(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: -)
مقتطفات من السيرة   (عمر عبد الكافي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مقتطفات من السيرة

المؤلف: عمر عبد الكافى شحاتة

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 25 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1432

সীরাত থেকে নির্বাচিত অংশ   (উমর আব্দুল কাফি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: সীরাত থেকে নির্বাচিত অংশ

লেখক: উমর আব্দুল কাফি শিহাতা

গ্রন্থের উৎস: অডিও লেকচার যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ২৫টি পাঠ ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌سلسلة مقتطفات من السيرة [1]

كان العالم قبل بعثة رسول الهدى عبارة عن قوى متناطحة متشاكسة، وكان السائد فيها حكم قانون الغابة والذي ينص على أن القوي يأكل الضعيف، ويلتهم الكبير الصغير، وفشت عادات وأعراف لم يعرفها التاريخ من قبل، حتى ولد الهدى وانبلج صبح النبوة بمولد محمد صلى الله عليه وسلم.
সীরাত থেকে সংকলিত উদ্ধৃতিমালা [১]

হিদায়াতের রাসূলের প্রেরণের পূর্বে বিশ্ব ছিল পরস্পর সংঘাতকামী ও বিবাদমান শক্তিসমূহের এক চারণভূমি। সেখানে জঙ্গল রাজ বা বন্য আইনই ছিল প্রচলিত নিয়ম, যার মূল কথা ছিল—শক্তিশালী দুর্ব্বলকে গ্রাস করবে এবং বড়রা ছোটদের গিলে ফেলবে। সে সময় এমন সব রীতিনীতি ও কুপ্রথা ছড়িয়ে পড়েছিল যা ইতিপূর্বে ইতিহাস কখনো প্রত্যক্ষ করেনি; অবশেষে 'হিদায়াত'-এর জন্ম হলো এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভ জন্মের মাধ্যমে নবুওয়তের প্রভাত উদ্ভাসিত হলো।
(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌إجمال موضوعات السيرة النبوية

نحمد الله رب العالمين حمد عباده الشاكرين الذاكرين، حمداً يوافي نعم الله علينا ويكافئ مزيده.

وصلاةً وسلاماً على المبعوث رحمة للعالمين، سيدنا محمد، اللهم صل وسلم وبارك عليه صلاةً وسلاماً دائمين متلازمين إلى يوم الدين.

أما بعد: نسأل الله عز وجل ألا يجعل لنا ذنباً إلا غفره، ولا مريضاً إلا شفاه، ولا عسيراً إلا يسره، ولا كرباً إلا أذهبه، ولا هماً إلا فرجه، ولا عيباً إلا ستره، ولا ديناً إلا قضاه، ولا مريضاً إلا شفاه، ولا ضالاً إلا هداه، ولا ميتاً إلا رحمه، ولا مسافراً إلا رده غانماً سالماً لأهله، اللهم رد إلينا المسافرين، ورد علينا الغائبين سالمين غانمين يا رب العالمين.

اللهم اجعل هذه الدروس في ميزان حسناتنا يوم القيامة، اللهم ثقل بها موازيننا، واجعلها خالصة لوجهك الكريم، ولا تجعل للشيطان فيها حظاً أو نصيباً، واغفر لنا وارحمنا وأنت خير الغافرين.

اللهم انصر الإسلام والمسلمين، وأعل بفضلك كلمتي الحق والدين، وانصرنا على أعدائنا يا أكرم الأكرمين.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد: فإني استشرت واستخرت كثيراً قبل أن أبدأ بهذه الدروس ولم أجد أفضل ولا أعظم من أن نتحدث عن السيرة العطرة لسيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسيكون حديثنا عن حالة العرب قبل الإسلام، ومولده صلى الله عليه وسلم، ومكثه في مكة، وزواجه من السيدة خديجة، وبعثته عندما صار عمره أربعين سنة، واستمراره في الدعوة ثلاث عشرة سنة في مكة، ثم الهجرة ومكثه في المدينة وتأسيس الدولة المسلمة، ثم الغزوات.

ومن خلال هذه السيرة العظيمة لأفضل الخلق، نستطيع الحديث عن حال المسلمين، فإذا نظرنا إلى الرسول صلى الله عليه وسلم في ولادته وفي صغره -وما كان صغيراً قط- نرى ونتعلم كيف نربي أولادنا، وسوف نتحدث عن تربية الأولاد في الإسلام.

وعندما يصل الرسول إلى سن الشباب، فسوف نخرج أحاديث إلى الشباب في زمن ارتكبت فيه الفتن ما ظهر منها وما بطن، ونسأل الله العصمة لنا ولشبابنا ولأبنائنا ولصغارنا وكبارنا.

ثم نتحدث عن الرسول صلى الله عليه وسلم معلماً، فنتحدث عن صفات المعلم، وعن صفات المتعلم وعن فضيلة العلم.

نتحدث عن الرسول داعية إلى الله، فنتعلم كيف يدعو الإنسان إلى الله عز وجل، ونتحدث عن الرسول كأب؛ لنرى كيف كان أباً في بيته، نتحدث عنه كزوج؛ لنتوقف عند حقوق الزوج على زوجته وحقوق الزوجة على زوجها، وهذه أشياء مهمة.

ونتحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم قائداً محنكاً وسياسياً بارعاً ومفاوضاً عظيماً؛ لنتحدث عن موقف المفاوضات والمعاهدات في الإسلام، ونتحدث عن الغزوات لنرى الرسول قائداً عسكرياً عظيماً لا يشق له غبار وكيف كان يخطط، وكيف كان ينظم مواقف القتال ونعرف موقف الإسلام من القتال.

نتحدث عن الرسول صلى الله عليه وسلم وهو فقير كيف كان يتعامل وهو غني، وعندما دخل الناس في دين الله أفواجاً، ونتحدث عنه في حالة اليسر وفي حالة العسر، ونتحدث مجملاً عن قول الله عز وجل فيه: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم:4].

ونتحدث عنه كيف كان يعامل أعداءه، وكيف كان يعامل أهل الذمة، كيف كان يعامل المنافقين الذين كان يعرفهم واحداً واحداً، ونتحدث عنه حليماً يحلم على الناس، فقد وسع صدره العالم كله فدخل الناس في دين الله أفواجاً محبةً في رسول الله صلى الله عليه وسلم واقتداءً به.

نتحدث عنه عند وفاته وكيف صبر صحابته على هذه الفاجعة الكبيرة التي نحن في خضم حياتنا لا نذكرها إلا قليلاً، فنتحدث عن الصحابة كيف كانوا تلاميذ نجباء لأشرف أستاذ عرفته البشرية صلى الله عليه وسلم.

هذا مجمل عناوين الحديث عن السيرة العطرة، وأدعو الله عز وجل إن كنا من أهل الدنيا أن يعيننا على شرحها وتوضيحها والخروج بالدروس المستفادة منها.

فاللهم اجعلنا من الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه يا أكرم الأكرمين.
সীরাতুন নববীর বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত রূপরেখা

আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, তাঁর কৃতজ্ঞ ও স্মরণকারী বান্দাদের প্রশংসার ন্যায়; এমন প্রশংসা যা আমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অনুকূল এবং তাঁর অধিক অনুগ্রহের সমতুল্য।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর কিয়ামত পর্যন্ত চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।

অতঃপর: আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের এমন কোনো গুনাহ না রাখেন যা ক্ষমা করেননি, এমন কোনো অসুস্থ না রাখেন যাকে আরোগ্য দান করেননি, এমন কোনো জটিলতা না রাখেন যা সহজ করে দেননি, এমন কোনো বিপদ না রাখেন যা দূর করেননি, এমন কোনো দুশ্চিন্তা না রাখেন যা লাঘব করেননি, এমন কোনো ত্রুটি না রাখেন যা গোপন করেননি, এমন কোনো ঋণ না রাখেন যা পরিশোধ করে দেননি, এমন কোনো পথভ্রষ্ট না রাখেন যাকে হিদায়াত দেননি, এমন কোনো মৃত না রাখেন যার ওপর রহম করেননি এবং এমন কোনো মুসাফির না রাখেন যাকে সহিহ-সালামতে ও সফলভাবে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেননি। হে আল্লাহ! মুসাফিরদের আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিন এবং অনুপস্থিতদের সহিহ-সালামতে ও সফলভাবে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন, হে রাব্বুল আলামীন।

হে আল্লাহ! এই দরসগুলোকে কিয়ামতের দিন আমাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন। হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে আমাদের আমলের পাল্লাকে ভারী করে দিন এবং একে আপনার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করুন। এতে শয়তানের কোনো অংশ বা ভাগ রাখবেন না। আমাদের ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বোত্তম ক্ষমাশীল।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় দান করুন। আপনার অনুগ্রহে সত্য ও দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত করুন এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।

এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম নাজিল করুন।

অতঃপর: এই দরসগুলো শুরু করার আগে আমি অনেক পরামর্শ ও ইস্তিখারা করেছি। আমি আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুগন্ধময় সীরাত (জীবনী) নিয়ে আলোচনার চেয়ে উত্তম ও মহান আর কিছু পাইনি। আমাদের আলোচনায় থাকবে ইসলাম-পূর্ব আরবের অবস্থা, তাঁর জন্ম, মক্কায় অবস্থান, সায়্যিদাহ খাদিজার সাথে তাঁর বিবাহ এবং চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর নবুওয়াত লাভ। মক্কায় তেরো বছর দাওয়াতের কাজে তাঁর অবিচল থাকা, অতঃপর হিজরত, মদীনায় অবস্থান, মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এরপর তাঁর পরিচালিত যুদ্ধসমূহ।

সৃষ্টির সেরা মানবের এই মহান সীরাতের মাধ্যমে আমরা মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে পারব। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম এবং তাঁর শৈশবের দিকে তাকাব—আর তিনি মর্যাদায় কখনোই ছোট ছিলেন না—তখন আমরা দেখতে পাব এবং শিখতে পারব কীভাবে আমাদের সন্তানদের লালন-পালন করতে হয়। আমরা ইসলামে সন্তান প্রতিপালন নিয়ে আলোচনা করব।

রাসূল যখন যৌবনে পদার্পণ করবেন, তখন আমরা এমন এক সময়ে যুবকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলব যখন দৃশ্যত ও অদৃশ্যত নানা ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য, আমাদের যুবকদের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য এবং আমাদের ছোট-বড় সকলের জন্য হিফাজত কামনা করছি।

অতঃপর আমরা শিক্ষক হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে আলোচনা করব; সেখানে শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য, শিক্ষার্থীর গুণাবলী এবং ইলমের ফযিলত নিয়ে আলোচনা করব।

আমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে রাসূলকে নিয়ে আলোচনা করব, ফলে মানুষ শিখতে পারবে কীভাবে আল্লাহর দিকে ডাকতে হয়। আমরা রাসূলকে একজন পিতা হিসেবে আলোচনা করব, যাতে দেখতে পাই তিনি তাঁর ঘরে কেমন পিতা ছিলেন। আমরা তাঁকে একজন স্বামী হিসেবে আলোচনা করব, যাতে স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার এবং স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারের বিষয়ে আমরা জানতে পারি—আর এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একজন অভিজ্ঞ নেতা, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ এবং মহান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনা করব; যাতে ইসলামে আলোচনা ও চুক্তির প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে পারি। আমরা তাঁর যুদ্ধসমূহ নিয়ে আলোচনা করব যাতে রাসূলকে একজন অতুলনীয় মহান সামরিক সেনাপতি হিসেবে দেখতে পাই; তিনি কীভাবে পরিকল্পনা করতেন, যুদ্ধের ময়দান কীভাবে বিন্যস্ত করতেন এবং যুদ্ধ সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান কী তা আমরা জানব।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভাবী অবস্থায় কেমন ছিলেন এবং সচ্ছল অবস্থায় কেমন আচরণ করতেন তা নিয়ে আলোচনা করব। যখন দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছিল, তখন স্বচ্ছলতা ও অস্বচ্ছলতা—উভয় অবস্থায় তাঁর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করব। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর সামগ্রিক আলোচনা করব: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" [সূরা কলম: ৪]।

তিনি কীভাবে তাঁর শত্রুদের সাথে আচরণ করতেন, যিম্মিদের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন এবং মুনাফিকদের সাথে কেমন আচরণ করতেন—যাদের তিনি একে একে চিনতেন—তা নিয়ে আলোচনা করব। আমরা তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা করব। তাঁর বিশাল হৃদয়ে গোটা বিশ্ব জায়গা করে নিয়েছিল, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর অনুসরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছিল।

আমরা তাঁর ইন্তেকাল নিয়ে আলোচনা করব এবং কীভাবে তাঁর সাহাবীগণ এই বিশাল শোকের সময় ধৈর্য ধারণ করেছিলেন—যা আমরা আমাদের জীবনের কর্মব্যস্ততায় খুব কমই স্মরণ করি। আমরা আলোচনা করব সাহাবীগণ কীভাবে মানবজাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষকের সুযোগ্য ছাত্র ছিলেন।

এগুলো হলো সুগন্ধময় সীরাত আলোচনার শিরোনামসমূহের সংক্ষিপ্ত সার। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, আমরা যদি জীবিত থাকি তবে তিনি যেন আমাদের এর ব্যাখ্যা ও বিশদ আলোচনার তৌফিক দান করেন এবং এর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো গ্রহণের পথ সুগম করেন।

অতএব, হে আল্লাহ! আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।
(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌فضل مجالس العلم

وقبل أن ندخل في الموضوع لابد من الحديث عن فضيلة مجالس العلم، فقد كثرت الأزمات في بيوتنا، ولعل الأزمات اشتد لهيبها وغبارها عندما انقطعت دروس العلم ودروس الإثنين والخميس، وصار كثير من المريدين لا يحضرون أي دروس في أي مكان، وهذه خلة أعتب عليهم فيها.

فالكثير من الإخوة والأخوات رفضوا الذهاب إلى دروس العلم، وبذلك استطاع الشيطان أن يغويهم، لأن العلم ودروس العلم هي التي تضيق الأبواب التي يدخل الشيطان منها، قال الحسن البصري رضي الله عنه: إن لك في المسجد فوائد سبع.

أول فائدة: أخاً مستفاداً في الله.

يعني الأخوة التي تحصل في بيت الله لا تحدث في أي مكان آخر؛ لأن زمالة العمل قد تنتهي بمجرد أن تحال على التقاعد أو تنقل من مكان إلى مكان وهذا على سبيل المثال.

لكن الأخ في الله عندما يغيب عنك قال فيه صلى الله عليه وسلم: (تعاملوا مع الناس بحيث إنكم إذا غبتم حنوا إليكم وإذا متم ترحموا عليكم)، يعني أن المسلم عندما يغيب عن أخيه فإنه يحن له فيسأل عنه، وإذا مات ترحم الناس عليه.

فنحن عندما نسمع اسم أبي بكر فإننا نقول: رضي الله عنه، فكم هي أعداد الناس الذين يدعون لـ أبي بكر بهذا الدعاء ولـ عمر بن الخطاب وعثمان وعلي وحمزة وخالد وسعد وأم سلمة والسيدة زينب، كل الصالحين والصالحات عندما تأتي سيرتهم نقول: رحمهم الله، ورضوان الله عليهم، وعند ذكر الصالحين تستدر الرحمات.

وعندما مرض صديق للشافعي رضوان الله عليه، ذهب الشافعي ليزوره، فبسبب مرض صاحبه وأخيه في الله وحبيبه رجع وهو مريض، فلما وصل الشافعي مريضاً إلى البيت بلغ صاحبه مرض الشافعي فقام من فراشه وذهب يزور الشافعي، وكان الشافعي لا يستطيع الجلوس، فلما رأى أخاه قادماً إليه فمن شدة فرحته بشفاء أخيه قام من فراشه واحتضنه ثم ترجم الشافعي الكلام قائلاً: مرض الحبيب فزرته فمرضت من حزني عليه فأتى الحبيب يزورني فبرئت من نظري إليه ولا أحد يعرف الأخوة إلا الذي جربها.

لا يعرف الشوق إلا من يكابده ولا الصبابة إلا من يعانيها فأنت كمسلم من الواجب أن تراعي قضية هامة، وهي أن لك في المسجد أخاً مستفاداً في الله، وهناك أناس نحبهم على البعد وبمجرد السماع بهم.

ومن جميل أخوة النبي عليه الصلاة والسلام أنه عندما جاءه جعفر الطيار رضوان الله عليه من رحلة الحبشة مع إخوانه الذين كانوا مهاجرين معه كان عليه الصلاة والسلام يحتضنه ويقبله، وكان جعفر ابن عمه، وكان أشبه الناس خلقاً برسول الله، وكان يقول فيه: (أشبهت خلقي وخلقي)، وقال صلى الله عليه وسلم: (لا أدري بأيهما أفرح: بفتح خيبر أم بقدوم جعفر).

وكان سيدنا الحبيب يراعي هذه القضية جداً، وكان لا يقوم لأحد أبداً، ولكن كان يقوم لـ فاطمة عندما يجدها قادمة فيحتضنها ويقبلها بين عينيها، وكانت فاطمة تضع رأسها على صدر أبيها، فتستريح من عناء الدنيا وبلائها.

والإنسان عندما يأتي إلى الجامع يجب أن يكون ذلك لهدف وهو إرضاء الله عز وجل، أو لطلب رحمة مستنزلة، يقول تعالى في الحديث القدسي: (ألا إن بيوتي في الأرض المساجد وإن زواري عمارها ألا إن من تطهر في بيته ثم زارني في بيتي فما على المزور إلا أن يكرم زائره).

والملائكة السياحون في الأرض دائماً ما يقعدون في مجالس العلم، وأقول: لو كُشِفَ الحجاب لرأيت حولك من الملائكة مالا يعد ولا يحصى، ثم يصعدون إلى الله عز وجل وهو العليم الخبير فيسألهم (علام ما تركتم عبادي؟ فيقولون: يتدارسون العلم ويسمعون آياتك، فيقول: ماذا يريدون؟ فيقولون: يريدون الجنة، فيقول: وهل رأوا جنتي؟ فتقول الملائكة: لا يا رب، فيقول: فما بالكم لو رأوها؟ ومم يستعيذون؟ فيقولون: من النار، فيقول الله: هل رأوها؟ فيقولون: لا يا رب، فيقول: لو رأوا النار ماذا سيعملون؟ أشهدكم أني قد غفرت لهم.

فيقولون: إن فيهم فلاناً إنما جاء لحاجة، فيقول: وله قد غفرت، هم القوم لا يشقى بهم جليسهم)، فحتى الذي جاء لمصلحة أو الذي جاء يكتب تقريراً أو الذي أتى يعمل شيء غير حضور المجلس فربنا يغفر للكل ويكرمه سبحانه من أجل المجموعة.

ولا يسمع العلم إلا في مثل مجالس الذكر التي في المساجد، فالعلم لا أعرفه إلا في بيت الله، فطالما أن المسلم وثق بالإنسان الذي يتكلم وصارت بينهما علاقة حب في الله صار بين العالم والمريد أو الشيخ ومريده علاقة ينتج عنها ثمرة طيبة، علماً مستظرفاً أو كلمة تدلك على هدى، أو تمنعك من ردى.

وذات يوم دخل الرسول صلى الله عليه وسلم إلى المسجد بعد العصر فوجد صحابياً قاعداً في الجامع واضعاً خده على كفه فقال له عليه الصلاة والسلام: (ما الذي يجلسك في وقت ليس من أوقات الصلاة في المسجد؟ قال له: هموم وديون لزمتني يا رسول الله)، فعلمه الرسول صلى الله عليه وسلم ثمان كلمات: (اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، ومن العجز والكسل، ومن الجبن والبخل، ومن غلبة الدين وقهر الرجال)، فبمجرد أن يقولها الإنسان فإن ربنا يفرج الكرب.

فتسمع في المسجد كلمة تدلك على هدى، أو تمنعك من ردى، أو أن تترك الذنوب خشية أو حياء، فعندما تتعود على المسجد تستحي أن ترتكب غلطة في الخارج.

فدروس العلم كلها فائدة، ولن ينشرح الصدر إلا بدروس العلم، ولن تشعر أنك قريب من الله إلا بدروس العلم، والإنسان الذي يحضر دروس العلم يعلم الفرق بين الصلاة التي تكون قبل الدرس والصلاة التي تكون بعده، فأنت تأتي إلى صلاة المغرب ولا زالت هموم العمل والدنيا ومشاغلها عالقة في ذهنك، ثم تجلس في الدرس وتستمع الشيخ وتصلي بعد ذلك العشاء، فالنفسية التي صليت بها العشاء تختلف تماماً عن النفسية التي صليت بها المغرب؛ لأن صلاة العشاء تأتي بعد درس العلم، ولذلك فالصحابة رضوان الله عليهم كان عندهم الخشوع لله عز وجل في جميع الصلوات؛ لأنهم كانوا مع الله في كل وقت، وكانوا موصولين بالله عز وجل.

فدرس واحد أو مجلس واحد من مجالس العلم يكبر سبعين مجلساً من مجالس الذنوب، وكل مجلس من مجالسنا ليس فيها ذكر لله فهي من مجالس الذنوب.
‌ইলমি মজলিসের ফজিলত

মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে ইলমি মজলিসের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যক। আমাদের ঘরবাড়িতে সংকটের আধিক্য দেখা দিয়েছে; সম্ভবত সেই সংকটের লেলিহান শিখা ও ধুলোবালি আরও তীব্র হয়েছে যখন থেকে ইলমি দরস এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবারের দরসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মুরিদ এখন কোথাও কোনো দরসে উপস্থিত হয় না, এটি এমন একটি স্বভাব যার জন্য আমি তাদের তিরস্কার করি।

অনেক ভাই ও বোন ইলমি দরসে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, আর এভাবেই শয়তান তাদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ ইলম এবং ইলমি দরসগুলোই সেই পথগুলোকে সংকীর্ণ করে দেয় যেখান দিয়ে শয়তান প্রবেশ করে। হাসান বসরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: মসজিদে তোমার সাতটি উপকার রয়েছে।

প্রথম উপকার: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লাভ করা একজন দ্বীনি ভাই।

অর্থাৎ, আল্লাহর ঘরে যে ভ্রাতৃত্ব অর্জিত হয় তা অন্য কোথাও ঘটে না; কারণ কর্মস্থলের সহকর্মী সুলভ সম্পর্ক অবসরে যাওয়ার সাথে সাথে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি হওয়ার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এটি কেবল একটি উদাহরণ।

কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বানানো ভাই যখন তোমার থেকে অনুপস্থিত থাকে, তখন তার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করো যেন তোমরা অনুপস্থিত থাকলে তারা তোমাদের জন্য ব্যাকুল হয় এবং তোমরা মারা গেলে তারা তোমাদের জন্য রহমতের দোয়া করে)। অর্থাৎ, একজন মুসলিম যখন তার ভাইয়ের থেকে দূরে থাকে তখন সে তার অভাব অনুভব করে এবং তার খোঁজখবর নেয়, আর সে মারা গেলে মানুষ তার জন্য রহমতের প্রার্থনা করে।

আমরা যখন আবু বকরের নাম শুনি তখন বলি: রাদিয়াল্লাহু আনহু। কত অসংখ্য মানুষ আবু বকর, উমর বিন খাত্তাব, উসমান, আলী, হামজা, খালিদ, সাদ, উম্মে সালামা এবং সাইয়িদা যয়নবের জন্য এই দোয়া করে। সকল নেককার পুরুষ ও নারীর কথা যখন আলোচিত হয় তখন আমরা বলি: রাহিমাহুল্লাহ এবং রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম। আর নেককারদের স্মরণের সময় আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়।

যখন ইমাম শাফেয়ি (রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহি)-এর এক বন্ধু অসুস্থ হলেন, তখন শাফেয়ি তাকে দেখতে গেলেন। তার বন্ধু ও আল্লাহর জন্য প্রিয় সেই ভাইয়ের অসুস্থতার কারণে তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে ফিরে এলেন। যখন শাফেয়ি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি পৌঁছালেন, তখন তার বন্ধুর কাছে শাফেয়ির অসুস্থতার খবর পৌঁছালো। তখন তিনি শয্যা ত্যাগ করে শাফেয়িকে দেখতে গেলেন। শাফেয়ি তখন উঠে বসার অবস্থায় ছিলেন না, কিন্তু যখন তিনি তার ভাইকে আসতে দেখলেন, তখন তার সুস্থতায় এতই আনন্দিত হলেন যে তিনি বিছানা থেকে উঠে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর শাফেয়ি এই ঘটনাকে কাব্যে প্রকাশ করে বললেন: ‘প্রিয় বন্ধু অসুস্থ হলো তাই আমি তাকে দেখতে গেলাম, তার ব্যথায় ব্যথিত হয়ে আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। এরপর প্রিয় বন্ধু আমাকে দেখতে এলো, তার দিকে তাকিয়েই আমি আরোগ্য লাভ করলাম।’ ভ্রাতৃত্বের স্বাদ কেউ জানে না যতক্ষণ না সে তা অনুভব করে।

বিরহের কষ্ট সে-ই জানে যে তা সহ্য করে, আর প্রেমের ব্যাকুলতা সে-ই বুঝে যে তাতে ভোগে। একজন মুসলিম হিসেবে আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা উচিত, আর তা হলো—মসজিদে আপনার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একজন দ্বীনি ভাই অর্জিত হয়। এমন কিছু মানুষ আছে যাদের আমরা দূর থেকেই ভালোবাসি কেবল তাদের কথা শুনেই।

নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ভ্রাতৃত্ববোধের সৌন্দর্য হলো—যখন জাফর তইয়ার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাবশার সফর থেকে তার হিজরতকারী ভাইদের নিয়ে ফিরে এলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং চুম্বন করলেন। জাফর ছিলেন তার চাচাতো ভাই এবং স্বভাব-চরিত্রে রাসুলুল্লাহর সবচেয়ে সদৃশ মানুষ। তাঁর সম্পর্কে তিনি বলতেন: (তুমি আমার আকৃতি ও প্রকৃতি—উভয় দিক থেকেই আমার সদৃশ)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলতেন: (আমি জানি না কোনটিতে আমি বেশি খুশি: খয়বর বিজয়ে নাকি জাফরের আগমনে)।

আমাদের প্রিয় নেতা এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিতেন। তিনি সচরাচর কারো জন্য দাঁড়াতেন না, কিন্তু ফাতিমাকে আসতে দেখলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন, তাকে জড়িয়ে ধরতেন এবং তার দুই চোখের মাঝে চুম্বন করতেন। আর ফাতিমা তার পিতার বক্ষে মাথা রাখতেন, ফলে দুনিয়ার সব ক্লান্তি ও বিপদ থেকে প্রশান্তি অনুভব করতেন।

মানুষ যখন মসজিদে আসে তখন তা একটি লক্ষ্য নিয়ে হওয়া উচিত, আর তা হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন অথবা অবতীর্ণ রহমত প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা হাদিসে কুদসিতে বলেন: (জেনে রেখো, জমিনে আমার ঘরসমূহ হলো মসজিদ এবং যারা সেখানে যাতায়াত করে তারা আমার মেহমান। সুতরাং সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে এরপর আমার ঘরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। আর যার কাছে আসা হয়েছে তার কর্তব্য হলো মেহমানকে সম্মান করা)।

পৃথিবীতে বিচরণকারী ফেরেশতারা সর্বদা ইলমি মজলিসে উপবেশন করেন। আমি বলি: যদি পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া হতো, তবে আপনি আপনার চারপাশে অসংখ্য অগণিত ফেরেশতা দেখতে পেতেন। এরপর তারা মহান আল্লাহর কাছে আরোহণ করেন, অথচ আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক অবগত। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন: (তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তারা বলে: তারা ইলম চর্চা করছিল এবং আপনার আয়াতসমূহ শুনছিল। তিনি বলেন: তারা কী চায়? তারা বলে: তারা জান্নাত চায়। তিনি বলেন: তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলে: না হে প্রভু। তিনি বলেন: যদি তারা তা দেখত তবে তাদের অবস্থা কেমন হতো? আর তারা কিসের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছিল? তারা বলে: জাহান্নাম থেকে। আল্লাহ বলেন: তারা কি তা দেখেছে? তারা বলে: না হে প্রভু। তিনি বলেন: যদি তারা জাহান্নাম দেখত তবে তারা কী করত? আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।

ফেরেশতারা বলে: তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে যে কেবল কোনো প্রয়োজনে এসেছিল। তিনি বলেন: তাকেও আমি ক্ষমা করে দিলাম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সঙ্গীও দুর্ভাগা হয় না)। এমনকি যে কোনো উদ্দেশ্যে বা রিপোর্ট লিখতে বা ইলমি মজলিসে উপস্থিতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে এসেছে, মহান আল্লাহ এই জামাতের সম্মানে তাকেসহ সবাইকে ক্ষমা করে দেন এবং সম্মানিত করেন।

মসজিদের জিকিরের মজলিসগুলোর মতো স্থান ছাড়া কোথাও ইলম শোনা যায় না। আমি আল্লাহর ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ইলমকে চিনি না। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলিম বক্তার ওপর আস্থা রাখে এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়, ততক্ষণ আলেম ও সত্যান্বেষী অথবা শায়খ ও তার মুরিদের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক তৈরি হয় যার ফলে উত্তম ফল অর্জিত হয়; তা কোনো চমৎকার জ্ঞান অথবা এমন কোনো কথা যা আপনাকে হেদায়াতের পথ দেখাবে কিংবা ধ্বংস থেকে রক্ষা করবে।

একদিন আসরের পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন একজন সাহাবী গালে হাত দিয়ে বসে আছেন। রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাকে বললেন: (সালাতের সময় নয় এমন সময়ে তোমাকে মসজিদে বসিয়ে রেখেছে কোন জিনিস? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা আমাকে চেপে ধরেছে)। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে আটটি বাক্য শিখিয়ে দিলেন: (হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে)। মানুষ যখনই এই দোয়াগুলো পড়ে, মহান আল্লাহ তার বিপদ দূর করে দেন।

সুতরাং আপনি মসজিদে এমন কথা শুনতে পান যা আপনাকে হেদায়াতের পথ দেখায় অথবা অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে, কিংবা ভয় বা লজ্জার কারণে গুনাহ ত্যাগ করতে সাহায্য করে। যখন আপনি মসজিদে নিয়মিত হওয়ার অভ্যাস করবেন, তখন বাইরে কোনো ভুল কাজ করতে আপনি লজ্জা বোধ করবেন।

ইলমি দরসগুলো পুরোটাই কল্যাণকর। ইলমি দরস ছাড়া বক্ষ প্রশস্ত হবে না এবং ইলমি দরস ছাড়া আপনি আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করবেন না। যে ব্যক্তি ইলমি দরসে উপস্থিত হয় সে দরসের আগের সালাত এবং পরের সালাতের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। আপনি মাগরিবের সালাতে আসেন অথচ কর্মস্থলের দুশ্চিন্তা ও দুনিয়ার ব্যস্ততা আপনার মস্তিষ্কে জেঁকে থাকে। এরপর আপনি দরসে বসেন, শায়খের কথা শোনেন এবং এরপর এশার সালাত আদায় করেন। যে মানসিকতা নিয়ে আপনি এশার সালাত আদায় করেছেন তা মাগরিবের সালাতের মানসিকতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন; কারণ এশার সালাতটি এসেছে ইলমি দরসের পরে। এই কারণেই সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সকল সালাতে মহান আল্লাহর প্রতি খুশু বা একাগ্রতা থাকত; কারণ তারা সর্বদা আল্লাহর সাথে থাকতেন এবং মহান আল্লাহর সাথে সংযুক্ত থাকতেন।

ইলমি মজলিসের একটি দরস বা একটি বৈঠক সত্তরটি গুনাহের মজলিসের চেয়েও উত্তম। আর আমাদের যে মজলিসগুলোতে আল্লাহর জিকির হয় না, সেগুলো গুনাহের মজলিসের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حالة العالم قبل الإسلام

قبل الحديث عن مولد سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم لابد أن نعلم كيف كانت حالة العالم قبل ميلاد رسول الله.

وسيجد المتأمل قوى متطاحنة، وقوى متقاتلة، ففارس والروم مثل أوروبا وأمريكا الآن، وكان جماعة من الهنود يبيحون زواج المحارم، فكان الواحد منهم يتزوج ابنته، ويتزوج أخته، ويتزوج عمته وخالته.

واليونانيون عندهم فلسفة كذابة، والرومان -مثل أمريكا الآن- عندهم ميول استعمارية، والفرس كانوا يعبدون النار، وقد أوقدت نيرانهم منذ نبوة سيدنا موسى ولم تنطفئ إلا يوم أن ولد رسول الله.

وقبل أن نتحدث عن حالة العالم قبل مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم، نأخذ لمحة سريعة عن الأنبياء قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ইসলামের পূর্বে বিশ্বের অবস্থা

আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে, রাসূলুল্লাহর জন্মের আগে বিশ্বের অবস্থা কেমন ছিল তা আমাদের অবশ্যই অবগত হওয়া প্রয়োজন।

অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি সেখানে বিবদমান ও যুদ্ধরত শক্তিসমূহ দেখতে পাবেন; পারস্য ও রোম ছিল বর্তমান ইউরোপ ও আমেরিকার মতো। হিন্দুদের একটি গোষ্ঠী নিকটাত্মীয়দের (মাহরাম) সাথে বিবাহকে বৈধ জ্ঞান করত; ফলে তাদের কেউ তার নিজ কন্যা, বোন, ফুফু ও খালাকে বিবাহ করত।

গ্রীকদের নিকট ছিল অসার দর্শন এবং রোমানদের মধ্যে ছিল—বর্তমান আমেরিকার ন্যায়—সাম্রাজ্যবাদী মনোবৃত্তি। পারসিকরা অগ্নি উপাসনা করত; আমাদের নেতা মূসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াতের সময়কাল থেকে তাদের সেই অগ্নি প্রজ্বলিত ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের দিন ব্যতীত তা নির্বাপিত হয়নি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পূর্বের বৈশ্বিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার আগে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী নবীগণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করব।
(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌حال الأنبياء السابقين مع الدعوة

فالدين كله من بداية عهد آدم عليه السلام إلى سيدنا محمد يقوم على أمرين: العقيدة والتشريع، ولذلك يقول صلى الله عليه وسلم بتواضعه الجم: (الأنبياء إخوة دينهم واحد وأمهاتهم شتى)، يعني دينهم واحد لكن الأمهات مختلفة.

وقال في حديث آخر: (الأنبياء إخوة لعلات)، والعلات: الضرائر.

وأول الدعاة على وجه الأرض هو سيدنا نوح وظل يدعو قومه تسعمائة وخمسين سنة.

{قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا} [نوح:5] وهذا دليل أنه كان يعظهم موعظة في الصبح وموعظة في الليل {وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا} [نوح:7].

فصبر هذه السنين كلها، نسأل الله الستر، والله لو سترك الله لم يفضحك أحد، ومن كرم ربنا أنه إذا سترك في الدنيا فهو أكرم من أن يفضحك على رءوس الخلائق يوم القيامة، لكن يفضحك لو فضحت نفسك وجاهرت بالمعاصي.

فظل يدعو إلى أن قال له ربه: يا نوح! اصنع الفلك، وقال له: {فَاسْلُكْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ} [المؤمنون:27] أي: إلا امرأتك، وبعد أن ركب نادى على ابنه فلا يزال يؤمل فيه خيراً: {وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ} [هود:42] أي: عن الخير وعن الحق وعن الاستقامة {يَا بُنَيَّ ارْكَب مَّعَنَا وَلا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ * قَالَ سَآوِي إِلَى إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ} [هود:42 - 43].

ووصلت السفينة إلى جبل الجودي في العراق، ووصل نوح إلى بر السلامة ومتعه الله عز وجل ومن آمن معه، وما آمن معه إلا قليل، وقيل: إن مع سيدنا نوح سبعين واحداً.

ثم بعد ذلك انحرفت البشرية فبعث الله رسولاً من الرسل، وقد عرفنا قصص قوم صالح وقوم هود وقوم لوط، ثم جاء الخليل عليه السلام والذي يعتبر النبي عليه الصلاة والسلام من سلالته.

وقد وصف الله عز وجل سيدنا إبراهيم بقوله تعالى: {وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّى} [النجم:37].

وقد بلغ إبراهيم من العمر 80 عاماً ويئس هو وزوجته من الولد فإذا بها تحمل بإسماعيل جد العرب وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد أن كبر أمر الأب أن يأخذ إسماعيل وأمه ويضعهما بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ.

كبر سيدنا إسماعيل ووصل عمره إلى خمس عشرة أو ست عشرة سنة، وإبراهيم لم يره، فأول ما قابل أباه قبله واحتضنه وقبل يديه، وقال له: يا إسماعيل! {إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى} [الصافات:102] فكان جوابه أن قال: {يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ} [الصافات:102]، وقد قال الله تعالى في سيدنا إسماعيل: {إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا} [مريم:54].

فهو من سلالة سيدنا إبراهيم عليه السلام الذي كان أبوه آزر يصنع التماثيل التي يعبدونها، وكان عمر سيدنا إبراهيم عشر سنين، فكان يقول آزر: يا إبراهيم! بع هذه الآلهة، والآلهة أنواع: آلهة ذهب للأغنياء وآلهة حجر وآلهة طين، فكان سيدنا إبراهيم يربط الآلهة بحبل، ويمشي يقول: يا أيها الناس! من الذي يشتري من لا ينفع ولا يضر، فكان لا يشتري منه أحد بسبب تروجيه الرائع.

وذات يوم دخل سيدنا إبراهيم عليه وعلى نبينا الصلاة والسلام إلى المعبد وذلك يوم العيد، وكسر الأصنام كلها وعلق الفأس على كتف كبيرهم، فجاء القوم وقالوا: من الذي فعل هذا بآلهتنا؟ وكان هذا أحد أساليب دعوته التي كاد أن يسلم قومه بسببها.

وهذا يذكرنا بقصة أبي ذر الذي وجد صنمه مبتلاً قد تبول عليه ثعلبان وكان أبو ذر لا يعرف عن الإسلام شيئاً فقال: أرب يبول الثعلبان برأسه لقد ذل من بالت عليه الثعالب فلو كان رباً كان يمنع نفسه فلا خير في رب تصبه المصائب برئت من الأصنام في الأرض كلها وآمنت بالله الذي هو غالب فيدخل على الرسول من أجل أن يعلن إسلامه، فقال له عليه الصلاة والسلام: (ماذا فعل الثعلبان بصنمك يا أبا ذر؟).

ومن ذلك قصة سيدنا عمر بن الخطاب فقد كان أبوه قاس وكان هؤلاء الناس ليس لهم عقول، فكان للخطاب إله من العجوة يعبده، وفي ذات يوم ذهب الخطاب ووصى ابنه عمر على هذا الصنم، وكان عمره عشر سنين فظل منتظراً أباه حتى شعر بالجوع قال: فقلت: يا إلهي! أطعمني، فلم يجبه، يا إلهني اسقني قال: فأخذت ذراعه فأكلته فلم يتكلم -وجد العجوة طعمها حلو- فراح وأخذ ذراعه الثانية وأكله فلم يتكلم، حتى أكله كله، فتذكر سيدنا عمر غلظة الخطاب، فكلم أمه أن تصنع صنماً آخر، فأخذت عجوة صنعت بها تمثالاً.

فإذاً منطقة العرب كانت منطقه غريبة جداً في مسألة العبادة.

وكان سيدنا نوح يدعو إلى التوحيد ونبذ الفاحشة، وجاء من بعدهم سيدنا داود وسليمان والملكان اللذان أعطاهما رب العباد ما لم يعط أحداً من العالمين.

فسيدنا داود ألان الله له الحديد، قال تعالى عنه: {أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ} [سبأ:11] أي: دروعاً للحروب والسيوف والرماح.

وأما سيدنا سليمان فيقول: {عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ} [النمل:16]، وكان سيدنا داود يقرأ الزبور الكتاب المنزل عليه فمن شدة حلاوة وجمال صوته كان الماء يتوقف عن الجريان وكانت الطيور تردد معه تسبيحه لله عز وجل، قال تعالى: {يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ} [سبأ:10]، ثم جاء من بعده ابنه سليمان وورث أباه وأعطاه الله ما لم يعط أحداً من قبل ولا من بعد فقد سخر الله له الريح غدوها شهر ورواحها شهر {تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ * وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ} [ص:36 - 37] يأتون له باللؤلؤ والمرجان من تحت البحر وكان ملكه في بيت المقدس الذي يريد اليهود الآن أن يهدموا المسجد الأقصى بغرض إخراج هيكل سليمان من تحته.

وقصة الهدهد التي حدثت مع نبي الله سليمان نتعلم منها كلنا، فذات يوم كان سليمان قاعداً في ملكه تظلله الطيور، والجن والشياطين والوحوش أمامه، فرأى شعاع الشمس وقد نفذ إليه فقال: لابد أن هناك طيراً غير موجود {مَا لِيَ لا أَرَى الْهُدْهُدَ} [النمل:20] وبعد قليل جاءه الهدهد وقال: {وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ} [النمل:22] وقال: إنه يوجد من الإنس امرأة تحكمهم ويسجد قومها للشمس من دون الله وزين لهم الشيطان أعمالهم فأضلهم عن السبيل، فتحدث الهدهد في قضية الإيمان والتوحيد والعقيدة، فأراد سليمان أن يتأكد وأن يستوثق من كلام الهدهد ومن الخبر الذي جاء به.

فأرسل معه كتاباً قال له: خذ هذا الكتاب فألقه إليهم، فقطع الهدهد المسافة من بيت المقدس إلى صنعاء، وطار حاملاً رسالة نبي الله سليمان، أخذ الهدهد الرسالة وذهب إلى ملكة سبأ وألقى إليهم الخطاب، فقالت: {إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ} [النمل:29]؛ لأن الخط يدل على أنه خط ملوك وشعار الملك عليه، فأكيد إن الرسالة من نبي الله سليمان، ثم سألتهم عن رأيهم فقالوا: {نَحْنُ أُوْلُوا قُوَّةٍ وَأُولُوا بَأْسٍ شَدِيدٍ وَالأَمْرُ إِلَيْكِ فَانظُرِي مَاذَا تَأْمُرِينَ} [النمل:33]، وقد صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قال: (تعس قوم ولوا أمورهم امرأة)، فأنا كنت أتمنى أن المصالح الحكومية يديرها الرجال، والمدرسة التي تكون فيها مديرة أتمنى أن كل الذي تحت يدها يكن نساء، لكن أن الرجل يعمل تحت إمرة المرأة فهذا لا ينبغي، والمرأة عقلها كالرجل تماماً ولكن مكانها البيت أساساً.

ويا ليت تراعى هذه القضية فإن المرأة بطبيعتها تمر عليها أيام تكون فيها عصبية، بسبب الإفرازات المعينة التي تحصل لها في جسمها وهذا ما يجعلها في حالة عصبية، فأحياناً تجد المرأة راضية عنك تماماً ولكن بعد خمس دقائق يتبخر هذا الرضا ولا تعرف أين ذهب، فهذه حالتها.

ليس معنى هذا أن النساء بهن شيء من الجنون فكلمة حنان واحدة تجعل المرأة راضية كل الرضا كما قالت بنت محلم الشيباني: يا بنية كوني له أمة يكن لك عبداً.

يعني: كوني لزوجك مثل الخدامة فهو سيكون عندك عبداً.

قالت: {وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِمْ بِهَدِيَّةٍ فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ} [النمل:35] فدخل رسلها على سليمان في ملكه وكان الشياطين والجن قد صنعوا الطريق المؤدي إلى العرش الذي يجلس عليه سليمان من الذهب الخالص فدخل الرسل ومعهم هدايا من الذهب، والتي تعتبر قليلة بالنسبة لسليمان فقال: {أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِمَّا آتَاكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ} [النمل:36] فأيقن نبي الله سليمان أنهم سوف يأتون إليه مسلمين فعرض الأمر على جنوده من الجن من يأتي بعرش بلقيس قبل أن تصل {قَالَ عِفْريتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ} [النمل:39].

فقال عفريت مؤمن بالله عز وجل عنده علم من الكتاب: {أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ} [النمل:40] فبمجرد أ
দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা

সুতরাং আদম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগের শুরু থেকে আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত সম্পূর্ণ দ্বীন দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত: আকিদা এবং শরয়ি বিধান। এই কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অপরিসীম বিনম্রতার সাথে বলেছেন: (নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাই, তাঁদের দ্বীন এক এবং তাঁদের মায়েরা ভিন্ন), অর্থাৎ তাঁদের দ্বীন এক কিন্তু মায়েরা ভিন্ন।

তিনি অন্য একটি হাদিসে বলেছেন: (নবীগণ আল্লাত-এর ভাই), আর ‘আল্লাত’ অর্থ হলো সপত্নী বা সতিন।

আর পৃথিবীর বুকে প্রথম দাঈ হলেন আমাদের নেতা নূহ, এবং তিনি নয়শত পঞ্চাশ বছর ধরে তাঁর কওমকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।

{তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি আমার কওমকে রাত-দিন দাওয়াত দিয়েছি} [নূহ: ৫]। এটি প্রমাণ করে যে তিনি তাঁদের সকালে একবার এবং রাতে একবার উপদেশ দিতেন। {আর আমি যখনই তাঁদের দাওয়াত দিতাম যেন আপনি তাঁদের ক্ষমা করেন, তখনই তাঁরা নিজেদের কানে আঙ্গুল দিত, কাপড় দিয়ে নিজেদের আবৃত করত এবং জেদ ধরত ও চরম অহংকার করত} [নূহ: ৭]।

সুতরাং তিনি এই দীর্ঘ বছরগুলো ধৈর্য ধরেছিলেন। আমরা আল্লাহর কাছে পর্দা বা গোপনীয়তা প্রার্থনা করি। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ যদি আপনাকে ঢেকে রাখেন তবে কেউ আপনাকে অপমানিত করতে পারবে না। আমাদের রবের মহানুভবতা এমন যে, তিনি যদি দুনিয়াতে আপনাকে ঢেকে রাখেন তবে তিনি কিয়ামতের দিন সৃষ্টির সামনে আপনাকে অপমানিত করার চেয়েও অনেক বেশি দয়ালু। কিন্তু তিনি আপনাকে তখন অপমানিত করবেন যদি আপনি নিজেই নিজের পর্দা ফাঁস করেন এবং প্রকাশ্য পাপাচার করেন।

অতঃপর তিনি দাওয়াত দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর রব তাঁকে বললেন: হে নূহ! নৌকা তৈরি করো। আর তাঁকে বললেন: {তুমি তাতে প্রত্যেক জোড়া থেকে দুটি এবং তোমার পরিবারকে তুলে নাও, তবে তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তারা ছাড়া} [আল-মুমিনুন: ২৭]। অর্থাৎ: তোমার স্ত্রী ব্যতীত। আর আরোহণের পর তিনি তাঁর পুত্রকে ডাকলেন, তখনও তিনি তার কল্যাণের আশা করছিলেন: {আর নূহ তাঁর পুত্রকে ডাকলেন, যে ছিল আলাদা এক স্থানে} [হুদ: ৪২]। অর্থাৎ: কল্যাণ, সত্য এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে। {হে বৎস! আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সঙ্গী হয়ো না। সে বলল: আমি শীঘ্রই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। তিনি বললেন: আজ আল্লাহর নির্দেশ থেকে রক্ষাকারী কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করবেন সে ছাড়া। আর তাঁদের উভয়ের মাঝে তরঙ্গ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো} [হুদ: ৪২ - ৪৩]।

আর নৌকাটি ইরাকের জুদি পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছাল। নূহ এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিলেন তারা নিরাপত্তার উপকূলে পৌঁছালেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁদেরকে উপকৃত করলেন। আর তাঁর সাথে অল্প কজন ব্যতীত কেউ ঈমান আনেনি। বলা হয়ে থাকে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সত্তর জন লোক ছিল।

এরপর মানবজাতি আবারো পথভ্রষ্ট হলো, তখন আল্লাহ রসূলদের মধ্য থেকে একজন রসূল পাঠালেন। আমরা সালেহ, হূদ এবং লুত (আলাইহিমুস সালাম)-এর কওমের কাহিনী জেনেছি। এরপর আসলেন খলীল (আলাইহিস সালাম), যাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমাদের নেতা ইব্রাহিমকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: {এবং ইব্রাহিম, যে পূর্ণ করেছে} [আন-নাজম: ৩৭]।

আর ইব্রাহিমের বয়স যখন ৮০ বছর হলো এবং তিনি ও তাঁর স্ত্রী সন্তান হওয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়লেন, তখনই তিনি ইসমাইলকে গর্ভে ধারণ করলেন, যিনি আরবদের এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ। আর তিনি বড় হওয়ার পর পিতাকে আদেশ দেওয়া হলো যেন তিনি ইসমাইল এবং তাঁর মাকে নিয়ে যান এবং তাঁদেরকে এমন এক উপত্যকায় রেখে আসেন যেখানে কোনো শস্য জন্মে না।

আমাদের নেতা ইসমাইল বড় হলেন এবং তাঁর বয়স যখন পনেরো বা ষোলো বছরে পৌঁছাল—ইব্রাহিম তাঁকে দেখেননি—অতঃপর তিনি যখন তাঁর পিতার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন তাকে চুম্বন করলেন, আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁর হাত চুম্বন করলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে ইসমাইল! {আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বলো তোমার অভিমত কী} [আস-সাফফাত: ১০২]। তখন তাঁর উত্তর ছিল এই যে তিনি বললেন: {হে পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করুন, আল্লাহ চাইলে আমাকে আপনি ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন} [আস-সাফফাত: ১০২]। আর মহান আল্লাহ আমাদের নেতা ইসমাইল সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যবাদী এবং তিনি ছিলেন একজন রসূল ও নবী} [মারইয়াম: ৫৪]।

তিনি ছিলেন আমাদের নেতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর, যাঁর পিতা আজর মূর্তি তৈরি করত যা তারা পূজা করত। আমাদের নেতা ইব্রাহিমের বয়স তখন ছিল দশ বছর। আজর বলত: হে ইব্রাহিম! এই উপাস্যগুলোকে বিক্রি করো। আর এই উপাস্যগুলো বিভিন্ন ধরনের ছিল: ধনীদের জন্য সোনার উপাস্য, পাথরের উপাস্য এবং মাটির উপাস্য। আমাদের নেতা ইব্রাহিম এই উপাস্যগুলোকে রশি দিয়ে বাঁধতেন এবং হাঁটতেন আর বলতেন: ওহে লোকসকল! এমন কিছু কে কিনবে যে উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না? তাঁর এই চমৎকার প্রচারণার কারণে তাঁর কাছ থেকে কেউ কিছু কিনত না।

একদিন আমাদের নেতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) ঈদের দিনে উপাসনালয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি সমস্ত মূর্তি ভেঙে ফেললেন এবং বড় মূর্তিটির কাঁধে কুঠারটি ঝুলিয়ে দিলেন। তখন কওমের লোকেরা এসে বলল: আমাদের উপাস্যদের সাথে এমনটা কে করল? এটি ছিল তাঁর দাওয়াতের অন্যতম একটি পদ্ধতি, যার ফলে তাঁর কওমের লোকেরা প্রায় ইসলাম গ্রহণ করার উপক্রম হয়েছিল।

এটি আমাদের আবু যর-এর গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়, যিনি তাঁর মূর্তিকে ভেজা অবস্থায় পেয়েছিলেন কারণ একটি শিয়াল তার ওপর প্রস্রাব করে দিয়েছিল। আবু যর তখন ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি বললেন: সে কি কোনো রব যার মাথায় শিয়াল প্রস্রাব করে? শিয়াল যার ওপর প্রস্রাব করে সে তো লাঞ্ছিত। যদি সে রব হতো তবে সে নিজেকে রক্ষা করত, সুতরাং যে রবের ওপর বিপদ আপতিত হয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আমি পৃথিবীর সমস্ত মূর্তি বর্জন করলাম এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম যিনি বিজয়ী। এরপর তিনি রসূলের কাছে প্রবেশ করেন তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার জন্য। তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁকে বললেন: (হে আবু যর! শিয়াল তোমার মূর্তির সাথে কী করেছে?)।

এর মধ্যে আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাবের গল্পটিও রয়েছে। তাঁর পিতা কঠোর মেজাজের ছিলেন এবং এই লোকগুলোর কোনো বিচারবুদ্ধি ছিল না। খাত্তাবের আজওয়া খেজুরের তৈরি একটি উপাস্য ছিল যার সে ইবাদত করত। একদিন খাত্তাব কোথাও যাওয়ার সময় তাঁর পুত্র উমরকে এই মূর্তির পাহারায় রেখে গেলেন। তাঁর বয়স তখন দশ বছর। তিনি পিতার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আমার উপাস্য! আমাকে খেতে দাও, সে কোনো উত্তর দিল না। হে আমার উপাস্য আমাকে পান করাও। তিনি বললেন: তখন আমি তার একটি বাহু নিলাম এবং সেটি খেয়ে ফেললাম—সে কোনো কথা বলল না (তিনি দেখলেন আজওয়া খেজুরের স্বাদ তো বেশ মিষ্টি)—তিনি অন্য বাহুটিও নিলেন এবং সেটিও খেয়ে ফেললাম, সে কোনো কথা বলল না। এভাবে তিনি সম্পূর্ণ মূর্তিটি খেয়ে ফেললেন। তখন আমাদের নেতা উমর খাত্তাবের কঠোরতার কথা স্মরণ করলেন এবং তাঁর মাকে অন্য একটি মূর্তি তৈরি করে দিতে বললেন। তখন মা আজওয়া খেজুর দিয়ে আরেকটি মূর্তি তৈরি করে দিলেন।

সুতরাং ইবাদতের বিষয়ে আরব অঞ্চল ছিল খুবই অদ্ভুত একটি এলাকা।

আর আমাদের নেতা নূহ তাওহিদ এবং অশ্লীলতা বর্জনের দিকে দাওয়াত দিতেন। তাঁদের পরে আসলেন আমাদের নেতা দাউদ ও সুলায়মান—সেই দুই বাদশাহ যাঁদেরকে তামাম জগতের প্রতিপালক এমন কিছু দিয়েছিলেন যা বিশ্ববাসীর আর কাউকে দেননি।

আমাদের নেতা দাউদের জন্য আল্লাহ লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: {যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি করো এবং তার গাঁথুনিতে সঠিক পরিমাপ রক্ষা করো} [সাবা: ১১]। অর্থাৎ: যুদ্ধ, তলোয়ার এবং বর্শা থেকে রক্ষার জন্য বর্ম।

আর আমাদের নেতা সুলায়মান বলেন: {আমাদেরকে পাখিদের ভাষা শেখানো হয়েছে} [আন-নামল: ১৬]। আমাদের নেতা দাউদ যখন তাঁর ওপর নাজিলকৃত কিতাব ‘যাবুর’ তিলাওয়াত করতেন, তখন তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য ও সৌন্দর্যের কারণে প্রবাহমান পানি থমকে যেত এবং পাখিরা তাঁর সাথে আল্লাহ আযযা ওয়া জালের তাসবিহ পাঠ করত। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে পাহাড়সমূহ! তোমরা তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করো এবং পাখিরাও। আর আমি তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম} [সাবা: ১০]। এরপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র সুলায়মান আসলেন এবং তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হলেন। আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু দিয়েছিলেন যা ইতিপূর্বে বা পরবর্তীতে কাউকে দেননি। আল্লাহ তাঁর জন্য বাতাসকে অনুগত করে দিয়েছিলেন যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকেলে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। {যা তাঁর আদেশে মৃদুভাবে প্রবাহিত হতো যেখানে তিনি পৌঁছাতে চাইতেন। আর শয়তানদেরকেও—যারা ছিল বড় নির্মাতা ও ডুবুরি} [ছোয়াদ: ৩৬ - ৩৭]। তারা সমুদ্রের তলদেশ থেকে তাঁর জন্য মুক্তা ও প্রবাল নিয়ে আসত। আর তাঁর রাজত্ব ছিল বাইতুল মাকদিসে, যেখানে ইহুদিরা এখন আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করতে চায় এই উদ্দেশ্যে যে তার নিচ থেকে সুলায়মানের মন্দির (হাইকাল) বের করবে।

আর হুদহুদ পাখির গল্প যা আল্লাহর নবী সুলায়মানের সাথে ঘটেছিল, তা থেকে আমরা সবাই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। একদিন সুলায়মান তাঁর রাজদরবারে বসে ছিলেন, পাখিরা তাঁকে ছায়া দিচ্ছিল এবং জিন, শয়তান ও বন্য পশুরা তাঁর সামনে ছিল। তখন তিনি সূর্যের আলো দেখতে পেলেন যা তাঁর কাছে পৌঁছেছে। তিনি বললেন: অবশ্যই কোনো একটি পাখি এখানে অনুপস্থিত। {আমার কী হলো যে আমি হুদহুদকে দেখতে পাচ্ছি না?} [আন-নামল: ২০]। কিছুক্ষণ পর হুদহুদ তাঁর কাছে আসল এবং বলল: {আমি সাবা দেশ থেকে আপনার কাছে নিশ্চিত খবর নিয়ে এসেছি} [আন-নামল: ২২]। সে বলল: সেখানে মানুষদের মধ্যে একজন নারী রয়েছে যে তাদের ওপর রাজত্ব করছে এবং তার কওম আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করে, আর শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের সামনে সুশোভিত করেছে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। সুতরাং হুদহুদ ঈমান, তাওহিদ এবং আকিদার বিষয়ে কথা বলল। তখন সুলায়মান হুদহুদের কথা এবং সে যে খবর নিয়ে এসেছে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে চাইলেন।

অতঃপর তিনি তার সাথে একটি পত্র পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন: এই পত্রটি নিয়ে যাও এবং তাঁদের কাছে ফেলে দাও। হুদহুদ বাইতুল মাকদিস থেকে সানআ পর্যন্ত পথ পাড়ি দিল এবং আল্লাহর নবী সুলায়মানের বার্তা বহন করে উড়ে চলল। হুদহুদ বার্তাটি নিয়ে সাবা দেশের রানির কাছে গেল এবং তাঁদের কাছে পত্রটি নিক্ষেপ করল। তিনি বললেন: {নিশ্চয়ই আমার কাছে একটি সম্মানিত পত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে} [আন-নামল: ২৯]; কারণ হস্তাক্ষর দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এটি রাজকীয় লিপি এবং তাতে রাজকীয় সীলমোহর ছিল, সুতরাং এটি নিশ্চিত ছিল যে পত্রটি আল্লাহর নবী সুলায়মানের পক্ষ থেকে এসেছে। অতঃপর তিনি তাঁদের মতামত জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁরা বলল: {আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর যোদ্ধার অধিকারী, আর সিদ্ধান্ত আপনারই হাতে, অতএব আপনি ভেবে দেখুন কী আদেশ করবেন} [আন-নামল: ৩৩]। আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: (সেই জাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত যারা তাদের কার্যাবলীর দায়িত্বভার একজন নারীর ওপর ন্যস্ত করেছে)। তাই আমি আশা করতাম যে সরকারি অফিসগুলো পুরুষরাই পরিচালনা করবে, আর যে স্কুলে মহিলা প্রধান শিক্ষিকা থাকবেন সেখানে আমি আশা করি তাঁর অধীনে সবাই যেন নারীই হয়। কিন্তু একজন পুরুষের একজন নারীর অধীনে কাজ করা—এটি সমীচীন নয়। আর নারীর বিচারবুদ্ধি ঠিক পুরুষদের মতোই, তবে তাদের মূল স্থান হলো ঘর।

আর হায়! এই বিষয়টি যদি বিবেচনা করা হতো যে, নারী তার স্বভাবজাত কারণেই এমন কিছু দিন অতিবাহিত করে যখন সে খিটখিটে মেজাজে থাকে। এটি তার শরীরে নির্দিষ্ট কিছু নিঃসরণের (হরমোন) কারণে ঘটে যা তাকে খিটখিটে অবস্থায় রাখে। তাই কখনও আপনি দেখবেন নারী আপনার প্রতি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট, কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই সেই সন্তুষ্টি কর্পূরের মতো উড়ে যায় এবং আপনি বুঝতে পারেন না তা কোথায় গেল। এটিই তাদের অবস্থা।

এর মানে এই নয় যে নারীদের মধ্যে পাগলামি আছে; বরং দয়ার একটি মাত্র বাক্যই নারীকে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করে দেয়, যেমন মুদাল্লিম আশ-শাইবানি-র কন্যা বলেছিলেন: হে বৎস! তুমি তাঁর জন্য দাসী হয়ে যাও, তবে তিনি তোমার জন্য দাস হয়ে যাবেন।

অর্থাৎ: তুমি তোমার স্বামীর জন্য সেবিকার মতো হও, তবে তিনি তোমার কাছে দাসের মতো হয়ে থাকবেন।

রানি বললেন: {আর আমি তাঁদের কাছে একটি উপহার পাঠাচ্ছি, দেখি প্রেরিতরা কী খবর নিয়ে ফিরে আসে} [আন-নামল: ৩৫]। অতঃপর রানির দূতেরা সুলায়মানের রাজত্বে প্রবেশ করল। শয়তান এবং জিনেরা সুলায়মান যে সিংহাসনে বসেন তার দিকে যাওয়ার রাস্তাটি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করেছিল। দূতেরা সোনার উপহার নিয়ে প্রবেশ করল যা সুলায়মানের তুলনায় ছিল অত্যন্ত নগণ্য। তখন তিনি বললেন: {তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম; বরং তোমরাই তোমাদের উপহার নিয়ে আনন্দিত থাকো} [আন-নামল: ৩৬]। আল্লাহর নবী সুলায়মান নিশ্চিত হলেন যে তারা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হিসেবে তাঁর কাছে আসবে। তখন তিনি তাঁর জিন সেনাদের কাছে প্রস্তাব দিলেন যে, বিলকিস পৌঁছানোর আগেই কে তার সিংহাসন নিয়ে আসবে? {জিনদের মধ্য থেকে এক শক্তিশালী ইফরিত বলল: আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব এবং নিশ্চয়ই আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত} [আন-নামল: ৩৯]।

তখন আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী এক ইফরিত, যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল, সে বলল: {আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব} [আন-নামল: ৪০]। অতঃপর যেমনই ওনিমান্টস
(খণ্ড: ১) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: -)
مقتطفات من السيرة   (عمر عبد الكافي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مقتطفات من السيرة

المؤلف: عمر عبد الكافى شحاتة

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 25 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1432

সীরাতের সংক্ষিপ্তাংশ   (ওমর আবদেল কাফি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


কিতাব: সীরাতের সংক্ষিপ্তাংশ

লেখক: ওমর আবদেল কাফি শেহাতা

কিতাবের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি হলো দরস নম্বর - ২৫টি দরস ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌سلسلة مقتطفات من السيرة [2]

لقد كان العالم قبل مجيء سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم يعج بالأباطيل والظلم والكفر، ولم تكن أمة من الأمم مؤهلة لحمل الرسالة الإلهية كأمة العرب، لما كان فيهم من الأخلاق النبيلة.

وقد تقدم مولده صلى الله عليه وسلم إرهاصات كثيرة ومبشرات تنبئ عن مقدمه بالنور ليضيء العالم بعد تخبطه أزماناً في دياجير الظلام.
সীরাত হতে চয়নকৃত অংশাবলি [২]

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পূর্বে বিশ্ব বাতিল, জুলুম ও কুফরিতে পরিপূর্ণ ছিল। তৎকালীন কোনো জাতিই ঐশী বার্তা বহনের জন্য আরব জাতির ন্যায় উপযুক্ত ছিল না, কারণ তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল মহৎ চারিত্রিক গুণাবলি।

তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের পূর্বে বহু অলৌকিক পূর্বাভাস ও সুসংবাদ পরিলক্ষিত হয়েছিল যা নুর নিয়ে তাঁর আগমনের বার্তা দিচ্ছিল, যাতে দীর্ঘকাল অন্ধকারের ঘোর অমানিশায় পথভ্রষ্ট থাকার পর বিশ্ব পুনরায় আলোকিত হয়।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الرد على من أنكر المعجزات النبوية أو لم يذكرها في كتبه

هذه هي الحلقة الثانية من السيرة العطرة لسيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والحديث عن السيرة ليس سرداً تاريخياً لوقائع السيرة أو للتاريخ، ولكننا ندرس التاريخ الإسلامي والسيرة العطرة لسيدنا الحبيب صلى الله عليه وسلم لكي نأخذ العبر والعظات التي نتعلمها منه صلى الله عليه وسلم.

فلقد كانت حياته كلها عبراً ودروساً مستفادة يستطيع المسلم أن يأخذ منها القبس وأن يضيء منها المصابيح وأن يتلمس منها المفاتيح في ليالي الأيام وظلمات الطرقات وهو يسير إلى الله عز وجل سيراً حثيثاً.

كما أن المتصدر لتدريس حياة النبي صلى الله عليه وسلم يجب ألا ينسى للحظة أنه نبي، فمن قال: إنه كان قائداً عظيماً، فلابد أن يعلم أنه نبي كذلك، ومن قال: إنه كان سياسياً بارعاً، نعم هو كذلك ولكنه نبي، فكل حركة من حياة سيدنا الحبيب فهي نابعة من النبوة، أي: وهي بأمر من الله عز وجل فعندما يتكلم فإنه يتكلم بوحي من الله، ويتحرك ويتصرف بناء على توجيهات الوحي الأعلى، فهذه مسألة مهمة أغفلها العلماء الذين ظهروا في بداية العصر الحديث من أمثال محمد عبده والشيخ المراغي ومن على وتيرتهم رحمهم الله جميعاً وألحقنا بهم على الإسلام، وجزاهم الله خيراً على ما فعلوا للأمة الإسلامية؛ لكنهم جاءوا في وقت كان الهجوم على الإسلام شرساً، والهجوم على نبي الإسلام أشد شراسة.

وقد دافعوا عن سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فخلت كتاباتهم التي كتبوها عن لفظة (رسول الله)، ومن الحديث عن المعجزات؛ لأنهم شعروا أن المعجزات ليست مسألة عقلية، وهم كانوا يدحضون الحجة بالحجة، فيريدون أن يردوا على أمثال رينان أو من كان على شاكلته من المستشرقين.

فهذا الرجل علماني أو عقلاني، فمن أجل أن يقنعه محمد عبده فإنه يرد عليه بالعقل.

فـ محمد عبده لم يتحدث مثلاً عن حادثة المعراج؛ لأنه رأى أن هذه مسألة ليست عقلية عند الأوروبيين وهم لن يقبلوا، ولم يتحدث مثلاً عن أن المياه نبعت من بين أصابع الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم بحجة أن هذه ليست مسألة عقلية، ولم يتحدث أن الرسول مسح بيده على قدم أبي بكر في الغار عندما لدغته الحية فعادت سليمة كأن لم يكن بها شيء، لكن نقول لـ محمد عبده ولغيره: نحن نأخذ شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم على أنه رسول مؤيد بالوحي الأعلى، وقد ورد في كتب الصحاح، أن رجلاً أعرابياً اصطاد ضباً، ثم أتى أناساً كان بينهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان يسأل: من هذا؟ من هذا؟ فقالوا: هذا رسول الله، فاقترب منه وقال: يا محمد! من يشهد لك بالرسالة؟ ولو قال له: الله يشهد، فسينكر الأعرابي، ولو قال له: الصحابة يشهدون فإنه سيقول: إنهم أصحابك وأصدقاؤك.

فقال الحبيب مبتسماً: (أتريد شاهداً يشهد على صدق رسالتي يا أعرابي؟ قال له: نعم، قال له: هذا الضب الذي في يدك)، فنظر الرجل إلى الضب فقال الضب بلسان عربي مبين: أشهد أنك رسول الله، فإذاً الرسول مؤيد من الوحي الأعلى.

أما أن يأتي محمد عبده أو غيره من أجل أن ينفي قضية المعجزات فهذا خطأ فادح.

ومن المعجزات أن النبي يوم ولد تصدع إيوان كسرى وغاضت بحيرة ساوة وسقطت شرفات إيوان كسرى وخمدت نار فارس.

فنحن خلال دراستنا لحياة الحبيب يجب أن ننظر إليه على أنه رسول، وقد وضح هذه القضية لـ عمر بن الخطاب فقد دخل عليه يوماً ووجد الحصير وقد أثر في جنبه، فقارن سيدنا عمر بين كسرى وقيصر وهما يعصيان الله ويرفلان في الحرير والديباج، وتنام أنت على حصير ويؤثر في جنبك يا رسول الله! فقال: (يا ابن الخطاب أفي شك أنت؟ إنها نبوة لا ملك وشقاء أمتي يوم يكون فيها كسرى ويوم يكون فيها قيصر).

وعندما كان يجد عليه الصلاة والسلام الصحابة يقومون له عندما يأتي احتراماً له وهيبة فكان يأمرهم فيقول: (اجلسوا، إنما يقوم الناس لرب العالمين، لا تطروني كما أطرت الأعاجم ملوكها ولا تعظموني كما عظمت النصارى المسيح ابن مريم، وإنما قولوا: عبد الله ورسوله، فأنا عبد الله ورسوله)، ففيه العبودية وفيه الرسالة.

{قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} [الكهف:110] ضع تحت (يوحى إلي) خطوطاً.

يقف أبو سفيان في فتح مكة، والمسلمين داخلين خلف الحبيب فالرايات مرفوعة، راية خضراء للأوس وراية ثانية للخزرج وراية أخرى للمهاجرين، والرسول داخل بين كوكبة من صحابته ورايته سوداء صلى الله عليه وسلم يحملها علي بن أبي طالب، فعندما دخل العشرة آلاف قال أبو سفيان للعباس: لقد صار ملك ابن أخيك كبيراً، فيرد العباس ويقول له: إنها نبوة لا ملك يا أبا سفيان! أي: أن هذا التأييد إلهي من الله عز وجل، {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} [الكهف:110]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة:67].

ويقول لموسى: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه:39] ويقول لحبيبه محمد: {فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا} [الطور:48].

وقد أشار موسى إلى الرسالة، وأشارت الرسالة إلى محمد عليه الصلاة والسلام.

فموسى قال لأهله {امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا} [طه:10] فهو أشار ناحية الرسالة، بينما الرسالة جاءت لحبيب الله، ويقول الله لموسى: {وَأَنَا اخْتَرْتُكَ} [طه:13] وحبيبنا عليه الصلاة والسلام هو المختار.

وفي صلح الحديبية يحصل أمر غريب: فالمشركون أرادوا الصلح وأرسلوا سهيل بن عمرو رئيس وفد المشركين في المفاوضات، وكان سيدنا الحبيب صلى الله عليه وسلم ومعه المسلمون في الطرف الآخر من المفاوضات، وأمر علياً أن يكتب بنود الصلح، وفي النهاية قال: اكتب يا علي! هذا ما عاهد عليه محمد رسول الله سهيل بن عمرو.

فقال سهيل: لو أعلم أنك رسول الله ما قاتلتك.

وهذا الكلام مهم جداً ونريد خلال دراسة السيرة أن نرتقي ونرتفع لنقترب من شخصية الحبيب المصطفى، التي سوف نرى فيها عجباً عجاباً، فإنه ما قدره حق قدره إلا ربه.

ولذلك عندما حدثت الأزمات وراء بعضها: خديجة تموت، ثم بعد ثلاثة أيام يموت أبو طالب واشتد الإيذاء من قريش، فيذهب إلى الطائف ليكذبه أهل الطائف ويخرجوا أولادهم يقذفون بالحجارة وتسيل دماؤه الزاكية على رمال الطائف، ويجلس هناك في ظل البستان، فينادي ربه ويقول: (اللهم أنت رب المستضعفين وأنت ربي، إلى من تكلني؟ إلى بعيد يتجهمني؟ أم إلى عدو ملكته أمري؟ إن لم يكن بك غضب علي فلا أبالي، ولكن عافيتك هي أوسع لي، أعوذ بنور وجهك الذي أضاءت له السماء والأرض، وصلح عليه أمر الدنيا والآخرة من أن ينزل بي غضبك أو يحل بي سخطك، لك العتبى حتى ترضى ولا حول ولا قوة إلا بك)، فترتج لهذا الدعاء أرجاء السماء، واجتمعت الملائكة كلها في صف الحبيب المصطفى.

وقد قال تعالى لنسائه: {وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيرٌ} [التحريم:4] فجبريل في صفه والملائكة والمؤمنون، والله قبل كل شيء وبعد كل شيء.

فينزل ملك الجبال ويقول: السلام يقرئك السلام، ويقول لك: إن شئت أن أطبق عليهم الأخشبين فقال: لا تفعل؛ فلعل الله يخرج من أصلابهم من يقول: لا إله إلا الله.

وقد قال عليه الصلاة والسلام: (بعثت إلى الناس كافة، فإن لم يؤمنوا فإلى العرب خاصة، فإن لم يؤمنوا فإلى قريش، فإن لم يؤمنوا فإلى بني عبد مناف، فإن لم يؤمنوا فإلى بني هاشم، فإن لم يؤمنوا فإلى نفسي)، وهذا من تواضعه عليه الصلاة والسلام، اللهم ثقل بصلاتنا عليه موازيننا يوم القيامة، اللهم فرح بنا قلب نبينا، واسقنا من يده الكريمة شربة من حوض الكوثر لا نظمأ بعدها أبداً آمين يا رب العالمين.

وبينما هو راجع من الطائف كان يسلي نفسه بسورة الرحمن، فكلما وصل إلى قوله تعالى: {فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ} [الرحمن:13] يسمع من يقول: ولا بأي من آلائك نكذب يا ربنا فلك الحمد، فيلتفت من حوله فلا يجد أحداً، فيعرف أن الجن قد آمنت به، أي: فإن كنت حزيناً من الإنس فقد آمنت بك الجن، وإن كنت هيناً عند أهل الأرض فأنت عظيم عند أهل السماء.

وبالليل رجع إلى مكة فوجد أبا طالب قد مات وخديجة قد ماتت بعده بفترة، وأهل الطائف لم يؤمنوا، فاشتد تنكيل قريش بالتعذيب والقهر والجبروت لأصحابه ولأحبابه، عند هذا الألم والضيق يطرق الباب عليه طارق، فيدخل من الباب رجل شديد بياض الوجه شديد سواد الشعر ليس عليه أثر السفر، فقال: يا محمد! السلام يقرئك السلام ويستزيرك ويقول: أنت ضيف على ربك الليلة.

وكأن الله يقول له: إذا كانت خديجة ماتت وأبو طالب مات فلا تخف فإني معك.

ومادمت مع الله فلا تظن أن شيئاً قد فاتك أبداً، فثق يا مظلوم! أن نصر الله آت، وليكن عندك ثقة في الله عز وجل وأن نصر الله آت، ولكن في الوقت الذي يريده هو لا في الوقت الذي تريده أنت.
যারা নববী মুজেযা (অলৌকিকত্ব) অস্বীকার করে কিংবা তা নিজ কিতাবসমূহে উল্লেখ করেনি, তাদের খণ্ডন

এটি আমাদের সাইয়্যেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধিময় সীরাত বা জীবনচরিতের দ্বিতীয় পর্ব।

সীরাত নিয়ে আলোচনা করা মানে সীরাত বা ইতিহাসের নিছক কিছু ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং আমরা ইসলামী ইতিহাস এবং আমাদের প্রিয় সাইয়্যেদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধিময় সীরাত এ জন্যই অধ্যয়ন করি যাতে আমরা সেখান থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারি যা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন।

কেননা তাঁর পুরো জীবনই ছিল শিক্ষা এবং শিক্ষণীয় পাঠে ভরপুর, যেখান থেকে একজন মুসলিম সত্যের আলোকচ্ছটা গ্রহণ করতে পারে, প্রদীপ প্রজ্বলিত করতে পারে এবং দিন-রাত্রির অন্ধকার পথে যখন সে মহান আল্লাহর দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে, তখন সে সেখান থেকে সাফল্যের চাবিকাঠি খুঁজে নিতে পারে।

তেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত পাঠদানে যারা নিয়োজিত, তাদের এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে—তিনি একজন নবী। যে ব্যক্তি বলে: 'তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন', তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে তিনি একজন নবীও ছিলেন। আর যে বলে: 'তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন', হ্যাঁ, তিনি তা-ই ছিলেন কিন্তু তিনি একজন নবীও ছিলেন। সুতরাং প্রিয় সাইয়্যেদের জীবনের প্রতিটি নড়াচড়া ও পদক্ষেপ নবুওয়াত থেকে উৎসারিত, অর্থাৎ তা মহান আল্লাহর আদেশেই সংঘটিত। তিনি যখন কথা বলতেন তখন আল্লাহর ওহী বা প্রত্যাদেশের আলোকেই বলতেন, এবং তাঁর প্রতিটি কাজ ও আচরণ উচ্চতর ওহীর নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরিচালিত হতো। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আধুনিক যুগের শুরুতে আবির্ভূত হওয়া কিছু আলেম উপেক্ষা করেছেন, যেমন—মুহাম্মদ আবদুহ, শায়খ মারাগী এবং তাঁদের পথ অনুসরণকারী ব্যক্তিবর্গ, আল্লাহ তাঁদের সকলকে রহম করুন এবং ইসলামের উপর আমাদের তাঁদের সাথে মিলিত করুন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন যা কিছু তাঁরা মুসলিম উম্মাহর জন্য করেছেন। তবে তাঁরা এমন এক সময়ে এসেছিলেন যখন ইসলামের ওপর আক্রমণ ছিল অত্যন্ত প্রচণ্ড, আর ইসলামের নবীর ওপর আক্রমণ ছিল আরও ভয়াবহ।

তাঁরা সাইয়্যেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন, ফলে তাঁদের লেখনিগুলো 'রাসূলুল্লাহ' শব্দটির ব্যবহার এবং মুজেযা বা অলৌকিক ঘটনাবলির আলোচনা থেকে শূন্য হয়ে পড়েছিল। এর কারণ ছিল তাঁরা মনে করেছিলেন যে মুজেযা কোনো বুদ্ধিভিত্তিক বা যৌক্তিক বিষয় নয়, আর তাঁরা যুক্তির বিপরীতে যুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে চেয়েছিলেন; তাঁরা চেয়েছিলেন রেনান বা তার মতো প্রাচ্যবিদদের জবাব দিতে।

রেনান ছিল একজন সেক্যুলার বা যুক্তিবাদী মানুষ; তাই তাকে আশ্বস্ত করার জন্য মুহাম্মদ আবদুহ তাকে যুক্তির মাধ্যমেই জবাব দিতে চেয়েছিলেন।

উদাহরণস্বরূপ, মুহাম্মদ আবদুহ মেরাজের ঘটনা নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি; কারণ তিনি মনে করেছিলেন এটি ইউরোপীয়দের কাছে কোনো যৌক্তিক বিষয় নয় এবং তারা এটি গ্রহণ করবে না। তিনি যেমন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলের মাঝখান থেকে পানি প্রবাহিত হওয়ার ঘটনা নিয়েও কোনো কথা বলেননি এই অজুহাতে যে এটি কোনো যৌক্তিক বিষয় নয়। তিনি এ কথাও বলেননি যে, গর্তের মধ্যে যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাপে দংশন করেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত দিয়ে তাঁর পায়ে হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন এবং তা এমনভাবে সুস্থ হয়ে গিয়েছিল যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু আমরা মুহাম্মদ আবদুহ এবং অন্যদের উদ্দেশ্যে বলি: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বকে এমন একজন রাসূল হিসেবে গ্রহণ করি যিনি উচ্চতর ওহী দ্বারা সমর্থিত। বিশুদ্ধ হাদিসের কিতাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক গ্রাম্য আরব (বেদুঈন) একটি গোসাপ শিকার করেছিল, তারপর সে এমন কিছু মানুষের কাছে এল যাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। সে জিজ্ঞাসা করছিল: উনি কে? উনি কে? তারা বলল: ইনি আল্লাহর রাসূল। তখন সে তাঁর কাছে গিয়ে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনার রিসালাতের পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি বলতেন: 'আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন', তবে সেই বেদুঈন তা অস্বীকার করত। আর যদি বলতেন: 'সাহাবীরা সাক্ষ্য দিচ্ছে', তবে সে বলত: 'এরা তো আপনার সঙ্গী ও বন্ধু'।

তখন প্রিয় নবী মুচকি হেসে বললেন: (হে বেদুঈন! তুমি কি এমন কোনো সাক্ষী চাও যে আমার রিসালাতের সত্যতার সাক্ষ্য দেবে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমার হাতের এই গোসাপটি)। তখন লোকটি গোসাপটির দিকে তাকাল এবং গোসাপটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। সুতরাং বুঝা গেল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চতর ওহী দ্বারা সমর্থিত।

পক্ষান্তরে, মুহাম্মদ আবদুহ বা অন্যদের মুজেযা বা অলৌকিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করতে আসা একটি মারাত্মক ভুল।

মুজেযার মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন জন্মগ্রহণ করেন সেদিন পারস্য সম্রাট কিসরার রাজপ্রাসাদ কেঁপে উঠেছিল, সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে গিয়েছিল, কিসরার প্রাসাদের চূড়াগুলো ধসে পড়েছিল এবং পারস্যের অগ্নি উপাসকদের আগুন নিভে গিয়েছিল।

সুতরাং প্রিয় নবীর জীবন অধ্যয়নের সময় আমাদের অবশ্যই তাঁকে একজন রাসূল হিসেবে দেখতে হবে। তিনি এই বিষয়টি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে স্পষ্ট করেছিলেন যখন ওমর একদিন তাঁর ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন যে চাটাইয়ের দাগ তাঁর শরীরের এক পাশে পড়ে আছে। তখন ওমর পারস্যের সম্রাট কিসরা এবং রোম সম্রাট কায়সারের জাঁকজমকের সাথে তুলনা করলেন যে, তারা আল্লাহর নাফরমানি করা সত্ত্বেও রেশম ও মখমলের বিছানায় আয়েশ করছে, আর আপনি হে আল্লাহর রাসূল! চাটাইয়ের ওপর ঘুমান এবং আপনার পাশে তার দাগ পড়ে যায়! তখন তিনি বললেন: (হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি এখনো সন্দেহের মধ্যে আছো? এটি নবুওয়াত, রাজতন্ত্র নয়। আর আমার উম্মতের দুর্ভাগ্য সেদিন হবে যেদিন তাদের মধ্যে কিসরা ও কায়সার তৈরি হবে)।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখতেন যে তাঁর আগমনে সাহাবীগণ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি তাঁদের আদেশ দিয়ে বলতেন: (তোমরা বসে পড়ো, মানুষ কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্যই দাঁড়ায়। তোমরা আমাকে নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করো না যেমন অনারবরা তাদের রাজাদের নিয়ে করত এবং নাসারারা (খ্রিস্টানরা) যেমন মরিয়ম পুত্র ঈসা আলাইহিস সালামকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। বরং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি তো আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল)। সুতরাং তাঁর মধ্যে দাসত্বও আছে আবার রিসালাতও আছে।

'বলুন: আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়' [সূরা কাহফ: ১১০]। এই 'আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়' কথাটির নিচে দাগ দিন।

মক্কা বিজয়ের সময় আবু সুফিয়ান দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর মুসলিমরা প্রিয় নবীর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে প্রবেশ করছিলেন। পতাকাগুলো উড্ডীন ছিল; আউস গোত্রের জন্য সবুজ পতাকা, খাযরাজ গোত্রের জন্য আরেকটি এবং মুহাজিরদের জন্য আলাদা পতাকা। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে প্রবেশ করছিলেন এবং তাঁর কালো রঙের পতাকাটি বহন করছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। যখন দশ হাজার সৈন্য প্রবেশ করল, তখন আবু সুফিয়ান আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: আপনার ভাতিজার রাজত্ব তো অনেক বড় হয়ে গেছে! তখন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে উত্তর দিয়ে বললেন: হে আবু সুফিয়ান! এটি রাজত্ব নয় বরং এটি নবুওয়াত! অর্থাৎ, এই সমর্থন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ঐশ্বরিক সাহায্য। 'বলুন: আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়' [সূরা কাহফ: ১১০]। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তাঁর বার্তা পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন' [সূরা মায়িদা: ৬৭]।

আর তিনি মুসা আলাইহিস সালামকে বলেছিলেন: 'যাতে তুমি আমার চোখের সামনে গড়ে ওঠো' [সূরা ত্বহা: ৩৯]। আর তাঁর প্রিয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আপনি আমাদের চোখের সামনে রয়েছেন' [সূরা তূর: ৪৮]।

মুসা আলাইহিস সালাম রিসালাতের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন, আর রিসালাত স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ইশারা করেছে।

মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর পরিবারকে বলেছিলেন: 'তোমরা অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি' [সূরা ত্বহা: ১০]। তিনি আগুনের মাধ্যমে রিসালাতের দিকে ইশারা করেছিলেন, আর রিসালাত স্বয়ং আল্লাহর প্রিয় নবীর কাছে চলে এসেছে। আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে বলেছিলেন: 'আর আমি তোমাকে পছন্দ করে নিয়েছি' [সূরা ত্বহা: ১৩], আর আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন স্বয়ং 'আল-মুখতার' বা মনোনীত জন।

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে: মুশরিকরা সন্ধি করতে চাইল এবং তারা আলোচনার জন্য মুশরিক প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে সুহাইল ইবনে আমরকে পাঠাল। অন্যদিকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে মুসলিমরা আলোচনার অপর পক্ষে ছিলেন। তিনি আলীকে সন্ধির শর্তাবলি লিখতে নির্দেশ দিলেন। পরিশেষে তিনি বললেন: হে আলী, লেখো! 'এটি সেই চুক্তি যা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ এবং সুহাইল ইবনে আমরের মধ্যে সম্পাদিত হলো।'

সুহাইল বলল: আমি যদি জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে আমি আপনার সাথে যুদ্ধ করতাম না।

এই কথাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেদের উন্নত করতে চাই এবং প্রিয় মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের নিকটবর্তী হতে চাই, যার মধ্যে আমরা বিস্ময়কর সব বিষয় দেখতে পাব; কেননা তাঁর প্রতিপালক ছাড়া আর কেউই তাঁর মর্যাদার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি।

এ কারণেই যখন একের পর এক সংকট আসছিল: খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকাল করলেন, তার তিন দিন পর আবু তালিব মারা গেলেন এবং কুরাইশদের নির্যাতন চরম আকার ধারণ করল, তখন তিনি তায়েফে গেলেন। কিন্তু তায়েফবাসী তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তাদের সন্তানদের লেলিয়ে দিল যারা পাথর ছুড়তে শুরু করল, ফলে তাঁর পবিত্র রক্ত তায়েফের বালুকণায় ঝরল। তিনি সেখানে একটি বাগানের ছায়ায় বসে তাঁর প্রতিপালককে ডাকলেন এবং বললেন: (হে আল্লাহ, আপনিই দুর্বলদের পালনকর্তা আর আপনিই আমার পালনকর্তা। আপনি আমাকে কার কাছে সঁপে দিচ্ছেন? এমন কোনো অপরিচিতের কাছে যে আমার সাথে রুক্ষ ব্যবহার করে? নাকি এমন কোনো শত্রুর কাছে যাকে আপনি আমার ভাগ্যের মালিক করে দিয়েছেন? যদি আপনি আমার ওপর রাগান্বিত না হন, তবে আমি কোনো কিছুর পরোয়া করি না। কিন্তু আপনার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা আমার জন্য অনেক প্রশস্ত। আমি আপনার চেহারার সেই নূরের (আলোর) উছিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করছি যার মাধ্যমে আসমান ও জমিন আলোকিত হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সকল বিষয় সংশোধিত হয়েছে, যেন আপনার ক্রোধ আমার ওপর না পড়ে কিংবা আপনার অসন্তুষ্টি আমার ওপর না নামে। আপনার সন্তুষ্টি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আর আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই)। এই দোয়ায় আকাশমণ্ডল প্রকম্পিত হলো এবং সমস্ত ফেরেশতা প্রিয় মুস্তফার পক্ষে সমবেত হলেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: 'যদি তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করো, তবে জেনে রেখো আল্লাহই তাঁর বন্ধু এবং জিবরীল ও সৎকর্মশীল মুমিনগণও তাঁর বন্ধু। তদুপরি ফেরেশতারাও তাঁর সাহায্যকারী' [সূরা তাহরীম: ৪]। সুতরাং জিবরীল তাঁর পক্ষে, ফেরেশতারা ও মুমিনরা তাঁর পক্ষে, আর আল্লাহ সব কিছুর আগে এবং সব কিছুর পরে তাঁর সাথে আছেন।

অতঃপর পাহাড়ের ফেরেশতা নেমে এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন: আপনি যদি চান তবে আমি এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে তাদের পিষে ফেলব। তিনি বললেন: এমনটি করবেন না; আশা করা যায় আল্লাহ তাদের বংশধরদের থেকে এমন মানুষ বের করবেন যারা বলবে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে সমস্ত মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যদি তারা ঈমান না আনে তবে বিশেষ করে আরবদের কাছে, যদি তারা ঈমান না আনে তবে কুরাইশদের কাছে, যদি তারা ঈমান না আনে তবে বনু আবদে মানাফের কাছে, যদি তারা ঈমান না আনে তবে বনু হাশিমের কাছে, আর যদি তারা ঈমান না আনে তবে আমি আমার নিজের কাছেই প্রেরিত), এটি ছিল তাঁর বিনয়। হে আল্লাহ, কিয়ামতের দিন তাঁর ওপর আমাদের দরুদের মাধ্যমে আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করে দিন। হে আল্লাহ, আমাদের মাধ্যমে আমাদের নবীর হৃদয়কে আনন্দিত করুন এবং তাঁর সম্মানিত হাত থেকে আমাদের হাউজে কাউসারের পানি পান করান, যার পর আমরা আর কখনো তৃষ্ণার্ত হব না। আমীন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

তায়েফ থেকে ফেরার পথে তিনি সূরা আর-রহমান পাঠ করে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। যখনই তিনি আল্লাহর এই বাণীতে পৌঁছাতেন: 'অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?' [সূরা রহমান: ১৩], তখন তিনি কাউকে বলতে শুনতেন: 'হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার কোনো নেয়ামতকেই অস্বীকার করি না, সমস্ত প্রশংসা আপনারই।' তিনি চারপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে জিন জাতি তাঁর ওপর ঈমান এনেছে। অর্থাৎ আল্লাহ যেন বলছেন: মানুষ যদি আপনার কারণে দুঃখিত করে থাকে, তবে জিনরা আপনার ওপর ঈমান এনেছে। আর আপনি যদি পৃথিবীবাসীর কাছে তুচ্ছ হন, তবে আসমানবাসীর কাছে আপনি অত্যন্ত মহান।

রাতের বেলা তিনি মক্কায় ফিরে এসে দেখলেন যে আবু তালিব মারা গেছেন এবং তার কিছুকাল পর খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাও ইন্তেকাল করেছেন। তায়েফবাসীও ঈমান আনেনি। তখন কুরাইশরা তাঁর সাহাবী ও প্রিয়জনদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও জবরদস্তি বাড়িয়ে দিল। এই দুঃখ ও সংকীর্ণতার মুহূর্তে এক আগন্তুক তাঁর দরজায় কড়া নাড়ল। অত্যন্ত উজ্জ্বল চেহারা এবং কুচকুচে কালো চুলের এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন যার মাঝে ভ্রমণের কোনো চিহ্ন ছিল না। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আল্লাহ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন; তিনি বলছেন: আজ রাতে আপনি আপনার প্রতিপালকের মেহমান।

যেন আল্লাহ তাঁকে বলছেন: খাদিজা যদি মারা গিয়ে থাকে এবং আবু তালিবও যদি মারা গিয়ে থাকে, তবে ভয় পাবেন না, আমি আপনার সাথেই আছি।

যতক্ষণ আপনি আল্লাহর সাথে আছেন, ততক্ষণ মনে করবেন না যে আপনি কিছু হারিয়েছেন। হে মজলুম, বিশ্বাস রাখুন! আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন যে তাঁর সাহায্য সুনিশ্চিত, তবে তা আসবে তাঁর নির্ধারিত সময়ে, আপনার চাওয়া সময়ে নয়।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌سبب اختيار العرب لتكون الرسالة فيهم

وأما بالنسبة لموضوع اليوم فهو سيكون على شقين: سبب اختيار العرب ليكون الرسول من بينهم.

والشق الثاني: المقدمات الطويلة والمبشرات الكثيرة التي تبشر بوصول سيدنا رسول الله.

إن الناظر بنظرة تاريخية إلى حالة العالم قبل ميلاد رسول الله، يجد أنه كان فيه قوتان تحكمان وهم الفرس وهؤلاء مجوس يعبدون النار، والروم وهؤلاء أهل كتاب ولكنهم يؤمنون بالتثليث وببنوة عيسى لله أو أنه هو الله.

وهناك قوة أخرى ولكنها بعيدة بالنسبة لهذا العصر وهي الهند وشرق آسيا وما وراء النهر، وهذه قوة رهيبة جداً ولكن كان عندهم مسألة زواج المحارم -كما قلنا من قبل- فيحل للواحد عندهم أن يتزوج بنته أو يتزوج عمته أو خالته أو أخته.

وأصلح الناس في هذا الوقت لتلقي الرسالة هم العرب.

فالفرس عبارة عن أناس كافرين بالله عز وجل يعبدون النار، ففيهم الجبروت كما كان الفراعنة وكما كان الفينيقيون.

وأما الرومان فهم دولة استعمارية -كما يقال- تجيد الاستعمار وتجيد احتلال الأرض وتجيد أن تأخذ ما ليس من حقها.

أما الهنود فعندهم عبادات غريبة، فهم لا يصلحون للرسالة، لبعدهم عن العالم في هذا الوقت.

أما العرب فهم أمة فيها من الأخلاق ما لو طور لصاروا أفضل الناس، ومن الأخلاق التي يتميز بها العربي: الكرم، وقد جاء الإسلام يدعو إلى الكرم وكان سيدنا الحبيب أجود من الريح المرسلة، وكان كريماً جداً صلى الله عليه وسلم.

والشهامة كذلك لا تجدها إلا في العربي، والغيرة على المحارم لا تجدها إلا في العربي، حتى وصل الأمر ببعض القبائل أنهم كانوا يئدون بناتهم أحياء بدافع الغيرة ومن خوفهم أن البنت ستجلب العار وهذا ما جاء الشرع ليحرمه، لكن هذا كان من شدة غيرة العربي على المحارم حتى قال عنترة: وأغض طرفي إن بدت لي جارتي حتى يواري جارتي مأواها ومن الأخلاق الفاضلة النجدة؛ وقد بلغ الأمر أن النجدة والكرم العربي وصل إلى أن هاشماً جد الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم كان يهشم الثريد ويطعم أهل مكة في المجاعة عاماً متواصلاً إلى أن تزول الأزمة: عمرو الذي هشم الثريد لقومه وأهل مكة مسنتون عجاف ولذلك سمي هاشماً.
আরবদের মাঝে রিসালাত প্রেরণের কারণ

আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু দুটি অংশে বিভক্ত হবে: প্রথমত, আরবদের মধ্য থেকে রাসূল নির্বাচিত হওয়ার কারণ।

দ্বিতীয় অংশটি হলো: দীর্ঘ প্রেক্ষাপট এবং বহু সুসংবাদ যা আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহর আগমনের শুভবার্তা প্রদান করে।

রাসূলুল্লাহর জন্মের পূর্বে বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকালে দেখা যায় যে, তখন দুটি প্রধান শক্তি শাসন করছিল—একদল হলো পারসিক, যারা ছিল অগ্নিনিপূজক মজুসী; আর অন্যদল হলো রোমান, যারা ছিল আহলে কিতাব কিন্তু তারা ত্রিত্ববাদে এবং ঈসাকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে অথবা তিনি নিজেই আল্লাহ বলে বিশ্বাস করত।

সেখানে আরও একটি শক্তি ছিল কিন্তু সেই যুগের প্রেক্ষিতে তা ছিল দূরবর্তী; তা হলো ভারত, পূর্ব এশিয়া এবং মা-ওয়ারাউন নহর অঞ্চল। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি পক্ষ ছিল কিন্তু তাদের মাঝে নিকটাত্মীয়দের সাথে বিবাহের প্রথা বিদ্যমান ছিল—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—তাদের মাঝে নিজের কন্যা, ফুফু, খালা বা বোনকে বিবাহ করা বৈধ ছিল।

সেই সময়ে রিসালাত গ্রহণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জাতি ছিল আরবরা।

কেননা পারসিকরা ছিল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি অবিশ্বাসী এক জাতি যারা আগুনের উপাসনা করত; তাদের মধ্যে ফেরাউন ও ফিনিশীয়দের মতো জবরদস্তি ও অহমিকা বিদ্যমান ছিল।

আর রোমানরা ছিল—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র, যারা উপনিবেশ স্থাপনে, ভূমি দখলে এবং অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে হরণ করতে পারদর্শী ছিল।

ভারতীয়দের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের মাঝে অদ্ভুত সব উপাসনা পদ্ধতি ছিল; সেই যুগে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে তারা রিসালাতের জন্য উপযুক্ত ছিল না।

আরবদের অবস্থা ছিল এই যে, তারা এমন এক জাতি যাদের মধ্যে এমন কিছু উন্নত নৈতিক গুণাবলি ছিল, যা বিকশিত ও সংস্কার করা হলে তারা শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হতে পারত। আরবদের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণ ছিল: দানশীলতা। ইসলাম এসে দানশীলতারই আহ্বান জানিয়েছে এবং আমাদের প্রিয় নবী ছিলেন প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল; তিনি (সা.) অত্যন্ত মহানুভব ও দয়ালু ছিলেন।

তেমনিভাবে পৌরুষদীপ্ত বীরত্ব কেবল আরবদের মধ্যেই পাওয়া যেত, আর নিকটাত্মীয় নারীদের সম্মানের প্রতি প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ বা গায়রাত কেবল আরবদের মধ্যেই দৃশ্যমান ছিল। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কোনো কোনো গোত্র প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ এবং এই ভয়ে তাদের কন্যাদের জীবন্ত কবর দিত যে, তারা কলঙ্ক বয়ে আনতে পারে। শরীয়ত এসে একে হারাম ঘোষণা করেছে। কিন্তু এটি মূলত নিকটাত্মীয়দের প্রতি আরবদের তীব্র রক্ষণশীল মানসিকতা ও গায়রাত থেকেই উৎসারিত ছিল। এমনকি কবি আন্তারা বলেছেন: "যখন আমার প্রতিবেশী নারী আমার সামনে প্রকাশ পায়, তখন আমি আমার দৃষ্টি নিচু করে ফেলি, যতক্ষণ না আমার প্রতিবেশীর ঘর তাকে আড়াল করে নেয়।" আরও একটি উত্তম চরিত্র হলো বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা; আরবদের এই সাহায্য ও দানশীলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, প্রিয় নবী (সা.)-এর দাদা হাশিম দুর্ভিক্ষের সময় একটানা এক বছর মক্কাবাসীদের খাবারের সংকট নিরসনে রুটি ভেঙে সরিদ প্রস্তুত করে খাওয়াতেন: "তিনিই আমর, যিনি তাঁর কওমের জন্য সরিদ তৈরি করেছিলেন, যখন মক্কাবাসীরা দুর্ভিক্ষে জীর্ণ ও কৃশ হয়ে পড়েছিল।" একারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল হাশিম।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حكم التسمي بعبد المطلب

قد يسأل سائل ويقول: جد الحبيب الذي اسمه عبد المطلب هل المطلب اسم من أسماء الله؟ لا، وإنما عم عبد المطلب كان يسمى المطلب بن عبد مناف، فلما مات هاشم بن عبد مناف ذهب المطلب أخوه إلى امرأة أخيه وقال لها: أعطيني ابن أخي من أجل أن نربيه عندنا، وكان عبد المطلب أسمر، فأركبه عمه المطلب وراءه على الفرس، فلما رأته قريش قالت: إن المطلب اشترى عبداً، فسمي بـ عبد المطلب واشتهر بهذا الاسم.

وكل واحد من أجداد الرسول صلى الله عليه وسلم له منقبة وفضل.
আবদুল মুত্তালিব নাম রাখার বিধান

কোনো প্রশ্নকারী হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন এবং বলতে পারেন: প্রিয়তম রসূলের দাদা যাঁর নাম ছিল আবদুল মুত্তালিব—'আল-মুত্তালিব' কি আল্লাহর নামসমূহের একটি? না, বরং আবদুল মুত্তালিবের চাচার নাম ছিল মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ। যখন হাশিম বিন আবদ মানাফ মারা গেলেন, তাঁর ভাই মুত্তালিব তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে গেলেন এবং তাঁকে বললেন: আমার ভ্রাতুষ্পুত্রকে আমার কাছে দিয়ে দিন যাতে আমরা তাকে আমাদের মাঝে লালন-পালন করতে পারি। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন শ্যামলা বর্ণের; তখন তাঁর চাচা মুত্তালিব তাঁকে ঘোড়ার ওপর নিজের পেছনে বসালেন। কুরাইশরা যখন তাঁকে দেখল, তারা বলল: মুত্তালিব একটি গোলাম ক্রয় করেছে; তখন থেকেই তাঁর নাম হয়ে গেল আবদুল মুত্তালিব এবং তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক পূর্বপুরুষেরই রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌قصة عبد مناف وأخذه مفاتيح الكعبة من خزاعة

نأتي بعد ذلك إلى عبد مناف وكان رجلاً إبراهيمياً، يعني: على دين الخليل إبراهيم عليه الصلاة والسلام.

وهذه السلالة المصطفاة كما جاء في الحديث الصحيح: (إن الله اصطفى من خلقه آدم، واصطفى من ولد آدم إبراهيم، واصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل، واصطفى من ولد إسماعيل كنانة، واصطفى من كنانة قريشاً، واصطفى من قريش بني عبد مناف، واصطفى من بني عبد مناف هاشماً، واصطفاني من بني هاشم، فأنا خيار من خيار من خيار) صلى الله عليه وسلم، فهي سلالة عريقة.

وكانت مفاتيح الكعبة عند خزاعة، وكان زعيم قبيلة خزاعة سكيراً، فسكر مرة، فجاءه عبد مناف وقال له: أتبيعني مفاتيح الكعبة بزق من الخمر؟ قال له: نعم، فأحضر له زجاجتين من خمر، وأخذ منه مفاتيح الكعبة، وظلت في أيديهم إلى الآن كما وعدهم النبي صلى الله عليه وسلم.

أقول: إن العرب كانوا أفضل الناس لتلقي الرسالة؛ لأن العرب رغم ما ترى فيهم الآن من شرور؛ لبعدهم عن الإسلام، إلا أنه لا تصلح العرب إلا بنبوة ورسالة، فأنت ترى الشخص منهم منهمكاً في الشهوات، وفجأة عندما يعرف الالتزام ويعرف المسجد تلقى صوته منخفضاً، وتراه مؤدباً ومطيعاً لأبيه وأمه.

إذاً: العرب كانوا أنفع الناس وأجدر الناس بالرسالة، ولذلك هي دعوة الخليل إبراهيم: {وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لا يَنَالُ عَهْدِي} [البقرة:124] إلى أن قال: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ * رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ} [البقرة:127 - 128] أي: الأمة العربية، {وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ * رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [البقرة:128 - 129].

وقال تعالى: {مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمينَ مِنْ قَبْلُ} [الحج:78]، فسدينا إبراهيم سمانا مسلمين.
আবদ মানাফের কাহিনী এবং খুজাআ গোত্রের নিকট থেকে তাঁর কাবার চাবিকাঠি গ্রহণ

এরপর আমরা আসছি আবদ মানাফের প্রসঙ্গে, তিনি ছিলেন একজন ইব্রাহিমি ব্যক্তি, অর্থাৎ: তিনি খলিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দ্বীনের ওপর অটল ছিলেন।

আর এই বংশধারাটি হলো মনোনীত বংশধারা, যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে আদমকে মনোনীত করেছেন, আদমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইব্রাহিমকে মনোনীত করেছেন, ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন, ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন, কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু আবদ মানাফকে মনোনীত করেছেন, বনু আবদ মানাফ থেকে হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন; সুতরাং আমি সর্বোত্তমদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম বংশের সন্তান" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব এটি একটি অতি প্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত বংশধারা।

কাবার চাবিকাঠিগুলো খুজাআ গোত্রের কাছে ছিল। খুজাআ গোত্রের নেতা ছিল এক মদ্যপ ব্যক্তি। একবার সে মাতাল হলো, তখন আবদ মানাফ তার কাছে এসে বললেন: তুমি কি এক মশক মদের বিনিময়ে কাবার চাবিকাঠিগুলো আমার কাছে বিক্রি করবে? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তার জন্য দুই বোতল মদ নিয়ে আসলেন এবং তার কাছ থেকে কাবার চাবিকাঠিগুলো গ্রহণ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী সেগুলো আজও তাদের হাতেই রয়ে গেছে।

আমি বলছি: আরবরাই ছিল রিসালাত বা ঐশী বার্তা গ্রহণের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি; কারণ বর্তমানে ইসলাম থেকে দূরে থাকার কারণে তাদের মধ্যে যেসব মন্দ বিষয় আপনি দেখছেন তা সত্ত্বেও নবুওয়াত ও রিসালাত ব্যতীত আরবদের সংশোধন সম্ভব নয়। আপনি তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে দেখবেন প্রবৃত্তির লালসায় নিমগ্ন, কিন্তু হঠাৎ যখন সে দ্বীনের আনুগত্য ও মসজিদ সম্পর্কে জানবে, তখন আপনি তার কণ্ঠস্বর নিচু পাবেন এবং তাকে তার বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত হিসেবে দেখতে পাবেন।

সুতরাং: আরবরাই ছিল মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকারী এবং রিসালাতের জন্য সবচেয়ে যোগ্য জাতি। আর একারণেই এটি ছিল খলিল ইব্রাহিমের দোয়া: "স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বাক্য দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানবজাতির জন্য ইমাম বা নেতা বানাব। ইব্রাহিম বললেন, আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও কি? তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার জালিমদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না" [আল-বাকারা: ১২৪]। এরপর তিনি বলেন: "আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল গৃহের (কাবার) ভিত্তি স্থাপন করছিল এবং বলছিল, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত (অর্থাৎ আরব উম্মত) তৈরি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" [আল-বাকারা: ১২৭-১২৯]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের আদর্শ; তিনি পূর্বেই তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম" [আল-হজ্জ: ৭৮]। সুতরাং আমাদের নেতা ইব্রাহিম আমাদের মুসলিম হিসেবে নামকরণ করেছেন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بشارات وإرهاصات بين يدي مولد النبي صلى الله عليه وسلم وبعثته

إذاً: ألم يكن العرب أجدر الناس بالرسالة؟ هذا سؤال.

السؤال الثاني: هل ظهر الرسول صلى الله عليه وسلم فجأة، أو كان العرب والعالم مستعداً استعداداً نفسياً لتلقي أمر الرسالة؟ تعالوا إلى البشارات التي جاءت قبل ميلاد سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

أول بشارة: أن كل نبي كان يأخذ الله عز وجل عليه الميثاق أن يصدق بنبوة النبي محمد صلى الله عليه وسلم، ومنها أن الله عز وجل قال عن اليهود: {النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} [الأعراف:157] إلى آخر كلام الله عز وجل.

ومنها: بشرى عيسى عليه السلام، قال: {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف:6] عليه الصلاة والسلام.

ينام عبد المطلب ليلة من الليالي فيرى أن سلسلة من فضة خرجت من ظهره أولها في الأرض وآخرها في السماء، ثم انقلبت السلسلة إلى شجرة وارفة، على كل ورقة من أوراقها نور يتعلق به أهل المشرق وأهل المغرب.

ففسرت هذه الرؤيا بأن شخصاً من سلالته يتبعه أهل المشرق وأهل المغرب؛ فكان سيدنا محمداً صلى الله عليه وسلم.

ومن البشارات: أن الشياطين قبل مولد الحبيب صلى الله عليه وسلم كانت تتسمع إلى الملأ الأعلى، كانت تصعد إلى العلو وتقترب إلى السماء وتسمع كلام الملائكة، ففجأة رأت أن الذي يقرب من السماء، يرجم ويحرق، قال تعالى مخبراً عنهم: {وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَنْ يَسْتَمِعِ الآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَصَدًا} [الجن:9]، يقولون في أنفسهم: ما الذي يحصل؟! من يقرب من السماء يحرق، قالوا: لابد أن النبي الخاتم قد بعث.

إذاًَ: من دلائل النبوة الخاتمة: أن الشيطان الذي يقترب من السماء يحترق، فقال الشياطين: ابحثوا، فبحثوا لمدة أربعين سنة في بقاع الأرض، إلى أن دلهم الله عز وجل على سيدنا الحبيب وهو عائد من الطائف يقرأ سورة الرحمن، وآمن الجن بسيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

نأتي إلى أحد أجداد الحبيب صلى الله عليه وسلم وهو كعب بن لؤي وكان على دين الخليل إبراهيم، وكان يجمع قريشاً يوم الجمعة، ويوم الجمعة كان اسمه: يوم العروبة، فكان كعب بن لؤي جد الحبيب أول من سمى يوم الجمعة بيوم الجمعة؛ لأنه كان يجمع قريشاً بعد الزوال ويخطب فيهم، ويقول: أيها الناس! الدار والله! أمامكم -الكعبة- والظن خلاف ظنكم، فزينوا حرمكم وعظموه، وتمسكوا به ولا تفارقوه، فسيأتي له نبأ عظيم، وسيخرج منه نبي كريم، ثم يقول: نهار وليل واختلاف حوادث سواء علينا حلوها ومريرها على غفلة يأتي النبي محمد فيخبر أخباراً صدوقاً خبيرها ننتقل إلى تبع الحميري الذي أتى قبل ميلاد الحبيب بسبعمائة سنة، كان يريد أن يهجم على يثرب؛ لأنه كان لـ تبع الحميري ثأر في يثرب، فجهز جيشاً يريد أن يهجم عليها، فقالوا له: يا تبع إن يثرب مهاجر خاتم الأنبياء، فامتنع تبع الحميري عن الهجوم على يثرب.

فهذا دليل على أنه موجود في الكتب القديمة بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، فكان يقول تبع: شهدت على أحمد أنه رسول من الله باري النسم فلو مد عمري إلى عمره لكنت وزيراً له وابن عم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম ও নবুওয়াত লাভের প্রাক্কালে শুভসংবাদ ও অলৌকিক নিদর্শনাদি

অতএব: আরবরা কি এই রিসালাতের জন্য সর্বাধিক যোগ্য লোক ছিল না? এটি একটি প্রশ্ন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছিলেন, নাকি আরব ও বিশ্ববাসী রিসালাতের বিধান গ্রহণ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল? আসুন আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের পূর্বে আসা শুভসংবাদসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করি।

প্রথম শুভসংবাদ: প্রতিটি নবীর কাছ থেকেই মহান আল্লাহ এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তাঁরা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করবেন। তারই অংশ হিসেবে মহান আল্লাহ ইয়াহূদীদের সম্পর্কে বলেছেন: {সেই উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের থেকে তাদের বোঝার ভার ও শিকলগুলো সরিয়ে দেন যা তাদের উপর ছিল} [আল-আরাফ: ১৫৭] আল্লাহর বাণীর শেষ পর্যন্ত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর শুভসংবাদ। তিনি বলেছিলেন: {এবং এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম হবে আহমদ।} [আস-সাফ: ৬] তাঁর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

এক রাতে আব্দুল মুত্তালিব ঘুমানোর পর স্বপ্নে দেখলেন যে, তার পিঠ থেকে রূপার একটি শিকল বের হয়েছে, যার এক প্রান্ত জমিনে এবং অন্য প্রান্ত আকাশে। এরপর শিকলটি একটি বিশাল ছায়াময় বৃক্ষে পরিণত হলো, যার প্রতিটি পাতায় ছিল নূর বা জ্যোতি, যা পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মানুষ আঁকড়ে ধরছে।

এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হয়েছিল যে, তাঁর বংশে এমন একজনের জন্ম হবে যাঁর অনুসরণ পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সকল মানুষ করবে; আর তিনি হলেন আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

শুভসংবাদসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের পূর্বে শয়তানরা উর্ধ্বলোকের কথা আড়ি পেতে শুনত। তারা উঁচুতে আরোহণ করত এবং আসমানের নিকটে গিয়ে ফেরেশতাদের কথাবার্তা শুনত। কিন্তু হঠাৎ তারা দেখল যে, যারাই আকাশের নিকটবর্তী হচ্ছে, তাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে খবর দিয়ে বলেন: {আর আমরা (আগে) সংবাদ শোনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ শুনতে চাইলে সে তার জন্য ওত পেতে থাকা অগ্নিপিণ্ড দেখতে পায়।} [আল-জিন: ৯]। তারা নিজেদের মনে বলল: কী ঘটছে?! যে-ই আকাশের কাছে যাচ্ছে তাকেই পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা বলল: নিশ্চয়ই শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে।

সুতরাং নবুওয়াতের সমাপ্তির অন্যতম নিদর্শন হলো: যে শয়তান আকাশের কাছে যাবে সে ভস্মীভূত হবে। শয়তানরা বলল: তোমরা অনুসন্ধান করো। এরপর তারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চল্লিশ বছর ধরে অনুসন্ধান চালাল, শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ তাদেরকে আমাদের প্রিয় নবীর সন্ধান দিলেন যখন তিনি তায়েফ থেকে ফিরছিলেন এবং সূরা আর-রাহমান পাঠ করছিলেন। তখন জিন সম্প্রদায় আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনল।

এবার আমরা প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক পূর্বপুরুষ কাব বিন লুআইয়ের প্রসঙ্গে আসি। তিনি খলীল ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনের উপর ছিলেন। তিনি প্রতি জুমুআর দিনে কুরাইশদের একত্রিত করতেন। সে সময় জুমুআর দিনের নাম ছিল: ইয়াওমুল আরুবাহ্। কাব বিন লুআই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ইয়াওমুল আরুবাহকে 'জুমুআর দিন' নামকরণ করেন; কারণ তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর কুরাইশদের একত্রিত করতেন এবং তাদের সামনে ভাষণ দিতেন। তিনি বলতেন: হে লোকসকল! আল্লাহর কসম, গৃহটি (কা’বা) তোমাদের সামনেই আছে, কিন্তু তোমাদের ধারণা ভুল। তোমরা তোমাদের এই পবিত্র এলাকাকে সজ্জিত করো, একে সম্মান করো এবং একে আঁকড়ে ধরো, একে ছেড়ে যেও না। অচিরেই এর পক্ষ থেকে এক মহান সংবাদ আসবে এবং এখান থেকে এক সম্মানিত নবী আবির্ভূত হবেন। এরপর তিনি বলতেন: দিন ও রাত এবং ঘটনার বিবর্তন, আমাদের জন্য তার মিষ্টতা ও তিক্ততা সমান। হঠাৎ নবী মুহাম্মদ আসবেন এবং তিনি সত্যবাদী ও অভিজ্ঞ হিসেবে সংবাদ প্রদান করবেন। এবার আমরা তুব্বা আল-হিমইয়ারীর ঘটনায় যাই, যিনি প্রিয় নবীর জন্মের সাতশ বছর পূর্বে এসেছিলেন। তিনি ইয়াসরিবে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন; কারণ ইয়াসরিবে তুব্বার একটি প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয় ছিল। তাই তিনি আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন। কিন্তু তখন তাকে বলা হয়েছিল: হে তুব্বা! নিশ্চয়ই ইয়াসরিব হলো শেষ নবীর হিজরতস্থল। তখন তুব্বা আল-হিমইয়ারী ইয়াসরিবে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকেন।

এটি একটি প্রমাণ যে, প্রাচীন কিতাবসমূহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভের সংবাদ বিদ্যমান ছিল। তুব্বা বলেছিলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আহমদের ব্যাপারে যে, তিনি প্রাণকুলের স্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। যদি আমার আয়ু তাঁর আয়ু পর্যন্ত দীর্ঘ হতো, তবে আমি হতাম তাঁর একজন উজির ও চাচাতো ভাই।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ارتجاس إيوان كسرى وسقوط بعض شرفاته عند مولد النبي الخاتم

ننتقل بعد ذلك إلى اليوم الذي ولد فيه صلى الله عليه وسلم، فقد اهتز يوم مولده إيوان كسرى، ووقعت منه أربع عشرة شرفة.

وكان عند كسرى عالم اسمه الموبذان فرأى رؤيا، فقال له كسرى: ماذا رأيت؟ قال: رأيت إبلاً صعاباً -أي: ضخمة- تقود خيلاً عراباً، -يعني: خيلاً عربية- قد قطعت دجلة وانتشرت في بلادنا، فخاف كسرى وقال: قطعت دجلة وأتت إلي؟ وكان عنده في حاشيته شخص اسمه والعياذ بالله عبد المسيح، فقال له: يا عبد المسيح أليس لك خال في الشام يسمى سطيحاً؟ قال له: بلى، قال: اذهب إليه واحك له الرؤيا، وكان الناس في ذلك الوقت يثقون جداً في كلام الكهان.

وقبل أن يصل عبد المسيح إلى أرض الشام، كان سطيح ينازع الموت، فلما أتاه عبد المسيح قال سطيح: جاءكم عبد المسيح على جمل مشيح، أرسلك ملك بني ساسان ليسأل عن ارتجاس الإيوان، وخمود النيران، ورؤيا الموبذان! يا عبد المسيح إذا كثرت التلاوة وظهر صاحب الهراوة -أي: سيدنا الحبيب صلى الله عليه وسلم وفاض وادي السماوة، وغاضت بحيرة ساوة، فليس الشام لـ سطيح شاماً، ولا مقام العراق لكسرى مقاماً، يملك منهم ملوك وملكات عدد الساقط من الشرفات، وكل ما هو آت آت، وفاضت روحه.

فحكم من هذه السلالة أربعة عشر ملكاً إلى خلافة عمر بن الخطاب، فقد فتح فارس سعد بن أبي وقاص في موقعة القادسية وما بعدها.
শেষ নবীর জন্মের প্রাক্কালে কিসরার রাজপ্রাসাদের প্রকম্পন এবং এর কতিপয় চূড়া ধসে পড়া

এরপর আমরা সেই দিনের দিকে অগ্রসর হই, যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মের দিন কিসরার রাজপ্রাসাদ প্রকম্পিত হয়েছিল এবং সেখান থেকে চৌদ্দটি চূড়া ভেঙে পড়েছিল।

কিসরার নিকট মুবাযান নামক একজন পণ্ডিত ছিলেন, তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন। কিসরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কী দেখেছেন?" তিনি বললেন: "আমি বিশালাকার উটদের দেখেছি যা আরবীয় ঘোড়াগুলোকে পরিচালিত করছে। তারা দজলা নদী পার হয়ে আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।" কিসরা ভীত হয়ে বললেন: "তারা দজলা পার হয়ে আমার কাছে চলে এসেছে?" তাঁর পারিষদবর্গের মধ্যে আব্দুল মসীহ নামক একজন লোক ছিল (আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই)। কিসরা তাকে বললেন: "হে আব্দুল মসীহ! সিরিয়ায় কি তোমার সাতিহ নামে কোনো মামা নেই?" সে উত্তর দিল: "হ্যাঁ, আছে।" তিনি বললেন: "তার নিকট যাও এবং তাকে এই স্বপ্নের কথা বলো।" সে সময় মানুষ গণকদের কথার ওপর প্রবল আস্থা রাখত।

আব্দুল মসীহ সিরিয়ায় পৌঁছানোর পূর্বেই সাতিহ মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করছিলেন। যখন আব্দুল মসীহ তাঁর কাছে পৌঁছালেন, তখন সাতিহ বললেন: "আব্দুল মসীহ দ্রুতগামী উটে চড়ে এসেছে; বনী সাসানের রাজা তোমাকে পাঠিয়েছেন প্রাসাদের কম্পন, অগ্নি নির্বাপণ এবং মুবাযানের স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে! হে আব্দুল মসীহ! যখন তিলাওয়াত বৃদ্ধি পাবে এবং লাঠিধারী (অর্থাৎ আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবির্ভূত হবেন, সামাওয়া উপত্যকা প্লাবিত হবে এবং সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাবে, তখন সিরিয়া আর সাতিহের জন্য সিরিয়া থাকবে না এবং ইরাক কিসরার বসবাসের স্থান থাকবে না। প্রাসাদ থেকে যতগুলো চূড়া খসে পড়েছে, তত সংখ্যক রাজা ও রাণী তাদের মধ্য থেকে শাসন করবে; আর যা আসার তা অবশ্যই আসবে।" এরপর তাঁর প্রাণবায়ু নির্গত হলো।

অতঃপর এই বংশ থেকে চৌদ্দজন রাজা উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। এরপর সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস কাদিসিয়ার যুদ্ধ ও তার পরবর্তী অভিযানসমূহের মাধ্যমে পারস্য জয় করেন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌إفحام المشركين بالقرآن وبلاغته وفصاحته

من المبشرات: أن وفد المشركين جاء إلى الحبيب بعد بعثته، وقالوا: يا محمد تقول: إن قرآنك عربي؟ قال: نعم، قالوا: لكننا وجدنا فيه ألفاظاً غير عربية، قال: اضربوا لي أمثلة، قالوا: من ضمن ذلك كلمة (قسورة) كما في قوله تعالى: {كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُسْتَنْفِرَةٌ * فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ} [المدثر:50 - 51]، والقسورة في اللغة: الأسد.

ثم قال لهم: وماذا بعد؟ قالوا: كلمة (كباراً) كما في قوله تعالى: {وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا} [نوح:22] وقال: وماذا بعد؟ قالوا: كلمة (عجاب) كما في قوله تعالى: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص:5].

فقال لهم: ائتوني بأبلغكم، فأحضروا قس بن ساعدة، وكان يضرب به المثل في البلاغة، فقال لهم الرسول صلى الله عليه وسلم: لا تقصوا عليه شيئاً مما حدث بيني وبينكم.

فجاء قس وكان قد جاوز المائة من عمره، فقال له الحبيب: اجلس يا عماه، فجلس، ثم قال له: قف فوقف، فقال له: اجلس، فجلس بصعوبة، وقال: قف، فغضب قس وقال: ما هذا يا بن قسورة العرب، إن أباك كان رجلاً كباراً، إن هذا لشيء عجاب؛ أتقيمني وتقعدني! والحق ما شهدت به الأعداء، لم يكلمه أحد أو حكى له، وإن الله ليؤيد هذا الدين برجال لا خلاق لهم.

وقس بن ساعدة كان بليغاً فكان يخطب في قريش وفي العرب ويقول: يا أيها الناس إن لله ديناً غير دينكم أو خيراً من دينكم الذي أنتم عليه، ونبياً قد حان حينه وجاء وقته، وأظلكم أوانه، فطوبى لمن آمن به فهداه، وويل لمن خالفه وعصاه، فبادروا إليه، وقائل يقول: ظهر النور، وبطل الزور، وبعث الله محمداً بالحبور، -ها هو يذكره بالاسم- صاحب النجيب الأحمر، والتاج والمغفر، والوجه الأزهر، والحاجب الأقمر، والطرف الأحور.

فذلكم محمد المبعوث إلى الأسود والأحمر.
কুরআন, এর অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাবলীলতার মাধ্যমে মুশরিকদের নিরুত্তর করা

সুসংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মুশরিকদের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহর প্রেরিত হওয়ার পর তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ, আপনি কি বলেন যে আপনার কুরআন আরবি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তারা বলল: কিন্তু আমরা এতে এমন কিছু শব্দ পেয়েছি যা আরবি নয়। তিনি বললেন: আমার কাছে উদাহরণ পেশ করো। তারা বলল: এর মধ্যে 'কাসওয়ারা' শব্দটি রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "যেন তারা আতঙ্কিত গাধা, যা সিংহের (কাসওয়ারা) ভয়ে পলায়নপর।" [আল-মুদ্দাসসির: ৫০-৫১]। আর ভাষাবিদ্যায় 'কাসওয়ারা' মানে হলো সিংহ।

এরপর তিনি তাদের বললেন: আর কী আছে? তারা বলল: 'কুব্বার' শব্দটি, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "এবং তারা এক গুরুতর (কুব্বার) ষড়যন্ত্র করেছিল।" [নূহ: ২২]। তিনি বললেন: আর কী? তারা বলল: 'উজাব' শব্দটি, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র এক উপাস্য বানিয়ে ফেলেছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক (উজাব) বিষয়।" [সোয়াদ: ৫]।

তখন তিনি তাদের বললেন: তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বাগ্মীকে নিয়ে এসো। তখন তারা কুস বিন সায়েদাকে নিয়ে এল, যার সাবলীলতা প্রবাদে পরিণত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন: আমাদের মাঝে যা কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাকে কিছুই বলবে না।

অতঃপর কুস এলেন, যাঁর বয়স তখন একশ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিল। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: হে চাচা, বসুন। তিনি বসলেন। তারপর তাকে বললেন: দাঁড়ান। তিনি দাঁড়ালেন। এরপর আবার বললেন: বসুন। তিনি অনেক কষ্টে বসলেন এবং নবীজি পুনরায় বললেন: দাঁড়ান। তখন কুস রাগান্বিত হয়ে বললেন: হে আরবের সিংহের (কাসওয়ারা) পুত্র, এসব কী হচ্ছে? আপনার পিতা তো এক মহান (কুব্বার) ব্যক্তি ছিলেন। এটি তো এক আশ্চর্যজনক (উজাব) বিষয়; আপনি আমাকে একবার দাঁড়া করাচ্ছেন আর একবার বসাচ্ছেন! প্রকৃতপক্ষে সত্য তো তা-ই, যার সাক্ষ্য শত্রুরা দেয়। কেউ তাকে কিছু বলেনি বা কোনো কিছু শিখিয়ে দেয়নি। আর আল্লাহ অবশ্যই এই দ্বীনকে এমন সব লোকের মাধ্যমেও শক্তিশালী করেন যাদের পরকালে কোনো অংশ নেই।

কুস বিন সায়েদা অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন; তিনি কুরাইশ ও আরবদের মাঝে ভাষণ দিতেন এবং বলতেন: হে লোকসকল, আল্লাহর নিকট তোমাদের বর্তমান ধর্মের চেয়ে ভিন্ন বা উত্তম একটি ধর্ম রয়েছে। আর এমন একজন নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাঁর সময় উপস্থিত হয়েছে এবং তাঁর ছায়া তোমাদের ওপর পড়ছে। সুতরাং সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং তিনি তাকে সঠিক পথ দেখাবেন। আর ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে তাঁর বিরোধিতা ও অবাধ্যতা করবে। অতএব তোমরা তাঁর দিকে ধাবিত হও। জনৈক বক্তা বলছেন: সত্যের আলো উদ্ভাসিত হয়েছে, মিথ্যার বিনাশ হয়েছে এবং আল্লাহ মুহাম্মদকে পরম আনন্দের সাথে পাঠিয়েছেন—দেখুন, তিনি তাঁকে নাম ধরে উল্লেখ করছেন—যিনি উৎকৃষ্ট লাল উটের মালিক, মুকুট ও শিরস্ত্রাণধারী, অতি উজ্জ্বল চেহারা, চাঁদের মতো ভ্রু এবং অতীব সুন্দর চোখের অধিকারী।

আর তিনিই হলেন সেই মুহাম্মদ, যিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌قصة بحيرى الراهب مع أبي طالب

من البشريات: قصة بحيرى الراهب عندما أخذ أبو طالب النبي صلى الله عليه وسلم معه في تجارة وكان عمره اثنتي عشرة سنة إلى الشام، فـ بحيرى كان يعرف أبا طالب، فقال له: يا أبا طالب من هذا الغلام الجالس تحت الشجرة؟ قال له: هذا ابني، فـ بحيرى نظر إليه وقال: ابنك يا أبا طالب؟ قال: نعم.

قال بحيرى: لابد أن هذا الغلام يتيم، قال له أبو طالب: بلى، مات أبوه، قال له: يا أبا طالب هذا هو النبي الخاتم.

قال: كيف عرفت ذلك؟ قال: وأنا في الصومعة وأنتم قادمون، ما من شجرة يمر عليها إلا وطأطأت فروعها ساجدة له، وما جلس تحت شجرة إلا وأظلته، وما سار معكم في حر الظهيرة إلا وظللته غمامة، فارجع به إلى بلدك الآن، فإن اليهود هنا في الشام، ولو أحسوا أنه معك لقتلوه، عد بابن أخيك، قال له: والتجارة؟ قال: خذ المال الذي عندي في الصومعة كله وارجع، فرجع.
আবু তালিবের সাথে পাদ্রী বাহীরার কাহিনী

সুসংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত: পাদ্রী বাহীরার কাহিনী, যখন আবু তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। বাহীরা আবু তালিবকে চিনতেন, তাই তিনি তাকে বললেন: হে আবু তালিব, বৃক্ষের নিচে বসা এই বালকটি কে? তিনি তাকে বললেন: এ আমার পুত্র। তখন বাহীরা তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন: আপনার পুত্র, হে আবু তালিব? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

বাহীরা বললেন: অবশ্যই এই বালকটি এতিম হবে। আবু তালিব তাকে বললেন: হ্যাঁ, তার পিতা মারা গেছেন। তিনি তাকে বললেন: হে আবু তালিব, ইনিই হলেন শেষ নবী।

তিনি বললেন: আপনি তা কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি যখন গির্জায় ছিলাম এবং আপনারা আসছিলেন, এমন কোনো বৃক্ষ নেই যার পাশ দিয়ে তিনি অতিক্রম করেছেন আর তার ডালপালা তাঁর প্রতি সিজদাবনত হয়ে নুয়ে পড়েনি, আর তিনি এমন কোনো বৃক্ষের নিচে বসেননি যা তাঁকে ছায়া দান করেনি, এবং ভরদুপুরের উত্তাপে তিনি যখনই আপনাদের সাথে চলেছেন মেঘমালা তাঁকে ছায়া প্রদান করেছে। সুতরাং তাঁকে নিয়ে এখনই আপনার দেশে ফিরে যান, কারণ সিরিয়ায় ইহুদিরা রয়েছে; যদি তারা বুঝতে পারে যে তিনি আপনার সাথে আছেন, তবে তারা তাঁকে হত্যা করে ফেলবে। আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে ফিরে যান। তিনি তাঁকে বললেন: আর ব্যবসার কী হবে? তিনি বললেন: আমার গির্জায় যে অর্থ-সম্পদ আছে তা সব নিয়ে নিন এবং ফিরে যান। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌قصة سلمان الفارسي مع الرهبان والأحبار المبشرين ببعثة النبي الخاتم

البشرى التي بعدها: قصة سلمان الفارسي رضوان الله عليه، كان أبو سلمان أحد الموقدين للنار التي يعبدها الفرس، وذات مرة يمشي سيدنا سلمان، فيمر براهب في صومعة، فدخل عنده، فقال: ماذا تعمل؟ قال: إني أعبد الله، فآمن سلمان بالله الواحد، وفر من أبيه بعد أن قيده بالقيود، فالراهب قبل أن يموت بأيام قال له: يا سلمان ليس على دين الوحدانية أحد إلا راهب في أرض الموصل، فاذهب إلى أرض الموصل في العراق فاسأل عليه، وامكث عنده.

فذهب سلمان إلى هذا الرجل، فلما أوشكت أيامه على نهايتها قال له: يا سلمان لم يبق على دين الوحدانية إلا راهب بأرض الشام فاذهب إليه.

فهاجر سلمان؛ ولذلك يسمى سلمان في التاريخ: الباحث عن الحقيقة، فسافر سلمان إلى أن وصل إلى الراهب، فلما أدركت الراهب المنية قال له: يا سلمان لم يبق على دين الوحدانية أحد، ولكن أظلنا زمان النبي الخاتم، سوف يبعث ويهاجر إلى أرض كلها خضرة تسمى يثرب أو تسمى طيبة، فلما اتجه نحو يثرب أخذته جماعة من اليهود وباعوه، فمكث في يثرب يعمل فيها، وكان سلمان قد سمع من الراهب أن للنبي صلى الله عليه وسلم ثلاث علامات: يقبل الهدية، ولا يقبل الصدقة، وبين كتفيه خاتم النبوة.

فسمع سلمان وهو على النخلة يهودياً يقول لصاحبه اليهودي: لقد هاجر محمد من مكة إلى يثرب ووصل البارحة، ونزل في أرض بني النجار، فسيدنا سلمان من فرحته أوشك أن يقع من فوق النخلة، فذهب إلى الحبيب صلى الله عليه وسلم وعمل له اختبارات.

أتى إليه فقدم له طعاماً، وقال: أنت رجل غريب، ولست في بلدك، وهذه صدقة مني إليك، فأزاح الرسول صلى الله عليه وسلم الصحفة بعيداً عنه، فقال سلمان: هذه واحدة، لا يأكل الصدقة.

ثم جاء في اليوم الثاني بطعام فقال له: هذه هدية، فمد الرسول صلى الله عليه وسلم ليأكل، قال: هذه الثانية.

وفي اليوم الثالث ظل يدور حول الرسول الحبيب صلى الله عليه وسلم، فالرسول فهم مراده فكشف عن كتفه فظهر خاتم النبوة، فأكب سلمان على الحبيب يقبله، وآمن بالله وبرسوله صلى الله عليه وسلم، فقال الحبيب: (سلمان منا آل البيت).
শেষ নবীর আগমনের সুসংবাদ দানকারী সন্ন্যাসী ও পণ্ডিতদের সাথে সালমান আল-ফারসির ঘটনা

পরবর্তী সুসংবাদটি হলো: সালমান আল-ফারসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ঘটনা। সালমানের পিতা পারসিকদের উপাস্য অগ্নিকুণ্ডের একজন প্রজ্বলনকারী ছিলেন। একবার সালমান পথ চলার সময় একটি মঠে একজন সন্ন্যাসীর দেখা পেলেন। তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কী করছেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর ইবাদত করছি। তখন সালমান এক অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলেন এবং তাঁর পিতা তাঁকে শৃঙ্খলিত করার পর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। সেই সন্ন্যাসী মৃত্যুবরণ করার কয়েক দিন আগে তাঁকে বললেন: হে সালমান, মওসেল ভূমির একজন সন্ন্যাসী ছাড়া এই একত্ববাদের ধর্মের ওপর আর কেউ অবশিষ্ট নেই। সুতরাং তুমি ইরাকের মওসেল ভূমিতে যাও, তাঁর খোঁজ করো এবং তাঁর কাছে অবস্থান করো।

অতঃপর সালমান সেই ব্যক্তির কাছে গেলেন। যখন তাঁর জীবনের অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল, তখন তিনি বললেন: হে সালমান, শামের একজন সন্ন্যাসী ছাড়া একত্ববাদের ধর্মের ওপর আর কেউ বাকি নেই, তুমি তাঁর কাছে যাও।

এরপর সালমান হিজরত করেন; এই কারণেই ইতিহাসে সালমানকে 'সত্যের সন্ধানী' বলে অভিহিত করা হয়। সালমান সফর করতে করতে সেই সন্ন্যাসীর কাছে পৌঁছালেন। যখন সেই সন্ন্যাসীর মৃত্যু সময় সমাগত হলো, তখন তিনি সালমানকে বললেন: হে সালমান, পৃথিবীতে এখন একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর কেউ নেই, তবে শেষ নবীর সময় সমাসন্ন। তিনি অচিরেই প্রেরিত হবেন এবং হিজরত করে এমন এক সুজলা-সুফলা ভূমিতে যাবেন যার নাম ইয়াসরিব বা তাইয়্যেবা। অতঃপর সালমান যখন ইয়াসরিবের অভিমুখে যাত্রা করলেন, তখন একদল ইয়াহুদি তাঁকে বন্দি করে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। এরপর তিনি ইয়াসরিবে অবস্থান করে সেখানে শ্রম দিতে থাকেন। সালমান সেই সন্ন্যাসীর কাছ থেকে শুনেছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তিনটি নিদর্শন থাকবে: তিনি উপহার গ্রহণ করবেন, কিন্তু সদকা গ্রহণ করবেন না এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর থাকবে।

একদিন সালমান খেজুর গাছের ওপর থাকা অবস্থায় জনৈক ইয়াহুদিকে তাঁর এক ইয়াহুদি সঙ্গীকে বলতে শুনলেন: মুহাম্মদ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করেছেন এবং গত রাতে পৌঁছেছেন; তিনি বনু নাজ্জার গোত্রের এলাকায় অবস্থান করছেন। এ কথা শুনে সালমান খুশিতে খেজুর গাছের ওপর থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তিনি প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে পরীক্ষা করতে শুরু করলেন।

তিনি তাঁর কাছে এসে কিছু খাবার পেশ করলেন এবং বললেন: আপনি একজন প্রবাসী ব্যক্তি এবং নিজ দেশে নেই, তাই এটি আমার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি সদকা। তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাত্রটি নিজের থেকে সরিয়ে দিলেন। তখন সালমান বললেন: এটি প্রথম নিদর্শন, তিনি সদকা খান না।

অতঃপর দ্বিতীয় দিন তিনি পুনরায় কিছু খাবার নিয়ে আসলেন এবং বললেন: এটি আপনার জন্য হাদিয়া বা উপহার। তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহার করার জন্য হাত বাড়ালেন। তিনি বললেন: এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।

তৃতীয় দিনে তিনি প্রিয় রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চারদিকে ঘুরতে থাকলেন। রাসুল তাঁর অভিসন্ধি বুঝতে পেরে নিজের কাঁধ থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন এবং নবুওয়তের মোহর প্রকাশিত হলো। তখন সালমান প্রিয় নবীর ওপর ঝুঁকে পড়ে তাঁকে চুম্বন করতে লাগলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর ঈমান আনলেন। তখন প্রিয় নবী বললেন: "সালমান আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أسماء الشهور العربية ومعانيها

بقي أن نختم الدرس بشيء هام، فسائل يسأل: هل هذه الشهور الاثنا عشر من يوم أن خلقها الله وهي بهذه الأسماء؟ قالوا: لا، كانت لها أسماء عند العرب، ثم سموها بالأسماء التي نسميها نحن الآن، قال الله تعالى: {إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ} [التوبة:36].

والأشهر الأربعة الحرم هي: ذو القعدة، وذو الحجة، والمحرم، ورجب، فالشهور العربية بالترتيب: المحرم، وكان اسمه مؤتمر، وناجر هذا اسم صفر، وبقية الشهور، صيوان وصوان وربا وآيدة والأصم وعادل وناصل الذي هو رمضان، وواغر ورنا وبرق الذي هو ذو الحجة، فالعرب غيروا الأسماء وسموها المحرم إلى ذي الحجة، فما هي هذه الأسماء وما معناها؟ فسمي المحرم؛ لأنه كان يحرم فيه القتال، وهو أول الأشهر العربية.

نأتي إلى الشهر العربي ربيع، سمي بذلك؛ لارتباعهم فيه، يعني: يجلسون في الربع وفي البلد ولا يسافرون ولا يهاجرون؛ لأنه وقت الخصوبة في الأرض، فكانوا يجلسون ولا يسافرون.

أما رجب فقالوا: من الترجيب، رجّب الإنسان الشيء أي عظمه، فكانوا يعظمون شهر رجب، فلذلك يسمى شهر رجب: الأصب أو الأصم؛ لأنهم لم يكونوا يقاتلون فيه، ولكنهم كانوا يعملون شيئاً اسمه النسيء، والنسيء هو أن يهجموا في الشهر الحرام، فيقال لهم: ألا ترون أنه شهر محرم؟ فيقولون: لا، نحن سنؤخر المحرم إلى صفر، قال تعالى: {إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ} [التوبة:37].

فالنسيء هو عبارة عن لف ودوران من العرب كما فعل بنو إسرائيل؛ حرم الله عليهم أن يصطادوا الحيتان يوم السبت، وهؤلاء أناس أصحاب أموال، فماذا يعمل اليهود؟ ففي يوم السبت هم ممنوعون من صيد الحوت، فكانت الحيتان تأتي يوم السبت بكثرة، فكان اليهودي يتضايق عندما يرى الحوت أمامه ولا يستطيع أن يصطاده، فماذا يعمل؟ كان يضع الشباك من يوم الجمعة بالليل، وينام في البيت، فتخرج الحيتان يوم السبت فتقع في الشباك، ولا تستطيع أن ترجع إلى البحر، فيأتون في صباح يوم الأحد ويأخذونها.

فإن قيل لهم: لماذا تفعلون هذا؟ قالوا: إننا لم نصطد يوم السبت، بل نمنا في بيوتنا!! سبحان الله، وكذلك فعل السامري عندما ضحك عليهم وقال لهم: هل السرقة حلال أو حرام؟ قالوا: السرقة حرام، قال: وماذا عملنا في ذهب المصريين، إننا سرقناه، فمادام أنكم سرقتم ذهب المصريين فلابد أن تتخلصوا من هذا المال المسروق، قالوا: فما الحل؟ قال: اجمعوا هذا المال المسروق فجمعوه فصاغه وصنع منه عجلاً، وعبدوا هذا العجل، فكفّروا عن ذنب السرقة بالسجود لغير الله والعياذ الله.

فالعربي يجب عليه أن يتعلم الأسماء، وشهر شعبان قال: من تشعب القبائل للقتال بعد أن حرموا القتال في شهر رجب.

ورمضان من الرمضاء وهو شدة الحرارة، ويبدو أنهم عندما سموا اسم رمضان كان في وقت حر.

وشوال من شالت الإبل أذنابها من أجل موسم تلقيح ذكور الإبل للإناث.

وذو القِعدة من القعود عن القتال للاستعداد لموسم الحج.

وذو الحِجة يسمى بذلك؛ لأنه موسم يذهب فيه العرب إلى أداء مناسك الحج.

هذه تعتبر مقدمة للإرهاصات لمولد النبي صلى الله عليه وسلم، وفي الحلقة القادمة سنتحدث إن شاء الله عن حمل السيدة آمنة لسيدنا الحبيب صلى الله عليه وسلم، وكيفية ولادته عليه الصلاة والسلام، ومن كان موجوداً ساعة ولادته، ومن الذي سماه محمداً، ولم سمي بهذا الاسم؟ وهل كان من العرب من سمي باسم محمد؟ ثم بعد ذلك سنتحدث عن صفاته الخلقية؛ من أجل أن نتخيله أمامنا صلى الله عليه وسلم، ثم نعيش معه صغيراً عند حليمة السعدية وغلاماً مع أمه إلى أن ماتت، ومع جده إلى أن مات، ومع عمه أبي طالب إلى أن تزوج بالسيدة خديجة، ثم إلى سن الأربعين وحضور حرب الفجار، وحضور حلف الفضول الذي تم فيه كل خير، ثم بعد ذلك نواصل المسيرة مع سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
আরবি মাসসমূহের নাম এবং সেগুলোর অর্থ

পাঠটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শেষ করা বাকি আছে। জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: এই বারোটি মাস কি আল্লাহ যেদিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই এই নামেই ছিল? উলামায়ে কেরাম বলেছেন: না, আরবদের নিকট এগুলোর ভিন্ন নাম ছিল, পরবর্তীতে তারা এগুলোর এমন নামকরণ করেছে যেভাবে আমরা এখন নামকরণ করি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসসমূহের সংখ্যা বারোটি, আল্লাহর কিতাবে (লিপিবদ্ধ আছে) সেই দিন থেকে যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।} [তওবা: ৩৬]।

আর চারটি সম্মানিত মাস হলো: যুল-কাদাহ, যুল-হিজ্জাহ, মুহাররম এবং রজব। ক্রমানুসারে আরবি মাসগুলো হলো: মুহাররম, যার নাম ছিল 'মুতামির'; এবং 'নাজির' ছিল সফর মাসের নাম। অবশিষ্ট মাসগুলোর নাম ছিল: সিওয়ান, সুওয়ান, রুবা, আইদাহ, আসম্ম, আদিল, নাসিল (যা রমজান মাস), ওয়াগির, রানা এবং বারক (যা যুল-হিজ্জাহ মাস)। আরবরা এই নামগুলো পরিবর্তন করে মুহাররম থেকে যুল-হিজ্জাহ পর্যন্ত বর্তমান নামগুলো রেখেছে। তো এই নামগুলো কী এবং এগুলোর অর্থ কী? মুহাররমের নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে যুদ্ধ করা হারাম (নিষিদ্ধ) ছিল, আর এটিই আরবি মাসসমূহের প্রথম মাস।

আমরা এবার আরবি মাস 'রবি' এর প্রসঙ্গে আসি। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা এই সময়ে বসতি বা স্থানে অবস্থান করত। অর্থাৎ তারা তাদের এলাকায় অবস্থান করত, সফর বা হিজরত করত না; কারণ এটি ছিল ভূমির উর্বরতার সময়। তাই তারা সফর না করে নিজ স্থানে অবস্থান করত।

আর রজব সম্পর্কে তারা বলেছে: এটি 'তারজীব' শব্দ থেকে এসেছে। মানুষ যখন কোনো কিছুকে 'রাজ্জাবা' করে, তার অর্থ হলো সেটিকে সে সম্মান করে। তারা রজব মাসকে অত্যন্ত সম্মান করত। এজন্য রজব মাসকে 'আসাব্ব' বা 'আসম্ম' বলা হয়; কারণ তারা এই মাসে যুদ্ধ করত না। তবে তারা 'নাসি' নামক একটি কাজ করত। 'নাসি' হলো তারা কোনো নিষিদ্ধ মাসেই আক্রমণ চালিয়ে দিত। তখন তাদের বলা হতো: তোমরা কি দেখছ না যে এটি নিষিদ্ধ মাস? তারা বলত: না, আমরা মুহাররম মাসকে সফর মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দেব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই এই মাস পিছিয়ে দেওয়া কুফরির মধ্যে বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছু নয়, এর মাধ্যমে কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়। তারা একে এক বছর হালাল করে এবং অন্য বছর হারাম করে, যাতে তারা আল্লাহর হারামকৃত মাসের সংখ্যার সমতা বজায় রাখতে পারে।} [তওবা: ৩৭]।

সুতরাং 'নাসি' হলো আরবদের পক্ষ থেকে একটি টালবাহানা বা প্রতারণা, ঠিক যেমন বনী ইসরাঈলরা করেছিল। আল্লাহ তাদের ওপর শনিবার দিনে মাছ ধরা হারাম করেছিলেন। তারা ছিল সম্পদশালী মানুষ। তো ইহুদিরা কী করল? শনিবার দিনে তাদের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, অথচ শনিবারেই প্রচুর মাছ আসত। ইহুদিরা যখন নিজের সামনে মাছ দেখত অথচ তা ধরতে পারত না, তখন তারা খুব বিরক্ত হতো। তখন তারা কী করল? তারা শুক্রবার রাতে জাল পেতে রাখত এবং বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকত। শনিবারে মাছগুলো আসত এবং জালে আটকা পড়ত, ফলে তারা আর সাগরে ফিরে যেতে পারত না। এরপর তারা রবিবার সকালে এসে সেগুলো নিয়ে যেত।

তাদের যদি জিজ্ঞাসা করা হতো: তোমরা এমন কেন করছ? তারা বলত: আমরা তো শনিবারে মাছ ধরিনি, বরং আমরা তো বাড়িতে ঘুমিয়েছিলাম!! সুবহানাল্লাহ! সামেরিও ঠিক একইভাবে তাদের সাথে প্রতারণা করেছিল। সে তাদের বলেছিল: চুরি করা কি হালাল না হারাম? তারা বলেছিল: চুরি করা হারাম। সে বলল: তবে আমরা মিশরীয়দের স্বর্ণ নিয়ে কী করলাম? আমরা তো তা চুরি করেছি। যেহেতু তোমরা মিশরীয়দের স্বর্ণ চুরি করেছ, তাই তোমাদের এই চুরির মাল থেকে মুক্ত হতে হবে। তারা বলল: এর সমাধান কী? সে বলল: এই চুরির মালগুলো সব একত্র করো। তারা তা জমা করলে সে তা দিয়ে একটি বাছুর তৈরি করল এবং তারা সেই বাছুরের উপাসনা শুরু করল। অর্থাৎ তারা চুরির গুনাহ থেকে বাঁচতে আল্লাহ ছাড়া অন্যের সিজদা করার মাধ্যমে কুফরিতে লিপ্ত হলো, নাউযুবিল্লাহ।

একজন আরবের জন্য এই নামগুলো শেখা জরুরি। আর শাবান মাস সম্পর্কে বলা হয়েছে: রজব মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকার পর এই মাসে গোত্রগুলো যুদ্ধের জন্য বিভক্ত বা ছড়িয়ে পড়ত বলে এর নাম শাবান হয়েছে।

আর রমজান শব্দটি 'রামদা' থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রচণ্ড উত্তাপ। সম্ভবত যখন রমজানের নামকরণ করা হয়েছিল, তখন তা প্রচণ্ড গরমের সময় ছিল।

শাওয়াল শব্দটি এসেছে উটের লেজ উঠানো থেকে; পুরুষ উটের সাথে স্ত্রী উটের প্রজনন মৌসুমের কারণে উটগুলো লেজ উঠিয়ে রাখত বলে এমন নাম।

যুল-কাদাহ এর নামকরণ করা হয়েছে হজের মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা বা বসে থাকার কারণে।

যুল-হিজ্জাহকে এই নামে ডাকা হয় কারণ এটি এমন মৌসুম যখন আরবরা হজের কার্যাদি সম্পাদন করতে যেত।

এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের পূর্বলক্ষণসমূহের ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত। ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে আমরা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সায়্যিদা আমিনার গর্ভে ধারণ, তাঁর জন্মের পদ্ধতি, জন্মের সময় সেখানে কে কে উপস্থিত ছিলেন, কে তাঁর নাম 'মুহাম্মদ' রেখেছিলেন এবং কেন এই নামে নামকরণ করা হয়েছিল—তা নিয়ে আলোচনা করব। আরবদের মধ্যে কি আর কারো নাম মুহাম্মদ রাখা হয়েছিল? এরপর আমরা তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করব যাতে আমরা তাঁকে আমাদের সামনে কল্পনা করতে পারি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এরপর আমরা তাঁর শৈশবকাল নিয়ে আলোচনা করব—হালিমা সাদিয়ার ঘরে তাঁর কাটানো সময়, তাঁর মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত মায়ের সাথে থাকা, দাদার মৃত্যু পর্যন্ত দাদার সাথে থাকা এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে থাকা থেকে শুরু করে সায়্যিদা খাদিজার সাথে বিবাহ পর্যন্ত। এরপর তাঁর চল্লিশ বছর বয়স, ফিজারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং হিলফুল ফুযুল বা শান্তিসংঘে উপস্থিত হওয়া—যেখানে সব কল্যাণ নিহিত ছিল। এরপর আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনপথের পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাব।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌وجوب الاستمرار في النصيحة

 

‌‌السؤال

أمي دائماً تتحدث عن الناس، ولا يهمها أن تعرف أخبارهم؟ مما جعلني أدخل معها في جدال، وعندما أقول لها: هذا حرام تغضب مني، أرجو النصيحة؟

 

‌‌الجواب

يجب أن تواصل النصيحة لأمك.
নসিহত অব্যাহত রাখার আবশ্যকতা

 

প্রশ্ন

আমার মা সর্বদা মানুষের সমালোচনা করেন এবং তাদের খবরাখবর জানার বিষয়ে খুবই আগ্রহী থাকেন। যার ফলে আমি তাঁর সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ি। আমি যখন তাঁকে বলি যে—এটি হারাম, তখন তিনি আমার ওপর রাগান্বিত হন। আমি এ বিষয়ে আপনার উপদেশ বা নসিহত প্রার্থনা করছি।

 

উত্তর

আপনার জন্য আপনার মাকে নসিহত করা অব্যাহত রাখা আবশ্যক।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌حكم منع الزوج أم الزوجة وأخواتها من زيارتها

 

‌‌السؤال

إذا منع الزوج أخوات الزوجة وأمها من زيارتها، ثم سافر سفراً طويلاً، وقام بزيارتها أخ لها أو أمها، فهل يكون على الزوجة وزر، ويكون ذلك مخالفاً لأمر الزوج؟

 

‌‌الجواب

يجب على الزوج ألا يمنع زوجته من زيارتها لأهلها، أو من زيارة أهلها لها، إما أنها هي التي تذهب وتزور أهلها كل جمعة مرة أو يزورها أهلها، أما أنك تمنع عنها زيارة الأهل فهذا ما لا يحق لك، إلا إذا رأيت أن دخول أم زوجتك أو خالها أو أخيها في البيت يحيله رأساً على عقب، ويفسد بسببه عليك امرأتك، فقد قال صلى الله عليه وسلم: (وألا يوطئن فرشكم من تكرهون) كما في خطبة حجة الوداع، يعني: أن المرأة لا تدخل في بيت زوجها شخصاً يكرهه.
স্ত্রীর মা এবং বোনদের তাকে দেখতে আসায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে স্বামীর হুকুম

 

প্রশ্ন

যদি স্বামী স্ত্রীর বোন এবং তার মাকে তাকে দেখতে আসার অনুমতি না দেয়, তারপর সে দীর্ঘ সফরে চলে যায় এবং তখন তার কোনো ভাই বা মা তাকে দেখতে আসে, তবে কি স্ত্রীর কোনো গুনাহ হবে এবং এটি কি স্বামীর নির্দেশের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে?

 

উত্তর

স্বামীর জন্য উচিত নয় যে, সে তার স্ত্রীকে তার আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করতে বা আত্মীয়স্বজনকে তার সাথে দেখা করতে বাধা দেয়। হয় সে নিজে প্রতি জুমুয়াবার অন্তত একবার গিয়ে তার আত্মীয়দের সাথে দেখা করবে, অথবা তার আত্মীয়রা তার কাছে আসবে। কিন্তু আপনি যে তাদের দেখা-সাক্ষাতে বাধা দেবেন, এটি আপনার জন্য সমীচীন নয়। তবে আপনি যদি দেখেন যে, আপনার স্ত্রীর মা, মামা বা ভাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ ঘরকে ওলটপালট করে দিচ্ছে এবং তাদের কারণে আপনার স্ত্রী আপনার নিকট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তবে ভিন্ন কথা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: "তোমরা যাকে অপছন্দ করো তাকে যেন তারা তোমাদের বিছানায় (ঘরে) প্রবেশ করতে না দেয়।" অর্থাৎ, স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরে এমন কাউকে প্রবেশ করতে না দেয় যাকে স্বামী অপছন্দ করে।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌حكم إجراء عمليه لإزالة السمنة

 

‌‌السؤال

طلب زوج من زوجته إجراء عملية تجميل لإزالة السمنة من بعض أجزاء الجسم، وقد أطاعت أمر زوجها وأجرت العملية، هل يكون عليها إثم؟

 

‌‌الجواب

لا، ليس عليها، لكن هناك علاج نبوي، قال عليه الصلاة والسلام: (نحن قوم لا نأكل حتى نجوع، وإذا أكلنا لا نشبع) تظل المرأة تأكل وتأكل ثم تقول: أنا أريد أن أخفف من السمنة، يا أختي ارحمي نفسك الله يرضى عليك.
স্থূলতা দূর করার জন্য অস্ত্রোপচার করার বিধান

 

প্রশ্ন

একজন স্বামী তার স্ত্রীর নিকট শরীরের কিছু অংশ থেকে স্থূলতা দূর করার জন্য কসমেটিক সার্জারি করার অনুরোধ করেছেন, এবং তিনি তার স্বামীর নির্দেশ পালন করেছেন ও অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেছেন; এতে কি তার কোনো পাপ হবে?

 

উত্তর

না, তার কোনো পাপ হবে না, তবে সেখানে একটি নববী প্রতিকার রয়েছে। তিনি (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমরা এমন এক জাতি যারা ক্ষুধার্ত না হওয়া পর্যন্ত খাই না, আর যখন খাই তখন পেট পুরে খাই না।" নারী খেতেই থাকে এবং খেতেই থাকে, তারপর বলে: আমি স্থূলতা কমাতে চাই। হে বোন, নিজের প্রতি দয়া করুন, আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌حكم بقاء الموظف في مكان العمل بلا عمل

 

‌‌السؤال

أعمل في شركة وأظل طوال النهار بلا عمل تقريباً، وأتحرج أن أقرأ في كتاب أو عمل مفيد خشية أن يكون حراماً، فهل يحق لي أن أمضي الساعات الطوال بلا عمل، وقد يكون هذا له تأثير ضار على الصحة؟

 

‌‌الجواب

نعم له تأثير، لكن أنت تحرص أن تأخذ المرتب مقابل عملك، وهذا النظام فاسد في الدولة.
কাজ ছাড়া কর্মস্থলে কর্মচারীর অবস্থানের বিধান

 

প্রশ্ন

আমি একটি কোম্পানিতে কর্মরত আছি এবং প্রায় সারা দিনই কোনো কাজ ছাড়া বসে থাকতে হয়। কোনো বই পড়া বা অন্য কোনো উপকারী কাজ করতে আমি সংকোচ বোধ করি এই আশঙ্কায় যে, তা হয়তো হারাম হতে পারে। এমতাবস্থায় দীর্ঘ সময় এভাবে কাজহীন অবস্থায় কাটানো কি আমার জন্য বৈধ হবে? অথচ এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।

 

উত্তর

হ্যাঁ, এর প্রভাব রয়েছে। তবে আপনি তো আপনার কাজের বিনিময়ে বেতন গ্রহণ করতে আগ্রহী, আসলে রাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাটিই ত্রুটিপূর্ণ।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌حكم صلاة الوتر آخر الليل

 

‌‌السؤال

أصلي العشاء ثم أنام، ثم أقوم لصلاة القيام والتهجد، ثم أصلي الشفع والوتر، هل يصح ذلك؟

 

‌‌الجواب

يصح ذلك إن شاء الله.
রাতের শেষভাগে বিতর সালাতের বিধান

 

প্রশ্ন

আমি ইশার সালাত আদায় করি তারপর ঘুমিয়ে পড়ি, এরপর কিয়ামুল লাইল ও তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠি, অতঃপর শাফা ও বিতর সালাত আদায় করি। এটি কি সঠিক হবে?

 

উত্তর

ইনশাআল্লাহ এটি সঠিক।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌درجة حديث (يا علي لا تنم إلا أن تأتي بخمسة أشياء)

 

‌‌السؤال

حديث سيدنا علي: (يا علي لا تنم إلا أن تأتي بخمسة أشياء وهي: قراءة القرآن)؟

 

‌‌الجواب

هذا حديث لا أصل له.
‘হে আলী, পাঁচটি কাজ না করে তুমি ঘুমিও না’ হাদিসটির মান

 

প্রশ্ন

সাইয়্যিদিনা আলীর বর্ণিত হাদিস: (হে আলী, পাঁচটি কাজ না করে তুমি ঘুমিও না, আর সেগুলো হলো: কুরআন তিলাওয়াত করা...)?

 

উত্তর

এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌حكم الفوائد الربوية على الودائع

 

‌‌السؤال

أودعت مبلغاً من المال في بنك للحصول على شقة، فسحبت هذا المبلغ لعدم رغبتي في الشقة، فوجدت في الدفتر فائدة على هذا المبلغ، ماذا أفعل؟

 

‌‌الجواب

لا تأخذها، وإن أخذتها فأعطها لمن يستحق ولا ثواب لك فيها، ومن تصدق بالمال الحرام فكأنما يغسل ثوبه النجس بالبول.
জমাকৃত আমানতের ওপর সুদি মুনাফার বিধান

 

প্রশ্ন

আমি একটি ফ্ল্যাট পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাংকে কিছু অর্থ জমা রেখেছিলাম। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট নেওয়ার ব্যাপারে আমার অনাগ্রহ তৈরি হওয়ায় আমি সেই অর্থ উত্তোলন করি। তখন ব্যাংক বইয়ে উক্ত অর্থের ওপর কিছু সুদ দেখতে পাই। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?

 

উত্তর

আপনি তা গ্রহণ করবেন না। আর যদি গ্রহণ করে ফেলেন, তবে তা উপযুক্ত (দরিদ্র) ব্যক্তিকে দিয়ে দিন; এতে আপনার কোনো সওয়াব হবে না। আর যে ব্যক্তি হারাম অর্থ সদকা করে, সে যেন তার অপবিত্র কাপড় পেশাব দিয়ে ধৌত করল।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌حكم مس الجني للإنسي

س

 

‌‌السؤال

هناك امرأة سقطت من سلم، فمسها الجن، وعندما تسمع القرآن تصرخ وتقول: إني يهودي فما حكم ذلك؟

 

‌‌الجواب

جاءتني زوجة وزوجها، فقال الزوج: امرأتي تحصل لها حالة غريبة، وتكلمني بكلام مثل الرجل، وتقول لي: سآكلك، وكلام مثل هذا وأنا أخاف، فقلت للمرأة: ما هي المشكلة؟ فحكت الحكاية، ولمحت من كلامها بأسماء عفاريت، فقلت لها: بالله عليك يا مؤمنة يا محجبة يا من تعرفين الله عز وجل ما هي أخبار أم زوجك معك؟ فقالت: الله يخرب بيتها، الله يأخذها، فقلت: وضعت يدي على المشكلة، ثم قلت لها: أنت تعيشين مع أم زوجك؟ قالت: نعم، ادع لي يا سيدنا الشيخ أن ربنا يفك الأزمة، فقلت لزوجها: افصل بين زوجتك وأمك، وحلت المشكلة ولا يوجد عفريت ولا جن، فلماذا العفريت لم يلق إلا امرأتك المهم أريد أن أقول: لابد أن نبحث عن حل للمشكلة، وعلى كل من أجل ألا يغضب إخواننا الذين هم مؤمنون بهذه القضية، إذا رأيت أمراً غير طبيعي فيك أو في زوجتك فاقرأ سورة البقرة في جلسة واحدة فإن الله يذهب ما في البيت من شر.
জিন কর্তৃক মানুষকে স্পর্শ করার বিধান

প্রশ্ন

 

‌প্রশ্ন

এক মহিলা সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, এরপর তাকে জিনে ধরেছে। যখন তিনি কুরআন শোনেন, তখন তিনি চিৎকার করে বলেন: "আমি একজন ইহুদি।" এর বিধান কী?

 

‌উত্তর

আমার কাছে একজন স্ত্রী এবং তার স্বামী এলেন। স্বামী বললেন: "আমার স্ত্রীর এক অদ্ভুত অবস্থা হয়, সে আমার সাথে পুরুষের মতো স্বরে কথা বলে এবং আমাকে বলে: 'আমি তোমাকে খেয়ে ফেলব'—এই জাতীয় কথা। আমি এতে ভয় পেয়ে যাই।" আমি সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম: "সমস্যাটা কী?" তিনি ঘটনাটি বললেন। তার কথার মধ্যে আমি অশুভ আত্মার নাম লক্ষ্য করলাম। আমি তাকে বললাম: "আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, হে মুমিন নারী, হে পর্দানশীন, হে আল্লাহ তাআলার পরিচয় রাখা নারী! আপনার শাশুড়ির সাথে আপনার সম্পর্কের খবর কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তার ঘর বরবাদ করুক, আল্লাহ তাকে উঠিয়ে নিক।" আমি বললাম: "আমি সমস্যার মূল খুঁজে পেয়েছি।" তারপর আমি তাকে বললাম: "আপনি কি আপনার শাশুড়ির সাথে থাকেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, হে শায়খ! আমার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ এই সংকট দূর করেন।" আমি তখন তার স্বামীকে বললাম: "তোমার স্ত্রী এবং তোমার মাকে আলাদা করে দাও।" এতেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল; সেখানে কোনো জিন বা অশুভ আত্মা ছিল না। জিনের কি কেবল তোমার স্ত্রীকেই ধরার কথা? সারকথা হলো, আমাদের সমস্যার প্রকৃত সমাধান খুঁজতে হবে। তবে, যারা এ বিষয়গুলোতে বিশ্বাসী সেই ভাইদের অসন্তুষ্ট না করার স্বার্থে বলছি—যদি আপনি নিজের মধ্যে বা আপনার স্ত্রীর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখেন, তবে এক বৈঠকে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করুন। এতে আল্লাহ ঘরের অনিষ্ট দূর করে দেবেন।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تفسير قوله تعالى (والذي قال لوالديه أف لكما)

 

‌‌السؤال

تفسير الآية: {وَالَّذِي قَالَ لِوَالِدَيْهِ أُفٍّ لَكُمَا أَتَعِدَانِنِي أَنْ أُخْرَجَ وَقَدْ خَلَتْ الْقُرُونُ مِنْ قَبْلِي} [الأحقاف:17]؟

 

‌‌الجواب

هذه الآية نزلت في رجل والعياذ بالله يؤذي أباه وأمه، ولنا فيها تفصيل إن شاء الله؛ لأن لها قصة طويلة.
মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা (আর যে তার পিতা-মাতাকে বলে: উফ তোমাদের জন্য)

 

প্রশ্ন

আয়াতের ব্যাখ্যা: {আর যে তার পিতা-মাতাকে বলে: "উফ তোমাদের জন্য! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে, অথচ আমার পূর্বে বহু প্রজন্ম গত হয়ে গেছে?"} [সূরা আল-আহকাফ: ১৭]?

 

উত্তর

এই আয়াতটি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে—আল্লাহর কাছে আমরা এ থেকে আশ্রয় চাই—যে তার পিতা ও মাতাকে কষ্ট দিত। এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ আমাদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে; কারণ এর পেছনে একটি দীর্ঘ ঘটনা আছে।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌حكم طلاق الغضبان

 

‌‌السؤال

ما حكم الرجل الذي حلف في ساعة غضب شديد على زوجته بيمين الطلاق، فقال لها: أنت طالق ثلاث مرات، بهذا اللفظ؟

 

‌‌الجواب

جاء في الحديث: (ثلاث جدهن جد وهزلهن جد)، وكل من يسألني في هذا الأمر يقول لي: والله يا شيخ في ساعة غضب قلت لها: أنت طالق، وذهبت وفتحت الكتاب وقرأت فيه أن طلاق الغضبان، أقول: يا بني لا تفتح كتاباً، ولا داعي لفتح الكتاب، لكن اسأل العالم، فسيقول لك: أتعرف أن هذه امرأتك التي خاطبتها بالطلاق وقت الغضب؟ سيقول: نعم، وهذا الشخص عند مخاطبته لأمه وفي حال الغضب لا يقول لأمه: أنت طالق؛ لأنه يعرف أنها أمه، وكذلك يعرف أن هذه امرأته، فيقع الطلاق عليه.

وجمهور الفقهاء يقولون: طلاق السكران لا يقع، والغضبان يدخل عند الجمهور في حكم السكران، أما أبو حنيفة فقال: هو الذي أدخل السكر على نفسه، فيقع طلاق السكران والغضبان.
রাগান্বিত ব্যক্তির তালাকের বিধান

 

‌প্রশ্ন

সেই ব্যক্তির বিধান কী, যে প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে তার স্ত্রীর তালাকের শপথ করে তাকে এই শব্দে বলেছে: "তোমাকে তিন তালাক"?

 

‌উত্তর

হাদীসে এসেছে: "তিনটি বিষয় এমন, যেগুলোর গুরুত্ব সহকারে করাটাও যেমন কার্যকর, কৌতুকচ্ছলে করাটাও তেমনি কার্যকর।" যে ব্যক্তিই আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, সে আমাকে বলে: "আল্লাহর কসম হে শায়খ! আমি প্রচণ্ড রাগের মাথায় তাকে বলেছি: 'তুমি তালাক'। এরপর আমি কিতাব খুলেছি এবং তাতে রাগান্বিত ব্যক্তির তালাক সম্পর্কে পড়েছি।" আমি বলি: হে বৎস! কিতাব খুলো না, এবং কিতাব খোলার প্রয়োজনও নেই, বরং আলেমকে জিজ্ঞাসা করো। তিনি তোমাকে বলবেন: "তুমি কি জানো যে সে তোমার স্ত্রী, যাকে তুমি রাগের সময় তালাক দিয়ে সম্বোধন করছিলে?" সে বলবে: "হ্যাঁ"। অথচ এই ব্যক্তি রাগের মাথায় তার মায়ের সাথে কথা বলার সময় তার মাকে বলে না: "তুমি তালাক"; কারণ সে জানে যে তিনি তার মা। একইভাবে সে জানত যে এটি তার স্ত্রী, তাই তার ওপর তালাক কার্যকর হবে। অধিকাংশ ফকিহ (জমহুর) বলেন: মাতাল ব্যক্তির তালাক পতিত হয় না, আর রাগান্বিত ব্যক্তি জমহুরের নিকট মাতাল ব্যক্তির বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তবে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: সে নিজেই নিজের ওপর মত্ততা বা নেশা ডেকে এনেছে, তাই মাতাল এবং রাগান্বিত ব্যক্তির তালাক পতিত হবে।
(খণ্ড: ২) মুকতাতাফাতুম মিনাস সীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌حكم إركاب سائق النقل العام للأصدقاء والمعروفين بدون أجرة

 

‌‌السؤال

والدي يعمل سائقاً في هيئة النقل العام، فإذا أركب معه أحد الأصدقاء أو المعروفين بدون أجر، هل يجوز أم لا؟

 

‌‌الجواب

هذا حرام ولا يصح.
সরকারি গণপরিবহনের চালক কর্তৃক বন্ধু বা পরিচিতদের বিনা ভাড়ায় গাড়িতে তোলার বিধান

 

প্রশ্ন

আমার পিতা গণপরিবহন সংস্থায় একজন চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি যদি তার কোনো বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিকে বিনা ভাড়ায় গাড়িতে তোলেন, তবে তা কি জায়েজ হবে নাকি হবে না?

 

উত্তর

এটি হারাম এবং সঠিক নয়।