القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: رحلة ابن خلدون
المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن محمد، ابن خلدون أبو زيد، ولي الدين الحضرمي الإشبيلي (ت 808هـ)
عارضها بأصولها وعلق حواشيها: محمد بن تاويت الطَّنجي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1432
বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনীসমূহ
কিতাব: রিহলাতু ইবনে খালদুন
লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ، ইবনে খালদুন আবু যায়েদ، ওয়ালিউদ্দীন আল-হাদরামি আল-ইশবিলি (মৃত ৮০৮ হিজরি)
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়েছেন এবং এর পাদটীকা লিখেছেন: মুহাম্মদ বিন তাবিত আত-তাঞ্জি
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
তিনি বিশ বছর ধরে কর্ডোভা, সেভিল, কারমোনা এবং জায়েন ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ শাসন করেন। যখন বানু খালদুন সেউতায় অবতরণ করেন, তখন আল-আজাফি তার পুত্র ও কন্যাদের মাধ্যমে তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, ফলে তাদের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে এবং তাদের মাঝে সুপ্রসিদ্ধ বৈবাহিক আত্মীয়তা ছিল। আমাদের দাদা আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ—যিনি ইবনুল মুহতাসিবের দৌহিত্র ছিলেন—তাদের সাথে যারা নদী পার হয়েছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমির আবু যাকারিয়ার নিকট তার পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ইতিহাস উল্লেখ করেন। ফলে আমির তার প্রতি আগ্রহী হন এবং তিনি আমিরের নিকট উপস্থিত হলে আমির তাকে সস্মানজনক অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেন এবং তার ফরজ (হজ) পালন করেন। এরপর তিনি ফিরে এসে বোনা নামক স্থানে আমির আবু যাকারিয়ার সাথে মিলিত হন। আমির তাকে সম্মানিত করেন এবং তিনি তার রাজত্বের ছায়াতলে ও অনুগ্রহের চারণভূমিতে স্থিতি লাভ করেন। আমির তার জন্য জীবিকা বরাদ্দ করেন এবং জায়গির প্রদান করেন। তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন এবং বোনাতে সমাহিত হন। তিনি তার পুত্র মুহাম্মদ আবু বকরকে রেখে যান, যিনি সেই নিআমত ও স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশে লালিত-পালিত হন। আমির আবু যাকারিয়া ৬৪৭ হিজরিতে বোনাতে ইন্তেকাল করেন এবং তার পুত্র আল-মুস্তানসির মুহাম্মদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি আমাদের দাদা আবু বকরকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পূর্বের অবস্থানেই বহাল রাখেন। এরপর কালের আবর্তনে ৬৭৫ হিজরিতে আল-মুস্তানসির ইন্তেকাল করেন এবং তার পুত্র ইয়াহিয়া ক্ষমতায় বসেন। তার ভাই আমির আবু ইসহাক আন্দালুস থেকে ফিরে আসেন, যিনি এর আগে তার ভাই আল-মুস্তানসিরের নিকট থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইয়াহিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইফরীকিয়ার রাজত্ব নিজের একক অধিকারে নেন। তিনি আমাদের দাদা আবু বকর মুহাম্মদকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর দায়িত্ব অর্পণ করেন, যেমনটা তার আগেকার মহান মুওয়াহহিদুন নেতাদের রীতি ছিল; যার মধ্যে ছিল কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বরখাস্ত এবং কর আদায়ের হিসাব নেওয়ার একক কর্তৃত্ব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর সুলতান আবু ইসহাক তার পুত্র মুহাম্মদের জন্য—যিনি আমাদের নিকটতম দাদা—তার উত্তরাধিকারী পুত্র আবু ফারিসের হাজাবাহ (চেম্বারলেইন) পদের চুক্তি করেন, যখন তাকে বেজাইয়াতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এরপর আমাদের দাদা সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তিনি রাজধানীতে ফিরে আসেন। যখন ভণ্ড ইবনে আবি উমারা তিউনিসে তাদের রাজত্ব দখল করে নেয়, সে আমাদের দাদা আবু বকর মুহাম্মদকে বন্দি করে এবং তার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এরপর সে তাকে কারাগারে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার পুত্র মুহাম্মদ—যিনি আমাদের নিকটতম দাদা—সুলতান আবু ইসহাক ও তার পুত্রদের সাথে বেজাইয়ার দিকে চলে যান, সেখানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মহানুভবদের প্রশংসাগীতি আমাকে ফিরিয়ে এনেছে … তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি সর্বদা সচেষ্ট।
আল্লাহ ইবনে খালদুনকে দান করুন স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন … এবং জান্নাতে চিরস্থায়ী নিবাস।
তিনি কতই না অনুগ্রহ ও সদাচরণ করেছেন … কর্মে ও বচনে দেখিয়েছেন পুণ্যময়তা।
তিনি রক্ষা করেছেন হাদরামি মর্যাদা সেই সব বিষয়ে যা … তিনি তাঁর ভালোবাসা ও মমতা থেকে দান করেছেন।
হে আবু বকর, আপনার প্রশংসা আমার সারা জীবন ধরে … আমি মুখে ও অন্তরে বারবার উচ্চারণ করব।
যতদিন আমি বেঁচে আছি, আপনার শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানে … আমি তরবারি ও জিহ্বা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।
আপনার মাধ্যমেই আমি এমন এক বন্ধু লাভ করেছি, যাঁর প্রতি … ভালোবাসা থেকে আমি কখনও বিমুখ হব না।
রাহওয়ি তাঁর কবিতায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন, তাঁরা ছিলেন সুলতান আবু হাসানের মজলিসের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব। মাগরিববাসীদের মধ্য থেকে সুলতান তাঁদের নিজের সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইমামের দুই পুত্র ছিলেন বারশাক শহরের অধিবাসী, যা তিলিমসানের প্রশাসনিক এলাকাভুক্ত। বড় পুত্রের নাম ছিল আবু জায়েদ আব্দুর রহমান এবং ছোটজনের নাম ছিল আবু মুসা ঈসা। তাঁদের পিতা বারশাকের কোনো এক মসজিদের ইমাম ছিলেন। তৎকালীন শহরের বিজয়ী শাসক জিরাম বিন হাম্মাদ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর কাছে জনৈক শত্রুর পক্ষ থেকে কিছু আমানতকৃত সম্পদ গচ্ছিত আছে।
তিনি সেই সম্পদ দাবি করলে ইমাম তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। এরপর জিরাম রাতের আঁধারে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান যেন তাঁর হাত থেকে সেই সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারেন। ইমাম তা প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন। এরপর এই দুই ভাই সপ্তম শতাব্দীতে তিউনিসে হিজরত করেন এবং সেখানে ইবনে জাইতুনের ছাত্রদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তাঁরা আবু আব্দুল্লাহ বিন শুআইব আদ-দুক্কালির অনুসারীদের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং প্রচুর পাণ্ডিত্য নিয়ে পুনরায় মাগরিব অঞ্চলে ফিরে আসেন। তাঁরা আলজিয়ার্সে অবস্থান করে জ্ঞান প্রচার শুরু করেন, কারণ বিজয়ী শাসক জিরামের উৎপীড়নের কারণে বারশাকে ফিরে যাওয়া তাঁদের জন্য অসম্ভব ছিল। সেই সময় বনু মারিন বংশীয় সুদূর মাগরিবের অধিপতি সুলতান আবু ইয়াকুব তিলিমসান অবরোধ করে রেখেছিলেন, যা ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী ও বিখ্যাত এক অবরোধ হিসেবে পরিচিত। তিনি তিলিমসানের আশেপাশে তাঁর সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন এবং এর অনেক এলাকা ও শহর জয় করেছিলেন।