(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: -)
المقدمة الزهرا في إيضاح الإمامة الكبرى القسم: العقيدة
الكتاب: المُقَدِّمَةُ الزّهْرا في إيضَاحِ الإمامَةِ الكُبرى
المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)
المحقق: علي رضا بن عبد الله بن علي رضا
الناشر: دار الفرقان للنشر والتوزيع، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 33
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 جُمادَى الآخرة 1432
আল-মুকাদ্দিমাতুয যাহরা ফি ঈযাহিল ইমামাতিল কুবরা (মহা নেতৃত্বের ব্যাখ্যায় উজ্জ্বল ভূমিকা) বিভাগ: আকীদা
বই: আল-মুকাদ্দিমাতুয যাহরা ফি ঈযাহিল ইমামাতিল কুবরা
লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)
সম্পাদক: আলী রেযা বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী রেযা
প্রকাশক: দারুল ফুরকান প্রকাশনা ও পরিবেশনা, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা’য় প্রকাশের তারিখ: ৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى. اتفق أهل السنة والمعتزلة والمرجئة والخوارج والشيعة على وجوب الإمامة وأن الأمة فرض عليها الانقياد إلى إمام عدل، حاشا النجدية من الخوارج فقالوا لا تلزم الإمامة وإنما على الناس أن يتعاطوا الحق فيما بينهم، وهذا قول ساقط.
واتفق كل من ذكرنا على أنه لا يكون في وقت إلا إمام واحد، إلا محمد بن كَرّام وأبا الصباح السَّمَرقَندي وأصحابهما فإنهم أجازوا كون إمامين وأكثر في وقت واحد واحتجوا بقول الأنصار: "منا أمير ومنكم أمير" واحتجوا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট; আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আহলুস সুন্নাহ, মুতাজিলা, মুরজিয়া, খারিজি এবং শিয়াগণ ইমামতের আবশ্যকতা এবং উম্মাহর ওপর একজন ন্যায়পরায়ণ ইমামের আনুগত্য করা ফরজ হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন; কেবল খারিজিদের নাজদিয়্যাহ সম্প্রদায় ব্যতীত। তারা বলেছে যে ইমামত আবশ্যক নয়, বরং মানুষের কর্তব্য হলো নিজেদের মধ্যে হকের ওপর আমল করা। আর এটি একটি অসার মত।
আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা সকলে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এক সময়ে কেবল একজনই ইমাম থাকবেন; তবে মুহাম্মদ ইবন কাররাম, আবুস সাবাহ আস-সামারকান্দি এবং তাদের অনুসারীরা ব্যতীত। তারা একই সময়ে দুই বা ততোধিক ইমাম থাকা বৈধ বলে গণ্য করেছেন এবং তারা আনসারদের এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আমাদের পক্ষ থেকে একজন আমির এবং তোমাদের পক্ষ থেকে একজন আমির"। এবং তারা দলিল দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بأمر علي وابنه مع معاوية.
قلنا: قال عليه الصلاة والسلام: «إذا بويع أحد الخليفتين فاقتلوا الآخِر منهما»
قال تعالى: {ولا تكونوا كالذين تفرقوا واختلفوا}. فحرّم التفرق. ولو جوزنا إمامين لجاز الثالث، والرابع، بل في كل مدينة ٍإمامٌ أو قريةٍ، وفي ذلك فساد عريض وهلاك.
ثم الأنصار رجعوا عن قولهم وأطاعوا. وأما علي رضي الله عنه والحسن فإن النبي صلى الله عليه وسلم أنذر بخارجة تخرج بين طائفتين تقتلها أولى الطائفتين بالحق، وكان قاتل تلك الطائفة أمير المؤمنين علي رضي الله عنه. فهو صاحب الحق بلا شك. ولذلك أخبر عليه الصلاة والسلام بأن عمارا
আলী এবং তাঁর পুত্রের নির্দেশে মুয়াবিয়ার সাথে।
আমরা বললাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন দুই খলিফার মধ্য হতে একজনের হাতে বায়আত গ্রহণ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে পরবর্তীজনকে (দ্বিতীয়জনকে) হত্যা করো»
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে}। অতএব, তিনি বিচ্ছিন্নতাকে হারাম করেছেন। আর যদি আমরা দুইজন ইমামের (নেতার) বৈধতা দিতাম, তবে তৃতীয় এবং চতুর্থ জনেরও বৈধতা থাকতো, বরং প্রতিটি শহরে বা গ্রামে একজন করে ইমাম থাকতো; আর এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বিপর্যয় ও ধ্বংস।
অতঃপর আনসারগণ তাঁদের বক্তব্য থেকে ফিরে আসলেন এবং আনুগত্য করলেন। আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হাসানের বিষয়ে বক্তব্য হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক বিচ্যুত দল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন যারা দুই দলের মাঝে বের হবে, যাদেরকে দুই দলের মধ্যে সত্যের অধিক নিকটবর্তী দলটি হত্যা করবে। আর সেই দলটিকে হত্যাকারী ছিলেন আমিরুল মুমিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। সুতরাং তিনিই নিঃসন্দেহে হকের (সত্যের) ওপর ছিলেন। আর একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন যে, আম্মারকে
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تقتله الفئة الباغية.
وكان علي السابق إلى الإمامة، فمن نازعه فمخطئ مأجور مجتهد.
ثم قول الأنصار: "منا أمير" فمرادهم منا والٍ فإذا مات فمنكم وال، وهكذا أبدا؛ لا على أن يكون إمامان في وقت.
وأما معاوية وعلي فما سلّم أحدهما للآخر قط، وكذلك أمير المؤمنين الحسن رضي الله عنه، إلى أن سلمها إلى معاوية.
ورأينا الأنصار دعوا إلى سعد، والمهاجرين دعوا إلى أبي بكر رضي الله عنهما. وقعد علي في بيته، فما معه غير الزبير وآل بيته؛ فلم يَدْعُهم إلى نفسه ولا عقد بيعة، ثم تبين له الحق وأخبر أنه إنما تأخر عن مبايعة أبي بكر عتبا عليه إذ لم يشاوره، فأعلمه
একটি বিদ্রোহী দল তাকে হত্যা করবে।
আর আলী ইমামতের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন, সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর সাথে বিবাদ করেছে সে একজন ভুলকারী এবং ইজতিহাদকারী হিসেবে সাওয়াবপ্রাপ্ত।
অতঃপর আনসারদের উক্তি: "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে" - এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মধ্য থেকে একজন ওয়ালি হবে, অতঃপর সে মারা গেলে তোমাদের মধ্য থেকে একজন ওয়ালি হবে, এবং এভাবেই সর্বদা চলতে থাকবে; একই সময়ে দুইজন ইমাম হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
আর মুআবিয়া ও আলীর ব্যাপার হলো, তাঁদের কেউই কখনো অন্যজনের কাছে (নেতৃত্ব) সমর্পণ করেননি; অনুরূপভাবে আমীরুল মুমিনীন হাসান (রা.)-এর বিষয়টিও ছিল, যতক্ষণ না তিনি তা মুআবিয়ার কাছে সমর্পণ করলেন।
আর আমরা দেখেছি যে, আনসারগণ সা’দ (রা.)-এর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মুহাজিরগণ আবু বকর (রা.)-এর দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর আলী (রা.) তাঁর ঘরে বসে ছিলেন, তাঁর সাথে যুবায়ের (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ ব্যতীত আর কেউ ছিলেন না; তিনি তাঁদেরকে নিজের দিকে আহ্বান জানাননি এবং বায়আতের চুক্তিও করেননি। অতঃপর তাঁর নিকট সত্য স্পষ্ট হলো এবং তিনি জানালেন যে, আবু বকর (রা.)-এর নিকট বায়আত গ্রহণে তাঁর বিলম্বের কারণ ছিল কেবল তাঁর ওপর কিছুটা অভিমান, যেহেতু তিনি তাঁর সাথে পরামর্শ করেননি। অতঃপর তিনি তাঁকে বিষয়টি অবগত করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أبو بكر أنه استعجل خوفا من مبادرة أصحاب السقيفة.
ثم إن الكل رجعوا إلى طاعة الصديق لكمال أهليته -سوى سعد فقط- لا لرهبة من أبي بكر ولا لرغبة.
ولو قال من لا يعلم: بل خافوه؛ فترى ما الذي حملهم على طاعته وهو في السياق في استخلافه عليهم عمر؟ أكانوا يطعيون أخا بني تيم حيا وميتا في شأن الإمارة ويعصون سيد البشر ويُميتون نصه لابن عمه ويكتمونه! هذا والله لو قاله أحد من الصبيان ليُئس من فلاحهم، بل هذه المقولة سُلّم الزندقة.
ثم أن لو نازع الأمر علي وطلبه، مع فرط شجاعته وكمال رتبته وشرفه وسابقته، لبادر معه العباس سيد قريش، ومثل ابن عمته الزبير حواري رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومثل أبي سفيان بن حرب في بني أمية وأمثالهم.
ولقد صدق الصادق المصدوق حين يقول: «يأبى الله والمؤمنون أن يُختلف على أبي بكر» رضي الله عنه. فقل لي: ما الموجب
আবু বকর তড়িঘড়ি করেছিলেন সাকিফাহর অধিবাসীদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কায়।
অতঃপর সা'দ ব্যতীত সকলেই তাঁর যোগ্যতার পরিপূর্ণতার কারণে সিদ্দীকের আনুগত্যে ফিরে আসেন; আবু বকরের প্রতি কোনো ভীতি বা কোনো লালসার কারণে নয়।
আর কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি যদি বলে: বরং তারা তাঁকে ভয় পেত; তবে আপনি দেখুন, যখন তিনি তাঁর পরে ওমরকে স্থলাভিষিক্ত করার প্রক্রিয়ায় ছিলেন তখন কিসে তাদের তাঁর আনুগত্যে বাধ্য করেছিল? তারা কি নেতৃত্বের প্রশ্নে বনু তায়িম বংশের এক ভাইয়ের আনুগত্য জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় করত, আর মানবকুলের সরদারের অবাধ্যতা করত এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ব্যাপারে তাঁর প্রদত্ত স্পষ্ট বক্তব্যকে স্তিমিত ও গোপন করে ফেলত! আল্লাহর কসম, যদি শিশুদের মধ্য থেকেও কেউ এমন কথা বলত, তবে তাদের কল্যাণ সম্পর্কেও নিরাশ হতে হতো; বরং এই বক্তব্যটি হলো ধর্মদ্রোহিতার সোপান।
তাছাড়া আলী যদি তাঁর চরম সাহসিকতা, উচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও ইসলামের অগ্রগামিতার পাশাপাশি এই বিষয়ের দাবি তুলতেন এবং বিবাদ করতেন, তবে কুরাইশদের নেতা আব্বাস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওয়ারি ও তাঁর ফুফাতো ভাই জুবায়ের এবং বনু উমাইয়ার আবু সুফিয়ান বিন হারব ও তাদের মতো ব্যক্তিরা অবশ্যই তাঁর সাথে এগিয়ে আসতেন।
আর সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারী সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: "আল্লাহ ও মুমিনগণ আবু বকরের ব্যাপারে মতভেদ করতে অস্বীকার করেন" রাযিয়াল্লাহু আনহু। অতএব আমাকে বলুন: কিসের কারণে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لمحبتهم لأبي بكر وتقديمه ومبايعته؟ ألفرط قواه أم لكثرة بني تيم وسؤددهم أم لكثرة عبيده وأمواله؟
رجل بويع فغدا على يده أبرادٌ ليتكسب فيها وينفق على عياله، حتى ردّوه وفرضوا له في بيت المال نفقته المعروفة، فقام به وبخليفته عمر الدين وفتحت الممالك وزال ملك كسرى وقيصر والمقوقس وذل الشرك؛ فأرغم الله بأنفك يا باغضهما. ولكن حبك الشيء يعمي ويصم. ولو شاء الله بك الفلاح لأكثرت من قوله تعالى: {ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا ربنا إنك رءوف رحيم}
ثم العجب من الأنصار -الذين حبهم إيمان والذين بايعوا نبيهم على الموت وآووه ونصروه وعادوا جماهير العرب، بل وحاربوا جيوش الروم والفرس والقبط، مع كثرتهم والتفافهم
আবু বকরের প্রতি তাদের ভালোবাসা, তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদান এবং তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণের কারণ কি ছিল? তা কি তাঁর শক্তির আধিক্যের কারণে, নাকি বনু তায়িম গোত্রের সংখ্যাধিক্য ও আভিজাত্যের কারণে, নাকি তাঁর দাসের সংখ্যা ও সম্পদের প্রাচুর্যের জন্য?
এমন একজন ব্যক্তি যার বায়াত সম্পন্ন হয়েছিল, অথচ পরদিন সকালেই তিনি হাতে কিছু চাদর নিয়ে বের হলেন যাতে তা বিক্রি করে উপার্জন করতে পারেন এবং নিজের পরিবারের জন্য ব্যয় করতে পারেন; শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন এবং বায়তুল মাল থেকে তাঁর জন্য সুপরিচিত ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেন। তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর উত্তরসূরি উমরের মাধ্যমে দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, সাম্রাজ্যসমূহ বিজিত হলো এবং কিসরা, কায়সার ও মুকাউকিসের রাজত্ব বিলীন হলো আর শিরক লাঞ্ছিত হলো। অতএব হে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী, আল্লাহ তোমাকে অপদস্থ করুন। তবে কোনো বিষয়ের প্রতি অতি আসক্তি মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। আল্লাহ যদি তোমার কল্যাণ চাইতেন, তবে তুমি মহান আল্লাহর এই বাণী অধিক পরিমাণে পাঠ করতে: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই সকল ভাইদের ক্ষমা করে দিন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়।"
অতঃপর আনসারদের বিষয়টি বিস্ময়কর—যাদের ভালোবাসা হলো ঈমান এবং যারা তাদের নবীর কাছে মৃত্যুর ওপর বায়াত গ্রহণ করেছিলেন, তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁকে সাহায্য করেছিলেন এবং সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা করেছিলেন, এমনকি তাঁরা রোমান, পারস্য ও কিবতিদের বিশাল বাহিনীর সাথেও যুদ্ধ করেছিলেন, তাঁদের নিজেদের সংখ্যাধিক্য ও সংহতি থাকা সত্ত্বেও।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على سيدهم وكبيرهم سعد- كيف تخلوا عنه بمجيء ثلاثة أنفس من قريش غرباء عن بلدهم. فوالله ما انقادوا لهم وبايعوا الصديق إلا لما نُبِّهوا على الحق.
فرضنا أنهم عجزوا عن الثلاثة وجَبُنوا -وهذا فرض محال- أما كانوا يقولون: لا لنا ولا لكم أيها الثلاثة، بل لمن نصَّ الرسول عليه بالخلافة، بزعمك.
فَقَدْتُكَ يا دائص، ما أبطل حجتك وأشد هواك وشنعتك، ففيك شائبة من اليهود الذين جحدوا الحق وقتلوا الأنبياء. لك نفس أبو جهلية ومعاندة إبليسية؛ فلو تركت الهوى ونابذت الجهل وترديت بالعلم وانقدت للإنصاف لأفلحت.
أعاذنا الله وإياك من المكابرة والعناد.
তাদের সরদার ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সাআদ-এর ব্যাপারে—কীভাবে তারা তাকে ছেড়ে দিলেন কুরাইশদের এমন তিনজন ব্যক্তির আগমনে যারা তাদের শহরের জন্য অপরিচিত ছিলেন। আল্লাহর কসম, তারা তাদের অনুগত হননি এবং সিদ্দীকের হাতে বাইআত গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না তারা সত্যের ব্যাপারে সজাগ হয়েছেন।
আমরা যদি ধরে নিই যে তারা ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন এবং কাপুরুষতা প্রদর্শন করেছিলেন—যা একটি অসম্ভব কল্পনা—তবে কি তারা বলতেন না: হে তিনজন, এটি আমাদের জন্যও নয়, তোমাদের জন্যও নয়; বরং এটি তার জন্য যাকে রাসূল খিলাফতের জন্য স্পষ্টভাবে মনোনীত করেছেন, তোমার দাবি অনুযায়ী।
হে বিভ্রান্তকারী! তোমার ধ্বংস হোক, তোমার দলিল কতই না অসার এবং তোমার প্রবৃত্তি ও জঘন্যতা কতই না তীব্র। তোমার মাঝে সেই ইহুদিদের অবশিষ্টাংশ রয়েছে যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল এবং নবীদের হত্যা করেছিল। তোমার মাঝে রয়েছে আবু জাহলীয় স্বভাব এবং ইবলিসি হঠকারিতা; যদি তুমি খেয়াল-খুশি বর্জন করতে, মূর্খতা পরিহার করতে, ইলমকে ভূষণ হিসেবে গ্রহণ করতে এবং ন্যায়ের অনুগত হতে, তবে অবশ্যই সফল হতে।
আল্লাহ আমাদের ও তোমাকে অহংকার ও হঠকারিতা থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَكِّرْ فيما تقول؛ فإنك عمدت إلى السابقين الأولين من أهل بدر وأهل بيعة الرضوان و {خير أمة أخرجت للناس} ومن قال الله تعالى فيهم: {أولئك هم الصادقون} فرميتهم بخزية لا تكاد تقع من أوباش الأجناد ولا من مسلمة التتار، بل ولا من كفرتِهم ولا من حرامية الخوارزمية ولا من أذلة المنافقين؛ فأين يُذهب بعقلك؟
فانظر -ويحك- ما تقول وما يترتب على ما تزعم. فإنك تجعلهم شر الأمم وأظلم الطوائف وتنسبهم إلى النفاق وكتمان الدين. فوالله لو جرى بينهم منافسة وخصام على الإمرة -والعياذ بالله تعالى- لما ثنانا ذلك عن حبهم وتوقيرهم، فما زال الأصحاب يتنافسون ويغضب بعضهم من بعض ثم يفيئون إلى الصلح والمودة. فقد تألم موسى صلوات الله عليه من أخيه هارون عليه السلام وانزعج منه وأخذ بلحيته، ثم سكن واستغفر
আপনি যা বলছেন তা নিয়ে চিন্তা করুন; কারণ আপনি সেই প্রথম অগ্রগামীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও রিদওয়ানের শপথে শামিল ছিলেন এবং যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ উম্মত" এবং "তারাই হলো সত্যবাদী"। আপনি তাঁদের প্রতি এমন এক লাঞ্ছনার কলঙ্ক লেপন করেছেন যা সাধারণ উচ্ছৃঙ্খল সৈন্যদের থেকেও প্রকাশ পায় না, এমনকি তাতারী মুসলমানদের থেকেও নয়; বরং তাতারীদের কাফিরদের থেকে, খাওয়ারিজমীয় দস্যুদের থেকে কিংবা লাঞ্ছিত মুনাফিকদের থেকেও এমনটি ঘটে না। আপনার বিবেক আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
সুতরাং লক্ষ্য করুন—আপনার প্রতি আফসোস—আপনি কী বলছেন এবং আপনার দাবির পরিণাম কী দাঁড়াচ্ছে। কারণ আপনি তাঁদেরকে সকল উম্মতের মধ্যে নিকৃষ্টতম এবং দলগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা জালেমে পরিণত করছেন এবং তাঁদের প্রতি নিফাক ও ধর্ম গোপন করার অপবাদ দিচ্ছেন। আল্লাহর কসম, যদি তাঁদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা ও বিবাদ হয়েও থাকত—আল্লাহর কাছে তা থেকে আশ্রয় চাই—তবে তা আমাদেরকে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন থেকে বিমুখ করত না। কারণ সাহাবীগণ একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন এবং একে অপরের প্রতি রাগান্বিত হতেন, অতঃপর পুনরায় তাঁরা সন্ধি ও সৌহার্দ্যে ফিরে আসতেন। যেমন মূসা (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর ভাই হারুন (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর আচরণে ব্যথিত হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর দাড়ি ধরে টেনেছিলেন, অতঃপর তিনি শান্ত হন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لنفسه ولأخيه. ثم هذان الخيّران أبو بكر وعمر قد اختصما كما في الحديث الثابت. ثم هؤلاء الذين تأبّوا عن بيعة أبي بكر قد وقع بينهم، فقد اختصم علي والعباس رضي الله عنهما في قضية فدك وتحاكما إلى عمر، فكان ماذا؟ ثم وقع بين علي وبين الزبير، وبين علي ومعاوية، وبلغوا إلى السيف باجتهاد كل واحد منهم، والله يغفر لهم ويرضى عنهم.
ثم هذا نبينا صلى الله عليه وسلم قد تألم لابنته فاطمة وغضب لها لمّا بلغه أن أمير المؤمنين عليا عازمٌ على أن
নিজের জন্য এবং তার ভাইয়ের জন্য। অতঃপর এই দুই কল্যাণময় ব্যক্তি আবু বকর ও উমর বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন, যেমনটি সাব্যস্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এরপর যারা আবু বকরের বাইয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তাদের মাঝেও (বিরোধ) ঘটেছিল; আলী ও আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ফাদাকের বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং উমরের নিকট বিচারপ্রার্থী হয়েছিলেন, তাতে কী হয়েছিল? অতঃপর আলী ও জুবায়েরের মধ্যে এবং আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে (বিরোধ) সৃষ্টি হয়েছিল এবং তারা তাদের প্রত্যেকের ইজতিহাদের কারণে তলোয়ার ধারণ (যুদ্ধ) পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
অতঃপর আমাদের এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কন্যা ফাতিমার জন্য ব্যথিত হয়েছিলেন এবং তাঁর কারণে রাগান্বিত হয়েছিলেন যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে আমীরুল মুমিনীন আলী সংকল্প করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২০)
يتزوج عليها ابنة الشقي أبي جهل، فلما رأى علي انزعاج النبي صلى الله عليه وسلم للبغيضة النبوية تَرَكَ الخِطبة، وما نقصت أصلا رتبته بذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم. فقبَّحَ الله الجهل والهوى.
ثم أين كان علي والزبير وبنو هاشم في قوتهم وشجاعتهم عن قتل رجل تاجر يأخذ الأبراد على يده ويتكسب، قليل المال قليل العشيرة والخدم عديم الحرس والحُجّاب والتحرز، قد نافق وظلم وللنص كتم؟ وما الذي أخّر عليا وذويه عن اغتياله دفعا للباطل وإقامة للحق؟ بل عَلِمَ الفضل لأهله وبايع أبا بكر لسابقته وفضله رضي الله عنهما.
ثم لو قيل: إن كل الصحابة نسوا النص، فمن أين وقع للرافضة، ومن نقله إليهم؟ فهذا كله هوس محال.
وإن قالوا: قد قتل علي طائفةً من قريش فأثّر ذلك نفورا منه لعشائرهم وحقدا في نفوسهم؛
তিনি তাঁর (ফাতিমার) বর্তমানেই দুর্ভাগা আবু জাহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন। আলি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরক্তি লক্ষ্য করলেন—যা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সেই ঘৃণ্য বিষয়ের প্রতি অপছন্দ—তখন তিনি বিবাহের প্রস্তাব ত্যাগ করলেন। এর দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর মর্যাদাহানি মোটেও ঘটেনি। আল্লাহ মূর্খতা ও কুপ্রবৃত্তিকে কুৎসিত করুন।
অতঃপর আলি, জুবাইর এবং বনু হাশিম তাঁদের শক্তি ও সাহসিকতা নিয়ে কোথায় ছিলেন যে, তাঁরা একজন ব্যবসায়ী ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারলেন না, যিনি নিজ হাতে চাদর কেনা-বেচা করতেন এবং জীবিকা নির্বাহ করতেন, যাঁর সম্পদ ও জনবল ছিল সামান্য এবং যাঁর কোনো দেহরক্ষী, দ্বারপাল বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল না; (অথচ তাদের দাবি অনুযায়ী) যিনি মুনাফেকি ও জুলুম করেছেন এবং অকাট্য নস (দলিল) গোপন করেছেন? আলি ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে বাতিল প্রতিহত করতে এবং হক প্রতিষ্ঠা করতে তাঁকে গুপ্তহত্যা করা থেকে কিসে বিরত রেখেছিল? বরং তিনি (আলি) যোগ্য ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অগ্রবর্তিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর নিকট বায়াত গ্রহণ করেছিলেন।
অতঃপর যদি বলা হয়: সকল সাহাবী সেই অকাট্য নস ভুলে গিয়েছিলেন, তবে রাফেজিরা তা কোথা থেকে পেল এবং কে তাদের কাছে তা বর্ণনা করল? এ সবই অসম্ভব প্রলাপ।
আর যদি তারা বলে: আলি কুরাইশদের একটি দলকে হত্যা করেছিলেন, যার ফলে তাদের গোত্রগুলোর মনে তাঁর প্রতি অনীহা এবং অন্তরে বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়েছিল;
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২১)
قلنا: هذا تمويه ضعيف وكذب صريح، لأنه إن ساغ لكم ذلك في بني عبد شمس وبني مخزوم وبني عبد الدار وبني عامر، فإنه قَتَلَ من كل قبيلة من هؤلاء رجلا أو اثنين، فقتل من بني عامر واحدا وهو عمرو بن عبد ود، وقتل من بني مخزوم وبني عبد الدار رجالا، وقتل من بني عبد شمس الوليد بن عُتبة والعاص بن سعيد بن العاص، وقتل عُقبة بن أبي مُعيط، في قول. فقد علم من له أدنى علم بالأخبار أن هذه القبائل لم يكن ولا لواحد منهم يوم السقيفة ذِكر ولا عقد ولا حل، اللهم إلا أبا سفيان، كان مائلا إلى عليٍّ عصبيةً ومنافسة لوصول الأمر إلى بني تيم لا للدين. وكان ابنه يزيد بن أبي سفيان وخالد بن سعيد بن العاص والحارث بن هشام مائلين إلى الأنصار تدينا. والأنصار هم قتلوا أبا جهل، وهو أخو الحارث بن هشام. ثم كان محمد بن أبي حذيفة بن عُتبة مع علي على معاوية.
فدعوا القحة وعرفونا من الذي قتل علي من الأنصار حتى
আমরা বলেছি: এটি একটি দুর্বল প্রবঞ্চনা এবং প্রকাশ্য মিথ্যা। কারণ, যদি বনু আবদ শামস, বনু মাখজুম, বনু আবদ আদ-দার এবং বনু আমিরের ক্ষেত্রে আপনাদের এই দাবি সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে তিনি (আলী) এই গোত্রগুলোর প্রত্যেকটি থেকে মাত্র এক বা দুইজন ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। তিনি বনু আমির থেকে একজনকে হত্যা করেছিলেন, যিনি হলেন আমর ইবনে আবদ উদ। বনু মাখজুম এবং বনু আবদ আদ-দার থেকে তিনি কয়েকজনকে হত্যা করেছিলেন। বনু আবদ শামস থেকে তিনি ওয়ালিদ ইবনে উতবা এবং আল-আস ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আসকে হত্যা করেছিলেন। এক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি উকবা ইবনে আবি মুআইতকেও হত্যা করেছিলেন। ইতিহাসের ন্যূনতম জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তিও জানেন যে, সাকিফার দিনে এই গোত্রগুলোর কোনো সদস্যেরই কোনো উল্লেখ ছিল না, ছিল না কোনো প্রভাব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। তবে আবু সুফিয়ানের কথা স্বতন্ত্র; তিনি কেবল বংশীয় আবেগ এবং বনু তায়ম গোত্রের নিকট ক্ষমতা চলে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতাবশত আলীর প্রতি ঝুঁকেছিলেন, দ্বীনি কারণে নয়। আর তার পুত্র ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আস এবং হারিস ইবনে হিশাম ধর্মনিষ্ঠ হওয়ার কারণে আনসারদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। অথচ আনসাররাই আবু জাহলকে হত্যা করেছিল, যে ছিল হারিস ইবনে হিশামের ভাই। এরপর মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুযাইফা ইবনে উতবা মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে আলীর পক্ষে ছিলেন।
সুতরাং এই ধৃষ্টতা পরিহার করুন এবং আমাদের জানান যে, আনসারদের মধ্য থেকে আলী কাকে হত্যা করেছিলেন যার ফলে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২২)
يؤول بهم الحقد على كتمان حقه والتخلف عنه، فإن أكثرهم ما حاربوا معه.
ثم قد كان لطلحة والزبير وسعد من قتلى المشركين عِدة كما لعلي، فما الذي خصه بحقد ونفور دون هؤلاء؟
ثم آل بالرافضة قلة الحياء وصفاقة الوجوه وعدم الفكر فيما يتفوهون به إلى أن قالوا: حملَ الحقدُ والشحناء سعد بن أبي وقاص وربيعة بن زيد وابن عمر وأسامة ومحمد بن سلمة وأبا أيوب وأبا هريرة وزيدا، في أمثالهم من المهاجرين والأنصار، على التأخر عن بيعة علي رضي الله عنه.
قلت: ليت شعري أي كلمة خفية نُقلت أنها جرت بينهم وبينه؟ وإنما كان رأي هؤلاء وأشباههم أنهم لا يرون القتال في الفُرقة، فانجمعوا عن المحاربة. فلما وقع الاتفاق على معاوية ونزل له السيد الحسن عن الأمر سُمي عام الجماعة واتفقت الأمة كلها على رجل. وهذا يبين لك أن كل الموجودين في
বিদ্বেষ তাদের তাঁর হক গোপন করতে এবং তাঁর থেকে পিছুটান দিতে পরিচালিত করে, কারণ তাদের অধিকাংশই তাঁর সাথে যুদ্ধ করেনি।
অতঃপর ত্বলহা, যুবায়ের এবং সা'দ-এর হাতেও আলীর মতোই অনেক মুশরিক নিহত হয়েছিল; তবে কেন কেবল তাঁর বিরুদ্ধেই এই বিদ্বেষ ও অনীহা কাজ করে, তাঁদের বিপরীতে নয়?
অতঃপর রাফেজীদের নির্লজ্জতা, ধৃষ্টতা এবং তারা কী বলছে সে বিষয়ে বিবেচনাহীনতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা বলেছে: বিদ্বেষ ও শত্রুতা সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস, রবী'আ ইবন যায়দ, ইবন উমর, উসামা, মুহাম্মদ ইবন সালামা, আবু আইয়ুব, আবু হুরায়রা এবং যায়দ ও তাঁদের মতো অন্যান্য মুহাজির ও আনসারদের আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বায়আত থেকে বিরত থাকতে প্ররোচিত করেছিল।
আমি বলি: আমি যদি জানতে পারতাম, তাঁদের ও তাঁর মধ্যে সংগোপনে কোন কথাটি বিনিময় হয়েছে বলে বর্ণিত আছে? মূলত তাঁদের ও তাঁদের সমমনাদের অভিমত ছিল যে, তাঁরা ফিতনা বা বিভেদের সময় যুদ্ধ করা সমীচীন মনে করেননি, তাই তাঁরা লড়াই থেকে বিরত ছিলেন। অতঃপর যখন মুআবিয়ার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং সাইয়্যিদ হাসান তাঁর অনুকূলে বিষয়টি সমর্পণ করলেন, তখন তাকে জামাআতের বছর বলা হলো এবং সমগ্র উম্মত এক ব্যক্তির ওপর একমত হলো। আর এটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, উপস্থিত সকল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المملكة الإسلامية عامئذ رأوا جواز خلافة المفضول مع وجود الأفضل، فقد كان جماعة من الصحابة بايعوا معاوية وهم بيقين أفضل منه، كسعد وابن عمر والحسن وعدة من أهل بدر والحديبية، فكان ماذا؟ كان خليقا للإمارة شريفا مهيبا شجاعا حليما جوادا كثير المحاسن، على هنات له، فالله يسامحه ويعفو عنه، فهو أول الملوك وأحزمهم، ولم يبلغ إلى رتبة الخلفاء الراشدين، حاشا وكلا.
وكذلك قعد عن ابن الزبير ومروان جماعةٌ من الفضلاء، فلما انفرد عبد الملك بن مرون بالأمر بايعوه وأجمعوا عليه، لا رضًا عنه ولا عداوة لابن الزبير ولا تفضيلا لعبد الملك على من هو خير منه وأفضل. وإلى خَوْن الرافضة المنتهى.
ثم لو كان ما افتروه ممكنا، فما الذي دعا عمر إلى إدخاله في أهل الشورى، فقد أخرج من أهل الشورى قرابته: سعيد بن زيد العدوي البدري أحد العشرة، لكونه من عشيرته، وولده عبد الله بن عمر. فصحَّ أن أهل الحل والعقد هم خير أمة
সেই সময়ের ইসলামী সাম্রাজ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাবান ব্যক্তির খিলাফত জায়েয বলে গণ্য হতো। সাহাবীগণের একটি দল মুয়াবিয়ার হাতে বাইআত হয়েছিলেন অথচ তাঁরা নিশ্চিতভাবেই তাঁর চেয়ে উত্তম ছিলেন; যেমন সাদ, ইবনে উমর, হাসান এবং বদর ও হুদায়বিয়ার বেশ কিছু ব্যক্তিবর্গ। তাতে কী হয়েছে? তিনি নেতৃত্বের যোগ্য, সম্মানিত, প্রভাবশালী, সাহসী, সহনশীল, দানশীল এবং বহু গুণের অধিকারী ছিলেন—কিছু ভুলভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। তিনি ছিলেন রাজাদের মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে দৃঢ়চেতা; তবে তিনি খুলাফায়ে রাশিদীনের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, কখনোই না।
অনুরূপভাবে একদল ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তি ইবনুল জুবায়ের এবং মারওয়ান থেকে বিরত ছিলেন। অতঃপর যখন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এককভাবে ক্ষমতার অধিকারী হলেন, তখন তাঁরা তাঁর হাতে বাইআত হলেন এবং তাঁর ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হলেন। এটি তাঁর প্রতি সন্তুষ্টির কারণে নয়, কিংবা ইবনুল জুবায়েরের প্রতি শত্রুতার কারণে নয়, আর আব্দুল মালিককে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম ব্যক্তিদের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্যও নয়। আর রাফেজীদের খিয়ানত বা বিশ্বাসহীনতা তো চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।
এরপর, তারা যে মিথ্যাচার করেছে তা যদি সম্ভব হতো, তবে উমরকে কিসে প্ররোচিত করেছিল তাঁকে শুরার অন্তর্ভুক্ত করতে? অথচ তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের শুরার অন্তর্ভুক্ত করেননি: সাঈদ ইবনে যায়েদ আল-আদাবী আল-বদরী, যিনি দশজনের (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত) একজন হওয়া সত্ত্বেও কেবল তাঁর আত্মীয় হওয়ার কারণে তাঁকে বাদ দিয়েছেন, এবং তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকেও। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সমাধান ও বন্ধনের অধিকারী ব্যক্তিবর্গই (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ) হলেন সর্বোত্তম উম্মত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أنزلوا الإمام عليا منزلته، غير مغالين فيه ولا جافين عنه.
ثم لما دعاهم إلى البيعة وبايعه الملأ من المهاجرين والأنصار، ما رأينا أحدا منهم خاف منه لِما سلف منه في كتمان النص -على زعمكم وإفككم- ولا اعتذر إليه من المبايعة لمن قبله، ولا عنّف هو أحدا منهم على جحد النص ولا سبّه، فإنه صار إليه أزمة الأمور وزال مقتضى التقية وتمكن من الأضداد.
تلك عقول لكم كادها باريها وأضلها ولم يرد أن يهديها.
ولا -والله- رأينا الإمام أبا الحسن قال للصحابة وقد قُتل أمير الناس عمر وراح من يُخشى ويخاف: ويحكم كم هذا الظلم وحتى متى هذا الجحد وإلى كم تكتمون نص نبيكم عليه الصلاة والسلام فيَّ، وإلى كم تُعرضون عن فضلي البائن عليكم؟
ইমাম আলীকে তাঁর যথাযথ মর্যাদায় স্থান দিন, তাঁর ব্যাপারে কোনো অতিরঞ্জন করবেন না এবং তাঁর প্রতি বিমুখতাও দেখাবেন না।
অতঃপর যখন তিনি তাঁদের বায়াতের (আনুগত্যের শপথ) দিকে আহ্বান করলেন এবং মুহাজির ও আনসারদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করলেন, তখন আমরা তাঁদের কাউকে তাঁর কারণে ভীত হতে দেখিনি—আপনাদের দাবি ও মিথ্যাচার অনুযায়ী ‘নস’ (সুস্পষ্ট বর্ণনা) গোপন করার পূর্ববর্তী আচরণের কারণে। আর না তাঁরা তাঁর নিকট তাঁর পূর্ববর্তীদের হাতে বায়াত গ্রহণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, আর না তিনি তাঁদের কাউকে ‘নস’ অস্বীকার করার জন্য তিরস্কার করেছেন কিংবা গালি দিয়েছেন। কারণ তখন সমস্ত বিষয়ের চাবিকাঠি তাঁর হাতে চলে এসেছিল, তাকিয়ার আবশ্যকতা দূর হয়েছিল এবং তিনি প্রতিপক্ষদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছিলেন।
এ হলো আপনাদের সেই বিবেক-বুদ্ধি যাকে তাদের স্রষ্টা লাঞ্ছিত করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন এবং যাকে তিনি হিদায়াত দিতে চাননি।
আল্লাহর কসম! আমরা এমনটি দেখিনি যে ইমাম আবুল হাসান সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলছেন—এমতাবস্থায় যে জনগণের আমীর ওমর নিহত হয়েছেন এবং যাঁর ভয় ও শঙ্কা ছিল তিনি গত হয়েছেন— "ধিক তোমাদের! এই জুলুম আর কতকাল? এই অস্বীকার কতদিন চলবে? আর কতকাল তোমরা আমার ব্যাপারে তোমাদের নবীর (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সুস্পষ্ট নির্দেশ গোপন রাখবে? এবং কতদিন তোমরা তোমাদের ওপর আমার প্রকাশিত শ্রেষ্ঠত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে?"
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هب أنه كظم وسكت، أما كان في بني هاشم أحد له شهامة وصدع بالحق يقول لهم هذا الكلام؟ أما كان العباس في جلالته ووقاره قادرا على أن يصرح فيهم بذلك، ولا عقيل بن أبي طالب الذي كان يداريه معاوية؟
فيا لله العجب من الهوى الذي في غلاة الشيعة والكذب.
ثم قل لي: أزالت الرأفة والمراقبة من قلوب سائر المؤمنين وسادة المجاهدين أن يعملوا في حق مثل علي بمقتضى أمر المصطفى ونصه ولا يبوحون بذكره إلى أن يقتل عثمان صبرا ويُبادر قتلتُه حينئذ وغيرهم من الكبراء إلى نصب علي إماما باجتهادهم، ولا يُقوون ذلك بإظهار ما يكتمونه من النص؟
لقد أسمعت لو ناديت حيا
… ولكن لا حياة لمن تنادي
ধরে নেওয়া যাক যে তিনি ক্ষোভ সংবরণ করেছেন এবং নীরব থেকেছেন; কিন্তু বনু হাশিমের মধ্যে কি এমন তেজস্বী ও সত্যনিষ্ঠ কেউ ছিল না, যে তাদের সামনে এই কথাগুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করত? হযরত আব্বাস কি তাঁর মহিমা ও গাম্ভীর্য সত্ত্বেও তাদের মাঝে এ বিষয়ে মুখ খুলতে সক্ষম ছিলেন না? কিংবা আকিল ইবনে আবি তালিব কি পারতেন না, যাঁর সাথে মুয়াবিয়া নমনীয় আচরণ করতেন?
চরমপন্থী শিয়াদের প্রবৃত্তি ও মিথ্যার কী অদ্ভুত কারসাজি! আল্লাহর নিকট এই বিস্ময় প্রকাশ করছি।
অতঃপর আমাকে বলুন: মুমিন সমাজ ও মুজাহিদদের সরদারদের অন্তর থেকে কি দয়া ও আল্লাহভীতি দূরীভূত হয়েছিল যে, তাঁরা আলীর মতো ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে মুস্তফা (সা.)-এর নির্দেশ ও সুস্পষ্ট ঘোষণা (নস) অনুযায়ী আমল করবেন এবং সেই ঘোষণার কথা বিন্দুমাত্র উচ্চারণ করবেন না যতক্ষণ না উসমান (রা.)-কে মজলুম অবস্থায় হত্যা করা হয়? আর তখন তাঁর হত্যাকারীরা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যখন নিজেদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে আলীকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করতে উদ্যত হলেন, তখনও কি তারা ইতিপূর্বে গোপন রাখা সেই সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রকাশ করে বিষয়টিকে শক্তিশালী করলেন না?
তুমি যদি কোনো জীবিত ব্যক্তিকে ডাকতে তবে অবশ্যই তাকে শোনাতে পারতে
… কিন্তু যাকে তুমি ডাকছ তার তো কোনো প্রাণ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إنها والله لإحدى الكبر، اتفاق جميع خير أمة أخرجت للناس من أوائل المغرب إلى خراسان ومن الجزيرة إلى أقصى اليمن على السكوت عن حق علي ومنعهم حقه، وليس ثَم شيء يخافونه قط ولا أحد يشاقونه. هذا هو المحال الممتنع. ثم من الغد يبايعونه ويطيعونه ويبذلون نفوسهم، مثل يوم صفين والجمل، والرؤوس تندر والدماء كالسيول والمصاحف ترفع على الرماح، والحالة هذه، ولا أحد ينعق بين القوم: ويحكم اتقوا الله وهلموا إلى نص نبيكم.
وهلا نطق الإمام علي بذلك يوم صفين، بل أجاب إلى حكم الحكمين.
وقال هشام بن الحكم الرافضي: كيف لا يجوز عليهم كتمان النص وقد قتل بعضهم بعضا؟
قلنا: يا جاهل، هذا أعظم حجة عليك، لأن عليا أول من قاتل حين افترق الناس، فما لحقهم لحقه. ولكن كان الفريقان
আল্লাহর কসম, এটি নিশ্চয়ই এক গুরুতর বিষয়। মাগরিবের (পশ্চিমের) প্রান্ত থেকে খোরাসান পর্যন্ত এবং জাজিরা থেকে সুদূর ইয়ামেন পর্যন্ত মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের সকলের আলীর হকের ব্যাপারে নীরব থাকা এবং তাঁকে তাঁর হক থেকে বঞ্চিত করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হওয়া—যেখানে তাদের ভয় পাওয়ার মতো কোনো কিছু ছিল না এবং তাদের সাথে শত্রুতা করার মতোও কেউ ছিল না; এটি একটি অসম্ভব ও অকল্পনীয় ব্যাপার। এরপর পরবর্তী সময়েই তারা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করে, তাঁর আনুগত্য করে এবং সিফফিন ও জামালের যুদ্ধের দিনের মতো নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে; যেখানে মাথাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল, রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল বানের মতো এবং বর্শার মাথায় কুরআন (মুসহাফ) উত্তোলন করা হয়েছিল। আর এই পরিস্থিতির মাঝেও লোকদের মধ্য থেকে কেউ এই বলে চিৎকার করেনি যে: 'তোমাদের ধ্বংস হোক! আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের নবীর স্পষ্ট নির্দেশের (নস) দিকে ফিরে এসো।'
এমনকি ইমাম আলী নিজেও কি সিফফিনের দিন এ কথা উচ্চারণ করেছিলেন? বরং তিনি তো দুই বিচারকের মীমাংসার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন।
রাফেযী হিশাম বিন হাকাম বলেছিল: তাদের পক্ষে (নবীর) স্পষ্ট নির্দেশ গোপন করা কেন সম্ভব হবে না, যেখানে তারা একে অপরকে হত্যা করেছিল?
আমরা বললাম: হে মূর্খ, এটি তো তোমার বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বড় প্রমাণ; কেননা মানুষ যখন বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, তখন আলী-ই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। সুতরাং তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল, তাঁর ওপরও তা-ই আপতিত হয়েছে। কিন্তু উভয় দলই ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مجتهدين متأولين، والله يغفر لهم، وعلي أولى بالحق ممن قاتله من الشاميين وغيرهم، فقد سماهم النبي صلى الله عليه وسلم: "فئة باغية". ونحن نكف عما شجر بين الصحابة. وأنت بجهلك تفرق بينهم وتحط على سائرهم فيما لم يتشاجروا فيه. فأي الفريقين أحق بالأمن وأقرب إلى الورع؟
فلما استشهد الإمام علي وقام الحسن ثم أقبل في كتائب أمثال الجبال ومعه مئة ألف عِنان يموتون لموته، فما الذي جعله في سعة من تسليم الأمر إلى معاوية وإعانته على الضلال وإبطال حقه من العهد النبوي إليه وإلى أبيه؟ ثم يوافقه على ذلك أخوه الحسين الشهيد ويسكت، فما نقض يوما بيعة معاوية أبدا. فلما مات معاوية قام الحسين وسار يطلب الإمارة وتحرج من القعود عن الحرب، فقاتل حتى استشهد رضي الله عنه. فلولا أنه رأى مبايعته لمعاوية سائغة لفعل معه كما فعل مع يزيد. هذا ما
তারা ছিলেন মুজতাহিদ এবং ব্যাখ্যা প্রদানকারী, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। আলী (রা.) শামের অধিবাসী ও অন্যান্য যারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তাদের তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের 'বিদ্রোহী দল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সাহাবীগণের মধ্যে যা কিছু বিবাদ ঘটেছিল তা নিয়ে আমরা আলোচনা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু তুমি তোমার মূর্খতার কারণে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছ এবং যে বিষয়ে তারা বিবাদে লিপ্ত হননি সে বিষয়েও তাদের সকলকে হেয় প্রতিপন্ন করছ। সুতরাং উভয় দলের মধ্যে কোন পক্ষটি নিরাপত্তার অধিক হকদার এবং পরহেজগারির অধিক নিকটবর্তী?
অতঃপর যখন ইমাম আলী শহীদ হলেন এবং হাসান দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, এরপর তিনি পাহাড়সম বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে এগিয়ে এলেন এবং তাঁর সাথে ছিল এক লক্ষ অশ্বারোহী যারা তাঁর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। এমতাবস্থায় কোন বিষয়টি তাঁকে মুয়াবিয়ার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের অবকাশ দিল এবং (তোমার দাবি অনুযায়ী) তাকে বিভ্রান্তির ওপর সহায়তা প্রদান ও তাঁর নিজের ও তাঁর পিতার প্রতি কৃত নববী অঙ্গীকারের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ করে দিল? এরপর তাঁর ভাই শহীদ হুসাইনও এই বিষয়ে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন এবং নীরবতা অবলম্বন করেন; তিনি কখনোই মুয়াবিয়ার আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করেননি। অতঃপর যখন মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করলেন, তখন হুসাইন রুখে দাঁড়ালেন এবং নেতৃত্বের দাবিতে অগ্রসর হলেন এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা সমীচীন মনে করলেন না; পরিশেষে তিনি যুদ্ধ করলেন এবং শাহাদাত বরণ করলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন। তিনি যদি মুয়াবিয়ার নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করাকে বৈধ মনে না করতেন, তবে তিনি তাঁর সাথেও তেমন আচরণ করতেন যেমনটি তিনি ইয়াজিদের সাথে করেছিলেন। এটিই হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لا يماري فيه منصف. فإن السبطين سلما الأمر إلى معاوية طائعين غير مكرهين وهما في عز ومنعة وجيش لجب؛ فدل ذلك على أنهما فعلا المباح، وأصلح الله تعالى بين الأمة بالسيد الحسن، وحقنت الدماء وسكنت الدهماء وانعقد الإجماع على مبايعة المفضول الكامل السياسة مع وجود الأفضل الأكمل. ولله الحمد.
ولو امتنع السبطان في ذلك الوقت ونواصي العرب في يد الحسن لا شك أن يكون لهم النصرة على أهل الشام.
فهذا زياد، ومن هو زياد، امتنع، وهو فقعة القاع لا عشيرة له ولا نسب ولا سابقة، فما أطاقة معاوية إلا بالمدارة والملاطفة، حتى ولاه واستُلحق به أخا، وفي هذا عبرة لمن أنصف.
سلَّمنا سابقة علي وتجربته وجهاده وفضائله وأنه أفضل أهل زمانه، فما الذي جعل السيدين السبطين بمنزلته وفي
কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এতে বিতর্ক করবেন না। কেননা রাসূলুল্লাহর দুই দৌহিত্র (হাসান ও হুসাইন) স্বেচ্ছায়, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুয়াবিয়ার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন, অথচ তাঁরা তখন সম্মান, সুরক্ষা এবং এক বিশাল সেনাবাহিনীর অধিকারী ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা বৈধ কাজই করেছেন। আর মহান আল্লাহ সাইয়্যেদ হাসানের মাধ্যমে উম্মাহর মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছেন; এর ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়েছে, বিশৃঙ্খলা দমিত হয়েছে এবং অধিকতর শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতিতেও রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণের ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।
আর যদি সেই সময়ে রাসূলুল্লাহর দুই দৌহিত্র ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানাতেন—যখন আরবের নেতৃত্বের লাগাম হাসানের হাতে ছিল—তবে নিঃসন্দেহে সিরিয়াবাসীদের বিরুদ্ধে তাঁদেরই বিজয় অর্জিত হতো।
এই তো যিয়াদ; আর যিয়াদই বা কে? সে অবাধ্যতা করেছিল, অথচ সে ছিল এক নগণ্য ব্যক্তি যার কোনো গোত্রীয় শক্তি, বংশমর্যাদা বা ইসলামের শুরুতে কোনো পূর্ব-অবদান ছিল না। তবুও মুয়াবিয়া তাকে নমনীয়তা ও সদয় ব্যবহার ছাড়া বশ করতে পারেননি; এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং নিজের ভাই হিসেবে গ্রহণ করেন। এতে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
আমরা আলীর পূর্ব-অবদান, অভিজ্ঞতা, জিহাদ ও ফযীলতসমূহ এবং তিনি যে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন—তা স্বীকার করি। তবে কোন বিষয়টি দুই সাইয়্যেদ দৌহিত্রকে তাঁর সমমর্যাদায় এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوقت من هو قريب من أبيهما في المرتبة، كسعد وسعيد، ثم كابن عمر الذي لولا شيء لقُلِّد الخلافة يوم الحكمين. وكذلك لا نجد لزين العابدين علي بن الحسين سبوقا -مع عظمته وشرفه- في علم ولا عمل على سعيد بن المسيب والقاسم وسالم وعروة. وكذلك لا تجدون لأبي جعفر محمد بن علي سبوقا في العلم والعمل -مع أهليته للخلافة- على أخيه زيد وابن شهاب وعبد الرحمن بن القاسم وعمر بن عبد العزيز؛ ولا لجعفر بن محمد -مع صلاحيته للإمامة- على عبد الله بن عمر
সেই সময়ের যারা মর্যাদার দিক থেকে তাঁদের পিতার কাছাকাছি ছিলেন, যেমন সাদ ও সাঈদ; এরপর ইবনে উমর, যাঁর ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কারণ বাধা না হলে সালিশির দিনে তাঁকে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করা হতো। একইভাবে আমরা জয়নুল আবিদীন আলী ইবনুল হোসাইনের ক্ষেত্রে—তাঁর মহত্ব ও শরাফত থাকা সত্ত্বেও—ইলম কিংবা আমলে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, কাসিম, সালিম এবং উরওয়ার ওপর কোনো অগ্রগামিতা পাই না। তদ্রূপ আপনারা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলীর ক্ষেত্রে—খিলাফতের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও—তাঁর ভাই যায়েদ, ইবনে শিহাব, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজের ওপর ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে পাবেন না; এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদের ক্ষেত্রেও—ইমামতের উপযুক্ততা থাকা সত্ত্বেও—আবদুল্লাহ ইবনে উমরের ওপর কোনো অগ্রগামিতা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وابن أبي ذئب؛ ولا لموسى بن جعفر على عبد الله بن عمر بن عبد العزيز الزاهد العمري؛ ولا لعلي بن موسى الرضا على محمد بن إدريس الشافعي المطلبي. وأما ولد الرضا وحفيده علي بن محمد ونافلته الحسن بن محمد العسكري، فهؤلاء لهم شرف وسؤدد في الجملة، ولكن بينهم
এবং ইবনে আবি জিব; আর মুসা ইবনে জাফরের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আল-যাহিদ আল-উমারির ওপর; এবং আলী ইবনে মুসা আর-রিদারও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিয়ী আল-মুত্তালিবির ওপর। আর রিদার সন্তান, তাঁর পৌত্র আলী ইবনে মুহাম্মদ এবং তাঁর প্রপৌত্র আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-আসকারি—তাঁরা সামগ্রিকভাবে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, তবে তাঁদের মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وبين زين العابدين وابنه الباقر وحفيده الصادق بون بعيد في العلم والفضل.
وأما ثاني عشرهم المنتظر المعدوم، ففيه قولان لا ثالث لهما البتة: إما إنه وُجد ثم مات، أو لم يكن قط، وهو الأشبه. فأما أن يكون دخل وهو صبي في سرداب بلد سُرَّ من رأى من نحو أربعمائة وسبعين عاما وهو إلى الآن حي يرزق ولا بد أن يخرج ويملأها عدلا وقسطا، وأنه يعلم علم النبي صلى الله عليه وسلم جميعه وعلم الإمام علي كله، لا بل علم الأولين والآخرين وأنه لا يجوز عليه سوهو ولا نسيان وأنه معصوم وأنه وأنه
… فهذه خرافات الكذابين من الرافضة الذين لا يستيحيون من الله فيما يدعونه. وما نعلم المنتظر الذي هو الآن حي ومن قبل الإسلام بدهر إلا المسيحين، مسيح الهدى الذي هو الآن في السماء، ومسيح الضلال المغلول في جزيرة ببحر الروم، وهو الدجال شر
জয়নুল আবেদিন, তাঁর পুত্র আল-বাকির এবং তাঁর পৌত্র আস-সাদিকের জ্ঞান ও মর্যাদার সাথে (কথিত দ্বাদশ ইমামের) বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।
আর তাদের দ্বাদশতম প্রতীক্ষিত ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তি সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে যার কোনো তৃতীয়টি নেই: হয় সে জন্মগ্রহণ করার পর মৃত্যুবরণ করেছে, অথবা তার আদৌ কোনো অস্তিত্ব ছিল না—আর এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। আর প্রায় চারশত সত্তর বছর পূর্বে সামাররা শহরের এক ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠে বালক অবস্থায় তার প্রবেশ করা এবং এখন পর্যন্ত জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত থাকা, এবং অবশ্যই তার আত্মপ্রকাশ করা ও পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেওয়া, এবং সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাবতীয় জ্ঞান ও ইমাম আলীর সকল জ্ঞান রাখে, বরং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান রাখে এবং তার কোনো ভুল বা বিস্মৃতি হওয়া সম্ভব নয় এবং সে নিষ্পাপ (মাসুম) এবং সে এই, সে সেই...
… এগুলো হলো রাফেযীদের মধ্যকার মিথ্যাবাদীদের গালগল্প যারা তাদের দাবির বিষয়ে আল্লাহর কাছে লজ্জাবোধ করে না। আর আমরা বর্তমানে জীবিত এবং ইসলামের আগমনের বহু কাল পূর্ব থেকে বিদ্যমান এমন কোনো প্রতীক্ষিত ব্যক্তি সম্পর্কে জানি না কেবল দুই মসীহ ব্যতীত; হিদায়াতের মসীহ যিনি বর্তমানে আসমানে রয়েছেন এবং ভ্রষ্টতার মসীহ যিনি রোম সাগরের এক দ্বীপে শৃঙ্খলিত রয়েছেন—আর সে হলো দাজ্জাল, নিকৃষ্ট ও মন্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
منتظر، الذي يقتله المسيح عيسى بن مريم عليه السلام بباب لد.
ثم هذا ريحانة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحسين قد تأخر، وقلما روى أو أفتى، لعل مجموع ذلك المروي عنه لا يبلغ ورقتين؛ وهذا ابن عمه عبد الله بن عباس حبر الأمة قد جُمع فقهه في عشرين جزءا، ويبلغ حديثه نحوا من ذلك. وكذلك علي بن الحسين لا يبلغ حديثه وفتياه ثلاث ورقات أو أرجح؛ وسعيد بن المسيب لو جمع علمه وفقهه وحديثه لبلغ مجلدا تاما. وأما أبو جعفر فله روايات وأقوال تبلغ جزءين. وكذلك ولده جعفر، بل أكثر من ذلك. وأما موسى الكاظم فلا يبلغ نصف ذلك.
وهم يقولون إن الإمام من هؤلاء الاثني عشر عنده علم جميع الشريعة. فما بال من ذكرنا مع حُرمتهم وتمكنهم من البلاغ أظهروا النزر اليسير منه وكتموا سائره؟ فإن كان غرضهم كتمان العلم فهذه سماجة عظيمة ومصيبة.
প্রতীক্ষিত (দাজ্জাল), যাকে মারইয়াম তনয় মসীহ ঈসা আলাইহিস সালাম লুদ নামক ফটকে হত্যা করবেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র এই হুসাইন; তিনি পরবর্তী প্রজন্মের ছিলেন, তিনি খুব কমই বর্ণনা করেছেন বা ফতোয়া দিয়েছেন; সম্ভবত তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের সমষ্টি দুই পৃষ্ঠাও হবে না। অথচ তাঁর চাচাতো ভাই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, যাঁর ফিকহ বিশ খণ্ডে সংকলিত হয়েছে এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের পরিমাণও প্রায় তদ্রূপ। একইভাবে আলী ইবনুল হুসাইনের হাদিস ও ফতোয়া তিন পৃষ্ঠা বা তার চেয়ে সামান্য বেশিও হবে না; অথচ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের ইলম, ফিকহ ও হাদিস একত্রিত করা হলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ড হতো। আর আবু জাফরের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ও উক্তিগুলো দুই খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাবে। তাঁর পুত্র জাফরের ক্ষেত্রেও তাই, বরং তার চেয়েও বেশি। কিন্তু মুসা আল-কাজিমের ক্ষেত্রে এর অর্ধেক পরিমাণও হবে না।
অথচ তারা বলে যে, এই বারোজন ইমামের প্রত্যেকের কাছে পূর্ণ শরীয়তের জ্ঞান রয়েছে। তাহলে যাদের কথা আমরা উল্লেখ করলাম, তাঁরা সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও এবং প্রচার করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেন এর অতি সামান্য অংশ প্রকাশ করলেন এবং অবশিষ্ট অংশ গোপন রাখলেন? যদি তাঁদের উদ্দেশ্য জ্ঞান গোপন করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত কদর্য বিষয় ও এক মহাবিপদ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুকাদ্দিমাতুজ জাহরা ফী ঈদ্বহিল ইমামাতিল কুবরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم لماذا أعلنوا ما يجب كتمانه؟
فدعوا الأباطيل والدعاوى الكاذبة، فإنما العلم بالتعلم.
وإن زعمتم أن الله يعلمهم أو يأتيهم بذلك وحي فقد ساويتموهم بالأنبياء! نعوذ بالله من الخذلان.
ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين.
অতঃপর তারা কেন তা প্রকাশ করল যা গোপন রাখা আবশ্যক ছিল?
অতএব অলীক বিষয় ও মিথ্যা দাবিগুলো বর্জন করুন; কেননা জ্ঞান অর্জিত হয় কেবল শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে।
আর যদি আপনারা দাবি করেন যে, আল্লাহ তাদেরকে শিক্ষা দেন অথবা তাদের নিকট এই মর্মে ওহি আসে, তবে তো আপনারা তাদেরকে নবীদের সমান করে দিলেন! আমরা আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র ও উত্তম পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।