسلم؟! والكلام عليه سيأتي.

قال ابن كثير: وفي هذا الكلام نظر؛ فإنه يلزمهما بإخراج أحاديث لا تلزمهما؛ لضعف رواتها عندهما أو لتعليلهما ذلك.

والله أعلم.
মুস্তাদরাকসমূহের মূলনীতি

মুস্তাদরাকের উদাহরণ: যেমন ইমাম বুখারী বলেন: আমি ওই সকল হাদীস সংকলন করব যেগুলোতে অমুক অমুক শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। অতঃপর তিনি তা সংকলন করলেন এবং এই শর্ত মেনে চললেন, কিন্তু কিছু হাদীস তাঁর থেকে বাদ পড়ে গেল। এমতাবস্থায় আমি যখন এসে তাঁর ওই সকল হাদীস যেগুলো তিনি সংকলন করেননি অথচ সেগুলো তাঁর শর্তানুযায়ী সঠিক—সেগুলোকে মুস্তাদরাক করব, তখন আমি বলব: আমি বুখারীর ওপর এমন একটি হাদীসের মুস্তাদরাক করেছি যা তাঁর শর্তানুযায়ী ছিল কিন্তু তিনি তা ‘সহীহ’ গ্রন্থে সংকলন করেননি। যেমনটি ইমাম হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে করেছেন। তিনি এমন সব হাদীস নিয়ে এসেছেন যার মাধ্যমে তিনি বুখারী ও মুসলিমের তাঁদের ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ে বাদ পড়া হাদীসগুলোর মুস্তাদরাক করেছেন। তিনি বলেন: এই হাদীসটি বুখারীর শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি তা সংকলন করেননি; এই হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি তা সংকলন করেননি; এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ের শর্তানুযায়ী কিন্তু তাঁরা উভয়েই এটি সংকলন করেননি। যেন তিনি তাঁদের থেকে বাদ পড়া ওই সকল হাদীসের মুস্তাদরাক করছেন যেগুলোতে শর্তসমূহ বিদ্যমান ছিল।

আর ‘মুস্তাকরাজ’-এর মতো এখানে মূল সংকলক এবং তাঁর উস্তাদের উস্তাদ অথবা তাঁর উস্তাদের সাথে একই সূত্রে মিলিত হওয়া শর্ত নয়। তেমনিভাবে মুস্তাদরাকের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, যে হাদীসের ওপর মুস্তাদরাক করা হচ্ছে (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস) তা যেন হুবহু সেই একই সূত্রে না হয়। কারণ যদি তিনি তাঁদেরই সনদ অনুসরণ করেন, তবে এমতাবস্থায় আপনি বলতে পারবেন না যে হাকেম এখানে মুস্তাদরাক করেছেন। সুতরাং মুস্তাদরাককারীর সনদ অবশ্যই যাঁর ওপর মুস্তাদরাক করা হচ্ছে তাঁর সনদ থেকে ভিন্ন সূত্রে হতে হবে।

ইমাম দারা কুতনী সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম: ‘আল-ইলযামাত ওয়াত-তাতাব্বু’। ‘ইলযামাত’ শব্দের অর্থ হলো মুস্তাদরাকসমূহ। অর্থাৎ ইমাম দারা কুতনী ইমাম বুখারী ও মুসলিমের ওপর ওই সকল হাদীস সংকলন করা আবশ্যক (ইলযাম) করে দিচ্ছেন যা তাঁদের থেকে বাদ পড়ে গেছে; কারণ সেগুলোতে বুখারী ও মুসলিমের শর্তাবলি, অথবা বুখারীর শর্তাবলি, অথবা মুসলিমের শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল। তিনি বলেন: এই হাদীসটি বুখারীর শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি তা সংকলন করেননি, অথবা মুসলিমের শর্তানুযায়ী কিন্তু তিনি তা সংকলন করেননি, অথবা উভয়ের শর্তানুযায়ী কিন্তু তাঁরা তা সংকলন করেননি। এক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যেন তিনি ইমাম বুখারী বা ইমাম মুসলিমের ওপর এটি আবশ্যক করছেন যে, তাঁদের উচিত ছিল এই হাদীসটি সংকলন করা; আর একারণেই তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আল-ইলযামাত’।

আর ‘তাতাব্বু’ বিষয়টি হলো সহীহাইনের ওই সকল হাদীস অনুসন্ধান করা যা তার সংকলকের শর্তানুযায়ী ছিল না। অর্থাৎ বুখারীর এমন কিছু হাদীস অনুসন্ধান করা যেগুলোতে শর্তসমূহ বিদ্যমান ছিল না। তিনি বুখারীর প্রতিটি হাদীস এবং মুসলিমের প্রতিটি হাদীস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন। অতঃপর যে হাদীসটিই তিনি পেয়েছেন যা বুখারীর শর্তানুযায়ী নয়, তিনি তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এতে বুখারীর শর্ত প্রযোজ্য হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে হাদীসটি দুর্বল; কারণ এই শর্তসমূহ কেবল কিতাবের অভ্যন্তরীণ বিষয়, মূল বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) ক্ষেত্রে নয়।

হাফেজ ইবনে আখরাম বলেন: সহীহ হাদীসসমূহের মধ্য থেকে খুব অল্পই ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের নজর এড়িয়ে গেছে।

ইবনে আখরাম বলছেন: বুখারী ও মুসলিম সহীহ হাদীসের অতি সামান্য অংশই বর্জন করেছেন। ইবনে আখরাম একজন আলিম ব্যক্তি, আর তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করে আমরা বলতে পারি: তাঁর এই কথা তখনই সঠিক হবে যদি তিনি বুখারী ও মুসলিমের শর্তাবলি উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তাঁদের থেকে খুব সামান্যই বাদ পড়েছে। কিন্তু যদি তিনি সাধারণ অর্থে বিশুদ্ধতা (মুতলাক আস-সিহাহ) উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এই কথাটি প্রত্যাখ্যাত; কারণ খোদ বুখারীতে পুনরাবৃত্তি বাদে মাত্র চার হাজার সহীহ হাদীস রয়েছে।

ইমাম বুখারী স্বয়ং বলেন: আমি এক লক্ষ সহীহ হাদীস মুখস্থ রাখি। অর্থাৎ ছিয়ানব্বই হাজার সহীহ হাদীস ইমাম বুখারীর মুখস্থ ছিল যা তিনি ‘সহীহ’ গ্রন্থে সংকলন করেননি। তাহলে ইবনে আখরামের এই কথার সাথে কি এটি সংগতিপূর্ণ হয় যে—বুখারী ও মুসলিম সহীহ হাদীসের খুব সামান্যই বাদ দিয়েছেন? কখনোই না। তবে ইবনে আখরাম যদি তাঁদের শর্তানুযায়ী হাদীসগুলো উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তাঁর কথাটি কিছুটা যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু যদি তিনি সাধারণ অর্থে বিশুদ্ধতা উদ্দেশ্য করেন, তবে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের নিজেদের উক্তির মাধ্যমেই এই কথাটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

ইবনে আস-সালাহ এ বিষয়ে ইবনে আখরামের সাথে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, হাকেম তাঁদের ওপর অনেক হাদীস মুস্তাদরাক করেছেন। যদিও সেগুলোর কয়েকটির ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তবুও সেখানে অনেক কিছুই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ থেকে যায়। কারণ হাকেম বুখারী ও মুসলিমের ওপর অনেক হাদীস মুস্তাদরাক করেছেন; এই হাদীসগুলো হয়তো হাকেমের ধারণায় যথোপযুক্ত ছিল, কিন্তু সঠিক ও যথার্থ বিষয়টি এর ভিন্ন। কারণ হাকেমের মুস্তাদরাকে সহীহ, হাসান ও যঈফ, এমনকি মাওযু (জাল) হাদীসও রয়েছে। সুতরাং কীভাবে তা সহীহ হতে পারে, বরং কীভাবে তা বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী হতে পারে?! এ বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে।

ইবনে কাসীর বলেন: এই কথার মধ্যে আপত্তি রয়েছে; কারণ তিনি (দারা কুতনী) তাঁদের ওপর এমন সব হাদীস সংকলন করা আবশ্যক করছেন যা তাঁদের ওপর আবশ্যক ছিল না; কারণ তাঁদের নিকট সেগুলোর বর্ণনাকারীগণ দুর্বল ছিলেন অথবা তাঁরা সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত (ইলাল) মনে করতেন।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ضابط المستخرجات

ثم انتقل من مستدرك الحاكم إلى المستخرجات، فقال: وقد خرجت كتب كثيرة على الصحيحين يؤخذ منها زيادات مفيدة.

وهذه أيضاً من فوائد المستخرج، فالحديث الذي استخرجه المستخرِج على أصل الصحيح يحمل زيادة؛ إما في السند، وإما في المتن، وهذه أيضاً فائدة من فوائد المستخرج.

قال: يؤخذ منها زيادات مفيدة، وأسانيد جيدة.

يعني: هناك أسانيد في المستخرجات أنظف من أسانيد المصنفات الأصلية، وهذه أيضاً فائدة.

قال: كصحيح أبي عوانة، وأبي بكر الإسماعيلي، والبرقاني، وأبي نعيم الأصبهاني وغيرهم، وكتب أخر التزم أصحابها صحتها: كـ ابن خزيمة، وابن حبان البستي وهما خير من المستدرك بكثير، وأنظف أسانيد ومتوناً.

رغم ما فيهما أيضاً من ضعيف؛ لأن ابن خزيمة وابن حبان يشترطان أصل الصحة، حتى سمي الكتابين: صحيح ابن حبان، وصحيح ابن خزيمة، ومع هذا تخلف هذا الشرط أحياناً، فإن في هذين الكتابين من الضعيف شيئاً ليس يسيراً.

وكذلك يوجد في مسند الإمام أحمد من الأسانيد والمتون شيء كثير مما يوازي كثيراً من أحاديث مسلم، بل والبخاري، بل وأنظف من أسانيد البخاري، بل ولم يخرجه واحد من أصحاب الكتب الستة ولا الأربعة، وهي: البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه، وأما الأربعة فهم أهل السنن: أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه.

ولذلك تجد عند أحمد أحاديث انفرد بها، فمثلاً: قد يوجد في مسند أحمد حديث ليس موجوداً في أي من الصحيحين أو السنن، بل يكون في مسند أحمد فقط هو الذي أخرجه، وأخرجه بإسناد الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر، وهذا الإسناد يعتبر السلسلة الذهبية، فيكون هذا الإسناد الذي انفرد به الإمام أحمد أنظف من كثير من الأسانيد التي أخرجها البخاري ومسلم.

فنقول: على العموم البخاري ومسلم هما أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل، ثم البخاري يتفوق على مسلم، وفي بعض الكتب الأخرى كالسنن والمسانيد والمعاجم والأجزاء والفوائد أسانيد على حدة وعلى انفراد توازي وتعادل بل وتفوق بعض الأسانيد المنفردة عند البخاري وعند مسلم على انفراد، أما الكتابين في مجملهما - البخاري ومسلم - فقد تلقتهما الأمة بالقبول، وهما أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل.

وليس هذا القبول لكل حديث ولكل كلمة في الكتابين، وإنما لعموم الكتابين، ثم هناك أحرف يسيرة قد انتقدت على البخاري وعلى مسلم، هذه الأحرف اليسيرة التي طال فيها الخلاف بين إثبات ما كانت على شرط صاحب الصحيح أو لم يكن على شرطه، وظهر فيها الخلاف أيضاً بين الصحة والضعف، هذه الأحرف لم تتلقها الأمة بالقبول، وإنما الأمة تلقت بالقبول ما اتفق على صحته.
মুস্তাকরাজাত (Mustakhrajat) এর মানদণ্ড

অতঃপর তিনি হাকেমের মুস্তাদরাক থেকে মুস্তাকরাজাত সংক্রান্ত আলোচনার দিকে ধাবিত হলেন এবং বললেন: সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর ওপর ভিত্তি করে অনেক কিতাব সংকলিত হয়েছে, যা থেকে অনেক উপকারী অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়।

এটিও মুস্তাকরাজ-এর অন্যতম উপকারিতা। কারণ মুস্তাকরাজ সংকলনকারী মূল সহীহ গ্রন্থের যে হাদীসটি বর্ণনা করেন, তাতে অতিরিক্ত কিছু থাকে; যা সনদে হতে পারে অথবা মতনে (মূল পাঠে) হতে পারে। আর এটিও মুস্তাকরাজ গ্রন্থের অন্যতম উপকারিতা।

তিনি বলেন: এগুলো থেকে উপকারী অতিরিক্ত অংশ এবং উৎকৃষ্ট সনদ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, মুস্তাকরাজ গ্রন্থগুলোতে এমন সব সনদ রয়েছে যা মূল গ্রন্থগুলোর সনদের চেয়েও অধিক নির্মল। এটিও একটি উপকারিতা।

তিনি বলেন: যেমন আবু আওয়ানা, আবু বকর আল-ইসমাঈলী, আল-বারকানী, আবু নুআইম আল-আসফাহানী এবং অন্যদের 'সহীহ' গ্রন্থসমূহ। এছাড়াও এমন কিছু কিতাব রয়েছে যেগুলোর লেখকগণ কেবল সহীহ হাদীস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমন: ইবনে খুযাইমা এবং ইবনে হিব্বান আল-বুসতী। এই দুটি কিতাব মুস্তাদরাক অপেক্ষা অনেক উত্তম এবং এগুলোর সনদ ও মতন অধিক নির্মল।

যদিও এই দুটিতেও কিছু যঈফ (দুর্বল) হাদীস রয়েছে; কারণ ইবনে খুযাইমা এবং ইবনে হিব্বান মূলত সহীহ হওয়ার শর্ত আরোপ করেছিলেন, এমনকি কিতাব দুটির নাম রাখা হয়েছে 'সহীহ ইবনে হিব্বান' ও 'সহীহ ইবনে খুযাইমা'। তা সত্ত্বেও কখনো কখনো এই শর্ত রক্ষা হয়নি, ফলে এই কিতাব দুটিতে যঈফ হাদীসের পরিমাণ খুব সামান্য নয়।

তদ্রূপ ইমাম আহমাদের মুসনাদে এমন অনেক সনদ ও মতন রয়েছে যা মুসলিম, এমনকি বুখারীর অনেক হাদীসের সমপর্যায়ের। বরং তা বুখারীর সনদের চেয়েও অধিক নির্মল। অথচ কুতুবুস সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) বা চারটির (সুনান চতুষ্টয়) কোনো সংকলকই তা বর্ণনা করেননি। কুতুবুস সিত্তাহ হলো: বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ। আর চার কিতাব বলতে সুনান গ্রন্থকারদের বুঝানো হয়: আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ।

একারণেই আপনি ইমাম আহমাদের কাছে এমন কিছু হাদীস পাবেন যা কেবল তিনিই বর্ণনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: মুসনাদে আহমাদে এমন হাদীস পাওয়া যেতে পারে যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা সুনান গ্রন্থসমূহের কোথাও নেই। বরং কেবল মুসনাদে আহমাদেই তা বর্ণিত হয়েছে। আর তিনি তা শাফিঈ, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে—এই সনদে বর্ণনা করেছেন। এই সনদটিকে 'স্বর্ণসূত্র' গণ্য করা হয়। ফলে ইমাম আহমাদ এককভাবে যে সনদটি বর্ণনা করেছেন, তা বুখারী ও মুসলিমের বর্ণিত অনেক সনদের চেয়েও অধিক নির্মল।

সুতরাং আমরা বলি: সাধারণভাবে আল্লাহর কিতাবের পর বুখারী ও মুসলিম হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব। এরপর মুসলিমের চেয়ে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্ব বেশি। তবে অন্যান্য কিছু কিতাব যেমন সুনান, মুসনাদ, মু'জাম, আজযা এবং ফাওয়ায়েদ গ্রন্থসমূহে পৃথক পৃথকভাবে এমন কিছু সনদ রয়েছে যা বুখারী ও মুসলিমের এককভাবে বর্ণিত কিছু সনদের সমকক্ষ বা সমতুল্য, এমনকি কখনো কখনো সেগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বুখারী ও মুসলিম—এই কিতাব দুটিকে উম্মত কবুল করে নিয়েছে এবং এগুলো আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব।

আর এই গ্রহণযোগ্যতা কিতাব দুটির প্রতিটি হাদীস বা প্রতিটি শব্দের জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে কিতাব দুটির জন্য। এছাড়া অতি সামান্য কিছু অংশ রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে বুখারী ও মুসলিমের ওপর সমালোচনা করা হয়েছে। এই সামান্য অংশগুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ মতপার্থক্য রয়েছে যে, সেগুলো কি সহীহ গ্রন্থকারের শর্ত অনুযায়ী হয়েছে নাকি হয়নি? এবং এগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিয়েও মতভেদ প্রকাশ পেয়েছে। এই নির্দিষ্ট অংশগুলোকে উম্মত গ্রহণযোগ্যতা দেয়নি, বরং উম্মত কেবল সেই অংশগুলোকেই কবুল করে নিয়েছে যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الكلام على المسانيد والمعاجم

تكلمنا عن الكتب التي خرجت أحاديث في مثل قوة الأحاديث التي رواها البخاري ومسلم، أو ما يناهزها، وذكرنا منها المستخرجات والمستدركات، ثم ذكرنا منها مسند الإمام أحمد بن حنبل، وكذلك كتب السنن، كسنن أبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجه.

وكذلك يوجد بعض الأحاديث بأسانيد نظيفة ومتينة في معجمي الطبراني الكبير والأوسط، أما المعجم الصغير ففيه من الغرائب والعجائب الكثير.

وكذلك في مسندي أبي يعلى والبزار، وغير ذلك من المسانيد والمعاجم والفوائد والأجزاء، يعني: هذه الكتب المصنفة كلها فيها أحاديث كثيرة صحيحة، وربما أخذت في الصحة مرتبة أعلى من مرتبة بعض الأحاديث عند البخاري ومسلم، وليس معنى كلام ابن الأخرم أن البخاري ومسلم فاتهما الشيء اليسير من الصحيح.

وفي هذه المسانيد والأجزاء والفوائد والمعاجم ما يتمكن المتبحر في هذا الشأن من الحكم بصحة كثير منها، لكن لا يكون ذلك إلا من المتبحر في هذا الشأن، أي: في كلام وقرائن ومصطلحات أهل العلم في التصحيح والتضعيف، يعني: لا يكون التصحيح والتضعيف مبنياً على الوجد أو العقل، فتجد من يحكم على حديث بالضعف؛ لأنه لا يمكن أن يعقل، وأنتم تعرفون أن هناك نابتة في كل زمان ومكان تقول بهذا، وهؤلاء تلامذة وأبناء المعتزلة في كل زمان ومكان يحكمون العقل ويقدمونه على النقل، فتجد من يحكم على حديث من الأحاديث بالضعف فإذا سألته: لماذا؟ قال: لأنه لا يتفق مع العقل، وهو على كل حال لا يتفق مع العقل الغبي، إنما يتفق مع العقل السليم، فيظن أنه لم يخطئ.

يقول: (ما يتمكن المتبحر في هذا الشأن من الحكم بصحة كثير منه)، أي: بصحة كثير من الأحاديث التي وردت في هذه الكتب والمسانيد والمعاجم والأجزاء والفوائد.

قال: (بعد النظر في حال رجاله، وسلامته من التعليل المفسد)، أي: التعليل الذي يفسد صحته.

قال: (ويجوز له الإقدام على ذلك)، أي: ويجوز للمتبحر الإقدام على التصحيح والتضعيف لهذه الأحاديث الموجودة في غير الصحيحين إذا كانت له القدرة والمؤهلات التي تجعله يتفوق في هذا المجال.

قال: (وإن لم ينص على صحته حافظ قبله، موافقة للشيخ أبي زكريا يحيى النووي، وخلافاً للشيخ أبي عمرو بن الصلاح).

لأن ابن الصلاح أغلق باب الاجتهاد مطلقاً، فضلاً عن الاجتهاد في علم الحديث، يعني: هو بدأ بإغلاق باب الاجتهاد في الحديث، ثم سحب هذا الحكم على عموم الاجتهاد.

قال: لا يوجد اجتهاد، وما كان كان، والذي لم يكن لم يكن، ثم قال: الأحاديث التي رواها البخاري ومسلم هذه صحيحة قطعاً، والأحاديث التي حكم عليها أهل العلم بالصحة أو الضعف فهي صحيحة أو ضعيفة، لا خلاف على هذا، وأما الأحاديث التي لم يحكم عليها أهل العلم بصحة ولا ضعف، ولا توجد في كتاب من الكتب التي التزمت الصحة، فنتوقف عن قبولها والعمل بها.

وهذا الكلام خطأ، وهو حجة عليه؛ لأن كونك تتوقف عن العمل بها هذا ذاته حكم، وهو رد، وهو اجتهاد لكن الإمام النووي رد على ابن الصلاح رداً مفحماً جداً بقوله: ما الذي يمنع المتبحر من الحكم ومن الاجتهاد؟ فكم ترك السابق للاحق! وكثير ممن لحق تفوق على من سبقه، فما فائدة إغلاق باب الاجتهاد.

وإغلاق باب الاجتهاد في كل زمان ومكان مصيبة على الإسلام وعلى المسلمين، ولكن بشرط أن يكون المجتهد ملتزماً بالبصيرة العلمية، لا يأتي شخص ويقول: بقي للاجتهاد كذا شهراً، فأنا سأجتهد.
মাসানিদ ও মাআজিদ সংক্রান্ত আলোচনা

আমরা ইতিপূর্বে এমন সব কিতাব নিয়ে আলোচনা করেছি যাতে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের বর্ণিত হাদীসগুলোর মতো শক্তিশালী কিংবা তার কাছাকাছি মানের হাদীস সংকলিত হয়েছে। আমরা মুস্তাখরাজাত ও মুস্তাদরাকাতের কথা উল্লেখ করেছি। এরপর আমরা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহ যেমন— সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-র কথা উল্লেখ করেছি।

একইভাবে তাবারানীর মুআজিমে কাবীর এবং মুআজিমে আওসাত গ্রন্থে পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী সনদে কিছু হাদীস রয়েছে। তবে মুআজিমে সগীরে অনেক অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক বর্ণনা বিদ্যমান।

তদ্রূপ আবু ইয়ালা ও বাজ্জারের মুসনাদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য মাসানিদ, মাআজিদ, ফাওয়ায়িদ ও আজজা-সমূহের মধ্যেও অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। এমনকি বিশুদ্ধতার দিক থেকে এগুলো অনেক সময় বুখারী ও মুসলিমের কিছু হাদীসের চেয়েও উচ্চতর স্তরের হতে পারে। তবে ইবনুল আখরামের কথার অর্থ এই নয় যে, বুখারী ও মুসলিমের বাইরে সহীহ হাদীসের সংখ্যা খুবই সামান্য।

এসকল মাসানিদ, আজজা, ফাওয়ায়িদ ও মাআজিদ-সমূহের মধ্যে বিদ্যমান হাদীসগুলোর অনেকগুলোকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষমতা এই শাস্ত্রের গভীর পণ্ডিত ব্যক্তিরা রাখেন। তবে এটি কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা হাদীস সহীহ ও যঈফ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এবং উলামায়ে কেরামের পরিভাষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। অর্থাৎ, সহীহ বা যঈফ সাব্যস্ত করার বিষয়টি কেবল আবেগ বা যুক্তিনির্ভর হবে না। আপনি এমন অনেককে পাবেন যারা কোনো হাদীসকে যঈফ বলে রায় দেন কেবল এজন্য যে, তা তাদের যুক্তিতে ধরে না। আপনারা জানেন যে, প্রতিটি যুগে ও স্থানেই এমন একদল নব্য মতবাদের অনুসারী রয়েছে যারা এমন কথা বলে। এরা মূলত প্রতিটি যুগে ও স্থানে মুতাজিলাদেরই উত্তরসূরি, যারা ওহীর নস বা দলিলের ওপর নিজেদের যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়। ফলে আপনি এমন কাউকে পাবেন যে কোনো একটি হাদীসকে যঈফ বলছে, কিন্তু তাকে যখন জিজ্ঞেস করবেন: কেন? সে বলবে: কারণ এটি বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। প্রকৃতপক্ষে তা কেবল স্থুল বুদ্ধির সাথে সংগতিপূর্ণ না হলেও সুস্থ বিবেকের সাথে ঠিকই সংগতিপূর্ণ। অথচ সে মনে করে যে সে কোনো ভুল করেনি।

তিনি বলেন: (এই বিষয়ের গভীর পণ্ডিত ব্যক্তি এগুলোর অনেকগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম), অর্থাৎ, এই সকল কিতাব, মাসানিদ, মাআজিদ, আজজা ও ফাওয়ায়িদ-এ বর্ণিত অনেক হাদীসের বিশুদ্ধতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তিনি বলেন: (বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার পর এবং হাদীসটি ক্ষতিকর ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার পর), অর্থাৎ এমন সূক্ষ্ম ত্রুটি যা হাদীসের বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করে দেয়।

তিনি বলেন: (এবং তার জন্য এই কাজে অগ্রসর হওয়া বৈধ), অর্থাৎ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর বাইরে বিদ্যমান হাদীসগুলোকে সহীহ বা যঈফ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সেই বিশেষজ্ঞের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া বৈধ, যদি তার সেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা থাকে যা তাকে এই ময়দানে পারদর্শী করে তোলে।

তিনি বলেন: (যদিও তার আগে অন্য কোনো হাফিয একে সহীহ বলে উল্লেখ না করে থাকেন; এটি শাইখ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আন-নববীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করে এবং শাইখ আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর মতের বিরোধিতা করে)।

কারণ ইবনুস সালাহ ইজতিহাদের পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন, এমনকি হাদীস শাস্ত্রের ইজতিহাদকেও। অর্থাৎ, তিনি প্রথমে হাদীসের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে এই হুকুমকে সাধারণ ইজতিহাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেন।

তিনি বলেছেন: এখন আর কোনো ইজতিহাদ নেই, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এরপর তিনি বলেন: ইমাম বুখারী ও মুসলিম যে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলো অকাট্যভাবে সহীহ। আর উলামায়ে কেরাম ইতিপূর্বে যে হাদীসগুলোকে সহীহ বা যঈফ বলে রায় দিয়েছেন সেগুলো সহীহ বা যঈফ হিসেবেই গণ্য হবে, এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যেসব হাদীস সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম সহীহ বা যঈফ হওয়ার কোনো রায় দেননি এবং যেগুলো কেবল সহীহ হাদীস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এমন কোনো কিতাবেও নেই, তবে আমরা সেগুলো গ্রহণ করা ও তার ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকব।

এই কথাটি সঠিক নয় এবং এটি তার বিপক্ষেই একটি প্রমাণ। কারণ কোনো বিষয়ে আমল করা থেকে বিরত থাকা বা স্থগিত রাখাও নিজে একটি সিদ্ধান্ত, আর এটি মূলত প্রত্যাখ্যানেরই শামিল এবং এটিও একটি ইজতিহাদ। তবে ইমাম নববী ইবনুস সালাহ-এর এই মতের অত্যন্ত জোরালো জবাব দিয়ে বলেছেন: একজন গভীর পণ্ডিত ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইজতিহাদ থেকে কিসে বাধা দেবে? পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন! আর পরবর্তীদের অনেকেই তাদের পূর্ববর্তীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। সুতরাং ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করার সার্থকতা কী?

প্রতিটি যুগে ও স্থানে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য একটি বিপর্যয়। তবে শর্ত হলো, মুজতাহিদকে অবশ্যই ইলমী দূরদৃষ্টি ও মূলনীতির অনুসারী হতে হবে। এমন যেন না হয় যে, কোনো সাধারণ ব্যক্তি এসে বলল: ইজতিহাদ করার জন্য আরও কিছু সময় বাকি আছে, তাই আমি এখন ইজতিহাদ করব।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الكلام على كتاب المختارة للمقدسي والمستدرك للحاكم

يقول: (وقد جمع الشيخ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي في ذلك كتاباً سماه: المختارة).

وهذا الكتاب يشبه كتاب شرح السنة للبغوي، وهو كتاب نظيف، وأحاديثه عالية، وليس فيه ضعيف إلا الشيء اليسير، وكتاب المختارة قدمه كثير من أهل العلم على المستدرك للحاكم، ومستدرك الحاكم الكلام عليه يطول، ولكن باختصار جمَّع الحاكم هذه الأحاديث التي رواها في الاستدراك على البخاري ومسلم في كتاب، وكثرت أخطاء الحاكم في هذا الكتاب، وخالف كثيراً مقصوده من الكتاب؛ لأنه قسم هذا الكتاب إلى ثلاثة أقسام: قسم منه صحيح تم فيه غرض الحاكم، وهو الاستدراك على البخاري ومسلم.

وقسم منه صحيح ولكنه ليس على شرط البخاري ولا على شرط مسلم.

وقسم فيه الضعيف، بل وفيه الموضوع، وطبعاً عندما تأتي تقرأ في كتاب المستدرك على الصحيحين تفاجأ بأن ثلث الكتاب ضعيف أو موضوع.

لكن اعتذر عما فعل الحاكم باعتذار، وهو ما يعبر عنه العلماء بمصطلح التقميش والتفتيش، يعني: عند كوني أريد أن أؤلف كتاباً أجمع كل المقالات وكل ما أجد من آيات وأحاديث وأقوال أهل العلم وأقوال الشراح وغير ذلك، أجمعها بحيث تكون أمامي، لكن عندما أصنف كتاباً سأفتش في هذا الكلام جيداً، بحيث يكون اختياري أثناء التصنيف صحيحاً ومرتباً.

وقد اعتذر الحافظ ابن حجر عن الحاكم حيث بيَّن أنه جمَّع هذه المادة وهذه الأحاديث ووضعها في كتاب، فنقح من كتابه جزءاً، ثم أدركته المنية قبل أن يتم التنقيح لباقي الكتاب؛ فكثر بعد ذلك الانتقاد لبقية الكتاب، وأما الجزء الأول منه فقلما تجد فيه ضعيفاً.

والحافظ الذهبي رحمه الله لخص كتاب الحاكم، في هذا التلخيص قد يوافق الحاكم فيما ذهب إليه من حكم على الحديث، وقد يخالفه، فإذا رأى أن الحاكم قد أصاب الحكم وقد أصاب غرضه من هذا الحديث وافقه على هذا الصواب، وإذا رأى أن الحاكم أخطأ خالفه، وقال: لا، بل ليس على شرطهما، أو قال: بل ليس على شرط البخاري، أو بل ليس على شرط مسلم.

والغريب أن الحافظ الذهبي في مسألة موافقة أو مخالفة الحاكم أخطأ كثيراً، ولسنا نحن من يحكم عليه بالخطأ، بل هو نفسه، فإن الذهبي رحمه الله صنف كتباً كثيرة في الرواة، أعلاها وأجلها قدراً: كتاب تاريخ الإسلام، ثم أخذ من كتاب تاريخ الإسلام كتاب سير أعلام النبلاء، ثم أخذ من سير أعلام النبلاء كتاب ميزان الاعتدال في نقد الرجال، هذا الكتاب أربعة مجلدات، وهو في متناول كثير من الناس، فربما يقول الحاكم عن حديث ما: هذا الحديث على شرطهما ولم يخرجاه، ثم تجد من هؤلاء الرواة من قد حكم عليه الذهبي في ميزان الاعتدال أو في غيره بأنه ضعيف.

وقد يقول الحاكم: هذا الحديث على شرط مسلم، ثم لا تجد الحديث على شرط مسلم، وإن كان رواة الإسناد أخرج لهم مسلم، وهذه نكتة عظيمة، وهي أنه ليس بلازم أن يكون الرواة الذين أخرج لهم مسلم إذا اجتمعوا في إسناد أن يكون هذا الإسناد على شرط مسلم، فمثلاً: أخرج لي مسلم، ومحمد قد أخرج له مسلم، وإبراهيم قد أخرج له مسلم، فنحن الثلاثة متفقون أن مسلماً احتج بنا، لكن الحقيقة أن هذا الإسناد ليس على شرط مسلم، ولو كان الرجال رجال مسلم؛ لأن مسلماً احتج برواية محمد عن غير إبراهيم.

ولو احتج مسلم مثلاً بمحمد وإبراهيم وحسن؛ فالثلاثة من رجال مسلم، لكن مسلم احتج بكل واحد من هؤلاء الثلاثة عن غير من ذكر هنا، فمثلاً: يقول مسلم: محمد أنا أحتج بروايته إلا عن إبراهيم؛ لأنه لم يعرف إبراهيم، محمد ثقة في كل الناس إلا في إبراهيم، وهذا الأمر وقع فيه الحاكم وتبعه عليه الذهبي، يقول: محمد وحسن وإبراهيم على شرط مسلم، والحقيقة أنهم من رجال مسلم، ولكن ليس على شرط مسلم؛ لأن مسلماً احتج برواية حسن عن غير محمد، وبرواية محمد عن غير إبراهيم.

فهناك فرق كبير بين أن تقول: رجال هذا الإسناد رجال الصحيح، وأن تقول: هذا الإسناد على شرط الصحيح.

فقولي: هذا الإسناد على شرط الصحيح يلزم أن يكون الرجال رجال الصحيح، هذا عند العلماء كافة إلا عند الحاكم، فإنه قال: لا يلزم أن يكون الرجال أخرج ل
আল-মাকদিসী রচিত 'আল-মুখতারা' এবং আল-হাকিম রচিত 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থদ্বয়ের আলোচনা

তিনি বলেন: (শায়খ জিয়াউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন: আল-মুখতারা)।

এই গ্রন্থটি আল-বাগাওয়ীর 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থের সদৃশ। এটি একটি স্বচ্ছ গ্রন্থ, এর হাদীসগুলো উচ্চপর্যায়ের এবং এতে যঈফ বা দুর্বল হাদীস নেই বললেই চলে, সামান্য কিছু ব্যতীত। আর উলামায়ে কিরামের অনেকেই আল-হাকিমের 'আল-মুস্তাদরাক'-এর ওপর আল-মাকদিসীর 'আল-মুখতারা'-কে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল-হাকিমের 'আল-মুস্তাদরাক' নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ, তবে সংক্ষেপে বলা যায়, আল-হাকিম বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী যে হাদীসগুলো তারা উল্লেখ করেননি, সেগুলো একটি গ্রন্থে সংকলন করেছেন। কিন্তু এই গ্রন্থে আল-হাকিম প্রচুর ভুল করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তার গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত কাজ করেছেন; কারণ তিনি এই গ্রন্থটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: একভাগ হলো সহীহ, যেখানে আল-হাকিমের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, অর্থাৎ সেগুলো বুখারী ও মুসলিমের ভুলত্রুটি সংশোধনী বা পরিপূরক হিসেবে গণ্য।

আরেক ভাগ হলো সহীহ, কিন্তু সেগুলো বুখারী বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়।

আর অন্য এক ভাগে রয়েছে যঈফ (দুর্বল), এমনকি মাওযু (জাল) হাদীসও। স্বভাবতই, যখন আপনি 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন' গ্রন্থটি পাঠ করবেন, তখন আপনি দেখে অবাক হবেন যে এর এক-তৃতীয়াংশ হাদীসই যঈফ বা মাওযু।

তবে আল-হাকিমের এই কাজের পেছনে একটি ওজর বা কারণ পেশ করা হয়েছে, যাকে উলামায়ে কিরাম 'তাকমীশ' (সংগ্রহ) এবং 'তাফতীশ' (যাচাই-বাছাই) পরিভাষা দ্বারা ব্যক্ত করে থাকেন। এর অর্থ হলো: যখন আমি একটি গ্রন্থ রচনা করতে চাই, তখন আমি আমার সামনে থাকা সমস্ত প্রবন্ধ, আয়াত, হাদীস, উলামায়ে কিরামের বাণী এবং ব্যাখ্যাকারীদের বক্তব্য একত্র করি যাতে সেগুলো আমার সামনে থাকে, কিন্তু গ্রন্থটি চূড়ান্তভাবে বিন্যস্ত করার সময় আমি সেগুলো ভালোভাবে যাচাই করি, যাতে সংকলনের সময় আমার পছন্দগুলো সঠিক ও সুশৃঙ্খল হয়।

হাফেজ ইবন হাজার আল-হাকিমের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এই উপকরণ ও হাদীসগুলো সংগ্রহ করে একটি গ্রন্থে রেখেছিলেন। এরপর তিনি গ্রন্থের কিছু অংশ পরিমার্জন করেন, কিন্তু বাকি অংশ পরিমার্জন করার আগেই তার মৃত্যু হয়। ফলে গ্রন্থের পরবর্তী অংশের ওপর সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর প্রথম অংশে যঈফ হাদীস খুব কমই পাওয়া যায়।

হাফেজ আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আল-হাকিমের গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন। এই সংক্ষেপে তিনি কোনো হাদীসের হুকুমের ক্ষেত্রে কখনো আল-হাকিমের সাথে একমত হয়েছেন, আবার কখনো দ্বিমত পোষণ করেছেন। যদি তিনি দেখেন যে আল-হাকিম সঠিক হুকুম দিয়েছেন এবং হাদীসটি তার উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, তবে তিনি তা সমর্থন করেন। আর যদি তিনি দেখেন যে আল-হাকিম ভুল করেছেন, তবে তিনি তার বিরোধিতা করেন এবং বলেন: 'না, বরং এটি তাদের শর্তানুযায়ী নয়', অথবা বলেন: 'এটি বুখারীর শর্তে নয়', অথবা 'এটি মুসলিমের শর্তে নয়'।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, আল-হাকিমের সাথে একমত বা দ্বিমত হওয়ার ক্ষেত্রে হাফেজ আয-যাহাবী নিজেও অনেক ভুল করেছেন। আর আমরা তার ভুলের বিচার করছি না, বরং তিনি নিজেই তা করেছেন। কারণ যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অনেক কিতাব লিখেছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ হলো 'তারিখুল ইসলাম'। এরপর তিনি 'তারিখুল ইসলাম' থেকে 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' সংকলন করেন। পুনরায় 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' থেকে বর্ণনাকারীদের সমালোচনার ওপর 'মিযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল' গ্রন্থটি সংকলন করেন। এই গ্রন্থটি চার খণ্ডের এবং অনেক মানুষের নিকট সহজলভ্য। আল-হাকিম হয়তো কোনো হাদীস সম্পর্কে বললেন: 'এই হাদীসটি তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী কিন্তু তারা তা বর্ণনা করেননি', অথচ দেখা যায় সেই বর্ণনাকারীদের সম্পর্কেই যাহাবী 'মিযানুল ইতিদাল' বা অন্য গ্রন্থে যঈফ বা দুর্বল বলে রায় দিয়েছেন।

আবার আল-হাকিম হয়তো বললেন: 'এই হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী', কিন্তু হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী পাওয়া যায় না, যদিও সনদের বর্ণনাকারীদের থেকে ইমাম মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়। বিষয়টি হলো, ইমাম মুসলিম যে বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা যখন কোনো একটি সনদে একত্রিত হন, তখন সেই সনদটিই যে মুসলিমের শর্তানুযায়ী হবে—এমনটি জরুরি নয়। উদাহরণস্বরূপ: ইমাম মুসলিম আমার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং ইব্রাহিম থেকেও বর্ণনা করেছেন। আমাদের তিনজনের ব্যাপারে একমত যে মুসলিম আমাদের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এই বিশেষ সনদটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়, যদিও বর্ণনাকারীগণ মুসলিমের বর্ণনাকারী; কারণ ইমাম মুসলিম মুহাম্মদের বর্ণনা কেবল ইব্রাহিম ছাড়া অন্য কারো সূত্রে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

যদি ইমাম মুসলিম উদাহরণস্বরূপ মুহাম্মদ, ইব্রাহিম ও হাসান থেকে দলিল গ্রহণ করে থাকেন, তবে তারা তিনজনই মুসলিমের বর্ণনাকারী। কিন্তু মুসলিম তাদের প্রত্যেকের হাদীস এখানে উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্যের সূত্রে গ্রহণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ মুসলিম বলেন: 'আমি মুহাম্মদের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করি, কিন্তু ইব্রাহিমের সূত্রে তার বর্ণনা গ্রহণ করি না'; কারণ তিনি ইব্রাহিমকে চিনতেন না। মুহাম্মদ সবার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হলেও ইব্রাহিমের ক্ষেত্রে নন। এই বিষয়টি আল-হাকিম বুঝতে ভুল করেছেন এবং যাহাবীও তার অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন: 'মুহাম্মদ, হাসান ও ইব্রাহিম মুসলিমের শর্তানুযায়ী', অথচ বাস্তবতা হলো তারা মুসলিমের বর্ণনাকারী, কিন্তু মুসলিমের শর্তানুযায়ী নয়; কারণ মুসলিম হাসানের বর্ণনা মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কারো সূত্রে এবং মুহাম্মদের বর্ণনা ইব্রাহিম ছাড়া অন্য কারো সূত্রে গ্রহণ করেছেন।

সুতরাং 'এই সনদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী' এবং 'এই সনদটি সহীহ গ্রন্থের শর্তানুযায়ী'—এই দুই কথার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।

আমার এই কথা: 'এই সনদটি সহীহ গ্রন্থের শর্তানুযায়ী'—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীগণ অবশ্যই সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী হতে হবে। আল-হাকিম ব্যতীত সমস্ত উলামায়ে কিরামের নিকট এটাই নিয়ম। কারণ তিনি বলেছেন, বর্ণনাকারীগণ যে কেবল সহীহ গ্রন্থেই থাকতে হবে এমনটি জরুরি নয়...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الكلام على موطأ مالك

الكلام على موطأ الإمام مالك: معنى الموطأ: الممهد السهل المعبد، يقال: طريق موطأ، يعني: معبد وسهل، والإمام الشافعي ثبت عنه أنه قال: لا أعلم كتاباً في العلم أكثر صواباً من كتاب مالك، الذي هو الموطأ.

فهل الذي يقدم كتاب البخاري بتلقي الأمة له بالقبول، أم موطأ مالك بنص الشافعي؟ الإمام مالك مات سنة (179)، والإمام الشافعي كان تلميذ الإمام مالك.

والإمام البخاري مات سنة (256)، وذكرت سنة وفاة مالك ووفاة البخاري لأجل أن نلاحظ صحة الأخبار واستقامتها، وهو ما يسمى بمعرفة تواريخ المواليد والوفيات، فالإمام البخاري مات سنة (256)، أما مالك فمتقدم على ذلك ولم يدركه البخاري؛ لأنه مات سنة (179)، دل ذلك على أن الإمام البخاري متأخر عن الإمام مالك، أما الإمام الشافعي فكان تلميذ الإمام مالك، بل هو أوثق من روى عن مالك، ولذلك من ذهب إلى أن السلسلة الذهبية: مالك عن نافع عن ابن عمر، قال: ولكون الشافعي أوثق من روى عن مالك فنقول: السلسلة الذهبية: الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر.

والإمام الشافعي عندما ذهبت به أمه إلى المدينة وعمره عشر سنوات ليحضر دروس مالك، قيل: إن مالكاً لم يهتم به في أول الأمر، حتى شعر الشافعي بذلك فقال: يا إمام! إني أحفظ الموطأ، فتعجب الإمام مالك من ذلك، والإمام الشافعي تلقى العلم على الإمام مالك، وكان شيخه في الفقه وفي الحديث، وإن كان الإمام مالك ينسب مذهبه كثيراً إلى الرأي، بخلاف الإمام أبي حنيفة فإن مذهبه هو مذهب أهل الرأي، وبخلاف مذهب الشافعي في الفقه ومذهب أحمد بن حنبل فإنه مبني على الدليل.

والإمام الشافعي قال هذه المقولة: (ما تحت أديم السماء كتاب أصح من موطأ الإمام مالك)، ولم يزل الإمام البخاري غلام يتلقى العلم، ولم يكن بعد قد صنف كتاب الصحيح.

ثم هناك فرق كبير بين أول من صنف في الصحيح المطلق، وأول من صنف في الصحيح المجرد، فأول من صنف في الصحيح المطلق هو مالك، ولكن أول من صنف في الصحيح المجرد هو الإمام البخاري.

ولو جئنا نرى موطأ الإمام مالك فإننا نجده مليئاً بالمراسيل والغرائب والمقطوعات، فكيف -والحال هذه- يقول عنه الشافعي: أصح كتاب تحت أديم السماء؟

و

‌‌الجواب

أن وصل هذه الأحاديث المقطوعة والغريبة والمرسلة لم يخف على الشافعي، فـ الشافعي قد عرف مخارج حديث مالك، فإنه كان خبيراً بحديثه وأخص تلاميذه، فقال هذا الحكم بناءً على علمه بوصل تلك الأسانيد، ولذلك الحافظ ابن عبد البر عليه رحمة الله أتى بعد ذلك في القرن الخامس والسادس فوصل -كما فعل غيره مع غير هذا الكتاب- هذه الأحاديث كلها، إلا أربعة أحاديث إلى الآن لم توصل، فالحافظ ابن عبد البر خدم موطأ الإمام مالك في أنه شرحه ووصل أسانيده، حتى صارت كل هذه الأسانيد المرسلة والمنقطعة والمعضلة أسانيد موصولة، وبذلك صحت جميع الأخبار والأحاديث التي رواها مالك في موطئه إلا أربعة أحاديث توقف أهل العلم فيها، على أن من سيأتي بعد ذلك ربما يهديه الله عز وجل إلى معرفة أسانيد هذه الأربعة.

وهذا الكتاب الذي بذل فيه ابن عبد البر ذلك الجهد اسمه التمهيد.
মুওয়াত্তায়ে মালিকের আলোচনা

ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার উপর আলোচনা: মুওয়াত্তা শব্দের অর্থ হলো সুবিন্যস্ত, সহজ ও সুগম। বলা হয়: সুগম পথ, অর্থাৎ: সুগম ও সহজ। ইমাম শাফেয়ী থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: আমার জানামতে ইলমের জগতে মালিকের কিতাব অর্থাৎ মুওয়াত্তার চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ অন্য কোনো কিতাব নেই।

এখন কি উম্মতের কবুলিয়াতের ভিত্তিতে বুখারীর কিতাবকে অগ্রগণ্য ধরা হবে, নাকি শাফেয়ীর বক্তব্যের ভিত্তিতে মুওয়াত্তায়ে মালিককে? ইমাম মালিক মৃত্যুবরণ করেন ১৭৯ হিজরিতে এবং ইমাম শাফেয়ী ছিলেন ইমাম মালিকের ছাত্র।

ইমাম বুখারী মৃত্যুবরণ করেন ২৫৬ হিজরিতে। আমি ইমাম মালিক এবং ইমাম বুখারীর মৃত্যুসাল উল্লেখ করেছি যাতে সংবাদের বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতা পর্যবেক্ষণ করা যায়; যাকে জন্ম ও মৃত্যু তারিখের জ্ঞান বলা হয়। ইমাম বুখারী ২৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আর ইমাম মালিক তার অনেক আগে ইন্তেকাল করেছেন বিধায় বুখারী তাকে পাননি; কারণ তিনি ১৭৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে ইমাম বুখারী ইমাম মালিকের অনেক পরের। ইমাম শাফেয়ী ছিলেন ইমাম মালিকের ছাত্র, বরং মালিক থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এই কারণেই যারা মনে করেন 'স্বর্ণসূত্র' হলো: মালিক, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে; তারা বলেন: শাফেয়ী যেহেতু মালিক থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই আমরা বলব: স্বর্ণসূত্র হলো: শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

ইমাম শাফেয়ীর বয়স যখন দশ বছর, তখন তার মা তাকে মদীনায় নিয়ে যান মালিকের পাঠদানে উপস্থিত হওয়ার জন্য। বলা হয় যে, ইমাম মালিক শুরুতে তার প্রতি তেমন মনোযোগ দেননি, এমনকি শাফেয়ী তা অনুভব করে বললেন: হে ইমাম! আমি মুওয়াত্তা মুখস্থ পারি। ইমাম মালিক এতে আশ্চর্যান্বিত হলেন। ইমাম শাফেয়ী ইমাম মালিকের কাছে ইলম অর্জন করেছেন এবং তিনি ফিকহ ও হাদীসে তার উস্তাদ ছিলেন। যদিও ইমাম মালিকের মাযহাবকে অনেক ক্ষেত্রে রা’য় (বিচক্ষণতা)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, কিন্তু তা ইমাম আবু হানিফার মতো নয়, কারণ তাঁর মাযহাব হলো আহলে রা’য়ের মাযহাব। আবার এটি ফিকহশাস্ত্রে শাফেয়ী ও আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাবের মতোও নয়, কারণ তাঁদের মাযহাব দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

ইমাম শাফেয়ী যখন এই উক্তিটি করেছিলেন যে, "আকাশের নিচে ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার চেয়ে বিশুদ্ধতর আর কোনো কিতাব নেই", তখন ইমাম বুখারী একজন কিশোর মাত্র এবং ইলম অর্জন করছিলেন, তখনও তিনি 'সহীহ' কিতাবটি রচনা করেননি।

এরপর 'সহীহ মুতলাক' (নিরঙ্কুশ সহীহ) এবং 'সহীহ মুজাররাদ' (কেবল সহীহ সম্বলিত) গ্রন্থ রচনার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। 'সহীহ মুতলাক' রচনায় প্রথম হলেন মালিক, কিন্তু 'সহীহ মুজাররাদ' রচনায় প্রথম হলেন ইমাম বুখারী।

আমরা যদি ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার দিকে তাকাই, তবে আমরা এটি মুরসাল, গারীব এবং মাকতু বর্ণনায় ভরপুর দেখতে পাই। এমতাবস্থায় ইমাম শাফেয়ী কীভাবে বললেন যে এটি আকাশের নিচে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব?

ও

উত্তর

এই মাকতু, গারীব এবং মুরসাল হাদীসগুলোর সংযোগ শাফেয়ীর কাছে গোপন ছিল না। কারণ শাফেয়ী মালিকের হাদীসসমূহের উৎস সম্পর্কে জানতেন। তিনি তাঁর হাদীস সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং তাঁর বিশেষ ছাত্রদের একজন ছিলেন। তিনি এই রায়টি দিয়েছিলেন ঐ সকল সনদের সংযোগ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের ভিত্তিতে। এই কারণেই হাফেজ ইবনে আব্দুল বার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) পরবর্তীতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে এসে এই সমস্ত হাদীসের সংযোগ বর্ণনা করেছেন—যেমনটি অন্যরা অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে করেছেন—কেবল চারটি হাদীস বাদে যা এখন পর্যন্ত কোনো সনদে সংযুক্ত হয়নি। হাফেজ ইবনে আব্দুল বার ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার এই খিদমত করেছেন যে, তিনি এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এর সনদগুলোকে সংযুক্ত করেছেন। ফলে সমস্ত মুরসাল, মুনকাতি এবং মুদাল সনদগুলো মুত্তাসিল বা সংযুক্ত সনদে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে মুওয়াত্তায় ইমাম মালিকের বর্ণিত সমস্ত সংবাদ ও হাদীস সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে কেবল ঐ চারটি হাদীস বাদে যে বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম থমকে গেছেন; তবে পরবর্তীতে যারা আসবেন হয়তো আল্লাহ তাদের এই চারটির সনদ জানার তাওফিক দান করবেন।

যে কিতাবটিতে ইবনে আব্দুল বার এই প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন সেটির নাম হলো 'আত-তামহীদ'।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الكلام على جامع الترمذي

الكلام على جامع الإمام الترمذي: والإمام الترمذي عندما سمى كتابه: الصحيح الجامع، شمل هذا الاسم فائدة وحكماً: أما الحكم فهو سحب حكم الصحة على ما بداخل هذا الكتاب؛ لقوله: الصحيح، وكأنه أيضاً اشترط في كتابه أنه صحيح، أو أنه لا يورد فيه إلا الصحيح، ثم خالف ما بداخله هذا الحكم؛ لأن الإمام الترمذي أحياناً يقول على حديث: حسن صحيح، وأحياناً يقول: صحيح، وأحياناً يقول: حسن، وأحياناً يقول: حسن صحيح غريب، وأحياناً يقول: صحيح غريب، وأحياناً يقول: حسن غريب، وأحياناً يقول: غريب فقط من غير صحيح ولا حسن؛ وكل مصطلح من هذه المصطلحات له مدلول عند الترمذي.

الشاهد من هذه المصطلحات كلها: لو قال الإمام الترمذي بعد أن أخرج حديثاً: هذا حديث غريب؛ فالذي يفهم من هذا المصطلح أنه غالباً يقصد الضعف، وهذا مأخوذ بالاستقراء.

فإذا كان الترمذي نفسه يحكم على بعض ما رواه بأنه ضعيف -وهو المعني بقوله: غريب- فكيف يسمي كتابه الصحيح؟ وسماه الجامع لأنه يتكلم في كل أبواب العلم: من العقائد والأحكام والحدود والفقه والتفسير وغير ذلك؛ ولذلك الشيخ أحمد شاكر رحمه الله لما بذل جهده في التعليق على الكتاب غمز هذا الاسم على غلاف الكتاب، فقال: سنن الترمذي المسمى بالصحيح الجامع.

وهذا إنكار من الشيخ أحمد شاكر أن يتسمى هذا الكتاب بالصحيح، وكذلك ما قيل في سنن الترمذي يقال في سنن النسائي، فكتاب النسائي المسمى والمعروف بسنن النسائي هذا أيضاً ليس أصل كتاب النسائي، إنما هو اختصار وتهذيب لأحد تلامذة الإمام النسائي وهو الإمام ابن السني، طلب منه أن يختصره وأن يجتبيه؛ فسمي المجتبى والمنتقى والمختصر لأصل كتاب الإمام النسائي وهو السنن الكبرى، فأصل كتاب النسائي فيه كثير من الأحاديث الموضوعة، بل فيه الحديث الموضوع، وقيل: إن ابن السني اجتهد ألا يقع في ذلك، ولكنه أيضاً وقع فيه، وروى أحاديث حكم عليها العلماء بعد ذلك بالوضع.

ونتوقف على مسند الإمام أحمد.

سبحانك اللهم وبحمدك، نشهد أن لا إله إلا أنت، نستغفرك ونتوب إليك.
জামে তিরমিযী বিষয়ক আলোচনা

ইমাম তিরমিযীর জামে সম্পর্কে আলোচনা: ইমাম তিরমিযী যখন তাঁর কিতাবের নাম 'আস-সহীহ আল-জামে' রেখেছিলেন, তখন এই নামটির মধ্যে একটি উপকারিতা ও একটি বিধান নিহিত ছিল। বিধানটি হলো কিতাবের অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে তার ওপর সহীহ হওয়ার হুকুম কার্যকর করা; কারণ তিনি একে 'সহীহ' বলেছেন। এর মাধ্যমে মনে হয় যেন তিনি তাঁর কিতাবে এটি শর্ত করেছিলেন যে এটি সহীহ হবে, অথবা তিনি এতে সহীহ ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করবেন না। কিন্তু পরবর্তীতে কিতাবের ভেতরের বিষয়বস্তু এই বিধানের পরিপন্থী হয়েছে; কারণ ইমাম তিরমিযী কখনো কোনো হাদীসের ক্ষেত্রে বলেন: 'হাসান সহীহ', কখনো বলেন: 'সহীহ', কখনো বলেন: 'হাসান', কখনো বলেন: 'হাসান সহীহ গরীব', কখনো বলেন: 'সহীহ গরীব', কখনো বলেন: 'হাসান গরীব', আবার কখনো 'সহীহ' বা 'হাসান' শব্দদ্বয় ছাড়াই শুধুমাত্র 'গরীব' বলেন; আর ইমাম তিরমিযীর নিকট এই পরিভাষাগুলোর প্রত্যেকটিরই সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।

এই সকল পরিভাষার সারকথা হলো: ইমাম তিরমিযী কোনো হাদীস বর্ণনা করার পর যদি বলেন: 'এটি গরীব হাদীস'; তবে এই পরিভাষা থেকে যা বোঝা যায় তা হলো তিনি এর দ্বারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদীসটির দুর্বলতা উদ্দেশ্য করেন, যা গবেষণালব্ধ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত।

সুতরাং ইমাম তিরমিযী নিজেই যদি তাঁর বর্ণিত কিছু হাদীসকে দুর্বল বলে গণ্য করেন—যা তাঁর 'গরীব' বলা দ্বারা উদ্দেশ্য—তাহলে তিনি কীভাবে তাঁর কিতাবের নাম 'সহীহ' রাখলেন? আর তিনি একে 'জামে' নামকরণ করেছেন কারণ এটি ইলমের সকল অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করে: যেমন আকীদা, বিধান, দণ্ডবিধি, ফিকহ, তাফসীর ও অন্যান্য বিষয়; এই কারণেই শাইখ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) যখন কিতাবটির টীকা রচনায় শ্রম ব্যয় করেন, তখন তিনি কিতাবের মলাটে এই নামের ব্যাপারে সমালোচনা করে বলেন: 'সুনানে তিরমিযী যা আস-সহীহ আল-জামে নামে পরিচিত'।

এটি ছিল শাইখ আহমদ শাকিরের পক্ষ থেকে এই কিতাবকে 'সহীহ' নামে অভিহিত করার প্রতি এক ধরণের অস্বীকৃতি। অনুরূপভাবে, সুনানে তিরমিযী সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা সুনানে নাসাঈ সম্পর্কেও বলা চলে। নাসাঈর যে কিতাবটি 'সুনানে নাসাঈ' নামে সুপরিচিত, সেটিও ইমাম নাসাঈর মূল কিতাব নয়; বরং এটি ইমাম নাসাঈর জনৈক ছাত্র ইমাম ইবনুস সুন্নী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপ। তিনি তাঁর নিকট কিতাবটি সংক্ষিপ্ত ও চয়ন করার অনুরোধ করেছিলেন; ফলে এটি ইমাম নাসাঈর মূল কিতাব 'আস-সুনানুল কুবরা'-এর সংক্ষিপ্তসার হিসেবে 'আল-মুজতাবা', 'আল-মুনতাকা' ও 'আল-মুখতাসার' নামে পরিচিতি পায়। ইমাম নাসাঈর মূল কিতাবে অনেক জাল হাদীস রয়েছে, এমনকি তাতে সরাসরি বানোয়াট হাদীসও বিদ্যমান। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনুস সুন্নী যাতে এমন হাদীস কিতাবে না আসে সে জন্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনিও তাতে পতিত হয়েছেন এবং এমন সব হাদীস বর্ণনা করেছেন যেগুলোকে ওলামায়ে কেরাম পরবর্তীতে জাল বলে হুকুম দিয়েছেন।

আমরা ইমাম আহমদের মুসনাদ পর্যন্ত এসে বিরতি দিচ্ছি।

হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি আপনার প্রশংসার সাথে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছেই তওবা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الباعث الحثيث   (حسن أبو الأشبال الزهيري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب الباعث الحثيث

المؤلف: أبو الأشبال حسن الزهيري آل مندوه المنصوري المصري

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

আল-বায়িছুল হাসীস কিতাবের ব্যাখ্যা   (হাসান আবু আল-আশবাল আয-যুহাইরী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-বায়িছুল হাসীস কিতাবের ব্যাখ্যা

লেখক: আবু আল-আশবাল হাসান আয-যুহাইরী আল-মানদূহ আল-মানসূরী আল-মিসরী

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৮টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الباعث الحثيث -‌‌ مسند أحمد والكتب الخمسة

يعتبر مسند الإمام أحمد رحمه الله من أهم دواوين السنة، فقد جمع فيه طائفة كبيرة من الأحاديث النبوية، وقد عني به العلماء عناية كبيرة، كما عني علماء المسلمين وغيرهم بالحديث النبوي عموماً، فوضعوا كتب الأطراف والمعاجم المفهرسة وغير ذلك من طرق العناية بالحديث.
আল-বাইসুল হাসিস গ্রন্থের ব্যাখ্যা -‌‌ মুসনাদে আহমাদ ও পাঁচটি কিতাব

ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মুসনাদকে সুন্নাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে তিনি নববী হাদিসের এক বিশাল ভাণ্ডার একত্রিত করেছেন। আলেম সমাজ এই গ্রন্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমনটি মুসলিম স্কলারগণ ও অন্যরা সাধারণভাবে হাদিসে নববীর প্রতি যত্নশীল হয়েছেন। ফলে তাঁরা 'আতরাফ' গ্রন্থসমূহ, বর্ণানুক্রমিক শব্দকোষ ও নির্ঘণ্ট এবং হাদিস সংরক্ষণের নানাবিধ পদ্ধতি প্রণয়ন করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الكلام على مسند بقي بن مخلد

نفس الموضوع والمنهج الذي سار عليه أحمد هو الذي سار عليه قبله بقي بن مخلد، لكن بقياً أسبق من أحمد.

ثم قام بعض الأفاضل من الأساتذة المتخصصين بالدراسة في كتاب سماه: مقدمة مسند بقي بن مخلد، عرف بالمسند وعدد أحاديثه ومنهج بقي بن مخلد في مسنده، وغير ذلك، وقد أخذ هذه المعلومات كلها من ترجمة بقي بن مخلد في كتب التراجم.
বাকী বিন মাখলাদের মুসনাদ বিষয়ক আলোচনা

ইমাম আহমাদ যে বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, বাকী বিন মাখলাদ তাঁর পূর্বেই সেই একই বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন; তবে বাকী ইমাম আহমাদ অপেক্ষা অগ্রবর্তী।

অতঃপর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জনৈক বিদগ্ধ ব্যক্তি একটি গ্রন্থে গবেষণা পরিচালনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: মুকাদ্দিমাতু মুসনাদি বাকী বিন মাখলাদ। সেখানে তিনি মুসনাদটির পরিচিতি, হাদিস সংখ্যা, মুসনাদে বাকী বিন মাখলাদের অনুসৃত পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি এই সকল তথ্য জীবনীগ্রন্থসমূহে বর্ণিত বাকী বিন মাখলাদের জীবনী থেকে সংগ্রহ করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الكلام على مسند أحمد بن حنبل

الكلام على مسند أحمد بن حنبل: مسند أحمد كتاب عظيم، وهو من أعظم دواوين السنة كما قلنا، يقول الإمام أحمد لابنه عبد الله: احتفظ بهذا المسند؛ فإنه سيكون للناس إماماً، فما اختلف فيه المسلمون فليرجعوا إليه، فإن لم يجدوا فيه حل قضية فليس بحجة، أو كما قال الإمام أحمد.

وأبو موسى المديني يقول: مسند أحمد صحيح، وكلام أبي موسى المديني في حكمه على مسند أحمد بأنه من الصحاح هذا كلام غير صحيح، والصحيح أن مسند الإمام أحمد فيه الصحيح والضعيف، بل والموضوع، وبعض الناس قالوا: إنه ليس فيه الموضوع وإنما الضعيف، أقروا بالضعيف؛ لأن الإمام أحمد قال: إن في المسند أحاديث ضعيفة، كما روى أحد السلف في فضل عسقلان ومرو وغيرها من البلاد.

لكن منعوا أن يكون في المسند حديث موضوع، والحافظ العراقي كذب هذه الدعوى، وجمع من المسند حوالي أربعين حديثاً موضوعاً أو يزيد قليلاً من الأحاديث التي حكم عليها العراقي ومن سبقه بالوضع، لكن الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله رد على الحافظ العراقي ونفى أن يكون في المسند حديث موضوع، ورد على هذه الأربعين التي انتقدها الحافظ العراقي حديثاً حديثاً، وسمى كتابه: (القول المسدد في الذب عن مسند الإمام أحمد)، وإذا قرأت هذا الكتاب فستجد أن الحافظ ابن حجر رحمه الله أحياناً يجامل الإمام أحمد، وأحياناً يكون صادقاً في الرد على العراقي، وهذا شأن أئمة العلم السابقين، خاصة الحافظ ابن حجر، كان في غاية الأدب مع شيوخه، حتى إنه انتقد على بعض أهل العلم في زمانه من مشايخه انتقادات بين أقرانه، ولم يبلغ هذا الانتقاد مشايخه، فلما طلب منه أن يبرز هذه الانتقادات التي في كتب أشياخه رفض وقال: أبتغي بذلك طيب خاطرهم، وليس في هذا منافاة لمراد العلم، فإنه قد أفرد ذلك بعد وفاتهم، بل بعد وفاته هو طبع ذلك النقد.

الشاهد من ذلك: أن الإمام ابن حجر قد ذب ودافع عن الإمام أحمد إيراده الحديث الموضوع في كتابه (القول المسدد).

وأقول: أحياناً تشعر بأن الحافظ معه الحق، وأحياناً تشعر بأن الحافظ متساهل في جهة إثبات الحديث لا في جهة الذب، فهذه الأحاديث يصفو بعضها للحافظ ابن حجر في رده، ولا يصفو له البعض الآخر.

والشاهد من ذلك: أن المسند فيه أحاديث موضوعة، قلَّت أم كثرت، وأن من قال: إن المسند فيه الحديث الصحيح والضعيف والموضوع، لا شك أن ذلك صدر عن سبر غور هذا الكتاب، وتتبع أسانيده وطرقه.

ثم إن الإمام أحمد قد فاته في كتابه هذا -مع أنه لا يوازيه في الكثرة والعدد مسند آخر- أحاديث كثيرة، رغم سعة هذا المسند، بل قد قيل: إنه لم يقع له جماعة من الصحابة الذين روي لهم في الصحيحين، يعني: بعض الناس قالوا: إن مسند الإمام أحمد رغم سعته وحسن سياقته وترتيبه قد فاته أحاديث صحابة كثيرين، وليست أحاديث مروية ولا أحاديث سنن، إنما هي أحاديث صحابة، ومسانيد صحابة.

ولما كان موضوع المسند أنه يفرد أحاديث كل صحابي على حدة قالوا: قد فاته أحاديث حوالي مائتي صحابي، وهذا القول مبالغ فيه جداً.

ولكن فاته أحاديث في غاية الشهرة، وكان ينبغي ألا تفوته، مثل حديث أم زرع، وهو من حديث عائشة عند البخاري ومسلم وهو من الشهرة بمكان، بحيث لم يكن يسع أحمد ترك هذا الحديث.

يقول الشيخ أحمد شاكر: إن الذي فات المسند من الأحاديث شيء قليل.

وهذا القول من الشيخ أحمد شاكر فيه مجازفة؛ لأن الإمام أحمد نفسه انتقى هذا المسند من بين سبعمائة وخمسين ألف حديث، فهذا المسند الذي بين أيدينا لا يكمل ثلاثين ألف حديث، فكيف يكون المسند -وهو ثلاثون ألف حديثاً منتقى من بين سبعمائة وخمسين ألف حديث- لم يفته إلا الشيء اليسير من الحديث؟! بل هذا المسند الذي بين أيدينا هو انتقاء لأعداد كثيرة من الأحاديث بلغت سبعمائة وخمسين ألف حديث، فهذا الانتقاء بالنسبة لأصله الموجود عند الإمام قليل جداً، فكيف بالأحاديث التي لم تقع لـ أحمد بن حنبل، ولم تكن في مسموعاته؟! ومسند الإمام أحمد خدم مرات قليلة، وأول خدمة عليه كانت من الشيخ أحمد شاكر رحمه الله، وهو من علماء الأزهر الأفاضل، بل هو فخر الأزهر، فليفخر الأزهر أن خرَّج مثل هذا الإمام العظيم الذي عمل قاضياً شرعياً على مدار عشرين عاماً في المحاكم المصرية.

وأبوه كان وكيلاً لمشيخة الأزهر، فهو من بيت علم، وهو حسني النسب، ينسب إلى
মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল সম্পর্কে আলোচনা

মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল সম্পর্কে আলোচনা: মুসনাদে আহমাদ একটি মহান গ্রন্থ, এবং যেমনটি আমরা বলেছি, এটি সুন্নাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন। ইমাম আহমাদ তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে বলেছিলেন: এই মুসনাদটি সংরক্ষণ করো; কারণ এটি মানুষের জন্য আদর্শ (ইমাম) হবে। কোনো বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তারা যেন এর দিকে ফিরে আসে; যদি তারা এখানে কোনো সমস্যার সমাধান না পায়, তবে সেটি প্রমাণযোগ্য হবে না; অথবা ইমাম আহমাদ যেমনটি বলেছিলেন।

আবু মুসা আল-মাদিনী বলেন: মুসনাদে আহমাদ সহীহ। আবু মুসা আল-মাদিনীর মুসনাদে আহমাদকে সহীহ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। সঠিক কথা হলো, ইমাম আহমাদের মুসনাদে সহীহ, যঈফ এমনকি মাওজু (জাল) হাদিসও রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এতে কোনো মাওজু হাদিস নেই, বরং কেবল যঈফ হাদিস আছে। তারা যঈফ হাদিসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন; কারণ ইমাম আহমাদ বলেছেন: মুসনাদে কিছু যঈফ হাদিস রয়েছে, যেমনটি কোনো এক সালাফ আসকালান, মারভ এবং অন্যান্য শহরের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু তারা মুসনাদে কোনো মাওজু হাদিস থাকাকে অস্বীকার করেছেন। হাফিজ আল-ইরাকি এই দাবিকে খণ্ডন করেছেন এবং মুসনাদ থেকে প্রায় চল্লিশটি বা তার কিছু বেশি মাওজু হাদিস সংগ্রহ করেছেন, যেগুলোকে ইরাকি এবং তাঁর পূর্ববর্তীগণ জাল বলে হুকুম দিয়েছিলেন। তবে হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) হাফিজ আল-ইরাকির জবাব দিয়েছেন এবং মুসনাদে কোনো মাওজু হাদিস থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাফিজ আল-ইরাকি যে চল্লিশটি হাদিসের সমালোচনা করেছিলেন, তিনি সেগুলোর প্রতিটি হাদিসের আলাদা আলাদা জবাব দিয়েছেন। তিনি তাঁর কিতাবটির নাম দিয়েছেন: 'আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফিজ জাব্বি আন মুসনাদিল ইমাম আহমাদ'। আপনি যদি এই কিতাবটি পড়েন, তবে দেখবেন যে হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো ইমাম আহমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, আবার কখনো ইরাকির জবাব দিতে গিয়ে সত্যনিষ্ঠ থেকেছেন। এটি পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে হাফিজ ইবনে হাজারের; তিনি তাঁর উস্তাদদের প্রতি অত্যন্ত আদব সম্পন্ন ছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িকদের কাছে তাঁর কিছু উস্তাদের ইলমি সমালোচনাও করেছেন, কিন্তু সেই সমালোচনা তাঁর উস্তাদদের কানে পৌঁছায়নি। যখন তাঁকে তাঁর উস্তাদদের কিতাবের এই সমালোচনাগুলো প্রকাশ করতে বলা হলো, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন: আমি এর মাধ্যমে তাদের মনের সন্তুষ্টি কামনা করি। এটি ইলমের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী নয়, কারণ তিনি তাদের মৃত্যুর পরেই তা পৃথক করেছিলেন, বরং তাঁর নিজের মৃত্যুর পরেই সেই সমালোচনাগুলো মুদ্রিত হয়েছিল।

মূল কথা হলো: ইমাম ইবনে হাজার ইমাম আহমাদের পক্ষ নিয়ে তাঁর কিতাবে মাওজু হাদিস সংকলনের অভিযোগের বিরুদ্ধে 'আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ' গ্রন্থে প্রতিরক্ষা করেছেন।

আমি বলি: কখনো কখনো আপনার মনে হবে হাফিজের সিদ্ধান্তই সঠিক, আবার কখনো মনে হবে হাফিজ হাদিস প্রমাণের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, প্রতিরক্ষার খাতিরে নয়। সুতরাং এই হাদিসগুলোর কয়েকটির ক্ষেত্রে হাফিজ ইবনে হাজারের জবাব যুৎসই হয়েছে, আবার কয়েকটির ক্ষেত্রে তা শক্তিশালী নয়।

সারকথা হলো: মুসনাদে জাল হাদিস রয়েছে, তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। আর যারা বলেছেন যে মুসনাদে সহীহ, যঈফ এবং মাওজু হাদিস রয়েছে, নিসন্দেহে তা এই কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং এর সনদ ও সূত্রগুলো অনুসরণের মাধ্যমেই বলা হয়েছে।

এরপর ইমাম আহমাদের এই কিতাবে—যদিও আধিক্য ও সংখ্যার দিক থেকে অন্য কোনো মুসনাদ এর সমতুল্য নয়—অনেক হাদিস বাদ পড়েছে, এই মুসনাদের বিশালতা সত্ত্বেও। বরং বলা হয়েছে যে, একদল সাহাবী যাদের হাদিস বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ইমাম আহমাদের মুসনাদে তাদের স্থান হয়নি। অর্থাৎ: কেউ কেউ বলেছেন, ইমাম আহমাদের মুসনাদ এত বিশাল এবং এর বিন্যাস ও বর্ণনাভঙ্গি এত সুন্দর হওয়া সত্ত্বেও অনেক সাহাবীর হাদিস এতে সংকলিত হতে পারেনি। আর সেগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বর্ণনা বা সাধারণ সুন্নাহ নয়, বরং সেগুলো ছিল নির্দিষ্ট সাহাবীদের হাদিস এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ মুসনাদ।

যেহেতু মুসনাদ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য হলো প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে আলাদাভাবে সংকলন করা, তাই উলামাগণ বলেছেন: প্রায় দুইশ জন সাহাবীর হাদিস এতে বাদ পড়েছে। তবে এই কথাটি অত্যন্ত অতিরঞ্জিত।

কিন্তু অত্যন্ত প্রসিদ্ধ কিছু হাদিস তাঁর সংকলনে আসা থেকে বাদ পড়েছে, যেগুলো বাদ পড়া উচিত ছিল না। যেমন উম্মে যার’র হাদিস; এটি বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি হাদিস। ইমাম আহমাদের মতো ব্যক্তিত্বের জন্য এই হাদিসটি বাদ পড়া স্বাভাবিক ছিল না।

শেখ আহমাদ শাকির বলেন: মুসনাদ থেকে যে পরিমাণ হাদিস বাদ পড়েছে তা খুবই সামান্য।

শেখ আহমাদ শাকিরের এই বক্তব্যে কিছুটা দুঃসাহস রয়েছে; কারণ ইমাম আহমাদ নিজেই সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিস থেকে এই মুসনাদটি নির্বাচন করেছেন। আমাদের হাতে থাকা এই মুসনাদে হাদিস সংখ্যা ত্রিশ হাজারও পূর্ণ হয় না। তাহলে সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিস থেকে বাছাইকৃত ত্রিশ হাজার হাদিসের এই মুসনাদ থেকে সামান্য কিছু হাদিস বাদ পড়েছে—এটি কীভাবে সম্ভব?! বরং আমাদের হাতে থাকা এই মুসনাদটি হচ্ছে সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হাদিসের বিশাল ভাণ্ডার থেকে একটি সংক্ষিপ্ত চয়ন। সুতরাং ইমামের কাছে থাকা মূল সংগ্রহের তুলনায় এই চয়নটিই অত্যন্ত নগণ্য। তাহলে যেসব হাদিস আহমাদ ইবনে হাম্বলের কাছে পৌঁছায়নি বা তাঁর শ্রুত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেগুলোর পরিমাণ কত বিশাল হবে?! ইমাম আহমাদের মুসনাদ নিয়ে খুব অল্পই কাজ হয়েছে। এর প্রথম উল্লেখযোগ্য খিদমত করেন শেখ আহমাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি আল-আজহারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম ছিলেন, বরং তিনি আজহারের গর্ব। আজহারের গর্বিত হওয়া উচিত এই কারণে যে, তারা এমন একজন মহান ইমাম তৈরি করেছে যিনি টানা বিশ বছর মিসরের আদালতগুলোতে শরিয়াহ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর পিতা আজহারের প্রধান শাইখের প্রতিনিধি ছিলেন। সুতরাং তিনি ইলমি পরিবারের সন্তান এবং তিনি হাসানী বংশোদ্ভূত, যা সম্পর্কিত হয়...
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌كتب أصول السنة

والعلماء اتفقوا منذ القديم على أن كتب أصول السنة هي كتب الستة الأصول، وهي: الصحيحان: البخاري ومسلم، وهو ما يعبر عن الحديث بأنه متفق عليه، فإذا قلت لك: حديث متفق عليه، فالمراد: رواه البخاري ومسلم، ولو قلت لك: حديث رواه الستة، فالمراد: البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه؛ هذا الذي يقال عنه: رواه الستة.

وإذا قيل: رواه أصحاب السنن؛ فاعلم أنهم: أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه، هذه الكتب الأربعة تسمى كتب السنن، وبإضافة الصحيحين إليها تسمى: الكتب الستة.

وأبو طاهر السِلفي -بكسر السين؛ لأن جده كان اسمه سِلفة- قال: الكتب خمسة: عد الستة ما عدا ابن ماجه، لماذا يا أبا طاهر لم تعد ابن ماجه؟ قال: لأنه لا يساوي أي أصل من الأصول؛ لأن كل ما انفرد به ابن ماجه عن بقية الكتب الخمسة إنما هو ضعيف أو منكر، وما رواه ابن ماجه وهو موجود في أحد الكتب الخمسة: البخاري ومسلم وأبي داود والترمذي والنسائي، فهو موجود فيها، سواء كان صحيحاً أو ضعيفاً، وعلى أي حال العبرة بما انفرد به ابن ماجه عن الكتب، ولما كان انفراد ابن ماجه عن بقية الكتب ضعيفاً ومنكراً لم يعد أبو طاهر هذا الكتاب من أصول الإسلام، وهذا رأي في غاية الوجاهة، والأوجه منه أن يعد سنن الدارمي من أصول الإسلام الستة؛ لأن سنن الدارمي أعلى وأنظف أسانيد وأصح متوناً مما في سنن ابن ماجه، بل الدارمي نفسه متقدم في الطبقة على ابن ماجه، وأعلى إسناداً منه؛ فكان الحق أن يعد كتاب سنن الدارمي من أصول الإسلام.

والمستشرقون عندما أتوا ليعملوا المعجم المفهرس لألفاظ الحديث اختاروا كتاب ابن ماجه.

وهذه الأحاديث التي انفرد بها الإمام ابن ماجه إن قيست بالنسبة لبقية الإفرادات فهي قليلة، لكن بالنسبة لحجم كتاب سنن ابن ماجه ليست قليلة، وقد جمعها الحافظ البوصيري في كتاب سماه: مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه، كما عمل ابن حجر الهيثمي رحمه الله زوائد على كثير من الكتب، فعمل زوائد مسند أحمد بن حنبل على الكتب الستة سماه: غاية المقصد في زوائد المسند، ومعنى كلمة (زوائد)، أي: الأحاديث التي رواها صاحب الكتاب زائدة عما في الكتب التي تسمى أصول الإسلام الستة، وهناك زوائد ابن حبان وزوائد أبي يعلى وهما من الزوائد التي جمعها الإمام ابن حجر الهيثمي.

إن السر في ذلك أن المستشرقين عندما جاءوا ليعملوا معجماً مفهرساً لألفاظ الحديث اختاروا البخاري ومسلماً وأبا داود والترمذي والنسائي وابن ماجه، ثم أدخلوا مع هذه الكتب الستة ثلاثة كتب أخرى: مسند أحمد بن حنبل، وموطأ مالك، وسنن الدارمي، وهنا يمكن أن تقول: أن المستشرقين هم الذين أدخلوا سنن الدارمي، فكان بالإمكان أخذ سنن الدارمي وترك سنن ابن ماجه.
সুন্নাহর উসূলে লিখিত কিতাবসমূহ

এবং আলেমগণ প্রাচীনকাল থেকেই একমত পোষণ করেছেন যে, সুন্নাহর উসূলে (মূল উৎস) লিখিত কিতাবসমূহ হলো ছয়টি মৌলিক কিতাব। সেগুলো হলো: সহীহাইন (দুই সহীহ): বুখারী ও মুসলিম। যখন কোনো হাদিসকে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' (ঐক্যমত্যপূর্ণ) বলা হয়, তখন এর অর্থ এটাই। তাই আমি যদি আপনাকে বলি: "হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি", তবে তার অর্থ হলো: এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর যদি আমি আপনাকে বলি: "হাদিসটি সিত্তা (ছয় জন) বর্ণনা করেছেন", তবে তার অর্থ হলো: বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ; এঁদের সম্পর্কেই বলা হয় যে, তাঁরা ছয় জন বর্ণনা করেছেন।

আর যখন বলা হয়: "সুনান গ্রন্থকারগণ (আসহাবুস সুনান) এটি বর্ণনা করেছেন", তবে জেনে রাখুন যে তাঁরা হলেন: আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ। এই চারটি কিতাবকে 'সুনান গ্রন্থ' বলা হয় এবং এর সাথে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) যুক্ত করলে সেগুলোকে 'আল-কুতুবুস সিত্তা' (ছয়টি কিতাব) বলা হয়।

এবং আবু তাহের আস-সিলাফী—'সীন' অক্ষরে কাসরা (ই-কার) যোগে, কারণ তাঁর দাদার নাম ছিল 'সিলাফাহ'—তিনি বলেছেন: মৌলিক কিতাব পাঁচটি। তিনি ইবনে মাজাহ ব্যতীত বাকি ছয়টিকে গণ্য করেছেন। হে আবু তাহের! আপনি কেন ইবনে মাজাহকে গণনা করেননি? তিনি বললেন: কারণ এটি অন্য কোনো মূল উৎসের (উসূল) সমপর্যায়ের নয়। কেননা ইবনে মাজাহ অন্য পাঁচটি কিতাব ছাড়া এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল (যঈফ) অথবা পরিত্যাজ্য (মুনকার)। আর ইবনে মাজাহ যা বর্ণনা করেছেন এবং তা অন্য পাঁচটি কিতাব—বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ—এর কোনো একটিতে বিদ্যমান আছে, তা সেই কিতাবগুলোতেই পাওয়া যায়, চাই তা সহীহ হোক বা যঈফ। যাই হোক, মূল ধর্তব্য বিষয় হলো ইবনে মাজাহ অন্য কিতাবগুলো থেকে এককভাবে কী বর্ণনা করেছেন। যেহেতু অন্যান্য কিতাবের বাইরে ইবনে মাজাহর একক বর্ণনাগুলো দুর্বল ও পরিত্যাজ্য, তাই আবু তাহের এই কিতাবটিকে ইসলামের উসূল বা মূল কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেননি। এটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত একটি মত। আর এর চেয়েও অধিক যুক্তিযুক্ত মত হলো 'সুনানে দারেমী'কে ইসলামের ছয়টি মূল কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করা; কারণ সুনানে দারেমীর সনদসমূহ সুনানে ইবনে মাজাহর তুলনায় অধিক উচ্চ পর্যায়ের ও পরিচ্ছন্ন এবং এর মতনসমূহ (মূল পাঠ) অধিক বিশুদ্ধ। এমনকি ইমাম দারেমী নিজেই স্তরের দিক থেকে ইবনে মাজাহর অগ্রজ এবং সনদের দিক থেকেও তাঁর চেয়ে উচ্চে অবস্থান করছেন। তাই ইনসাফপূর্ণ বিষয় হতো সুনানে দারেমীকে ইসলামের উসূল বা মূল কিতাব হিসেবে গণ্য করা।

প্রাচ্যবিদরা (মুস্তাশরিক) যখন হাদিসের শব্দাবলীর নির্ঘণ্ট গ্রন্থ 'আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি আলফাযিল হাদিস' তৈরি করতে আসলেন, তখন তাঁরা ইবনে মাজাহর কিতাবটিকে নির্বাচন করেছিলেন।

ইমাম ইবনে মাজাহ এককভাবে যেসব হাদিস বর্ণনা করেছেন, সেগুলো যদি অন্যান্য একক বর্ণনার সাথে তুলনা করা হয় তবে তা সংখ্যায় কম। কিন্তু সুনানে ইবনে মাজাহ কিতাবটির আয়তনের তুলনায় তা কম নয়। হাফেজ আল-বুসিরি এই বর্ণনাগুলো একটি কিতাবে একত্রিত করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'মিসবাহুজ জুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ'। যেমনটি ইবনে হাজার আল-হাইতামি (রাহিমাহুল্লাহ) অনেকগুলো কিতাবের 'যাওয়ায়েদ' (অতিরিক্ত হাদিস) নিয়ে কাজ করেছেন; তিনি কুতুবুস সিত্তা বা ছয়টি কিতাবের অতিরিক্ত হিসেবে মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বলের হাদিসগুলো নিয়ে যাওয়ায়েদ সংকলন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন: 'গায়াতুল মাকসাদ ফী যাওয়াইদিল মুসনাদ'। 'যাওয়ায়েদ' শব্দের অর্থ হলো: লেখক এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যা ইসলামের ছয়টি মূল কিতাব হিসেবে পরিচিত কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদিসগুলোর অতিরিক্ত। এছাড়া ইবনে হিব্বানের যাওয়ায়েদ এবং আবু ইয়া’লার যাওয়ায়েদ রয়েছে, যা ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামি সংগ্রহ করেছিলেন।

এর রহস্য হলো, প্রাচ্যবিদরা যখন হাদিসের শব্দাবলীর নির্ঘণ্ট গ্রন্থ তৈরি করতে এলেন, তখন তাঁরা বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহকে নির্বাচন করেন। এরপর তাঁরা এই ছয়টি কিতাবের সাথে আরও তিনটি কিতাব যুক্ত করেন: মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুয়াত্তা মালিক এবং সুনানে দারেমী। এখানে আপনি বলতে পারেন যে, প্রাচ্যবিদরাই সুনানে দারেমীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; তাই সুনানে দারেমীকে গ্রহণ করে সুনানে ইবনে মাজাহকে বাদ দেওয়া সম্ভব ছিল।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌معاجم الحديث النبوي وأطرافه

والحافظ المزي عمل فهرس أطراف لأصول الإسلام، هذا الفهرس هو استخدم أطراف الكتب الستة ومنها سنن ابن ماجه، وضم إليها كتاب الشمائل للترمذي، وعمل اليوم والليلة للإمام النسائي.

إذاً: الحافظ المزي استبعد كتاب سنن الدارمي، فاجتمع لسنن ابن ماجه معجم للألفاظ ومعجم لأطراف الأسانيد، أما معجم الألفاظ فهذا عمل المستشرقين في كتاب معجم ألفاظ الحديث، وأما أطراف الأسانيد فهي في كتاب يسمى: تحفة الأشراف في معرفة الأطراف للإمام المزي.

ومعنى الأطراف: ذكر أول المتون، مثلاً: عندما أقول: خرج لي الحديث الذي يقول: (علامة المنافق ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا اؤتمن خان)، ومعك كتاب أطراف المتون، فأنت عندما تبحث في هذا الكتاب الذي بين يديك ستبحث فيه عن حرف العين ثم اللام، ثم اللام ألف، هذا يسمى طرف المتن، أو يسمى طرف الحديث، والحديث له طرفان: طرف من جهة الإسناد، وطرف من جهة المتن، فهذا طرف المتن، وأما طرف الإسناد فهو الصحابي الذي يروي هذا الحديث، فلو أن أبا هريرة هو الذي روى هذا الحديث فأنت تذهب إلى كتاب تحفة الأشراف مباشرة، وتأتي بمسند أبي هريرة، ثم تنظر في سنن ابن ماجه من الراوي عن أبي هريرة، فإذا كان مثلاً سعيد بن أبي سعيد المقبري تبحث في حرف السين من الرواة عن أبي هريرة، وإذا كان الراوي عن سعيد الزهري تبحث في حرف الميم؛ لأن اسمه محمد بن شهاب الزهري، وإذا كان الذي روى عن الزهري حماد تبحث في حرف الحاء عن حماد وهكذا؛ حتى تصل إلى طرف الحديث من جهة السند.

وطرف الحديث من جهة المتن تبحث عنه عن طريق المعجم المفهرس أو عن طريق الفهارس، فهناك لكل كتاب فهارس، والفهارس هي الأطراف، فهذا طرف الترمذي، وهذا طرف ابن ماجه، وهذا طرف البخاري، ومعنى ذلك أنك تستطيع الحصول على أي حديث في أي كتاب من كتب السنة عن طريق هذا الكتاب الذي يسمى (أطرافاً) أو يسمى (فهرساً).

وأريد أن أقول: إن الفهارس غير المعجم المفهرس، فعندما أقول: أنا أريد أن أعمل فهرساً لسنن ابن ماجه؛ لأجل أن يسهل علي الرجوع إلى الحديث؛ لأن أول ما أعرف طرف الحديث يسهل علي الرجوع إليه، فهذا شيء والمعجم المفهرس شيء آخر.

فالمعجم المفهرس وظيفته: أنني أبحث عن الحديث من خلال كلمات الحديث، وليس من خلال طرف الحديث، بل من خلال كلمة في نفس الحديث، ولا يشترط أن تكون أول كلمة ولا الثانية ولا الثالثة، ولا آخر كلمة، وإنما أي كلمة في الحديث، ويحسن بك أن تتخير أغرب كلمة في الحديث، كما في الحديث الذي مثَّلنا به: (علامة المنافق ثلاث: إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا اؤتمن خان)، فعندما آتي وأبحث على هذا الحديث في المعجم المفهرس أبحث عن أطراف المتن، أما أطراف الأسانيد فليس للمعجم المفهرس أي علاقة بالأسانيد، والذي له علاقة بالأسانيد تحفة الأشراف، وعندما أبحث في تحفة الأشراف لا أستطيع أن أبحث فيه عن أطراف المتن وألفاظ المتن، إنما لابد أن يكون بين الإسناد؛ حتى أستطيع البحث فيه.

أما معجم ألفاظ الحديث أو المعجم المفهرس لألفاظ الحديث، فلم يقل: لأطراف الحديث أو مقدمات الحديث أو أوائل الأحاديث، وإنما قال: لألفاظ الحديث، وهذا اللفظ سواء كان في الأول أو في الوسط أو في الآخر، الأمر لا يهمنا، فمثل هذا الحديث الذي مثلنا به (علامة المنافق) أبحث عنه في عدة مواضع، أبحث عنه في مادة (علم) التي هي مأخوذة من علامات، ومادة (نفق) المأخوذة من المنافق، ومادة (ثلث) المأخوذة من ثلاث، ومادة (أمن) المأخوذة من اؤتمن، ومادة (خون) المأخوذة من خان، ومادة (حدث) المأخوذة من حدَّث، ومادة (كذب) وغير ذلك من المواد؛ لأنك تفرغ الكلمة وترجعها إلى أصلها الثلاثي، ثم تبحث عنها، ثم تذهب إلى المعجم المفهرس فستجد ضبط الكلمة التي تبحث عنها موجوداً، مثل كلمة حَدَثَ وحَدَّثَ وحُدِّثَ، وغير ذلك من الأوجه التي أتت بها الكلمة، فأنت ستبحث مثلاً عن حدَّث، فلابد أن تكون عارفاً كيف تبحث، فالأصل أنني سأرجع إلى أصل الكلمة وهو مادة: حَدَث، وتحت هذه المادة تأخذ الكلمة بجميع تصاريفها وضبطها، فنرجع إلى الحرف المطلوب الذي أريده في الحديث الذي أمامي، وأول ما تذهب إلى مادة حدث ستجد قول النبي صلى الله عليه وسلم: (وإذا حدث كذب)، ثم يقول: رواه البخاري في كتاب كذا وكذا، رواه مسلم في كتاب كذا وكذا، رواه أحمد في مسند كذا وكذا.

وموضوع المعجم المفهرس تسعة كتب: الكتب الستة: البخاري ومسلم و
হাদিসের অভিধান ও আতরাফসমূহ

হাফিজ আল-মিযযি ইসলামের মৌলিক গ্রন্থসমূহের জন্য একটি 'আতরাফ' নির্ঘণ্ট তৈরি করেন। এই নির্ঘণ্ট তৈরিতে তিনি কুতুবে সিত্তার (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ) আতরাফসমূহ ব্যবহার করেন, যার মধ্যে সুনানে ইবনে মাজাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া তিনি এর সাথে ইমাম তিরমিযির 'শামায়েল' এবং ইমাম নাসাঈর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থ দুটিও যুক্ত করেন।

সুতরাং, হাফিজ আল-মিযযি সুনানে দারেমি গ্রন্থটিকে বাদ দেন। ফলে সুনানে ইবনে মাজাহর জন্য শব্দের একটি অভিধান এবং সনদের প্রান্তিক অংশের (আতরাফ) একটি অভিধান বা নির্ঘণ্ট একত্রিত হয়। শব্দের অভিধানটি মূলত 'মু'জামু আলফাযিল হাদিস' গ্রন্থে প্রাচ্যবিদদের একটি কাজ। আর সনদের প্রান্তিক অংশের নির্ঘণ্টটি ইমাম আল-মিযযির 'তুহফাতুল আশরাফ ফি মা'রিফাতিল আতরাফ' নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

'আতরাফ' এর অর্থ হলো: হাদিসের মূল পাঠ বা মতনের শুরুর অংশ উল্লেখ করা। উদাহরণস্বরূপ, আমি যখন বলি: আমার জন্য সেই হাদিসটি বের করুন যাতে বলা হয়েছে: (মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে)। আপনার কাছে যদি 'আতরাফ আল-মুতুন' (মতন সমূহের প্রান্তিক অংশ) বিষয়ক কোনো গ্রন্থ থাকে, তবে আপনি যখন আপনার হাতে থাকা সেই কিতাবটিতে অনুসন্ধান করবেন, তখন আপনি প্রথমে 'আইন' বর্ণে খুঁজবেন, তারপর 'লাম', তারপর 'লাম-আলিফ' বর্ণে খুঁজবেন। একে 'তরফ আল-মতন' (মতনের প্রান্তিক অংশ) বা 'তরফ আল-হাদিস' বলা হয়। একটি হাদিসের দুটি প্রান্ত থাকে: একটি সনদের দিক থেকে প্রান্ত, অন্যটি মতনের দিক থেকে প্রান্ত। এটি হলো মতনের প্রান্ত। আর সনদের প্রান্ত হলো সেই সাহাবী যিনি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। যদি আবু হুরায়রা হাদিসটি বর্ণনা করে থাকেন, তবে আপনি সরাসরি 'তুহফাতুল আশরাফ' কিতাবে চলে যাবেন এবং মুসনাদে আবু হুরায়রা বের করবেন। এরপর দেখবেন সুনানে ইবনে মাজাহ-তে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারী কে। যদি বর্ণনাকারী উদাহরণস্বরূপ সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরি হন, তবে আপনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারীদের তালিকায় 'সিন' বর্ণে তাকে খুঁজবেন। যদি সাঈদ থেকে বর্ণনাকারী যুহরি হন, তবে আপনি 'মিম' বর্ণে খুঁজবেন; কারণ তার নাম মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-যুহরি। আর যুহরি থেকে বর্ণনাকারী যদি হাম্মাদ হন, তবে আপনি 'হা' বর্ণে হাম্মাদকে খুঁজবেন—এভাবেই আপনি সনদের দিক থেকে হাদিসের প্রান্তসীমায় পৌঁছাতে পারবেন।

আর মতনের দিক থেকে হাদিসের প্রান্ত বা অংশটি আপনি 'মু'জামুল মুফাহরাস' বা ইনডেক্স সমূহের মাধ্যমে তালাশ করবেন। প্রত্যেক কিতাবের জন্য আলাদা নির্ঘণ্ট থাকে, আর এই নির্ঘণ্টগুলোই হলো আতরাফ। যেমন এটি তিরমিযির আতরাফ, এটি ইবনে মাজাহর আতরাফ, এটি বুখারির আতরাফ। এর অর্থ হলো, আপনি সুন্নাহর যেকোনো কিতাবের যেকোনো হাদিস এই 'আতরাফ' বা 'নির্ঘণ্ট' নামক গ্রন্থের মাধ্যমে সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।

আমি একটি বিষয় বলতে চাই: সাধারণ নির্ঘণ্ট এবং 'মু'জামুল মুফাহরাস' এক জিনিস নয়। আমি যখন বলি যে, আমি সুনানে ইবনে মাজাহর জন্য একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করতে চাই যাতে হাদিস খুঁজে পাওয়া সহজ হয়; কারণ হাদিসের শুরুর অংশ (তরফ) জানতে পারলে তা খুঁজে বের করা সহজ হয়। তো এটি এক বিষয়, আর মু'জামুল মুফাহরাস সম্পূর্ণ অন্য বিষয়।

মু'জামুল মুফাহরাসের কাজ হলো: আমি হাদিসের শব্দের মাধ্যমে হাদিসটি তালাশ করব, হাদিসের শুরুর অংশের মাধ্যমে নয়; বরং হাদিসের ভেতরের কোনো শব্দের মাধ্যমে। সেই শব্দটি প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শব্দ হওয়া জরুরি নয়, এমনকি শেষ শব্দ হওয়াও প্রয়োজন নয়; বরং হাদিসের যেকোনো শব্দ হলেই হবে। এক্ষেত্রে হাদিসের সবচেয়ে বিরল বা অপ্রচলিত শব্দটি বেছে নেওয়া আপনার জন্য উত্তম। যেমন আমরা যে হাদিসটির উদাহরণ দিয়েছি: (মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে)। আমি যখন এই হাদিসটি মু'জামুল মুফাহরাসে তালাশ করতে আসব, তখন আমি মতনের অংশগুলো খুঁজব। তবে সনদের আতরাফ বা প্রান্তের সাথে মু'জামুল মুফাহরাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সনদের সাথে যেটির সম্পর্ক সেটি হলো 'তুহফাতুল আশরাফ'। আর আমি যখন 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থে খুঁজব, তখন আমি মতনের অংশ বা মতনের শব্দ দিয়ে খুঁজতে পারব না। বরং অনুসন্ধানের জন্য সেখানে অবশ্যই সনদের সাহায্য নিতে হবে।

হাদিসের শব্দকোষ বা 'মু'জামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদিস' সম্পর্কে এটি বলা হয়নি যে, এটি হাদিসের 'আতরাফ' বা সূচনার জন্য, বরং বলা হয়েছে এটি হাদিসের 'আলফায' বা শব্দাবলির জন্য। এই শব্দটি শুরুতে থাকুক, মাঝে থাকুক বা শেষে থাকুক—তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন আমরা যে হাদিসটির উদাহরণ দিয়েছি (মুনাফিকের আলামত), সেটি আমি কয়েকটি জায়গায় তালাশ করতে পারি। আমি 'আলামাত' শব্দ থেকে আগত 'আ-লাম-মিম' মূলে খুঁজতে পারি, 'মুনাফিক' থেকে আগত 'নুন-ফা-কাফ' মূলে, 'সালাছ' থেকে আগত 'সা-লাম-সা' মূলে, 'উ’তুমিমা' থেকে আগত 'আলিফ-মিম-নুন' মূলে, 'খানা' থেকে আগত 'খা-ওয়াও-নুন' মূলে এবং 'হাদ্দাসা' থেকে আগত 'হা-দাল-সা' ও 'কাযাবা' সহ অন্যান্য মূলে খুঁজতে পারি। কারণ আপনি শব্দটিকে বিশ্লেষণ করে তার তিন অক্ষরের মূলে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন এবং তারপর সেটি খুঁজবেন। এরপর আপনি যখন মু'জামুল মুফাহরাসে যাবেন, তখন আপনি যে শব্দটি খুঁজছেন তার যথাযথ উচ্চারণ বিন্যাস সেখানে পাবেন। যেমন 'হাদাসা', 'হাদ্দাসা', 'হুদ্দিসা' এবং শব্দটি যেসব রূপে এসেছে তার অন্যান্য রূপও পাবেন। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি 'হাদ্দাসা' শব্দটি খুঁজেন, তবে আপনাকে জানতে হবে কীভাবে খুঁজতে হয়। মূলত আমাকে শব্দটির মূল ধাতু বা 'মাদ্দাহ'-তে ফিরে যেতে হবে যা হলো 'হা-দাল-সা'। এই মূলের অধীনে আপনি শব্দটির সমস্ত রূপান্তর ও উচ্চারণ বিন্যাস পাবেন। এরপর আমরা আমাদের সামনে থাকা হাদিসের কাঙ্ক্ষিত শব্দটিতে ফিরে যাব। আপনি যখনই 'হা-দাল-সা' মূলে যাবেন, তখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি পাবেন: "এবং যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে"। এরপর সেখানে উল্লেখ থাকবে: এটি বুখারি অমুক অমুক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম অমুক অমুক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ তার মুসনাদে অমুক স্থানে বর্ণনা করেছেন।

মু'জামুল মুফাহরাস মূলত নয়টি কিতাবকে কেন্দ্র করে রচিত: কুতুবে সিত্তাহ অর্থাৎ বুখারি, মুসলিম এবং...
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الموقف من الاستفادة من كتاب المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي

ودع عنك من لم يكن له كبير ولا صغير باع في الحديث أن يقول لك: لا يحل اقتناء المعجم المفهرس في بيتك، ويشهد من أهل العلم على هذا الكلام، ولكنهم في الحقيقة من أهل العلم بالفقه والأصول، أما في الحديث فهو حاطب ليل، وكل إنسان تكلم في غير ميدانه أتى بالطامات.

وبناءً عليه فتلاميذه وأتباعه ومريدوه كل واحد فيهم قاطع المعجم المفهرس وحرقه، والمعجم المفهرس الآن ثمنه في السوق ثلاثمائة وسبعون جنيهاً، ولكن انظر إلى أين أدى الجهل! إلى أي نتيجة؟ كل واحد منهم ذهب وحرق المعجم المفهرس، لقيت طالباً منهم فقال لي: هل لديك المعجم المفهرس؟ فقلت له: نعم، فقال لي: لا يحل لك اقتناؤه، فقلت: لماذا؟ هل ورد في الكتاب أو السنة أنه حرام؟ قال: لا، شيخنا يقول: إنه حرام! الإنجيل نفسه اقتناؤه ليس حراماً، وأيهما أكثر شراً: الإنجيل أم المعجم المفهرس؟ فقال: هذا شر من الإنجيل! هو يحمل أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم؟! قال: شيخنا قال هذا! فهل شيخك معصوم لا يخطئ أبداً؟ فقال: على أي حال أنا قلت لك.

فقلت له: هل يمكن أن تقول لي: لماذا هو حرام؟ قال: أنا لا أدري، لكن شيخي هو الذي قال ذلك، ثم ذهب وسأل شيخه وأتى، ثم قال: إن الشيخ تتبع مادة هود ونصر الخاصة باليهود والنصارى، فوجد أنه لا توجد مادة في كتاب المعجم المفهرس اسمها: هود أو نصر، فقلت له: صحيح؟! قال: نعم، فقلت له: والله إن صح هذا عن شيخك؛ فأنا أوقن أنه لم يفهم كيف يفتح هذا المعجم.

وكان هذا الكلام في المعرض الدولي للكتاب، وبما أنه معرض دولي فأكيد سيكون الكتاب موجوداً، فبحثنا عن مادة (هود)، ومادة (نصر) فوجدناها، فقلت له: اليهود والنصارى موجودة بكثرة، هل أنت متأكد أن شيخك فتح الكتاب؟ فقال لي: يمكن أنه فيه نقص، فقلت: على أي حال هذا عمل علمي مبارك ينتفع منه المسلمون، والحكمة ضالة المؤمن أينما وجدها التمسها.

ولو أن يهودياً مرَّ على مسلم وهو يزني، وقال للمسلم: هذا حرام، ما موقف المسلم في هذه الحالة؟ هل يقول: أنت يهودي لا أريد أن آخذ منك نصيحة.

تعال إلى العصر الحديث الذي نحن فيه الآن، حيث أريد جمع السنة على الكمبيوتر، والدعوى هذه معظمكم سمعها.

وقصة جمع السنة على الكمبيوتر طويلة ملخصها أنني كنت أعمل مع مؤسسة الرسالة، مع الشيخ شعيب الأرنؤوط عام اثنين وثمانين وثلاثة وثمانين وأربعة وثمانين وخمسة وثمانين، واستمريت مع الشيخ شعيب في مؤسسة الرسالة لأنه يعتبر الممسك بمكتب التحقيق في المؤسسة، فـ أبو مروان الذي هو دعبل صاحب المؤسسة طلعت بيني وبينه معرفة، وأنا صاحبه في المدينة، أنا كنت أعمل معه أربع سنوات، كان يفكر قبل أن أولد أنه يجمع السنة على كمبيوتر، لكن كان فقيراً أيامها، ثم لما صار مليونيراً أعوزه ورده عن الفكرة الجهاز العلمي: طلاب الفقه والسنة، يعني: هو يحتاج ما لا يقل عن ألف عالم وطالب علم يشتركون في المشروع، ثم لما صار عنده المال والجهاز العلمي؛ لأنه ما شاء الله مؤسسة الرسالة الآن لها مكتب تحقيق في القاهرة في المغرب في الجزائر في تونس في السينمائية مكاتب، ويشرف عليها الشيخ عبد المحسن التركي مدير جامعة ابن سعود في الرياض، وأنا وجدته في الأردن، هو مكتب الشيخ سعيد في المركز الرئيس، المهم أنه لا ينقصه الجهاز العلمي، قلت له: أنت الآن عندك المال وعندك الجهاز؟ قال: لا، أنا يلزمني أن يشترك معي واحد خشية الفشل، طيب! ما هو وجه الفشل؟ قال: إن التقدم التكنولوجي في استمرار ودوام، فربما نجمع السنة على الكمبيوتر بصفة معينة، ثم يخرج العام القادم كمبيوتر آخر أحدث منه فينتهي مشروع الرسالة.

ثم جاء شخص غيره وقال: أنا كنت أعمل مع الريان وكان ممسكاً بمكتب التحقيق، وهذا الكلام كان سنة (1985 - 1987)، قابلني في المعرض وقال لي: أنا عرفت أنك تعمل مع الريان، وأريدك أن تتوفق في مسألة مشاركة الريان لي في المشروع.

فأنا كلمت أحمد توفيق فقال لي: أنا مستعد، رضوان دعبل قال: يكلف المشروع عشرة ملايين، أحمد توفيق قال: أنا أضع في حساب هذا المشروع عشرين مليوناً، أنا كنت فرحاً جداً، لا لأننا سنشترك في المشروع، ولا لأجل أن أخانا رضوان دعبل سيشترك في المشروع، أنا وأنتم المستفيدون، وقعوا العقد، وأنا كنت حريصاً، لكن انظر كيف أن السوق يظهر المكر والدهاء لو لم يكن لهم دين يردعهم عن ذلك.

اجتمعنا في مكان ما نحن الثلاثة، واتفقنا على المشروع، وبعدما اتفقنا ووصلنا إلى المراحل الأخيرة وجدت رضوان يتحول بزاوية (180ْ) ويخوف أحمد من المشروع، ومن الخسائر التي يمكن أن تلحق بالمشروع، حتى اعتذر أحمد في نفس المجلس في آخره، وقال: لا، أنا لست مستعداً أن أضيع أموال المسلمين، فقال رضوان: والله! للأسف الشديد -يا أخي- أنا كنت فعلاً أفتقد لجوارك، ثم لما خرج رضوان وسافر إلى
‘আল-মুজামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদিসিন নাবাবী’ কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে অবস্থান

হাদিস শাস্ত্রে সামান্যতম জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তিদের এ কথা আপনি পরিহার করুন যে: আপনার ঘরে ‘মুজামুল মুফাহরাস’ রাখা বৈধ নয়। ইলম অর্জনকারীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এ কথার সাক্ষ্য দেন, তবে বাস্তবে তারা ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের আলিম। কিন্তু হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তারা অন্ধকারে পথ চলা ব্যক্তির ন্যায়। আর যে ব্যক্তি নিজের বিচরণক্ষেত্র ছাড়া অন্য বিষয়ে কথা বলে, সে বিভ্রান্তিকর ও বড় ধরনের ভুল করে থাকে।

এরই ভিত্তিতে তার ছাত্র, অনুসারী ও মুরিদদের প্রত্যেকেই ‘মুজামুল মুফাহরাস’ বর্জন করেছে এবং তা পুড়িয়ে ফেলেছে। বর্তমানে বাজারে ‘মুজামুল মুফাহরাস’-এর দাম তিনশত সত্তর পাউন্ড। কিন্তু দেখুন অজ্ঞতা কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে! কী পরিণতি হয়েছে! তাদের প্রত্যেকে গিয়ে ‘মুজামুল মুফাহরাস’ পুড়িয়ে ফেলেছে। আমি তাদের এক ছাত্রের সাথে দেখা করলাম, সে আমাকে জিজ্ঞেস করল: আপনার কাছে কি ‘মুজামুল মুফাহরাস’ আছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। সে বলল: এটি নিজের কাছে রাখা আপনার জন্য বৈধ নয়। আমি বললাম: কেন? কুরআন বা সুন্নাহতে কি এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কিছু এসেছে? সে বলল: না, আমাদের শায়খ বলেন এটি হারাম! এমনকি ইঞ্জিল নিজের কাছে রাখা তো হারাম নয়; আর ইঞ্জিল এবং ‘মুজামুল মুফাহরাস’-এর মধ্যে কোনটি বেশি মন্দ? সে বলল: এটি (মুজাম) ইঞ্জিল থেকেও বেশি মন্দ! অথচ এটি কি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ ধারণ করে না?! সে বলল: আমাদের শায়খ এমনটিই বলেছেন! আমি বললাম: তোমার শায়খ কি নিষ্পাপ যে কখনো ভুল করেন না? সে বলল: যাই হোক, আমি আপনাকে বলে দিলাম।

তখন আমি তাকে বললাম: তুমি কি আমাকে বলতে পারো এটি কেন হারাম? সে বলল: আমি জানি না, তবে আমার শায়খ এটি বলেছেন। অতঃপর সে গিয়ে তার শায়খকে জিজ্ঞেস করে ফিরে এল এবং বলল: শায়খ ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে সংশ্লিষ্ট ‘হুদ’ ও ‘নাসর’ মূল শব্দগুলো খুঁজেছিলেন, কিন্তু তিনি ‘মুজামুল মুফাহরাস’ কিতাবে ‘হুদ’ বা ‘নাসর’ নামে কোনো ভুক্তি বা মূল শব্দ পাননি। আমি বললাম: সত্যিই কি তাই?! সে বলল: হ্যাঁ। আমি তাকে বললাম: আল্লাহর কসম, যদি তোমার শায়খ থেকে এটিই সঠিক বর্ণনা হয়, তবে আমি নিশ্চিত যে তিনি এই মুজামটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা-ই বোঝেননি।

এই কথাগুলো হচ্ছিল আন্তর্জাতিক বইমেলায়। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক মেলা, তাই অবশ্যই কিতাবটি সেখানে থাকবে। ফলে আমরা ‘হুদ’ ও ‘নাসর’ মূল শব্দগুলো খুঁজলাম এবং সেগুলো পেয়ে গেলাম। আমি তাকে বললাম: ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান শব্দগুলো তো এখানে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। তুমি কি নিশ্চিত যে তোমার শায়খ কিতাবটি খুলেছিলেন? সে আমাকে বলল: হতে পারে এতে কোনো অসম্পূর্ণতা আছে। আমি বললাম: যাই হোক, এটি একটি বরকতময় জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ যা থেকে মুসলমানরা উপকৃত হচ্ছে। আর প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পাবে সেখান থেকেই তা গ্রহণ করবে।

আর যদি একজন ইয়াহুদি কোনো মুসলমানকে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় অতিক্রম করে এবং তাকে বলে: এটি হারাম, তবে সে ক্ষেত্রে মুসলমানের অবস্থান কী হবে? সে কি বলবে: তুমি ইয়াহুদি, তাই আমি তোমার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে চাই না?

এবার বর্তমান আধুনিক যুগে আসা যাক যেখানে আমরা এখন আছি, যখন কম্পিউটারে সুন্নাহ সংকলন করার ইচ্ছা করা হয়েছিল; এই আহ্বানের কথা আপনাদের অধিকাংশই শুনেছেন।

কম্পিউটারে সুন্নাহ সংকলনের ঘটনাটি দীর্ঘ, যার সারসংক্ষেপ হলো: আমি বিরাশি, তিরাশি, চুরাশি ও পঁচাশি সালে শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউতের সাথে ‘মুআসসাসাতুর রিসালাহ’-তে কাজ করছিলাম। আমি শায়খ শুয়াইবের সাথে সেই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলাম কারণ তাকে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা (তাহকিক) বিভাগের প্রধান বিবেচনা করা হতো। প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু মারওয়ান দুয়াবলের সাথে আমার পরিচয় গড়ে ওঠে। আমি মদিনায় তার সাথে ছিলাম এবং চার বছর তার সাথে কাজ করেছি। আমার জন্মের আগেই তিনি কম্পিউটারে সুন্নাহ সংকলনের কথা ভাবছিলেন, কিন্তু সে সময় তিনি অভাবী ছিলেন। পরবর্তীতে যখন তিনি বিত্তবান হলেন, তখন দক্ষ জনবল অর্থাৎ ফিকহ ও সুন্নাহর যোগ্য শিক্ষার্থীর অভাব তাকে এই চিন্তা থেকে পিছিয়ে দেয়। কারণ এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য তার অন্তত এক হাজার আলিম ও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ছিল। এরপর যখন তার কাছে অর্থ ও দক্ষ জনবল উভয়ই সংগৃহীত হলো; কারণ মাশাআল্লাহ ‘মুআসসাসাতুর রিসালাহ’-র এখন কায়রো, মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়াতে গবেষণা অফিস রয়েছে। আর এগুলো তত্ত্বাবধান করেন রিয়াদের ইবনে সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক শায়খ আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি। আমি তাকে জর্ডানে পেয়েছিলাম, সেটি ছিল প্রধান কেন্দ্রের শায়খ সাঈদের অফিস। মূল কথা হলো, তার এখন জনবলের কোনো অভাব নেই। আমি তাকে বললাম: এখন তো আপনার কাছে অর্থ এবং জনবল উভয়ই আছে? তিনি বললেন: না, ব্যর্থতার ভয়ে আমার সাথে অন্য কারো অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। আমি বললাম: ঠিক আছে! ব্যর্থতার কারণ কী হতে পারে? তিনি বললেন: প্রযুক্তিগত উন্নতি প্রতিনিয়ত চলমান, তাই হয়তো আমরা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কম্পিউটারে সুন্নাহ সংকলন করব, আর আগামী বছর আরও আধুনিক কম্পিউটার বের হবে যার ফলে এই রিসালাহ প্রজেক্টটি সেকেলে হয়ে যাবে।

এরপর অন্য একজন ব্যক্তি এলেন এবং বললেন: আমি রায়য়ানের সাথে কাজ করছিলাম এবং সে গবেষণা অফিসের দায়িত্বে ছিল। এই কথাগুলো ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মাঝের। মেলায় তার সাথে আমার দেখা হলো এবং সে আমাকে বলল: আমি জানতে পেরেছি আপনি রায়য়ানের সাথে কাজ করেন, আর আমি চাই প্রকল্পের বিষয়ে রায়য়ানের সাথে আমার অংশীদারিত্বের ব্যাপারে আপনি সফল মধ্যস্থতা করুন।

তখন আমি আহমদ তাওফিকের সাথে কথা বললাম এবং তিনি আমাকে বললেন: আমি প্রস্তুত। রিজওয়ান দুয়াবল বললেন: এই প্রকল্পে দশ মিলিয়ন খরচ হবে। আহমদ তাওফিক বললেন: আমি এই প্রকল্পের জন্য বিশ মিলিয়ন রাখব। আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম, আমরা প্রকল্পে অংশ নেব বলে নয় কিংবা আমাদের ভাই রিজওয়ান দুয়াবল প্রকল্পে অংশ নেবেন বলে নয়; বরং আমি এবং আপনারা এর দ্বারা উপকৃত হতাম। তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন এবং আমি খুব আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দেখুন, দ্বীন যদি মানুষকে বিরত না রাখে তবে ব্যবসায়িক বাজার কীভাবে ধূর্ততা ও ছলনা প্রকাশ করে।

আমরা তিনজনে এক জায়গায় মিলিত হলাম এবং প্রকল্পের বিষয়ে একমত হলাম। আমরা একমত হওয়ার পর যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছলাম, তখন দেখলাম রিজওয়ান ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন এবং আহমদকে এই প্রকল্প ও এর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে ভয় দেখাতে লাগলেন। এমনকি সেই মজলিসের শেষ পর্যায়ে আহমদ অপারগতা প্রকাশ করলেন এবং বললেন: না, আমি মুসলমানদের অর্থ নষ্ট করতে প্রস্তুত নই। তখন রিজওয়ান বললেন: আল্লাহর কসম! হে ভাই, অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, আমি সত্যিই আপনার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হলাম। এরপর যখন রিজওয়ান বেরিয়ে গেলেন এবং সফর করলেন...
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تعقيب على كلام الحافظ أبي طاهر السلفي في صحة الأصول الخمسة

قال المؤلف رحمه الله تعالى: وهكذا قال الحافظ أبي طاهر السلفي في الأصول الخمسة -يعني: البخاري ومسلماً وسنن أبي داود والترمذي والنسائي -: إنه اتفق على صحتها علماء المشرق والمغرب.

وهذا تساهل منه؛ فلم يتفق على صحة هذه الكتب الخمسة أهل المشرق والمغرب، إنما القبول هو لما في كتابي البخاري ومسلم، أما بقية الكتب الخمسة -وهي: الترمذي وأبو داود والنسائي - فلم يتفق على صحتها أهل المشرق والمغرب كما قال أبو طاهر السلفي.

وقد أنكر عليه ابن الصلاح وغيره، قال ابن الصلاح: وهي مع ذلك أعلى رتبة من كتب المسانيد، يعني: لم يتفق عليها أهل المشرق والمغرب، لكن هذه الكتب الخمسة تبقى أعلى رتبة من كتب المسانيد، كمسند عبد بن حميد، ومسند بقي بن مخلد، ومسند أحمد بن حنبل والدارمي وأبي يعلى والبزار والحسن بن سفيان وإسحاق بن راهويه وعبيد الله بن موسى، وغيرهم، فتبقى هذه الكتب التي نسيمها كتب الإسلام أعلى رتبة وأنظف أسانيد وأصح أحاديث من هذه الكتب التي ذكرناها بعد ذلك؛ لأنهم يذكرون عن كل صحابي ما يقع لهم من حديثه، بغض النظر عن الصحة والضعف.

وقد ذكرنا أن البخاري كان له شرط، ومسلماً كان له شرط، وأبا داود كان له شرط، والترمذي كان له شرط، والنسائي كان له شرط، حتى ابن ماجه كان له شرط، وإن كان كل واحد لم يلتزم به أحياناً، إلا أن من اشترط يبقى أقوى في المعتبر ممن لم يشترط، بل كان بعض أصحاب السنن شرطه أشد من شرط البخاري، وفي هذا الكلام نزاع بين أهل العلم، لكن على أي حال بعض أهل العلم قالوا: إن النسائي كان له شرط في كتابه أشد من شرط البخاري ومسلم، وإن كان هذا الكلام فيه نظر، إلا أنه على أي حال قد قيل.
‌‘উসূল আল-খামসাহ’ (পাঁচটি মূল কিতাব)-এর বিশুদ্ধতা বিষয়ে হাফেয আবু তাহের আস-সিলাফির বক্তব্যের ওপর পর্যালোচনা

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: হাফেয আবু তাহের আস-সিলাফি ‘উসূল আল-খামসাহ’ অর্থাৎ—বুখারি, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ সম্পর্কে অনুরূপ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, পূর্ব ও পশ্চিমের আলেমগণ এগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা; কারণ পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীগণ এই পাঁচটি কিতাবের বিশুদ্ধতার ওপর একমত হননি। বরং কেবল বুখারি ও মুসলিমের কিতাব দুটির বিষয়বস্তুর ওপরই গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর বাকি কিতাবগুলো—অর্থাৎ তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসাঈ—সেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে পূর্ব ও পশ্চিমের লোকগণ একমত হননি, যেমনটি আবু তাহের আস-সিলাফি বলেছেন।

ইবনুস সালাহ এবং অন্যরা তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনুস সালাহ বলেন: এতদসত্ত্বেও এগুলো ‘মাসানিদ’ (মুসনাদ গ্রন্থসমূহ) থেকে উচ্চ মর্যাদার। অর্থাৎ: পূর্ব ও পশ্চিমের লোকগণ এগুলোর ওপর একমত হননি ঠিকই, তবে এই পাঁচটি কিতাব মুসনাদ গ্রন্থগুলোর তুলনায় উচ্চ মর্যাদাই বজায় রাখে; যেমন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ, মুসনাদে বাকি ইবনে মাখলাদ, মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল, আদ-দারেমি, আবু ইয়ালা, আল-বাজার, হাসান বিন সুফিয়ান, ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা এবং অন্যদের মুসনাদসমূহ। ফলে এই কিতাবগুলো—যাকে আমরা ইসলামের মূল কিতাবসমূহ বলি—তা পরবর্তীতে উল্লিখিত কিতাবগুলোর চেয়ে উচ্চ মর্যাদার, অধিক পরিচ্ছন্ন সনদবিশিষ্ট এবং অধিকতর সহিহ হাদিস সম্বলিত হিসেবেই বিবেচিত হয়। কারণ তাঁরা প্রত্যেক সাহাবি থেকে তাঁদের কাছে যা পৌঁছেছে তা-ই উল্লেখ করেছেন, সেটির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার দিকে লক্ষ্য না করেই।

আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ইমাম বুখারির একটি শর্ত ছিল, ইমাম মুসলিমের একটি শর্ত ছিল, আবু দাউদের একটি শর্ত ছিল, তিরমিজির একটি শর্ত ছিল, নাসাঈর একটি শর্ত ছিল, এমনকি ইবনে মাজাহরও একটি শর্ত ছিল। যদিও প্রত্যেকেই মাঝেমধ্যে তাঁদের শর্ত পুরোপুরি বজায় রাখতে পারেননি, তবুও যিনি শর্তারোপ করেছেন তিনি গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে তাঁর চেয়ে অধিক শক্তিশালী থাকেন যিনি কোনো শর্তারোপ করেননি। এমনকি কোনো কোনো সুনান গ্রন্থের সংকলকের শর্ত ইমাম বুখারির শর্তের চেয়েও কঠোর ছিল। এই বক্তব্যের বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে, তবে যাই হোক, কিছু আলেম বলেছেন যে: ইমাম নাসাঈর কিতাবের শর্ত ইমাম বুখারি ও মুসলিমের শর্তের চেয়েও কঠোর ছিল। যদিও এই বক্তব্যটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে, তবে এটি ব্যক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নাবলী
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الاجتهاد في طلب العلم

 

‌‌السؤال

من خلال حديثك تأخذ نفسي الهمة في طلب العلم والشد للرحلة لتحصيل العلم، ولكن أنى ذلك وأنا أريد الطلب وفقير، وما أذكر أنني أكملت قراءة كتاب، فماذا أفعل لأجل الاستفادة من هذه الهمة، وكيف أسير في خطوات للوصول إلى ما أطمع إليه؟

 

‌‌الجواب

كان الصحابة رضوان الله تعالى عليهم لا يجيبون في المسألة إلا إذا وقعت، فإن وقعت أعانهم الله عليها، وما كانوا يسألون: ماذا نفعل بعد أن نفعل كذا؟ وإذا وقع كذا فماذا نفعل؟ ولكنهم كانوا إذا وقعت الواقعة تكلموا فيها وتحدثوا فيها، وهذا باب جيد جداً معقود في كتاب أصول الاعتقاد للالكائي، فارجع إليه؛ فإنه في غاية الأهمية، حيث ذكر باباً في أن السلف لم يكونوا يفتون ولا يجيبون في مسائل لم تنزل، فإذا نزلت أعانهم الله عليها؛ هذه مسألة.

وأما هذه الهمة العالية فنسأل الله تعالى أن يحفظها عليك وأن يزيدها علينا وعليكم، فكان أهل العلم سابقاً لهم مراتب ولهم أصول في طلب العلم، فما كان الواحد منهم يرحل في طلب العلم إلا بعد أن يفرغ من علم أهل بلده، فإذا فرغ من علم أهل بلده وتمكن من الرحلة فذلك مستحب في حقه، وأنت إذا فرغت من طلب العلم هنا فلك أن ترحل بعد ذلك إلى أجلة مشايخنا فتأخذ عنهم إن كنت قادراً على ذلك.

ونسأل الله أن يرزقك البلغة التي تتبلغ بها في طلب العلم حتى تصير عضواً نافعاً في جماعة المسلمين.

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً.
ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম

 

প্রশ্ন

আপনার আলোচনার মাধ্যমে আমার মনে ইলম অন্বেষণের এবং ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব যখন আমি ইলম অন্বেষণ করতে চাই অথচ আমি দরিদ্র? আমার তো এমনটি মনে পড়ে না যে, আমি কোনোদিন একটি কিতাব পড়া সম্পন্ন করেছি। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগানোর জন্য আমি কী করতে পারি এবং আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমি কীভাবে অগ্রসর হব?

 

উত্তর

সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) কোনো বিষয়ে উত্তর দিতেন না যতক্ষণ না সেটি বাস্তবে সংঘটিত হতো। যখন সেটি সংঘটিত হতো, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সে বিষয়ে সাহায্য করতেন। তারা এমন প্রশ্ন করতেন না যে: আমরা অমুক কাজ করার পর কী করব? কিংবা যদি এমনটি ঘটে তবে আমরা কী করব? বরং যখন কোনো ঘটনা সংঘটিত হতো, তখন তারা সে বিষয়ে কথা বলতেন এবং আলোচনা করতেন। ইমাম লালকাঈ-র ‘উসুলুল ই’তিকাদ’ কিতাবে এ সম্পর্কে অত্যন্ত চমৎকার একটি অধ্যায় সংকলিত হয়েছে, আপনি সেটির দিকে রুজু করুন; কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তিনি একটি অধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বসূরিগণ (সালাফ) এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া বা উত্তর দিতেন না যা সংঘটিত হয়নি; অতঃপর যখন তা সংঘটিত হতো, আল্লাহ তাদেরকে সে বিষয়ে সাহায্য করতেন। এটি একটি বিষয়।

আর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে বলব—আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটি আপনার জন্য হেফাজত করেন এবং আমাদের ও আপনাদের জন্য এটি আরও বাড়িয়ে দেন। পূর্ববর্তী আলিমগণের ইলম অন্বেষণের বিভিন্ন স্তর ও মূলনীতি ছিল। তাদের কেউ ইলম অর্জনের জন্য ততক্ষণ সফর করতেন না যতক্ষণ না তিনি নিজ শহরের আলিমদের ইলম অর্জন সমাপ্ত করতেন। যখন তিনি নিজ শহরের ইলম সমাপ্ত করতেন এবং সফর করার সামর্থ্য লাভ করতেন, তখন তার ক্ষেত্রে সফর করা মুস্তাহাব ছিল। আপনি যখন এখানকার ইলম অন্বেষণ সমাপ্ত করবেন, তখন আমাদের শ্রেষ্ঠ শায়খদের কাছে সফর করতে পারেন এবং তাদের থেকে ইলম গ্রহণ করতে পারেন, যদি আপনি তাতে সক্ষম হন।

আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনাকে এমন পাথেয় দান করেন যার মাধ্যমে আপনি ইলম অন্বেষণের পথে অগ্রসর হতে পারেন এবং মুসলিম জামাআতের একজন উপকারী সদস্য হতে পারেন।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الباعث الحثيث   (حسن أبو الأشبال الزهيري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب الباعث الحثيث

المؤلف: أبو الأشبال حسن الزهيري آل مندوه المنصوري المصري

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

আল-বা'য়িছ আল-হাছিছ গ্রন্থের ব্যাখ্যা   (হাসান আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: আল-বা'য়িছ আল-হাছিছ গ্রন্থের ব্যাখ্যা

লেখক: আবু আল-আশবাল হাসান আল-জুহাইরি আল মানদুহ আল-মানসুরি আল-মিসরি

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

লিঙ্ক://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৮টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الباعث الحثيث -‌‌ تعاريف أخرى للحسن

الحسن وصف لنوع من الأحاديث المروية، وقع في حده خلاف كثير يرده ابن الصلاح إلى الحسن لذاته والحسن لغيره، وأول من أصل للحديث الحسن هو الإمام الترمذي، والناظر في سننه يستبين ذلك بجلاء.
আল-বাইসুল হাসিস কিতাবের ব্যাখ্যা - হাসানের অন্যান্য সংজ্ঞা

হাসান হলো বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি প্রকারের বৈশিষ্ট্য, যার সংজ্ঞায়নে অনেক মতভেদ ঘটেছে; যা ইবনুস সালাহ হাসান লি-জাতিহি এবং হাসান লি-গাইরিহি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। হাসান হাদিসের মূলনীতি সর্বপ্রথম ইমাম তিরমিজি প্রণয়ন করেছেন এবং তাঁর 'সুনান' কিতাব পর্যালোচনাকারীর কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مناقشة تعريف الإمام الخطابي للحديث الحسن

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.

وبعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

وبعد: ففي الدرس الماضي تعرضنا لشرح الحديث الحسن، وقلنا: إن الحديث الحسن هو مرحلة وسط بين الحديث الصحيح الذي لا خلاف على صحته، وبين الحديث الضعيف الذي لا خلاف على ضعفه.

وفي الدرس الماضي تعرضنا لتعريف الحافظ ابن حجر للحديث الحسن، وقلنا: إنه قال في النزهة عن الحديث الصحيح: هو ما اتصل سنده بنقل العدل تام الضبط عن مثله من غير شذوذ ولا علة، فإن خف الضبط فالحسن لذاته.

إذاً: تعريف الحديث الحسن لذاته عند الحافظ ابن حجر هو نفس تعريف الحديث الصحيح، إلا فقدان شرط واحد وهو تمام الضبط في حق الثقة الذي يروي الحديث الصحيح، فيخف هذا الضبط شيئاً يسيراً جداً؛ فينزل الراوي من الثقة إلى الصدوق، فإذا كان في الإسناد رجل واحد صدوق أو أكثر فيكون إسناده حسناً، لا لغيره وإنما لذاته؛ لأنه استجمع أسباب الحسن في ذاته هو، ولم يأت بها من خارج الإسناد، وإنما توافرت في ذات الإسناد.

وهناك تعريف للإمام الخطابي قال: هو ما عرف مخرجه، واشتهر رجاله، وعليه مدار أكثر الحديث، وهو الذي يقبله أكثر العلماء، ويستعمله عامة الفقهاء.

وهذا التعريف انتقد على الخطابي؛ لأننا نعرف أن أي تعريف اصطلاحي لابد أن يتوافر فيه شرطان: أن يكون جامعاً، وأن يكون مانعاً.

أي: جامعاً لأوصاف المعرف، ومانعاً من دخول أوصاف غيره فيه، فعندما أعرف الحديث الحسن لا يمكن أن أعرفه تعريفاً مانعاً يمكن أن ينطبق على الصحيح والحسن والضعيف، فإذا أردت أن أعرف الحديث الحسن فسأعرفه بتعريفات دقيقة جداً منضبطة تجمع كل شروط الحديث الحسن، وفي نفس الوقت تأبى أن يدخل في هذا التعريف غيره من أنواع الحديث، فلا يدخل في هذا التعريف الصحيح ولا الضعيف.

فقول الخطابي: (هو ما عرف مخرجه)، معنى (عرف مخرجه): يعني: صحة طريقه، أي: أن يأتيني من طريق صحيح لا خلاف فيه، أو من طرق أخرى تدل دلالة قوية على أن للحديث أصلاً، كأن يأتي مثلاً من وجه مرسلاً، ومن وجه آخر مرفوعاً ضعيفاً فيه ضعف يسير، ومن طريق ثالث فيه مدلس لم يصرح بالسماع، ومن طريق رابع فيه راوٍ مجهول وهكذا، فإذا جمعت لك هذه الطرق توقن أنت بأن هذا الحديث له أصل؛ لأنه عندما تختلف هذه الطرق كلها -وإن كان في كل طريق على حدة نوع ضعف- هذا يعطيني في النهاية انطباع أنه لا بد أن يكون لهذا الحديث أصل.

إذاً: اختلاف الطرق يؤدي أو يثمر أن للحديث أصلاً، وهذا مخرج الطريق أو مخرج الرواية.

وهذا الكلام يصدق على الحديث الضعيف، بل على الحديث الموضوع، فإذا أتاني الحديث الموضوع من غير طريق، وفي كل سند من هذه الأسانيد وضاع أو كذاب؛ فهذه الطرق لا يرتقي بها الحديث، بل هي قرينة ودلالة على أن هؤلاء الرواة اختلقوا هذا الحديث، وفي النهاية أقول: هذا الحديث معروف مخرجه بالكذب.

والحديث الصحيح إذا أتاني من غير طريق كل طريق ازداد به قوة، ربما تصل هذه الطرق إلى درجة التواتر؛ فيكون الحديث معروف المخرج يقيناً.

ففي هذه الحالة عندما أريد أن أعرف الحديث الحسن لا يصح أن أقول: هو ما عرف مخرجه؛ لأن هذه كلمة غير مضبوطة؛ لأن الحديث الحسن يشترك مع الضعيف ويشترك مع الصحيح في هذا القيد: هو ما عرف مخرجه؛ لأن الصحيح كذلك، والضعيف كذلك، إذاً: الحسن لم ينفرد بهذا التعريف.

وقوله: (واشتهر رجاله)، الصحيح كذلك، والضعيف كذلك، فالصحيح رجاله مشهورون بالتوثيق، والضعيف رجاله مشهورون بالضعف.

إذاً: هذا القيد كذلك غير مجد في تعريف هذا النوع من الحديث وهو الحديث الحسن.

وقوله: (وعليه مدار أكثر الحديث)، الكلام هذا أيضاً فيه نقاش، فلماذا لا يكون مدار أكثر الحديث على الصحيح؟ وهل هناك من أحصى السنة فعلم أن معظم الأحاديث الحسنة هي التي عليها مدار الفقه والعلم دون الأحاديث الصحيحة؟

 

‌‌الجواب

لا يوجد.

وقوله: (وهو الذي يقبله أكثر العلماء، ويستعمله عامة الفقهاء)، كل قيد من هذه القيود عليه انتقادات؛ لأن أكثر العلماء ومعظم الفقهاء اعتمدوا كذلك على الحديث الصحيح.

إذاً: في هذه الحالة نقول: إن تعريف الإمام الخطابي فيه نظر.
ইমাম খাত্তাবীর হাসান হাদিসের সংজ্ঞার পর্যালোচনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত, আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর: গত পাঠে আমরা হাসান হাদিসের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বলেছি যে: হাসান হাদিস হলো সহিহ হাদিস—যার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই—এবং যয়িফ হাদিস—যার দুর্বলতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই—এই দুটির মধ্যবর্তী একটি পর্যায়।

গত পাঠে আমরা হাফিজ ইবনে হাজারের হাসান হাদিসের সংজ্ঞাটি আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি যে, তিনি ‘নুজহাহ’ গ্রন্থে সহিহ হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: এটি এমন হাদিস যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন, যা ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ মুখস্থশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক অনুরূপ বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত, যেখানে কোনো বিচ্যুতি বা সূক্ষ্ম ত্রুটি নেই। এরপর যদি মুখস্থশক্তিতে কিছুটা ঘাটতি থাকে, তবে সেটি 'হাসান লি-যাতিহি'।

সুতরাং: হাফিজ ইবনে হাজারের নিকট 'হাসান লি-যাতিহি'র সংজ্ঞা সহিহ হাদিসের সংজ্ঞার মতোই, শুধু একটি শর্তের অনুপস্থিতি বাদে—আর তা হলো 'তাম্মুদ দব্ত' বা পূর্ণ মুখস্থশক্তি, যা সহিহ হাদিসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে থাকা আবশ্যক। হাসান হাদিসের ক্ষেত্রে এই মুখস্থশক্তি সামান্য কিছুটা কমে যায়; ফলে বর্ণনাকারী 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য) স্তর থেকে 'সদুক' (সত্যবাদী) স্তরে নেমে আসেন। যদি সনদে একজন বা একাধিক 'সদুক' ব্যক্তি থাকেন, তবে তার সনদ হাসান হবে; অন্য কিছুর কারণে নয়, বরং তার নিজস্ব গুণের কারণেই (লি-যাতিহি)। কারণ এটি হাসান হওয়ার উপকরণগুলো নিজের মাঝেই ধারণ করেছে, এটি সনদের বাইরে থেকে আসেনি, বরং সনদের ভেতরেই বিদ্যমান ছিল।

আর ইমাম খাত্তাবীর একটি সংজ্ঞা রয়েছে, তিনি বলেছেন: এটি এমন হাদিস যার উৎস জানা যায়, যার বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধ, এর ওপরই অধিকাংশ হাদিস আবর্তিত হয়, এটিই অধিকাংশ আলেম কবুল করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ ব্যবহার করেন।

খাত্তাবীর এই সংজ্ঞার সমালোচনা করা হয়েছে; কারণ আমরা জানি যে, যে কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞায় দুটি শর্ত থাকা আবশ্যক: তা হতে হবে 'জামে' (সংগ্রাহক) এবং 'মানি' (ব্যবর্তক)।

অর্থাৎ: সংজ্ঞায়িত বস্তুর সমস্ত গুণাবলী তাতে থাকতে হবে, এবং অন্য কোনো কিছুর গুণাবলী তাতে প্রবেশ করা থেকে বাধা দিতে হবে। যখন আমি হাসান হাদিসের সংজ্ঞা দেব, তখন এমন কোনো সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয় যা সহিহ, হাসান এবং যয়িফ—সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। আমি যদি হাসান হাদিসের সংজ্ঞা দিতে চাই, তবে আমাকে এমন সূক্ষ্ম ও সুনিয়ন্ত্রিত সংজ্ঞা দিতে হবে যা হাসান হাদিসের সব শর্তকে একত্র করবে এবং একই সাথে অন্য প্রকারের হাদিস সেই সংজ্ঞায় প্রবেশ করতে বাধা দেবে। ফলে সেই সংজ্ঞায় সহিহ বা যয়িফ হাদিস প্রবেশ করতে পারবে না।

খাত্তাবীর বক্তব্য: "যার উৎস জানা যায়", এর অর্থ হলো: তার সূত্রের বিশুদ্ধতা। অর্থাৎ এটি এমন কোনো বিশুদ্ধ সূত্রে আসবে যাতে কোনো দ্বিমত নেই, অথবা এমন সব সূত্রে আসবে যা জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে এই হাদিসটির একটি মূল ভিত্তি রয়েছে। যেমন ধরা যাক, একটি হাদিস একভাবে 'মুরসাল' হিসেবে এসেছে, অন্যভাবে দুর্বল 'মারফু' হিসেবে এসেছে যাতে সামান্য দুর্বলতা আছে, তৃতীয় একটি সূত্রে 'মুদাল্লিস' বর্ণনাকারী আছে যে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্ট করেনি, চতুর্থ সূত্রে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী আছে—এভাবে। যখন আপনি এই সমস্ত সূত্র একত্রিত করবেন, তখন আপনি নিশ্চিত হবেন যে এই হাদিসটির একটি ভিত্তি আছে। কারণ যদিও প্রতিটি সূত্র আলাদাভাবে দুর্বল, কিন্তু এই বিবিধ সূত্রগুলো আমাকে শেষ পর্যন্ত এই ধারণা দেয় যে অবশ্যই এই হাদিসটির একটি ভিত্তি থাকতে হবে।

সুতরাং: সূত্রের ভিন্নতা এই ফল দেয় যে হাদিসটির একটি ভিত্তি আছে, আর এটিই হলো সূত্রের উৎস বা বর্ণনার উৎস।

আর এই কথাটি যয়িফ হাদিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, এমনকি বানোয়াট হাদিসের ক্ষেত্রেও। যদি কোনো বানোয়াট হাদিস বিভিন্ন সূত্রে আমার কাছে আসে এবং প্রতিটি সনদে একজন করে জালকারী বা মিথ্যাবাদী থাকে, তবে এই সূত্রগুলোর মাধ্যমে হাদিসের মান উন্নত হয় না। বরং এগুলো এই বিষয়ের ইঙ্গিত যে, এই বর্ণনাকারীরাই এই হাদিসটি উদ্ভাবন করেছে। পরিশেষে আমি বলব: এই হাদিসটির উৎস মিথ্যার ওপর পরিচিত।

আবার সহিহ হাদিস যখন বিভিন্ন সূত্রে আমার কাছে আসে, তখন প্রতিটি সূত্রের মাধ্যমে তার শক্তি বৃদ্ধি পায়। কখনও কখনও এই সূত্রগুলো 'মুতাওয়াতির' পর্যায়ে পৌঁছে যায়; ফলে সেই হাদিসটি নিশ্চিতভাবে 'উৎস পরিচিত' হিসেবে গণ্য হয়।

এমতাবস্থায়, আমি যখন হাসান হাদিসের সংজ্ঞা দিতে চাইব, তখন "যার উৎস জানা যায়" বলা সঠিক হবে না; কারণ এটি একটি অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। হাসান হাদিস এই বৈশিষ্ট্যে যয়িফ ও সহিহ হাদিসের সাথে শরিক হয়ে যাচ্ছে, কারণ সহিহ হাদিসও তেমন এবং যয়িফ হাদিসও তেমন। সুতরাং, হাসান হাদিস এই সংজ্ঞার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারল না।

এবং তাঁর কথা: "যার বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধ"; এটি সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রেও সত্য এবং যয়িফ হাদিসের ক্ষেত্রেও সত্য। সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্যতার জন্য প্রসিদ্ধ, আর যয়িফ হাদিসের বর্ণনাকারীরা দুর্বলতার জন্য প্রসিদ্ধ।

সুতরাং: এই বৈশিষ্ট্যটিও হাসান হাদিসের সংজ্ঞায় কার্যকর নয়।

এবং তাঁর কথা: "এর ওপরই অধিকাংশ হাদিস আবর্তিত হয়"; এই কথাটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেন অধিকাংশ হাদিসের আবর্তন সহিহ হাদিসের ওপর হবে না? এমন কেউ কি আছেন যিনি সুন্নাহর পরিসংখ্যান করেছেন এবং জেনেছেন যে অধিকাংশ হাসান হাদিসের ওপরই ফিকহ ও ইলমের ভিত্তি, সহিহ হাদিসের ওপর নয়?

 

‌‌উত্তর

এমন কেউ নেই।

আর তাঁর কথা: "এটিই অধিকাংশ আলেম কবুল করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ ব্যবহার করেন"; এই প্রতিটি শর্তের ওপরই সমালোচনা রয়েছে; কারণ অধিকাংশ আলেম এবং অধিকাংশ ফকিহ একইভাবে সহিহ হাদিসের ওপরও নির্ভর করেছেন।

সুতরাং: এমতাবস্থায় আমরা বলি যে, ইমাম খাত্তাবীর এই সংজ্ঞায় পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مناقشة تعريف الإمام الترمذي للحديث الحسن

والإمام الترمذي له تعريف، وبعض الناس قالوا: الإمام الترمذي لم يعرف الحديث الحسن، وإنما عرف هذا من استقراء سننه، والصحيح أنه عرف الحسن بهذا التعريف الذي سنذكره الآن في نهاية كتابه السنن في الجزء المسمى بعلل الحديث.

قال الترمذي: (هو الحديث الذي لا يكون في إسناده من يتهم بالكذب)، يعني: هو ضعيف لكن ليس ضعفاً قوياً ولا شديداً، إنما ضعفه يسير، ولذلك عبر عنه هنا فقال: هو الحديث الذي يكون في إسناده راوٍ لم يتهم بالكذب، يعني: سيئ الحفظ أو لين أو مقبول أو مجهول الحال؛ فإن كل هذه العلل يسيرة تتقوى، لكن لو انفرد الراوي الذي حكم عليه أهل العلم بأنه مقبول، وقال عنه الحافظ في التقريب: مقبول -هذا مصطلح خاص بالحافظ ابن حجر؛ لأنه قال في المقدمة: وما قلت فيه: مقبول؛ فحين المتابعة وإلا فلين، يعني: إذا توبع- إذا كان هناك من يشهد له ففي هذه الحالة حديثه حسن، إنما إذا كان الحديث مداره على الراوي ولا يروى من وجه آخر، وليس له متابع ولا شاهد؛ فالحديث فيه لين، أي: ضعف، فهو هنا يقول: هو الحديث الذي لا يكون في إسناده من يتهم بالكذب، أما الضعف اليسير فيمكن.

قال: (ولا يكون شاذاً)، يعني: لا يكون هناك مخالفة، يعني: الراوي الضعيف إذا روى حديثاً معيناً يشترط ألا يكون هذا الراوي ضعيفاً جداً.

والشرط الثاني: ألا يخالفه غيره من الثقات؛ لأنه لو خالفه غيره من الثقات فسيكون حديثه شاذاً.

ثم قال: (ويروى من غير وجه نحو ذلك)، يعني: يأتي هذا الحديث الذي هو المتن بإسنادين أو ثلاثة أو أربعة أو خمسة أو عشرة، وإن كان في كل إسناد نفس نوع الضعف، يعني: لو أن الحديث روي بأربع طرق، فجئت أنظر في كل طريق فوجدت في كل إسناد راوياً مقبولاً، والمقبول هو من إذا توبع قبل حديثه، وإذا لم يتابع وانفرد برواية الحديث يرد حديثه؛ لأنه حينئذ لين، فهذا الحديث له أربع طرق، وفي كل طريق من هذه الطرق راوٍ مقبول، أو راوٍ لين، أو راوٍ سيئ الحفظ، كل هذه علل ترتقي، لكن انفراد كل راوٍ برواية حديث واحد على هذا النحو يكون ضعيفاً؛ لأن مدار الإسناد على هذا الراوي، وهذا الراوي فيه ضعف، فإذا انفرد ولم يتابعه عليه غيره ولم يكن لهذا الحديث شاهد من أحاديث أخر فهو في حالة انفراده يكون حديثاً ضعيفاً.

ففي هذه الحالة أقول: إن الإمام الترمذي يشترط ثلاثة شروط للحديث الحسن: الشرط الأول: ألا يكون الراوي ضعيفاً جداً، بل يكون الضعف يسيراً.

الثاني: ألا يخالفه أحد من الثقات، بمعنى: ألا يكون شاذاً.

والثالث: ويروى من غير وجه على هذا النحو، بأن يكون في كل إسناد راوٍ ضعيف ضعفاً يسيراً.
ইমাম তিরমিযী কর্তৃক হাদিসে হাসানের সংজ্ঞার পর্যালোচনা

ইমাম তিরমিযীর একটি সংজ্ঞা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, ইমাম তিরমিযী হাদিসে হাসানের কোনো সংজ্ঞা প্রদান করেননি, বরং এটি তাঁর সুনান গ্রন্থ পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়। তবে সঠিক মত হলো, তিনি হাসানের যে সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন তা আমরা এখন উল্লেখ করব; এটি তাঁর সুনান গ্রন্থের শেষে 'ইলালুল হাদিস' নামক অংশে বর্ণিত হয়েছে।

তিরমিযী বলেছেন: (এটি এমন হাদিস যার সনদে এমন কেউ নেই যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে)। অর্থাৎ: এটি দুর্বল, তবে এর দুর্বলতা প্রবল বা তীব্র নয়, বরং এর দুর্বলতা সামান্য। এ কারণেই তিনি এখানে এটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এটি এমন হাদিস যার সনদে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ নেই। অর্থাৎ: তিনি হয়তো দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, অথবা শিথিল, অথবা গ্রহণযোগ্য (মাকবুল), অথবা যার অবস্থা অজ্ঞাত; কারণ এই সমস্ত ত্রুটি সামান্য যা শক্তিশালী হওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু যে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ 'মাকবুল' হওয়ার রায় দিয়েছেন তিনি যদি একক হয়ে পড়েন - আর হাফিজ ইবনে হাজার 'তাকরিব' গ্রন্থে 'মাকবুল' শব্দটিকে একটি বিশেষ পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন; কারণ তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমি যার ব্যাপারে মাকবুল বলেছি; তা কেবল অনুসরণের (মুতাবায়াত) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্যথায় সে শিথিল" অর্থাৎ যখন তার সমর্থনে অন্য কোনো বর্ণনা থাকে। যদি এমন কেউ থাকে যে তার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করে, তবে এই অবস্থায় তার হাদিসটি হাসান। কিন্তু হাদিসটি যদি কেবল ওই বর্ণনাকারীর ওপরই আবর্তিত হয় এবং অন্য কোনো দিক থেকে বর্ণিত না হয়, আর তার কোনো অনুসরণ বা সাক্ষ্য না থাকে, তবে হাদিসটিতে শিথিলতা অর্থাৎ দুর্বলতা রয়েছে। সুতরাং তিনি এখানে বলছেন: এটি এমন হাদিস যার সনদে এমন কেউ নেই যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে, তবে সামান্য দুর্বলতা থাকতে পারে।

তিনি বলেছেন: (এবং তা শায বা ব্যতিক্রমী হবে না)। অর্থাৎ: সেখানে কোনো বিরোধিতা থাকবে না। তার অর্থ হলো, একজন দুর্বল বর্ণনাকারী যখন কোনো নির্দিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেন, তখন শর্ত হলো সেই বর্ণনাকারী যেন অত্যন্ত দুর্বল না হন।

দ্বিতীয় শর্ত: অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যেন তার বিরোধিতা না করেন; কারণ যদি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার বিরোধিতা করেন, তবে তার হাদিসটি শায বা ব্যতিক্রমী হিসেবে গণ্য হবে।

অতঃপর তিনি বলেছেন: (এবং তা অন্য কোনো দিক থেকেও অনুরূপভাবে বর্ণিত হতে হবে)। অর্থাৎ: মূল পাঠ সংবলিত এই হাদিসটি দুই, তিন, চার, পাঁচ বা দশটি সনদে বর্ণিত হবে। যদিও প্রতিটি সনদে একই ধরনের দুর্বলতা বিদ্যমান থাকে। যেমন: যদি হাদিসটি চারটি পথে বর্ণিত হয় এবং আমি প্রতিটি পথ পর্যবেক্ষণ করে প্রতিটি সনদে একজন 'মাকবুল' বর্ণনাকারী পাই—আর 'মাকবুল' হলো সেই ব্যক্তি যার হাদিস কেবল অনুসরণের মাধ্যমেই গৃহীত হয়, আর যদি সে অনুসৃত না হয়ে হাদিস বর্ণনায় একক হয়ে যায় তবে তার হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করা হয়; কারণ সেক্ষেত্রে সে শিথিল বা দুর্বল। এখন এই হাদিসটির চারটি পথ রয়েছে এবং এই পথগুলোর প্রতিটিতে একজন করে মাকবুল অথবা শিথিল অথবা দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী রয়েছেন। এই সমস্ত ত্রুটিই উন্নত হওয়ার যোগ্য। কিন্তু এককভাবে এই ধরণের প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বর্ণিত একটি হাদিস দুর্বল হবে; কারণ সনদের কেন্দ্রবিন্দু হলো ওই বর্ণনাকারী এবং ওই বর্ণনাকারীর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। সুতরাং সে যদি একক হয়ে যায় এবং অন্য কেউ তার অনুসরণ না করে আর অন্য কোনো হাদিস থেকে এই হাদিসের সপক্ষে কোনো সাক্ষ্য না থাকে, তবে একক হওয়ার অবস্থায় তার হাদিসটি দুর্বল হিসেবে গণ্য হবে।

এই অবস্থায় আমি বলব: ইমাম তিরমিযী হাদিসে হাসানের জন্য তিনটি শর্তারোপ করেছেন: প্রথম শর্ত: বর্ণনাকারী অত্যন্ত দুর্বল হবেন না, বরং দুর্বলতা হতে হবে সামান্য।

দ্বিতীয়: নির্ভরযোগ্যদের কেউ তার বিরোধিতা করবেন না, অর্থাৎ তা শায হবে না।

এবং তৃতীয়: এটি অন্য কোনো দিক থেকেও অনুরূপভাবে বর্ণিত হতে হবে, অর্থাৎ প্রতিটি সনদে সামান্য দুর্বলতাসম্পন্ন একজন বর্ণনাকারী থাকতে হবে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مناقشة تعريف الحافظ ابن حجر للحديث الحسن

والحافظ ابن حجر له تعريف، وهو: ما اتصل سنده بنقل العدل خفيف الضبط، وقلنا: إن الراوي الذي خف ضبطه في مقابل تام الضبط؛ لأنه هو نفسه عندما عرف الحديث الصحيح قال فيه: هو ما اتصل سنده بنقل العدل تام الضبط، وعندما عرف الحديث الحسن قال: هو ما اتصل سنده بنقل العدل خفيف الضبط.

فأنا عندي الآن راوٍ تام الضبط روايته صحيحة، وراوٍ خفيف الضبط، وهو ثقة مشابه للأول، لكن الفرق أن ضبطه ليس كضبط من روى الحديث الصحيح، هذا الراوي تنزل رتبة حديثه شيئاً يسيراً عن رواية الثقة؛ فيكون حديثه حسناً لذاته.

فإن نزل في الضبط أكثر من ذلك -كأن يكون سيئ الحفظ- فالحديث ضعيف، وسيئ الحفظ ضبطه اختل؛ لأن الترتيب كالتالي: تام الضبط خفيف الضبط سيئ الحفظ.

فتام الضبط هذا حديثه صحيح.

وخفيف الضبط حديثه حسن لذاته.

وسيئ الضبط عند الانفراد حديثه ضعيف.

ونحن الآن نتحدث عن الانفراد في ثلاث حالات: انفراد الثقة، وحديثه صحيح.

انفراد الصدوق، وحديثه حسن.

انفراد الضعيف، وحديثه ضعيف.

وعندما أقول: الحديث الصحيح لذاته: هو ما اتصل سنده بنقل العدل تام الضبط عن مثله من أوله إلى منتهاه من غير شذوذ ولا علة، هذا هو تعريف الحديث الصحيح، فإذا استجمع هذه الشروط يكون صحيحاً.

حديث آخر أتاني من طريق متصل السند، ورواته عدول، وأحد رواته خف ضبطه شيئاً يسيراً؛ فسينزل إلى درجة الحسن.

ونفس هذا الحديث أتى من طريقين أو ثلاثة أو أربعة طرق، فلما نظرت في كل الطرق وجدت في كل إسناد راوياً حكم عليه أهل العلم بأنه صدوق، ولم يقولوا عنه: ثقة، وإنما نزل عن هذه المرتبة قليلاً، ففي هذه الحالة أقول: هذا الحديث روي من أربع طرق أو من ثلاث طرق أو من طريقين، كل إسناد من هذه الأسانيد في ذاته حسن، ولو قلت في هذا الحديث في النهاية: هذا الحديث بمجموع طرقه حسن لذاته؛ فهذا الكلام غير صحيح، وتعدد الطرق في هذه الحالة لا قيمة له، فإذا كان كل إسناد لذاته حسناً؛ فإذا تعددت الطرق والأسانيد فلابد أن أرتقي قليلاً بالحديث، فأقول فيه: صحيح لغيره، يعني: قد استجمع أسباب الصحة والقوة من خارج كل إسناد، كأن يوجد شخص قوي شباب قد استجمع جميع أوصاف القوة والصحة البدنية في ذاته، ففي هذه الحالة سأقول: هذا إنسان قوي في ذاته، بمعنى: أنه قد استجمع أسباب القوة في ذاته هو، بخلاف أخيه الذي أصابته علة وآفة ووهن في بدنه، فالناس يرهبونه ويخافونه لا لأجله؛ لأنهم يعلمون أنه معلول ومريض وفيه ضعف، وإنما يخافون هذا الضعيف لأجل أخيه الذي يتوقعون منه البطش في أي وقت، ففي هذه الحالة سأقول: إن هذا الضعيف استجمع أسباب القوة من غيره.

إذاً: أسباب الصحة إذا اجتمعت في رواة الإسناد -أي: في ذوات رواة الإسناد- ففي هذه الحالة سأقول: هذا الحديث صحيح لذاته، يعني: لم يجمع أسباب الصحة من خارجه، وإنما أسباب الصحة الخمسة قد اجتمعت في ذات الإسناد، سواء في كيفية روايته بأنه ليس شاذاً ولا معللاً بالانقطاع ولا غير ذلك، أو رواته؛ فإنهم ثقات عدول ضابطون.

فإذا استجمع الإسناد أسباب القوة فسأقول فيه: هذا الإسناد قوي وصحيح في ذاته.

لو نزلنا قليلاً في ضبط الراوي فنقول: إن هذا الراوي ليس تام الضبط، وإنما خفيف الضبط، يعني: يمكن أن يكون ضبطه تأثر قليلاً بضياع كتبه بمرض أصابه بعمى أصابه في آخر عمره وكان قارئاً، فلما عمي اختل ضبطه نظراً لعدم اجتهاده ونشاطه في المراجعة والحفظ والضبط وغير ذلك من الأسباب التي هي آفات تصيب ابن آدم، ففي هذه الحالة سأقول في هذا: من يوم أن عمي وخف ضبطه بدأ يخلط في الأحاديث: يأتي بإسناد من هنا ويركبه في هذا، وهكذا، فنقول عن هذا الراوي: قد اختلط، فهذا الاختلاط علة وآفة، لكن لا يرد بها رواية الراوي مطلقاً، والاختلاط فيه تفصيل سنذكره.

ففي هذه الحالة سأقول: هذا الراوي اختل ضبطه شيئاً يسيراً؛ فينزل من مرتبة الثقة إلى مرتبة الصدوق، وأي إسناد فيه راوٍ صدوق يكون إسناداً حسناً لذاته.

فإذا قلت عنه: إسناد صحيح فلا فرق بينه وبين الثقة، فأي إسناد أقل الرواة فيه رتبته صدوق فينزل من مرتبة الصحيح إلى مرتبة الحسن لذاته.

ولو أتاني حديث في كل إسناد من أسانيده المتعددة راوٍ صدوق أو أكثر فكل إسناد من هذه الأسانيد على حدة حسن لذاته، فإذا تعددت الطرق على هذا النحو فيكون صحيحاً لغيره.

نأتي إلى الحديث الحسن لذاته وهو ما قلنا فيه: أن ينفرد به الراوي الصدوق، فننزل عن هذه الرتبة نجد أن الراوي ليس متهماً بالكذب، فإذا كان الراوي متهماً بالكذب فليس بينه وبين الكذب إلا مرتبة واحدة، وينزل ويسقط تماماً، ومهما أتى حديثه من طرق متعددة فلا يقبل؛ لأن الكذب علة قوية جداً لا يمكن أن يرتقي بها الحديث، وإن أتى من ألف طريق على هذا النحو، يعني: لو أتاني حديث من ألف طريق، في كل طريق راوٍ كذاب؛ فسأقول: هؤلاء تواطئوا واتفقوا على اختلاق هذا الحديث.

ففي هذه الحالة سأقول: الراوي لم يبلغ هذا المبلغ، بل هو بين خفة الضبط وبين الكذب.

وأريد أن أقول من هذا الكلام: إن ضعفه يس
হাফিজ ইবনু হাজার কর্তৃক হাদিসে হাসানের সংজ্ঞার পর্যালোচনা

হাফিজ ইবনু হাজারের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, তা হলো: যার সানাদ অবিচ্ছিন্ন এবং যা শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত। আমরা বলেছি যে, যার স্মৃতিশক্তি শিথিল বা হালকা, তা পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তির বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। কারণ তিনি নিজেই যখন সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন, তখন বলেছেন: যা পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী কর্তৃক অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত। আর যখন তিনি হাসান হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন, তখন বলেছেন: যা শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী কর্তৃক অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত।

সুতরাং এখন আমার কাছে একজন পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার বর্ণনা সহিহ। আর একজন শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি প্রথমজনের মতোই নির্ভরযোগ্য, তবে পার্থক্য হলো তার স্মৃতিশক্তি সহিহ হাদিস বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির মতো নয়। এই বর্ণনাকারীর হাদিসের মান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার চেয়ে সামান্য নিচে নেমে যায়; ফলে তার হাদিসটি স্বীয় গুণেই হাসান (হাসান লি-জাতিহি) হিসেবে গণ্য হয়।

যদি স্মৃতিশক্তির মান এর চেয়েও নিচে নেমে যায়—যেমন তার মুখস্থ শক্তি যদি মন্দ হয়—তবে সেই হাদিসটি দুর্বল (যয়িফ)। যার স্মৃতিশক্তি মন্দ তার সংরক্ষণ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায়। কারণ বিন্যাসটি নিম্নরূপ: পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তি, এরপর শিথিল স্মৃতিশক্তি, এরপর মন্দ স্মৃতিশক্তি।

অতএব, পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর হাদিস হলো সহিহ।

আর শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর হাদিস হলো হাসান লি-জাতিহি।

আর মন্দ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী যখন এককভাবে বর্ণনা করেন, তখন তার হাদিস যয়িফ।

আমরা এখন তিন অবস্থায় একক বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করছি: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা, যা সহিহ।

সত্যবাদী বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা, যা হাসান।

দুর্বল বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা, যা যয়িফ।

আর যখন আমি বলি: ‘সহিহ লি-জাতিহি’ হাদিস: তা হলো যার সানাদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী কর্তৃক স্বীয় সদৃশ বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত, যাতে কোনো বিচ্যুতি (শুজুজ) বা সূক্ষ্ম দোষ (ইল্লাত) নেই। এটিই হলো সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা। যদি এই শর্তগুলো পূর্ণ হয়, তবে তা সহিহ হবে।

অন্য একটি হাদিস আমার কাছে অবিচ্ছিন্ন সূত্রে পৌঁছাল যার বর্ণনাকারীগণ ন্যায়নিষ্ঠ, কিন্তু তাদের মধ্যে একজনের স্মৃতিশক্তি কিছুটা শিথিল; তখন এটি হাসান স্তরে নেমে যাবে।

এই একই হাদিস যদি দুই, তিন বা চারটি সূত্রে আসে এবং আমি প্রতিটি সূত্র যাচাই করে দেখি যে, প্রতিটি সূত্রে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাকে উলামায়ে কিরাম ‘সত্যবাদী’ (সাদুক) হিসেবে অভিহিত করেছেন, কিন্তু ‘নির্ভরযোগ্য’ (সিকাহ) বলেননি—বরং তিনি এই স্তরের কিছুটা নিচে—এমতাবস্থায় আমি বলব: এই হাদিসটি চার বা তিন অথবা দুই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এই সূত্রগুলোর প্রতিটি নিজস্বভাবে হাসান। কিন্তু যদি আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে পরিশেষে বলি: এই হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমষ্টিতে হাসান লি-জাতিহি, তবে তা সঠিক হবে না। এমতাবস্থায় একাধিক সূত্রের কোনো মূল্য থাকবে না। যদি প্রতিটি সূত্র পৃথকভাবে হাসান হয় এবং সূত্র ও সানাদ একাধিক হয়, তবে আমাকে অবশ্যই হাদিসটির মান কিছুটা বৃদ্ধি করতে হবে। তখন আমি একে বলব: ‘সহিহ লি-গয়রিহি’। অর্থাৎ, এটি প্রতিটি সূত্রের বাইরে থেকে সহিহ হওয়ার এবং শক্তিশালী হওয়ার কারণগুলো সংগ্রহ করেছে। যেমন একজন শক্তিশালী যুবক যার মাঝে শারীরিক শক্তি ও সুস্থতার যাবতীয় গুণাবলি বিদ্যমান, এমতাবস্থায় আমি বলব: এই ব্যক্তিটি স্বয়ং শক্তিশালী। অর্থাৎ তার মাঝেই শক্তির কারণগুলো বিদ্যমান। কিন্তু তার ভাইয়ের অবস্থা ভিন্ন, যার শরীরে রোগ-ব্যাধি বা দুর্বলতা রয়েছে। মানুষ তাকে ভয় পায় তার নিজের কারণে নয়; কারণ তারা জানে সে অসুস্থ ও দুর্বল। বরং তারা এই দুর্বল ব্যক্তিকে ভয় পায় তার ভাইয়ের কারণে, যার পক্ষ থেকে তারা যেকোনো সময় আক্রমণের আশঙ্কা করে। এমতাবস্থায় আমি বলব: এই দুর্বল ব্যক্তিটি অন্য কারো মাধ্যমে শক্তির উপকরণ লাভ করেছে।

সুতরাং, সহিহ হওয়ার কারণগুলো যদি সানাদের বর্ণনাকারীদের মাঝে—অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের সত্তার মাঝে—একত্রিত হয়, তবে এমতাবস্থায় আমি বলব: এই হাদিসটি সহিহ লি-জাতিহি। অর্থাৎ এটি বাইরে থেকে সহিহ হওয়ার কারণগুলো সংগ্রহ করেনি। বরং সহিহ হওয়ার পাঁচটি শর্ত এই সানাদের মাঝেই বিদ্যমান। তা বর্ণনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে হোক—যেমন এটি বিচ্যুত নয় এবং কোনো বিচ্ছিন্নতাজনিত বা অন্য কোনো দোষে দুষ্ট নয়—অথবা বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে হোক, কারণ তারা নির্ভরযোগ্য, ন্যায়নিষ্ঠ এবং স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন।

যদি কোনো সানাদ শক্তির কারণগুলো ধারণ করে, তবে আমি তার সম্পর্কে বলব: এই সানাদটি শক্তিশালী এবং স্বয়ং সহিহ।

আমরা যদি বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির মান থেকে কিছুটা নিচে নামি, তবে আমরা বলব: এই বর্ণনাকারী পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন নন, বরং শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। অর্থাৎ হতে পারে যে, তার কিতাব হারিয়ে যাওয়ার কারণে বা কোনো অসুস্থতার কারণে অথবা শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার স্মৃতিশক্তি কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। অথচ তিনি একজন পাঠক ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি অন্ধ হয়ে গেলেন, তখন তার পরিশ্রম, সক্রিয়তা, পুনরাবৃত্তি এবং মুখস্থ রাখার প্রচেষ্টায় ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তার সংরক্ষণ ক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটে। এগুলো সেই আপদসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এমতাবস্থায় আমি তার সম্পর্কে বলব: যেদিন থেকে তিনি অন্ধ হয়েছেন এবং তার স্মৃতিশক্তি শিথিল হয়েছে, সেদিন থেকে তিনি হাদিস ওলটপালট করতে শুরু করেছেন: তিনি এক সানাদকে অন্য সানাদের সাথে যুক্ত করে দিতেন। তাই আমরা এই বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলি: তিনি স্মৃতিবিভ্রাটে আক্রান্ত হয়েছেন। এই বিভ্রাট একটি দোষ এবং আপদ। তবে এর কারণে বর্ণনাকারীর বর্ণনা ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয় না। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে যা আমরা পরে উল্লেখ করব।

এমতাবস্থায় আমি বলব: এই বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তিতে সামান্য বিচ্যুতি ঘটেছে; ফলে তিনি নির্ভরযোগ্য স্তর থেকে সত্যবাদিতার স্তরে নেমে এসেছেন। আর যে সানাদে কোনো সত্যবাদী বর্ণনাকারী থাকেন, তা হাসান লি-জাতিহি সানাদ হিসেবে গণ্য হয়।

যদি আমি একে সহিহ সানাদ বলি, তবে এর এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না। সুতরাং যেকোনো সানাদ, যার সর্বনিম্ন স্তরের বর্ণনাকারী সত্যবাদী পর্যায়ের, তা সহিহ স্তর থেকে হাসান লি-জাতিহি স্তরে নেমে যায়।

যদি আমার কাছে এমন একটি হাদিস আসে যার একাধিক সূত্রের প্রতিটি সূত্রে একজন বা ততোধিক সত্যবাদী বর্ণনাকারী থাকেন, তবে এই সূত্রগুলোর প্রতিটি পৃথকভাবে হাসান লি-জাতিহি। আর যদি সূত্রগুলো এভাবে একাধিক হয়, তবে তা সহিহ লি-গয়রিহি হিসেবে গণ্য হয়।

এখন আমরা হাসান লি-জাতিহি হাদিস প্রসঙ্গে আসি যা সম্পর্কে আমরা বলেছি: যে হাদিস বর্ণনায় একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী একক হয়ে যান। আমরা যখন এই স্তর থেকে নিচে নামি, তখন দেখি যে বর্ণনাকারী মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নন। কারণ বর্ণনাকারী যদি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তার এবং ডাহা মিথ্যুকের মাঝে মাত্র একটি স্তরের ব্যবধান থাকে; সে তখন সম্পূর্ণভাবে নিচে পড়ে যায় এবং প্রত্যাখ্যাত হয়। তার হাদিস যত সূত্রেই আসুক না কেন, তা কবুল করা হবে না। কারণ মিথ্যাচার একটি অত্যন্ত বড় দোষ যা বিদ্যমান থাকলে হাদিসের মান উন্নত হওয়া সম্ভব নয়, চাই তা হাজারটি সূত্র দিয়ে বর্ণিত হোক না কেন। অর্থাৎ যদি একটি হাদিস আমার কাছে এক হাজার সূত্রে আসে এবং প্রতিটি সূত্রে একজন করে মিথ্যুক বর্ণনাকারী থাকে, তবে আমি বলব: এরা সবাই এই হাদিসটি জাল করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

এমতাবস্থায় আমি বলব: বর্ণনাকারী এই পর্যায়ে পৌঁছাননি, বরং তিনি শিথিল স্মৃতিশক্তি এবং মিথ্যাচারের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন। এই কথা থেকে আমি যা বলতে চাই তা হলো: তার দুর্বলতা যৎসামান্য...
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كلام الشيخ ابن الصلاح في الحديث الحسن وما قيل فيه

قال: أبو عمرو بن الصلاح: وقال بعض المتأخرين -مثل أبي الفرج بن الجوزي، والخطيب البغدادي - في تعريف الحديث الحسن: هو الحديث الذي فيه ضعف يسير محتمل، ويصلح العمل به.

وهذا الكلام مرفوض؛ لأن هذا الكلام لا يصدق إلا على الحديث الضعيف ضعفاً يسيراًَ، وهذا الكلام يحتاج إلى تفصيل، هل تقصد بقولك: الحديث الذي فيه ضعف يسير محتمل أنه يقبل؟ فكلمة يقبل لا بد لها من ضابط، فيمكن أن يقبل إذا توبع، ولا يقبل إذا انفرد.

إذاً: لا بد أن أفرق بين التعريفين من حيث انفراد الراوي، أو متابعته بالرواية.

فالراوي الذي فيه ضعف يسير إذا انفرد يكون حديثه ضعيفاً، فإذا أتى الحديث من طريق آخر فيه ضعف يسير يحتمل فيكون حديثاً حسناً لغيره.

إذاً: هذا التعريف يصدق على الضعيف ولا يصدق على الحسن، إلا إذا كان مقصده: ويروى من غير وجه نحو ذلك.

ثم قال الشيخ ابن الصلاح: وهذا كله مستبهم لا يشفي الغليل، أي: أن هذه التعريفات التي مرت كلها لا تصدق على وضع حد جامع مانع للحديث الحسن، فكل تعريف من هذه التعريفات عليه اعتراض، فهي لا تشفي غليلاً ولا تروي ضمآناً.
হাসান হাদীস এবং এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সে বিষয়ে শায়খ ইবনুল সালাহ-এর বক্তব্য

আবু আমর ইবনুল সালাহ বলেছেন: পরবর্তী যুগের একদল আলিম—যেমন আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী এবং খতীব আল-বাগদাদী—হাসান হাদীসের সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি এমন হাদীস যাতে সামান্য ও গ্রহণযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে এবং যার ওপর আমল করা বৈধ।

এই বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এই কথাটি কেবল সামান্য দুর্বল হাদীসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। আর এই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। আপনার কথা—যে হাদীসে সামান্য ও গ্রহণযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে—দ্বারা কি আপনি এটি উদ্দেশ্য নিচ্ছেন যে তা গ্রহণযোগ্য? 'গ্রহণযোগ্য' শব্দের জন্য অবশ্যই একটি মানদণ্ড থাকতে হবে; ফলে এটি যদি অন্য কোনো বর্ণনার মাধ্যমে সমর্থিত (মুতাবাআত) হয় তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আর যদি এককভাবে বর্ণিত হয় তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

অতএব, রাবীর একক বর্ণনা বা বর্ণনার ক্ষেত্রে তার সমর্থনের (মুতাবাআত) দিক থেকে উভয় সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য।

সুতরাং যে রাবীর মধ্যে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে, তিনি যদি এককভাবে বর্ণনা করেন তবে তার হাদীসটি যয়ীফ (দুর্বল) হবে। আর যদি হাদীসটি অন্য এমন কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয় যাতে সামান্য ও গ্রহণযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে, তবে সেটি 'হাসান লি-গাইরিহি' হবে।

সুতরাং এই সংজ্ঞাটি যয়ীফ বা দুর্বল হাদীসের ক্ষেত্রে খাটে কিন্তু হাসান হাদীসের ক্ষেত্রে খাটে না; যদি না তার উদ্দেশ্য এটি হয় যে: অনুরূপ অন্য কোনো সূত্র থেকেও তা বর্ণিত হয়েছে।

অতপর শায়খ ইবনুল সালাহ বলেছেন: আর এর পুরোটাই অস্পষ্ট, যা পিপাসা মেটায় না (অর্থাৎ সন্তোষজনক নয়)। এর অর্থ হলো: হাসান হাদীসের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল (জামে-মানে) সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতীতে বর্ণিত এই সংজ্ঞাগুলোর কোনোটিই যথার্থ নয়। কারণ এই সংজ্ঞাগুলোর প্রত্যেকটির বিরুদ্ধেই আপত্তি রয়েছে, তাই এগুলো জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে না এবং পিপাসার্তকে তৃপ্ত করে না।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تقسيم ابن الصلاح للحسن إلى حسن لغيره وحسن لذاته

قال: وليس فيما ذكره الترمذي ولا الخطابي ما يميز الحسن عن الصحيح، وقد أمعنت النظر في ذلك والبحث فتنقح لي واتضح أن الحديث الحسن قسمان: أحدهما: الحديث الذي لا يخلو رجال إسناده من مستور لم تتحقق أهليته، غير أنه ليس مغفلاً كثير الخطأ، ولا متهماً بالكذب، ويكون متن الحديث قد روي مثله أو نحوه من وجه آخر؛ فيخرج بذلك عن كونه شاذاً أو منكراً.

بعد أن نظر في تعريفات العلماء المتعددة التي فاقت العشرين تعريفاً للحديث الحسن وجد أن مدار هذه التعريفات كلها على نوعين: حسن لغيره؛ وهو في أصله ضعيف.

وحسن لذاته؛ وهو الذي نزل شيئاً يسيراً عن مرتبة الصحيح.

فهو يعرف الحديث الحسن لغيره فيقول: هو الذي لا يخلو رجال إسناده من مستور لم تتحقق أهليته، وضرب مثالاً للضعف اليسير بالمستور، وأنتم تعرفون أن المستور هو الذي يعبر عنه أهل العلم بالمجهول: إما جهالة عين، أو جهالة حال، إما شخص الراوي غير معروف، وإما هو معروف ولكن لم يزكه ولم يجرحه أحد، لكنه من حيث الاسم والنسب والكنية والبلد واللقب وغير ذلك معروف، فعندما نأتي نبحث عن أقوال النقاد فيه بالجرح أو التعديل فلا نجد عنه شيئاً، هو بهذا الحال مجهول، حاله مستور عنا، لا نعرفه، ففي هذه الحالة يستوي أن يكون مستوراً أو مجهولاً.

فهو يقول: الحديث الحسن: هو ما كان في إسناده راوٍ مستور لم تتحقق أهليته، يعني: لم يتأكد من عدالته، ولا من جرحه، فأهليته بالنسبة لنا غير معروفة، ويستوي في ذلك أن يقول الراوي: حدثني رجل قال: قال أبو هريرة رضي الله عنه: قال النبي عليه الصلاة والسلام، أو يقول: حدثني رجل من أهل البصرة، فحتى لو قال: حدثني أهل البصرة كلهم، نقول له: لابد أن تحدد، ولابد أن تذكر اسمه، فإن ذكر لنا اسماً غير معروف فإن الاثنين سواء، هذا ضعيف وهذا ضعيف، إما أنه أخفى عنا عين الرجل، وإما أنه ذكر عينه ولكن خفي علينا حاله، بمعنى: أنا لا نعلم حاله، أهو ثقة أم ضعيف؟ لأنه ليس فيه جرح ولا تعديل.

ففي هذه الحالة سأقول: إن هذا الإسناد في حد ذاته ضعيف، لكن لو أتاني هذا الحديث من وجه آخر فيه راوٍ لا بأس به، وإسناد ثالث فيه راوٍ مدلس ولم يصرح بالسماع، ومن طريق رابع فيه راوٍ سيئ الحفظ، ومن طريق خامس مرسلاً، ومن طريق سادس منقطعاً، أقول: هذا الحديث لابد أن يكون له أصل؛ لأنه روي بعدة طرق، كل طريق منها على حدة ضعيف، ولكن بانضمام هذه الطرق لابد له من أن يرتقي من الضعيف إلى شيء أحسن قليلاً، وهو أنه يكون حسناً لغيره.

فهو قال هنا: الحديث الحسن قسمان: القسم الأول: هو الذي لا يخلو رجال إسناده من مجهول لم تتحقق أهليته، غير أنه ليس مغفلاً كثير الخطأ، يعني: لا يكون ضعفه شديداً، إنما في كل إسناد راوٍ ضعفه يسير؛ لأن الضعف اليسير هو الذي يتقوى، وقد ضربت أمثلة، وأما الضعف الشديد فإنه لا يتقوى؛ وهذا هو الشرط الثاني.

الشرط الثالث: ولا هو متهم بالكذب، يعني: لا يكون كذاباً ولا متهماً بالكذب.

وتنبه إلى أن هناك فرقاً بين راوٍ متهم بالكذب، وبين راو كذاب، فالكذاب مقطوع بكذبه، فعندما تقول: فلان متهم بسرقة كذا، وفلان ثبتت عليه التهمة، هناك فرق بين الاثنين؛ فقولك: فلان متهم يعني: هو محل نظر، يمكن أن تثبت التهمة ويمكن ألا تثبت، بخلاف من ثبتت عليه السرقة نفسها، فيقال: فلان سارق وحرامي ولص، ففي هذه الحالة سأفرق بين مسألتين: بين راوٍ متهم بالكذب حديثه منكر، وبين راو كذاب حديثه مختلق ومصنوع وموضوع.

ففي هذه الحالة سأقول: ينظر إلى متن الحديث نفسه، والمتن: هو ما انتهى إليه السند من الكلام، هذا المتن إن أتى من أكثر من طريق وفي كل طريق علة يسيرة من هذه العلل فيرتقي إلى الحسن لغيره، وابن الصلاح يقول: وعلى هذا القسم يتنزل كلام الترمذي، يعني: تعريف الترمذي السابق يصلح على هذا القسم، وهو الحسن لغيره.

فالإمام ابن الصلاح عنده الحسن قسمان: القسم الأول: هو الحديث الذي يروى وليس في إسناده من يتهم بالكذب، ويروى من غير وجه، ولا يكون شاذاً ولا معللاً، وألا يكون راويه شديد الضعف، نحو: المستور والمقبول واللين، وغير ذلك، إذا روي حديث من غير وجه على هذا النحو فنقول: بانضمام هذه الطرق بعضها إلى بعض يرتقي الحديث من الضعف إلى الحسن لغيره؛ لأنه قد جمع أسباب الحسن من خارجه.

وأنا الآن لو نظرت في أحد هذه الأسانيد التي روي بها هذا الحديث، ووجدت إسناداً من بين خمسة أسانيد حسناً لذاته، وأربعة طرق أحدها مستور، والثاني مجهول، والثالث لين، والرابع اختلط؛ ففي هذه الحالة عندما يكون أمامك حديث بهذه الطرق الخمسة ستحكم على الحديث في النهاية بأنه صحيح لغيره؛ لأن أحد هذه الطرق حسن لذاته، وهذه الأربع الطرق ستؤدي مهمة، فيرتقي بها الحديث إلى الصحيح لغيره.

هذا القسم الأول من أقسام الحديث الحسن عند ابن الصلاح.

القسم الثاني: قال: أن يكون راويه من المشهورين بالصدق والأمانة،
হাসান হাদীসকে হাসান লি-গাইরিহি এবং হাসান লি-জাতিহি—এই দুই ভাগে ইবনুস সালাহর বিভক্তিকরণ

তিনি (ইবনুস সালাহ) বলেন: ইমাম তিরমিযী বা ইমাম খাত্তাবী যা উল্লেখ করেছেন, তাতে হাসান এবং সহীহ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করার মতো তেমন কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করার পর বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়েছে যে, হাসান হাদীস দুই প্রকার। প্রথম প্রকার: এমন হাদীস যার সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো প্রচ্ছন্ন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার যোগ্যতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়; তবে তিনি অত্যন্ত অসতর্ক ও অধিক ভুলকারী নন, কিংবা তিনি মিথ্যার দায়ে অভিযুক্তও নন। তদুপরি, সেই হাদীসের মূল পাঠ অন্য কোনো সূত্র থেকে অনুরূপ বা কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে। এর মাধ্যমে হাদীসটি বিচ্ছিন্ন বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দোষ থেকে মুক্ত হয়।

হাসান হাদীসের বিশটিরও বেশি সংজ্ঞা পর্যালোচনা করার পর তিনি দেখতে পান যে, এই সংজ্ঞাগুলো মূলত দুই প্রকার হাদীসের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়েছে: ১. হাসান লি-গাইরিহি; যা মূলত দুর্বল হাদীস।

২. হাসান লি-জাতিহি; এটি এমন হাদীস যা মর্যাদার দিক থেকে সহীহ হাদীসের চেয়ে সামান্য নিচে অবস্থান করে।

তিনি হাসান লি-গাইরিহি হাদীসের সংজ্ঞায় বলেন: এটি এমন হাদীস যার সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো প্রচ্ছন্ন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার যোগ্যতা প্রমাণিত নয়। তিনি প্রচ্ছন্ন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে সামান্য দুর্বলতার উদাহরণ দিয়েছেন। আপনারা জানেন যে, আলেমগণ প্রচ্ছন্ন বর্ণনাকারী বলতে অজ্ঞাত বর্ণনাকারীকে বুঝিয়ে থাকেন; তা হয় ব্যক্তির পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া, অথবা তার অবস্থা অজ্ঞাত হওয়া। অর্থাৎ হয় বর্ণনাকারী ব্যক্তি হিসেবে অপরিচিত, অথবা তিনি পরিচিত কিন্তু কোনো হাদীস বিশারদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি আবার দোষীও সাব্যস্ত করেননি; যদিও তার নাম, বংশ পরিচয়, ডাকনাম, দেশ ও উপাধি ইত্যাদি পরিচিত। যখন আমরা তার সম্পর্কে কোনো সমালোচক ইমামের সমালোচনা বা প্রশংসা খুঁজি, তখন কিছুই পাই না। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি অজ্ঞাত এবং তার অবস্থা আমাদের কাছে প্রচ্ছন্ন। এক্ষেত্রে তাকে প্রচ্ছন্ন বা অজ্ঞাত বলা একই কথা।

তিনি বলেন: হাসান হাদীস হলো সেই হাদীস যার সনদে এমন একজন প্রচ্ছন্ন বর্ণনাকারী থাকেন যার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়নি। অর্থাৎ যার ন্যায়পরায়ণতা বা দোষ কোনোটিই নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে আমাদের কাছে তার যোগ্যতা অজ্ঞাত রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বর্ণনাকারী যদি বলেন, "একজন ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন," কিংবা তিনি বলেন, "বসরাবাসীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন," তবে তা একই পর্যায়ের। এমনকি তিনি যদি বলেন, "বসরার সকল অধিবাসী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন," তবুও আমরা তাকে বলব: আপনাকে নির্দিষ্ট করতে হবে এবং তার নাম বলতে হবে। যদি তিনি এমন কোনো নাম উল্লেখ করেন যিনি পরিচিত নন, তবে উভয়টিই সমান। এটাও দুর্বল, ওটাও দুর্বল। কারণ হয় তিনি আমাদের কাছ থেকে ব্যক্তিটির পরিচয় গোপন করেছেন, অথবা তার নাম উল্লেখ করেছেন ঠিকই কিন্তু তার অবস্থা আমাদের কাছে গোপন রয়ে গেছে। অর্থাৎ আমরা জানি না তিনি নির্ভরযোগ্য নাকি দুর্বল; কারণ তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা নেই।

এমতাবস্থায় আমি বলব: এই সনদটি মূলত দুর্বল। কিন্তু যদি এই হাদীসটিই অন্য কোনো সূত্রে আমার কাছে আসে যাতে গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী রয়েছেন, তৃতীয় আরেকটি সূত্রে যদি এমন বর্ণনাকারী থাকেন যিনি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে বলেননি, চতুর্থ সূত্রে যদি এমন বর্ণনাকারী থাকেন যার স্মৃতিশক্তি দুর্বল, পঞ্চম সূত্রে মুরসাল হিসেবে এবং ষষ্ঠ সূত্রে বিচ্ছিন্ন হিসেবে বর্ণিত হয়—তবে আমি বলব: এই হাদীসটির অবশ্যই একটি ভিত্তি রয়েছে। কারণ এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যদিও প্রতিটি সূত্র পৃথকভাবে দুর্বল, কিন্তু এই সবকটি সূত্র একত্রে মিলিত হওয়ার কারণে হাদীসটি দুর্বল পর্যায় থেকে উন্নীত হয়ে কিছুটা উত্তম পর্যায়ে পৌঁছেছে; আর এটাই হলো হাসান লি-গাইরিহি।

তিনি এখানে বলেছেন: হাসান হাদীস দুই প্রকার। প্রথম প্রকার: যার সনদের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন যার যোগ্যতা প্রমাণিত নয়, তবে তিনি নির্বোধ নন কিংবা অনেক বেশি ভুলকারীও নন। অর্থাৎ তার দুর্বলতা যেন অত্যন্ত কঠোর না হয়, বরং প্রতিটি সনদে সামান্য দুর্বলতাসম্পন্ন বর্ণনাকারী থাকতে হবে; কারণ সামান্য দুর্বলতাই অন্য সূত্রের মাধ্যমে সবল হয়। আমি উদাহরণ দিয়েছি যে, কঠোর দুর্বলতা কখনও সবল হয় না। এটি হলো দ্বিতীয় শর্ত।

তৃতীয় শর্ত: তিনি যেন মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত না হন। অর্থাৎ তিনি যেন মিথ্যাবাদী না হন এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্তও না হন।

খেয়াল রাখবেন যে, মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত বর্ণনাকারী এবং সুনির্দিষ্ট মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মিথ্যাবাদীর মিথ্যা বলা সুনিশ্চিত। যেমন আপনি যদি বলেন: অমুক ব্যক্তি অমুক জিনিস চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত, আর অন্যজনের ব্যাপারে বলেন: অমুকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যখন আপনি বলেন "অমুক অভিযুক্ত", তার অর্থ হলো সে সন্দেহের তালিকায় আছে, অভিযোগ প্রমাণিত হতেও পারে নাও হতে পারে। অন্যদিকে যার চুরি প্রমাণিত হয়েছে, তাকে বলা হয় চোর বা দস্যু। এমতাবস্থায় আমি দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করব: যে বর্ণনাকারী মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত তার হাদীস প্রত্যাখ্যাত (মুনকার), আর যে বর্ণনাকারী সরাসরি মিথ্যাবাদী তার হাদীস হলো বানোয়াট ও জাল।

এক্ষেত্রে আমি বলব: হাদীসের মূল পাঠের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। আর মূল পাঠ হলো সনদ যেখানে শেষ হয় সেই কথাটি। এই মূল পাঠ যদি একাধিক সূত্রে আসে এবং প্রতিটি সূত্রে এই জাতীয় সামান্য ত্রুটি থাকে, তবে তা হাসান লি-গাইরিহির পর্যায়ে উন্নীত হয়। ইবনুস সালাহ বলেন: ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য এই প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ ইমাম তিরমিযীর পূর্বোক্ত সংজ্ঞাটি এই হাসান লি-গাইরিহি প্রকারের ওপর খাপ খায়।

সুতরাং ইমাম ইবনুস সালাহর নিকট হাসান হাদীস দুই প্রকার। প্রথম প্রকার: এমন হাদীস যা বর্ণিত হয়েছে এবং যার সনদে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত কেউ নেই, এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত এবং তা বিচ্ছিন্ন বা ত্রুটিযুক্ত নয়। তদুপরি তার বর্ণনাকারী যেন অত্যন্ত দুর্বল না হন, যেমন: প্রচ্ছন্ন, গ্রহণযোগ্য, শিথিল ইত্যাদি পর্যায়ের বর্ণনাকারী। যদি কোনো হাদীস এই পদ্ধতিতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়, তবে আমরা বলি: এই সবকটি সূত্র একত্রে মিলিত হওয়ার ফলে হাদীসটি দুর্বলতা থেকে হাসান লি-গাইরিহির স্তরে উন্নীত হয়েছে; কারণ এটি বাইরের মাধ্যম থেকে হাসানের গুণাবলি অর্জন করেছে।

এখন আমি যদি এই হাদীসের সনদগুলোর কোনো একটির দিকে তাকাই এবং পাঁচটি সনদের মধ্যে একটি সনদকে হাসান লি-জাতিহি হিসেবে পাই, আর বাকি চারটি সূত্রের একটিতে প্রচ্ছন্ন, দ্বিতীয়টিতে অজ্ঞাত, তৃতীয়টিতে শিথিল এবং চতুর্থটিতে স্মৃতিভ্রষ্ট বর্ণনাকারী থাকে; এমতাবস্থায় এই পাঁচটি সূত্রের হাদীসটির ব্যাপারে আপনি শেষ পর্যন্ত সহীহ লি-গাইরিহি হওয়ার হুকুম দেবেন। কারণ এই সূত্রগুলোর মধ্যে একটি হলো হাসান লি-জাতিহি, আর বাকি চারটি সূত্র পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যার ফলে হাদীসটি সহীহ লি-গাইরিহির স্তরে উন্নীত হবে।

ইবনুস সালাহর নিকট হাসান হাদীসের প্রকারভেদের মধ্যে এটি ছিল প্রথম প্রকার। দ্বিতীয় প্রকার: তিনি বলেন, এর বর্ণনাকারী সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত হবেন,
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ذكر أول من أصل الحديث الحسن

الحديث الحسن أول من أصَّل له الإمام الترمذي، أول من أصل له لا أول من عرفه؛ لأن الحديث الحسن كان معروفاً قبل الترمذي، كان معروفاً من كلام علي بن المديني ومن كلام البخاري، وهؤلاء من شيوخ الترمذي، وكان معروفاً أيضاً من كلام الإمام أحمد بن حنبل، وكان أيضاً معروفاً من كلام الشافعي، وكان يعبر عنه بالإسناد الجيد، أو بالحديث الجيد.

فرتبة الحديث الحسن كانت معروفة لدى أهل العلم قبل الترمذي، لكن الترمذي هو الذي أصل له تأصيلاً، ولذلك إذا نظرت في سنن الترمذي ستجد أنه الوحيد الذي يقول: هذا حديث حسن صحيح، هذا حديث صحيح، هذا حديث حسن، هذا حديث حسن صحيح غريب، هذا حديث حسن غريب، هذا حديث غريب، يكثر من هذه الرتب للأحاديث، ويحكم عليها بهذه الأحكام.
হাসান হাদিসের মূলনীতি প্রথম প্রণয়নকারীর আলোচনা

ইমাম তিরমিজি প্রথম হাসান হাদিসের মূলনীতি প্রণয়ন করেন; তিনি এর প্রথম মূলনীতি প্রণয়নকারী, কিন্তু একে প্রথম শনাক্তকারী নন। কেননা হাসান হাদিস ইমাম তিরমিজির পূর্বেই পরিচিত ছিল। এটি আলি ইবনুল মাদিনি এবং ইমাম বুখারির বক্তব্যে পরিচিত ছিল, আর তাঁরা ছিলেন ইমাম তিরমিজির শিক্ষক। এছাড়া এটি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং ইমাম শাফিয়ির বক্তব্যেও পরিচিত ছিল এবং তারা একে উত্তম সনদ বা উত্তম হাদিস হিসেবে ব্যক্ত করতেন।

সুতরাং হাসান হাদিসের স্তরটি ইমাম তিরমিজির পূর্বেই আলেমদের নিকট পরিচিত ছিল, তবে ইমাম তিরমিজিই একে বিধিবদ্ধভাবে মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একারণেই আপনি যদি সুনানে তিরমিজির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বলেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস, এটি সহিহ হাদিস, এটি হাসান হাদিস, এটি হাসান সহিহ গরিব হাদিস, এটি হাসান গরিব হাদিস, এটি গরিব হাদিস। তিনি হাদিসের এই স্তরগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছেন এবং হাদিসসমূহের ওপর এই বিধানগুলো প্রয়োগ করেছেন।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تفسير جمع الترمذي أكثر من وصف للحديث الواحد

ونحن عرفنا أن الترمذي في تعريفه إنما قصد الحسن لغيره، وتَعْرِيف الترمذي هذا ينطبق على كل حديث قال فيه في سننه: (حسن) فقط، إلا ما ندر، بخلاف ما لو قال: (حسن لا نعرفه إلا من هذا الوجه)، وهذا مصطلح آخر له، يقول: وهذا حديث حسن لا نعرفه إلا من هذا الوجه، يعني: ليس له إلا هذا الطريق، ومع هذا فهو حسن.

فأنا عندما أرى مصطلح الترمذي حينما يقول في عقب الحديث: هذا حديث حسن صحيح، أقول: كيف ذلك؟ ففي هذا الكلام إشكالية، فإذا كان صحيحاً فهل هو لذاته أم لغيره؟ وكيف يكون صحيحاً سواء لذاته أو لغيره وحسناً في نفس الوقت؟ هذه إشكالية تحتاج إلى حل، وحلها من وجهين: الوجه الأول: إما أن يكون هذا الحديث له طريقان: أحدهما صحيح، والآخر حسن، فجمع الترمذي بين الوصفين اللذين روي بهما هذا المتن وهذا الحديث، فالحديث له طريقان: أحدهما رواته ثقات، والآخر في رواته صدوق، فبدلاً من أن يقول: حسن وصحيح قال: حسن صحيح، فهو بهذا جمع بين وصفين في قول واحد على حديث واحد.

الوجه الثاني: اختلاف النقاد في رتبة راوٍ في هذا الإسناد، ولم يترجح لدى الترمذي أحد القولين، فبعض النقاد قال عن راوٍ: ثقة، والبعض الآخر قال عنه: صدوق، فنظر الترمذي في ترجمة هذا الراوي وسبر غور حديثه حتى يترجح لديه أهو ثقة أم صدوق فلم يترجح لديه ذلك، فقال عن حديثه: حديث حسن صحيح، (حسن) باعتبار قوم، و (صحيح) باعتبار قوم آخرين، فالحديث هنا ليس له طرق متعددة، إنما هو طريق واحد، وحكم الترمذي بحكمين إنما هو لاختلاف النقاد في الراوي الواحد، فالبعض يقول عنه: ثقة، فإذاً الحديث باعتبار هذا القول صحيح، والبعض الآخر يقول عنه: صدوق، فالحديث باعتبار هذا القول حسن، وكأن الإمام الترمذي أراد أن يقول في هذا الحديث: صحيح أو حسن، وفي الأول أراد أن يقول: صحيح وحسن؛ باعتبار تعدد الطرق، فالطرق أحدها صحيح والآخر حسن.

وفي الحكم الثاني على حديث آخر كأنه أراد أن يقول: صحيح أو حسن، غير أنه حذف حرف الاختيار (أو) فقال: حسن صحيح، كما قال في الأول: حسن صحيح.

ولذلك عندما تنظر في كلام الترمذي وتتبع أنت الطرق تجد الترمذي يحكم على حديثين يقول عن واحد منهما: حسن صحيح، وحديث آخر يقول عنه: حسن صحيح، فتأتي تبحث عن الحديثين تجد أن أحد هذين الحديثين له طرق متعددة، والحديث الآخر ليس له إلا طريق واحد، والحكم واحد، فكيف ذلك؟ تأتي تبحث عن رواة الإسناد تجد أن فيه راوياً وقع النقاد في اختلاف فيه، فبعضهم وثقه، وبعضهم قال عنه: صدوق، ففي هذه الحال يقصد الترمذي: (حسن) باعتبار قوم، (صحيح) باعتبار قوم آخرين.

بخلاف تعدد الطرق فإنه يقصد فيها: أحدها حسن والثاني صحيح.

ولو قال الترمذي: (حسن لا نعرفه إلا من هذا الوجه) فإنه يقصد الحسن لذاته؛ لأنه يقول: لا نعرفه إلا من هذا الوجه، يعني: ليس له إلا إسناد واحد، وقال عنه: حسن؛ فهو حسن لذاته.

ولو قال: (حسن) فقط، فنظرت أنت في إسناد هذا الحديث فوجدت فيه راوياً ضعيفاً ضعفه يسير، فيا ترى كيف حكم عليه الترمذي بأنه حسن مع ضعف هذا الراوي؟ تأتي تبحث في متون كتب السنة عن طريق آخر، تجد طريقاً آخر وثانياً وثالثاً ورابعاً، وكلها على هذه الشاكلة كل طريق فيه نوع ضعف، ففي هذه الحالة ستقول: الترمذي في هذا الحديث قصد أنه حسن لغيره، وإلا فكيف قال في هذا الحديث: حسن، وقال في الثاني: حسن لا نعرفه إلا من هذا الوجه؟ فهو يفرق بذلك بين الحسن لغيره والحسن لذاته.

ولو قال: (حديث صحيح حسن غريب)، فمعنى قوله: (غريب) أي: فرد، ليس له إلا إسناد واحد، فهو (حسن) باعتبار قوم (صحيح) باعتبار قوم آخرين، (غريب) أي: ليس له إلا هذا الإسناد.

ولو قال عن حديث أو عن إسناد: (حديث غريب)، فالغالب على كلامه أنه قصد به الضعف، فإذا قال الترمذي في سننه عن حديث: هذا حديث غريب؛ فاعرف أنه حديث ضعيف.

الشاهد من هذا: أن كتاب سنن الترمذي أصل في معرفة الحديث الحسن.

وكذلك أبو داود له كلام جميل جداً في تقسيم سننه وبيان ما أودعه فيه من فوائد ونكت، كتب بهذا رسالة إلى أهل مكة يصف لهم فيها سننه.
ইমাম তিরমিযী কর্তৃক একটি হাদিসের ক্ষেত্রে একাধিক পরিভাষার সমন্বয় করার ব্যাখ্যা

আমরা জেনেছি যে, তিরমিযী তার সংজ্ঞায় মূলত 'হাসান লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান) বুঝিয়েছেন। তিরমিযীর এই সংজ্ঞাটি তার সুনান গ্রন্থে উল্লেখিত সেই সব হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে তিনি শুধুমাত্র 'হাসান' বলেছেন, খুব অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। তবে যদি তিনি বলেন: 'এটি এমন হাসান হাদিস যা আমরা এই সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে জানি না', তবে এটি তার অন্য একটি পরিভাষা। তিনি বলেন: 'এটি হাসান হাদিস, যা আমরা এই সূত্র ব্যতীত জানি না', অর্থাৎ এর কেবল এই একটি পথ বা সূত্রই রয়েছে, তবুও তা হাসান।

তিরমিযী যখন হাদিসের শেষে বলেন: 'এই হাদিসটি হাসান সহিহ', তখন আমি যখন এই পরিভাষাটি দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগে: এটি কীভাবে সম্ভব? এই বক্তব্যের মধ্যে একটি অস্পষ্টতা রয়েছে। হাদিসটি যদি সহিহ হয়, তবে তা কি 'লি-যাতিহি' (নিজ গুণেই) নাকি 'লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে)? আবার একই সাথে সহিহ (তা যে প্রকারেরই হোক না কেন) এবং হাসান হওয়া কীভাবে সম্ভব? এটি এমন একটি জটিলতা যার সমাধান প্রয়োজন। এর সমাধান দুটি দিক থেকে হতে পারে: প্রথম দিক: হতে পারে এই হাদিসটির দুটি সূত্র রয়েছে: একটি সহিহ এবং অপরটি হাসান। ইমাম তিরমিযী এই হাদিসের মূল পাঠ বা মতনটি যে দুটি বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, সেই দুটি বর্ণনা বা গুণেরই সমন্বয় করেছেন। সুতরাং হাদিসটির দুটি সূত্র রয়েছে: একটির বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য এবং অপরটির বর্ণনাকারীরা সত্যবাদী। তাই তিনি পৃথকভাবে 'হাসান' এবং 'সহিহ' না বলে একত্রে 'হাসান সহিহ' বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি হাদিসের বর্ণনায় দুটি গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিক: এই সনদের কোনো একজন বর্ণনাকারীর মর্যাদার ব্যাপারে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং ইমাম তিরমিযীর নিকট কোনো একটি পক্ষ প্রবল বা নিশ্চিত হয়নি। কিছু সমালোচক উক্ত বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আবার কেউ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী। তিরমিযী সেই বর্ণনাকারীর জীবনী পর্যালোচনা করেছেন এবং তার বর্ণিত হাদিসগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে তিনি কি নির্ভরযোগ্য নাকি সত্যবাদী। কিন্তু তার কাছে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হয়নি। ফলে তিনি তার হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: 'হাসান সহিহ হাদিস'। অর্থাৎ একদলের বিবেচনায় তা 'হাসান' এবং অন্য দলের বিবেচনায় তা 'সহিহ'। এখানে হাদিসটির একাধিক সূত্র নেই, বরং সূত্র একটিই। ইমাম তিরমিযী এখানে যে দুটি হুকুম দিয়েছেন তা কেবল একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সমালোচকদের মতভেদের কারণে। যখন কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলছেন, তখন সেই মত অনুযায়ী হাদিসটি 'সহিহ'। আবার কেউ যখন তাকে সত্যবাদী বলছেন, তখন সেই মত অনুযায়ী হাদিসটি 'হাসান'। ইমাম তিরমিযী যেন এই হাদিসের ক্ষেত্রে বলতে চেয়েছেন: 'সহিহ অথবা হাসান'। আর প্রথম ক্ষেত্রে (যেখানে একাধিক সূত্র ছিল) তিনি বলতে চেয়েছিলেন: 'সহিহ এবং হাসান'; সূত্রের আধিক্যের কারণে, যেখানে একটি সূত্র সহিহ এবং অন্যটি হাসান।

দ্বিতীয় প্রকারের হুকুমে অন্য একটি হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: 'সহিহ অথবা হাসান', তবে তিনি এখানে বিকল্পবোধক অব্যয় বাদ দিয়ে বলেছেন: 'হাসান সহিহ', যেমনটি তিনি প্রথম ক্ষেত্রে বলেছিলেন: 'হাসান সহিহ'।

একারণেই আপনি যখন তিরমিযীর বক্তব্যগুলো দেখবেন এবং সূত্রগুলো অনুসন্ধান করবেন, তখন দেখবেন যে তিনি দুটি ভিন্ন হাদিসের ক্ষেত্রে বলছেন: 'হাসান সহিহ'। আপনি যখন হাদিস দুটি নিয়ে গবেষণা করবেন, তখন দেখবেন যে এর মধ্যে একটি হাদিসের একাধিক সূত্র রয়েছে, কিন্তু অন্য হাদিসটির কেবল একটিই সূত্র। অথচ হুকুম বা পরিভাষা একই। এটি কীভাবে সম্ভব? তখন আপনি যখন সনদের বর্ণনাকারীদের নিয়ে অনুসন্ধান করবেন, তখন দেখবেন যে সেখানে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার ব্যাপারে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আবার কেউ তাকে সত্যবাদী বলেছেন। এমতাবস্থায় তিরমিযীর উদ্দেশ্য হয়: একদলের বিবেচনায় 'হাসান' এবং অন্য দলের বিবেচনায় 'সহিহ'।

সূত্রের আধিক্যের বিষয়টি এর থেকে ভিন্ন, সেখানে তার উদ্দেশ্য থাকে: একটি সূত্র হাসান এবং দ্বিতীয়টি সহিহ।

যদি তিরমিযী বলেন: 'এটি হাসান, যা আমরা কেবল এই সূত্রেই জানি', তবে এর দ্বারা তিনি 'হাসান লি-যাতিহি' (নিজ গুণেই হাসান) বুঝিয়েছেন। কারণ তিনি বলছেন: 'আমরা এই সূত্র ছাড়া এটি জানি না', অর্থাৎ এর কেবল একটিই সনদ রয়েছে এবং তিনি সেটিকে 'হাসান' বলছেন; সুতরাং তা 'হাসান লি-যাতিহি'।

আর তিনি যদি কেবল 'হাসান' বলেন, আর আপনি সেই হাদিসের সনদে এমন একজন বর্ণনাকারীকে পান যিনি দুর্বল কিন্তু তার দুর্বলতা সামান্য, তখন প্রশ্ন জাগে: বর্ণনাকারী দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তিরমিযী কীভাবে একে হাসান বললেন? তখন আপনি যখন সুন্নাহর কিতাবসমূহে এই হাদিসের অন্য কোনো সূত্র খুঁজবেন, তখন হয়তো দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ আরেকটি সূত্র পেয়ে যাবেন। আর সেই সূত্রগুলোর অবস্থাও একই রকম যে, প্রত্যেকটি সূত্রেই কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি বলবেন: তিরমিযী এই হাদিসের ক্ষেত্রে 'হাসান লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান) বুঝিয়েছেন। তা না হলে তিনি কেন একটি হাদিসকে 'হাসান' বললেন এবং অন্য একটিকে 'হাসান, যা আমরা কেবল এই সূত্রেই জানি' বললেন? এর মাধ্যমে তিনি মূলত 'হাসান লি-গাইরিহি' এবং 'হাসান লি-যাতিহি'-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

যদি তিনি বলেন: 'সহিহ হাসান গরিব হাদিস', তবে 'গরিব' বলার অর্থ হলো: এটি একক, এর কেবল একটিই সনদ রয়েছে। অর্থাৎ একদলের মতে এটি 'হাসান', অন্য দলের মতে এটি 'সহিহ', আর 'গরিব' মানে হলো এর এই একটিই সনদ রয়েছে।

আর যদি তিনি কোনো হাদিস বা সনদ সম্পর্কে কেবল 'গরিব হাদিস' বলেন, তবে তার অধিকাংশ বক্তব্যের উদ্দেশ্য থাকে হাদিসটি দুর্বল। সুতরাং তিরমিযী যখন তার সুনান গ্রন্থে কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন: 'এটি গরিব হাদিস', তখন বুঝে নিবেন যে এটি একটি দুর্বল হাদিস।

এখান থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হলো: হাসান হাদিস চেনার ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযীর সুনান গ্রন্থটি একটি মূল ভিত্তি।

একইভাবে আবু দাউদ এরও তার সুনান গ্রন্থের শ্রেণিবিভাগ এবং এতে তিনি যে সব ফায়দা ও সূক্ষ্ম বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা বর্ণনায় অত্যন্ত চমৎকার বক্তব্য রয়েছে। তিনি এই বিষয়ে মক্কাবাসীদের নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যেখানে তিনি তার সুনান গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌منهج البغوي في تقسيم الحديث في كتابه مصابيح السنة

أما كتاب مصابيح السنة للإمام البغوي فقد ذهب فيه مذهباً في غاية العجب، لم يسبق ولم يلحق إليه؛ حيث قسم الحديث في كل باب من أبواب هذا الكتاب إلى قسمين: قسم الصحيح.

وقسم الحسان.

فمثلاً: الإمام البغوي يقول: باب الاستنجاء: القسم الأول: روى البخاري ومسلم روى البخاري روى مسلم.

القسم الثاني: روى أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه، روى أبو داود روى ابن ماجه روى أحمد.

والإمام البغوي في هذا الكتاب، قال: أنا منهجي أنني أجعل في كل باب من الأبواب الأدلة إلى قسمين: قسم أسميه الصحيح، وقسم أسميه الحسن، قالوا: كيف هذا الكلام؟ قال: الصحيح: هو الأحاديث التي رويت في الصحيحين أو في أحدهما.

والحسن: هو ما روي في السنن أو في أحدها.

وهناك في السنن أحاديث في القوة والمتانة أقوى وأعظم من بعض أحاديث الصحيحين، فقال: لا مشاحة في الاصطلاح، هذا اصطلاح خاص بي، فقال العلماء: نحتمله على مصطلحه هذا، وإن كان أهل العلم يخالفونه في هذا التقسيم.

وأظن أن مسألة الحديث الحسن أصبحت متضحة جداً، ولو أردنا أن ننهي القول لقلنا: إننا درسنا في علم المصطلح التعريفات الأولية التي لا ينبغي لطالب علم الحديث أن يجهلها، مثل المتن والإسناد والمسنَد والمسنِد، والمعلق والمعضل وغيرها، وهي تعريفات سريعة لكنها تفيد المقصود بإذن الله تعالى هذا أمر.

الأمر الثاني: أننا قلنا: إن الحديث من جهة وروده إلينا -أي: بالنظر إلى الطرق التي روي بها الإسناد- إذا كانت طرقه كثيرة جداً فيكون الحديث متواتراً، وإذا كانت الطرق محدودة رواية أو اثنتين أو ثلاثاً لا يبلغ مرتبة التواتر فيكون حديثاً آحاداً، وقلنا: إن الحديث المتواتر لا علاقة له بعلم الإسناد؛ لأنه صحيح قطعاً.

وعلم مصطلح الحديث ينظر في الإسناد والمتن من جهة القبول والرد، وهذا لا يستقيم إلا مع قسم الآحاد؛ لأن المتواتر صحيح وثابت يقيناً، مثل القرآن، فالمتواتر حكمه حكم القرآن الكريم.

والحديث الآحاد قسمناه إلى مقبول ومردوده فالمقبول أربعة أنواع: صحيح لذاته، وصحيح لغيره، وحسن لذاته، وحسن لغيره.

والمردود هو الضعيف بجميع أنواعه.

وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
ইমাম বাগাওয়ীর তাঁর ‘মাসাবীহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে হাদীস বিন্যাসের পদ্ধতি

ইমাম বাগাওয়ীর ‘মাসাবীহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থের ক্ষেত্রে তিনি এক অত্যন্ত বিস্ময়কর পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি এবং পরেও কেউ তা অনুসরণ করেনি; যেখানে তিনি এই গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ের হাদীসসমূহকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: সহীহ অংশ।

এবং হাসান অংশ।

উদাহরণস্বরূপ: ইমাম বাগাওয়ী বলেন: শৌচকার্য অধ্যায়: প্রথম পরিচ্ছেদ: বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, বুখারী বর্ণনা করেছেন, মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন; আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বাগাওয়ী এই কিতাবে বলেছেন: আমার পদ্ধতি হলো আমি প্রতিটি অধ্যায়ের দলীলসমূহকে দুটি ভাগে বিভক্ত করি: একটি ভাগের নাম দিই সহীহ এবং অন্য ভাগের নাম দিই হাসান। তারা বলল: এটি কেমন কথা? তিনি বললেন: সহীহ হলো সেই হাদীসসমূহ যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাদের যে কোনো একটিতে বর্ণিত হয়েছে।

আর হাসান হলো যা সুনান গ্রন্থসমূহ বা তার কোনো একটিতে বর্ণিত হয়েছে।

অথচ সুনান গ্রন্থসমূহে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা শক্তি ও দৃঢ়তার দিক থেকে সহীহাইনের কিছু হাদীসের চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও মহান। তখন তিনি বললেন: পারিভাষিক সংজ্ঞায় কোনো বিতর্ক নেই, এটি আমার নিজস্ব পরিভাষা। তখন উলামায়ে কেরাম বললেন: আমরা তাঁর এই পরিভাষাকে তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি হিসেবেই গ্রহণ করে নেব, যদিও ইলম অর্জনকারীগণ এই বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।

আমার মনে হয় হাসান হাদীসের বিষয়টি এখন অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা যদি আলোচনার ইতি টানতে চাই তবে বলব: আমরা হাদীস পরিভাষা শাস্ত্রে সেই প্রাথমিক সংজ্ঞাগুলো অধ্যয়ন করেছি যা হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য অজানা থাকা উচিত নয়, যেমন: মতন, ইসনাদ, মুসনাদ, মুসনিদ, মুআল্লাক, মুদাল এবং অন্যান্য। এগুলো সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা হলেও ইনশাআল্লাহ উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক। এটি একটি বিষয়।

দ্বিতীয় বিষয়: আমরা বলেছি যে, হাদীস আমাদের নিকট পৌঁছানোর দিক থেকে—অর্থাৎ যে সূত্রগুলোর মাধ্যমে সনদ বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে—যদি এর সূত্রগুলো অনেক বেশি হয় তবে হাদীসটি মুতাওয়াতির। আর যদি সূত্রগুলো সীমিত হয় যেমন একটি, দুটি বা তিনটি যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছায় না, তবে তা হলো আহাদ হাদীস। আমরা আরও বলেছি যে, মুতাওয়াতির হাদীসের সাথে সনদ পর্যালোচনার শাস্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই; কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই সহীহ।

হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা বা উসূলে হাদীস সনদ ও মতনের গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের দিকটি বিবেচনা করে, আর এটি কেবল আহাদ হাদীসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কারণ মুতাওয়াতির হাদীস নিশ্চিতভাবে সহীহ ও প্রমাণিত, ঠিক কুরআনের মতো। সুতরাং মুতাওয়াতির হাদীসের বিধান পবিত্র কুরআনের বিধানের মতোই।

আহাদ হাদীসকে আমরা গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। গ্রহণযোগ্য হাদীস চার প্রকার: সহীহ লি-যাতিহী, সহীহ লি-গাইরিহী, হাসান লি-যাতিহী এবং হাসান লি-গাইরিহী।

আর বর্জনীয় হাদীস হলো দুর্বল বা যয়ীফ হাদীস এর সকল প্রকারসহ।

এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الباعث الحثيث   (حسن أبو الأشبال الزهيري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح كتاب الباعث الحثيث

المؤلف: أبو الأشبال حسن الزهيري آل مندوه المنصوري المصري

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 رجب 1432

আল-বা'য়িছ আল-হাছিছ গ্রন্থের ব্যাখ্যা   (হাসান আবু আল-আশবাল আল-যুহাইরি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-বা'য়িছ আল-হাছিছ গ্রন্থের ব্যাখ্যা

লেখক: আবু আল-আশবাল হাসান আল-যুহাইরি আল মানদুহ আল-মানসুরি আল-মিসরি

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৮টি পাঠ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রজব ১৪৩২

(খণ্ড: ৪) শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসীস (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الباعث الحثيث -‌‌ جمع ابن الصلاح لتعريف الحديث الحسن

جمع ابن الصلاح رحمه الله تعالى بين أقوال أهل العلم في تعريف الحسن وردها إلى بيان الحسن لذاته والحسن لغيره، والحديث الحسن مما حفلت به بعض دواوين السنة، ومنها سنن الترمذي وسنن أبي داود وغيرهما.
শারহু কিতাবিল বাইসিল হাসিস -‌‌ হাসান হাদীসের সংজ্ঞায় ইবনুস সালাহর সংকলন

ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) হাসান হাদীসের সংজ্ঞায় আলেমগণের মতামতসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোকে হাসান লি-যাতিহি (স্বয়ং হাসান) ও হাসান লি-গাইরিহি (অন্যের কারণে হাসান)-এর বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হাসান হাদীস সুন্নাহর এমন কিছু মূল গ্রন্থাবলীতে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান রয়েছে যার মধ্যে সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ অন্যতম।