(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: -)
خطط الشام (محمد كرد علي)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: خطط الشام
المؤلف: محمد بن عبد الرزاق بن محمَّد، كُرْد عَلي (ت 1372هـ)
الناشر: مكتبة النوري، دمشق
الطبعة: الثالثة، 1403 هـ - 1983 م
عدد الأجزاء: 6 (الجزء رقم 5 ساقط في هذه النسخة)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1432
খিতাতুশ শাম (মুহাম্মদ কুর্দ আলী)
বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: খিতাতুশ শাম
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক ইবনে মুহাম্মদ, কুর্দ আলী (মৃত্যু ১৩৭২ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবাতুন নূরী, দামেস্ক
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (এই কপিতে ৫ম খণ্ডটি নেই)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১)
صدر الخططبسم الله الرحمن الرحيمعونك اللهم يا لطيفنشرت عام 1317هـ 1899م في مجلة المقتطف تسعة فصول في عمران دمشق صادفت استحسان بعض من قرءوها من خاصة الباحثين، وجمهور المطالعين، فوقع في النفس يومئذ أن أتوسع في هذا البحث، وأدرس عمران الشام كله، لأن صورة العاصمة وحدها لا تكفي للدلالة على حالة القطر، ومن الإشراف على الأطراف، قد تعرف صحة الجسم عامة والقلب خاصة، ومن اهتم بالجزء كان حريا أن يضاعف العناية بالكل.فشرعت من ثم أتصفح كل ما ظفرت به من المخطوطات والمطبوعات باللغات العربية والتركية والفرنسية، وقصدت دور الكتب الخاصة والعامة في الشام ومصر والمدينة المنورة والآستانة ورومية وباريس ولندرا وإكسفورد وكامبردج وليدن وبرلين وميونخ ومجريط والإسكوريال. وكنت كلما استكثرت من المطالعة، تتجلى أمامي صعوبة العمل، هذا مع ما قام في سبيل نشر هذا المجموع من العقبات، منذ وطدت العزم على وضعه، وما نالني من الكوارث في العهد الماضي. ولكن الشقاء قد يأتي بسعادة، ورب ضرّ أعقب خيرا. فإن التضييق عليَّ نشأ منه اضطراري إلى الارتحال غير مرة، فأخذت أستقري المعالم والمجاهل في هذا القطر، ونزلت على
গ্রন্থের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হে লতিফ! আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি।১৩১৭ হিজরি মোতাবেক ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে ‘আল-মুকতাতাফ’ পত্রিকায় দামেস্কের নগরায়ন ও বসতি স্থাপন বিষয়ে নয়টি অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল, যা বিশিষ্ট গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের মাঝে সমাদৃত হয়। তখন আমার মনে এই ইচ্ছা জাগে যে, আমি এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করব এবং সমগ্র শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের নগরায়ন নিয়ে অধ্যয়ন করব। কারণ শুধু রাজধানীর চিত্র দিয়ে পুরো ভূখণ্ডের অবস্থা বোঝা পর্যাপ্ত নয়। কোনো কিছুর প্রান্তীয় বা বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেমন শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা এবং বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের অবস্থা জানা যায়, তেমনি যে ব্যক্তি কোনো অংশের প্রতি গুরুত্বারোপ করে, তার জন্য উচিত সমগ্রের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া।অতঃপর আমি আরবি, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় আমার হস্তগত হওয়া সমস্ত পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত গ্রন্থাদি নিবিড়ভাবে পাঠ করতে শুরু করি। আমি শাম, মিসর, মদিনা মুনাওয়ারা, আস্তানা, রোম, প্যারিস, লন্ডন, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, লাইডেন, বার্লিন, মিউনিখ, মাদ্রিদ এবং এসকোরিয়াল-এর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহে যাতায়াত করি। আমি যত অধিক অধ্যয়ন করতে থাকলাম, কাজের কঠিন দিকগুলো আমার কাছে ততই স্পষ্ট হতে শুরু করল। এর পাশাপাশি এই সংকলনটি প্রকাশের পথে শুরু থেকেই নানাবিধ বাধা-বিপত্তি এবং বিগত যুগে আমার ওপর আসা বিভিন্ন দুর্যোগ তো ছিলই। তবে দুঃখের পরেই সুখ আসে এবং অনেক সময় মন্দ থেকেই কল্যাণের জন্ম হয়। কেননা, আমার ওপর আসা সেই সংকীর্ণতা ও প্রতিকূলতার কারণেই আমি বারবার ভ্রমণে বাধ্য হয়েছিলাম; ফলে আমি এই ভূখণ্ডের বিভিন্ন পরিচিত ও অপরিচিত জনপদগুলো অনুসন্ধান করতে শুরু করি এবং অবতরণ করি...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২)
أمم كثيرة في بلاد الغرب، فاستفدت من تنقلي بعض ما عندهم من أسفارنا وآثارنا، وقابلت عن أمم بين عمراننا وعمرانهم، وجمودنا اليوم وحركتهم.رحلت إلى أوروبا ثلاث رحلات، أبحث في دور كتبها عن المخطوطات التي يرجى أن يكون أصحابها قد تعرضوا لحوادث هذا القطر، وزرت أصقاع الشاملأقابل بين حاضره وغابره، ولما نسجت بآخرة ما جمعت، قدمت له مقدمة في بيان ما تشترك فيه بلاد الشام عامة من المظاهر والأوضاع، وسميته خطط الشام وأعني بالشام الأصقاع التي تتناول ما اصطلح العرب على تسميته بهذا الاسم، وهو القطر الممتد من سقي النيل إلى سقي الفرات، ومن سفوح طوروس إلى أقصى البادية، أي سورية وفلسطين في عرف المتأخرين. ويراد بالخطط كل ما يتناول العمران، والبحث في تخطيط بلد بحث في تاريخه وحضارته.أول من صنف في الخطط واستقصى فيها على ما علمنا الحسن بن زولاق المصري المتوفى سنة 387 وقال المقريزي المتوفى في سنة 843 إن أول من صنف فيها أبو عمر بن يوسف الكندي، ثم القاضي أبو عبد الله محمد بن سلامة القضاعي 454 والذي انتهى إلينا كتاب خطط مصر للمقريزي المنوه به، وهو أجمل مثال في باب الإجادة في التأليف. ولم نعلم أن أحدا من المتقدمين كتب على الشام وخططه، وكتب بعض المتأخرين في موضوع خاص وبلد معين. وما خطط الشام في الحقيقة إلا زبدة الوقائع والكوائن، وأخبار الصعود والتدلي، والمظاهر الغربية التي ظهرت بها هذه الديار، في غابر الأعصار، مقتبسا ذلك مما أبقته
পাশ্চাত্যের দেশসমূহে বহু জাতি রয়েছে। আমার ভ্রমণের মাধ্যমে আমি তাদের কাছে রক্ষিত আমাদের কিছু গ্রন্থ ও নিদর্শনাদি থেকে উপকৃত হয়েছি এবং আমাদের ও তাদের সভ্যতার মাঝে এবং আমাদের বর্তমান স্থবিরতা ও তাদের গতিশীলতার মাঝে তুলনা করেছি।আমি ইউরোপে তিনবার সফর করেছি। সেখানকার গ্রন্থাগারগুলোতে এমন সব পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করেছি যার লেখকরা এই অঞ্চলের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে আশা করা যায়। আমি শামের (সিরিয়া অঞ্চল) বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণ করেছিযাতে এর বর্তমান ও অতীতের মাঝে তুলনা করতে পারি। পরিশেষে আমি যা সংগ্রহ করেছি তা বিন্যস্ত করার সময় এর জন্য একটি ভূমিকা লিখেছি, যাতে শাম ভূখণ্ডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও অবস্থাসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি 'খিতাতুশ শাম'। আর শাম বলতে আমি সেই সব অঞ্চলকে বুঝিয়েছি যেগুলোকে আরবরা এই নামে অভিহিত করার পরিভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে; যা নীল নদের সেচ অঞ্চল থেকে ফুরাত নদের সেচ অঞ্চল পর্যন্ত এবং তাউরাস পর্বতমালার পাদদেশ থেকে মরুভূমির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ পরবর্তীকালের পরিভাষায় যা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন। আর 'খিতাত' বলতে এমন সবকিছুকে বোঝানো হয় যা নগরসভ্যতা সংশ্লিষ্ট। কোনো দেশের খিতাত বা মানচিত্র নিয়ে গবেষণা করা মানে তার ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করা।আমাদের জানা মতে, খিতাত বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়েছেন তিনি হলেন হাসান বিন যুলাক আল-মিসরি (মৃত্যু ৩৮৭ হি.)। আর মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৩ হি.) বলেছেন যে, এ বিষয়ে প্রথম গ্রন্থকার হলেন আবু উমর বিন ইউসুফ আল-কিন্দি, এরপর কাজি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালামা আল-কুদায়ি (৪৫৪ হি.)। তবে আমাদের নিকট মাকরিজির সেই প্রসিদ্ধ 'খিতাতু মিসর' গ্রন্থটিই পৌঁছেছে, যা রচনাশৈলীর উৎকর্ষের এক চমৎকার উদাহরণ। আমাদের জানামতে পূর্ববর্তীদের কেউ শামের খিতাত নিয়ে লেখেননি, তবে পরবর্তীদের কেউ কেউ বিশেষ বিষয় বা নির্দিষ্ট শহর নিয়ে লিখেছেন। প্রকৃতপক্ষে শামের খিতাত হলো অতীতকালের ঘটনাবলি ও পরিস্থিতির নির্যাস, এর উত্থান-পতনের সংবাদ এবং এই জনপদে পরিলক্ষিত হওয়া বিচিত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ, যা প্রাচীন নিদর্শনসমূহ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
الأيام مكتوبا أو مطبوعا على ورق، أو مزبورا على حجر وآجر وبردي ورق.لا جرم أن موضوع الخطط موضوع جليل، تتعين الإحاطة به على كل من يحب أن يعرف أرضه ليخدمها، ويستفيد منها، وأحق الناس بمعرفة بلد أهله وجيرانه. ومن لم يرزق حظا من الاطلاع على ما حوى موطنه من الخيرات، وما أتاه أجداده من الأعمال، لا ينهض بما يجب عليه ليؤثر الأثر النافع في الحال والمآل، ومن أجدر من الأبناء والأحفاد، بالرجوع إلى سجلات الآباء والأجداد، وكيف يحب المرء بلدا لا يعرفه، ويحرص على سعادته ليسعد هو فيه، وهو لا علم عنده بما تعاقب عليه حتى صار إلى ما صار إليه، وهل يُفهم الحاضر بغير العابر،وهل تنشأُ في الأمة روح وطنية إذا لم تدرس تاريخها حق الدراسة.كتب الغربيون في آثار هذا القطر وعمرانه وتاريخه واقتصادياته وعادياته أحمالا من الكتب بلغاتهم، وقلما نشرت كتب جامعة لأحد أبنائنا بلغتنا وعلى نهجنا. واستنفض الغربيون كل بقعة من بقاعنا، ومدينة من مدننا، وبادية من بوادينا، ومنهم من أجاد وأفاد، مما يسجل ويا للأسف علمهم بنا، وجهلنا حتى بأرضنا، ويكفي أن يقال إن علماء الغرب وسياحهم صنفوا بين سنتي 1805 - 1903م خمسة وتسعين كتابا فقط في آثار سلع أو البتراء وادي موسى على حين قلّ جدا في الشاميين أنفسهم من زاروا هذه الخرائب المهمة، ومنهم من لم يسمع باسمها.أخذت مما ظفرت به من الكتب الإفرنجية، وعُنيت أشد العناية بالرجوع إلى ما كتبه الأسلاف في هذا الشأن، على تفرقه، واعتمدت على مؤلفي العرب خاصة لأن كل أمة أعرف على الغالب بحالتها من غيرها، فإن بحث علماء الإفرنج في تاريخ هذا القطر قبل الإسلام، ونبشوا عادياته ومصانعه، وحلوا لغاته ولهجاته، فتاريخه بعد هذا العهد أقرب إلى أن يكون علماؤنا مرجعا فيه، فقد قيل قتل أرضاً عالمها.جاء الكلام ناقصا في بعض الأدوار المتأخرة، وعُمي عليَّ بعض
দিনগুলো কাগজের ওপর লিখিত বা মুদ্রিত, অথবা পাথর, ইট, প্যাপিরাস ও পার্চমেন্টের ওপর উৎকীর্ণ।নিঃসন্দেহে 'খিতাত' (আঞ্চলিক ইতিহাস ও ভূসংস্থান)-এর বিষয়টি একটি অত্যন্ত মহিমান্বিত বিষয়। যারা নিজের ভূমিকে সেবা করার এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য স্বদেশের মাটি ও প্রকৃতিকে জানতে চায়, তাদের প্রত্যেকের জন্য এই বিষয়ে পরিবেষ্টিত জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। আর কোনো দেশ সম্পর্কে জানার জন্য সেই দেশের অধিবাসী ও প্রতিবেশীরাই সবচেয়ে বেশি হকদার। যাকে স্বদেশের কল্যাণসমূহ এবং তার পূর্বপুরুষদের কীর্তিসমূহ দেখার সৌভাগ্য দান করা হয়নি, সে বর্তমান ও ভবিষ্যতে কল্যাণকর প্রভাব বিস্তারের জন্য তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে পারে না। আর পূর্বসূরিদের নথিপত্রের দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সন্তান ও পৌত্রদের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কে হতে পারে? একজন মানুষ কীভাবে এমন একটি দেশকে ভালোবাসতে পারে যা সে চেনে না, এবং তার সুখ-সমৃদ্ধির জন্য আগ্রহী হতে পারে যাতে সে নিজেও সেখানে সুখী হতে পারে, অথচ বর্তমান অবস্থায় আসার আগে এর ওপর দিয়ে কী কী অতিবাহিত হয়েছে সে সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই? অতীত ছাড়া কি বর্তমানকে বোঝা সম্ভব?আর কোনো জাতির মধ্যে কি জাতীয়তাবোধের চেতনা জাগ্রত হতে পারে যদি তারা তাদের ইতিহাস যথাযথভাবে অধ্যয়ন না করে?পশ্চিমানরা এই ভূখণ্ডের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নগরায়ন, ইতিহাস, অর্থনীতি ও প্রাচীন রীতিনীতি সম্পর্কে তাদের নিজেদের ভাষায় রাশি রাশি কিতাব রচনা করেছে; কিন্তু আমাদের ভাষায় ও আমাদের পদ্ধতিতে আমাদের কোনো সন্তানের পক্ষ থেকে খুব কমই এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। প্রাচ্যবিদরা আমাদের প্রতিটি ভূখণ্ড, প্রতিটি শহর এবং প্রতিটি মরুভূমি তন্ন তন্ন করে অনুসন্ধান করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ করেছেন এবং উপকারও করেছেন; যা অত্যন্ত পরিতাপের সাথে আমাদের সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এবং এমনকি আমাদের নিজেদের ভূমি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাকেই তুলে ধরে। এটা বলাই যথেষ্ট যে, ১৮০৫ থেকে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পশ্চিমী পণ্ডিত ও পর্যটকরা কেবল 'সেলা' বা পেত্রা (ওয়াদি মুসা)-এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ওপর পঁচানব্বইটি কিতাব রচনা করেছেন; অথচ শমবাসীদের নিজেদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষগুলো পরিদর্শনে গিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা অতি নগণ্য, এমনকি তাদের কেউ কেউ এর নামও শোনেননি।আমি ইউরোপীয় কিতাবসমূহ থেকে যা পেয়েছি তা গ্রহণ করেছি এবং এই বিষয়ে পূর্বসূরিদের বিক্ষিপ্ত লেখাগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছি। বিশেষ করে আমি আরব লেখকদের ওপর নির্ভর করেছি, কারণ সাধারণত প্রতিটি জাতি অন্য কারো তুলনায় নিজের অবস্থা সম্পর্কে বেশি অবগত থাকে। যদি ইউরোপীয় পণ্ডিতরা ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বের এই ভূখণ্ডের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে থাকেন এবং এর প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন শিল্পকলা খনন করে বের করেন এবং এর ভাষা ও উপভাষাগুলোর রহস্য উন্মোচন করেন, তবে এই যুগের পরবর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রে আমাদের ওলামায়ে কেরামই মূল উৎস হওয়ার অধিক যোগ্য। কেননা বলা হয়ে থাকে, কোনো ভূখণ্ড সম্পর্কে তার আলিমই সম্যক অবগত।পরবর্তী কিছু যুগের আলোচনায় বর্ণনা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং কিছু বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
مواضع مهمة ذات صلة بمدنية الشام، والسبب فيه أن المتأخرين زهدوا في التاريخ حتى كادوا لا يفرقون بينه وبين أقاصيص العجائز، وموضوعات المخرفين والوضاعين، وعنيت بتجريد هذا الكتاب ما أمكن من المبالغات، ونخل لباب الوقائع المهمة الثابتة وحذف ما فيه شيَةُ شبهة، أو شائبة غلو، وإن كان منها ما يروق بعضهم ويتفكهون بسماعه، ويطربون لترداده. فخاطبت ما استطعت العقل أكثر من العاطفة، وعُنيت في قسم التاريخ السياسي أن أبين علل الحوادث، وتسلسل الكوائن، ودواعي الأحوال القريبة أو البعيدة، واستخراج النتائج واستنباط القواعد.والتاريخ ربيب الحرية لا يتصرف على هوى من يكتبه ويقرءوه ولا على أذواق أهل العصر وأهوائهم. وما دام موضوعه الاعتبار بالخالي لمعرفة الحالي والآتي فهو جدير بأن يتحرى فيه الحق ولا يدون سواه. قال أحد العلماء: عندما نريد أن نصل إلى الحقائق التاريخية، يجب أن تصح همتنا على إزالة الأوهام، ونزع الزوان من الأساطير التي تعلق بالوقائع الثابتة القليلة التي وصلت إلينا.كان المؤرخون بعد القرون الوسطى بين عاملين قويين، إما أن يكذبوا فيغضبوا الحق، أو يصدقوا فيغضبوا الخلق، والعمال والأعيان منهم خاصة. فقد ألف مثلا ابن زوجة أبي عذيبة المقدسي المتوفى سنة 856 تاريخين مطولا ومختصرا، ولما توفي أطلع بعضهم على الكبير منه، فوجد فيه أشياء توهمها في ثلب أعراض الناس فأتلفه، وصنف عبد الله البصروي من أهل القرن الثاني عشر تاريخا لهذه الديار، فبلغ أعيان دمشق خبره، ولما هلك دخلوا داره وآلو أن لا يأذنوا بدفنه أو يأخذوا التاريخ الذي وضعه، فضبطوه وأحرقوه على أعين القوم، مخافة أن تنكشف سيئات بعضهم. والذي ضاع من مدونات المتقدمين والمتأخرين يعد بالعشرات، لكثرة الجوائح الأرضية والسماوية التي أصابتها. وإذا كتب البقاء لشيء مما كتبه المتأخرون فيكون في الغالب إلى الركاكة لا تسقط فيه على حقيقة. وكثيرا ما كان العقلاء يعلقون على حواشي
শাম অঞ্চলের সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ; এর কারণ হলো, পরবর্তী যুগের লোকেরা ইতিহাসের প্রতি এতটাই উদাসীন হয়ে পড়েছিল যে, তারা ইতিহাস এবং বৃদ্ধাদের রূপকথা কিংবা বিভ্রান্ত ও জালিয়াতদের বানোয়াট কাহিনীর মধ্যে প্রায় কোনো পার্থক্যই করত না। আমি যথাসম্ভব এই কিতাবকে অতিরঞ্জন থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত ঘটনাবলির সারমর্ম ছেঁকে বের করেছি। সেই সাথে সংশয়যুক্ত বা অতিরঞ্জনের কলুষতা রয়েছে এমন বিষয়গুলোকে বর্জন করেছি, যদিও সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু ছিল যা কারো কারো কাছে চমৎকার মনে হতে পারত এবং তারা তা শুনে আনন্দ পেত ও বারবার বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। আমি যথাসাধ্য আবেগের চেয়ে বিচারবুদ্ধিকে অধিক সম্বোধন করেছি। রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশে আমি ঘটনার কারণসমূহ, পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রেক্ষাপটসমূহ ব্যাখ্যা করতে এবং ফলাফল আহরণ ও মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।ইতিহাস হলো স্বাধীনতার লালিত সন্তান; এটি লেখক বা পাঠকের খেয়ালখুশি কিংবা সমসাময়িক মানুষের রুচি ও প্রবৃত্তির অনুগত হয়ে চলে না। যেহেতু ইতিহাসের উদ্দেশ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে জানার জন্য অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, তাই এটি সত্য অনুসন্ধানের দাবি রাখে এবং সেখানে সত্য ভিন্ন অন্য কিছু লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। জনৈক পণ্ডিত বলেছেন: "যখন আমরা ঐতিহাসিক সত্যে পৌঁছাতে চাই, তখন আমাদের সংকল্প হওয়া উচিত বিভ্রম দূর করা এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো স্বল্পসংখ্যক প্রমাণিত ঘটনার সাথে লেপ্টে থাকা মিথ্যার আগাছাগুলো উপড়ে ফেলা।"মধ্যযুগের পরবর্তী ঐতিহাসিকগণ দুটি শক্তিশালী প্রভাবের অধীনে ছিলেন; হয় তারা মিথ্যা বলে সত্যকে ক্ষুণ্ণ করবেন, অথবা সত্য বলে সৃষ্টিজগতকে, বিশেষ করে তৎকালীন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অসন্তুষ্ট করবেন। উদাহরণস্বরূপ, ৮৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু উজায়বাহ আল-মাকদিসির স্ত্রীর পুত্র দুটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছিলেন—একটি দীর্ঘ এবং অন্যটি সংক্ষিপ্ত। যখন তিনি মারা গেলেন, তখন কিছু লোক তার বড় কিতাবটি পর্যবেক্ষণ করল এবং সেখানে এমন কিছু বিষয় পেল যা তারা মানুষের মানহানি বলে ধারণা করল; ফলে তারা সেটি ধ্বংস করে ফেলল। আবার দ্বাদশ শতাব্দীর আব্দুল্লাহ আল-বাসরাবি এই অঞ্চলের ইতিহাস নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। দামেস্কের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে এর সংবাদ পৌঁছালে তিনি মারা যাওয়ার পর তারা তার বাড়িতে প্রবেশ করল এবং কসম খেল যে, কিতাবটি হস্তগত না করা পর্যন্ত তারা তাকে দাফন করতে দেবে না। অবশেষে তারা সেটি জব্দ করল এবং নিজেদের মন্দ কাজগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে জনগণের সামনেই তা পুড়িয়ে ফেলল। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লেখকদের এমন বহু পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে যার সংখ্যা হবে কয়েক ডজন; কারণ এগুলোর ওপর অনেক পার্থিব ও আসমানি বিপর্যয় নেমে এসেছিল। আর পরবর্তী লেখকদের যা কিছু টিকে আছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতই অসার যে সেখানে প্রকৃত সত্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রায়শই বিজ্ঞ ব্যক্তিরা এগুলোর পার্শ্বটীকায় মন্তব্য করতেন—
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بعض الكتب تعاليق لحوادث جرت، وأمور اهتم لها الناس وشغلت مجتمعهم، ومن مثل تلك الأوراق ومن العهود والصكوك ضم هذا السفر جانبا.بحثت جد البحث عما دُوّن في التاريخ العام أو الخاص بتاريخ بلد من أرض الشام، فرأيت يد الضياع قد غالتها إلا قليلا، وقد أهمني منها الاطلاع على تاريخ صفد للعثماني وتاريخ البرزالي وتاريخ حلب الكبير لابن العديم وتاريخها لابن أبي طي وتاريخ حمص لابن عيسى ولعبد الصمد بن سعيد وأخبار قضاة دمشق للذهبيوتاريخ ابن أبي الدم الحموي وتاريخ قنسرين وتاريخ إنطاكية وتاريخ المعرة لابن المهذب وتواريخ كثيرة في سير مشاهير الفاتحين كتبها أمثال ياقوت الحموي وابن شداد وابن واصل وابن حبيب وابن الداية وابن عبد الظاهر وابن تيمية والجبريني والعسقلاني، فلم أظفر بسوى ورقات من بعضها، أو مختصرات ومنقولات لا تبل غلة، حُرفت بالنقل فتشوهت محاسنها.ولقد وددت لما تيسر وضع خطط الشام على هذه الصورة لو ساغ لي أن أصبر عليه زمنا آخر حتى يتم التحقيق فيه على ما يجب عملا بالحكمة التي تمثل بها الثعالبي في اليتيمة قال: وكلما أعرته على الأيام بصري، وأعدت فيه نظري، تبينت مصداق ما قرأته في بعض الكتب، أن أول ما يبدو من ضعف ابن آدم، أنه لا يكتب كتابا فيبيت عنده ليلة، إلا أحب في غدها أن يزيد فيه أو ينقص منه، هذا في ليلة فكيف في سنين عديدة. ولكن رأيت بعد طول التأمل أن من الحزم الاكتفاء بما تهيأ في هذه السنين، والتمحيص بحر لا ساحل له، ولطالما ذكرت وأنا أغوص في الكتب المختلفة التي طالعتها قول المؤرخ فوستيل دي كولانج ليس التاريخ من العلوم السهلة فلأجل يوم واحد يصرف في التركيب ينبغي قضاء أعوام طويلة في التحليل. على أني لما راجعت مسودات ما صنفت ورأيتني قد تذوقتها فهضمتها، أيقنت أنه لا يثقل على القراء في الجملة، فأبرزته خائفا حوادث الأيام، ونزول داعي الحمام، وأنا موقن بأن فوق
কিছু বই হলো সংঘটিত ঘটনাবলির উপর টীকা এবং এমন কিছু বিষয় যা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং তাদের সমাজকে ব্যস্ত রেখেছিল। এই গ্রন্থটি এ ধরণের কিছু পত্র, অঙ্গীকারনামা ও দলিলাদির এক অংশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।আমি শাম দেশের কোনো ভূখণ্ডের সাধারণ বা বিশেষ ইতিহাস সম্পর্কে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধান করেছি। তবে আমি দেখলাম যে, সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত ধ্বংসের হাত সেগুলোকে বিলীন করে দিয়েছে। আমার কাছে এর মধ্যে ওথমানি রচিত সাফাদের ইতিহাস, আল-বারজালির ইতিহাস, ইবনুল আদিম রচিত ‘তারিখে হালাবুল কাবির’, ইবনে আবি তায়্যি রচিত হালাবের ইতিহাস, ইবনে ঈসা ও আবদুস সামাদ ইবনে সাঈদ রচিত হিমসের ইতিহাস এবং আয-যাহাবি রচিত দামেস্কের বিচারকদের সংবাদগুলো অবগত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল।আরও ছিল ইবনে আবিল দাম আল-হামাভির ইতিহাস, কিননাসরিনের ইতিহাস, আনতাকিয়ার ইতিহাস এবং ইবনুল মুহাযযাব রচিত মা’আররাহ-এর ইতিহাস। এছাড়াও বিখ্যাত বিজেতাদের জীবনী নিয়ে রচিত অনেক ইতিহাস গ্রন্থ যা ইয়াকুত আল-হামাভি, ইবনে শাদ্দাদ, ইবনে ওয়াসিল, ইবনে হাবিব, ইবনুদ দায়া, ইবনে আবদুয যাহির, ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-জাবরিনি এবং আল-আসকালানির মতো লেখকগণ লিখেছিলেন। কিন্তু আমি এগুলোর মধ্য থেকে মাত্র কয়েক পাতা অথবা কিছু সংক্ষিপ্তসার ও উদ্ধৃতি ছাড়া আর কিছুই পাইনি যা তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম নয়, এবং বর্ণনার মাধ্যমে বিকৃত হওয়ার ফলে সেগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে।শাম দেশের মানচিত্র ও বর্ণনা যখন এই রূপে বিন্যস্ত করা সহজ হলো, তখন আমি চেয়েছিলাম যদি এর ওপর আরও কিছুকাল ধৈর্য ধারণ করতে পারতাম, যাতে যথাযথভাবে এর গবেষণা সম্পন্ন হতো। আমি আস-সাআলবি তাঁর ‘আল-ইয়াতিমা’ গ্রন্থে বর্ণিত যে প্রজ্ঞার উদাহরণ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী আমল করতে চেয়েছিলাম; তিনি বলেছেন: “আমি যখনি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে বইটির দিকে দৃষ্টি দিয়েছি এবং পুনরায় তা পর্যবেক্ষণ করেছি, তখনি আমি কোনো কোনো কিতাবে পড়া সেই সত্যটির প্রমাণ পেয়েছি যে, আদমসন্তানের দুর্বলতার প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে—সে কোনো বই লিখে তা নিজের কাছে একরাত রাখলে পরদিনই তাতে কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে চায়। এক রাতের ব্যবধানেই যদি এমন হয়, তবে দীর্ঘ বহু বছরের ব্যবধানে কী অবস্থা হবে!” কিন্তু দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর আমি দেখলাম যে, এই কয়েক বছরে যা প্রস্তুত হয়েছে তাতে তুষ্ট থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ; কারণ সংশোধন ও যাচাই-বাছাই হলো এমন এক সমুদ্র যার কোনো কিনারা নেই। আমি যখন আমার পঠিত বিভিন্ন কিতাবে ডুব দিয়েছিলাম, তখন প্রায়ই ঐতিহাসিক ফুস্টেল ডি কোলানজেস-এর কথাটি স্মরণ করতাম: “ইতিহাস কোনো সহজ বিজ্ঞান নয়; বিন্যাসের কাজে একদিন ব্যয় করার জন্য বিশ্লেষণের কাজে দীর্ঘ বছর অতিবাহিত করা প্রয়োজন।” তবে আমি যখন আমার সংকলিত পাণ্ডুলিপিগুলো পুনরায় দেখলাম এবং অনুভব করলাম যে আমি তা যথাযথভাবে আয়ত্ত করেছি, তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে এটি পাঠকদের জন্য সামগ্রিকভাবে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না। তাই কালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং মৃত্যুর ডাক আসার আশঙ্কায় আমি এটি প্রকাশ করলাম; আর আমি নিশ্চিত যে সবকিছুর উপরে
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ما طالعت وبحثت غايات، لم يمكني الزمان والمكان من بلوغها، وعسى أن يقوم غيري بعدي فيتم هذه الخطوط التي رسمتها من بنيان كتاب الخطط، ويصلح بما يتوفر له من المواد ما ربما وقعت فيه من الغلط والشطط، وإذا حصلت الفائدة من عمل استغرق جلب مادته خمسا وعشرين سنة، وكلّف تعبا ونشبا، فهو غاية ما أتطالُّ إليه، وإلا فهو جهد المقلّ، والكمال لله وحده.وكتب في دمشق في اليوم الرابع من شعبان من شهور سنة ثلاث وأربعين وثلاثمائة وألف بعد الهجرة بموافقة شباط من شهور سنة خمس وعشرين وتسعمائة وألف للميلاد.
আমি যা কিছু অধ্যয়ন ও গবেষণা করেছি এবং যে সকল লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেয়েছি, কাল ও স্থান আমাকে সেগুলো পূর্ণরূপে অর্জন করতে দেয়নি। আশা করি আমার পরে অন্য কেউ এসে খিতাত গ্রন্থের প্রাসাদের যে রূপরেখা আমি অঙ্কন করেছি তা সমাপ্ত করবেন এবং তার কাছে লভ্য উপকরণের মাধ্যমে আমার দ্বারা সংঘটিত ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নেবেন। যদি এমন একটি কাজ থেকে উপকার লাভ করা যায় যার উপাদান সংগ্রহ করতে পঁচিশ বছর সময় লেগেছে এবং যা শারীরিক ক্লান্তি ও অর্থ ব্যয় করিয়েছে, তবে সেটিই হবে আমার পরম পাওয়া; অন্যথায় এটি হবে এক সামর্থ্যহীনের সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। আর পূর্ণতা কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই।এটি দামেস্কে হিজরি তেরোশ তেতাল্লিশ সনের শাবান মাসের চতুর্থ দিনে লিখিত হয়েছে, যা ঈসায়ী উনিশশ পঁচিশ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقويم الشامتعريف الشام للأقدمين:الشأْم والشأم والشام والشآم هو اسم هذا القطر العزيز على ما عرفته العرب، وهو يتناول عامة الأقاليم الداخلة اليوم في فلسطين وسورية بحسب الاصطلاح الحديث. وسورية اسم غلب إطلاقه على القطر الشامي على عهد الإسكندر مقتضبا مع تخفيفه من اسم آشوري لغلبة الآشوريين عليه والسين والشين تتعاوران في اللغات السامية. قال البكري: سُورية بضم أوله وكسر الراء المهملة وتخفيف الياء أخت الواو وفتحها اسم للشام. وقيل: إن سبب تسميته بسورية نسبة لصور ثغر الشام القديم ومخرج الصاد والسين واحد. وقال آخرون: إن اليونان لما فتحوا الشام رأوا الآشوريين يتولون أمره فسموه أشورية. قال المسعودي: سورية هي الشام والجزيرة وكان الروم يسمون الصقع الذي سكانه المسلمون في عهده 345هـ من الشام والعراق سوريا، والفرس كانوا يسمون العراق والجزيرة والشام سورستان إضافة إلى السريانيين الذين هم الكلدانيون وتسميهم العرب النبط.ويقال إن فلسطين سميت بفلسطين بن سام أو بفلسطين بن كلثوم، أو بفليستين بن كسلوخيم من بني يافث بن نوح ثم عربت فليشين. وجوزوا في اسم الشام التذكير والتأنيث والمشهور التذكير. وللغويين
শামের ইতিবৃত্তপ্রাচীনদের নিকট শামের পরিচিতি:আশ-শাম, আশ-শাআম, আশ-শাম এবং আশ-শা-আম হলো এই প্রিয় ভূখণ্ডের নাম যা আরবদের কাছে পরিচিত ছিল। এটি বর্তমান আধুনিক পরিভাষা অনুযায়ী ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত সাধারণ অঞ্চলসমূহকে নির্দেশ করে। আর ‘সিরিয়া’ এমন একটি নাম যা আলেকজান্ডারের যুগে শামী ভূখণ্ডের ওপর প্রাধান্য পায়; এটি মূলত ‘আশুরি’ নাম থেকে সংক্ষেপিত ও সহজীকৃত রূপ, যেহেতু সেখানে আশুরিদের প্রাধান্য ছিল। আর সেমিটিক ভাষাসমূহে ‘সীন’ এবং ‘শীন’ বর্ণদ্বয় একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়। আল-বাকরি বলেছেন: সুরিয়া—প্রথম বর্ণে পেশ, ‘রা’ বর্ণে যের এবং ‘ইয়া’ বর্ণটি তাশদীদ ছাড়া যবর প্রদান করলে—তা শামেরই একটি নাম। বলা হয়ে থাকে: শামের প্রাচীন সমুদ্রবন্দর ‘সুর’-এর দিকে সম্বন্ধ করে একে ‘সিরিয়া’ নামকরণ করা হয়েছে, এবং ‘সাদ’ ও ‘সীন’ বর্ণের উচ্চারণস্থল এক। অন্যরা বলেছেন: গ্রিকরা যখন শাম জয় করে, তখন তারা সেখানে আশুরিদের শাসনকর্তা হিসেবে দেখতে পায়, ফলে তারা একে ‘অ্যাসিরিয়া’ নামকরণ করে। আল-মাসউদি বলেছেন: সুরিয়া হলো শাম ও জাজিরা অঞ্চল। রোমানরা হিজরি ৩৪৫ সালের দিকে শাম ও ইরাকের সেই ভূখণ্ডকে ‘সিরিয়া’ বলত যেখানে মুসলিমরা বসবাস করত। আর পারসিকরা ইরাক, জাজিরা ও শামকে ‘সুরিস্থান’ বলত; যা সুরিয়ানিদের সাথে সম্পর্কিত, যারা মূলত ক্যালডীয় এবং আরবরা যাদের ‘নাবতি’ বলে ডাকে।বলা হয় যে, ফিলিস্তিনের নামকরণ করা হয়েছে ফিলিস্তিন বিন সাম, অথবা ফিলিস্তিন বিন কুলসুম, অথবা ইয়াফিস বিন নুহ-এর বংশধর ফিলিস্তিন বিন কাসলুখিম-এর নামানুসারে; যা পরবর্তীতে ‘ফিলিশিন’ থেকে আরবি করা হয়েছে। ভাষাবিদগণ ‘শাম’ শব্দটিকে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, তবে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহারই অধিক প্রসিদ্ধ। এবং ভাষাবিদদের মতে...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
والجغرافيين في سبب تسميته شاما آراء مختلفة فقيل: سمي لتشاؤم بني كنعان إليه وقيل: بل سمي بسام بن نوح لأنه نزل به واسمه بالسريانية شام بشين معجمة. وقال بعضهم: إن سام بن نوح لم يدخلالشام قط وقيل: لأن أرضه أي أرض الشام مختلفة الألوان بالحمرة والسواد والبياض فسمي شاما لذلك، كما يسمى الخال في بدن الإنسان شامة، وقيل: سمي شاما لأنه عن شمال الكعبة. والشام لغة في الشمال، وقيل: سميت الشام شاما لكثرة قراها وتداني بعضها من بعض فشبهت بالشامات وجوزوا فيه وجهين أحدهما أن يكون من اليد الشؤمى وهي اليسرى والثاني أن يكون فعلا من الشؤم. معنى الشام وجمعه:واختصرت العرب من شامين الشام وغلب على الصقع كله ياقوت وهذا مثل فلسطين وقنسرين ونصيبين وحوارين وهو كثير في نواحي الشام. وذكروا أن معنى الشام الطيب، ويقال للشام اللماعة واللماعة بالركبان تلمع بهم أي تدعوهم إليها وتطيبهم، وقد تجمع الشام على شامات وتسمى الشام بذلك، ومن الناس من لا يجعله إلا شاما واحدا، ومنهم من يجعله شامات فيجعل بلاد فلسطين والأرض المقدسة إلى حد الأردن شاما، ويقولون الشام الأعلى ويجعل دمشق وأرجاءها من الأردن إلى الجبال المعروفة بالطوال شاما ويجعل سورية وهي حمص وما ضمت إلى رحبة مالك شاما، ويجعلون حماة وشيزر من مضافاتها ويجعل قنسرين من إقليمها وحلب مما يدخل في هذا الحد إلى جبال الروم والعواصم والثغور. فأما عكا وطرابلس وكل ما هو على ساحل البحر وكل ما قابل شيء منه شيئا من الشامات فيحسب منه.وإطلاق الشام على دمشق من باب إطلاق العام على الخاص والعرب نالينو كثيرا ما يسمون المدن القواعد بأسماء أقاليمها فكانوا يقولون بلا فرق دمشق أو الشام - الفسطاط أو القاهرة أو مصر - شام أو
শামের নামকরণের কারণ সম্পর্কে ভৌগোলিকদের বিভিন্ন মত রয়েছে। বলা হয়েছে: বনী কানআন একে অশুভ লক্ষণ হিসেবে গণ্য করার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: বরং এর নামকরণ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র সাম-এর নামে করা হয়েছে, কারণ তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন এবং সিরীয় ভাষায় তার নাম ছিল ‘শাম’ (শীন বর্ণযোগে)। তাদের কেউ কেউ বলেন: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র সাম কখনওশামে প্রবেশ করেননি। আবার বলা হয়েছে: কারণ এর মাটি অর্থাৎ শামের ভূমি লাল, কালো ও সাদা বর্ণের সংমিশ্রণ, তাই একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে; যেমন মানুষের শরীরের তিলকে ‘শামাহ্’ বলা হয়। আরও বলা হয়েছে: একে শাম বলা হয় কারণ এটি কাবার বাম দিকে (শামাল) অবস্থিত। ভাষাগতভাবে শাম শব্দটি উত্তর বা বাম দিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। আরও বলা হয়: শামের গ্রামগুলোর আধিক্য এবং একে অপরের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে, ফলে সেগুলোকে তিলের (শামাত) সাথে তুলনা করা হয়েছে। ভাষাবিদগণ এতে দুটি রূপের অবকাশ রেখেছেন, একটি হলো: এটি ‘আল-ইয়াদ আশ-শু'মা’ অর্থাৎ বাম হাত থেকে উৎপন্ন, আর দ্বিতীয়টি হলো: এটি ‘শু'ম’ (অশুভ) শব্দ থেকে নির্গত একটি ক্রিয়া। শামের অর্থ ও এর বহুবচন:আরবরা ‘শামীন’ থেকে সংক্ষেপে ‘শাম’ বলেছে এবং ইয়াকুতের মতে এটি পুরো অঞ্চলের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এটি ফিলিস্তিন, কিন্নাসরীন, নাসীবীন এবং হাওয়ারীনের মতো, যা শামের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বহুল প্রচলিত। তারা উল্লেখ করেছেন যে, শামের অর্থ হলো পবিত্র। শামকে ‘আল-লাম্মাআহ’ বলা হয়; আরোহীদের ক্ষেত্রে ‘লাম্মাআহ’ অর্থ হলো যা তাদের চমকিত করে অর্থাৎ তাদের নিজের দিকে টানে এবং তাদের জীবনকে মনোরম করে। কখনো ‘শাম’ শব্দকে ‘শামাত’ হিসেবে বহুবচন করা হয় এবং শামকে এই নামেও অভিহিত করা হয়। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ একে কেবল একটি ‘শাম’ হিসেবে গণ্য করেন, আবার কেউ কেউ একে বহু ‘শামাত’ (অঞ্চলসমূহ) হিসেবে গণ্য করেন। ফলে তারা ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ও পবিত্র ভূমি থেকে জর্ডানের সীমানা পর্যন্ত একটি শাম গণ্য করেন এবং একে ‘উচ্চতর শাম’ (শাম আল-আলা) বলেন। তারা দামেস্ক ও এর আশপাশের অঞ্চলকে জর্ডান থেকে ‘তাওয়াল’ নামক পাহাড় পর্যন্ত আরেকটি শাম হিসেবে গণ্য করেন। সিরিয়া তথা হিমস ও রাহবাত মালিকের সাথে সংযুক্ত অঞ্চলসমূহকে একটি শাম গণ্য করেন এবং হামাহ ও শাইজারকে এর অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া কিন্নাসরীনকে এর প্রদেশ এবং আলিপ্পোকে (হালাব) রুমের পাহাড়, আওয়াতিম ও সীমানা পর্যন্ত এই সীমানার অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। আর আক্কা, ত্রিপোলি এবং সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত সবকিছু এবং যে অংশগুলো শামের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবে।আর দামেস্কের ওপর ‘শাম’ শব্দের প্রয়োগ হলো সাধারণ নামকে বিশেষ অর্থে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। আরবরা প্রায়শই প্রধান শহরগুলোকে তাদের প্রদেশের নামে নামকরণ করত; তাই তারা কোনো পার্থক্য ছাড়াই বলত—দামেস্ক বা শাম, ফুসতাত বা কায়রো বা মিসর, শাম অথবা
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
حضرموت - صحار أو عُمان - الأندلس بدلا من قرطبة - صقلية عبارة عن بلرم. حد الشام قديما:وحد الشام من الغرب البحر المتوسط أو بحر الروم أو بحر الملح أو بحر الشام، ومن الشرق البادية من أيلة إلى الفرات. وأيلة مدينة قديمة على البحر الأحمر أو القلزم وهي على مقربة من العقبة اليوم. ثم يذهب الحد من الفرات إلى حد الروم أو آسيا الصغرى وشمالا إلى الروم وجنوبا حد مصر وتيه بني إسرائيل. وأوصلوا الحد من الغرب إلى طرسوس قرب أذنة إلى رفح في أول الجفار بين مصر والشام. وأوسع من هذا التعريف أنه يحيط بالشام من جهة الجنوب حد يمتد من رفح إلى تيه بني إسرائيل إلى ما بين الشوبك وأيلة إلى البلقاء، ويحيط به من جهة الشرق حد يمتد من البلقاء إلى مشاريق صرخد آخذا على أطراف الغوطة إلى سلمية إلى مشاريق حلب إلى بالس. ويحيط به من جهة الشمال حد يمتد من بالس مع الفرات إلى قلعة نجم إلى البيرة إلى قلعة الروم إلى سميساط إلى حصن منصور إلى بهنسي إلى مرعش إلى سيس إلى طرسوس. وهذا الحد للعرب قال به كاتب جلبي في القرن الحادي عشر. حقيقة حد الشام:وبموجب الاتفاق الفرنسي التركي الأخير جعلت الحدود في قرية قطمة على طريق السكة البغدادية على أربعين كيلومترا من حلب. ودخلت كليس في حدود الروم وليس هذا هو الحد الجغرافي الطبيعي للشام من الشمال. بل حد الشام ينتهي بسفوح جبال طوروس المعروفة بالدروب عند العرب آخذا إلى ما وراء خليج الإسكندرونة لجهة أرض الروم وكان جبل السياح بفتح السين وتشديد الياء حدا بين الشام والروم ولا نعرف هذا الجبل بهذا الاسم اليوم. ويقول الإدريسي: ومن السويدية إلى جبل رأس الخنزير عشرون ميلا وعلى هذا الجبل دير كبير وهو أول بلاد
হাদরামাউত - সোহর বা ওমান - কর্ডোভার পরিবর্তে আন্দালুস - সিসিলি হচ্ছে পালেরমো। প্রাচীনকালে শামের সীমানা:শামের সীমানা পশ্চিম দিকে ভূমধ্যসাগর বা বাহরুর রুম বা লবণাক্ত সাগর বা শামি সাগর; আর পূর্ব দিকে আইলা থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত মরুভূমি অঞ্চল। আইলা হলো লোহিত সাগর বা কুলজুম সাগরের তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর, যা বর্তমান আকাবার নিকটবর্তী। অতঃপর সীমানাটি ফোরাত থেকে রোমের সীমানা বা এশিয়া মাইনর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং উত্তর দিকে রোম (বাইজান্টাইন) এবং দক্ষিণ দিকে মিশরের সীমানা ও বনী ইসরায়েলের তীহ প্রান্তর পর্যন্ত। তাঁরা পশ্চিম দিক থেকে সীমানাটিকে আদানার নিকটবর্তী তারসুস থেকে শুরু করে মিশর ও শামের মধ্যবর্তী জিফার অঞ্চলের শুরুতে অবস্থিত রাফাহ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। এই সংজ্ঞার চেয়েও প্রশস্ততর বর্ণনা হলো—দক্ষিণ দিক থেকে শামের বেষ্টনী হচ্ছে রাফাহ থেকে বনী ইসরায়েলের তীহ প্রান্তর হয়ে শওবাক ও আইলার মধ্যবর্তী স্থান থেকে বালকা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সীমানা। পূর্ব দিক থেকে এটি বালকা থেকে সারখাদের পূর্বাঞ্চল হয়ে গুতার প্রান্তসীমা স্পর্শ করে সালামিয়াহ, আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল থেকে বালিস পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তর দিক থেকে একে পরিবেষ্টন করে আছে এমন একটি সীমানা যা ফোরাত সংলগ্ন বালিস থেকে কালাতুন নাজম, আল-বিরাহ, কালাতুর রুম, সামাইসাত, হিসনে মানসুর, বাহনাসি, মারআশ ও সিস হয়ে তারসুস পর্যন্ত বিস্তৃত। আরবদের এই সীমানা নির্ধারণের কথা একাদশ শতাব্দীতে কাতিব চেলেবি উল্লেখ করেছেন। শামের সীমানার প্রকৃত অবস্থা:সাম্প্রতিক ফরাসি-তুর্কি চুক্তি অনুযায়ী, আলেপ্পো থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে বাগদাদ রেলপথের ওপর অবস্থিত কাতমাহ গ্রামে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিলিসকে রোমের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে এটি উত্তর দিক থেকে শামের স্বাভাবিক ভৌগোলিক সীমানা নয়। বরং শামের সীমানা শেষ হয়েছে তোরোস পর্বতমালার পাদদেশে যা আরবদের কাছে 'আদ-দুরুব' নামে পরিচিত। এটি ইস্কান্দারুন উপসাগর পেরিয়ে রোমীয় ভূমির দিকে বিস্তৃত। জাবালুস সাইয়াহ (সীন বর্ণে ফাতহা এবং ইয়া বর্ণে তাশদিদসহ) ছিল শাম ও রোমের মধ্যবর্তী সীমানা, তবে বর্তমানে আমরা এই পাহাড়টিকে এই নামে চিনি না। আল-ইদ্রিসি বলেন: সুওয়াইদিয়াহ থেকে জাবালু রাসিল খানজির পর্যন্ত দূরত্ব বিশ মাইল এবং এই পাহাড়ের ওপর একটি বড় মঠ রয়েছে, যা দেশের প্রথম অঞ্চলের অন্তর্গত।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأرمن وآخر بلاد الشام. فما كان من جهة الشام على ضفة الفرات فهوشام، وما كان على الضفة الأخرى من الشرق فهو عراق. فصفين مثلا في الشام وقلعة جعبر في الجزيرة الفراتية وبينهما مقدار فرسخ أو أقل وتدخل بالس أي مسكنة بالشام لأنها من غرب الفرات وتدخل البيرة بيره جك في الجزيرة لأنها على الشق الآخر من الفرات. وما كان من دير الزور على الفرات إلى جهة الشام فهو من الشام، وما كان على الشاطئ الآخر إلى الشرق فهو من العراق. وكذلك يقال في الرَّقة. وتدخل دومة الجندل المعروفة اليوم بالجوف في الجنوب في جملة هذا القطر. كما أن أيلة هي آخر الحجاز وأول الشام. فالعريش أو رفح أو الزعقة هي حد الشام الجنوبي الغربي. ومعان نصفها للشام ونصفها للحجاز، فيقال معان الشامية ومعان الحجازية. حدوده مع مصر:وقد اتفقت الحكومتان العثمانية والمصرية سنة 1324هـ - 1906م على تعيين الحد بين مصر والشام من رأس طابا على الساحل الغربي لخليج العقبة ممتدا إلى قمة جبل فورت مارا على رؤوس جبال طابا الشرقية المطلة على وادي طابا، ثم من قمة جبل فورت يتجه إلى الخط الفاصل إلى نقطة المفرق على قمة جبل فتحي حيث ملتقى طريق غزة إلى العقبة بطريق نخل إلى العقبة. ومن هذه النقطة إلى التل الذي إلى الشرق من مكان ماء يعرف بثميلة الردادي والمطلة على الثميلة، بحيث تبقى الثميلة غربي الخط. ومن هناك إلى قمة رأس الردادي ثم إلى رأس جبل الصفرة، ومنه إلى رأس القمة الشرقية بجبل قم قف ثم إلى سويلة شمالي الثميلة، ومنها إلى غرب الشمال الغربي من سماوة ومنها إلى قمة التل الواقع إلى غرب الشمال الغربي من بئر المغارة في الفرع الشمالي من وادي مايين، ومنها إلى غربي جبل المقراة فإلى رأس العين إلى نقطة على جبل أم حواويط إلى منتصف المسافة بين عمودين قائمين في الجنوب الغربي من بئر رفح، ومنها إلىنقطة على التلال الرملية في اتجاه 28 درجة أي 80 درجة إلى الغرب وعلى
আর্মেনিয়া এবং শাম ভূখণ্ডের শেষ সীমা। ফুরাত নদীর তীরের যে অংশটি শামের দিকে অবস্থিত তা শাম; আর পূর্ব দিকের অপর তীরে যা কিছু অবস্থিত তা ইরাক। উদাহরণস্বরূপ, সিফফিন শামে অবস্থিত এবং কালআত জা'বার জাজিরাতুল ফুরাতিয়ায় অবস্থিত, আর এ দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব এক ফারসাখ বা তারও কম। বালিস অর্থাৎ মাসকানাহ শামের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি ফুরাত নদীর পশ্চিমে অবস্থিত; আর আল-বিরাহ (বিরাজিক) জাজিরা অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি ফুরাত নদীর অন্য পাড়ে অবস্থিত। দাইরুজ জোরের ফুরাত তীরের যে অংশটি শামের দিকে তা শামের অন্তর্ভুক্ত, আর পূর্বদিকের অপর তীরে যা অবস্থিত তা ইরাকের অন্তর্ভুক্ত। রাক্কাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বর্তমানে আল-জাওফ নামে পরিচিত দক্ষিণের দুমাতুল জানদালও এই ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আয়লা হলো হিজাজের শেষ প্রান্ত এবং শামের শুরু। আর আল-আরিশ, রাফাহ অথবা আল-জা'কা হলো শামের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত। মা'আন শহরের অর্ধেক শামের এবং অর্ধেক হিজাজের; তাই একে 'শামি মা'আন' এবং 'হিজাজি মা'আন' বলা হয়। মিশরের সাথে এর সীমানা:১৩২৪ হিজরি মোতাবেক ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় ও মিশরীয় সরকারদ্বয় মিশর এবং শামের মধ্যবর্তী সীমানা নির্ধারণে একমত হয়। এই সীমানা আকাবা উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রাস তাবা থেকে শুরু হয়ে জাবাল ফোর্ট-এর চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ওয়াদি তাবার দিকে মুখ করে থাকা পূর্ব তাবা পর্বতশৃঙ্গগুলোর ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। এরপর জাবাল ফোর্টের চূড়া থেকে বিভাজক রেখাটি জাবাল ফাতহির চূড়ায় অবস্থিত মাফরাক বিন্দু অভিমুখে অগ্রসর হয়েছে, যেখানে গাজা থেকে আকাবাগামী রাস্তা এবং নাখল থেকে আকাবাগামী রাস্তার মিলনস্থল। এই বিন্দু থেকে একটি টিলা পর্যন্ত যা সুমাইলাত আল-রাদ্দাদি নামক জলাধারের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং সুমাইলাতের দিকে মুখ করা, যেন সুমাইলাত রেখাটির পশ্চিমে থাকে। সেখান থেকে রাস আল-রাদ্দাদির চূড়া এবং এরপর জাবাল আস-সুফরার চূড়া পর্যন্ত। সেখান থেকে জাবাল কুম কুফ-এর পূর্ব চূড়া পর্যন্ত, তারপর সুমাইলাতের উত্তরের সুওয়াইলা পর্যন্ত। সেখান থেকে সামাওয়াহ-এর উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং সেখান থেকে ওয়াদি মায়িন-এর উত্তর শাখায় অবস্থিত বি'রুল মাগারার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত টিলার চূড়া পর্যন্ত। সেখান থেকে জাবাল আল-মাকরাহ-এর পশ্চিম দিক হয়ে রাসুল আইন পর্যন্ত, এরপর জাবাল উম্মু হাওয়াউইতের একটি বিন্দু পর্যন্ত, যা রাফাহ কূপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত দুটি দণ্ডায়মান স্তম্ভের মধ্যবর্তী দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখান থেকে বালিয়াড়িগুলোর ওপর একটি বিন্দু পর্যন্ত যা পশ্চিম দিকে ২৮ ডিগ্রি অর্থাৎ ৮০ ডিগ্রি কোণে অবস্থিত এবং
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
مسافة 420 مترا في خط مستقيم من العمودين المذكورين ثم يمتد الخط مستقيما من هذه النقطة باتجاه 33. 4 درجة من الشمال المغنطيسي أعني 26 درجة إلى الغرب إلى شاطئ البحر المتوسط مارا بتل خرائب على ساحل البحر الأحمر. وتقرر في أيلول 1920 أن تكون حدود حلب شمالا التخوم الشمالية للواء الإسكندرونة والتخوم الشمالية للمنطقة الغربية القديمة آخر نقطة منها تلتقي بالخط الحديدي شرقي محطة هملن، ثم خط الحديد وهو داخل التخوم حتى تل أبيض، ثم خط يجمع بين تل أبيض والخابور شرقا ونهر الخابور حتى مصبه في الفرات، ثم نهر الفرات حتى البو كمال جنوبا وهو الخط المعروف بخط البوكمال إلى تدمر ثم إلى الحدود الغربية الشمالية. وهذا الحد موضوع غير طبيعي. ولعل هذا القطر لن يعدم حده الطبيعي من الشمال فإن الصخور التي تفصل الشام من الشمال عن آسيا الصغرى ليس لها مثيل في التخوم الطبيعية كما قال نابليون. وجعل الجغرافي اليزه ركلو حد الشام من جبال أمانوس اللكام إلى طورسينا وقال: إن طورسينا وإن ضم سياسيا إلى مصر فهو جزء من أجزاء الشام. وقال بوليه: إن حد سورية شمالا آسيا الصغرى. وقال بورتر: إن سورية أي سورية الرومانيين يحدها شمالا آسيا الصغرى. وقال بيدكر: إن حد الشام من طوروس إلى مصر. وبذلك رأينا أن الشام يحيط به من الجنوب رمال من الجفار وتيه بني إسرائيل وجزء من البحر الأحمر فالبادية. ومن الشمال جبال شامخة صعبة المسالك وهي جبل أمانوس أحد سلاسل جبال طوروس. ومن الشرق الفرات ومن الغرب البحر. أي رمال وجبال ونهر وبحر. مساحة الشام وصورته:قدر القدماء طول الشام من العريش إلى الفرات بمسيرة نحو شهر وعرضه منجبلي طي أجإ وسلمى من القبلة إلى بحر الروم نحو عشرين يوما، وجبلا أجإ وسلمى جنوب الشراة وراء البتراء المعروفة عند الرومان باسم بروفنسيا أرابيا أو أرابيا بترا - وقال شيخ الربوة: حد الشام طولا من ملطية إلى العريش ومسافته سبعة
উল্লিখিত দুই স্তম্ভ থেকে সরলরেখায় ৪২০ মিটার দূরত্ব, তারপর রেখাটি এই বিন্দু থেকে চৌম্বক উত্তরের ৩৩.৪ ডিগ্রি অভিমুখে অর্থাৎ পশ্চিমে ২৬ ডিগ্রি হয়ে ভূমধ্যসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা লোহিত সাগরের উপকূলে তাললুল খরায়েবকে অতিক্রম করেছে। ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত হয়েছিল যে, আলেপ্পোর উত্তর সীমানা হবে আলেকজান্দ্রেটা (ইস্কান্দারুন) সানজাকের উত্তর সীমান্ত এবং প্রাচীন পশ্চিমাঞ্চলের উত্তর সীমান্ত, যার শেষ বিন্দুটি হামলিন স্টেশনের পূর্বে রেললাইনের সাথে মিলিত হয়। এরপর রেললাইনটি সীমান্তের ভেতরে তাল আবয়াদ পর্যন্ত বিস্তৃত, তারপর একটি রেখা যা পূর্বে তাল আবয়াদ এবং খাবুরকে সংযুক্ত করে এবং খাবুর নদী ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীতে মিলিত হওয়া পর্যন্ত চলে। এরপর দক্ষিণে ফুরাত নদী আল-বুকামাল পর্যন্ত বিস্তৃত, যা আল-বুকামাল লাইন হিসেবে পরিচিত এবং এটি পালমিরা (তাদমুর) হয়ে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সীমানাটি একটি কৃত্রিম বিষয়। সম্ভবত এই ভূখণ্ডটি উত্তর দিক থেকে তার প্রাকৃতিক সীমানা হারাবে না, কারণ উত্তর দিকে যে শিলাগুলো শামকে এশিয়া মাইনর থেকে পৃথক করেছে, প্রাকৃতিক সীমান্তের ক্ষেত্রে তার কোনো তুলনা নেই—যেমনটি নেপোলিয়ন বলেছিলেন। ভূগোলবিদ এলিসি রেকলাস আমানুস (আল-লাক্কাম) পর্বতমালা থেকে সিনাই পর্বত (তুর সিনা) পর্যন্ত শামের সীমানা নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: সিনাই পর্বত রাজনৈতিকভাবে মিশরের অন্তর্ভুক্ত হলেও এটি শামেরই একটি অংশ। পুলেত বলেছেন: সিরিয়ার উত্তর সীমানা হলো এশিয়া মাইনর। পোর্টার বলেছেন: সিরিয়া—অর্থাৎ রোমানদের সিরিয়া—উত্তর দিকে এশিয়া মাইনর দ্বারা সীমাবদ্ধ। বায়েডেকার বলেছেন: শামের সীমানা টরাস পর্বতমালা থেকে মিশর পর্যন্ত। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, শামের দক্ষিণে আল-জিফার বালুকা রাশি, বনী ইসরায়েলের তীহ প্রান্তর, লোহিত সাগরের অংশ এবং মরুভূমি বেষ্টিত। উত্তরে সুউচ্চ ও দুর্গম পর্বতমালা রয়েছে যা টরাস পর্বতমালার অন্যতম শাখা আমানুস পর্বত। পূর্বে ফুরাত নদী এবং পশ্চিমে সাগর। অর্থাৎ বালু, পাহাড়, নদী ও সাগর। শামের আয়তন ও তার মানচিত্র:প্রাচীনরা শামের দৈর্ঘ্য আল-আরিশ থেকে ফুরাত পর্যন্ত প্রায় এক মাসের পথ এবং প্রস্থ কিবলা (দক্ষিণ) থেকে তাই গোত্রের আজা ও সালমা পাহাড় হয়ে রুম সাগর (ভূমধ্যসাগর) পর্যন্ত প্রায় বিশ দিনের পথ হিসেবে অনুমান করেছেন। আজা ও সালমা পাহাড় আল-শারাহর দক্ষিণে পেট্রার পেছনে অবস্থিত, যা রোমানদের কাছে প্রোভিন্সিয়া আরাবিয়া বা আরাবিয়া পেট্রা নামে পরিচিত ছিল। শায়খুর রাবওয়াহ বলেছেন: দৈর্ঘ্যে শামের সীমানা মালাতিয়া থেকে আল-আরিশ পর্যন্ত এবং এর দূরত্ব সাত...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وعشرون يوما، وعرضه الأعرض من منبج إلى طرسوس. وعدّ ياقوت من الشام الثغور وهي المصيصة وطرسوس وأذنة وجميع العواصم من مرعش والحدث وغير ذلك.وقال علماء الإفرنج: إن معدل طول الشام نحو ألف كيلو متر وعرضه نحو مائة وخمسين كيلو مترا ومساحته 183 ألف كيلو متر مربع وقال بعضهم: إن مساحته السطحية نحو 280 ألف كيلو متر، وأبلغه غيرهم إلى ثلاثمائة ألف وأنزله آخر إلى مائة وتسعة وخمسين ألف كيلو متر، وبالغ في تصغيره بعضهم فقال: إن مساحته مائة ألف كيلو متر مربع فقط، ومنهم من قال مائة وخمسة عشر. وقال آخر: إن طوله ينيف على أربعمائة ميل وعرضه يختلف كثيرا ومعدله نحو مائة وعشرين ميلا. ومساحة الشام خمسون ألف ميل مربع. وذكر آخر أن طول الشام المتوسط من الشمال إلى الجنوب نحو سبعمائة كيلو متر وعرضه من الغرب إلى الشرق نحو أربعمائة وخمسين كيلو مترا. وأكد بعضهم أن طوله من طوروس إلى طورسينا لا يقل عن ألف ومائة كيلومتر، وقال غير واحد: إنه لا يقل عن 800 إلى 900 هذا إذا تركت منه البادية ولم يحسب غير الأراضي القابلة للزرع. وقدرت الأرض القابلة للزراعة في الشام بمائة وخمسين ألف كيلو متر مربع. والاختلاف في حد الشام ومساحته بين علماء الجغرافية المحدثين أكثر مما بين علماء تقويم البلدان من العرب الأقدمين. وقد شبّه بعضهم الشام في هيئته الطبيعة بشكل مستطيل طوله ثمانية أضعاف عرضه. وشبهه آخر بأنه شكل مربع الأضلاع مستطيل كثيرا. مدخل الفاتحين إلى الشام:جاء الفاتحون الشام بحراً وبراً بل جاءوها من جهاتها الأربع فجاءها الفراعنة من البحر والبر، والبابليون والفرس من الشرق والشمال، والاسكندر والصليبيون والعثمانيون من الشمال، وغازان وهولاكو وتيمورلنك من الشرق، والعرب الفاتحون من الشرق والجنوب، ونابوليون من الجنوب ومن الغرب بحراً، وإبراهيم باشا المصري براً وبحراً أي من الغرب والجنوب
...এবং বিশ দিন, আর এর প্রশস্ততম অংশ মানবিজ থেকে তারসুস পর্যন্ত। ইয়াকুত শাম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন থুগুর বা সীমান্ত এলাকাগুলোকে, আর সেগুলো হলো মাসীসাহ, তারসুস, আদানা এবং মারআশ ও আল-হাদাসসহ সকল প্রধান শহর এবং অন্যান্য এলাকা।ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ বলেছেন: শামের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এবং এর প্রস্থ প্রায় একশত পঞ্চাশ কিলোমিটার এবং এর আয়তন ১ লক্ষ ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর পৃষ্ঠীয় আয়তন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার কিলোমিটার, অন্যরা একে ৩ লক্ষে পৌঁছে দিয়েছেন, আবার অন্য কেউ তা কমিয়ে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার কিলোমিটারে নামিয়েছেন। কেউ কেউ এর ক্ষুদ্রতা প্রকাশে অতিরঞ্জন করে বলেছেন: এর আয়তন মাত্র ১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার, আবার কেউ বলেছেন ১ লক্ষ ১৫ হাজার। অন্য একজন বলেছেন: এর দৈর্ঘ্য চারশত মাইলের বেশি এবং এর প্রস্থে অনেক ভিন্নতা রয়েছে এবং এর গড় প্রায় ১২০ মাইল। আর শামের আয়তন ৫০ হাজার বর্গমাইল। অন্য একজন উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর থেকে দক্ষিণে শামের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে এর প্রস্থ প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। কেউ কেউ নিশ্চিত করেছেন যে, তাউরুস পর্বতমালা থেকে সিনাই পর্বত পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১০০ কিলোমিটারের কম নয়। একাধিক ব্যক্তি বলেছেন: তা ৮০০ থেকে ৯০০ এর কম নয়; এটি তখন প্রযোজ্য যখন মরুভূমি বাদ দেওয়া হয় এবং কেবল আবাদযোগ্য ভূমি গণনা করা হয়। শামের আবাদযোগ্য ভূমি ১ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার হিসেবে ধারণা করা হয়েছে। আধুনিক ভূগোলবিদদের মধ্যে শামের সীমানা ও আয়তন নিয়ে মতভেদ প্রাচীন আরব দেশবিবরণীকারদের মধ্যকার মতভেদের চেয়েও বেশি। কেউ কেউ শামের প্রাকৃতিক গঠনকে এমন একটি আয়তক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন যার দৈর্ঘ্য তার প্রস্থের আট গুণ। অন্য একজন একে এমন এক চতুর্ভুজ আকৃতির সাথে তুলনা করেছেন যা অনেক দীর্ঘ। বিজয়ীদের শামে প্রবেশের পথ:বিজয়ীরা জল ও স্থলপথে শামে আগমন করেছেন, বরং তারা এর চারদিক থেকেই এসেছেন। ফারাওরা এসেছেন সমুদ্র ও স্থলপথে, ব্যাবিলনীয় ও পারসিকরা পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে, আলেকজান্ডার, ক্রুসেডার এবং ওসমানীয়রা উত্তর দিক থেকে, গাজান, হালাকু ও তৈমুর লং পূর্ব দিক থেকে, বিজয়ী আরবরা পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে, নেপোলিয়ন দক্ষিণ দিক থেকে এবং সমুদ্রপথে পশ্চিম দিক থেকে, আর মিশরের ইব্রাহিম পাশা স্থল ও সমুদ্রপথে অর্থাৎ পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে এসেছেন।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الغربي، وجيوش الحلفاء من الإنكليز والفرنسيين والعرب من الجنوب والغرب. وكانت على اعتزالها وراء حدودها الطبيعية مطمح الطامحين، وطعمة الطامعين، لم تدفع عنها حصونها التي فصلتها عن الحجاز بصحار مقفرة، وحرار معطشة، وعن العراق بنهر عظيم وبادية قاحلة، وعن أسيا الصغرى بجبال عالية، وعن مصر وعن برّ إفريقية برمال محرقة. وداست تربتها الجميلة سنابك خيل الفاتحين، وعبثت بجميل محياها سهام النوائب، وأوردتها موارد العذاب الهون، ولم تأمن عادية العادين، على ما فيها من الجبال الشم، ومضايق تضل فيها العصم. مدن الشام وقراه:في الشام مدن كثيرة منها ما دثر وانحط بعد أن كان له شأن مهم في الأزمان الغابرة، مثل قيسارية والمعرة وأنطاكية وقنسرين وأفامية وجرش والبتراء وبصرى وصيدا وصور وتدمر وبعلبك وجبيل وسبسطية وأم قيس وصرخد والسويداء وشهبة وعرقا وعمّان وبانياس في الحولة وعسقلان، ومنها ما ثبت على صدمات الأيام والليالي وكان له من موقعه وملاءمة الطبيعة له ما أبقى عليه، كأن يكون وسط ريف خصيب، وماء دافق، كدمشق وحمص وحماة وطرابلس. ودمشق أهم مدن الشام وعاصمته في الإسلام وعلى عهد السريان،وكانت إنطاكية عاصمته على عهد الروم والرومان. وتجيء بالعظم بعد دمشق مدينة حلب ثم بيروت ثم القدس وسكان دمشق نحو أربعمائة ألف، ومثلهم سكان حلب، وبيروت نحو ثلاثمائة ألف، والقدس أقل من ذلك. وفي الشام عدة مدن تزيد على خمسين ألف نسمة، مثل يافا وحيفا وحماة وحمص ودير الزور، وفيها عدة مدن تختلف بين العشرين والأربعين ألف نسمة، مثل اللاذقية. غزة. صفد. زحلة. صيدا. إدلب. إنطاكية. وعشرات من القرى هي أشبه بمدن أو مدن أشبه بقرى تكون نفوسها بين العشرة آلاف والعشرين الفاً مثل صيدا والخليل والرملة واللدّ والناصرة وطبرية والدامور وبعلبك وحاصبيا وراشيا والصلت ودومة وداريا وجوبر ويبرود ودير عطية وحارم وإدلب وسلمية والشويفات
পশ্চিমাঞ্চলীয় এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে ইংরেজ, ফরাসি ও আরবদের সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনী। এর প্রাকৃতিক সীমানার আড়ালে নিভৃত অবস্থান সত্ত্বেও এটি উচ্চাভিলাষীদের লক্ষ্যবস্তু এবং লোভীদের শিকারে পরিণত হয়েছিল। এর সেই দুর্গগুলোও একে রক্ষা করতে পারেনি যা একে হিজাজ থেকে জনশূন্য মরুভূমি ও তৃষ্ণার্ত উত্তপ্ত প্রান্তর দ্বারা, এবং ইরাক থেকে এক বিশাল নদী ও উর্বরতাহীন মরুভূমি দ্বারা, আর এশিয়া মাইনর থেকে সুউচ্চ পর্বতমালা দ্বারা এবং মিশর ও আফ্রিকা ভূখণ্ড থেকে দহনকারী বালুকাময় প্রান্তর দ্বারা পৃথক করেছিল। বিজয়ীদের ঘোড়ার খুর এর সুন্দর মাটি মাড়িয়ে গিয়েছিল, দুর্যোগের তীরগুলো এর সুন্দর অবয়ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে এবং একে অবমাননাকর আজাব ও কষ্টের ঘাটে নিয়ে ঠেকিয়েছে। এটি আক্রমণকারীদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকেনি, যদিও এতে রয়েছে অত্যুচ্চ পাহাড় এবং এমন সব সংকীর্ণ গিরিপথ যেখানে পাহাড়ী ছাগলও পথ হারিয়ে ফেলে। শামের শহর ও গ্রামসমূহ:শাম দেশে অনেক শহর রয়েছে, যার মধ্যে কিছু শহর প্রাচীনকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও পরে তা বিলুপ্ত বা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। যেমন: কায়সারিয়া, মাআরাহ, আনতাকিয়া, কিন্নাসরিন, আফামিয়া, জারাস, পেত্রা, বুসরা, সাইদা, সুর, তাদমুর, বালবাক, জুবাইল, সাবাস্তিয়া, উম্মে কায়াস, সারখাদ, সুওয়াইদা, শাহবা, আরকা, আম্মান, হুলার বানিয়াস এবং আসকালান। আবার এমন কিছু শহরও রয়েছে যা মহাকালের বিবর্তনে টিকে আছে। এর অবস্থান ও প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ একে টিকিয়ে রেখেছে, যেমন কোনো উর্বর পল্লি অঞ্চল বা বহমান পানির প্রবাহের মাঝে অবস্থিত হওয়া; যেমন: দামেস্ক, হিমস, হামাত এবং ত্রিপোলি। দামেস্ক শামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ইসলামি যুগে ও সিরিয়াকদের আমলে এর রাজধানী ছিল।আর রোমান ও বাইজেন্টাইন আমলে আনতাকিয়া এর রাজধানী ছিল। বিশালত্বের দিক থেকে দামেস্কের পরেই হলো আলেপ্পো, এরপর বৈরুত এবং তারপর জেরুজালেম। দামেস্কের জনসংখ্যা প্রায় চার লক্ষ, আলেপ্পোর জনসংখ্যাও অনুরূপ, বৈরুতের জনসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ এবং জেরুজালেমের জনসংখ্যা এর চেয়েও কম। শামে এমন বেশ কিছু শহর রয়েছে যেগুলোর জনসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি, যেমন: জাফা, হাইফা, হামাত, হিমস এবং দাইরুজ জোর। এবং এমন কিছু শহর আছে যেগুলোর জনসংখ্যা বিশ থেকে চল্লিশ হাজারের মধ্যে, যেমন: লাতাকিয়া, গাজা, সাফাদ, জাহলা, সাইদা, ইদলিব এবং আনতাকিয়া। আরও রয়েছে এমন কয়েক ডজন গ্রাম যা অনেকটা শহরের মতো, অথবা এমন শহর যা অনেকটা গ্রামের মতো, যেগুলোর জনসংখ্যা দশ থেকে বিশ হাজারের মধ্যে; যেমন: সাইদা, আল-খলিল, রামলা, লুদ্দ, নাসিরা, তাবারিয়া, দামুর, বালবাক, হাসবাইয়া, রাশাইয়া, সালত, দুমা, দারাইয়া, জওবার, ইয়াবরুদ, দাইর আতিয়্যাহ, হারিম, ইদলিব, সালামিয়্যাহ এবং শুয়াইফাত।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبشرّي وإهدن والبترون وغيرها. ولا تقل قرى الشام عن ثمانية آلاف قرية ومزرعة وبليدة ومدينة وسكانها نحو سبعة ملايين يدخل فيهم العرب الرحالة ويقدرون بخمسمائة إلى ستمائة ألف. طبيعة الشام:قطر تأخذ فيه الفصول الأربعة حكمها، وتتم في قيعانه وجباله أسباب النعيم، معتدل الأهوية، متهاطل الأمطار والثلوج، ممرع التربة، فيه الغابات والمعادن، والحمامات المعدنية والأنهار الجارية، والبحيرات النافعة، والأجواء البهجة، والرباع المنبسطة، والمناظر المدهشة، فيه من الجبال الشراة والخليل وعامل وسنير وحرمون ولبنان وكسروان وحوران وجرش وعجلون وعكار واللكام والأقرع والكلبية والأكراد والقدموس وباير والمنيطرة وصنين والكنيسة والباروك ونيحا والريحان وطابور والجرمق والكرمل وبلودان والنبك والصلت ومؤاب وأنطاكية والقصير وريحا. ومن البحيرات العمق والغاب وأفامية والمطخ واليمونة والعتيبة والهيجانة وطبرية والحولة ولوط. ومن السهول سهل حوران والجولانوالجيدور والغوطة والمرج والبقاع والبقيعة وحمص وأنطاكية واللاذقية وطرابلس والشويفات وصيدا وصور والطنطورة وبيسان وأريحا. ومن المروج مرج ابن عامر وشارون سارون والبلقاء. ومن الأنهار النهر الكبير والأردن واليرموك والعاصي والفرات وقويق والساجور وعفرين والأسود وبردى والبارد وإبراهيم وقاديشا والليطاني والحاصباني والزرقا والعوجا والأعوج والأولي والزهراني والكلب والموجب والدامور والذهب وقنديل وصنوبر وقرشيش وبرغل والمضيق والسن أو الأبتر وحريصون أو مرقبة والجوز والكابري ونعمين والمقطع والأزرق والأخضر وأبي زابورة. ومن المناظر البديعة صنين وظهر القضيب وإهدن والبياضة وإصطبل عنتر والصبر والنبي يوشع وقاسيون وحرمون والطور والهرمل والكرمل. خيرات الشام:وفيه تنبت الحبوب والبقول والأشجار على اختلاف أنواعها. ففي
এবং বিশারি, ইহদেন, বাতরুন ও অন্যান্য। শামের গ্রাম, খামার, ছোট জনপদ এবং শহরের সংখ্যা আট হাজারের কম নয় এবং এর জনসংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ, যাদের মধ্যে যাযাবর আরবরাও অন্তর্ভুক্ত; তাদের সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ বলে অনুমান করা হয়। শামের প্রকৃতি:এটি এমন একটি ভূখণ্ড যেখানে চারটি ঋতু তাদের পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে এবং এর সমভূমি ও পর্বতমালায় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সকল উপকরণ পূর্ণতা পায়। এর আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, প্রচুর বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয় এবং মাটি অত্যন্ত উর্বর। এতে রয়েছে বনজঙ্গল, খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ, প্রবহমান নদ-নদী, উপকারী হ্রদসমূহ, আনন্দময় পরিবেশ, বিস্তৃত প্রান্তর এবং বিস্ময়কর দৃশ্যপট। এর পর্বতগুলোর মধ্যে রয়েছে আশ-শারা, আল-খালিল, আমিল, সানির, হারমন, লেবানন, কিসরওয়ান, হাওরান, জারাস, আজলুন, আক্কার, আল-লাক্কাম, আল-আকরা, আল-কালবিয়া, আল-আকরাদ, আল-কাদমুস, বায়ের, আল-মুনাইতিরা, সানিন, আল-কানিসা, আল-বারুক, নিহা, আর-রায়হান, তাবুর, আল-জারমাক, আল-কারমেল, বালুদান, আন-নাবক, আস-সালত, মুয়াব, আন্তাকিয়া, আল-কুসাইর এবং রিহা। হ্রদগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-উমক, আল-গাব, আফামিয়া, আল-মাতখ, আল-ইয়ামুনা, আল-উতাইবা, আল-হাইজানা, তাবরিয়া, আল-হুলা এবং লুত। সমভূমিগুলোর মধ্যে রয়েছে হাওরান ও গোলানের সমভূমিএবং আল-জাইদুর, ঘুতা, আল-মারজ, আল-বিকা, আল-বুকাইআ, হিমস, আন্তাকিয়া, লাতাকিয়া, ত্রিপোলি, আশ-শুওয়াইফাত, সাইদা, সুর, আত-তানতুরা, বাইসান এবং আরীহা। তৃণভূমিগুলোর মধ্যে রয়েছে মারজ ইবনে আমির, শারুন (সারুন) এবং আল-বালকা। নদ-নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে আন-নাহরুল কাবীর, জর্ডান, ইয়ারমুক, আল-আসি, ফোরাত, কুওয়াইক, আস-সাজুর, আফরিন, আল-আসওয়াদ, বারাদা, আল-বারিদ, ইব্রাহিম, কাদিশা, লিতানি, হাসবানি, আজ-জারকা, আল-আউজা, আল-আওয়াজ, আল-আউওয়ালি, আজ-জাহারানি, আল-কালব, আল-মুজিব, আদ-দামুর, আদ-দাহাব, কান্দিল, সনোবার, কারশিশ, বারগুল, আল-মাদিক, আস-সিন বা আল-আবতার, হারিসুন বা মারকাবাহ, আল-জাওয, আল-কাবরি, নামাইন, আল-মাকতা, আল-আজরাক, আল-আখদার এবং আবি জাবুরা। মনোরম দৃশ্যমণ্ডিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সানিন, যাহরুল কাজিব, ইহদেন, আল-বায়াদা, ইস্তাবল আনতার, আস-সাবর, নবী ইউশা, কাসিউন, হারমন, আত-তুর, আল-হারমাল এবং আল-কারমেল। শামের সম্পদ ও নেয়ামত:এতে বিভিন্ন প্রকারের শস্যদানা, ডালজাতীয় শস্য এবং গাছপালা উৎপন্ন হয়। যেমন-
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
جنوبيه وشرقيه النخيل. وفي سواحله الموز والبرتقال. وفي أواسطه السرو والأرز. ويجود فيه القطن والقنب والكتان والحرير والنيل والدخان وقصب السكر والعسل وشجر الأرز والفوة والسماق والسوس. وتصلح مراعيه لتربية ضروب الماشية. وفي أرضه ومياهه أنواع الطيور والأسماك وتعيش فيه الجمال كما تعيش البغال وتسمن فيه الجواميس كما ينمو الغنم والمعزى فيه زهاء مائة وثلاثين منجما لم يستثمر منها إلا القير والفوسفات والحمر، على أن فيه الذهب والفضة والنيكل والحديد والفحم الحجري والرصاص والمغرة والنحاس والكروم والزئبق والكبريت والسنباذج والجبس والنفط والإثمد والزاج والمرمر. ومن الحمامات المعدنية حمام طبرية وحمة سمخ وحمة أبي رباح وحمة ضمير وحمة معلولا وحمة إنطاكية والمرقب وزرقاء معين وعجلون ولها كلها من الخواص الصحية ما اشتهر أمره. هواء الشام وماؤه:صُقع حوى غرائب الطبيعة تشهد فيه بردا قارسا بل شتاءً مستوفى في قنن جباله وسفوحه في حين تشهد في أغواره كغور بيسان وغور الصافي وطبرية وأريحا ربيعا تاما بل صيفا معتدلا، وبينما تذيب شمس الصفاة واللجاة رأس قاصدهما، إذا به في ريح بليل عليل إذا قصد الجبال وما إليها. فهو مصطاف ومرتبع ومشتى في آن واحد. وفيه ما لا يكاد يوجد له مثيل في الأرض: بحيرة طبرية تحت سطح البحر على 1316 قدما وفيها أسماك كثيرة، وبحيرة لوط لا يعيش فيها حيوان فكأن نهر الأردن الذي يجري من بحيرة طبرية وينتهي ببحيرة لوط هو في أوله حياة وفي آخره موت، وهذا لا نظير له في العالم.ومن عجائب طبيعة الشام إن تنبجس في بعض أصقاعه عيون طيبة ثرة في بقعة ضيقة. ففي الجديدة على مقربة من الحولة عشرات من العيون على هضبة سميت بها البلدة مرج عيون وفي جبل ريحا من عمل حلب عيون لطيفة دارة في الأعالي تكاد تخلو منها السهول المنخفضة المجاورة. ومياه الشام على الجملة طيبة لذيذة.
এর দক্ষিণে ও পূর্বে খেজুর বাগান রয়েছে। এর উপকূলীয় অঞ্চলে কলা ও কমলালেবু উৎপন্ন হয়। এর মধ্যভাগে রয়েছে সারু ও সিডার গাছ। এখানে তুলা, শণ, তিসি, রেশম, নীল, তামাক, আখ, মধু, সিডার বৃক্ষ, মঞ্জিষ্ঠা, সুমাক ও যষ্টিমধু প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এর চারণভূমিগুলো বিভিন্ন প্রকার গবাদি পশু পালনের জন্য উপযোগী। এর স্থলভাগে ও জলাশয়ে নানা প্রজাতির পাখি ও মাছ রয়েছে। এতে উট ও খচ্চর বাস করে। এখানে মহিষগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং ভেড়া ও ছাগলের বংশবৃদ্ধি ঘটে। এখানে প্রায় একশত ত্রিশটি খনি রয়েছে, যার মধ্যে কেবল বিটুমিন, ফসফেট ও অ্যাসফল্ট উত্তোলিত হয়েছে; যদিও এতে সোনা, রুপা, নিকেল, লোহা, কয়লা, সিসা, গেরু মাটি, তামা, ক্রোমিয়াম, পারদ, সালফার, এমেরি, জিপসাম, পেট্রোলিয়াম, অ্যান্টিমনি, ভিট্রিয়ল ও মার্বেল পাথর বিদ্যমান। খনিজ উষ্ণ প্রস্রবণগুলোর মধ্যে তাবারিয়া প্রস্রবণ, সামাখ প্রস্রবণ, আবি রাবাহ প্রস্রবণ, দুমাইর প্রস্রবণ, মালুলা প্রস্রবণ, আন্তাকিয়া প্রস্রবণ, আল-মারকাব, জারকা মায়িন এবং আজলুন উল্লেখযোগ্য। এগুলোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। শাম অঞ্চলের আবহাওয়া ও পানি:এটি এমন এক ভূখণ্ড যা প্রকৃতির বিস্ময়কে ধারণ করে আছে। এর পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে হাড়কাঁপানো শীত এমনকি পূর্ণাঙ্গ শীতকাল অনুভূত হয়, অথচ এর নিচু উপত্যকাগুলো যেমন বাইসান উপত্যকা, গাওর আস-সাফি, তাবারিয়া ও আরীহাতে পূর্ণ বসন্তকাল এমনকি মৃদু গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। যখন সাফাত ও লাজাতের প্রখর সূর্য পথিকের মস্তক বিগলিত করার উপক্রম করে, তখনই পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলে সে এক স্নিগ্ধ ও আরামদায়ক বাতাসের পরশ পায়। ফলে এটি একই সাথে গ্রীষ্মকালীন আবাস, বসন্তকালীন বিচরণস্থল এবং শীতকালীন আবাস হিসেবে বিবেচিত হয়। পৃথিবীতে এর কোনো দ্বিতীয় নজির নেই বললেই চলে: তাবারিয়া হ্রদ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩১৬ ফুট নিচে অবস্থিত এবং এতে প্রচুর মাছ রয়েছে। অন্যদিকে লুত হ্রদে কোনো প্রাণী বাস করতে পারে না; যেন জর্দান নদী, যা তাবারিয়া হ্রদ থেকে প্রবাহিত হয়ে লুত হ্রদে গিয়ে শেষ হয়েছে, তার শুরুতে রয়েছে জীবন এবং শেষে রয়েছে মৃত্যু। সমগ্র বিশ্বে এর কোনো তুলনা নেই।শাম অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, এর কিছু কিছু অঞ্চলে সংকীর্ণ স্থানে স্বচ্ছ ও প্রচুর পানির প্রস্রবণ উৎসারিত হয়। আল-হুলার নিকটবর্তী আল-জাদিদাতে একটি মালভূমির ওপর কয়েক ডজন প্রস্রবণ রয়েছে, যার কারণে জনপদটির নাম হয়েছে মারজ উয়ুন। আবার আলেপ্পো প্রদেশের রিহা পাহাড়ে এমন সব চমৎকার ও প্রবহমান প্রস্রবণ রয়েছে যা উঁচু স্থানে অবস্থিত, অথচ পার্শ্ববর্তী নিচু সমতল ভূমিতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। মোটের ওপর শামের পানি অত্যন্ত সুপেয় ও সুস্বাদু।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خصائص الشام:قطر هذه مواهبه قامت فيه في الأزمان الغابرة النصرانية واليهودية. وانبعث من أرجائه مجد الإسلام، فكان مباءة أول دولة عربية إسلامية، ثم آوى إليه الشيع الغريبة من النحل والمذاهب التي لا مثيل لها في غيره، كالدرزية والإسماعيلية والنصيرية والسامرة بل معظم المذاهب الإسلامية والنصرانية والإسرائيلية وتبلغ سبعة عشر مذهبا وجملة من العناصر القوية ذات المدنية التي استحالت عربا.رأى الشام طلعة موسى وعيسى من النبيين، والإسكندر وابن الخطاب وخالد بن الوليد وموسى بن نصير ونور الدين وصلاح الدين وسليم وإبراهيم من الفاتحين.وعمر بن عبد العزيز والمأمون وابن تيمية من المجددين. وبختنصر وهولاكو وجنكيز وغازان وتيمور من المخربين، وقلَّ في الممالك كما قال كورتيوس ما اندمج فيه كثير من التواريخ في بقعة ضيقة كهذه.الشام مهوى أفئدة الشعوب النصرانية واليهودية، ومجاز حجاج المسلمين إلى الأماكن الطاهرة القدسية والحجازية، بل نقطة الاتصال القريبة بين آسيا وأفريقيا وآسيا وأوروبا، بل بين القارات الثلاث القديمة آسيا وأوروبا وإفريقية، وأجمل مصيف ومشتى للأقطار الحارة المجاورة كالحجاز والعراق ومصر. والشام في أواسط الأقطار التي يتكلم أهلها بالعربية وهو بلد الخيال والشعر، والهمم العلياء واستقلال الفكر، وأرضه أبدا باسمة طرة كسمائه:مصحة أبدان ونزهة أعين ولهو نفوس دائم وسرورها مقدسة جاد الربيع بلادها ففي كل أرض روضة وغديرها.
শামের বৈশিষ্ট্যসমূহ:এই অঞ্চল ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এমন যে, প্রাচীনকালে এখানে খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদিধর্ম প্রতিষ্ঠিত ছিল। এর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইসলামের গৌরব বিচ্ছুরিত হয়েছে, ফলে এটিই ছিল প্রথম আরব ইসলামি রাষ্ট্রের আবাসস্থল। অতঃপর এখানে বিভিন্ন বিচিত্র দল ও মতাদর্শের আশ্রয়স্থল গড়ে ওঠে যার নজির অন্য কোথাও নেই, যেমন দ্রুজ, ইসমাইলি, নুসাইরি এবং সামেরীয় সম্প্রদায়; বরং অধিকাংশ ইসলামি, খ্রিস্টান ও ইসরায়েলি মতবাদ মিলিয়ে প্রায় সতেরোটি মাযহাব এবং এমন কিছু শক্তিশালী সভ্য জাতির উপাদান এখানে পুঞ্জীভূত হয়েছিল যারা পরবর্তীতে আরবে রূপান্তরিত হয়েছে।শাম প্রত্যক্ষ করেছে নবীগণের মধ্যে মূসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর আবির্ভাব; এবং বিজয়ীদের মধ্যে আলেকজান্ডার, ইবনুল খাত্তাব, খালিদ বিন ওয়ালিদ, মূসা বিন নুসাইর, নূরুদ্দিন, সালাহউদ্দিন, সেলিম ও ইব্রাহিমকে।সংস্কারকদের (মুজাদ্দিদগণের) মধ্যে উমর বিন আব্দুল আজিজ, আল-মামুন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহকে। আর ধ্বংসকারীদের মধ্যে বখতে নসর, হালাকু খাঁ, চেঙ্গিস খাঁ, গাজান খাঁ এবং তৈমুরকে। কার্টিয়াস যেমনটি বলেছেন, এমন খুব কম রাজ্যই আছে যেখানে এত অল্প জায়গায় ইতিহাসের এত বিশাল অংশ একত্রিত হয়েছে।শাম হলো খ্রিস্টান ও ইহুদি জাতিগোষ্ঠীর হৃদয়ের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এবং পবিত্র কুদস ও হিজাজের পবিত্র স্থানসমূহের অভিমুখে মুসলিম হাজীদের গমনাগমনের পথ। এটি এশিয়া ও আফ্রিকা এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে, এমনকি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা—এই প্রাচীন তিন মহাদেশের সংযোগস্থল। হিজাজ, ইরাক ও মিশরের মতো নিকটবর্তী উষ্ণ দেশগুলোর জন্য এটি চমৎকার এক গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্র। শাম হলো আরবি ভাষাভাষী অঞ্চলসমূহের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটি কল্পনা ও কাব্যের দেশ, সুউচ্চ হিম্মত ও স্বাধীন চিন্তার ভূমি। এর জমিন সর্বদাই তার আকাশের মতো হাস্যোজ্জ্বল:<এটি দেহের আরোগ্যস্থল, চোখের প্রশান্তি এবং আত্মার নিরন্তর আনন্দ ও খুশির আধার। এটি এক পবিত্র ভূমি যার জনপদে বসন্ত অকাতরে তার সৌন্দর্য বিলিয়েছে; তাই এর প্রতিটি প্রান্তরই উদ্যান ও জলাধারে সুশোভিত।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سكان الشامالأمو واللودانو:من الصعب الحكم على أصول السكان في الشام قبل أن يُعرف التاريخ، وتعيين أول من نزلها في القبائل قبل أن تبنى المدن والحواضر وتعرف المزارع والدساكر. وأقدم ما عرف منها قبائل كانت تعرف بالامو ورد ذكرها في الآثار المصرية ومعناها الشعب باللغة السامية اختلطت على ما يظهر بذرية لاوذ، أو بغيرها من القبائل التي كانت تسكن شمالي الشام، وسمي هذا القبيل بالروتانو أو اللودانو، ويقسمون إلى روتان المغرب ويراد بهم سكان دمشق وأرض كنعان، وإلى روتان المشرق أو الأعلى وهؤلاء كانوا ينزلون في شمالي الشام وجزء من غربي ما بين النهرين ولعل ذلك كان قبل الطوفان، طوفان نوح أو بعده بقليل. وقد حدث الطوفان قبل المسيح بنحو ألفين وخمسمائة سنة، ولم يعم الكرة الأرضية ولا برا من بُرورها المعروفة، بل انحصر في بقعة صغيرة من آسيا على الأرجح أي إنه كان في الجزيرة على ما ذكره أهل الإدراك من المفسرين.وظهرت بعد الطوفان أمم كثيرة سكنت الشام، بعضها من أصل سامي وبعضها لم يعرف عنه شيء، ومنها ما عرف أنه أتى من الأصقاع المجاورة ومنها من لم يثبت أصله. فقد ظهر بعد الطوفان الآراميون في دمشق والجيدور والجولان والبقاع وحمص ولبنان، وآرام هو الاسم الذي أطلقته
শামের অধিবাসীগণআমু এবং লুদানু:ইতিহাস পরিচিত হওয়ার পূর্বে শামের অধিবাসীদের আদি উৎস সম্পর্কে বিচার করা কঠিন, এবং শহর ও নগরসমূহ নির্মিত হওয়ার এবং কৃষি ও জনপদসমূহ পরিচিত হওয়ার আগে সেখানে কোন গোত্রসমূহ প্রথম অবতরণ করেছিল তা নির্দিষ্ট করাও দুরূহ। তাদের মধ্যে প্রাচীনতম যা জানা যায় তা হলো 'আমু' নামে পরিচিত কিছু গোত্র, যাদের উল্লেখ মিশরীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে পাওয়া যায় এবং সামি ভাষায় এর অর্থ হলো 'জনগণ'। দৃশ্যত তারা লাউযের বংশধর অথবা উত্তর শামে বসবাসকারী অন্যান্য গোত্রের সাথে মিশে গিয়েছিল। এই গোত্রকে 'রুতানু' বা 'লুদানু' বলা হতো। তারা পশ্চিম রুতান—যাদের দ্বারা দামেস্ক ও কেনান ভূমির অধিবাসীদের বোঝানো হয়—এবং পূর্ব বা উচ্চ রুতানে বিভক্ত ছিল। এরা উত্তর শাম এবং মেসোপটেমিয়ার পশ্চিমাংশের কিছু অংশে বসবাস করত। সম্ভবত এটি নূহের মহাপ্লাবনের আগে অথবা তার সামান্য পরে ছিল। মহাপ্লাবন মসিহ (আ.)-এর জন্মের প্রায় দুই হাজার পাঁচশ বছর পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। তা সমগ্র পৃথিবী বা এর পরিচিত স্থলভাগসমূহের কোনোটিকেই পরিবেষ্টন করেনি, বরং প্রবল ধারণা অনুযায়ী তা এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল; অর্থাৎ বিজ্ঞ মুফাসসিরগণের বর্ণনা অনুযায়ী এটি 'আল-জাজিরা' অঞ্চলে হয়েছিল।মহাপ্লাবনের পর শামে বসবাসকারী অনেক জাতির আবির্ভাব ঘটে, যাদের কেউ সামি বংশোদ্ভূত ছিল এবং কারও সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। আবার কারও ক্ষেত্রে জানা যায় যে তারা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে এসেছিল এবং কারও বংশপরিচয় প্রমাণিত নয়। মহাপ্লাবনের পর দামেস্ক, জাইদুর, গোলান, বেকা, হিমস এবং লেবাননে আরামীয়দের আবির্ভাব ঘটে। আরাম হলো সেই নাম যা...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التوراة على الشام وبين النهرين، وكان يسكنها أبناءُ آرام الابن الخامس لسام. وأقام الأموريون في الأرض الواقعة بين البحر والأردن، والعمونيون في أرض جلعاد أي في شرقي الأردن، والموآبيون في الجنوب الشرقي من بحيرة لوط، والإسماعيليون من نسل إسماعيل جد العرب في سلع والبتراء وما جاورها. وانتشر الأدوميون من وادي العربة إلى حدود العقبة عقبة أيلة والفينيقيون في صورا وصيدا وجبيل، وتفرعت من هذهالقبائل فروع كثيرة في قرون مختلفة. ولا تعرف أصول أكثر هذه القبائل. وقد قال رولنسون: إن أصل الفينيقيين من سكان البحرين في الخليج الفارسي ظعنوا من هناك إلى ساحل الشام منذ نحو خمسة آلاف سنة وأنهم عرب بأصولهم وأن هناك مدنا فينيقية أسماؤها أسماء فينيقية مثل صور وجبيل. وذكر مكالستر أنه سكنت فلسطين شعوب من غير الساميين وربما عني بهم الحثيين والأموريين. والحثيون جنوبيون وشماليون وكان الجنوبيون في جهات فلسطين ونزل الشماليون أولا جبل اللكام امانوس ثم انتشروا بكرور الأيام من الفرات إلى حماة وحمص ومن دمشق وتدمر إلى كبدوكيا، ولم يكن لهم ملك واحد بل كان لكل فصيلة منهم ملك. ولم يعرف شيء عن الحثيين الشماليين قبل أن يمر الرحالة بروكهارت بحماة سنة 1812 ويرى على جدار أزقتها خطوطا قديمة بالخط المسند المصري أي الهيروغليفي تختلف عن الآثار المصرية وعثر على كثير من مثل هذه الآثار في حماة وحمص وحلب ومرعش وكركميش وغيرها، وقد علم من سحنات الحثيين الشماليين على ما رسموا في الآثار المصرية أنهم أقرب إلى الرومان منهم إلى سكان فلسطين ولون وجوههم أبيض ضارب إلى الحمرة.ومن أقدم شعوب الشام شعب كان ينزل منذ الزمن الأطول في السقي الأسفل من نهري الفرات وقزل ايرمق ويعتصم في مضايق جبال طوروس، عُرف عند اليونان باسم خيطايوس وعند العبران بخطي خطيم وعند الآشوريين بخاطي وعند المصريين بخايطي خاطي وعرفه المتأخرون بالحثيين، وهو شعب غير سامي مجهول اللسان. وأصل العبرانيين أو اليهود سبط من الساميين الذين نزلوا من جبال أرمينية إلى سهول الفرات على عهد مملكة الكلدان
তৌরাত অনুযায়ী সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ায় সামের পঞ্চম পুত্র আরামের বংশধররা বসবাস করত। আমোরীয়রা সমুদ্র ও জর্ডানের মধ্যবর্তী ভূমিতে বসবাস করত, আম্মোনীয়রা গিলিয়াদ তথা জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে, মোয়াবীয়রা লুত সাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এবং আরবদের পূর্বপুরুষ ইসমাইলের বংশধর ইসমাইলীয়রা সেলা, পেত্রা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থান করত। ইদোমীয়রা ওয়াদি আল-আরবাহ থেকে আকাবা তথা আয়লার সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ফিনিশীয়রা টায়ার, সিডন ও জুবাইলে বসবাস করত। বিভিন্ন শতাব্দীতে এই গোত্রগুলো থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করে। এই গোত্রগুলোর অধিকাংশেরই মূল উৎস সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। রলিনসন বলেছেন: ফিনিশীয়দের আদি উৎস হলো পারস্য উপসাগরের বাহরাইন অঞ্চলের অধিবাসী। তারা সেখান থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে সিরিয়া উপকূলে হিজরত করেছিল এবং তারা মূলে ছিল আরব। সেখানে টায়ার ও জুবাইলের মতো ফিনিশীয় শহর রয়েছে যেগুলোর নাম ফিনিশীয়। ম্যাকালিস্টার উল্লেখ করেছেন যে, ফিলিস্তিনে অ-সামীয় জাতিগোষ্ঠী বসবাস করত; সম্ভবত তিনি এর দ্বারা হিট্টীয় ও আমোরীয়দের বুঝিয়েছেন। হিট্টীয়রা ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় ও উত্তরাঞ্চলীয়। দক্ষিণাঞ্চলীয়রা ফিলিস্তিনের আশেপাশে ছিল এবং উত্তরাঞ্চলীয়রা প্রথমে আমানুস পাহাড়ে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সময়ের পরিক্রমায় তারা ইউফ্রেটিস থেকে হামা ও হোমস পর্যন্ত এবং দামেস্ক ও তাদমুর থেকে কাপ্পাডোকিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কোনো একক রাজা ছিল না, বরং প্রতিটি উপদলের আলাদা রাজা ছিল। ১৮১২ সালে পর্যটক বার্কহার্ট হামা অতিক্রম করার এবং সেখানকার গলিগুলোর দেয়ালে প্রাচীন মিশরীয় লিপি তথা হায়ারোগ্লিফিকের মতো প্রাচীন লিপি দেখার আগে উত্তরাঞ্চলীয় হিট্টীয়দের সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। এই লিপিগুলো মিশরীয় নিদর্শনের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল। হামা, হোমস, আলেপ্পো, মারাশ, কারকেমিশ এবং অন্যান্য স্থানে এ ধরনের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। মিশরীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে অঙ্কিত উত্তরাঞ্চলীয় হিট্টীয়দের আকৃতি থেকে জানা যায় যে, তারা ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের চেয়ে রোমানদের অধিক নিকটবর্তী ছিল এবং তাদের গায়ের রং ছিল লালাভ সাদা।সিরিয়ার প্রাচীনতম জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি জাতি দীর্ঘকাল ধরে ইউফ্রেটিস ও কিজিল ইরমাক নদীর নিম্ন অববাহিকায় বসবাস করত এবং তারা তোরোস পাহাড়ের গিরিপথে আশ্রয় গ্রহণ করত। গ্রিকদের কাছে তারা 'খাইতায়োস', হিব্রুদের কাছে 'হিত্তি', আসিরীয়দের কাছে 'খাতি' এবং মিশরীয়দের কাছে 'খাইতি খাতি' নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালের গবেষকরা তাদের 'হিট্টীয়' নামে অভিহিত করেছেন। এটি একটি অ-সামীয় জাতি ছিল যাদের ভাষা ছিল অজ্ঞাত। হিব্রু বা ইহুদিদের মূল উৎস হলো সামীয়দের একটি গোত্র, যারা ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের আমলে আর্মেনিয়ার পাহাড় থেকে ইউফ্রেটিস উপত্যকায় নেমে এসেছিল।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأولى وضربوا نحو الغرب فجازوا الفرات فالبادية فالشام حتى انتهوا إلى عبر الأردن وراء فينيقية. وتعرف هذه الأسباط بالعبرانيين يعني أهل ما وراء النهر. قال هشام الكلبي: ماأخذ على غربي الفرات إلى برية العرب يسمى العبر وإليه ينسب العبريون من اليهود لأنهم لم يكونوا عبروا الفرات حينئذ. والعبرانيون كمعظم الساميين شعب من الرعاة الرحالة ولم يحرثوا الأرض، ولا سكنوا الدور والمنازل، وقد دعيت ديارهم أرض الميعاد أو أرض كنعان أو فلسطين. ودعاها اليهود أرض إسرائيل ثم دعيت بعدُ اليهودية ودعاها أهل النصرانية الأرض المقدسة، وكان عدد الإسرائيليين أيام عزهم 601. 700 رجل يحمل السلاح منقسمين إلى اثني عشر سبطا. الآراميون والعناصر الأخرى:وبعد انقراض دولة الحثيين في القرن الثامن قبل الميلاد عَمَّ اسم آرام هذه الديار فأصبح القسم الأكبر من سورية يسمى آراماً وسكانها الآراميين وقد ورد اسم آرام في التوراة مضافا عدة مرات مثل آرام رحوب وآرام معكة وآرام صوبا. وقيل إن إرَم الواردة في القرآن مضافة أيضا (إرم ذات العماد) هي دمشق بعينها. وللمفسرين في ذلك أقوال كثيرة ليس هذا محل إيرادها. وفي الشام عناصر منوعة من نسل حام بن نوح وسام بن نوح ويافث بن نوح. أي إن فيها الدم الآري والقافي القافقاسي والعربي والتركي وبعبارة أصرح فيها بقايا من الشعب الآشوري والبابلي والكلداني والكنعاني والفينيقي والعبراني والحثي والفارسي والروماني واليوناني والتتري والعربي. وكانت منذ عهد بني إسرائيل موطن العصبيات وفيها على رأي ابن خلدون قبائل فلسطين وكنعان وبني عيصو وبني مدين وبني لوط والروم واليونان والعمالقة واكريكش والنبط من جانب الجزيرة والموصل ما لا يحصى كثرة وتنوعا في العصبية، ولذلك يتعذر ردُّ كل جنس إلى جنسه اليوم بعد هذا التمازج الذي دام أكثر من
তারা প্রথমত পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হলেন এবং ফোরাত নদী অতিক্রম করে মরুভূমি ও সিরিয়া পাড়ি দিলেন, শেষ পর্যন্ত ফিনিশিয়ার ওপারে জর্ডান নদীর তীর পর্যন্ত পৌঁছালেন। এই গোত্রগুলো হিব্রু নামে পরিচিত, যার অর্থ হলো নদীর ওপারের অধিবাসী। হিশাম আল-কালবী বলেছেন: ফোরাত নদীর পশ্চিম থেকে আরবের মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে 'আল-ইবর' বলা হয় এবং এ কারণেই ইহুদিদের হিব্রু বলা হয়; কেননা তখন পর্যন্ত তারা ফোরাত নদী অতিক্রম করেনি। হিব্রুরা অধিকাংশ সেমিটিক জাতির ন্যায় এক যাযাবর মেষপালক জাতি ছিল; তারা ভূমি চাষ করত না এবং স্থায়ী গৃহ বা আবাসস্থলে বসবাস করত না। তাদের ভূখণ্ডকে 'প্রতিশ্রুত ভূমি' বা 'কেনান দেশ' অথবা 'ফিলিস্তিন' বলা হতো। ইহুদিরা একে 'ইসরায়েল ভূখণ্ড' বলত, পরবর্তীতে একে 'জুডিয়া' বলা হতো এবং খ্রিস্টানরা একে 'পবিত্র ভূমি' বলে অভিহিত করত। তাদের প্রতাপের সময়ে বনী ইসরায়েলের সংখ্যা ছিল ৬০১,৭০০ জন সশস্ত্র পুরুষ, যারা বারোটি গোত্রে বিভক্ত ছিল। আরামীয় ও অন্যান্য উপাদানসমূহ:খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে হিট্টীয় সাম্রাজ্যের বিলুপ্তির পর 'আরাম' নামটি এই জনপদে ব্যাপকতা লাভ করে, ফলে সিরিয়ার বৃহত্তর অংশ 'আরাম' এবং এর অধিবাসীরা 'আরামীয়' নামে পরিচিত হয়। তাওরাতে 'আরাম' নামটি বেশ কয়েকবার সম্বন্ধযুক্ত হয়ে এসেছে, যেমন: আরাম-রহোব, আরাম-মাআকা এবং আরাম-সোবা। বলা হয়ে থাকে যে, কুরআনে বর্ণিত সম্বন্ধযুক্ত শব্দ 'ইরাম' (স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম) মূলত দামেস্ক শহরকেই বোঝায়। এ বিষয়ে মুফাসসিরদের অনেক বক্তব্য রয়েছে যা এখানে বর্ণনার সুযোগ নেই। সিরিয়াতে নূহ (আ.)-এর পুত্র হাম, সাম ও ইয়াফিসের বংশদ্ভূত বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণ রয়েছে। অর্থাৎ এতে আর্য, ককেশীয়, আরব ও তুর্কি রক্ত বিদ্যমান। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এতে অশূরীয়, ব্যবিলনীয়, ক্যালডীয়, কেনানীয়, ফিনিশীয়, হিব্রু, হিট্টীয়, পারসিক, রোমান, গ্রিক, তাতার ও আরব জাতির অবশিষ্টাংশ রয়েছে। বনী ইসরায়েলের যুগ থেকেই এটি ছিল বিভিন্ন গোত্রীয় সংহতির চারণভূমি। ইবনে খালদুনের মতে, সেখানে ফিলিস্তিন, কেনান, বনী ঈসু, বনী মাদইয়ান, বনী লুত, রোম, গ্রিস, আমালেকাইট, ইগরিগিশ এবং জাজিরা ও মসুল অঞ্চলের নাবাতীয়দের অসংখ্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গোত্র বিদ্যমান ছিল। ফলে বর্তমান সময়ে এই দীর্ঘকালীন সংমিশ্রণের পর প্রতিটি জাতিকে তার মূল বংশধারায় পৃথক করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, যা স্থায়ী হয়েছে প্রায়...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ستين قرنا في هذه البوتقة الجميلة مضافة إلى الأصول التي كانت فيها من قبل ونعني بهذه البوتقة الديار الشامية. العناصر القديمة والعرب:كل أُمة عظيمة عرفت في الشام طال عمرها بضعة قرون ثم فنيت في غيرها وأُدعم الضعيف في القوي وتمثل المغلوب في الغالب مع توالي الأيام والليالي. وهكذا يقال في السريان والعبران واليونان والرومان. ويمكن أن يقال في الجملة إنه كان في الشام منذ القرن السادس عشر قبل الميلاد شعوب كثيرة أهمهم الكنعانيون النازلون في الجنوب والوسط والشمال والآراميون، وما وراء ذلك من الشمال يسكنه الحثيون. ولم تطل حياة عنصر في صحة بالشام كما طالت حياة العرب فإنهم فيها على أصح الأقوال منذ زهاء ألفين وخمسمائة سنة وأوصله بعضهم إلى نحو أربعة آلاف سنة، وهم الذين اندمج فيهم عامة الشعوب القديمة واستعربت فلم تعد تعرف غير العربية لسانا ومنزعا. ولذلك كان من المعقول أن يدل الشامي بعربيته أكثر من إدلاله بفينيقيته وروميته وسريانيته وعبرانيته. وفي تاريخ فلسطين أن العرب دخلوا فلسطين قبل الإسلام بقرون. والدليل أن نرحم سين ابن سرجون غزا فلسطين سنة 3800 ق. م. وصادف في سينا حكومة عربية ثم حارب قبيلة معان العربية وأسر أميرها، وقد ظهر من آثار بابل ما يثبت ذلك. ومنها أن سرجون الثاني غزا عرب البادية الذين اعتدوا على السامرة وأخضع قبائلهم ومنها ثمود ومدين ومساكنهم شرقي الأردن وحارب عباديد وأخذ منهم طائفة وأسكنها في السامرة. ولما جاء الإسكندر إلى غزة وحاصرها كانت حاميتها عربا فقاومته أشد مقاومة، ومنها أن أحد تلامذة المسيح بشر بلغات عديدة منها اللغة العربية كما ورد في أعمال الرسل، ومنها أن الحارث حاكم دمشق كان عربيا لما دخلها بولس الرسول كما ورد في رسالته إلى أهل مدينة كورنثوس، ومنها أن تيطس لما جاء لفتح القدس كان معه الحارث ملك العرب يقود فرقة عربية، ومنها أن هركانوس المكابي التجأ إلى الحارث ملك العرب فأنجده وساعدهعلى أخيه
এই সুন্দর সমন্বয়ক্ষেত্রে পূর্বের বিদ্যমান মূল উপাদানগুলোর সাথে আরও ষাটটি শতাব্দী যুক্ত হয়েছে; আর এই সমন্বয়ক্ষেত্র বলতে আমরা শাম বা সিরিয়া ভূখণ্ডকে বোঝাচ্ছি। প্রাচীন উপাদানসমূহ এবং আরবগণ:শাম অঞ্চলে পরিচিত প্রতিটি মহান জাতিই কয়েক শতাব্দীকাল টিকে থাকার পর অন্য জাতিসত্তার মাঝে বিলীন হয়ে গেছে। দিন-রাতের আবর্তনে দুর্বলেরা সবলদের সাথে মিশে গেছে এবং বিজিতরা বিজয়ীদের সাথে একীভূত হয়েছে। সুরয়ানি, হিব্রু, গ্রিক এবং রোমানদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। সামগ্রিকভাবে বলা যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব ষোড়শ শতাব্দী থেকেই শাম দেশে বহু জাতির বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান ছিল দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী কানআনীয়রা এবং আরামীয়রা; আর তারও উত্তরে হিত্তীয়দের বসতি ছিল। শামে কোনো নির্দিষ্ট জাতির অস্তিত্ব বা স্থায়িত্ব আরবদের মতো দীর্ঘ হয়নি। কেননা সবচেয়ে সঠিক মতানুসারে তারা সেখানে প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে রয়েছে, আর কেউ কেউ একে প্রায় চার হাজার বছর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। এরাই সেই জাতি যাদের মাঝে প্রাচীন সাধারণ জনগণ একীভূত হয়েছে এবং তারা আরবীয় ভাবধারা গ্রহণ করেছে, ফলে তারা ভাষা ও চালচলনে আরবি ছাড়া অন্য কিছু চেনে না। তাই শামের অধিবাসীদের জন্য ফিনিশীয়, রোমান, সুরয়ানি বা হিব্রু পরিচয়ের চেয়ে আরবি পরিচয়ে গর্ব করা অধিক যুক্তিসঙ্গত। ফিলিস্তিনের ইতিহাসে দেখা যায় যে, আরবরা ইসলামের কয়েক শতাব্দী পূর্বেই ফিলিস্তিনে প্রবেশ করেছিল। এর প্রমাণ হলো সারগনের পুত্র নরাম-সিন খ্রিস্টপূর্ব ৩৮০০ অব্দে ফিলিস্তিন আক্রমণ করেন এবং সিনাই অঞ্চলে একটি আরব সরকারের সম্মুখীন হন। অতঃপর তিনি আরব গোত্র 'মান'-এর সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের আমিরকে বন্দী করেন; ব্যাবিলনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আরেকটি প্রমাণ হলো, দ্বিতীয় সারগন সেই সব যাযাবর আরবদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন যারা সামেরিয়ার ওপর সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং তিনি সামুদ ও মাদইয়ানসহ বিভিন্ন গোত্রকে বশীভূত করেছিলেন, যাদের আবাসস্থল ছিল জর্ডানের পূর্বে; তিনি আবাদিদদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের একটি দলকে সামেরিয়ায় পুনর্বাসিত করেন। যখন আলেকজান্ডার গাজা অভিমুখে আসেন এবং তা অবরোধ করেন, তখন সেখানকার রক্ষীবাহিনী ছিল আরব, যারা তার তীব্র প্রতিরোধ করেছিল। আরও একটি প্রমাণ হলো, ঈসা মসীহের জনৈক শিষ্য বহু ভাষায় সুসংবাদ প্রচার করেছিলেন যার মধ্যে আরবি ভাষাও ছিল, যেমনটি 'রাসূলগণের কার্যাবলী' (অ্যাক্টস অফ অ্যাপোস্টলস)-এ বর্ণিত হয়েছে। আরেকটি প্রমাণ হলো, প্রেরিত পৌল যখন দামেস্কে প্রবেশ করেন তখন সেখানকার শাসক আল-হারিস ছিলেন একজন আরব, যেমনটি করিন্থীয়দের কাছে তার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি প্রমাণ হলো, তিতাস যখন জেরুজালেম বিজয়ের জন্য আসেন, তখন তার সাথে আরবের রাজা আল-হারিস ছিলেন যিনি একটি আরব সেনাদলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। আরও প্রমাণ হলো যে, হুরকানুস মাক্কাবি আরবের রাজা আল-হারিসের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন এবং তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন।অনুরোধে।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ارستوبولس، ومنها أن فيلبس الروماني الذي صار إمبراطورا في رومية سنة 244 ب. م. كان عربيا من بُصرى في حوران.والغالب أن في العرب خاصية التمثيل إذا جاوروا شعبا قربوه من مناحيهم وأدخلوا عليه لغتهم، وهم المادة العظمى التي ما زالت تفيض على الشام. وأهل الوبر والمدر أو البادية والحضر منهم، من أصبر الأمم على الحروب والأسفار الطويلة والاكتفاء بميسور العيش، لكنهم لا يصبرون على الضيم والأذى. ولطالما غزوا من جزيرتهم العراق وفارس والجزيرة والشام، ولم يسمع أن حكمتهم أمة وقد تمكنوا كما قال جويدي من غزو الأعداء. ولهم المفازة التي بينهم وبين العراق والشام أي بادية الشام والنفود، ومن هجم عليهم في ديارهم لم تدم سلطنته عليهم كملوك الآثوريين أو رجع بالخيبة والافتضاح كغالوس. دول العرب الأقدمين:كانت العرب تختلف إلى الشام قبل الإسلام بقرون طويلة، قامت لهم فيها وفي جوارها دول عظيمة خلقت من آثارها مما دلَّ على عظمتها، فمنها دولة النبط ويغلب في أسماء ملوك النبطيين اسم الحارث وعبادة ومالك وهم عرب من بقايا العمالقة، والعمالقة قوم من عاد وهم القوم الجبارون في الشام. ولم تخلف البتراء غير تدمر وأصل ملوكها من سلالة عربية أيضا. وقد أبقت هاتان الدولتان من أصولهما وحاميتهما جندا كثيرا أصبحوا بعدُ من جملة سكان الشام والمادة الأولى للعربية فيه. قال نالينو: النبط أو النبيط في اصطلاح العرب في القرون الأولى للهجرة اسم أهل الحضر المتكلمين باللغات الآرامية الساكنين في الشام وخصوصا في الصقع الواقع ما بين النهرين، وليسوا النبط أو الأنباط الذين اتسعت مملكتهم في أرض الحجاز الشمالية إلى حدود فلسطين ونواحي دمشق. سليح وغسان والضجاعم:وقد ذكر المؤرخون أن نزول العرب في ديار الشام أقدم من ذلك
এরিস্টোবুলুস; আর এর মধ্যে এটিও রয়েছে যে, রোমান ফিলিপ, যিনি ২৪৪ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট হয়েছিলেন, তিনি হাওরানের বুসরা থেকে আগত একজন আরব ছিলেন।আর প্রবল ধারণা এই যে, আরবদের মধ্যে আত্মীকরণের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যখন তারা কোনো জাতির প্রতিবেশী হয়, তখন তারা তাদের নিজেদের রীতিনীতির নিকটবর্তী করে নেয় এবং তাদের ওপর নিজেদের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করে। তারাই সেই বিশাল জনশক্তি যারা নিরন্তর শামে প্রবাহিত হয়ে আসছে। তাদের মধ্যে পশমী তাঁবুর অধিবাসী এবং মাটির ঘরের অধিবাসী তথা যাযাবর ও স্থায়ী বাসিন্দারা যুদ্ধবিগ্রহ, দীর্ঘ সফর এবং অল্পে তুষ্ট থাকার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে ধৈর্যশীল জাতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত; তবে তারা জুলুম ও কষ্টের ব্যাপারে ধৈর্য ধরে না। তারা দীর্ঘকাল ধরে তাদের উপদ্বীপ থেকে ইরাক, পারস্য, আল-জাজিরা এবং শাম আক্রমণ করেছে। কখনো শোনা যায়নি যে কোনো জাতি তাদের শাসন করেছে; বরং গুইডি যেমনটি বলেছেন, তারা শত্রুদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেই মরুপ্রান্তর যা তাদের এবং ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, অর্থাৎ শামের মরুভূমি ও নুফুদ মরুভূমি। যারা তাদের ভূখণ্ডে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—যেমনটি হয়েছিল আসিরীয় রাজাদের ক্ষেত্রে; অথবা গ্যালুসের মতো তারা ব্যর্থতা ও লাঞ্ছনা নিয়ে ফিরে গিয়েছে। প্রাচীন আরব রাষ্ট্রসমূহ:আরবরা ইসলামের আগমনের বহু শতাব্দী পূর্ব থেকেই শামে যাতায়াত করত। সেখানে এবং এর আশেপাশে তাদের বিশাল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যাদের ধ্বংসাবশেষ তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে নাবাতি রাষ্ট্র; নাবাতি রাজাদের নামের মধ্যে আল-হারিস, উবাদাহ এবং মালিক নামগুলোই অধিক প্রচলিত ছিল। তারা ছিল আমালিকা গোত্রের অবশিষ্টাংশ থেকে আসা আরব। আর আমালিকা ছিল আদ জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি কওম, যারা শামের অত্যন্ত শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী জাতি ছিল। পালমিরা ছাড়া পেত্রার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না এবং এর রাজাদের মূল বংশধারাও ছিল আরবীয়। এই দুটি রাষ্ট্র তাদের মূল শিকড় ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রচুর সৈন্য রেখে গিয়েছিল, যারা পরবর্তীতে শামের স্থায়ী বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেখানে আরবীয় সত্তার মূল উপাদানে পরিণত হয়। নালিনো বলেছেন: হিজরী প্রথম শতকগুলোতে আরবদের পরিভাষায় 'নাবাত' বা 'নাবিত' বলতে আরামীয় ভাষায় কথা বলা সেই স্থায়ী বাসিন্দাদের বোঝাত যারা শামে এবং বিশেষ করে দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাস করত। এরা সেই 'নাবাত' বা 'আনবাত' নয় যাদের রাজ্য উত্তর হিজায থেকে ফিলিস্তিনের সীমানা এবং দামেস্কের পার্শ্ববর্তী এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সালিহ, গাসসান এবং দাজাইম:ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, শাম ভূখণ্ডে আরবদের বসতি স্থাপন এর চেয়েও প্রাচীন।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
بقرون فإن تكلت فلاسر أحد ملوك أشور غزا الشام مرارا من سنة 743 إلى 732 ق. م. وأخضع في خلال ذلك السامرة ودمشق وصور وحماة وعرب البادية بين فلسطين ومصر وكانت عليهم يومئذ ملكة اسمها حبيبة. وقيل: إن أول من دخل الشام من العرب سليح وهو من غسان - وغسان ماء نزل عليه قوم من الأزد بين رِمَع وزبيد في اليمن فنسبوا إليه - ويقال من قضاعة فدانت بالنصرانية وملَّكَ عليها ملك الروم رجلا منهم يقال له النعمان بن عمرو بن مالك فلما خرج عمرو بن عامر مزيقيا من اليمن في ولده وقرابته ومن تبعه من الأزد أتوا أرض عك في اليمن ثم أرض الحجاز وصار منهم قوم إلى الشام، منهم آل جفنة ملوك الشام فكتب سليح إلى قيصر يستأذنه في إنزالهم فأذن لهم على شروط شرطها عليهم.وبنو غسان في الحقيقة حي من الأزد على رواية المسعودي من القحطانية قال أبو عبيد: وهم بنو جفنة والحارث وهو ثعلبة والعنقاء وحارثة ومالك وكعب وخارجة وعون بن عمرو بن مزيقيا. وذكر الحمداني أن في البلقاء طائفة منهم وباليرموك الجم الغفير وبحمص منهم جماعة. وحكم ملوك غسان حوران والبلقاء والغوطة وحمص ودمشق. قال المسعودي: وكانت ديار ملوك غسان باليرموك والجولان وغيرهما بين غوطة دمشق وأعمالها، ومنهم من نزل الأردن وقد أخرجت غسان من الشام سليحا وصاروا ملوكها، وأول من ملك جفنة بن عمرو فقتل ملوك قضاعة من سَليح الذين كانوا يدعون الضجاعمة أو الضجاعم ودانت له قضاعة ومن بالشام من الروم وجميع ملوك جفنة من آل غسان اثنان وثلاثون ملكا لبثوا في ملكهم ستمائة وست عشرة سنة وقيل أربعمائة سنة. التنوخيون:هذا في الجنوب أما في الشمال فقد نزل التنوخيون قبل الإسلام بقرون، وسموا تنوخيين لأنهم حلفوا على المقام بالشام، والتتنخ والتنوخ المقام، كانوا قبائل تتاخم منازلها مملكة الروم، فلما غزا ملك الفرس الروم، وأذرع فيهم القتل والسبي وخرب العمائر، أنفذ ملك الروم إلى تنوخ يستنجدهم
শতাব্দীকাল পূর্বে তিগলাথ-পিলেসার, যিনি আসিরিয়ার অন্যতম রাজা ছিলেন, ৭৪৩ থেকে ৭৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে বারবার সিরিয়া আক্রমণ করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি সামেরিয়া, দামেস্ক, সোর, হামাত এবং ফিলিস্তিন ও মিশরের মধ্যবর্তী মরুভূমির আরবদের বশীভূত করেন। সে সময় তাদের ওপর হাবিবা নামক জনৈক রানী ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, আরবদের মধ্যে প্রথম সালিহ সিরিয়ায় প্রবেশ করেন, যিনি গাসসান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—গাসসান হলো ইয়েমেনের রিম’আ এবং যাবীদের মধ্যবর্তী একটি ঝরনার নাম, যেখানে আযদ গোত্রের একদল লোক অবস্থান নিয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী তাদের নামকরণ করা হয়েছিল। আবার কেউ বলেন তিনি কুযা’আ গোত্রের ছিলেন। তারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং রোম সম্রাট তাদের মধ্য থেকে নুমান ইবনে আমর ইবনে মালিক নামক এক ব্যক্তিকে তাদের রাজা নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর যখন আমর ইবনে আমির মুযাইকিয়া তার সন্তান-সন্ততি, নিকটাত্মীয় এবং আযদ গোত্রের অনুসারীদের নিয়ে ইয়েমেন থেকে বের হলেন, তখন তারা ইয়েমেনের আক ভূখণ্ডে এবং পরবর্তীতে হিজাজ ভূমিতে আসলেন। তাদের একদল সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করল, যাদের মধ্যে সিরিয়ার রাজবংশ ‘আলে জাফনাহ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সালিহ তাদের বসবাসের অনুমতি চেয়ে কায়সারের নিকট পত্র লিখলেন এবং কায়সার কিছু শর্তসাপেক্ষে তাদের অনুমতি প্রদান করলেন।মাসউদির বর্ণনা অনুযায়ী গাসসান বংশ মূলত কাহতানি আযদ গোত্রের একটি শাখা। আবু উবায়েদ বলেন: তারা হলো জাফনাহর সন্তান, হারিস (যিনি সা’লাবা), আনকা, হারিসাহ, মালিক, কাব, খারিজাহ এবং আউন ইবনে আমর ইবনে মুযাইকিয়া। আল-হামদানি উল্লেখ করেছেন যে, বালকা অঞ্চলে তাদের একটি গোষ্ঠী এবং ইয়ারমুকে এক বিশাল জনসমষ্টি ছিল, আর হিমসেও তাদের একটি দল ছিল। গাসসানি রাজাগণ হাওরান, বালকা, গুতা, হিমস এবং দামেস্ক শাসন করেছিলেন। মাসউদি বলেন: গাসসানি রাজাদের আবাসস্থল ছিল ইয়ারমুক, গোলান এবং দামেস্কের গুতা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে। তাদের কেউ কেউ জর্ডানেও বসতি স্থাপন করেছিল। গাসসান গোত্র সিরিয়া থেকে সালিহ গোত্রকে বিতাড়িত করে সেখানকার রাজা হয়েছিল। তাদের প্রথম রাজা ছিলেন জাফনাহ ইবনে আমর, যিনি সালিহ গোত্রের কুযা’আ রাজাদের হত্যা করেন যারা দাজ’আমি নামে পরিচিত ছিল। অতঃপর কুযা’আ এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত রোমানরা তার আনুগত্য স্বীকার করে। গাসসান বংশের জাফনাহর সকল রাজা ছিলেন মোট বত্রিশ জন। তারা ছয়শ ষোলো বছর অথবা মতান্তরে চারশ বছর রাজত্ব করেছিলেন। তানুখি গোত্র:এটি দক্ষিণের কথা, তবে উত্তরের ক্ষেত্রে ইসলাম পূর্ব কয়েক শতাব্দী আগেই তানুখিরা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল। তাদের তানুখি বলা হতো কারণ তারা সিরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য শপথ নিয়েছিল; আর ‘তাতাননুখ’ ও ‘তানুখ’ মানে হলো অবস্থান করা। তারা এমন কিছু গোত্র ছিল যাদের বসতি রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তের সাথে লাগানো ছিল। অতঃপর পারস্য সম্রাট যখন রোমানদের আক্রমণ করলেন এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও বন্দি করার ঘটনা ঘটালেন এবং অট্টালিকাগুলো ধ্বংস করলেন, তখন রোম সম্রাট তানুখিদের কাছে সাহায্য চেয়ে দূত পাঠালেন।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
على ملك الفرس فأنجدوه، وقاتلوا معه قتالا شديدا، ثم سألوا ملك الروم أن يتولوا حرب الفرس منفردين عن جند الروم لتظهر له طاعتهم وغناؤهم فأجابهم إلى ذلك فقاتلوا الفرس وظفروا بهم، فأُعجب بهم ملك الروم وفرق فيهم الدنانير والثياب وقربهم وأدناهم وأقطعهم سورية وما جاورها من الأصقاع إلى الجزيرة. وسورية مدينة بقرب الأحصّ على جانب البرية. قال ابن العديم: هذا منتهى أمرهم في الجاهلية.ولم يعرف الزمن الذي كان فيه التنوخيون، وبعضهم يقول: إنهم كانوا في أواخر القرن الثالث للمسيح ويقول المسعودي: إن قضاعة بن مالك بن حمير أول من نزل الشام وانضافوا إلى ملوك الروم فملكوهم، بعد أن دخلوا في دين النصرانية، على من حوى الشام من العرب، فكان أول ملوك تنوخ النعمان بن عمرو بن مالك، ثم ملك بعده عمرو بن النعمان ابن عمرو، ثم ملك بعده الحواري بن النعمان ولم يملك من تنوخ غيرهم. ثم وردت سليح الشام فتغلبت على تنوخ وتنصرت فملكتها الروم على العرب الذين بالشام. قال: وغلبت غسان على من بالشام من العرب فملكها الروم على العرب وإن من ملكته الروم من اليمن بالشام تنوخ والضجاعم من سليح بن حلوان بن عمران بن الحاف بن قضاعة وغسان استكفاء بهم من يليهم من بادية العرب. المهاجرات والايطوريون:والغالب أن معظم مهاجرات العرب إلى الشام كانت تقع عقيب حوادث طبيعية فيأرضهم من جفاف وطوفان وجدب وموتان، فيستهويهم بخصبه، وينتجعون هناءة العيش في أرجائه. وفي الأغاني لما أرسل الله سيل العرم على أهل مأرب قام رائدهم فقال: من كان منكم يريد الخمر والخمير، والأمر والتأمير، والديباج والحرير، فليلحق ببصرى والحفير، وهي من أرض الشام فكان الذين سكنوه غسان.ومن الدول العربية التي اشتهرت زمن دخول الرومان إلى سورية دولة الإيطوريين ومعنى الإيطوريين بالعبرية الجبليون، وهم شعب عربي جاءوا
পারস্য সম্রাটের পক্ষে তারা তাকে সাহায্য করল এবং তার সাথে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করল। এরপর তারা রোম সম্রাটের কাছে আবেদন করল যেন রোমান সৈন্যদের থেকে পৃথক হয়ে তারা একাই পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে, যাতে সম্রাটের নিকট তাদের আনুগত্য এবং কর্মদক্ষতা প্রকাশ পায়। সম্রাট তাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন। তারা পারস্য বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করল। এতে রোম সম্রাট তাদের ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন এবং তাদের মাঝে স্বর্ণমুদ্রা ও বস্ত্র বিতরণ করলেন। তিনি তাদের সান্নিধ্য দান করলেন এবং নিকটবর্তী করে নিলেন। তিনি তাদের সুরিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে শুরু করে জাজিরা পর্যন্ত এলাকা জায়গির হিসেবে প্রদান করলেন। 'সুরিয়া' হলো আহাস-এর নিকটবর্তী মরুপ্রান্তরের এক শহর। ইবনুল আদিম বলেন: জাহিলী যুগে এটিই ছিল তাদের শাসনক্ষমতার চূড়ান্ত সীমা।তানূখীদের সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। কেউ কেউ বলেন: তারা খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগের লোক ছিলেন। আল-মাসউদী বলেন: কুযা'আ বিন মালিক বিন হিময়ার সর্বপ্রথম শামে অবতরণ করেন এবং তারা রোম সম্রাটদের সাথে যুক্ত হন। তারা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর রোমানরা শামে বসবাসকারী আরবদের ওপর তাদের রাজত্ব দান করে। তানূখীদের প্রথম রাজা ছিলেন নুমান বিন আমর বিন মালিক। এরপর রাজা হন আমর বিন নুমান ইবনে আমর। তারপর রাজত্ব করেন নুমানের পুত্র আল-হাওয়ারী। তানূখ গোত্র থেকে কেবল তারাই রাজত্ব করেছিলেন। এরপর সালিহ গোত্র শামে আগমন করে তানূখীদের ওপর জয়লাভ করে এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে। ফলে রোমানরা শামের আরবদের ওপর তাদের শাসক নিযুক্ত করে। তিনি বলেন: গাসসান গোত্র শামের আরবদের ওপর প্রবল হয়ে উঠলে রোমানরা তাদের আরবদের শাসক হিসেবে গ্রহণ করে। ইয়ামেনী গোত্রসমূহের মধ্য থেকে রোমানরা শামে যাদের রাজত্ব দান করেছিল তারা হলো—তানূখ, সালিহ বিন হুলওয়ান বিন ইমরান বিন হাফ বিন কুযা'আ গোত্রীয় দাজাইম এবং গাসসান গোত্র। মূলত পার্শ্ববর্তী মরুচারী আরবদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যই তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হিজরতকারী ও ইতুরীয়গণ:সাধারণত আরবে অনাবৃষ্টি, বন্যা, দুর্ভিক্ষ কিংবা মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর শামে আরবদের অধিকাংশ হিজরত বা অভিবাসন সংঘটিত হতো। শামের উর্বরতা তাদের প্রলুব্ধ করত এবং তারা সেখানে আরামদায়ক জীবনের সন্ধান করত। 'আল-আগণী' গ্রন্থে আছে, যখন আল্লাহ মারিবের অধিবাসীদের ওপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা পাঠালেন, তখন তাদের পথপ্রদর্শক দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শরাব ও রুটি, শাসন ও কর্তৃত্ব এবং রেশমি বস্ত্র চায়, সে যেন বসরা ও হাফীরের দিকে যাত্রা করে।" এটি শামের ভূমি এবং যারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল তারা ছিল গাসসান গোত্র।সিরিয়ায় রোমানদের প্রবেশের সময় যেসব আরব রাষ্ট্র খ্যাতি অর্জন করেছিল, তার মধ্যে ইতুরীয় রাষ্ট্র অন্যতম। হিব্রু ভাষায় ইতুরীয় শব্দের অর্থ হলো পাহাড়ি লোক। তারা ছিল এক আরব জাতি যারা এসেছিল...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من ايتورة أي الجيدور شمالي حوران واشتهروا برمي النشاب فاستولوا بمضائهم الحربي على جبل الشيخ حرمون والبقاع إلى فينيقية، وبعض أسماء الجنود الجيدوريين التي جاءت في الكتابات اللاتينية باللغة الآرامية وبعضها باللغة العربية. قال دوسو: لم تكن هجرة العرب إلى سورية مما ينسب لإدارة الرومان كما يظن بعضهم بل إن الأحوال قد سهلت طرقها في ذاك العصر وضمنت لهم رسوخ قدمها في ظل السلام. فقد كانت مدينة حمص في يد حكومة عربية قبل وصول القائد بونبيوس إلى سورية وأن الأقيال الذين تولوا أمر تلك الديار لتطلق عليهم ألقاب عربية صرفة، كما يفهم من آثار الصفا. ولما جاء الإسكندر إلى الشام كان العرب يحتلون لبنان. سليح وعاملة وقضاعة:وممن يجب عدهم في المهاجرة الأول من العرب إلى الشام سليح الذين أشرنا إليهم آنفا فقد قال البكري: سارت سليح بن عمرو بن الحاف ابن قضاعة يقودها الحدرجان بن سلمة حتى نزلوا ناحية فلسطين على بني أذينة بن السميدع من عاملة وانتشر سائر قبائل قضاعة في القطر، يطلبون المتسع في المعاش ويؤمون الأرياف والعمران، فوجدوا بلادا واسعة خالية في أطراف الشام قد خرب أكثرها،واندفنت آبارها، وغارت مياهها، لإخراب بخت نصّر لها، فافترقت قضاعة فرقا أربعا ينضم إلى الفرقة طوائف من غيرها يتبع الرجل أصهاره وأخواله فسار ضجعهم ابن حماطة ولبيد بن الحد رجان السليحي في جماعة من سليح وقبائل من قضاعة إلى أطراف الشام ومشارفها وملك العرب يومئذ ظرب بن حسان بن أذينة ابن السميدع بن هزبر العمليقي فانضموا إليه وصاروا معه فأنزلهم مناظر الشام بين البلقاء إلى حوارين إلى الزيتون جبال فلسطين فلم يزل ملوك العماليق يغزون معهم المغازي ويصيبون المغانم حتى صاروا مع الزباء بنت عمرو بن الظرب اللخمي واستولوا على الملك بعدها وظلوا ملوكا حتى غلبتهم غسان على الملك، قال بعض آل سعد بن ملكيكرب يذكر منازل
ইতূরীয়া অর্থাৎ হাওরানের উত্তরের জাইদৌর অঞ্চল থেকে তারা এসেছিল এবং তারা তীরন্দাজিতে প্রসিদ্ধ ছিল। তারা তাদের সামরিক শক্তিতে জাবালুশ শাইখ (হারমুন পর্বত) এবং বেকা থেকে ফিনিশিয়া পর্যন্ত জয় করে নিয়েছিল। লাতিন শিলালিপিগুলোতে জাইদৌরীয় সৈন্যদের যে নামগুলো এসেছে, তার কিছু আরামীয় ভাষায় এবং কিছু আরবি ভাষায়। দুসো বলেছেন: সিরিয়ায় আরবদের হিজরত রোমান প্রশাসনের কারণে ঘটেনি যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করেন, বরং সে সময়ের পরিস্থিতি তাদের পথ সহজ করে দিয়েছিল এবং শান্তির ছায়ায় তাদের অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেনাপতি পম্পে সিরিয়ায় পৌঁছানোর আগেই হিমস শহরটি একটি আরব সরকারের অধীনে ছিল এবং সেই অঞ্চলের দায়িত্বভার গ্রহণকারী গোত্রপতিদের বিশুদ্ধ আরবি উপাধি প্রদান করা হতো, যেমনটি সাফা শিলালিপি থেকে স্পষ্ট হয়। যখন আলেকজান্ডার শামে আসেন, তখন আরবরা লেবানন দখল করে রেখেছিল। সালিহ, আমিলা এবং কুযাআ:শামে আরবদের প্রথমদিকের হিজরতকারীদের মধ্যে সালিহ গোত্রকে অবশ্যই গণনা করতে হবে যাদের কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আল-বাকরি বলেছেন: আমর বিন হাফ বিন কুযাআর বংশধর সালিহ গোত্র হাদরাজান বিন সালামার নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে এবং তারা ফিলিস্তিনের এক প্রান্তে আমিলা গোত্রের উযাইনা বিন সামাইদার বংশধরদের নিকট অবতরণ করে। কুযাআ গোত্রের বাকি শাখাগুলো জীবিকার প্রশস্ততা এবং গ্রামীণ ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের সন্ধানে এই ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। তারা শামের প্রান্তসীমায় বিস্তীর্ণ জনশূন্য ভূমি খুঁজে পায় যার অধিকাংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল,এবং বুখতুনাসসার কর্তৃক ধ্বংসলীলার কারণে সেগুলোর কূপসমূহ ভরাট হয়ে গিয়েছিল এবং পানি ভূগর্ভে হারিয়ে গিয়েছিল। ফলে কুযাআ চারটি দলে বিভক্ত হয়ে যায় এবং প্রতিটি দলের সাথে অন্যান্য গোত্রও যোগ দেয়; লোকেরা তাদের বৈবাহিক আত্মীয় ও মাতুল পক্ষকে অনুসরণ করত। অতঃপর হামাতা বিন দুজউম এবং সালিহ গোত্রের লাবিদ বিন হাদরাজান একদল সালিহ ও কুযাআ গোত্রীয় লোক নিয়ে শামের প্রান্তসীমা ও উচ্চভূমিগুলোর দিকে যাত্রা করেন। সেই সময় আরবদের রাজা ছিলেন আমালিকিদের বংশধর যারিব বিন হাসান বিন উযাইনা বিন সামাইদা বিন হাযবার। তারা তার সাথে যোগ দেন এবং তিনি তাদের বালকা থেকে হাওয়ারিন এবং ফিলিস্তিনের জাইতুন পর্বতমালা পর্যন্ত শামের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বসতি স্থাপন করান। আমালিকি রাজারা তাদের সাথে নিয়ে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করতেন এবং গনিমত অর্জন করতেন, অবশেষে তারা যাব্বা বিনতে আমর বিন যারিব আল-লাখমির সাথে ছিলেন এবং তার পরবর্তী রাজত্ব তারা অধিকার করেন। গাসসানিরা তাদের পরাজিত করে রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তারা রাজা হিসেবে বহাল ছিলেন। সা’দ বিন মালিকিকারিবের বংশধরদের কেউ কেউ তাদের আবাসস্থলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من خرج من اليمن وقد ذكر غسان وقضاعة وكلبا:وغسان حيٌّ عزهم في سيوفهم … كرام المساعي قد حووا أرض قيصروقد نزلت منا قضاعة منزلاً … بعيداً فأمست في بلاد الصنوبروكلب لها ما بين رملة عالج … إلى الحَرَّة الرجلاء من أرض تَدمروعالج رمال معروفة في البادية، والحرة الرجلاء في ديار بني القين في أطراف الشام بين حوران وتيماء، والشاعر يقول إنها من أرض تدمر. وفي تاريخ الأمم الإسلامية: إن الضجاعمة ملوك اصطنعهم الرومان ليمنعوا عرب البرية من العبث وليكونوا عدة على الفرس وولوا منهم ملكا ومن أشهر ملوكهم زياد بن الهبولة. لخم، جذام، عاملة، ذبيان، كلب:ذكر الهمداني مساكن من تشاءم من العرب أي دخل الشام فقال أما مساكن لخم فهي متفرقة وأكثرها بين الرملة ومصر في الجفار ومنها في الجولان ومنها في حوران والبثنيّة، ومدينة نوى، وبها خلف بن جبلة القصيري وابن عزير اللخمي مسكنه طرف جبال الشراة، وأما جذام فهي بين مدين إلى تبوك فإلى أذرح ومنهافخذ مما يلي طبرية من أرض الأردن إلى اللجون واليامون إلى ناحية عكا، وأما عاملة فهي في جبلها مشرفة على طبرية إلى نحو البحر، وأما ذبيان فهي من حد البياض بياض قرقرة - والقرقرة الأرض الملساء - وهو غائط - والغائط كالغوطة المطمئن من الأرض - بين تيماء وحوران لا يخالطهم إلا طي وحاضرهم السواد ومرو والحيانيات - والحيانية كورة بالسواد من أرض دمشق وهي كورة جبل جرش قرب الغور - وأما كلب فمساكنها السماوة - والسماوة الأرض المستوية لا حجر بها وهي البادية بين الكوفة والشام - ولا يخالط بطونها في السماوة أحد. ومن كلب بأرض الغوطة عامر بن الحصين بن عليم وابن رباب المعقلي ومن بني الحارث بن كعب بيت يسكنون بالفلجة من أرض دمشق والفلجات في شعر حسان بالشام كالمشارف والمزالف بالعراق والمشارف جمع مشرف قرى قرب حوران منها بصرى.
যারা ইয়েমেন থেকে বের হয়েছে এবং গাসসান, কুযাআ ও কালব গোত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:গাসসান একটি গোত্র যাদের সম্মান তাদের তরবারিতে নিহিত … তারা মহান প্রচেষ্টার অধিকারী যারা কায়সারের ভূমি করায়ত্ত করেছেকুযাআ আমাদের কাছ থেকে দূরবর্তী এক স্থানে … অবতরণ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত পাইন গাছের দেশে বসবাস শুরু করেছেআর কালব গোত্রের সীমানা আলিজের বালুময় প্রান্তর থেকে … তাদমুর ভূমির হাররাহ আর-রাজলা পর্যন্তআলিজ মরুভূমির সুপরিচিত বালুকাময় অঞ্চল, আর হাররাহ আর-রাজলা সিরিয়ার সীমান্তে বনু কাইনের আবাসস্থলে হাওরান ও তাইমার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, এবং কবি বলেছেন যে এটি তাদমুর ভূমির অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী জাতিসমূহের ইতিহাসে বর্ণিত আছে: দজাজিমা ছিল রোমানদের দ্বারা নিযুক্ত এক রাজবংশ যাতে তারা মরুচারী আরবদের বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং পারস্যের বিরুদ্ধে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তারা তাদের মধ্য থেকে একজন রাজা নিযুক্ত করত এবং তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজাদের মধ্যে ছিলেন যিয়াদ ইবনুল হাবুলা। লাখম, জুযাম, আমিলাহ, যুবইয়ান, কালব:হামদানি সেইসব আরবদের আবাসস্থলের কথা উল্লেখ করেছেন যারা শামে (সিরিয়া অঞ্চলে) প্রবেশ করেছিল। তিনি বলেন, লাখম গোত্রের আবাসস্থলগুলো ছিল বিক্ষিপ্ত এবং এর অধিকাংশই ছিল রামলা ও মিশরের মধ্যবর্তী গিফার অঞ্চলে। এর কিছু অংশ গোলানে, কিছু হাওরান ও বাছানিয়াহতে এবং নাওয়া শহরে অবস্থিত। সেখানে খালাফ ইবনে জাবালা আল-কুসাইরি অবস্থান করতেন এবং ইবনে উযাইর আল-লাখমি শারাত পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করতেন। আর জুযাম গোত্র মাদইয়ান থেকে তাবুক হয়ে আদরুহ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর একটিশাখা জর্ডান ভূমির তাবারিয়া সংলগ্ন এলাকা থেকে লাজ্জুন ও ইয়ামুন হয়ে আক্কা অভিমুখে বসবাস করত। আর আমিলাহ গোত্র তাদের পাহাড়ে বসবাস করত যা তাবারিয়া থেকে সমুদ্রের দিকে প্রসারিত ছিল। আর যুবইয়ান গোত্র ছিল বায়াদ তথা কারকারার সীমান্ত থেকে—কারকারা হলো সমতল ভূমি—এবং এটি একটি গায়িত (নিচু জমি), আর গায়িত হলো গুতাহর মতো ভূমির নিচু অংশ—যা তাইমা ও হাওরানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তাই গোত্র ছাড়া অন্য কেউ তাদের সাথে মিশত না। তাদের বসতি ছিল সাওয়াদ, মারউ এবং হায়ানিয়্যাত অঞ্চলে। হায়ানিয়্যাত হলো দামেস্ক ভূমির সাওয়াদ অঞ্চলের একটি জেলা, যা গোরের নিকটবর্তী জারাশ পাহাড়ের একটি জেলা। আর কালব গোত্রের আবাসস্থল ছিল সামাওয়াহ। সামাওয়াহ হলো পাথরহীন সমতল ভূমি যা কুফা ও শামের মধ্যবর্তী মরু অঞ্চল। সামাওয়াহতে তাদের উপগোত্রগুলোর সাথে অন্য কেউ মিশত না। আর গুতাহর ভূমিতে কালব গোত্রীয়দের মধ্যে আমির ইবনুল হুসাইন ইবনে আলিম এবং ইবনে রাবাব আল-মুয়াক্কিলি ছিলেন। আর বনু হারিস ইবনে কাবের একটি পরিবার দামেস্কের ফালজাহ ভূমিতে বসবাস করত। হাসসানের কবিতায় বর্ণিত শামের ফালজাতগুলো ইরাকের মাশারিফ ও মাযালিফের মতো। মাশারিফ হলো মাশরাফের বহুবচন, যা হাওরানের নিকটবর্তী কিছু গ্রামকে বোঝায়, যার মধ্যে বুসরা অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جهينة، القين، بهراء، تنوخ:ثم اللخم ومن يخالطها من كنانة ما حول الرملة إلى نابلس ولهم أيضا ما جاز تبوك إلى زغر - قرية بمشارف الشام - ثم البحيرة الميتة. وللخم أيضا الجولان وما يليها من الأرجاء نوى والبثنية وشقص من أرض حوران، ويخالطهم في هذه المواضع جهينة وذبيان ومن القين وعن أيسر جبال الشراة مدائن قوم لوط قال: وفي الحيانيات وما يليها ديار القين حيث كانت بقية من جديس إخوة طسم، فإذا جزت جبل عاملة تريد قصد دمشق وحمص وما يليها فهي ديار غسان من آل جفنة وغيرهم، فإن تياسرت من حمص عن البحر الكبير وهو بحر الروم وقعت في أرض بهراء، ثم من أيسرهم مما يصل البحر تنوخ وهي ديار الفضيض سادة تنوخ ومعكودهم المقيم الملازم، ومنها اللاذقية على شاطئ البحر ثم تقع في نصارى وغير ذلك إلى حد الفرات، وما وقع في ديار كلب من القرى تدمروسلمية والعاصمية وحمص وهي حميرية، وخلفها مما يلي العراق حماة وشيزر وكفر طاب لكنانة من كلب. إياد وطييء وكندة وحمير وعذرة وزبيد وهمدانويحصب وقيس:يؤخذ مما قاله اليعقوبي أن أهل حماة قوم من يمن والأغلب عليهم بهراء وتنوخ وصوران - كورة بحمص - وبها قوم من إياد، وأهل حمص جميعا يمن من طييء وكندة وحمير وكلب وهمدان وغيرهم من البطون، وأهل التمة من أقاليم حمص كلب، وأهل سلمية من ولد عبد الله بن صالح الهاشمي ومواليهم وأهل تدمر كلب، وتلمنس مساكن إياد وتل منس حصن قرب المعرة، ومعرة النعمان أهلها تنوخ وأهل البارة بهراء وفامية عذرة وبهراء، وأهل مدينة شيزر قوم من كندة ومدينة كفر طاب والأطميم، وهي مدينة قديمة وأهلها قوم من يمن، من سائر البطون وأكثرهم كندة وأهل اللاذقية قوم من يمن من سليح وزبيد وهمدان ويحصب وغيرهم، وأهل مدينة جبلة همدان، وبها قوم
জুহাইনা, আল-কায়ন, বাহরা, তানুখ:এরপর লাখম গোত্র এবং তাদের সাথে মিশে থাকা কিনানা গোত্রের কিছু লোক, যারা রামলা থেকে নাবলুস পর্যন্ত এলাকায় রয়েছে। তাদের অধীনে তাবুক পেরিয়ে জুগার পর্যন্ত এলাকাও রয়েছে - এটি সিরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম - এরপর মৃত সাগর (ডেড সি) পর্যন্ত। লাখম গোত্রের অধিকারে গোলান মালভূমি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা যেমন নাওয়া, বাসানিয়া এবং হাওরান ভূমির একটি অংশও রয়েছে। এসব স্থানে তাদের সাথে জুহাইনা, যুবইয়ান এবং আল-কায়ন গোত্রও মিশে আছে। আশ-শারা পাহাড়ের বাম দিকে লুত (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের শহরগুলো অবস্থিত। তিনি বলেন: আল-হাইয়ানিয়াত এবং এর নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহ আল-কায়ন গোত্রের আবাসস্থল, যেখানে তাসম গোত্রের ভাই জাদিস গোত্রের অবশিষ্টাংশ ছিল। যখন আপনি জাবাল আমিলা অতিক্রম করে দামেস্ক, হিমস এবং এর আশপাশের এলাকার দিকে অগ্রসর হবেন, তখন সেগুলো হবে জাফনা পরিবারের আল-গাসসান এবং অন্যদের আবাসভূমি। আপনি যদি হিমস থেকে বড় সমুদ্র অর্থাৎ রোম সাগরের (ভূমধ্যসাগর) বাম দিকে যান, তবে আপনি বাহরা গোত্রের ভূমিতে পৌঁছাবেন। তাদের বাম দিক থেকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাটি তানুখ গোত্রের, যা তানুখের সরদার আল-ফাদিদ-এর আবাসস্থল এবং এটি তাদের স্থায়ী ও মূল কেন্দ্র। এর মধ্যে সমুদ্রতীরে লাতাকিয়া অবস্থিত, তারপর ফরাত নদী পর্যন্ত খ্রিস্টান এবং অন্যদের বসতি। কালব গোত্রের এলাকার অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে পালমিরা (তাদমুর), সালামিয়া, আল-আসমিয়া এবং হিমস, যা হিময়ারি গোত্রের এলাকা। আর এর পেছনে ইরাকের দিকে হামাহ, শাইজার এবং কাফর তাব এলাকাগুলো কালব গোত্রের কিনানা শাখার আবাসস্থল। ইয়াদ, তাইয়ি, কিনদাহ, হিমইয়ার, উযরাহ, যুবাইদ এবং হামদানইয়াহসুব এবং কায়স:আল-ইয়াকুবির বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, হামাহর অধিবাসীরা ইয়ামেনি গোত্রের লোক, যাদের মধ্যে বাহরা, তানুখ এবং সওরান (হিমসের একটি জেলা) গোত্রের প্রাধান্য বেশি। সেখানে ইয়াদ গোত্রের কিছু লোকও রয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা সবাই ইয়ামেনি, যারা তাইয়ি, কিনদাহ, হিমইয়ার, কালব, হামদান এবং অন্যান্য উপগোত্রের অন্তর্ভুক্ত। হিমস অঞ্চলের আত্তামাহ-র অধিবাসীরা কালব গোত্রের। সালামিয়ার অধিবাসীরা আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-হাশিমির বংশধর এবং তাদের মিত্ররা, আর পালমিরার (তাদমুর) অধিবাসীরা কালব গোত্রের। তালমানাস হলো ইয়াদ গোত্রের আবাসস্থল, তালমানাস হলো আল-মা'আররার নিকটবর্তী একটি দুর্গ। মা'আররাত আন-নু’মানের অধিবাসীরা তানুখ গোত্রের, আল-বারার অধিবাসীরা বাহরা গোত্রের এবং ফামিয়াহর অধিবাসীরা উযরাহ ও বাহরা গোত্রের। শাইজার শহরের অধিবাসীরা কিনদাহ গোত্রের। কাফর তাব এবং আল-আতমীম শহর - যা একটি প্রাচীন শহর - এর অধিবাসীরা ইয়ামেনের বিভিন্ন উপগোত্রের লোক, যাদের অধিকাংশই কিনদাহ গোত্রের। লাতাকিয়ার অধিবাসীরা ইয়ামেনিদের সালিহ, যুবাইদ, হামদান, ইয়াহসুব এবং অন্যান্য গোত্রের। জাবালাহ শহরের অধিবাসীরা হামদান গোত্রের, এবং সেখানে একদল লোক রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من قيس ومن إياد، ومدينة بانياس وأهلها أخلاط، وأهل مدينة انطرطوس قوم من كندة.قال: وكانت دمشق منازل ملوك غسان والأغلب على أهلها أهل اليمن وبها قوم من قيس، وأهل الغوطة غسان وبطون من قيس وبها جماعة من قريش، وجبال ومدينتها عرندل - قرية من أرض الشراة - وأهلها قوم من غسان ومن بلقين وغيرهم ومآب وزغر وأهلها أخلاط من الناس، والشراة ومدينتها أذرح وأهلها موالي بني هاشم، وبها الحميمة منازل علي بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب وولده. والجولان ومدينتها بانياس وأهلها قوم من قيس أكثرهم بنو مرة، وبها نفر من أهل اليمن، وجبل سنير - أي لبنان الشرقي ويدخل فيه جبل قلمونووادي التيم - وأهلها بنو ضبة وبها قوم من كلب.واختلف الباحثون في الغسانيين إذا كانوا حكموا دمشق أم لم يحكموها وكون منازلهم كانت بجلق صحيح نقله ثقات العرب وورد في شعر حسان وقال نولدكه: إن بني غسان لم يتولوا الحكم إلا على قبائل حوران وشرقي الأردن. وقد قال الأخنس بن شهاب من شعراء الجاهلية:وغسّان حيّ عزهم في سواهم … يُجالد منهم مقنب وكتائبوبهراء حيّ قد علمنا مكانهم … لهم شَرَك حول الرُّصافة لا حبمعناه هم ملوك ولم يكونوا كثيرا، وكانت الروم توليهم وتقاتل عنهم فعزهم في غيرهم، وكانوا نزولا على قوم من العرب. والمقنب الجماعة والشرك اللاحب الطرق المدمثة. الفرس والزط:وبعلبك وأهلها قوم من الفرس، وفي أطرافها قوم من اليمن، وجبل الجليل وأهلها قوم من عاملة ولبنان وصيدا وبها قوم من قريش ومن اليمن، وكورة عرقة - شرقي طرابلس - ولها مدينة قديمة فيها قوم من الفرس ناقلة وبها قوم من ربيعة من بني حنيفة، ومدينة طرابلس وأهلها قوم من الفرس نقلهم إليها معاوية بن أبي سفيان، كما نقل منهم إلى جبيل
কায়স এবং ইয়াদ গোত্র থেকে; আর বানিয়াস শহর এবং এর অধিবাসীরা মিশ্রিত; আর আনতারতুস শহরের অধিবাসীরা কিন্দাহ গোত্রের একটি কওম।তিনি বলেন: দামেশক ছিল গাসসানের রাজাদের আবাসস্থল এবং এর অধিবাসীদের অধিকাংশ ছিল ইয়ামেনী, আর সেখানে কায়সেরও একটি দল ছিল। গুতার অধিবাসীরা ছিল গাসসান এবং কায়সের কিছু শাখা গোত্র, আর সেখানে কুরাইশের একটি জামাতও ছিল। জিবাল এবং এর শহর ছিল আরন্দাল—যা শারাহ ভূমির একটি গ্রাম—এবং এর অধিবাসীরা ছিল গাসসান, বালকিন ও অন্যান্য গোত্রের লোক। মাআব ও জুগার এবং এর অধিবাসীরা ছিল মানুষের একটি মিশ্রণ। শারাহ এবং এর শহর ছিল আজরুহ এবং এর অধিবাসীরা ছিল বনু হাশেমের মুক্তকৃত দাস। সেখানে আল-হুমাইমাহ অবস্থিত ছিল, যা ছিল আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং তাঁর সন্তানদের আবাসস্থল। গোলান ও এর শহর ছিল বানিয়াস এবং এর অধিবাসীরা ছিল কায়স গোত্রের লোক যাদের অধিকাংশই বনু মুররাহ, আর সেখানে ইয়ামেনীদের একটি দলও ছিল। জাবালু সানীর—অর্থাৎ পূর্ব লেবানন এবং এর অন্তর্ভুক্ত কালামুন পাহাড়ও ওয়াদি আল-তাইম—এবং এর অধিবাসীরা ছিল বনু দাব্বাহ এবং সেখানে কালব গোত্রের একদল লোক ছিল।গবেষকরা গাসসানিদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, তারা দামেশক শাসন করেছিল কি না। তাদের আবাসস্থল যে জিল্লিক ছিল—এটি একটি সঠিক বর্ণনা যা নির্ভরযোগ্য আরব বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন এবং হাসসানের কবিতায় তা এসেছে। নলডেক বলেছেন: বনু গাসসান কেবল হাওরান এবং জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় গোত্রগুলোর ওপর শাসনকার্য পরিচালনা করত। জাহিলী যুগের কবিদের মধ্য থেকে আখনাশ ইবনে শিহাব বলেছেন:গাসসান এমন এক গোত্র যাদের সম্মান অন্যদের মাঝে নিহিত … তাদের মধ্য থেকে ছোট ছোট দল ও বিশাল বাহিনী যুদ্ধ করে।বাহরাহ এমন এক গোত্র যাদের স্থান আমরা জানি … রুসাফাহর আশেপাশে তাদের জন্য রয়েছে সুপ্রশস্ত পথ।এর অর্থ হলো তারা ছিল রাজা কিন্তু সংখ্যায় বেশি ছিল না। রোমানরা তাদের দায়িত্ব প্রদান করত এবং তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করত, তাই তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি অন্যদের দ্বারা ছিল। তারা আরবদের একটি কওমের ওপর বসবাস করত। 'মাকনাব' অর্থ জামাত বা দল এবং 'শারাক আল-লাহিব' অর্থ সুপ্রশস্ত ও সুগম পথ। পারস্যবাসী এবং জুত জাতি:বালবেক এবং এর অধিবাসীরা ছিল পারস্যের লোক, আর এর প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে ছিল ইয়ামেনী একদল লোক। জাবালুল জলীল এবং এর অধিবাসীরা ছিল আমিলাহ গোত্রের। লেবানন ও সিডন এবং সেখানে কুরাইশ ও ইয়ামেনীদের একটি দল ছিল। আরকাহ জেলা—ত্রিপোলির পূর্বে—এবং এর একটি প্রাচীন শহর রয়েছে যাতে স্থানান্তরিত পারস্যের একদল লোক ছিল এবং সেখানে বনু হানিফার রাবিআহ গোত্রের একদল লোক ছিল। ত্রিপোলি শহর এবং এর অধিবাসীরা ছিল পারস্যের লোক যাদের মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান সেখানে স্থানান্তরিত করেছিলেন, যেমনটি তিনি তাদের মধ্য থেকে জুবাইলেও স্থানান্তরিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وصيدا وبيروت. وقد نقل معاوية قوما من فرس بعلبك وحمص وإنطاكية إلى سواحل الأردن وصور وعكا سنة 42 ونقل من أساورة البصرة والكوفة وفرس بعلبك وحمص إلى إنطاكية جماعة. والغالب أن الفرس عند دخول العرب المسلمين إلى الشام كانوا أصحاب مكانة حتى جرى ذكرهم بالتنصيص في العهد الذي أعطاه أبو عبيدة إلى أهل بعلبك رومها وفرسها وعربها.وقال البلاذري: نقل معاوية في سنة 49 أو سنة خمسين إلى السواحل قوما منزط البصرة والسبايجة وأنزل بعضهم إنطاكية، وكان الوليد بن عبد الملك نقل إلى إنطاكية قوما من الزط السند. وكثرت هجرة الناس على اختلاف عناصرهم إلى هذا القطر لأن قصبته أصبحت عاصمة الدولة الإسلامية الكبرى. الأخلاط والسامرة وجذام وعذرة ونهد وجرم والأزد:وأهل مدينة طبرية قوم من الأشعريين هم الغالبون عليها، وأهل صور وعكا وقدس وبيسان وفحل وجرش والسواد أخلاط من العرب والعجم. وأهل الرملة أخلاط من العرب والعجم، وذمتها سامرة، وأهل مدينة نابلس أخلاط من العرب والعجم والسامرة، وأهل كورة جبرين قوم من جذام، وأهل جند فلسطين أخلاط من العرب من لخم وجذام وعاملة وكندة وقيس وكنانة. وذكر القلقشندي أن بني كلب كانوا ينزلون في الجاهلية دومة الجندل الجوف كما نزلوا تبوك وشيزر وحلب وبلادها، وفي تدمر والمناظر أقوام منهم، ومن بني عذرة أقوام بالشام، وكذلك من بني نهد وفي غزة جرم طيىء وللأزد بقايا في زرع وبصرى، ولغسان بقايا بالبلقاء واليرموك وحمص وهذا في القرن الثامن للهجرة، وكان غسان وجذام وكلب ولخم وغيرهم من القبائل يعدون من المستعربة، كما قال ابن البطريق، استجلبهم هرقل لما سمع أن المسلمين فتحوا فلسطين والأردن وصاروا إلى البثنية. ولما وصل أبو عبيدة بن الجراح فاتح الشام إلى حاضر حلب وهو قريب منها جمع أصنافا من العرب من تنوخ وغيرهم، وكانوا أرسلوا إلى خالد بن الوليد أنهم عرب وأنهم إنما حشروا مع الروم ولم يكن من رأيهم حربه فقبل منهم وتركهم.
এবং সাইদা ও বৈরুত। মুয়াবিয়া ৪২ হিজরি সালে বালবাক, হিমস ও আন্তাকিয়া থেকে পারস্যের একদল লোককে জর্ডান উপকূল, সুর এবং আক্কায় স্থানান্তরিত করেন। এছাড়া তিনি বসরার আসাবিরা (পারস্য অশ্বারোহী বাহিনী), কুফা এবং বালবাক ও হিমসের পারস্যবাসীদের একটি দলকে আন্তাকিয়ায় স্থানান্তরিত করেন। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, মুসলিম আরবদের শাম বিজয়ের সময় পারস্যবাসীরা উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিল, যার প্রমাণ পাওয়া যায় আবু উবায়দা বালবাকবাসীদের—সেখানকার রোমান, পারস্য এবং আরবদের—জন্য যে চুক্তিপত্র প্রদান করেছিলেন তাতে তাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে।আল-বালাজুরি বলেন: মুয়াবিয়া ৪৯ বা ৫০ হিজরি সালে বসরার জুত এবং সায়াবিজিদের একদলকে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানান্তরিত করেন এবং তাদের কয়েকজনকে আন্তাকিয়ায় বসতি স্থাপন করান। আর ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক সিন্ধুর একদল জুতকে আন্তাকিয়ায় স্থানান্তরিত করেছিলেন। বিভিন্ন বংশ ও গোত্রের মানুষের এই অঞ্চলে হিজরত বৃদ্ধি পায় কারণ এর প্রধান শহরটি বৃহৎ ইসলামি রাষ্ট্রের রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল। মিশ্র গোষ্ঠী, সামারি, জুজাম, উজরাহ, নাহদ, জারম এবং আজদ:তিবরিয়া শহরের অধিবাসীরা মূলত আশআরি গোত্রভুক্ত এবং তারাই সেখানে সংখ্যাগুরু। আর সুর, আক্কা, কুদস, বায়সান, ফাহল, জারশ এবং সাওয়াদ অঞ্চলের অধিবাসীরা আরব ও আজমদের (অনারব) মিশ্রণ। রামলার অধিবাসীরাও আরব ও আজমদের মিশ্রণ, আর তাদের জিম্মিরা হলো সামারি। নাবলুস শহরের অধিবাসীরা আরব, আজম এবং সামারিদের মিশ্রণ। জিবরিন অঞ্চলের অধিবাসীরা জুজাম গোত্রের। ফিলিস্তিন সামরিক অঞ্চলের (জুনদ) অধিবাসীরা লাক্ষম, জুজাম, আমিলা, কিনদাহ, কায়স এবং কিনানা গোত্রের আরবদের এক মিশ্র রূপ। আল-কালকাশান্দি উল্লেখ করেছেন যে, জাহিলিয়াত যুগে বনু কালব গোত্র দুমাতুল জানদাল ও জাউফ অঞ্চলে বসবাস করত, যেমনটি তারা তাবুক, শাইজার, আলেপ্পো এবং এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করত। পালমিরা এবং মানাজিরে তাদের কিছু দল রয়েছে। বনু উজরাহর কিছু দল শামে রয়েছে, একইভাবে বনু নাহদেরও কিছু দল রয়েছে। গাজায় তায়্যি গোত্রের জারম শাখা রয়েছে। ইজরা এবং বুসরায় আজদ গোত্রের অবশিষ্টাংশ রয়েছে। বালকা, ইয়ারমুক এবং হিমসে গাসসান গোত্রের অবশিষ্টাংশ রয়েছে এবং এটি ছিল হিজরি অষ্টম শতাব্দীর কথা। ইবনে আল-বিতারিকের মতে, গাসসান, জুজাম, কালব, লাক্ষম এবং অন্যান্য গোত্রগুলো 'মুস্তা'রিবা' (আরবীকৃত) হিসেবে গণ্য হতো। হিরাক্লিয়াস যখন শুনলেন যে মুসলিমরা ফিলিস্তিন ও জর্ডান জয় করেছে এবং বাসানিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তখন তিনি তাদের সাহায্যার্থে এনেছিলেন। শামের বিজয়ী আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ যখন আলেপ্পোর নিকটবর্তী হাদির নামক স্থানে পৌঁছান, তখন তিনি তানুখ ও অন্যান্য আরব গোত্রগুলোকে একত্রিত করেন। তারা খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল যে তারা আরব এবং তাদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও রোমানদের সাথে সমবেত করা হয়েছিল, আর তাঁর সাথে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছা তাদের ছিল না। তিনি তাদের কথা মেনে নেন এবং তাদের ছেড়ে দেন।
(খণ্ড: ১)
খুতাতুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قيس ويمن وإحصاء السكان:رأينا في ما تقدم من النقول أن كل إقليم بل كل بلد ناله حظ من نزول العرب في أرجائه وذلك قبل الإسلام وبعده:بها غرر القبائل من معد وقحطان ومن سروات فهر ومجموع أصولهم يرجع إلى قيس ويمن، وهم الذين كان يطلق عليهم اسم العشران. وكثيرا ما كانت تقع بينهم حروب أهلية تسيل فيها الدماء وينادي فيها يا للثارات. انتشروا من الجنوب إلى الشمال ودام ذلك إلى العهد الأخير، وكانت بقايا هذه النغمة في لبنان إلى القرن الماضي فدثرت. وآخر حرب نشبت بين قيس ويمن الحرب التي وقعت في قرية خربثة بفلسطين والحرب التي نشبت في قرية عين دارة في جبل لبنان سنة 1710 م. ويتعذر الآن الحكم على أجيال العرب التي نزلت الشام لما طرأ على القطر من ضروب البلاء كالوباء والجدب والزلزال والظلم والجلاء. وقد ذكر لامنس أن العرب المسلمين لما انتهوا من أمر الجابية وعمواس ودابق أي لما فتحوا الشام برمته أنشئوا ينزلون المدن والقرى وقد دخل منهم قبائل برمتها قدرها من مائة إلى مائتي ألف ونظن هذا التقدير أقل من الحقيقة لأن المسجلين بديوان العطاء في دمشق فقط كانوا في الصدر الأول خمسة وأربعين ألفا فما بالك بسائر من كان يجري عليه العطاء في البلدان الأخرى وغيرهم من التجار وأصحاب الزرع والضرع؟ قال: فلو فرضنا أن نصفهم قتلوا في الحروب فيبقى النصف الآخر أمام السكان الأصليين وكانوا من أربعة إلى خمسة ملايين، وكان في الشام على عهد الرومان نحو سبعة ملايين. وقال بعض الباحثين من الإفرنج: إن الشام على عهد الإسكندر أي قبل المسيح بثلاثة قرون كان يسكنها عشرون مليونا من البشر، ولما جاءت العرب في القرن السابع كان سكانها قد نقصوا حتى بلغوا عشرة ملايين وفي عهدنا بلغ عددهم نحو سبعة ملايين. المردة والجراجمة والأرمن والروم والموارنة:لقب أهل لبنان بالمردة أي العصاة لعصيانهم أمر ملك الروم في عدم
কায়েস, ইয়ামান এবং আদমশুমারি:আমরা পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিগুলোতে দেখেছি যে, প্রতিটি প্রদেশ বরং প্রতিটি জনপদই ইসলামের পূর্বে এবং পরে আরবদের আগমনের ছোঁয়া পেয়েছে:সেখানে মা'আদ ও কাহতান গোত্রের শ্রেষ্ঠ অংশ এবং ফিহরের উচ্চবংশীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলের মূল বংশধারা কায়েস ও ইয়ামানের দিকে ফিরে যায় এবং তাদেরকেই 'আশরান' নামে অভিহিত করা হতো। তাদের মধ্যে প্রায়শই এমন গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হতো যাতে রক্ত প্রবাহিত হতো এবং প্রতিশোধের জন্য চিৎকার ধ্বনিত হতো। তারা দক্ষিণ থেকে উত্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আধুনিক যুগ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। গত শতাব্দী পর্যন্ত লেবাননে এই রীতির অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কায়েস ও ইয়ামানের মধ্যে সংঘটিত সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল ফিলিস্তিনের খারবাথা গ্রামে এবং ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে মাউন্ট লেবাননের আইন দারা গ্রামে সংঘটিত যুদ্ধ। সিরিয়া (শাম) অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারী আরব প্রজন্মের অবস্থা বর্তমান সময়ে নিরূপণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে; কারণ এই ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে মহামারী, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, জুলুম এবং নির্বাসনের মতো নানা বিপর্যয় বয়ে গেছে। ল্যামেন্স উল্লেখ করেছেন যে, মুসলিম আরবরা যখন জাবিয়া, আমওয়াস এবং দাবিকের কাজ সম্পন্ন করল—অর্থাৎ যখন তারা সমগ্র সিরিয়া জয় করল—তখন তারা শহর ও গ্রামে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। তাদের মধ্যে এমন সব গোত্র প্রবেশ করেছিল যাদের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ থেকে দুই লক্ষের মতো। আমাদের মতে, এই অনুমান প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম; কারণ কেবল দামেস্কের 'দিওয়ানুল আতা'-তেই (ভাতা রেজিস্টার) প্রথম যুগে নিবন্ধিত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল পঁয়তাল্লিশ হাজার। তাহলে অন্যান্য শহরের ভাতাভোগী এবং ব্যবসায়ী ও কৃষক সম্প্রদায়ের সংখ্যা কত হতে পারে? তিনি বলেন: যদি ধরে নেওয়া হয় যে তাদের অর্ধেক যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, তবুও অবশিষ্ট অর্ধেক ছিল আদি অধিবাসীদের বিপরীতে, যাদের সংখ্যা ছিল চার থেকে পাঁচ মিলিয়ন। রোমান যুগে সিরিয়ার জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাত মিলিয়ন। ইউরোপীয় কিছু গবেষক বলেছেন: আলেকজান্ডারের যুগে অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সিরিয়ায় বিশ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করত। সপ্তম শতাব্দীতে যখন আরবরা আসে, তখন জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে দশ মিলিয়নে দাঁড়ায় এবং আমাদের বর্তমান যুগে এই সংখ্যা প্রায় সাত মিলিয়নে পৌঁছেছে। মারদাহ, জারাজিমা, আরমানি, রোমান এবং মারোনাইট:লেবাননের অধিবাসীদের 'মারদাহ' বা বিদ্রোহী উপাধিতে ভূষিত করা হতো; কারণ তারা রোমান সম্রাটের আদেশ অমান্য করেছিল...