(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية ابن مالك للعثيمين القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح ألفية ابن مالك
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 70 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432
উসাইমিন কর্তৃক শারহু আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: শারহু আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
গ্রন্থের উৎস: অডিও দরসসমূহ যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৭০টি পাঠ ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح ألفية ابن مالك [1]علم النحو من العلوم الضرورية للمحافظة على اللغة العربية، ومن أحسن المنظومات المؤلفة فيه ألفية ابن مالك رحمه الله، فإنها جمعت مقاصد النحو وبينت مسائله، فمن تعلمها وأتقنها بلغ الغاية في هذا العلم.
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা [১]আরবি ভাষা সংরক্ষণের জন্য নাহু শাস্ত্র (ব্যাকরণ) একটি অপরিহার্য বিদ্যা। এই বিষয়ে রচিত সর্বোত্তম পদ্যসংকলনগুলোর মধ্যে ইমাম ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আলফিয়্যাহ’ অন্যতম। কেননা এটি নাহু শাস্ত্রের মূল লক্ষ্যসমূহকে একত্রিত করেছে এবং এর মাসআলাসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি অধ্যয়ন করবে এবং এতে পাণ্ডিত্য অর্জন করবে, সে এই বিদ্যায় চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة في فوائد علم النحو ونشأتهقال محمد هو ابن مالك أحمد ربي الله خير مالك مصلياً على النبي المصطفى وآله المستكملين الشرفا وأستعين الله في ألفيه مقاصد النحو بها محويه تقرب الأقصى بلفظ موجز وتبسط البذل بوعد منجز وتقتضي رضا بغير سخط فائقة ألفية ابن معط وهو بسبق حائز تفضيلا مستوجب ثنائي الجميلا والله يقضي بهبات وافره لي وله في درجات الآخره
নাহু শাস্ত্রের উপকারিতা ও এর উদ্ভব বিষয়ক ভূমিকামুহাম্মাদ—যিনি ইবনে মালিক—বলছেন: আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক। সালাত পাঠ করছি মনোনীত নবী এবং তাঁর সেই পরিজনদের প্রতি, যারা পূর্ণ মর্যাদা লাভ করেছেন। আর আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন এক আলফিয়াহ (সহস্রপদ কাব্য) রচনায়, যাতে নাহু শাস্ত্রের লক্ষ্যসমূহ সংকলিত হয়েছে। এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী বিষয়কে নিকটবর্তী করে এবং সুনিশ্চিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে জ্ঞান দানকে সহজতর করে। এটি কোনো বিদ্বেষ ছাড়াই সন্তুষ্টির দাবি রাখে এবং ইবনে মু’তির আলফিয়াহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। তবে অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার। আল্লাহ যেন আখেরাতের উচ্চ স্তরে আমার ও তাঁর জন্য প্রচুর নেয়ামত ও দান মঞ্জুর করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
أهمية علم النحوبسم الله الرحمن الرحيم.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
نبدأ هذه الجلسات في النحو بألفية ابن مالك، وهي وإن كانت منتهى الطلب في النحو، لكن نظراً إلى أنكم والحمد لله قد أخذتم من النحو شيئاً كثيراً جعلناها هي المبتدأ.
والحقيقة أن علم النحو مهم جداً لما فيه من الفوائد الكثيرة.
فمن فوائده تقويم اللسان وتقويم البنان، أي: تقويم اللسان عند النطق، وتقويم البنان عند الكتابة.
والنطق وإن كان الناس يتخاطبون فيما بينهم باللغة العامية فيعذرون؛ لأنك لو أردت أن تخاطب العامي باللغة العربية الفصحى لقال: هذا رجل أعجمي! لأنه لا يفهم اللغة العربية الفصحى إلا من ندر، لكن الكتابة التي يكون بالنحو تقويمها هي المهمة بالنسبة لطلبة العلم؛ لأن بعض الطلبة يكتب ما يكتب من الجواب على الأسئلة أو البحوث فتجد عنده من اللحن ما تكاد تقول: إنه في أول الدراسة، مع أنه قد يأخذ الشهادة العالية بعد شهر أو شهرين، وهذه محنة لما نعيشها اليوم.
وبعض الطلبة إذا تكلم في الحديث أو تكلم في الفقه أو في التفسير وجدت كلامه جيداً، لكن عندما يكتب تجد عنده أخطاء، ربما يقول: باضت الدجاجةَ البيضةُ، فيجعل الدجاجة بيضة للبيضة، وتجد أشياء غريبة.
لهذا أرى أنه يتعين على الطلبة الآن أن يتعلموا النحو وأن يمرنوا ألسنتهم وأقلامهم عليه حتى لا تسوء سمعتهم بين الناس.
ومن فوائد علم النحو: أنه يعين على فهم الكتاب والسنة؛ لأنه يعرف به الفاعل من المفعول به، ويعين على فهم المعنى، فكم من آية اختلف المعنى بإعرابها، فمثلاً قال تعالى: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ} [المائدة:6] أو (وأرجلِكم) فيختلف المعنى باختلاف الإعراب.
{اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ} [النساء:1] أو (والأرحامِ) فيختلف المعنى، فأنت إذا فهمت النحو أعانك على فهم المعنى، حتى تُنَزِّل الآيات والأحاديث على المراد بها.
ومن فوائد علم النحو: إحياء اللغة العربية الفصحى، ولاشك أن إحياء اللغة العربية الفصحى وانتشارها بين الناس يؤدي إلى أن يسهل فهم الكتاب والسنة على كثير من الناس.
وبهذا نعلم أن من قام بنشر اللغة غير العربية بين العامة فقد جنى على نفسه وعلى لغته وعلى من علمه تلك اللغة، نسمع أن من سفهائنا من يعلم صبيانه بدلاً من أن يقول: إذا دخلت على بيت أو على جماعة فقل: السلام عليكم، وإذا أردت أن تنصرف فقل: السلام عليكم؛ يقول: إذا دخلت فقل: باي باي! أو إذا انصرفت فقل: باي باي! سبحان الله! عندك لغة عربية ودعاء بالسلام فتجعل هذا الشيء بدلاً منه؟! فلهذا أقول: إن تعلم اللغة العربية يؤدي إلى سهولة التخاطب بها، والتخاطب بها يعين الإنسان على معرفة الكتاب والسنة.
নাহু শাস্ত্রের গুরুত্বপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।
আমরা নাহু শাস্ত্রের এই মজলিসগুলো ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ দিয়ে শুরু করছি। যদিও এটি নাহু শিক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়, তবুও আপনারা আলহামদুলিল্লাহ নাহু বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেছেন বিধায় আমরা একেই প্রারম্ভিক পাঠ হিসেবে নির্ধারণ করেছি।
প্রকৃতপক্ষে নাহু শাস্ত্র এর বহুবিধ উপকারের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর অন্যতম উপকারিতা হলো জিহ্বা ও হাতের সংশোধন। অর্থাৎ: কথা বলার সময় জিহ্বার সংশোধন এবং লেখার সময় হাতের সংশোধন।
কথোপকথনের ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত নিজেদের মধ্যে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে থাকে, তাই তারা ক্ষমার যোগ্য; কারণ আপনি যদি কোনো সাধারণ মানুষের সাথে শুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলতে চান, তবে সে বলবে: এটি তো একজন অনারব লোক! কারণ বিরল ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণ মানুষ শুদ্ধ আরবি ভাষা বোঝে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য নাহুর মাধ্যমে লেখনী সংশোধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষার উত্তরপত্রে বা গবেষণাপত্রে এমন ব্যাকরণগত ভুল করে যা দেখে মনে হয় সে যেন কেবল শিক্ষা জীবনের শুরুতে আছে, অথচ হয়তো সে এক বা দুই মাস পরেই উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করবে। এটি বর্তমান সময়ের এক চরম বাস্তবতা।
আবার কিছু শিক্ষার্থী যখন হাদিস, ফিকহ বা তাফসির নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের কথা বেশ চমৎকার মনে হয়। কিন্তু যখন তারা লিখতে যায়, তখন তাদের লেখায় ভুল ধরা পড়ে। হয়তো সে লেখে: "ডিমটি মুরগিকে পেড়েছে", ফলে সে মুরগিকে ডিমের অধীনস্থ করে ফেলে; এরকম আরও অদ্ভুত সব বিষয় দেখা যায়।
এজন্য আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন নাহু শেখা এবং এতে তাদের মুখ ও কলমকে অভ্যস্ত করা আবশ্যক, যাতে মানুষের মাঝে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।
নাহু শাস্ত্রের আরেকটি উপকারিতা হলো: এটি কুরআন ও সুন্নাহ বুঝতে সাহায্য করে; কারণ এর মাধ্যমে কর্তা ও কর্মকে আলাদাভাবে চেনা যায়, যা সঠিক অর্থ বুঝতে সহায়ক হয়। কত আয়াত এমন রয়েছে যার অর্থ ব্যাকরণগত অবস্থানের কারণে ভিন্ন হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো (ধৌত করো)} [আল-মায়িদাহ: ৬]। এখানে শব্দভেদে ব্যাকরণগত অবস্থানের কারণে অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
{আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধনকেও (ভয় করো)} [আন-নিসা: ১]। এখানেও ব্যাকরণগত অবস্থানের কারণে অর্থ ভিন্ন হয়। সুতরাং আপনি যদি নাহু বোঝেন, তবে তা আপনাকে অর্থের মর্মার্থ বুঝতে সাহায্য করবে, যাতে আপনি আয়াত ও হাদিসগুলোকে তার সঠিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারেন।
নাহু শাস্ত্রের আরেকটি উপকারিতা হলো: শুদ্ধ আরবি ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করা। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শুদ্ধ আরবি ভাষার পুনর্জাগরণ এবং মানুষের মাঝে এর প্রসার অনেক মানুষের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর মর্ম বোঝা সহজ করে দেয়।
এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, যারা সাধারণ মানুষের মাঝে অনারবি ভাষার প্রচার করে, তারা মূলত নিজের ওপর, নিজের ভাষার ওপর এবং যাকে সে ওই ভাষা শেখাচ্ছে তার ওপর অন্যায় করে। আমরা আমাদের কিছু নির্বোধদের সম্পর্কে শুনি যারা তাদের সন্তানদের শেখায় যে, যখন কোনো ঘরে প্রবেশ করবে বা কোনো মজলিসে যাবে তখন 'আস-সালামু আলাইকুম' বলার পরিবর্তে 'বাই বাই' বলতে, আবার বিদায় নেওয়ার সময়ও 'বাই বাই' বলতে! সুবহানাল্লাহ! আপনার কাছে আরবি ভাষা এবং সালামের মতো দোয়া থাকা সত্ত্বেও আপনি এর পরিবর্তে অন্য কিছু গ্রহণ করছেন?! এজন্যই আমি বলি: আরবি ভাষা শেখা এর মাধ্যমে কথোপকথন সহজ করে দেয়, আর এর মাধ্যমে কথোপকথন মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান লাভে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
نشأة علم النحووعلم النحو إنما احتاج الناس إليه حين بدأ اللسان يختلف، ويقال: إن أول من ابتكره أبو الأسود الدؤلي في زمن علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وذلك حينما دخل على ابنته وهي مضطجعة على فراشها تنظر إلى السماء وإلى المصابيح في الدجى، فقالت: يا أبت، ما أحسنُ السماء؟ فأجابها: نجومها.
لأن قولها: ما أحسنُ السماء، يعني: أي شيء أحسن في السماء؟ فقال: نجومها، وهي لا تريد هذا، إنما تريد أن تتعجب من حسن السماء، فقالت: لست أريد هذا، إنما أريد أن أتعجب من حسنها.
قال: يا بنية! افتحي فاك فقولي: ما أحسنَ السماءَ! لأنها إذا قالت: ما أحسنَ السماء! صارت الجملة جملة تعجب، وهذا هو المراد.
فذهب أبو الأسود الدؤلي إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأخبره الخبر، وكأنه يقول: أدرك الناس لا يفسد لسانهم، فوضع له شيئاً من القواعد وقال له: انح هذا المنحى، فسمي علم النحو.
وعلم النحو وعلم الصرف صنوان يكمل أحدهما الآخر، لكن الناس إلى علم النحو أحوج منهم إلى علم الصرف؛ لأن علم النحو هو الذي تتغير به الكلمات كثيراً، وعلم الصرف تبقى الكلمة على ما هي عليه في اللغة لا تتغير سواء كانت فاعلاً أو مفعولاً أو مجروراً، لكن علم النحو هو الذي يكثر فيه التغيير، ولهذا كانت حاجة الناس إليه أعظم من حاجتهم إلى علم الصرف.
নাহু শাস্ত্রের উৎপত্তিমানুষের যখন ভাষার বিকৃতি শুরু হলো, তখন তাদের নাহু শাস্ত্রের প্রয়োজন দেখা দিল। বলা হয়ে থাকে যে, সর্বপ্রথম আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি এটি উদ্ভাবন করেন। এটি তখন ঘটেছিল যখন তিনি তাঁর কন্যার নিকট প্রবেশ করলেন, সে সময় তাঁর কন্যা বিছানায় হেলান দিয়ে অন্ধকার রাতে আকাশের প্রদীপগুলোর (তারকাদের) দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মেয়েটি বলল: হে বাবা, আকাশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কী? তিনি উত্তর দিলেন: এর তারকাগুলো।
কারণ তার কথা: ‘আকাশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কী?’ এর অর্থ হলো: আকাশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে সুন্দর? তাই তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: এর তারকাগুলো। অথচ মেয়েটি এটি বোঝাতে চায়নি, বরং সে আকাশের সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়েছিল। সে বলল: আমি এটি বোঝাতে চাইনি, বরং আমি এর সৌন্দর্যের ওপর বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়েছি।
তিনি বললেন: হে প্রিয় কন্যা! তোমার মুখ খোলো এবং বলো: ‘আকাশ কতই না সুন্দর!’ কারণ যখন সে এটি বলবে, তখন বাক্যটি বিস্ময়বোধক বাক্যে পরিণত হবে, আর এটাই ছিল কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য।
অতঃপর আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। তিনি যেন বলতে চাইলেন: মানুষের ভাষা বিকৃত হওয়ার আগেই আপনি এর প্রতিকার করুন। তখন তিনি (আলী রা.) তাঁর জন্য কিছু নিয়ম-কানুন লিখে দিলেন এবং তাকে বললেন: এই পথ অনুসরণ করো। আর এভাবেই এর নাম হলো নাহু শাস্ত্র।
নাহু শাস্ত্র এবং সরফ শাস্ত্র হলো সহোদরের মতো, যা একে অপরকে পূর্ণতা দান করে। তবে সরফ শাস্ত্রের তুলনায় মানুষের নাহু শাস্ত্রের প্রয়োজন বেশি; কারণ নাহু শাস্ত্রের মাধ্যমেই শব্দের শেষাংশে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। অন্যদিকে সরফ শাস্ত্রে শব্দটি ভাষায় যে অবস্থায় থাকে সেভাবেই থাকে, চাই তা কর্তা, কর্ম কিংবা মাজরুর (সম্বন্ধ পদ) হোক না কেন, সেখানে শব্দের মূল কাঠামো পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু নাহু শাস্ত্রেই পরিবর্তনের আধিক্য ঘটে, আর এ কারণেই সরফ শাস্ত্রের তুলনায় মানুষের নিকট নাহু শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مدرسة الكوفة ومدرسة البصرة والأرجح منهماوقد كان هذا العلم علماً مستقلاً، وكما نعلم أن الشيء أول ما يخرج يكون ضعيفاً، ثم انتشر بين العلماء وصار له أئمة ومشايخ وأتباع، وصار فيه مناظرات ومجادلات كثيرة، وانقسم العلماء فيه إلى قسمين: علماء الكوفة وزعيمهم الكسائي، وعلماء البصرة وزعيمهم سيبويه، ولكل منهم نظرات في علم النحو، وغالب ما يذهب إليه البصريون التقعيد والحفاظ على القواعد، وأما الكوفيون فهم يتساهلون في هذا الباب، وأنا إلى رأيهم أميل مني إلى رأي البصريين.
فأقول: القاعدة عندي: إذا اختلف الكوفيون والبصريون في مسألة فاتبع الأسهل فإنه أسهل، أي: ليس فيه تعقيد؛ لأن هذا ليس أمراً شرعياً يثبت بالأدلة الشرعية حتى ننظر ونتعب، فمادام هذا جائزاً عند جماعة من العلماء فلنتبعه، وتتبع الرخص في هذا الباب جائز ولا حرج فيه؛ لأن تتبع الرخص في هذا الباب أسهل، وسيمر بنا إن شاء الله تعالى مسائل كثيرة نجد أن البصريين فيها متشددون وأن الكوفيين متساهلون.
وإذا رأيتم أن نقرأ المقدمة -لأن فيها فائدة- فهو حسن.
কুফা ঘরানা ও বসরা ঘরানা এবং এ দুইয়ের মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতএই শাস্ত্রটি ছিল একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র। আর আমরা যেমনটা জানি যে, কোনো বিষয় যখন প্রথম আবির্ভূত হয় তখন তা দুর্বল থাকে; অতঃপর আলেমদের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ইমাম, শাইখ ও অনুসারী তৈরি হয়। এতে অনেক বিতর্ক ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। এই শাস্ত্রে আলেমগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন: কুফার আলেমগণ—যাদের প্রধান ছিলেন কিসায়ী, এবং বসরার আলেমগণ—যাদের প্রধান ছিলেন সিবওয়াইহ। নাহু শাস্ত্র নিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বসরার আলেমগণ সাধারণত নিয়মাবদ্ধ মূলনীতি প্রণয়ন এবং তা কঠোরভাবে পালনের দিকে আগ্রহী; পক্ষান্তরে কুফার আলেমগণ এক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন। আর আমি বসরার আলেমদের মতামতের চেয়ে কুফাবাসীদের মতামতের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকি।
তাই আমি বলি: আমার নিকট মূলনীতি হলো—যখন কোনো মাসয়ালায় কুফাবাসী ও বসরার আলেমগণ মতভেদ করবেন, তখন যেটি সহজ সেটি অনুসরণ করো; কারণ তা অধিকতর সহজ অর্থাৎ এতে কোনো জটিলতা নেই। কেননা এটি এমন কোনো শরয়ী বিষয় নয় যা শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে—যেন আমাদের তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা ও পরিশ্রম করতে হয়। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত একদল আলেমের নিকট এটি বৈধ হবে, ততক্ষণ আমাদের তা অনুসরণ করা উচিত। এই ক্ষেত্রে সহজতা বা অবকাশ অনুসন্ধান করা বৈধ এবং এতে কোনো দোষ নেই; কারণ এই বিষয়ে সহজতা তালাশ করা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমাদের সামনে এমন অনেক মাসয়ালা আসবে যেখানে আমরা দেখতে পাব যে, বসরার আলেমগণ কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং কুফার আলেমগণ শিথিলতা দেখিয়েছেন।
আর আপনারা যদি মনে করেন যে আমাদের ভূমিকাটি পড়া উচিত—যেহেতু এতে উপকারিতা রয়েছে—তবে তা উত্তম হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
التعريف بابن مالك وألفيته
ইবনে মালিক এবং তাঁর আলফিয়্যাহর পরিচিতি
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحياة العلمية في عصر ابن مالك[بسم الله الرحمن الرحيم.
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وآله وسلم، وبعد.
مقدمة: الحالة العلمية في عصر ابن مالك.
يمتاز عصر ابن مالك بكثرة ما ألف فيه من كتب في مختلف العلوم والفنون، ويرجع ذلك إلى ما كان يغدقه الملوك على العلماء من المال، وإلى ما كان للعلماء من المنزلة الرفيعة والتوقير لدى السلاطين والحكام، وإلى ما كان من رغبة بعض هؤلاء الملوك في إنشاء الخزانات الخاصة وحمل العلماء على تأليف الكتب برسمها.
هذا إلى كثرة إنشاء المدارس وإقبال الطلاب عليها، هذه الحالة التي جعلت العلماء ينكبون على التأليف والتدوين حتى كان ما ألفوه أعظم ثروة علمية للغة والدين والآداب.
ولعل كثرة إنشاء المدارس وإقبال الطلاب عليها وتخصيص المدرسين لها؛ لعل ذلك كان سبباً في أن يصبح التعليم صناعة خاصة تحمل العلماء على التفكير في تسهيل العلم على طلابه، وتيسير السبيل عليهم للإحاطة بشوارده، ولعله كان سبباً في أَنْ أكثرَ العلماءُ من نظم العلوم المختلفة، بل من نظم المنظومات المختلفة في العلم الواحد، فإنه من الثابت أن النظم أسرع في الحفظ وأبقى في الذهن من النثر.
وإذا علمت أن ابن مالك أندلسي المولد والنشأة، وأن أهل الأندلس إذ ذاك أشد أهل الأرض حباً للعلم وتفانياً في تحصيله وتوقيراً لأهله، وأن ابن مالك ميال بطبعه إلى النظم فلم يكن يعاني في قوله مشقة، ولا يصادفه في إنشائه عنت؛ إذا عرفت ذلك أمكنك أن تدرك السر فيما وصل إليه ابن مالك من العلم والفضل].
ইবনে মালিকের যুগে ইলমি জীবন[পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর।
ভূমিকা: ইবনে মালিকের যুগে ইলমি অবস্থা।
ইবনে মালিকের যুগটি বিভিন্ন ইলম ও শিল্পকলায় রচিত গ্রন্থরাজির প্রাচুর্যের কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর কারণ ছিল সেই ধন-সম্পদ যা রাজন্যবর্গ আলেমদের ওপর অকাতরে ব্যয় করতেন, এবং সুলতান ও শাসকদের নিকট আলেমদের সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মান। এছাড়া কিছু রাজার নিজস্ব গ্রন্থাগার তৈরির আকাঙ্ক্ষা এবং আলেমদেরকে তাঁদের নামে গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করাও এর অন্যতম কারণ ছিল।
এর সাথে যুক্ত হয়েছিল প্রচুর পরিমাণে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলোতে ছাত্রদের ব্যাপক পদচারণা। এই পরিস্থিতি আলেমদেরকে গ্রন্থ রচনা ও সংকলনে একনিষ্ঠ হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার ফলে তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহ ভাষা, ধর্ম ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ইলমি সম্পদে পরিণত হয়েছিল।
সম্ভবত মাদ্রাসাসমূহের প্রাচুর্য, ছাত্রদের ব্যাপক আগ্রহ এবং সেখানে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিই শিক্ষাদানকে একটি বিশেষ শিল্পে রূপান্তরের কারণ ছিল, যা আলেমদেরকে ছাত্রদের জন্য ইলম সহজ করার এবং দুর্লভ বিষয়গুলো আয়ত্ত করার পথ সুগম করার কথা ভাবতে প্ররোচিত করেছিল। আর সম্ভবত এটিই আলেমদের বিভিন্ন ইলমকে পদ্যে রূপান্তর করার, এমনকি একটি বিষয়ের ওপরই বিভিন্ন কবিতা বা মানজুমা রচনার আধিক্যের কারণ ছিল। কেননা এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, গদ্যের তুলনায় পদ্য মুখস্থ করা দ্রুততর এবং তা স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
যখন আপনি জানবেন যে, ইবনে মালিক জন্ম ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে আন্দালুসি ছিলেন, আর তৎকালীন সময়ে আন্দালুসবাসী ছিল পৃথিবীর মধ্যে ইলমের প্রতি সর্বাধিক অনুরাগী, ইলম অর্জনে আত্মনিবেদিত এবং আহলে ইলমদের প্রতি অতীব শ্রদ্ধাশীল; আর ইবনে মালিক প্রকৃতিগতভাবেই কাব্যচর্চার প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ফলে কাব্য রচনায় তাঁকে কোনো কষ্টের সম্মুখীন হতে হতো না এবং কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো না; যখন আপনি এসব জানতে পারবেন, তখন ইবনে মালিকের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের এই সুউচ্চ শিখরে পৌঁছানোর রহস্য অনুধাবন করতে পারবেন।]
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
ترجمة ابن مالك ناظم الألفية[هو الإمام أبو عبد الله محمد جمال الدين بن عبد الله بن مالك الطائي نسباً الجياني منشأً الدمشقي إقامة ووفاة الشافعي النحوي.
ولد رحمه الله سنة (600هـ) بجيان إحدى مدن الأندلس، ثم رحل إلى دمشق واستزاد فيها من العلم، وأقام بها مدة يصنف ويشتغل بالتعليم حتى أدركته منيته لاثنتي عشرة خلت من شعبان سنة (672هـ.
আলফিয়ার রচয়িতা ইবনে মালিকের জীবনী[তিনি হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জামালুদ্দীন বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক, বংশগতভাবে আত-তাই, জন্মগতভাবে আল-জাইয়ানি, বসবাস ও মৃত্যুর বিচারে আদ-দিমাশকি, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এবং একজন নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৬০০ হিজরি সনে আন্দালুসের অন্যতম শহর জাইয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানে অধিক ইলম অর্জন করেন। সেখানে তিনি গ্রন্থ রচনা ও শিক্ষাদানের কাজে একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, অবশেষে ৬৭২ হিজরি সনের ১২ই শাবান তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
مشايخ ابن مالك[مشايخه: ابتدأ ابن مالك حياته بالأندلس، فأخذ عن شيوخه ما أخذ، وكانت دمشق مركزاً علمياً يحج وتضرب إليه آباط الإبل].
قوله: (يحج) يعني: يقصد، فالحج هنا يراد به المعنى اللغوي.
[فسمت بـ ابن مالك همته إلى ورود منابعها الصافية، فرحل إليها وأخذ عن أئمتها، وكان من مشايخه فيها وفي الأندلس مكرم وأبو صادق الحسن بن صباح، وأبو الحسن السخاوي.
وممن أخذ عنهم العربية بجيان: أبو المظفر ثابت بن محمد بن يوسف بن خياط الكلاعي من أهل لبلبة، وقرأ كتاب سيبويه على أبي عبد الله بن مالك المرشاني.
ومن مشايخه أيضاً: ابن يعيش شارح المفصل، وتلميذه ابن عمران، وتلميذه ابن عمرون، ويقال إنه جلس عند أبي علي الشلوبين بضعة عشر يوماً، ونقل التبريزي في أواخر شرح الحاجبية أنه جلس في حلقة ابن الحاجب واستفاد منه، وأخذ القراءة عن أبي العداس أحمد بن نوار وأتقنها حتى صار إماماً فيها، وصنف فيها قصيدة دالية مرموزة في قدر الشاطبية.
ইবন মালিকের শাইখগণ[তাঁর শাইখগণ: ইবন মালিক আন্দালুসে তাঁর জীবন শুরু করেন এবং সেখানকার শাইখদের নিকট থেকে যা অর্জন করার তা অর্জন করেন। দামেস্ক ছিল ইলমের এমন এক কেন্দ্র যেখানে ইলম পিপাসুরা সমবেত হতো এবং দূর-দূরান্ত থেকে উট চালিত করে সেখানে সফর করে আসত।]
তাঁর উক্তি: (হজ্জ করেন) অর্থাৎ: উদ্দেশ্য করেন; সুতরাং এখানে 'হজ্জ' শব্দটি তার শাব্দিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
[ইবন মালিকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে ইলমের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারায় অবগাহন করতে উদ্বুদ্ধ করল, ফলে তিনি সেখানে পাড়ি জমান এবং সেখানকার ইমামদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। সেখানে এবং আন্দালুসে তাঁর শাইখদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুকররাম, আবু সাদিক আল-হাসান ইবন সাবাহ এবং আবু আল-হাসান আস-সাখাওয়ী।
জায়্যানে যাদের নিকট তিনি আরবি ভাষা শিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: লাবলা নিবাসী আবু আল-মুজাফফর সাবিত ইবন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন খাইয়াত আল-কালা'য়ী। তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবন মালিক আল-মুরশানী-এর নিকট সিবাওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেন।
তাঁর শাইখদের মধ্যে আরও ছিলেন: 'আল-মুফাসসাল'-এর ব্যাখ্যাকার ইবন ইয়াঈশ, তাঁর ছাত্র ইবন ইমরান এবং তাঁর ছাত্র ইবন আমরূন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আবু আলী আশ-শালুবীন-এর মজলিসে দশ দিনের কিছু বেশি সময় অতিবাহিত করেছিলেন। আত-তাবরিজী 'শারহুল হাজিবিয়াহ'-এর শেষ দিকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন মালিক ইবনুল হাজিব-এর ইলমি হালকায় উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি আবু আল-আদাস আহমদ ইবন নাওয়ার-এর নিকট ক্বিরাত শিক্ষা করেন এবং তাতে পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেন, এমনকি তিনি এই শাস্ত্রে ইমামে পরিণত হন। তিনি এই বিষয়ে 'আশ-শাতিবিয়্যাহ'-এর দৈর্ঘ্যের অনুরূপ একটি সাংকেতিক 'দালিয়া' কাসিদা রচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
تلاميذ ابن مالك[تلاميذه: وتخرج به جماعة منهم الإمام النووي، وروى عنه ولده بدر الدين محمد وشمس الدين بن جعوان، وشمس الدين بن أبي الفتاح، وابن العطار، وزين الدين أبو بكر المزي، والشيخ أبو الحسين اليويني شيخ المؤرخ الذهبي، وأبو عبد الله الصيرفي، وقاضي القضاة بدر الدين بن جماعة، وشهاب الدين بن غانم وناصر الدين بن شافع، وخلق سواهم.
وروى عنه الألفية شهاب الدين محمود، ورواها الصفدي خليل عن شهاب الدين محمود قراءة، ورواها إجازة عن ناصر الدين شافع بن عبد الظاهر، وعن شهاب الدين بن غانم بالإجازة عنهما عنه].
ইবনে মালিকের ছাত্রগণ[তাঁর ছাত্রগণ: তাঁর নিকট একদল ছাত্র শিক্ষা লাভ করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম নববী। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন মুহাম্মদ, শামসুদ্দীন ইবন জা’ওয়ান, শামসুদ্দীন ইবন আবিল ফাত্তাহ, ইবনুল আত্তার, যাইনুদ্দীন আবু বকর আল-মিযযী, শায়খ আবুল হুসাইন আল-ইউনী—যিনি ঐতিহাসিক যাহাবীর শায়খ ছিলেন—আবু আব্দুল্লাহ আল-সাইরাফী, প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দীন ইবন জামা’আহ, শিহাবুদ্দীন ইবন গানিম, নাসিরুদ্দীন ইবন শাফি’ এবং আরও অনেকে।
তাঁর নিকট থেকে আলফিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন শিহাবুদ্দীন মাহমুদ। আস-সাফাদী খলীল এটি পাঠের মাধ্যমে শিহাবুদ্দীন মাহমুদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি নাসিরুদ্দীন শাফি’ ইবন আব্দুল যাহির ও শিহাবুদ্দীন ইবন গানিমের নিকট থেকে ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা দুজনেই এটি তাঁর (ইবনে মালিকের) নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।]
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
أخلاق ابن مالك[أخلاقه: كان على جانب عظيم من الدين والعبادة وكثرة النوافل وحسن السمت، وكمال العقل والعفة.
ومن مظاهر إخلاصه لله في عمله ما قيل من أنه كان يخرج على باب مدرسته ويقول: هل من راغب في علم الحديث أو التفسير أو كذا أو كذا، قد أخلصتها من ذمتي، فإذ لم يجد قال: خرجت من آفة الكتمان.
وكان سليم الخلال رزيناً حيياً وقوراً، جم التواضع على كثرة علمه، شغوفاً بالإفادة شديد الحرص على العلم والتعليم.
كان إماماً فذاً في علوم العربية، فقد صرف همته إلى إتقان لسان العرب حتى بلغ فيه الغاية وأربى على المتقدمين، وكان إليه المنتهى في اللغة، وكان في النحو والتصريف البحر الزاخر والطود الشامخ حتى كانت شهرته على الخصوص بهما، وجل تأليفه فيهما.
ومن رسوخ قدمه في النحو أنه كان يقول عن ابن الحاجب وهو أحد أئمة العربية: إنه أخذ نحوه عن صاحب المفصل وصاحب المفصل نحوي صغير.
وإذا علمت أنه يقول هذا في حق الزمخشري وهو إمام عصره في اللغة والنحو والبيان والتفسير والحديث، وكانت تشد إليه الرحال في كل فن منها؛ إذا علمت هذا علمت مقدار علم ابن مالك وفضله.
وكان في الحديث واسع الاطلاع، وكان أكثر ما يستشهد بالقرآن، فإذ لم يكن فيه شاهد عدل إلى الحديث، وإن لم يكن فيه شاهد عدل إلى أشعار العرب، وقد اعترف له فضلاء زمانه بالتقدم والفضل، فكان إماماً في العادلية، وكان إذا صلى فيها يشيعه قاضي القضاة شمس الدين بن خلكان إلى بيته تعظيماً له].
ইবনে মালিকের চরিত্র[চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য: তিনি দ্বীনদারী, ইবাদত, নফল ইবাদতের আধিক্য, উত্তম স্বভাব, এবং পূর্ণ বুদ্ধিমত্তা ও পবিত্রতার এক মহান স্তরে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তাঁর কর্মের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি তাঁর ইখলাসের অন্যতম নিদর্শন ছিল এই যে, বর্ণিত আছে তিনি তাঁর মাদ্রাসার দরজায় বেরিয়ে আসতেন এবং বলতেন: "হাদীস শাস্ত্র, তাফসীর অথবা অমুক অমুক বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী কি কেউ আছে? আমি তা শিখিয়ে আমার জিম্মাদারি মুক্ত করলাম।" অতঃপর যখন কাউকে খুঁজে পেতেন না, তখন বলতেন: "আমি ইলম গোপন করার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হলাম।"
তিনি ছিলেন পরিচ্ছন্ন চরিত্রের অধিকারী, ধীরস্থির, লজ্জাশীল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ। অগাধ ইলমের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, অন্যকে উপকৃত করার জন্য উন্মুখ এবং ইলম অর্জন ও শিক্ষাদানের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী।
তিনি আরবি ভাষা বিজ্ঞানে এক অনন্য ইমাম ছিলেন। তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনে তাঁর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন, এমনকি এই বিদ্যায় তিনি চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং পূর্বসূরীদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। ভাষা বিজ্ঞানে তিনিই ছিলেন শেষ আশ্রয়স্থল। নাহু ও সরফ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এক উত্তাল সমুদ্র এবং সুউচ্চ পর্বত সদৃশ, এমনকি মূলত এই দুই বিষয়ের মাধ্যমেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর অধিকাংশ রচনাও ছিল এই বিষয়ক।
নাহু শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের অন্যতম প্রমাণ হলো যে, তিনি ইবনুল হাজিব সম্পর্কে—যিনি আরবি ভাষার অন্যতম ইমাম—বলতেন: "তিনি তাঁর নাহু শাস্ত্র মুফাসসাল প্রণেতার (যামাখশারী) নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, আর মুফাসসাল প্রণেতা তো একজন নগণ্য ব্যাকরণবিদ।"
যখন আপনি জানবেন যে তিনি এই মন্তব্য যামাখশারীর সম্পর্কে করছেন, যিনি ভাষা, নাহু, অলঙ্কারশাস্ত্র, তাফসীর ও হাদীসে তাঁর যুগের ইমাম ছিলেন এবং প্রতিটি শিল্পেই যাঁর নিকট জ্ঞান অন্বেষণকারীরা সফর করে আসতেন; তখন আপনি ইবনে মালিকের ইলমের গভীরতা ও তাঁর মর্যাদার পরিধি অনুধাবন করতে পারবেন।
হাদীস শাস্ত্রে তিনি ছিলেন বিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী। তিনি সবচেয়ে বেশি কুরআন থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতেন। যদি কুরআনে কোনো প্রমাণ না পেতেন, তবে হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। আর যদি হাদীসেও কোনো প্রমাণ না পেতেন, তবে আরবদের কবিতার আশ্রয় নিতেন। তাঁর সমকালীন গুণীজনরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তিনি আদেলিয়া মাদ্রাসার ইমাম ছিলেন। যখন তিনি সেখানে সালাত আদায় করতেন, তখন প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দীন ইবনে খাল্লিকান তাঁকে সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতেন।]
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
مؤلفات ابن مالك[مؤلفاته: ألف ابن مالك كتباً كثيرة: منها: ألفية ابن مالك، وسماها الخلاصة، وإنما اشتهرت بالألفية لأنها ألف بيت، جمع فيها مقاصد العربية من نحو وصرف.
ثانياً: تسهيل الفوائد وتمهيد المقاصد.
وهو مختصر كتاب له اسمه: كتاب الفوائد في النحو.
ثالثاً: لامية الأفعال، أو كتاب المفتاح في أبنية الأفعال، ويقال لها لامية ابن مالك.
رابعاً: الكافية الشافية، وهي أرجوزة في النحو في ألفين وسبعمائة وسبعة وخمسين بيتاً، ومنها لخص ألفيته هذه.
خامساً: عدة الحافظ وعمدة اللافظ في النحو.
سادساً: سبك المنظوم وفك المختوم في النحو.
سابعاً: إيجاز التعريف في علم التصريف.
ثامناً: شواهد التوضيح وتصحيح مشكلات الجامع الصحيح.
تاسعاً: كتاب العروض.
عاشراً: تحفة المودود في المقصور والممدود.
وهي قصيدة همزية جمع فيها الألفاظ التي آخرها ألف تشتبه أن تكون مقصورة أو ممدوة.
الحادي عشر: الألفاظ المختلفة، مجموع مترادفات.
الثاني عشر: الاعتضاد في الفرق بين الصاد والضاد، قصيدة مشروحة.
الثالث عشر: الإعلام بمثلث الكلام.
أرجوزة في نحو ثلاثة آلاف بيت، ذكر فيها الألفاظ التي لكل منها ثلاثة معان باختلاف حركاتها، ورتب تلك الألفاظ على الأبجدية، فهي كالمعجم للمثلثات].
ইবনে মালিকের রচনাসমূহ[তাঁর রচনাসমূহ: ইবনে মালিক বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন: এর মধ্যে রয়েছে: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, যার নামকরণ তিনি করেছিলেন আল-খুলাসাহ। এটি আলফিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে কারণ এটি এক হাজার পঙক্তির কবিতা, যাতে তিনি নাহু (বাক্যতত্ত্ব) ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রের আরবির উদ্দেশ্যসমূহ একত্রিত করেছেন।
দ্বিতীয়ত: তাসশিলুল ফাওয়ায়িদ ওয়া তামহীদুল মাকাসিদ।
এটি তাঁর 'কিতাবুল ফাওয়ায়িদ ফিন নাহু' নামক গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
তৃতীয়ত: লামিয়াতুল আফআল, অথবা কিতাবুল মিফতাহ ফি আবনিয়াতিল আফআল, যাকে ইবনে মালিকের লামিয়াহও বলা হয়।
চতুর্থত: আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়াহ, এটি নাহু শাস্ত্রের একটি আরজুযা (বিশেষ ছন্দের কবিতা) যা দুই হাজার সাতশত সাতান্ন পঙক্তি বিশিষ্ট। এখান থেকেই তিনি তাঁর এই আলফিয়্যাহর সারসংক্ষেপ করেছেন।
পঞ্চমত: ইদ্দাতুল হাফিজ ওয়া উমদাতুল লাফিজ ফিন নাহু।
ষষ্ঠত: সাবকুল মানজুম ওয়া ফাক্কুল মাখতুম ফিন নাহু।
সপ্তমত: ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ।
অষ্টমত: শাওয়াহিদুল তাওজিহ ওয়া তাসহিহু মুশকিলাতিল জামিয়িস সহিহ।
নবমত: কিতাবুল আরূয।
দশমত: তুহফাতুল মওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ।
এটি একটি হামযিয়্যাহ কাসিদা (কবিতা), যাতে তিনি এমন সব শব্দ একত্রিত করেছেন যার শেষে আলিফ রয়েছে এবং যা মাকসুর নাকি মামদুদ তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
একাদশ: আল-আলফাজুল মুখতালিফাহ, এটি সমার্থক শব্দের সংকলন।
দ্বাদশ: আল-ইতিযাদ ফিল ফারকি বাইনাস সাদ ওয়াদ দাদ, এটি একটি ব্যাখ্যাসংবলিত কবিতা।
ত্রয়োদশ: আল-ইলাম বি-মুসাল্লাসিল কালাম।
এটি প্রায় তিন হাজার পঙক্তির একটি আরজুযা, যাতে তিনি এমন সব শব্দ উল্লেখ করেছেন যার প্রত্যেকটির স্বরচিহ্নের (হরকত) ভিন্নতার কারণে তিনটি করে অর্থ হয়। তিনি এই শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন, ফলে এটি মুসাল্লাসের (তিন অর্থবোধক শব্দ) অভিধান সদৃশ]।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكلام على الألفية[الألفية: تقدم ابن مالك في عمل ألفية نحوية ابن معط، ثم جاء ابن مالك فنظم ألفيته هذه، وفيها يقول: فائقة ألفية ابن معط.
وتمتاز ألفية ابن مالك عن ألفية ابن معط بأنها من بحر واحد هو كامل الرجز، وتلك من السريع والرجز، وأنها أكثر أحكاماً منها.
وللجلال السيوطي ألفية زاد فيها على هذه كثيراً، وقال في أولها: فائقة ألفية ابن مالك].
لكن السيوطي رحمه الله يقول: فائقة ألفية ابن مالك لكونها واضحة المسالك وليست أوضح من ألفية ابن مالك، فهي لا تكاد يفهم منها شيء.
وللأجهوري المالكي ألفية زاد فيها على السيوطي وقال: فائقة ألفية السيوطي.
والذي نستطيع أن نقوله: إن ألفية ابن مالك هي التي كتب لها البقاء وعم الانتفاع بها، فهي مراد لكل مريد للعربية، وهي التي تناولها كثير من العلماء بالشرح والتبسيط والتوضيح.
আলফিয়্যাহ সম্পর্কে আলোচনা[আলফিয়্যাহ: ইবনে মালিকের পূর্বে ইবনে মু'তি নাহু শাস্ত্রের একটি আলফিয়্যাহ (সহস্র পঙক্তির কবিতা) রচনা করেছিলেন। অতঃপর ইবনে মালিক এসে তাঁর এই আলফিয়্যাহটি সংকলন করেন এবং এতে তিনি বলেন: এটি ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহ থেকে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর বৈশিষ্ট্য হলো এটি একক ছন্দ তথা পূর্ণাঙ্গ ‘রজয’ ছন্দে রচিত, পক্ষান্তরে সেটি ‘সারী’ ও ‘রজয’ ছন্দের মিশ্রণ ছিল; আর এটি অধিকতর বিধি-বিধান সমৃদ্ধ।
জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.)-এর একটি আলফিয়্যাহ রয়েছে যাতে তিনি এতে অনেক কিছু বৃদ্ধি করেছেন এবং এর শুরুতে বলেছেন: এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর]।
কিন্তু সুয়ূতী (রহ.) বলেন: এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কারণ এর পথসমূহ স্পষ্ট; অথচ এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট নয়, বরং এটি থেকে প্রায় কিছুই বোঝা যায় না।
আল-আজহুরী আল-মালিকীর একটি আলফিয়্যাহ রয়েছে যাতে তিনি সুয়ূতীর আলফিয়্যাহর ওপর সংযোজন করেছেন এবং বলেছেন: এটি সুয়ূতীর আলফিয়্যাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
আমরা যা বলতে পারি তা হলো: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহই সেই কিতাব যার জন্য স্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছে এবং যার উপকারিতা ব্যাপক হয়েছে। এটি আরবি ভাষা শিখতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের লক্ষ্যস্থল, এবং এটিকেই অনেক আলিম ব্যাখ্যা, সহজীকরণ এবং বিশদ আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شراح الألفية[شراح الألفية: حازت ألفية ابن مالك عناية الكثيرين من أئمة النحو، فتناولوها بالشرح والتفسير، ومن شراحها المؤلف وابنه بدر الدين محمد وبرهان الدين إبراهيم الأبناسي الهاشمي، وبهاء الدين بن عقيل، والشيخ عبد الله الأودكاوي وبدر الدين الحسن المصري المعروف بـ ابن أم قاسم، ونور الدين أبو الحسن الأشمورني، والمختار بن بونه، وزين الدين عبد الرحمن المعروف بـ العيني، وأبو زيد عبد الرحمن المكودي، وأبو محمد القاسم الرعيني الأندلسي، وشمس الدين أبو عبد الله الهواري الأندلسي وغيرهم].
وأكثر شروحها ذيوعاً وانتشاراً شرح ابن عقيل وشرح الأشموني.
أما أوضح المسالك فليس بشرح؛ لأنه لا يذكر الأبيات ويشرحها.
قرأنا المقدمة، وكان مما مر علينا أن من تلاميذ ابن مالك النووي رحمه الله، وقد ذكر بعض العلماء أن قول ابن مالك في باب المبتدأ والخبر: (ورجل من الكرام عندنا) يقصد به النووي، وذكر النووي رحمه الله في باب صفة الصلاة عند الكلام على حكم الكلام في الصلاة؛ ذكر ابن مالك ووصفه بأنه: (شيخنا الذي انتهت إليه في عصرنا الإمامة في اللغة العربية) فأثنى عليه كثيراً، وهذه شهادة من النووي رحمه الله لـ ابن مالك.
আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকারগণ[আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকারগণ: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ নাহু শাস্ত্রের বহু ইমামের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, ফলে তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। এর ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে রয়েছেন গ্রন্থকার নিজে এবং তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন মুহাম্মদ, বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম আল-আবনাসী আল-হাশিমী, বাহাউদ্দীন বিন আকীল, শাইখ আবদুল্লাহ আল-আওদাকাভী, বদরুদ্দীন আল-হাসান আল-মিসরী—যিনি ইবনে উম্মে কাসিম নামে পরিচিত, নূরুদ্দীন আবুল হাসান আল-আশমুনী, আল-মুখতার বিন বুনাহ, যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান—যিনি আল-আইনী নামে পরিচিত, আবু যায়েদ আবদুর রহমান আল-মাকুদী, আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম আর-রুআইনী আল-আন্দালুসী, শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ আল-হাওয়ারী আল-আন্দালুসী এবং আরও অনেকে।]
এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে ইবনে আকীল ও আশমুনীর ব্যাখ্যাই সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি ও প্রসার লাভ করেছে।
পক্ষান্তরে ‘আওদাহুল মাসালিক’ কোনো শরহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়; কারণ এতে কবিতার পঙ্ক্তিগুলো উল্লেখ করে তার ব্যাখ্যা করা হয়নি।
আমরা ভূমিকাটি পড়েছি, আর সেখানে আমাদের সামনে যে বিষয়টি এসেছে তা হলো—ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন ইবনে মালিকের ছাত্রদের অন্যতম। কোনো কোনো আলিম উল্লেখ করেছেন যে, ‘মুবতাদা ও খবর’ অধ্যায়ে ইবনে মালিকের উক্তি: (আমাদের নিকট সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি আছেন)—এর মাধ্যমে তিনি ইমাম নববীকেই বুঝিয়েছেন। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘নামাযের পদ্ধতি’ অধ্যায়ে নামাযের মধ্যে কথা বলার বিধান আলোচনার সময় ইবনে মালিকের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে: (তিনি আমাদের এমন একজন শাইখ, যার নিকট বর্তমান যুগে আরবি ভাষার ইমামত বা নেতৃত্ব এসে পৌঁছেছে/পূর্ণতা লাভ করেছে)। এভাবে তিনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এটি ইবনে মালিকের জন্য ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে এক বিশাল স্বীকৃতি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تعريف علم النحو وحكم تعلمهيقول: (قال محمد هو ابن مالك إلى آخره).
أولاً: لابد أن نعرف علم النحو، وهو: علم يعرف به أحوال أواخر الكلم من حيث الإعراب والبناء.
وحكم تعلمه: أنه فرض كفاية.
وهو مهم ولاسيما في عصرنا هذا، حيث إن الكثير من الطلبة لا يفهمون عن الإعراب شيئاً.
وعلم النحو سهل صعب، فهو في ابتدائه صعب، لكن الإنسان إذا فهم قواعده صار سهلاً ويسيراً عليه، ولهذا يقال: إن النحو سهل لكن بابه حديد، إذا دخلت من هذا الباب فلن يبقى أمامك شيء يشق عليك، لكن ادخل الباب ولا تيأس فهو سهل.
ثم إنه مما يسهل النحو أن الإنسان يجد التمارين فيه في كل ما ينطق به، فكل كلمة أو جملة تقولها أو تسمعها أو تقرؤها فهي تمرين على النحو، فهو لا يحتاج إلى تكلف أمثلة وصعوبة، ولهذا لا يكون صعباً على من أراده بجد.
নাহু শাস্ত্রের সংজ্ঞা এবং এটি শেখার বিধানতিনি বলছেন: (মুহাম্মাদ বলছেন, তিনি হলেন ইবনে মালিক, শেষ পর্যন্ত)।
প্রথমত: আমাদের অবশ্যই নাহু শাস্ত্র সম্পর্কে জানতে হবে, আর তা হলো: এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে শব্দসমূহের শেষভাগের অবস্থা জানা যায়—ই’রাব (রূপান্তরশীলতা) এবং বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) এর প্রেক্ষিত থেকে।
এটি শেখার বিধান: এটি ফরজে কিফায়া।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে, কেননা অনেক শিক্ষার্থীই ই’রাব সম্পর্কে কিছুই বোঝে না।
নাহু শাস্ত্র হলো সহজ-কঠিন; অর্থাৎ শুরুতে এটি কঠিন মনে হয়, কিন্তু মানুষ যখন এর নিয়মাবলি বুঝে নেয়, তখন এটি তার নিকট সহজ ও সাবলীল হয়ে যায়। এজন্যই বলা হয়: নাহু সহজ, কিন্তু এর প্রবেশদ্বারটি লোহার। আপনি যদি এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন, তবে আপনার সামনে এমন কিছু অবশিষ্ট থাকবে না যা আপনার জন্য কষ্টসাধ্য হবে। সুতরাং, এই দরজায় প্রবেশ করুন এবং হতাশ হবেন না, কেননা এটি সহজ।
অধিকন্তু, নাহু সহজ হওয়ার একটি কারণ হলো, মানুষ যা কিছু উচ্চারণ করে তার মধ্যেই এর অনুশীলনী খুঁজে পায়। আপনার বলা, শোনা বা পড়া প্রতিটি শব্দ বা বাক্যই নাহুর একেকটি অনুশীলন। তাই এর জন্য কৃত্রিম উদাহরণ বা বাড়তি কষ্টের প্রয়োজন হয় না। একারণেই যারা নিষ্ঠার সাথে এটি শিখতে চায়, তাদের জন্য এটি কঠিন হয় না।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
شرح مقدمة الألفية
আলফিয়্যাহর ভূমিকার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من هو ابن مالك[قال محمد هو ابن مالك أحمد ربي الله خير مالك] (قال محمد) القول لابد له من قائل ومقول، فالقائل هنا صرح به المؤلف: (قال محمد)، والمقول هو الألفية كلها، ولهذا نقول في الإعراب: قال: فعل ماض.
ومحمد: فاعل، وجملة (أحمد ربي إلى آخر الكتاب وهو قوله: وآله الغرام الكرام البرره وصحبه المنتخبين الخيره).
كل هذه جملة واحدة تعتبر مقول القول في محل نصب.
وقوله: (هو ابن مالك) الجملة تفسير أو في محل نصب على الحال، أي: مبيناً أنه ابن مالك، ومالك هو اسم جده، لكنه اشتهر به، واسم أبيه عبد الله، ويجوز للإنسان أن ينتسب إلى من اشتهر به مع العلم بأبيه الأدنى، كما قال النبي عليه الصلاة والسلام في غزوة ثقيف (أنا النبي لا كذب، أنا ابن عبد المطلب) لأن عبد المطلب أشهر من ابنه عبد الله، فهنا ابن مالك اشتهر بهذا الاسم محمد بن مالك وإلا فهو محمد بن عبد الله.
ইবনে মালিক কে?[মুহাম্মদ বললেন, তিনি হলেন ইবনে মালিক; আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি সর্বোত্তম মালিক] (মুহাম্মদ বললেন) কোনো কথার জন্য একজন বক্তা এবং একটি বক্তব্য থাকা আবশ্যক। এখানে বক্তাকে লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: (মুহাম্মদ বললেন), আর বক্তব্য হলো পুরো আলফিয়্যাহ। এই কারণে আমরা ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে বলি: 'বললেন' শব্দটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া।
আর 'মুহাম্মদ' হলো কর্তা। এবং 'আমি আমার প্রতিপালকের প্রশংসা করি' বাক্যটি থেকে শুরু করে বইয়ের শেষ পর্যন্ত—যা হলো তাঁর কথা: (এবং তাঁর সম্মানিত ও পুণ্যবান পরিবার এবং তাঁর মনোনীত ও উত্তম সাহাবীদের প্রতি)।
এই সবটুকুই একটি বাক্য হিসেবে গণ্য হয় যা নসব-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে 'বক্তব্য' হিসেবে বিবেচিত।
এবং তাঁর কথা: (তিনি হলেন ইবনে মালিক) এই বাক্যটি একটি ব্যাখ্যা অথবা অবস্থা হিসেবে নসব-এর স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি স্পষ্ট করছে যে তিনি ইবনে মালিক। মালিক মূলত তাঁর দাদার নাম, তবে তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ। কোনো ব্যক্তি তার নিকটতম পিতার নাম জানা থাকা সত্ত্বেও যার নামে সে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তার দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারে। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাকিফ যুদ্ধে বলেছিলেন, 'আমি নবী, কোনো মিথ্যা নয়; আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান'। কারণ আবদুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। তাই এখানে ইবনে মালিক এই নামেই অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে মালিক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, নতুবা তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
معنى الحمدلةقوله: (أحمد ربي الله خير مالك): أحمد: فعل مضارع يدل على التجدد؛ لأن الحمد فعل يحدثه الإنسان بلسانه.
والحمد: هو وصف المحمود بالكمال مع المحبة والتعظيم.
فقولنا: (وصف المحمود بالكمال) خرج به الذم الذي هو مقابل المدح.
وقولنا: (مع المحبة والتعظيم) خرج به المدح؛ لأن المدح قد يقترن به حب التعظيم وقد لا يقترن به، فمن مدح ملكاً من الملوك لينال منه جائزة فإن هذا لا يكون حمداً إلا إذا كان في قلب المادح حب وتعظيم لهذا الملك، أما إذا كان يحب أن يقضم الملك بنواجذه لكن اضطر إلى مدحه ليأخذ من جائزته فهذا لا يسمى حمداً، وإنما يسمى مدحاً.
وقد ذكر ابن القيم رحمه الله في كتابه بدائع الفوائد -الذي هو اسم على مسمى (بدائع)، فهو يبحث في ما يعن له في خاطره من غير ترتيب، لكنه يبحث أحياناً بحوثاً لا تكاد تجدها في غيره- بحث عن الفرق بين الحمد والمدح بحثاً عظيماً، وقال: كان شيخنا إذا تكلم في هذا الباب أتى بالعجب العجاب.
وشيخه هو ابن تيمية، ولكنه كما قيل: تألق البرق نجدياً فقلت له إليك عني فإني عنك مشغول أي أنه رحمه الله مشغول عن مباحث النحو وما يتعلق به بأمور أهم؛ بمجادلة الفلاسفة والمتكلمين والمنطقيين وغيرهم.
وقد جرى بينه وبين أبي حيان الإمام المشهور في النحو في مصر مناظرة في مسائل نحوية، وكان أبو حيان يعظمه ويجله وقال فيه قصيدة عصماء منها: قام ابن تيمية في نصر شرعتنا مقام سيد تيم إذ عصت مضر وسيد تيم هو أبو بكر رضي الله عنه، وعصيان مضر كان في الردة.
ولما قدم شيخ الإسلام إلى مصر وجرت بينه وبين أبي حيان مناظرة في النحو، واحتج أبو حيان على شيخ الإسلام بما في كتاب سيبويه، وقال: إن ما ذكرته مخالف لما في الكتاب.
فقال: أي كتاب؟ قال: كتاب سيبويه.
قال: وهل سيبويه نبي النحو حتى يجب علينا اتباعه، لقد غلط سيبويه في كتابه في أكثر من ثمانين موضعاً لا تعرفها لا أنت ولا سيبويه! فحمي الرجل وغضب وهجاه بقصيدة؛ لأنه تكلم عليه هذا الكلام.
فالمهم على كل حال أن الحمد هو: وصف المحمود بالكمال مع المحبة والتعظيم.
(أحمد ربي الله): لم يقل أحمد الله ربي، بل بدأ بالربوبية؛ لأن المقام مقام استعانة، والربوبية تتعلق بالاستعانة أكثر من الألوهية، فالألوهية للعبادة، والاستعانة بالربوبية أكثر، ولهذا قال: (أحمد ربي).
وقوله: (الله) هذا عطف بيان يبين من ربه، وهو الله.
والرب في الأصل: المتصرف في الشيء، ولهذا يقال لمالك الدابة: رب الدابة، ولمالك الدار: رب الدار.
لكن الرب الذي هو الله عز وجل نقول في تفسيره: هو الخالق المالك المدبر، والملك المطلق لا يكون إلا لله، والخلق المطلق لا يكون إلا لله، والتدبير المطلق لا يكون إلا لله، فما أضيف إلى المخلوق من خلق فليس خلقاً حقيقة وإنما هو تغيير، ففي الحديث: (يقال للمصورين أحيوا ما خلقتم) وهم لم يخلقوا شيئاً، وإنما حولوا الشيء إلى شيء آخر، وأما الإيجاد فلا يكون إلا لله.
كذلك الملك الحقيقي لله، والملك المضاف للمخلوق ليس ملكاً مطلقاً، بل هو ملك قاصر في شموله، وقاصر في تصريفه.
قاصر في شموله؛ لأن المالك من الخلق لا يملك إلا ما تحت يده، وما عند غيره فليس له، وكذلك قاصر في تصريفه، إذ إن المالك لا يملك التصرف على ما يريد في كل شيء، بل على حسب ما شرعه الله عز وجل.
والله هو المألوه، أي: المعبود حباً وتعظيماً.
وقوله: (خير مالك) هذه من متعلقات الربوبية، يعني أنه سبحانه وتعالى خير من ملك، حتى فيما يصيب العبد من المصائب والنكبات فهي خير، كما قال النبي عليه الصلاة والسلام: (عجباً لأمر المؤمن إن أمره كله خير، إن أصابته ضراء صبر فكان خيراً له، وإن أصابته سراء شكر فكان خيراً له، وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن)!
হামদালার অর্থতাঁর উক্তি: (আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক): 'আহমাদু' (আমি প্রশংসা করছি) একটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল নির্দেশক ক্রিয়া, যা ধারাবাহিকতা ও নবায়ন নির্দেশ করে; কারণ প্রশংসা এমন একটি কাজ যা মানুষ তার জিহ্বা দ্বারা সম্পাদন করে।
আর হামদ হলো: মহব্বত ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা।
সুতরাং আমাদের কথা—'প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা'—দ্বারা নিন্দা বাদ পড়ে গেল, যা প্রশংসার বিপরীত।
আর আমাদের কথা—'মহব্বত ও সম্মানের সাথে'—দ্বারা 'মাদহ' (সাধারণ গুণগান) বাদ পড়ে গেল; কারণ সাধারণ গুণগানের সাথে ভালোবাসা ও সম্মান যুক্ত থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বাদশাহর গুণগান করে তাঁর থেকে পুরস্কার পাওয়ার আশায়, তবে তা 'হামদ' হবে না যতক্ষণ না প্রশংসাকারীর অন্তরে সেই বাদশাহর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান থাকবে। আর যদি সে মনে মনে চায় যে বাদশাহকে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলবে, কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার লোভে বাধ্য হয়ে তাঁর প্রশংসা করে, তবে তাকে হামদ বলা হয় না; বরং তাকে মাদহ বা নিছক গুণগান বলা হয়।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থে—যা নামের মতোই চমৎকার (অপূর্ব), কারণ তিনি এই কিতাবে তাঁর মনে উদিত হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিন্যাস ছাড়াই আলোচনা করেছেন, তবে তিনি মাঝে মাঝে এমন সব গবেষণা উপস্থাপন করেছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর—হামদ ও মাদহ-এর পার্থক্যের ওপর এক মহান আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের শায়খ যখন এই বিষয়ে কথা বলতেন, তখন তিনি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে আসতেন।
তাঁর শায়খ হলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ। তবে যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "নাজদীয় বিদ্যুৎ চমকালো, তখন আমি তাকে বললাম, আমার থেকে দূরে থাকো, কারণ আমি তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত।" অর্থাৎ তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাকরণ সংক্রান্ত আলোচনা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন; যেমন—দার্শনিক, কালাম শাস্ত্রবিদ, যুক্তিবিদ এবং অন্যদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত থাকা।
মিশরের ব্যাকরণ শাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম আবু হাইয়্যানের সাথে তাঁর ব্যাকরণিক মাসআলা নিয়ে মুনাযারা (বিতর্ক) হয়েছিল। আবু হাইয়্যান তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর শানে একটি কাসিদা রচনা করেছিলেন, যার একটি পঙক্তি ছিল: "ইবনে তাইমিয়্যাহ আমাদের শরীয়তের সাহায্যে সেভাবেই দাঁড়িয়েছেন, যেভাবে তায়িম গোত্রের নেতা দাঁড়িয়েছিলেন যখন মুদার গোত্র অবাধ্য হয়েছিল।" তায়িম গোত্রের নেতা হলেন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আর মুদার গোত্রের অবাধ্যতা ছিল মুরতাদদের ফিতনার সময়।
শাইখুল ইসলাম যখন মিশরে আসলেন এবং তাঁর ও আবু হাইয়্যানের মাঝে ব্যাকরণ নিয়ে মুনাযারা হলো, তখন আবু হাইয়্যান শাইখুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীবাওয়াইহের কিতাবের দলিল পেশ করলেন এবং বললেন: আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা সীবাওয়াইহের কিতাবের পরিপন্থী।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কোন কিতাব? তিনি বললেন: সীবাওয়াইহের কিতাব।
তিনি বললেন: সীবাওয়াইহ কি ব্যাকরণ শাস্ত্রের নবী যে আমাদের তাঁর অনুসরণ করতে হবে? সীবাওয়াইহ তাঁর কিতাবে আশিটিরও বেশি স্থানে ভুল করেছেন, যা আপনিও জানেন না আর সীবাওয়াইহ নিজেও জানতেন না! এতে লোকটি উত্তেজিত ও রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর নিন্দা করে একটি কবিতা লিখলেন; কারণ তিনি তাঁর বিরুদ্ধে এই কথা বলেছিলেন।
যাই হোক, সারকথা হলো হামদ হলো: মহব্বত ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা।
(আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি): তিনি 'আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি আমার রব' না বলে রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) দিয়ে শুরু করেছেন; কারণ এটি সাহায্য কামনার স্থান, আর সাহায্য কামনার সাথে উলুহিয়্যাহর (উপাস্যত্ব) চেয়ে রুবুবিয়্যাহর সম্পর্ক বেশি। কেননা উলুহিয়্যাহ হলো ইবাদতের জন্য, আর সাহায্য কামনায় রুবুবিয়্যাহর সংশ্লিষ্টতা বেশি। এজন্যই তিনি বলেছেন: "আমি আমার রবের প্রশংসা করি।"
আর তাঁর উক্তি: "আল্লাহ" এটি হলো আতফে বায়ান, যা তাঁর রবের পরিচয় স্পষ্ট করে দেয়, আর তিনি হলেন আল্লাহ।
'রব' শব্দের মূল অর্থ হলো: কোনো কিছুর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বশীল হওয়া। এজন্যই পশুর মালিককে বলা হয় 'রব্বুদ দাব্বাহ' (পশুর মালিক), আর ঘরের মালিককে বলা হয় 'রব্বুদ দার' (ঘরের মালিক)।
কিন্তু 'রব' যখন মহান আল্লাহকে বোঝায়, তখন তাঁর তাফসীরে আমরা বলি: তিনি হলেন স্রষ্টা, মালিক ও পরিচালক। নিরঙ্কুশ রাজত্ব কেবল আল্লাহর জন্যই, নিরঙ্কুশ সৃষ্টি কেবল আল্লাহর জন্যই এবং নিরঙ্কুশ পরিচালনাও কেবল আল্লাহর জন্যই। সৃষ্টির দিকে সৃষ্টির যে সম্বন্ধ করা হয়, তা মূলত প্রকৃত সৃষ্টি নয় বরং তা কেবল রূপান্তর। হাদিসে এসেছে: "চিত্রকরদের বলা হবে, তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তাতে প্রাণ দাও।" অথচ তারা কোনো কিছু সৃষ্টি করেনি, বরং তারা কেবল এক বস্তুকে অন্য রূপে রূপান্তর করেছে। আর অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনা (ইজাদ) কেবল আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব।
তেমনিভাবে প্রকৃত রাজত্ব আল্লাহরই। সৃষ্টির দিকে যে মালিকানা সম্বন্ধ করা হয় তা নিরঙ্কুশ মালিকানা নয়; বরং তা পরিধি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ।
পরিধির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ; কারণ সৃষ্টির মধ্য হতে যে মালিক, সে কেবল তারই মালিকানা পায় যা তার অধীনে আছে, যা অন্যের কাছে আছে তার সে মালিক নয়। তেমনি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধ; কারণ মালিক যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না, বরং তাকে আল্লাহ তাআলার শরীয়ত অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
আর আল্লাহ হলেন 'মা'লুহ', অর্থাৎ ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে যাঁর ইবাদত করা হয়।
আর তাঁর উক্তি: (সর্বোত্তম মালিক) এটি রুবুবিয়্যাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ হলেন সর্বোত্তম মালিক। এমনকি বান্দার ওপর যেসব বিপদ-আপদ ও মুসিবত আপতিত হয় তাও কল্যাণকর, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর। যদি তার ওপর কোনো দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয় তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে সুখের দেখা পায় তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর এটি মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়!"
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
شرح الصلاة على النبي وآلهقوله: (مصلياً على النبي المصطفى): مصلياً: حال من فاعل (أَحمدُ)، يعني: أحمد الله حال كوني مصلياً على النبي، أي سائلاً الله عز وجل أن يصلي عليه.
وصلاة الله على نبيه هي: ثناؤه عليه في الملأ الأعلى.
وليست الصلاة من الله هي الرحمة كما زعمه بعض العلماء، بل الصلاة أخص من الرحمة، والدليل على التباين بينهما قوله تعالى: {أُوْلَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ} [البقرة:157]، والأصل في العطف المغايرة.
ولو كانت الصلاة هي الرحمة لجاز أن نصلي على كل واحد كما جاز أن نترحم على كل واحد، ومعروف أن الصلاة على غير الأنبياء لا تجوز إلا تبعاً أو لسبب.
فالصلاة تبعاً كما في قوله: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد.
والصلاة لسبب كما في قوله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ} [التوبة:103]، وأما أن تتخذ شعاراً لشخص معين سوى الأنبياء فإن ذلك لا يجوز.
وقوله: (على النبي): النبي: قيل إنه من النبيء بالهمز، لكنه سهل، وجعلت الهمزة ياء وأدغمت في الياء الأولى، وإنه مأخوذ من النبأ وهو الخبر؛ لأن النبي منبَّأ منبِّئ فهو منبأ من قبل الله، ومنبئ للخلق عن الله.
وقيل: إن النبي ليس فيه تسهيل، وإنه مأخوذ من النبوة وهي الارتفاع، وذلك لارتفاع رتبة النبي.
والصحيح أنه مأخوذ من هذا ومن هذا، فهو لفظ مشترك بين المعنيين، والوصفان صالحان للنبي، فهو عليه الصلاة والسلام منبئ ومنبأ وعالي الرتبة.
وقوله: (المصطفى): يعني المختار، أي المختار من الأنبياء؛ لأن الأنبياء مختارون من المؤمنين، والأنبياء أنفسهم منهم من اختاره الله مثل أولي العزم الخمسة: محمد صلى الله عليه وسلم، وإبراهيم، وموسى، ونوح، وعيسى، وهم مذكورون في كتاب الله في موضعين: في قوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} [الأحزاب:7]، وفي قوله: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى:13] فهو صلى الله عليه وسلم من المصطفين.
والمصطفى تصريفها في الأصل: أن الطاء أصلها تاء (المصتفى)، لكن القاعدة في اللغة العربية أنه إذا اجتمعت التاء والصاد قلبت التاء طاء، وهو مأخوذ من الصفوة.
قوله: (وآله المستكملين الشُرفا): ويجوز: (الشَرفا).
فإن قلنا (الشُرفا) صارت صفة لآل، وإن قلنا (الشَرفا) صارت مفعولاً به للمستكملين، أي: الذين استكملوا الشرف.
(وآله) هنا أتباعه على دينه؛ لأن الآل على القول الراجح إن قرنت بالأتباع فالمراد بها المؤمنون من قرابته، وإن أفردت فالمراد بها أتباعه على دينه.
ففي قوله: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، المراد أتباعه على دينه.
وفي قول القائل: اللهم صل على محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه، المراد المؤمنون من قرابته، هذا هو الصحيح، ولا يتم المعنى إلا بذلك، وأما من حمل الآل على الأتباع مطلقاً أو على المؤمنين من أقاربه مطلقاً ففي قوله نظر.
وقوله: (المستكملين الشرفا) يعني الذين أكملوا الشرف في أخلاقهم وفي عباداتهم وفي معاملاتهم، فإن الشرف والسيادة يكون لأتباع النبي صلى الله عليه وسلم، وإذا كانوا من قرابته نالوا شرفين: شرف الإيمان وشرف النسب والقرابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
নবী ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠের ব্যাখ্যাতাঁর কথা: (মনোনীত নবীর ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়): "দরুদ পাঠরত অবস্থায়" (মুসাল্লিয়ান) শব্দটি ‘আমি প্রশংসা করি’ (আহমাদু) ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা বর্ণনা করছে। অর্থাৎ: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এই অবস্থায় যে, আমি নবীর ওপর দরুদ পাঠ করছি, অর্থাৎ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করেন।
নবীর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ বা দরুদ হলো: উচ্চ পরিষদে (ফেরেশতাদের মাঝে) তাঁর প্রশংসা করা।
আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ মানে কেবল ‘রহমত’ বা দয়া নয়, যেমনটি কোনো কোনো আলেম দাবি করেছেন। বরং সালাত রহমতের চেয়েও বিশেষ কিছু। এই দুটির মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে দরুদ ও রহমত বর্ষিত হয়} [আল-বাকারা: ১৫৭]। আর ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী, সংযোজক অব্যয় সাধারণত দুটি বিষয়ের ভিন্নতা নির্দেশ করে।
যদি সালাত ও রহমত একই হতো, তবে প্রত্যেকের ওপর সালাত পাঠ করা বৈধ হতো যেমনটি প্রত্যেকের জন্য রহমতের দোয়া করা বৈধ। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ওপর স্বতন্ত্রভাবে সালাত পাঠ করা বৈধ নয়, কেবল অনুগামী হিসেবে অথবা বিশেষ কোনো কারণে তা বৈধ।
অনুগামী হিসেবে সালাত যেমন এই দোয়াতে বলা হয়: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর সালাত বর্ষণ করুন।
আর বিশেষ কারণে সালাত যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {তুমি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো, যার মাধ্যমে তুমি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করবে, আর তুমি তাদের জন্য দোয়া (সালাত) করো} [আত-তাওবাহ: ১০৩]। তবে নবীগণ ব্যতীত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য এটিকে স্থায়ী স্লোগান বা প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।
তাঁর কথা: (নবীর ওপর): ‘নবী’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি হামজাসহ ‘নবী’ শব্দ থেকে এসেছে, যা উচ্চারণ সহজ করার জন্য ‘নবী’ করা হয়েছে। এটি ‘নাবা’ শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ সংবাদ। কারণ নবীকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ দেওয়া হয় এবং তিনি সৃষ্টির কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছে দেন।
আবার বলা হয়েছে যে, ‘নবী’ শব্দটিতে কোনো সহজীকরণ করা হয়নি, বরং এটি ‘নুবুওয়াহ’ থেকে এসেছে যার অর্থ উচ্চতা। এটি নবীর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে বলা হয়।
সঠিক মত হলো এটি উভয় অর্থ থেকেই নেওয়া হয়েছে। সুতরাং শব্দটি দুটি অর্থকেই ধারণ করে এবং উভয় গুণই নবীর জন্য প্রযোজ্য। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদপ্রাপ্ত, সংবাদ প্রদানকারী এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
তাঁর কথা: (আল-মুস্তফা): এর অর্থ হলো মনোনীত। অর্থাৎ নবীগণের মধ্য থেকে মনোনীত। কারণ মুমিনদের মধ্য থেকে নবীগণকে মনোনীত করা হয়েছে, আবার খোদ নবীগণের মধ্য থেকেও আল্লাহ কিছু নবীকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন; যেমন উলুল আজম বা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ পাঁচজন রসূল: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইবরাহিম, মুসা, নুহ এবং ঈসা। পবিত্র কুরআনের দুটি স্থানে তাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করো, যখন আমি নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার কাছ থেকে আর নুহ, ইবরাহিম, মুসা ও মারইয়াম তনয় ঈসার কাছ থেকে} [আল-আহজাব: ৭]। এবং আল্লাহর বাণী: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নুহকে—আর যা আমি তোমার কাছে ওহি করেছি—এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মুসা ও ঈসাকে এই বলে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে দলাদলি করো না} [আশ-শুরা: ১৩]। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মনোনীতদের অন্তর্ভুক্ত।
‘আল-মুস্তফা’ শব্দটির মূল ব্যুৎপত্তি হলো: এখানে ‘ত’ বর্ণটি মূলত ‘তা’ ছিল, কিন্তু আরবি ভাষার নিয়ম অনুযায়ী ‘স’ (সোয়াদ) বর্ণের পর ‘তা’ আসলে তা ‘ত’ (ত-য়) বর্ণে রূপান্তরিত হয়। এটি ‘সাফওয়াহ’ (শ্রেষ্ঠাংশ) শব্দ থেকে গৃহীত।
তাঁর কথা: (এবং তাঁর পরিবার যারা শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণ করেছেন): এখানে ‘শুরাফা’ অথবা ‘শারাফা’ উভয় পাঠই সঠিক।
যদি আমরা ‘শুরাফা’ পড়ি তবে সেটি ‘আল’ (পরিবার/অনুগামী)-এর বিশেষণ হবে। আর যদি ‘শারাফা’ পড়ি তবে সেটি ‘পরিপূর্ণকারী’ শব্দটির কর্ম হবে। অর্থাৎ: যারা শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণতা দিয়েছেন।
এখানে ‘আল’ বলতে তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে। কারণ শক্তিশালী মতানুযায়ী, ‘আল’ শব্দটির সাথে যদি ‘অনুগামী’ শব্দটি যুক্ত না থাকে, তবে এর দ্বারা তাঁর বংশের মুমিন সদস্যদের বোঝানো হয়। আর যদি এটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এর দ্বারা তাঁর দ্বীনের সমস্ত অনুসারীদের বোঝানো হয়।
যেমন এই দোয়াতে: ‘হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের (আলে মুহাম্মাদ) ওপর সালাত বর্ষণ করুন’—এখানে ‘আল’ বলতে তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে।
আর যখন কেউ বলে: ‘হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার (আল), তাঁর সাহাবী এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর সালাত বর্ষণ করুন’—তখন ‘আল’ বলতে তাঁর মুমিন আত্মীয়দের বোঝানো হয়। এটিই সঠিক মত এবং এছাড়া অর্থের পূর্ণতা আসে না। তবে যারা ‘আল’ শব্দটিকে ঢালাওভাবে কেবল অনুসারী অথবা ঢালাওভাবে কেবল মুমিন আত্মীয় হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
তাঁর কথা: (শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণকারী): এর অর্থ যারা তাদের চরিত্র, ইবাদত এবং লেনদেনে শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতা দান করেছেন। নিশ্চয়ই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারীদের জন্যই নির্ধারিত। আর তারা যদি তাঁর আত্মীয়দের মধ্য থেকে হন তবে তারা দুটি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন: ঈমানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশীয় ও আত্মীয়তার শ্রেষ্ঠত্ব।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
شرح استعانة المؤلف بالله تعالىثم قال: (وأستعين الله في ألفيه) هنا أظهر في موضع الإضمار ولم يقل: وأستعينه في ألفية؛ لأن باب الدعاء ينبغي فيه البسط.
ثم إنه لما طال الفصل بين قوله: (أحمد ربي) و (أستعين الله) حسن أن يظهر في موضع الإضمار.
وثم شيء ثالث، وهو أنه لما قال: (مصلياً على النبي) لو قال: (وأستعينه) لتوهم الواهم أنه يستعين بالنبي صلى الله عليه وسلم.
فلهذه الأسباب الثلاثة أظهر رحمه الله وقال: (أستعين الله)، ولم يقل: أستعينه.
ومعنى أستعين: أطلب العون، كقول القائل: أستغفر الله، أي أطلب المغفرة.
وما ذهب إليه المؤلف رحمه الله من بدء العمل بهذه الألفية مع استعانة الله مطابق تمام المطابقة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (احرص على ما ينفعك، واستعن بالله ولا تعجز) فالمؤلف بهمته العليا نظم الألفية فحرص على ما ينفعه، ولكنه لم يقتصر على ذلك بل قال: (وأستعين الله في ألفيه)، ومن استعان بالله متلجئاً إليه صادقاً في قصده فإن الله تعالى يعينه، وإذا كان الله سبحانه وتعالى قد أمر بمعونة من استعانك وأنت مخلوق، فإعانته من استعان به من باب أولى، ولكن اصدق الله أنك تستعينه حقيقة، فإن أكثرنا -نسأل الله أن يعاملنا بعفوه- يعتمد على ما أعطاه الله من القوة وينسى الله، وربما يتكلم بكلام يدل على إعجابه بنفسه والعياذ بالله، فيقول: فعلت وفعلت وفعلت إلى آخره، لكن المؤمن حقاً هو الذي يحرص على ما ينفعه ويقوم بما يستطيع، لكن مع الاستعانة بالله عز وجل.
وقوله: (وأستعين الله في ألفية) أي: في نظمها، وهي نسبة إلى الألف، وهذه المنظومة لا تزيد على ألف بيت إلا ببيتين فقط، والكسر عند العرب مغتفر، على أنك إذا تأملت وجدت أنها لم تزد في الحقيقة؛ لأنه استشهد في ضمنها ببيت لغيره فيسقط، وتكون ألفاً وواحداً.
والبيت الأول وهو افتتاح الألفية: (قال محمد هو ابن مالك) فلم يكن من مقول القول، فيصدق عليها أنها ألف بيت لا تزيد ولا تنقص.
والخطب في هذا سهل، أعني أنا لو فرضنا أنها ألف وخمسة أو ألف وعشرة فإن الكسر عند العرب إما أن يجبر وإما أن يلغى.
লেখকের আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনার ব্যাখ্যাতারপর তিনি বলেন: (এবং আমি আমার আলফিয়্যাহ রচনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি)। এখানে তিনি সর্বনাম ব্যবহারের স্থানে প্রকাশ্য বিশেষ্য (আল্লাহ শব্দ) উল্লেখ করেছেন। তিনি 'এবং আমি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি' বলেননি; কারণ দোয়ার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করাই সমীচীন।
তাছাড়া, তাঁর বক্তব্য 'আমি আমার রবের প্রশংসা করি' এবং 'আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি'-এর মাঝে দীর্ঘ ব্যবধান হয়ে যাওয়ায় সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করাটি সুন্দর হয়েছে।
তৃতীয় একটি কারণ হলো, যেহেতু তিনি বলেছেন 'নবীর ওপর দরূদ পাঠরত অবস্থায়', এমতাবস্থায় যদি তিনি বলতেন 'এবং আমি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি', তবে কোনো কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি এমন ধারণা করতে পারত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছেন।
এই তিনটি কারণে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) স্পষ্ট করে বলেছেন 'আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি' এবং 'আমি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি' বলেননি।
'আস্তাইন' শব্দের অর্থ হলো: আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি। যেমন কেউ বলে 'আস্তাগফিরুল্লাহ', অর্থাৎ আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে এই আলফিয়্যাহ রচনার কাজ শুরু করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাথে পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ: 'তোমার উপকারে আসে এমন বিষয়ের প্রতি লালায়িত হও, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং অক্ষম হয়ে যেয়ো না'। সুতরাং লেখক তাঁর সুউচ্চ হিম্মত বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলফিয়্যাহ কাব্য আকারে সাজিয়েছেন এবং যা তাঁর উপকারে আসবে সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু তিনি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বলেছেন: 'এবং আমি আমার আলফিয়্যাহ রচনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি'। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয়ে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সত্যবাদী হয়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়, আল্লাহ তাআলা তাকে অবশ্যই সাহায্য করেন। মহান আল্লাহ যেখানে একজন সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আপনার কাছে সাহায্যপ্রার্থীর সাহায্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে তাঁর নিকট সাহায্যপ্রার্থনাকারীকে সাহায্য করা তো আরও অগ্রগণ্য। তবে আল্লাহর কাছে চাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সত্যবাদী হতে হবে যে আপনি প্রকৃতপক্ষে তাঁরই সাহায্য চাচ্ছেন। কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই—আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করছি—আল্লাহ তাকে যে শক্তি দিয়েছেন তার ওপরই নির্ভর করে এবং আল্লাহকে ভুলে যায়। এমনকি অনেক সময় সে এমন কথা বলে যা তার আত্মগর্ব প্রকাশ করে—আমরা এ থেকে আল্লাহর পানাহ চাচ্ছি—সে বলে: আমি এটি করেছি, ওটি করেছি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যে তার উপকারী বিষয়ের প্রতি সচেষ্ট হয় এবং সাধ্যানুযায়ী কাজ করে, তবে তা মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনার সাথেই হতে হবে।
তাঁর উক্তি: (এবং আমি আমার আলফিয়্যাহ রচনায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি) অর্থাৎ এর কাব্য রচনায়। এটি 'আলিফ' বা এক হাজারের সাথে সম্পর্কিত। এই কাব্যগ্রন্থটি এক হাজার চরণের চেয়ে মাত্র দুই চরণ বেশি, আর আরবদের নিকট এ জাতীয় সামান্য অতিরিক্ত অংশ ধর্তব্য নয়। অধিকন্তু, আপনি যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন যে এটি প্রকৃতপক্ষে বাড়েনি; কারণ এর ভেতরে তিনি অন্য একজনের একটি চরণ উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা বাদ দিলে এক হাজার এক চরণ হয়।
আর প্রথম চরণটি হলো আলফিয়্যাহর প্রারম্ভিকা: (মুহাম্মাদ ইবনে মালিক বলেন), এটি মূল বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং একে এক হাজার চরণ বলাই সঠিক হবে যা কমও নয়, বেশিও নয়।
বিষয়টি খুবই সহজ। আমি বলতে চাচ্ছি, যদি আমরা ধরেও নিই যে এটি এক হাজার পাঁচ বা এক হাজার দশ চরণ, তবুও আরবদের নিকট এ জাতীয় ভগ্নাংশ সংখ্যাকে হয় পূর্ণ সংখ্যা ধরা হয় অথবা বর্জন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثناء ابن مالك رحمه الله على ألفيته
ইবন মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক তাঁর আলফিয়্যাহর প্রশংসা
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصفات التي جمعتها الألفيةقوله: (مقاصد النحو بها محويه): المقاصد: جمع مقصود، يعني أن المقصود من النحو قد حوته هذه الألفية.
ومعنى محوية: مجموعة.
ثم بين أن هذه الألفية مع شمولها وجمعها لمقاصد النحو سهلة فقال: [تقرب الأقصى بلفظ موجز وتبسط البذل بوعد منجز] (الأقصى) يحتاج إلى مسافة طويلة، لكنها تقربه بلفظ قصير؛ لأن الموجز القصير، فهي تجمع لك شتات النحو البعيدة بلفظ قصير.
وقوله: (وتبسط البذل): يعني تبذل بذلاً موسعاً؛ لأن البسط بمعنى التوسيع، قال الله تعالى: {اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ} [الرعد:26] أي يضيق، فهي تبسط البذل، أي: توسع العطاء.
قوله: (بوعد منجز): يعني تعد بالعطاء ثم تنجزه بدون تأخير.
فجمعت بين أربع صفات: الأولى: تقريب الأقصى، أي البعيد.
والثانية: أن لفظها موجز ليس بكثير يمل منه الإنسان، فليس مما يقرأ ويقرأ ولا يحصل منه إلا فائدة قليلة.
الثالثة: أنها تبسط البذل، يعني: توسعه، والبذل هو العطاء، فهي توسع العطاء.
والرابعة: أنها تنجز ما وعدت.
ولا يخفى ما في هذا البيت من الاستعارة، حيث صور هذه الألفية بحي ذي إدراك وعطاء وبسط ووعد، وإلا فالألفية كلمات منظومة، لكن هذا يسميه علماء البلاغة استعارة، وهو كأن تستعير صفة الحي ذي الشعور والإرادة إلى جماد لا شعور له ولا إرادة.
قال ابن مالك رحمه الله تعالى: (وتقتضي رضا بغير سخط): أي: تستلزم رضاً بغير سخط، والمراد أنها تقتضي من القارئ رضاً بما يجد فيها من العلم.
وقوله: (بغير سخط) هذا من باب بيان أن هذا الرضا كامل لا يدخله سخط؛ لأن الرضا قد يطلق وإن كان فيه شيء من السخط، فإذا قال: (بغير سخط) تبين أنه رضا تام ليس فيه سخط.
আলফিয়্যাহ যেসব বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছেতাঁর কথা: (নাহুর উদ্দেশ্যসমূহ এতে সন্নিবেশিত): 'মাকাসিদ' (উদ্দেশ্যসমূহ) হলো 'মাকসুদ'-এর বহুবচন। অর্থাৎ নাহু শাস্ত্রের যা উদ্দেশ্য, তা এই আলফিয়্যাহ ধারণ করেছে।
আর 'মাহউইয়্যাহ' (সন্নিবেশিত) অর্থ: সংগৃহীত বা একত্রিত।
অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এই আলফিয়্যাহ নাহুর উদ্দেশ্যসমূহকে ব্যাপকতা ও সংগ্রহের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা সত্ত্বেও তা সহজসাধ্য। তাই তিনি বলেছেন: [এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করে এবং তাৎক্ষণিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দানকে অবারিত করে]। 'আল-আকসা' (দূরবর্তী) অর্জনে দীর্ঘ দূরত্বের প্রয়োজন হয়, কিন্তু এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে তাকে নিকটবর্তী করে দেয়; কারণ 'মুজায' অর্থ সংক্ষিপ্ত। সুতরাং এটি নাহু শাস্ত্রের দূরবর্তী বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য একত্রিত করে দেয়।
আর তাঁর কথা: (এবং দানকে অবারিত করে): অর্থাৎ এটি ব্যাপকভাবে দান করে; কেননা 'বাসত' অর্থ হলো প্রশস্ত করা বা অবারিত করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন" [রা'দ: ২৬], অর্থাৎ সংকীর্ণ করেন। সুতরাং এটি দানকে অবারিত করে, অর্থাৎ দানকে প্রশস্ত করে।
তাঁর কথা: (তাৎক্ষণিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে): অর্থাৎ এটি প্রদানের অঙ্গীকার করে এবং বিলম্ব না করে তা পূরণ করে।
সুতরাং এটি চারটি বৈশিষ্ট্যকে একত্রিত করেছে: প্রথম: দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করা।
দ্বিতীয়: এর শব্দাবলী সংক্ষিপ্ত, তা এতো দীর্ঘ নয় যে মানুষ বিরক্ত হবে। এটি এমন নয় যে যা বারবার পড়ার পরও অতি সামান্য উপকার পাওয়া যায়।
তৃতীয়: এটি দানকে অবারিত করে, অর্থাৎ তাকে প্রশস্ত করে। 'বজল' অর্থ হলো দান, সুতরাং এটি দানকে প্রশস্ত করে।
চতুর্থ: এটি যা অঙ্গীকার করে তা পূরণ করে।
এই চরণের মধ্যে যে রূপক বা অলঙ্কার রয়েছে তা গোপন নয়; যেখানে তিনি এই আলফিয়্যাহকে একজন বোধসম্পন্ন, দানশীল, অবারিতকারী ও অঙ্গীকারকারী জীবন্ত সত্তারূপে চিত্রিত করেছেন। নতুবা আলফিয়্যাহ তো কেবল ছন্দবদ্ধ কিছু শব্দ মাত্র। কিন্তু অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ একে 'ইস্তিআরাহ' (রূপক) বলেন। আর তা হলো অনুভব ও ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন প্রাণীর কোনো বৈশিষ্ট্যকে এমন জড় পদার্থের প্রতি আরোপ করা যার কোনো অনুভূতি বা ইচ্ছা নেই।
ইবনে মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (এবং এটি অসন্তুষ্টিহীন সন্তুষ্টির দাবি রাখে): অর্থাৎ এটি রাগ বা অসন্তুষ্টিহীন সন্তুষ্টিকে আবশ্যক করে। এর উদ্দেশ্য হলো, এতে যে জ্ঞান রয়েছে তা পেয়ে পাঠকের পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির দাবি রাখে।
আর তাঁর কথা: (অসন্তুষ্টিহীন) এটি একারণে যে, এই সন্তুষ্টি যেন পূর্ণাঙ্গ হয় এবং এতে কোনো অসন্তুষ্টি না থাকে। কারণ 'সন্তুষ্টি' শব্দটি কখনো কখনো সামান্য অসন্তুষ্টি থাকলেও ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু যখন তিনি বললেন 'অসন্তুষ্টিহীন', তখন স্পষ্ট হলো যে এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টি যাতে কোনো অসন্তুষ্টির লেশমাত্র নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تفضيل ابن مالك ألفيته على ألفية ابن معط وثناؤه عليهقوله: (فائقة ألفية ابن معط): أي: فائقة ألفية ابن معط في أنها أكثر جمعاً للمسائل، وفي أنها على بحر واحد بخلاف ألفية ابن معط، وأيضاً هي أجمع منها وأسلس في اللفظ وأشد اتفاقاً، حيث إنها على بحر واحد بخلاف ألفية ابن معط؛ ولكن ابن مالك رحمه الله لما عنده من العدل بيَّن ما لـ ابن معط من الفضل، فقال: (وهو بسبق حائز تفضيلا).
قوله: (وهو) أي ابن معط.
(بسبق): الباء للسببية، أي: بسبب سبقه لنظم ألفية في النحو، وليس المراد بسبب سبقه بالزمن؛ لأن السابق بالزمن قد يكون له فضل وقد لا يكون.
(حائز تفضيلا): أي مدرك للتفضيل بسبب سبقه لنظم ألفية في النحو، ووجه ذلك أنه لما سبق إلى هذا فتح الباب للناس ليسيروا على منواله، فكان له فضل القدوة والأسوة.
(مستوجب ثنائي الجميلا): أي مستحق للثناء الجميل.
وقوله: (ثنائي الجميلا) هل الجميل صفة كاشفة أو هي صفة مقيدة؟ ينبني الجواب على الخلاف بين العلماء: هل الثناء لا يكون إلا في الخير؟ فإن كان الثناء لا يكون إلا في الخير كان قوله (الجميلا) صفة كاشفة، وإن كان الثناء يكون في الخير والشر فإنها صفة مقيدة، والصحيح أنه يكون في هذا وفي هذا، كما في الجنازة التي مرت فأثنوا عليها شراً فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (وجبت)، فالثناء يكون بالخير ويكون بالشر حسب ما يضاف إليه، وبناء على هذا يكون قوله (الجميلا) صفة مقيدة.
على أنه يمكن أن نقول: حتى وإن كان الثناء لا يكون إلا في الخير فإن الجميل صفة مقيدة؛ لأن مطلق الثناء في الخير قد يكون جميلاً وقد يكون دون ذلك.
إذاً: مستوجب الثناء أنه سبق إلى نظم الألفية وفتح الباب للناس، ومن دل على خير فهو كفاعله، وفي الحديث: (من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة).
ইবনে মালিকের নিজের আলফিয়াকে ইবনে মু'ত্বীর আলফিয়ার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং তার প্রতি প্রশংসাতাঁর উক্তি: (ইবনে মু'ত্বীর আলফিয়াকে অতিক্রমকারী): অর্থাৎ: ইবনে মু'ত্বীর আলফিয়ার তুলনায় এটি অধিক মাসআলা সংকলনের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতর, এবং এটি একটি মাত্র ছন্দের (বহর) ওপর রচিত, যা ইবনে মু'ত্বীর আলফিয়ার বিপরীত। এছাড়াও এটি অধিক পূর্ণাঙ্গ, শব্দ চয়নে অধিক প্রাঞ্জল এবং অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেহেতু এটি একটি মাত্র ছন্দের ওপর প্রতিষ্ঠিত; কিন্তু ইবনে মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ন্যায়নিষ্ঠার কারণে ইবনে মু'ত্বীর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। তাই তিনি বলেছেন: (আর তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী)।
তাঁর উক্তি: (আর তিনি) অর্থাৎ ইবনে মু'ত্বী।
(অগ্রগামী হওয়ার কারণে): এখানে ‘বা’ বর্ণটি কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ: নাহু শাস্ত্রে আলফিয়া রচনার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামী হওয়ার কারণে। এখানে উদ্দেশ্য কেবল সময়ের দিক থেকে আগে হওয়া নয়; কারণ সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী হলেই সবসময় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় না।
(শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী): অর্থাৎ নাহু শাস্ত্রে আলফিয়া রচনায় অগ্রগামী হওয়ার কারণে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। এর কারণ হলো, যখন তিনি এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তখন তিনি মানুষের জন্য তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।
(আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার): অর্থাৎ তিনি উত্তম প্রশংসার যোগ্য।
তাঁর উক্তি: (আমার সুন্দর প্রশংসা) এখানে ‘সুন্দর’ শব্দটি কি ব্যাখ্যামূলক বিশেষণ নাকি সীমাবদ্ধকারী বিশেষণ? এর উত্তর আলেমদের মধ্যকার একটি মতভেদের ওপর নির্ভরশীল: প্রশংসা কি কেবল ভালো কাজের ক্ষেত্রেই হয়? যদি প্রশংসা কেবল ভালো কাজের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ হয়, তবে ‘সুন্দর’ শব্দটি হবে ব্যাখ্যামূলক বিশেষণ। আর যদি প্রশংসা ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, তবে এটি হবে সীমাবদ্ধকারী বিশেষণ। সঠিক মত হলো এটি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, যেমনটি একটি জানাযার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে যা পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় লোকেরা তার সম্পর্কে মন্দ আলোচনা করেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "ওয়াজিব হয়ে গেল"। সুতরাং প্রশংসা যার দিকে নিসবত করা হচ্ছে তার অবস্থা ভেদে ভালো বা মন্দ উভয়ই হতে পারে। এর ভিত্তিতে ‘সুন্দর’ শব্দটি এখানে সীমাবদ্ধকারী বিশেষণ।
তবে আমরা এটাও বলতে পারি যে, প্রশংসা যদি কেবল ভালো কাজের ক্ষেত্রেই হয়, তবুও ‘সুন্দর’ শব্দটি সীমাবদ্ধকারী বিশেষণ হতে পারে; কারণ কল্যাণের ক্ষেত্রে সাধারণ প্রশংসাও কখনও অনেক সুন্দর হতে পারে আবার কখনও তার চেয়ে কম হতে পারে।
অতএব: তিনি প্রশংসার দাবিদার হওয়ার কারণ হলো তিনি আলফিয়া রচনার পথ উন্মুক্ত করেছেন, আর যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখায় সে ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পায়। হাদীসে এসেছে: (যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতি চালু করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে)।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
دعاء ابن مالك لنفسه ولابن معطثم قال المؤلف رحمه الله: [والله يقضي بهبات وافره لي وله في درجات الآخره] (يقضي): أي يحكم؛ لأن القضاء يكون بمعنى الحكم، والجملة هنا خبرية لفظاً إنشائية معنى؛ لأن المراد بها الدعاء، يعني: أسأل الله أن يقضي بهبات وافرة.
والهبات: جمع هبة وهي العطية والمنحة.
والوافرة: الكثيرة.
وقوله: (بهبات وافرة) قد يقول قائل: لماذا وصف الهبات وهي جمع بوافرة وهي مفرد؟ والجواب عن ذلك أن نقول: إنه إذا كان الجمع لما لا يعقل فإنه يجوز أن يوصف بالمفرد، وهذا في جمع الكثرة كثير، ولكنه في جمع القلة قليل، و (هبات) من جمع القلة؛ لأن الجمع السالم من مذكر أو مؤنث يعتبر من جمع القلة، وجمع القلة له أوزان معينة وجمع الكثرة له أوزان معينة.
جمع القلة أوزانه أربعة، قال ابن مالك فيها: أفعلة أفعل ثم فعله ثم أفعال جموع قله إذاً: جموع القلة هي: الجموع السالمة مثل المسلمون والمسلمات، والثاني: جموع التكسير الدالة على القلة.
قوله: (لي وله في درجات الآخره): بدأ بنفسه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (ابدأ بنفسك) والبداءة بالنفس هي الأولى في الدعاء.
وقوله: (في درجات الآخرة) يعني يوم القيامة، وهو بالنسبة لـ ابن معط حيث إنه قد مات لا تمكن الهبات إلا في الآخرة، لكن بالنسبة لـ ابن مالك وهو موجود يمكن أن تكون هبات في الدنيا وهبات في الآخرة، لكنه رحمه الله اختار أن تكون الهبات في الآخرة؛ لأنها هي الباقية.
أورد بعض الناس على هذا البيت لـ ابن مالك إيرادين: الإيراد الأول: أنه وصف الهبات وهي جمع بوافرة، والأفصح فيها المطابقة، أي أن يقال: بهبات وافرات.
الثاني: قوله: (لي وله).
قالوا: خص نفسه وابن معط بالدعاء، فلم يدع لجميع المسلمين.
والجواب عن الأول: أنه وصفها بما يوصف به جمع الكثرة جبراً لنقصها.
والجواب عن الثاني: أنه لا مانع من أن يدعو الإنسان لنفسه ولغيره ممن يرى تخصيصه، أو يدعو بالعموم.
نعم.
لو قال: (لي وله ولا تقض بالهبات لغيرنا) لكان هذا خطأ، أما تخصيص الإنسان نفسه بالدعاء أو من شاء من الناس فإنه لا يلام عليه ولا يذم، ولكن المحشين دائماً ينقشون، فقالوا: لو قال: والله يقضي بالرضا والرحمه لي وله ولجميع الأمه لكان أحسن! على كل حال: الأصل أن ابن مالك لا اعتراض عليه في هذا، فلا نرى أنه معترض عليه، وتخصيص الإنسان نفسه أو غيره بالدعاء لا بأس به، وقد جاءت السنة بالتخصيص للنفس كثيراً وبتخصيص الغير كثيراً أيضاً، مثل: (اللهم اغفر لـ أبي سلمة وارفع درجته في المهديين)، وفي الجلوس بين السجدتين: (رب اغفر لي وارحمني)، ولا حرج في هذا.
নিজের এবং ইবনে মু'তির জন্য ইবনে মালিকের দুআতারপর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এবং আল্লাহ আমার ও তার জন্য আখিরাতের মর্তবায় প্রচুর দান বরাদ্দ করবেন] (يقضي): অর্থাৎ ফয়সালা করবেন বা হুকুম দিবেন; কারণ 'ক্বাযা' শব্দটি ফয়সালা বা বিধান অর্থে আসে। এখানে বাক্যটি শব্দগতভাবে বর্ণনামূলক হলেও অর্থগতভাবে দুআ সূচক; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুআ করা, অর্থাৎ: আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন প্রচুর দান বরাদ্দ করেন।
আর 'হিবাত' হলো 'হিবাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দান ও উপহার।
আর 'ওয়াফিরাহ' অর্থ প্রচুর বা অধিক।
তার কথা: (প্রচুর দান প্রসঙ্গে) কেউ বলতে পারেন: কেন তিনি 'হিবাত' যা বহুবচন, তার বিশেষণ হিসেবে 'ওয়াফিরাহ' যা একবচন, তা ব্যবহার করলেন? এর উত্তরে আমরা বলব: যখন কোনো জড় বা বিবেকহীন বস্তুর বহুবচন ব্যবহার করা হয়, তখন তার বিশেষণ একবচন হওয়া জায়েজ। এটি 'জমউল কাসরাহ' বা আধিক্যবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ঘটে, তবে 'জমউল কিল্লাত' বা স্বল্পতাবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে কম ঘটে। আর 'হিবাত' শব্দটি স্বল্পতাবাচক বহুবচন; কারণ পুরুষবাচক বা নারীবাচক নিরাপদ বহুবচনগুলোকে স্বল্পতাবাচক বহুবচন হিসেবে গণ্য করা হয়। স্বল্পতাবাচক বহুবচনের নির্দিষ্ট ওজন বা ছন্দ আছে এবং আধিক্যবাচক বহুবচনেরও নির্দিষ্ট ওজন আছে।
স্বল্পতাবাচক বহুবচনের ওজন চারটি, ইবনে মালিক এ বিষয়ে বলেছেন: 'আফইলাহ', 'আফউল', তারপর 'ফি'লাহ' এবং 'আফআল' হলো স্বল্পতাবাচক বহুবচন। সুতরাং স্বল্পতাবাচক বহুবচনগুলো হলো: নিরাপদ বহুবচনসমূহ যেমন মুসলিমুন ও মুসলিমাতুন, এবং দ্বিতীয়ত: সেই ভগ্ন বহুবচনসমূহ যা স্বল্পতা নির্দেশ করে।
তার কথা: (আমার এবং তার জন্য আখিরাতের মর্তবায়): তিনি নিজেকে দিয়ে শুরু করেছেন কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিজে থেকে শুরু করো।" দুআর ক্ষেত্রে নিজের মাধ্যমে শুরু করাই উত্তম।
আর তার কথা: (আখিরাতের মর্তবায়) অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। এটি ইবনে মু'তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেহেতু তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাই তার জন্য দান প্রাপ্তি কেবল আখিরাতেই সম্ভব। তবে ইবনে মালিকের ক্ষেত্রে—যেহেতু তিনি তখন জীবিত ছিলেন—দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গাতেই দান প্রাপ্তি সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আখিরাতের দানকেই বেছে নিয়েছেন; কারণ তা-ই চিরস্থায়ী।
কেউ কেউ ইবনে মালিকের এই পংক্তিটির ওপর দুটি আপত্তি তুলেছেন: প্রথম আপত্তি: তিনি 'হিবাত' (বহুবচন) শব্দের বিশেষণ হিসেবে 'ওয়াফিরাহ' (একবচন) ব্যবহার করেছেন, অথচ অধিক শুদ্ধ হলো উভয়ের মধ্যে মিল রাখা, অর্থাৎ 'হিবাতিন ওয়াফিরাতিন' বলা।
দ্বিতীয় আপত্তি: তার কথা: "আমার ও তার জন্য"।
তারা বলেন: তিনি দুআর ক্ষেত্রে নিজেকে এবং ইবনে মু'তিকে নির্দিষ্ট করেছেন, সকল মুসলিমের জন্য দুআ করেননি।
প্রথমটির উত্তর হলো: তিনি এটিকে আধিক্যবাচক বহুবচনের বিশেষণের মতো বর্ণনা করেছেন যাতে এর (স্বল্পতাবাচক হওয়ার) অভাব পূরণ হয়।
দ্বিতীয়টির উত্তর হলো: কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য এবং অন্য যাদেরকে সে নির্দিষ্ট করতে চায় তাদের জন্য দুআ করলে কোনো বাধা নেই, অথবা সে সাধারণভাবেও দুআ করতে পারে।
হ্যাঁ।
যদি তিনি বলতেন: "আমার ও তার জন্য দান বরাদ্দ করুন এবং আমাদের ছাড়া অন্য কাউকে দিয়েন না"—তবে এটি ভুল হতো। কিন্তু মানুষের নিজের জন্য বা অন্য যে কাউকে নির্দিষ্ট করে দুআ করায় তাকে তিরস্কার বা নিন্দা করা যায় না। তবে টিকাকাররা সবসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, তাই তারা বলেছেন: তিনি যদি বলতেন, "এবং আল্লাহ আমার, তার এবং সকল উম্মতের জন্য সন্তুষ্টি ও রহমত বরাদ্দ করবেন"—তবে তা আরও সুন্দর হতো! যাই হোক: মূল কথা হলো ইবনে মালিকের ওপর এই বিষয়ে কোনো আপত্তি খাটে না, আমরা একে আপত্তিকর মনে করি না। কোনো মানুষের নিজের জন্য বা অন্যের জন্য দুআ নির্দিষ্ট করায় কোনো সমস্যা নেই। সুন্নাহতে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করার এবং অন্যের জন্য নির্দিষ্ট করার অনেক বর্ণনা এসেছে, যেমন: "হে আল্লাহ! আবু সালামাহকে ক্ষমা করুন এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মাঝে তার মর্তবা উঁচু করে দিন।" এবং দুই সিজদার মাঝখানে বসার সময়: "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর দয়া করুন।" এতে কোনো সংকীর্ণতা নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية ابن مالك للعثيمين القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح ألفية ابن مالك
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 70 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432
ইবনে উসাইমীন কর্তৃক আলফিয়া ইবনে মালিকের ব্যাখ্যা বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: আলফিয়া ইবনে মালিকের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত ১৪২১ হিজরি)
বইয়ের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৭০টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح ألفية ابن مالك [2]الكلام عند النحويين هو ما ركب من كلمتين فأكثر حقيقة أو حكماً، وهم يقسمون الكلام إلى اسم وفعل وحرف، فلا يخرج لفظ عربي عن هذه الثلاثة، وكل قسم منها له علامات يعرف بها.
আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যা [২]ব্যাকরণবিদদের নিকট 'কালাম' (বাক্য) হলো তা-ই, যা প্রকৃতপক্ষে অথবা বিধানগতভাবে দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। তাঁরা কালামকে বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ)—এই তিন ভাগে বিভক্ত করেন। ফলে কোনো আরবি শব্দই এই তিন শ্রেণির বাইরে নয় এবং এর প্রতিটি প্রকারেরই নিজস্ব কিছু চিহ্ন রয়েছে যার মাধ্যমে সেগুলোকে শনাক্ত করা যায়।
(খণ্ড: ২)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২)
الكلام وما يتألف منهقال المؤلف رحمه الله تعالى: [كلامنا لفظ مفيد كاستقم واسم وفعل ثم حرف الكلم واحده كلمة والقول عم وكلمة بها كلام قد يؤم]
কালাম (বাক্য) এবং যা দ্বারা তা গঠিত হয়লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আমাদের নিকট কালাম হলো এমন অর্থবহ শব্দ যা ‘ইস্তাকিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও) এর মতো ফলদায়ক; আর ইসিম, ফেইল এবং হরফ হলো কালিম-এর উপাদান। এর একবচন হলো কালিমা, আর কাওল (কথা) শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক; এবং কখনো কখনো কালিমা বলতে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও উদ্দেশ্য করা হয়।]
(খণ্ড: ২)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
تعريف الكلام عند النحاةقال المؤلف رحمه الله تعالى: [الكلام وما يتألف منه] هذه ترجمة، وأصلها: هذا باب الكلام وما يتألف منه، ففيها محذوفان: المحذوف الأول: المبتدأ، والثاني: الخبر الذي هو المضاف، حذف وأقيم المضاف إليه مقامه، فصار: الكلام وما يتألف منه.
أي: ما يجتمع منه الكلام.
قال المؤلف رحمه الله تعالى: [كلامنا لفظ مفيد كاستقم] قوله: (كلامنا): ابن مالك رحمه الله من أئمة النحو، فإذا قال: (كلامنا) وأضاف الكلام إلى نفسه ومن كان على شاكلته صار المراد: (كلامنا نحن النحويين) احترازاً من الكلام في اللغة؛ لأن الكلام في اللغة أعم مما قاله رحمه الله.
الكلام في اللغة يطلق على ما تكلم به الإنسان من مفيد وغير مفيد؛ أما عند النحويين فهو كما سيأتي: لفظ مفيد.
لفظ: وهو ما ينطق به اللسان.
فخرج بهذا القيد الكتابة والإشارة والعلامات التي تفيد، والعقد بالأصابع، فإنها تفيد ما يفيده الكلام وليست كلاماً، وكذلك النصب.
الإشارة مثل أن أشير لشخص أن يذهب.
والكتابة معروفة، فالكتابة تفيد ما يفيده الكلام لكنها ليست لفظاً.
والعقد: في حديث صفة الصلاة أنه عقد في التشهد ثلاثاً وخمسين، يعني أن العرب تعقد بأصابعها عقوداً تدل على عدد معين.
وهذا أيضاً مفيد لاشك ويقوم مقام الكلام؛ لكنه ليس لفظاً فلا يكون كلاماً عند النحويين.
والنصب: العلامات، مثل علامات الطريق، بأن توضع علامات في الطريق من أحجار أو أخشاب منصوبة أو غيرها بدون أن يكتب عليها شيء، وكأنها تقول لك: الطريق من هنا، فهي قائمة مقام النطق لكنها ليست لفظاً فلا تكون كلاماً.
إذاً خرج بكلمة (لفظ) أربعة أشياء.
ব্যাকরণবিদদের নিকট কালামের (কথার) সংজ্ঞালেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: [কালাম এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয়] এটি একটি শিরোনাম, যার মূল রূপ হলো: এটি কালাম এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয় তার অধ্যায়। এতে দুটি বিষয় ঊহ্য রয়েছে: প্রথমটি হলো ‘মুবতাদা’ (উদ্দেশ্য), আর দ্বিতীয়টি হলো ‘খবর’ (বিধেয়) যা এখানে ‘মুদাফ’ (সম্বন্ধপদ) হিসেবে ছিল। সেটিকে বিলুপ্ত করে ‘মুদাফ ইলাইহি’-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, ফলে রূপটি দাঁড়িয়েছে: কালাম এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয়।
অর্থাৎ: যা থেকে কালাম বা কথা একত্রিত হয়ে গঠিত হয়।
লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: [আমাদের নিকট কালাম হলো এমন ‘লফয’ (উচ্চারিত শব্দ) যা অর্থবহ, যেমন ‘ইস্তাকিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও)] তাঁর বক্তব্য: (আমাদের কালাম): ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম। সুতরাং তিনি যখন (আমাদের কালাম) বলেন এবং কালাম বা কথাকে নিজের ও তাঁর সমগোত্রীয়দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, তখন এর উদ্দেশ্য হয়: (আমাদের অর্থাৎ ব্যাকরণবিদদের নিকট কালাম)। এটি আভিধানিক অর্থের কালাম থেকে পৃথক করার জন্য করা হয়েছে; কেননা আভিধানিক অর্থে কালামের পরিধি তিনি যা বলেছেন তার চেয়েও অধিক ব্যাপক।
অভিধানে মানুষ যা উচ্চারণ করে তাকেই কালাম বলা হয়, চাই তা অর্থবহ হোক বা না হোক। কিন্তু ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি হলো—যা সামনে আসবে—এমন লফয যা অর্থবহ।
লফয: যা জবান বা জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ করা হয়।
এই শর্তের মাধ্যমে লেখা (লিখনী), ইশারা বা সংকেত এবং অর্থ প্রদানকারী চিহ্নসমূহ বাদ পড়ে গেল। একইভাবে আঙুলের মাধ্যমে সংখ্যা বুঝানোও এর বাইরে রয়ে গেল; কারণ এগুলো কালামের মতো অর্থ প্রদান করলেও এগুলো ‘লফয’ বা উচ্চারিত শব্দ নয়। অনুরূপভাবে ‘নসব’ বা স্থাপিত চিহ্নসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।
ইশারা হচ্ছে যেমন—কাউকে চলে যাওয়ার জন্য ইশারা করা।
আর লেখা তো সুপরিচিত; লেখা কালামের মতোই অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু এটি লফয নয়।
আর ‘আকদ’ (আঙুলের ইশারা): সালাতের বর্ণনা সংবলিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি তাশাহহুদে তিপ্পান্ন (৫৩) সংখ্যাটির ইশারা করেছেন। এর অর্থ হলো—আরবরা তাদের আঙুলের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে ইশারা করে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করত।
নিঃসন্দেহে এটিও অর্থবহ এবং কালামের স্থলাভিষিক্ত হয়; তবে এটি লফয নয় বিধায় ব্যাকরণবিদদের নিকট তা কালাম হিসেবে গণ্য হবে না।
আর ‘নসব’ হলো সংকেত বা চিহ্ন, যেমন রাস্তার চিহ্নসমূহ। অর্থাৎ রাস্তায় পাথর বা কাঠ বা অন্য কিছু পুঁতে রাখা হলো যাতে কিছুই লেখা নেই, কিন্তু সেগুলো যেন আপনাকে বলছে যে—রাস্তা এই দিকে। এগুলো উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হলেও লফয নয়, তাই এগুলো কালাম হবে না।
সুতরাং ‘লফয’ শব্দটির মাধ্যমে চারটি বিষয় বাদ পড়ে গেল।
(খণ্ড: ২)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক লিল উসাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
اشتراط الفائدة في تعريف الكلاموقوله: (مفيد) ما معنى الفائدة؟ يقولون: هي أن يفيد الكلام فائدة يحسن السكوت عليها من قبل المتكلم ومن قبل المخاطب، بمعنى أن المخاطب لا يترقب شيئاً سوى ذلك.
فإذا قلت: أذن المؤذن، تمت الجملة، فلا تترقب شيئاً آخر.
إذاً هو لفظ مفيد.
وإذا قلت: (إن أذن المؤذن) فهنا لا يحسن أن تسكت، لأن المخاطب يترقب شيئاً يستفيد به، لأنك علقته بهذا الشرط، وسيكون في ذهنه كل الاحتمالات: إن أذن المؤذن قامت القيامة، إن أذن المؤذن خرج من المسجد، إن أذن المؤذن صار كذا وكذا.
إذاً: هل أفدته بهذا؟ والكلام هنا لما زاد نقص، فقد كان قولنا: (أذن المؤذن) تامّاً، فلما زدنا (إن) نقص، ويلغز بها فيقال: ما شيء إذا زدته نقص؟ نقول: هو الكلام المفيد إذا دخلت عليه أداة الشرط جعلته ناقصاً غير مفيد.
وقول المؤلف رحمه الله تعالى: (كلامنا لفظ مفيد) لم يذكر أن تكون الفائدة جديدة أو غير جديدة، بل أطلق.
فإذا كان مفيداً فسواء كانت الفائدة جديدة أو معلومة من قبل فإنه يكون كلاماً عند النحويين، فإذا قلت: السماء فوقنا، فهذا كلام؛ لأنه أفاد.
ويرى بعض النحويين أنه إذا لم يأت بفائدة جديدة فإنه ليس بكلام، ولكن الصحيح بلا شك أنه كلام، صحيح أن المخاطب لم يحصل الفائدة المطلوبة؛ لكنه كلام لو خاطبت به من لا يعلم لاستفاد فائدة جديدة.
وقوله: (كاستقم) الكاف هنا للتمثيل، يعني: مثاله استقم.
استقم: هذا لفظ مفيد؛ لكن كيف أفاد وهو كلمة واحدة؟ نقول: هو كلمة واحدة لكن في ضمنها كلمة أخرى؛ لأن قولك (استقم) أي أنت، ففيها ضمير مستتر وجوباً فهو في حكم الظاهر، وعليه فلا يحتاج أن يكون الكلام مركباً من كلمتين فأكثر تركيباً محسوساً، بل إذا ركب ولو تركيباً تقديرياً فإنه يعتبر كلاماً.
إذاً يشترط في الكلام أن يكون لفظاً، وخرج به أربعة أشياء: الإشارة، والكتابة، والعلامات، والعقد.
مفيداً: خرج به ما لا يفيد فإنه لا يسمى كلاماً.
والمراد بالفائدة ما يحسن السكوت عليها، سواء كانت متجددة أو غير متجددة، فإذا قلت: ربنا الله فهو كلام؛ لأنه مفيد.
نبينا محمد، كلام لأنه مفيد.
النار حارة؛ كلام لأنه مفيد وإن كانت الفائدة معلومة.
الماء جوهر سيال، كلام لأنه مفيد.
وإذا قلت: (إن قام محمد؟) فليس بكلام؛ لأن المخاطب يترقب إذا قام محمد ماذا يكون؟
কালামের সংজ্ঞায় 'ফায়দা' বা উপকারের শর্তারোপএবং তাঁর উক্তি: (অর্থবহ) 'ফায়দা' বা উপকারের অর্থ কী? তারা বলেন: এটি হলো বাক্য এমন উপকার প্রদান করবে যার ওপর বক্তা এবং শ্রোতা উভয়ের পক্ষ থেকে নীরব থাকা সমীচীন হয়। অর্থাৎ, শ্রোতা এর অতিরিক্ত অন্য কিছুর অপেক্ষায় থাকে না।
সুতরাং আপনি যদি বলেন: মুয়াজ্জিন আযান দিয়েছেন, তবে বাক্যটি পূর্ণ হলো, ফলে আপনি অন্য কিছুর অপেক্ষায় থাকবেন না।
অতএব, এটি একটি অর্থবহ লফজ বা শব্দ।
আর আপনি যদি বলেন: (যদি মুয়াজ্জিন আযান দেন), তবে এখানে নীরব থাকা সমীচীন নয়। কারণ শ্রোতা এমন কিছুর অপেক্ষায় থাকে যা থেকে সে উপকৃত হতে পারে, যেহেতু আপনি একে একটি শর্তের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছেন, এবং তার মনে সব ধরণের সম্ভাবনা তৈরি হবে: যদি মুয়াজ্জিন আযান দেন তবে কিয়ামত সংঘটিত হবে, যদি মুয়াজ্জিন আযান দেন তবে তিনি মসজিদ থেকে বের হবেন, যদি মুয়াজ্জিন আযান দেন তবে এমন এমন হবে।
অতএব: আপনি কি এর দ্বারা তাকে কোনো উপকার দিলেন? এখানে বাক্যটি বৃদ্ধির ফলে অসম্পূর্ণ হয়ে গেছে। আমাদের উক্তি: (মুয়াজ্জিন আযান দিয়েছেন) এটি পূর্ণ ছিল, কিন্তু যখন আমরা (যদি) বৃদ্ধি করলাম তখন তা অসম্পূর্ণ হয়ে গেল। এটি একটি ধাঁধা হিসেবে ব্যবহার করে বলা হয়: এমন কী জিনিস যা বৃদ্ধি করলে কমে যায়? আমরা বলব: এটি হলো অর্থবহ কালাম, যখন এতে শর্তবাচক অব্যয় প্রবেশ করে তখন তা একে অসম্পূর্ণ ও অর্থহীন করে দেয়।
আর লেখকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) উক্তি: (আমাদের নিকট কালাম হলো অর্থবহ লফজ), তিনি এতে উপকারটি নতুন হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেননি, বরং বিষয়টি সাধারণভাবে রেখেছেন।
সুতরাং যদি তা অর্থবহ হয়, তবে সেই উপকারটি নতুন হোক বা পূর্ব থেকেই জানা হোক, ব্যাকরণবিদদের নিকট তা কালাম বা বাক্য হিসেবে গণ্য হবে। যেমন আপনি যদি বলেন: আকাশ আমাদের উপরে, তবে এটি একটি কালাম; কারণ এটি অর্থ প্রদান করেছে।
কিছু ব্যাকরণবিদ মনে করেন যে, যদি এটি কোনো নতুন উপকার বা তথ্য না দেয় তবে তা কালাম নয়। কিন্তু নিঃসন্দেহে সঠিক মত হলো এটি কালাম। এটা ঠিক যে শ্রোতা এর মাধ্যমে নতুন কোনো তথ্য পায়নি; কিন্তু এটি এমন এক কালাম যা দিয়ে আপনি যদি এমন কাউকে সম্বোধন করেন যে বিষয়টি জানত না, তবে সে নতুন উপকার লাভ করবে।
এবং তাঁর উক্তি: (যেমন ইস্তাক্বিম) এখানে ‘কাফ’ অক্ষরটি উদাহরণের জন্য, অর্থাৎ: এর উদাহরণ হলো ‘ইস্তাক্বিম’ (অবিচল থাকো)।
‘ইস্তাক্বিম’: এটি একটি অর্থবহ লফজ; কিন্তু এটি একটি শব্দ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অর্থ প্রদান করল? আমরা বলব: এটি দৃশ্যত একটি শব্দ ঠিকই, কিন্তু এর অভ্যন্তরে অন্য একটি শব্দ নিহিত রয়েছে; কারণ আপনার উক্তি (ইস্তাক্বিম)-এর অর্থ হলো ‘তুমি অবিচল থাকো’। এতে একটি বাধ্যতামূলক উহ্য সর্বনাম রয়েছে যা দৃশ্যমান শব্দের স্থলাভিষিক্ত। এর ভিত্তিতে, কালাম হওয়ার জন্য দুই বা ততোধিক শব্দের দৃশ্যমান সমাবেশের প্রয়োজন নেই, বরং যদি এটি অনুমিতভাবেও গঠিত হয় তবে তাকে কালাম হিসেবে গণ্য করা হবে।
অতএব, কালামের ক্ষেত্রে লফজ হওয়ার শর্ত রয়েছে। এর ফলে চারটি বিষয় বহির্ভূত হয়ে যায়: ইশারা (ইঙ্গিত), লিখন (লেখা), চিহ্ন এবং আঙ্গুলের গিরায় গণনা।
অর্থবহ: এর মাধ্যমে যা কোনো অর্থ প্রদান করে না তা বহির্ভূত হয়ে যায়, ফলে তাকে কালাম বলা হয় না।
আর উপকার বলতে এমন বিষয় বোঝানো হয়েছে যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন, তা নতুন হোক বা পুরনো। সুতরাং আপনি যদি বলেন: আমাদের রব আল্লাহ, তবে এটি কালাম; কারণ এটি অর্থবহ।
আমাদের নবী মুহাম্মদ; এটি কালাম কারণ এটি অর্থবহ।
আগুন গরম; এটি কালাম কারণ এটি অর্থবহ, যদিও বিষয়টি সবার জানা।
পানি একটি প্রবহমান পদার্থ; এটি কালাম কারণ এটি অর্থবহ।
আর আপনি যদি বলেন: (যদি মুহাম্মদ দাঁড়ায়?) তবে এটি কালাম নয়; কারণ শ্রোতা অপেক্ষায় থাকে যে মুহাম্মদ দাঁড়ালে কী হবে?