(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: -)
رسائل البشرى في السياحة بألمانيا وسويسرا القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: رسائل البشرى في السياحة بألمانيا وسويسرا (وهو مطبوع ضمن كتاب رحلة حسن أفندي توفيق العدل 1887 - 1892)
المؤلف: حسن توفيق بن عبد الرحمن العدل (ت 1322هـ)
دراسة: د. محمد صابر عرب
إعداد: عبد المنعم محمد سعيد
الناشر: مطبعة دار الكتب والوثائق القومية، القاهرة - مصر
عام النشر: 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 421
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1432
জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে সুসংবাদের পত্রসমূহ বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে সুসংবাদের পত্রসমূহ (এটি ১৮৮৭ - ১৮৯২ সালের হাসান এফেন্দী তাওফিক আল-আদলের ভ্রমণকাহিনী গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: হাসান তাওফিক বিন আবদুর রহমান আল-আদল (মৃত্যু ১৩২২ হিজরি)
গবেষণা: ড. মুহাম্মদ সাবের আরব
প্রস্তুতি: আবদুল মুনিম মুহাম্মদ সাঈদ
প্রকাশক: দারুল কুতুব ওয়াল ওয়াসাইক আল-কাওমিয়া প্রেস, কায়রো - মিশর
প্রকাশের বছর: ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: -)
تقديم عن طبعة المجلس الأعلى للثقافة بمصررحلة حسن أفندي توفيق العدل (1887 ـ 1892)
تضم "الرحلة إلي برلين" و"رسائل البشرى في السياحة بألمانيا وسويسرا "، وقد قدم له الدكتور محمد صابر عرب بدراسة ضافية. والكتاب من إعداد عبد المنعم محمد سعيد. وقد صدر الكتاب ضمن سلسلة "من أدب الرحلات" التي تصدرها المجلس الأعلى للثقافة بمصر.
تشير مقدمة الدكتور محمد صابر عرب إلى نبوغ حسن العدل وتنوع ثقافته وطموحاته العلمية الفائقة؛ وقد كانت أسبابا كافية لاختياره من قبل نظارة المعارف لكي يسافر إلي ألمانيا بمجرد تخرجه في دار العلوم ، معلما للغة العربية وآدابها في جامعة برلين التي وصل إليها في 20 سبتمبر 1887، حيث قضى خمس سنوات. ولم يكن مجرد معلم بل حرص علي تعلم الألمانية في أقل من ستة أشهر ، كما حرص على أن يستفيد من كل مشاهداته التربوية والاجتماعية والسياسية وأن يحيل ذلك كله إلى كتابات كتبها بالمصرية. وفي جميع الحالات كان مصريا نابها وسفيرا لبلاده ومدافعا عن قضاياها. ويرى الدكتور صابر أن رحلة حسن العدل إلى ألمانيا وسويسرا نموذج لأدب الرحلات، ليس لأنها قد سجلت بدقة كل ملاحظات الرجل ومشاهداته وانطباعاته، وإنما لما تميزت به من روح مرحة وطرف خفيفة الظل كان طرفا فيها ، كما يلاحظ على رحلة حسن العدل عنايته الفائقة بالتعليم وحرصه على الاستفادة من تجارب كل البلاد التي زارها لدرجة أنه سافر من ألمانيا إلى إنجلترا وفرنسا حيث أمضى عدة شهور متنقلا بين المؤسسات التعليمية والثقافية ، فزار جامعات أكسفورد وكمبردج وإبتون ، قبل العودة إلى بلاده لكي يقدم خبرته إلى وزارة المعارف المصرية. وعندما أقام الدكتور براون في القاهرة للعمل أستاذا بدار العلوم عام 1903 ـ وكان مكلفا من قبل جامعته لاستقدم احد الاساتذة المصريين للعمل مدرسا للغة العربية في جامعة كمبردج وقع اختياره على حسن العدل الذي سافر إلى انجلترا في أكتوبر 1903 وأصبح عضوا في الجمعية الآسيوية الملكية حتى كانت وفاته في 19 يونيو عام 1904.
মিশরের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর কালচারের সংস্করণ সম্পর্কে একটি উপস্থাপনাহাসান আফান্দি তাওফিক আল-আদলের সফরনামা (১৮৮৭ — ১৮৯২)
এতে "বার্লিন সফর" এবং "জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে সুসংবাদের পত্রাবলী" অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর ডক্টর মুহাম্মদ সাবের আরব এর একটি বিশদ ভূমিকা প্রদান করেছেন। বইটি সম্পাদনা করেছেন আবদেল মোনেম মুহাম্মদ সাঈদ। বইটি মিশরের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর কালচার কর্তৃক প্রকাশিত "ভ্রমণ সাহিত্য থেকে" সিরিজের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
ডক্টর মুহাম্মদ সাবের আরবের ভূমিকা হাসান আল-আদলের প্রতিভা, তার সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং তার সুউচ্চ জ্ঞানতাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করে; যা তাকে দারুল উলুম থেকে স্নাতক হওয়ার পরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জার্মানিতে পাঠানোর জন্য মনোনীত করার পর্যাপ্ত কারণ ছিল। তিনি সেখানে ১৮৮৭ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর পৌঁছান এবং বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে পাঁচ বছর অতিবাহিত করেন। তিনি কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং ছয় মাসেরও কম সময়ে জার্মান ভাষা শেখার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এছাড়াও তিনি তার সমস্ত শিক্ষামূলক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ থেকে উপকৃত হতে এবং সেগুলোকে মিশরীয় প্রেক্ষাপটে লেখনীর রূপ দিতে সচেষ্ট ছিলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি একজন বিচক্ষণ মিশরীয়, তার দেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতীয় স্বার্থের একনিষ্ঠ প্রবক্তা ছিলেন। ডক্টর সাবের মনে করেন যে, হাসান আল-আদলের জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণটি ভ্রমণ সাহিত্যের একটি অনন্য উদাহরণ। এটি কেবল এই কারণে নয় যে, এতে নিখুঁতভাবে তার সকল পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, বরং এতে ফুটে ওঠা রসবোধ ও চমৎকার বর্ণনার কারণেও এটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। হাসান আল-আদলের ভ্রমণে শিক্ষার প্রতি তার সুগভীর মনোযোগ এবং প্রতিটি দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রবল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। এমনকি তিনি জার্মানি থেকে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে গিয়েও কয়েক মাস বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে সময় কাটিয়েছেন। নিজ দেশে ফিরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রদানের পূর্বে তিনি অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও ইটন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। ১৯০৩ সালে যখন ডক্টর ব্রাউন কায়রোতে দারুল উলুমের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন—যাকে তার বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি শিক্ষক হিসেবে একজন মিশরীয় অধ্যাপককে নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিল—তখন তিনি হাসান আল-আদলকে নির্বাচন করেন। হাসান ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসে ইংল্যান্ডে গমন করেন এবং ১৯০৪ সালের ১৯শে জুন তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: -)
تقديم عن طبعة دار السويدي الثقافية الإماراتية (*)
عصام حمزة
تكشف يوميات الكاتب المصري حسن توفيق العدل المدونة في كتاب عن رحلته لالمانيا في لقرن التاسع عشر عن نزاع فكري ونفسي تجلى في ثنائية الصراع بين الانا والاخر .. بين تقدم الاخر الاوروبي وتخلف الانا العربي وهي ثنائية حكمت جيل العدل بأسره والاجيال اللاحقة الى اليوم. وفي كتابه "رسائل البشرى في السياحة بألمانيا وسويسرا .. رحلة عربي من برلين الى برلين" الذي اصدرته دار السويدي الثقافية الاماراتية في اطار مشروع ارتياد الافاق الذي يعنى بأدب رحلات العرب الى دول العالم خلال العشرة قرون الماضية يكشف الكاتب المصري عن انطباعاته ومقارناته عن ايمان بالعلم والتقدم والحرية وعن تقدير للاختلاف الثقافي والحضاري بين الامم والثقافات. يقول الشاعر نوري الجراح الذي حرر الكتاب وعلق هوامشه ان انطباعات العدل عن الرحلة التي قام بها في أغسطس آب وسبتمبر أيلول من عام 1887 وطاف خلالها عشرات المدن والقرى ما بين ألمانيا وسويسرا "لا تختلف عن غيرها من اليوميات العربية في أوروبا في همومها واهتمامات أصحابها." وقال الجراح الذي يشرف على مشروع ارتياد الافاق لرويترز "لم تكن الرحلة من الشرق العربي الى ألمانيا في القرن التاسع عشر رائجة عندما قام صاحب هذه اليوميات برحلته فقد كانت أنظار الرحالة والمسافرين العرب مشدودة يوم ذاك الى فرنسا وبريطانيا."واضاف "كانت كل من باريس ولندن العاصمتين الاكثر اغراء للنخب المثقفة الشرقية المتطلعة الى تحصيل العلم في أوروبا والعمل على احداث تغيير واصلاحات في نظم المجتمع والدولة ولاحقا المناداة بالاستقلال عن دولة الخلافة ممثلة بالباب العالي بالنسبة الى العرب الذين رزحوا تحت نير الحكم التركي أكثر من أربعة قرون."
وقال الجراح "في سبتمبر 1887 وعلى اثر اختياره من قبل (نظارة المعارف) في القاهرة لتدريس العربية للطلاب الاجانب في برلين ركب العدل الباخرة من الاسكندرية متجها الى ألمانيا وانتهى به المطاف في 20 سبتمبر من العام نفسه في برلين قادما من فيينا."
في أكتوبر تشرين الاول من سنة 1903 وصل الى انجلترا لتدريس اللغة العربية في جامعة كيمبردج بطلب من الحكومة المصرية فقضى هناك سبعة أشهر أمضاها في التدريس والبحث. وفي 31 من مايو أيار سنة 1904 وبينما هو في قاعة الدرس أصيب بعارض صحي أودى بحياته تحت أنظار طلابه.
أما رحلته من برلين واليها وسياحته في المدن الالمانية والسويسرية التي استمرت شهرا كاملا فقد كتب عن طبيعتها وناسها ومصانعها وعلومها ومدارسها.
--------------------------------------------
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দারুস সুওয়াইদি সাক্বাফিয়া সংস্করণ সম্পর্কে উপস্থাপনা (*)
ইসসাম হামজা
উনিশ শতকে জার্মানি সফরের ওপর ভিত্তি করে রচিত মিশরীয় লেখক হাসান তাওফিক আল-আদলের দিনলিপিগুলো একটি বুদ্ধিভিত্তিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব উন্মোচন করে, যা 'স্ব' এবং 'পর'-এর মধ্যকার সংঘাতের দ্বৈততায় প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ ইউরোপীয় 'পর'-এর অগ্রগতি এবং আরবীয় 'স্ব'-এর অনগ্রসরতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব—এটি এমন এক দ্বৈততা যা আল-আদলের পুরো প্রজন্ম এবং আজ অবধি পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে প্রভাবিত করেছে। তার বই "রাসায়িলুল বুশরা ফিস সিয়াহা বি-আলমানিয়া ওয়া সুইতসরা: রেহলাতু আরাবি মিন বার্লিন ইলা বার্লিন" (জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে পর্যটনের সুসংবাদ সম্বলিত পত্রাবলি: বার্লিন থেকে বার্লিনে এক আরবের সফরনামা), যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'দারুস সুওয়াইদি সাক্বাফিয়া' থেকে 'ইরতিয়াদুল আফাক' প্রকল্পের অধীনে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকল্পটি গত দশ শতাব্দী ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরবদের ভ্রমণ সাহিত্যের ওপর কাজ করে। মিশরীয় এই লেখক সেখানে বিজ্ঞান, অগ্রগতি ও স্বাধীনতার ওপর বিশ্বাস এবং বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পার্থক্যের মূল্যায়নের বিষয়ে তার অনুভূতি ও তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি নুরি আল-জাররাহ, যিনি বইটি সম্পাদনা করেছেন এবং এর পাদটীকা লিখেছেন, তিনি বলেন যে, ১৮৮৭ সালের আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে আল-আদল জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যবর্তী কয়েক ডজন শহর ও গ্রাম সফর করেছিলেন। তার সেই সফরের অভিজ্ঞতাগুলো "ইউরোপে রচিত অন্যান্য আরব দিনলিপিগুলোর মতোই, তাদের লেখকগণের উদ্বেগ এবং আগ্রহের দিক থেকে খুব একটা আলাদা নয়।" রয়টার্সকে 'ইরতিয়াদুল আফাক' প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক আল-জাররাহ বলেন, "উনিশ শতকে আরব প্রাচ্য থেকে জার্মানি সফর খুব একটা প্রচলিত ছিল না যখন এই দিনলিপির লেখক তার সফরটি করেছিলেন; কারণ সেই দিনগুলোতে আরব পর্যটক এবং ভ্রমণকারীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল ফ্রান্স ও ব্রিটেনের দিকে।" তিনি আরও যোগ করেন, "প্যারিস এবং লন্ডন ছিল প্রাচ্যের শিক্ষিত অভিজাতদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি রাজধানী, যারা ইউরোপে জ্ঞান অর্জন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও সংস্কার সাধনের জন্য উন্মুখ ছিলেন। পরবর্তীতে তারা খিলাফত রাষ্ট্র থেকে স্বাধীনতার দাবি তোলেন, যা চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তুর্কি শাসনের অধীনে থাকা আরবদের জন্য 'বাব-ই-আলি' (সাবলাইম পোর্ট) দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করত।"
আল-জাররাহ বলেন, "১৮৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোর 'নাজ়ারাতুল মাআরিফ' (শিক্ষা বিভাগ) কর্তৃক বার্লিনে বিদেশি ছাত্রদের আরবি শেখানোর জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর, আল-আদল আলেকজান্দ্রিয়া থেকে জাহাজে করে জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং একই বছরের ২০শে সেপ্টেম্বর ভিয়েনা হয়ে বার্লিনে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।"
১৯০৩ সালের অক্টোবরে তিনি মিশরীয় সরকারের অনুরোধে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা শিক্ষকতার জন্য ইংল্যান্ডে পৌঁছান এবং সেখানে সাত মাস শিক্ষকতা ও গবেষণায় অতিবাহিত করেন। ১৯০৪ সালের ৩১শে মে ক্লাসরুমে পাঠদানরত অবস্থায় তিনি আকস্মিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হন এবং তার ছাত্রদের চোখের সামনেই প্রাণত্যাগ করেন।
বার্লিন যাতায়াত এবং জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের শহরগুলোতে তার এক মাসব্যাপী ভ্রমণের প্রকৃতি, মানুষ, কলকারখানা, বিজ্ঞান এবং বিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: -)
انطلق العدل في رحلته من برلين في 16 أغسطس اب سنة 1889 متجها الى مدينة هانوفر وغادرها الى مدينة مندن وهي بلدة قديمة في ولاية فستفاليا ثم زار عددا من المدن الالمانية قبل أن يعبر الى الاراضي السويسرية.
ورجع من سياحته بعد شهر قضاه في شوارع المدن وأحضان الطبيعة الخلابة فوصل الى برلين يوم 15 سبتمبر أيلول عام 1889.
ويقول الجراح معلقا على رحلة العدل "لم يكن رحالتنا أول من دون يوميات وانطباعات عن ألمانيا أواخر القرن التاسع عشر فقد سبقه رحالة واحد على الاقل هو اللبناني سليم بسترس الذي زار ألمانيا قادما من بيروت عبر الاستانة سنة 1855 وعاصره محمد أمين فكري الذي زارها في سنة 1889 وهي السنة نفسها التي دون فيها العدل سياحته." ويضيف "لحقت بهؤلاء مجموعة من الادباء والشعراء والباحثين العرب الذين زاروا أوروبا وعرجوا على ألمانيا فدونوا انطباعات شكلت جزءا من مجمل انطباعاتهم عن الحياة الاوروبية."
ويمضي الجراح "نجد أن العدل يتميز عن هؤلاء أولا .. في أن سياحته انحصرت بألمانيا وبالجزء الالماني من سويسرا وبأنه قام برحلته خلال اقامة طويلة نسبيا في برلين أجاد خلالها اللغة الالمانية وقرأ في التاريخ الالماني وعبر مرارا في كتاباته عن اعجابه بالشخصية الالمانية وبشخصية الامير بسمارك على نحو خاص."
السمة الثانية التي تنفرد بها رحلة العدل بين أخواتها من الرحلات العربية أنه تاريخيا يعد الاسبق الذي سعى الى تدوين سياحته بين ألمانيا وسويسرا في كتاب مستقل. وهناك سمة ثالثة هي اشتراكه مع رفاعة رافع الطهطاوي في تكوينهما الازهري بينما تحدر الرحالة الاخرون بمن فيهم المصريون من مرجعية ثقافية مختلفة.
ورأى الجراح ان المشترك بين العدل وهؤلاء الرحالة جميعا أن نصوصهم تكشف عن طبيعة اهتمام النخب العربية المثقفة بأوروبا من خلال تأملها في النموذج الالماني فهي تعبر عن مراحل مهمة من الاتصال المتجدد بالغرب ما بين أواسط القرن التاسع عشر وأواسط القرن العشرين.
وقال ان نصوص الرحلات تعكس انطباعات وأفكارا وملاحظات لشرقيين ينتمي أكثرهم الى المجموعات المفكرة التائقة الى تغيير نمط الحياة في الشرق العربي ليساير التطور ويدخل الى العصر وبالتالي تفصح نصوص الرحلة العربية الى ألمانيا وأكثرها مجهول عن رؤية تلك النخبة للحياة الاوروبية كالعمران والتمدن والصناعة والفنون والتعليم والفكر والتخطيط الاجتماعي وغير ذلك مما يشكل بنية الحياة الحديثة وتجلياتها في الثقافة والاجتماع وكذلك نظرتها الى الشخصية الالمانية وما رأت أنها تتميز به من خصال.
১৮৮৯ সালের ১৬ আগস্ট আল-আদল বার্লিন থেকে তাঁর সফর শুরু করেন। তিনি হানোভার শহরের দিকে যাত্রা করেন এবং সেখান থেকে ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের একটি প্রাচীন শহর মিন্দেন অভিমুখে রওনা হন। অতঃপর সুইজারল্যান্ডের ভূখণ্ডে প্রবেশের পূর্বে তিনি জার্মানির বেশ কিছু শহর পরিদর্শন করেন।
শহরগুলোর রাস্তা এবং মনোরম প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক মাস অতিবাহিত করার পর তিনি তাঁর ভ্রমণ থেকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৮৮৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বার্লিনে পৌঁছান।
আল-আদলের ভ্রমণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আল-জাররাহ বলেন, "উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জার্মানি সম্পর্কে দিনলিপি ও অনুভূতি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমাদের এই পর্যটকই প্রথম ছিলেন না। তাঁর পূর্বে অন্তত একজন পর্যটক ছিলেন, তিনি হলেন লেবানিজ সেলিম বুসতোরোস, যিনি ১৮৫৫ সালে আস্তানা হয়ে বৈরুত থেকে জার্মানি সফর করেছিলেন। আর তাঁর সমসাময়িক ছিলেন মুহাম্মদ আমিন ফিকরি, যিনি ১৮৮৯ সালে সেখানে গিয়েছিলেন; এটি সেই একই বছর যখন আল-আদল তাঁর ভ্রমণের কথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "পরবর্তীতে একদল আরব সাহিত্যিক, কবি ও গবেষক তাঁদের অনুসরণ করেন যারা ইউরোপ সফর করেছিলেন এবং জার্মানিতেও গিয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে তাঁদের অনুভূতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যা ইউরোপীয় জীবন সম্পর্কে তাঁদের সামগ্রিক পর্যালোচনার একটি অংশে পরিণত হয়েছে।"
আল-জাররাহ আরও বলেন, "আমরা দেখতে পাই যে আল-আদল অন্যদের থেকে আলাদা ছিলেন, প্রথমত... তাঁর ভ্রমণ ছিল জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডের জার্মান ভাষাভাষী অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এছাড়া তিনি বার্লিনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের মধ্য দিয়ে তাঁর সফর সম্পন্ন করেছিলেন, যে সময়কালে তিনি জার্মান ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন, জার্মানির ইতিহাস পাঠ করেন এবং তাঁর লেখনিতে বারবার জার্মান ব্যক্তিত্ব ও বিশেষ করে প্রিন্স বিসমার্কের ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।"
অন্যান্য আরব ভ্রমণবৃত্তান্তের মধ্যে আল-আদলের ভ্রমণের দ্বিতীয় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো, ঐতিহাসিক দিক থেকে তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে তাঁর ভ্রমণের কথা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একটি তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁর আল-আযহারি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রিফাআহ রাফে আল-তহতাবির সাথে তাঁর সাদৃশ্য, যেখানে অন্যান্য পর্যটক এবং অনেক মিশরীয়রা ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে এসেছিলেন।
আল-জাররাহ মনে করেন যে, আল-আদল এবং এই সমস্ত পর্যটকদের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র এই যে, তাঁদের গ্রন্থসমূহ জার্মান মডেল পর্যালোচনার মাধ্যমে ইউরোপের প্রতি আরব বুদ্ধিজীবী মহলের আগ্রহের স্বরূপ উন্মোচিত করে। এগুলো উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত পাশ্চাত্যের সাথে নতুন করে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোকে তুলে ধরে।
তিনি বলেন যে, এই ভ্রমণবৃত্তান্তগুলো এমন প্রাচ্যবাসীদের অনুভূতি, চিন্তাধারা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন ঘটায় যাদের অধিকাংশ ছিলেন সেই চিন্তাশীল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যারা আরব প্রাচ্যের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে আধুনিক উন্নয়নের সাথে তাল মেলাতে এবং আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে আগ্রহী ছিলেন। ফলস্বরূপ, জার্মানিতে আরব পর্যটকদের সেই ভ্রমণবৃত্তান্তগুলো—যার অধিকাংশ এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত—ইউরোপীয় জীবন সম্পর্কে সেই অভিজাত শ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে তোলে, যেমন স্থাপত্য, নগরায়ন, শিল্পায়ন, শিল্পকলা, শিক্ষা, চিন্তাধারা, সামাজিক পরিকল্পনা এবং অন্যান্য বিষয় যা আধুনিক জীবনের কাঠামো গঠন করে এবং সংস্কৃতি ও সমাজে তার প্রকাশ ঘটায়। সেই সাথে জার্মান ব্যক্তিত্ব এবং তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি তাঁদের যে দৃষ্টি ছিল তাও ফুটে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: -)
ووصف الجراح هذه النصوص بانها نصوص مسافرين "لم يهمل جلهم اعمال الفكر في أسباب تقدم الغرب من دون اغفال أهمية المقارنة بين عناصر الاختلاف القائمة بين الشرق والغرب وعليه فان كتاباتهم عن ألمانيا تمثل تطلعات نخبة أملت بكثير من الرومانسية في أن تستلهم حداثة الغرب وتحذو حذوه في انتهاج سبيل العصرنة للانتقال بمجتمعاتهم من حال التخلف واللحاق بركب المدينة الحديثة.
আল-জাররাহ এই পাঠ্যসমূহকে ভ্রমণকারীদের পাঠ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাদের অধিকাংশই পাশ্চাত্যের অগ্রগতির কারণসমূহ অনুসন্ধানে চিন্তাশক্তি প্রয়োগে অবহেলা করেননি, পাশাপাশি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের উপাদানসমূহের তুলনামূলক আলোচনার গুরুত্বকেও উপেক্ষা করেননি। ফলশ্রুতিতে, জার্মানি বিষয়ক তাদের রচনাবলি এমন এক বিদগ্ধ সমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়, যারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণতার সাথে এই আশা পোষণ করেছিলেন যে, তারা পাশ্চাত্যের আধুনিকতা থেকে প্রেরণা গ্রহণ করবেন এবং আধুনিকায়নের পথ অবলম্বনে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন; যেন স্বীয় সমাজকে অনগ্রসরতার দশা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আধুনিক সভ্যতার মিছিলে শামিল করা যায়।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
حمداً لك أنشأتَ الكونَ فأبدعتَ، وخلقتَ الخلقَ فأحسنتَ، مهدتَ الأرضَ ورفعتَ السماءَ، وأقمتَ الأعلامَ، وأجريتَ الماءَ، وشكراً لك على ما هديتنا إلى المحجة البيضاء، والصراط السواء، وصلاة وسلاماً منك على رسولك الجامع لشتات الجامعة، من الأقطار الشاسعة، وآله وأصحابه، وأتباعه وأحبابه.
وبعد، فأخبركم سادتي، وكلكم خبير بثمرات التجول في الأقطار، وملازمة عصا التَّسيار. هو السفر طالما أسفر عن عجائب، وهو الترحال كثر ما أعرب من غرائب، يدرِّبُ الإنسان ويشحذ الأذهان، وجدير بمن تحمَّل رعائبه، أن ينال رغائبه، ولو لم يكن نعمة عظمى لما منَّ سبحانه على أمَّة قريش بإيلافهم رحلة الشتاء والصيف، فآمن من خوفهم، وأطعم من جوعهم.
وقد انتبه لفوائده أمة أوروبا فساحوا في الأقطار، وجاسوا خلال البلاد والديار. فمنهم المشرِّقُ ومنهم المغرِّبُ، يتسنمون نجداً، ويتحدرون غوراً، دائبين على استكشاف البقاع ومعرفة أحوال الأمم على اختلاف طبائعها وعوائدها، فحصلوا من ذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি মহাবিশ্ব সৃজন করেছেন এবং তা নিপুণভাবে গড়েছেন, সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সর্বোত্তম অবয়ব দান করেছেন। আপনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং আকাশকে সমুন্নত করেছেন, দিক-নিশানা স্থাপন করেছেন এবং পানি প্রবাহিত করেছেন। আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই জন্য যে, আপনি আমাদের শুভ্র সমুজ্জ্বল পথ এবং সঠিক সরল পথের দিশা দিয়েছেন। আপনার পক্ষ থেকে দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আপনার সেই রাসুলের প্রতি, যিনি দূর-দূরান্তের ভূখণ্ডসমূহ হতে আসা বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টিকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ, অনুসারী ও তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি।
অতঃপর, হে আমার মহোদয়গণ! আপনাদের আমি অবহিত করছি—আর আপনারা সকলেই বিভিন্ন ভূখণ্ডে পরিভ্রমণ এবং ভ্রমণের পথে অবিচল থাকার সুফল সম্পর্কে সম্যক অবগত। এই সফরই সর্বদা বহু বিস্ময়কর বিষয় উন্মোচন করে এবং এই পরিভ্রমণই সচরাচর অদ্ভুত বিষয়সমূহ প্রকাশ করে। এটি মানুষকে অভিজ্ঞ করে তোলে এবং মেধাকে শাণিত করে। যে ব্যক্তি সফরের কষ্টসমূহ সহ্য করে, সে তার অভীষ্ট লক্ষ্য লাভে সমর্থ হওয়ার যোগ্য। যদি এটি মহান নেয়ামত না হতো, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরাইশ জাতির প্রতি তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের প্রতি অনুরাগের মাধ্যমে অনুগ্রহ ব্যক্ত করতেন না; অতঃপর তিনি তাদের ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং ক্ষুধা থেকে অন্ন সংস্থান করেছেন।
ইউরোপীয় জাতিসমূহ এর উপকারিতা উপলব্ধি করতে পেরেছে, ফলে তারা বিভিন্ন দেশে পর্যটন করেছে এবং জনপদসমূহের অভ্যন্তরে বিচরণ করেছে। তাদের কেউ প্রাচ্যে গমন করেছে আবার কেউ প্রতীচ্যে; তারা উচ্চভূমিতে আরোহণ করেছে এবং নিম্নভূমিতে অবতরণ করেছে। তারা ভূখণ্ডসমূহ আবিষ্কার এবং জাতিসমূহের স্বভাব ও রীতিনীতির ভিন্নতা অনুযায়ী তাদের অবস্থা জানার জন্য নিরন্তর সচেষ্ট ছিল। এর মাধ্যমে তারা লাভ করেছে...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩১৬)
على ما أكسبهم المعرفة، وأزال عنهم الجهالة، وأوسع من نطاق علمي الجغرافيا والتاريخ اللذين هما أساس التمدن ومركز دائرة المعارف. ولم يألُ كل سائح منهم جهداً في تقييد ما شاهده من البلدان، واستكشفه من أحوال أهلها المادية والأدبية، حتى صارت مؤلفاتهم في ذلك عدداً عديداً، فمنها ما هو ضمن كتب مستقلة، ومنها ما هو طي الجرائد اليومية، تسهيلاً للمطالعين، وتثقيفاً لعقولهم، فلست ترى عائلة أوروبية إلا ولديهم مجموع عظيم من ذلك، يجلبون بمطالعته أنسهم، ويوسعون بذكره دائرة أفكارهم.
ولما مَنَّ الله على الضعيف بالرحلة إلى بلاد أوروبا، والمكث في مدينة برلين عاصمة الإمبراطورية الألمانية لاكتساب الفنون والعلوم، رأيت من طبعي نزوعاً إلى السياحة والتَّجَوُّل في بلاد ألمانيا مدة المسامحة لأتعرّف أحوال أمَّته المعاشية
والأدبية، تطبيقاً للعلم على العمل، وتأكيداً للسماع بالنظر. وقد أكرمتني لذلك نظارة المعارف المصرية الجليلة بمدِّ يدِ المساعدة، حيث شملتني عناية مؤسس دعائمها قديماً وحديثاً سعادة وزيرها الأفخم علي مبارك باشا لازالت أبناء المعارف تبتسم عن شكر أياديه، ولا بَرِح الإقبال طوع أيديه.
যা তাদের জ্ঞান দান করেছে, তাদের থেকে মূর্খতা দূর করেছে এবং ভূগোল ও ইতিহাস—এই দুই বিজ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করেছে, যা সভ্যতার ভিত্তি এবং বিশ্বকোষের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের মধ্যকার প্রত্যেক পর্যটক বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে যা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের পার্থিব ও চারিত্রিক অবস্থার যা কিছু উন্মোচন করেছেন, তা লিপিবদ্ধ করতে কোনো ত্রুটি করেননি। এমনকি এ বিষয়ে তাদের রচনাবলি সংখ্যাতীত হয়ে পড়েছে; যার কিছু অংশ স্বতন্ত্র গ্রন্থাকারে এবং কিছু অংশ দৈনিক সংবাদপত্রের পাতায় স্থান পেয়েছে, যাতে পাঠকদের জন্য তা সহজ হয় এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। আপনি এমন কোনো ইউরোপীয় পরিবার দেখবেন না যাদের কাছে এর এক বিশাল সংগ্রহ নেই, যা পাঠ করে তারা আনন্দ লাভ করে এবং যার আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের চিন্তার পরিধি প্রশস্ত করে।
আর যখন আল্লাহ এই অধমের প্রতি ইউরোপ সফরের এবং শিল্প ও বিজ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে জার্মান সাম্রাজ্যের রাজধানী বার্লিন শহরে অবস্থানের অনুগ্রহ দান করলেন, তখন আমি আমার স্বভাবজাতভাবেই অবকাশের সময়ে জার্মানিজুড়ে পর্যটন ও ভ্রমণের প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করলাম, যাতে আমি এই জাতির জীবনযাত্রার অবস্থা
এবং চারিত্রিক গুণাবলি সম্পর্কে জানতে পারি; যেন জ্ঞানের সাথে কর্মের প্রয়োগ ঘটে এবং শ্রুত বিষয়সমূহ দর্শনের মাধ্যমে সুনিশ্চিত হওয়া যায়। মিশরের মহিমান্বিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে আমাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সম্মানিত করেছে, যেখানে এই মন্ত্রণালয়ের প্রাচীন ও আধুনিক ভিত্তির প্রতিষ্ঠাতা, মহামান্য উজির আলী মুবারক পাশার কৃপা আমাকে ধন্য করেছে; জ্ঞানপিপাসুরা যেন সর্বদা তার হাতের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতায় হাস্যোজ্জ্বল থাকে এবং উন্নতি যেন সর্বদা তার হাতের অনুগত থাকে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
فقمت بأعباء الأمر، وأخذت في التجول في أنحاء البلدان والمدن، فاتجهت إلى بلاد ألمانيا الغربية، ثم إلى شمال وشرق سويسرا، ثم إلى ألمانيا الجنوبية، متتبعاً أهم البلاد، مستكشفاً أحوالها الطبيعية الجغرافية والتاريخية، حتى حصلت من ذلك على فوائد جزيلة، وثمرات مفيدة، قد وضعتها ضمن هذا الكتاب إيفاء بحقوق الوطنية، وشكراً للمعارف الجليلة العمومية التي أرضعتني لبان مننها، وكستني حلل كرمها، وخدمة لمصدر الكرم، وولي النعم، مُحيي روح التَّمدن والعمران، وغارس شجرة الصلاح والأمان، من أنام الأنام في ظل عدله، ولحظهم بكرمه وفضله، مليك العصر، وعزيز مصر خديونا الأعظم محمد توفيق باشا الأفخم، أدام الله لنا ذاته الشريفة، ومتَّعنا ببقاء سُدَّته المنيفة، وسرَّنا بحفظ السادة الأنجال بُدور الجلال وشموس الكمال.
وها أنا أوافيكم بالتفصيل، وعلى الله قصد السبيل فأقول.
الإنطلاق من برلين
16 آب - أغسطس 1889بارحت برلين صباح يوم 18 ذي الحجة سنة 1306 هجرية الموافق 16 أغسطس سنة 1889 ميلادية قاصداً مدينة كلونيا في قطار يطير في الأقطار، وقد بلَّت أجنحتَه الأمطار، ولم يزل يعرض علينا البلاد والقرى، وأنا أتصفح بعض الكتب لأطلع على مالها من الأهمية مادياً وأدبياً. حتى إذا كان وقت الظهيرة حط
আমি এই কাজের গুরুভার গ্রহণ করলাম এবং বিভিন্ন দেশ ও নগরের আনাচে-কানাচে পরিভ্রমণ শুরু করলাম। আমি প্রথমে পশ্চিম জার্মানি, অতঃপর উত্তর ও পূর্ব সুইজারল্যান্ড এবং এরপর দক্ষিণ জার্মানির দিকে যাত্রা করলাম। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো অনুসরণ করে আমি সেগুলোর প্রাকৃতিক, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক অবস্থা অন্বেষণ করলাম; এমনকি এর মাধ্যমে আমি প্রভূত কল্যাণ ও উপকারী ফল লাভ করলাম। স্বদেশপ্রেমের হক আদায় এবং সেই মহান সাধারণ জ্ঞানরাজির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমি এই গ্রন্থে তা সনিবেশিত করেছি, যা আমাকে তার অনুগ্রহের দুগ্ধ পান করিয়েছে এবং তার উদারতার পোশাকে আবৃত করেছে। এটি সেই মহত্ত্বের উৎস এবং নিআমতের অধিপতির সেবার্থে নিবেদিত, যিনি সভ্যতা ও নগরায়নের প্রাণশক্তির পুনর্জীবন দানকারী এবং ন্যায়নিষ্ঠা ও নিরাপত্তার বৃক্ষ রোপণকারী; যাঁর ন্যায়ের ছায়াতলে সৃষ্টিজগত শান্তিতে নিদ্রা যায় এবং যিনি স্বীয় উদারতা ও অনুগ্রহে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন; তিনি বর্তমান যুগের অধিপতি, মিসরের প্রিয়পাত্র, আমাদের মহান খেদিভ মুহাম্মদ তাওফিক পাশা আল-আফখাম। আল্লাহ আমাদের জন্য তাঁর মহান সত্তাকে চিরস্থায়ী করুন, তাঁর সুউচ্চ আসনের স্থায়িত্বের মাধ্যমে আমাদের আনন্দিত রাখুন এবং তাঁর মহিমান্বিত সন্তানদের সুরক্ষার মাধ্যমে আমাদের খুশি রাখুন, যাঁরা প্রতাপের পূর্ণচন্দ্র এবং পূর্ণতার সূর্যসম।
এখন আমি আপনাদের সামনে বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরছি, আর সঠিক পথ প্রদর্শন করা আল্লাহরই কাজ। অতঃপর আমি বলছি:
বার্লিন থেকে যাত্রা শুরু
১৬ আগস্ট, ১৮৮৯আমি ১৩০৬ হিজরি সনের ১৮ই যিলহজ মোতাবেক ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট সকালবেলা বার্লিন ত্যাগ করলাম। আমার গন্তব্য ছিল কোলন শহর। আমি এমন এক ট্রেনে চড়লাম যা যেন দেশ-দেশান্তরে উড়ে চলছিল, আর বৃষ্টির ছাট তার ডানাদ্বয়কে সিক্ত করে দিচ্ছিল। সেটি একের পর এক দেশ ও গ্রাম আমাদের সামনে তুলে ধরছিল, আর আমি বইয়ের পাতা উল্টে সেগুলোর পার্থিব ও সাহিত্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে যখন দ্বিপ্রহর হলো, তখন সেটি থামল।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩১৮)
رحاله في مدينة هنوفر فنزلت ملتمساً مشاهدة منظرها، فإذا هي بلدة متّسقة الشوارع متسعتها، وقد كانت عاصمة المملكة المسمّاة باسمها، وفي سنة 1866 ميلادية استولت عليها مملكة البروسيا وجعلتها ضمن ولاياتها قبيل الحرب البروسيانية النمساوية كما شرحت ذلك في الجزء الثامن من رحلتنا البرلينية، ثم هي الآن عاصمة تلك الولاية ومنطق أهلها باللغة الألمانية أفصح ممن عداهم، وذلك في إعطاء الحروف حقَّ مخارجها كما هو مشهور، ورأيته بتتبعي لكلامهم.
ولما صاح القطار بنعيرته وأعلن بالرحيل نزلت العربة فإذا أنا فيها وحيد، ولم أشعر إلا وقد انفتح باب العربة فرأيت شاباً وشابة كأنهما القمر والشمس يودِّعان أهلهما وأصحابهما، وقد أخذ الجميع في التقبيل والعناق، وتلاوة كلمات الفراق، ثم أقبلا علي يتهلَّلان فرحاً وسروراً، فألقيا السلام، فرحبت بهما، وشرفت من شأنهما، حتى إذا استقر بهما المجلس، وسار الوابور أخذا يتغازلان. وقد جرى بينهما سر الهوى، وباحت عيونهما بالجوى، فرقَّ لرقتهما قلبي، وهام بشأنهما لُبِّي وبعد لُحيظات لحظاني بعيونهما، حتى إذا علما أني غريب عن جنسهما ظنا أني لم أعرف لغتهما، فقالت فرنساوي؟ وقال بل روسي؟ إسبانيولي؟ بل إيطالياني؟ يوناني؟ بل تركي؟ فعند ذلك أخذني الضحك، فشعرا
হানোফার শহরে তাঁর যাত্রাবিরতি ঘটল, তাই আমি এর দৃশ্য অবলোকনের প্রত্যাশায় সেখানে অবতরণ করলাম। দেখলাম, এটি সুশৃঙ্খল ও প্রশস্ত রাস্তাঘাটবিশিষ্ট একটি শহর। এটি উক্ত নামের রাজ্যেরই রাজধানী ছিল। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রুশিয়া রাজ্য এটি দখল করে নেয় এবং অস্ট্রো-প্রুশীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে একে তাদের নিজস্ব প্রদেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি আমি আমাদের বার্লিন সফরের অষ্টম খণ্ডে বর্ণনা করেছি। বর্তমানে এটি সেই প্রদেশের রাজধানী এবং এখানকার অধিবাসীদের জার্মান ভাষার উচ্চারণ অন্যদের তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ। এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, তারা বর্ণের যথাযথ উচ্চারণস্থল থেকে শব্দ উচ্চারণে পারদর্শী, যা আমি তাদের কথোপকথন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লক্ষ্য করেছি।
যখন ট্রেনের বাঁশি বেজে উঠল এবং প্রস্থানের ঘোষণা দেওয়া হলো, আমি কামরায় প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম আমি সেখানে একাকী। হঠাৎ অনুভব করলাম কামরার দরজা খুলে গেল এবং আমি এক যুবক ও এক যুবতীকে দেখলাম যারা যেন চন্দ্র ও সূর্য; তারা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিল। সবাই পরস্পরকে চুম্বন ও আলিঙ্গন করছিল এবং বিদায়ের বিষাদময় কথা বলছিল। এরপর তারা অত্যন্ত আনন্দ ও প্রফুল্লতার সাথে আমার দিকে এগিয়ে এল এবং অভিবাদন জানাল। আমি তাদের স্বাগত জানালাম এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলাম। যখন তারা আসনে স্থির হলো এবং রেলগাড়ি চলতে শুরু করল, তারা পরস্পর প্রেমালাপ ও খুনসুটি শুরু করল। তাদের মাঝে প্রণয়ের গোপন অনুভূতি প্রবাহিত হচ্ছিল এবং তাদের চোখ দুটি হৃদয়ের ব্যাকুলতা প্রকাশ করে দিচ্ছিল। তাদের এই কোমলতায় আমার হৃদয় বিগলিত হলো এবং তাদের এই ভাবাবেগে আমার মন নিবিষ্ট হলো। কিছুক্ষণ পর তারা আমাকে লক্ষ্য করল; যখন তারা বুঝতে পারল যে আমি তাদের জাতির কেউ নই, তখন তারা ধারণা করল যে আমি তাদের ভাষা জানি না। যুবতী বলল, "ফরাসি?" যুবক বলল, "বরং রুশ? স্প্যানিশ? ইতালীয়? গ্রিক? নাকি তুর্কি?" তখন আমি হেসে উঠলাম, আর তারা অনুভব করতে পারল—
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩১৯)
بذلك، وطلبا مني العفو، وتجاذبنا من وقتئذ أطراف الحديث. وعلمت من حديثهما أنهما قد تقارنا قريباً
بعدما أنحلهما الغرام، وهالهما الهُيام، وقد أخذا في سفر الزواج كما هي عادة الألمانيين. وإليك شرحها اختصاراً، فأقول:
لما كان التزوج في البلاد الألمانية عسير الحصول بالنسبة لكثرة عدد الإناث وقلّة غنى الذكور، التزمت الآباء بإعطاء كامل الحرية لبناتهم متى بلغن 18 سنة من عمرهن، فيتركونهن في المجتمعات والمحافل يتسامرن، ويتداعبن، ويلعبن، ويرقصن مع الشبان إلى غير ذلك، فربما علق أحدهم بإحداهن وهي به، فيخرجان، وقد ثارت نيران الحب في أحشائهما، ويكون ذلك لهما موضوعاً للمراسلات العشقية، ويتراسلان، ويتواعدان ليتفسح معها في المنتزهات أوقات الفضا، ويكون مصاحباً لها أشهراً، وربما أعواماً تحت مراقبة الآباء أو أولياء شأنهما، ويسمون تلك المدة بمدة التجربة، ويستمران على ذلك حتى إذا لم يجدا مانعاً في الأثناء، وألفيا أن لا مناص من الاقتران عرضا خطبتهما على الآباء فإذا رضوا، ولم يكن ثم مانع، احتفلوا لزواجهما ليلة أو ليلتين، ثم يسافران معاً ليشتد وثوقهما، ويشد بعضهما أزر البعض تمكيناً للألفة والمحبة، وإلا فمتى حصل عائق وتفاقم غرامهما ورأيا أن لا محيد عن الفراق، فالناس في هذه
এর মাধ্যমে তারা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সেই সময় থেকে আমরা আলাপচারিতায় লিপ্ত হলাম। আমি তাদের আলাপচারিতা থেকে জানতে পারলাম যে, তারা সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে
যখন প্রেম তাদের জীর্ণ করে তুলেছিল এবং অনুরাগ তাদের ব্যাকুল করেছিল। জার্মানদের প্রথা অনুযায়ী তারা বর্তমানে বিবাহোত্তর ভ্রমণে বের হয়েছে। আমি তোমার নিকট সংক্ষেপে এর ব্যাখ্যা পেশ করছি, আমি বলছি:
যেহেতু জার্মান দেশসমূহে নারীর সংখ্যাধিক্য এবং পুরুষদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিবাহ সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত দুরূহ, সেহেতু পিতারা তাদের কন্যারা আঠারো বছর বয়সে উপনীত হলে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদানে বাধ্য হন। তারা তাদের বিভিন্ন সামাজিক মজলিস ও অনুষ্ঠানে ছেড়ে দেন, যেখানে তারা যুবকদের সাথে আলাপচারিতা, কৌতুক, খেলাধুলা, নৃত্য এবং এজাতীয় বিবিধ কাজে লিপ্ত হয়। এমতাবস্থায় হয়তো তাদের কেউ কোনো একজনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং অপরজনও তার প্রতি অনুরক্ত হয়। ফলে তারা উভয়ে বাইরে বের হয় এবং তাদের অন্তরে প্রেমের অনল প্রজ্বলিত হয়। এটিই তাদের জন্য প্রেমপত্রের আদান-প্রদানের বিষয়ে পরিণত হয়। তারা একে অপরকে পত্র লেখে এবং অবসরে উদ্যানগুলোতে ভ্রমণের জন্য একে অপরের সাথে সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি দেয়। যুবকটি এভাবে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত পিতা বা অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে যুবতীটির সহচর হিসেবে অবস্থান করে। তারা এই সময়কালকে 'পরীক্ষণকাল' নামে অভিহিত করে। তারা এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না তারা এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়; আর যখন তারা অনুভব করে যে পরিণয় ব্যতিরেকে অন্য কোনো উপায় নেই, তখন তারা পিতা-মাতার নিকট তাদের বিবাহের প্রস্তাব পেশ করে। যদি তারা সম্মত হন এবং কোনো বাধা না থাকে, তবে তারা এক বা দুই রাতব্যাপী তাদের বিবাহের উৎসব উদযাপন করে। অতঃপর তারা একত্রে ভ্রমণে বের হয় যাতে তাদের পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হয় এবং সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একে অপরের শক্তি যোগাতে পারে। অন্যথায়, যখন কোনো বাধার সৃষ্টি হয় এবং তাদের প্রেম ঘনীভূত হওয়া সত্ত্বেও তারা বিচ্ছেদকেই অনিবার্য মনে করে, তখন এই পরিস্থিতিতে মানুষ...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
الحالة مختلفون: فمنهم من يتصبر ويتسلى، ويصادم جيش الهوى حتى يأتيه السُّلوان، ومنهم من يزيد قلبه اشتعالاً ويهيجه الغرام، فيصبح صريع الموت وحشواً للقبور بمخاطرته بنفسه. وأغلب هذا القسم هم العوام، لا سيما إذا أضناهم شظف العيش، وأخذت عليهم يد الفقر، وكذلك بعض من متوسطي الناس وأشرافهم، فترى الجرائد أحياناً ممتلئة بذكر أسماء الشبان والبنات الذين خاطروا بنفسهم نعوذ بالله من تلك الفعلة التي هي في الحقيقة حِطة في التمدن الإنساني، وثَلم لما عليه قارة أوروبا من كمال الإنسانية.
الوصول إلى مندنهذا ولم تزل تطوِّح بنا الطوائح إلى أن أشرفنا على مدينة مندن التي هي بلدة قديمة ومن مشهوري مدن ولاية فستفالن إحدى ولايات البروسيا، وبعدما بارحناها ببعض دقائق زج بنا في واد متسع بين جبلين يَنْهَر فيه نهر فيزر.
وكان الرومانيون يسمون ذلك الوادي فستافالكا ومعناه باب فستفالن وحين شاهدته راقني موقعه، وشغفت بمنظره، حيث هو من أعظم البقاع التي يفتخر بها الجرمانيون، لانتصارهم فيه على الرومانيين قديماً. وذلك أن الرومانيين في القرن الأخير قبل الميلاد في عصر القيصر سيزار عاثوا في بلاد جرمانيا حتى فتحوا قسماً عظيماً منها، وأسسوا مدناً، وحصنوا بها قلاعاً، ولم
এ ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন: তাদের মধ্যে কেউ ধৈর্য ধারণ করে ও সান্ত্বনা খুঁজে নেয় এবং প্রবৃত্তির বাহিনীর সাথে লড়াই চালিয়ে যায় যতক্ষণ না তার কাছে প্রশান্তি ফিরে আসে। আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার হৃদয়ে দহন বৃদ্ধি পায় এবং প্রেম তাকে উত্তেজিত করে, ফলে সে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে মৃত্যুর শিকারে পরিণত হয় এবং কবরের খোরাক হয়। এই শ্রেণির অধিকাংশ হলো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যখন জীবনযাপনের কঠোরতা তাদের ক্লিষ্ট করে এবং দারিদ্র্যের হাত তাদের ওপর চেপে বসে। তেমনিভাবে মধ্যবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণীর কিছু লোকও এমন হয়। ফলে আপনি মাঝে মাঝে সংবাদপত্রগুলোকে এমন সব তরুণ-তরুণীর নাম দিয়ে পূর্ণ দেখতে পাবেন যারা নিজেদের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছে। আমরা সেই কর্ম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, যা প্রকৃতপক্ষে মানব সভ্যতার অবক্ষয় এবং ইউরোপ মহাদেশ যে মানবিক পূর্ণতার দাবি করে, তাতে একটি ফাটল বা কলঙ্কস্বরূপ।
মিন্ডেন শহরে পৌঁছানোনানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা মিন্ডেন শহরের সামনে এসে উপস্থিত হলাম, যা একটি প্রাচীন শহর এবং প্রুশিয়ার অন্যতম প্রদেশ ওয়েস্টফালিয়ার বিখ্যাত শহরগুলোর একটি। সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার কয়েক মিনিট পর আমরা দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এক প্রশস্ত উপত্যকায় প্রবেশ করলাম, যার মধ্য দিয়ে ওয়েজার নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
রোমানরা সেই উপত্যকাকে 'ফেস্টা ফালকা' বলত, যার অর্থ হলো 'ওয়েস্টফালিয়ার দ্বার'। আমি যখন তা দেখলাম, এর অবস্থান আমাকে মুগ্ধ করল এবং এর দৃশ্য আমাকে বিমোহিত করল। কারণ এটি সেই মহান স্থানগুলোর একটি যা নিয়ে জার্মানরা গর্ব করে, কারণ প্রাচীনকালে তারা এখানে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছিল। বিষয়টি হলো, খ্রিস্টপূর্ব শেষ শতাব্দীতে কায়সার সিজারের যুগে রোমানরা জার্মানি ভূখণ্ডে লুটতরাজ চালিয়েছিল, এমনকি তারা এর বিশাল এক অংশ জয় করে নিয়েছিল, শহর প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং সেখানে শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করেছিল, আর তারা...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২১)
يزالوا، فيما بعد، رافعين ألوية الانتصار على الجرمانيين في كل حرب يقيمونها حتى أخضعوهم إليهم، ونظموا منهم جيشاً يسيرونه كيف شاءوا. ولم تزل هذه حالتهم إلى أن تولّى على الرومانيين القيصر أغسطس وفي عهده وجه إلى بلاد جرمانيا والياً له يسمى فاروس وكان مع قوة بأسه ليِّن الجانب سهل الانخداع، وحينما رأى أفراد الجيش الجرماني أولي قوة كثيري الطاعة، كما هي سنة الأمة المغلوبة للغالبة، شُغف بهم، وأعلى من درجاتهم، وكان منهم رجل جرماني يدعى هرمان شديد الجأش، عارفاً بطرق الحيل والخداع.
وكانت الحمية الجرمانية تضرم في قلبه، وكراهته للرومانيين تصلي فؤاده، فأوجس في نفسه الانتقام، والتخلص من قهرهم، وأخفى ما كنَّهُ صدره، وصار يتقرب إلى ذلك الوالي شيئاً فشيئاً إلى أن اغترَّ به وأوصله إلى درجة كبرى، حتى جعله من جملة قواد الجيوش الجرمانية والرومانية. فعند ذلك انتهز الفرصة فحرَّك يد الفتنة في الجرمانيين سرّاً، وجعل بينه وبينهم مسيساً، فرفعوا عصا العصيان، وقاموا ضد الرومانيين، وكان من القائد هرمان أن هاج في الرومانيين يحثّهم على الحرب، وألان جانب الوالي والقيصر حتى تجهزوا لانتشاب نار المعارك، فقام
الوالي بجيشه وقواده، ومن جملتهم القائد
এরপর তারা জার্মানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিটি যুদ্ধে বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করতে থাকে, যতক্ষণ না তারা তাদের বশীভূত করে এবং তাদের মধ্য থেকে একটি সেনাবাহিনী গঠন করে, যা তারা তাদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করত। তাদের এই অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল, যতক্ষণ না রোমানদের শাসনভার সম্রাট অগাস্টাস গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে তিনি জার্মানি ভূখণ্ডে ‘ভারাস’ নামক একজন গভর্নরকে প্রেরণ করেন। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও নম্র স্বভাবের এবং সহজে প্রতারিত হওয়ার মতো ব্যক্তি ছিলেন। যখন তিনি জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্যদের শক্তিশালী এবং অত্যন্ত আনুগত্যশীল হিসেবে দেখলেন—যেমনটি বিজিত জাতির বিজয়ী জাতির প্রতি রীতি হয়ে থাকে—তখন তিনি তাদের প্রতি অনুরক্ত হলেন এবং তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করলেন। তাদের মধ্যে ‘হেরমান’ নামক একজন জার্মান ব্যক্তি ছিলেন, যিনি অত্যন্ত সাহসী এবং রণকৌশল ও প্রতারণার পন্থাসমূহে পারদর্শী ছিলেন।
তার হৃদয়ে জার্মান জাতীয়তাবোধ প্রজ্বলিত হচ্ছিল এবং রোমানদের প্রতি ঘৃণা তার অন্তঃকরণকে দগ্ধ করছিল। ফলে তিনি মনে মনে প্রতিশোধ গ্রহণ এবং তাদের নিপীড়ন থেকে মুক্তির সংকল্প করলেন। তিনি তার অন্তরের গোপন উদ্দেশ্য গোপন রাখলেন এবং ধীরে ধীরে সেই গভর্নরের নিকটবর্তী হতে লাগলেন, যতক্ষণ না গভর্নর তার দ্বারা প্রতারিত হলেন এবং তাকে উচ্চ পদে আসীন করলেন, এমনকি তাকে জার্মান ও রোমান উভয় বাহিনীর সেনাপতিদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। সেই সময়ে তিনি সুযোগ গ্রহণ করলেন এবং গোপনে জার্মানদের মধ্যে বিদ্রোহের হাত প্রসারিত করলেন এবং তাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করলেন। ফলে তারা অবাধ্যতার দণ্ড উত্তোলন করল এবং রোমানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল। সেনাপতি হেরমান রোমানদের উত্তেজিত করে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করতে লাগলেন এবং গভর্নর ও সম্রাটের নিকট নিজেকে অত্যন্ত নমনীয় হিসেবে উপস্থাপন করলেন, যতক্ষণ না তারা যুদ্ধের দাবানল প্রজ্বলিত করার জন্য প্রস্তুত হলো। অতঃপর তিনি যাত্রা শুরু করলেন
গভর্নর তার সেনাবাহিনী ও সেনাপতিদের নিয়ে, যাদের মধ্যে সেই সেনাপতিও ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২২)
هرمان وقد جعلوه ركناً لهم حصيناً لمعرفته بمكائد الحرب وجغرافية البلاد، فصار دليلاً لهم إلى أن أوصلهم إلى موضع يقال له تيتوبورج فالده قريب من ذلك الوادي، حيث هو يعلم أن الجرمانيين متربصون في معاطف الجبال والمغارات، وبينما هم سائرون به، وإذا بالجرمانيين قد انصبُّوا عليهم كالسيل العرِم، وأحاطوا بهم، وأشعلوا نار الحرب فيهم، ولما شاهد ذلك القائد هرمان أشار إلى بعض قواد الرومانيين بأن يجوزوا بالجيوش ذلك الوادي ليتحصنوا من الجهة الأخرى، ففعلوا وإذا بأرجل أفراسهم قد انغرزت في ذلك الوادي حيث كان موحلاً، فانضم القائد هرمان إلى الجرمانيين، وانقضَّ بهم على الرومانيين حتى أذاقهم كؤوس العذاب بمكره وخداعه، وحقَّت عليهم كلمة الغلبة، وحينما سمع ذلك القيصر أغسطس هاله الأمر، فقام يتردد في أودته، يضرب رأسه في الحائط هنا وهناك قائلاً: فاروس أعد لي جيشي أعدْ لي جيشي مكرراً لها.
وكانت هذه الواقعة في سنة تسع بعد الميلاد، وهي أولى الوقائع التي انتصر فيها الجرمانيون على الرومانيين. ولذلك تجد الألمانيين الآن يعظمون ذروة أحد الجبلين المحيطين بذلك الوادي تذكاراً له ولبسالته.
হেরমানকে তারা তাদের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করেছিল, কারণ যুদ্ধের কৌশল এবং দেশের ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। ফলে সে তাদের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠল এবং তাদের টিটোবুর্গ ভাল্ডে নামক একটি স্থানের কাছে নিয়ে গেল, যা ওই উপত্যকার নিকটবর্তী ছিল। সেখানে সে জানত যে জার্মানরা পাহাড়ের ভাঁজে ও গুহাসমূহে ওঁত পেতে বসে আছে। যখন তারা তার সাথে পথ চলছিল, হঠাৎ জার্মানরা তাদের ওপর প্রবল প্লাবনের মতো আছড়ে পড়ল এবং তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিল। সেনাপতি হেরমান যখন এটি প্রত্যক্ষ করল, তখন সে রোমানদের কিছু সেনাপতিকে ইঙ্গিত দিল যাতে তারা বাহিনী নিয়ে উপত্যকাটি অতিক্রম করে অন্য প্রান্তে সুরক্ষিত অবস্থান গ্রহণ করে। তারা তা-ই করল, কিন্তু হঠাৎ তাদের ঘোড়াগুলোর পা সেই উপত্যকার কাদায় গেঁথে গেল। তখন সেনাপতি হেরমান জার্মানদের সাথে যোগ দিল এবং তাদের নিয়ে রোমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, এমনকি তার চাতুর্য ও প্রতারণার মাধ্যমে সে তাদের আজাবের পেয়ালা আস্বাদন করাল এবং তাদের ওপর পরাজয় অবধারিত হলো। যখন সম্রাট অগাস্টাস এই খবর শুনলেন, তিনি অত্যন্ত ভীত ও স্তম্ভিত হলেন। তিনি তার কক্ষে পায়চারি করতে লাগলেন এবং দেওয়ালে মাথা ঠুকতে ঠুকতে বারবার বলতে লাগলেন: "ভারাস, আমার বাহিনী ফিরিয়ে দাও, আমার বাহিনী ফিরিয়ে দাও।"
এই ঘটনাটি ছিল খ্রিস্টীয় নয় সালে, এবং এটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যেখানে জার্মানরা রোমানদের ওপর বিজয়ী হয়েছিল। এই কারণেই বর্তমানের জার্মানরা সেই উপত্যকা সংলগ্ন পাহাড় দুটির একটির চূড়াকে তার স্মরণে এবং তার বীরত্বের স্মারক হিসেবে সম্মান প্রদর্শন করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৩)
معمل كروب للمدافعوفي وقت العصر لاحت لنا عن اليمين وعن الشمال القرى والبلدان التي منها ثروة ألمانيا، لاشتمالها على كهوف الفحم الحجري المعدني الذي يجلب بسواده الأبيض والأصفر، وقد عبق دخان المعامل التي بها. وبعد هنيهة مررنا بضواحي مدينة يقال لها أسن وإذا بالأرض كأنها تقشعر، وشمنا سحائب الدخان قد ملأت الجو، وصوت المطارق يرعد عن اليسار، ويمثله الصدى عن اليمين، فهالني ذلك، وسألت عما هنالك؟ فإذا هو معمل كروب الشهير بعمل المدافع التي عمَّ
صيتها وصوتها، وهو معمل أنشأه رجل ألماني يدعى كروب سنة 1810 ميلادية، وهو الآن تحت يد ذريته، وبه 10. 000 عامل قد اتخذوا حوله مساكنهم، وسمعت أن به مطرقة ثقلها 1000 قنطار ترتفع وتنخفض بالآلات البخارية.
وحينما بارحنا تلك الجهة، وفتحت التذكرة لأرقم ما شاهدته التفت إلي رجل مسن هولندي يتكلم باللغة الألمانية، وقال متبسماً: ألا كتبت أيضاً أن صوت المطارق تنادي وتؤذن بالدمار!
فقلت له وإذ علمت مراده: لماذا؟
فقال: أنرى الراحة في الدنيا، وفي الممالك معامل مثل هذا، والحرب الحرب، هي الدمار بعينه ومَخْدَشة لوجه الأمان، وراحة الاجتماع!
فقلت له: أيها الأديب، إن هذا الموضوع حرج صعب المسالك،
ক্রুপ কামান কারখানাআসর নামাজের ওয়াক্তে আমাদের ডানে ও বামে এমন সব গ্রাম ও শহর দৃশ্যমান হলো যেখান থেকে জার্মানির সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। কারণ সেখানে খনিজ পাথুরে কয়লার খনি রয়েছে যা তার কৃষ্ণবর্ণের বিনিময়ে সাদা ও হলুদ (স্বর্ণ ও রৌপ্য) নিয়ে আসে এবং সেখানকার কারখানাগুলোর ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর আমরা এসেন নামক শহরের উপকণ্ঠ অতিক্রম করলাম এবং মনে হচ্ছিল যেন ভূমি প্রকম্পিত হচ্ছে। আমরা ধোঁয়ার মেঘ দেখতে পেলাম যা আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। বাম দিক থেকে হাতুড়ির শব্দ বজ্রের ন্যায় গর্জন করছিল এবং ডান দিক থেকে তার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। এই অবস্থা আমাকে আতঙ্কিত করল এবং আমি সেখানে কী আছে তা জিজ্ঞাসা করলাম। জানা গেল এটিই সেই বিখ্যাত ক্রুপ কারখানা যা কামান তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ এবং যার
সুখ্যাতি ও আওয়াজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এমন একটি কারখানা যা ক্রুপ নামক এক জার্মান ব্যক্তি ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এটি তার উত্তরসূরিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এতে ১০,০০০ শ্রমিক কাজ করেন যারা এর চারপাশেই বসতি স্থাপন করেছেন। আমি শুনলাম যে সেখানে ১০০০ কুইন্টাল ওজনের একটি হাতুড়ি আছে যা বাষ্পীয় যন্ত্রের সাহায্যে উঠা-নামা করে।
যখন আমরা সেই এলাকা ত্যাগ করলাম এবং যা যা প্রত্যক্ষ করেছি তা লিপিবদ্ধ করার জন্য ডায়েরি খুললাম, তখন জার্মান ভাষায় কথা বলা একজন বৃদ্ধ ওলন্দাজ ব্যক্তি আমার দিকে ফিরলেন এবং মুচকি হেসে বললেন: আপনি কি এও লিখবেন না যে হাতুড়ির এই শব্দগুলো ধ্বংসের আহ্বান জানাচ্ছে এবং বিনাশের ঘোষণা দিচ্ছে!
আমি যখন তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম তখন তাকে বললাম: কেন?
তিনি বললেন: আমরা কি পৃথিবীতে শান্তি দেখতে পাব যখন রাষ্ট্রগুলোতে এই ধরনের কারখানা বিদ্যমান থাকবে? যুদ্ধ, এই যুদ্ধই হলো সাক্ষাৎ ধ্বংস এবং এটি নিরাপত্তার অবয়বে একটি আঁচড় ও সামাজিক প্রশান্তির অন্তরায়!
আমি তাকে বললাম: হে সুধী, নিশ্চয়ই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এর পথ অত্যন্ত দুর্গম,
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৪)
قد أَضْرَمَتْ فيه نيرانَ الجدالِ السلفُ، واشتغلت بحديثه الخلفُ، وإني أعضد رأيك ومذهبك، ولكن ذلك إذا نُزع من نفوس الأمم حب الاستئثار والفخار.
فقال: ذلك أشكو، لقد كانت الحرب قديماً لإقامة الأديان، وأما الآن فهي لحب الفخار. . الآن الآن وقد ضرب التمدن بجرانه في أنحاء البسيطة.
فأجبته قائلاً: نعم أنت ومذهبُك. وما علينا إلا أن نبتهل إليه سبحانه بأن يوطد دعائم الصلاح حتى تكون الأرض منزلاً واحداً لعائلة واحدة يقتسمون السرور فيما بينهم، فما ذلك عليه بعزيز.
وبينما نحن بذلك الحديث وإذا بالوابور قد حطَّ رحله في مدينة كلونيا فودعته من حينئذ ونزلت بها وقد شاب النهار وأقبل شباب الليل، فبتُّ بها ليلتئذ حتى إذا كشفت الشمس قناعها، والجو صافٍ لم يطرَّز ثوبُه بعلم الغمام، نزلت قاصداً أول ما يحرك إليه الغريب قدمه ألا وهي كنيستها الكبرى التي اشتهرت بحسن موقعها وجمال صنعها، وريثما طوحت إليها النظر أرتني منها بناء شاهقاً، وجبلاً سامقاً،
تكاد ببرجيها تنطح ثور السماء، ذروتها تخالها للعقرب لسعاء، فدخلتها ضمن الداخلين أمثالي المتفرجين، فما درينا ألاتساع رحباتها نهشُّ، أم لارتفاع دعائمها نُدهش؟ ثم أردنا أن نتسنم سماوتها، ونرتقي ذروتها، فعلونا يقدمنا الدليل لكيلا تشكل علينا السبيل، ومازلنا
পূর্বসূরিরা এতে তর্কের অনল প্রজ্বলিত করেছেন এবং উত্তরসূরিরা এর আলোচনায় ব্যাপৃত থেকেছেন। আমি আপনার অভিমত ও আদর্শকে সমর্থন করি; তবে তা তখনই সম্ভব যখন জাতিসমূহের হৃদয় থেকে স্বার্থপরতা ও অহমিকার বাসনা দূরীভূত হবে।
তিনি বললেন: আমি সেটিরই অভিযোগ করছি। প্রাচীনকালে যুদ্ধ বিগ্রহ হতো ধর্ম প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে, কিন্তু বর্তমানকালে তা ঘটছে শ্রেষ্ঠত্বের মোহে। বর্তমান এই সময়ে, যখন সভ্যতা পৃথিবীর দিগন্ত জুড়ে তার শিকড় মজবুত করেছে।
আমি তাকে উত্তর দিয়ে বললাম: হ্যাঁ, আপনি ও আপনার আদর্শ যথার্থ। আমাদের করণীয় কেবল মহান আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা করা, যেন তিনি কল্যাণের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় করে দেন, যাতে এই ধরাবক্ষ একটি পরিবারের জন্য একটি অভিন্ন আবাসে পরিণত হয় এবং তারা নিজেদের মধ্যে সুখ ভাগ করে নিতে পারে। আর মহান আল্লাহর জন্য এটি মোটেও দুঃসাধ্য নয়।
আমাদের এই আলাপের মধ্যেই বাষ্পীয়যানটি কোলন শহরে যাত্রাবিরতি করল। তখন আমি তাকে বিদায় জানালাম এবং সেখানে নামলাম। তখন দিন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে এবং রজনীর আগমন ঘটছে। সেই রাত আমি সেখানেই অতিবাহিত করলাম। অতঃপর যখন সূর্য তার অবগুণ্ঠন উন্মোচন করল এবং আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার হয়ে উঠল, তখন আমি সেই লক্ষ্যপানে যাত্রা করলাম যেখানে একজন আগন্তুক সাধারণত সর্বপ্রথম তার পা বাড়ায়; অর্থাৎ সেখানকার প্রধান গির্জা, যা তার চমৎকার অবস্থান ও শিল্পসৌকর্যের জন্য সুপরিচিত। আমি তার দিকে দৃষ্টিপাত করতেই এক সুউচ্চ অট্টালিকা ও গগনচুম্বী পর্বতসম স্থাপনা প্রত্যক্ষ করলাম।
এর মিনার দুটি যেন আকাশের বৃষরাশিকে আঘাত করছে, এর শিখরটি দেখে মনে হয় যেন বৃশ্চিকের হুল। আমি অন্যান্য দর্শকদের ন্যায় সেখানে প্রবেশ করলাম। আমরা দ্বিধায় পড়ে গেলাম যে, এর প্রশস্ত প্রাঙ্গণ দেখে প্রফুল্ল হব, নাকি এর স্তম্ভগুলোর উচ্চতা দেখে বিস্ময়াভিভূত হব? অতঃপর আমরা এর সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করার ইচ্ছা করলাম। সুতরাং পথপ্রদর্শককে সামনে রেখে আমরা উপরে উঠতে লাগলাম যাতে পথ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি না ঘটে। আমরা অবিরাম...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৫)
نصعد درجات، ونسلك معاطف ووهدات، حتى إذا علونا ذروتها ورقينا قمتها لاحت لنا عجائب المناظر، وقد انتعش لرؤيتها الخاطر، ثم هبطنا إلى المنزل الأول والمكان السواء، وحدَّثنا من في الأرض، وأستغفر الله، بأخبار السماء.
وبالجملة فلقد قام بناؤها دليلاً على ما صنعت يد الإنسان ناطقاً بلسان الحال والجنان:
تلك آثارنا تدلُّ علينا
… فانظروا بعدنا إلى الآثار
ثم إن هذه الكنيسة كاثوليكية أمر بتأسيسها المطران كونرا دفن هوخ ستادن سنة 1248 ميلادية، ولكن لم يتم بناؤها في أيامه بل حصلت فترات بعد ذلك، فكانوا وقتا يقيمون منها وآخر يعرضون عنها إلى سنة 1840، وفيها أمر بإتمامها ملك البروسيا فريدريك فيلهلم الرابع حتى أخذت كمالها في سنة 1880م، وارتفاع برجيها 156 متراً فوق سطح الأرض، وقد كانا أعلى بنيان في أوروبا إلى أن شيد صرح أيفل في باريس الذي ارتفاعه 300 متر.
وقد أخبرني بعض علماء الألمانيين وأدبائهم، وكان يتفرج معنا، أن الدراهم التي صرفت في بناء تلك الكنيسة هي ربح القمار، وذلك أن كثيراً من الشركات قد فرضت مقداراً من
আমরা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি, আঁকাবাঁকা পথ ও ঢাল অতিক্রম করি, যতক্ষণ না আমরা এর সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করি এবং এর শিখরে পৌঁছাই, তখন আমাদের সামনে বিস্ময়কর সব দৃশ্য ফুটে ওঠে, যা দেখে মন প্রফুল্ল হয়ে যায়। এরপর আমরা প্রথম গন্তব্য ও সমতল স্থানে নেমে আসি এবং জমিনের অধিবাসীদের কাছে আসমানের খবরাখবর বর্ণনা করি—আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
সারকথা হলো, এর নির্মাণশৈলী মানুষের হাতের নিপুণ কর্মের এক জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে:
এগুলো আমাদের কীর্তি যা আমাদের পরিচয় বহন করে
… সুতরাং আমাদের পরে এই কীর্তিগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করো।
অতঃপর, এই গির্জাটি একটি ক্যাথলিক গির্জা, যার ভিত্তি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশপ কনরাড ফন হখস্টাডেন ১২৪৮ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু তাঁর আমলে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি, বরং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরতি ঘটে। ফলে কখনো তারা নির্মাণকাজ চালু রাখত, আবার কখনো তা থেকে বিরত থাকত। ১৮৪০ সাল পর্যন্ত এমনটিই চলতে থাকে এবং সেই বছর প্রুশিয়ার রাজা চতুর্থ ফ্রেডরিক উইলিয়াম এটি সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন, যা ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণতা পায়। এর মিনার দুটির উচ্চতা ভূমি থেকে ১৫৬ মিটার। প্যারিসের ৩০০ মিটার উঁচু আইফেল টাওয়ার নির্মাণের আগ পর্যন্ত এটিই ছিল ইউরোপের সর্বোচ্চ স্থাপত্য।
জার্মানদের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিক, যারা আমাদের সাথে এটি দেখছিলেন, তারা আমাকে জানালেন যে, এই গির্জা নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা মূলত জুয়া থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ। বিষয়টি হলো, অনেক কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৬)
الدراهم لمن أراد اللعب، وثلث المجموع يأخذه من تخرج له القرعة، والثلثان الباقيان يُصرفان في البناء. وحينما سمعت ذلك منه قلت له:
كيف تؤسسون بيت العبادة بدراهم هي الحرام بعينه؟
فالتفت إليَّ، وقد ضمَّ كتفيه، ثم أرسلهما قائلا هذه الجملة:
فحينما طرقت مسمعي أخذني الضحك حتى كدت أستلقي، وذلك أن هذه الجملة مثل مشهور بأوروبا وهو لاتيني اللفظ، ومعناه الربح ليس له رائحة. ومصدر ذلك المثل أن أحد قياصرة الرومانيين ضرب رسوماً وعوائد على كل محل يطمئن إليه الإنسان سواء في المنازل والطرقات، فقيل له في ذلك فقال:
الربح ليس له رائحة. فذهبت مثلاً.
حديقة الحيوانوبعد ذلك قصدت معرض الحيوانات بتلك المدينة، فشِمته بستاناً قد جمع من الحيوانات البرية والبحرية والهوائية على اختلاف أجناسها وأقطارها، وقد وضعوا كل قسم منها في محلات تألف لها، كهي في مواضعها الطبيعية، وبينما أنا أروض النظر هنا وهنالك إذا ألفيت أحد مدرسي المدارس يقود عدداً عظيماً من البنات، وبيده خريطة ذلك المحل يعرض عليهن الحيوانات، فيذكر لهن أسماءها، وخواص كل منها، وينسبها إلى الأقطار الخاصة التي هي بها، وهل هي مأنوسة أو وحشية إلى غير ذلك،
দিরহামগুলো তাদের জন্য যারা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে চায়, আর মোট অর্থের এক-তৃতীয়াংশ সেই ব্যক্তি গ্রহণ করবে যার নামে লটারি উঠবে, এবং অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হবে। যখন আমি তাঁর নিকট হতে এটি শ্রবণ করলাম, তখন তাঁকে বললাম:
আপনারা কীভাবে এমন দিরহাম দ্বারা ইবাদতখানা প্রতিষ্ঠা করছেন যা সশরীরে হারাম?
অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরলেন এবং তাঁর কাঁধদ্বয় সংকুচিত করে পুনরায় ছেড়ে দিয়ে এই বাক্যটি বললেন:
যখন কথাটি আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করল, তখন আমি হাসিতে ফেটে পড়লাম, এমনকি আমি প্রায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ার উপক্রম হলাম। এর কারণ এই যে, উক্ত বাক্যটি ইউরোপে একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ এবং এটি ল্যাটিন শব্দজাত, যার অর্থ হলো— মুনাফার কোনো ঘ্রাণ নেই। এই প্রবাদের উৎস হলো যে, রোমান সম্রাটদের মধ্যে জনৈক সম্রাট এমন প্রতিটি স্থানের ওপর কর ও শুল্ক ধার্য করেছিলেন যেখানে মানুষ স্বস্তি লাভ করে, চাই তা ঘরবাড়িতে হোক কিংবা রাস্তাঘাটে। এ বিষয়ে তাঁকে কিছু বলা হলে তিনি উত্তর দিলেন:
মুনাফার কোনো ঘ্রাণ নেই। অতঃপর তা প্রবাদে পরিণত হলো।
চিড়িয়াখানাএরপর আমি সেই শহরের পশু প্রদর্শনীর (চিড়িয়াখানা) দিকে যাত্রা করলাম। আমি সেটাকে এমন এক উদ্যান হিসেবে দেখতে পেলাম যেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও ভূখণ্ডের স্থলচর, জলচর এবং খেচর প্রাণীকুলকে একত্রিত করা হয়েছে। তারা প্রতিটি শ্রেণিকে তাদের জন্য মানানসই স্থানে স্থাপন করেছে, ঠিক যেমন সেগুলো তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে থাকে। যখন আমি সেখানে ইতস্তত দৃষ্টিপাত করছিলাম, তখন হঠাৎ দেখতে পেলাম বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এক বিশাল সংখ্যক ছাত্রীর দল নিয়ে আসছেন। তাঁর হাতে ছিল সেই স্থানের মানচিত্র, তিনি তাদের সামনে পশুগুলো প্রদর্শন করছিলেন এবং তাদের নিকট সেগুলোর নাম ও প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছিলেন। তিনি পশুগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করছিলেন এবং সেগুলো কি পোষা নাকি বন্য—এমন আরও নানাবিধ তথ্য প্রদান করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৭)
فما وجدت بنتاً منهن يهولها منظر تلك الحيوانات، أو تتهيأ لها بعبعاً، أو غولاً، أو عفريتاً! وذلك لحكمة تعلمهن في المدرسة مناظرها مصورة على الأوراق فيما قبل.
ومن جملة ما شاهدته من نوادر ذلك المعرض الحمير، وقد تهافت عليها الناس نساء ورجلاً وصبياناً يرمون إليها بالحشائش، وهي تدنو إليهم تلعب لهم، ولحظت منها حماراً ساكناً ينظر يميناً ويساراً سائل الدموع كأنه يذكر الربوع، فأذكرني أخاه حمار بشار بن برد، حيث أضناه الهوى، فأصبح صريع الجوى، حيث قيل في أحاديث الشجون، وأساطير المجون، أن محمد بن الحجاج قال: جاءنا بشار يوماً وهو مغتم، فقلت له مالك مغتماً؟ فقال مات حماري، فرأيته في النوم، فقلت
له: لم مِتَّ؟ ألم أكن أُحسن إليك؟ فقال:
سيدي خذْ لي أتانا
… عند باب الأصبهاني
تيَّمتني ببنان
… وبِدِلٍّ قد شجاني
تيَّمتني يوم رحنا
… بثناياها الحسان
وبغَنجٍ ودلالٍ
… سَلَّ جسمي وبراني
ولها خدُّ أسيلٌ
… مثل خد الشنفراني
فلذا متُّ ولو عش
… ت إذاً طال هواني
আমি তাদের কোনো মেয়েকেই পেলাম না যারা ওইসব পশুর দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়েছে, কিংবা ওগুলোকে জুজু, দৈত্য বা প্রেতাত্মা বলে কল্পনা করেছে! এর কারণ হলো সেই প্রজ্ঞা, যা তারা বিদ্যালয়ে কাগজের পাতায় এগুলোর চিত্র দেখে আগেই শিখেছিল।
সেই প্রদর্শনীর দুর্লভ বিষয়গুলোর মধ্যে আমি যা দেখেছি তার অন্তর্ভুক্ত হলো গাধা; যেগুলোর প্রতি নারী, পুরুষ ও শিশুরা এমনভাবে ঝুঁকে পড়ছিল যে তারা সেগুলোর দিকে ঘাস ছুড়ে দিচ্ছিল, আর গাধাগুলো তাদের খেলার ছলে তাদের কাছে আসছিল। আমি তাদের মধ্যে একটি শান্ত গাধা লক্ষ্য করলাম যে ডানে-বামে তাকাচ্ছিল এবং অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল, যেন সে তার পূর্বের চারণভূমিগুলোর কথা স্মরণ করছে। এটি আমাকে বাশশার ইবনে বুরদের ভাই গাধাটির কথা মনে করিয়ে দিল, যাকে প্রেম জীর্ণ করে দিয়েছিল এবং সে বিরহ-যন্ত্রণায় ভূপাতিত হয়েছিল। যেখানে দুঃখের আখ্যান ও কৌতুকপূর্ণ উপকথাগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ বলেছেন: একদিন বাশশার আমাদের কাছে বিষণ্ণ অবস্থায় এলেন, আমি তাকে বললাম আপনার কী হয়েছে যে আপনি বিষণ্ণ? তিনি বললেন, আমার গাধাটি মারা গেছে। অতঃপর আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম এবং তাকে
জিজ্ঞেস করলাম: তুমি কেন মারা গেলে? আমি কি তোমার প্রতি সদয় ছিলাম না? সে
বলল:
হে আমার প্রভু, আমার জন্য একটি মাদী গাধা গ্রহণ করুন
… আসবাহানির দরজার কাছে
সে তার আঙ্গুলের ডগা দিয়ে আমাকে বিমোহিত করেছে
… এবং এমন ভঙ্গিমা দিয়ে যা আমাকে ব্যথিত করেছে
যেদিন আমরা প্রস্থান করেছিলাম সেদিন সে আমাকে পাগল করেছে
… তার সুন্দর সম্মুখ দন্তরাজি দিয়ে
আর তার লাস্য ও লালিত্য
… আমার শরীরকে নিংড়ে নিয়েছে এবং আমাকে ক্ষয় করেছে
তার রয়েছে মসৃণ গাল
… যেন শানফারানির গালের মতো
তাই আমি মারা গিয়েছি, আর যদি আমি বেঁচে
… থাকতাম তবে আমার লাঞ্ছনা দীর্ঘ হতো।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৮)
فقلت له ما الشنفراني؟ قال ما يدريني. هذا من غريب الحمار، فإذا لقيته فاسأله عنه انتهى.
شرقي وغربيوبعد الظهيرة من ذلك اليوم طفت بتلك المدينة مع أحد أدباء الألمانيين السيَّاحين، وقد عقدت الصدفة بيننا عروة الصحبة، فألفيت أغلب الطرق آخذاً انتظاماً على ضيقها، صغيرة المنازل ليست بعاليتها، وقد حفظت بعض منازلها القديمة لتكون أثراً للغابرين، وتذكاراً للسالفين، وكان حديثي مع ذلك الرفيق إذ ذلك في الفرق بين المشرق والمغرب، فصار كلما نمرُّ في طريق أو يحيط بنا ميدان ينبه من التفاتي معجباً بحسن الطرقات، ظانّاً أن هذا النظام لم يكن في المدن المشرقية. فمازلت أحدثه عن بلادنا وحسن مواقعها حتى قذفت بنا الأقدام في شوارع خارجة عن النظام، تسيل بها مياه المنازل كريهة الرائحة، فالتفت إليه قائلاً: أيباع في تلك الشوارع ماء كلونيا؟ فبدلاً عن أن يلتزم بالحجة عاث بيديه ورجليه مضطرباً ضاحكاً مكرراً جمل العفو، حتى هدأ باله، وأخذ يُرقم ما كان من الحديث للتذكار، ولم نزل معاً حتى تصوبت الشمس للمغيب، فمددنا يد الوداع متواعدين بتواصل الرقاع، وعمدت للمبيت بها إلى الصباح قاصداً مبارحتها إذا ابيضَّ من الدجى
الجناح.
আমি তাকে বললাম, 'শানফারানি' কী? তিনি বললেন, আমি জানি না। এটি গাধার অদ্ভুত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং যখন আপনি তার সাথে দেখা করবেন, তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সমাপ্ত।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যসেই দিন দ্বিপ্রহরের পর আমি জনৈক জার্মান পর্যটক সাহিত্যিকের সাথে সেই শহরটি প্রদক্ষিণ করলাম। দৈবক্রমে আমাদের মধ্যে সখ্যের বন্ধন তৈরি হয়েছিল। আমি দেখলাম যে, রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ পথই সুশৃঙ্খল। বাড়িগুলো ছোট এবং খুব বেশি সুউচ্চ নয়। তাদের কিছু প্রাচীন গৃহকে অতীতের নিদর্শন এবং পূর্বসূরিদের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই সময় ওই সঙ্গীর সাথে আমার কথোপকথন হচ্ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পার্থক্য নিয়ে। এমতাবস্থায় আমরা যখনই কোনো পথ অতিক্রম করছিলাম অথবা কোনো চত্বরে পৌঁছাচ্ছিলাম, তিনি রাস্তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন; তিনি ধারণা করছিলেন যে, এই শৃঙ্খলা প্রাচ্যের শহরগুলোতে বিদ্যমান নেই। আমি তাকে আমাদের দেশ এবং এর চমৎকার স্থানসমূহ নিয়ে অনবরত বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছিলাম, যতক্ষণ না আমাদের পা আমাদের এমন কিছু বিশৃঙ্খল রাস্তায় নিয়ে গেল যেখানে ঘরবাড়ির দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। তখন আমি তার দিকে ফিরে বললাম: এই রাস্তাগুলোতে কি 'কোলোন' পানি (সুগন্ধি) বিক্রি হয়? অকাট্য যুক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে তিনি হাত ও পা নেড়ে ব্যাকুলভাবে হাসতে লাগলেন এবং বারবার ক্ষমার বাক্যগুলো উচ্চারণ করতে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হলেন। এরপর তিনি স্মারক হিসেবে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তুগুলো লিপিবদ্ধ করতে শুরু করলেন। সূর্য অস্তমিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা একসাথেই ছিলাম। এরপর আমরা চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায়ের হাত বাড়ালাম। আমি সেখানে সকাল পর্যন্ত রাত্রি যাপনের সংকল্প করলাম এবং ঊষালগ্নে অন্ধকারের ডানা যখন শুভ্র হয়ে আসবে তখন সেখান থেকে প্রস্থানের সিদ্ধান্ত নিলাম।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩২৯)
أما مدينة كلونيا فهي موضوعة على الجهة الشرقية لنهر الرين صانعة عليه قوساً، يسكنها 267000 نفس، وخمسة أسداسهم كاثوليكيون، وهي من أعظم مدن ولاية الرين إحدى ولايات البروسيا، ومن أهم موضع للتجارة بألمانيا، وتعد هي ومدينة ديتس التي توازيها من الشاطئ الآخر قلعة حصينة من الدرجة الأولى، وقد أوصلوا بينهما جسراً عظيماً حديدي المادة كبري وقد اتسع عمرانها اتساعاً عجيباً منذ ما جعلت قلعة، وذلك من سنة 1881 ميلادية.
وكلمة كلونيا لاتينية ومعناها المستعمرة، أسسها أحد قواد الرومانيين المسمى أجربا في سنة 38 قبل الميلاد، ودعا إلى سكناها بعضاً من القبائل الألمانية وكانت تسمى وقتئذ كلونيا أجرينسيس أي مستعمرة أجربا، ثم اختصرت، فيما بعد، فقيل لها كلونيا فقط، ويدعوها الألمانيون بكلمة كان. وفي أواخر القرن الخامس عشر بعد الميلاد تملَّكها الإفرنج أسلاف الفرنساويين، ولم تلبث إلا وقد صارت جمهورية يحكمها مجلس يُدعى بمجلس الشيوخ. وقد كان بألمانيا مدن تماثلها في الاستقلال، وتتبع إمبراطور ألمانيا تبعية شرف، ولكل منها مجلس خاص، ولمجموعها مجلس عام كان ينعقد في مدينة لوبك في شمال ألمانيا على بحر البلطيك وفاقت كلونيا إذ ذاك باقي
কলোনিয়া শহরটি রাইন নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং নদীর ওপর একটি ধনুকাকৃতি তৈরি করেছে। এতে ২৬৭,০০০ লোক বসবাস করে, যাদের পাঁচ-ষষ্ঠাংশ ক্যাথলিক। এটি প্রুশিয়ার অন্যতম প্রদেশ রাইন প্রদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর এবং জার্মানির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। এটি এবং নদীর অপর তীরের ডয়েটজ শহরটি প্রথম শ্রেণীর একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে বিবেচিত। এই দুইয়ের মাঝে একটি বিশাল লৌহনির্মিত বৃহৎ সেতু সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে দুর্গ হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার পর থেকে এর নগরায়ন বিস্ময়করভাবে প্রসারিত হয়েছে।
কলোনিয়া শব্দটি লাতিন এবং এর অর্থ উপনিবেশ। ৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আ্গ্রিপ্পা নামক এক রোমান সেনাপতি এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং কিছু জার্মান গোত্রকে সেখানে বসবাসের জন্য আহ্বান জানান। তখন একে কলোনিয়া অ্যাগ্রিপিনেন্সিস অর্থাৎ আ্গ্রিপ্পার উপনিবেশ বলা হতো। পরবর্তীতে সংক্ষেপে একে শুধু কলোনিয়া বলা হতে থাকে এবং জার্মানরা একে 'কেলন' নামে ডাকে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ফরাসিদের পূর্বপুরুষ ফ্রাঙ্করা এটি দখল করে। কিন্তু অচিরেই এটি একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় যা সিনেট নামক একটি পরিষদ দ্বারা শাসিত হতো। সে সময় জার্মানিতে এর মতো আরও কিছু স্বাধীন শহর ছিল যারা জার্মান সম্রাটের প্রতি কেবল সম্মানসূচক আনুগত্য পোষণ করত। এগুলোর প্রত্যেকের নিজস্ব পরিষদ ছিল এবং তাদের সবার জন্য একটি সাধারণ পরিষদ ছিল যা বাল্টিক সাগরের তীরে উত্তর জার্মানির লুবেক শহরে অনুষ্ঠিত হতো। সেই সময়ে কলোনিয়া অন্যান্যগুলোর তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
تلك المدن لأهمية موقعها التجاري. وفي القرن الثاني والثالث عشر تولع أهلها بإقامة شعائر الدين المسيحي فتفننوا في بناء الكنائس والبيع حتى صارت لهم اليد الطولى في إتقان المباني، كما يدلك عليه الكنيسة الكبرى التي وصفتها آنفا، وفي القرن الرابع والخامس عشر أزهرت فيها صناعة التصوير، واشتهرت مدرستها في تلك الصناعة اشتهاراً عجيباً، وفي القرن السادس عشر أخذت كلونيا في الانحطاط شيئاً فشيئاً، ونزل بها الفرنساويون سنة 1794م واستولت عليها البروسيا في أواخر سنة 1815 في الحرب الشهيرة
المسمّاة بحرب الحرية وقد ذكرتها في الرحلة البرلينية. وحينما سَلَّ الصبحُ من غمد الظلام سيفه، وفتح الأفق عن حدقة الشمس طرفه، هزتني أريحية الآمال إلى السير والترحال، فامتطيت الرين في باخرة ماخرة.
يشق حَباب الماء حيزومُها بها
… كما قسم التربَ المفائلُ باليد
فنَهَرت بنا تتثنى، ونحن بدلالها نتغنى، وقد بسط الربيع على الشواطئ بساطه الأخضر، وخلع عليها ثوبه الأزهر.
وبساط الربيع أخضر قد
… حامَ به الرين حاملاً أطرافه
ঐ শহরগুলো তাদের বাণিজ্যিক অবস্থানের গুরুত্বের কারণে পরিচিত। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এখানকার অধিবাসীরা খ্রিস্টীয় ধর্মের রীতিনীতি পালনে অত্যন্ত অনুরাগী হয়ে ওঠে, ফলে তারা গির্জা ও উপাসনালয় নির্মাণে এমন নিপুণতা প্রদর্শন করে যে, স্থাপত্যশৈলীর উৎকর্ষে তাদের হাত সুপ্রসারিত হয়। যেমনটি আপনাকে সেই বিশাল গির্জাটি নির্দেশ করে যার বর্ণনা আমি ইতিপূর্বে দিয়েছি। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে সেখানে চিত্রাঙ্কন শিল্প বিকশিত হয় এবং সেই শিল্পে এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিস্ময়করভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ষোড়শ শতাব্দীতে কোলন শহর ধীরে ধীরে পতনের দিকে ধাবিত হয়। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিরা সেখানে অবতরণ করে এবং ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে বিখ্যাত 'স্বাধীনতা যুদ্ধ' নামক যুদ্ধের মাধ্যমে প্রুশিয়া এটি দখল করে নেয়, যার কথা আমি বার্লিন ভ্রমণবৃত্তান্তে উল্লেখ করেছি। আর যখন প্রভাত অন্ধকারের খাপ থেকে তার তলোয়ার কোষমুক্ত করল এবং দিগন্ত সূর্যের মণির ওপর থেকে তার দৃষ্টি উন্মোচন করল, তখন উচ্চাকাঙ্ক্ষার তাড়না আমাকে ভ্রমণ ও পর্যটনের জন্য আন্দোলিত করল, ফলে আমি রাইন নদীতে এক দ্রুতগামী জাহাজে আরোহণ করলাম।
এর অগ্রভাগ পানির বুদবুদকে বিদীর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছিল
… যেমনভাবে ভাগ্যপরীক্ষাকারী হাত দিয়ে মাটি বিভক্ত করে।
অতঃপর নদীটি আমাদের নিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলতে লাগল, আর আমরা তার লাবণ্যের গুণগানে মত্ত হলাম; এমতাবস্থায় বসন্ত তটরেখায় তার সবুজ গালিচা বিছিয়ে দিয়েছিল এবং তাকে তার উজ্জ্বল বসনে সজ্জিত করেছিল।
আর বসন্তের গালিচা ছিল সবুজ যা
… রাইন নদী তার প্রান্তসমূহ ধারণ করে পরিবেষ্টন করে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩১)
وقد كان على ظهر تلك الجارية، وتيك البضة العارية، جمٌّ من الغرباء، قد بارحوا الوطن لإمتاع الطرف بذلك المنظر الحسن، فسررت حيث ضمني وإياهم نادٍ سمعت فيه مختلف لغاتهم، وتعرفت تباين صفاتهم، فمن رجال أولي حماسة وسماحة، لطيفي السجايا فسيحي الساحة، ومن جوارٍ حسان قد تمنطقن بالجمال، وتوشحن بوشاح الكمال.
حسان أعارتها الظِبا حسن وجهها
… كما قد أعارتها العيون الجآذر
ينثنين عن كثبان، ويتمايلن وهن غصن البان، وقد ترامت غدائرهن على الأقدام لتشفع لأولي الهوى والهيام، ولولا المجد والفضائل لأصبح مثلي أسير تلك الحبائل.
وإني لأستحي من المجد أن أُرى
… حليفَ غوانٍ أو أليف أغاني
على أنني من قوم، ولا فخر شيمتهم الغرام، وديدنهم الهيام، فما ترى منهم إلا في المحبة ناثراً، ولا في الصبابة إلا شاعراً.
نحن قوم تذيبنا الأعين النجل
… على أننا نُذيب الحديدا
ولم تزل الباخرة بنا تتثنى وتميل، ونحن نمتع الطرف بذاك المنظر الجميل، إلى أن مرَّت بنا على قرية باسقة الأشجار،
সেই নৌযানের পৃষ্ঠে এবং সেই অনাবৃত মসৃণ আধারে একদল বিদেশী সমবেত ছিল, যারা সেই সুন্দর দৃশ্য অবলোকন করে নয়ন জুড়ানোর নিমিত্তে স্বদেশ ত্যাগ করেছিল। আমি আনন্দিত হলাম যে, এমন এক মজলিস আমাকে ও তাদেরকে একত্রিত করল যেখানে আমি তাদের বিভিন্ন ভাষা শুনতে পেলাম এবং তাদের চারিত্রিক ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত হলাম। তাদের মধ্যে ছিল এমন কিছু তেজস্বী ও মহানুভবতাসম্পন্ন পুরুষ, যারা অমায়িক স্বভাব ও উদার হৃদয়ের অধিকারী; আর ছিল এমন কিছু রূপবতী কিশোরী, যারা সৌন্দর্যের মেখলায় ভূষিত এবং পূর্ণতার উত্তরীয় পরিহিত ছিল।
সুন্দরী রমণীগণ, যাদেরকে হরিণীরা তাদের চেহারার লাবণ্য ধার দিয়েছে
… যেমনভাবে বন্য গাভীগণ তাদেরকে তাদের নয়নযুগল ধার দিয়েছে।
তারা বালিয়াড়ির ন্যায় আনত হয় এবং বনস্পতি শাখার ন্যায় দোদুল্যমান থাকে। তাদের কেশগুচ্ছ পা পর্যন্ত লুটিয়ে পড়ে প্রেম ও অনুরাগে মত্তদের জন্য সুপারিশ করছিল। যদি মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা না থাকত, তবে আমার মতো ব্যক্তিও সেই মায়াজালে বন্দী হয়ে পড়ত।
আর মর্যাদার খাতিরে আমি এতে লজ্জাবোধ করি যে, আমাকে দেখা যাবে
… সুন্দরীদের সহযোগী হিসেবে অথবা সংগীতের সাথী হিসেবে।
যদিও আমি এমন এক কওমের অন্তর্ভুক্ত—অহংকারবশত নয়—যাদের মজ্জাগত স্বভাব হলো প্রেম এবং যাদের চিরাচরিত অভ্যাস হলো অনুরাগ। তাই তাদের মধ্যে কাউকে ভালোবাসায় গদ্যকার ব্যতীত এবং কাউকে বিরহ-ব্যথায় কবি ব্যতীত দেখতে পাবেন না।
আমরা এমন এক জাতি যাদেরকে আয়তলোচনা সুন্দরীদের আঁখি বিগলিত করে দেয়
… যদিও আমরা কঠিন লোহাকে গলিয়ে ফেলি।
বাষ্পীয় জাহাজটি আমাদের নিয়ে দুলতে দুলতে এগিয়ে চলল এবং আমরা সেই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে থাকলাম, যতক্ষণ না তা আমাদের নিয়ে সুউচ্চ বৃক্ষরাজি শোভিত এক গ্রামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩২)
زاهية الثمار، لا أعلم منها سوى أنها وطن
لرجل يدعى بتهوفن كان فريد عصره في الألحان الموسيقية بأنحاء ألمانيا، ولد بها سنة 1770 ومات في فينا سنة 1827 ميلادية، وتسمى تلك المدينة بن ومنها تأخذ الشواطئ ارتفاعاً، فتصنع أكمات وجبالاً. ويسمون الجبال الشرقية بجبال أيفل والغربية بجبال فسترفالد وهي مزروعة بالكروم والأعناب، يتخذ منها النبيذ أبيضه وأحمره، وليس لأهل تلك الجبال اشتغال إلا بزرع الأعناب وتعهدها. وبعد قليل أشرفنا على مدينة يدعونها كونجس فنتر ومنها تتفرع سبعة جبال وشاهدت بها من بعد قصراً يسمونه أدرخن فلز ومعناه صخرة الآفة وذلك أنه كان يسكنه في قديم الزمان رجل يدعى زيج فريد وكان بطلاً شجاعاً، ويزعمون أن حية كانت بمغارة هناك فتجاسر ذلك البطل على قتلها والاستحمام بدمها، ولذلك يسمون نبيذ تلك الجهة أدرخن بلود أي دم الحية.
ولما كان وقت الظهيرة تليت علينا سورة المائدة فاحتاط بها الجميع، وقد امتزجت الظباء بالأسود، ودارت عليهم كؤوس ابنة العنقود، وأما أنا فتناولت، ولا فخر الراح ملؤها العذب القراح، مكتفياً بما خامر خُماري من صرف الهوى وصفو الهواء، وحسن ذلك المنظر الوضاء، ولم يزالوا بالكؤوس، يصيدون سرور النفوس،
উজ্জ্বল ফলমূলে সুশোভিত, এই শহর সম্পর্কে আমি কেবল এটুকুই জানি যে এটি বেটোভেন নামক এক ব্যক্তির জন্মভূমি, যিনি জার্মানির সংগীতের সুরে নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সেখানে ১৭৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনায় মৃত্যুবরণ করেন। এই শহরের নাম বন (Bonn), এবং এখান থেকে উপকূলভাগ উচ্চতা লাভ করতে শুরু করে, যা টিলা ও পাহাড় সৃষ্টি করে।
তারা পূর্বদিকের পাহাড়গুলোকে আইফেল পাহাড় এবং পশ্চিমদিকের পাহাড়গুলোকে ভেস্টারওয়াল্ড পাহাড় নামে অভিহিত করে। এগুলো দ্রাক্ষালতা ও আঙুর দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা থেকে সাদা ও লাল রঙের আঙ্গুর-জাত পানীয় (মদ) তৈরি করা হয়। ঐ পাহাড়বাসীদের আঙুর চাষ ও তার পরিচর্যা ব্যতীত অন্য কোনো কাজ নেই। কিছুক্ষণ পর আমরা কুনিগসউইন্টার নামক একটি শহরের নিকটবর্তী হলাম, যেখান থেকে সাতটি পাহাড়ের শাখা বিস্তৃত হয়েছে। আমি সেখানে দূর থেকে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম যাকে তারা 'ড্রাকেনফেলস' বলে ডাকে, যার অর্থ হলো 'বিপত্তির শিলা'। কারণ হলো প্রাচীনকালে সেখানে সিগফ্রিড নামক এক ব্যক্তি বাস করতেন, যিনি ছিলেন একজন সাহসী বীর। তারা ধারণা করে যে, সেখানকার একটি গুহায় এক বিশাল সর্প ছিল এবং সেই বীর সেটিকে হত্যা করার ও তার রক্ত দিয়ে গোসল করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এই কারণেই তারা ঐ অঞ্চলের আঙ্গুর-জাত পানীয়কে 'ড্রাকেনব্লুট' অর্থাৎ সর্পের রক্ত নামে অভিহিত করে।
যখন দ্বিপ্রহরের সময় হলো, তখন আমাদের সামনে সূরা আল-মায়িদা পাঠ করা হলো এবং সকলেই তা মনোযোগ সহকারে গ্রহণ করলেন। সেখানে হরিণ ও সিংহরা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মাঝে আঙুর-কন্যার পানপাত্র আবর্তিত হচ্ছিল। আর আমি—অহংকারবশত নয় বরং স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট পানির পূর্ণ পেয়ালা গ্রহণ করলাম, আমার মত্ততাকে অনুরাগের বিশুদ্ধতা, নির্মল বাতাস এবং সেই উজ্জ্বল দৃশ্যের সৌন্দর্যের মাধ্যমেই তুষ্ট রাখলাম। তারা পানপাত্রের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি অন্বেষণ করতে লিপ্ত রইল।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
ولطرح الأتراح يرفعون الأقداح، وهي كأنها الياقوتة الحمراء، حتى تشابه عليهم الراح والصهباء:
رق الزجاج وراقت الخمر
… فتشابها وتشاكل الأمر
فكأنما خمر ولا قدح
… وكأنما قدح ولا خمر
وحينما قتلتْ تلك المقتلةُ أتراحهم، وأقامتْ أفراحهم، أخذ الرجال يسامرون النساء، حيث على يمين كل منا غيداء هيفاء، وريثما جاذبت مع قسيمتي أطراف الحديث، من ماضٍ وحديث التفتت إلي ومالت:
والسكر في وجنتها وجفنها
… يفتح ورداً ويغُض نرجساً
وتثنت وقالت: سيدي العفو قبل الملام.
فقلت: بروحي سيدتي، علام؟
فقالت: أفي ريعان الشباب وتجتنب الشراب؟ والكؤوس راحة النفوس. ونحن في مجلس أشرقت بأفقه شموس السرور، وأحدقت عليه هالة الحبور؟ وقد علمت من حديثك الفصل أنك عربي المنشأ مشرقي الأصل، وقد سارت إلينا الأخبار وامتلأت الصحائف والأسفار تنبئنا عن الخلاعة المشرقية، والصبابة العربية، فأين أنت من حانات الخلفاء السالفين، ومحافل الأدباء الماجنين، وأحاديث العشاق الذين أضناهم الحب والاشتياق؟
فحين أطربت مسمعي بلفظها الأغن، وبعبارة منطقها الحسن، علمت أنها رضيعة لبان الأدب، وسليلة
দুঃখ-বেদনা দূর করার জন্য তারা পানপাত্রগুলো উত্তোলন করছিল, যা যেন লাল পদ্মরাগ মণি; এমনকি তাদের কাছে সুরা ও লাল শরাব একাকার হয়ে গিয়েছিল:
কাচ হয়েছে স্বচ্ছ আর শরাব হয়েছে নির্মল
… ফলে উভয়ই সদৃশ হয়েছে এবং বিষয়টি হয়ে পড়েছে সংশয়পূর্ণ
যেন কেবল শরাবই আছে কোনো পাত্র নেই
… আর যেন পাত্রই আছে কিন্তু কোনো শরাব নেই
যখন সেই পানীয় তাদের দুঃখসমূহকে বিদায় করল এবং আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিল, তখন পুরুষেরা নারীদের সাথে নিভৃত আলাপ শুরু করল; আমাদের প্রত্যেকের ডান পাশে ছিল একজন করে সুতন্বী ও লাবণ্যময়ী নারী। আমি যখন আমার সঙ্গিনীর সাথে অতীত ও বর্তমানের নানা বিষয়ে বাক্যালাপ করছিলাম, তখন সে আমার দিকে ফিরে ঝুঁকে পড়ল:
তার গণ্ডদেশ ও চোখের পাতায় মাতালতা
… গোলাপের মতো প্রস্ফুটিত হচ্ছিল এবং নার্গিসের মতো নুয়ে পড়ছিল
সে হেলেদুলে বলল: হে আমার জনাব, তিরস্কার করার আগে ক্ষমা চাচ্ছি।
আমি বললাম: আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক হে মহোদয়া, কিন্তু কিসের জন্য?
সে বলল: আপনি কি যৌবনের এই স্বর্ণালি সময়েও পানীয় পরিহার করছেন? অথচ এই পানপাত্রগুলোই তো আত্মার প্রশান্তি। আমরা এখন এমন এক মজলিসে আছি যার দিগন্তে আনন্দের সূর্য উদিত হয়েছে এবং যাকে ঘিরে রেখেছে প্রফুল্লতার জ্যোতির্বলয়। আপনার প্রাঞ্জল কথাবার্তা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনার বেড়ে ওঠা আরবীয় পরিবেশে এবং আপনার মূল উৎস প্রাচ্যে। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে এবং কিতাব ও দপ্তরসমূহ ভরে উঠেছে প্রাচ্যের বিলাসিতা ও আরবীয় অনুরাগের কাহিনীতে। তাহলে পূর্ববর্তী খলিফাদের পানশালা, আমুদে সাহিত্যিকদের আসর এবং প্রেম ও বিরহে কাতর প্রেমিকদের আখ্যান থেকে আপনি আজ কোথায় বিচ্যুত হলেন?
যখন সে তার সুমধুর গুঞ্জনে এবং চমৎকার বাচনভঙ্গিতে আমার কর্ণকুহরকে তৃপ্ত করল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে সে সাহিত্যের স্তন্যসুধায় লালিত এবং সে এক মহৎ বংশের...
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
مجد وحسب، فقلت لها وكنت بها ولها: سيدتي أما الهوى فنحن كما قلت أهلوه، والهيام نحن بنوه، ونرى خمر الغرام حلالاً، وأما الصهباء فلا لا، وما كان من أحاديث السالفين فما هي إلا أساطير الأولين، تتلى علينا لنفي الأتراح، وانتعاش الأرواح، حيث نراها، ولا مرية، أعجوبة، وفي هذا العصر لمثلنا أطروبة.
فانثنت عن استغراب، وقالت بدون ما إعجاب: بخٍ بخٍ لقد أبنت لي وجه النهار، وكشفت عن شمس الحقيقة سحائب الأستار، ولقد جاهرتك بحديث الطرب، ولوعاً بأخبار العرب.
وبينما كنا بذلك الحديث الأغر إذا رست الباخرة على بلد أزهر. بعدها قمنا عن الطعام، وحمدنا الله على ذلك الإنعام، وقد علمت أنها ستنزل بهذا البلد، فاشتبكت منا للوداع اليد وشيعتها، وكلُّ معجب بهذا التعارف الذي عقدته يد التصادف.
أما هذه البلدة فتسمى كوبلنس وهي مدينة قديمة موضوعة على زاوية حادة، أحد ضلعيها على نهر الرين، والآخر على نهر موزل حيث مصبه، وقد جعل ذلك لها
موقعاً حسناً. وهي عاصمة ولاية الرين إحدى ولايات البروسيا، ويصل منها كبري إلى وادٍ في الشاطئ الغربي، وبذلك الوادي قلعة حصينة قد هدمها الفرنساويون سنة 1801 ميلادية، وأعيد بناؤها في سنة 1815م.
গৌরব ও মর্যাদা মাত্র; আমি তাকে বললাম—আর আমি তার প্রতি নিবেদিত ছিলাম: হে মহীয়সী, অনুরাগের কথা যদি বলেন, তবে আমরা ঠিক আপনার কথামতই এর যোগ্য পাত্র, আর প্রেমের আমরাই সন্তান; আমরা প্রেমের সুধাকে বৈধ মনে করি, তবে মদ্যপানকে কদাপি নয়। আর পূর্ববর্তীদের যেসব কিসসা-কাহিনী রয়েছে, তা কেবল প্রাচীনদের উপকথা মাত্র, যা আমাদের নিকট বিষণ্ণতা দূর করতে এবং আত্মাকে সজীব করতে পাঠ করা হয়। যেখানে আমরা একে নিঃসন্দেহে এক আশ্চর্য বস্তু হিসেবে দেখি, আর বর্তমান যুগে আমাদের মতো লোকদের জন্য এটি চিত্তবিনোদনের খোরাক।
তখন সে বিস্ময় ত্যাগ করে স্বাভাবিক হলো এবং কোনো প্রকার মুগ্ধতা ছাড়াই বলল: চমৎকার, চমৎকার! আপনি আমার কাছে দিনের উজ্জ্বল আলো ফুটিয়ে তুলেছেন এবং সত্যের সূর্য থেকে আবরণের মেঘমালা সরিয়ে দিয়েছেন। আমি আরবদের সংবাদের প্রতি প্রবল অনুরাগের কারণে আপনার কাছে আনন্দের কথাগুলো ব্যক্ত করেছি।
আমরা যখন সেই চমৎকার আলোচনায় মগ্ন ছিলাম, তখনই জাহাজটি একটি উজ্জ্বল শহরে নোঙর করল। এরপর আমরা আহার শেষ করে উঠলাম এবং সেই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলাম। আমি জানতে পারলাম যে সে এই শহরেই নেমে যাবে; তাই বিদায়ের বেলায় আমাদের হাত পরস্পর মিলিত হলো এবং আমি তাকে বিদায় জানালাম। দৈবক্রমে গড়ে ওঠা এই জানাশোনায় প্রত্যেকেই অভিভূত ছিলাম।
এই শহরটির নাম কোবলেনৎস; এটি একটি প্রাচীন শহর যা একটি সূক্ষ্ম কোণে অবস্থিত। এর এক পাশ রাইন নদীর তীরে এবং অপর পাশ মোসেল নদীর তীরে অবস্থিত যেখানে এর মোহনা; আর এটি একে দান করেছে
এক মনোরম অবস্থান। এটি রাইন প্রদেশের রাজধানী, যা প্রুশিয়ার অন্যতম একটি প্রদেশ। এখান থেকে একটি সেতু পশ্চিম তীরের একটি উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছেছে এবং সেই উপত্যকায় একটি সুদৃঢ় দুর্গ রয়েছে যা ফরাসীরা ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস করেছিল এবং ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে এটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
وكلمة كوبلنس محرفة عن كلمة لاتينية أصلها كون فلوونس ومعناها السائل معاً إشارة إلى مصب نهر موزل في نهر الرين.
برج القط وبرج الفأرثم بارحناها فجعلت أنظر القوم وقد لعبت بعقولهم الراح، وانتعشت منهم الأرواح، يضحكهم أقل عبارة، ويطربهم أدنى إشارة، فما رأيت، حتى عجبت لأعاجيب الصهباء، وفعلها بألباب العقلاء. أما الجهات التي مررنا عليها فليس لذكرها كبير فائدة، إلى أن وصلنا إلى مصب نهر يقال له لان في الجهة الشرقية لنهر الرين. وبعد هنيهة مررنا على قرية تدعى رنكتجوار، وشاهدت بها من بعد برجين بينهما مسافة بعيدة، يسمى أحدهما برج القط، والآخر برج الفار، وكانا قديماً مسكونين بقوم يدعونهم بالفوارس اللصوص، وذلك أنهم كانوا يتربصون للقوافل التجارية، ويطلبون منهم رسوماً على البضائع. ومما يحكى عنهم أنه كثيراً ما تشاجر أهل ذينك البرجين، وكانت الغلبة دائماً لبرج الفار، وإن كان ذلك خارقاً لناموس العادة والطبيعة.
ثم أشرفنا على جبل شاهق صخري وبينما كنا بحذائه إذ سمعنا صوتاً مزعجاً اضطربت له الأعصاب واقشعرت له الأبدان، وإذا به صوت مدفع أطلق بهذا الجبل تشريفاً للباخرة، وإدخالاً للسرور على السياحين بسماع صدى ذلك الصوت في مهاوي ذلك
কোবলেন্স শব্দটি একটি ল্যাটিন শব্দ থেকে বিকৃত হয়েছে যার মূল উৎস হলো "কনফ্লুয়েন্স", এবং এর অর্থ হলো "একত্রে প্রবাহিত হওয়া", যা রাইন নদীতে মোসেল নদীর মোহনার দিকে ইঙ্গিত করে।
বিড়াল মিনার ও ইঁদুর মিনারঅতঃপর আমরা সেখান থেকে প্রস্থান করলাম। আমি লোকজনের দিকে তাকাতে লাগলাম, যাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সুরা আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল এবং যাদের প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠেছিল; সামান্যতম কথায় তারা হাসছিল এবং সামান্যতম ইশারায় তারা উল্লসিত হচ্ছিল। আমি যা দেখেছি তাতে লাল সুরার বিস্ময়কর প্রভাব এবং জ্ঞানীদের বিবেকের ওপর তার ক্রিয়া দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। আমরা যেসব এলাকা অতিক্রম করেছি সেগুলো উল্লেখ করার খুব একটা বিশেষ উপকারিতা নেই, যতক্ষণ না আমরা রাইন নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত "লান" নামক একটি নদীর মোহনায় পৌঁছালাম। কিছুক্ষণ পর আমরা "রাঙ্কটগওয়ার" নামক একটি গ্রাম অতিক্রম করলাম এবং সেখানে দূর থেকে দুটি মিনার দেখলাম যাদের মাঝে বেশ দূরত্ব ছিল। এর একটির নাম "বিড়াল মিনার" এবং অন্যটির নাম "ইঁদুর মিনার"। প্রাচীনকালে সেখানে এমন একদল লোক বসবাস করত যাদের "দস্যু অশ্বারোহী" বলা হতো; কারণ তারা বাণিজ্যিক কাফেলাগুলোর জন্য ওত পেতে থাকত এবং তাদের মালের ওপর শুল্ক দাবি করত। তাদের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, এই দুই মিনারের অধিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো এবং সবসময় "ইঁদুর মিনারে"র অধিবাসীরাই জয়লাভ করত, যদিও তা স্বাভাবিক নিয়ম ও প্রকৃতির বিপরীত ছিল।
এরপর আমরা একটি সুউচ্চ পাথুরে পাহাড়ের সামনে উপস্থিত হলাম। যখন আমরা পাহাড়টির সমান্তরালে ছিলাম, তখন একটি বিকট শব্দ শুনতে পেলাম যাতে স্নায়ুসমূহ উত্তেজিত হয়ে পড়ল এবং শরীর রোমাঞ্চিত হলো। হঠাৎ জানা গেল তা ছিল পাহাড় থেকে ছোড়া একটি কামানের শব্দ যা জাহাজটিকে সম্মান জানাতে এবং পর্যটকদের হৃদয়ে আনন্দ দিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যাতে তারা পাহাড়ের গহ্বরে সেই শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে পায়।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
الجبل ومغاراته، وبعدما علمنا ذلك دخلنا الاستغراب من قوة هذه الظاهرة الطبيعية.
وهذا الجبل يدعونه جبل لورلاي وذلك أنهم كانوا يزعمون أن امرأة ساحرة تسمى
لورلاي كانت تسكن مغارة به، وأنها كانت جميلة ذات شعر أصفر طويل، وكانت تجلس على الشاطئ فتسرح شعرها بمشط من ذهب، ثم تأخذ عوداً فتنقر عليه، وتغني، فإذا مرَّ عليها الملاحون يطربهم غناؤها، ويغشى عليهم فيغرقون، وأنها لمحت ذات يوم أحد الملاحين فكلفت به وعشقته، ثم راودته مراراً عن المجيء إليها والتزوج بها فأبى خوفاً منها، ولما طال عليها الأمد واشتدَّ غرامُها، رمت بنفسها إلى النهر فماتت. وهذه الحكاية مشهورة لدى الألمانيين كثيراً حتى إنهم صاغوها في أدوار شعرية، يوقعون عليها الألحان الموسيقية، في محافل الأغاني، ويغني بها أيضاً الرجال والنساء في المجتمعات الخصوصية.
المطران والفئرانوبينما نحن في المسير إذ عرجت بنا الباخرة على جزيرة بها برج عالٍ يسمى برج الجرذان (الفيران) أقامه المطران هاتو سنة 900 ميلادية، وذلك أنهم زعموا أن ذلك المطران كان ذا ثروة من الأغنياء المكثرين، وقد لحقهم في أيامه قحط شديد، فبخل بالغلال المدَّخرة لديه، أملاً منه أن يبيعها
পাহাড় এবং এর গুহাসমূহ, এবং যখন আমরা এটি জানতে পারলাম তখন এই প্রাকৃতিক প্রপঞ্চের শক্তিতে আমরা বিস্ময়াবিষ্ট হলাম।
আর এই পাহাড়কে তারা লোরলাই পাহাড় বলে ডাকে, কারণ তারা দাবি করত যে জনৈক জাদুকরী নারী যাকে বলা হতো
লোরলাই, সে সেখানে একটি গুহায় বাস করত, এবং সে ছিল দীর্ঘ সোনালী চুলের এক রূপসী নারী। সে সমুদ্রতীরে বসে সোনার চিরুনি দিয়ে তার চুল আঁচড়াত, তারপর একটি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তাতে সুর তুলত এবং গান গাইত। যখনই নাবিকরা তার পাশ দিয়ে যেত, তার সংগীত তাদের বিমোহিত করত এবং তারা মূর্ছিত হয়ে ডুবে যেত। একদিন সে জনৈক নাবিককে লক্ষ্য করল এবং তার প্রেমে আসক্ত হল। এরপর সে বারবার তাকে তার কাছে আসার এবং তাকে বিবাহ করার জন্য প্ররোচিত করল, কিন্তু সে ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করল। যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হল এবং তার প্রেম তীব্রতর হল, সে নিজেকে নদীতে নিক্ষেপ করল এবং প্রাণ বিসর্জন দিল। এই কাহিনীটি জার্মানদের মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, এমনকি তারা এটিকে কাব্যে রূপ দিয়েছে এবং গানের মাহফিলগুলোতে সুরারোপ করে তা গেয়ে থাকে। ব্যক্তিগত সামাজিক অনুষ্ঠানেও পুরুষ ও মহিলারা এটি গেয়ে থাকে।
বিশপ এবং ইঁদুরসমূহসফরের মাঝে আমাদের বাষ্পীয় জাহাজটি এমন একটি দ্বীপে ভিড়ল যেখানে একটি উঁচু মিনার ছিল যাকে 'ইঁদুরের মিনার' বলা হয়। ৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিশপ হাতো এটি নির্মাণ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই বিশপ অত্যন্ত সম্পদশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তার সময়ে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, কিন্তু তিনি তার নিকট গচ্ছিত শস্যের ব্যাপারে কৃপণতা করেন এই আশায় যে তিনি তা বিক্রি করবেন।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
فيما بعد بقيمة عظيمة، فابتلاه الله بالفيران فأكلت غلاله واحتاطت به، تلعب عليه أينما سار أو جلس، حتى إنها كانت تقع في مائدة طعامه إذا أكل وتخطف من يديه المأكولات، فلما أعيته الحيل أتى إلى هذه الجزيرة، وبنى بها ذلك البرج ليسكنه هرباً منها، وبينما هو به إذا بالفيران قد ملأت قاعاته ولم يزل مبتلياً بها حتى مات.
وحينما سمعت هذه القصة وما ذكر آنفا، علمت يقيناً أن شواطئ نهر الرين كانت الوطن الثاني لخرافة العُذْري، وأخذني العجب من هذه الخزعبلات، وأمثالها التي ملأت العالم شرقاً وغرباً، وقامت دليلاً على شدة العقل الإنساني إلى التصديق، وحبه المفرط لما كان غريباً أو عجيباً من الأمور، ولخوارق العادات، وليس هذا بأعظم من عجبي من سرعة انتباه أهل أوروبا في هذا العصر الحالي، وتيقظهم
وميلهم إلى حقائق الأشياء، وعدم اعتبارهم لمثل هذه الخرافات، وإن كان فيهم أولو جهالة وطباع بسيطة كباقي الأمم.
ولم نزل نمتع الطرف بمحاسن ما على اليمين واليسار من الشواطئ ذوات الأشجار والأثمار، وقد لبست الشمس جلبابها الأصفر فرَقاً من فراقها لحسن ذلك المنظر:
পরবর্তীতে এক বিশাল মূল্যে, আল্লাহ তাকে ইঁদুর দ্বারা পরীক্ষায় ফেললেন, ফলে সেগুলো তার শস্য খেয়ে ফেলল এবং তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলল; সে যেখানেই চলত বা বসত, সেগুলো তার উপরে চড়ে খেলা করত। এমনকি সে যখন আহার করত, সেগুলো তার দস্তরখানে এসে পড়ত এবং তার হাত থেকে খাদ্যসামগ্রী ছিনিয়ে নিত। যখন সে সকল কৌশলে ব্যর্থ হলো, তখন সে এই দ্বীপে আসল এবং ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচতে বসবাসের জন্য এই দুর্গটি নির্মাণ করল। যখন সে সেখানে অবস্থান করছিল, তখন ইঁদুরগুলো দুর্গের কক্ষসমূহ পূর্ণ করে ফেলল এবং সে আমৃত্যু এই বিপদে ক্লিষ্ট থাকল।
যখন আমি এই কাহিনী এবং ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা শুনলাম, আমি নিশ্চিতভাবে অবগত হলাম যে, রাইন নদীর তীর ছিল ‘উযরি’ উপকথার দ্বিতীয় স্বদেশ। আমি এই সমস্ত অলীক কাহিনী এবং এ জাতীয় বিষয় দেখে বিস্মিত হলাম যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জগতকে পূর্ণ করে রেখেছে এবং যা বিশ্বাসের প্রতি মানব মস্তিষ্কের প্রবল ঝোঁক ও অদ্ভুত-আশ্চর্যজনক বিষয়সমূহ ও অলৌকিক ঘটনার প্রতি মানুষের অত্যধিক অনুরাগের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তবে বর্তমান যুগে ইউরোপীয়দের দ্রুত সচেতনতা ও তাদের সজাগ হওয়ার বিস্ময়ের তুলনায় এটি বড় কিছু নয়—
এবং বস্তুর প্রকৃত স্বরূপের প্রতি তাদের ঝোঁক এবং এই জাতীয় কুসংস্কারের প্রতি তাদের ভ্রুক্ষেপহীনতা, যদিও অন্যান্য জাতির ন্যায় তাদের মধ্যেও মূর্খ ও সরল স্বভাবের লোক বিদ্যমান রয়েছে।
আমরা ডান ও বাম উভয় পার্শ্বের বৃক্ষরাজী ও ফলমূল শোভিত তীরের সৌন্দর্য অবলোকন করে দৃষ্টির তৃপ্তি লাভ করতে থাকলাম; এমতাবস্থায় সূর্য সেই মনোরম দৃশ্যের বিরহ বেদনায় তার পীত বর্ণের চাদর পরিধান করেছে:
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
ما اصفر وجه الشمس عند غروبها
… إلا لفرقة حسن ذاك المنظر
فياله من منظر يهش إليه الخاطر، ويقرّ لرقة جماله الناظر، فكأن ابن خفاجة كان يرمقنا بطرفه حين أنشد ضمن طرفه:
والريح تعبث بالغصون وقد جرى
… ذهب الأصيل على لجين الماء
أو مجير الدين بن تميم قد حاضرنا، وقد وصف فأنشدنا:
ونهر إذا ما الشمس حان غروبها
… ولاحت عليه في غلائلها الصفر
رأينا الذي أبقت به من شعاعها
… كأنا أرقنا فيه كأساً من الخمر
إلى أن عرجنا على قرية تسمى رودسهيم وقد أقبلت وفود النجوم فنزلت بها للمبيت في حيها، حتى إذا باح الصبح بسره حركت الأقدام للصعود على جُبَيلها المسمى نيدرفال لمشاهدة تمثال جرمانيا فصعدت ضمن الصاعدين السياحين، وحولنا الكروم والأعناب، وقد شقُّوا في ذلك الجبل طرقاً يسهل المسير فيها، ومدوا بها القضبان الحديدية لتصعد عليها عربات البخار، وحتى إذا علونا ذروته رأيناه آخذاً تسطيحاً قريباً من الاستواء، وقد شغلته الآجام والغابات، وعلى طرف ذلك الجبيل قد أقيم تمثال عظيم مشرف على نهر الرين يسمونه تمثال جرمانيا تذكاراً للحرب الأخيرة الألمانية الفرنساوية وهو على هيئة امرأة رافعة بيدها اليمنى التاج الإمبراطوري، وقابضة بيدها اليسرى القضيب الإمبراطوري كذلك قائمة على قاعدة منشورية
সূর্যাস্তের সময় সূর্যের অবয়ব বিবর্ণ হয়ে যায়নি
… তবে সেই দৃশ্যের মনোরম বিচ্ছেদের কারণেই তা হয়েছে।
কী চমৎকার সেই দৃশ্য, যার প্রতি মন পুলকিত হয় এবং যার সূক্ষ্ম সৌন্দর্যে দর্শকের চোখ জুড়িয়ে যায়! মনে হয় যেন ইবনে খাফাজা তাঁর কবিতার ছন্দে আমাদের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন যখন তিনি আবৃত্তি করেছিলেন:
বাতাস ডালপালা নিয়ে খেলা করছে, আর বিকেলের সোনালি আভা
… রূপালি পানির ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে।
অথবা যেন মুজিরুদ্দীন বিন তামীম আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন এবং বর্ণনা করতে গিয়ে আবৃত্তি করেছেন:
এমন এক নদী, যখনই সূর্যের অস্ত যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে
… এবং তার ওপর সূর্যের পীত বসনসদৃশ আভা প্রতিভাত হয়;
আমরা প্রত্যক্ষ করলাম সূর্য তার যে রশ্মিটুকু অবশিষ্ট রেখেছে
… তা যেন এমন যে, আমরা তাতে এক পেয়ালা শরাব ঢেলে দিয়েছি।
অবশেষে আমরা রুডেশাইম নামক একটি গ্রামে পৌঁছলাম; তখন নক্ষত্রপুঞ্জ সেখানে রাত কাটানোর জন্য উপস্থিত হয়েছিল। যখন ভোর তার রহস্য উন্মোচন করল, তখন আমরা জার্মানিয়া মূর্তি দর্শনের উদ্দেশ্যে নিডারওয়াল্ড নামক পাহাড়টিতে আরোহণের জন্য পা বাড়ালাম। আমি অন্যান্য পর্যটক আরোহণকারীদের সাথে উপরে উঠলাম; আমাদের চারপাশে ছিল দ্রাক্ষাকুঞ্জ ও আঙ্গুর বাগান। তারা সেই পাহাড়ে চলাচলের সুবিধার্থে পথ তৈরি করেছে এবং রেললাইন স্থাপন করেছে যাতে বাষ্পচালিত যানগুলো তাতে চড়ে উপরে উঠতে পারে। যখন আমরা এর চূড়ায় পৌঁছলাম, তখন আমরা এটিকে প্রায় সমতলের কাছাকাছি দেখতে পেলাম, যা ঝোপঝাড় ও বনজঙ্গলে পূর্ণ ছিল। সেই পাহাড়ের এক প্রান্তে রাইন নদীর দিকে মুখ করা একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যাকে তারা জার্মানি-ফ্রান্সের শেষ যুদ্ধের স্মারক হিসেবে 'জার্মানিয়া মূর্তি' বলে। এটি একটি নারীর আকৃতিতে নির্মিত, যে তার ডান হাতে রাজমুকুট উপরে তুলে ধরে আছে এবং তার বাম হাতে রাজদণ্ড ধরে আছে; এটি একটি প্রিজম আকৃতির ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুল বুশরা ফিস-সিয়াহাহ বি-আলমানিয়া ওয়া সুইচরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
الشكل على قاعدة أخرى مستطيلة، نقش على أحد
أوجهها صورة الإمبراطور فيلهلم الأول ونجله الإمبراطور فريدك والبرنس بسمارك، وكثير من الأمراء الألمانيين، وارتفاع ذلك التمثال 30 متراً، وأما ارتفاعه عن سطح نهر الرين فهو 225 متراً ألقى أساسه بيده الإمبراطور فيلهلم الأول في سبتمبر سنة 1877 ميلادية، وفي سبتمبر سنة 1883 تم بناؤها فقدم إليه الإمبراطور وجميع عائلته وأقاربه، وكل ملوك ألمانية وأمراؤها، واحتفلوا له، وكان يوماً مشهوداً لديهم هنأ فيه الملوك والأمراء بعضهم بعضاً، وانطلقت فيه ألسنة الخطباء، وقد خطب في جملتهم الإمبراطور فقال بعد كلام طويل، وقد أشار إلى التمثال بيده: لتكن أيها التمثال تذكاراً للذين فدوا الوطن بأرواحهم فأصبحوا حشواً للقبور، وفخراً للعائشين وقدوة لأبنائنا التابعين. ومن ذلك الميدان يرى الإنسان لمنظر نهر الرين وما حوله هيئة عجيبة، لا سيما موقع مصب نهر يقال له ناهه في نهر الرين، ثم هبطت من الجهة الأخرى على ذلك الجبيل، وشاهدت بلدة صغيرة يقال لها أسمانسهوزن وهي قرية موضوعة على نهر الرين يشغلها من السكان 1000 نفس تقريباً مشهورة بنبيذها الأحمر، وبها عين ماء معدني جارٍ، كانت معروفة ومستعملة للرومانيين قديما في الاستحمام.
আকারটি আরেকটি আয়তাকার ভিত্তির ওপর অবস্থিত, যার এক
পাশে সম্রাট প্রথম উইলহেম, তাঁর পুত্র সম্রাট ফ্রেডরিক এবং প্রিন্স বিসমার্কসহ অনেক জার্মান রাজপুত্রের প্রতিকৃতি খোদাই করা হয়েছে। সেই ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৩০ মিটার, আর রাইন নদীর পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২২৫ মিটার। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে সম্রাট প্রথম উইলহেম নিজ হাতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে সম্রাট এবং তাঁর সকল পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এবং জার্মানির সকল রাজা ও রাজপুত্র সেখানে উপস্থিত হন এবং তারা উৎসব পালন করেন। দিনটি তাদের কাছে একটি স্মরণীয় দিন ছিল, যেখানে রাজা ও রাজপুত্ররা একে অপরকে অভিনন্দন জানান এবং বক্তারা সাবলীল ভাষণ প্রদান করেন। তাদের মধ্যে সম্রাটও ভাষণ দেন এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ভাস্কর্যটির দিকে নিজ হাত দিয়ে ইশারা করে বলেন: হে ভাস্কর্য! তুমি তাদের জন্য স্মারক হয়ে থাকো, যারা দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে কবরে সমাহিত হয়েছেন এবং যারা জীবিত আছেন তাদের জন্য গর্বের এবং আমাদের পরবর্তী সন্তানদের জন্য আদর্শের প্রতীক হয়ে থাকো। সেই চত্বর থেকে মানুষ রাইন নদী এবং এর চারপাশের দৃশ্যের এক অদ্ভুত রূপ দেখতে পায়, বিশেষ করে রাইন নদীতে ‘নাহে’ নামক নদীর মোহনাটি। এরপর আমি সেই পাহাড়ের অন্য দিক দিয়ে নিচে নামলাম এবং ‘আসমানসহাউসেন’ নামক একটি ছোট শহর দেখলাম। এটি রাইন নদীর তীরে অবস্থিত একটি গ্রাম, যার জনসংখ্যা প্রায় ১০০০ জন। গ্রামটি তার লাল আঙ্গুররসের জন্য বিখ্যাত এবং সেখানে একটি প্রবাহমান খনিজ পানির ঝরনা রয়েছে, যা প্রাচীনকালে রোমানদের কাছে গোসলের জন্য পরিচিত ও ব্যবহৃত ছিল।