(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الفرقان في بيان إعجاز القرآن   (الكريم بن صالح الحميد)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الفرقان في بيان إعجاز القرآن

المؤلف: أبو محمد عبد الكريم بن صالح بن عبد الكريم الحميد

الناشر: بدون ناشر (فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية - الرياض)

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 466

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1432

আল-ফুরকান ফি বায়ান ই'জাযিল কুরআন   (আল-কারীম বিন সালিহ আল-হুমাইদ)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: আল-ফুরকান ফি বায়ান ই'জাযিল কুরআন

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারীম বিন সালিহ বিন আব্দুল কারীম আল-হুমাইদ

প্রকাশক: প্রকাশক বিহীন (কিং ফাহদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং - রিয়াদ)

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ যিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الفرقان

في بيان

إعجاز القرآن

تأليف الشيخ

عبد الكريم بن صالح الحميد

حفظه الله تعالى
আল-ফুরকান

বর্ণনায়

কুরআনের মুজিজা

শায়খের রচনা

আব্দুল কারীম বিন সালিহ আল-হুমাইদ

আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين، أما بعد …

فإن إعجاز القرآن مُسَلَّم في اعتقاد المسلمين لا يتطرّق إليه الشك.

وقد ظهر هذا الإعجاز وقت نزوله بأخباره الغيبية الماضية والحاضرة والمستقبلة، وبالتحدّي بالإتيان ولوْ بسورة واحدة من مثله إلى غير ذلك من إعجازه الباهر، القاهر لكل مبطل خاسر.

وليس موضوعنا التفصيل في ذلك فقد كُفيناه حيث كَتَبَ السلف في هذا ما بعضه يكفي.

وإنما المراد هنا الكلام فيما جَدّ وحَدَث في زماننا من الكلام في إعجاز القرآن الذي معناه متابعة ومجاراة الكفار الملاحدة فيما يزعمون أنهم اكتشفوه وعرفوه.

فالمقصود النظر في هذا الإعجاز المزعوم وَوَزنه بميزان الشرع لِتَسْتبين سبيل الحق من الباطل ولأنه صار فتنة عظيمة تهوّك بها من تهوّك على غير هدى بل بضلال مبين لا يرتقي ولا إلى درجة الظن والتخمين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর …

নিশ্চয়ই কুরআনের অলৌকিকত্ব মুসলিমদের আকিদায় এক অনস্বীকার্য বিষয়, যাতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই।

এই অলৌকিকত্ব কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকেই এর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অদৃশ্য সংবাদের মাধ্যমে এবং এর মতো মাত্র একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ প্রদানের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়াও রয়েছে এর আরও বহু উজ্জ্বল অলৌকিক নিদর্শন, যা প্রত্যেক বাতিলপন্থী ক্ষতিগ্রস্তকে পরাভূত করে।

আমাদের আলোচ্য বিষয় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা নয়; কারণ এ বিষয়ে আমাদের পূর্বসূরিগণ (সালাফ) যা লিখেছেন তা-ই যথেষ্ট।

বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো বর্তমান সময়ে কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে উদ্ভূত নতুন সেই আলোচনাগুলো নিয়ে কথা বলা, যার অর্থ হলো নাস্তিক কাফেররা যা কিছু আবিষ্কার ও জানার দাবি করে, সেগুলোর সাথে কুরআনের সামঞ্জস্য বিধান ও তাদের অনুসরণ করা।

মূল উদ্দেশ্য হলো এই তথাকথিত অলৌকিকত্ব নিয়ে পর্যালোচনা করা এবং শরয়ি মানদণ্ডে তা যাচাই করা, যাতে সত্যের পথ মিথ্যার পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ এটি একটি বিশাল ফিতনায় পরিণত হয়েছে যাতে অনেক মানুষ কোনো প্রকার হেদায়েত ছাড়াই বিভ্রান্তিতে নিপতিত হচ্ছে; বরং এটি এমন এক সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা যা এমনকি ধারণা বা অনুমানের স্তরেও উন্নীত হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
بل حصل بسببه من جحود الخالق وإنكار وجوده ما لا يُحاط به، يعلم الكثير من ذلك من اسْتقرأ الأمر من بدايته وأصله وتابع تفرّعاته ونتائجه، ولم يغرّه نفخ في صُوَرٍ مَيّتة ممن يُرَوِّجون فاسد البضاعة وكاسدها، بل والله مسمومها، وأعني الذين تَوَلَّوْا ترجمة هذه العلوم. كذلك الذين وجدوها مترجمة ففُتِنوا فيها فضلوا بها وأضلوا من تبعهم بما يكتبون ويؤلفونه تقليداً وتبعية.

وكل هؤلاء أقحموا آيات القرآن قسْراً وقهراً رغم عدم طَوَاعِيّتها والبَوْن البعيد الفارق بينها وبين هذه العلوم الدخيلة، أقحموها بها لِتَساير الركب الضال وهذا يستحيل تحقيقاً وإنْ وُجِدَ تَلْفيقاً.

وإن ترويج هذه العلوم المضلّة بمزجها بعلم الهدى لَنَذير شر وموجب رَدَى.

إن الحق والباطل لا يتفقان على الملائمة ولا يجتمعان إلى على مضادة ومُنافرة وإنما اللبس إذا وقع أظلمت الطريق، فقد الْتبس الحق بالباطل بهذه الأسباب فحصل الضلال.

والمراد من هذا الكتاب النظر في هذا الطوفان الغامر المسمى: (إعجاز القرآن العلمي) بِزَعْم تصديق كلام الله وتصحيحه وتأييده هذه النظريات التي يُطلق عليها اسم العلم التي وَفَدَتْ من ملاحدة أصّلوا علومهم ونظرياتهم على جحود الخالق سبحانه وبحمده، فهل القرآن
বরং এর ফলে স্রষ্টাকে অস্বীকার করা এবং তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করার এমন এক ব্যাপক পর্যায় সৃষ্টি হয়েছে যা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। যারা বিষয়টি এর শুরু ও মূল থেকে অনুসন্ধান করেছেন এবং এর শাখা-প্রশাখা ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা এর অনেক কিছুই জানেন। যারা এই পচা, অচল বরং আল্লাহর কসম, বিষাক্ত পণ্য প্রচার করে, তাদের এই নির্জীব কাঠামোর আস্ফালনে তারা প্রলুব্ধ হননি। আমি তাদের উদ্দেশ্য করছি যারা এই বিজ্ঞানসমূহ অনুবাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে, যারা এগুলো অনূদিত অবস্থায় পেয়েছেন এবং তাতে মোহগ্রস্ত হয়েছেন, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছেন এবং অন্ধ অনুকরণ ও অনুসরণের মাধ্যমে তাদের লেখা ও রচনার দ্বারা অনুসারীদেরও পথভ্রষ্ট করেছেন।

এই সব লোক পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহকে জোরপূর্বক ও জবরদস্তিমূলকভাবে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও কুরআনের আয়াতসমূহ এসকল বিজাতীয় বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং উভয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান বিদ্যমান। তারা এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে তা এই পথভ্রষ্ট কাফেলার সাথে তাল মেলাতে পারে; অথচ এটি বাস্তবিকে অসম্ভব, যদিও জোড়াতালি দিয়ে তা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

হিদায়াতের ইলমের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞানসমূহের প্রচার নিশ্চিতভাবেই অকল্যাণের পূর্বাভাস এবং ধ্বংসের কারণ।

নিশ্চয়ই সত্য ও মিথ্যা কখনো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না এবং বৈরিতা ও বিকর্ষণ ছাড়া তারা একত্রে মিলিত হতে পারে না। মূলত যখন সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে তখন পথ অন্ধকার হয়ে যায়। এই সকল কারণে সত্য মিথ্যার সাথে মিশে গেছে এবং ফলশ্রুতিতে পথভ্রষ্টতা দেখা দিয়েছে।

এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো ‘কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব’ নামক এই বিধ্বংসী প্লাবন সম্পর্কে আলোচনা করা; যা আল্লাহর কালামকে সত্যায়ন ও সমর্থন করার দাবি নিয়ে এমন সব তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে যাকে ‘বিজ্ঞান’ নাম দেওয়া হয়েছে। আর এগুলো এসেছে এমন সব নাস্তিকদের পক্ষ থেকে যারা মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে তাদের বিজ্ঞান ও তত্ত্বসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাহলে কুরআন কি
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
حقيقة يُوَافق ذلك أم يخالفه فلننظر (لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ).

أما من أقرّ بالخالق منهم فقد أقَرَّ به على مقتضى هذا النظر المحدَث للكون، وهو ضلال من أوله إلى آخره، فكثير منهم غايتهم الربوبية، والإقرار بالخالق لوْ كان على مقتضى الفطرة والنظر الصحيح لما دخل صاحبه في الإسلام فكيف بنظرِ مَنْ سار على نهج هذا العلم الحديث وكشوفاته؟ إنها تبدأ بالضلال وتنتهي إليه، أما من يُرَوِّج هذه البضائع فإما جاهل أو ماكر، وأهل الإسلام في غنى ونعمة من الله حَسَدهم عليها أعداؤهم فأرادوا أن يزاحموها بضلالهم ويفسدوها لتحصل المشاركة، (وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَداً مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ).

وقدس الله روح ابن القيم فهو يقول: فلا تُتعب ذهنك بهذيانات الملحدين فإنها عند من عرفها من هَوَس الشياطين وخيالات المبطلين.

وإذا طلع فجر الهدى وأشرقت النبوّة فعساكر تلك الخيالات والوساوس في أول المنهزمين، (وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ) انتهى (1).

--------------------------------------------

(1) من مفتاح دار السعادة 1/ 215
সত্য এর সাথে সংগতিপূর্ণ হোক বা বিরোধী, আসুন আমরা দেখি (যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে)।

তাদের মধ্যে যারা স্রষ্টাকে স্বীকার করেছে, তারা মহাবিশ্ব সম্পর্কে এই নবউদ্ভাবিত আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই তা করেছে, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভ্রান্তি। তাদের অনেকেরই মূল লক্ষ্য হলো কেবল রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব)। স্রষ্টাকে স্বীকার করা যদি ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেও হয়, তবুও কেবল তা কোনো ব্যক্তিকে ইসলামে প্রবেশ করায় না; তাহলে সেই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে যে এই আধুনিক বিজ্ঞান ও তার আবিষ্কারের পথে চলে? এটি বিভ্রান্তি দিয়েই শুরু হয় এবং তাতেই শেষ হয়। আর যারা এই ভ্রান্ত মতবাদগুলোর প্রচার করে, তারা হয় মূর্খ না হয় প্রতারক। ইসলামের অনুসারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ঐশ্বর্য ও নেয়ামতের মধ্যে রয়েছে যার জন্য শত্রুরা তাদের হিংসা করে; তাই তারা তাদের বিভ্রান্তি দিয়ে তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে এবং একে কলুষিত করতে চেয়েছে যাতে সবাই বিভ্রান্তিতে সমান হয়ে যায়। (কিতাবধারীদের মধ্যে অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর নিজেদের বিদ্বেষবশত তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফেরে পরিণত করতে চায়)।

আল্লাহ ইবনুল কাইয়্যিমের আত্মাকে পবিত্র করুন, তিনি বলেন: নাস্তিকদের প্রলাপ নিয়ে তোমার মস্তিষ্ককে ভারাক্রান্ত করো না, কারণ যারা এগুলো সম্পর্কে জানে তাদের কাছে এগুলো শয়তানের উন্মাদনা এবং বাতিলপন্থীদের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আর যখন হিদায়াতের ফজর উদিত হয় এবং নবুওয়াতের আলো উদ্ভাসিত হয়, তখন সেই কল্পনা ও কুমন্ত্রণার বাহিনী সবার আগে পরাজিত হয়ে পলায়ন করে। (আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে)। সমাপ্ত (১)।

--------------------------------------------

(১) মিফতাহু দারিস সা'আদাহ ১/২১৫ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
اعلم أن الشأن كل الشأن في طلوع هذا الفجر وإشراق هذا النور حتى يكون الأمر في زماننا كما وصف قدس الله روحه.

 

كتبها

عبد الكريم بن صالح الحميد
জেনে রাখুন যে, এই ভোরের উদয় এবং এই জ্যোতির বিকিরণের মধ্যেই মূল মাহাত্ম্য নিহিত, যাতে আমাদের সময়ে বিষয়টি তেমনই হয়ে ওঠে যেমনটি তিনি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন।

 

এটি লিখেছেন

আব্দুল কারীম বিন সালেহ আল-হুমাইদ
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌نيوتن والجاذبية وقانونها

إسحاق نيوتن هذا كافر إنجليزي غلا فيه الملاحدة ومن قلّدهم وأخذوا كلامه في الجاذبية من غير معرفة ولا دراية وكأنه لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه مع أن كلامه في ذلك ينقسم إلى قسمين:

قسم غايته فيه أنه عَرَفَه بالبديهية وهذا يشاركه فيها كل أحد وهو انحطاط الأثقال من أعلى إلى أسفل الذي سَمّوْه الجاذبية وأي ميزة تَمَيّز بها هذا الضال؟.

الثاني: الضلال المبين الذي فتح بابه لأمثاله مما تصوّره في خياله مع أنه لا حقيقة له في الواقع وذلك زعمه أن حجم الجسم كلما ازْداد ازْدادت قوّته في جذب الأجسام الأخرى إليه.

ومن هنا تَبَنَتْ النظريات الخيالة الباطلة من الكلام بما سَمّوْه المجموعة الشمسية وانفصال الكواكب بزعمهم من الشمس ودورانها حولها، وتجاذبها، ولقد قَبِل العالَم كلامه بلا برهان فمن أين له أن حجم الجسم كلما ازداد زادت قوّته في جذب الأجسام الأخرى إليه؟.
নিউটন, মহাকর্ষ এবং এর সূত্র

এই আইজ্যাক নিউটন একজন ইংরেজ কাফির। নাস্তিকরা এবং যারা তাদের অন্ধ অনুসরণ করে তারা তাকে নিয়ে অতিরঞ্জন করেছে। তারা কোনো প্রকার জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি ছাড়াই মহাকর্ষ সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করেছে, যেন তার কাছে কোনো দিক থেকেই বাতিল বা মিথ্যা পৌঁছাতে পারে না। অথচ এ বিষয়ে তার বক্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম অংশ হলো যা তিনি স্রেফ সাধারণ বোধ বা স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে জেনেছেন, আর এতে প্রত্যেকেই তার সাথে অংশীদার (একমত)। সেটি হলো উচ্চস্থান থেকে নিচে ভারী বস্তুর পতন, যাকে তারা মহাকর্ষ নাম দিয়েছে। এই পথভ্রষ্ট ব্যক্তিটি এক্ষেত্রে কী এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে?

দ্বিতীয়ত: সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, যার দ্বার সে তার অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত করেছে; যা সে তার কল্পনাপ্রসূত ধারণা থেকে তৈরি করেছে অথচ বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই। আর তা হলো তার এই দাবি যে, কোনো বস্তুর আয়তন যত বৃদ্ধি পায়, অন্য বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার শক্তিও তত বৃদ্ধি পায়।

এখান থেকেই তথাকথিত সৌরজগত, সূর্য থেকে গ্রহসমূহের বিচ্ছিন্ন হওয়া, সূর্যের চারদিকে তাদের ঘূর্ণন এবং পারস্পরিক আকর্ষণের মতো কল্পনাপ্রসূত বাতিল মতবাদসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববাসী কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার কথা মেনে নিয়েছে; অথচ সে কোত্থেকে পেল যে, বস্তুর আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে অন্য বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার শক্তিও বৃদ্ধি পায়?
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
إن خاصية انحطاط الأثقال إلى أسفل أو الجاذبية خاصِّيّة أوْدعها الله الأرض التي هي المهاد والفراش الموضوع في أسفل العالم للأنام لأجل استقرارهم.

أما أن يُجعل ذلك قاعدة مُطّرِدة تنطبق على كل جسم كبير فهذا من أبطل الباطل وهو خيال مجرّد عن الحقيقة ولا يقدر أحد أن يُبرهن عليه بل الأدلّة الشرعية على خلافه حيث أنه تكرر في كلام الله عن الأرض أنها لِعَيش الخلائق واستقرارهم على ظهرها ولأجل ذلك خلقها الله على هذه الكيفية مستقرة ثابتة تنجذب الأثقال إلى مركزها السفلي وهو نهاية السُّفِل.

ومما يبين بطلان نظريته أن السماء المبنية المحيطة بالأرض إحاطة الكرة بما في وسطها لا تجذب الأرض مع أنها أكبر منها بشيء عظيم كما هو مُشاهد، لكن هم لا يعرفون هذه السماء الدنيا المبنية ولا يُقِرّون بوجودها لذلك ليس لها ذكر في علومهم ولا يعرفون ما فوقها ولا يُقرّون به، وأي ضلال أعظم من هذا؟.

إذاً خاصيّة انحطاط الأثقال إلى أسفل صادرة عن خالق حكيم قال تعالى: (وَالأَرْضَ وَضَعَهَا لِلأَنَامِ) فهي في سُفِل العالم ومركزه وقال تعالى: (اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ قَرَاراً) وهي إنما صارت قراراً بهذه الخاصية وهي انحطاط الأثقال إلى مركزها الأسفل وهناك الأرض
ভারী বস্তু নিচের দিকে নেমে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য অথবা অভিকর্ষ হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ জমিনে নিহিত রেখেছেন, যা সৃষ্টিকুলের স্থিরতা লাভের জন্য জগতের নিম্নভাগে বিছানা ও দোলনা স্বরূপ স্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু একে প্রতিটি বৃহৎ বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি সর্বজনীন নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করা চূড়ান্ত বাতিল বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি বাস্তবতা বিবর্জিত নিছক কল্পনা মাত্র এবং কেউ এর প্রমাণ দিতে সক্ষম নয়। বরং শরয়ি দলীলসমূহ এর বিপরীত। কেননা আল্লাহর কালামে জমিন সম্পর্কে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি মাখলুকাতের জীবনযাপন ও এর উপরিভাগে তাদের স্থিতিশীলতার জন্য। সেই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ একে এই পদ্ধতিতে স্থির ও অটল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যাতে ভারী বস্তুসমূহ এর নিম্নস্থ কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়, যা হলো নিম্নদেশের শেষ সীমা।

তাঁর মতবাদের অসারতা প্রমাণের একটি দিক হলো এই যে, নির্মিত আসমান যা জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে—যেভাবে একটি গোলক তার মধ্যস্থিত বস্তুকে বেষ্টন করে থাকে—তা জমিনকে নিজের দিকে টানে না, যদিও তা জমিনের চেয়ে অনেকগুণ বড় যা দৃশ্যমান। কিন্তু তারা এই নির্মিত নিকটতম আসমান সম্পর্কে জানে না এবং এর অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তাই তাদের বিজ্ঞানে এর কোনো উল্লেখ নেই। তারা এর উপরে কী আছে তাও জানে না এবং তা স্বীকারও করে না। এর চেয়ে বড় বিভ্রান্তি আর কী হতে পারে?

অতএব, ভারী বস্তুর নিচের দিকে নেমে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যটি এক প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্ধারিত। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি জমিনকে স্থাপন করেছেন মাখলুকাতের জন্য।" সুতরাং এটি জগতের নিম্নভাগে ও কেন্দ্রে অবস্থিত। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহই তোমাদের জন্য জমিনকে স্থির আবাস বানিয়েছেন।" মূলত জমিন এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্থির আবাসে পরিণত হয়েছে, যা হলো ভারী বস্তুর এর নিম্নস্থ কেন্দ্রের দিকে পতন, আর সেখানেই জমিন অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
السابعة السفلى التي يتّجه انحطاط الأثقال إليها ويقف عندها من كل جانب، إذْ أن انحدار الأثقال ليس إلى ما لا نهاية، بل له نهاية معلومة وهي نهاية سفل العالم كله الأرض السابعة السفلى، ولأجل ذلك صارت الأرض قراراً.

والمراد أن هذه المجموعة الشمسية خيال لا حقيقية له ولم يرد لها ذكر في كلام الله وكلام رسوله، وقد قال صاحب كتاب (الإعجاز الإلهي في خلق الإنسان) ص 82 قال: لقد طلب العالم الشهير نيوتن من ميكانيكي ماهر أن يصنع له مُجَسَّماً معدنياً جميلاً للمجموعة الشمسية، فَتَمَّ لنيوتن ما أراد، لقد أظهر المجسَّم الشمس والكواكب السيارة على شكل كرات تحرّكها يّدٌ معدنية ويُسّيِّرها نظام معقّد يعتمد على العديد من المسنّنات والاسطوانات والأربطة. انتهى.

فالمسألة لا تعدو النظريات الخيالية وأبعد ما تصل إليه الرسم على الورق والمجسَّمات ونحوها، والويل لمن خُدِع.

ومن جنس هذه المجسّمات الكرة التي يوضع أمامها ضوء فيُديّرُون الكرة تجاه الضوء ويزعمون أن اختلاف الليل والنهار يحصل بهذه الكيفية، مع أن اختلاف الليل والنهار يحصل بعكس ما زعموا وذلك بدوران الضوء نفسه الذي هو بمنزلة الشمس حول الكرة، وبذلك يتعاقب الليل والنهار، وقد بينت ذلك ولله الحمد في (هداية الحيران).
সপ্তম নিম্নতম স্তর, যার দিকে সকল ভারী বস্তুর পতন ধাবিত হয় এবং সকল দিক থেকে সেখানে গিয়ে স্থির হয়। কেননা ভারী বস্তুর পতন সীমাহীন নয়, বরং এর একটি সুনিশ্চিত সমাপ্তি রয়েছে, আর তা হলো সমগ্র জগতের নিম্ন প্রান্ত অর্থাৎ সপ্তম নিম্নতম পৃথিবী। এই কারণেই পৃথিবী একটি স্থির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

আর উদ্দেশ্য হলো, এই সৌরজগত একটি কল্পনা মাত্র যার কোনো বাস্তবতা নেই এবং আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের কালামে এর কোনো উল্লেখ আসেনি। 'আল-ইজায আল-ইলাহি ফি খালকিল ইনসান' গ্রন্থের লেখক (পৃষ্ঠা ৮২) বলেছেন: বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিউটন একজন দক্ষ মেকানিকের কাছে সৌরজগতের একটি সুন্দর ধাতব মডেল তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। নিউটন যা চেয়েছিলেন তা সম্পন্ন হলো। সেই মডেলটিতে সূর্য এবং পরিভ্রমণকারী গ্রহগুলোকে গোলকের আকৃতিতে দেখানো হয়েছিল, যা একটি ধাতব হাত দ্বারা চালিত হতো এবং অনেকগুলো গিয়ার, সিলিন্ডার ও ফিতার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। সমাপ্ত।

সুতরাং বিষয়টি কাল্পনিক তত্ত্বের ঊর্ধ্বে নয় এবং এর দৌড় কেবল কাগজের অঙ্কন, মডেল ও এই জাতীয় বস্তু পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আর পরিতাপ তাদের জন্য যারা প্রতারিত হয়েছে।

এই ধরনের মডেলের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই গোলক যার সামনে একটি আলো রাখা হয়, অতঃপর তারা গোলকটিকে আলোর সম্মুখে ঘোরায় এবং দাবি করে যে দিন ও রাতের পার্থক্য এই পদ্ধতিতেই ঘটে থাকে। অথচ দিন ও রাতের পার্থক্য তাদের দাবির ঠিক উল্টোভাবে ঘটে থাকে; আর তা হলো সেই আলোর আবর্তনের মাধ্যমে যা গোলকের চারদিকে সূর্যের স্থলাভিষিক্ত, আর এভাবেই দিবা-রাত্রির পর্যায়ক্রম ঘটে। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর, আমি 'হিদায়াতুল হাইরান' গ্রন্থে তা ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
والمراد أن نيوتن هذا بنى نظرية الجذب التي هي بزعمه تُنَظم سير الكواكب على خيال مظلم حيث لا يستطيع أن يبرهن على ذلك، بل البرهان بخلافه فالسماء أكبر من الأرض ولا تجذبها، فإذا كان يقول: إن الجاذبية بين الأجسام المختلفة تبعاً لكثافتها وطول المسافة الفاصلة بين كل جسم وآخر فيقال: هذا مجرد خيال، وإنما ألْجأه إليه اعتقاد السديم وكواكبه التي انفصلت منه ودورانها ومن ضمنها الأرض فهو يُعَلّل تنظيم دوران هذه الكواكب ولزومها مواضعها في خطوط دورانها يُعلله بالجاذبية، وإذا كان الأصل فاسداً فالفروع أيضاً تكون فاسدة، وسوف يتبين إن شاء الله فساد هذه النظريات من الأصل.

وكيف يُسَلَّم له هذا الخرص؟ ثم إن جاذبية الأرض مُتجهة إلى مركزها الأسفل، ولو كان الأمر كما يزعم نيوتن لصار الجذب بعكس ذلك تماماً حيث يكون تَوَجّه الجذب إلى الجاذب وهو الشمس بزعمهم، كذلك فإنهم يزعمون أن جاذبية الأرض تنقطع حين يرتفع الإنسان بعيداً عنها، وهذا يُبين الحكمة الربانية من إيداع مركز الأرض الأسفل هذه الخاصِّية وأن ذلك لاستقرار ما على الأرض فيها، فلولا أن الله خلق هذه القوة الجاذبة في الأرض لما استقر عليها شيء بل يبقى سطحها وحَيّز الهواء، سواء بحيث يقف الإنسان في الهواء ويخطو في الهواء ولا يُشعر بما يجذبه أسفل منه ولا فوقه ولا من جميع جهاته.
উদ্দেশ্য হলো, এই নিউটন মহাকর্ষ তত্ত্ব নির্মাণ করেছেন যা তার দাবি অনুযায়ী গ্রহসমূহের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি এটি একটি অন্ধকার কল্পনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন যার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম নন। বরং প্রমাণ এর বিপরীত; কারণ আসমান জমিনের চেয়ে বড় এবং তা জমিনকে আকর্ষণ করে না। তিনি যদি বলেন: বিভিন্ন বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ তাদের ঘনত্ব এবং বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তবে এর উত্তরে বলা হবে: এটি নিছক কল্পনা। নিহারিকা (নেবুলা) এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া গ্রহসমূহ ও তাদের আবর্তন—যার অন্তর্ভুক্ত জমিনও রয়েছে—সংক্রান্ত বিশ্বাসই তাকে এই পথে ধাবিত করেছে। তাই তিনি এই গ্রহগুলোর আবর্তনের শৃঙ্খলা এবং নিজ নিজ কক্ষপথে অবিচল থাকাকে মহাকর্ষের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। আর যদি মূল ভিত্তিই ভ্রান্ত হয়, তবে তার শাখা-প্রশাখাও ভ্রান্ত হবে। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এই মতবাদগুলোর মূলগত অসারতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আর কীভাবে তার এই আন্দাজ-অনুমানকে মেনে নেওয়া যেতে পারে? তাছাড়া, পৃথিবীর আকর্ষণ এর নিম্নস্থ কেন্দ্রের দিকে মুখী। যদি বিষয়টি নিউটনের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে আকর্ষণ হতো এর সম্পূর্ণ বিপরীত; অর্থাৎ আকর্ষণের অভিমুখ হতো আকর্ষণকারীর দিকে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী সূর্য। একইভাবে, তারা দাবি করে যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে অনেক উপরে উঠে যায়, তখন পৃথিবীর আকর্ষণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি পৃথিবীর নিম্নস্থ কেন্দ্রে এই বিশেষ গুণটি গচ্ছিত রাখার পেছনে রব্বানী হিকমত বা খোদায়ী প্রজ্ঞা প্রকাশ করে। আর তা হলো পৃথিবীর উপরের বস্তুসমূহকে সেখানে স্থির রাখার জন্য। সুতরাং আল্লাহ যদি জমিনের মধ্যে এই আকর্ষণ শক্তি সৃষ্টি না করতেন, তবে এর ওপর কোনো কিছুই স্থির থাকতো না। বরং এর উপরিভাগ এবং শূন্যস্থান সমান হয়ে যেত, ফলে মানুষ শূন্যেই দাঁড়িয়ে থাকতো এবং শূন্যেই পা ফেলতো; সে তার নিচে, উপরে কিংবা অন্য কোনো দিক থেকে কোনো আকর্ষণ অনুভব করতো না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
ولذلك فالأرض موضوعه هكذا في الفضاء مثل الإنسان الذي تقدم وصْفه في حال عدم ما يجذبه، وإنما يمسكها بقدرته الذي يمسك السموات والأرض أن تزولا.

وإذا كانت الجاذبيّة تنقطع بعد ارتفاع معيّن من الأرض مع أنها جاذبية إلى أسفل لا إلى أعلى فما الذي ربط الأرض بالشمس وأي جذب بينهما؟ إن كلام هؤلاء يؤخذ بلا نظر ولا تمحيص لموقع الانبهار في القلوب، ولأن فتنتهم عمياء أراد الله أن يضل بها من يشاء لحِكم باهرة هو المحيط بها علماً.

ثم يقال: من قال لكم أن في جرم الشمس قوة جاذبية وكذلك بقية الكواكب؟ إنه الهذيان وإفراز خيالات أهل الضلال والطغيان، فليس في الشمس ولا القمر ولا سائر الكواكب قوة جذب، والسبب أن هذه المخلوقات خُلِقَتْ لحكمة غير الحكمة التي خلقت لها الأرض فإن الرب سَخّرها لأهل الأرض من الإنسان والحيوان والنبات، وقد قال تعالى: (لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ) وقال تعالى: (يَسْأَلونَكَ عَنِ الأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ) وقال تعالى: (إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ * وَحِفْظاً مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ) وقال تعالى: (وَعَلامَاتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ) ولذلك قال قتادة: خلق الله هذه
আর এ কারণেই পৃথিবী মহাশূন্যে এমনভাবে স্থাপিত, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত মানুষের অবস্থা যখন তাকে আকর্ষণ করার মতো কিছু থাকে না; বরং তিনি একে স্বীয় কুদরতের মাধ্যমে ধরে রেখেছেন, যিনি আসমান ও জমিনকে বিচ্যুত হওয়া থেকে ধরে রাখেন।

আর যদি অভিকর্ষজ আকর্ষণ পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যদিও তা নিচের দিকের আকর্ষণ, উপরের দিকের নয়—তাহলে কোন জিনিস পৃথিবীকে সূর্যের সাথে আবদ্ধ করল এবং তাদের মাঝে কিসের আকর্ষণ বিদ্যমান? মূলত এই লোকদের কথা কোনো প্রকার চিন্তা ও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই গ্রহণ করা হয় অন্তরে বিদ্যমান মোহগ্রস্ততার কারণে; আর যেহেতু তাদের ফিতনা অন্ধ, তাই মহান আল্লাহ তাঁর এমন সব মহান হিকমতের কারণে এর দ্বারা যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করতে চেয়েছেন, যা তাঁর ইলম বা জ্ঞান পরিবেষ্টন করে আছে।

অতঃপর বলা হবে: কে তোমাদের বলল যে, সূর্যের পিণ্ডে আকর্ষণ শক্তি রয়েছে এবং একইভাবে অন্যান্য গ্রহসমূহেও? এটি প্রলাপ বকা এবং পথভ্রষ্ট ও সীমালঙ্ঘনকারী লোকদের কল্পনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র; সূর্য, চন্দ্র কিংবা অন্য কোনো গ্রহের মধ্যে কোনো আকর্ষণ শক্তি নেই। এর কারণ হলো, এই মাখলুকাত বা সৃষ্টিসমূহকে এমন এক হিকমতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে যা পৃথিবী সৃষ্টির হিকমত থেকে ভিন্ন। কেননা প্রতিপালক এগুলোকে মানুষ, পশুপাখি ও উদ্ভিদসহ পৃথিবীবাসীদের জন্য নিয়োজিত করেছেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: (যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পার)। তিনি আরও বলেছেন: (তারা তোমাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বল, তা হচ্ছে মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপক)। তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি, আর তা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে রক্ষার জন্য)। তিনি আরও বলেছেন: (এবং অনেক চিহ্নসমূহ; আর নক্ষত্রের সাহায্যে তারা পথনির্দেশ পায়)। আর এ কারণেই কাতাদাহ বলেছেন: আল্লাহ এগুলো সৃষ্টি করেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
النجوم لثلاث: جعلها زينة للسماء، ورجوماً للشياطين، وعلامات يُهتدى بها، فمن تأوْل فيها غير ذلك فقد أخطأ وأضاع نصيبه، وتكلف ما لا علم له به (1) انتهى.

أما الأرض فقد قال تعالى في الحكمة من خَلْقها: (وَالأَرْضَ وَضَعَهَا لِلأَنَامِ) وقال تعالى: (اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ قَرَاراً).

فقد ظهر أن خاصية الجذب إنما أوْدعها الرب سبحانه الأرض لتستقر عليها المخلوقات، أما الشمس والقمر والكواكب فخالية من ذلك، لأنها لم تُخلق ليستقر عليها أحد، فالحكمة من خلقها تنافي ذلك كما أن الحكمة من خلق الأرض تنافي عدم وجود الخاصيّة المُودعة فيها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري معلقاً وأخرجه عبد الرزاق وعبد بن حميد وابن جرير.
নক্ষত্রসমূহকে তিনটি বিষয়ের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে: তিনি সেগুলোকে আসমানের সৌন্দর্য, শয়তানদের বিতাড়নকারী এবং দিক-নির্ণয়ের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কোনো ব্যাখ্যা করে, সে ভুল করেছে এবং নিজের অংশ নষ্ট করেছে এবং এমন বিষয়ে অনর্থক কষ্ট করেছে যা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। (১) সমাপ্ত।

আর জমিন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা তা সৃষ্টির হিকমত প্রসঙ্গে বলেছেন: (এবং তিনি জমিনকে সৃষ্টিকুলের জন্য বিছিয়েছেন) এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আল্লাহ সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে স্থির আবাসস্থল করেছেন)।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আকর্ষণ করার শক্তিকে রব সুবহানাহু জমিনের মধ্যে কেবল এজন্যই গচ্ছিত রেখেছেন যাতে মাখলুকাত তার ওপর স্থির থাকতে পারে। তবে সূর্য, চন্দ্র এবং গ্রহসমূহ এ থেকে মুক্ত, কারণ সেগুলো কারো অবস্থানের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। সুতরাং সেগুলো সৃষ্টির হিকমত এর পরিপন্থী, ঠিক যেমন জমিন সৃষ্টির হিকমত এর মধ্যে এই গচ্ছিত শক্তির অনুপস্থিতি থাকা অসম্ভব।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি মুআল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আবদুর রাজ্জাক, আবদ ইবনে হুমাইদ ও ইবনে জারির এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المجموعة الشمسية

هذا الاسم لا يوجد في كلام الله ولا كلام رسوله صلى الله عليه وسلم ولا كلام السلف، ولا حقيقة لمعناه أيضاً، وإنما هو خيال منحوت في أذهان أرباب الهذيان أحْدثوه في هذا الزمان.

لقد ربطوا هذه المجموعة المزعومة بعضها ببعض على مقتضى خيال إسحاق نيوتن في الجاذبية، وقد تقدم بيان بطلانه، والعجب دَعْواهم أن علومهم هذه تقوم على التجارب والحِسّيات أما الغيبيات فلا تدخل في علومهم وهي عندهم موضع سخرية ومع هذا أكثر نظرياتهم التي ملئوا الدنيا منها أصلها وفرعها وبدايتها ونهايتها الخيال.

والمراد أن المجموعة الشمسية المزعومة خيال متفرّع من خيال نيوتن حيث بَنَوْا هذه النظرية على ذلك.

فكواكب هذه النظرية منفصلة من الشمس وتدور حول نفسها وحوْل الشمس بفعل الجاذبية بسرعة عظيمة، فالشمس كبيرة وتجذب هذه الكواكب إليها كما تقدم بيانه من نظرية نيوتن.

يقال: أين البرهان على هذا، أوْ يكفينا من البرهان أنه قاله إنجليزي أو أمريكي وهؤلاء لا يُعترض عليهم؟.
সৌরজগত

এই নামটি আল্লাহর কালামে নেই, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে নেই এবং সালাফদের বাণীতেও নেই। এর অর্থের কোনো বাস্তবতাও নেই; বরং এটি প্রলাপকারীদের মস্তিষ্কে খোদাই করা এক কল্পনা, যা তারা বর্তমান যুগে উদ্ভাবন করেছে।

তারা এই কথিত জগতকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করেছে আইজ্যাক নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সংক্রান্ত কল্পনার ভিত্তিতে, যার অসারতা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো তাদের দাবি যে, তাদের এই বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর অদৃশ্যের বিষয়গুলো তাদের বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তা তাদের কাছে উপহাসের বিষয়। অথচ তারা পৃথিবীকে যেসব তত্ত্বে পূর্ণ করে ফেলেছে, সেগুলোর অধিকাংশের মূল ও শাখা, শুরু ও শেষ হলো কল্পনা।

মূল কথা হলো, এই কথিত সৌরজগত নিউটনের কল্পনা থেকে উদ্ভূত একটি কল্পনা, কারণ তারা এর ওপর ভিত্তি করেই এই তত্ত্ব নির্মাণ করেছে।

এই তত্ত্বের গ্রহগুলো সূর্য থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এগুলো মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে প্রচণ্ড গতিতে নিজ অক্ষের চারদিকে এবং সূর্যের চারদিকে আবর্তন করে। সূর্য বিশাল এবং তা এই গ্রহগুলোকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, যেমনটি নিউটনের তত্ত্ব থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

বলা হয়: এর প্রমাণ কোথায়? নাকি আমাদের জন্য এই প্রমাণই যথেষ্ট যে, কোনো ইংরেজ বা আমেরিকান এটি বলেছে এবং তাদের কোনো বিরোধিতা করা যাবে না?
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجاذبية تخصّ الأرض، وأما الأجرام العلوية من الشمس والقمر والكواكب فتختلف عن الأرض من كل وجه بخلاف نظرياتهم التي يزعمون فيها أن التركيب واحد لأجل أنها كلها منفصلة من جرم واحد سواء قيل هو الشمس أو السديم.

إن العالم العلوي لطيف خفيف مُسْتنير ليس كالعالم السفلي المظلم الكثيف فكيف يُجعل كالعالم السفلي؟ فالفرق ظاهر.

والأرض خلقها الله وحدها، وخلق السماء والشمس والقمر والنجوم بعد ذلك، وقد خلقها الله لحكمة وأوْدعها خصائص لا تشاركها فيها مخلوقات العالم العلوي.

كما أن السماء خُلقت لحكمة وأودعها فاطرها خصائص لا تُشارك فيها، وكذلك الشمس والقمر والنجوم، وانظر اسم الحيوان والطير والنبات في الأرض، ماذا يشمل مع الفروق الكبيرة بين كل مخلوق وآخر فكذلك العالَم العلوي يجتمع مع العالَم السفلي بأنه مخلوق لله وأنه كَوْن مع وجود الفروق العظيمة بينهما، وإنما جاء الخلْط مِن قِبَل أرباب هذه العلوم التجريبية لانتحالهم في علومهم طريق المحسوس مع عدم الإيمان بالغيب مع تناقضهم وذلك باعتمادهم على نظريات خيالية ليس لها وجود في عالَم الواقع ولذلك جعلوا مادة الكون كله واحدة متشابهة في التركيب.
অভিকর্ষ পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য, পক্ষান্তরে সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহসমূহের ন্যায় ঊর্ধ্বজগতস্থ জ্যোতিষ্কগুলো সর্বতোভাবে পৃথিবী থেকে ভিন্ন। এটি তাদের তত্ত্বগুলোর বিপরীত, যাতে তারা দাবি করে যে এগুলোর গঠনপ্রণালী অভিন্ন; কেননা তারা মনে করে এ সব কিছু একই বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা সূর্য হোক বা নীহারিকা।

নিশ্চয়ই ঊর্ধ্বজগত সূক্ষ্ম, লঘু ও জ্যোতির্ময়; এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ঘন নিম্নজগতের মতো নয়। সুতরাং কীভাবে একে নিম্নজগতের সদৃশ করা যায়? অথচ পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট।

আর আল্লাহ একাকী পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং এরপর আকাশ, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ একে এক নিগূঢ় প্রজ্ঞার ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন এবং এতে এমন সব বৈশিষ্ট্য আমানত রেখেছেন, যাতে ঊর্ধ্বজগতের সৃষ্টিসমূহ এতে অংশীদার নয়।

তেমনিভাবে আকাশকেও প্রজ্ঞার সাথে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর স্রষ্টা এতে এমন সব বৈশিষ্ট্য গচ্ছিত রেখেছেন যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয়; সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। পৃথিবীর প্রাণী, পাখি ও উদ্ভিদের নামের দিকে লক্ষ্য করুন; প্রতিটি সৃষ্টির মাঝে বিশাল পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তা কত কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত—উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি এবং মহাবিশ্বের অংশ হওয়ার দিক থেকে একীভূত হলেও তাদের মাঝে সুমহান পার্থক্য বিদ্যমান। মূলত এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়েছে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে; কারণ তারা তাদের বিজ্ঞানে অদৃশ্যে বিশ্বাস না রেখে কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পথ অবলম্বন করেছে এবং সাথে সাথে স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। এর কারণ হলো তারা এমন কাল্পনিক তত্ত্বের ওপর নির্ভর করেছে বাস্তব জগতে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, আর একারণেই তারা সমগ্র মহাবিশ্বের উপাদানকে গঠনগত দিক থেকে অভিন্ন ও সদৃশ সাব্যস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌العلوم التجريبية والاعتماد على المحسوس

يأبى الله عز وجل إلا أن يُظهر كذب الكاذبين المكذبين فلمّا لم يؤمنوا بكتب الله ورسله واعتمدوا على نفوسهم المظلمة تناقضوا في أصل علومهم تناقضاً بيّناً وذلك أن كل ما يتكلمون به ويزعمون أنهم اكتشفوه من العالَم العلوي كله باطل وضلال إلا نزر يسير مسْبوقين إليه، وهم إنما اعتمدوا فيه على غير المحسوس بل على الخيال المحض والكذب الصِّرْف، فأين عدم إيمانهم بغير محسوس؟ وكذلك كلامهم في العالَم السفلي أكبره وأعظمه القول بدوران الأرض وأنها كوكب، وهو من أبطل الباطل وقد بيّنت ذلك ولله الحمد في (هداية الحيران في مسألة الدوران) والمقصود أنهم في ذلك ما اعتمدوا على المحسوس بل على خيالات نظرياتهم الضالّة المضلة.

كما أن كلامهم في الذرة أيضاً ليس اعتماداً على المحسوس ولذلك يصرّحون بأنها لا تُرى ولا بأكبر المجاهر، فأين المحسوس؟ إنه الآثار فقط، ولسنا ننكر الآثار وإنما الشأن هل هي آثار ناتجة عن الذرة المزعومة أم عن غيرها مما لا يعلمون؟ ويأتي الكلام على الذرة إن شاء الله.
পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরতা

মহান আল্লাহ মিথ্যাচারী ও সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের মিথ্যা প্রকাশ না করে ছাড়েন না। তারা যখন আল্লাহর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনল না এবং নিজেদের অন্ধকারাচ্ছন্ন নফসের ওপর নির্ভর করল, তখন তারা তাদের বিজ্ঞানের মূলে এক স্পষ্ট স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হলো। আর তা এই যে, ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কে তারা যা কিছু বলে এবং যা কিছু আবিষ্কারের দাবি করে, তার অতি সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত বাকি সবই বাতিল ও ভ্রষ্টতা; আর ঐ সামান্য অংশেও অন্যরা তাদের পূর্বগামী ছিল। মূলত তারা এক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বিষয়ের ওপর নয়, বরং নিছক কল্পনা ও নিরেট মিথ্যার ওপর নির্ভর করেছে। তবে ইন্দ্রিয়াতীত বিষয়ের প্রতি তাদের অবিশ্বাসের দাবি কোথায় গেল? একইভাবে নিম্নজগৎ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য—যার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও প্রধানতম হলো পৃথিবীর আবর্তন এবং এর গ্রহ হওয়ার দাবি—তা চরম বাতুলতা। আর আল্লাহর প্রশংসায় আমি তা ‘হিদায়াতুল হাইরান ফি মাসআলাতিদ দাওরান’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। মূল কথা হলো, তারা এক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করেনি, বরং তাদের পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তিকর তত্ত্বসমূহের কল্পনার ওপর নির্ভর করেছে।

তেমনিভাবে পরমাণু সম্পর্কে তাদের বক্তব্যও কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়; একারণেই তারা স্বীকার করে যে, একে দেখা যায় না, এমনকি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও নয়। তাহলে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়টি কোথায়? এটি তো কেবল প্রভাব বা আলামত মাত্র। আমরা এই প্রভাবসমূহকে অস্বীকার করছি না, তবে প্রশ্ন হলো, এই প্রভাবগুলো কি তাদের দাবিকৃত পরমাণু থেকেই উৎপন্ন নাকি অন্য কিছু থেকে যা তারা জানে না? ইনশাআল্লাহ পরমাণু সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وليُعلم أن سلف هؤلاء المعطلة في عدم الإيمان بغير المحسوس هم السّمنية الذين ناظروا الجهم بن صفوان فأضلّوه.

قال شيخ الإسلام في نقض التأسيس 2/ 55 فهؤلاء (السمنية) يكون قولهم أن ما لا يُدْرك بالحواس لا يكون له حقيقة. انتهى.

وقد أنكر هؤلاء أرواحهم والجن والملائكة بعد إنكارهم خالقهم فأي علم يُطلب من هؤلاء.
এবং এটি জেনে রাখা উচিত যে, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন বিষয়ের প্রতি ঈমান না রাখার ক্ষেত্রে এই সমস্ত মুআত্তিলাদের পূর্বসূরিরা হলো সুমানিয়্যাহ সম্প্রদায়, যারা জাহম বিন সাফওয়ানের সাথে বিতর্ক করেছিল এবং তাকে পথভ্রষ্ট করেছিল।

শাইখুল ইসলাম নাক্বদুত তাসিস (২/৫৫) গ্রন্থে বলেন: এই (সুমানিয়্যাহ)-দের বক্তব্য হলো যে, যা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না, তার কোনো বাস্তবতা নেই। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

তারা তাদের স্রষ্টাকে অস্বীকার করার পর নিজেদের রূহ, জিন এবং ফেরেশতাদেরও অস্বীকার করেছে; সুতরাং এই লোকদের নিকট থেকে কী জ্ঞান অন্বেষণ করা যেতে পারে?
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌هل صِدْق الرسول صلى الله عليه وسلم متوقفاً على هذيان أرباب العلوم التجريبية؟

اطلعت على بعض ما كتبه رُوّاد ما سَمّوْه (الإعجاز العلمي للقرآن) مثل عبد المجيد الزنداني صاحب كتاب توحيد الخالق وغيره كثير، وهو في الحقيقة خطأ في فهم القرآن حيث سلكوا مسالك مُحْدَثة مُبْتدَعة تخالف طريقة السلف ونهجهم في الكلام في القرآن وبيان معانيه.

ولقد حذّر السلف غاية التحذير من المتكلمين لإحداثهم طريقاً يزعمون أنهم بها يُثْبتون وجود الخالق والعلم بالنبوات لأن هذه الطريق لم يسلكها السلف من الصحابة ومن بعدهم ممن اقتفى آثارهم، ولقد كانت نهايات المتكلمين الحيرة والضلال كما قال الرازي:

نهاية إقدام العقول عقال … وأكثر سعي العالمين ضلالُ

وأرواحنا في وحْشة من جسومنا … وحاصل دنيانا أذىً ووبال

ولم نسْتفد من بحثنا طول عمرنا … سِوى أن جمعنا فيه قيل وقالوا

وكذلك الشهرستاني أخبر أنه لم يجد عند الفلاسفة والمتكلمين إلا الحيرة والندم وكان يُنشد:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা কি পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের পণ্ডিতদের প্রলাপের ওপর নির্ভরশীল؟

আমি তথাকথিত 'কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা' (আল-ইজাজ আল-ইলমি)-এর প্রবক্তাদের কিছু লেখা দেখেছি, যেমন 'তাওহীদ আল-খালিক' গ্রন্থের লেখক আবদুল মাজীদ আল-জিন্দানি এবং আরও অনেকে। প্রকৃতপক্ষে এটি কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে একটি ভুল, কারণ তারা এমন কিছু নব-উদ্ভাবিত ও বিদআতি পথ অবলম্বন করেছেন যা কুরআনের ব্যাখ্যা এবং এর অর্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতি ও রীতির পরিপন্থী।

সালাফগণ কালাম শাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমীন) ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, কারণ তারা এমন এক নতুন পথ তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে তারা স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং নবুয়ত সম্পর্কে জ্ঞান প্রমাণের দাবি করেন। অথচ সাহাবীগণ এবং যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, সেই সালাফগণ এই পথে চলেননি। কালাম শাস্ত্রবিদদের শেষ পরিণতি ছিল বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা, যেমনটি আল-রাজি বলেছেন:

বুদ্ধির অগ্রযাত্রার শেষ সীমা হলো অক্ষমতা … আর জগতবাসীর অধিকাংশ প্রচেষ্টাই পথভ্রষ্টতা।

আমাদের রূহগুলো আমাদের দেহের মাঝে একাকিত্বে নিমজ্জিত … আর আমাদের দুনিয়ার অর্জন কেবল কষ্ট ও গ্লানি।

সারাজীবনের গবেষণায় আমরা কিছুই লাভ করিনি … কেবল এটিই ছাড়া যে, আমরা 'এরূপ বলা হয়েছে' এবং 'তারা বলেছে'—এসবই সংগ্রহ করেছি।

অনুরূপভাবে শাহরাস্তানিও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের কাছে বিভ্রান্তি ও অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই পাননি। তিনি আবৃত্তি করতেন:
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
لعمري لقد طُفت المعاهد كلها … وسيّرت طرفي بين تلك المعالِمِ

فلم أَرَ إلا واضعاً كفّ حائرٍ … على ذقنٍ أو قارعاً سِنَّ نادمِ

أما ابن الفارض فلما حضرته الوفاة أنشد:

إن كان منزلتي في الحب عندكم … ما قد لقيت فقد ضيعت أيامي

أُمنية ظَفِرتْ نفسي بها زمناً … واليوم أحسبها أضغاث أحلامِ

ومن خالف طريق الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة لا يفلح.

كذلك فقد حَذّروا من علم المنطق وبينوا ضلاله، وهم بهذا عاملون بوصايا نبيهم صلى الله عليه وسلم حيث أمر أُمته باتباعه واتباع خلفائه الراشدين ونهى أمته عن الإحداث بعده، وهذا سواء في العلم والعمل، وفي كل شيء بل إن أهم ذلك في العلم إذ هو أصل العمل، والعلم عند أهل الإسلام ليس عند الكفرة الملاحدة المعطلة.

قال ابن القيم رحمه الله تعالى فيا الصواعق المرسلة عن الجهمية والمعطلة: (ولهذا كان أكمل الأمم علماً أتْباع الرسول وإن كان غيرهم أحذق منهم في علم النجوم والهندسة وعلم الكم المتصل والمنفصل وعلم النبض والقارورة والأبوال ومعرفة قَوَامها، ونحوها من العلوم التي لما جاءتهم رسلهم بالبينات فرحوا بما عندهم من العلم بها وآثروها على علوم
আমার জীবনের শপথ! আমি সকল বিদ্যাপীঠ পরিভ্রমণ করেছি … এবং সেসব নিদর্শনের মাঝে আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি।

সেখানে বিভ্রান্ত ব্যক্তির থুতনিতে হাত রাখা … অথবা অনুতপ্ত ব্যক্তির দাঁতে দাঁত পিষানো ব্যতীত আমি আর কিছুই দেখিনি।

আর ইবনুল ফারিদ, যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো তখন তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:

আপনাদের নিকট ভালোবাসার ক্ষেত্রে যদি আমার মর্যাদা এমন হয় … যা আমি ভোগ করেছি, তবে আমি আমার দিনগুলো বৃথাই নষ্ট করেছি।

এটি এমন এক আকাঙ্ক্ষা ছিল যা আমার আত্মা দীর্ঘকাল ধরে জয় করেছিল … কিন্তু আজ আমি একে কেবলই এক বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন বলে মনে করছি।

আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের পথের বিরোধিতা করবে, সে সফল হবে না।

একইভাবে, তাঁরা যুক্তিবিদ্যা (ইলমুল মানতিক) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং এর বিভ্রান্তি স্পষ্ট করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়ত অনুযায়ী আমল করছেন, যেখানে তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁর অনুসরণ করার এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর পরে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে নিষেধ করেছেন। এটি ইলম (জ্ঞান) এবং আমল (কর্ম)—উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য, বরং প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে। অধিকন্তু, ইলমের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইলম হলো আমলের মূল। আর প্রকৃত ইলম হলো ইসলাম অনুসারীদের কাছে, নাস্তিক ও আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারী কাফেরদের কাছে নয়।

ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাআলা 'আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালা আলাল জাহমিয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলা' গ্রন্থে বলেছেন: (এজন্যই ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে পরিপূরক উম্মত হলো রাসূলের অনুসারীবৃন্দ, যদিও অন্যরা তাদের চেয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতি, বিচ্ছিন্ন ও অবিচ্ছিন্ন পরিমাণগত বিদ্যা, নাড়ি এবং প্রস্রাব পরীক্ষা ও এর প্রকৃতি নির্ণয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিজ্ঞানে অধিক দক্ষ হতে পারে; যখন তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিলেন, তখন তারা তাদের নিকট থাকা বিদ্যা নিয়েই তুষ্ট ছিল এবং সেগুলোকে রাসূলদের আনীত ইলমের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিল...)
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الرسل، وهي كما قال الواقف على نهاياتها ظنون كاذبة وإن بعض الظن إثم، وهي علوم غير نافعة فنعوذ بالله من علم لا ينفع. انتهى.

وقال رحمه الله: (فليس العلم في الحقيقة إلا ما أخبرت به الرسل عن الله عز وجل طَلَباً وخبراً فهو العلم المزكي للنفوس، المكمِّل للفِطر، المصحح للعقول، الذي خصّه الله باسم العلم، وسَمَّى ما عارَضه ظناً لا يغني من الحق شيئاً وخرْصاً وكذباً فقال تعالى: (فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ) وشهد لأهله أنهم أولوا العلم فقال سبحانه وتعالى: (وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالأِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ) وقال تعالى: (شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ).

والمراد بهم أولوا العلم بما أنزله على رسله ليس المراد بهم أولي العلم بالمنطق والفلسفة وفروعهما. انتهى، تأمل هذا الضابط للعلم والعلماء بخلاف تخليط أهل الوقت.

ثم قال رحمه الله: (وقال تعالى: (وَلا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْماً) فالعلم الذي أمره باسْتزادته هو علم الوحي لا علم الكلام والفلسفة). إذا كان العلم الذي أمر الله رسوله بالاسْتزادة منه هو علم الوحي وقد فارق الدنيا صلى الله عليه وسلم وما تعلم غير هذا ولا عَلّم أصحابه غيره وقد أمرنا باتباعه واتباع أصحابه ونهانا عن
রাসূলগণ; আর এগুলো সম্পর্কে এর শেষ সীমায় পৌঁছানো ব্যক্তি যেমন বলেছেন যে—এগুলো মিথ্যা ধারণা মাত্র, আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ। এগুলো অপকারী জ্ঞান, তাই আমরা আল্লাহর কাছে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না। সমাপ্ত।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান কেবল তাই যা রাসূলগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি ও সংবাদের মাধ্যমে জানিয়েছেন। এটিই সেই জ্ঞান যা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, স্বভাবজাত প্রকৃতিকে পূর্ণতা দান করে এবং বুদ্ধিকে সংশোধন করে। আল্লাহ একেই 'ইলম' বা জ্ঞান নামে বিশেষিত করেছেন এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোকে অমূলক ধারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন যা সত্যের মোকাবিলায় কোনো কাজে আসে না, এবং সেগুলোকে মিথ্যা অনুমান ও মিথ্যাচার হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: 'অতঃপর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক করে।' তিনি এই জ্ঞানের অধিকারীদের জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তারাই প্রকৃত জ্ঞানী। মহান আল্লাহ বলেন: 'যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে: অবশ্যই তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ।' আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: 'আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য প্রদান করেন), তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়'।"

আর এখানে 'জ্ঞানী' বলতে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাঁর রাসূলদের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন সেই বিষয়ের জ্ঞানীগণ; এর দ্বারা যুক্তিবিদ্যা, দর্শন এবং এগুলোর শাখা-প্রশাখায় পারদর্শী ব্যক্তিরা উদ্দেশ্য নয়। সমাপ্ত। জ্ঞান এবং আলেমদের সংজ্ঞায় এই মূলনীতিটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন, যা বর্তমান সময়ের লোকেদের সংমিশ্রণ ও বিভ্রান্তিকর ধারণার বিপরীত।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার আগে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়ো করো না এবং বলো: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।' সুতরাং যে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহীর জ্ঞান, ইলমুল কালাম বা দর্শন নয়।" যদি সেই জ্ঞান—যা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন—ওহীর জ্ঞানই হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই জ্ঞান ছাড়া অন্য কিছু না শিখেই এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও এটি ছাড়া অন্য কিছু না শিখিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। অথচ আমাদেরকে তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর সাহাবীদের অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
الإحداث، فبهذا الميزان يعرف الموفق انحرافات الأمة بالعلم الذي هو الأصل لا سيما في العلم الشرعي وكيف سُمِّي باسمه ما يضادّه.

ثم قال: (وقال تعالى: (لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ) أي أنزله وفيه علمه الذي لا يعلمه البشر فالباء للمصاحبة مثل قوله: (فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُواْ لَكُمْ فَاعْلَمُواْ أَنَّمَا أُنزِلِ بِعِلْمِ اللهِ) أي أُنزل وفيه علم الله وذلك من أعظم البراهين على صدق نبوّة من جاء به).

ثم رَدّ رحمه الله قول من قال: إن المعنى أنزله وهو يعلمه، وبيّن أن هذا ليس هو المراد وإن كان يعلم سبحانه ما أنزله وإنما المعنى: أنزله متضمناً لعلمه الذي لا يعلمه غيره إلا من أطلعه الله وأعلمه به، فإن هذا من أعظم أعلام النبوّة والرسالة. انتهى.

وانظر قوله رحمه الله: (إلا من أطلعه الله وأعْلمه به) وإذا كان الرب سبحانه ذكر علم المخلوقات في كتابه العزيز فهل يُغلق باب العلم بذلك عن الصحابة والسلف من علماء المسلمين وأئمتهم ويفتح هذا الباب بعد القرون الطوال وفي نهاية الأمة وختام الدنيا على أعدائه الذين لا يُقرون بوجوده؟ (تِلْكَ إِذاً قِسْمَةٌ ضِيزَى).

إن العلم بالله عز وجل الذي هو أشرف العلوم عند أهل الإسلام ليس عند الكفرة، كذلك العلم بمخلوقاته عندهم لأنهم يأخذون علمها من خالقها وَوَصْفها من فاطرها، بخلاف أهل الظن والخرص والدّجل.
নতুন বিষয় উদ্ভাবন; অতএব এই মানদণ্ডের মাধ্যমেই তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি সেই ইলমের সাহায্যে উম্মাহর বিচ্যুতিসমূহ চিনতে পারেন যা মূল ভিত্তি, বিশেষ করে শরয়ী ইলমের ক্ষেত্রে এবং কীভাবে এর বিপরীত বিষয়কেও এর নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।

অতঃপর তিনি বলেন: (এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, তা তিনি তাঁর নিজ ইলমসহ নাযিল করেছেন।" অর্থাৎ তিনি তা নাযিল করেছেন এবং তাতে তাঁর এমন ইলম রয়েছে যা মানুষ জানে না। এখানে 'বা' বর্ণটি সাহচর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: "অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, তা আল্লাহর ইলমসহই নাযিল করা হয়েছে।" অর্থাৎ তা নাযিল করা হয়েছে এবং তাতে আল্লাহর ইলম বিদ্যমান। আর যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাঁর নবুয়তের সত্যতার এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।)

এরপর তিনি রহিমাহুল্লাহ তাদের বক্তব্য খণ্ডন করেছেন যারা বলে: এর অর্থ হলো তিনি তা নাযিল করেছেন এবং তিনি তা জানেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটি উদ্দেশ্য নয়, যদিও সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যা নাযিল করেছেন তা তিনি জানেন; বরং প্রকৃত অর্থ হলো: তিনি তা এমনভাবে নাযিল করেছেন যা তাঁর সেই ইলমকে অন্তর্ভুক্ত করে যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না, কেবল তাকে ছাড়া যাকে আল্লাহ অবহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন। আর এটিই নবুয়ত ও রিসালতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। সমাপ্ত।

আর তাঁর রহিমাহুল্লাহ এই উক্তির দিকে লক্ষ করুন: "কেবল তাকে ছাড়া যাকে আল্লাহ অবহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন।" যখন প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে সৃষ্টিজগত সম্পর্কিত ইলম উল্লেখ করেছেন, তখন কি সাহাবীগণ এবং মুসলিম উলামা ও ইমামগণের মতো সালাফদের জন্য সেই ইলমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং দীর্ঘ শতাব্দী পর উম্মাহর শেষ সময়ে ও দুনিয়ার সমাপ্তিলগ্নে তাঁর সেই শত্রুদের জন্য এই দরজা খুলে দেওয়া হবে যারা তাঁর অস্তিত্বই স্বীকার করে না? (তবে এটি তো অত্যন্ত অন্যায্য বণ্টন!)

নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কিত ইলম, যা ইসলামপন্থীদের নিকট শ্রেষ্ঠতম ইলম, তা কাফিরদের নিকট নেই। তেমনিভাবে তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কিত সঠিক ইলমও তাদের নিকট রয়েছে, কারণ তারা এর ইলম গ্রহণ করে এর স্রষ্টার নিকট থেকে এবং এর বিবরণ লাভ করে এর উদ্ভাবকের নিকট থেকে; যা ধারণা, অনুমান ও প্রবঞ্চনাকারীদের সম্পূর্ণ বিপরীত।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
وفي هذا الكتاب سوف أذكر بعض ما كتبه أرباب الإعجاز المزعوم وأبيّن إن شاء الله بطلان ما ذهبوا إليه وأبيّن أنهم خاضوا بحاراً لُجيّة وأساؤا غاية الإساءة بكلامهم هذا إلى القرآن والسنة وأنهم لا للإسلام نصروا ولا للأعداء كسروا بل فتحوا أبواب ضلالة لمن اقتدى بهم، وأن فعلهم هذا تَشْويه للإسلام حيث ألْبَسوه غير لباسه وسَيّروه قَسْراً في غير طريقه، فكيف يُتلاعب هكذا بكلام الله الذي هو صفة من صفاته؟.

এই গ্রন্থে আমি তথাকথিত ‘অলৌকিকত্ব’ প্রবক্তাদের লিখিত কিছু বিষয় উল্লেখ করব এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তারা যে মত অবলম্বন করেছে তার অসারতা স্পষ্ট করব। আমি আরও বর্ণনা করব যে, তারা এক অতল সমুদ্রে অবগাহন করেছে এবং তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি চরম অবমাননা করেছে। তারা না ইসলামকে সাহায্য করেছে, আর না শত্রুদের প্রতিহত করেছে; বরং যারা তাদের অনুসরণ করে তাদের জন্য তারা গোমরাহীর দ্বার উন্মোচন করেছে। তাদের এই কর্মকাণ্ড ইসলামের বিকৃতি ঘটানোর শামিল; কেননা তারা ইসলামকে এমন এক পোশাক পরিয়েছে যা তার নয় এবং একে জোরপূর্বক ভুল পথে চালিত করেছে। আল্লাহর কালাম নিয়ে এভাবে কীভাবে ছিনিমিনি খেলা যায়, অথচ তা তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ?

(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أمثلة من الخوض بالجهالة والضلالة

خلق آدم وذريته

 

بين يديّ كتاب اسمه (رسالة الرضوان)، وقد تكلم فيه كاتبه عن خلق الإنسان وأنه مخلوق من تراب فذكر كل الآيات التي فيها ذكر خلق الإنسان من تراب ومن طين فجعل المراد بذلك سائر الناس وأنهم خُلقوا من تراب ومن طين، قال: (ولأول مرة يتبادر إلى الذهن عدم معقوليّة خلْقنا من تراب لكننا بعد تأمل وتدبّر نجد أن خَلْقنا من تراب حقيقة ساطعة كالشمس).

يريد أن سائر الناس خلقوا من تراب مع أن كل ما ذكر الله سبحانه في القرآن من خلق الإنسان من التراب ومن الطين المراد به آدم عليه السلام ليس المراد الذريّة فالذرية يذكر الله أنه خلقهم من الماء المهين وهو النطفة لكن مراده تفسير آيات القرآن على مقتضى علوم الملاحدة، ولذلك ذكر تركيب الإنسان من العناصر الأرضية وأنها تُرابيّة.

ولقد تكلّف وقال بالقرآن برأيه ووقع في خطأ فاحش، وقد سَرَد الآيات التي فيها ذكر التراب والطين زاعماً أن المراد سائر الناس وذلك لأجل حَشْر القرآن في رَكْب علوم الملاحدة المضلة، وقد
‌মূর্খতা ও ভ্রষ্টতার গভীরে নিমজ্জিত হওয়ার কিছু উদাহরণ

আদম ও তাঁর বংশধরের সৃষ্টি

 

আমার সম্মুখে (রিসালাতুর রিদওয়ান) নামক একটি কিতাব রয়েছে, যার লেখক সেখানে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সেই সমস্ত আয়াত উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে মানুষের মাটি ও কাদা থেকে সৃষ্টির কথা রয়েছে এবং তিনি এর দ্বারা সকল মানুষকে উদ্দেশ্য করেছেন যে তারা মাটি ও কাদা থেকে সৃষ্টি। তিনি বলেছেন: (প্রথমবারের মতো মনে হতে পারে যে মাটি থেকে আমাদের সৃষ্টি হওয়া অযৌক্তিক, কিন্তু চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার পর আমরা দেখতে পাই যে মাটি থেকে আমাদের সৃষ্টি হওয়া সূর্যের মতো এক উজ্জ্বল সত্য)।

তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে সকল মানুষই মাটি থেকে সৃষ্টি, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে মাটি ও কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টির বিষয়ে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তার দ্বারা আদম আলাইহিস সালাম-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তাঁর বংশধরদের নয়। কেননা বংশধরদের সম্পর্কে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাদেরকে তুচ্ছ পানি অর্থাৎ বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য হলো নাস্তিকদের বিজ্ঞানের চাহিদা অনুযায়ী কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা করা। আর এ কারণেই তিনি মানুষের শারীরিক গঠন পার্থিব উপাদানসমূহের সমন্বয়ে গঠিত এবং সেগুলো মাটির উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি অনর্থক কষ্টকল্পনা করেছেন এবং নিজের মতানুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এক জঘন্য ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। তিনি মাটি ও কাদা সম্পর্কিত আয়াতসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন এই দাবি করে যে, এর দ্বারা সকল মানুষ উদ্দেশ্য; আর তা করা হয়েছে নাস্তিকদের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞানের ধারায় কুরআনকে জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে। এবং...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
ذكر قوله تعالى: (وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ) وقوله تعالى: (إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ) وقوله تعالى: (وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ) وقوله تعالى: (هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ) وقوله تعالى: (إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ) وقوله تعالى: (هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ طِينٍ) وقوله تعالى: (إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِنْ طِينٍ لازِبٍ) وقوله تعالى: (وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ) وقوله تعالى: (وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ طِينٍ).

وهذه الآيات التي ذكر كلها في شأن آدم عليه السلام كما سيظهر إن شاء الله.

قال ابن كثير في آية سورة الروم: (وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ) قال: (وَمِنْ آيَاتِهِ) الدالة على عظمته وكمال قدرته أنه خلق أباكم آدم من تراب، (ثُمَّ إِذَا أَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُونَ) قال: فأصلكم من تراب ثم من ماء مهين، ثم تَصَوّر فكان علقه .. إلى آخر كلامه.

هذا هو المراد بقوله تعالى: (خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ) أنه أصلكم وهو آدم عليه السلام، فالخطاب وإن كان للذرية فالمراد أصلهم.

أما الذرية فخلقهم الله من النُّطَف التي هي الماء المهين، وكم ذكر الله هذا في القرآن.
আল্লাহ তাআলার বাণী উল্লেখ করা হলো: (তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন), এবং তাঁর বাণী: (তোমরা যদি পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো যে, আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি), এবং তাঁর বাণী: (আর আল্লাহ তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন), এবং তাঁর বাণী: (তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন), এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন), এবং তাঁর বাণী: (তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন), এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি তাদের আঠালো কাদা থেকে সৃষ্টি করেছি), এবং তাঁর বাণী: (এবং তিনি কাদা থেকে মানুষের সৃষ্টির সূচনা করেন), এবং তাঁর বাণী: (এবং অবশ্যই আমি মানুষকে কাদার নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি)।

এবং এই আয়াতগুলো যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সবগুলোই আদম আলাইহিস সালামের মর্যাদা ও বিষয়াদি সম্পর্কে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে।

ইবনে কাসীর সূরা আর-রূমের আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: (তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)—তিনি বলেছেন: (তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে) যা তাঁর মহিমা ও পূর্ণ সক্ষমতার প্রমাণ দেয় তা হলো এই যে, তিনি তোমাদের পিতা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, (অতঃপর এখন তোমরা মানুষ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছ)—তিনি বলেন: সুতরাং তোমাদের মূল উৎস হলো মাটি থেকে, অতঃপর তুচ্ছ পানি থেকে, এরপর রূপ দান করা হলো এবং তা আলাক্বা বা জমাট রক্তে পরিণত হলো... তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আল্লাহ তাআলার বাণী (তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন)—এর দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য যে, তিনি তোমাদের মূল এবং তিনি হলেন আদম আলাইহিস সালাম। সুতরাং সম্বোধনটি যদিও বংশধরদের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তবে উদ্দেশ্য হলো তাদের আদি উৎস।

আর বংশধরদের ব্যাপারে বলতে গেলে, আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন শুক্রাণু থেকে যা মূলত তুচ্ছ পানি; আর আল্লাহ কুরআনে কতবারই না এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي مسند الإمام أحمد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو آدم على قدر الأرض، جاء منهم الأبيض والأحمر والأسود وبين ذلك، والخبيث والطيب والسهل والحزَن وبين ذلك) (1).

أما آية سورة الحج (فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ) قال ابن كثير: أي أصل برئه لكم من تراب وهو الذي خُلق منه آدم عليه السلام (ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ) أي ثم جعل نسله من سلالة من ماء مهين، وأما آية السجدة (وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ) قال ابن كثير: يعني خلق أبا البشر آدم من طين.

ولن اطيل هنا فانقل ما ذكره اهل التفسير من السلف غير ابن كثير في جميع الآيات التي يذكر الله فيها التراب والطين لأنه إجماع من السلف أن المراد آدم، فيلزم صاحب الكتاب أن السلف قد أجمعوا على ضلالة في تفسير هذه الآيات، وأنهم يقرؤن هذه الآيات ولا يعرفون المراد منها وإنما عرف المراد مقلدة الملاحدة في هذيانهم.

ولا ننكر تكوين جسم الإنسان من النبات والحيوان إنما المنكر الباطل أن هذه الآيات معناها ما ذهب إليه صاحب ذلك الكتاب، إن الفرق بيّن بين خلق جنس الإنسان وخلق الأب -آدم عليه السلام.

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام احمد في سنده (4/ 400) وأبو داود (4690).
ইমাম আহমদের মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে এক মুষ্টি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন যা তিনি সমগ্র জমিন থেকে সংগ্রহ করেছেন। ফলে আদমের সন্তানরা জমিনের প্রকৃতি অনুযায়ী হয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ সাদা, কেউ লাল, কেউ কালো এবং কেউ এর মাঝামাঝি হয়েছে। আবার কেউ মন্দ, কেউ ভালো, কেউ সহজসরল, কেউ রুক্ষ এবং কেউ এর মাঝামাঝি হয়েছে।" (১)।

আর সূরা আল-হজ্জের আয়াত (নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) সম্পর্কে ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ তোমাদের সৃষ্টির মূল উৎস হলো মাটি, যা থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। (অতঃপর শুক্রাণু থেকে), অর্থাৎ তারপর তাঁর বংশধারাকে এক তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে তৈরি করেছেন। আর সূরা আস-সাজদাহর আয়াত (এবং তিনি কাদা থেকে মানুষের সৃষ্টির সূচনা করেছেন) প্রসঙ্গে ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ তিনি মানবজাতির পিতা আদমকে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন।

আমি এখানে দীর্ঘ করব না এবং ইবনে কাসীর ব্যতীত সালাফদের অন্যান্য মুফাসসিরগণ মাটি ও কাদা সম্বলিত আয়াতগুলো সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করব না; কারণ সালাফদের মধ্যে এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত রয়েছে যে, এখানে আদমই উদ্দেশ্য। সুতরাং বইটির লেখকের দাবি অনুযায়ী এটি অবধারিত হয় যে, সালাফগণ এই আয়াতগুলোর তাফসীরের ক্ষেত্রে গোমরাহির ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছিলেন এবং তারা এই আয়াতগুলো পাঠ করতেন অথচ এগুলোর উদ্দেশ্য জানতেন না, বরং নাস্তিকদের অনুসারীরাই তাদের প্রলাপে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছে।

আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহ গঠনকে অস্বীকার করি না, তবে যা বর্জনীয় ও বাতিল তা হলো এই আয়াতগুলোর অর্থ সেই দিকে ধাবিত করা যেদিকে ওই বইয়ের লেখক গিয়েছেন। মানবজাতির সাধারণ সৃষ্টি এবং তাদের পিতা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (৪/৪০০) এবং আবু দাউদ (৪৬৯০) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال ابن تيمية رحمه الله في قوله تعالى: (خَلَقَ الإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ) قال: (الإنسان) هو اسم جنس يتناول جميع الناس ولم يدخل فيه آدم الذي خُلق من طين. انتهى. (1)

والطين هو التراب إذا أُضيف إليه الماء.

والمراد هنا ذكر نماذج من ضلالات أرباب الإعجاز المزعوم وأنهم مخالفون للسلف، وأن إطلاق اسم العلم على علوم الكفار ضلال، فلا بد من تقييد اسم العلم بما يميزه عن العلم الديني الحق الممدوح أهله، ولذلك يقول ذلك الكاتب:

وأما الدليل العلمي: فاتضح للدارسين المختصين في علوم الحياة والكيمياء إذ أنهم وجدوا أن حقيقة خلقنا من التراب التي أخبر عنها القرآن الكريم منطبقة تمام الانطباق على طبيعة تكوين أجسامنا ذات الطبيعة المادية الترابية الأصل إذ تبيّن لهم بعد الدراسة والتحليل الكيميائي لِبنية الإنسان أنها بنية مكوّنة من عناصر ترابية محضة. إلى آخره. (2)

فيقال له: أهذا إعجاز القرآن أم الإضلال عن القرآن؟

وكذلك صاحب كتاب (الإعجاز الإلهي في خلق الإنسان) ذكر في (ص41) خلق الإنسان من تراب بتطابق تركيب تراب الأرض مع تراب

--------------------------------------------

(1) مجموعة الفتاوى 16/ 260.

(2) رسالة الرضوان، ص52.
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিণ্ড থেকে) সম্পর্কে বলেছেন: (মানুষ) হলো একটি সাধারণ বিশেষ্য যা সকল মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এর মধ্যে আদম অন্তর্ভুক্ত নন, যাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সমাপ্ত। (১)

আর কাদা হলো এমন মাটি যার সাথে পানি মেশানো হয়েছে।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো তথাকথিত বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের প্রবক্তাদের বিভ্রান্তির কিছু নমুনা উল্লেখ করা এবং এটি দেখানো যে তারা সালাফদের পরিপন্থী। এছাড়া কাফেরদের জ্ঞানকে ঢালাওভাবে ‘ইলম’ বা জ্ঞান নাম দেওয়া একটি বিভ্রান্তি। তাই ইলম শব্দটিকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করা আবশ্যক যা একে সেই সত্য দ্বীনি ইলম থেকে পৃথক করবে যার অধিকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে। এ কারণেই সেই লেখক বলেন:

আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ক্ষেত্রে: জীবনবিজ্ঞান ও রসায়নের বিশেষজ্ঞ গবেষকদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আমাদের মাটি থেকে সৃষ্টির যে সত্যের কথা পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে, তা আমাদের দেহের মূল বস্তুগত মাটির প্রকৃতির গঠনের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা মানুষের শারীরিক গঠনের রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর তাদের কাছে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটি নিছক মাটিজাত উপাদানে গঠিত একটি কাঠামো। ইত্যাদি। (২)

তাকে বলা হবে: এটি কি কুরআনের অলৌকিকত্ব, নাকি কুরআন থেকে বিভ্রান্ত করা?

একইভাবে ‘মানুষ সৃষ্টিতে ঐশী অলৌকিকত্ব’ নামক গ্রন্থের লেখক (৪১ পৃষ্ঠায়) মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির বর্ণনায় জমিনের মাটির উপাদানের সাথে মানুষের... এর সামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া ১৬/ ২৬০।

(২) রিসালাতুর রিদওয়ান, পৃষ্ঠা ৫২।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ورميهم الإنسان بعد فناء جسده، ثم قال: لقد جاء المثل الإلهي مُذهلاً يأخذ بالألباب في الآية الخامسة من سورة الحج حيث قال سبحانه: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ) الآية.

قال: فبعد أن خلق الله الإنسان من تراب قَدّر فيه أجهزته المختلفة، انتهى. وقد تبين هذا الخطأ والاستدلال عليه وأن المراد بالمخلوق من التراب والطين هو آدم عليه السلام.

فالحذر من هذه التفاسير للآيات والمعاني للأحاديث التي أحدثها من يزعمون إعجاز القرآن فإنهم يحيلون معاني القرآن والحديث المعجزة حقاً إلى معاني بين باطل محض والحق لا يجتمع مع الباطل بل هو ضده، وبين معانٍ تافهة هزيلة وكأن كلام الله يشبه كلام البشر، ومن هنا تسقط حرمة القرآن ويستعمل في غير ما أنزل له.
মানুষের দেহ বিলুপ্ত হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে তাদের (ভুল) বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আরও বলেন: সূরা হজের পঞ্চম আয়াতে বর্ণিত ঐশী দৃষ্টান্তটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যা বুদ্ধিমানদের অভিভূত করে, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (হে মানুষ! পুনরুত্থান সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো যে আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

তিনি বলেন: আল্লাহ মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করার পর তার মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ-সংস্থান বা তন্ত্র বিন্যস্ত করেছেন। (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। এই ভুলটি এবং এর সপক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি স্পষ্ট হয়ে গেছে; মূলত মাটি ও কাদা থেকে সৃষ্ট বলতে আদম আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে।

অতএব আয়াতের এই ধরনের ব্যাখ্যা এবং হাদিসের এমন অর্থের ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক যা কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) দাবিদাররা উদ্ভাবন করেছে। কারণ তারা কুরআন ও হাদিসের প্রকৃত অলৌকিক অর্থগুলোকে এমন অর্থে রূপান্তরিত করে যা হয় স্পষ্ট বাতিল—আর সত্য ও বাতিল কখনো একত্রিত হয় না বরং তারা পরস্পর বিরোধী—অথবা এমন তুচ্ছ ও দুর্বল অর্থ যা মনে হয় যেন আল্লাহর কালাম মানুষের কথার সদৃশ। এর মাধ্যমেই কুরআনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং একে এমন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় যার জন্য এটি অবতীর্ণ হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌إعجاز صاحب كتاب توحيد الخالق

وبما أن عبد المجيد الزنداني قدْ خاض في هذه اللجج وله مؤلفات مبثوثة أقبل عليها كثير من الشباب من غير بصيرة ولا معرفة يميزون بها الحق من الباطل، مع أنه في مؤلفاته أراد التوفيق بين كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وبين نظريات الملاحدة وما أحدثوه من علوم هي على الحقيقة من أعظم ما فُتِنَ به أهل الوقت، وغيره سلكوا هذا المسلك الخطير لكن هو اشتهر بذلك أكثر من غيره وله تَحَمّس ظاهر في هذا. ومن نظر في مؤلفاته رآه قَلّ أن يُعَوِّل على كلام السلف في التفسير لا سيما تفسير آيات الكوْن وإنما يزكم الأنوف بـ (قال الباحثون) و (كَشَفَ العلم الحديث) و (قال العلماء) وهكذا مما يَحُمّ الأرواح، وكأن نبينا صلى الله عليه وسلم تركنا عالة في معرفة مخلوقات ربنا على أعدائه وأعدائنا، وإن العلم كله في ميراث محمد صلى الله عليه وسلم ولكن يُحْرَمه من عَظّم أعداء الله واغْترّ بهم وسَلَكَ مسالكهم.

وليعلم هؤلاء المقلّدة أن مسلكهم هذا فيه من تنقّص علم الأمة وعلمائها وإظهار حاجتها إلى الكفار للعلم بكتاب ربها مالا يحيط به إلا
‘তাওহীদুল খালিক’ গ্রন্থের লেখকের অলৌকিকত্ব

যেহেতু আব্দুল মাজীদ আয-যিন্দানী এই গভীর পাকে নিমজ্জিত হয়েছেন এবং তার বহু গ্রন্থ ছড়িয়ে আছে, যেগুলোর প্রতি অনেক যুবক কোনো অন্তর্দৃষ্টি বা সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার মতো জ্ঞান ছাড়াই ধাবিত হয়েছে; যদিও তিনি তার গ্রন্থগুলোতে আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর সাথে নাস্তিকদের মতবাদ এবং তাদের উদ্ভাবিত তথাকথিত বিজ্ঞানসমূহের সমন্বয় করতে চেয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিতনা। অন্যরাও এই বিপজ্জনক পথে চলেছেন, তবে তিনি এ ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং এতে তার স্পষ্ট অতি-উৎসাহ রয়েছে। কেউ তার গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবেন যে, তিনি তাফসীরের ক্ষেত্রে সালাফদের বাণীর ওপর খুব কমই নির্ভর করেন, বিশেষ করে মহাবিশ্ব সংক্রান্ত আয়াতগুলোর তাফসীরের ক্ষেত্রে। বরং তিনি ‘গবেষকরা বলেছেন’, ‘আধুনিক বিজ্ঞান উন্মোচন করেছে’, ‘বিজ্ঞানীরা বলেছেন’—এই জাতীয় বুলি দিয়ে মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন করে ফেলেন যা আত্মাকে রোগাক্রান্ত করে দেয়। যেন আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের রবের সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের তাঁর এবং আমাদের শত্রুদের ওপর মুখাপেক্ষী করে রেখে গেছেন। অথচ সমস্ত জ্ঞান মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মীরাসের মধ্যেই নিহিত রয়েছে; কিন্তু তা থেকে সেই ব্যক্তিই বঞ্চিত হয় যে আল্লাহর শত্রুদের বড় করে দেখে, তাদের দ্বারা প্রলুব্ধ হয় এবং তাদের পথ অনুসরণ করে।

এই অন্ধ অনুসারীদের জানা উচিত যে, তাদের এই কর্মপন্থায় উম্মাহর জ্ঞান ও উলামাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং নিজ রবের কিতাব বোঝার জন্য কাফিরদের মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে, যার হাকীকত আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ পরিবেষ্টন করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
الله مما يكون من آثاره الذل النفسي وتجهيل السلف واحتقارهم، وغير ذلك من آثار السوء، ولقد عظمت هذه الفتنة حتى صارت عند كثير من النّشء من المسَلّمات.

قال عبد المجيد الزنداني:

تحت عنوان: السَّبق العِلميُ للقرآن: معجزة جديدة:

إن معجزات وبينات رسالة محمد صلى الله عليه وسلم كثيرة، ومتنوعة، ودائمة لأنه خاتم الرسل والأنبياء، ومن بينات رسالة نبينا محمد عليه الصلاة والسلام ما ظهر من إعجاز جديد للكتاب الذي جاء به صلى الله عليه وسلم من عند الله، وذلك الإعجاز هو السبق العلمي للقرآن الكريم الذي ذكر حقائق في الكون لم تكن البشرية تعلم عنها شيئاً، وبعد مرور عدد من القرون، وبعد تقدم أجهزة الكشف العلمي وقف العلماء على طرف من هذه الحقائق التي كان القرآن الكريم قد ذكرها قبل قرون وقرون، فكان ذلك شاهداً بأن هذا القرآن قد أنزله الذي يعلم السر في السموات والأرض، كما يشهد بأن محمداً صلى الله عليه وسلم رسول من عند الله الذي أحاط علماً بكل شيء (1).

الجواب على هذا أن يقال: من الخطأ الفاحش أن يطلق اسم العلماء بدون تقييد على الكفار، كذلك أن يطلق اسم العلم على علومهم، لأن

--------------------------------------------

(1) مجموعة الفتاوى 16/ 260
যা থেকে উৎপন্ন প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্মিক লাঞ্ছনা, সালাফদের প্রতি অজ্ঞতার অপবাদ আরোপ করা এবং তাদের তুচ্ছজ্ঞান করা, এছাড়াও আরও অনেক মন্দ প্রভাব। এই ফিতনা বা বিভ্রান্তি এতটাই প্রবল হয়েছে যে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের নিকট তা একটি ধ্রুব সত্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আবদুল মাজিদ আল-জিন্দানি বলেছেন:

শীর্ষক শিরোনামে: কুরআনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগামিতা: একটি নতুন মুজিজা:

নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের মুজিজা ও নিদর্শনাবলি অসংখ্য, বৈচিত্র্যময় এবং চিরস্থায়ী; কারণ তিনি হলেন সর্বশেষ রাসূল ও নবী। আমাদের নবী মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের রিসালাতের নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে একটি বিষয় হলো সেই কিতাবের নতুন এক মুজিজার প্রকাশ পাওয়া, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। আর সেই মুজিজাটি হলো পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগামিতা, যা মহাবিশ্বের এমন কিছু সত্য উল্লেখ করেছে যে সম্পর্কে মানবজাতির কোনো জ্ঞান ছিল না। কয়েক শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পর এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান যন্ত্রপাতির উন্নতির ফলে বিজ্ঞানীরা সেই সত্যগুলোর একাংশ অনুধাবন করতে পেরেছেন যা পবিত্র কুরআন বহু শতাব্দী আগেই উল্লেখ করেছিল। এটি এই সাক্ষ্য দেয় যে, এই কুরআন সেই সত্তা নাযিল করেছেন যিনি আসমান ও জমিনের সকল গোপন রহস্য জানেন। যেমন এটি এই সাক্ষ্যও প্রদান করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল, যাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে (১)।

এর উত্তর হলো এই যে: কাফিরদের ওপর কোনো শর্ত ছাড়াই 'বিজ্ঞানী' নাম প্রয়োগ করা একটি জঘন্য ভুল। অনুরূপভাবে, তাদের বিদ্যাকে 'প্রকৃত জ্ঞান' বলে অভিহিত করাও ভুল, কারণ

--------------------------------------------

(১) মাজমুআউল ফাতাওয়া ১৬/ ২৬০
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
هذا الإطلاق هو لعلماء الدين وعلم الدين، فقوله: وقف العلماء على طرف من هذه الحقائق التي كان القرآن الكريم قد ذكرها قبل قرون وقرون غرور وتغرير، وتحسين قبيح، وتزكية فاسد، حيث أن هذا العلم الحديث وعلماؤه تكلموا في ضلال وتضليل هو ثمار كفرهم وضلالهم.

وقد قَلّدهم في ذلك كثيرون تصدروا للأمة في زمن غربة للدين لم يسبق لها مثيل.

ومن العجيب أن يسمى هذيان المعطلة وضلالهم: إعجاز علمي للقرآن، وسيتبين إن شاء الله عظم ضرر هذه الجناية على الدين وعلى هذا الجيل الذي رأى سراباً ظنه ماءاً.

إن الذي تكلم به هؤلاء من حقائق الكوْن قِسْم منه قد بيّنه علماء المسلمين قبل وجود هؤلاء، ولا أقصد بعلماء المسلمين ما يزعمه أهل الوقت في قولهم علماؤنا المسلمين مثل ابن سينا ومحمد بن زكريا الرازي ونحوهم فهؤلاء كفار بشهادة علماء المسلمين الحقيقيين مثل شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم والشيخ محمد بن عبد الوهاب وغيرهم، وإنما أقصد بعلماء المسلمين الأئمة الذين لهم لسان صدق في الأمة.
এই প্রয়োগটি হলো দ্বীনের আলেম এবং দ্বীনি ইলমের ক্ষেত্রে। সুতরাং তার এই উক্তি: "বিজ্ঞানীরা এমন কিছু সত্যের সামান্য অংশের হদিস পেয়েছেন যা পবিত্র কুরআন শত শত বছর আগেই উল্লেখ করেছে"—এটি এক ধরণের আত্মপ্রবঞ্চনা ও প্রতারণা, কুৎসিতকে সুন্দর করে দেখানো এবং ভ্রষ্টকে নির্দোষ প্রমাণ করার নামান্তর। কেননা এই আধুনিক বিজ্ঞান এবং এর বিজ্ঞানীরা মূলত এমন বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মাঝে কথা বলেছেন যা তাদের কুফর ও গোমরাহির ফসল।

দ্বীনের চরম এই অপরিচিতির যুগে এমন অনেকে তাঁদের অনুকরণ করেছেন যারা উম্মতের নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়েছেন, যার নজির এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের প্রলাপ ও বিভ্রান্তিকে কুরআনের 'বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব' হিসেবে নামকরণ করা হয়। ইনশাআল্লাহ, দ্বীনের বিরুদ্ধে এবং এই প্রজন্মের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধের ক্ষতির ভয়াবহতা অচিরেই স্পষ্ট হবে, যারা মরীচিকাকে দেখে পানি মনে করে ভুল করেছে।

মহাবিশ্বের যে সত্যগুলো সম্পর্কে তারা কথা বলছে, তার একটি অংশ এসব বিজ্ঞানীদের অস্তিত্বের বহু আগেই মুসলিম আলেমগণ বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিম আলেম বলতে আমি বর্তমান যুগের লোকদের দাবিকৃত ইবনে সিনা, মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি বা তাদের মতো ব্যক্তিদের বোঝাচ্ছি না। কারণ প্রকৃত মুসলিম আলেমদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তারা কাফের, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম, শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এবং অন্যান্যগণ। বরং মুসলিম আলেম বলতে আমি ওই সকল ইমামদের বোঝাচ্ছি উম্মতের কাছে যাদের সত্যবাদিতার সুখ্যাতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরকান ফী বায়ানি ই’জাযিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌نهار الكواكب وليلها

وقال الزنداني في كتابه (توحيد الخالق) ص 55: مع العلم أن بعض الكواكب نهارها أطول من نهارنا عشرات المرات، وبعضها قد أصبح جزء منها نهاراً دائماً والجزء الآخر ليلاً دائماً، ثم ذكر قوله تعالى: (قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَداً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ) الآيتين.

الجواب: كلام صاحب كتاب توحيد الخالق هذا لا شك أنه داخل في القول على الله بغير علم الذي عليه الوعيد، بل لا شك أنه باطل محض لأنه مُتَفرِّغ من أصول علوم الملاحدة عن الكوْن التي فيها من الدّجَل مالا يحيط به إلا الله، وسوف يتبيّن ذلك فيما بعد إن شاء الله.

وكلامه هذا مبني على أصل فاسد وهو أن الكون كله عبارة عن كواكب سابحة في فضاء لا حَدَّ لَه، وهذا فيه من الضلال ما يعلمه الله وأنها تدور حول الشمس، وإنما يختلف طول نهارها بحسب البعد عن الشمس وهو مبني على نظرية (المجموعة الشمسية) التي لا وجود لها في العيان وإنما في الخيال والأذهان.

والنجوم في السماء المبنية السميكة الشفافة وهذه النجوم مع الشمس والقمر تدور في السماء من المشرق إلى المغرب، وهذا جاء في النقل مثل
গ্রহসমূহের দিন ও রাত

এবং আয-যিন্দানী তাঁর ‘তাওহীদুল খালিক’ কিতাবের ৫৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এই অবগতির সাথে যে, কিছু গ্রহের দিন আমাদের দিনের চেয়ে কয়েক দশ গুণ দীর্ঘ, এবং সেগুলোর কোনো কোনোটির এক অংশ স্থায়ী দিন ও অন্য অংশ স্থায়ী রাত হয়ে গিয়েছে; অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করেছেন: (বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আল্লাহ কিয়ামতের দিন পর্যন্ত রাতকে তোমাদের জন্য স্থায়ী করে দিতেন) - এই দুই আয়াত।

উত্তর: ‘তাওহীদুল খালিক’ কিতাবের লেখকের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান ব্যতীত কথা বলার অন্তর্ভুক্ত, যার ওপর শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে। বরং এটি যে সুস্পষ্ট বাতিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কেননা এটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে নাস্তিকদের বিজ্ঞানের এমন সব মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত যাতে এমন সব প্রতারণা রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ পরিবেষ্টন করতে পারে না। ইনশাআল্লাহ অচিরেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আর তাঁর এই কথা একটি ভ্রান্ত মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হলো এই যে—পুরো মহাবিশ্ব কেবল একটি সীমাহীন মহাশূন্যে ভাসমান কিছু গ্রহের সমষ্টি। এর মধ্যে এমন পথভ্রষ্টতা রয়েছে যা আল্লাহই ভালো জানেন। আর সেগুলোর সূর্যের চারদিকে ঘোরা এবং সূর্য থেকে দূরত্বের পার্থক্যের কারণে দিনের দৈর্ঘ্যের কম-বেশি হওয়া কেবল ‘সৌরজগত’ নামক সেই মতবাদের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই; বরং তা কেবল কল্পনা ও চিন্তা-প্রসূত।

আর নক্ষত্রসমূহ সুদৃঢ়, পুরু ও স্বচ্ছ আকাশের স্তরে অবস্থিত। এই নক্ষত্রগুলো সূর্য ও চন্দ্রের সাথে আকাশে পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন করে; আর এটি বর্ণনায় (নকলি দলিলে) এসেছে যেমন-