(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: -)
رحلة ابن خلدون   (ابن خلدون)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: رحلة ابن خلدون

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن محمد، ابن خلدون أبو زيد، ولي الدين الحضرمي الإشبيلي (ت 808هـ)

عارضها بأصولها وعلق حواشيها: محمد بن تاويت الطَّنجي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1432

রিহলাতু ইবনে খালদুন   (ইবনে খালদুন)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনীসমূহ


কিতাব: রিহলাতু ইবনে খালদুন

লেখক: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ، ইবনে খালদুন আবু যায়েদ، ওয়ালিউদ্দীন আল-হাদরামি আল-ইশবিলি (মৃত ৮০৮ হিজরি)

মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়েছেন এবং এর পাদটীকা লিখেছেন: মুহাম্মদ বিন তাবিত আত-তাঞ্জি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌التَّعريف بابن خَلدون

ورحلته غربا وشرقا

وأَصل هذا البيت من إشبيلية؛ انتقل سلفُنا - عند الجَلاء وغَلَبِ مَلك الجَلالِقة ابن أُدْفُونْش عليها - إلى تُونس في أَواسط المائة السابعة

 

‌‌نسبه

عبد الرحمن بن محمد بن محمد بن محمد بن الحسن بن محمد بن جابر بن محمد ابن إبراهيم بن عبد الرحمن بن خَلدون. لا أَذكر من نسَبي إِلى خَلدون غير هؤلاء العشرة، ويغلب على الظن أنهم أكثر، وأنه سقط مثلهم عدداً؛ لأنَّ خَلدون هذا هو الداخل إلى الأَندلس، فإن كان أَولَ الفتح فالمدَّة لهذا العَهْد سبعُمائة سنة، فيكونون زُهاءَ العشرين؛ ثلاثةً لكل مائة، كما تقدم في أَول الكتاب الأَول.

وَنَسَبُنا حَضْرمَوت، من عَرب اليمن، إلى وائل بن حُجْر، من أَقيال العَرب، معروفٌ وله صُحبة. قال أبُو محمد بن حَزْم في كتاب الجمهرة: وهو وائل بن حُجْر بن سعيد بن مَسْروق بن وائل بن النُّعمان بن ربيعة بن الحَارِث بن عَوف ابن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ইবনে খালদুন পরিচিতি

এবং তাঁর পশ্চিম ও পূর্বের সফর

এই বংশের আদি নিবাস হলো ইশবিলিয়া (সেভিল); সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে—যখন গ্যালিসিয়ার রাজা ইবনে উদফুন্শের আধিপত্য ও সেখান থেকে নির্বাসনের ঘটনা ঘটে—তখন আমাদের পূর্বপুরুষগণ তিউনিসিয়ায় স্থানান্তরিত হন।

 

‌‌তাঁর বংশপরিচয়

আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন জাবির বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন খালদুন। খালদুন পর্যন্ত আমার বংশপরম্পরায় এই দশজন ব্যতীত আর কারো নাম আমার স্মরণে নেই। তবে প্রবল ধারণা এই যে, তাঁদের সংখ্যা আরও বেশি হবে এবং সম্ভবত সমপরিমাণ আরও কিছু নাম বাদ পড়েছে; কারণ এই খালদুনই আন্দালুসে প্রবেশ করেছিলেন। যদি তিনি বিজয়ের সূচনালগ্নে সেখানে প্রবেশ করে থাকেন, তবে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই যুগের ব্যবধান সাতশত বছর। সেক্ষেত্রে তাঁদের সংখ্যা হবে প্রায় বিশ জন; প্রতি একশত বছরে তিনজন করে, যেমনটি প্রথম কিতাবের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে।

আমাদের বংশধারা হলো হাজরামাউত ভিত্তিক ইয়েমেনি আরব, যা আরবের গোত্রপতিদের অন্যতম এবং প্রসিদ্ধ সাহাবী ওয়াইল বিন হুজরের সাথে সম্পৃক্ত। আবু মুহাম্মদ বিন হাজম 'আল-জামহারা' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন ওয়াইল বিন হুজর বিন সাঈদ বিন মাসরুক বিন ওয়াইল বিন আন-নুমান বিন রাবিয়া বিন আল-হারিস বিন আউফ বিন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ২৮)
سعد بن عَوف بن عديَّ بن مالك بن شُرَحْبيل بن الحارث بن مالك بن مُرَّة بن حِمْيَرِي بن زيد بن الحَضْرَميْ بن عمرو بن عبد الله بن هانئ بن عوف بن جُرشم بن عبد شمس بن زيد بن لأي بن شَبْت بن قُدامة بن أَعجَب بن مالك بن لأي بن قحطان. وابنُه عَلقَمة بن وائل وعبد الجبَّار بن وائل.

وذكره أبو عُمر بن عبد البَرِّ في حرف الوَاو من الاستيعاب، وأنَّه وفد على النّبي صلى الله عليه وسلم، فبسَطَ له رداءَه، وأجلسه عليه، وقال: اللهم بارك في وائل بن حُجْر وولده وولد ولده إلى يوم القيامة.

وبعث معه معاويةَ بن أَبي سُفيان إلى قومه يعلَّمهم القرآنَ والإِسلامَ، فكانت له

بذلك صِحابة مع معاوية. ووفد عليه لأول خِلافته وأَجازه، فردَّ عليه جائزته ولم يقبلها. ولما كانت واقعة حُجْر بن عَدِيّ الكِندي بالكوفة، اجتمع رؤوس أهل اليمن، وفيهم وائل هذا، فكانوا مع زياد بن أَبي سُفيان عليه، حتَّى أَوثقوه وجاؤوا بِه إلى مُعاوية، فقَتَله كما هو معروف.

قال ابن حزم: ويُذكَر بنو خَلدون الإِشْبِيليُّون من ولده، وجَدُّهم الداخل من الشَّرْق خالد المعروف بخَلدون بن عثمان بن هانئ بن الخطاب بن كُرَيب بن مَعْدِ يكَرِب ابن الحارث بن وائل بن حُجْر. قال: وكان من عَقِبِه كُرَيْب بن عثمان بن خَلدون وأخوه خالد، وكانا من أَعظم ثوار الأَندلس.

قال ابن حَزم: وأخوه محمَّد كان من عَقِبِه أبو العاصِي عمرو بن محمد بن خالد بن محمَّد بن خَلدون.
সা’দ ইবনে আওফ ইবনে আদি ইবনে মালিক ইবনে শুরাহবীল ইবনে আল-হারিস ইবনে মালিক ইবনে মুররা ইবনে হিময়ারি ইবনে যায়েদ ইবনে আল-হাদরামি ইবনে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানি ইবনে আওফ ইবনে জুরশুম ইবনে আবদ শামস ইবনে যায়েদ ইবনে লাই ইবনে শাবত ইবনে কুদামা ইবনে আজাব ইবনে মালিক ইবনে লাই ইবনে কাহতান। এবং তার পুত্র আলকামা ইবনে ওয়ায়েল এবং আব্দুল জাব্বার ইবনে ওয়ায়েল।

আর আবু উমর ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইসতিয়াব' গ্রন্থের 'ওয়াও' বর্ণের আলোচনায় তার কথা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন। তখন তিনি (নবী) তার জন্য নিজের চাদর বিছিয়ে দেন এবং তাকে তার ওপর বসান, আর বলেন: "হে আল্লাহ! ওয়ায়েল ইবনে হুজর, তার সন্তান এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার বংশধরদের ওপর বরকত দান করুন।"

এবং তিনি (নবী) তার সাথে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে তার গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন যাতে তিনি তাদের কুরআন ও ইসলাম শিক্ষা দেন। এর মাধ্যমে মুয়াবিয়ার সাথে তার এক প্রকার সাহচর্য তৈরি হয়। আর তিনি তার (মুয়াবিয়ার) খিলাফতের শুরুর দিকে তার নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আসেন এবং তিনি তাকে উপহার প্রদান করেন, কিন্তু তিনি তার উপহার ফিরিয়ে দেন এবং তা গ্রহণ করেননি। আর যখন কুফায় হুজর ইবনে আদি আল-কিন্দির ঘটনাটি ঘটে, তখন ইয়েমেনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হন, যাদের মধ্যে এই ওয়ায়েলও ছিলেন। তারা তার বিরুদ্ধে যিয়াদ ইবনে আবি সুফিয়ানের পক্ষে ছিলেন, এমনকি তারা তাকে বন্দি করেন এবং মুয়াবিয়ার কাছে নিয়ে আসেন, অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করেন যেমনটি সুবিদিত।

ইবনে হাযম বলেন: সেভিলের বনু খালদুনকে তার বংশধর হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের পূর্বপুরুষ, যিনি প্রাচ্য থেকে প্রবেশ করেছিলেন, তিনি হলেন খালিদ—যিনি খালদুন ইবনে উসমান ইবনে হানি ইবনে আল-খাত্তাব ইবনে কুরাইব ইবনে মাদী কারিব ইবনে আল-হারিস ইবনে ওয়ায়েল ইবনে হুজর নামে পরিচিত। তিনি বলেন: তার বংশধরদের মধ্যে ছিলেন কুরাইব ইবনে উসমান ইবনে খালদুন এবং তার ভাই খালিদ, যারা ছিলেন আন্দালুসের মহান বিপ্লবীদের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে হাযম বলেন: আর তার ভাই মুহাম্মদ; তার বংশধরদের মধ্যে ছিলেন আবুল আসি আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালদুন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وبنو أبي العاصي: محمَّد، وأحمد، وعبد الله. قَال: - وأَخوهم عثمان، وله عقِب. ومنهم الحكيم المشهور بالأَندلس من تلامِيذِ مَسْلَمَة المَجْريطي، وهو أبو مُسلم عمر بن محمد بن بَقِيّ بن عبد الله بن بكر بن خالد ابن عثمان بن خالد بن عثمان بن خَلدون الدَّاخل. وابن عمه أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن عبد الله. قال: ولم يبق من ولد كُرَيب الرئيسِ المذْكور إلا أَبو الفضل بن محمد بن خَلَف بن أَحمد بن عبد الله بن كُرَيْب - انتهى كلام ابن حَزم.

 

‌‌سلفه بالأندلس

ولمَّا دخل خَلدون بن عُثمان جدُّنا إلى الأَندلس، نزل بِقَرْمُونَة في رَهط من قومه حَضْرَمَوت، ونَشَأَ بيتُ بَنِيه بِها، ثم انتَقلوا إلى إِشْبِيلِيةَ. وكانوا في جُند اليَمَن، وكان لكُرَيب من عقِبِه وأخيه خالد، الثورةُ المعروفةُ بأشبيلية أَيام الأَمير عبد الله المرواني، ثار على ابن أبي عَبْدة، وملكها من يَده أعواماً، ثم ثار عليه إبراهيم ابن حجَّاج، بإِملاءِ الأمير عبد الله وقَتله، وذلك في أَواخر المائة الثالثة.

وتلخيص الخبر عن ثورته، على ما نقله ابن سَعيد عن الحِجَاري وابن
এবং আবু আল-আসীর ছেলেরা হলো: মুহাম্মদ, আহমদ ও আবদুল্লাহ। তিনি বলেন: এবং তাদের ভাই উসমান, যার বংশধর রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে আন্দালুসে প্রসিদ্ধ হাকীম (প্রজ্ঞাবান) এবং মাসলামা আল-মাজরিতির অন্যতম ছাত্র হলেন আবু মুসলিম উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাকি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বকর ইবনে খালিদ ইবনে উসমান ইবনে খালিদ ইবনে উসমান ইবনে খালদুন আদ-দাখিল। এবং তার চাচাতো ভাই আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। তিনি বলেন: উল্লিখিত নেতা কুরাইবের সন্তানদের মধ্য থেকে আবুল ফজল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুরাইব ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই — ইবনে হাজমের বক্তব্য এখানেই শেষ।

 

‌‌আন্দালুসে তার পূর্বপুরুষগণ

যখন আমাদের পূর্বপুরুষ খালদুন ইবনে উসমান আন্দালুসে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তার হাযরামাউত গোত্রের একদল লোকের সাথে কারমোনায় বসতি স্থাপন করলেন এবং সেখানে তার সন্তানদের বংশধারা গড়ে উঠল; পরবর্তীতে তারা ইশবিলিয়াতে (সেভিল) স্থানান্তরিত হন। তারা ইয়ামেনী সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমির আবদুল্লাহ আল-মারওয়ানির শাসনামলে ইশবিলিয়াতে কুরাইব ও তার ভাই খালিদের বংশধরদের নেতৃত্বে সেই সুপরিচিত বিদ্রোহটি সংঘটিত হয়েছিল। তিনি ইবনে আবি আবদাহ-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কয়েক বছর তার হাত থেকে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলেন। অতঃপর আমির আবদুল্লাহর প্ররোচনায় ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তাকে হত্যা করেন। এটি ছিল তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগের ঘটনা।

তার বিদ্রোহের খবরের সারসংক্ষেপ, যা ইবনে সাঈদ আল-হিজারি এবং ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩০)
حَيَّان

وغيرهما، وينقلونَهُ عن ابن الأَشعث مؤَرخ إِشْبِيلِيةَ: أن الأَندلس لما اضطربت بالفتن أيام الأمير عبد الله تطاول رؤساء إِشْبِيلِيةَ إلى الثَّورة والاستبداد، وكان رؤَساؤها المتطاولون إلى تلك في ثلاثة بيوت: بيت بَني أبي عَبْدَة، ورئيسهم يومئذ أُمَيَّة بن عبد الغافر بن أبي عَبْدَة، وكان عبدُ الرحمن الداخل ولَّى أبا عبده إِشْبِيلِيةَ وأَعمالها، وكان حَافدُه أُمَيةُ من أعلام الدولة بقرطبة، ويولونه الممالك الضخمة. وبيت بني خلدون هؤلاءِ، ورئيسُهم كُرَيْب المذْكور، ويَردفه أخوه خالد.

قال ابن حَيَّان: وبيت بني خَلدون إلى الآن في إِشْبِيلِيةَ نهاية في النَّباهة، ولم تزل أعلامُه بين رياسة سلطانية ورياسة علمية. ثم بيت بني حجَّاج، وَرَئيسهم يومئذ عبد الله. قال ابن حَيَّان: هم - يعني بني حجَّاج - من لَخْم، وبيتُهم إِلَى الآن في إِشْبِيلِيةَ ثَابِت الأصل، نَابت الفرع موسوم بالرياسة السلطانية والعلمية. فلما عظمت الفتنة بالأندلس أعوامَ الثمانين والمائتين، وكان الأَمير عبد الله قد ولَّى على إِشْبِيلِيةَ أُمَيَّة بن عبد الغافر، وَبعَثَ معه ابنَه محمداً، وجعله في كفالته، فاجتمع هؤُلاء النَّفَر، وثارُوا بِمحمَّد بن الأمير عبد الله وبأمية صاحبهم، وهو يمالئهم على ذلك، ويكيد بابن الأمير عبد الله. وحاصروهما في القَصْر، حتَّى طلب منهم الّلحاق بأبيه فأَخرجوه، واستبدّ أُمية إِشْبِيلِيةَ، ودَسَّ على عبد الله بن حجَّاج من قَتَله، وأَقام أخاه إبراهيمَ مكانه. وضبط إِشْبِيلِيةَ، واسترهنَ أولادَ بَنِي خَلدون وبني حجَّاج، ثم ثاروا به، وهمَّ بقتل أبنائهم فراجَعوا طاعتَه. وحلفوا له، فأَطلق أبناءَهم فانتقضوا ثانية. وحاربوه فاستَمات وقَتَل حُرَمه، وعَقَر خُيولَه، وأحرق موجودَه. وقاتَلهم حتى قَتلوه مقبلاً غيرَ مدبر، وعاثت العامَّة في رأْسِه. وكتبوا إلى الأَمير عبد الله بأنه خَلَع فقتَلوه، فقبل منهم مداراة، وبعث عليْهم هشامَ بن عبد الرحمن من قَرابته، فاستبدُّوا عليه، وفتكوا بابنه، وتولَّى كِبر ذَلك كريب بن خَلدون، واستقلَّ بإِمارتها.

وكان إبراهيم بن حجَّاج بعد ما قُتل أخوه عبدُ الله - على ما ذَكَرَهُ ابن سَعيد عن
হাইয়্যান ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তারা সেভিলের ইতিহাসবিদ ইবনে আল-আশআস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন যে: আমির আবদুল্লাহর শাসনামলে যখন আন্দালুস ফিতনা-ফ্যাসাদে অস্থির হয়ে উঠেছিল, তখন সেভিলের নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহ ও স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার লালসা করতে শুরু করেন। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতৃবৃন্দ তিনটি অভিজাত বংশের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: বনু আবি আবদা পরিবার, সে সময়ে তাদের নেতা ছিলেন উমাইয়া ইবনে আবদ আল-গাফির ইবনে আবি আবদা। আবদুর রহমান আদ-দাখিল আবু আবদাকে সেভিল ও এর আশপাশের অঞ্চলের শাসনভার অর্পণ করেছিলেন এবং তার নাতি উমাইয়া কর্ডোভা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যাকে বিশাল সব রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর বনু খালদুন পরিবার, যাদের নেতা ছিলেন উল্লিখিত কুরাইব এবং তার সহযোগী ছিলেন তার ভাই খালিদ।

ইবনে হাইয়্যান বলেন: বনু খালদুন পরিবার এখন পর্যন্ত সেভিলে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ এবং এই বংশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সর্বদা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ইলমি শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়ে আসছেন। তারপর বনু হাজ্জাজ পরিবার, যাদের তৎকালীন নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ। ইবনে হাইয়্যান বলেন: তারা—অর্থাৎ বনু হাজ্জাজ—লাখম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের পরিবার এখন পর্যন্ত সেভিলে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাদের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত এবং তারা রাজনৈতিক ও ইলমি নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। যখন দুইশত আশি হিজরি সনের দিকে আন্দালুসে ফিতনা চরম আকার ধারণ করল, তখন আমির আবদুল্লাহ উমাইয়া ইবনে আবদ আল-গাফিরকে সেভিলের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং তার সাথে নিজের পুত্র মুহাম্মদকে পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে তার অভিভাবকত্বে ন্যস্ত করেছিলেন। তখন এই একদল লোক একত্রিত হলো এবং আমির আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ ও তাদের সহযোগী উমাইয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। আর উমাইয়া তাদের সাথে এই কাজে যোগসাজশ রেখেছিলেন এবং আমিরের পুত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলেন। তারা তাদের দুজনকে প্রাসাদে অবরুদ্ধ করে ফেলে, শেষ পর্যন্ত আমিরের পুত্র তার পিতার কাছে চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তারা তাকে চলে যেতে দেয়। এরপর উমাইয়া সেভিলের ক্ষমতা এককভাবে দখল করেন এবং গোপনে আবদুল্লাহ ইবনে হাজ্জাজকে হত্যার জন্য লোক পাঠান। তাকে হত্যা করার পর তিনি তার ভাই ইব্রাহিমকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি সেভিলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বনু খালদুন ও বনু হাজ্জাজের সন্তানদের জামিন হিসেবে বন্দি রাখেন। পরবর্তীতে তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তিনি তাদের সন্তানদের হত্যার উপক্রম করেন, ফলে তারা পুনরায় তার আনুগত্যে ফিরে আসে। তারা তার কাছে শপথ করলে তিনি তাদের সন্তানদের মুক্তি দেন, কিন্তু তারা দ্বিতীয়বার বিদ্রোহ করে। তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে তিনি মরণপণ লড়াই করেন এবং নিজের পরিবারের নারীদের হত্যা করেন, ঘোড়াগুলোকে যবাই করেন এবং তার সমস্ত ধন-সম্পদ পুড়িয়ে দেন। তিনি তাদের সাথে লড়াই করতে করতে নিহত হন; তিনি বীরের মতো সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। এরপর সাধারণ জনতা তার ছিন্ন মস্তক নিয়ে অমানবিক আচরণ করে। তারা আমির আবদুল্লাহর কাছে লিখে পাঠাল যে, উমাইয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল তাই তারা তাকে হত্যা করেছে। আমির কৌশলগত কারণে তাদের এই ওজর গ্রহণ করলেন এবং তার আত্মীয় হিশাম ইবনে আবদুর রহমানকে তাদের কাছে পাঠালেন। কিন্তু তারা তার বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করল এবং তার পুত্রকে হত্যা করল। এই ঘটনার মূলে ছিলেন কুরাইব ইবনে খালদুন এবং তিনি নিজেই সেভিলের রাজত্ব দখল করে নিলেন।

আর ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজ তার ভাই আবদুল্লাহ নিহত হওয়ার পর—যেমনটি ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩১)
الحِجَاري - سَمَت نفسُه إلى التَّفَرد، فظاهر ابْنَ حَفصُون أعظم ثوار الأندلس يومئذ، وكان بمَالَقَة وأعمالها إلى رُنْدَة، فكان له منه ردْءٌ. ثم انصرف إلى مُداراة كُرَيْب بن خَلدون وملابسته، فَردَفه في أمره، وشَركَه في سلطانه، وكان في كُرَيب تحامل على الرَّعية وتعصُّب، فكان يتجَهُّم لهم، ويغلظ عليهم، وابن حَجَّاج يَسْلك بهم الرفق والتلطف في الشفاعة لهم عنده، فانحرفوا عن كُريبِ إلى إبراهيم. ثم دسَّ إلى الأمير عبد الله يطلب منه الكتاب بولاية إِشْبِيلِيةَ، لتسكن إِليه العامَّة، فكتب إليه العهدَ بذلك. وأَطلع عليه عُرَفَاءَ البلد، مع ما أشربوا من حُبِّه، والنَّفرة عن كُريْب، ثم أجمع الثورة، وهاجت العامة بكُرَيْب فقتلوه، وبعث برأْسه إلى الأمير عبد الله، واستقرَّ بإِمارة إِشْبِيلِيةَ.

قال ابن حَيَّان: وحَصَّن مدينة قَرمُونَة من أَعظم معاقل الأندلس، وجعلها مُرْتَبَطا لخيوله، وكان ينتقل بينها وبين إِشْبِيلِيةَ. واتخذ الجُند ورتَّبهم طبقات، وكان يصانع الأميرَ عبد الله بالأموال والهَدايا، وببعث إليه المَدَدَ في الصَّوائف. وكان مقصوداً مُمَدَّحاً، قصده أهل البيوتات فوصلهم، وَمَدحَهُ الشعراء فأجازَهم، وانتجعه أبو عمر ابن عبد ربِّه صاحب العِقد، وقصدَهُ من بين سائر الثوار، فعرَفَ حقه، وأعظم جائزتَهُ.

وَلَم يزل بيت بني خَلدون بإِشْبِيلِيةَ - كما ذكَرَهُ ابن حَيَّان وابنُ حَزْم وغيرُهما - سائرَ أَيام بني أمية إلى أَزمان الطَّوائف -، وانْمَحت عنْهم الإمارة بما ذهب لهم من الشوكة.

ولما علا كعبُ بن عَبَّاد بإِشْبِيلِية، واستبدَّ على أهلها، استوزر من بني خَلدون
আল-হিজারি - তার আত্মা অনন্য হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিল। তিনি তৎকালীন আন্দালুসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্রোহী ইবনে হাফসুনের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। তিনি মালাকা ও তার আশপাশের অঞ্চল থেকে রন্ডা পর্যন্ত অবস্থান করছিলেন এবং তার জন্য তিনি এক শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এরপর তিনি কুরাইব ইবনে খালদুনকে তুষ্ট করার এবং তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি তার কার্যাবলীতে কুরাইবের অনুসারী হন এবং তার শাসনে অংশীদারিত্ব লাভ করেন। কুরাইব প্রজাদের প্রতি পক্ষপাতমূলক ও কঠোর আচরণ করতেন, তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হতেন এবং রুক্ষতা প্রদর্শন করতেন। পক্ষান্তরে ইবনে হাজ্জাজ তাদের প্রতি দয়া ও কোমলতা প্রদর্শন করতেন এবং কুরাইবের কাছে তাদের অনুকূলে সুপারিশ করতেন। ফলে জনগণ কুরাইবকে ত্যাগ করে ইব্রাহিমের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এরপর তিনি গোপনে আমির আবদুল্লাহর কাছে সেভিলের শাসনভার প্রদানের জন্য আবেদন করেন, যাতে সাধারণ জনগণ তার প্রতি আস্বস্ত হতে পারে। আমির তাকে সেই মর্মে একটি নিয়োগপত্র লিখে দেন। তিনি দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করেন, যাদের মনে আগে থেকেই তার প্রতি অনুরাগ এবং কুরাইবের প্রতি বিতৃষ্ণা বদ্ধমূল ছিল। এরপর তিনি বিদ্রোহের সংহতি প্রকাশ করেন এবং সাধারণ জনগণ কুরাইবের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করে। তিনি তার মস্তক আমির আবদুল্লাহর নিকট প্রেরণ করেন এবং সেভিলের ইমারতে সুপ্রতিষ্ঠিত হন।

ইবনে হাইয়ান বলেন: তিনি আন্দালুসের অন্যতম প্রধান দুর্গ কারমুনা শহরকে সুরক্ষিত করেন এবং সেটিকে তার অশ্বারোহী বাহিনীর আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। তিনি এই শহর ও সেভিলের মধ্যে যাতায়াত করতেন। তিনি এক সেনাবাহিনী গঠন করে তাদের বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেন। তিনি অর্থ ও উপঢৌকনের মাধ্যমে আমির আবদুল্লাহর আনুগত্য বজায় রাখতেন এবং গ্রীষ্মকালীন যুদ্ধাভিযানগুলোতে তাকে সৈন্য পাঠিয়ে সাহায্য করতেন। তিনি ছিলেন সকলের লক্ষ্যস্থল এবং প্রশংসিত ব্যক্তি। অভিজাত পরিবারের লোকেরা তার সান্নিধ্য লাভ করতেন এবং তিনি তাদের যথাযথ সম্মান দিতেন। কবিরা তার প্রশংসা করে কবিতা পাঠ করতেন এবং তিনি তাদের পুরস্কার দিতেন। 'আল-ইকদ' গ্রন্থের রচয়িতা আবু উমর ইবনে আবদ রাব্বিহি অন্যান্য সকল বিদ্রোহীকে বাদ দিয়ে কেবল তার নিকটই আগমন করেন। ইব্রাহিম তার মর্যাদা উপলব্ধি করেন এবং তাকে বিশাল পুরস্কারে ভূষিত করেন।

ইবনে হাইয়ান, ইবনে হাজম ও অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, উমাইয়া বংশের শাসনকাল থেকে শুরু করে খণ্ডরাজ্যগুলোর সময় পর্যন্ত সেভিলে বনু খালদুন পরিবারের প্রভাব বিদ্যমান ছিল। তবে তাদের শক্তি ও প্রভাব বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে তাদের শাসন ক্ষমতাও নির্মূল হয়ে যায়।

যখন সেভিলে ইবনে আব্বাদের উত্থান ঘটল এবং তিনি সেখানকার অধিবাসীদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করলেন, তখন তিনি বনু খালদুন পরিবার থেকে উজির নিযুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩২)
هؤلاء، واستَعملهم في رُتَب دولته، وحضروا معه وقعة الزَّلَاَّقة كانت لابن عَبَّاد وليوسف بن تَاشِفين على مَلِكِ الجلالقة، فاستشهد فيها طائفةٌ كبيرة من بني خَلدون هؤلاء، ثبتوا في الجولة مع ابن عَبَّاد فاستُلْحِموا في ذلك الموقف. ثم كان الظُهور

للمسْلمين، ونصَرهم الله على عدوّهم. ثم تَغلب يوسف بن تَاشِفين والمُرابِطُون على الأَندلس، واضمحلَّت دولةُ العَرَب وَفِنيتْ قبَائلُهم.

 

‌‌سلفه بأفريقية

ولما استولى الموحِّدون على الأَندلس، وملكوها من يد المرابطين، وكان ملوكُهم: عبدَ المؤمن وبنيه. وكان الشَّيخ أبو حَفص كبير هِنْتَاتَةَ زعيم دولتهم، وولَّوه على إِشْبِيلِية وغَربِ الأندلس مراراً، ثم ولوا ابنَه عبد الواحد عليها في بعض أيامهم، ثم ابنَه أَبا زكرياءَ كذلك، فكان لِسَلَفِنَا بإِشْبِيلِية اتصالٌ بهم، وَأَهدَى بعضُ أجدادنا من قِبَل الأمهات، وَيُعْرَف بابن المحْتَسِب، للأمير أبي زكرياء يحيى بن عبد الواحد ابن أبي حفص أيام ولايته عليهم، جارية من سَبْي الجلالقة، اتخذها أم ولد، وكان له منها ابنه أبو يحيى زكريا ولي عهده الهالك في أيامه، وأخواه: عُمر وأبو
এঁরা, এবং তিনি তাঁদেরকে তাঁর রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপদে নিয়োজিত করেন। তাঁরা তাঁর সাথে যাল্লাকার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল ইবনে আব্বাদ ও ইউসুফ বিন তাশফিনের সাথে জালালিকাহর (গ্যালিশিয়া) রাজার লড়াই। এতে বনী খালদুনের একটি বিশাল দল শাহাদাত বরণ করেন; তাঁরা যুদ্ধের সেই সংকটময় মুহূর্তে ইবনে আব্বাদের সাথে অবিচল ছিলেন এবং সেই রণক্ষেত্রে প্রাণ উৎসর্গ করেন। অতঃপর মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হয় এবং আল্লাহ তাঁদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করেন। এরপর ইউসুফ বিন তাশফিন ও মুরাবিতুনরা আন্দালুসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং আরবদের শাসন বিলুপ্ত হয়ে যায় ও তাদের গোত্রসমূহ নিঃশেষ হয়ে পড়ে।

 

‌আফ্রিকায় তাঁর পূর্বপুরুষগণ

আর যখন মুওয়াহহিদুনরা আন্দালুস জয় করেন এবং মুরাবিতুনদের হাত থেকে তা কেড়ে নেন—যাঁদের শাসক ছিলেন আব্দুল মুমিন ও তাঁর সন্তানরা—তখন হিনতাতাহ গোত্রের প্রধান ও তাঁদের রাষ্ট্রের নেতা শাইখ আবু হাফসকে বারবার ইশবিলিয়া ও পশ্চিম আন্দালুসের শাসক নিযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র আব্দুল ওয়াহিদ এবং এরপর তাঁর পৌত্র আবু যাকারিয়াকেও সেখানে শাসক বানানো হয়। ইশবিলিয়ায় অবস্থানকালে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে তাঁদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমাদের মাতামহদের একজন, যিনি ইবনে আল-মুহতাসিব নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি আমির আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবু হাফসের শাসনামলে তাঁকে জালালিকাহ বন্দিনীদের মধ্য থেকে এক দাসী উপহার দেন। আমির তাঁকে উম্মু ওয়ালাদ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর গর্ভে আমিরের পুত্র আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া জন্মগ্রহণ করেন, যিনি আমিরের উত্তরসূরি ছিলেন কিন্তু তাঁর জীবদ্দশাতেই মারা যান। তাঁর অপর দুই ভাই ছিলেন: উমর ও আবু
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بكر، وكانت تُلقَّب أم الخلفاء. انتقل الأمير أبو زكريا إلى ولاية إفريقية سني العشرين والستمائة. ودعا لنفسه بها، وخلع دعوة بني عبد المؤمن سنة خمس وعشرين. واستبد بإفريقية، وانتقضت دولة الموحدين بالأندلس، وثار عليهم ابن هود. ثم هلك واضطربت الأندلس، وتكالب الطاغية عليها، وردد الغزو إلى الفُرُنْتِيرَة، بسيطِ قرطبة وإِشْبِيلِية إلى جَيَّان، وثار ابن الأحمر بغرب الأندلس من حصن أرجونة، يرجو التماسك لما بقي من رمق الأندلس. وفاوض أهل الشورى يومئذ بإِشْبِيلِية. وهم بنو الباجي، وبنو الجَدّ، وبنو الوزير، وبنو سيَّد الناس، وبنو خلدون. وداخلهم في الثورة على بن هود، وأن يتجافوا للطاغية عن الفُرُنْتِيرَة، ويتمسكوا بالجبال الساحلية وأمصارها المتوعرة، من مالقه إلى غرناطة إلى المَرِيَّة، فلم يوافقوه على بلدهم.

وكان مقدمهم أبو مروان الباجي، فنابذهم ابن الأحمر وخلع طاعة الباجي، وبايع مرة لابن هود، ومره لصاحب مراكش من بني عبد المؤمن، ومرة للأمير أبي

زكرياء صاحب إفريقية. ونزل غرناطة، واتخذها دارا لملكه، وبقيت الفَرُنْتِيرَةُ وأمصارها ضاحية من ظل الملك، فخشي بنو خلدون سوء العاقبة مع الطاغية، وارتحلوا من إشبيلية إلى العدوة، ونزلوا سَبتة وأَجْلبَ الطاغية على تلك الثغور،
বকর, এবং তাঁকে ‘উম্মুল খুলাফা’ (খলিফাদের মাতা) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। আমির আবু জাকারিয়া ছয়শ বিশ হিজরি সনের দিকে ইফরিকা প্রদেশের শাসনে স্থানান্তরিত হন। তিনি সেখানে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ছয়শ পঁচিশ হিজরি সনে বনু আব্দুল মুমিনদের আনুগত্য ত্যাগ করেন। তিনি ইফরিকার ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন এবং আন্দালুসে মুওয়াহ্হিদুন সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এবং ইবনে হুদ তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এরপর তিনি মারা যান এবং আন্দালুসে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর জালেম শাসক এর ওপর চড়াও হয়। সে বারবার সীমান্ত অঞ্চল অর্থাৎ কুরতুবা ও ইশবিলিয়া থেকে জাইয়ান পর্যন্ত সমতল ভূমিতে আক্রমণ চালাতে থাকে। এদিকে ইবনে আল-আহমার পশ্চিম আন্দালুসের আরজুনা দুর্গ থেকে বিদ্রোহ করেন, এই আশায় যে আন্দালুসের যে সামান্য প্রাণস্পন্দন অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করবেন। সেই সময় তিনি ইশবিলিয়ার মজলিসে শুরার সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন। তাঁরা ছিলেন বনু বাজি, বনু জাদ্দ, বনু উজির, বনু সাইয়্যিদুন নাস এবং বনু খালদুন। তিনি ইবনে হুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তাঁদের সম্পৃক্ত করেন এবং প্রস্তাব দেন যেন তাঁরা সীমান্ত অঞ্চলগুলো জালেম শাসকের জন্য ছেড়ে দেন এবং মালাগা থেকে গ্রানাডা হয়ে আল-মেরিয়া পর্যন্ত উপকূলীয় পর্বতমালা ও দুর্গম শহরগুলো আঁকড়ে ধরেন। কিন্তু তাঁরা নিজেদের ভূখণ্ডের ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত হননি।

তাঁদের নেতা ছিলেন আবু মারওয়ান আল-বাজি। ফলে ইবনে আল-আহমার তাঁদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হন এবং বাজির আনুগত্য ত্যাগ করেন। তিনি কখনও ইবনে হুদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, কখনও বনু আব্দুল মুমিন গোত্রের মাররাকেশের শাসকের প্রতি এবং কখনও আমির আবু

জাকারিয়া—যিনি ইফরিকার অধিপতি ছিলেন—তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তিনি গ্রানাডায় অবতরণ করেন এবং একে তাঁর রাজত্বের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করেন। এদিকে সীমান্ত অঞ্চল ও এর শহরগুলো রাজকীয় কর্তৃত্বের বাইরে থেকে যায়। ফলে বনু খালদুন সেই জালেম শাসকের অধীনে অশুভ পরিণতির আশঙ্কা করেন এবং ইশবিলিয়া থেকে সমুদ্রের অপর তীরে (উত্তর আফ্রিকার উপকূলে) পাড়ি জমান। তাঁরা সাবতায় অবতরণ করেন, আর জালেম শাসক সেই সীমান্ত জনপদগুলোতে আক্রমণ তীব্রতর করে তোলে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فملك قرطبة، وإشبيلية، وقرمونة وجيان وما إليها، في مدة عشرين سنة. ولما نزل بنو خلدون سبتة أصهر إليهم العَزَفِيٌّ بأبنائه وبناته، فاختلط بهم، وكان له معهم صِهْرٌ مذكور. وكان جدُّنا الحسن بن محمد، وهو سبط بن المحْتَسِب، قد أجاز فيمن أجاز معهم، فذكر سوابق سلفه عند الأمير أبي زكرياء، فقصَدَه وقدم عليه فأَكرم قدومه. وارتحل إلى المشرق، فقضى فَرْضَه. ثم رجع ولحق بالأمير أبي زكرياء على بُونَة، فأكرمه، واستقر في ظل دولته، ومرعى نعمته، وفرض له الأرزاق، وأقطع الإقطاع. وهلك هنالك، فدفن ببونة. وخلف ابنه محمداً أبا بكر، فنشأ في جو تلك النعمة ومرعاها. وهلك الأمير أبو زكرياء ببونة سنة سبع وأربعين، وولي ابنة المستنصر محمد، فأجرى جدنا أبا بكر على ما كان لأبيه. ثم ضرب الدهر ضربانه، وهلك المستنصر سنة خمس وسبعين، وولي ابنه يحيى، وجاء أخوه الأمير أبو اسحق من الأندلس، بعد أن كان فر أمام أخيه المستنصر. فخلع يحيى، واستقل هو بملك إفريقية، ودفع جدونا أبا بكر محمداً إلى عمل الأشغال في الدولة، على سنن عظماء الموحدين فيها قبله؛ من الانفراد بولاية العمال، وعزلهم وحسبانهم، على الجباية، فاضطلع بتلك الرُّتْبة. ثم عقد السلطان أبو إسحق لابنه محمد، وهو جدنا الأقرب، على حجابة ولي عهده ابنه أبي فارس أيام أقصاه إلى بجاية. ثم استعفى جدُّنا من ذلك فأعفاه، ورجع إلى الحضرة. ولما غلب الدعي بن أبي عمارة على ملكهم بتُونِس، اعتَقَل جدَّنا أبا بَكر محمداً، وصادره على الأموال، ثمَّ قتله خنقاً في محبِسِه. وذهب ابنه محمد جدنا الأقرب مع السلطان أبي إسحق وأبنائه إلى بِجَاية، فقبض عليه

তিনি বিশ বছর ধরে কর্ডোভা, সেভিল, কারমোনা এবং জায়েন ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ শাসন করেন। যখন বানু খালদুন সেউতায় অবতরণ করেন, তখন আল-আজাফি তার পুত্র ও কন্যাদের মাধ্যমে তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, ফলে তাদের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে এবং তাদের মাঝে সুপ্রসিদ্ধ বৈবাহিক আত্মীয়তা ছিল। আমাদের দাদা আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ—যিনি ইবনুল মুহতাসিবের দৌহিত্র ছিলেন—তাদের সাথে যারা নদী পার হয়েছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমির আবু যাকারিয়ার নিকট তার পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ইতিহাস উল্লেখ করেন। ফলে আমির তার প্রতি আগ্রহী হন এবং তিনি আমিরের নিকট উপস্থিত হলে আমির তাকে সস্মানজনক অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেন এবং তার ফরজ (হজ) পালন করেন। এরপর তিনি ফিরে এসে বোনা নামক স্থানে আমির আবু যাকারিয়ার সাথে মিলিত হন। আমির তাকে সম্মানিত করেন এবং তিনি তার রাজত্বের ছায়াতলে ও অনুগ্রহের চারণভূমিতে স্থিতি লাভ করেন। আমির তার জন্য জীবিকা বরাদ্দ করেন এবং জায়গির প্রদান করেন। তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন এবং বোনাতে সমাহিত হন। তিনি তার পুত্র মুহাম্মদ আবু বকরকে রেখে যান, যিনি সেই নিআমত ও স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশে লালিত-পালিত হন। আমির আবু যাকারিয়া ৬৪৭ হিজরিতে বোনাতে ইন্তেকাল করেন এবং তার পুত্র আল-মুস্তানসির মুহাম্মদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি আমাদের দাদা আবু বকরকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পূর্বের অবস্থানেই বহাল রাখেন। এরপর কালের আবর্তনে ৬৭৫ হিজরিতে আল-মুস্তানসির ইন্তেকাল করেন এবং তার পুত্র ইয়াহিয়া ক্ষমতায় বসেন। তার ভাই আমির আবু ইসহাক আন্দালুস থেকে ফিরে আসেন, যিনি এর আগে তার ভাই আল-মুস্তানসিরের নিকট থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইয়াহিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইফরীকিয়ার রাজত্ব নিজের একক অধিকারে নেন। তিনি আমাদের দাদা আবু বকর মুহাম্মদকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর দায়িত্ব অর্পণ করেন, যেমনটা তার আগেকার মহান মুওয়াহহিদুন নেতাদের রীতি ছিল; যার মধ্যে ছিল কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বরখাস্ত এবং কর আদায়ের হিসাব নেওয়ার একক কর্তৃত্ব। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর সুলতান আবু ইসহাক তার পুত্র মুহাম্মদের জন্য—যিনি আমাদের নিকটতম দাদা—তার উত্তরাধিকারী পুত্র আবু ফারিসের হাজাবাহ (চেম্বারলেইন) পদের চুক্তি করেন, যখন তাকে বেজাইয়াতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এরপর আমাদের দাদা সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তিনি রাজধানীতে ফিরে আসেন। যখন ভণ্ড ইবনে আবি উমারা তিউনিসে তাদের রাজত্ব দখল করে নেয়, সে আমাদের দাদা আবু বকর মুহাম্মদকে বন্দি করে এবং তার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এরপর সে তাকে কারাগারে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার পুত্র মুহাম্মদ—যিনি আমাদের নিকটতম দাদা—সুলতান আবু ইসহাক ও তার পুত্রদের সাথে বেজাইয়ার দিকে চলে যান, সেখানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ابنه أبو فارس، وخرج في

العساكر هو واخوته لمدافعة الدَّعِيَّ بن أبي عمارة، وهو يشبَّه بالفضل ابن المخلوع، حتى إذا استلحموا بمَرَّمَاجَنَّة خلص جَدُّنا محمد مع أبي حفص بن الأمير أبي زكرياء من الملحمة، ومعهما الفَازَازي وأبو الحسين بن سيد الناس، فلحقوا بمنجاتهم من قلعة سنان. وكان الفازازي من صنائع المولى أبي حفص، وكان يؤثره عليهم. فأما أبو الحُسين بن سيد الناس فاستنكف من إيثار الفازازي عليه، بما كان أعلى رتبة منه ببلده إشبيلية، ولحق بالمولى أبي زكرياء الأوسط بِتِلمْسان، وكان من شأنه ما ذكرناه. وأما محمد بن خلدون فأقام مع الأمير أبي حفص، وسكن لإيثار الفازازي. ولما استولى أبو حفص على الأمر رعى له سابقته، وأقطعه، ونظمه في جملة القواد ومراتب أهل الحروب، واستكفى به في الكثير من أهل ملكه، ورشحه لحجابته من بعد الفازازي. وهلك، فكان من بعده حافدُ أخيه المستنصر أبو عصيدة، واصطفى لحجابته محمد بن إبراهيم الدَّبَّاغ كاتب الفازازي، وجعل محمد بن خلدون رديفاً في حجابته. فكان كذلك إلى أن هلك السلطان، وجاءت دولة الأمير خالد، فأبقاه على حاله من التجِلَّة والكرامة، ولم يستعمله ولا عقد له، إلى أن كانت دولة أبي يحيى بن اللحياني، فاصطنعه، واستكفى به عندما نَبضَت عروق التغلب للعرب؛ ودفعه إلى حماية الجزيرة من دلاج، أحد بطون سُلَيم الموطنين بنواحيها، فكانت له في ذلك آثار مذكورة. ولما انقرضت دولة ابن اللحياني خرج إلى المشرق، وقضى فرضه سنة ثمان عشرة، وأظهر التوبة والإقلاع، وعاود الحج متَنَفِّلا سنة ثلاث وعشرين، ولزم كِسْر بيته. وأبقى السلطان أبو يحيى عليه نعمته في كثير مما كان بيده من الإقطاع والجراية، ودعاه إلى حجَابَته مراراً، فامتنع.

أخبرني محمد بن منصور بن مَزْنَى، قال: لما هلك الحاجب محمد بن عبد العزيز الكردي المعروف بالمِزْوَار، سنة سبع وعشرين وسبعمائة، استدعى السلطان
তাঁর পুত্র আবু ফারিস এবং তিনি ও তাঁর ভাইয়েরা সৈন্যবাহিনীতে ইবনে আবি উমারাকে প্রতিহত করতে বেরিয়েছিলেন, যাকে ফজল ইবনুল মাখলুর সাথে তুলনা করা হতো। যখন তাঁরা মারমাজান্নাহ নামক স্থানে ভয়াবহ যুদ্ধের শিকার হলেন, তখন আমাদের পিতামহ মুহাম্মদ এবং আমির আবু জাকারিয়ার পুত্র আবু হাফস সেই যুদ্ধ থেকে রক্ষা পান। তাঁদের সঙ্গে ফাজাজি এবং আবুল হুসাইন ইবনে সাইয়্যেদুন নাসও ছিলেন। তাঁরা সিনান দুর্গ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছান। ফাজাজি ছিলেন মাওলা আবু হাফসের অনুগ্রহভাজন এবং তিনি তাঁকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতেন। অন্যদিকে আবুল হুসাইন ইবনে সাইয়্যেদুন নাস ফাজাজিকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দেওয়াটা অপছন্দ করেছিলেন, কারণ তাঁর নিজ শহর সেভিলে তাঁর পদমর্যাদা ফাজাজির চেয়ে উচ্চতর ছিল। ফলে তিনি তিলিমসানে মাওলা আবু জাকারিয়া আল-আওসাতের সাথে যোগ দেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে তা-ই ঘটেছিল যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর মুহাম্মদ ইবনে খালদুন আমির আবু হাফসের সঙ্গেই অবস্থান করেন এবং ফাজাজিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেন। যখন আবু হাফস ক্ষমতা লাভ করলেন, তখন তিনি তাঁর পূর্বের সেবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন, তাঁকে জায়গির প্রদান করেন এবং তাঁকে সেনাপতি ও যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি রাজ্যের অনেক বিষয়ে তাঁর ওপর নির্ভর করতেন এবং ফাজাজির পর তাঁকে হাজিব পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। আবু হাফসের মৃত্যুর পর তাঁর ভাইয়ের নাতি আল-মুস্তানসির আবু আসিদা ক্ষমতায় আসেন। তিনি ফাজাজির লেখক মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাব্বাগকে হাজিব হিসেবে নির্বাচন করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে খালদুনকে হাজিব পদের সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত করেন। সুলতানের মৃত্যু এবং আমির খালিদের শাসনকাল আসা পর্যন্ত এ অবস্থা বজায় ছিল। আমির খালিদ তাঁকে পূর্বের সম্মান ও মর্যাদায় বহাল রাখেন, তবে তাঁকে কোনো কার্যে নিযুক্ত করেননি বা কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেননি। অবশেষে আবু ইয়াহিয়া ইবনুল লিহইয়ানির শাসনকাল শুরু হলে তিনি তাঁকে কাছে টেনে নেন এবং যখন আরবদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা দেখা দেয়, তখন তাঁর ওপর নির্ভর করেন। তিনি তাঁকে সেই অঞ্চলে বসবাসকারী বনু সুলাইমের এক শাখা ‘দাল্লাজ’-এর হাত থেকে আল-জাজিরা রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেন; সেখানে তাঁর উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব ছিল। ইবনুল লিহইয়ানির শাসনের অবসান ঘটলে তিনি প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেন এবং সাতশ আঠারো হিজরি সনে তাঁর ফরজ হজ আদায় করেন। তিনি তওবা ও নির্জনবাসের কথা প্রকাশ করেন এবং সাতশ তেইশ হিজরি সনে পুনরায় নফল হজ পালন করেন এবং নিজ ঘরে নিভৃত জীবন যাপন করতে থাকেন। সুলতান আবু ইয়াহিয়া তাঁর অধীনে থাকা অনেক জায়গির ও বৃত্তি পূর্বের ন্যায় বহাল রাখেন এবং তাঁকে বারবার হাজিব পদের জন্য আহ্বান জানান, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মুহাম্মদ ইবনে মানসুর ইবনে মাজনি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: যখন আল-মিজওয়ার নামে পরিচিত হাজিব মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-কুর্দি সাতশ সাতাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, তখন সুলতান আহ্বান করেন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
جَدَّك

محمد بن خلدون، وأراده على الحجابة، وأن يفوِّض إليه في أمره، فأبى واستعفى، فأعفاه، َوَوَامَرهُ فيمن يوليه حجابته، فأَشار عليه بصاحب الثغر: بجاية، محمد بن أبي الحسين بن سيد الناس، لاستحقاقة ذلك بكفايته واضطلاعه، ولقديم صحابة بين سلفهما بتونس، وبإشبيلية من قبل. وقال له: هو أقدر على ذلك بما هو عليه من الحاشية والذوين، فعمل السلطان على إشارته، واستدعى ابن سَيِّد الناس، وولَاّه حجابته. وكان السلطان أبو يحيى إذا خرج من تُونس يستعمل جدنا محمداً عليها، وثوقاً بنَظَرِه واستنامة إليه، إلى أن هلك سنة سبع وثلاثين، ونزع ابنه، وهو والدي محمد أبو بكر، عن طريقة السيف والخدمة، إلى طريقة العلم والرباط، لما نشأ عليها في حجر أبي عبد الله الزُّبَيْدي الشهير بالفقيه، كان كبير تونس لعهده، في العلم والفُتيا، وانتِحال طرق الولاية التي ورثها عن أبيه حُسين وعمه حَسن، الوليين الشَّهيرين. وكان جدنا رحمه الله قد لزمه من يوم نزوعه عن طريقه، وألزمه ابنَه، وهو والدي رحمه الله فقرأَ وتفَقَّه، وكان مقدَّماً في صناعة العربية، وله بصر بالشعر وفنونه. عهدي بأهل الأدب يتحاكمون إليْه فيه، ويعرضون حَوْكَهم عليه، وهلَك في الطاعون الجارف سنة تسع وأربعين وسبعمائة.

 

‌‌نشأته ومشيخته وحاله

أما نشأتي فإني وُلدت بتونس في غرة رمضان سنة اثنتين وثلاثين وسبعمائة، وربيت في حجر والدي رحمه الله إلى أن أَيْفَعت وقرأْت القرآن العظيم على الأُستاذ المكتِّب أبي عبد الله محمد بن سعد بن بُرَّال الأنصاري، أصله من جالية الأندلس من أعمال بلنسية، أخذ عن مشيخة بلنسية وأعمالها، وكان إماماً في القراءات، لا
আপনার দাদা

মুহাম্মদ ইবনে খালদুন; সুলতান তাকে হাজাবাত (প্রধান মন্ত্রিত্বের সমতুল্য পদ) পদের জন্য চেয়েছিলেন এবং তার সমস্ত বিষয়ে তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন এবং অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। সুলতান তাকে অব্যাহতি দান করেন এবং তাঁর হাজাবাত পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া যায় সে বিষয়ে তাঁর পরামর্শ চান। তিনি সীমান্ত শহর বেজায়ার অধিপতি মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-হুসাইন ইবনে সাইয়্যিদ আল-নাস-এর নাম প্রস্তাব করেন; তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে এবং ইতিপূর্বে তিউনিসে এবং তারও আগে সেভিলে তাঁদের পূর্বপুরুষদের মধ্যকার প্রাচীন বন্ধুত্বের কারণে তিনি এই পদের যোগ্য ছিলেন। তিনি সুলতানকে বললেন: অনুসারী ও স্বজনদের আধিক্যের কারণে তিনি এই দায়িত্ব পালনে অধিকতর সক্ষম। সুলতান তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলেন এবং ইবনে সাইয়্যিদ আল-নাসকে তলব করে তাঁকে হাজাবাত পদে নিয়োগ দিলেন। সুলতান আবু ইয়াহইয়া যখন তিউনিস থেকে বের হতেন, তখন তিনি আমাদের দাদা মুহাম্মদের বিচক্ষণতার ওপর আস্থা ও নির্ভরতার কারণে তাঁকে সেখানে স্থলাভিষিক্ত করতেন। এভাবে সাতশত সাইত্রিশ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলতে থাকে। অতঃপর তাঁর পুত্র, যিনি আমার পিতা মুহাম্মদ আবু বকর, তিনি তলোয়ার ও রাজকীয় খিদমতের পথ পরিহার করে ইলম ও ইবাদতের (রিবাত) পথ বেছে নেন। কারণ তিনি ফকিহ হিসেবে পরিচিত আবু আব্দুল্লাহ আল-জুবাইদির তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছিলেন। তিনি তাঁর যুগে ইলম ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তিউনিসের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি আধ্যাত্মিকতার (বিলায়াত) যে পথ অবলম্বন করেছিলেন তা তিনি তাঁর পিতা হুসাইন ও চাচা হাসান—দুই প্রখ্যাত ওলীর কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন। আমাদের দাদা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজের পথ পরিবর্তনের দিন থেকে তাঁর (শায়খের) সান্নিধ্যে থাকতেন এবং তিনি তাঁর পুত্রকেও (আমার পিতা, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর নিকট সোপর্দ করেছিলেন। ফলে তিনি পড়াশোনা করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি আরবি ভাষাশাস্ত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং কবিতা ও এর বিভিন্ন শিল্পের ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। আমার স্মৃতিমতে, সাহিত্যিকরা এ বিষয়ে তাঁর নিকট ফয়সালা চাইতেন এবং তাঁদের রচিত কাব্যকর্ম তাঁর কাছে পেশ করতেন। তিনি সাতশত ঊনপঞ্চাশ হিজরির বিধ্বংসী প্লেগ মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌তাঁর বেড়ে ওঠা, শিক্ষকবৃন্দ এবং অবস্থা

আমার বেড়ে ওঠা সম্পর্কে বলতে গেলে, আমি সাতশত বত্রিশ হিজরির রমজান মাসের শুরুতে তিউনিসে জন্মগ্রহণ করি। আমি আমার পিতার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়ে সাবালক হই এবং শিক্ষক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে বাররাল আল-আনসারির কাছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পাঠ করি। তিনি মূলত ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের আন্দালুসিয় অভিবাসী পরিবারের বংশধর ছিলেন। তিনি ভ্যালেন্সিয়া ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের শায়খদের নিকট শিক্ষালাভ করেছিলেন এবং তিনি কিরাত শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন, যার কোনো সমকক্ষ ছিল না।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
يُلحَق شَأوه، وكان من أشهر شيوخه ففي القراءات السبع أبو العباس أحمد بن محمد البطرني، ومشيخته فيها، وأسانيده معْروفة. وبعد أن استظهرت القرآن الكريم من حفظي، قرأته عليه بالقراءات السبع المشهورة إفراداً وجمعاً في

إحدى وعشرين خَتْمة، ثم جمعتها في ختمة واحدة أخرى، ثم قرأت برواية يعقوب ختمة واحدة جمعاً بين الروايتين عنه، وعرضت عليه رحمه الله قصيدتي الشاطبي؛ اللامية في القراءات، والرائية في الرسم، وأخبرني بهما عن الأستاذ أبي العباس البطرني وغيره من شيوخه؛ وعرضت عليه كتاب التَّقَصِّي لأحاديث الموطأ لابن عبد البر، حذا به حذو كتابه التمهيد على الموطأ، مقتصراً على الأحاديث فقط. ودارَسْتُ عليه كتباً جَمَّة، مثل كتاب التَّسْهِيل لابن مالك ومختصر ابن الحاجب في الفقه، ولم أكملهما
তাঁর সমপর্যায়ে পৌঁছানো ছিল দুঃসাধ্য; সাত কিরাআতের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম প্রসিদ্ধ শাইখ ছিলেন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাতারনী, এবং এ বিষয়ে তাঁর উস্তাদগণ ও তাঁর সনদসমূহ সুপ্রসিদ্ধ। আমি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পর তাঁর নিকট প্রসিদ্ধ সাত কিরাআতে পৃথক পৃথকভাবে এবং সম্মিলিতভাবে পাঠ করে একুশটি খতম সম্পন্ন করি;

অতঃপর আমি অন্য আরেকটি খতমে সেগুলোকে একত্রে পাঠ করি। তারপর আমি ইয়াকুবের রেওয়ায়েত অনুযায়ী তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি রেওয়ায়েতকে একত্রিত করে একটি খতম সম্পন্ন করি। আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) নিকট ইমাম শাতিবীর দুটি কাসিদা পাঠ করি: কিরাআত বিষয়ক 'লামিয়্যাহ' এবং রসম (লিখনরীতি) বিষয়ক 'রায়িয়্যাহ'। তিনি তাঁর উস্তাদ আবুল আব্বাস আল-বাতারনী ও অন্যান্য শাইখদের সূত্রে আমাকে এগুলোর সংবাদ প্রদান করেন। আমি তাঁর নিকট ইবনে আব্দুল বার রচিত মুয়াত্তার হাদীস বিষয়ক 'আত-তাকাসসি' গ্রন্থটি পাঠ করি; লেখক এই কিতাবটিতে মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তামহীদ'-এর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং এতে শুধু হাদীসগুলোই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। আমি তাঁর নিকট আরও প্রচুর কিতাব অধ্যয়ন করেছি, যেমন ইবনে মালিকের 'আত-তাশহীল' এবং ফিকহ শাস্ত্রে ইবনুল হাজিবের 'মুখতাসার', যদিও আমি এ দুটি গ্রন্থ সম্পন্ন করতে পারিনি।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
بالحفظ، وفي خلال ذلك تعلمت صناعة العربية على والدي، وعلى أستاذي تونس: منهم الشيخ أبو عبد الله بن العربي الحصايري، وكان إماماً في النحو وله شرحٌ مستوفى على كتاب التسهيل. ومنهم أبو عبد الله محمد بن الشواش الزرزالي. ومنهم أبو العباس أحمد بن القصار؛ كان ممتعاً في صناعة النحو، وله شرح على قصيدة البردة المشهورة في مدح الجناب النبوي، وهو حي لهذا العهد بتونس.

ومنهم: إمام العربية والأدب بتونس، أبو عبد الله محمد بن بحر؛ لازمت مجلسه، وأفدت عليه، وكان بحراً زاخراً في علوم اللسان. وأشار علي بحفظ الشعر، فحفظت كتاب الأشعار الستة، والحماسة للأعلم، وشعر حبيب، وطائفة من شعر المتنبي، ومن أشعار كتاب الأغاني. ولازمتُ أيضاً مجلس إمام المحدثين بتونس؛
মুখস্থ করার মাধ্যমে, আর সেই সময়ে আমি আমার পিতা ও তিউনিসের উস্তাদদের নিকট আরবি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করি: তাদের মধ্যে ছিলেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-আরাবি আল-হাসায়িরি, তিনি ব্যাকরণশাস্ত্রে ইমাম ছিলেন এবং 'কিতাবুত তাসহিল'-এর ওপর তার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। তাদের মধ্যে আরও ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আশ-শাওওয়াশ আল-যারযালি। তাদের মধ্যে ছিলেন আবু আব্বাস আহমদ বিন আল-কাসসার; তিনি ব্যাকরণশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় রচিত সুপ্রসিদ্ধ 'কাসিদা আল-বুরদাহ'-এর ওপর তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। তিনি বর্তমান সময়ে তিউনিসেই জীবিত আছেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন তিউনিসের আরবি ভাষা ও সাহিত্যের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বাহর; আমি নিয়মিত তার মজলিসে উপস্থিত হতাম এবং তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতাম; তিনি ভাষাতত্ত্বে এক উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় ছিলেন। তিনি আমাকে কবিতা মুখস্থ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ফলে আমি 'কিতাবুল আশআর আল-সিততাহ', আল-আলামের 'আল-হামাসাহ', হাবিবের কবিতা, আল-মুতানাব্বির কবিতার একটি অংশ এবং 'কিতাবুল আগানি'র কবিতা থেকে মুখস্থ করি। আমি তিউনিসের মুহাদ্দিসদের ইমামের মজলিসেও নিয়মিত উপস্থিত হতাম;
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
شمس الدين أبي عبد الله محمد بن جابر بن سلطان القَيْسي الوادياشي، صاحب الرحلتين؛ وسمعت عليه كتاب فسلم بن الحجاج، إلا فَوْتا يسيرا من كتاب الصيد؛ وسمعت عليه كتاب الموطأ من أوله إلى آخره، وبعضاً من الأمهات الخمس؛ وناولني كتباً كثيرة في العربية والفقه، وأجازني إجازة عامة، وأخبرني عن مشايخه المذكورين في بَرْنَامَجِه، أشهرهم بتونس قاضي الجماعة أبو العباس أجمد بن الغماز الخزرجي.

وأخذت الفقه بتونس عن جماعة؛ منهم أبو عبد الله محمد بن عبد الله الجَيَّاني، وأبو القاسم محمد القصير؛ قرأت عليه كتاب التَّهذيب لأبي سعيد البرادعي؛ مختصر المدوَّنة، وكتاب المالكية، وتفقَّهت عليه. وكنت في خلال ذلك أنتاب مجلس شيخنا الإمام، قاضي الجماعة أبي عبد الله محمد بن عبد السلام، مع أخي محمد رحمة الله عليهما. وأفدت منه، وسمعت عليه أثناء ذلك كتاب المُوَطَّأ للإمام مالك، وكانت له فيه طرق عالية، عن أبي محمد بن هارون الطائي قبل اختلاطه إلى غير هؤلاء من مشيخة تونس، وكلهم سمعت عليه، وكتب لي
শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাবির বিন সুলতান আল-কাইসি আল-ওয়াদিয়াশি, যিনি দুই বিখ্যাত সফরের রচয়িতা; এবং আমি তাঁর নিকট মুসলিম বিন হাজ্জাজের কিতাবটি শ্রবণ করেছি, শিকার অধ্যায়ের সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত; এবং তাঁর নিকট মুয়াত্তা কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং পাঁচটি মৌলিক গ্রন্থের কিছু অংশ শ্রবণ করেছি; তিনি আমাকে আরবি ভাষা ও ফিকহ শাস্ত্রের অনেকগুলো কিতাব প্রদান করেছেন এবং আমাকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন; তিনি আমাকে তাঁর বারনামাজে উল্লিখিত তাঁর শায়খদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে তিউনিসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন কাযিউল জামায়াত আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-গাম্মায আল-খাজরাজি।

আর আমি তিউনিসে একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছি; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাইয়ানি এবং আবুল কাসিম মুহাম্মদ আল-কাসীর; আমি তাঁর নিকট আবু সাঈদ আল-বারাদায়ির কিতাবুত তাহযীব পাঠ করেছি, যা হলো আল-মুদাওওয়ানার সংক্ষিপ্তসার, এবং মালিকি মাযহাবের কিতাব পাঠ করেছি ও তাঁর নিকট ফিকহ অর্জন করেছি। সেই সময়ে আমি আমার ভাই মুহাম্মদের সাথে—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আমাদের শায়খ ইমাম, কাযিউল জামায়াত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালামের মজলিসে যাতায়াত করতাম। আমি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছি এবং সেই সময়ে তাঁর নিকট ইমাম মালিকের কিতাবুল মুয়াত্তা শ্রবণ করেছি, আর এতে তাঁর সুউচ্চ সনদ বিদ্যমান ছিল, যা তিনি আবু মুহাম্মদ বিন হারুন আত-তাঈ-এর নিকট থেকে তাঁর বার্ধক্যজনিত স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পূর্বেই লাভ করেছিলেন। এরাই ছিলেন তিউনিসের অন্যান্য শায়খগণ, আমি তাঁদের সবার নিকটই পাঠ শ্রবণ করেছি এবং তাঁরা আমার জন্য লিখে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪০)
وأجازني؛ ثم درجوا كلهم في الطاعون الجارف.

وكان قدم علينا في جُمْلة السلطان أبي الحسن، عندما مَلك إفريقية سنة ثمان وأربعين، جماعة من أهل العلم، وكان يلزمهم شهود مجلسه ويتجمل بمكانهم فيه: فمنهم شيخ الفتيا بالمغرب، وإمام مذهب مالك، أبو عبد الله محمد بن سليمان السطي؛ فكنت أنتاب مجلسه، وأفدت عليه. ومنهم كاتب السلطان أبي الحسن، وصاحب علامته التي توضع أسافل مكتوباته، إمام المحدثين والنُّحاة بالمغرب، أبو محمد بن عبد المُهَيمن بن عبد المهيمن الحضرمي؛ لازمته، وأخذت عنه، سماعاً، وإجازة، الأمهات الست، وكتاب الموطأ، والسِّيَر لابن اسحق، وكتاب ابن الصَّلاح في الحديث، وكتباً كثيرة شذت عن حفظي. وكانت بضاعته في الحديث وافرة، ونحلته في التقييد والحفظ كاملة، كانت له خزانة من الكتب تزيد على ثلاثة آلاف سفر؛ في الحديث، والفقه، والعربية، والأدب، والمعقول، وسائر الفنون؛ مضبوطة كلها، مقابلة. ولا يخلو ديوان منها عن ثبت بخط بعض شيوخه المعروفين في سنده إلى مؤلفه، حتى الفقه، والعربية، الغريبة الإسناد إلى مؤلفيها في هذه العصور. ومنهم الشيخ أبو العباس أحمد الزواوي، إمام المقرئين بالمغرب. قرأت عليه القرآن العظيم، بالجمع الكبير بين القراءات السبع، من طريق أبي عمرو الداني، وابن شُرَيْح، في ختمة لم أكملها، وسمعت عليه عدة كتب، وأجازني

بالإجازة العامة.

ومنهم شيخ العلوم العقلية، أبو عبد الله محمد بن إبراهيم الآبلي. أصله من
এবং তিনি আমাকে ইজাযত প্রদান করেছিলেন; অতঃপর তারা সকলে সেই ভয়াবহ প্লেগ মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন।

যখন সুলতান আবু আল-হাসান আটচল্লিশ হিজরি সনে ইফ্রিকিয়া জয় করলেন, তখন তাঁর সঙ্গী হিসেবে একদল আলেম আমাদের এখানে আগমন করেছিলেন। তাঁরা সুলতানের মজলিসে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁদের উপস্থিতিতে মজলিসটি অলঙ্কৃত হতো। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাগরিবে ফতোয়া প্রদানের প্রধান শাইখ এবং মালেকী মাযহাবের ইমাম, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-সাত্তী; আমি নিয়মিত তাঁর মজলিসে যাতায়াত করতাম এবং তাঁর নিকট হতে জ্ঞান অর্জন করতাম। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন সুলতান আবু আল-হাসানের সচিব এবং তাঁর রাজকীয় সিলমোহরের রক্ষক যা সুলতানের চিঠিপত্রের নিচে অঙ্কিত করা হতো; তিনি ছিলেন মাগরিবের মুহাদ্দিস ও নাহুবিদদের ইমাম, আবু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহাইমিন ইবনে আব্দুল মুহাইমিন আল-হাদরামি; আমি তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছি এবং শ্রবণ ও ইজাযতের মাধ্যমে তাঁর নিকট হতে সিত্তাহ উম্মাহাত (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ), কিতাবুল মুয়াত্তা, ইবনে ইসহাকের সীরাত, হাদিস শাস্ত্রে ইবনে আস-সালাহর কিতাব এবং আরও অসংখ্য কিতাব গ্রহণ করেছি যা এখন আমার স্মরণে নেই। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল অগাধ এবং পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধকরণ ও তা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা ছিল। তাঁর একটি কিতাবখানা ছিল যাতে তিন হাজারেরও বেশি খণ্ড কিতাব ছিল; যার মধ্যে হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা, সাহিত্য, আকলি (যুক্তিনির্ভর) শাস্ত্র এবং অন্যান্য সকল শিল্পকলার কিতাব ছিল; যেগুলোর প্রতিটিই ছিল সুবিন্যস্ত এবং মূল পাঠের সাথে যাচাইকৃত। সেখানের প্রতিটি সংকলনেই তাঁর কোনো না কোনো প্রসিদ্ধ শাইখের হস্তলিপি বিদ্যমান ছিল যা মূল লেখক পর্যন্ত তাঁর সনদের প্রমাণ বহন করত; এমনকি ফিকহ এবং আরবি ভাষার সেই কিতাবগুলোও—বর্তমান যুগে যেগুলোর মূল লেখক পর্যন্ত সনদ পাওয়া বিরল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাইখ আবু আল-আব্বাস আহমদ আল-যাওয়াওয়ী, যিনি ছিলেন মাগরিবের ক্বারীগণের ইমাম। আমি তাঁর নিকট আবু আমর আদ-দানি এবং ইবনে শুরাইহের পদ্ধতি অনুযায়ী সাবআ কিরাত (সাতটি পাঠরীতি) একত্রিত করে সুমহান কুরআন পাঠ করেছি—যদিও সেই খতমটি আমি সম্পন্ন করতে পারিনি; এছাড়াও আমি তাঁর নিকট থেকে বেশ কিছু কিতাব শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে ইজাযত প্রদান করেছেন

সাধারণ ইজাযতের মাধ্যমে।

তাঁদের মধ্যে আকলি (যুক্তিনির্ভর) শাস্ত্রসমূহের শাইখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আবিলিও ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪১)
تلمسان، وبها نشأ، وقرأ كتب التعاليم، وحذق فيها؛ وأظله الحصار الكبير بتلمسان أمام المائة السابعة، فخرج منها، وحج، ولقي أعلام المشرق يومئذ، فلم يأخذ عنهم؛ لأنه كان مختلطاً بعارض عرض في عقله. ثم رجع من المشرق، وأفاق، وقرأ المنطق والأصلين، على الشيخ أبي موسى عيسى ابن الإمام؛ وكان قرأ بتونس، مع أخيه أبي زيد عبد الرحمن، على تلاميذ ابن زيتون الشهير الذكر؛ وجاء إلى تلمسان بعلم كثير من المعقول والمنقول، فقرأ الآبلي على أبي موسى منهما كما قلناه. ثم خرج من تلمسان هارباً إلى المغرب، لأن سلطانها يومئذ، أبو حمو من ولد يَغْمِرَاسِنْ بن زيان، كان يكرهه على التصرف في أعماله، وضبط الجباية بحسبانه، ففر إلى المغرب، ولحق بمرَّاكش، ولزم العالم الشهير أبا العباس بن البَنَّاء الشهير الذكر، فحصَّل عنه سائر العلوم العقلية، وورث مقامه فيها وأرفع، ثم صعد إلى جبال الهساكرة، بعد وفاة الشيخ، باستدعاء علي بن محمد بن تروميت، ليقرأ عليه، فأفاده، وبعد أعوام استنزله ملك المغرب، السلطان أبو سعيد، وأسكنه بالبلد الجديد، والآبلي معه.

ثم اختصه السلطان أبو الحسن، ونظمه في جملة العلماء بمجلسه، وهو في خلال ذلك يُعلِّم العلوم العقلية، ويبثها بين أهل المغرب، حتى حذق فيها الكثير منهم من سائر أمصارها، وألحق الأصاغر بالأكابر في تعليمه.

ولما قدم على تونس في جملة السلطان أي الحسن، لزمته، وأخذت عنه الأصلين، والمنطق، وسائر الفنون الحكمية، والتعليمية؛ وكان رحمه الله، يشهد لي بالتبريز في ذلك.

وممن قدم في جملة السلطان أبي الحسن: صاحبنا أبو القاسم عبد الله بن يوسف
তিলিমসান, সেখানেই তিনি বড় হন, এবং শিক্ষার কিতাবসমূহ পাঠ করেন ও তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রাক্কালে তিলিমসানের মহা-অবরোধ তাকে গ্রাস করলে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান এবং হজ পালন করেন। সেই সময়ে তিনি প্রাচ্যের বরেণ্য মনীষীদের সাক্ষাৎ লাভ করেন, তবে তাদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেননি; কারণ তখন তার মস্তিষ্কে এক প্রকার বিভ্রান্তি বা ব্যাধি দেখা দিয়েছিল। এরপর তিনি প্রাচ্য থেকে ফিরে আসেন এবং সুস্থ হন। তিনি শায়খ আবু মুসা ঈসা ইবনুল ইমামের কাছে মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এবং আসলাইন (উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ দ্বীন) পাঠ করেন। উক্ত শায়খ তিউনিসে তার ভাই আবু যায়েদ আবদুর রহমানের সাথে প্রসিদ্ধ ইবনে যাইতুনের শিষ্যদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তিলিমসানে আকলি (যৌক্তিক) ও নাকলি (পারম্পর্যগত) উভয় শাস্ত্রের প্রভূত জ্ঞান নিয়ে আসেন। আমাদের পূর্বোল্লিখিত বর্ণনানুসারে আল-আিবলী আবু মুসার কাছে এই উভয় শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি তিলিমসান থেকে পালিয়ে মরক্কোর দিকে যাত্রা করেন। কারণ তৎকালীন সুলতান, ইয়াগমুরাসিন ইবনে যাইয়ানের বংশধর আবু হাম্মু তাকে তার রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সম্পাদন এবং হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের তদারকিতে বাধ্য করছিলেন। তাই তিনি মরক্কোতে পালিয়ে গিয়ে মাররাকাশে পৌঁছান এবং প্রখ্যাত আলিম আবুল আব্বাস ইবনুল বান্নার সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। তার কাছ থেকে তিনি সকল বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং এ ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হন ও আরও উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন। শায়খের মৃত্যুর পর আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তারুমিতের আমন্ত্রণে তিনি হাসাকারা পাহাড়ে গমন করেন তাকে পাঠদানের জন্য এবং তাকে উপকৃত করেন। কয়েক বছর পর মরক্কোর বাদশাহ সুলতান আবু সাঈদ তাকে নিচে নিয়ে আসেন এবং তাকে আল-বালাদুল জাদিদ-এ (নতুন শহর) বসতি স্থাপন করান, আল-আিবলীও তার সাথে ছিলেন।

এরপর সুলতান আবুল হাসান তাকে নিজের খাস সান্নিধ্য দান করেন এবং তাকে তার মজলিসের আলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সময়ে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্রসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং মরক্কোবাসীর মাঝে তা প্রচার করতেন, এমনকি মরক্কোর সকল শহরের বহু মানুষ এতে পারদর্শী হয়ে ওঠে। তিনি তার পাঠদানের মাধ্যমে ছোটদের বড়দের সমপর্যায়ে উন্নীত করেন।

যখন তিনি সুলতান আবুল হাসানের সফরসঙ্গী হিসেবে তিউনিসে আগমন করেন, তখন আমি তার সান্নিধ্য গ্রহণ করি এবং তার কাছ থেকে আসলাইন, মানতিক এবং অন্যান্য হিকমত ও শিক্ষা সংক্রান্ত শাস্ত্রসমূহ গ্রহণ করি। তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) এই বিষয়গুলোতে আমার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন।

সুলতান আবুল হাসানের সফরসঙ্গী হিসেবে যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে আমাদের বন্ধু আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফও ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪২)
بن رضوان المالقي. كان يكتب عن السلطان، ويلازم خدمة أبي محمد عبد المهيمن رئيس الكتاب يومئذ، وصاحب العلامة التي توضع عن السلطان أسفل المراسيم والمخاطبات، وبعضها يضعه السلطان بخطه.

وكان ابن رضوان هذا من مفاخر المغرب، في براعة خطه، وكثرة علمه، وحسن سَمْته، وإجادته في فقه الوثائق، والبلاغة في التَّرسيل عن السلطان، وحَوْك الشعر، والخطابة على المنابر؛ لأنه كان كثيراً ما يصلي بالسلطان. فلما قدم علينا بتونس، صحبته، واغتبطت به، وإن لم أتخذه شيخاً، لمقاربة السن، فقد أفدت منه كما أفدت منهم.

وقد مدحه صاحبنا أبو القاسم الرحوي شاعر تونس في قصيدة علي رَوِيِّ النون، يرغب منه تذكرة شيخه أبي محمد عبد المهيمن في إيصال مدحه إلى السلطان أبي الحسن، في قصيدته على روي الباء، وقد تقدم ذكرها في أخبار السلطان.

وذكر في مدح ابن رضوان أعلام العلماء القادمين مع السلطان وهي:

عرفت زماني حين أنكرت عرفاني … وأيقنت أن لاحظ في كف كيوان

وأن لا اختيار في اختيار مُقَوَّمٍ … وأن لا قراع بالقران لأقْرِاني

وأن نظام الشكل أكملَ نظِمِه … لأضعف قاض في الدليل برجحان

وإن افتقار المرء في فقراته … ومن ثقله يغني اللبيب بأوزان

فمن بعد ما شمت الخلاب ولم أرع … لهشة راض أو لشرة غضبان

ولم يعشني للنار لمع شعاعها … فما كل نار نار موسى بن عمران
ইবন রিদওয়ান আল-মালাকি। তিনি সুলতানের পক্ষ থেকে লিখতেন এবং তৎকালীন প্রধান লেখক আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুয়াইমিনের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। তিনি ছিলেন সেই সীলমোহরের অধিকারী যা ফরমান ও পত্রাবলীর নিচে সুলতানের পক্ষ থেকে বসানো হতো, আর এর কিছু অংশ সুলতান নিজ হাতে লিখতেন।

এই ইবন রিদওয়ান ছিলেন মাগরিবের অন্যতম গৌরব। হস্তাক্ষরের নৈপুণ্য, অগাধ পাণ্ডিত্য, উত্তম স্বভাব-চরিত্র, দাপ্তরিক নথিপত্র সংক্রান্ত ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শিতা, সুলতানের পক্ষ থেকে পত্র রচনায় অলঙ্কারপূর্ণ বাগ্মীতা, কাব্য রচনা এবং মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদানে তিনি ছিলেন অনন্য; কেননা তিনি প্রায়শই সুলতানের ইমামতি করতেন। যখন তিনি তিউনিসে আমাদের কাছে এলেন, আমি তাঁর সাহচর্য লাভ করি এবং তাঁর উপস্থিতিতে আনন্দিত হই। যদিও বয়সের স্বল্প ব্যবধানের কারণে আমি তাঁকে শাইখ বা শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করিনি, তবুও আমি তাঁর কাছ থেকে ঠিক তেমনই উপকৃত হয়েছি যেমনটি অন্যান্যদের কাছ থেকে হয়েছি।

আমাদের বন্ধু তিউনিসের কবি আবু কাসিম আর-রাহবি 'নুন' অন্ত্যমিলের একটি কাসিদার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি এর মাধ্যমে তাঁর শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুয়াইমিনকে অনুরোধ করতে চেয়েছিলেন যাতে তাঁর প্রশংসা সুলতান আবুল হাসানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এটি ছিল 'বা' অন্ত্যমিলের একটি কাসিদা, যার উল্লেখ সুলতানের সংবাদ সংক্রান্ত আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তিনি ইবন রিদওয়ানের প্রশংসায় সুলতানের সাথে আগত প্রখ্যাত আলেমদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ:

আমি আমার সময়কে তখন চিনেছি যখন সে আমার পরিচয় অস্বীকার করল … এবং আমি নিশ্চিত হলাম যে শনি গ্রহের হাতে কোনো সৌভাগ্য নেই।

আর কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তের নির্বাচনে কোনো এখতিয়ার নেই … এবং নক্ষত্রের সংযোগে আমার সমকক্ষদের সাথে কোনো টক্কর নেই।

আর বিন্যাসের শৃঙ্খলা তার গঠনকে পূর্ণতা দিয়েছে … প্রমাণের বিচারে সবচেয়ে দুর্বল বিচারকের প্রবলতার জন্য।

আর মানুষের অভাব তার মেরুদণ্ডের কশেরুকার মতোই অবিচ্ছেদ্য … আর তার ভার থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে তার ওজনই অমুখাপেক্ষী করে দেয়।

অতঃপর যখন আমি এমন মেঘের ঝলক দেখলাম যা বৃষ্টি দেয় না, তখন আমি ভ্রূক্ষেপ করিনি … কোনো সন্তুষ্ট ব্যক্তির উৎফুল্লতা কিংবা কোনো ক্রুদ্ধ ব্যক্তির তীব্রতার।

আর আগুনের শিখার উজ্জ্বলতা আমাকে অন্ধ করতে পারেনি … কেননা প্রতিটি আগুনই ইমরান-পুত্র মুসার দেখা আগুন নয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ولم يبق لي في الغيب من أمل سوى … لقاء ابن رضوان وجنة رضوان

هنالك ألفيت العلا تنتمي إلى … أناس ضئيل عندهم فخر غسان

وأرعيت من روض التأدب يانعاً … وحييت من كنز العلوم بقعيان

وردت فلم تجدب لديه ريادتي … وصدق طرفي ما تلقته آذاني

فحسبك من آدابه كل زاخر … يحييك معسولاً بدُرٍّ ومرجان

يحييك بالسِّلك الذي لم تحط به … طروس ابن سهل أو سوالف بوران

فقل بابلي إن ينافثك لفظة … وفي وشيه الأطراس قل هو صنعاني

خلائق لم تخلق سدى بل تكملت … بإسداء إنعام وإيلاء إحسان

ثم يقول في ذكر العلماء القادمين:

هم القوم كل القوم، أما حلومهم … فأرسخ من طودي ثبير وثهلان

فلا طيش يعروهم وأما علومهم … فأعلامها تهديك من غير نيران

بفقه يشيم الأصبحي صباحه … وأشهب منه يستدل بشهبان

وحسن جدال للخصوم ومنطق … يجيئان في الأخفى بأوضح برهان

سقت روضة الآداب منهم سحائب … سحبن على سحبان أذيال نسيان

فلم يبق نأي ابن الإمام شماخة … على مدن الدنيا لأنف تلمسان

وبعد نوى السطي لم تسط فاسه … بفخر على بغدان في عصر بغدان
অদৃশ্যে ইবনে রিদওয়ানের সাথে সাক্ষাৎ এবং জান্নাত-ই রিদওয়ান ব্যতীত আমার আর কোনো আশা অবশিষ্ট নেই … সেখানে আমি এমন উচ্চমর্যাদার সন্ধান পেয়েছি যা এমন এক জাতির সাথে সম্পৃক্ত, যাদের নিকট গাসসানের অহংকারও অতি তুচ্ছ

আমি শিষ্টাচারের উদ্যান থেকে পরিপক্ক ফল আহরণ করেছি … এবং জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে উজ্জ্বল মণি-মুক্তাকে অভিবাদন জানিয়েছি

আমি সেখানে উপস্থিত হয়েছি এবং আমার অন্বেষণ বিফল হয়নি … আমার কান যা শ্রবণ করেছিল, আমার চক্ষু তা সত্য হিসেবেই প্রত্যক্ষ করেছে

তার শিষ্টাচার ও আদবের সেই প্রাচুর্যই তোমার জন্য যথেষ্ট … যা তোমাকে মুক্তা ও প্রবালের ন্যায় মিষ্টতায় সিক্ত করে অভিবাদন জানায়

তিনি তোমাকে এমন এক মাল্য দ্বারা অভিবাদন জানান, যা ইবনে সাহলের পাণ্ডুলিপি … কিংবা বুরানের প্রাচীন কাহিনীগুলোও পরিবেষ্টন করতে পারেনি

যখন তিনি তোমার সাথে বাক্যালাপ করেন, তখন তাকে বাবেলের জাদুকরী বক্তা বলো … আর যখন তিনি কাগজের পৃষ্ঠায় কারুকার্য করেন, তখন তাকে সানআর শিল্পী বলো

এই উত্তম গুণাবলীসমূহ বৃথা সৃষ্টি করা হয়নি, বরং এগুলো পূর্ণতা লাভ করেছে … অনুগ্রহ প্রদান ও ইহসান প্রদর্শনের মাধ্যমে

অতঃপর তিনি আগত আলেমদের স্মরণে বলেন:

তারাই প্রকৃত জাতি, পূর্ণাঙ্গ জাতি; আর তাদের প্রজ্ঞা ও গাম্ভীর্য … থাবীর ও থাহলান পাহাড়ের চেয়েও অধিক সুদৃঢ়

কোনো প্রকার চপলতা তাদের স্পর্শ করে না, আর তাদের জ্ঞানসমূহ … এমন আলোকবর্তিকা যা আগুন ছাড়াই তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবে

এমন ফিকহের মাধ্যমে যার প্রভাত আসবাহী (ইমাম মালিক) প্রত্যক্ষ করেন … আর আশহাব তার থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায় পথনির্দেশ গ্রহণ করেন

প্রতিপক্ষের সাথে চমৎকার বিতর্ক এবং যুক্তিপূর্ণ আলাপচারিতা … যা অত্যন্ত সুক্ষ্ম বিষয়েও স্পষ্টতম প্রমাণ উপস্থাপন করে

তাদের থেকে শিষ্টাচারের উদ্যানে এমন মেঘমালা বর্ষিত হয়েছে … যা সাহবানের (বিখ্যাত বাগ্মী) খ্যাতির ওপর বিস্মৃতির চাদর টেনে দিয়েছে

ইবনুল ইমামের দূরত্বের কারণে তিলিমসানের শ্রেষ্ঠত্বের সামনে … পৃথিবীর অন্য কোনো শহরের আভিজাত্যের গর্ব অবশিষ্ট নেই

আর সাত্তির বিচ্ছেদের পর ফাস শহর বাগদাদের স্বর্ণযুগের বাগদাদের ওপর … কোনো গৌরবের স্পর্ধা দেখায়নি

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وبالآبلي استسقت الأرض وبلها … ومستوبل ما مال عنه لأظعان

وهامت على عبد المهيمن تونس … وقد ظفرت منه بوصل وقربان

وما علقت مني الضمائر غيره … وإن هويت كلاً بحب ابن رضوان

وكتب هذا الشاعر: صاحبُنا الرحوي يذكر عبد المهيمن بذلك:

لهي النفس في اكتساب وسعي … وهو العمر في انتهاب وَفَيَّ

وأرى الناس بين ساع لرشد … يتوخى الهدى وساع لغي

وأرى العلم للبرية زيناً … فتَزَيَّا منه بأحسن زِيِّ

وأرى الفضل قد تجمَّع كلاً … في ابن عبد المهيمن الحضْرَمِيِّ

حل بالرتبة العلية في حضْ … رِةِ مَلْك سامي العِمَادِ عَليِّ

قلم أوسع الأقاليم أمْرًا … فله قد أطاع كل عصي

قدر ما يفيد منه احتذار … فبأي تراه يقضي باي

يمنح العز والعلا ويوالي … بالعطايا الجسام كل ولي

يلجأ الدارعون خوفاً إليه … فهو يزري بالصارم المشرفي

هو أعلى الأقلام في كل عصر … حيث ينمى إلى الإمام علي

حليت تلكم الرياسة منه … بفريد في كل معنى سني

سالك في النظام دراً وطوراً … ناثر دره بنشر وطي

بدع للبديع ترمي بحصر … ولصابي بني بويه بعي

ويرى أخرس العراق لديه … إنه بالشآم كالأعجمي

وعلوم هي البحور ولكن … ينثني الواردون منها بري

تصدر الأمة العظيمة عنه … بحديث مجود مروي

وبفقه فيه وحسن مقال … يضع النور في لحاظ العمي

وبنحو ينحي على سيبويه … ببيان في المبهمات جلي
আল-আবিলির মাধ্যমে পৃথিবী তার বারিবর্ষণ প্রার্থনা করেছে … আর যার থেকে কাফেলাগুলো দূরে সরে যায় তা অস্বাস্থ্যকর।

তিউনিসিয়া আব্দুল মুহাইমিনের জন্য ব্যাকুল হয়েছে … এবং তাঁর পক্ষ থেকে নৈকট্য ও উপহার লাভে সফল হয়েছে।

আমার অন্তর তাঁর ব্যতীত অন্য কারো প্রতি আসক্ত হয়নি … যদিও ইবনে রেদওয়ানের ভালোবাসায় আমি সবাইকেই ভালোবেসেছি।

এই কবি—যিনি আমাদের সাথী আর-রাহওয়ী—আব্দুল মুহাইমিন সম্পর্কে উল্লেখ করে লিখেছেন:

এটিই সেই সত্তা যা অর্জন ও প্রচেষ্টায় রত … আর এটিই সেই জীবন যা পূর্ণরূপে অতিবাহিত হওয়ার পথে।

আমি মানুষকে দেখি, কেউ সঠিক পথের সন্ধানে সচেষ্ট … হেদায়েত কামনা করে, আবার কেউ বিভ্রান্তির পথে ধাবমান।

আমি দেখি যে জ্ঞান সৃষ্টিজগতের জন্য অলংকার … সুতরাং আপনি তার মধ্য থেকে সর্বোত্তম অলংকারে সজ্জিত হোন।

আর আমি দেখছি যে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা পুঞ্জীভূত হয়েছে … ইবনে আব্দুল মুহাইমিন আল-হাদরামীর মাঝে।

তিনি সেই সুউচ্চ মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন এমন এক বাদশাহর দরবারে … যার স্তম্ভ সুউচ্চ এবং অতি উন্নত।

তাঁর কলম যেন এক সাম্রাজ্য যা আদেশ পালনে প্রশস্ততম … আর তার সামনে সকল অবাধ্যই অনুগত হয়েছে।

তকদির যা ফয়সালা করে তা সতর্কতার সাথে … তবে তিনি কোনটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেন তা আপনি দেখুন।

তিনি সম্মান ও উচ্চমর্যাদা দান করেন এবং নিরন্তর প্রদান করেন … প্রতিটি সুহৃদকে বিশাল সব উপঢৌকন।

বর্মধারীরা ভয়ে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে … কারণ তিনি মাশরাফী তলোয়ারকেও হার মানান।

তিনি প্রতি যুগের শ্রেষ্ঠতম কলমধারী … যেহেতু তিনি ইমাম আলীর বংশধারার সাথে সম্বন্ধযুক্ত।

সেই নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমে সুশোভিত হয়েছে … প্রতিটি মহৎ অর্থেই এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে।

তিনি কাব্য গাঁথুনিতে কখনও মুক্তার মতো সাবলীল … আবার কখনও তাঁর মুক্তাগুলোকে গদ্য ও পদ্যের ভাঁজে ছড়িয়ে দেন।

তাঁর নব উদ্ভাবিত রচনাগুলো অলংকারশাস্ত্রকে অক্ষম করে দেয় … এবং বনু বুয়াইহ-এর সাবি-কেও বাকরুদ্ধ করে ফেলে।

ইরাকের বাকপটু ব্যক্তিও তাঁর কাছে নিজেকে নির্বাক মনে করে … আর শামের অধিবাসী সেখানে যেন কোনো ভাষাহীন অনারব।

এমন সব জ্ঞান যা সমুদ্রসম, কিন্তু … সেখানে পিপাসা নিয়ে আগমনকারীরা তৃপ্ত হয়েই ফিরে যায়।

বিশাল উম্মত তাঁর কাছ থেকে লাভ করে … চমৎকারভাবে বর্ণিত ও বিশুদ্ধ হাদিস।

এবং এমন ফিকহ ও সুন্দর বর্ণনাশৈলী … যা দৃষ্টিহীনের চোখেও জ্যোতি দান করে।

এবং এমন ব্যাকরণ যা সিবওয়াইহ-কেও পরাভূত করে … অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
عمي الأخفشان عنه وسدت … عن خفاياه فطنة الفارسي

يا أخا الحكم في الأنام وإني … لأُنادي رب النَّدَى والنَّدِيِّ

بنت فكري تعرضت لحماكم … فالقَها راضياً بوجه رضي

تبتغي القرب من مراقي الأماني … والترقي للجانب العلوي

فأنِلْها مَرامَها نلت سَهلاً … كل دان تبغي وكل قصي

ثم كانت واقعة العرب على السلطان بالقيروان، في فاتحة تسع وأربعين، فشغلوا عن ذلك، ولم يظفر هذا الرَّحَوي بطلبته. ثم جاء الطاعون الجارف، فطوى البساط بما فيه، وهلك عبد المهيمن فيمن هلك، ودفن بمقبرة سلفنا بتونس، لخلة كانت بينه وبين والدي، رحمه الله، أيام قدومهم علينا.

فلما كانت واقعة القيروان، ثار أهل تونس بمن كان عندهم من أشياع السلطان أبي

الحسن، فاعتصموا بالقصبة دار الملك، حيث كان ولد السلطان وأهله، وانتقض عليه ابن تافراكين، وخرج من القيروان إلى العرب، وهم يحاصرون السلطان، وقد اجتمعوا على ابن أبي دبوس، وبايعوا له، كما مر في أخبار السلطان، فبعثوا ابن تافراكين إلى تونس، فحاصر القصبة، وامتنعت عليه. وكان عبد المهيمن يوم ثورة أهل تونس، ووقوع الهيعة، خرج من بيته إلى دارنا، فاختفى عند أبي رحمه الله، وأقام مختفياً عندنا نحواً من ثلاثة أشهر. ثم نجا السلطان من القيروان إلى سوسة، وركب البحر إلى تونس، وفر ابن تافراكين إلى المشرق. وخرج عبد المهيمن من الاختفاء، وأعاده السلطان إلى ما كان عليه، من وظيفة العلامة والكتابة، وكان كثيراً ما يخاطب والدي رحمه الله ويشكره على موالاته، ومما كتب إليه وحفظته من خطه:
দুই আখফাশ এর প্রতি অন্ধ ছিলেন এবং আল-ফারিসির প্রজ্ঞা এর রহস্য থেকে রুদ্ধ ছিল … হে মানুষের মাঝে বিচার ও প্রজ্ঞার অধিকারী, আমি তো সেই রবকে ডাকি যিনি দানশীলতা ও মজলিসের অধিপতি

আমার চিন্তাপ্রসূত কন্যা আপনার আশ্রয়ের মুখোমুখি হয়েছে … তাই তাকে সন্তুষ্ট চিত্তে ও প্রফুল্ল বদনে গ্রহণ করুন

সে উচ্চাকাঙ্ক্ষার সোপান দিয়ে নৈকট্য কামনা করে … এবং ঊর্ধ্বলোকে আরোহণ করতে চায়

সুতরাং তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন, তবে আপনিও সহজে লাভ করবেন … আপনার চাওয়া প্রতিটি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী বস্তু

এরপর উনপঞ্চাশ হিজরির শুরুতে কায়রোয়ানে সুলতানের বিরুদ্ধে আরবদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ফলে তারা সেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এই রাহাওয়ি তার উদ্দেশ্য হাসিলে সফল হতে পারেনি। এরপর এলো সর্বগ্রাসী মহামারি, যা সবকিছুকে গ্রাস করে নিল। যারা মৃত্যুবরণ করেছিল তাদের মধ্যে আব্দুল মুহাইমিনও মৃত্যুবরণ করেন। তিউনিসে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়; এটি ছিল আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এবং তাঁর মধ্যকার বন্ধুত্বের কারণে, যা তারা আমাদের নিকট আগমনের দিনগুলোতে গড়ে উঠেছিল।

যখন কায়রোয়ানের ঘটনাটি ঘটল, তখন তিউনিসবাসীরা তাদের কাছে থাকা সুলতান আবু আল-হাসানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। তারা রাজপ্রাসাদ কাসবায় আশ্রয় নিল, যেখানে সুলতানের সন্তান ও পরিবার অবস্থান করছিল। ইবনে তাফরাকিন সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল এবং কায়রোয়ান থেকে বের হয়ে আরবদের সাথে যোগ দিল, যারা তখন সুলতানকে অবরোধ করে রেখেছিল। তারা ইবনে আবি দাব্বুসের পক্ষে সমবেত হয়েছিল এবং তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিল, যেমনটি সুলতানের ইতিবৃত্তে বর্ণিত হয়েছে। তারা ইবনে তাফরাকিনকে তিউনিসে পাঠাল, সে কাসবা অবরোধ করল, কিন্তু কাসবা তার কাছে অপরাজেয় রয়ে গেল।

তিউনিসবাসীদের বিদ্রোহ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দিন আব্দুল মুহাইমিন তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন এবং আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এর নিকট আত্মগোপন করেন। তিনি প্রায় তিন মাস আমাদের এখানে আত্মগোপন করে ছিলেন। এরপর সুলতান কায়রোয়ান থেকে সুসায় পালিয়ে বাঁচলেন এবং সমুদ্রপথে তিউনিসে পৌঁছালেন, আর ইবনে তাফরাকিন প্রাচ্যের দিকে পালিয়ে গেল। আব্দুল মুহাইমিন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এলেন এবং সুলতান তাঁকে তাঁর পূর্বের পদ অর্থাৎ দাপ্তরিক স্বাক্ষর ও লিপি রচনার দায়িত্বে পুনর্বহাল করলেন। তিনি প্রায়ই আমার পিতাকে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সম্বোধন করতেন এবং তাঁর আনুগত্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। তিনি আমার পিতার নিকট যা লিখেছিলেন এবং যা আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত লিপি থেকে সংরক্ষণ করেছি, তা হলো:
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
لحمد ذوي المكارم قد ثناني … فعال شكره أبداً عناني

جزى الله ابن خلدون حياة … منعمة وخلداً في الجنان

فكم أولى ووالى من جميل … وبر بالفعال وباللسان

وراعى الحضرمية في الذي قد … حبا من وده ومن الحنان

أبا بكر ثناءك طول دهرى … أردد باللسان وبالجنان

وعن علياك ما امتدت حياتي … أكافح بالحسام وباللسان

فمنك أفدت خلاً لست دهري … أرى عن حبه أثني عنان

وهؤلاء الأعلام الذين ذكرهم الرحوي في شعره، هم سباق الحلبة في مجلس السلطان أبي الحسن، اصطفاهم لصحابته من بين أهل المغرب. فأما ابنا الإمام منهم فكانا أخوين من أهل برشك، من أعمال تلمسان، واسم أكبرهما: أبو زيد عبد الرحمن، واسم الأصغر: أبو موسى عيسى، وكان أبوهما إماماً ببعض مساجد برشك، واتهمه المتغلب يومئذ على البلد زيرم بن حماد، بأن عنده وديعة من المال

لبعض أعدائه، فطالبه بها، فلاذ بالامتناع، وبيته زيرم، لينتزع المال من يده، فدافعه وقتل، وارتحل ابناه هذان الأخوان إلى تونس في المئة السابعة، وأخذا العلم بها عن تلاميذ ابن زيتون، وتفقها على أصحاب أبي عبد الله بن شعيب الدكالي، وانقلبا إلى المغرب بحظ وافر من العلم. وأقاما بالجزائر يبثان بها العلم، لامتناع برشك عليهما من أجل (ضَرَر) زيرم المتغلب عليها، والسلطان أبو يعقوب يومئذ، صاحب المغرب الأقصى من بني مرين، جاثم على تلمسان يحاصرها الحصار الطويل المشهور، وقد بث جيوشه في نواحيها، وغلب على الكثير من أعمالها وأمصارها،

মহানুভবদের প্রশংসাগীতি আমাকে ফিরিয়ে এনেছে … তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমি সর্বদা সচেষ্ট।

আল্লাহ ইবনে খালদুনকে দান করুন স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন … এবং জান্নাতে চিরস্থায়ী নিবাস।

তিনি কতই না অনুগ্রহ ও সদাচরণ করেছেন … কর্মে ও বচনে দেখিয়েছেন পুণ্যময়তা।

তিনি রক্ষা করেছেন হাদরামি মর্যাদা সেই সব বিষয়ে যা … তিনি তাঁর ভালোবাসা ও মমতা থেকে দান করেছেন।

হে আবু বকর, আপনার প্রশংসা আমার সারা জীবন ধরে … আমি মুখে ও অন্তরে বারবার উচ্চারণ করব।

যতদিন আমি বেঁচে আছি, আপনার শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানে … আমি তরবারি ও জিহ্বা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।

আপনার মাধ্যমেই আমি এমন এক বন্ধু লাভ করেছি, যাঁর প্রতি … ভালোবাসা থেকে আমি কখনও বিমুখ হব না।

রাহওয়ি তাঁর কবিতায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন, তাঁরা ছিলেন সুলতান আবু হাসানের মজলিসের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব। মাগরিববাসীদের মধ্য থেকে সুলতান তাঁদের নিজের সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইমামের দুই পুত্র ছিলেন বারশাক শহরের অধিবাসী, যা তিলিমসানের প্রশাসনিক এলাকাভুক্ত। বড় পুত্রের নাম ছিল আবু জায়েদ আব্দুর রহমান এবং ছোটজনের নাম ছিল আবু মুসা ঈসা। তাঁদের পিতা বারশাকের কোনো এক মসজিদের ইমাম ছিলেন। তৎকালীন শহরের বিজয়ী শাসক জিরাম বিন হাম্মাদ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর কাছে জনৈক শত্রুর পক্ষ থেকে কিছু আমানতকৃত সম্পদ গচ্ছিত আছে।

তিনি সেই সম্পদ দাবি করলে ইমাম তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। এরপর জিরাম রাতের আঁধারে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান যেন তাঁর হাত থেকে সেই সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারেন। ইমাম তা প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন। এরপর এই দুই ভাই সপ্তম শতাব্দীতে তিউনিসে হিজরত করেন এবং সেখানে ইবনে জাইতুনের ছাত্রদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তাঁরা আবু আব্দুল্লাহ বিন শুআইব আদ-দুক্কালির অনুসারীদের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং প্রচুর পাণ্ডিত্য নিয়ে পুনরায় মাগরিব অঞ্চলে ফিরে আসেন। তাঁরা আলজিয়ার্সে অবস্থান করে জ্ঞান প্রচার শুরু করেন, কারণ বিজয়ী শাসক জিরামের উৎপীড়নের কারণে বারশাকে ফিরে যাওয়া তাঁদের জন্য অসম্ভব ছিল। সেই সময় বনু মারিন বংশীয় সুদূর মাগরিবের অধিপতি সুলতান আবু ইয়াকুব তিলিমসান অবরোধ করে রেখেছিলেন, যা ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী ও বিখ্যাত এক অবরোধ হিসেবে পরিচিত। তিনি তিলিমসানের আশেপাশে তাঁর সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন এবং এর অনেক এলাকা ও শহর জয় করেছিলেন।

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وملك عمل مغراوة بشلف، وحاضرته مليانة، فبعث عليها الحسن بن علي بن أبي الطلاق من بني عسكر، وعلي بن محمد الخيري من بني ورتاجن، ومعهما - لضبط الجباية واستخلاص الأموال - الكاتب منديل بن محمد الكناني، فارتحل هذان الأخوان يومئذ من الجزائر، واحتلا بمليانة، فحليا بعين منديل الكناني، فقربهما واصطفاهما، واتخذهما لتعليم ولده محمد. ثم هلك يوسف بن يعقوب سلطان المغرب، بمكانه من حصار تلمسان، سنة خمس وسبعمائة على يد خصي من خصيانه؛ طعنه فأشواه، وهلك. وقام بالملك بعده حافده أبو ثابت، بعد خطوب ذكرناها في أخبارهم، ووقع بينه وبين صاحب تلمسان يومئذ أبي زيَّان محمد بن عثمان بن يَغْمَرَاسَن، وأخيه أبي حمو، العهد المتأكد على الإفراج عن تلمسان، ورد أعمالها عليهم، فوفَّى لهم بذلك، وعاد إلى المغرب. وارتحل ابن أبي الطلاق، والخيري، والكناني من مليانة راجعين إلى المغرب، ومروا بتلمسان، ومع الكناني هذان الأخوان، فأوصلهما إلى أبي حمو، وأثنى عليهما. وعرَّفه بمقامهما في العلم، فاغتبط بهما أبو حمو، واختط لهما المدرسة المعروفة بهما بتلمسان. وأقاما عنده على هدي أهل العلم وسننهم؛ وهلك أبو حمو، فكانا كذلك مع ابنه أبي تاشفين إلى أن زحف السلطان أبو الحسن (المريني) إلى تلمسان، وملكها عنوة،

سنة سبع وثلاثين، وكانت لهما شهرة في أقطار المغرب، أثبتت لهما في نفس السلطان عقيدة صالحة، فاستدعاهما لحين دخوله، وأدنى مجلسهما، وأشاد بتكرمتهما، ورفع محلهما على أهل طبقتهما. وصار يجمل بهما مجلسه، متى مر بلمسان، أو وفداً عليه في
তিনি শালফে মাগরাওয়ার শাসনভার গ্রহণ করেন এবং এর রাজধানী ছিল মিলিয়ানা। এরপর তিনি এর উপরে বনি আসকার বংশের হাসান ইবনে আলি ইবনে আবি আল-তাল্লাক এবং বনি ওয়ারতাজিন বংশের আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-খাইরিকে নিযুক্ত করেন। আর রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ সংগ্রহের জন্য তাদের সাথে ছিলেন লেখক মান্দিল ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি। তখন এই দুই ভাই আলজেরিয়া থেকে রওনা হলেন এবং মিলিয়ানায় বসতি স্থাপন করলেন। তারা মান্দিল আল-কিনানির দৃষ্টিতে পছন্দনীয় হলেন, ফলে তিনি তাদের ঘনিষ্ঠ করলেন ও মনোনীত করলেন এবং তার পুত্র মুহাম্মদের শিক্ষার জন্য তাদের নিযুক্ত করলেন। অতঃপর সাতশত পাঁচ হিজরি সালে তিলিমসান অবরোধকালে মরক্কোর সুলতান ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব তার এক খোজার হাতে নিহত হন; সে তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং তিনি মারা যান। তার পরে তার পৌত্র আবু সাবিত ক্ষমতা গ্রহণ করেন—সেই সব ঘটনাবলির পর যা আমরা তাদের সংবাদে উল্লেখ করেছি। তার এবং তৎকালীন তিলিমসানের অধিপতি আবু জায়ান মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াগমরাসান ও তার ভাই আবু হাম্মুর মধ্যে তিলিমসান ছেড়ে দেওয়া এবং এর শাসনভার তাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় চুক্তি সম্পাদিত হয়। তিনি তা পূর্ণ করেন এবং মরক্কোতে ফিরে যান। ইবনে আবি আল-তাল্লাক, আল-খাইরি এবং আল-কিনানি মিলিয়ানা থেকে মরক্কোর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং তারা তিলিমসান হয়ে যাচ্ছিলেন। আল-কিনানির সাথে এই দুই ভাই ছিলেন, তিনি তাদের আবু হাম্মুর নিকট নিয়ে গেলেন এবং তাদের প্রশংসা করলেন। তিনি তাদের জ্ঞানের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। আবু হাম্মু তাদের পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তিলিমসানে তাদের নামে পরিচিত একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। তারা সেখানে আলেমদের আদর্শ ও রীতি অনুযায়ী অবস্থান করতে লাগলেন। আবু হাম্মু ইন্তেকাল করলেন এবং তারা তার পুত্র আবু তাশফিনের সাথেও একইভাবে অবস্থান করতে থাকলেন। অবশেষে সুলতান আবুল হাসান (মারিনি) তিলিমসানের দিকে অভিযান পরিচালনা করলেন এবং তা বলপ্রয়োগে জয় করলেন,

সাতশত সাতত্রিশ হিজরি সালে। মরক্কোর বিভিন্ন প্রান্তে তাদের এমন খ্যাতি ছিল যা সুলতানের হৃদয়ে তাদের সম্পর্কে সুধারণা তৈরি করেছিল। তাই শহরে প্রবেশের পর তিনি তাদের তলব করলেন, তাদের নিজের মজলিসের নিকটবর্তী করলেন, তাদের সম্মান ঘোষণা করলেন এবং তাদের সমসাময়িকদের ওপর তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করলেন। তিনি যখনই তিলিমসান দিয়ে অতিক্রম করতেন বা তারা তার নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আসতেন, তখন তাদের দ্বারা তিনি নিজের মজলিসকে সুশোভিত করতেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الأوقات التي يفد فيها أعيان بلدهما. ثم استنفرهما للغزو، وحضرا معه واقعة طريف، وعادا إلى بلدهما. وتوفي أبو زيد منهما إثر ذلك، وبقي أخوه أبو موسى مُتَبَوِّئًا ما شاء من ظلال تلك الكرامة.

ولما سار السلطان أبو الحسن إلى إفريقية سنة ثمان وأربعين، كما مر في أخباره استصحب أبا موسى ابن الإمام معه مكرماً فوقراً، عالي المحل، قريب المجلس منه. فلما استولى على إفريقية، سرحه إلى بلده، فأقام بها يسيراً، وهلك في الطاعون الجارف سنة سبع وأربعين. وبقي أعقابُهُما بتلمسان دارجين في مسالك تلك الكرامة، ومتوقلين قللها طبقاً عن طبق إلى هذا العهد.

وأما السطي، واسمه محمد (بن علي) بن سليمان، من قبيلة سطة، من بطون أوربة بنواحي فاس. نزل أبوه سليمان مدينة فاس، ونشأ محمد بها، وأخذ العلم عن الشيخ أبي الحسن الصُّغَيِّر إمام المالكية بالمغرب، والطائر الذكر، وقاضي الجماعة بفاس، وتفقه عليه. وكان أحفظ الناس لمذهب مالك، وأفقههم فيه. وكان السلطان أبو الحسن لدينه وسراوته، وبعد شأوه في الفضل، يتشوف إلى تنويه مجلسه بالعلماء، واختار منهم جماعة لصحابته ومجالسته. كان منهم هذا الإمام محمد بن سليمان. وقدم علينا بتونس في جملته، وشهدنا وفور فضائله. وكان في الفقه من بينها لا يجارى، حفظاً وفهماً، عهدي به وأخي محمد رحمه الله يقرأ عليه من كتاب التبصرة لأبي الحسن اللخمي، وهو يصححه عليه من إملائه وحفظه، في مجالس عديدة. وكذا كان حاله في أكثر ما يعاني حمله من الكتب. وحضر مع السلطان أبي الحسن، واقعة القيروان، وخلص معه إلى تونس، وأقام بها نحواً من

سنتين.
যে সময়ে তাঁদের অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আগমন করতেন। অতঃপর তিনি তাঁদের উভয়কে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন এবং তাঁরা তাঁর সঙ্গে তারিফের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের মধ্যে আবু যায়েদ এর পরেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর ভাই আবু মুসা সেই রাজকীয় মর্যাদার ছায়াতলে যতদিন ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে থাকেন।

আর সুলতান আবু আল-হাসান যখন আটচল্লিশ হিজরি সালে আফ্রিকার অভিমুখে যাত্রা করেন—যেমনটি তাঁর ইতিবৃত্তে বর্ণিত হয়েছে—তখন তিনি ইমাম-পুত্র আবু মুসাকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে সহযাত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন; তিনি ছিলেন উচ্চাসীন এবং সুলতানের মজলিসের নিকটবর্তী ব্যক্তি। অতঃপর যখন তিনি আফ্রিকা জয় করলেন, তখন তাঁকে তাঁর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তিনি সেখানে অল্পকাল অবস্থান করেন এবং সাতচল্লিশ হিজরি সালের ভয়াবহ মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তিলিমসানে তাঁদের উত্তরসূরিগণ সেই মর্যাদাপূর্ণ পথেই অদ্যবধি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চ শিখরসমূহ অতিক্রম করে চলেছেন।

আর সাত্তি সম্পর্কে বলতে গেলে, তাঁর নাম মুহাম্মদ (বিন আলী) বিন সুলাইমান, তিনি ফেজ অঞ্চলের আওরাবা গোত্রের সাত্তা বংশোদ্ভূত। তাঁর পিতা সুলাইমান ফেজ শহরে বসবাস শুরু করেন এবং মুহাম্মদ সেখানেই লালিত-পালিত হন। তিনি মাগরিবের মালেকি মাজহাবের ইমাম, খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এবং ফেজের প্রধান বিচারপতি শেখ আবু আল-হাসান আস-সাগিরের নিকট জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর কাছে ফিকহ শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি মালেকি মাজহাবের মাসয়ালাসমূহে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রখর স্মৃতিধর এবং প্রাজ্ঞ ফকিহ ছিলেন। সুলতান আবু আল-হাসান তাঁর ধার্মিকতা ও আভিজাত্য এবং পাণ্ডিত্যে সুদূরপ্রসারী দক্ষতার কারণে আলেমদের উপস্থিতিতে তাঁর মজলিসকে মহিমান্বিত করতে আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি নিজের সাহচর্য ও মজলিসের জন্য তাঁদের মধ্য থেকে একটি দলকে মনোনীত করেন। এই ইমাম মুহাম্মদ বিন সুলাইমান ছিলেন তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত। তিনি সুলতানের সফরসঙ্গী হয়ে আমাদের নিকট তিউনিসে আগমন করেন এবং আমরা তাঁর অঢেল গুণাবলি প্রত্যক্ষ করি। ফিকহ শাস্ত্রে মুখস্থ ও উপলব্ধির দিক থেকে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। আমার মনে পড়ে, আমি এবং আমার ভাই মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অনেক মজলিসে তাঁর নিকট আবু আল-হাসান আল-লাখমির ‘আত-তাবসিরা’ নামক কিতাবটি পাঠ করতাম এবং তিনি তা তাঁর কণ্ঠস্থ ও স্মৃতি থেকে সংশোধন করে দিতেন। তাঁর অধীত ও পঠিত অধিকাংশ কিতাবের ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থা এমনই ছিল। তিনি সুলতান আবু আল-হাসানের সাথে কাইরাওয়ানের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সাথেই তিউনিসে এসে পৌঁছান এবং সেখানে প্রায়

দুই বছর অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وانتقض المغرب على السلطان، واستقل به ابنه أبو عنان. ثم ركب (السلطان) أبو الحسن في أساطيله من تونس آخر سنة خمسين، ومر ببجاية، فأدركه الغرق في سواحلها، فغرقت أساطيله، وغرق أهله، وأكثر من كان معه من هؤلاء الفضلاء وغيرهم. وألقاه البحر ببعض الجزر هناك، حتى استنفذه منه بعض أساطيله، ونجا إلى الجزائر بعد أن تلف موجوده، وهلك الكثير من عياله وأصحابه، وكان من أمره ما مر في أخباره.

وإما الآبلي واسمه محمد بن إبراهيم، فمنشؤه بتلمسان، وأصله من جالية الأندلس، من أهل آبلة، من بلاد الجوف منها، أجاز أبوه وعمه أحمد، فاستخدمهم يغمراسن بن زيان، وولده في جندهم، وأصهر إبراهيم منهما إلى القاضي بتلمسان محمد بن غلبون في ابنته، فولدت له محمداً هذا. ونشأ بتلمسان في كفالة جده القاضي، فنشأ له بذلك ميل إلى انتحال العلم عن الجندية التي كانت مُنْتَحَل أبيه (وعمَّه). فلما يفع وأدرك، سبق إلى ذهنه محبة التعاليم، فبرع فيها، واشتهر. وعكف الناس عليه في تعلمها وهو في سن البلوغ. ثم أطل السلطان يوسف بن يعقوب على تلمسان، وجثم عليها يحاصرها. وسير بعوثه إلى الأعمال، فافتتح أكثرها، وكان إبراهيم الآبلي قائداً بهنين؛ مرسى تلمسان في لمة من الجند، فلما
সুলতানের বিরুদ্ধে মাগরিব বিদ্রোহ করল এবং তাঁর পুত্র আবু ইনান সেখানে স্বাধীনভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করল। অতঃপর পঞ্চাশ হিজরী সনের শেষের দিকে (সুলতান) আবু হাসান তিউনিসিয়া থেকে তাঁর নৌবহর নিয়ে যাত্রা করলেন। তিনি বেজাইয়া অতিক্রম করার সময় এর উপকূলে এক ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়লেন। এতে তাঁর নৌবহর ডুবে গেল, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাথে থাকা সেই সব মহৎ ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্যদের অধিকাংশই ডুবে মারা গেলেন। সমুদ্র তাঁকে সেখানে কোনো একটি দ্বীপে নিক্ষেপ করল, অবশেষে তাঁর কিছু জাহাজ তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করল। নিজের সহায়-সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার পর এবং তাঁর অনেক পরিবার ও সঙ্গী-সাথী ধ্বংস হওয়ার পর তিনি আলজিয়ার্সে গিয়ে মুক্তি পেলেন। তাঁর পরিণতি তাই হয়েছিল যা তাঁর ইতিবৃত্তে ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

আর আবিলী—তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম—তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা তলেমসানে। তাঁর আদি নিবাস আন্দালুসিয়া থেকে আগত অভিবাসী পরিবারে, তিনি আন্দালুসিয়ার আল-জাওফ অঞ্চলের আবিলা অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা এবং তাঁর চাচা আহমদ সাগর পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছিলেন। ইয়াগমুরানসান বিন যাইয়ান এবং তাঁর পুত্র তাঁদেরকে নিজেদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁদের দুজনের মধ্যে ইব্রাহিম তলেমসানের বিচারক মুহাম্মদ ইবনে গালবুনের কন্যাকে বিয়ে করেন এবং তাঁর গর্ভেই এই মুহাম্মদের জন্ম হয়। তিনি তাঁর নানা বিচারকের তত্ত্বাবধানে তলেমসানে বেড়ে ওঠেন। এর ফলে তাঁর মনে সৈনিকবৃত্তির পরিবর্তে—যা ছিল তাঁর পিতা (ও চাচার) পেশা—জ্ঞানচর্চার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। যখন তিনি কৈশোরে ও যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন তাঁর মনে শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হলো। তিনি এতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করলেন এবং প্রসিদ্ধি লাভ করলেন। তিনি সাবালক হওয়ার বয়সেই মানুষ তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভিড় জমাতে শুরু করল। অতঃপর সুলতান ইউসুফ বিন ইয়াকুব তলেমসানের সম্মুখে উপস্থিত হলেন এবং তা অবরোধ করে সেখানে অবস্থান নিলেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং সেগুলোর অধিকাংশ জয় করলেন। ইব্রাহিম আবিলী তখন তলেমসানের পোতাশ্রয় হুনাইনে একদল সৈন্য নিয়ে সেনাপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন; অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫০)
ملكها يوسف بن يعقوب، اعتقل من وجد بها من شيع ابن زيان، واعتقل إبراهيم الآبلي فيهم، وشاع الخبر في تلمسان بأن يوسف بن يعقوب يسترهن أبناءهم ويطلقهم، فتشوف ابنه محمد إلى اللحاق به، من أجل ذلك. وأغراه أهله بالعزم عليه، فتسور الأسوار، وخرج إلى أبيه، فلم يجد خبر للاسترهان صحيحاً. واستخدمه يوسف بن يعقوب قائداً على الجند الأندلسيين بتاوريرت، فكره المقام على ذلك، ونزع عن طوره، ولبس المسوح، وسار قاصداً الحج. وانتهى إلى رباط العباد مختفياً في صحبة الفقراء، فوجد هنالك رئيساً من كربلاء ثم من بني الحسين، جاء إلى المغرب يروم إقامة

دعوتهم فيه، وكان معقلاً؛ فلما رأى عساكر يوسف بن يعقوب، وشدة هيبته، غلب عليه اليأس من مرامه، ونزع عن ذلك، واعتزم الرجوع إلى بلده، فسار شيخنا محمد بن إبراهيم في جملته.

قال لي رحمه الله: وبعد حين انكشف لي حاله، وما جاء له، واندرجت في جملة أصحابه وتابعه. قال: وكان يتلقاه في كل بلد من (أصحابه و) أشياعه وخدمه من يأتيه بالأزواد، والنفقات من بلده، إلى أن ركبنا البحر من تونس إلى الإسكندرية. قال: واشتدت علي الغلمة في البحر، واستحييت من كثرة الاغتسال؛ لمكان هذا الرئيس، فأشار علي بعض بِطانته بشرب الكافور، فاغترفت منه غرفة، فشربتها فاختلطت. وقدم الديار المصرية على تلك الحال، وبها يومئذ تقي الدين بن دقيق العيد، وابن الرِّفعة، وصفي الدين الهندي، والتبريزي، وابن البديع، وغيرهم
এর অধিপতি ইউসুফ বিন ইয়াকুব, সেখানে ইবনে জিয়ানের অনুসারীদের মধ্যে যাদের পাওয়া গিয়েছিল তাদের গ্রেফতার করেন এবং তাদের মধ্যে ইব্রাহিম আল-আবিলিকেও গ্রেফতার করেন। তিলিমসানে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইউসুফ বিন ইয়াকুব তাদের সন্তানদের জিম্মি করছেন এবং তাদের মুক্তি দিচ্ছেন, এ কারণে তার পুত্র মুহাম্মাদ তার সাথে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে এই সংকল্পে উৎসাহিত করেন, ফলে তিনি প্রাচীর টপকে তার পিতার কাছে চলে যান, কিন্তু সেখানে জিম্মি করার খবরের কোনো সত্যতা পাননি। ইউসুফ বিন ইয়াকুব তাকে তাওয়ারিরতে আন্দালুসি সৈন্যদের সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু তিনি সেখানে অবস্থান করা অপছন্দ করেন এবং নিজের পূর্বাবস্থা থেকে সরে আসেন, সুফিদের পোশাক পরিধান করেন এবং হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি আত্মগোপন করে ফকিরদের সাথে রিবাত আল-উব্বাদে পৌঁছান। সেখানে তিনি কারবালার এবং পরবর্তীতে বনু হুসাইনের একজন প্রধানের দেখা পান, যিনি মাগরিবে তাদের দাওয়াত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। এটি ছিল একটি সুরক্ষিত স্থান; যখন তিনি ইউসুফ বিন ইয়াকুবের সেনাবাহিনী এবং তার প্রচণ্ড প্রতাপ দেখলেন, তখন তিনি নিজ লক্ষ্য অর্জনে হতাশ হয়ে পড়লেন এবং সেই ইচ্ছা ত্যাগ করলেন। তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সংকল্প করলেন, আর আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম তার সফরসঙ্গী হলেন।

তিনি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) আমাকে বললেন: "কিছুকাল পর তার অবস্থা এবং যে উদ্দেশ্যে তিনি এসেছিলেন তা আমার কাছে প্রকাশ পেল, এবং আমি তার সাথী ও অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হলাম।" তিনি বললেন: "প্রতিটি শহরেই তার (সাথী), অনুসারী এবং সেবকদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ তার কাছে রসদ ও খরচপত্র নিয়ে আসত, যতক্ষণ না আমরা তিউনিসিয়া থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করলাম।" তিনি বললেন: "সমুদ্রে থাকাকালীন আমার মধ্যে কামভাব প্রবল হয়ে ওঠে এবং উক্ত নেতার উপস্থিতির কারণে বারবার গোসল করতে আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম। তখন তার ঘনিষ্ঠদের একজন আমাকে কর্পূর পান করার পরামর্শ দিলেন। আমি তা থেকে এক আঁজলা নিয়ে পান করলাম, যার ফলে আমি বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম।" সেই অবস্থায় তিনি মিসরীয় ভূখণ্ডে আগমন করেন। সে সময় সেখানে তাকিউদ্দীন বিন দাকিক আল-ঈদ, ইবনে আল-রিফআহ, সাফিউদ্দীন আল-হিন্দি, আল-তাবরিজি, ইবনে আল-বাদি এবং আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫১)
من فرسان المعقول والمنقول، فلم يكن قصاراه إلا تمييز أشخاصهم، إذا ذكرهم لنا؛ لما كان به من الاختلاط. ثم حجَّ مع ذلك الرئيس، وسار في جملته إلى كربلاء، فبعث معه من أصحابه من أوصله إلى مَأْمَنه من بلاد زَوَاوَة من أطراف المغرب. وقال لي شيخنا رحمه الله: كان معي دنانير كثيرة تزَودتُها من المغرب، واستبطنتها في جُبَّة كنت ألبسها؛ فلما نزل بي ما نزل انتزعها مني حتى إذا بعث أصحابه يشيعونني إلى المغرب، دفعها إليهم، حتى إذا أوصلوني إلى المأمن، أعطوني إياها وأشهدوا علي بها في كتاب حملوه معهم إليه كما أمرهم؛ ثم قارن وصول شيخنا إلى المغرب مهلك يوسف بن يعقوب وخلاص أهل تلمسان من الحصار، فعاد إلى تلمسان، وقد أفاق من اختلاطه، وانبعثت همته إلى تعلم العلم. وكان مائلاً إلى العقليات، فقرأ المنطق على أبي موسى ابن الإمام، وجملة من الأصلين، وكان أبو حمو صاحب تلمسان يومئذ قد استفحل ملكه، وكان ضابطاً لأموره، وبلغه عن شيخنا تقدمه في علم الحساب، فدفعه إلى ضبط أمواله

ومشارفة عماله. وتفادى شيخنا من ذلك، فأكرهه عليه، فأعمل الحيلة في الفرار منه، ولحق بفاس أيام السلطان أبي الربيع، وبعث فيه أبو حمو، فاختفى بفاس عند شيخ التَّعاليم من اليهود، خلوف المغيلي؛ فاستوفى عليه فنونها، وحذق. وخرج متوارياً من فاس، فلحق بمراكش، أعوام العشر والسبع مائة. ونزل على الإمام أبي العباس بن البناء شيخ المعقول والمنقول، والمبرز في التصوف علماً وحالاً، فلزمه، وأخذ عنه، وتضلع من علم المعقول والتعاليم والحكمة، ثم استدعاه شيخ الهساكرة علي بن محمد بن تروميت ليقرأ عليه، وكان ممرضاً في طاعته للسلطان، فصعد إليه شيخنا وأقام عنده مدة؛ قرأ عليه فيها وحصل. واجتمع طلبة العلم هنالك على الشيخ، فكثرت إفادته، واستفادته، وعلي بن محمد في ذلك على
তিনি যৌক্তিক (মা'কুল) ও বর্ণিত (মানকুল) উভয় শাস্ত্রের একজন সুদক্ষ পণ্ডিত ছিলেন। তিনি যখন আমাদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করতেন, তখন তার মানসিক অস্থিরতার কারণে তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত করা ছাড়া তার বিশেষ কিছু করার ছিল না। অতঃপর তিনি সেই নেতার সাথে হজ্জ পালন করেন এবং তার কাফেলার সাথে কারবালা পর্যন্ত সফর করেন। এরপর তিনি (নেতা) তার সঙ্গীদের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক পাঠালেন যারা তাকে মাগরিবের প্রান্তবর্তী জাওয়াওয়া অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিল। আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) আমাকে বলেছিলেন: "আমার কাছে মাগরিব থেকে সংগৃহীত অনেক দিনার ছিল যা আমি আমার পরিহিত একটি জুব্বার ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলাম। যখন আমার ওপর বিপদ নেমে এল, তখন তিনি সেগুলো আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলেন। অবশেষে তিনি যখন আমাকে মাগরিবের দিকে বিদায় দেওয়ার জন্য তার সঙ্গীদের পাঠালেন, তখন তিনি দিনারগুলো তাদের হাতে সমর্পণ করলেন। তারা যখন আমাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিল, তখন তারা সেগুলো আমাকে ফেরত দিল এবং তার নির্দেশ অনুযায়ী তারা একটি দলিলের মাধ্যমে আমার প্রাপ্তি স্বীকার করিয়ে নিল যা তারা তার কাছে বহন করে নিয়ে গিয়েছিল।" অতঃপর মাগরিবে আমাদের শায়খের পৌঁছানোর সময়টি ইউসুফ বিন ইয়াকুবের মৃত্যু এবং তিলিমসানের অধিবাসীদের অবরোধ থেকে মুক্তির সমসাময়িক ছিল। ফলে তিনি তিলিমসানে ফিরে আসলেন এবং তার মানসিক অস্থিরতা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং ইলম অর্জনে তার সংকল্প পুনরায় জাগ্রত হলো। তিনি যৌক্তিক শাস্ত্রসমূহের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ফলে তিনি আবু মুসা ইবনুল ইমামের কাছে মানতিক (তর্কশাস্ত্র) এবং উসুলাইনের (উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ্দীন) একটি বড় অংশ পাঠ করেন। সে সময় তিলিমসানের শাসক আবু হাম্মুর ক্ষমতা অত্যন্ত সুসংহত হয়েছিল এবং তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। আমাদের শায়খের গণিতশাস্ত্রে পারদর্শিতার কথা তার কাছে পৌঁছালে তিনি তাকে তার সম্পদ তদারকি

ও কর্মচারীদের পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করেন। আমাদের শায়খ তা এড়িয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তাকে তাতে বাধ্য করলেন। তখন তিনি পলায়নের কৌশল অবলম্বন করলেন এবং সুলতান আবু রাবি’র শাসনামলে ফাসে গিয়ে উপনীত হলেন। আবু হাম্মু তার খোঁজে লোক পাঠালেন, ফলে তিনি ফাসে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের শিক্ষক খালুফ আল-মাগিলি নামক জনৈক ইহুদির কাছে আত্মগোপন করেন। সেখানে তিনি এই শাস্ত্রের বিবিধ শাখায় পূর্ণতা লাভ করেন এবং পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি গোপনে ফাস ত্যাগ করে সাতশ দশ হিজরির কাছাকাছি বছরগুলোতে মারাকেশে পৌঁছান। সেখানে তিনি যৌক্তিক ও বর্ণিত শাস্ত্রের শায়খ এবং ইলম ও আধ্যাত্মিক অবস্থায় তাসাউউফে অগ্রগণ্য ইমাম আবু আব্বাস ইবনুল বান্নার সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। তিনি তার অনুগামী হলেন, তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেন এবং যৌক্তিক বিদ্যা, গণিত-জ্যোতির্বিদ্যা ও হিকমাহশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করলেন। এরপর হাসাকারা গোত্রের শায়খ আলী বিন মুহাম্মদ বিন তারুমিত তাকে তার কাছে পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন; তিনি সুলতানের আনুগত্যের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল ছিলেন। আমাদের শায়খ তার কাছে গেলেন এবং সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করলেন; সেখানে তিনি পাঠ দান করলেন এবং জ্ঞান অর্জন করলেন। সেখানে ইলম অন্বেষীরা শায়খের নিকট সমবেত হলো, ফলে তার পাঠদান ও জ্ঞানার্জন উভয়ই বৃদ্ধি পেল। আর আলী বিন মুহাম্মদ এ বিষয়ে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫২)
تعظيمه، ومحبته، وامتثال إشارته، فغلب على هواه، وعظمت رياسته بين تلك القبائل. ولما استنزل السلطان أبو سعيد علي بن تروميت من جبله، نزل الشيخ معه، وسكن بفاس. وانثال عليه طلبة العلم من كل ناحية، فانتشر علمه، واشتهر ذكره؛ فلمَّا فتح السلطان أبو الحسن تلمسان ولقي أبا موسى ابن الإمام، ذكره له بأطيب الذكر، ووصفه بالتَّقدُّم في العلوم. وكان السلطان معنياً بجمع العلماء لمجلسه، كما ذكرنا، فاستدعاه من مكانه بفاس، ونظمه في طبقة العلماء بمجلسه، وعكف على التَّدريس والتَّعليم، ولازم صحابة السلطان، وحضر معه واقعة طريف، وواقعة القيروان بإفريقية؛ وكانت قد حصلت بينه وبين والدي رحمه الله صحابة، كانت وسيلتي إليه في القراءة عليه، فلزمت مجلسه، وأخذت عنه، وافتتحت العلوم العقلية بالتَّعاليم. ثم قرأت المنطق، وما بعده من الأصلين، وعلوم الحكمة؛ وعرض أثناء ذلك ركوب السلطان أساطيله من تونس إلى المغرب، وكان الشيخ في نزلنا وكفالتنا، فأشرنا عليه بالمقام، وثبطناه عن السفر، فقبل، وأقام. طالبنا به السلطان أبو الحسن، فأحسنا له العذر. وتجافى عنه، وكان من حديث

غرقه في البحر ما قدمناه. وأقام الشيخ بتونس، ونحن وأهل بلدنا جميعاً نتساجل في غشيان مجلسه، والأخذ عنه؛ فلما هلك السلطان أبو الحسن بجبال هنتاتة، وفرغ ابنه أبو عنان من شواغله، وملك تلمسان من بني عبد الواد؛ كتب فيه يطلبه من صاحب تونس، وسلطانها يومئذ أبو إسحق إبراهيم ابن السلطان أبي يحيى، في كفالة شيخ الموحدين أبي محمد بن تافراكين، فأسلمه إلى سفيره، وركب معه البحر في أسطول السلطان الذي جاء فيه السفير. ومر ببجاية، ودخلها، وأقام بها شهراً، حتى قرأ عليه طلبة العلم بها مختصر ابن الحاجب في أصول الفقه، برغبتهم في ذلك منه ومن صاحب الأسطول، ثم ارتحل، ونزل
তাঁর সম্মান, ভালোবাসা এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা হলো, ফলে তিনি তাঁর প্রবৃত্তির ওপর জয়ী হলেন এবং সেই সকল গোত্রসমূহের মাঝে তাঁর নেতৃত্ব সুমহান হলো। যখন সুলতান আবু সাঈদ আলী বিন তারুমিতকে তাঁর পাহাড় থেকে নামিয়ে আনলেন, তখন শাইখও তাঁর সাথে নেমে এলেন এবং ফাসে বসবাস শুরু করলেন। সকল দিক থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর কাছে সমবেত হতে লাগল, ফলে তাঁর ইলম ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর সুখ্যাতি প্রসিদ্ধি লাভ করল। অতঃপর যখন সুলতান আবুল হাসান তিলিমসান জয় করলেন এবং আবু মুসা ইবনুল ইমামের সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন তিনি সুলতানের নিকট শাইখের কথা অত্যন্ত প্রশংসার সাথে উল্লেখ করলেন এবং তাঁকে ইলমসমূহে অগ্রগামী হিসেবে বর্ণনা করলেন। সুলতান তাঁর মজলিসে আলেমদের সমবেত করতে আগ্রহী ছিলেন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তাই তিনি ফাস থেকে তাঁকে ডেকে আনলেন এবং তাঁর মজলিসের আলেমদের স্তরে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করলেন। তিনি পাঠদান ও শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করলেন এবং সুলতানের সঙ্গীদের সাহচর্যে অবস্থান করলেন। তিনি তাঁর সাথে তারিফ-এর যুদ্ধ এবং আফ্রিকার কাইরাওয়ান-এর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর এবং আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর মধ্যে এক প্রকার বন্ধুত্ব ছিল, যা তাঁর কাছে আমার পড়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল। ফলে আমি তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হতে লাগলাম, তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করলাম এবং গাণিতিক শিক্ষার মাধ্যমে যৌক্তিক ইলমসমূহের সূচনা করলাম। এরপর আমি যুক্তিবিদ্যা, অতঃপর উসুল আল-দীন ও উসুল আল-ফিকহ এবং হিকমতের ইলমসমূহ পাঠ করলাম। এরই মধ্যে সুলতানের তিউনিস থেকে মরক্কোর উদ্দেশ্যে নৌবহরে চড়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এল। শাইখ তখন আমাদের আতিথেয়তায় এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন। আমরা তাঁকে এখানে অবস্থান করার পরামর্শ দিলাম এবং তাঁকে সফরে যেতে নিরুৎসাহিত করলাম; তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং থেকে গেলেন। সুলতান আবুল হাসান আমাদের কাছে তাঁকে তলব করলেন, কিন্তু আমরা তাঁর নিকট সুন্দর অজুহাত পেশ করলাম। সুলতান বিষয়টি মার্জনা করলেন। আর সমুদ্রে তাঁর ডুবে যাওয়ার সেই ঘটনাটি আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি।

শাইখ তিউনিসে অবস্থান করতে লাগলেন এবং আমরা ও আমাদের দেশের সকল মানুষ তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়া ও তাঁর থেকে ইলম হাসিল করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতাম। যখন সুলতান আবুল হাসান হিনতাতা পাহাড়ে মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁর পুত্র আবু ইনান তাঁর রাজকীয় ব্যস্ততা থেকে অবসর হলেন এবং বনু আব্দুল ওয়াদ-এর কাছ থেকে তিলিমসান দখল করলেন; তখন তিনি তিউনিসের অধিপতির নিকট শাইখকে চেয়ে পত্র লিখলেন—তিউনিসের তৎকালীন সুলতান ছিলেন মুওয়াহিদুনদের শাইখ আবু মুহাম্মদ বিন তাফরাকিনের অভিভাবকত্বে থাকা সুলতান আবু ইয়াহইয়ার পুত্র আবু ইসহাক ইব্রাহিম। অতঃপর তিনি শাইখকে সুলতানের দূতের নিকট সমর্পণ করলেন এবং শাইখ সেই দূতের সাথে সুলতানের নৌবহরে চড়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করলেন যেটিতে করে দূত এসেছিলেন। তিনি বেজাইয়া অতিক্রম করলেন এবং সেখানে প্রবেশ করে এক মাস অবস্থান করলেন। এই সময়ে সেখানকার ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর কাছে উসুল আল-ফিকহ বিষয়ক 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব' পাঠ করল; শাইখ এবং নৌবহরের অধিপতির কাছে তাদের এই বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল। এরপর তিনি পুনরায় যাত্রা শুরু করলেন এবং উপনীত হলেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بمرسى هُنَيْن؛ وقدم على السلطان بتلمسان، وأحله محل التكرمة، ونظمه في طبقة أشياخه من العلماء. وكان يقرأ عليه، ويأخذ عنه، إلى أن هلك بفاس، سنة سبع وخمسين وسبعمائة. وأخبرني رحمه الله أن مولده بتلمسان سنة إحدى وثمانين وستمائة.

وأما عبد المهيمن كاتب السلطان أبي الحسن، فأصله من سبتة، وبيتهم بها قديم، ويعرفون ببني عبد المهيمن؛ وكان أبوه محمد قاضيها أيام بني العَزَفِيّ، ونشأ ابنه عبد المهيمن في كفالته، وأخذ عن مشيختها. واختص بالأستاذ أبي إسحق الغافقي. ولما ملك عليهم الرئيس أبو سعيد، صاحب الأندلس، سبتة ونقل بني العزفي، مع جملة أعيانها إلى غرناطة، ونقل معهم القاضي محمد بن عبد المهيمن، وابنه عبد المهيمن، فأستكمل قراءة العلم هنالك وأخذ عن أبي جعفر بن الزُّبير ونظرائه، وتقدم في معرفة كتاب سيبويه، وبرز في علو الإسناد، وكثرة المشيخة. وكتب له أهل المغرب والأندلس والمشرق، فاستكتبه رئيس الأندلس يومئذ، الوزير أبو عبد الله بن الحكيم الرندي، المستبد على السلطان المخلوع من بني الأحمر، فكتب عنه، ونظمه في طبقة الفضلاء الذين كانوا بمجلسه، مثل المحدث الرحالة أبي عبد الله بن رشيد الفهري، وأبي العباس أحمد بن. . . العزفي، والعالم
হুনাইন বন্দরে; তিনি তিলিমসানের সুলতানের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং সুলতান তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করলেন এবং তাঁকে তাঁর আলেম শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। সুলতান তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করতেন এবং শিক্ষা নিতেন, যতক্ষণ না তিনি সাতশ সাতান্ন হিজরি সনে ফাসে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর জন্ম ছয়শ একাশি হিজরি সনে তিলিমসানে হয়েছিল।

আর সুলতান আবুল হাসানের লেখক আব্দুল মুহায়মিন প্রসঙ্গে বলা যায়, তাঁর মূল নিবাস ছিল সাবতাহ। সেখানে তাঁদের বংশ প্রাচীন এবং তাঁরা বনু আব্দুল মুহায়মিন নামে পরিচিত। বনু আযাফির শাসনামলে তাঁর পিতা মুহাম্মদ সেখানকার কাজী ছিলেন এবং তাঁর পুত্র আব্দুল মুহায়মিন তাঁর তত্ত্বাবধানেই বেড়ে ওঠেন ও সেখানকার মাশায়েখদের থেকে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বিশেষভাবে উস্তাদ আবু ইসহাক আল-গাফেকীর সান্নিধ্য লাভ করেন। যখন আন্দালুসের শাসক রঈস আবু সাঈদ সাবতাহ জয় করেন এবং বনু আযাফিকে সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে গারনাতায় স্থানান্তরিত করেন, তখন তাঁদের সাথে কাজী মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহায়মিন এবং তাঁর পুত্র আব্দুল মুহায়মিনকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি তাঁর জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন করেন এবং আবু জাফর বিন যুবায়ের ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি সিবওয়াইহ-র কিতাব সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং উচ্চতর ইসনাদ ও অধিক সংখ্যক মাশায়েখের সান্নিধ্যের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। মাগরিব, আন্দালুস ও মাশরিকের অধিবাসীরা তাঁর কাছে পত্রালাপ করত। সেই সময়কার আন্দালুসের প্রধান, উজির আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-হাকিম আর-রুন্দি—যিনি বনু আহমারের ক্ষমতাচ্যুত সুলতানের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন—তাঁকে লেখক হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে লিপি লিখতেন এবং উজির তাঁকে তাঁর মজলিসের গুণীজনদের স্তরে স্থান দেন, যেমন পর্যটক মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ বিন রুশাইদ আল-ফিহরি, আবুল আব্বাস আহমাদ বিন... আল-আযাফি এবং আলেম...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الصوفي المتجرد،

أبي عبد الله محمد بن خميس التلمساني، وكانا لا يجاريان في البلاغة والشعر إلى غير هؤلاء ممن كان مختصاً به، وقد ذكرهم ابن الخطيب في تاريخ غرناطة. فلما نكب الوزير ابن الحكيم، وعادت سبتة إلى طاعة بني مرين عاد عبد المهيمن إليها واستقر بها، ثم ولى السلطان أبو سعيد، وغلب عليه ابنه أبو علي، واستبد بحمل الدولة. تشوف إلى استدعاء الفضلاء، وتجمل الدولة بمكانهم، فاستقدم عبد المهيمن من سبتة، واستكتبه، سنة ثِنتَي عشرة؛ ثم خالف على أبيه سنة أربع عشرة، وامتنع بالبلد الجديد، وخرج منها إلى سجلماسة بصلح عقده مع أبيه، فتمسك السلطان أبو سعيد بعبد المهيمن، واتخذه كاتباً، إلى أن دفعه لرياسة الكتاب، ورسم علامته في الرسائل والأوامر، فتقدم لذلك سنة ثمان عشرة، ولم يزل عليها سائر أيام السلطان أبي سعيد وابنه أبي الحسن. وسار مع أبي الحسن إلى إفريقية، وتخلف عن واقعة القيروان بتونس؛ لما كان به علة النقرس. فلما كانت الهيعة بتونس، ووصل خبر الواقعة، وتحيز أشياع السلطان إلى القصبة، مع حرمه، تسرب عبد المهيمن في المدينة، منتبذاً عنهم، وتوارى في بيتنا، خشية أن يصاب معهم بمكروه. فلما انجلت تلك الغيابة، وخرج السلطان من القيراوان إلى سوسة، وركب منها البحر إلى تونس، أعرض عن عبد المهيمن، لما سخط غيبته عن قومه بالقصبة، وجعل العلامة لأبي الفضل ابن الرئيس عبد الله بن أبي مدين، وقد كانت مقصورة من قبل على هذا البيت، وأقام عبد المهيمن عطلاً من العمل مدة أشهر. ثم أعتبه السلطان، ورضي عنه، وأعاد إليه العلامة كما كان، وهلك لأيام قلائل بتونس في الطاعون الجارف سنة تسع وأربعين. ومولده سنة خمس وسبعين من المائة قبلها، وقد استوعب ابن الخطيب التعريف به في تاريخ غرناطة فليطالعه هناك من أحب الوقوف عليه.
নিঃসঙ্গ সুফি,

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে খামিস আত-তিলিমসানি; তারা উভয়েই অলঙ্কারশাস্ত্র এবং কবিতায় অতুলনীয় ছিলেন। তাদের বাইরেও আরও অনেকে ছিলেন যারা তার বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যাদের উল্লেখ ইবনুল খাতিব 'তারিখে গ্রানাডা' গ্রন্থে করেছেন। অতঃপর যখন উজির ইবনুল হাকিম পদচ্যুত হলেন এবং সেউটা পুনরায় বনু মারিনের অধীনে ফিরে এল, তখন আব্দুল মুহাইমিন সেখানে ফিরে যান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর সুলতান আবু সাইদ ক্ষমতা লাভ করেন এবং তার পুত্র আবু আলি তার ওপর প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং রাষ্ট্রের শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেন। তিনি বিদগ্ধজনদের আমন্ত্রণ জানাতে এবং তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সুশোভিত করতে আগ্রহী ছিলেন। ফলে তিনি সাতশ বারো সালে আব্দুল মুহাইমিনকে সেউটা থেকে ডেকে পাঠান এবং তাকে লিপিকার হিসেবে নিযুক্ত করেন। অতঃপর সাতশ চৌদ্দ সালে তিনি তার পিতার অবাধ্যতা করেন এবং আল-বালাদ আল-জাদিদে অবস্থান নেন। পরে পিতার সাথে এক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তিনি সেখান থেকে সিজিলমাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সুলতান আবু সাইদ তখন আব্দুল মুহাইমিনকে নিজের কাছে রেখে দেন এবং তাকে লিপিকার হিসেবে গ্রহণ করেন। অবশেষে তাকে লিপিকারদের প্রধান পদে উন্নীত করেন এবং চিঠিপত্র ও রাজকীয় ফরমানসমূহে তার প্রতীক বা স্বাক্ষর অঙ্কনের দায়িত্ব দেন। তিনি সাতশ আঠারো সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হন এবং সুলতান আবু সাইদ ও তার পুত্র আবু হাসানের শাসনকালের পুরোটা সময় এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। তিনি আবু হাসানের সাথে ইফ্রিকিয়ার অভিযানে অংশ নেন, কিন্তু গেঁটেবাত রোগের কারণে তিউনিসের কাইরুয়ান যুদ্ধ থেকে দূরে থেকে যান। তিউনিসে যখন যুদ্ধের খবর পৌঁছালো এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দিল, তখন সুলতানের অনুসারীরা তাদের পরিবারসহ কাসাবায় আশ্রয় নিলেন; কিন্তু আব্দুল মুহাইমিন তাদের থেকে আলাদা হয়ে শহরে ঢুকে পড়লেন এবং কোনো বিপদে পড়ার ভয়ে আমাদের বাড়িতে আত্মগোপন করলেন। যখন সেই সংকট কেটে গেল এবং সুলতান কাইরুয়ান থেকে সুসায় এসে সমুদ্রপথে তিউনিসে ফিরলেন, তখন তিনি আব্দুল মুহাইমিনের ওপর বিরাগভাজন হলেন; কারণ বিপদের সময় কাসাবায় তার লোকদের সাথে না থেকে অনুপস্থিত থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সুলতান তখন রাজকীয় স্বাক্ষরের দায়িত্ব প্রধান আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মাদিনের পুত্র আবুল ফযলকে অর্পণ করেন, যা এর আগে ঐতিহ্যগতভাবে এই পরিবারেরই প্রাপ্য ছিল। এর ফলে আব্দুল মুহাইমিন কয়েক মাস কর্মহীন অবস্থায় কাটান। অতঃপর সুলতান তার প্রতি সদয় হন, তার ওপর সন্তুষ্ট হন এবং তাকে পূর্বের ন্যায় তার পদে ফিরিয়ে দেন। সাতশ ঊনপঞ্চাশ সালে তিউনিসে এক বিধ্বংসী প্লেগ মহামারীতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার জন্ম হয়েছিল এর আগের শতাব্দীর ছয়শ পঁচাত্তর সালে। ইবনুল খাতিব 'তারিখে গ্রানাডা' গ্রন্থে তার বিস্তারিত পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন, তাই যারা এ বিষয়ে সম্যক অবগত হতে চান তারা সেখানে তা দেখে নিতে পারেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে খালদুন (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وأما ابن رضوان الذي ذكره الرَّحَوي في قصيدته، فهو أبو القاسم عبد الله بن

يوسف بن رضوان النجاري؛ أصله من الأندلس، نشأ بمالقة، وأخذ عن مشيختها، وحذق في العربية والأدب، وتفنَّن في العلوم، ونظم ونثر، وكان مجيداً في الترسيل، وحسناً في كتابة الوثائق؛ وارتحل بعد واقعة طريف، ونزل بسبتة، ولقي بها السلطان أبا الحسن، ومدحه، وأجازه، واختص بالقاضي إبراهيم بن أبي يحيى، وهو يومئذ قاضي العساكر، وخطيب السلطان، وكان يستنيبه في القضاء والخطابة؛ ثم نظمه في حلبة الكتاب بباب السلطان؛ واختص بخدمة عبد المهيمن رئيس الكتاب، والأخذ عنه، إلى أن رحل السلطان إلى إفريقية، وكانت واقعة القيروان، وانحصر بقصبة تونس من انحصر بها، من أشياعه مع أهله وحرمه. وكان السلطان قد تخلف ابن رضوان هذا بتونس في بعض خدمه، فجلى عند الحصار فيما عرض لهم من المكاتبات وتولى كبر ذلك، فقام فيه أحسن قيام إلى أن وصل السلطان من القيروان، فرعى له حق خدمته، تأنيساً، وقرباً، وكثرة استعمال، إلى أن ارتحل من تونس في الأسطول، إلى المغرب سنة خمسين كما مر. واستخلف بتونس ابنه أبا الفضل وخلف أبا القاسم بن رضوان كاتباً له، فأقام كذلك أياماً. ثم غلبهم على تونس سلطان الموحدين الفضل ابن السلطان أبي يحيى. ونجا أبو الفضل إلى أبيه، ولم يطق ابن رضوان الرحلة معه، فأقام بتونس حولاً، ثم ركب البحر إلى الأندلس، وأقام بالمرية مع جملة (مَن) هنالك من أشياع السلطان أبي الحسن؛ كان فيهم عامر بن محمد بن علي شيخ هِنْتاَتة، كافلاً لحرم السلطان أبي الحسن؛ وابنه، أركبهم السَّفِينَ معه من تونس عندما ارتحل، فخلصوا إلى الأندلس، ونزلوا بالمرية، وأقاموا بها تحت جراية سلطان الأندلس،
আর ইবনে রিদওয়ানের কথা, যাকে রাহাবী তাঁর কসিদায় উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ বিন

ইউসুফ বিন রিদওয়ান আন-নাজ্জারি; তাঁর আদি নিবাস ছিল আন্দালুস (স্পেন), তিনি মালাগাতে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার বিদ্বানদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি কাব্য ও গদ্য উভয়ই রচনা করতেন; চিঠিপত্র লিখনশৈলীতে (তারসিল) তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং দলিলপত্র লিখনেও নিপুণ ছিলেন। তারিফের যুদ্ধের পর তিনি দেশান্তর হয়ে সেউতায় (সাবতাহ) অবস্থান করেন। সেখানে সুলতান আবুল হাসানের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি সুলতানের প্রশংসা করেন এবং সুলতান তাঁকে পুরস্কৃত করেন। তিনি বিচারক (কাজি) ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়ার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেন, যিনি তখন সেনাবাহিনীর প্রধান বিচারক এবং সুলতানের খতিব ছিলেন। তিনি ইবনে রিদওয়ানকে বিচারকার্য ও খুতবা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন। এরপর তিনি তাঁকে সুলতানের দরবারে লেখকদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি প্রধান লেখক আবদুল মুহাইমিনের সেবায় নিয়োজিত হন এবং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকেন। সুলতান আফ্রিকা অভিমুখে যাত্রা করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। এরপর কাইরুয়ানের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং সুলতানের পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে যাঁরা সেখানে ছিলেন, তাঁরা তিউনিসিয়ার কসবায় (দুর্গে) অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সুলতান তিউনিসিয়া ত্যাগের সময় ইবনে রিদওয়ানকে তাঁর বিশেষ কিছু কাজে নিযুক্ত করে রেখে গিয়েছিলেন। অবরোধ চলাকালীন যাবতীয় চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এবং এর মূল দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পাদন করেন। কাইরুয়ান থেকে সুলতান ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন। সুলতান তাঁর এই সেবার যথাযোগ্য স্বীকৃতি দেন এবং তাঁকে নিজের একান্ত সান্নিধ্যে নিয়ে আসেন ও অধিক পরিমাণে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করতে থাকেন। পরিশেষে, ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পঞ্চাশ হিজরি সনে নৌবহরে চড়ে তিউনিসিয়া থেকে মাগরিবের (মরক্কো) উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি তাঁর পুত্র আবু আল-ফজলকে তিউনিসিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রেখে যান এবং আবু আল-কাসিম বিন রিদওয়ানকে তাঁর লেখক (কাতিব) হিসেবে নিযুক্ত করেন। কিছুকাল তাঁরা এভাবেই সেখানে অবস্থান করেন। এরপর মুওয়াহহিদ সুলতান আবু ইয়াহইয়ার পুত্র সুলতান আল-ফজল তাঁদের ওপর জয়লাভ করে তিউনিসিয়া দখল করেন। আবু আল-ফজল রক্ষা পেয়ে তাঁর পিতার কাছে চলে যান, কিন্তু ইবনে রিদওয়ান তাঁর সাথে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেননি। তিনি তিউনিসিয়ায় এক বছর অবস্থান করেন, এরপর সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে পৌঁছান। আলমেরিয়াতে তিনি সুলতান আবুল হাসানের সেইসব অনুসারীদের সাথে অবস্থান করেন যারা সেখানে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হিনতাতা গোত্রের প্রধান আমির বিন মুহাম্মদ বিন আলীও ছিলেন, যিনি সুলতান আবুল হাসানের পরিবার ও তাঁর পুত্রের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তিউনিসিয়া থেকে রওনা হওয়ার সময় তিনি তাঁদের নিজ জাহাজে তুলে নিয়েছিলেন, ফলে তাঁরা নিরাপদে আন্দালুসে পৌঁছে আলমেরিয়াতে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সেখানে আন্দালুসের সুলতানের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে জীবনযাপন করতে থাকেন।