(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: -)
اليقين في معرفة رب العالمين   (محمد علي محمد إمام)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب اليقين في معرفة رب العالمين

المؤلف: محمد علي محمد إمام

الناشر: مطبعة السلام، ميت غمر - مصر

الطبعة: الأولى، 2005 م

عدد الصفحات: 33

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1433

জগৎসমূহের রবের পরিচয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস   (মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: জগৎসমূহের রবের পরিচয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস গ্রন্থ

লেখক: মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম

প্রকাশক: মাতবাআতুস সালাম, মিত গামর - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১)
اليقين

 

فى معرفة رب العالمين

 

إعداد

محمد على محمد إمام
ইয়াকীন

 

রাব্বুল আলামীনের পরিচিতি লাভে

 

সংকলনে

মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২)
إسم الكتاب:

اليقين فى معرفة رب العالمين

إعداد:

محمد على محمد إمام

رقم الإيداع بدار الكتب والوثائق المصرية:

1536/ 2005

رقم الطبعة:

الأولى -- 2005م

حقوق الطبع والنشر محفوظة للمؤلف

مطبعة السلام - ميت غمر
বইয়ের নাম:

আল-ইয়াকীন ফী মা'রিফাতি রাব্বিল আলামীন

প্রস্তুতকারক:

মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম

মিশরীয় জাতীয় কুতুবখানা ও নথিপত্রাগারে জমাদান নম্বর:

১৫৩৬ / ২০০৫

সংস্করণ নম্বর:

প্রথম -- ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

মুদ্রণ ও প্রকাশনা স্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

আস-সালাম ছাপাখানা - মিত গামর
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبى بعده … أما بعد .. ،

إخوانى وأحبائى فى الله عز وجل يسعدنى أن أكتب لكم هذه الرسالة فى معرفة الله عز وجل، وهى رسالة يحتاج إليها كل مسلم ومسلمة وخاصة الدعاة إلى الله عز وجل، فى هذا الزمن الذى علا فيه الباطل ورفع أعلامه، وأخذ أهله يتظاهرون فى كل مواقفهم أنهم أهل العلم والرقى والحضارة فى كل مجالات الحياة ويتهمون المسلمون بالجهل والرجعية والتخلف، والمسلمون ببعدهم عن دينهم وعدم معرفتهم بربهم يصدقونهم، بيد أن هذه العلوم التى يفتخرون بها هى من علوم ظاهر الحياة الدنيا .. وقد قال الله عز وجل ساخراً منهم
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পর আর কোনো নবী নেই ... অতঃপর .. ,

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আমার প্রিয় ভাই ও সুহৃদগণ, আল্লাহ তাআলার পরিচয় বিষয়ক এই রিসালাহটি আপনাদের জন্য লিখতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি এমন এক রিসালাহ যার প্রয়োজন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর রয়েছে, বিশেষ করে মহান আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈদের জন্য; বিশেষত এমন এক সময়ে যখন বাতিল বা মিথ্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং তার বিজয় নিশান উড়িয়েছে। বাতিলের অনুসারীরা তাদের প্রতিটি অবস্থানে এমন ভাব প্রকাশ করছে যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কেবল তারাই জ্ঞান, প্রগতি ও সভ্যতার ধারক-বাহক এবং তারা মুসলিমদেরকে মূর্খতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও পশ্চাৎপদতার অপবাদে অভিযুক্ত করছে। আর মুসলিমরা তাদের দ্বীন থেকে বিমুখতা এবং তাদের রব সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করে নিচ্ছে। অথচ তারা যে জ্ঞান নিয়ে গর্ব করছে তা কেবল পার্থিব জীবনের বাহ্যিক জ্ঞান মাত্র। আর মহান আল্লাহ তাদের প্রতি উপহাস করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৪)
{يَعْلَمُونَ ظَاهِراً مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ} (1).

وقال تعالى {فَأَعْرِضْ عَنْ مَنْ تَوَلَّى عَنْ ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا} (2).

نظروا إلى مخترعاتهم .. فكأنى بهم ينظرون إلى أنفسهم علواً واستكباراً يقولون: من أقدرُ منا؟! من أعلمُ منا .. ؟! من أشدُ منا قوة .. ؟! فما نتيجة العلو والاستكبار .. ؟!

قال الحق عز وجل: {حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلاً أَوْ نَهَاراً فَجَعَلْنَاهَا حَصِيداً كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآياتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (3) فالله عز وجل أعطى الإنسان بعض المواهب وبعض الإمكانيات ليكتشف بعض

--------------------------------------------

(1) سورة الروم - الآية 7.

(2) سورة النجم - الآية 29.

(3) سورة يونس - من الآية 24.
{তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটি জানে এবং তারা পরকাল সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসচেতন।} (১)।

আর আল্লাহ তাআলা বলেন, {অতএব আপনি তার থেকে বিমুখ হোন যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং পার্থিব জীবন ছাড়া আর কিছুই চায় না।} (২)।

তারা তাদের উদ্ভাবনগুলোর দিকে তাকাল.. যেন আমি তাদের দেখছি যে তারা ঔদ্ধত্য ও অহংকারের সাথে নিজেদের দিকে তাকাচ্ছে এবং বলছে: আমাদের চেয়ে বেশি সক্ষম আর কে আছে?! আমাদের চেয়ে বড় জ্ঞানী আর কে আছে..?! আমাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল আর কে আছে..?! তাহলে এই ঔদ্ধত্য ও অহংকারের পরিণাম কী..?!

পরম সত্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {অবশেষে যখন জমিন তার শোভা ধারণ করল এবং সুশোভিত হলো, আর তার অধিবাসীরা মনে করল যে তারা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাধর, তখন রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ তার কাছে চলে এল, অতঃপর আমি তাকে এমনভাবে নিড়ানি দেওয়া ক্ষেতের ন্যায় করে দিলাম যেন গতকালও সেখানে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি সেই কওমের জন্য যারা চিন্তা-গবেষণা করে} (৩) সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মানুষকে কিছু মেধা ও কিছু সক্ষমতা দিয়েছেন যাতে সে কিছু আবিষ্কার করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রুম - আয়াত ৭।

(২) সূরা আন-নাজম - আয়াত ২৯।

(৩) সূরা ইউনুস - আয়াত ২৪ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৫)
أسراره فى هذا الكون ليزداد إيماناً بربه، فظن بهذه الإمكانيات أنه قادر على أن يتصرف فى هذه الحياة وفق … ما يريد، ويفعل ما يشاء بذاته .. فلما ظنوا هذا الظن .. ونسوا قدرة الله عز وجل .. ونسبوا التقدم لأنفسهم .. واعتقدوا باطلاً أنهم قادرون عليها .. حينئذٍ يأتى أمر الله لينهى كل حضارة .. وكل تقدم وصلوا إليه .. فأصبحت حصيداً كأن لم تكن.

والعلم الحقيقى هو علم المعرفة بالله عز وجل .. فالله عز وجل هو أشرف معلوم.

فيجب على المسلم أن لا ينبهر بما انبهر به غيره وهو يحمل أعظم العلوم وأشرفها .. وأن لا يغفل عن الدرجة الرفيعة التى خصه الله بها وهى الدعوة إلى الله على بصيرة .. حيث أنه الوارث لرسول الله صلى الله عليه وسلم ..

وأن لا يحتقر لما فى يديه من صلاحيات .. وأن لا ينام عن دوره .. وأن لا يتكاسل عن رسالته .. فلو فطن إلى
...এই মহাবিশ্বে তাঁর রহস্যসমূহ যাতে তার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সে এই সক্ষমতাগুলোর কারণে মনে করে বসল যে, সে নিজের ইচ্ছানুযায়ী এই জীবনে সব কিছু পরিচালনা করতে সক্ষম এবং নিজের শক্তিতেই যা ইচ্ছা তা করতে পারে। যখন তারা এই ধারণা পোষণ করল এবং মহান আল্লাহর ক্ষমতা ভুলে গেল, আর সমস্ত অগ্রগতিকে নিজেদের কৃতিত্ব বলে মনে করল এবং ভ্রান্তভাবে বিশ্বাস করল যে তারা এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে; ঠিক তখনই আল্লাহর নির্দেশ আসে সকল সভ্যতা এবং তাদের অর্জিত সকল অগ্রগতিকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। ফলে তা এমনভাবে নিঃশেষ হয়ে গেল যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

আর প্রকৃত জ্ঞান হলো মহান আল্লাহ সম্পর্কে পরিচয়ের জ্ঞান। কেননা মহান আল্লাহ হলেন শ্রেষ্ঠতম জ্ঞাত সত্তা।

তাই একজন মুসলিমের জন্য উচিত নয় অন্যেরা যে মোহে আচ্ছন্ন হয়েছে তাতে মুগ্ধ হওয়া, যেখানে সে নিজে বহন করছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম জ্ঞান। আর আল্লাহ তাকে যে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন—অর্থাৎ প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর পথে আহ্বান করা—সে সম্পর্কেও তার গাফেল হওয়া চলবে না; কেননা সে হলো আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) উত্তরসূরি।

আর তার হাতে যে ক্ষমতা ও সুযোগ রয়েছে তাকে যেন সে তুচ্ছ মনে না করে, নিজের ভূমিকা পালনে যেন সে বিমুখ না হয় এবং নিজের সুমহান বার্তার ব্যাপারে যেন সে অলসতা না করে। যদি সে অনুধাবন করতে পারত...
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৬)
العلم المودع فى قلبه {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّه} (1) لرفع رأسه عالياً وانصلح حاله .. ولفهم أن علم المعرفة بالله هو فى الذروة من كل العلوم .. وهو العلم الذى كلف بتبليغه .. وهو المقام العالى الذى أراده الله عز وجل لكل مسلم فهيا بنا معاً نستنشق عبير الإيمان ونحن نقرأ هذه الرسالة التى تتكلم عن عظمة ربنا سبحانه وتعالى فما أحلى الكلام عن الله عز وجل.

 

(اللهم عطر ألسنتنا بذكرك .. وشكرك .. والدعوة إليك .. )

 

إعداد

محمد على محمد إمام

--------------------------------------------

(1) سورة محمد - من الآية 19.
তাঁর অন্তরে গচ্ছিত জ্ঞান {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই} (১) যাতে তাঁর মস্তক উন্নত হয় এবং তাঁর অবস্থার সংশোধন হয়.. এবং এটি উপলব্ধি করার জন্য যে, আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কিত জ্ঞান সকল ইলমের চূড়ায় অবস্থান করে.. আর এটিই সেই ইলম যা প্রচার করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে.. এবং এটিই সেই উচ্চ মর্যাদা যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য চেয়েছেন। তাই আসুন আমরা একত্রে ঈমানের সুবাস গ্রহণ করি, যখন আমরা এই রিসালাহটি পাঠ করছি যা আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তা'আলার মহিমা সম্পর্কে আলোচনা করে। কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে আলোচনা কতই না মধুর!

 

(হে আল্লাহ, আমাদের জিহ্বাগুলোকে আপনার জিকির, আপনার শুকরিয়া এবং আপনার দিকে দাওয়াতের মাধ্যমে সুবাসিত করুন.. )

 

সংকলন

মুহাম্মাদ আলী মুহাম্মাদ ইমাম

--------------------------------------------

(১) সূরা মুহাম্মাদ - ১৯ নম্বর আয়াতের অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৭)
الله

 

‌‌الله جل جلاله قيوماً (*) قاهراً فوق عباده مستوياً على عرشه كما قال {الرَّحْمَنُ عَلى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (1) (2)

--------------------------------------------

(1) سورة طه - الآية 5.

(2) سئل مالك: كيف استوى؟ فأطرق مالك وأخذته الرحضاء ثم مسح رأسه فقال: " الرحمن على العرش استوى " كما وصف نفسه ولا يقال له كيف، وكيف عنه مرفوع، وأنت رجل سوء صاحب بدعه، أخرجوه، فأخرجوا الرجل.

وسأله رجل آخر فقال: الاستواء غير مجهول والكيف غير معقول.

وقال عبد الله بن نافع: قال مالك: الله فى السماء وعلمه فى كل مكان. (تاريخ الإسلام - 5/ 179).

وقيل لربيعة الرأى: كيف استوى؟ فقال: الاستواء غير مجهول والكيف غير معقول، ومن الله الرسالة، وعلى الرسول البلاغ، وعلينا التصديق. (تاريخ الإسلام - 4/ 52). … =

= قال على بن الحسن بن شقيق: قلت لابن المبارك: كيف تعرف ربنا عزوجل؟ قال: فى السماء على العرش ولا نقول كما قالت الجهمية هو معنا. (تاريخ الإسلام - 5/ 300).

قال الأوزاعى رحمه الله كنا والتابعون متوافرون نقول: إن الله سبحانه على العرش ونؤمن بما ورد فى السنة من الصفات.

_________

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: كذا بالأصل
আল্লাহ

 

‌‌আল্লাহ জাল্লা জালালুহু চিরঞ্জীব ও রক্ষণাবেক্ষণকারী (*) তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী, তাঁর আরশের উপর উঠেছেন যেমন তিনি বলেছেন {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।} (১) (২)

--------------------------------------------

(১) সূরা ত্ব-হা - আয়াত ৫।

(২) ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হলো: তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন মালিক মাথা নিচু করলেন এবং তিনি ঘর্মাক্ত হলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা মুছলেন এবং বললেন: "পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন" যেমনটি তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর ক্ষেত্রে 'কীভাবে' (কাইফ) বলা যাবে না, আর 'কীভাবে' বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তুমি একজন মন্দ লোক ও বিদআতি, একে বের করে দাও। অতঃপর তারা লোকটিকে বের করে দিল।

অন্য এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আল্লাহর উঠে আসা (ইস্তিওয়া) অপরিচিত নয় এবং এর ধরন (কাইফ) বুদ্ধিগম্য নয়।

আব্দুল্লাহ বিন নাফে বলেন: ইমাম মালিক বলেছেন: আল্লাহ আসমানে আছেন এবং তাঁর জ্ঞান সর্বস্থানে পরিব্যাপ্ত। (তারিখুল ইসলাম - ৫/ ১৭৯)।

রাবিআহ আর-রায়-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি বললেন: উঠে আসা (ইস্তিওয়া) অপরিচিত নয় এবং এর ধরন (কাইফ) বুদ্ধিগম্য নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে হলো বার্তা প্রেরণ (রিসালাত), রাসূলের দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া (বালাগ) এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তা বিশ্বাস করা। (তারিখুল ইসলাম - ৪/ ৫২)। … =

= আলী বিন হাসান বিন শাকিক বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বললাম: আমরা আমাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবকে কীভাবে চিনব? তিনি বললেন: আসমানে আরশের উপর; আর আমরা জাহমিয়াহদের মতো বলি না যে তিনি আমাদের সাথে আছেন। (তারিখুল ইসলাম - ৫/ ৩০০)।

ইমাম আওযায়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমরা এবং তাবেয়িগণ যখন পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলাম তখন বলতাম: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু আরশের উপর আছেন এবং আমরা সুন্নাহয় বর্ণিত তাঁর গুণাবলির (সিফাত) ওপর ঈমান রাখি।

_________

(*) শামেলার কিতাব প্রস্তুতকারী বলেন: মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৮)
بائناً من خلقه، منفرداً بتدبير مملكته، متكلماً بأمره ونهيه، بصيراً بحركات العالم علويه وسُفليه، وأشخاصه وذواته، سميعاً لأصواتهم، رقيباً على ضمائرهم وأسرارهم، وأمر الممالك تحت تدبيره، يأمر وينهى، يخلقُ ويرزق، يحيى ويميت، ويقضى وينفذ، يرضى ويغضب، يثيب ويعاقب، يعز ويذل، يُعطى ويمنع، يرفع ويخفض .. {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (1).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران - الآية 26.
তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক, আপন রাজত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে একক, তাঁর আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে কথা বলেন, ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের গতিবিধি এবং ব্যক্তি ও সত্তাসমূহ সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা, তাদের কণ্ঠস্বরের শ্রবণকারী, তাদের বিবেক ও গোপনীয়তার ওপর প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষক। রাজ্যসমূহের সকল বিষয় তাঁরই পরিচালনার অধীন; তিনি আদেশ করেন ও নিষেধ করেন, সৃষ্টি করেন ও রিজিক দান করেন, জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, ফয়সালা করেন ও তা বাস্তবায়ন করেন, সন্তুষ্ট হন ও রাগান্বিত হন, পুরস্কৃত করেন ও শাস্তি দেন, সম্মানিত করেন ও লাঞ্ছিত করেন, দান করেন ও বঞ্চিত করেন, উচ্চ করেন ও নিচু করেন... {বলুন, হে আল্লাহ, আপনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক; আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই সকল কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।} (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান - আয়াত ২৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৯)
ويرحم إذا أُسترحم، ويغفر إذا أُستغفر، ويجيب المضطر، ويكشف الضر، ويشفى السقيم، ويجيب إذا دُعى، ويقيل إذا استقيل ..

{أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلاً … مَا تَذَكَّرُونَ} (1). {وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ} (2). {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} (3).

موصوفاً بصفات الكمال منعوتاً بنعوت الجلال منزهاً من العيوب والنقائص والمثال {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة النمل - الآية 62.

(2) سورة الشعراء - الآية 80.

(3) سورة البقرة - من الآية 186.

(4) سورة الشورى - من الآية 11.
যখন তাঁর কাছে দয়া প্রার্থনা করা হয় তিনি দয়া করেন, যখন ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় তিনি ক্ষমা করেন, তিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন, কষ্ট দূর করেন, অসুস্থকে আরোগ্য দান করেন, যখন তাঁকে ডাকা হয় তিনি সাড়া দেন এবং যখন কেউ ক্ষমা চায় তিনি তাকে ক্ষমা করেন ..

{অথবা কে তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই … উপদেশ গ্রহণ করো} (১)। {আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন} (২)। {আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি তো নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে} (৩)।

তিনি পরিপূর্ণতার গুণে গুণান্বিত, মহিমার বিশেষণে বিশেষিত, সকল ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নামল - আয়াত ৬২।

(২) সূরা আশ-শুআরা - আয়াত ৮০।

(৩) সূরা আল-বাকারা - আয়াত ১৮৬-এর অংশ।

(৪) সূরা আশ-শূরা - আয়াত ১১-এর অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وهو كما وصف نفسه فى كتابه، وفوق ما يصفه به خلقه، يقلب الليل والنهار، ويداول الأيام بين الناس، ويقلب الدول يذهب بدولة ويأتى بأخرى ..

{وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ} (1).

والرسل من ملائكته عليهم الصلاة والسلام بين صاعد بالأمر، ونازل من عنده بالأمر {لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (2)، {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (3).

ينفذون أوامره فى أقطار الممالك، وأوامره ومراسمه متعاقبة على تعاقب الآيات نافذة بحسب إرادته ..

ما شاء الله كان فى الوقت الذى شاء على الوجه الذى يشاء من غير زيادة ولا نقصان ولا تقديم ولا تأخير ..

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران - من الآية 140.

(2) سورة التحريم - من الآية 6.

(3) سورة النحل - الآية 50.
তিনি ঠিক তেমনই, যেমন তিনি নিজের কিতাবে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন, আর তাঁর সৃষ্টিরা তাঁর যে গুণ বর্ণনা করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। তিনি রাত ও দিনের পরিবর্তন করেন, মানুষের মধ্যে দিনসমূহের আবর্তন ঘটান এবং রাষ্ট্রসমূহের পরিবর্তন ঘটান—একটি রাষ্ট্রকে সরিয়ে দেন ও অন্যটি নিয়ে আসেন...

{আর এই দিনসমূহকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি} (১)।

আর তাঁর ফেরেশতাদের মধ্য হতে প্রেরিত রাসূলগণ—তাঁদের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—কেউ নির্দেশ নিয়ে উপরে আরোহণ করছেন, আবার কেউ তাঁর নিকট হতে নির্দেশ নিয়ে নিচে অবতরণ করছেন। {আল্লাহ তাঁদেরকে যে নির্দেশ দেন তাঁরা সে ব্যাপারে তাঁর অবাধ্য হন না এবং তাঁরা তা-ই করেন যা তাঁদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়} (২), {তাঁরা তাঁদের প্রতিপালককে ভয় করেন যিনি তাঁদের উপরে রয়েছেন এবং তাঁরা তা-ই করেন যা করার জন্য তাঁরা আদিষ্ট হন} (৩)।

তাঁরা রাজত্বসমূহের প্রান্তরে তাঁর নির্দেশসমূহ কার্যকর করেন। আর তাঁর নির্দেশ ও বিধানসমূহ নিদর্শনসমূহের পর্যায়ক্রমিক ধারায় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী একের পর এক কার্যকর হতে থাকে...

আল্লাহ যা চান তা-ই হয়—সেই সময়ে যা তিনি চান, এবং সেই পদ্ধতিতে যা তিনি চান; কোনো প্রকার বৃদ্ধি বা হ্রাস এবং অগ্রগামিতা বা পশ্চাদগামিতা ছাড়াই...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান - আয়াত ১৪০-এর অংশ।

(২) সূরা আত-তাহরীম - আয়াত ৬-এর অংশ।

(৩) সূরা আন-নাহল - আয়াত ৫০।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১১)
{إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئاً أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (1).

وأوامره وسلطانه نافذة فى السماوات وأقطارها، وفى الأرض وما عليها وما تحتها، وفى البحار، وفى الجو، وسائر أجزاء العالم وذراته يقلبها ويصرفها ويحدث فيها ما شاء وفق حكمة بالغة وإرادة نافذة ..

حى لا يموت أبداً .. قيوم .. لا ينام {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة يّس - الآية 82.

(2) سورة البقرة - الآية 255.
{নিশ্চয়ই তাঁর নির্দেশ এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন, 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।} (১)।

এবং তাঁর নির্দেশ ও তাঁর কর্তৃত্ব আসমানসমূহ ও এর দিগন্তসমূহে, জমিন এবং এর উপরে ও নিচে যা কিছু আছে তাতে, সমুদ্রে, বায়ুমণ্ডলে এবং জগতের অবশিষ্ট সকল অংশ ও অণু-পরমাণুতে কার্যকর। তিনি এগুলোর পরিবর্তন করেন, এগুলোকে পরিচালনা করেন এবং এগুলোর মাঝে যা ইচ্ছা তা সৃষ্টি করেন এক সুগভীর প্রজ্ঞা ও কার্যকর ইচ্ছার দ্বারা ..

তিনি চিরঞ্জীব যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না .. সর্বসত্তার ধারক .. তিনি ঘুমান না {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং জমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে যা কিছু রয়েছে এবং তাদের পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের সামান্য অংশও তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর এই দুইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান।} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইয়াসিন - আয়াত ৮২।

(২) সূরা আল-বাকারা - আয়াত ২৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১২)
متفرد بالألهية لكل الخلائق، حى فى نفسه لا يموت أبداً، قائم لا ينام، قائم بذاته، المقيم لغيره، فجميع الموجودات مفتقرة إليه وهو غنى عنها ولا قوام لها بدون أمره {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ بِأَمْرِهِ} (1)، لا يغفل عن تدبير الخلق، ولا يعتريه فتور ولا نقص ولا غفلة ولا ذهول عن خلقه {لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْض} (2) فالجميع عبيده وفى ملكه وتحت قهره وسلطانه .. {إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْداً} (3).

ومن عظمته وجلاله وكبريائه لا يتجاسر أحد على أن يشفع لأحدٍ عنده إلا بإذنه له فى الشفاعة حتى النبى محمد صلى الله عليه وسلم {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلا بِإِذْنِه} (4).

--------------------------------------------

(1) سورة الروم - من الآية 25.

(2) سورة البقرة - من الآية 255.

(3) سورة مريم - الآية 93.

(4) سورة البقرة - من الآية 255.
তিনি সকল সৃষ্টির উপাস্য হিসেবে একক, তিনি আপন সত্তায় চিরঞ্জীব যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তিনি চিরজাগ্রত যিনি কখনো নিদ্রা যান না, তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অন্যদের অস্তিত্ব রক্ষাকারী; ফলে সকল বিদ্যমান বস্তু তাঁরই মুখাপেক্ষী, অথচ তিনি সেগুলোর থেকে অভাবমুক্ত এবং তাঁর আদেশ ব্যতীত সেগুলোর কোনো স্থিতি নেই—{আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো এই যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁরই আদেশে দাঁড়িয়ে আছে} (১)। তিনি সৃষ্টির ব্যবস্থাপনা থেকে উদাসীন হন না এবং তাঁর সৃষ্টির বিষয়ে কোনো অবসাদ, ত্রুটি, অসতর্কতা বা বিস্মৃতি তাঁকে স্পর্শ করে না—{আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই} (২)। সুতরাং সকলেই তাঁর দাস, তাঁর মালিকানাধীন এবং তাঁর প্রবল প্রতাপ ও কর্তৃত্বের অধীন... {আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহর নিকট দাস হিসেবে উপস্থিত হবে না} (৩)।

এবং তাঁর মহিমা, প্রতাপ ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ তাঁর নিকট কারো জন্য সুপারিশ করার দুঃসাহস দেখাবে না, এমনকি নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও নন—{কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} (৪)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রুম - ২৫ নং আয়াতের অংশ।

(২) সূরা আল-বাকারাহ - ২৫৫ নং আয়াতের অংশ।

(৩) সূরা মারইয়াম - ৯৩ নং আয়াত।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ - ২৫৫ নং আয়াতের অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
سميعٌ .. بصير .. {إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (1).

{قَالَ لا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} (2).

البصير .. الذى لكمال بصره، أحاط بصره جميع المرئيات، وأبصر جميع المبصرات .. بل يبصر جميع المعدومات، التى سوف تكون فى حيز الوجود، يبصر الأشياء على ما ستؤولُ إليه، ويعلم حقائقها، ودقائقها، وما وراءها من المقاصد والغايات.

فيرى دبيب النملة السوداء على الصخرة الصماء فى الليلة الظلماء ويرى نياط عروقها ومجارى القوت فى أعضائها ..

ويرى ما تحت الأراضى السبع كما يرى ما فوق السماوات السبع {أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة غافر- من الآية 20.

(2) سورة طه - الآية 46.

(3) سورة العلق - الآية 14.
সর্বশ্রোতা .. সর্বদ্রষ্টা .. {নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (১)।

{তিনি বললেন, তোমরা ভয় পেয়ো না। আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি; আমি শুনি এবং দেখি} (২)।

সর্বদ্রষ্টা .. যাঁর দৃষ্টির পূর্ণতার কারণে তাঁর দৃষ্টি সমস্ত দৃশ্যমান বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তিনি সমস্ত দৃষ্টিগোচর বস্তুসমূহকে দেখেন .. বরং তিনি সেই সকল অবিদ্যমান বস্তুসমূহকেও দেখেন যা ভবিষ্যতে অস্তিত্ব লাভ করবে। তিনি বিষয়বস্তুসমূহকে সেগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি অনুযায়ী দেখেন এবং সেগুলোর হাকীকত, সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং সেগুলোর অন্তরালের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে জানেন।

তিনি ঘোর অন্ধকার রাতে নিরেট পাথরের উপর দিয়ে কালো পিঁপড়ার চলাফেরা দেখেন এবং তিনি তার শিরা-উপশিরার তন্তুসমূহ ও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে খাদ্যের প্রবাহপথসমূহ দেখেন ..

আর তিনি সাত যমীনের নিচে যা কিছু আছে তা সেভাবেই দেখেন যেভাবে তিনি সাত আসমানের উপরে যা কিছু আছে তা দেখেন {সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?} (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা গাফির - আয়াত ২০ এর অংশ বিশেষ।

(২) সূরা ত্বহা - আয়াত ৪৬।

(৩) সূরা আলাক - আয়াত ১৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
السميع .. الذى لكمال سمعه وسع سمعه الأصوات، يسمعُ ضجيج الأصوات باختلاف اللغات على تفنن الحاجات، فلا تختلف عليه، ولا تشتبه عليه، ولا يشغله سمعٌ عن سمع، ولا يشغله صوت عن صوت، ولا يغيب عنه صوت، ولا يخفى عليه صوت دبيب النملة، أو حركة الذرة … أو ذبذبات الصخور فى أعماق البحار، أو فى أعالِ الجبال، لا يغيب عن سمعه المعدومات وهى التى لم تدخل فى حيز الوجود بعد ولا تغلطه كثرة المسائل، ولا يتبرم بإلحاح … (ذوى الحاجات) الملحين.

{سَوَاءٌ مِنْكُمْ مَنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَنْ جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ} (1).

الغيب عنده شهادة، والسر عنده علانية، يعلم السر وأخفى من السر .. فالسر ما انطوى عليه ضمير العبد وخطر

--------------------------------------------

(1) سورة الرعد - الآية 10.
সর্বশ্রোতা.. যাঁর শ্রবণের পূর্ণতার কারণে তাঁর শ্রবণ সকল শব্দকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; তিনি বিভিন্ন ভাষার শব্দের কোলাহল শ্রবণ করেন প্রয়োজনের বৈচিত্র্য অনুসারে। ফলে তা তাঁর নিকট ভিন্নতর হয় না এবং তাঁর নিকট অস্পষ্টও হয় না। একটি শ্রবণ তাঁকে অন্য শ্রবণ হতে ব্যতিব্যস্ত করে না এবং একটি শব্দ তাঁকে অন্য শব্দ হতে বিমুখ করে না। কোনো শব্দই তাঁর অগোচরে থাকে না এবং তাঁর নিকট পিঁপড়ার চলাচল কিংবা অণুর নড়াচড়ার শব্দ গোপন থাকে না … অথবা সমুদ্রের অতল গহ্বরে কিংবা পাহাড়ের সুউচ্চ শৃঙ্গে পাথরের কম্পনও। অস্তিত্বহীন বস্তুসমূহও তাঁর শ্রবণের অগোচর নয়—যা এখনো অস্তিত্বের সীমায় প্রবেশ করেনি। অসংখ্য আবেদন তাঁকে বিভ্রান্ত করে না এবং অভাবী যাঞ্ঝাকারীদের অনবরত আকুতিতে তিনি বিরক্ত হন না।

{তোমাদের মধ্যে যে কথা গোপনে বলে এবং যে তা প্রকাশ্যে বলে, আর যে রাতে আত্মগোপন করে এবং যে দিনে বিচরণ করে, তারা সবাই সমান} (১)।

অদৃশ্য তাঁর নিকট দৃশ্যমান এবং গোপন বিষয় তাঁর নিকট প্রকাশ্য। তিনি গোপন এবং গোপনের চেয়েও নিভৃত বিষয় জানেন.. গোপন হলো যা বান্দার অন্তরে সংগুপ্ত থাকে এবং যা তার মনে উদিত হয়

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রাদ - আয়াত ১০।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
بقلبه ولم تتحرك به شفتاه، وأخفى منه ما لم يخطر بعد فيعلم أنه سيخطر بقلبه كذا .. وكذا .. فى وقت كذا .. وكذا.

{إِنَّ اللَّهَ لا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ} (1).

{يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} (2).

{يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ} (3).

{أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران - الآية 5.

(2) سورة التغابن - الآية 4.

(3) سورة سبأ - الآية 2.
তার অন্তরের মাধ্যমে অথচ তার ঠোঁটদ্বয় তা নিয়ে নড়েনি, এবং তিনি এমন বিষয় সম্পর্কেও জানেন যা তার অন্তরে এখনও উদিত হয়নি; ফলে তিনি জানেন যে অমুক অমুক সময়ে তার অন্তরে অমুক অমুক বিষয় উদিত হবে।

{নিশ্চয় আল্লাহর নিকট জমিন এবং আসমানের কোনো কিছুই গোপন থাকে না} (১)।

{আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং তোমরা যা গোপন করো আর যা প্রকাশ করো তাও তিনি জানেন। আর আল্লাহ অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত} (২)।

{জমিনে যা প্রবেশ করে এবং তা থেকে যা নির্গত হয়, আর আসমান থেকে যা নাযিল হয় এবং তাতে যা আরোহণ করে, তিনি তা জানেন। আর তিনি পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল} (৩)।

{তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না, আর পাঁচ ব্যক্তিরও নয় যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথেই থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান - আয়াত ৫।

(২) সূরা আত-তাগাবুন - আয়াত ৪।

(৩) সূরা সাবা - আয়াত ২।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (1).

{وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَلا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلا أَكْبَرَ إِلا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} (2).

{يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ} (3).

أحاط الله - عز وجل - بكل شئ علما وأحصى كل شئ عدداً ووسع كل شئ رحمة وعلماً وعدلاً .. العالم بكل شئ .. ولكمال علمه يعلم ما بين أيدى الخلائق وما خلفهم، وماضيهم وحاضرهم ومستقبلهم .. لا يتقيد علمه بزمان ولا مكان .. ولا يعترى عليه النسيان .. ولم يسبق علمه

--------------------------------------------

(1) سورة المجادلة - الآية 7.

(2) سورة يونس - من الآية 61.

(3) سورة لقمان - الآية 16.
{আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} (১)।

{আর তোমার প্রতিপালকের অগোচরে থাকে না অণু পরিমাণ কোনো কিছু—না জমিনে, না আসমানে। আর এর চেয়ে ক্ষুদ্রতর কিংবা বৃহত্তর যা-ই হোক না কেন, তা সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে} (২)।

{হে বৎস, আমল যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, অতঃপর তা কোনো পাথরের অভ্যন্তরে কিংবা আসমানসমূহে অথবা জমিনে থাকে, তবে আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত} (৩)।

আল্লাহ—যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—সবকিছুকে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন, প্রতিটি বস্তুকে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে গণনা করে রেখেছেন এবং তাঁর রহমত, জ্ঞান ও ন্যায়বিচার সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। তিনি সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী। তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতার কারণে তিনি সৃষ্টির সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে এবং তাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর জ্ঞান কাল বা স্থানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয় এবং তাঁকে বিস্মৃতি স্পর্শ করে না। তাঁর জ্ঞানের পূর্বে কোনো অজ্ঞানতা ছিল না...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুজাদালাহ - আয়াত ৭।

(২) সূরা ইউনুস - আয়াত ৬১ থেকে।

(৩) সূরা লুকমান - আয়াত ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
جهل .. يعلم دبيب الخواطر فى القلوب .. عليم بالجزئيات كما هو عليم بالكليات .. عليم بدقائق الأمور وأسرار المقدور وهو بالظاهر بصير وبالباطن خبير ..

لا تراه العيون ولا تخالطه الظنون ولا تغيره الحوادث ولا يخشى الدوائر يعلم مثاقيل الجبال وعدد قطر الأمطار وعدد ورق الأشجار وعدد حبات الرمال وعدد ما أظلم عليه الليل وأشرق عليه النهار ولا توارى منه سماءً سماء … ولا أرضاً أرضا ولا بحر ما فى قعره ولا جبل ما فى وعره {وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلا يَعْلَمُهَا وَلا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلا رَطْبٍ وَلا يَابِسٍ إِلا فِي كِتَابٍ … مُبِينٍ} (1).

وما تسقط من ورقة إلا يعلمها متى نبتت ومتى سقطت ولما سقطت .. وأين سقطت وفى أى شئ سقطت .. ولا حبة فى ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا فى كتاب

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام - الآية 59.
অজ্ঞতা থেকে তিনি পবিত্র.. তিনি অন্তরের সংকল্পসমূহের পদধ্বনি সম্পর্কে অবহিত.. তিনি বিশেষ বিশেষ খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ সম্পর্কে যেমন পরিজ্ঞাত, তেমনিভাবে তিনি সামগ্রিক বিষয়সমূহ সম্পর্কেও পরিজ্ঞাত.. তিনি কার্যাবলীর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ এবং তাকদিরের রহস্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি দৃশ্যমান বিষয়ের ওপর দৃষ্টিমান এবং অদৃশ্য বিষয়ের খবর রাখেন..

চোখসমূহ তাঁকে দেখতে পায় না, কোনো কল্পনা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না, কোনো ঘটনা তাঁকে পরিবর্তন করতে পারে না এবং তিনি কোনো বিপর্যয়ের পরোয়া করেন না। তিনি পাহাড়সমূহের ওজন, বৃষ্টির ফোঁটার সংখ্যা, গাছের পাতার সংখ্যা, বালুকণার সংখ্যা এবং যার ওপর রাত অন্ধকার ছড়িয়ে দেয় ও যার ওপর দিন আলোকোজ্জ্বল হয় তার সংখ্যা সম্পর্কে জানেন। কোনো আকাশ তাঁর থেকে অন্য আকাশকে আড়াল করতে পারে না … কোনো জমিন অন্য জমিনকে গোপন করতে পারে না, কোনো সমুদ্র তার তলদেশের কিছু লুকাতে পারে না এবং কোনো পাহাড় তার বন্ধুর ভূমির কোনো কিছু গোপন করতে পারে না {আর তাঁর নিকটেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। জল ও স্থলের সব কিছুই তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও ঝরে না এবং মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও নেই আর কোনো রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক বস্তুও নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে … লিপিবদ্ধ নেই} (১)।

কোনো একটি পাতাও ঝরে না যা তিনি জানেন না—কখন তা অঙ্কুরিত হয়েছে এবং কখন তা ঝরেছে আর কেন তা ঝরেছে.. আর কোথায় তা পড়েছে এবং কিসের ওপর পড়েছে.. মাটির অন্ধকারে কোনো শস্যকণা এবং কোনো রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক বস্তুও নেই যা কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম - আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
مبين .. {يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَلِكَ تُخْرَجُونَ} (1).

قائم على كل نفسٍ بما كسبت، مدبر لشئون خلقه وفق حكمةٍ بالغةٍ، وإرادة نافذةٍ وقدرة منفذةٍ، فله القدرة التامة، والمشيئة النافذة والعلم المحيط بما كان وبما سيكون وبما هو كائن ..

وله الغنى المطلق من جميع الكائنات .. وله الحكمة الباهرة التى بهرت جميع المخلوقات .. وله الكلمات التامات النافذات التى لا يجاوزهن برٌ ولا فاجر فى جميع البريات .. قيم الأرض والسماوات .. الحى القيوم الذى لكمال حياته، وقيومته، لا تأخذه سنة ولا نوم .. ليس فى مخلوقاته شئ من ذاته، ولا فى ذاته شئ من مخلوقاته، بل هو بائن من خلقه، مستوٍ على عرشه، عالٍ على كل شئ، وفوق كل شئ، له علو الذات، وعلو القدر، وعلو القهر ..

--------------------------------------------

(1) سورة الروم - الآية 19.
সুস্পষ্ট .. {তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন, আর তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন এবং এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে} (১)।

তিনি প্রতিটি প্রাণের ওপর তারা যা অর্জন করে সে অনুযায়ী দণ্ডায়মান, তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞা, কার্যকর ইচ্ছা এবং বাস্তবায়িত ক্ষমতার দ্বারা তিনি তাঁর সৃষ্টির সকল বিষয় পরিচালনা করেন; সুতরাং তাঁর জন্য রয়েছে পূর্ণ ক্ষমতা, কার্যকর ইচ্ছা এবং যা ছিল, যা হবে এবং যা বর্তমানে বিদ্যমান সে সম্পর্কে পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান ..

এবং সকল সৃষ্টি হতে তাঁরই রয়েছে নিরঙ্কুশ অমুখাপেক্ষিতা .. তাঁর রয়েছে এমন উজ্জ্বল প্রজ্ঞা যা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে অভিভূত করেছে .. তাঁর রয়েছে সেই পরিপূর্ণ ও কার্যকর বাণীসমূহ যা সমস্ত সৃষ্টির মাঝে কোনো পুণ্যবান বা পাপাচারী অতিক্রম করতে পারে না .. তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রক্ষণাবেক্ষণকারী .. চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক, যাঁর জীবনের পূর্ণতা এবং চিরস্থায়িত্বের কারণে তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না .. তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু তাঁর সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়, আর তাঁর সত্তার মাঝেও তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু নেই; বরং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে আলাদা, তিনি তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং সবকিছুর উপরে। তাঁর জন্য রয়েছে সত্তাগত উচ্চতা, মর্যাদাগত উচ্চতা এবং আধিপত্যগত উচ্চতা ..

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রূম - আয়াত ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
هو العلى الذى لا تدرك ذاته ولا تتصور صفاته فسبحان من لا يدرك ذاته إلا ذاته ولا يحيط الخلق مجتمعين … أو متفرقين بصفةٍ من صفاته ..

وهو العلى الذى لا يزيده تعظيم العباد علواً، إذ هو عالٍ بذاته وصفاته على سائر خلقه غنى عنهم وهم الفقراء إليه لا تنفعه طاعتهم ولا تضره معصيتهم وهو المتعال عن الأنداد والأضداد {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (1) فلا يدانيه أحد مهما علت رتبته، فهو الذى يمنع عباده ما شاء من فضله، ويضع من شاء فى أى رتبة شاء، وهو ولى النعم ومسديها ..

تعالى بفضله ورحمته عن الوجود كله .. تمت كلمته صدقاً وعدلاً، وجلت صفاته أن تقاس بصفات خلقه شبهاً ومثلاً، وتعالت ذاته أن تشبه شيئاً من الذوات أصلاً. ووسعت الخليقة أفعاله عدلاً وحكمة ورحمة وإحساناً … وفضلاً ..

--------------------------------------------

(1) سورة الشورى - من الآية 11.
তিনি সেই সুউচ্চ, যাঁর সত্তাকে উপলব্ধি করা যায় না এবং যাঁর গুণাবলির কল্পনা করা যায় না। অতএব পবিত্রতা সেই সত্তার, যাঁর সত্তা কেবল তিনি নিজেই উপলব্ধি করেন এবং সমগ্র সৃষ্টি একত্রে … অথবা পৃথক পৃথকভাবে তাঁর কোনো গুণাবলিকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।

আর তিনি সেই সুউচ্চ, বান্দাদের সম্মান প্রদর্শন যাঁর উচ্চতাকে বৃদ্ধি করে না; কেননা তিনি স্বীয় সত্তা ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টির উপরে উচ্চ। তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী, আর তারা তাঁর মুখাপেক্ষী। তাদের আনুগত্য তাঁর কোনো উপকার করে না এবং তাদের অবাধ্যতা তাঁর কোনো ক্ষতি করে না। তিনি সমকক্ষ ও প্রতিপক্ষ থেকে ঊর্ধ্বে। {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (১)। কারো মর্যাদা যত সুউচ্চই হোক না কেন, কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা যেকোনো মর্যাদায় আসীন করেন। তিনি সকল নেয়ামতের অধিপতি ও প্রদানকারী।

তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতের মাধ্যমে সমগ্র জগতের ঊর্ধ্বে। সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে তাঁর বাণী পূর্ণ হয়েছে। তাঁর গুণাবলি এতই মহান যে তা সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সাদৃশ্য বা উপমায় তুলনা করা যায় না। তাঁর সত্তা যেকোনো সত্তার সাদৃশ্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে ঊর্ধ্বে। তাঁর কার্যাবলি সমগ্র সৃষ্টিজগতকে ন্যায়বিচার, হিকমত, রহমত, ইহসান … এবং অনুগ্রহ দ্বারা পরিবেষ্টন করে আছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আশ-শূরা - আয়াত ১১-এর অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২০)
له الخلق والأمر، وله النعمة والفضل، وله الملك والحمد، وله الدنيا والآخرة، وله الثناء والمجد، وله الثناء الحسن، له الملك كله، وله الحمدُ كله، وبيده الخير كله، وإليه يرجع الأمر كله، علانيته وسره، شملت قدرته كل شئ، ووسعت رحمته كل شئ ووسعت نعمته كل حى ..

يبدى ويعيد .. ، لا يفنى ولا يبيد {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} (1)، {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (2)، هو الأول (الذى ليس قبله شئ)، والآخر (الذى ليس بعده شئ)، والظاهر (الذى ليس فوقه شئ، وهو العالى على كل شئ وهو الغالب الذى لا يغلب، القاهر الذى لا يقهر، الظاهر للعقول بالدلائل، الذى دلت كل الدلائل المادية والمعنوية على وجوده ووحدانيته فى الذات والصفات والأفعال .. )، والباطن (الذى ليس دونه شئ)، والباطن

--------------------------------------------

(1) سورة القصص - من الآية 88.

(2) سورة الحديد - الآية 3.
সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই, নিআমত ও অনুগ্রহ তাঁরই, রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, দুনিয়া ও আখিরাত তাঁরই, স্তুতি ও মহিমা তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। সমগ্র রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং যাবতীয় বিষয় তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হয়—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন। তাঁর ক্ষমতা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, তাঁর দয়া প্রতিটি বস্তুকে ব্যাপ্ত করে আছে এবং তাঁর নিআমত প্রতিটি প্রাণীকে পরিব্যাপ্ত করেছে...

তিনিই সৃষ্টি আরম্ভ করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন... তিনি লয়প্রাপ্ত হন না এবং ধ্বংস হন না। {তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।} (১), {তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} (২)। তিনি আদি (যার পূর্বে কিছু নেই), এবং অন্ত (যার পরে কিছু নেই), এবং প্রকাশ্য (যার উপরে কিছু নেই; তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং তিনি এমন বিজয়ী যাকে পরাজিত করা যায় না, এমন পরাক্রমশালী যাকে দমিত করা যায় না; প্রমাণের মাধ্যমে তিনি বুদ্ধির নিকট স্পষ্ট, যাঁর অস্তিত্ব এবং সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলির একত্বের ওপর সমস্ত বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক প্রমাণাদি নির্দেশ করে...), এবং অপ্রকাশ্য (যার নিচে কিছু নেই), এবং অপ্রকাশ্য...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস - ৮৮ নং আয়াতের অংশ।

(২) সূরা আল-হাদীদ - ৩ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২১)
(الذى بطن كل شئ أى علم باطنه وخفاياه)، والباطن … (عن إدراك الحواس وتوهمات الخيال)، والباطن (الذى احتجب بقوة ظهوره عن سائر خلقه فلا تدركه الأبصار).

الرزاق: الذى يعطى كل كائن حى ما يحفظ به حياته سواء بالأسباب أو بدون الأسباب أو ضد الأسباب .. … {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} (1).

الوهاب: الذى يعطى من يشاء، متى شاء، فى أى وقت شاء، على الوجه الذى يشاء .. بغير حساب .. والوهاب الذى يهب العطاء دون عوض ويعطى النعمة بغير سؤال ويهب ما شاء لمن شاء من المواهب بدون أسباب {يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثاً وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ} (2).

المقيت: الذى يعطى القوت لكل مخلوق حيث كان ..

اللطيف: الذى لا تدركه الأبصار وهو يدرك الأبصار

--------------------------------------------

(1) سورة هود - الآية 6.

(2) سورة الشورى - من الآية 49.
(যিনি প্রতিটি বস্তুর রহস্য জানেন অর্থাৎ এর অভ্যন্তরীণ দিক ও গোপন বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত), আর আল-বাতিন … (যিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা এবং কল্পনার ঊর্ধ্বে), এবং আল-বাতিন (যিনি তাঁর প্রকাশের প্রাবল্য দিয়ে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে নিজেকে আবৃত রেখেছেন ফলে দৃষ্টিসমূহ তাঁকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না)।

আর-রাজ্জাক: যিনি প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীকে তার জীবন রক্ষার উপকরণ দান করেন, মাধ্যম দ্বারা হোক কিংবা মাধ্যম ব্যতীত অথবা মাধ্যমের বিপরীতে... … {আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নয়। তিনি জানেন তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থানস্থল। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে} (১)।

আল-ওয়াহহাব: যিনি যাকে ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা, যেকোনো সময়ে, যেভাবে ইচ্ছা প্রদান করেন... কোনো হিসাব ছাড়াই... এবং আল-ওয়াহহাব হলেন তিনি যিনি প্রতিদান ছাড়াই দান করেন এবং প্রার্থনা ছাড়াই নেয়ামত দান করেন এবং মাধ্যম ছাড়াই যাকে ইচ্ছা যা ইচ্ছা প্রতিভা দান করেন {তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন} (২)।

আল-মুকিত: যিনি প্রতিটি সৃষ্টিকে সে যেখানেই থাকুক না কেন তার খাদ্য ও শক্তি সরবরাহ করেন...

আল-লাতিফ: দৃষ্টিসমূহ তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না কিন্তু তিনি দৃষ্টিসমূহকে উপলব্ধি করেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ - আয়াত ৬।

(২) সূরা আশ-শূরা - আয়াত ৪৯ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وهو اللطيف الخبير ..

الخالق: خالق الأشياء والأحوال يفعل ما يشاء بقدرته ولا يحتاج لأحدٍ من خلقه وهو الصمد ..

هو الخالق لكل شئ .. المالك لكل شئ .. المهيمن على كل شئ .. المتصرف فى كل شئ .. المدبر لكل شئ .. القادر على كل شئ .. الرازق لكل شئ ..

الخالق .. المقَّدر الموجد المبدع .. الخالق الذى أوجد كل شئ من العدم على غير مثال سابق ..

{اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ} (1).

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَاباً وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئاً لا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة الزمر - الآية 62.

(2) سورة الحج - الآية 73.
তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত ..

সৃষ্টিকর্তা: বস্তুনিচয় ও অবস্থাসমূহের স্রষ্টা, তিনি তাঁর ক্ষমতা দ্বারা যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির কারও মুখাপেক্ষী নন, আর তিনি অমুখাপেক্ষী (সামাদ) ..

তিনি সবকিছুর স্রষ্টা .. সবকিছুর মালিক .. সবকিছুর ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী .. সবকিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল .. সবকিছুর পরিচালক .. সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান .. সবকিছুর রিযিকদাতা ..

সৃষ্টিকর্তা .. নির্ধারণকারী, অস্তিত্বদানকারী, উদ্ভাবনকারী .. সেই সৃষ্টিকর্তা যিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই শূন্য থেকে সবকিছুকে অস্তিত্ব দান করেছেন ..

{আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক।} (১)।

{হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হলো, তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য একত্র হয়। আর মাছি যদি তাদের থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তা উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী এবং অন্বেষিত উভয়েই কতই না দুর্বল!} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যুমার - আয়াত ৬২।

(২) সূরা আল-হাজ্জ - আয়াত ৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
{هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ} (1).

{أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لا يَخْلُقُ أَفَلا تَذَكَّرُونَ} (2).

وفى الحديث القدسى: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال سمعت رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول: قال اللَّه تعالى: " ومن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي! فليخلقوا ذرة … أو ليخلقوا حبة أو ليخلقوا شعيرة " متفق عَلَيْهِ (3).

الله جل جلاله .. خالق ومستوٍ فى خلقه السماوات والذرة وكذلك الفيل والنملة .. الله جل جلاله ما استفاد اسم الخالق بعد الخلق فهو " خالق " قبل أن يخلق الخلق والله جل جلاله ما استفاد اسم البارى بعد إحداث البرية فهو " البارئ " قبل إحداث البرية.

--------------------------------------------

(1) سورة لقمان - الآية 11.

(2) سورة النحل - الآية 17.

(3) رياض الصالحين - باب تحريم الصور.
{এটি আল্লাহর সৃষ্টি; সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যরা কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও। বরং জালিমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।} (১)।

{সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি সেই ব্যক্তির মতো যে সৃষ্টি করে না? তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} (২)।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাআলা বলেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে যায়! তবে তারা যেন একটি অণু সৃষ্টি করে... অথবা তারা যেন একটি শস্যদানা সৃষ্টি করে অথবা তারা যেন একটি বার্লিদানা সৃষ্টি করে।" বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সংকলিত (৩)।

আল্লাহ জাল্লা জালালুহু.. তিনি স্রষ্টা এবং তিনি আসমানসমূহ ও অণু, তেমনি হাতি ও পিঁপড়া সৃষ্টির উপর উঠেছেন.. আল্লাহ জাল্লা জালালুহু সৃষ্টির পর স্রষ্টা নাম অর্জন করেননি, বরং তিনি সৃষ্টির পূর্বেই "স্রষ্টা" ছিলেন; এবং আল্লাহ জাল্লা জালালুহু সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পর উদ্ভাবক নাম অর্জন করেননি, বরং তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বেই "উদ্ভাবক" ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা লোকমান - আয়াত ১১।

(২) সূরা আন-নাহল - আয়াত ১৭।

(৩) রিয়াদুস সালিহীন - ছবি হারামের অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
الله جل جلاله ما خلقنا بحاجة منه إلينا بل خلقنا اقتداراً منه علينا .. الله جل جلاله .. ما خلق الخلق بحاجة منه إلى الخلق بل هو غنى عن خلقه .. غنى بذاته .. ليس غنى بالإنسان أو بالملائكة أو السماوات أو الأرض أو الجبال .. الخ ..

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} (1).

غنى بذاته وكل الذوات محتاجة إلى ذاته سبحانه وتعالى ..

البارئ المصور:

- البارئ: المصلح الذى يعطى كل شئ ما يناسبه من الخلق والتكوين والتسوية وفق علمه وإرادته وقوته ..

- المصور: الذى خص كل موجود بصورة تميزه عما سواه فأحدث الصورة على أى نحو شاء وعلى أى كيفية أراد ..

{الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة فاطر - الآية 15.

(2) سورة الانفطار- الآية 7.
আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আমাদের প্রতি তাঁর কোনো মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাদের সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি আমাদের ওপর তাঁর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমাদের সৃষ্টি করেছেন.. আল্লাহ জাল্লা জালালুহু.. সৃষ্টির প্রতি তাঁর কোনো মুখাপেক্ষিতা থেকে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী.. তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ.. মানুষ, ফেরেশতা, আসমান, জমিন বা পাহাড়-পর্বতের মাধ্যমে তিনি অমুখাপেক্ষী নন.. ইত্যাদি..

{হে মানুষ! তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী; আর আল্লাহ, তিনিই অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।} (১)।

তিনি স্বীয় সত্তাগতভাবে অমুখাপেক্ষী এবং সকল সত্তাই তাঁর—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—সত্তার মুখাপেক্ষী..

আল-বারী, আল-মুসাব্বির:

- আল-বারী: এমন সুবিন্যস্তকারী, যিনি তাঁর জ্ঞান, ইচ্ছা ও শক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বস্তুকে তার সৃষ্টি, গঠন ও সুসামঞ্জস্য করার ক্ষেত্রে যা উপযুক্ত তা দান করেন..

- আল-মুসাব্বির: যিনি প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুকে এমন এক স্বতন্ত্র রূপ দান করেছেন যা তাকে অন্য সব কিছু থেকে পৃথক করে। ফলে তিনি যেভাবে চেয়েছেন এবং যে পদ্ধতিতে ইচ্ছা করেছেন সেভাবেই রূপ দান করেছেন..

{যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন।} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা ফাতির - আয়াত ১৫।

(২) সূরা আল-ইনফিতার - আয়াত ৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
أسماؤه كلها مدح، وحمد، وثناء، وتمجيد، ولذلك كانت حسنى وصفاته كلها صفات كمال ونعوته كلها جلال وأفعاله كلها حكمة ورحمة ومصلحة وعدلاً ..

كل شئ من مخلوقاته دال عليه ومرشد لمن رآه بعين البصيرة إليه .. لم يخلق السماوات والأرض وما بينهما باطلاً ولا ترك الإنسان سدى عاطلاً ..

بل الخلق لقيام توحيده وعبادته وأسبغ عليهم نعمه ظاهرة وباطنة ليتوسلوا بشكرها إلى زيادة كرامته ..

تعرف إلى عبادة بأنواع التعريفات وصرف لهم الآيات ونوع لهم الدلالات ودعاهم إلى محبته من جميع الأبواب ومد بينه وبينهم أقوى الأسباب فأتم عليهم نعمه السابغة وأقام عليهم حجته البالغة وأفاض عليهم النعمة وكتب على نفسه الرحمة وضمن الكتاب الذى كتبه أن رحمته تغلب غضبه فهو عنده فوق عرشه .. {يَسْأَلُهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} (1).

--------------------------------------------

(1) سورة الرحمن - الآية 29.
তাঁর নামসমূহ সবই প্রশংসা, স্তুতি, গুণগান ও মহিমা স্বরূপ, তাই সেগুলো সর্বোত্তম। তাঁর সকল গুণাবলিই পূর্ণতার গুণ, তাঁর সকল বৈশিষ্ট্যই মহিমাময় এবং তাঁর সকল কাজই প্রজ্ঞা, রহমত, কল্যাণ ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ..

তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং যে ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখে তাকে তাঁরই দিকে পথপ্রদর্শন করে। তিনি আসমান ও জমিন এবং এদের মধ্যবর্তী কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং মানুষকে লক্ষ্যহীন ও অকেজো হিসেবে ছেড়ে দেননি..

বরং তাঁর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও তাঁর ইবাদতের জন্যই এই সৃষ্টি। তিনি তাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর পক্ষ থেকে অধিক মর্যাদা লাভের অসিলা গ্রহণ করতে পারে..

তিনি বিভিন্নভাবে তাঁর বান্দাদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন, তাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, প্রমাণের বৈচিত্র্য এনেছেন এবং সকল দ্বার দিয়ে তাঁর ভালোবাসার দিকে তাদের আহ্বান করেছেন। তিনি তাঁর ও তাদের মাঝে সুদৃঢ় মাধ্যম তৈরি করেছেন, ফলে তাদের ওপর তাঁর প্রশস্ত নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন এবং তাদের ওপর তাঁর অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাদের ওপর নেয়ামতের ধারা প্রবাহিত করেছেন, নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন এবং তাঁর লিপিবদ্ধ কিতাবে এই নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন যে, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে; আর তা তাঁর নিকট আরশের উপরে রয়েছে.. "আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই তাঁর কাছেই প্রার্থনা করে; প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো মহান কার্যে রত।" (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রাহমান - আয়াত ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
يغفرُ ذنباً ويفرجُ هماً ويكشفُ كرباً، ويجبرُ كسراً، ويغنى فقيراً، ويعلمُ جاهلاً، ويهدى ضالاً، ويرشدُ حيراناً، ويغيث لهفاناً، ويفك عانياً، ويُشبع جائعاً، ويكسوا عارياً، ويشفى مريضاً ويعافى مبتلى، ويقبل تائباً، ويجزى محسناً، وينصر مظلوماً، ويقصمُ جباراً، ويقيلُ عثرة، ويسترُ عورةً، ويؤمنُ خائفاً ويرفع أقواماً، ويضع آخرين ..

" إن الله لا ينام ولا ينبغى له أن ينام يخفضُ القسط ويرفعه، يرفع إليه عمل الليل قبل النهار وعمل النهار قبل الليل، حجابه النور لو كشفه لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه .. ".

" يمين الله ملأى لا يغيضها نفقة، سحاء الليل والنهار أرأيتم ما أنفق منذ خلق السماوات والأرض .. ".

قلوب العباد ونواصيهم بيده، وأزمة (1) الأمور بيده، معقودة بقضاءه وقدره ..

--------------------------------------------

(1) أزمة: جمع زمام.
তিনি পাপ ক্ষমা করেন, দুশ্চিন্তা দূর করেন, বিপদ মোচন করেন, ভাঙা হৃদয় জোড়া দেন, দরিদ্রকে অভাবমুক্ত করেন, অজ্ঞকে শিক্ষা দেন, পথভ্রষ্টকে পথপ্রদর্শন করেন, বিভ্রান্তকে দিশা দেন, আর্তের ডাকে সাড়া দেন, বন্দিকে মুক্ত করেন, ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করেন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র পরিধান করান, অসুস্থকে আরোগ্য দান করেন, বিপদগ্রস্তকে সুস্থতা দান করেন, তওবাকারীকে কবুল করেন, সৎকর্মশীলকে প্রতিদান দেন, মজলুমকে সাহায্য করেন, অত্যাচারীকে চূর্ণ করেন, ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন, দোষ-ত্রুটি গোপন রাখেন, ভীত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দান করেন এবং কোনো জাতিকে উন্নত করেন ও অন্যদের অবনমিত করেন...

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর জন্য সমীচীন নয়। তিনি ইনসাফের মানদণ্ড অবনমিত করেন এবং তা উন্নীত করেন। দিনের আমলের পূর্বে রাতের আমল এবং রাতের আমলের পূর্বে দিনের আমল তাঁর নিকট পেশ করা হয়। তাঁর আবরণ হলো নূর, যদি তিনি তা উন্মোচন করতেন, তবে তাঁর চেহারার জ্যোতি তাঁর সৃষ্টির যে পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি পৌঁছেছে তার সবকিছুকে পুড়িয়ে দিত... "।

"আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ, কোনো দানই একে হ্রাস করতে পারে না, রাত-দিন তা অবিরাম বর্ষণ করে। তোমরা কি ভেবে দেখেছ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন... "।

বান্দাদের অন্তর ও তাদের কপাল তাঁর হাতে এবং সকল বিষয়ের লাগাম তাঁর হাতে, যা তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের সাথে সুসংবদ্ধ...

--------------------------------------------

(১) লাগামসমূহ: এটি লাগাম শব্দের বহুবচন।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
يمسك السماء أن تقع على الأرض إلا بإذنه، رفع السماء بغير عمدٍ ترونها، والأرض جميعاً قبضته يوم القيامة والسماوات مطوياتٌ بيمينه، ويضع السماوات على إصبع والأراضين على إصبع والجبال والشجر على إصبع والماء والثرى على إصبع وبقية الخلق على إصبع، ثم يقبض سماواته كلها بيده الكريمة والأراضين بيده الأخرى ثم يهزهن هزاً ثم يقول أنا الملك .. أنا الملك .. أين ملوك الأرض .. أنا الجبار .. أنا المتكبر .. أين الجبارون .. أين المتكبرون .. أنا الذى بدأت الدنيا ولم تكُ شيئاً .. وأنا الذى أُعيدها كما بدأتها .. فالسماوات السبع فى كفه كخردلةٍ فى كف أحدكم ..

ولو أن الخلق كلهم من أولهم إلى آخرهم قاموا صفاً واحداً ما أحاطوا بالله عز وجل ..

ولو أن أهل سماواته وأهل أرضه أولهم وآخرهم إنسهم وجنهم كانوا على أتقى قلب رجلٍ واحدٍ منهم ما زاد ذلك فى ملكه شيئاً .. ولو أن أهل سماواته وأهل أرضه أولهم
তিনি আকাশকে ধরে রাখেন যাতে তা তাঁর অনুমতি ব্যতীত জমিনের উপর পড়ে না যায়, তিনি আকাশকে স্তম্ভ ছাড়াই উপরে তুলেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আর কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে আল্লাহর মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে আল্লাহর ডান হাতে। তিনি আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড় ও বৃক্ষসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর এবং অবশিষ্ট সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন। অতঃপর তিনি তাঁর সম্মানিত হাত দিয়ে তাঁর আসমানসমূহকে এবং অন্য হাত দিয়ে জমিনসমূহকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন, এরপর সেগুলোকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেবেন এবং বলবেন: আমিই মালিক... আমিই মালিক... পৃথিবীর রাজারা কোথায়?... আমিই মহাপরাক্রমশালী... আমিই অহংকারী... স্বৈরাচারীরা কোথায়?... অহংকারীরা কোথায়?... আমিই সেই সত্তা যিনি দুনিয়া শুরু করেছিলেন যখন তা কিছুই ছিল না... আর আমিই তা পুনরায় ফিরিয়ে আনব যেভাবে আমি তা শুরু করেছিলাম... সুতরাং সাত আসমান আল্লাহর হাতের তালুতে তোমাদের কারো হাতের তালুতে থাকা একটি সরিষার দানার মতো।

আর যদি সমস্ত সৃষ্টিজগত তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়, তবুও তারা মহান আল্লাহকে পরিবেষ্টন করতে পারবে না...

আর যদি তাঁর আসমানবাসী ও জমিনবাসী, তাদের প্রথম ও শেষ, তাদের মানুষ ও জিন সকলে তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে পরহেজগার ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা তাঁর রাজত্বে কিছুই বৃদ্ধি করবে না... আর যদি তাঁর আসমানবাসী ও জমিনবাসী, তাদের প্রথম...
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وآخرهم إنسهم وجنهم كانوا على أفجر قلب رجل واحد منهم ما نقص ذلك من ملكه شيئاً ..

ولو أن أهل سماواته وأهل أرضه أولهم وآخرهم وإنسهم وجنهم، حيهم وميتهم، رطبهم ويابسهم، قاموا فى صعيد واحد فسألوه فأعطى كل واحدٍ منهم مسألته ما نقص ذلك مما عنده مثقال ذرة (إلَاّ كما ينقص المَخيط إذا أُدخل البحر).

{وَلَهُ الْمَثَلُ الأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (1).

الله جل جلاله لا معقب لحكمه ولا راد لقضائه .. متعالٍ ليس شئ أعلى منه .. لا ند له .. لا مساوى له .. لا شبيه له .. لا نظير له .. لا مثيل له .. لا وزير له .. لا ضد له .. كبير وما دونه صغير .. قوى وما دونه ضعيف .. عزيز وما دونه حقير ..

--------------------------------------------

(1) سورة الروم - من الآية 27.
এবং তাদের শেষ ব্যক্তি, তাদের মানুষ ও জিন, যদি তাদের মধ্যে সর্বাধিক পাপাচারী হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, তবে তা তাঁর রাজত্ব থেকে কিছুই হ্রাস করবে না।

আর যদি তাঁর আসমানসমূহ ও জমিনের অধিবাসীগণ, তাদের প্রথম ও শেষ, তাদের মানুষ ও জিন, তাদের জীবিত ও মৃত, তাদের আর্দ্র ও শুষ্ক সবাই এক প্রান্তরে দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে এবং তিনি তাদের প্রত্যেককে তার প্রার্থনা অনুযায়ী দান করেন, তবে তা তাঁর ভাণ্ডারে যা আছে তা থেকে একটি অণু পরিমাণও হ্রাস করবে না (কেবল ততটুকুই কমবে যতটুকু সমুদ্রে সূচ প্রবেশ করালে সমুদ্রের পানি কমে)।

{এবং আসমানসমূহ ও জমিনে সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।} (১)।

আল্লাহ জাল্লা জালালুহু—তাঁর হুকুমের কোনো রদবদলকারী নেই এবং তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই। তিনি সুউচ্চ, তাঁর চেয়ে ঊর্ধ্বে কিছুই নেই। তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই, তাঁর সদৃশ কেউ নেই, তাঁর নজির নেই, তাঁর উপমা নেই, তাঁর কোনো সাহায্যকারী নেই, তাঁর কোনো বিরোধী নেই। তিনি মহান এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই ক্ষুদ্র। তিনি শক্তিশালী এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই দুর্বল। তিনি মহাপরাক্রমশালী এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই তুচ্ছ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রুম - আয়াত ২৭ এর অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ইয়াকীন ফী মা’রিফাতি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الله جل جلاله .. أعلى وأعظم من أن نتخيله .. كل ما خطر ببالك فالله سبحانه وتعالى فوق ذلك .. لا يقارن بمخلوق .. كل شئ خاضع لأمره .. كل شئ طائع لأمره .. كل شئ خاشع له .. عز كل ذليل .. غنى كل فقير .. مغيث كل ملهوف .. مفرج عن كل مكروب .. كنز الفقراء .. حصن الضعفاء .. أمان الخائفين ..

سميع عليم .. سميع بصير .. سميع خبير ..

واحد لا يتعدد .. أحد لا يتبعض ..

الله جل جلاله لا يسأل عنه متى كان .. ؟ لأنه هو خالق الزمان والمكان .. وهو الذى بدأ نظام الكون وهو الذى ينهى نظام الكون ..

{إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ * وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ} (1).

لما ينتهى نظام الزمان يبدأ نظام أهل الجنة .. (يا أهل الجنة خلودٌ بلا موت .. ).

--------------------------------------------

(1) سورة التكوير - الآيتان 1،2.
আল্লাহ মহা মহিমান্বিত .. আমাদের কল্পনার চেয়েও তিনি সুউচ্চ ও মহান .. তোমার মনে যা কিছু উদিত হয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার ঊর্ধ্বে .. কোনো সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা হয় না .. প্রতিটি বস্তু তাঁর আদেশের অনুগত .. প্রতিটি বস্তু তাঁর নির্দেশের আজ্ঞাবহ .. প্রতিটি বস্তু তাঁর সামনে বিনীত .. তিনি প্রত্যেক লাঞ্ছিতের সম্মান .. প্রত্যেক দরিদ্রের সচ্ছলতা .. প্রত্যেক আর্তের ত্রাণকর্তা .. প্রত্যেক বিপদগ্রস্তের দুঃখ মোচনকারী .. নিঃস্বদের ধনভাণ্ডার .. দুর্বলদের দুর্গ .. ভীতদের নিরাপত্তা ..

সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ .. সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা .. সর্বশ্রোতা ও সম্যক অবহিত ..

তিনি এক, যাঁর কোনো বহুত্ব নেই .. তিনি অদ্বিতীয়, যাঁর কোনো বিভাজন নেই ..

আল্লাহ মহা মহিমান্বিত সম্পর্কে প্রশ্ন করা যায় না যে তিনি কবে ছিলেন .. ? কারণ তিনিই সময় ও স্থানের স্রষ্টা .. তিনিই মহাবিশ্বের শৃঙ্খলার সূচনা করেছেন এবং তিনিই মহাবিশ্বের শৃঙ্খলার সমাপ্তি ঘটাবেন ..

{যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে * আর যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে} (১)।

যখন সময়ের ধারার সমাপ্তি ঘটবে, তখন জান্নাতবাসীদের জগত শুরু হবে .. (হে জান্নাতবাসী, তোমরা চিরকাল থাকবে, তোমাদের আর কখনো মৃত্যু হবে না .. )।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাকভীর - আয়াত ১-২।