(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: -)
السنة المطهرة والتحديات   (نور الدين عتر)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السُنَّة المطهرة والتحديات

المؤلف: نور الدين محمد عتر الحلبي، أستاذ التفسير وعلوم القرآن والحديث وعلومه في كليات الشريعة والآداب في جامعتي دمشق وحلب

الناشر: مجلة مركز بحوث السُنَّة والسيرة - قطر، العدد الثالث، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 185

أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432

পবিত্র সুন্নাহ ও চ্যালেঞ্জসমূহ   (নুরুল দীন ইতর)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: পবিত্র সুন্নাহ ও চ্যালেঞ্জসমূহ

লেখক: নুরুল দীন মুহাম্মদ ইতর আল-হালাবি, দামেস্ক ও আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও কলা অনুষদের তাফসির, কুরআন বিজ্ঞান এবং হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অধ্যাপক

প্রকাশক: সেন্টার ফর সুন্নাহ অ্যান্ড সিরাহ রিসার্চ জার্নাল - কাতার, তৃতীয় সংখ্যা, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৫

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: -)
ـ[السُنَّة المطهرة والتحديات]ـ

 

بقلم الدكتور نور الدين عتر

 

أستاذ التفسير وعلوم القرآن والحديث وعلومه

في كليات الشريعة والآداب في جامعتي دمشق وحلب

 

مجلة مركز بحوث السُنَّة والسيرة - قطر

العدد الثالث: 1408 هـ - 1988 م

 

عدد الأجزاء: 1.

أَعَدَّهُ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / توفيق بن محمد القريشي، - غَفَرَ اللهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
—[পবিত্র সুন্নাহ ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জসমূহ]—

 

ড. নূরুদ্দীন ইতর-এর কলমে

 

তাফসির, কুরআন বিজ্ঞান এবং হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অধ্যাপক

দামেস্ক ও আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও সাহিত্য অনুষদে

 

সুন্নাহ ও সিরাত গবেষণা কেন্দ্র সাময়িকী - কাতার

তৃতীয় সংখ্যা: ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

 

খণ্ড সংখ্যা: ১

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে পাদটীকা যুক্ত করা হয়েছে]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
الحمد لله رب العالمين وأفضل الصلاة وأتم التسليم على نَبِيِّنَا وَهَادِينَا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين، المبعوث رحمة للعالمين من جاء بالشريعة الكاملة التي اختصت بِأَنْ تَكَفَّلَ المولى تبارك وتعالى بحفظها وسدادها إلى أَبَدِ الآبِدِينَ، - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ - ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً.

 

أما بعد:

فإنَّ هذا الموضوع: «السُنَّة المُطَهَّرَة والتحديات» دراسة علمية موضوعية، وعرض صادق أمين للخصوصية الكبرى التي اختص الله بها هذه الأمَّة وفضَّلها بالامتياز بها على سائر الأمم، وفي جميع العصور السابقة واللاحقة، تلك الخصوصية «حفظ الحديث النبوي» ذلك التراث الثري والحيوي الضخم الذي اختص اللهُ هذه الأُمَّةَ بأن حفظته غَضًّا طَرِيًّا مدى االعصور والأزمان، وعلى مَرِّ القرون والأجيال، وها نحن وقد انسلخ القرن الرابع عشر ودخلنا في الخامس عشر الهجري نقرأ حديث نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم وَنَسْمَعُهُ وَيُخْطَبُ بِهِ عَلَى المَنَابِرِ، وَيُذَاعُ على العالم جديدًا صحيحًا كما قاله ونطق به وكأنه صدر عنه الساعة، صلى الله عليه وسلم.

 

إنَّ هذا الكنز العظيم الذي ظفرنا به وفزنا بنواله قد اجتاز في طريقه إلينا عقبات وتحديات ضخمة اعترضت طريق وصول السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ إلينا، وواجهت هذه الأمَّةُ المُؤْمِنَةُ حَامِلَةَ هذا الحديث وروايته، فاجتازتها أُمَّةُ الإسلام وتغلبت عليها بتوفيق من الله تعالى، وقدمت بذلك منذ اللحظات الأولى لعملها في الرواية البرهان على كمال هذا الإسلام وكفايته ووفائه بكل حاجات البشرية، ما كان منها موجودًا سابقًا وما يطرأ بَعْدُ مِنَ المُتَغَيِّرَاتِ لَاحِقًا.
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সর্বোত্তম দুরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, যিনি নবী ও রাসূলগণের ধারাক্রম সমাপ্তকারী, বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত, যিনি এমন এক পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত নিয়ে এসেছেন যার সংরক্ষণ ও নির্ভুলতার দায়িত্ব মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা অনন্তকাল পর্যন্ত স্বয়ং গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি ও অগণিত রহমত বর্ষিত হোক।

 

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই বিষয়টি: «পবিত্র সুন্নাহ ও চ্যালেঞ্জসমূহ» একটি বস্তুনিষ্ঠ তাত্ত্বিক গবেষণা এবং সেই মহান বৈশিষ্ট্যের এক সত্যনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত উপস্থাপনা, যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতকে বিশেষায়িত করেছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল যুগের অন্যান্য উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সেই বৈশিষ্ট্যটি হলো «নবীজির হাদিস সংরক্ষণ»; এটি এমন এক সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত বিশাল ঐতিহ্য যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতকে স্বতন্ত্র করেছেন যে, তারা যুগ-যুগান্তর ও শতাব্দীকাল ধরে একে সজীব ও অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করেছে। আজ আমরা চতুর্দশ হিজরি শতাব্দী পার করে পঞ্চদশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেছি, অথচ আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস পড়ছি, শুনছি, মিম্বরসমূহে এর মাধ্যমে খুতবা প্রদান করা হচ্ছে এবং সারাবিশ্বে এটি সজীব ও বিশুদ্ধ (صحيح) রূপে এমনভাবে প্রচারিত হচ্ছে যেন তা এখনই তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে।

 

এই মহান রত্নভাণ্ডার যা আমরা অর্জন করেছি এবং যা প্রাপ্তিতে আমরা ধন্য হয়েছি, তা আমাদের নিকট পৌঁছানোর পথে সুন্নাহর গতিরোধকারী বিশাল বাধা ও বড় বড় চ্যালেঞ্জসমূহ অতিক্রম করে এসেছে। এই হাদিস ও এর বর্ণনা (رواية) বহনকারী এই মুমিন উম্মাহ সেই চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হয়েছিল; অতঃপর উম্মতে মুসলিমাহ আল্লাহর তৌফিকে সেগুলো অতিক্রম করেছে এবং সেগুলোর ওপর জয়লাভ করেছে। এর মাধ্যমে বর্ণনার (رواية) প্রাথমিক সময় থেকেই ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা ও মানবজাতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণে এর সক্ষমতার প্রমাণ পেশ করেছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
‌‌هَدَفُ هَذَا البَحْثِ:

هذه التحديات هي هدف الدراسة في هذا البحث:

تحديات العقبات التي واجهتها الأُمَّةُ الإِسْلَامِيَّةُ بِخُلُوِّ الجَوِّ العِلْمِيَّ وَالدِّينِيَّ وفراغه الكامل لدى الأمم الأخرى من أَيِّ تأصيل أو ثروة أو أثارة من طريق يكفل صِحَّةَ الرواية يمكن أنْ يفيد منه الصحابة لنقل السُنَّةِ وَالتُرَاثِ نَقْلاً صَحِيحًا.

 

ثم بعد هذا تحديات الأسئلة المستفسرة أو المستشكلة عن تحقق حفظ السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ وسلامة نقل الحديث النبوي، بل الأسئلة المُتَعَنِّتَةِ التي طرحت قَدِيمًا وَتَجَدُّدِ الخوض فيها منذ مطلع العصر الحديث حول جهود العلماء، وَعُلَمَاءَ السُنَّةِ وَأَهْلِ الحَدِيثِ، الذين كان لهم الفضل الأكبر في خدمة هذا الدين الإسلامي بحفظهم لِلْسُنَّةِ: الأصل الثاني من أصول الإسلام بعد كتاب الله تعالى، وهل نجحت الأُمَّةُ في تذليل تلك العَقَبَاتِ وَمَلْءِ ذلك الفراغ العلمي ومن ثم تحقيق غاية في الذروة في الغايات العلمية العظيمة والدينية ألَا وهي حفظ الحديث النبوي وصيانته من التغيير والتبديل.

 

ولنبدأ البحث بشأن الحديث من أيامه الأولى.

 

‌‌تَلَقِّي الصَّحَابَةِ لِلْحَدِيثِ النَّبَوِيِّ:

لقد بعث اللهُ تعالى رسوله الأعظم خاتم الأنبياء والمرسلين بالهداية الكاملة التامة، التي تشمل جميع الشؤون والقضايا، وَأَيَّدَهُ بالمعجزة الكبرى. التي خَصَّهُ بها من بين سائر الأنبياء وأكرم أُمَّتَهُ بها دون سائر الأمم، ألَا وهي معجزة القرآن الكريم، بُرْهَانَ نُبُوَّتِهِ وآية رسالته، وكتاب دعوته وهدايته، ودستور أُمَّتِهِ، وآتاه السُنََّةَ حكمة تُفَسِّرُ هذا القرآن وَتُبَيِّنُهُ، كما قال تبارك وتعالى:
এই গবেষণার লক্ষ্য:

এই চ্যালেঞ্জগুলোই হলো অত্র গবেষণার মূল আলোচ্য বিষয়:

সেই সকল প্রতিকূলতার চ্যালেঞ্জ যা মুসলিম উম্মাহ মোকাবিলা করেছিল; কারণ অন্যান্য জাতিসমূহের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় পরিবেশের অনুপস্থিতি ছিল এবং বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করার মতো কোনো পদ্ধতিগত মূলনীতি বা জ্ঞানগত ঐতিহ্যের অভাব ছিল, যা থেকে সাহাবীগণ সুন্নাহ ও ঐতিহ্যকে বিশুদ্ধভাবে (صحيح) স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উপকৃত হতে পারতেন।

 

অতঃপর নববীয়ি সুন্নাহর সংরক্ষণ (حفظ) এবং হাদিস বর্ণনার সঠিকতা নিশ্চিতকরণ সম্পর্কে অনুসন্ধানমূলক বা সংশয়বাদী প্রশ্নসমূহের চ্যালেঞ্জ; বরং সেই সমস্ত বিদ্বেষপ্রসূত প্রশ্ন যা প্রাচীনকালে উত্থাপিত হয়েছিল এবং আধুনিক যুগের শুরু থেকে যা নিয়ে পুনরায় চর্চা শুরু হয়েছে—বিশেষ করে আলেমগণ, সুন্নাহর বিশেষজ্ঞগণ এবং আহলে হাদিসদের প্রচেষ্টা নিয়ে, এই দ্বীন ইসলামের খেদমতে যাঁদের রয়েছে বিশাল অবদান। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের পর ইসলামের দ্বিতীয় উৎস সুন্নাহকে সংরক্ষণের (حفظ) মাধ্যমে এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। উম্মাহ কি সেই প্রতিকূলতাগুলো জয় করতে এবং জ্ঞানগত সেই শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল? এবং এর মাধ্যমে মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যসমূহের চরম শিখরে আরোহণ করতে পেরেছিল কি? যা হলো—হাদিসকে সংরক্ষণ (حفظ) করা এবং একে যেকোনো পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করা।

 

আসুন আমরা হাদিস সংক্রান্ত এই গবেষণা এর প্রাথমিক সময়কাল থেকে শুরু করি।

 

সাহাবীগণের হাদিস গ্রহণ (تلقي):

আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসূলকে পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন, যা জীবনের সকল বিষয় ও সমস্যাকে পরিব্যপ্ত করে। তিনি তাঁকে এমন এক মহা-মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন) দিয়ে সাহায্য করেছেন, যা দ্বারা তিনি তাঁকে অন্যান্য সকল নবীদের মধ্যে বিশিষ্ট করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে অন্যান্য সকল জাতির ওপর সম্মানিত করেছেন। আর তা হলো আল-কুরআনুল কারীম—যা তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ, তাঁর রিসালাতের নিদর্শন, তাঁর দাওয়াত ও হিদায়াতের কিতাব এবং তাঁর উম্মতের জীবনবিধান। তিনি তাঁকে হিকমত হিসেবে সুন্নাহ দান করেছেন যা এই কুরআনের তাফসীর ও ব্যাখ্যা প্রদান করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
{وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا (1).

 

وقال عَزَّ من قائل:

{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (2)

 

وقد تلقى الصحابة هذا القرآن الكريم وهذا الحديث النبوي الشريف بأقصى غاية القبول والإذعان كما تتلقى الأرض الخصبة الطيبة غيث السماء وقد استبد بها الظمأ، واشتد القحط وطال أمده، فتتشرب الغيث بكل ذَرَّاتِهَا، ثم تقدم للعالم أطيب الثمار.

 

فاستمع الصحابة القول من القرآن ومن الحديث وَاتَّبَعُوهُ أحسن ما يكون عليه الاتباع حتى كانوا خير هذه الأُمَّةِ المُفَضَّلَةِ على سائر الأمم وأفضل جيل فيها، قال اللهُ تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (3).

 

‌‌الصَّحَابَةُ وَرِوَايَةِ السُنَّةِ:

لما اختار الرسول الكريم - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ -، جوار ربه ولحق بالرفيق الأعلى خلفه صحبه الكرام في آداء الأمانة وحمل الرسالة إلى العالم، هنالك واجهت الصحابة مسألة نشر السُنَّةِ والمحافظة عليها، ونقلها كما سمعوها من قائلها، - صَلَوَاتُ اللهِ تَعَالَى وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - طِبْقاً لما حَضَّهُمْ وَحَثَّهُمْ عليه وأمرهم وَكَلَّفَهُمْ به في الأحاديث الكثيرة المتواترة البالغة غاية الكثرة، كما

--------------------------------------------

(1) [سورة النساء، الآية: 113].

(2) [سورة النحل، الآية: 44].

(3) [سورة آل عمران، الآية: 110].
{আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে তা শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না; আর আপনার ওপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে} (১)।

 

এবং মহাপরাক্রমশালী সত্তা ইরশাদ করেছেন:

{আর আমি আপনার প্রতি যিকর (স্মরণিকা) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (২)

 

সাহাবীগণ এই কুরআনুল কারীম এবং এই হাদিস অত্যন্ত গভীর কবুলিয়ত ও আনুগত্যের সাথে গ্রহণ করেছিলেন, যেমন তৃষ্ণার্ত ও দীর্ঘকালীন অনাবৃষ্টিতে ফেটে চৌচির হওয়া উর্বর ও পবিত্র ভূমি আকাশের বৃষ্টিকে গ্রহণ করে এবং তার প্রতিটি অণু-পরমাণু দিয়ে তা শুষে নেয়, অতঃপর বিশ্ববাসীকে সর্বোত্তম ফল উপহার দেয়।

 

সাহাবীগণ কুরআন ও হাদিসের বাণী শ্রবণ করেছেন এবং সর্বোত্তম পন্থায় তা অনুসরণ করেছেন, যার ফলে তারা অন্যান্য উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে এবং সর্বোত্তম প্রজন্মে পরিণত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণে বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো} (৩)।

 

‌‌সাহাবীগণ এবং সুন্নাহ বর্ণনা:

যখন রাসূল কারীম —তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— তাঁর রবের সান্নিধ্য বেছে নিলেন এবং পরম বন্ধুর (রফিকে আ'লা) সাথে মিলিত হলেন, তখন তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ আমানত রক্ষা এবং বিশ্ববাসীর কাছে রিসালাতের বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। সেই মুহূর্তে সাহাবীগণ সুন্নাহর প্রসার ও তা সংরক্ষণের বিষয়ের সম্মুখীন হলেন এবং রাসূলুল্লাহ —তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— এর নিকট থেকে তাঁরা যেভাবে শুনেছিলেন ঠিক সেভাবেই তা বর্ণনা করার উদ্যোগ নিলেন। এটি ছিল সেই নির্দেশ ও দায়িত্ব পালনের অংশ যা তিনি তাঁদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অসংখ্য মুতাওয়াতির (متواترة) হাদিসের মাধ্যমে প্রদান করেছিলেন এবং উৎসাহিত করেছিলেন, যেমনটি—

--------------------------------------------

(১) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]।

(২) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]।

(৩) [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪০)
في الحديث الذي يقول فيه: «نَضَّرَ اللهُ امْرُءًا سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فََبَلِّغَهُ كَماَ سَمِعَ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» (1).

 

فقام الصحابة بحمل الأمانة وتبليغ الرسالة، ونقل الحديث النبوي إلى العالم، لأنهم حين خرجوا وانتشروا في الأرض لم ينتشروا غُزاة بعقلية الفاتحين بل كانوا يَهْدُونَ العالم وينقذونه من الظلمات إلى النور، ومن الضلال والضياع إلى الطريق المستقيم طريق السعادة والكرامة والفوز في الدنيا وفي الآخرة وذلك كما سجله التاريخ لهم من أفعالهم وأحوالهم، وكما نطقت به هذه الكلمة المُدَوِّيَةُ الخَالِدَةُ التي كتبها الخليفة العادل عمر بن عبد العزيز لعامله يقول له: «إَّنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا هَادِيًا وَلَمْ يَبْعَثْهُ جَابِيًا».

 

وكما قال من قبله أمير المؤمنين الفاروق عمر بن الخطاب لواليه على مصر: «مَتَى اسْتَعْبَدْتُمُ النَّاسَ وَقَدْ وَلَدَتْهُمْ أُمَّهَاتُهُمْ أَحْرِارًا».

 

‌‌تَحَدِّي الفَرَاغَ العِلْمِيَّ فِي الرِّوَايَةِ:

واجه الصحابة هذه القضية التي تمس جوهر الإسلام قضية نقل السُنَّة النَّبَوِيَّة وحفظها وكان الجَوُّ كما ذكرنا خالياً وفارغاً جداً ليس فيه أي أثر من قاعدة أوقانون لدى أي أُمَّةٍ من الأمم يفيد في نقل تراث أو ما يتعلق بالرواية أياً كانت الرواية ليمكن أنْ يعتبر سابقة يُحْتَذَى أَوْ قُدْوَةً يُؤْتَسَى بها، بل كان هناك واقع مظلم عند الأمم الأخرى، فقد فرطت في كتبها المقدسة التي يرتبط بها وجودها الحقيقي في الواقع، وتلفقت أقاويل وأقاصيص وحكايات خرافية

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبوداود في العلم (باب فضل نشر العلم): ج 3 ص 322 والترمذي: ج 5 ص 33 - 34 بلفظه وقال: «حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ»، وابن ماجة: ص 84.
সেই হাদিসে, যাতে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে এবং তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রোতার চেয়েও অধিক সমঝদার হয়» (১)।

 

অতঃপর সাহাবীগণ আমানত বহন করা এবং রিসালাতের বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা নববী হাদিস বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেন। কারণ তাঁরা যখন বের হয়েছিলেন এবং পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তখন বিজয়ী মানসিকতাসম্পন্ন কোনো যোদ্ধা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েননি; বরং তাঁরা বিশ্ববাসীকে হেদায়েত দিচ্ছিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, আর পথভ্রষ্টতা ও লক্ষ্যহীনতা থেকে সরল সঠিক পথ—যা দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ, মর্যাদা ও সফলতার পথ—সেই দিকে উদ্ধার করছিলেন। ইতিহাস তাঁদের কার্যাবলি ও অবস্থার মাধ্যমে তা নথিভুক্ত করেছে। আর ন্যায়পরায়ণ খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর গভর্নরের কাছে লিখিত সেই চিরস্থায়ী ও বজ্রনিনাদ বাণীর মাধ্যমেও তা ফুটে উঠেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন, কর সংগ্রাহক হিসেবে নয়»।

 

যেমনটি তাঁর পূর্বে আমিরুল মুমিনীন ফারুক ওমর ইবনুল খাত্তাব মিশরের গভর্নরের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «কবে থেকে তোমরা মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছে?»

 

‌‌বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক শূন্যতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা:

সাহাবীগণ ইসলামের মূল নির্যাস সংশ্লিষ্ট এই বিষয়টি অর্থাৎ সুন্নাতে নববী সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের বিষয়টি মোকাবিলা করেছিলেন। তখন পরিবেশ ছিল—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—একেবারে শূন্য ও রিক্ত। কোনো জাতির কাছেই এমন কোনো নীতি বা আইনের চিহ্ন ছিল না যা কোনো ঐতিহ্য বা বর্ণনার (الرواية) সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে—তা যে কোনো ধরনের বর্ণনাই (الرواية) হোক না কেন—যাতে সেটিকে অনুসরণযোগ্য কোনো নজির বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। বরং অন্যান্য জাতিগুলোর কাছে এক অন্ধকার বাস্তব বিদ্যমান ছিল; তারা তাদের সেই পবিত্র গ্রন্থগুলো অবহেলা করেছিল যেগুলোর সাথে বাস্তবে তাদের অস্তিত্বের যোগসূত্র ছিল এবং তারা বিভিন্ন ভিত্তিহীন কথা, কিচ্ছাকাহিনী ও রূপকথা গ্রহণ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি ইলম অধ্যায়ে (জ্ঞান প্রচারের ফযিলত পরিচ্ছেদ) বর্ণনা করেছেন: ৩য় খণ্ড, ৩২২ পৃষ্ঠা; এবং তিরমিজি: ৫ম খণ্ড, ৩৩-৩৪ পৃষ্ঠা, এই শব্দে এবং বলেছেন: «হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস»; এবং ইবনে মাজাহ: ৮৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪১)
باطلة من هنا وهناك، لَبَّسَتْ بها كتب دينها، حتى صارت تحوي أقاصيص وأباطيل مِمَّا ينبو الذوق عن ذكره فضلاً عن تدوينه (1).

 

الأمر والواقع الذي يدل على المهمة الكبرى التي أنيطت بالصحابة لكي يقوموا بالواجب الذي ألقي على عاتقهم، وَيُؤَدُّوا هذا الحديث عن نبيهم، أداءاً صحيحاً يُحَقَّقُ الغاية التي أمروا بها وبتوصيلها إلى العالم.

 

‌‌أُصَولُ المَنْهَجِ العِلْمِيِّ لِلْرِّوَايَةِ فِي القُرْآنِ:

لكنه الإسلام، الإسلام العظيم كفاهم المؤنة، وَحَلَّ لهم المعضلة بما يشتمل عليه من عوامل الحفظ الذاتية التي خَصَّهُ اللهُ تعالى بها، وأودعها في القرآن وَالسُنَّةِ فواجه بها الإسلام الأعاصير العاتية عبر التاريخ صَلْبًا ثَابِتًا، ثم بما امتاز به من خصوصية الشمول لكل جوانب الحياة، مِمَّا يكفل لهذه الأُمَّةِ المَنَعَةَ والسلامة والقوة والهداية، ما إن تمسكت به، وتعلقت بأهدابه، واعتصمت بحبله المتين وَعُرْوَتِهِ الوُثْقَى.

 

فقد قررت نصوص القرآن أصولاً علمية كانت منارة للصحابة في صيانة الرواية وأداء الحديث صحيحًا كما سمع من قائله، وهي أصول على غاية من الأهمية لخطورة موقعها، ولما أنَّ دلالة النصوص عليها ظاهرة واضحة، حتى أنها لظهورها وتسليمها قد غفل عنها وعن موقعها الهام في تأصيل قواعد الرواية والنقل الصحيحين.

--------------------------------------------

(1) مثل ما تنسب القصص الإسرائيلية إلى لوط عليه السلام أنَّ ابنتيه سقتاه خمراً حتى سكر، قصدتا أن يقع عليهما، وتلدا له ذكورا؟ وقد ضاجعهما واحدة واحدة ثم حملتا منه؟ ثم أتت كل واحدة منها بولد ذكر؟ حاشا نبي الله لوطا عن ذلك عليه السلام.
এখান ওখান থেকে আসা ভিত্তিহীন (باطلة) বিষয়াদি, যা দ্বারা তারা তাদের ধর্মের কিতাবগুলোকে কলুষিত করেছে, এমনকি তা এমন সব গালগল্প ও অসার বিষয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে যা উল্লেখ করতেও রুচি বাধা দেয়, লিপিবদ্ধ করা তো দূরের কথা (১)।

 

এই বাস্তব অবস্থাটি সেই মহান দায়িত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে যা সাহাবীদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল, যাতে তারা তাদের কাঁধে ন্যস্ত কর্তব্য পালন করতে পারেন এবং তাদের নবী থেকে এই হাদিস সঠিকভাবে (صحيحا) বর্ণনা (أداء) করতে পারেন। এর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয় যা প্রচার করার এবং বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়েছে।

 

‌কুরআনে বর্ণনার (رواية) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ (أصول المنهج العلمي):

কিন্তু এটিই ইসলাম, মহান ইসলাম তাদের সেই ভার লাঘব করেছে এবং তাদের সমস্যার সমাধান দিয়েছে এমন সব নিজস্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যা আল্লাহ তাআলা একে বিশেষভাবে দান করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর (السنة) মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন। ফলে ইসলাম ইতিহাসের প্রবল প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছে দৃঢ় ও অবিচলভাবে। এরপর এটি জীবনব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গতার যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, তা এই উম্মতের নিরাপত্তা, সুরক্ষা, শক্তি ও হেদায়েতের নিশ্চয়তা প্রদান করে—যতক্ষণ তারা একে আঁকড়ে ধরবে, এর আদর্শের সাথে সংলগ্ন থাকবে এবং এর মজবুত রশি ও সুদৃঢ় বন্ধনকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে।

 

কুরআনের পাঠসমূহ (نصوص) এমন কিছু বৈজ্ঞানিক মূলনীতি (أصول) নির্ধারণ করে দিয়েছে যা সাহাবীদের জন্য বর্ণনা (رواية) সংরক্ষণ এবং হাদিসকে বক্তার থেকে ঠিক যেভাবে শোনা গেছে সেভাবে সঠিকভাবে (صحيحا) বর্ণনার (أداء) ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা স্বরূপ ছিল। এই মূলনীতিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এগুলোর সপক্ষে দলিলের (نصوص) নির্দেশ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এমনকি এর সুস্পষ্টতা ও সর্বজনস্বীকৃত হওয়ার কারণে অনেকে একে এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা (رواية) ও স্থানান্তরের (نقل) নিয়মাবলি নির্ধারণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) যেমন ইসরাঈলি বর্ণনায় লুত আলাইহিস সালামের প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয় যে, তাঁর দুই কন্যা তাঁকে মদ পান করিয়েছিল যতক্ষণ না তিনি মাতাল হন, যাতে তারা তাদের সাথে মিলিত হয় এবং তাদের পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। (বলা হয় যে) তিনি একে একে তাদের সাথে শয়ন করেন এবং তারা তাঁর মাধ্যমে গর্ভবতী হয়। এরপর তারা প্রত্যেকে একটি করে পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। আল্লাহর নবী লুত আলাইহিস সালাম এসব অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪২)
غير أنا لا نستطيع ههنا في هذا الموقف، الإِفَاضَةَ في تفاصيلها وتفاريعها، بل نكتفي بعرض ملخص لهذه الأصول العلمية في الرواية فيما يلي:

 

‌‌أَوَّلاً: تَحْرِيمُ الكَذِبِ:

وهذا يعني فرض الأمانة العلمية، كما نُعَبِّرُ اليوم، وتحريم الخيانة العلمية ومعلوم تشديد القرآن الكريم وَالسُنَّةُ النَّبَوِيَّةُ في الزجرعن الكذب تشديدًا عظيمًا، وتغليظ حرمته، حتى جعل الكذب من صفة غير المسلم، كما جاء في نص القرآن الكريم: {إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ} (1)

وقال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (2)

 

كذلك الحديث المتواتر عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مِقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»، وقد رَوَى هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بضع وسبعون صَحَابِيًا. (3).

--------------------------------------------

(1) [سورة النحل، الآية: 105].

(2) [سورة الأعراف، الآية: 33].

(3) انظر تفصيل تخريجه عنهم في " تدريب الراوي ": ج 2، ص 177 - 178، وأما في مطلق تحريم الكذب فقد رواه نحو مائتي صحابي.
তবে আমরা এখানে এই মুহূর্তে এর বিস্তারিত বর্ণনা ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে সক্ষম নই; বরং নিম্নে বর্ণনা (الرواية) সংক্রান্ত এই ইলমি মূলনীতিগুলোর একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপনেই সীমাবদ্ধ থাকব:

 

‌‌প্রথমত: মিথ্যা বলা হারাম হওয়া:

এর অর্থ হলো ইলমি আমানতদারিকে আবশ্যক করা, যেমনটি আমরা বর্তমানে ব্যক্ত করি এবং ইলমি খিয়ানতকে হারাম সাব্যস্ত করা। এটি সুপরিচিত যে, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ মিথ্যা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এবং এর হারাম হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছে। এমনকি মিথ্যাকে অমুসলিমের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেমনটি পবিত্র কুরআনের পাঠে এসেছে: {মিথ্যা কেবল তারাই রচনা করে, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না} (১)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে এবং পাপ ও অসংগত বিদ্রোহকে এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করাকে, যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলাকে যা তোমরা জান না} (২)

 

তদ্রূপ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (المتواتر) হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নিল», এবং সত্তর জনেরও বেশি সাহাবি (صحابي) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। (৩)।

--------------------------------------------

(১) [সুরা আন-নাহল, আয়াত: ১০৫]।

(২) [সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৩]।

(৩) তাদের থেকে এর তাখরিজ (تخريج) সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন "তাদরিবুর রাবি": ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭৭ - ১৭৮। আর সাধারণভাবে মিথ্যা হারাম হওয়ার বিষয়ে প্রায় দুইশত সাহাবি (صحابي) হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
‌‌ثَانِيًا: رَفْضُ خَبَرِ الفَاسِقِ:

وذلك في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} (1)

فقد أوجب التثبيت وعدم قبول خبر الفاسق حتى تَتَبَيَّنَ صِحَّتُهُ من طريق أخرى فتكون العمدة على تلك الطريق.

 

‌‌ثَالِثًا: اشْتِرَاطُ العَدَالَةِ لِقَبُولِ خَبَرَ الرَّاوِي:

وهو أصل في الشريعة بلا خلاف، يشهد له قوله تعالى: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} (2) وقوله: {مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ} (3)

 

فإنَّ هذا وإنْ كان ظاهره في الشهادة في الأموال فإنه يدل بطريق الأَوْلَى على اشتراط ذلك في راوي الحديث لأنه يشهد على الله تعالى وعلى رسوله بما ينقل.

 

قال الإمام الترمذي: «لأَنَّ الشَهَادَةَ فِي الدِّينِ أَحَقُّ أَنْ يَتَثَبَّتَ فِيهَا مِنَ الشَّهَادَةِ فِي الحُقُوقِ وَالأَمْوَالِ» (4).

 

وأخرج ابن ابي حاتم عن بهز بن أسد قال: «لَوْ أَنَّ لِرَجُلٍ عَلَى رَجُلٍ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ ثُمَّ جَحَدَهُ لَمْ يَسْتَطِعْ أَخْذَهَا مِنْهُ إِلَاّ بِشَاهِدَيْنِ عَدْلَيْنِ، فَدِينُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُؤْخَذَ فِيهِ بِالعَدْلِ» (5)

--------------------------------------------

(1) [سورة الحجرات، الآية: 6].

(2) [سورة الطلاق، الآية: 2].

(3) [سورة البقرة، الآية: 282].

(4) ج 1 ص 44 من نسخة " شرح العلل " لابن رجب الحنبلي.

(5) " الجرح والتعديل ": ج 1 قسم 1 / ص 16. وانظر " التعليق على شرح العلل ": ج 1 ص 45.
দ্বিতীয়ত: পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ (خبر) প্রত্যাখ্যান করা:

আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} (১)

এখানে যাচাই করা এবং পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ (خبر) গ্রহণ না করাকে আবশ্যক করা হয়েছে যতক্ষণ না অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে তার বিশুদ্ধতা (صحة) স্পষ্ট হয়; ফলশ্রুতিতে মূল ভিত্তি হবে সেই সূত্রটিই।

 

‌তৃতীয়ত: বর্ণনাকারীর (راوي) সংবাদ (خبر) গ্রহণের জন্য ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হওয়া:

এটি শরীয়তের একটি মূলনীতি যাতে কোনো দ্বিমত নেই। মহান আল্লাহর বাণী এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: {আর তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো} (২) এবং তাঁর বাণী: {সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা পছন্দ করো} (৩)

 

যদিও এর বাহ্যিক দিকটি অর্থ-সম্পদ সংক্রান্ত সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে, তবুও তা হাদিস বর্ণনাকারীর (راوي) ক্ষেত্রে এই শর্ত থাকার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে। কারণ তিনি যা বর্ণনা করেন তার মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করেন।

 

ইমাম তিরমিজি বলেন: «কেননা দ্বীনের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকার ও অর্থ-সম্পদের সাক্ষ্যের তুলনায় অধিকতর যাচাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা অধিক বাঞ্ছনীয়» (৪)।

 

ইবনে আবি হাতিম বাহজ ইবনে আসাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে দশ দিরহাম পাওনা থাকে এবং সে তা অস্বীকার করে, তবে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী ছাড়া সে তা আদায় করতে সক্ষম হয় না। সুতরাং আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدل) রক্ষা করা আরও বেশি অগ্রগণ্য» (৫)

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬]।

(২) [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ২]।

(৩) [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮২]।

(৪) ইবনু রজব আল-হাম্বলীর "শরহুল ইলাল" এর পাণ্ডুলিপির ১ম খণ্ড, ৪৪ পৃষ্ঠা।

(৫) "আল-জারহ ওয়াত-তাদিল": ১ম খণ্ড, ১ম অংশ / ১৬ পৃষ্ঠা। এবং দেখুন "আত-তালিক আলা শরহিল ইলাল": ১ম খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
‌‌رَابِعًا: التَّثَبُّتُ مِنْ كُلِّ قَضِيَّةٍ:

وذلك في قوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} (1) أي لا تتبع شَيْئًا لم تعلم تحققه وسلامته وهذا يشمل وجوب التأكد من صحة العلم النقلي، ونحن إنما نتكلم هنا عن العلم النقلي فلا يقبل منه شيء إِلَاّ بعد التَثَبُّتِ مِنْ صِحَّتِهِ وأنه مطابق لأصل النص الذي صدر عن صاحبه.

 

‌‌خَامِسًا: تَحْرِيمُ نَقْلِ الخَبَرِ المَكْذُوبِ:

هذا الأصل يدلنا على مدى الاحتياط الواجب وقد دلت عليه الآية السابقة {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} (1)، ولما في الحديث الصحيح المستفيض من رواية جماعة من الصحابة عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يُرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ» أخرجه مسلم في " مقدمة صحيحه " وغيره (2).

وهذا تحذير خطير من مسؤولية الرواية، يوجب على كل من سمع حَدِيثًا أَنْ يَتَوَقَّفَ ولا يرويه حتى يتثبت ويأخذ بالاحتياط.

 

‌‌تَطْبِيقُ الصَّحَابَةِ لأُصُولِ القُرْآنِ فِي الرِّوَايَةِ:

في عصر الخلفاء الراشدين الذي تأصلت فيه أصول الرواية كانت السيادة في المجتمع الإسلامي للطبقة التي كونت هذا المجتمع وهي طبقة الصحابة

--------------------------------------------

(1) [سورة الإسراء، الآية: 36].

(2) " مقدمة صحيح مسلم ": ص 7.
‌‌চতুর্থত: প্রতিটি বিষয়ে যাচাই-বাছাই (التثبت) করা:

এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান: {যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না} (১) অর্থাৎ এমন কোনো কিছুর অনুসরণ করো না যার বাস্তবতা ও নির্ভুলতা সম্পর্কে তুমি অবগত নও। এটি বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানের (العلم النقلي) বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করার আবশ্যকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা এখানে মূলত বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞান (العلم النقلي) নিয়ে আলোচনা করছি; সুতরাং এর কোনো কিছুই গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না এর বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই-বাছাই (التثبت) করা হয় এবং এটি বক্তার থেকে বর্ণিত মূল পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া নিশ্চিত হয়।

 

‌‌পঞ্চমত: মিথ্যা (المكذوب) সংবাদ বর্ণনা করা হারাম হওয়া:

এই মূলনীতিটি আমাদের ওপর অর্পিত আবশ্যকীয় সতর্কতার (الاحتياط) গুরুত্ব নির্দেশ করে। পূর্বোক্ত আয়াতটি {যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না} (১) একথাই প্রমাণ করে। তদুপরি একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) ও মুস্তাফিদ (المستفيض) হাদিসে এসেছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা মিথ্যা (كذب) বলে মনে হয়, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন হিসেবে গণ্য হবে»। এটি ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দিমা" ও অন্যান্য গ্রন্থে (২) বর্ণনা করেছেন।

এটি বর্ণনার (الرواية) দায়িত্ব সম্পর্কে একটি গুরুতর সতর্কতা, যা প্রতিটি হাদিস শ্রবণকারীর জন্য আবশ্যক করে দেয় যে সে যেন থেমে যায় এবং পূর্ণরূপে যাচাই-বাছাই (التثبت) ও সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বন না করা পর্যন্ত তা বর্ণনা না করে।

 

‌‌বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে সাহাবীগণের কুরআনী মূলনীতিসমূহের (أصول) প্রয়োগ:

খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে যখন বর্ণনার (الرواية) মূলনীতিসমূহ (أصول) সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল, তখন ইসলামি সমাজে সেই স্তরের মানুষের নেতৃত্ব ছিল যারা এই সমাজ গঠন করেছিলেন, আর তাঁরা হলেন সাহাবীগণের স্তর।

--------------------------------------------

(১) [সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬]।

(২) "সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দিমা": পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
الكرام، تلامذة النبي صلى الله عليه وسلم، الذين آمنوا به وبذلوا من أجله كل نفس ونفيس ثم انطلقوا يجاهدون في سبيل الله لإنقاذ الدنيا من ظلمات الجاهلية إلى نور الإيمان ولتحرير الأمم والشعوب والأفراد من عبادة الإنسان إلى عبادة الواحد الدَيَّانِ والاعتزاز به وحده سبحانه، والانعتاق من الذلة لأي قوة أو سلطان في الدنيا سوى سلطان اللهِ سبحانه حتى رفعوا هذا الإنسان إلى عزة وكرامة تًعْنُو أمامها كل دعوة حرية أوتحرير، فكان من الطبيعي أن يكون الصحابة حراصًا أشد ما يكون الحرص على صيانة الحديث النبوي، وعلى أدائه وفق ما سمعوه كما أمرهم بذلك القرآن، وَرَبَّاهُمْ عليه النبي صلى الله عليه وسلم من الصدق والتثبت في كل شيء بصفة عامة وفي الحديث النبوي بصفة خاصة.

 

لذلك كان هذا العصر عصر العدالة الذهبي، وكان الصحابة يتلقون الحديث عن بعضهم البعض، ويصدق بعضهم بَعْضًا لَا يَتَّهِمُونَ أَحَدًا منهم في الحديث عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَبَدًا سواء في ذلك ما قبل وقوع الفتنة وما بعد وقوعها وما شجر فيها من الخلاف.

 

‌‌عَدَالَةُ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم بِدَلَالَةِ الوَثَائِقِ العِلْمِيَّةِ:

وَقَدْ حَدَّثَ الصَّحَابِيُّ الجَلِيلُ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ يَوْمًا بِحَدِيثٍ فَسُئِلَ: هَلْ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: «سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِمَّنْ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاللهِ مَا كُنَّا نَكْذِبُ وَلَا نَدْرِي مَا الكَذِبُ».
সম্মানিত সাহাবীগণ হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাত্র, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁর জন্য তাঁদের জীবন ও মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। অতঃপর তাঁরা জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে ঈমানের আলোর দিকে উদ্ধার করতে এবং জাতি, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিবর্গকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক ও অদ্বিতীয় প্রতিদানদাতা আল্লাহর ইবাদত এবং একমাত্র তাঁরই প্রতি গর্ববোধের দিকে ফিরিয়ে নিতে আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়েছিলেন। তাঁরা দুনিয়ার যে কোনো শক্তি বা কর্তৃত্বের হীনম্মন্যতা থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অনুগত হয়েছিলেন, যা মানুষকে এমন এক মর্যাদা ও সম্মানে উন্নীত করেছিল যার সামনে মুক্তি বা স্বাধীনতার অন্য সকল দাবি নতি স্বীকার করতে বাধ্য। ফলে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল যে, সাহাবীগণ নববী হাদিস সংরক্ষণে এবং তা যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই বর্ণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সজাগ ও যত্নশীল হবেন, যেমনটি কুরআন তাঁদের নির্দেশ দিয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে সততা ও সাধারণভাবে প্রতিটি বিষয়ে এবং বিশেষভাবে নববী হাদিসের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার (تثبت) ওপর গড়ে তুলেছেন।

 

এ কারণেই এই যুগটি ছিল ন্যায়নিষ্ঠতার (عدالة) স্বর্ণযুগ। সাহাবীগণ একে অপরের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন এবং একে অপরকে সত্যায়ন করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা কখনোই নিজেদের কাউকে অভিযুক্ত করতেন না; চাই তা ফিতনা সৃষ্টির আগের সময় হোক বা পরের সময়, অথবা তাঁদের মধ্যকার মতবিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো যাই হোক না কেন।

 

‌‌বৈজ্ঞানিক দলিলের আলোকে সাহাবীগণের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة):

মহান সাহাবী আনাস ইবনে মালিক একদা একটি হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কি এটি সরাসরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছি অথবা এমন ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন। আল্লাহর কসম, আমরা কখনো মিথ্যা বলতাম না এবং মিথ্যা কী জিনিস তা আমরা জানতামও না»।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
وَمِمَّا يدل على عدالة الصحابة وثائق كثيرة، منها ما أخرجه مسلم (1) بالأسانيد الصحاح وغيره أَيْضًا أنه جَاءَ بُشَيْرٌ الْعَدَوِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَجَعَلَ يُحَدِّثُ وَيَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ لا يَأْذَنُ لِحَدِيثِهِ، ولا يَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ، مَالِي لَا أَرَاكَ تَسْمَعُ لِحَدِيثِي؟ أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا تَسْمَعُ؟

فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّا كُنَّا مَرَّةً (2) إِذَا سَمِعْنَا رَجُلاً يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ابْتَدَرَتْهُ أَبْصَارُنَا، وَأَصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِآذَانِنَا، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ، لَمْ نَأْخُذْ مِنْ النَّاسِ إلَاّ مَا نَعْرِفُ».

 

وذلك ما نطقت به أدلة القرآن وَالسُنَّةُ كقوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} (3) وقوله: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} (4).

وتواتر قوله صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» (5)

وأخرج الشيخان عن آبي سعيد الخُدري أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذّهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ» (6).

--------------------------------------------

(1) في " مقدمة صحيحه ": ص 10.

(2) أي فترة من الزمان. قبل وقوع الفتنة.

(3) [سورة آل عمران، الآية: 110].

(4) [سورة الفتح، الآية: 29].

(5) صرح بتواتره الحافظ ابن حجر في " الإصابة ": ج 1 ص 20.

(6) " البخاري ": ج 6 ص 8 و " مسلم ": ج 1 ص 118.
সাহাবীদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) প্রমাণের স্বপক্ষে বহু দলিল রয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম মুসলিম (১) সহিহ (صحيح) সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন যে, বুশাইর আল-আদাভী ইবনে আব্বাসের নিকট এসে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন", "রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন"। কিন্তু ইবনে আব্বাস তাঁর হাদিসের প্রতি কর্ণপাত করছিলেন না এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন: "হে ইবনে আব্বাস, কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদিস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস বর্ণনা করছি আর আপনি শুনছেন না?"

তখন ইবনে আব্বাস বললেন: "আমরা এক সময় (২) যখনই কাউকে 'রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন' বলতে শুনতাম, তখনই আমাদের দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা কান পেতে তা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন বাছবিচারহীন (অর্থাৎ ভালো-মন্দ সব পথে বিচরণ) হয়ে পড়ল, তখন থেকে আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল আমাদের পরিচিত বিষয়গুলো ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করি না।"

 

আর এটিই কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ দ্বারা সমর্থিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে} (৩) এবং তাঁর বাণী: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা রয়েছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু} (৪)।

আর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই বাণীটি মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে যে: «সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে» (৫)

শাইখাইন আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাদের কারোর এক 'মুদ' (পরিমাপ বিশেষ) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলেরও সমতুল্য হবে না» (৬)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর "সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দিমা": পৃষ্ঠা ১০।

(২) অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়কাল; যা ফিতনা (فتنة) ছড়িয়ে পড়ার পূর্বের সময়।

(৩) [সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১০]।

(৪) [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]।

(৫) হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর "আল-ইসাবাহ" গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ২০ পৃষ্ঠা) এর মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(৬) "সহিহ বুখারি": ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮ পৃষ্ঠা এবং "সহিহ মুসলিম": ১ম খণ্ড, ১১৮ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
وذلك ما أجمع عليه أهل العلم المعتمدون فقد كفانا البحث - كما قال الإمام أبو عمر بن عبد البر - عن أحوالهم لإجماع أهل الحق من المسلمين وَهُمْ أَهْلُ السُنَّةِ وَالجَمَاعَةُ على أنهم كلهم عدول (1).

 

وَأُنَوِّهُ هنا بالاستشهاد بدلالة الواقع في مروياتهم كما دَلَّ عليه أسلوب هو في البحث العلمي من وسائل المعرفة القاطعة وهو ما يُسَمَّى في فن مناهج البحث وعلم المنطق «الاستقراء التام»:

يقول العلَاّمة المُحَدِّثُ عبد الرحمن المعلَّمي اليماني (2):

«إنَّ أئمة الحديث اعتمدوا فيمن يمكن التشكك في عدالته من الصحابة اعتبارًا لما ثبت أنهم حَدَّثُوا به عن النبي صلى الله عليه وسلم أو عن صحابي آخر عنه، وعرضوها على الكتاب وَالسُنَّةِ وعلى رواية غيرهم مع ملاحظة أحوالهم وأهوائهم (3)، فلم يجدوا من ذلك ما يوجب التُّهْمَةَ، بل وجدوا عامة ما رَوَوْهُ قد رَوَاهُ غيرهم من الصحابة مِمَّنْ لا تتجه إليه تُهْمَةٌ، أو جاء في الشريعة ما في معناه أو ما يشهد له».

 

ونضيف إلى ذلك ما أَدَّى بنا إليه البحث فنشهد أنه من خلال دراستنا لألوف تراجم الرُوَّاةِ والمرويات الضعيفة التي ذكرت في كتب الضعفاء فإنه لم يوجد حديث قط يحكم فيه بما يُخِلُّ بهذا المبدأ (4).

--------------------------------------------

(1) " الاستيعاب ": ج 1 ص 8 وانظر " الكفاية ": ص 49 و " توضيح الأفكار " للصنعاني: ج 2 ص 469 وغيرها.

(2) في كتاب " الأنوار الكاشفة ": ص 271.

(3) أي نزعاتهم السياسية في الخلاف بين عَلِيٍّ ومعاوية.

(4) وانظر التحقيق القيِّم الذي قام به العلَاّمة محمد بن الوزير اليماني من أئمة الشيعة الزيدية باستقرائه أحاديث الصحابة الذين اشتهر كلام بعض الفرق فيه وَتَوَصُّلِهِ إلى النتيجة التي ذكرناها أَيْضًا، وذلك في كتاب " الروض الباسم في الذَبِّ عن سُنَّةِ أبي القاسم ": ج 2 ص 113 - 129 واعتمد عليه كذلك محمد بن إسماعيل الصنعاني من أئمة الشيعة الزيدية المجتهدين في كتابه " توضيح الأفكار ": ج 2 ص [363 - 453].
এবং এটিই সেই বিষয় যার ওপর নির্ভরযোগ্য আলেমগণ ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। ইমাম আবু ওমর বিন আব্দুল বার যেমনটি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা সত্যপন্থী তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত, তাদের এই ঐকমত্যই আমাদের তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করার কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে যে, তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول) (১)।

 

আমি এখানে তাঁদের বর্ণিত বিষয়সমূহের বাস্তব প্রমাণের দ্বারা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করছি, যেমনটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার এমন একটি পদ্ধতি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে যা সুনিশ্চিত জ্ঞানের অন্যতম মাধ্যম। গবেষণা পদ্ধতি ও যুক্তিবিদ্যার পরিভাষায় একে 'পূর্ণ আরোহ পদ্ধতি' (الاستقراء التام) বলা হয়:

আল্লামা মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি (২) বলেন:

«নিশ্চয়ই হাদিসের ইমামগণ সেই সকল সাহাবী, যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি হওয়া সম্ভব ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা অন্য কোনো সাহাবীর মাধ্যমে তাঁদের বর্ণিত হাদিসসমূহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা এগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহ এবং অন্যদের বর্ণনার (رواية) সাথে মিলিয়ে দেখেছেন এবং তাঁদের অবস্থা ও রাজনৈতিক ঝোঁকপ্রবণতাও (৩) বিবেচনা করেছেন। তাঁরা এতে এমন কিছু পাননি যা কোনো অভিযোগের (تُهمة) কারণ হতে পারে; বরং তাঁরা দেখেছেন যে, তাঁদের বর্ণিত অধিকাংশ বিষয় অন্যান্য এমন সাহাবীগণও বর্ণনা করেছেন যাঁদের প্রতি কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই, অথবা শরিয়তে এমন কিছু এসেছে যা এর সমার্থবোধক বা এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।»

 

আমরা এর সাথে আরও যোগ করছি যে, আমাদের গবেষণালব্ধ ফল অনুযায়ী আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের (ضعفاء) বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে উল্লেখিত হাজার হাজার বর্ণনাকারীর (رواة) জীবনী এবং দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনাসমূহ (مرويات) পর্যালোচনার মাধ্যমে এমন কোনো হাদিস কখনোই পাওয়া যায়নি যার ক্ষেত্রে এমন কোনো হুকুম দেওয়া হয়েছে যা এই মূলনীতিকে (৪) ক্ষুণ্ণ করে।

--------------------------------------------

(১) "আল-ইস্তিয়াব": ১ম খণ্ড, পৃ. ৮ এবং দেখুন "আল-কিফায়া": পৃ. ৪৯ এবং সান'আনী রচিত "তাওদিহুল আফকার": ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৯ এবং অন্যান্য।

(২) "আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ" গ্রন্থে: পৃ. ২৭১।

(৩) অর্থাৎ আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার বিরোধে তাঁদের রাজনৈতিক ঝোঁক।

(৪) এবং শিয়া জায়েদিয়া ইমামদের অন্তর্ভুক্ত আল্লামা মুহাম্মদ বিন ওয়াজির আল-ইয়ামানি কর্তৃক সম্পাদিত মূল্যবান গবেষণাটি দেখুন। তিনি সেই সব সাহাবীর হাদিসসমূহ পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যাঁদের সম্পর্কে কিছু ফেরকা নেতিবাচক মন্তব্য করেছিল এবং তিনি সেই একই ফলাফলে পৌঁছেছেন যা আমরাও উল্লেখ করেছি। এটি "আর-রাওদুল বাসিম ফিজ-জাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম" গ্রন্থের ২য় খণ্ড, পৃ. ১১৩-১২৯ এ বর্ণিত হয়েছে। জায়েদিয়া শিয়াদের অন্যতম মুজতাহিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সান'আনীও তাঁর "তাওদিহুল আফকার" গ্রন্থের ২য় খণ্ড, পৃ. [৩৬৩-৪৫৩] এ এর ওপর নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
‌‌قَوَانِينُ الرِّوَايَةِ فِي عَصْرِ الصَّحَابَةِ:

تلك الأصول التي بَيَّنَّاهَا في ضبط الرواية وصياغتها توجب البحث وَتُحَتِّمُ التَثَبُّتَ في الحديث، من جهة الراوي، ومن جهة الرواية، ومن جهة المروي، وغير ذلك مِمَّا يتعلق بالحديث، لأَنَّ في كل ذلك قرائن، ودلائل تشير إلى صحة النقل أو عدم صحته مِمَّا لا يجوز شَرْعًا في مسؤولية الدين أَنْ يفرط الباحث فيه.

 

وكان الصحابة آنذاك هم الذين يَرْوُونَ الحديث للناس، وهم خير القرون، ولم تكن هناك سلاسل إسناد، ولذلك لم يكن الأمر بحاجة إلى أكثر من أَنْ نَتَثَبَّتَ من صحة أداء الراوي العدل الضابط وهو الصحابي، بأنْ نطمئن إلى أنه لم يخطيء أو لَمْ يَنْسَ، ونحو ذلك، مِمَّا قد يعرض للعدل الضابط، مِمَّا لا يُعْصَمُ منه البشر.

 

وقد تشبث الصحابة بتلك الأصول بما يحقق الهدف، فَقَدْ اتَّبَعُوا قَوَانِينَ وَأُصُولاً في الرواية تلائم ما ذكرنا من وضع السُنَّةِ في عهدهم وكانت مبتدأ علم مصطلح الحديث، وأصول النقد، الذي تكامل شَيْئًا فَشَيْئًا بعد ذلك مع ما طرأ من التغيرات، وطول الأسانيد وغير ذلك.

 

وقد لجأ الصحابة إلى قواعد نذكر منها:

 

‌‌أَوَّلاً: تَقْلِيلُ الرِّوَايَةِ:

وذلك حتى لا يزلق لسان الراوي، فينزلق ويقع في الخطأ أو يسرع إليه الوهم، والأمثلة على ذلك من تصرف الخلفاء الراشدين وتوجيهاتهم كثيرة مشهورة، أضيف إليها هذه الوثيقة التي تدل على انتشار الأخذ بهذا الأصل
সাহাবীগণের যুগে হাদিস বর্ণনার মূলনীতিসমূহ (قوانين الرواية):

বর্ণনা সংরক্ষণ (ضبط الرواية) ও বিন্যাস সম্পর্কে আমরা যে সকল মূলনীতি বর্ণনা করেছি, তা হাদিসের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও সুনিশ্চিত যাচাই-বাছাই (التثبت) করাকে অপরিহার্য করে তোলে। এটি বর্ণনাকারী (الراوي), বর্ণনা প্রক্রিয়া (الرواية) এবং বর্ণিত বিষয় (المروي) সহ হাদিস সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ এ সবকিছুর মধ্যেই এমন কিছু আলামত ও প্রমাণাদি বিদ্যমান থাকে, যা বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة النقل) বা অশুদ্ধতার প্রতি ইঙ্গিত করে। ধর্মীয় জিম্মাদারি ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কোনো গবেষকের পক্ষেই এ বিষয়ে অবহেলা করা শরয়িভাবে বৈধ নয়।

 

তৎকালীন সময়ে সাহাবীগণই মানুষের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাঁরা ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। তখন বর্ণনার কোনো সনদ-পরম্পরা (سلاسل إسناد) বিদ্যমান ছিল না। ফলে তখন একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (العدل الضابط) বর্ণনাকারী (الراوي), তথা সাহাবীর (الصحابي) বর্ণনা প্রদানের যথার্থতা সুনিশ্চিত করার চেয়ে অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন ছিল না। অর্থাৎ, তিনি কোনো ভুল করেননি কিংবা ভুলে যাননি—এই মর্মে আশ্বস্ত হওয়াই ছিল যথেষ্ট। কেননা একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (العدل الضابط) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এ জাতীয় মানবিক ভুল হতে পারে, যা থেকে কোনো মানুষই নিষ্পাপ (معصوم) নয়।

 

উদ্দেশ্য অর্জনে সাহাবীগণ সেই মূলনীতিগুলোকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তাঁরা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি (أصول) অনুসরণ করেছিলেন, যা তাঁদের যুগে সুন্নাহর অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আর এভাবেই হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞান (علم مصطلح الحديث) এবং সমালোচনার মূলনীতির (أصول النقد) সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তন ও দীর্ঘ সনদসমূহের (الأسانيد) প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা লাভ করে।

 

সাহাবীগণ বেশ কিছু নিয়মের আশ্রয় নিয়েছিলেন, যার মধ্য থেকে আমরা কিছু উল্লেখ করছি:

 

প্রথমত: বর্ণনা কম করা (تقليل الرواية):

এটি একারণে করা হতো যাতে বর্ণনাকারীর (الراوي) জিহ্বা স্খলিত না হয় এবং তিনি কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিতে (الوهم) নিপতিত না হন। এ বিষয়ে খুলাফায়ে রাশেদীনের কর্মপন্থা ও নির্দেশনার অনেক প্রসিদ্ধ উদাহরণ রয়েছে। এর সাথে আমি এমন একটি দলিল যুক্ত করছি যা এই মূলনীতিটি অনুসরণের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وشيوعه فيهم، فقد اشتهروا واستفاض عن الصحابة مَرْفُوعًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وَمَوْقُوفًا أي منسوباً إليهم من كلامهم «كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ» (1).

وقد نَبَّهْنَا إلى تعدد رواية هذا القول، لأنه يدل على انتشار هذه القاعدة ورسوخها في المجتمع تَقْلِيدًا عِلْمِيًّا، وهويعني أَنَّ الإنسان لَا يُحَدِّثُ إِلَاّ بما يثق من نفسه أنه يؤديه كما سمعه.

 

‌‌ثَانِيًا: التَثَبُّتُ مِنْ صِحَّةِ الرِّوَايَةِ عِنْدَ تَحَمُّلِهَا وَعِنْدَ أَدَائِهَا:

ومن ذلك أنهم يَسْتَشْهِدُونَ مع الراوي غيره أو يَسْتَحْلِفُونَهُ، تَثَبُّتاً، وَاطْمئْنَانًا ومن ذلك ما ذكره الذَّهَبِيُّ في ترجمة عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: «وَهُوَ الَّذِي سَنَّ لِلْمُحَدِّثِينَ التَّثَبُّتَ فِي النَّقْلِ وَرُبَّمَا كَانَ يتَوَقَّفُ فِي خَبَرِ الوَاحِدِ إِذَا ارْتَابَ رَوَى الجَرِيرِيُّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا مُوسَى سَلَّمَ عَلَى عُمَرَ مِنْ وَرَاءِ البَابِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَرَجَعَ فَأرْسَلَ عُمَرُ فِي أَثَرِهِ فَقَالَ: " لِمَ رَجَعْتَ؟ " قَالَ: سَمِعْتُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِذَا سَلَّمَ أَحَدُكُمْ ثَلَاثًا فَلَمْ يُجَبْ فَلْيَرْجِعْ ".

قَالَ: " لتَأْتِينيِ عَلَى ذَلِكَ بِبَيِّنَةٍ أَو لأَفْعَلَنَّ بِك "، فَجَاءَنَا أَبُو مُوسَى مَمْتَقِعًا لَوْنُهُ وَنَحْنُ جُلُوسٌ، فَقُلْنَا: " مَا شَأْنُكَ؟ " فَأخْبرََنَا وَقَالَ: " فَهَلْ سَمِع أَحَدٌ مِنْكُمْ؟ " فَقُلْنَا: " نَعَمْ كُلَّنَا سَمِعَهُ " فَأَرْسَلُوا مَعَهُ رَجُلاً مِنْهُم حَتَّى أَتَى عُمَرَ فَأخْبرهُ».

 

وَنَوَدُّ أنْ نُنَبِّهَ - ولو أننا استطردنا عن الموضوع - إلى أَنَّ ما فعله الصحابة في هذا المجال لم يكن من باب الاتِّهَامِ، كما حاول بعض المعاصرين من الكاتبين في تاريخ السُنَّةِ أَنْ يَتَقَوَّلَ وينسب إلى الصحابة أنهم قد يَشُكُّونَ فِي

--------------------------------------------

(1) ورد ذلك عن جماعة من الصحابة، انظر الرواية عن بعضهم في " مقدمة صحيح مسلم ": ص 8، وقارن بـ " البخاري " في العلم، (باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم): ج [1] ص 29 و " سُنن ابن ماجه ": ص 10 - 13، وانظر " توجيه النظر ": ص 14 - 16.
এবং তাঁদের মধ্যে এর ব্যাপকতা ছিল। সাহাবীদের নিকট এটি প্রসিদ্ধ এবং ব্যাপকভাবে বর্ণিত (استفاض) হয়েছে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু (مرفوعًا) হিসেবে এবং মাওকুফ (موقوفًا) অর্থাৎ সাহাবীদের নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে: "কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে।" (১)।

আমরা এই বাণীর বর্ণনার আধিক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, কারণ এটি সমাজ ব্যবস্থায় একটি ইলমি ঐতিহ্য হিসেবে এই মূলনীতির ব্যাপক প্রসার ও দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়। এর অর্থ হলো, মানুষ যা শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা বর্ণনা করতে পারবে বলে নিজের প্রতি আস্থাশীল না হওয়া পর্যন্ত সে তা বর্ণনা করবে না।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: হাদিস গ্রহণ (تحمل) এবং হাদিস প্রদানের (أداء) সময় বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাই করা:

এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, তারা বর্ণনাকারীর সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও আশ্বস্ত হওয়ার জন্য তার সাথে অন্য কাউকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করতেন অথবা তার থেকে কসম নিতেন। ইমাম যাহাবী ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিনিই মুহাদ্দিসদের জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের নীতি প্রবর্তন করেছেন। কোনো একক বর্ণনার (خبر الواحد) ক্ষেত্রে সন্দেহ পোষণ করলে তিনি অনেক সময় তাতে বিরত থাকতেন। জারীরি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা ওমরের দরজার আড়াল থেকে তিনবার সালাম দিলেন কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। ফলে তিনি ফিরে গেলেন। ওমর তার পেছনে লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি ফিরে গেলে কেন?" তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যদি তিনবার সালাম দেয় এবং উত্তর না পায়, তবে সে যেন ফিরে যায়"।"

ওমর বললেন: "তোমাকে অবশ্যই এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে, নতুবা আমি তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।" এরপর আবু মুসা বিবর্ণ মুখে আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা বসা ছিলাম। আমরা বললাম: "আপনার কী হয়েছে?" তিনি আমাদের ঘটনা জানালেন এবং বললেন: "তোমাদের কেউ কি এটি শুনেছে?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ, আমরা সবাই তা শুনেছি।" তখন তারা তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোককে তার সাথে পাঠালেন এবং তিনি ওমরের কাছে গিয়ে তা ব্যক্ত করলেন।"

 

আমরা এখানে সতর্ক করতে চাই—যদিও আমরা মূল বিষয় থেকে কিছুটা অবান্তর আলোচনায় যাচ্ছি—সাহাবীগণ এই ক্ষেত্রে যা করেছিলেন তা কোনোভাবেই অভিযোগের ভিত্তিতে ছিল না, যেমনটা সুন্নাহর ইতিহাস নিয়ে বর্তমান যুগের কিছু লেখক দাবি করার চেষ্টা করেছেন এবং সাহাবীদের দিকে এমন কথা সম্বন্ধ করেছেন যে তারা হয়তো বর্ণনার ক্ষেত্রে একে অপরকে সন্দেহ করতেন...

--------------------------------------------

(১) এটি একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাদের কারো কারো বর্ণনা দেখুন "সহীহ মুসলিম-এর মুকাদ্দিমা"-য়: পৃষ্ঠা ৮; এবং তুলনা করুন "বুখারী"-তে ইলম অধ্যায়ে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর গুনাহ অনুচ্ছেদ): ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯ এবং "সুনান ইবনে মাজাহ": পৃষ্ঠা ১০-১৩; আরও দেখুন "তাওজিহুন নাজার": পৃষ্ঠা ১৪-১৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫০)
صِدْقِ بَعْضِهِمْ، فإنَّ عمر رضي الله عنه صَرَّحَ في بيان عمله في التثبيت بقوله: «إِنِّي لَمْ أَتَّهِمك، وَلَكِنْ أَحْبَبْتُ أَنْ أَتَثَبَّتَ».

 

فالواقع أَنَّ من يريد تفسير عمل الصحابة فِي التَثَبُّتِ بِالشَكِّ وَالتُّهْمَةِ لبعضهم شأنه شأن من يؤمن ببعض الكتاب ويكفر ببعض، لأنَّ نصوص الروايات التي يستدل بها صريحة في ألفاظها واضحة في عباراتها يقول أصحابها: إِنَّنَا لَمْ نَتَّهِمْ هَذَا الرَّاوِي، ثم يأتي هذا المُتَقَوِّلُ في هذا الزمان ليزعم أَنَّهُ يَتَّهِمُهُ، فمن نُصَدِّقُ؟ أَهََلْ نُصَدِّقُ صاحب المسألة المُتَثَبِّتُ أو نُصَدِّقُ المُتَقَوِّلَ المُخْتَرِعَ لهذا التفسير بعد مَدِيدِ الأجيال والقرون؟

 

ومن قوانينهم في الرواية:

 

‌‌ثَالِثًا: نَقْدُ الرِّوَايَاتِ:

وذلك بعرضها على نصوص وقواعد الشريعة فإذا وجدوا النص المروي مُخَالِفًا لَهَا رَدُّوهُ ولم يعملوا به.

فهذه السَيِّدَةُ عَائِشَةَ رضي الله عنها فيما أخرجه الشيخان عنها، سَمِعَتْ حَدِيثَ عُمَرَ وَابْنَهُ عَبْدَ اللهِ أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ». فَقَالَتْ: رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ، وَاللَّهِ مَا حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الْمُؤْمِنَ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ يَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَابًا بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ "، وَقَالَتْ حَسْبُكُمُ الْقُرْآنُ {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى}» (1).

--------------------------------------------

(1) [سورة الأنعام، الآية: 164]، [سورة الإسراء، الآية: 15]، [سورة فاطر، الآية: 18]، [سورة الزُمر، الآية: 7].
তাদের কারো কারো সত্যবাদিতা সম্পর্কে; কেননা ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিশ্চিতকরণের (التثبيت) ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপদ্ধতির বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলেছেন: «আমি তোমাকে অভিযুক্ত করছি না, বরং আমি নিশ্চিত হতে (أتثبت) চেয়েছি।»

 

প্রকৃতপক্ষে, যারা সাহাবীগণের (الصحابة) একে অপরের প্রতি নিশ্চিতকরণের (التثبيت) কর্মপদ্ধতিকে সন্দেহ ও অভিযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চায়, তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করে। কারণ দলিল হিসেবে উপস্থাপিত বর্ণনাসমূহের (الروايات) ভাষ্যগুলো অত্যন্ত সুষ্পষ্ট এবং বাক্যগুলো সুস্পষ্ট; সেগুলোর প্রবক্তারা বলছেন: «আমরা এই বর্ণনাকারীকে (الراوي) অভিযুক্ত করছি না», এরপর এই যুগে কোনো এক মিথ্যাচারী এসে দাবি করছে যে, তারা তাকে অভিযুক্ত করেছিলেন। তবে আমরা কাকে বিশ্বাস করব? আমরা কি সেই ঘটনার মূল ব্যক্তি যিনি নিশ্চিতকারী (المتثبت) তাকে বিশ্বাস করব, নাকি দীর্ঘ যুগ ও শতাব্দী পরে এই ব্যাখ্যার উদ্ভাবক সেই মিথ্যাচারীকে বিশ্বাস করব?

 

এবং বর্ণনা (الرواية) সংক্রান্ত তাদের নিয়মাবলীর অন্তর্ভুক্ত হলো:

 

‌‌তৃতীয়ত: বর্ণনাসমূহের সমালোচনা (نقد الروايات):

আর তা হলো সেগুলোকে শরীয়তের মূল পাঠ ও মূলনীতির (قواعد) সামনে উপস্থাপন করা। যদি তারা কোনো বর্ণিত পাঠকে (النص المروي) সেগুলোর বিরোধী পেতেন, তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান (ردوه) করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন না।

যেমন সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর কথা উল্লেখ করা যায় যা শাইখান (الشيخان) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি ওমর ও তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদিস শুনলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পরিবারের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তিকে আজাব দেওয়া হয়।» তখন তিনি বললেন: «আল্লাহ ওমরের ওপর রহম করুন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বর্ণনা করেননি যে, আল্লাহ কোনো মুমিনকে পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আজাব দেন; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ কাফিরের পরিবারের কান্নাকাটির কারণে তার আজাব বাড়িয়ে দেন", এবং তিনি বললেন: আপনাদের জন্য কুরআনই যথেষ্ট {কেউ অন্যের বোঝার ভার বহন করবে না}» (১)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৬৪], [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫], [সূরা ফাতির, আয়াত: ১৮], [সূরা আয-জুমার, আয়াত: ৭]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫১)
وفي رواية مسلم أنها قالت: «إِنَّكُمْ لَتُحَدِّثُونِّي عَنْ غَيْرِ كَاذِبَيْنِ، وَلَا مُكَذَّبَيْنِ، وَلَكِنَّ السَّمْعَ يُخْطِئُ» (1).

 

ومن منهج الصحابة في الرواية والبحث عن الرُوَاةِ والأسانيد: الرحلة في طلب الحديث: وهي ظاهرة علمية وحضارية لم يكن لها مثل في التاريخ لا قبل الإسلام ولا بعده إلَاّ عند المسلمين ومنذ فجر تاريخهم أيام الخلفاء الراشدين.

 

لقد شحذ الصحابة الهِمَمَ وَتَخَطَّوْا الصعاب والعقبات، وقطعوا المسافات من أجل تلقي الحديث من حَمَلَتِهِ وَوُعَاتِهِ، بل سجل لنا التاريخ بالوثائق المؤكدة القاطعة ظاهرة أبلغ وأسمى في هذا الميدان تلك هي الرحلة في طلب الحديث الواحد فقط.

 

ومن ذلك ما ثبت بالأسانيد الصحاح عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، أنه رحل من المدينة المنورة إلى دمشق الشام ليسأل عبد الله بن أنيس الأنصاري عن حديث في القصاص من المظالم بين الناس يوم القيامة، فقال عبد الله بن أنيس: سَمِعْتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يَحْشُرُ اللَّهُ الْعِبَادَ، أَوْ قَالَ: يَحْشُرُ اللَّهُ النَّاسَ قال: - وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ - عُرَاةً غُرْلاً بُهْمًا» فَقُلْتُ: مَا بُهْمًا؟ قَالَ: «لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ» قَالَ: فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ أَنَا الْمَلِكُ أَنَا الدَّيَّانُ، لَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلُ النَّارَ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ، وَلَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلُ النَّارَ وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ.

--------------------------------------------

(1) " البخاري ": في الجنائز: ج 2 ص 77 - 80. و " مسلم ": ج 3 ص 42 - 43 وذكره الزركشي في كتابه " الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة ": ص 102 - 103 وانظر: ص 76 - 77.
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে যে তিনি (আয়েশা রা.) বলেছিলেন: "তোমরা আমার কাছে এমন দু'জন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করছ যারা মিথ্যাবাদী (كاذب) নন এবং যাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়নি, কিন্তু শ্রবণশক্তির ভুল হতে পারে।" (১)।

 

হাদিস বর্ণনা এবং বর্ণনাকারী (راوٍ) ও সনদ (إسناد) অনুসন্ধানে সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ বা পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: হাদিস অন্বেষণে সফর। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও তামাদ্দুনিক বৈশিষ্ট্য, যার দৃষ্টান্ত ইতিহাসের কোথাও নেই—না ইসলামের পূর্বে, না পরে—কেবল মুসলিমদের মাঝেই এটি দেখা যায় এবং তা তাদের ইতিহাসের ঊষালগ্ন অর্থাৎ খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকেই বিদ্যমান।

 

সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের সংকল্পকে সুদৃঢ় করেছিলেন এবং সকল প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করেছিলেন। তাঁরা হাদিস গ্রহণ করার জন্য এর বাহক ও হাফেজদের সন্ধানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন। বরং ইতিহাস আমাদের কাছে অকাট্য ও নিশ্চিত দলিলাদির মাধ্যমে এই ময়দানে আরও এক মহৎ ও উচ্চতর দৃষ্টান্ত সংরক্ষিত রেখেছে, আর তা হলো মাত্র একটি হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সফর করা।

 

এর একটি উদাহরণ হলো যা সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সমূহের মাধ্যমে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মদিনা মুনাওয়ারা থেকে সিরিয়ার দামেস্কে সফর করেছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস আল-আনসারী (রা.)-কে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য, যা কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে অন্যায়ের প্রতিশোধ (কিসাস) সংক্রান্ত ছিল। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের সমবেত করবেন — অথবা তিনি বলেছেন: আল্লাহ মানুষকে সমবেত করবেন — এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন — তারা উলঙ্গ, খাতনাবিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায় থাকবে।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: 'নিঃস্ব' কী? তিনি বললেন: "তাদের সাথে কিছুই থাকবে না।" তিনি বললেন: "অতঃপর তিনি তাঁদের এমন এক উচ্চস্বরে আহ্বান করবেন যা দূর থেকে ঠিক সেভাবেই শোনা যাবে যেমনটি নিকট থেকে শোনা যায়: 'আমিই বাদশাহ, আমিই বিচারক। কোনো জান্নাতবাসীর জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা সমীচীন হবে না যতক্ষণ তার কাছে কোনো জাহান্নামবাসীর পাওনা বা অভিযোগ থাকে। তেমনি কোনো জাহান্নামবাসীর জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা সমীচীন হবে না যতক্ষণ তার কাছে কোনো জান্নাতবাসীর পাওনা বা অভিযোগ থাকে'।"

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি: জানাজা অধ্যায়: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৭ - ৮০। সহিহ মুসলিম: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪২ - ৪৩ এবং যারকাশি এটি তাঁর "আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: পৃষ্ঠা ১০২ - ১০৩ এবং দেখুন: পৃষ্ঠা ৭৬ - ৭৭।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫২)
قَالَ: قُلْنَا كَيْفَ هُوَ؟ وَإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهَ عُراةً غُرْلاً بُهْمًا؟ قَالَ: «بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ». أخرجه أحمد والبخاري في " الأدب المُفرد " والحاكم في " المستدرك " (1).

 

وليست هذه الحادثة فريدة من تاريخنا، ولا هي قاصرة على جيل الصحابة، بل هي سُنَّةٌ مَاضِيَةٌ سَنَّهَا الصحابة وتابعهم عليها التابعون وَمَنْ بعدهم، فقد سجل التاريخ بالأسانيد الصحيحة مجموعة من رحلات الصحابة لأجل حديث واحد، ومجموعة كبيرة من أخبار رحلات التابعين، ومن بعدهم لأجل حديث واحد فقط، وَدَوَّنَ لنا ذلك كله بأسانيده الإمام الحافظ أبو بكر الخطيب في كتاب " الرحلة في طلب [الحديث] " الذي حَقَّقْنَاهُ، وَبَيَنَّا سلامة وصحة أسانيد ما أورد من ذلك. وأضفنا إليه مجموعة ثانية من رحلات الصحابة منها في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، ومن رحلات غيرهم.

 

‌‌الصَّحَابَةُ وَتَحَدِّيَاتُ الفِتْنَةِ:

ثم واجهت الصحابة مشكلة خطيرة، كبيرة الخطر، أَلَا وهي ظاهرة الكذب التي جَدَّتْ بسبب الفتنة التي أدت إلى مقتل الخليفة الشهيد عثمان بن عفان رضي الله عنه، ثم قتل الإمام المجاهد الحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ رضي الله عنهما، وما نتج عن ذلك من انقسامات واختلافات، وظهور مذاهب مبتدعة سمح أصحابها لأنفسهم أَنْ يَخْتَلِقُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَيَفْتَرُوا عَلَيْهِ، فى سبيل الترويج لآرائهم وأهوائهم، وجمع الأنصار والأعوان من حولهم.

--------------------------------------------

(1) وَصَحَّحَهُ الحاكم ووافقه الذهبي: ج 2 ص 427، ج 4 ص 574، وانظر تخريج الحديث وتحقيق صِحَّتِهِ في تعليقنا على كتاب " الرحلة في طلب الحديث " للخطيب البغدادي: ص 111، 112.
তিনি বললেন: আমরা বললাম, তা কীভাবে সম্ভব? অথচ আমরা আল্লাহর নিকট উপস্থিত হব নগ্নপদে, খতনাবিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায়। তিনি বললেন: "নেকি ও গুনাহের মাধ্যমে।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, ইমাম বুখারি তাঁর 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ এবং হাকেম তাঁর 'আল-মুসতাদরাক'-এ (১)।

 

আমাদের ইতিহাসে এই ঘটনাটি কোনো একক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এবং এটি কেবল সাহাবিদের প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি একটি চলমান সুন্নাহ (سُنَّةٌ), যা সাহাবিগণ প্রবর্তন করেছিলেন এবং তাবেয়িগণ ও তাঁদের পরবর্তীগণ সেটি অনুসরণ করেছিলেন। ইতিহাস সহিহ (صحيحة) সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে মাত্র একটি হাদিসের জন্য সাহাবিদের করা সফরের অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। একইভাবে তাবেয়িগণ এবং তাঁদের পরবর্তী মনীষীদের মাত্র একটি হাদিসের জন্য করা দীর্ঘ সফরের অনেক সংবাদ সংরক্ষিত রয়েছে। এই সব কিছু সনদের (أسانيد) সাথে ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু বকর খতিব তাঁর 'আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস' গ্রন্থে সংকলন করেছেন, যা আমরা তাহকিক (تحقيق) করেছি এবং সেখানে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের সনদের নির্ভুলতা ও বিশুদ্ধতা (صحة) আমরা স্পষ্ট করেছি। এছাড়া আমরা এর সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাহাবিদের কিছু সফর এবং অন্যদের করা আরও কিছু সফরের বিবরণ যোগ করেছি।

 

‌‌সাহাবিগণ এবং ফিতনার চ্যালেঞ্জসমূহ:

অতঃপর সাহাবিগণ এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হন; আর তা হলো মিথ্যাচারের (الكذب) প্রাদুর্ভাব। এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই ফিতনার কারণে, যার ফলে খলিফায়ে শহিদ উসমান ইবনে আফফান (রা.) শাহাদাত বরণ করেন এবং পরবর্তীতে ইমাম মুজাহিদ হুসাইন ইবনে আলী (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। এর ফলে যে বিভাজন ও মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিভিন্ন বিদআতি (مبتدعة) মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল, সেই সব দলের অনুসারীরা নিজেদের মতামত ও খেয়ালখুশি প্রচারের জন্য এবং নিজেদের চারপাশে সমর্থক ও সাহায্যকারী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা হাদিস রচনা করা ও জালিয়াতি (يَفْتَرُوا) করাকে বৈধ মনে করেছিল।

--------------------------------------------

(১) হাকেম এটিকে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন: ২য় খণ্ড, ৪২৭ পৃষ্ঠা; ৪র্থ খণ্ড, ৫৭৪ পৃষ্ঠা। খতিব বাগদাদির 'আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস' গ্রন্থের ওপর আমাদের টীকায় হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ের বিষয়টি দেখুন: ১১১, ১১২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
وقد انتدبت الصحابة لمداواة هذا الداء الجديد، واجتهدوا في محاربة الكذب والوضع، مُتَّبِعِينَ أقصى وأحكم وسائل البحث والفحص، بِأَنْ أضافوا إلى ما لم يبق من القوانين قواعد وأساليب علمية جديدة، تقاوم هذا الداء وتكافحه، فكان من ذلك:

 

1 - أنهم تتبعوا الأسانيد وعنوا عناية شديدة بالبحث عن إسناد الحديث وفحص أحوال رُوَاتِهِ، وهذا كما ثبت بالأسانيد الصحاح عن الإمام التابعي الجليل محمد بن سيرين قال: «لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الفِتْنَةُ قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ. فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُنّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنظَرُ إِلَى أَهْلِ البِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ» (1).

ومن هنا فإنا نُؤَرِّخُ للإسناد بأنه وجد من أوائل عهد الصحابة بالرواية، وليس كما يُوهِمُ بَعْضُ النَّاسِ أنَّ الإسناد قد وجد في مرحلة مُتَأَخِّرَةٍ، وهذه مئات المُصَنَّفَاتُ في الحديث ذاخرة بعشرات ألوف الأسانيد الواصلة إلى الصحابة إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شاهد صدق وبرهان يقين وحق لكل من ينظر في كُتُبِ السُنَّةِ نظرة واحدة بتأمل وتفهم.

 

2 - وحث علماء الصحابة الناس على الاحتياط في حمل الحديث، وَأَلَاّ يأخذوا إِلَاّ حديث من يوثق به دِينًا وَوَرَعًا وَحِفْظًا وَضَبْطًا حتى شاعت في عُرْفِهِمْ هذه القاعدة التي وجدناها مروية بالأسانيد الكثيرة المستفيضة عن جماعة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في " مقدمة صحيحه ": ج 1 ص 11 والترمذي في " علل الجامع "، انظر: ج 1 ص 51 من " شرح علل الترمذي " للحافظ ابن رجب الحنبلي.
সাহাবায়ে কেরাম এই নতুন ব্যাধি নিরাময়ে নিয়োজিত হয়েছিলেন এবং তারা মিথ্যা ও জালিয়াতি (وضع) মোকাবিলায় কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। তারা অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রাজ্ঞ পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করেছিলেন। তারা বিদ্যমান নিয়মাবলির সাথে নতুন বৈজ্ঞানিক নীতিমালা ও পদ্ধতি যোগ করেছিলেন, যা এই ব্যাধি প্রতিরোধ ও দমনে ভূমিকা রাখে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

১ - তারা অসনদসমূহের (أسانيد) অনুসন্ধান করতেন এবং হাদিসের অসনদ (إسناد) তালাশ করা ও বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা যাচাই করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করতেন। যেমনটি মহান তাবেয়ি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে সহিহ (صحاح) অসনদসমূহের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: «তারা অসনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা (فتنة) শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের (رجال) নাম প্রকাশ করো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতিদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না» (১)।

এখান থেকে আমরা অসনদ (إسنাদ)-এর ইতিহাস নির্ধারণ করতে পারি যে, এটি সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনার শুরুর যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। এটি এমন নয় যেমনটি কিছু মানুষ ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে যে, অসনদ (إسنাদ) পরবর্তী কোনো স্তরে সৃষ্টি হয়েছে। হাদিস বিষয়ক শত শত গ্রন্থ সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানো হাজার হাজার নিরবচ্ছিন্ন অসনদ (أسانيد)-এ সমৃদ্ধ; যা সুন্নাহর কিতাবসমূহ গভীর মনোযোগ ও উপলব্ধির সাথে পর্যবেক্ষণকারী যে কারো জন্য একটি সত্যের সাক্ষ্য এবং নিশ্চিত ও অকাট্য প্রমাণ।

 

২ - সাহাবী আলেমগণ হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করতেন এবং তারা যেন কেবল সেই ব্যক্তির হাদিসই গ্রহণ করেন যার দ্বীনদারি, পরহেজগারি, মুখস্থশক্তি (حفظ) ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষমতা (ضبط) সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) অর্জিত হয়েছে। এমনকি তাদের পরিভাষায় এই নীতিটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যা আমরা একটি দলের পক্ষ থেকে বহু মুস্তাফিদ (مستفيضة) অসনদের মাধ্যমে বর্ণিত হতে দেখেছি।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি তার "সহিহ মুসলিমের মুকাদ্দিমা"য় বর্ণনা করেছেন: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১ এবং তিরমিজি তার "ইলালুল জামি" গ্রন্থে; দেখুন: হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর "শারহু ইলালিত তিরমিজি"র খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
يقول كل واحد منهم عن الصحابة إنهم كانوا يقولون: «إِنَّمَا هَذِهِ الأَحَادِيثَ دِينٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَهًا» (1) مِمَّا يدل على قيام توعية ضخمة في هذا الخصوص.

 

3 - وترتب على ذلك أَنْ وجدت أنواع من الحديث المقبول وغير المقبول، ووجدت فنون الإسناد، وعلوم الجرح والتعديل وَالرُّوَاةِ، وغير ذلك، وقد سَجَّلَ الأئمة المتقدمون في مطلع كُتُبِهِمْ رُوَاةَ الحديث نُقُولاً صحيحة عن الصحابة أنفسهم فيها كلامهم في الرجال جَرْحًا وَتَعْدِيلاً وغير ذلك، وهكذا وجدت علوم المتن وأصول الحديث في الأسانيد والمتون.

 

4 - وكان من منهج الصحابة في الرواية والبحث عن الرُّوَاةِ والأسانيد: الرحلة في طلب الحديث.

ومن هنا فإننا نستطيع بكل ثقة أَنْ نُسَجِّلَ هَهُنَا نتيجة بالغة الأهمية، وهي أَنَّ الصحابة الكرام - رِضْوَانُ اللهِ تَعَالَى عَنْهُمْ - وقد جعلوا كتاب الله تعالى وَسُنَّةَ رسوله مِرْآتَهُمْ قَدْ تَوَصَّلُوا بِدِقَّةٍ استنباطهم وعمق فقههم إلى استنباط قوانين للرواية حفظوا بها الحديث من الخطأ والخلط، كما صانوه من الدَسِّ وَالاِخْتِلَاقِ، وكانت هذه القواعد أصول علوم الحديث التي نمت شجرتها وتفرعت فروعها في كل عصر حتى تغطي الحاجة التي كانت تَتَجَدَّدُ بِتَجَدُّدِ أحوال جديدة في الرُّوَاةِ وَالرِّوَايَةِ، والمتون والأسانيد.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل ": ج 1 قسم 1 ص 15 عن عدد من التابعين بلفظ: «كَانَ يُقَالُ: إِنَّمَا هَذِهِ الأَحَادِيثَ … » أي كان الصحابة يقولون. وانظر كتابنا " منهج النقد في علوم الحديث ": ص 329، 330.
তাদের প্রত্যেকেই সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে তারা বলতেন: «নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তা গ্রহণ করছ» (১) যা এই ক্ষেত্রে একটি বিশাল সচেতনতা গড়ে ওঠার প্রমাণ বহন করে।

 

3 - এর ফলশ্রুতিতে গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (غير مقبول) হাদিসের প্রকারভেদ তৈরি হয়, এবং ইসনাদ (إسناد) শাস্ত্র, জারহ ও তা'দীল (الجرح والتعديل) এবং বর্ণনাকারী (الرواة) সংক্রান্ত জ্ঞান এবং আরও অনেক কিছু উদ্ভাবিত হয়। পূর্ববর্তী ইমামগণ তাদের কিতাবসমূহের শুরুতে হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামের নিজেদের থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيحة) উদ্ধৃতিসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তাদের জারহ (جرحاً) এবং তা'দীল (تعديلاً) ও অন্যান্য বক্তব্য রয়েছে। এভাবেই সনদ (الأسانيد) ও মতন (المتون) সংক্রান্ত মতন বিষয়ক জ্ঞান এবং হাদিসের মূলনীতিসমূহ (أصول الحديث) গড়ে ওঠে।

 

4 - বর্ণনা (الرواية) এবং বর্ণনাকারী (الرواة) ও সনদসমূহ (الأسانيد) অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল: হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সফর করা।

এখান থেকে আমরা পূর্ণ আস্থার সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল লিপিবদ্ধ করতে পারি, আর তা হলো: সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম —আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে নিজেদের দর্পণ স্বরূপ গ্রহণ করেছিলেন, তারা তাদের সূক্ষ্ম ইস্তিম্বাত (استنباط) বা আহরণ শক্তি এবং গভীর ফিকহী প্রজ্ঞার মাধ্যমে বর্ণনার (الرواية) এমন সব নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন যার মাধ্যমে তারা হাদিসকে ভুল-ভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ থেকে রক্ষা করেছেন, ঠিক যেমনটি তারা একে অনুপ্রবেশ (الدس) এবং জালিয়াতি (الاختلاق) থেকে হেফাযত করেছেন। এই নিয়মগুলোই ছিল হাদিস শাস্ত্রের মূল ভিত্তি (أصول), যার বৃক্ষ বিকশিত হয়েছে এবং এর শাখা-প্রশাখা প্রতিটি যুগে বিস্তৃত হয়েছে, এমনকি তা বর্ণনাকারী (الرواة), বর্ণনা (الرواية), মতন (المتون) এবং সনদ (الأسانيد) সংক্রান্ত নতুন নতুন পরিস্থিতির প্রয়োজনে উদ্ভূত সকল চাহিদা পূরণ করেছে।

--------------------------------------------

(1) ইবনে আবি হাতিম তাঁর "আল-জারহ ওয়াত তা'দীল" গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ১ম অংশ, পৃ. ১৫) কয়েকজন তাবেয়ীর সূত্রে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন: «বলা হতো: নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো … » অর্থাৎ সাহাবায়ে কিরাম বলতেন। দেখুন আমাদের কিতাব "মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস": পৃ. ৩২৯, ৩৩০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
‌‌تَحَدِّيَاتُ الثَّقَافَاتِ الأَجْنَبِيَّةِ فِي القَرْنِ الثَّالِثِ الهِجْرِيِّ:

هذا من حيث تَحَدِّي الفراغ العلمي الذي واجهه الصحابة في مرحلة بِأَنْ ابتكروا ووضعوا منذ اللحظة الأولى القواعد الكفيلة بحفظ السُنَّةِ وأدائها صحيحة كما سمعوها من صاحبها - عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَلَاةِ وَأَتَمَّ التَسْلِيمِ -، وواجهوا كل جديد بعد ذلك بما يناسبه من المنهج العلمي.

 

ثم كانت هناك تحديات من نوع آخر ظهرت في القرن الثالث من الهجرة وهو عصر النهضة العلمية، حيث تم في هذا العصر تلاقح العقل العربي والمسلم بالثقافات الأخرى، وأظهرت الأُمَّةُ الإِسْلَامِيَّة من التقدير للعلوم والمعارف الأخرى ما لم تعرفه أُمَّةٌ مدى التاريخ، حتى أَنَّ الخلفاء ليقدمون جائزة الكتاب المأخوذ والمترجم عن الأمم الأخرى وزنه ذَهَبًا، فترجمت كتب العلوم والفنون، عن اليونان وَالفُرْسِ، والهند، ونقلت ثقافاتهم إلى اللغة العربية مِمَّا كان إِنْجَازًا عِلْمِيًّا وَحَضَارِيًّا ضَخْمًا في فترة وجيزة.

 

لكن حدث أَنَّ كَثِيرًا من المُفَكِّرِينَ انْبَهَرُوا وَتَأَثَّرُوا بأساليب المناطقة والفلاسفة وتأثروا بها كَثِيرًا، حتى ظهرت فئة تُؤْثِرُ هذه الأساليب على أساليب المُحَدِّثِينَ وَأَهْلِ الأَثَرِ، بل إِنَّ منهم من راح يطعن على أهل الحديث نَهْجَهُمْ وَيَرُدُّ الأحاديث الصحيحة وَيَتَأَوَّلُ النصوص القطعية الصريحة، بمجرد الأوهام التي عَشَّشَتْ في عقولهم بتأثير العقلية المادية أو الفلسفية التي تَسَرَّبَتْ إليهم من بعض تلك الثقافات التي ترجمت عن اللغات والأمم الأخرى، حتى وجد من ينكر من الغيبيات أشياء لا يمكن إنكارها وَيَتَأَوَّلُ ايات القرآن وَالسُنَّةِ المتواترة في الملائكة والجن تَأَثُّرًا بتلك العقلية والأوهام المادية، كما أوضحه لنا العلماء في رُدُودِهِمْ على هذه الفِرَقِ ولا سيما معاصرهم الإمام ابن قتيبة في
‌‌তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে বিদেশি সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জসমূহ:

এটি ছিল বৈজ্ঞানিক শূন্যতার চ্যালেঞ্জের দিক থেকে যা সাহাবীগণ একটি পর্যায়ে মোকাবিলা করেছিলেন। তারা প্রথম মুহূর্ত থেকেই এমন কিছু নীতিমালা উদ্ভাবন ও প্রণয়ন করেছিলেন যা সুন্নাহর সংরক্ষণ এবং তা হুবহু সহিহ (صحيحة) ভাবে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে, যেভাবে তারা তা এর মূল অধিকারী—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—এর নিকট থেকে শুনেছিলেন। অতঃপর তারা পরবর্তী প্রতিটি নতুন বিষয়ের মোকাবিলা করেছেন উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে।

 

এরপর হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ভিন্ন ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জের উদ্ভব ঘটে, যা ছিল মূলত জ্ঞানতাত্ত্বিক রেনেসাঁর যুগ। এই যুগে আরবি ও মুসলিম মননের সাথে অন্যান্য সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়া ঘটে। মুসলিম উম্মাহ অন্যান্য বিজ্ঞান ও জ্ঞানের প্রতি যে পরিমাণ সমাদর প্রদর্শন করেছিল, ইতিহাসের কোনো জাতি তা কখনো দেখেনি। এমনকি খলিফাগণ অন্যান্য জাতি থেকে সংগৃহীত ও অনূদিত গ্রন্থের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করতেন। ফলে গ্রিক, পারস্য ও ভারত থেকে বিজ্ঞান ও কলার বইসমূহ অনূদিত হয় এবং তাদের সংস্কৃতিগুলো আরবি ভাষায় স্থানান্তরিত হয়, যা ছিল অল্প সময়ের মধ্যে এক বিশাল বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতার অর্জন।

 

কিন্তু এমনটি ঘটেছিল যে, বহু চিন্তাবিদ যুক্তিবিদ ও দার্শনিকদের পদ্ধতিতে বিমোহিত ও প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তারা এর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এমনকি এমন এক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে যারা মুহাদ্দিস ও আহলে আসার (أهل الأثر) পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিগুলোকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাদ্দিসদের কর্মপদ্ধতির ওপর আক্রমণ করতে থাকে এবং সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করতে থাকে এবং স্রেফ সেইসব কল্পনার বশবর্তী হয়ে অকাট্য ও সুস্পষ্ট ভাষ্যগুলোর অপব্যাখ্যা করতে থাকে যা বস্তুুবাদী বা দার্শনিক মানসিকতার প্রভাবে তাদের মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছিল। এই মানসিকতা অন্য ভাষা ও জাতি থেকে অনূদিত সংস্কৃতিগুলো থেকে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছিল। এমনকি এমন লোকও পাওয়া গিয়েছিল যারা অদৃশ্যের এমন সব বিষয়কে অস্বীকার করেছিল যা অস্বীকার করার অবকাশ নেই এবং ফেরেশতা ও জিন সংক্রান্ত কুরআনের আয়াত ও মুতাওয়াতির (متواترة) সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করেছিল সেই মানসিকতা ও বস্তুুবাদী কল্পনার প্রভাবে। যেমনটি আলেমগণ এই দলগুলোর খণ্ডনমূলক রচনায় আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন, বিশেষ করে তাদের সমসাময়িক ইমাম ইবনে কুতাইবা তাঁর...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
كتاب " تأويل مختلف الحديث "،، وقد وصف هؤلاء بأنَّ بعضهم بلغ به الغرور إلى درجة أَنَّ أحدهم لو أراد أَنْ ينتقل من الإسلام إلى أي دين من الأديان النصرانية أو اليهودية ما وجد له مُتَّسَعًا ولا مُتَنَقَّلاً ينتقل إليه؟.

 

فكانت في مقابلة ذلك تلكم الوقفة الضخمة التي وقفها أَهْلُ السُنَّةِ وَالحَدِيثِ ومقدمهم الإمام المبجل أحمد بن حنبل رضي الله عنه في وقفته الكبرى التي كان لها بليغ الأثر وعظيم الفضل في تصحيح مسار الفكر الإسلامي والتزامه بالأصل الصحيح وهو الاحتكام والالتزام بِالكِتَابِ وَالسُنَّةِ.

 

إِنَّ وقفة الإمام أحمد في فهمنا وتفسيرنا، ليست لأجل مسألة جزئية وهي مسألة خَلْقِ القُرْآنِ وحدها وحسب، بل إِنَّ هذه الجزئية تعبير عن الأمر الكلي، والإصرار على تقرير المنهج الصحيح أمام مفترق الطرق التي فرقتها الأهواء المتأثرة بالثقافات الأجنبية؟ فعلى أي نهج يدرج الفكر المسلم؟

 

هل يفكر بالمنهج والأصول العِلْمِيَّةِ والإِسْلَامِيَّة أم نفكر بالمنهج الذي وضعه أرسطو وأفلاطون وغيرهما؟.

 

وقد سجل التاريخ هذه الوقفة للإمام أحمد بن حنبل بما يناسب المعنى الذي فَسَّرْنَاهُ به حتى قالوا: «إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَيَّدَ هَذَا الدِّينَ بِأَبِي بَكْرٍ الصِدِّيقَ يَوْمَ الرِدَّةِ وَبِالإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلَ يَوْمَ المِحْنَةِ» (1)

 

‌‌السُنَّةُ وَالاحْتِكَاكُ بِالثَّقَافَاتِ الأَجْنَبِيَّةِ المُعَاصَرَةِ:

في مطلع عصرنا الحديث ومنذ أول القرن الرابع عشر الهجري أعاد

--------------------------------------------

(1) " تذكرة الحفاظ " للذهبي: ص 431، 432.
"তাবিল মুখতালাফ আল-হাদিস" গ্রন্থ। এসকল লোকদের এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদের কারো কারো অহংকার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাদের মধ্যে কেউ যদি ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্ম বা ইহুদি ধর্মের মতো অন্য কোনো ধর্মে চলে যেতে চাইত, তবে সে তার জন্য কোনো প্রশস্ত স্থান বা আশ্রয় খুঁজে পেত না।

 

এর বিপরীতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিস এবং তাদের অগ্রগণ্য ব্যক্তি পরম শ্রদ্ধেয় ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক বিশাল দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সেই মহান অবস্থানের সুগভীর প্রভাব এবং অপরিসীম অবদান ছিল ইসলামি চিন্তাধারার গতিপথ সংশোধন করার ক্ষেত্রে এবং একে সঠিক মূলনীতির ওপর অবিচল রাখার ক্ষেত্রে, যা হলো কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মান্য করা ও তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।

 

আমাদের উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইমাম আহমদের অবস্থান কেবল একটি আংশিক বিষয় অর্থাৎ 'কুরআন সৃষ্টি' (خلق القرآن) সংক্রান্ত মাসআলার জন্য ছিল না; বরং এই আংশিক বিষয়টি ছিল একটি সামগ্রিক বিষয়ের বহিঃপ্রকাশ। এটি ছিল বিদেশি সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত প্রবৃত্তিগত পার্থক্যের কারণে তৈরি হওয়া সংযোগস্থলে সঠিক মানহাজ (منهج) প্রতিষ্ঠার এক দৃঢ় সংকল্প। অতএব, মুসলিম চিন্তাধারা কোন পথে চলবে?

 

তারা কি ইসলামি ও বৈজ্ঞানিক মূলনীতি (أصول) ও মানহাজ (منهج) অনুযায়ী চিন্তা করবে, নাকি অ্যারিস্টটল, প্লেটো এবং অন্যদের প্রবর্তিত মানহাজ (منهج) অনুযায়ী চিন্তা করবে?

 

ইতিহাস ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের এই অবস্থানকে আমাদের বর্ণিত ব্যাখ্যার সাথে সংগতিপূর্ণভাবেই লিপিবদ্ধ করেছে, এমনকি বলা হয়ে থাকে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই দ্বীনকে রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের দিনে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে এবং মিহনার (পরীক্ষার) দিনে ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।" (১)

 

‌‌সুন্নাহ এবং সমকালীন বিদেশি সংস্কৃতির সংঘাত:

আমাদের আধুনিক যুগের প্রারম্ভে এবং হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর শুরু থেকে...

--------------------------------------------

(১) যাহাবির "তাযকিরাতুল হুফফাজ": পৃষ্ঠা ৪৩১, ৪৩২।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
التاريخ نفسه باحتكاك العالم الإسلامي الراقد في سِنَةِ الغَفْوَةِ مع الشرق والغرب، ونتيجة الصِدَامِ العَسْكَرِيِّ، ومحاولات الاستعمار للغزو الفكري الذي يفوق في الواقع فِي خُبْثَهُ وَخَطَرِهِ كل خطر فأخذت تَتَرَدَّدُ منذ ذلك الوقت وتتكرر دسائس وأباطيل حول السُنَّةِ أثارها مستشرقون مغرضون متحاملون، وَتَلَقَّفَهَا، وَيَا لِلأَسَفِ بعض أبنائنا من المُنْبَهِرِينَ بحضارة الأجنبي وَالمُغْتَرِّينَ بزخارفها وزينتها، وصاروا يدندنون بما تلقفوا من آراء بعض المُسْتَشْرِقِينَ المُتَحَامِلِينَ وَيُرَدِّدُونَ، دون علم منهم بما في هذه المقالات من عظيم البُهْتَانِ وَزَيْفِ البَاطِلِ المُخْتَلَقِ أَوْ تَوَهُّمٍ وَوِسْوَاسِ الجَاهِلِ بِأَمْرِ هَذَا العِلْمْ ومنهجه المتعمق والمتكامل.

 

وقد نهض علماء الإسلام في هذا العصر أَيْضًا بواجبهم وَتَصَدُّوا لهذه المحاولات، وَصَنَّفُوا فِي الرَدِّ على هذه الأباطيل والافتراءات أَبْحَاثًا قَيِّمَةً مفيدة، أَدُّوا بها واجب الأمانة والعلم أجزل اللهُ مَثُوبَتَهُمْ وأينعت جهودهم ثِمَارًا عظيمة الفائدة أَمَدَّتْ مكتبة العلوم الإِسْلَامِيَّة بِزَادٍ جديد على غاية الأهمية تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْهُمْ.

 

ونحن في موقفنا هنا نَوَدُّ أَنْ نتعرض لبعض قضايا هذه الإثارات تمس الحاجة إليها ولعلها قد ترددت هنا في آونة أخيرة في بعض المناسبات وهي استشكالات تختلف عن كثير مِمَّا نوقش وقدم الرَدَّ عليه لأنها تمس تكوين منهج المُحَدِّثِينَ بكليته وليست تقتصر على أمور جزئية منه.

 

وَأُلَخِّصُ هذه القضايا التي أَوَدُّ أَنْ أتناولها بالمناقشة بعبارات عن المستشرق اليهودي جولدتسهير المتحامل على الإسلام في الشرق والغرب، وتبعه ليون بورشيه في كتابه " دِرَاسَاتٌ في السُنَّةِ الإِسْلَامِيَّة " مع بعض عبارات وأفكار مِمَّا صدر عن بعض الأقدمين وَالعَصْرِيِّينَ المُتَأَثِّرِينَ بالفلسفة اليونانية أو العقلية المادية.
সুপ্তিমগ্ন মুসলিম বিশ্বের সাথে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সম্পর্কের ইতিহাস, সামরিক সংঘাতের ফলাফল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ঔপনিবেশিক প্রচেষ্টা—যা এর ধূর্ততা ও বিপদের দিক থেকে বাস্তবে যেকোনো বিপদের চেয়েও ভয়াবহ—এর ফলে সেই সময় থেকেই সুন্নাহ সম্পর্কে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার বারবার উচ্চারিত হতে শুরু করে। এগুলো উত্থাপন করেছিল বিদ্বেষপরায়ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রাচ্যবিদরা। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের সন্তানদের মধ্য থেকে যারা বিজাতীয় সভ্যতায় বিমোহিত এবং এর বাহ্যিক চাকচিক্য ও অলঙ্কারে প্রতারিত হয়েছিল, তারা তা লুফে নিয়েছিল। তারা পক্ষপাতদুষ্ট প্রাচ্যবিদদের মতামতগুলো আওড়াতে লাগল এবং সেগুলোই পুনরাবৃত্তি করতে লাগল; অথচ তারা জানত না যে, এই প্রবন্ধগুলোতে কত বড় অপবাদ এবং বানোয়াট (مختلق) মিথ্যার জাল রয়েছে, অথবা এই ইলম এবং এর গভীর ও সুসংহত পদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির নিছক কল্পনাপ্রসূত ও প্ররোচনামূলক ধারণা বিদ্যমান।

 

বর্তমান যুগের মুসলিম উলামাগণও তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়েছেন এবং এই অপচেষ্টাগুলোর মোকাবিলা করেছেন। তারা এই মিথ্যাচার ও অপবাদের খণ্ডনে অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী গবেষণাকর্ম রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে তারা জ্ঞান ও আমানতদারিতার দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। তাদের প্রচেষ্টাসমূহ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে, যা ইসলামি জ্ঞানের ভাণ্ডারকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নতুন পাথেয় দ্বারা সমৃদ্ধ করেছে। আল্লাহ আমাদের ও তাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।

 

আমরা এখানে এমন কিছু উত্থাপিত বিষয়ের অবতারণা করতে চাই যেগুলোর আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এগুলো বারবার আলোচিত হয়েছে। এগুলো এমন কিছু সংশয় যা ইতোপূর্বে আলোচিত এবং খণ্ডিত হওয়া অধিকাংশ বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন; কারণ এগুলো হাদিস বিশারদগণের (محدثين) সামগ্রিক পদ্ধতির (منهج) কাঠামোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং কেবল এর কোনো আংশিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

 

আমি যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, সেগুলোর সারসংক্ষেপ করব প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ইহুদি প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহারের বক্তব্যের মাধ্যমে। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন লিওন বর্শে তার "দিরাসাত ফিস সুন্নাতিল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে। সেই সাথে আমি প্রাচীন ও আধুনিক যুগের এমন কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ও চিন্তাধারাও তুলে ধরব যারা গ্রিক দর্শন অথবা বস্তুবাদী মানসিকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
‌‌أَوَّلاً: الشَكْلُ وَالمَضْمُونُ:

يَدَّعِي تْسِيهِرْ ومن معه أَنَّ فحص علماء الإسلام لِلْسُنَّةِ وَنَقْدِ الروايات يعتمد على النقد الخارجي فقط يريدون (نقد السند) دون النظر من حيث النقد الداخلى، يقصدون «نَقْدَ المَتْنِ» فعندما يقدم هذا الإسناد سلسلة متصلة لشيوخ جديرين بالثقة فَإِنَّ هذا الحديث يعتبر صَحِيحًا حتى لو كان قد نقل به فكرة مستحيلة تَدُلُّ على الكذب والبهتان.

 

‌‌ثَانِيًا: التَّنَاقُضُ بَيْنَ الأَحَادِيثِ:

وهو اِدِّعَاءٌ قديم وَجَّهَهُ إلى المُحَدِّثِينَ من لم يُمْعِنْ النظر في صنيعهم، ثم كَرَّرَ - المُسْتَشْرِقُونَ، وبعض من تَلَقَّى عنهم أو قرأ آراء أولئك السابقن، فزعم هؤلاء كلهم أَنَّ المُحَدِّثِينَ حملوا المتناقض من الروايات وَصَحَّحُوهَا، فإنه كما يقول بعض المُسْتَشْرِقِينَ، وضعت مبادىء شكلية زعم أصحاب الحديث أنها تستهدف تصحيح عِلَلِ الحديث، أي إزالة التعارض.

 

وقد اغْتَرَّ بهذا الزعم كَثِيرٌ مِمَّنْ لم يخبر واقع هذا العلم الدقيق وحقيقة أصول المُحَدِّثِينَ في مواجهة هذه المشكلة حَتَّى تَوَرَّطَ في ذلك بعض من لا ينبغي أَنْ يصدرعنه ذلك فاعترض على حديث «أَنَّ مُوسَى لَمَّا جَاءَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ صَكَّهُ فَفَقَأَ عَيْنَهُ»، وقال: «لَعَلَّ عِيسَى ضَرَبَهُ أَيْضًا فَفَقَأَ عَيْنَهُ الأُخْرَى؟؟».

 

‌‌ثَالِثًا: فِي تَطْبِيقِ المُحَدِّثِينَ لِمَنْهَجِ النَّقْدِ:

زعموا أَنَّ المُحَدِّثِينَ في حقل التطبيق لم يراعوا القواعد التي قَََعَّدُوهَا لنقد الأحاديث بل إنهم مشوا أحاديث موضوعة مسفة جِدًّا والامتياز النبوي لمحمد هو وسيلة للتغلب على مثل هذه المشكلات فللبرهنة على أَنَّ أبا حنيفة هو أفضل فقيه من فقهاء الشريعة الدينية اخترع تلامذته الحديث التالي: «يَكُونُ
প্রথমত: রূপ ও বিষয়বস্তু:

গোল্ডজিহার এবং তার অনুসারীরা দাবি করেন যে, ইসলামি পণ্ডিতদের সুন্নাহ পরীক্ষা এবং বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনা কেবল বাহ্যিক পর্যালোচনার উপর নির্ভরশীল; তারা মনে করেন এটি কেবল (সনদের সমালোচনা (نقد السند)) এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার দিকটি, অর্থাৎ «মতনের সমালোচনা (نقد المتন)»-র প্রতি তারা দৃষ্টিপাত করেননি। ফলে যখন কোনো ইসনাদ নির্ভরযোগ্য (ثقة) শায়খদের একটি নিরবচ্ছিন্ন সিলসিলা উপস্থাপন করে, তখন সেই হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করা হয়, যদিও তা মিথ্যা ও অপবাদের পরিচায়ক কোনো অসম্ভব ধারণা বর্ণনা করে থাকে।

 

দ্বিতীয়ত: হাদিসসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য:

এটি একটি পুরনো দাবি যা মুহাদ্দিসদের বিরুদ্ধে এমন ব্যক্তিরা তুলেছিলেন যারা তাদের কর্মপদ্ধতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি। পরবর্তীতে প্রাচ্যবিদগণ এবং তাদের থেকে যারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন অথবা পূর্ববর্তীদের মতামত পাঠ করেছেন, তারা এই দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন। তারা সবাই দাবি করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণ পরস্পর বিরোধী বর্ণনাসমূহ গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। জনৈক প্রাচ্যবিদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল যা সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ দাবি করেছিলেন যে, এর লক্ষ্য হলো হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) দূর করা, অর্থাৎ বৈপরীত্য নিরসন করা।

 

এই সূক্ষ্ম শাস্ত্রের বাস্তবতা এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মুহাদ্দিসদের মূলনীতির প্রকৃত রূপ সম্পর্কে যারা অবগত নন, তাদের অনেকেই এই দাবিতে বিভ্রান্ত হয়েছেন। এমনকি এমন কিছু ব্যক্তিও এতে জড়িয়ে পড়েছেন যাদের কাছ থেকে এমনটি কাম্য ছিল না। তারা এই হাদিসের ওপর আপত্তি তুলেছেন যে, «যখন মালাকুল মাউত মুসা (আ.)-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি তাকে চপেটাঘাত করলেন এবং তার চোখ উপড়ে ফেললেন», এবং বিদ্রূপ করে বললেন: «হয়তো ঈসা (আ.)-ও তাকে আঘাত করেছিলেন এবং তার অপর চোখটিও উপড়ে ফেলেছিলেন??»

 

তৃতীয়ত: মুহাদ্দিসদের সমালোচনা পদ্ধতির প্রয়োগ প্রসঙ্গে:

তারা দাবি করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে হাদিস পর্যালোচনার জন্য তাদের নির্ধারিত নিয়মগুলো মেনে চলেননি; বরং তারা অত্যন্ত নিম্নমানের জাল (موضوع) হাদিসকেও চালিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াতের বিশেষ মর্যাদা ছিল এ জাতীয় সমস্যা কাটিয়ে ওঠার একটি মাধ্যম। যেমন, ইমাম আবু হানিফা যে দ্বীনি শরিয়তের ফকিহদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তা প্রমাণের জন্য তার ছাত্ররা নিম্নোক্ত হাদিসটি উদ্ভাবন করেছিল: «হবে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
فِي أُمَّتِي يَوْمًا رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو حَنِيفَةَ، وَسَيَكُونُ سِرَاجُ أُمَّتِي»، ولم يجهدوا مُطْلَقًا فِي أنْ يجعلوا الناس يُصَدِّقُونَ بأنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قد ذكر فِعْلاً اسم العالم العراقي كذا قال جولدتسهير وتابعه ليون بورشيه.

 

هكذا تَكَلَّفَ هؤلاء الخوض في هذا العَلَمِ العظيم ثم راحوا يَتَطَفَّلُونَ على علم الحديث ينقدونه، وعلى المُحَدِّثِينَ يقترحون عليهم.

 

وَأَوَدُّ أَوَّلاً أَنْ أُنَبِّهَ إخواني إلى رأي في جملة مزاعم الناقدين لِلْمُحَدِّثِينَ ببيان تصنيفها العلمي، وذلك أنها بصورة إجمالية ليست أكثر من تخيلات أو أباطيل أو أوهام، إنها ليست من النوع الذي يرقى إلى ما يسميه العلماء في بحوثهم ومناقشاتهم «شُبْهَةٌ» لأنها ليست من نوع ما يشتبه على العقل الباحث الجاد، بأن يقع له دليل ضعيف يخلط فيه الناظر فيظنه قَوِيًّا، إنما هي تخيلات أو أوهام وبعضها مزاعم مُلَفَّقَةٌ فقد فضح تلفيقها أصحابها وغشاهم بِالخِزْيِ وَالخَيْبَةِ.

 

لكننا نتساءل هل نشأت هذه الأفكارعند هؤلاء لأنهم لم يفهموا منهج المُحَدِّثِينَ، أو أنهم فهموا ذلك فأرادوا أَنْ ينتهزوا غفلة الناس عن تكاسل بنيان علم الحديث وإحكام خِطَّتِهِ النقدية؟.

 

‌‌مُوَاجَهَتُنَا لِهَذَا التَّحَدِّي بَيَانُ التَّكَامُلِ وَالشُّمُولِ فِي مَنْهَجِ المُحَدِّثِينَ:

ومن هنا فإنا رأينا أنه لِزَامًا علينا في مواجهة هذا التحدي أَنْ نُبَيِّنَ أَوَّلاً هذا الأصل الجوهري البالغ الأهمية في عمل المُحَدِّثِينَ، أعني مزية التكامل والدقة والإحاطة فَإِنَّ هذا البيان مُهِمٌّ جِدًّا بسبب ما يلحظه الناظر في كُتُبِ
"আমার উম্মতের মধ্যে একদা এমন এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে যাকে আবু হানিফা বলা হবে এবং তিনি হবেন আমার উম্মতের প্রদীপ।" তারা মানুষকে এটি বিশ্বাস করানোর জন্য বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টাও করেনি যে, নবী (সা.) প্রকৃতপক্ষে এই ইরাকি আলেমের নাম এভাবে উল্লেখ করেছিলেন; গোল্ডজিহার এমনই বলেছেন এবং লিওন বোর্চে তাকে অনুসরণ করেছেন।

 

এভাবেই তারা এই মহান ব্যক্তিত্বের বিষয়ে অনধিকার চর্চায় লিপ্ত হয়েছে, অতঃপর তারা হাদিস শাস্ত্রের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করে এর সমালোচনা করতে শুরু করেছে এবং মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) ওপর নিজেদের নানা মত চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।

 

আমি সর্বপ্রথমে আমার ভাইদেরকে মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) সমালোচকদের দাবিসমূহের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে সচেতন করতে চাই। বিষয়টি হলো, সারসংক্ষেপে এগুলো কল্পনাপ্রসূত ধারণা, অসার কথা অথবা ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো এমন পর্যায়ের নয় যেগুলোকে আলেমরা তাদের গবেষণা ও পর্যালোচনায় 'সংশয়' (شبهة) হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ এগুলো এমন বিষয় নয় যা একজন একনিষ্ঠ গবেষকের বুদ্ধিবৃত্তিকে বিভ্রান্ত করতে পারে—যেমন কোনো দুর্বল (ضعيف) দলিলের সম্মুখীন হওয়া যেখানে পাঠক বিভ্রান্ত হয়ে সেটিকে শক্তিশালী মনে করতে পারে। বরং এগুলো নিছক কল্পনা বা বিভ্রম, আর এর কিছু অংশ তো বানোয়াট (ملفق) দাবি মাত্র; তাদের এই জালিয়াতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে এবং তাদের অপমান ও ব্যর্থতায় নিমজ্জিত করেছে।

 

কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, এই চিন্তাগুলো কি তাদের মধ্যে এজন্য তৈরি হয়েছে যে তারা মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মূলনীতি বা মানহাজ বুঝতে সক্ষম হয়নি? নাকি তারা তা বুঝতে পেরেও মানুষের অসতর্কতার সুযোগ নিতে চেয়েছিল, যেহেতু মানুষ হাদিস শাস্ত্রের সুদৃঢ় কাঠামো এবং এর সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক পদ্ধতির নিপুণতা সম্পর্কে উদাসীন?

 

‌এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের অবস্থান: মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মূলনীতির পূর্ণাঙ্গতা ও ব্যাপকতার বর্ণনা:

এখান থেকেই আমরা অনুভব করেছি যে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের ওপর প্রথমত মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) কর্মপদ্ধতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক ভিত্তিটি স্পষ্ট করা আবশ্যক। আর তা হলো তাদের কাজের পূর্ণাঙ্গতা, সূক্ষ্মতা ও ব্যাপকতার বৈশিষ্ট্য। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেউ যখন এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬০)
المُصْطَلَحِ من إعواز لبيان هذا الأمر، وَإِنْ كان السبب اعتماد علمائنا السابقين - رَحِمَهُمْ اللهُ تَعَالَى - على تحصيل العلم في الصدور وتكوين المَلَكَةِ، ولكن هذا البيان يزيد الردود والمناقشة وُضُوحًا وَجَلَاءً، وَقَدْ عَلَّمَنَا الإسلام الحنيف أَنْ نقيم أمورنا على الحُجَّةِ الواضحة والبرهان الساطع حتى صار ذلك غاية أُمْنِيَّةَ العَالِمِ، بَلْ مُتْعَةَ البَاحِثِ، كما قيل لبعض العلماء الكبار: فِيمَ لَذَّتُكَ؟ فَقَالَ: «فِي شُبْهَةٍ تَتَضَاءَلُ افْتِضَاحًا، وَحُجَّةٍ تَتَبَخْتَرُ اتِّضَاحًا».

 

وقد توصلنا بفضل الله تعالى وتوفيقه إلى صياغة مبتكرة لهذا العلم علم المصطلح، تبرز وتظهر بجلاء تكامل هذا العلم وَدِقَّتِهِ وَشُمُولِهِ، وأنه في الواقع يشكل ما يسمى بلغة عصرنا هذا (نِظَامًا) أَوْ (نَظَرِيَّةً) نَقْدِيَّةً مُتَكَامِلَةٍ، تتآلف فيها أنواع علوم الحديث كلها، لتبدو في مجموعها منطلقة بتسديد وإحكام نحو الغاية المنشودة، فواجهنا هذا التحدي ببادرة جديدة تَعْتَمِدُ عَلَى الرَدِّ العِلْمِيِّ وَالتَّطْبِيقِ الفِعْلِيِّ في جلاء نظرية النقد عند المُحَدِّثِينَ بقالب جديد ليبرز هذا التكامل، وليس بمجرد الحوار والجدال.

 

وتقوم هذه النظرية على أساس بسيط جِدًّا وسهل الفهم مقتبس من نص الحديث المتواتر: «نَضَّرَ اللهُ امْرُءًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثاً فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ». فَإِنَّ هذا اللفظ يدل على أنه لَا بُدَّ لكي يكون الحديث مقبولاً أَنْ يكون راويه قد أداه كما سمعه، وهذا بلا شك أمر واضح لا جدال فيه، وهو يوجب علينا أَوَّلاً أَنْ نَخْبُرَ أَحْوَالَ الرُّوَاةِ، وقد استوعب المُحَدِّثُونَ ذلك بأصول عديدة شاملة تُبَيِّنُ كل ما يتصل بالراوي جَرْحًا وَتَعْدِيلاً، وَتِبْيَانًا لاسمه ونسبه وتمييزه عمن قد يشابه اسمه حتى أحصوا ذلك إحصاء عَجِيبًا وَبِتَمْيِيزٍ دَقِيقٍ، مثل تمييزهم بين من يتفق اسمه مع غيره في الرسم، ويختلف في النطق مثل هذه الأسماء (يزيد،
হাদিস পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত বিষয়ে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিবৃত করার ক্ষেত্রে কিছুটা অভাব পরিলক্ষিত হয়। যদিও এর কারণ ছিল আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম—আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন—কর্তৃক জ্ঞানকে অন্তরে ধারণ করা এবং ইলমি যোগ্যতা (المَلَكَة) অর্জনের ওপর নির্ভর করা। তবে এই বর্ণনা ও ব্যাখ্যা উত্তর প্রদান ও আলোচনাকে আরও অধিক সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল করে তোলে। সত্যনিষ্ঠ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যেন আমরা আমাদের প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্ট প্রমাণ ও উজ্জ্বল দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত করি, এমনকি এটি একজন আলেমের চরম আকাঙ্ক্ষা এবং একজন গবেষকের পরম তৃপ্তিতে পরিণত হয়েছে। যেমনটি জনৈক প্রথিতযশা আলেমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: ‘আপনার আনন্দ কিসে?’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: ‘এমন কোনো সংশয়ের ক্ষেত্রে যা উন্মোচিত হয়ে বিলীন হয়ে যায় এবং এমন কোনো দলীলের ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট হয়ে সগৌরবে আত্মপ্রকাশ করে’।

 

আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও তৌফিকে আমরা এই পরিভাষা (المصطلح) বিজ্ঞানের একটি অভিনব রূপরেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, যা এই বিজ্ঞানের পূর্ণতা, সূক্ষ্মতা ও ব্যাপকতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। প্রকৃতপক্ষে এটি বর্তমান যুগের ভাষায় একটি পূর্ণাঙ্গ সমালোচনামূলক ‘পদ্ধতি’ বা ‘তত্ত্ব’ গঠন করে, যেখানে হাদিস বিজ্ঞানের সকল প্রকারের সমন্বয় ঘটে; যাতে সামগ্রিকভাবে এটি সুসংহত ও সুনিপুণভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়। আমরা কেবল সংলাপ বা তর্কের মাধ্যমে নয়, বরং হাদিস বিশারদগণের (المُحَدِّثُونَ) সমালোচনাতত্ত্বকে একটি নতুন আঙ্গিকে স্পষ্ট করার জন্য বৈজ্ঞানিক খণ্ডন এবং প্রায়োগিক বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে এক নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছি, যাতে এর সামগ্রিক রূপটি প্রস্ফুটিত হয়।

 

এই তত্ত্বটি অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য একটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মূলত মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের পাঠ থেকে সংগৃহীত: ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল এবং তা ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিল’। এই শব্দসমষ্টি নির্দেশ করে যে, একটি হাদিস গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এটি অপরিহার্য যে, তার বর্ণনাকারী হাদিসটি ঠিক যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই যেন তা আদায় বা বর্ণনা করেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি সুস্পষ্ট বিষয় যাতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। আর এটি আমাদের জন্য প্রথমত বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই করা আবশ্যক করে তোলে। হাদিস বিশারদগণ (المُحَدِّثُونَ) সুসংহত ও ব্যাপক মূলনীতির মাধ্যমে বিষয়টি আয়ত্ত করেছেন, যা বর্ণনাকারীর সমালোচনা (جرح) ও গুণকীর্তন (تعديل) সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় এবং তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও তাঁর সমনামধারী ব্যক্তিদের থেকে তাঁকে পৃথক করার বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে। এমনকি তাঁরা অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে এবং সূক্ষ্ম পার্থক্যের মাধ্যমে এসব তথ্য নিরূপণ করেছেন। যেমন—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা যাদের নাম লৈখিক রূপের ক্ষেত্রে হুবহু এক হলেও উচ্চারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়, যেমন এই নামগুলো (ইয়াজিদ,
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬১)
بريد، تزيد) أو يتماثل اسمه مع اسم غيره أو غير ذلك، في جملة علوم تبلغ ثلاثين نَوْعًا (1).

ثم إِنَّ أَخْذَ الراوي عن أساتذته له أحوال وأحكام، وكذلك تبليغه يعتريه أحكام أَيْضًا، فكانت دراسة علوم الرواية مُكْمِلَةً لما سبق وَمُتَمِّمَةٌ لَهُ، وهي خمسة علوم من علوم الحديث (2).

 

ولما أنَّ الأحاديث وصلت إلينا بنقل رجال السند وَاحِدًا عن الأخر حتى يبلغوا قائلها كان من الواجب أَنْ ندرس شروط القبول في السند والمتن وذلك في تعريف «الحديث الصحيح» و «الحديث الحسن» وقد توصلنا ببحث خاص وتحقيق جديد إلى بيان كفاية شروط الحديث المقبول لإثبات سلامة الحديث وأدائه كما سُمِعَ من قائله وكيف أَنَّ قواعد هذا الفن البالغة ثمانين قاعدة تعمل كلها لتحقيق هذه الغاية بواسطة شروط الحديث الصحيح والحسن، التي تستجمع في الحقيقة كل قواعد الحديث وقوانينه (3)، والتي متى اختل شيء منها كان الحديث ضعيفًا، لما فيه من فقد المعيار الذي يثبت سلامة النص المروي.

 

ثم ننتقل في ضوء ما سبق إلى السير والدرس لكل جوانب الحديث ونوضح احتمالات الضعف والقوة فيها، ابتداء بأحوال المتن، ثم بأحوال السند وما يعرض له من اتصال أو انقطاع أو غير ذلك.

 

ثم نتتبع الأنواع والأحوال المشتركة بين السند والمتن كالشاذ

--------------------------------------------

(1) انظر دراستها مفصلة في كتاب " منهج النقد في علوم الحديث " الباب الثاني في علوم الرواة: ص 73 - 187.

(2) انظر دراستها في المرجع السابق، الباب الثالث في علوم الرواية: ص 188 - 239.

(3) وذلك في بحث " الاتجاهات العامة للاجتهاد ومكانة الحديث الصحيح فيها "، تحت الطبع.
...বারীদ, তাযীদ) অথবা তার নাম অন্যের নামের সাথে মিলে যাওয়া বা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ, যা মোট ত্রিশটি প্রকারের (نَوْعًا) (১) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর একজন বর্ণনাকারীর (الراوي) তার উস্তাদদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করার কতিপয় অবস্থা ও বিধান রয়েছে। অনুরূপভাবে তার তা প্রচার বা বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও কিছু বিধান প্রযোজ্য হয়। সুতরাং হাদিস বর্ণনার (الرواية) জ্ঞান বা শাস্ত্রসমূহের অধ্যয়ন পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী হিসেবে গণ্য। আর এটি হাদিস শাস্ত্রের পাঁচটি প্রধান জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত (২)।

 

যেহেতু হাদিসসমূহ আমাদের নিকট বর্ণনাকারীদের সূত্রের (السند) মাধ্যমে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে পৌঁছেছে যতক্ষণ না তা মূল প্রবক্তা পর্যন্ত উপনীত হয়, তাই সূত্র (السند) ও মূল পাঠের (المتن) ক্ষেত্রে কবুলিয়ত বা গ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক ছিল। আর তা ‘সহিহ (الصحيح) হাদিস’ এবং ‘হাসান (الحسن) হাদিস’-এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আমরা একটি বিশেষ গবেষণা ও নতুন পর্যালোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসের শর্তাবলির পর্যাপ্ততা স্পষ্ট করেছি, যা হাদিসের বিশুদ্ধতা এবং তা প্রবক্তার নিকট থেকে যেভাবে শোনা হয়েছে ঠিক সেভাবেই আদায় করার বিষয়টি প্রমাণ করে। এছাড়া এই শাস্ত্রের প্রায় আশিটি মূলনীতি কীভাবে সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) হাদিসের শর্তাবলির মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে, তাও বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই শর্তাবলি হাদিসের সকল নিয়ম ও কানুনকে একত্রিত করে (৩)। এগুলোর কোনো একটির অভাব ঘটলে হাদিসটি দুর্বল (ضعيفًا) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এতে বর্ণিত পাঠের (النص المروي) বিশুদ্ধতা প্রমাণের মানদণ্ডটি অনুপস্থিত থাকে।

 

এরপর আমরা পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে হাদিসের প্রতিটি দিকের গভীর পর্যালোচনা ও অধ্যয়নের দিকে অগ্রসর হব এবং এর দুর্বলতা (الضعف) ও সবলতার (القوة) সম্ভাবনাগুলো স্পষ্ট করব। যার সূচনা হবে মূল পাঠের (المتن) অবস্থা দিয়ে, অতঃপর সূত্রের (السند) অবস্থা এবং এতে পরিলক্ষিত অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বা অন্যান্য বিষয়াবলি আলোচনার মাধ্যমে।

 

অতঃপর আমরা সূত্র (السند) ও মূল পাঠের (المتن) মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ প্রকার ও অবস্থাসমূহ অনুসরণ করব, যেমন: শায বা ব্যতিক্রমী (الشاذ)

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে বিস্তারিত অধ্যয়নের জন্য দেখুন "মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস" গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়, বর্ণনাকারীদের বিষয়ক জ্ঞান (علوم الرواة): পৃষ্ঠা ৭৩ - ১৮৭।

(২) পূর্বোক্ত গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়, হাদিস বর্ণনা বিষয়ক জ্ঞান (علوم الرواية): পৃষ্ঠা ১৮৮ - ২৩৯ দেখুন।

(৩) এটি "আল-ইত্তি জাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদিসিস সহিহ ফিহা" নামক গবেষণাপত্রে রয়েছে, যা বর্তমানে প্রকাশনাধীন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬২)
والمضطرب، حتى تصل الدراسة إلى قمة البحث في الحديث المُعَلَّلِ سواء كانت العلة في السند أو في المتن أو فيهما جميعا.

 

‌‌مناقشات وردود حاسمة:

هذا بيان موجز قدمناه بين يدي المناقشة والنقد لما ذكرناه من الأوهام حول منهج المُحَدِّثِينَ، ومنه نرى أن عمل المُحَدِّثِينَ شامل لنقد السند والمتن على حد سواء، ونلمس بطلان ما يردد من أقاويل حول منهج المُحَدِّثِينَ وعملهم العلمي.

 

وَنُفَصِّلُ هذا بتفصيل الرد على المزاعم الثلاثة الأولى التي أوردناها فنقول:

 

‌‌أولاً ـ مسألة الشكل والمضمون في نقد الرواية:

إن الادعاء بأن فحص العلماء للحديث يقوم على نقد السند فقط ويقتصر عليه، لهو أشهر انتقادات المُسْتَشْرِقِينَ ومقلدتهم الذين يجترُّون أفكارهم ويرددونها ترداد الببغاء، ونلاحظ قبل المناقشة أن هؤلاء لا يعبرون باصطلاحات المُحَدِّثِينَ «سند»، «متن» بل يغيرون المصطلحات الإِسْلَامِيَّة رغم دقتها ووضوح معناها، إلى مصطلحات سطحية غامضة، لا يدري القاريء معناها، مِمَّا ينم عن الغرض الذي في نفوسهم.

 

ثم بعد هذا البدء والإعادة منهم في هذا الزعم نجد أنه على شهرته أشد مزاعمهم ضعفا وأوضحها سقوطا، ومن الدليل على ما قلناه:

 

1ـ إِنَّ أيَّ طالب علم درس أَيَّ كتاب في مصطلح الحديث لو تفكر قليلا لتبين له سقوط هذا الادعاء وزيفه، لأننا نقرأ أيّ كتاب في مصطلح
এবং বিশৃঙ্খল (المضطرب), এমনকি এই অধ্যয়ন ত্রুটিপূর্ণ (المعلل) হাদিস গবেষণার শিখরে পৌঁছে যায়, চাই সেই ত্রুটি (العلة) সনদে (السند) হোক কিংবা মতন (المتن) তথা মূল পাঠে, অথবা উভয়টির মধ্যেই হোক।

 

‌‌পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত জবাব:

মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে যে ভ্রান্ত ধারণাগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোর পর্যালোচনা ও সমালোচনার (النقد) প্রারম্ভে এটি একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, মুহাদ্দিসগণের কর্মপরিধি সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়ের সমালোচনার (النقد) ক্ষেত্রেই সমভাবে পরিব্যাপ্ত। মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি ও তাঁদের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যেসব কথা বারবার বলা হয়, সেগুলোর অসারতা আমরা এর মাধ্যমেই অনুভব করতে পারি।

 

আমরা পূর্বে যে তিনটি দাবির কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলোর বিস্তারিত জবাবের মাধ্যমে বিষয়টি আরও বিশদভাবে তুলে ধরছি:

 

‌‌প্রথমত— বর্ণনা সমালোচনায় রূপ ও সারবস্তুর (আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু) প্রসঙ্গ:

হাদিস বিশারদদের হাদিস যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কেবল সনদ পর্যালোচনার (نقد السند) ওপর নির্ভরশীল এবং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ—এই দাবিটি প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অন্ধ অনুসারীদের সবচেয়ে পরিচিত সমালোচনা, যারা তাদের চিন্তাধারাগুলোকেই তোতা পাখির মতো জাবর কাটে ও পুনরাবৃত্তি করে। পর্যালোচনার পূর্বে আমরা লক্ষ্য করি যে, তারা মুহাদ্দিসগণের নির্দিষ্ট পরিভাষা যেমন— 'সনদ' (السند) ও 'মতন' (المتن) ব্যবহার করে না। বরং তারা এই নির্ভুল ও সুস্পষ্ট অর্থবোধক ইসলামী পরিভাষাগুলোকে পরিবর্তন করে অগভীর ও অস্পষ্ট পরিভষায় রূপান্তর করে, যার অর্থ পাঠক বুঝতে পারে না; যা তাদের মনের গূঢ় উদ্দেশ্যকেই প্রকাশ করে।

 

তাদের পক্ষ থেকে এই দাবির বারবার উত্থাপন ও পুনরাবৃত্তির পর আমরা দেখতে পাই যে, এটি বহুল প্রচারিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল (ضعيف) এবং স্পষ্টতই অন্তঃসারশূন্য। আমাদের এই বক্তব্যের প্রমাণস্বরূপ:

 

১- ইলমে হাদিসের যেকোনো ছাত্র যদি হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত যেকোনো কিতাব অধ্যয়ন করে সামান্য চিন্তাভাবনা করে, তবে তার কাছে এই দাবির অসারতা ও কৃত্রিমতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কারণ আমরা হাদিসের পরিভাষার (مصطلح الحديث) যেকোনো কিতাবেই পড়ি যে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
الحديث فنجد في تعريف الحديث الصحيح والحسن أنه يشترط فيهما شرطان أساسيان لقبول الحديث هما: سلامته من أن يكون شَاذًّا أَوْ مُعَلاًّ، ثم ننظر في شرح التعريف فنجدهم يقولون: إن الشذوذ قسمان: شذوذ السند وشذوذ المتن، وكذلك العلة قسمان: علة في السند وعلة في المتن. وهي حقيقة مقررة يعرفها صغار طلبة العلم، فهل في الدنيا عاقل يصدق بعد هذا أنهم ينتقدون الإسناد فقط، ولا ينتقدون المتون.

 

2 - إن نظرة إلى الصفحات الأولى من كتب هذا العلم لو كلف احدهم نفسه أن يمر بمكتبة ويتناول كتابًا في مصطلح الحديث ويقرأ قليلا من أوله، لوجد أمامه تعريف هذا العلم بما يبين حقيقة هذه القضية لأنه سيجدهم يُعَرِّفُونَهُ بِأَنَّهُ «عِلْمٌ بِقَوَانِينَ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالَ السَّنَدِ وَالمَتْنِ مِنْ حَيْثُ القَبُولِ أَوْ الرَدِّ» (1).

 

فأين هي النظرة الشكلية التي تنظر للإسناد دون المتن أم أنهما قرينان لا ينفصل أحدهما عن الآخر في أي أصل من هذا العلم، وهل يا ترى لو اطلع قائل هذا الزعم على كتاب في أصول الحديث هل كان يجتريء أن يقول قولته؟ أم أن الأمر عنده سيان؟.

 

3 - إنا نجد عند المُحَدِّثِينَ قاعدة أدق وأبلغ وهي قاعدة متفق عليها بينهم جميعا يقررون فيها: أنه قد يَصِحُّ السند ولا يصح المتن لِشُذُوذٍ أَوْ عِلَّةٍ، وقد يصح المتن ولا يصح السند لورود دلائل على صحة المتن من طرق أخرى، وهذا مُقَرَّرٌ في كل مراجع هذا الفن وليس هو من المعلومات النادرة وذلك يدل بما لا يدع مجالاً للشك على أَنَّ المُحَدِّثِينَ احتاطوا من النظرة الشكلية القاصرة، وأنهم احتاطوا لكل احتمال، وأعدوا له العدة في منهج موضوعي، شامل ومتعمق أَيْضًا

--------------------------------------------

(1) انظر في " تدريب الراوي " للسيوطي: ص 5.
হাদিস সম্পর্কে বলতে গেলে, সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞায় আমরা দেখতে পাই যে, হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক শর্তারোপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: হাদিসটি শায (شاذ) বা অস্বাভাবিক হওয়া এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) হওয়া থেকে মুক্ত থাকা। অতঃপর সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় আমরা তাদের বলতে দেখি যে: অস্বাভাবিকতা (شذوذ) দুই প্রকার: সনদের অস্বাভাবিকতা (شذوذ السند) এবং মতনের অস্বাভাবিকতা (شذوذ المتن)। অনুরূপভাবে সূক্ষ্ম ত্রুটিও (علة) দুই প্রকার: সনদের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة في السند) এবং মতনের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة في المتن)। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা যা ইলমে হাদিসের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরাও জানে। এমতাবস্থায় পৃথিবীতে এমন কোনো বিবেকবান মানুষ কি আছেন, যিনি বিশ্বাস করবেন যে তারা কেবল সনদের (الإسناد) সমালোচনা করেন এবং মতনের (المتون) কোনো সমালোচনা করেন না?

 

2 - এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহের প্রথম পৃষ্ঠাগুলোর দিকে তাকালে—যদি কেউ সামান্য কষ্ট করে কোনো লাইব্রেরিতে গিয়ে হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক কোনো একটি কিতাব হাতে নিয়ে এর শুরুর দিক থেকে কিছুটা পাঠ করেন—তবে তিনি এই শাস্ত্রের এমন সংজ্ঞা খুঁজে পাবেন যা এই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট করে দেয়। কারণ তিনি দেখতে পাবেন যে তারা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: “এটি এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে সনদ (السند) এবং মতনের (المتن) অবস্থা জানা যায়—গ্রহণযোগ্যতা (القبول) অথবা বর্জনযোগ্যতার (الرد) দিক থেকে।” (১)।

 

সুতরাং সেই বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি কোথায় যা মতন বাদ দিয়ে কেবল সনদের (الإسناد) ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে? বরং এ দুটি তো এমন অবিচ্ছেদ্য জোড় যা এই শাস্ত্রের কোনো মূলনীতিতেই একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দাবি উত্থাপনকারী ব্যক্তি যদি হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক কোনো কিতাব দেখতেন, তবে কি তিনি এমন কথা বলার দুঃসাহস দেখাতেন? নাকি তার কাছে সব বিষয়ই সমান?

 

3 - আমরা মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট আরও সূক্ষ্ম ও অর্থবহ একটি মূলনীতি দেখতে পাই, যা তাদের সকলের নিকট সর্বসম্মত। তারা তাতে স্থির করেছেন যে: কখনও কখনও সনদ (السند) সহিহ (يصح) হতে পারে কিন্তু অস্বাভাবিকতা (شذوذ) বা সূক্ষ্ম ত্রুটির (علة) কারণে মতনটি (المتن) সহিহ (يصح) হয় না। আবার কখনও মতন (المتن) সহিহ (يصح) হতে পারে কিন্তু অন্যান্য সূত্র থেকে মতনের বিশুদ্ধতার প্রমাণ পাওয়ায় সনদটি (السند) সহিহ (يصح) না-ও হতে পারে। এটি এই শাস্ত্রের প্রতিটি উৎসগ্রন্থে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কোনো বিরল তথ্য নয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) সংকীর্ণ বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেঁচে থেকেছেন এবং তারা প্রতিটি সম্ভাবনার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তারা একটি বস্তুনিষ্ঠ, ব্যাপক এবং গভীর পদ্ধতির মাধ্যমে এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুয়ুতির ‘তাদরিবুর রাবি’, পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুল মুত্বহহারতু ওয়াত তাহাদিদিয়্যাত (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
4 - نقول لهم بعد هذا: ما تظنون فيما أسميتموه النقد الخارجي؟ هل تظنونه تم واستكمل عند المُحَدِّثِينَ بعيدًا عن النظر والفحص للمتون وهذا الذي قلتم: «سلسلة شيوخ جديرين بالثقة، هذا الجدير بالثقة كيف كان جديرًا بها؟ هل حصل عليها بصك غفران أو لانتمائه إلى فئة معينة؟؟ أم أنه كما هو الواقع حاز على هذه الصفة (ثِقَةٌ) بأن اجتاز اختبارًا شاملاً لشخصيته لتحقيق صفة العدالة أو ما نسميه الآن الأمانة العلمية وصفة (الضَبْطِ) أو ما يمكن أن نسميه الكفاءة العلمية التي بها يكون على مستوى استيعاب الحديث وأدائه كما سمع.

 

في الواقع إن إثبات ثقة الرُوَّاةِ، وكونهم جديرين بالثقة هذا الذي استخف به جولدتسهير وَمُقَلِّدَتُهُ يرتبط المتون ارتباطًا قَوِيًّا لأن توثيق الراوي لا بد فيه من اختبار مروياته وعرضها على روايات الثقات فإن وجدنا رواياته موافقة ولو من حيث المعنى لرواياتهم أو كانت له مخالفة نادرة عرفنا حينئذ كونه (ضَابِطًا) (1) وحكمنا له مع اتصافه بالعدالة بأنه (ثِقَةٌ).

 

وهذه كتب الجرح والتعديل مليئة بألفاظ الجرح للرواي بسبب الخطأ في مروياته مثل قولهم (فُلَانٌ مُنْكَرُ الحَدِيثِ). (يَرْوِي المَنَاكِيرَ). (يَرْوِي الغَرَائِبَ). (رَوَى حَدِيثًا بَاطِلاً). (رِوَايَاتُهُ وَاهِيَةٌ). وغير ذلك كثير يدل على أن المُحَدِّثِينَ كانوا في الاحتياط أبلغ مِمَّا يريده المتطفلون عليهم.

 

على أنا بعد هذا نرجو أَنْ لَا يُتَوَهَّمَ من نقاشنا أننا نغض من نقد السند، أو هموم الرُوَّاةِ، بل إن للسند قيمته التي لَا تُجْحَدُ وَلَا تُنْكَرُ في

--------------------------------------------

(1) " علوم الحديث " لابن الصلاح: ص 106. وانظر الفكرة في " مقدمة صحيح مسلم ".
4 - এর পরে আমরা তাদের বলি: আপনারা যাকে 'বাহ্যিক সমালোচনা' নামে অভিহিত করেছেন সে সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী? আপনারা কি মনে করেন যে, এটি মুহাদ্দিসগণের নিকট 'মতন (متون)' বা পাঠ্যসমূহ পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করা ছাড়াই সম্পাদিত ও পূর্ণতা লাভ করেছিল? আর আপনারা যা বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য শাইখদের একটি সিলসিলা," এই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে এর যোগ্য হলেন? তিনি কি এটি কোনো ইনডালজেন্স বা ক্ষমাপত্রের মাধ্যমে অথবা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে লাভ করেছেন? নাকি বাস্তব বিষয়টি হলো তিনি এই 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' গুণটি অর্জন করেছেন তার ব্যক্তিত্বের একটি সামগ্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে, যা তার 'ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)'—যাকে আমরা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক সততা বলতে পারি—এবং 'সংরক্ষণযোগ্যতা (الضبط)'—যাকে আমরা বৈজ্ঞানিক দক্ষতা বলতে পারি—প্রমাণের জন্য নেওয়া হয়েছিল; যার মাধ্যমে তিনি হাদিস অনুধাবন এবং শ্রবণ অনুযায়ী তা বর্ণনা করার স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

 

বাস্তবে বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা এবং তারা যে নির্ভরযোগ্যতার যোগ্য—যাকে গোল্ডজিহার এবং তার অনুসারীরা অবজ্ঞা করেছে—তা 'মতন (متون)' এর সাথে দৃঢ়ভাবে জড়িত। কারণ একজন বর্ণনাকারীকে 'নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার (توثيق)' ক্ষেত্রে অবশ্যই তার বর্ণিত হাদিসসমূহ পরীক্ষা করা এবং সেগুলোকে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখা অপরিহার্য। যদি আমরা দেখি যে তার বর্ণনাগুলো অর্থের দিক থেকেও তাদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অথবা যদি তার মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিরল হয়, তবেই আমরা তার 'নির্ভুলতা (ضابطا)' (১) সম্পর্কে নিশ্চিত হই এবং তার 'ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)' গুণের পাশাপাশি তাকে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' বলে রায় দিই।

 

আর 'জারহ ও তাদিল'-এর কিতাবসমূহ বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুলের কারণে তার 'ত্রুটি বর্ণনার (الجرح)' শব্দাবলিতে পূর্ণ; যেমন তাদের উক্তি: "অমুক 'পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)'", "সে 'প্রত্যাখ্যাত হাদিস (المناكير)' বর্ণনা করে", "সে 'অপরিচিত হাদিস (الغرائب)' বর্ণনা করে", "সে একটি 'বাতিল (باطلا)' হাদিস বর্ণনা করেছে", "তার বর্ণনাগুলো 'অত্যন্ত দুর্বল (واهية)'" এবং এ জাতীয় আরও অনেক শব্দ, যা প্রমাণ করে যে মুহাদ্দিসগণ সতর্কতার ক্ষেত্রে এই অনধিকার প্রবেশকারীদের দাবির চেয়েও অনেক বেশি সচেতন ছিলেন।

 

তবে এর পর আমরা আশা করি আমাদের এই আলোচনা থেকে কেউ যেন এমন ভুল ধারণা না করেন যে আমরা সনদ সমালোচনা বা বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই করাকে খাটো করে দেখছি; বরং সনদের এমন এক মূল্য রয়েছে যা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা যায় না...

--------------------------------------------

(১) ইবনুস সালাহ-এর "উলূমুল হাদীস": পৃষ্ঠা ১০৬। এছাড়া 'সহীহ মুসলিম'-এর মুকাদ্দামায় এই বিষয়টি দেখুন।