(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: -)
الجرح والتعديل - القاسمي القسم: علوم الحديث
الكتاب: الجرح والتعديل
المؤلف: محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق القاسمي (ت 1332هـ)
الناشر: مؤسسة الرسالة (1399 هـ - 1979 م)
عدد الصفحات: 51
أَعَدَّهُ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / توفيق بن محمد القريشي، - غَفَرَ اللهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432
আল-জারহ ওয়াত তাদিল - আল-কাসিমি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-জারহ ওয়াত তাদিল
লেখক: মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন বিন মুহাম্মাদ সাঈদ বিন কাসিম আল-হাল্লাক আল-কাসিমি (মৃত্যু ১৩৩২ হি.)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ (১৩৯৯ হি. - ১৯৭৯ খ্রি.)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১
মাকতাবা শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি، - আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الجرح والتعديل]ـ
تأليف الأستاذ العالم العامل البحاثة عالم الشام
الشيخ جمال الدين القاسمي الدمشقي
مؤسسة الرسالة
عدد الأجزاء: 1.
أَعَدَّهُ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ / توفيق بن محمد القريشي، - غَفَرَ اللهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
ـ[জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)]ـ
উস্তাদ, আমলকারী আলিম, গবেষক এবং শামের বিদগ্ধ পণ্ডিত কর্তৃক রচিত
শায়খ জামাল উদ্দিন আল-কাসিমি আদ-দিমাশকি
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
খণ্ড সংখ্যা: ১
মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন —।
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সম্বলিত]।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২)
طبعة سنة 1399 هـ - 1979 م
مؤسسة الرسالة - بيروت شارع سوريا بناية صمدي وصالحة
১৩৯৯ হিজরী - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ সংস্করণ
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত, সিরিয়া স্ট্রিট, সামাদী ও সালহা ভবন
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجرح والتعديل للشيخ جمال الدين القاسمي
هذا بحث جليل، ومطلب خطير، طالما جال في النفس التفرغ لكتابة شيء فيه يكون لباب اللباب في هذا الباب الذي اختلف فيه الناس، لما غلب التعصب على النفوس ونبذوا مشرب كبار المُحَدِّثِينَ رواة السُنَّة، وهداة الأمة، حتى سنحت لي فرصة كتبت فيها ترجمة حافلة للإمام البخاري جعلتها مفصَّلة بتراجم منوعة كان منها (تخريج البخاري عمَّن رُمي بالابتداع) وهم الذين أُسَمِّيهُمْ (المبدّعين) (1)
ذكرت ثمة ما يناسب تأليف الترجمة، ثم رأيت أن المقام
--------------------------------------------
শেখ জামালউদ্দীন আল-কাসিমী প্রণীত জারহ ওয়া তাদীল (الجرح والتعديل)
এটি একটি মহতী গবেষণা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষা, যা নিয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ মনের মাঝে এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম যে, এমন কিছু লিখব যা এই বিষয়ের মূল নির্যাস হবে; যে বিষয়ে মানুষের মাঝে অনেক মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কেননা মানুষের অন্তরে গোঁড়ামি প্রাধান্য পেয়েছে এবং তারা সুন্নাহর বর্ণনাকারী ও উম্মাহর পথপ্রদর্শক মহান মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) অনুসৃত নীতি বর্জন করেছে। অবশেষে আমি একটি সুযোগ পেলাম যেখানে আমি ইমাম বুখারীর একটি বিস্তারিত জীবনী রচনা করেছি। আমি সেটিকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি, যার একটি ছিল: ‘বিদআতের (بدعة) অপবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইমাম বুখারীর হাদিস বর্ণনা (تخريج) করা’। আমি তাদের ‘মুবাদ্দা’ (مبدعين) (১) হিসেবে অভিহিত করেছি।
সেখানে আমি জীবনী রচনার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। এরপর আমি দেখলাম যে এই স্থানটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৪)
يستدعي زيادة بسط وإسهاب، ودرأ شبهٍ واحتمالات أوردها بعض الفقهاء خالف فيها الحقيقة، فخشيت أن يطول بإيرادها - في ترجمة البخاري - الكلام، ويشبه الخروج عن الموضوع فأفردت تتمة هذا البحث في مقالة خاصة تحيط به من أطرافه، وترده على أنحائه وهذا البحث من جملة المباحث العلمية التي نسيها الخلف أو أضاعوها، ولا غرو أن يذهل عن الغايات من يقصر في البدايات، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
1 - مَنْشَأُ النَّبْزِ بِالابْتِدَاعِ:من المعروف في سنن الاجتماع أن كل طائفة قوي شأنها وكثر سوادها، لا بد أن يوجد فيها الأصيل والدخيل، والمعتدل والمتطرف، والغالي والمتسامح، وقد وجد بالاستقراء أن صوت الغالي أقوى صدى وأعظم استجابة؛ لأن التوسط منزلة الاعتدال، ومن يحرص عليه قليل في كل عصر ومصر، وأما الغلو فمشرب الأكثر، ورغيبة السواد الأعظم، وعليه درجت طوائف الفرق والنحل، فحاولت الاستئثار بالذكرى، والتفرد بالدعوى، ولم تجد سبيلاً لاستتباع الناس لها إلا الغلو بنفسها، وذلك بالحط من غيرها، والإيقاع بسواها، حسب ما تسنح لها الفرص، وتساعدها الأقدار، إن كان بالسنان، أو اللسان.
وأول من فتح هذا الباب - باب الغلو في إطالة اللسان
এটি আরও বিশদ ব্যাখ্যা ও প্রসারের দাবি রাখে এবং কিছু ফকিহ কর্তৃক উত্থাপিত এমন সংশয় ও সম্ভাবনা নিরসনের প্রয়োজন রাখে যা সত্যের বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। আমি আশঙ্কা করেছি যে, ইমাম বুখারীর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় এগুলো উল্লেখ করলে বক্তব্য দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং তা মূল বিষয়ের বাইরে চলে যাওয়ার সদৃশ হবে। তাই আমি এই গবেষণার পরিশিষ্টকে একটি বিশেষ প্রবন্ধে স্বতন্ত্র করেছি যা এর সকল দিককে পরিবেষ্টিত করবে এবং এর যাবতীয় পন্থার প্রত্যুত্তর দেবে। এই গবেষণাটি সেই সকল ইলমি গবেষণার অন্তর্ভুক্ত যা পরবর্তী প্রজন্ম (خلف) ভুলে গেছে অথবা হারিয়ে ফেলেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, যারা প্রারম্ভিক বিষয়ে অবহেলা করে তারা চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্মৃত হয়। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
১ - বিদআতের (ابتداع) অপবাদ আরোপের উৎস:সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি সুপরিচিত যে, প্রতিটি দল যখন শক্তিশালী হয় এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন সেখানে অবশ্যই মূলধারা এবং অনুপ্রবেশকারী (دخيل), মধ্যপন্থী ও উগ্রপন্থী, এবং চরমপন্থী (غالي) ও সহনশীলদের অস্তিত্ব থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চরমপন্থীদের (غالي) কণ্ঠস্বর অধিক জোরালো হয় এবং তাতে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়; কারণ মধ্যপন্থা হলো ভারসাম্যের স্তর, আর প্রতিটি যুগে ও জনপদে এর প্রতি যত্নবান ব্যক্তির সংখ্যা অল্প। পক্ষান্তরে, চরমপন্থা (غلو) অধিকাংশের ঝোঁক এবং জনসাধারণের বড় অংশের কাম্য বিষয়। এভাবেই বিভিন্ন দল ও উপদলসমূহ অগ্রসর হয়েছে। তারা নিজেদের মাহাত্ম্য প্রকাশে এবং একক দাবির অধিকারী হতে চেষ্টা করেছে। তারা নিজেদের সম্পর্কে চরমপন্থা (غلو) অবলম্বন করা ছাড়া মানুষকে নিজেদের অনুগামী করার আর কোনো পথ খুঁজে পায়নি; আর তা হলো সুযোগ ও ভাগ্য সহায় হওয়া অনুযায়ী অন্যের কুৎসা রটনা এবং অন্যকে অপদস্থ করার মাধ্যমে, তা অস্ত্রের মাধ্যমে হোক বা জিহ্বার মাধ্যমে।
আর যারা এই দরজাটি প্রথম উন্মোচন করেছে—অর্থাৎ জিহ্বা ব্যবহারের মাধ্যমে চরমপন্থার (غلو) পথ...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بالمخالفين - الخوارج فأتى قادتهم عامَّتهم من باب التكفير، لتستحكم النفرة من غيرهم، وتقوى رابطة عامَّتهم بهم، ثم سَرى هذا الداء إلى غيرهم، وأصبحت غلاة كل فرقة تكفِّر غيرها وتفسقه أو تبدعه أو تضلله لذاك المعنى نفسه، حتى قيض الله تعالى من الأئمة من قام في وجه أولئك الغلاة، وزيَّف رأيهم، وعرف لخيار كل فرقة قدرهم، وأقام لكل منهم ميزان أمثالهم.
2 - مَنْ شَهَّرَ الرِّوَايَةَ عَنْ المُبَدَّعِينَ، وَقَاعِدَةُ المُحَقِّقِينَ فِي ذَلِكَ:كان من أعظم من صدع بالرواية عنهم الإمام البخاري رضي الله عنه، وجزاه عن الإسلام والمسلمين أحسن الجزاء، فَخَرَّجَ عن كل عالم صدوق ثبت من أي فرقة كان، حتى ولو كان داعية، كعمران بن حطان وداود بن الحصين.
وملأ مسلم " صحيحه " من الرُواة الشيعة (1) فكان الشيخان عليهما الرحمة والرضوان بعملهما هذا قدوة الإنصاف وأسوة الحق الذي يجب الجري عليه، لأنَّ مجتهدي كل فرقة من فرق الإسلام مأجورون أصابوا أو أخطأوا بنص الحديث النبوي.
ثم تبع الشيخين على هذا المُحققون من بعدهما حتى قال شيخ
--------------------------------------------
বিরোধীদের নিয়ে - খারেজিদের ক্ষেত্রে তাদের নেতৃবৃন্দ সাধারণ অনুসারীদের কাছে কাফির সাব্যস্ত করার (التكفير) পথ অবলম্বন করেছিল, যাতে অন্যদের প্রতি ঘৃণা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের সাথে সাধারণ অনুসারীদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। পরবর্তীতে এই ব্যাধি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি দলের চরমপন্থীরা একই কারণে অন্যকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير), পাপাচারী সাব্যস্ত করা (تفسيق), বিদআতি সাব্যস্ত করা (تبديع) কিংবা বিভ্রান্ত সাব্যস্ত করা (تضليل) শুরু করে। পরিশেষে মহান আল্লাহ এমন কিছু ইমামের আবির্ভাব ঘটালেন যারা ঐসব চরমপন্থীদের মোকাবিলা করেছেন, তাদের মতবাদকে অসার প্রমাণ করেছেন, প্রতিটি দলের উত্তম ব্যক্তিদের মর্যাদা অনুধাবন করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য ন্যায়ের মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
২ - যারা বিদআতিদের (المبدعين) নিকট থেকে বর্ণনা (الرواية) করাকে প্রসিদ্ধ করেছেন এবং এ বিষয়ে গবেষকদের (المحققين) মূলনীতি:তাদের থেকে প্রকাশ্যে বর্ণনা (الرواية) গ্রহণকারী মহান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন)। তিনি যে কোনো দলেরই হোক না কেন, প্রত্যেক সত্যবাদী (صدوق) ও নির্ভরযোগ্য (ثبت) আলিমের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, এমনকি তিনি যদি নিজ মতাদর্শের প্রচারক (داعية)-ও হন; যেমন ইমরান বিন হিত্তান এবং দাউদ বিন আল-হুসাইন।
এবং ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থ শিয়া বর্ণনাকারীদের (الرواة) দ্বারা পূর্ণ করেছেন (১)। শায়খাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) তাঁদের এই কর্মের মাধ্যমে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের আদর্শ এবং সত্যের এমন এক পথ প্রদর্শন করেছেন যা অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ ইসলামের প্রতিটি দলের মুজতাহিদগণ (مجتهدي) সওয়াব বা পুরস্কারের অধিকারী, তারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হোন কিংবা ভুল করুন—যা নববী হাদিসের অকাট্য পাঠ দ্বারা প্রমাণিত।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তী গবেষকগণ (المحققون) এই বিষয়ে শায়খাইনকে অনুসরণ করেছেন, এমনকি শায়খ... বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الإسلام الحافظ ابن حجر في " شرح النخبة ": التحقيق أن لا يرد كل مكفَّر ببدعته، لأنَّ كل طائفة تدَّعي أن مخالفيها مبتدعة، وقد تبالغ فتكفر، فلو أخذ ذلك على الإطلاق لاستلزم تكفير جميع الطوائف (قال): والمعتمد أنَّ الذي تُردّ روايته من أنكر أمرًا متواترًا من الشريعة معلومًا من الدين بالضرورة، واعتقد عكسه. وأما من لم يكن كذلك، أو ينضم إلى ذلك ضبطه لما يرويه مع ورعه وتقواه فلا مانع من قبوله. اهـ.
* * *
3 - آفَاتُ الجَرْحِ إِلَاّ بِقَاطِعٍ:قال الإمام ابن دقيق العيد: أعراض المسلمين حفرة من حفر النار وقف على شفيرها طائفتان من الناس: المُحَدِّثُونَ والحكام.
وقال الإمام النووي في " التقريب "، وشارحه السيوطي: أخطأ غير واحد من الأئمة بجرحهم لبعض الثقات بما لا يجرح، كما جرَّح النسائي أحمد بن صالح المصري بقوله: غير ثقة ولا مأمون. وهو ثقة إمام حافظ احتج به البخاري ووثَّقه الأكثرون، قال ابن الصلاح: وذلك لأنَّ عين السخط تبدي مساوئ، لها في الباطن مخارج صحيحة، تُعمي عنها بحجاب السخط، لا أنَّ ذلك يقع منهم تعمدًا للقدح مع العلم ببطلانه. اهـ.
وقال الإمام ابن دقيق العيد: والوجوه التي تدخل الآفة
আল-হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার তাঁর "শারহু নুখবাহ" গ্রন্থে বলেছেন: প্রকৃত সত্য এই যে, বিদআতের কারণে যাদের কাফির সাব্যস্ত করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না, কারণ প্রতিটি দলই দাবি করে যে তাদের বিরোধীরা বিদআতি (مبتدع), এবং তারা কখনো কখনো অতিরঞ্জিত করে কাফির সাব্যস্ত করে। যদি এই নীতিটি ঢালাওভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে তা সকল দলকে কাফির সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে তুলবে। (তিনি বলেন): নির্ভরযোগ্য মত হলো, যার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে সে এমন ব্যক্তি যে শরিয়তের কোনো মুতাওয়াতির (متواتر) বিষয় যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলে অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা অস্বীকার করে এবং এর বিপরীতে বিশ্বাস পোষণ করে। আর যে ব্যক্তি এমন নয়, বরং সে যা বর্ণনা করে তার নির্ভুলতা রক্ষার ক্ষমতা (ضبط)-র পাশাপাশি তার মধ্যে পরহেজগারি ও খোদাভীতি বিদ্যমান থাকে, তবে তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। (সমাপ্ত)।
* * *
৩ - অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত জরাহ বা সমালোচনা (الجرح)-এর আপদসমূহ:ইমাম ইবনু দাকীক আল-ঈদ বলেন: মুসলিমদের সম্মান হলো জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য হতে একটি গর্ত, যার কিনারায় দুই শ্রেণির মানুষ দাঁড়িয়ে আছে: মুহাদ্দিসগণ এবং বিচারকগণ।
ইমাম নববী তাঁর "আত-তাকরীব" গ্রন্থে এবং এর ব্যাখ্যাকার সুয়ূতী বলেছেন: একাধিক ইমাম অনেক নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীকে এমন কিছু বিষয়ের মাধ্যমে জরাহ বা সমালোচনা (جرح) করে ভুল করেছেন যা জরাহ (يجرح) হওয়ার যোগ্য নয়। যেমন নাসাঈ আহমদ ইবনে সালেহ আল-মিসরীকে এই বলে জরাহ (جرَّح) করেছেন যে: 'সে নির্ভরযোগ্য (ثقة) নয় এবং বিশ্বস্ত (مأمون) নয়।' অথচ তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইমাম ও হাফিজ (حافظ); বুখারী তাঁর বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) সাব্যস্ত করেছেন। ইবনুস সালাহ বলেন: এটি এ কারণে যে, অসন্তুষ্টির চোখ কেবল দোষই প্রকাশ করে, যার অন্তরালে সঠিক ব্যাখ্যা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু অসন্তুষ্টির পর্দার কারণে তা দৃষ্টিগোচর হয় না। বিষয়টি এমন নয় যে তারা জরাহ বা নিন্দাটি (القدح) এর অসারতা জানা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন। (সমাপ্ত)।
ইমাম ইবনু দাকীক আল-ঈদ বলেন: আর যে সকল দিক দিয়ে আপদ প্রবেশ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৭)
منها خمسة:
(أحدها) الهوى والغرض وهو شرها، وهو في تاريخ المتأخرين كثير.
(الثاني) المخالفة في العقائد.
(الثالث) الاختلاف بين المتصوفة وأهل علم الظاهر.
(الرابع) الكلام بسبب الجهل بمراتب العلوم وأكثر ذلك في المتأخرين، لاشتغالهم بعلوم الأوائل، وفيها الحق والباطل.
(الخامس) الأخذ بالتوهم مع عدم الورع. وقد عقد ابن عبد الرؤوف بابًا لكلام الأقران المعاصرين بعضهم في بعض، ورأى أنَّ أهل العلم لا يقبل جرحهم إلا ببيان واضح (1)
4 - الوُجُوهُ التِي يُعْرَفُ بِهَا ثِقَةُ الرَّاوِي:قال السيوطي: قال في " الاقتراح ": (2) تُعرف ثقة الراوي بالتنصيص عليه من راويه، أو ذكره في تاريخ الثقات، أو تخريج أحد الشيخين له في الصحيح، وإنْ تُكُلِّم في بعض من خرج له فلا يلتفت إليه، أو تخريج من اشترط الصحة له، أو من خرج على كتب الشيخين. اهـ. فتمت النعمة بتعديل رجال " الصحيحين " ونبذ كل وهم سواه، وبذلك عرف للرجال فضلهم، ولأولي العلم قدرهم، وسن للناس طرح التعصب والتحزب، والتصافح
--------------------------------------------
এসবের মধ্যে পাঁচটি কারণ রয়েছে:
(প্রথমত) কুপ্রবৃত্তি ও হীন উদ্দেশ্য, যা এসবের মধ্যে নিকৃষ্টতম; পরবর্তী যুগের আলেমদের ইতিহাসে এটি অধিক পরিলক্ষিত হয়।
(দ্বিতীয়ত) আকিদাগত বিরোধ।
(তৃতীয়ত) সুফি সমাজ ও বাহ্যিক জ্ঞানচর্চাকারীদের মধ্যকার মতভেদ।
(চতুর্থত) জ্ঞানের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে অজ্ঞতা হেতু সমালোচনা; এটি মূলত পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে অধিক দেখা যায়, কারণ তারা প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ব্যাপৃত ছিলেন, যার মধ্যে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই বিদ্যমান।
(পঞ্চমত) তাকওয়া বা পরহেজগারিতার অভাবের সাথে নিছক ধারণার বশবর্তী হওয়া। ইবনে আবদুর রউফ সমসাময়িক সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের একে অপরের সমালোচনা সম্পর্কে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এবং তিনি মত ব্যক্ত করেছেন যে, বিজ্ঞ আলেমদের কৃত সমালোচনা (جرح) সুস্পষ্ট প্রমাণ ব্যতিরেকে গ্রহণযোগ্য নয়। (১)
৪ - বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) চেনার পদ্ধতিসমূহ:ইমাম সুয়ূতী বলেন: 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (২) বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) জানা যায় তাঁর সম্পর্কে কোনো বর্ণনাকারীর স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে, অথবা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের (الثقات) তালিকায় তাঁর উল্লেখ থাকার মাধ্যমে, অথবা শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) কোনো একজন কর্তৃক তাঁদের সহিহ গ্রন্থে তাঁর হাদিস গ্রহণের মাধ্যমে। যাঁদের হাদিস তাঁরা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে কারও ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করা হয়ে থাকলে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। অথবা এমন কোনো মুহাদ্দিসের হাদিস গ্রহণের মাধ্যমে যিনি কেবল সহিহ (الصحة) হাদিস সংকলনের শর্তারোপ করেছেন, অথবা এমন কোনো সংকলকের মাধ্যমে যিনি দুই শাইখের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে কিতাব রচনা করেছেন। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। এর মাধ্যমে সহিহাইনের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন (تعديل) এবং তা ব্যতিরেকে অন্য সকল সংশয় বর্জনের মাধ্যমে এক মহান নিয়ামত পূর্ণ হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং জ্ঞানীদের মর্যাদা স্বীকৃত হয়েছে এবং এটি মানুষের জন্য গোঁড়ামি ও দলাদলি বর্জন করে পারস্পরিক সদ্ভাবের পথ সুগম করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৮)
على الأخوة الإيمانية، وتبادل الآراء والأفكار، واستماع الحكم ومدارك الاستنباط والاجتهاد من ذويها، على هذا جرى أئمة الحديث، وقادة الروايات، الذين جمعوا ما جمعوا لدلالة الأمَّة على هدي نبيها وسُنَّة رسولها صلى الله عليه وسلم في أقواله وأفعاله، حتى أصبحت مرجع الفروع والأحكام، ومعوَّل الأئمة الأعلام.
5 - زِيَادَةُ إِيضَاحٍ فِي حِكْمَةِ التَّخْرِيجِ عَنْ المُبَدَّعِينَ وَفَوَائِدُ ذَلِكَ:إنَّ تخريج أئمة السُنَّةِ وحفاظ الهدي النبوي - حديث من نُبِذُوا بالابتداع على طبقاتهم - فيه حكمة بليغة، وفائدة عظيمة، ألا وهي النهم بالعلم، والسعي وراءه والجد في طلبه، والتنبه لحفظه من الضياع، وسن نبذ التعصب، والتشيع والتحزب، والتقاط الحكمة من أي قائل. قال حافظ المغرب الإمام ابن عبد البر في كتاب " جامع العلم وفضله " في (باب جامع في الحال التي تنال بها العلم) ما مثاله:
وروينا عن علي رحمه الله أنه قال في كلام له: «العلم ضالة المؤمن، فخذوه ولو من أيدي المشركين، ولا يأنف أحدكم أنْ يأخذ الحكمة مِمَّن سمعها منه». وعنه أيضًا أنه قال: «الحكمة ضالة المؤمن يطلبها ولو في أيدي الشرط». اهـ، فأئمة الحديث رأوا أنَّ السُنَّة من الحكمة بل هي الحكمة - في تفسير الإمام الشافعي كما أوضح ذلك في " رسالته "
ঈমানি ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক মতবিনিময় ও চিন্তার আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনদের নিকট থেকে প্রজ্ঞা (حكمة), মাসআলা উদ্ভাবনী বোধ (استنباط) ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) শ্রবণ—এই নীতির ওপরই হাদিসের ইমামগণ এবং বর্ণনার (روايات) নেতৃবৃন্দ পরিচালিত হয়েছেন। তাঁরা উম্মতকে তাঁদের নবীর হিদায়েত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজের সুন্নাহর (سنة) প্রতি দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য যা কিছু সংগ্রহ করার তা করেছেন, যা পরবর্তীতে খুঁটিনাটি মাসআলা (فروع) ও বিধানের (أحكام) মূল উৎস এবং বরণীয় ইমামগণের নির্ভরস্থলে পরিণত হয়েছে।
৫ - বিদআতী (مبتدعين) বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস চয়ন (تخريج) করার রহস্য ও এর উপকারিতা সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্টীকরণ:সুন্নাহর ইমামগণ ও নববী হিদায়েতের হাফেজগণ (حفاظ)—বিদআতের (ابتداع) অভিযোগে অভিযুক্তদের থেকে তাদের বিভিন্ন স্তর (طبقات) অনুযায়ী হাদিস চয়ন (تخريج) করার মধ্যে এক গভীর প্রজ্ঞা ও মহান উপকারিতা নিহিত রয়েছে। আর তা হলো জ্ঞানের প্রতি প্রবল তৃষ্ণা, এর অন্বেষণে নিরন্তর প্রচেষ্টা ও কঠোর সাধনা এবং জ্ঞান যেন বিলুপ্ত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। সেই সাথে গোঁড়ামি, পক্ষপাতিত্ব (تشيع) ও দলাদলি (تحزب) বর্জনের নীতি প্রবর্তন করা এবং প্রজ্ঞা (حكمة) যে কোনো বক্তার কাছ থেকেই গ্রহণ করা। মাগরিবের হাফেজ (حافظ) ইমাম ইবনে আব্দুল বার তাঁর জামেউল ইলমি ওয়া ফাদলিহি গ্রন্থের 'জ্ঞান অর্জনের অবস্থা সংক্রান্ত অধ্যায়'-এ এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন:
আমরা আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি তাঁর এক বক্তব্যে বলেছেন: "জ্ঞান হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, তাই তা গ্রহণ করো যদিও তা মুশরিকদের (مشركين) নিকট থেকে হয়। আর তোমাদের কেউ যেন যার নিকট থেকে প্রজ্ঞা (حكمة) শুনেছে তার থেকে তা গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ না করে।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "প্রজ্ঞা (حكمة) হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, সে তা তালাশ করে যদিও তা প্রহরীদের (الشرط) হাতে থাকে।" [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]। সুতরাং হাদিসের ইমামগণ মনে করতেন যে সুন্নাহ (سنة) প্রজ্ঞার (حكمة) অন্তর্ভুক্ত, বরং এটিই স্বয়ং প্রজ্ঞা (حكمة)—ইমাম শাফেয়ী তাঁর রিসালাহ গ্রন্থে যেমনটি স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الشهيرة (1) في (باب بيان ما فرض الله من اتباع سُنَّة نبيه صلى الله عليه وسلم) فلذا عمدوا إلى تلقيها من كل ذي علم، واشترطوا للعناية بها أنْ تكون من مسلم عدل صدوق، ثبْت في روايته، ولم يبالوا بما غُمز أو نُبز أو رُمي به، علمًا بأنَّ المسائل النظرية، أو التي دخل على أصولها تأويل بنظر المأول هي من المجتَهد فيها، والمجتهد مأجور أصاب أو أخطأ، فعلام يُترك الأخذ عن المأجور، وقد يكون رأيه هو الحق، ومذهبه هو الأدق - ما دام الأمر فيه احتمال ولا قاطع، أو اعترض النص ما رجعه ظاهرًا - كما يعلمه من أعار نظر الإنصاف مآخذ الأئمة ومداركهم - وقد أوضح جملاً من ذلك الإمام تقي الدين ابن تيمية في كتاب " رفع الملام عن الأئمة الأعلام " (2) فكان أئمة الحديث بهذا - أعني التلقي عن كل عالم ثبت - مثال الإنصاف وكبر العقل، وقدوة كل من يلتمس الحكمة، ويتطلب العلم، فجزاهم الله أحسن الجزاء.
6 - عُقُوقُ الخَلَفِ بِهَجْرِ مَذْهَبِ السَّلَفِ:سبق أني قلت في هذا المعنى كلمة في كتابي " نقد النصائح
--------------------------------------------
সুপ্রসিদ্ধ (১) 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের ব্যাপারে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তার বর্ণনা' অধ্যায়ে; তাই তারা প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির নিকট থেকে তা গ্রহণের সংকল্প করেন, এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে তারা শর্তারোপ করেন যে, বর্ণনাকারীকে হতে হবে একজন মুসলিম, ন্যায়পরায়ণ (عدل), অত্যন্ত সত্যবাদী (صدوق) এবং স্বীয় বর্ণনায় সুদৃঢ় (ثبت)। তারা তার প্রতি কৃত কোনো কটাক্ষ, উপহাস বা অপবাদের তোয়াক্কা করেননি। কেননা তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ অথবা যেগুলোর মূলনীতিতে ব্যাখ্যাকারীর দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা প্রবেশ করেছে, সেগুলো গবেষণালব্ধ (مجتهد فيها) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর গবেষণাকারী (مجتهد) সওয়াবের অধিকারী হন, তিনি সঠিক হোন বা ভুল করুন; সুতরাং কেন এমন সওয়াবপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট থেকে গ্রহণ করা বর্জন করা হবে? অথচ তার মতামতই সত্য হতে পারে এবং তার মাযহাবই হতে পারে অধিকতর সূক্ষ্ম—যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাব্য থাকে এবং কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ না থাকে, অথবা নস (نص) এমন কিছুর সম্মুখীন হয় যা বাহ্যিকভাবে তাকে ফিরিয়ে দেয়—যেমনটি সেই ব্যক্তি জানেন যিনি ইমামগণের দলিলের উৎস ও উপলব্ধির স্থানসমূহের প্রতি ন্যায়নিষ্ঠার দৃষ্টি দিয়েছেন। ইমাম তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ তার "রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম" গ্রন্থে এর বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফলে হাদিসের ইমামগণ এর মাধ্যমে—অর্থাৎ প্রত্যেক সুদৃঢ় (ثبت) আলেম থেকে জ্ঞান গ্রহণের মাধ্যমে—ন্যায়নিষ্ঠা ও মহান বুদ্ধিমত্তার উদাহরণ এবং প্রজ্ঞা ও জ্ঞান সন্ধানীদের জন্য আদর্শে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
৬ - উত্তরসূরিদের অবাধ্যতা: পূর্বসূরিদের আদর্শ বর্জনের মাধ্যমে:আমি ইতোপূর্বে আমার "নকদুন নাসাইহ" গ্রন্থে এ বিষয়ে কিছু কথা বলেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكافية " (1) بعد أنْ سَبَرَتْ رجال من خَرَّجَ لهم الشيخان أو أحدهما في " صحيحيهما " - مِمَّن نُبِزَ بالابتداع - وهي قولي: فترى من هذا أنَّ التنابز بالألقاب والتباغض لأجلها الذي أحدثه المتأخرون بين الأمَّة عقوا به أئمتهم وسلفهم - أمثال البخاري ومسلم والإمام أحمد بن حنبل، ومن ماثلهم من الرُواة الأبرار، وقطعوا به رحم الأخوة الإيمانية الذي عقده تعالى في كتابه العزيز، وجمع تحت لوائه كل من آمن بالله ورسوله، ولم يُفَرِّقْ بين أحد من رسله، فإذن كل من ذهب إلى رأي محتجًّا عليه، ومبرهنًا بما غلب على ظنه، بعد بذل قصارى جهده وصلاح نيته في توخي الحق فلا ملام عليه ولا تثريب؛ لأنه مأجور على أي حال، ولمن قام عنده دليل على خلافه، واتضحت له المحجَّة في غيره، أنْ يجادله بالتي هي أحسن ويهديه إلى سبيل الرشاد، مع حفظ الأخوَّة، والتضافر على المودة والفتوة: هذا ما قلته ثمة مِمَّا يُبيِّنُ أنه لو كانت الفِرق التي رُميت بالابتداع تهجر لمذاهبها وتُعادى لأجلها لَمَا أخرج البخاري ومسلم وأمثالهما لأمثالهم. نعم إنَّ هؤلاء المُبَدَّعِين وأمثالهم لم يكونوا معصومين من الخطأ حتى يعدوهم الانتقاد، ولكن لا يستطيع أحد أنْ يقول: إنهم تَعَمَّدُوا الانحراف عن الحق، ومكافحة
--------------------------------------------
"আল-কাফিয়াহ" (১) গ্রন্থে শায়খাইন (الشيخان) বা তাঁদের কোনো একজন যাঁদের বর্ণনা তাঁদের দুই সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন—যাঁদেরকে নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে—সেই রাবীগণের (رجال) অবস্থা পর্যালোচনা (سبر) করার পর আমার বক্তব্য হলো: আপনি এখান থেকে দেখতে পাবেন যে, উপাধি দিয়ে একে অপরকে বিদ্রূপ করা এবং এ কারণে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা—যা পরবর্তী যুগের লোকেরা উম্মাহর মধ্যে সৃষ্টি করেছে—এর মাধ্যমে তারা আসলে তাদের ইমাম এবং পূর্বসূরিদের (سلف) প্রতি অবাধ্যতা প্রদর্শন করেছে; যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং তাঁদের মতো পুণ্যবান বর্ণনাকারীগণ (رواة)। এর মাধ্যমে তারা ঈমানী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করেছে, যা মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় কিতাবে স্থাপন করেছেন এবং যার পতাকাতলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী সকলকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। সুতরাং, সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় এবং নিয়তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার পর কেউ যদি কোনো মত গ্রহণ করে এবং সেটির সপক্ষে নিজের প্রবল ধারণার (ظن) ভিত্তিতে দলিল (دليل) ও প্রমাণ উপস্থাপন করে, তবে তার ওপর কোনো তিরস্কার বা নিন্দা নেই। কারণ সে যেকোনো অবস্থাতেই সওয়াবপ্রাপ্ত (مأجور)। আর যার কাছে এর বিপরীত দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অন্য কোনো পথ তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তার উচিত উত্তম পন্থায় বিতর্ক করা এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে, ভালোবাসা ও সৌজন্য অক্ষুণ্ণ রেখে তাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া। এটিই আমি সেখানে বলেছিলাম, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, যদি সেই দলগুলো যাদেরকে নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মতাদর্শের কারণে বর্জনীয় হতো এবং তাদের সাথে শত্রুতা করা হতো, তবে বুখারী, মুসলিম এবং তাঁদের মতো ইমামগণ তাঁদের মতো ব্যক্তিদের থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না। হ্যাঁ, উদ্ভাবনকারী হিসেবে অভিযুক্ত (مبدعين) এই ব্যক্তিগণ এবং তাঁদের মতো অন্যান্যেরা ভুলের ঊর্ধ্বে বা নিষ্পাপ (معصومين) ছিলেন না যে তাঁরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবেন; কিন্তু কেউ এটি বলতে পারবে না যে, তাঁরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন এবং সত্যের মোকাবিলা করেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصواب عن سوء نِيَّةٍ، وفساد طوية، وغاية ما يقال في الانتقاد في بعض آرائهم: إنهم اجتهدوا فيه فأخطأوا، وبهذا كان ينتقد على كثير من الأعلام سَلَفًا وَخَلَفًا لأنَّ الخطأ من شأن غير المعصوم، وقد قالوا: المجتهد يخطئ ويصيب، فلا غضاضة ولا عار على المجتهد إنْ أخطأ في قول أو رأي، وإنما الملام على مَنْ ينحرف عن الجادة عَامِدًا مُتَعَمِّدًا، ولا يُتَصَوَّرُ ذلك في مجتهد ظهر فضله وزخر علمه.
7 - رَدُّ القَوْلِ بِمُعَادَاةِ المُبَدَّعِينَ:قدمنا أنَّ رواية الشيخين وغيرهما عن المُبَدَّعِينَ تنادي بواجب التآلف والتعارف، ونبذ التناكر والتخالف، وطرح الشنآن والمحادَّة، والمعاداة والمضارة، لأنَّ ذلك إنما يكون في المحاربين المحادِّين، لا في طوائف تجمعها كلمة الدين، ومن الأسف أنْ يغفل عن هذا الحق من غفل، ويدهش لسماعه المُتَعَصِّبُونَ وَالجَامِدُونَ، ويحق لهم أنْ يذعروا لهذا الحق الذي فَاجَأَهُمْ لأنه مات منذ قضى عصر الرواية والرُواة، وانقضى زمن المُحَدِّثِينَ وَالحُفَّاظَ، ودال الأمر بعد الأخبار النبوية للآراء والأقوال، وصار الحق - بعد أنْ كانت الرجال تعرف به - يعرف بالرجال، وأصبح مشرب أمثال البخاري وغيره نِسْيًا مَنْسِيًّا، ونُشر لواء التعادي والتباغض في الأُمَّةِ وكان مطويًّا، وَسَبَّّبَ على الأُمَّةِ من التفرق والانقسام، ما أورثها الضعف
সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি কোনো মন্দ নিয়ত বা কলুষিত অন্তরের কারণে নয়; বরং তাদের কিছু মতামতের সমালোচনা সম্পর্কে বড়জোর যা বলা যেতে পারে তা হলো: তাঁরা ইজতিহাদ করেছেন এবং তাতে ভুল করেছেন। আর এভাবেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বহু বরণীয় ব্যক্তিত্বের সমালোচনা করা হয়েছে, কারণ ভুল হওয়া নিষ্পাপ (معصوم) নয় এমন সত্তার বৈশিষ্ট্য। আলেমগণ বলেছেন: মুজতাহিদ (مجتهد) ভুলও করেন আবার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সুতরাং কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) যদি কোনো বক্তব্য বা মতামতে ভুল করেন, তবে তাতে তাঁর কোনো হীনম্মন্যতা বা লজ্জা নেই। বরং তিরস্কার তো তার প্রাপ্য, যে জেনেবুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়। আর এমনটি সেই মুজতাহিদের (مجتهد) ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যায় না যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে এবং যাঁর জ্ঞান সুগভীর।
৭ - বিদআতপন্থী (مبدعين) হিসেবে অভিযুক্তদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার মতের খণ্ডন:আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, শায়খাইন ও অন্যদের বর্ণিত বিদআতপন্থী (مبدعين) হিসেবে অভিযুক্তদের থেকে করা বর্ণনা (رواية) পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পরিচিতির আবশ্যকতা এবং অনৈক্য, বিরোধ, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও ক্ষতিকর আচরণ পরিহারের আহ্বান জানায়। কারণ, এসব আচরণ তো কেবল যুদ্ধংদেহী শত্রুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, এমন কোনো দলের ক্ষেত্রে নয় যাদেরকে দ্বীনের বাণী ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে। পরিতাপের বিষয় হলো, যারা এই সত্যটি থেকে গাফেল তারা গাফেলই রয়ে গেছে, আর অন্ধ অনুসারী ও সংকীর্ণমনা ব্যক্তিরা এটি শুনে বিস্মিত হয়। তাদের এই সত্য দর্শনে ভীত হওয়া স্বাভাবিক যা তাদের আকস্মিকভাবে স্পর্শ করেছে; কারণ এটি তো সেই বর্ণনা ও বর্ণনাকারী (رواة)-দের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকেই বিলুপ্ত হয়েছে। সমাপ্ত হয়েছে মুহাদ্দিস (محدثين) ও হাফেজ (حفاظ)-দের সময়। নবিজির সংবাদের পর এখন রাজত্ব কেবল ব্যক্তিগত মতামত ও বক্তব্যের। সত্য—যা এককালে ব্যক্তিদের দ্বারা চেনা যেত—এখন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সত্যকে চেনা হচ্ছে। ইমাম বুখারি ও অন্যদের অনুসৃত পথ এখন সম্পূর্ণ বিস্মৃত। উম্মাহর মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের যে ঝাণ্ডা গুটিয়ে রাখা ছিল, তা এখন উড্ডীন। আর এটি উম্মাহর মধ্যে যে বিভক্তি ও বিভাজন সৃষ্টি করেছে, তা তাদেরকে দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১২)
والانفصام، فبعد أَنْ كان التسامح في التلقي عن الحكماء والفضلاء من أي طبقة - رُكْنًا رَكِينًا في حضارة الإسلام، خلفه التخاذل والتدابر والتعصب والملام، ولم يكف ذاك حتى ادُّعِيَ أنه من الدين، مع أَنَّ الدين يأمر بالتآخي ونبذ التفرق في محكم كتابه المبين.
(ومن العجب) أنْ يقول قائل: لا يلزم من الرواية عنهم عدم معاداتهم، أي يجوز أَنْ نَرْوِي عَنْ رَاوٍ، مع التدين بمعاداتنا له، وبغضنا إياه!
(فنجيب عنه) بأنَّا لا نعرف من قال ذلك من السلف، ولا من ذهب إليه من الأئمة، والرواية يُرَادُ بها هنا تلقي أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وَسُنَّتِهِ، وهديه، وتشريعه، وأقضيته، وفتاويه وشمائله، لتتخذ دِينًا يُدَانُ الله به، وشريعة يُقْضَى بها في التنازع، ومرجعًا تُحَلُّ به المشكلات، فهل يُتلقى ذلك عمن يجب علينا معاداته في الدين؟ وكيف يتصور أنْ نأخذ الدين عمن نرى أنه عدو للدين؟ سبحان الله ما هذا التناقض، إِنَّ من يأمرك الدين بِأَنْ تعاديه لا يبيح لك أَنْ تأخذ دينك وشريعتك وعقيدتك عنه، وَمِنَ المُسَلَّمِ بِأَنَّ هذا الراوي أَدَّاهُ اجتهاده إلى ما رأى، ومن أَدَّاهُ اجتهاده إلى ما رأى كيف يُعَادَى، وقد بذل قصارى جهده، وليس قصده إِلَاّ الحق، والتقرب إلى الله سبحانه وتعالى، وكيف يُعَادَى من أثبت له الشارع الأجر ولو
এবং এই বিচ্ছিন্নতা; যেকোনো স্তরের প্রাজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সহনশীলতা একসময় ইসলামী সভ্যতার একটি সুদৃঢ় ভিত্তি ছিল, তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে অবহেলা, বিমুখতা, গোঁড়ামি ও তিরস্কার। কেবল এতেই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, বরং একে দ্বীনের অংশ হিসেবে দাবি করা হয়েছে; অথচ দ্বীন তার সুস্পষ্ট কিতাবে ভ্রাতৃত্বের এবং বিভেদ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
(আশ্চর্যের বিষয় হলো) কেউ কেউ বলেন: তাদের থেকে বর্ণনা (رواية) করার অর্থ এই নয় যে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা যাবে না। অর্থাৎ, কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ)-র প্রতি ধর্মীয়ভাবে শত্রুতা ও ঘৃণা পোষণ করার সাথে সাথে তার থেকে বর্ণনা (رواية) করা বৈধ!
(এর উত্তরে আমরা বলি) সালাফদের মধ্যে কে এমন কথা বলেছেন বা ইমামগণের মধ্যে কে এমন মত পোষণ করেছেন তা আমাদের জানা নেই। এখানে বর্ণনা (رواية) বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, তাঁর সুন্নাহ, হিদায়াত, বিধান, ফয়সালা, ফতোয়া এবং শামায়েল গ্রহণ করাকে বোঝানো হয়েছে, যাতে একে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা যায় যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়, একে এমন একটি শরীয়ত হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয় এবং এমন একটি উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। সুতরাং যার সাথে দ্বীনি কারণে শত্রুতা পোষণ করা আমাদের ওপর ওয়াজিব, তার থেকে কি এসব গ্রহণ করা সম্ভব? আর যাকে আমরা দ্বীনের শত্রু মনে করি, তার থেকে দ্বীন গ্রহণ করার বিষয়টি কীভাবে কল্পনা করা যায়? সুবহানাল্লাহ! এটি কত বড় স্ববিরোধিতা। প্রকৃতপক্ষে দ্বীন আপনাকে যার সাথে শত্রুতা করার নির্দেশ দেয়, তার থেকে আপনার দ্বীন, শরীয়ত ও আকিদা গ্রহণ করার অনুমতি দেয় না। এটি একটি স্বীকৃত বিষয় যে, এই বর্ণনাকারী (راوٍ) তার ইজতিহাদ দ্বারা যা সঠিক মনে করেছেন সেখানেই উপনীত হয়েছেন। আর যে ব্যক্তি তার ইজতিহাদ দ্বারা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, তার সাথে কীভাবে শত্রুতা করা যায়? অথচ সে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে এবং সত্য ও আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ ছাড়া তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আর যার জন্য শরীয়ত প্রণেতা পুরস্কার নির্ধারণ করেছেন তার সাথে কীভাবে শত্রুতা করা যায়, যদিও...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كان مخطئًا؟ وإنما يُعَادَى الآثم لا المأجور.
8 - رَدُّ القَوْلِ بِتَفْسِيقِ المُبَدِّعِينَ:أغرب من ذلك قول البعض بتفسيق من يبدعه، وإنْ بلغ ذروة الاجتهاد، وأصبح معذورًا لَا مَلَامَ عليه عند الله والملائكة وَالنَبِيِّينَ، لا بل قد تَفَضَّلَ عليه الشارع بالأجر. ومتى عهد تفسيق مجتهد إذا أخطأ في المسائل الاجتهادية؟ وهل يمكن لمثل البخاري - وهو ما هو في نقد الرجال - أنْ يَضُمَّ إلى " صحيحه " من مجتهدي الفِرَقِ من كان فَاسِقاً ليصبح جانب من كتابه مَرْوِيًّا للفسقة وقد جمعه ليجعله حُجَّةً بينه وبين ربه؟ وهل يُعْقَلُ أنْ يجعل رواية الفاسق حُجَّةً عند المولى؟ هذا ما يلزم من تفسيق من يفسق من الرُواة فليحكم المتعصب النظر، وليتدبر في المآل، قبل أنْ يأخذ في المقال.
نعم: ذهبت طائفة إلى تفسيق من خالفهم في شيء من مسائل الاعتقاد - كما نقله الإمام ابن حزم في كتابه " الفصل " (1) إلَاّ أنه قول مردود؛ ولذا قال الإمام ابن حزم رضي الله عنه: «وَذَهَبَتْ طَائِفَةٌ إِلَىَ أَنَّهُ لَا يُكَفَّرُ وَلَا يُفَسَّقُ مُسْلِمٌ بِقَوْلِ قَالَهُ فِيْ اعْتِقَادٍ أَوْ فُتْيَا، وَإِنَّ كُلَّ مَنْ اجْتَهَدَ فِيْ شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فَدَانَ بِمَا رَأَىَ أَنَّهُ
--------------------------------------------
তিনি কি ভুলকারী ছিলেন? বস্তুত শত্রুতা তো পাপাচারীর সাথে করা হয়, সওয়াবপ্রাপ্ত (مأجور) ব্যক্তির সাথে নয়।
৮ - যারা নব উদ্ভাবনকারী (مبدع) সাব্যস্ত করেন তাদের পাপাচারী (تفسيق) বলার অভিমত খণ্ডন:এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো কারো কারো এই অভিমত যে, যাকে তিনি নব উদ্ভাবনকারী (مبدع) হিসেবে গণ্য করেন তাকে পাপাচারী (تفسيق) ঘোষণা করা, যদিও সেই ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে থাকেন এবং মহান আল্লাহ, ফেরেশতামণ্ডলী ও নবীগণের নিকট ওজরপ্রাপ্ত ও নিন্দামুক্ত হন; বরং বিধাতা তাকে সওয়াব (أجر) দান করে অনুগ্রহ করেছেন। আর ইজতিহাদী (اجتهادي) মাসআলাসমূহে ভুল করলে কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-কে পাপাচারী (تفسيق) আখ্যা দেওয়ার নজির কবে দেখা গেছে? আর ইমাম বুখারীর মতো ব্যক্তিত্ব—যিনি রাবী সমালোচনা (نقد الرجال)-এর ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী—তিনি কি তার সহিহ গ্রন্থে বিভিন্ন দলের এমন সব মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন যারা পাপাচারী (فاسق)? যাতে তার কিতাবের একটি অংশ পাপাচারীদের (فسقة) মাধ্যমে বর্ণিত (مروي) বলে গণ্য হয়, অথচ তিনি এই কিতাবটি সংকলন করেছেন একে তার ও তার রবের মাঝে দলিল (حجة) হিসেবে স্থাপন করার জন্য? আর এটা কি বোধগম্য যে, তিনি কোনো পাপাচারীর (فاسق) বর্ণনা (رواية)-কে মাবুদের নিকট দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করবেন? বর্ণনাকারীদের (رواة) যারা পাপাচারী (تفسيق) বলেন, তাদের এ কথা থেকে এমনই আবশ্যক হয়ে পড়ে; সুতরাং গোঁড়া ব্যক্তিদের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো কথা বলার আগে তার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করা।
হ্যাঁ, একটি দল তাদের বিরোধিতাকারীদের আকীদাগত (اعتقاد) বিষয়ে পাপাচারী (تفسيق) বলার দিকে গিয়েছে—যেমনটি ইমাম ইবনে হাজম তার আল-ফাসল কিতাবে উল্লেখ করেছেন (১)—তবে এটি একটি প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) মত; আর এজন্যই ইমাম ইবনে হাজম রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: «একটি দল মনে করে যে, কোনো মুসলিমকে তার আকীদা (اعتقاد) বা ফতোয়া (فتيا) সংক্রান্ত কোনো বক্তব্যের কারণে কাফির (تكفير) বা পাপাচারী (تفسيق) বলা যাবে না। আর যে ব্যক্তি এসব বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছে এবং তার দৃষ্টিতে যা সঠিক বলে মনে হয়েছে সেই অনুযায়ী আমল করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحَقُّ فَإِنَّهُ مَأْجُوْرٌ عَلَىَ كُلِّ حَالٍ: إِنْ أَصَابَ الْحَقَّ فَأَجْرَانَ، وَإِنْ أَخْطَأَ فَأَجْرٌ وَاحِدٌ». قَالَ: «وَهَذَا قَوْلُ ابْنِ أَبِيْ لَيْلَىَ وَأَبِي حَنِيفَةَ وَالْشَّافِعِيِ وَسُفْيَانَ الْثَّوْرِيِّ وَدَاوُدُ بْنِ عَلِيٍّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْ جَمِيْعِهِمْ -، وَهُوَ قَوْلُ كُلِّ مِنْ عَرَفْنَا لَهُ قَوْلاً فِيْ هَذِهِ المَسْأَلَةِ مِنْ الصََّحَابَةِ رضي الله عنهم، لَا نَعْلَمُ مِنْهُمْ فِيْ ذَلِكَ خِلَافًا أَصْلاً». اهـ ـ كلامه.
فأين هذا من التَسَرُّعِ في التفسيق، وتقليد من قاله من المتأخرين المقلدين، الذين ليسوا بأئمة متبوعين، ولا قولهم حُجَّةً في الدين، ولا استندوا إلى دليل أو برهان {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} (1).
9 - خَطَرُ النَّبْزِ بِالفِسْقِ وَمَعْنَى الفِسْقِ:إنَّ النَّبْزَ بالفسق ليس بالأمر السهل، لأنَّ الفسق كثيرًا ما جاء في القرآن الكريم مقابلاً للإيمان - كآية: {أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا} (2) وأمثالها، ولذا قيل بأن عطف قوله تعالى {وَالْفُسُوقَ} على قوله {الْكُفْرَ} عطف تفسير - في آية: {وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ} (3) وإن احتمل أَنْ يكون غيره إشارة إلى نوع آخر، إلَاّ أَنَّ النظائر والأشباه في موارده في التنزيل تدل على أنه عطف تفسير، وَهَبْ أنه كان غير الكفر فهو شيء قريب منه، ونوع أنزل منه بدرجة، وناهيك به.
--------------------------------------------
সত্য তালাশকারী সর্বাবস্থায় সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন: যদি তিনি সত্যে উপনীত হতে পারেন তবে দুই গুণ সওয়াব, আর যদি ভুল করেন তবে এক গুণ সওয়াব। তিনি বলেন: "এটিই ইবনে আবি লায়লা, আবু হানিফা, শাফিয়ি, সুফিয়ান সাওরি এবং দাউদ বিন আলীর—আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন—অভিমত। আর এই মাসআলায় যে সকল সাহাবীর—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—বক্তব্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তাদের সকলের অভিমতও এটাই। এ বিষয়ে তাদের মাঝে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই।" তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
ফাসিক সাব্যস্ত করার (تفسيق) ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা, এবং পরবর্তী যুগের সেই সকল মুকাল্লিদদের অন্ধ অনুকরণ করার সাথে এই সত্যের কী সম্পর্ক, যারা অনুসরণীয় ইমাম নন, যাদের কথা দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো প্রমাণ (حجة) নয়, আর তারা কোনো দলীল বা প্রমাণের ওপর নির্ভরও করেননি। {বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো’} (১)।
৯ - ফাসিক বলে অপবাদ দেওয়ার ভয়াবহতা এবং ফিসকের অর্থ:নিশ্চয়ই কাউকে ফাসিক (فاسق) বলে অভিহিত করা সহজ কোনো বিষয় নয়, কারণ কুরআনুল কারীমে 'ফিসক' (فسق) শব্দটি প্রায়শই ঈমানের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে—যেমন আয়াত: {তবে কি যে ব্যক্তি মুমিন, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে ফাসিক (فاسق)?} (২) এবং অনুরূপ অন্যান্য আয়াত। এই কারণেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের নিকট কুফরি ও ফিসক (فسوق)-কে অপছন্দনীয় করেছেন} (৩)—এই আয়াতে 'কুফরি'-র পর 'ফিসক'-এর ব্যবহার মূলত ব্যাখ্যামূলক সংযোজন (عطف تفسير)। যদিও এর দ্বারা ভিন্ন কোনো প্রকারের ইঙ্গিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও কুরআনের বর্ণনাভঙ্গিতে এর সমজাতীয় উদাহরণগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, এটি একটি ব্যাখ্যামূলক সংযোজন (عطف تفسير)। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটি কুফর ছাড়া অন্য কিছু, তবে তা কুফরেরই নিকটবর্তী কিছু এবং তার চেয়ে মাত্র এক স্তর নিচের বিষয়, আর এটিই (ভয়াবহতার জন্য) যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فَسَقَ فُسُوقًا مِنْ بَابِ قَعَدَ خَرَجَ عَنْ الطَّاعَةِ وَالاسْمُ الْفِسْقُ وَيَفْسِقُ بِالْكَسْرِ لُغَةٌ حَكَاهَا الْأَخْفَشُ فَهُوَ فَاسِقٌ وَالْجَمْعُ فُسَّاقٌ وَفَسَقَةٌ
وإليك ما قاله فيه أئمة اللغة وفلاسفتها. ققال الجوهري في " الصَحَاحِ ": «فَسَقَ الرَّجُلُ فَجَرَ، وَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَيْ: خَرَجَ».
وفي " المصباح ": «فَسَقَ فُسُوقًا: خَرَجَ عَنِ الطَّاعَةِ، خَرَجَ عَنْ الطَّاعَةِ وَالاسْمُ الْفِسْقُ
… ، وَيُقَالُ أَصْلُهُ خُرُوجُ الشَّيْءِ مِنْ الشَّيْءِ عَلَى وَجْهِ الْفَسَادِ. يُقَالُ: فَسَقَتْ الرُّطَبَةُ إذَا خَرَجَتْ مِنْ قِشْرِهَا».
وفي " القاموس ": «الفِسْقُ، بالكسرِ: التَّرْكُ لأَمْرِ اللهِ تعالى، والعِصْيانُ، والخُرُوجُ عَنْ طََرِيقِِ الحَقِّ، أَوِ الفُجُورِ، كَالفُسُوقِِ».
وقال الإمام الراغب الأصفهاني في " مفرداته ": «فَسَقَ فُلَانٌ: خَرَجَ عَنْ حَجْرِ الْشَّرْعِ، وَذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِمْ: فَسَقَ الرَّطْبُ: إِذَا خَرَجَ عَنْ قِشْرِهِ. وَهُوَ أَعَمُّ مِنْ الْكُفْرِ». (قَالَ): «وَالفِسْقُ يَقَعُ بِالقَلْيِلِ مِنَ الذُّنُوبِ وَبِالكَثِيرِ، لَكِنْ تُعُورِفَ فِيْمَا كَانَ كَثِيرًا، وَأَكْثَرُ مَا يُقَالُ الْفَاسِقَ لِمَنْ الْتَزَمَ حُكْمَ الشَّرْعِ وَأَقَرَّ بِهِ، ثُمَّ أَخَلَّ بِجَمِيعِ أَحْكَامِهِ أَوْ بِبَعْضِهِ. وَإِذَا قِيَلَ لِلْكَافِرِ الأَصْلِيِّ فَاسِقٌ - فَلأَنَّهُ أَخَلَّ بِحُكْمِ مَا أَلْزَمَهُ الْعَقْلُ وَاقْتَضَتْهُ الفِطْرَةُ». (إِلَىَ أَنْ قَالَ): «[فَالفَاسِقُ] أَعَمُّ مِنَ الكَافِرِ». اهـ.
وقال الإمام محمد بن مُرتضى اليماني في كتابه " إيثار الحق " في (فَصْلٌ فِيْ الْفِسْقِ) مَا نَصُّهُ: «وَأَمَّا الْعُرْفُ المُتَأَخِّرُ: فَالَفِسْقُ يَخْتَصُّ بِالكَبِيرَةِ مِنَ المَعَاصِي مِمَّا لَيْسَ بِكُفْرٍ، وَالفَاسِقُ يَخْتَصُّ بمُرْتَكِبِهَا». اهـ.
فأنت ترى من هذا كله أَنَّ الفسق مدلوله الكبائر والمعاصي
'ফাসাকা' (فَسَقَ) শব্দটি 'ক্বাদা' (قَعَدَ) পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ হলো আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া, এর বিশেষ্য হলো পাপাচার (الْفِسْقُ)। আভিধানিক ভাষায় এটি 'ইয়াফসিকু' (يَفْسِقُ) হিসেবেও ব্যবহৃত হয় যা আল-আখফাশ উল্লেখ করেছেন। এর কর্তার রূপ হলো পাপাচারী (فَاسِقٌ) এবং এর বহুবচন হলো 'ফুস্সাক' (فُسَّاقٌ) ও 'ফাসাকাহ' (فَسَقَةٌ)।
ভাষা বিশেষজ্ঞ ইমাম এবং দার্শনিকগণ এ বিষয়ে যা বলেছেন তা আপনার সমীপে তুলে ধরা হলো। আল-জাওহারী তাঁর আস-সাহাহ গ্রন্থে বলেছেন: «ব্যক্তিটি পাপাচার করল (فَسَقَ) অর্থাৎ সে অবাধ্যতা (فَجَرَ) করল। আর সে তার রবের নির্দেশ থেকে পাপাচার (فَسَقَ) করল অর্থাৎ সে বের হয়ে গেল (خَرَجَ)»।
আর আল-মিসবাহ গ্রন্থে রয়েছে: «অবাধ্যতা (فُسُوقًا) করা অর্থাৎ আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া; আনুগত্য থেকে বের হয়ে আসা এবং এর বিশেষ্য হলো পাপাচার (الْفِسْقُ)
… , বলা হয়ে থাকে যে, এর মূল অর্থ হলো কোনো জিনিসের কলুষিত হওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য জিনিস থেকে বেরিয়ে আসা। যেমন বলা হয়: খেজুরটি খোসা থেকে বেরিয়ে এল (فَسَقَتْ الرُّطَبَةُ) যখন সেটি তার ত্বক বা খোসা থেকে বের হয়ে যায়»।
আর আল-কামুস গ্রন্থে আছে: «পাপাচার (الفِسْقُ) হলো মহান আল্লাহর নির্দেশ পরিত্যাগ করা, অবাধ্যতা (العِصْيانُ), সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া অথবা পাপাচার করা, যেমন ফাসুকু (الفُسُوقِ)»।
ইমাম রাغب আল-আসফাহানী তাঁর মুফরাদাত গ্রন্থে বলেছেন: «অমুক ব্যক্তি পাপাচার করল (فَسَقَ): অর্থাৎ সে শরয়ি সীমালঙ্ঘন করল। এটি তাদের এই উক্তি থেকে এসেছে: খেজুরটি খোসা ছেড়ে বেরিয়ে এল (فَسَقَ الرَّطْبُ), অর্থাৎ যখন সেটি তার খোসা থেকে বিচ্যুত হয়। আর এটি কুফরের (الْكُفْرِ) চেয়ে অধিক ব্যাপক»। (তিনি বলেন): «অল্প বা অধিক পাপাচারের মাধ্যমে পাপাচার (الفِسْقُ) সংঘটিত হয়, তবে সচরাচর অধিক পাপাচারের ক্ষেত্রেই এটি প্রচলিত। পাপাচারী (الْفَاسِقُ) সাধারণত সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে শরয়ি বিধান পালনের অঙ্গীকার করেছে এবং তা স্বীকার করে নিয়েছে, অতঃপর তার সমস্ত বিধান বা কোনো কোনো বিধান ভঙ্গ করেছে। আর যদি জন্মগত কাফেরকে পাপাচারী (فَاسِقٌ) বলা হয়, তবে তা একারণে যে সে তার বিবেক ও ফিতরাতের দাবি অনুযায়ী অবশ্যপালনীয় বিধান লঙ্ঘন করেছে»। (তিনি আরও বলেন): «সুতরাং পাপাচারী (فَالفَاسِقُ) শব্দটি কাফের (الكَافِرِ) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক»। সমাপ্ত।
ইমাম মুহাম্মদ বিন মুরতাজা আল-ইয়ামানী তাঁর ঈসারুল হক কিতাবের 'পাপাচার বিষয়ক পরিচ্ছেদ'-এ (فَصْلٌ فِيْ الْفِسْقِ) যা লিখেছেন তার ভাষ্য হলো: «পরবর্তীকালের পরিভাষায় পাপাচার (الفِسْقُ) কুফর (كُفْرٍ) নয় এমন সব কবিরা গুনাহর (الكَبِيرَةِ) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর পাপাচারী (الفَاسِقُ) বলতে সেই কবিরা গুনাহকারীকে বোঝানো হয়»। সমাপ্ত।
সুতরাং আপনি উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখতে পাচ্ছেন যে, পাপাচারের (الفسق) মূল অর্থ হলো কবিরা গুনাহ (الكبائر) এবং নাফরমানি (المعاصي)।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العظائم لأنه دائر بين الكفر وما يقرب منه، وإذا كان هذا مدلوله الشرعي، ومعناه العرفي، فكيف يجوز أَنْ يوصف به عالم ثَبْتٌ ثِقَةٌ من ذوي الألباب وأولي الاجتهاد لِمُجَرَّدِ أنه أداه اجتهاده إلى رأي يخالف غيره مع أنه لم يقصد إلا الحق، ولم يتوخَّ إلا ما رآه الأَوْفَقَ، إذ لم يَأْلُ جُهْدًا في اهتمامه بما يراه الصَّوَابَ، وَإِنْ كان في نظر غيره على خلاف ذلك، إذ هذا من لوازم المسائل النظرية، ومتى عُهِدَ أن يُفَسَّقَ المُخَالِفَ فِيهَا أَوْ يُضَلَّلَ، لا جرم أنه بدعة قبيحة، وجناية في الدين كبيرة.
وقد قال كثير من أئمة التفسير في قوله تعالى: {وَلَا تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ} (1) هُوَ قَوْلُ الرَّجُلِ لِلْرَّجُلِ: يَا فَاسِقُ. رواه ابن جرير عن مجاهد وعكرمة. وقال قتادة: «يَقُولُ تَعَالَى: لَا تَقُلْ لأَخِيكَ المُسْلِمَ: ذَاكَ فَاسِقٌ، ذَاكَ مُنَافِقٌ، نَهَى اللهُ المُسْلِمَ عَنْ ذَلِكَ وَقَدَّمَ فِيهِ» (2). وقال ابن زيد: «هُوَ تَسْمِيَتُهُ بِالأَعْمَالِ السَيِّئَةِ بَعْدَ الإِسْلَامِ، زَانٍ فَاسِقٌ» (ثم قال ابن جرير): «وَالتَّنَابُزُ بِالأَلْقَابِ هُوَ دُعَاءُ المَرْءِ صَاحِبَهُ بِمَا يَكْرَهُهُ مِنْ اسْمٍ أَوْ صِفَةٍ، وَعَمَّ اللهُ بِنَهْيِهِ ذَلِكَ وَلَمْ يُخَصِّصْ بِهِ بَعْضَ الأَلْقَابِ دُونَ بَعْضٍ، فَغَيْرُ جَائِزٍ لأَحَدِ المُسْلِمِينَ أَنْ يَنْبَزَ أَخَاهُ بِاسْمٍ يَكْرَهُهُ، أَوْ صِفَةٍ يَكْرَهُهَا». (ثم قال): «وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} (3) أَيْ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ مِنْ نَبْزِهِ أَخَاهُ بِمَا نَهَى اللهُ عَنْ نَبْزِهِ مِنَ الأَلْقَابِ، أَوْ لَمْزِهِ إِيَّاهُ أَوْ سُخْرِيَّتِهِ مِنْهُ، فَأُولَئِكَ هُمُ الذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ
--------------------------------------------
এটি গুরুতর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি কুফরি (كفر) এবং এর নিকটবর্তী বিষয়গুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়। আর যেহেতু এটিই এর শরয়ী ও প্রচলিত অর্থ, তবে কীভাবে একজন সুদৃঢ় (ثبت) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) আলেম, যিনি বিচক্ষণ ও ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্য, তাঁকে কেবল এজন্য এই বিশেষণে বিশেষিত করা বৈধ হতে পারে যে, তাঁর গবেষণা (اجتهاد) তাঁকে এমন এক মতামতের দিকে পরিচালিত করেছে যা অন্যের পরিপন্থী? অথচ তিনি কেবল সত্যেরই অন্বেষণ করেছেন এবং যা অধিকতর উপযুক্ত মনে করেছেন তা-ই অনুসরণ করেছেন। তিনি যা সঠিক মনে করেছেন সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে কোনো ত্রুটি করেননি, যদিও অন্যের দৃষ্টিতে তা এর বিপরীত হতে পারে। কেননা এটি তাত্ত্বিক (نظرية) মাসআলাগুলোর অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। আর এ ধরনের বিষয়ে বিরোধিতাকারীকে কবে থেকে পাপাচারী (فاسق) বা পথভ্রষ্ট (مضلل) আখ্যা দেওয়ার রীতি প্রচলিত হলো? নিঃসন্দেহে এটি একটি কদর্য বিদআত (بدعة) এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে এক বড় অপরাধ।
অনেক তাফসির বিশেষজ্ঞ ইমাম মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না} (১) প্রসঙ্গে বলেছেন: এটি হলো এক ব্যক্তির অন্য ব্যক্তিকে ‘হে পাপাচারী (فاسق)’ বলা। এটি ইবনে জারির মুজাহিদ ও ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন। কাতাদাহ বলেন: “আল্লাহ তাআলা বলছেন: তুমি তোমার মুসলিম ভাইকে বোলো না: ও পাপাচারী (فاسق), ও মুনাফিক (منافق); আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের এ থেকে নিষেধ করেছেন এবং এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন” (২)। ইবনে যায়েদ বলেন: “এটি হলো ইসলাম গ্রহণের পর তাকে মন্দ আমলের মাধ্যমে নামকরণ করা, যেমন ব্যভিচারী (زان) বা পাপাচারী (فاسق)।” (এরপর ইবনে জারির বলেন): “মন্দ উপাধিতে ডাকা হলো কোনো ব্যক্তিকে এমন নাম বা বৈশিষ্ট্য দ্বারা ডাকা যা সে অপছন্দ করে। আল্লাহ তাঁর নিষেধাড্ডাকে ব্যাপক করেছেন এবং নির্দিষ্ট কোনো উপাধিকে অন্য উপাধির ওপর পৃথক করেননি। সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে এমন কোনো নামে ডাকা বৈধ নয় যা সে অপছন্দ করে, অথবা এমন কোনো বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করা যা সে অপছন্দ করে।” (অতঃপর তিনি বলেন): “মহান আল্লাহর বাণী: {যারা তওবা করে না, তারাই জালেম (ظالمون)} (৩) অর্থাৎ, আল্লাহ যে সকল মন্দ উপাধি দিয়ে ডাকতে নিষেধ করেছেন তা থেকে যে তওবা করে না, অথবা যে অন্যকে দোষারোপ করে কিংবা বিদ্রূপ করে, তারাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فأكسبوها عقاب الله بركوبهم ما نهاهم عنه. ولما لم يكن عند من يرمي أخاه بالفسق إلا الظن. جاء النهي عن سوء الظن إثر تلك الآية في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ} (1) ولما كان الرمي بالفسق مدعاة لتفرق القلوب، وإثارة الشحناء على عكس حكمة الله تعالى في خلقه الخلق للتعارف والتآلف، جاء ذلك على إثر ما تقدم بقوله سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (2). فليتدبر المُتَّقِي هذه الآيات الكريمة وليقف عند أوامرها وزواجرها، وليعتبر وليستعبر.
قال السيد الطباطبائي في " المفاتيح " (3): «الفسق أن يتحقق بفعل المعصية المخصوصة مع العلم بكونها معصية، أما مع عدمه، بل مع اعتقاد أنه طاعة، بل من أمهات الطاعات فلا. والأمر في المخالف للحق كذلك؛ لأنه لا يعتقد المعصية، بل يزعم أن اعتقاده من أهم الطاعات سواء كان اعتقاده صادرًا عن نظر أو تقليد، ومع ذلك لا يتحقق الفسق، وإنما يتفق ذلك ممن
--------------------------------------------
ফলে তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো করার মাধ্যমে নিজেদের ওপর আল্লাহর শাস্তিকে অবধারিত করে নিল। আর যেহেতু যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর পাপাচারিতার (فسق) অপবাদ আরোপ করে, তার কাছে প্রবল ধারণা (ظن) ব্যতীত আর কোনো ভিত্তি থাকে না, তাই উক্ত আয়াতের পরপরই মন্দ ধারণা (سوء الظن) পোষণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা (ظن) থেকে বেঁচে থাকো; কারণ কোনো কোনো ধারণা (ظن) পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} (১) আর যেহেতু পাপাচারিতার (فسق) অপবাদ দেওয়া অন্তরের অনৈক্য এবং বিদ্বেষ সৃষ্টির কারণ—যা মহান আল্লাহর সৃষ্টির হিকমতের পরিপন্থী, যেখানে তিনি মানবজাতিকে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সৃষ্টি করেছেন—তাই পূর্বোক্ত আলোচনার রেশ ধরে মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, আর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} (২)। অতএব, পরহেযগার ব্যক্তির উচিত এই মহান আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং এর আদেশ ও নিষেধের সামনে নিজেকে সমর্পণ করা; আর তা থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা।
সাইয়্যেদ তাবাতাবায়ী 'আল-মাফাতিহ' (৩) গ্রন্থে বলেছেন: «পাপাচার (فسق) কেবল তখনই সাব্যস্ত হয়, যখন কেউ কোনো কাজকে পাপাচার (معصية) জেনেও সেই নির্দিষ্ট পাপাচারটি (معصية) করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করে। পক্ষান্তরে জ্ঞান না থাকলে, বরং যদি সে বিষয়টিকে আনুগত্যের (طاعة) কাজ বলে বিশ্বাস করে—এমনকি মৌলিক ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করে—তবে তা পাপাচার বলে গণ্য হবে না। সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারীর বিষয়টিও তদ্রূপ; কারণ সে একে পাপাচার (معصية) মনে করে না, বরং সে ধারণা করে যে, তার এই বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুগত্যের (طاعة) অন্তর্ভুক্ত। চাই তার এই বিশ্বাস নিজস্ব গবেষণা বা বিচার-বুদ্ধিপ্রসূত হোক কিংবা তাকলিদ বা অনুকরণের মাধ্যমে হোক; এমতাবস্থায় পাপাচার (فسق) সাব্যস্ত হবে না। বরং এটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يعاند الحق مع علمه به، وهذا لا يكاد يَتَّفِقُ، وإن تَوَهَّمَهُ من لا علم له. اهـ.
فترى من العجب بعد ما ذكرناه أن يُوسَمَ بالفسق من لا يحل وَسْمُهُ بِهِ؛ لأن معناه لا ينطبق عليه بوجه ما، على أنه ورد تسمية رُوَّاةِ الحديث خلفاء فيما رواه الطبراني والخطيب وابن النجار وغيرهم عن عَلِيٍّ مرفوعًا «اللَّهُمَّ ارْحَمْ خُلَفائِي الذِينَ يَأتُونَ مِنْ بَعْدِي، يَرْوُونَ أحادِيثي وسُنَّتِي ويُعَلِّمُونَها النَّاسَ».
إذا علمت هذا فماذا يقال في هؤلاء المُفَسِّقِينَ؟ أجهلوا المعنى العُرْفِيَّ للفسق، أم تجاهلوا؟ أم اجتهدوا فأداهم اجتهادهم أم قَلَّدُوا؟ لا غَرْوَ أنهم جهلوا وَقَلَّدُوا، ويا ليتهم قَلَّدُوا إِمَامًا مَتْبُوعًا، بل قَلَّدُوا أواخر المقلدة الجامدة المتعصبة. ولو نظروا في تراجم الرجال، وتدبروا سيرة كثير من أولئك المُبَدَّعِينَ الأبطال، لعلموا أن رميهم بالفسق يكاد أن يهتز له العرش. خذ لك مَثَلاً من شيوخ المعتزلة عمرو بن عبيد، وانظر في ترجمته إلى زهده وتقواه. قال الذهبي في " الميزان ": «وقد كان المنصور الخليفة العباسي الشهير يخضع لزهد عمرو وعبادته يقول شعرًا:
[كُلُّكُم يَمْشِي رُوَيْد] *
… *
… * كُلُّكُم يَطْلُبُ صَيْد
غَيْرَ عَمْرِو بن عُبَيْد
وذكر ابن قتيبة في " المعارف " أن المنصور رَثَى عمرو بن عبيد فقال شِعْرًا:
সত্য জানার পরেও তার বিরুদ্ধাচরণ করা; আর এটি সচরাচর ঘটে না, যদিও জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা এমন ধারণা করে থাকে। ইতি।
আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পর এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় যে, এমন ব্যক্তিকে পাপাচারী (فسق) হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যাকে সেভাবে অভিহিত করা বৈধ নয়; কারণ কোনোভাবেই এই অর্থের প্রয়োগ তার ওপর খাটে না। অথচ তাবারানি, খাতিব, ইবনুন নাজ্জার এবং অন্যরা আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মারফু (مرفوعًا) হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة الحديث) খলিফা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে: "হে আল্লাহ! আমার খলিফাদের ওপর রহম করুন, যারা আমার পরে আসবে, যারা আমার হাদিস ও সুন্নাহ বর্ণনা করবে এবং তা মানুষকে শিক্ষা দেবে।"
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই পাপাচারী সাব্যস্তকারীদের (مفسقين) সম্পর্কে কী বলা হবে? তারা কি পাপাচারের (فسق) পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, নাকি না জানার ভান করেছে? নাকি তারা ইজতিহাদ (اجتهدوا) করেছে এবং তাদের ইজতিহাদ (اجتهادهم) তাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে? নাকি তারা তাকলিদ (قلدوا) করেছে? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা অজ্ঞ ছিল এবং অন্ধ অনুসরণ বা তাকলিদ (قلدوا) করেছিল। আর হায়! তারা যদি কোনো অনুসরণীয় ইমামের তাকলিদ (قلدوا) করত! বরং তারা পরবর্তী যুগের রক্ষণশীল ও গোঁড়া মুকাল্লিদদের (مقلدة) তাকলিদ (قلدوا) করেছে। তারা যদি বর্ণনাকারীদের জীবনীর (تراجم الرجال) দিকে দৃষ্টি দিত এবং বিদআতি সাব্যস্তকৃত (مبدعين) সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অনেকের জীবনচরিত নিয়ে চিন্তা করত, তবে তারা বুঝতে পারত যে, তাদেরকে পাপাচারী (فسق) হিসেবে অভিযুক্ত করার কারণে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠার উপক্রম হয়। উদাহরণস্বরূপ আপনি মুতাজিলাদের অন্যতম শায়খ আমর ইবন উবাইদকে গ্রহণ করুন এবং তার জীবনীতে (ترجمة) তার যুহদ ও তাকওয়া লক্ষ্য করুন। যাহাবি মিজান গ্রন্থে বলেছেন: "বিখ্যাত আব্বাসীয় খলিফা মানসুর আমরের যুহদ ও ইবাদতের সামনে বিনত হতেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতেন:
[তোমরা সবাই ধীর পদক্ষেপে চলো] *
… *
… * তোমাদের প্রত্যেকেই শিকার অন্বেষণ করো
আমর ইবন উবাইদ ব্যতীত
ইবন কুতাইবা আল-মাআরিফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মানসুর আমর ইবন উবাইদের মৃত্যুতে শোকগাথা পাঠ করেছিলেন এবং এই কবিতাটি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صَلَّى الإِلَهُ عَلَيْكَ مِنْ مُتَوَسِّدٍ *
… *
… * قَبْرًا مَرَرْتُ بِهِ عَلَى مَرَّانِ
قَبْرًا تَضَمَّنَ مُؤْمِنًا مُتَحَنِّفًا *
… *
… * صَدَقَ الإِلَهُ وَدَانَ بِالْقُرْآنِ
فَلَوْ أَنَّ الدَّهْرَ أَبْقَى صَالِحًا *
… *
… * أَبْقَى لَنَا حَقًّا أَبَا عُثْمَانَ
هذا هو التوثيق - أعني توثيق الملوك - لأن كلام الملوك ملوك الكلام. وما غمز به فكله - إن أنصفت - من عَصَبِيَّةِ التَمَذْهُبِ، والجمود في التعصب.
نحن لا نقول هذا تَحَزُّبًا للمعتزلة أو لغيرهم معاذ الله فإنا في الرأي مستقلون، ولسنا بمقلدين ولا متحزبين، ولكن هو الحق والإنصاف، وما قولك في قوم يرون مرتكب الكبيرة كَافِرًا أَوْ مُخَلَّدًا في النار؟ أليس في هذا نهاية التعظيم للدين، وغاية الابتعاد عن المعاصي، والإشعار بامتلاء القلب من خشية الله بما يزع عن الكذب والافتراء؟ بلى! وألف بلى! فَأَنَّى يَسْتَجِيزُ عاقل بعد ذلك تفسيقهم وهم على ما رأيت من التمسك بدين الله، والتصلب في المحافظة على حدوده؟ فتدبر وأنصف، على أن خبر الفاسق مرغوب عنه في نظر العقل، ساقط الاحتجاج به في أصول الشرع، ولذا أمرنا بأن نَتَبَيَّنَهُ ولا نلوي عليه بادئ بَدْءٍ، فكيف يحكم صاحبه فِي السُنَّةِ والأحكام؟
قال الإمام الحُجَّة مسلم في " مقدمة صحيحه " في باب وجوب
আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন হে শায়িত ব্যক্তি...
… *
… * মাররান নামক স্থানে যে কবরের পাশ দিয়ে আমি অতিক্রম করেছি।
একটি কবর যা ধারণ করে আছে একজন একনিষ্ঠ মুমিনকে...
… *
… * যিনি আল্লাহকে সত্য মেনেছেন এবং কুরআনের অনুসারী হয়েছেন।
যদি মহাকাল কোনো নেককার মানুষকে দীর্ঘজীবী করত...
… *
… * তবে আমাদের জন্য অবশ্যই আবু ওসমানকে টিকিয়ে রাখত।
এটিই হলো নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) — আমার উদ্দেশ্য হলো রাজাদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ — কারণ রাজাদের কথা হলো কথার রাজা। আর তার ব্যাপারে যে সমালোচনা বা দোষারোপ করা হয়েছে, তার সবটুকুই — যদি আপনি ইনসাফ করেন — মাযহাবি গোঁড়ামি এবং অন্ধ পক্ষপাতের ফল।
আমরা মুতাজিলা বা অন্য কারো পক্ষাবলম্বন করে একথা বলছি না, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! কেননা আমরা মতামতের ক্ষেত্রে স্বাধীন, আর আমরা অন্ধ অনুসারী (مقلد) নই এবং কোনো দলের পক্ষপাতিও নই; বরং এটিই সত্য এবং ইনসাফ। আর এমন এক কওম সম্পর্কে আপনার অভিমত কী হবে, যারা কবিরা গুনাহগারকে কাফের (كافر) অথবা জাহান্নামে চিরস্থায়ী (مخلد) বলে মনে করে? এতে কি দ্বীনের প্রতি চূড়ান্ত সম্মান প্রদর্শন, পাপাচার থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব বজায় রাখা এবং আল্লাহর ভয়ে অন্তর পরিপূর্ণ হওয়ার প্রমাণ নেই, যা মিথ্যা ও অপবাদ থেকে বিরত রাখে? অবশ্যই! এবং হাজার বার অবশ্যই! এরপর কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে তাদের পাপাচারী সাব্যস্ত করা (تفسيق) বৈধ মনে করতে পারে, অথচ তারা আল্লাহর দ্বীনের ওপর এমন সুদৃঢ় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষায় এমন কঠোর? সুতরাং চিন্তা করুন এবং ইনসাফ করুন; প্রকৃতপক্ষে পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ আকল বা বিবেকের দৃষ্টিতে বর্জনীয় এবং শরীয়তের মূলনীতিতে তা দলিল হিসেবে অগ্রহণযোগ্য (ساقط الاحتجاج) হিসেবে গণ্য। এজন্যই আমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তা যাচাই করি এবং শুরুতেই তার ওপর নির্ভর না করি। তাহলে কীভাবে এমন ব্যক্তি সুন্নাহ এবং বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে ফয়সালাকারী হতে পারে?
ইমাম হুজ্জাহ (الحجة) মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দামায় ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়ে বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الرواية عن الثقات، وترك الكَذَّابِينَ، والتحذير من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما مثاله: اعلم وفقك اللهُ أن الواجب على كل أحد عرف التمييز بين صحيح الروايات وسقيمها، وثقات الناقلين لها من المُتَّهَمِينَ - أن لا يروي منها إلا ما عرف صحة مخارجه، والستارة في ناقليه، وأن يبقي منها ما كان عن أهل التُّهَمِ وَالمُعَانِدِينَ من أهل البدع (1) (قال): والدليل على أن الذي قلنا من هذا هو اللازم دون ما خالفه قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} (2)، وقال: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} (3)، قال: فدل بما ذكرنا من هذه الآي أن خبر الفاسق ساقط غير مقبول، وأن شهادة غير العدل مردودة. والخبر إن فارق معناه معنى الشهادة في بعض الوجوه، فقد يجتمعان في أعظم معانيها - إذ كان خبر الفاسق غير مقبول عند أهل العلم، كما أن شهادته مردودة عند جميعهم. ثم روي
--------------------------------------------
নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ, চরম মিথ্যুকদের (كَذَّابِينَ) বর্জন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপের ব্যাপারে সতর্কবাণী প্রদানের উদাহরণ হলো: জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং অসুস্থ/দুর্বল (سقيم) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম, এবং নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী ও অভিযুক্তদের (المُتَّهَمِينَ) মধ্যে পার্থক্য করতে জানে, তার ওপর ওয়াজিব হলো কেবল সেসব বর্ণনা করা যার সূত্রের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সে অবগত এবং যার বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততা (الستارة) প্রমাণিত। আর অভিযুক্ত (أهل التُّهَمِ) এবং বিদআতিদের (أهل البدع) মধ্য হতে যারা গোঁড়া (المُعَانِدِينَ), তাদের বর্ণনা যেন সে বর্জন করে (১)। (তিনি বলেন): আমরা যা বলেছি তাই যে অপরিহার্য এবং এর বিপরীতটি যে গ্রহণীয় নয়, তার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও} (২)। এবং তিনি বলেছেন: {তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (ذوي عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো} (৩)। তিনি বলেন: উল্লিখিত এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ বর্জনীয় (ساقط) ও অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول), এবং অন্যায়কারীর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردودة)। যদিও সংবাদের (الخبر) অর্থ সাক্ষ্যদানের (الشهادة) অর্থ থেকে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন, তবে তারা তাদের প্রধানতম অর্থে একীভূত হয়—কেননা পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ জ্ঞানীদের (أهل العلم) নিকট অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول), যেমনটি তাদের সকলের নিকট তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردودة)। অতঃপর বর্ণিত হয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২১)
عن سلام قال: بلغ أيوب أني آتي عَمْرًا (1)، فأقبل عَلَيَّ يَوْمًا فقال: أرأيت رجلاً لا تأمنه على دينه، فكيف تأمنه على الحديث. فدل ذلك على أن من ائتمنه الشيخان على الحديث، فقد ائتمنوه على الدين، ومن ائتمن على الدين فليس فاسقًا ولا مبتدعًا.
(ثم قال الإمام مسلم): «وَإِنَّمَا أَلْزَمُوا أَنْفُسَهُمُ - يَعْنِي العُلَمَاءُ - الْكَشْفَ عَنْ مَعَايِبِ رُوَاةِ الْحَدِيثِ، وَنَاقِلِي الأَخْبَارِ، وَأَفْتَوْا بِذَلِكَ حِينَ سُئِلُوا لِمَا فِيهِ مِنْ عَظِيمِ الْخَطَرِ، إِذِ الأَخْبَارُ فِي أَمْرِ الدِّينِ إِنَّمَا تَأْتِي بِتَحْلِيلٍ، أَوْ تَحْرِيمٍ، أَوْ أَمْرٍ، أَوْ نَهْيٍ، أَوْ تَرْغِيبٍ، أَوْ تَرْهِيبٍ، فَإِذَا كَانَ الرَّاوِي لَهَا لَيْسَ بِمَعْدِنٍ لِلصِّدْقِ وَالأَمَانَةِ، ثُمَّ أَقْدَمَ عَلَى الرِّوَايَةِ عَنْهُ مَنْ قَدْ عَرَفَهُ، وَلَمْ يُبَيِّنْ مَا فِيهِ لِغَيْرِهِ مِمَّنْ جَهِلَ مَعْرِفَتَهُ كَانَ آثِمًا بِفِعْلِهِ ذَلِكَ، غَاشًّا لِعَوَامِّ الْمُسْلِمِينَ، إِذْ لَا يُؤْمَنُ عَلَى بَعْضِ مَنْ سَمِعَ تِلْكَ الأَخْبَارَ أَنْ يَسْتَعْمِلَهَا، أَوْ يَسْتَعْمِلَ بَعْضَهَا، وَلَعَلَّهَا أَوْ أَكْثَرَهَا أَكَاذِيبُ لَا أَصْلَ لَهَا، مَعَ أَنَّ الأََخْبَارَ الصِّحَاحَ مِنْ رِوَايَةِ الثِّقَاتِ وَأَهْلِ الْقَنَاعَةِ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُضْطَرَّ إِلَى نَقْلِ مَنْ لَيْسَ بِثِقَةٍ وَلَا مَقْنَعٍ». اهـ.
فهل بعد هذا يجوز غمز بعض من روى لهم الشيخان من
--------------------------------------------
সালাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আইয়ুব (রহ.)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছালো যে, আমি আমরের (১) কাছে যাতায়াত করি। একদা তিনি আমার সম্মুখে আসলেন এবং বললেন: “তুমি কি এমন কোনো ব্যক্তির কথা চিন্তা করেছ যাকে তুমি তার দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করো না? তবে কীভাবে তুমি তাকে হাদিসের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করো?” এটি প্রমাণ করে যে, শায়খাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) হাদিসের ক্ষেত্রে যাদের নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন, তারা মূলত তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারেও বিশ্বস্ত মনে করেছেন। আর যাকে দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে পাপাচারী বা বিদআতি হতে পারে না।
(অতঃপর ইমাম মুসলিম বলেন): “উলামায়ে কেরাম হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) দোষত্রুটি উন্মোচন করা নিজেদের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছেন এবং যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তখন তারা এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন; কেননা এতে চরম ঝুঁকি রয়েছে। কারণ দ্বীনি বিষয়ে বর্ণিত সংবাদগুলো হালাল, হারাম, আদেশ, নিষেধ, উৎসাহ প্রদান কিংবা ভীতি প্রদর্শনের সাথেই সংশ্লিষ্ট। এমতাবস্থায় যদি তার বর্ণনাকারী (راو) সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার আধার না হয়, আর যে ব্যক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত সে তার কাছ থেকে বর্ণনা (رواية) অব্যাহত রাখে এবং যে ব্যক্তি তার অবস্থা জানে না তার কাছে সেটি প্রকাশ না করে, তবে সে তার এই কাজের কারণে গুনাহগার হবে এবং সে সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করল। কারণ এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, এই সংবাদগুলো যারা শুনেছে তাদের কেউ কেউ তার ওপর আমল করে বসবে, অথচ সম্ভবত এর সবগুলো বা অধিকাংশ মিথ্যা (أكاذيب), যার কোনো ভিত্তিহীন (لا أصل لها)। অথচ নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণিত সহিহ (صحاح) বর্ণনাগুলো (رواية) এতই পর্যাপ্ত যে, কোনো অনির্ভরযোগ্য (ليس بثقة) এবং অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে বর্ণনা করার প্রয়োজনই পড়ে না।” সমাপ্ত।
কাজেই এরপরও কি শায়খাইন যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের কারো সমালোচনা করা কি বৈধ হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২২)
أولئك الأعلام المُبَدِّعِينَ؟ لَا جَرَمَ أنه لأمر ما عُنِيَ البخاري ومسلم بالتخريج عنهم، وأخذ السُنَّةَ منهم، وتبليغها لِلأُمَّةِ، وجعلها حُجَّةً بينه وبين رَبِّهِ، وما ذاك إلا إجلالاً لفضلهم، وإنصافًا لقدرهم.
انظر كيف يتحمل مثل البخاري عن أعلام الشيعة، والمعتزلة، والمرجئة، والخوارج، ويجعل حديثهم حُجَّةً، وَمَرْوِيُّهُمْ سُنَّةً، ويفخر بذكر أسمائهم في أسانيده ويخلد لهم أجمل الذكر، في أشرف مُصَنَّفٍ. انظر هذا وقابل بينه وبين جمود المتأخرين، ورميهم علماء الفرق بالفسق والابتداع والضلال، وَهَجْرِهِمْ لِعُلُومِهِمْ، وَصَدِّ النَّاسِ عَنْهُمْ، حتى فات الناس - وَا أَسَفًا - عِلْمٌ جَمٌّ، وخير كثير، ولئن دُوِّنَ مَا دُوِّنَ من معارفهم، فما بقي من فوائدهم في خزائن صدورهم مِمَّا كان يستثار بالأخذ عنهم، وينال بمجالسهم - أوسع وأوفر، أفليس في جمود هؤلاء على ما ذكر عقوق لسلفهم الصالح؟ بلى! وما يضرون إلا أنفسهم لو كانوا يشعرون، بما ذكرناه استبان لك الخطأ في نبز رُوَّاةِ الصحيح بالفسق والابتداع، وأنه تعصب يجب التنبيه له والحذر منه. نحن إنما نصدع بهذا - تَفَقُّهًا مِنْ مَشْرَبِ البخاري ومذهبه، وموافقة له في رأيه الذي لا شك في أنه الصواب الذي تدعو إليه الأُخُوَّةُ الإيمانية، والإنصاف مع كل رَاوٍ مجتهد من هذه الأُمَّةِ لا يروم إلا الحَقَّ، ولا يسعى
সেই সব উদ্ভাবনকারী (مبتدع) বরণীয় ব্যক্তিত্বরা কি? নিঃসন্দেহে কোনো বিশেষ কারণেই ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা (تخريج) করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন, তাঁদের থেকে সুন্নাহ (سنة) গ্রহণ করেছেন এবং তা উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি একে নিজের ও তাঁর রবের মাঝে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর এটি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি সম্মান এবং তাঁদের মর্যাদার প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়।
দেখুন, ইমাম বুখারির মতো মনীষী কীভাবে শিয়া, মুতাজিলা, মুরজিয়া ও খাওয়ারিজদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের থেকে বর্ণনা গ্রহণ (تحمل) করেছেন এবং তাঁদের হাদিসকে প্রমাণ (حجة) ও তাঁদের বর্ণিত (مروي) বিষয়কে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য করেছেন। এমনকি তিনি স্বীয় সনদসমূহে (أسانيد) তাঁদের নাম উল্লেখ করতে গর্ববোধ করেছেন এবং তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সংকলনে তাঁদের জন্য উত্তম স্মৃতি অক্ষয় করে রেখেছেন। আপনি এটি দেখুন এবং এর বিপরীতে পরবর্তী যুগের লোকদের সংকীর্ণতা ও জড়তার তুলনা করুন, যারা বিভিন্ন দলের আলেমদের পাপাচার (فسق), উদ্ভাবন (ابتداع) ও পথভ্রষ্টতার (ضلال) দোষে অভিযুক্ত করেছেন, তাঁদের জ্ঞান বর্জন করেছেন এবং মানুষকে তাঁদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ফলে মানুষ—হায় আফসোস—প্রচুর জ্ঞান ও প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যদিও তাঁদের জ্ঞানের যা কিছু সংকলিত হওয়ার তা হয়েছে, তবে তাঁদের অন্তরের মণিকোঠায় সঞ্চিত জ্ঞানের যে অংশগুলো সরাসরি তাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আহরণ করা যেত এবং তাঁদের মজলিসগুলো থেকে অর্জন করা সম্ভব ছিল, তা ছিল আরও ব্যাপক ও সমৃদ্ধ। এই বিষয়ে তাঁদের এই অনড় অবস্থান কি তাঁদের সলফে সালেহিনের (পূর্বসূরিদের) প্রতি অবাধ্যতা নয়? অবশ্যই! তাঁরা যদি বুঝতেন, তবে দেখতেন যে তাঁরা কেবল নিজেদেরই ক্ষতি করছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে আপনার নিকট সেই ভুলটি স্পষ্ট হয়েছে যা সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের (رواة) পাপাচার (فسق) ও উদ্ভাবনের (ابتداع) অপবাদ দিয়ে করা হয়। এটি এমন এক গোঁড়ামি যা সম্পর্কে সতর্ক করা এবং যা থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। আমরা ইমাম বুখারির কর্মপন্থা (مشرب) ও মাযহাব থেকে প্রজ্ঞা অর্জন (تفقه) করার উদ্দেশ্যেই কেবল এটি প্রকাশ করছি এবং তাঁর সেই মতের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি যা নিঃসন্দেহে সঠিক এবং যার দিকে ঈমানি ভ্রাতৃত্ব আহ্বান করে। সেই সাথে এই উম্মতের প্রত্যেক মুজতাহিদ বর্ণনাকারীর (راو) প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করছি, যারা কেবল সত্যেরই অন্বেষণ করেন এবং কোনো ভুল উদ্দেশ্যে সচেষ্ট হন না।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إلا إليه، ولا يتحمل الأذى والاضطهاد إلا لأجله - إذ لم يصب من رأيه وما دعا إليه لا دنيا، وَلَا جَاهًا، وَلَا مُلكًا، فأي دليل أدل على حسن نيته من هذا؟
وبالجملة فتسمية المُتَفَقِّهَةِ بَعْضَ الرُوَّاةِ فَسَقَةً جَهْلٌ بما قاله الأُصُولِيُّونَ من أنَّ الفاسق مردود الشهادة والرواية (1) ومن قبل الشيخان وغيرهما خبره وحكموه في السُنَّةِ، وأخذوا عنه، فهل يكون فاسقًا؟ على أن إجماعهم على تلقي " الصحيحين " بالقبول موجب لتعديل رُوَّاتِهِمَا جَمِيعًا؛ لأنَّ التلقي بالقبول فرع صحة الحديث، وهو إنما يكون من صحة سنده، وهو من عدالة رجاله وتوثيقهم. ولذا قالوا فيمن خَرَّجَ له الشيخان: «جَازَ القَنْطَرَةَ». بمعنى أنه لا يلتفت إلى ما غُمِزَ فيه. وبالجملة فمشرب المُحَدِّثِينَ في التسامح وَنَبْذِ التَّعَصُّبِ هو الذي تقتضيه الأصول، وتقبله العقول، وَمَا أُحْدِثَ مِنَ النَّبْزِ بِالفُسُوقِ للبعض فلا سند له - لأن دعوى فسق الإنسان إنما يكون بإتيانه ما فَسَّقَهُ الشارع به، ونص عليه كِتَابٌ أَوْ سُنَّةٌ نَصًّا قَاطِعًا لا يحتمل التأويل وأما مسائل الاجتهاد فلا يصح ذلك فيها بوجه من الوجوه.
والحاصل أن لا تفسيق ولا تضليل، مع الاجتهاد والتأويل،
--------------------------------------------
কেবল তাঁরই প্রতি (নিবদ্ধ), এবং তিনি কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কষ্ট ও নিপীড়ন সহ্য করেন - যেহেতু তিনি তাঁর অভিমত ও দাওয়াতের মাধ্যমে পার্থিব কোনো সুবিধা, প্রতিপত্তি বা রাজত্ব লাভ করেননি; সুতরাং তাঁর নিয়তের বিশুদ্ধতার এর চেয়ে বড় দলিল আর কী হতে পারে?
সারকথা হলো, কতিপয় ফিকহ শাস্ত্রানুরাগীদের পক্ষ থেকে কিছু বর্ণনাকারীকে (الرُوَّاةِ) পাপাচারী (فَسَقَةً) হিসেবে আখ্যায়িত করা উসুলবিদদের (الأُصُولِيُّونَ) সেই উক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতারই নামান্তর যে, পাপাচারী (الفاسق) ব্যক্তির সাক্ষ্য ও বর্ণনা (الرواية) প্রত্যাখ্যাত (مردود) (১)। অথচ শাইখাইন এবং অন্যান্যরা যাঁদের সংবাদ গ্রহণ করেছেন, সুন্নাহর ক্ষেত্রে প্রামাণ্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং যাঁদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, তাঁরা কি পাপাচারী হতে পারেন? তাছাড়া, 'সহিহাইন'-কে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ (إجماع) করে নেওয়ার বিষয়টি তাঁদের সকল বর্ণনাকারীকে (رُوَّاتِهِمَا) ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার (تعديل) আবশ্যকতা তৈরি করে; কারণ কোনো হাদিস গ্রহণ করার বিষয়টি তার বিশুদ্ধতার (صحة) অনুগামী, আর বিশুদ্ধতা অর্জিত হয় তার সনদের (سند) বিশুদ্ধতা থেকে, যা আবার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভরযোগ্যতার (توثيق) ওপর নির্ভরশীল। এই কারণেই শাইখাইন যাঁদের হাদিস বর্ণনা করেছেন (خَرَّجَ), তাঁদের সম্পর্কে ইমামগণ বলেছেন: "তিনি সেতু পার হয়ে গেছেন" (جَازَ القَنْطَرَةَ)। অর্থাৎ তাঁর সম্পর্কে কৃত কোনো সমালোচনার দিকে আর ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। মোদ্দাকথা, সহনশীলতা ও গোঁড়ামি বর্জনের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের যে কর্মপন্থা, তা-ই উসুল বা মূলনীতির দাবি এবং বিবেকগ্রাহ্য; আর কারো কারো ক্ষেত্রে পাপাচার বা ফাসিক হওয়ার যে অপবাদ উদ্ভাবন করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি বা সনদ (سند) নেই - কারণ কোনো মানুষকে পাপাচারী দাবি করা কেবল তখনই সম্ভব যখন সে এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয় যার মাধ্যমে শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) তাকে পাপাচারী সাব্যস্ত করেছেন এবং কিতাব (كِتَابٌ) বা সুন্নাহর (سُنَّةٌ) কোনো অকাট্য দলিল (نَصًّا قَاطِعًا) এ বিষয়ে কোনো প্রকার ব্যাখ্যার অবকাশ ছাড়াই সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছে। পক্ষান্তরে, ইজতিহাদ (الاجتهاد) ভিত্তিক মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই কাউকে পাপাচারী বলা সঠিক নয়।
সারকথা হলো, ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও ব্যাখ্যার (التأويل) অবকাশ থাকলে কাউকে পাপাচারী বা পথভ্রষ্ট বলা যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإن كان ليس كل اجتهاد صَوَابًا، ولا كل تأويل مقبولاً، ولكن كلامنا في ذات المجتهد والمأول.
فمن لم يَأْلُ جُهْدًا فلا ملام عليه ولا كلام، لا بل يُتَحَمَّلُ منه الدين، ويُتلقى عنه الهَدْيَ النَّبَوِيَّ، ويحكم في السُنَّةِ، على هذا جرى البخاري ومسلم وغيرهما من أقطاب الحديث والأثر، وهو الصواب، بلا ارتياب. وقد نقل الغزالي في " المستصفى " (1) عَنْ الشَّافِعِيِّ أَنَّهُ قَالَ: «تُقْبَلُ شَهَادَةُ أَهْلِ الأَهْوَاءِ إلَاّ الْخَطَّابِيَّةَ مِنْ الرَّافِضَةِ لأَنَّهُمْ يَرَوْنَ الشَّهَادَةَ بِالزُّورِ لِمُوَافِقِيهِمْ فِي الْمَذْهَبِ» (ثم قال): «وَيَدُلُّ [أَيْضًا] عَلَى مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ قَبُولُ الصَّحَابَةِ قَوْلَ الْخَوَارِجِ فِي الأَخْبَارِ وَالشَّهَادَةِ وَكَانُوا فَسَقَةً مُتَأَوِّلِينَ، وَعَلَى قَبُولِ ذَلِكَ دَرَجَ التَّابِعُونَ لأَنَّهُمْ مُتَوَرِّعُونَ عَنْ الكَذِبِ جَاهِلُونَ بِالْفِسْقِ». اهـ.
فترى من هذا أن الصحابة قبلوا خبرهم، وما ضَرَّهُمْ تسمية الفقهاء لهم بالفسقة، لأنه فسق بمعنى مخالفة غيرهم، وهذا الإطلاق اصطلاحي للفقهاء، وربما رجع الخلاف - في تسمية أولئك فُسَّاقًا - لَفْظِيًّا، وإلَاّ فيستحيل إرادة الفسق الحقيقي المانع للشهادة والرواية - كما قدمنا - ومعلوم أنه لا يكون
--------------------------------------------
যদও প্রতিটি ইজতিহাদ সঠিক নয় এবং প্রতিটি ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়, তবুও আমাদের আলোচনা মূলত মুজতাহিদ ও ব্যাখ্যাকারীর সত্তা নিয়ে।
যিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করতে কোনো ত্রুটি করেননি, তার ওপর কোনো নিন্দা বা সমালোচনা নেই; বরং তার কাছ থেকে দ্বীন গ্রহণ করা হবে, তার নিকট থেকে নব্যুয়তি নির্দেশনা লাভ করা হবে এবং সুন্নাহর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ইমাম বুখারি, মুসলিম এবং হাদিস ও আছরের অন্যান্য দিকপালগণ এই নীতির ওপরই চলেছেন এবং নিঃসন্দেহে এটিই সঠিক পথ। ইমাম গাজালি তাঁর 'আল-মুস্তাসফা' (১) গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «প্রবৃত্তি পূজারীদের (أهل الأهواء) সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, কেবল রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত খাত্তাবিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত; কারণ তারা তাদের মাযহাবের অনুসারীদের স্বপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ মনে করে»। (অতঃপর তিনি বলেন): «ইমাম শাফিঈর মাযহাবের সপক্ষে এটিও প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণ সংবাদ (الأخبار) ও সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে খারেজিদের বক্তব্য গ্রহণ করেছিলেন, যদিও তারা ছিল অপব্যাখ্যাকারী ফাসেক (فسقة متأولين)। তাবেয়িগণও এটি গ্রহণের ধারা বজায় রেখেছিলেন, কারণ তারা মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে চলতেন এবং ফাসেকী সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন»। সমাপ্ত।
এ থেকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, সাহাবীগণ তাদের সংবাদ (خبر) গ্রহণ করেছেন। ফকিহগণ তাদের ফাসেক (فسقة) বলে অভিহিত করা তাদের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হয়নি; কারণ এটি ছিল অন্যদের থেকে ভিন্ন মত পোষণের অর্থে ফাসেকী। এই প্রয়োগটি ফকিহদের একটি পারিভাষিক বিষয় মাত্র। সম্ভবত তাদের ফাসেক (فساق) বলার ক্ষেত্রে মতভেদটি কেবল শাব্দিক। অন্যথায়, সাক্ষ্য ও বর্ণনা (الرواية) গ্রহণে বাধা দেয় এমন প্রকৃত ফাসেকী হওয়া এখানে অসম্ভব—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—আর এটি সবারই জানা যে তা হতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مَذْهَبٌ حُجَّةً عَلَى مَذْهَبٍ، وَلَا عُرْفٌ بُرْهَانًا عَلَى عُرْفٍ، وإنما الحُجَّةُ والبرهان قواطع الكِتَابِ وَالسُنَّةِ. ولما كان البحث المذكور في غاية من الدقة، ترى الكلام في مطولات الأصول مضطربًا متشعب الأقوال، حتى اختلفوا لذلك في ماهية العدالة، ويقرب لمذهب المُحَدِّثِينَ فيها قول بعض أهل العراق: «العدالة عبارة عن إظهار الإسلام فقط - مع سلامته عن فسق ظاهر». اهـ.
10 - جَوَابُ شُبْهَةٍ:رُبَّ قَائِلٍ يقول: كيف لا يفسق هؤلاء وقد خالفوا بتأويلهم النصوص من الكِتَابِ وَالسُنَّةِ؟
فنقول: قَدَّمْنَا ما يمنع تسميتهم فَسَقَةً شَرْعًا وَلُغَةً، ولذا جاء في " مُسَلَّم الثبوت " من كتب الأصول، ما مثاله: «لك أن تمنع كون المتدين من أهل القبلة فاسقًا بالعرف المتقدم الذي عليه القرآن الكريم، وهو شموله للكافر والمؤمن المرتكب الكبيرة». اهـ. وقال حُجَّة الإسلام الغزالي في " الإحياء ": «مهما اعترضت على القدري في قوله: الشَرُّ مِنَ اللهِ، وكذلك في قولك: إِنَّ اللهَ يُرَى، وفي سائر المسائل، إذ المبتدع محق عند نفسه، والمحق
একটি মতবাদ অন্য মতবাদের ওপর দলিল (حجة) নয়, এবং কোনো প্রথা অন্য প্রথার জন্য প্রমাণ (برهان) নয়; বরং দলিল (حجة) ও প্রমাণ (برهان) হলো কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বিষয়সমূহ। যেহেতু উল্লিখিত বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, তাই আপনি উসূল শাস্ত্রের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে এ সংক্রান্ত আলোচনা অসংলগ্ন ও বহু মতে বিভক্ত দেখতে পাবেন। এমনকি এ কারণেই তারা ন্যায়নিষ্ঠতা (العدالة) এর স্বরূপ নিয়েও মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের মতের নিকটবর্তী হলো ইরাকের কিছু আলিমের বক্তব্য: "ন্যায়নিষ্ঠতা (العدالة) হলো কেবলমাত্র ইসলাম প্রকাশ করা—প্রকাশ্য পাপাচার (فسق) থেকে মুক্ত থাকার সাথে সাথে।" সমাপ্ত।
১০ - একটি সংশয়ের উত্তর:হয়ত কোনো প্রশ্নকারী বলবেন: তারা কেন পাপাচারী (فাসق) হবেন না, অথচ তারা তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য পাঠসমূহ (النصوص) লঙ্ঘন করেছেন?
জবাবে আমরা বলব: শরয়ি ও আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরকে পাপাচারী (فسقة) বলা কেন সংগত নয়, তা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। এই কারণেই উসূল শাস্ত্রের কিতাব মুসাল্লাম আল-সুবুত-এ বর্ণিত হয়েছে: "পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তী সেই পরিভাষা—যা কাফির এবং কবিরা গুনাহে লিপ্ত মুমিন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে—তার ভিত্তিতে কিবলাপন্থী কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিকে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে আখ্যায়িত করতে আপনি অসম্মতি জানাতে পারেন।" সমাপ্ত। হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাজালি এহিয়া গ্রন্থে বলেছেন: "তুমি যখন কাদারিয়াদের এই বক্তব্যে আপত্তি করো যে: 'মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে', এবং তোমার এই বক্তব্যে যে: 'নিশ্চয়ই আল্লাহকে দেখা যাবে', এবং অন্যান্য মাসআলাসমূহে; কেননা বিদআতকারী (مبتدع) নিজের কাছে নিজেকে সত্যপন্থী মনে করে, আর সত্যপন্থী..."
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مبتدع عند المبتدع، وكل يدعي أنه محق وينكر كونه مبتدعًا». اهـ.
وبالجملة فهم مخالفون بنظر غيرهم، وأما عند أنفسهم فغيرهم هو المخالف وهم الموافقون، وحاشا لمؤمن عالم أن يخالف كِتَابًا أَوْ سُنَّةً عَامِدًا مُتَعَمِّدًا، فهم مجتهدون مثابون؛ إذ لم يَأْلُوا جُهْدًا فيما ذهبوا إليه، وإن كنت لا تقول به وترى الحُجَّةَ فيما أنت عليه، على أن ما تسميه أنت نَصًّا هم يرونه ظاهرًا، إذ دعوى نَصِّيَّةَ الشيء ليست بالأمر اليسير، لأن النص هو القاطع في معناه، المفيد لليقين في فحواه، وهذا إنما يكون في محكمات الدين، وأصوله التي لم يختلف فيها الفِرَقُ كُلُّهَا، وأما ما عداه فكلها ظواهر، وقد يراها البعض باجتهاده نَصًّا، وليس اجتهاد مجتهد بقاضٍ على اجتهاد آخر. وعلى من يريد تحقيق هذا أن يراجع مطولات الخلاف، ويطالع مآخذ المجتهدين، ومن أنفع ما ألف في هذا الباب كتاب " رفع الملام عن الأئمة الأعلام " لشيخ الإسلام تقي الدين ابن تيمية رحمه الله فإنه جدير لو كان في الصين أَنْ يُرْحَلَ إليه، وَأَنْ يُعَضَّ بِالنَّواجِذِ عَلَيْهِ، فرحم الله من أقام المعاذير للأئمة، وعلم أن سعيهم إنما هو إلى الحق وَالهُدَى، كما أسلفنا وبالله التوفيق.
11 - جَوَابُ شُبْهَةٍ أُخْرَى:يزعم بعضهم بأنه: يحتمل أن يكون الراوي تحمل عن
বিদআতি (مبتدع) অন্য বিদআতির (مبتدع) দৃষ্টিতে [বিদআতি], এবং প্রত্যেকেই দাবি করে যে সে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সে নিজে বিদআতি (مبتدع) হওয়াকে অস্বীকার করে।" সমাপ্ত।
মোটকথা, তারা অন্যের দৃষ্টিতে বিরোধী, কিন্তু তাদের নিজেদের কাছে অন্যরা বিরোধী এবং তারাই সত্যের অনুসারী। কোনো মুমিন আলেমের পক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন বা সুন্নাহর বিরোধিতা করা অসম্ভব। তারা মূলত পুরস্কারপ্রাপ্ত মুজতাহিদ (مجتهدون); কারণ তারা যে পথে গিয়েছেন তাতে তারা গবেষণার কোনো ত্রুটি করেননি, যদিও আপনি তাদের সাথে একমত না হতে পারেন এবং আপনি যা অনুসরণ করছেন তাকেই শক্তিশালী দলিল (حجة) মনে করেন। বিষয়টি এমন যে, আপনি যাকে অকাট্য পাঠ (نص) বলছেন, তারা তাকে আপাত পাঠ (ظاهر) হিসেবে দেখছেন। কারণ কোনো বিষয়কে অকাট্য পাঠ (نص) দাবি করা সহজ কাজ নয়। কেননা অকাট্য পাঠ (نص) হলো তা যা এর অর্থের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত এবং যা এর মর্মের ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান দান করে। আর এটি কেবল দ্বীনের সুস্পষ্ট বিধান (محكمات) এবং ঐ সকল মূলনীতির (أصول) ক্ষেত্রেই হয় যা নিয়ে সকল দলের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। এছাড়া বাকি সবকিছুই হলো আপাত অর্থবোধক বিষয় (ظواهر)। কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) তার গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে কোনো বিষয়কে অকাট্য পাঠ (نص) মনে করতে পারেন, কিন্তু এক মুজতাহিদের (مجتهد) গবেষণা (اجتهاد) অন্য মুজতাহিদের (مجتهد) গবেষণার ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হতে পারে না। যিনি এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে চান, তাকে অবশ্যই মতভেদের বিস্তারিত কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করতে হবে এবং মুজতাহিদদের (مجتهدين) প্রমাণের উৎসগুলো অধ্যয়ন করতে হবে। এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) রচিত 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম' কিতাবটি অত্যন্ত উপকারী। এই কিতাবটি সংগ্রহের জন্য সুদূর চীন দেশে সফর করাও সঙ্গত এবং এটিকে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি ইমামদের প্রতি ওজর পেশ করেন এবং জানেন যে তাদের প্রচেষ্টা কেবল সত্য ও সঠিক পথের জন্যই ছিল, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তাওফিকেই সবকিছু সম্পন্ন হয়।
১১ - অন্য একটি সংশয়ের উত্তর:তাদের কেউ কেউ দাবি করেন যে: সম্ভবত বর্ণনাকারী (راوي) হাদিস গ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المُبَدَّعِ قبل تمذهبه بذلك المذهب، وهذا جهل بمذاهب الرواة، ومشارب الرجال، فإن كل من أَلَّفَ في نقد الرجال لم يذكر في المشاهير منهم أنه كان على مذهب كذا، أو أن الحافظ الفلاني تَحَمَّلَ عن فلان قبل تمذهبه بمذهب كذا، ومثل هذا إنما يؤخذ عن النقلة الأثبات كالمصنفين في أحوال الرجال، ولا يمكن الاجتهاد فيه بحال من الأحوال، ولذا تراهم يقولون في ترجمة الراوي: كَانَ خَارِجِيًّا. ونحو ذلك قولاً واحدًا. وحبذا أن يكون ما ذكره مأثورًا عن إمام مُؤَرِّخٍ مشهور، وأما القول بالاحتمال، فإذا فُتح أَوْرَثَ الاضمحلال، لكل ما يُعَوَّلُ عليه في الاستدلال، ومثل ذلك ما يقال: يحتمل أن يكون روى عنه وهو غير عالم بما هو عليه من فساد العقيدة! فهذا يزيد عما قَدَّمْنَا من الجهل بمذاهب الرُوَّاةِ تجهيل أئمة الحديث، ووصمهم بما هم بَرَآءٌ من الغباوة والبلاهة، وأنهم يتحملون عمن لا يعرفون مذهبه ولا مشربه، وأنهم كَحَاطِبِ لَيْلٍ، نعوذ بالله من ذلك، وأي عاقل يَجْرُؤُ على مثل ذلك في البخاري صاحب " التاريخ " في الرجال؟ بل من دونه من أرباب السنن وغيرهم ممن تكلم في الجرح والتعديل، وَمَيَّزَ بين صحيح الحديث وضعيفه، لثقة رجاله أو ضعفهم، وهل يعقل في صحاح، وسنن، ومسانيد، وموطآت، عليها مدار أدلة الأحكام، وَحُجَجِ الفروع، صنفت على الأسانيد المنوعة والمكررة بالأسماء وَالكُنَى
বিদআতি হিসেবে আখ্যায়িত (المبدع) ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি এই মাযহাব গ্রহণের পূর্বেই এমন ছিলেন; অথচ এটি বর্ণনাকারীদের (الرواة) মাযহাব এবং ব্যক্তিদের ঝোঁক-প্রবণতা সম্পর্কে অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। কেননা, রাবীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন বিষয়ে যারাই গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁরা বিখ্যাত রাবীদের ক্ষেত্রে এমনটি উল্লেখ করেননি যে অমুক ব্যক্তি অমুক মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, কিংবা অমুক হাফিজ (الحافظ) অমুক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর বিশেষ কোনো মাযহাব গ্রহণের পূর্বে হাদিস গ্রহণ করেছেন। এই ধরনের বিষয়গুলো কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (النقلة الأثبات) বর্ণনা থেকেই গ্রহণ করা হয়, যেমনটি রাবীদের অবস্থা বর্ণনাকারী গ্রন্থকারগণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই নিজস্ব গবেষণার (الاجتهاد) সুযোগ নেই। এই কারণেই আপনি দেখবেন যে, তারা বর্ণনাকারীর (الراوي) জীবনী (ترجمة) বর্ণনায় একক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বলে থাকেন: "তিনি খারেজি (خارجي) ছিলেন" ইত্যাদি।
কতই না ভালো হতো যদি তাঁর উল্লিখিত বিষয়টি কোনো প্রসিদ্ধ ইতিহাসবেত্তা ইমামের (إمام مؤرخ) সূত্রে বর্ণিত হতো! কিন্তু অনুমানের ভিত্তিতে সম্ভাবনার (الاحتمال) কথা বলার পথ যদি উন্মুক্ত করা হয়, তবে তা দলিলের (الاستدلال) ক্ষেত্রে নির্ভরশীল প্রতিটি বিষয়কেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। অনুরূপভাবে এ কথাও বলা হয় যে: "সম্ভবত তিনি তার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তার আকিদার ভ্রষ্টতা (فساد العقيدة) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না!" এটি বর্ণনাকারীদের (الرواة) মাযহাব সম্পর্কে পূর্বে উল্লিখিত অজ্ঞতার সাথে হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) অজ্ঞ প্রতিপন্ন করার শামিল। এটি তাঁদেরকে এমন নির্বুদ্ধিতা ও স্থুলবুদ্ধিতার অপবাদে অভিযুক্ত করা যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত। এতে মনে হয় যেন তাঁরা এমন ব্যক্তিদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেন যাদের মাযহাব বা ঝোঁক সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না এবং তাঁরা যেন অন্ধকারের কাষ্ঠসংগ্রহকারীর (حاطب ليل) মতো কর্মতৎপর। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কি ইমাম বুখারি—যিনি রাবীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ "তারিখ" এর রচয়িতা—তাঁর সম্পর্কে এমন দুঃসাহস দেখাতে পারে? এমনকি তাঁর পরবর্তী স্তরের যারা সুনান গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং যারা রাবীদের দোষ ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ (الجرح والتعديل) করেছেন এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) অথবা দুর্বলতার (ضعف) ভিত্তিতে সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন, তাঁদের সম্পর্কেও কি এমনটি ভাবা যায়? আর সহিহ, সুনান, মুসনাদ ও মুয়াত্তাসমূহ—যাদের ওপর আহকামের দলিলসমূহ এবং ফিকহী মাসআলার প্রমাণাদি আবর্তিত হয় এবং যা বিভিন্ন সনদ (الأسانيد) এবং নাম ও উপনামের (الكنى) পুনরাবৃত্তিসহ সংকলিত হয়েছে—সেগুলোর ক্ষেত্রে কি এমন ধারণা করা সম্ভব?
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والألقاب - أن يكون جامعوها لا يدرون مشرب رجالها ولا ما يتحملونه - مع أن العَامِّيَّ وَالأُمِّيَّ نراه إذا خدم عَالِمًا لا يخفى عليه مشربه ومذهبه ورأيه وفكره، فكيف بعالم مؤلف، لا بل بإمام مجتهد يستنبط الأحكام من الأحاديث ويترجم عليها، ويزاحم من تقدمه من الأئمة في التخريج وَالرَدِّ والاستدراك والتفريع والتأصيل؟ ألا يدري مذهب رجال إسناده ونحلتهم، وهم عمدته في الاستدلال، وركنه في الاحتجاج؟؟ بلى! ثم بلى! وهو أجلى من أن يبرهن عليه، أو يرد على من كابر فيه، ولقد كان علم الجرح والتعديل، ومعرفة طبقات الرجال وتراجمهم من أوئل ما يدريه طلاب الحديث وَمُرِيدُو التحمل عن الحفاظ، ولكن من أين يدري أبناء هذا الجيل، ما كان عليه السلف من فنون التحصيل، وقد اندرست تلك العلوم، ولم يبق منها ولا الرسوم، فإنا لله وإنا إليه راجعون.
وأما قول بعضهم: فكيف يستدل بإخراج الشيخين على عدم جواز المعاداة مع قيام هذه الاحتمالات؟ وكيف يسوغ للإنسان أن يتمسك بالمحتمل الذي لا تقوم به حُجَّة؟ فقد علمت سقوط هذه الاحتمالات،وأنها أشبه بالأوهام والخيالات، والتلاعب في الحقائق الواضحات، والمحتمل الذي تقوم به حُجَّةٌ هو الذي يتطرق إليه احتمال معقول، أو تأويل مقبول، جارٍ على قوانين التأويلات، والأوجه المعروفة في نظائره.
...এবং উপাধিগুলো সম্পর্কে (বলা হয় যে)—এসবের সংকলকগণ তাদের বর্ণনাকারীদের (رجال) চিন্তাধারা ও তারা কী বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে অবগত নন। অথচ আমরা দেখি যে, একজন সাধারণ বা নিরক্ষর ব্যক্তিও যখন কোনো আলেমের সেবা করে, তখন সেই আলেমের চিন্তাধারা, মাজহাব, মতাদর্শ ও চিন্তা-চেতনা তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না। তাহলে একজন লেখক-আলেম, বরং একজন মুজতাহিদ ইমাম (إمام مجتهد)—যিনি হাদিস থেকে বিধান আহরণ (استنباط) করেন এবং সেগুলোর শিরোনাম প্রদান করেন, আর হাদিস চয়ন (تخريج), খণ্ডন (رد), সংশোধনী (استدراك), শাখা-প্রশাখা নির্ণয় (تفريع) এবং মূলনীতি নির্ধারণে (تأصيل) পূর্বসূরি ইমামদের সাথে প্রতিযোগিতা করেন—তাঁর অবস্থা কেমন হতে পারে? তিনি কি তাঁর বর্ণনাসূত্রের (إسناد) বর্ণনাকারীদের (رجال) মাজহাব ও মতাদর্শ সম্পর্কে জানবেন না, অথচ তাঁরাই তাঁর দলিল পেশ করার (استدلال) মূল ভিত্তি এবং প্রমাণের (احتجاج) প্রধান স্তম্ভ? অবশ্যই! অবশ্যই তিনি জানেন! এটি এতোটাই স্পষ্ট যে এর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই এবং যারা এ নিয়ে হঠকারিতা করে তাদের উত্তর দেওয়ারও আবশ্যকতা নেই। আর জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র এবং বর্ণনাকারীদের স্তর (طبقات الرجال) ও তাদের জীবনী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ছিল হাদিসের ছাত্র এবং হাফেজদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ (التحمل) করতে ইচ্ছুকদের প্রাথমিক পাঠের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের সন্তানরা কীভাবে জানবে যে সালাফদের জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি কেমন ছিল? অথচ সেই সব ইলম আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সেগুলোর চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। সুতরাং আমরা আল্লাহরই জন্য এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাব।
আর কারো কারো এই উক্তি: "এই সম্ভাবনাগুলো থাকা সত্ত্বেও শাইখাইনের কোনো হাদিস বর্ণনা করার মাধ্যমে কীভাবে শত্রুতা করা নাজায়েজ হওয়ার বিষয়ে দলিল পেশ (استدلال) করা যায়? আর একজন মানুষের পক্ষে এমন সম্ভাবনাময় বিষয়ের ওপর নির্ভর করা কীভাবে বৈধ হতে পারে যা দলিল (حُجَّة) হিসেবে গণ্য নয়?" আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে এই সম্ভাবনাগুলো অসার এবং এগুলো নিছক ধারণা ও কল্পনার মতো এবং সুস্পষ্ট সত্যের সাথে প্রতারণার নামান্তর। মূলত যে সম্ভাবনাময় বিষয়টি দলিল (حُجَّة) হিসেবে গণ্য হয়, তা হলো যাতে কোনো যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা অথবা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা (تأويل) থাকে, যা ব্যাখ্যার মূলনীতি এবং এর সমজাতীয় ক্ষেত্রে প্রচলিত পন্থাসমূহ অনুযায়ী সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত তা’দীল - আল-কাসিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما احتمال في مقابلة حقيقة ثابتة، وأمر واضح، فلا يقال له احتمال، وإنما هو تلاعب وهوس خيال، يقول أئمة الجرح والتعديل في كتبهم عن رَاوٍ - مِمَّنْ خَرَّجَ له الشيخان أو أحدهما -: إِنَّهُ شِيعِيٌّ، أَوْ خَارِجِيٌّ، أَوْ قَدَرِيٌّ، أَوْ مُرْجِئٌ، ثم يأتي من يريد أن ينقض هذا بالاحتمال، وهو لم يضرب في هذا الفن بسهم، ولا يمكن أن يُرْجَعَ إليه في رأي ولا علم، كيف لا وقد اجتمعوا على الرجوع إلى أئمة الفن في هذا الباب، لأنه أمر لم يبق فيه مجال ولا نظر ولا احتمال، وهذا من البديهيات الغنية عن الحُجَّةِ والبرهان.
12 - رَفْعُ وَهْمٍ فِي عِبَارَةٍ لِلْبُخَارِيِّ:وأما زعم أن قول البخاري في " جزء رفع اليدين ": «كَانَ زَائِدَةُ (1) لَا يُحَدِّثُ إِلَاّ أَهْلَ السُنَّةِ اقْتِدَاءً بِالسَّلَفِ» يخالف ما استنبطناه - فعجيب جِدًّا لأنه لا شاهد فيه، ولا يناسب بحثنا حتى يخالفه، لأن زائدة رحمه الله كان يمتنع عن تحديث غير أَهْلِ السُنَّةِ، أي إسماعهم الحديث وإقرائهم إياه - وذلك في التلاميذ منهم والمبتدئين في طلب الحديث الذين يبغون التلقي والسماع، وقد انْتَمُوا إلى غير مذهب أَهْلِ السُنَّةِ، فكان زائدة يتجافى تحديثهم اقتداء بمن رآه من سلفه كذلك، ولا منازعة في الوجدانيات ولا يكلف المرء ما لا يطيقه، فمن كانت نفسه
--------------------------------------------
আর একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং সুস্পষ্ট বিষয়ের বিপরীতে কোনো সম্ভাবনার কথা বলা হলে তাকে 'সম্ভাবনা' বলা যায় না; বরং তা নিছক কারসাজি ও খেয়ালি কল্পনা মাত্র। সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এমন বর্ণনাকারীর প্রসঙ্গে—যাঁর থেকে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কেউ একজন হাদিস বর্ণনা করেছেন—বলে থাকেন যে: তিনি একজন শিয়াপন্থী (شيعي), অথবা খারিজিপন্থী (خارجي), অথবা কাদরিয়াপন্থী (قدري), অথবা মুরজিয়াপন্থী (مرجئ)। অতঃপর এমন কেউ আসে যে নিছক সম্ভাবনার দোহাই দিয়ে একে খণ্ডন করতে চায়, অথচ এই বিদ্যায় তার কোনো পদচারণা নেই। কোনো মতামত বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তার দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। কেনই বা তা হবে না, যেখানে সকলে এই শাস্ত্রের ইমামদের দিকে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন? কারণ এটি এমন এক বিষয় যেখানে অন্য কোনো বিতর্ক, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা সম্ভাবনার সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এটি সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত।
১২ - বুখারির একটি উক্তির ভুল ব্যাখ্যার অপনোদন:আর বুখারির 'জুযউ রাফইল ইয়াদাইন' গ্রন্থে বর্ণিত এই দাবিটি যে— "যায়িদা (১) সালাফদের (السلف) অনুসরণে কেবল আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন"—আমাদের আহরিত সিদ্ধান্তের বিরোধী, তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। কারণ এতে এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং এটি আমাদের আলোচনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণও নয় যে তার বিরোধিতা করবে। কেননা যায়িদা (রহিমাহুল্লাহ) আহলুস সুন্নাহ ব্যতীত অন্যদের নিকট হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন, অর্থাৎ তাদের হাদিস শোনানো ও পাঠ করানো থেকে। এটি মূলত সেই সব ছাত্র এবং হাদিস অন্বেষণে নবীনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল যারা হাদিস গ্রহণ ও শ্রবণের আকাঙ্ক্ষা করত, অথচ তারা আহলুস সুন্নাহ বহির্ভূত অন্য মতাদর্শের দিকে ধাবিত হয়েছিল। ফলে যায়িদা তাঁর পূর্বসূরিদের (السلف) মধ্যে যাঁদের এমন আচরণ করতে দেখেছেন, তাঁদের অনুসরণে তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন। আর অনুভূতিজাত বা রুচিগত বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই এবং কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেওয়া হয় না। সুতরাং যার অন্তর...
--------------------------------------------