(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المطالع البدرية في المنازل الرومية القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: المطالع البدرية في المنازل الرومية
المؤلف: محمد بن محمد بن محمد الغزي العامري الدمشقي، أبو البركات، بدر الدين ابن رضي الدين (ت 984هـ)
حققها وقدم لها: المهدي عيد الرواضيّة
الناشر: دار السويدي للنشر والتوزيع، أبو ظبي - الإمارات العربية المتحدة، المؤسسة العربية للدراسات والنشر، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 2004 م
عدد الصفحات: 323
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 جُمادَى الآخرة 1432
রুমীয় মনজিলসমূহে পূর্ণিমার উদয়স্থলসমূহ বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
বই: রুমীয় মনজিলসমূহে পূর্ণিমার উদয়স্থলসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি আল-আমিরি আদ-দিমাশকি, আবু আল-বারাকাত, বদরুদ্দিন ইবনে রাদিউদ্দীন (মৃত্যু ৯৮৪ হিজরি)
সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: আল-মাহদি ঈদ আল-রাওয়াদিয়া
প্রকাশক: দার আল-সুওয়াইদি ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, আবুধাবি - সংযুক্ত আরব আমিরাত, আল-মুয়াসসাসাতুল আরাবিয়া লিল-দিরাসাত ওয়ান-নাশর, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ জুমাদিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه أكتفي
الحمد لله الذي بنعمته تتم الصَّالحات، وتدر البركات، وبمنّته تُغْفَر الزلات وتُقَال العثرات، وبرحمته تقرّ العيون السخِنَات، بلمّ الشَّمل بعد الشتات، وبرأفته يحصل للقلوب القلقة الثبات، بوصل الحبل بعد البتات، أحمده على توافر نعمائه التي مدّها علينا ظلاً ظليلاً، وتواتر آلائه التي أولاها ووالاها مقاماًَ ورحيلا، وأشكره شكراً يكون بمزيد النعم كفيلا، ولمديد الكرم الوافر الوافي منيلا، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، شهادةَ معترف بوجوب وجوده، مغترف من بحار كرمه وجوده، وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله، أشرف رسله وسيد عبيده وناصر دينه القيم وصاحب لواء تحميده، صلّى الله وسلّم عليه وعلى آله وأصحابه وأتباعه وأشياعه وجنوده، ما عزمت همة امرءٍ على إقامة، أو همت عزيمته بسفر، وما تجلّى صبح بلوغ المآرب عن سُرى ليل المطالب وسَفَر، أما بعد.
فهذا تعليق، أبرزه عون من الله تعالى وتوفيق، قصدتُ به ضبط موارد الرحلة الرُّوميّة، وذكر معاهد الوجهة الشَّماليّة، والتنويه بأسماء بعض من جمعتنا به الرحلة من الأئمة الشيوخ، ذوي التحقيق والرسوخ، من أصحابٍ وخلاّن وأصدقاء وإخوان، ما بين أقران نبلاء، وأعيان كملاء، وتلامذة فضلاء، زادهم الله عِلْمَاً وعملاً، ومن أركان دولة ملك البسيطة، وقطب الدائرة التي هي بالعالم محيطة، ظل الله في الأرض، النافذ الأمر في الطول منها والعرض، ملك البرين والبحرين والعراقين، وحامي الحرمين الشريفين، سليمان الزمان وإسكندر العصر والأوان السُّلطان سليمان خان بن عثمان، لا زالت شمس ملكه مشرقة الأنوار، والدنيا لابسة من شعار سُلطانه حُلل الفخار، ولا زالوا هم مقيمين في دولته ميزان العدل بالقسط، متعاضدين متفقين في نصرة الحق وإعلاء كلمته على أحسن نظام وأنسب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর তাঁর সাহায্যই আমার জন্য যথেষ্ট।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সমস্ত নেক কাজ সম্পন্ন হয় এবং বরকতসমূহ প্রবাহিত হয়। তাঁর দানে পদস্খলনসমূহ ক্ষমা করা হয় এবং হোঁচট খাওয়া থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। তাঁর রহমতে বিচ্ছিন্নতার পর পুনর্মিলনের মাধ্যমে অশ্রুসজল চোখগুলো শীতল হয়। তাঁর মমতায় অস্থির অন্তরসমূহ স্থিরতা লাভ করে এবং ছিন্ন হওয়া সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগে। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের জন্য যা তিনি আমাদের ওপর সুশীতল ছায়ার ন্যায় প্রসারিত করেছেন, এবং তাঁর অবিরত অনুগ্রহের জন্য যা তিনি আমাদের অবস্থান ও যাত্রাকালে দান করেছেন ও অব্যাহত রেখেছেন। আমি তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যা নিয়ামতের আধিক্যের জামিনদার হবে এবং তাঁর সুদীর্ঘ ও পর্যাপ্ত দয়া অর্জনের মাধ্যম হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এই সাক্ষ্য তাঁর অস্তিত্বের আবশ্যকতা স্বীকারকারীর এবং তাঁর বদান্যতা ও দানশীলতার সমুদ্র থেকে সুধা গ্রহণকারীর সাক্ষ্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি তাঁর রাসুলগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, তাঁর বান্দাদের নেতা, তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর প্রশংসার পতাকাধারী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর অনুসারীগণ, তাঁর দলভুক্তগণ এবং তাঁর বাহিনীর ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যতক্ষণ কোনো ব্যক্তির হিম্মত কোথাও অবস্থানের সংকল্প করবে অথবা তার দৃঢ় ইচ্ছা সফরের দিকে ধাবিত হবে, আর যতক্ষণ না উদ্দেশ্য সাধনের সকাল কামনার রজনীর শেষ ভাগে এবং সফরের অন্তে উদিত হবে। অতঃপর।
এটি একটি টীকা, যা আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও তাওফীকে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো রুম সফরের স্থানসমূহ সুসংবদ্ধ করা, উত্তরের গন্তব্যস্থলগুলোর কথা উল্লেখ করা এবং এই সফরে আমাদের সাথে মিলিত হওয়া সেই সকল ইমাম ও শায়খদের নাম আলোচনা করা যারা গবেষণায় পারদর্শী ও জ্ঞানে সুদৃঢ়; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঙ্গী, সুহৃদ, বন্ধু ও ভ্রাতৃবৃন্দ, যাঁদের মাঝে রয়েছেন মহৎ সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ, পূর্ণাঙ্গ গুণীজন এবং মর্যাদাবান ছাত্রবৃন্দ। আল্লাহ তাঁদের ইলম ও আমলে বরকত দান করুন। আর (আরও নাম রয়েছে) পৃথিবীর অধিপতির রাষ্ট্রের স্তম্ভসমূহের এবং সেই বৃত্তের কেন্দ্রের (ব্যক্তিবর্গের) যা বিশ্বকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। তিনি জমিনে আল্লাহর ছায়া, যাঁর আদেশ পৃথিবীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে কার্যকর। তিনি দুই মহাদেশ, দুই সমুদ্র ও দুই ইরাকের অধিপতি এবং দুই পবিত্র হারামের রক্ষক, সময়ের সুলাইমান এবং এই যুগের সিকান্দার, সুলতান সুলাইমান খান বিন উসমান। তাঁর রাজত্বের সূর্য যেন সর্বদা নূরের বিকিরণ ছড়াতে থাকে এবং দুনিয়া যেন তাঁর সালতানাতের গৌরবের পোশাক পরিহিত থাকে। আর তাঁরা যেন তাঁর রাষ্ট্রে ইনসাফের সাথে ন্যায়ের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং সর্বোত্তম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতিতে সত্যের সাহায্য ও তাঁর বাণী বুলন্দ করার ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগী ও ঐক্যবদ্ধ থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
شمط، مطرزاً حلته بذكر بعض ما فتح الله تعالى به من منثور ومنظوم، ومهمات
لطيفة من غوامض العلوم، وقد وسمته بالمطالع البدريّة في المنازل الرُّوميّة، والله تعالى أسأل أن يجعله لوجهه الكريم خالصاً، وأن يظلنا بظله العميم حيث يكون الظل قالصاً بمنه ويمنه، وفضله وطَوْله، فأقول مستعيناً بالله سبحانه، ومؤملاً فضله وغفرانه، ومتوكلاً في كل أحوالي عليه، ومفوضاً جميع أموري إليه: إنني استخرت الله تعالى - وما خاب من استخاره - واستشرت كما أُمرت من هو أهل للاستشارة، في السفر إلى البلاد الرُّوميّة قاصداً محل تخت المُلْك مدينة قُسْطَنْطِينيّة لأمرٍ اقتضى ذلك، وألجأ إلى سلوك هذه المسالك في مدينة دِمَشْق الشَّام، بعد فراق روحها سيدي الوالد شيخ الإسلام، حين نضب المَعين، وفقد المُعين، وخان الأمين، وَمَان من لم نعهده، يمين وقلّ الناصر، وعزّ المواصر، وخذل المؤازر، وصدّت الإخوان، وندت الخلاّن، وافتضح من ذلك الخطب اليسير، من مدعي الصُّحبة والأخوَّة خلق كثير بحيث:
لم يبقَ صافٍ ولا مصافٍ
… ولا مَعينٌ ولا مُعين
وفي المساوي بدا التساوي
… فلا أمينٌ ولا يمين
গদ্য ও পদ্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহ যা কিছু উন্মোচন করেছেন তার কিছু অংশ এবং ইলমের জটিল বিষয়াবলি থেকে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম প্রসঙ্গের উল্লেখ করে আমি এর শোভাবর্ধন করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-মাতালিউল বাদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ’। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিছক ইখলাসের সাথে কবুল করেন এবং যেদিন ছায়া সঙ্কুচিত হয়ে যাবে সেদিন যেন তাঁর ব্যাপক করুণার ছায়ায় আমাদের আশ্রয় দান করেন—তাঁরই অনুগ্রহ, বরকত, দয়া ও বদান্যতায়। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর অনুগ্রহ ও ক্ষমার প্রত্যাশা রেখে, আমার সকল অবস্থায় তাঁর ওপর ভরসা করে এবং আমার যাবতীয় বিষয় তাঁর নিকট সোপর্দ করে বলছি: আমি মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি—আর যে আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করে সে কখনো ব্যর্থ হয় না—এবং নির্দেশ অনুযায়ী আমি পরামর্শের যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করেছি রূম সাম্রাজ্যের দেশসমূহে সফর করার বিষয়ে; যার উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল নগরী অভিমুখে যাত্রা করা। এমন এক বিশেষ কারণে যা এর দাবি রাখে এবং যা আমাকে সিরিয়ার দামেস্ক নগরীতে অবস্থানকালে এই পথ অবলম্বনে বাধ্য করেছে; বিশেষ করে সেই নগরের প্রাণসত্তা আমার শ্রদ্ধেয় পিতা শাইখুল ইসলামের বিচ্ছেদের পর, যখন ঝরনাধারা শুকিয়ে গেল, সাহায্যকারী হারিয়ে গেল, আমানতদার বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং যার নিকট থেকে কখনো মিথ্যা প্রত্যাশা করিনি সেও মিথ্যা প্রতিশ্রতি দিল; যখন সাহায্যকারী কমে গেল, আত্মীয়তার বন্ধন দুর্লভ হলো এবং সহায়তাকারীরা সঙ্গ ত্যাগ করল। ভাইয়েরা বিমুখ হলো, বন্ধু-বান্ধব দূরে সরে গেল এবং এই সামান্য বিপদে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের দাবিদার বহু লোকের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়ে পড়ল, ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে:
না কোনো স্বচ্ছ হৃদয় বাকি রইল, না কোনো অকৃত্রিম বন্ধু
… না রইল কোনো ঝরনা, না কোনো সাহায্যকারী
মন্দের ভিড়ে সবই সমান হয়ে গেল
… ফলে না রইল কোনো বিশ্বস্ত, না কোনো নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فضاقت الأرض والنفس والمعيشة، وناوشَتْ كلاب المزابل أُسْدَ بِيشَة، فتعينتُ الرِّحْلَة عن المملكة فضلاً عن البلد، وحسنت مفارقة النفس فضلاً عن الأهل والولد.
ولا يقيمُ على ضَيْمٍ يسامُ بهِِ
… إلاّ الأذَلَاّن عَيْرُ الحيِّ والوَتِدُ
إنّ الهَوانَ حمارُ الدار يألفهُ
… والحرّ ينكرهُ والفيل والأسدُ
هذا على الخسفِ مربوطٌ برُمَّتِهِ
… وذا يُشجُّ فلا يَرْثى له أَحدُ
فاستعذتُ بالله من العجز والكسل، ورفضتُ التعلل بعسى ولعل، ولبستُ جلباب العزم، وامتطيتُ مطية الحَزْم، وأدخلتُ على معتل التواني حرف الجَزْم، وجزمتُ على ترك الدَّعَة والسكون أيَّ جزم، وأخذتُ في إعداد الأهبّة وارتياد الصحبة، إلى
أن كمل الاستعداد، وحصلت الراحلة والرفقة والزاد، وخرجت من مدينة دِمَشْق المحروسة، ومن المنازل والديار المأنوسة، عصرَ يوم الاثنين المكرّم، ثامن عشر شهر رمضان المعظم، سنة ستٍ وثلاثين وتسعمائة، وصحبني من الخدم والرفاق والأصحاب فئة صحبةَ قاضي القضاة ولي الدِّين ابن الفُرْفُور، (وقد حصل عنده
ফলে জমিন, প্রাণ ও জীবনযাপন সংকীর্ণ হয়ে গেল, আর ভাগাড়ের কুকুরেরা বিশা অঞ্চলের সিংহদের উত্ত্যক্ত করতে লাগল। ফলে দেশ তো বটেই, পুরো সাম্রাজ্য ত্যাগ করা আমার জন্য অবধারিত হয়ে পড়ল; আর পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি তো দূরে থাক, নিজের জীবন ত্যাগ করাও উত্তম মনে হতে লাগল।
লাঞ্ছনা ও অপমানের ওপর কেবল সেই দুই হীন সত্তাই ধৈর্য ধরে পড়ে থাকে
… জনপদের গাধা এবং তাঁবুর খুঁটি।
হীনতাকে কেবল ঘরের গাধাই আপন করে নেয়
… অথচ স্বাধীন মানুষ, হাতি এবং সিংহ তা প্রত্যাখ্যান করে।
এই গাধাটি তার রশি দিয়ে লাঞ্ছনার সাথে বাঁধা থাকে
… আর ওই খুঁটিটি বিদীর্ণ করা হয়, কিন্তু কেউ তার জন্য শোক প্রকাশ করে না।
অতঃপর আমি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলাম এবং 'হয়তো' বা 'যদি'র ন্যায় অজুহাতগুলোকে বর্জন করলাম। আমি দৃঢ় সংকল্পের পোশাক পরিধান করলাম, সাহসিকতার বাহনে আরোহণ করলাম এবং শিথিলতার রুগ্ন শব্দের ওপর সংকল্পের অটলতা প্রদান করলাম। আমি আরাম ও স্থবিরতা ত্যাগের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সফরের সরঞ্জাম প্রস্তুত ও উপযুক্ত সঙ্গী অন্বেষণ শুরু করলাম, যতক্ষণ না—
প্রস্তুতি পূর্ণ হলো এবং বাহন, সফরসঙ্গী ও পাথেয় সংগৃহীত হলো। আমি সুরক্ষিত দামেস্ক নগরী এবং সুপরিচিত ঘরবাড়ি ও আবাসস্থল থেকে বের হলাম; সময়টি ছিল ৯৩৬ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের আঠারো তারিখ, সোমবার আসরের বেলা। আমার সাথে ভৃত্য, সহচর ও বন্ধুদের একটি দল ছিল, প্রধান বিচারপতি ওয়ালীউদ্দীন ইবনুল ফুরফুরের সফরসঙ্গী হিসেবে, (এবং তাঁর নিকট তখন সংগৃহীত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بصحبتي في الظّاهر غاية السرور، والله يعلم خافية الأعين وما تُخفي الصدور)، فوصلت معه إلى الأَسْعَديّة والناصرية، وهما بسفح جبل قَاسِيُون من الصَّالحيّة، ثم أرسلت معه إلى قرية دُمَّر جماعة من الرفاق مع الأحمال، وعَنَّ لي الرجوع إلى الديار لقضاء مآرب وأشغال، وأنشد لسان الحال فقال:
أقول لصحبي حين ساروا، ترفّقوا
… لعلي أرى مَنْ بالجناب الممنعِ
وألثم أرضاً ينبتُ العزّ تربُها
… وأسقي ثراها من سحائبِ أدمعي
وينظر طرفي أين أترك مهجتي
… فقد أقسمتُ أن لا تسيرَ غداً معي
وما أنا إن خلّفتها متأسفٌ
… عليها وقد حلّت بأكرمَ موضعِ
ولكن أخاف العمرُ في البين ينقضي
… على ما أرى والشملُ غيرَ مجمّعِ
وأرجو إلهي أن يمنّ بجمعِنا
… قريباً بخير فهو أكرمُ من دُعي
فوصلتُ إلى الدّار آخر ذلك النهار، والشمس كحبيب يودّع حبيبه، وقد عراه
(আমার সাহচর্যে বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত আনন্দিত ছিল, আর আল্লাহ চোখের গোপন বিষয় এবং যা কিছু অন্তর গোপন করে সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত), অতঃপর আমি তার সাথে আসআদিয়া ও নাসরিয়া পর্যন্ত পৌঁছালাম, যা সালিহিয়্যার কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। তারপর মালামালসহ একদল সঙ্গীকে তার সাথে দুম্মার গ্রামের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলাম, আর কিছু প্রয়োজন ও কার্য সম্পাদনের নিমিত্তে আমার মনে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের সংকল্প উদিত হলো। আর অবস্থার প্রেক্ষিতে এই পঙক্তিগুলো উচ্চারিত হলো:
আমার সঙ্গীরা যখন যাত্রা করল আমি তাদের বললাম, কিঞ্চিৎ ধীরগতিতে চলো
… যেন আমি সুরক্ষিত সেই আঙিনায় অবস্থানকারীকে দেখতে পাই
আর আমি সেই ভূমিকে চুম্বন করি যার মৃত্তিকা মর্যাদা উৎপন্ন করে
… এবং আমি তার ধূলিকণাকে সিক্ত করি আমার অশ্রুর মেঘমালা দিয়ে
আর আমার দৃষ্টি দেখছে কোথায় আমি আমার প্রাণকে রেখে যাচ্ছি
… কারণ সে শপথ করেছে যে আগামীকাল সে আমার সাথে যাবে না
আর আমি তাকে পেছনে ফেলে আসার জন্য অনুতপ্ত নই
… যেহেতু সে অত্যন্ত সম্মানিত এক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেছে
কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে বিচ্ছেদের মাঝেই জীবন নিঃশেষ হয়ে যাবে
… এমতাবস্থায় যে আমাদের সম্মিলন এখনো সুসম্পন্ন হয়নি
আর আমি আমার ইলাহ-র নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন শীঘ্রই কল্যাণের সাথে আমাদের একত্রিত করেন
… কেননা যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয় তাঁদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা
অতঃপর আমি দিনের শেষভাগে গৃহে উপনীত হলাম, যখন সূর্য ছিল সেই প্রেমিকের ন্যায় যে তার প্রিয়জনকে বিদায় জানাচ্ছে, আর তাকে আচ্ছন্ন করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من ألم الوداع اصفرار كما قيل:
ورُبَّ نهارٍ للفراقِ أصيلُهُ
… ووجهي كلا لونَيْهما مُتَنَاسِبُ
ثم فطرت في المنزل عل عادتي المألوفة، وفطر عندي من الأصحاب جماعة لطيفة، ثم احتفت بي الوالدة والأولاد، وتشاكينا حرارة الأكباد ولهيب الفؤاد، وأنشدت بلسان الحال قول من قال:
غداً أودّعُ قوماً أوْدَعُوا كبدي
… ناراً، وعهدي بهمْ برداً على الكبدِ
أُبْدي التجلُّدَ أحياناً فيبهرني
… ريقٌ يجفُّ وخدٌّ بالدُّموعِ ندي
لم أنسَ يوماً تنازَعنا حديث نَوىً
… وقَوْلَها وهي تبكي: آه يا سندي
كُنَّا إلى القرب أخلدنا فنغَّصَهُ
… هذا الرحيلُ الذي ما مرَّ في خَلدِي
ثم خرجت إلى مدرسة الكامليَّة، وتمشيت ومعي ولدي أحمد - أنشأه الله
বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় পাণ্ডুরতা প্রকাশ পায়, যেমনটি বলা হয়েছে:
কতই না বিরহের দিনের অপরাহ্ন
… এবং আমার চেহারা—উভয়টির বর্ণই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অতঃপর আমি আমার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী বাড়িতে প্রাতঃরাশ করলাম, এবং আমার সাথে বন্ধুদের মধ্য থেকে একটি প্রিয় দলও প্রাতঃরাশে শরিক হলো। এরপর মা ও সন্তানরা আমাকে ঘিরে ধরল, এবং আমরা কলিজার দহন ও হৃদয়ের প্রজ্বলন নিয়ে একে অপরের নিকট দুঃখ প্রকাশ করলাম। আর আমি উপস্থিত অবস্থার প্রেক্ষিতে কবির সেই পঙ্ক্তি আবৃত্তি করলাম:
আগামীকাল আমি এমন এক সম্প্রদায়কে বিদায় দেব যারা আমার কলিজায় আগুন গচ্ছিত রেখে যাচ্ছে,
… অথচ তাদের সান্নিধ্য ছিল আমার কলিজার শীতলতাস্বরূপ।
আমি মাঝে মাঝে ধৈর্য প্রদর্শনের চেষ্টা করি, কিন্তু শুকিয়ে যাওয়া লালা
… এবং অশ্রুসিক্ত গাল আমাকে অভিভূত করে ফেলে।
আমি সেই দিনটি ভুলিনি যখন আমরা বিচ্ছেদের আলাপচারিতায় মগ্ন ছিলাম,
… আর সে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল: হায়! আমার অবলম্বন।
আমরা তো সান্নিধ্যেই চিরস্থায়ী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই প্রস্থান তাকে তিক্ত করে দিল,
… যা কখনো আমার কল্পনাতেও আসেনি।
অতঃপর আমি কামিলিয়া মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং পায়ে হেঁটে চললাম, আমার সাথে আমার পুত্র আহমাদ ছিল—আল্লাহ তাকে সুচারুরূপে গড়ে তুলুন।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تعالى - في جامع بني أمية، فصار لا يفارقني لحظة، ويعيرني في كل ساعة لحظه، وقلت:
لم أنسَ يوم الفراق المرِّ حين دنا
… والقلبُ باكٍ وطرف العين منبهتُ
ونور عيني المفدى أحمد ولدي
… يمشي قليلاً أمامي ثم يلتفتُ
ثم أُسْرِجَتْ في الكامليّة على عادتها الشموع والمصابيح، وصليت فيها مع جماعة من الأصحاب صلاة التراويح، ثم بِتُّ تلك الليلة في قلق وألم، واستيقظت أواخر الليل فإذا والدتي عند رأسي لم تنم:
أتغلبني عيناي ليلة بيننا
… ووالدتي من شدّة الوجد لم تنمْ
أمن قسوةٍ هذا أم الكربُ غامرٌ
… لقلبي مما حلّ فيه من الألمْ
أي والله إنّ القلب لشديد الاحتراق، موثق من الكرب بأشد الوثاق، مثخن بجراحات الفراق:
خليلي لا والله ما القلبُ سالمٌ
… وإن ظهرتْ مِنيّ مخايلُ صاحي
وإلاّ فَما بالي ولم أشْهَدِ الوغا
… أبيتُ كأني مُثْخَنٌ بجراحِ
فتهيأت حينئذ للصلاة بعد الطهور، وتناولت مما حضر من السحور، وتمليت بوجه
উমাইয়া জামে মসজিদে; সে এক মুহূর্তের জন্যও আমার সঙ্গ ত্যাগ করেনি এবং প্রতিক্ষণে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমি বললাম:
আমি সেই তিক্ত বিচ্ছেদের দিনের কথা ভুলিনি যখন তা ঘনিয়ে এসেছিল
… আর অন্তর ছিল ক্রন্দনরত এবং চোখের দৃষ্টি ছিল কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
আমার নয়নমণি উৎসর্গিত প্রিয় সন্তান আহমাদ
… সে আমার সামনে কিছুটা পথ হাঁটছিল এবং বারবার ফিরে তাকাচ্ছিল।
এরপর কামিলিয়া মাদরাসায় প্রথা অনুযায়ী মোমবাতি ও প্রদীপগুলো প্রজ্বলিত করা হলো। আমি সেখানে একদল বন্ধুর সাথে তারাবিহ নামাজ আদায় করলাম। তারপর সেই রাতটি আমি চরম উদ্বেগ ও বেদনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলাম। রাতের শেষাংশে যখন আমি জাগ্রত হলাম, তখন দেখলাম আমার জননী আমার শিয়রে বসে আছেন, তিনি তখনও ঘুমাননি:
আমাদের (একত্র অবস্থানের) শেষ রজনীতে কি আমার চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হবে?
… অথচ আমার জননী ব্যাকুলতার আতিশয্যে ঘুমাননি।
এটি কি হৃদয়ের নিষ্ঠুরতা নাকি চরম দুঃখ-কষ্ট
… যা আমার অন্তরে নেমে আসা ব্যথার কারণে তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে?
হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! অন্তর ভীষণভাবে দগ্ধ হচ্ছে, চরম বিপদের নিগড়ে তা শক্তভাবে আবদ্ধ এবং বিচ্ছেদের জখমে তা জর্জরিত:
হে আমার বন্ধু! আল্লাহর কসম, আমার অন্তর মোটেও সুস্থ নেই
… যদিও বাহ্যিকভাবে আমার মাঝে স্বাভাবিক মানুষের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
তা না হলে আমার কী হলো যে, যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও
… আমি এমনভাবে রাত কাটাচ্ছি যেন আমি গভীর জখমে জর্জরিত!
অতঃপর আমি পবিত্রতা অর্জনের পর নামাজের জন্য প্রস্তুত হলাম এবং যা উপস্থিত ছিল তা থেকে সাহরি গ্রহণ করলাম। এরপর আমি তৃপ্ত নয়নে চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলাম...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الوالدة والأولاد بقية تلك الليلة، في تلك السويعات اليسيرة القليلة إلى أن أذّن داعي الفلاح، ولمع الفجر بضيائه ولاح وسطع وجه المحجة وبان فتصدع الشمل حينئذٍ وبان:
قالوا الرحيلَ وما تملّت باللقا
… عيني ولا امتلأت بغير مدامعي
فتيّقَنَتْ روحي بأن مقالهم
… أن يصدق الحادي أشدَّ مصارع
فيا لله ما ألفه الصباح من عوائد الفراق وما أثره في الأكباد من الانفلاق، وقلت:
أقولُ للصبحِ حين أجْرَى
… عوائداً منه بالفراقِ
لا أشكر السعي منكَ حتى
… تكون لي رائدَ التلاقِ
ولما بلغ مولانا المقر الكريم، شيخ المسلمين السيد عبد الرحيم هذان البيتان، أنشدني لنفسه في هذا الشأن قوله:
মাতা এবং সন্তানরা সেই রাতের অবশিষ্টাংশে ঐ অল্প কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করলেন, যে পর্যন্ত না কল্যাণের আহ্বায়ক আযান দিলেন এবং ভোরের আলো তার দীপ্তি নিয়ে প্রকাশিত ও বিকিরিত হলো এবং সত্যের পথ সুষ্পষ্ট ও প্রতিভাত হলো। তখন সেই সম্মিলন ভেঙে গেল এবং বিচ্ছেদ হয়ে গেল:
তারা প্রস্থানের ঘোষণা দিল, অথচ সাক্ষাতের দ্বারা আমার চক্ষু
… তৃপ্ত হলো না, আর অশ্রু ছাড়া অন্য কিছুতে তা পূর্ণও হলো না।
আমার প্রাণ নিশ্চিত হলো যে, উষ্ট্রচালকের ঘোষণা সত্য হওয়া
… হবে সর্বাপেক্ষা কঠিন আঘাত।
হায় আল্লাহ! প্রভাত বিচ্ছেদের প্রথার সাথে কতই না পরিচিত এবং কলিজা বিদীর্ণ করার ক্ষেত্রে তার প্রভাব কতই না গভীর! আমি বললাম:
আমি প্রভাতকে বলি যখন সে বিচ্ছেদের
… তার চিরাচরিত নিয়মগুলো জারি করে:
আমি তোমার প্রচেষ্টার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব না যতক্ষণ না
… তুমি আমার জন্য মিলনের অগ্রদূত হও।
যখন আমাদের মহান অধিপতি, সম্মানিত আশ্রয়স্থল, মুসলিমদের শায়খ আস-সৈয়দ আব্দুর রহীমের নিকট এই দুই পঙক্তি পৌঁছাল, তখন তিনি এই প্রসঙ্গে আমাকে নিজের রচিত এই কথাটি শোনালেন:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إن يكن للصباح فضلٌ على الليل
… بتنويره دجى الأحلاكِ
فله في تفرقِ الشملِ فعلٌ
… لم تسَعْه دوائرُ الأفلاكِ
ثم نهضت إلى صلاة الصبح، مؤملاً من الله تعالى الصلاح والنُّجْح، ثم لمّا ابتسم وجه الصباح وسفر، شددت عليّ باكياً أهبّة السفر:
عَجَبَاً لِقَلْبي يومَ راعتني النَّوَى
… ودنا التفرق كيفَ لَمْ يَتَفَطَّرِ
ثم طافت بي الأحباب للوداع، وتعين العزم على الإزماع، فودّعت الوالدة والأولاد وسائر الأهل، وتجرّعت من ذلك ما ليس بالعذب ولا بالسهل، فما منهم إلاّ من لزمني وانتحب، فما أحقَّ المتلازمين منّا بقول بعض العرب:
بَاتا بأنْعَمِ ليلةٍ حتى بَدا
… صُبْحٌ تلوّح كالأغرِّ الأشقَرِ
فتلازَما عندَ الفرَاقِ صبَابةً
… أخْذَ الغَريمِ بِفَضْلِ ثوب المُعْسِرِ
যদি রজনীর ওপর প্রভাতের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থেকে থাকে
… গাঢ় অন্ধকারকে স্বীয় আলোয় উদ্ভাসিত করার কারণে।
তবে প্রিয়জনদের বিচ্ছেদে তার এমন এক ভূমিকা রয়েছে
… যা আসমানের কক্ষপথসমূহের বিশালতায়ও সংকুলান হওয়া সম্ভব নয়।
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও সাফল্যের আশা নিয়ে সুবহ্-এর নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হলাম। এরপর যখন প্রভাতের হাস্যোজ্জ্বল মুখচ্ছবি উন্মোচিত হলো, তখন আমি ক্রন্দনরত অবস্থায় সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করলাম:
বিস্ময় জাগে আমার হৃদয়ের জন্য সেই দিন, যখন বিচ্ছেদ আমাকে আতঙ্কিত করেছিল
… আর বিচ্ছেদ নিকটবর্তী হয়েছিল, অথচ তা কেন বিদীর্ণ হলো না!
অতঃপর বিদায় জানানোর জন্য প্রিয়জনরা আমাকে ঘিরে ধরল এবং যাত্রার সংকল্প সুনিশ্চিত হলো। আমি মাতা, সন্তানাদি এবং পরিবারের অন্য সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আমি এমন এক পরিস্থিতি আস্বাদন করলাম যা সুস্বাদুও ছিল না, সহজও ছিল না। তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে আমাকে জড়িয়ে ধরে রোদন করেনি। আমাদের এই পরস্পর জড়িয়ে থাকা অবস্থার প্রেক্ষিতে কোনো এক আরবের এই উক্তিটি কতই না যথাযথ:
তারা অতিবাহিত করল এক পরম সুখের রজনী, যতক্ষণ না প্রকাশিত হলো
… এমন এক প্রভাত যা উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট তেজস্বী ঘোড়ার ন্যায় দীপ্তিমান।
অতঃপর বিচ্ছেদের সময় তারা ব্যাকুলতায় একে অপরকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরল
… যেমন পাওনাদার কোনো নিঃস্ব ব্যক্তির পরিধেয় বস্ত্রের প্রান্তভাগ আঁকড়ে ধরে।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والأولاد إذ ذاك ثلاثة، كل منهم في أول سنّ الحداثة، أكبرهم لم يبلغ السبع ولا عرف الضُّرَ والنّفع، وهم يبكون ويتعللون بالمُحال، وينشدون بلسان الحال:
أيا أبتا لا تَرُمْ عندنا
… فإنا بخيرٍ إذا لم تَرِم
نخافُ إذا أضْمَرتَكَ البلا
… دُ نُجْفَى ويُقْطَع عنا الرَّحِم
واندفعت في سرِّي منشداً والدموع تستوقف القُطَار، وتستوكف الأمطار وتبلّ تلك الأقطار، والقلب في وَلَهٍ وعدم إشعار، عمّا عليه من إنشاد أشعار، فقلت:
ودّعتُ قلبي يومَ ودعتُهم
… وقلتُ للنوم انصرف راشدا
وقلتُ للأفراح عنّي ارحلي
… حتى تريني لهمُ شاهدا
তখন সন্তান ছিল তিনজন, তারা প্রত্যেকেই ছিল শৈশবের প্রারম্ভে। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠজন সাত বছর বয়সেও উপনীত হয়নি এবং নিজের ভালো-মন্দের হিতাহিত জ্ঞান লাভ করেনি। তারা ক্রন্দন করছিল এবং অসম্ভব সব বিষয়ের বায়না ধরছিল; তাদের অবস্থা যেন এই কবিতা আবৃত্তি করছিল:
হে প্রিয় পিতা! আপনি আমাদের নিকট হতে প্রস্থানের সংকল্প করবেন না
… কেননা আপনি যতক্ষণ আমাদের নিকট হতে প্রস্থান না করবেন, ততক্ষণই আমরা কল্যাণে থাকব।
আমরা আশঙ্কা করছি যে, যদি দেশ-দেশান্তর আপনাকে আমাদের থেকে আড়াল করে দেয়
… তবে আমরা অবহেলিত হব এবং আমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে।
অতঃপর আমি অন্তরে নিভৃতে আবৃত্তি করতে লাগলাম, আর আমার অশ্রুধারা তখন উষ্ট্রবাহিনীকে থামিয়ে দিচ্ছিল এবং বৃষ্টির ন্যায় ঝরে সেই অঞ্চলসমূহকে সিক্ত করছিল। তখন হৃদয় ছিল অত্যন্ত ব্যাকুল ও অসাড়, যা কিছু কবিতা আমি আবৃত্তি করছিলাম সে বিষয়ে আমার কোনো বাহ্যিক চেতনা ছিল না। আমি বললাম:
যেদিন আমি তাদের বিদায় জানালাম, সেদিন আমি আমার হৃদয়কেও বিদায় জানালাম
… আর আমি নিদ্রাকে বললাম, তুমি সৎপথে বিদায় নাও।
আর আমি সকল আনন্দ-উল্লাসকে বললাম, তোমরা আমার নিকট হতে প্রস্থান করো
… যতক্ষণ না তোমরা আমাকে পুনরায় তাদের সম্মুখে উপস্থিত দেখবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وكان لذلك الوداع موقف مشهود، ينثر فيه من الدمع لؤلؤ منضود، وينظم عقوداً في نواحي الخدود، وقلت:
موقفٌ للوداع ينثر فيه
… درر نظمت من الآماقِ
كوّنت مثلَ وجدنا في اجتماع
… وبدت مثل شملنا في افتراقِ
وقد أُسْرِجَتْ الفوانيس والخيول، وأُلجِمتْ الأفواه بما أجرت العيون من السيول، وطاشت الألباب وذَهَلَت العقول من توادع الأحباب، وصبرنا على ما هو أمرُّ من الحَيْن من معالجة شِدّة البَيْن:
مَنْ لم يكن أخذ الهوى بفؤاده
… فلقد أخذت من الهوى بنصيبِ
فرأيت أنّ أشدَّ كلِ بليةٍ
… قُضيت على أحدٍ فراقُ حبيب
-
ولقد نَظرتُ إلى الفراق فلم أجد
… للموت لو فقد الفراق سبيلا
ثم ركبت الجواد بعد أن استودعت الله تعالى جميع الأهل والوالدة والأولاد ولقد أصابني بفراقهم ما أنّه:
সেই বিদায় মুহূর্তটি ছিল এক স্মরণীয় দৃশ্য, যেখানে অশ্রুবিন্দু থেকে সুবিন্যস্ত মুক্তোমালা ঝরছিল এবং গালের দুই পাশে তা হারের লহরের মতো শোভা পাচ্ছিল, আর আমি বললাম:
বিদায়ের এমন এক মুহূর্ত যাতে ঝরছে
… আঁখিকোণ থেকে গাঁথা মুক্তোরাজি।
মিলনের সময় তা ছিল আমাদের হৃদস্পন্দনের মতো
… আর বিচ্ছেদে তা আমাদের ছিন্নভিন্ন অবস্থার মতো প্রকাশ পেল।
লণ্ঠনগুলো প্রজ্বলিত এবং ঘোড়াগুলো জিনবদ্ধ করা হয়েছিল। চোখের প্রবাহিত অশ্রুধারার তীব্রতায় মুখগুলো রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়জনদের বিদায় সম্ভাষণে বুদ্ধি দিশেহারা এবং মেধা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। বিচ্ছেদের এই চরম যাতনা সইতে গিয়ে আমরা মৃত্যুর চেয়েও অধিক তিক্ত বিষয় সহ্য করেছি:
যার হৃদয়ে ভালোবাসা স্থান পায়নি
… আমি তো সেই ভালোবাসার পূর্ণ অংশই লাভ করেছি।
আমি দেখেছি যে, মানুষের ওপর আপতিত সকল মুসিবতের মধ্যে
… সবচেয়ে কঠিন হলো প্রিয়জনের বিচ্ছেদ।
-
আমি বিচ্ছেদের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম
… বিচ্ছেদ না থাকলে মৃত্যুর কোনো পথই খুঁজে পাওয়া যেত না।
এরপর আমি আল্লাহ তাআলার নিকট সমস্ত পরিবার-পরিজন, মাতা এবং সন্তানদের আমানত হিসেবে সোপর্দ করে দিয়ে ঘোড়ায় আরোহণ করলাম। তাদের বিচ্ছেদে আমি এমনভাবে ব্যথিত হয়েছিলাম যে:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لو كانَ بالفلك الدوّار لم يَدُرِ
… أو كانَ بالماء لم يُشْرَب من الكدرِ
أو كانَ بالعيس ما بي يوم فرقتهم
… أعيتْ على السابق الحادي فلم يَسِرِ
الخروج من دمشقوصحبت معي من الكتب النافعة في الأسفار بعض أجزاء وأسفار، وخرجت من المدينة وقت الإسفار، وصحبني جماعة من الأصحاب للوداع، وأسرعنا في السير قبل أن يتكاثروا غاية الإسراع، هذا والدموع لا ينحبس وَبْلُها إلاّ وأخلفه طَلُّها، وكلما أفرغ ذَنوبُها امتلأ سَجْلُها، والجوانح لا يهمد وقْدُ ضرامها، إلاّ وأخلفه حرّ أوامها، ولا يخمد تأجج نيرانها إلاّ وأردفه توهج دخانها والشوق بالأحشاء عابث
وبجوانب الضلوع عابث، والقلب من اضطراب أهوائه خافق، وغراب البين ببعد الأحبة ناعق، وسرنا سير مُشمَعِلّ نطوي البيد كطي السجل، فوصلنا بعد تعالي الصباح وارتفاع الشمس قيد ثلاثة رماح إلى المنزل المقرر، وهو قرية ابن فُرْفُور دُمَّر، وهي قرية كبيرة كثيرة الخيرات وافرة الغلات طيبة النبات، فنزلنا بها بمرج لطيف، بديع التدبيج والتفويف، ذي عَرْفٍ أعطر، وربيع أزهر، من عُشْب أخضر، وأقحوان أصفر، وشقيق أحمر، وغير ذلك مما هو عجيب التلوين غريب التكوين، وقد حفّ به من غالب جوانبه نهر بَرَدَى وهو أكبر أنهار الشَّام وأكثرها مددا بل هو أصل
যদি তা ঘূর্ণায়মান মহাকাশীয় গোলকের কারণে হতো, তবে তা ঘুরত না
… অথবা যদি তা পানির কারণে হতো, তবে তা ঘোলাটে অবস্থা থেকে পান করা হতো না।
অথবা যদি তা উটের কারণে হতো যা তাদের বিচ্ছেদের দিনে আমার অবস্থা ছিল
… তা অগ্রগামী উষ্ট্রচালকের জন্য ক্লান্তিকর হয়ে পড়েছিল, ফলে সে আর পথ চলেনি।
দামেস্ক থেকে প্রস্থানআমি ভ্রমণের ক্ষেত্রে উপকারী কিতাবসমূহের মধ্য থেকে কিছু অংশ ও খণ্ড সাথে নিলাম এবং ঊষালগ্নে শহর থেকে বের হলাম। একদল বন্ধু বিদায় জানানোর জন্য আমার সঙ্গী হলেন এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বেই আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পথ চলতে শুরু করলাম। এদিকে অশ্রুর প্রবল বর্ষণ থামতে না থামতেই মৃদু বর্ষণ তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছিল; যখনই এর ক্ষুদ্র বালতি শূন্য হচ্ছিল, তখনই এর বৃহৎ পাত্রটি পুনরায় পূর্ণ হয়ে উঠছিল। পাঁজরের অভ্যন্তরে আগুনের দহন প্রশমিত হতে না হতেই পিপাসার উত্তাপ তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছিল। আগুনের শিখার প্রজ্জ্বলন নিভে যেতে না যেতেই ধোঁয়ার দহন তার অনুগামী হচ্ছিল এবং তীব্র ব্যাকুলতা নাড়িভুঁড়ির সাথে খেলা করছিল।
আর তা পাঁজরের পার্শ্বদেশ নিয়ে খেলা করছিল, হৃদয় তার আবেগের অস্থিরতায় স্পন্দিত হচ্ছিল, এবং বিরহের দাঁড়কাক প্রিয়জনদের বিচ্ছেদের বার্তা দিচ্ছিল। আমরা ক্ষিপ্রগতিতে পথ চললাম এবং মরুভূমিকে দপ্তরের পাতার ন্যায় গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। সকাল হওয়ার পর এবং সূর্য তিন বল্লম উচ্চতায় ওঠার পর আমরা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছালাম, যা হলো ইবনে ফুরফুর ‘দুম্মার’ গ্রাম। এটি একটি বৃহৎ গ্রাম, যা অফুরন্ত কল্যাণ ও প্রচুর শস্যে সমৃদ্ধ এবং এর উদ্ভিদরাজি অতি মনোরম। আমরা সেখানে এক সুন্দর তৃণভূমিতে অবতরণ করলাম যা অপূর্ব কারুকার্যমণ্ডিত ও সুশোভিত ছিল। এর সুবাস ছিল অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত এবং এটি সবুজ ঘাস, হলুদ চন্দ্রমল্লিকা, লাল রক্তশিখা ফুল ও অন্যান্য বিচিত্র বর্ণ ও অদ্ভুত গঠনের উদ্ভিদে সুশোভিত এক প্রস্ফুটিত বসন্তের ন্যায় ছিল। এর অধিকাংশ দিক দিয়ে বারাদা নদী প্রবাহিত হচ্ছিল, যা শামের নদীগুলোর মধ্যে বৃহত্তম এবং এর পানি প্রবাহ সর্বাধিক, বরং এটিই মূল উৎস...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأنهار ومَصْرِفها وأوسعها وأسرعها وأشرفها، يسقي ما لا يُحصى من القُرى، ويسدّ عند كل قرية ثم يعود كما كان نهراً. فهو من المِنَنِ الغزيرة، ومن الأعاجيب الشهيرة، كما قيل:
نهرٌ يسيل كما يذوب نُضارُ
… وتدور في أيدي الس ُّقاة عُقارُ
فإذا استقام فصارم دامي الظُّبا
… وإذا انحنا جنبٌ به فسِوار
مغرورقُ التيار ملتطم كما
… خفقت بظهر مهب ريح نار
أحْمَرَّ وأخضرَّ النبات بشطِهِ
… فكأنَّ ذا خدُّ وذاك عِذار
وكما قيل:
نهرٌ يَهيمُ بحُسنهِ مَن لم يَهمْ
… ويُجيدُ فيهِ الشِّعرَ من لم يَشْعُرِ
ما اصفرَّ وجهُ الشّمس عند غُروبها
… إلاّ لفُرقةِ حُسنِ ذَاك المَنظرِ
ومن أحسن ما قيل في وصف نهر عند الأصيل قول عبد الله بن شارة الإشبيليّ:
নদীসমূহ, তাদের গতিপথ, তাদের মধ্যে প্রশস্ততম, দ্রুততম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ; যা অসংখ্য জনপদকে সিক্ত করে, প্রতিটি জনপদের নিকট তা পূর্ণতা পায়, অতঃপর পুনরায় পূর্বের ন্যায় নদীতে পরিণত হয়। এটি অফুরন্ত অনুগ্রহসমূহের অন্যতম এবং প্রসিদ্ধ বিস্ময়সমূহের একটি, যেমনটি বলা হয়েছে:
এক নদী যা প্রবাহিত হয় যেন গলিত স্বর্ণ
… আর পান করানেওয়ালাদের হাতে আবর্তিত হয় সুরা
যখন তা সোজা হয় তখন রক্তরঞ্জিত ধারের তীক্ষ্ণ তলোয়ার
… আর যখন এর এক পাশ বাঁক নেয় তখন তা যেন কঙ্কণ
উথলে ওঠা তরঙ্গ যা আছড়ে পড়ছে যেমনভাবে
… বাতাসের ঝাপটায় আগুনের শিখা দুলতে থাকে
এর তীরে উদ্ভিদরাজি লাল ও সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে
… যেন এটি গাল আর সেটি গণ্ডদেশ
এবং যেমনটি বলা হয়েছে:
এমন এক নদী যার সৌন্দর্যে সে ব্যক্তিও বিমোহিত হয় যে কখনো বিমোহিত হয়নি
… আর যে কখনো কবিতা লেখেনি সেও এর বিষয়ে উৎকৃষ্ট কবিতা রচনা করে
অস্তাচলে সূর্যের মুখ বিবর্ণ বা পীত বর্ণ ধারণ করে না
… কেবল সেই মনোরম দৃশ্যপট থেকে বিচ্ছেদের বিরহেই তা ঘটে থাকে
অপরাহ্ণের সময় নদীর বর্ণনায় যা কিছু বলা হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আব্দুল্লাহ বিন শারাহ আল-ইশবিলির উক্তি:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
النهرُ قد رقّتْ غِلالةُ صبغه
… وعليه من ذهب الأصيل طرازُ
تترَقرَقُ الأمواجُ فيه كأنها
… عُكَنُ الخصُور تهزُّها الأعجازُ
فأقمنا بذلك المنزل نهارَ الثلاثاء تاسعَ عشرَ شهر رمضان بالتمام، فيا له من يوم ما كان أطولَه، وأخلَقَه بقول أبي تمام:
يومَ الفراقِ لقد خُلِقْتَ طويلا
… لم تُبْقِ لي صبراً ولا مَعْقُولا
وما أحسن ما قال بعده:
لَوْ حَارَ مُرْتَادُ المَنيَّةِ لم يجِدْ
… إلاّ الفراقَ على النفُوسِ سبيلا
قالوا: الرحيلُ، فما شككْتُ بأنه
… نَفْسٌ عن الدنيا تُريدُ رَحيلا
وفي معناه قول المتنبيّ رحمه الله تعالى:
أحْيَا وأيسَرُ ما قاسَيْتُ ما قَتَلا
… والبينُ جارَ على ضُعْفي وَمَا عَدَلا
নদীর রঞ্জিত আবরণ সূক্ষ্ম হয়ে গিয়েছে
… আর তার ওপর গোধূলির স্বর্ণালি কারুকাজ শোভা পাচ্ছে
তাতে ঢেউগুলো এমনভাবে টলমল করছে যেন তা
… নিতম্বের সঞ্চালনে দুলতে থাকা কোমরের ভাঁজ
সুতরাং আমরা সেই আবাসে পূর্ণ উনিশে রমজান, মঙ্গলবার দিনটি অতিবাহিত করলাম। হায়, দিনটি কতই না দীর্ঘ ছিল! আর আবু তাম্মামের এই উক্তিটি এর জন্য কতই না মানানসই:
হে বিচ্ছেদের দিন, তোমাকে দীর্ঘ করেই সৃষ্টি করা হয়েছে
… তুমি আমার জন্য কোনো ধৈর্য কিংবা হিতাহিত জ্ঞান অবশিষ্ট রাখোনি
আর এরপর তিনি যা বলেছেন তা কতই না চমৎকার:
মৃত্যুর অন্বেষণকারী যদি বিভ্রান্ত হতো, তবে সে
… প্রাণের নাশের জন্য বিচ্ছেদ ভিন্ন অন্য কোনো পথ খুঁজে পেত না
তারা বলল: ‘প্রস্থান’, তখন আমার আর কোনো সন্দেহ রইল না যে
… এটি দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে ইচ্ছুক কোনো এক আত্মা
আর একই অর্থে আল-মুতানাব্বী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন:
আমি বেঁচে আছি, অথচ আমি যা সহ্য করেছি তার সামান্যতম অংশই ছিল প্রাণঘাতী
… আর বিচ্ছেদ আমার দুর্বলতার ওপর অবিচার করেছে এবং বিন্দুমাত্র ইনসাফ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والوجدُ يَقْوَى كما يَقْوَى النّوى أبداً
… والصّبرُ يَنْحَلُ في جسمي كما نَحَلا
لولا مُفارَقَةُ الأحْبَابِ ما وَجَدَتْ
… لها المَنَايَا إلى أرْوَاحِنَا سُبُلا
فلم أزل أتقلّى بجمر ذلك النهار، وأجاري ذلك النهر من دموعي بأنهار، أكنُّ من الوجد ما غاية الثكلى تكنه، وأبدي من الحنين ما لا تطيق الجوانح تُجِنُّه:
فلله كم من لوعة كنت كاتماً
… لها خيفة العُذّال نَمَّ بها دمعي
إذا كان من عيني على ما تُكنّه
… ضلوعي من الأسرار عين فما صنعي
وقد بَرَّح الخفا بما أخفيه من البُرَحاء، ونزحت أرشية جفوني مياه عيوني بيد البكاء:
أهذا ولما تمض للبين ليلةٌ
… فكيف إذا مرّت عليه شهورُ
فما انقضى ذلك النهار، وحلّ من الصوم الإفطار، إلاّ وقد أشرفت النفس على الزُّهوق والقلب على الانفطار، ثم أقمنا من ليلة الأربعاء أطول الليال إلى مقدار حد الوصية من المال، فما كان أقصر ليلةَ الثلاثاءِ وأطولَ ليلة بعدها، فيا لها من ليلة ما
প্রেমোন্মাদনা বৃদ্ধি পাচ্ছে যেমন বিচ্ছেদ চিরস্থায়ীভাবে শক্তিশালী হয়
… আর ধৈর্য আমার শরীরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে যেমন শরীর ক্ষয় হয়েছে।
প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ না থাকলে মৃত্যু আমাদের আত্মার কাছে পৌঁছানোর কোনো পথ খুঁজে পেত না।
… অতঃপর আমি সেই দিনের অঙ্গারে দগ্ধ হতে থাকলাম, আর আমার অশ্রুর সেই নদীকে আরও অনেক নদী দ্বারা প্রবাহিত করলাম। আমি অন্তরে এমন বিরহ-বেদনা গোপন করলাম যা সন্তানহারা শোকাতুর জননী গোপন করে থাকে, আর আমি এমন ব্যাকুলতা প্রকাশ করলাম যা পাঁজরের হাড়গুলো লুকিয়ে রাখতে সক্ষম নয়:
আল্লাহর কসম, কতই না দহন আমি গোপন করে রেখেছিলাম
… নিন্দুকদের ভয়ে, যা আমার অশ্রু প্রকাশ করে দিয়েছে।
যদি আমার পাঁজরে লুকিয়ে রাখা গোপন রহস্যগুলোর ওপর আমার চোখই একজন গোয়েন্দা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমার আর কী করার আছে?
… আমি যে তীব্র বেদনা গোপন করছিলাম তা প্রকাশ হয়ে পড়ল, আর ক্রন্দনের হস্ত আমার চোখের পাতার রশি দিয়ে চোখের অশ্রু ছেঁচে বের করে আনল:
বিচ্ছেদের এখনও একটি রাতও পার হয়নি তাতেই এই দশা,
… তবে যখন এর ওপর দিয়ে মাসের পর মাস পার হবে তখন কী অবস্থা হবে!
সেই দিনটি শেষ হতে না হতেই এবং সিয়ামের ইফতারের সময় আসতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো এবং হৃদয় বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর আমরা বুধবারের রাতটি অতিবাহিত করলাম যা ছিল দীর্ঘতম রাতগুলোর মতো—যেন তা সম্পদের অসিয়তের সীমার (এক-তৃতীয়াংশ) ন্যায় দীর্ঘ। মঙ্গলবার রাতটি কতই না সংক্ষিপ্ত ছিল আর তার পরের রাতটি কতই না দীর্ঘ ছিল! হায়, সেই রাতটি যা...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أخفها يتلوها ليلة ما أشدها كما قيل:
إنّ الليالي للأنامِ مَنَاهلُ
… تُطوى وتُنْشرُ بينها الأعْمَارُ
فقِصارُهنّ مع الهُمُومِ طويلةٌ
… وطِوالهنّ مع السرورِ قصارُ
فلما طلع القمر وسطع نوره وانتشر، ومد بساطه الأزهر على ذلك الزهر، وصقل
نور ضيائه صداد ذلك النهر، عزمنا على الترحال، وشددنا الأحمال على البغال، وودعنا من الأصحاب من بقي وأنشدناهم إن نعش نلتقي، وسرنا وقلبي يتوقف عن اللحاق، ويتخلف عن الرفاق، ويتخوف من فرق الفراق بعد فرح التلاق:
ولولا الترجي للمحبين لم تكن
… قلوبُهُم يوم النّوى تعمر الصَّدرا
واستمر بنا السير من ذلك الوقت إلى وقت الغداء وجزنا في خلاله بوادي بَرَدَى وهو وادٍ أفيح كثير الأشجار، بعيد القرار عظيم المقدار، عديم المماثل والنظير، ذو مرأى حسن ومنظر نضير، يحف كل قطر منه بستان، ويدور بجنباته نهر بَرَدَى كالثعبان، قد بسطت يد السماء به بُسُطاً سُنْدُسيّة، وطرحت عليه مطارح بالزهر موشية، وقد جر عليه النسيم بعد ذلك ذيوله، وأجال بميدانه خيوله، واستنطق أطياره، وشقق أزراره، وأفشى أسراره، وأذاع رنده وعَرَاره، وفضض نُوّاره، وذهّب
তিনি তা গোপন রাখলেন, এরপর এমন এক রাত এল যা অত্যন্ত কঠিন ছিল, যেমনটি বলা হয়েছে:
নিশ্চয় রাতগুলো সৃষ্টিজীবের জন্য পানের আধার
… যার মাঝে আয়ু সংকুচিত হয় এবং বিস্তৃত হয়
দুশ্চিন্তার সাথে সংক্ষিপ্ত রাতগুলোও দীর্ঘ মনে হয়
… আর আনন্দের সাথে দীর্ঘ রাতগুলোও সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়
অতঃপর যখন চাঁদ উদিত হলো এবং তার আলো উজ্জ্বল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল, আর সেই প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজির ওপর তার উজ্জ্বল গালিচা বিছিয়ে দিল, এবং সেই নদীর স্বচ্ছতাকে তার জ্যোতির আলোয় আরও উজ্জ্বল করে তুলল, তখন আমরা সফরের সংকল্প করলাম। আমরা খচ্চরগুলোর ওপর আসবাবপত্র বেঁধে নিলাম এবং অবশিষ্ট সঙ্গীদের বিদায় জানালাম। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে এই কবিতাটি পাঠ করলাম যে, যদি বেঁচে থাকি তবে আবার দেখা হবে। এরপর আমরা যাত্রা শুরু করলাম; কিন্তু আমার হৃদয় কাফেলায় যোগ দিতে ইতস্তত করছিল, সঙ্গীদের থেকে পিছিয়ে পড়ছিল এবং মিলনের আনন্দের পর বিচ্ছেদের আশঙ্কায় শঙ্কিত হচ্ছিল:
যদি প্রেমাস্পদদের জন্য মিলনের আশা না থাকত
… তবে বিরহের দিনে তাদের হৃদয় বক্ষপিঞ্জরে স্থির থাকত না
সেই সময় থেকে মধ্যাহ্নভোজের সময় পর্যন্ত আমাদের সফর অব্যাহত রইল। এর মধ্যে আমরা বারাদা উপত্যকা অতিক্রম করলাম। এটি একটি সুপ্রশস্ত উপত্যকা, যেখানে বৃক্ষরাজির সমারোহ রয়েছে। এটি অত্যন্ত গভীর ও মর্যাদাপূর্ণ, যার কোনো তুলনা বা নজির নেই। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও সতেজ এক মনোরম দৃশ্য। এর প্রতিটি দিক বাগান দ্বারা বেষ্টিত এবং বারাদা নদী সাপের মতো এর চারপাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে বয়ে চলেছে। আকাশের হাত সেখানে রেশমি গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে এবং তার ওপর ফুলখচিত শয্যা স্থাপন করেছে। এরপর সমীরণ সেখানে তার আঁচল টেনে নিয়েছে, তার চত্বরে নিজ অশ্ব চালনা করেছে, পাখিদের বাক্পটু করেছে, কলিগুলোকে প্রস্ফুটিত করেছে, তার গোপন রহস্য প্রকাশ করেছে, তার সুগন্ধি লতাগুল্মের সুবাস ছড়িয়ে দিয়েছে, তার ফুলগুলোকে রুপালি রঙে সজ্জিত করেছে এবং স্বর্ণালি করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أزهاره، ونثر درهمه وديناره، وحيا ورده وبُهاره، وصافح آسه وجُلّناره، وأطاب تنآه وأخباره، وأمالت بنشأتها قدوده، وأخجلت بقبلتها خدوده، وحشّدت جنوده، وحشرت بيضه وسوده، ونشرت ألويته وبنوده، وملأت تهائمه ونجوده، ونظمت جواهره وعقوده، وأعطت مواثيقه وعهوده:
محلُّ كأنّ الشمسَ تخجل كلما
… نَضَتْ ثوبِها عن معطفيه مغيبا
تنم رياح الخلد منه لأهله
… ويطفح تسنيم ويرشح طيبا
ثم جزنا بأعين التُّوت وهي في أمر مريج، وشهيق وعجيج، وزفير ونشيج، ولغط وضجيج، واضطراب والتواء، واعوجاج واستواء، وشكوى مما صنعته يد النّوى، وما أثارته وأثرته شدة الهوى، (ولم نزل) نجدّ في السير ولا نرفق، حتى نزلنا تعالي النهار من يوم الأربعاء عشرين شهر رمضان بمنزلة خَان الفُنْدُق على عين ماء بارد
এর পুষ্পরাজি বিকশিত হলো, এর দিরহাম ও দিনারসমূহ ছড়িয়ে দিল, এর গোলাপ ও বসন্তের ফুলকে অভিবাদন জানালো, এর সুগন্ধি লতা ও ডালিম ফুলকে স্পর্শ করলো, এর সুবাস ও সংবাদকে মনোরম করলো, এর বিকাশের মাধ্যমে তার দেহসৌষ্ঠবকে অবনমিত করলো, তার চুম্বন দিয়ে তার গণ্ডদেশকে লজ্জিত করলো, তার বাহিনীকে একত্রিত করলো, তার শ্বেত ও কৃষ্ণবর্ণদের সমবেত করলো, তার ঝাণ্ডা ও পতাকাসমূহকে প্রসারিত করলো, তার নিম্নাঞ্চল ও উচ্চাঞ্চলকে পূর্ণ করলো, তার মণি-মুক্তা ও কণ্ঠহার সুবিন্যস্ত করলো এবং তার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করলো:
এমন এক স্থান, যেখানে সূর্য লজ্জিত হয় যখনই
… অস্তগমনকালে তা তার দুই পাশ থেকে তার পরিচ্ছদ উন্মোচন করে
জান্নাতের চিরস্থায়ী বাতাস সেখান থেকে তার অধিবাসীদের জন্য সুগন্ধি বয়ে আনে
… আর তাসনিম উপচে পড়ে এবং সুবাস নিঃসরণ করে
তারপর আমরা 'আয়ুনুত তুত' (তুত ঝর্ণা) অতিক্রম করলাম, যা তখন এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল; তাতে ছিল দীর্ঘশ্বাস ও আর্তনাদ, হাহাকার ও ফুপিয়ে কাঁদা, শোরগোল ও চিৎকার, অস্থিরতা ও মোচড়, বক্রতা ও উঠা, এবং বিচ্ছেদের হাত যা সৃষ্টি করেছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আর তীব্র অনুরাগের প্রাবল্য যা জাগ্রত ও প্রভাবিত করেছে। আমরা নিরন্তর দ্রুতগতিতে পথ চলতে থাকলাম এবং কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করলাম না, যতক্ষণ না আমরা বুধবার বিশে রমজান দিবসের দ্বিপ্রহরের সময় একটি শীতল পানির ঝর্ণার ধারে অবস্থিত 'খান আল-ফুনদুক' নামক স্থানে অবতরণ করলাম।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
عذب غدق يغدق، فأقمنا به ريثما نستريح، ونزيح علل الرفاق والدّواب ونريح، ثم ترحلنا منه عندما حان وقت الزوال وامتد الظل ومال، وكان ذلك اليوم
أطول من ظل القناة، وأحرّ من دمع المقلاة، وسرنا والقَيْظُ يشتد حَرُّه، والهجير يتلظَّى جمره، إلى أن وافينا وادي الزَّبَدَانيّ، وقد أعرس بالورد وتزين بالعَرَار والرند، واطردت جداوله أي طرد، وفاح نسيمه المنعش للروح بالطيب والبرد، فتلقانا أهله بحُزم الورد النصيبي، وَوَفُر منه ذلك اليوم حظي ونصيبي، وقلت:
جُزْنا بقومٍ كرامٍ
… وافوا بوردٍ نصيبي
فاجزلوا منه حَظّي
… ومنه وفّوا نصيبي
فيا له من وادٍ ما أحلاه وأملحه، وأفسحه وأفيحه وأفوحه، كأن رياضه سماء زُيّنت بالزواهر، أو قباب زمرد رصعت من الدر والياقوت بأنفس الجواهر، أو عذارى تتجلّى في حلل سندسيّة باسطة أكفها للتسليم، أو مهدية أقداحاً ختامها مسك ومزاجها من صفاء التسنيم، فتركنا عشه ودرجنا، وما عجنا على غير المسير ولا عرجنا، فوصلنا قرية صرغايا أصيل ذلك اليوم، فنزلنا في أحسن المنازل بخلاف بقية القوم في أرض خضرة، بين مياه خصرة وأزهار عطرة، وأشجار نضرة، وجورات تميس بقدود الحور، وتتستر بالأوراق تسترها بالشعور، وحمائم تترنم على أعواد الغصون، وتبدي فنون الأشواق والشجون، كما قيل:
تشدوا بعيدان الأراك حمائمُ
… شدوَ القيان عزفنَ بالأعوادِ
সুপেয় ও প্রচুর প্রবহমান বারিধারা; আমরা সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এবং সঙ্গী-সাথি ও চতুষ্পদ জন্তুদের ক্লান্তি অপনোদন করে তাদের আরাম দেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর যখন মধ্যাহ্ন অতিবাহিত হলো এবং ছায়া দীর্ঘ ও হেলে পড়ল, তখন আমরা সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম। সেই দিনটি ছিল
বর্শার ছায়ার চেয়েও দীর্ঘ এবং কড়াইয়ের উত্তপ্ত অশ্রুর চেয়েও অধিক উত্তপ্ত। গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপ এবং মধ্যাহ্নের প্রজ্জ্বলিত অঙ্গারের ন্যায় রোদের মধ্যেই আমরা পথ চললাম, যতক্ষণ না আমরা জাবাদানি উপত্যকায় উপনীত হলাম। যা গোলাপের সমারোহে সজ্জিত এবং বুনো ফুল ও সুগন্ধি লতাগুল্মে সুশোভিত ছিল। এর ঝরনাধারাগুলো প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এর প্রাণজুড়ানো মৃদু হাওয়া সুগন্ধ ও শীতলতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। সেখানকার অধিবাসীরা আমাদের 'নাসিবি' গোলাপের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানাল এবং সেদিন তাতে আমার ভাগ্য ও অংশ ছিল প্রচুর। আমি বললাম:
আমরা এক সম্মানিত সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম
… যারা নাসিবি গোলাপ নিয়ে এল
তারা আমাকে তা থেকে প্রচুর অংশ দান করল
… এবং আমার প্রাপ্য পূর্ণ করে দিল
আহা! কতই না চমৎকার ও মনোরম এই উপত্যকা! কতই না প্রশস্ত এবং সুগন্ধে আমোদিত! এর বাগানগুলো যেন উজ্জ্বল নক্ষত্রখচিত আকাশ, অথবা মুক্তা, ইয়াকুত ও মূল্যবান রত্নখচিত পান্না পাথরের গম্বুজ, অথবা যেন রেশমি পোশাকে সজ্জিতা কুমারীরা সম্ভাষণের জন্য তাদের হাত প্রসারিত করে আছে, কিংবা এমন সব পানপাত্র উপহার দিচ্ছে যার মোহর হলো কস্তুরি এবং যার মিশ্রণ হলো স্বচ্ছ তাসনিম। অতঃপর আমরা এর নীড় ছেড়ে এগিয়ে চললাম এবং পথচলা ছাড়া অন্য কিছুর জন্য থামলাম না। সেই দিনের অপরাহ্ণে আমরা সারগায়া গ্রামে পৌঁছলাম। অন্যান্য লোকদের তুলনায় আমরা সর্বোত্তম বাসস্থানে অবস্থান গ্রহণ করলাম; যা ছিল শীতল পানি, সুগন্ধি ফুল ও সজীব বৃক্ষরাজিশোভিত এক সবুজ শ্যামল ভূমি। সেখানে আখরোট গাছগুলো হুরদের ন্যায় দুলছিল এবং পাতার আড়ালে নিজেদের এমনভাবে ঢেকে রেখেছিল যেন তা কেশগুচ্ছের আবরণ। ডালপালার ওপর কপোতগুলো গুঞ্জন করছিল এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা ও বেদনার সুর প্রকাশ করছিল, যেমনটি বলা হয়েছে:
আরাক বৃক্ষের ডালে কপোতগুলো গান গায়
… যেমন গায়িকারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গায়
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
مال النسيم بقضيبه فتمايلت
… مهتزة الأعطافِ والأجيادِ
هذي تودعُ تلك توديعَ التي
… قد أيقنت منها بوشك بِِعادِِ
واستعبرت بفراقها عين الندى
… فابتلّ مئزرُ غصنِها المَيّادِ
فبتنا في ذلك المنزل المعظم القدر ليلة الخميس حادي عشر، وهي في أرجح مَيْلَيّ الإمام الشَّافِعيّ رضي الله عنه ليلةُ القدر، وقلت من أبيات:
وقرية صرغايا المعظمةُ القدرِ
… نزلنا بها في مرجها ليلةَ القدر
ثم رحلنا منها وقد بزغ القمر بين النجوم كالملك لابس التاج، مرتدياً بين عساكره
بأبيض الديباج، وقد عوَّض نوره وأغنى في الحالين عن السراج، فسلكنا مسالك سهلة ثم أدركنا مدارك مستصعبة وأعقبنا رقي عقبة، وما أدريك ما العقبة، هي عقبة الرُّمَّانة التي منها القلوب ملانة، ذات مدارجَ وَعِرة، ومناهِجَ عَسِرَة، ومهاد ومشارف، ومثان ومعاطف، تخلع القلب وتقطع النِيَاط، وتذكر بالحشر والحساب والصراط، فزاد حَزْنُها على الفؤاد أحزانه، ورادف بثه وأشجانه، ثم قطعناها عند الصباح، وسرنا في مهامة فيحٍ وفيافٍ فساح، ولم نزل في إتهامٍ وإنجاد، وصعود ربوة وهبوط واد، حتى انتهينا إلى واد كبير، ذي منظر نضير، وعشب كثير، وعينان تجريان على صخر بماء زلال خصر نمير، كما قيل:
বসন্তের বাতাস তার শাখাগুলোকে নুইয়ে দিল, ফলে সেগুলো দুলতে লাগল
… তাদের পার্শ্বদেশ ও গ্রীবা স্পন্দিত করে।
এজন অপরজনকে বিদায় জানাচ্ছে সেই নারীর বিদায়ের মতো
… যে বিচ্ছেদের আসন্নতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
তাদের বিচ্ছেদে শিশিরের চোখ অশ্রু ঝরালো
… ফলে তার দোদুল্যমান ডালের নিম্নাংশ সিক্ত হলো।
আমরা সেই মহাসম্মানিত গন্তব্যে বৃহস্পতিবারের একাদশ রজনীতে রাত কাটালাম, যা ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর নিকট অধিকতর সঠিক মতানুসারে লাইলাতুল কদর ছিল। আমি কিছু পঙ্ক্তি বললাম:
অতি মর্যাদাবান সারগয়া গ্রাম
… আমরা লাইলাতুল কদরে তার তৃণভূমিতে অবতরণ করলাম।
অতঃপর আমরা সেখান থেকে যাত্রা করলাম এমতাবস্থায় যে, নক্ষত্ররাজির মাঝে চাঁদ উদিত হয়েছিল যেন মুকুট পরিহিত এক রাজা, যে তার সৈন্যদের মাঝে সাদা রেশমী পোশাকে আবৃত। তার জ্যোতি প্রদীপের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং উভয় অবস্থাতেই প্রদীপের প্রয়োজনীয়তা দূর করেছিল। আমরা সহজ পথসমূহ অতিক্রম করলাম, এরপর অত্যন্ত দুর্গম পথে উপনীত হলাম এবং একটি চড়াই পার হলাম; আর আপনি কি জানেন সেই চড়াইটি কী? তা হলো রুম্মানাহ চড়াই, যা দেখে অন্তরসমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এটি বন্ধুর আরোহণ ক্ষেত্র, দুর্গম পথ, ঢাল ও উচ্চভূমি এবং নানা বাঁক ও মোড় বিশিষ্ট। যা অন্তরকে বিদীর্ণ করে এবং ধমনী ছিন্ন করে দেয়, আর হাশর, হিসাব ও সিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে এর বন্ধুরতা হৃদয়ের দুঃখকে আরও বাড়িয়ে দিল এবং তার ব্যথা ও যাতনাকে প্রলম্বিত করল। অতঃপর আমরা সকালের দিকে সেটি অতিক্রম করলাম এবং প্রশস্ত ও বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে চলতে থাকলাম। আমরা কখনো উঁচুতে আরোহণ এবং কখনো নিচুতে অবতরণ অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষণ না আমরা একটি বিশাল উপত্যকায় পৌঁছলাম, যা ছিল অত্যন্ত সজীব ও মনোরম এবং প্রচুর ঘাসসম্পন্ন। সেখানে পাথরের ওপর দিয়ে স্বচ্ছ ও সুস্বাদু পানির দুটি ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছিল, যেমনটি বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ووادٍ حَكَى الخَنْسَاَء لا في شجونها
… ولكن له عَيْنَانِ تجري على صَخْرِ
بعلبكقد بسط الربيع به بسطاً سُنْدُسيّة، ومطارف عَبْقَريّة ترتاح لرؤيتها الأرواح، وترتع النفوس منها في مراتع الارتياح، ثم فارقناه وهو يصفر، ويتبلج وجهه ويسفر، ونحن نحضر في السير ولا نخسر، حتى وصلنا إلى مدينة بَعْلَبَك، وعوض اليقين منها بالشَّك، فنزلنا بها ضحوة النهار على رأس العين، في مكان أفيح مقابلة فلاة مد العين، بها مروج وروضات هي مرتع النواظر ومتنفس الخواطر، قد أخذت أذوات الجنان، وأسفرت عن رَفْرَفٍ خُضْرٍ وعبقري حسان، وأتت من الحسن والإحسان، بما يقصر عن وصفه لسان القلم وقلم اللسان، كما قيل:
إني دخلتُ لبَعْلَبَك فشاقني
… عين بها الظلُّ الظليلُ مخيمُ
فلأجل ذا من أهلها أنا مكرم
… ولأجل عَيْنٍ ألفُ عَيْن تكرمُ
ورأس العين هو مكان كالبركة، ينبع منه ماء ثَجّاج، عذب نمير خصر ليس بمِلْح ولا أُجاج، ويدخل إلى المدينة فيجوب في أكنافها حتى تحس بالري من أظفارها وأطرافها، وبجانب ذلك المكان صفة متسعة، وبالقرب منه مسجد كانت تقام فيه
الجمعة. وتلقانا بهذا المنزل المذكور جماعة من أعْيَان أهل المدينة، وقد رفعت عنهم بواسطة شهر الصَّوم المؤنة، منهم الشيخ الإمام العالم العلامي البهايّ العصيّ
একটি উপত্যকা যেন আল-খানসার সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে, তবে তার বিষাদময়তায় নয়
… বরং তার রয়েছে দুটি চোখ (ঝরনা), যা পাথরের (সাখরের) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বালবাকবসন্তকাল সেখানে রেশমি গালিচা এবং কারুকার্যমণ্ডিত চাদর বিছিয়ে দিয়েছে, যার দৃশ্য দেখে আত্মা প্রশান্ত হয় এবং মন তৃপ্তির চারণভূমিতে বিচরণ করে। অতঃপর আমরা সেই স্থান ত্যাগ করলাম যখন তা হলুদাভ রূপ ধারণ করছিল এবং তার চেহারা উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত হচ্ছিল। আমরা দ্রুতপদে পথ চলছিলাম এবং কোনো সময় নষ্ট করছিলাম না, অবশেষে আমরা বালবাক শহরে পৌঁছালাম এবং সন্দেহের বদলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হলাম। আমরা দিনের প্রথমাংশে 'রাসুল আইন' নামক স্থানে অবতরণ করলাম; এটি একটি প্রশস্ত জায়গা, যা চোখের দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এক মরুপ্রান্তরের মুখোমুখি। সেখানে রয়েছে এমন তৃণভূমি ও বাগান যা দৃষ্টির চারণভূমি এবং হৃদয়ের প্রশান্তির স্থল। তা যেন জান্নাতের রূপ পরিগ্রহ করেছে এবং সবুজ গালিচা ও সুন্দর কারুকাজ উন্মোচিত করেছে। এর সৌন্দর্য ও মাধুর্য বর্ণনা করতে লেখনীর জবান এবং জবানের লেখনীও অক্ষম, যেমনটি বলা হয়েছে:
আমি বালবাক শহরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানকার এক ঝরনা আমাকে মুগ্ধ করল
… যেখানে সুশীতল ছায়া তাঁবু গেড়ে আছে
এই কারণেই আমি সেখানকার অধিবাসীদের কাছে সম্মানিত
… আর একটি চোখের (ঝরনার) খাতিরে সহস্র চোখ সম্মানিত হয়
'রাসুল আইন' হলো একটি জলাধারের মতো স্থান, যেখান থেকে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়। সেই পানি অত্যন্ত সুপেয়, নির্মল ও শীতল; তা লবণাক্ত বা তিক্ত নয়। এই পানি শহরে প্রবেশ করে এর চারপাশ প্রদক্ষিণ করে, এমনকি এর নখ ও প্রান্তভাগ পর্যন্ত সিক্ততা অনুভূত হয়। সেই স্থানের পাশে একটি প্রশস্ত চাতাল রয়েছে এবং তার কাছেই একটি মসজিদ আছে যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। উল্লিখিত এই স্থানে শহরের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন; রোজা পালনের কারণে মেহমানদারির ভার তাদের থেকে লাঘব হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন শাইখ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম আল-বাহায়ি আল-াসি।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وولداه وغيرهم من الأكابر والقُضَاة، وكلّ من القوم يَعْتَذر بكرم شهر الصُّوم، فقلت وعن الحق ما حلت:
شَهْرُ الصِّيام كريمٌ
… لكنكم بخلاءُ
هب أننا في صيام
… أليس يأتي العشاءُ؟
وقلت:
شَهْرُ الصِّيام كريم
… والبخل فيكم سجيّة
هبنا نصوم نهاراً
… أليس تأتي العشيّة؟
وقلت:
شَهْرُ الصِّيام كريم
… والفطر رخصة سَفْرِ
وإن نَصْم فمغيب
… للشمس ميقات فطرٍ
وقلت:
شَهْرُ الصِّيام كريم
… والفطر للسَّفرِ رُخصة
তাঁর দুই পুত্র এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিচারকগণ, আর দলের প্রত্যেকেই সিয়ামের মাসের মহানুভবতার অজুহাত পেশ করছিলেন। তখন আমি সত্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে বললাম:
সিয়ামের মাস মহানুভব
… কিন্তু তোমরা হলে কৃপণ
ধরে নাও আমরা সিয়াম পালন করছি
… তবে কি রাতের আহার আসবে না?
এবং আমি বললাম:
সিয়ামের মাস মহানুভব
… আর কৃপণতা তোমাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য
ধরে নাও আমরা দিনের বেলা সিয়াম পালন করি
… তবে কি সন্ধ্যা কি আসবে না?
এবং আমি বললাম:
সিয়ামের মাস মহানুভব
… আর সফর অবস্থায় সিয়াম ভঙ্গ করা একটি বিশেষ অনুমতি (রুখসত)
আর যদি আমরা সিয়াম পালন করি, তবে সূর্যাস্তই হলো
… সিয়াম ভঙ্গের নির্ধারিত সময়
এবং আমি বললাম:
সিয়ামের মাস মহানুভব
… আর সফরের জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা একটি বিশেষ অনুমতি (রুখসত)
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
واللّيل لا صوم فيه
… فالله بالفطر خَصّه
ثم ركبنا حين تعوضت الشمس بفيها من ظلها، ودخلنا المدينة على حين غفلة من أهلها، لنخبر وَبْلها من طَلها، وعَلّها من نهلها، وحَزْنها من سهلها، وخَرْجها من دَخْلها، وكُثْرها من قُلَّها، وجِدَّها من هَزْلها، وسَفْسافها من جَزْلها، فوجدناها مدينة قديمة بها بقايا عمارات عظيمة، وآثار مآثر مقيمة، وأزقّة فسيحة وأسواق مليحة، وأكثر أهلها من أكثر أهل الجنة، لولا ما يُنْسب إلى بعضهم من بغضهم السُّنَّة، ودخلنا إلى جامعها الكبير الرحيب، فتلقانا خادمه بالتأهيل والترحيب، وفرش لنا سجادة وعكفنا فيه وقتاً طويلاً على الاعتكاف والعبادة، ثم تكلمنا مع القيّم فوجدناه
لطيف الذات، كامل الأذوات، فسألناه عمّا يقال عن أهل بَعْلَبَك وعن رأس العين فقال: نعم هو حق ليس بالمَيْن، فإنها كانت عينين فأصابتهما وصمة العين، فحضر مغربيّ ملعون الوالدين، فسرق منهما عيناً في قنينة، وذهب بها إلى رأس جبل قرب المدينة، فانكسرت منه وجرت عيناً هناك، ثم حضر مغربيّ آخر، وأهل المدينة بين متأسف وباك، فقال: يا أهل بَعْلَبَك كأنكم بالعين الأخرى وقد اغتالتها يد البين، وأصبحت مدينتكم برأس بلا عينين، ويمكنني أن أقول على هذه العين الباقية عزيمة، فلا تزال بدياركم باقية مقيمة، فجمعوا له مالاً لبُدَا، وازدلفوا إليه حتى كادوا يكونون عليه لِبَدا، فرقى تلك العين ووضع عليها حجراً رَصْدا، فلم تبدْ بعد أبداً وزادت على طول المدا مددا، ورأينا قلعتها الحصينة، وهي ذات أبنية متينة، وأعمدة كثيرة طويلة، وأحجار كبيرة ثقيلة يظن من
আর রাতের বেলা কোনো রোজা নেই
… তাই আল্লাহ একে ইফতারের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।
এরপর যখন সূর্য তার ছায়ার পরিবর্তে নিজ আলোর প্রভা ছড়িয়ে দিল, তখন আমরা সওয়ার হলাম এবং শহরের বাসিন্দাদের অসতর্কতার সুযোগে সেখানে প্রবেশ করলাম; যাতে আমরা এর মুষলধারে বৃষ্টির সাথে শিশিরের, তৃষ্ণা নিবারণের সাথে পানীয়ের, বন্ধুর পথের সাথে সমতলের, বহির্গমনের সাথে আগমনের, আধিক্যের সাথে স্বল্পতার, গাম্ভীর্যের সাথে কৌতুকের এবং তুচ্ছতার সাথে শ্রেষ্ঠত্বের পার্থক্য বুঝতে পারি। আমরা একে একটি প্রাচীন শহর হিসেবে পেলাম যেখানে বিশাল অট্টালিকার অবশিষ্টাংশ, চিরস্থায়ী কীর্তিসমূহ, প্রশস্ত গলি এবং চমৎকার বাজার রয়েছে। এর অধিকাংশ অধিবাসী জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতো, যদি না তাদের কারো কারো প্রতি সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার বিষয়টি সম্পৃক্ত থাকত। আমরা এর বিশাল ও প্রশস্ত জামে মসজিদে প্রবেশ করলাম। সেখানকার খাদেম আমাদের সাদর সম্ভাষণ ও অভ্যর্থনা জানালেন। তিনি আমাদের জন্য একটি জায়নামাজ বিছিয়ে দিলেন এবং আমরা সেখানে দীর্ঘ সময় ইতিকাফ ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকলাম। এরপর আমরা সেখানকার তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা বললাম। তাকে আমরা পেলাম
সচ্চরিত্রবান ও সকল গুণের আধার হিসেবে। আমরা তাকে বালবাকের অধিবাসী এবং ‘রাসুল আইন’ সম্পর্কে যা বলা হয় সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি ধ্রুব সত্য, এতে কোনো মিথ্যা নেই। আসলে সেখানে দুটি ঝরনা ছিল, অতঃপর সেগুলোতে কুদৃষ্টির অশুভ প্রভাব পড়ে। এরপর এক পাপিষ্ঠ মাগরেবি সেখানে উপস্থিত হয়ে একটি কাঁচের পাত্রে করে একটি ঝরনা চুরি করল এবং শহরের নিকটবর্তী এক পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গেল। সেখানে সেটি তার হাত থেকে ভেঙে গেল এবং সেখানে একটি ঝরনা প্রবাহিত হতে লাগল। এরপর অন্য এক মাগরেবি লোক আসল, তখন শহরের অধিবাসীরা আক্ষেপ ও ক্রন্দনে নিমগ্ন ছিল। সে বলল: হে বালবাকবাসী! মনে হচ্ছে অপর ঝরনাটিকেও বিচ্ছেদের হাত কেড়ে নিয়েছে এবং আপনাদের শহরটি এখন চোখহীন মাথার মতো হয়ে পড়েছে। তবে আমি এই অবশিষ্ট ঝরনাটির ওপর একটি মন্ত্র পড়ে দিতে পারি, যাতে এটি আপনাদের ভূখণ্ডে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। তখন তারা তার জন্য প্রচুর ধন-সম্পদ জমা করল এবং তার চারপাশে এমনভাবে ভিড় করল যে তারা প্রায় একে অপরের ওপর উপচে পড়ছিল। সে ওই ঝরনার ওপর মন্ত্র পড়ল এবং সেখানে একটি পাহারাদার পাথর স্থাপন করল। এরপর থেকে সেটি আর কখনও নিঃশেষ হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে এর প্রবাহ আরও বেড়েছে। আর আমরা এর সুরক্ষিত দুর্গটি দেখলাম, যা অত্যন্ত মজবুত নির্মাণশৈলী, অসংখ্য দীর্ঘ স্তম্ভ এবং এমন বিশাল ও ভারী পাথর দ্বারা গঠিত যা দেখে মনে হবে—
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
رآها أنها صخور محررة لولا ما تحتها من الحجارة المختصرة، وقد كانت من غرر القلاع المشتهرة بالارتفاع والامتناع، وهي الآن خراب مأوى للبوم والغُرَاب، ورأينا الحجر المعروف بحجر الحبلى، وهو حجر مربع مستطيل، عرضه كالصفّة العريضة وطوله كالحائط الطويل، وهو خارج المدينة على نحو ثلث ميل، وهو أحد حجارة بناء القلعة العجيبة، وله عندهم حكاية من جنس ما تقدم عن العين غريبة، وسَلَّمْنا على ولي الله تعالى الشيخ محمد المنير العطّار، وهو من عِبَاد الله الصُّلحاء الأخيار، كثير الأوراد والأذكار، ملازم للعبادة آناء الليل وأطراف النهار، وقد كان ممن يتردد إلى سيدي شيخ الإسلام الوالد، وكان يسميه بالصَّالح الزاهد، وزرنا سيدي القطب العارف بالله تعالى الشيخ عبد الله اليُونِينيّ من أسفل الجبل، ثم عدنا إلى المخيم وقرص الشمس قد أفلت من يد السماء، وأفل وارتحل ذلك النهار، وحلّ للصائم الإفطار، ثم لمّا كفيت مؤنة العشاء، ومضى نحو عشرين درجة بعد العشاء، وآن للسامر أن يهجع، أزمع القاضي على الرحيل وأجمع، وكان ذلك
برأي منه منكوس، وحظ له متعوس، فضلَّ عن سواء السبيل، وعن الطريق السهل القريب إلى طريق صعب طويل، فضيّع وقت الراحة في التعب في غير طائل، وصرف ساعة تجلّي الحقّ في السعي في الباطل، ولم نزل نصل السير بالسُّرى، ونكحل الأعين بإثمد الثرى، ونعزل عن مَحَالّ العيون والي الكرى، حتى وصلنا إلى قرية الراس، وقد تعبت البهائم والناس، فنزلنا بها ضحوة نهار الجمعة ثاني عشرين الشهر، وقد حمى النهار واشتدّ الحرّ، في مكان محجر وعر، موحش وغِر، معطش محر، فيه مياه سخنة، متغيرة اخبة، يسيرة قليلة، ضعيفة عليلة، فأقمنا هناك إلى وقت شدة القيلولة، ثم ارتحل عنها من تلك الساعة قاصداً قرية الزَّراعَة فلم نحل بها:
তিনি একে দেখছিলেন যেন তা মুক্ত পাথরখণ্ড, যদি না এর নিচে ছোট পাথরগুলো থাকত। এটি একদা উচ্চতা এবং দুর্ভেদ্যতার জন্য প্রসিদ্ধ শ্রেষ্ঠ দুর্গগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন এটি ধ্বংসস্তূপ, যা পেঁচা ও কাকের আবাসস্থল। আর আমরা 'হাজরুল হুবলা' (গর্ভবতী নারীর পাথর) নামে পরিচিত পাথরটি দেখলাম। এটি একটি চতুর্ভুজাকার দীর্ঘাকৃতি পাথর, যার প্রস্থ একটি প্রশস্ত বারান্দার মতো এবং দৈর্ঘ্য একটি দীর্ঘ দেয়ালের মতো। এটি শহর থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইল দূরে অবস্থিত। এটি সেই বিস্ময়কর দুর্গ নির্মাণের পাথরগুলোর একটি। তাদের নিকট এই পাথর সম্পর্কেও আগে উল্লেখিত ঝরনার মতো অদ্ভুত গল্প প্রচলিত রয়েছে। আমরা আল্লাহর ওলী শায়খ মুহাম্মদ আল-মুনীর আল-আত্তার-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আল্লাহর নেককার ও উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি প্রচুর ওজিফা ও যিকর পাঠকারী ছিলেন এবং দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা শায়খুল ইসলামের নিকট যাতায়াত করতেন এবং তিনি (পিতা) তাঁকে 'সালিহ যাহেদ' (পুণ্যবান ও দুনিয়াবিমুখ) বলে সম্বোধন করতেন। আর আমরা পাহাড়ের পাদদেশে আরিফ বিল্লাহ কুতুব শায়খ আব্দুল্লাহ আল-ইউনীনীর মাজার জিয়ারত করলাম। এরপর আমরা তাঁবুতে ফিরে এলাম, তখন সূর্যের থালা আকাশের হাত থেকে ফসকে গিয়েছে, সেই দিনটি অস্তমিত হয়ে বিদায় নিয়েছে এবং রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় হয়েছে। তারপর যখন রাতের খাবারের প্রয়োজন মিটল এবং এশার পর প্রায় বিশ ডিগ্রি সময় অতিবাহিত হলো, আর গল্পগুজবকারীদের ঘুমানোর সময় হলো, তখন কাজী সাহেব যাত্রা করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। এবং এটি ছিল
তার একটি উল্টো সিদ্ধান্ত এবং মন্দ ভাগ্য। ফলে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সহজ ও নিকটবর্তী পথ ছেড়ে একটি কঠিন ও দীর্ঘ পথে চলে গেলেন। এভাবে তিনি বিশ্রামের সময়টুকুকে অনর্থক ক্লান্তিতে নষ্ট করলেন এবং হকের জ্যোতি প্রকাশের মুহূর্তটিকে বাতিলের প্রচেষ্টায় ব্যয় করলেন। আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে রাতের সফর চালিয়ে যেতে থাকলাম এবং মাটির সুরমা চোখে মাখতে থাকলাম, আর চোখের সীমানা থেকে ঘুমের শাসনকর্তাকে সরিয়ে রাখলাম। অবশেষে আমরা 'রাস' নামক গ্রামে পৌঁছালাম, তখন পশু এবং মানুষ সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমরা সেখানে মাসের বাইশ তারিখ শুক্রবার পূর্বাহ্ণে অবতরণ করলাম। তখন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং গরম তীব্রতর হয়েছিল। স্থানটি ছিল পাথুরে ও বন্ধুর, জনমানবহীন ও বিপজ্জনক, তৃষ্ণার্তকারী ও উত্তপ্ত। সেখানে ছিল গরম পানি, যা স্বাদ ও বর্ণে পরিবর্তিত ও দুর্গন্ধযুক্ত, পরিমাণে অত্যন্ত নগণ্য এবং স্বল্প। আমরা সেখানে দুপুরের তীব্র গরমের সময় পর্যন্ত অবস্থান করলাম। তারপর তিনি সেই মুহূর্তেই সেখান থেকে 'যারাআহ' গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, তবে আমরা সেখানে অবস্থান করিনি:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
حتى رأيتُ اليومَ ولّى عمرهُ
… والليل مُقْتَبِل الشبيبةِ داني
والشمسُ تنفُضُ زَعفراناً في الرُّبى
… وتفت مِسْكتها على الحيطانِ
فنزلنا حينئذ بها في مرج فسيح الرحاب، وسيع الجناب، مربع الأجْنَاب، به للدواب مراتع ومرافق ومرابع، يسافر النظر في أرجائه، ولا يقف على مدى انتهائه، وبه ماء عذب جار، لكنه من حرارة الشمس حار.
ثم رحلنا منها عندما بزغ القمر، ونبغ نوره وظهر، وبلغ أقصى الآفاق وانتشر، واستمر بنا الخبب والركض، في بسيط من الأرض، فسيح الطول والعرض:
سَرَيتُ به أُحْييهِ لا حَيّةُ السُّرَى
… تَِمُوتُ، ولا مَيْتُ الصّباحِ يُعادُ
يُقَلِّبُ منّي العَزمُ إنسانَ مُقلَةٍ
… له الأُفق جَفنٌ والظّلامُ سهادُ
حمصولم نزل نعاني السرى، ونعاصي الكرى، إلى أن بلغ الليل غايته، ورفع الفجر رايته، ونكصت النجوم على أعقابها، وسفرت الجَوْنَة عن نقابها، وتجلى وجه النهار مستبشراً، ووفدت تباشير الصباح زُمَراً، ثمّ برزت الشّمس في مروط
এমনকি আমি দেখলাম যে দিনের আয়ু শেষ হয়ে গিয়েছে
… আর রাত তার পূর্ণ যৌবন নিয়ে নিকটবর্তী হয়েছে।
সূর্য টিলাগুলোর ওপর জাফরান ছড়িয়ে দিচ্ছে
… আর দেয়ালগুলোর ওপর তার মিশক চূর্ণ করছে।
তখন আমরা সেখানে এক সুবিস্তৃত প্রাঙ্গণবিশিষ্ট চারণভূমিতে অবতরণ করলাম, যার চারপাশ ছিল প্রশস্ত ও চতুষ্কোণ। সেখানে গবাদি পশুর জন্য চারণভূমি, বিচরণস্থল ও বসন্তকালীন আবাস ছিল। দৃষ্টি তার দিগন্ত জুড়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু তার শেষ সীমানা খুঁজে পায় না। সেখানে প্রবহমান মিষ্ট পানি ছিল, তবে সূর্যের তাপে তা ছিল উষ্ণ।
অতঃপর যখন চাঁদ উদিত হলো, তার আলো ফুটে উঠল ও প্রকাশিত হলো এবং দিগন্তের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ল, তখন আমরা সেখান থেকে যাত্রা করলাম। আমাদের দ্রুত গতিতে চলা ও ধাবমান হওয়া অব্যাহত থাকল এক সমতল ভূমিতে, যা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত:
আমি রাতের পথ চলায় তাকে সজীব রাখলাম; না নৈশ ভ্রমণের সর্প
… মরে, আর না প্রভাতের মৃত ব্যক্তি ফিরে আসে।
আমার সংকল্প চোখের মণি ঘুরিয়ে দিচ্ছে
… যার জন্য দিগন্ত হলো চোখের পাতা আর অন্ধকার হলো অনিদ্রা।
হিমসআমরা অবিরত নৈশ ভ্রমণের কষ্ট সহ্য করতে লাগলাম এবং নিদ্রাকে প্রতিহত করতে থাকলাম, যতক্ষণ না রাত তার শেষ সীমায় পৌঁছাল এবং ফজর তার নিশান উত্তোলন করল। নক্ষত্ররাজী তাদের পিছুটান দিল, সূর্য তার নেকাব সরিয়ে দিল, দিনের চেহারা আনন্দিত চিত্তে প্রকাশিত হলো এবং সুবহে সাদিকের শুভ সংবাদ দলে দলে আসতে লাগল। অতঃপর সূর্য চাদরে আবৃত হয়ে আত্মপ্রকাশ করল...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الوَرْس، ثم صقلت مرآتها وانجلت، ورفعت رايتها وعلت، فوافينا مدينة حِمْص ذلك الوقت من يوم السبت، فنزلنا بمرج أخضر حسن النبت يجري به مياه لابدة بعاصم حَمَاة، ممدة مع طاعتها لعاصي حَمَاة، وتَحُفُّه بساتين حسنة مزدهاة، وتلقّانا بها جماعة من وجوه الناس، منهم الشيخ الصَّالح الفاضل عبد القادر ابن الدَّعاس، ثم دخلنا المدينة بنية الزيارة، فوجدنا غالب دورها سوداء الحجارة، لكنها واسعة الأفنية، متينة الأبنية، قديمة العمائر، عظيمة المآثر، ودخلنا إلى جامعها الكبير، وزرنا بظاهرها سيدي خالد ابن الوليد الصحابي الجليل الشهير، وهذه البلدة أصح بلاد الشَّام هواءً، وأعدلها تربة وماءً، وليس بها حيّة ولا عقرب، بل يُقال إن الحِمْصيّ بأي بلد كان لا تدنو منه عقرب ولا تقرب، وكذلك الثوب المغسول بمائها إلى أن يُغْسَل بغيره، قيل وهو مجرَّب، قال القزوينيّ: ومن عجائبها الصورة التي على باب المسجد، نصفها الأعلى على صورة إنسان، ونصفها الأسفل صورة عقرب بذنب وزُبان، تطبع تلك الصورة بالطين الحرّ وتُلقى في ماء، فإذا شرب منه الملدوغ برئ من الضرّ، وبظاهرها على نحو ميل بركتها المعظمة التي تصاد منها السمك الكبار، وتجلب إلى دِمَشْق وغيرها من الأقطار، وعند أهل حِمْص تغفّل شديد، وحماقة ما عليها من مزيد، فممَّا يحكى عنهم من الحكايات المشهورة، أن بخارج المدينة ناعورة فرآها مرّة رجل حَمَويّ، فقال: ما غرّبك بهذه الفلاة، أترى أهل حِمْص سرقوك من حَمَاة؟ فاختشوا أن يأخذها أهل حَمَاة ليلاً، فأعدوا لحراستها رَجْلاً وخيلاً، ومعهم أنواع السلاح، يدورون حولها كل ليلة إلى
ওয়র্স (হলুদ বর্ণ), অতঃপর তার দর্পণ উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন হলো, তার পতাকা উড্ডীন ও সমুন্নত হলো। আমরা শনিবার দিন সেই সময়ে হিমস শহরে উপনীত হলাম। আমরা সুন্দর উদ্ভিদরাজিতে ভরা একটি সবুজ চারণভূমিতে অবতরণ করলাম, যেখানে হামার ‘আসী’ নদীর অনুগামী শান্ত প্রবাহমান পানি বয়ে যাচ্ছিল, যা হামার আসী নদীর প্রতি আনুগত্যের সাথে প্রলম্বিত ছিল। একে সুশোভিত মনোরম উদ্যানসমূহ পরিবেষ্টন করে আছে। সেখানে একদল গণ্যমান্য ব্যক্তি আমাদের অভ্যর্থনা জানান, যাদের মধ্যে পুণ্যবান ও গুণী শাইখ আব্দুল কাদির ইবনুল দা’আস অন্যতম ছিলেন। অতঃপর আমরা যিয়ারতের নিয়তে শহরে প্রবেশ করলাম। আমরা দেখতে পেলাম এর অধিকাংশ ঘরবাড়িই কালো পাথরের তৈরি, তবে এর আঙিনাগুলো প্রশস্ত, ভবনগুলো মজবুত, স্থাপত্যগুলো প্রাচীন এবং এর নিদর্শনসমূহ অত্যন্ত মহিমান্বিত। আমরা এর জামে মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং শহরের বাইরে মহান ও প্রখ্যাত সাহাবী সাইয়িদিনা খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ-এর মাযার যিয়ারত করলাম। এই শহরটি সিরিয়ার শহরগুলোর মধ্যে আবহাওয়াগত দিক থেকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং মাটি ও পানির দিক থেকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। এখানে কোনো সাপ বা বিচ্ছু নেই; বরং বলা হয়ে থাকে যে, হিমসবাসী যে দেশেই থাকুক না কেন, বিচ্ছু তার কাছে ঘেঁষে না এবং নিকটবর্তীও হয় না। অনুরূপভাবে এখানকার পানিতে ধোয়া কাপড় অন্য পানি দিয়ে না ধোয়া পর্যন্ত একই গুণ বজায় রাখে; বলা হয় যে এটি পরীক্ষিত। আল-কাযভিনী বলেন: এর অন্যতম বিস্ময় হলো মসজিদের দরজায় খোদাই করা সেই প্রতিকৃতি, যার উপরের অর্ধেক মানুষের মতো এবং নিচের অর্ধেক লেজ ও হুলবিশিষ্ট বিচ্ছুর মতো। সেই প্রতিকৃতিটি পবিত্র কাদার ওপর ছাপ দিয়ে পানিতে নিক্ষেপ করা হয়; অতঃপর কোনো দংশিত ব্যক্তি সেই পানি পান করলে তার কষ্ট নিরাময় হয়। শহরের বাইরে প্রায় এক মাইল দূরত্বে এর বিশাল জলাধার অবস্থিত, যেখান থেকে বড় বড় মাছ শিকার করা হয় এবং তা দামেস্কসহ অন্যান্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। হিমসবাসীদের মধ্যে চরম অসতর্কতা ও নির্বুদ্ধিতা রয়েছে যার কোনো সীমা নেই। তাদের সম্পর্কে প্রচলিত প্রসিদ্ধ গল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যে, শহরের বাইরে একটি জলচক্র ছিল। একবার হামার এক ব্যক্তি সেটি দেখে বলল: "এই নির্জন প্রান্তরে কী তোমাকে নির্বাসিত করল? আমি কি দেখছি যে হিমসবাসীরা তোমাকে হামা থেকে চুরি করে নিয়ে এসেছে?" ফলে তারা ভয় পেয়ে গেল যে হামাবাসীরা রাতের বেলা এটি নিয়ে যাবে। তাই তারা এটি পাহারার জন্য একদল পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্য নিয়োজিত করল এবং তাদের সাথে ছিল নানা প্রকার অস্ত্রশস্ত্র, যারা প্রতি রাতে এর চারপাশে চক্কর দিত...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الصباح، وحكى بعض ظرفاء المؤرخين في وقائع الحمقى والمغفلين: أن رَجلاً رأى بحِمْص يهودياً عطاراً في دكان يؤذن بها على باب الجامع في أوقات الأذان، يقول: أهل حِمْص يشهدون أن لا إله إلا الله، أهل حِمْص يشهدون أن محمداً رسول الله، ورأى الإمام يصلّي ورِجْله خارجة من المحراب، فسأل من
رجل عن دار القاضي ليشتكي له ذلك المصاب، فطأطأ برأسه وكشف عن فلسه، فدخل إلى القاضي يشتكي ما دهاه، فوجدَ عنده صبياً قد علاه، فخرج وهو يستغيث، فقال له: ارجع يا خبيث، ما بالك؟ وما حالك؟ فحكى له القصة، فقال: أنا أزيح عنك الغُصَّة، أمّا اليهوديّ فهو يؤدي للمسجد أجرة الدكان، ويؤذن دون المسلمين متبرعاً بالأذان، وأمّا الإمام فلعل أصاب رِجْله بعض نجاسة الكلاب، فما رأى أن يدخلها معه في المحراب، وأما الذي سألته عن الدار فقد أجابك بما به أشار، وذلك أن بابي مقنطر معلا، وعليه قنديل مدلى، وأما الصبي الذي كان فوق ظهره، فهو تحت نظره وحَجْره، وفي تربيته وحِجْره، وأحبّ أن يَعْلَم إن كان بلغ مبالغ الرجال يسلمه ما له تحت يده من المال.
ومن أغرب الحكايات واقعة عبد السلام الحِمْصيّ الملقب بدِيك الجِنِّ الشاعر، وهي واقعة غريبة لم يُسْمَع بمثلها في الدهور الغوائر، وذلك أنه كان يحب جارية له وغلاماً، وقد افتتن بهما عشقاً وهُياماً، فمن شدّة ما حصل له من قوة المحبة لهما والوله، خشي أن يفجعه فيهما الدهر ويمتع بهما غيره، فقتلهما وجداً عليهما وغِيْرَة، ثم صنع من رماديهما بُرْنيتين للمشروب وكان ينادمهما منادمة المحب المحبوب، وإذا اشتاق إلى الجارية قبّل البرنية المجبولة من رمادها المرصد، وملأ منها قدحه وبكى وأنشد:
প্রভাত, এবং কিছু রসিক ইতিহাসবিদ নির্বোধ ও বেকুবদের ঘটনাবলীতে বর্ণনা করেছেন যে: এক ব্যক্তি হিমস শহরে জনৈক ইহুদি আতর বিক্রেতাকে তার দোকানে দেখতে পেলেন, যে আজানের সময় জামে মসজিদের দরজার সামনে আজান দিচ্ছিল। সে বলছিল: হিমসবাসী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, হিমসবাসী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এবং তিনি দেখলেন ইমাম নামাজ পড়ছেন এমতাবস্থায় যে তার পা মিহরাবের বাইরে রয়েছে। তখন তিনি এই সংকটের অভিযোগ করার জন্য এক ব্যক্তির কাছে কাজীর বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন।
তখন সে ব্যক্তি তার মাথা নিচু করল এবং তার পয়সা উন্মোচন করল। এরপর তিনি কাজীর কাছে তার ওপর আপতিত বিপদের অভিযোগ করতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলেন এক কিশোর কাজীর ওপর চড়ে আছে। তখন তিনি সাহায্যের প্রার্থনা করতে করতে বেরিয়ে এলেন। তখন কাজী তাকে বললেন: ওহে পাপিষ্ঠ, ফিরে এসো। তোমার কী হয়েছে? তোমার অবস্থা কী? তখন তিনি তাকে ঘটনাটি খুলে বললেন। কাজী বললেন: আমি তোমার মনোকষ্ট দূর করছি। ইহুদির ব্যাপারটি হলো, সে মসজিদের দোকানের ভাড়া পরিশোধ করে এবং মুসলমানদের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় আজান দেয়। আর ইমামের বিষয়টি হলো, সম্ভবত তার পায়ে কুকুরের কোনো অপবিত্রতা লেগেছিল, তাই তিনি সেটিকে নিজের সাথে মিহরাবের ভেতরে প্রবেশ করানো সমীচীন মনে করেননি। আর যাকে তুমি বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করেছিলে, সে ইশারার মাধ্যমেই তোমাকে উত্তর দিয়েছে। আর তা হলো এই যে, আমার দরজাটি খিলানযুক্ত ও উঁচু, এবং তার ওপর একটি প্রদীপ ঝুলানো আছে। আর যে কিশোরটি তার পিঠের ওপর ছিল, সে তার তত্ত্বাবধানে ও অভিভাবকত্বে এবং তার লালন-পালনে ও আশ্রয়ে রয়েছে। আর তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে সে সাবালকত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, যাতে তার অধীনে থাকা সম্পদ তার কাছে হস্তান্তর করা যায়।
আর অদ্ভুত গল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো 'দিকুল জিন' উপাধিধারী কবি আবদুস সালাম আল-হিমসির ঘটনা। এটি এমন এক বিচিত্র ঘটনা যার নজির বিগত কালসমূহে শোনা যায়নি। বিষয়টি হলো, তিনি তার এক দাসী ও এক গোলামকে ভালোবাসতেন এবং তাদের প্রতি প্রচণ্ড অনুরাগে মোহগ্রস্ত ছিলেন। তাদের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনার তীব্রতা এতই ছিল যে, তিনি আশঙ্কা করলেন কালচক্র হয়তো তাদের নিয়ে তাকে ব্যথিত করবে এবং অন্য কেউ তাদের ভোগ করবে। তাই তিনি তাদের প্রতি তীব্র অনুরাগ ও ঈর্ষাবশত তাদের হত্যা করলেন। অতঃপর তিনি তাদের ভস্ম দিয়ে পানীয় পানের দুটি পাত্র তৈরি করলেন এবং প্রেমিক-প্রেমিকার মতো তাদের সঙ্গ দিতেন। যখন তিনি দাসীটির অভাব বোধ করতেন, তখন তার চিতাভস্ম দিয়ে তৈরি পাত্রটি চুম্বন করতেন এবং তা থেকে নিজের পেয়ালা পূর্ণ করতেন ও কাঁদতেন এবং আবৃত্তি করতেন:
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
يا طلعةً طَلَعَ الحِمامُ عَلَيْها
… وجَنى لها ثَمَرَ الرَّدى بِيَدَيْها
رَوَّيْتُ من دَمْها الترابَ وطَالما
… رَوَّى الهوى شَفَتَيَّ من شَفَتَيْها
وأجلتُ سَيْفي في مَجال خناقها
… ومَدامِعي تجري على خَدَّيْها
فوَحَقِّ نَعْلَيْها وما وطىء الثَّرى
… شيءٌ أعَزُّ عَلَيَّ من نَعْلَيْها
ما كان قَتْلِيها لأنِّيَ لم أكُنْ
… أبكي إذا سَقَط الغُبَارُ عليها
لكن بَخِلْتُ على سواي بحُسْنها
… وأنِفْتُ من نَظَر العيونِ إليها
وإذا اشتاق إلى الغلام، قبّل البُرْنية المعمولة من رماده، وملأ قدحه منها، واندفع يقول في إنشاده:
أشفقتُ أن يَرِدَ الزَّمانُ بغَدْرِهِ
… أو أُبْتَلى بعد الوِصَالِ بهَجْرهِ
قَمَرٌ أنا استخرجْتُهُ من دَجْنِهِ
… لبليَّتي وأثرته من خدْرهِ
فَقَتَلْتُه ولَهُ عليَّ كرامةٌ
… فليَ الحَشا وله الفؤادُ بأسْرهِ
হে সেই রূপসী, যার ওপর মৃত্যু উদিত হয়েছে
… আর তার দুই হাত তার জন্য বিনাশের ফল আহরণ করেছে।
আমি তার রক্ত দিয়ে মাটি সিক্ত করেছি, অথচ কত দীর্ঘকাল
… অনুরাগ আমার ওষ্ঠদ্বয়কে তার ওষ্ঠদ্বয় হতে সিক্ত করেছিল।
আমি তার কণ্ঠনালীর ওপর আমার তরবারি চালিয়েছি
… অথচ আমার অশ্রুধারা তার দুই গণ্ড বেয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তার পাদুকা যুগলের শপথ এবং যা কিছু ধরণী স্পর্শ করেছে তার শপথ
… আমার নিকট তার পাদুকা যুগল অপেক্ষা অধিক প্রিয় আর কিছুই নেই।
তাকে আমার হত্যা করা এই কারণে ছিল না যে আমি
… তার ওপর ধূলিকণা পড়লে ক্রন্দন করতাম না।
বরং আমি অন্যের জন্য তার সৌন্দর্যের ব্যাপারে কৃপণতা করেছি
… এবং তার দিকে অন্য চোখের দৃষ্টিপাত করাকে আমি অসহ্য মনে করেছি।
আর যখন সে সেই বালকের জন্য ব্যাকুল হতো, তখন সে তার ভস্ম দ্বারা নির্মিত পাত্রটি চুম্বন করত এবং তা দিয়ে আপন পেয়ালা পূর্ণ করত, আর আবেগভরে এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুরু করত:
আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে কাল হয়তো তার বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে আসবে
… অথবা মিলনের পর আমি তার বিচ্ছেদে ক্লিষ্ট হব।
সে এক চন্দ্র যাকে আমি তার মেঘাচ্ছন্ন অন্ধকার হতে বের করে এনেছিলাম
… আমার দুর্ভাগ্যের জন্য, এবং তাকে তার নির্জন আবাস হতে জাগিয়ে তুলেছিলাম।
অতঃপর আমি তাকে হত্যা করলাম এমতাবস্থায় যে আমার নিকট তার সুমহান মর্যাদা ছিল
… এখন আমার জন্য রইল তার দেহের অন্তঃস্থল আর তার জন্য রইল আমার সমগ্র হৃদয়।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
عَهْدِي به مَيْتاً كأحسنِ نائمٍ
… والطرف يَسْفَحُ أدمعي في نَحْرهِِ
غُصَصٌ تكادُ تَفٍيضُ منها نَفْسُهُ
… ويكاد يخرج قَلْبَهُ مِنْ صَدْرهِ
لو كانَ يَدْرِي الميتُ ماذا بَعْدَهُ
… بالحَيِّ منهُ بَكى لهُ في قَبرهِ
فأي رقاعة أعظم من هذه الرقاعة، وأي خلاعة تشبه هذه الخلاعة، والجنون فنون، فإنا لله وإنا إليه راجعون، وكان دِيكُ الجنِّ هذا ماجناً خليعاً ظريفاً مطبوعاً مغفلاً رقيعاً، عاكفاً على القَصْف واللهو، رافلاً في ثياب المجون والزهو، متلافاً لما يحصله (من المال)، وشعره في غاية الجودة والكمال، ولُقِّب بديك الجنّ لأنه كان يصبغ لحيته وشاربه وحاجبه بألوان مختلفة، ومات سنة خمسٍ أو ستٍ وثلاثين ومائتين.
وقد رأيت أنا بجامع حِمْص منبراً معظماً قديماً حسناً مطعماً، وكأنه تخلخل وتضعضع، وتقلقل وتقنع، فسمرت بعرضه دفة بيضاء ثقيلة خشنة عريضة طويلة غير مجلوة ولا مصقولة، وهذا من قبيل ما سردناه، ومن جنس ما أوردناه، ولا حول ولا قوة إلاّ بالله.
(رجع) فلما أن دعى مؤذن حِمْص من المسلمين لصلاة الظهر وأذّن، أجبناه
মৃত অবস্থায় তাঁর সম্পর্কে আমার শেষ স্মৃতি ছিল এক অতি সুন্দর ঘুমন্ত ব্যক্তির মতো
... আর আমার চোখ তাঁর কণ্ঠদেশে অশ্রু বিসর্জন করছিল।
এমন এক রুদ্ধশ্বাস অবস্থা যাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়
... আর বক্ষপিঞ্জর থেকে যেন হৃদপিণ্ড বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়।
মৃত ব্যক্তি যদি জানত যে তার বিদায়ের পর
... জীবিত ব্যক্তির কী দশা হয়, তবে সে নিজের কবরে থেকেই তার জন্য রোদন করত।
এই মূর্খতার চেয়ে বড় মূর্খতা আর কী হতে পারে, এবং এই নির্লজ্জতার সদৃশ নির্লজ্জতাই বা কোনটি? উন্মাদনার বহু রূপ রয়েছে; নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। এই 'দিকুল জিন' ছিল এক লম্পট, নির্লজ্জ, রসিক, স্বভাবজাত প্রতিভাধর, অসতর্ক ও নির্বোধ ব্যক্তি। সে আমোদ-প্রমোদ ও খেল-তামাশায় নিমগ্ন থাকত এবং নির্লজ্জতা ও অহঙ্কারের পোশাকে দম্ভভরে বিচরণ করত। সে যা কিছু (অর্থ-কড়ি) অর্জন করত তা অপচয় করে ফেলত। তার কবিতা ছিল গুণগত মান ও পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে। তাকে 'দিকুল জিন' (জিনের মোরগ) উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ সে তার দাড়ি, গোঁফ এবং ভ্রু বিভিন্ন রঙে রঞ্জিত করত। সে ২৩৫ অথবা ২৩৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করে।
আমি হিমসের জামে মসজিদে একটি সুমহান, প্রাচীন, সুন্দর এবং কারুকার্যখচিত মিম্বর দেখেছি। মনে হচ্ছিল সেটি নড়বড়ে ও দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে তার আড়াআড়িভাবে একটি সাদা, ভারী, খসখসে, চওড়া ও দীর্ঘ তক্তা পেরেক দিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা মোটেও মসৃণ বা পালিশ করা ছিল না। এটি আমাদের বর্ণিত বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত এবং যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি সেই পর্যায়ভুক্ত। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
(পুনরায় মূল প্রসঙ্গে প্রত্যাবর্তন) অতঃপর যখন হিমসের মুয়াজ্জিন মুসলিমদের জোহরের নামাজের জন্য আহ্বান জানালেন এবং আজান দিলেন, আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
بصلاتها مجموعة مع العصر، ثم رحلنا قاصدين الرَّسْتَن، وسرنا بعزمِ غيرِ مرتاب، وبسير يطوي البيد كطي السجل للكتاب، والحرّ قد قويت عزيمته واشتدت شكيمته.
والغبار الكثيف ألبس عطفي
… عسلياً ودينِيَ التوحيدُ
وكسى عارضيَّ ثوب مشيب
… ورداءُ الشباب غضُّ جديدُ
فوصلناها عندما سئِمت الشمس من الحَرور، وركنت إلى الاكتنان والوكور، وكاد قرصها في العين الحَمِئة يغور، فنزلنا بمرج أريج، ذي نبت بهيج، ومنظر فريج، يحتوشه العاصي من جانبيه، ويتوصل من جسر على عشر قناطر إليه، وهذا الجسر واسع الفناء، محكم البناء، قد أحكم بالبلاط الأسود تبليطه، وله جوانب عالية من حافيته تحوطه، والرَّسْتَن لها ذكر في الملاحم والفتن، وهي قرية على تل قاطع الجسر من جهة حِمْص، ثم هي الآن مأوى لكل سارقٍ ولص.
(رجع) فلما تنبه القمر بعدما رقد، واستنار من مشرقه واتقد، وأسنَّ حسامه المجلو وأحدّ، وآن تجلى الواحد الأحد، من ليلة يسفر صباحها عن يوم الأحد، لم يبق منّا بذلك المحل أحد، وسرنا نقطع مسافة البيداء، ونطوي شُقّتها طي الرداء، فبينا أنا أسير أمام القوم، وقد غلب عليهم النعاس، وحكم عليهم النوم، وإذا باثنين من السرّاق يظنّ أنهما من الرفاق، فوقف المملوك الماشي أمامي وحار، وخاف منهما وجبن وخار، فزبرته وزجرته ونهرته، ثم تقدمت إليهما وسلّمت عليهما لأسبر كنههما وأخبر من هما، وأنا محترز منهما قابضة يدي على الحُسَام، فألقيا إليّ
আসরের সাথে তা (জোহরের সালাত) জমা করে আদায় করার পর, আমরা রাস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। আমরা অটল সংকল্প নিয়ে চলতে লাগলাম, এমন এক গতিতে যা মরুভূমিকে গুটিয়ে দিচ্ছিল যেমন করে খাতা গুটিয়ে রাখা হয়। আর উত্তাপের তেজ তখন প্রবল এবং তার দাপট ছিল তীব্র।
এবং ঘন ধূলিকণা আমার দুই কাঁধকে আবৃত করেছিল
… ধূলিময় রঙে, অথচ আমার দ্বীন হলো তাওহীদ।
আর তা আমার দুই গণ্ডদেশে বার্ধক্যের শুভ্র পোশাক পরিয়ে দিয়েছিল
… যদিও যৌবনের চাদর ছিল সতেজ ও নতুন।
অবশেষে আমরা সেখানে পৌঁছালাম যখন সূর্য প্রখর উত্তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং বিশ্রাম ও বাসস্থানে ফেরার দিকে ঝুঁকেছিল, আর তার গোলকটি পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন আমরা এক সুগন্ধযুক্ত তৃণভূমিতে অবতরণ করলাম, যা ছিল প্রফুল্ল উদ্ভিদরাজি ও মনোরম দৃশ্যে ভরপুর। আসী নদী তাকে দুই পাশ থেকে ঘিরে রেখেছে এবং দশ খিলানবিশিষ্ট একটি সেতুর মাধ্যমে সেখানে পৌঁছানো যায়। এই সেতুটির প্রাঙ্গণ প্রশস্ত, নির্মাণশৈলী সুদৃঢ়, কালো পাথর দিয়ে এর মেঝে মজবুতভাবে বাঁধানো হয়েছে এবং এর কিনারায় উঁচু প্রাচীর রয়েছে যা তাকে বেষ্টন করে রেখেছে। আর 'মালাহিম' (মহাযুদ্ধ) ও ফিতনা সংক্রান্ত বর্ণনায় রাস্তানের উল্লেখ রয়েছে। এটি হিমস অভিমুখে সেতুর প্রান্তবর্তী একটি টিলার ওপর অবস্থিত গ্রাম। তবে বর্তমানে এটি চোর ও ডাকাতদের আশ্রয়স্থল।
(প্রত্যাবর্তন) অতঃপর চাঁদ যখন নিদ্রার পর জেগে উঠল এবং তার উদয়স্থল থেকে দীপ্তিমান ও প্রজ্জ্বলিত হলো, আর তার মাজানো তলোয়ারের ধার বের করল ও তীক্ষ্ণ করল, এবং যখন মহান একক অদ্বিতীয় সত্তার আত্মপ্রকাশের সময় হলো—এমন এক রাতে যার প্রভাত রবিবার হিসেবে উদিত হবে—তখন আমাদের মধ্য থেকে সেই স্থানে আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। আমরা মরুভূমির পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম এবং চাদর গোটানোর মতো তার দূরত্বকে সংকুচিত করে আনছিলাম। আমি যখন কাফেলার সামনে পথ চলছিলাম, এমতাবস্থায় তাদের ওপর তন্দ্রাচ্ছন্নতা ছেয়ে গিয়েছিল এবং ঘুম তাদের গ্রাস করেছিল, হঠাৎ দুইজন চোর দৃষ্টিগোচর হলো যাদের দেখে সাথী বলে ভ্রম হচ্ছিল। আমার সামনে হেঁটে চলা দাসটি থেমে গেল এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল; সে তাদের দেখে ভয় পেল এবং দুর্বলতা ও কাপুরুষতা প্রকাশ করল। তখন আমি তাকে ধমক দিলাম এবং তিরস্কার করে সরিয়ে দিলাম। এরপর আমি তাদের দিকে অগ্রসর হলাম এবং তাদের সালাম দিলাম যাতে তাদের আসল পরিচয় ও স্বরূপ অবগত হতে পারি। আমি তাদের থেকে সতর্ক ছিলাম এবং আমার হাত তলোয়ারের ওপর মুষ্টিবদ্ধ ছিল। তখন তারা আমার দিকে ছুড়ে দিল (বা বলতে লাগল) অনুচ্ছেদটি...
(খণ্ড: ১)
আল মাতালিউল বদরিয়্যাহ ফিল মানাযিলির রূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
السلام وعدلا عن الطريق بعد أن ردا عليّ السلام، فتبعتهما فذهبا وأسرعا في المشي وهربا، ثم وقفا يتوامران ويتشازران ويتشاوران، فسقت وراءهما فسقط أحدهما في بعض تلك الوهاد سقطة عظيمة هلك منها أو كاد، وحار الآخر وخاص، ثم ولى مدبراً وله خصاص، ولم نزل نسير مستعدين ونسري مجدين في تلك الفدافد والفيافي ونحن كما قال الرُّصافي:
ومُجِّدين في السُّرى قد تَعَاطوْا
… خمرات الكَرَى بغيرِ كؤُوسِ
جَنَحُوا وانحنوا على العِيْسِ حتَّى
… خِلتُهُمْ يعتبون أَيْدي العيسِ
نَبَذُوا الغُمْضَ وهو حُلْوٌ إلى أنْ
… وَجَدوهُ سُلافةً في الرءُوسِ
حماةفما طلع من الغد وجه النهار، ولا بدا فيه حاجب الأسفار، إلاّ وقد أشرفنا على مدينة حَمَاة، جعلها الله تعالى في حفظه وحِمَاه، تتلع إلينا أجياد قصورها وغرفاتها، وتبسم عن ثغور أسوارها، وفلج شرفاتها كالعذارى شدت مناطقها، وتوّجت بالإكليل مفارقها، فحمدنا عند الصباح السرى، ونفَّرنا عن وكر العيون طير الكرى، ثم دخلنا المدينة حين أشرق وجه الشمس مسفراً ضاحكاً مستبشراً من يوم الأحد رابع عشر في شهر رمضان، ونزلنا خارجها على نحو نصف ميل ببستان، ذي زهور وفينان، وأغصان تتمايل تمايل النشوان، ومذانب تسل
সালামের উত্তর দেওয়ার পর তারা পথ থেকে সরে দাঁড়াল। আমি তাদের অনুসরণ করলে তারা দ্রুত হাঁটতে শুরু করল এবং পলায়ন করল। এরপর তারা দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ ও ফিসফাস করতে লাগল। আমি তাদের পেছনে ধাওয়া করলাম, ফলে তাদের একজন সেই গর্তগুলোর একটিতে প্রচণ্ড আছাড় খেয়ে পড়ল, যাতে সে প্রাণ হারাল অথবা মুমূর্ষু হয়ে পড়ল। অন্যজন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল, অতঃপর সংকীর্ণ পথ দিয়ে পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে গেল। আমরা সেই জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে পূর্ণ প্রস্তুতি ও দ্রুততার সাথে রাতের সফর অব্যাহত রাখলাম; আমাদের অবস্থা ছিল ঠিক কবি আল-রুসাফির বর্ণনার মতো:
রাতের সফরে অবিচল অভিযাত্রীরা পান করেছে
… পেয়ালা ব্যতিরেকেই তন্দ্রার সুরা।
তারা লালচে উটের পিঠে এমনভাবে ঝুঁকে ও নুয়ে পড়েছে যে,
… আমার মনে হলো তারা উটের হাতগুলোকে বালিশ বানিয়ে নিয়েছে।
সুমিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তারা নিদ্রাকে বিসর্জন দিয়েছিল, যতক্ষণ না
… তারা তাকে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে খাঁটি সুরা হিসেবে অনুভব করল।
হামাহপরদিন দিনের আলো ফোটার আগেই এবং ভোরের শুভ্রতা প্রকাশের পূর্বেই আমরা হামাহ শহরের সন্নিকটে পৌঁছলাম—আল্লাহ তাআলা এটিকে তাঁর সুরক্ষা ও আশ্রয়ে রাখুন। এর প্রাসাদ ও কক্ষগুলোর সুউচ্চ চূড়াগুলো আমাদের দিকে গ্রীবা বাড়িয়ে দিচ্ছিল, আর এর প্রাচীরের ফাঁকফোকর ও বারান্দাগুলো যেন সেই সব কুমারী কন্যার মতো মুচকি হাসছিল, যারা কোমরবন্ধ বেঁধেছে এবং যাদের মস্তকে মুকুট পরানো হয়েছে। ফলে প্রভাতকালে আমরা রাতের সফরের প্রশংসা করলাম এবং চোখের বাসা থেকে ঘুমের পাখিকে তাড়িয়ে দিলাম। অতঃপর যখন সূর্যের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল ও হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উদ্ভাসিত হলো, তখন আমরা রবিবার চৌদ্দই রমজান শহরে প্রবেশ করলাম। আমরা শহরের বাইরে প্রায় আধা মাইল দূরে এক বাগানে অবস্থান গ্রহণ করলাম, যা ছিল ফুলেল ও ঘনপল্লববিশিষ্ট, যার ডালপালাগুলো মাতালের মতো দুলছিল এবং পানির নালাগুলো প্রবাহিত হচ্ছিল...