(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: -)
الإفادة والاعتبار في الأمور المشاهدة والحوادث المعاينة بأرض مصر القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الإفادة والاعتبار في الأمور المشاهدة والحوادث المعاينة بأرض مصر
المؤلف: عبد اللطيف بن يوسف بن محمد بن علي البغدادي، موفق الدين، ويعرف بابن اللباد، وبابن نقطة (ت 629هـ)
الناشر: مطبعة وادي النيل
الطبعة: الأولى، 1286 هـ
عدد الصفحات: 63
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1432
মিশর ভূমিতে প্রত্যক্ষকৃত বিষয়াবলি এবং প্রত্যক্ষদৃষ্ট ঘটনাবলির বর্ণনায় শিক্ষা ও উপদেশ বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: মিশর ভূমিতে প্রত্যক্ষকৃত বিষয়াবলি এবং প্রত্যক্ষদৃষ্ট ঘটনাবলির বর্ণনায় শিক্ষা ও উপদেশ
লেখক: আব্দুল লতিফ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী، মুওয়াফফাকুদ্দীন، এবং তিনি ইবনুল লাব্বাদ ও ইবনে নুকতাহ নামেও পরিচিত (মৃত্যু ৬২৯ হিজরি)
প্রকাশনা: ওয়াদিউন নীল প্রেস
সংস্করণ: প্রথম، ১২৮৬ হিজরি
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৬৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقالة الأولى
الفصل الأول فيخواص مصر العامةإنَّ أرض مصر من البلاد العجيبة الآثار، الغريبة الأخبار، وهي وادٍ يكتنفه جبلان شرقيّ وغربيّ، والشرقيّ أعظمهما يبتديان من أسوان ويتقاربان بأسنا حتى يكادا يتماسان، ثم ينفرجان قليلا قليلا، وكلّما امتدّا طولا انفرجا عَرضاً، حتى إذا حاذيا الفسطاط كان بينهما مسافة يوم فما دونه، ثم يتباعدان أكثر من ذلك والنيلُ ينسابُ بينهما ويتشعَّب بأسافل الأرض وجميعُ شُعَبه تصبُّ في البحر المالح،
وهذا النيل له خاصتان: الأولى، بُعد مرماه، فإنّا لا نعلم في المعمورة نهراً أبعد مسافةً منه، لأنّ مباديه عيونٌ تأتي من جبل القمر وزعموا أن هذا الجبل وراء خط الاستواء بإحدى عشرة درجة، وعرض أسوان وهي مبدأ أرض مصر اثنتان وعشرون درجة ونصف درجة، وعرض دمياط وهي أقصى أرض مصر إحدى وثلاثون درجة وثلث درجة، فتكون مسافة النيل على خط مستقيمٍ ثلاثاً وأربعين درجة تنقص سُدسا ومساحة ذلك تقريبا تسعمائة فرسخ، هذا سِوى ما يأخذ من التعريج والتوريب فإن اعتُبر ذلك تضاعفت المساحة جداً.
والخاصة الثانية، أنه يزيد عند نضوب سائر الأنهار ونشيش المياه، لأنه يبتدئ بالزيادة عند انتهاء طول النهار وتتناهى زيادته عند الاعتدال الخريفي، وحينئذ تُفتح التُّرع وتفيضُ على الأراضي، وعلَّة ذلك أنَّ موادَّ زيادته أمطار غزيرةٌ دائمةٌ وسيولٌ متواصلةٌ تمدُّه في هذا الأوان، فأنَّ أمطار الإقليم الأول والثاني إنّما تغزُر في الصيف والقيظ.
وأما أرض مصر فلها أيضا خواصٌّ منها، أنه لا يقع بها مطر إلّا ما لا احتفال به وخصوصا صعيدها، فأمّا أسافلها فقد يقع بها مطرٌ جود لكنه لا يفي بحاجة
الزراعة، وأمّا دمياط والاسكندرية وما داناهما فهي غزيرةُ المطر ومنه يشربون وليس بأرض مصر عينٌ ولا نهرٌ سوى نيلها.
প্রথম নিবন্ধপ্রথম পরিচ্ছেদমিসরের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গেনিশ্চয়ই মিসর ভূখণ্ড বিস্ময়কর নিদর্শনাবলি এবং অদ্ভুত সংবাদসমূহের দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি উপত্যকা যা পূর্ব ও পশ্চিম দিকের দুটি পাহাড় দ্বারা পরিবেষ্টিত। পূর্ব দিকের পাহাড়টি দুটির মধ্যে বড়। পাহাড় দুটি আসওয়ান থেকে শুরু হয়ে এসনায় এসে পরস্পর এতই নিকটবর্তী হয় যে মনে হয় যেন পরস্পর স্পর্শ করবে। অতঃপর সেগুলো ধীরে ধীরে প্রশস্ত হতে থাকে; দৈর্ঘ্য যত বাড়ে, প্রস্থও তত বৃদ্ধি পায়। যখন সেগুলো ফুস্তাতের সমান্তরালে পৌঁছায়, তখন উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব একদিনের পথ বা তার চেয়ে কম হয়। এরপর পাহাড় দুটি আরও দূরে সরে যায় এবং নীল নদ তাদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর সকল শাখাই লবণাক্ত সমুদ্রে পতিত হয়।
এই নীল নদের দুটি বিশেষত্ব রয়েছে: প্রথমটি হলো এর প্রবাহপথের দৈর্ঘ্য; কেননা বসতিপূর্ণ পৃথিবীতে আমরা এমন কোনো নদী জানি না যার দূরত্ব এর চেয়ে বেশি। কারণ এর উৎস হলো জাবালুল কামার (চন্দ্র পাহাড়) থেকে আসা ঝরনাধারা। তারা ধারণা করেন যে, এই পাহাড়টি নিরক্ষরেখা থেকে এগারো ডিগ্রি দূরে অবস্থিত। মিসর ভূখণ্ডের শুরু আসওয়ানের অক্ষাংশ হলো সাড়ে বাইশ ডিগ্রি এবং মিসরের শেষ প্রান্ত দিময়াতের অক্ষাংশ হলো একত্রিশ ও এক-তৃতীয়াংশ ডিগ্রি। সুতরাং সরলরেখায় নীল নদের দূরত্ব দাঁড়ায় এক-ষষ্ঠাংশ কম তেতাল্লিশ ডিগ্রি, যার পরিমাণ প্রায় নয়শ ফারসাখ। এটি এর আঁকাবাঁকা ও তেরছা গতিপথ বাদ দিয়ে; যদি সেগুলো গণনা করা হয়, তবে এর পরিমাপ অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিশেষত্বটি হলো, যখন অন্যান্য সমস্ত নদী শুকিয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়, তখন এটি বৃদ্ধি পায়। কারণ দিনের দৈর্ঘ্য যখন শেষ হতে থাকে তখন এটি বাড়তে শুরু করে এবং শরৎকালীন বিষুবকালে এর বৃদ্ধি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে। তখন খালগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তা জনপদে প্লাবিত হয়। এর কারণ হলো, এই সময়ে অবিরাম প্রবল বৃষ্টিপাত এবং নিরবচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঢল একে পুষ্ট করে। কারণ প্রথম ও দ্বিতীয় অঞ্চলের বৃষ্টিপাত মূলত গ্রীষ্ম ও প্রখর তাপদাহের সময় প্রবল হয়ে থাকে।
আর মিসর ভূখণ্ডের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো—সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয় না, বিশেষ করে উচ্চ মিসরে। তবে এর নিম্নভূমিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে কিন্তু তা কৃষিকাজের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সক্ষম নয়। আর দিময়াত, আলেকজান্দ্রিয়া এবং এর নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রচুর বৃষ্টি হয় এবং তারা সেখান থেকেই পানীয় সংগ্রহ করে। নীল নদ ছাড়া মিসর ভূখণ্ডে আর কোনো ঝরনা বা নদী নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومنها أن أرضها رمليةٌ لا تصلُح للزراعة، لكنه يأتيها طين أسود عَلك فيه دسومةٌ كثيرةٌ يسمّى الإبليز، يأتيها من بلاد السودان مختلطاً بماء النيل عند مدّه فيستقر الطين وينضب الماء فيُحرث ويزرع، وكلّ سنةٍ يأتيها طينٌ جديد، ولهذا يزرع جميع أراضيها ولا يُراح شيءٌ منها كما يُفعل في العراق والشام، لكنها يخالف عليها الأصناف، وقد لحظت العرب ذلك فأنها تقول: إذا كثرت الرياح جادت الحراثة، لأنها تجيء بترابٍ غريب، وتقول أيضا: إذا كثُرت المؤتفكات زكا الزرع، ولهذه العلة تكون أرضُ الصعيد زكية كثيرة الأتاء والرَّيع إذا كانت أقرب إلى المبدأ، فيحصل فيها من هذا الطين مقدار كثير بخلاف أسفل الأرض، فإنها أسافة مضوية إذا كانت رقيقة ضعيفة الطين، لأنه يأتيها الماء وقد راق وصفا، ولا أعرف شبيها بذلك إلّا ما حُكي لي عن بعض جبال الإقليم الأول، أن الرياح تأتيه وقت الزراعة بتراب كثير، ثم يقع عليه المطر فيتلبَّدُ فيُحرث ويُزرع، فإذا حصد، جاءته رياح أخرى فنسفته حتى يعود أجود كما كان أوّلاً، ومنها أن الفصول بها متغيِّرةٌ عن طبيعتها التي لها فإنَّ أخصَّ الأوقاتِ باليُبس في سائر البلاد، أعني الصيف والخريف تكثر فيه الرطوبة بمصر بمدِّ نيلها وفيضِه لأنّه يمد في الصيف ويطبق الأرض في الخريف.
فأمّا سائر البلاد فأنّ مياهها تنشُّ في هذا الأوان، وتغزرُ في أخصِّ الأوقات بالرطوبة - أعني الشتاء والربيع - ومصر إذ ذاكَ تكونُ في غاية القحولة واليُبس ولهذه العلة تكثر عفونتها واختلافُ هوائها وتغلُب على أهلها الأمراضُ العفنيّة الحادثة عن أخلاطٍ صفراويةٍ وبلغميّة، وقلّما تجدُ فيهم أمراضا صفراوية خالصة، بل الغالب عليهم البلغم حتّى في الشباب والمحرورين، وكثيرا ما يكون مع الصفر
أخام، وأكثر أمراضهم في آخر الخريف وأول الشتاء لكنها يغلبُ عليها حميد العاقبة، وتقلُّ فيهم الأمراض الحادة والدموية الوحية، وأما أصحّاؤُهم فيغلبُ عليهم الترهُّل والكسل وشحوب اللون وكمودته، وقلَّما ترى فيهم مشبوبَ اللونِ ظاهر الدَّم، وأما صِبيانُهم فضاوون يغلب عليهم الدَّمامةُ وقلَّة النضارة وإنّما تحدثُ لهم البدانةُ والقسامة غالبا بعد العشرين.
وأما ذكاؤهم وتوقُّدُ أذهانهم وخفَّة حركاتهم، فلحرارة بلدِهم الذاتية لأنَّ رطوبته عرضية، ولهذا كان أهل الصعيد أفحل جسوماً وأجفُّ أمزجة، والغالب عليهم السمرة وكان ساكنو الفسطاط إلى دمياط أرطب أبداناً، والغالب عليهم البياض،
এর মধ্যে একটি হলো যে, এর ভূমি বালুময় যা কৃষিকাজের জন্য অনুপযুক্ত। তবে সেখানে একটি চটচটে কালো মাটি আসে যাতে প্রচুর তৈলাক্ততা থাকে, যাকে 'ইবলিজ' বলা হয়। এটি সুদান দেশ থেকে আসে এবং নীল নদের জোয়ারের সময় পানির সাথে মিশে আসে। এরপর মাটি জমে যায় এবং পানি শুকিয়ে যায়, তখন সেখানে লাঙ্গল চালানো হয় এবং চাষাবাদ করা হয়। প্রতি বছর সেখানে নতুন মাটি আসে, এই কারণে এর সমস্ত ভূমিতে চাষাবাদ করা হয় এবং ইরাক ও শামের মতো কোনো জমিকে ফেলে রাখা বা বিশ্রাম দেওয়া হয় না। বরং এতে বিভিন্ন প্রজাতির শস্য পর্যায়ক্রমে চাষ করা হয়। আরবগণ বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, তাই তারা বলেন: যখন বায়ুপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়, তখন চাষাবাদ ভালো হয়, কারণ এটি ভিন্ন প্রকারের মাটি বয়ে আনে। তারা আরও বলেন: যখন ঘূর্ণিবায়ু বৃদ্ধি পায়, তখন ফসল বৃদ্ধি পায়। এই কারণে উচ্চ মিশরের ভূমি অধিক উর্বর এবং সেখানে উৎপাদন ও প্রাচুর্য বেশি হয় যেহেতু তা উৎসের কাছাকাছি থাকে। ফলে সেখানে এই মাটির পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়, যা নিম্নভূমির বিপরীত। নিম্নভূমি দুর্বল ও নিস্তেজ হয় যখন সেখানে মাটির স্তর পাতলা ও দুর্বল থাকে, কারণ সেখানে পানি পৌঁছাতে পৌঁছাতে তা স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হয়ে যায়। আমি এর অনুরূপ আর কিছুই জানি না কেবল প্রথম জলবায়ু অঞ্চলের কিছু পাহাড় সম্পর্কে আমাকে যা বলা হয়েছে তা ছাড়া, যেখানে চাষাবাদের সময় বায়ু প্রচুর মাটি বয়ে নিয়ে আসে, এরপর বৃষ্টি হলে তা জমাট বাঁধে এবং তাতে লাঙ্গল চালিয়ে চাষ করা হয়। যখন ফসল কাটা হয়, তখন পুনরায় বাতাস আসে এবং তা উড়িয়ে নিয়ে যায় যতক্ষণ না তা আগের চেয়েও উৎকৃষ্ট অবস্থায় ফিরে আসে। এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো যে, এখানকার ঋতুসমূহ তাদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য থেকে পরিবর্তিত। কারণ অন্যান্য দেশে শুষ্কতার জন্য নির্ধারিত সময়গুলোতে, অর্থাৎ গ্রীষ্ম ও শরতে মিশরে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় নীল নদের জোয়ার ও প্লাবনের কারণে। কারণ গ্রীষ্মকালে নীল নদ বৃদ্ধি পায় এবং শরৎকালে জমিকে আবৃত করে রাখে।
অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এই সময়ে তাদের পানি শুকিয়ে যায় এবং আর্দ্রতার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ শীত ও বসন্তে পানির প্রাচুর্য দেখা দেয়। অথচ মিশর তখন চরম অনুর্বরতা ও শুষ্কতার মধ্যে থাকে। এই কারণে সেখানে পচনশীলতা এবং বায়ুর পরিবর্তন বৃদ্ধি পায় এবং এর অধিবাসীদের ওপর পচনশীল রোগসমূহ প্রবল হয় যা পিত্ত ও কফজনিত মিশ্রণের কারণে ঘটে থাকে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পিত্তজনিত রোগ খুব কমই দেখা যায়, বরং তাদের ওপর কফের প্রভাবই বেশি থাকে, এমনকি যুবক ও গরম মেজাজের লোকদের মধ্যেও। প্রায়শই পিত্তের সাথে অজীর্ণতা যুক্ত থাকে। তাদের অধিকাংশ রোগ শরতের শেষ এবং শীতের শুরুতে হয়, তবে সেগুলো সাধারণত শুভ পরিণতির দিকেই যায়। তাদের মধ্যে তীব্র ও তাৎক্ষণিক রক্তজনিত রোগের প্রকোপ কম। তাদের সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শিথিলতা, অলসতা, ম্লান বর্ণ এবং কালচে আভা প্রবল থাকে। তাদের মধ্যে সজীব রক্তবিশিষ্ট উজ্জ্বল বর্ণের লোক কমই দেখা যায়। আর তাদের শিশুরা হয় দুর্বল যাদের মধ্যে শ্রীহীনতা ও সজীবতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত বিশ বছরের পরেই তাদের মধ্যে স্থূলতা ও শারীরিক সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।
আর তাদের বুদ্ধিমত্তা, মেধার প্রখরতা এবং চটপটে চলাফেরা তাদের দেশের মৌলিক উষ্ণতার কারণে, কারণ সেখানকার আর্দ্রতা হলো আগন্তুক বা বাহ্যিক। এই কারণে উচ্চ মিশরের অধিবাসীরা অধিক বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী এবং তাদের মেজাজ অধিক শুষ্ক হয়, আর তাদের গায়ের রঙ সাধারণত শ্যামল হয়। অন্যদিকে ফুসতাত থেকে দামিয়েত্তা পর্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের শরীর অধিক আর্দ্র এবং তাদের গায়ের রঙ সাধারণত ফর্সা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولمّا رأى قدماءُ المصريين أنّ عمارة أرضهم إنّما هي بنيلِها، جعلوا أوّل سنتهم أولّ الخريف وذلك عند بلوغ النيل الغاية القصوى من الزيادة.
ومنها أن الصَّبا محجوبة عنهم بجبلها الشرقي المسمَّى المقطَّم، فإنَّه يستر عنها هذه الريح الفاضلة وقلّما تهبُّ عليهم خالصةً اللهمَّ إلّا نكباً، ولهذا اختار قدماء المصريين أن يجعلوا مستقر الملك منَف ونحوها مما يبعد عن هذا الجبل الشرقي إلى الغربي واختار الروم الإسكندرية وتجنَّبوا موضع الفسطاط، لقربه من المقطَّم فإنَّ الجبل يسترُ عما في لِحْفِه أكثر ممَّا يستر عما بعُدَ منه، ثم إنَّ الشمس يتأخَّر طلوعها عليهم فيقلّ في هوائهم النضجُ ويبقى زمانا على نهوة الليل، ولذلك تجد المواضعَ المنكشفة للصَّبا من أرض مصر أحسن حالاً من غيرها ولكثرَة رطوبتها يتسارع العفنُ إليها، ويكثرُ فيها الفأرُ ويتولَّد من الطين والعقارب وتكثر بقوص كثيراً ما تقتل بلبسها والبقُّ المنتنُ والذبابُ والبراغيثُ تدوم زماناً طويلا.
ومنها أن الجنوب إذا هبَّت عندهم في الشتاء والربيع وفيما بعد ذلك، كانت باردة جداَ ويسمونها المريسي لمرورها على أرض المريس وهي من بلاد السودان، وسبب بردها، مرورها على بِرَكٍ ونقائع، والدليل على صحّة ذلك أنّها إذا دامت
أيّاما متوالية، عادت إلى حرارتها الطبيعية وأسخنت الهواء وأحدثت فيه يَبساً.
الفصل الثانيفيما تختص به من النباتمن ذلك البامية وهي ثمر بقدر إبهام اليد كأنَّه جرأ القثاء شديد الخضرة، إلّا أن عليه زيبر مشوكاً وهو مخمَّس الشكل، يحيط به خمسة أضلاع فإذا شق أنشقَّ عن خمسةِ أبياتٍ بينها حواجز، وفي تلك الأبيات حبٌّ مصطفٌّ مستديرٌ أبيض، أصفر من اللوبيا هشٌّ يضرِبُ إلى الحلاوة وفيه قبضٌ ولعابية كثيرةٌ يَطبخُ أهل مصر به اللّحم بأن يقطَّع مع قشوره صغارا ويكونُ طعاماً لا بأس به، الغالب على طبعه الحرارة والرطوبة، ولا يظهر في طبيخه قبضٌ بل لزوجة.
ومن ذلك الملوخية ويسمِّيها الأطباء الملوكية، ولعمري هي الخبازى البستاني، والخطمي أيضا نوع من الخبَّازى البري، والملوخية أشدُّ مائيَّة ورطوبةً من الخبَّازى وهي باردة
প্রাচীন মিশরীয়রা যখন দেখল যে তাদের ভূমির সমৃদ্ধি কেবল নীল নদের ওপরই নির্ভরশীল, তখন তারা তাদের বছরের শুরু শরতের প্রারম্ভে নির্ধারণ করল; আর তা নীল নদের পানি বৃদ্ধির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানোর সময়।
এর মধ্যে একটি কারণ হলো, পূবালী বাতাস (সাবা) তাদের নিকট মুকাত্তাম নামক পূর্ব দিকের পাহাড় দ্বারা আড়াল হয়ে থাকে; ফলে এই পাহাড়টি তাদের থেকে এই উৎকৃষ্ট বাতাসকে আড়াল করে রাখে এবং কদাচিৎ তা তাদের ওপর বিশুদ্ধভাবে প্রবাহিত হয়, কেবল ঝোড়ো বাতাস হিসেবেই তা আসে। এই কারণেই প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের রাজকীয় আবাসস্থল হিসেবে মানফ (মেম্ফিস) ও এর আশপাশের এলাকাগুলো বেছে নিয়েছিল, যা এই পূর্ব দিকের পাহাড় থেকে দূরে পশ্চিম দিকে অবস্থিত। অন্যদিকে রোমানরা আলেকজান্দ্রিয়া বেছে নিয়েছিল এবং ফুস্তাত এলাকাটি পরিহার করেছিল, কারণ মুকাত্তাম পাহাড়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে পাহাড়ের পাদদেশের এলাকাগুলো দূরবর্তী এলাকার তুলনায় বেশি আড়াল হয়ে থাকে। অধিকন্তু, সেখানে সূর্য উদিত হতে দেরি হয়, ফলে তাদের আবহাওয়ায় পরিপক্কতা কম হয় এবং তা দীর্ঘক্ষণ রাতের আমেজে আচ্ছন্ন থাকে। এই কারণে আপনি মিশরের সেই স্থানগুলোকে অন্য স্থানের তুলনায় ভালো অবস্থায় পাবেন যেগুলো পূবালী বাতাসের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে সেখানে দ্রুত পচন ধরে, ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যায় এবং কাদা ও বিচ্ছু উৎপন্ন হয়; কুস অঞ্চলে বিচ্ছু প্রচুর দেখা যায় যা প্রায়শই মানুষকে দংশন করে মেরে ফেলে। এছাড়াও দুর্গন্ধযুক্ত ছারপোকা, মাছি এবং ফ্লি সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করে।
এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো, শীত ও বসন্তকালে এবং পরবর্তী সময়ে যখন দক্ষিণ বায়ু প্রবাহিত হয়, তখন তা অত্যন্ত শীতল থাকে। তারা একে 'মারিসি' নামে অভিহিত করে, কারণ এটি মারিস ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা সুদান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এর শীতল হওয়ার কারণ হলো তা বিভিন্ন জলাশয় ও ডোবার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর সত্যতার প্রমাণ হলো যখন এটি একটানা
কয়েক দিন ধরে বইতে থাকে, তখন তা তার স্বাভাবিক উষ্ণতায় ফিরে আসে এবং আবহাওয়াকে উত্তপ্ত করে তোলে ও তাতে শুষ্কতা সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসেখানকার বিশেষ উদ্ভিদসমূহ সম্পর্কেএর মধ্যে একটি হলো ঢ্যাঁড়শ, এটি হাতের বুড়ো আঙুলের সমান একটি ফল, যা দেখতে অত্যন্ত গাঢ় সবুজ বর্ণের কচি শসার মতো। তবে এর গায়ে কাঁটাযুক্ত রোম থাকে এবং এটি পঞ্চভুজাকৃতির, যা পাঁচটি শিরা দ্বারা বেষ্টিত। এটি চিরলে পাঁচটি প্রকোষ্ঠ দেখা যায় যার মাঝে বিভাজক পর্দা থাকে। এই প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে গোলাকার সাদা বীজের সারি থাকে, যা বরবটির বীজের চেয়ে হলদেটে, ভঙ্গুর এবং কিছুটা মিষ্টি স্বাদের। এতে কষ ভাব ও প্রচুর পিচ্ছিলতা থাকে। মিশরের অধিবাসীরা এটি খোসাসহ ছোট ছোট করে কেটে গোশতের সাথে রান্না করে, যা বেশ উপাদেয় একটি খাবার হয়। এর স্বভাব প্রধানত গরম ও আর্দ্র এবং রান্না করার পর এতে কষ ভাব থাকে না বরং আঠালো ভাব ফুটে ওঠে।
এর মধ্যে আরও রয়েছে মুলুখিয়া, যাকে চিকিৎসকরা 'মুলুকিয়া' (রাজকীয়) বলে ডাকেন। আমার জীবনের কসম, এটি মূলত উদ্যানজাত খাব্বাজি উদ্ভিদ; আর খাতমিও এক প্রকার বন্য খাব্বাজি। মুলুখিয়া খাব্বাজির তুলনায় অধিক জলীয় ও আর্দ্র এবং এটি শীতল প্রকৃতির।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৮)
رطبةٌ في الأولى تزرع في الباقل ويُطبخ لها اللحم، وهي كثيرة اللعابية وتزرع أيضا بالشام قليلا ويُطبخ بها عندهم في الندرة وهي ردية للمعدة، لكنها تسكنُ الحرارةُ وتبرد ويسرع انحدارها لتزلُّقها، قال الإسرائيلي: رأيت نوعا ثالثا من الخبّازى يسمى بمصر ملوخية السودان، ويعرف بالعراق بالشوشنديبا وقوته وفعله وسطٌ بين الملوخية والخبّازى، لأنه أقل غذاء من الملوخية وأكثر من الخبّازى،
ومن ذلك اللّبخ وشجرته - كالسدرة - ريّا نضرة وثمرته بقدر الخلال الكبار وفي لونه، إلّا أنه مشبع الخضرة كلون المسن، وما دام فجّا ففيه قبضٌ كما في البلح فإذا نضج طاب وحلا وعادت فيه لزوجته، ونواته كنواة الأجاص أو كقلب اللوزة بيضاء إلى الغبرة وتكسر بسهولة، فتنفلِق عن لوزةٍ ريّا بيضاء لينة وإذا بقيت
ثلاثة أيام ضمرت وصلبت، وكلّما تطاول عليها الزمن اضمحلَّ اللُّب وبقيَ القشرُ فارغاً أو كالفارغ، غيرَ أنه لا يتشنّج بل يتقلقلُ اللّب فيه لسعة المكان عليه، وتجد في طعم اللّبِّ مرارة ظاهرةً ولذعاً يبقى أثره في اللسان مدّة، وقد حُدِّثتُ على أنه أحد ضروب الدند الثلاثة، فقد قال أرسطو وغيره أن اللّبخ كان بفارس سُمّا قاتلاً فنُقل إلى مصر فصار غذاء، وقال نيقولاوس: وأما اللّبخ فقد كان في أرض فارس قاتلاً فنُقل إلى الشام وإلى مصر فصار جيّداً مأكولاً وهو قليلٌ غالٍ، وإنّما تكون في البلاد منه شجرات معدودات، وأما خشبه ففي غاية الجودة صلبٌ حجريٌ وأسود وهو عزيز ثمين، وأهل مصر يحضرون اللّبخ من الفواكه والأنقال - وقال أبو حنيفة الدينوري: اللّبخ شجرة عظيمة مثل الأثاب إذا عظُم، وورقها كورق الجوز ولها جنى كجنى الحماط مرٌّ إذا أُكل أعطشَ وإذا شُرب عليه الماء نفخ البطن، وهو من شجر الجبال، ثم روى عن رجل من صعيد مصر أن اللّبخ شجرٌ عظام أمثال الدلب، له ثمر أخضر يشبه الثمر حلو جدّا، إلّا أنه كريهٌ جيِّدٌ لوجع الأضراس، قال: وإذا نشر أرعف ناشره ويُنشر فيبلغ ثمن اللّوح خمسين ديناراً ويجعله أصحاب المراكبِ في بناء السفن لبعض العلل، وزعم أنه إذا ضُمَّ منه لوحان ضمّا شديدا وجعلا في الماء سنة التحما وصارا لوحا واحدا، وأكثر ما حكاهُ الدينوري لا أعرف صحته، وقال ابن سمجون: اللّبخ يكون بمصر وثمرته جيدة للمعِدة وقد يوجد عليه صنفٌ من الرتيلاء وورقه إذا جُفِّف قطعَ الدّم ذروراً، والإسهال شربا، وفيها قبضٌ بيّن، قال: وأما نوى ثمرِه، فيزعُم أهل مصر أن أكله يُحدث صمماً،
এটি প্রথম মাত্রায় আর্দ্র; এটি শিম জাতীয় শস্যের মধ্যে চাষ করা হয় এবং এর সাথে গোশত রান্না করা হয়। এটি অত্যন্ত পিচ্ছিল এবং শামেও সামান্য পরিমাণে চাষ করা হয়, তবে সেখানে এটি কদাচিৎ রান্না করা হয়। এটি পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর, তবে এটি শরীরের উত্তাপ প্রশমিত করে, শীতলতা প্রদান করে এবং পিচ্ছিল হওয়ার কারণে এটি দ্রুত নির্গত হয়। আল-ইসরাঈলি বলেন: আমি ‘খুব্বাযা’ (মালভা)-র একটি তৃতীয় প্রজাতি দেখেছি যা মিসরে ‘সুদানি মুলুখিয়া’ নামে পরিচিত এবং ইরাকে একে ‘শুশান্দিবা’ বলা হয়। এর ক্ষমতা ও গুণাগুণ মুলুখিয়া এবং খুব্বাযার মাঝামাঝি; কারণ এটি মুলুহিয়ার চেয়ে কম পুষ্টিকর এবং খুব্বাযার চেয়ে বেশি পুষ্টিকর।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘লাবাখ’ এবং এর গাছ—যা কুল গাছের মতো—সজীব ও সতেজ। এর ফল বড় আকৃতির দাঁতখিলালের মতো এবং রঙের দিক থেকেও সেরূপ, তবে এর সবুজ রঙটি শানপাথরের রঙের মতো গাঢ়। যতক্ষণ এটি কাঁচা থাকে, ততক্ষণ এতে কষাভাব থাকে যেমনটি কাঁচা খেজুরে থাকে। যখন এটি পেকে যায়, তখন তা উপাদেয় ও মিষ্টি হয় এবং এতে আঠালো ভাব ফিরে আসে। এর আঁটি আলুবোখরার আঁটির মতো অথবা বাদামের শাঁসের মতো যা ধূসর-সাদা রঙের এবং সহজেই ভেঙে যায়। এটি ভাঙলে সজীব সাদা নরম বাদামের মতো অংশ বেরিয়ে আসে।
তিন দিন অতিবাহিত হলে এটি সংকুচিত ও শক্ত হয়ে যায়। সময় যত গড়িয়ে যায়, এর শাঁস তত বিলীন হতে থাকে এবং খোসাটি শূন্য বা প্রায় শূন্য অবস্থায় থেকে যায়। তবে এটি কুঁচকে যায় না, বরং জায়গা প্রশস্ত হওয়ার কারণে শাঁসটি ভেতরে নড়াচড়া করে। এর শাঁসের স্বাদে স্পষ্ট তিক্ততা ও ঝাঁজ পাওয়া যায় যার রেশ জিহ্বায় বেশ কিছুক্ষণ থেকে যায়। আমাকে জানানো হয়েছে যে, এটি ‘দান্দ’-এর তিন প্রকারের একটি। অ্যারিস্টটল ও অন্যরা বলেছেন যে, লাবাখ পারস্য দেশে একটি প্রাণঘাতী বিষ ছিল, অতঃপর তা মিসরে স্থানান্তরিত হলে খাদ্য হিসেবে গণ্য হয়। নিকোলাস বলেছেন: লাবাখ পারস্য ভূমিতে প্রাণঘাতী ছিল, পরে এটি শাম ও মিসরে স্থানান্তরিত হলে এটি উত্তম খাদ্যদ্রব্যে পরিণত হয়। এটি দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান এবং এ দেশে এর হাতেগোনা কয়েকটি গাছ রয়েছে। এর কাঠ অত্যন্ত উন্নত মানের, পাথরের মতো শক্ত ও কালো এবং এটি দুর্লভ ও মূল্যবান। মিসরীয়রা ফল ও মিষ্টান্ন হিসেবে লাবাখ পরিবেশন করে। আবু হানিফা আদ-দিনাওয়ারী বলেছেন: লাবাখ একটি বিশাল গাছ, যখন এটি বড় হয় তখন এটি ‘আসাব’-এর মতো দেখায়। এর পাতা আখরোটের পাতার মতো এবং এর ফল ডুমুর জাতীয় ফলের মতো। এটি তিক্ত, যা খেলে পিপাসা লাগে এবং খাওয়ার পর পানি পান করলে পেট ফাঁপা রোগ হয়। এটি পাহাড়ের গাছগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তিনি উচ্চ মিসরের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, লাবাখ হলো ডলব গাছের মতো বিশালাকৃতির গাছ। এর সবুজ ফল রয়েছে যা দেখতে খেজুরের মতো এবং অত্যন্ত মিষ্টি। তবে এর ঘ্রাণ অপ্রীতিকর হলেও দাঁতের ব্যথার জন্য এটি উপকারী। তিনি বলেন: এটি চেরাই করার সময় চেরাইকারীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে। এর একটি তক্তার দাম পঞ্চাশ দিনার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং বিশেষ কিছু কারণে জাহাজ নির্মাতারা এটি জাহাজ নির্মাণে ব্যবহার করে। তিনি দাবি করেছেন যে, এর দুটি তক্তাকে শক্তভাবে যুক্ত করে এক বছর পানিতে রেখে দিলে সেগুলো মিলেমিশে একটি তক্তায় পরিণত হয়। দিনাওয়ারী যা বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশের সত্যতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই। ইবনে সামজুন বলেছেন: লাবাখ মিসরে পাওয়া যায় এবং এর ফল পাকস্থলীর জন্য উপকারী। এতে এক প্রজাতির মাকড়সা দেখা যেতে পারে। এর পাতা শুকিয়ে চূর্ণ করে ব্যবহার করলে রক্তপাত বন্ধ হয় এবং পান করলে আমাশয় বা ডায়রিয়া নিরাময় হয়; এতে স্পষ্ট কষাভাব বিদ্যমান। তিনি বলেন: এর ফলের আঁটি সম্পর্কে মিসরীয়রা দাবি করে যে, তা ভক্ষণ করলে বধিরতা সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن ذلك الجمَّيز وهو بمصر كثيرٌ جداً ورأيت منه شيئا بعسقلان والساحل، وكأنّه تينٌ برّي وتخرج ثمرته في الخشب لا تحت الورق ويخلِّف في السنة سبعة بطون ويؤكل أربعة أشهر ويَحمل وقرا عظيما وقبل أن يجيء بأيام يصعد رجل إلى
الشجرة معه حديدة يَسِمُ بها حبة حبة من الثمرة فيجري منها لبن أبيض، ثم يسود الموضع وتحلو الثمرة بذلك الفعل، وقد يوجد منه شيء شديد الحلاوة أحلى من التين، لكنه لا ينفعك في أواخر مضغه من طعم خشبية ما، وشجرته كبيرة كشجرة الجوز العاتية ويخرج من ثمره وغصنه إذا فصد لبن أبيض إذا طلي على ثوب أو غيره صبغه أحمر، وخشبه تعمر به المساكن ويتخذ منه الأبواب وغيرها من الآلات الجافية وله بقاء على الدهر وصبر على الماء والشمس، وقلما يتآكل هذا مع أنه خشب خفيف قليل اللّدونة ويُتّخَذ من ثمرته خلٌّ حاذق ونبيذ حاذ.
قال جالينوس: الجمّيز بارد رطب فيما بين التوت والتين وهو رديء للمعدة ولبن شجرته له قوّة ملينِّة تلصق الجراح وتفشِ الأورام ويلطّخ على لسعِ الهوام، ويحلّل حساة الطحال وأوجاع المعدة ضمادا، ويتّخذ منه شراب للسعال المتقادِم ونوازِل الصدر والريه، وعمله بأن يُطبخ في الماء حتى تخرج فيه قوته ويطبخ ذلك الماء مع السكَّر حتى ينعقد ويرفع، وقال أبو حنيفة، ومن أجناس التين تين الجمّيز وهو تين حلو رطب له معاليق طوال ويزبَّب، وضَربٌ آخر من الجمّيز حملة كالتين في الخلقة وورقه أصفر من ورق التين وتينه أصفر صغار وأسود ويكون بالقور ويُسمّى التين الذكر، والأصفر منه حلو والأسود يدمي الفم وليس لتينه علاقةٌ بل لاصقٌ بالعود.
ومن ذلك البلسان، فأنّه لا يوجد اليوم إلّا بمصر بعين شمس في موضع محاط عليه محتفظ به مساحته نحو سبعة أفدنة وارتفاع شجرته نحو ذراع وأكثر من ذلك، وعليها قِشران الأعلى أحمر خفيف والأسفل أخضر ثخين، وإذا مضغ ظهر في الفم منه دهنيته ورائحة عطرة وورقه شبيه بورق السنداب، ويجتني دهنه عند طلوع الشعرى بأن تشدخ السوق بعد ما يحتّ عنها جميع ورقها وشدخها يكون بحجر يتخذ محددا، ويفتقر شدخها إلى صناعة بحيث يقطع القشر الأعلى ويشق
الأسفل لا ينفذ إلى الخشب فإن نفذ إلى الخشب لم يخرج منه شيء، فإذا شدخه كما وصفنا أمهله ريثما يسيل لثاه على العود فيجمعه بإصبعه مسحا إلى قرن فإذا امتلأ صبَّه في قناني زجاج ولا يَزالُ كذلك حتى ينتهي جناهُ وينقطع لثاه، وكلما كثر الندى
এর অন্তর্ভুক্ত হলো জুম্মাইজ (মিশরীয় ডুমুর), যা মিশরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। আমি এর কিছু অংশ আশকেলান এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দেখেছি। এটি দেখতে অনেকটা বুনো ডুমুরের মতো, এর ফল পাতার নিচে নয় বরং সরাসরি কাষ্ঠল কাণ্ডের ওপর জন্মে। এটি বছরে সাতবার ফল দেয় এবং চার মাস ধরে খাওয়া যায়। এটি প্রচুর ভার বহন করে (অর্থাৎ প্রচুর ফলন দেয়)। ফল পাকার কয়েকদিন আগে একজন লোক গাছে উঠে লোহার একটি যন্ত্র দিয়ে প্রতিটি ফলে চিহ্ন দেয়, ফলে তা থেকে সাদা দুধের মতো রস নির্গত হয়। এরপর সেই স্থানটি কালো হয়ে যায় এবং এই প্রক্রিয়ার ফলে ফলটি মিষ্টি হয়। কখনও কখনও এর মধ্যে ডুমুরের চেয়েও অধিক মিষ্টি ফল পাওয়া যায়, তবে চিবানোর শেষে এর মধ্যে এক ধরণের কাষ্ঠল স্বাদ অনুভূত হয় যা খুব একটা সুখকর নয়। এর গাছ প্রাচীন আখরোট গাছের মতো বিশাল হয়। এর ফল এবং ডালপালা চিরে ফেললে সাদা দুধের মতো রস বের হয়, যা কাপড় বা অন্য কিছুতে লাগলে লাল রঙ ধারণ করে। এর কাঠ ঘরবাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত হয় এবং এ থেকে দরজা ও অন্যান্য মজবুত সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। এটি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় এবং পানি ও রোদে নষ্ট হয় না। কাঠটি হালকা এবং এর স্থিতিস্থাপকতা কম হওয়া সত্ত্বেও এটি খুব কমই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফল থেকে কড়া ভিনেগার এবং তীব্র পানীয় তৈরি করা হয়।
জালিনুস (গ্যালেন) বলেছেন: জুম্মাইজ শীতল ও আর্দ্র প্রকৃতির, যা তুত ফল এবং ডুমুরের মধ্যবর্তী পর্যায়ের। এটি পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর। এর গাছের দুধের মতো কষের এমন শক্তি রয়েছে যা ক্ষতস্থান জোড়া লাগায়, ফোলা উপশম করে এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রলেপ হিসেবে প্লীহার কঠিন ব্যথা এবং পাকস্থলীর ব্যথা উপশম করে। পুরনো কাশি এবং বক্ষ ও ফুসফুসের সর্দিজনিত রোগের জন্য এ থেকে পানীয় তৈরি করা হয়। এটি তৈরির নিয়ম হলো, পানির সাথে ফুটিয়ে এর গুণাগুণ বের করা হয় এবং সেই পানি চিনির সাথে জ্বাল দিয়ে ঘন করে সংরক্ষণ করা হয়। আবু হানিফা বলেছেন, ডুমুরের অন্যতম প্রজাতি হলো জুম্মাইজ ডুমুর; এটি মিষ্টি ও রসালো ডুমুর যার বোঁটা লম্বা হয় এবং একে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। জুম্মাইজের আরেকটি ধরণ আছে যার ফল আকৃতিতে ডুমুরের মতো, তবে এর পাতা ডুমুর পাতার চেয়ে বেশি হলুদ। এর ডুমুরগুলো ছোট আকৃতির হলুদ এবং কালো রঙের হয়। এটি পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায় এবং একে 'পুরুষ ডুমুর' বলা হয়। এর মধ্যে হলুদগুলো মিষ্টি এবং কালোটি মুখে রক্তাভাব তৈরি করে। এর ডুমুরগুলোর কোনো বোঁটা নেই বরং সরাসরি ডালের সাথে লেগে থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো বলসান (বালসাম)। বর্তমানে এটি কেবল মিশরের আইন শামস নামক স্থানে একটি সংরক্ষিত এলাকায় পাওয়া যায়, যার আয়তন প্রায় সাত একর। এই গাছের উচ্চতা প্রায় এক হাত বা তার কিছু বেশি। এর উপর দুটি ছাল থাকে; উপরেরটি লাল ও পাতলা এবং নিচেরটি সবুজ ও পুরু। এটি চিবোলে মুখে তৈলাক্ত ভাব এবং সুগন্ধি অনুভূত হয়। এর পাতা সুদাব পাতার মতো। যখন লুব্ধক নক্ষত্র (সিরিয়াস) উদিত হয়, তখন এর তেল সংগ্রহ করা হয়। এর পদ্ধতি হলো, গাছের সমস্ত পাতা ঝরিয়ে ফেলার পর কাণ্ডগুলোকে আঘাত করে চিরে দেওয়া হয়। এই চিরার কাজ একটি ধারালো পাথর দিয়ে করা হয়। এটি চিরার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় যাতে উপরের ছালটি কাটে এবং নিচের ছালটি চিরে যায় কিন্তু কাঠ পর্যন্ত না পৌঁছায়। যদি কাঠ পর্যন্ত পৌঁছায় তবে তা থেকে কিছুই বের হয় না। বর্ণিত উপায়ে চিরে দেওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা হয় যাতে এর কষ ডালের ওপর বেয়ে পড়ে, এরপর আঙ্গুল দিয়ে তা মুছে মুছে একটি শিংয়ের পাত্রে জমা করা হয়। যখন পাত্রটি পূর্ণ হয়, তখন তা কাঁচের বোতলে ঢালা হয়। এভাবে সংগ্রহ চলতে থাকে যতক্ষণ না সংগ্রহকাল শেষ হয় এবং কষ আসা বন্ধ হয়। শিশির যত বেশি পড়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১০)
في الجو كان لثاه أكثر وأغزر، وفي الجدب وقلة الندى يكون اللثا أنزر ومقدار ما أخرج منه في سنة ست وتسعين وخمسمائة، وهي عام جدب، نيِّف وعشرون رطلا، ثم تؤخذ القناني فتدفن إلى القيظ وحمارة الحرّ وتُخرجُ من الدفن وتجعلُ في الشمس، ثم تتفقد كل يوم فيوجد الدهن وقد طفا فوق رطوبة مائية وأثقال أرضية، فيقطف الدهن ثم يعاد إلى الشمس ولا يزال كذلك يشمِّسها ويقطف دهنها حتى لا يبقى فيها دهن فيؤخذ ذلك الدهن ويطبخه قيّمه في الخُفية لا يُطلع على طبخه أحداً ثم يرفعه إلى خزانة الملك، ومقدار الدهن الخالص من اللثا بالترويق نحو عشر الجملة، وقال لي بعض أرباب الخبرة أن الذي يحصل من دهنه نحو من عشرين رطلا ورأيت جالينوس يقول: أن أجود دهن البلسان ما كان بأرض فلسطين وأضعفه ما كان بمصر، ونحن فلا نجد اليوم منه بفلسطين شيئا البتة، وقال نيقولاس في كتاب النبات: ومن النبات ما له رائحة طيّبة في بعض أجزائه ومنها ما رائحته الطيبة في جميع أجزائه كالبلسان الذي يكون في الشام بقرب بحر الزفت، والبير التي يُسقى منها تسمَّى بير البلسم وماؤها عذب، وقال ابن سمجون إنّما يوجد في زماننا هذا بمصر فقط، ويستخرج دهنه عند طلوع كلب الجبّار، وهو الشعرى، وذلك في شباط ومقدار ما يخرج ما بين خمسين رطلا إلى ستين ويباع في مكانه بضعفه فضة، وكانت هذه الحال قد كانت في زمن ابن سمجون، وحكى عبد الرازق أن بدله دهن الفجل وهذا بعيد، والبلسان الدهني لا يثمر وإنما تؤخذ منه فسوخ فتغرس في شباط فتعلق وتنمى وإنما الثمر للذكر البرّي ولا دهن له ويكون بنجد وتِهامة وباري العرب وساحل اليمن،
وبأرض فارس ويسمّى البشام ويربّى قِشرُه قبل استخراج دهنه فيكون نافعا من جميع السموم، وأما خواصّه ومنافعه فالأليق بها غير هذا الكتاب.
ومن ذلك القلقاس، وهو أصول بقدر الخيار ومنه صغار كالأصابع يضرب إلى حمرة خفيفة يقشّر ثم يشقّق على مثل السلجم وهو كشف مكتنز يشابه الموز الأخضر الفج في طعمه وفيه قبضٌ يسير مع حرافة قويّة وهذا دليل على حرافته ويبسه، فإذا سُلق زالت حرافته جملة وحدث له مع ما فيه من القبض اليسير لزوجة مغرية كانت فيه بالقوة، إلّا أنّ حرافته كانت تخفيها وتسترها، ولذلك صار غذاؤه غليظا بطيء الهضم ثقيلا في المعدة، إلّا أنه لما فيه من القبض والغلاصة صار مقوِّياً للمعدة حابساً للبطن إذا لم يُكثر منه، ولِما فيه من
আর্দ্র আবহাওয়ায় এর নির্যাস অধিক ও প্রচুর হয়, আর খরা ও শিশিরের স্বল্পতার সময় এই নির্যাস অত্যন্ত কম হয়। পাঁচশত ছিয়ানব্বই হিজরী সনে, যা ছিল এক খরার বছর, এ থেকে যে পরিমাণ নির্যাস আহরণ করা হয়েছিল তা ছিল বিশ রতলের কিছু বেশি। অতঃপর বোতলগুলো নিয়ে গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপ পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয় এবং পরে মাটির নিচ থেকে বের করে রোদে রাখা হয়। প্রতিদিন এগুলো পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় যে, তেল জলীয় আর্দ্রতা ও পার্থিব তলানির উপরে ভেসে উঠেছে। তখন সেই তেল সংগ্রহ করা হয় এবং পুনরায় রোদে রাখা হয়। অনবরত রোদে দেওয়া এবং তেল সংগ্রহ করার এই প্রক্রিয়া ততক্ষণ চলে যতক্ষণ না তাতে আর কোনো তেল অবশিষ্ট থাকে। এরপর সেই তেল সংগ্রহ করে তার তত্ত্বাবধায়ক অত্যন্ত গোপনে পাক করেন; তিনি কাউকে এই পাক করার কাজ দেখান না। অতঃপর তিনি তা রাজার কোষাগারে পাঠিয়ে দেন। নির্যাস থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে প্রাপ্ত খাঁটি তেলের পরিমাণ মোট নির্যাসের প্রায় এক-দশমাংশ। অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, এর তেল থেকে যা পাওয়া যায় তার পরিমাণ প্রায় বিশ রতলের মতো। আমি জালিনুসকে বলতে দেখেছি যে: বলসান তেলের মধ্যে সর্বোত্তম হলো ফিলিস্তিনের ভূমিতে উৎপন্ন হওয়া তেল এবং সবচেয়ে দুর্বল হলো মিশরের তেল। অথচ আজ আমরা ফিলিস্তিনে এর বিন্দুমাত্র অস্তিত্বও খুঁজে পাই না। নিকোলাস তাঁর উদ্ভিদ বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: কিছু উদ্ভিদ এমন আছে যার কোনো কোনো অংশে সুগন্ধ থাকে, আবার কোনোটির সকল অংশই সুগন্ধিযুক্ত, যেমন বলসান যা শামে (সিরিয়া) আল-জিফত সাগরের (মৃত সাগর) নিকটে জন্মে। যে কূপের পানি দ্বারা এতে সেচ দেওয়া হয় তাকে বলসান কূপ বলা হয় এবং এর পানি সুমিষ্ট। ইবনে সামজুন বলেছেন যে, আমাদের এই সময়ে এটি কেবল মিশরেই পাওয়া যায়। এর তেল কালবুল জব্বার নক্ষত্র তথা লুব্ধক উদিত হওয়ার সময় আহরণ করা হয়, আর তা হলো ফেব্রুয়ারি মাসে। এর থেকে প্রাপ্ত তেলের পরিমাণ পঞ্চাশ থেকে ৬০ রতলের মধ্যে থাকে এবং তা প্রাপ্তিস্থানে তার ওজনের দ্বিগুণ রৌপ্যমূল্যে বিক্রয় হয়। এই অবস্থা ইবনে সামজুনের সময়ে বিদ্যমান ছিল। আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন যে, এর বিকল্প হলো মুলার তেল, তবে এই মতটি ভিত্তিহীন। তৈলাক্ত বলসান গাছে ফল ধরে না, বরং এর কলম নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণ করা হয় এবং তা বৃদ্ধি পায়। ফল কেবল বন্য পুরুষ জাতের গাছেই ধরে যার কোনো তেল হয় না। এটি নজদ, তিহামাহ, আরবের মরুভূমি এবং ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়,
এবং পারস্যের ভূমিতেও এটি জন্মে যা বাশাম নামে পরিচিত। এর তেল সংগ্রহের পূর্বে এর ছালকে প্রক্রিয়াজাত করা হয় যা সকল প্রকার বিষের বিরুদ্ধে উপকারী। আর এর বিশেষ গুণাবলী ও উপকারিতা বর্ণনা করার জন্য এই গ্রন্থটি উপযুক্ত স্থান নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোলকাস (কচু জাতীয় উদ্ভিদ), যা শসার আকারের শিকড় বিশেষ। এর মধ্যে কিছু আছে আঙ্গুলের মতো ছোট এবং হালকা লালচে আভার। এটি খোসা ছাড়িয়ে শালগমের মতো টুকরো করা হয়। এটি একটি ঘন ও নিরেট পদার্থ যা স্বাদে কাঁচা সবুজ কলার মতো। এতে সামান্য কষভাবের সাথে তীব্র ঝাল অনুভূতি রয়েছে, যা এর উগ্রতা ও শুষ্কতা প্রমাণ করে। যখন এটি সেদ্ধ করা হয়, তখন এর ঝালভাব সম্পূর্ণ চলে যায় এবং সামান্য কষভাবের সাথে এতে এক প্রকার আঠালো পিচ্ছিলতা তৈরি হয় যা এতে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। তবে এর ঝালভাব তা ঢেকে রেখেছিল। এই কারণে এর পুষ্টিগুণ ভারী, হজম হতে দেরি হয় এবং পাকস্থলীর জন্য গুরুপাক। তবে এতে কষভাব ও ঘনত্ব থাকার কারণে এটি পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে এবং যদি অধিক পরিমাণে গ্রহণ না করা হয় তবে পেট কষা করে। এর মধ্যে থাকা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১১)
اللزوجة والتغرية صار نافعاً من سجج المِعا، وقشره أقوى على حبس البطن من جُرمه، لأنّ قبضه أشدّ ويطبخ في السُمَّاقية وغيرها فيعود في المرقة لزوجة يعَافها من لا يعتادها، ولكن إذا سُلق وصبت سلاقته ثم قُلي بالدهن حتى يتورّد فلا بأس به، والغالب على مزاجه الحرارة والرطوبة، ويظهر من حاله أنه مركَّبٌ من جوهرين: جوهر حارٌّ حرِّيف يذهب بالطّبخ، وجوهرٌ أرضيٌ مائيٌّ ينمو بالطبخ، وذلك كما في البصل والثوم وما كان كذلك فهو نيِّئا دوائي ومطبوخاً غذائي وقد رأيته بدمشق لكن قليلا، ورأيته إذا يَبس يرجع خشبيّا كالقسطل سواء، وأما ورقه فورقٌ مستديرٌ واسعٌ على شكل خُفِّ البعير سواء، لكنه أكبر منه ويكون قُطر الورقة ما بين شِبرٍ أو شبرين، أو ورقة قضيبٍ مفردٍ في غلظ الإصبع، وطول شبرين أو أزيد، ونبات كل قضيب من الأصل الذي في الأرض، إذ ليس لهذا النبات ساق ولا ثمر أيضا، وورق القلقاس، شديد الخضرة رقيق القشرة شبيه بورق الموز في خضرته ونعومته ورونقه ونضارته، وقال ديوسقوريدس: إنَّ لهذا النبات زهراً على لون الورد، فإذا عقد، عقد شيئا شبيها بالحراب كأنّه تفّاحة الماء وفيه باقلي صغير
أصغر من الباقلي اليوناني يعلو موضعه المواضع التي ليس فيها باقلي فمن أراد أن يزرعه قائما، يأخذ ذلك الباقلي ويصيّره في كتل طين ويلقيها في الماء فينبت، ورغم أنه يؤكل طريا ويابساً، فإنه يُعمل منه دقيق يشرب كالسويق، ويُعمل منه حسو فيقوي المعِدة وينفعُ من الإسهال المريء وسجوج الأمعاء، وأنّ الشيء الأخضر الذي في وسطه المرّ الطعم إذا سُحق وخُلط بدهن وقطِّر في الأذن سكَّن وجعها،
وقال الإسرائيلي: أما نحن فشاهدنا له زهرا، قال: ورأيت أصل هذا النبات إذا خزن في المنازل وجاء وقت نباته تفرّع من الباقلي اللاصق به فروع وأنبت من غير أن يظهر له زهرٌ ولا ثمر، لكن لون الباقلاء نفسها كلون زهر الورد، لأنها حين تبرز وتأخذ في النبات يخرج ما يبرز منها حَسَن البياض يعلوه تورُّد يسير، قال: وما وجدنا له جفافا يمكن معه أن يكون منه سويق ولا رأيناه السَّنةَ كلّها إلّا رطبا مثل بصل النرجس وبصل الزعفران ونحوه، قال: ولم نر وسطه هذا الأخضر الذي ذكره ديوسقوريدس ولا وجدناه السَّنة كلّها إلّا كالموز الأخضر، أقول: كلا، بل الحقّ ما قاله ديوسقوريدس وأنه حتى يقبل السبحق ويمكن أن يتخذ منه السويق وهذا رأيناه عيانا وأنه إذا جفَّ لا فرق بينه وبين
পিচ্ছিলতা ও আঠালো ভাবের কারণে এটি অন্ত্রের ঘর্ষণ বা ক্ষতের জন্য উপকারী হয়। আর এর খোসা এর শাঁসের তুলনায় পেট কষাকষি করার ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী, কারণ এর কষভাব অত্যন্ত তীব্র। এটি সুমাক্বিয়্যাহ ও অন্যান্য তরকারিতে রান্না করা হয়, ফলে ঝোলে এমন পিচ্ছিলতা তৈরি হয় যা এতে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যক্তি অপছন্দ করতে পারে। কিন্তু যদি এটি সিদ্ধ করে এর পানি ফেলে দেওয়া হয়, এরপর চর্বি বা তেলে ভাজা হয় যতক্ষণ না তা লালচে আভা ধারণ করে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এর মেজাজ বা প্রকৃতিতে উষ্ণতা ও আর্দ্রতাই প্রবল। এর অবস্থা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি দুটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: একটি উষ্ণ ও ঝাজালো উপাদান যা রান্নার ফলে দূরীভূত হয়, এবং একটি মৃত্তিকা ও জলীয় উপাদান যা রান্নার ফলে বৃদ্ধি পায়; আর এটি পেঁয়াজ ও রসুনের মতোই। আর যা এমন প্রকৃতির হয়, তা কাঁচা অবস্থায় ঔষধি এবং রান্না করা অবস্থায় পুষ্টিকর খাদ্য। আমি দামেস্কে এটি দেখেছি তবে খুব অল্প পরিমাণে; আর আমি দেখেছি যে এটি শুকিয়ে গেলে অবিকল ক্যাসটেইল বা চেস্টনাটের মতো কাষ্ঠল হয়ে যায়। আর এর পাতার কথা বললে তা গোলাকার ও প্রশস্ত, যা অবিকল উটের খুরের আকৃতির মতো, তবে তার চেয়ে বড়। পাতার ব্যাস এক থেকে দুই বিঘত পর্যন্ত হয়, অথবা আঙ্গুলের মতো মোটা একটি একক ডাঁটার পাতা যা দৈর্ঘ্যে দুই বিঘত বা তার বেশি হয়। প্রতিটি ডাঁটা মাটির নিচের মূল থেকে গজায়, কারণ এই উদ্ভিদের কোনো কাণ্ড বা ফল নেই। ওলকচুর (কুলকাস) পাতা গাঢ় সবুজ ও পাতলা আবরণযুক্ত এবং এর সবুজাভ ভাব, কোমলতা, উজ্জ্বলতা ও সজীবতায় কলার পাতার সদৃশ। ডিওস্কোরাইডস বলেছেন: এই উদ্ভিদের গোলাপের রঙের মতো ফুল হয়। যখন এটি দানা বাঁধে, তখন তা অনেকটা বর্শার ফলার মতো আকৃতি ধারণ করে যেন তা জলজ আপেল, আর তাতে ছোট শিম বা মটরশুঁটির মতো দানা থাকে।
যা গ্রিক শিমের চেয়ে ছোট; এটি এমন সব স্থানে জন্মায় যেখানে অন্য কোনো শিম হয় না। সুতরাং কেউ যদি এটি রোপণ করতে চায়, তবে সে ঐ শিমগুলো নিয়ে কাদার মণ্ড তৈরি করে পানিতে নিক্ষেপ করবে, ফলে তা অঙ্কুরিত হবে। যদিও এটি কাঁচা এবং শুকনো উভয় অবস্থায় খাওয়া হয়, তবে এটি থেকে আটা বা ময়দা তৈরি করা হয় যা ছাতুর শরবতের মতো পান করা হয়। আর এটি দিয়ে স্যুপ বা জাউ তৈরি করা হয় যা পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘস্থায়ী উদরাময় ও অন্ত্রের ক্ষতে উপকারে আসে। আর এর মাঝখানে অবস্থিত তিক্ত স্বাদের সবুজ অংশটি যদি চূর্ণ করে তেলের সাথে মিশ্রিত করে কানে ফোঁটা ফোঁটা দেওয়া হয়, তবে তা কানের ব্যথা উপশম করে।
ইসরাঈলি বলেছেন: আমাদের কথা বললে আমরা এতে ফুল দেখেছি। তিনি আরও বলেন: আমি এই উদ্ভিদের মূল লক্ষ্য করেছি যে, যখন তা ঘরে জমা রাখা হয় এবং তার অঙ্কুরোদগমের সময় আসে, তখন এর সাথে লেগে থাকা বীজগুলো থেকে শাখা বের হয় এবং কোনো ফুল বা ফল ছাড়াই তা বাড়তে থাকে। তবে সেই বীজের রঙ অনেকটা গোলাপ ফুলের মতো; কারণ তা যখন বের হয়ে অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, তখন তার প্রকাশিত অংশটি চমৎকার সাদা রঙের হয় যার ওপর সামান্য লালচে আভা থাকে। তিনি বলেন: আমরা এতে এমন কোনো শুষ্কতা পাইনি যা দিয়ে ছাতু তৈরি করা সম্ভব, বরং আমরা একে সারা বছরই আর্দ্র অবস্থায় দেখেছি যেমনটা নার্গিস ফুলের কন্দ বা জাফরানের কন্দ ও অনুরূপ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন: ডিওস্কোরাইডস যে সবুজ কেন্দ্রটির কথা উল্লেখ করেছেন তা আমরা দেখিনি এবং সারা বছর একে কাঁচা কলার মতোই পেয়েছি। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: না, বরং সত্য সেটিই যা ডিওস্কোরাইডস বলেছেন। এটি এমনকি চূর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে এবং তা থেকে ছাতু তৈরি করা সম্ভব; এটি আমরা সচক্ষে দেখেছি। আর এটি যখন শুকিয়ে যায়, তখন এর সাথে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: -)
الزنجبيل في المنظر، سوى أن القلقاس أكبر، وتجد في طعمه حدّةً ولذعا، وأقول عن حدس صناعي مبدؤه المشاهدة والسماع أنّ القلقاس زنجبيلٌ مصريٌّ أكسبته الأرض رطوبةً فقلَّت حرارته وحدّته، كما أن الزنجبيل الزِّنجيّ والهنديّ أقوى وأحدّ من اليمنيّ، وأهل اليمن يطبخون به كما يطبخ المصريون القلقاس، لكن لا يُستكثر منه جدا، ولقد سألتُ جماعةَ التّجار وأرباب المعرفة عن منبته باليمن وشكله، فكلّهم زعم أنه كالقلقاس، غير أن القلقاس أكبر وكذلك ورقه أكبر من ورق الزنجبيل وقد شاهدته إذا يبس، لا فرق بينه وبين الزنجبيل في الصورة مع حدة، ولذعٍ يسير،
وقال له آخر أن نبات الزنجبيل يشبهُ نباتَ البصل، مع أنّ القلقاس يكون في تلك البلاد وكأنه بستاني، وقال عليّ بن رضوان: القلقاس أسرع الأغذية استحالة إلى السوداء، وقال غيره من أطباء مصر أن القلقاس يزيد في الباءة، وفي كلٍّ نظرٍ لا يليق بهذا الكتاب.
ومن ذلك الموز وهو كثير باليمن والهند ورأيته بالغور وبدمشق مجلوبا، وكونه من فراخ تظهر من أصل شجرته كما تظهر الفِسلان من النخلة، وتسمى المثمرة الأم، فإذا أُخذت ثمرتها قطِعت هي أيضا وخلفها أكبر نباتها وترتفع قامته إلى قامتين وكأنها نخلة لطيفة، وزعموا أنَّ شجر الموز في الأصل مركب من قلقاس ونوى النخل تجعل النواة في جوف القلقاسة وتغرس، وهذا القول وإن كان ساذجا من دليل يشهد له فالحس يسوغه، وذلك أنه تجد لشجرته سعفا كسعف النخل سواء، إلّا أنك ينبغي أن تتخيل الخوص اتصل بعضه ببعض، حتى صار كأنه ثوب حرير أخضر قد نشر أوراقه خضرا ترفُّ ريا وطراءة، وكأنَّ الرطوبة اكتسبها من القلقاس والشكل اكتسبه من النخل، وأنت تعلم أن تشقق سعف النخل إلى الخوص إنما كان من قبل اليبس الغالب على مزاج النخل، ولكثرة رطوبة الموز بقي سعفه متصل الخوص ولم يتشقق، فعلى هذا يكون القلقاس له بمنزلة الماء، والنّخل بمنزلة الصورة، وأنت إذا تأمّلت خشب الموزِ وورقه بعد يبسه ألفيت به تلك الشظايا والخيوط التي تجدها في جذع النخل وسعفه، إلّا أنك تجدها مشوبة برطوبة قد ألحَمَت بينها، وملأت فُرَجَها وإن كان القلقاس لا ينفكُّ من ذلك أيضا ويتبيّنه آكله مقلوّا، وأمّا الثمر فأنك تراه أعذاقا كأعذاق النخل قد تحمل شجرته خمسمائة موزة فصاعدا، ويكون في منتهى العِذق موزة تسمى الأم ليس فيها لحم ولا تؤكل، وإذا شققت وجدت مؤلفة من قشور كالبصل كل قشرين منها متقابلان يحتوي كل واحدٍ منهما على نصفها طولا وتحت كلِّ قشرٍ عند القاعدة
زهرٌ أبيض بقدرِ الفستق أو كزهر النارنج عدده إحدى عشرة في صفين لا ينقص عن هذا العدد ولا يزيد إلّا واحدا نادرا، فهذا القشر بمنزلة كفري الطّلع، والزهر بمنزلة الطلع نفسه وتنشق هذه القشور من تلقاء أنفسها على التدريج الأعلى فالأعلى، فيظهر ذلك الزهر أبيض بمنزلة البلح وفيه رطوبة حلوة فيتساقط وتعقد عنه الموزة صغيرة فإذا أخَذت في النموّ قليلا انشق قشرٌ آخر على الرسم، ولا يزال كذلك حتّى ينتهي العِذق، وتجد قشر الموزة كقِشر الرطبة، إلّا أنه غليظ جدا بما اكتسبه من مادة القلقاس، ولحمها حلو فيه تفاهة كأنّه رطب مع خبز فالحلاوة له من الرطب والتفاهة من القلقاس، وأما شكلها ففي شكل الرطبة، إلّا أنها بقدر الخيارة الكبيرة تميل إلى الصفرة والبياض فالصفرة من الرطب والبياض من القلقاس، وحيث ما يقطع يكون شديد الخضرة جدا لا يصلح للأكل فإذا دفن أيّاما اصفر وصلح للأكل، ثم أنك تجده شحمة واحدة ليس فيها نوى ولا ما يُرمي سوى القشر فقط بل تراه كأنه قطعة خبيص ناعم المضغ يُستَرطُ بسهولة، وإذا أنت تأمّلته في ضياء، ألفيت في وسطه حبّا كثيراً أصفر من الخردل، يضرب إلى السواد والشقرة شبيه بحب التين، لكنه في غاية اللين فهذا كأنّه رسم نوى الرطب، إلّا أنه لزيادة رطوبته لانَ وتفرّق واختلط باللحم، وإن ساغَ معه في الأكل، وله رائحة عطرة لا بأس بها فيها خمرة ما، والجشأ العارض لأكله بعد أخذه في الهضم طيب الرائحة، وهو حارٌّ رطب، ورطوبته أزيد من حرارته وكأنه حار في الأول رطب في الثانية يزيد في الماء ويدر البول ويحدث نفجا، ولا يبعد في طبعه هذا عن الرطب إلّا بكثرة رطوبته التي اكتسبها من القلقاس، فهذا إن كان من تركيب الصناعة فقد صدق الخبر الخبر، وإن كان من تركيب الطبيعة فإن لها أيضا تركيبات عجيبة متقنة من أصناف الحيوان والنبات، فتكون الموز من جملتها، وقال أبو حنيفة: الموز معادَته عُمان وتنبت الموزة نبات البردية لها
عنفرة غليظة وورقة عريضة نحو ثلاث أذرع في ذراعين ليست بمنخرطةٍ على نبات السعف لكن شبه المربعة، وترتفع الموزة قامة باسطة ولا تزال فراخها تنبت حولها واحدة أصغر من الأخرى، فإذا أجْرت وذلك إدراك موزها، قُطعت الأمّ حينئذٍ من أصلها، وتؤخد قِنوها ويطلع أكبر فراخها فيصير هو الأم
দৃশ্যত আদা ও কচু (কুলকাস) প্রায় একই রকম, তবে কচু বড় হয়ে থাকে। এর স্বাদে তীক্ষ্ণতা ও জ্বালা অনুভব করা যায়। পর্যবেক্ষণ ও শ্রুতির ভিত্তিতে আমার কারিগরি অনুমান হলো, কচু মূলত এক ধরণের মিশরীয় আদা, যা মাটির আর্দ্রতা গ্রহণ করার ফলে এর উত্তাপ ও তীক্ষ্ণতা কমে গেছে। যেমন জিজ (আফ্রিকা) ও ভারতের আদা ইয়ামেনের আদার তুলনায় অধিক শক্তিশালী ও তীক্ষ্ণ। ইয়ামেনিরা আদা দিয়ে সেভাবে রান্না করে যেভাবে মিশরীয়রা কচু দিয়ে করে। তবে এটি খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় না। আমি ইয়ামেনের ব্যবসায়ী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে এর উৎপত্তিস্থল ও আকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা সবাই দাবি করেছেন যে এটি কচুর মতো, তবে কচু বড় হয় এবং এর পাতাও আদার পাতার চেয়ে বড়। আমি শুকিয়ে যাওয়ার পর এটি দেখেছি, তখন আকৃতি ও তীক্ষ্ণতার দিক থেকে আদার সাথে এর কোনো পার্থক্য নেই, শুধু সামান্য জ্বালা অনুভূত হয়।
অন্য একজন তাকে বলেছেন যে আদা গাছ পেঁয়াজ গাছের মতো। যদিও ওই অঞ্চলে কচু অনেকটা বাগানের গাছের মতো হয়ে থাকে। আলী বিন রিদওয়ান বলেছেন: কচু খাদ্যসমূহের মধ্যে দ্রুততম সময়ে কৃষ্ণপিত্তে (সাওদা) রূপান্তরিত হয়। মিশরের অন্যান্য চিকিৎসকরা বলেছেন যে কচু কামশক্তি বৃদ্ধি করে। তবে এসব বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা এই কিতাবের উপযুক্ত নয়।
আর ফলের মধ্যে রয়েছে কলা, যা ইয়ামেন ও ভারতে প্রচুর পাওয়া যায়। আমি গুর ও দামেস্কে এটি আমদানিকৃত অবস্থায় দেখেছি। এর চারাগুলো মূল গাছের গোড়া থেকে সেভাবেই বের হয় যেভাবে খেজুর গাছের গোড়া থেকে চারা বের হয়। ফলদানকারী গাছটিকে 'মা' বলা হয়। যখন এর ফল সংগ্রহ করা হয়, তখন সেটিও কেটে ফেলা হয় এবং এর পেছনে বড় চারাটি রয়ে যায়। এর উচ্চতা এক থেকে দুই মানুষের সমান পর্যন্ত হয় এবং এটি দেখতে একটি ছোট খেজুর গাছের মতো। অনেকে দাবি করেন যে, কলা গাছ মূলত কচু ও খেজুরের আঁটির সমন্বয়ে তৈরি—অর্থাৎ কচুর মাঝখানে খেজুরের আঁটি গেঁথে রোপণ করা হয়। এই কথাটি যদিও কোনো প্রমাণের অভাবে সাধারণ মনে হয়, কিন্তু পঞ্চেন্দ্রিয়ের অনুভূতি একে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। কারণ এর গাছের ডালপালা অবিকল খেজুর গাছের ডালের মতো। তবে আপনাকে কল্পনা করতে হবে যে এর পাতাগুলো একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো, যেন একটি সবুজ রেশমি বস্ত্র তার সজীব ও সতেজ পাতাগুলো বিস্তার করে রেখেছে। এর আর্দ্রতা যেন কচু থেকে এবং আকৃতি খেজুর গাছ থেকে অর্জিত। আপনি জানেন যে খেজুরের ডালগুলো আলাদা হয়ে যাওয়া মূলত খেজুরের মেজাজে শুষ্কতার আধিক্যের কারণে। কিন্তু কলার মধ্যে আর্দ্রতা বেশি হওয়ার কারণে এর পাতাগুলো জোড়া লেগে থাকে এবং আলাদা হয় না। এই হিসেবে কচু এর জন্য পানির মতো এবং খেজুর গাছ এর আকৃতির মতো। আপনি যদি কলা গাছের কাঠ এবং শুকনো পাতা পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তাতে সেই সব আঁশ ও সুতা খুঁজে পাবেন যা খেজুরের কাণ্ড ও ডালে পাওয়া যায়। তবে এগুলো আর্দ্রতার সাথে মিশ্রিত যা তাদের পরস্পরের সাথে যুক্ত করে রেখেছে এবং মধ্যবর্তী ছিদ্রগুলো ভরাট করে দিয়েছে। যদিও কচুও এ থেকে মুক্ত নয় এবং ভাজা অবস্থায় ভক্ষণকারী তা স্পষ্ট বুঝতে পারে। ফলের ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি খেজুরের কাঁদির মতো কাঁদি হয়ে ঝুলে থাকে। একটি গাছে পাঁচশ বা তার বেশি কলা হতে পারে। কাঁদির শেষ প্রান্তে একটি কলা থাকে যাকে 'মা' বলা হয়; এতে কোনো শাঁস থাকে না এবং এটি খাওয়া যায় না। আপনি যদি এটি খোলেন তবে দেখবেন পেঁয়াজের খোসার মতো অনেকগুলো স্তর নিয়ে এটি গঠিত, যার প্রতিটি জোড়া খোসা একে অপরের বিপরীতমুখী এবং দৈর্ঘ্যে অর্ধেকের সমান। প্রতিটি খোসার গোড়ার নিচে
পিস্তার মতো বা কমলা লেবুর ফুলের মতো সাদা ফুল থাকে। এগুলোর সংখ্যা দুই সারিতে এগারোটি, যা কদাচিৎ ছাড়া বাড়ে না বা কমে না। এই খোসাগুলো যেন খেজুরের মোচার আবরণের মতো এবং ফুলগুলো যেন খোদ খেজুরের মোচার মতো। এই খোসাগুলো ওপর থেকে ক্রমান্বয়ে নিজে থেকেই ফেটে যায় এবং সেই সাদা ফুলগুলো কাঁচা খেজুরের মতো দৃশ্যমান হয়। এর মধ্যে মিষ্টি রস থাকে যা ঝরে পড়ে এবং সেখান থেকে ছোট কলা তৈরি হয়। যখন এটি সামান্য বৃদ্ধি পায়, তখন নিয়ম অনুযায়ী অন্য একটি খোসা ফেটে যায়। এভাবে কাঁদি শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। কলার খোসা তাজা খেজুরের খোসার মতো, তবে কচুর উপাদান থেকে অর্জিত হওয়ার কারণে এটি বেশ পুরু হয়। এর শাঁস মিষ্টি হলেও তাতে কিছুটা পানসে ভাব আছে, যেন রুটির সাথে তাজা খেজুর। এর মিষ্টতা খেজুর থেকে এবং পানসে ভাব কচু থেকে আসা। এর আকৃতি তাজা খেজুরের মতো হলেও আকারে বড় শসার মতো, যা হলুদাভ সাদার দিকে ঝুঁকে থাকে। এই হলুদ রঙ খেজুর থেকে এবং সাদা রঙ কচু থেকে আসা। এটি যখন গাছ থেকে কাটা হয় তখন অত্যন্ত সবুজ থাকে এবং খাওয়ার উপযোগী থাকে না। কয়েকদিন পুঁতে রাখলে এটি হলুদ হয়ে যায় এবং খাওয়ার যোগ্য হয়। এর ভেতরে কেবল একটি শাঁস পাওয়া যায়, কোনো আঁটি বা ফেলে দেওয়ার মতো কিছু নেই (খোসা ছাড়া)। এটি অনেকটা নরম সুস্বাদু হালুয়ার মতো যা সহজে গলাধঃকরণ করা যায়। আপনি যদি আলোর বিপরীতে এটি লক্ষ্য করেন, তবে এর মাঝখানে সরিষার দানার মতো অনেক হলুদাভ বীজ দেখতে পাবেন যা কালচে বা লালচে রঙের দিকে যায় এবং ডুমুরের বীজের মতো। তবে এটি অত্যন্ত নরম। এটি যেন খেজুরের আঁটিরই একটি রূপ, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে নরম হয়ে ছড়িয়ে গেছে এবং শাঁসের সাথে মিশে গেছে। এটি খাবারের সাথে সাবলীলভাবে খাওয়া যায়। এর সুগন্ধ বেশ চমৎকার এবং এতে কিছুটা সুরা-জাতীয় ঘ্রাণ আছে। এটি হজম হওয়ার পর যে ঢেকুর ওঠে তা সুগন্ধযুক্ত। এটি প্রকৃতিতে গরম ও আর্দ্র। এর উষ্ণতার চেয়ে আর্দ্রতা বেশি। এটি প্রথম পর্যায়ে গরম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আর্দ্র। এটি শরীরে তরল বৃদ্ধি করে, মূত্রবর্ধক এবং পেট ফাঁপা সৃষ্টি করে। এর স্বভাব তাজা খেজুর থেকে খুব একটা দূরে নয়, কেবল কচু থেকে প্রাপ্ত অধিক আর্দ্রতাই এর পার্থক্য। যদি এটি মানুষের তৈরি কৃত্রিম সংমিশ্রণ হয় তবে তো তথ্য সঠিকই, আর যদি এটি প্রাকৃতিক সৃষ্টি হয় তবে প্রকৃতিরও প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এমন অনেক নিখুঁত ও বিস্ময়কর সংমিশ্রণ রয়েছে, আর কলাও তাদের অন্যতম। আবু হানিফা বলেছেন: ওমান কলার আদি নিবাস। কলা গাছ অনেকটা নলখাগড়ার মতো জন্মে। এর জন্য
একটি স্থূল অংশ এবং প্রশস্ত পাতা থাকে, যা দৈর্ঘ্যে প্রায় তিন হাত ও প্রস্থে দুই হাত। এগুলো খেজুরের ডালের পাতার মতো সরু নয় বরং অনেকটা চতুষ্কোণ আকৃতির। কলা গাছ একজন মানুষের উচ্চতা সমান হয়। এর চারপাশে সর্বদা ছোট চারা গজাতে থাকে, যা একটি অন্যটির চেয়ে ছোট হয়। যখন গাছে ফল ধরে এবং তা পেকে যায়, তখন মূল গাছটিকে (মা গাছ) গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয় এবং এর কাঁদি সংগ্রহ করা হয়। এরপর এর সবচেয়ে বড় চারাটি বৃদ্ধি পেয়ে মূল গাছে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وتبقى البواقي فراخاً لها ولا تزال على هذا أبد الدهر، ولذلك قال أشعب لابنه فيما يَروي عنه الأصمعي: يا بنيّ لِمَ لا تكون مثلي؟ فقال أنا مثل الموز لا تصلح حتى تموت أمها، ومن نبات الموز إلى أثمارها شهران وبين أطلاعها إلى أجرائها أربعون يوما، والموز موجودٌ في أوطانه السنة كلّها ويكون في القنو من أقنائها ما بين ثلاثين موزة إلى خمسمائة موزة، ورأيت عند بعض تجار الهند حصراً حسنة لطيفة موشاة ذات وجهين ألوانها أحسن الألوان وأصباغها زهر خالصة كأنها ألوان الحرير، عرض الحصير منها نحو ذراعين ونصف وهو أسلة واحدة ليس فيه وصل فجعلت أعجب من طول الأسل الذي يسمى بمصر السمار، فذكر لي أنه ليس به وإنما هو متَّخذٌ من ورق الموز الهندي بأن يؤخذ العسيب فيشقق ويجفف ثم يصبغ وينسج منه هذه الحصير، ويباع الحصير منها في المعبر بدينارين وفيها ما يباع بدرهمين وأراني من كلا الصنفين.
وأما المحمضات فيوجد بأرض مصر منها أصناف كثيرة لم أرها بالعراق، من ذلك أترُجٌ كبار يعزُّ وجودُ مثله ببغداد، ومن ذلك أترج حلوٌ ليس فيه حماض، ومن ذلك الليمون المركب وهو أصناف أيضا، ويوجد فيه ما هو بقدر البطيخة ومن ذلك الليمون المختم وهو أحمر شديد الحمرة أقنى حمرةً من النارنج شديد الاستدارة مفلطح من رأسه وأسفله مفضوخ فيها بختمين.
ومن ذلك ليمون البلسم وهو في قدر الإبهام وكالبيضة المطلولة، وفيه ما هو مخروطٌ صحيح يبتدئ من قاعدة وينتهي إلى نقطة، وأما لونه وريحه وشحمه
وحماضه فلا يغادر من الأترُج شيئا.
وقد يوجد أترج في جوفه أترُجٌ بقشر أصفر أيضا، وخبّرني صادقٌ أنه وجد في جوف أترجة سبع أترجاتٍ صغار كلّ واحدةٍ يحيطُ بها قشر تام والذي رأيته أنا أترجة في جوفها أترجة ليست تامة، وقد رأيتُ منه شيئا بالغور وهذا الأترج المداخل إنما يكون في ذي الحماض، ثمّ أنّ هذه الأنواع يركب بعضها على بعض فيتولد منها أصناف كثيرة جدا.
ومن ذلك صنفٌ من التفاح يوجد بالإسكندرية ببستان واحدٍ يسمّى بستان القطعة وهو صغار جداً قاني الحمرة، وأما رائحته فتفوق الوصف وتعلو على المِسك وهو قليل جدا.
وأما القُرط فيسمّى بالعراق الرطبة وبالشام الفضة وبالفارسية أسفست.
এবং অবশিষ্ট অংশগুলো এর চারা হিসেবে থেকে যায় এবং এভাবেই সর্বদা চলতে থাকে। এই কারণেই আসমাঈর বর্ণনা অনুযায়ী আশআব তার ছেলেকে বলেছিল: হে বৎস, তুমি কেন আমার মতো হও না? সে বলেছিল, আমি কলার মতো, যার মা না মরা পর্যন্ত সে উপযুক্ত হয় না। কলার চারা থেকে ফল আসা পর্যন্ত দুই মাস সময় লাগে এবং এর মোচা বের হওয়া থেকে ফল পুষ্ট হওয়া পর্যন্ত চল্লিশ দিন সময় লাগে। কলার ফলন এর নিজ জন্মস্থানে সারা বছর পাওয়া যায় এবং এর এক একটি ছড়াতে ত্রিশ থেকে পাঁচশ পর্যন্ত কলা থাকে। আমি ভারতবর্ষের কোনো কোনো ব্যবসায়ীর নিকট অত্যন্ত চমৎকার, সূক্ষ্ম ও কারুকার্যখচিত মাদুর দেখেছি যার উভয় পিঠ ব্যবহারযোগ্য, এর রঙসমূহ ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এর রঞ্জক ছিল অতি নির্মল যেন রেশমের রঙ। এই মাদুরগুলোর প্রস্থ ছিল প্রায় আড়াই হাত এবং এটি একটি মাত্র তন্তু দিয়ে তৈরি যাতে কোনো জোড়া ছিল না। মিশরে যাকে 'সাম্মার' বলা হয়, সেই তন্তুর দৈর্ঘ্য দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। তখন আমাকে জানানো হলো যে এটি সেই বস্তু নয়, বরং এটি ভারতীয় কলার পাতা থেকে তৈরি। কলার ডাটা নিয়ে তা চিরে শুকানো হয় এবং এরপর রঙ করে তা দিয়ে এই মাদুর বোনা হয়। মা’বার অঞ্চলে এই মাদুর দুই দিনারে বিক্রি হয় এবং এমন মাদুরও আছে যা দুই দিরহামে বিক্রি হয়। আমি উভয় প্রকারের মাদুরই দেখেছি।
আর অম্লজাতীয় ফলের ক্ষেত্রে বলতে হয়, মিসরের মাটিতে এর এমন অনেক প্রজাতি পাওয়া যায় যা আমি ইরাকে দেখিনি। এর মধ্যে রয়েছে এমন বড় আকারের উতরুজ (এক প্রকার লেবু) যা বাগদাদে মেলা ভার। আরও রয়েছে মিষ্টি উতরুজ যাতে কোনো অম্লতা নেই। এছাড়া রয়েছে সংকর লেবু, যার আবার বিভিন্ন প্রজাতি আছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটি তরমুজের সমান আকারের হয়। আরও আছে মোহরাঙ্কিত লেবু, যা অত্যন্ত টকটকে লাল এবং আগুনের রঙের কমলালেবুর চেয়েও গাঢ় লাল, এটি অত্যন্ত গোলাকার তবে ওপর ও নিচ থেকে কিছুটা চাপা এবং এতে দুটি মোহরের মতো চিহ্ন রয়েছে।
এর মধ্যে আরও আছে বালসাম লেবু, যা বৃদ্ধাঙ্গুলির সমান এবং লম্বাটে ডিমের মতো। কোনোটি আবার নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির যা গোড়া থেকে শুরু হয়ে একটি বিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়। আর এর রঙ, ঘ্রাণ ও শাঁস
এবং এর অম্লতা উতরুজ লেবুর থেকে কোনো অংশেই কম নয়।
কখনো এমন উতরুজ পাওয়া যায় যার ভেতরে হলুদ খোসাযুক্ত আরেকটি উতরুজ থাকে। এক সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একটি উতরুজের ভেতরে সাতটি ছোট ছোট উতরুজ পেয়েছেন যেগুলোর প্রতিটিরই আলাদা পূর্ণাঙ্গ খোসা ছিল। আর আমি নিজে যা দেখেছি তা হলো একটি উতরুজের ভেতরে আরেকটি উতরুজ যা পূর্ণাঙ্গ নয়। আমি এর কিছু নমুনা গাওর অঞ্চলেও দেখেছি। এই যে স্তরে স্তরে থাকা উতরুজ, তা কেবল অম্লজাতীয় প্রজাতির মধ্যেই হয়ে থাকে। অতঃপর এই প্রজাতিগুলোর একটির সাথে অন্যটির কলম করা হয়, ফলে তা থেকে আরও অনেক নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে।
এর মধ্যে রয়েছে আপেলের একটি প্রজাতি যা আলেকজান্দ্রিয়ার একটি বাগানে পাওয়া যায় যার নাম 'বুস্তানুল কিত্বআহ'। এটি আকারে অত্যন্ত ছোট এবং গাঢ় লাল বর্ণের। আর এর সুঘ্রাণ বর্ণনাতীত এবং এটি কস্তুরীর ঘ্রাণকেও হার মানায়, তবে এটি অত্যন্ত বিরল।
আর কুরত নামক ঘাসকে ইরাকে 'রাত্ববাহ', শামে 'ফিজ্জাহ' এবং ফারসি ভাষায় 'আসফাসত' বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما النخل فكثير، لكن إذا قيست ثمرته بثمرة نخل العراق وجدت كأنها قد طبخت طبخة، خرج بها معظم حلاوتها وبقيت ناقصة القوة، وممّا يسمّيه أهل العراق القسب يسمّيه أهل مصر التمر، وأما التمر بالعراق فيسمونه العجوة وقلّما تجد عندهم ما يشابه تمر العراق إلّا نادرا ويكون ذلك نخيلا معدودة تهدى تحفة.
وأما الماش هو المج، فلا يزرع بمصر أصلا وإنّما يوجد عند العطارين مجلوبا من الشام ويباع بالأواقي للمَرضى، وأما الذرة والدّخن فلا يعرفان بمصر اللهمّ إلّا بالصعيد الأعلى وخاصة الدّخن،
ومما تختص به مصر الأفيون وهو يجتني من الخشخاش الأسود بالصعيد وكثيرا ما يغشه جُناته، وربما غشّوه بالعذرة وعلامة الخالصِ منه أن يذوب في الشمس ويقِدَ في السراج بلا ظلمة، وإذا طفي تكون رائحته قوية والمغشوش يسوس سريعا، وأرسطو ينهى عن خلطه بدواء العين والأذن لأنّه يعمي ويصمّ.
ومن ذلك الأقاقيا، وهو عصارة ورق شجر القرظ وثمره يُستخرج ماؤه بالدقِّ
والعصر، ويُجعل في أوانٍ مرحرحةٍ تلقاء الشمس حتى يغلُظ ثم يقرص، هذا هو الخالص الخاص، وأمّّا العام يُجلب إلى البلاد، فأنه يؤخذ القرظ فيطحن ويُعجن بماء الصمغ ثم يقبض ويختم ويجفَّف، وشجرته هي السنط وتسمَّّى الشوكة المصرية، وورقها هو القرظ بالحقيقة ويُدبغ به الجلود، وعصارةُ القرظ التي يتّخذ منها الأقاقيا تسمّى ربّ القرظ ونساء مصر يشربن عصارته ونقيعه للإسهال.
والسنط شجرٌ عِظام جداً، له شوكٌ كثيرٌ حديدٌ صلب أبيض، وله ثمرٌ يُسمّى خروب القرظ مدور مسطوح مُشاكلٌ لحبّ الترمس، إلّا أنه متّصل كقرون اللوبيا وفي داخله حبٌّ صغار، وإذا اتخذ الأقاقيا من القرظ قبل كمال نضجه كان أكثر قبضا وأقوى على حبس الطبيعة، وإذا اتّخذ ممّا استحكم نضجه، لم يقوَ على حبس البطن، وعلامته أن يكون شديد السواد مُشرق اللون، وقال الدينوري: القرظ شجر عظام كشجر الجوز وخشبه صلبٌ كالحديد وإذا قدم اسودَّ كالأبنوس، وورقه يشبه ورق التفاح، وله حبلة مثل قرن اللوبيا داخلها حبٌّ يوضع في الموازين، ويُدبغ بورقه وثمره، ومنابته القيعان والجبال وحبلة القرظ أصغر من علف الطلح، وإذا رعته الإبل احمرت أفواهها وأدبارها حتى أبعارها، فتحسبها عصفرا قد جمع وتسمن عليه، وما كان من القرظ
আর খেজুর গাছ সেখানে প্রচুর, তবে এর ফলকে যখন ইরাকের খেজুর গাছের ফলের সাথে তুলনা করা হয়, তখন দেখা যায় যে তা যেন একবার রান্না করা হয়েছে, যার ফলে এর অধিকাংশ মিষ্টতা বেরিয়ে গেছে এবং এর শক্তি অপূর্ণ রয়ে গেছে। ইরাকবাসী যাকে ‘কাসব’ (শুকনো খেজুর) বলে, মিশরীয়রা তাকেই ‘তামর’ বলে। আর ইরাকের ‘তামর’কে তারা ‘আজওয়া’ বলে। আপনি তাদের কাছে ইরাকের খেজুরের সদৃশ খেজুর খুব কমই পাবেন, তবে কদাচিৎ দু-একটি গাছ থাকতে পারে যা উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।
আর মাষকলাই, যা ‘মুজ’ নামে পরিচিত, তা মিশরে আদৌ চাষ করা হয় না; বরং তা আতর বিক্রেতাদের কাছে পাওয়া যায়, যা সিরিয়া থেকে আমদানি করা হয় এবং রোগীদের জন্য ওজনের হিসেবে বিক্রি করা হয়। আর জোয়ার ও বাজরার কথা বলতে গেলে, উচ্চ মিশর ব্যতীত মিশরের অন্য কোথাও এগুলোর পরিচিতি নেই, বিশেষ করে বাজরার।
মিশরের বিশেষ পণ্যগুলোর মধ্যে আফিম অন্যতম, যা উচ্চ মিশরে কালো পোস্তদানা থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং এর সংগ্রহকারীরা প্রায়শই এতে ভেজাল মিশিয়ে থাকে। অনেক সময় তারা এতে বিষ্ঠার ভেজাল দেয়। খাঁটি আফিমের নিদর্শন হলো তা রোদে গলে যাবে এবং প্রদীপে ধোঁয়া ছাড়াই জ্বলবে। যখন এটি নেভানো হয়, তখন এর ঘ্রাণ অত্যন্ত তীব্র হয়; আর ভেজাল মিশ্রিত আফিম দ্রুত পোকা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। এরিস্টটল চোখের ও কানের ওষুধের সাথে এটি মিশ্রিত করতে নিষেধ করেছেন, কারণ এটি অন্ধত্ব ও বধিরতা সৃষ্টি করে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘আকাকিয়া’ (বাবলা নির্যাস), যা ‘কারায’ বৃক্ষের পাতা ও ফলের রস। পিষে এর রস বের করা হয়
এবং তা নিংড়ানো হয়, তারপর সূর্যের বিপরীতে চওড়া পাত্রে রাখা হয় যতক্ষণ না তা ঘন হয় এবং পরে চাকতি বানানো হয়। এটিই হলো বিশেষ খাঁটি প্রকার। আর যা সাধারণত বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয়, তা হলো ‘কারায’ সংগ্রহ করে চূর্ণ করা হয় এবং আঠার পানি দিয়ে খামির তৈরি করা হয়, এরপর তা চেপে সিল মেরে শুকানো হয়। এই গাছটি হলো ‘সুন্ত’, যাকে ‘মিশরীয় কাঁটাগাছ’ বলা হয়। এর পাতাই প্রকৃতপক্ষে ‘কারায’, যা দিয়ে চামড়া পাকানো (ট্যানিং) হয়। কারাযের নির্যাস যা থেকে আকাকিয়া তৈরি করা হয়, তাকে ‘রুব্বুল কারায’ বলা হয়। মিশরের মহিলারা উদরাময়ের চিকিৎসার জন্য এর রস ও নির্যাস পান করে।
আর সুন্ত অত্যন্ত বিশাল এক বৃক্ষ, এতে অনেক তীক্ষ্ণ, শক্ত ও সাদা কাঁটা থাকে। এর একটি ফল আছে যাকে ‘খারুবুল কারায’ বলা হয়, যা গোলাকার ও চ্যাপ্টা এবং মোটরদানার বীজের মতো, তবে তা বরবটির শুঁটির মতো যুক্ত থাকে এবং এর ভেতরে ছোট ছোট বীজ থাকে। যখন কারায পূর্ণরূপে পক্ক হওয়ার আগেই তা থেকে আকাকিয়া তৈরি করা হয়, তখন তা অধিক সংকোচনকারী (কষযুক্ত) এবং পেট বন্ধ করার জন্য বেশি কার্যকর হয়। আর যখন তা পূর্ণ পক্ক হওয়ার পর সংগ্রহ করা হয়, তখন তা পেট বন্ধ করতে তেমন শক্তিশালী হয় না। এর লক্ষণ হলো তা হবে অত্যন্ত কালো ও উজ্জ্বল বর্ণের। আদ-দিনাওয়ারী বলেছেন: কারায হলো আখরোট গাছের মতো বিশাল বৃক্ষ এবং এর কাঠ লোহার মতো শক্ত; যখন তা পুরনো হয়, তখন আবলুস কাঠের মতো কালো হয়ে যায়। এর পাতা আপেল পাতার মতো। এর ফল বরবটির শুঁটির মতো, যার ভেতরে বীজ থাকে যা দাঁড়িপাল্লার বাটখারা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা ও ফল দিয়ে চামড়া পাকানো হয়। এর উৎপত্তিস্থল হলো সমতল ভূমি ও পাহাড়। কারাযের ফল ‘তালহ’ গাছের ফলের চেয়ে ছোট। যখন উট এটি ভক্ষণ করে, তখন তাদের মুখ, পশ্চাৎদেশ এমনকি মল পর্যন্ত লাল হয়ে যায়, ফলে মনে হয় যেন জাফরান একত্রিত করা হয়েছে; উট এটি খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়। আর কারাযের যা অংশ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بأرض مصر فهو السنط وهو ذكي الوقود قليل الرماد، وله برمة صفراء ليس لها رائحة زكية كبرم العراق.
ومن ذلك الفقوص وهو قثّاء صغار لا يكبر ولا يعدو أطوله الفتر وأكثره في طول الإصبع، وهو أنعم من القثاء وأحلى ولا شك في أنه صنف منه وكأنّه الضغاييس، أما القتد فهو الخيار، ويوجد بمصر بطيخٌ يسمّى العبدلي والعبدلاوي، قيل أنه نُسب إلى عبد الله بن طاهر والي مصر عن المأمون.
وأما المزارعون فيسمونه البطيخ الدميري، منسوبا إلى دميرة قرية بمصر له أعناق ملتوية وقشرُه خفيفٌ وطعمه مسخ قلما يوجد فيه حلو، ويندر فيه ما وزنه
ثلاثون رطلا وأكثر، والغالب عليه ما بين رطل إلى عشرة أرطال، وأهل مصر يستطيبونه على البطيخ المولد المسمى عندهم بالخراساني والصيني ويزعمون أنه نافع، ويأكلونه بالسكر وطعمه أشبه شيء بالصنف المسمى بالعراق الشلنق: لكنه ألذّ منه وأنعم وشكله شكل يقطين العراق، إلّا أن لونه حسن الصفرة جدا وفي ملمسه حراشة وتخييش، وصغاره قبل أن تبلغ تكون كلون اليقطين وشكله وكطعم القثاء، لها بطونٌ وأعناقٌ، وتباع بالفقوص وتسمى العجوز، وأخبرني مزارعه أن العادة جارية بأن ينقّى حقله كل يوم، فما يرى مزارعه أن يقطعه صغيراً أخضر قطعه وباعه بالعجور، وما يرى أنه يتركه حتى يكبر ويبلغ ويصفر كان منه البطيخ العبدلي، وقلما تجد في بطيخ مصر ما هو صادق الحلاوة، لكنه لا يوجد فيه مُدوِّدٌ ولا فاسد بل الغالب عليه التفاهة المائية، وجميع أصناف البطيخ بها يباع بالميزان سوى البطيخ الأخضر، وأما البطيخ الأخضر، فإنه يسمّى بالغرب الدلاع وبالشام البطيخ الرنشي وبالعراق البطيخ الرقي، ويسمي أيضا الفلسطيني والهندي، وأما اليقطين الذي يقصره الجمهور على الدباء، فيكون بمصر مستطيلا وفي شكل القثاء ويبلغ في طوله إلى ذراعين وفي قِصَرِه إلى شبر، وأما الباقل الأخضر المُسمّى عندهم بالفول، فإنه يتواصل نحو ستة أشهر، وكذلك الورد والياسمين يدوم جميع السنة ولا تزال شجرته مزهرة، ومنه أبيض وأصفر والأبيض أكثر وأعطر، ومنه يتخذ دهن الزنبق بدمياط خاصة، وكذلك الليمون وإنما يقل ويكثر فقط، والبنفسج بمصر عطِرٌ جدا، لكن لا يحسنون اتّخاذ
মিশরীয় ভূমিতে এটি হলো সান্ত (এক প্রকার বাবলা), যা চমৎকার জ্বালানি এবং এর ছাই কম হয়। এর রয়েছে হলুদ রঙের মুকুল, যার সুঘ্রাণ ইরাকের মুকুলের মতো তীব্র নয়।
এর মধ্যে রয়েছে ফাক্কুস, যা এক প্রকার ছোট শসা; এটি খুব বড় হয় না এবং এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য এক বিঘত ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি আঙুলের দৈর্ঘ্যের সমান হয়। এটি সাধারণ শসার চেয়ে অধিক কোমল ও মিষ্টি। নিঃসন্দেহে এটি শসারই একটি প্রজাতি এবং এটি দেখতে অনেকটা দাগায়িসের মতো। আর কাতাদ হলো শসা। মিশরে এক প্রকার তরমুজ পাওয়া যায় যাকে আবদালি ও আবদালাবি বলা হয়; বলা হয়ে থাকে যে, এটি মামুনের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত মিশরের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের নামানুসারে করা হয়েছে।
আর কৃষকরা একে দুমাইরি তরমুজ বলে ডাকেন, যা মিশরের দুমাইরা নামক একটি গ্রামের সাথে সম্পর্কিত। এর বোঁটাগুলো বাঁকানো, এর খোসা পাতলা এবং এর স্বাদ পানসে, এতে মিষ্টতা খুব কমই পাওয়া যায়। এতে এমন ফল বিরল যার ওজন
ত্রিশ রতল বা তার বেশি হয়; সাধারণত এর ওজন এক থেকে দশ রতলের মধ্যে থাকে। মিশরের অধিবাসীরা একে সংকর জাতের তরমুজ—যাকে তারা খুরাসানি ও চিনি বলে অভিহিত করে—তার চেয়ে অধিক পছন্দ করে এবং তারা দাবি করে যে এটি বেশ উপকারী। তারা এটি চিনি দিয়ে খায় এবং এর স্বাদ ইরাকের শিলান্ক নামক প্রজাতির সাথে সবচেয়ে বেশি সদৃশ; তবে এটি তার চেয়ে বেশি সুস্বাদু ও কোমল। এর আকৃতি ইরাকি লাউয়ের মতো, তবে এর রং অত্যন্ত সুন্দর হলুদ এবং স্পর্শে এটি খসখসে ও অমসৃণ। পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে এটি যখন ছোট থাকে, তখন এর রং ও আকৃতি লাউয়ের মতো এবং স্বাদ শসার মতো হয়; এর মধ্যভাগ ও বোঁটা থাকে। এটি ফাক্কুস হিসেবে বিক্রি হয় এবং একে আজুর বলা হয়। এক কৃষক আমাকে জানিয়েছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ক্ষেত পরিচর্যা করা হয়; ফলে কৃষক ছোট ও সবুজ অবস্থায় যা কাটা প্রয়োজন মনে করেন, তা কেটে আজুর হিসেবে বিক্রি করেন। আর যা তিনি বড়, পরিপক্ক ও হলুদ হওয়ার জন্য রেখে দেন, তা থেকে আবদালি তরমুজ হয়। মিশরের তরমুজে প্রকৃত মিষ্টতা খুব কমই দেখা যায়, তবে এতে কোনো পোকা ধরে না বা তা পচে যায় না, বরং এর অধিকাংশ পানসে স্বাদের হয়। সবুজ তরমুজ ব্যতীত সেখানকার সকল প্রকার তরমুজ ওজন করে বিক্রি করা হয়। আর সবুজ তরমুজকে মাগরিবে দাল্লা, শামে রিনশি এবং ইরাকে রিক্কি তরমুজ বলা হয়; একে ফিলিস্তিনি ও হিন্দি তরমুজও বলা হয়। আর ইয়াকতিন বলতে সাধারণ মানুষ কেবল কদুকে (লাউ) বোঝে, কিন্তু মিশরে তা লম্বাটে এবং শসার আকৃতির হয়, যার দৈর্ঘ্য দুই হাত থেকে সর্বনিম্ন এক বিঘত পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর সবুজ শিম যাকে তারা 'ফুল' বলে, তা প্রায় ছয় মাস যাবৎ পাওয়া যায়। একইভাবে গোলাপ ও জুঁই সারা বছর থাকে এবং এর গাছ সর্বদা পুষ্পিত থাকে। এতে সাদা ও হলুদ বর্ণ রয়েছে; সাদাটি অধিক সহজলভ্য ও সুগন্ধি। বিশেষ করে দমইয়াতে তা থেকে লিলি তেল তৈরি করা হয়। একইভাবে লেবুও সারা বছর থাকে, কেবল এর আধিক্য বা স্বল্পতা ঘটে। মিশরের বেগুনি ফুল (ভায়োলেট) অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত, কিন্তু তারা তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারদর্শী নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
دهنه ولا معجونه، فلا بأس به وإن كان رديا، وأما رمانها ففي غاية الجودة، إلّا أنّه ليس بصادق الحلاوة.
وأما القراسيا، فلا يوجد بمصر بل بالشام وبلاد الروم وغيرهما، وإنما بمصر صنفٌ من الأجاص صغار حامض يسمونه القراسيا ومثل هذا الصنف بدمشق يسمونه خوخ الدلب، لأن الأجاص بالشام يسمى خوخا والخوخ دراقناً والكمثرى
أجاصا.
ومما يكثر بمصر شجر خيار شنبر وهو شجر عظام شبيه بشجر الخروب الشامي، وزهره كبير أصفر ناضر ذو رواء وبهجة، فإذا عقد تدلى ثمره كالمقارع الخضر، وبها شجر اللوز، والسدرُ بها كثير وثمره النبق حلو جدا، والتيل يكثر بها ولكنه دون الهندي.
الفصل الثالثفيما تختص به من الحيوانمن ذلك حضانة الفراريج بالزبل، فإنّه قلما ترى بمصر فراريج عن حضان الدجاجة وربما لم يفرِّقوه أيضا، وإنما ذلك عندهم صناعة ومعيشة يتَّجِر فيها ويُكتسب منها وتجد في كلِّ بلد من بلادهم مواضع عدة تعمل ذلك، ويسمّى الموضع معمل الفرّوج، وهذا المعمل ساحة كبيرة ُيتّخذ فيها من البيوت التي يأتي ذكرها ما بين عشرة أبيات إلى عشرين بيتا في كل بيت ألفا بيضة ويسمى بيت الترقيد، وصفته أن يتخذ بيت مربع طوله ثمانية أشبار في عرض ستة في ارتفاع أربعة، ويُجعل له باب في عرضه سعته شبران وعقد في مثله وتُجعل فوق الباب طاقة مستديرة قطرها شبر، ثم تسقف بأربع خشبات وفوقها سدّة قصب يعني نسيجا منه وفوقه ساسي وهو مشاقة الكتان وحطبه، ومن فوق ذلك الطين ثم يرصص بالطوب ويطين سائر البيت ظاهره وباطنة وأعلاه وأسفله، حتى لا يخرج منه بخار وينبغي أن تتخذ في وسط السقف شباكا سعته شبر في شبر فهذا السقف يحكي صدر الدجاجة، ثم تتّخذ حوضين من الطين المخمّر بساسي طول الحوض ستة أشبار وعرضه شبر ونصف وسُمكه عقدة إصبع وحيطانه نحو أربع أصابع، ويكون هذا الحوض لوحا واحداً تبسطه على أرض معتدلة، هذا الحوض يسمى الطاجن فإذا جفَّ الطاجنان ركبتهما على طرف السقف أحدهما على وجه الباب والآخر قباله على الطرف الآخر تركيبا محكماً، وأخذت وصولهما بالطين آخذاً
এর তেল বা মণ্ড নয়, সুতরাং এটি নিম্নমানের হলেও এতে কোনো সমস্যা নেই। আর এখানকার ডালিম অত্যন্ত উন্নত মানের, তবে তা পুরোপুরি মিষ্টি নয়।
আর কারাসিয়া (এক প্রকার চেরি বা আলুবোখারা) মিশরে পাওয়া যায় না, বরং তা শাম (সিরিয়া), রোম ও অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়। মিশরে কেবল এক প্রকার ছোট টক আলুবোখারা পাওয়া যায় যাকে তারা কারাসিয়া বলে। দামেস্কে এই জাতটিকে তারা 'খুখুদ দালব' বলে, কারণ শাম দেশে আলুবোখারাকে 'খুখ' বলা হয়, আর 'খুখ'কে 'দুরাক্কিন' এবং নাশপাতিকে
আলুবোখারা বলা হয়।
মিশরে সোনালু (খিয়ার শাম্বার) গাছ প্রচুর জন্মে, যা শামি হারুব (ক্যারব) গাছের মতো বিশাল এক প্রকার গাছ। এর ফুলগুলো বড়, উজ্জ্বল হলুদ এবং অত্যন্ত সতেজ ও দৃষ্টিনন্দন। যখন ফল ধরে, তখন এর ফলগুলো সবুজ লাঠির মতো ঝুলে থাকে। সেখানে কাঠবাদাম গাছও রয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণে সিদর (কুল) গাছ পাওয়া যায় যার ফল (বড়ই) অত্যন্ত মিষ্টি। সেখানে তিল (আঁশযুক্ত উদ্ভিদ) প্রচুর জন্মে, তবে তা ভারতীয় তিলের চেয়ে নিম্নমানের।
তৃতীয় পরিচ্ছেদসেখানকার প্রাণিকুলের বৈশিষ্ট্যসমূহতার মধ্যে একটি হলো গোবরের তাপে মুরগির ছানা ফুটানো। মিশরে মুরগির মাধ্যমে ডিমে তা দিয়ে ছানা ফুটানো খুব কমই দেখা যায়, এমনকি তারা সম্ভবত এর পার্থক্যও করে না। তাদের কাছে এটি একটি শিল্প ও জীবিকা, যার মাধ্যমে তারা ব্যবসা করে ও উপার্জন করে। তাদের প্রতিটি শহর বা জনপদে আপনি এমন বেশ কিছু স্থান পাবেন যেখানে এই কাজ করা হয়। এই স্থানটিকে 'মুরগির বাচ্চা উৎপাদন কেন্দ্র' বলা হয়। এই কেন্দ্রটি একটি বড় চত্বর, যেখানে নিচে বর্ণিত ঘরগুলোর মতো দশ থেকে বিশটি ঘর তৈরি করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুই হাজার করে ডিম রাখা হয় এবং একে 'ডিম বসানোর ঘর' বলা হয়। এর বিবরণ হলো: একটি বর্গাকার ঘর তৈরি করা হয় যার দৈর্ঘ্য আট বিঘত, প্রস্থ ছয় বিঘত এবং উচ্চতা চার বিঘত। এর প্রস্থের দিকে একটি দরজা রাখা হয় যার প্রশস্ততা দুই বিঘত এবং খিলানও সমপরিমাণ। দরজার উপরে এক বিঘত ব্যাসের একটি গোলাকার গর্ত রাখা হয়। এরপর চারটি কাঠের তক্তা দিয়ে এর ছাদ তৈরি করা হয় এবং তার উপরে খাগড়া বা নলের তৈরি বুনন দেওয়া হয়। তার উপরে 'সাসি' অর্থাৎ লিনেন বা তিসি গাছের অবশিষ্টাংশ ও তার কাঠি দেওয়া হয়। এর উপরে কাদা মাটি লেপে দেওয়া হয়, তারপর ইট দিয়ে মজবুত করা হয় এবং পুরো ঘরের ভেতর-বাইর, উপর-নিচ কাদা দিয়ে লেপে দেওয়া হয় যাতে তা থেকে বাষ্প বের হতে না পারে। ছাদের মাঝখানে এক বিঘত দৈর্ঘ্য ও এক বিঘত প্রস্থের একটি জানালা রাখা উচিত; এই ছাদটি মুরগির বুকের গড়নের মতো হয়। এরপর 'সাসি' মিশ্রিত পচা কাদা দিয়ে দুটি পাত্র তৈরি করা হয়। প্রতিটি পাত্রের দৈর্ঘ্য ছয় বিঘত, প্রস্থ দেড় বিঘত এবং পুরুত্ব এক আঙুলের গিঁট পরিমাণ; এর দেয়াল বা কিনারা প্রায় চার আঙুল পরিমাণ উঁচু হয়। এই পাত্রটি একটি তক্তার মতো যা সমতল ভূমিতে বিছিয়ে দেওয়া হয়। এই পাত্রটিকে 'তাজিন' বলা হয়। যখন পাত্র দুটি শুকিয়ে যায়, তখন সে দুটিকে ছাদের কিনারে শক্তভাবে স্থাপন করা হয়—একটি দরজার মুখে এবং অন্যটি তার বিপরীতে অন্য প্রান্তে। এরপর তাদের সংযোগস্থলগুলো কাদা দিয়ে ভালোভাবে আটকে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
متفقاً وينبغي أن يكون قعود الطاجنين على خشب السقف بحيث يماسانه، وهذان الطاجنان تحاكي بهما جناحا الدجاجة، ثم يُفرشُ البيت بقفّة تبن ويمهَّد ويُفرش فوقه ضب أو ديس، يعني حصيرا برديا على مقداره سواء، ثم يرصف فوقه البيض رصفاً حسنا بحيث يتماسّ ولا يتراكب لتتواصل الحرارة فيه، ومقدار
ما يسع هذا البيت، المفروض ألفا بيضة وهذا الفعل يسمى الترقيد وإن ضاقت الحضانة تبتدئ وتسد الباب بأن ترسل عليه لبداً مهندماً، ثم تسد الطاقة بساسي والشباك أيضا بساسي وفوقه زبل حتى لا يبقى في البيت منفس للبخار، وتُلقي في الطاجنين من زبل البقر اليابس قفتين وذلك ثلاث ويبات وتوقد فيه نار سراج من جميع جهاته وتهمله ريثما يرجع رمادا وأنت تتفقد البيض ساعة بعد أخرى بأن تضعه على عينك، وتعتبر حرارته، وهذا الفعل يسمى الذواق فأن وجدته يلذع العين قلبته ثلاث تقليبات في ثلاث دفعات تجعل أسفله أعلاه وأعلاه أسفله، وهذا يحاكي تقليب الدجاجة للبيضة بمنقارها وتفقُّدها إياها بعينها وهذا يسمى السماع الأول، فإذا صار الزبل رمادا أزلته وتركته بلا نار إلى نصف النهار إن كان ترقيده بكرة، وإن كان ترقيده من أول الليل حرسته إلى أن تحمي وتسمع النار كالسياقة المتقدمة ثم تُخلي الطاجِنين من النار إلى بكرة، ثم تجعل في الطاجن الذي على باب البيت من الزبل ثلاثة أقداح وفي الطاجن الذي على صدر البيت قدحين ونصفاً، ومدّ الزبل بمرودٍ غليظ واطرح في كلّ منهما النار في موضعين منه وكلما خرَجتَ من البيت بعد تفقده فارخ الستر، وإياك وأن تغفل عنه لئلا يخرج البخار ويدخل الهواء فيفسد العمل، وإذا كان وقت العشاء وصار الزبل رماداً ونزل الدفء إلى البيض، أسفل البيت، فغيِّر الرماد من الطاجن بزبلٍ جديد مثل الأول، وأنت كل وقت تلمس البيض وتذوقه بعينك، فإن وجدت حرارته زائدة عن الاعتدال تلذع العين، فاجعل مكان ثلاثة أكيال لطاجن الباب كيلين وربما، وفي طاجن الصدر كيلين فقط ولا تزال تواصل تغيير الرماد وتجديد الزبل والإيقاد حتى لا ينقطع الدفء مدة عشرة أيام بمقدار ما تكمل الشخوص بمشيئة الله وقدرته، وذلك نصف عمر الحيوان، ثم تدخل البيت بالسراج وترفع البيض واحدة واحدة وتقيمها بينك وبين السراج، فالتي تراها سوداء ففيها الفرخ، والتي تراها
شبه شراب أصفر في زجاج لا عكر فيه فهي لاح بلا بذر وتسمى الأرملة
সর্বসম্মতভাবে এবং উচিত হলো ছাদের কাঠের ওপর মাটির পাত্র দুটি এমনভাবে স্থাপন করা যাতে সেগুলো কাঠকে স্পর্শ করে থাকে; এই পাত্র দুটির মাধ্যমে মুরগির ডানা দুটির অনুকরণ করা হয়। এরপর ঘরটিতে এক ঝুড়ি খড় বিছিয়ে সমান করতে হবে এবং তার ওপর ঘরের মাপ অনুযায়ী প্যাপিরাস বা নলখাগড়ার মাদুর বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর তার ওপর ডিমগুলো সুন্দরভাবে সারিবদ্ধভাবে সাজাতে হবে যাতে সেগুলো পরস্পরকে স্পর্শ করে কিন্তু একটির ওপর আরেকটি না ওঠে, যাতে তাপ সঞ্চালিত হতে পারে। আর এই ঘরের ধারণক্ষমতা ধরা যাক
দুই হাজার ডিম। এই প্রক্রিয়াকে 'তারকিদ' (ডিম বসানো) বলা হয়। যদি হ্যাচারিটি সংকীর্ণ হয়, তবে কাজ শুরু করুন এবং একটি পরিপাটি পশমী কাপড় ঝুলিয়ে দরজাটি বন্ধ করে দিন। এরপর ঘুলঘুলি ও জানালাগুলো ছিপি দিয়ে এবং তার ওপর গোবর দিয়ে বন্ধ করে দিন যাতে ঘরের ভেতরে বাষ্প চলাচলের কোনো পথ অবশিষ্ট না থাকে। পাত্র দুটিতে দুই ঝুড়ি অর্থাৎ তিন 'ওয়াইবা' পরিমাণ গরুর শুষ্ক বিষ্ঠা দিন এবং চেরাগের মাধ্যমে এর চারপাশ থেকে আগুন জ্বালিয়ে দিন। ভস্ম হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবেই ছেড়ে রাখুন। আপনি সময় সময় ডিমগুলো পরীক্ষা করবেন চোখের ওপর রেখে এর উত্তাপ বিবেচনা করার মাধ্যমে; এই কাজটিকে 'জাওয়াক' (তাপ পরীক্ষা) বলা হয়। যদি দেখেন যে তাপ চোখে জ্বালা ধরাচ্ছে, তবে ডিমগুলোকে তিন দফায় তিনবার উল্টে দিন—নিচের অংশ উপরে এবং উপরের অংশ নিচে করুন। এটি মুরগির তার ঠোঁট দিয়ে ডিম উল্টানো এবং চোখ দিয়ে তা তদারকি করার সদৃশ; একে 'প্রথম শ্রবণ' বলা হয়। যখন বিষ্ঠাগুলো ছাই হয়ে যাবে, তখন তা সরিয়ে ফেলুন এবং যদি সকালে ডিম বসানো হয়ে থাকে তবে দুপুর পর্যন্ত আগুন ছাড়াই রাখুন। আর যদি রাতের শুরুতে ডিম বসানো হয়, তবে পূর্বোক্ত নিয়মানুযায়ী উত্তপ্ত হওয়া পর্যন্ত তা পাহারায় রাখুন। এরপর সকাল পর্যন্ত পাত্র দুটি আগুনমুক্ত রাখুন। এরপর দরজার কাছের পাত্রটিতে তিন 'কাদাহ' এবং ঘরের ভেতরের পাত্রটিতে আড়াই 'কাদাহ' বিষ্ঠা দিন। মোটা শলাকা দিয়ে বিষ্ঠাগুলো বিছিয়ে দিন এবং প্রতিটিতে দুই স্থানে আগুন দিন। প্রতিবার তদারকি শেষে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পর্দাটি টেনে দিন। সাবধান, এ বিষয়ে গাফেল হবেন না, পাছে বাষ্প বেরিয়ে যায় এবং বাতাস প্রবেশ করে পুরো প্রক্রিয়াটি পণ্ড করে দেয়। যখন এশার সময় হবে এবং বিষ্ঠাগুলো ছাই হয়ে যাবে এবং ঘরের নিচের অংশে রাখা ডিমগুলোতে উষ্ণতা পৌঁছাবে, তখন পাত্রের ছাইগুলো সরিয়ে প্রথমবারের মতো নতুন বিষ্ঠা দিয়ে পূর্ণ করুন। আপনি সর্বদা ডিমগুলো স্পর্শ করবেন এবং চোখ দিয়ে তাপ পরীক্ষা করবেন। যদি দেখেন তাপ পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে চোখে জ্বালা ধরাচ্ছে, তবে দরজার পাত্রে তিন পরিমাপের পরিবর্তে সোয়া দুই পরিমাপ এবং ভেতরের পাত্রে মাত্র দুই পরিমাপ বিষ্ঠা দিন। এভাবে ছাই পরিবর্তন, নতুন বিষ্ঠা প্রদান এবং অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রাখুন যাতে দশ দিন পর্যন্ত উষ্ণতা নিরবচ্ছিন্ন থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর ইচ্ছা ও কুদরতে ভ্রূণের অবয়ব পূর্ণতা পায়; আর এটি হলো প্রাণের মেয়াদের অর্ধেক সময়। এরপর চেরাগ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করুন এবং ডিমগুলো একে একে তুলে আপনার ও চেরাগের মাঝখানে ধরুন। যে ডিমটি কালো দেখবেন, বুঝবেন তাতে ছানা আছে। আর যা
কাঁচের পাত্রে স্বচ্ছ হলুদ পানীয়র মতো দেখা যাবে যাতে কোনো ঘোলাটে ভাব নেই, তা হলো বীজহীন অনূর্বর ডিম, যাকে 'আরমালাহ' বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فأخرجها بلا منفعة فيها، ثم عدل البيض في البيت بعد تنقيته وأخرج اللاح عنه وهذا الفعل يسمى التلويح، ثم تصبح بعد التلويح تنقص الزبل من العيار الأول ملء كفك من كلّ حوض بكرةً ومثله عشيّةً حتى ينصرم اليوم الرابع عشر ولم يبق من الزبل شيء، فحينئذ يكمل الحيوان ويشعرن ويتفتح، فاقطع إذ النار عنه فأن وجدته زائد الحرارة يحرق العين فافتح الطاقة التي على وجه الباب وأبقها كذلك يومين ثم ذقه على عينك فأن وجدته غالب الحرارة، فافتح نصف الشباك وأنت مع ذلك تقلّبه وتُخرج البيض الذي في الصدر إلى جهة الباب والبيض الذي في جهة الباب تردّه إلى الصدر حتى يحمى البارد الذي كان في جهة الباب ويستريحُ الحارّ الذي في الصدر، يُشمّ الهواء فيصير في طريقة الإعتدال ساعة يحمي وساعة يبرد، فيعتدل مزاجه وهذا الفعل يُسمّى الحضانة كما يفعل الطير سواء، وتستمرّ على هذا التدبير دفعتين في النهار، ودفعة في الليل إلى تمام تسعة عشر أيضا، فإنّ الحيوان ينطق في البيض بقدرة الله تعالى، وفي يوم العشرين يطرح بعضه ويكسر القشر ويخرج وهذا يسمى التطريح، وعند تمام اثنين وعشرين يوما يخرج جميعه، وأحمدُ الأوقات لعمله أمشير وبرمهات وبرمودة، وذلك في شباط وآذار ونيسان، لأنَّ البيض في هذه المدة يكونُ غزير الماء، كثير البذرة صحيح المزاج، والزمان معتدل صالحٌ للنشأة والتكوين، وينبغي أن يكون البيض طريّا وفي هذه الأشهر يكثر البيض أيضا.
ومن ذلك الحمير، والحمير بمصر فارهة جداً، وتُركب بالسروج وتجري مع الخيل والبغال النفيسة لعلها تسبقها، وهي مع ذلك كثيرةُ العدد، ومنها ما هو غال بحيث إذا رُكب بسرج اختلط مع البغلات، يركبه رؤساء اليهود والنصارى ويبلغ ثمن الواحد منها عشرين دينارا إلى أربعين.
وأما بقرهم فعظيمة الخلق حسنةُ الصور، ومنها صنفٌ هو أحسنها وأغلاها قيمة يسمى (البقر الخيسية) وهي ذوات قرون كأنها القسي غزيرات اللبن.
وأما خيلها فعتاق سابقة ومنها ما يبلغ ثمنه ألف دينار إلى أربعة آلاف، وهم ينزون الخيل على الحمير والحمير على الخيل، فتأتي البغلة وأمها أتان، ولكن هذه البغال لا تكون عظيمة الخلق كالتي أمهاتها مهورة، لأن الأمّ هي التي تعطي المادة.
এরপর তিনি সেগুলোকে কোনো উপকার ছাড়াই বের করে আনেন। তারপর ঘরটি পরিষ্কার করার পর ডিমগুলোকে সুবিন্যস্ত করেন এবং সেখান থেকে আর্দ্রতা দূর করেন, আর এই প্রক্রিয়াটিকে 'তালউইহ' বলা হয়। 'তালউইহ'-এর পর প্রথম নির্ধারিত পরিমাণ থেকে প্রতি ভোরে এক মুঠো করে এবং অনুরূপভাবে প্রতি সন্ধ্যায় গোবর কমিয়ে দিতে হবে, যতক্ষণ না চতুর্দশ দিন অতিবাহিত হয় এবং সেখানে কোনো গোবর অবশিষ্ট না থাকে। তখন প্রাণীটি পূর্ণতা পায়, তার পশম গজায় এবং তার ইন্দ্রিয়গুলো উন্মুক্ত হতে থাকে। তখন তার থেকে তাপের উৎস বিচ্ছিন্ন করে দাও। যদি তুমি একে অতিরিক্ত উত্তপ্ত পাও যা চোখে জ্বালা ধরায়, তবে দরজার উপরিভাগের ছিদ্রটি খুলে দাও এবং দুই দিন সেভাবে রেখে দাও। এরপর তা তোমার চোখের ওপর রেখে তাপ পরীক্ষা করো; যদি একে অধিক উত্তপ্ত পাও, তবে জানালার অর্ধেক খুলে দাও। এর সাথে সাথে তুমি ডিমগুলো উল্টেপাল্টে দেবে এবং ভেতরের দিকের ডিমগুলো দরজার দিকে নিয়ে আসবে এবং দরজার দিকের ডিমগুলো ভেতরে ফিরিয়ে দেবে, যাতে দরজার দিকে থাকা শীতল ডিমগুলো উত্তপ্ত হয় এবং ভেতরের দিকের উত্তপ্ত ডিমগুলো বিশ্রাম পায়। এভাবে সেগুলো হাওয়া গ্রহণ করবে এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাবে—কখনো উত্তপ্ত হবে এবং কখনো শীতল হবে, ফলে এর মেজাজ বা প্রকৃতি সুষম হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে 'হাদানাহ' (ডিম ফোটানো) বলা হয়, ঠিক যেমনটি পাখি করে থাকে। দিনে দুইবার এবং রাতে একবার—এভাবে উনিশ দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যেতে হবে। তখন মহান আল্লাহর কুদরতে ডিমের ভেতরে থাকা প্রাণীটি আওয়াজ করতে শুরু করবে। বিংশতম দিনে কিছু ডিম ফেটে যাবে, খোসা ভেঙে প্রাণীটি বেরিয়ে আসবে; একে 'তাতরিহ' বলা হয়। বাইশ দিন পূর্ণ হলে সবগুলো ছানা বেরিয়ে আসবে। এই কাজের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময় হলো আমশির, বারামহাত এবং বারামুদাহ মাস, যা ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এই সময়ে ডিমের তরল অংশ প্রচুর থাকে, ভ্রূণ সজীব থাকে এবং এর প্রকৃতি সঠিক থাকে। সময়টিও জীবন সৃষ্টি ও বেড়ে ওঠার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও উপযুক্ত। ডিমগুলো সতেজ হওয়া আবশ্যক এবং এই মাসগুলোতে ডিমের প্রাচুর্যও থাকে।
আর মিশরের গাধাসমূহ অত্যন্ত চটপটে ও উন্নত মানের হয়ে থাকে। সেগুলোকে জিনের সাহায্যে আরোহণ করা হয় এবং সেগুলো উন্নত ঘোড়া ও খচ্চরের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়ায়, এমনকি কখনো কখনো সেগুলোকে ছাড়িয়েও যায়। এর সংখ্যাও অনেক বেশি। এদের মধ্যে এমন কিছু গাধা রয়েছে যা অত্যন্ত মূল্যবান, যখন জিনের সাহায্যে সেগুলোতে আরোহণ করা হয় তখন সেগুলোকে খচ্চরের মতো মনে হয়। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতারা এগুলোতে আরোহণ করেন এবং একেকটির দাম বিশ থেকে চল্লিশ দিনার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আর তাদের গরুগুলো দৈহিক গড়নে বিশাল এবং দেখতে সুন্দর। তাদের মধ্যে একটি বিশেষ জাত আছে যা সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান, যাকে 'খাইসিয়া গরু' বলা হয়। এগুলোর শিংগুলো ধনুকের মতো এবং এগুলো প্রচুর দুধ দেয়।
আর সেখানকার ঘোড়াগুলো অভিজাত ও দ্রুতগামী। এদের কোনো কোনোটির দাম এক হাজার থেকে চার হাজার দিনার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারা ঘোড়া ও গাধার মধ্যে প্রজনন ঘটায়, ফলে খচ্চর জন্ম নেয় যার মা হলো গাধী। কিন্তু এই খচ্চরগুলো আকারে ততটা বিশাল হয় না যতটা সেই খচ্চরগুলো হয় যাদের মা হলো ঘোটকী। কারণ মাই প্রজননের মূল উপাদান বা দৈহিক কাঠামো প্রদান করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن ذلك التماسيح، والتماسيح كثيرة في النيل وخاصة في الصعيد الأعلى وفي الجنادل فإنها تكون في الماء وبين صخور الجنادل كالدود كثرة، وتكون كبارا أو صغارا، وتنتهي في الكبر إلى نيف وعشرين ذراعا طولا، وتوجد في سطح جسده ممّا يلي بطنه سلعة كالبيضة تحتوي على رطوبة دموية وهي كنافجة المسك في الصورة والطيب، وخبّرني الثقة أنه يندر فيها ما يكون في غلو المسك لا ينقص عنه شيئا والتمساح يبيضُ بيضاً شبيها ببيض الدجاج، ورأيتُ في كتاب منسوبٍ إلى أرسطو ما هذه صورته، قال: التمساح كبده تهيج الجماع وكليتاه وشحمه في ذلك أبلغ، ولا يعمل في جلده الحديد ومن فقار رقبته إلى ذنبه عظم واحد، ولهذا إذاً انقلب على ظهره لم يقدر أن يرجع، قال: ويبيضُ بيضا طويلا كالإوَزّ ويدفنه في الرمل، فإذا أخرج كان كالحراذين في جسمها وخلقتها، ثم يعظُم حتى يكون عشر أذرع ويبيض ستين بيضة، لأنّ خلقته تجري على ستين سنّا وستين عِرقا وإذا سفد منى ستين مرة، وقد يعيش ستين سنة.
ومن ذلك الدلفين، ويوجد في النيل وخاصة قرب تنيس ودمياط.
ومن ذلك الاسقنقور ويكون بالصعيد وبأسوان كثيرا ويكون من نتاج التمساح في البر، وهو صنف من الورل بل هو ورَلٌ إلّا أنه قصير الذنب، والورل والتمساح والحرذون وإلاسقنقور وسميكة صيدا لها كلها شكل واحد، وإنما تختلف بالصغر
والكبر والتمساح أعظمها، وسميكة صيدا أصغرها تكون بقدر الإصبع وتصلح لما يصلح له الاسقنقور من تسخين الأعضاء والأنعاظ، وكأنّ التمساح ورلٌ بحريٌ، والورل تمساح بري والجميع يبيض بيضا، السقنقور يكون بشطوط النيل ومعيشته في البحر السمك الصغار وفي البر القطا ونحوه، ويسترطُ غذاءه استراطاً ويوجد لذكورته خصيان كخصي الديكة وفي مقدارهما ومواضعهما، وإناثه تبيض فوق العشرين بيضة، وتدفنها في الرمل فيكمل كونها بحرارة الشمس فعلى هذا إنما هو نوع برأسه، وقال ديوسقوريدس: أنه يكون بنواحي القلزم وبمواضع من بلاد الهند وبلاد الحبشة، ويفارق الورل بمأواه فإن الورل جبليٌّ والسقنقور بريٌّ مائيّ، لأنه يدخل في ماء النيل، ثم أن ظهر الورل خشن صلب وظهر السقنقور لين ناعم، ولون الورل أصفر أغبر ولون السقنقور مدبّج بصفرة وسواد، والمختار من الاسقنقور إنما هو الذكر دون الأنثى ويُصاد في الربيع، لأنه وقت هيجانه للسّفاد، فإذا
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুমির। নীল নদে প্রচুর কুমির পাওয়া যায়, বিশেষ করে ঊর্ধ্ব মিসর এবং জানাদিল (গিরিসঙ্কট) অঞ্চলে। সেখানে এরা পানির মধ্যে এবং গিরিসঙ্কটের পাথরগুলোর মাঝে পোকার মতো অসংখ্য পরিমাণে থাকে। এগুলো বড় বা ছোট উভয় আকারের হয় এবং বড় অবস্থায় এর দৈর্ঘ্য বিশ হাতের কিছু বেশি পর্যন্ত পৌঁছে। এর পেটের সংলগ্ন শরীরের উপরিভাগে ডিমের মতো একটি মাংসপিণ্ড থাকে যা রক্তিম আর্দ্রতাযুক্ত; এটি আকৃতি ও সুগন্ধিতে কস্তুরীর থলির মতো। আমাকে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি অবহিত করেছেন যে, কদাচিৎ এতে এমন বস্তুও পাওয়া যায় যা সুগন্ধিতে কস্তুরীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কুমির মুরগির ডিমের মতো ডিম পাড়ে। আমি এরিস্টটলের প্রতি সম্বন্ধিত একটি কিতাবে এর বর্ণনা এরূপ দেখেছি, তিনি বলেন: কুমিরের কলিজা কামোদ্দীপক এবং এর বৃক্ক ও চর্বি এক্ষেত্রে আরও বেশি প্রভাবশালী। এর চামড়ায় লোহা কাজ করে না এবং এর ঘাড়ের কশেরুকা থেকে লেজ পর্যন্ত একটি মাত্র হাড়; এই কারণে যখন এটি পিঠের ওপর উল্টে যায়, তখন আর সোজা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন: এটি রাজহাঁসের ডিমের মতো লম্বাটে ডিম পাড়ে এবং তা বালুর নিচে পুঁতে রাখে। যখন বাচ্চা বের হয়, তখন তা দেহ ও অবয়বে হিরাযিন (এক প্রকার গিরগিটি)-এর মতো থাকে। এরপর এটি বড় হয়ে দশ হাত পর্যন্ত হয় এবং ষাটটি ডিম পাড়ে; কারণ এর শারীরিক গঠন ষাটটি দাঁত ও ষাটটি শিরার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি ষাটবার সঙ্গম করে ও ষাট বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ডলফিন; যা নীল নদে বিশেষ করে তিন্নীস এবং দমিয়্যাতের সন্নিকটে পাওয়া যায়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইসকানকুর। এটি ঊর্ধ্ব মিসর এবং আসওয়ানে প্রচুর পাওয়া যায় এবং এটি স্থলে কুমিরের বংশোদ্ভূত মনে করা হয়। এটি এক প্রকারের গুইসাপ (ওয়ারাল), বরং এটি গুইসাপই, তবে এর লেজ ছোট। গুইসাপ, কুমির, হিরাযিন, ইসকানকুর এবং সাইদার ছোট মাছ—এগুলো সব একই অবয়বের। এগুলোর মধ্যে কেবল ছোট-বড় হওয়ার ব্যবধান রয়েছে।
কুমির এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সাইদার ছোট মাছটি সবচেয়ে ছোট যা একটি আঙুলের সমান হয়। ইসকানকুর যে কাজে অর্থাৎ অঙ্গ গরম করা এবং লিঙ্গোত্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়, এই ছোট মাছটিও সেই কাজে উপযোগী। মনে হয় যেন কুমির হলো একটি সামুদ্রিক গুইসাপ, আর গুইসাপ হলো একটি স্থলচর কুমির। এরা সবাই ডিম পাড়ে। ইসকানকুর নীল নদের তীরে থাকে; পানিতে এর খাদ্য হলো ছোট মাছ এবং স্থলে কাতা পাখি বা অনুরূপ কিছু। এটি এর খাদ্য সরাসরি গিলে ফেলে। পুরুষ ইসকানকুরের মোরগের অণ্ডকোষের মতো দুটি অণ্ডকোষ থাকে, যার আকার এবং অবস্থানও তদ্রূপ। এর স্ত্রী জাতীয় প্রাণী বিশটিরও বেশি ডিম পাড়ে এবং তা বালুর নিচে পুঁতে রাখে, যা সূর্যের তাপে পূর্ণতা লাভ করে। এই হিসেবে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। ডিওস্কোরাইডস বলেন: এটি কুলযুম অঞ্চল এবং ভারত ও আবিসিনিয়ার কিছু স্থানে পাওয়া যায়। আবাসের দিক থেকে এটি গুইসাপের চেয়ে ভিন্ন; কেননা গুইসাপ পাহাড়ি অঞ্চলে থাকে আর ইসকানকুর হলো স্থলচর-জলচর প্রাণী, কারণ এটি নীল নদের পানিতে প্রবেশ করে। তদুপরি গুইসাপের পিঠ খসখসে ও শক্ত, আর ইসকানকুরের পিঠ নরম ও মসৃণ। গুইসাপের রঙ ধূসর-হলুদ আর ইসকানকুরের রঙ হলুদ ও কালোর সংমিশ্রণে বিচিত্র। ইসকানকুরের মধ্যে স্ত্রীর চেয়ে পুরুষটিই উত্তম এবং এটি বসন্তকালে শিকার করা হয়, কারণ তখন এটি প্রজননের জন্য উত্তেজিত থাকে। সুতরাং যখন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২১)
أخذ ذُبح في مكانه وقطِّعت أطرافه ولا يستقصى قطع ذنبه، ويشق جوفه ويخرج حشوه إلّا كشيته وكلاه. ثم يحشى مِلحا ويُخاط ويعلّق في الظِّل حتى يجفّ، ويرفع ويُسقى من كلاه ومتنه وشحمه وسرته من مثقال إلى ثلاثة مثاقيل بماءِ العسل، أو بمطبوخ أو بصفرة بيض نيمرشت وحده أو مع بزر جرجير وخصى ديوك مجفف مدقوق، وقد يفعل ملحه ذلك إذا خلط بالأدوية البائية، وقد يركب مع غيره من الأدوية إلّا أن استعماله مفردا أقوى له.
ومن ذلك فريس البحر وهذه توجد بأسافل الأرض وخاصة ببحر دمياط، وهو حيوانٌ عظيمُ الصورة، هائل المنظر شديد البأس، يتبع المراكب فيغرقها ويهلك من ظفر به منها، وهو بالجاموس أشبه منه بالفرس لكنه ليس له قرن وفي صوته صهلة تشبه صهيل الفرس بل البغل، وهو عظيم الهيئة، هريت الأشداق، حديد الأنياب، عريض الكلكل، منتفخ الجوف، قصير الأرجل، شديد الوثب، قوي الدفع،
مهيب مخوف الغائلة، وخبرني من اصطادها مرات وشقها وكشف عن أعضائها الباطنة والظاهرة أنه خنزير كبير وأن أعضاءها الباطنة والظاهرة، لا تغادر من صورة الخنزير شيئا إلّا في عظم الخلقة، ورأيت في كتاب ينطواليس في الحيوان ما يعضد ذلك وهذه صورته، قال: خنزيرة الماء تكون في بحر مصر وهي تكون في عظم الفيل ورأسها يشبه رأس البغل ولها شبه خفِّ الجمل، قال: وشحم متنها إذا أُذيب ولتّ بسويق وشربته امرأة أسمَنَها حتى تحوز المقدار، وكانت واحدة ببحر دمياط قد ضربت على المراكب تغرقها وصار المسافر في تلك الجهة مُغرّرا، وضربت أخرى بجهة أخرى على الجواميس والبقر وبني آدم تقتلهم وتفسد الحرث والنسل وأعمل الناس في قتلها كل حيلة من نصب الحبائل الوثيقة وحشد الرجال بأصناف السلاح وغير ذلك فلم يجد شيئا، فاستدعى بنفر من المريس - صنف من السودان - زعموا أنهم يحسنون صيدها وأنها كثيرة عندهم ومعهم مزاريق فتوجهوا نحوها فقتلوها في أقرب وقت وبأهون سعي، وأتوا بها إلى القاهرة فشاهدتها فوجدت جلدها أسود أجرد ثخيناً وطولها من رأسها إلى ذنبها عشرة خطوات معتدلات، وهي في غِلظ الجاموس نحو ثلاث مرات، وكذلك رقبتها ورأسها وفي مقدّم فمها اثنا عشر ناباً ستة من فوق وستة من أسفل، المتطرفة منها نصف ذراع زائد والمتوسط أنقص بقليل، وبعد الأنياب أربعة صفوف من الأسنان على خطوط مستقيمة في طول
একে ধরা হয় এবং নিজ স্থানেই জবেহ করা হয়। এরপর তার চার হাত-পা কেটে ফেলা হয়, তবে লেজ কাটা যেন চূড়ান্ত না হয়। তার উদর চিরে ফেলা হয় এবং অণ্ডকোষ ও বৃক্ক ব্যতীত ভেতরের সবকিছু বের করে ফেলা হয়। এরপর লবণে পূর্ণ করে সেলাই করা হয় এবং শুকানো পর্যন্ত ছায়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর তা তুলে রাখা হয় এবং তার বৃক্ক, পিঠের মাংস, চর্বি ও নাভি থেকে এক থেকে তিন মেসকাল পরিমাণ মধুর পানির সাথে পান করানো হয়; অথবা কোনো ক্বাথ বা অর্ধসিদ্ধ ডিমের কুসুমের সাথে একা অথবা রকেট বীজের চূর্ণ ও মোরগের শুকনো পিষ্ট অণ্ডকোষের সাথে পান করানো হয়। কামোদ্দীপক ঔষধের সাথে মিশ্রিত করলে এর লবণেরও একই প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি অন্যান্য ঔষধের সাথেও মিশ্রিত করা যেতে পারে, তবে এককভাবে এর ব্যবহার অধিক শক্তিশালী।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'ফারিছুল বাহর' (জলহস্তী সদৃশ প্রাণী), এটি পৃথিবীর নিম্নভূমিতে বিশেষ করে দমিয়্যাতের সমুদ্রে পাওয়া যায়। এটি বিশাল আকৃতির একটি প্রাণী, দেখতে অত্যন্ত ভয়ংকর ও অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি নৌকা বা জলযানের পিছু নেয় এবং সেগুলোকে ডুবিয়ে দেয় এবং যাকে বাগে পায় তাকে ধ্বংস করে। এটি ঘোড়ার চেয়ে মহিষের সাথেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এর কোনো শিং নেই। এর ডাক ঘোড়ার চিঁহি ডাকের মতো, বরং খচ্চরের ডাকের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর অবয়ব অত্যন্ত বিশাল, গালের দিকটা চওড়া ও দ্বিধাবিভক্ত, দাঁতগুলো ধারালো, বুক প্রশস্ত, পেট ফোলা এবং পাগুলো ছোট। এটি সজোরে লাফ দিতে পারে এবং এর ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল।
এটি অত্যন্ত আতঙ্ক উদ্রেককারী এবং এর উপদ্রব অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যারা একে একাধিকবার শিকার করেছেন এবং চিরে এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা আমাকে জানিয়েছেন যে এটি মূলত একটি বড় শূকর। এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গসমূহ বিশালাকৃতির হওয়া ছাড়া শূকরের আকৃতি থেকে বিন্দুমাত্র ভিন্ন নয়। আমি ইয়ানাতওয়ালিস-এর প্রাণিবিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থে এর সমর্থনে কিছু বর্ণনা পেয়েছি, যার বিবরণ নিম্নরূপ: তিনি বলেছেন, জলজ শূকর মিশরের সমুদ্রে থাকে এবং এটি হাতির মতো বিশাল হয়। এর মাথা খচ্চরের মাথার মতো এবং এর উটের খুরের মতো সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর পিঠের চর্বি গলিয়ে ছাতুর সাথে মিশিয়ে কোনো নারী পান করলে সে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় স্থূল হয়। দমিয়্যাতের সমুদ্রে এমন একটি প্রাণী ছিল যা জলযানে আঘাত করে সেগুলো ডুবিয়ে দিত, ফলে ঐ অঞ্চলের যাত্রীরা প্রাণ সংশয়ে থাকত। অন্য অঞ্চলে আরেকটি প্রাণী মহিষ, গরু এবং মানুষের ওপর হামলা করত, তাদের হত্যা করত এবং শস্য ও গবাদি পশুর বংশ নষ্ট করত। মানুষ একে মারার জন্য সুদৃঢ় জাল পাতা এবং বিবিধ অস্ত্রধারী লোক জড়ো করা সহ সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিল, কিন্তু কিছুই কাজে আসেনি। এরপর 'মারীস' (সুদানের একটি জাতি) গোত্রের একদল লোককে ডাকা হলো, যারা দাবি করত যে তারা একে শিকারে পারদর্শী এবং তাদের অঞ্চলে এটি প্রচুর পাওয়া যায়। তাদের কাছে ছোট বল্লম ছিল। তারা সেটির দিকে অগ্রসর হলো এবং খুব দ্রুত ও সামান্য প্রচেষ্টায় একে হত্যা করল। তারা এটিকে কায়রোতে নিয়ে এলে আমি তা প্রত্যক্ষ করি। আমি এর চামড়া কালো, লোমহীন ও পুরু দেখতে পাই। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ছিল দশটি স্বাভাবিক কদম। এটি স্থূলতায় মহিষের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড় ছিল। অনুরূপভাবে এর ঘাড় ও মাথাও ছিল বিশাল। এর মুখের সম্মুখভাগে বারোটি বড় দাঁত ছিল, যার ছয়টি ওপরে এবং ছয়টি নিচে। প্রান্তের দাঁতগুলো আধা হাতের চেয়েও বেশি লম্বা ছিল এবং মাঝখানেরগুলো কিছুটা ছোট। সেই বড় দাঁতগুলোর পর দৈর্ঘ্যে সরলরেখায় চার সারিতে দাঁতগুলো বিন্যস্ত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفم في كل صف عشرة كأمثال بيض الدجاج المصطفّ، صفان في الأعلى وصفان في الأسفل على مقابلتهما، وإذا فغر فوها وسع شاةً كبيرة وذنبها في طول نصف ذراع زائد أصله غليظ وطرفه كالإصبع، أجرد كأنه عظم شبيه بذنب الورل وأرجلها قصار طولها نحو ذراع وثلث ولها شبهٌ بخف البعير، إلّا أنه مشقوق الأطراف بأربعة أقسام وأرجلها في غاية الغلظ وجملةُ جثّتها كأنّها مركب مكبوب لعظم منظرها،
وبالجملة، هي أطول وأغلظ من الفيل، إلّا أن أرجلها أقصر من أرجل الفيل بكثير ولكن في غلظها أو أغلظ منها،
ومن ذلك السمكة المعروفة بالرعاد، لأنه من أمسكها وهي حية ارتعد رعدة لا يمكنه معها أن يتماسك، وهي رعدة بقوة وخدر شديد وتنمِّل في الأعضاء وثقل بحيث لا يقدر أن يملك نفسه ولا أن يمسك بيده شيئا أصلاً ويتراقى الخدر إلى عضده وكتفه وإلى جنبه بأسره حينما يلمسها أيسرَ لمس في أسرع وقت، وخبّرني صيادها أنها إذا وقعت في الشبكة، اعترى الصياد ذلك إذا بقي بينها وبينه مقدار شبر أو أكثر من غير أن يضع يده عليها وهي إذا ماتت بطلت هذه الخاصة منها، وهي من السمك الذي لا تفليس له ولحمه قليل الشوك كثير الدسم، ولها جلد ثخين في ثخن الإصبع، ينسلخ منها بسهولة ولا يمكن أكله، ويوجد فيها الصغير والكبير ما بين رطل إلى عشرين رطلا وذكر من يكثر السباحة بنواحيها أنها إذا مست بدن السابح خدر الموضع أين كان ساعة بحيث يكاد يسقط، وتكثر بأسافل الأرض وبالإسكندرية.
وأما أصناف السمك عندهم فكثيرة، لأنه يجتمع إليهم سمك النيل وسمك البحر الملح ولا يفي القول بنعتها لكثرة أصنافها واختلاف أشكالها وألوانها، ومنها الصنف المسمّى عندهم ثعبان الماء وهي سمكة الحية سواء، طولها ما بين ذراع إلى ثلاث أذرع.
ومنها السرب، وهي سمكة تُصاد من بحر الإسكندرية يحدث لأكلها أحلام ردية مفزعة، ولا سيما الغريب ومن لم يعتدها، والأحدوثات المضحكة فيها مشهورة،
ومن ذلك الترسة - وتسمى لجاة - وهي سلحفاة عظيمة وزنها نحو أربعة قناطير، إلّا أن جفنتها - أعني عظم ظهرها - كالترس له أفاريز خارجة عن جسمها نحو شبر، ورأيتها بالإسكندرية يُقطع لحمها ويباع كلحم البقر.
وفي لحمها ألوان مختلفة ما بين أخضر وأحمر وأصفر وأسود وغير ذلك من الألوان، وتخرج من جوفها نحو أربعمائة بيضة كبيض الدجاج سواء،
মুখের প্রতি সারিতে সাজানো মুরগির ডিমের মতো দশটি করে দাঁত রয়েছে; উপরে দুই সারি এবং নিচে সেগুলোর বিপরীতে দুই সারি। যখন এটি মুখ হাঁ করে, তখন তাতে একটি বড় ছাগল অনায়াসে ধরে যায়। এর লেজটি দৈর্ঘ্যে আধা হাতের চেয়ে কিছুটা বেশি, যার গোড়া মোটা এবং প্রান্তভাগ আঙুলের মতো। এটি লোমহীন মসৃণ, মনে হয় যেন একটি হাড়, যা 'ওয়ারাল' (এক প্রকার গুইসাপ)-এর লেজের সদৃশ। এর পাগুলো খাটো, দৈর্ঘ্যে প্রায় এক হাত ও এক-তৃতীয়াংশ। এগুলোর উটের খুরের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, তবে তা চার ভাগে বিভক্ত। এর পাগুলো অত্যন্ত স্থূল এবং এর সামগ্রিক দেহটি তার বিশাল আকৃতির কারণে যেন একটি উল্টে রাখা নৌযান।
মোটের ওপর, এটি হাতির চেয়ে দীর্ঘ ও স্থূল; তবে এর পাগুলো হাতির পায়ের চেয়ে অনেক বেশি খাটো, কিন্তু স্থূলতায় হাতির পায়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি স্থূল।
আর সেগুলোর মধ্যে 'রা'আদ' (কম্পনকারী) নামে পরিচিত মাছটি অন্যতম। কারণ কেউ এটি জীবিতাবস্থায় ধরলে সে এমনভাবে কম্পিত হতে থাকে যে তার পক্ষে স্থির থাকা সম্ভব হয় না। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পন, তীব্র অসাড়তা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ঝিনঝিনানি ও ভারী ভাব সৃষ্টি করে, যার ফলে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং হাতে কোনো কিছুই ধরতে পারে না। সামান্য স্পর্শ করা মাত্রই অতি দ্রুত এই অসাড়তা তার বাহু, কাঁধ এবং পুরো পার্শ্বদেশে ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিকারি আমাকে জানিয়েছেন যে, মাছটি জালে পড়লে শিকারি এবং মাছের মাঝে এক বিঘত বা তার বেশি ব্যবধান থাকলেও শিকারি সেই কম্পন অনুভব করেন, যদিও তিনি সরাসরি হাত দিয়ে মাছটি স্পর্শ করেননি। তবে এটি মারা গেলে তার এই বিশেষ গুণটি লোপ পায়। এটি এমন মাছ যার কোনো আঁশ নেই। এর মাংসে কাঁটা কম কিন্তু চর্বি অনেক বেশি। এর চামড়া আঙুলের মতো পুরু, যা শরীর থেকে সহজেই ছাড়িয়ে নেওয়া যায়, তবে তা খাওয়া যায় না। এই মাছ ছোট ও বড় উভয় ধরনের পাওয়া যায়, যার ওজন এক রতল থেকে বিশ রতল পর্যন্ত হয়ে থাকে। ওই অঞ্চলে যারা নিয়মিত সাঁতার কাটে তারা উল্লেখ করেছে যে, এটি যদি সাঁতারুর শরীরে স্পর্শ করে, তবে সেই স্থানটি সাময়িকভাবে এমন অবশ হয়ে যায় যে সে প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। এটি ভাটি অঞ্চল ও আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
তাদের অঞ্চলে মাছের প্রজাতি অনেক, কারণ সেখানে নীল নদের মাছ এবং লোনা পানির সমুদ্রের মাছের সমাবেশ ঘটে। মাছগুলোর প্রকারভেদ এবং রূপ ও বর্ণের বৈচিত্র্যের কারণে সবিস্তারে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তাদের মাঝে এক প্রকারের মাছকে 'থুবান আল-মা' (জলসাপ) বলা হয়, যা দেখতে হুবহু সাপের মতো; এর দৈর্ঘ্য এক হাত থেকে তিন হাত পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সারাব', যা আলেকজান্দ্রিয়ার সমুদ্র থেকে ধরা হয়। এটি খাওয়ার ফলে ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক স্বপ্ন সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে আগন্তুক এবং যারা এটি খেতে অভ্যস্ত নয় তাদের ক্ষেত্রে। এ সংক্রান্ত হাসির গল্পগুলো বেশ প্রসিদ্ধ।
আর সেগুলোর মধ্যে রয়েছে 'তুরসাহ'—যাকে 'লাজাহ্'ও বলা হয়—এটি একটি বিশাল কচ্ছপ, যার ওজন প্রায় চার কানতার (কুইন্টাল)। তবে এর পিঠের আবরণ—অর্থাৎ পিঠের হাড়টি—একটি ঢালের মতো, যার শরীর থেকে বাইরের দিকে প্রায় এক বিঘত পরিমাণ বর্ধিত কিনারা রয়েছে। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় এর মাংস কেটে গরুর মাংসের মতো বিক্রি হতে দেখেছি।
এর মাংসে সবুজ, লাল, হলুদ ও কালোসহ বিভিন্ন বর্ণের বৈচিত্র্য রয়েছে। এর উদর থেকে মুরগির ডিমের মতো হুবহু প্রায় চারশ ডিম নির্গত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إلّا أنه لين القشر، واتخذت من بيضها عجة فلما جمد، صار الوأنا ما بين أخضر وأحمر وأصفر شبيها بالوان اللحم، ومن ذلك السرلينس، وهو صدف مستدير إلى الطول أكبر من الظفر ينشق عن رطوبة مخاطية بيضاء ذات نكتة سوداء يعافها الناظر وفيه ملوحة عذبة زعموا ويباع بالكيل.
الفصل الرابع فياختصاص ما شوهد من آثارها القديمةأما ما يوجد بمصر من الآثار القديمة فشيء لم أر ولم أسمع بمثله في مثلها فأقتصر على أعجب ما شاهدته.
فمن ذلك الأهرام، وقد أكثر الناس من ذِكرها ووصفها ومساحتها، وهي كثيرة العدد جدّا وكلّها بين الجيزة وعلى سمت مصر القديمة وتمتد في نحو مسافة يومين، وفي بوصير منها شيء كثير وبعضها كبار وبعضها صغار وبعضها طين ولبن وأكثرها حجر وبعضها مدرّج وأكثرها مخروط أملس، قد كان منها بالجيزة عدد كثير لكنها صغار فهدمت في زمن صلاح الدين، يوسف بن أيوب، على يدي قراقوش وكان خصيّا روميا سامي الهمة فكان يتولّى عمائر مصر، وهو الذي بنى السور من الحجارة محيطا بالفسطاط والقاهرة وما بينهما وبالقلعة التي على المقطّم، وهو أيضا الذي بنى القلعة وأنبط فيها البيرين الموجودتين اليوم، وهما أيضا من العجائب وينزل إليهما بدرج نحو ثلثمائة درجة، وأخذ حجارة هذه الأهرام الصغار وبنى بها القناطر الموجودة اليوم بالجيزة، وهذه القناطر من الأبنية العجيبة أيضا ومن أعمال الجبارين وتكون نيفا وأربعين قنطرة، وفي هذه السنة
وهي سنة سبع وتسعين وخمسمائة تولى أمرها من لا بصيرة عنده فسدها رجاء أن يحتبس الماء فيروي الجيزة، فقويت عليها جرية الماء فزلزلت منها ثلاث قناطر وانشقت، ومع ذلك فلم يرو ما رجا أن يروي، وقد بقي من هذه الأهرام المهدومة قلبها وحشوتها وهي ردم وحجارة صغار لا تصلح للقناطر، فلأجل ذلك تركت.
وأما الأهرام المتحدث عنها المشار إليها الموصوفة بالعظم، فثلاثة أهرام موضوعة على خط مستقيم بالجيزة قبالة الفسطاط، وبينها مسافات يسيرة زواياها متقابلة نحو الشرق واثنان منها عظيمان جدا وفي قدر واحد وبهما أولع الشعراء وشبهوهما بنهدين
তবে এর খোসা নরম ছিল, এবং এর ডিম থেকে একটি ওমলেট তৈরি করা হয়েছিল, যা জমাট বাঁধার পর মাংসের রঙের মতো সবুজ, লাল এবং হলুদের সংমিশ্রণে বিভিন্ন রঙ ধারণ করেছিল। এর মধ্যে একটি হলো 'সারলিনস', যা নখের চেয়ে বড় একটি লম্বাটে গোলাকার খোলস; এটি বিদীর্ণ হলে সাদা শ্লেষ্মাজাতীয় আর্দ্রতা বের হয় যাতে কালো দাগ থাকে, যা দর্শকের মনে বিতৃষ্ণা জাগায়। তারা দাবি করে যে এতে একটি সুস্বাদু নোনতা ভাব আছে এবং এটি ওজন অনুসারে বিক্রি হয়।
চতুর্থ অধ্যায়দৃষ্ট প্রাচীন নিদর্শনসমূহের বিশেষত্বের বর্ণনা প্রসঙ্গেমিসরে যেসব প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়, সেগুলোর মতো কোনো কিছু আমি অন্য কোথাও দেখিনি বা শুনিনি। তাই আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলো বর্ণনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পিরামিডসমূহ। মানুষ এগুলোর উল্লেখ, বর্ণনা এবং পরিমাপ সম্পর্কে অনেক কথা বলেছে। এগুলোর সংখ্যা অনেক বেশি এবং সবগুলোই গিজা ও প্রাচীন মিসরের অভিমুখে অবস্থিত এবং প্রায় দুই দিনের দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। বুসিরেও এর অনেকগুলো রয়েছে; কিছু বড়, কিছু ছোট, কিছু কাদা ও কাঁচা ইটের তৈরি, তবে অধিকাংশ পাথরের। কিছু ধাপবিশিষ্ট, কিন্তু অধিকাংশ মসৃণ মোচাকৃতি। গিজায় এর অনেকগুলো ছিল কিন্তু সেগুলো ছিল ছোট আকারের, যা সালাহউদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের যুগে কারাকুশের হাতে ধ্বংস করা হয়েছিল। কারাকুশ ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী রোমান খাজা, যিনি মিসরের নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন। তিনিই ফুসতাত, কায়রো, তাদের মধ্যবর্তী এলাকা এবং মুকাত্তাম পাহাড়ের ওপর অবস্থিত দুর্গকে বেষ্টন করে পাথরের প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই সেই দুর্গ নির্মাণ করেন এবং সেখানে বর্তমানে বিদ্যমান দুটি কূপ খনন করেন। এ কূপ দুটিও বিস্ময়কর এবং এগুলোতে নামার জন্য প্রায় তিনশ ধাপবিশিষ্ট সিঁড়ি রয়েছে। তিনি এই ছোট পিরামিডগুলোর পাথর ব্যবহার করে গিজায় বর্তমানে বিদ্যমান সেতুগুলো নির্মাণ করেন। এই সেতুগুলোও বিস্ময়কর স্থাপত্য এবং শক্তিশালী নির্মাণশৈলীর নিদর্শন, যা সংখ্যায় চল্লিশটিরও বেশি। এই বছরেই—
যা হলো ৫৯৭ হিজরি—এমন এক ব্যক্তি এগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন যার কোনো দূরদর্শিতা ছিল না। তিনি পানি আটকে রাখার আশায় এগুলো বন্ধ করে দেন যাতে গিজায় সেচ কাজ করা যায়। ফলে পানির প্রবাহ প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং তিনটি সেতু কেঁপে ওঠে ও ফেটে যায়। তা সত্ত্বেও, তিনি যা আশা করেছিলেন তা সফল হয়নি। এই ধ্বংসকৃত পিরামিডগুলোর অভ্যন্তরীণ অংশ ও আবর্জনা অবশিষ্ট রয়েছে, যা ধ্বংসাবশেষ এবং ছোট পাথরের স্তূপ মাত্র, যা সেতু নির্মাণের উপযোগী নয়। এ কারণেই সেগুলো ফেলে রাখা হয়েছে।
আর যেসব পিরামিড নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং যেগুলোকে অত্যন্ত বিশাল হিসেবে বর্ণনা করা হয়, সেগুলো হলো ফুসতাতের বিপরীতে গিজায় একটি সরলরেখায় অবস্থিত তিনটি পিরামিড। এগুলোর মধ্যে সামান্য দূরত্ব রয়েছে এবং এগুলোর কোণগুলো পূর্বমুখী। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত বিশাল এবং একই আকারের। কবিরা এগুলোর প্রতি অতিশয় আসক্ত হয়েছেন এবং এগুলোকে দুটি স্তনের সাথে তুলনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قد نهدا في صدر الديار المصرية وهما متقاربان جدا ومبنيان بالحجارة البيض، وأما الثالث فينقص عنهما بنحو الربع لكنه مبني بحجارة الصوان الأحمر المنقط الشديد الصلابة ولا يؤثر فيه الحديد إلّا في الزمن الطويل وتجده صغيرا بالقياس إلى ذينيك، فإذا قربت منه وأفردته بالنظر هالك مرآه وحَسرَ الطرف عند تأمُّله، وقد سُلك في بناية الأهرام طريق عجيب من الشكل والإتقان، ولذلك صبرت على مر الزمان بل على مرِّها صبر الزمان، فأنك إذا تبحّرتها وجدت إلاذهان الشريفة قد استهلكت فيها والعقول الصافية قد أفرَغت عليها مجهودها، والأنفس النيِّرة قد أفاضت عليها أشرف ما عندها والملَكات الهندسية قد أخرجتها إلى الفعل مثلا هي غاية إمكانها، حتى أنها تكاد تحدث عن قومها وتُخبر بحالهم وتنطق عن علومِهم وأذهانهم، وتترجم عن سيرهم وأخبارهم، وذلك أنَّ وضعها على شكل مخروط يبتدىء من قاعدة مربعة وينتهي إلى نقطة، ومن خواص الشكل المخروط أن مركز ثقله في وسطه وهو يتساند على نفسه ويتواقع على ذاته ويتحامل بعضه على بعض فليس له جهة أخرى خارجة عنه يتساقط عليها، ومن عجيب وضعه أنه شكل مربع قد قوبل بزواياه مهاب الرياح
الأربع، فإنَّ الريح تنكسر سَورتها عند مصادمتها الزاوية وليست كذلك عندما تلقى السطح، ولنرجع إلى ذكر الهرمين العظيمين فإنّ المُسّاح ذكروا أنَّ قاعدة كلذٍ منهما أربعمائة ذراع طولا في مثلها عرضا، وارتفاع عمودها أربعمائة ذراع وذلك كله بالذراع السوداء وينقطع المخروط في أعلاه عند سطح مساحته عشر أذرع في مثلها، وأما الذي شاهدته من حالهما فإنَّ رامياً كان معنا رمى سهما في قطر أحدهما وفي سمكه فسقط السهم دون نصف المسافة، وخبّرنا أن في القرية المجاورة لها قوماً قد اعتادوا ارتقاء الهرم بلا كلفة، فاستدعينا رجلا منهم ورضخنا له بشيء فجعل يصعد فيها كما يرقى أحدنا في الدرج بل أسرع، ورقى بنعليه وأتوا به، وكانت سابقة كنت أمرته أنه إذا استوى على سطحه قاسه بعمامته، فلما نزل ذرعنا من عمامته مقدار ما كان قاس فكان إحدى عشرة ذراعا بذراع اليد، ورأيت بعض أرباب القياس قال: ارتفاع عمودها ثلثمائة ذراع ونحو سبع عشرة ذراعا يحيط به أربعة سطوح مثلثات الأضلاع، طول كل ضلعٍ منها أربعمائة ذراع
মিশর ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে দুটি পিরামিড মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি এবং সাদা পাথর দিয়ে নির্মিত। আর তৃতীয়টি তাদের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছোট, তবে এটি লাল ফুটকিযুক্ত অত্যন্ত শক্ত গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মিত। লোহা দীর্ঘ সময় ব্যতীত এতে কোনো প্রভাব ফেলে না। অন্য দুটির তুলনায় একে ছোট মনে হলেও যখন আপনি এর কাছে যাবেন এবং একনিষ্ঠভাবে একে পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন এর দৃশ্য আপনাকে হতবাক করে দেবে এবং গভীর ধ্যানে এর দিকে তাকালে দৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। পিরামিড নির্মাণের ক্ষেত্রে আকৃতি ও নিপুণতার এক বিস্ময়কর পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এই কারণেই তা যুগের পর যুগ টিকে আছে, বরং কালের আবর্তনে কাল নিজেই যেন এর অটলতার সামনে হার মেনেছে। কেননা আপনি যদি একে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে দেখতে পাবেন যে মহান মেধাগুলো এতে নিবেদিত হয়েছে এবং প্রখর বুদ্ধিগুলো তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এতে নিঃশেষ করেছে। আলোকিত আত্মাগুলো তাদের শ্রেষ্ঠ নির্যাস এতে ঢেলে দিয়েছে এবং প্রকৌশলগত দক্ষতাগুলো একে সম্ভাব্য চূড়ান্ত রূপ দান করেছে। এমনকি মনে হয় এগুলো যেন তাদের জাতির কথা বলছে, তাদের অবস্থা বর্ণনা করছে, তাদের জ্ঞান ও মেধার জানান দিচ্ছে এবং তাদের জীবনচরিত ও ইতিহাস অনুবাদ করছে। আর এর কারণ হলো, এর গঠন মোচাকৃতি যা একটি বর্গাকার ভিত্তি থেকে শুরু হয়ে একটি বিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়েছে। মোচাকৃতির একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে এর ভারকেন্দ্র এর মধ্যস্থলে থাকে এবং এটি নিজের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে, এর একাংশ অন্য অংশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তাই এর বাইরে এমন কোনো দিক নেই যেদিকে এটি ধসে পড়তে পারে। এর স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর দিক হলো, এটি একটি বর্গাকার রূপ যা চার দিকের বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে কোণ করে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বাতাসের তীব্রতা যখন এই কোণগুলোতে আঘাত হানে তখন তা ভেঙে যায়, কিন্তু সমতলে আঘাত হানলে এমনটি হতো না।
এবার আমরা সেই মহান পিরামিড দুটির বর্ণনায় ফিরে আসি। জরিপকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, এ দুটির প্রত্যেকের ভিত্তির দৈর্ঘ্য চারশ হাত এবং প্রস্থও তদ্রূপ। আর এর স্তম্ভের উচ্চতা চারশ হাত। এই সব পরিমাপই 'কালো হাত' (যিরাউল আসওয়াদ) হিসেবে গণ্য। আর মোচাকৃতিটি এর শীর্ষে গিয়ে দশ বাই দশ হাত ক্ষেত্রফলের একটি সমতলে সমাপ্ত হয়েছে। আমি তাদের যে অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি তা হলো, আমাদের সাথে থাকা একজন তীরন্দাজ তাদের একটির ব্যাস ও উচ্চতা লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিল, কিন্তু তীরটি অর্ধেকেরও কম দূরত্বে গিয়ে পতিত হলো। আমাদের জানানো হলো যে নিকটস্থ গ্রামে এমন কিছু লোক আছে যারা কোনো কষ্ট ছাড়াই পিরামিডে আরোহণ করতে অভ্যস্ত। আমরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে ডাকলাম এবং তাকে কিছু পারিশ্রমিক দিলাম। তখন সে এতে চড়তে শুরু করল যেমনটি আমরা সিঁড়ি বেয়ে উঠি, বরং তার চেয়েও দ্রুত গতিতে। সে তার জুতো পরেই উপরে উঠল। আমি তাকে আগেই বলে দিয়েছিলাম যে, যখন সে এর চূড়ায় উঠবে, তখন যেন তার পাগড়ি দিয়ে সেটি মেপে নেয়। যখন সে নিচে নেমে এল, আমরা তার পাগড়ির সেই মাপা অংশটুকু পরিমাপ করলাম, যা মানুষের হাতের মাপে এগারো হাত হলো। আমি কোনো কোনো পরিমাপ বিশেষজ্ঞকে বলতে দেখেছি যে, এর স্তম্ভের উচ্চতা তিনশ সতেরো হাতের মতো। একে ঘিরে রয়েছে চারটি ত্রিভুজাকার সমতল, যার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য চারশ হাত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وستون ذراعا. وأرى هذا القياس خطأ، ولو جعل العمود أربعمائة ذراع، لصح قياسه، وإن ساعدت المقادير تولَّيت قياسه بنفسي، وفي أحد هذين الهرمين مدخلٌ يلِجه الناس يُفضي بهم إلى مسالك ضيقة، وأسراب متنافذة، وآبارٍ ومهالك وغير ذلك مما يحكيه من يلجه ويتوغله، فإنّ ناسا كثيرين لهم غرام به وتخيل فيه، فيوغلون في أعماقه ولا بد أن ينتهوا إلى ما يعجزون عن سلوكه، وأما المسلوك فيه المطروق كثيرا فزلاقه تُفضي إلى أعلاه، فيوجد فيه بيتٌ مربّعٌ فيه ناووس من حجر، وهذا المدخل ليس هو المتخذ له في أصل البناء وإنما هو منقوب نقبا صُودف اتفاقا، وذُكر أنَّ المأمون هو الذي فتحه، وجلّ من كان معنا ولجوا فيه وصعدوا إلى البيت الذي في أعلاه فلما نزلوا، حدثوا بعظيم ما شاهدوا وأنّه مملوءٌ بالخفافيش وأبوالها حتى يكاد يمنع السالك ويعظم فيها الخفاش حتى
يكون في قدر الحمام وفيه طبقات، وروازنه نحو أعلاه وكأنها جعلت مسالك للريح ومنافذ للضوء، وولجته مرة أخرى مع جماعة وبلغت نحو ثلثي المسافة فأغمى علي من هول المطلع فرجعت برمق.
وهذه الأهرام مبنية بحجارة جافية يكون طول الحجر منها ما بين عشر أذرع إلى عشرين ذراعا وسمكه ما بين ذراعين إلى ثلاث وعرضه نحو ذلك، والعجيب في وضع الحجر بهندام ليس في الإمكان أصح منه بحيث لا تجد بينهما مدخل إبرة ولا خلّل شعرة، وبينهما طين كأنه الورقة لا أدري ما صفته ولا ما هو، وعلى تلك الحجارات كتابات بالقلم القديم المجهول الذي لم أجد بديار مصر، من يزعم أنه سمع بمن يعرفه، وهذه الكتابات كثيرة جداً حتى لو نقل ما على الهرمين فقط إلى صحف، لكانت زهاء عشرة آلاف صحيفة، وقرأت في بعض كتب الصابئة القديمة أن أحد هذين الهرمين هو قبر عاذيمون، والآخر قبر هرميس ويزعمون أنهما نبيان عظيمان، وأن (عاذيمون) أقدم وأعظم.
وأنه كان يحج إليهما ويهوى نحوهما من أقطار الأرض، وقد وسعنا القول في المنقول من الكتاب الكبير فمن أراه التوسعة فعليه، فإنّ هذا الكتاب مقصور على المشاهد.
وكأن الملك العزيز عثمان بن يوسف لما استقل بعد أبيه، سوّل له جهلة أصحابه أن يهدم هذه الأهرام فبدأ بالصغير الأحمر وهو ثالثة الأثافي.
এবং ষাট হাত। আমি এই পরিমাপটি ভুল মনে করি; যদি স্তম্ভটিকে চারশ হাত ধরা হতো, তবে তার পরিমাপ সঠিক হতো। যদি পরিস্থিতি অনুকূল হতো তবে আমি নিজেই এর পরিমাপের দায়িত্ব গ্রহণ করতাম। এই পিরামিড দুটির একটিতে এমন একটি প্রবেশপথ রয়েছে যেখান দিয়ে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করে, যা তাদের অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ, পরস্পর সংযুক্ত সুড়ঙ্গ, গভীর কূপ, ধ্বংসাত্মক স্থান এবং এমন সব বিষয়ের দিকে নিয়ে যায় যা সেখানে প্রবেশকারী ও এর গভীরে বিচরণকারীরা বর্ণনা করে থাকে। কেননা অনেক মানুষেরই এর প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও কাল্পনিক ধারণা রয়েছে, ফলে তারা এর গহীনে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যা অতিক্রম করতে তারা অক্ষম হয়ে পড়ে। তবে সাধারণ যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত পথটির ঢালু অংশগুলো উপরের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে একটি বর্গাকার কক্ষ পাওয়া যায় এবং তাতে পাথরের তৈরি একটি শবাধার রয়েছে। এই প্রবেশপথটি নির্মাণের মূল নকশায় ছিল না, বরং এটি গর্ত খুঁড়ে দৈবক্রমে তৈরি করা হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, আল-মামুনই এটি উন্মুক্ত করেছিলেন। আমাদের সাথে থাকা অধিকাংশ মানুষই এতে প্রবেশ করেন এবং উপরের সেই কক্ষে আরোহণ করেন। যখন তারা নিচে নেমে আসলেন, তখন তারা যা প্রত্যক্ষ করেছেন তার ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করলেন। সেটি বাদুড় এবং তাদের মলমূত্রে এমনভাবে পূর্ণ ছিল যে পথচারীদের চলাচলে প্রায় বাধা সৃষ্টি করে। সেখানকার বাদুড়গুলো কবুতরের মতো বড় আকারের হয়। সেখানে বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং উপরের দিকে কিছু ছিদ্রপথ রয়েছে, যা সম্ভবত বাতাস ও আলো চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। আমি আরেকবার একটি দলের সাথে সেখানে প্রবেশ করেছিলাম এবং পথের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম, কিন্তু সেই স্থানের ভয়াবহতায় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি এবং অতি কষ্টে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসি।
এই পিরামিডগুলো বিশাল আকৃতির পাথর দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি পাথরের দৈর্ঘ্য দশ থেকে বিশ হাতের মধ্যে, এর পুরুত্ব দুই থেকে তিন হাত এবং প্রস্থও অনুরূপ। বিস্ময়কর বিষয় হলো পাথরগুলোর এমন নিখুঁত বিন্যাস যে, এর চেয়ে সূক্ষ্ম হওয়া সম্ভব নয়; এমনকি দুটির মাঝে একটি সুঁই বা চুলের অগ্রভাগ প্রবেশের মতোও কোনো ফাঁক নেই। এগুলোর মাঝখানে কাগজের মতো পাতলা এক প্রকার প্রলেপ রয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য বা পরিচয় সম্পর্কে আমি অবগত নই। ঐ পাথরগুলোর ওপর প্রাচীন ও অজ্ঞাত লিপিতে অনেক খোদাই করা লেখা আছে। আমি সমগ্র মিশর ভূখণ্ডে এমন কাউকে পাইনি যে দাবি করতে পারে সে এই লিপি বোঝে এমন কারো কথা শুনেছে। এই লিপিগুলো সংখ্যায় এতই অধিক যে, যদি কেবল এই দুটি পিরামিডের উপরের লেখাগুলো কাগজে নকল করা হতো, তবে তা প্রায় দশ হাজার পৃষ্ঠায় দাঁড়াত। আমি সাবেয়ীদের কিছু প্রাচীন গ্রন্থে পড়েছি যে, এই পিরামিড দুটির একটি হলো আযিমন-এর সমাধি এবং অন্যটি হারামিস-এর সমাধি। তারা মনে করে যে, তারা উভয়ই মহান নবী ছিলেন এবং আযিমন ছিলেন অধিকতর প্রাচীন ও মহান।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে তীর্থযাত্রা করতে আসত এবং এর প্রতি অনুরাগী ছিল। আমি আমার বড় গ্রন্থ (কিতাবুল কাবীর) থেকে উদ্ধৃত বর্ণনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই যারা আরও বিস্তারিত জানতে চান তারা সেখানে দেখতে পারেন; কারণ এই বর্তমান বইটি কেবল চাক্ষুষ দর্শনের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যখন মালিক আল-আযীয উসমান বিন ইউসুফ তার পিতার পর স্বাধীনভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তার মূর্খ সঙ্গীরা তাকে এই পিরামিডগুলো ধ্বংস করার কুমন্ত্রণা দেয়। ফলে তিনি লাল রঙের ছোট পিরামিডটি দিয়ে ধ্বংসকাজ শুরু করেন, যা ছিল তিনটি প্রধান পিরামিডের মধ্যে তৃতীয়টি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فأخرج إليه الحلبية والنقابين والحجارين وجماعة من عظماء دولته وأمراء مملكته وأمرهم بهدمه ووكّلهم بخرابه فخيّموا عندها وحشروا عليها الرجال والصنَّاع ووفروا عليهم النفقات، وأقاموا نحو ثمانية أشهر بخيلهم ورجلهم يهدمون كل يوم بعد بذل الجهد واستفراغ الوسع الحجر والحجرين، فقوم من فوق يدفعونه بالأسافين والأمخال، وقوم من أسفل يجذبونه بالقلوس والأشطان، فإذا سقط سُمع
له جلبة عظيمة من مسافة بعيدة حتى ترتجف له الجبال وتزلزل الأرض ويغوص في الرمل فيتعبون تعبا آخر حتى يخرجوه ثم يضربون فيه الأسافين، بعد ما ينقبون لها موضعا ويبيتونها فيه، فيتقطع قطعا فتسحب كل قطعة على العجل حتى تُلقى في ذيل الجبل وهي مسافة قريبة، فلما طال ثواؤهم ونفذت نفقاتهم وتضاعف نصبهم ووهنت عظامهم وخارت قواهم، كفّوا محسورين مذمومين لم ينالوا بغية ولا بلغوا غاية، بل كانت غايتهم أن شوهوا الهرم وأبانوا عن عجز وفشل،
وكان ذلك في سنة ثلاث وتسعين وخمسمائة، ومع ذلك فإنّ الرائي لحجارة الهدم يظن أنَّ الهرم قد استؤصل، فإذا عاين الهرم ظن أنه لم يهدم منه شيء وإنما جانب قد كشط بعضه، وحينما شاهدتُ المشقّة التي يجدونها في هدم كل حجر، سألت مقدّم الحجارين، فقلت له: لو بُذل لكم ألف دينار على أن تردّوا حجراً واحداً إلى مكانه وهندامه، هل كان يمكنكم ذلك، فأقسم بالله تعالى أنهم ليعجزون عن ذلك ولو بذل لهم أضعافه.
وبإزاء الأهرام من الضفة الشرقية مغاير كثيرة العدد كبيرة المقدار عميقة الأغوار متداخلة، وفيها ما هو ذو طبقات ثلاث وتسمّى المدينة، حتى لعلّ الفارس يدخلها برمحه ويتخللها يوما أجمع ولا ينهيها لكثرتها وسعتها وبُعدها، ويظهر من حالها أنّها مقاطع حجارة الأهرام، وأما مقاطع حجارة الصوان الأحمر فيقال أنها بالقلزم وبأسوان، وعند هذه الأهرام آثار أبنية جبارة ومغاير كثيرة متقنة وقلما ترى من ذلك شيئا إلّا وترى عليه كتابات بهذا القلم المجهول.
وعند هذه الأهرام بأكثر من غلوة صورة رأس وعنق بارزة من الأرض في غاية العِظَم، يسمّيه الناس أبا الهول، ويزعمون أن جثّته مدفونة تحت الأرض، ويقتضي المقياس أن تكون جثّته بالنسبة إلى رأسه سبعين ذراعاً، وفي وجههِ حمرةٌ ودهانٌ أحمر يلمع، عليه رونق الطراءة
অতঃপর তিনি সেখানে হালবীয় সৈন্যদল, সুরঙ্গ খননকারী, পাথরশ্রমিক এবং তাঁর রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাম্রাজ্যের আমীরদের একটি দলকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদের এটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন এবং এর বিনাশ সাধনে তাদের নিযুক্ত করলেন। তারা সেখানে তাঁবু স্থাপন করল এবং বিপুল সংখ্যক লোকবল ও কারিগরদের সমবেত করল এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যয়ের সংস্থান করল। তারা তাদের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে প্রায় আট মাস সেখানে অবস্থান করল। অসাধ্য সাধন ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পর তারা প্রতিদিন একটি বা দুটি পাথর খসাতে পারত। একদল উপর থেকে কীলক ও লিভার দিয়ে পাথর ঠেলত, আর অন্য একদল নিচ থেকে মোটা রশি ও দড়ি দিয়ে তা টানত। যখন পাথরটি নিচে পড়ত, তখন দূর থেকে এক বিকট শব্দ শোনা যেত, এমনকি তাতে পাহাড়গুলো কেঁপে উঠত এবং পৃথিবী প্রকম্পিত হতো। পাথরটি বালুর গভীরে দেবে যেত, যা বের করতে তাদের পুনরায় কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। এরপর তারা পাথরের গায়ে গর্ত করে সেখানে কীলক বসিয়ে আঘাত করত, ফলে তা টুকরো টুকরো হয়ে যেত। তখন প্রতিটি টুকরোকে চাকার ওপর টেনে নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ফেলে আসা হতো, যা ছিল নিকটবর্তী দূরত্ব। যখন তাদের অবস্থান দীর্ঘ হলো, অর্থ ফুরিয়ে গেল, ক্লান্তি বহুগুণ বেড়ে গেল, তাদের হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়ল এবং শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল, তখন তারা হতাশ ও লজ্জিত হয়ে এই কাজ থেকে বিরত হলো। তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি এবং গন্তব্যেও পৌঁছাতে পারেনি। বরং তাদের একমাত্র অর্জন ছিল পিরামিডটিকে বিকৃত করা এবং নিজেদের অক্ষমতা ও ব্যর্থতা প্রকাশ করা।
এটি ছিল পাঁচশত তিরানব্বই হিজরি সালের ঘটনা। তা সত্ত্বেও, ধ্বংসকৃত পাথরের স্তূপ দেখে যে কেউ মনে করবে যে পুরো পিরামিডটিই বুঝি সমূলে উৎপাটিত করা হয়েছে; কিন্তু যখন সে পিরামিডটির দিকে দৃষ্টিপাত করবে, তখন তার মনে হবে যে এর কিছুই ধ্বংস করা হয়নি, বরং এর একপাশের সামান্য অংশ মাত্র আঁচড়ানো হয়েছে। প্রতিটি পাথর খসাতে তাদের যে নিদারুণ কষ্ট করতে হতো তা দেখে আমি প্রধান পাথরশ্রমিককে জিজ্ঞাসা করলাম: "যদি আপনাদের একটি পাথরকে পুনরায় তার সঠিক স্থানে ও বিন্যাসে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এক হাজার দিনার দেওয়া হয়, তবে কি আপনারা তা করতে পারবেন?" তখন সে মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বলল যে, এর দ্বিগুণ অর্থ দিলেও তারা তা করতে অক্ষম হবে।
পিরামিডগুলোর বিপরীতে পূর্ব তীরে অসংখ্য বিশাল আয়তনের গভীর ও পরস্পর সংযুক্ত গুহা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি তিন স্তরবিশিষ্ট এবং সেগুলোকে 'শহর' বলা হয়। অবস্থা এমন যে, কোনো অশ্বারোহী হয়তো তার বর্শা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারে এবং সারাদিন সেগুলোর ভেতর পরিভ্রমণ করেও এর আধিক্য, প্রশস্ততা ও দূরত্বের কারণে তা শেষ করতে পারবে না। সেগুলোর অবস্থা দেখে প্রতীয়মান হয় যে, এগুলোই ছিল পিরামিডের পাথর কাটার স্থান। আর লাল গ্রানাইট পাথরের খনি সম্পর্কে বলা হয় যে, সেগুলো কুলজুম ও আসওয়ানে অবস্থিত। এই পিরামিডগুলোর সন্নিকটে বিশাল সব ইমারতের ধ্বংসাবশেষ এবং অসংখ্য সুনিপুণ গুহা রয়েছে। আপনি সেখানে এমন খুব কম নিদর্শনই দেখবেন যার ওপর এই অজানা লিপিতে কোনো লিখন বিদ্যমান নেই।
এই পিরামিডগুলো থেকে এক তীরের পাল্লারও বেশি দূরত্বে মাটি থেকে বেরিয়ে থাকা একটি মস্তক ও গ্রীবার প্রতিমূর্তি রয়েছে যা অত্যন্ত বিশাল। মানুষ একে 'আবু আল-হাওল' বলে অভিহিত করে। তারা ধারণা করে যে, এর দেহাবশেষ মাটির নিচে প্রোথিত রয়েছে। আনুপাতিক পরিমাপ অনুযায়ী এর মস্তকের তুলনায় এর দেহের দৈর্ঘ্য সত্তর হাত হওয়া উচিত। এর মুখমণ্ডলে লাল আভা এবং উজ্জ্বল লাল বর্ণের প্রলেপ রয়েছে, যাতে সজীবতার লাবণ্য পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو حسن الصورة مقبولها، عليه مسحة بهاء
وجمال كأنه يضحك تبسما، وسألني بعض الفضلاء: ما أعجب ما رأيت؟، فقلت: تناسب وجهِ أبي الهول فأنّ أعضاء وجهه بالأنف والعين والأذن متناسبة كما تصنع الطبيعة الصور متناسبة، فإنّ أنف الطفل مثلا مناسبٌ له وهو حسن به حتى لو كان ذلك الأنف لرجل كان مشوّهاً به، وكذلك لو كان أنف الرجل للصبي لتشوهت صورته، وعلى هذا سائر الأعضاء فكلّ عضوٍ ينبغي أن يكون على مقدارٍ وهيئة، بالقياس إلى تلك الصورة وعلى نسبتها فإن لم توجد المناسبة تشوهت الصورة، والعجَب مِن مصوِّره، كيف قدر أن يحفظ نظام التناسب في الأعضاء مع عظَمِها، وأنه ليس في أعمال الطبيعة ما يحاكيه وينقله.
ومن ذلك الآثار التي بعين شمس، وهي مدينة صغيرة يشاهد سورها مُحدِقا بها مهدوما، ويظهر من أمرها أنها قد كانت بيت عبادة، وفيها من الأصنام الهائلة العظيمة الشكل من نحيت الحجارة يكون طول الصنم زهاء ثلاثين ذراعا، وأعضاؤه على تلك النسبة من العِظَم، وقد كان بعض هذه الأصنام قائما على قواعد، وبعضها قاعداً بنصباتٍ عجيبة، وإتقانات محكمة، وباب المدينة موجود إلى اليوم، وعلى معظم تلك الحجارة وتصاوير الإنسان وغيره من الحيوان، كتابات كثيرة بالقلم المجهول، وقلّما يُرى حجرٌ غفلا من كتابة أو نقش أو صورة، وفي هذه المدينة المسلَّتان المشهورتان، وتسميان مسلتي فرعون، وصفة المسلة أنّ قاعدةً مربعةً طولها عشر أذرع في مِثلها عرضاً في نحوها سمكاً، قد وُضعت على أساس ثابتٍ في الأرض ثم أُقيم عليها عمود مربّع، يَنيفُ طوله على مائة ذراع، يبتدىء من قاعدةٍ لعلَّ قُطرها خمس أذرع وينتهي إلى نقطة، وقد لبس رأسها بقلنسوة نحاس إلى ثلاث أذرع منها كالقمع وقد تزنجر بالمطر، وبطول المدة أخضرَّ وسالَ مِن خضرته على بسيط المسلّة، والمسلة كلّها عليها كتابات بذلك القلم، ورأيتُ إحدى المسلتين وقد خرّت وأنصدعت من نِصفها لعِظم الثقل،
وأخذ النحاس من رأسها، ثم أن حولها من المسال شيئا كثيرا لا يحصى عددها، مقاديرها على نصف تلك العظمى أو ثلثها، وقلما تجد في هذه المسالِّ الصغار ما هو قطعة واحدة، بل فصوصا بعضها على بعض، وقد تهدَّم أكثرها وإنما بقيت قواعدها.
তিনি সুন্দর অবয়ব ও গ্রহণযোগ্য আকৃতিবিশিষ্ট, তাঁর ওপর মহিমা ও সৌন্দর্যের আভা রয়েছে যেন তিনি মৃদু হাসিতে হাস্যোজ্জ্বল।
জনৈক বিদ্বান আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি যা দেখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর কী?" আমি বললাম: "আবু আল-হাওলের চেহারার সুসামঞ্জস্য। কেননা তার চেহারার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ—নাক, চোখ ও কান—পরস্পর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, ঠিক যেমন প্রকৃতি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিকৃতি তৈরি করে।" উদাহরণস্বরূপ, শিশুর নাক তার জন্য মানানসই এবং তাতেই তাকে সুন্দর দেখায়; কিন্তু সেই একই নাক যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের হতো, তবে তা তাকে বিকৃত করে তুলত। একইভাবে, যদি কোনো পুরুষের নাক কোনো বালকের হতো, তবে তার অবয়ব বিকৃত হয়ে যেত। আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। প্রতিটি অঙ্গকে সেই অবয়বের পরিমাপ ও অনুপাত অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট আকার ও অবস্থায় থাকতে হয়। যদি সেই সামঞ্জস্য না থাকে, তবে অবয়বটি বিকৃত হয়ে যায়। আর এর নির্মাতার প্রতি বিস্ময় জাগে যে, তিনি কীভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিশালতা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে সামঞ্জস্যের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন, অথচ প্রকৃতির কার্যাবলির মধ্যে এমন কিছু নেই যা একে অনুকরণ বা নকল করতে পারে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আইন শামস-এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ। এটি একটি ছোট শহর, যার চারপাশ বেষ্টন করে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীর পরিলক্ষিত হয়। এর অবস্থা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি এক সময় উপাসনালয় ছিল। সেখানে খোদাই করা পাথরের তৈরি বিশালাকার ও বিস্ময়কর আকৃতির অনেক মূর্তি রয়েছে, যার কোনো কোনোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ত্রিশ হাত। সেগুলোর অঙ্গপ্রত্যঙ্গও সেই বিশালতার অনুপাতে নির্মিত। এই মূর্তিগুলোর কোনোটি ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান ছিল, আবার কোনোটি অদ্ভুত ভঙ্গি ও সুনিপুণ কারুকার্যে উপবিষ্ট ছিল। শহরের প্রবেশদ্বারটি আজ পর্যন্ত বিদ্যমান। সেই পাথরগুলোর অধিকাংশের ওপর এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতিকৃতির ওপর অজ্ঞাত লিপিতে অনেক লেখা রয়েছে। এমন পাথর খুব কমই দেখা যায় যা লেখা, খোদাই বা চিত্র থেকে মুক্ত। এই শহরে দুটি বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যেগুলোকে 'ফেরাউনের সুঁই' বলা হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভের বিবরণ হলো—একটি বর্গাকার ভিত্তি যার দৈর্ঘ্য দশ হাত, প্রস্থ দশ হাত এবং উচ্চতাও অনুরূপ, যা জমিনের গভীরে প্রোথিত এক মজবুত ভিত্তির ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং এরপর তার ওপর একটি বর্গাকার স্তম্ভ দাঁড় করানো হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য একশ হাতেরও বেশি। এটি এমন একটি ভিত্তি থেকে শুরু হয়েছে যার ব্যাস সম্ভবত পাঁচ হাত এবং তা ক্রমশ সরু হয়ে একটি বিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর শীর্ষভাগ তামা দিয়ে তৈরি ফানেলের মতো একটি টুপির মাধ্যমে তিন হাত পর্যন্ত আবৃত ছিল। বৃষ্টির কারণে তাতে তামাটে মরিচা ধরেছে এবং দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার ফলে তা সবুজ হয়ে গেছে এবং সেই সবুজাভ রঙ স্মৃতিস্তম্ভের গায়ের ওপর চুইয়ে পড়েছে। পুরো স্মৃতিস্তম্ভটি সেই লিপিতে লেখা বর্ণমালায় পূর্ণ। আমি স্মৃতিস্তম্ভ দুটির একটিকে পড়ে যেতে দেখেছি এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে তা মাঝখান থেকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে।
এর শীর্ষভাগ থেকে তামা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর চারপাশে আরও অনেক ছোট ছোট স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যার সংখ্যা গণনা করা যায় না। সেগুলোর আকার বড়টির অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ। এই ছোট স্মৃতিস্তম্ভগুলোর মধ্যে অখণ্ড পাথর খুব কমই পাওয়া যায়; বরং এগুলো একটির ওপর অন্যটি খণ্ড খণ্ড অংশ বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কেবল সেগুলোর ভিত্তিগুলো অবশিষ্ট রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ورأيت بالإسكندرية مسلّتين على سيف البحر في وسط العمارة أكبر من هذه الصغار وأصغر من العظيمتين.
وأما البرابي بالصعيد، فالحكاية من عِظَمها وإتقان صنعتها، وإحكام سورها وعجائب ما فيها من الأشكال والنقوش والتصاوير والخطوط، مع إحكام البناء وجفاء الآلات والأحجار، ممّا يفوت الحصر وهي من الشهرة بحيث تغني عن الإطالة في الصفة.
ورأيت بالإسكندرية عمود السواري، وهو عمود أحمر منقَّط من الحجر المانع الصوان، عظيم الغِلَظ جدّاً، شاهق الطول، لا يبعد أن يكون طوله سبعين ذراعاً وقطره خمس أذرع، وتحته قاعدة عظيمة تناسبه، وعلى رأسه قاعدة أخرى عظيمة وارتفاعها عليه بهندامٍ يفتقرُ إلى قوّةٍ في العلم برفع الأثقال، وتمهّرٍ في الهندسة العملية، وخبرني بعض الثقات أنه قاس دوره فكان خمسا وسبعين شبرا بالشبر التام.
ثم أني رأيت بشاطىء البحر مما يلي سور المدينة أكثر من أربعمائة عمود مكسورة أنصافا وأثلاثا، حجرها من جنس حجر عمود السواري على الثلث منه أو الربع، وزعم أهل الإسكندرية قاطبة أنها كانت منتصبةً حول عمود السواري، وأنّ بعض وُلاةِ الإسكندرية واسمه قراجا، كان والياً عن يوسف ابن أيوب، فرأى هدم هذه السواري وتكسيرها وألقاها بشاطىء البحر، زعم أنّ ذلك يكسر سورة الموج عن سور المدينة، أو يمنع مراكب العدوِّ أن تستندَ إليه، وهذا من عبث الوِلدان
ومِن فِعلِ مَن لا يُفرِّق بين المصلحة والمفسدة.
ورأيتُ أيضاً حول عمود السواري من هذه الأعمدة، بقايا صالحة بعضها صحيح وبعضها مكسور ويظهر مِن حولها أنها كانت مسقوفة والأعمدة تحمل السقف، وعمود السواري عليه قبة هو حاملها وأرى أنه الرواق الذي كان يدرس فيه أرسوطاليس وشِيعته من بَعده، وأنه دارُ العلم التي بناها الإسكندر، حين بنى مدينته وفيها كانت خزانة الكتب التي أحرقها عمر بن العاص بإذن عمر رضي الله عنه.
وأما المنارةُ فحالُها مشهور يُغني عن وصفها وذَكرَ ذو العناية، أن طولها مائتا ذراع وخمسون ذراعا.
আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় সমুদ্রতীরে জনবসতির মাঝখানে দুটি ওবেলিস্ক দেখেছি যা এই ছোটগুলোর চেয়ে বড় এবং সেই বিশাল দুটির চেয়ে ছোট।
আর উচ্চ মিশরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর কথা বলতে গেলে, সেগুলোর বিশালতা, নিপুণ কারুকার্য, সুদৃঢ় প্রাচীর এবং সেগুলোর ভেতরে থাকা বিভিন্ন আকৃতি, নকশা, চিত্র ও লিপির বিস্ময়কর বর্ণনা শেষ করার মতো নয়; সেই সাথে নির্মাণশৈলীর দৃঢ়তা এবং স্থূল যন্ত্র ও পাথরের ব্যবহারও অতুলনীয়। এগুলো এতটাই প্রসিদ্ধ যে এগুলোর বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।
আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় 'আমূদ আস-সাওয়ারী' নামক স্তম্ভটি দেখেছি। এটি লালচে রঙের ছোপযুক্ত অত্যন্ত শক্ত গ্রানাইট পাথরের একটি স্তম্ভ। এটি অত্যন্ত স্থূল এবং আকাশচুম্বী দীর্ঘ। এর দৈর্ঘ্য সত্তর হাত এবং ব্যাস পাঁচ হাত হওয়া অসম্ভব নয়। এর নিচে একটি বিশাল ভিত্তি রয়েছে যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এর শীর্ষে আরেকটি বিশাল ভিত্তি রয়েছে যা অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে এর ওপর স্থাপিত। এটি স্থাপনের জন্য ভারী বস্তু উত্তোলনের বিদ্যায় প্রবল শক্তি এবং ব্যবহারিক প্রকৌশলে গভীর দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। জনৈক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি এর পরিধি মেপে দেখেছেন এবং তা পূর্ণ হাতের মাপে পঁচাত্তর বিঘত ছিল।
অতঃপর আমি শহরের প্রাচীর সংলগ্ন সমুদ্রতীরে চারশটিরও বেশি স্তম্ভ দেখেছি যা অর্ধেক বা তিন ভাগে ভাঙা ছিল। এগুলোর পাথর 'আমূদ আস-সাওয়ারী'র পাথরের মতোই, তবে এগুলো আকারে তার তিন ভাগের এক ভাগ বা চার ভাগের এক ভাগ হবে। আলেকজান্দ্রিয়ার সমস্ত অধিবাসী দাবি করেন যে, এগুলো 'আমূদ আস-সাওয়ারী'র চারপাশেই দণ্ডায়মান ছিল। আলেকজান্দ্রিয়ার জনৈক গভর্নর, যার নাম ছিল কারাজা এবং যিনি ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের নিযুক্ত গভর্নর ছিলেন, তিনি এই স্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলার ও চূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেগুলো সমুদ্রতীরে নিক্ষেপ করেন। তার ধারণা ছিল যে এটি শহরের প্রাচীরের ওপর আছড়ে পড়া ঢেউয়ের প্রতাপ হ্রাস করবে অথবা শত্রুর জাহাজগুলোকে ভিড়তে বাধা দেবে। কিন্তু এটি ছিল নিতান্তই শিশুসুলভ চপলতা
এবং এটি এমন ব্যক্তির কাজ যে কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না।
আমি 'আমূদ আস-সাওয়ারী'র আশেপাশে এই স্তম্ভগুলোর আরও কিছু অবশিষ্টাংশ দেখেছি, যার কিছু অক্ষত এবং কিছু ভাঙা। এর চারপাশ দেখে মনে হয় যে এটি একসময় ছাদযুক্ত ছিল এবং স্তম্ভগুলো সেই ছাদকে ধারণ করত। 'আমূদ আস-সাওয়ারী'র ওপর একটি গম্বুজ ছিল যার ভার এটি বহন করত। আমার অভিমত এই যে, এটিই সেই বারান্দা যেখানে এরিস্টটল এবং তার পরবর্তী অনুসারীরা শিক্ষা প্রদান করতেন। আর এটিই সেই জ্ঞানগৃহ যা আলেকজান্ডার তার শহর নির্মাণের সময় তৈরি করেছিলেন এবং এখানেই সেই গ্রন্থাগার ছিল যা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুমতিক্রমে আমর ইবনুল আস ভস্মীভূত করেছিলেন।
আর বাতিঘরের অবস্থা তো এতটাই প্রসিদ্ধ যে তা বর্ণনার প্রয়োজন রাখে না। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে এর উচ্চতা ছিল দুইশ পঞ্চাশ হাত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقرأت بخطِّ بعض المحصِّلين، أنه قاس العمود بقاعدتيه فكان اثنتين وستين ذراعا وسدس ذراع، وهو على جبلٍ طوله ثلاث وعشرون ذراعا ونصف ذراع فصارت جملة ذلك خمسا وثمانين ذراعا وثلثي ذراع، وطول القاعدة السفلى اثنتا عشرة ذراعا، وطول القاعدة العليا سبع أذرع ونصف ذراع، وقاس أيضا المنارة فوجدها مائتي ذراع وثلاثا وثلاثين ذراعا وهي ثلاث طبقات: الطبقة الأولى مربعة وهي مائة ذراع وإحدى وعشرون ذراعا، والطبقة الثانية مثمنة وطولها إحدى وثمانون ذراعا ونصف ذراع، والطبقة الثالثة مدورة وطولها إحدى وثلاثون ذراعا ونصف ذراع، وفوق ذلك مسجد ارتفاعُه نحو عشر أذرع.
ومن ذلك، الآثار التي بمصر القديمة، وهذه المدينة بالجيزة وهي مَنَف التي كان يسكنها الفراعنة وكانت مستقر مملكة ملوك مصر، وإياها عني بقوله تعالى عن موسى عليه السلام: [ودخل المدينة على حين غفلة من أهلها]، وبقوله تعإلى: [فخرج منها خائفا يترقب] لأن مسكنه عليه السلام كان بقريةٍ بالجيزة قريبة من المدينة تسمى دموة وبها اليوم ديرٌ لليهود، ومقدار خرابها اليوم مسيرة نصف يوم أو نحوه، وقد كانت عامرةً في زمن إبراهيم ويوسف وموسى عليهم السلام،
وقبلهم بما شاء الله تعالى، وبعدهم إلى زمن بختنصَّر، فإنه أخرب ديار مصر وبقِيَت على خرابه أربعين سنة، وسبب خرابه إيّاها أنّ ملكها عصم منه اليهود، حين التجأوا إلى مصر، ولم يمكن منهم بختنصَّر فقصده بختنصَّر وأباد دياره، ثم جاء الاسكندر بعد ذلك واستولى عليهم، وعمَّر بها الإسكندرية وجعلها مقرَّ الملك، ولم تزل على ذلك إلى أن جاء الإسلام ففتحت على يد عمرو بن العاص، وجعل مقر الملك بالفسطاط، ثم جاء المعزُّ من المغرب، وبنى القاهرة وجعلها مقر الملك إلى اليوم، وقد ذكرنا ذلك مشروحا مفصلا في الكتاب الكبير، ولنرجع إلى وصف مَنَف المسمّاة مِصر القديمة:
فهذه المدينة مع سعتها وتقادُمِ عهدها وتداوُل الملل عليها واستئصال الأمم إيّاها، مِن تعفيةِ آثارها ومحو رسومها ونقل حجارتها وآلاتها، وإفساد أبنيتها وتشويه صورها، مُضافاً إلى ما فعلته فيها أربعةُ آلاف سنة فصاعداً تجد فيها من العجائب ما يفوتُ فهم الفَطِن المتأمِّل، ويحسر دون وصفه البليغ اللَّسن، وكلما زدته تأملا، زادك عجباً، وكلما زدته نظراً زادك
আমি কোনো কোনো গবেষকের হস্তলিপি পাঠ করেছি যে, তিনি স্তম্ভটিকে তার দুটি ভিত্তিস্তম্ভসহ মেপেছেন এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল বাষট্টি এবং এক-ষষ্ঠাংশ হাত। এটি এমন এক পাহাড়ের ওপর অবস্থিত যার উচ্চতা ছিল সাড়ে তেইশ হাত। ফলে সব মিলিয়ে এর উচ্চতা দাঁড়িয়েছে পঁচাশি এবং দুই-তৃতীয়াংশ হাত। এর নিচের ভিত্তির দৈর্ঘ্য বারো হাত এবং ওপরের ভিত্তির দৈর্ঘ্য সাড়ে সাত হাত। তিনি বাতিঘরটিও (মানারা) পরিমাপ করেছেন এবং এটি দুইশত তেত্রিশ হাত পেয়েছেন। এটি তিন স্তরবিশিষ্ট: প্রথম স্তরটি চতুর্ভুজাকৃতি এবং তা একশত একুশ হাত, দ্বিতীয় স্তরটি অষ্টভুজাকৃতি এবং এর দৈর্ঘ্য সাড়ে একাশি হাত, এবং তৃতীয় স্তরটি গোলাকার যার দৈর্ঘ্য সাড়ে একত্রিশ হাত। আর এর ওপরে একটি মসজিদ রয়েছে যার উচ্চতা প্রায় দশ হাত।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রাচীন মিশরের নিদর্শনসমূহ। আর এই শহরটি গিজায় অবস্থিত এবং এটিই হলো 'মানাফ' (মেম্ফিস), যেখানে ফেরাউনরা বসবাস করত এবং যা ছিল মিশরের রাজন্যবর্গের সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল। মহান আল্লাহর বাণীতে মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা দ্বারা এই শহরকেই বোঝানো হয়েছে: [আর তিনি শহরে প্রবেশ করলেন এমন এক সময়ে যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক], এবং মহান আল্লাহর বাণী: [অতঃপর তিনি সেখান থেকে ভীত ও সতর্ক অবস্থায় বেরিয়ে পড়লেন]। কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাসস্থান ছিল গিজার একটি গ্রামে যা শহরের নিকটবর্তী এবং তাকে 'দামওয়া' বলা হয়; বর্তমানে সেখানে একটি ইহুদি মঠ রয়েছে। বর্তমানে এই শহরের ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ অর্ধ-দিবসের পথ বা এর কাছাকাছি। এটি ইব্রাহিম, ইউসুফ এবং মূসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর যুগে আবাদ ছিল,
এবং তাদের পূর্বেও আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা করেছিলেন তা আবাদ ছিল, এবং তাদের পরে বুখতানাসসার (নেবুচাদনেজার)-এর সময় পর্যন্ত। তিনি মিশরের জনপদগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এবং চল্লিশ বছর পর্যন্ত তা ধ্বংসাবস্থায় ছিল। তা ধ্বংস করার কারণ ছিল এই যে, যখন ইহুদিরা মিশরে আশ্রয় নিয়েছিল, তখন সেখানকার রাজা তাদেরকে বুখতানাসসার থেকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে বুখতানাসসারের হাতে সোপর্দ করেননি। ফলে বুখতানাসসার তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন এবং তার জনপদ বিনাশ করেন। এরপর আলেকজান্ডার (ইসকান্দার) এসে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন এবং তিনি সেখানে আলেকজান্দ্রিয়া (আল-ইসকান্দারিয়া) নগরী নির্মাণ করে তাকে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেন। ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত এটি এই অবস্থাতেই ছিল। অতঃপর আমর ইবনুল আস-এর হাতে এটি বিজিত হয় এবং তিনি 'ফুসতাত'-কে সাম্রাজ্যের কেন্দ্র বানান। এরপর মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) থেকে মুয়িজ এলেন এবং কায়রো (আল-কাহিরা) নির্মাণ করে বর্তমান সময় পর্যন্ত একে সাম্রাজ্যের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমরা এই বিষয়টি ‘আল-কিতাব আল-কাবীর’-এ ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এখন আমরা প্রাচীন মিশর নামে পরিচিত 'মানাফ'-এর বর্ণনায় ফিরে যাই:
বিশালতা, প্রাচীনত্ব, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ক্রমাগত শাসন এবং নানা জাতির পক্ষ থেকে এর নিশানাসমূহ মিটিয়ে দেওয়া, চিহ্নসমূহ মুছে ফেলা, এর পাথর ও সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়া, ইমারতসমূহ ধ্বংস করা এবং এর রূপ বিকৃত করার মাধ্যমে সমূলে উৎপাটন করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও—তদুপরি চার হাজার বা তারও বেশি বছরের বিবর্তন যা এর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে—আপনি এতে এমন সব বিস্ময়কর নিদর্শন দেখতে পাবেন যা গভীর চিন্তাশীল প্রাজ্ঞ ব্যক্তির বোধগম্যতাকেও ছাড়িয়ে যায় এবং যার বর্ণনায় বাকপটু বাগ্মী ব্যক্তিও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আপনি একে নিয়ে যত বেশি চিন্তা করবেন, আপনার বিস্ময় ততই বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি একে যতই অবলোকন করবেন, ততই আপনার বিস্ময় বাড়তে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
طرَباً، ومهما استنبطت منه معنى، أنبأك بما هو أغرب، ومهما استثرت منه عِلما دلذَكَ على أنَّ وراءه ما هو أعظم.
فمن ذلك البيت المسمَّى بالبيت الأخضر، وهو حَجرٌ واحدٌ تسع أذرع ارتفاعاً في ثمان طولا في سبع عرضا، قد حفر في وسطه بيت، قد جُعل سُمك حيطانه وسقفه وأرضه ذراعين والباقي فضاء البيت، وجميعه ظاهرا أو باطنا منقوش ومصور ومكتوب بالقلم القديم، وعلى ظاهره صورة الشمس مما يلي مطلعها وصور كثير من الكواكب والأفلاك، وصور الناس والحيوان على اختلافٍ مِن النصبات والهيئات، فمن بين قائمٍ وماشٍ ومادٍ رجليه وضامِّهما ومشمِّرٍ للخدمة وحاملِ آلاتٍ ومشير بها، يُنبي ظاهر الأمر أنه قصد بذلك محاكاة أمور جليلة، وأعمال شريفة وهيئات فاضلة وإشاراتٍ إلى أسرار غامضة، وأنَّها لم تتَّخَذ عَبَثاً
ولم يُستفرغ في صنعتها الوسع لمجرد الزينة والحُسن، وقد كان هذا البيت مُمكَّناً على قواعد من حجارة الصوان العظيمة الوثيقة، فحفَر تحتها الجهلة والحمقى طمعاً في المطالب، فتغير وضعه وفسد هندامه واختلف مركز ثقله بعضه على بعض فتصدع صدوعا طفيفة يسيرة، وهذا البيت قد كان في هيكل عظيم مبني بحجارة عاتية جافية على أتقن هندام وأحكم صنعة، وفيها قواعد على عَمَدٍ عظيمة، وحجارة الهرم متواصلة في جميع أقطار هذا الخراب، وقد بقي في بعضها حيطان ماثلة تبلك الحجارة الجافية وفي بعضها أساس وفي بعضها أطلال، ورأيتُ عقد بابٍ شاهقا ركناهُ حجرانِ فقط، وأزحجة حجر واحد قد سقط بين يديه، وتجد هذه الحجارة مع الهندام المحكم والوضع المتقن قد حفر بين الحجرين منها نحو شبر في ارتفاع اصبعين وفيه صدأ النحاس وزنجرته، فعلمتُ أنّ ذلك قيودٌ لحجارة البناء وتوثيقٍ لها ورباطات، بينها بابان يجعل بين الحجرين، ثم يُصبُّ عليه الرصاص، وقد تتبَّعها الأنذالُ المغرورون، فقلعوا منها ما شاء الله تعالى وكسروا لأجلها كثيرا من الحجارة حتى يصلوا إليها، ولعمر الله قد بذلوا الجهد في استخلاصها وأبانوا عن تمكُّنٍ من اللؤم وتوغُّلٍ في الخساسة، وأما الأصنام وكثرة عددها وعظم صورها فأمرٌ يفوتُ الوصفَ ويتجاوز التقدير، وأمّا إتقان أشكالها وإحكام هيئاتها والمحاكاة بها الأمور الطبيعية فموضع التعجب بالحقيقة، فمن ذلك صنم ذرعناهُ سوى قاعدته فكان نيِّفاً وثلاثين ذراعاً، وكان مداه من جهة اليمين
আনন্দে; এবং যখনই আপনি এখান থেকে কোনো অর্থ আহরণ করবেন, তা আপনাকে আরও অদ্ভুত কিছুর সংবাদ দেবে, আর যখনই আপনি এখান থেকে কোনো জ্ঞান অন্বেষণ করবেন, তা আপনাকে পথ দেখাবে যে এর অন্তরালে আরও মহত্তর কিছু রয়েছে।
এর মধ্যে একটি হলো তথাকথিত 'সবুজ ঘর', যা উচ্চতায় নয় হাত, দৈর্ঘ্যে আট হাত এবং প্রস্থে সাত হাত বিশিষ্ট একটি মাত্র পাথর। এর মাঝখানে একটি ঘর খোদাই করা হয়েছে, যার দেয়াল, ছাদ ও মেঝের পুরুত্ব রাখা হয়েছে দুই হাত এবং অবশিষ্ট অংশ ঘরের শূন্যস্থান। এর ভেতর ও বাহিরের পুরো অংশই খোদাইকৃত, অঙ্কিত এবং প্রাচীন লিপিতে লিখিত। এর বহির্ভাগে সূর্যোদয়ের দিকের অংশে সূর্যের প্রতিকৃতি এবং বহু নক্ষত্র ও জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর ছবি রয়েছে। আরও রয়েছে বিভিন্ন ভঙ্গি ও আকৃতিতে মানুষ ও প্রাণীর প্রতিকৃতি। কেউ দণ্ডায়মান, কেউ পথচলতি, কেউ আল্লাহর পা প্রসারিত করে আছে আবার কেউ পা গুটিয়ে আছে, কেউ সেবার জন্য প্রস্তুত, কেউ যন্ত্রপাতির বাহক এবং কেউ তা দিয়ে ইঙ্গিত করছে। বাহ্যিক অবস্থা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এর দ্বারা মহান বিষয়াবলি, মহৎ কর্ম, শ্রেষ্ঠ অবস্থা এবং রহস্যময় গোপন বিষয়ের অনুকরণের সংকল্প করা হয়েছে এবং এগুলো অনর্থক তৈরি করা হয়নি।
কেবল সৌন্দর্য ও সুষমার জন্য এর নির্মাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়নি। এই ঘরটি গ্রানাইট পাথরের বিশাল ও মজবুত ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর মূর্খ ও নির্বোধরা গুপ্তধনের লোভে এর নিচে খনন করেছে, ফলে এর অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে গেছে, এর সুসামঞ্জস্য কাঠামো নষ্ট হয়েছে এবং এর ভারকেন্দ্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ায় এতে সামান্য কিছু ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘরটি ছিল একটি বিশাল মন্দিরের ভেতর, যা অত্যন্ত নিখুঁত জ্যামিতিক নকশা ও সুনিপুণ কারুকার্যে বিশাল ও কঠোর পাথর দিয়ে নির্মিত। এতে বিশালাকৃতির স্তম্ভের ওপর ভিত্তি স্থাপিত ছিল এবং এই ধ্বংসাবশেষের সর্বত্র পিরামিডের পাথরগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। এর কোনো কোনো অংশে সেই বিশাল পাথরের দেয়ালগুলো এখনও দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও কেবল ভিত্তি অবশিষ্ট আছে আবার কোথাও রয়েছে ভগ্নাবশেষ। আমি একটি সুউচ্চ দরজার খিলান দেখেছি যার দুই পার্শ্বস্তম্ভ ছিল মাত্র দুটি পাথর দিয়ে তৈরি, এবং এর উপরের একটি মাত্র পাথর তার সামনে পড়ে আছে। সুনিপুণ জ্যামিতিক বিন্যাস ও সুদৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি আপনি দেখতে পাবেন যে, দুটি পাথরের মাঝখানে প্রায় এক বিঘত চওড়া ও দুই আঙুল উচ্চতার গর্ত করা হয়েছে এবং তাতে তামার মরিচা ও স্তর জমে আছে। আমি বুঝতে পারলাম যে, এগুলো ছিল ইমারতের পাথরগুলোর মধ্যকার বন্ধনী, সুদৃঢ়করণ এবং সংযোগকারী জোড়। পাথর দুটির মাঝখানে সংযোগস্থল তৈরি করে তার ওপর গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হতো। কিন্তু প্রবঞ্চিত হীন ব্যক্তিরা সেগুলোর পেছনে লেগেছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক কিছু উপড়ে ফেলেছে এবং সে পর্যন্ত পৌঁছাতে তারা অনেক পাথর ভেঙে ফেলেছে। আল্লাহর কসম, তারা সেগুলো বের করে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাদের চরম নীচতা ও গভীর হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আর মূর্তিসমূহ এবং তাদের বিপুল সংখ্যা ও বিশাল অবয়বের কথা বললে, তা বর্ণনাতীত এবং অনুমানের অতীত। সেগুলোর আকৃতির নিখুঁত গঠন, সুদৃঢ় অবয়ব এবং প্রাকৃতিক বিষয়ের অনুকরণ সত্যিই বিস্ময়ের বস্তু। যেমন একটি মূর্তি যা আমরা তার ভিত্তি বাদ দিয়ে মেপে দেখেছি, তা ছিল তিরিশ হাতেরও কিছু বেশি, এবং ডান দিক থেকে এর বিস্তার ছিল-
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إلى اليسار نحو عشر أذرع، ومن جهة الخلف إلى الأمام على تلك النسبة، وهو حجرٌ واحدٌ من الصِّوان الأحمر وعليه من الدهان الأحمر كأنَّه لم يَزدهُ تقادمُ الأيام إلّا جِدّة.
-
والعجب كلّ العجب كيف حفظ فيه مع عظم النظام الطبيعي والتناسب الحقيقي،
وأنت تعلم أن كلّ واحدٍ من الأعضاء الآلية والمتشابهة له في نفسه مقدار ما وله إلى سائر الأعضاء نسبة ما بذلك المقدار، وبتلك النسبة تحصل حسن الهيئة وملاحة الصورة، فإن اختلَّ شيءٌ من ذلك حدث من القبح بمقدارِ الخلل، وقد أُحكم في هذه الأصنام هذا النظام إحكاما أيّ إحكام، فمن ذلك مقادير الأعضاء في نفسها ثم نِسَب بعضها إلى بعض، فأنَّك ترى الصنم قد يبتدىء بانفصال صدره عن عنقه عند الترقوة بتناسبٍ بليغ ثم يأخذ الصدر في ارتفاع الترائب إلى الثندوتين، فيرتفعان عما دونهما ويبرزان من سائر الصدر بنسبة عجيبة، ثم يعلوان إلى حدٍّ الحلمة، ثم تصوّر الحلمة مناسبة لتلك الصورة الهائلة، ثم تنحدر إلى الموضع المطمئن عند القصّ وفرجة الزور وزور القلب وإلى تجعيد الأضلاع والتوائها، كما هو موجودٌ في الحيوان الحقيقي، ثم تنحدر إلى مقاط الأضلاع ومراق البطن والتواء العصب وعضل البطن يمينا وشمالا، وتوتّرها وارتفاعها وانخفاض ما دون السرّة مِمّا يلي الأقراب، ثم تحقيق السرّة وتوتّر العضل حولها، ثم الانحدار إلى الثنة والحالبين وعروق الحلب والخروج منه إلى عظمي الوركين، وكذلك تجد انفصال الكتف واتِّصالها بالعضد ثم بالساعد وانفتال حبل الذراع والكوع والكرسوع وإبرة المرفق ونهري مفصل الساعد من العضد وعضل الساعد ورطوبة اللحم وتوتر العصب وغير ذلك مما يطول شرحه، وقد صور كف بعضها قابضا على عمودٍ قطره شبر كأنه كتاب، وصُوِّرَت الغضون والأسارير التي تحدث في جلدة الكف مما يلي الخنصر عند ما يقبض الإنسان كفّه، وأمّا حسن أوجهها وتناسبها فعلى أكمل ما في القوى البشرية أن تفعله، وأتم ما في الموادِّ الحجرية أن تقبله ولم يبق إلّا صورةُ اللحم والدّم، وكذلك صورة الأذن وحتارها وتعاريجها على غاية التمثيل والتخييل.
ورأيتُ أسدين متقابلين بينهما أمدٌ قريب وصورهما هائلةٌ جداً، وقد حفظ فيهما
النظام الطبيعي والتناسب الحيواني، مع كونهما أعظم جثّةً من الحيوان الحقيقي جداً جداً وقد تكسّرا ورُدما بالتراب.
বাম দিকে প্রায় দশ হাত এবং পিছন থেকে সামনের দিকেও সেই একই অনুপাতে। এটি লাল গ্রানাইট পাথরের একটি একক খণ্ড এবং এর উপর লাল রঙের প্রলেপ রয়েছে যা দেখে মনে হয় দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এর নতুনত্ব কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে।
-
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এর বিশাল প্রাকৃতিক গঠনশৈলী এবং প্রকৃত অনুপাত এতে কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
আপনি জানেন যে, প্রতিটি যান্ত্রিক ও সমজাতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিজস্ব একটি পরিমাপ থাকে এবং সেই পরিমাপ অনুযায়ী অন্যান্য অঙ্গের সাথে তার একটি নির্দিষ্ট অনুপাত থাকে। সেই অনুপাতের মাধ্যমেই আকৃতির সৌন্দর্য এবং রূপের লাবণ্য অর্জিত হয়। যদি এর কোনো কিছুতে বিচ্যুতি ঘটে, তবে সেই বিচ্যুতির মাত্রা অনুযায়ী কদর্যতা সৃষ্টি হয়। এই মূর্তিগুলোতে এই শৃঙ্খলা অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব পরিমাপ এবং তারপর একে অপরের সাথে তাদের অনুপাত। আপনি দেখতে পাবেন যে, মূর্তিটির বুক অত্যন্ত চমৎকার অনুপাতে কণ্ঠাস্থি থেকে আলাদা হতে শুরু করেছে। তারপর বুক পাঁজরের উপরিভাগ থেকে স্তনদ্বয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা তার নিচের অংশ থেকে উঁচু হয়ে এবং বুকের অন্যান্য অংশ থেকে এক আশ্চর্যজনক অনুপাতে ফুটে উঠেছে। এরপর তা স্তনবৃন্তের সীমা পর্যন্ত উঁচিয়ে আছে, এবং সেই বিশাল আকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্তনবৃন্তটি চিত্রিত হয়েছে। তারপর তা বক্ষাস্থির নিচের সমতল স্থান, কণ্ঠনালীর নিম্নদেশ ও হৃদপিণ্ডের উপরিভাগের দিকে নেমে গেছে, এবং পাঁজরের হাড়ের বক্রতা ও ভাঁজগুলো ঠিক সেভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেমনটি বাস্তব প্রাণীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে। এরপর তা পাঁজরের প্রান্তভাগ, পেটের নরম অংশ, স্নায়ুর মোচড় এবং ডানে ও বামে পেটের পেশীর দিকে নেমে গেছে; এগুলোর টানটান ভাব, উচ্চতা এবং নাভির নিচে কুঁচকির কাছের নিম্নভাগ সবই নিখুঁত। এরপর নাভির সঠিক রূপায়ণ এবং তার চারপাশের পেশীর টানটান ভাব লক্ষণীয়। এরপর তলপেট ও কুঁচকি এবং সেই সংশ্লিষ্ট শিরাগুলোর মধ্য দিয়ে নেমে দু’পাশের নিতম্বের হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে আপনি দেখতে পাবেন কাঁধের বিভাজন এবং বাহুর উপরিভাগের সাথে তার সংযোগ, তারপর বাহুর নিচের অংশের সাথে সংযোগ, হাতের পেশীর মোচড়, কব্জির উভয় ধারের হাড়, কনুইয়ের অগ্রভাগ, বাহুর সন্ধিস্থলের খাঁজসমূহ, বাহুর নিম্নভাগের পেশী, মাংসের সজীবতা, স্নায়ুর টানটান ভাব এবং আরও অনেক কিছু যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য। কোনো কোনো মূর্তির হাতের তালু এমনভাবে চিত্রিত হয়েছে যেন তা এক বিঘত ব্যাসের একটি স্তম্ভ আঁকড়ে ধরে আছে, যা দেখতে অনেকটা কিতাবের মতো। হাতের মুষ্টি বন্ধ করলে কনিষ্ঠ আঙ্গুলের পাশে হাতের তালুর চামড়ায় যে ভাঁজ ও রেখাগুলোর সৃষ্টি হয়, তাও নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাদের চেহারার সৌন্দর্য এবং অনুপাতের কথা বলতে গেলে তা মানুষের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ শিখরে এবং পাথুরে উপাদানের গ্রহণ ক্ষমতার পূর্ণতম পর্যায়ে রয়েছে; কেবল মাংস ও রক্ত সঞ্চালনের রূপটিই ফুটে ওঠা অবশিষ্ট আছে। একইভাবে কানের আকৃতি, এর কিনার ও ভাঁজগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিত্রিত ও কল্পিত হয়েছে।
আমি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি সিংহও দেখেছি যাদের মাঝে অল্প দূরত্ব ছিল এবং তাদের আকৃতি অত্যন্ত বিশাল ছিল। বাস্তব প্রাণীর তুলনায় তাদের দেহ অনেক অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা এবং প্রাণীর সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হয়েছে। তবে সেগুলো ভেঙে গেছে এবং মাটিতে চাপা পড়ে আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ووجدنا من سور المدينة قطعة صالحة مبنية بالحجارة الصِّغار والطوب، وهذا الطوب كبير جافّ متطاولُ الشكل ومقداره نصف الآجر الكسرى بالعراق، كما أن طوب مِصر اليوم نصف آجر العراق اليوم أيضا.
وإذا رأى اللبيب هذه الآثار عذر العوامّ في اعتقادهم عن الأوائل بأنّ أعمارهم كانت طويلة وجثثهم عظيمة أو أنّه كان لهم عصاً إذا ضربوا بها الحجر سعى بين أيديهم، وذلك أنّ الأذهان تقصُر عن مِقدار ما يُحتاجُ إليه في ذلك من علم الهندسية واجتماع الهمّة وتوفّر العزيمة ومصابرةِ العمل والتمكّنِ مِن الآلات والتفرُّغ للأعمال والعلم بمعرفة أعضاء الحيوان وخاصّة الإنسان ومقاديرها، ونسب بعضها من بعض، وكيفية تركيبها ونصباتها ومقادير وضع بعضها من بعض، فإن النصف الأسفل من الإنسان أعظم من النصف الأعلى منه أعني التنوُّر بمقدارٍ معلوم، بخلاف سائر الحيوان، والإنسان المعتدل طوله ثمانية أشبارٍ بشبر نفسِه وطول يده إلى طيِّ مرفقه شبران بشبره وعضده شبر وربع وهكذا جميعُ عظام الصغار والكبار والقصب والسناش والسلاميات حافظة للنظام في مقاديرها ونِسَب بعضها إلى بعض، وكذلك سائر الأعضاء الباطنة والظاهرة كانخفاض اليافوخ عن ذروة الرأس ونتوئه عمّا دونه، وامتداد الجبهة والجبينين وتطامن الصدغين، ونتوء عظمي الوجنتين وسهولة الخدين، وانخراط الأنف ولين المارن وانفراج المنخرين، وامتداد الوتر ودقة الشفتين واستدارة الحبك وانخراط الفكين، وغير ذلك ممّا تضيقُ عنهُ العبارة، وإنما يُدرك بالمشاهدة وبالتشريح والتأمُّل، وقد ذكر أرسطوطاليس فصلاً في المقالةِ الحادية عشرة من كتاب الحيوان له، يدل على أنّ القوم كان لهم حَذاقةٌ وإتقان لمعرفة أعضاء الحيوان وتناسبها، وأنَّ جميع ما
أدركوه وإِن جَلّ فهو حقيرٌ تافه، بالقياس إلى الأمر الحقيقي المطبوع، وإنّما يستعظمُ ما عرفه الإنسان منه بالقياس إلى ضعف قوَّته وبالقياس إلى باقي نوعه ممّن يعجز عمّا قدر عليه، كما يتعجَّب من النملة إذا حملت حبَّةَ شعير ولا يتعجَّبُ من الفيل إذا حمل قناطير، وهذا نصُّ كلامه بإصلاحي قال: من العجب أن نستحبَّ علم أحكام التصاوير وعمل الأصنام وإفراغها ونتبين حكمته، ولا نستحبُّ معرفة الأشياء المقوّمة بالطبيعة، ولا سيما إذا قوينا على معرفة عللها، ولذلك لا ينبغي لنا أن نكره النظر في طِباع الحيوان الحقيقي الذي ليس بكريم،
আমরা মদীনার প্রাচীরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পেয়েছি যা ছোট পাথর ও ইট দিয়ে নির্মিত। এই ইটগুলো বড়, শুষ্ক এবং আকৃতিতে লম্বাটে; এর পরিমাপ ইরাকের কিসরা (পারসিক) ইটের অর্ধেক, যেমন বর্তমান মিশরের ইটও বর্তমান ইরাকি ইটের অর্ধেক।
কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন এই নিদর্শনগুলো দেখেন, তখন তিনি সাধারণ মানুষের সেই বিশ্বাসের প্রতি তাদের ওজর বা অজুহাত খুঁজে পান, যা তারা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে পোষণ করে যে, তাদের আয়ু ছিল দীর্ঘ এবং দেহ ছিল বিশাল, অথবা তাদের কাছে এমন লাঠি ছিল যা দিয়ে পাথরে আঘাত করলে তা তাদের সামনে চলতে শুরু করত। এর কারণ হলো, সাধারণ মানুষের মেধা সেই প্রকৌশলবিদ্যা, সমবেত প্রচেষ্টা, দৃঢ় সংকল্প, কাজের ধৈর্য, যন্ত্রপাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ, কাজের জন্য নিবেদিত হওয়া এবং প্রাণিকুল—বিশেষত মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, সেগুলোর পরিমাপ, একটির সাথে অন্যটির অনুপাত, সেগুলোর গঠন ও বিন্যাসপদ্ধতি এবং পরস্পরের অবস্থানের মাত্রাজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভে অক্ষম। কেননা মানুষের নিম্নাংশ ঊর্ধ্বাংশের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বড়—অর্থাৎ ধড়—অন্যান্য প্রাণীর বিপরীতে। সুঠাম দেহের মানুষের উচ্চতা তার নিজ হাতের বিঘত অনুযায়ী আট বিঘত; তার হাতের কনুইয়ের ভাঁজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য দুই বিঘত এবং বাহুর দৈর্ঘ্য সোয়া এক বিঘত। এভাবেই ছোট-বড় সকল হাড়, নলাকার হাড়, কশেরুকা ও আঙুলের হাড়গুলো তাদের পরিমাপ ও পারস্পরিক অনুপাতে এক বিশেষ শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলে। অনুরূপভাবে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অন্যান্য অঙ্গসমূহও; যেমন মাথার তালুর উপরিভাগ থেকে ব্রহ্মতালুর নিচু হওয়া এবং তার নিচের অংশের সাপেক্ষে এর উচ্চতা, কপাল ও ভ্রুদ্বয়ের বিস্তৃতি, রগদ্বয়ের সমতলতা, গণ্ডাস্থিদ্বয়ের উচ্চতা ও গালের মসৃণতা, নাসিকার ক্রমসরু আকৃতি, নাকের অগ্রভাগের কোমলতা ও নাসারন্ধ্রদ্বয়ের প্রশস্ততা, ঠোঁটের মাঝখানের খাঁজের বিস্তৃতি ও ঠোঁটদ্বয়ের সূক্ষ্মতা, ঠোঁটের চারপাশের গোলাকার অবয়ব এবং চোয়ালদ্বয়ের সরু হওয়া ইত্যাদি। এমন আরও অনেক কিছু রয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য এবং কেবলমাত্র পর্যবেক্ষণ, ব্যবচ্ছেদ ও গভীর চিন্তার মাধ্যমেই তা উপলব্ধি করা সম্ভব। এরিস্টটল তাঁর প্রাণিবিজ্ঞান গ্রন্থের একাদশ অধ্যায়ে একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে, সেই জাতির প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সেগুলোর সামঞ্জস্য সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য ও নিপুণতা ছিল। তারা যা কিছু
উপলব্ধি করতে পেরেছে—তা যত বড়ই হোক না কেন—প্রকৃতিজাত প্রকৃত বিষয়ের তুলনায় তা নিতান্তই তুচ্ছ ও নগণ্য। মানুষ তার সীমাবদ্ধ শক্তির তুলনায় অথবা তার স্বগোত্রীয় যারা তার মতো সক্ষম নয় তাদের তুলনায় যতটুকু জানতে পারে, কেবল সেটাকেই সে বিশাল মনে করে। যেমন মানুষ যখন দেখে একটি পিপঁড়া যবের দানা বহন করছে তখন সে আশ্চর্য হয়, অথচ হাতি যখন কুইন্টাল কুইন্টাল ভার বহন করে তখন সে আশ্চর্য হয় না। এটি আমার পরিমার্জনসহ তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ: তিনি বলেন, "এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, আমরা প্রতিকৃতির নিয়মাবলি এবং মূর্তি নির্মাণ ও তা ছাঁচে ঢালার বিদ্যা পছন্দ করি এবং এর নৈপুণ্য অন্বেষণ করি, অথচ প্রকৃতিগতভাবে গঠিত বস্তুসমূহ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হই না, বিশেষ করে যখন আমরা সেগুলোর কারণ উদ্ঘাটনে সক্ষম। সুতরাং নিকৃষ্ট স্তরের হলেও বাস্তব প্রাণিকুলের স্বভাব ও গঠন পর্যালোচনায় আমাদের অনীহা থাকা উচিত নয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولا يثقل ذلك علينا كما يثقل على الصبيان، ففي جميع الأشياء الطباعية شيءٌ عجيبٌ، ولذلك ينبغي لنا أن نطلب معرفة طباع كلِّ واحدٍ من الحيوان ونعلم أنّ في جميعه شيئا طباعياً كريماً، لأنّه لم يطبع شيء منها على وجه الباطل ولا كما جاء واتّفق ولا بالبخت، بل كل ما يكون من قبيل الطِّباع قائماً، يكون لشيء أعنى لحال التمام، ولذلك صار له مكان ومرتبة وفضيلة صالحة، فتبارك الله أحسن الخالقين!!
وأما باطن الحيوان وتجويفاته وما فيها من العجائب التي تشتمل على وصفها كتب التشريح لجالينوس وغيره وكتاب منافع الأعضاء له، فأنّ أيسر اليُسير منه يبهتُ دونه المصوِّر حسيرا ولا يجد له على ذلك ظهيراً ويعلم مصداق قوله تعالى: [وخُلق الإنسان ضعيفا].
وأقول أن التعجُّب من الأمور الصناعية أيضاً هو التعجُّب من الأمور الطباعية، لأنّ الأمور الصناعية هي بوجهٍ ما طباعية، وذلك أنها حادثة عن قوى طباعية، كما أنَّ المهندسَ إذا حرَّك ثِقلاً عظيما استحقَّ أن يتعجّب منه، فكذلك إذا صنع صورةً من خشبٍ مثلا تحرك تلك الصورة ثقلا ما، كان ذلك المهندس أحرى أن يتعجب منه، والله خلقكم وما تعملون فتبارك مَن هذا ملكوته، ثمّ تردون إلى عالم الغيب والشهادة، وفي أنفسكم أفلا تبصرون، ونور جلاله ساطعٌ فلا يحجبه
حجاب، يعلمُ خائنة الأعين وما تخفي الصدور.
ومن أشباح الموجودات بقدرته قائمة وبإرادته متحركة وساكنة وبنفاذ أمره فيها فرحة، وباقترابها من حضرة قدسه مبتهجة، ولتكثرها تشهد بوحدانيته وبتغيّرها تقر بقدرته وإن من شيء إلّا يسبح بحمده.
ولنرجع إلى حديثنا الأول فنقول، هذه الأصنام مع كثرتها قد تركتها الأيام إلّا الأقلَّ منها جذاذا وغادرتها رماداً، ولقد شاهدتُ كبيراً منها وقد نحت من صلعته رحاً ولم يظهر في صورته كبيرُ تشويهٍ ولا تغيُّرٌ بيّن،، ورأيت صنماً وبين رجليه صنمٌ متَّصلٌ به صغير كأنه مولود بالقياس إليه، وهو مع ذلك كأعظم رجلٍ يكون، وعليه من الملاحة والجمال ما يشوق الناظر إليه لا يملُّ من ملاحظته، واتخاذ الأصنام قد كان في ذلك الزمان شائعا في الأرض عامّاً في الأمم ولهذا قال تعالي في حق إبراهيم عليه السلام: [إنّ إبراهيم كان أمَّةً قانتا لله حنيفاً ولم يكُ من المشركين] أي
শিশুদের নিকট যেমনটি মনে হয়, বিষয়টি আমাদের জন্য তেমন ভারবহ মনে হয় না; বরং প্রতিটি প্রাকৃতিক বিষয়ের মাঝেই এক বিস্ময়কর রহস্য বিদ্যমান। এজন্য আমাদের কর্তব্য হলো প্রতিটি প্রাণীর প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণ করা এবং এটি উপলব্ধি করা যে, তাদের প্রত্যেকের মাঝেই এক মহিমান্বিত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কেননা, এগুলোর কোনোটিই অনর্থক সৃষ্ট হয়নি, কিংবা এগুলো দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবেও অস্তিত্ব লাভ করেনি। বরং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ধারক প্রতিটি বস্তুই কোনো না কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে—অর্থাৎ পূর্ণতা লাভের নিমিত্তে—প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই তা একটি নির্দিষ্ট স্থান, মর্যাদা ও উত্তম শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। অতএব, আল্লাহ অতীব বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা!
আর প্রাণিকুলের অভ্যন্তরীণ অবয়ব, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং এর মধ্যকার বিস্ময়কর বিষয়াবলি—যা গ্যালেন ও অন্যদের শারীরস্থান বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং তাঁর ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপকারিতা’ নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—সেগুলোর অতি সামান্য অংশও একজন চিত্রশিল্পীকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও পরিশ্রান্ত করে দেয় এবং সে এর কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পায় না। তখন সে মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা উপলব্ধি করতে পারে: [আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে]।
আমি বলি যে, শিল্পজাত বিষয়াবলি দেখে বিস্মিত হওয়া প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক বিষয়াবলি দেখে বিস্মিত হওয়ারই নামান্তর। কেননা, শিল্পজাত বিষয়গুলো এক প্রকার প্রাকৃতিকই বটে, কারণ সেগুলো প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমেই উদ্ভাবিত হয়। যেমন একজন প্রকৌশলী যখন কোনো বিশাল ভার উত্তোলন করেন, তখন তা বিস্ময়ের উদ্রেক করে; তদ্রূপ তিনি যদি কাঠ দিয়ে এমন কোনো প্রতিকৃতি তৈরি করেন যা কোনো ভার বহন করতে সক্ষম, তবে সেই প্রকৌশলীর কর্মটি আরও অধিক বিস্ময়ের দাবি রাখে। আর আল্লাহ তোমাদের এবং তোমাদের কর্মসমূহকেও সৃষ্টি করেছেন। অতএব, অত্যন্ত বরকতময় সেই সত্তা, যাঁর অধিকারে এই রাজত্ব! অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা মহান আল্লাহর সমীপে। আর তোমাদের নিজেদের মাঝেও কি তোমরা লক্ষ্য করো না? তাঁর মহিমার জ্যোতি অত্যুজ্জ্বল, কোনো পর্দাই তাঁকে আবৃত করতে পারে না। তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।
অস্তিত্বমান জগতের অবয়বসমূহ তাঁরই ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত, তাঁরই ইচ্ছায় গতিশীল বা স্থবির, এবং তাঁর নির্দেশের বাস্তবায়নে তা আনন্দিত। তাঁর পবিত্র সান্নিধ্য লাভের সান্নিধ্যে তা উল্লসিত। এই সৃষ্টিজগতের বৈচিত্র্য তাঁর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং এর পরিবর্তনশীলতা তাঁর ক্ষমতার স্বীকৃতি প্রদান করে। আর এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না।
আমরা আমাদের পূর্বের আলোচনায় ফিরে আসি। এই মূর্তিগুলো সংখ্যায় অনেক হওয়া সত্ত্বেও কালের পরিক্রমায় সামান্য কিছু বাদে অবশিষ্টগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে অথবা ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। আমি এগুলোর মধ্যে একটি বিশাল মূর্তি দেখেছি, যার মাথার চাঁদ থেকে যাতাকল খোদাই করা হয়েছিল, অথচ তার অবয়বে তেমন কোনো বিকৃতি বা স্পষ্ট পরিবর্তন প্রকাশ পায়নি। আমি এমন একটি মূর্তিও দেখেছি যার দুই পায়ের মাঝখানে একটি ছোট মূর্তি সংযুক্ত ছিল, যা বড়টির তুলনায় নবজাতকের মতো মনে হচ্ছিল; অথচ সেটি ছিল সুঠামদেহী পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ন্যায়। তাতে এমন লাবণ্য ও সৌন্দর্য ছিল যা দর্শককে মোহিত করে এবং তা দেখতে দেখতে কেউ ক্লান্ত হয় না। সে যুগে মূর্তি নির্মাণ ও উপাসনা সারা বিশ্বের জাতিসমূহের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এই কারণেই মহান আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর শানে ইরশাদ করেছেন: [নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত এক আদর্শ নেতা, এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না]। অর্থাৎ-
(খণ্ড: ১)
আল-ইফাদাতু ওয়াল ইতিবার ফিল উমুরিল মুশাহাদাহ ওয়াল হাওয়াদিসিল মুআইয়ানাহ বি-আরদি মিসর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
كان وحده في زمنه موحِّداً فهو أمَّةً بنفسه لاعتزالِهِ إياهم وانفراده برأيٍ يخالفُ آراءهم، ولمّا رأى بنو إسرائيل تعظيم القِبط هذه الأصنام وتبجيلهم إياها وعُكوفهم عليها وألِفوا ذلك وأنِسُوا به لطول مقامهم بينهم، ثم رأَوا قوماً من أهل الشام عاكفين على أصنامٍ لهم قالوا: يا موسى اجعل لنا إلها كما لهم آلهة، قال: إنكم قوم تجهلون، ولما كان النصارى معظمهم وجمهورهم أقباطا وصابئة، نزعوا إلى الأصل ومالوا إلى سنَّةِ آبائهم القديمة في اتخاذ التصاوير في بِيَعِهم وهياكل عبادتهم وبالغوا في ذلك وتفنَّنوا فيه، وربّما ترامَوا في الجهالة حتى يصوِّروا إلهَهُم والملائكةُ حوله بزعمِهم، وجميع ذلك لبقايا فيهم من سنن أوائلهم، وإن كان الأوائل يُكبِرون الإلهَ أن يدخُلَ تحت إدراكٍ عقليٍّ وحسيذٍ فضلاً عن تصوير، وإنما سهل على النصارى ذلك وأجرأهم عليه اعتقادهم الإلهية للبشر، وقد حققنا القول في ذلك في مقالاتنا عليهم.
وما زالت الملوك تُراعي بقاء هذه الآثار وتمنع من العبث فيها والعبث بها وأن كننوا أعداء لأربابها، وكانوا يفعلون ذلك لمصالح منها لتبقى تاريخا يتنبه بها على الأحقاب، ومنها أنها تكون شاهدة للكتب المنزلة فإن القرآن العظيم ذكرها وذكر أهلها ففي رؤيتها خبر الخبر وتصديق الأثر، ومنها أنها مذكرة بالصبر ومنبهة على الملل، ومنها أنها تدل على شيء من أحوال من سلف وسيرتهم وتوافر علومهم وصفاء فكرهم وغير ذلك وهذا كله مما تشتاق النفس إلى معرفته وتُؤثِر الإطِّلاع عليه، وأما في زمننا هذا فترِكَ الناسُ سُدى وسرحوا هملاً وفُوّضت إليهم شئونهم، فتحركوا بحسب أهوائهم، وجروا نحو ظنونهم وأطماعهم، وعمل كلُّ امرئٍ منهم على شاكلته وبموجب سجيته وبحسب ما تسوّل له نفسه ويدعو إليه هواه، فلمّا رأوا آثارها هائلة راعهم منظرها وظنوا ظنّ السوء بمخبرها، وكان جلّ انصراف ظنونهم إلى معشوقهم وأجلّ الأشياء في قلوبهم وهو الدينار والدرهم كما قيل.
وكل شيءٍ رآه ظنَّه قدحاً وإن رأى ظِلَّ شخصٍ ظنه الساقي، فهم يحسبون كل علمٍ يلوح لهم أنّه علم على مطلب، وكل شيء مفطور في جبل أنه يُفضي إلى كنز، وكل صنمٍ عظيمٍ أنه حاصلٌ لِمالٍ تحت قديمه وهو ملك عليه، فصاروا يعملون الحيلة
كان তিনি তাঁর সমসাময়িককালে একাই একজন একেশ্বরবাদী ছিলেন, ফলে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং তাদের মতামতের বিপরীত অবস্থানে অটল থাকার কারণে তিনি নিজেই এক উম্মত ছিলেন। যখন বনী ইসরাঈল দেখল যে কিবতিরা এই মূর্তিগুলোর সম্মান করছে, সেগুলোকে মহিমান্বিত করছে এবং সেগুলোর সামনে একনিষ্ঠভাবে পড়ে থাকছে—এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে তারা এতে অভ্যস্ত ও পরিচিত হয়ে উঠেছিল—অতঃপর তারা সিরিয়ার এক সম্প্রদায়কে তাদের মূর্তিপূজায় মগ্ন থাকতে দেখল, তখন তারা বলল: হে মূসা! তাদের যেমন অনেক ইলাহ আছে, আমাদের জন্য তেমন একজন ইলাহ বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ জাতি। খ্রিস্টানদের অধিকাংশ এবং তাদের বিশাল জনসমষ্টি যেহেতু কিবতি ও সাবেয়ি ছিল, তাই তারা তাদের মূলের দিকে ধাবিত হলো এবং তাদের গির্জা ও উপাসনালয়গুলোতে প্রতিকৃতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাচীন রীতির দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারা এ কাজে সীমা লঙ্ঘন করল এবং এতে নানা কারুকার্য উদ্ভাবন করল। এমনকি তারা মূর্খতার এমন স্তরে পৌঁছাল যে, তারা তাদের দাবি অনুযায়ী তাদের ইলাহ এবং তাঁর চারপাশে ফেরেশতাদের ছবি পর্যন্ত আঁকল। এ সবই ছিল তাদের মধ্যে বিদ্যমান তাদের পূর্বপুরুষদের রীতির অবশিষ্টাংশ। যদিও প্রাচীনরা ইলাহকে বুদ্ধিগত বা ইন্দ্রিয়গত উপলব্ধির ঊর্ধ্বে মনে করতেন, প্রতিকৃতি তো দূরের কথা। খ্রিস্টানদের জন্য এটি সহজ হওয়া এবং এ কাজে দুঃসাহসী হওয়ার কারণ ছিল মানুষের জন্য উপাস্য হওয়ার গুণাবলির প্রতি তাদের বিশ্বাস। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রবন্ধগুলোতে এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করেছি।
রাজন্যবর্গ সর্বদা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর অস্তিত্ব রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন এবং এগুলোতে কোনো প্রকার অনর্থক হস্তক্ষেপ বা ক্ষতিসাধন করা থেকে বিরত রাখতেন, যদিও তারা এগুলোর উপাস্যদের শত্রু ছিলেন। তারা এটি বিভিন্ন কল্যাণের উদ্দেশ্যে করতেন; যার মধ্যে একটি হলো, এগুলো যেন ইতিহাস হিসেবে টিকে থাকে যা দ্বারা যুগপরম্পরা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। অন্যটি হলো, এগুলো অবতীর্ণ কিতাবসমূহের সাক্ষী হিসেবে কাজ করে। কেননা মহান কুরআন এগুলোর এবং এগুলোর অধিবাসীদের কথা উল্লেখ করেছে; সুতরাং এগুলো দর্শনের মাধ্যমে সংবাদের বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায় এবং ঐতিহ্যের সত্যায়ন ঘটে। আরেকটি কারণ হলো, এগুলো ধৈর্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধর্ম ও জাতি সম্পর্কে সচেতন করে। এছাড়া এগুলো পূর্ববর্তীদের অবস্থা, তাদের জীবনচরিত, তাদের জ্ঞানের প্রাচুর্য, চিন্তার স্বচ্ছতা এবং অন্যান্য বিষয় নির্দেশ করে—যার সবই মানুষের মন জানতে আগ্রহী হয় এবং অবলোকন করতে পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের বর্তমান যুগে মানুষকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা লাগামহীন হয়ে পড়েছে, তাদের বিষয়াদি তাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে চলছে এবং তাদের ধারণা ও লালসার পেছনে ছুটছে। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অভ্যাস ও প্রকৃতি অনুযায়ী এবং তার কুপ্রবৃত্তি যা তাকে প্ররোচিত করে সে অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে তারা যখন এই বিশাল প্রত্ননিদর্শনগুলো দেখল, তখন এগুলোর দৃশ্য তাদের আতঙ্কিত করল এবং তারা এগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করল। তাদের অধিকাংশ ধারণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাদের প্রিয় বস্তু এবং তাদের অন্তরের সবচেয়ে দামী সম্পদ—অর্থাৎ দিনার ও দিরহাম, যেমনটি বলা হয়ে থাকে।
সে যা-ই দেখত, তাকেই পাত্র মনে করত; আর যদি কোনো ব্যক্তির ছায়া দেখত, তবে তাকে সাকী মনে করত। তাদের সামনে যে জ্ঞানই প্রকাশিত হয়, তারা মনে করে সেটি কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের পথ। পাহাড়ে খোদাই করা প্রতিটি জিনিসকেই তারা মনে করে যে এটি কোনো ধনভাণ্ডারের দিকে নিয়ে যাবে। আর প্রতিটি বিশাল মূর্তির ক্ষেত্রে তারা মনে করে যে, তার পায়ের নিচে সম্পদ জমা আছে এবং সে তার ওপর পাহারাদার। ফলে তারা নানা অপকৌশল অবলম্বন করতে শুরু করল।