(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح الحموية لابن تيمية - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الحموية لابن تيمية

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 13 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর আল-হামাউয়্যাহ এর ব্যাখ্যা - আর-রাজহি   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজহি)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর আল-হামাউয়্যাহ এর ব্যাখ্যা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজহি

কিতাবের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ সংখ্যা - ১৩টি পাঠ ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদিউল আখিরা ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح الحموية لابن تيمية ‌‌[1]

من عقيدة السلف الإيمان بأسماء الله الحسنى وصفاته العلى من غير تكييف ولا تمثيل، ومن غير تحريف ولا تعطيل، ومن ذلك الإيمان بصفة الاستواء لله تعالى، فهذه الصفة معلومة، وكيفيتها مجهولة، والإيمان بها واجب، والسؤال عن كيفيتها بدعة، وقد خالف هذه العقيدة كثير من أهل البدع، وادعوا أن مذهبهم أحكم من مذهب السلف، والصواب أن مذهب السلف أعلم وأحكم وأسلم.
ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাউইয়্যাহর ব্যাখ্যা [১]

সালাফদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির ওপর কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে এবং কোনো প্রকার বিকৃতি ও অস্বীকার ব্যতিরেকে ঈমান আনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর উঠার গুণের ওপর ঈমান আনা। সুতরাং এই গুণটি পরিজ্ঞাত, এর ধরণ অজ্ঞাত, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এর ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। অনেক বিদআতি এই আকিদার বিরোধিতা করেছে এবং তারা দাবি করেছে যে তাদের পথ সালাফদের পথ অপেক্ষা অধিক সুদৃঢ়। অথচ সঠিক কথা হলো, সালাফদের পথই অধিকতর জ্ঞানগর্ভ, অধিকতর সুদৃঢ় এবং অধিকতর নিরাপদ।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌سائل من بلدة حماة الشام يسأل ابن تيمية

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: [سئل شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن تيمية وذلك في سنة ثمان وتسعين وستمائة، وجرى بسبب هذا الجواب أمور ومحن، وهو جواب عظيم النفع جداً].

يسمى جواب هذا

 

‌‌السؤال

الحموية؛ لأن السائل من بلدة حماة الشام.

[فقال السائل: ما قولكم في آيات الصفات كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]، وقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ} [فصلت:11]، إلى غير ذلك من الآيات.

وأحاديث الصفات كقوله صلى الله عليه وسلم: (إن قلوب بني آدم بين أصبعين من أصابع الرحمن)، وقوله: (يضع الجبار قدمه في النار)، إلى غير ذلك من الأحاديث.

وما قالت العلماء؟ وابسطوا القول في ذلك مأجورين إن شاء الله تعالى] قوله: إن شاء الله، من باب الخبر؛ لأن الدعاء لا يستثنى فيه، كما في الحديث: (لا يقول أحدكم: اللهم اغفر لي إن شئت، اللهم ارحمني إن شئت، ليعزم المسألة، فإن الله لا مكره له)، وجاء في الحديث الآخر: (لا بأس طهور إن شاء الله)؛ لأن هذا من باب الخبر.
সিরিয়ার হামা শহরের এক প্রশ্নকারী ইবনে তাইমিয়াকে প্রশ্ন করছেন

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতপর: [শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন তাইমিয়াকে ছয়শ আটানব্বই হিজরি সনে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এবং এই উত্তরের কারণে অনেক ঘটনা ও পরীক্ষা সংঘটিত হয়েছিল, আর এটি অত্যন্ত উপকারী একটি উত্তর]।

এই উত্তরকে বলা হয়

 

‌‌প্রশ্ন

আল-হামাউইয়্যাহ; কারণ প্রশ্নকারী সিরিয়ার হামা শহরের অধিবাসী ছিলেন।

[প্রশ্নকারী বললেন: সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কী? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া} [ফুসসিলাত: ১১], এবং এর সদৃশ অন্যান্য আয়াতসমূহ সম্পর্কে।

এবং সিফাত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (নিশ্চয়ই আদম সন্তানের অন্তরসমূহ পরম করুণাময় আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে অবস্থিত), এবং তাঁর বাণী: (জব্বার অর্থাৎ মহান আল্লাহ জাহান্নামে তাঁর পা রাখবেন), এবং এর সদৃশ অন্যান্য হাদিসসমূহ সম্পর্কে।

আর উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে কী বলেছেন? ইনশাআল্লাহ তাআলা, আপনারা সওয়াবের আশায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।] তাঁর কথা: ‘ইনশাআল্লাহ’, এটি সংবাদ বা বর্ণনার পর্যায়ভুক্ত; কারণ দোয়ার ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ ‘আল্লাহ চাইলে’ বলা হয় না), যেমন হাদিসে এসেছে: (তোমাদের কেউ যেন না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমার ওপর রহম করুন; বরং সে যেন দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা করে, কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই), এবং অন্য হাদিসে এসেছে: (কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ এটি পবিত্রকারী); কারণ এটি সংবাদ বা বর্ণনার পর্যায়ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة لابن تيمية بين يدي جوابه على السائل

[فأجاب: الحمد لله رب العالمين، قولنا فيها ما قاله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان، وما قاله أئمة الهدى بعد هؤلاء الذين أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، وهذا هو الواجب على جميع الخلق في هذا الباب وغيره، فإن الله بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق؛ ليخرج الناس من الظلمات إلى النور بإذن ربهم إلى صراط العزيز الحميد، وشهد له بأنه بعثه داعياً إليه بإذنه، وسراجاً منيراً، وأمره أن يقول: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف:108]، فمن المحال في العقل والدين أن يكون السراج المنير الذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور، وأنزل معه الكتاب بالحق؛ ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه، وأمر الناس أن يردوا ما تنازعوا فيه من دينهم إلى ما بعث به من الكتاب والحكمة، وهو يدعو إلى الله والى سبيله بإذنه على بصيرة، وقد أخبر أنه أكمل له ولأمته دينهم، وأتم عليهم نعمته، محال مع هذا وغيره أن يكون قد ترك باب الإيمان بالله والعلم به ملتبساً مشتبهاً، فلم يميز بين ما يجب لله من الأسماء الحسنى والصفات العليا وما يجوز عليه وما يمتنع عليه.

فإن معرفة هذا أصل الدين وأساس الهداية، وأفضل ما اكتسبته القلوب، وحصلته النفوس، وأدركته العقول، فكيف يكون ذلك الكتاب وذلك الرسول وأفضل خلق الله بعد النبيين لم يحكموا هذا الباب اعتقاداً وقولاً؟].

لأن باب الأسماء والصفات هو أصل الدين.
প্রশ্নকারীর উত্তরের প্রাক্কালে ইবনে তাইমিয়্যাহর ভূমিকা

[তিনি উত্তর দিলেন: সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো তা-ই যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরা বলেছেন। আর হিদায়াতের সেই ইমামগণ যা বলেছেন, যাঁদের হিদায়াত ও প্রজ্ঞার ব্যাপারে সকল মুসলিম একমত। আর এই বিষয়টি এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে সকল সৃষ্টির উপর এটাই ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, যেন তিনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে তথা মহাপরাক্রমশালী ও চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর তাঁকে এই কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন: {বলুন, এটাই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে আমরা জাগ্রত জ্ঞান ও চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮]। সুতরাং বুদ্ধি ও দ্বীনের দৃষ্টিতে এটা অসম্ভব যে, সেই উজ্জ্বল প্রদীপ—যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন, যাঁর সাথে সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন যেন তা মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করে দেয়, আর মানুষকে আদেশ করেছেন তাদের দ্বীনের বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলোকে তাঁর আনীত কিতাব ও হিকমতের দিকে ফিরিয়ে নিতে, এমতাবস্থায় যে তিনি জাগ্রত জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর পথের দিকে তাঁরই অনুমতিক্রমে ডাকছেন এবং তিনি খবর দিয়েছেন যে তিনি তাঁর জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাদের উপর তাঁর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন—এতকিছুর পর এটা অসম্ভব যে, তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানের বিষয়টি অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে যাবেন। ফলে তিনি আল্লাহর জন্য আবশ্যকীয় সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি এবং তাঁর জন্য যা জায়েয ও যা অসম্ভব—সেগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করবেন না।

কেননা এই জ্ঞানই হলো দ্বীনের মূল এবং হিদায়াতের ভিত্তি। আর এটিই অন্তরসমূহের অর্জিত সর্বোত্তম বিষয়, আত্মা যা অর্জন করেছে এবং বুদ্ধি যা উপলব্ধি করেছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। সুতরাং কীভাবে সম্ভব যে, সেই কিতাব, সেই রাসূল এবং নবীদের পর আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিরা বিশ্বাস ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই অধ্যায়টি সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করেননি?]।

কারণ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অধ্যায়টিই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تعليمه صلى الله عليه وسلم لأمته كل شيء

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ومن المحال أيضاً أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علم أمته كل شيء حتى الخراءة] أي: حتى أحكام الاستنجاء وكيفية إزالة النجاسة، فكيف يعلمهم ذلك، ولا يعلمهم باب أصل الدين، وباب الأسماء والصفات، وهذا فيه رد على أهل البدع الذين يتأولون بعقولهم وينفون الصفات، ويقولون: إن هذا متروك للعقول: وهذا محال؛ لأن الرسول قد علم أمته كل شيء حتى أحكام الاستنجاء حتى الخراءة، قال بعضهم لـ سلمان: علمكم نبيكم كل شيء، قال: نعم، علمنا نبينا كل شيء حتى أحكام الاستنجاء، والوضوء.

فلا يمكن أن يعلمهم أحكام الاستنجاء، وأحكام غسل النجاسة، ولا يعلمهم أصل الدين! لا يمكن هذا.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ومن المحال أيضاً أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علم أمته كل شيء حتى الخراءة، وقال: (تركتكم على البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك)، وقال فيما صح عنه أيضاً: (ما بعث الله من نبي إلا كان حقاً عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم، وينهاهم عن شر ما يعلمه لهم).

وقال أبو ذر رضي الله عنه: لقد توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما من طائر يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علماً، وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: (قام فينا رسول الله مقاماً فذكر بدء الخلق، حتى دخل أهل الجنة منازلهم وأهل النار منازلهم، حفظ ذلك من حفظه ونسيه من نسيه) رواه البخاري.

محال مع تعليمهم كل شيء لهم فيه منفعة في الدين -وإن دقت- أن يترك تعليمهم ما يقولونه بألسنتهم ويعتقدونه بقلوبهم في ربهم ومعبودهم رب العالمين].

قوله: وإن دقت أن يترك تعليمه أي: وإن كان شيئاً صغيراً، أو شيئاً قليلاً.

وقوله: يقولونه بألسنتهم أي: يقولون مثلاً: إن الله استوى على العرش، والله سميع بصير، والله عليم حكيم، ويعتقدون هذا بقلوبهم، فلا يمكن أن يترك هذا الأمر -الذي يقوله إنسان بلسانه ويعتقده بقلبه- إلى العقول.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ويعتقدونه بقلوبهم في ربهم ومعبودهم رب العالمين الذي معرفته غاية المعارف، وعبادته أشرف المقاصد، والوصول إليه غاية المطالب، بل هذا خلاصة الدعوة النبوية، وزبدة الرسالة الإلهية، فكيف يتوهم من في قلبه أدنى مسكة من إيمان وحكمة ألا يكون بيان هذا الباب قد وقع من الرسول صلى الله عليه وسلم على غاية التمام].

أي: باب أصول الدين، ومنه الأسماء والصفات.
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতকে সবকিছু শিক্ষা দান

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এটিও অসম্ভব যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে মলত্যাগের আদব পর্যন্ত সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন] অর্থাৎ: ইস্তিনজার বিধান এবং অপবিত্রতা দূর করার পদ্ধতি পর্যন্ত। সুতরাং তিনি যখন তাদের তা শিক্ষা দিয়েছেন, তখন কীভাবে সম্ভব যে তিনি তাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ও সিফাত) অধ্যায় শিক্ষা দেবেন না? এতে ঐসব বিদআতপন্থীদের খণ্ডন রয়েছে যারা নিজেদের বিবেক দিয়ে অপব্যাখ্যা করে এবং আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করে, আর বলে: নিশ্চয়ই এটি বিবেকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি অসম্ভব; কারণ রাসূল তাঁর উম্মতকে ইস্তিনজার বিধান তথা মলত্যাগের আদবসহ সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের কেউ সালমানকে বলেছিলেন: তোমাদের নবী কি তোমাদের সবকিছুই শিখিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমাদের নবী আমাদের ইস্তিনজার বিধান এবং ওযুসহ সবকিছুই শিখিয়েছেন।

সুতরাং এটি সম্ভব নয় যে তিনি তাদের ইস্তিনজার বিধান এবং অপবিত্রতা ধোয়ার নিয়ম শিখিয়েছেন অথচ দ্বীনের মূল ভিত্তি শেখাবেন না! এটি হতেই পারে না।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এটিও অসম্ভব যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে মলত্যাগের আদব পর্যন্ত সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না)। তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে আরও বলেছেন: (আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যাঁর ওপর এই দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে যা তাদের জন্য সর্বোত্তম জানতেন তার দিকে পথ দেখাবেন এবং যা মন্দ জানতেন তা থেকে তাদের সতর্ক করবেন)।

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন আকাশে ডানা ঝাপটানো এমন কোনো পাখিও ছিল না যে বিষয়ে তিনি আমাদের কোনো জ্ঞান দান করেননি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে এক জায়গায় সৃষ্টির সূচনা থেকে জান্নাতীরা তাদের স্থানে এবং জাহান্নামীরা তাদের স্থানে প্রবেশ করা পর্যন্ত সবকিছু বর্ণনা করলেন। যার মুখস্থ রাখার সে রাখল এবং যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেল) - বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

দ্বীনের জন্য উপকারী সবকিছু—তা যতই সূক্ষ্ম হোক না কেন—তাদের শেখানোর সাথে সাথে তাদের পালনকর্তা ও উপাস্য রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে তাদের জিহ্বা দিয়ে যা বলবে এবং অন্তরে যা বিশ্বাস করবে তা শিক্ষা দেওয়া বাদ রাখবেন—এটি অসম্ভব।]

তাঁর কথা: "তা যতই সূক্ষ্ম হোক না কেন তা শিক্ষা দেওয়া বাদ রাখা" অর্থাৎ: যদিও তা ছোট কোনো বিষয় বা সামান্য কিছু হয়।

এবং তাঁর কথা: "তাদের জিহ্বা দিয়ে যা বলবে" অর্থাৎ: উদাহরণস্বরূপ তারা বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন, এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়। তারা এটি তাদের অন্তরে বিশ্বাস করবে। সুতরাং এমন বিষয়—যা মানুষ তার জিহ্বা দিয়ে বলে এবং অন্তরে বিশ্বাস করে—তা বিবেকের ওপর ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এবং তাদের রব ও উপাস্য রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে তারা তাদের অন্তরে যা বিশ্বাস করবে, যাঁকে জানা হলো জ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যাঁর ইবাদত হলো মহান উদ্দেশ্য এবং তাঁর নিকট পৌঁছানো হলো সকল কামনার শেষ সীমা। বরং এটিই হলো নববী দাওয়াতের নির্যাস এবং ঐশী রিসালাতের মূল ভিত্তি। সুতরাং যার অন্তরে সামান্যতম ঈমান ও প্রজ্ঞা আছে সে কীভাবে ধারণা করতে পারে যে, এই অধ্যায়ের বর্ণনা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গভাবে আসেনি।]

অর্থাৎ: দ্বীনের মূলনীতির অধ্যায়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌استحالة كون أصحاب القرون المفضلة يجهلون تلك الأمور أو يتكلمون فيها بغير الحق

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [إذا كان قد وقع ذلك منه فمن المحال أن يكون خير أمته وأفضل قرونها قصروا في هذا الباب زائدين فيه أو ناقصين عنه، ثم من المحال أيضاً أن تكون القرون الفاضلة، القرن الذي بعث فيهم رسول صلى الله عليه وسلم ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم كانوا غير عالمين وغير قائلين في هذا الباب بالحق المبين؛ لأن ضد ذلك إما عدم العلم والقول، وإما اعتقاد نقيض الحق، وقول خلاف الصدق، وكلاهما ممتنع].

أي: إما كونهم يجهلون باب أصل الدين، أو يتكلمون فيه بغير الحق، وهذا ممتنع، ومن الممتنع أيضاً أن يكون الرسول صلى الله عليه وسلم لم يبين أصل الدين، وإذا كان ممتنعاً فممتنع كذلك أن تكون خير الأمة وأفضل الأمة، وهم القرون المفضلة بعده صلى الله عليه وسلم لم يحكموا هذا الأصل، أو جهلوه، أو تكلموا فيه بغير الحق؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم)، فلابد أن يحكموا هذا الباب، ويتكلموا فيه بالحق.

وعلى هذا تكون أقوال أهل البدع الذين جاءوا بعد تلك القرون المفضلة، كلها أقوال باطلة ومردودة، ومناقضة لما عليه السلف الصالح.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [أما الأول فلأن من في قلبه أدنى حياة وطلب للعلم أو نهمة في العبادة، يكون البحث عن هذا الباب والسؤال عنه، ومعرفة الحق فيه أكبر مقاصده وأعظم مطالبه، أعني بيان ما ينبغي اعتقاده لا معرفة كيفية الرب وصفاته.

وليست النفوس الصحيحة إلى شيء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر].

وهذا الكلام مقدمة عظيمة للمؤلف رحمه الله.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وهذا أمر معلوم بالفطرة الوجدية، فكيف يتصور مع قيام هذا المقتضي].

قوله: المقتضي أي: الموجب.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فكيف يتصور مع قيام هذا المقتضي -الذي هو من أقوى المقتضيات- أن يتخلف عنه مقتضاه في أولئك السادة في مجموع عصورهم؟! هذا لا يكاد يقع من أبلد الخلق، وأشدهم إعراضاً عن الله، وأعظمهم إكباباً على طلب الدنيا والغفلة عن ذكر الله، فكيف يقع من أولئك؟!].

أي: إن كونهم لا يتكلمون بهذا الدين، ولا يحكمون أصل الدين، ولا يعرفونه، ولا يتكلمون به، هذا مستحيل، والأمر الثاني أنه يستحيل أيضاً أن يتكلموا بغير الحق، إذ يستحيل ألا يفهموا أصل الدين ولا يحكموه ولا يتكلموا به، ولا يتكلم فيه إلا المتأخرون.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأما كونهم كانوا معتقدين فيه غير الحق، أو قائليه، فهذا لا يعتقده مسلم ولا عاقل عرف حال القوم.

ثم الكلام عنهم في هذا الباب أكثر من أن يمكن سطره في هذه الفتوى أو أضعافها، يعرف ذلك من طلبه وتتبعه، ولا يجوز أيضاً أن يكون الخالفون أعلم من السالفين، كما قد يقوله بعض الأغبياء -ممن لم يقدر قدر السلف، بل ولا عرف الله ورسوله والمؤمنين به حقيقة المعرفة المأمور بها-: من أن طريقة السلف أسلم، وطريقة الخلف أعلم وأحكم].

الخالفون: هم الخلف المتأخرون، الذين جاءوا بعد السلف الصالح.

وهذه مقالة معروفة عن أهل البدع، وهي أن طريقة السلف أسلم والخلف أعلم وأحكم، وهذا باطل، فالسلف أسلم وأعلم وأحكم، والخلف ليس عندهم شيء من العلم والحكمة، وإنما هم على جهل واعتماد على العقول والآراء وزبالة الأذهان ومحادثة الأفكار، فطريقة السلف أسلم وأعلم وأحكم.
শ্রেষ্ঠ যুগের অধিবাসীদের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা বা এই বিষয়ে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলা অসম্ভব হওয়ার বর্ণনা

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [যদি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) পক্ষ থেকে এটি ঘটে থাকে, তবে এটি অসম্ভব যে তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রেষ্ঠ যুগের লোকেরা এই অধ্যায়ে অবহেলা করেছেন—তাতে কোনো কিছু বাড়িয়ে বলে অথবা কমিয়ে বলে। অতঃপর এটিও অসম্ভব যে শ্রেষ্ঠ যুগের লোকগণ—অর্থাৎ সেই যুগ যাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ প্রেরিত হয়েছেন, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ, এরপর তাদের পরবর্তীগণ—এই বিষয়ে সুস্পষ্ট সত্য সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন না এবং সত্য কথা বলেননি; কারণ এর বিপরীত অবস্থা হলো হয় জ্ঞান ও বক্তব্যের অনুপস্থিতি, অথবা সত্যের বিপরীত বিশ্বাস পোষণ এবং সত্যের পরিপন্থী কথা বলা, আর এই উভয়টিই অসম্ভব।]

অর্থাৎ: হয় তারা দ্বীনের মূল বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, অথবা তারা এই বিষয়ে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলেছেন—আর এটি অসম্ভব। এটিও অসম্ভব যে রাসূলুল্লাহ দ্বীনের মূল ভিত্তি বর্ণনা করেননি। আর যদি এটি অসম্ভব হয়, তবে এটিও অসম্ভব যে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ—যারা তাঁর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যুগের অধিবাসী ছিলেন—তারা এই মূল নীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেননি, অথবা এ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, অথবা এ বিষয়ে অসত্য কথা বলেছেন; কারণ নবী বলছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" সুতরাং অবশ্যই তারা এই অধ্যায়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এই বিষয়ে সত্য কথা বলেছেন।

আর এর ভিত্তিতে, সেই শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের পরে আগত বিদআতিদের সকল বক্তব্যই বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত এবং তা সালাফে সালেহীনের অনুসৃত পথের পরিপন্থী।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [প্রথম কারণটি হলো, যার অন্তরে সামান্যতম জীবন, জ্ঞান অন্বেষণের আগ্রহ বা ইবাদতের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এই অধ্যায়টি নিয়ে গবেষণা করা, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা এবং এতে সত্যকে জানা তার সর্ববৃহৎ লক্ষ্য ও শ্রেষ্ঠ কাম্য হবে। আমি বলছি, যা বিশ্বাস করা উচিত তা বর্ণনা করা প্রসঙ্গে, রবের গুণাবলির ধরন জানা সম্পর্কে নয়।

সুস্থ আত্মাগুলো এই বিষয়টি জানার চেয়ে অন্য কোনো কিছুর প্রতি অধিক লালায়িত নয়।]

লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) এই কথাটি একটি মহান ভূমিকা।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এটি সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা অনুভূত একটি বিষয়। সুতরাং এই চাহিদার উপস্থিতিতে এটি কীভাবে কল্পনা করা যায়?]

তাঁর উক্তি: চাহিদা (আল-মুক্তাদি) অর্থ হচ্ছে অনিবার্য কারণ।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সুতরাং এই চাহিদার উপস্থিতিতে—যা কিনা অন্যতম শক্তিশালী চাহিদা—কীভাবে এটি কল্পনা করা সম্ভব যে সেই মহান ব্যক্তিদের সমগ্র যুগে তার ফলাফল অর্জিত হয়নি?! এটি সৃষ্টির সবচেয়ে নির্বোধ, আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বিমুখ এবং দুনিয়া অন্বেষণে চরমভাবে নিমগ্ন ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রায় ঘটে না; তবে তাদের ক্ষেত্রে কীভাবে ঘটতে পারে?!]

অর্থাৎ: তারা এই দ্বীন সম্পর্কে কথা বলবেন না, দ্বীনের মূল নীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন না, তা জানবেন না এবং তা নিয়ে কথা বলবেন না—এটি অসম্ভব। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, তারা সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবেন এটিও অসম্ভব; যেহেতু তারা দ্বীনের মূল ভিত্তি বুঝবেন না, তা সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন না এবং তা নিয়ে কথা বলবেন না, আর কেবল পরবর্তী লোকেরাই তা নিয়ে কথা বলবে—এমনটি হওয়া অসম্ভব।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আর তারা এই বিষয়ে অসত্য বিশ্বাস পোষণ করতেন অথবা অসত্য কথা বলতেন—এমনটি কোনো মুসলিম বা সেই মহান ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বিশ্বাস করতে পারে না।

অতঃপর এই অধ্যায়ে তাদের থেকে বর্ণিত বক্তব্যসমূহ এতো অধিক যে, এই ফতোয়ায় বা এর বহুগুণ স্থানেও তা লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি তা অনুসন্ধান করবে এবং তা অনুসরণ করবে সে এটি জানতে পারবে। এটিও বৈধ নয় যে, পরবর্তী উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী হবে, যেমনটি কিছু নির্বোধ বলে থাকে—যারা সালাফদের মর্যাদার মূল্যায়ন করেনি, বরং আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর প্রতি মুমিনদের যথাযথভাবে চেনার যে আদেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে চিনতে পারেনি—তাদের দাবি হলো: সালাফদের পথ অধিক নিরাপদ এবং খালাফদের পথ অধিক জ্ঞানগর্ভ ও সুনিপুণ।]

পরবর্তীগণ: তারা হলো পরবর্তী খালাফ সম্প্রদায়, যারা সালাফে সালেহীনের পরে এসেছে।

এটি বিদআতিদের একটি পরিচিত উক্তি যে, সালাফদের পথ অধিক নিরাপদ এবং খালাফদের পথ অধিক জ্ঞানগর্ভ ও সুনিপুণ। এটি একটি বাতিল কথা। বরং সালাফদের পথই অধিক নিরাপদ, অধিক জ্ঞানী এবং অধিক সুনিপুণ। খালাফদের কাছে কোনো জ্ঞান বা হিকমত নেই, তারা বরং অজ্ঞতা এবং বিবেক, মতামত, মস্তিষ্কের আবর্জনা ও চিন্তাপ্রসূত কথোপকথনের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং সালাফদের পথই অধিক নিরাপদ, অধিক জ্ঞানী এবং অধিক সুনিপুণ।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ضلال المبتدعة بتفضيل طريقة الخلف على طريقة السلف

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإن هؤلاء المبتدعة، الذين يفضلون طريقة الخلف من المتفلسفة ومن على طريقة السلف، إنما أتوا من حيث ظنوا أن طريقة السلف هي مجرد الإيمان بألفاظ القرآن والحديث، من غير فقه لذلك بمنزلة الأميين الذين قال الله فيهم: {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ} [البقرة:78]، وأن طريقة الخلف هي استخراج معاني النصوص المصروفة عن حقائقها بأنواع المجازات وغرائب اللغات.

فهذا الظن الفاسد أوجب تلك المقالة التي مضمونها نبذ الإسلام وراء الظهر، وقد كذبوا على طريقة السلف، وضلوا في تصويب طريقة الخلف، فجمعوا بين الجهل بطريقة السلف في الكذب عليهم، وبين الجهل والضلال بتصويب طريقة الخلف، وسبب ذلك اعتقادهم أنه ليس في نفس الأمر صفة دلت عليها هذه النصوص بالشبهات الفاسدة].

إذاً: فالسبب أنهم قرروا في أنفسهم أن النصوص لا تدل على الصفات، فقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]، لا يدل على صفة الاستواء، وقوله: {وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [التحريم:2]، لا يدل على صفة العلم والحكمة، هذا هو قصدهم، فلما قرروا هذا الأمر صاروا تجاه نصوص الصفات بين أمرين: الأمر الأول: أن يصرفوها إلى معان ابتدعوها من عند أنفسهم: يقولون: استوى معناها: استولى.

والأمر الثاني: التصوير، يقولون: نصورها ولا ندري ما معناها، مع أننا نجزم بأنها لا تدل على إثبات الصفات، فهم بين طريقة التصوير وبين طريقة التأويل والتحريف، نسأل الله العافية.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وسبب ذلك اعتقادهم أنه ليس في نفس الأمر صفة دلت عليها هذه النصوص بالشبهات الفاسدة، التي شاركوا فيها إخوانهم من الكافرين، فلما اعتقدوا انتفاء الصفات في نفس الأمر، وكان مع ذلك لابد للنصوص من معنى، بقوا مترددين بين الإيمان باللفظ وتفويض المعنى -وهي التي يسمونها طريقة السلف- وبين صرف اللفظ إلى معان بنوع تكلف -وهي التي يسمونها طريقة الخلف- فصار هذا الباطل مركباً من فساد العقل والكفر بالسمع، فإن النفي إنما اعتمدوا فيه على أمور عقلية ظنوها بينات وهي شبهات].

قوله: بالسمع أي: بالأدلة السمعية، كفروا بالنصوص واعتمدوا على عقولهم الفاسدة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والسمع حرفوا فيه الكلام عن مواضعه.

فلما ابتنى أمرهم على هاتين المقدمتين الكفريتين كانت النتيجة: استجهال السابقين الأولين واستبلاههم، واعتقاد أنهم كانوا قوماً أميين، بمنزلة الصالحين من العامة، لم يتبحروا في حقائق العلم بالله، ولم يتفطنوا لدقائق العلم الإلهي، وأن الخلف الفضلاء حازوا قصب السبق في هذا كله].

أي: ظنوا أن السلف قوم سذج، لا يفهمون إلا مجرد التلاوة فقط، وليس عندهم عقول يفهمون بها النصوص ويعرفون بها اللغة، بل يؤمنون بمجرد اللفظ، فلهذا قالوا: طريقة السلف أسلم، وطريقة الخلف أعلم وأحكم، وعندهم أن طريقة السلف هي التفويض، وطريقة الخلف هي التحريف.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم هذا القول إذا تدبره الإنسان وجده في غاية الجهالة، بل في غاية الضلالة، كيف يكون هؤلاء المتأخرون لاسيما والإشارة بالخلف إلى ضرب من المتكلمين الذين كثر في باب الدين اضطرابهم، وغلظ عن معرفة الله حجابهم، وأخبر الواقف على نهايات إقدامهم بما انتهى إليه من مرامهم حيث يقول: لعمري لقد طفت المعاهد كلها وسيرت طرفي بين تلك المعالم فلم أر إلا واضعاً كف حائر على ذقن أو قارعاً سن نادم وأقروا على نفوسهم بما قالوه متمثلين به أو منشئين له فيما صنفوه من كتبهم كقول بعض رؤسائهم: نهاية إقدام العقول عقال وأكثر سعي العالمين ضلال وأرواحنا في وحشة من جسومنا وغاية دنيانا أذى ووبال ولم نستفد من بحثنا طول عمرنا سوى أن جمعنا فيه قيل وقالوا لقد تأملت الطرق الكلامية والمناهج الفلسفية فما رأيتها تشفي عليلاً ولا تروي غليلاً، ورأيت أقرب الطرق طريقة القرآن، أقرأ في الإثبات: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]، {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} [فاطر:10]، وأقرأ في النفي: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11]، {وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا} [طه:110]، ومن جرب مثل تجربتي عرف مثل معرفتي].

هذا كله من كلام الرازي، وانظر السير والفتاوى وطبقات الشافعية، وفيه زيادة، ثم قال: وأقول من صميم القلب، من داخل الروح: إني مقر بأن كل ما هو الأكمل الأفضل الأعظم الأجل فهو لك، وكل ما هو عيب ونقص فأنت منزه عنه.

يقول شيخ الإسلام تعليقاً على عبارته التي جاءت في النص: [وهو صادق فيما أخبر به، أنه لم يستفد من بحوثه في الطرق الكلامية والفلسفة، سوى أن جمع قيل وقالوا، وأنه لم يجد فيها ما يشفي عليلاً ولا يروي غليلاً، فإن من تدبر كتبه كلها لم يجد فيها مسألة واحدة من مسائل أصول الدين موافقة للحق الذي يدل عليه المنقول والمعقول، بل يذكر في المسألة عدة أقوال، والقول الحق لا يعرفه فلا يذكره!] انتهى من منهاج السنة.

[ويقول الآخر منهم: لقد خضت البحر الخضم، وتركت أهل الإسلام وعلومهم، وخضت في الذي نهوني عنه، والآن إن لم يتداركني ربي برحمته فالويل لفلان، وهأنذا أموت على عقيدة أمي].

هذه مقالة أبي محمد الجويني وهو من الأشاعرة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ويقول الآخر منهم: أكثر الناس شكاً عند الموت أصحاب الكلام].

أشار شيخ الإسلام في موضع إلى أن قائل هذا الكلام هو أبو حمزة الغزالي.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم هؤلاء المتكلمون المخالفون للسلف إذا حقق عليهم الأمر لم يوجد عندهم من حقيقة العلم بالله وخالص المعرفة به خبر، ولم يقفوا من ذلك على عين ولا أثر، كيف يكون هؤلاء المحجوبون المفضولون المنقوصون المسبوقون الحيارى المتهوكون أعلم بالله وأسمائه وصفاته، وأحكم في باب آياته وذاته من السابقين الأولين، من المهاجرين والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان.

من ورثة الأنبياء وخلفاء الرسل، وأعلام الهدى ومصابيح الدجى، الذين بهم قام الكتاب، وبه قاموا، وبهم نطق الكتاب، وبه نطقوا، الذين وهبهم الله من العلم والحكمة].

وبه قاموا: أي عملوا بالكتاب وتلوه ونفذوه، وطبع الكتاب بهم، والكتاب قام بهم بمدحهم والثناء عليهم، وبهم نطق أي: بفضلهم، وبه نطقوا أي: تلوه وعملوا به.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [الذين وهبهم الله من العلم والحكمة ما برزوا به على سائر أتباع الأنبياء، فضلاً عن سائر الأمم الذين لا كتاب لهم، وأحاطوا من حقائق المعارف وبواطن الحقائق بما لو جمعت حكمة غيرهم إليها لاستحيا من يطلب المقابلة.

ثم كيف يكون خير قرون الأمة أنقص في العلم والحكمة -لاسيما العلم بالله وأحكام آياته وأسمائه- من هؤلاء الأصاغر بالنسبة إليهم، أم كيف يكون أفراخ المتفلسفة وأتباع الهند واليونان، وورثة المجوس والمشركين، وضلال اليهود والنصارى والصابئين، وأشكالهم وأشباههم أعلم بالله من ورثة الأنبياء وأهل القرآن والإيمان؟!].
‌‌পূর্বসূরিদের পদ্ধতির চেয়ে পরসূরিদের পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে বিদআতিদের পথভ্রষ্টতা

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [নিশ্চয়ই ঐসব বিদআতিরা, যারা দার্শনিক এবং অন্যদের মধ্য থেকে পরসূরিদের (খালাফ) পদ্ধতিকে পূর্বসূরিদের (সালাফ) পদ্ধতির ওপর অগ্রাধিকার দেয়, তারা মূলত এই ধারণা থেকে বিভ্রান্ত হয়েছে যে, তারা মনে করেছে পূর্বসূরিদের পদ্ধতি কেবল কুরআন ও হাদীসের শব্দগুলোর ওপর ঈমান আনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল, তার কোনো প্রকার গভীর বোধ (ফিকহ) ছিল না; যেমনটি ছিল সেই নিরক্ষরদের মতো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "আর তাদের মধ্যে কিছু নিরক্ষর রয়েছে যারা কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না, কেবল মিথ্যা ধারণা ছাড়া" [বাকারা: ৭৮]। আর তারা মনে করে যে, পরসূরিদের পদ্ধতি হলো বিভিন্ন রূপক অর্থ ও ভাষার দুর্লভ প্রয়োগের মাধ্যমে মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত করে দলিলগুলো থেকে নতুন অর্থ বের করা।

এই ভ্রান্ত ধারণাটি এমন একটি বক্তব্যের জন্ম দিয়েছে যার সারমর্ম হলো ইসলামকে পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলা। তারা পূর্বসূরিদের পদ্ধতির ওপর মিথ্যাচার করেছে এবং পরসূরিদের পদ্ধতিকে সঠিক গণ্য করার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছে। ফলে তারা পূর্বসূরিদের ওপর মিথ্যারোপ করে তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পরসূরিদের পদ্ধতিকে সঠিক মনে করার মাধ্যমে অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতাকে একত্রিত করেছে। এর কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, মূলত কোনো বৈশিষ্ট্য বা গুণ (সিফাত) নেই যা এই দলিলগুলো প্রমাণ করে, যা তারা তাদের ভ্রান্ত সংশয়ের কারণে মনে করে নিয়েছে।]

সুতরাং: মূল কারণটি হলো তারা নিজেদের মনে স্থির করে নিয়েছে যে, দলিলগুলো আল্লাহর গুণাবলির ওপর প্রমাণ দেয় না। যেমন আল্লাহর বাণী: {তারপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আরাফ: ৫৪], এটি 'উঠা' (ইস্তিওয়া) গুণের প্রমাণ দেয় না; এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [তাহরীম: ২], এটি জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার গুণের ওপর প্রমাণ দেয় না—এটিই তাদের উদ্দেশ্য। যখন তারা এই বিষয়টি স্থির করে নিল, তখন সিফাতের দলিলগুলোর ক্ষেত্রে তারা দুটি বিষয়ের মুখোমুখি হলো: প্রথমত: দলিলগুলোকে এমন অর্থে সরিয়ে নেওয়া যা তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছে। যেমন তারা বলে: 'ইস্তিওয়া' (উঠা)-এর অর্থ হলো 'ইস্তাওলা' (কর্তৃত্ব গ্রহণ করা)।

দ্বিতীয়ত: চিত্রায়ন, তারা বলে: আমরা এর একটি রূপ কল্পনা করি কিন্তু এর অর্থ জানি না, যদিও আমরা নিশ্চিত যে এগুলো আল্লাহর গুণের কোনো প্রমাণ দেয় না। সুতরাং তারা চিত্রায়ন পদ্ধতি এবং অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির পদ্ধতির মাঝে দোদুল্যমান। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [এর কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, মূলত কোনো বৈশিষ্ট্য বা গুণ নেই যা এই দলিলগুলো প্রমাণ করে; এই ভ্রান্ত সংশয়গুলোর কারণে যাতে তারা তাদের কাফের ভাইদের সাথে শরিক হয়েছে। অতঃপর যখন তারা বিশ্বাস করে নিল যে প্রকৃত অর্থে আল্লাহর কোনো গুণ নেই, অথচ দলিলের তো একটা অর্থ থাকাই প্রয়োজন, তখন তারা শব্দের ওপর ঈমান আনা এবং অর্থের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া (যাকে তারা পূর্বসূরিদের পদ্ধতি বলে থাকে)—আর শব্দের অর্থকে কষ্টকল্পিত কোনো ব্যাখ্যার দিকে সরিয়ে নেওয়া (যাকে তারা পরসূরিদের পদ্ধতি বলে থাকে)—এর মাঝে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ল। ফলে এই বাতিল বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিক কলুষতা এবং দলিলের (শ্রুতির) প্রতি কুফরির এক সংমিশ্রণে পরিণত হলো। কেননা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তারা এমন কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোকে তারা অকাট্য প্রমাণ মনে করেছে, অথচ সেগুলো ছিল নিছক সংশয় মাত্র।]

তাঁর কথা: "শ্রুতির মাধ্যমে" অর্থাৎ: শ্রুত দলিল বা শরয়ী প্রমাণের মাধ্যমে। তারা দলিলগুলোকে অস্বীকার করেছে এবং তাদের ভ্রান্ত বুদ্ধির ওপর নির্ভর করেছে।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [আর শ্রুত দলিলের ক্ষেত্রে তারা কথাকে তার সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করেছে।

যখন তাদের বিষয়টি এই দুটি কুফরি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তার ফলাফল দাঁড়াল: প্রথম যুগের অগ্রবর্তীদের অজ্ঞ ও নির্বোধ মনে করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে তারা একদল নিরক্ষর লোক ছিলেন, যারা সাধারণ নেককার লোকদের পর্যায়ের; তারা আল্লাহ সম্পর্কিত ইলমের গূঢ় রহস্যে প্রবেশ করেননি এবং ঐশী জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝতে পারেননি; আর পরসূরিদের ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তিরা এই সবকিছুতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।]

অর্থাৎ: তারা মনে করেছে যে পূর্বসূরিরা ছিল অতি সাধারণ মানুষ, যারা কেবল তিলাওয়াত ছাড়া আর কিছুই বুঝতেন না। দলিল বোঝার মতো বা ভাষা বোঝার মতো বুদ্ধি তাদের ছিল না, বরং তারা কেবল শব্দের ওপর ঈমান রাখতেন। এজন্যই তারা বলে: পূর্বসূরিদের পথ অধিক নিরাপদ, আর পরসূরিদের পথ অধিক জ্ঞানগর্ভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। তাদের মতে পূর্বসূরিদের পদ্ধতি হলো অর্থের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া, আর পরসূরিদের পদ্ধতি হলো বিকৃতি করা।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [অতঃপর কোনো মানুষ যখন এই কথাটি নিয়ে চিন্তা করবে, তখন সে একে চূড়ান্ত পর্যায়ের মূর্খতা, বরং চরম পথভ্রষ্টতা হিসেবে খুঁজে পাবে। কীভাবে এই পরবর্তী যুগের লোকেরা—বিশেষ করে পরসূরি বলতে এমন একদল কালাম শাস্ত্রবিদকে বোঝানো হচ্ছে যাদের দ্বীনের বিষয়ে অস্থিরতা অনেক বেশি এবং আল্লাহর পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে তাদের ওপর আবরণ অনেক পুরু—অধিক জ্ঞানী হতে পারে? তাদের লক্ষ্যস্থলের শেষ সীমানায় যারা পৌঁছেছেন, তারা তাদের অর্জিত ফলাফল সম্পর্কে বলেছেন: আমার জীবনের শপথ! আমি সব জ্ঞানকেন্দ্র ঘুরেছি এবং সেই সব নিদর্শনগুলোর মাঝে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি; কিন্তু আমি কেবল একজন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ব্যক্তিকে থুতনিতে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখেছি অথবা অনুতপ্ত ব্যক্তিকে দাঁত দিয়ে নখ কাটতে দেখেছি। তারা তাদের কিতাবসমূহে নিজেদের সম্পর্কে যা বলেছেন তা স্বীকার করেছেন, যেমন তাদের একজন প্রধান ব্যক্তি বলেছেন: বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার শেষ হলো জড়তা, আর অধিকাংশ মানুষের প্রচেষ্টা হলো বিভ্রান্তি। আমাদের আত্মা আমাদের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকীত্বের আতঙ্কে আছে, আর আমাদের দুনিয়ার সারমর্ম হলো কষ্ট ও মহামারি। সারা জীবন গবেষণার মাধ্যমে আমরা এইটুকুই অর্জন করেছি যে, আমরা কেবল 'বলা হয়েছে' আর 'তারা বলেছে' সংগ্রহ করেছি। আমি কালাম শাস্ত্রের পথগুলো এবং দার্শনিক পদ্ধতিগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি; আমি এগুলোকে কোনো অসুস্থ ব্যক্তির নিরাময় দিতে দেখিনি, না কোনো তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা মিটাতে দেখেছি। আমি দেখেছি সবচেয়ে নিকটতম পথ হলো কুরআনের পথ। আমি ইতিবাচক বর্ণনায় পড়ি: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], {তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে} [ফাতির: ১০]; আর নেতিবাচক বর্ণনায় পড়ি: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} [শুরা: ১১], {তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} [ত্বহা: ১১০]। আর যে আমার মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, সে আমার মতোই জানতে পারবে।]

এই পুরোটাই রাজির কথা। সিয়ার, ফাতাওয়া এবং তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ গ্রন্থে এটি দেখুন, সেখানে আরও বেশি আছে। এরপর তিনি বলেছেন: আর আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে, আত্মার গভীর থেকে বলছি: আমি স্বীকার করছি যে, যা কিছু অধিক পূর্ণাঙ্গ, শ্রেষ্ঠ, মহান এবং মহিমান্বিত—তা আপনারই জন্য; আর যা কিছু দোষ ও ত্রুটিপূর্ণ, আপনি তা থেকে পবিত্র।

শাইখুল ইসলাম তাঁর সেই বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: [তিনি যা খবর দিয়েছেন সে বিষয়ে সত্যবাদী যে, কালাম শাস্ত্র ও দর্শনের গবেষণায় তিনি 'বলা হয়েছে' ও 'তারা বলেছে' সংগ্রহ করা ছাড়া আর কিছুই লাভ করেননি। এবং সেখানে তিনি এমন কিছু পাননি যা কোনো অসুস্থকে নিরাময় দেয় বা তৃষ্ণার্তকে তৃপ্ত করে। কেননা যে ব্যক্তি তার সমস্ত কিতাব নিয়ে চিন্তা করবে, সে সেখানে দ্বীনের উসুল বা মূলনীতির একটি মাসআলাও খুঁজে পাবে না যা বর্ণিত দলিল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের সাথে সংগতিপূর্ণ। বরং তিনি একটি মাসআলায় কয়েকটি মত উল্লেখ করেন, কিন্তু সঠিক মতটি তিনি চেনেন না বিধায় তা উল্লেখও করেন না!]—মিনহাজুস সুন্নাহ থেকে সমাপ্ত।

[তাদের মধ্যে অন্য একজন বলেন: আমি বিশাল সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছি, ইসলাম অনুসারীদের এবং তাদের ইলমকে বর্জন করেছি, আর আমি প্রবেশ করেছি সেই বিষয়ে যা থেকে তারা আমাকে নিষেধ করেছিলেন। এখন যদি আমার রব আমাকে রহমত দিয়ে রক্ষা না করেন, তবে অমুকের জন্য ধ্বংস অনিবার্য। আর এই যে আমি আমার মায়ের আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করছি।]

এটি আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনির কথা এবং তিনি আশআরিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [তাদের মধ্যে অন্যজন বলেন: মৃত্যুর সময় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংশয়ে থাকে কালাম শাস্ত্রবিদরা।]

শাইখুল ইসলাম এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন যে, এই কথাটির বক্তা হলেন আবু হামেদ আল-গাজালি।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [অতঃপর পূর্বসূরিদের বিরোধিতাকারী এই কালাম শাস্ত্রবিদদের বিষয় যখন যাচাই করা হয়, তখন তাদের কাছে আল্লাহ সম্পর্কে প্রকৃত ইলম এবং তাঁর খাঁটি মারেফাতের কোনো খবর পাওয়া যায় না। তারা এর মূল বা চিহ্ন কিছুই খুঁজে পায়নি। কীভাবে এই পর্দার অন্তরালে থাকা, নিচু স্তরের, ত্রুটিপূর্ণ, পিছিয়ে পড়া, বিভ্রান্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় লোকেরা আল্লাহ সম্পর্কে, তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী হতে পারে; এবং তাঁর নিদর্শন ও সত্তার বিষয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান হতে পারে সেই প্রথম যুগের অগ্রবর্তীদের—মুহাজির ও আনসারদের এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন—তাদের চেয়ে?

যারা নবীদের উত্তরাধিকারী এবং রাসূলদের স্থলাভিষিক্ত, হেদায়েতের ঝাণ্ডা এবং অন্ধকারের প্রদীপ; যাদের মাধ্যমে কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন; যাদের মাধ্যমে কিতাব কথা বলেছে এবং তারা কিতাবের মাধ্যমে কথা বলেছেন; যাদেরকে আল্লাহ ইলম ও হিকমত দান করেছেন।]

এবং তারা কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন: অর্থাৎ তারা কিতাব অনুযায়ী আমল করেছেন, তা তিলাওয়াত করেছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন। আর কিতাব তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমে। তাদের মাধ্যমে কিতাব কথা বলেছে অর্থাৎ তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায়। আর তারা কিতাবের মাধ্যমে কথা বলেছেন অর্থাৎ তারা তা তিলাওয়াত করেছেন ও আমল করেছেন।

লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: [যাদেরকে আল্লাহ ইলম ও হিকমত দান করেছেন যার মাধ্যমে তারা নবীদের অন্যান্য সমস্ত অনুসারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, অন্যসব কিতাববিহীন উম্মতের কথা তো বলাই বাহুল্য। তারা মারেফাতের হাকিকত ও অন্তনিহিত সত্যসমূহ এমনভাবে আয়ত্ত করেছেন যে, যদি অন্যদের সমস্ত হিকমত এর সাথে জমা করা হয়, তবে যারা তুলনা করতে চায় তারা লজ্জা পাবে।

অতঃপর কীভাবে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ সময়কাল ইলম ও হিকমতে—বিশেষ করে আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং তাঁর নিদর্শন ও নামের বিধানের ক্ষেত্রে—এই পরবর্তীকালের ছোটদের তুলনায় অপূর্ণাঙ্গ হতে পারে? অথবা কীভাবে দার্শনিকদের ছানা-পোনা, ভারত ও গ্রিসের অনুসারী, অগ্নিপূজক ও মুশরিকদের উত্তরাধিকারী, এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবেয়িদের মধ্য থেকে পথভ্রষ্টরা এবং তাদের সমজাতীয়রা নবীদের উত্তরাধিকারী এবং কুরআন ও ঈমানের অধিকারীদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী হতে পারে?!]
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌سبب هذه المقدمة

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وإنما قدمت هذه المقدمة؛ لأن من استقرت هذه المقدمة عنده علم طريق الهدى أين هو في هذا الباب وغيره، وعلم أن الضلال والتهوك إنما استولى على كثير من المتأخرين بنبذهم كتاب الله وراء ظهورهم، وإعراضهم عما بعث الله به محمداً صلى الله عليه وسلم من البينات والهدى، وتركهم البحث عن طريق السابقين والتابعين، والتماسهم علم معرفة الله ممن لم يعرف الله بإقراره على نفسه، وبشهادة الأمة على ذلك، وبدلالات كثيرة، وليس غرضي واحداً معيناً، وإنما أصف نوع هؤلاء ونوع هؤلاء].

المقصود وصف النوع، وليس الأشخاص بعينهم.
এই ভূমিকার কারণ

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: [নিশ্চয়ই আমি এই ভূমিকাটি পেশ করেছি; কারণ যার নিকট এই ভূমিকাটি বদ্ধমূল হবে, সে এই অধ্যায়ে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে হিদায়াতের পথ কোথায় তা জানতে পারবে। সে আরও জানতে পারবে যে, পরবর্তী যুগের অনেকের ওপর বিভ্রান্তি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা কেবল একারণেই প্রভাব বিস্তার করেছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া তারা পূর্বসূরি (সালাফ) ও তাবেয়ীদের পথ অনুসন্ধান করা বর্জন করেছে এবং আল্লাহকে চেনার জ্ঞান এমন ব্যক্তিদের নিকট তালাশ করেছে যারা নিজদের স্বীকারোক্তি মতেই আল্লাহকে চিনতে পারেনি এবং উম্মতের সাক্ষ্য ও বহু দলীল দ্বারাও তা প্রমাণিত। আমার উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি নয়, বরং আমি কেবল এদের ধরন এবং ওদের ধরন বর্ণনা করছি।]

উদ্দেশ্য হলো শ্রেণির বর্ণনা দেওয়া, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নয়।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌إثبات صفة العلو لله عز وجل
মহান আল্লাহর উচ্চতার বৈশিষ্ট্য প্রমাণ
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌صفة العلو في كتاب الله

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وإذا كان كذلك، فهذا كتاب الله من أوله إلى آخره وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم من أولها إلى آخرها، ثم عامة كلام الصحابة والتابعين، ثم كلام سائر الأمة، مملوء بما هو إما نص وإما ظاهر في أن الله سبحانه وتعالى فوق كل شيء، وهو على كل شيء، وأنه فوق العرش، وأنه فوق السماء، مثل قوله تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر:10]، {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} [آل عمران:55]].

يصعد أي: يرفع، والرفع يكون من أسفل إلى أعلى، والصعود يكون من أسفل إلى أعلى، فدل على ثبوت العلو.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: {أَأَمِنتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ} [الملك:16]، {أَمْ أَمِنتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا} [الملك:17]].

ومن في السماء: أي في العلو.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [{بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} [النساء:158]، {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} [المعارج:4]].

الشيخ: والعروج يكون من أسفل إلى أعلى.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [{يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} [السجدة:5]، {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} [النحل:50]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [يونس:3]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الرعد:2]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الفرقان:59]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [السجدة:4]، {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الحديد:4]، {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]، {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ * أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر:36 - 37]، {تَنزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42]، {مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ} [الأنعام:114] إلى أمثال ذلك مما لا يكاد يحصى إلا بكلفة].

والنزول يكون من أعلى إلى أسفل، فدل على أن الله في العلو.
আল্লাহর কিতাবে সুউচ্চ হওয়ার গুণের বিবরণ

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আল্লাহর এই কিতাব এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, অতঃপর সাহাবী ও তাবেয়ীদের সাধারণ বক্তব্য, তারপর উম্মতের অপরাপর সকলের কথা; যা হয় অকাট্য পাঠ (নাস) অথবা বাহ্যত স্পষ্টভাবে (যহির) এই বিষয়ে পরিপূর্ণ যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সব কিছুর উপরে, এবং তিনি সব কিছুর উপরে আছেন, এবং তিনি আরশের উপরে, আর তিনি আসমানের উপরে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্র বাক্য তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তিনি উপরে উঠিয়ে নেন} [ফাতির: ১০], {নিশ্চয় আমি তোমাকে মৃত্যুদান করব এবং তোমাকে আমার নিজের দিকে উঠিয়ে নেব} [আল-ইমরান: ৫৫]]।

আরোহণ করে অর্থাৎ: উপরে উঠানো হয়। আর উঠানো নিচ থেকে উপরের দিকে হয়, এবং আরোহণও নিচ থেকে উপরেই হয়ে থাকে। সুতরাং এটি আল্লাহর সুউচ্চতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [{তোমরা কি সেই সত্তা থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন?} [আল-মুলক: ১৬], {অথবা তোমরা কি সেই সত্তা থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন যে, তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝা প্রেরণ করবেন?} [আল-মুলক: ১৭]]।

আর যিনি আসমানে আছেন: অর্থাৎ সুউচ্চে।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [{বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন} [আন-নিসা: ১৫৮], {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে} [আল-মাআরিজ: ৪]]।

শায়খ: আর আরোহণ নিচ থেকে উপরের দিকেই হয়ে থাকে।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [{তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকে আরোহণ করে} [আস-সাজদাহ: ৫], {তাঁরা তাঁদের রবকে ভয় করে যিনি তাঁদের উপরে আছেন} [আন-নাহল: ৫০], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আল-আরাফ: ৫৪], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [ইউনুস: ৩], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আর-রাদ: ২], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আল-ফুরকান: ৫৯], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আস-সাজদাহ: ৪], {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আল-হাদীদ: ৪], {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], {হে হামান! তুমি আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো যেন আমি সেই পথসমূহে পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের পথসমূহে, যাতে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি। আর আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি} [গাফির: ৩৬-৩৭], {এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [ফুসসিলাত: ৪২], {তোমার রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} [আল-আনআম: ১১৪]—এরূপ আরও বহু উদাহরণ রয়েছে যা কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ছাড়া গণনা করা প্রায় অসম্ভব]।

আর অবতরণ উপর থেকে নিচের দিকে হয়ে থাকে, সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ সুউচ্চে অবস্থান করছেন।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌صفة العلو في سنة رسول الله

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وفي الأحاديث الصحاح والحسان ما لا يحصى إلا بكلفة، مثل قصة معراج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ربه، ونزول الملائكة من عند الله وصعودها إليه، وقول الملائكة الذين يتعاقبون فيكم بالليل والنهار: (فيعرج الذين باتوا فيكم إلى ربهم فيسألهم وهو أعلم بهم)].

والعروج يكون من أسفل إلى أعلى.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وفي الصحيح في حديث الخوارج: (ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء يأتيني خبر السماء صباحاً ومساء؟!).

وإذا أطلق لفظ (السماء) كان المراد به: العلو.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وفي حديث الرقية الذي رواه أبو داود وغيره: (ربنا الله الذي في السماء، تقدس اسمك، أمرك في السماء والأرض، كما رحمتك في السماء اجعل رحمتك في الأرض، اغفر لنا حوبنا وخطايانا، أنت رب الطيبين، أنزل رحمة من رحمتك، وشفاء من شفائك على هذا الوجع)، قال صلى الله عليه وسلم: (إذا اشتكى أحد منكم، أو اشتكى أخ له فليقل: ربنا الله الذي في السماء) وذكره.

وقوله في حديث الأوعال: (والعرش فوق ذلك، والله فوق عرشه، وهو يعلم ما أنتم عليه)، رواه أحمد أبو داود وغيرهما.

وهذا الحديث مع أنه قد رواه أهل السنن، كـ أبي داود وابن ماجة والترمذي وغيرهم، وهو مروي من طريقين مشهورين، فالقدح في أحدهما لا يقدح في الآخر، وقد رواه إمام الأئمة ابن خزيمة في كتاب التوحيد الذي اشترط فيه: ألا يحتج فيه إلا بما نقله العدل عن العدل موصولاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم].

أي: إن هذا أن الحديث وإن كان فيه ضعف إلا أنه مروي من طريقين يشد بعضهما بعضاً، فيكون حسناً لغيره، وله أيضاً شواهد كثيرة من الكتاب والسنة؛ لأن بعض الناس يطعن في حديث الأوعال.

ولو فرضنا أنهم طعنوا فيه، أو أنه لم يصح فنصوص العلو كما قال ابن القيم: تزيد أفرادها على ثلاثة آلاف، ومع ذلك فله طريقان وله شواهد كثيرة من الكتاب والسنة كثيرة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله في الحديث الصحيح للجارية: (أين الله؟ قالت: في السماء، قال: من أنا؟ قالت: رسول الله، قال: اعتقها فإنها مؤمنة)].

دل على السؤال عن الله بأين، وأين إنما يسأل بها عن المكان، ولما قالت: في السماء، أقرها على ذلك، ولهذا فإن أهل البدع يجلبون بخيلهم ورجلهم على كلمة أين، ويقولون: هذا خطأ من الجارية، والرسول صلى الله عليه وسلم أقرها على الخطأ مراعاة لعقلها، وخاطبها على مقدار عقلها؛ لأنها لن تفطن لكلامه.

يقولون: لأن السؤال عنه بأين معناه: أنه في مكان، وإذا كان في مكان يكون محدوداً متحيزاً، وهذا كفر عند أهل البدع، ومن قال: إن الله في السماء كفروه، وإذا رفعت أصبعك إلى السماء قطعها الجهمي؛ لأنه يقول: هذا تنقص لله.

فهم يخطئون الجارية، ويقولون: إن الرسول صلى الله عليه وسلم أقرها على جواب فاسد، وسألها سؤالاً فاسداً؛ وذلك مراعاة لعقلها، فهكذا اتهموا النبي صلى الله عليه وسلم! فمقصود الرسول صلى الله عليه وسلم -كما يزعمون- بقوله: (أين الله؟) أي: من الله، فخاطبها على مقدار عقلها.

والرسول كان أفصح الناس فهل من المعقول أنه لم يستطع أن يقول: من الله؟ أو لم يفرق بين (من) المكونة من حرفين وبين (أين) المكونة من ثلاثة أحرف؟ ولكن لما أرادوا الفرار قالوا: لا يسأل عن الله بكلمة أين.

وهذا حديث ثابت في صحيح مسلم، لكن غلبة الهوى، ومتابعة أهل البدع والضلال حملهم على هذا.

هذا يخشى أن يكون كفراً، لكن قد يقال: إنهم متأولون، وقد كفر الجهمية بعض أهل العلم كما ذكر ابن القيم، والمعتزلة كفرهم أيضاً جمع من أهل العلم، ومن العلماء من قال: إنهم مبتدعة متأولون.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله في الحديث الصحيح: (أن الله لما خلق الخلق كتب فى كتاب موضوع عنده فوق العرش: إن رحمتي سبقت غضبى)].

فدل على أن الله عز وجل فوق العرش.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله فى حديث قبض الروح: (حتى يعرج بها إلى السماء التي فيها الله) إسناده على شرط الصحيحين.

وقول عبد الله بن رواحة رضي الله عنه، الذى أنشده للنبي صلى الله عليه وسلم، وأقره عليه.

شهدت بأن وعد الله حق وأن النار مثوى الكافرينا وأن العرش فوق الماء طاف وفوق العرش رب العالمينا].

فأثبت أن الله فوق العرش، وأقره النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك.

أورد هذه الأبيات ابن عبد البر في الاستيعاب وقال: وقصته مع زوجته حين وقع على أمته مشهورة، رويناها من وجوه صحاح، ورواه الدارمي في الرد على الجهمية وابن عساكر في تهذيب دمشق، والذهبي في السير وفي العلو، وقال: روي من وجوه مرسلة، منها: يحيى بن أيوب المصري قال: حدثنا عمارة بن غزية عن قدامة بن محمد بن إبراهيم الحطابي فذكره، فالمعروف أنه منقطع.

وقصته مع زوجته ذكرها ابن قدامة في العلو، وانظر اجتماع الجيوش الإسلامية، وشرح العقيدة الطحاوية، وروى القصة الدارقطني في سننه، مع اختلاف الأبيات، فمجمل قصته مع زوجته (أنه كان لـ عبد الله رضي الله عنه جارية، فأبصرته زوجته يوماً وقد خلا بها، فقالت: لقد اخترت أمتك على حرتك! فأنكر ذلك، قالت: إن كنت صادقاً فاقرأ آية من القرآن، وكانت تعلم أن الجنب لا يقرأ القرآن على هذه الحالة، قال: فأسمعها البيت الأول من الأبيات الواردة في النص، وكانت لا تعرف القرآن، فظنت أن ما قرأه قرآناً، قالت: فزدني آية، فقال: وأن العرش فوق الماء طاف وفوق العرش رب العالمينا وتحمله ملائكة كرام ملائكة الإله مقربينا.

فقالت: آمنت بالله وكذبت بصري، فأخبر الرسول صلى الله عليه وسلم بذلك، فضحك من صنيعه).

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقول أمية بن أبي الصلت الثقفي الذي أنشد للنبي صلى الله عليه وسلم هو وغيره من شعره فاستحسنه، وقال: (آمن شعره وكفر قلبه).

مجدوا الله فهو للمجد أهل ربنا في السماء أمسى كبيراً بالبناء العالي الذي سبق الناس وسوى فوق السماء سريراً شرجعاً ما يناله بصر العين يرى دونه الملائك صوراً].

فقوله: شرجعاً أي: مرتفعاً.

ورد هذا الأثر في البداية والنهاية، والتهذيب.

والظاهر من قوله: (آمن شعره وكفر قلبه) أن أمية لم يؤمن، والحديث بهذا اللفظ رواه ابن عبد البر في التمهيد، وابن عساكر في تاريخ دمشق، والقرطبي في التفسير، والحافظ في الفتح، وسكت عنه، وابن كثير في التفسير، وفي البداية والنهاية، وقال عقبه: لا أعرفه والله أعلم.

وذكره العجلوني في كشف الخفا، وقال: قال المناوي: وسند الحديث ضعيف، والحديث له شاهد في الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: (قال النبي صلى الله عليه وسلم: أصدق كلمة قالها الشاعر كلمة لبيد: ألا كل شيء ما خلا الله باطل، وكاد أمية بن أبي الصلت أن يسلم) رواه البخاري ومسلم].

فالظاهر أن أمية كاد أن يسلم لكنه ما أسلم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله في الحديث الذي في السنن: (إن الله حيي كريم، يستحي من عبده إذا رفع إليه يديه أن يردهما صفراً)].

وهذا الحديث رواه أبو داود، والترمذي، وقال: هذا حديث حسن غريب، وابن ماجة، وابن أبي شيبة، وابن حبان، والحافظ في المستدرك، وقال: هذا إسناد صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي، والبغوي في شرح السنة، وابن عدي في الكامل، والخطيب في تاريخ بغداد، وقال عنه الحافظ في الفتح: سنده جيد، وصححه الألباني.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقوله: (يمد يديه إلى السماء: يا رب يا رب)، إلى أمثال ذلك مما لا يحصيه إلا الله، مما هو من أبلغ المتواترات اللفظية والمعنوية، التي تورث علماً يقينياً من أبلغ العلوم الضرورية، أن الرسول صلى الله عليه وسلم المبلغ عن الله ألقى إلى أمته المدعوين أن الله سبحانه على العرش، وأنه فوق السماء، كما فطر الله على ذلك جميع الأمم، عربهم وعجمهم في الجاهلية والإسلام، إلا من اجتالته الشياطين].

أي أن هذه النصوص من الكتاب والسنة تفيد العلم واليقين بأن الله تعالى في السماء، كما تفيد المسلم اعتقاداً وتيقناً أن الله تعالى في العلو، إلا من اجتالتهم الشياطين عن فطرتهم وأفسدتها بسبب انحرافهم فلا عبرة بهم.

وكما ذكر ابن القيم أن النصوص كثيرة لا حصر لها، بحيث تزيد أفرادها على ثلاثة آلاف.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে আল্লাহর উচ্চতার গুণ

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সহিহ ও হাসান হাদিসসমূহে এত অধিক প্রমাণ রয়েছে যা গণনা করা কঠিন। যেমন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের দিকে মেরাজের ঘটনা, আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের অবতরণ এবং তাঁর দিকে তাদের আরোহণ করা, এবং সেই ফেরেশতাদের কথা যারা রাত-দিন তোমাদের মাঝে পালাবদল করে: (অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত কাটিয়েছে তারা তাদের রবের দিকে আরোহণ করে, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক অবগত)।]

আর আরোহণ (উরুয) নিচ থেকে ওপরের দিকেই হয়ে থাকে।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সহিহ হাদিসে খারিজিদের বর্ণনায় রয়েছে: (তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না, অথচ আমি তাঁর কাছে বিশ্বস্ত যিনি আকাশে আছেন? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আকাশের সংবাদ আসে)।

আর যখন 'আকাশ' শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: উচ্চতা।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [রুকইয়াহ সম্পর্কিত হাদিসে যা আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন: (আমাদের রব আল্লাহ যিনি আকাশে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আকাশে ও পৃথিবীতে আপনারই কর্তৃত্ব, যেমন আকাশে আপনার রহমত রয়েছে তেমনি পৃথিবীতে আপনার রহমত বর্ষণ করুন, আমাদের পাপ ও ভুলগুলো ক্ষমা করুন, আপনি পবিত্রদের রব, আপনার রহমত থেকে রহমত এবং আপনার শেফা থেকে শেফা এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন অসুস্থ হয় অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তখন সে যেন বলে: আমাদের রব আল্লাহ যিনি আকাশে আছেন...) পুরো হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

আর আওয়াল সম্পর্কিত হাদিসে তাঁর উক্তি: (আর আরশ তার উপরে, এবং আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, আর তোমরা যে অবস্থায় আছো তিনি তা জানেন), এটি আহমদ, আবু দাউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসটি যদিও সুনান সংকলকগণ যেমন আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি দুটি প্রসিদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, তাই একটির ত্রুটি অন্যটির জন্য ক্ষতিকর নয়। ইমামদের ইমাম ইবনে খুজাইমা এটি 'কিতাবুত তাওহিদ'-এ বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে: সেখানে কেবল ন্যায়পরায়ণ রাবি থেকে ন্যায়পরায়ণ রাবি কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হাদিস দিয়েই দলিল পেশ করবেন।]

অর্থাৎ: এই হাদিসটি যদি কিছুটা দুর্বলও হয়, তবে এটি দুটি সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে একে অপরকে শক্তিশালী করে, ফলে তা 'হাসান লি-গাইরিহি' (অন্যান্য বর্ণনার কারণে হাসান) পর্যায়ে উন্নীত হয়। এছাড়া কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর অনেক সাক্ষী রয়েছে; কারণ কিছু লোক আওয়াল হাদিসের ওপর আপত্তি তোলে।

যদি আমরা ধরেও নেই যে তারা এতে আপত্তি তুলেছে বা এটি সহিহ নয়, তবুও উচ্চতা সম্পর্কিত দলিলসমূহ যেমনটি ইবনে আল-কাইয়্যিম বলেছেন: এর সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। এতদসত্ত্বেও এর দুটি সূত্র এবং কুরআন-সুন্নাহ থেকে অনেক সাক্ষী বিদ্যমান।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সহিহ হাদিসে দাসীর বর্ণনায় তাঁর উক্তি: (আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: একে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন)।]

এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ সম্পর্কে 'কোথায়' দিয়ে প্রশ্ন করা যায়। আর 'কোথায়' দিয়ে মূলত স্থান সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হয়। যখন সে বলল 'আকাশে', তখন তিনি তাকে এর ওপর স্বীকৃতি দিলেন। এই কারণেই বিদআতীরা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে 'কোথায়' শব্দটির বিরুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং বলে: এটি দাসীর ভুল ছিল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বুদ্ধিমত্তার বিবেচনা করে ভুলের ওপর তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং তার বোধশক্তির পরিমাণ অনুযায়ী তার সাথে কথা বলেছিলেন; কারণ সে তাঁর কথা বুঝতে পারত না।

তারা বলে: কারণ আল্লাহ সম্পর্কে 'কোথায়' দিয়ে প্রশ্ন করার অর্থ হলো তিনি একটি স্থানে আছেন, আর যদি তিনি স্থানে থাকেন তবে তিনি সসীম ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন। এটি বিদআতীদের নিকট কুফরি। আর যারা বলে যে আল্লাহ আকাশে আছেন, তারা তাকে কাফির আখ্যা দেয়। যদি তুমি আকাশের দিকে আঙুল তোলো, তবে জাহমিরা তা কেটে ফেলবে; কারণ সে বলে: এটি আল্লাহর শানে অবমাননা।

তারা দাসীকে ভুল সাব্যস্ত করে এবং বলে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি ভুল উত্তরের ওপর স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাকে একটি ভুল প্রশ্ন করেছিলেন; তা কেবল তার বুদ্ধিমত্তার খাতিরে। এভাবেই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অপবাদ দেয়! তাদের দাবি অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'আল্লাহ কোথায়?' বলার উদ্দেশ্য ছিল: 'আল্লাহ কে?'। অর্থাৎ তিনি তার বুদ্ধির স্তর অনুযায়ী কথা বলেছিলেন।

অথচ রাসূলুল্লাহ ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জল ভাষী। তবে কি এটি বিবেকগ্রাহ্য যে তিনি 'আল্লাহ কে?' বলতে পারতেন না? অথবা তিনি দুই অক্ষরের 'মান' (কে) এবং তিন অক্ষরের 'আয়না' (কোথায়) এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না? কিন্তু যখন তারা পলায়ন করতে চাইল, তখন বলল: আল্লাহ সম্পর্কে 'কোথায়' শব্দ দিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না।

এটি সহিহ মুসলিমের একটি প্রতিষ্ঠিত হাদিস, কিন্তু কুপ্রবৃত্তির প্রাবল্য এবং বিদআতী ও পথভ্রষ্টদের অনুসরণ তাদেরকে এই পথে পরিচালিত করেছে।

আশঙ্কা করা হয় যে এটি কুফরি হতে পারে, তবে বলা যেতে পারে যে তারা অপব্যাখ্যাকারী। ইবনে আল-কাইয়্যিম যেমন উল্লেখ করেছেন, কিছু আলিম জাহমিয়াদের কাফির বলেছেন। মুতাযিলাদেরও একদল আলিম কাফির বলেছেন, আবার কোনো কোনো আলিম বলেছেন: তারা অপব্যাখ্যাকারী বিদআতী।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সহিহ হাদিসে তাঁর উক্তি: (আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর নিকট আরশের ওপর রাখা একটি কিতাবে লিখে দিলেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে)।]

এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আরশের ওপর উঠেছেন।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [রূহ কবজ করার হাদিসে তাঁর উক্তি: (এমনকি তা নিয়ে সেই আকাশ পর্যন্ত আরোহণ করা হয় যেখানে আল্লাহ আছেন), এর সনদ শাইখাইনের শর্তানুযায়ী।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আবৃত্তি করেছিলেন এবং তিনি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং জাহান্নাম কাফিরদের ঠিকানা, আর আরশ পানির ওপর ভাসমান এবং আরশের উপর জগতসমূহের রব উঠেছেন।]

তিনি প্রমাণ করেছেন যে আল্লাহ আরশের ওপর উঠেছেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এর ওপর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

ইবনে আবদিল বার 'আল-ইস্তিআব'-এ এই কবিতাগুলো উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর স্ত্রীর সাথে তাঁর ঘটনাটি যখন তিনি তাঁর দাসীর সাথে মিলিত হয়েছিলেন তখন তা প্রসিদ্ধ। আমরা এটি সহিহ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি। দারেমি 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়া'-তে, ইবনে আসাকির 'তাহজিবে দামেস্ক'-এ এবং জাহাবি 'সিয়ার' ও 'আল-উলুউ'-তে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি মুরসাল বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-মিসরি বলেছেন: আমাদের কাছে আম্মারা ইবনে গাজিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন কুদামা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হাত্তাবি থেকে... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রসিদ্ধ হলো এটি সনদবিচ্ছিন্ন।

তাঁর স্ত্রীর সাথে তাঁর ঘটনাটি ইবনে কুদামা 'আল-উলুউ'-তে উল্লেখ করেছেন; আরও দেখুন 'ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ' এবং 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ'। দারা কুতনি তাঁর সুনানে কবিতাগুলোর কিছু পার্থক্যের সাথে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর স্ত্রীর সাথে তাঁর ঘটনার সারসংক্ষেপ হলো: (আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর একজন দাসী ছিল। একদিন তাঁর স্ত্রী তাকে দাসীর সাথে নির্জনে দেখে ফেললেন। স্ত্রী বললেন: তুমি তোমার স্বাধীন স্ত্রীর ওপর দাসীকে প্রাধান্য দিলে! তিনি তা অস্বীকার করলেন। স্ত্রী বললেন: যদি সত্যবাদী হও তবে কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করো। স্ত্রী জানতেন যে অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পাঠ করা যায় না। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তাকে মূল পাঠে বর্ণিত কবিতাগুলোর প্রথম পঙ্ক্তি শোনালেন। স্ত্রী কুরআন জানতেন না, তাই তিনি মনে করলেন যা পাঠ করা হয়েছে তা কুরআন। তিনি বললেন: আমাকে আরও একটি আয়াত পড়ে শোনাও। তখন তিনি বললেন: আর আরশ পানির ওপর ভাসমান এবং আরশের উপর জগতসমূহের রব উঠেছেন, আর তাঁকে বহন করে আছে সম্মানিত ফেরেশতারা যারা ইলাহ-র নৈকট্যপ্রাপ্ত। তখন স্ত্রী বললেন: আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম এবং আমার দৃষ্টিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানালেন, তখন তিনি তাঁর এই কৌশলে হেসে দিলেন)।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [উমাইয়া ইবনে আবিস সালত আস-সাকাফির উক্তি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনি ও অন্যরা তাঁর কবিতা থেকে আবৃত্তি করেছিলেন, তখন তিনি তা পছন্দ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: (তার কবিতা ঈমান এনেছে কিন্তু তার অন্তর কুফরি করেছে)।

আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, কারণ তিনিই মহিমার যোগ্য; আমাদের রব আকাশে সুউচ্চ অট্টালিকার ন্যায় সুমহান। যা মানুষের আগে গত হয়েছে এবং আকাশের ওপর সমান্তরালভাবে একটি পালঙ্ক স্থাপন করেছেন। এমন এক উচ্চ আসন যা চোখের দৃষ্টি নাগাল পায় না, তাঁর নিচে ফেরেশতাদের দেখা যায়।]

তাঁর কথা: 'শারজান' অর্থ: সুউচ্চ।

এই বর্ণনাটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' এবং 'আত-তাহজিব'-এ এসেছে।

তাঁর বাণী: (তার কবিতা ঈমান এনেছে কিন্তু তার অন্তর কুফরি করেছে) থেকে স্পষ্ট হয় যে উমাইয়া ঈমান আনেননি। এই শব্দে হাদিসটি ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ'-এ, ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক'-এ, কুরতুবি 'তাফসির'-এ এবং হাফিজ 'ফাতহুল বারি'-তে বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। ইবনে কাসির এটি 'তাফসির' এবং 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে উল্লেখ করেছেন এবং শেষে বলেছেন: আমি এটি জানি না, আল্লাহই ভালো জানেন।

আজলুনি 'কাশফুল খাফা'-তে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: মানাভি বলেছেন: হাদিসটির সনদ দুর্বল। তবে সহিহাইন-এ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটির সাক্ষী বিদ্যমান, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কবিদের বলা সবচেয়ে সত্য কথা হলো লাবিদের এই কথাটি: জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে সব বাতিল; আর উমাইয়া ইবনে আবিস সালত প্রায় ইসলাম গ্রহণ করেই ফেলেছিলেন) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।]

সুতরাং স্পষ্ট যে উমাইয়া প্রায় ইসলাম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদিসে তাঁর উক্তি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু; যখন বান্দা তাঁর দিকে তার দুই আল্লাহর হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি তা শূন্য বা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন)।]

এই হাদিসটি আবু দাউদ, তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান গারিব হাদিস। এছাড়া ইবনে মাজাহ, ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাফিজ হাকিম 'মুস্তাদরাক'-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই সনদটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ। জাহাবিও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। এছাড়া বাগাভি 'শারহুস সুন্নাহ'-তে, ইবনে আদি 'আল-কামিল'-এ এবং খাতিব 'তারিখে বাগদাদ'-এ বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-তে এর সনদকে উত্তম বলেছেন এবং আলবানি একে সহিহ বলেছেন।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তাঁর উক্তি: (সে আকাশের দিকে তার দুই আল্লাহর হাত প্রসারিত করে বলে: হে আমার রব, হে আমার রব), এ জাতীয় অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারবে না। এগুলো শাব্দিক ও অর্থগত দিক থেকে এমন শক্তিশালী মুতাওয়াতির বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যা অকাট্য জ্ঞান দান করে। এ থেকে এটি অত্যন্ত সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দানকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এটি প্রদান করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরশের ওপর উঠেছেন, এবং তিনি আকাশের উপরে আছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা এই ফিতরাতের ওপর সমস্ত জাতিকে সৃষ্টি করেছেন—জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগে আরব ও অনারব নির্বিশেষে সবাই এটি বিশ্বাস করে, কেবল তারা ছাড়া যাদের শয়তান বিভ্রান্ত করেছে।]

অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর এই দলিলসমূহ এই অকাট্য ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে যে আল্লাহ তাআলা আকাশে আছেন। তেমনিভাবে এটি একজন মুসলিমকে এই বিশ্বাস ও প্রত্যয় দান করে যে আল্লাহ তাআলা উচ্চতায় আছেন। তবে যাদের শয়তান তাদের সহজাত ফিতরাত থেকে বিচ্যুত করেছে এবং তাদের ভ্রষ্টতার কারণে ফিতরাত নষ্ট করে দিয়েছে, তাদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইবনে আল-কাইয়্যিম যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে, দলিলসমূহ অসংখ্য ও অগণিত, যার সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌طريقة السلف في إثبات صفة العلو، وذكر شبهات المبتدعة

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم عن السلف في ذلك من الأقوال ما لو جمع لبلغ مئات أو ألوفاً.

ثم ليس في كتاب الله ولا في سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا عن أحد من سلف الأمة -لا من الصحابة ولا من التابعين لهم بإحسان ولا عن أئمة الدين الذين أدركوا زمن الأهواء والاختلاف- حرف واحد يخالف ذلك لا نصاً ولا ظاهراً، ولم يقل أحد منهم قط: إن الله ليس في السماء، ولا إنه ليس على العرش، ولا إنه بذاته في كل مكان، ولا إن جميع الأمكنة بالنسبة إليه سواء، ولا إنه لا داخل العالم ولا خارجه، ولا متصل ولا منفصل، ولا إنه لا تجوز الإشارة الحسية إليه بالأصابع ونحوها].

وكل هذه الأقوال لأهل الكلام.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [بل قد ثبت في الصحيح عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه (أن النبي صلى الله عليه وسلم لما خطب خطبته العظيمة يوم عرفات، في أعظم مجمع حضره رسول الله صلى الله عليه وسلم، جعل يقول: ألا هل بلغت؟ فيقولون: نعم، فيرفع أصبعه إلى السماء وينكتها إليهم، ويقول: اللهم فاشهد، غير مرة)، وأمثال ذلك كثير.

فإن كان الحق فيما يقوله هؤلاء السالبون النافون للصفات الثابتة في كتاب الله وسنة رسوله من هذه العبارات ونحوها، دون ما يفهم من الكتاب والسنة إما نصاً وإما ظاهراً، فكيف يجوز على الله ثم على رسوله صلى الله عليه وسلم، ثم على خير الأمة أنهم يتكلمون دائماً بما هو نص أو ظاهر في خلاف الحق؟ ثم الحق الذي يجب اعتقاده لا يبوحون به قط، ولا يدلون عليه لا نصاً ولا ظاهراً، حتى يجيء أنباط الفرس والروم، وفروخ اليهود والنصارى والفلاسفة يبينون للأمة العقيدة الصحيحة، التي يجب على كل مكلف أو كل فاضل أن يعتقدها!].

أي أنه من المستحيل وغير الممكن على الله ورسوله ثم على سلف الأمة أن يتكلموا بخلاف الحق، أو يكتمونه.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [لئن كان ما يقوله هؤلاء المتكلمون المتكلفون هو الاعتقاد الواجب، وهم مع ذلك أحيلوا في معرفته على مجرد عقولهم، وأن يدفعوا بما اقتضى قياس عقولهم ما دل عليه الكتاب والسنة نصاً أو ظاهراً، لقد كان ترك الناس بلا كتاب ولا سنة أهدى لهم وأنفع على هذا التقدير، بل كان وجود الكتاب والسنة ضرراً محضاً في أصل الدين].

إن العقيدة الصحيحة عند هؤلاء الخالفين من أهل البدع: أن ظواهر النصوص كفر، فقول الله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]، الذي يأخذ بظاهره ويقول: إن الله استوى على العرش في الحقيقة، فقد كفر عندهم، بل يجب أن تتأول هذه النصوص، وأنها وكلت إلى العقول، وأن الواجب تأويلها على ما يليق بالله بزعمهم، فيقولون: معنى (استوى): استولى.

فالمؤلف رحمه الله تعالى يقول: إذا كان لا يعتمد على نصوص الكتاب والسنة وأقوال السلف في بيان العقيدة الصحيحة، كان ترك الناس بلا كتاب ولا سنة أحسن، فعلى كلام هؤلاء: أن نصوص الكتاب والسنة لا تزيد الناس إلا ضلال؛ لأنها تكلفهم تأويلها! قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإن حقيقة الأمر على ما يقوله هؤلاء: إنكم يا معشر العباد لا تطلبوا معرفة الله عز وجل، وما يستحقه من الصفات نفياً وإثباتاً، لا من الكتاب ولا من السنة، ولا من طريق سلف الأمة، ولكن انظروا أنتم، فما وجدتموه مستحقاً له من الصفات، فصفوه به].

أي: بعقولكم وآرائكم الفاسدة.

ولكن العقول متضاربة، فعقل هذا يخالف هذا، وعقل هذا يخالف هذا، فلا يوجد عقل يعتمد عليه.

نسأل الله السلامة والعافية.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ولكن انظروا أنتم فما وجدتموه مستحقاً له من الصفات فصفوه به، سواء كان موجوداً في الكتاب والسنة أو لم يكن، وما لم تجدوه مستحقاً له في عقولكم، فلا تصفوه به].

اهتموا بالأدب واللغة العربية، وبثوا فيها السموم، وأدخلوا فيها الإلحاد والحداثة، وهذه قلة في الأدب، وهذا حسن السقاف جهمي يدعو إلى طريقة الجهمية على طريقته، وهو موجود الآن في الشام، وله مؤلفات في الدعوة إلى الضلال والإلحاد، ويقول: إن الإمام أحمد مؤول، وإن من أثبت العلو فهو على مذهب فرعون! نعوذ بالله.
সুউচ্চতা (উলুউ) গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতি এবং বিদআতিদের সংশয়সমূহের উল্লেখ

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [অতঃপর এ বিষয়ে সালাফদের থেকে এত অধিক সংখ্যক উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, তা একত্রিত করলে শত শত বা হাজার হাজারে পৌঁছাবে।

তদুপরি আল্লাহর কিতাবে, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহতে কিংবা উম্মতের সালাফদের—না সাহাবীগণ, না ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ, আর না দ্বীনের সেই ইমামগণ যারা প্রবৃত্তি ও মতভেদের যুগ পেয়েছিলেন—তাঁদের কারো পক্ষ থেকে এমন একটি শব্দও বর্ণিত হয়নি যা এর পরিপন্থী, না স্পষ্টভাবে, না বাহ্যিকভাবে। তাঁদের কেউ কখনো বলেননি যে: আল্লাহ আসমানে নেই, কিংবা তিনি আরশের উপরে নেই, অথবা তিনি সত্তাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান, কিংবা তাঁর নিকট সকল স্থান সমান, অথবা তিনি জগতের ভেতরেও নন আবার বাইরেও নন, তিনি জগতের সাথে যুক্তও নন আবার বিযুক্তও নন, কিংবা আঙুল বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে তাঁর দিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ইশারা করা জায়েজ নেই]।

আর এই সকল বক্তব্য হলো ইলমুল কালামপন্থীদের।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বরং সহীহ হাদিসে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফাতের দিনে তাঁর সেই মহান খুতবা প্রদান করছিলেন—যা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে বৃহত্তম সমাবেশ—তখন তিনি বলতে লাগলেন: আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি তাঁর আঙুল আসমানের দিকে তুললেন এবং তাদের দিকে তা নিচু করলেন এবং একাধিকবার বললেন: হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন), আর এর দৃষ্টান্ত অনেক।

সুতরাং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে প্রমাণিত গুণাবলিকে যারা এই সকল শব্দ বা এর অনুরূপ ব্যবহারের মাধ্যমে অস্বীকার ও নাকচ করে, যদি তাদের কথাই সত্য হয়—যা কিতাব ও সুন্নাহর স্পষ্ট বা বাহ্যিক অর্থ থেকে বোঝা যায় তার বিপরীতে—তবে কীভাবে এটি আল্লাহর পক্ষে, অতঃপর তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষে এবং এরপর উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের পক্ষে সম্ভব হতে পারে যে, তাঁরা সর্বদা এমন সব কথা বলবেন যা সত্যের পরিপন্থী বিষয়ের স্পষ্ট বা বাহ্যিক অর্থ প্রদান করে? অথচ যে সত্যটি বিশ্বাস করা ওয়াজিব, তা তাঁরা কখনো প্রকাশ করেননি এবং স্পষ্ট বা বাহ্যিকভাবে তার দিকে ইঙ্গিতও করেননি, যতক্ষণ না পারস্য ও রোমের অনারবরা এবং ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান ও দার্শনিকদের উত্তরসূরিরা এসে উম্মতের সামনে সঠিক আকিদা বর্ণনা করল, যা প্রতিটি মুকাল্লাফ বা প্রতিটি গুণী ব্যক্তির বিশ্বাস করা ওয়াজিব!]।

অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এবং উম্মতের সালাফদের পক্ষ থেকে সত্যের পরিপন্থী কথা বলা কিংবা সত্য গোপন করা অসম্ভব ও অকল্পনীয়।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [যদি এই ইলমুল কালামপন্থী কৃত্রিমতাপরায়ণ ব্যক্তিরা যা বলে তা-ই ওয়াজিব আকিদা হতো, আর তা জানার জন্য তাদের নিছক যুক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, এবং তাদের যুক্তির মাপকাঠি দিয়ে কিতাব ও সুন্নাহর স্পষ্ট বা বাহ্যিক দলীলসমূহকে প্রতিহত করতে হতো—তবে এই প্রেক্ষাপটে মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য অধিক হেদায়েতপূর্ণ ও উপকারী হতো। বরং কিতাব ও সুন্নাহর অস্তিত্ব দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে নিছক ক্ষতির কারণ হতো]।

বিদআতিদের এই উত্তরসূরিদের নিকট সঠিক আকিদা হলো: নসুস বা দলীলসমূহের বাহ্যিক অর্থ কুফরি। তাই মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আরাফ: ৫৪], যে ব্যক্তি এর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করবে এবং বলবে: আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে আরশের উপর উঠেছেন, সে তাদের মতে কাফের হয়ে যাবে। বরং তাদের দাবি অনুযায়ী এই নসুসগুলোর অপব্যাখ্যা করা ওয়াজিব এবং এগুলোকে যুক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; আর আল্লাহর মর্যাদার সাথে যা মানানসই (তাদের ধারণায়) সেই অনুযায়ী এগুলোর অপব্যাখ্যা করা ওয়াজিব। তাই তারা বলে: 'ইস্তাওয়ার' (উঠা) অর্থ হলো: 'ইস্তাওলা' (কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা)।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলছেন: যদি সঠিক আকিদা বর্ণনার ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীর ওপর নির্ভর না করা যায়, তবে মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহ ছাড়া ছেড়ে দেওয়াই উত্তম হতো। কেননা তাদের কথা অনুযায়ী: কিতাব ও সুন্নাহর বাণীসমূহ মানুষকে পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না; কারণ এগুলো তাদেরকে অপব্যাখ্যার ভার চাপিয়ে দেয়! লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বস্তুত এদের বক্তব্য অনুযায়ী বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা দাঁড়ায় এই: হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পরিচয় এবং তাঁর জন্য সাব্যস্ত বা অস্বীকারযোগ্য গুণাবলি সম্পর্কে কিতাব, সুন্নাহ কিংবা উম্মতের সালাফদের পথ থেকে জ্ঞান অন্বেষণ করো না। বরং তোমরা নিজেরা দেখ, তোমরা তাঁর জন্য যে সকল গুণাবলিকে আবশ্যক মনে করো, সেই গুণেই তাঁকে গুণান্বিত করো]।

অর্থাৎ: তোমাদের বিবেক এবং তোমাদের কলুষিত মতামতের ভিত্তিতে।

কিন্তু মানুষের বিবেক তো পরস্পরবিরোধী, একজনের বিবেক অন্যজনের পরিপন্থী; সুতরাং এমন কোনো বিবেক নেই যার ওপর নির্ভর করা যায়।

আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বরং তোমরা নিজেরা দেখ, তোমরা তাঁর জন্য যে সকল গুণাবলিকে আবশ্যক মনে করো, সেই গুণেই তাঁকে গুণান্বিত করো—তা কিতাব ও সুন্নাহতে থাকুক বা না থাকুক। আর যা তোমাদের বিবেকের কাছে তাঁর জন্য আবশ্যক মনে হবে না, সেই গুণে তাঁকে গুণান্বিত করো না]।

তারা সাহিত্য ও আরবি ভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং এর মধ্যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়, আর তাতে নাস্তিক্যবাদ ও আধুনিকতাবাদ প্রবেশ করায়। এটি শিষ্টাচারের চূড়ান্ত অভাব। এই হাসান আল-সাক্কাফ হলো একজন জাহমি যে নিজের কায়দায় জাহমিয়াহদের পদ্ধতির দিকে আহ্বান জানায়। সে বর্তমানে শামে রয়েছে এবং পথভ্রষ্টতা ও নাস্তিক্যবাদের দিকে ডাকার জন্য তার বিভিন্ন রচনা রয়েছে। সে বলে যে, ইমাম আহমাদ নাকি অপব্যাখ্যাকারী ছিলেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সুউচ্চতা সাব্যস্ত করে সে নাকি ফেরাউনের আদর্শের ওপর রয়েছে! আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح الحموية لابن تيمية - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الحموية لابن تيمية

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 13 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

ইবনে তাইমিয়ার আল-হামাবিয়্যাহর শারহ - আল-রাজহি   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহি)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: ইবনে তাইমিয়ার আল-হামাবিয়্যাহর শারহ

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহি

বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিত হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৩টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح الحموية لابن تيمية ‌‌[2]

قدرات عقل الإنسان محدودة فلا يمكن أن يدرك كل شيء على حقيقته، فصفات الله تعالى يجب على الإنسان أن يؤمن بها كما جاءت، فإن حكم فيها عقله فإنه سوف يضل ويقع في البدعة وربما في الكفر، وليس معنى ذلك أن يفوض معناها، بل المعنى أن يفوض كيفيتها إلى الله ولا يقحم عقله في التفكير في الكيفية، فكثير من أهل البدع كان سبب ضلالهم أنهم أعملوا عقولهم في التفكير في ذات الله وكيفية صفاته.
ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাওইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা [২]

মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, ফলে তার পক্ষে প্রতিটি বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। অতএব, মহান আল্লাহর গুণাবলির প্রতি মানুষের সেভাবেই ঈমান আনা আবশ্যক যেভাবে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে। যদি কেউ এ ক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধিকে ফয়সালাকারী হিসেবে ব্যবহার করে, তবে সে পথভ্রষ্ট হবে এবং বিদআতে নিপতিত হবে, এমনকি সম্ভবত কুফরিতেও লিপ্ত হবে। আর এর অর্থ এই নয় যে, সে এগুলোর অর্থ সোপর্দ করবে; বরং এর অর্থ হলো, সে এগুলোর ধরন বা প্রকৃতি আল্লাহর নিকট সোপর্দ করবে এবং ধরন বা পদ্ধতি নিয়ে চিন্তায় নিজের বুদ্ধিকে নিযুক্ত করবে না। কেননা অধিকাংশ বিদআতিদের পথভ্রষ্টতার কারণ ছিল এই যে, তারা আল্লাহর সত্তা এবং তাঁর গুণাবলির ধরন নিয়ে চিন্তায় নিজেদের বুদ্ধিকে খাটিয়েছিল।
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌فريقان حكموا عقولهم في صفات الله

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم هم ههنا فريقان، أكثرهم يقولون: ما لم تثبته عقولكم فانفوه، -ومنهم من يقول: بل توقفوا فيه- وما نفاه قياس عقولكم الذي أنتم فيه مختلفون ومضطربون اختلافاً أكثر من جميع من على وجه الأرض فانفوه].

الشيخ: أي: أن الذين نفوا الصفات حكموا عقولهم، وقالوا: ننظر في عقولنا في قول الله عز وجل: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54] فإذا كان العقل يرى أن هذه الصفة تصلح أن تثبت لله نثبتها، وإذا كان يرى أنها لا تصلح وأن فيها تنقص من الله، وأن فيه مشابهة للمخلوق، فالواجب نفيها عن الله تعالى، ولهذا فإنهم يقولون: إن الاستواء فيه مشابهة للمخلوق، ويلزم منه أن يكون الله محدوداً متحيزاً، فلهذا نفوه بعقولهم.

إذاً: فالعقول متضاربة، فأي عقل يرجع إليه؟ ثم لماذا أنزل الله علينا الكتاب؟ وما الفائدة منه إذا كنا لا نعمل به، فنقول في قول الله {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]: إن العقل يقول: لا يصح أن يوصف الله بالاستواء؟ قال المؤلف رحمه الله تعالى: [قال: ثم هم ههنا فريقان أكثرهم يقولون: ما لم تثبته عقولكم فانفوه -ومنهم من يقول: بل توقفوا فيه- وما نفاه قياس عقولكم الذي أنتم فيه مختلفون مضطربون اختلافاً أكثر من جميع من على وجه الأرض فانفوه، وإليه عند التنازع فارجعوا، فإنه الحق الذي تعبدتكم به، وما كان مذكوراً في الكتاب والسنة مما يخالف قياسكم هذا، أو يثبت ما لم تدركه عقولكم -على طريقة أكثرهم- فاعلموا أني أمتحنكم بتنزيله لا لتأخذوا الهدى منه، لكن لتجتهدوا في تخريجه على شواذ اللغة، ووحشي الألفاظ، وغرائب الكلام].

الشيخ: هذا حال أهل الكلام فأكثرهم ينفون ما تثبته عقولهم، وبعضهم يقول: إن ما نفاه العقل يجب نفيه، وبعضهم يتوقف، فيقول في (استوى): لم يستو، بل نتوقف فيه.

فإن قيل: وماذا نعمل بالنصوص؟ قالوا: نحرفها، ونخرجها على وجوه اللغة الشاذة الغربية، ونحملها على معانيها البعيدة المحتملة، ونفسرها بها.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [لكن لتجهدوا في تخريجه على شواذ اللغة، ووحشي الألفاظ وغرائب الكلام، أو أن تسكتوا عنه مفوضين علمه إلى الله، مع نفي دلالته على شيء من الصفات، هذا حقيقة الأمر على رأي هؤلاء المتكلمين].

الشيخ: أي: أن المتكلمين بين أحد أمرين: إما محرفين أو مؤلين، فبعضهم يحرف ويقول: إن استوى معناه: استولى؛ لأن الاستواء لا يليق بالله؛ لأنه يلزم منه أن يكون محدوداً متحيزاً، وأن يكون مشابهاً للمخلوق فننفيه، ونقول: إن معنى استوى: استولى.

فيجاب عليهم بأن الاستيلاء الذي فررتم إليه كذلك فيه مشابهة للمخلوق، ويلزم محذور آخر، هو أنه كان مغلوباً ثم غلب.

هذا المعنى، المعنى الثاني: السكوت عن معناه، فبعضهم ذهب إلى التفويض -وهو الإيمان باللفظ والسكوت عن المعنى وتفويض المعنى إلى الله- فيقول: لا أدري ما معنى استوى، فأفوض معناها إلى الله.

فكأن الألف والسين والتاء والواو والألف حروف أعجمية لا يفهم معناها.

ولذلك قال بعض العلماء: المفوضة شر من المعطلة، فهم إما أن ينفوا الصفات ويعطلوها ويحرفوها ويفسروها بتفسيرات باطلة، أو يفوضوا المعنى إلى الله ويكتفوا بالإيمان بالله، فهم بين هذين النقيصتين وهذين الداءين، وهذين الباطلين، إما تحريف وإما تفويض.

وهذا هو الذي يذكره النووي في شرح صحيح مسلم وغيره، حيث يقول: للعلماء في صفات الله طريقان: طريقة السلف وهي الإيمان باللفظ، وتفويض المعنى، والطريقة الثانية: طريقة الخلف، وهي التأويل.

ولا يذكرون منهج السلف الصالح وهو إثبات الألفاظ والمعاني وتفويض الكيفية إلى الله.

والتفويض: هو الإيمان باللفظ والسكوت عن المعنى، مع الجزم بأن الصفات منفية عن الله وأهل التفويض يقولون: نؤمن باللفظ، ولكن المعنى لا نجده بل نفوضه إلى الله، مع الجزم بأن الصفات منفية غير مرادة، وغير ثابتة، لما فيها من التنقص من الله عز وجل بزعمهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وهذا الكلام قد رأيته صرح بمعناه طائفة منهم، وهو لازم لجماعتهم لزوماً لا محيد عنه ومضمونه: أن كتاب الله لا يهتدى به في معرفة الله، وأن الرسول صلى الله عليه وسلم معزول عن التعليم والإخبار بصفات من أرسله، وأن الناس عند التنازع لا يردون ما تنازعوا فيه إلى الله والرسول، بل إلى مثلما كانوا عليه في الجاهيلة وإلى مثلما يتحاكموا إليه من لا يؤمن بالأنبياء، كالبراهمة والفلاسفة وهم المشركون والمجوس وبعض الصابئين.

وإن كان هذا الرد لا يزيد الأمر إلا شدة ولا يرتفع الخلاف به، إذ لكل فريق طواغيت، يريدون إن يتحاكموا إليهم، وقد أمروا أن يكفروا بهم.

وما أشبه حال هؤلاء المتكلمين بقوله سبحانه وتعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلالًا بَعِيدًا * وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا * فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا} [النساء:60 - 62].

فإن هؤلاء إذا دعوا إلى ما أنزل الله من الكتاب وإلى الرسول -والدعاء إليه بعد وفاته هو الدعاء إلى سنته- أعرضوا عن ذلك وهم يقولون: إنا قصدنا الإحسان علماً وعملاً بهذه الطريق التي سلكناها، والتوفيق بين الدلائل العقيلة والنقلية.

ثم عامة هذه الشبهات التي يسمونها دلائل إنما تقلدوا أكثرها عن طواغيت من طواغيت المشركين أو الصابئين، أو بعض ورثتهم الذين أمروا أن يكفروا بهم، مثل فلان وفلان، أو عمن قال كقولهم لتشابه قلوبهم، قال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء:65]، {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ} [البقرة:213].

ولازم هذه المقالة: ألا يكون الكتاب هدى للناس ولا بياناً ولا شفاء لما في الصدور ولا نوراً، ولا مرداً عند التنازع؛ لأنا نعلم بالاضطرار أن ما يقوله هؤلاء المتكلفون: أنه الحق الذي يجب اعتقاده، لم يدل عليه الكتاب والسنة لا نصاً ولا ظاهراً، وإنما غاية المتحذلق أن يستنتج هذا من قوله: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4]، {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم:65].

وبالاضطرار يعلم كل عاقل، أن من دل الخلق على أن الله ليس على العرش ولا فوق السموات ونحو ذلك بقوله: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم:65]، قد أبعد النجعة، وهو إما ملغز أو مدلس، لم يخاطبهم بلسان عربي مبين].

الشيخ: استدلالهم بقول الله تعالى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4]، {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم:65] فإنهم يريدون به أن الله ليس فوق العرش؛ لأنه لو صار فوق العرش لصار مشابهاً لأحد من الناس، وصار شيئاً على محسوس، ومشابهاً للمخلوق الذي يكون محدوداً على محدود، فيزعمون أن الله إما أن يكون في كل مكان، أو يكون لا داخل العالم ولا خارجه نعوذ بالله.

ولا شك أن الاستدلال بمثل هذا من أبطل الباطل.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ولازم هذه المقالة أن يكون ترك الناس بلا رسالة خيراً لهم في أصل دينهم؛ لأن مردهم قبل الرسالة وبعدها واحد، وإنما الرسالة زادتهم عمى وضلالة.

يا سبحان الله! كيف لم يقل الرسول صلى الله عليه وسلم -يوماً من الدهر- ولا أحد من سلف الأمة: هذه الآيات والأحاديث لا تعتقدوا ما دلت عليه، ولكن اعتقدوا الذي تقتضيه مقاييسكم، أو اعتقدوا كذا وكذا فإنه الحق، وما خالف ظاهره فلا تعتقدوا ظاهره، أو انظروا فيها فما وافق قياس عقولكم فاعتقدوه، وما لا فتوقفوا فيه أو انفوه.
আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে যারা নিজেদের বিবেককে বিচারক বানিয়েছে এমন দুই দল

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [অতঃপর এখানে তারা দুই দলে বিভক্ত, তাদের অধিকাংশ বলে: তোমাদের বিবেক যা সাব্যস্ত করে না, তাকে অস্বীকার করো—আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: বরং এ ব্যাপারে বিরত থাকো—আর তোমাদের বিবেকের মাপকাঠি যা অস্বীকার করে, যে বিষয়ে তোমরা পৃথিবীর অন্য সকল মানুষের চেয়ে বেশি মতভেদ ও অস্থিরতায় লিপ্ত, তাকে অস্বীকার করো]।

শাইখ: অর্থাৎ, যারা গুণাবলি অস্বীকার করেছে তারা তাদের বিবেককে বিচারক বানিয়েছে। তারা বলেছে: আমরা আল্লাহ তাআলার বাণী—{অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আল-আরাফ: ৫৪]—এর ক্ষেত্রে আমাদের বিবেকের দিকে তাকাব। যদি বিবেক মনে করে যে, এই গুণটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা সমীচীন, তবে আমরা তা সাব্যস্ত করব। আর যদি বিবেক মনে করে যে এটি সমীচীন নয় এবং এতে আল্লাহর মর্যাদাহানি ঘটে কিংবা সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়, তবে আল্লাহর সত্তা থেকে তা অস্বীকার করা ওয়াজিব। এই কারণেই তারা বলে: ‘আরশের উপর উঠার’ মধ্যে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে এবং এর দ্বারা আল্লাহকে সসীম ও স্থান দখলকারী হিসেবে মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; তাই তারা তাদের বিবেকের দোহাই দিয়ে তা অস্বীকার করেছে।

অতএব, মানুষের বিবেক তো পরস্পরবিরোধী, তাহলে কোন বিবেকের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে? আর আল্লাহ কেনই বা আমাদের কাছে কিতাব নাজিল করলেন? যদি আমরা সেই অনুযায়ী আমল না করি, তবে এর সার্থকতা কী? আমরা কি আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে—{অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} [আল-আরাফ: ৫৪]—বলব যে: বিবেক বলছে আল্লাহকে আরশের উপর উঠার গুণে গুণান্বিত করা সঠিক নয়? লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [তিনি বলেছেন: অতঃপর এখানে তারা দুই দলে বিভক্ত; তাদের অধিকাংশ বলে: তোমাদের বিবেক যা সাব্যস্ত করে না, তাকে অস্বীকার করো—আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: বরং এ ব্যাপারে বিরত থাকো—আর তোমাদের বিবেকের মাপকাঠি যা অস্বীকার করে, যে বিষয়ে তোমরা পৃথিবীর অন্য সকল মানুষের চেয়ে বেশি মতভেদ ও অস্থিরতায় লিপ্ত, তাকে অস্বীকার করো। আর বিরোধের সময় এর (বিবেকের) দিকেই ফিরে এসো; কারণ এটিই সেই সত্য যার মাধ্যমে আমি তোমাদের ইবাদত করতে বলেছি। আর কুরআন ও সুন্নাহতে তোমাদের এই বিবেকের মাপকাঠির পরিপন্থী যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা যা তোমাদের বিবেক উপলব্ধি করতে পারে না এমন কিছু যদি সাব্যস্ত করা হয়—তাদের অধিকাংশের পদ্ধতি অনুযায়ী—তবে জেনে রেখো যে, আমি এটি নাজিল করে তোমাদের পরীক্ষা করছি; যাতে তোমরা এখান থেকে হেদায়েত গ্রহণ না করো, বরং ভাষার বিরল ব্যবহার, অদ্ভুত শব্দাবলি এবং অদ্ভুত বাক্যের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা বের করার চেষ্টা করো]।

শাইখ: এটিই হলো ইলমে কালামের অনুসারীদের অবস্থা। তাদের অধিকাংশ সেই গুণাবলিকে অস্বীকার করে যা তাদের বিবেক সাব্যস্ত করতে পারে না। কেউ কেউ বলে: বিবেক যা অস্বীকার করে তা অস্বীকার করা ওয়াজিব। আবার কেউ কেউ বিরত থাকে (তাওয়াককুফ করে); তারা ‘উঠেছেন’ (ইস্তাওয়া) শব্দটির ক্ষেত্রে বলে: তিনি উঠেননি, বরং আমরা এ বিষয়ে চুপ থাকব।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে আমরা এই দলীলগুলোর (নصوص) কী করব? তারা বলে: আমরা এগুলোর তাহরিফ (শব্দ বা অর্থের বিকৃতি) করব, ভাষার বিরল ও অদ্ভুত দিকগুলো দিয়ে এগুলোর ব্যাখ্যা বের করব এবং এগুলোকে দূরবর্তী সম্ভাব্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করে সেই অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেব।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [বরং যাতে তোমরা ভাষার বিরল ব্যবহার, অদ্ভুত শব্দাবলি এবং অদ্ভুত বাক্যের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা বের করার চেষ্টা করো; অথবা যাতে তোমরা এই বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে (তাফউইদ) নীরব থাকো এবং আল্লাহর কোনো গুণের ওপর এর কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত না করো। এই মুতাকাল্লিমদের (তাত্ত্বিকদের) মতানুসারে এটিই হলো প্রকৃত বিষয়]।

শাইখ: অর্থাৎ, মুতাকাল্লিমরা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির মধ্যে থাকে: হয় তারা বিকৃতি ঘটায় (তাহরিফ) অথবা অপব্যাখ্যা (তাউইল) করে। কেউ কেউ বিকৃতি ঘটিয়ে বলে: ‘ইস্তাওয়া’ (উঠা) এর অর্থ হলো ‘ইস্তাওলা’ (দখল করা বা কর্তৃত্ব গ্রহণ করা); কারণ আরশের উপর উঠা আল্লাহর শানে মানানসই নয়। যেহেতু এর মাধ্যমে আল্লাহকে সসীম, স্থান দখলকারী এবং সৃষ্টির সদৃশ মনে করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তাই আমরা একে অস্বীকার করি এবং বলি: ইস্তাওয়া-র অর্থ হলো ইস্তাওলা (দখল করা)।

তাদের উত্তরে বলা হবে: তোমরা যে ‘ইস্তাওলা’ বা কর্তৃত্ব গ্রহণ করার দিকে পালিয়ে গেলে, তার মধ্যেও তো সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান। এছাড়া এতে আরেকটি আপত্তিকর বিষয় যুক্ত হয়, তা হলো—প্রথমে তিনি পরাজিত ছিলেন, অতঃপর বিজয়ী হলেন।

এটি একটি দিক। দ্বিতীয় দিকটি হলো: এর অর্থ সম্পর্কে নীরব থাকা। তাদের কেউ কেউ ‘তাফউইদ’-এর পথ অবলম্বন করেছে—যা হলো শব্দে বিশ্বাস করা কিন্তু অর্থের ব্যাপারে চুপ থাকা এবং অর্থের বিষয়টি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা। তারা বলে: ‘ইস্তাওয়া’ শব্দের অর্থ কী তা আমি জানি না, আমি এর অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।

যেন আলিফ, সিন, তা, ওয়াও এবং আলিফ—এগুলো কোনো বিদেশি অক্ষর যার অর্থ বোঝা যায় না!

এই কারণেই কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ‘মুফাওয়িদাহ’ (যারা অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয়) সম্প্রদায় ‘মুয়াত্তিলা’ (যারা গুণাবলি সরাসরি অস্বীকার করে) সম্প্রদায়ের চেয়েও খারাপ। কারণ তারা হয় গুণাবলি অস্বীকার করে, বাতিল করে এবং মিথ্যা ব্যাখ্যা দেয়; অথবা তারা অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয় এবং কেবল শব্দের ওপর ঈমান এনে ক্ষান্ত হয়। তারা এই দুটি ত্রুটি, দুটি ব্যাধি এবং দুটি বাতিলের মধ্যেই ঘুরপাক খায়—হয় তাহরিফ (বিকৃতি) নয়তো তাফউইদ (অর্থ ছেড়ে দেওয়া)।

ইমাম নববী সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য জায়গায় এটিই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে আলেমদের দুটি পথ রয়েছে: প্রথমটি হলো সালাফদের পথ, যা হলো শব্দের ওপর ঈমান রাখা এবং অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া (তাফউইদ)। দ্বিতীয়টি হলো খালাফদের পথ, যা হলো অপব্যাখ্যা (তাউইল)।

অথচ তারা সালাফে সালেহীনের প্রকৃত মানহাজ বা পদ্ধতি উল্লেখ করেন না; যা হলো—শব্দ ও অর্থ উভয়ই সাব্যস্ত করা এবং এর ধরণ বা প্রকৃতির (কায়ফিয়্যাহ) বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।

আর তাফউইদ হলো: শব্দের ওপর ঈমান আনা এবং অর্থের ব্যাপারে নীরব থাকা, সাথে সাথে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে—আল্লাহর থেকে এই গুণাবলি নাকচকৃত। তাফউইদপন্থীরা বলে: আমরা শব্দে বিশ্বাস করি কিন্তু কোনো অর্থ খুঁজে পাই না, বরং আমরা অর্থটি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেই। সাথে সাথে তারা এও বিশ্বাস করে যে, এই গুণাবলি আল্লাহর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য নয় এবং এগুলো সাব্যস্তও নয়; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী এগুলো আল্লাহর জন্য মর্যাদাহানিকর।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [এই কথার অর্থ আমি তাদের এক দলের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখেছি এবং এটি তাদের পুরো গোষ্ঠীর জন্য এমনভাবে আবশ্যক যেখান থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই। এর সারমর্ম হলো: আল্লাহর মারেফাত বা পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব দ্বারা হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর প্রেরণকারীর গুণাবলি শিক্ষা দেওয়া ও সংবাদ দেওয়ার কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিরোধের সময় মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যাবে না, বরং জাহেলি যুগে তারা যে অবস্থার ওপর ছিল এবং যারা নবীদের ওপর বিশ্বাস করে না—যেমন ব্রাহ্মণ, দার্শনিক, মুশরিক, অগ্নিপূজক ও কিছু সাবিঈ—তারা যার কাছে বিচার নিয়ে যায়, তেমনই কোনো কিছুর দিকে তারা ফিরে যাবে।

যদিও এই প্রত্যাবর্তন সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে এবং এর মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা হয় না। কারণ প্রতিটি দলের কাছেই কিছু তাগুত (সীমালঙ্ঘনকারী নেতা) থাকে যাদের কাছে তারা বিচার নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের অস্বীকার করে।

এই মুতাকাল্লিমদের অবস্থা মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {তুমি কি তাদের দেখোনি যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাজিল করা হয়েছে তার ওপর তারা ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়, যদিও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদের চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করতে। আর যখন তাদের বলা হয়: আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে যে তারা তোমার থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণে যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন তাদের অবস্থা কেমন হয়? অতঃপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে তোমার কাছে আসে যে, আমরা কেবল কল্যাণ ও সম্প্রীতিই চেয়েছিলাম।} [আন-নিসা: ৬০-৬২]

নিশ্চয়ই এদের যখন আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব এবং রাসূলের দিকে আহ্বান জানানো হয়—আর রাসূলের মৃত্যুর পর তাঁর দিকে আহ্বান জানানো মানে তাঁর সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানানো—তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা বলে: আমরা এই পথ অনুসরণের মাধ্যমে জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে কল্যাণ লাভ এবং জ্ঞানলব্ধ ও বর্ণিত দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ইচ্ছা করেছি।

অতঃপর, এই সংশয়গুলো—যাকে তারা দলীল হিসেবে নাম দিয়েছে—সেগুলোর অধিকাংশ তারা মুশরিক বা সাবিঈদের বড় বড় নেতাদের (তাগুত) থেকে অথবা তাদের উত্তরাধিকারীদের থেকে গ্রহণ করেছে, যাদের অস্বীকার করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল। যেমন অমুক ও অমুক ব্যক্তি, অথবা এমন সব ব্যক্তিদের থেকে যারা তাদের মতোই কথা বলে; কারণ তাদের সবার অন্তর একই রকম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকোচ না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫], {মানুষ ছিল একই উম্মতভুক্ত। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন এবং সত্যসহ তাঁদের সাথে কিতাব নাজিল করলেন যাতে মানুষের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ বিষয়ে বিচার করা যায়। আর কিতাবপ্রাপ্তরাই কেবল এতে মতভেদ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর, শুধু নিজেদের মধ্যকার জিঘাংসাবশত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদের সেই সত্যের দিকে হেদায়েত দান করলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল।} [আল-বাকারা: ২১৩]।

এই মতবাদের অনিবার্য ফলাফল হলো: কুরআন মানুষের জন্য হেদায়েত, সুস্পষ্ট বর্ণনা, অন্তরের আরোগ্য, নূর বা আলো এবং বিরোধের সময় ফয়সালাকারী হবে না। কারণ আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, এই অতি-চতুর লোকেরা যা বলে যে ‘এটিই সেই সত্য যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব’, কুরআন ও সুন্নাহর কোনো পাঠ (নস) বা বাহ্যিক অর্থ (জাহির) তার ওপর প্রমাণ দেয় না। বরং একজন চরম ধূর্ত লোকের দৌড় বড়জোর আল্লাহর এই বাণী পর্যন্তই: {এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ৪], {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জান?} [মারিয়াম: ৬৫]।

প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি অকাট্যভাবে জানেন যে, যে ব্যক্তি সৃষ্টিজগতকে এ কথা বোঝাতে চায় যে—আল্লাহ আরশের উপর নেই কিংবা আসমানসমূহের উপরে নেই ইত্যাদি, আর এর জন্য দলিল হিসেবে আল্লাহর এই বাণী পেশ করে: {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জান?}, সে আসলে সত্য থেকে অনেক দূরে বিচরণ করছে। সে হয় ধাঁধা দিচ্ছে নতুবা প্রতারণা করছে; সে মানুষের সাথে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কথা বলছে না]।

শাইখ: আল্লাহ তাআলার বাণী—{এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই} এবং {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জান?}—দিয়ে তাদের দলীল দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এ কথা প্রমাণ করা যে, আল্লাহ আরশের উপর নেই। কারণ তিনি যদি আরশের উপর হতেন, তবে তিনি মানুষের মতো হয়ে যেতেন, তিনি একটি অনুভবযোগ্য সত্তা হতেন এবং সৃষ্টির সদৃশ হতেন—যা একটি সসীম বস্তু অন্য একটি সসীম বস্তুর ওপর থাকার মতো। তাই তারা দাবি করে যে, আল্লাহ হয় সব জায়গায় আছেন, নতুবা তিনি জগতের ভেতরেও নেই আবার বাইরেও নেই—নাউযুবিল্লাহ।

নিঃসন্দেহে এ জাতীয় দলীল প্রদান করা চরম বাতিলের অন্তর্ভুক্ত।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [এই মতবাদের অনিবার্য ফল এই দাঁড়ায় যে, মানুষকে কোনো রিসালাত বা বার্তা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া তাদের মূল দ্বীনের জন্য বেশি কল্যাণকর ছিল। কারণ রিসালাতের আগে ও পরে তাদের গন্তব্যস্থল তো একই রয়ে গেল (অর্থাৎ বিবেক), বরং রিসালাত তো তাদের অন্ধত্ব ও বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করল।

সুবহানাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোনোদিন—কিংবা এই উম্মতের সালাফদের কেউ কি কখনো বলেছেন যে: এই আয়াত ও হাদিসগুলো যা প্রমাণ করে তা বিশ্বাস করো না, বরং তোমাদের বিবেকের মাপকাঠি যা দাবি করে তা বিশ্বাস করো, কিংবা অমুক অমুক বিষয় বিশ্বাস করো কারণ সেটিই সত্য? আর এর বাহ্যিক অর্থের বিপরীত যা কিছু আছে, সেই বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করো না? অথবা এগুলোর দিকে তাকাও, যা তোমাদের বিবেকের সাথে মিলবে তা বিশ্বাস করো, আর যা মিলবে না সে ব্যাপারে বিরত থাকো অথবা তা অস্বীকার করো?]
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌نشأة الفرق وصفات الفرقة الناجية

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم الرسول صلى الله عليه وسلم قد أخبر أن أمته ستفترق ثلاثاً وسبعين فرقة، فقد علم ما سيكون، ثم قال: (إني تارك فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا كتاب الله)، وروي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال في صفة الفرقة الناجية: (هو من كان على مثلما أنا عليه اليوم وأصحابي)، فهلا قال: من تمسك بظاهر القرآن في باب الاعتقاد، فهو ضال، وإنما الهدى رجوعكم إلى مقاييس عقولكم].

الشيخ: وفي نسخة: فهلا قال: من تمسك بالقرآن، أو بدلالة القرآن، أو بمفهوم القرآن، أو بظاهر القرآن.

أي: إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يقل: من تمسك بالقرآن فهو ضال، وإنما قال في وصف الفرقة الناجية: (من كان على مثلما أنا عليه وأصحابي).

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فهلا قال: من تمسك بظاهر القرآن في باب الاعتقاد، فهو ضال، وإنما الهدى رجوعكم إلى مقاييس عقولكم، وما يحدثه المتكلمون منكم بعد القرون الثلاثة، وإن كان قد نبغ أصلها في أواخر عصر التابعين.

ثم أصل هذه المقالة -مقالة التعطيل للصفات- إنما هو مأخوذ عن تلامذة اليهود والمشركين، وضلال الصابئين].
দলসমূহের উদ্ভব এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্যসমূহ

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এরপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। সুতরাং যা ঘটবে তা তিনি জানতেন। এরপর তিনি বলেছেন: (আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব)। আর মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (তারা হলো সেই পথের অনুসারী হবে, যার উপর আজ আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি)। তবে তিনি কেন এমনটি বললেন না যে: আকিদার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট, বরং হিদায়াত কেবল তোমাদের বিবেক-বুদ্ধির মানদণ্ডের দিকে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত?]।

শাইখ: অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তবে তিনি কেন বললেন না: যে ব্যক্তি কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে, অথবা কুরআনের দলীলসমূহকে, অথবা কুরআনের মর্মার্থকে, অথবা কুরআনের বাহ্যিক অর্থকে (সে পথভ্রষ্ট)।

অর্থাৎ: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেননি যে: যে ব্যক্তি কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে সে পথভ্রষ্ট; বরং তিনি মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বর্ণনায় বলেছেন: (যে ওই পথের উপর থাকবে যার উপর আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি)।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [তবে তিনি কেন বললেন না: আকিদার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট, আর হিদায়াত কেবল তোমাদের বিবেক-বুদ্ধির মানদণ্ডের দিকে ফিরে যাওয়া এবং তিন প্রজন্মের পরে তোমাদের মধ্য থেকে ইলমুল কালামবিদরা যা উদ্ভাবন করবে তার মধ্যেই নিহিত। যদিও এই মতবাদের মূল ভিত্তি তাবেয়ীদের যুগের শেষ দিকে প্রকাশ পেয়েছিল।

অতঃপর এই মতবাদের মূল ভিত্তি—অর্থাৎ আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলী অস্বীকার করার মতবাদ—মূলত ইহুদি ও মুশরিকদের শিষ্যদের এবং সাবেয়ীদের ভ্রষ্টতা থেকে গৃহীত]।
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أول من تكلم في نفي الصفات

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإن أول من حفظ عنه أنه قال هذه المقالة في الإسلام: هو الجعد بن درهم، وأخذها عنه الجهم بن صفوان، وأظهرها فنسبت مقالة الجهمية إليه].

الشيخ: إذاً: فالذي ابتدع عقيدة نفي الصفات: المخترع والمبتدع الجعد بن درهم، والذي نشرها وأظهرها وتوسع فيها: الجهم، فنسبت إليه ولم تنسب إلى الجعد فالأصل أن يقال: الجعدية نسبة للجعد لا الجهمية؛ لأن الجعد هو أول من اخترعها.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقد قيل إن الجعد أخذ مقالته عن أبان بن سمعان، وأخذها أبان عن طالوت ابن أخت لبيد بن الأعصم، وأخذها طالوت من لبيد بن الأعصم اليهودي الساحر الذي سحر النبي صلى الله عليه وسلم، وكان الجعد هذا فيما قيل من أهل حران، وكان فيهم خلق كثير من الصابئة والفلاسفة، بقايا أهل دين النمرود، والكنعانيين الذين صنف بعض المتأخرين في سحرهم، والنمرود هو ملك الصابئة الكنعانيين المشركين، كما أن كسرى ملك الفرس والمجوس، وفرعون ملك القبط الكفار، والنجاشي ملك الحبشة النصارى، فهو اسم جنس لا اسم علم].

الشيخ: فيكون الجعد أخذ أصل مقالته عن اليهود والنصارى والوثنين والصابئة عباد الكواكب، فسندها اتصل إليهم.

وقوله: فهو اسم جنس، أي: أن النجاشي والنمرود وكسرى أسماء أجناس وليست علماً على أشخاص، ففرعون جنس لمن ملك مصر، ومن ملك اليمن يقال له تبع، ومن ملك الحبشة يقال له: النجاشي، ومن ملك الروم يقال له: قيصر، من ملك الفرس يقال له: كسرى.
আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে প্রথম যিনি কথা বলেছেন

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: [ইসলামের ইতিহাসে এই মতবাদটি প্রথম যার পক্ষ থেকে সংরক্ষিত হয়েছে বলে জানা যায়, তিনি হলেন জাদ ইবনে দিরহাম। আর তার থেকে এটি গ্রহণ করেছেন জাহম ইবনে সাফওয়ান এবং তিনি এটি প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, যার ফলে জাহমিয়া মতবাদটি তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে]।

শাইখ: অতএব, আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার আকিদা যিনি উদ্ভাবন করেছেন—সেই উদ্ভাবক ও প্রবর্তক হলেন জাদ ইবনে দিরহাম। আর যিনি একে প্রচার করেছেন, জনসমক্ষে এনেছেন এবং এর বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন, তিনি হলেন জাহম। একারণেই এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, জাদের দিকে নয়। যদিও মূলত একে জাদের দিকে নিসবত করে 'জাদিয়া' বলা উচিত ছিল; কারণ জাদই এটি প্রথম উদ্ভাবন করেছিলেন।

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: [বলা হয়ে থাকে যে, জাদ তার এই মতবাদটি আবান ইবনে সামআন থেকে গ্রহণ করেছেন এবং আবান এটি গ্রহণ করেছেন লাবিদ ইবনে আসমের ভাগ্নে তালুত থেকে। আর তালুত এটি গ্রহণ করেছেন লাবিদ ইবনে আসম নামক সেই ইহুদি জাদুকর থেকে, যে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে জাদু করেছিল। জাদ সম্পর্কে বলা হয় যে, সে হাররানের অধিবাসী ছিল। সেখানে বহু সংখ্যক সাবিয়ি (নক্ষত্রপূজারী) এবং দার্শনিকদের বসবাস ছিল, যারা ছিল নমরুদের ধর্মাবলম্বীদের অবশিষ্টাংশ এবং কেনানীদের উত্তরসূরি, যাদের জাদুবিদ্যা সম্পর্কে পরবর্তীকালের কতিপয় লেখক গ্রন্থ রচনা করেছেন। নমরুদ ছিল কেনানী মুশরিক সাবিয়িদের রাজা, যেমন কিসরা ছিল পারস্য ও অগ্নিপূজকদের রাজা, ফেরাউন ছিল মিশরের কাফের কিবতিদের রাজা এবং নাজাসি ছিল হাবশার খ্রিস্টানদের রাজা। সুতরাং এগুলো মূলত জাতিবাচক পদবি, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়]।

শাইখ: এর মাধ্যমে বুঝা যায় যে, জাদ তার মতবাদের মূল ভিত্তি গ্রহণ করেছে ইহুদি, খ্রিস্টান, মূর্তিপূজারী এবং নক্ষত্রপূজারী সাবিয়িদের থেকে; ফলে তার মতবাদের সূত্র তাদের সাথেই গিয়ে মিলিত হয়।

আর তাঁর উক্তি: "এটি একটি পদবি বা জাতিবাচক নাম," এর অর্থ হলো: নাজাসি, নমরুদ ও কিসরা—এগুলো পদবি মাত্র, নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়। সুতরাং ফেরাউন হলো তাদের পদবি যারা মিশরের শাসনকর্তা ছিল। আর যারা ইয়েমেনের রাজত্ব করত তাদের বলা হতো 'তুব্বা', যারা হাবশার রাজা হতো তাদের বলা হতো 'নাজাসি', যারা রোমের রাজা হতো তাদের বলা হতো 'কায়সার' এবং যারা পারস্যের রাজা হতো তাদের বলা হতো 'কিসরা'।
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الصابئة وعلماؤهم ومن أخذ من مذهبهم

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فكانت الصابئة إلا قليلاً منهم إذ ذاك على الشرك، وعلماؤهم: الفلاسفة، وإن كان الصابئي قد لا يكون مشركاً، بل مؤمناً بالله واليوم الآخر، كما قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة:62]، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَى مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [المائدة:69]، لكن كثيراً منهم أو أكثرهم كانوا كفاراً أو مشركين، كما أن كثير من اليهود والنصارى بدلوا وحرفوا وصاروا كفاراً أو مشركين، فأولئك الصابئون الذين كانوا إذ ذاك كانوا كفاراً مشركين، وكانوا يعبدون الكواكب، ويبنون لها الهياكل، ومذهب النفاة من هؤلاء في الرب: أنه ليس له إلا صفات سلبية أو إضافية أو مركبة منها، وهم الذين بعث إبراهيم الخليل إليهم].

الشيخ: وهذا هو هذا مذهب الصابئة، وهو أنهم يصفون الله بصفات سلبية أو إضافية أو مركبة، والصفات السلبية بالنفي، ليس بجوهر كقولهم: ولا جسم ولا عرض ولا كذا، وليس له كذا، والإضافية هي الأمور المضافة إلى بعضها والتي لا يعقل معناها إلا مع غيرها، كقولهم في الله: هو مبدأ لهذه الكثرة، وعلة لحركة الفلك، هذه أمور متضايفه لا تثبت وجود الله إلا من جهة كونه محرك لهذا الفلك، بالإضافة إلى الفلك، أو لهذه الكثرة، والمركبة من النفي ومن الإضافة، وهذا هو مذهب الفلاسفة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فيكون الجعد أخذها عن الصابئة الفلاسفة].

الشيخ: يصلح أن نقول الصابئة هم فلاسفة، لكن الفلاسفة هم علماء الصابئة، والصابئة عامتهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وكذلك أبو نصر الفارابي دخل حران، وأخذ عن فلاسفة الصابئين تمام فلسفته، وأخذها الجهم أيضاً].

الشيخ: المعلم الأول هو أرسطو، وهو أول من شاع القول بقدم العالم من الفلاسفة المشائين، ثم جاء المعلم الثاني: أبو نصر الفارابي من رؤساء اليونان، ثم المعلم الثالث: أبو علي بن سيناء، والثلاثة كلهم ملاحدة، وابن سيناء هو الذي حاول أن يقرب الفلسفة من الإسلام، وهو في محاولته الشديدة لم يصل إلى ما وصلت إليه الجهمية الغالية في التجهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وكذلك أبو نصر الفارابي دخل حران وأخذ عن فلاسفة الصابئين تمام فلسفته، وأخذها الجهم أيضاً فيما ذكره الإمام أحمد وغيره، لما ناظر السمنة بعض فلاسفة الهند، وهم الذين يجحدون من العلوم ما سوى الحسيات].

الشيخ: السمنة: طائفة من فلاسفة الهند لا يؤمنون إلا بالحسيات، ناظروا الجهم وقالوا له: إلهك هذا الذي تعبد، هل رأيته، قال: لا، قالوا: هل سمعته بإذنك، قال: لا، قالوا: هل شممته بأنفك؟ قال: لا، قالوا: هل ذقته بلسانك؟ قال: لا، قالوا: هل جسسته بيدك؟ قالوا: لا، قال: إذاً هو معدوم، فشك في ربه، وترك الصلاة أربعين يوماً، ثم نقش الشيطان في ذهنه، إثبات وجود في الذهن، فأثبت وجوداً لربه، ونفى عنه جميع الأسماء والصفات.

وأما القول بقدم العالم فهو كفر، ومعناه: أنه ليس له موجب، وهو إنكار لوجود الله، ومضمونه أن هذا العالم ليس له خالق، وليس بمخلوق.

وهذا هو الذي قاله أرسطو، وهو أول من قال بقدم العالم، وكان الفلاسفة قبله لا يقولون بذلك، بل يعظمون الشرائع، ويؤمنون بحدوث العالم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فهذه أسانيد الجهم، ترجع إلى اليهود والصابئين والمشركين، والفلاسفة الضالين، إما من الصابئين وإما من المشركين].

الشيخ: أي: إن الفلاسفة الضالين إما أن يكونوا من الصائبين، وإما أن يكونوا من المشركين.
সাবী সম্প্রদায়, তাদের আলিমগণ এবং যারা তাদের মতবাদ গ্রহণ করেছে

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সে সময়ে সাবীদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজন ব্যতীত অধিকাংশ লোকই শিরকের ওপর লিপ্ত ছিল। তাদের আলিমরা ছিল দার্শনিক, যদিও সাবীরা কখনো মুশরিক নাও হতে পারে, বরং আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাসী হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী হয়েছে এবং নাসারা ও সাবীগণ; যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের পুরস্কার রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [সূরা আল-বাকারাহ: ৬২]। মহান আল্লাহ আরো বলেছেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী হয়েছে এবং সাবীগণ ও নাসারা; যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তবে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৯]। তবে তাদের অনেকে অথবা অধিকাংশ লোকই ছিল কাফির বা মুশরিক, যেমন অনেক ইহুদী ও নাসারা তাদের ধর্মগ্রন্থ পরিবর্তন ও বিকৃত করে কাফির বা মুশরিকে পরিণত হয়েছিল। অতএব, সে সময়ে যারা সাবী ছিল তারা কাফির ও মুশরিক ছিল। তারা নক্ষত্রের পূজা করত এবং নক্ষত্রদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ করত। রবের ব্যাপারে তাদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী ছিল, তাদের মাযহাব বা মতবাদ ছিল এই যে: তাঁর কেবল নেতিবাচক, আপেক্ষিক অথবা এই দুইয়ের সমন্বিত গুণাবলিই রয়েছে। এরাই সেই লোক যাদের কাছে ইব্রাহিম খলীলকে প্রেরণ করা হয়েছিল।]

শায়খ বলেন: এটিই সাবীদের মাযহাব। তা হলো তারা আল্লাহকে নেতিবাচক, আপেক্ষিক বা সমন্বিত গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করে। নেতিবাচক গুণাবলি হলো অস্বীকার করার মাধ্যমে, যেমন তাদের বক্তব্য: তিনি কোনো মৌল উপাদান নন, কোনো দেহ নন, কোনো আকস্মিক গুণ নন, বা এমন কিছু নন; এবং তাঁর অমুক জিনিস নেই ইত্যাদি। আর আপেক্ষিক গুণাবলি হলো এমন বিষয় যা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং অন্যটির সাহায্য ছাড়া যার অর্থ বোঝা যায় না; যেমন আল্লাহর ব্যাপারে তাদের উক্তি: তিনি এই বহুত্বের আদি উৎস এবং আসমানের গতির কারণ। এগুলো হলো আপেক্ষিক বিষয় যা আল্লাহর অস্তিত্বকে কেবল আসমানের গতিদানকারী হওয়ার দিক থেকে সাব্যস্ত করে, আসমানের সাথে আপেক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে অথবা এই বহুত্বের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমে। আর সমন্বিত গুণাবলি হলো নেতিবাচক এবং আপেক্ষিক গুণের সংমিশ্রণ। আর এটিই দার্শনিকদের মাযহাব।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সুতরাং জা’দ ইবনে দিরহাম এই মতবাদ সাবী দার্শনিকদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে।]

শায়খ বলেন: আমরা সাবীদের দার্শনিক বলতে পারি, তবে দার্শনিকরা হলো সাবীদের মধ্য থেকে জ্ঞানী বা আলিম শ্রেণী, আর সাধারণ সাবীরা হলো তাদের আমজনতা।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [একইভাবে আবু নসর আল-ফারাবি হাররানে প্রবেশ করেন এবং সাবী দার্শনিকদের নিকট থেকে তার দর্শনের পূর্ণ পাঠ গ্রহণ করেন। জাহমও এটি গ্রহণ করেছিল।]

শায়খ বলেন: প্রথম শিক্ষক হলেন অ্যারিস্টটল। তিনি পদচারণকারী দার্শনিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম জগত অনাদি হওয়ার মতবাদ প্রচার করেন। এরপর দ্বিতীয় শিক্ষক আসলেন: গ্রিক প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত আবু নসর আল-ফারাবি। এরপর তৃতীয় শিক্ষক: আবু আলী ইবনে সিনা। এই তিনজনই ছিলেন নাস্তিক। আর ইবনে সিনাই দর্শনকে ইসলামের নিকটবর্তী করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার তীব্র চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেননি যেখানে চরমপন্থী জাহমিয়্যারা তাদের জাহমিয়্যা মতবাদে পৌঁছেছে।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [একইভাবে আবু নসর আল-ফারাবি হাররানে প্রবেশ করেন এবং সাবী দার্শনিকদের নিকট থেকে তার দর্শনের পূর্ণ পাঠ গ্রহণ করেন। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী জাহমও এটি গ্রহণ করেছিল, যখন সে ভারতের কিছু দার্শনিক সুমানিয়্যাহদের সাথে বিতর্ক করেছিল। তারা হলো সেই লোক যারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় ব্যতীত অন্য সকল জ্ঞান অস্বীকার করে।]

শায়খ বলেন: সুমানিয়্যাহ হলো ভারতের দার্শনিকদের একটি দল যারা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না। তারা জাহমের সাথে বিতর্ক করে তাকে বলল: তোমার এই ইলাহ যার তুমি ইবাদত করো, তুমি কি তাকে দেখেছ? সে বলল: না। তারা বলল: তুমি কি তোমার কান দিয়ে তাকে শুনেছ? সে বলল: না। তারা বলল: তুমি কি তোমার নাক দিয়ে তাঁর ঘ্রাণ নিয়েছ? সে বলল: না। তারা বলল: তুমি কি তোমার জিহ্বা দিয়ে তাঁর স্বাদ নিয়েছ? সে বলল: না। তারা বলল: তুমি কি তোমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করেছ? সে বলল: না। তারা বলল: তাহলে তিনি অস্তিত্বহীন। তখন সে তার রবের ব্যাপারে সংশয়ে পড়ে গেল এবং চল্লিশ দিন সালাত ত্যাগ করল। এরপর শয়তান তার মনে একটি ধারণা তৈরি করে দিল যে মনে মনে একটি অস্তিত্ব সাব্যস্ত করো। ফলে সে তার রবের জন্য একটি অস্তিত্ব সাব্যস্ত করল এবং তাঁর থেকে সকল নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করল।

আর জগত অনাদি হওয়ার মতবাদটি কুফর। এর অর্থ হলো এর কোনো কারণ বা অস্তিত্বদানকারী নেই, এটি আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। এর সারকথা হলো এই জগতের কোনো স্রষ্টা নেই এবং এটি সৃষ্টিও নয়।

এটিই অ্যারিস্টটলের বক্তব্য এবং সেই প্রথম ব্যক্তি যে জগত অনাদি হওয়ার কথা বলেছিল। তার পূর্ববর্তী দার্শনিকরা এমন কথা বলতেন না, বরং তারা খোদায়ী বিধানসমূহকে সম্মান করতেন এবং জগত সৃষ্টির মাধ্যমে অস্তিত্বে আসার বিষয়ে বিশ্বাস করতেন।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এই হলো জাহমের সূত্রসমূহ, যা ইহুদী, সাবী, মুশরিক এবং পথভ্রষ্ট দার্শনিকদের দিকে ফিরে যায়, যারা হয় সাবী ছিল অথবা মুশরিক ছিল।]

শায়খ বলেন: অর্থাৎ: পথভ্রষ্ট দার্শনিকরা হয় সাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, নয়তো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الجهمية وبشر المريسي

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم لما عربت الكتب الرومية واليونانية في حدود المائة الثانية زاد البلاء مع ما ألقى الشيطان في قلوب الضلال ابتداء من جنس ما ألقاه في قلوب أشباههم، ولما كان في حدود المائة الثالثة انتشرت هذه المقالة التي كان السلف يسمونها: مقالة الجهمية؛ بسبب بشر بن غياث المريسي وطبقته].

الشيخ: فـ بشر المريسي تنسب إليه الطائفة المريسية، والطائفة المريسية هم جهمية، واشتهر المريسي بإظهار مقالة الجهمية، ونسبت إليه المريسية.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وكلام الأئمة مثل مالك وسفيان بن عيينة وابن المبارك وأبي يوسف والشافعي وأحمد وإسحاق والفضيل بن عياض وبشر الحافي وغيرهم كثير في ذمهم وتضليلهم].

الشيخ: ولهم مؤلفات في الرد عليهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وهذه التأويلات الموجودة اليوم.

بأيدي الناس -مثل أكثر التأويلات التي ذكرها أبو بكر بن فورك في كتاب التأويلات، وذكرها أبو عبد الله محمد بن عمر الرازي في كتابه الذي سماه تأسيس التقديس، ويوجد كثير منها في كلام خلق غير هؤلاء، مثل أبي علي الجبائي وعبد الجبار بن أحمد الهمداني وأبي حسين البصري وأبي الوفاء بن عقيل وأبي حامد الغزالي وغيرهم- هي بعينها تأويلات بشر المريسي التي ذكرها في كتابه، وإن كان قد يوجد في كلام بعض هؤلاء رد التأويل وإبطاله أيضاً، ولهم كلام حسن في أشياء، فإنما بينت أن عين تأويلاتهم هي عين تأويلات بشر المريسي].

الشيخ: قوله: وعبد الجبار بن أحمد الهمذاني: نسبة إلى قبيلة همدان، وهو عبد الجبار بن أحمد بن الخليل أبو الحسن الهمداني المشهور بالقاضي عبد الجبار من أئمة المعتزلة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإنما بينت أن عين تأويلاتهم هي عين تأويلات المريسي، ويدل على ذلك كتاب الرد الذي صنفه عثمان بن سعيد الدارمي، أحد الأئمة المشاهير في زمان البخاري، صنف كتاباً سماه: رد عثمان بن سعيد على الكاذب العنيد فيما افتراه على الله في التوحيد، حكى فيه هذه التأويلات بأعيانها عن بشر المريسي بكلام يقتضي أن المريسي أقعد بها، وأعلم بالمنقول والمعقول من هؤلاء المتأخرين، الذين اتصلت إليهم من جهته وجهة غيره.

ثم رد ذلك عثمان بن سعيد بكلام إذا طالعه العاقل الذكي علم حقيقة ما كان عليه السلف، وتبين له ظهور الحجة في طريقهم، وضعف حجة من خالفهم.

ثم إذا رأى الأئمة -أئمة الهدى- قد أجمعوا على ذم المريسية، وأكثرهم كفروهم أو ضللوهم].

الشيخ: والمريسية جهمية، على مذهب الجهم، لكنهم نسبوا إلى المريسي؛ لأنه تزعم هذه الطائفة فنسبوا إليه وهم جهمية.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وعلم أن هذا القول الساري في هؤلاء المتأخرين هو مذهب المريسية، تبين الهدى لمن يريد الله هدايته ولا حول ولا قوة إلا بالله، والفتوى لا تحتمل البسط في هذا الباب، وإنما نشير إشارة إلى مبادئ الأمور، والعاقل يسير فينظر].

الشيخ: وعلى هذا ذهب أكثر العلماء إلى تكفيرهم، ومنهم من بدعهم، ومن العلماء من كفر رؤساءهم وبدع عامتهم.

جاءوا في القرون المتأخرة على مذهب المريسية في القرن الثالث كلهم أنكر أسماء الله وصفاته، فكفرهم العلماء.

لكن المعين منهم لابد أن تقوم عليه الحجة.

وقوله: والفتوى لا تحتمل البسط، أي: الفتوى الحموية.
‌‌জহমিয়া এবং বিশর আল-মারিসি

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [অতঃপর যখন দ্বিতীয় শতাব্দীর দিকে রোমান ও গ্রিক বইগুলো আরবিতে অনূদিত হলো, তখন মুসিবত আরও বেড়ে গেল। এর সাথে শয়তান পথভ্রষ্টদের অন্তরে সেই ধরণের বিভ্রান্তি ঢেলে দিল যা সে তাদের সমজাতীয় পূর্ববর্তীদের অন্তরে ঢেলেছিল। আর যখন তৃতীয় শতাব্দীর সময়কাল এলো, তখন এই মতবাদটি ছড়িয়ে পড়ল যাকে সালাফগণ 'জহমিয়া মতবাদ' বলতেন; এটি বিশর বিন গিয়াস আল-মারিসি এবং তার স্তরের লোকদের কারণে হয়েছিল]।

শায়খ: বিশর আল-মারিসির নামানুসারেই 'মারিসিয়া' উপদলের নামকরণ করা হয়েছে। এই মারিসিয়া উপদলটি মূলত জহমিয়া। আল-মারিসি জহমিয়া মতবাদ প্রকাশ ও প্রচার করার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাই তার দিকে সম্বন্ধ করে তাদের মারিসিয়া বলা হয়।

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [ইমাম মালিক, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক, আবু ইউসুফ, শাফিয়ী, আহমাদ, ইসহাক, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ, বিশর আল-হাফি এবং আরও অনেক ইমামদের বক্তব্য তাদের নিন্দা এবং তাদের পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে প্রচুর রয়েছে]।

শায়খ: তাদের খণ্ডনে এই ইমামদের অনেক গ্রন্থও রয়েছে।

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [বর্তমানে মানুষের হাতে থাকা এই সব অপব্যাখ্যা—

যেমন আবু বকর ইবনে ফুরাক তার 'আত-তাবিলাত' গ্রন্থে যে অধিকাংশ অপব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ওমর আর-রাজি তার 'তাসিসুত তাকদিস' নামক গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, এবং আরও অনেক ব্যক্তিদের বক্তব্যে যা পাওয়া যায়, যেমন— আবু আলি আল-জুব্বায়ী, আব্দুল জব্বার বিন আহমদ আল-হামদানি, আবু হুসাইন আল-বাসরি, আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল, আবু হামিদ আল-গাজ্জালি এবং অন্যান্যরা—এগুলো হুবহু বিশর আল-মারিসির সেই অপব্যাখ্যাগুলোই যা সে তার কিতাবে উল্লেখ করেছিল। যদিও এদের কারো কারো বক্তব্যে এসব অপব্যাখ্যার খণ্ডন ও তা বাতিল করার বিষয়ও পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের চমৎকার বক্তব্যও রয়েছে, তবুও আমি কেবল এটাই স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে তাদের এই অপব্যাখ্যাগুলো মূলত বিশর আল-মারিসিরই অপব্যাখ্যা]।

শায়খ: লেখকের উক্তি: "আব্দুল জব্বার বিন আহমদ আল-হামদানি": এটি হামদান গোত্রের দিকে নিসবত। তিনি হলেন আব্দুল জব্বার বিন আহমদ বিন আল-খলীল আবু আল-হাসান আল-হামদানি, যিনি মুতাজিলাদের অন্যতম ইমাম এবং 'কাজী আব্দুল জব্বার' নামে পরিচিত।

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [আমি কেবল এটাই স্পষ্ট করেছি যে, তাদের অপব্যাখ্যাগুলো হুবহু মারিসিরই অপব্যাখ্যা। এর প্রমাণ হলো ইমাম বুখারীর সমসাময়িক যুগের অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি কর্তৃক রচিত খণ্ডনমূলক গ্রন্থটি। তিনি একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম: 'তাওহিদের বিষয়ে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারী জেদি মিথ্যাবাদীর বিরুদ্ধে উসমান বিন সাঈদের খণ্ডন'। সেখানে তিনি বিশর আল-মারিসির পক্ষ থেকে এই অপব্যাখ্যাগুলো হুবহু এমন ভাষায় উদ্ধৃত করেছেন যা প্রমাণ করে যে, মারিসি পরবর্তীকালের এই সব লোকদের চেয়ে এসব বিষয়ে অধিক পারদর্শী এবং বর্ণিত ও যৌক্তিক দলীল সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন, যাদের কাছে মারিসি ও অন্যদের মাধ্যমেই এই মতবাদ পৌঁছেছে।

অতঃপর উসমান বিন সাঈদ সেগুলোকে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন যা কোনো বুদ্ধিমান ও মেধাবী ব্যক্তি পাঠ করলে সালাফগণ কোন হকের ওপর ছিলেন তার বাস্তবতা জানতে পারবেন এবং তাদের পথের দলীলগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিরোধীদের দলীলের দুর্বলতা তার কাছে স্পষ্ট হবে।

এরপর যখন সে দেখবে যে ইমামগণ—হিদায়াতের ইমামগণ—মারিসিয়াদের নিন্দার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ তাদের কাফের বা পথভ্রষ্ট আখ্যা দিয়েছেন]।

শায়খ: মারিসিয়ারা মূলত জহমিয়া, তারা জহম ইবনে সাফওয়ানের মাযহাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে তাদের আল-মারিসির দিকে নিসবত করা হয় কারণ তিনি এই উপদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই তারা জহমিয়া হওয়া সত্ত্বেও তার নামে পরিচিতি পায়।

লেখক (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [আর যখন জানা যাবে যে, এই পরবর্তীকালের লোকদের মধ্যে প্রচলিত কথাটি মূলত মারিসিয়াদেরই মাযহাব, তখন যাকে আল্লাহ হিদায়াত দিতে চান তার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। এই ফতোয়াটি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার ভার সইতে পারবে না, আমি কেবল মূল বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করছি, আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজেই দেখে পথ চলবে]।

শায়খ: এর ওপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ আলেম তাদের কাফের বলার দিকে গিয়েছেন, আবার কেউ কেউ তাদের বিদআতি বলেছেন। কোনো কোনো আলেম তাদের নেতাদের কাফের বলেছেন এবং সাধারণ অনুসারীদের বিদআতি বলেছেন।

তারা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে মারিসিয়াদের মাযহাব নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। তৃতীয় শতাব্দীতে তারা সকলেই আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করেছিল, ফলে ওলামায়ে কেরাম তাদের কাফের আখ্যা দিয়েছিলেন।

তবে তাদের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর হুকুম লাগানোর আগে অবশ্যই তার ওপর হুজ্জত কায়েম করতে হবে।

আর লেখকের উক্তি: "ফতোয়াটি বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রাখে না", অর্থাৎ আল-হামাউয়্যাহ ফতোয়াটি।
(খণ্ড: ২) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الكتب التي ألفت في مناظرة الجهمية والرد عليهم

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وكلام السلف في هذا الباب موجود في كتب كثيرة، لا يمكن أن نذكر هنا إلا قليلاً منه، مثل كتاب السنن لللالكائي، والإبانة لـ ابن بطة، والسنة لـ أبي ذر الهروي، والأصول لـ أبي عمر الطلمنكي، وكلام أبي عمر بن عبد البر، والأسماء والصفات للبيهقي، وقبل ذلك السنة للطبراني، ولـ أبي الشيخ الأصبهاني، ولـ أبي عبد الله بن مندة، ولـ أبي أحمد العسال الأصبهاني].

الشيخ: لكل واحد من هؤلاء كتاب يسمى: السنة، أي: كتاب السنة لفلان، وكتاب السنة لفلان.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقبل ذلك السنة للخلال والتوحيد لـ ابن خزيمة، وكلام أبي العباس بن شريج، والرد على الجهمية للجماعة، وقبل ذلك السنة لـ عبد الله بن أحمد، والسنة لـ أبي بكر بن الأثرم، والسنة لـ حنبل وللمروزي ولـ أبي داود السجستاني، ولـ ابن أبي شيبة، والسنة لـ أبي بكر بن أبي عاصم، وكتاب خلق أفعال العباد لـ أبي عبد الله البخاري، وكتاب الرد على الجهمية لـ عثمان بن سعيد الدارمي وغيرهم، وكلام أبي العباس عبد العزيز المكي، صاحب الحيدة في الرد على الجهمية، وكلام نعيم بن حماد الخزاعي، وكلام غيرهم].

الشيخ: المؤلف رحمه الله يرى أن كتاب الحيدة في الرد على الجهمية لـ عبد العزيز المكي ثابت؛ لأن بعض الناس تشكك في نسبة كتاب الحيدة لـ عبد العزيز بن المكي.

وهذا يدل على أن كثيراً من العلماء ألفوا في الرد على هؤلاء البدع، وقد سرد المؤلف رحمه الله كتباً كثيرة منها.

والأئمة كلهم ردوا على الجهمية والمعطلة، فدل هذا على أن السلف أجمعوا على بطلان مذهبهم، وأنهم على الباطل.

أما نسبة كتاب الحيدة إلى المؤلف عبد العزيز المكي فليس موضع اتفاق، فـ الذهبي يشكك في نسبة الكتاب إليه ويقول: لم يصح إسناد كتاب الحيدة إليه، فكأنه وضع عليه والله أعلم.

ويوافقه على ذلك السبكي، بينما نجد الخطيب البغدادي وكذا ابن حجر نسبا الكتاب إليه، وجزما بذلك، وأيضاً: ابن العماد الحنبلي، كما أن الإمام ابن بطة ساق المناظرة بإسناده في كتابه الإبانة في الرد على الجهمية.

وقد نقل الشيخ من هذا الكتاب كثيراً ونسبه إلى مؤلفه.

ولكن شيخ الإسلام، يرى صحة نسبته إليه، وهو حجة في هذا وإمام متقدم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وكلام الإمام أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه ويحيى بن يحيى النيسابوري وأمثالهم، وقبل هؤلاء عبد الله بن المبارك وأمثاله، وأشياء كثيرة، وعندنا من الدلائل السمعية والعقلية ما لا يتسع هذا الموضع لذكره، وأنا أعلم أن المتكلمين النفاة لهم شبهات موجودة، لكن لا يمكن ذكرها في فتوى، فمن نظر فيها وأراد إبانة ما ذكروه من الشبه، فإنه يسير.

وإذا كان أصل هذه المقالة -مقالة التعطيل والتأويل- مأخوذاً عن تلامذة المشركين والصابئين واليهود فكيف تطيب نفس مؤمن، بل نفس عاقل أن يأخذ سبل هؤلاء المغضوب عليهم والضالين، وأن يدع سبيل الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين].
জাহমিয়্যাহদের সাথে বিতর্ক এবং তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থসমূহ

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এই অধ্যায়ে সালাফদের বক্তব্য অনেক কিতাবে বিদ্যমান, যার সামান্য কিছু অংশই আমরা এখানে উল্লেখ করতে পারি। যেমন: লালকাঈ-এর 'আস-সুনান', ইবনে বাত্তাহ-র 'আল-ইবানাহ', আবু যার আল-হারাউয়ী-র 'আস-সুন্নাহ', আবু উমর আত-তালামানকী-র 'আল-উসুল', আবু উমর ইবনে আব্দুল বার-এর বক্তব্যসমূহ, বায়হাকী-র 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত', এবং এর আগে তাবারানী-র 'আস-সুন্নাহ', আবুশ শায়খ আল-আসফাহানী-র 'আস-সুন্নাহ', আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ-র 'আস-সুন্নাহ' এবং আবু আহমাদ আল-আস্সাল আল-আসফাহানী-র 'আস-সুন্নাহ']।

শায়খ: এঁদের প্রত্যেকেরই 'আস-সুন্নাহ' নামে একটি কিতাব রয়েছে, অর্থাৎ: অমুকের কিতাবুস সুন্নাহ, তমুকের কিতাবুস সুন্নাহ।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আর এর আগে খাল্লাল-এর 'আস-সুন্নাহ', ইবনে খুযায়মাহ-র 'আত-তাওহীদ', আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ-এর বক্তব্য, উলামায়ে কিরামের 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ', এবং এর পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ-এর 'আস-সুন্নাহ', আবু বকর বিন আল-আশরাম-এর 'আস-সুন্নাহ', হাম্বল, মারওয়াযী, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী ও ইবনে আবী শায়বাহ-র 'আস-সুন্নাহ', আবু বকর বিন আবী আসিম-এর 'আস-সুন্নাহ', আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী-র 'খালকু আফআলিল ইবাদ', উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমী-র 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' ও অন্যান্যদের কিতাবসমূহ, 'আল-হায়দাহ' কিতাবের লেখক আবু আব্বাস আব্দুল আযীয আল-মাক্কী-র জাহমিয়্যাহদের খণ্ডনমূলক বক্তব্য, নুআইম বিন হাম্মাদ আল-খুযাঈ-র বক্তব্য এবং অন্যদের বক্তব্য]।

শায়খ: লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে, জাহমিয়্যাহদের খণ্ডনে আব্দুল আযীয আল-মাক্কী-র 'আল-হায়দাহ' কিতাবটি প্রমাণিত; কেননা কিছু লোক আব্দুল আযীয বিন আল-মাক্কী-র প্রতি 'আল-হায়দাহ' কিতাবটির সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এটি প্রমাণ করে যে, অনেক আলেম এই বিদআতিদের খণ্ডনে কিতাব রচনা করেছেন এবং লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সেগুলোর মধ্য থেকে অনেক কিতাবের তালিকা এখানে দিয়েছেন।

ইমামগণের সকলেই জাহমিয়্যাহ ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করেছেন, যা প্রমাণ করে যে সালাফগণ তাঁদের মাযহাবের অসারতার ব্যাপারে এবং তাঁরা যে বাতিলের ওপর রয়েছেন সে ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

তবে আব্দুল আযীয আল-মাক্কী-র প্রতি 'আল-হায়দাহ' কিতাবের সংশ্লিষ্টতা সর্বসম্মত নয়। আয-যাহাবী এর সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর প্রতি 'আল-হায়দাহ' কিতাবটির সনদ সহীহ নয়, যেন এটি তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আস-সুবকীও এ ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, অথচ খতীব আল-বাগদাদী ও ইবনে হাজার কিতাবটি তাঁর বলে উল্লেখ করেছেন এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে আল-ইমাদ আল-হাম্বলীও। যেমন ইমাম ইবনে বাত্তাহ তাঁর 'আল-ইবানাহ' কিতাবে জাহমিয়্যাহদের খণ্ডন প্রসঙ্গে এই বিতর্কটি নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন।

শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এই কিতাব থেকে অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এটিকে এর লেখকের বলে অভিহিত করেছেন।

তবে শাইখুল ইসলাম এটি তাঁর কিতাব হওয়ার বিষয়টিকে সহীহ মনে করেন, আর তিনি এ বিষয়ে একজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং অগ্রগণ্য ইমাম।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আন-নিশাপুরী এবং তাঁদের সমপর্যায়ী ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর তাঁদের আগে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ও তাঁর সমপর্যায়ী ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আরও অনেক কিছু। আমাদের কাছে এমন অনেক শ্রবণলব্ধ ও যৌক্তিক প্রমাণাদি রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার স্থান সংকুলান হবে না। আমি জানি যে, অস্বীকারকারী ইলমে কালামবিদদের কাছে কিছু সংশয় রয়েছে, কিন্তু ফতোয়ার মধ্যে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে কেউ যদি সেগুলো পরীক্ষা করে দেখে এবং তাদের উত্থাপিত সংশয়গুলো খণ্ডন করতে চায়, তবে তা অত্যন্ত সহজ।

আর যখন এই মতবাদের মূলভিত্তি —অর্থাৎ গুণাবলি অস্বীকার ও অপব্যাখ্যা— মুশরিক, সাবেয়ী ও ইহুদীদের শিষ্যদের থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, তখন একজন মুমিনের মন, এমনকি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মন কীভাবে সেইসব অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ অনুসরণ করতে সায় দেয়? এবং নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাগণ—যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—তাঁদের পথ পরিত্যাগ করতে পারে?]।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح الحموية لابن تيمية - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الحموية لابن تيمية

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 13 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা - আল-রাজহী   (আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-রাজহী)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা

লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-রাজহী

গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইট দ্বারা শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলিত

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৩টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح الحموية لابن تيمية ‌‌[3]

يعتقد أهل السنة والجماعة أنه يجب الإيمان بصفات الله عز وجل التي وصف بها نفسه ووصفه بها رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تأويل ولا تشبيه ولا تعطيل، وسبب ضلال بعض الفرق في باب الصفات هو قياسهم ما يكون للخلق على ما يكون للخالق، فأهل التأويل والتعطيل نفوا عن الله صفة الضحك أو اليد أو الوجه مثلاً؛ لاعتقادهم أنهم إن أثبتوا ذلك له فقد شبهوه بالمخلوق، والحق أن هذه الصفات ثابتة لله كما يليق بجلاله وكماله لا كما هي في المخلوقين.
ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাবিয়্যাহর ব্যাখ্যা [৩]

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহর ঐ সকল গুণাবলির ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব যেগুলোর মাধ্যমে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন, কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, সাদৃশ্য প্রদান বা অস্বীকার করা ব্যতিরেকে। আর গুণাবলির অধ্যায়ে কিছু দলের পথভ্রষ্টতার কারণ হলো তারা স্রষ্টার জন্য যা প্রযোজ্য তাকে সৃষ্টির গুণের সাথে তুলনা করেছে। তাই অপব্যাখ্যাকারী ও অস্বীকারকারীরা উদাহরণস্বরূপ আল্লাহর হাসি, আল্লাহর হাত কিংবা আল্লাহর চেহারার মতো গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে; তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে, তারা যদি আল্লাহর জন্য এগুলো সাব্যস্ত করে তবে তারা তাঁকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করল। অথচ সত্য হলো এই যে, এই গুণাবলি আল্লাহর জন্য সেভাবেই সাব্যস্ত যেভাবে তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার সাথে সংগতিপূর্ণ, সৃষ্টির গুণাবলি যেভাবে বিদ্যমান থাকে সেভাবে নয়।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌القاعدة الصحيحة في باب الأسماء والصفات

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فصل: ثم القول الشامل في جميع هذا الباب: أن يوصف الله بما وصف به نفسه، أو بما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وبما وصفه به السابقون الأولون، لا يتجاوز القرآن والحديث].

الشيخ: هذه هي القاعدة الأصل في باب الأسماء والصفات، وهي أن يوصف الله بما وصف به نفسه، أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وينفى عنه ما نفاه عن نفسه، ونفاه عنه رسوله صلى الله عليه وسلم.

فكل ما لم يذكر في كتاب الله أو في سنة رسوله من الأسماء والصفات لا يجوز إثباتها لله.

وقد سار السلف الصالح على هذا المنهج، وعلى هذه القاعدة في الأسماء والصفات، وهي أنه لا يثبت لله إلا ما أثبته لنفسه، أو أثبته له رسوله، وينفى عنه ما نفاه عن نفسه، أو نفاه عنه رسوله.

وأما الأشياء والألفاظ التي لم ترد في في الكتاب أو السنة لا نفياً ولا إثباتاً فيتوقف عندها، كالجسم والحيز والعرض والجهة، وما أشبه ذلك، فإن هذه لا تثبت ولا تنفى، ومن أطلقها نفياً أو إثباتاً فيستفصل ويسأل فإذا أراد معنى حق قبل، ويرد اللفظ، فإذا أطلق أن الله جسم، نقول: ما هو المراد بالجسم؟ فإن قال: إن المراد به حسن الصفات، قلنا: هذا حق، لكن لا تقل: إنه جسم، فإنه لم يرد في الكتاب والسنة، وإذا قال: ليس بجسم، قلنا: ما مرادك؟ فإن قال: مرادي أنه منزه عن النقائص والعيوب، قلنا: هذا حق، لكن لا تقل ليس بجسم.

وإذا قال: مرادي أنه ليس بجسم، وليس له صفات، قلنا: هذا باطل، اللفظ باطل والمعنى باطل وهكذا.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [قال الإمام أحمد رضي الله عنه: لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه، أو بما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، لا يتجاوز القرآن والحديث.

ومذهب السلف أنهم يصفون الله بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل].

الشيخ: أي: لا يحرفون اللفظ ولا المعنى، ولا يعطلون الصفات أو ينفونها، ولا يكيفون بأن يقولوا: إن الله تعالى على كيفية كذا، ولا يمثلونه بشيء من مخلوقاته، كما قال الله سبحانه عن نفسه: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11].

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ونعلم أنما وصف الله به من ذلك فهو حق، ليس فيه لغز ولا أحاجي، بل معناه يعرف من حيث يعرف مقصود المتكلم بكلامه، لاسيما إذا كان المتكلم أعلم الخلق بما يقول، وأفصح الخلق في بيان العلم، وأنصح الخلق في البيان والتعريف والدلالة والإرشاد].

الشيخ: وهذا هو الرسول عليه الصلاة والسلام، فهو أفصح الناس، وأما المبتدعة الذين يقولون: إن الرسول أراد معنى آخر، فهؤلاء يؤولون كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم ويحملونه على غير وجهه، فيقولون: إن الرسول أراد معنى آخر، فأراد من الناس أن يفهموا قوله: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54] بمعنى آخر، والجواب عليهم بأن الرسول هو أفصح الخلق، فلو أراد المعنى الآخر لبين أن معنى استوى: استولى، أما قولكم أن الرسول أراد من الناس أن يتفهموا ويتأملوا ويخترعوا معاني أخرى، وأنه وكلهم إلى عقولهم فهو من أبطل الباطل، وكذلك من قال: أنا لا أعرف المعنى وإنما أفوض المعنى إلى الله، فقوله باطل أيضاً؛ لأن الله قال: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} [القمر:17]، {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} [النساء:82]، ولم يقل: إلا آيات الصفات لا تتدبروها، فالمعاني معروفة، والألفاظ معروفة، وإنما الكيفية هي التي تفوض إلى الله تعالى.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وهو سبحانه مع ذلك ليس كمثله شيء لا في نفسه المقدسة المذكورة بأسمائه وصفاته، ولا في أفعاله، فكما يتيقن أن الله سبحانه له ذات حقيقة، وله أفعال حقيقة: فكذلك له صفات حقيقة، وهو ليس كمثله شيء لا في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله، وكل ما أوجب نقصاً أو حدوثاً فإن الله منزه عنه حقيقة، فإنه سبحانه مستحق للكمال الذي لا غاية فوقه، ويمتنع عليه الحدوث لامتناع العدم عليه، واستلزام الحدوث سابقة العدم؛ ولافتقار المحدث إلى محدث، ولوجوب وجوده بنفسه سبحانه وتعالى.

ومذهب السلف بين التعطيل وبين التمثيل، فلا يمثلون صفات الله بصفات خلقه، كما لا يمثلون ذاته بذات خلقه، ولا ينفون عنه ما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، فيعطلون أسماءه الحسنى وصفاته العلى ويحرفون الكلم عن مواضعه، ويلحدون في أسماء الله وآياته.

وكل واحد من فريقي التعطيل والتمثيل فهو جامع بين التعطيل والتمثيل، أما المعطلون فإنهم لم يفهموا من أسماء الله وصفاته إلا ما هو اللائق بالمخلوق، ثم شرعوا في نفي تلك المفهومات، فقد جمعوا بين والتمثيل والتعطيل، فمثلوا أولاً وعطلوا آخراً، وهذا تشبيه وتمثيل منهم للمفهوم من أسمائه وصفاته بالمفهوم من أسماء خلقه وصفاتهم، وتعطيل لما يستحقه هو سبحانه من الأسماء والصفات اللائقة بالله سبحانه وتعالى.

فإنه إذا قال القائل: لو كان الله فوق العرش للزم إما أن يكون أكبر من العرش أو أصغر أو مساوياً، وكل ذلك محال ونحو ذلك من الكلام، فإنه لم يفهم من كون الله على العرش إلا ما يثبت لأي جسم كان على أي جسم كان، وهذا اللازم تابع لهذا المفهوم.

أما استواء يليق بجلال الله ويختص به فلا يلزمه شيء من اللوازم الباطلة التي يجب نفيها، وصار هذا مثل قول الممثل: إذا كان للعالم صانع، فإما أن يكون جوهراً أو عرضاً، وكلاهما محال؛ إذ لا يعقل موجود إلا هذان، أو قوله: إذا كان مستوياً على العرش وهو مماثل لاستواء الإنسان على السرير أو الفلك؛ إذ لا يعلم الاستواء إلا هكذا فإن كليهما مثل وكليهما عطل حقيقة ما وصف الله به نفسه، وامتاز الأول بتعطيل كل مسمى للاستواء الحقيقي، وامتاز الثاني بإثبات استواء هو من خصائص المخلوقين.

والقول الفاصل: هو ما عليه الأمة الوسط من أن الله مستو على عرشه استواء يليق بجلاله، ويختص به، فكما أنه موصوف بأنه بكل شيء عليم، وعلى كل شيء قدير، وأنه سميع بصير ونحو ذلك، ولا يجوز أن يثبت للعلم والقدرة خصائص الأعراض التي كعلم المخلوقين وقدرتهم، فكذلك هو سبحانه فوق العرش، ولا يثبت لفوقيته خصائص فوقية المخلوق على المخلوق وملزوماتها.

واعلم أنه ليس في العقل الصريح ولا النقل الصحيح ما يوجب مخالفة الطريق السلفية أصلاً لكن هذا الموضع لا يتسع للجواب عن الشبهات الواردة على الحق، فمن كان في قلبه شبهة وأحب حلها فذلك سهل يسير، ثم المخالفون للكتاب والسنة وسلف الأمة من المتأولين لهذا الباب في أمر مريج].

الشيخ: قوله: في أمر مريج، أي: في أمر مختلط، أما طريقة السلف فهي واضحة بينة لا إشكال فيها ولا غموض وهي: إثبات الأسماء والصفات لله تعالى على ما يليق بجلاله وعظمته، وأهل البدع في ذلك في أمر مريج مختلط فهم متناقضون، غير متفقين على شيء.
নাম ও গুণাবলীর অধ্যায়ে সঠিক মূলনীতি

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [পরিচ্ছেদ: অতঃপর এই বিষয়ের সামগ্রিক কথা হলো: আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করা হবে যার মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যা দিয়ে গুণান্বিত করেছেন এবং প্রথম যুগের অগ্রবর্তীগণ (সালাফ) তাঁকে যা দিয়ে গুণান্বিত করেছেন; এক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসকে অতিক্রম করা যাবে না।]

শায়খ বলেন: এটিই হলো নাম ও গুণাবলী বিষয়ক অধ্যায়ের মৌলিক ভিত্তি। আর তা হলো, আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করা হবে যার মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন। আর তাঁর থেকে সেই সব বিষয়কে অস্বীকার বা নেতিবাচক সাব্যস্ত করা হবে যা তিনি স্বয়ং নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে অস্বীকার করেছেন।

সুতরাং আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে নাম ও গুণাবলীর মধ্য থেকে যা বর্ণিত হয়নি, আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করা জায়েয নয়।

সালাফে সালেহীন নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি এবং এই মূলনীতির ওপরই চলেছেন। আর তা হলো, আল্লাহর জন্য কেবল তা-ই সাব্যস্ত করা হবে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আর তাঁর থেকে তা-ই অস্বীকার করা হবে যা তিনি নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর থেকে অস্বীকার করেছেন।

আর যেসব বিষয় বা শব্দ কুরআন ও সুন্নাহতে নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনোভাবেই বর্ণিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে চুপ থাকতে হবে; যেমন: দেহ (জিসম), স্থান (হাইজ), আপতিক বৈশিষ্ট্য (আরাজ), দিক (জিহাহ) এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ। এগুলো সাব্যস্তও করা হবে না আবার অস্বীকারও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি এগুলো ঢালাওভাবে অস্বীকার বা সাব্যস্ত করবে, তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করতে হবে। যদি সে এর দ্বারা সঠিক অর্থ উদ্দেশ্য করে তবে তার অর্থ গ্রহণ করা হবে কিন্তু শব্দটিকে প্রত্যাখ্যান করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ ঢালাওভাবে বলে যে আল্লাহ একটি 'দেহ' (জিসম), তবে আমরা বলব: দেহ বলতে আপনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন? যদি সে বলে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর গুণাবলী সুন্দর হওয়া; তবে আমরা বলব: এই অর্থ সত্য, কিন্তু বলবেন না যে তিনি 'দেহ', কারণ এটি কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি। আর যদি সে বলে: তিনি 'দেহ' নন; তবে আমরা বলব: আপনার উদ্দেশ্য কী? যদি সে বলে: আমার উদ্দেশ্য হলো তিনি সকল ত্রুটি ও বিচ্যুতি থেকে পবিত্র; তবে আমরা বলব: এটি সত্য, কিন্তু বলবেন না যে তিনি 'দেহ' নন।

আর যদি সে বলে: আমার উদ্দেশ্য হলো তিনি দেহ নন এবং তাঁর কোনো গুণাবলীও নেই; তবে আমরা বলব: এটি বাতিল; শব্দটিও বাতিল এবং অর্থও বাতিল—এভাবেই সব ক্ষেত্রে বুঝতে হবে।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [ইমাম আহমদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহকে কেবল সেই সব গুণেই গুণান্বিত করা যাবে যার মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; এক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসকে অতিক্রম করা যাবে না।

সালাফদের মাযহাব বা পথ হলো, তাঁরা আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করেন যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং যা দিয়ে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তা'তিল), ধরণ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই।]

শায়খ বলেন: অর্থাৎ, তাঁরা শব্দের বা অর্থের বিকৃতি ঘটান না, গুণাবলীকে অস্বীকার বা বাতিল করেন না, এবং 'আল্লাহর গুণাবলীর ধরণ এমন বা তেমন' বলে ধরণ নির্ধারণ করেন না। আর তাঁরা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথে তুলনা করেন না, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা আশ-শূরা: ১১]

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আমরা জানি যে, আল্লাহ নিজের যে গুণ বর্ণনা করেছেন তা সত্য, এতে কোনো রহস্য বা ধাঁধা নেই। বরং এর অর্থ সেভাবেই বোঝা যায় যেভাবে বক্তার কথার উদ্দেশ্য বোঝা যায়। বিশেষ করে যখন বক্তা (আল্লাহ) তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে বেশি অবগত, ইলম বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জল এবং বর্ণনা, পরিচয় প্রদান, দিকনির্দেশনা ও উপদেশের ক্ষেত্রে সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে বড় কল্যাণকামী।]

শায়খ বলেন: আর ইনিই হলেন রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), যিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী। আর সেই সব বিদআতিরা যারা বলে: রাসূল এর দ্বারা অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন; তারা মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীকে অপব্যাখ্যা করে এবং ভুল পথে চালিত করে। তারা বলে: রাসূল অন্য অর্থ উদ্দেশ্য করেছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন" [সূরা আল-আরাফ: ৫৪], তারা চায় মানুষ এর অন্য কোনো অর্থ বুঝুক। তাদের উত্তর হলো, রাসূল তো সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী; যদি তিনি অন্য কোনো অর্থ উদ্দেশ্য করতেন তবে অবশ্যই স্পষ্ট করে দিতেন যে 'উঠা' (ইস্তিওয়া) মানে 'দখল করা' (ইস্তাউলা)। কিন্তু তোমাদের এই দাবি যে—রাসূল চেয়েছিলেন মানুষ নিজেরা চিন্তা করে অন্য অর্থ আবিষ্কার করুক এবং তিনি বিষয়টি তাদের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন—তা সর্বৈব মিথ্যা। একইভাবে যারা বলে: "আমি অর্থ জানি না, বরং আমি অর্থ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করি (তাফবীয করি)", তাদের কথাটিও বাতিল। কারণ আল্লাহ বলেছেন: "আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" [সূরা আল-কামার: ১৭], "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না?" [সূরা আন-নিসা: ৮২]। আল্লাহ এমনটি বলেননি যে গুণাবলী সম্পর্কিত আয়াতগুলো বাদে বাকিগুলো নিয়ে গবেষণা করো। সুতরাং অর্থসমূহ জানা এবং শব্দসমূহও জানা, কেবল ধরণটিই আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা হবে।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর পাশাপাশি এমন যে, কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; না তাঁর পবিত্র সত্তায় যা তাঁর নাম ও গুণাবলীর সাথে উল্লিখিত হয়েছে, না তাঁর কার্যাবলীতে। সুতরাং যেভাবে এটি সুনিশ্চিত যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একটি প্রকৃত সত্তা আছে এবং তাঁর প্রকৃত কার্যাবলী আছে; ঠিক তেমনি তাঁর প্রকৃত গুণাবলীও আছে। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলীতে, আর না তাঁর কার্যাবলীতে। যা কিছু ত্রুটি বা নতুন করে সৃষ্টি হওয়া (হুদূস) নির্দেশ করে, আল্লাহ প্রকৃত অর্থেই তা থেকে পবিত্র। কারণ তিনি এমন পূর্ণতার অধিকারী যার উপরে কোনো সীমা নেই। আর তাঁর জন্য নতুন করে সৃষ্টি হওয়া (হুদূস) অসম্ভব, কারণ তাঁর অস্তিত্বহীন হওয়া অসম্ভব। আর নতুন করে সৃষ্টির জন্য তার পূর্বে অস্তিত্বহীনতা প্রয়োজন; নতুন সৃষ্টির জন্য একজন স্রষ্টা বা অস্তিত্বদানকারীর মুখাপেক্ষিতা প্রয়োজন; অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অনাদি ও অনন্তকাল বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।

সালাফদের মাযহাব হলো অস্বীকার (তা'তিল) এবং সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল)-এর মাঝামাঝি। তাঁরা আল্লাহর গুণাবলীকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলীর সাথে তুলনা করেন না, যেমন তাঁরা তাঁর সত্তাকে সৃষ্টির সত্তার সাথে তুলনা করেন না। আবার আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন বা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তা তাঁরা অস্বীকারও করেন না। কারণ তেমনটি করলে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীকে অকার্যকর করা হবে, শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করা হবে এবং আল্লাহর নাম ও আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে সত্যত্যাগ (ইলহাদ) করা হবে।

অস্বীকারকারী (মুয়াত্তিলাহ) এবং সাদৃশ্য প্রদানকারী (মুমাformat)-উভয় গোষ্ঠীই মূলত অস্বীকার ও সাদৃশ্য প্রদানের সমন্বয় ঘটায়। অস্বীকারকারীদের অবস্থা হলো, তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী থেকে সৃষ্টির জন্য যা প্রযোজ্য কেবল তা-ই বোঝে, এরপর তারা সেই ভুল ধারণা থেকে তা অস্বীকার করতে শুরু করে। ফলে তারা প্রথমে সাদৃশ্য প্রদান করল এবং শেষে অস্বীকার করল। এটি তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অর্থকে সৃষ্টির নাম ও গুণাবলীর অর্থের সাথে তুলনা ও সাদৃশ্য প্রদান; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শানে মানানসই নাম ও গুণাবলী যা তাঁর প্রাপ্য, তা অস্বীকার করা।

যদি কেউ বলে: আল্লাহ যদি আরশের উপরে থাকতেন, তবে হয় তিনি আরশের চেয়ে বড় হতেন, না হয় ছোট হতেন, অথবা সমান হতেন; আর এর সবটুকুই অসম্ভব—এই জাতীয় কথাবার্তা। তবে সে মূলত আল্লাহর আরশের ওপর ওঠার বিষয়টি থেকে কেবল তা-ই বুঝেছে যা একটি জড় বস্তু অন্য একটি জড় বস্তুর ওপর থাকলে ঘটে থাকে। এই ভ্রান্ত সিদ্ধান্তটি এসেছে তার ভ্রান্ত ধারণা থেকেই।

কিন্তু এমনভাবে 'উঠা' (ইস্তিওয়া) যা আল্লাহর মর্যাদার সাথে মানানসই এবং তাঁর জন্যই খাস, তাতে এমন কোনো বাতিল সিদ্ধান্ত লাযিম বা অনিবার্য হয় না যা অস্বীকার করা ওয়াজিব। এই ব্যক্তির অবস্থা সেই সাদৃশ্য প্রদানকারীর মতো হয়ে গেল যে বলে: যদি মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা থাকেন, তবে হয় তিনি কোনো বস্তু (জওহর) হবেন অথবা কোনো গুণ (আরাজ) হবেন, আর উভয়ই অসম্ভব; কারণ এই দুটি ছাড়া আর কোনো অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। অথবা তার কথা: যদি তিনি আরশের ওপর উঠে থাকেন, তবে তা হবে মানুষের খাটের ওপর বা নৌকার ওপর বসার মতো; কারণ 'উঠা' বলতে কেবল এটাই জানা আছে। ফলে তারা উভয়ই তুলনা করল এবং আল্লাহ নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন তার প্রকৃত অর্থকে অস্বীকার করল। প্রথম পক্ষটি (অস্বীকারকারী) প্রকৃত 'উঠা'র নামগন্ধ অস্বীকার করার মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য দেখাল, আর দ্বিতীয় পক্ষটি (সাদৃশ্য প্রদানকারী) এমন এক 'উঠা' সাব্যস্ত করার মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য দেখাল যা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য।

চূড়ান্ত কথা হলো যা মধ্যপন্থী উম্মত (সালাফ) গ্রহণ করেছেন: আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন এমনভাবে যা তাঁর মর্যাদার সাথে মানানসই এবং তাঁর জন্যই খাস। যেমনভাবে তিনি এই গুণে গুণান্বিত যে তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ, সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ইত্যাদি; এবং আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে সৃষ্টির জ্ঞান ও ক্ষমতার মতো আপতিক বৈশিষ্ট্যের সীমাবদ্ধতা সাব্যস্ত করা জায়েয নয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরশের উপরে আছেন, কিন্তু তাঁর এই উপরে থাকার ক্ষেত্রে সৃষ্টির উপরে সৃষ্টির থাকার বৈশিষ্ট্য ও আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ সাব্যস্ত করা যাবে না।

জেনে রাখুন, সুস্পষ্ট বিবেক কিংবা সঠিক বর্ণনার মধ্যে এমন কিছুই নেই যা সালাফদের অনুসৃত পথের বিরোধিতা করাকে আবশ্যক করে। তবে এই স্থানটি সত্যের ওপর আসা সংশয়গুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। সুতরাং যার অন্তরে কোনো সংশয় থাকে এবং সে তার সমাধান চায়, তবে তা অত্যন্ত সহজ ও সরল। আর যারা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের বিরোধিতা করে এই অধ্যায়ে অপব্যাখ্যা (তাবিল) করে, তারা এক বিভ্রান্তিকর ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিমজ্জিত।]

শায়খ বলেন: তাঁর কথা: "বিভ্রান্তিকর ও বিশৃঙ্খল অবস্থায়", অর্থাৎ এক এলোমেলো অবস্থায়। আর সালাফদের পথ অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার, তাতে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা নেই। আর তা হলো: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীকে তাঁর মর্যাদা ও মহিমা অনুযায়ী সাব্যস্ত করা। আর বিদআতিরা এ বিষয়ে এক বিভ্রান্তিকর ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে; তারা স্ববিরোধী এবং কোনো একটি বিষয়ে তারা একমত নয়।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الاعتماد على العقل سبب من أسباب الضلال في باب صفات الله

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فإن من ينكر الرؤية يزعم أن العقل يحيلها وأنه مضطر فيها إلى التأويل، ومن يحيل أن لله علماً وقدرة وأن يكون كلامه غير مخلوق ونحو ذلك يقول: إن العقل أحال ذلك فاضطر إلى التأويل].

الشيخ: أي: أن كل طائفة تدعي أن عقلها اضطرها إلى التأويل، فالذي ينكر رؤية الله يوم القيامة يقول: العقل يحيل أن يرى الله يوم القيامة؛ لأن الرؤية لا تكون إلا لجسم متحيز، والله ليس جسماً ولا متحيزاً، فإذا كان كذلك فيستحيل أن يرى، فنفوا الرؤية.

والذين يقولون: ليس لله علم ولا قدرة ولا سمع ولا بصر، قالوا: يستحيل أن نصف الله بهذه الصفات؛ لأن هذا فيه تشبيه بالمخلوقات، فكل طائفة تدعي أن عقلها أحال ذلك، وهم في أمر مختلط، لا يضبطهم ضابط؛ لأنهم رجعوا إلى العقول والعقول متباينة متضادة متضاربة.

على أن الله سبحانه وتعالى لم يحلهم إلى العقول، وإنما أنزل كتابه، ثم أنزل على نبيه الوحي الثاني وهي السنة؛ ليرجع الناس إلى الكتاب والسنة ويعملوا بهما؛ لئلا يرجعوا إلى عقولهم، وزبالة أذهانهم، وحاسة أفكارهم الغير منضبطة فينحرفوا عن الجادة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [بل من ينكر حقيقة حشر الأجساد والأكل والشرب الحقيقي في الجنة: يزعم أن العقل أحال ذلك وأنه مضطر إلى التأويل].

الشيخ: حتى الكفرة ممن ينكر البعث وحشر الأجساد، يقولون: العقل يحيل هذا، ومن هؤلاء الكفرة ابن سينا وغيره، فقد أنكر أن الأجساد تعاد، بل قال: كيف تعاد الأجساد بعد أن بليت وصارت تراباً، وزعم أن ذلك مستحيل، وقال: إنما الذي يعاد الروح، ومثل هذا الباب إذا فتح ضاع الدين.

وكذلك الذين ينفون الفوقية والعلو يقولون: يستحيل أن يكون الله فوق العرش؛ لأنه إذا صار فوق العرش، صار متحيزاً ومحدوداً وجسماً، وهذا تنقص، والله أعلى من أن يكون جسماً، وأن يكون محدوداً، فإذاً يستحيل أن يكون فوق العرش.

ولو سئلوا: أين يكون؟ أجابوا فقال: بعضهم: يكون في كل مكان.

وقال آخرون: ننفي النقيضين فنقول: لا داخل العالم ولا خارجه، ولا فوقه ولا تحته، ولا مباين له ولا محايد له، ولا متصل به ولا منفصل عنه.

وليت شعري ما يكون بزعمكم وإن لم يكن العدم، وهذا أعظم من سابقيه، وهؤلاء قوم قد استحوذ عليهم الشيطان، وأوصلهم إلى هذه الحالة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ويكفيك دليلاً على فساد قول هؤلاء: أن ليس لواحد منهم قاعدة مستمرة فيما يحيله العقل، بل منهم من يزعم أن العقل جوز أو أوجب ما يدعي الآخر أن العقل أحاله].

الشيخ: يريد أصحاب العقول المتضاربة، فهذا يدعي أن العقل يجيز هذا، والآخر يدعي أن العقل يمنع هذا، وهو شيء واحد، بعضهم يدعي أن العقل أجازه وبعضهم يدعي أن العقل منعه، فالآراء متضاربة، هم يقولون: إن الله أحالنا إلى العقول، فأي عقل نرجع إليه؟! إن رجعنا إلى عقول المشبهة قالوا: إن الله له صفات مثل صفات المخلوقين، وإن رجعنا إلى عقول المعطلة، قالوا: إن الله ليس له صفات، فإلى أي عقل نرجع؟ كفاهم وصفاً فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَرِيجٍ مضطرب متضارب، فبعضهم يزعم أن العقل يوجب إثبات الصفات مثل صفات المخلوقين، وبعضهم يقول: إن العقل يحيل أن تثبت صفات الله.
আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে বিবেকের ওপর নির্ভর করা পথভ্রষ্টতার অন্যতম কারণ

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [নিশ্চয়ই যারা (আখেরাতে আল্লাহকে) দেখাকে অস্বীকার করে, তারা দাবি করে যে বিবেক একে অসম্ভব মনে করে এবং তারা এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা (তাওয়িল) করতে বাধ্য। আর যারা আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতা থাকাকে এবং তাঁর কালাম মাখলুক না হওয়াকে অসম্ভব মনে করে, তারা বলে: বিবেক একে অসম্ভব সাব্যস্ত করেছে, তাই তারা ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছে।]

শায়খ বলেন: অর্থাৎ, প্রতিটি দলই দাবি করে যে তাদের বিবেক তাদের ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করেছে। সুতরাং যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখাকে অস্বীকার করে তারা বলে: বিবেক কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখা অসম্ভব মনে করে; কারণ দর্শন কেবল স্থান দখলকারী বস্তুর ক্ষেত্রেই হতে পারে, অথচ আল্লাহ কোনো বস্তু নন এবং তিনি স্থান দখলকারীও নন। সুতরাং যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তাঁকে দেখা অসম্ভব; ফলে তারা দেখাকে অস্বীকার করল।

আর যারা বলে: আল্লাহর কোনো জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ বা দৃষ্টি নেই; তারা বলে: আল্লাহকে এই গুণাবলির মাধ্যমে বিশেষায়িত করা অসম্ভব; কারণ এতে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়। সুতরাং প্রতিটি দলই দাবি করে যে তাদের বিবেক একে অসম্ভব সাব্যস্ত করেছে। তারা এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, কোনো নীতিমালা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; কারণ তারা বিবেকের দিকে ফিরে গেছে, অথচ বিবেকসমূহ পরস্পর ভিন্ন, বিরোধী এবং সাংঘর্ষিক।

অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের বিবেকের দিকে সোপর্দ করেননি, বরং তিনি তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন, অতঃপর তাঁর নবীর ওপর দ্বিতীয় ওহী তথা সুন্নাহ নাযিল করেছেন; যাতে মানুষ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসে এবং সে অনুযায়ী আমল করে; যাতে তারা তাদের বিবেক, মস্তিস্কের আবর্জনা এবং অনিয়ন্ত্রিত চিন্তার অনুসারী হয়ে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না হয়।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বরং যারা দেহের পুনরুত্থান এবং জান্নাতে প্রকৃত পানাহারের বিষয়টি অস্বীকার করে, তারাও দাবি করে যে বিবেক একে অসম্ভব মনে করে এবং তারা ব্যাখ্যা করতে বাধ্য।]

শায়খ বলেন: এমনকি পুনরুত্থান ও দেহের হাশর অস্বীকারকারী কাফেররাও বলে: বিবেক একে অসম্ভব মনে করে। এই কাফেরদের মধ্যে ইবনে সিনা ও অন্যান্যরা রয়েছে। সে দেহের পুনরাগমনকে অস্বীকার করেছে, বরং বলেছে: দেহ জরাজীর্ণ হয়ে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর কীভাবে ফিরে আসবে? সে দাবি করেছে যে এটি অসম্ভব। সে বলেছে: কেবল আত্মা ফিরে আসবে। এই জাতীয় দরজা যদি খুলে দেওয়া হয়, তবে দ্বীন ধ্বংস হয়ে যাবে।

তদ্রূপ যারা আল্লাহর উপরে থাকা (ফাওকিয়্যাহ) এবং উচ্চতাকে অস্বীকার করে তারা বলে: আল্লাহর আরশের উপরে হওয়া অসম্ভব; কারণ তিনি যদি আরশের উপরে হন, তবে তিনি স্থান গ্রহণকারী, সীমাবদ্ধ এবং একটি দেহে পরিণত হবেন—আর এটি একটি ত্রুটি। আল্লাহ দেহ বা সীমাবদ্ধ হওয়া থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, সুতরাং তাঁর আরশের উপরে হওয়া অসম্ভব।

যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয়: তবে তিনি কোথায়? তখন তাদের কেউ উত্তর দেয়: তিনি সব জায়গায় আছেন।

অন্যেরা বলে: আমরা পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কেই অস্বীকার করি। তাই আমরা বলি: তিনি জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন; উপরেও নন, নিচেও নন; জগত থেকে আলাদাও নন, জগতের সাথে লেগেও নন; জগতের সাথে যুক্তও নন, বিযুক্তও নন।

হায় আফসোস! তোমাদের দাবি অনুযায়ী তবে তাঁর অস্তিত্ব কী, যদি তা অনস্তিত্ব না হয়? এটি পূর্ববর্তীদের চেয়েও ভয়াবহ। এরা এমন এক কওম যাদের ওপর শয়তান সওয়ার হয়েছে এবং তাদের এই অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এদের কথার অসারতার প্রমাণের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, বিবেক যা অসম্ভব সাব্যস্ত করে সে বিষয়ে তাদের কারও কাছে কোনো স্থায়ী নীতিমালা নেই। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে, বিবেক এমন কিছুকে জায়েজ বা ওয়াজিব করে যা অন্যজন দাবি করে যে বিবেক একে অসম্ভব সাব্যস্ত করেছে।]

শায়খ বলেন: তিনি পরস্পরবিরোধী বুদ্ধিমানদের কথা বুঝিয়েছেন। কেউ দাবি করে যে বিবেক একে বৈধ করে, আবার অন্যজন দাবি করে যে বিবেক একে নিষেধ করে—অথচ বিষয়টি একই। কেউ দাবি করে বিবেক একে অনুমতি দিয়েছে, কেউ দাবি করে বিবেক একে বাধা দিয়েছে। ফলে মতামতে চরম বৈপরীত্য দেখা দেয়। তারা বলে: আল্লাহ আমাদের বিবেকের দিকে সোপর্দ করেছেন, এখন আমরা কোন বিবেকের দিকে ফিরব?! যদি আমরা মুসাব্বিহাদের (সাদৃশ্যদানকারী) বিবেকের দিকে ফিরি, তবে তারা বলে: আল্লাহর গুণাবলি মাখলুকের গুণাবলির মতো। আর যদি মুআত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) বিবেকের দিকে ফিরি, তবে তারা বলে: আল্লাহর কোনো গুণ নেই। তাহলে আমরা কোন বিবেকের দিকে ফিরব? তাদের বর্ণনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তারা এক বিশৃঙ্খল ও সাংঘর্ষিক অবস্থায় রয়েছে। তাদের কেউ দাবি করে যে বিবেক মাখলুকের গুণাবলির মতো আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা আবশ্যক করে, আবার কেউ বলে বিবেক আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করাকে অসম্ভব মনে করে।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الرد على من احتج بالعقل في نفي الصفات

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فيا ليت شعري بأي عقل يوزن الكتاب والسنة؟! فرضي الله عن الإمام مالك بن أنس حيث قال: أوكلما جاءنا رجل أجدل من رجل تركنا ما جاء به جبريل إلى محمد صلى الله عليه وسلم لجدل هؤلاء، وكل من هؤلاء مخصوم بما خصم به الآخر، وهو من وجوه: أحدها: بيان أن العقل لا يحيل ذلك.

الثاني: أن النصوص الواردة لا تحتمل التأويل.

قوله: أجدل يعني: أشد جدلاً، وأكثر جدلاً، والمعنى: كل ما جاءنا رجل جدلي نترك الكتاب والسنة لجدله، ويأتي واحد آخر أجدل منه أشد جدل وهكذا].

الشيخ: أما دعوى أن العقل يحيل ذلك فنحن نبين أن العقل لا يحيل ذلك، إذ أي إحالة في كون الله فوق العرش؟ بل العقل يوجب هذا، فالله تعالى فوق مخلوقاته سبحانه وتعالى، فإنه بعد أن تنتهي المخلوقات التي سقفها عرش الرحمن، فالله فوق العرش، مطلع على عباده محيط بهم، تنفذ فيهم قدرته ومشيئته، يعلم أحوالهم ويراهم، وهو مع كل إنسان بعلمه وإحاطته واطلاعه، وهو مع المؤمنين بنصره وعونه وتأييده، وهو فوق العرش سبحانه وتعالى.

فأي إحالة في هذا؟! قال المؤلف رحمه الله تعالى: [الثالث: أن عامة هذه الأمور قد علم أن الرسول صلى الله عليه وسلم جاء بها بالاضطرار، كما علم أنه جاء بالصلوات الخمس وصوم شهر رمضان، فالتأويل الذي يحيلها عن هذا، بمنزلة تأويلات القرامطة والباطنية في الحج والصوم، وسائر ما جاءت به النبوات].

الشيخ: أي: لو فتح باب التأويل، فإن القرامطة والباطنية سيتسلطون على الجهمية والمعتزلة، فالجهمية والمعتزلة قالوا: ننفي صفات الله: العلم والسمع والبصر، ولا نقول: إنه يسمى بهذه الأسماء، فإذا قيل لهم: لماذا تنفوها؟ قالوا: لأن هذا يحيله العقل، فإذا سئلوا ما المراد؟ قالوا: المراد المعاني المجازية، فمعنى استوى: استولى، فإذا قالوا ذلك تسلط عليهم القرامطة والباطنية، فقالوا: ليس هناك صلاة ولا صوم ولا زكاة ولا حج ولا بعث، وقالوا: الصلاة معناه أسماء خمسة: علي وفاطمة وحسن وحسين ومحمد، فهذه الصلوات الخمس.

والصوم: كتمان سر المشايخ، والحج: السفر إلى الشيوخ، ويزعمون أن لا بعث للأجساد، وإنما بعث للأرواح، فقال لهم الجهمية والمعتزلة: لماذا تنكرون ذلك، فإن هذا كفر: لأنكم بدلتم الدين، وأولتم نصوصاً صريحة لا يمكن أن تؤول، فاحتجوا عليهم وقالوا: أنتم أولتم الاستواء والعلم والرحمة فما الفرق بين هذا وهذا؟ وإذا كان هذا التأويل يجوز لكم فمن الذي يمنع التأويل هنا؟ وبذلك تسلطوا عليهم، وفتحوا باب الشر لهم، أي: أن المعتزلة والجهمية فتحوا باباً للقرامطة والباطنية، فأولوا الصلاة والزكاة والصوم والحج والبعث والجنة النار، وقالوا: كل هذه ليست على ظاهرها.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [الرابع: أن يبين أن العقل الصريح يوافق ما جاءت به النصوص؛ وإن كان في النصوص من التفصيل ما يعجز العقل عن درك تفصيلة وإنما عقله مجملاً إلى غير ذلك من الوجوه].

الشيخ: وذلك؛ لأن العقل الصحيح يوافق النقل الصريح، والشريعة ما جاءت بشيء ينافي العقول الصحيحة، وإن جاءت بما تتحير فيه العقول، ولا تدركه على استقلاله، فالشريعة لم تأت بشيء تحيله العقول، وإنما جاءت بشيء تتحير فيه العقول.

وهذا هو معنى قول العلماء: الشريعة جاءت بمحارات العقول لا بمحالاتها، فالعقل الصريح يوافق النقل الصريح، ولهذا ألف شيخ الإسلام رحمه الله كتاباً سماه: موافقة النقل الصحيح للعقل الصريح، وهو كتاب عظيم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [على أن الأساطين من هؤلاء والفحول معترفون بأن العقل لا سبيل له إلى اليقين في عامة المطالب الإلهية].

الشيخ: إذ الأساطين والفحول والعقلاء من الفلاسفة القدامى وغيرهم معترفون بأن العقل لا يمكن أن يدرك تفاصيل ما جاءت به الشريعة، وكلهم يعظم الشرائع والإلهيات، ويقولون: إن الرسل جاءت بالآلاهيات، ونحن اختصاصنا بالرياضيات والطبيعيات، فلا نتدخل في ما هو من شأنهم، وهم في الجملة يسلمون للرسل الإلهيات، حتى جاء الفلاسفة المشائيون، ورئيسهم أرسطو ثم الفارابي ثم أبو علي بن سيناء فابتدعوا القول بقدم العالم، وقالوا: إن العالم قديم، وهذا معناه إنكاراً لوجود الله نعوذ بالله.

وقطعاً العقل لا يصل إلى اليقين، وإنما هذا من خواص الوحي، ومما جاء به الوحي.
সিফাত (গুণাবলি) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে যারা যুক্তির দোহাই দেয়, তাদের খণ্ডন

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [হায়! আমি যদি জানতাম কোন যুক্তির পাল্লায় কিতাব ও সুন্নাহকে পরিমাপ করা হবে?! ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কতই না চমৎকার বলেছেন: যখনই আমাদের কাছে এমন কোনো ব্যক্তি আসবে যে অন্যের তুলনায় অধিক বাদানুবাদে লিপ্ত, তখনই কি আমরা তাদের ঝগড়া-বিবাদের কারণে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা বর্জন করব? আর এদের প্রত্যেকের যুক্তি অন্যজনের যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। আর এটি কয়েকটি দিক থেকে বিবেচ্য: প্রথমত: এটি স্পষ্ট করা যে, বুদ্ধি বা যুক্তি একে অসম্ভব মনে করে না।

দ্বিতীয়ত: বর্ণিত দলিলসমূহ অপব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না।

লেখকের উক্তি: 'আদজাল' অর্থাৎ বিতর্কে অধিক পারদর্শী ও কট্টর। এর অর্থ হলো: যখনই কোনো তার্কিক লোক আমাদের কাছে আসে, আমরা কি তার তর্কের খাতিরে কিতাব ও সুন্নাহ ছেড়ে দেব? আবার তার চেয়েও বড় কোনো তার্কিক আসবে এবং এভাবেই চলতে থাকবে।]

শায়খ বলেন: বুদ্ধি বা যুক্তি একে অসম্ভব মনে করে—এই দাবির প্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্ট করছি যে, বুদ্ধি একে অসম্ভব মনে করে না। কেননা, আল্লাহ আরশের উপরে আছেন—এতে অসম্ভব হওয়ার কী আছে? বরং বুদ্ধি বা যুক্তি তো একেই অবধারিত করে। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির উর্ধ্বে, সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। কেননা সৃষ্টিজগতের পরিসমাপ্তি যেখানে এবং যার ছাদ হলো রাহমানের আরশ, আল্লাহ সেই আরশের উপরে। তিনি তাঁর বান্দাদের পর্যবেক্ষণকারী এবং তাদের পরিবেষ্টনকারী। তাঁর কুদরত ও ইচ্ছা তাদের ওপর কার্যকর। তিনি তাদের অবস্থা জানেন এবং তাদের দেখেন। তিনি তাঁর ইলম, পরিবেষ্টন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের সাথে আছেন। আর তিনি তাঁর সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমে মুমিনদের সাথে আছেন। আর তিনি আরশের উপরে উঠেছেন, সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

এতে অসম্ভবের কী আছে?! লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তৃতীয়ত: এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বিষয়গুলো অকাট্যভাবে নিয়ে এসেছেন, যেমনটা জানা গেছে যে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও রমজান মাসের সিয়াম নিয়ে এসেছেন। সুতরাং যে অপব্যাখ্যা (তাউইল) এগুলোকে মূল অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়, তা কারামিতা ও বাতিনিয়া সম্প্রদায়ের হজ, সিয়াম এবং অন্যান্য নবুওয়াতের বার্তার অপব্যাখ্যার অনুরূপ।]

শায়খ বলেন: অর্থাৎ, যদি অপব্যাখ্যার দরজা খুলে দেওয়া হয়, তবে কারামিতা ও বাতিনিয়া সম্প্রদায় জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। জাহমিয়া ও মুতাজিলারা বলেছিল: আমরা আল্লাহর সিফাতসমূহ যেমন জ্ঞান, শ্রবণ ও দর্শন অস্বীকার করি। আমরা বলি না যে, আল্লাহ এই নামে নামান্তিত। যখন তাদের বলা হলো: কেন তোমরা এগুলো অস্বীকার করছ? তারা বলল: কারণ বুদ্ধি একে অসম্ভব মনে করে। যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে এর উদ্দেশ্য কী? তারা বলল: এর উদ্দেশ্য হলো রূপক অর্থ। যেমন: 'ইসতিওয়া' (উঠা) এর অর্থ হলো 'ইস্তাওলা' (দখল করা)। যখন তারা এটি বলল, তখন কারামিতা ও বাতিনিয়া সম্প্রদায় তাদের ওপর চেপে বসল। তারা বলল: সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ বা পুনরুত্থান বলতে কিছু নেই। তারা বলল: সালাত মানে পাঁচটি নাম—আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন ও মুহাম্মাদ। এটিই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।

সিয়াম হলো: মাশায়েখদের গোপন তথ্য গোপন রাখা। হজ হলো: শায়খদের কাছে সফর করা। তারা দাবি করে যে, দেহের কোনো পুনরুত্থান হবে না, বরং কেবল আত্মার পুনরুত্থান হবে। তখন জাহমিয়া ও মুতাজিলারা তাদের বলল: তোমরা কেন এগুলো অস্বীকার করছ? এটি তো কুফরি। কারণ তোমরা দ্বীন পরিবর্তন করে ফেলেছ এবং এমন স্পষ্ট দলিলের অপব্যাখ্যা করেছ যার অপব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তখন তারা তাদের বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলল: তোমরা তো ইসতিওয়া (উঠা), জ্ঞান ও রহমতের অপব্যাখ্যা করেছ, তবে এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য কী? যদি তোমাদের জন্য এই অপব্যাখ্যা জায়েজ হয়, তবে এখানে অপব্যাখ্যা করতে কে বাধা দেবে? এভাবেই তারা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করল এবং তাদের জন্য অনিষ্টের দ্বার উন্মুক্ত করে দিল। অর্থাৎ, মুতাজিলা ও জাহমিয়ারা কারামিতা ও বাতিনিয়াদের জন্য পথ খুলে দিয়েছিল। ফলে তারা সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নামের অপব্যাখ্যা করল এবং বলল: এগুলোর কোনোটিই তার প্রকাশ্য অর্থে উদ্দেশ্য নয়।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [চতুর্থত: এটি স্পষ্ট করা যে, স্বচ্ছ বুদ্ধি বা যুক্তি সেই বিষয়ের অনুকূল যা দলিলসমূহ নিয়ে এসেছে। যদিও দলিলের বর্ণনায় এমন বিস্তারিত বিবরণ থাকতে পারে যা অনুধাবন করতে বুদ্ধি অক্ষম হয় এবং বুদ্ধি কেবল তা সংক্ষিপ্তভাবে অনুধাবন করে। এ ছাড়াও আরও অনেক দিক রয়েছে।]

শায়খ বলেন: আর এটি এজন্য যে, সঠিক বুদ্ধি বা যুক্তি স্পষ্ট বর্ণনার অনুকূল হয়ে থাকে। শরিয়ত এমন কিছু নিয়ে আসেনি যা সঠিক বুদ্ধির পরিপন্থী, যদিও শরিয়ত এমন কিছু নিয়ে এসেছে যাতে বুদ্ধি হতভম্ব হয়ে যায় এবং যা স্বাধীনভাবে অনুধাবন করতে পারে না। শরিয়ত এমন কিছু নিয়ে আসেনি যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে, বরং এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা দেখে বুদ্ধি হতবাক হয়ে যায়।

আর এটিই আলেমদের এই উক্তির মর্ম যে: শরিয়ত বুদ্ধিকে হতভম্ব করার মতো বিষয় নিয়ে এসেছে, অসম্ভব কোনো বিষয় নিয়ে নয়। সুতরাং স্বচ্ছ বুদ্ধি স্পষ্ট বর্ণনার অনুকূল। এই কারণেই শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: সঠিক বর্ণনার সাথে স্বচ্ছ বুদ্ধির সামঞ্জস্য। এটি একটি মহান কিতাব।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তাছাড়া তাদের মধ্যকার বড় বড় পণ্ডিত ও দিকপালরা স্বীকার করেছেন যে, সাধারণ ঐশ্বরিক বিষয়গুলোতে সুনিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছানোর কোনো পথ বুদ্ধির নেই।]

শায়খ বলেন: কেননা প্রাচীন দার্শনিক ও অন্যান্যদের মধ্যকার পণ্ডিত, দিকপাল ও জ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে, শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে তার বিস্তারিত বিবরণ অনুধাবন করা বুদ্ধির পক্ষে সম্ভব নয়। তারা সকলেই শরিয়ত ও ঐশ্বরিক বিষয়গুলোকে সম্মান করত। তারা বলত: রাসূলগণ ঐশ্বরিক বিষয়গুলো নিয়ে এসেছেন, আর আমাদের বিশেষত্ব হলো গণিত ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে। সুতরাং তাদের বিষয়ের মধ্যে আমরা হস্তক্ষেপ করব না। তারা মোটের ওপর রাসূলদের আনীত ঐশ্বরিক বিষয়গুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করত। এরপর মাশশাঈ দার্শনিকদের আগমন ঘটল, যাদের প্রধান ছিল অ্যারিস্টটল, এরপর আল-ফারাবি, এরপর আবু আলী ইবনে সিনা। তারা মহাবিশ্ব অনাদি হওয়ার মতবাদ উদ্ভাবন করল এবং বলল: মহাবিশ্ব অনাদি। এর অর্থ হলো আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা—নাউযুবিল্লাহ।

আর এটি নিশ্চিত যে, বুদ্ধি সুনিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছাতে পারে না। বরং এটি ওহীর বিশেষত্ব এবং ওহী যা নিয়ে এসেছে তার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بيان كمال علم النبي صلى الله عليه وسلم وفصاحته ونصحه

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وإذا كان هكذا فالواجب تلقي علم ذلك من النبوات على ما هو عليه، ومن المعلوم للمؤمنين أن الله بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق؛ ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيداً، وأنه بين للناس ما أخبرهم به من أمور الإيمان بالله واليوم الآخر.

والإيمان بالله واليوم الآخر: يتضمن الإيمان بالمبدأ والمعاد، وهو الإيمان بالخلق والبعث كما جمع بينهما في قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ} [البقرة:8]].

الشيخ: إن الله تعالى بعث رسوله بالهدى ودين الحق، والهدى ودين الحق أصله الإيمان بالمبدأ والمعاد، والخالق والرازق والمدبر والمحيي والمميت والمستحق للعبادة، وأن الله يبعث من في القبور، ويجازيهم ويحاسبهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وقال تعالى: {مَا خَلْقُكُمْ وَلا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} [لقمان:28]، وقال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ} [الروم:27]، وقد بين الله تعالى على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من أمر الإيمان بالله واليوم الآخر ما هدى الله به عباده، وكشف به مراده.

ومعلوم للمؤمنين: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلم بذلك من غيره، وأنصح للأمة من غيره وأفصح من غيره عبارة وبياناً، بل هو أعلم الخلق بذلك، وأنصح الخلق للأمة وأفصحهم، وقد اجتمع في حقه صلى الله عليه وسلم كمال العلم والقدرة والإرادة].

الشيخ: قوله: كمال العلم، أي: فهو عالم ليس بجاهل عليه الصلاة والسلام، وكمال القدرة، أي: القدرة على الإفصاح، وعنده إرادة ورغبة فهو يريد أن يبلغ رسالة ربه، حتى إن الله تعالى قال لنبيه: {فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا} [الكهف:6]، أي: كاد يهلك نفسه في إبلاغهم وهدايتهم أسفاً عليهم إذا لم يؤمنوا.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ومعلوم أن المتكلم أو الفاعل إذا كمل علمه وقدرته وإرادته كمل كلامه وفعله، وإنما يدخل النقص إما من نقص علمه، وإما من عجزه عن بيان علمه، وإما لعدم إرادته البيان].

وهذا في حق الرسول محال فهو أعلم الخلق وأنصح الخلق وأفصحهم، وعنده قدرة على البيان، فقد علمه الله تعالى وسدده، وعنده إرادة ورغبة وقوة في تبليغ رسالة ربه.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والرسول صلى الله عليه وسلم هو الغاية في كمال العلم، والغاية في كمال إرادة البلاغ المبين، والغاية في القدرة على البلاغ المبين، ومع وجود القدرة التامة والإرادة الجازمة يجب وجود المراد؛ فعلم قطعاً أن ما بينه من أمر الإيمان بالله واليوم الآخر حصل به مراده من البيان، وما أراده من البيان هو مطابق لعلمه، وعلمه بذلك أكمل العلوم.

فكل من ظن أن غير الرسول صلى الله عليه وسلم أعلم بهذه منه، أو أكمل بياناً منه، أو أحرص على هدي الخلق منه فهو من الملحدين لا من المؤمنين].

الشيخ: من ذلك ما يقوله بعض الفلاسفة، حيث يقولون: إن الرسول ما علم، وبعض المجهلة يقولون: الرسول لا يعلم معاني الصفات، ولكن الفلاسفة يعلمونها، وكذلك الأولياء، وبعضهم يقول: علمها ولكن ما بينها، وإنما كتمها؛ لأن مصلحة الناس في أن يكتمها؛ لأنه يخاطبهم من باب الخطاب الجمهوري، فهو يخاطبهم بما يصلح الجمهور وإن كان كذباً، وبعضهم يقول: إن الرسول ما بين الحقائق، وهو يعلمها؛ لأن مصلحة الناس في هذا، فهو وإن كان كاذباً، لكنه كذب لهم ولم يكذب عليهم، فهو كذب لمصحلة.

وهذا كلام باطل، فالرسول عليه الصلاة والسلام أكمل الخلق وأعلم الخلق وأنصح الخلق وأقدرهم على البيان، وأتمهم إرادة عليه الصلاة والسلام.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والصحابة والتابعون لهم بإحسان ومن سلك سبيل السلف هم في هذا الباب على سبيل الاستقامة].

الشيخ: أي: أنهم في باب الأسماء والصفات، وباب المعاد والجزاء والحساب على سبيل الاستقامة، يعملون بالنصوص، فيثبتون لله ما أثبته لنفسه، أو أثبته رسوله من الأسماء والصفات، وينفون عنه ما نفاه عن نفسه، ويثبتون البعث والمعاد والجزاء والنشور، وأما أعداؤهم، أعداء الرسل فهم على طبقات ثلاث: أهل التخييل؛ وأهل التأويل؛ وأهل التجهيل.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলমের পূর্ণতা, বাগ্মিতা এবং নসিহতের বর্ণনা

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [আর যখন বিষয়টি এরূপ, তখন নবুয়ত থেকে এই সংক্রান্ত ইলম (জ্ঞান) যেভাবে এসেছে সেভাবেই তা গ্রহণ করা ওয়াজিব। মুমিনদের নিকট এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন, আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি মানুষের জন্য আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকাল সংক্রান্ত যে সংবাদ দিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

আর আল্লাহর প্রতি ঈমান ও পরকালের প্রতি ঈমান: এর অন্তর্ভুক্ত হলো সৃষ্টি এবং পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা, যেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে এই দুটিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়} [আল-বাকারা: ৮]]।

শায়খ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের মূল ভিত্তি হলো সৃষ্টি ও পুনরুত্থান, স্রষ্টা, রিযিকদাতা, পরিচালক, জীবনদাতা, মরণদাতা এবং ইবাদতের একমাত্র হকদার হওয়ার প্রতি ঈমান আনা। আর আল্লাহ কবরে থাকা ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন এবং তাদের প্রতিফল দিবেন ও হিসাব গ্রহণ করবেন।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [আর আল্লাহ তাআলা বলেন: { তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণের (সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের) ন্যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [লুকমান: ২৮]। তিনি আরও বলেন: {তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন} [আর-রূম: ২৭]। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকাল সংক্রান্ত এমন সব বিষয় বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হিদায়াত দান করেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য উন্মোচিত করেছেন।

মুমিনদের নিকট এটি সুপরিচিত যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে অন্য সবার চেয়ে অধিক জ্ঞানী, উম্মতের জন্য অন্য সবার চেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী এবং বর্ণনা ও অভিব্যক্তিতে অন্য সবার চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ও বাগ্মী। বরং তিনি এ বিষয়ে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী, উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী এবং সবচেয়ে বড় বাগ্মী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা) এবং ইরাদা (ইচ্ছা)-র পূর্ণতা একীভূত হয়েছে]।

শায়খ: তাঁর বক্তব্য: ইলমের পূর্ণতা, অর্থাৎ: তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) জ্ঞানী ছিলেন, অজ্ঞ ছিলেন না। আর কুদরতের পূর্ণতা, অর্থাৎ: সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার ক্ষমতা। তাঁর ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাই তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বলেছেন: {তারা এই বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে সম্ভবত তুমি দুঃখে নিজের প্রাণ বিনাশ করবে} [আল-কাহফ: ৬]। অর্থাৎ: তারা ঈমান না আনায় তাদের প্রতি আক্ষেপ ও দুঃখের কারণে তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছানো এবং হিদায়াতের প্রচেষ্টায় তিনি প্রায় নিজেকে ধ্বংস করে দিচ্ছিলেন।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [এটি জানা কথা যে, কোনো বক্তা বা কর্তা যখন তার জ্ঞান, ক্ষমতা এবং ইচ্ছা পূর্ণতা পায়, তখন তার কথা এবং কাজও পূর্ণতা পায়। ত্রুটি কেবল তখনই প্রবেশ করে যখন তার জ্ঞানের অভাব থাকে, অথবা নিজের জ্ঞান ব্যক্ত করতে অক্ষম হয়, অথবা ব্যক্ত করার ইচ্ছার অভাব থাকে।]

আর রাসূলের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া অসম্ভব। কেননা তিনি সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং সবচেয়ে বেশি বাগ্মী। তাঁর সুস্পষ্ট বর্ণনার ক্ষমতা ছিল, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁকে শিখিয়েছেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সুদৃঢ় ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি ছিল।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইলমের পূর্ণতায় চূড়ান্ত শিখরে, সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছার পূর্ণতায় চূড়ান্ত শিখরে এবং সুস্পষ্টভাবে পৌঁছানোর ক্ষমতার পূর্ণতায় চূড়ান্ত শিখরে ছিলেন। পূর্ণ ক্ষমতা এবং সুদৃঢ় ইচ্ছা থাকা অবস্থায় উদ্দিষ্ট ফলাফল অর্জিত হওয়া আবশ্যক। সুতরাং এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকাল সংক্রান্ত যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তার মাধ্যমে তাঁর সুস্পষ্ট বর্ণনার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি যা বর্ণনা করতে চেয়েছেন তা তাঁর ইলমের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর এ বিষয়ে তাঁর ইলম হলো সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ইলম।

অতএব, যে ব্যক্তি মনে করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অন্য কেউ এ বিষয়ে অধিক জ্ঞানী, অথবা তাঁর চেয়ে অধিক পূর্ণ বর্ণনাকারী, অথবা সৃষ্টির হিদায়াতের ব্যাপারে তাঁর চেয়ে অধিক আগ্রহী—তবে সে মুমিনদের দলভুক্ত নয়, বরং সে মুলহিদ বা ধর্মত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত।]

শায়খ: এর অন্তর্ভুক্ত হলো কিছু দার্শনিকের কথা, যেখানে তারা বলে: রাসূল (সা.) জানতেন না। আবার কিছু মূর্খ বলে: রাসূল সিফাত বা গুণাবলির অর্থ জানতেন না, কিন্তু দার্শনিকরা তা জানে; তেমনিভাবে তথাকথিত ওলীরাও জানে। তাদের কেউ কেউ বলে: তিনি জানতেন কিন্তু তা বর্ণনা করেননি বরং গোপন করেছেন; কারণ মানুষের কল্যাণের স্বার্থেই তা গোপন করা প্রয়োজন ছিল। কেননা তিনি তাদের সাথে 'গণ-সম্বোধন' এর নীতিতে কথা বলতেন। অর্থাৎ তিনি তাদের সাথে এমন কথা বলতেন যা সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর মনে করতেন, যদিও তা মিথ্যা হয়। আবার কেউ কেউ বলে: রাসূল প্রকৃত সত্য বর্ণনা করেননি, অথচ তিনি তা জানতেন; কারণ এতে মানুষের কল্যাণ নিহিত ছিল। ফলে তিনি যদিও মিথ্যা বলেছেন, তবুও তা তাদের উপকারের জন্য ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ছিল না। অর্থাৎ এটি ছিল কল্যাণের উদ্দেশ্যে বলা মিথ্যা।

আর এটি সম্পূর্ণ বাতিল কথা। রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সৃষ্টির সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ, সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী, বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি সক্ষম এবং সবচেয়ে পূর্ণ ইচ্ছাশক্তির অধিকারী ছিলেন।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [সাহাবীগণ, ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণ এবং যারা সালাফদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁরা এই অধ্যায়ে সঠিক ও সরল পথে অবিচল রয়েছেন]।

শায়খ: অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (আসমা ওয়াস-সিফাত), পরকাল, প্রতিফল, হিসাব এবং পুনরুত্থানের অধ্যায়ে তাঁরা সঠিক ও সরল পথে রয়েছেন। তাঁরা শরয়ি নস বা পাঠ অনুযায়ী আমল করেন। সুতরাং আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল নাম ও গুণ সাব্যস্ত করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল যা সাব্যস্ত করেছেন, তাঁরা সেগুলোকে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেন। আর আল্লাহ নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন, তাঁরাও তা অস্বীকার করেন। তাঁরা পুনরুত্থান, পরকাল, প্রতিফল এবং হাশর সাব্যস্ত করেন। পক্ষান্তরে তাঁদের শত্রু অর্থাৎ রাসূলদের শত্রুরা তিন স্তরে বিভক্ত: কল্পনাপ্রসূত ব্যাখ্যাকারী (আহলুত তাখয়িল), অপব্যাখ্যাকারী (আহলুত তাবীল) এবং মূর্খতা আরোপকারী (আহলুত তাজহিল)।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بيان المنحرفين عن طريقة السلف وطوائفهم

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأما المنحرفون عن طريقهم.

فهم ثلاث طوائف: أهل التخييل، وأهل التأويل، وأهل التجهيل، فأهل التخييل: هم المتفلسفة ومن سلك سبيلهم من متكلم ومتصوف، فإنهم يقولون: إن ما ذكره الرسول صلى الله عليه وسلم من أمر الإيمان بالله واليوم الآخر إنما هو تخييل للحقائق لينتفع به الجمهور، لا أنه بين به الحق، ولا هدى به الخلق ولا أوضح الحقائق].

الشيخ: يريدون أن ما أخبر به النبي من الغيب من باب التخييل، فالنبي يخيل لهم أنها حقائق حتى تستقيم أمورهم وتصلح أحوالهم، ولا يعتدي بعضهم على بعض، فإنهم إن اعتقدوا أن هناك جنة ونار وبعث ونشور يخافون، ولا يعتدي بعضهم على بعض، وإلا في الحقيقة ليس هناك لا جنة ولا نار ولا بعث، وأهل التخييل كفرة ملاحدة نعوذ بالله من ذلك.

ويقولون عن النبي: إنه رجل عبقري، فليست النبوة عندهم هبة من الله، بل النبي رجل عبقري يسوس الناس.

يقول المؤلف رحمه الله تعالى: [ثم هم على قسمين: منهم من يقول: إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يعلم الحقائق على ما هي عليه، ويقولون: إن من الفلاسفة الإلهية من علمها، وكذلك من الأشخاص الذين يسمونهم أولياء من علمها، ويزعمون أن من الفلاسفة أو الأولياء من هو أعلم بالله واليوم الآخر من المرسلين.

وهذه مقالة غلاة الملحدين من الفلاسفة والباطنية: باطنية الشيعة وباطنية الصوفية.

ومنهم من يقول: بل الرسول صلى الله عليه وسلم علمها لكن لم يبينها، وإنما تكلم بما يناقضها، وأراد من الخلق فهم ما يناقضها؛ لأن مصلحة الخلق في هذه الاعتقادات التي لا تطابق الحق].

الشيخ: فتبين أن أهل التخييل طائفتان، طائفة تقول: الرسول صلى الله عليه وسلم لا يعلم الحقائق التي جاء بها، ولكن الذي يعلمها بزعمهم هم الذين يسمون بالفلاسفة أو الأولياء.

والطائفة الثانية تقول: بل الرسول علم معناها لكنه لم يبنيها فقد كتمها وإن كانت هي الحق؛ لأن مصلحة الناس إنما هي في الكتمان، فمصلحة الناس أن يخبرهم بغير الحقائق وبغير الواقع.

فهم على طائفتين وكلهم ملاحدة.

فالطائفة الأولى يقولون: إن الرسول يقرأ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه:5]، ويقرأ: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} [فاطر:10]، وهو لا يعرف معنى يصعد، ولا يعرف معنى استوى.

وإنما يعلم هذا بزعمهم الفلاسفة والأولياء فهم عندهم يعرفون المعاني، فيجعلونهم أعلم بالله من الأنبياء والمرسلين.

وقد أراد من قال إن الرسول عبقري أن يمدح الرسول عليه الصلاة والسلام ولا شك أن الرسول عليه الصلاة والسلام أكمل الناس في الصفات وفي الشجاعة والفهم والعلم، لكن كلمة عبقري فيها ما فيها.

يقول المؤلف رحمه الله تعالى: [ويقول هؤلاء: يجب على الرسول صلى الله عليه وسلم أن يدعو الناس إلى اعتقاد التجسيم مع أنه باطل، وإلى اعتقاد معاد الأبدان مع أنه باطل، ويخبرهم بأن أهل الجنة يأكلون ويشربون مع أن ذلك باطل؛ لأنه لا يمكن دعوة الخلق إلا بهذه الطريق التي تتضمن الكذب لمصلحة العباد].

الشيخ: فهم لزيغهم وجهلهم يقولون: الرسول كذب لكن كذب لهم لا عليهم، وفرق بين من يكذب لك ويكذب عليك، فقد كذب عليهم فقال: هناك معاد، لكنه كذب لهم، أي: لمصلحتهم، والمصلحة تقتضي هذا، فهو يخبر أن هناك معاد وجنة ونار ووكل ذلك ليس حقيقة، وهو يثبت الصفات لله حتى يعتقد الناس أن لله صفات، ومع ذلك فلا صفات على الحقيقة، وإذا سئلوا لماذا يعمل هذا؟ قالوا: لأن هذا من باب السياسة، فهذا هو الذي يصلح الناس، وهو كذب لهم لا عليهم، وما دام الكذب لمصلحة فلا بأس، وهذا من أبطل الباطل، واعتقاد هذا من أعظم الكفر.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فهذا قول هؤلاء في نصوص الإيمان بالله واليوم الآخر، وأما الأعمال فمنهم من يقرها ومنهم من يجريها هذا المجرى، ويقول: إنما يؤمر بها بعض الناس دون بعض ويؤمر بها العامة دون الخاصة فهذه طريقة الباطنية والملاحدة والإسماعيلية ونحوهم].

الشيخ: فالأعمال كالصلاة والصيام والزكاة يأمرهم بها النبي صلى الله عليه وسلم وهي ليست بواجبة، ومنهم من يقول: الصلاة والزكاة إنما يأمر بها العامة من الناس دون الخاصة والأولياء.
সালাফদের পথ থেকে বিচ্যুতদের বিবরণ এবং তাদের দলসমূহ

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আর যারা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

তারা তিন দল: আহলুত তাখয়ীল (কল্পনাবাদী), আহলুত তাবীল (ব্যাখ্যাবাদী) এবং আহলুত তাজহীল (অজ্ঞতাবাদী)। আহলুত তাখয়ীল হলো দার্শনিক এবং তাদের পথ অনুসরণকারী কালামশাস্ত্রবিদ ও সূফীগণ। তারা বলে: আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকাল সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা উল্লেখ করেছেন তা মূলত সত্যের একটি কাল্পনিক রূপ দান মাত্র যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে। তিনি এর মাধ্যমে সত্য স্পষ্ট করেননি, সৃষ্টির হিদায়াত করেননি এবং প্রকৃত সত্যকেও পরিষ্কার করেননি।]

শেখ: তারা বুঝাতে চায় যে, নাবী অদৃশ্যের বিষয় সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা কল্পনার অন্তর্ভুক্ত। নাবী তাদের সামনে এগুলোকে সত্য হিসেবে কল্পনা করাতেন যাতে তাদের বিষয়াদি সুশৃঙ্খল হয় এবং অবস্থা সংশোধিত হয়, আর কেউ কারো ওপর সীমালঙ্ঘন না করে। কারণ তারা যদি বিশ্বাস করে যে জান্নাত, জাহান্নাম এবং পুনরুত্থান আছে, তবে তারা ভয় পাবে এবং কেউ কারো ওপর সীমালঙ্ঘন করবে না। নতুবা প্রকৃতপক্ষে জান্নাত, জাহান্নাম বা পুনরুত্থান বলতে কিছু নেই। আর এই আহলুত তাখয়ীলরা হলো কাফির ও মুলহিদ (ধর্মত্যাগী), আমরা এ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।

তারা নাবী সম্পর্কে বলে: তিনি একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি। তাদের নিকট নবুওয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো দান নয়, বরং নাবী হলেন একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি যিনি মানুষকে পরিচালনা করেন।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [অতঃপর তারা দুই ভাগে বিভক্ত: তাদের মধ্যে একদল বলে: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রকৃত সত্য যেমনটি তেমনটি জানতেন না। তারা বলে: ঐশ্বরিক দার্শনিকদের মধ্যে কেউ কেউ তা জানতেন। অনুরূপভাবে যাদের তারা ওলী বলে ডাকে তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ তা জানতেন। তারা দাবি করে যে, দার্শনিক বা ওলীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যে আল্লাহ এবং পরকাল সম্পর্কে রাসূলদের চেয়েও বেশি জানে।

এটি দার্শনিক এবং বাতেনী সম্প্রদায়ের চরমপন্থী মুলহিদদের বক্তব্য: শিয়াদের বাতেনী শাখা এবং সূফীদের বাতেনী শাখা।

আর তাদের মধ্যে অন্য দল বলে: বরং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা জানতেন কিন্তু স্পষ্ট করেননি। বরং তিনি এর বিপরীত কথা বলেছেন এবং সৃষ্টিজীবের কাছে সেই বিপরীত বিষয়টিই বুঝতে চেয়েছেন; কারণ সৃষ্টির কল্যাণ এই বিশ্বাসের মধ্যেই রয়েছে যা সত্যের সাথে মিল নেই।]

শেখ: সুতরাং স্পষ্ট হলো যে আহলুত তাখয়ীল দুই দল। একদল বলে: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আনীত প্রকৃত সত্য জানতেন না, বরং তাদের দাবি অনুযায়ী তা কেবল তারা জানে যাদের দার্শনিক বা ওলী বলা হয়।

আর দ্বিতীয় দল বলে: বরং রাসূল এর অর্থ জানতেন কিন্তু তিনি তা ব্যক্ত করেননি, বরং গোপন রেখেছেন যদিও তা সত্য ছিল; কারণ মানুষের কল্যাণ গোপন রাখাতেই নিহিত। মানুষের কল্যাণ হলো তাদের সত্য ও বাস্তব বহির্ভূত সংবাদ দেওয়ার মধ্যে।

সুতরাং তারা দুই দল এবং তারা সবাই মুলহিদ।

প্রথম দল বলে: রাসূল পাঠ করেন: {দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], এবং পাঠ করেন: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে} [ফাতির: ১০], অথচ তিনি আরোহণ করার অর্থ জানেন না এবং উঠার অর্থও জানেন না।

তাদের দাবি অনুযায়ী দার্শনিক এবং ওলীগণই কেবল এসব জানে, তাই তাদের নিকট তারা আল্লাহ সম্পর্কে নাবী ও রাসূলদের চেয়েও বেশি জ্ঞানী।

আর যে ব্যক্তি বলেছে যে রাসূল প্রতিভাধর, সে মূলত রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রশংসা করতে চেয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) গুণাবলী, বীরত্ব, অনুধাবন এবং জ্ঞানে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। তবে ‘প্রতিভাধর’ শব্দের মধ্যে অনেক আপত্তির বিষয় রয়েছে।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এরা বলে: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য আবশ্যক ছিল মানুষকে শরীরের (তাজসীম) বিশ্বাসে দাওয়াত দেওয়া যদিও তা বাতিল, এবং শারীরিক পুনরুত্থানের বিশ্বাসে দাওয়াত দেওয়া যদিও তা বাতিল। আর তিনি তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে জান্নাতবাসীরা পানাহার করবে যদিও তা বাতিল; কারণ বান্দাদের কল্যাণের স্বার্থে মিথ্যা সংবলিত এই পদ্ধতি ছাড়া সৃষ্টিজগতকে দাওয়াত দেওয়া সম্ভব নয়।]

শেখ: তাদের বিচ্যুতি ও মূর্খতার কারণে তারা বলে: রাসূল মিথ্যা বলেছেন, তবে তিনি তাদের জন্য মিথ্যা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নয়। আর যে তোমার জন্য মিথ্যা বলে এবং যে তোমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছেন এই অর্থে যে তিনি বলেছেন পুনরুত্থান আছে, কিন্তু তিনি তাদের জন্য মিথ্যা বলেছেন অর্থাৎ তাদের কল্যাণের জন্য, আর কল্যাণ একেই দাবি করে। তাই তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে সেখানে পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নাম আছে যার কোনোটিই বাস্তব নয়। তিনি আল্লাহর জন্য গুণাবলী সাব্যস্ত করেন যাতে মানুষ বিশ্বাস করে যে আল্লাহর গুণাবলী আছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে কোনো গুণ নেই। যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হয় কেন তিনি এমন করেছেন? তারা বলে: কারণ এটি রাজনীতির অংশ, এটিই মানুষকে সংশোধন করে। এটি তাদের জন্য মিথ্যা, তাদের বিরুদ্ধে নয়। আর যতক্ষণ মিথ্যা কল্যাণের জন্য হয় ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই। এটি চরম বাতিল কথা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা জঘন্যতম কুফরি।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [ঈমান বিল্লাহ এবং পরকাল সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে এটিই তাদের বক্তব্য। আর আমলের ক্ষেত্রে তাদের কেউ কেউ তা স্বীকার করে, আবার কেউ কেউ একেও একই ধারায় প্রবাহিত করে। তারা বলে: আমলের নির্দেশ কেবল কিছু মানুষকে দেওয়া হয়েছে অন্যদের নয়, এবং সাধারণ মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যক্তিদের নয়। এটি বাতেনী, মুলহিদ, ইসমাইলি এবং তাদের সমমনাদের পদ্ধতি।]

শেখ: সুতরাং সালাত, সিয়াম এবং জাকাতের মতো আমলগুলোর নির্দেশ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন অথচ সেগুলো ওয়াজিব নয়। তাদের কেউ কেউ বলে: সালাত ও জাকাতের নির্দেশ কেবল সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ ব্যক্তি ও ওলীদের জন্য নয়।
(খণ্ড: ৩) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أهل التأويل وقولهم في الصفات

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأما أهل التأويل فيقولون: إن النصوص الواردة في الصفات لم يقصد بها الرسول أن يعتقد الناس الباطل، ولكن قصد بها معاني ولم يبين لهم تلك المعاني، ولا دلهم عليها؛ ولكن أراد أن ينظروا فيعرفوا الحق بعقولهم، ثم يجتهدوا في صرف تلك النصوص عن مدلولها، ومقصوده امتحانهم وتكليفهم إتعاب أذهانهم وعقولهم في أن يصرفوا كلامه عن مدلوله ومقتضاه، ويعرفوا الحق من غير جهته، وهذا قول المتكلمة والجهمية والمعتزلة ومن دخل معهم في شيء من ذلك].

الشيخ: فهذا قول أهل الكلام، ويسمون أهل التأويل، وهم أهل التحريف من الجهمية والمعتزلة وغيرهم، يقولون: إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يبين معاني النصوص، فقال: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف:54]، ولم يبين ذلك، بل وكلها إلى أهل العقول ممن يأتي بعده، الذين يتأملون وينظرون ويؤولون الكلام حتى يعرفون معناها الباطن، فقوله: (استوى)، مقصودها الاستيلاء، وأن العلماء بعد ذلك أتعبوا أذهانهم حتى استخرجوا المعاني الباطنية، فعرفوا أن معنى استوى: استولى، ومعنى اليد: القدرة وهكذا يتأولون.

وهذه تأويلات باطلة لنصوص الصفات.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والذين قصدنا الرد عليهم في هذه الفتيا هم هؤلاء إذ كان نفور الناس عن الأولين مشهوراً بخلاف هؤلاء، فإنهم تظاهروا بنصر السنة في مواضع كثيرة وهم -في الحقيقة- لا للإسلام نصروا ولا للفلاسفة كسروا].

الشيخ: أي: الذين قصدنا الرد عليهم هم الجهمية والمعتزلة الذين يحرفون نصوص الصفات، ويقولون: معنى (استوى): استولى، أما أهل التخييل فالمعروف أنهم كفرة وملاحدة، والناس يعرفون عنهم ذلك، وإنما المصيبة في الجهمية والمعتزلة والأشاعرة الذين يحرفون نصوص الصفات وينطلي تحريفهم على كثير من الناس، ويظنون أنهم أهل الحق.

فالجهمية والمعتزلة تظاهروا بنصر السنة، ويقول الشيخ رحمه الله: وهم في الحقيقة: لا نصروا الإسلام ولا كسروا أهل الشرك، من الفلاسفة الملاحدة، فما كسروهم ولا ناظروهم ولا أبطلوا حججهم، ولا يعرف عن الجهمية والمعتزلة أن منهم عباد، وأنهم أهل الخشية وأهل التقى، ولا أيضاً استفيد منهم في ردهم على الفلاسفة، بل إنهم أخذوا عن الفلاسفة، فلا فائدة منهم.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ولكن أولئك الفلاسفة ألزموهم في نصوص المعاد نظير ما ادعوه في نصوص الصفات].

الشيخ: لما حرف الجهمية والمعتزلة فقالوا: استوى، معناها: استولى، وقوله: {يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح:10]، معنى اليد: النعمة والقدرة، فدخل من هذا الباب الفلاسفة، وقالوا: إن البعث المراد به بعث الأرواح لا الأبدان، والصلاة ليست ما تفعلونه من ركوع وسجود وقيام، وإنما الصلوات الخمس خمسة أسماء: علي وفاطمة وحسن وحسين ومحمد، والصيام: كتمان سر المشايخ، والحج: السفر إلى الشيوخ والجنة: خيال لا حقيقة، عندما احتج عليهم الجهمية والمعتزلة أن ما يفعلونه حرام لا يجوز في التعامل مع نصوص الشرع، أجابوهم: كيف يجوز لكم أن تؤولوا النصوص ونحن لا يجوز لنا أن نؤول نصوص المعاد، إن كان التأويل حراماً علينا فهو حرام عليكم أيضاً، وإن كان جائزاً لكم فهو جائز لنا أيضاً، وبذلك تسلطوا عليهم وكانوا سبباً في فتح باب الكفر لهؤلاء.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فقالوا لهم: نحن نعلم بالاضطرار أن الرسل جاءت بمعاد الأبدان، وقد علمنا الشبه المانعة منه، وأهل السنة يقولون لهؤلاء: ونحن نعلم بالاضطرار أن الرسل جاءت بإثبات الصفات، ونصوص الصفات في الكتب الإلهية أكثر وأعظم من نصوص المعاد].

الشيخ: لما أول الفلاسفة نصوص البعث والمعاد والجنة والنار، رد عليهم الجهمية والمعتزلة، فقالوا: نحن نعلم بالاضطرار بدون الرسول أن المعاد ثابت، وأن الجنة والنار ثابتتان، فهذا أمر ضروري، لا جدال فيه.

فقال لهم أهل السنة: ونحن نعلم بالضرورة أن الرسول صلى الله عليه وسلم جاء بإثبات الأسماء والصفات وأن هذه الأسماء ثابتة في جميع الكتب وأن الشبهة التي تدل على تأويلها باطلة.

فاحتجوا عليهم بمثل ما احتجوا هم به على الفلاسفة.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [ويقولون لهم -أهل السنة-: معلوم أن مشركي العرب وغيرهم كانوا ينكرون المعاد، وقد أنكروه على الرسول صلى الله عليه وسلم وناظروه عليه؛ بخلاف الصفات فإنه لم ينكر شيئاً منها أحد من العرب].

الشيخ: أي: نثبت الصفات فنقول: أولاً: إنها -أي نصوص إثبات الأسماء والصفات- أكثر من نصوص المعاد.

ثانياً: إن المشركين كانوا يقرون بها، وإنما كانوا ينكرون المعاد ولم ينكروها، فكيف يسوغ لكم أن تؤولوا الصفات، وهي في الكتب المنزلة أكثر من نصوص البعث والمعاد، ولم ينكرها أحد حتى من المشركين.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فعلم أن إقرار العقول بالصفات أعظم من إقرارها بالمعاد، وأن إنكار المعاد أعظم من إنكار الصفات، وكيف يجوز مع هذا أن يكون ما أخبر به من الصفات ليس كما أخبر به، وما أخبر به من المعاد هو على ما أخبر به].

الشيخ: وهذا فيه رد على الجهمية والمعتزلة، فإذا كانت نصوص الصفات أكثر من نصوص البعث والوعيد فإن إقرار العقول بها سيكون أكثر من إقرارها بالوعد والمعاد، فكيف يسوغ لكم أن تؤولوا الصفات مع أن إقرار العقول بها أكثر، وأنتم تعترفون بأن نصوص البعث والمعاد لا يمكن أن تؤول، مع أن نصوص الصفات أكثر وإقرار العقول بها أكثر، فإذا كان لا يسوغ ولا يجوز تأويل نصوص المعاد، فلا يجوز من باب أولى تأويل نصوص الصفات.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [وأيضاً فقد علم أنه صلى الله عليه وسلم قد ذم أهل الكتاب على ما حرفوه وبدلوه، ومعلوم أن التوراة مملوءة من ذكر الصفات، فلو كان هذا مما حرف وبدل لكان إنكار ذلك عليهم أولى].

الشيخ: أي: أن أهل الكتاب حرفوا التوراة والإنجيل وأنكر الله عليهم التحريف، ولم يذكر أنهم حرفوا الصفات، فلو حرفوا الصفات لأنكر الله عليهم، فإذا كان المشركون يقرون بالصفات، وأهل الكتاب يقرون بالصفات، فما الذي يدعوكم أيها المؤولون إلى تأويل الصفات، مع أن إقرار العقول بها أكثر، وقد أقر بها المشركون وأهل الكتاب.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فلو كان هذا مما حرف وبدل لكان إنكار ذلك عليهم أولى، فكيف وكانوا إذا ذكروا بين يديه الصفات يضحك تعجباً منهم وتصديقاً].

الشيخ: كما في قصة الحبر الذي جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقال: (يا محمد! إننا نجد في التوراة أن الله يضع السموات على ذه - وأشار إلى أصبع - والأرضين على ذه والماء والثرى على ذه، والجبال على ذه، والشجر على ذه، خمسة أصابع، ثم يهزهن بيده فيقول: أنا الملك، أين ملوك الأرض؟ فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه تصديقاً لقول الحبر).

فأهل الكتاب مقرون بالصفات، وبذلك يكونون أحسن حالاً من الجهمية والمعتزلة في الإيمان بالصفات.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فكيف وكانوا إذا ذكروا بين يديه الصفات يضحك تعجباً منهم وتصديقاً، ولم يعبهم قط بما تعيب النفاة لأهل الإثبات].

الشيخ: فما عاب النبي صلى الله عليه وسلم على اليهود في إثباتهم للصفات، كما تعيب نفاة الصفات أهل السنة في إثباتهم للصفات.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [مثل لفظ التجسيم والتشبيه ونحو ذلك].

الشيخ: فما عابهم بإثبات الصفات، ولا سماهم مجسمة ولا مشبهة، وإنما عابهم بالكفريات التي كانوا يقولونها والتنقص الذي نسبوه إلى الرب سبحانه كقولهم: (إن الله فقير) أو (يد الله مغلولوة).

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [بل عابهم بقولهم: {يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ} [المائدة:64]، وقولهم: {إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ} [آل عمران:181]، وقولهم: استراح لما خلق السموات والأرض، فقال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق:38]، والتوراة مملوءة من الصفات المطابقة للصفات المذكورة في القرآن والحديث، وليس فيها تصريح بالمعاد كما في القرآن، فإذا جاز أن نتأول الصفات التي اتفق عليها الكتابان فتأويل المعاد الذي انفرد به أحدهما أولى، والثاني: مما يعلم بالاضطرار من دين الرسول صلى الله عليه وسلم أنه باطل فالأول أولى بالبطلان].

الشيخ: أي: إذا كانت الصفات هي المتفق عليها في التوراة والإنجيل، وانفرد القرآن بالبيان للمعاد، وأقررتم أنه لا يجوز تأويل المعاد، وهو مما انفرد به القرآن فمن باب أولى ألا يجوز تأويل الصفات.
ব্যাখ্যাকারী সম্প্রদায় (আহলুত তাবিল) এবং গুণাবলি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আর ব্যাখ্যাকারী সম্প্রদায়ের (আহলুত তাবিল) বক্তব্য হলো: গুণাবলি বিষয়ক যে দলিলগুলো এসেছে, তা দ্বারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন ইচ্ছা করেননি যে মানুষ ভুল বিশ্বাস পোষণ করুক, বরং তিনি এগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন কিন্তু তিনি তাদের কাছে সেই অর্থগুলো স্পষ্ট করেননি বা তাদের সেদিকে পথপ্রদর্শনও করেননি। বরং তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং নিজেদের বিবেকের মাধ্যমে সত্যকে চিনে নেয়। এরপর তারা যেন সেই দলিলগুলোকে তাদের বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাদের পরীক্ষা করা এবং তাদের মেধা ও বিবেককে এই শ্রমে নিয়োজিত করা যেন তারা তাঁর বক্তব্যকে এর মূল অর্থ ও দাবি থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে নিতে পারে এবং সত্যকে এর মূল উৎস ছাড়া ভিন্ন পথে চিনতে পারে। এটি মূলত কালামশাস্ত্রবিদ, জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং তাদের এই মতবাদের সাথে যারা যুক্ত হয়েছে তাদের বক্তব্য]।

শাইখ: এটি কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্য, যাদের 'আহলুত তাবিল' বা ব্যাখ্যাকারী বলা হয়। তারা আসলে জাহমিয়া, মুতাজিলা ও অন্যদের মধ্য থেকে تحريف (শব্দ বা অর্থের বিকৃতি) কারী। তারা বলে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলির দলিলের অর্থ স্পষ্ট করেননি। যেমন তিনি বলেছেন: {এরপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} [আরাফ: ৫৪], কিন্তু তিনি এর ব্যাখ্যা দেননি। বরং তিনি এটি পরবর্তী বিবেকবানদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যারা গভীর চিন্তা-গবেষণা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর প্রচ্ছন্ন অর্থ বের করবে। তাদের মতে, 'উঠা' (ইস্তিওয়া) দ্বারা 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা' করা উদ্দেশ্য। তারা মনে করে আলেমগণ তাদের মেধা খরচ করে এই প্রচ্ছন্ন অর্থগুলো বের করেছেন। ফলে তারা জানতে পেরেছেন যে 'উঠা'র অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা' এবং 'আল্লাহর হাত' এর অর্থ হলো 'আল্লাহর ক্ষমতা'। এভাবেই তারা অপব্যাখ্যা করে থাকে।

আর গুণাবলির দলিলের ক্ষেত্রে এগুলো সম্পূর্ণ বাতিল ব্যাখ্যা।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এই ফতোয়ায় আমরা যাদের উত্তর দেওয়ার সংকল্প করেছি তারা হলো এরা। কারণ পূর্ববর্তীদের (দার্শনিকদের) থেকে মানুষের দূরত্ব ছিল সুবিদিত, কিন্তু এরা অনেক ক্ষেত্রে সুন্নাহর সাহায্যের ভান করে। অথচ বাস্তবে তারা না ইসলামের সাহায্য করেছে, না দার্শনিকদের দর্প চূর্ণ করেছে।]

শাইখ: অর্থাৎ, আমরা যাদের জবাব দেওয়ার ইচ্ছা করেছি তারা হলো জাহমিয়া ও মুতাজিলা, যারা গুণাবলির দলিলের বিকৃতি ঘটায় এবং বলে যে: 'উঠা'র অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা'। আর যারা কাল্পনিক ব্যাখ্যাকারী (আহলুত তাখয়িল), তারা তো কাফের ও নাস্তিক হিসেবে পরিচিত এবং মানুষ তাদের সম্পর্কে অবগত। প্রকৃত বিপদ হলো জাহমিয়া, মুতাজিলা ও আশআরিয়াদের মধ্যে যারা গুণাবলির দলিলের বিকৃতি ঘটায় এবং তাদের এই বিকৃতি অনেক মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় এবং তারা মনে করে যে এরাই সত্যের ওপর আছে।

জাহমিয়া ও মুতাজিলারা সুন্নাহর সাহায্যের ভান করে। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা বাস্তবে না ইসলামের সাহায্য করেছে, না মুশরিক ও নাস্তিক দার্শনিকদের পরাজিত করতে পেরেছে। তারা তাদের দমন করতে পারেনি, তাদের সাথে তর্কেও জয়ী হতে পারেনি এবং তাদের যুক্তিগুলোও খণ্ডন করতে পারেনি। জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যারা বড় ইবাদতকারী অথবা যারা আল্লাহকে অনেক বেশি ভয় পায় এবং মুত্তাকী। এমনকি দার্শনিকদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রেও তাদের থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায়নি, বরং তারা খোদ দার্শনিকদের থেকেই নিজেদের মতবাদ গ্রহণ করেছে। তাই তাদের কোনো উপযোগিতা নেই।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [কিন্তু সেই দার্শনিকরা তাদের পরকাল বিষয়ক দলিলের ক্ষেত্রে ঠিক সেই একই যুক্তি দিয়ে নিরুত্তর করেছে, যা তারা (জাহমিয়া-মুতাজিলা) গুণাবলির ক্ষেত্রে দাবি করেছিল।]

শাইখ: যখন জাহমিয়া ও মুতাজিলাগণ বিকৃতি করে বলল: 'উঠা'র অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা', এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে} [ফাতহ: ১০]-এর ক্ষেত্রে বলল যে, 'আল্লাহর হাত' এর অর্থ হলো 'আল্লাহর নেয়ামত বা ক্ষমতা', তখন দার্শনিকরা এই পথ ধরে প্রবেশ করল। তারা বলল: পুনরুত্থান বলতে শুধু আত্মার পুনরুত্থান বুঝায়, দেহের নয়। আর সালাত বলতে তোমরা যে রুকু-সিজদা ও কিয়াম করো তা নয়, বরং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো পাঁচটি নাম: আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন ও মুহাম্মাদ। সিয়াম হলো মাশায়েখদের গোপন রহস্য গোপন রাখা, আর হজ হলো পীরদের কাছে সফর করা। জান্নাত কেবল একটি কল্পনা মাত্র, এর কোনো বাস্তবতা নেই। যখন জাহমিয়া ও মুতাজিলারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করল যে, শরয়ি দলিলের সাথে তোমাদের এই আচরণ হারাম ও নাজায়েজ, তখন দার্শনিকরা উত্তর দিল: তোমরা যদি গুণাবলির দলিলের অপব্যাখ্যা (তাবিল) করতে পারো, তবে আমাদের জন্য পরকাল বিষয়ক দলিলের অপব্যাখ্যা করা কেন নাজায়েজ হবে? যদি অপব্যাখ্যা করা আমাদের জন্য হারাম হয়, তবে তোমাদের জন্যও হারাম। আর যদি তোমাদের জন্য জায়েজ হয়, তবে আমাদের জন্যও জায়েজ। এভাবে তারা তাদের ওপর চড়াও হলো এবং কুফরির দ্বার উন্মোচনের কারণ হলো।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তারা তাদের বলল: আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, রাসূলগণ দেহের পুনরুত্থান নিয়ে এসেছেন এবং আমরা এর বিরোধী সংশয়গুলো সম্পর্কেও জানি। জবাবে আহলুস সুন্নাহ তাদের বলে: আর আমরাও অকাট্যভাবে জানি যে, রাসূলগণ আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয় নিয়ে এসেছেন। আর আসমানি কিতাবগুলোতে গুণাবলি সংক্রান্ত দলিলগুলো পুনরুত্থান সংক্রান্ত দলিলের চেয়েও বেশি এবং বড়।]

শাইখ: যখন দার্শনিকরা পুনরুত্থান, পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামের দলিলগুলোর অপব্যাখ্যা করল, তখন জাহমিয়া ও মুতাজিলাগণ তাদের প্রতিবাদ করল। তারা বলল: আমরা রাসূল ছাড়াই অকাট্যভাবে জানি যে পরকাল সত্য এবং জান্নাত-জাহান্নাম ধ্রুব সত্য। এটি একটি অকাট্য বিষয়, এতে কোনো বিতর্ক নেই। তখন আহলুস সুন্নাহ তাদের বলল: আমরাও অকাট্যভাবে জানি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করার জন্য এসেছেন এবং এই নামগুলো সকল আসমানি কিতাবে সাব্যস্ত আছে। আর এগুলোর অপব্যাখ্যা করার জন্য যেসব সংশয় পেশ করা হয় তা সবই বাতিল। অর্থাৎ, আহলুস সুন্নাহ তাদের বিরুদ্ধে সেই একই যুক্তি পেশ করল যা তারা দার্শনিকদের বিরুদ্ধে করেছিল।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আহলুস সুন্নাহ তাদের আরও বলে: এটি সুবিদিত যে, আরবের মুশরিক ও অন্যরা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করত এবং তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে তা অস্বীকার করে বিতর্ক করত। পক্ষান্তরে গুণাবলির বিষয়গুলো এমন ছিল যে আরবের কেউ তা অস্বীকার করেনি।]

শাইখ: অর্থাৎ, আমরা গুণাবলি সাব্যস্ত করে বলব: প্রথমত, নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করার দলিলগুলো পরকাল সংক্রান্ত দলিলের চেয়েও বেশি। দ্বিতীয়ত, মুশরিকরা এগুলো স্বীকার করত। তারা কেবল পুনরুত্থান অস্বীকার করত, গুণাবলি অস্বীকার করত না। এমতাবস্থায় আপনারা কীভাবে গুণাবলির অপব্যাখ্যা করাকে বৈধ মনে করেন, যেখানে আসমানি কিতাবগুলোতে পরকাল ও পুনরুত্থানের চেয়েও গুণাবলির আলোচনা বেশি এবং মুশরিকরা পর্যন্ত তা অস্বীকার করেনি!

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [এ থেকে বোঝা গেল যে, গুণাবলি সম্পর্কে বিবেকের স্বীকৃতি পরকাল সম্পর্কে স্বীকৃতির চেয়েও বড়। আর পরকাল অস্বীকার করা গুণাবলি অস্বীকার করার চেয়েও গুরুতর। এটা কীভাবে সম্ভব যে, তিনি (রাসূল) গুণাবলি সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা তেমন নয়, কিন্তু পরকাল সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা হুবহু তেমন?]

শাইখ: এর মধ্যে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের উপযুক্ত জবাব রয়েছে। যদি গুণাবলির দলিলগুলো পুনরুত্থান ও সতর্কবাণীর চেয়েও বেশি হয়, তবে এগুলোর প্রতি বিবেকের স্বীকৃতি পরকাল ও প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি হবে। সুতরাং আপনাদের জন্য গুণাবলির অপব্যাখ্যা করা কীভাবে জায়েজ হয়, যেখানে এগুলোর প্রতি বিবেকের স্বীকৃতি অনেক বেশি? অথচ আপনারা স্বীকার করেন যে পুনরুত্থান ও পরকাল বিষয়ক দলিলগুলোর অপব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। কিন্তু গুণাবলির দলিলগুলো সংখ্যায় বেশি এবং বিবেকের স্বীকৃতিতেও অগ্রগণ্য। সুতরাং যদি পরকাল সংক্রান্ত দলিলের অপব্যাখ্যা জায়েজ না হয়, তবে গুণাবলি সংক্রান্ত দলিলের অপব্যাখ্যা না হওয়া আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [আরও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহলে কিতাবদের সেই বিষয়ের জন্য নিন্দা করেছেন যা তারা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেছিল। আর এটি জানা কথা যে, তাওরাত আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনায় ভরপুর। যদি এটি এমন কিছু হতো যা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হয়েছে, তবে তাদের এই বিষয়ের প্রতিবাদ করা অগ্রগণ্য হতো।]

শাইখ: অর্থাৎ, আহলে কিতাবরা তাওরাত ও ইঞ্জিল বিকৃত করেছে এবং আল্লাহ তাদের সেই বিকৃতির প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি যে তারা আল্লাহর গুণাবলি বিকৃত করেছে। যদি তারা গুণাবলি বিকৃত করত তবে আল্লাহ অবশ্যই তার প্রতিবাদ করতেন। সুতরাং মুশরিক ও আহলে কিতাবরা যদি গুণাবলিকে স্বীকার করে থাকে, তবে হে ব্যাখ্যাকারীরা, আপনাদের কিসে প্ররোচিত করল গুণাবলির অপব্যাখ্যা করতে? অথচ এগুলোর প্রতি বিবেকের স্বীকৃতি অনেক বেশি এবং মুশরিক ও আহলে কিতাবরা পর্যন্ত এটি স্বীকার করেছে।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [যদি এটি পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তাদের এই বিষয়ের প্রতিবাদ করা অগ্রগণ্য হতো। অথচ যখন তারা তাঁর সামনে গুণাবলির কথা উল্লেখ করত, তখন তিনি বিস্ময় ও সমর্থনসূচক হাসি হাসতেন।]

শাইখ: যেমনটি সেই ইহুদি পণ্ডিতের ঘটনায় এসেছে, যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলেছিল: 'হে মুহাম্মাদ! আমরা তাওরাতে পাই যে, আল্লাহ আসমানসমূহকে এর ওপর রাখবেন—এই বলে সে একটি আঙুলের দিকে ইশারা করল—আর জমিনসমূহকে এর ওপর, পানি ও মাটিকে এর ওপর, পাহাড়সমূহকে এর ওপর এবং বৃক্ষরাজিকে এর ওপর রাখবেন। এভাবে পাঁচটি আঙুল। এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে সেগুলোকে ঝাঁকুনি দেবেন এবং বলবেন: আমিই সম্রাট, জমিনের সম্রাটরা কোথায়?' তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই পণ্ডিতের কথার সমর্থনে এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে গেল। আহলে কিতাবরা আল্লাহর গুণাবলি স্বীকার করে, এ দিক দিয়ে গুণাবলির প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে তারা জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের চেয়েও উত্তম অবস্থায় আছে।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তারা যখন তাঁর সামনে গুণাবলির উল্লেখ করত, তখন তিনি বিস্ময় ও সমর্থনসূচক হাসি হাসতেন। তিনি কখনোই তাদের সেই দোষ দেননি, যা গুণাবলি অস্বীকারকারীরা (নুফাত) গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের (আহলুল ইসবাত) দিয়ে থাকেন।]

শাইখ: ইহুদিরা গুণাবলি সাব্যস্ত করার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কোনো দোষ ধরেননি, যেমনটি গুণাবলি অস্বীকারকারীরা আহলুস সুন্নাহর দোষ ধরে থাকে যখন তারা গুণাবলি সাব্যস্ত করে।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [যেমন: 'তাজসিম' (দেহ সাব্যস্তকরণ), 'তাশবিহ' (সাদৃশ্যকরণ) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।]

শাইখ: গুণাবলি সাব্যস্ত করার কারণে তিনি তাদের দোষ দেননি, এবং তাদের 'মুজাসসিমা' বা 'মুশাব্বিহা'ও বলেননি। বরং তিনি তাদের সেই কুফরি ও অপবাদের জন্য নিন্দা করেছেন যা তারা রবের প্রতি আরোপ করত, যেমন তাদের কথা: 'আল্লাহ দরিদ্র' অথবা 'আল্লাহর হাত শিকলবদ্ধ'।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [বরং তিনি তাদের নিন্দা করেছেন তাদের এই কথার কারণে: {আল্লাহর হাত শিকলবদ্ধ} [মায়িদা: ৬৪], এবং তাদের এই কথা: {নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র আর আমরা ধনী} [আল-ইমরান: ১৮১], এবং তাদের এই কথা যে, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পর তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি} [ক্বাফ: ৩৮]। আর তাওরাত এমন সব গুণাবলিতে ভরপুর যা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ তাওরাতে পরকাল সম্পর্কে কুরআনের মতো এত স্পষ্ট বর্ণনা নেই। সুতরাং যদি সেই গুণাবলির অপব্যাখ্যা করা বৈধ হয় যার ওপর উভয় কিতাব একমত, তবে কেবল একটি কিতাবে (কুরআনে) বর্ণিত পরকালের অপব্যাখ্যা করা তো আরও বেশি অগ্রগণ্য। আর যেহেতু দ্বিতীয়টি (পরকালের অপব্যাখ্যা) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীন অনুযায়ী অকাট্যভাবে বাতিল বলে পরিচিত, তাই প্রথমটি (গুণাবলির অপব্যাখ্যা) বাতিল হওয়া আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত।]

শাইখ: অর্থাৎ, যদি গুণাবলির বিষয়টি তাওরাত ও ইঞ্জিলে একমত পোষণ করা বিষয় হয় এবং কুরআন পরকালের বর্ণনায় একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়, আর আপনারা স্বীকার করেন যে পরকালের অপব্যাখ্যা করা জায়েজ নয় যা কুরআনে বিস্তারিত এসেছে, তবে গুণাবলির অপব্যাখ্যা না করা আরও বেশি অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح الحموية لابن تيمية - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح الحموية لابن تيمية

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 13 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাওয়িয়্যার ব্যাখ্যা - আর-রাজহী   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজহী)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাওয়িয়্যার ব্যাখ্যা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজহী

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১৩টি পাঠ ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ৪) শরহুল হামাউইয়্যাহ লি-ইবনে তাইমিয়্যাহ - রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح الحموية لابن تيمية ‌‌[4]

إن الرسول صلى الله عليه وسلم أعلم الخلق بما وصف الله به نفسه، وقد أخطأ من قال: إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن يعرف معاني ما أنزل الله، والسلف من الصحابة والتابعين كانوا يمرون الصفات كما جاءت، فلا يتكلفون في تأويلها ولا يقحمون عقولهم في حقائقها، بل يؤمنون بها كما يليق بجلال الله وعظمته من غير تأويل ولا تعطيل ولا تشبيه ولا تمثيل.

وما جاء عن الله ورسوله في بيان الصفات آمنوا به ولم يزيدوا عليه ولم ينقصوا.
ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-হামাবিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা [৪]

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলা নিজেকে যে সকল গুণে গুণান্বিত করেছেন সে সম্পর্কে সৃষ্টিজগত অপেক্ষা সর্বাধিক জ্ঞানী। আর যে ব্যক্তি বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার অর্থ জানতেন না, সে ভুল করেছে। সাহাবী ও তাবেয়ীগণের মধ্য থেকে সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) সিফাতসমূহ যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করতেন। তারা সেগুলোর ব্যাখ্যা করার অনর্থক চেষ্টা করতেন না এবং সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপের গভীরে নিজেদের বুদ্ধিকে চালিত করতেন না। বরং তারা সেগুলোর প্রতি এমনভাবে ঈমান আনতেন যা আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, অস্বীকার, সাদৃশ্যারোপ কিংবা উপমা পেশ করা ছাড়াই।

গুণাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে, তারা তার প্রতি ঈমান এনেছেন এবং তাতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস করেননি।