(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية - الراجحي القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 18 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432
ইবনে তাইমিয়া রচিত কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত-এর ব্যাখ্যা - আল-রাজিহী বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: ইবনে তাইমিয়া রচিত কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত-এর ব্যাখ্যা
লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-রাজিহী
গ্রন্থের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৮টি পাঠ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাত ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية
[1]كتاب الإيمان الأوسط أو الصغير لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله من أحسن كتبه، وهو في شرح حديث جبريل المشهور، وقد ميز فيه بين أقوال الناس في الإسلام والإيمان، وأدلة كل قول، وما هو الحق في ذلك.
ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত-এর শারহ
[১]শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত অথবা আস-সাগীর তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব। এটি মূলত জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসের ব্যাখ্যায় রচিত। এতে তিনি ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য, প্রতিটি বক্তব্যের সপক্ষে দলীলসমূহ এবং এই বিষয়ে প্রকৃত সত্য কোনটি তা নিরূপণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ২)
فضل العلم وآدابه
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর আদবসমূহ
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৩)
فضيلة طلب العلمالحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبد الله ورسول نبينا وإمامنا محمد، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد: فإني أحمد الله الذي لا إله إلا هو إليكم، وأثني عليه الخير كله، وأسأله المزيد من فضله، وأسأله سبحانه وتعالى أن يرزقنا جميعاً العلم النافع والعمل الصالح، وأسأله سبحانه وتعالى أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، وصواباً على هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسأله سبحانه أن يجعل اجتماعنا هذا اجتماعاً مرحوماً وأن يجعل تفرقنا من بعده تفرقاً معصوماً، وأن لا يجعل فينا ولا منا ولا من بيننا شقياً ولا محروماً.
أيها الإخوان! إن طلب العلم، والاستزادة منه، والحرص عليه، عن إخلاص ومحبة ورغبة ورهبة من أفضل القربات وأجل الطاعات، فإن العلم الذي بعث الله به نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم أشرف العلوم، والله سبحانه وتعالى رفع شأن العلماء وميزهم، وقرن شهادتهم بشهادته وشهادة الملائكة على أجل مشهود به، وهو الشهادة له سبحانه وتعالى بالوحدانية.
وقال سبحانه: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الأَلْبَابِ} [الزمر:9]، وقال سبحانه: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُوْلُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [آل عمران:18].
وأمر الله نبيه أن يقول: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه:114].
والعلم الشرعي هو ميراث الأنبياء، والأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً وإنما ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر، ومن اتصف بالعلم كان له مزية على غيره.
ولهذا فإن في حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه الذي فيه بيان أقسام الناس الذين يقرءون القرآن جعل لمن يقرأ القرآن ميزة وإن كان من المنافقين، فقال عليه الصلاة والسلام: (مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن مثل الأترجة ريحها طيب وطعمها طيب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن مثل التمرة طعمها طيب ولا ريح لها، ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن مثل الحنظلة لا ريح لها وطعمها مر).
فجعل المنافق الذي يقرأ القرآن له مزية، وإن كان لا ينفعه، لكن العلم يجعل للإنسان مزية تميزه على غيره، حتى الحيوانات المعلمة تتميز عن غيرها من غير المعلمة، فالكلب المعلم له ميزة على غيره من الكلاب، والكلب المعلم يجوز أكل ما صاد، والكلب غير المعلم لا يؤكل صيده، بالشروط.
فالمسلم الذي من الله عليه بالعلم وسلوك طريق العلم عليه أن يغتبط بهذه النعمة، ويعلم أن الله أراد به خيراً، وإن من علامات إرادة الله الخير للعبد أن يفقهه في دينه، وأن يتبصر، وأن يحرص على طلب العلم، ولهذا ثبت في الصحيحين من حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين)، قال العلماء: هذا الحديث له منطوق وله مفهوم، منطوقه: أن من فقهه الله في الدين فقد أراد به خيراً، ومفهومه: أن من لم يفقهه الله في الدين لم يرد به خيراً، ولا حول ولا قوة إلا بالله، وما ذاك إلا أن الفقه في الدين وسيلة إلى العمل، وإلى تنفيذ الأحكام والتصديق بالأخبار، ولهذا فإن العلماء ورثة الأنبياء.
ইলম অর্জনের মর্যাদাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী এবং আমাদের ইমাম মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমি আপনাদের সামনে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি তাঁরই সকল কল্যাণময় প্রশংসা জ্ঞাপন করছি এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রাচুর্য প্রার্থনা করছি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে উপকারী ইলম এবং সৎ আমল নসিব করেন। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল কাজকে একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়েত অনুযায়ী সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই একত্রিত হওয়াকে রহমতপূর্ণ করেন এবং এরপর আমাদের বিচ্ছিন্ন হওয়াকে গুনাহ থেকে সংরক্ষিত করেন; আর আমাদের মধ্যে, আমাদের সাথে বা আমাদের পরিমণ্ডলে কোনো দুর্ভাগা বা বঞ্চিত ব্যক্তি না রাখেন।
হে ভ্রাতৃবৃন্দ! নিশ্চয়ই ইলম অন্বেষণ করা, এর অধিকতর অন্বেষণে সচেষ্ট হওয়া এবং আন্তরিকতা, ভালোবাসা, আগ্রহ ও ভীতি নিয়ে এর প্রতি সচেষ্ট থাকা সর্বশ্রেষ্ঠ নৈকট্য দানকারী আমল ও মহান ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তা হলো সকল ইলমের চেয়ে অধিক সম্মানিত। মহান আল্লাহ আলেমদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর নিজের সাক্ষ্য ও ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে আলেমদের সাক্ষ্যকেও একীভূত করেছেন এক সুমহান বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য, আর তা হলো মহান আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের সাক্ষ্য।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বিবেকসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।} [যুমার: ৯], এবং আল্লাহ আরও বলেছেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং ফেরেশতাগণ ও আলেমগণও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।} [আল-ইমরান: ১৮]।
আর আল্লাহ তাঁর নবীকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি যেন বলেন: {এবং বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন।} [ত্বহা: ১১৪]।
শরয়ি ইলম হলো নবীদের উত্তরাধিকার। আর নবীরা উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা ইলম রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা সৌভাগ্য ও প্রাচুর্য লাভ করল। আর যে ইলমের গুণে গুণান্বিত হলো, অন্যদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।
এই কারণেই আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে, যেখানে কুরআন পাঠকারীদের বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে তার জন্য বিশেষ মর্যাদা রাখা হয়েছে, যদিও সে মুনাফিক হয়। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার ঘ্রাণ সুগন্ধযুক্ত এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার স্বাদ মিষ্টি কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হান (এক প্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ)-এর মতো, যার ঘ্রাণ সুগন্ধযুক্ত কিন্তু স্বাদ তিতা। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো, যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিতা)।
এখানে মুনাফিক কুরআন পাঠ করার কারণে তাকে একটি বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যদিও তা (পরকালে) তার উপকারে আসবে না। কিন্তু ইলম মানুষের জন্য এমন এক মর্যাদা তৈরি করে যা তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে দেয়। এমনকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পশুও অপ্রশিক্ষিত পশুর চেয়ে আলাদা ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকে। শিকারের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের মর্যাদা অন্য সাধারণ কুকুরের চেয়ে বেশি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের শিকার করা পশু নির্দিষ্ট শর্তে খাওয়া বৈধ, কিন্তু প্রশিক্ষণহীন কুকুরের শিকার করা পশু খাওয়া যায় না।
সুতরাং যে মুসলিমকে আল্লাহ ইলম এবং ইলমের পথে চলার তাওফিক দান করে ধন্য করেছেন, তার উচিত এই নেয়ামতের জন্য আনন্দিত হওয়া। তার জানা উচিত যে, আল্লাহ তার কল্যাণ চেয়েছেন। আর বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণ কামনার অন্যতম আলামত হলো তাকে দ্বীনের সমঝ বা গভীর জ্ঞান দান করা, তাকে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি দান করা এবং ইলম অর্জনে আগ্রহী করা। এই কারণেই সহীহাইন-এ মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন)। আলেমগণ বলেন: এই হাদিসের একটি সুস্পষ্ট অর্থ (মানতুক) আছে এবং একটি ইঙ্গিতপূর্ণ অর্থ (মাফহুম) আছে। এর সুস্পষ্ট অর্থ হলো: আল্লাহ যাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেছেন, নিশ্চয়ই তিনি তার কল্যাণ চেয়েছেন। আর এর ইঙ্গিতপূর্ণ অর্থ হলো: আল্লাহ যাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেননি, তিনি তার কল্যাণ চাননি। আল্লাহর কাছেই আমরা আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করি, তিনি ছাড়া কোনো উপায় ও ক্ষমতা নেই। এর কারণ আর কিছুই নয় বরং দ্বীনের সমঝ বা ফিকহ হলো আমল করার, বিধানাবলী বাস্তবায়ন করার এবং ঐশী সংবাদসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করার মাধ্যম। আর এ কারণেই আলেমগণ হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৪)
أهمية الإخلاص في طلب العلمفأنتم اتجهتم إلى طريق العلم، ونحسبكم والله حسيبكم أنكم قصدتم بذلك وجه الله والدار الآخرة، لا تريدون مالاً ولا جاهاً ولا شهادة ولا وظيفة، وإنما تطلبون العلم للتبصر والتفقه.
فأوصيكم ونفسي بالإخلاص والصدق مع الله، فأخلصوا طلبكم للعلم لله، واقصدوا بذلك وجه الله والدار الآخرة؛ لأن طلب العلم من أجل القربات وأفضل الطاعات، وهو أفضل من نوافل العبادة، قال العلماء: إن طلب العلم أفضل من نوافل العبادة، يعني: كونك تتفرغ لطلب العلم أفضل من كونك تتفرغ لتصلي الليل، أو لتصلي صلاة الضحى، أو لتصوم الإثنين والخميس، أو لتصوم ثلاثة أيام من كل شهر، وإذا كان طلب العلم يمنعك من صلاة الليل أو صلاة الضحى، فأنت بين أمرين: إما أن تصلي الضحى أو تحضر درس العلم.
نقول: حضور درس العلم مقدم على صلاة الليل، وإذا كان صيام الإثنين والخميس أو صيام ثلاثة أيام من كل شهر يمنعك من طلب العلم فطلب العلم مقدم؛ لأن طلب العلم أفضل من نوافل العبادة، يعني: ما زاد عن الفرائض؛ وما ذاك إلا لأن طلب العلم يتبصر به الإنسان في دين الله ويتفقه ويعلم الحلال والحرام، ويمتثل الأوامر ويجتنب النواهي، فيعبد الله على بصيرة، بخلاف الجاهل فإنه لا علم عنده.
فأوصيكم ونفسي بالإخلاص، أن يخلص الإنسان في طلبه للعلم، ويعلم أنه في عبادة عظيمة من أجل القربات وأطيب الطاعات.
وعليه أن يحسن القصد ويخلص النية، ويتذكر دائماً أنه يعبد الله بطلب العلم، ويتذكر دائماً أن الله من عليه بهذه النعمة العظيمة، ووجهه هذه الوجهة، وشرح قلبه وصدره لطلب العلم، فيرتبط بهذه النعمة ويفرح بها، قال تعالى: {قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [يونس:58].
জ্ঞান অর্জনে ইখলাসের গুরুত্বআপনারা জ্ঞানের পথে অগ্রসর হয়েছেন এবং আমরা মনে করি—আল্লাহই আপনাদের প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী—যে আপনারা এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালকে লক্ষ্য করেছেন। আপনারা এর দ্বারা সম্পদ, পদমর্যাদা, সনদ কিংবা কোনো চাকরি চান না; বরং আপনারা জ্ঞান অর্জন করছেন অন্তর্দৃষ্টি ও দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য।
তাই আমি আপনাদেরকে এবং নিজেকে আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা একনিষ্ঠতা ও সত্যবাদিতার উপদেশ দিচ্ছি। আপনারা আপনাদের জ্ঞান অর্জনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করুন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল লাভের উদ্দেশ্য পোষণ করুন। কারণ জ্ঞান অন্বেষণ অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য লাভ এবং সর্বোত্তম ইবাদত। এটি নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: জ্ঞান অন্বেষণ নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। অর্থাৎ, আপনার জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেকে নিবেদিত করা আপনার রাত জেগে নফল সালাত আদায় করা, চাশতের সালাত আদায় করা, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা কিংবা প্রতি মাসের তিন দিন রোজা রাখার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যদি জ্ঞান অর্জন আপনাকে রাতের নফল সালাত বা চাশতের সালাত থেকে বিরত রাখে, তবে আপনি দুটি বিষয়ের মুখোমুখি: হয় আপনি চাশতের সালাত পড়বেন অথবা ইলমি দরসে উপস্থিত হবেন।
আমরা বলি: ইলমি দরসে উপস্থিত হওয়া রাতের নফল সালাতের চেয়ে অগ্রগণ্য। আর যদি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা অথবা প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা আপনাকে জ্ঞান অন্বেষণ থেকে বিরত রাখে, তবে জ্ঞান অন্বেষণই অগ্রগণ্য। কারণ জ্ঞান অন্বেষণ নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; অর্থাৎ যা ফরজের অতিরিক্ত। এর কারণ হলো, জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে, প্রজ্ঞা অর্জন করে এবং হালাল ও হারাম সম্পর্কে জানতে পারে। সে আদেশগুলো পালন করে এবং নিষেধগুলো বর্জন করে, ফলে সে প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর ইবাদত করে; পক্ষান্তরে মূর্খ ব্যক্তির অবস্থা ভিন্ন, কেননা তার কোনো জ্ঞান নেই।
তাই আমি আপনাদেরকে এবং নিজেকে ইখলাসের উপদেশ দিচ্ছি, যেন মানুষ তার জ্ঞান অর্জনে একনিষ্ঠ হয় এবং বিশ্বাস রাখে যে সে এক মহান ইবাদতের মধ্যে রয়েছে, যা অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈকট্য এবং উত্তম আনুগত্য।
তার উচিত নিজের লক্ষ্যকে সুন্দর করা এবং নিয়তকে বিশুদ্ধ করা। সে যেন সর্বদা স্মরণে রাখে যে, জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমেই সে আল্লাহর ইবাদত করছে। সে যেন সর্বদা স্মরণে রাখে যে, আল্লাহ তাকে এই মহান নেয়ামত দান করেছেন, তাকে এই পথে পরিচালিত করেছেন এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য তার অন্তর ও বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন। ফলে সে এই নেয়ামতের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখবে এবং এতে আনন্দিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রহমতে; সুতরাং এতেই যেন তারা আনন্দিত হয়। তারা যা সঞ্চয় করে এটি তার চেয়ে উত্তম।” [ইউনুস: ৫৮]।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৫)
آداب طالب العلم مع شيوخهوعليه مع ذلك أن يحترم أهل العلم والمدرسين، ويعرف لهم قدرهم وحرمتهم، ويتأدب معهم في خطابه وفي أسلوبه وفي أسئلته، وعليه مع ذلك أن يحذر من التعنت الذي يصاب به بعض الناس في أسئلته، فلا يتعنت، لا يسأل أسئلة تعنت، ولا يسأل أسئلة يريد بها الرياء والسمعة، أو يريد أن يعنت المسئول ويوقعه في الحرج، أو لأجل أن يظهر نفسه، بل يسأل أسئلة يريد بها الفائدة، ولا يسأل أسئلة غير واقعية، أو أسئلة مستحيلة، أو لا تكون، لكن يسأل أسئلة يمكن أن تقع أو واقعة، ويكون قصده بذلك الفائدة.
وعليه مع ذلك الحرص على حضور دروس الحلقات العلمية، وبذل الوسع والاجتهاد، وإحضار الكتاب بين يديه، وعليه أن يحضر ذهنه، ويجاهد نفسه؛ حتى لا ترد عليه الخواطر والوساوس، فلابد أن يكون حاضر الذهن، فيفهم عن المدرس ما يقول، وعليه أن يعلق الفوائد العلمية؛ لأن الفوائد العلمية قد تفوته، ولهذا يقول السلف: العلم صيد والكتابة قيده قيد صيودك بالحبال الواثقة وعليه مع ذلك أن يستفسر عما أشكل عليه، ويرجع إلى زملائه يسألهم عما خفي عليه، ويرجع إلى الشريط أيضاً، وعليه مع ذلك أن يستفيد من أهل العلم، بأن يتصل بهم هاتفياً أو شخصياً، لكن مع التأدب، ومع القصد الحسن، وقد يحرم الإنسان العلم بسبب عدم تأدبه بآداب طالب العلم، فلابد للإنسان أن يخلص عمله لله وأن يتأدب بآداب طالب العلم.
وعليه مع ذلك أن يستفيد من الكتب ومن أهل العلم، وأن يسلك الطرق والوسائل التي يستفيد منها، والوسائل في هذا العصر كثيرة: منها حضور الحلقات والدورات العلمية، ومنها حضور الدروس في المساجد، ومنها سؤال أهل العلم هاتفياً أو شخصياً، ومنها سماع الأشرطة المفيدة، ومنها القراءة في كتب أهل العلم والبصيرة، ومنها الدراسة في المعاهد والكليات والمدارس العلمية، كل هذه وسائل لطلب العلم، فنسأل الله سبحانه وتعالى أن يرزقنا جميعاً العلم النافع والعمل الصالح، ونسأله سبحانه أن يرزقنا وإياكم الإخلاص في العمل والثقة في القول، ونسأله سبحانه وتعالى أن يعيذنا وإياكم من الرياء والسمعة ومن المقاصد السيئة.
ونحن إن شاء الله في هذه الدورة سوف نتكلم بما يفتح الله به على كتاب الإيمان الأوسط للإمام المجتهد المطلق العلامة شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني رحمة الله عليه، المولود سنة إحدى وستين وستمائة من الهجرة، والمتوفى سنة ثمانية وعشرين وسبعمائة رحمه الله رحمة واسعة.
وشيخ الإسلام معروف لدى الجميع، وهو ممن نصر الله به الحق، وأظهر الله به معتقد أهل السنة والجماعة، وقد انتشرت كتبه ومؤلفاته، ونفع الله بها في مشارق الأرض ومغاربها، ودعوة الإمام المجدد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله امتداد لدعوة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، ولا زال شيخ الإسلام الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب وأحفاده وتلاميذه كلهم يستفيدون من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه الإمام ابن القيم وغيرهم من أهل العلم.
وهذا الإمام شيخ الإسلام رحمه الله هو ممن نصر الله به الحق وأظهر به عقيدة أهل السنة والجماعة، وما قرره من معتقد أهل السنة والجماعة، كله عليه أدلة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وكان من أهل العلم، ويندر أن يكون له قول ضعيف في مسائل الاعتقاد، أما المسائل الفرعية فأمرها سهل، كمسائل الفروع في الفقه وفي غيرها، لكن مسائل الاعتقاد يندر أن يكون له قول ضعيف أو مرجوح رحمه الله.
وهذا كتاب الإيمان الأوسط ويقال له: كتاب الإيمان الصغير، وله كتاب آخر هو كتاب الإيمان الكبير أو شرح حديث جبريل، وكأن هذا الكتاب مختصر من كتاب الإيمان الكبير، وكتاب الإيمان الكبير أوسع، وهذه المباحث الموجودة في كتاب الإيمان الأوسط أو كتاب الإيمان الصغير موجودة في كتاب الإيمان الكبير، والإيمان الكبير يزيد عليه.
শিক্ষকদের সাথে জ্ঞানান্বেষীর শিষ্টাচারএর পাশাপাশি তার কর্তব্য হলো আলেম সমাজ ও শিক্ষকদের সম্মান করা, তাদের মর্যাদা ও পবিত্রতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তাদের সাথে সম্বোধন, বাচনভঙ্গি ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখা। এর পাশাপাশি তাকে একগুঁয়েমি থেকে সতর্ক থাকতে হবে, যা কিছু মানুষের প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখা দেয়। সুতরাং সে একগুঁয়েমি করবে না, একগুঁয়েমিপূর্ণ কোনো প্রশ্ন করবে না এবং এমন কোনো প্রশ্ন করবে না যার মাধ্যমে লোকদেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা থাকে, অথবা যার উদ্দেশ্য উত্তরদাতাকে অপদস্থ করা ও সংকটে ফেলা, কিংবা নিজেকে জাহির করা। বরং সে এমন প্রশ্ন করবে যার মাধ্যমে সে উপকৃত হতে চায়। সে অবাস্তব বা অসম্ভব কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবে না, বরং যা ঘটা সম্ভব বা সচরাচর ঘটে থাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করবে এবং তার উদ্দেশ্য হবে এর দ্বারা ফায়দা হাসিল করা।
তাছাড়াও ইলমি হালকায় উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী হতে হবে, সাধ্যমতো চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজের সামনে কিতাব উপস্থিত রাখতে হবে। তাকে নিজের মনকে উপস্থিত রাখতে হবে এবং কুপ্রবৃত্তি বা কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে যাতে তার অন্তরে আজেবাজে চিন্তা বা ওয়াসওয়াসা না আসে। সুতরাং তাকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে যাতে শিক্ষক যা বলছেন তা সে বুঝতে পারে। তাকে ইলমি ফায়দাগুলো লিখে রাখতে হবে; কারণ ইলমি ফায়দাগুলো তার থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এজন্যই সালাফগণ বলতেন: জ্ঞান হলো শিকারের মতো আর লেখা হলো তাকে বেঁধে রাখা; সুতরাং তোমার শিকারকে মজবুত রশি দিয়ে বেঁধে রাখো। এর পাশাপাশি তার কাছে যা অস্পষ্ট মনে হবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং যা তার কাছে অস্পষ্ট থেকে গেছে সে সম্পর্কে সহপাঠীদের নিকট ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে অথবা অডিও রেকর্ডিংয়ের সাহায্য নিতে হবে। এর পাশাপাশি আলেমদের থেকে উপকৃত হতে হবে টেলিফোন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে, তবে তা হতে হবে শিষ্টাচার ও উত্তম উদ্দেশ্যের সাথে। অনেক সময় জ্ঞানান্বেষীর শিষ্টাচারের অভাবের কারণে মানুষ ইলম থেকে বঞ্চিত হয়। তাই মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার আমলকে আল্লাহর জন্য নিবেদিত করা এবং ইলম অন্বেষণের শিষ্টাচারসমূহ মেনে চলা।
তাছাড়াও তার উচিত কিতাব এবং আলেমদের থেকে উপকৃত হওয়া এবং যে সকল পদ্ধতি ও মাধ্যমগুলোর সাহায্যে উপকৃত হওয়া যায় তা অনুসরণ করা। বর্তমান যুগে এই মাধ্যমগুলো অনেক: যেমন ইলমি হালকাহ ও কোর্সগুলোতে উপস্থিত হওয়া, মসজিদে অনুষ্ঠিত দরসগুলোতে উপস্থিত হওয়া, আলেমদেরকে টেলিফোনে বা সরাসরি প্রশ্ন করা, উপকারী অডিও রেকর্ডিং শোনা এবং প্রজ্ঞাবান আলেমদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা, আর মাদরাসা, কলেজ ও ইলমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করা। এই সবগুলোই ইলম অর্জনের মাধ্যম। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে উপকারী জ্ঞান এবং সৎ আমল নসিব করেন। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের আমলে ইখলাস এবং কথায় বিশ্বস্ততা দান করেন। আর মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের লোকদেখানো মনোভাব, সুখ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা এবং মন্দ উদ্দেশ্য থেকে আশ্রয় দান করেন।
ইনশাআল্লাহ এই কোর্সে আমরা সেই বিষয়ের ওপর আলোচনা করব যা আল্লাহ তাওফিক দেবেন, আর তা হলো মুজতাহিদে মুতলাক, আল্লামা শাইখুল ইসলাম আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর রচিত 'কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত' এর ওপর। তিনি হিজরি ৬৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।
শাইখুল ইসলাম সকলের নিকট সুপরিচিত। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মাধ্যমে আল্লাহ সত্যকে সাহায্য করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহকে প্রকাশ করেছেন। তাঁর রচিত কিতাব ও গ্রন্থসমূহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত মানুষকে উপকৃত করেছেন। ইমাম মুজাদ্দিদ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর দাওয়াত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর দাওয়াতেরই একটি সম্প্রসারণ। ইমাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, তাঁর বংশধর ও ছাত্রগণ—তাঁরা সকলেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য আলেমদের কিতাবসমূহ থেকে এখনো উপকৃত হচ্ছেন।
এই ইমাম শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মাধ্যমে আল্লাহ সত্যকে বিজয়ী করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহকে প্রকাশ করেছেন। তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ সম্পর্কে যা কিছু সাব্যস্ত করেছেন, তার সবকিছুর ওপর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে দলিল রয়েছে। তিনি এমন পর্যায়ের আলেম ছিলেন যে, আকিদাহর মাসয়ালাগুলোতে তাঁর কোনো দুর্বল মত থাকা বিরল। তবে শাখা-প্রশাখার মাসয়ালাগুলোর বিষয়টি সহজ, যেমন ফিকহ বা অন্যান্য বিষয়ের শাখা-প্রশাখার মাসয়ালাসমূহ; কিন্তু আকিদাহর মাসয়ালাগুলোতে তাঁর কোনো দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য মত থাকা বিরল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
এটি হলো 'কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত', আর একে 'কিতাবুল ঈমান আস-সাগির'ও বলা হয়। তাঁর আরেকটি কিতাব রয়েছে যা 'কিতাবুল ঈমান আল-কাবির' বা 'শারহু হাদিসে জিবরিল' নামে পরিচিত। মনে হয় যেন এই কিতাবটি 'কিতাবুল ঈমান আল-কাবির' থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। 'কিতাবুল ঈমান আল-কাবির' অনেক বিস্তারিত। 'কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত' বা 'কিতাবুল ঈমান আস-সাগির'-এ যেসব আলোচনা বিদ্যমান, তা 'কিতাবুল ঈমান আল-কাবির'-এও রয়েছে, বরং 'কিতাবুল ঈমান আল-কাবির'-এ এর চেয়ে আরও বেশি আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৬)
شرح خطبة الكتاب
কিতাবের ভূমিকার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৭)
معنى الحمدلةقال المؤلف رحمه الله تعالى: [بسم الله الرحمن الرحيم.
{وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ} [هود:88].
الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستعيذه ونستهديه ونسترشده، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله بين يدي الساعة بشيراً ونذيراً، {وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب:46]، ففتح به أعيناً عمياً، وآذاناً صماً، وقلوباً غلفاً، تبصر به من العمى، وأرشد به من الغي، وأنقذ به من الضلالة، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد].
هذه خطبة تسمى خطبة الحاجة، وكثيراً ما يفتتح بها الإمام رحمه الله رسائله وكتبه، وتقرأ هذه الخطبة عند خطبة النكاح وغيرها، فيفتتح بها مثل الكتاب أو الرسالة أو الجمعة، وإن لم تفتتح بها خطبة الجمعة فلا حرج.
يقول: (الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه).
الحمد: هو الثناء على المحمود بصفاته الجميلة الاختيارية، وهو أعلى من المدح، فالمدح: هو الإخبار عن صفات الممدوح، وقد تكون هذه الصفات ليست اختيارية، كما إذا مدحت الأسد بأنه قوي العضلات، هذه صفات له لكنه لم يفعلها باختياره، بخلاف الحمد؛ لأنه الثناء على المحمود بصفات اختيارية، مع حبه وإجلاله وتعظيمه، فالحمد أبلغ من المدح، فالحمد: هو الثناء على المحمود بصفاته الاختيارية مع حبه وإجلاله وتعظيمه.
ولهذا جاء الحمد في الثناء على الرب سبحانه وتعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة:2] افتتح الله به كتابه العظيم، وقال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ} [الأنعام:1] وقال: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا} [الكهف:1].
وجميع أنواع المحامد كلها ملك لله، هو مستحق لها سبحانه وتعالى، فإنه سبحانه وتعالى هو الكامل في ذاته وصفاته وأفعاله وهو مولي النعم ومسديها، وما بالخلق من نعمة فهي من الله، قال تعالى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنِ اللَّهِ} [النحل:53].
فلهذا كان سبحانه وتعالى مستحقاً لجميع أنواع المحامد، وهو المالك لها سبحانه وتعالى.
قوله: (ونستعينه) يعني: نستعين بالله سبحانه وتعالى، أي: نطلب منه العون، والسين والتاء تدل على الطلب، (ونستغفره)، يعني: نطلب منه المغفرة لجميع الذنوب؛ لأن الإنسان محل الخطأ، فهو بحاجة إلى الاستغفار، أي: طلب المغفرة، والمغفرة: هي ستر الذنب ومحوه والعفو عنه والسلامة من شروره في الدنيا والآخرة.
فالمؤلف يقول: نثني على الله سبحانه وتعالى بجميع أنواع المحامد، ونسأله العون، ونطلب منه أن يغفر ذنوبنا وأن يسترها، وأن يسلمنا من شرها في الدنيا والآخرة.
قوله: (ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا)، يعني: الشرور تأتي من النفس، وتأتي من غير النفس، وكذلك الأعمال تنسب إلى العبد، وهو المباشر لها والكاسب لها، فالأعمال تكون حسنة وتكون سيئة، ولهذا قال: ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا.
হামদালার অর্থলেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
{আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি} [হুদ: ৮৮]।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই, তাঁর কাছে হিদায়াত কামনা করি এবং তাঁর কাছে সঠিক পথের দিশা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন, {এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আল-আহযাব: ৪৬]। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তর খুলে দিয়েছেন; তাঁর মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন, গোমরাহি থেকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহর দরবারে তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অনেক অনেক দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর।]
একে 'খুতবাতুল হাজাহ' (প্রয়োজনের খুতবা) বলা হয়। ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) প্রায়ই তাঁর পত্রাবলি ও কিতাবসমূহের শুরুতে এটি ব্যবহার করেন। বিয়ের খুতবা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই খুতবা পড়া হয়। কিতাব, পত্র বা জুমার খুতবাও এর মাধ্যমে শুরু করা হয়। যদি জুমার খুতবা এর মাধ্যমে শুরু না করা হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
তিনি বলছেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই, তাঁর কাছে হিদায়াত চাই)।
হামদ: এটি হলো প্রশংসিত সত্তার ঐচ্ছিক সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর স্তুতি বর্ণনা করা। এটি 'মাদহ' (সাধারণ প্রশংসা) অপেক্ষা উচ্চতর। কারণ মাদহ হলো কোনো সত্তার গুণাবলি বর্ণনা করা, যা অনেক সময় ঐচ্ছিক নাও হতে পারে। যেমন: আপনি যদি সিংহের প্রশংসা করেন যে এটি শক্তিশালী পেশীবহুল, তবে এগুলো তার গুণ কিন্তু সে নিজের ইচ্ছায় এগুলো অর্জন করেনি। হামদ এর বিপরীত; কারণ এটি প্রশংসিত সত্তার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও মহত্বের সাথে তাঁর ঐচ্ছিক গুণাবলির মাধ্যমে স্তুতি গাওয়ার নাম। সুতরাং হামদ হলো মাদহ অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। অতএব, হামদ হলো: প্রশংসিত সত্তার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও মহত্বের সাথে তাঁর ঐচ্ছিক গুণাবলির মাধ্যমে স্তুতি বর্ণনা করা।
এ কারণেই রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার স্তুতি বর্ণনায় 'হামদ' শব্দ এসেছে: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব} [আল-ফাতিহা: ২]। আল্লাহ তাঁর মহান কিতাব এর মাধ্যমেই শুরু করেছেন। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন} [আল-আনআম: ১]। তিনি আরও বলেছেন: {সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি} [আল-কাহাফ: ১]।
সকল প্রকার প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর প্রাপ্য, তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা একাই এর যোগ্য। কেননা তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে পরিপূর্ণ। তিনি নেয়ামত দানকারী ও অনুগ্রহকারী। সৃষ্টির কাছে যে নেয়ামতই আছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের কাছে যে নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই} [আন-নাহল: ৫৩]।
এ কারণেই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল প্রকার প্রশংসার যোগ্য এবং তিনিই এগুলোর একমাত্র মালিক।
তাঁর উক্তি: (এবং আমরা তাঁর কাছে সাহায্য চাই) অর্থাৎ: আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য কামনা করি। আরবি শব্দে 'সীন' ও 'তা' বর্ণ দুটি কোনো কিছু চাওয়ার অর্থ প্রদান করে। (এবং আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাই) অর্থাৎ: আমরা সকল পাপের জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি; কারণ মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, তাই সে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার মুখাপেক্ষী। 'মাগফিরাত' বা ক্ষমা হলো: পাপ গোপন রাখা, তা মুছে ফেলা, ক্ষমা করে দেওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা।
সুতরাং লেখক বলছেন: আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সকল প্রকার প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর স্তুতি বর্ণনা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন, তা গোপন রাখেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর অকল্যাণ থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
তাঁর উক্তি: (এবং আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) অর্থাৎ: অনিষ্টতা নফস (প্রবৃত্তি) থেকেও আসে এবং নফস ছাড়াও অন্য উৎস থেকে আসে। একইভাবে আমল বা কর্ম বান্দার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, কারণ সেই তা সরাসরি সম্পাদন করে এবং অর্জন করে। আমল যেমন ভালো হয়, তেমনি মন্দও হয়। একারণেই তিনি বলেছেন: আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৮)
معنى الهداية ومعنى الشهادة لله بالوحدانيةوقال: (من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له).
هذا فيه بيان أن الرب سبحانه وتعالى هو الهادي وهو المضل، هو الذي يقذف الهداية في قلب العبد، ويجعله يختار الحق ويرضى به، وهو سبحانه وتعالى مقدر الضلالة على العبد لما له من حكمة بالغة، فهو سبحانه وتعالى يهدي من يشاء فضلاً منه وإحساناً، ويضل من يشاء عدلاً منه وحكمة.
من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ومن هداه الله فلا يستطيع أحد أن يضله، ولو اجتمع الخلق كلهم ما استطاعوا أن يضلوه، ومن أضله الله فلا يستطيع أحد أن يهديه، وإن اجتمع أهل الأرض كلهم أن يضلوه ما استطاعوا.
وفي هذا رد على المعتزلة الذين يقولون: إن العبد هو الذي يهدي نفسه ويضل نفسه، يقولون: إن تسميته مهتدياً يعني: أن وصفه بأنه مهتد معناه أنه سمي مهتدياً أي: فهو من باب التسمية.
من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، هذا مأخوذ من قوله تعالى: {مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا} [الكهف:17].
ثم شهد المؤلف رحمه الله بالوحدانية لله تعالى ولنبيه صلى الله عليه وسلم بالرسالة، فقال: (وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له)،يعني: أقر وأعترف بأنه لا معبود بحق إلا الله.
لا إله إلا الله هي كلمة التوحيد، ومعناها: لا معبود بحق إلا الله، فالمعبود بالحق هو الله، وما عبد سواه فهو معبود بالباطل، والمعبودات كثيرة: عبدت الشمس، والقمر، والنجوم، والكواكب، والبشر، والحجر، والأصنام، والأوثان، والجن، والإنس، والشياطين كلهم عبدوا لكن بالباطل، والعبادة بالحق هي عبادة الله وحده، كما قال سبحانه: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [الحج:62].
هذه كلمة التوحيد وهي أعظم كلمة، فأعظم كلمة وأفضل الكلام بعد كلام الله عز وجل كلمة التوحيد (لا إله إلا الله) وهذه الكلمة العظيمة لأجلها خلق الله الخلق، وأرسل الرسل، وأنزل الكتب، وانقسم الناس إلى شقي وسعيد، ولأجلها خلقت الجنة والنار، وقامت القيامة، وحقت الحاقة، ووقعت الواقعة، وهي حق الله على عباده، من وحد الله وأخلص له العبادة فإنه لا يخلد في النار وهو من أهل الجنة قطعاً، ومن مات على التوحيد فهو من أهل الجنة قطعاً، لكن إن مات على توحيد خالص خال من الشرك والبدع والكبائر دخل الجنة من أول وهلة، فضلاً من الله تعالى وإحساناً، وإن مات على توحيد ملطخ بالمعاصي والكبائر والبدع دون الشرك فهو على خطر من العذاب أن يصيبه في القبر، قد يعذب في قبره، وقد تصيبه أهوال وشدائد في موقف القيامة، وقد يعذب في النار، فهو تحت مشيئة الله، كما قال سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء:48].
وإذا دخل النار فإنه يعذب فيها على قدر جرائمه ومعاصيه، وفي النهاية يخرج منها ولا يخلد، بل يخرج منها إلى الجنة بشفاعة الشافعين أو برحمة أرحم الراحمين، ولا يبقى في النار إلا الكفرة، وإذا تكامل خروج العصاة الموحدين من النار ولم يبق منهم أحد أطبقت النار على الكفرة بجميع أصنافهم: اليهود والنصارى والوثنيين والملاحدة والشيوعيين والمنافقين، والمنافق في الدرك الأسفل منها، فلا يخرج منها أبد الآباد، كما قال سبحانه: {إِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُوصَدَةٌ} [الهمزة:8] يعني: مطبقة مغلقة، {فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ} [الهمزة:9].
وقال سبحانه: {يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ} [المائدة:37]، وقال سبحانه: {كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ} [البقرة:167]، وقال سبحانه: {لابِثِينَ فِيهَا أَحْقَابًا} [النبأ:23] يعني: مدداً متطاولة، كلما انقضى حقب أعقبه حقب إلى ما لا نهاية.
হেদায়েতের অর্থ এবং আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য প্রদানের অর্থএবং তিনি বলেছেন: (আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই)।
এতে এই বর্ণনা রয়েছে যে, প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তিনিই হেদায়েত দানকারী এবং তিনিই বিভ্রান্তকারী। তিনিই বান্দার অন্তরে হেদায়েত ঢেলে দেন এবং তাকে সত্য বেছে নিতে ও তাতে সন্তুষ্ট হতে সাহায্য করেন। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার ওপর বিভ্রান্তি নির্ধারণ করে রেখেছেন তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞার কারণে। সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকে ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ হেদায়েত দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তাঁর ইনসাফ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী বিভ্রান্ত করেন।
আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিয়েছেন তাকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না, যদিও সমস্ত সৃষ্টিজগত একত্রিত হয়ে যায় তবুও তারা তাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হবে না। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন তাকে কেউ হেদায়েত দিতে পারবে না, যদিও পৃথিবীর সকল মানুষ তাকে হেদায়েত দিতে একত্রিত হয় তবুও তারা সক্ষম হবে না।
এর মধ্যে ঐ সকল মুতাজিলাদের মতবাদের খণ্ডন রয়েছে যারা বলে: বান্দা নিজেই নিজেকে হেদায়েত দেয় এবং নিজেই নিজেকে বিভ্রান্ত করে। তারা বলে: তাকে হেদায়েতপ্রাপ্ত বলা মূলত একটি নামকরণ মাত্র, অর্থাৎ তাকে হেদায়েতপ্রাপ্ত হিসেবে বর্ণনা করার অর্থ হলো তাকে হেদায়েতপ্রাপ্ত নামে অভিহিত করা, যা কেবল নামকরণের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই—এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: "আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না" [কাহফ: ১৭]।
অতঃপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর একত্ববাদের এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করে বলেছেন: (এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই), অর্থাৎ: আমি স্বীকারোক্তি ও ঘোষণা দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই।
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হলো তাওহীদের বাণী, আর এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। সুতরাং সত্য উপাস্য কেবল আল্লাহই, আর তিনি ছাড়া যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা বাতিল উপাস্য। উপাস্য তো অনেক আছে: সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, গ্রহ, মানুষ, পাথর, মূর্তি, প্রতিমা, জিন, ইনসান ও শয়তান—সবারই ইবাদত করা হয়েছে, কিন্তু তা বাতিলভাবে। আর সত্য ইবাদত হলো কেবল আল্লাহর ইবাদত, যেমনটি তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "এটা একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল; আর আল্লাহই সমুচ্চ, মহান" [হজ: ৬২]।
এটিই তাওহীদের বাণী এবং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী। মহান আল্লাহর বাণীর পর সর্বোত্তম বাণী হলো তাওহীদের বাণী (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)। এই মহান বাণীর জন্যই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, রাসূলদের পাঠিয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং মানুষ হতভাগ্য ও সৌভাগ্যবান—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এরই জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে, অবধারিত সত্য উপস্থিত হবে এবং মহাসংঘটক সংঘটিত হবে। এটিই বান্দার ওপর আল্লাহর হক। যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করবে এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করবে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না এবং সে নিশ্চিতভাবে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে নিশ্চিতভাবে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে যদি সে শিরক, বিদআত ও কবীরা গুনাহমুক্ত বিশুদ্ধ তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রথমবারেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যদি সে শিরক ছাড়া অন্যান্য গুনাহ, কবীরা গুনাহ ও বিদআতে কলঙ্কিত তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে সে আযাবের আশঙ্কার মধ্যে থাকবে যা কবরে তাকে স্পর্শ করতে পারে; হতে পারে কবরে তাকে আযাব দেওয়া হবে, আবার কিয়ামতের ময়দানে সে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে পারে, এমনকি তাকে জাহান্নামেও আযাব দেওয়া হতে পারে। সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে, যেমনটি তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না, আর এর নিচে যা আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [নিসা: ৪৮]।
আর সে যদি জাহান্নামে প্রবেশ করে, তবে তাকে তার অপরাধ ও গুনাহের পরিমাণ অনুযায়ী আযাব দেওয়া হবে। পরিশেষে সে সেখান থেকে বের হবে এবং সেখানে চিরকাল থাকবে না, বরং সুপারিশকারীদের সুপারিশে অথবা পরম দয়ালু আল্লাহর রহমতে সে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে বেরিয়ে আসবে। জাহান্নামে কেবল কাফিররাই অবশিষ্ট থাকবে। যখন তাওহীদবাদী পাপাচারীদের জাহান্নাম থেকে বের হওয়া সম্পন্ন হবে এবং তাদের কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না, তখন সকল প্রকার কাফিরদের ওপর জাহান্নাম বন্ধ করে দেওয়া হবে: ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক, নাস্তিক, সাম্যবাদী এবং মুনাফিক। আর মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে; তারা সেখান থেকে অনন্তকাল বের হতে পারবে না। যেমনটি তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "নিশ্চয়ই তা তাদের ওপর চারদিক থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে" [হুমাযাহ: ৮], অর্থাৎ আবদ্ধ ও রুদ্ধ করে দেওয়া হবে, "দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে" [হুমাযাহ: ৯]।
তিনি সুবহানাহু আরও বলেছেন: "তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব" [মায়িদাহ: ৩৭]। তিনি সুবহানাহু আরও বলেছেন: "এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন তাদের জন্য আক্ষেপ হিসেবে, আর তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না" [বাকারা: ১৬৭]। তিনি সুবহানাহু আরও বলেছেন: "তারা সেখানে যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে" [নাবা: ২৩], অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত; যখনই এক যুগ শেষ হবে তখনই অন্য যুগ শুরু হবে এবং এর কোনো শেষ নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৯)
معنى شهادة أن محمداً رسول اللهوالشهادة لله تعالى بالوحدانية لا تصح إلا بالشهادة لنبيه بالرسالة عليه الصلاة والسلام، ولهذا قال المؤلف: (وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله)، وأشهد أن محمد بن عبد الله بن عبد المطلب الهاشمي القرشي العربي المكي ثم المدني هو عبد الله ورسوله، وأنه خاتم النبيين، وأنه رسول الله حقاً، وأنه رسول الله إلى العرب والعجم من الجن والإنس إلى الثقلين، وأنه لا نبي بعده، فمن اعتقد أن رسالة محمد صلى الله عليه وسلم خاصة للعرب أو اعتقد أن بعده نبياً فهو كافر بإجماع المسلمين، قال الله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان:1]، وقال سبحانه: {وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا} [النساء:79]، وقال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} [سبأ:28]، وقال عليه الصلاة والسلام: (والذي نفسي بيده لا يسمع بي من هذه الأمة يهودي ولا نصراني ثم لا يؤمن بي إلا دخل النار)، وقال عليه الصلاة والسلام: (وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس كافة).
فرسالة النبي صلى الله عليه وسلم عامة للثقلين الجن والإنس، العرب والعجم، وهو خاتم النبيين فلا نبي بعده، قال سبحانه: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب:40].
فلا تصح إحدى الشهادتين إلا بالأخرى، فمن شهد لله تعالى بالوحدانية ولم يشهد لنبيه بالرسالة لم تقبل، ومن شهد لمحمد صلى الله عليه وسلم بالرسالة ولم يشهد لله بالوحدانية لم تقبل، فلا بد من الشهادتين، وإذا أطلقت إحداهما دخلت فيها الأخرى.
‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থমহান আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য প্রদান করা ততক্ষণ পর্যন্ত শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না তাঁর নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়। এই কারণেই লেখক বলেছেন: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল)। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আব্দুল্লাহর পুত্র, আব্দুল মুত্তালিবের পৌত্র, হাশেমী কুরাইশ বংশীয় আরবদেশীয় মক্কী অতঃপর মাদানী মুহাম্মাদ হলেন আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি সর্বশেষ নবী এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসূল। তিনি জ্বিন ও মানবজাতি তথা উভয় গুরুভার সৃষ্টির আরব ও অনারবদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত কেবল আরবদের জন্য সীমাবদ্ধ, অথবা বিশ্বাস করবে যে তাঁর পরে কোনো নবী আছে, সে মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাফির। মহান আল্লাহ বলেন: {কতই না বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।} [সূরা আল-ফুরকান: ১], তিনি আরও বলেন: {আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} [সূরা আন-নিসা: ৭৯], তিনি আরও বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।} [সূরা সাবা: ২৮]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এই উম্মতের কোনো ইয়াহূদী বা খ্রিষ্টান যদি আমার ব্যাপারে শোনে এবং অতঃপর আমার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: (পূর্বেকার প্রত্যেক নবীকে কেবল তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট পাঠানো হয়েছে)।
অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত জ্বিন ও মানবজাতি তথা আরব ও অনারব সবার জন্য সার্বজনীন। তিনি হলেন সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।} [সূরা আল-আহযাব: ৪০]।
সাক্ষ্যদ্বয়ের একটি অন্যটি ছাড়া শুদ্ধ হবে না। অতএব, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দিল কিন্তু তাঁর নবীর রিসালাতের সাক্ষ্য দিল না, তার পক্ষ থেকে তা কবুল করা হবে না। আবার যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য দিল কিন্তু আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দিল না, তাও কবুল করা হবে না। সুতরাং উভয় সাক্ষ্য প্রদান করা অপরিহার্য। আর যখনই একটির কথা সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন অন্যটিও তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১০)
معنى الصلاة على النبي وأصحابه وآلهثم قال المؤلف رحمه الله: (صلى الله عليه)، هذا سؤال ودعاء الرب سبحانه وتعالى بأن يصلي على نبيه، وصلاة الله على العبد أصح ما قيل فيها: ما رواه البخاري في صحيحه عن أبي العالية التابعي الجليل أنه قال: صلاة الله على عبده ثناؤه عليه في الملأ الأعلى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} [الأحزاب:56] يعني: يثنون عليه، والصلاة من الآدمي ومن الملائكة دعاء.
(وعلى آله وأصحابه)، الأصحاب: جمع صاحب، والصحابي أصح ما قيل في تعريفه: هو من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً ولو لحظة ومات على الإيمان، ولا يشترط أن يراه، فيدخل في ذلك العميان مثل عبد الله بن أم مكتوم الأعمى فإنه صحابي ولم ير النبي صلى الله عليه وسلم، لكن لقيه، ويدخل في ذلك الأعراب الذين لقوا النبي صلى الله عليه وسلم، فمن لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً ومات على الإيمان فهو صحابي، أما الأعراب الذين ارتدوا والعياذ بالله على أعقابهم وماتوا على الكفر فليسوا من الصحابة.
وآل النبي صلى الله عليه وسلم قيل المراد بآله: ذريته وأقاربه، ويدخل في ذلك زوجاته، ويدخل في ذلك علي وفاطمة والحسن والحسين والعباس عم النبي صلى الله عليه وسلم وحمزة، وأزواجه كذلك.
وقيل: المراد بالآل: أتباعه على دينه إلى يوم القيامة.
وعطف الآل على الأصحاب من عطف العام على الخاص، وعطف الأصحاب على الآل من عطف الخاص على العام، فقوله: (على آله وأصحابه)، أصحابه داخلون في الآل؛ لأنهم من أتباع دينه، وإذا قيل: وعلى أصحابه وآله، يكون الأصحاب قد ذكروا مرتين: مرة بالخصوص ومرة بالعموم.
وقال: (أرسله بين يدي الساعة بشيراً ونذيراً).
هذا وصفه عليه الصلاة والسلام: أرسله الله بشيراً ونذيراً بين يدي الساعة يعني أنه نبي الساعة، وسمي نبي الساعة؛ لأنه عليه الصلاة والسلام هو آخر الأنبياء، والساعة تقوم في آخر أمته؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم (بعثت أنا والساعة كهاتين، وقرن بين أصبعه السبابة والوسطى)، وهو بشير لمن أطاعه بالجنة والكرامة، ونذير لمن عصاه بالنار وغضب الله وعقوبته.
قال: [{وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب:46]].
{وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ} [الأحزاب:46] حيث أمره الله بذلك، بإذنه وكونه القدري وإذنه الديني الشرعي، وأتباعه عليه الصلاة والسلام كذلك يدعون إلى الله بإذنه.
ووصف بالسراج المنير لأنه عليه الصلاة والسلام هو المبلغ عن الله، وهو المبين لطريق الجنة وطريق النار، فهو السراج يضيء لمن أراد الله هدايته، فمن أراد الله هدايته فإنه يعرف طريق الجنة وطريق النار، فيوحد الله ويخلص له العبادة، ويعمل الأعمال التي ترضي الله؛ لأن الرسول عليه الصلاة والسلام سراج منير أنار الطريق، حيث دعا إلى الله وإلى توحيده، وبين الواجبات والمحرمات في كتاب الله الذي أنزله عليه وفي سنته المطهرة، فهو السراج المنير.
قال: (ففتح به أعيناً عمياً وآذاناً صماً وقلوباً غلفاً).
وفتح الله به أعيناً عمياً وهي أعين الكفار الذين عموا عن الحق، ومن أراد الله هدايته فتح عينه للحق، وفتح به آذاناً صماً وهي آذان الكفار الذين صموا عن سماع الحق، لكن من أراد الله هدايته فتح الله أذنه وسمع الحق.
وفتح به قلوباً غلفاً عليها غلاف وهي قلوب الكفرة، كما قال الله سبحانه أنهم قالوا: {وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ} [البقرة:88] يعني: عليها غلاف، لكن من أراد الله هدايته فتح الله له وأزال الله هذا الغلاف، فنفذ إليه الحق فآمن وأسلم واستقام.
قال: (تبصر به من العمى وأرشد به من الغي).
والعمى: هو الكفر والمعاصي، والغي: الضلال والانحراف، أي: أرشد بدعوته عليه الصلاة والسلام، وبالكتاب الذي أنزله الله عليه وهو القرآن العظيم والسنة، فهو إرشاد يبين للإنسان الطريق المستقيم حتى لا يسلك طريق الغي.
قال: (وأنقذ به من الضلالة).
أنقذ الله به من الضلالة ومن الكفر، والضلالة: هي الكفر والمعاصي والبدع.
قال: (صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليماً كثيراً).
كما سبق، وصلى الله عليه وعلى آله، ولم يذكر أصحابه، وإذا عطف الصحابة على الآل صار من عطف الخاص على العام.
(وسلم تسليماً كثيراً)، هذا: دعاء للنبي بالسلامة، مثل: اللهم سلمه.
قوله: (أما بعد).
هذه كلمة يؤتى بها للانتقال من شيء إلى شيء، واختلف في أول من قالها، قيل: أول من قالها داود النبي عليه الصلاة والسلام، وقيل: هي فصل الخطاب، وقيل: أول من قالها قس بن ساعدة الإيادي، وقيل غير ذلك، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: (أما بعد، فإن أحسن الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وهي أولى من قوله: (وبعد).
فمن الناس من يقول: وبعد، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: أما بعد في خطبته، وكذلك العلماء وغيرهم يقولون: أما بعد، وهو انتقال من الخطبة إلى الدخول في الموضوع والصلب.
নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাথীবর্গের ওপর সালাত পাঠের অর্থতারপর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন: (সাল্লাল্লাহু আলাইহি), এটি মহিমান্বিত প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে তাঁর নবীর ওপর রহমত বর্ষণের জন্য একটি আবেদন ও দুয়া। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার ওপর সালাত বা রহমত বর্ষণের বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কথা হলো যা ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে মহান তাবেঈ আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার ওপর সালাত হলো ‘মালাউল আলা’ বা ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতাদের সমাবেশে তাঁর প্রশংসা করা: {নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠ করেন} [আহযাব: ৫৬] অর্থাৎ: তাঁরা তাঁর প্রশংসা করেন। আর মানুষ ও ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত পাঠ করার অর্থ হলো দুয়া করা।
(এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীবর্গের ওপর), ‘আসহাব’ হলো ‘সাহিব’-এর বহুবচন। সাহাবীর সংজ্ঞায় সবচেয়ে বিশুদ্ধ কথা হলো: যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, এমনকি তা যদি এক মুহূর্তের জন্যও হয়, এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁকে স্বচক্ষে দেখা শর্ত নয়, ফলে এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন যেমন অন্ধ আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুূম; কেননা তিনি সাহাবী অথচ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি, কিন্তু তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এর মধ্যে সেই সকল মরুবাসী আরবরাও অন্তর্ভুক্ত যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনিই সাহাবী। তবে ঐ সকল মরুবাসী আরব যারা ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয়েছে—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই—এবং কুফরীর ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, তারা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘আল’ (পরিবার) বলতে তাঁর বংশধর ও নিকটাত্মীয়দের বোঝানো হয়েছে বলে মত রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর সহধর্মিনীগণ, আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন এবং নবীর চাচা আব্বাস ও হামযা অন্তর্ভুক্ত। তাঁর স্ত্রীগণও তেমনিভাবে অন্তর্ভুক্ত।
আবার বলা হয়েছে: ‘আল’ বলতে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দীনের অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে।
‘আল’-এর পর ‘আসহাব’-এর উল্লেখ করা হলো সাধারণের পর বিশেষের উল্লেখ করা, আর ‘আসহাব’-এর পর ‘আল’-এর উল্লেখ করা হলো বিশেষের পর সাধারণের উল্লেখ করা। সুতরাং তাঁর কথা: (তাঁর পরিবার ও সাথীবর্গের ওপর), এখানে সাথীবর্গ পরিবারের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত; কারণ তারা তাঁর দীনের অনুসারী। আর যখন বলা হয়: ‘তাঁর সাথীবর্গ ও পরিবারের ওপর’, তখন সাথীবর্গের কথা দুইবার উল্লেখ করা হয়: একবার বিশেষভাবে এবং একবার সাধারণভাবে।
তিনি বললেন: (কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছেন)।
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি: আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। এর অর্থ হলো তিনি কিয়ামতের নবী। তাঁকে কিয়ামতের নবী বলা হয় কারণ তিনি হলেন শেষ নবী এবং তাঁর উম্মতের শেষ সময়ে কিয়ামত সংঘটিত হবে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির মতো প্রেরিত হয়েছি, এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলকে পাশাপাশি রেখেছেন)। তিনি জান্নাত ও সম্মান লাভের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যকারীদের জন্য সুসংবাদদাতা, এবং জাহান্নাম ও আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির মাধ্যমে তাঁর অবাধ্যদের জন্য সতর্ককারী।
তিনি বললেন: [{আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আহযাব: ৪৬]]।
{আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী} যেহেতু আল্লাহ তাঁকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন; তাঁর তাকদীরী এবং তাঁর শরয়ী অনুমতিক্রমে। তাঁর অনুসারীরাও ঠিক একইভাবে তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন।
তাঁকে ‘উজ্জ্বল প্রদীপ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেন এবং তিনি জান্নাতের পথ ও জাহান্নামের পথ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী। সুতরাং তিনি একটি প্রদীপ স্বরূপ যা আল্লাহর হেদায়েতপ্রত্যাশীদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলে ওঠে। যাকে আল্লাহ হেদায়েত করতে চান সে জান্নাত ও জাহান্নামের পথ চিনে নেয়, ফলে সে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিদায়ক কাজগুলো করে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন এক উজ্জ্বল প্রদীপ যিনি পথকে আলোকিত করেছেন; যেখানে তিনি আল্লাহর দিকে ও তাঁর তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন এবং আল্লাহর কিতাব যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁর পবিত্র সুন্নাহর মধ্যে ওয়াজিব ও হারাম বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং তিনিই হলেন উজ্জ্বল প্রদীপ।
তিনি বললেন: (যার মাধ্যমে তিনি অন্ধ চক্ষু, বধির কর্ণ এবং মোহরবদ্ধ হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করেছেন)।
এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চক্ষুসমূহ উন্মুক্ত করেছেন, যা হলো সেই সকল কাফেরদের চোখ যারা সত্য থেকে অন্ধ ছিল। যাকে আল্লাহ হেদায়েত করতে চেয়েছেন তাঁর চোখ তিনি সত্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি বধির কানগুলো খুলে দিয়েছেন যা হলো কাফেরদের কান যারা সত্য শ্রবণ করা থেকে বধির ছিল। কিন্তু আল্লাহ যার হেদায়েত চেয়েছেন, তার কান তিনি খুলে দিয়েছেন এবং সে সত্য শ্রবণ করেছে।
আর এর মাধ্যমে তিনি মোহরবদ্ধ হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করেছেন যেগুলোর ওপর আবরণ ছিল, আর সেগুলো হলো কাফেরদের অন্তর। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন যে তারা বলেছিল: {তারা বলল আমাদের অন্তরসমূহ মোহরবদ্ধ} [বাকারা: ৮৮] অর্থাৎ: এর ওপর আবরণ রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ যার হেদায়েত চেয়েছেন, তার জন্য তিনি তা উন্মুক্ত করেছেন এবং এই আবরণ সরিয়ে দিয়েছেন। ফলে তার মধ্যে সত্য প্রবেশ করেছে এবং সে ঈমান এনেছে, ইসলাম কবুল করেছে ও অবিচল হয়েছে।
তিনি বললেন: (যার মাধ্যমে তিনি অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন)।
অন্ধত্ব হলো কুফরী ও পাপাচার। আর ভ্রষ্টতা হলো পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি। অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত এবং তাঁর ওপর আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব মহাগ্রন্থ কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এটি এমন একটি দিকনির্দেশনা যা মানুষের জন্য সরল পথ স্পষ্ট করে দেয় যাতে সে ভ্রষ্টতার পথে না চলে।
তিনি বললেন: (এবং এর মাধ্যমে তিনি পথভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধার করেছেন)।
আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা ও কুফরী থেকে রক্ষা করেছেন। আর পথভ্রষ্টতা হলো কুফরী, পাপাচার এবং বিদআতসমূহ।
তিনি বললেন: (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন)।
যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত বর্ষণ করুন। এখানে তিনি তাঁর সাথীবর্গের কথা উল্লেখ করেননি। আর যখন পরিবারের ওপর সাথীবর্গের উল্লেখ যুক্ত করা হয়, তখন তা সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন হিসেবে গণ্য হয়।
(এবং অজস্র সালাম বর্ষণ করুন), এটি নবীর জন্য নিরাপত্তার দুয়া, যেমন: হে আল্লাহ, আপনি তাঁকে শান্তিতে রাখুন।
তাঁর কথা: (অতঃপর)।
এটি এমন একটি শব্দ যা এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গমনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সর্বপ্রথম কে বলেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: সর্বপ্রথম এটি নবী দাউদ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন। আবার বলা হয়েছে: এটিই হলো ‘ফাসলুল খিতাব’। কেউ কেউ বলেছেন: এটি প্রথম বলেছিলেন কুস বিন সায়েদা আল-ইয়াদী। এছাড়া আরও মতামত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: (অতঃপর, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত)। আর এটি ‘ওয়া বাদু’ বলার চেয়ে অধিক উত্তম। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ‘ওয়া বাদু’ বলে থাকেন, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় ‘আম্মা বাদু’ বলতেন। একইভাবে উলামায়ে কেরাম এবং অন্যান্যরাও ‘আম্মা বাদু’ বলেন। এটি খুতবা থেকে মূল বিষয়ে বা আলোচনার গভীরে প্রবেশের একটি রূপান্তর।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১১)
سؤال جبريل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان وجوابه عن ذلكقال المؤلف رحمه الله تعالى: [فقال الشيخ العالم العامل الورع الناسك شيخ الإسلام، بقية السلف الكرام أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام الشامي رحمه الله تعالى].
فهو عالم وإمام ومجتهد وورع وزاهد، وكنيته أبو العباس ولقبه: شيخ الإسلام.
ويقال له: ابن تيمية الحران ي؛ لأنه ولد في بلد حران، ويقال: الشامي؛ لأنه نشأ في بلاد الشام، وكان في الشام في ذلك الوقت، وكذلك العراق كانت هي محط رحال العلماء، وكان العلماء متوافرين في ذلك الزمان والعلم منتشراً هناك.
قال: [فصل: يتضمن الحديث سؤال النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان وجوابه صلى الله عليه وسلم عن ذلك.
وقوله في آخر الحديث: (هذا جبريل جاءكم يعلمكم دينكم)، فجعل هذا كله من الدين.
وللناس في الإسلام والإيمان من الكلام الكثير: مختلفين تارة ومتفقين أخرى، ما يحتاج الناس معه إلى معرفة الحق في ذلك، وهذا يكون بأن نبين الأصول المعلومة المتفق عليها، ثم بذلك يتوصل إلى معرفة الحقيقة المتنازع فيها].
জিবরীল কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা এবং সে বিষয়ে তাঁর উত্তরলেখক (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: [আলেম, আমলকারী, পরহেজগার, ইবাদতকারী, শায়খুল ইসলাম, সম্মানিত পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুল সালাম আশ-শামী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন]।
তিনি একজন আলেম, ইমাম, মুজতাহিদ, পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ; তাঁর উপনাম আবুল আব্বাস এবং তাঁর উপাধি: শায়খুল ইসলাম।
তাঁকে ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী বলা হয়; কারণ তিনি হাররান শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁকে আশ-শামী বলা হয়; কারণ তিনি শাম দেশে বেড়ে উঠেছিলেন। সে সময় শাম ও ইরাক ছিল আলেমদের মিলনস্থল, ওই যুগে সেখানে প্রচুর আলেম বিদ্যমান ছিলেন এবং জ্ঞান সেখানে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল।
তিনি বলেছেন: [পরিচ্ছেদ: হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা এবং সে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরকে অন্তর্ভুক্ত করে।
হাদিসের শেষাংশে তাঁর বাণী: (ইনি জিবরীল, তিনি তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন), সুতরাং তিনি এর সবটুকুকেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে প্রচুর আলোচনা রয়েছে: তারা কখনো ভিন্নমত পোষণ করেছেন আবার কখনো একমত হয়েছেন, যাতে এ বিষয়ে মানুষের সত্য জানার প্রয়োজন দেখা দেয়। এটি এভাবে সম্ভব যে, আমরা প্রথমে সুপরিচিত ও সর্বসম্মত মূলনীতিগুলো বর্ণনা করব, অতঃপর এর মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয়গুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে]।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১২)
تخريج حديث جبريلالمؤلف رحمه الله بدأ بالفصل هنا، فقال: (فصل تضمن حديث سؤال النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان وجوابه عن ذلك).
وقوله: (فجعل هذا كله من الدين)، يعني: حديث جبريل وهو الحديث المشهور الطويل الذي رواه الإمام مسلم رحمه الله من حديث أبي هريرة ومن حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ويسمى بحديث جبرائيل، ويسمى بحديث عمر رضي الله عنه.
وقد أخرجه الإمام مسلم رحمه الله مطولاً في كتاب الإيمان، وأخرجه أبو داود في كتاب السنة، والترمذي في كتاب الإيمان، والنسائي في كتاب الإيمان والشرائع، وابن ماجة في المقدمة، وأخرجه الإمام أحمد، والبغوي في شرح السنة، وابن حبان وغيرهم.
وأخرجه الإمام أحمد مختصراً ومطولاً، وابن أبي شيبة عن ابن عمر، وروي الحديث من طريق أبي هريرة.
وأخرجه البخاري مختصراً في كتاب الإيمان، ومسلم أيضاً في الإيمان والشرائع، فهذا الحديث وهو حديث جبرائيل رواه الإمام مسلم مطولاً من حديث عمر رضي الله عنه، ورواه البخاري مختصراً، ورواه البخاري ومسلم من حديث أبي هريرة مختصراً.
জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীসের তাখরীজলেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এখানে পরিচ্ছেদটি শুরু করেছেন এবং বলেছেন: (পরিচ্ছেদ: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা এবং এর উত্তর সম্বলিত হাদীস)।
এবং তাঁর কথা: (তিনি এর সবকিছুকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন), অর্থাৎ: হাদীসে জিবরীল; আর এটি সেই প্রসিদ্ধ দীর্ঘ হাদীস যা ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) আবু হুরায়রা ও উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। একে হাদীসে জিবরাঈল বলা হয় এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসও বলা হয়।
ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এটি ‘কিতাবুল ঈমান’-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন; এছাড়াও আবু দাউদ ‘কিতাবুস সুন্নাহ’-তে, তিরমিযী ‘কিতাবুল ঈমান’-এ, নাসাঈ ‘কিতাবুল ঈমান ওয়াশ শারায়ে’-তে, ইবনে মাজাহ ‘মুকাদ্দিমা’-তে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইমাম আহমাদ, বাগাভী ‘শারহুস সুন্নাহ’-তে, ইবনে হিব্বান এবং আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ এটি সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয়ভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবী শায়বাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাদীসটি আবু হুরায়রার সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
বুখারী ‘কিতাবুল ঈমান’-এ এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিমও ‘ঈমান ও শারায়ে’-তে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই হাদীসটি, যা হাদীসে জিবরাঈল নামে পরিচিত, ইমাম মুসলিম উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, বুখারী এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং বুখারী ও মুসলিম উভয়েই আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رؤساء الملائكةوهذا الحديث حديث عظيم، وفيه أن جبرائيل جاء للنبي صلى الله عليه وسلم في صورة رجل أعرابي ورآه الصحابة، فدل على أن الملك ملك الوحي، وهو أشرف الملائكة وأصل الملائكة، وأفضل الملائكة ورؤساء الملائكة ثلاثة: جبريل وميكائيل وإسرافيل، وهؤلاء الثلاثة هم رؤساء الملائكة، وذلك أن كل واحد من هؤلاء الثلاثة موكل بما فيه الحياة، فجبريل موكل بالوحي الذي به حياة القلوب والأرواح، وميكائيل موكل بالقطر والمطر والماء الذي فيه حياة الحيوانات والنباتات، وإسرافيل موكل بالنفخ في الصور الذي فيه استعادة الأرواح إلى أجسادها بعد الموت، فكل واحد من هؤلاء الثلاثة موكل بما فيه الحياة، فهم رؤساء الملائكة وأصل الملائكة؛ ولهذا توسل النبي صلى الله عليه وسلم في دعاء الاستفتاح المذكور في صلاة الليل بربوبية الله لهؤلاء الأملاك الثلاثة، كما ثبت في صحيح مسلم من حديث عائشة رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا قام من الليل للصلاة استفتح بهذا الاستفتاح: (اللهم رب جبرائيل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم).
هذا دعاء استفتاح كان النبي صلى الله عليه وسلم يستفتح به في صلاة الليل، وفيه: أن النبي صلى الله عليه وسلم توسل إلى الله بربوبيته لهؤلاء الأملاك الثلاثة الذين وكلوا بما فيه الحياة، ويقال: جبرائيل وجبريل، وميكائيل وميكال.
فجبريل جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم في صورة أعرابي، وسأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام، ثم سأله عن الإيمان، ثم سأله عن الإحسان، وجاء أن سبب مجيء جبرائيل: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: سلوني سلوني، فهابوا، فأرسل الله جبرائيل وجاء فسأل النبي صلى الله عليه وسلم.
فدل هذا على أن الملك يتشكل ويتصور، وأعطاه الله القدرة على ذلك، فجاء جبريل على صورة أعرابي هنا، ورآه الصحابة، وكثيراً ما يأتي في صورة دحية الكلبي وكان رجلاً جميلاً، وأما صورته التي خلقه الله عليها فله ستمائة جناح، كل جناح يملأ ما بين السماء والأرض، ورآه النبي صلى الله عليه وسلم على هذه الصورة مرتين: مرة في الأرض عند البعثة عند غار حراء، فقد رأى ملكاً قاعداً بين السماء والأرض قد سد الأفق، فرعب منه رعباًَ شديداً، فغطه وقال له: اقرأ يا محمد، قال: ما أنا بقارئ، يعني: لست قارئاً، قال: اقرأ، ثلاث مرات، ويذكر في كل مرة أنه يغطه حتى يبلغ منه الجهد، وهذه تهيئة لتحمل الرسالة وأعبائها، فذهب إلى زوجه خديجة وقال: خفت أن يختلج عقلي، قالت: كلا والله لا يخزيك الله أبداً، إنك لتصل الرحم وتحمل الكل وتقري الضيف وتكسب المعدوم وتعين على نوائب الحق.
ورآه مرة ثانية على هذه الصورة ليلة المعراج، حينما جاوز السبع الطباق، ورآه مرات كثيرة بطرق متعددة، وهذه المرة جاء في صورة أعرابي.
প্রধান ফেরেশতাগণএই হাদিসটি একটি মহান হাদিস। এতে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম একজন মরুবাসী ব্যক্তির বেশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁকে দেখেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই ফেরেশতা হলেন ওহীর ফেরেশতা, তিনি ফেরেশতাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান এবং মূল। ফেরেশতাদের প্রধান হলেন তিনজন: জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফীল। এই তিনজনই হলেন ফেরেশতাদের প্রধান; কারণ তাঁদের প্রত্যেকেই এমন সব বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত যাতে জীবন নিহিত রয়েছে। জিবরাঈল ওহীর দায়িত্বে নিয়োজিত যার মাধ্যমে অন্তর ও আত্মার জীবন লাভ হয়। মিকাঈল মেঘ ও বৃষ্টির দায়িত্বে নিয়োজিত যাতে প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন নিহিত। আর ইসরাফীল সূরে (শিঙায়) ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত যার মাধ্যমে মৃত্যুর পর দেহগুলোতে আত্মার পুনরাগমন ঘটবে। সুতরাং তাঁদের প্রত্যেকেই জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁরাই হলেন ফেরেশতাদের প্রধান ও মূল। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সালাতে পঠিত প্রারম্ভিক দোয়ায় (দুআউল ইস্তিফতাহ) এই তিন ফেরেশতার ওপর আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের মাধ্যমে ওয়াসিলা গ্রহণ করেছেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে সালাতের জন্য দাঁড়াতেন, তখন এই দোয়া দিয়ে শুরু করতেন: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন সে বিষয়ে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল। আপনার অনুমতিক্রমে সত্যের ব্যাপারে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাকে সঠিক পথ দেখান। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।"
এটি একটি প্রারম্ভিক দোয়া যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সালাতে পাঠ করতেন। এতে দেখা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের দায়িত্বে নিয়োজিত এই তিন ফেরেশতার প্রতি আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ওয়াসিলা করেছেন। জিবরাঈল ও জিবরীল এবং মিকাঈল ও মিকাল—উভয় ভাবেই উচ্চারণ করা হয়ে থাকে।
জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে একজন মরুবাসী লোকের বেশে এসেছিলেন এবং তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এরপর ঈমান সম্পর্কে এবং তারপর ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। জিবরাঈলের আগমনের কারণ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা বলেছিলেন: "তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করো, আমাকে জিজ্ঞাসা করো"। তখন সাহাবীগণ ভীতি অনুভব করছিলেন। তাই আল্লাহ জিবরাঈলকে পাঠালেন এবং তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করলেন।
এটি প্রমাণ করে যে, ফেরেশতা বিভিন্ন আকৃতি ও রূপ ধারণ করতে পারেন এবং আল্লাহ তাঁকে সেই ক্ষমতা দান করেছেন। জিবরাঈল এখানে একজন মরুবাসীর বেশে এসেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁকে দেখেছিলেন। তিনি প্রায়ই দিহয়া আল-কালবীর রূপে আসতেন, যিনি একজন অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন। আর আল্লাহ তাঁকে যে আদি রূপে সৃষ্টি করেছেন, তাতে তাঁর ছয়শত ডানা রয়েছে। তাঁর প্রতিটি ডানা আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী আকাশসীমা পূর্ণ করে ফেলে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে এই রূপে দুইবার দেখেছেন: একবার পৃথিবীতে নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় হেরা গুহার নিকট; তিনি আসমান ও যমীনের মাঝখানে একজন ফেরেশতাকে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছিলেন যিনি দিগন্তকে ঢেকে ফেলেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতে অত্যন্ত ভীত হয়েছিলেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে সজোরে আলিঙ্গন করলেন এবং বললেন: 'হে মুহাম্মদ! পড়ুন'। তিনি বললেন: 'আমি তো পাঠ করতে জানি না', অর্থাৎ আমি শিক্ষিত নই। তিনি তিনবার বললেন: 'পড়ুন'। উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবারই তিনি তাঁকে সজোরে আলিঙ্গন করছিলেন যতক্ষণ না তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। এটি ছিল রিসালাতের দায়িত্ব ও বোঝা বহনের জন্য একটি প্রস্তুতি। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রী খাদীজার কাছে গেলেন এবং বললেন: 'আমি আমার প্রাণের আশঙ্কা করছি'। তিনি বললেন: 'কখনোই নয়, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; কেননা আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন এবং সত্যের পথে বিপদে সাহায্য করেন'।
তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার এই রূপে মেরাজের রাতে দেখেছিলেন, যখন তিনি সপ্তম আকাশ অতিক্রম করেছিলেন। এছাড়াও তিনি তাঁকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনেকবার দেখেছেন, তবে এইবার তিনি মরুবাসীর বেশে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سؤال جبريل عن الإسلامقال: (وأسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟) هذا السؤال الأول، فأخبره النبي صلى الله عليه وسلم بالحديث، وكتاب الإيمان الكبير وكتاب الإيمان الصغير يدور على شرح هذا الحديث من أوله إلى آخره.
(جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟ فقال عليه الصلاة والسلام: الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقامة الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان)، أو (أن تقيم الصلاة وأن تؤتي الزكاة وأن تصوم رمضان وأن تحج البيت).
ففسر الإسلام بالأركان الخمسة، الركن الأول: الشهادة لله تعالى بالوحدانية ولنبيه صلى الله عليه وسلم بالرسالة، والثاني: إقام الصلاة، والثالث: إيتاء الزكاة، والرابع: صوم رمضان، والخامس: حج بيت الله الحرام.
ইসলাম সম্পর্কে জিবরীলের প্রশ্নতিনি বললেন: (এবং তিনি তাঁর হাঁটু তাঁর হাঁটুর সাথে ঠেকালেন এবং তাঁর দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন?) এটি প্রথম প্রশ্ন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাদীসটি বর্ণনা করলেন। আর কিতাবুল ঈমান আল-কাবীর এবং কিতাবুল ঈমান আস-সাগীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে।
(তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং তাঁর হাঁটু তাঁর হাঁটুর সাথে ঠেকালেন এবং তাঁর দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন? তখন আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন: ইসলাম হলো আপনি এই সাক্ষ্য দেবেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা), অথবা (আপনি সালাত কায়েম করবেন, যাকাত প্রদান করবেন, রমজানের সিয়াম পালন করবেন এবং বায়তুল্লাহর হজ করবেন)।
অতঃপর তিনি ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলেন। প্রথম স্তম্ভ: আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা। দ্বিতীয়: সালাত কায়েম করা। তৃতীয়: যাকাত প্রদান করা। চতুর্থ: রমজানের সিয়াম পালন করা এবং পঞ্চম: আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سؤال جبريل عن الإيمان والإحسانقال: (قال: صدقت، قال: فعجبنا له يسأله ويصدقه) هذا سؤال العارف، والعادة أن الذي يسأل لا يعلم، وهذا يسأل ويصدق، فالسؤال سؤال العارف فتعجب الصحابة، (قال: فعجبنا له يسأله ويصدقه) وهو إنما سأل ليعلم الناس دينهم، كما بين النبي صلى الله عليه وسلم في آخر الحديث.
(فقال: يا محمد أخبرني عن الإيمان؟ فقال: الإيمان أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره).
فسر الإيمان بالأصول الباطنة، أي: بالأركان الباطنة الستة، فالإسلام فسر بأعمال ظاهرة: نطق بالشهادتين، الصلاة، والزكاة، والصوم، والحج، والإيمان فسر بالأركان الباطنة قال: (أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره، قال: صدقت، فعجبنا له يسأله ويصدقه، قال: فأخبرني عن الإحسان؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: الإحسان: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك)، جعل الإحسان له مرتبتان: المرتبة الأولى: أن تعبد الله كأنك تراه، أي: تعبد الله على المشاهدة.
المرتبة الثانية: فإن لم تكن تراه فإنه يراك.
فإن ضعفت عن المرتبة الأولى فإنك تنتقل إلى المرتبة التي بعدها، فالمرتبة الأولى: أن تعبد الله كأنك تراه، أي: كأنك تشاهده، والثانية: إن لم تكن تراه فإنه يراك.
والإحسان مرتبة عالية يعني أنك حينما تعبد الله بالصلاة والزكاة والصوم والحج وبر الوالدين وصلة الرحم تعبد الله على المشاهد، وتعبد الله على المراقبة، فأنت تراقب الله والله يراقبك، وتستشعر هذا الإحساس، (قال: صدقت).
ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিবরীলের প্রশ্নতিনি বললেন: (তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর ব্যাপারে বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তাঁর সত্যায়ন করছেন)। এটি হলো এমন এক ব্যক্তির প্রশ্ন যিনি ইতিপূর্বেই অবগত। সাধারণত যে ব্যক্তি প্রশ্ন করেন তিনি জানেন না, কিন্তু এখানে তিনি প্রশ্নও করছেন আবার সত্যায়নও করছেন। সুতরাং প্রশ্নটি ছিল একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির প্রশ্নের মতো, তাই সাহাবীগণ বিস্মিত হয়েছিলেন। (তিনি বললেন: আমরা তাঁর ব্যাপারে বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তাঁর সত্যায়ন করছেন)। তিনি মূলত প্রশ্ন করেছিলেন মানুষকে তাদের দীন শেখানোর জন্য, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসের শেষে স্পষ্ট করেছেন।
(এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন। তিনি বললেন: ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি)।
এখানে ঈমানকে অভ্যন্তরীণ মূলনীতিসমূহ অর্থাৎ ছয়টি অভ্যন্তরীণ রুকনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর ইসলামকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাহ্যিক কার্যাবলীর মাধ্যমে: কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, সিয়াম পালন করা এবং হজ সম্পাদন করা। আর ঈমানকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ রুকনসমূহের মাধ্যমে। তিনি বললেন: (আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং আপনি বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইহসান হলো এই যে, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চিত থাকুন যে তিনি আপনাকে দেখছেন)। তিনি ইহসানের জন্য দুটি স্তর নির্ধারণ করেছেন: প্রথম স্তর: আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন, অর্থাৎ মুশাহাদা বা চাক্ষুষ দর্শনের উপলব্ধিতে আল্লাহর ইবাদত করা।
দ্বিতীয় স্তর: আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চিত থাকুন যে তিনি আপনাকে দেখছেন।
যদি আপনি প্রথম স্তরটি অর্জনে দুর্বল হয়ে পড়েন, তবে আপনি তার পরবর্তী স্তরে উপনীত হবেন। প্রথম স্তরটি হলো: আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন, অর্থাৎ যেন আপনি তাঁকে প্রত্যক্ষ করছেন। আর দ্বিতীয়টি হলো: আপনি যদি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চিত থাকুন যে তিনি আপনাকে দেখছেন।
আর ইহসান হলো এক সুউচ্চ স্তর। এর অর্থ হলো, আপনি যখন সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করবেন, তখন আপনি তা মুশাহাদা বা প্রত্যক্ষ করার উপলব্ধিতে এবং মুরাকাবা বা পর্যবেক্ষণের উপলব্ধিতে করবেন। অর্থাৎ আপনি আল্লাহর ধ্যান করবেন আর আল্লাহ আপনাকে পর্যবেক্ষণ করছেন—এই অনুভূতিটি হৃদয়ে জাগ্রত রাখবেন। (তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سؤال جبريل عن الساعةثم وجه إليه السؤال الرابع (قال: أخبرني عن الساعة؟) والسؤال الرابع ليس عند الرسول له جواب، قال: (ما المسئول عنها بأعلم من السائل) يعني: علمي وعلمك سواء، فالساعة لا يعلمها إلا الله، قال الله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ * قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ} [الأعراف:187 - 188].
وبالمناسبة للفائدة: عندي كتاب كتبه شخص وحدد قيام وقت الساعة، وهذا من التخريف، واسم المؤلف يمكن أن يكون مستعاراً (كتبه فهد السالم)، ذكر أن نزول المسيح عيسى بن مريم سنة ألف وتسعمائة وتسعة عشر ميلادي، وأن قيام الساعة عام ألفين وعشرة ميلادي، وهذا مما يدل على سخافته، وأنه يؤرخ بالتاريخ النصراني، ولا يؤرخ بتاريخ الإسلام، فهذا من المخرفين، إذ حدد خروج المسيح الدجال وحدد وقت الساعة، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: (ما المسئول عنها بأعلم من السائل)، يعني: علمي وعلمك سواء، وهذا حددها.
ثم توجه إلى السؤال الخامس: (قال: أخبرني عن أمارتها؟) أي: إذا كنت لا تعلم وقت الساعة فأخبرني عن العلامات، فأخبره النبي صلى الله عليه وسلم عن العلامات: (قال: أن تلد الأمة ربتها) أي: الأمة تلد سيدتها، والمعنى: أمة تباع وتشترى تلد مولودة فتكون سيدة على أمها.
قال العلماء: معنى ذلك أنه تكثر السراري ويتسرى الملوك الإماء ثم تلد الأمة بنتاً للملك فتكون بنت الملك سيدة على أمها.
وفي لفظ: (أن تلد الأمة ربها) وهنا: (أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاة يتطاولون في البنيان) الحفاة: الذين لا نعال لهم، العراة: الذين لا ثياب عليهم، العالة: الفقراء، يتطاولون في البنيان.
والحديث له ألفاظ أخرى.
(ثم لبث ملياً)، وفي لفظ: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (ردوا السائل، فذهبوا فلم يجدوا أحداً) أي: خرج الرجل من عندهم فلما ذهبوا لإحضاره لم يجدوا أحداً؛ لأنه ملك من الملائكة وقد جاء في حالة غريبة: شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، والعادة في ذلك الوقت أن الأسفار متعبة، والذي يأتي من السفر تكون ثيابه رثة متسخة وشعره كذلك متسخ، لكن هذا ثيابه بيضاء جميلة، كأنه خرج من بيته مثلنا الآن، وشعره كذلك أسود ليس فيه غبار، فتعجب كيف يكون مسافراً ويأتي بهذه الصورة؟! فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (ردوا السائل)، وفي لفظ قال: (فلبث ملياً ثم قال: يا عمر! أتدري من السائل؟ فقال عمر: الله ورسوله أعلم)، هذا يقال للنبي صلى الله عليه وسلم في حال حياته، يقال: الله ورسوله أعلم، أما بعد وفاته يقال: الله أعلم؛ لأن الرسول لا يعلم الغيب، ولا يعلم أحوال أمته.
(فقال عليه الصلاة والسلام: هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم) وهذه اللفظة التي ذكرها المؤلف الآن، وفي لفظ: (أمر دينكم).
فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن مسمى الإسلام ومسمى الإيمان ومسمى الإحسان هو الدين، إذاً: الإسلام والإيمان والإحسان داخل في مسمى الدين، والدين يشمل الإسلام والإيمان والإحسان، وله ثلاث مراتب: مرتبة الإسلام، ثم المرتبة الثانية مرتبة الإيمان وهي أعلى منه، ثم المرتبة الثالثة مرتبة الإحسان.
إذاً: الدين يشمل الإسلام والإيمان والإحسان وهي مراتب، أعلاها الإحسان، ثم الإيمان، ثم الإسلام.
কিয়ামত সম্পর্কে জিবরীলের প্রশ্নতারপর তিনি তাঁর দিকে চতুর্থ প্রশ্নটি করলেন (তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন?)। চতুর্থ প্রশ্নের জবাব রাসুলের কাছে ছিল না। তিনি বললেন: (এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশি অবগত নন) অর্থাৎ: আমার জ্ঞান ও আপনার জ্ঞান সমান। কিয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে... বলুন, এর জ্ঞান কেবল আমার রবের কাছেই রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ একে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করবে না} [আল-আরাফ: ১৮৭-১৮৮]।
প্রসঙ্গক্রমে উপকারের জন্য বলছি: আমার কাছে এমন এক ব্যক্তির লেখা একটি বই আছে যেখানে সে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করেছে; আর এটি একটি প্রলাপ বা বিভ্রান্তি। লেখকের নাম ছদ্মনাম হতে পারে (লিখেছেন ফাহাদ আল-সালিম)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মারিয়াম-পুত্র ঈসা মসীহের অবতরণ হবে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তার নির্বুদ্ধিতারই প্রমাণ দেয়। এছাড়া সে খ্রিষ্টীয় তারিখ ব্যবহার করেছে, ইসলামের তারিখ ব্যবহার করেনি। সে হলো বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত, কেননা সে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং কিয়ামতের সময় নির্ধারণ করেছে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন: (এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশি অবগত নন), অর্থাৎ: আমার ও আপনার জ্ঞান সমান, আর ওই ব্যক্তি সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
এরপর তিনি পঞ্চম প্রশ্নের দিকে অগ্রসর হলেন: (তিনি বললেন: আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন?) অর্থাৎ: আপনি যদি কিয়ামতের সময় না জানেন তবে আমাকে এর নিদর্শনগুলো সম্পর্কে বলুন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নিদর্শনগুলো সম্পর্কে জানালেন: (তিনি বললেন: দাসী তার মালিকাকে জন্ম দেবে) অর্থাৎ: দাসী তার নেত্রীকে জন্ম দেবে। এর অর্থ হলো: ক্রয়-বিক্রয় হওয়া একজন দাসী এমন এক সন্তান প্রসব করবে যে তার মায়ের কর্ত্রী বা নেত্রী হবে।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন: এর অর্থ হলো যে উপপত্নীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বাদশাহরা দাসীদের সাথে সহবাস করবেন। এরপর দাসী সেই বাদশাহর একটি কন্যা সন্তান প্রসব করবে, ফলে বাদশাহর সেই কন্যা তার মায়ের উপর কর্ত্রী হিসেবে গণ্য হবে।
অন্য বর্ণনায় এসেছে: (দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে) আর এখানে আছে: (দাসী তার মালিকাকে জন্ম দেবে, এবং আপনি দেখবেন যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে)। নগ্নপদ: যাদের পায়ে কোনো জুতো নেই। বস্ত্রহীন: যাদের শরীরে কোনো পোশাক নেই। দরিদ্র: অভাবী লোক। এরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে।
হাদিসটির আরও বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
(অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (জিজ্ঞাসাকারীকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো। তারা গেল কিন্তু কাউকে পেল না) অর্থাৎ: লোকটি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে গেল, এরপর যখন তারা তাকে আনতে গেল তখন কাউকে খুঁজে পেল না; কারণ তিনি ছিলেন ফেরেশতাদের মধ্যে একজন। তিনি এক অদ্ভুত অবস্থায় এসেছিলেন: ধবধবে সাদা পোশাক, মিশমিশে কালো চুল। তখনকার সময়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিল ক্লান্তিকর; যে সফর থেকে আসত তার কাপড় হতো জীর্ণ ও ময়লা এবং চুলও থাকতো ধুলোবালিমাখা। কিন্তু এই ব্যক্তির কাপড় ছিল সুন্দর সাদা, যেন তিনি এখন আমাদের মতো নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তার চুলও ছিল কালো, যাতে কোনো ধুলোবালি ছিল না। সাহাবীগণ অবাক হলেন যে, তিনি মুসাফির হয়েও কীভাবে এমন অবস্থায় আসলেন?! এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (জিজ্ঞাসাকারীকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো)। অন্য বর্ণনায় আছে: (অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন, তারপর বললেন: হে উমর! তুমি কি জানো জিজ্ঞাসাকারী কে ছিলেন? উমর বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় বলা হতো: 'আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন'। তবে তাঁর ইন্তেকালের পর বলতে হবে: 'আল্লাহই ভালো জানেন'; কারণ রাসুল গায়েব জানেন না এবং তাঁর উম্মতের অবস্থা সম্পর্কেও অবগত নন।
(অতঃপর তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন: ইনি জিবরীল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন)। লেখক এখন এই শব্দগুলোই উল্লেখ করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে: (তোমাদের দ্বীনের বিষয়াদি)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান—এগুলোই হলো দ্বীন। সুতরাং ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান দ্বীনের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। দ্বীন ইসলাম, ঈমান এবং ইহসানকে পরিবেষ্টন করে আছে। এর তিনটি স্তর রয়েছে: ইসলামের স্তর, তারপর দ্বিতীয় স্তর হলো ঈমানের স্তর যা এর চেয়ে উচ্চতর, এরপর তৃতীয় স্তর হলো ইহসানের স্তর।
অতএব, দ্বীন ইসলাম, ঈমান এবং ইহসানকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এগুলো স্তরবিন্যাসিত। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো ইহসান, এরপর ঈমান, তারপর ইসলাম।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التفريق بين الإسلام والإيمان في حديث جبريلفي هذا الحديث فرق النبي صلى الله عليه وسلم بين الإسلام والإيمان، ففسر الإسلام بالأعمال الظاهرة، وفسر الإيمان بالاعتقادات الباطنة، وجاء في القرآن أيضاً ما يدل على التفرقة بينهما، كقوله سبحانه: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [الأحزاب:35]، فرق بينهما.
وكذلك قول الله عز وجل في سورة الحجرات: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14]، وفي حديث سعد بن أبي وقاص: (أن النبي صلى الله عليه وسلم أعطى بعض الناس عطايا يتألفهم على الإسلام وترك رجلاً هو أعجبهم إلي، فقلت: يا رسول الله ما لك عن فلان؟ فوالله إني لأراه مؤمناً، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أو مسلماً) يعني: ما وصل إلى درجة الإيمان، (قال: فسكت ثم غلبني ما أجد فقلت: يا رسول الله ما لك عن فلان! فوالله إني لأراه مؤمناً، فقال: أو مسلماً، فسكت ثم غلبني أجد فقلت: يا رسول الله ما لك عن فلان فو الله إني لأراده مؤمناً فقال: أو مسلماً، ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم: يا سعد إني لأعطي الرجل وغيره أحب إلي مخافة أن يكبه الله على وجهه في النار) يعني: أن النبي صلى الله عليه وسلم يعطي العطاء حتى يتألفهم على الإسلام، فمن كان قوي الإيمان لا يعطيه، بل يتركه لإيمانه، ومن كان ضعيف الإيمان يعطيه؛ حتى لا يرتد عن دينه، وحتى يتقوى إيمانه، وهذا فيه فرق بين الإيمان والإسلام.
واختلف العلماء في الإيمان والإسلام هل هما شيء واحد أو شيئان؟ فذهب بعض أهل السنة إلى أن الإسلام والإيمان شيء واحد، وأن الإسلام هو الإيمان والإيمان هو الإسلام، وعلى رأسهم الإمام البخاري ومحمد بن نصر المروزي فقالوا: الإيمان والإسلام شيء واحد، وشاركهم فيها بعض البدع كالخوارج والمعتزلة وقالوا: إن الإيمان هو الإسلام.
وأجابوا عن قول النبي صلى الله عليه وسلم: (الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله)، قالوا: هذا على تقدير محذوف، والتقدير: شعائر الإسلام شهادة أن لا إله إلا الله.
وقالوا: إن آية الحجرات: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14]، في المنافقين؛ لأن الله نفى عنهم الإيمان وأثبت لهم الإسلام في الظاهر؛ لأن المنافقين يظهرون الإسلام ويبطنون الكفر.
وذهب جمهور العلماء والمحققون من أهل العلم: إلى أن الإسلام والإيمان شيئان، وأنهما إذا اجتمعا كان لكل واحد منهما معنى، أما إذا أفرد أحدهما وتجرد عن الآخر فإنه يدخل فيه الآخر، فإذا أفرد الإسلام دخل فيه الإيمان، وإذا أفرد الإيمان دخل فيه الإسلام، وإذا اجتمعا فسر الإسلام بالأعمال الظاهرة وفسر الإيمان بالأعمال الباطنة، كما في حديث جبرائيل.
وهذا هو الصواب الذي عليه جمهور العلماء وعليه المحققون كشيخ الإسلام ابن تيمية وغيره من أهل العلم.
জিবরীল (আ.)-এর হাদীসে ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্যএই হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি ইসলামকে বাহ্যিক আমলসমূহ দ্বারা এবং ঈমানকে অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসসমূহ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। কুরআনেও এমন প্রমাণ এসেছে যা এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের নির্দেশ দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী} [আল-আহযাব: ৩৫]। এখানে তিনি এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
অনুরূপভাবে সূরা আল-হুজুরাতে আল্লাহ তাআলার বাণী: {মরুবাসী আরবরা বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন: তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি} [আল-হুজুরাত: ১৪]। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর হাদীসে এসেছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোককে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কিছু অনুদান দিলেন এবং একজনকে বাদ দিলেন যিনি আমার নিকট তাদের মধ্যে অধিক পছন্দনীয় ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অমুকের ব্যাপারে আপনার কী হলো? আল্লাহর শপথ, আমি তো তাকে মুমিন হিসেবে দেখছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অথবা মুসলিম।) অর্থাৎ: সে ঈমানের স্তরে পৌঁছায়নি। (বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি চুপ থাকলাম, তারপর আমার অনুভূতি প্রবল হলো এবং আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অমুকের ব্যাপারে আপনার কী হলো? আল্লাহর শপথ, আমি তো তাকে মুমিন হিসেবে দেখছি। তিনি বললেন: অথবা মুসলিম। আমি চুপ থাকলাম, তারপর আমার অনুভূতি প্রবল হলো এবং আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অমুকের ব্যাপারে আপনার কী হলো? আল্লাহর শপথ, আমি তো তাকে মুমিন হিসেবে দেখছি। তিনি বললেন: অথবা মুসলিম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে সাদ! আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য কেউ আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, এই ভয়ে যে, আল্লাহ তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।) অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান করেন যাতে তাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়। যার ঈমান শক্তিশালী তাকে তিনি দেন না, বরং তার ঈমানের ওপর তাকে ছেড়ে দেন। আর যার ঈমান দুর্বল তাকে তিনি দান করেন; যাতে সে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত না হয় এবং তার ঈমান শক্তিশালী হয়। এতে ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ রয়েছে।
ঈমান ও ইসলাম কি একই জিনিস নাকি দুটি ভিন্ন বিষয়—এ নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আহলুস সুন্নাহর কিছু আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, ইসলাম ও ঈমান একই জিনিস। ইসলামই ঈমান এবং ঈমানই ইসলাম। তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম বুখারী এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী। তারা বলেছেন: ঈমান ও ইসলাম একই বিষয়। কতিপয় বিদআতি দল যেমন খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাগণও তাদের সাথে একমত পোষণ করে বলেছে: নিশ্চয়ই ঈমানই হলো ইসলাম।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)—এর উত্তরে তারা বলেন: এটি উহ্য শব্দের ওপর ভিত্তি করে, যার অর্থ হলো: ইসলামের নিদর্শনসমূহ হলো আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—এই সাক্ষ্য দেওয়া।
তারা বলেন: সূরা হুজুরাতের আয়াত: {মরুবাসী আরবরা বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন: তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি} [আল-হুজুরাত: ১৪]—এটি মুনাফিকদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাদের থেকে ঈমানকে অস্বীকার করেছেন এবং বাহ্যিকভাবে তাদের জন্য ইসলামকে সাব্যস্ত করেছেন; যেহেতু মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে এবং অন্তরে কুফর গোপন রাখে।
জমহুর আলেম এবং জ্ঞানীদের মধ্যে যারা গবেষক (মুহাক্কিক), তারা এই মত পোষণ করেছেন যে: ইসলাম ও ঈমান দুটি ভিন্ন বিষয়। যখন এই দুটি শব্দ একসাথে উল্লেখ হয় তখন উভয়ের পৃথক অর্থ থাকে। তবে যখন এদের কোনো একটি পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয় এবং অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তখন একটির মধ্যে অন্যটি প্রবেশ করে। সুতরাং যখন কেবল ইসলাম উল্লেখ করা হয় তখন তার মধ্যে ঈমানও অন্তর্ভুক্ত হয়, আর যখন কেবল ঈমান উল্লেখ করা হয় তখন তার মধ্যে ইসলামও অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যখন তারা একসাথে উল্লিখিত হয়, তখন ইসলামকে বাহ্যিক আমলসমূহ দ্বারা এবং ঈমানকে অভ্যন্তরীণ আমলসমূহ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, যেমনটি জিবরীলের হাদীসে এসেছে।
এটিই সঠিক মত যা জমহুর আলেম ও গবেষকগণ গ্রহণ করেছেন, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং অন্যান্য বিজ্ঞ আলেমগণ।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية - الراجحي القسم: العقيدة
الكتاب: شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 18 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432
ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাতের ব্যাখ্যা - আল-রাজহী বিভাগ: আকিদাহ
বই: ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাতের ব্যাখ্যা
লেখক: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-রাজহী
বইয়ের উৎস: অডিও লেকচার যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১৮টি পাঠ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب الإيمان الأوسط لابن تيمية
[2]اختلف الناس في مسمى الإيمان والإسلام على أقوال شتى، واستدل كل قوم على ما قالوا بأدلة، وقد بين شيخ الإسلام أقوالهم والراجح في ذلك.
ইবনে তাইমিয়াহ-এর কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত-এর ব্যাখ্যা
[২]ঈমান ও ইসলামের নামকরণের ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছে এবং প্রত্যেক দল তাদের বক্তব্যের সপক্ষে দলিল পেশ করেছে। আর শাইখুল ইসলাম তাদের অভিমতসমূহ এবং এ বিষয়ে যেটি সঠিক তা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ২)
أقوال الناس في الإيمان والإسلامقال المؤلف رحمه الله تعالى: [فصل: تضمن حديث سؤال النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام والإيمان والإحسان وجوابه عن ذلك، وقوله في آخر الحديث: (هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم)، فجعل هذا كله من الدين.
وللناس في الإسلام والإيمان من الكلام الكثير: مختلفين تارة ومتفقين أخرى، ما يحتاج الناس معه إلى معرفة الحق في ذلك، وهذا يكون بأن تبين الأصول المعلومة المتفق عليها، ثم بذلك يتوصل إلى معرفة الحقيقة المتنازع فيها].
فهذا كتاب الإيمان الأوسط أو الصغير شرح لحديث جبرائيل عليه الصلاة والسلام، والمؤلف رحمه الله لم يذكر الحديث بفصوله وإنما ذكر معناه، فقال: تضمن حديث جبرائيل سؤال النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام، ثم عن الإيمان، ثم عن الإحسان، ثم قال في آخر الحديث: (هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم) فسمى الإسلام والإيمان والإحسان ديناً، فالدين له ثلاث مراتب: الإسلام والإيمان والإحسان.
وشيخ الإسلام ابن تيمية يقول: إن الناس اختلفوا في مسمى الإسلام وفي مسمى الإيمان، مختلفين تارة ومتفقين تارة، وقال: إن الحق يتبين بعد معرفة الأصول المتفق عليها، وذكر من هذه الأصول التي دلت عليها النصوص أصلين: الأصل الأول: أن الناس في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بعد هجرته إلى المدينة ثلاث طوائف: مؤمنون باطناً وظاهراً، وكفار باطناً وظاهراً، ومسلمون في الظاهر وكفار في الباطن وهم المنافقون، وهذا أصل دلت عليه النصوص من الكتاب ومن السنة، وأجمع عليه العلماء.
الأصل الثاني: أن النصوص وصفت أقواماً من الناس بالإسلام ونفت عنهم الإيمان، كقوله تعالى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14]، وكقوله صلى الله عليه وسلم لـ سعد بن أبي وقاص لما قال له حين أعطى رجالاً يتألفهم على الإسلام: (ما لك عن فلان؟ فوالله إني لأراه مؤمناً، فقال عليه الصلاة والسلام: أو مسلماً.
ثلاث مرات).
والخلاصة في هذا: أن مسمى الإسلام ومسمى الإيمان اختلف الناس فيه على أقوال:
ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মতামতসমূহলেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা এবং এর উত্তরে তাঁর দেয়া হাদিসটির বর্ণনা, এবং হাদিসের শেষে তাঁর এই উক্তি: (ইনি জিবরীল, যিনি তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন), সুতরাং তিনি এই সব কিছুকেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ইসলাম ও ঈমান নিয়ে মানুষের অনেক কথা রয়েছে: কখনো তারা মতপার্থক্য করেছেন আবার কখনো একমত হয়েছেন, যার কারণে এই বিষয়ে সত্য কী তা জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর এটি তখনই সম্ভব যখন সুপরিচিত এবং সর্বসম্মত মূলনীতিগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হবে, যার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রকৃত সত্য অনুধাবন করা সম্ভব হবে]।
সুতরাং এটি হলো ‘কিতাবুল ঈমান আল-আওসাত’ বা ‘আস-সাগীর’, যা জিবরীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর হাদিসের একটি ব্যাখ্যা। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটিকে এর বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে উল্লেখ করেননি, বরং এর মর্মার্থ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: জিবরীলের হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলাম, এরপর ঈমান এবং এরপর ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর তিনি হাদিসের শেষে বলেছেন: (ইনি জিবরীল, তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছেন)। এভাবে তিনি ইসলাম, ঈমান ও ইহসানকে ‘দ্বীন’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। সুতরাং দ্বীনের তিনটি স্তর রয়েছে: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ইসলাম ও ঈমান—এই দুটি শব্দের নামকরণের ক্ষেত্রে মানুষ মতপার্থক্য করেছে, কখনো তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে আবার কখনো একমত হয়েছে। তিনি বলেন: সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ জানার পর সত্য উন্মোচিত হয়। তিনি দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে এই মূলনীতিগুলোর মধ্য থেকে দুটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন: প্রথম মূলনীতি: মদীনায় হিজরতের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মানুষ তিন দলে বিভক্ত ছিল: যারা অন্তরে ও প্রকাশ্যে মুমিন, যারা অন্তরে ও প্রকাশ্যে কাফির এবং যারা প্রকাশ্যে মুসলিম কিন্তু অন্তরে কাফির—অর্থাৎ তারা হলো মুনাফিক। এটি এমন একটি মূলনীতি যা কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা প্রমাণিত এবং উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
দ্বিতীয় মূলনীতি: বিভিন্ন দলিলে মানুষের কিছু দলকে ইসলামের বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে কিন্তু তাদের থেকে ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বেদুইনরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি বরং বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি।} [হুজুরাত: ১৪]। অনুরূপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, যখন তিনি সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যখন তিনি (নবীজী) ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কিছু লোককে দান করছিলেন। সা’দ বললেন: আপনি অমুক ব্যক্তির বিষয়টি কেন বাদ দিচ্ছেন? আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাকে মুমিন হিসেবে দেখছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অথবা মুসলিম (বলো)।
তিন বার)।
এর সারকথা হলো: ইসলাম ও ঈমান—এই দুটি শব্দের সংজ্ঞার বিষয়ে মানুষের মাঝে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে:
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৩)
القول الأول في الإسلام والإيمانالقول الأول: أن مسمى الإسلام هو الكلمة ومسمى الإيمان يعم.
والكلمة يعني: النطق بالشهادتين، شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فمن نطق بهما فهو مسلم، فإذا عمل وأدى الواجبات وترك المحرمات فهو المؤمن.
وهذا القول مروي عن الإمام الزهري رحمه الله تعالى وبعض أهل السنة، وليس مقصود الإمام الزهري رحمه الله أن الأعمال لا تدخل في مسمى الإسلام، فإن الإمام الزهري أجل من أن يخفى عليه مثل ذلك، لكن مقصود الإمام الزهري بقوله إن الإسلام هو الكلمة أن الإنسان إذا نطق بالشهادتين حكم له بالإسلام، وتميز عن المشركين وعن اليهود والنصارى، والأعمال كلها داخلة في مسمى الإيمان.
ومن أدلتهم: قول الله تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ} [فاطر:32].
قالوا: فالظالم لنفسه هو المسلم، والمقتصد هو المؤمن الذي أدى الواجب فترك المحرمات، والسابق بالخيرات هو المحسن.
وهذه الآية لا تدل على ما ذهب إليه هؤلاء؛ لأن الآية ليس فيها أن الإسلام هو الكلمة، وإنما فيها تقسيم الناس إلى ثلاثة أقسام: ظالم لنفسه: وهو الذي قصر في بعض الواجبات وارتكب بعض المحرمات.
ومقتصد: وهو الذي أدى الواجبات وترك المحرمات.
وسابق بالخيرات: وهو المحسن.
فالآية قسمت الناس إلى ثلاثة أقسام، كحديث جبرائيل لما سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام وعن الإيمان وعن الإحسان.
ومن أدلتهم أيضاً: أن النصوص دلت على تسمية الإسلام باسم الإيمان، وتسمية الإيمان باسم الإسلام، فحديث جبرائيل الذي معنا فسر النبي صلى الله عليه وسلم الإسلام بالأعمال: الشهادتين والصلاة والزكاة والصوم والحج.
وفي حديث وفد عبد القيس فسر الإيمان بالأعمال، فإن في حديث وفد عبد القيس وهو حديث صحيح رواه الشيخان قال النبي صلى الله عليه وسلم: (آمركم بالإيمان بالله وحده، أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟ شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وأن تؤدوا سدس ما غنمتم)، ففسر الإيمان بالأعمال، قالوا: إن النصوص سمت الإسلام بما سمي به الإيمان، وسمت الإيمان بما سمي به الإسلام.
ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে প্রথম অভিমতপ্রথম অভিমত: ইসলামের পারিভাষিক নাম হলো কালিমা এবং ঈমানের পারিভাষিক নাম হলো ব্যাপক বিষয়।
আর কালিমা বলতে উদ্দেশ্য হলো: শাহাদাতাইন পাঠ করা—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি পাঠ করবে সে মুসলিম। এরপর যখন সে আমল করবে, ওয়াজিব কাজগুলো পালন করবে এবং হারাম কাজগুলো বর্জন করবে, তখন সে মুমিন।
এই অভিমতটি ইমাম যুহরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এবং আহলুস সুন্নাহর কিছু আলেমের কাছ থেকে বর্ণিত। ইমাম যুহরীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উদ্দেশ্য এটি নয় যে, আমল ইসলামের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ ইমাম যুহরী এ জাতীয় বিষয় তাঁর অজানা থাকার চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাবান। বরং 'ইসলাম হলো কালিমা'—এ কথার মাধ্যমে ইমাম যুহরীর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যখন শাহাদাতাইন পাঠ করে তখন তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সে মুশরিক, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের থেকে পৃথক হয়ে যায়; আর সমস্ত আমল ঈমান নামক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
তাদের দলিলের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের, যাদের আমি মনোনীত করেছি। তবে তাদের কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের কাজে অগ্রগামী।" [ফাতির: ৩২]।
তারা বলেন: যে ব্যক্তি নিজের প্রতি অবিচারকারী সে হলো মুসলিম; মধ্যমপন্থী হলো মুমিন যে ওয়াজিব পালন করেছে ও হারাম বর্জন করেছে; আর কল্যাণের কাজে অগ্রগামী হলো মুহসিন।
এই আয়াতটি তাদের মতের স্বপক্ষে প্রমাণ বহন করে না; কারণ আয়াতে এমন কিছু নেই যে ইসলাম মানেই কালিমা। বরং এতে মানুষকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: নিজের প্রতি অবিচারকারী: যে ব্যক্তি কিছু ওয়াজিব পালনে অবহেলা করেছে এবং কিছু হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছে।
মধ্যমপন্থী: যে ব্যক্তি ওয়াজিবসমূহ পালন করেছে এবং হারামসমূহ বর্জন করেছে।
কল্যাণের কাজে অগ্রগামী: সে হলো মুহসিন।
সুতরাং আয়াতটি মানুষকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছে, যেমন জিবরাঈলের হাদীসে দেখা যায় যখন তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
তাদের দলিলের মধ্যে এটিও রয়েছে যে, শরয়ি দলীলসমূহ ইসলামকে ঈমান নামে এবং ঈমানকে ইসলাম নামে অভিহিত করেছে। আমাদের সামনে থাকা জিবরাঈলের হাদীসে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ইসলামকে আমল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন: শাহাদাতাইন, সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ।
আর আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের হাদীসে তিনি ঈমানকে আমল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। নিশ্চয়ই আব্দুল কায়েস গোত্রের হাদীসটি সহীহ যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন; নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (আমি তোমাদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তা হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমাদের অর্জিত গনিমতের এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করা)। সুতরাং তিনি ঈমানকে আমল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেন: শরয়ি দলীলসমূহ ইসলামকে সেই নামেই অভিহিত করেছে যা দিয়ে ঈমানকে অভিহিত করা হয়, এবং ঈমানকে সেই নামেই অভিহিত করেছে যা দিয়ে ইসলামকে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৪)
القول الثاني في الإسلام والإيمانالقول الثاني لأهل العلم في مسمى الإسلام والإيمان: أن الإيمان والإسلام شيء واحد، فالإسلام هو الإيمان والإيمان هو الإسلام، فهما مترادفان.
وذهب إلى هذا بعض أهل السنة وعلى رأسهم الإمام البخاري رحمه الله، ذهب إلى هذا في كتابه الجامع الصحيح في التراجم، وشارك أهل السنة في هذا القول بعض أهل البدع كالخوارج والمعتزلة، قالوا: إن الإسلام هو الإيمان والإيمان هو الإسلام، فهما مترادفان.
وأجابوا عن حديث جبرائيل: (الإسلام شهادة أن لا إله إلا الله) قالوا: هذا فيه تقدير، والتقدير: شعائر الإسلام: شهادة أن لا إله إلا الله.
ولكن الأصل عدم التقدير.
واستدلوا بقول الله تعالى في قصة قوم لوط عليه الصلاة والسلام: {فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ * فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [الذاريات:35 - 36].
قالوا: هذا البيت الواحد وصف بالإيمان ووصف بالإسلام، بيت واحد وهو لوط وابنتاه، نجاهم الله من الهلاك، فهذا يدل على أنهما مترادفان.
ولكن الصواب: أنهما ليسا مترادفين.
والجواب عن هذه الآية: أن البيت المفرد اتصف بالإيمان وبالإسلام؛ لأنها تنطبق عليهم أوصاف الإسلام وأوصاف الإيمان، ولا يلزم من كون هذا البيت المفرد اتصف بالإسلام والإيمان أن يكون الإسلام والإيمان واحداً؛ لأن غيرهم قد لا يتصف بصفة الإيمان.
ومن أدلتهم: قول الله تعالى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} [الحجرات:14].
فهذه الآية فيها أن الله نفى عنهم الإيمان وأثبت لهم الإسلام، فدل على أن الإيمان والإسلام شيء واحد، ولو كان الإيمان والإسلام شيئين لما نفى عنهم الإيمان، فلما نفى عنهم الإيمان وأثبت لهم الإسلام دل على أن هؤلاء منافقون، والمعنى: قولوا استسلمنا وانقدنا للإسلام ظاهراً نفاقاً.
والصواب الذي عليه جمهور العلماء والمحققون من أهل السنة وعلى رأسهم شيخ الإسلام ابن تيمية وغيره: أن هذه الآية ليست في المنافقين، وإنما هي في ضعفاء الإيمان؛ لأن هذه الآية من سورة الحجرات، وآية الحجرات ذكر فيها المعاصي: القتل، والغيبة، والنميمة، والسخرية، والهمز، واللمز، وليس فيها ذكر النفاق، فضعيف الإيمان ينفى عنه الإيمان ويثبت له الإسلام، وإن كان لا بد للإسلام من إيمان يصح به، إلا أنه لا يطلق عليه اسم الإيمان.
ويدل على هذا ما سبق هذه الآية، فإن هذه الآية في المؤمنين قال فيها: {وَإِنْ تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ} [الحجرات:14]، فأثبت لهم طاعة الله ورسوله، ولو كانوا منافقين لما أثبت لهم طاعة، وقال تعالى: {يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا} [الحجرات:17] فأثبت لهم الإسلام، ولو كانوا منافقين لما أثبت لهم الإسلام.
ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে দ্বিতীয় মতইসলাম ও ঈমান পরিভাষার নামকরণের ক্ষেত্রে আলেমদের দ্বিতীয় মতটি হলো: ঈমান ও ইসলাম একই জিনিস। সুতরাং ইসলামই হলো ঈমান এবং ঈমানই হলো ইসলাম; অর্থাৎ এ দুটি শব্দ সমার্থক।
আহলে সুন্নাতের একদল আলেম এই মতটি গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর কিতাব ‘আল-জামি আস-সহীহ’-এর বিভিন্ন শিরোনামে এই মতের দিকে গিয়েছেন। আহলে সুন্নাতের পাশাপাশি বিদআতি দলগুলোর মধ্য থেকে খারেজী ও মুতাযিলারাও এই মত পোষণ করেছে। তারা বলেছে: ইসলামই হলো ঈমান এবং ঈমানই হলো ইসলাম; অর্থাৎ তারা সমার্থক।
জিবরাঈলের হাদীসের (যেখানে বলা হয়েছে: ‘ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই...’) উত্তরে তারা বলেছে: এখানে একটি উহ্য বিষয় রয়েছে। আর সেই উহ্য বিষয়টি হলো— ইসলামের নিদর্শনসমূহ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এই সাক্ষ্য দেওয়া।
কিন্তু মূল নীতি হলো, কোনো কিছু উহ্য না ধরা।
তারা লুত (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কওমের ঘটনায় আল্লাহ তাআলার এই বাণী দিয়ে দলিল পেশ করেছেন: “সেখানে যারা মুমিন ছিল আমি তাদের বের করে আনলাম। সেখানে আমি একটি ঘর ছাড়া কোনো মুসলিম পাইনি।” [আদ-যারিয়াত: ৩৫-৩৬]।
তারা বলেন: এই একই ঘরকে ঈমান এবং ইসলাম উভয় বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে। এটি একটিই ঘর—যা লুত ও তাঁর দুই কন্যার ঘর—যাঁদেরকে আল্লাহ ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এই শব্দ দুটি সমার্থক।
কিন্তু সঠিক কথা হলো: শব্দ দুটি সমার্থক নয়।
আর এই আয়াতের উত্তর হলো: সেই নির্দিষ্ট ঘরটিকে ঈমান ও ইসলাম উভয় গুণে বিশেষিত করা হয়েছে কারণ তাদের ওপর ইসলামের গুণাবলী এবং ঈমানের গুণাবলী—উভয়ই প্রযোজ্য হয়। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘর ইসলাম ও ঈমানের গুণে গুণান্বিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইসলাম ও ঈমান একই বিষয়; কারণ তারা ছাড়া অন্য কেউ হয়তো ঈমানের গুণে গুণান্বিত নাও হতে পারে।
তাদের দলিলসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: “মরুবাসীরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি (আত্মসমর্পণ করেছি), কেননা ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’।” [আল-হুজুরাত: ১৪]।
এই আয়াতে দেখা যায় যে আল্লাহ তাদের থেকে ঈমানকে অস্বীকার করেছেন এবং তাদের জন্য ইসলামকে সাব্যস্ত করেছেন। এটি (তাদের মতে) প্রমাণ করে যে ঈমান ও ইসলাম একই জিনিস। কারণ যদি ঈমান ও ইসলাম দুটি ভিন্ন বিষয় হতো তবে তাদের থেকে ঈমানকে অস্বীকার করা হতো না। সুতরাং যখন তাদের থেকে ঈমান অস্বীকার করে ইসলাম সাব্যস্ত করা হয়েছে, তখন এটি প্রমাণ করে যে এরা ছিল মুনাফিক। আর আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়: “তোমরা বলো আমরা নিফাকের সাথে বাহ্যিকভাবে ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য করেছি।”
কিন্তু সঠিক মত—যার ওপর আহলে সুন্নাতের জমহুর আলেম ও গবেষকগণ রয়েছেন এবং যাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও অন্যান্যরা—হলো: এই আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে নয়, বরং এটি দুর্বল ঈমানদারদের সম্পর্কে। কারণ এটি সূরা হুজুরাতের আয়াত এবং এই সূরায় বিভিন্ন গুনাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: হত্যা, গীবত, চোগলখোরি, উপহাস, বিদ্রূপ করা। সেখানে নিফাকের কোনো আলোচনা নেই। সুতরাং যার ঈমান দুর্বল তার থেকে ঈমানকে অস্বীকার করা হয় এবং তার জন্য ইসলাম সাব্যস্ত করা হয়। যদিও ইসলামের বিশুদ্ধতার জন্য ন্যূনতম এমন ঈমান থাকা আবশ্যক যার মাধ্যমে তা সঠিক হয়, তবুও তার ওপর (পরিপূর্ণ) ঈমান নামের প্রয়োগ করা হয় না।
এই আয়াতের পূর্ববর্তী অংশও এর প্রমাণ দেয়। কেননা এই আয়াতটি মুমিনদের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ, যাতে বলা হয়েছে: “যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, তবে তিনি তোমাদের আমলের সওয়াব বিন্দুমাত্র হ্রাস করবেন না।” [আল-হুজুরাত: ১৪]। এখানে তিনি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য সাব্যস্ত করেছেন। যদি তারা মুনাফিক হতো তবে তাদের জন্য আনুগত্য সাব্যস্ত করা হতো না। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “তারা আপনার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করছে যে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে।” [আল-হুজুরাত: ১৭]। এখানে তিনি তাদের জন্য ইসলাম সাব্যস্ত করেছেন। যদি তারা মুনাফিক হতো তবে তাদের জন্য ইসলামের স্বীকৃতি দেওয়া হতো না।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৫)
القول الثالث في الإسلام والإيمانوالقول الثالث لأهل العلم: أن الإسلام هو الأعمال الظاهرة، والإيمان هو الأعمال الباطنة.
ودليلهم حديث جبرائيل، فإنه لما سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام فسره بالأعمال الظاهرة، ولما سأل عن الإيمان فسره بالاعتقادات الباطنة، فدل على أن الإسلام الأعمال الظاهرة والإيمان الأعمال الباطنة.
والصواب الذي تدل عليه النصوص والذي عليه المحققون من أهل العلم والذي أقره شيخ الإسلام رحمه الله في هذا الكتاب من أوله إلى آخره: أن الإسلام والإيمان تختلف دلالتهما بالاقتران والإفراد، فإذا انفرد الإسلام دخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، وإذا انفرد الإيمان دخل فيه الأعمال الباطنة والظاهرة، وإذا اجتمعا صار لكل واحد منهما معنى.
فإذا اجتمعا فسر الإسلام بالأعمال الظاهرة وفسر الإيمان بالأعمال الباطنة، كما في حديث جبرائيل فإنهما اجتمعا، فلما اجتمعا فسر الإسلام بالأعمال الظاهرة وفسر الإيمان بالأعمال الباطنة.
لما سأله عن الإسلام فسر الإسلام: بالشهادتين، والصلاة، والزكاة، والصوم، والحج، ولما سأل عن الإيمان فسره بالاعتقادات الباطنة: بالإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره.
وإذا انفرد أحدهما دخل فيه الآخر، فإذا انفرد الإسلام فيدخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، كما في قوله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمران:19]، فالإسلام هنا يشمل الأعمال الظاهرة والباطنة.
وكذلك الإيمان إذا انفرد فإنه يدخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، وبهذا تجتمع الأدلة ولا تختلف.
وهذا ليس خاصاً بالإسلام والإيمان، فمثلهما مسمى الدين، فالدين إذا أطلق يشمل الأعمال الظاهرة والباطنة، والإسلام إذا أطلق يدخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، والإيمان إذا أطلق يدخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، والبر إذا أطلق يدخل فيه الأعمال الظاهرة والباطنة، والتقوى إذا أطلقت يدخل فيها الأعمال الظاهرة والباطنة.
لكن إذا اجتمع الإسلام والإيمان صار لكل واحد منهما معنى، فمعنى الإسلام الأعمال الظاهرة والإيمان الأعمال الباطنة، وإذا اجتمع البر والتقوى صار لكل واحد منهما معنى، البر فعل الأوامر والتقوى ترك النواهي، وإن أطلق البر وحده شمل الأعمال الظاهرة والباطنة، وإذا أطلقت التقوى وحدها شملت الأعمال الباطنة والظاهرة.
وكذلك الفقير والمسكين، الفقير إذا أطلق دخل فيه المسكين، والمسكين إذا أطلق دخل فيه الفقير، وإذا اجتمعا فسر الفقير بمن هو أشد الحاجة، فالفقير: هو الذي لا يجد شيئاً أو يجد نصف الكفاية، يعني: لمدة سنة، والمسكين: هو الذي يجد نصف الكفاية إلا أنه لا يجد الكفاية؛ ولهذا بدأ الله بالفقير في قوله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ} [التوبة:60]، إذاً: الفقراء والمساكين هنا شيئان.
لكن في مثل قوله صلى الله عليه وسلم: (ليس المسكين الذي ترده اللقمة واللقمتان والتمرة والتمرتان)، يدخل الفقير.
وكذلك الربوبية والألوهية، إذا أطلقت الربوبية دخلت فيها الألوهية، وإذا أطلقت الألوهية دخلت فيها الربوبية، وإذا اجتمعا فسرت الربوبية بأفعال الرب، والألوهية: بأن الله هو المعبود وحده سبحانه، أي توحيد الله بأفعالك أنت أيها العبد.
ومثل قول الملكين للميت في قبره: (من ربك؟) يعني: من إلهك الذي تعبد؟ فيدخل فيه الألوهية، لكن لما اجتمعا في قوله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ * مَلِكِ النَّاسِ * إِلَهِ النَّاسِ} [الناس:1 - 3] صار لكل واحد معنى.
ورب الناس، أي: مربيهم وخالقهم ومدبرهم، وإذا أفرد الرب دخل فيه المعبود الإله، وإذا أفرد الإله دخل فيه الرب، وإذا اجتمعا صار لكل واحد منهم معنى.
ومن اجتماع الإيمان والإسلام قوله تعالى: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [الأحزاب:35] وقوله تعالى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات:14]، وما جاء أيضاً في حديث سعد بن أبي وقاص: (ما لك عن فلان؟ فوالله! إني لأراه مؤمناً، قال: أو مسلم) ففرق بين الإسلام والإيمان.
وهذا هو الصواب الذي تدل عليه النصوص وتجتمع به الأدلة، وهو الذي أقره المصنف رحمه الله من أول الكتاب إلى آخره.
ইসলাম এবং ঈমান সম্পর্কে তৃতীয় অভিমতআহলুল ইলম বা জ্ঞানীদের তৃতীয় অভিমত হলো: ইসলাম হলো প্রকাশ্য আমলসমূহ এবং ঈমান হলো অভ্যন্তরীণ আমলসমূহ।
তাঁদের দলিল হলো জিবরাঈলের হাদীস। কারণ, তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি ইসলামের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন প্রকাশ্য আমলসমূহের মাধ্যমে। আর যখন তিনি ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসসমূহের মাধ্যমে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম হলো প্রকাশ্য আমল এবং ঈমান হলো অভ্যন্তরীণ আমল।
সঠিক মত যা কুরআন-সুন্নাহর দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত এবং আহলুল ইলমদের মধ্যে গবেষক আলেমগণ যে মতটি গ্রহণ করেছেন এবং শাইখুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা সমর্থন করেছেন তা হলো: ইসলাম ও ঈমানের অর্থ এককভাবে উল্লেখ হওয়া বা একত্রে উল্লেখ হওয়ার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। যখন ইসলাম শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর মধ্যে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার আমল অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবার যখন ঈমান শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর মধ্যেও অভ্যন্তরীণ ও প্রকাশ্য উভয় প্রকার আমল অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু যখন এ দুটি শব্দ একত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন প্রত্যেকের স্বতন্ত্র অর্থ তৈরি হয়।
যখন এ দুটি একত্রে আসে, তখন ইসলামের ব্যাখ্যা করা হয় প্রকাশ্য আমলসমূহ দিয়ে এবং ঈমানের ব্যাখ্যা করা হয় অভ্যন্তরীণ আমলসমূহ দিয়ে; যেমনটি জিবরাঈলের হাদীসে এসেছে। সেখানে যেহেতু উভয়টি একত্রে এসেছিল, তাই ইসলামের ব্যাখ্যা প্রকাশ্য আমল দিয়ে এবং ঈমানের ব্যাখ্যা অভ্যন্তরীণ আমল দিয়ে করা হয়েছে।
যখন তিনি তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি ইসলামের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন: দুই শাহাদাত (সাক্ষ্য প্রদান), সালাত, যাকাত, সিয়াম এবং হজ দ্বারা। আর যখন তিনি ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস দ্বারা: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনার মাধ্যমে।
আর যখন এ দুটির কোনো একটি এককভাবে আসে, তখন তার মধ্যে অন্যটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যেমন যখন ইসলাম এককভাবে আসে, তখন এর মধ্যে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ উভয় আমল অন্তর্ভুক্ত হয়। আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম" [আলে ইমরান: ১৯]। এখানে ইসলাম বলতে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ উভয় আমলকে বোঝানো হয়েছে।
একইভাবে ঈমান শব্দটিও যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর মধ্যে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ সকল আমল অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মাধ্যমেই সকল দলিল সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং কোনো বিরোধ থাকে না।
এটি কেবল ইসলাম ও ঈমানের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ দুটির মতোই 'দ্বীন' পরিভাষাটির উদাহরণ। দ্বীন শব্দটি যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তখন তাতে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ সকল আমল অন্তর্ভুক্ত থাকে। ইসলাম যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তাতেও প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ আমল অন্তর্ভুক্ত হয়। ঈমান যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তাতেও প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ আমল অন্তর্ভুক্ত হয়। নেকি (আল-বিরর) যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তাতেও প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ আমল অন্তর্ভুক্ত হয়। তাকওয়া যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তাতেও প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ আমল অন্তর্ভুক্ত হয়।
কিন্তু যখন ইসলাম ও ঈমান একত্রে আসে, তখন প্রত্যেকের জন্য আলাদা অর্থ নির্ধারিত হয়। তখন ইসলামের অর্থ হয় প্রকাশ্য আমল এবং ঈমানের অর্থ হয় অভ্যন্তরীণ আমল। আবার যখন নেকি ও তাকওয়া একত্রে আসে, তখন প্রত্যেকের আলাদা অর্থ হয়। তখন নেকি মানে হলো আদেশসমূহ পালন করা এবং তাকওয়া মানে হলো নিষেধসমূহ বর্জন করা। তবে যদি কেবল নেকি এককভাবে বলা হয়, তবে তাতে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ সকল আমল শামিল থাকে। আর যদি কেবল তাকওয়া এককভাবে বলা হয়, তাতেও অভ্যন্তরীণ ও প্রকাশ্য সকল আমল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তদ্রূপ ফকির এবং মিসকিন। যখন কেবল ফকির বলা হয়, তখন তাতে মিসকিনও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর যখন কেবল মিসকিন বলা হয়, তখন তাতে ফকিরও অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু যখন তারা একত্রে আসে, তখন ফকিরের ব্যাখ্যা করা হয় অধিক অভাবী ব্যক্তি হিসেবে। ফকির হলো সেই ব্যক্তি যার কিছুই নেই অথবা প্রয়োজনীয় জিনিসের অর্ধেকেরও কম আছে—অর্থাৎ এক বছরের জন্য। আর মিসকিন হলো সেই ব্যক্তি যার অর্ধেকের বেশি সামর্থ্য আছে কিন্তু পূর্ণ প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা নেই। এজন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে ফকির দিয়ে শুরু করেছেন: "নিশ্চয় সদকা কেবল ফকির ও মিসকিনদের জন্য..." [আত-তাওবাহ: ৬০]। সুতরাং এখানে ফকির ও মিসকিন দুটি ভিন্ন বিষয়।
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মতো বর্ণনায় যেখানে এসেছে: "সেই ব্যক্তি মিসকিন নয় যাকে এক লোকমা বা দুই লোকমা খাবার অথবা একটি বা দুটি খেজুর ফিরিয়ে দেয়"—সেখানে মিসকিনের মধ্যে ফকিরও অন্তর্ভুক্ত।
তদ্রূপ রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং উলুহিয়্যাহ (উপাস্যত্ব)। যখন রুবুবিয়্যাহ শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাতে উলুহিয়্যাহও অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর যখন উলুহিয়্যাহ এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তাতে রুবুবিয়্যাহও অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু যখন এ দুটি একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন রুবুবিয়্যাহর ব্যাখ্যা করা হয় রবের কার্যাবলি দিয়ে এবং উলুহিয়্যাহর ব্যাখ্যা করা হয় এই মর্মে যে, আল্লাহই একমাত্র সত্য মাবুদ, অর্থাৎ হে বান্দা, তোমার নিজের কাজের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
যেমন কবরে মৃত ব্যক্তিকে দুই ফেরেশতার প্রশ্ন: "তোমার রব কে?" এর অর্থ হলো: তোমার ইলাহ কে যার তুমি ইবাদত করতে? এখানে এর মধ্যে উলুহিয়্যাহ অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যখন তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে একত্রে এসেছে: "বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের কাছে, মানুষের মালিকের কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে" [আন-নাস: ১-৩], তখন প্রত্যেকের আলাদা অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষের রব মানে হলো—তাদের লালন-পালনকারী, তাদের স্রষ্টা এবং তাদের পরিচালক। যখন রব এককভাবে আসে, তখন তাতে মাবুদ বা ইলাহও অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যখন ইলাহ এককভাবে আসে, তখন তাতে রবও অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু যখন তারা একত্রে আসে, তখন তাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র অর্থ হয়।
ঈমান ও ইসলাম একত্রে আসার উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণ..." [আল-আহযাব: ৩৫]। এবং তাঁর বাণী: "মরুবাসীরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বলুন, তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি" [আল-হুজুরাত: ১৪]। এছাড়াও সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মুমিন হিসেবে দেখছি। তিনি বললেন: অথবা মুসলিম।" এখানে তিনি ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
আর এটিই হলো সঠিক মত যা কুরআন-সুন্নাহর দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত এবং যার মাধ্যমে সকল দলিলের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব। এটিই সেই মত যা লেখক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحث على الاستمرار في طلب العلم والدعوة إليه ونشره بين الناس
السؤال نحن شباب جئنا من دولة لبنان، ولا يخفى عليك حفظك الله حال الإسلام فيها، فبماذا تنصحنا به عند رجوعنا إلى بلدنا بعد الدورة العلمية؟ وهل المجيء إلى هذه البلاد لإقامة الدين يعتبر هجرة أم ماذا؟
الجواب ننصحكم أولاً بالاستمرار في طلب العلم، والاستزادة منه والتبصر والتفقه، والاستمرار في طلب العلم بعد الدورة، وتستطيعون أن تواصلوا طلب العلم عن طريق الشبكة والدروس العلمية التي تنشر، وعن طريق سؤال أهل العلم ومهاتفتهم، وكذلك بقراءة الكتب النافعة، تستمرون ثم بعد ذلك تنشرون هذا العلم بقدر استطاعتكم، وتدعون إلى الله بالحكمة واللين والرفق من حولكم من أهليكم، ومن جيرانكم ومجتمعكم، بالطرق المناسبة التي ترونها كفيلة بإيصال العلم، عن طريق فتح المدارس، وإذا سمح لكم بإقامة الدورات بالدروس على حسب الاستطاعة، لكن أوصيكم بالاستمرار في طلب العلم والاستزادة من طلب العلم.
وأما مجيئكم إلى هذه البلاد فهو مجيء لطلب العلم، وسفر لطلب العلم والرحلة في طلب العلم معروفة عن أهل العلم.
জ্ঞান অর্জনে অবিচল থাকা, এর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান
প্রশ্ন আমরা লেবানন থেকে আগত একদল যুবক। আপনার নিকট সেদেশের ইসলামের বর্তমান অবস্থা অস্পষ্ট নয়—আল্লাহ আপনাকে হিফাজত করুন। এই ইলমি কোর্স শেষে যখন আমরা আমাদের দেশে ফিরে যাব, তখন আপনি আমাদের কী নসিহত করবেন? আর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে এই দেশে আগমন করা কি হিজরত হিসেবে গণ্য হবে, নাকি অন্য কিছু?
উত্তর আমরা আপনাদের প্রথমত জ্ঞান অর্জনে অবিচল থাকার নসিহত করছি, ইলম আরও বৃদ্ধি করার, গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া এবং প্রজ্ঞা অর্জনের নির্দেশ দিচ্ছি। এই কোর্স শেষ হওয়ার পরও ইলম তলব করা অব্যাহত রাখবেন। আপনারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবং ইন্টারনেটে প্রকাশিত ইলমি দরসসমূহের মাধ্যমে ইলম অর্জন চালিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া আহলে ইলমদের (আলেমদের) প্রশ্ন করার ও ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে এবং উপকারী কিতাবসমূহ পড়ার মাধ্যমেও তা চালিয়ে যেতে পারেন। আপনারা অবিচল থাকবেন, এরপর আপনাদের সাধ্যানুযায়ী এই ইলম প্রচার করবেন। আপনাদের পরিবার, প্রতিবেশী এবং সমাজের আশেপাশের মানুষদের হিকমত (প্রজ্ঞা), নম্রতা ও কোমলতার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করবেন। ইলম পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনারা যে পদ্ধতিগুলোকে উপযোগী মনে করেন—যেমন মাদ্রাসা স্থাপন কিংবা যদি সামর্থ্য অনুযায়ী ইলমি কোর্স ও দরস আয়োজনের অনুমতি পাওয়া যায়—সেগুলোর মাধ্যমে প্রচার করবেন। তবে আমি আপনাদের জ্ঞান অর্জনে অবিচল থাকার এবং ইলম আরও বৃদ্ধি করার অসিয়ত করছি।
আর এই দেশে আপনাদের আগমন মূলত ইলম তলবের উদ্দেশ্যেই হয়েছে। এটি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি সফর, আর ইলম অন্বেষণে এ ধরনের সফর আহলে ইলমদের মাঝে অত্যন্ত সুপরিচিত।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৮)
النجاشي لا يدخل في تعريف الصحابي
السؤال هل النجاشي يعد من الصحابة أم من العباد المسلمين؟
الجواب النجاشي لم ير النبي صلى الله عليه وسلم ولم يلقه، وقد سبق تعريف الصحابي: أنه من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً به ومات على الإسلام، وهو ممن أسلم في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وهناك من أسلم في حياة النبي صلى الله عليه وسلم ولم يلقه، فيعده علماء المصطلح من المخضرمين، وحكمه حكم التابعين؛ لأنه لم يلق النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره ولم يجتمع به، فهو من الملوك المؤمنين المسلمين، ولهذا فإن النبي صلى الله عليه وسلم شهد له بالإيمان والأخوة، ولما مات خرج النبي صلى الله عليه وسلم بالصحابة إلى المصلى وصفهم، وقال: (مات أخ لكم في الحبشة) وكبر وصلى عليه، وكبر عليه أربعاً.
নাজাশি সাহাবীর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নন প্রশ্ন নাজাশি কি সাহাবীদের মধ্যে গণ্য হবেন নাকি তিনি কেবল একজন মুসলিম ইবাদতকারী বান্দা হিসেবে গণ্য হবেন?
উত্তর নাজাশি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎও করেননি। ইতিপূর্বে সাহাবীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: সাহাবী হলেন তিনি, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়ন অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন অথচ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাননি, পরিভাষা বিশেষজ্ঞ আলেমগণ তাঁদেরকে ‘মুখাদরামিন’ হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর হুকুম তাবিঈদের হুকুমের পর্যায়ভুক্ত; কেননা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেননি, তাঁকে দেখেননি এবং তাঁর সাথে সমবেত হননি। সুতরাং তিনি মুমিন মুসলিম বাদশাহদের অন্তর্ভুক্ত। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে জানাজার ময়দানে বের হলেন এবং তাঁদের কাতারবদ্ধ করলেন। তিনি বললেন: (হাবশায় তোমাদের এক ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন) এবং তিনি তাকবীর দিলেন ও তাঁর ওপর জানাজার সালাত আদায় করলেন, আর তাঁর ওপর চারটি তাকবীর পাঠ করলেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ৯)
التحذير من الادعاءات الباطلة على علماء أهل السنة ووجوب محاربتها
السؤال وردت ادعاءات في هذا الزمن من بعض المشبوهين تقول: إن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ليست كل أقواله من أقوال أهل السنة، فما رأيكم بذلك؟
الجواب صحيح أن هذه الادعاءات ادعاءات هدامة، وهناك بعض المنحرفين الآن يشككون في كلام أهل العلم وفي كتب أهل العلم، وشككوا في كثير من الكتب، حتى قالوا: إن بعض الكتب نسبتها غير صحيحة، وقالوا: مسألة الإمام أحمد لم تثبت، ورسالة كذا لم تكن للإمام أحمد، ورسالة العقيدة الواسطية لم تكن عن شيخ الإسلام وهكذا، وهم يريدون ألا تثبت هذه الكتب؛ حتى يطعنوا فيها لأنها تخالف معتقدهم الباطل، فهذه ادعاءات هدامة، قصد منها أصحابها التنفير من الأئمة ومن أقوالهم ومن كتبهم.
فنصيحتي لأخواني طلبة العلم أن يعرضوا عن هذه الادعاءات، وأن ينكروها، وأن يحذروا منها، فهي ادعاءات هدامة قصد منها أعداء الإسلام التنفير من الأئمة، ومن العلماء، ومن أقوالهم، ومما قرروه من العقيدة السليمة التي استدلوا عليها بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
আহলে সুন্নাহর আলেমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দাবির ব্যাপারে সতর্কতা এবং তা প্রতিহত করার আবশ্যকতা প্রশ্ন বর্তমান সময়ে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কিছু দাবি উত্থাপিত হয়েছে যে: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সকল বক্তব্য আহলে সুন্নাহর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
উত্তর এটা সত্য যে, এই দাবিগুলো ধ্বংসাত্মক দাবি। বর্তমানে এমন কিছু পথভ্রষ্ট লোক রয়েছে যারা বিজ্ঞ আলেমদের কথা এবং তাঁদের কিতাবসমূহের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করছে। তারা অনেক কিতাবের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছে, এমনকি তারা বলেছে যে: কিছু কিতাবের সম্পৃক্ততা সঠিক নয়। তারা বলেছে: ইমাম আহমাদের মাসআলাসমূহ প্রমাণিত নয়, অমুক রিসালাটি ইমাম আহমাদের নয়, আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ রিসালাটি শাইখুল ইসলাম থেকে বর্ণিত হওয়া প্রমাণিত নয় ইত্যাদি। তারা চায় এই কিতাবগুলো যেন প্রমাণিত না হয়; যাতে তারা এগুলোর সমালোচনা করতে পারে, কারণ এই কিতাবগুলো তাদের ভ্রান্ত আকিদাহর পরিপন্থী। সুতরাং এগুলো ধ্বংসাত্মক দাবি, যার মাধ্যমে এর প্রবক্তারা ইমামগণ, তাঁদের বক্তব্য এবং তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য পোষণ করেছে।
তাই ইলম অন্বেষণকারী আমার ভাইদের প্রতি আমার উপদেশ হলো, তারা যেন এই সকল দাবি থেকে বিমুখ থাকে, এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এগুলো থেকে সতর্ক থাকে। কারণ এগুলো ধ্বংসাত্মক দাবি যার মাধ্যমে ইসলামের শত্রুরা ইমামগণ, আলেম সমাজ, তাঁদের বক্তব্য এবং তাঁরা যে সঠিক আকিদাহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন—যা তাঁরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন—তা থেকে মানুষকে বিমুখ করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছে।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১০)
مكانة الشيخ الألباني
السؤال ما رأيكم فيمن يتكلم في عقيدة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله، ويطعن في إيمانه، ويتهمه بالإرجاء؟
الجواب الشيخ محمد ناصر الدين الألباني من أهل السنة والجماعة، وهؤلاء الذين يطعنون فيه من المغرضين، والشيخ محمد ناصر الدين الألباني محدث له مؤلفات كثيرة في الحديث، وأما آراؤه الفقهية فقد يغلط كغيره، وقد يغلط في بعض المسائل، لكنه في الجملة من أهل السنة والجماعة، وإن كان يغلط في بعض المسائل فيما يتعلق بالإيمان أو غيره، فإنه ليس معصوماً، وكل يؤخذ من قوله ويرد إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
শেখ আলবানী-র মর্যাদা প্রশ্ন শেখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-র আকিদা সম্পর্কে যারা সমালোচনা করে, তাঁর ঈমান নিয়ে কটাক্ষ করে এবং তাঁর ওপর ইরজা-র (মুরজিয়া হওয়ার) অভিযোগ আনে, তাদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
উত্তর শেখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত। যারা তাঁর নিন্দা ও সমালোচনা করে তারা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শেখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী একজন মুহাদ্দিস, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অনেক রচনা রয়েছে। আর তাঁর ফিকহী মতামতের ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের মতোই ভুল করতে পারেন, এবং কিছু মাসআলায় তাঁর ভুল হতে পারে; কিন্তু সামগ্রিকভাবে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতেরই অন্তর্ভুক্ত। ঈমান বা অন্য কোনো বিষয়ে যদি তাঁর কিছু ভুল হয়েও থাকে, তবে তিনি তো আর নির্ভুল (মাসুম) নন; আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ২)
শারহু কিতাবিল ঈমানিল আওসাত লিইবনি তাইমিয়্যাহ - আর রাজেহী
(পৃষ্ঠা: ১১)
درجة حديث ابن عمر في أركان الإسلام
السؤال هل يصح الحديث: (الإسلام: أن تشهد أن لا إله إلا الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتحج البيت)؟
الجواب في حديث ابن عمر الذي رواه الشيخان أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان وحج البيت).
هذا الحديث الذي رواه الشيخان عن ابن عمر.
ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে ইবনে উমরের হাদিসের মান প্রশ্ন এই হাদিসটি কি সহিহ: (ইসলাম হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা)?
উত্তর শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত ইবনে উমরের হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর রাখা হয়েছে: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা)।
এটি সেই হাদিস যা শায়খাইন ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।