(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الرحلة الشامية القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الرحلة الشامية (1910)
المؤلف: الأَمير محمَّد عَلي بن محمد توفيق بن إسماعيل بن إبراهيم بن محمد علي (ت 1374هـ)
حرّرهَا وقدّم لها: علي أحمد كنعان
الناشر: دار السويدي للنشر والتوزيع، أبو ظبي - الإمارات العربية المتحدة، المؤسسة العربية للدراسات والنشر، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 2002 م
عدد الصفحات: 174
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1432
আশ-শামিয়া সফরনামা বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: আশ-শামিয়া সফরনামা (১৯১০)
লেখক: আমির মুহাম্মদ আলী বিন মুহাম্মদ তাওফিক বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আলী (মৃত্যু: ১৩৭৪ হিজরি)
সম্পাদনা ও ভূমিকা: আলী আহমদ কানআন
প্রকাশক: দার আস-সুওয়াইদি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, আবুধাবি - সংযুক্ত আরব আমিরাত, আল-মুয়াসসাসাহ আল-আরাবিয়্যাহ লিদ-দিরাসাত ওয়ান-নাশর (আরব অধ্যয়ন ও প্রকাশনা সংস্থা), বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مدخلالحمد لله الّذي لا برّ إلاّ برّه ولا جود إلاّ من جوده، الموجود الأوّل الّذي لا أوّل لوجوده والمشهود الآخر الّذي لا آخر لشهوده، والصلاة والسلام على أفضل رسله الكرام سيّدنا ومولانا محمّد المرسل رحمة لجميع الأنام وعلى آله وأصحابه نجوم الهداية ومصابيح الظلام، (وبعد) فهذه رحلتي الشامية أقدّمها لقراء العربية تحفة مرضية مستعيناً بالله وهو حسبي ونعم الوكيل.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহ ব্যতীত কোনো অনুগ্রহ নেই এবং যাঁর দানশীলতা ব্যতীত কোনো দানশীলতা নেই; তিনি এমন আদি বিদ্যমান সত্তা যাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই এবং এমন অন্তিম প্রত্যক্ষ সত্তা যাঁর প্রত্যক্ষণের কোনো শেষ নেই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বোত্তম ও সম্মানিত রাসুল, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাঁকে সকল সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা হিদায়াতের নক্ষত্র ও অন্ধকারের প্রদীপ। (অতঃপর) এটি আমার শাম (সিরিয়া) ভ্রমণের বিবরণ, যা আমি আরবি পাঠকদের নিকট একটি সন্তোষজনক উপহার হিসেবে পেশ করছি। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قضيت نحو ثلاثين صيفاً في جو البلاد الأوربية حيث تربّيت في مدارسها صغيراً، ثمّ تجوّلت في سياحتها كبيراً، فطوّفت حول حواضرها وقراها كثيراً حتّى إنّي بمعونة الله لم أدع شيئاً من آثارها التاريخية، ومعاهدها العلمية، ومعاملها الصناعية إلى غير ذلك ممّا يهمّ السائح أن يتعرّفه في تلك البلاد إلا زرته وأخذت منه بالقدر الأوفى والنصيب الأوفر، ثمّ ما من مرّة كنت أزور فيها هذه البلاد إلا وكنت أجتمع بملوكها وأمرائها وأعيانها ووجهائها، وإلا كنت أردّد النظر حول رياضها المنتسقة ومناظرها البديعة، ولقد ساعدني حسن الحظّ أخيراً على زيارة بلاد اليابان والصين، وهناك وضعت رحلتي اليابانية الّتي فصّلت فيها سياحتي لقراء العربية تفصيلاً، وقد كنت إبّان هذه الرحلات العديدة والأسفار المفيدة أذكر بعض البلاد الإسلامية الّتي لا تزال حتّى اليوم مستقلّة في أيدي المسلمين وتحت سيطرتهم، فكنت أحنّ إليها حنين الشارف على ولدها، وأودّ من صميم قلبي لو أن يجعل الله لي نصيباً من زيارتها، بل كثيراً ما هممت بمشارفتها ونهضت لذلك نهوضاً لولا أن صعوبة المواصلات، وما لعلّه يكون من بعد الشقّة وعدم توفر وسائل الراحة ووسائط
আমি প্রায় ত্রিশটি গ্রীষ্মকাল ইউরোপীয় দেশসমূহের পরিবেশে অতিবাহিত করেছি, যেখানে শৈশবে আমি তাদের বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিপালিত হয়েছি; অতঃপর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সেখানে পর্যটক হিসেবে ভ্রমণ করেছি। আমি তাদের নগর ও গ্রামগুলোতে এত অধিক পরিভ্রমণ করেছি যে, আল্লাহর সাহায্যে আমি তাদের ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলী, বৈজ্ঞানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, শিল্পকারখানা এবং একজন পর্যটকের জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন, তার কোনোটিই পরিদর্শন করা থেকে বাদ দেইনি এবং তা থেকে পূর্ণমাত্রায় ও অঢেল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অতঃপর যখনই আমি এসব দেশ সফর করেছি, তখনই তাদের রাজা, আমির, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাদের সুবিন্যস্ত উদ্যান ও মনোরম দৃশ্যাবলির ওপর বারবার দৃষ্টিপাত করেছি। অবশেষে সৌভাগ্যক্রমে আমি জাপান ও চীন দেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। সেখানে আমি আমার জাপানি ভ্রমণকাহিনীটি রচনা করি, যাতে আমি আরবি পাঠকদের জন্য আমার পর্যটনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছি। এই অসংখ্য সফর ও ফলপ্রসূ ভ্রমণের সময়গুলোতে আমি এমন কিছু মুসলিম ভূখণ্ডের কথা স্মরণ করতাম, যেগুলো আজও মুসলমানদের হাতে স্বাধীন এবং তাদের শাসনাধীন রয়েছে। ফলে আমি সেগুলোর প্রতি এমনভাবে ব্যাকুল হয়ে পড়তাম, যেমন একটি মাদী উট তার শাবকের জন্য ব্যাকুল হয়। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কামনা করতাম যদি আল্লাহ আমাকে সেগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দান করতেন। বরং আমি বহুবার সেগুলো পরিদর্শনের সংকল্প করেছি এবং সেজন্য সচেষ্ট হয়েছি; কিন্তু যাতায়াতের অসুবিধা, দূরপাল্লার পথ এবং আরামদায়ক উপকরণের অভাব ও যাতায়াত ব্যবস্থার...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الرفاغة، كانت يومئذ عقبة كؤوداً في طريقي، ولولاها ما كان أحوج مسلماً يحبّ المسلمين ويصبو إلى بلادهم أَن يشدّ رحاله إلى بغداد مدينة السلام، ودمشق عاصمة الشام، كيلا يحرم من مشاهدة مدينتين فخيمتين كانتا أكبر عواصم الإسلام وأعظمها حضارة، وناهيك بهما في عهدي الدولة الأموية والعباسية، وعلى الخصوص في عهد المأمون عهد الحضارة الشرقية والنور، يوم كانت بغداد هذه محطّ رحال العرب ومنبعث أشعّة الحكمة والأدب. على أني ما لبثت قليلاً حتّى قيّض الله لي نفراً من أصدقائي الكرام وعلية القوم في بلاد الشام فطلبوا إليّ أن أزور بلادهم، وقد كنت لا أزال أخشى من حصول ما عساه يعترض المسافر ممّا ربّما مسّ بالصحّة أو أساء إلى الكرامة، فكاشفت هؤلاء الصحب بما كان يجيش به صدري من ذلك وغيره لعلّي كنت أبلغ من لدنهم عذرا
أو أستطيع إلى السفر سبيلا، فما زالوا يجهدون أنفسهم في إقناعي بضدّ ما كنت أظن حتّى لقد حبّبوا إليّ الرحلة وأوقعوها من نفسي بحيث صارت عزيمتي إليها أشدّ منها إلى سواها خصوصاً بعد ما أنّهم تكفّلوا براحتي فيما كنت أتوقّع التعب من ناحيته أكثر من المعتاد في أسفاري، وما كان ليخامرني ريب في صدقهم، إذ كنت أقرأ على صفحات وجوههم البيضاء آية الإخلاص والوفاء، وحينئذٍ طويت العزم على اِرتياد بلاد سورية وفلسطين والعراق فرحاً مسروراً بتحقيق رجائي القديم من زيارة بلادٍ طالما تاقت نفسي أن تراها وتشاهد فيها أهلها على الأزياء الفطريّة والعوائد الشرقيّة الّتي لا تزال إلى اليّوم حافظة ما كانت عليه منذ العصور المتقدّمة بفضل ما يعرف في أهلها من الغيرة عليها وحرصهم على أن لا تختلط بتقاليد الغربيّين وعوائدهم. وقد كنت كلّما سمعت النّاس يمتدحون طقس هذه البلاد وما وهبها الله من جمال المنظر ونضارة البقعة وبهاء الطبيعة، فضلاً عن اِتّساع مساحتها وخصوبة تربتها وعذوبة مياهها وغضارة رياضها يزداد شوقي نحوها ويتأكّد
সেই সময়ে সচ্ছলতা ও আরামদায়ক জীবনই আমার পথে এক কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল; আর তা না হলে মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং তাঁদের দেশগুলোর প্রতি অনুরাগী কোনো মুসলিমের পক্ষে শান্তির নগরী বাগদাদ ও শাম-এর রাজধানী দামেস্কের পানে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা কতই না বেশি ছিল, যাতে তিনি এই দুটি মহিমান্বিত শহর দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। শহর দুটি ছিল ইসলামের বৃহত্তম রাজধানী এবং সভ্যতায় সর্বশ্রেষ্ঠ; বিশেষ করে উমাইয়া ও আব্বাসীয় রাজত্বকালে এবং সুনির্দিষ্টভাবে মামুনের শাসনামলে—যা ছিল প্রাচ্য সভ্যতা ও আলোর যুগ, যে সময়ে এই বাগদাদ ছিল আরবদের গন্তব্যস্থল এবং প্রজ্ঞা ও সাহিত্যের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরণের কেন্দ্র। তবে অল্পকাল পরেই আল্লাহ আমার জন্য শাম দেশের কিছু সম্মানিত বন্ধু এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে দিলেন; তাঁরা আমাকে তাঁদের দেশ ভ্রমণের অনুরোধ জানালেন। অথচ আমি তখনও একজন মুসাফিরের সামনে উপস্থিত হতে পারে এমন সব প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে শঙ্কিত ছিলাম, যা হয়তো স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে কিংবা আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই আমি আমার এই বন্ধুদের কাছে আমার মনের লুকানো সংশয় ও অন্যান্য বিষয় প্রকাশ করলাম, যাতে হয়তো তাঁদের কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর পাই
অথবা সফরের কোনো সুগম পথ খুঁজে পাই। কিন্তু তাঁরা আমাকে আমার ধারণার বিপরীত বিষয়ে আশ্বস্ত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেন, এমনকি তাঁরা আমার মনে ভ্রমণের প্রতি এমন অনুরাগ সৃষ্টি করলেন যে, অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এই সফরের সংকল্প আমার হৃদয়ে প্রবল হয়ে উঠল। বিশেষ করে যখন তাঁরা আমার আরাম-আয়েশের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সেই সব ক্ষেত্রে, যেখানে আমি সাধারণ সফরের চেয়েও অনেক বেশি ক্লান্তির আশঙ্কা করছিলাম। তাঁদের সত্যবাদিতার বিষয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি, কারণ তাঁদের উজ্জ্বল মুখমণ্ডলগুলোতে আমি ইখলাস ও বিশ্বস্ততার স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পাচ্ছিলাম। তখনই আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎফুল্ল চিত্তে সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও ইরাক ভ্রমণের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম। এর মাধ্যমে আমার সেই দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হলো—এমন সব দেশ দেখা যার জন্য আমার প্রাণ সর্বদা ব্যাকুল ছিল এবং যেখানে সেখানকার অধিবাসীদের প্রাকৃতিক পোশাক-পরিচ্ছদ ও প্রাচ্যের রীতিনীতিতে দেখার সুযোগ মিলবে, যা তাদের অধিবাসীদের আত্মমর্যাদাবোধ এবং পশ্চিমাদের প্রথা ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে না যাওয়ার ঐকান্তিক আগ্রহের বদৌলতে প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি অবিকৃত রয়েছে। যখনই আমি মানুষকে এই দেশগুলোর আবহাওয়া এবং আল্লাহ প্রদত্ত নৈসর্গিক সৌন্দর্য, মনোরম পরিবেশ ও প্রকৃতির লাবণ্য সম্পর্কে প্রশংসা করতে শুনতাম, সেই সঙ্গে এর বিশালতা, মাটির উর্বরতা, সুপেয় পানি এবং উদ্যানগুলোর শ্যামলিমার কথা শুনতাম, তখন সেগুলোর প্রতি আমার ব্যাকুলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেত এবং তা আরও সুদৃঢ় হতো।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عزمي على اِرتيادها. وكان يجيء في غضون حديث القوم عن وصف تلك البلاد ذكر الخيل المحكّمة الخلقة الكريمة الأصل وأنّها في تلك الجهات تمتاز كثيراً عن غيرها بسرعة العدو واِعتدال الصورة وكبر القامة، فكان ذلك يزيد في تنشيطي ويقوّي من عزيمتي سيما وأنّي مولعٌ بالخيل ولي غرام عظيم باقتنائها. كما أنّي أميل كلّ الميل إلى الشجاعة والشجعان وأحبّ ملء قلبي الفروسيّة والفرسان. وكان فيما سمعته من غير واحد أنّ بعض الطوائف في تلك البقاع يحسنون اِختيار الخيل ويجيدون ركوبها على أتمّ ضروب الفروسيّة وأكمل خواصّها، وأنّ أخصّهم في هذا المعنى وأشهرهم به فوارس الدنادشة وأبطال العكاكرة.
الدنادشة والعكاكرةهما قبيلتان يقال إنّ الأولى منهما أصل جدّها من اليمن ونزل حوران منذ ثلاثة قرون، ثمّ هاجروا من حوران وسكنوا برج الدنادشة فوق تل كلخ مقرّهم الحالي. وكان زعيمهم إذ ذاك يسمى الشيخ إسماعيل، ولقّبه التركمان جيرانه باسم دندشلي، لأنّه كان يزين خيله بعذبات مرسلة تسمّى دنادش. ثمّ رحل شقيقه مع بعض قبيلته إلى حوران وهم الفُحيليون إلى الآن، وزعيمهم مقيم في تل كلخ، ثمّ هم مسلمون سنيّون ولهم ولعٌ غريبٌ بالفروسيّة، ولهم أيضاً عقارات واسعة في سهل البقيعة. وهناك طائفة من المتاولة تسمّى الدنادشة أو بني دندش ويقيمون في عكّار وما يجاور الهرمل وحمص. ولعلّ العكاكرة قبيلة من هؤلاء تنسب إلى عكّار البلد المذكور هذا. وكم كنت أشعر باِرتياح نفسي واِنشراح صدري حينما كنت أذكر مروري بين آثار المتقدّمين، وما عساه أن يكون قد غفلت عنه عين الدهر وأخطأته يد الدّمار من مخلّفات الحروب الّتي تعاقبت على تلك البلاد زمناً طويلاً، خصوصاً من يوم أن فتحها المسلمون إلى أن صارت في أيدي العثمانيّين. نعم، ولعلّي أستطيف حول مواقع الحروب الصليبيّة لأنظر تلك القلاع المتينة، والحصون المكينة الّتي لا تزال تنم على فضل مؤسّسيها نمّ الزجاجة على ما فيها. وهناك تتجلّى مدينة الشرق أوّل أمرها في ما لا يزال يناطح الدّهر إلى اليوم بل حتّى آخر الزمان من آثار العمالقة الأولى
সেখানে ভ্রমণের জন্য আমার সংকল্প দৃঢ় হলো। লোকমুখে সেই অঞ্চলের বর্ণনার সময় সুঠাম দেহ ও অভিজাত বংশীয় ঘোড়ার কথা উঠে আসত। বলা হতো যে, সেই অঞ্চলের ঘোড়াগুলো দ্রুতগতি, শারীরিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘাকৃতির দিক থেকে অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক উন্নত। এসব কথা আমার উৎসাহ বৃদ্ধি করত এবং আমার সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করত; বিশেষ করে আমি ঘোড়ার প্রতি আসক্ত এবং ঘোড়া পালনের প্রতি আমার প্রবল অনুরাগ রয়েছে। পাশাপাশি আমি সাহস ও সাহসীদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং হৃদয়ের গভীর থেকে বীরত্ব ও বীরদের ভালোবাসি। আমি অনেকের কাছে শুনেছি যে, সেই ভূখণ্ডের কিছু গোষ্ঠী ঘোড়া নির্বাচনে দক্ষ এবং অশ্বারোহণের সকল কৌশল ও গুণে পূর্ণ পারদর্শী। এই বিষয়ে সবচেয়ে বিশেষ ও প্রসিদ্ধ হলো দানা্দিশা গোত্রের অশ্বারোহী এবং আকাকরা গোত্রের বীরগণ।
দানা্দিশা ও আকাকরাতারা দুটি কবিল বা গোষ্ঠী। বলা হয় যে, তাদের মধ্যে প্রথমটির আদিপুরুষের আদি নিবাস ছিল ইয়েমেনে এবং তিন শতাব্দী আগে তারা হাওরানে অবতরণ করে। পরবর্তীতে তারা হাওরান থেকে হিজরত করে তাদের বর্তমান আবাসস্থল তাল কালখের উপরে অবস্থিত 'বুরজু দানা্দিশা'য় বসবাস শুরু করে। সেই সময়ে তাদের নেতার নাম ছিল শেখ ইসমাইল। তার তুর্কমেন প্রতিবেশীরা তাকে 'দানা্দিশলি' উপাধিতে ভূষিত করেছিল, কারণ তিনি তার ঘোড়াগুলোকে 'দানা্দিশ' নামক ঝুলন্ত রেশমি সুতা দিয়ে সাজাতেন। এরপর তার সহোদর ভাই নিজের বংশের কিছু লোক নিয়ে পুনরায় হাওরানে চলে যান, যারা বর্তমানে 'ফুহাইলিয়ুন' নামে পরিচিত। তাদের নেতা তাল কালখে অবস্থান করেন। তারা সুন্নি মুসলিম এবং বীরত্বের প্রতি তাদের এক অদ্ভুত টান রয়েছে। এছাড়া বাক্বিআ উপত্যকায় তাদের বিশাল ভূসম্পত্তি রয়েছে। সেখানে 'মাতাওয়ালা' সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী রয়েছে যাদের দানা্দিশা বা বনু দানদাশ বলা হয়। তারা আক্কার এবং হারমাল ও হিমসের সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে। সম্ভবত আকাকরা গোত্রটি তাদেরই একটি অংশ যারা উল্লিখিত আক্কার শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। আমি যখন পূর্ববর্তীদের স্মৃতিচিহ্নের মাঝ দিয়ে পথ চলার কথা ভাবতাম, তখন এক মানসিক প্রশান্তি ও হৃদয়ের প্রফুল্লতা অনুভব করতাম। সেই স্মৃতিচিহ্নগুলোর মাঝে হয়তো এমন কিছু অবশিষ্ট ছিল যা কালের নিষ্ঠুর দৃষ্টি থেকে বেঁচে গেছে এবং ধ্বংসের হাত যা স্পর্শ করতে পারেনি—সেই দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ যা এই ভূখণ্ডে একের পর এক সংঘটিত হয়েছিল, বিশেষ করে মুসলমানদের বিজয়ের দিন থেকে শুরু করে উসমানীয়দের শাসনামলে আসা পর্যন্ত। হ্যাঁ, হয়তো আমি ক্রুসেড যুদ্ধের ময়দানগুলোর চারপাশে ঘুরে দেখব, যাতে সেই সুদৃঢ় দুর্গ ও মজবুত প্রাচীরগুলো দেখতে পাই, যা আজও তাদের নির্মাতাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে যেমন স্বচ্ছ কাঁচের পাত্র তার ভেতরের বস্তুকে ফুটিয়ে তোলে। সেখানে প্রাচ্যের মাহাত্ম্য তার আদি রূপে প্রকাশ পায়, যা আদি আমালিকা সম্প্রদায়ের সেইসব নির্দশনের মাঝে আজও কালের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে আছে, এমনকি তা শেষ জামানা পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومخلّفات الرومان. وما بقي يحكي قوّة الأشوريّين، ويذكّر بسلطان الفينيقيّين، وعظمة البيزانطيّين، وتبدو حضارة الإسلام فيما جدّده بعد ذلك غزاته الفاتحون وملوكه السالفون، وهو ما به يسطع نور الحجّة على عظم صولتهم وكبر دولتهم وهمّتهم وسعة علمهم وغزارة حكمتهم.
تلكَ آثارنا تَدلُّ عَلينا
… فانظروا بَعدَنا إلى الآثارِ
وعندئذ ما كان أدعانا أن نحمد الله إلى هؤلاء القوم ونشكر لهم سعيهم الجميل بل نحمد الله الّذي هدانا لهذا ووفّقنا له وما كنّا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
ونعود بجميل الثناء وجزيل الشكر لسموّ الجناب العالي الخديوي الّذي ما كدت أعرض على سموّه الأمر، وألتمس إذنه الكريم بالسّفر حتّى تفضّل - حفظه الله - فزاد على إذنه بذلك أن أتحفني بمرافقة حضرة الفاضل أحمد بك العريس، لمناسبة أن حضرته من أهل الشام، وله مكانة كبيرة من صدور الشاميّين، فضلاً عن كونه من أصحاب البيوت العتيقة في المجد والشرف وعلى علم تام من أخلاق القوم وعوائدها. وكذلك تفضّل الجناب العالي - حفظه الله - فأرسل معنا حضرة محمود خيري أفندي، أحد ضباط الحرس الخديوي، ياورا خاصاً لنا مدّة هذه السياحة. ثمّ إنّي قبل السفر ببضعة أيّام كنت طلبت إلى شركة كوك أن تبعث إلينا رسولاً من قبلها لنستعلمه عن كيفية السفر، وبالأخص عن كيفية السير إلى بغداد من طريق حلب، فأخبرنا بأن الطريق من حلب إلى بغداد من الطرق التي لم تمسّها يد الحضارة إلى الآن، وأنه بلغ من الطول بحيث أن المسافر فيه يظلّ خمسة عشر يوماً راكباً على متون الدواب، لأنّه لا مركب ثمت إلا الخيل أو عربات البريد. وهذا مركب صعب شاق، خصوصاً إذا كان المسافر ممّن لم يتعوّدوا السفر غير في طريق السكّة الحديديّة. وعند ذلك لم يسعني غير أن عدلت خطتي الأولى وتركت زيارة عاصمة العراق إلى أن يذلّل الله المصاعب ويسهّل للمسافر الطريق.
এবং রোমানদের ধ্বংসাবশেষ। যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা আশারীয়দের শক্তি বর্ণনা করে, ফিনিশীয়দের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বাইজান্টাইনদের মহিমার সাক্ষ্য দেয়। আর ইসলামের সভ্যতা পরিস্ফুট হয় সেই সব নিদর্শনের মাধ্যমে যা পরবর্তীতে এর বিজয়ী বীরগণ এবং পূর্বসূরি সম্রাটগণ সংস্কার করেছিলেন। এটিই সেই আলোকোজ্জ্বল প্রমাণ যা তাদের বিশাল প্রতাপ, সুবৃহৎ রাষ্ট্র, সুউচ্চ হিম্মত, জ্ঞানের প্রশস্ততা এবং প্রজ্ঞার প্রাচুর্যের ওপর আলোকপাত করে।
এগুলোই আমাদের কীর্তিচিহ্ন যা আমাদের পরিচয় বহন করে
… সুতরাং আমাদের পরে এই নিদর্শনগুলোর দিকে তাকাও।
এমতাবস্থায় এই লোকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাদের সুন্দর প্রচেষ্টার জন্য তাদের শুকরিয়া আদায় করা আমাদের জন্য কতটা সমীচীন ছিল! বরং আমরা সেই আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি আমাদের এর জন্য পথ প্রদর্শন করেছেন এবং তৌফিক দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না।
আমরা মহামান্য খেদিভ আল-জানাব আল-আলীর প্রতি সুন্দর প্রশংসা এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যাঁর কাছে আমি বিষয়টি উত্থাপন করা মাত্রই এবং ভ্রমণের মহান অনুমতি প্রার্থনা করা মাত্রই তিনি অনুগ্রহ করলেন—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—এবং তাঁর অনুমতির সাথে অতিরিক্ত উপহার হিসেবে আমার সাথে ফজিলতমাআব আহমদ বেগ আল-আরিসকে সফরসঙ্গী হিসেবে দিলেন; কেননা তিনি শামের অধিবাসী এবং শামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মাঝে তাঁর বিশাল মর্যাদা রয়েছে। তাছাড়া তিনি আভিজাত্য ও সম্মানের প্রাচীন ঘরানার বংশোদ্ভূত এবং সেই জনপদের মানুষের চরিত্র ও রীতিনীতি সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল। একইভাবে মহামান্য—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—আমাদের সাথে খেদিভী রক্ষীবাহিনীর অন্যতম কর্মকর্তা মাহমুদ খাইরি এফেন্দিকে পাঠিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, যিনি এই পর্যটন চলাকালে আমাদের বিশেষ দেহরক্ষী হিসেবে থাকবেন। অতঃপর ভ্রমণের কয়েক দিন পূর্বে আমি কুক কোম্পানির কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যেন তারা তাদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠায়, যার মাধ্যমে আমরা ভ্রমণের ধরন সম্পর্কে জানতে পারি—বিশেষ করে আলেপ্পো হয়ে বাগদাদ যাওয়ার পথ সম্পর্কে। সে আমাদের জানালো যে, আলেপ্পো থেকে বাগদাদ পর্যন্ত পথটি এমন এক পথ যেখানে আধুনিক সভ্যতার হাত আজও স্পর্শ করেনি। এটি এতটাই দীর্ঘ যে একজন ভ্রমণকারীকে পনের দিন পশুর পিঠে চড়ে কাটাতে হয়; কারণ ঘোড়া বা ডাক-গাড়ি ব্যতীত সেখানে আর কোনো বাহন নেই। আর এটি একটি অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য সফর, বিশেষ করে যদি ভ্রমণকারী এমন ব্যক্তি হন যিনি রেলপথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে ভ্রমণে অভ্যস্ত নন। তখন আমার জন্য প্রথম পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না এবং আমি ইরাকের রাজধানী দর্শনের পরিকল্পনা স্থগিত করলাম, যতক্ষণ না আল্লাহ এই প্রতিকূলতাগুলো দূর করেন এবং ভ্রমণকারীদের জন্য পথ সুগম করে দেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
السفر من بور سعيدمن حسن الاتّفاق أنّ سفرنا من ميناء بور سعيد كان يوم الجمعة 21 ربيع الأوّل سنة 1328 فكان يوماً ميمون الطلعة حسن الفأل. وكان أوّل طوالع البر والخير لهذه الرحلة السعيدة. فبعد أن أدّينا فريضة الجمعة في الجامع العبّاسي، وتناولنا طعام الغداء لدى سعادة محافظ المدينة، توجّهنا على بركة الله إلى الباخرة الفرنسية، وهي إحدى بواخر شركة (مساجري). وكان يودّعنا جمّ غفير من رجال الحكومة وأعيان البلد ومظاهرها يتقدّمهم مع حضرات العلماء سعادة المحافظ. وحينما وصلنا إلى الباخرة ألفينا رئيس الشركة في انتظارنا من أجل أن يهدينا إلى المخدع الّذي أعدّ لنا هناك. ثمّ ما كدنا نسكن إلى مجالسنا من المكان حتّى استدعى الرئيس قبطان السفينة، وأخذ يلقي عليه من الأوامر والتعليمات اللازمة لراحتنا في هذا السفر ما شاء الله أن يلقي، وكان القبطان يلبّي رئيسه إلى ذلك طائعاً مسروراً. ولم يمض علينا من وقت وصولنا إلى المركب إلا نصف الساعة تقريباً حتّى بارحنا الميناء مودّعين من جناب المحافظ ومن كان معه بغاية الحفاوة والإكرام.
بيروتوما زلنا مسافرين والباخرة تنفذ في أكباد البحر وتمزّق أحشاء الماء، حتّى ألقت مراسيها في وسط ميناء بيروت حيث دخلناها في صباح يوم السبت 22 ربيع الأول. وهناك وقع نظرنا لأول مرّة على الجهات الشاميّة الجميلة. وحينئذٍ لا تسل عمّا كان يتجدّد في صدورنا من الانشراح والسرور بمشاهدة تلك البقاع الّتي لها في تاريخ الإسلام ذلك المكان المعروف، خصوصاً عندما رأينا جبل لبنان مشرفاً على بيروت وضواحيها إشراف الملك على رعيّته والقائد على جنده، وكأنّه لم يكتف بأن يشرف على الدأماء حتّى أراد أن يعانق الجوزاء. وممّا نشكر الله له ونحمده عليه أنّنا ما لقينا من سفرنا هذا نصباً لأنّ الجوّ كان في غاية الاعتدال، وكان البحر بالمصادفة ساكناً هادئاً يهدي إلينا في طيّات
পোর্ট সাঈদ থেকে যাত্রাএটি একটি সুন্দর সংযোগ ছিল যে, পোর্ট সাঈদ বন্দর থেকে আমাদের সফরটি শুরু হয়েছিল ১৩২৮ হিজরির ২১শে রবিউল আউয়াল রোজ শুক্রবার। দিনটি ছিল অত্যন্ত বরকতময় ও শুভলক্ষণযুক্ত। এটি ছিল এই আনন্দময় সফরের কল্যাণ ও নেক কাজের প্রথম শুভ সূচনা। আব্বাসীয় জামে মসজিদে জুমার ফরজ ইবাদত আদায় করার পর এবং শহরের সম্মানিত গভর্নরের মেহমানদারিতে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করে আমরা আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে ফরাসি জাহাজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এটি ছিল 'মেসাজেরি' (Messageries) কোম্পানির একটি জাহাজ। সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এক বিশাল জনতা আমাদের বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন; যাদের অগ্রভাগে ছিলেন ওলামায়ে কেরাম ও সম্মানিত গভর্নর সাহেব। যখন আমরা জাহাজে পৌঁছলাম, তখন কোম্পানির প্রধানকে আমাদের অপেক্ষায় রত পেলাম, যাতে তিনি আমাদের জন্য সেখানে নির্ধারিত কামরায় নিয়ে যেতে পারেন। অতঃপর আমরা আমাদের বসার স্থানে স্থির হতে না হতেই প্রধান কর্মকর্তা জাহাজের ক্যাপ্টেনকে ডেকে পাঠালেন এবং এই সফরে আমাদের আরাম-আয়েশের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করতে শুরু করলেন, যা আল্লাহ প্রদানের ইচ্ছা করেছিলেন। ক্যাপ্টেনও অত্যন্ত সানন্দে ও আনুগত্যের সাথে তাঁর প্রধানের নির্দেশনাবলি গ্রহণ করছিলেন। জাহাজে পৌঁছানোর পর থেকে প্রায় আধা ঘন্টাও অতিবাহিত হয়নি, এমতাবস্থায় আমরা বন্দর ত্যাগ করলাম। এ সময় গভর্নর সাহেব এবং তাঁর সাথে থাকা ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সম্মানের সাথে আমাদের বিদায় জানালেন।
বৈরুতআমাদের জাহাজ সমুদ্রের বুক চিরে এবং পানির উদর বিদীর্ণ করে অবিরাম পথ চলছিল, যতক্ষণ না এটি বৈরুত বন্দরের মাঝখানে নোঙর ফেলল। আমরা সেখানে ২২শে রবিউল আউয়াল শনিবার সকালে প্রবেশ করলাম। সেখানেই সিরীয় অঞ্চলের মনোরম সৌন্দর্যের ওপর আমাদের প্রথম দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। তখন ইসলামের ইতিহাসে সুপরিচিত সেই বরকতময় স্থানগুলো দর্শনে আমাদের হৃদয়ে যে অনাবিল আনন্দ ও প্রফুল্লতা নতুন করে অনুভূত হয়েছিল, তা বর্ণনাতীত। বিশেষ করে যখন আমরা লেবানন পাহাড়কে বৈরুত ও এর আশেপাশের অঞ্চলের ওপর এমনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, যেন কোনো রাজা তার প্রজাদের ওপর কিংবা কোনো সেনাপতি তার সৈন্যদের ওপর তদারকি করছেন। দেখে মনে হচ্ছিল, বিশাল জলরাশির ওপর নজর রেখেই পাহাড়টি ক্ষান্ত হয়নি, বরং সে যেন আকাশমণ্ডলীকে আলিঙ্গন করতে চাইছে। আমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে, এই সফরে আমাদের কোনো প্রকার ক্লান্তি স্পর্শ করেনি; কারণ আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ এবং ঘটনাক্রমে সমুদ্র ছিল শান্ত ও স্থির, যা তার ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে আমাদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছিল...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أبراد النسيم تحيّة نديّة وسلاماً مزاجه من تسنيم. ولقد لمحنا أثناء وقوفنا مركباً حربيّة صغيرة من مدرعات الحكومة العثمانيّة كانت راسية في مياه الميناء إلى ناحية من الشاطئ. وكان يلوح لنا من شكلها أنّها من ضمن المراكب التابعة لمصلحة خفر السواحل. ولمّا كان من العوائد المتّبعة قديماً في هذه البلاد أنّ الوافدين على بيروت من أمراء الحكومة العثمانية وغيرها يستأجرون زوارقهم من هذه السفينة، ويدفعون في أجرة الزورق الواحد ما لا يقلّ عن عشرة جنيهات، وإنّما كان هذا ليمتاز الأمراء عن غيرهم من عامّة النّاس ولكي تظهر أبّهتهم وعظمتهم، حيث يوجد في هذه الفلك من النظام والجند ما ليس يوجد في غيرها ممّا يشبه الرسميات، وقد كنّا نسمع بهذه العادة من قبل وأن أحد أمراء مصر كان قد استأجر زورقاً من هذه السفينة حينما زار بعض جهات الشام، رأينا أن نتبع سبيله في ذلك ونجري تلك العادة إذ لا مانع منها وهي علينا سهلة يسيرة. وبينما نحن في الباخرة ننتظر مجيء الزورق، إذ رأينا ما يقارب الخمسة زوارق آتية تتعاقب في البحر بنظامها قاصدة إلى موقفنا من الميناء. وما أوشكت أن تدنو منّا حتّى رأينا فيها جملة أناس
من الموظّفين بين ملكيّين وعسكريّين، فما ارتبنا وقتئذٍ في أنّ هؤلاء قد أوفدتهم الحكومة المحليّة لاستقبالنا في مرسانا. وقد كان أدرك هذه الغاية من مجيء هذا الوفد حضرة عزيزنا أحمد بك العريس، فأسرع إلى مقابلتهم، ثمّ جاء بهم إلينا، وأخذ يقدّمهم واحداً واحداً. وكان أوّل من عرفته منهم جناب كاتب أوّل أسرار الولاية، وقومندان الجندرمه، ومندوب الحكومة العثمانية لدى شركة السكك الحديدية، ثمّ ناموس متصرّف جبل لبنان، ثمّ بعض أعيان مدينة بيروت وآخرين من أعضاء المجلس البلدي فيها.
وبعد أن استقرّ بهم المجلس، وقدّمت لهم لفائف التبغ، وتبودلت بيننا وبينهم عبارات التحيّة والسلام، أخبرنا جناب كاتب أسرار الولاية بأنّ دولة ناظم باشا الوالي وأركان الولاية وأعيانها جاؤوا لانتظارنا على المرفأ. وعندئذٍ لم يسعنا سوى أن نسرع
শীতল সমীরণ এক সিক্ত অভিবাদন এবং এমন এক সালাম যার সুধা তাসনীম মিশ্রিত। আমাদের অবস্থানের সময় আমরা উসমানীয় সরকারের একটি ছোট যুদ্ধজাহাজ বা সাঁজোয়া রণতরী লক্ষ্য করলাম, যা সমুদ্রসৈকতের এক পাশে বন্দরের পানিতে নোঙর করা ছিল। সেটির গঠন দেখে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছিল যে, এটি তটরক্ষী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত জাহাজগুলোর অন্যতম। যেহেতু এই অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত নিয়ম ছিল যে, উসমানীয় সরকার বা অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের যে সকল আমির বৈরুতে আসতেন, তারা এই জাহাজ থেকে নৌকা ভাড়া নিতেন এবং প্রতিটি নৌকার ভাড়া বাবদ অন্তত দশ পাউন্ড প্রদান করতেন; মূলত এটি করা হতো সাধারণ মানুষের থেকে আমিরদের স্বতন্ত্র মর্যাদা বজায় রাখার জন্য এবং তাদের জাঁকজমক ও মাহাত্ম্য প্রকাশের নিমিত্তে; কেননা এই নৌযানগুলোতে এমন শৃঙ্খলা ও সৈন্যদল থাকত যা অন্য কোনো নৌযানে পাওয়া যেত না, যা অনেকটা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মতো ছিল। আমরা এই প্রথা সম্পর্কে আগেই শুনেছিলাম এবং মিশরের একজন আমির যখন শামের কিছু এলাকা ভ্রমণে এসেছিলেন তখন তিনি এই জাহাজ থেকে নৌকা ভাড়া করেছিলেন; তাই আমরাও সেই পথ অনুসরণ করার এবং এই রীতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যেহেতু এতে কোনো বাধা ছিল না এবং এটি আমাদের জন্য সহজসাধ্য ছিল। আমরা যখন স্টিমারে চড়ে নৌকার আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন দেখতে পেলাম প্রায় পাঁচটি নৌকা সুশৃঙ্খলভাবে একের পর এক সমুদ্রের বুক চিরে আমাদের বন্দরের অবস্থানের দিকে আসছে। নৌকাগুলো আমাদের সন্নিকটে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা সেখানে একদল লোক দেখলাম
যারা বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন আমাদের মনে আর কোনো সংশয় রইল না যে, স্থানীয় সরকার তাদের পাঠিয়েছে আমাদের নোঙরস্থলে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। আমাদের প্রিয় জনাব আহমদ বেগ আল-আরিস এই প্রতিনিধি দলের আগমনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেন, তাই তিনি দ্রুত তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এগিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে এলেন এবং একে একে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলেন। তাদের মধ্যে আমি প্রথম যার সাথে পরিচিত হলাম তিনি ছিলেন প্রদেশের প্রধান সচিব, এরপর জেন্ডারমেরি (পুলিশ বাহিনী) এর কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে কোম্পানিতে উসমানীয় সরকারের প্রতিনিধি, তারপর জাবাল লুবনানের গভর্নরের একান্ত সচিব, এরপর বৈরুত শহরের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সেখানকার পৌরসভার কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ।
অতঃপর যখন তাদের উপস্থিতিতে মজলিস স্থির হলো এবং তাদের তামাকের রোল পরিবেশন করা হলো এবং আমাদের মাঝে অভিবাদন ও কুশলাদি বিনিময় হলো, তখন প্রদেশের সচিব আমাদের জানালেন যে, মহামান্য নাযিম পাশা ওয়ালি, প্রদেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাদের জন্য বন্দরে অপেক্ষা করছেন। তখন আমাদের দ্রুত করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في الذهاب إليهم حتّى لا نشقّ عليهم بطول الانتظار، فنزلنا في الزوارق بعدما شكرنا للقبطان تيقّظه في خدمتنا واهتمامه المزيد براحتنا مدّة سفرنا في البحر، غير أنّا كنّا تركنا متاعنا في عهدة أتباعنا الّذين كانوا لا يزالون في الباخرة ومعهم أحد ضباط الجندرمة الّذي كان قد خصّص بمساعدتهم في ما عسى أن تستدعيه حاجتهم ويقتضيه ترحالهم. وكانت المسافة من حين نزولنا من الباخرة إلى حين وصولنا إلى الرصيف لا تزيد عن عشر دقائق، مررنا في أثنائها على السفينة الحربية الّتي أسلفنا أنّها للحكومة العثمانية، وقد أدّيت لنا من أهلها مراسم التجلّة وإشارات التعظيم. وعندما حاذينا المرفأ تقدّم إلينا في أوّل المتقدمين صاحب الدولة ناظم باشا الوالي فبادرنا بتحيّة القدوم وحيّيناه كذلك وشكرنا له معروفه وحسن عنايته. وبعد ذلك شرع يعرّفنا بمن كانوا في انتظارنا مع دولته من علية القوم ويقدّمهم لنا واحداً بعد آخر، ونحن نستقبل الكلّ بما يليق بمكانتهم من الاحترام. فكان من بينهم جناب قومندان الموقع العسكري، وبعض العلماء
يتقدّمهم حضرة قاضي المدينة ورئيس المجلس البلدي وبعض الرؤساء الروحيّين، ثمّ كان مصطفّاً على الرّصيف فرقة من الجند النظامي ومعها موسيقاها. وبعد أن تصافحنا وشكرنا لحضرات المحتفلين لطفهم وحفاوتهم، ركبنا مركبة دولة الوالي الخاصّة الّتي قدّمها إلينا دولته وكان هو صاحبنا فيها. وكان أمامنا إذ ذاك جنديان من السواري ووراءنا أربعة منهم أيضاً، وخلف أولئك كانت مركبة عزيزنا أحمد بك العريس ومعه الياور محمود خيري أفندي ومركبات أخرى لبعض المستقبلين. وما زلنا نسير على هذه الهيئة الرسمية حتّى وصلنا إلى فندق (أوربا). وكان الطريق من الرصيف إلى ذلك الفندق غاصّاً بالأهالي من طبقات عديدة. وقد كان سرّنا جدّاً من هؤلاء المحتشدين ما كنّا نلاحظه أثناء السير من حفاوتهم بمقدمنا وسرورهم الحقيقي القلبي الّذي ما كنّا لنرتاب فيه، وإنّا لنرى البشر كان يتألّق سناه على وجوههم جميعاً، فكنت أحيّيهم كثيراً نظير ما كنت أجده بين حين وآخر من ترحيبهم وحسن وفادتهم.
আমরা তাঁদের কাছে যাওয়ার মনস্থ করলাম যেন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার মাধ্যমে তাঁদের কষ্ট না হয়। সুতরাং জাহাজের ক্যাপ্টেন আমাদের সেবায় যে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং সমুদ্রযাত্রায় আমাদের আরাম-আয়েশের প্রতি যে নিবিড় যত্ন নিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা ছোট নৌকায় অবরণ করলাম। তবে আমরা আমাদের আসবাবপত্র অনুসারীদের জিম্মায় রেখে এসেছিলাম, যাঁরা তখনও বড় জাহাজটিতে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের সাথে জেন্ডারমেরির (আধা-সামরিক বাহিনী) একজন অফিসার ছিলেন, যাঁকে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সফরের তদারকির জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। জাহাজ থেকে নামার মুহূর্ত থেকে জেটিতে পৌঁছানো পর্যন্ত দূরত্ব দশ মিনিটের বেশি ছিল না। পথিমধ্যে আমরা সেই যুদ্ধজাহাজের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে সেটি উসমানীয় সরকারের মালিকানাধীন ছিল। জাহাজের নাবিক ও সংশ্লিষ্টরা আমাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও উচ্চমর্যাদার সংকেত প্রদর্শন করল। যখন আমরা বন্দরের সমান্তরালে পৌঁছালাম, তখন আগতদের মধ্যে সর্বাগ্রে এগিয়ে এলেন মহামান্য গভর্নর নাজিম পাশা। তিনি আমাদের আগমনে সম্ভাষণ জানালেন এবং আমরাও তাঁকে অনুরূপ অভিবাদন জানালাম ও তাঁর সদাচরণ ও চমৎকার সৌজন্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। এরপর তিনি তাঁর সাথে অপেক্ষমাণ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলেন এবং একে একে তাঁদেরকে উপস্থাপন করলেন। আমরাও প্রত্যেকের পদমর্যাদা অনুযায়ী যথাযোগ্য সম্মানের সাথে তাঁদের গ্রহণ করলাম। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সামরিক ঘাঁটির কমান্ডার এবং উলামায়ে কেরামের একটি দল
যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন শহরের সম্মানিত কাজী, পৌর সভার সভাপতি এবং কয়েকজন ধর্মীয় নেতা। এরপর জেটির ওপর একদল নিয়মিত সৈন্য তাদের বাদ্যদলসহ সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মুসাফাহা শেষ করে এবং উপস্থিত সুধীবৃন্দের সৌজন্য ও উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা গভর্নরের বিশেষ যানে আরোহণ করলাম, যা তিনি আমাদের ব্যবহারের জন্য এনেছিলেন এবং তিনি নিজেও আমাদের সাথে সেই যানে অবস্থান নিলেন। তখন আমাদের সামনে দুজন অশ্বারোহী সৈন্য এবং পেছনে চারজন অশ্বারোহী পাহারায় ছিল। তাঁদের পেছনে ছিল আমাদের প্রিয় আহমদ বেগ আল-আরীসের বাহন, তাঁর সাথে ছিলেন সহকারী মাহমুদ খাইরি এফেন্দি এবং অন্যান্য অভ্যর্থনাকারীদের যানবাহন। এই রাজকীয় পরিবেশে আমরা পথ চলতে থাকলাম যতক্ষণ না আমরা 'হোটেল ইউরোপ'-এ পৌঁছালাম। জেটি থেকে হোটেল পর্যন্ত রাস্তাটি বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। জমায়েত হওয়া এই মানুষগুলোর পক্ষ থেকে আমাদের আগমনে যে উষ্ণ সংবর্ধনা ও তাঁদের অন্তরের অকৃত্রিম আনন্দ আমরা যাত্রা চলাকালীন প্রত্যক্ষ করছিলাম, তাতে আমরা অত্যন্ত প্রীত হলাম; তাঁদের এই আন্তরিকতায় সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম যে, তাঁদের প্রত্যেকের মুখমণ্ডলে আনন্দের আভা উজ্জ্বল হয়ে ফুটছিল। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে জানানো উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চমৎকার আতিথেয়তার জবাবে আমিও তাঁদের বারবার অভিবাদন জানাচ্ছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في الفندقدخلنا الفندق، وكان ينتظرنا عند مدخله صاحبه ومديره ومندوب من قبل شركة كوك، وهؤلاء أرشدونا أوّلاً إلى الحجرات الّتي خصّصت لأجلنا هناك، حيث كنّا أرسلنا قبل قيامنا من مصر إشارة برقيّة إلى صاحب هذا الفندق بإعداد الغرف اللازمة لنا فيه. وبعد ذلك دخلنا البهو ومعنا دولة الوالي الّذي كان لا يزال مرافقاً لنا، فجلسنا نتبادل من الحديث ما كان لا يتجاوز الترحيب منه بنا والشكر منّا له. وما لبثنا إلا ريثما تناولنا القهوة مع دولته حتّى وفد إلينا ثانية جميع الّذين كانوا قد خرجوا لمقابلتنا في الباخرة وعلى رصيف الميناء، فاستقبلناهم بغاية الحفاوة شاكرين لهم تكرر الزيارة، معترفين لأصغرهم قبل أكبرهم بذلك الجميل العظيم والمعروف الكبير. ثمّ مكثنا طويلاً نتحدّث، وقد تناول حديثنا أطرافاً عامّة كان
منها أن سألونا عن المدّة الّتي قدّرناها لزيارة مدينتهم. وما كدت أن أخبرهم بأنّي سأبارحهم ثاني يوم قاصداً إلى مدينة دمشق حتّى نهضوا جميعاً مستغربين ذلك الخبر، وأخذوا يلتمسون منّا بإلحاح شديد أن نطيل إقامتنا بينهم، وأنّ أقلّ ما يرجونه من المكث في ضيافتهم هو أربعة أيام. وإذ وجدت أنّ هذه المدّة كبيرة لا تتّفق هي وما كنت رسمته في خطّتي من قبل، أسفت كثيراً لأنّي لم أستطع إجابتهم على وفق عرضهم، حيث كان الوقت ضيّقاً وكان السفر أمامنا طويلاً. على أنّي وعدتهم بالإقامة في بلدهم يومين عند العودة، إن شاء الله، إجابة لملتمسهم. ثمّ اِستأذننا دولة الوالي في الانصراف، فرافقناه إلى أن ركب العربة شاكرين له ما أبداه لنا من العناية والاهتمام. وقد اِنصرف على أثره حضرات الزائرين أيضاًَ مودّعين منّا بمزيد الشكر والثناء. كلّ هذا والخدم لم يزالوا متأخّرين، وما ندري وقتئذٍ إذا كانوا في الطريق أم ما برحوا موجودين في الباخرة. وكان يهمّنا حضورهم سريعاً بالمتاع وفيما نحن ننتظرهم بفروغ الصبر إذ رأيناهم يصعدون على سلّم الفندق وبينهم عبد أسود كان
হোটেলেআমরা হোটেলে প্রবেশ করলাম। এর প্রবেশপথে হোটেলের মালিক, ম্যানেজার এবং কুক কোম্পানির একজন প্রতিনিধি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা প্রথমে আমাদের সেই কক্ষগুলোর দিকে নিয়ে গেলেন যা সেখানে আমাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল; কেননা আমরা মিশর থেকে রওনা হওয়ার আগেই এই হোটেলের মালিকের কাছে একটি টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলাম যাতে তিনি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষগুলো প্রস্তুত রাখেন। এরপর আমরা হলরুমে প্রবেশ করলাম, আমাদের সাথে মহামান্য ওয়ালি ছিলেন যিনি তখনও আমাদের সঙ্গ দিচ্ছিলেন। আমরা বসে আলাপ-আলোচনা শুরু করলাম যা মূলত তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি অভ্যর্থনা এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মহামান্য ওয়ালির সাথে কফি পান করতে করতে যতটুকু সময় অতিবাহিত হলো, তার মধ্যেই সেই সমস্ত লোক পুনরায় আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন যারা জাহাজে এবং বন্দরের জেটিতে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমরা তাঁদের অত্যন্ত উষ্ণতার সাথে অভ্যর্থনা জানালাম এবং বারবার আসার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম; তাঁদের ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলের সেই মহানুভবতা ও অসামান্য সৌজন্যের কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করলাম। এরপর আমরা দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতায় মগ্ন থাকলাম, যেখানে বিভিন্ন সাধারণ বিষয় ছিল
যার মধ্যে একটি ছিল তাঁদের শহর ভ্রমণের জন্য আমরা কতটুকু সময় নির্ধারণ করেছি সে সম্পর্কে তাঁদের জিজ্ঞাসা। আমি যখনই তাঁদের জানালাম যে, আমি দ্বিতীয় দিনেই দামেস্ক শহরের উদ্দেশ্যে তাঁদের ছেড়ে চলে যাব, তখনই তাঁরা সকলে এই সংবাদে আশ্চর্যান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমাদের কাছে অনুরোধ করতে লাগলেন যেন আমরা তাঁদের মাঝে অবস্থানের সময় দীর্ঘ করি এবং তাঁদের আতিথ্যে আমাদের অবস্থানের ব্যাপারে তাঁদের ন্যূনতম প্রত্যাশা হলো চার দিন। যখন আমি দেখলাম যে এই সময়কাল দীর্ঘ এবং আমার পূর্বপরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তখন আমি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করলাম যে তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী সাড়া দিতে পারছি না; কারণ সময় ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং আমাদের সামনে দীর্ঘ সফর বাকি ছিল। তবে তাঁদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি ওয়াদা করলাম যে, ফেরার পথে ইনশাআল্লাহ আমি তাঁদের শহরে দুই দিন অবস্থান করব। এরপর মহামান্য ওয়ালি বিদায় নেওয়ার অনুমতি চাইলেন; তিনি গাড়িতে আরোহণ করা পর্যন্ত আমরা তাঁর সাথে গেলাম এবং আমাদের প্রতি তিনি যে যত্ন ও মনোযোগ প্রদর্শন করেছেন তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালাম। তাঁর প্রস্থানের পর দর্শনার্থী ভদ্রমহোদয়গণও বিদায় নিলেন এবং আমরা তাঁদের অশেষ ধন্যবাদ ও প্রশংসার সাথে বিদায় জানালাম। এই পুরোটা সময় খাদেমরা তখনও আসছিল না; আমরা তখন জানতাম না তারা কি পথে আছে নাকি এখনও জাহাজেই রয়ে গেছে। মালপত্রসহ তাদের দ্রুত আসা আমাদের জন্য জরুরি ছিল। যখন আমরা অত্যন্ত ধৈর্যহীনভাবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তখনই আমরা তাদের হোটেলের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে দেখলাম এবং তাদের মাঝে একজন কৃষ্ণাঙ্গ খাদেম ছিল যে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يحمل وحده صندوقنا الكبير فعجبنا من قوّة ذلك العبد لأن الصندوق كان قد وصل من الثقل إلى حيث لم يتصوّر أن يحمله واحد فقط ولذلك أعجبنا بهذا الأسود القوي إعجاباً عظيماً، وحينئذٍ مالت نفسنا أن نخاطبه ببعض كليمات ترتاح إليها نفسه ويأنس بها طبعه، على عادتنا مع كلّ شجاع نشيط حيث إنّ لنا ميلاً خاصاً إلى الشجعان الأقوياء، فخاطبناه بما دلّ على ميلنا نحوه على أنّنا كافأناه وأجزناه فوق أجره بما شرح صدره وسرّ خاطره.
ردّ الزيارةوقد كنّا طوينا العزم على ردّ بعض الزيارات في هذا اليوم لمن كانوا قد خفّوا لاستقبالنا وزيارتنا مرّة بعد أخرى، ورأينا أن نبادر بذلك حتّى لا يفوتنا أداء ما استحقه علينا أولئك القوم تلقاء ما لاقيناه من حفاوتهم وكرمهم وحتّى نتفرّغ
لمشاهدة ما يهمّنا أن نطّلع عليه في تلك المدينة إذ ليست مدّة إقامتنا فيها إلا ساعات. لذلك أوعزنا إلى الفندق أن يشعر بعزمنا هذا دولة الوالي الّذي اِستحسنّا أن نردّ زيارته في دار الحكومة ودولة متصرّف جبل لبنان الّذي كان في هذا الحين مقيماً في مدينة بيروت وجناب قومندان العسكر الشاهانية وقد رأينا أيضاً أن نزور هذا الأخير في مقرّ سلطته، وإنّما أشعرناهم بذلك لكي يستعدّوا لمقابلتنا في المواضع الّتي تخيّرنا زيارتهم فيها، ثمّ إني طلبت إلى بعض خدمي إحضار الملابس المعتادة في الزيارات الرسمية فلبستها وكنت قد اِستوفيت اِستعدادي كلّه لهذا الغرض في مسافة لا تزيد عن ربع الساعة.
نزلنا من الفندق وكنّا نحسب أنّنا سنذهب على تلك المركبات العامة الّتي يستأجرها النزل لمعامليه في ضمن ما يلزمهم، ولكنّا وجدنا جملة عربات خاصّة قد أرسل بها إلينا بعض أعيان المدينة الكرام فركبت إحداها، وكان معي حضرة الفاضل أحمد بك العريس. وركب عربة ثانية البكباشي خيري أفندي وذلك الضابط الّذي أسلفنا أنّه مندوب الحكومة لخدمتنا. وكانت لنا الكفاية من هاتين العربتين. ولعلّ السبب في إرسال تلك العربات أنّهم لم يجدوا من مركبات الإيجار ما كان يوافق
তিনি একাই আমাদের বিশাল বাক্সটি বহন করছিলেন, এতে আমরা সেই দাসের শক্তিতে বিস্মিত হলাম। কারণ বাক্সটি ওজনে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তা একাকী মাত্র একজন ব্যক্তি বহন করতে পারবে বলে কল্পনাও করা যেত না। এই কারণে আমরা সেই শক্তিশালী কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হলাম। তখন আমাদের প্রবৃত্তি চাইল যে, তাঁর সাথে এমন কিছু কথা বলি যাতে তাঁর মন আশ্বস্ত হয় এবং তাঁর স্বভাব আনন্দিত হয়; এটি মূলত প্রতিটি সাহসী ও চটপটে ব্যক্তির প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরাগ পোষণ করার চিরাচরিত অভ্যাস। তাই আমরা তাঁর প্রতি আমাদের অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তাঁর সাথে কথা বললাম এবং তাঁকে তাঁর পারিশ্রমিকের অতিরিক্ত পুরস্কার প্রদান করলাম, যা তাঁর অন্তরকে প্রফুল্ল এবং চিত্তকে আনন্দিত করল।
সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ প্রদানআমরা আজ সেই ব্যক্তিদের কিছু সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ প্রদান করার সংকল্প গ্রহণ করলাম, যারা বারবার আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে এবং আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমরা স্থির করলাম যে, এ কাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত যাতে তাঁদের আতিথেয়তা ও মহানুভবতার বিপরীতে তাঁদের প্রতি আমাদের যে পাওনা বা কর্তব্য রয়েছে তা পালনে কোনো ত্রুটি না হয় এবং যাতে আমরা সেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখার জন্য অবসর পাই; কারণ সেখানে আমাদের অবস্থানের মেয়াদ ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার।
এই উদ্দেশ্যে আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলাম যেন তারা আমাদের এই সংকল্পের কথা মহামান্য ওয়ালীকে জানিয়ে দেয়, যাঁকে আমরা সরকারি ভবনে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ প্রদান করা সমীচীন মনে করেছি। এছাড়া জাবাল লেবাননের মুতাসাররিফ (প্রশাসক), যিনি সেই সময় বৈরুত শহরে অবস্থান করছিলেন এবং রাজকীয় বাহিনীর কমান্দানকেও যেন অবহিত করা হয়। আমরা শেষোক্ত ব্যক্তির সাথে তাঁর শাসনকার্যের সদর দপ্তরেই সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা তাঁদের এই সংবাদ পাঠালাম যাতে আমরা যে স্থানগুলো সাক্ষাতের জন্য নির্বাচন করেছি, সেখানে তাঁরা আমাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন। অতঃপর আমি আমার কয়েকজন খাদেমকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত পোশাকগুলো আনতে বললাম এবং আমি সেগুলো পরিধান করলাম। পনেরো মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে আমি এই উদ্দেশ্যের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেলাম।
আমরা হোটেল থেকে নিচে নামলাম। আমাদের ধারণা ছিল যে, হোটেলের অতিথিদের জন্য সচরাচর যেসব ভাড়ার গাড়ি নির্ধারিত থাকে, আমরা সেগুলোতেই চড়ে যাব। কিন্তু আমরা দেখলাম যে, শহরের কিছু সম্মানিত গণ্যমান্য ব্যক্তি আমাদের জন্য বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমি তাঁদের একটিতে আরোহণ করলাম এবং আমার সাথে ছিলেন বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব আহমদ বেগ আল-আরীস। দ্বিতীয় গাড়িতে আরোহণ করলেন বিকবাশি খাইরি এফেন্দি এবং সেই অফিসার—যার কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সেবার জন্য প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আমাদের জন্য এই দুটি গাড়িই যথেষ্ট ছিল। সম্ভবত এই গাড়িগুলো পাঠানোর কারণ এই ছিল যে, তাঁরা ভাড়ার গাড়িগুলোর মধ্যে এমন কোনো বাহন খুঁজে পাননি যা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ركابنا في حفلة حافلة، تشخص إليها أبصار المحتشدين على طول الطريق وعرضه. أمّا الموكب فكان رسميّاً منتظما، ً حيث كان يسير خلفنا وأمامنا بعض الجند السواري على الهيئة الّتي وصفناها حال حضورنا من الميناء حتّى الفندق. وكان طريق مرورنا من وسط شوارع المدينة الّتي كانت غاصّة من الجانبين بالأهالي على اِختلاف أعمارهم وتفاوت أقدارهم. وكان سروري يتجدّد كلّما كنت أرى أولئك النّاس متشبثين بالعوائد الشرقيّة ومتمسّكين بالملابس القديمة والأزياء الفطريّة. ثمّ كنت أشاهد كثيراً من العامّة يتّخذون مجالسهم من المحال العمومية كالقهاوي والحوانيت التجاريّة ويتعاطون من المكيّفات المباحة ما جرت به عوائد
معظم الناس في جميع الجهات تقريباً. فمنهم من كان يدخن بالأنابيب الّتي تصنع عادة من أغصان الياسمين وتتحلّى مباسمها غالباً بالكارم الأصفر الجميل، وهي عين ما كان يستعمله المصريّون للتدخين من عهد غير بعيد، ويسمّى في متعارف أصحاب الكيوف بالشبك. ومنهم من كان يدخّن بالنارجيل على نحو ما يشاهد في القهاوي في مصر غير أنّ اِستعمال هذا النوع في بلاد الشام أكثر منه في البلاد المصريّة. وبعضهم كان يتعاطى القهوة وآخر يشرب الشاي إلى غير ذلك ممّا يشبه أن يكون نسخة طبق الأصل من عوائد المصريين في بلادهم. ولهذه المناسبة نذكر هنا كلمة عن الأخلاق ممّا تعرّفناه في تلك الرحلة، لعلّ القارئ يدرك منها نسبة ما بين العناصر الشرقية بعضها إلى بعض على ما بينها من تباعد المواطن وشتات الأماكن وتباين الأسباب والعلل واِختلاف الملل والنّحل، ثمّ نعود فنذهب في طريقنا إن شاء الله.
استطراد في الطريق إلى بحث أخلاقيإن ما صادفناه من عوائد أولئك الشاميّين في محافلهم ومجالسهم ليس في الغالب ممّا يختص بالشاميّين دون سواهم، بل هو يكاد يكون عامّاً يشاهده الإنسان في جهات كثيرة ويعرفه في عوائد أكثر الآدميّين الشهيرة. غير أنّ الناقد الّذي يتبيّن فاضل الأشياء من مفضولها، ويميّز أجناسها من فصولها ويرجع بفروعها إلى أصولها، عندما يعنى بالتنسيب ويقايس بين أخلاق أهل الشام وبين أخلاق أهل مصر لا يجد
আমাদের বহর ছিল এক জমকালো সমারোহে, যার দিকে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত সমবেত জনতার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। আর মিছিলটি ছিল আনুষ্ঠানিক ও সুশৃঙ্খল, যেখানে আমাদের সামনে ও পেছনে কিছু অশ্বারোহী সৈন্য সেই বেশভূষায় অগ্রসর হচ্ছিল, যা আমরা বন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত আসার সময় বর্ণনা করেছি। আমাদের যাতায়াতের পথ ছিল শহরের রাস্তাগুলোর মধ্য দিয়ে, যার উভয় পাশ বিভিন্ন বয়সী এবং বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। আমি যখনই দেখতাম সেই লোকেরা প্রাচ্যদেশীয় রীতিনীতি আঁকড়ে ধরে আছে এবং প্রাচীন পোশাক ও স্বাভাবিক সাজসজ্জায় অবিচল রয়েছে, তখন আমার আনন্দ নবায়ন হতো। তারপর আমি সাধারণ মানুষের অনেককে কফি হাউজ ও বাণিজ্যিক দোকানের মতো প্রকাশ্য স্থানগুলোতে আসর জমাতে দেখতাম এবং তারা সেই সকল বৈধ আসক্তিমূলক দ্রব্য সেবন করছিল যা প্রায় সকল অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন পাইপ দিয়ে ধূমপান করছিল যা সাধারণত জেসমিন বা জুঁই গাছের ডাল দিয়ে তৈরি এবং যার অগ্রভাগ সাধারণত সুন্দর হলুদ আম্বার দ্বারা সজ্জিত ছিল; এটি ঠিক তাই যা মিশরীয়রা খুব বেশি দিন আগে ধূমপানের জন্য ব্যবহার করত এবং আমোদপ্রিয় ব্যক্তিদের পরিভাষায় একে 'শাবাক' বলা হয়। তাদের কেউ কেউ নার্গিলে (হুঁকা) দিয়ে ধূমপান করছিল যেমনটা মিশরের কফি হাউজগুলোতে দেখা যায়, তবে শাম দেশে এর ব্যবহার মিশরের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের কেউ কফি পান করছিল, আবার কেউ চা পান করছিল—এভাবে আরও অনেক কিছু যা দেখে মনে হয় এটি নিজ দেশে মিশরীয়দের অভ্যাসের হুবহু অনুলিপি। এই উপলক্ষে আমরা এখানে সেই সফরে অর্জিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কিছু কথা উল্লেখ করছি, যাতে পাঠক হয়তো প্রাচ্যদেশীয় উপাদানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মাত্রা উপলব্ধি করতে পারেন; যদিও তাদের আবাসভূমি দূরবর্তী, স্থানগুলো বিচ্ছিন্ন, কারণ ও প্রভাবগুলো ভিন্ন এবং ধর্ম ও মতাদর্শে পার্থক্য রয়েছে। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পুনরায় আমাদের পথে ফিরে যাব।
নৈতিক আলোচনার পথে একটি প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের অবতারণাসেই শামী জনপদে তাদের সভা ও মজলিসে আমরা যেসব রীতিনীতির মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল শামীদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি প্রায় সাধারণ একটি বিষয় যা মানুষ অনেক অঞ্চলে দেখতে পায় এবং যা অধিকাংশ মানুষের সুপরিচিত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। তবে একজন সমালোচক—যিনি উত্তম বস্তু থেকে অধম বস্তুকে পৃথক করেন, শ্রেণির থেকে বৈশিষ্ট্যকে আলাদা করেন এবং শাখাসমূহকে তাদের মূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান—তিনি যখন শামীদের চরিত্র এবং মিশরীয়দের চরিত্রের মধ্যে সম্পর্কের অনুসন্ধান ও তুলনা করেন, তখন তিনি দেখতে পান না যে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من مسافة الفرق بينهما بعد ما يجده من غيرهما. ولا نستغرب أن نجد أنّ مجموعة العوائد والأخلاق في الشام تشبه من معظم الوجوه مجموعتها في مصر، إذ كان الشرق أبا القبيلتين ومربّيهما معاً، على أنّ علّة اِكتساب الأخلاق والصّفات لا بدّ أن ترجع إلى اِختلاط الناس وامتزاجهم بعضهم ببعض مهما اختلفت مطالع الشموس وتباينت منازع النفوس، وأنه كما قد تتقوّى العلائق
وتتوثّق الروابط بين الناس وتتضاءل وتضعف على نسبة ما يكون من المعاشرة، ويقع من الاختلاط قوّة وضعفاً وكثرة وقلّة، كذلك يكون الحال في تشابه أخلاق الناس وعاداتهم سواء في ذلك ما كان من التشابه بين الآحادِ والأفراد وما كان منه بين الأمم والجماعات. ومن أجل هذا نشاهد أنّ كثيراً من الغربيّين قد أكسبهم طول العشرة لأهل الشرق خلقاً غير خلقهم وعادة خلاف عادتهم حتّى تراهم فلا تكاد تفرّق بينهم وبين الشرقيّين إلا في قليل ممّا قويت فيه ملكاتهم وفطرت عليه غرائزهم. كما أنّا نرى مثل ذلك في كثير من أبناء الشرق وما كان يكون هذا أصلاً لولا شدّة الاختلاط وطول المعاشرة، وإن كنّا لا ننسى أيضاً أنّ من المراجع القويّة والأسباب المهمّة في ذلك عشق العادة والميل إلى تقليدها في الغير كما يشاهد في كثير من المقلّدين الّذين بالغوا في تقليد الأجنبي إلى حدّ أنّهم عادَوا عوائدهم وكرهوا تقاليدهم. على أنّه كثيراً ما ينطبع في بعض الناس خلق غيره ويقوى فيه إلى درجة أن يصير منه بمنزلة طبعه وسجيّته وعدوى الطبائع معروفة، كعدوى الأدواء سريعة الانتقال صعبة الزوال. ومن ثمّ كان ينبغي أن يحتاط الإنسان ما أمكنه من مجالسة ذوي النفوس الخبيثة والأخلاق الرديئة وأن يتخيّر أصحابه وذوي مجلسه دائماً من الحكماء والأدباء وأرباب النظر البعيد والرأي السديد، فإنه ما أخلق صاحب هؤلاء أن يستفيد دون أن يخسر، وأجدر جليس الجهّال والسفهاء أن يخسر دون أن يستفيد، وفي هذا المعنى يقول الشاعر العربي:
مجالسةُ السفيهِ سفاهُ رأيٍ
… وَمِن عقلٍ مُجالسةُ الحَكيمِ
فَإنّكَ وَالقرين معاً سَواء
… كَما قُدّ الأديمُ منَ الأديمِ
অন্যদের মধ্যে যা পাওয়া যায় তার পর তাদের উভয়ের মাঝে পার্থক্যের ব্যবধান থেকে। আমরা এতে বিস্মিত হই না যে, শামের রীতিনীতি ও নৈতিকতার সমষ্টি অধিকাংশ দিক থেকে মিসরের রীতিনীতি ও নৈতিকতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেহেতু প্রাচ্য ছিল এই উভয় গোষ্ঠীর পিতা এবং উভয়েরই লালনকারী। তবে চরিত্র ও গুণাবলী অর্জনের মূল কারণটি অবশ্যই মানুষের একে অপরের সাথে মেলামেশা এবং সংমিশ্রণের দিকেই ফিরে যাবে, সূর্যের উদয়স্থল যতই ভিন্ন হোক এবং আত্মার ঝোঁকসমূহ যতই পৃথক হোক না কেন। আর মেলামেশার শক্তি ও দুর্বলতা এবং আধিক্য ও স্বল্পতার অনুপাত অনুযায়ী মানুষের মধ্যে সম্পর্ক যেভাবে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয় অথবা সংকুচিত ও দুর্বল হয়, মানুষের চরিত্র ও অভ্যাসের সাদৃশ্যের ক্ষেত্রেও অবস্থা তেমনই হয়; চাই তা ব্যক্তিদের মধ্যকার সাদৃশ্য হোক অথবা জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যকার সাদৃশ্য হোক। এই কারণেই আমরা প্রত্যক্ষ করি যে, অনেক পশ্চিমা প্রাচ্যের অধিবাসীদের সাথে দীর্ঘ সাহচর্যের ফলে তাদের নিজস্ব স্বভাবের পরিপন্থী স্বভাব এবং অভ্যাসের বিপরীত অভ্যাস অর্জন করেছে, এমনকি আপনি তাদের দেখলে প্রাচ্যের অধিবাসীদের থেকে আলাদা করতে পারবেন না, কেবল সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া যেগুলোতে তাদের সহজাত প্রবৃত্তি শক্তিশালী এবং তাদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য প্রোথিত। যেমনটি আমরা প্রাচ্যের অনেক সন্তানের ক্ষেত্রেও দেখে থাকি, আর মেলামেশার গভীরতা এবং দীর্ঘ সাহচর্য না থাকলে এটি আদতে ঘটত না। যদিও আমরা এটিও ভুলে যাই না যে, এর অন্যতম শক্তিশালী উৎস ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অভ্যাসের প্রতি অনুরাগ এবং অন্যের অনুকরণ করার প্রবণতা, যেমনটি অনেক অনুকরণকারীর মধ্যে দেখা যায় যারা বিদেশীদের অনুকরণে এতই বাড়াবাড়ি করেছে যে তারা তাদের নিজেদের রীতিনীতিকে শত্রু মনে করতে শুরু করেছে এবং তাদের ঐতিহ্যকে ঘৃণা করছে। তাছাড়া প্রায়শই মানুষের মধ্যে অন্যের স্বভাব মুদ্রিত হয়ে যায় এবং তা এতটা শক্তিশালী হয় যে তা তার স্বভাব ও মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়। স্বভাবের সংক্রামকতা সুবিদিত, যা ব্যাধির সংক্রমণের মতো দ্রুত স্থানান্তরিত হয় এবং দূর করা কঠিন। এই কারণে মানুষের উচিত যথাসম্ভব কলুষিত আত্মা ও মন্দ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে সতর্ক থাকা এবং তার বন্ধু ও মজলিসের সাথীদের সর্বদা প্রজ্ঞাবান, সাহিত্যিক এবং দূরদর্শী ও সঠিক চিন্তার অধিকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা। কারণ এদের সাহচর্য গ্রহণকারীর জন্য কোনো ক্ষতি ছাড়াই উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা কতই না বেশি, আর মূর্খ ও নির্বোধদের সাথীর জন্য কোনো উপকার ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কতই না নিশ্চিত। এই অর্থেই জনৈক আরবি কবি বলেছেন:
নির্বোধের সংশ্রব চিন্তার নির্বুদ্ধিতা
… আর প্রজ্ঞাবানের সংশ্রব বুদ্ধিমত্তার পরিচয়
নিশ্চয়ই তুমি এবং তোমার সঙ্গী উভয়েই সমান
… যেমন চামড়ার এক ফালি অন্য ফালি থেকে কাটা হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ويقول آخر:
لا تَصحبِ الكسلانَ في حالاتهِ
… كَم صالِحٍ بِفساد آخرَ يفسدُ
عَدوى البليد إلى الجليدِ سَريعة ٌ
… وَالجَمرُ يوضعُ في الرمادِ فيخمدُ
وبالجملة فإن الإنسان من حيث هو إنسان له من أصل فطرته استعداد تام لقبول كلّ ما يدخل عليه من خير أو شر، كمثل المرآة تنطبع فيها صورة ما يعرض عليها من حسن أو قبيح. لذلك هو يستطيع أن يتحوّل كيف شاء متى شاء. فالشرقيّ الّذي نبت في صميم الشرق وتربّى على مبادئه يمكنه أن يكون وقتاً ما مضاهياً لأبناء الغرب حتّى كأنّه رضع مع اِبن الغربية من ثديٍ واحد. وما كنّا لنستغرب أن نرى أبناء الشام يشبهون أبناء مصر في تقاليدهم وعوائدهم ونحن ندرك ما بين الشعبين من كثرة الاجتماع وشدّة الاختلاط لأسباب ووجوه متعدّدة منها تبادل التجارات الشرقية واتحاد اللّغة وقرب الحوار، ذلك فضلاً عن كونهما من الحكومة العثمانية بمثابة عضوين من جسم واحد.
عود إلى بدءهذا وقد كنت أرى قطرات من الخيل تمرّ في طرق المدينة مثقلة بالأحمال، كما تسير قُطُرات الإبل في بلاد العرب فأستأنس بهذا المنظر الشرقيّ وأرتاح له ارتياح الظمآن عند رؤية الماء، حتّى إذا نحن وصلنا إلى سراي الولاية الّتي كانت واقعة في وسط المدينة (وقد ألفيناها من الخارج كبيرة الحجم ضخمة البناء إلا أنّها كانت بسيطة المنظر لا يرى عليها من الوشي والزخرف ولا من جمال الزينة ما تتحلّى به عادة قصور الحكّام والأمراء) أشرنا إلى مَن كان معنا من الجند باِنتظارنا لدى الباب الّذي دخلنا منه، حيث هناك كان (القراه قول) يؤدّي لنا مراسم التحيّة والإجلال. وما أوشكنا أن نصعد على سلّم السراي حتّى كان قد اِستشعر دولة الوالي بقدومنا
অন্য একজন বলেন:
অলস ব্যক্তিকে তার কোনো অবস্থাতেই সঙ্গী করো না
… কত যোগ্য ব্যক্তি অন্যের ভ্রষ্টতার কারণে নষ্ট হয়ে যায়
নির্বোধের সংক্রামক ব্যাধি বুদ্ধিমানের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
… আর জ্বলন্ত অঙ্গার যখন ছাইয়ের মধ্যে রাখা হয়, তখন তা নিভে যায়
সারসংক্ষেপ এই যে, মানুষ মানুষ হিসেবে তার স্বভাবজাত প্রকৃতির মূল থেকেই তার মাঝে প্রবেশকারী ভালো কিংবা মন্দের সবকিছু গ্রহণ করার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে; যেমন আয়নার সামনে যা কিছু উপস্থাপন করা হয়, চাই তা সুন্দর হোক বা কুৎসিত, তার প্রতিচ্ছবি তাতে মুদ্রিত হয়ে যায়। এই কারণে সে যখন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা নিজেকে পরিবর্তিত করতে পারে। সুতরাং একজন প্রাচ্যদেশীয় ব্যক্তি যে প্রাচ্যের অন্তরে বেড়ে উঠেছে এবং তার মূলনীতির ওপর প্রতিপালিত হয়েছে, সে কোনো এক সময় পাশ্চাত্যের সন্তানদের সমতুল্য হয়ে যেতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে সে যেন কোনো এক পাশ্চাত্য নারীর একই স্তন্যদুগ্ধ পান করেছে। আর আমরা সিরিয়াবাসীদের তাদের প্রথা ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে মিশরবাসীদের সদৃশ দেখে বিস্মিত হই না, কারণ আমরা এই দুই জাতির মধ্যকার অত্যধিক মেলামেশা এবং গভীর সংমিশ্রণের বিষয়টি উপলব্ধি করি। যার বহুবিধ কারণ ও দিক রয়েছে, যার মধ্যে প্রাচ্যদেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের আদান-প্রদান, ভাষার ঐক্য এবং ভৌগোলিক নৈকট্য অন্যতম। তাছাড়া উসমানীয় সরকারের অধীনে তারা এক দেহের দুটি অঙ্গের সমতুল্য ছিল।
প্রারম্ভে প্রত্যাবর্তনএদিকে আমি শহরের রাস্তায় ঘোড়ার বহরকে মালবোঝাই অবস্থায় যেতে দেখতাম, যেমনটি আরব দেশে উটের কাফেলা চলাচল করে। আমি এই প্রাচ্যদেশীয় দৃশ্যে অভ্যস্ত ছিলাম এবং এতে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানি দেখে যেমন প্রশান্তি পায়, তেমনি প্রশান্তি অনুভব করতাম। পরিশেষে আমরা যখন শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত প্রাদেশিক প্রাসাদে পৌঁছলাম (বাইরে থেকে আমরা এটিকে বিশাল আকৃতির ও সুদৃঢ় কাঠামোর দেখতে পেলাম, তবে এর দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ; এতে সাধারণত শাসক ও আমিরদের প্রাসাদে যে ধরনের কারুকাজ, জাঁকজমক ও সৌন্দর্যের অলঙ্করণ দেখা যায়, তেমন কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি), তখন আমাদের সাথে থাকা সৈন্যদের নির্দেশ দিলাম সেই দরজার কাছে অপেক্ষা করতে যেখান দিয়ে আমরা প্রবেশ করেছিলাম, যেখানে রক্ষী বাহিনী আমাদের অভিবাদন ও সম্মান প্রদর্শন করছিল। আমরা প্রাসাদের সিঁড়িতে আরোহণ করতে না করতেই মহামান্য ওয়ালি আমাদের আগমনের খবর পেয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فخرج لاِستقبالنا في الحال، وسار بنا إلى البهو الكبير حيث جلسنا هناك وقتاً نتحدّث بعد أن قدّم لنا دولة الباشا الوالي جملة من كبار الموظّفين في دائرة الحكومة. وقد تناول حديثنا مع دولته عدّة مواضع أذكر أنّي
سألته في خلالها عمّا إذا كان يحسن بمثلي أن يطوف على بعض جهات المدينة ليرى آثارها وعجائبها، وأن يختلط في هذه البلاد ببعض القوم إذا هو أراد أن يجاملهم بردّ زيارة أو إجابة دعوة أو ما يشبه ذلك ممّا قد يحصل عادة بين الضيف والمحلي. على أنّي ما قصدت من رحلتي إلى بلاد سوريا سوى تبديل الهواء والتنزّه طلباً للصحّة والوقوف على آثار الشام وغرائبها لكي أضمّ ما أعرفه منها إلى ما سبق لي أن عرفته من البلاد الأخرى، وأنّي أخشى إذا أنا فعلت شيئاً ممّا ذكرته أن تتشوّش الحكومة العثمانية منه أو أن ينالنا من قبلها شيء. وقد بادرني دولته بأنّي أكون مطلق السبيل في سياحتي وأن ليس عليّ حرج أن أزور من النّاس من أحب وأن أتجوّل من جهات المدينة وضواحيها فيما أريد. وحينئذٍ تبادلنا عبارات الشكر والثناء. أمّا دولة ناظم باشا فقد رأينا منه في ذلك المجلس الصغير رجلاً رشيد السياسة سديد الرأي غاية في الذكاء والفطنة وديع النفس ليّن العريكة، لا يشكّ محدّثه في أنّه تربّى في حجر الفضيلة تربية صحيحة، واِستفاد من اِحتكاكه بسياسة الشعوب وتقلّبه الكثير في أرقى مناصب الحكومة خبرة واسعة وعلماً غزيراً. وبالجملة فإنّه من أعظم رجال الحكومة العثمانية كفاءة واِستعداداً لإدارة شؤون البلاد وسياسة الرعيّة. ثمّ إنّنا وجدنا في تلك السراي من كثرة المستخدمين والزائرين ما كان يدلّ على شدّة الحركة وتواصل العمل.
زيارة متصرّف جبل لبنانبعدما انقضت زيارتنا لدولة الوالي توجّهنا مودّعين من دولته بكلّ حفاوة إلى دار صاحب الدولة يوسف باشا متصرّف لبنان. وهي مكان جميل المنظر قائم على مرتفع من الأرض في بقعة من بيروت تعرف بالروميلي. وهناك توجد أيضاً مساكن قناصل الدول وسراة المسيحيين وأعيانهم. فاستقبلنا عند مدخل السراي بفرقة من العساكر ومعها موسيقاها. وقد أعجبت كثيراً بارتداء هؤلاء الجند السلط
والسراويل وبأنّهم
এরপর তিনি তৎক্ষণাৎ আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এলেন এবং আমাদের নিয়ে একটি বিশাল হলের দিকে অগ্রসর হলেন। সেখানে আমরা বেশ কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করলাম। এর আগে মাননীয় পাশা ওয়ালি সরকারি দপ্তরের একদল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর সাথে আমাদের কথোপকথনে বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছিল। আমার মনে পড়ে, সেই আলোচনার ফাঁকে আমি
তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আমার মতো একজন ব্যক্তির পক্ষে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখা, সেখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর স্থানগুলো দর্শন করা এবং এ দেশের মানুষের সাথে মেলামেশা করা সমীচীন হবে কি না; বিশেষ করে যদি কেউ তাদের সৌজন্যমূলক সাক্ষাতের উত্তর দিতে চায়, দাওয়াত গ্রহণ করতে চায় অথবা মেহমান ও স্থানীয়দের মধ্যে সাধারণত ঘটে থাকে এমন কোনো সামাজিক আচরণ করতে চায়। যদিও সিরিয়া ভ্রমণে আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ভ্রমণ করা এবং শামের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও আশ্চর্যজনক বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ করা, যাতে আমি এখান থেকে অর্জিত জ্ঞানকে অন্য দেশগুলো সম্পর্কে আমার আগের অর্জিত জ্ঞানের সাথে যুক্ত করতে পারি। আমি আরও ব্যক্ত করেছিলাম যে, আমি যদি উল্লেখিত কাজগুলো করি তবে উসমানীয় সরকার এতে বিভ্রান্ত হতে পারে বা তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করি। জবাবে মহামান্য আমাকে আশ্বস্ত করলেন যে, আমার ভ্রমণে আমি পূর্ণ স্বাধীন এবং আমি চাইলে যে কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি এবং শহরের যেকোনো প্রান্ত বা আশপাশের এলাকাগুলোতে নিজের ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াতে পারি; এতে কোনো বাধা নেই। তখন আমরা একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করলাম। আর মাননীয় নাজিম পাশা সম্পর্কে বলতে গেলে, সেই সংক্ষিপ্ত মজলিসে আমরা তাঁকে একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক, সঠিক মতামতের অধিকারী এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র স্বভাবের ও অমায়িক। তাঁর সাথে আলাপকারী মাত্রই নিঃসঙ্কোচে বুঝতে পারবেন যে, তিনি সচ্চরিত্রের ছায়াতলে যথাযথভাবে লালিত-পালিত হয়েছেন। বিভিন্ন জাতির রাজনীতির সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং সরকারের উচ্চপদস্থ পদগুলোতে দীর্ঘদিনের কর্মতৎপরতা তাঁকে এক বিশাল অভিজ্ঞতা ও অগাধ জ্ঞান দান করেছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি উসমানীয় সরকারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রজাশাসনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। এরপর আমরা সেই প্রাসাদে কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের এত ভিড় দেখলাম, যা কাজের ব্যস্ততা ও নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতার সাক্ষ্য দিচ্ছিল।
জাবালে লেবাননের মুতাসাররিফ (গভর্নর) পরিদর্শনওয়ালির সাথে আমাদের সাক্ষাৎ শেষ হওয়ার পর, তাঁর কাছ থেকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনার সাথে বিদায় নিয়ে আমরা লেবাননের মুতাসাররিফ মহামান্য ইউসুফ পাশার বাসভবনের দিকে রওনা হলাম। এটি অত্যন্ত মনোরম একটি স্থান, যা বৈরুতের রুমাইলি নামক এলাকার একটি উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। সেখানে বিভিন্ন দেশের কনসালদের আবাসস্থল এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ও অভিজাত ব্যক্তিদের বাড়িঘরও রয়েছে। প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে আমাদের একটি সামরিক দল ও তাদের বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আমি সেই সৈনিকদের জ্যাকেট
ও প্যান্ট পরিহিত পোশাক দেখে বেশ মুগ্ধ হলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে তারা...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
رجال ضخام الأجسام طوال القامة، تبدو عليهم علائم القوّة والشجاعة حتّى لا يرتاب رائيهم في أنّهم من نخبة الشجعان وصفوة الفرسان. وكان أوّل من اِستقبلنا عند الدخول دولة المتصرّف وكاتب أسراره حيث دخلوا بنا في ردهة الاستقبال، وإذ ذاك عرّف إلينا قرينته على عادة الغربيّين في التعارف. أمّا هذه السيدة المصونة فكانت ذات جمال نادر وذكاء باهر، وبين جنبيها نفس مهذبة وأخلاق كريمة. وأمّا دولة الباشا فقد كان يزيد على اللّطف والوداعة محبّة وإخلاصاً لنا ولعائلتنا ممّا اِستوجب شكري لهما واِمتناني منهما. وكان دولته يودّ كثيراً أن تطول إقامتنا في جبل لبنان ليكرم وفادتنا ويحسن ضيافتنا هناك، فسررت منه جدّاً خصوصاً عندما عرفت منه رجلاً فاضلاًَ محنّكاً، قد اِكتسب بالتجارب الكثيرة والتقلّب في خدمات الحكومة خبرة تامّة وسياسة رشيدة. كما أنّه قد اِستفاد من التربية الصحيحة والتعليم العالي لطفاً وأدبا، غير أنّ الظروف كانت لا تسمح لي بأكثر من إجابته إلى تناول طعام الغداء عند دولته في ظهر اليوم الثاني. ثمّ بارحنا دارهم حيث كانت تحيّينا الجنود في الوداع بمثل ما كانت حيّتنا به عند الاستقبال مودّعين من لدن دولة المتصرّف وجميع من كان معه بغاية الحفاوة والاحترام.
زيارة القومندانومن هناك ذهبنا إلى القشلاق حيث فيه مركز جناب قومندان الموقع العسكري في حكومة بيروت. وهو بناء فخم جميل واقع على ربوة وحينما وصلنا على هذه الثكنة حيّتنا الجنود عند مدخلها وأدّت لنا مراسم التعظيم كالعادة. وقد أخذنا مجالسنا في البهو الكبير منها، وهناك رأينا ساعة كبيرة تدقّ للساعات العربيّة والإفرنكية، ووجدنا أيضاً صورة إمبراطور الألمانيين ملوّنة بالزيت على جرمها الطبيعي، يحيط بها إطار يقرب طوله من ثلاثة أمتار وعرضه من مترين
ونصف.
বিশালদেহী ও দীর্ঘকায় একদল লোক, যাদের চেহারায় শক্তি ও সাহসিকতার চিহ্ন এমনভাবে ফুটে উঠছিল যে, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীই তারা যে সাহসী ও বীর অশ্বারোহীদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং শ্রেষ্ঠ—সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করবে না। প্রবেশের সময় আমাদের সর্বপ্রথম অভ্যর্থনা জানান মহামান্য মুতাসাররিফ এবং তাঁর ব্যক্তিগত সচিব। তাঁরা আমাদের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি পশ্চিমা প্রথা অনুযায়ী তাঁর সহধর্মিনীর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। এই মহীয়সী নারী বিরল সৌন্দর্য ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর অন্তরে ছিল এক পরিশীলিত আত্মা ও উন্নত চরিত্র। আর মহামান্য পাশা ছিলেন দয়া ও নম্রতার পাশাপাশি আমাদের ও আমাদের পরিবারের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও আন্তরিক, যার ফলে তাদের উভয়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। মহামান্য অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন যেন জাবালে লেবাননে আমাদের অবস্থান দীর্ঘতর হয়, যাতে তিনি সেখানে আমাদের যথার্থ সমাদর ও উত্তম মেহমানদারি করতে পারেন। এতে আমি তাঁর প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলাম, বিশেষ করে যখন আমি তাঁকে একজন বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে চিনতে পারলাম, যিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারি কর্মজীবনে বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের মাধ্যমে পূর্ণ দক্ষতা ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন। তদুপরি তিনি সঠিক লালন-পালন ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নম্রতা ও শিষ্টাচার লাভ করেছেন। তবে পরিস্থিতি আমাকে দ্বিতীয় দিন দুপুরে তাঁর সাথে মধ্যাহ্নভোজ করার আহ্বানে সাড়া দেওয়া ছাড়া অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। অতঃপর আমরা তাঁদের ভবন ত্যাগ করি। সে সময় সৈন্যরা আমাদের বিদায়লগ্নে ঠিক তেমনিভাবে অভিবাদন জানায়, যেমনটি তারা অভ্যর্থনার সময় জানিয়েছিল। মহামান্য মুতাসাররিফ এবং তাঁর সাথে থাকা সকলে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সম্মানের সাথে আমাদের বিদায় জানান।
কমান্ডার পরিদর্শনসেখান থেকে আমরা সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি, যেখানে বৈরুত সরকারের সামরিক ঘাঁটির কমান্ডারের কার্যালয় অবস্থিত। এটি একটি টিলার ওপর অবস্থিত চমৎকার ও সুদৃশ্য অট্টালিকা। আমরা যখন এই ব্যারাকে পৌঁছালাম, তখন প্রবেশপথে সৈন্যরা আমাদের অভিবাদন জানায় এবং প্রথা অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শনমূলক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আমরা এর বিশাল সভাকক্ষে আসন গ্রহণ করি। সেখানে আমরা একটি বড় ঘড়ি দেখতে পাই যা আরবি ও ইউরোপীয় উভয় সময় অনুযায়ী ঘণ্টা বাজাত। এছাড়া সেখানে আমরা জার্মান সম্রাটের একটি তৈলচিত্র দেখতে পাই যা তাঁর স্বাভাবিক অবয়বের সমান ছিল। চিত্রটি প্রায় তিন মিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ দুই মিটার
ও অর্ধেক।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فاستغربت جدّاً أن أرى في هذه المكان صورة إمبراطور ألمانيا ولا أرى صورة ملك البلاد وسلطانها. وليس موضع الغرابة من هذا إلا أنّ القوم مسلمون من حكومة سلطانها مسلم، وهم مع ذلك يحتفلون بصورة غير سلطانهم ويعلّقونها على جدار ذلك القشلاق، فلم يسعني حينئذٍ غير أن أسأل جناب القومندان لماذا وجدت هنا هذه الصورة دون صورة السلطان. فقال إنّ جلالة الإمبراطور، حينما ساح سياحته في البلاد الشامية وجاء إلى بيروت، تخيّر منزله في تلك الثكنة حيث أعدّ له مكان خاص أقام فيه مدّة وجوده في هذه المدينة. وقد منح جلالته المكان هذه الصورة لتكون تذكاراً له في ذلك القشقلاق. هذا وأقول لعلّ جلالة الإمبراطور قد راق لعينيه ضخامة المحل وفخامة شأنه فلم يشأ أن يبارحه بذاته ويفارقه بجسمه حتّى يحلّ فيه بصورته ورسمه. ثمّ بارحنا جناب القومندان بعد أن ودّعنا منه ومن رجاله بمثل ما قوبلنا به حيث قصدنا إلى الفندق. وقد كان جاء ميعاد الغداء الّذي ما كدنا نستريح بعده حتّى وفد إلينا جمهور كبير من المسافرين بقصد زيارتنا.
حديث مع بعض التلاميذوكان بين أولئك الوافدين بعض طلبة المصريين في كلية الأمريكان ومدرسة اليسوعيّين، فاستقبلناهم بما يليق بهم من الحفاوة والإكرام. وقد مكثوا في مجلسنا زمناً غير قليل كان حديثنا في أثنائه يدور غالباً على نظام التدريس والتعليم في المدارس والكليّات النظامية، وكنت أشجّعهم على طلب العلم، وأحثّهم على المثابرة والجدّ في تحصيل الواجبات المدرسيّة على شريطة أن يقرنوا خطاهم في سبيل تلك الغاية الشريفة بالنيّة الصحيحة والفكرة الصالحة. وهنا قلت لهم: إنّ طلب العلم، وإن كان في حدّ ذاته، هو أسنى مطالب الإنسان وأسمى رغائبه في تلك الحياة بل العلم هو وحده الأساس الّذي لا اعتماد للسعادة إلا عليه والأصل الّذي لا
اِستناد للفضيلة إلا إليه. غير أنّه لمّا كانت منافعه متعدّدة وفوائده متفاوتة كانت نوايا الناس إليه مختلفة ومقاصدهم نحوه متباينة. فمن فريق يطمح إلى تحصيل الأعراض الزائلة والأغراض السافلة، ومن فريق آخر يطمع في تكميل عقله وتثقيف فكره إلى
আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম যে, এই স্থানে আমি জার্মানির সম্রাটের ছবি দেখতে পাচ্ছি, অথচ দেশের রাজা ও সুলতানের কোনো ছবি দেখছি না। এই বিস্ময়ের কারণ কেবল এটাই ছিল না যে, তারা মুসলিম এবং তাদের সরকারের সুলতানও মুসলিম, তা সত্ত্বেও তারা তাদের সুলতান ব্যতীত অন্য কারো ছবি নিয়ে উদযাপন করছে এবং সেই সেনানিবাসের দেয়ালের ওপর তা ঝুলিয়ে রেখেছে। তখন মাননীয় কমান্ড্যান্টকে জিজ্ঞাসা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না যে, কেন সুলতানের ছবির পরিবর্তে এখানে এই ছবিটি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বললেন যে, মহামান্য সম্রাট যখন শামী ভূখণ্ডে ভ্রমণ করছিলেন এবং বৈরুতে আসলেন, তখন তিনি এই সেনানিবাসে তাঁর আবাসস্থল নির্বাচন করেছিলেন, যেখানে তাঁর জন্য একটি বিশেষ স্থান প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এই শহরে অবস্থানকালে তিনি সেখানেই ছিলেন। মহামান্য সম্রাট এই স্থানটিকে সেই সেনানিবাসে তাঁর অবস্থানের একটি স্মৃতি স্মারক হিসেবে এই ছবিটি প্রদান করেছিলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, সম্ভবত মহামান্য সম্রাটের চোখে এই স্থানের বিশালতা এবং এর মর্যাদার গাম্ভীর্য পছন্দ হয়েছিল, তাই তিনি সশরীরে এখান থেকে বিদায় নিলেও এবং দৈহিকভাবে পৃথক হয়ে গেলেও তাঁর ছবি ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে এখানে অবস্থান করতে চেয়েছেন। এরপর আমরা মাননীয় কমান্ড্যান্টের নিকট হতে বিদায় নিলাম, যেভাবে আমরা ও তাঁর লোকদের পক্ষ থেকে সমাদৃত হয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই তিনি আমাদের বিদায় জানালেন এবং আমরা হোটেলের দিকে রওনা হলাম। দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গিয়েছিল, যা খাওয়ার পর আমরা একটু বিশ্রাম নিতেই আমাদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এক বিরাট ভ্রমণকারী দল উপস্থিত হলো।
কয়েকজন ছাত্রের সাথে কথোপকথনসেই আগন্তুকদের মধ্যে আমেরিকান কলেজ এবং জেসুইট স্কুলের কিছু মিশরীয় ছাত্র ছিল। আমরা তাদের উপযুক্ত সম্মান ও আদরের সাথে অভ্যর্থনা জানালাম। তারা আমাদের মজলিসে বেশ দীর্ঘ সময় অবস্থান করল। সেই সময়ে আমাদের আলোচনা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয় ও কলেজসমূহের শিক্ষা ও পাঠদান পদ্ধতির ওপর আবর্তিত হচ্ছিল। আমি তাদের জ্ঞান অন্বেষণে উৎসাহিত করছিলাম এবং এই মহৎ লক্ষ্য অর্জনের পথে সঠিক নিয়ত ও সৎ চিন্তার শর্তে বিদ্যালয়ের আবশ্যিক পাঠসমূহ অর্জনে অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করছিলাম। তখন আমি তাদের বললাম: জ্ঞান অন্বেষণ যদিও স্বয়ং নিজের সত্তায় মানুষের মহান লক্ষ্য এবং এই জীবনে তার উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা, বরং জ্ঞানই হলো একমাত্র ভিত্তি যার ওপর সুখ নির্ভর করে এবং একমাত্র মূল যার ওপর গুণাবলী প্রতিষ্ঠিত। তবে যেহেতু এর উপকারিতা বহুমুখী এবং এর সুফলগুলো ভিন্ন ভিন্ন, তাই জ্ঞানের প্রতি মানুষের নিয়ত বা উদ্দেশ্যও বিভিন্ন এবং তাদের লক্ষ্যসমূহও বিচিত্র। একদল লোক অস্থায়ী পার্থিব সম্পদ এবং হীন উদ্দেশ্য হাসিল করার আকাঙ্ক্ষা রাখে, আবার অন্য এক দল নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিকে পূর্ণতা দান এবং চিন্তাধারাকে মার্জিত করতে সচেষ্ট হয়...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
غير ذلك من المطالب الكثيرة. فمثل العلم كمثل الشجرة العظيمة إذ يقصد إليها جماعة من الناس، وكلّ له منها مقصد معين. فواحد يريد ظلّها، وآخر يبتغي أغصانها، وآخر يطلب ثمرها. ولقد يصدق على الجميع أنّهم يطلبون الشجرة، ولكن شتان ما بين طالب الظلّّ منها وبين طالب الثمرة. فأنا أنصح لكم، معشر التلاميذ النجباء، أن تصرفوا كلّ همّتكم الآن في تحصيل المعارف والعلوم الّتي حبستم عليها شبابكم، والّتي من أجلها هجرتم أوطانكم وتركتم أهلكم وإخوانكم، وأن لا يبرح عن فكركم أبداً أنّ لأمّتكم عليكم حقوقاً يجب أن تجعلوها دائماً نصب أعينكم، وأن تجتهدوا ما اِستطعتم لأدائها عندما تطلب منكم، وأن لا تجعلوا لزخارف الدنيا وأعراضها سلطاناً على أنفسكم فتملككم وتغلبكم على أمركم، وأن تشتغلوا بالعلم قصداً إليه نفسه وحبّاً له ذاته، لا لأن يكون وسيلة إلى غاية منحطّة ولا مقدّمة إلى نتيجة فاسدة، فإنّكم أفطن من أن ألفتكم إلى أنّ العلم ليس مفيداً حيثما كان، بل قد يكون مضرّاً في بعض الأحيان، وكثيراً ما يتجاوز ضرره صاحبه على غيره. وأنتم أيضاً فوق أن تنبهوا إلى ما كان من علماء الغرب الّذين ظهرت فوائد علمهم الغزيرة وثمراته الكثيرة في الاقتراحات العديدة، والاختراعات المفيدة الّتي نحن الآن متمتّعون بها في كثير من أمور حياتنا الفردية والاجتماعية، ممّا جعل هؤلاء العلماء تفتخر بهم بلادهم وتشتهر بأسمائهم جهاتهم حتّى استحقّوا أن يحمدوا ويشكروا من كلّ من عرف قيمة الحياة وأدرك سرّ الاستعمار. ثمّ قلت لهم إنّه يسوؤني كثيراً أن أرى أناساً يضيعون زهرة شبابهم في التعليم على قصد أن يكونوا يوماً ما مستخدمين في الحكومة، أو من أهل الثروة واليسار في البلاد،
أو ممّن يطمعون في الامتيازات العرضية كالرتب والنياشين والألقاب. نعم يسوؤني ذلك لأنّي أجد القسم الأوّل لم يستعمل فكره ومواهبه إلا فيما تقتضيه منه شؤون الحكومة، فتتضاءل مداركه وتتعطّل مواهبه ثمّ لا يلبث أن تنحصر معلوماته الواسعة في دائرة أضيق من صدر الأحمق. وأمّا القسم الثاني والثالث فقد أرادوا غاية دون ما كان ينبغي أن يطلب بالعلم ويذهب إليه من طريقه، إذ أن الرتبة مثلاً إذا لم تكن عنوان ما في نفس صاحبها وشعاراً للتربية النافعة والتعليم الصحيح، فلا قيمة لها حتّى ولا بين قومه وعشيرته. أمّا الّذي يضمن للمرء عزّه في كلّ مكان ويستوجب اِحترامه من كلّ
অন্যান্য বহু চাহিদা ছাড়াও। জ্ঞানের দৃষ্টান্ত একটি বিশাল বৃক্ষের ন্যায়, যার কাছে একদল লোক সমবেত হয় এবং প্রত্যেকেরই তা থেকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। কেউ তার ছায়া চায়, অন্য কেউ তার শাখা-প্রশাখা কামনা করে, আবার কেউ তার ফল অন্বেষণ করে। যদিও সকলের ক্ষেত্রেই এটি সত্য যে তারা বৃক্ষটিকেই অন্বেষণ করছে, কিন্তু বৃক্ষের ছায়া অন্বেষণকারী এবং তার ফল অন্বেষণকারীর মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। হে মেধাবী ছাত্রবৃন্দ, আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা এখন তোমাদের সমস্ত একাগ্রতা সেই জ্ঞান ও বিদ্যা অর্জনে ব্যয় করো যার জন্য তোমরা তোমাদের যৌবনকে উৎসর্গ করেছ এবং যার জন্য তোমরা তোমাদের স্বদেশ ত্যাগ করেছ এবং তোমাদের পরিবার ও ভ্রাতৃবর্গকে ছেড়ে এসেছ। আর তোমাদের চিন্তা থেকে যেন এটি কখনো অপসৃত না হয় যে, তোমাদের উম্মাহর তোমাদের ওপর কিছু অধিকার রয়েছে যা তোমাদের সর্বদা চোখের সামনে রাখা উচিত এবং যখন তোমাদের কাছে তা চাওয়া হবে তখন তা আদায়ের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা উচিত। এবং তোমরা দুনিয়ার সাজসজ্জা ও এর ক্ষণস্থায়ী বস্তুসমূহকে নিজেদের নফসের ওপর এমন কোনো কর্তৃত্ব দিও না যা তোমাদের নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে এবং তোমাদের ওপর জয়ী হয়ে যায়; বরং তোমরা জ্ঞানের চর্চায় আত্মনিয়োগ করো স্বয়ং জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে এবং এর প্রতি মমত্ববোধ থেকে, কোনো হীন লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে কিংবা কোনো কলুষিত পরিণতির ভূমিকা হিসেবে নয়। কেননা তোমরা এতটুকু বিচক্ষণ যে তোমাদের এটি বলার প্রয়োজন নেই যে, জ্ঞান সর্বত্রই উপকারী নয়, বরং কখনো কখনো তা ক্ষতিকারক হতে পারে এবং অনেক সময় এর ক্ষতি জ্ঞানীর সীমা অতিক্রম করে অন্যের ওপর আপতিত হয়। আর তোমরা এরও ঊর্ধ্বে যে তোমাদের পশ্চিমা পণ্ডিতদের সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যাদের অগাধ জ্ঞানের উপকারিতা এবং প্রচুর ফলশ্রুতি বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও ফলপ্রসূ উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা বর্তমানে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের অনেক ক্ষেত্রে ভোগ করছি। যা এসব পণ্ডিতদের এমন স্তরে উন্নীত করেছে যে তাদের দেশ তাদের নিয়ে গর্ব করে এবং তাদের অঞ্চলসমূহ তাদের নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, এমনকি তারা প্রতিটি মানুষের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার যোগ্য হয়েছেন যারা জীবনের মূল্য বোঝেন এবং সভ্যতার রহস্য অনুধাবন করেন। অতঃপর আমি তাদের বললাম, এটি আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে যখন আমি দেখি কিছু লোক তাদের শিক্ষা অর্জনে যৌবনের বসন্তকাল ব্যয় করছে কেবল এই উদ্দেশ্যে যে, একদিন তারা সরকারি কর্মচারী হবে অথবা দেশের বিত্তশালী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে,
অথবা যারা পদমর্যাদা, পদক ও উপাধির মতো ক্ষণস্থায়ী সুযোগ-সুবিধার লোভ করে। হ্যাঁ, এটি আমাকে ব্যথিত করে কারণ আমি দেখি প্রথম শ্রেণিটি তাদের চিন্তা ও মেধাকে কেবল সরকারের দাপ্তরিক বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা ছাড়া অন্য কিছুতে ব্যবহার করে না, ফলে তাদের বোধশক্তি সংকুচিত হয়ে যায় এবং তাদের মেধা অকেজো হয়ে পড়ে, তারপর অনতিবিলম্বে তাদের অর্জিত বিশাল জ্ঞান এক নির্বোধের বক্ষের চেয়েও সংকীর্ণ পরিধিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি এমন এক লক্ষ্য স্থির করেছে যা জ্ঞান অর্জনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও সঠিক পথের অনেক নিচে। কেননা, উদাহরণস্বরূপ পদমর্যাদা যদি তার অধিকারীর অন্তরের সারবত্তার পরিচয় না দেয় এবং উপকারী প্রশিক্ষণ ও সঠিক শিক্ষার প্রতীক না হয়, তবে তার স্বজাতি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছেও তার কোনো মূল্য নেই। পক্ষান্তরে, যা মানুষের জন্য সর্বস্থানে মর্যাদা নিশ্চিত করে এবং সকলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা উদ্রেক করে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
إنسان ويجعله دائماً في الصفّ الأوّل، ومن العزّ في المحلّ الأرفع والمكان الّذي لا يتحوّل، فإنّما هو العلم الصحيح. أقول الصحيح لأنّ كثيراً من العلماء لم ينفعهم علمهم في تحصيل ما قد أرادوه من سبيله، فاتّخذوا منه مطيّة إلى الشقاء وسبيلاًَ إلى الضلال. ومن أمثال هؤلاء تستنبط الحيل وتدبّر المكائد الّتي بها تفشو المضار وتكثر المفاسد. وإنّه لا غرابة أن يكون العلم سبباً من أسباب الشقاء، وهو بعينه أصل السعادة وطريقها، ما دامت تختلف عليه نوايا العاملين وتتفاوت في طلبه مقاصد العالمين. وإنّي لاأحدثكم بألذّ من عيش العالم العاشق للعلم فلقد تمرّ عليه الحوادث والعاديات فيطّلع عليها وهي لا تنال منه إلا ريثما تنال الصور المتحركة والخيالات العادية عن الحقائق. فمثل هذا يعيش ما قدر له أن يعيشه في هذه الدنيا مرتاح القلب مطمئن النفس، لا يفرح بشيء يأتيه كما لا يأسف على شيء يفوته، لأنّ ثروته كلّها في العلم، فهو به في غناء عن كلّ ما عداه. وهكذا كنت أبث نصائحي للتلاميذ كلّما دخلت مدرسة من مدارس الشام. وقد كنت أُلفتهم إلى ما كان للشرق في التاريخ الأوّل من المجد والعزّ وسعة نطاق المعارف وكثرة الصنائع والحرف، مبيّناً لهم أنّ بناء الشرق الشامخ وشرفه الباذخ لم يكن قائماً إلا على أساطين الحكمة وعماد
الفضيلة. فإذا كنّا نحسّ الآن بنقص عظيم في علومنا الحيوية وحاجاتنا الضرورية، فإنّما ذلك لأنّ الشرق ما زال لم يعوّض ما كان فقده من علمائه وحكمائه الّذين أخلصوا في خدمته وتفانوا في العمل على سعادته، إلى أن قلت لهم: إذاً، يجب عليكم بوصف أنّكم رجال المستقبل أن تستصحبوا دائماً في عملكم نيّة أن تكونوا أوّل العاملين على رقيّ البلاد وإعلاء شأنها وأن تسدّوا منها الفراغ العظيم وتكملوا فيها ذلك النقص الكبير وما ذلك على همّتكم ونشاطكم بعزيز.
هذا خلاصة ما دار بيننا وبين الطلبة من الحديث. وقد سرّني منهم كثيراً أنّي كنت أجدهم مصغين غاية الإصغاء لما أقول، وأنّ نصائحي نالت من نفوسهم غاية الاستحسان والقبول. وقد زادني إعجاباً بهذه النشأة الطيّبة ما أظهروه لنا من المبالغة في حبّ عزيزهم أمير البلاد وتعلّقهم الشديد بعرشه السامي وإخلاصهم الكبير لذاته الكريمة كما هو الواجب على كلّ شعب لأميره وحاكمه. نعم، وكما هو الواجب الّذي ينبغي أن تتربّى عليه النفوس من صغرها حتّى ينتقش فيها ذلك، فلا تحتّه
মানুষকে যা সর্বদা প্রথম সারিতে রাখে এবং সুউচ্চ মর্যাদা ও পরিবর্তনহীন স্থানে অধিষ্ঠিত করে, তা হলো সঠিক জ্ঞান। আমি 'সঠিক' বলছি কারণ অনেক আলেম তাদের জ্ঞান দ্বারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সাধনে সফল হতে পারেননি, বরং তারা একে দুর্ভাগ্যের বাহন এবং ভ্রষ্টতার পথ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই ধরণের লোকদের থেকেই নানাবিধ কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্র উদ্ভাবিত হয় যার মাধ্যমে ক্ষতিকর বিষয়গুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং অনিষ্ট বৃদ্ধি পায়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জ্ঞান দুর্ভাগ্যের একটি কারণ হতে পারে, যদিও এটি স্বয়ং সৌভাগ্যের মূল এবং তার পথ; যতক্ষণ না আমলকারীদের নিয়তের ভিন্নতা থাকে এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের উদ্দেশ্যের পার্থক্য ঘটে। আর আমি আপনাদের কাছে জ্ঞানানুরাগী আলেমের জীবনের চেয়ে আনন্দদায়ক আর কিছু বর্ণনা করতে পারি না; তার ওপর দিয়ে অনেক দুর্ঘটনা এবং দুর্যোগ বয়ে যায়, কিন্তু সেগুলো তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না, যেমনটি চলমান চিত্র বা সাধারণ কল্পনা প্রকৃত সত্যের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এ ধরণের ব্যক্তি দুনিয়াতে তার নির্ধারিত জীবনটি প্রশান্ত হৃদয়ে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে যাপন করে; সে কোনো কিছু প্রাপ্তিতে উল্লসিত হয় না এবং কোনো কিছু হারিয়ে গেলে আক্ষেপ করে না, কারণ তার সমস্ত সম্পদ হলো জ্ঞানের মাঝে, তাই সে এর মাধ্যমেই অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। এভাবেই আমি শামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশের সময় ছাত্রদের উপদেশ দিতাম। আমি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতাম প্রাচীন ইতিহাসে প্রাচ্যের মর্যাদা, সম্মান, জ্ঞানের বিশাল পরিধি এবং শিল্প-কারুকার্যের প্রাচুর্যের প্রতি; তাদের বুঝিয়ে বলতাম যে, প্রাচ্যের সুউচ্চ অট্টালিকা এবং তার সুমহান গৌরব কেবল প্রজ্ঞার স্তম্ভ এবং সচ্চরিত্রের খুঁটির ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল।
আমরা যদি বর্তমানে আমাদের জীবনমুখী জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় চাহিদাতে বিশাল ঘাটতি অনুভব করি, তবে তা এই কারণে যে, প্রাচ্য এখনও তার সেই আলেম এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি যারা এর সেবায় একনিষ্ঠ ছিলেন এবং এর কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। আমি তাদের বলতাম: সুতরাং, ভবিষ্যতের কর্ণধার হিসেবে আপনাদের উচিত আপনাদের কর্মজীবনে সর্বদা এই সংকল্প রাখা যে, আপনারা দেশের উন্নতি এবং মর্যাদা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এবং দেশের বিশাল শূন্যতা পূরণ করবেন ও সেই বড় অভাবগুলো দূর করবেন; আর এটি আপনাদের দৃঢ় সংকল্প ও কর্মোদ্যমের কাছে মোটেও অসম্ভব নয়।
এটিই হলো ছাত্রদের সাথে আমাদের আলোচনার সারসংক্ষেপ। আমি তাদের ব্যাপারে খুবই আনন্দিত হয়েছি কারণ আমি তাদের দেখেছি আমার কথাগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং আমার উপদেশগুলো তাদের অন্তরে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা লাভ করেছে। এই উত্তম প্রজন্মের প্রতি আমার মুগ্ধতা আরও বেড়ে গিয়েছিল যখন তারা দেশের প্রিয় আমিরের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা এবং তাঁর উচ্চাসনের প্রতি প্রবল অনুরাগ এবং তাঁর মহান সত্তার প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য প্রকাশ করেছিল, যেমনটি প্রতিটি জাতির জন্য তাদের আমির ও শাসকের প্রতি করা কর্তব্য। হ্যাঁ, এটিই সেই কর্তব্য যার ওপর শৈশব থেকেই আত্মাকে গড়ে তোলা উচিত যাতে এটি অন্তরে এমনভাবে খোদাই হয়ে যায় যে তা কখনো মুছে না যায়।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الدسائس ولا تنحته الوساوس. ثمّ إنّهم عندما همّوا بالانصراف قدّموا إلينا قانون جمعيّتهم معنوناً بقانون جمعية التلاميذ المصريّين في كلية الأمريكان، ومصدّراً بصورة سمو الجناب العالي الخديوي. وسنذكر إن شاء الله هذا القانون بنصّه في خاتمة الرحلة، ليعرف منه حضرات القراء أسماء أعضاء الجمعية وما اشتمل عليه من المواد. وقد قابلت منهم ذلك الإهداء الجميل بالثناء العاطر والشكر الجزيل، ودعوت لهم الله أن يكلّل مشروعهم بالنجاح ويتوّج عملهم بالفلاح. وبعد ذلك خرجوا من عندنا جذلين مسرورين، على أنّ سرورنا إذ رأينا أدبهم ونشاطهم كان في وزن فرحهم أو هو يزيد. كيف لا، وإن أقل ما كان يقتضيني أن أسرّ حينئذ أنّي قابلت شبيبة بلادي تجاهد في سبيل العلم مجاهدة الأبطال، وأنّها لقد تركت وراءها من أجل استحصاله كلّ مرتخص وغال. ورجوت أن يكون ما
تظاهر به أولئك الطلبة النبهاء من محبّة مولاهم ومحبّتنا غير مشوبة بشائبة النّفاق والرياء، وأن يكون ليس من نوع المحبّة العارضة بسبب البعد والاغتراب، ولا من قبيل ذلك النسب الذي اِنتحله اِمرؤ القيس في قوله وقد أناخ بعسيب:
أَجارتنا إنّ الخطوبَ تَنوبُ
… وَإِنّي مقيمٌ ما أقامَ عَسيبُ
أَجارتنا إِنّا مُقيمانِ ها هُنا
… وَكلّ غَريبٍ لِلغريبِ نسيبُ
زيارة المدرسة الحربيةتوجّهنا في شباب يوم الأحد 23 ربيع الأول سنة 1328 إلى زيارة المدرسة العسكرية الابتدائية وكان موقعها من المدينة في قسم الباشورة وهي تحتوي على سبعين تلميذاً تقريباً يبلغ سنّ الواحد منهم من سبع سنين إلى أربع عشرة سنة، وقد طفت على كلّ فصول هذه المدرسة ودوائرها وكان المعلّمون يختبرون التلاميذ أمامنا
ষড়যন্ত্র তাকে গ্রাস করে না এবং কুমন্ত্রণা তাকে ক্ষয় করতে পারে না। অতঃপর তারা যখন বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল, তখন তারা আমাদের কাছে তাদের সমিতির সংবিধিবদ্ধ নিয়মাবলী পেশ করল, যার শিরোনাম ছিল "আমেরিকান কলেজের মিশরীয় ছাত্র সমিতি" এবং এর প্রারম্ভে ছিল মহামান্য খেদিভের ছবি। আমরা ইনশাআল্লাহ এই নিয়মাবলীটির মূল পাঠ সফরের শেষে উল্লেখ করব, যাতে সম্মানিত পাঠকগণ সমিতির সদস্যদের নাম এবং এর অন্তর্ভুক্ত ধারাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। আমি তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া সেই সুন্দর উপহারটি সুগন্ধযুক্ত প্রশংসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করলাম এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম যেন তিনি তাদের এই উদ্যোগকে সফলতায় মণ্ডিত করেন এবং তাদের কাজকে সাফল্যের মুকুট পরিয়ে দেন। এরপর তারা আমাদের কাছ থেকে অত্যন্ত উৎফুল্ল ও আনন্দিত হয়ে বিদায় নিল; তবে তাদের শিষ্টাচার ও উদ্দীপনা দেখে আমাদের আনন্দ তাদের খুশির সমান বা তার চেয়েও বেশি ছিল। কেনই বা হবে না, সে সময় আমার আনন্দিত হওয়ার ন্যূনতম কারণ ছিল এই যে, আমি আমার দেশের এমন একদল তরুণের সাথে সাক্ষাৎ করেছি যারা জ্ঞানার্জনের পথে বীরদের মতো সংগ্রাম করছে এবং তা অর্জনের জন্য তারা মূল্যবান ও তুচ্ছ সবকিছুই পিছনে ফেলে এসেছে। আমি আশা পোষণ করলাম যে,
সেই বুদ্ধিমান ছাত্ররা তাদের রবের প্রতি এবং আমাদের প্রতি যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, তা যেন মুনাফিকি বা লোকদেখানো মনোবৃত্তির কলুষতা থেকে মুক্ত হয়। এবং তা যেন দূরবর্তিত্ব বা প্রবাস জীবনের কারণে সৃষ্ট কোনো সাময়িক ভালোবাসা না হয়, কিংবা ইমরুল কায়েস আসিব নামক স্থানে উট বসিয়ে তার কবিতায় যে সম্পর্কের দাবি করেছিলেন, তেমন কোনো সম্পর্ক না হয়:
হে আমার প্রতিবেশী! নিশ্চয় বিপদ আপতিত হয়
… আর আমি এখানে অবস্থান করছি যতক্ষণ আসিব পাহাড় অবস্থান করছে।
হে আমার প্রতিবেশী! আমরা দুজনেই এখানে অবস্থানকারী
… আর প্রত্যেক প্রবাসীই অন্য প্রবাসীর আত্মীয়।
সামরিক বিদ্যালয় পরিদর্শনআমরা ১৩২৮ হিজরির ২৩শে রবিউল আউয়াল, রবিবার প্রত্যুষে প্রাথমিক সামরিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাত্রা করলাম। শহরটিতে এর অবস্থান ছিল বাশুরা এলাকায়। এতে প্রায় সত্তরজন ছাত্র ছিল, যাদের প্রত্যেকের বয়স সাত থেকে চৌদ্দ বছরের মধ্যে। আমি এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ ও বিভাগ ঘুরে দেখলাম এবং শিক্ষকরা আমাদের সামনেই ছাত্রদের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فيما يتدارسونه من العلوم الجغرافية والهندسية والتاريخية وغيرها جرياً على العادة فسررنا من نجابة التلاميذ واستحضارهم، ثمّ تعهّدنا غرف النوم ومواضع الأكل والطبخ أيضاً فسرّنا اِختيارها ونظافتها سروراً بليغاً ولذلك أثنيت حميد الثناء على القائمين بشؤون هذه المدرسة عموماً، خصوصاً الأساتذة الّذين ظهر لي حسن عنايتهم بتربية الطلبة وتعليمهم ممّا كنت أراه من إجاباتهم السارّة على أسئلة أولئك المعلّمين، غير أنّي لاحظت شيئاً واحداً هناك وهو عدم تمرين التلاميذ على حمل السلاح وتعويدهم عليه في صغرهم وشباب عمرهم مع أنّ المدرسة حربيّة وكان يجب أن يوجد ذلك فيها بل أن يكون من أوّل دروسها وأهم حصصها، وقد سألتهم عن سبب هذا النّقص المحسوس فأجابوني بما كان لا يلاقي اِعتراضي عليهم، قالوا: إنّ المدرسة اِبتدائية وإن التلاميذ أحداث صغار، وقلت إن المدارس الحربيّة الإعدادية في الجهات الأخرى تعطي أبناءها السلاح في ضمن ما يتعاطونه وهم صغار لينشؤوا على حبّه ويتمرّنوا على حمله ولكي تتربّى فيهم من
حال الصغر ملكة الشجاعة وتغرز في سجاياهم القوّة والجراءة ومن ذلك يستشعر التلميذ من نفسه الشهامة والإقدام، نعم لا ننكر أنّ الجيش العثماني من أقوى الجيوش وأشجعهم قلباً وأشدّهم بأساً اشتهر ذلك عن هذا الجيش حتّى إنه لا يوجد على ظهر المسكونة أحد يجهله أو يرتاب فيه، غير أن الواجب إنّما هو البلوغ بالإنسان إلى الحدّ الأكمل من كلّ فضيلة، وبدل ما أن يقال الجندي العثماني شجاع والجندي الفلاني أشجع منه يقال على العكس من ذلك، وما العمل لتحصيل هذا بالأمر المستحيل ولا هو بالصعب أيضاً.
المدرسة الملكيةومن هناك ذهبنا إلى المدرسة الملكيّة حيث كانت الساعة 11 إفرنجية، فاستقبلنا على مدخلها جناب ناظر المدرسة وأساتذتها وبعض متخرّجيها وفريق من علية القوم، وإذ ذاك صدحت الموسيقى المدرسيّة بالسلام والنشيد الوطني. أمّا نحن فدخلنا ردهة الاستقبال، بينما كانت التلاميذ يحيّوننا ويهتفون لنا بالدعاء. وما كدنا نستقر في مجالسنا حتّى قام أحد التلاميذ ورحّب بنا بخطاب تركي. ثمّ نهض بعده الأستاذ
তারা প্রথা অনুযায়ী ভূগোল, জ্যামিতি, ইতিহাস ও অন্যান্য যেসব বিষয় অধ্যয়ন করছিল, তাতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে আমরা আনন্দিত হলাম। অতঃপর আমরা শয়নকক্ষ এবং খাওয়ার ও রান্নার স্থানগুলোও পরিদর্শন করলাম; সেগুলোর নির্বাচন ও পরিচ্ছন্নতা আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত করল। একারণে আমি এই মাদরাসার সার্বিক ব্যবস্থাপকদের ভূয়সী প্রশংসা করলাম, বিশেষ করে শিক্ষকদের, যাদের ছাত্রদের লালন-পালন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে উত্তম যত্ন আমার নিকট প্রকাশ পেয়েছে; যা আমি শিক্ষকদের প্রশ্নের বিপরীতে ছাত্রদের আনন্দদায়ক উত্তরসমূহ থেকে প্রত্যক্ষ করছিলাম। তবে আমি সেখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম, আর তা হলো ছাত্রদের অস্ত্র বহনের প্রশিক্ষণ না দেওয়া এবং তাদের শৈশব ও কৈশোরে এতে অভ্যস্ত না করা, যদিও এটি একটি সামরিক মাদরাসা ছিল এবং এতে এটি থাকা আবশ্যক ছিল; বরং এটি এর প্রাথমিক পাঠ ও গুরুত্বপূর্ণ পিরিয়ডসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। আমি তাদের কাছে এই দৃশ্যমান ত্রুটির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাকে এমন উত্তর দিলেন যা আমার আপত্তির সম্মুখীন হওয়ার মতো ছিল না। তারা বললেন: এটি একটি প্রাথমিক মাদরাসা এবং ছাত্ররা অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু। আমি বললাম, অন্যান্য অঞ্চলের প্রস্তুতিমূলক সামরিক মাদরাসাগুলো তাদের সন্তানদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয় যা তারা ছোটবেলা থেকেই ব্যবহার করে, যাতে তারা এর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে ওঠে এবং এটি বহনে অভ্যস্ত হয়, এবং যাতে তাদের মধ্যে
শৈশব থেকেই সাহসিকতার গুণাবলি গড়ে ওঠে এবং তাদের স্বভাবে শক্তি ও তেজ প্রোথিত হয়। এর মাধ্যমে ছাত্র নিজের মধ্যে বীরত্ব ও অগ্রযাত্রার তাড়না অনুভব করে। হ্যাঁ, আমরা এটি অস্বীকার করি না যে উসমানীয় সেনাবাহিনী অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী, তাদের হৃদয় অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর; এই বাহিনী সম্পর্কে এটি এতটাই প্রসিদ্ধ যে পৃথিবীর বুকে এমন কেউ নেই যে এ বিষয়ে অজ্ঞ অথবা এতে সন্দেহ পোষণ করে। তবে কর্তব্য হলো মানুষকে প্রতিটি গুণের পূর্ণতম সীমায় পৌঁছে দেওয়া। যেন এমনটি বলা না হয় যে উসমানীয় সৈনিক সাহসী কিন্তু অমুক সৈনিক তার চেয়ে বেশি সাহসী; বরং যেন এর বিপরীতটি বলা হয়। আর এটি অর্জনের প্রচেষ্টা কোনো অসম্ভব বিষয় নয় এবং তা কঠিনও নয়।
আল-মাদরাসাতুল মালিকিয়াসেখান থেকে আমরা আল-মাদরাসাতুল মালিকিয়া-তে গেলাম, তখন ইউরোপীয় সময় ১১টা। মাদরাসার প্রবেশদ্বারে মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষকবৃন্দ, কয়েকজন স্নাতক এবং উচ্চপদস্থ একদল লোক আমাদের স্বাগত জানালেন। তখন মাদরাসার বাদ্যযন্ত্রে সালাম ও জাতীয় সংগীত বেজে উঠল। আমরা অভ্যর্থনা কক্ষে প্রবেশ করলাম, আর ছাত্ররা আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছিল এবং আমাদের জন্য উচ্চস্বরে দোয়া করছিল। আমরা নিজ নিজ আসনে স্থির হতে না হতেই একজন ছাত্র উঠে দাঁড়ালো এবং তুর্কি ভাষায় বক্তৃতার মাধ্যমে আমাদের স্বাগতম জানাল। অতঃপর শিক্ষক মহোদয় দাঁড়ালেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
يوسف أفندي حرفوش فتكلّم بالنيابة عن الأساتذة والمعلّمين بما لم يخرج عن تهنئتنا بالسلامة عقب السفر، والترحيب بزيارتنا لتلك المدرسة، غير أنّ خطابه كان باللغة الفرنسية. ثمّ أعقبه على الفور جناب بشير أفندي قصار وألقى مقالة بليغة اِستهلها بقصيدة غرّاء قال في مطلعها:
تِهْ فخاراً يا مَعهد العلمِ واِسمُ
… بِأميرِ الأَخلاقِ خير الوفودِ
بِأميرِ الصّفاتِ وابنِ أميرٍ
… بِكَريمِ الآباءِ بعدَ الجدودِ
ومنها:
قَد أَتى معهداً يَزورُ بنيهِ
… فَتبدّوا منهُ بِعزمٍ جَديدِ
معهداً قَد مَضت عليهِ سنين
… سائِراً في سبيلِهِ المحمودِ
مَعهَداً أشربت قُلوبُ بنيه
… أَن تُنادي في العلمِ هَل من مَزيدِ
ومنها وهو ختامها:
إنّ يوماً قَد زرت ذا الربع فيهِ
… هوَ لا شكّ عِندنا خير عيدِ
وقد تكلّم في خطابه عن المدرسة ومسيرها مدّة ستة عشر عاماً منذ اِفتتاحها، وهي متّبعة سنّة النمو والارتقاء التدريجي. وما أوشك أن ينتهي من ذلك حتّى نهض أحد التلاميذ بالنيابة عن الجمعية العلمية، فأهّل بنا ورحّب، وذكر خطّة الجمعية وبيّن غاية ما تسعى إليه، ثمّ قدّم لنا رسمها تذكاراً لزيارتنا لها. وحينئذٍ قمنا فصافحنا حضرات الخطباء، وشكرنا لجناب الدكتور صاحب القصيدة معروفه وأدبه وحسن خطابه وقلت له: لست أشكرك لمدحك إياي ولكن لذلك الفكر الصائب الّذي أبديته من وجوب تنشيط المعاهد العلمية. ثمّ أخذنا ندور على دوائر المدرسة ونتعهّد فصولها. وقد زرنا القسم الاستعدادي واختبرنا بعض صغار التلاميذ فيه
ইউসুফ এফেন্দি হারফুশ অধ্যাপক ও শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে সফর শেষে আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য অভিনন্দন এবং সেই বিদ্যাপীঠে আমাদের আগমনকে স্বাগত জানানো ছাড়া অন্য কিছু ছিল না; তবে তার ভাষণটি ছিল ফরাসি ভাষায়। এরপর অবিলম্বে জনাব বশির এফেন্দি কাসসার তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং একটি প্রাঞ্জল প্রবন্ধ পাঠ করেন, যা তিনি একটি চমৎকার কবিতার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন। তার প্রারম্ভিক চরণে তিনি বলেন:
হে ইলমের নিকেতন, তুমি গৌরবে উচ্চ হও এবং সুউচ্চ হও
… সেই সচ্চরিত্রের আমিরের আগমনে যিনি সর্বোত্তম প্রতিনিধি
যিনি গুণাবলির আমির এবং আমিরের পুত্র
… এবং যিনি পূর্বপুরুষদের পরম্পরায় অত্যন্ত মর্যাদাবান পিতৃবর্গের সন্তান
এবং সেখান থেকে:
তিনি এক শিক্ষা নিকেতনে এসেছেন তার সন্তানদের সাথে সাক্ষাৎ করতে
… ফলে তাদের মধ্যে এক নতুন সংকল্পের উদয় হলো
এটি এমন এক বিদ্যাপীঠ যার ওপর দিয়ে বহু বছর অতিবাহিত হয়েছে
… যা তার প্রশংসনীয় পথে চলমান
এমন এক বিদ্যাপীঠ যার সন্তানদের অন্তর এই তৃষ্ণায় সিক্ত হয়েছে
… যে তারা জ্ঞানের পথে সদা প্রার্থনা করে ‘আরো কি আছে?’
এবং সেখান থেকে, যা এর সমাপ্তি:
নিশ্চয় যে দিনটিতে আপনি এই প্রাঙ্গণ সফর করেছেন
… তা নিঃসন্দেহে আমাদের নিকট শ্রেষ্ঠ ঈদের দিন
তিনি তার ভাষণে মাদরাসা এবং এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ষোল বছরের পথচলা সম্পর্কে আলোচনা করেন, যা ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও ক্রমোন্নতির ধারা অনুসরণ করে আসছিল। তার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই বৈজ্ঞানিক সমিতির পক্ষ থেকে এক ছাত্র দাঁড়িয়ে আমাদের অভিবাদন ও স্বাগত জানালেন। তিনি সমিতির পরিকল্পনা উল্লেখ করলেন এবং তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করলেন। অতঃপর আমাদের সফরের স্মৃতি হিসেবে একটি স্মারক আমাদের হাতে তুলে দিলেন। তখন আমরা উঠে দাঁড়িয়ে বক্তাদের সাথে করমর্দন করলাম এবং কবিতার রচয়িতা জনাব ডাক্তারকে তার সৌজন্য, শিষ্টাচার ও চমৎকার ভাষণের জন্য ধন্যবাদ জানালাম। আমি তাকে বললাম: ‘আমি আমার প্রশংসা করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি না, বরং আপনার সেই সঠিক চিন্তাধারার জন্য দিচ্ছি যা আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয়করণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যক্ত করেছেন।’ এরপর আমরা মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখতে শুরু করলাম এবং এর শ্রেণিকক্ষগুলো পরিদর্শন করলাম। আমরা প্রাথমিক বিভাগ পরিদর্শন করলাম এবং সেখানকার কিছু ছোট ছাত্রকে পরীক্ষা করলাম।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فسررنا جدّاً من نجابتهم واِستعدادهم. ثمّ عدنا ثانية إلى قاعة الاستقبال حيث كانوا ينتظروننا بالمرطّبات. وهنالك أثنينا على رقيّ هذا المعهد العلمي، وقلنا لرئيس المدرسة الأستاذ الشيخ أحمد أفندي عبّاس: إن الواجب الأوّل في التعليم هو الاعتناء بتربية الأخلاق الكريمة في نفوس التلاميذ، وحضهم دائماً على الاشتغال بالعلم للعلم نفسه، حتّى لا يتجهوا في طريق التعليم إلى غاية أخرى. وقد أجابنا حضرته بما معناه أن هذه الرغبة الحميدة هي عين الغاية الّتي تسعى إليها المدرسة منذ نشأتها. ثمّ بارحناهم شاكرين لهم ما لاقيناه من عنايتهم ومعروفهم.
نزهة في الضواحيذهبنا ومعنا عزيزنا الفاضل أحمد بك العريس لنقضي وقت العصر في التنزّه ببعض الجهات الّتي كنّا لم نشاهدها، فمررنا بعربتنا في ضواحي المدينة. وكنّا أثناء السير نرى من مناظر الطبيعة ما لا نقدّر حسنه، خصوصاً عند الرجوع.
فإن سبيلنا إذ ذاك كان من الطريق القديم الموصل ما بين بيروت ودمشق. وقد صادفنا ونحن سائرون غابة كبيرة من شجر الصنوبر كان قد أمر بغرسها جدّنا المرحوم إبراهيم باشا الأكبر. وسبب ذلك، على ما علمناه من حديث القوم هنالك، أنه قبل أن توجد هذه الغابة كان مرض الحمّى متفشّياً في المدينة يفتك بأهلها فتكاً ذريعاً. فتوجّهت همّة المرحوم إبراهيم باشا إلى مطاردة هذا الداء الخبيث بذلك الغرس الجميل الّذي من خواصه تطهير الهواء واِمتصاص المواد العفنة الّتي كان يتسبّب عنها هذا الداء، وقد تمّ له بسبب ذلك ما أراد. وقد وجدنا في طول هذه الغابة وعرضها طرقاً منتظمة جميلة المنظر، يقال إن الّذي أنشأها هو المرحوم إسماعيل بك كمال (الذي اشتغل كثيراً في مسألة اِستقلال الألبانيين) حينما كان والياً في ولاية بيروت. وقد مررنا أيضاً بجملة حدائق بهيجة كان غرسها من شجر البرتقال والليمون والتوت. وفي أثناء الطريق وجدنا مقابر عدّة، بعضها لليهود وبعضها للمسيحيّين، حتّى إذا كنّا على مقربة من حديقة إفرنكو باشا رأينا قبر المرحوم الشيخ أحمد فارس، ذلك العالم المشهور الّذي يقال إنه اِعتنق الدين الإسلامي أخيراً ومات عليه بعد أن اِعتنق جملة أديان وتقلّب
আমরা তাদের আভিজাত্য এবং প্রস্তুতি দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। তারপর আমরা পুনরায় অভ্যর্থনা কক্ষে ফিরে এলাম, যেখানে তারা আমাদের জন্য জলখাবার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে আমরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির প্রশংসা করলাম এবং মাদরাসার প্রধান উস্তাদ শেখ আহমদ এফেন্দি আব্বাসকে বললাম: শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রথম কর্তব্য হলো ছাত্রদের অন্তরে মহৎ চরিত্র গঠনের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তাদেরকে সর্বদা জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যেই জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত থাকতে উৎসাহিত করা, যাতে তারা শিক্ষার পথে অন্য কোনো লক্ষ্যের দিকে ধাবিত না হয়। জনাব এর উত্তরে আমাদের যা বললেন তার মর্মার্থ হলো, এই প্রশংসনীয় আকাঙ্ক্ষাটিই মূলত সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য যা মাদরাসাটি তার সূচনালগ্ন থেকেই অনুসরণের চেষ্টা করছে। এরপর আমরা তাদের যত্ন ও সৌজন্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের নিকট থেকে বিদায় নিলাম।
শহরতলীতে ভ্রমণআমরা আমাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় আহমদ বেগ আল-আরিসকে সাথে নিয়ে আসরের সময়টি এমন কিছু এলাকায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হলাম যা আমরা ইতিপূর্বে দেখিনি। ফলে আমরা আমাদের গাড়ি নিয়ে শহরের উপকণ্ঠ দিয়ে অতিক্রম করলাম। ভ্রমণের সময় আমরা প্রকৃতির এমন সব দৃশ্য দেখছিলাম যার সৌন্দর্য আমরা পরিমাপ করতে পারছিলাম না, বিশেষ করে ফেরার পথে।
কারণ সেই সময় আমাদের পথ ছিল বৈরুত ও দামেস্কের সংযোগকারী প্রাচীন সড়কটি। পথিমধ্যে আমরা পাইন গাছের একটি বিশাল বন দেখতে পেলাম যা আমাদের মরহুম পিতামহ ইবরাহিম পাশা আল-আকবর রোপণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানকার লোকজনের নিকট থেকে আমরা যা জানতে পেরেছি সেই অনুযায়ী এর কারণ হলো, এই বনটি গড়ে ওঠার আগে শহরে জ্বরের প্রকোপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যা অধিবাসীদের অত্যন্ত ভয়াবহভাবে আক্রান্ত করছিল। ফলে মরহুম ইবরাহিম পাশা সেই সুন্দর বনায়নের মাধ্যমে এই মারাত্মক ব্যাধি নির্মূল করার দিকে মনোনিবেশ করেন, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাতাস বিশুদ্ধ করা এবং পচা ও দূষিত পদার্থসমূহ শোষণ করা যা এই রোগের কারণ ছিল। এর ফলে তিনি যা চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। আমরা এই বনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে সুবিন্যস্ত ও সুন্দর সব রাস্তা দেখতে পেলাম, বলা হয়ে থাকে যে মরহুম ইসমাইল বেগ কামাল (যিনি আলবেনীয়দের স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেক কাজ করেছেন) যখন বৈরুত প্রদেশের গভর্নর ছিলেন তখন তিনি এগুলো নির্মাণ করেছিলেন। আমরা আরও কিছু চমৎকার বাগানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যাতে কমলা, লেবু ও তুঁত গাছ রোপণ করা হয়েছিল। পথিমধ্যে আমরা বেশ কিছু কবরস্থান দেখতে পেলাম, যার কিছু ছিল ইহুদিদের এবং কিছু খ্রিস্টানদের। অবশেষে আমরা যখন ফ্রাঙ্কো পাশা বাগানের সন্নিকটে পৌঁছালাম, তখন মরহুম শেখ আহমদ ফারেসের কবর দেখতে পেলাম; তিনি সেই প্রখ্যাত আলেম যার সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি পরিশেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং বিভিন্ন ধর্মের চড়াই-উতরাই অতিক্রম করার পর ইসলামের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
على عدّة مذاهب. وهو صاحب مجلّة الجوائب المعروفة، وله غيرها كثير من التآليف النافعة، منها: الجاسوس على القاموس في فن اللغة، وكتاب الساق على الساق في ما هو الفارياق، وهو كتاب جميل ضخم في علم الأدب. ثمّ قصدنا إلى الفندق من داخل البلد حيث كنّا في وقت الغروب، وعلى ذلك اِنقضت سحابة اليوم. وفي صبيحة اليوم الثاني جاء إلينا جماعة من أهل بيروت ومعهم خيل اِختاروها بقصد أن يطلعونا عليها على أمل أن نبتاعها منهم، حيث كانوا قد سمعوا من قبل بميلي إلى اِقتناء جياد الخيل. وقد كنت أودّ أن أجد منها ما يعجبني فأشتريه، ولكنّها مع مزيد الأسف كانت عاديّة لا تمتاز عن غيرها بحال، فضلاً عن كونها مجهولة الأصل.
ولذلك لم يرق في نظري شيء منها، على خلاف ما كنت أحسب.
وكان عليّ بعض زيارات لعلية القوم في المدينة، فأرسلت أحد الحاشية وأرسلت معه جملة من بطاقات الزيارة لينوب عنّي في ذلك، إذ كان لا يمكنني أن أؤدّي هذا الواجب. وقد حضر لزيارتنا في الفندق حينذاك عدد جمّ من أهل الشام، وكان من بينهم جملة من حضرات الرؤساء الروحيّين. ثمّ حضر أيضاً أحد أصحابنا (البلوني المسكوفي كونت برانتيسبيسكي) أحد عظماء بلاد الروسيا وأغنيائها وأشهر غواة الخيل العربية فيها. وكان قد جاء إلى الأقطار الشامية هذه المرّة لغرضين: أحدهما زيارة بيت المقدس، والثاني البحث عن الخيل العربية الأصلية. وقد أخبرني جنابه في ضمن حديثه أنّه لم يجد من بين الخيل الشاميّة والعربية الّتي اِطّلع عليها في تلك السياحة ما كان يستوجب العناية أو يستحق الشراء. ولذلك عدل عن الغرض الأخير الّذي وفقت الصدفة بيننا وبينه فيه. وقد كنت مسروراً من حديث هذا الشيخ الكبير ومجلسه. وليست هذه أوّل مرّة اِجتمعت فيها بجنابه، لأنّي كنت عرفته قبل هذه الزيارة في مصر، وآنست منه نفساً عالية وطبعاً رقيقاً وكمالاً وأدباً. وما أجدر الشيخ الهرم أن يكون متحلياً بالآداب ومتجمّلاً بالفضائل. وإن صاحبنا هذا كان قد طالع الثمانين وولاها ذنباً، ثمّ إنّه قضى معظم هذا العمر الطويل في سياحة الممالك والبلاد طولاً وعرضاً، فاِستفاد معرفة كثير من الأمراء والعظماء، كما استفاد خبرة واسعة بمعرفة الأخلاق والعوائد القوميّة المختلفة. وكان قد زار مصر مع والده على عهد المرحوم محمد علي باشا الكبير، واِصطادا تمساحاً من بركة الأزبكية، قبل أن يصل
বিবিধ মাযহাবের উপর। তিনি সুপ্রসিদ্ধ 'আল-জাওয়ায়িব' পত্রিকার সত্ত্বাধিকারী এবং তাঁর আরও অনেক উপকারী রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ভাষাবিজ্ঞানে 'আল-জাসুস আলা আল-কামুস' এবং 'আল-সাক আলা আল-সাক ফি মা হুয়া আল-ফারইয়াক', যা সাহিত্যশাস্ত্রে একটি চমৎকার ও বিশাল গ্রন্থ। অতঃপর আমরা শহরের ভেতর থেকে হোটেলের দিকে রওয়ানা হলাম যেখানে আমরা সূর্যাস্তের সময় অবস্থান করছিলাম, আর এভাবেই দিনের শেষ ভাগ অতিবাহিত হলো। দ্বিতীয় দিন সকালে বৈরুতের একদল লোক আমাদের নিকট এল এবং তারা সাথে কিছু ঘোড়া নিয়ে এল যা তারা আমাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন করেছিল এই আশায় যে আমরা সেগুলো তাদের নিকট থেকে ক্রয় করব, কারণ তারা ইতিপূর্বে উন্নত জাতের ঘোড়া সংগ্রহের প্রতি আমার অনুরাগের কথা শুনেছিল। আমি চেয়েছিলাম এমন কিছু পেতে যা আমার পছন্দ হবে এবং আমি তা ক্রয় করব, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সেগুলো ছিল সাধারণ মানের এবং কোনোভাবেই অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র ছিল না, তদুপরি সেগুলোর বংশপরিচয়ও ছিল অজ্ঞাত।
তাই আমার ধারণার বিপরীতে এগুলোর কোনোটিই আমার দৃষ্টিতে পছন্দনীয় হয়নি।
শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আমার কিছু সাক্ষাতের কর্মসূচি ছিল, তাই আমি আমার অনুচরদের একজনকে পাঠালাম এবং তার সাথে কিছু ভিজিটিং কার্ড দিলাম যাতে সে আমার পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালন করতে পারে, কারণ তখন আমার পক্ষে স্বয়ং এই কর্তব্য সম্পাদন করা সম্ভব ছিল না। সেই সময় আমাদের সাথে হোটেলে সাক্ষাৎ করতে সিরিয়ার এক বিশাল জনসমাবেশ উপস্থিত হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতাও ছিলেন। অতঃপর আমাদের এক বন্ধুও উপস্থিত হলেন (পোলিশ-মস্কোভি কাউন্ট ব্রানিৎস্কি), যিনি রাশিয়া ভূখণ্ডের অন্যতম মহান ও সম্পদশালী ব্যক্তি এবং সেখানকার আরবীয় ঘোড়া সংগ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। তিনি এবার সিরিয়া অঞ্চলে দুটি উদ্দেশ্যে এসেছিলেন: একটি হলো বায়তুল মাকদিস যিয়ারত করা, আর দ্বিতীয়টি হলো বিশুদ্ধ বংশীয় আরবীয় ঘোড়ার সন্ধান করা। আলাপচারিতার মাঝে মহোদয় আমাকে জানালেন যে, এই ভ্রমণে তিনি যেসব শামী ও আরবীয় ঘোড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে এমন কোনোটি পাননি যা বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে বা ক্রয়ের উপযুক্ত। তাই তিনি শেষোক্ত উদ্দেশ্যটি পরিত্যাগ করলেন, যে বিষয়ে দৈবক্রমে আমাদের ও তাঁর মাঝে মিল হয়েছিল। আমি এই প্রবীণ মহোদয়ের আলাপচারিতা ও তাঁর সান্নিধ্যে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম। মহোদয়ের সাথে এটিই আমার প্রথম সাক্ষাৎ ছিল না, কারণ এই সফরের পূর্বে মিশরে আমি তাঁর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম এবং তাঁর মাঝে এক উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, কোমল স্বভাব, পূর্ণতা ও শিষ্টাচার লক্ষ্য করেছিলাম। একজন অতি বৃদ্ধ মানুষের জন্য শিষ্টাচারে ভূষিত হওয়া এবং মহৎ গুণাবলীতে সজ্জিত হওয়া কতই না শোভনীয়। আমাদের এই বন্ধু আশির কোঠায় পদার্পণ করেছিলেন এবং তা অতিক্রম করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর এই দীর্ঘ জীবনের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন দেশ ও জনপদে দেশ-বিদেশ ভ্রমণে অতিবাহিত করেছেন, ফলে তিনি অনেক আমির ও মহান ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছেন, তেমনি বিভিন্ন জাতির চরিত্র ও বিবিধ প্রথা সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর পিতার সাথে মরহুম মুহাম্মদ আলী পাশা আল-কাবীরের শাসনামলে মিশর সফর করেছিলেন এবং তারা আজবাকিয়া পুকুর থেকে একটি কুমির শিকার করেছিলেন, পৌঁছানোর পূর্বে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
إليها بالطبع هذا العمار الباهر. ثمّ هو لا يزال يتردّد على القاهرة في كلّ شتاء. وإنّنا نشكر الصدفة الجميلة الّتي جمعتنا بهذا الشيخ الجليل في فندق من فنادق الشام على غير موعد.
غريبة في بيروتوبينما كنت أنقّب عن الخيل الأصيلة وأبحث عنها في المدينة وغيرها لأشتري ما يعجبني منها، إذ أخبرت أنّ شابّاً إنجليزي التبعة يدّعي أنّه يعرف البلاد ويتعشّق الخيل ويقتنيها يريد أن يقابلني فأذنت له. وكانت هيئته وحركاته في سلامه وكلامه تدلّ على أنّه رجل عاقل مهذّب ظريف. ثمّ إنّي اِفتتحت حديثي معه بشأن الخيل الّتي توجد في جهات الضواحي، وسألته أيّ الجهات الّتي تعرف فيها وجود الخيل الكريمة، وأيّ الناس أعظم شهرة باِقتنائها من العرب وغيرهم؟ فقال: إنّ لي أصحاباً كثيرين من دروز حوران وعرب رولة الّذين يقطنون بالقرب من مدينة دمشق، وهؤلاء أعرف الناس بالخيل وأبعدهم صيتاً في حيازتها. ثمّ دار بيني وبينه من الكلام والبحث ما عرفته منه أنّ هذا الشاب ملمّ حقيقة بموضوعنا وله معرفة تامّة بحَسَن الخيل وقبيحها وجيّدها ورديئها، فقلت في نفسي الآن وقعت على خير عارف وسأبلغ إن شاء الله بواسطة هذا الشاب النشيط مأربي من خيل الشام. ثمّ عدنا إلى الحديث مستطردين إلى ذكر بعض أمور عامّة تتناول الموضوع الّذي جاءنا بصدده وغيره، فكان منها أنّه غزا في وقائع كثيرة، وأنّه مرّة كان يكون مع الدروز وأخرى يكون في صفّ العرب، وأنّه يجيد النطق باللّغة العربية ويحسنها حتّى كأنّها لغته، إلى غير ذلك. ثمّ إنّي سألته عن غايته من مجيئه إلينا ومقابلتنا وأنّه لم يسبق لي به معرفة ولا كلام، فقال بكلّ رزانة وأدب: أنّه لم يبعثني على التشرّف بمقابلة دولتكم سوى أن أتشرّف بخدمتكم فيما عسى أن ترغبوا شراءه من خيل تلك البلاد أو غيرها، وأنّ لديّ خيلاً لبعض النّاس أريد أن أطلع دولتكم عليها، لعلّكم تجدون منها ما يطابق غرضكم ويوافق رغبتكم. فقلت له: وأين توجد هذه الخيل؟ وإنّنا بحثنا كثيراً فلم نجد ما كان يروق لنا شراؤه. فقال: إنّي أعرف من تلك الخيل حصانين في
স্বাভাবিকভাবেই এই চমৎকার আবাদি (স্থাপত্য) সেখানে রয়েছে। তদুপরি, তিনি প্রতি শীতেই নিয়মিত কায়রোতে যাতায়াত করেন। আমরা সেই চমৎকার সংযোগকে ধন্যবাদ জানাই, যার মাধ্যমে কোনো পূর্বনির্ধারিত সময় ছাড়াই শামের একটি হোটেলে এই মহান শাইখের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে।
বৈরুতে এক অদ্ভুত ঘটনাযখন আমি উন্নত জাতের ঘোড়া খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম এবং পছন্দমতো ঘোড়া কেনার জন্য শহর ও অন্যান্য স্থানে অনুসন্ধান করছিলাম, তখন আমাকে জানানো হলো যে, ইংরেজ নাগরিকত্বপ্রাপ্ত একজন যুবক, যে দেশ সম্পর্কে জানে এবং ঘোড়া খুব ভালোবাসে ও তা সংগ্রহে রাখে বলে দাবি করে, সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে চায়। ফলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তার সালাম এবং কথাবার্তার সময় তার বাহ্যিক অবস্থা ও চালচলন থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে, সে একজন বুদ্ধিমান, ভদ্র ও মার্জিত ব্যক্তি। এরপর আমি তার সাথে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে পাওয়া যায় এমন ঘোড়ার ব্যাপারে কথা শুরু করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কোন এলাকা উন্নত ঘোড়ার প্রাপ্তিস্থল হিসেবে সে চিনে এবং আরব বা অন্যদের মধ্যে কাদের ঘোড়া সংগ্রহের খ্যাতি সবচেয়ে বেশি? সে বলল: দামেস্ক শহরের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী হাওরানের দ্রুজ এবং রুওয়ালা আরবদের মধ্যে আমার অনেক বন্ধু আছে; এরাই ঘোড়া সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ এবং ঘোড়া পালনে তাদের সুখ্যাতি সর্বাধিক। এরপর আমার ও তার মধ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলল, যার মাধ্যমে আমি বুঝতে পারলাম যে, এই যুবকটি প্রকৃতপক্ষে আমাদের আলোচ্য বিষয়ে পারদর্শী এবং ঘোড়ার ভালো-মন্দ ও উত্তম-অধম দিকগুলো সম্পর্কে তার পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে। তখন আমি মনে মনে বললাম, এখন আমি একজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের দেখা পেয়েছি এবং ইনশাআল্লাহ এই উদ্যমী যুবকের মাধ্যমে শামের ঘোড়া সংগ্রহের ব্যাপারে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এরপর আমরা প্রাসঙ্গিকভাবে কিছু সাধারণ বিষয়ে আলোচনায় ফিরে গেলাম, যা তার আসার উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, সে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে; কখনো সে দ্রুজদের সাথে ছিল, আবার কখনো আরবদের পক্ষে লড়াই করেছে। সে আরবি ভাষায় কথা বলতে অত্যন্ত দক্ষ ছিল, এমনকি মনে হচ্ছিল যেন এটিই তার মাতৃভাষা। এছাড়া আরও অনেক কথা হলো। এরপর আমি তাকে আমাদের নিকট আসার এবং সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, অথচ তার সাথে আমার আগে কোনো জানাশোনা বা কথাবার্তা ছিল না। তখন সে পূর্ণ গাম্ভীর্য ও শিষ্টাচারের সাথে বলল: আপনার সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জনের পেছনে আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সেই দেশ বা অন্য কোথাও থেকে ঘোড়া ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনার সেবায় নিয়োজিত হওয়া এবং আমার কাছে কিছু মানুষের ঘোড়া রয়েছে যা আমি আপনাকে দেখাতে চাই; হতে পারে সেগুলোর মধ্যে আপনি এমন কিছু পাবেন যা আপনার উদ্দেশ্য ও পছন্দের সাথে মিলে যাবে। আমি তাকে বললাম: সেই ঘোড়াগুলো কোথায়? আমরা অনেক খুঁজেছি কিন্তু কেনার মতো পছন্দসই কিছু পাইনি। সে বলল: আমি ঐ ঘোড়াগুলোর মধ্যে দুটি ঘোড়া সম্পর্কে জানি যা
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
حوران. فقلت كان بودّي أن
أراهما، ولكن مع الأسف ليس عندي الآن من الوقت ما يسع أن أنتظر ريثما تجيء الخيل من جهة بعيدة عن بيروت أو ضواحيها، لأنّي عازم على زيارة دمشق ولم يبق إلا ساعات قليلة. فقال: إذا كان لابدّ من السفر فإنّ أمامنا حصانين آخرين في بعض الجهات القريبة من دمشق، ومن السّهل جدّاً أن أسافر وأستحضرهما لدولتكم عندما تشرفون هذه المدينة؛ وإنّ هذين الحصانين لا يقلان حسناً وشهرة عن الحصانين الأوّلين. ولمّا لم يكن ثمّت مانع من ذلك تفاوضنا في ما ندفعه أجراً له على سعيه وتعبه، وانتهينا على أن يتقاضى منّا جنيهاً واحداً في كلّ يوم، حيث يكون منه أيضاً أكله وشربه ومصاريف سياحته سفراً وإقامة، حتّى تتمّ مأموريته الّتي أنطناه بها. وقد كان علم أنّ سفرنا من بيروت سيكون في صباح اليوم الثاني، فأراد أن يزجّ بنفسه في حاشيتنا ويسافر معنا. ومن أجل ذلك سألنا: هل ترون من اللازم أن أستبدل ملابسي بزيّ عربي أو لبوس عاديّ، لكي أحظى بشرف السفر في معيّة دولتكم في القطر الّذي تسافرون فيه؟ فأجبته بأنّ سفرنا في هذه السياحة ربّما لا يسمح لنا بمرافقة عدد أكثر ممّن سيسافرون معنا، وربّما لا تحبّ الحكومة العثمانية أن ترى في ضمن رفاقنا أحد رجال الإنجليز، على أنّنا لا نرى هناك من ضرورة لأن تكون في هذا السفر من جملة حاشيتنا، وأنت تعرف أنّ القطار غير خاصّ بنا، وأنّ في عرباته الكثيرة سعة لك ولغيرك من المسافرين، فاِنزل منه في أيّ عربة تريد. ثمّ إذا جئت دمشق فاِنزل منها أيضاً في أيّ فندق تحبّ وتختار. وعلى ذلك اِنصرف الرّجل ونحن لا نعرف من أمره سوى أنّه عاقلٌ نبيه ووادع مؤدّب. وسنذكر بقيّة قصّته في فندق دمشق، إن شاء الله.
إلى متصرّف لبنانما كادت تتوسّط الغزالة حتّى كنّا أخذنا زينتنا وأعددنا عدّتنا للذهاب إلى سراي
صاحب الدولة يوسف باشا فرانكو متصرّف لبنان السابع، فركبنا من باب الفندق ومعنا رفاقنا ما وسعنا من المركبات، حيث قصدنا توّاً إلى السراي. وكان في اِنتظارنا عند بابها من العسكر والموسيقى في هذه المرّة ما كان لا يقلّ عنه عدداً ونظاماً في المرّة
হাওরান। আমি বললাম, আমার ইচ্ছা ছিল
তাদের দেখার, কিন্তু আফসোস, বৈরুত বা তার আশপাশের দূরবর্তী কোনো এলাকা থেকে ঘোড়াগুলো আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার মতো যথেষ্ট সময় বর্তমানে আমার হাতে নেই। কারণ আমি দামেস্ক সফরের সংকল্প করেছি এবং আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে। তিনি বললেন: যদি সফর করতেই হয়, তবে দামেস্কের নিকটবর্তী কোনো এলাকায় আমাদের সামনে আরও দুটি ঘোড়া রয়েছে। আপনি যখন এই শহরকে ধন্য করবেন (পৌঁছাবেন), তখন আমার পক্ষে সেখানে গিয়ে আপনার জন্য সেগুলো নিয়ে আসা অত্যন্ত সহজ হবে; আর এই ঘোড়া দুটি সৌন্দর্য ও খ্যাতির দিক থেকে প্রথমোক্ত ঘোড়া দুটির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। যেহেতু এতে কোনো বাধা ছিল না, তাই তার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে আমরা কত দেব তা নিয়ে আলোচনা করলাম। আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, সে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে এক পাউন্ড করে গ্রহণ করবে। এর মধ্যেই তার খাওয়া-দাওয়া এবং ভ্রমণ ও অবস্থানের যাবতীয় ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যতক্ষণ না তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন হয়। সে জানতে পেরেছিল যে বৈরুত থেকে আমাদের সফর পরবর্তী দিন সকালে শুরু হবে, তাই সে আমাদের সফরসঙ্গীদের মধ্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং আমাদের সাথে সফর করতে চাইল। এ কারণে সে আমাদের জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি মনে করেন যে আমার পোশাক পরিবর্তন করে আরবীয় পোশাক বা সাধারণ কোনো পোশাক পরা প্রয়োজন, যাতে আপনারা যে অঞ্চলে সফর করছেন সেখানে আপনাদের সাথে সফরের সম্মান লাভ করতে পারি? আমি তাকে উত্তর দিলাম যে, আমাদের এই ভ্রমণে সম্ভবত আমাদের সাথে যারা আছে তাদের চেয়ে অতিরিক্ত কাউকে সফরসঙ্গী করার সুযোগ নেই। তাছাড়া উসমানীয় সরকার সম্ভবত আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে কোনো ইংরেজ ব্যক্তিকে দেখতে পছন্দ করবে না। এছাড়া আমরা এই সফরে আপনাকে আমাদের ব্যক্তিগত সফরসঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। আপনি জানেন যে এই ট্রেনটি আমাদের জন্য বিশেষায়িত নয়, এর বহু বগিতে আপনার এবং অন্য মুসাফিরদের জন্য প্রশস্ত জায়গা রয়েছে, তাই আপনি যে বগিতে ইচ্ছা উঠতে পারেন। এরপর যখন দামেস্কে পৌঁছাবেন, সেখানেও আপনার পছন্দমতো যেকোনো হোটেলে অবস্থান করতে পারেন। এরপর লোকটি বিদায় নিল, আর আমরা তার সম্পর্কে এটুকু ছাড়া আর কিছু জানতাম না যে সে একজন বুদ্ধিমান, সচেতন, শান্ত ও ভদ্র ব্যক্তি। দামেস্কের হোটেলে ইনশাআল্লাহ আমরা তার গল্পের বাকি অংশ উল্লেখ করব।
লেবাননের মুতাসারিফ (গভর্নর)-এর নিকটসূর্য মাঝ আকাশে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই আমরা মহামান্য
ইউসুফ পাশা ফ্রাঙ্কো—যিনি লেবাননের সপ্তম মুতাসারিফ—তাঁর প্রাসাদে যাওয়ার জন্য সুসজ্জিত হলাম এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করলাম। আমরা হোটেলের দরোজা থেকে আমাদের সঙ্গীদের নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহনে আরোহণ করলাম এবং সরাসরি প্রাসাদের দিকে রওনা হলাম। প্রাসাদের দরোজায় আমাদের অপেক্ষায় উপস্থিত সৈন্য ও বাদ্যদল সংখ্যা ও শৃঙ্খলার দিক থেকে কোনোভাবেই পূর্বের তুলনায় কম ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الأولى. وكان أوّل من اِستقبلنا حال دخولنا دولة المتصرّف، فرادنا إلى ردهة الاستقبال الّتي دخلناها، وكانت وقتئذٍ حافلة بحضرات المدعوّين من كبار القوم وسراة المسيحيّين وأعيانهم. وقد وجدنا في ما بين أظهرهم بعض أسرة سرسق وأسرة بسترس، وهاتان الأسرتان من أشهر الأسر في بلاد الشام، وهما من طائفة الروم الأرتدكس وأصلهما غالباً من لبنان، ويسكنان الآن في مدينة بيروت ولهما هناك شهرة كبيرة وصيت ذائع حتّى يقال أنّهما أعظم أهل بيروت ثراء وأكثرهم مالا. ثمّ كان من المدعوّين أيضاً حضرة الفاضل سليم بك تابت. ولعلّ القارئ يلاحظ على أنّي أفردت هذا الشخص بالذكر وعيّنته بالاسم، دون ما سواه من المحتفلين، وما أدراه أنّ سليم بك تابت هذا جدير أن يبلغ من أنفسنا تلك المكانة، وأن يفسح له في رحلتنا بقدر ما يسع ذكر مروءته وكرم أخلاقه وحسن تربيته. وما نريد من ذلك إلا أن يعرف القرّاء له ما عرفناه من الكرم والمعروف. أمّا هو فإنه سليل أسرة مسيحيّة محترمة في تلك البلاد. وما كان يلفتنا إليه ويجعله منّا في تلك المنزلة أنّه ثريّ وجيه ولا أنّه عزيز في قومه، وإنّ الناس في هذا الباب كثيرون مزدحمون، وإنّما رأيت في الرجل همّة عالية ونشاطاً كبيراً وبديهة حاضرة لا يملّ مجلسه ولا تسأم معاشرته، لأنّه جميل المحاضرة ظريف ما اِستطاع، كأنّ الشام بيته والمسافرين إليها ضيوفه، ممّا دلّنا على أنّ فيه غيرة على بلده وحرصاً غريباً على أن لا يقع نظر السائح منها إلا على ما يحبّ ويستحسن. وقد عجبنا جدّاً من أنّه قادر على نفسه، غالب لها على إرادتها، إذ لم يمنعه تحيّزه لدينه وتعصّبه لمذهبه أن يقسط بين الناس في لطفه ومودّته، يستوي عنده في ذلك
المسيحي والمسلم واليهودي وغيرهم من أيّ ملّة أو نحلة. ثمّ هو لا يألو جهداً في مساعدة الإنسان متى قصده وطلب معونته. وإنّه لجدير بمن تجتمع له هذه الخلال الطيّبة والشمائل المحمودة أن ينال من قلوب الناس محبّة تامّة ومن ألسنتهم ثناءً جميلاً. ولذلك قلّما ينعقد مجلس سرور، أو تتألّف حفلة أنس أو تتّسق جمعية مفيدة، حتّى يكون من أهمّ مروّجيها وأصحاب القدح المعلّى فيها. وبعدما جلسنا برهة نتحدّث مع هؤلاء المدعوّين الكرام، دعينا إلى غرفة الطعام. وهناك تعاطينا من المآكل الشهيّة اللذيذة ما حمدنا الله على إساغته. وقد كانت الموسيقى في هذه الأثناء تصدح بألحانها المطربة. ثمّ عدنا إلى قاعة الاستقبال،
প্রথমত। মুতাসাররিফ শাসিত ভূখণ্ডে আমাদের প্রবেশের মুহূর্তে যিনি আমাদের সর্বপ্রথম অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, তিনি আমাদের সেই অভ্যর্থনা কক্ষের দিকে নিয়ে যান যেখানে আমরা প্রবেশ করেছিলাম; সেই সময় সেটি আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অভিজাত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল। আমরা তাঁদের মধ্যে 'সুরসুক' পরিবার ও 'বুসতুরুস' পরিবারের কিছু সদস্যকে দেখতে পাই; এই দুই পরিবার শাম ভূখণ্ডের অন্যতম সুপ্রসিদ্ধ পরিবার এবং তাঁরা রোমান অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের আদি নিবাস মূলত লেবানন এবং বর্তমানে তাঁরা বৈরুত শহরে বসবাস করেন; সেখানে তাঁদের খ্যাতি ও সুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে বলা হয়ে থাকে, তাঁরা বৈরুতবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক বিত্তশালী ও ধনকুবের। অতঃপর আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সুধীজন সেলিম বেক সাবেতও উপস্থিত ছিলেন। সম্ভবত পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আমি অন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল এই ব্যক্তির কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করলাম এবং তাঁর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উচ্চারণ করলাম; তবে পাঠক কীভাবেই বা জানবেন যে, এই সেলিম বেক সাবেত আমাদের অন্তরে সেই বিশেষ মর্যাদা লাভের কতটা যোগ্য ছিলেন এবং আমাদের এই ভ্রমণবৃত্তান্তে তাঁর বদান্যতা, সচ্চরিত্র ও উত্তম শিষ্টাচারের বর্ণনায় যতটুকু স্থান প্রয়োজন তা লাভের দাবিদার ছিলেন। আমরা কেবল এটাই চাই যে, পাঠকরা তাঁর সেই মহানুভবতা ও সদাচার সম্পর্কে অবগত হোক যা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বস্তুত তিনি সেই অঞ্চলের এক সম্মানিত খ্রিস্টান পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর প্রতি আমাদের এই বিশেষ আকর্ষণ এবং আমাদের নিকট তাঁর এই উচ্চ মর্যাদার কারণ তাঁর ধনৈশ্বর্য বা আভিজাত্য ছিল না, আর না তিনি তাঁর স্বগোত্রে অত্যন্ত প্রতাপশালী ছিলেন বলে; কারণ এই গুণাবলির মানুষ তো দুনিয়াতে অগণিত ও ভিড়ে ঠাসা। বরং আমি এই ব্যক্তির মধ্যে সুউচ্চ হিম্মত, প্রবল কর্মতত্পরতা এবং তীক্ষ্ণ উপস্থিত বুদ্ধির সমন্বয় লক্ষ্য করেছি; তাঁর মজলিসে কখনও বিরক্তি আসে না এবং তাঁর সাহচর্যে কোনো ক্লান্তি অনুভূত হয় না। কারণ তিনি অত্যন্ত মিষ্টভাষী এবং সাধ্যমতো সপ্রতিভ স্বভাবের; মনে হয় যেন পুরো শাম ভূখণ্ডই তাঁর নিজ গৃহ এবং আগত পর্যটকরা তাঁর মেহমান। এতে আমাদের নিকট এটিই প্রতীয়মান হয়েছে যে, নিজ দেশের প্রতি তাঁর গভীর মমতা রয়েছে এবং পর্যটকদের দৃষ্টিতে দেশের কেবল সুন্দর ও পছন্দনীয় দিকগুলোই ফুটে উঠুক—সে বিষয়ে তিনি এক অদ্ভুত সজাগতা পোষণ করেন। আমরা আরও বিস্মিত হয়েছিলাম এই দেখে যে, তিনি নিজের প্রবৃত্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম ছিলেন; কেননা তাঁর নিজ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা ধর্মীয় গোঁড়ামি মানুষের প্রতি তাঁর দয়া ও সৌজন্যের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করতে বাধা দেয়নি। তাঁর নিকট এ বিষয়ে সমান
খ্রিস্টান, মুসলিম, ইহুদি এবং অন্য যেকোনো ধর্ম বা মতাদর্শের অনুসারীরা। অধিকন্তু, যখনই কেউ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর কাছে সাহায্যের জন্য আসে, তিনি তাকে সহায়তা করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেন না। যার মাঝে এ ধরনের উত্তম স্বভাব ও প্রশংসনীয় গুণাবলির সমাহার ঘটে, মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা এবং মুখে সুন্দর প্রশংসা থাকাটাই সমীচীন। এই কারণেই খুব কমই এমন কোনো আনন্দ সভা বা সামাজিক সমাবেশ কিংবা হিতকর সংগঠন গড়ে ওঠে, যেখানে তিনি তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা এবং শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হন না। অতঃপর এই সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে কিছুক্ষণ আলাপচারিতার পর আমাদের খাবার ঘরে আহ্বান জানানো হলো। সেখানে আমরা এমন সব সুস্বাদু ও চমৎকার খাবার গ্রহণ করলাম, যা সহজে গলাধঃকরণ করতে পারার জন্য আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলাম। সেই সময় সংগীতের সুর লহরি আনন্দদায়ক মূর্ছনা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। অতঃপর আমরা পুনরায় অভ্যর্থনা কক্ষে ফিরে এলাম।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فشربنا القهوة. وبعد ذلك شكرنا لدولة المتصرّف وجناب قرينته المصونة ومن كان معهما في هذه الحفلة الشائقة ما أظهروه من العناية في إكرامنا والاحتياط بجميع الوسائل لراحتنا، ممّا جعلنا لا ننسى لهم جميعاً هذا اللّطف والمعروف أبداً. وقد خرجنا من عندهم مودّعين بغاية الحفاوة والاحترام.
زيارة المجلس البلديومن هنالك ذهبنا حيث كانت الساعة أربعة بعد الظهر قاصدين على رأس النبا إجابة لدعوة رئيسَي البلدية في مدينة بيروت. وقد كانا أعدّا لنا مأدبة شاي جميلة في حديقة الحريّة، وهي في باب سراي الحكومة، وكانت تسمّى بالحديقة الحميديّة منذ عشرين سنة. ثمّ هي حديقة عامّة واقعة في وسط المدينة، وتشبه حديقة الأزبكيّة من حيث يقصد النّاس إليها للتروض والفسحة. وقد زخرفها المجلس وزيّنها من أجل الاحتفال بنا زينة بديعة، وأقام في وسطها كشكاً فسيحاً لجلوس المدعوين، وسرادقاً جميلاً جعل فيه خواناً عليه من ألوان الطعام وأنواع الشراب ما لذّ وطاب. وحينما وصلنا إلى هذه الحديقة، وجدنا جمّاً غفيراً من أهالي البلد مجتمعين حول الروض من الخارج وفي طرقاته من الداخل. وما كاد يقع علينا
نظرهم حتّى طفقوا عن بكرة أبيهم يحيّوننا تحيّة فائقة ويصفّقون لقدومنا تصفيقاً. وقد كان في أوّل المستقبلين لنا حضرتا رئيسَي البلدية. وذهبا بنا توّاً إلى ذلك البهو بين تصدية المحتشدين وهتافهم الشديد. وقد وجدنا في اِنتظارنا هناك عدداً كبيراً من رجال الحكومة وثراة المدينة وأعيانها، يتقدّم الجميع صاحبا الدولة ناظم باشا الوالي، ويوسف باشا المتصرّف. فحيّيناهم جميعاً وما لبثنا نجلس إلا قليلاً، ثمّ قام جناب الرئيس الأوّل الحاجّ منيح أفندي رمضان وارتجل في وسط هذا المجتمع الحافل خطابة، كانت على طولها غاية في الرقّة والرشاقة. افتتحها بعبارات الشكر لنا والثناء علينا، ثمّ اِنتقل إلى شرح السرور البليغ الّذي كان يخامر أفئدة أهل الشام عموماً،
এরপর আমরা কফি পান করলাম। তারপর আমরা মহামান্য মুতাসাররিফ এবং তাঁর সম্মানিত সহধর্মিণী ও এই মনোরম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে আমাদের প্রতি প্রদর্শিত বিশেষ যত্ন এবং আমাদের আরামের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানালাম; তাঁদের এই মহানুভবতা ও সদাচরণ আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। আমরা অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণ করে প্রস্থান করলাম।
মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল পরিদর্শনসেখান থেকে দুপুর চারটার দিকে আমরা বৈরুত শহরের দুই মেয়রের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সরাসরি রাসুন নাবার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তাঁরা আমাদের জন্য ‘হাদিকাতুল হুররিয়াহ’ (স্বাধীনতা উদ্যান)-এ একটি চমৎকার চা-চক্রের আয়োজন করেছিলেন। এটি সরকারি প্রাসাদের প্রবেশদ্বারের নিকট অবস্থিত এবং বিগত বিশ বছর ধরে এটি ‘হাদিকাতুল হামিদিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। এটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি সাধারণ উদ্যান এবং প্রাতঃভ্রমণ ও চিত্তবিনোদনের জন্য মানুষের সমাগমের দিক থেকে এটি আজবাকিয়া উদ্যানের সদৃশ। আমাদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য কাউন্সিল উদ্যানটিকে অপূর্ব সাজে সজ্জিত করেছিল এবং এর মাঝখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার জন্য একটি প্রশস্ত শামিয়ানা ও একটি সুন্দর তাবু স্থাপন করেছিল, যেখানে অত্যন্ত সুস্বাদু ও উত্তম খাদ্য ও পানীয়ের দস্তরখান সাজানো ছিল। যখন আমরা এই উদ্যানে পৌঁছলাম, তখন শহরের এক বিশাল জনসমষ্টিকে উদ্যানের বাইরে এবং ভেতরের পথগুলোতে সমবেত দেখতে পেলাম। আমাদের ওপর তাঁদের দৃষ্টি পড়ামাত্রই
তাঁরা সমবেতভাবে আমাদের সাদর সম্ভাষণ জানাতে শুরু করলেন এবং আমাদের আগমনে প্রবল করতালি দিলেন। আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে মিউনিসিপ্যালিটির দুই মেয়র উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উপস্থিত জনতার করতালি ও উচ্চকণ্ঠ ধ্বনির মধ্য দিয়ে আমাদের সরাসরি সেই সভাকক্ষে নিয়ে গেলেন। সেখানে আমরা অনেক সরকারি কর্মকর্তা, শহরের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমাদের অপেক্ষায় দেখতে পেলাম, যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন মহামান্য ওয়ালি নাজিম পাশা এবং মুতাসাররিফ ইউসুফ পাশা। আমরা তাঁদের সকলকে অভিবাদন জানালাম এবং বসার কিছুক্ষণ পরেই প্রথম মেয়র জনাব আলহাজ মুনিহ এফেন্দি রমজান দাঁড়িয়ে এই জনাকীর্ণ সমাবেশে একটি তাৎক্ষণিক বক্তৃতা দিলেন, যা দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও পরিশীলিত। তিনি আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপনের মাধ্যমে ভাষণ শুরু করেন এবং এরপর সিরিয়াবাসীদের অন্তরে যে গভীর আনন্দের সঞ্চার হয়েছে, তার বর্ণনা দিতে শুরু করেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وأهل بيروت خصوصاً، من زيارتنا لبلادهم. ثمّ أخذ يُطيل ما شاء الله في وصف الإعجاب بوجود أمير من أمراء الشرق، ومن ذريّة المرحوم محمد علي باشا الكبير، في تلك البلاد الّتي طالما عطشت إلى وجوده واِشتاقت للتمتّع بطلعته بينما، تكرّرت فيها زيارة الأجانب من الأمراء الغربيّين وغيرهم. وشرع بعد ذلك يذكر مآثر المغفور له مؤسّس الأسرة الخديوية وأصل الدوحة العلويّة قائلاً: إنّ التاريخ لم يسجّل عليه محاربته للدولة العليّة حتّى ملأ صفحاته البيضاء بذكر ما كان له رحمة الله عليه من الإصلاحات الكبيرة والخيرات الكثيرة في جميع البلاد الّتي تمتّعت بعدله وسعدت بحكمه أعواماً طوالاً. وأشار في أثناء ذلك إلى تلك الغابة الّتي أسلفنا أنّها غرست بأمر المرحوم إبراهيم باشا الكبير. وهنا أطنب إطناباً في بيان ما لهذه الغابة الصنوبرية من الفوائد الجمّة والمزايا المهمّة، مفيضاً في شرح منافعها المحسوسة من الوجهة الصحيّة، وكيف أنّها كانت حجازاً مكيناً وحصناً حصيناً بين سكان المدينة وبين ذلك الأسد المغتال والمرض القتّال الّذي طالما كانت تكثر زيارته وتثقل ضيافته فيعبث بالمهج العالية والأرواح الغالية، وهكذا حتّى إذا اِنتهى ذلك الخطيب المصقّّع من خطابته البليغة، أخذ جميع
الحاضرين يصفّقون تصفيقاً حادّاً إظهاراً لمكان الخطبة من نفوسهم، بينما كانت الموسيقى تعزف بألحانها الشجيّة ونغماتها المطربة، فكان لها مع تصفيق القوم وضوضائهم مجموعة رنّات، اخترق تأثيرها الشديد أعماق القلوب. ثمّ قام حضرة الفاضل الشيخ أحمد طبارة، وألقى كذلك خطبة أخذت بمجامع القلوب. وكان اِبتداء الكلام فيها بإطراء الأسرة الخديوية، وبيان مآثرهم في البلاد المصرية والشاميّة. ثمّ أخذ يذكر روابط الوداد وعلائق الاتّحاد بين الشعبين المصري والشامي. وأفاض في بيان الأسباب الكثيرة لاتّفاقهما وتآخيهما الّتي ذكر منها أنّهما متّحدان في اللّغة الأصيلة، وأنّهما متجاوران، وأنّ تجارة الشام في مصر من أكثر التجارات وأعظمها رواجاً، وأنّ كثيراً من أبناء الشام هاجروا إلى مصر واستفادوا منها ماديّاً وأدبياً فوائد جمّة. فمنهم من اشتغل بالتجارة، ومنهم من استخدم في وظائف الحكومة ومصالحها وغير الحكومة أيضاً ممّا لا يسعنا معه سوى الاعتراف بفضل مصر على الشاميّين، حيث رحّبت بهم وفتحت أبوابها في وجوههم، فما زالوا يمرحون في بحبوحة كرمها ونعمتها إلى غير ذلك مما كان صريحاً في إقرارهم بمعروف مصر وفضلها
বিশেষ করে বৈরুতবাসীগণ আমাদের তাদের দেশ সফরের কারণে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। অতঃপর তিনি মা-শা-আল্লাহ দীর্ঘক্ষণ যাবত প্রাচ্যের একজন আমীর এবং মরহুম মুহাম্মাদ আলী পাশা আল-কাবীরের বংশধরের উপস্থিতিতে মুগ্ধতার বর্ণনা দিতে থাকলেন। সেই ভূখণ্ডটি দীর্ঘকাল যাবৎ তাঁর উপস্থিতির জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল এবং তাঁর উজ্জ্বল সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা করছিল, অথচ সেখানে নিয়মিত পশ্চিমা রাজকুমার ও অন্যদের আনাগোনা চলত। এরপর তিনি খেদীয় বংশের প্রতিষ্ঠাতা ও আলওয়ী বংশের মূল পুরুষ সেই মরহুমের কীর্তিগাথা বর্ণনা করতে শুরু করলেন এই বলে যে: ইতিহাস তাঁর দ্বারা উসমানীয় সালতানাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা ততটা লিপিবদ্ধ করেনি যতটা ইতিহাসের সাদা পাতাগুলো তাঁর সেই মহান সংস্কার এবং প্রচুর জনকল্যাণমূলক কাজের বর্ণনায় পূর্ণ হয়েছে, যা তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ঐ সকল দেশে করেছিলেন, যে দেশগুলো দীর্ঘ বছর যাবত তাঁর ন্যায়বিচার ভোগ করেছিল এবং তাঁর শাসনে ধন্য হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি সেই বনের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যার কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তা মরহুম ইব্রাহিম পাশা আল-কাবীরের আদেশে রোপণ করা হয়েছিল। এখানে তিনি এই পাইন বনের অগণিত উপকারিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় সবিস্তারে আলোচনা করলেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এর দৃশ্যমান সুফলগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করলেন; কীভাবে এটি শহরের অধিবাসী এবং সেই ঘাতক ব্যাধি ও প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে এক শক্তিশালী অন্তরায় ও সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে কাজ করত, যা প্রায়শই হানা দিত এবং যার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক, যা মানুষের মূল্যবান জীবন ও আত্মার ক্ষতি সাধন করত। এভাবে যখন সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাগ্মী বক্তা তাঁর প্রাঞ্জল ভাষণ সমাপ্ত করলেন, তখন উপস্থিত সকলে
তাঁদের অন্তরে ভাষণের প্রভাব প্রকাশের জন্য প্রবল করতালিতে ফেটে পড়লেন। সেই সময় যন্ত্রসংগীত তার করুণ ও সুমধুর সুরে বেজে উঠছিল, যা মানুষের করতালি ও গুঞ্জনের সাথে মিলে এক সুরেলা মূর্ছনার সৃষ্টি করেছিল, যার গভীর প্রভাব হৃদয়ের অন্তস্থল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর বিশিষ্ট পন্ডিত শেখ আহমদ তাবারাহ উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনিও একটি হৃদয়স্পর্শী ভাষণ প্রদান করলেন। তাঁর আলোচনার শুরুটা ছিল খেদীয় বংশের প্রশংসা এবং মিশর ও শাম (সিরিয়া-লেবানন) অঞ্চলে তাঁদের অবদান বর্ণনার মাধ্যমে। এরপর তিনি মিশরীয় ও শামবাসীর মধ্যে বিদ্যমান হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ও ঐক্যের বন্ধনগুলো উল্লেখ করতে শুরু করেন। তিনি তাঁদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের অসংখ্য কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, যার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন যে—তাঁরা অভিন্ন মৌলিক ভাষার অধিকারী, তাঁরা পরস্পরের প্রতিবেশী, মিশরে শামের ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসারিত এবং শামের বহু অধিবাসী মিশরে হিজরত করেছেন এবং সেখান থেকে বস্তুগত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক দিয়ে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ব্যবসায় নিয়োজিত হয়েছেন, আবার কেউ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মসংস্থান লাভ করেছেন। যার ফলে শামবাসীদের ওপর মিশরের অনুগ্রহ স্বীকার না করে আমাদের কোনো উপায় নেই; কেননা মিশর তাঁদের স্বাগত জানিয়েছে এবং তাঁদের জন্য নিজের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে মিশরের উদারতা ও নেয়ামতের ছায়াতলে সচ্ছলভাবে বসবাস করছেন। এভাবেই তিনি মিশরের সদাচরণ ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রিহলাতুশ শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
عليهم. وعندما انتهى ذلك الخطيب الفاضل هممت بأن أقوم خطيباً وأبدأ خطبتي لهم بشكرهم على ما صادفته من سماحة نفوسهم وكرم أخلاقهم، ثمّ أبيّن مقدار ما اِنطوت عليه قلوب المصريّين الكرماء من محبّة العرب والشاميّين، غير أنّي لاحظت أنّ الظروف وقتئذٍ لا تسمح لي أن أقوم فأقول شيئاً من هذا في حفلة كبيرة مجموع لها الناس، مخافة أنّ الحكومة العثمانية الجديدة ربّما تتشوّش من الخطبة، أو تتأوّلها بما لعلّه يخالف غرض الخطيب ويبتعد عن قصده ومراميه. وبعد ذلك قمنا متوجّهين نحو السرادق لتناول ما كان أعدّ لنا من الشاي وغيره. ثمّ قصدنا إلى الفندق وكان طريق مرورنا من وسط الحديقة حتّى الباب غاصّاً بالأهالي. وعند ذلك وُدّعنا من
حضرتي الرئيسين ومن كان معهما بمثل ما استقبلنا به من الإكرام والحفاوة، فشكرناهم وركبنا العربات حيث وصلنا إلى فندقنا قبل الغروب. وإذ ذاك حضر لزيارتنا بعض أعيان المدينة وكبارها، وكان بينهم المفتّش العثماني في شركة السكّة الحديديّة الفرنسيّة، فقابلناهم جميعاً شاكرين لهم حفاوتهم الكبيرة وزياراتهم الكثيرة. وقد بلغني في هذا المجلس أنّ الشركة أعدّت لسفرنا صالوناً خاصاً بقطر الصباح، حيث كنّا اِعتزمنا - مع مشيئة الله تعالى - على الرحلة في ذلك القطر إلى مدينة دمشق.
كلمة عن بيروتوهنا رأيت أنّه لابدّ لي قبل مبارحتي لهذا البلد من ذكر كلمة مختصرة عنها، ملحقة بما تقدّم من كلامنا فيها، على الرغم من أنّ هذه المدينة من المراسي الشهيرة والمدن التجارية الكبيرة الّتي قد عني بشأنها قديماً وحديثاً أرباب المحابر من الكتّاب وعلماء التاريخ، فأفاضوا في الوصف وأطنبوا في بيان ما يتعلّق بها من الجهات المهمّة والأغراض المفيدة، لأنّي إنّما أريد أن أذكر في رحلتي هذه جميع ما كنت أشاهد بعيني وأقف عليه بنفسي. ولعلّني إن أتيت في خلال ذلك من الآراء والملاحظات على حياة القوم الاجتماعية وبعض الأمور الداخليّة بما عساه أن يمرّ على بعض النّاس فيغمضوا فيه إغماضاً أو يتركوه وراءهم ظهريّا، دون أن يعيروه ما يستحقّه من
তাদের ওপর। যখন সেই ফযিলতপূর্ণ বক্তা তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আমি বক্তা হিসেবে দাঁড়িয়ে তাঁদের মহানুভবতা ও উন্নত চরিত্রের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করার সংকল্প করলাম। এরপর আমি বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম যে, উদার মিশরীয়দের অন্তরে আরব ও শামীদের প্রতি কতটা ভালোবাসা নিহিত রয়েছে। তবে আমি লক্ষ্য করলাম যে, তৎকালীন পরিস্থিতি এমন এক বিশাল জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে এসব কিছু বলার অনুকূলে ছিল না; এই ভয়ে যে, সম্ভবত নতুন উসমানীয় সরকার এই বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে অথবা এর এমন কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারে যা বক্তার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং তাঁর লক্ষ্য ও অভিপ্রায় থেকে বিচ্যুত। এরপর আমরা আমাদের জন্য প্রস্তুতকৃত চা ও অন্যান্য আপ্যায়নের জন্য শামিয়ানার দিকে অগ্রসর হলাম। তারপর আমরা হোটেলের দিকে রওনা হলাম। বাগানের মধ্যভাগ থেকে ফটক পর্যন্ত আমাদের যাতায়াতের পথটি স্থানীয় লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে আমাদের বিদায় জানানো হলো
সম্মানিত দুই সভাপতি ও তাঁদের সঙ্গীদের পক্ষ থেকে, ঠিক তেমন সম্মান ও আতিথেয়তার সাথে যেমনটি দিয়ে আমাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। ফলে আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানালাম এবং গাড়িতে চড়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই আমাদের হোটেলে পৌঁছে গেলাম। তখন শহরের কিছু গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন। তাঁদের মধ্যে ফরাসি রেলওয়ে কোম্পানিতে কর্মরত উসমানীয় পরিদর্শকও ছিলেন। আমরা তাঁদের সবার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁদের এই মহান আতিথেয়তা ও বারবার আগমনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। এই মজলিসেই আমি জানতে পারলাম যে, কোম্পানি আমাদের সফরের জন্য সকালের ট্রেনে একটি বিশেষ কক্ষের (সেলুন) ব্যবস্থা করেছে; যেখানে আমরা—মহান আল্লাহর ইচ্ছায়—সেই ট্রেনযোগে দামেস্ক শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রার সংকল্প করেছিলাম।
বৈরুত সম্পর্কে কিছু কথাএখানে আমি মনে করলাম যে, এই শহর ত্যাগ করার পূর্বে এটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা আবশ্যক, যা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে করা আমার আলোচনার সাথে সংযুক্ত হবে। যদিও এই শহরটি প্রসিদ্ধ বন্দর ও বড় বাণিজ্যিক শহরগুলোর অন্যতম, যা নিয়ে প্রাচীন ও বর্তমানকালে লেখক ও ইতিহাসবিদগণ যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা এর বর্ণনায় ব্যাপকতা ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দিক ও প্রয়োজনীয় লক্ষ্যসমূহ বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তবে আমি আমার এই ভ্রমণকাহিনিতে সেসব বিষয়ই উল্লেখ করতে চাই যা আমি স্বচক্ষে দেখেছি এবং নিজে অবগত হয়েছি। সম্ভবত এই আলোচনার ফাঁকে আমি লোকজনের সামাজিক জীবন এবং অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে এমন কিছু মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব, যা হয়তো কিছু মানুষের নজর এড়িয়ে গেছে অথবা তারা একে অবহেলা করে পেছনে ফেলে রেখেছে, এর প্রাপ্য গুরুত্ব প্রদান না করেই...