(খণ্ড: ১) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
ما وقع لبعض المسلمين من الرياضة الصوفية والغلو فيها - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: ما وقع لبعض المسلمين من الرياضة الصوفية والغلو فيها

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (6)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: عدنان بن صفا خان البخاري

راجعه: مُحَمَّد أجمَل الإصلَاحِي - سُعُود بن عَبد العزيز العُريفي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

যা কিছু কিছু মুসলিমের ক্ষেত্রে সূফী সাধনা এবং তাতে অতিরঞ্জন সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটেছে - «আসারুল মুআল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিরকা এবং খণ্ডন


গ্রন্থ: যা কিছু কিছু মুসলিমের ক্ষেত্রে সূফী সাধনা এবং তাতে অতিরঞ্জন সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটেছে

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (৬)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: আদনান বিন সাফা খান আল-বুখারি

নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল-আরিফি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
الرسالة السابعة

ما وقع لبعض المسلمين من الرياضة الصُّوفيَّة

والغلو فيها
সপ্তম রিসালাহ

সুফি সাধনা এবং তাতে অতিরঞ্জনের বিষয়ে

কতিপয় মুসলিমের যা ঘটেছে
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫১)
فصلٌ(1)

وأمَّا قوى النُّفوس البشريَّة فأشهرها الإصابة بالعين، وهي مشهورة بين النَّاس، لا تكاد ترى أحدًا إلَّا حكَى لك بعض ما يزعم أنَّه شاهده أو أُخبِر به. وفيها فُسِّر قوله تعالى في سورة الفلق: {وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ (5)}.

وقال تعالى فيما قصَّه عن يعقوب عليه السلام: {يَابَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُتَفَرِّقَةٍ وَمَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ (67) وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُمْ مَا كَانَ يُغْنِي عَنْهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [يوسف: 67 - 68]. قال أكثر المفسِّرين: «خشي عليهم العين»(2).

وفي «الصَّحيحين» وغيرهما(3)، عن أمِّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها قالت: «أمر النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يُسترقَى من العين».

وصحَّ نحوه عن أمِّ المؤمنين أمِّ سلمة، وجابر، وأنس، وغيرهم من الصَّحابة رضي الله عنهم(4).

--------------------------------------------

(1) وقع سقط من أول الرسالة، لا يُدرى كم مقداره.

(2) هو قول ابن عباس ومحمد بن كعب والضحاك ومجاهد وقتادة. يُنظَر: «الدُّر المنثور» للسيوطي (8/ 286 - 287).

(3) البخاري (5738)، ومسلم (2195)، وابن ماجه (3512).

(4) حديث أم سلمة عند البخاري (5738) ومسلم (2197). وحديث جابر عند مسلم (2196). وحديث أنس عند مسلم (2196). وأخرجه الترمذي (2059) من حديث أسماء بنت عُميس.
পরিচ্ছেদ(১)

আর মানবীয় আত্মার শক্তিসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো বদনজর লাগা। এটি মানুষের মধ্যে বহুল পরিচিত; আপনি এমন কাউকে পাবেন না যে আপনার কাছে এমন কোনো ঘটনার বর্ণনা দেবে না যা সে নিজে প্রত্যক্ষ করেছে বা তাকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করে। আর সূরা আল-ফালাক-এ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায় এটিই উল্লেখ করা হয়েছে: {এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে (৫)}।

আল্লাহ তাআলা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন: {হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর বিধানের বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। বিধান কেবল আল্লাহরই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং ভরসাকারীদের উচিত কেবল তাঁরই ওপর ভরসা করা। (৬৭) আর যখন তারা সেভাবেই প্রবেশ করল যেভাবে তাদের পিতা তাদের আদেশ দিয়েছিলেন, তখন তা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে তাদের কোনো কাজে আসল না, কেবল ইয়াকুবের মনের একটি ইচ্ছা ছাড়া যা তিনি পূর্ণ করেছিলেন। আর তিনি অবশ্যই আমাদের শেখানো ইলমের কারণে জ্ঞানী ছিলেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [ইউসুফ: ৬৭ - ৬৮]। অধিকাংশ মুফাসসির বলেন: «তিনি তাদের ব্যাপারে বদনজরের আশঙ্কা করেছিলেন»(2)।

«সহীহাইন» ও অন্যান্য গ্রন্থে(৩) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বদনজরের কারণে ঝাড়ফুঁক করার নির্দেশ দিয়েছেন।»

অনুরূপ বর্ণনা উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা, জাবির, আনাস এবং অন্যান্য সাহাবী (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে(৪)।

--------------------------------------------

(১) পত্রের শুরু থেকে কিছু অংশ বিলুপ্ত হয়েছে, যার পরিমাণ জানা নেই।

(২) এটি ইবনে আব্বাস, মুহাম্মদ বিন কাব, দাহহাক, মুজাহিদ ও কাতাদাহ-এর অভিমত। দেখুন: সুয়ূতী রচিত «আদ-দুররুল মানসুর» (৮/ ২৮৬ - ২৮৭)।

(৩) বুখারী (৫৭৩৮), মুসলিম (২১৯৫), ও ইবনে মাজাহ (৩৫১২)।

(৪) উম্মে সালামার হাদীসটি বুখারী (৫৭৩৮) ও মুসলিমে (২১৯৭) রয়েছে। জাবিরের হাদীসটি মুসলিমে (২১৯৬) রয়েছে। আনাসের হাদীসটি মুসলিমে (২১৯৬) রয়েছে। আর তিরমিযী (২০৫৯) আসমা বিনতে উমাইসের হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫২)
وفي «صحيح مسلم»(1) عن ابن عباس رضي الله عنه عن النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «العَيْن حقٌّ، ولو كان شيءٌ سابق القَدَر سَبَقَته العَيْن، وإذا اسْتُغْسِلْتُم فاغْسِلوا».

وفي «مسند أحمد»(2) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «العين حقٌّ، ويحضر بها(3) الشيطان وحَسَد بني آدم».

قالوا: وسببها أن ينظر الإنسان إلى شيءٍ لغيره فيُعجَبُ به، ويحسد صاحبه عليه، فتتولَّد في نفسه قوَّةٌ تتَّصل بذاك الشيء فيُصابُ، والحكايات في ذلك كثيرةٌ، وفيها ما يقضي أنَّ المعيان قد يعين وهو أعمى، وقد يعين ما لا يراه.

وممَّا هو مسلَّمٌ عند فلاسفة العصر ما يسمُّونه بـ «التَّنويم المغناطيسي»(4).

--------------------------------------------

(1) حديث (2188).

(2) (2/ 439).

(3) في الأصل: «يحضرها».

(4) يُنظَر في: «قصَّة الحضارة» لوِل ديورانت (1/ 896)، و (12/ 12478)، و (14/ 14637) كيف انتقل التنويم المغناطيسي من الهند إلى أوربا، وبدايات استخدامه كعلاجٍ عندهم.

تنبيهٌ: وقد يُفهم من ظاهر كلام المؤلِّف رحمه الله في هذا الموضع وموضعٍ تالٍ التسليم بكونه علمًا حقيقيًّا وقوَّة ذاتيَّة لبعض الأشخاص، وهذا ليس بصحيح؛ إذ أشار رحمه الله كما سيأتي (ص) أنَّه أشبه بسحر العقول، فإن ثبَت التنويم حقيقةً فهو كفعل المشعوذين والسَّحرة في استعانتهم بالجن والشياطين للتأثير على أجسام الناس وعقولهم.
এবং ‘সহীহ মুসলিম’-এ(১) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নজর লাগা সত্য; আর যদি কোনো কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে নজর লাগাই তা করত। আর যখন তোমাদের কাছে (প্রতিকারের উদ্দেশ্যে) গোসল করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করো।»

এবং ‘মুসনাদে আহমাদ’-এ(২) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত: «নজর লাগা সত্য, আর এর সাথে শয়তান এবং আদমসন্তানের হিংসা উপস্থিত থাকে।»(৩)

তাঁরা বলেন: এর কারণ হলো—কোনো ব্যক্তি অন্যের কোনো কিছুর প্রতি দৃষ্টিপাত করে এবং তাতে মুগ্ধ হয় ও তার মালিকের প্রতি হিংসা পোষণ করে; ফলে তার অন্তরে একটি শক্তি উৎপন্ন হয় যা সেই বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং তা আক্রান্ত হয়। এ সংক্রান্ত কাহিনী অনেক রয়েছে, যার মধ্যে এমন বিবরণও আছে যা প্রমাণ করে যে, কুদৃষ্টিদানকারী ব্যক্তি অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও নজর লাগাতে পারে, এমনকি সে যা দেখতে পায় না তার ওপরও নজর লাগাতে পারে।

বর্তমান যুগের দার্শনিকদের নিকট স্বীকৃত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো যা তারা ‘সম্মোহন বিদ্যা’ (হিপনোটিজম)(৪) বলে অভিহিত করে।

--------------------------------------------

(১) হাদীস নং (২১৮৮)।

(২) (২/ ৪৩৯)।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘ইয়াহদুরুহা’ (সেটি উপস্থিত হয়)।

(৪) দ্রষ্টব্য: উইল ডুরান্টের ‘কিসসাতুল হাজারা’ (সভ্যতার ইতিহাস) (১/ ৮৯৬), (১২/ ১২৪৭৮), এবং (১৪/ ১৪৬৩৭); সেখানে বর্ণিত হয়েছে কীভাবে সম্মোহন বিদ্যা ভারত থেকে ইউরোপে প্রসারিত হলো এবং তাদের মাঝে চিকিৎসা হিসেবে এর ব্যবহারের সূচনা কীভাবে হয়েছিল।

সতর্কবার্তা: এ স্থানে এবং পরবর্তী একটি স্থানে গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ থেকে এমনটি অনুমিত হতে পারে যে, তিনি একে একটি বাস্তব বিজ্ঞান এবং কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষমতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন; কিন্তু এটি সঠিক নয়। কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সামনে (পৃষ্ঠা...) ইঙ্গিত করবেন যে, এটি অনেকটা মস্তিষ্ক বিভ্রমকারী জাদুর মতো। সুতরাং যদি সম্মোহন বিদ্যা বাস্তব বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা জাদুকর ও ওঝাদের কর্মকাণ্ডের মতোই, যারা মানুষের শরীর ও মনের ওপর প্রভাব খাটাতে জিন ও শয়তানের সাহায্য গ্রহণ করে থাকে।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
وحاصله أن يرتاض الإنسان برياضةٍ مخصوصةٍ، بالمواظبة على جمع فِكْرِهِ في نقطةٍ يحدِّق ببصره إليها، فبعد مُدَّةٍ تحصل له قوَّة التنويم، بأن يحدِّق بعينيه إلى إنسان ويتحرَّك حركاتٍ مخصوصةٍ، فلا يلبث المنظور إليه أن يصيبه ذهول وتشنُّجٌ، ثم يسقط مغشيًّا عليه.

وتكون للمنوِّم سلطةٌ على النَّائم بأن يسأله فيجيب وهو لا يشعر، ويحسُّ الأطبّاء نبْضَه ويختبرونه فيعلمون أنَّه لا يزال نائمًا رغمًا عن قيامه وكلامه وفعله.

وقد تزداد القوَّة إلى حدِّ أنَّه يبقى سلطان المنوِّم على ذاك الشَّخص حتى بعد إفاقته ولو بمدَّة.

هذا والمشهور في قوَّة الإصابة بالعين أنَّها تكون طبيعيَّة لبعض النَّاس، ولكن قد تكون مكتسبةً، إمَّا بغير اختيار كما يقول الناس: إنَّ من نشأ يتيمًا محتاجًا يرى الأشياء التي تشهيها نفسه فلا يصل إليها ينشأ معيانًا. وإمَّا باختيار.

ففي «شرح المقاصد»(1): [«يكون لبعض النفوس خاصية أنها إذا استحسنت شيئا لحقته الآفة فثبوتها يكاد يجري مجرى المشاهدات التي لا تفتقر إلى حجة وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «العين حق»، وقال: «العين تدخل الرجل القبر والجمل القدر»(2).

--------------------------------------------

(1) (2/ 270).

(2) أخرجه ابن عدي في «الكامل» (6/ 407) وأبو نعيم في «الحلية» (7/ 90) وغيرهما، من طريق معاوية بن هشام القصار عن الثوري عن ابن المنكدر عن جابر مرفوعًا به. وقد حسَّنه الألباني في «الصحيحة» (1249).
সারসংক্ষেপ এই যে, মানুষ একটি বিশেষ সাধনার মাধ্যমে নিজেকে অভ্যস্ত করে, যা হলো তার চিন্তা-চেতনাকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর ওপর নিবদ্ধ রাখা এবং সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। কিয়ৎকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তার মধ্যে সম্মোহন শক্তি জাগ্রত হয়। তখন সে কোনো ব্যক্তির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বিশেষ কিছু অঙ্গভঙ্গি করে, ফলে সেই ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যেই বিমূঢ়তা ও খিঁচুনির শিকার হয় এবং পরিশেষে অচেতন হয়ে পড়ে।

তখন সম্মোহনকারীর সেই নিদ্রিত ব্যক্তির ওপর এমন আধিপত্য তৈরি হয় যে, সে তাকে কোনো প্রশ্ন করলে সে অবচেতনভাবেই তার উত্তর দেয়। চিকিৎসকরা তার নাড়ি পরীক্ষা করেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারেন যে, সে দাঁড়িয়ে থাকা, কথা বলা বা কাজ করা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে নিদ্রিতাবস্থাতেই রয়েছে।

এই শক্তি এতটাই বৃদ্ধি পেতে পারে যে, সম্মোহনকারীর প্রভাব সেই ব্যক্তির ওপর জাগ্রত হওয়ার পরেও দীর্ঘ সময় যাবৎ বজায় থাকে।

কুদৃষ্টির প্রভাবের শক্তির ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো, এটি কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে জন্মগত বা স্বভাবজাত হয়ে থাকে; তবে এটি অর্জনও করা যেতে পারে। কখনও এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে অর্জিত হয়, যেমনটি লোকমুখে প্রচলিত আছে যে: যে ব্যক্তি শৈশবে অনাথ ও অভাবী অবস্থায় বেড়ে ওঠে এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত জিনিসগুলো দেখেও তা লাভ করতে পারে না, সে কুদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয়। আবার কখনও এটি স্বেচ্ছায় ও সচেষ্টভাবেও অর্জিত হতে পারে।

‘শারহুল মাকাসিদ’(১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: [“কোনো কোনো প্রাণের মধ্যে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে যে, তারা যখন কোনো কিছুকে পছন্দ বা ভালো মনে করে, তখন তাতে কোনো না কোনো আপদ আপতিত হয়। এর বাস্তবতা প্রায় চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার মতোই ধ্রুব, যার সপক্ষে প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন: ‘কুদৃষ্টি সত্য’, এবং তিনি আরও এরশাদ করেছেন: ‘কুদৃষ্টি মানুষকে কবরে এবং উটকে হাঁড়িতে প্রবেশ করায়’(২)।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২৭০)।

(২) ইবনে আদি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে (৬/ ৪০৭), আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে (৭/ ৯০) এবং অন্যান্যরা মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম আল-কাসসার সূত্রে, তিনি সাওরি থেকে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানি ‘আস-সহীহাহ’ (১২৪৯) গ্রন্থে এটিকে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
وذهب كثير من المفسِّرين(1) إلى أن قوله تعالى: {وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ} الآية [القلم: 51] = نزل في ذلك، وقالوا: إنَّه كان العين في بني أسد، وكان الرجل منهم يتجوَّع ثلاثة أيامٍ فلا يمرُّ به شيءٌ يقول فيه: لم أر كاليوم إلَّا عانَهُ، فالتمس الكفار من بعض من كانت له هذه الصِّفة أن يقول في رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك فعَصَمَه الله .. »](2).

فأمَّا ما حصل بغير اكتساب اختياريٍّ فظاهرٌ أنَّه لا يوجب ذمَّ صاحبه، إلَّا أنَّ عليه أن يحتاط، فإذا رأى ما يعجبه ذَكَر الله تعالى ودعا بالبَرَكة، وإذا اتُّهِم بالإصابة فاستُغسِل فلْيغتسل، كما في الحديث.

وأمَّا المكتسبة بالاختيار فهي فيما يظهر من السِّحر، واكتسابها داخلٌ في تعلُّم السِّحر.

ومن جملة قوى النُّفوس ما هو حاصلٌ لبعض الناس الذين يرقون من الحيَّة والعقرب ونحوها؛ فإنَّهم قد يرقون بألفاظٍ لا معنى لها.

وفي الآثار النَّبويَّة ما يدلُّ على الإذن بالرقية بالألفاظ التي ليس فيها تعظيمٌ لغير الله عز وجل، وإن لم يكن فيها ذكر الله تعالى، ولا دعاء له، وأرى أنَّ الإذن في ذلك إنَّما هو اعتداد بما يصحبه من قراءة [ .... ](3).

ومن قوى النُّفوس ما يكتسب برياضتها، فإنَّه كما أنَّ القوى البدنيَّة يمكن تتميمها بالرِّياضة، كَمَن يواظب على رفع الأثقال؛ فإنَّه بعد مُدَّةٍ يستطيع

--------------------------------------------

(1) يُنظَر: «الدر المنثور» للسيوطي (14/ 656 - 657).

(2) ما بين القوسين المعقوفين بيَّض له المؤلِّف.

(3) خرمٌ مقدار سطرين.
অনেক মুফাসসির(১) এই মত পোষণ করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শোনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছাড় দিয়ে ফেলবে} আয়াতটি [আল-কলম: ৫১] এই বিষয়েই অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁরা বলেন: বনু আসাদ গোত্রের মধ্যে নজর লাগানোর (কুদৃষ্টি) প্রভাব ছিল। তাদের কোনো ব্যক্তি তিন দিন অভুক্ত থাকত, এরপর তার সামনে দিয়ে কোনো কিছু অতিক্রম করলে সে বলত: ‘আজকের মতো চমৎকার কিছু আমি আর দেখিনি’, আর সাথে সাথেই সেটির ক্ষতি হতো। অতঃপর কাফিররা এই বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী জনৈক ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নজর লাগাতে প্ররোচিত করল, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করলেন...।»](২).

আর যা ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা ব্যতীত সংঘটিত হয়, তা স্পষ্টতই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে না। তবে তার উচিত সতর্ক থাকা। সুতরাং সে যখন কোনো পছন্দনীয় বস্তু দেখবে, তখন আল্লাহর যিকর করবে এবং বরকতের দোয়া করবে। আর যদি তার বিরুদ্ধে নজর লাগানোর অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে অঙ্গ ধৌত করার (গোসল) অনুরোধ জানানো হয়, তবে সে যেন হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী গোসল করে নেয়।

পক্ষান্তরে যা ইচ্ছাকৃতভাবে অর্জন করা হয়, তা দৃশ্যত জাদুর অন্তর্ভুক্ত এবং এর অর্জন জাদু শিক্ষার শামিল।

নফসের শক্তিসমূহের একটি হলো সেই বিশেষ ক্ষমতা যা এমন কিছু মানুষের মধ্যে বিদ্যমান যারা সাপ, বিচ্ছু ও এই জাতীয় বিষধর প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করে থাকে; কেননা তারা কখনও কখনও এমন সব শব্দ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে যার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহে এমন সব শব্দ দ্বারা ঝাড়ফুঁকের অনুমতির প্রমাণ পাওয়া যায় যাতে মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো মহিমা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না, যদিও তাতে আল্লাহর জিকির বা তাঁর নিকট কোনো প্রার্থনা না থাকে। আমার দৃষ্টিতে, এই বিষয়ের অনুমতি মূলত পাঠের [ .... ](৩) সাথে যা যুক্ত থাকে তার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

নফসের এমন কিছু শক্তি রয়েছে যা রিয়াযত বা সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয়; কেননা শারীরিক শক্তি যেমন ব্যায়ামের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে—যেমন কোনো ব্যক্তি যদি নিয়মিত ভারোত্তোলন করে, তবে নির্দিষ্ট সময় পর সে সক্ষম হয়—

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সুয়ূতী রচিত ‘আদ-দুররুল মানসুর’ (১৪/৬৫৬-৬৫৭)।

(২) দুই বন্ধনীর মধ্যকার অংশটি লেখকের পাণ্ডুলিপিতে ফাঁকা ছিল।

(৩) প্রায় দুই লাইনের মতো পাঠ্য বিলুপ্ত।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
ضعف ما كان يستطيعه قبل، وكذلك في الجري على الأقدام، والرَّمي بالأحجار، والمشي على سلك ممدود بين عمودين، وغير ذلك ممَّا هو معروف في الألعاب الرِّياضية.

وكذلك الشَّعبذة التي تعتمد خِفَّة الحركة؛ فإنَّ ذلك القَدْر من سرعة الحركة لا يحصل إلَّا بمعاناة الحركات السَّريعة مدَّةً.

فكذلك قُوَى النُّفوس يمكن تربيتها بالرِّياضة، فقد علِمْتَ ممَّا تقدَّم أنَّ بعض النُّفوس تكون بها بطبيعتها قوَّة التأثير بالإصابة بالعين وبإزالة الألم الحاصل من لدغ العقرب ونحو ذلك، وأنَّ ذلك قد يُكْتَسَب كما يُكْتَسَب قوَّة التَّنويم المغناطيسي ونحوه.

غير أنَّ الرِّياضة هنا تختلف وعمادها أمران: إضعاف القُوى الجسديَّة، والتعوُّد على جمع الهِمَّة، وحصر الفِكر في شيءٍ واحدٍ.

وهذه الرِّياضة معروفةٌ عند قدماء اليونان والهنود وغيرهم، وقد يفعلها المسلمون وعملوا بها، كما نقلوا المنطق والفلسفة وعملوا بها، ولم تَلْقَ هذه من المعارضة كما [تلقَّت](1) الفلسفة ذلك؛ لأسباب.

منها: أنَّ في العبادات الإسلاميَّة ما يشبهها في الجملة، كالصِّيام، والقيام، والاقتصاد في الأكل والشرب، واعتزال الناس إذا خشيت من الناس مفسدةً.

ومنها: أنَّ بعض الزُّهَّاد من التَّابعين وغيرهم بالغوا في العبادات الإسلاميَّة، حتى قربوا من هذه الرِّياضة؛ فداوموا على الصيام، وواصلوا فيه،

--------------------------------------------

(1) في الأصل «تقلت».
পূর্বের সক্ষমতার দ্বিগুণ, এবং একইভাবে দৌড়ঝাঁপ, পাথর নিক্ষেপ, দুই খুঁটির মাঝে টানানো তারের ওপর দিয়ে হাঁটা এবং ক্রীড়াবিদ্যায় পরিচিত এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

একইভাবে ভেল্কিবাজি যা ক্ষিপ্রতার ওপর নির্ভরশীল; কেননা গতির এই মাত্রা দীর্ঘকাল দ্রুত নড়াচড়া অনুশীলনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

তদ্রূপ আত্মার শক্তিসমূহকেও রিয়াজাত বা অনুশীলনের মাধ্যমে বিকশিত করা সম্ভব। আপনি পূর্বের আলোচনা থেকে জেনেছেন যে, কিছু আত্মার মধ্যে স্বভাবগতভাবেই কুদৃষ্টির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করার কিংবা বিচ্ছুর দংশনজনিত ব্যথা নিরাময় এবং এই জাতীয় বিষয়াদির শক্তি থাকে। আর এটি অর্জন করাও সম্ভব, যেমনটি মেসমেরিজম বা সম্মোহন বিদ্যা এবং তদ্রূপ অন্যান্য শক্তি অর্জিত হয়ে থাকে।

তবে এখানে রিয়াজাত বা অনুশীলনটি ভিন্নতর এবং এর মূল ভিত্তি দুটি বিষয়ের ওপর: শারীরিক শক্তিসমূহকে দুর্বল করা এবং সংকল্পকে সংহত করা ও চিন্তাকে একক কোনো বিষয়ে নিবদ্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

এই রিয়াজাত প্রাচীন গ্রিক, ভারতীয় এবং অন্যদের মাঝেও সুপরিচিত ছিল। মুসলিমরাও এটি পালন করেছেন এবং তদানুযায়ী আমল করেছেন, যেমনটি তারা যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন গ্রহণ করেছিলেন এবং তা চর্চা করেছিলেন। তবে এই বিষয়টি দর্শনের মতো বাধার সম্মুখীন হয়নি; এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে।

তন্মধ্যে একটি হলো: ইসলামি ইবাদতসমূহে সামগ্রিকভাবে এর সাদৃশ্য বিদ্যমান, যেমন—রোজা রাখা, কিয়াম করা (রাত্রিকালীন ইবাদত), আহার-পানীয়তে পরিমিতিবোধ এবং মানুষের পক্ষ থেকে অনিষ্টের আশঙ্কা থাকলে লোকালয় ত্যাগ করে নির্জনতা অবলম্বন করা।

আরেকটি কারণ হলো: তাবেয়ি এবং পরবর্তী যুগের কিছু জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি) ইসলামি ইবাদতে এতটাই কঠোর সাধনা করেছেন যে, তাঁরা এই রিয়াজাতের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন; ফলে তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে রোজা রাখতেন এবং তাতে সওমে বিসাল (বিরতিহীন রোজা) পালন করতেন,

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'তাকাল্লাত' পাঠ ছিল।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
وأداموا قيام جميع اللَّيل. وبالغوا في الاقتصاد في المطعم؛ لعزَّة الحلال الصِّرْف في نظرهم. وامتنعوا عن النِّكاح؛ لعجزهم ــ بزعمهم ــ عن القيام بمصالح الأهل والولد من الحلال. وبالغوا في العُزلة والخلوة.

ومنها: أنَّ الذين نقلوا هذه الرِّياضة وعملوا بها تلطَّفوا بإدراج كل منها فيما يشبهه من العبادات الشَّرعيَّة. إلى غير ذلك.

وبالجملة فهذه الرِّياضة كما توجد في كتب الهنود وغيرهم توجد في كتب المتصوِّفة بنصِّها وفصِّها؛ إلَّا أنَّ بعضها قد ألبس صورةً غير صورته، كرياضة التنفُّس عند الهنود وغيرهم، وقد ذكرها المتصوِّفة بلفظ «هو الله»، «الله هو»، وجمع الهِمَّة في شيءٍ صوَّرَهُ المتصوِّفة بجمع الهِمَّة في تصوّر الشيخ.

ومنها ما أبقوه على صورته، كأن لا يأكل من روحٍ، ولا مَن خرج مِن روح، وغير ذلك.

وبالجملة فهذه الرِّياضة لقيت قبولًا تامًّا على اختلاف الأغراض.

فمن الناس من كان غرضه منها إضعاف شهوات جسده؛ ليتمكَّن من كثرة العبادة، والإعراض عن الشهوات.

ومنهم من كان حريصًا على الاطِّلاع، فَغَرَضُه منها ما تثمره من قوَّة الإدراك، المسمَّاة بالكشف ونحوه.

ومنهم من كان له غرَضٌ سياسيٌّ تعاناها ليظهر بمظهر الزاهد في الدنيا المقبل على العبادة، ثم لعلَّه يحصل له شيءٌ من قوَّة الإدراك وقوَّة التأثير، فيدَّعي الوَلاية أو المهدويَّة!
তারা সারা রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। খাদ্যের ব্যাপারে তারা চরম মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতেন; কারণ তাদের দৃষ্টিতে খাঁটি হালাল অর্জন অত্যন্ত দুরুহ ছিল। তারা বিবাহ থেকে বিরত থাকতেন; কেননা তাদের দাবি অনুযায়ী, হালাল উপায়ে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ ও আনুষঙ্গিক দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। এছাড়া তারা নির্জনতা ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকাকে আতিশয্যের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো: যারা এই আধ্যাত্মিক সাধনা বর্ণনা করেছেন এবং তা অনুসরণ করেছেন, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে এগুলোর প্রতিটি বিষয়কে তার সাদৃশ্যপূর্ণ শরয়ি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। এভাবে আরও অনেক কিছু।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই সাধনা বা রিয়াজত যেভাবে হিন্দুদের কিতাব ও অন্যদের নিকট পাওয়া যায়, তা হুবহু এবং বিস্তারিতভাবে সুফিদের কিতাবেও বিদ্যমান; তবে পার্থক্য কেবল এই যে, কোনো কোনোটিকে মূল রূপ পরিবর্তন করে ভিন্ন রূপ দেওয়া হয়েছে। যেমন হিন্দুদের মধ্যে বিদ্যমান শ্বাস-প্রশ্বাসের সাধনা সুফিরা 'হু আল্লাহ' এবং 'আল্লাহ হু' শব্দে উল্লেখ করেছেন। আর কোনো বিষয়ের প্রতি একাগ্রচিত্ত হওয়াকে সুফিরা শায়খের কল্পনায় একাগ্র হওয়ার রূপ দান করেছেন।

আবার কতগুলো বিষয় তারা তাদের মূল রূপেই বহাল রেখেছেন; যেমন কোনো প্রাণীজাত দ্রব্য কিংবা প্রাণী থেকে নির্গত কোনো কিছু ভক্ষণ না করা ইত্যাদি।

মোদ্দাকথা হলো, বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই সাধনা বা রিয়াজত পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।

কিছু মানুষের উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে শারীরিক কামনাবাসনাকে দুর্বল করা; যাতে তারা অধিক পরিমাণে ইবাদতে সক্ষম হয় এবং জাগতিক লালসা থেকে বিমুখ থাকতে পারে।

আবার কেউ কেউ গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনে অতি আগ্রহী ছিলেন, ফলে তাদের লক্ষ্য ছিল এই সাধনার মাধ্যমে প্রখর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করা—যাকে 'কাশফ' বা অনুরূপ কিছু বলা হয়।

আবার কারও কারও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তারা দুনিয়াত্যাগী ও ইবাদতগুজার বেশ ধারণ করার জন্য এটি অনুশীলন করতেন; যাতে এর মাধ্যমে তাদের কিছুটা অন্তর্দৃষ্টি ও প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং তারা শেষ পর্যন্ত বেলায়াত বা মাহদী হওয়ার দাবি করতে পারে!
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৭)
ومنهم من كان غرضه الجاه والثروة، فتعاناها لنعتقد فيه الولاية، فيقبل عليه الناس بما يريد.

ومنهم قومٌ كانت لهم عقائد دينيَّة شاذَّة، يخافون من إظهارها أن يُقتلوا أو يُؤذوا أو يُمقتوا؛ فتعانوا تلك الرِّياضة لتحصل لهم تلك القوَّة؛ فتعتقد فيهم الوَلاية، فيظهروا تلك العقائد، فيُقبِل عليها الناس لحسن الاعتقاد في أصحابها.

ومنهم قومٌ تعانوا الفلسفة؛ فحصلت لهم عقائد منافية لعقائد الإسلام، وخافوا من إظهارها، فحالهم كحال الذين قبلهم.

ومنهم قومٌ يضمرون الكيد للإسلام ويريدون إطفاء نوره؛ فتعانوا تلك الرِّياضة، حتى إذا اعتُقِدت فيهم الوَلاية أظهروا الأقوال والعقائد المنابذة للإسلام، على نحو ما تقدَّم.

ومنهم ــ وهم كثير من المتأخِّرين ــ قومٌ ظنوا أنَّ تلك الرِّياضة هي خلاصة العبادات الشَّرعيَّة الموصلة إلى الوَلاية.

هذا والعارفون بحقيقة تلك الرِّياضة لا يشترطون دينًا خاصًّا، ولا مذهبًا خاصًّا، بل يعلِّمونها كلَّ إنسان مهما كان دينه ومذهبه، ويوصونه بالمواظبة على العبادات التي يعتقدها، فيوصون المسلم بالصيام والقيام، والوثني بالعكوف على الأصنام، وغير ذلك!

يرون أنَّ ذلك ممَّا يساعد على حصول المقصود بتلك الرِّياضة، ولاسيّما جمع الهِمَّة، وحصر الفِكْر، وقوَّة التخيّل.
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল এমন, যাদের উদ্দেশ্য ছিল মান-সম্মান ও ধন-সম্পদ অর্জন। তাই তারা এই কৃচ্ছ্রসাধনায় লিপ্ত হতো যাতে মানুষ তাদের আল্লাহর ওলি মনে করে এবং এর ফলে তারা যা কামনা করে, মানুষ তা দিয়ে তাদের অনুগ্রহ করে।

তাদের মাঝে এমন একদল ছিল যাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল বিভ্রান্তিকর। তারা সেসব প্রকাশ করতে ভয় পেত এই আশঙ্কায় যে, পাছে তারা প্রাণ হারায় কিংবা নির্যাতনের শিকার হয় অথবা জনমনে ঘৃণিত হয়। তাই তারা সেই সাধনাগুলো অবলম্বন করত যাতে তাদের সেই আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জিত হয়; ফলে মানুষ তাদের বেলায়েতে বিশ্বাসী হবে এবং তখন তারা সেই ভ্রান্ত মতবাদগুলো প্রকাশ করার সুযোগ পাবে; আর মানুষও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে সেসব মতবাদের দিকে ধাবিত হবে।

তাদের মধ্যে একদল দর্শনের চর্চা করত; যার ফলে তাদের মাঝে ইসলামের আকিদা-বিশ্বাসের পরিপন্থী ধ্যান-ধারণার জন্ম হয়েছিল। তারা সেগুলো প্রকাশ করতে শঙ্কা বোধ করত, তাই তাদের অবস্থাও ছিল তাদের পূর্ববর্তীদের মতোই।

তাদের মাঝে এমন একদল ছিল যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অন্তরে শত্রুতা পোষণ করত এবং এর নূরকে নিভিয়ে দিতে চাইত। তারা এই সাধনাগুলো করত যাতে তাদের বেলায়েত সম্পর্কে মানুষ আস্থাশীল হয়, আর এরপর তারা ইসলামের বিপ্রতীপ কথা ও বিশ্বাসগুলো প্রচার করত, যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে এমন একদল ছিল—যারা পরবর্তী প্রজন্মের অনেকের প্রতিনিধিত্ব করে—যারা মনে করেছিল যে, এই সাধনাগুলোই হলো শরিয়তসম্মত ইবাদতের সারমর্ম যা বেলায়েত লাভের পথ প্রশস্ত করে।

প্রকৃতপক্ষে যারা এই সাধনার রহস্য সম্পর্কে অবগত, তারা এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্ম বা মাযহাবের শর্তারোপ করে না। বরং তারা ধর্ম-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষকে এটি শিক্ষা দেয় এবং তাকে তার নিজস্ব ধর্মীয় উপাসনায় অবিচল থাকার পরামর্শ দেয়। তারা মুসলমানকে রোজা ও নফল নামাজের নির্দেশ দেয়, আবার মূর্তিপূজককে মূর্তির সামনে ধ্যানে মগ্ন থাকার নসিহত করে, এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু!

তারা মনে করে যে, এসব কাজ সেই সাধনার মূল লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে, বিশেষ করে সংকল্পের একাগ্রতা, চিন্তার নিবিষ্টতা এবং কল্পনাশক্তির প্রাবল্য বৃদ্ধিতে।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
ويسرع حصولها للمريد إذا كان يرتاض على يد شيخٍ عارف بقوانينها، قد حصَّلت له نفسه قوَّة التأثير، فهو يؤثِّر بها في نفس الطالب، مساعدًا له على استحصالها.

ويبقى النظر في حكم العمل بهذه الرِّياضة.

والمعروف في الشَّريعة هو النَّهي عمَّا يكاد يقرب من الغلو في العبادة، كصيام الدهر، ومواصلة الصوم، والمداومة على قيام جميع الليل، وترك التزوُّج، والامتناع من أكل اللَّحم، ونحوه.

والمعروف فيها أيضًا أنَّ السِّحر كفرٌ أو كبيرةٌ، وأنَّ تعلُّمه كذلك.

والمتصوِّفون يصرِّحون بأنَّ من سلك تلك الطريق تحصل له قوَّة السِّحر، وأنَّ كثيرًا منهم يقف عندها ويستعملها فيكون ساحرًا.

ويصرِّحون بأنَّ الشياطين تولع بمَن سلك تلك الرِّياضة، يخيِّلون له، ويصوِّرون، ويقضون له بعض الأغراض؛ يوهمونه أنَّه قد بلغ درجة الوَلاية، أو ما هو أعظم منها؛ ليضلُّوه ثم يُضلِّوا به.

وأنَّ من ارتاض رغبةً في أن تحصل له قوَّة المكاشفة، وقوَّة التأثير فهو على ضلال، والمعنى أنَّه يرتاض تعلُّمًا للسحر.

وأنَّ من ارتاض طالبًا للحق قد يعرض له من الاغترار بتلك القوَّة وتخييل الشياطين ومساعدتهم ما يوقفه عندها، إمَّا ميلًا إلى الهوى، فيكون ساحرًا حقًّا، وإمَّا ظنًّا أنَّه قد صار من أولياء الله، وهو في الحقيقة من أولياء الشيطان.

ويذكر الغربيُّون عِدَّة وقائع من تأثير النُّفوس، منها أنَّ بعض الأفراد
আর মুরিদের জন্য এটি অর্জন করা দ্রুততর হয় যদি সে এমন একজন আরেফ শায়খের অধীনে রিয়াযত বা সাধনা করে যিনি এর নিয়মকানুন সম্পর্কে পূর্ণ অবগত এবং যার আত্মা প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা অর্জন করেছে; ফলে তিনি সেই ক্ষমতার মাধ্যমে শিষ্যের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করেন এবং তা অর্জনে তাকে সহায়তা করেন।

এখন এই রিয়াযত বা সাধনার বিধান সম্পর্কে পর্যালোচনার বিষয়টি বাকি থাকে।

শরীয়তে যা সুপরিজ্ঞাত তা হলো ইবাদতে অতিরঞ্জন বা সীমালঙ্ঘনের কাছাকাছি বিষয়গুলো থেকে নিষেধ করা, যেমন—সারা বছর রোজা রাখা, ইফতার না করে লাগাতার রোজা রাখা, সারা রাত জেগে ইবাদতে মগ্ন থাকা, বিবাহ বর্জন করা, গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

শরীয়তে এটিও সুপরিজ্ঞাত যে, জাদু কুফরি অথবা কবিরা গুনাহ এবং তা শিক্ষা করাও তদ্রূপ।

সুফিগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যে ব্যক্তি সেই পথে চলে সে জাদুর শক্তি লাভ করে এবং তাদের অনেকেই সেই পর্যায়ে থেমে যায় ও তা ব্যবহার করতে শুরু করে, ফলে সে জাদুকরে পরিণত হয়।

তাঁরা আরও স্পষ্টভাবে বলেন যে, শয়তানরা এই রিয়াযত বা সাধনায় লিপ্ত ব্যক্তির প্রতি অতিশয় আসক্ত হয়ে পড়ে; তারা তার সামনে নানা বিভ্রম সৃষ্টি করে, বিভিন্ন রূপ ধারণ করে এবং তার কিছু উদ্দেশ্য পূরণ করে দেয়। তারা তাকে এই ভ্রান্ত ধারণায় নিমজ্জিত করে যে, সে বেলায়েত বা এর চেয়েও মহান কোনো স্তরে পৌঁছে গেছে; যাতে তারা তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে এবং পরবর্তীতে তার মাধ্যমে অন্যদেরও বিভ্রান্ত করতে পারে।

আর যে ব্যক্তি মুকাশাফা বা অতীন্দ্রিয় দর্শন এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা লাভের কামনায় রিয়াযত করে, সে মূলত ভ্রষ্টতার ওপর রয়েছে; এর অর্থ হলো সে মূলত জাদু শেখার উদ্দেশ্যেই সাধনা করছে।

আর যে ব্যক্তি সত্যের সন্ধানে রিয়াযত করে, সেই অর্জিত শক্তির মোহ, শয়তানদের সৃষ্টি করা বিভ্রম এবং তাদের সহায়তা তাকে সেই স্তরেই আটকে দিতে পারে। ফলে সে হয় প্রবৃত্তির লালসার দিকে ঝুঁকে পড়ে প্রকৃত জাদুকরে পরিণত হয়, অথবা নিজেকে আল্লাহর ওলী মনে করতে শুরু করে অথচ বাস্তবে সে শয়তানেরই অনুসারী হয়ে পড়ে।

পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ আত্মার প্রভাব সংক্রান্ত বেশ কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে যে কোনো কোনো ব্যক্তি
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
يوجِّه همَّته إلى بعض أعضائه، فيحدث فيه جرح ظاهر، يسيل منه الدَّم، ثم يوجِّه همَّته إليه فيزول كأن لم يكن، أو يضرب نفسه بسكِّين فيحدث الجرح ثم يوجِّه همَّته إليه فيلتئم ويبرأ في الحال، وغير ذلك.

ومن تأثير النُّفوس سِحر الأبصار، كما قصَّه الله سبحانه وتعالى عن سحرة فرعون، قال تعالى: {فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى} [طه: 66 - 68]، وقال عز وجل: {قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ} [الأعراف: 116].

وروى البخاري في «تاريخه»(1) [في ترجمة جندب بن كعب قاتل الساحر، «وقال الأعمش عن إبراهيم أراه عن عبد الرحمن بن يزيد أنَّ جندبًا قتل السَّاحر زمن الوليد بن عقبة.

حدثنا إسحاق حدثنا خالد الواسطي عن خالد الحذاء عن أبي عثمان: كان عند الوليد رجلٌ يلعب، فذبح إنسانًا وأبان رأسَهُ، فعَجِبْنا، فأعاد رأسه، فجاء جندب الأزدي فقتله»](2).

والقصَّة مشهورة، راجع ترجمة جندب في «الإصابة»(3).

وفي ترجمة السُّهْرَوردي المقتول وغيره أشياء تشبه ذلك.

--------------------------------------------

(1) «التاريخ الكبير» (2/ 222).

(2) ما بين القوسين المعقوفين بيَّض له المؤلِّف رحمه الله.

(3) «الإصابة في معرفة الصَّحابة» لابن حجر (1/ 511 - 512)، وذكره الحافظ والقصَّةَ بسياق آخر في مواضع أخر (1/ 507، 508، 509)، و (2/ 647)، و (3/ 235).
যিনি তাঁর একাগ্রতা (হিম্মাহ) শরীরের কোনো একটি অঙ্গের দিকে নিবদ্ধ করেন, ফলে সেখানে একটি প্রকাশ্য ক্ষত সৃষ্টি হয় যেখান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে; অতঃপর তিনি পুনরায় সেদিকে একাগ্রতা নিবদ্ধ করেন এবং তা এমনভাবে বিলীন হয়ে যায় যেন ইতিপূর্বে তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। অথবা তিনি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন যার ফলে ক্ষত সৃষ্টি হয়, এরপর তিনি সেদিকে তাঁর একাগ্রতা নিবদ্ধ করেন এবং তা তৎক্ষণাৎ জোড়া লেগে যায় ও সুস্থ হয়ে যায়; এই জাতীয় আরও নানাবিধ বিষয় ঘটে থাকে।

আর আত্মিক শক্তির প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত হলো দৃষ্টিবিভ্রম বা চোখের জাদু, যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরাউনের জাদুকরদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর (মুসার) মনে হলো যেন তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে। (৬৬) ফলে মুসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। (৬৭) আমরা বললাম, ‘ভয় পেয়ো না, তুমিই বিজয়ী হবে।’" [ত্বহা: ৬৬-৬৮]। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তিনি বললেন, ‘তোমরা নিক্ষেপ করো।’ সুতরাং যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখে জাদু করল, তাদের আতঙ্কিত করে তুলল এবং এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।" [আল-আরাফ: ১১৬]।

আর ইমাম বুখারি তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে(১) [জাদুকরের হত্যাকারী জুনদুব ইবনে কাবের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, ‘আমাশ ইব্রাহিম থেকে, তিনি সম্ভবত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জুনদুব ওয়ালিদ ইবনে উকবার আমলে জাদুকরকে হত্যা করেছিলেন।

ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি খালিদ আল-হাদ্দার থেকে এবং তিনি আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ওয়ালিদের নিকট এক ব্যক্তি খেলা (জাদু) দেখাচ্ছিল। সে জনৈক ব্যক্তিকে জবেহ করে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল, যা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম। এরপর সে পুনরায় মাথাটি যথাস্থানে ফিরিয়ে আনল। তখন জুনদুব আল-আজদি এসে তাকে (জাদুকরকে) হত্যা করলেন’](২)।

এই ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ; জুনদুবের জীবনী সম্পর্কে জানতে ‘আল-ইসাবাহ’(৩) গ্রন্থটি দেখুন।

নিহত সুহরাওয়ার্দি এবং অন্যদের জীবনীতেও এই জাতীয় অনুরূপ অনেক বিষয় রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ‘আত-তারিখুল কাবীর’ (২/২২২)।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটির স্থান লেখক (রহিমাহুল্লাহ) মূল পাণ্ডুলিপিতে ফাঁকা রেখেছিলেন।

(৩) ইবনে হাজারের ‘আল-ইসাবাহ ফি মারিফাতিস সাহাবাহ’ (১/৫১১-৫১২)। হাফেজ (ইবনে হাজার) এই ঘটনাটি ভিন্ন বর্ণনাপ্রবাহে আরও কয়েকটি স্থানে উল্লেখ করেছেন (১/৫০৭, ৫০৮, ৫০৯), (২/৬৪৭) এবং (৩/২৩৫)।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬০)
[كما قال ابن أبي أصيبعة: «ويُحكَى عن شهاب الدين السُّهْرَوردي أنَّه كان يعرف علم السيمياء(1)، وله نوادر شوهدت عنه من هذا الفن.

قال: حدَّثني الحكيم إبراهيم بن أبي الفضل بن صدقة أنه اجتمع به، وشاهد منه ظاهر باب الفرج وهم يتمشّون إلى ناحية الميدان الكبير، ومعه جماعة من التلاميذ وغيرهم، وجرى ذكر هذا الفن وبدائعه وما يعرف منه وهو يسمع، فمشى قليلًا، وقال: ما أحسن دمشق، وهذه المواضع.

قال: فنظرنا وإذا من ناحية الشرق جواسق(2) عالية، متدانية بعضها إلى بعض مبيضة، وهي من أحسن ما يكون بناية وزخرفة، وبها طاقات كبار، فيها نساء ما يكون أحسن منهن قط، وأصوات مغان وأشجار متعلِّقة بعضها مع بعض، وأنهر جارية كبار، ولم نكن نعرف ذلك من قبل. فبقينا نتعجَّب من ذلك وتستحسنه الجماعة وانذهلوا لِمَا رأوا.

قال الحكيم: فبقينا كذلك ساعة، ثم غاب عنَّا، وعُدْنا إلى رؤية ما كنَّا نعرفه من طول الزمان. قال لي: إلَّا أنَّ عند رؤية تلك الحالة الأولى العجيبة بقيت أحسُّ في نفسي كأنَّني في سِنَةٍ خفيَّةٍ، ولم يكن إدراكي كالحالة التي أتحقَّقها منِّي.

وحدَّثني بعض فقهاء العجم قال: كُنَّا مع الشيخ شهاب الدِّين عند القابون(3)، ونحن مسافرون عن دمشق، فلقينا قطيع غنم مع تركماني فقلنا

--------------------------------------------

(1) نوع سحرٍ، بإحداث مثالات خياليَّة لا وجود لها في الحسِّ. كما في «المعجم الوسيط».

(2) جمع «جوسق»، وهو القصر، كما في «العين» للخليل.

(3) هو موضع بينه وبين دمشق ميل واحد، في طريق القاصد إلى العراق. كما في «معجم البلدان» لياقوت.
যেমন ইবনে আবি উসাইবিয়া বলেছেন: "শিহাবুদ্দিন সুহরাওয়ার্দী সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি সীমিয়া(১) (মায়াবিদ্যা) বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং এই বিদ্যায় তাঁর অনেক বিস্ময়কর ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেছে।

তিনি বলেন: হাকীম ইব্রাহিম ইবনে আবি আল-ফজল ইবনে সাদাকা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি এবং একদল ছাত্র ও অন্যান্যরা যখন 'বাব আল-ফারাজ' নামক স্থানের বাইরে থেকে 'আল-মাইদান আল-কাবীর'-এর দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন এই বিদ্যা এবং এর চমৎকারিত্ব ও এর জানা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হলো আর তিনি (সুহরাওয়ার্দী) তা শুনছিলেন। এরপর তিনি সামান্য পথ চললেন এবং বললেন: দামেস্ক এবং এর এই জায়গাগুলো কতই না সুন্দর!

তিনি বলেন: আমরা তখন পূর্ব দিকে তাকালাম এবং দেখলাম সারিবদ্ধ সুউচ্চ অট্টালিকা(২), যেগুলো ধবল বর্ণে উজ্জ্বল ছিল। সেগুলো ছিল স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্যের দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার। সেখানে ছিল বড় বড় গবাক্ষ, যাতে এমন সব সুন্দরী নারী ছিল যাদের মতো রূপবতী আর কখনো দেখা যায়নি। সেখানে ছিল সংগীতের সুর, একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজি এবং প্রবহমান বড় বড় নদী। ইতিপূর্বে আমরা সেই স্থানটি সম্পর্কে এমন কিছু জানতাম না। আমরা এটি দেখে বিস্মিত হয়ে রইলাম এবং উপস্থিত সবাই এর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে লাগলেন। যা তারা দেখলেন তাতে তারা বিমোহিত হয়ে পড়লেন।

হাকীম বলেন: আমরা এভাবে কিছুক্ষণ কাটালাম, এরপর সেই দৃশ্য আমাদের নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল এবং দীর্ঘকাল ধরে আমরা যা দেখে আসছিলাম, সেই পরিচিত অবস্থায় ফিরে এলাম। তিনি আমাকে বললেন: তবে সেই প্রথম অদ্ভুত দৃশ্যটি দেখার সময় আমি নিজের মধ্যে এমন অনুভব করছিলাম যেন আমি একটি নিগূঢ় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম এবং আমার উপলব্ধি সেই সময়ের মতো ছিল না যখন আমি পূর্ণ সচেতন থাকি।

অনারবদের জনৈক ফকীহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমরা যখন দামেস্ক থেকে সফরে বের হচ্ছিলাম, তখন আল-কাবুন(৩) নামক স্থানে শেখ শিহাবুদ্দিনের সাথে ছিলাম। সেখানে আমরা একজন তুর্কমেনের সাথে একপাল ভেড়া দেখতে পেলাম এবং আমরা বললাম—

--------------------------------------------

(১) এক ধরণের জাদু, যার মাধ্যমে এমন কাল্পনিক প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয় যার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। যেমনটি 'আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত'-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) 'জাওসাক'-এর বহুবচন, যার অর্থ প্রাসাদ বা অট্টালিকা। যেমনটি খলীল-এর 'আল-আইন' গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) ইরাকগামী পথিকের রাস্তায় দামেস্ক থেকে এক মাইল দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থান। যেমনটি ইয়াকুত আল-হামাভীর 'মু'জাম আল-বুলদান'-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬১)
للشيخ: يا مولانا نريد من هذا الغنم رأسًا نأكله، فقال: معي عشرة دراهم، خذوها واشتروا بها رأس غنمٍ، وكان ثَمَّ تركماني فاشترينا منه رأسًا بها، فمشينا.

فلحِقَنا رفيقٌ له، وقال: ردُّوا الرأس وخذوا أصغر منه، فإن هذا ما عرف يبيعكم يَسْوَى هذا الرأس البختيَّة الذي معكم أكثر من الذي قبض منكم، وتقاولنا نحن وإيَّاه. ولما عرف الشيخ ذلك قال لنا: خذوا الرأس وامشوا، وأنا أقف معه وأرضيه، فتقدَّمْنا وبقي الشيخ يتحدَّث معه ويمنِّيه، فلمَّا أبعدنا قليلًا تركه وتبعنا، وبقي التركماني يمشي خلفه ويصيح به، وهو لا يلتفت إليه.

ولمَّا لم يكلِّمه لحقه بغيظٍ وجذب يده اليسرى، وقال: أين تروح وتخلِّيني؟ وإذا بيد الشيخ قد انخلعت من عند كتفه، وبقيت في يد التركماني ودمها يجري، فبُهِت التركماني وتحيَّر في أمره، ورمى اليد وخاف، فرجع الشيخ وأخذ تلك اليد بيده اليمني ولحقنا.

وبقي التركماني راجعًا وهو يتلفَّت إلينا حتى غاب، ولمَّا وصل الشيخ إلينا رأينا في يده اليمنى منديله لا غير». وذكر قصَّة ثالثة. انتهى(1)](2).

وهذا الضَّرب يحتمل وجهين:

الأول: أنَّه سحرٌ للأبصار فقط، بحيث يختلُّ إدراكها، فترى ما لا حقيقة له.

والثاني ــ وهو الذي يترجَّح لي ـ: أنَّه سحرٌ للأدمغة، فيصير دماغ المسحور

--------------------------------------------

(1) «عيون الأنباء في طبقات الأطباء» لابن أبي أُصيبعة (ص 642 - 643). ويُنظَر أيضًا: «وفيات الأعيان» لابن خلّكان (6/ 269 - 270)، و «سير أعلام النبلاء» للذهبي (21/ 208 - 209)، و «تاريخ الإسلام» له (41/ 284 - 285). وغيرها.

(2) ما بين القوسين المعقوفين بيَّض له المؤلِّف رحمه الله.
শায়খকে [বলা হলো]: ‘হে আমাদের মাওলানা, আমরা এই বকরিগুলোর মধ্য থেকে একটির মাথা খেতে চাই।’ তিনি বললেন: ‘আমার কাছে দশ দিরহাম আছে, তোমরা তা নাও এবং তা দিয়ে একটি বকরির মাথা কিনে নাও।’ সেখানে একজন তুর্কিমানি লোক ছিল; আমরা তার কাছ থেকে তা দিয়ে একটি মাথা কিনলাম এবং সামনে এগিয়ে চললাম।

অতঃপর তার এক সাথী আমাদের সাথে এসে মিলিত হলো এবং বলল: ‘মাথাটি ফেরত দাও এবং এর চেয়ে ছোট একটি নাও; কেননা সে তোমাদের কাছে ঠিকমতো বিক্রি করতে পারেনি। তোমাদের কাছে থাকা এই বখতিয়া (উন্নত জাতের) মাথাটির মূল্য সে যা গ্রহণ করেছে তার চেয়ে অনেক বেশি।’ আমরা তার সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হলাম। শায়খ যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন আমাদের বললেন: ‘তোমরা মাথাটি নিয়ে চলে যাও, আমি তার কাছে দাঁড়িয়ে তাকে সন্তুষ্ট করছি।’ আমরা অগ্রসর হলাম এবং শায়খ তার সাথে কথা বলতে ও তাকে প্রবোধ দিতে থাকলেন। যখন আমরা কিছুটা দূরে চলে গেলাম, তখন তিনি তাকে ছেড়ে আমাদের অনুসরণ করলেন। তুর্কিমানি লোকটি তার পেছনে পেছনে চিৎকার করতে করতে আসতে লাগল, কিন্তু তিনি তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিলেন না।

যখন তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন না, তখন সে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তার কাছে পৌঁছাল এবং তার বাম হাতটি টেনে ধরল এবং বলল: ‘আমাকে ফেলে তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ অমনি দেখা গেল শায়খের হাতটি তার কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং রক্ত ঝরন্ত অবস্থায় তুর্কিমানি লোকটির হাতে রয়ে গেল। তুর্কিমানি লোকটি হতভম্ব ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল এবং ভয় পেয়ে হাতটি ফেলে দিল। তখন শায়খ ফিরে এলেন এবং তার ডান হাত দিয়ে সেই হাতটি তুলে নিয়ে আমাদের সাথে মিলিত হলেন। শায়খ যখন আমাদের কাছে পৌঁছালেন, তখন আমরা তার ডান হাতে কেবল রুমাল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না।’ তিনি তৃতীয় একটি গল্পও উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত(১)](২)।

এ ধরনের ঘটনা দুটি সম্ভাবনা রাখে:

প্রথমটি: এটি কেবল চোখের জাদু (দৃষ্টিবিভ্রম), যার ফলে দৃষ্টির উপলব্ধি বিঘ্নিত হয় এবং মানুষ এমন কিছু দেখে যার কোনো বাস্তব সত্তা নেই।

দ্বিতীয়টি—যা আমার কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে হয়—তা হলো: এটি মস্তিষ্কের ওপর করা জাদু, যার ফলে জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক...

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি উসাইবিয়াহ রচিত ‘উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা’ (পৃষ্ঠা ৬৪২ - ৬৪৩)। আরও দ্রষ্টব্য: ইবনে খাল্লিকান রচিত ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ (৬/২৬৯ - ২৭০), যাহাবি রচিত ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (২১/২০৮ - ২০৯) এবং ‘তারিখুল ইসলাম’ (৪১/২৮৪ - ২৮৫) ইত্যাদি।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু লেখক (রহিমাহুল্লাহ) শূন্য রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬২)
ضعيفًا، وقد عُرِف أنَّ الدِّماغ إذا ضعف قد يختلُّ الإدراك، كَمَن يكون بين النوم واليقظة فإنَّه يتخيَّل أشياء كثيرة، مثل أنَّه قام ومشى ورأى أشياء كثيرة، وأشباه ذلك. وهكذا من يتناول بعض الأشياء المُسْكِرة أو المفتِّرة.

وهكذا من يضعف دماغه لمرضٍ أو شدَّة خوفٍ، كما يدخل في الليل مكانًا يعتقد أنَّ فيه جِنًّا يتعرَّضون لمن يدخل.

وبالجملة فهذا الضَّرْب يشبه ما عُرِف الآن بـ «التنويم المغناطيسي»؛ فإنَّ المنوِّم ــ بالكسرـ يستطيع أن يخيِّل للمنوَّم ــ بالفتح ــ أشياء لا وجود لها، كما مرَّ، ولهذا يشعر المسحور بأنَّه في حالٍ غير عاديَّة، كما تقدَّم في القِصَّة.

فإن قيل: إنَّ إمكان مثل هذا يؤدِّي إلى سدِّ باب الثِّقة بالمحسوسات، وإلى عذر من كفر بالأنبياء، وقال: إنَّهم سحرةٌ، وإلى عذر منكري الكرامات.

قلتُ: أمَّا سدُّ باب الثِّقة بالمحسوسات فالحال في هذا كالحال في أعمال الجِنِّ، كما تقدَّم، فلا يأذن الله عز وجل بوقوع مثل هذا إلَّا في حالٍ تكون هناك قرائن وأدلَّة تدلُّ على أنَّه تخييل، أو تشكَّك فيه تشكيكًا قويًّا.

فسحرة فرعون كانوا يعترفون ويُعرَفون بأنَّهم سحرةٌ، ثمَّ بيَّن الله عز وجل حقيقة أمرهم، وهكذا حال السَّاحر الذي قتله جندب، وقريب منه ما تقدَّم عن السُّهْرَوردي.

وأمَّا اشتباه المعجزات والكرامات فسيأتي الكلام عليه إن شاء الله تعالى.

[ ...... ](1).

--------------------------------------------

(1) هنا وقع سقط في الأصل، لا يُدرى كم مقداره.
দুর্বল (হয়ে পড়ে)। আর এটি সুপরিচিত যে, মস্তিষ্ক যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন উপলব্ধিক্ষমতা বিপর্যস্ত হতে পারে। যেমন নিদ্রা ও জাগরণের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকা ব্যক্তি অনেক কিছু কল্পনা করে; যেমন সে ভাবল যে সে উঠেছে, হেঁটেছে এবং অনেক কিছু দেখেছে বা অনুরূপ কিছু। একইভাবে যে ব্যক্তি নেশাজাতীয় বা অবসাদগ্রস্তকারী কোনো দ্রব্য গ্রহণ করে (তার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে)।

ঠিক তেমনি যার মস্তিষ্ক রোগ বা প্রচণ্ড ভয়ের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে; যেমন রাতে এমন কোনো স্থানে প্রবেশ করা যেখানে সে বিশ্বাস করে যে জিন রয়েছে যারা আগন্তুককে আক্রমণ করে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এ বিষয়টি বর্তমানে 'সম্মোহন' (হিপনোটিজম) নামে পরিচিত বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা সম্মোহনকারী সম্মোহিত ব্যক্তিকে এমন কিছু কল্পনা করাতে পারে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ কারণেই জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি অনুভব করে যে সে এক অস্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে।

যদি বলা হয়: এ জাতীয় বিষয়ের সম্ভাবনা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের প্রতি আস্থার পথ রুদ্ধ করে দেয় এবং যারা নবীদের অস্বীকার করে তাঁদের জাদুকর বলেছিল তাদের ও কারামত (অলৌকিকত্ব) অস্বীকারকারীদের পক্ষে অজুহাত তৈরি করে দেয়।

আমি বলব: ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের প্রতি আস্থার পথ রুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ইতিপূর্বে বর্ণিত জিনদের কর্মকাণ্ডের মতোই। মহান আল্লাহ এ ধরনের ঘটনা ঘটার অনুমতি কেবল তখনই দেন যখন সেখানে এমন কিছু আলামত ও প্রমাণ থাকে যা নির্দেশ করে যে এটি নিছক কল্পনা, অথবা যা এ বিষয়ে গভীর সন্দেহের উদ্রেক করে।

ফেরাউনের জাদুকররা নিজেরা স্বীকার করত এবং তারা জাদুকর হিসেবেই পরিচিত ছিল; এরপর আল্লাহ তাআলা তাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দেন। জুন্দুব কর্তৃক নিহত জাদুকরের অবস্থাও ছিল অনুরূপ, আর সোহরাওয়ার্দী থেকে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ও এর কাছাকাছি।

আর মুজিজা ও কারামতের সাথে সংশয় সৃষ্টির বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

[ ...... ](১).

--------------------------------------------

(১) এখানে মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছু অংশ বাদ পড়েছে, যার পরিমাণ জানা নেই।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৩)
الذي في «الصَّحيح»(1) ومن قول عائشة رضي الله عنها: «أوَّل ما بُدئ به رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من الوَحْي الرُّؤيا الصَّالحة في النَّوم، فكان لا يرى رُؤيا إلَّا جاءت مثل فَلَق الصُّبح، ثم حُبِّب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حِراء، فيَتَحنَّث فيه ــ وهو التعبُّد ــ اللَّيالي ذوات العَدَد، قبل أن ينزِعَ إلى أهله، ويتزوَّد لذلك، ثم يرجع إلى خديجة، فيتزوَّد لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حِراء».

فلم تُعَيِّن اللَّيالي ولا عِدَّتها.

ولكن في «سيرة ابن هشام»(2): « .. قال: ابن إسحاق: وحدَّثني وهب بن كيسان مولى آل الزبير قال: سمعتُ عبد الله بن الزبير وهو يقول لعُبَيد بن عمير بن قتادة اللَّيثي: حدِّثْنا يا عُبَيد كيف كان بُدُوُّ ما ابتدئ به رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من النبوَّة حين جاءه جبريل عليه السلام؟

قال: فقال عُبيد: « .... كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يجاور في حِراء من كل سنةٍ شهرًا، وكان ذلك ممَّا تحنَّثُ به قريش في الجاهليَّة. والتحنُّث: التبرُّر.

قال ابن إسحاق: فقال أبو طالب:

وثور ومَن أرْسَى ثبيرًا مكانَه … وراقٍ لِيَرقى في حِراء ونازل

 

قال عُبيد: فكان رسولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم يجاور ذلك الشهر من كل سنةٍ، يُطْعِم من جاءه من المساكين …

--------------------------------------------

(1) البخاري (3)، ومسلم (160).

(2) «السيرة النبويَّة» (2/ 68).
যা 'সহীহ' গ্রন্থে(১) বর্ণিত হয়েছে এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র বাণী হতে উদ্ধৃত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশ শুরুর সূচনা হয়েছিল ঘুমের ঘোরে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো না। অতঃপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারে ফিরে আসার পূর্বে বেশ কয়েক রাত 'তাহান্নুছ'—অর্থাৎ ইবাদতে—মগ্ন থাকতেন। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নিতেন। অতঃপর পুনরায় খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট সত্য (ওহী) আগমন করল।"

এখানে তিনি (আয়েশা রা.) রাতগুলো কিংবা তার নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি।

তবে 'সীরাতে ইবনে হিশাম'-এ(২) বর্ণিত হয়েছে: "...ইবনে ইসহাক বলেন: জুবায়ের পরিবারের মুক্তদাস ওহাব ইবনে কায়সান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরকে উবাইদ ইবনে উমায়ের ইবনে কাতাদা আল-লাইসীর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: হে উবাইদ, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করলেন, তখন তাঁর নবুওয়াতের সূচনার অবস্থা কেমন ছিল, তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন।

তিনি (রাবী) বলেন: উবাইদ বললেন: "...রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বছর এক মাস হেরা গুহায় অবস্থান করতেন। এটি ছিল কুরাইশদের জাহেলী যুগের 'তাহান্নুছ' বা পুণ্য অর্জনের প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর 'তাহান্নুছ' অর্থ হলো নেক কাজ করা।

ইবনে ইসহাক বলেন: তখন আবু তালিব (কবিতায়) বলেছিলেন:

শপথ ছাওর পাহাড়ের এবং যিনি সাবীর পাহাড়কে তার স্থানে সুদৃঢ় করেছেন … এবং শপথ সেই আরোহণকারীর যিনি হেরায় আরোহণ করেন এবং সেখান থেকে অবতরণ করেন।

 

উবাইদ বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বছর সেই এক মাস সেখানে অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট আসা অভাবী ব্যক্তিদের আহার করাতেন …

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৩), এবং মুসলিম (১৬০)।

(২) 'আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ' (২/ ৬৮)।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
حتى إذا كان الشَّهر الذي أراد الله تعالى به فيه ما أراد من كرامته، من السَّنة التي بعثه الله تعالى فيها، وذلك الشهر رمضان = خرج رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلى حِراء كما كان يخرج لجواره، ومعه أهله … ».

وهذا مرسلٌ؛ لأنَّ عبيدًا تابعيٌّ، إلَّا أنَّ استماع الصَّحابة له، وتركهم الإنكار ممَّا يشدُّه.

وفيه: أنَّ المجاورة كانت ممَّا تعمله قريش في الجاهلية، وقد كان النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم قبل البعثة يتحرَّى من أعمالهم ما يرى أنَّه مما بقي من شريعة إبراهيم، كالحج ونحوه.

وفيه: أنَّ المجاورة كانت شهرًا، وهذا محمول على جُمْلتها. وقد دلَّ حديث عائشة رضي الله عنها أنَّه كان يرجع في أثناء الشهر مرارًا ليتزوَّد.

وقوله أخيرًا: «وذلك الشَّهر رمضان» صريحٌ في أنَّ الشَّهر الذي جاوره ذلك العام رمضان، ويحتمل أن يكون رمضان هو الشهر الذي يجاور فيه كل سنة، والذي كانت تجاور فيه قريش. والله أعلم.

وعلى كلِّ حالٍ فالذي تقرَّر في الشَّريعة ممَّا يتعلَّق بهذه القضية هو صيام رمضان واعتكاف العشر الأواخر منه في أيِّ مسجدٍ كان.

وأحكام الاعتكاف معروفةٌ في الشَّرع، ولم يُنقَل عن النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه جاور بحراء أو غيره بعد النبوَّة، ولا أمر به أحدًا، ولا فَعَله أحدٌ من السَّلف = فلم يبْقَ في تلك القضيَّة أثرٌ عمليٌّ في الشَّريعة، إلَّا أن يكون صيام رمضان والاعتكاف فيه.
অবশেষে যখন সেই মাসটি উপস্থিত হলো যাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ইচ্ছা করেছিলেন—অর্থাৎ যে বছর আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেন এবং সেই মাসটি ছিল রমজান—তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হেরা গুহায় গমনের উদ্দেশ্যে বের হলেন, যেমনিভাবে তিনি তাঁর নির্জনবাসের জন্য বের হতেন, এবং তাঁর সাথে তাঁর পরিবারও ছিল ... »।

আর এটি একটি মুরসাল বর্ণনা; কারণ উবাইদ একজন তাবিঈ। তবে সাহাবায়ে কিরামের পক্ষ থেকে তাঁর কথা শোনা এবং তাঁর বর্ণনার প্রতি কোনো আপত্তি না করা একে শক্তিশালী করে।

এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, নির্জনবাস বা 'মুজাওয়ারা' ছিল জাহেলি যুগে কুরাইশদের একটি প্রচলিত আমল। নবুওয়াত লাভের আগে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের কর্মকাণ্ডের মধ্য থেকে সেগুলোকেই অনুসরণ করতেন যেগুলোকে তিনি ইব্রাহিমি শরীয়তের অবশিষ্ট অংশ বলে মনে করতেন, যেমন হজ এবং তদ্রূপ অন্যান্য আমল।

এতে আরও রয়েছে যে, নির্জনবাস ছিল এক মাস ব্যাপী, আর এটি পূর্ণ মেয়াদের ওপর প্রযোজ্য। হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি পাথেয় সংগ্রহের জন্য মাসের মাঝে মাঝেই কয়েকবার ফিরে আসতেন।

এবং শেষোক্ত বক্তব্য—"আর সেই মাসটি ছিল রমজান"—একথা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, সে বছর তাঁর নির্জনবাসের মাসটি ছিল রমজান। এটিও সম্ভব যে, রমজানই ছিল সেই মাস যাতে তিনি প্রতি বছর এবং কুরাইশরা নির্জনবাস করত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

যা-ই হোক না কেন, এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু শরীয়তে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো রমজানের রোজা রাখা এবং যেকোনো মসজিদে এর শেষ দশ দিনের ইতিকাফ করা।

শরীয়তে ইতিকাফের বিধানসমূহ সুপরিচিত। নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হেরা গুহায় বা অন্য কোথাও অনুরূপ নির্জনবাস করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি, আর না তিনি কাউকে এর নির্দেশ দিয়েছেন, কিংবা সালাফে সালেহীনের কেউ এটি করেছেন। ফলে এই ঘটনার শরীয়তসম্মত কোনো ব্যবহারিক নিদর্শন আর অবশিষ্ট নেই, তবে রমজানের রোজা এবং তাতে ইতিকাফ এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
واتَّضح بذلك أنَّه من أحدث غير ذلك ــ كأربعينيَّة المتصوِّفة(1) ــ فليس له حُجَّة في تلك القضيَّة. والله الموفِّق.

وإن حُكِمَ به عن تجربةٍ، أو رُؤيا، أو إلهامٍ، أو أمَارةٍ خاصَّة بهم، أو ذَوْقٍ، أو كَشْفٍ، أو خبرِ مَن يرونه ملَكًا، أو مَن يرونه الخضر، أو نبيًّا، أو النَّبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم، وأنَّهم شاهدوه يقظةً، أو شاهدوه في اللَّوح المحفوظ، أو سمعوه من الله تعالى، ونحو ذلك ممَّا يدَّعونه لأنفسهم = فسيأتي الكلام على هذه الأمور إن شاء الله تعالى.

ويكفيك هنا أمورٌ:

الأوَّل: أنَّ هذه الأمور منها ما دلَّت الشَّريعة على نفيه، ولو بدليلٍ ظاهر تقوم الحُجَّة به إجماعًا.

ومنها ما لا يُعلَم في الشَّريعة إثباته أو نفيه.

ومنها ما جاء في الشَّريعة إثباته في الجملة.

فالأوَّل ساقط، والثَّاني كذلك؛ لأنَّ الشريعة لم تشهد له، ولو كان حقًّا

--------------------------------------------

(1) الأربعينيَّة: خلوةٌ صوفيَّةٌ عدَّتها أربعون يومًا، تتخلَّلُها عبادات ورياضات، كالصَّوم ونحوه. وقد استدلَّ من قال بها، كالسَّهروردي في «عوارف المعارف» (ص 37) وغيره بأدلَّة، كلُّها لا تثبت بها الحُجَّة، فاستدلُّوا بفعل موسى عليه الصلاة والسلام حين لقي ربَّه، واستدلُّوا بأحاديث ضعيفة أو موضوعة، تُنظَر ألفاظ هذه الأحاديث في «تذكرة الموضوعات» للفتني (ص 191 - 192) باب خرقة الصُّوفية والأربعينيَّات والمجاهدة، ويُنْظَر تفصيل القول في عِلَلها في كتب الموضوعات، ومناقشةٌ مفصَّلةٌ لباقي أدلتهم في: «مجموع الفتاوى» لشيخ الإسلام ابن تيمية (10/ 393 - 406)، وفي (18/ 11).
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছু উদ্ভাবন করে—যেমন সুফীদের চল্লিশ দিনের চিল্লা (আরবাঈনিয়্যাহ)(১)—এই বিষয়ে তার কোনো প্রমাণ নেই। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

আর যদি এর স্বপক্ষে কোনো অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন, ইলহাম (ঐশী প্রেরণা), তাদের নিজস্ব বিশেষ কোনো নিদর্শন, আধ্যাত্মিক স্বাদ (যাওক), কাশফ (রহস্য উন্মোচন), অথবা এমন কারো সংবাদ যাকে তারা ফেরেশতা মনে করে, কিংবা যাকে তারা খিজির বা কোনো নবী মনে করে, অথবা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সংবাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং তারা দাবি করে যে তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখেছে, কিংবা লাওহে মাহফুজে দেখেছে, অথবা আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে সরাসরি শুনেছে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা তারা নিজেদের জন্য দাবি করে থাকে—তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এসব বিষয়ে আলোচনা আসবে।

এখানে আপনার জন্য কয়েকটি বিষয়ই যথেষ্ট:

প্রথমত: এসব বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু আছে যা নাকচ করার ব্যাপারে শরীয়ত প্রমাণ পেশ করেছে, যদিও তা কোনো প্রকাশ্য দলিলের মাধ্যমে হয় যার দ্বারা সর্বসম্মতিক্রমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয়ত: এমন কিছু বিষয় আছে যা শরীয়তে সাব্যস্ত হওয়া বা নাকচ হওয়া সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।

তৃতীয়ত: এমন কিছু বিষয় আছে যা শরীয়তে সামগ্রিকভাবে সাব্যস্ত হয়েছে।

অতএব প্রথম প্রকারটি বাতিল, আর দ্বিতীয়টিও তদ্রূপ; কারণ শরীয়ত এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়নি, যদিও তা সত্য হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) আরবাঈনিয়্যাহ: এটি একটি সুফী নির্জনবাস বা চিল্লা যার মেয়াদকাল চল্লিশ দিন, যার মধ্যে রোজা ও এ জাতীয় বিভিন্ন ইবাদত ও সাধনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। যারা এর প্রবক্তা, যেমন আস-সুহরাওয়ার্দী তাঁর 'আওয়ারিফুল মাআরিফ' (পৃষ্ঠা ৩৭) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা, তারা বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন যার কোনোটিই দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার যোগ্য নয়। তারা মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সেই কর্মকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যখন তিনি তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এছাড়াও তারা কিছু দুর্বল ও জাল হাদিস দ্বারা দলিল দিয়েছেন। এসব হাদিসের শব্দাবলি আল-ফাতানি রচিত 'তাজকিরাতুল মাওদুআত' (পৃষ্ঠা ১৯১ - ১৯২)-এর সুফীদের খিরকা, আরবাঈনিয়্যাহ এবং মুজাহাদা অধ্যায়ে দেখা যেতে পারে। এসবের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে। আর তাদের বাকি দলিলগুলোর বিস্তারিত খণ্ডন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/৩৯৩ - ৪০৬) এবং (১৮/১১)-এ দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৬)
لشهِدَت له، فهو إمَّا راجعٌ إلى الأوَّل أو الثالث. أمَّا الأول فقد مرَّ.

وأمَّا الثالث [فإنَّ ما](1) ثبت في الشَّريعة أنَّه أمارة قد يكون حقًّا، وقد يكون باطلًا، فحدُّه أنَّه إذا وافق حُجَّةً مشهودًا لها في الشَّريعة بأنَّها حُجَّة أُخِذ بتلك الحُجَّة، وذُكِر معها استنانًا(2)، كما يذكر أهل العلم الحُجَّة الشَّرعيَّة، ثم يذكر بعضهم ما وافقها من رُؤيا ونحوها.

وإن خالف حُجَّةً شرعيَّةً كان ذلك دليلًا على بطلانه.

وإن لم يوافق ولم يخالف أُخِذ به فيما تكفي فيه الأمارة الضَّعيفة، وذلك في نحو صدقة التطوُّع، إذا تردَّدتَ في إعطائها لهذا أو لذاك، ولم يظهر لك ما يرجِّح أحدهما من جهة الشرع ولم يتيسَّر قسمتها، فرأيتَ رؤيا تدلُّ على أحقِّيَّة أحدهما = فإنَّه يجوز لك أن تعطيه؛ وذلك أنَّه يكفي في ذلك الأمارة الضَّعيفة، كأنْ ترى ثوب أحدهما أبْلَى من ثوب الآخر فتقول: يظهر من هذا أنَّ الذي ثوبُه أبلى أشدُّ حاجة.

ولا يدخل في هذا: التردُّد في صيام يومين لم يثبت في الشَّرع لأحدهما مزيَّة عن الآخر إذا دلَّت رؤيا على مزيَّةٍ شرعيَّةٍ لأحدهما.

والفرق: أنَّ المزيَّة الشرعيَّة حكم شرعيٌّ لا يثبت إلَّا بالشَّرع، وأمَّا كون هذا أحْوَج من ذاك فهو موكولٌ إلى نظر المكلَّف، فلا تغفل.

الأمر الثَّاني: أنَّ ما يصحُّ في الجملة ممَّا ادَّعاه المتصوِّفة مُعَرَّضٌ للاشتباه بتضليل الشيطان، والهوى، والتَّخيُّل، والتوهُّم.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «فإنما».

(2) كذا في الأصل، ولعلَّه يقصد: «استئناسًا».
...তা তার সপক্ষে সাক্ষ্য দিত। সুতরাং তা হয় প্রথম বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, নতুবা তৃতীয় বিষয়ের দিকে। আর প্রথমটির আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর তৃতীয় বিষয়টি হলো: শরীয়তে যা 'নিদর্শন' হিসেবে প্রমাণিত, তা কখনো সত্য হতে পারে আবার কখনো মিথ্যা হতে পারে। এর মূলনীতি হলো—যখন তা শরীয়ত কর্তৃক স্বীকৃত কোনো দলিলের অনুকূলে হবে, তখন সেই দলিলের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং (সেই দলিলের) সাথে অনুসরণের নিমিত্তে এটিও উল্লেখ করা হবে, যেমন উলামায়ে কিরাম শরয়ি দলিল উল্লেখ করেন, অতঃপর তাদের কেউ কেউ এর স্বপক্ষে প্রাপ্ত স্বপ্ন বা অনুরূপ বিষয়সমূহ উল্লেখ করে থাকেন।

আর যদি তা কোনো শরয়ি দলিলের পরিপন্থী হয়, তবে তা সেটির অসারতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

আর যদি তা (শরয়ি দলিলের) অনুকূলেও না হয় আবার পরিপন্থীও না হয়, তবে এমন সব ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হবে যেখানে 'দুর্বল নিদর্শন' যথেষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন নফল সদকার ক্ষেত্রে—যদি আপনি তা কাকে দেবেন সে ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে কাউকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো কারণ প্রকাশ না পায় এবং তা বণ্টন করাও সম্ভব না হয়, এমতাবস্থায় আপনি যদি এমন কোনো স্বপ্ন দেখেন যা তাদের মধ্যে একজনের অধিক হকদার হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে আপনার জন্য তাকে প্রদান করা জায়েজ। কেননা এই জাতীয় ক্ষেত্রে দুর্বল নিদর্শনই যথেষ্ট; যেমন আপনি দেখলেন যে একজনের পোশাক অন্যজনের তুলনায় অধিক জীর্ণ, তখন আপনি মনে করলেন যে—এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে যার পোশাক অধিক জীর্ণ সে-ই বেশি অভাবী।

তবে এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না যেমন—দুটি দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে দ্বিধা সৃষ্টি হওয়া যেখানে শরীয়তে একটির ওপর অন্যটির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত নয়, যদিও কোনো স্বপ্ন তাদের একটির শরয়ি শ্রেষ্ঠত্বের ইঙ্গিত প্রদান করে।

এর পার্থক্য হলো: শরয়ি শ্রেষ্ঠত্ব একটি শরয়ি বিধান যা কেবল শরীয়তের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। পক্ষান্তরে একজন অন্যজনের তুলনায় অধিক অভাবী হওয়া একটি জাগতিক বিষয় যা মুকাল্লাফ বা ব্যক্তির বিচার-বুদ্ধির ওপর ন্যস্ত। অতএব, এ বিষয়ে গাফেল হবেন না।

দ্বিতীয় বিষয়: সুফিগণ যা দাবি করেন তার মধ্যে যা সাধারণভাবে সঠিক বলে গণ্য, তাও শয়তানের বিভ্রান্তি, কুপ্রবৃত্তি, কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার মাধ্যমে সংশয়যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "فإنما" (ফাইননামা)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে, সম্ভবত লেখক "استئناساً" (ইসতি’নাসান - সমর্থন লাভের জন্য) বুঝাতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
والأَمارات التي يزعمونها محتملةٌ لذلك أيضًا، وللتخلُّف، وغير ذلك.

وأعظم من هذا كلِّه أنَّه قد جاء في الحديث وصف القرآن بأنَّه «من يبتغي الهُدَى في غيره أضلَّه الله»(1). فمَن ابتغي معرفة الحقِّ من حيث لم يشرعه الله عز وجل بصريح شريعته فهو أهلٌ لأن يضلَّه الله عز وجل، ويستدرجه، ويُلَبَّس عليه ما لَبَّس على نفسه، والعياذ بالله.

الأمر الثالث: أنَّ ما أوضح الله عز وجل لعباده بصريح شَرْعِهِ أنَّه طريقٌ يعرف به الحقَّ في دينه = فهو معصومٌ بالجملة، وهو سبحانه يتكفَّل بحفظه.

وما يحتمل فيه من الخطأ فهو إمَّا خطأ صوري، إنَّما وقع لحِكْمَةٍ.

وإمَّا معفوٌّ عنه، بل مأجورٌ فيه أجرًا واحدًا، وإمَّا معفوٌّ عنه فقط. اللَّهمَّ إلَّا أن يكون خطأً عن تقصيرٍ بيِّنٍ من النَّاظر، فالذَّنب في هذا له.

وقد أوضحتُ هذا في موضعٍ آخر.

وأمَّا ما ليس في صريح الشَّرع أنَّه طريقٌ لمعرفة الحقِّ في الدِّين فليس بمعصومٍ، ولم يتكفَّل الله عز وجل بحفظه، فالمصيب فيه مأزورٌ؛ لمخالفته ما شرَعَه الله، فما ظنُّك بالمخطئ!

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (1/ 91)، والترمذي (2906)، والدَّارمي (3374)، والبزَّار (3/ 71)، وغيرهم، من طرقٍ عن الحارث الأعور عن عليٍ رضي الله عنه مرفوعًا. ومداره على الحارث، وهو ضعيف؛ وقد ضعَّفه التِّرمذي. ورجَّح الحافظ ابن كثير وقفه، ووهَّم رفعَه.

وفي الباب حديث معاذٍ رضي الله عنه، وفيه راوٍ متروك. وفي الباب أيضًا: حديث ابن مسعود رضي الله عنه، وفيه راوٍ ليِّن. وصحَّح الحافظ ابن كثير وقفه عليه، ووهَّم رفعَه.

ويُنْظَر: «تفسير ابن كثير» (1/ 21 - 22)، و «السِّلسلة الضَّعيفة» للألباني (1776).
তারা যেসব চিহ্নের দাবি করে, সেগুলো যেমন সেটির সম্ভাবনা রাখে, তেমনি তা লক্ষ্যচ্যুত হওয়া বা অন্য কিছুরও সম্ভাবনা রাখে।

আর এই সবকিছুর চেয়ে বড় কথা হলো, হাদীসে কুরআনের বর্ণনায় এসেছে যে, «যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুর মাঝে হেদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন»(১)। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট শরীয়তের মাধ্যমে যা বিধিবদ্ধ করেননি, সেখান থেকে সত্য সন্ধানের চেষ্টা করবে, সে আল্লাহ কর্তৃক পথভ্রষ্ট হওয়ার উপযুক্ত। আল্লাহ তাকে ক্রমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবেন এবং সে নিজের ওপর যা অস্পষ্ট করে তুলেছে, আল্লাহও তার কাছে তা অস্পষ্ট করে দেবেন; আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

তৃতীয় বিষয়: মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট শরীয়তের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের জন্য দ্বীনের সত্য জানার যে পথটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তা সামগ্রিকভাবে সুরক্ষিত; আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং এর হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন।

আর এর মধ্যে ভুলের যে সম্ভাবনা থাকে, তা হয় বাহ্যিক ভুল, যা কেবল কোনো হিকমতের কারণেই সংঘটিত হয়েছে।

অথবা তা ক্ষমার যোগ্য, বরং তাতে একটি সওয়াব রয়েছে; কিংবা তা কেবলই মার্জনীয়। তবে যদি এই ভুল পর্যালোচনাকারীর স্পষ্ট অবহেলার কারণে হয়, তবে সেক্ষেত্রে গুনাহ তারই হবে।

আমি অন্য স্থানে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

পক্ষান্তরে, দ্বীনের সত্য জানার পথ হিসেবে যা সুস্পষ্ট শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা সুরক্ষিত নয়; মহান আল্লাহ এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নেননি। অতএব, এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে সেও গুনাহগার হবে; কারণ সে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বিধানের বিরোধিতা করেছে। এমতাবস্থায় যে ভুল করবে, তার অবস্থা তো সহজেই অনুমেয়!

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ (১/৯১), তিরমিযী (২৯০৬), দারেমী (৩৩৭৪), বাযযার (৩/৭১) প্রমুখ হারিস আল-আওয়ার সূত্রে আলী (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনার মূল কেন্দ্র হলো হারিস, আর সে দুর্বল; ইমাম তিরমিযী তাকে দুর্বল বলেছেন। হাফেজ ইবনে কাসীর এই বর্ণনাটিকে মাওকুফ হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং মারফূ হিসেবে বর্ণনা করাকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন।

এই অধ্যায়ে মুআয (রা.)-এর একটি হাদীস রয়েছে, যাতে একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে। এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ (রা.)-এরও একটি হাদীস রয়েছে, যাতে একজন শিথিল বর্ণনাকারী রয়েছে। হাফেজ ইবনে কাসীর এটিকেও তাঁর ওপর মাওকুফ হওয়াকে সহীহ বলেছেন এবং মারফূ হিসেবে বর্ণনা করাকে ভুল মনে করেছেন।

দ্রষ্টব্য: ‘তাফসীর ইবনে কাসীর’ (১/২১-২২), এবং আলবানীর ‘আস-সিলসিলাতুত দায়ীফাহ’ (১৭৭৬)।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
وباب تلبيس الشيطان ــ وغيره ممَّا مرَّ ــ مفتوحٌ فيه على مِصْرَاعَيْه؛ بل هو مظنَّة إضلال الله عز وجل واستدراجه، كما مرَّ.

حتى لو فُرِضَ أنَّ من تلك الطُرُق التي لم يأت صريح الشَّرع ما هو أقوى في نَظَر النَّاظر من بعض الطُرُق التي ورد بها = فإنَّه لا يغني هذا شيئًا؛ فإنَّ الضَّعيف الذي تكفَّل الله عز وجل بحِفْظِه أقوى من القويِّ الذي لم يتكفَّل سبحانه وتعالى بحِفْظِه.

فصلٌ

ظاهر قول الشيخ(1): «فالكَفَرة دمَّرهم الله من عالم البشر، فلا يُستعمل في قتالهم إلَّا ما هو عادة في عالم البشر، لا غير» = أنَّ هذا عام في كلِّ حالٍ. ويلحقُ به من باب أَوْلى المسلمون.

وعلى هذا فكلُّ شخصٍ بتلك القوَّة في إيذاء آخر ــ ولو كافرًا ــ فهو إمَّا ساحرٌ، وإمَّا إن كان وليًّا فعصى. هذا على فرض أنَّ مكتسب تلك القوَّة قد يكون وليًّا، وفي ذلك نظر!

إذ قد يقال له: لم نعرف في الشَّريعة ترغيبًا ما في اكتساب تلك القوَّة؛ بل فيها ما يؤخذ منه النَّهي عن اكتسابها، والرِّياضة الموصلة إليها، كما يأتي.

وقد وَرَد في النَّهي عن تعلُّم السِّحر ما ورد(2).

--------------------------------------------

(1) لم يتبين لي مَن الشيخ المردود عليه.

(2) يعني كقوله تعالى: {وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ} [البقرة: 102].

وكحديث أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ النَّبي صلى الله عليه وسلم قال: «اجتنبوا السَّبع الموبقات». قالوا: يا رسول الله، وما هنَّ؟ قال: «الشِّرك بالله، والسِّحر .. » الحديث. أخرجه البخاري (2766)، ومسلم (89).
আর শয়তানের প্রতারণা—এবং পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তার—দ্বার এতে পুরোপুরি উন্মুক্ত; বরং এটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কর্তৃক পথভ্রষ্ট করা এবং অবকাশ প্রদানের (ইসতিদরাজ) একটি ক্ষেত্র, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে, শরীয়তের সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই এমন কিছু পদ্ধতি পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে শরীয়তে বর্ণিত কোনো কোনো পদ্ধতির চেয়েও অধিক শক্তিশালী, তবুও তা কোনো উপকারে আসবে না; কেননা যে দুর্বল বিষয়টি সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা গ্রহণ করেছেন, তা সেই শক্তিশালী বিষয়ের চেয়েও অধিক শক্তিশালী যার সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ গ্রহণ করেননি।

পরিচ্ছেদ

শায়খের বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো(১): «কাফেররা—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—মানব জগতের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানব জগতের প্রথাগত উপায় ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না, অন্য কিছু নয়» = অর্থাৎ এটি সকল অবস্থার জন্য সাধারণ। আর মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি অগ্রাধিকারভিত্তিতে আরও বেশি প্রযোজ্য হবে।

এর ভিত্তিতে, অন্যের ক্ষতি করার মতো এ জাতীয় ক্ষমতাসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তি—এমনকি সে যদি কাফেরও হয়—সে হয় হয় একজন জাদুকর, আর যদি সে ওলি (আল্লাহর প্রিয়ভাজন) হয়ে থাকে তবে সে অবাধ্যতা করেছে। এটি এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যে, এমন ক্ষমতা অর্জনকারী ব্যক্তি ওলি হতে পারেন; তবে এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে!

কেননা তাকে বলা যেতে পারে: শরীয়তে এ জাতীয় ক্ষমতা অর্জনে কোনো প্রকার উৎসাহ প্রদানের কথা আমাদের জানা নেই; বরং এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা থেকে এই ক্ষমতা অর্জন এবং এর দিকে ধাবিতকারী সাধনা (রিয়াজত) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়, যেমনটি সামনে আসবে।

আর জাদু শিক্ষা করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বর্ণিত হওয়ার তা তো বর্ণিতই আছে(২)।

--------------------------------------------

(১) যে শায়খের প্রতিবাদ করা হয়েছে, তিনি কে তা আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি।

(২) অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {কিন্তু শয়তানরাই কুফরি করেছিল, তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং বাবেলে হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাও। আর তারা কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, ‘আমরা তো কেবল এক পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না’} [আল-বাকারা: ১০২]।

এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের মতো যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু...» হাদিস। ইমাম বুখারি (২৭৬৬) ও মুসলিম (৮৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
وقد تقدَّم عن الشَّيخ أنَّ تلك الرِّياضة محصِّلة لهذه القوَّة التي إن استعملها صاحبُها في هواه فهو ساحرٌ، وإنَّما يبقى النَّظَر فيمن لم يشعر بأنَّ ما وقعَ منه داخلٌ في تعلُّم السِّحر. والله أعلم.

هذا وقد يُقال: إذا كان استعمال تلك القوَّة في إيذاء البشر ــ ولو كفارًا ــ محرَّمًا لأنَّهم من عالَم البشر، وهي خارجةٌ عمَّا هو عادة في عالم البشر = فكذلك ينبغي أن يكون الحال في استعمالها في النَّفع؛ أو المراد على خروجها عن عادة البشر!

فإذا صحَّ هذا فالحكم المتقدِّم على من استعملها في الإيذاء شامل لمن استعملها في غير الإيذاء، بل الأمر أوضح من هذا.

فأمر إيذاء الكفَّار والحربيين نفعٌ للدِّين والمسلمين، ومع ذلك فإنَّما يُتَخَيَّل الفرق بين النَّفع والإيذاء من جهة حُسْن النفع، وقُبْح الإيذاء، فإيذاء الكفَّار والحربيين ليس بقبيحٍ، بل هو حَسَن.

لكن قد يُقال: إنَّ عموم عبارة الشيخ مخصوص بما إذا لم يكن هناك أمرٌ خاصٌّ، فيقول: إنَّه يحرم على الوليِّ استعمالها ما لم يُؤْمَر، فإذا أُمِر كان له ذلك، كما تدلُّ عبارات أخرى له.

وعلى هذا فنقول: الأمر الذي تتلقَّاه ليس هو في الكتاب ولا السُنَّة، وإنَّما يريدون به الأمر بالإلهام ونحوه، وسيأتي الكلام عليها، وقد تقدَّم بعضه، وأنَّه لا يثبت بها حكمٌ ألبتَّة.
ইতিপূর্বে শায়খের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সেই রিয়াযত বা সাধনা এমন এক শক্তি অর্জনের মাধ্যম, যা যদি তার অধিকারী নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণে ব্যবহার করে, তবে সে জাদুকর হিসেবে গণ্য হবে। এখন কেবল তাদের বিষয়টিই পর্যালোচনার অপেক্ষা রাখে, যারা অনুভব করতে পারে না যে তাদের দ্বারা যা সংঘটিত হচ্ছে তা জাদু শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলাই সম্যক পরিজ্ঞাত।

এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে: যদি মানুষের ক্ষতি সাধনে—এমনকি তারা কাফির হলেও—সেই শক্তি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হয় এই কারণে যে, তারা মানব জগতের অন্তর্ভুক্ত এবং ওই শক্তিটি মানব জগতের স্বাভাবিক নিয়মের বহির্ভূত, তবে উপকারের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের বিধানও তদ্রূপ হওয়া উচিত; অথবা উদ্দেশ্য হলো মানবীয় স্বভাবজাত নিয়মের বাইরে হওয়া!

যদি এটি সঠিক হয়, তবে অনিষ্ট সাধনে ব্যবহারকারীর ওপর যে বিধান ইতঃপূর্বে প্রযুক্ত হয়েছে, তা অনিষ্ট সাধন ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর ওপরও প্রযোজ্য হবে। বরং বিষয়টি এর চেয়েও স্পষ্ট।

কারণ কাফির ও হারবিদের (ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরতদের) ক্ষতি সাধন দ্বীন ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর। তা সত্ত্বেও, কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্যটি কেবল উপকারের সৌন্দর্য এবং অপকারের কদর্যতার প্রেক্ষিতেই কল্পনা করা হয়; অথচ কাফির ও হারবিদের কষ্ট দেওয়া কদর্য নয়, বরং তা উত্তম।

তবে বলা যেতে পারে যে, শায়খের বক্তব্যের ব্যাপকতা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন সেখানে কোনো বিশেষ নির্দেশ না থাকে। সুতরাং তিনি বলেন: কোনো ‘ওয়ালি’ বা আল্লাহর বন্ধুর জন্য এই শক্তি ব্যবহার করা হারাম যতক্ষণ না তাকে আদেশ করা হয়। আর যদি তাকে আদেশ করা হয়, তবে তার জন্য তা বৈধ হবে, যেমনটি তার অন্যান্য বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: আপনি যে আদেশের সম্মুখীন হচ্ছেন, তা কুরআন কিংবা সুন্নাহর কোনো বিষয় নয়। বরং তারা এর দ্বারা ‘ইলহাম’ (ঐশী প্রেরণা) বা এই জাতীয় কোনো নির্দেশ বুঝাতে চেয়েছেন, যার আলোচনা সামনে আসবে এবং এর কিছু অংশ ইতঃপূর্বেও অতিক্রান্ত হয়েছে; আর এর দ্বারা মোটেও কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হয় না।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭০)
فإذا عُلِم المنع من استعمال تلك القوَّة، فاستعمالها بناءً على إلهام أو نحوه خروج على الشَّريعة، وذلك قد يكون أشد من استعمال الإيذاء على سبيل المخالفة الصَّريحة.

فإن قيل: فالمنع من استعمالها إنَّما أخذوه من تلك الطُرُق، كالإلهام ونحوه.

قلتُ: بل هو ثابتٌ شرعًا؛ لأنَّ تلك القوَّة عندنا سِحْرٌ أو في معناه. والله أعلم.

فصلٌ

يُفهَم من كلام الشيخ أنَّ التصرُّف الجائز عندهم لا يكون بحسب هوى المتصرِّف، ولا بأمرٍ متوجِّهٍ إليه خاصَّة، وإنَّما يكون بأوامر يتلقَّاها من الدِّيوان، وأنَّ أهل هذا الدِّيوان إنَّما يقرِّرون ما قضاه الله وقدَّره، وفي هذا قضاء على الاستغاثة بالأولياء الأحياء؛ لأنَّهم لا شأن لهم إلَّا تنفيذ ما أُمِروا به، فهم كالملائكة سواء، فكما أنَّه لا يُستغاث بالملائكة ــ كأن يُستغاث بمَلَك الموت ليقبض روح فلانٍ الظالم ــ فكذلك هؤلاء، على فرض صِحَّة دعواهم.

وأمَّا الموتى فقد سبق عن الشَّيخ أنَّهم لا شأن لهم بعالم الأحياء ألبتَّة.

ويُشكِل على هذا أمورٌ أخرى نُقِلَت في هذا الكتاب عن الشَّيخ، إلَّا أنَّ التناقض في أشباه هذه الدَّعاوى لا يُستنكَر.
যখন সেই শক্তি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা জানা গেল, তখন ইলহাম বা এই জাতীয় কিছুর ওপর ভিত্তি করে তার ব্যবহার হবে শরীয়তের পরিপন্থী; আর এটি স্পষ্ট অবাধ্যতার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার চেয়েও গুরুতর হতে পারে।

যদি বলা হয় যে: সেই শক্তির ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা তো তারা ইলহাম বা এই জাতীয় মাধ্যমগুলো থেকেই গ্রহণ করেছেন।

আমি বলব: বরং এটি শরীয়ত দ্বারা প্রমাণিত; কারণ আমাদের নিকট সেই শক্তি হলো জাদু অথবা জাদুর সমপর্যায়ভুক্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।

পরিচ্ছেদ

শায়খের বক্তব্য থেকে এটি বুঝা যায় যে, তাদের নিকট বৈধ আধ্যাত্মিক প্রভাব খাটানো (তাসাররুফ) প্রভাব বিস্তারকারীর খেয়ালখুশি অনুযায়ী হয় না, কিংবা বিশেষভাবে তার প্রতি নির্দেশিত কোনো আদেশের মাধ্যমেও হয় না; বরং তা হয় ‘দিওয়ান’ থেকে প্রাপ্ত আদেশের মাধ্যমে। আর এই দিওয়ানের সদস্যরা কেবল তা-ই নির্ধারণ করেন যা আল্লাহ ফয়সালা ও তকদির হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে জীবিত ওলীদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়; কেননা তাদের কাজ কেবল আদিষ্ট বিষয় বাস্তবায়ন করা। তারা ফেরেশতাদের মতোই। সুতরাং যেমন ফেরেশতাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় না—উদাহরণস্বরূপ, কোনো জালেম ব্যক্তির জান কবজ করার জন্য মালাকুল মউতের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা—তেমনি এদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য, যদি তাদের দাবি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়।

আর মৃতদের ব্যাপারে ইতিপূর্বেই শায়খের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জীবিতদের জগতের সাথে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে এই কিতাবে শায়খের পক্ষ থেকে বর্ণিত অন্যান্য বিষয় এই বক্তব্যের সাথে অসামঞ্জস্য তৈরি করে; অবশ্য এ জাতীয় দাবিগুলোর ক্ষেত্রে বৈপরীত্য থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭১)
فصلٌ

وقد عُلِم ممَّا ذكره الشيخ في اقتتال أهل الدِّيوان أنَّ عِلية القوم ــ وهم أهل الدِّيوان ــ قد يغلطون، فيزعمون ــ أوجماعة منهم ــ أنَّ مراد الله عز وجل كذا، ويقاتلون عليه أخوانهم، ويقتلونهم.

وإذا جاز هذا على هؤلاء في ديوانهم فما بالك بالواحد منه!

فهذا يدلُّك أنَّنا لو سلَّمنا دعاويهم لما تحتَّم علينا قبول قولهم إذا خالفه دليلٌ ظاهرٌ من الكتاب والسُّنَّة. وقد تقدَّم مزيد على هذا، ويأتي تمامه إن شاء الله تعالى.

فصلٌ

فأمَّا الاستدلال بمشاهدة التصرُّف بتلك القوَّة، أو نقلها على أنَّ صاحبها وليٌّ = فواضح البطلان؛ لاعتراف القوم أنَّ تلك القوَّة لا يختصُّ اكتسابها وتحصيلها بالصَّالح، بل تكون أيضًا للفاجر والكافر، وكذلك الاحتجاج في نحو ما لو قال أحدهم قولًا أو فعل فعلًا فاعترض عليه، فتصرَّف فيه!

فصلٌ

من أشنع الأغلاط أن يُعدَّ التصرُّف بهذه القوَّة في الكرامات!

أمَّا أولًا: فلِمَا علمتَ أنَّ حصول القوَّة والتمكُّن من التصرُّف بها قد يكون للفاجر والكافر.

وأمَّا ثانيًا: فإن فُرِض أنَّ صاحبها وليٌّ فتصرُّفه بها إنَّما هو تصرُّفٌ بقدرةٍ حصَلَت له باكتسابه، فهذه القوَّة عند التَّحقيق من جُملة القُوى العاديَّة، كالإصابة بالعين، وليست من الخارق في شيءٍ!
পরিচ্ছেদ

শায়খ কর্তৃক দেওয়ানবাসীদের পারস্পরিক লড়াই সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, জাতির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ—যারা দেওয়ানবাসী—তারাও ভুল করতে পারেন। ফলে তারা—কিংবা তাদের কোনো একটি দল—দাবি করে বসে যে, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য হলো অমুক, এবং এর ভিত্তিতেই তারা তাদের ভাইদের সাথে লড়াই করে ও তাদের হত্যা করে।

আর যদি তাদের সমষ্টিগত অবস্থায় তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটা সম্ভব হয়, তবে তাদের একক কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা হওয়া তো আরও সহজসাধ্য!

এটি আপনাকে এই নির্দেশনা দেয় যে, আমরা যদি তাদের দাবিগুলো মেনেও নেই, তবুও যখন তাদের বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহর কোনো স্পষ্ট দলিলের পরিপন্থী হবে, তখন তা গ্রহণ করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক হবে না। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসবে।

পরিচ্ছেদ

বিশেষ সেই শক্তির প্রভাব বিস্তার (তাসাররুফ) প্রত্যক্ষ করে কিংবা তা বর্ণনা করে এর অধিকারীকে ‘ওলি’ হিসেবে সাব্যস্ত করা স্পষ্টতই অসার। কেননা এই পথের অনুসারীরাই স্বীকার করেছেন যে, সেই শক্তি অর্জন ও লাভ করা কেবল পুণ্যবানদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়, বরং পাপাচারী ও কাফেরের মাধ্যমেও তা প্রকাশ পেতে পারে। তদ্রূপ, কেউ কোনো কথা বললে বা কাজ করলে যদি তার ওপর আপত্তি তোলা হয় আর সে (তদুত্তরে) আধ্যাত্মিক প্রভাব খাটায়—তবে সেই প্রভাব খাটানোকে সত্যতার প্রমাণ হিসেবে পেশ করাও একই রূপ অসার।

পরিচ্ছেদ

এই শক্তির প্রভাব খাটানোকে ‘কারামত’ হিসেবে গণ্য করা জঘন্যতম ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত!

প্রথমত: কারণ আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, এই শক্তি লাভ করা এবং এর দ্বারা প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হওয়া পাপাচারী ও কাফেরের জন্যও সম্ভব হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: যদি ধরেও নেওয়া হয় যে সেই ব্যক্তি একজন ওলি, তবুও তার এই প্রভাব বিস্তার মূলত তার স্বোপার্জিত ক্ষমতার দ্বারাই সাধিত হয়। বস্তুত এই শক্তিটি সাধারণ শক্তিসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত, যেমন কুদৃষ্টি বা নজরের প্রভাব; এটি অলৌকিক বা অভ্যাস-বহির্ভূত কোনো বিষয় নয়।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭২)
نعم، هي كالواسطة بين القُوى العاديَّة المشهورة وبين الخوارق؛ فهي من قبيل السِّحر وأعمال الجنِّ الزائدة على الوسوسة ونحوها.

والذي ظهر لي أنَّ هذا النَّوع ليس صاحبه يخلَّى وشأنه، يستعمله كيف يشاء، كما في القُوى العاديَّة، كالضَّرب والشتم، بل هو مقيَّدٌ بإذن خاصٍّ من الله عز وجل. أو على الإذن الذي نصَّ عليه تعالى بقوله: {وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ} [البقرة: 102]. وهو غير مستلزمٍ الإذن الشَّرعي، كما لا يخفى.

فالسَّاحر لا يستطيع أن يضرَّ بسِحره كلَّ أحدٍ، كما لا يستطيع الإنسان أن يضرب من شاء بحسب الإذن العام؛ بل لمن يقدر على الضَّرب عادةً إذنٌ خَلْقيٌّ عامٌّ، أن يضرب متى شاء؛ فإذا أراد الله عز وجل منْعَه منَعَه، كقول الله عز وجل لنار إبراهيم: {قُلْنَا يَانَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ} [الأنبياء: 69]. والسَّاحر على خلاف ذلك.

فالضَّارب مطلقٌ، يقيِّده الله عز وجل إذا شاء، والساحر مقيَّدٌ، يطلقه الله عز وجل، فتدبَّر وأنْعِم النَّظر. والله أعلم.

وقد حكوا أنَّ عالمًا رأى من شيخٍ ما يخالف الشَّريعة، فأنكر عليه فتصرَّف الشيخ، فنسي العالم علمه كلَّه، فتاب وتضرَّع إلى الشيخ، فأمره بذبح دِيكٍ عيَّنه له، وأن يأكل قلبه، ففعل، فعاد علمه كلُّه، فقال له الشيخ: كيف تُدِلُّ بعلمٍ وسِعَهُ قلبُ ديكٍ؟!

أقول: إن صحَّت القصَّة فكان فرض ذلك العالم أن يستمرَّ على إنكاره،
হ্যাঁ, এটি সাধারণ প্রচলিত শক্তি এবং অলৌকিক ঘটনাবলির মধ্যবর্তী এক মাধ্যম স্বরূপ; এটি জাদু এবং জিনের সেই সব কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত যা কুমন্ত্রণা বা এ জাতীয় বিষয়ের অতিরিক্ত।

আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে তা হলো, এই প্রকারের অধিকারী ব্যক্তিকে তার নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না যে সে তা নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করবে—যেমনটি সাধারণ শক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন আঘাত করা বা গালি দেওয়া। বরং এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুমতির দ্বারা সীমাবদ্ধ। অথবা সেই অনুমতির ওপর ভিত্তি করে যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করেছেন: "আর তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দিয়ে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না" [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]। আর যেমনটি স্পষ্ট যে, এটি শরয়ি (বিধানগত) অনুমতির আবশ্যকতা রাখে না।

সুতরাং জাদুকর তার জাদু দ্বারা প্রত্যেকের ক্ষতি করতে সক্ষম নয়, যেমন মানুষ সাধারণ অনুমতির প্রেক্ষিতে যাকে ইচ্ছা তাকে প্রহার করতে পারে না। বরং সাধারণভাবে প্রহার করতে সক্ষম ব্যক্তির জন্য একটি সাধারণ সৃষ্টিগত অনুমতি থাকে যে সে যখন ইচ্ছা প্রহার করতে পারে; অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যদি তাকে নিবৃত্ত করতে চান তবে তিনি তাকে নিবৃত্ত করেন, যেমন ইব্রাহিমের অগ্নিকুণ্ডের প্রতি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র বাণী: "আমরা বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও" [সূরা আল-আম্বিয়া: ৬৯]। কিন্তু জাদুকরের বিষয়টি এর বিপরীত।

সুতরাং প্রহারকারী হলো স্বাধীন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইচ্ছা করলে তাকে সীমাবদ্ধ করে দেন; আর জাদুকর হলো সীমাবদ্ধ, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে অনুমতি দিলে তবেই সে তা করতে পারে। অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাত করুন। আর আল্লাহই অধিক অবগত।

বর্ণিত আছে যে, এক আলেম জনৈক শায়খের মাঝে শরীয়ত বিরোধী কিছু দেখতে পেয়ে তার প্রতিবাদ করলেন। তখন শায়খ তার প্রভাব খাটালেন, ফলে সেই আলেম তার অর্জিত সমস্ত জ্ঞান ভুলে গেলেন। এরপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং শায়খের কাছে অনুনয়-বিনয় করলেন। শায়খ তাকে একটি নির্দিষ্ট মোরগ জবাই করতে এবং তার হৃৎপিণ্ড ভক্ষণ করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তা-ই করলেন এবং তার সমস্ত জ্ঞান ফিরে পেলেন। তখন শায়খ তাকে বললেন: "তুমি এমন জ্ঞান নিয়ে কীভাবে গর্ব করো যা একটি মোরগের হৃৎপিণ্ডে ধরে যায়?!"

আমি বলি: এই কাহিনী যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে সেই আলেমের জন্য কর্তব্য ছিল তার প্রতিবাদে অবিচল থাকা।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৩)
ويتضرَّع إلى الله عز وجل فيُذْهِب ما به، ويزيده علمًا إلى علمه، على رغم الشَّيخ.

ولا يُستبعَد أن يَدَعَ الله عز وجل المبطِل يتصرَّفُ بإضرار المُحِقِّ. وكفاك ما رُوِي في قصَّة اليهودي الذي سَحَرَ النَّبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم(1).

ولله عز وجل حِكَمٌ لا تُحصَى، وإنَّما علينا الوقوف عند حدود الشَّرع. والله الموفق.

وأمَّا الكرامة فإنَّما هي بفعل الله عز وجل لا دخل فيها لقوَّة الولي، وكذلك المعجزة، كما يأتي إيضاحه إن شاء الله عز وجل.

ومن الجهل الفاحش أن يُظنَّ أنَّ المعجزات تصدر من قوَّةٍ في النَّبي، بل هذا قول المُلْحِدين كالمُتفَلْسِفَة، الذين يزعمون أنَّ النُّبوَّة والسِّحر من وادٍ واحد؛ إلَّا أنَّ النَّبيَّ خيِّرٌ، إنَّما يصرف قواه في الخير، بخلاف السَّاحر. راجع: «شرح المواقف» وغيره(2).

وبما قرَّرناه هنا يتبيَّن صحَّة فتوى من أفتى من الفقهاء بوجوب الضَّمان على القاتل بالحال المعروف بين المتصوِّفة ــ وهو من هذه القوَّة التي نتكلَّم عليها ــ وبطلان قول مَن خالفه، محتجًّا بما رُوِي أنَّ بعض التَّابعين دعا على

--------------------------------------------

(1) يعني ما أخرجه البخاري (3268)، ومسلم (2189)، من حديث عائشة رضي الله عنها، في قصة سحر لبيد بن الأعصم اليهودي للنبي صلى الله عليه وسلم.

(2) «شرح المواقف» للجرجاني (3/ 329 وما بعدها، 347). ويُنظَر أيضًا: «النُّبوَّات» للفخر الرَّازي (ص 194 - 204)، و «المطالب العالية» له (8/ 127)، وكتب شيخ الإسلام: «النُّبوَّات» (1/ 137، 196) و «الصَّفديَّة» (1/ 5) و «شرح الأصبهانيَّة» (ص 575)، وغيرها.
তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট রোনাযারি করেন, ফলে তিনি তাঁর কষ্ট দূর করে দেন এবং শায়খের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর ইলমের সাথে আরও ইলম বৃদ্ধি করে দেন।

এটিও অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বাতিলপন্থীকে সত্যপন্থীর ক্ষতি করার সুযোগ করে দেবেন। আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যা সেই ইহুদির ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জাদু করেছিল(১)।

আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অগণিত হিকমত রয়েছে। আমাদের কর্তব্য হলো কেবল শরীয়তের সীমানায় অবস্থান করা। আর আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।

আর কারামাত হলো মূলত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাজ, এতে অলীর নিজস্ব শক্তির কোনো দখল নেই। তদ্রূপ মুজিযাও (একইরূপ), যার স্পষ্টিকরণ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

এটি অত্যন্ত জঘন্য মূর্খতা যে, কেউ ধারণা করবে মুজিযাসমূহ নবীর নিজস্ব শক্তি থেকে প্রকাশিত হয়। বরং এটি দার্শনিকদের ন্যায় মুলহিদদের (ধর্মত্যাগীদের) কথা, যারা দাবি করে যে নবুওয়াত ও জাদু একই উৎস থেকে আগত; পার্থক্য শুধু এই যে, নবী হলেন কল্যাণকামী, তিনি তাঁর শক্তি কেবল কল্যাণের পথে ব্যয় করেন, যা জাদুকরের বিপরীত। দেখুন: ‘শারহুল মাওয়াকিফ’ ও অন্যান্য(২)।

আমরা এখানে যা সাব্যস্ত করেছি তা থেকে সেই ফকীহগণের ফতোয়ার সঠিকতা প্রতীয়মান হয়, যারা সুফিদের মাঝে পরিচিত ‘হাল’ (আধ্যাত্মিক দশা)—যা মূলত আমাদের আলোচিত এই শক্তিরই অংশ—এর মাধ্যমে হত্যাকারীর ওপর জরিমানা বা দণ্ড ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি তাদের বক্তব্যের অসারতাও প্রমাণিত হয় যারা এর বিরোধিতা করেছেন এবং দলীল হিসেবে পেশ করেছেন যে, জনৈক তাবিঈ একজনের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ যা বুখারী (৩২৬৮) ও মুসলিম (২১৮৯) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীস থেকে লবীদ ইবনুল আসম নামক ইহুদির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাদু করার ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন।

(২) জুরজানীর ‘শারহুল মাওয়াকিফ’ (৩/ ৩২৯ ও পরবর্তী, ৩৪৭)। আরও দেখুন: ফখরুদ্দীন রাযীর ‘আন-নুবুওয়াত’ (পৃ. ১৯৪-২০৪), তাঁর ‘আল-মাতালিবুল আলিয়া’ (৮/ ১২৭) এবং শাইখুল ইসলামের কিতাবসমূহ: ‘আন-নুবুওয়াত’ (১/ ১৩৭, ১৯৬), ‘আস-সাফাদিয়্যাহ’ (১/ ৫), ‘শারহুল আসবাহানিয়্যাহ’ (পৃ. ৫৭৫) ও অন্যান্য।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৪)
رجلٍ فهَلَك لحِينِه، فرُفِع إلى الأمير، فقال: دعوة رجل صالحٍ صادفت أجلًا ــ أو كما قال ــ، وخلَّى سبيل الدَّاعي(1).

وإيضاح ذلك: أنَّ القاتل بالحال قتل بقوَّةٍ فيه، فهو كالقاتل بالسِّحر، إن لم نقل: إنَّه هو، ومثله فِعلُ مَن ضرب بسيفه أو طعن بخنجره أو رمى ببندقيَّته.

وأمَّا الدَّاعي فلا شأن له، وإنَّما مثله مثل من شكا رجلًا إلى حاكمٍ، وطلب منه أن يقتله، فقتله الحاكم؛ فإن كان في هذا ضمان فعلى الحاكم وحده، وأمَّا في الواقع فالحاكم هو الله تبارك وتعالى؛ فإذا كان قضاؤه بموت ذاك إجابة لدعاء هذا فقد بان بذلك أنَّ دعاء هذا حقٌّ. والله الموفق.

فصلٌ

هذه القوَّة لم تكن حاصلة للأنبياء عليهم الصلاة والسلام اكتسابًا قطعًا، وقد برَّأهم الله عز وجل منها؛ إذ لو حصَلَت لأحدهم قبل النُّبوَّة لكان ذلك سِحرًا وما في معناه، وإذًا لقَوِيَت شُبهة الكفَّار في قولهم: ساحر. وأمَّا بعدها فكذلك.

أمَّا اكتسابًا فواضحٌ. وأمَّا أن يعطيهم الله عز وجل قوَّةً تشبهها، فمَن تدبَّر الكتاب والسُّنَّة والسِّيرة علِمَ أنَّه لم يحصل لهم ذلك، على أن يكون ملازمًا

--------------------------------------------

(1) القِصَّة لمطرِّف بن عبد الله بن الشِّخِّير، تابعي معروف، والأمير هو زياد بن أبيه.

 

وقد أسندها عنه أبو نعيم في «حلية الأولياء» (2/ 206)، وابن أبي الدُّنيا في «مجابو الدَّعوة» (89) وغيرهما، في قصَّةٍ بنحوه، وفيه: «فقال زيادٌ: هي دعوة رجلٍ صالحٍ وافَقَتْ قدر الله».
এক ব্যক্তি, ফলে সে তৎক্ষণাৎ মারা গেল। বিষয়টি আমীরের নিকট উত্থাপন করা হলো। তিনি বললেন: "এক নেককার ব্যক্তির দুয়া তার মৃত্যুর সময়ের সাথে মিলে গেছে" —অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন— এবং তিনি দুয়াকারীকে ছেড়ে দিলেন(১)।

এর ব্যাখ্যা হলো: যিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে (আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে) হত্যা করেন, তিনি তাঁর অভ্যন্তরে বিদ্যমান এক শক্তির মাধ্যমে হত্যা করেন। সুতরাং তিনি জাদুর মাধ্যমে হত্যাকারীর ন্যায়; যদি আমরা না-ও বলি যে এটিই সেই জাদু। এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির কার্যের ন্যায় যে তার তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে বা তার খঞ্জর দিয়ে আঘাত করে অথবা তার বন্দুক দিয়ে গুলি করে।

আর দুয়াকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; তাঁর দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যে কোনো শাসকের কাছে অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং তাকে হত্যা করার আবেদন জানাল, অতঃপর শাসক তাকে হত্যা করল। যদি এতে কোনো দায়ভার বর্তায়, তবে তা কেবল শাসকের ওপরই বর্তাবে। আর প্রকৃতপক্ষে শাসক হলেন মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা। সুতরাং যখন সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ব্যাপারে তাঁর ফয়সালা এই ব্যক্তির দুয়ার কবুলিয়ত হিসেবে সম্পন্ন হয়, তখন এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই ব্যক্তির দুয়া সত্য ছিল। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

পরিচ্ছেদ

এই শক্তি (আধ্যাত্মিক প্রভাবের ক্ষমতা) নবীগণের (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জন্য উপার্জিত পন্থায় অর্জিত হওয়া সুনিশ্চিতভাবেই অসম্ভব ছিল। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁদেরকে এ থেকে পবিত্র রেখেছেন। কেননা যদি নবুওয়াতের পূর্বে তাঁদের কারও মধ্যে এটি অর্জিত হতো, তবে তা জাদু বা এর সমপর্যায়ের কিছু হতো; আর সেক্ষেত্রে কাফিরদের এই দাবিতে সন্দেহ আরও প্রবল হতো যে, তিনি একজন জাদুকর। আর নবুওয়াত পরবর্তী সময়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।

উপার্জিত হওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁদেরকে এর সদৃশ কোনো শক্তি দান করবেন কি না—সে ব্যাপারে যিনি কিতাব, সুন্নাহ এবং সীরাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি জানতে পারবেন যে, এটি তাঁদের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অর্জিত হয়নি

--------------------------------------------

(১) গল্পটি একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ী মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর-এর। আর আমীর হলেন যিয়াদ ইবনে আবিহি।

 

আবু নুয়াইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' (২/২০৬) গ্রন্থে এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া 'মুজাবুদ দাওয়াহ' (৮৯) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা সদৃশ একটি গল্পের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: 'যিয়াদ বললেন: এটি একজন নেককার ব্যক্তির দুয়া যা আল্লাহর তাকদীরের সাথে মিলে গেছে।'
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৫)
لهم، وإنَّما يمدُّهم الله بالمعجزات بقدرته عندما يشاء ذلك.

نعم، من المعجزات ما تقتضي الحكمة أن يكون للنَّبي أثر فيه، كضرب موسى عليه السلام البحر والحجر بالعصا(1)، وكَرَمْي محمد صلى الله عليه وآله وسلم الكفَّار بالحصى(2)، وغير ذلك. ولذلك حكمةٌ، قد ذكرتُ بعضها في موضع آخر، ولعلَّه يأتي في الكلام عن المعجزة إن شاء الله تعالى.

وهذا لا يخالف ما تقدَّم؛ فإنَّ الضَّرب الواقع من موسى عليه السلام هو ضربٌ عاديٌّ، بقوَّته العاديَّة، وأمَّا الأثر المعجز فهو حاصل بمَحْض قدرة الله عز وجل.

وأمَّا ما في الحديث من قوله صلى الله عليه وآله وسلم للمصلِّين: «إنِّي أراكم من خلفي»(3) فالظَّاهر أنَّ هذه قوَّةٌ كان يجعلها له البارئ سبحانه عز وجل في الصَّلاة

--------------------------------------------

(1) أمَّا ضرب موسى عليه السلام الحجر ففي قوله تعالى: {فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا} [البقرة: 60]، وأمَّا ضربه عليه السلام البحر ففي قوله تعالى: {فَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ} [الشعراء: 63].

(2) وقع ذلك منه صلى الله عليه وسلم مرَّات، منها: ما رواه مسلم (1777) من حديث سلمة بن الأكوع رضي الله عنه، وفيه: « .. ثم قبض قبضةً من تراب من الأرض، ثم استقبل به وجوههم، فقال: شاهَت الوجوه، فما خلق الله منهم إنسانًا إلَّا ملأ عينيه ترابًا بتلك القبضة، فولّوا مُدْبِرين، فهَزَمَهم الله عز وجل». وفي الباب أيضًا حديث العبَّاس عند مسلمٍ أيضًا (1775).

وتُنظَر بقية المواضع ورواياتها في: «الدُّر المنثور» للسيوطي (7/ 72 - 74).

(3) أخرجه البخاري (718)، ومسلم (426)، من حديث أنسٍ رضي الله عنه، بنحوه.
তাঁদের জন্য; বরং আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তখনই তাঁর অসীম কুদরতের মাধ্যমে তাঁদেরকে মুজেজা (অলৌকিক নিদর্শন) দিয়ে সাহায্য করেন।

হ্যাঁ, মুজেজাগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেখানে হিকমতের (প্রজ্ঞা) দাবি হলো তাতে নবীর কোনো প্রভাব বা ক্রিয়া থাকা, যেমন মুসা আলাইহিস সালামের লাঠি দিয়ে সমুদ্র ও পাথরে আঘাত করা(১), এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাফেরদের প্রতি কঙ্কর নিক্ষেপ করা(২), এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এর পেছনে এক গুঢ় হিকমত রয়েছে, যার কিয়দাংশ আমি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা মুজেজা সংক্রান্ত আলোচনায় সম্ভবত এ বিষয়টি সামনে আসবে।

আর এটি পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার পরিপন্থী নয়; কেননা মুসা আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে যে আঘাতটি হয়েছিল তা ছিল একটি সাধারণ আঘাত, যা তাঁর স্বাভাবিক শক্তিতেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এর ফলে যে অলৌকিক প্রভাব প্রকাশ পেয়েছিল, তা নিছক আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কুদরতের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল।

আর হাদিসে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মুসল্লিদের প্রতি উক্তি: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে আমার পেছন থেকেও দেখতে পাই»(৩)—এর বাহ্যিক মর্ম হলো, এটি ছিল এমন এক শক্তি যা সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা সালাতের মধ্যে তাঁর জন্য দান করতেন।

--------------------------------------------

(১) মুসা আলাইহিস সালামের পাথরে আঘাত করার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {আমি বললাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।’ ফলে তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো।} [সূরা আল-বাকারা: ৬০]। আর সমুদ্রের ওপর তাঁর আঘাত করার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {অতঃপর আমি মুসার প্রতি অহি করলাম যে, ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের ন্যায় হয়ে গেল।} [সূরা আশ-শুআরা: ৬৩]।

(২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে এটি কয়েকবার সংঘটিত হয়েছিল। তন্মধ্যে রয়েছে: যা মুসলিম (১৭৭৭) বর্ণনা করেছেন সালামা ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে, যাতে রয়েছে: «...অতঃপর তিনি ভূমি থেকে এক মুঠো মাটি গ্রহণ করলেন এবং তাদের মুখমণ্ডল অভিমুখী হলেন। এরপর বললেন: মুখমণ্ডলসমূহ বিকৃত হোক। অতঃপর আল্লাহ তাদের এমন কোনো মানুষ সৃষ্টি করেননি যার চোখ সেই এক মুঠো মাটি দ্বারা পূর্ণ হয়নি। ফলে তারা পিঠ দেখিয়ে পলায়ন করল এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদেরকে পরাজিত করলেন।» এই অধ্যায়ে মুসলিমের (১৭৭৫) নিকট বর্ণিত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসটিও রয়েছে।

অবশিষ্ট স্থান ও এর বর্ণনাগুলোর জন্য দেখুন: সুয়ুতির «আদ-দুররুল মানসুর» (৭/ ৭২ - ৭৪)।

(৩) ইমাম বুখারি (৭১৮) ও মুসলিম (৪২৬) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৬)
لمصلحة التَّعليم، وحصولها له من جُملة المعجزات.

وإنْ صحَّت دعوى المتصوِّفة أنَّه قد يحصل لهم نحو ذلك بالقوَّة المذكورة فإنَّ الذي يحصل لهم عن اكتسابٍ عاديٍّ في الجملة، والذي حَصَل له صلى الله عليه وآله وسلم بغير ذلك؛ وإنَّما هو بمَحْض قدرة الله عز وجل. وقِسْ على ذلك.

فصلٌ

وما ذكره الشيخ في الرِّياضة فيه نظر!

أمَّا قوله: «إنَّ السَّلف كانوا لصفاء نفوسهم لا يحتاجون إلى رياضةٍ» فقد تقدَّم أنَّه لم يُنقَل عن السَّلف هذه الدَّعاوى التي يدَّعيها الخلف؛ فمقصود السَّلف إذًا غير مقصود الخلف.

وأمَّا قوله: «إنَّه بعد تكدُّر القلوب احْتِيج إلى الجوع والخلوة والذِّكر» فنقول: قد كان يمكن تطبيق هذه الأمور على السُّنَّة؛ فيُكتَفى من الجوع بأن يُؤمَر المريد بالعمل بالسُّنَّة، في صوم يومٍ وإفطار يومٍ، وبتقليل الأكل في الجُملة؛ بأن يكون دون الشَّبع، كما يأتي. ويُكتفَى من الخلوة بأمره باجتناب مجالسة من لا ينفعه. ومن الذِّكر بكثرة تلاوة القرآن والأذكار الثابتة في الكتاب والسُّنَّة.

فما بالكم خالفتم هذا، وسلكتم طُرُقًا أخرى، كما يُعلَم من النَّظر إلى رياضتكم؟ وقد تبيَّن من كلام الشيخ على رياضة الغزالي أنَّها طريقٌ عاديَّة يُتوصَّل بها إلى حضور ما يسمُّونه: الفتح! إلى آخر ما تقدَّم.

والمعروف أنَّ جِنس هذه الرِّياضة معروفٌ عند اليونان والهند وغيرهم؛
শিক্ষার কল্যাণে, এবং তাঁর ক্ষেত্রে এটি অর্জিত হওয়া মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর সুফীবাদের দাবিদারদের এই দাবি যদি সঠিকও হয় যে, উল্লিখিত শক্তির মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে অনুরূপ কিছু অর্জিত হতে পারে, তবে তাদের ক্ষেত্রে যা অর্জিত হয় তা মূলত সাধারণ উপার্জনের মাধ্যমেই ঘটে থাকে; পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ষেত্রে যা অর্জিত হয়েছিল তা এর ব্যতিক্রম ছিল; বরং তা ছিল কেবল মহান আল্লাহর একক কুদরতের মাধ্যমে। অন্যান্য বিষয়কেও এর ওপর অনুমান করুন।

পরিচ্ছেদ

রিয়াযত বা আধ্যাত্মিক সাধনা সম্পর্কে শায়খ যা উল্লেখ করেছেন, তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে!

তাঁর এই উক্তি প্রসঙ্গে: «সালাফগণ তাঁদের হৃদয়ের স্বচ্ছতার কারণে রিয়াযত বা সাধনার মুখাপেক্ষী ছিলেন না»—এর উত্তরে বলা যায় যে, ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে পরবর্তীকালের লোকেরা যে সব দাবি করে থাকে, সালাফদের থেকে সে ধরনের কোনো দাবি বর্ণিত হয়নি; সুতরাং সালাফদের উদ্দেশ্য আর পরবর্তীকালের লোকদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

আর তাঁর এই উক্তি প্রসঙ্গে: «অন্তরসমূহ কলুষিত হওয়ার পর ক্ষুধা, নির্জনবাস এবং যিকিরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে»—এর উত্তরে আমরা বলি: সুন্নাহ অনুযায়ীই এই বিষয়গুলোর প্রয়োগ সম্ভব ছিল। ক্ষুধার ক্ষেত্রে মুরিদকে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিলেই যথেষ্ট হতো, যেমন—একদিন রোজা রাখা এবং একদিন রোজা না রাখা, এবং সামগ্রিকভাবে আহার কমিয়ে দেওয়া; অর্থাৎ পেট না ভরে আহার করা, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। নির্জনবাসের ক্ষেত্রে মুরিদকে এমন লোকদের সঙ্গ ত্যাগ করার নির্দেশ দিলেই যথেষ্ট হতো যারা তার কোনো উপকারে আসে না। আর যিকিরের ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত এবং কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আযকারসমূহের আধিক্যের নির্দেশ দিলেই যথেষ্ট হতো।

সুতরাং আপনাদের কী হলো যে আপনারা এর বিরোধিতা করলেন এবং অন্য সব পথ অনুসরণ করলেন, যা আপনাদের রিয়াযত পদ্ধতির দিকে তাকালেই বোঝা যায়? গাজালীর রিয়াযত সম্পর্কে শায়খের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি একটি সাধারণ পদ্ধতি যা দিয়ে তারা তাদের কথিত ‘ফাতহ’ বা আধ্যাত্মিক উন্মেষ লাভ পর্যন্ত পৌঁছাতে চায়—ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে শেষ পর্যন্ত।

আর এটি সর্বজনবিদিত যে, এই জাতীয় রিয়াযত বা কৃচ্ছ্রসাধন গ্রিক, ভারতীয় এবং অন্যদের নিকটও পরিচিত ছিল।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৭)
يتوصَّلون بها إلى قوَّة الإدراك، وقوَّة الإرادة التي ينبني عليها قوَّة التَّأثير. وأمَّا وقوع بعض المسلمين في هذه الرِّياضة فمِن طريقين:

الأولى: الغُلُو.

الثانية(1): النَّقل عن الأُمَم الأخرى.

وتفصيل ذلك: أنَّ الإسلام جاء بشرع الصِّيام والقيام، واجتناب الحرام والشُّبهات، وترك صُحبة أهل الشَّر والفساد، وحدَّد الصِّيام بعد الفَرْض بثلاثة أيَّامٍ من كُلِّ شهرٍ، إلى أن جعل منتهاه صيام يومٍ وإفطار يومٍ، ونهى عن صيام الدَّهر، وعن الوصال، وحضَّ على أكلة السَّحَر لمن يريد الصَّيام، ونهى عن قيام اللَّيل كلِّه، وعن العُزلة، وعن الترهُّب(2).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «الثاني».

(2) أمَّا شرعيَّة الصِّيام والقيام فأظهر وأكثر من أن تذكر دلائله.

وأمَّا اجتناب الحرام والشُّبهات فورد في أحاديث، منها حديث النُّعمان بن بشير رضي الله عنه مرفوعًا: «إنَّ الحلال بيِّن، وإنَّ الحرام بيِّن، وبينهما مشتبهات .. ». أخرجه البخاري (52) ومسلم (1599) وهذا لفظه.

وأمَّا النَّهي عن صحبة أهل الشَّرِّ ففي أحاديث، منها: حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه: «إنَّما مثل الجليس الصَّالح والجليس السُّوء كحامل المسك ونافخ الكير .. ». أخرجه البخاري (2101) ومسلم (2628).

وأمَّا تحديد الصِّيام بثلاثة من كلِّ شهر، وجعل منتهاه صيام يوم وإفطار يومٍ، والنَّهي عن صيام الدَّهر، والنَّهي عن قيام اللَّيل كلِّه ففي حديث عبد الله بن عمروٍ رضي الله عنهما، وسيأتي ذكره في كلام المؤلِّف (ص 289).

وأمَّا النَّهي عن الوِصال ففي أحاديث، منها: حديث ابن عمر رضي الله عنه: «أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم واصل، فواصل الناس، فشقَّ عليهم، فنهاهم .. ». أخرجه البخاري (1922) ومسلم (1102).

وأمَّا الحثُّ على التسحُّر ففي أحاديث، منها: حديث أنس رضي الله عنه مرفوعًا: «تسحَّروا فإنَّ في السَّحور بركة». أخرجه البخاري (1923)، ومسلم (1095).

وأمَّا النَّهي عن التَّرهُّب ففي أحاديث، منها: حديث عائشة رضي الله عنها: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال لعثمان بن مظعون: «إنَّ الرَّهبانية لم تكتب علينا .. » الحديث. أخرجه أحمد (6/ 226)، وابن حبان (9)، ويُنظَر: «الصَّحيحة» للألباني (1782)، و «الإرواء» (2015).

وأصله في البخاري (5073)، ومسلم (1402)، من حديث سعدٍ رضي الله عنه قال: «ردَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم على عثمان بن مظعون التَبَتُّل، ولو أذن له لاخْتَصَينا».
তারা এর মাধ্যমে অনুধাবন শক্তি এবং ইচ্ছাশক্তি অর্জন করে, যার ওপর ভিত্তি করে প্রভাব বিস্তারের শক্তি গড়ে ওঠে। আর কিছু মুসলিমের এই কৃচ্ছ্রসাধনার (রিয়াজত) মধ্যে নিপতিত হওয়ার বিষয়টি দুটি কারণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে:

প্রথমত: অতিরঞ্জন বা চরমপন্থা।

দ্বিতীয়ত(১): অন্য জাতিগোষ্ঠী থেকে কোনো কিছুর অনুকরণ বা আহরণ করা।

এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: ইসলাম রোজা পালন ও রাতে ইবাদতের (কিয়াম) বিধান প্রদান করেছে, এবং হারাম ও সন্দেহজনক বিষয়সমূহ বর্জন করা এবং মন্দ ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সঙ্গ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম ফরজ রোজার অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোজা নির্ধারণ করেছে, যার সর্বোচ্চ সীমা হলো একদিন রোজা রাখা এবং একদিন বিরতি দেওয়া। ইসলাম বিরতিহীনভাবে সারা বছর রোজা রাখতে এবং ইফতার না করে এক রোজার সাথে অন্য রোজা মেলাতে (বিসাল) নিষেধ করেছে। যারা রোজা রাখতে চায় তাদের সেহরি খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছে, এবং সারা রাত জেগে ইবাদত করা, সংসারবিরাগ ও বৈরাগ্যবাদ(২) অবলম্বন করতে নিষেধ করেছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি পুংলিঙ্গ শব্দে লিখিত।

(২) রোজা এবং রাতের ইবাদতের (কিয়াম) শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এতই সুস্পষ্ট যে এর দলিল উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

আর হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় বর্জনের ব্যাপারে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে নুমান ইবনে বশির (রা.) কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদিসটি অন্যতম: «নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে অস্পষ্ট বা সন্দেহজনক বিষয়সমূহ...»। এটি বুখারি (৫২) ও মুসলিম (১৫৯৯) বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসলিমের শব্দবিন্যাস।

অনিষ্টকারী ব্যক্তিদের সঙ্গ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও বিভিন্ন হাদিস রয়েছে, যেমন আবু মুসা আল-াশআরি (রা.) বর্ণিত হাদিস: «সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো আতর বিক্রেতা এবং কামারের হাপরের ন্যায়...»। এটি বুখারি (২১০১) ও মুসলিম (২৬২৮) বর্ণনা করেছেন।

প্রতি মাসে তিন দিন রোজা নির্ধারণ, এর সর্বোচ্চ সীমা একদিন রোজা ও একদিন বিরতি রাখা এবং সারা বছর রোজা রাখা ও সারা রাত ইবাদত করার নিষেধাজ্ঞা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে লেখকের বক্তব্যে (পৃষ্ঠা ২৮৯) বিস্তারিত আসবে।

সওমে বিসাল (একটানা রোজা রাখা) সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস রয়েছে, যেমন ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিস: «রাসূলুল্লাহ (সা.) সওমে বিসাল পালন করলেন, তখন মানুষেরাও তা পালন করতে শুরু করল, যা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল। ফলে তিনি তাদের তা করতে নিষেধ করলেন...»। এটি বুখারি (১৯২২) ও মুসলিম (১১০২) বর্ণনা করেছেন।

সেহরি খাওয়ার উৎসাহ প্রদান সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস রয়েছে, যেমন আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: «তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে»। এটি বুখারি (১৯২৩) ও মুসলিম (১০৯৫) বর্ণনা করেছেন।

বৈরাগ্যবাদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও অনেক হাদিস রয়েছে, যেমন আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস: নবী (সা.) উসমান ইবনে মাজউনকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই আমাদের ওপর বৈরাগ্যবাদ অবধারিত করা হয়নি...»। এটি আহমদ (৬/২২৬) ও ইবনে হিব্বান (৯) বর্ণনা করেছেন। দ্রষ্টব্য: আলবানীর ‘আস-সহীহাহ’ (১৭৮২) এবং ‘আল-ইরওয়া’ (২০১৫)।

এর মূল ভিত্তি বুখারি (৫০৭৩) ও মুসলিমে (১৪০২) সাদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) উসমান ইবনে মাজউনকে সংসারবিরাগী (তাবাত্তুল) হওয়ার অনুমতি না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন; যদি তিনি তাকে অনুমতি দিতেন তবে আমরা খাসি হয়ে যেতাম»।
(খণ্ড: ٦) মা ওয়াকাআ লি বাদিল মুসলিমিনা মিনার রিয়াদাতুস সুফিয়্যাহ ওয়াল গুলুউয়ি ফিহা - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৮)
وبَلَغَه [صلى الله عليه وآله وسلم] عن ثلاثة من أصحابه العزم على الزِّيادة على ذلك فخطبهم، وقال في خطبته: «لكنِّي أصوم وأفطر، وأقوم وأنام، وأتزوَّج النِّساء؛ فمَن رغِب عن سُنَّتي فليس منِّي»(1).

وكان من سُنَّته أن يأكل الطَّعام الطَّيِّب إن تيسَّر له، فإن لم يتيسَّر اجتزأ بما حصل، فإن لم يجد شيئًا صبر على الجوع. وكان من دعائه: «وأعوذ بك من الجوع؛ فإنَّه بئس الضَّجيع»(2).

وكذلك سُنَّته في اللِّباس. وعلى نحو ذلك جَرَت سُنَّة أصحابه بعده.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5063) ومسلم (1401)، من حديث أنس رضي الله عنه.

(2) أخرجه أبو داود (1547)، والنَّسائي (8/ 263) وغيرهما، من طرق عن ابن إدريس عن ابن عجلان عن المقبريِّ عن أبي هريرة رضي الله عنه به مرفوعًا.

وقد صحَّحه ابن حبَّان (1029)، والنَّووي في «الأذكار» (ص 313)، و «رياض الصالحين» (ص 269)، وحسَّنه الألباني في «صحيح أبي داود، النُّسخة الأم» (1383) بشواهده.
আর তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম] নিকট তাঁর তিনজন সাহাবীর পক্ষ থেকে সে বিষয়ে ইবাদতে আতিশয্যের সংকল্পের খবর পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং নিজ ভাষণে বললেন: «কিন্তু আমি রোজা রাখি এবং তা ভঙ্গ করি, রাতে ইবাদতে দাঁড়াই এবং নিদ্রা যাই, আর নারীদের বিবাহ করি; সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ হতে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়»(১)।

আর তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, সহজলভ্য হলে তিনি উত্তম খাবার গ্রহণ করতেন, আর তা সহজলভ্য না হলে যা জুটত তা নিয়েই তুষ্ট থাকতেন, আর যদি কিছুই না পেতেন তবে ক্ষুধার ওপর ধৈর্য ধারণ করতেন। তাঁর দুআর অন্তর্ভুক্ত ছিল: «এবং আমি আপনার নিকট ক্ষুধা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; কেননা তা অতি নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী»(২)।

পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও তাঁর সুন্নাহ এমনই ছিল। আর তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণের সুন্নাহও এই রীতিতেই পরিচালিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী (৫০৬৩) ও মুসলিম (১৪০১) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(২) এটি আবু দাউদ (১৫৪৭), নাসায়ী (৮/ ২৬৩) ও অন্যান্যেরা ইবনে ইদ্রিস থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি মাকবুরী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

একে ইবনে হিব্বান (১০২৯), ইমাম নববী ‘আল-আযকার’ (পৃ. ৩১৩) ও ‘রিয়াযুস সলেহীন’ (পৃ. ২৬৯)-এ সহীহ বলেছেন এবং আলবানী ‘সহীহ আবু দাউদ, আন-নুসখাতুল উম্ম’ (১৩৮৩) গ্রন্থে এর স্বপক্ষ দলীলসমূহের ভিত্তিতে একে হাসান বলেছেন।