(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - أسامة سليمان القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح البيقونية
المؤلف: أسامة علي محمد سليمان
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
বাইকুনিয়্যাহর ব্যাখ্যা - ওসামা সুলাইমান বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: বাইকুনিয়্যাহর ব্যাখ্যা
লেখক: ওসামা আলী মুহাম্মদ সুলাইমান
গ্রন্থের উৎস: ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত، এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৫টি পাঠ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح البيقونية [1]من أنواع الحديث الضعيف: الحديث الشاذ والحديث المقلوب، والحديث الشاذ هو: مخالفة المقبول من هو أرجح منه عدالة أو عدداً أو ضبطاً، والقلب إما أن يكون في السند أو في المتن، ولكل منهما أمثلة كثيرة في كتب الحديث.
শারহু আল-বাইকুনিয়া [১]যঈফ হাদীসের প্রকারসমূহের মধ্য হতে: শায হাদীস এবং মাকলুব হাদীস। আর শায হাদীস হলো: কোনো মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) বর্ণনাকারী কর্তৃক তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য—চাই তা ন্যায়পরায়ণতা, সংখ্যাধিক্য বা হিফযের (স্মৃতিশক্তি) দিক থেকেই হোক না কেন—এমন বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা। আর ‘কালব’ (পরিবর্তন) সনদের ক্ষেত্রেও হতে পারে অথবা মতনের ক্ষেত্রেও হতে পারে, এবং হাদীসের কিতাবসমূহে এ দুটির অনেক উদাহরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ২)
الرد على من قال: إن النقاب عادة وليس عبادةالحمد لله رب العالمين، شرع لنا ديناً قويماً، وهدانا صراطاً مستقيماً، وأسبغ علينا نعمه ظاهرة وباطنة، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وصفيه من خلقه وخليله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، بلّغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، فما ترك من خير يقربنا من الجنة إلا وأمرنا به، وما من شر يقربنا من النار إلا ونهانا عنه، فترك الأمة على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك، اللهم صل وسلم وزد وبارك عليه في الأولين والآخرين، والملأ الأعلى إلى يوم الدين.
أما بعد: أيها الإخوة الكرام الأحباب! نواصل الحديث مع المنظومة البيقونية، وسنتحدث فيها عن الحديث الشاذ والحديث المقلوب، وقبل ذلك دفع لي أحد الإخوة بمقال لعله بجريدة الأهرام، عنوان هذا المقال: النقاب عادة وليس عبادة، لأستاذ مفكر إسلامي، نسأل الله العافية! وهكذا قد وكل الأمر إلى الأصاغر، ووسّد الأمر إلى غير أهله، ونطقت الرويبضة، نسأل الله العافية! سلف الأمة كـ ابن كثير والطبري وكل علماء الأمة من المفسّرين يقولون: إن النقاب عبادة مشروعة، بل هو واجب على رأي البعض، ومكرمة وفضيلة على رأي الآخرين، وإن كان الزمن زمن فتنة يصبح ستر الوجه أمراً واجباً لا شك فيه، والنصوص متضافرة وكثيرة في هذا الأمر، يقول ربنا سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ} [الأحزاب:59]، واقرأ في التفسير معنى كلمة: الإدناء، وتفسير ابن عباس لها.
ورحم الله نساء الأنصار لما نزلت آية الحجاب عمدن إلى مروطهن فشققنه ووضعنه على رءوسهن، وكن كالغربان من السواد، ولذلك يقول صفوان بن المعطل في حادثة الإفك: رأيت زوجة النبي صلى الله عليه وسلم عائشة، وكنت أعرفها قبل نزول آية الحجاب.
ولما خرجت سودة بنت زمعة لتقضي حاجتها في المناصع بالبقيع، وكانت تلبس سواداً قال عمر: عرفناك يا سودة! لا تخفين علينا، فعرفها من طولها وعرضها.
ويقول نبينا صلى الله عليه وسلم: (لا تنتقب المرأة المحرمة ولا تلبس القفازين)، وقالت أمنا عائشة: كنا نطوف حول البيت، فإذا خالطنا الرجال أسدلنا.
وكانت النساء إلى زمن قريب قبل حركة تحطيم المرأة لا تحرير المرأة في مصر ينتقبن، وآباؤنا وأجدادنا يذكرون هذا.
والمصيبة أن بعض من ينتسبون إلى العمل الإسلامي، ويظنون أنهم الجماعة الأم، أن أتباعهم في الجامعة يقولون: إن النقاب خاص بزوجات النبي صلى الله عليه وسلم، وليس لنساء المؤمنين، فانظروا إلى التحلل والتفسخ، نسأل الله العافية! وهذا إن دل على شيء فإنما يدل على الغربة الثانية التي نحن فيها: (بدأ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بدأ، فطوبى للغرباء)، فيا أيها الغرباء! لا تعبئوا بأقوال العلمانيين، أو من ينتسبون إلينا وهم من جلدتنا ويتحدثون بألسنتنا: العلم قال الله قال رسوله وما سواه وساوس الشيطان ولعلهم لا يستطيعون أن يحكموا في بيوتهم، ولا يملكون أمراً على زوجاتهم، فيريدون أن يجدوا ترخصاً لأنفسهم، وهذا هو الشاهد في الأمر، فإنه لا أحد يكره العفاف.
নিকাব প্রথা নয় বরং ইবাদত—এ কথা অস্বীকারকারীদের উত্তরযাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য একটি সুদৃঢ় দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি আমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং অন্তরঙ্গ বন্ধু। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো কল্যাণ তিনি বাদ দেননি যার নির্দেশ তিনি আমাদের দেননি; আর জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। তিনি উম্মতকে এক শুভ্র উজ্জ্বল রাজপথে রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতো পরিষ্কার; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন, আর বিচার দিবস পর্যন্ত ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতাদের মাঝেও।
অতঃপর: হে সম্মানিত প্রিয় ভাইয়েরা! আমরা 'মানজুমা আল-বাইকুনিয়া'র ওপর আলোচনা অব্যাহত রাখছি। আজ আমরা সেখানে 'শায' (বিচ্ছিন্ন) ও 'মাকলুব' (উল্টানো) হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করব। তবে তার আগে, জনৈক ভাই আমার কাছে একটি প্রবন্ধ দিয়েছেন—সম্ভবত এটি 'আল-আহরাম' পত্রিকার। প্রবন্ধটির শিরোনাম হলো: 'নিকাব একটি প্রথা, ইবাদত নয়', এর লেখক একজন তথাকথিত 'ইসলামী চিন্তাবিদ' অধ্যাপক—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই! এভাবেই দ্বীনি বিষয়াদি অযোগ্যদের হাতে ন্যস্ত হয়েছে, দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে অদক্ষদের কাছে এবং 'রুয়াইবিদা'রা (অযোগ্য মূর্খরা) কথা বলতে শুরু করেছে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই! উম্মতের সালাফগণ—যেমন ইবনে কাসীর ও তাবারী এবং তাফসীরকারকদের মধ্যে উম্মতের সকল আলিম—বলেন যে: নিকাব একটি শরীয়তসম্মত ইবাদত। এমনকি কারো কারো মতে এটি ওয়াজিব (আবশ্যক), আবার অন্যদের মতে এটি একটি মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কাজ। আর যদি সময়টা ফিতনার হয়, তবে মুখমণ্ডল আবৃত করা যে একটি ওয়াজিব বিষয় হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে অনেক শক্তিশালী দলীল বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের সুমহান রব ইরশাদ করেন: "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।" [সূরা আল-আহযাব: ৫৯]। আপনি তাফসীরের কিতাবগুলোতে 'ইদনা' শব্দের অর্থ এবং এর ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের তাফসীর পড়ুন।
আল্লাহ আনসারী নারীদের ওপর রহম করুন, যখন হিজাবের আয়াত নাযিল হলো, তখন তারা তাদের চাদরগুলো ছিঁড়ে তা দিয়ে মাথা ঢেকে নিলেন, ফলে তাদের কালো পোশাকের কারণে কাকের মতো মনে হচ্ছিল। একারণেই সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল 'ইফক'-এর (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনায় বলেছেন: 'আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশাকে দেখলাম; আর হিজাবের আয়াত নাযিল হওয়ার আগে আমি তাঁকে চিনতাম।'
আর সওদা বিনতে জামআ যখন বাকী'র 'মানাসি' নামক স্থানে তাঁর প্রয়োজন পূরণের জন্য বের হলেন—তখন তিনি কালো পোশাক পরিহিত ছিলেন—উমর (রা.) বললেন: 'হে সওদা! আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি, তুমি আমাদের কাছে আত্মগোপন করতে পারবে না।' তিনি তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক গড়ন দেখে তাঁকে চিনেছিলেন।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইহরাম অবস্থায় নারী যেন নিকাব না পরে এবং হাতমোজা না পরে।" আমাদের মা আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আমরা যখন বাইতুল্লাহর তওয়াফ করতাম, তখন যখনই পুরুষরা আমাদের সামনে আসত, আমরা আমাদের মাথার চাদর মুখমণ্ডলের ওপর ঝুলিয়ে দিতাম।"
মিশরে 'নারী মুক্তি' নয় বরং 'নারী ধ্বংস' করার আন্দোলনের পূর্ব পর্যন্ত নিকট অতীতকালেও মহিলারা নিকাব পরতেন; আমাদের বাবা-দাদারা এর স্মৃতিচারণ করেন।
মুসিবত হলো, ইসলামী কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিচয় দেওয়া কেউ কেউ এবং যারা নিজেদের 'মূল জামাত' মনে করে, তাদের অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বলে বেড়ায়: 'নিকাব কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের জন্য বিশেষ বিধান, মুমিন নারীদের জন্য নয়।' দেখুন, দ্বীন শিথিল করা ও নৈতিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই! এ বিষয়গুলো যদি কোনো কিছুর প্রমাণ দেয়, তবে তা আমরা বর্তমানে যে দ্বিতীয় দফার 'অচেনা অবস্থায়' (গুরবাত) আছি তারই প্রমাণ দেয়: "ইসলাম অচেনা অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা শুরুর মতো আবার অচেনা হয়ে পড়বে; সুতরাং সেই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।" হে অপরিচিতরা! তোমরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী অথবা আমাদের মধ্য থেকে যারা আমাদেরই গায়ের চামড়া নিয়ে জন্মেছে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলে—তাদের কথায় কর্ণপাত করো না। জ্ঞান তো তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলেছেন, এ ছাড়া অন্য সব শয়তানের কুমন্ত্রণা। হতে পারে তারা নিজেদের ঘরে কর্তৃত্ব খাটাতে পারে না, তাদের স্ত্রীদের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই তারা নিজেদের জন্য সুযোগ খুঁজতে চায়। আর এটাই হলো মূল বিষয়, কেননা পবিত্রতাকে কেউ অপছন্দ করে না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৩)
الحديث الشاذ والحديث المقلوبيقول الناظم رحمه الله: وما يخالف ثقة فيه الملا فالشاذ والمقلوب قسمان تلا إبدال راوٍ ما براو قسم وقلب إسناد لمتن قسم يتحدث الناظم عن نوعين من الأحاديث الضعيفة: الحديث الشاذ والحديث المقلوب، فما هو الشاذ؟ وما هو المقلوب؟
শাজ হাদিস এবং মাকলুব হাদিসনাযিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: এবং যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অধিক নির্ভরযোগ্যদের বিপরীতে বর্ণনা করেন তা-ই শাজ; আর মাকলুবের পরবর্তী দুটি প্রকার রয়েছে। একজন বর্ণনাকারীকে অন্য বর্ণনাকারী দ্বারা পরিবর্তন করা একটি প্রকার এবং কোনো মতনের সনদকে উল্টে দেওয়া অন্য একটি প্রকার। নাযিম এখানে দুই প্রকারের দুর্বল হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করছেন: শাজ হাদিস এবং মাকলুব হাদিস। তবে শাজ কী? এবং মাকলুব কী?
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৪)
معنى الحديث الشاذ لغة واصطلاحاًالشذوذ لغة: المخالفة والمفارقة، يقول صلى الله عليه وسلم: (يد الله مع الجماعة، ومن شذ شذ في النار)، أي: من خالف وخرج فهو من الشاذين.
واصطلاحاً: مخالفة الراجح لمن هو أرجح منه عدداً أو عدالة أو ضبطاً.
শায হাদীসের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থআভিধানিক অর্থে ‘শুযূয’ হলো: বিরোধিতা ও বিচ্ছিন্নতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (আল্লাহর হাত জামাআতের সাথে রয়েছে, আর যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হবে সে জাহান্নামে বিচ্ছিন্ন হবে), অর্থাৎ: যে ব্যক্তি বিরোধিতা করল ও বের হয়ে গেল, সে শায বা বিচ্ছিন্নদের অন্তর্ভুক্ত।
পারিভাষিক অর্থে: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর এমন বিরোধিতা করা যা সংখ্যা, ন্যায়পরায়ণতা অথবা মুখস্থ শক্তির বিচারে তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপরীত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৫)
أمثلة على الحديث الشاذوالشذوذ إما أن يكون في حديث، وإما أن يكون في حديثين، ونضرب أمثلة على ذلك: ففي حديث أبي هريرة في الصحيح قال صلى الله عليه وسلم: (لا تقدموا رمضان بصيام يوم أو يومين إلا أن يكون عادة)، والحديث في البخاري، وهو يبين جواز الصيام بعد نصف شعبان شريطة ألا تتقدم على رمضان بصيام يوم أو يومين إلا أن يكون صيام عادة.
وهناك حديث آخر في السنن يقول: (إذا انتصف شعبان فلا تصوموا).
ففيه دلالة واضحة على عدم جواز الصيام بعد نصف شعبان.
فحديث السنن شاذ؛ لأنه خالف ما هو أرجح، وهو حديث البخاري، فتقدم حديث البخاري؛ لأن ما في البخاري أرجح، وقد خالف الثقة من هو أوثق، فتقدم الأوثق.
ولذلك قال الإمام أحمد بن حنبل: إن حديث (إذا انتصف شعبان فلا تصوموا) حديث شاذ.
يعني: ضعيف.
ومن الأمثلة أيضاً: حديث محمد بن عوف الطائي، وهو أن تقول بعد النداء: (اللهم رب هذه الدعوة التامة، والصلاة القائمة، آت محمداً الوسيلة والفضيلة، وابعثه اللهم مقاماً محموداً الذي وعدته).
فإن عشرة من الرواة رووا هذا الحديث بهذه الصيغة دون قولهم: (إنك لا تخلف الميعاد)، فجاء محمد بن عوف الطائي وزاد في روايته عند البيهقي: (إنك لا تخلف الميعاد) فيكون محمد بن عوف قد خالف عشرة من نفس الطريق -أي: من نفس السند- فنقول له: حديثك شاذ، وبالتالي فالثقة إذا خالف جماعة فإن حديثه شاذ.
يقول المصنف: الشاذ أن يخالف الواحد الجماعة، أو يخالف الواحد من هو أوثق منه أو أرجح.
كذلك من أمثلة الشذوذ: حديث الذهب المحلق، ففي السنن: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى المرأة أن تلبس الذهب المحلق.
وفي البخاري من حديث جابر: (أن النبي صلى الله عليه وسلم لما أمر النساء بالصدقة عمدن إلى ما في آذانهن من خروصهن وتصدقن به في حجر بلال).
إذاً: أثبت حديث البخاري أن النساء كن يلبسن ذهباً محلقاً، إذ أنهن عمدن إلى ما في آذانهن، وما في أيديهن، فنزعنه ووضعنه في حجر بلال، وعليه فحديث البخاري يخالف الحديث الذي في السنن، فيكون الحديث في السنن شاذاً.
শায (বিচ্ছিন্ন) হাদিসের উদাহরণসমূহশায হওয়া একক কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে হতে পারে, আবার দুটি হাদিসের মাঝেও হতে পারে; আমরা এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি: সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (তোমরা রমজানের একদিন বা দুই দিন আগে থেকে রোজা রেখো না, তবে কারো যদি সেই দিনে রোজা রাখার অভ্যাস থাকে)। হাদিসটি বুখারিতে রয়েছে। এটি শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর রোজা রাখার বৈধতা স্পষ্ট করে, তবে শর্ত হলো রমজানের একদিন বা দুই দিন আগে রোজা রাখা যাবে না, যদি না তা কারো নিয়মিত অভ্যাসের রোজা হয়।
সুনান গ্রন্থসমূহে আরেকটি হাদিস রয়েছে যাতে বলা হয়েছে: (যখন শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা আর রোজা রেখো না)।
এতে শাবানের অর্ধেকের পর রোজা রাখা জায়েয না হওয়ার একটি স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
সুতরাং সুনানের এই হাদিসটি শায; কারণ এটি অধিকতর শক্তিশালী বর্ণনার বিপরীত, আর তা হলো বুখারির হাদিস। তাই বুখারির হাদিসটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কারণ বুখারিতে যা রয়েছে তা অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য। এখানে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন, তাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এই কারণেই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: "যখন শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হয় তখন রোজা রেখো না" - এই হাদিসটি একটি শায হাদিস।
অর্থাৎ: যঈফ বা দুর্বল।
অন্য একটি উদাহরণ হলো মুহাম্মদ বিন আউফ আত-তায়ীর হাদিস, যা আজানের পর দোয়ার ক্ষেত্রে বর্ণিত: (হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মদ (সা.)-কে অসীলা ও ফযীলত দান করুন এবং তাঁকে মাকামে মাহমুদে পৌঁছান, যার ওয়াদা আপনি তাঁকে দিয়েছেন)।
দশজন বর্ণনাকারী এই হাদিসটি এই শব্দাবলিতেই বর্ণনা করেছেন যেখানে তাদের বক্তব্যে "নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না" কথাটি নেই। কিন্তু মুহাম্মদ বিন আউফ আত-তায়ী বাইহাকির বর্ণনায় অতিরিক্ত বৃদ্ধি করেছেন: (নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না)। ফলে মুহাম্মদ বিন আউফ একই পথ থেকে—অর্থাৎ একই সনদ থেকে—দশজন বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন। তাই আমরা তাকে বলি: আপনার হাদিসটি শায। অতএব, একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন একদল বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন, তখন তার হাদিসটি শায হিসেবে গণ্য হয়।
গ্রন্থকার বলেন: শায হলো কোনো একক বর্ণনাকারী কর্তৃক একদল বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা, অথবা কোনো একজনের তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য বা অগ্রগণ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা।
তেমনিভাবে শায হওয়ার আরেকটি উদাহরণ হলো: বৃত্তাকার স্বর্ণালঙ্কার সংক্রান্ত হাদিস। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) মহিলাদের বৃত্তাকার স্বর্ণ পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।
অথচ বুখারিতে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (নবী (সা.) যখন মহিলাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন, তখন তারা তাদের কানের দুল খুলে বিলালের কাপড়ে সদকা হিসেবে দিতে লাগলেন)।
সুতরাং বুখারির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলারা বৃত্তাকার স্বর্ণ পরিধান করতেন; কেননা তারা তাদের কান ও হাতের অলঙ্কার খুলে বিলালের কাপড়ে রেখেছিলেন। এমতাবস্থায় বুখারির হাদিসটি সুনানের হাদিসের পরিপন্থী হওয়ায় সুনানের হাদিসটি শায হিসেবে বিবেচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৬)
إمكانية الجمع بين حديثين يزيل الشذوذقال العلماء: إذا أمكن الجمع فلا شذوذ؛ لأننا نقول بالشذوذ في حالة استحالة الجمع بين الحديثين.
مثال ذلك: يقول عليه الصلاة والسلام: (إذا انتصف شعبان فلا تصوموا).
وهو حديث صحيح، ويقول عليه الصلاة والسلام أيضاً: (لا تقدموا رمضان بصيام يوم أو يومين).
وهو حديث صحيح أيضاً، ويمكن الجمع بينهما فنقول: حديث: (إذا انتصف شعبان فلا تصوموا) لمن لم يكن له عادة في الصيام، فلا يجوز له بعد نصف شعبان أن يصوم؛ لأنه سيدخل على رمضان وهو متعب، أما من له عادة في الصيام فلا بأس.
فأنزل هذا الحديث على صفة، وأنزل الحديث الآخر على صفة، لكن ابن حنبل يقول بالشذوذ.
كذلك: حديث الإشارة والتحريك في التشهد في الصلاة، فقد روى أكثر من عشرة من الرواة: (أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يشير بيده في التشهد من أوله إلى آخره)، لكنهم ما قالوا: إنه كان يحرك، فجاء زائدة بن قدامة وقال: (كان يشير ويحرك)، فنقول: زائدة زاد الحركة رغم أنه جاء من نفس طريق الرواة، فبعض العلماء قالوا: بالشذوذ للحركة، وبعضهم حاول الجمع، فإذا أمكن الجمع دون تعارض فلا بأس.
والشيخ أبو إسحاق حفظه الله يقول: الإشارة تستلزم الحركة، لكن من العلماء من قال: إن الإشارة ما نقلت بحركة إلا من طريق زائدة.
والشيخ ابن عثيمين يقول في حديث: (إنك لا تخلف الميعاد): إنها ليست شاذة؛ لأنها تتفق مع لغة القرآن.
দুইটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করার সম্ভাবনা 'শাজ' বা বিচ্যুতি দূর করেউলামায়ে কেরাম বলেন: যদি সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে কোনো 'শাজ' বা বিচ্যুতি থাকবে না; কারণ আমরা কেবল তখনই 'শাজ' হওয়ার কথা বলি যখন হাদিস দুটির মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এর উদাহরণ স্বরূপ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (যখন শাবান মাস অর্ধেক হয়ে যায়, তখন তোমরা রোজা রেখো না)।
এটি একটি সহীহ হাদিস। আবার তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এও বলেছেন: (তোমরা রমজানের আগে একদিন বা দুইদিন রোজা রেখো না)।
এটিও একটি সহীহ হাদিস। এই দুটির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। আমরা বলতে পারি: "যখন শাবান মাস অর্ধেক হয়ে যায়, তখন তোমরা রোজা রেখো না" এই হাদিসটি তাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের রোজা রাখার নিয়মিত অভ্যাস নেই। সুতরাং শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের জন্য রোজা রাখা বৈধ হবে না; কারণ তারা ক্লান্ত অবস্থায় রমজানে প্রবেশ করবে। তবে যাদের রোজা রাখার নিয়মিত অভ্যাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
সুতরাং এই হাদিসটিকে একটি বিশেষ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং অন্য হাদিসটিকে আরেকটি অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে ইমাম ইবনে হাম্বল একে 'শাজ' বা বিচ্যুতি বলে গণ্য করেন।
একইভাবে: নামাজের তাশাহহুদে ইশারা করা এবং নাড়ানোর হাদিস। দশ জনেরও বেশি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহহুদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করতেন)। কিন্তু তারা বলেননি যে তিনি তা নাড়াতেন। অতঃপর যায়েদা বিন কুদামা এসে বললেন: (তিনি ইশারা করতেন এবং নাড়াতেন)। আমরা বলি: যায়েদা এখানে নাড়ানোর বিষয়টি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যদিও তিনি অন্যান্য বর্ণনাকারীদের একই সূত্রে বর্ণনাটি নিয়ে এসেছেন। তাই কিছু আলিম নাড়ানোর বিষয়টিকে 'শাজ' বা বিচ্যুতি বলেছেন, আর কেউ কেউ সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন। যদি কোনো বৈপরীত্য ছাড়াই সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।
শায়খ আবু ইসহাক হাফিজাহুল্লাহ বলেন: ইশারা করার জন্য নাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে। তবে আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যায়েদার সূত্র ছাড়া নাড়ানোর সাথে ইশারা করার বিষয়টি অন্য কোথাও বর্ণিত হয়নি।
আর শায়খ ইবনে উসাইমীন এই হাদিসটির ক্ষেত্রে বলেন: (নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা খেলাফ করেন না); এটি 'শাজ' বা বিচ্যুতি নয়; কারণ এটি কুরআনের ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৭)
معنى الحديث المقلوب وأنواعه
মাখলুব হাদিসের অর্থ ও এর প্রকারভেদ
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث المقلوب وأنواعهالقلب ينقسم إلى نوعين: قلب في الإسناد، وقلب في المتن، والمصنف لم يتحدث عن قلب المتن، وإنما تحدث عن قلب الإسناد، وقلب الإسناد ينقسم إلى قسمين: فالأول مثل قولك: حدثني يوسف عن يعقوب، فقلت: حدثني يعقوب عن يوسف، فقلبت السند، حيث أنك ما سمعت من يعقوب، وإنما سمعت من يوسف، فهذا يسمى قلباً في الإسناد.
والثاني: القلب في السند لمتن آخر، وهذا وقع في بغداد مع الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري المتوفى سنة 256هـ رحمه الله طبيب، الحديث في علله وأستاذ الحديث كما قال الإمام مسلم.
فقد كانت بغداد قبلة العلماء -حدث ولا حرج واقرأ تاريخ بغداد- الجهابذة الأعلام: ابن حنبل، الطبري، الترمذي، ابن ماجة، أبو داود، ابن أبي الدنيا، الخرائطي، الحافظ البغدادي، وكانوا يعتبرون من لم ينزل بغداد أنه لم يزل بعد في مرحلة طلب العلم؛ لأن بغداد كانت قلعة العلماء في العصر العباسي الأول، والعصر العباسي الأول كان عصر ازدهار، وقد وقع في زمن المعتصم والمأمون المصيبة الكبرى، وهي أنهم استجلبوا لنا من اليونان كتب الفلسفة وترجموها، والآن يدرسون عندنا الفلسفة والمنطق أرسطو وأفلاطون، ولما علم ملك اليونان بالأمر قال: ما دخلت هذه العلوم في بلد إلا أفسدتها فأعطوها لهم، ولو قرأت في تاريخ الدولة العباسية لوجدت العجب العجاب من مظاهر الترف والإنفاق، فربما يقول شاعر بيت شعر واحد، ويعجب به ولي الأمر أو الخليفة فيأمر بإنفاق مليون ريالاً من بيت مال المسلمين للشاعر! والشاهد يا إخواني! أن البخاري نزل بغداد في رحلة لطلب العلم، ومن لم تكن له رحلة لن تكون إليه رحلة، أي: من لم يرحل لن يرحل إليه؛ ولذلك ضبط البخاري في كتاب العلم: باب الخروج إلى طلب العلم، أي: الهجرة والمهاجرة، لكن نحن من شبابنا من يذهب إلى النمسا وإلى ألمانيا ليس لطلب العلم، وإنما ليبيع الخمور وليخالط النساء ويفعل الزنا، فإن قلنا له: ارحل في طلب العلم من مدينة نصر إلى حدائق الزيتون لقال لك: يا الله! جهد علي كبير، سأركب (المترو) وأنزل محطة، أحضروا لنا الشيخ إلى هنا! وكما قال الدكتور مصطفى حلمي -حفظه الله- من أستاذة العقيدة في دار العلوم: حتى في المعاصي كسالى.
قلت: كيف؟ قال: حينما يغني فريد الأطرش يقول: هاتوا لي حبيبي، وهكذا في عالم المعاصي يريدون المعصية أن تأتي إليهم، وهذا طبعاً يدل على الخمول والكسل.
أعود فأقول: لما دخل البخاري بغداد أراد أهل بغداد أن يختبروه في حفظه في مجلس علم كهذا المجلس؛ فدفعوا إليه عشرة من الحفاظ، وأعطوهم عشرة أحاديث مقلوبة الأسانيد، فقام السائل الأول يسأل البخاري: ما تقول في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: حدثنا مكي بن إبراهيم عن الليث عن يعقوب عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمال بالنيات)؟ فالحديث صحيح لكن السند غير صحيح، فقال البخاري: لا أعرفه، فالجهلاء قالوا: سقط في الامتحان، والعلماء قالوا: أدرك اللعبة؛ لأنه قال: لا أعرفه.
ثم قام الثاني فألقى حديثه والبخاري يقول: لا أعرفه، وقال للثالث: لا أعرفه، وللرابع: لا أعرفه، حتى سمع العشرة، ولما انتهوا قال: أين السائل الأول؟ قال: أنا، قال: أنت قلت كذا، وسند الحديث كذا، ثم قال: للثاني مثل ما قال للأول وهكذا، يقول العلماء: ليس العجب أنه صحح السند، وإنما العجب أنه أعاد الأحاديث بنفس الترتيب.
وصدق الله: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ} [البقرة:282].
قول الناظم: (والمقلوب قسمان تلا)، أي: أن المقلوب نوعان.
وقوله: (إبدال راوٍ ما براو قسم)، أي: بدلاً من يوسف عن يعقوب نقول: يعقوب عن يوسف، وهذا بدل.
والناظم رحمه الله تحدث عن القلب في السند، ولم يتحدث عن القلب في المتن، والقلب في المتن مثل حديث: (سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله، ومنهم: ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه)، وفي رواية عند مسلم: (حتى لا تعلم يمينه ما تنفق شماله)، فنقول: هذا فيه قلب؛ لأن اليمين هي التي تنفق، أما الشمال فلا تنفق، وبالتالي نقول: هذه الرواية ضعيفة، والقلب من أنواع الضعف؛ لأنه يدل على عدم الضبط.
মাকলুব হাদিস এবং এর প্রকারভেদ‘কালব’ (পরিবর্তন বা ওলটপালট) দুই ভাগে বিভক্ত: সনদে পরিবর্তন এবং মতনে পরিবর্তন। গ্রন্থকার মতনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং তিনি সনদের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন। সনদের পরিবর্তন আবার দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যেমন আপনার বলা: 'ইউসুফ ইয়াকুব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন', কিন্তু আপনি বললেন: 'ইয়াকুব ইউসুফ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন'। ফলে আপনি সনদটি উল্টে দিলেন, অথচ আপনি ইয়াকুব থেকে শোনেননি, বরং ইউসুফ থেকে শুনেছেন। একে সনদের ‘কালব’ বা পরিবর্তন বলা হয়।
দ্বিতীয়টি হলো: একটি মতনের সনদকে অন্য আরেকটি মতনের সাথে জুড়ে দেওয়া। এটি বাগদাদে ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি, রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর সাথে ঘটেছিল। তিনি ছিলেন হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং হাদিসের উস্তাদ, যেমনটি ইমাম মুসলিম বলেছেন।
বাগদাদ ছিল আলেমদের মিলনস্থল—এ বিষয়ে যতই বলা হোক তা কম হবে, আপনি বাগদাদের ইতিহাস পড়ে দেখুন—সেখানে ছিলেন বড় বড় বিজ্ঞ আলেম: ইবনে হাম্বল, তাবারী, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, ইবনে আবিদ দুনিয়া, খারাতি, হাফিজ আল-বাগদাদি। তারা মনে করতেন, যে ব্যক্তি বাগদাদে আসেনি, সে এখনো ইলম অন্বেষণের প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে; কারণ আব্বাসীয় খেলাফতের প্রথম যুগে বাগদাদ ছিল আলেমদের দুর্গ। আব্বাসীয়দের প্রথম যুগ ছিল উন্নতির যুগ। মুতাসিম এবং মামুনের সময় এক মহা বিপদ ঘটেছিল, তা হলো তারা গ্রিস থেকে দর্শনের বই নিয়ে এসেছিল এবং সেগুলো অনুবাদ করেছিল। আর এখন আমাদের কাছে দর্শন ও অ্যারিস্টটল-প্লেটোর যুক্তিবিদ্যা পড়ানো হয়। গ্রিসের রাজা যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "এই জ্ঞান যে দেশে প্রবেশ করেছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে, তাই এগুলো তাদের দিয়ে দাও।" আপনি যদি আব্বাসীয় রাষ্ট্রের ইতিহাস পড়েন, তবে বিলাসিতা ও খরচের এমন সব অদ্ভুত বিষয় দেখতে পাবেন যা আপনাকে বিস্মিত করবে। সম্ভবত কোনো কবি একটি মাত্র পদ্য বললেন আর শাসক বা খলিফা তাতে মুগ্ধ হয়ে বায়তুল মাল থেকে সেই কবিকে দশ লক্ষ রিয়াল দেওয়ার নির্দেশ দিলেন! হে আমার ভাইয়েরা, মূল কথা হলো! বুখারি ইলম অন্বেষণের সফরে বাগদাদে পদার্পণ করেছিলেন। আর যার কোনো সফর নেই, তার কাছেও কেউ সফর করে আসবে না; অর্থাৎ যে ইলম অন্বেষণে ভ্রমণ করেনি, তার কাছে ইলম নিতে কেউ ভ্রমণ করবে না। এই কারণেই বুখারি ইলম অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ করেছেন: "ইলম অন্বেষণে বের হওয়ার অনুচ্ছেদ", অর্থাৎ হিজরত ও দেশান্তর হওয়া। কিন্তু আমাদের যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ অস্ট্রিয়া বা জার্মানিতে যায় ইলম অন্বেষণে নয়, বরং মদ বিক্রি করতে, নারীদের সাথে মেলামেশা করতে এবং ব্যভিচার করতে। আমরা যদি তাকে বলি: "ইলম অন্বেষণের জন্য নাসর সিটি থেকে হাদায়েক যাইতুন পর্যন্ত সফরে যাও", তবে সে বলবে: "ওহ আল্লাহ! এটা তো অনেক বড় কষ্ট, আমাকে মেট্রোতে চড়তে হবে, স্টেশনে নামতে হবে, বরং শেখকেই এখানে নিয়ে আসুন!" যেমনটি দারুল উলুমের আকিদা বিভাগের উস্তাদ ডক্টর মুস্তফা হিলমি (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন: "এমনকি পাপকাজের ক্ষেত্রেও তারা অলস।"
আমি বললাম: কীভাবে? তিনি বললেন: যখন ফারিদ আল-আতরাশ গান গায়, তখন সে বলে: "আমার প্রিয়াকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" এভাবেই পাপের জগতেও তারা চায় পাপ যেন তাদের কাছে আসুক। এটি অবশ্যই স্থবিরতা ও অলসতার প্রমাণ।
মূল কথায় ফিরে আসি: বুখারি যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন, তখন বাগদাদবাসী চাইলেন এই মজলিসের মতো একটি ইলমি মজলিসে তার হেফজ বা স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করতে। তারা দশজন হাফেজকে ঠিক করলেন এবং তাদেরকে দশটি সনদ ও মতন ওলটপালট করা হাদিস দিলেন। প্রথম প্রশ্নকারী দাঁড়িয়ে বুখারিকে জিজ্ঞাসা করলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদিসটি সম্পর্কে আপনি কী বলেন: "মাক্কি ইবনে ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি ইয়াকুব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)"? হাদিসটি সহিহ কিন্তু সনদটি সঠিক নয়। বুখারি বললেন: "আমি এটি জানি না।" তখন মূর্খরা বলল: "সে পরীক্ষায় ফেল করেছে।" আর আলেমরা বললেন: "সে বিষয়টি ধরে ফেলেছে"; কারণ সে বলেছে: "আমি এটি জানি না।"
এরপর দ্বিতীয়জন দাঁড়িয়ে তার হাদিসটি শোনালেন এবং বুখারি বললেন: "আমি এটি জানি না।" তৃতীয়জনকে বললেন: "জানি না", চতুর্থজনকে বললেন: "জানি না", এভাবে দশজনের কাছ থেকেই শুনলেন। তারা যখন শেষ করল, তখন তিনি বললেন: "প্রথম প্রশ্নকারী কোথায়?" সে বলল: "আমি।" তিনি বললেন: "তুমি এভাবে বলেছিলে, আর হাদিসের আসল সনদ হলো এমন।" এরপর দ্বিতীয়জনকে প্রথমজনের মতোই উত্তর দিলেন এবং এভাবেই চলতে থাকল। উলামায়ে কেরাম বলেন: "আশ্চর্যের বিষয় এটি নয় যে তিনি সনদটি সঠিক করে দিয়েছেন, বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি হাদিসগুলো ঠিক সেই ক্রমেই পুনরায় শুনিয়েছিলেন যেভাবে তারা ভুলভাবে বলেছিল।"
আর আল্লাহর কথা সত্য: "আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন" [আল-বাকারা: ২৮২]।
কবির উক্তি: (মাকলুব দুই প্রকারের অনুগামী), অর্থাৎ মাকলুব হাদিস দুই প্রকার।
তার উক্তি: (এক রাবির বদলে অন্য রাবিকে আনা একটি প্রকার), অর্থাৎ ইউসুফ থেকে ইয়াকুবের পরিবর্তে আমরা বললাম: ইয়াকুব থেকে ইউসুফ, এটি হলো বদল করা।
লেখক রহমতুল্লাহি আলাইহি সনদের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন, মতনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেননি। মতনের পরিবর্তনের উদাহরণ হলো সেই হাদিস: "সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে আল্লাহ সেদিন তাঁর ছায়াতলে স্থান দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না... এবং সেই ব্যক্তি যে এমনভাবে সদকা করে যে সে তা গোপন রাখে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী খরচ করেছে।" কিন্তু মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে: "এমনকি তার ডান হাত জানতে পারে না তার বাম হাত কী খরচ করেছে।" আমরা বলি: এতে 'কালব' বা ওলটপালট হয়েছে; কারণ ডান হাতই খরচ করে, আর বাম হাত তো খরচ করে না। ফলস্বরূপ আমরা বলি: এই বর্ণনাটি দুর্বল। আর ‘কালব’ হলো দুর্বলতার একটি প্রকার; কারণ এটি রাবির মুখস্থ রাখার দুর্বলতা বা ত্রুটির প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - أسامة سليمان القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح البيقونية
المؤلف: أسامة علي محمد سليمان
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
কিতাব: শারহুল বাইকুনিয়্যাহ
গ্রন্থকার: উসামা আলী মুহাম্মদ সুলাইমান
কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৫টি পাঠ]
আশ-শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح البيقونية [2]بين العلماء في علم مصطلح الحديث أن للحديث الصحيح شروطاً خمسة، وأن بينه وبين الحسن فرقاً واحداً، كما تناولوا أيضاً أنواع الحديث الضعيف، وعدوا منها: المعلق، والمعضل، والمنقطع، والمرسل وغيرها، فتناولوها بالتعريف والبيان مع الأمثلة لكل منها، وما ذاك إلا لأهمية هذا العلم في الشريعة الإسلامية.
শারহু বায়কুনিয়্যাহ [২]হাদিস পরিভাষা বিদ্যার পণ্ডিতগণ বর্ণনা করেছেন যে, সহিহ হাদিসের জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে এবং সহিহ ও হাসান হাদিসের মধ্যে কেবল একটি পার্থক্য বিদ্যমান। অনুরূপভাবে তারা জয়িফ হাদিসের প্রকারভেদসমূহও আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে মুআল্লাক, মুদাল, মুনকাতি, মুরসাল ও অন্যান্য প্রকারসমূহ গণ্য করেছেন। তারা এগুলোর প্রত্যেকটির সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; আর এটি করা হয়েছে কেবল ইসলামি শরিয়তে এই বিদ্যার গুরুত্বের কারণে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ২)
منزلة القرآن والسنة في التشريعالحمد لله رب العالمين، شرع لنا ديناً قويماً، وهدانا صراطاً مستقيماً، وأسبغ علينا نعمه ظاهرة وباطنة، يا أيها الناس! اذكروا نعمة الله عليكم هل من خالق غير الله يرزقكم من السماء والأرض لا إله إلا هو فأنى تؤفكون، خلقنا من عدم، وأطعمنا من جوع، وعلمنا من جهل، وكسانا من عري، وهدانا من ضلال، فالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وصفيه من خلقه وخليله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، بلّغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، فما ترك من خير يقربنا من الجنة إلا وأمرنا به، وما من شر يقربنا من النار إلا ونهانا عنه، فترك الأمة على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.
اللهم صل وسلم وزد وبارك عليه في الأولين والآخرين، والملأ الأعلى إلى يوم الدين.
أما بعد: أيها الإخوة الكرام الأحباب! نعود إلى ما بدأنا به قبل شهر رمضان، وأسأل الله تبارك وتعالى بأسمائه وصفاته أن يتقبل منا صيامنا وقيامنا، وأن يختم بالباقيات الصالحات أعمالنا، وأن يبلغنا رمضان أعواماً عديدة، ودهوراً مديدة، وأن يحسن خاتمتنا؛ إنه ولي ذلك والقادر عليه.
كنا قد توقفنا في أصول الفقه عند مصادر التشريع أو ما نسميه بأدلة الأحكام، وتحدثنا عن القرآن باعتباره أصل الأصول ومصدر المصادر، ثم انتقلنا بعد ذلك إلى السنة باعتبارها المصدر الثاني، أو قل: المصدر الأول في نفس الرتبة مع القرآن؛ لأن النبي عليه الصلاة والسلام قال: (أوتيت القرآن ومثله معه، ولن يفترقا حتى يردا عليَّ الحوض)، فحاجة القرآن للسنة أشد من حاجة السنة للقرآن، ولا يمكن بحال أن نستغني عن السنة، والهجوم على السنة هجوم على القرآن، لكنهم لا يستطيعون أن يهاجموا القرآن، فمن طريق غير مباشر يتعدون على السنة؛ لأن الله تبارك وتعالى يقول لسيد البشر صلى الله عليه وسلم: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل:44]، ويقول ربنا تبارك وتعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر:7]، فلا شك أن السنة لها منزلة عظيمة.
ولشيخنا العلامة الألباني رحمه الله تعالى رسالة مختصرة تحمل عنوان: منزلة السنة في التشريع، بين فيه بالأدلة التفصيلية أنه لا يمكن بحال للقرآن أن يستغني عن السنة، فكلاهما يبين الآخر.
শরিয়তে কুরআন ও সুন্নাহর মর্যাদাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য এক সুদৃঢ় দ্বীন প্রবর্তন করেছেন, আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করেছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করেছেন। হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া কি কোনো স্রষ্টা আছে যে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? তিনি আমাদের অস্তিত্বহীনতা থেকে সৃষ্টি করেছেন, ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান দিয়েছেন, বস্ত্রহীনতা থেকে পোশাক দিয়েছেন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দিয়েছেন। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত ও প্রিয়তম বন্ধু। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো কল্যাণ নেই যা তিনি আমাদের নির্দেশ দেননি, আর জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি আমাদের নিষেধ করেননি। তিনি উম্মতকে এক উজ্জ্বল সুস্পষ্ট পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাত দিনের মতোই আলোকিত, ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মাঝে এবং বিচার দিবস পর্যন্ত ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতাদের মাঝে।
অতঃপর: হে সম্মানিত প্রিয় ভাইয়েরা! আমরা রমজান মাসের আগে যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে আসছি। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কাছে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সিয়াম ও কিয়াম কবুল করেন এবং আমাদের আমলসমূহকে নেক কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত করেন। তিনি যেন আমাদের দীর্ঘ বছর ও দীর্ঘ সময় যাবত রমজান নসিব করেন এবং আমাদের শেষ পরিণাম উত্তম করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
আমরা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে শরিয়তের উৎসসমূহ বা যেটিকে আমরা আহকামের দলিল বলি সেখানে থেমেছিলাম। আমরা কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম যা হলো সকল মূলের মূল এবং সকল উৎসের উৎস। এরপর আমরা সুন্নাহর দিকে অগ্রসর হয়েছি যা হলো দ্বিতীয় উৎস, অথবা বলা যায়: কুরআনের সমপর্যায়ে থেকে প্রথম উৎস; কারণ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "আমাকে কুরআন এবং তার মতো আরও কিছু (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে, আর তারা হাউজে কাউসারে আমার কাছে না আসা পর্যন্ত একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।" সুতরাং সুন্নাহর প্রতি কুরআনের প্রয়োজনীয়তা কুরআনের প্রতি সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তার চেয়েও বেশি। কোনোভাবেই সুন্নাহকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। সুন্নাহর ওপর আক্রমণ মূলত কুরআনের ওপরই আক্রমণ, কিন্তু তারা সরাসরি কুরআনের ওপর আক্রমণ করতে পারে না বলে পরোক্ষভাবে সুন্নাহর ওপর চড়াও হয়। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন" [নাহল: ৪৪]। আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" [হাশর: ৭]। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সুন্নাহর মর্যাদা অনেক সুউচ্চ।
আমাদের শায়খ আল্লামা আলবানী রহমতুল্লাহি আলাইহির একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রয়েছে যার শিরোনাম: 'শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা', সেখানে তিনি বিস্তারিত দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে কোনোভাবেই কুরআন সুন্নাহ ছাড়া চলতে পারে না, বরং তারা একে অপরকে ব্যাখ্যা করে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৩)
عرض سريع لمنظومة البيقونيتوقفنا عند المصدر الثاني وهو السنة، وقلنا: إننا سنعيش مع علم مصطلح الحديث في عجالة؛ لنعرف بعض المصطلحات عند علماء الحديث، وقلنا: إن مرجعنا في ذلك هي المنظومة البيقونية، وهذا عرض سريع للمنظومة.
قال الناظم رحمه الله: أبدأ بالحمد مصلياً على محمد خير نبي أرسلا وذي من أقسام الحديث عدة وكل واحد أتى وحده أولها الصحيح وهو ما اتصل إسناده ولم يشذ أو يعل يرويه عدل ضابط عن مثله معتمد في ضبطه ونقله والحسن المعروف طرقاً وغدت رجاله لا كالصحيح اشتهرت وكل ما عن رتبة الحسن قصر فهو الضعيف وهو أقسام كثر وما أضيف للنبي المرفوع وما لتابع هو المقطوع والمسند المتصل الإسناد من راويه حتى المصطفى ولم يبن وما بسمع كل راوٍ يتصل إسناده للمصطفى فالمتصل مسلسل قل ما على وصف أتى مثل أما والله أنبأني الفتى كذاك قد حدثنيه قائماً أو بعد أن حدثني تبسما عزيز مروي اثنين أو ثلاثة مشهور مروي فوق ما ثلاثة معنعن كعن سعيد عن كرم ومبهم ما فيه راو لم يسم وكل ما قلت رجاله علا وضده ذاك الذي قد نزلا وما أضفته إلى الأصحاب من قول وفعل فهو موقوف زكن ومرسل منه الصحابي سقط وقل: غريب ما روى راوٍ فقط وكل ما لم يتصل بحال إسناده منقطع الأوصال والمعضل الساقط منه اثنان وما أتى مدلساً نوعان الأول الإسقاط للشيخ وأن ينقل عمن فوقه بعن وأن والثان: لا يسقطه لكن يصف أوصافه بما به لا ينعرف وما يخالف ثقة فيه الملا فالشاذ والمقلوب قسمان تلا
মানজুমা আল-বাইকুনিয়্যাহর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনাআমরা দ্বিতীয় উৎসে থেমেছিলাম, যা হলো সুন্নাহ। আমরা বলেছিলাম যে, হাদীস বিশারদদের কিছু পরিভাষা জানার জন্য আমরা সংক্ষিপ্তভাবে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা (ইলম মুসতালাহ আল-হাদীস)-এর সাথে সময় অতিবাহিত করব। আমরা বলেছিলাম যে, এক্ষেত্রে আমাদের রেফারেন্স হলো ‘মানজুমা আল-বাইকুনিয়্যাহ’। এটি উক্ত মানজুমার একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।
নাজিম (কবিতা রচয়িতা) -রহিমাহুল্লাহ- বলেন: আমি আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠ করছি। এখানে হাদীসের বেশ কিছু প্রকারভেদ রয়েছে এবং এর প্রত্যেকটি পৃথক সংজ্ঞা নিয়ে এসেছে। তার প্রথমটি হলো ‘সহীহ’, যার সনদ বা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন এবং যা ‘শায’ (বিচ্ছিন্ন) কিংবা ‘মুআল্লাল’ (ত্রুটিযুক্ত) নয়। তা বর্ণনা করেছেন এমন একজন ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ণ) ও ‘দাবিত’ (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) বর্ণনাকারী, যিনি তার অনুরূপ গুণসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। আর ‘হাসান’ হলো যার সূত্রগুলো পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীবৃন্দ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মতো সুপরিচিত নন। হাসান-এর স্তর থেকে যা-ই নিচে নামবে, তা-ই ‘যয়ীফ’ (দুর্বল) এবং এর বহু প্রকার রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে যা সম্বন্ধ করা হয় তা হলো ‘মারফু’, আর যা তাবিঈর দিকে সম্বন্ধ করা হয় তা হলো ‘মাকতু’। ‘মুসনাদ’ হলো বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদ বা সূত্র, যা কোথাও বিচ্ছিন্ন হয়নি। প্রত্যেক বর্ণনাকারীর সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে, তাকে ‘মুত্তাসিল’ বলা হয়। ‘মুসালসাল’ হলো সেটি যা বিশেষ কোনো বর্ণনার বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এসেছে, যেমন: আল্লাহর শপথ, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। অনুরূপভাবে তিনি দাঁড়িয়ে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন অথবা আমার কাছে বর্ণনা করার পর মুচকি হেসেছেন। ‘আযীয’ হলো যা দুইজন বা তিনজন বর্ণনা করেছেন। ‘মাশহুর’ হলো যা তিনজনের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। ‘মুআনআন’ হলো যেমন সাঈদ থেকে, কারাম থেকে বলা। আর ‘মুবহাম’ হলো যাতে কোনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। যে হাদীসের বর্ণনাকারী সংখ্যা কম, তা হলো ‘আলূ’ (উচ্চ সনদ); আর এর বিপরীত হলো ‘নাযিল’ (নিম্ন সনদ)। সাহাবীদের কথা বা কাজ হিসেবে তুমি যা কিছু সম্বন্ধ করবে, তা ‘মাওকুফ’ হিসেবে পরিচিত। ‘মুরসাল’ হলো সেটি যেখান থেকে সাহাবী বাদ পড়েছেন। আর বলো যে: ‘গারীব’ হলো যা মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন। যে হাদীসের সনদ কোনো অবস্থাতেই নিরবচ্ছিন্ন নয় এবং এর সংযোগসমূহ বিচ্ছিন্ন, তা হলো ‘মুনকাতি’। ‘মুদাল’ হলো সেটি যেখান থেকে (সনদের মধ্যবর্তী স্থান থেকে) দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। আর ‘মুদাল্লাস’ হিসেবে যা এসেছে তা দুই প্রকার। প্রথমটি হলো শায়খকে বাদ দেওয়া এবং তার উপরের ব্যক্তি থেকে ‘থেকে’ ও ‘নিশ্চয়ই’ শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করা। দ্বিতীয়টি হলো: তাকে বাদ দেবে না, কিন্তু তার গুণাবলী এমনভাবে বর্ণনা করবে যার মাধ্যমে তাকে চেনা যাবে না। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী যখন একদল বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন, তখন সেটি ‘শায’। আর এরপর ‘মাকলুব’ হাদীস দুই প্রকার।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৪)
شروط الحديث الصحيحوضع العلماء للحديث الصحيح شروطاً أربعة وهي: الأول: اتصال السند، أي: أن يكون السند متصلاً ليس فيه انقطاع في أوله أو في وسطه أو في آخره؛ لأن السند هو الطريق المؤدي إلى المتن، فبدون اتصال السند يكون الحديث ضعيفاً.
الثاني: عدالة الرواة، ومن شروط العدالة: الصدق وعدم الكذب، وضبط الدين، والمروءة.
الثالث: عدم الشذوذ.
الرابع: عدم العلة.
قال الناظم: أولها الصحيح وهو ما اتصل إسناده ولم يشذ أو يعل يرويه عدل ضابط عن مثله معتمد في ضبطه ونقله إذاً: فهذه شروط الحديث الصحيح، والإسناد من فخر هذا الدين، ومن محاسن هذه الشريعة الغراء.
সহীহ হাদীসের শর্তাবলিউলামায়ে কেরাম সহীহ হাদীসের জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো: প্রথম: সনদের অবিচ্ছিন্নতা, অর্থাৎ সনদটি এমনভাবে সংযুক্ত হওয়া যাতে এর শুরুতে, মাঝে বা শেষে কোনো বিচ্ছিন্নতা না থাকে; কারণ সনদ হলো মূল পাঠে পৌঁছানোর পথ, আর সনদের অবিচ্ছিন্নতা ব্যতীত হাদীস দুর্বল হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়: বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা; আর ন্যায়পরায়ণতার শর্তসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: সত্যবাদিতা ও মিথ্যা বর্জন করা, দ্বীনদারী এবং ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা।
তৃতীয়: বৈসাদৃশ্যহীনতা।
চতুর্থ: ত্রুটিহীনতা।
কাব্যকার বলেছেন: প্রথম প্রকারটি হলো সহীহ, যার সনদ অবিচ্ছিন্ন এবং যা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বা ত্রুটিযুক্ত নয়; এটি বর্ণনা করবেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তি তাঁরই মতো একজনের নিকট থেকে, যার স্মৃতিশক্তি ও বর্ণনার ওপর নির্ভর করা যায়। সুতরাং, এগুলোই হলো সহীহ হাদীসের শর্তাবলি। আর বর্ণনাপরম্পরা বা ইসনাদ এই দ্বীনের অন্যতম গৌরবের বিষয় এবং এই উজ্জ্বল শরীয়তের অন্যতম সৌন্দর্য।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفرق بين الصحيح والحسنهناك فرق واحد وهو: أن الحديث الحسن يكون فيه الراوي خفيف الضبط، مع توفر شروط الحديث الصحيح من اتصال السند، وعدالة الرواة، وعدم الشذوذ، وعدم العلة، إلا أن الرواة في الحسن خفيفي الضبط، وفي الصحيح تامي الضبط، ولذا فالحسن في مرتبة أدنى من مرتبة الصحيح.
সহিহ এবং হাসান হাদিসের মধ্যে পার্থক্যসেখানে একটি মাত্র পার্থক্য রয়েছে, আর তা হলো: হাসান হাদিসের বর্ণনাকারী দবত (স্মৃতিশক্তি) এর ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল হয়ে থাকেন, যদিও সহিহ হাদিসের অন্যান্য শর্তাবলী—যেমন সনদের ধারাবাহিকতা, বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা, শায (বিচ্যুতি) না থাকা এবং কোনো ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) না থাকা—তাতে বিদ্যমান থাকে। তবে পার্থক্য কেবল এটাই যে, হাসান হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্মৃতিশক্তি কিছুটা শিথিল, আর সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্মৃতিশক্তি পূর্ণাঙ্গ ও সুদৃঢ়। এই কারণেই হাসান হাদিসের মর্যাদা সহিহ হাদিসের স্তরের নিচে।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحديث المعلق والمعضل والمنقطع والمرسلإذا سقط من أول السند راوٍ فأكثر على التوالي يسمى معلّقاً، وللبخاري في الصحيح معلقات غلقها العلامة ابن حجر في كتاب يسمى: تغليق التعليق.
فإن سقط من وسط السند راويان على التوالي يسمى معضلاً.
قال الناظم: والمعضل الساقط منه اثنان وما أتى مدلساً نوعان وإن سقط من وسط السند راويان لا على التوالي نسميه منقطعاً، وإن سقط راوٍ من آخر السند فوق التابعي نسميه مرسلاً.
قال الناظم: ومرسل منه الصحابي سقط.
وهذا التعريف غير صحيح، والأولى أن يقول: ومرسل فوق التابعي سقط، أي: ما بعد التابعي؛ لأننا لا ندري من الساقط فيسمى مرسلاً.
والمعضل والمنقطع والمرسل والمعلق كلها من أنواع الضعيف.
মুয়াল্লাক, মু'দাল, মুনকাতি' এবং মুরসাল হাদিসযদি সনদের শুরু থেকে একজন বা তার বেশি বর্ণনাকারী ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়ে, তবে তাকে মুয়াল্লাক বলা হয়। ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থে কিছু মুয়াল্লাক হাদিস রয়েছে যা আল্লামা ইবনে হাজার 'তাগলীকুত তালীক' নামক গ্রন্থে সনদ যুক্ত করার মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেছেন।
আর যদি সনদের মাঝখান থেকে ধারাবাহিকভাবে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তবে তাকে মু'দাল বলা হয়।
নাযেম বলেছেন: মু'দাল হলো তা যেখান থেকে দুইজন বাদ পড়েছে, আর মুদাল্লাস হাদিস দুই প্রকার। আর যদি সনদের মাঝখান থেকে দুইজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে কিন্তু তা ধারাবাহিকভাবে নয়, তবে আমরা তাকে মুনকাতি' বলি। আর যদি সনদের শেষ প্রান্ত থেকে অর্থাৎ তাবেয়ীর পরবর্তী স্তর থেকে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তাকে আমরা মুরসাল বলি।
নাযেম বলেছেন: মুরসাল হলো তা যেখান থেকে সাহাবী বাদ পড়েছেন।
এই সংজ্ঞাটি সঠিক নয়; বরং বলা উত্তম: মুরসাল হলো যা তাবেয়ীর ওপরের স্তর থেকে বাদ পড়েছে। অর্থাৎ তাবেয়ীর পরবর্তী অংশ; কারণ আমরা জানি না কে বাদ পড়েছেন, তাই একে মুরসাল বলা হয়।
মু'দাল, মুনকাতি', মুরসাল এবং মুয়াল্লাক—সবগুলোই যয়ীফ বা দুর্বল হাদিসের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث المسلسلإذا نقل الراوي حديثاً بصفة لاصقة بالحديث، كأن يقول: عن أبي هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم ابتسم حتى بدت نواجذه، فيبتسم أبو هريرة، فنسمي هذا الحديث مسلسلاً.
قال الناظم: مسلسل قل: ما على وصف أتى مثل أما والله أنبأني الفتى كما قال النبي صلى الله عليه وسلم لـ معاذ: (إني أحبك! فلا تدعن في دبر كل صلاة أن تقول: اللهم أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك)، فـ معاذ رضي الله لما أراد أن يحدث بهذا الحديث قال لمن حدثه: إني أحبك، ومن حدثه قال لمن حدثه: إني أحبك، فأصبحت كلمة: (إني أحبك) صفة لاصقة بالحديث، وعندئذ نسمي الحديث مسلسلاً.
ثم بعد ذلك تحدث الناظم عن المدلس وعن أنواع التدليس وعن الشذوذ.
মুসালসাল হাদীসযদি কোনো বর্ণনাকারী হাদীসের সাথে অবিচ্ছেদ্য কোনো বৈশিষ্ট্যের সাথে হাদীসটি বর্ণনা করেন—যেমন তিনি বললেন: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হলো; অতঃপর আবু হুরায়রাও (বর্ণনার সময়) হাসলেন—তবে আমরা এই হাদীসটিকে 'মুসালসাল' বলি।
কাব্যকার বলেছেন: মুসালসাল হলো যা এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে আসে যেমন: 'আল্লাহর শপথ, যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।' যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআযকে বলেছিলেন: "আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি! সুতরাং প্রত্যেক সালাতের শেষে এ কথাটি বলতে ভুলো না: হে আল্লাহ, আমাকে আপনার যিকর করতে, আপনার শুকরিয়া আদায় করতে এবং আপনার সর্বোত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করুন।" অতঃপর মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন এই হাদীসটি বর্ণনা করতে চাইলেন, তখন তিনি যাকে বর্ণনা করেছিলেন তাকে বললেন: "আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি।" আবার যিনি তাঁর থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন, তিনি যাকে শুনিয়েছেন তাকে বলেছেন: "আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি।" ফলে "আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি" বাক্যটি হাদীসের সাথে যুক্ত একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর তখনই আমরা হাদীসটিকে 'মুসালসাল' বলি।
এরপর কাব্যকার 'মুদাল্লাস' হাদীস, 'তাদলিস'-এর প্রকারভেদ এবং 'শুযূয' (বিচ্যুতি) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ২)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث المقلوب وأنواعهقال الناظم: وما يخالف ثقة فيه الملا فالشاذ والمقلوب قسمان تلا إبدال راو ما براوٍ قسم وقلب إسناد لمتن قسم شرع الناظم في بيان الحديث المقلوب، وهو ينقسم إلى قسمين: الأول: أن يكون القلب في السند.
الثاني: أن يكون القلب في المتن.
ومن أمثلة ذلك: قوله صلى الله عليه وسلم في السبعة الذين يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله: (ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه)، قال الراوي: (حتى لا تعلم يمينه ما تنفق شماله)، فهذا نسميه قلب المتن؛ لأن الإنفاق يكون باليمين لا بالشمال، فقلب الراوي اليمين بدلاً من الشمال.
وقد يكون القلب في السند، بمعنى: أنه يقدم ويؤخر في السند، وقد حدث هذا مع شيخ المحدثين أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، فقد كان طبيب الحديث في علله رحمه الله تعالى، لما نزل بغداد أراد جمع من العلماء أن يختبر ذكاءه وحفظه -كلما زادت حاسة الحفظ عند العبد فهذا معناه رضا من الله عز وجل عليه- فجلس البخاري بينهم فأرادوا أن يختبروه، فأتوا بمائة حديث وقلبوا أسانيدها، كحديث: (إنما الأعمال بالنيات) رواه عمر بن الخطاب، فجعلوا الراوي هو أبو هريرة بسند مختلف، وهكذا في كل الأحاديث.
فقام السائل الأول يقول له: حدثنا فلان عن فلان عن أبي هريرة قال: (إنما الأعمال بالنيات)، فقال البخاري: لا أعرفه، فقال الجهلاء: سقط في الاختبار، وقال العلماء: أدرك اللعبة، وقام الثاني والثالث والبخاري لا يزيد على أن يقول: لا أعرفه، حتى أتموا المائة، ولما انتهوا قال: أين السائل الأول؟ قال: أنا.
قال: حديثك الذي ذكرت كذا، وصحة السند كذا، حتى أتى على المائة تماماً بترتيبها.
يقول الحضور: ما عجبنا من تصحيحه بقدر ما عجبنا من إعادته للأحاديث المائة مرتبة كما ذكروها.
قوله الناظم: (والمقلوب قسمان تلا)، أي: أن المقلوب قسمان.
الأول: إبدال راوٍ ما براوٍ، مثل أن يقول: حدثنا مكي بن إبراهيم، فيضع مكانه أبا اليمان.
الثاني: قلب إسناد لمتن قسم وقد بين الناظم أنواع القلب في هذا البيت، وإن شاء الله تعالى سنواصل الحديث بعد ذلك.
মাকলুব হাদীস এবং এর প্রকারভেদনাজিম (কবিতা রচয়িতা) বলেন: আর যাতে কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী নির্ভরযোগ্য রাবীদের জামাতের বিরোধিতা করেন তা ‘শাজ’; আর মাকলুব দুই প্রকারের যা এর অনুগামী। এক রাবীর স্থলে অন্য রাবীকে পরিবর্তন করা একটি প্রকার, আর মতনের সনদ উল্টে দেওয়া অন্য একটি প্রকার। নাজিম মাকলুব হাদীসের বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, আর এটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথম: সনদের মধ্যে ‘কলব’ বা উলটপালট হওয়া।
দ্বিতীয়: মতনের মধ্যে ‘কলব’ বা উলটপালট হওয়া।
এর উদাহরণ হলো: সেই সাত ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী যাদেরকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে স্থান দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না: (এবং সেই ব্যক্তি যে দান করল এবং তা এত গোপনে করল যে, তার বাম হাত জানতে পারল না তার ডান হাত কী খরচ করছে), বর্ণনাকারী এখানে বলেছেন: (এমনকি তার ডান হাত জানতে পারল না তার বাম হাত কী খরচ করছে), একে আমরা মতনের ‘কলব’ বলি; কারণ দান সাধারণত ডান হাত দিয়ে হয়, বাম হাত দিয়ে নয়, তাই বর্ণনাকারী বাম হাতের স্থলে ডান হাতকে উল্টে দিয়েছেন।
আবার সনদেও মাকলুব হতে পারে, যার অর্থ হলো: সনদে রাবীদের আগে-পিছে করে দেওয়া। এটি মুহাদ্দিসগণের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর সাথে ঘটেছিল, যিনি হাদীসের দোষত্রুটি (ইলল) নির্ণয়ে পারদর্শী চিকিৎসক ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি যখন বাগদাদে আসলেন, একদল আলিম তাঁর মেধা ও স্মরণশক্তি পরীক্ষা করতে চাইলেন—বান্দার স্মরণশক্তি যত বৃদ্ধি পায় তা তার ওপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সন্তুষ্টিরই বহিঃপ্রকাশ—অতঃপর বুখারী তাদের মাঝে বসলেন এবং তারা তাঁর পরীক্ষা নিতে চাইলেন। তারা একশত হাদীস নিয়ে আসলেন এবং সেগুলোর সনদগুলো উল্টে দিলেন, যেমন একটি হাদীস: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) যা উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেছেন, তারা সেটির সনদে রাবী হিসেবে আবু হুরায়রাকে বসিয়ে দিলেন ভিন্ন এক সনদে। এভাবে তারা প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রেই করলেন।
অতঃপর প্রথম প্রশ্নকারী দাঁড়িয়ে তাঁকে বললেন: আমাদের নিকট অমুক অমুক থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল), তখন বুখারী বললেন: আমি এটি জানি না। মূর্খরা বলল: তিনি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছেন, আর আলিমরা বললেন: তিনি বিষয়টি ধরে ফেলেছেন। এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ব্যক্তি দাঁড়ালেন এবং বুখারী কেবল ‘আমি এটি জানি না’ বলা ছাড়া আর কিছুই বাড়ালেন না, এভাবে তারা একশত হাদীস পূর্ণ করলেন। তারা শেষ করলে তিনি বললেন: প্রথম প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল: আমি।
তিনি বললেন: তোমার উল্লেখ করা হাদীসটি ছিল এমন, আর তার সঠিক সনদ হলো এমন—এভাবে তিনি একশত হাদীসকেই তাদের ক্রমানুসারে হুবহু বর্ণনা করে দিলেন।
উপস্থিতরা বলতেন: আমরা তাঁর সংশোধনে ততটা বিস্মিত হইনি যতটা বিস্মিত হয়েছি সেই একশত হাদীসকে তারা যেভাবে ভুলভাবে পড়েছিল ঠিক সেই ক্রমেই তাঁর পুনরায় হুবহু শুনিয়ে দেওয়া দেখে।
নাজিমের কথা: (আর মাকলুব দুই প্রকার), অর্থাৎ: মাকলুব দুই প্রকারের।
প্রথম: এক রাবীর স্থলে অন্য রাবীকে বসানো, যেমন বলা: মাক্কী বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, অথচ তার স্থলে আবুল ইয়ামানকে বসিয়ে দেওয়া।
দ্বিতীয়: মতনের সনদ উল্টে দেওয়া একটি প্রকার; নাজিম এই পঙ্ক্তিতে মাকলুবের প্রকারগুলো বর্ণনা করেছেন, আর ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা পরবর্তীতে এই আলোচনা অব্যাহত রাখব।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - أسامة سليمان القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح البيقونية
المؤلف: أسامة علي محمد سليمان
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
আল-বাইকুনিয়াহ-এর ব্যাখ্যা - উসামা সুলাইমান বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-বাইকুনিয়াহ-এর ব্যাখ্যা
লেখক: উসামা আলি মুহাম্মদ সুলাইমান
গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক শ্রুতিলিপি সম্পন্ন অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৫টি পাঠ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح البيقونية [3]تناول الناظم رحمه الله تعالى في بيقونيته أنواع الحديث الضعيف، فذكر نحواً من ثلاثة وعشرين نوعاً، وذكر منها: الغريب والمعلل والمضطرب، وقد تناولها العلماء بالتعريف والبيان والأمثلة؛ لما للسنة من مكانة عظيمة في الشريعة المحمدية.
বাইকুনিয়্যাহর ব্যাখ্যা [৩]নাজিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বাইকুনিয়্যাহ কবিতায় দুর্বল হাদীসের প্রকারভেদসমূহ আলোচনা করেছেন। তিনি সেখানে প্রায় তেইশটি প্রকার উল্লেখ করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে: গরীব, মু’আল্লাল এবং মুদতারিব। আলেমগণ এগুলোর সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ তুলে ধরেছেন; যেহেতু মুহাম্মাদী শরীয়তে সুন্নাহর এক সুমহান মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ২)
النهي عن القول على الله بغير علمالحمد لله الذي شرع لنا ديناً قويماً، وهدانا صراطاً مستقيماً، وأسبغ علينا نعمه ظاهرة وباطنة.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وصفيّه من خلقه وخليله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، بلّغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، فما ترك من خير يقربنا من الجنة إلا وأمرنا به، وما من شر يقربنا من النار إلا ونهانا عنه، فترك الأمة على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.
اللهم صل وسلم وزد وبارك عليه في الأولين والآخرين، والملأ الأعلى إلى يوم الدين.
أما بعد: أيها الإخوة الكرام الأحباب! نواصل الحديث مع المنظومة البيقونية باعتبارها المتمم للمصدر الثاني من مصادر التشريع: السنة، وقبل ذلك نورد أموراً عجيبة في هذا الزمن! أخ كريم فضلاً عما سمعت يخبرني: أنه اليوم يسمع في إذاعة القرآن صباحاً أن أحد من يتحدث فيها يقول: إن الملائكة ليس لهم أجنحة، وإنما الجناح أطلق على سبيل المجاز كقول الله تعالى: {وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ} [الإسراء:24]، فليس للإنسان جناح، وإنما هي إشارة إلى التواضع، وعلى هذا فليس للملائكة أجنحة! فقلت: إنا لله وإنا إليه راجعون! يا عبد الله! أما قرأت أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى جبريل وله ستمائة جناح؟! أما علمت أن جبريل حمل قرى لوط على جزء من جناحه؟! أما سمعت قول الله: {جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ} [فاطر:1]؟! لكن الرويبضة نطق! وبالأمس أيضاً وأنا أستمع قدراً إذا بأحدهم يقول: ومن أسمائه صلى الله عليه وسلم طه ويس لما روى علي بن أبي طالب، ولا ندري من أين جاء بهذا الأثر وما صحته؟! واليوم في جريدة الجمهورية -مسألة خلافية نعم- استند كاتب دكتور إلى حديث استناداً غير صحيح: (من مر على قبور وقرأ: قل هو الله أحد كتب له بعدد المقابر حسنات)، فهذا الحديث رواه الدارقطني وضعفه كل علماء الحديث، فانظروا إلى هذه الفوضى التي نحن فيها، لذا ينبغي أن يتقوا الله عز وجل في دين الله، وأن يعلموا أن الناس منهم المقلّدة العوام، فقد يقول واحد منهم: هل أتبع كلام شيخي العزيز أم الدكتور؟! وانتبه إلى كلمة الدكتور فهي كبيرة قليلاً! وأقول: إن المسألة الآن تحتاج منا إلى جهد لنعلم الناس العلم الصحيح؛ لأنه قد أصبح كل واحد يقول ما يشاء، وإن قلت لأحدهم: فوائد البنوك حرام قال لك: أقدم فتواك أم فتوى مجمع البحوث؟! فمجمع البحوث أصدر فتوى بحلها وانتهى الأمر، وكما يقول المثل: (حطها في رقبة عالم واطلع سالم)، لن تخرج منها سالماً يا عبد الله! نحن الآن في الزمن الذي صوّره لنا النبي صلى الله عليه وسلم: (وسّد الأمر إلى غير أهله)، من المتحدث؟ لا أدري! نسأل الله العافية.
জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য একটি সুদৃঢ় দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন, আমাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত ও প্রিয়তম বন্ধু। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। তিনি এমন কোনো কল্যাণ বাকি রাখেননি যা আমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করে কিন্তু তিনি আমাদের তা করার আদেশ দিয়েছেন; আর এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা আমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করে কিন্তু তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি উম্মতকে এক উজ্জ্বল শুভ্র রাজপথের ওপর রেখে গেছেন যার রাত দিনের মতোই স্পষ্ট; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত উর্ধ্বজগতের ফেরেশতাদের ওপর সালাত, সালাম, বরকত ও কল্যাণ বৃদ্ধি করে দিন।
এরপরে: হে সম্মানিত প্রিয় ভাইগণ! আমরা মানযুমাতুল বাইকুনিয়্যার আলোচনা অব্যাহত রাখছি, যা শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস সুন্নাহর পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত। এর আগে আমরা বর্তমান সময়ের কিছু বিস্ময়কর বিষয় উল্লেখ করি! একজন সম্মানিত ভাই আমাকে একটি সংবাদ দিলেন যে, তিনি আজ সকালে কুরআন রেডিওতে শুনতে পেলেন যে, জনৈক বক্তা সেখানে বলছেন: ফেরেশতাদের কোনো ডানা নেই, বরং ডানা শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী: {আর দয়াপরবশ হয়ে তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করো} [সূরা বনী ইসরাঈল: ২৪]। এখানে মানুষের যেমন কোনো ডানা নেই বরং এটি বিনয়ের একটি ইঙ্গিতমাত্র, তেমনি ফেরেশতাদেরও কোনো ডানা নেই! আমি বললাম: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন! হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি পড়নি যে নবী সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাঈলকে দেখেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ছয়শত ডানা ছিল?! তুমি কি জানো না যে জিবরাঈল লুত আলাইহিস সালামের জনপদসমূহকে তাঁর ডানার একটি অংশ দিয়ে বহন করেছিলেন?! তুমি কি আল্লাহর বাণী শোননি: {যিনি ফেরেশতাদের রাসূল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, যারা দুই দুই, তিন তিন এবং চার চার ডানা বিশিষ্ট; তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন} [সূরা ফাতির: ১]?! আসলে রুয়াইবিযাহ বা অযোগ্যরা কথা বলতে শুরু করেছে! গতকালও আমি শোনার সময় একজনকে বলতে শুনলাম: আলী ইবনে আবি তালিব বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী নবী সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহের মধ্যে ত্বহা ও ইয়াসীন অন্তর্ভুক্ত। আমরা জানি না তিনি এই বর্ণনা কোথায় পেলেন এবং এর বিশুদ্ধতা কতটুকু?! আজ আল-জুমহুরিয়া পত্রিকায়—এটি একটি ইজতিহাদী মতভেদপূর্ণ বিষয় ঠিক আছে—একজন ডাক্তার লেখক একটি হাদিসের ওপর ভুলভাবে নির্ভর করেছেন: (যে ব্যক্তি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করবে, কবরের সংখ্যা অনুযায়ী তাকে নেকি প্রদান করা হবে)। এই হাদিসটি ইমাম দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং সকল হাদিস বিশারদ একে দুর্বল বলেছেন। সুতরাং আমাদের চারপাশের এই বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করুন। তাই দ্বীনের ব্যাপারে তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং এটা জানা উচিত যে মানুষের মধ্যে একদল আছে যারা সাধারণ অনুসারী। তাদের কেউ প্রশ্ন করতে পারে: আমি কি আমার প্রিয় শাইখের কথা মানব নাকি এই ডাক্তারের?! আর 'ডাক্তার' শব্দটির ভার তো অনেক বেশি! আমি বলব: বিষয়টি এখন আমাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টার দাবি রাখে যাতে আমরা মানুষকে সঠিক ইলম শেখাতে পারি; কারণ এখন প্রত্যেকে যা ইচ্ছা তা বলছে। আপনি যদি কাউকে বলেন: ব্যাংকের সুদ হারাম, সে আপনাকে বলবে: আমি কি আপনার ফতোয়া মানব নাকি গবেষণা পরিষদের?! কারণ গবেষণা পরিষদ তো এটি বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়ে বিষয়টি শেষ করে দিয়েছে। যেমন প্রবাদ আছে: 'কোনো আলেমের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নিজে নিরাপদ হয়ে যাও'। হে আল্লাহর বান্দা! তুমি এভাবে নিরাপদ হতে পারবে না! আমরা এখন সেই সময়ে বাস করছি যা নবী সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে চিত্রিত করেছেন: (যখন অযোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব সোপর্দ করা হবে)। বক্তা কে? আমি জানি না! আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৩)
الحديث الفرديقول الناظم رحمه الله: والفرد ما قيّدته بثقة أو جمع أو قصر على رواية والحديث الفرد بصفة عامة: ما انفرد به راوٍ واحد في أي طبقة من الطبقات، كأن يكون في طبقة الصحابة رواه واحد، أو في طبقة التابعين رواه واحد، أو في طبقة تابع التابعين رواه واحد.
هذا يسميه العلماء الحديث الفرد.
ويغلب على هذه الأحاديث أنها تكون ضعيفة؛ لأنه ربما يكون للراوي ستمائة شيخ نقل عنهم، فينفرد واحد فقط من هذا العدد الكبير برواية، فنقول: من العسير أن يخطئ هذا العدد الكبير وينفرد هو برواية صحيحة؛ ولذلك يقول الشيخ ابن عثيمين في الشرح رحمه الله تعالى: الحديث الفرد في زمن الصحابة كان يميل إلى الصحة؛ لأن عدد الصحابة قليل، وكلما اتسع وتقدمنا إلى الأمام زاد احتمال الضعف.
আল-হাদীস আল-ফারদনাযিম (কাব্যের রচয়িতা) রহিমাহুল্লাহ বলেন: আর ‘ফারদ’ হলো তা, যা আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, কোনো গোষ্ঠী অথবা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। সাধারণভাবে আল-হাদীস আল-ফারদ হলো: যা বর্ণনাকারীদের স্তরের যেকোনো একটি স্তরে কেবল একজন বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন; যেমন সাহাবী স্তরে কেবল একজন বর্ণনা করেছেন, অথবা তাবিঈ স্তরে একজন বর্ণনা করেছেন, অথবা তাবি-তাবিঈ স্তরে একজন এটি বর্ণনা করেছেন।
একে আলেমগণ আল-হাদীস আল-ফারদ বলে অভিহিত করেন।
সাধারণত এই ধরনের হাদীসগুলো দুর্বল হয়ে থাকে; কেননা অনেক সময় দেখা যায় কোনো শায়খের হয়তো ছয়শ জন ছাত্র রয়েছেন যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, এমতাবস্থায় এত বিশাল সংখ্যার মধ্য থেকে কেবল একজনই একটি বর্ণনা এককভাবে প্রদান করেছেন। তখন আমরা বলি: এত বিশাল সংখ্যক বর্ণনাকারী ভুল করবেন আর কেবল ওই একজনই সঠিক বর্ণনাটি এককভাবে দেবেন—এটি অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। এ কারণেই শেখ ইবনে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহু তাআলা ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: সাহাবীদের যুগে ‘আল-হাদীস আল-ফারদ’ সহীহ বা বিশুদ্ধ হওয়ার নিকটবর্তী ছিল; কারণ তখন সাহাবীদের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু যখনই বর্ণনার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, হাদীসটি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৪)
أقسام الحديث المفرد وأمثلة لكل قسمينقسم الحديث الفرد إلى ثلاثة أقسام.
يقول الناظم: الفرد ما قيدته بثقة أو جمع أو قصر على رواية إذاً: أول قسم من الحديث الفرد: ما قيّد بثقة.
ثانياً: ما قيد بجمع.
ثالثاً: ما قصر على رواية.
سنضرب مثلاً للقسم الأول: حديث: (إنما الأعمال بالنيات) حديث فرد؛ لأنه انفرد به سيدنا عمر من طبقة الصحابة، وانفرد به أيضاً في طبقة التابعين راوٍ واحد، وفي طبقة تابعي التابعين راوٍ واحد، إلا أن الجميع ثقات، فهذا يسمى حديث فرد.
ومثال ما قيد بجمع: أهل الشام ينقلون حديثاً واحداً فينفرد بخلافه راوٍ من أهل الشام، فهذا يسمى فرداً نسبياً يعني: خالف أهل بلدته أو أهل قبيلته.
القسم الثالث من الحديث الفرد: هو الحديث الذي قصر على رواية.
نقول: انفرد به فلان بهذه الرواية.
هذا هو الحديث الفرد.
মুফরাদ হাদিসের প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকারের উদাহরণমুফরাদ হাদিস তিন প্রকারে বিভক্ত।
কাব্যকার বলেন: মুফরাদ হলো যা আপনি কোনো বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী, কোনো জনসমষ্টি অথবা কোনো একটি বর্ণনার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। অতএব: মুফরাদ হাদিসের প্রথম প্রকার হলো: যা কোনো বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর সাথে সীমাবদ্ধ।
দ্বিতীয়ত: যা কোনো জনসমষ্টির সাথে সীমাবদ্ধ।
তৃতীয়ত: যা একটি নির্দিষ্ট বর্ণনার উপর সীমিত।
আমরা প্রথম প্রকারের একটি উদাহরণ দিচ্ছি: হাদিস: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) একটি মুফরাদ হাদিস; কারণ সাহাবীগণের স্তরে আমাদের নেতা উমর একাকী এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাবিঈগণের স্তরেও মাত্র একজন বর্ণনাকারী এটি একাকী বর্ণনা করেছেন, এবং তাবি-তাবিঈগণের স্তরেও মাত্র একজন বর্ণনাকারী এটি একাকী বর্ণনা করেছেন। যেহেতু তারা সকলেই বিশ্বস্ত, তাই একে মুফরাদ হাদিস বলা হয়।
আর জনসমষ্টির সাথে সীমাবদ্ধ হওয়ার উদাহরণ হলো: সিরিয়াবাসীরা একটি হাদিস বর্ণনা করেন, অতঃপর সিরিয়ারই কোনো একজন বর্ণনাকারী তাদের বিপরীতে একাকী তা বর্ণনা করেন; তখন একে আপেক্ষিক মুফরাদ বলা হয়। অর্থাৎ: সে তার শহরের লোকজনের অথবা তার গোত্রের লোকজনের বিরোধিতা করেছে।
মুফরাদ হাদিসের তৃতীয় প্রকার হলো: সেই হাদিস যা একটি নির্দিষ্ট বর্ণনার ওপর সীমিত।
আমরা বলি: অমুক ব্যক্তি এই বর্ণনার ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন।
এটাই হলো মুফরাদ হাদিস।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحديث المعللقال الناظم: وما بعلة غموض أو خفا معلّل عندهم قد عرفا قلنا قبل ذلك: إن من شروط الصحيح عدم الشذوذ وعدم العلة؛ ولذلك علم العلة في الحديث علم الجهابذة، وطبيب الحديث في علله هو البخاري وعلي بن المديني وابن أبي حاتم والدارقطني، فهؤلاء متخصصون في علم العلل، فظاهر الحديث الصحة: اتصال السند، عدالة الرواة، ضبط الرواة، عدم الشذوذ، فظاهر الحديث: أنه صحيح، لكن فيه علة لا يعرفها إلا المتخصص.
مثال ذلك: يروي راوٍ عن شيخه حديثاً والسند فيه اتصال، وبالتنقيب والبحث وجد أن الراوي نزل هذه البلدة بعد موت الشيخ، والشيخ لم يفارق البلدة حتى نقول: ربما سمع منه في بلد آخر، فظاهر الحديث: السند متصل، وعدم الشذوذ، وعدم العلة، كل صفات الصحيح متوفرة إلا أن فيه علة قادحة لا يعرفها إلا جهابذة الحديث، وهذا الحديث المعلّل من الأنواع العسيرة على الكثير إلا من أعطاهم الله هذا العلم.
ত্রুটিযুক্ত হাদিসকাব্যকার বলেছেন: আর যাতে অস্পষ্টতা বা প্রচ্ছন্নতার কারণে কোনো ত্রুটি থাকে, তাদের নিকট তা ‘মুআল্লাল’ হিসেবে পরিচিত। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি: সহিহ হাদিসের শর্তাবলির মধ্যে অন্যতম হলো শায ও ইল্লাত (ত্রুটি) না থাকা; একারণেই হাদিসের ত্রুটি সম্পর্কিত জ্ঞান হলো প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান। হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে পারদর্শী চিকিৎসকগণ হলেন বুখারি, আলি ইবনুল মাদিনি, ইবনু আবি হাতিম এবং দারা কুতনি। তাঁরাই ইলমে ইলালের বিশেষজ্ঞ। হাদিসের বাহ্যিক অবস্থাটি সহিহ: সনদের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে, বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিতে প্রখর, কোনো শায বা ব্যতিক্রমী বিষয় নেই; ফলে বাহ্যিকভাবে হাদিসটি সহিহ মনে হয়। কিন্তু এতে এমন এক সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকে যা বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য কেউ জানে না।
উদাহরণস্বরূপ: একজন বর্ণনাকারী তাঁর শায়খ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন এবং সনদে সংযোগ বিদ্যমান। কিন্তু সূক্ষ্ম অনুসন্ধান ও গবেষণার পর দেখা গেল যে, বর্ণনাকারী ওই শহরে পৌঁছেছেন শায়খের ইন্তেকালের পর। আর শায়খও কখনো শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি যে বলা যাবে সম্ভবত তিনি অন্য কোনো শহরে তাঁর থেকে হাদিসটি শুনেছেন। এমতাবস্থায় হাদিসের বাহ্যিক রূপ হলো: সনদটি সংযুক্ত, শায নয় এবং বাহ্যত ত্রুটিমুক্ত; অর্থাৎ সহিহ হাদিসের সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। কিন্তু তবুও এতে এমন একটি ক্ষতিকারক ত্রুটি রয়েছে যা কেবল হাদিস শাস্ত্রের দিকপালগণই অনুধাবন করতে পারেন। আর এই ‘মুআল্লাল’ হাদিসটি অনেকের নিকটই অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়, কেবল তারা ব্যতীত যাদের আল্লাহ এই জ্ঞান দান করেছেন।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحديث المضطربقال الناظم: وذو اختلاف سند أو متن مضطرب عند أهيل الفن المضطرب إما أن يكون اضطراباً في السند، وإما أن يكون اضطراباً في المتن، والاضطراب بمعنى: الاختلاف، فإن أمكن الجمع فلا اضطراب، وإن لم يمكن الجمع فهناك اضطراب، والاضطراب من أقسام الضعيف.
نضرب مثلاً على ذلك: حجة النبي عليه الصلاة والسلام، ورد في شأنها أحاديث، منها حديث يقول: أن النبي صلى الله عليه وسلم حج مفرداً، وحديث آخر يقول: أنه حج قارناً، وثالث يقول: أنه حج متمتعاً، وأنواع النسك في الحج ثلاثة أنواع، ولندخل قليلاً في أنواع الحج: إن طواف القدوم سنة، والإفاضة ركن، والوداع واجب، والواجب يجبره دم، والركن لا يجبر بدم، فإن ترك الوداع يلزمه دم، وإن ترك الإفاضة فحجه باطل؛ لأن الأركان لا يجبرها دم.
والطواف على الحاج المفرد ثلاثة: حينما ينزل إلى مكة يطوف طواف القدوم وهو سنة ثم يسعى للحج وليس عليه إلا سعي واحد، ثم يوم العيد يطوف طواف الإفاضة، ثم عند الرحيل يطوف طواف الوداع.
فإن قيل: هل هناك فرق بين الحاج المفرد والحاج القارن في النسك بالنسبة للطواف أو السعي؟
الجواب لا فرق.
الحاج القارن أيضاً يطوف للقدوم ويطوف للإفاضة ويطوف طواف وداع، وعليه سعي.
أما المتمتع لا يطوف طواف القدوم في تكليفه الفقهي، لكن لا فرق في عدد الطوافات، فالحاج المتمتع عليه ثلاث طوافات: طواف عمره، وطواف إفاضة، وطواف وداع؛ وعليه سعيان، فالمتمتع يطوف طواف العمرة أولاً ويسعى للعمرة ثم يتحلل، ثم يطوف طواف الإفاضة ويسعى للحج.
إذاً: حينما نقول: إن النبي صلى الله عليه وسلم حج مفرداً فإن الحديث صحيح؛ لأننا نقصد بكلمة مفرد: أنه أتى بأعمال المفرد لكنه يقيناً حج قارناً؛ لأنه ساق الهدي وقال لأصحابه: (لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدي ولأحللت بعمرة)، يعني: لجعلتها عمرة؛ لأن حج التمتع -وهو أفضل النسك كما تعلمون- فيه خلاف بين العلماء، فالحاج المتمتع يلبي من الميقات بعمرة ثم يؤدي العمرة: يطوف ويسعى ويتحلل: يحلق أو يقصر، ويظل إلى يوم ثمانية ذي الحجة -يوم التروية- ثم يلبي بحج ويؤدي مناسك الحج.
فالنبي صلى الله عليه وسلم ظل محرماً؛ لأنه حج قارناً بين عمرة وحج، ومذهب الحنابلة -وهو الراجح- أنه لا يجوز إدخال الحج على العمرة، فطالما أنت نويت حجاً مفرداً لا يجوز أن تدخل على الحج العمرة، لكن يجوز أن تدخل بعد أداء العمرة الحج عليها.
فأنت ستجد أحاديث تدل على أنه حج قارناً، وأحاديث على أنه حج متمتعاً، وأحاديث على أنه حج مفرداً، فستقول: فيه اضطراب؛ لأن فيه اختلاف، لكننا نقول: لا اضطراب، فإن شيخ الإسلام جمع بين الأحاديث الثلاثة وإذا أمكن الجمع تقول: لا اضطراب.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: حج مفرداً باعتبار أنه أتى أفعال الحاج المفرد، وحج متمتعاً باعتبار أنه أدى العمرة والحج كما يؤديهما المتمتع، فأنشأ سفراً واحدً لعمرة وحج، وحج قارناً وهذا هو اليقين؛ لأنه ساق الهدي وما تحلل من إحرامه عليه الصلاة والسلام، فإنه بعد أن طاف طواف القدوم ثم سعى ظل على إحرامه حتى أدى النسك، ثم أدى طواف الإفاضة، ثم تحلل بعد ذلك صلى الله عليه وسلم.
إذاً: إذا أمكن الجمع فلا اضطراب.
من أمثلة الاضطراب مثلاً: حديث بريرة مع مغيث، فـ مغيث كان عبداً مملوكاً، وبريرة كانت مملوكة أيضاً، لكن بعض الروايات تقول: إن مغيثاً كان حراً، والرواية الأخرى تقول: كان عبداً، إذاً: هناك اضطراب للاختلاف الذي بين الروايتين، فلابد أن أحدهما الحديثين ضعيف والآخر صحيح.
قال الناظم: وذو اختلاف سندٍ أو متن مضطرب عند أهيل الفن يعني: عند أهل الصنعة، والله تعالى أعلم.
মুদতারিব (অসংগতিপূর্ণ) হাদিসকাব্যকার বলেছেন: সনদ অথবা মতনের মাঝে মতভেদপূর্ণ হাদিসই এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট 'মুদতারিব' হিসেবে পরিচিত। মুদতারিব হাদিস হয় সনদের মধ্যে অসংগতি হবে, না হয় মতনের মধ্যে অসংগতি হবে। আর ইজতিরাব বা অসংগতি মানে হলো: মতভেদ। যদি বিভিন্ন বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তাকে আর অসংগতি বলা হবে না। কিন্তু যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবেই সেখানে অসংগতি বা ইজতিরাব বিদ্যমান থাকবে। আর এই অসংগতি বা ইজতিরাব দুর্বল হাদিসের একটি প্রকার।
আমরা এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ। তাঁর হজ সম্পর্কে অনেক হাদিস এসেছে। কোনো হাদিসে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইফরাদ' (একক) হজ করেছেন। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে: তিনি 'কিরান' (যুগ্ম) হজ করেছেন। আবার তৃতীয় বর্ণনায় এসেছে: তিনি 'তামাত্তু' হজ করেছেন। হজের প্রকার হলো তিন ধরণের। আমরা সংক্ষেপে হজের প্রকারগুলো সম্পর্কে আলোচনা করি: আগমনি তাওয়াফ হলো সুন্নাত, ইফাদা তাওয়াফ হলো রুকন বা ফরজ, এবং বিদায়ী তাওয়াফ হলো ওয়াজিব। ওয়াজিব ছুটে গেলে কুরবানির মাধ্যমে তার প্রতিকার করা যায়, কিন্তু রুকন বা ফরজ কুরবানির মাধ্যমে পূরণ হয় না। কেউ যদি বিদায়ী তাওয়াফ ছেড়ে দেয়, তবে তাকে একটি কুরবানি দিতে হবে। কিন্তু যদি ইফাদা তাওয়াফ ছেড়ে দেয়, তবে তার হজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ রুকনসমূহ কুরবানির মাধ্যমে পূরণ হয় না।
'ইফরাদ' হজকারীর জন্য তাওয়াফ হলো তিনটি: মক্কায় প্রবেশের পর তিনি 'আগমনি তাওয়াফ' করবেন যা সুন্নাত, এরপর হজের জন্য সায়ী করবেন। তার জন্য মাত্র একটি সায়ী। এরপর ঈদের দিন তিনি 'イফাদা তাওয়াফ' করবেন এবং মক্কা ত্যাগের সময় 'বিদায়ী তাওয়াফ' করবেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: 'ইফরাদ' হজকারী এবং 'কিরান' হজকারীর মাঝে কি তাওয়াফ বা সায়ীর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য আছে?
উত্তর কোনো পার্থক্য নেই।
'কিরান' হজকারীও আগমনি তাওয়াফ করবে, ইফাদা তাওয়াফ করবে এবং বিদায়ী তাওয়াফ করবে এবং তাকে সায়ী করতে হবে।
তবে 'তামাত্তু' হজকারীর উপর ফিকহী বিধান অনুযায়ী আগমনি তাওয়াফ নেই, তবে তাওয়াফের সংখ্যার দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। তামাত্তু হজকারীকে তিনটি তাওয়াফ করতে হয়: উমরার তাওয়াফ, ইফাদা তাওয়াফ এবং বিদায়ী তাওয়াফ। আর তাকে দুটি সায়ী করতে হয়। অর্থাৎ, তামাত্তু হজকারী প্রথমে উমরার তাওয়াফ ও সায়ী করে হালাল হয়ে যাবে (ইহরাম ত্যাগ করবে), এরপর ইফাদা তাওয়াফ করবে এবং হজের সায়ী করবে।
অতএব, যখন আমরা বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইফরাদ' হজ করেছেন, তখন সেই হাদিসটিও সহিহ; কারণ 'ইফরাদ' শব্দ দ্বারা আমরা উদ্দেশ্য নিচ্ছি যে, তিনি ইফরাদ হজকারীর কাজগুলো সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে তিনি 'কিরান' হজ করেছিলেন; কারণ তিনি সাথে করে কুরবানির পশু নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: (আমি যদি আগে জানতে পারতাম যা আমি পরে জানতে পেরেছি, তবে আমি কুরবানির পশু সাথে আনতাম না এবং একে উমরায় পরিণত করতাম)। অর্থাৎ তিনি একে তামাত্তু হজে পরিণত করতেন। কারণ তামাত্তু হজ—যা আপনারা জানেন যে সর্বোত্তম পদ্ধতি—তা নিয়ে ওলামাদের মাঝে মতভেদ আছে। তামাত্তু হজকারী মিকাত থেকে উমরার ইহরাম বাঁধে, এরপর উমরা সম্পন্ন করে: তাওয়াফ ও সায়ী করে এবং চুল কাটা বা মুণ্ডনের মাধ্যমে হালাল হয়। এরপর ৮ই জিলহজ—তারউইয়ার দিন—পর্যন্ত অপেক্ষা করে হজের ইহরাম বাঁধে এবং হজের কার্যাদি সম্পাদন করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন; কারণ তিনি উমরা ও হজের মাঝে 'কিরান' করেছিলেন। হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী—যা অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত—উমরার ওপর হজকে প্রবেশ করানো বৈধ নয়। অর্থাৎ আপনি যখন একবার 'ইফরাদ' হজের নিয়ত করেছেন, তখন সেই হজের ওপর উমরাকে প্রবেশ করানো যাবে না। কিন্তু উমরা আদায়ের পর তার ওপর হজকে প্রবেশ করানো বৈধ।
সুতরাং আপনি এমন কিছু হাদিস পাবেন যা প্রমাণ করে যে তিনি 'কিরান' হজ করেছেন, আবার কিছু হাদিস যা বলে তিনি 'তামাত্তু' করেছেন এবং কিছু হাদিস বলে তিনি 'ইফরাদ' করেছেন। তখন আপনি বলবেন: এখানে তো ইজতিরাব বা অসংগতি রয়েছে কারণ এখানে মতভেদ আছে। কিন্তু আমরা বলছি: না, কোনো অসংগতি নেই। কারণ শাইখুল ইসলাম এই তিন ধরণের হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। আর যদি সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে আপনি বলবেন: কোনো অসংগতি নেই।
শাইখুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: তিনি 'ইফরাদ' হজ করেছেন—এই কথার অর্থ হলো তিনি ইফরাদ হজকারীর মতো কাজগুলো করেছেন। তিনি 'তামাত্তু' করেছেন—এর অর্থ হলো তিনি তামাত্তু হজকারীর মতো উমরা ও হজ উভয়টি সম্পন্ন করেছেন, অর্থাৎ এক সফরেই উমরা ও হজ পালন করেছেন। আর তিনি 'কিরান' হজ করেছেন—এটিই হলো নিশ্চিত সত্য; কারণ তিনি কুরবানির পশু সাথে এনেছিলেন এবং তাওয়াফ ও সায়ী করার পর তিনি ইহরাম ত্যাগ করেননি। বরং তিনি আগমনি তাওয়াফ করার পর সায়ী করে নিজ ইহরামেই বহাল ছিলেন যতক্ষণ না তিনি হজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ইফাদা তাওয়াফ করেন এবং তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল হন।
অতএব, যদি সমন্বয় করা সম্ভব হয় তবে কোনো অসংগতি থাকে না।
অসংগতির উদাহরণ হলো: মুগিসের সাথে বারীরার হাদিস। মুগিস একজন ক্রীতদাস ছিলেন এবং বারীরাও ক্রীতদাসী ছিলেন। কিন্তু কিছু বর্ণনায় এসেছে যে মুগিস স্বাধীন ব্যক্তি ছিলেন, আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে তিনি দাস ছিলেন। সুতরাং এখানে বর্ণনার ভিন্নতার কারণে অসংগতি সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় অবশ্যই দুই হাদিসের একটি দুর্বল এবং অন্যটি সহিহ হবে।
কাব্যকার বলেছেন: সনদ অথবা মতনের মাঝে মতভেদপূর্ণ হাদিসই এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট 'মুদতারিব' হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ এই বিষয়ের পারদর্শীদের নিকট এটিই সংজ্ঞা। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحديث الفرد وأقسامهقال الناظم رحمه الله: والفرد ما قيّدته بثقة أو جمع أو قصر على رواية الحديث الفرد بصفة عامة: ما انفرد به راوٍ واحد في أي طبقة من الطبقات، كأن يكون في طبقة الصحابة رواه واحد، أو في طبقة التابعين رواه واحد، أو في طبقة تابعي التابعين رواه واحد.
ويغلب على هذه الأحاديث أنها تكون ضعيفة؛ لأنه ربما يكون للراوي ستمائة شيخ نقل عنهم، فينفرد واحد فقط من هذا العدد الكبير برواية، وعليه فنقول: من العسير أن يخطئ هذا العدد الكبير وينفرد هو برواية صحيحة؛ ولذلك يقول الشيخ ابن عثيمين في الشرح رحمه الله تعالى: الحديث الفرد في زمن الصحابة كان يميل إلى الصحة؛ لأن عدد الصحابة قليل، وكلما اتسع وتقدمنا إلى الأمام زاد احتمال الضعف.
قال الناظم: الفرد ما قيدته بثقة أو جمع أو قصر على رواية القسم الأول: ما قيّد بثقة.
القسم الثاني: ما قيد بجمع.
القسم الثالث: ما قصر على رواية.
وسنضرب مثالاً لكل قسم.
فمثال القسم الأول: حديث: (إنما الأعمال بالنيات)، فقد انفرد به سيدنا عمر من طبقة الصحابة، وانفرد به أيضاً في طبقة التابعين راوٍ واحد، وفي طبقة تابعي التابعين راوٍ واحد، إلا أن الجميع ثقات، فهذا يسمى حديثاً فرداً.
ومثال القسم الثاني: أن أهل الشام ينقلون حديثاً واحداً فينفرد بخلافه راوٍ من أهل الشام، فهذا يسمى فرداً نسبياً، أي: أنه خالف أهل بلدته أو أهل قبيلته.
ومثال القسم الثالث: نقول: انفرد به فلان بهذه الرواية.
একক হাদিস (আল-হাদিস আল-ফারদ) এবং এর প্রকারভেদনাযিম (কবিতা রচয়িতা) -রহিমাহুল্লাহ- বলেছেন: ফারদ হলো সেটি যা আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী (সিকাহ), কোনো গোষ্ঠী বা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। সাধারণভাবে একক হাদিস হলো: যা বর্ণনার যেকোনো স্তরে কেবল একজন বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন; যেমন সাহাবীদের স্তরে একজন এটি বর্ণনা করেছেন, অথবা তাবিঈদের স্তরে একজন এটি বর্ণনা করেছেন, অথবা তাবি-তাবিঈদের স্তরে একজন এটি বর্ণনা করেছেন।
এই ধরণের হাদিসগুলো সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে; কারণ হতে পারে একজন বর্ণনাকারীর ছয়শ জন উস্তাদ রয়েছেন যাদের থেকে তিনি বর্ণনা গ্রহণ করেন, এমতাবস্থায় এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে মাত্র একজন এককভাবে একটি হাদিস বর্ণনা করছেন। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি: এটি প্রায় অসম্ভব যে এত বিশাল সংখ্যক লোক ভুল করবেন এবং তিনি একাই একটি সঠিক বর্ণনা নিয়ে আসবেন। এই কারণেই শেখ ইবনে উসাইমীন তাঁর ব্যাখ্যায় (শারহে) -রহিমাহুল্লাহ- বলেছেন: সাহাবীদের যুগে একক হাদিসগুলো সহীহ হওয়ার দিকে ঝুঁকে থাকত; কারণ তখন সাহাবীদের সংখ্যা ছিল অল্প, আর সময় যত গড়িয়েছে এবং আমরা সামনের দিকে এগিয়েছি, এর দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়েছে।
নাযিম বলেছেন: ফারদ হলো সেটি যা আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী, কোনো গোষ্ঠী বা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। প্রথম প্রকার: যা কোনো নির্ভরযোগ্য রাবীর সাথে সীমাবদ্ধ।
দ্বিতীয় প্রকার: যা কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সাথে সীমাবদ্ধ।
তৃতীয় প্রকার: যা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ।
আমরা প্রতিটি প্রকারের জন্য একটি করে উদাহরণ পেশ করব।
প্রথম প্রকারের উদাহরণ: হাদিস: (নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল), এটি সাহাবীদের স্তর থেকে কেবল আমাদের নেতা উমর এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাবিঈদের স্তরেও কেবল একজন বর্ণনাকারী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাবি-তাবিঈদের স্তরেও মাত্র একজন বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য। তাই একে একক হাদিস (হাদিসে ফারদ) বলা হয়।
দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: যেমন সিরিয়াবাসীরা একটি হাদিস বর্ণনা করছেন, কিন্তু সিরিয়াবাসীদের মধ্য থেকেই একজন বর্ণনাকারী তাদের বিপরীতে এককভাবে বর্ণনা করলেন। একে আপেক্ষিক একক (ফারদ নিসবি) বলা হয়, অর্থাৎ: তিনি তাঁর শহরবাসী বা গোত্রের লোকদের বিপরীতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় প্রকারের উদাহরণ: আমরা বলি: অমুক ব্যক্তি এই নির্দিষ্ট বর্ণনার ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث المعللقال الناظم: وما بعلة غموض أو خفا معلّل عندهم قد عرفا قلنا قبل ذلك: إن من شروط الحديث الصحيح عدم الشذوذ وعدم العلة، وعلم العلة في الحديث هو علم الجهابذة، وطبيب الحديث في علله هو البخاري وعلي بن المديني وابن أبي حاتم والدارقطني، فهؤلاء متخصصون في علم العلل.
وظاهر الحديث الصحة؛ لأنه توفرت فيه شروط الصحيح من اتصال السند، وعدالة الرواة، وضبط الرواة، وعدم الشذوذ، إلا أن فيه علة لا يعرفها إلا المتخصص.
مثال ذلك: يروي راوٍ عن شيخه حديثاً والسند فيه اتصال، وبالتنقيب والبحث وجد أن الراوي نزل هذه البلدة بعد موت الشيخ، والشيخ لم يفارق البلدة حتى نقول: ربما سمع منه في بلد آخر، فظاهر الحديث: السند متصل، وعدم الشذوذ، وعدم العلة، وكل شروط الصحيح متوفرة، إلا أن فيه علة قادحة لا يعرفها إلا جهابذة الحديث، وهذا الحديث المعلّل من الأنواع العسيرة على الكثير إلا من أعطاهم الله هذا العلم.
ত্রুটিযুক্ত হাদীসছন্দকার বলেছেন: অস্পষ্টতা বা গোপনীয়তা সম্পন্ন কোনো ত্রুটি থাকলে, তাদের নিকট তা 'মুআল্লাল' (ত্রুটিযুক্ত) হিসেবে পরিচিত। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, সহীহ হাদীসের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো 'শায' (অস্বাভাবিকতা) না থাকা এবং 'ইল্লাত' (সুক্ষ্ম ত্রুটি) না থাকা। হাদীসের 'ইল্লাত' বা ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান হলো বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতদের জ্ঞান। হাদীসের ত্রুটি নির্ণয়ে হাদীস-চিকিৎসকগণ হলেন বুখারী, আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনে আবী হাতিম এবং দারা কুতনী; তাঁরা এই 'ইল্লাল' শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
বাহ্যিকভাবে হাদীসটি সহীহ মনে হয়; কারণ এতে সহীহ হাদীসের শর্তাবলী যেমন সনদের ধারাবাহিকতা, বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা, বর্ণনাকারীদের স্মরণশক্তি এবং 'শায' না হওয়া—সবই বিদ্যমান থাকে; কিন্তু এতে এমন একটি সুক্ষ্ম ত্রুটি থাকে যা বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য কেউ চিনতে পারে না।
এর উদাহরণ হলো: একজন বর্ণনাকারী তার শায়খ থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেন এবং সনদে ধারাবাহিকতাও পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু সুক্ষ্ম অনুসন্ধান ও গবেষণার পর দেখা যায় যে, বর্ণনাকারী সেই শহরে উক্ত শায়খের মৃত্যুর পর পৌঁছেছেন এবং শায়খ কখনও সেই শহর ত্যাগ করেননি যাতে আমরা বলতে পারি যে তিনি হয়তো অন্য কোনো শহরে তাঁর নিকট থেকে হাদীসটি শুনেছেন। সুতরাং বাহ্যিকভাবে হাদীসটির সনদ অবিচ্ছিন্ন, এতে কোনো 'শায' নেই এবং কোনো প্রকাশ্য ত্রুটি নেই, আর সহীহ হাদীসের সকল শর্তই বিদ্যমান রয়েছে; কিন্তু এতে এমন একটি গুরুতর ত্রুটি রয়েছে যা হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া কেউ জানেন না। এই 'মুআল্লাল হাদীস' অনেকের নিকট অত্যন্ত কঠিন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, একমাত্র তারা ব্যতীত যাদেরকে আল্লাহ এই জ্ঞান দান করেছেন।
(খণ্ড: ৩)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث المضطربقال الناظم: وذو اختلاف سند أو متن مضطرب عند أهيل الفن المضطرب إما أن يكون اضطراباً في السند، وإما أن يكون اضطراباً في المتن، والاضطراب بمعنى: الاختلاف، فإن أمكن الجمع فلا اضطراب، وإن لم يمكن الجمع فهناك اضطراب، والاضطراب من أقسام الضعيف.
مثال ذلك: حجة النبي عليه الصلاة والسلام، فقد ورد في شأنها أحاديث، منها حديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم حج مفرداً، وحديث آخر يقول: إنه حج قارناً، وثالث يقول: إنه حج متمتعاً.
ولندخل قليلاً في أنواع الحج الثلاثة فنقول: إن طواف القدوم سنة، وطواف الإفاضة ركن، وطواف الوداع واجب، والواجب يجبره دم، والركن لا يجبر بدم، فإن ترك طواف الوداع يلزمه دم، وإن ترك طواف الإفاضة فحجه باطل؛ لأن الأركان لا يجبرها دم.
والطواف على الحاج المفرد ثلاثة: وذلك حينما ينزل إلى مكة فيطوف طواف القدوم وهو سنة، ثم يسعى للحج وليس عليه إلا سعي واحد، ثم يوم العيد يطوف طواف الإفاضة، ثم عند الرحيل يطوف طواف الوداع.
فإن قيل: هل هناك فرق بين الحاج المفرد والحاج القارن في النسك بالنسبة للطواف أو السعي؟
الجواب لا فرق، فالحاج القارن أيضاً يطوف للقدوم ويطوف للإفاضة ويطوف طواف وداع، وعليه سعي.
أما المتمتع فلا يطوف طواف القدوم في تكليفه الفقهي، لكن لا فرق في عدد الطوافات، فالحاج المتمتع عليه ثلاث طوافات: طواف عمرة، وطواف إفاضة، وطواف وداع، وعليه سعيان، فالمتمتع يطوف طواف العمرة أولاً ويسعى للعمرة ثم يتحلل، ثم يطوف طواف الإفاضة ويسعى للحج.
إذاً: حينما نقول: إن النبي صلى الله عليه وسلم حج مفرداً فإن الحديث صحيح؛ لأننا نقصد بكلمة مفرداً: أنه أتى بأعمال المفرد، لكنه يقيناً حج قارناً؛ لأنه ساق الهدي وقال لأصحابه: (لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدي ولأحللت بعمرة)، أي: لجعلتها عمرة؛ لأن حج التمتع -وهو أفضل النسك كما تعلمون- فيه خلاف بين العلماء، فالحاج المتمتع يلبي من الميقات بعمرة ثم يؤدي العمرة: فيطوف ويسعى ويتحلل: يحلق أو يقصر، ويظل إلى يوم ثمانية من ذي الحجة -يوم التروية- ثم يلبي بحج ويؤدي مناسك الحج.
فالنبي صلى الله عليه وسلم ظل محرماً؛ لأنه حج قارناً بين عمرة وحج، ومذهب الحنابلة -وهو الراجح- أنه لا يجوز إدخال الحج على العمرة، فطالما أنت نويت حجاً مفرداً فلا يجوز أن تدخل على الحج العمرة، لكن يجوز أن تدخل بعد أداء العمرة الحج عليها.
فأنت ستجد أحاديث تدل على أنه حج قارناً، وأحاديث على أنه حج متمتعاً، وأحاديث على أنه حج مفرداً، فستقول: فيه اضطراب؛ لأن فيه اختلاف، لكننا نقول: لا اضطراب، فإن شيخ الإسلام جمع بين الأحاديث الثلاثة، وإذا أمكن الجمع فتقول: لا اضطراب.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: حج مفرداً باعتبار أنه أتى أفعال الحاج المفرد، وحج متمتعاً باعتبار أنه أدى العمرة والحج كما يؤديهما المتمتع، فأنشأ سفراً واحداً لعمرة وحج، وحج قارناً وهذا هو اليقين؛ لأنه ساق الهدي، وما تحلل من إحرامه عليه الصلاة والسلام، فإنه بعد أن طاف طواف القدوم، ثم سعى ظل على إحرامه حتى أدى النسك، ثم أدى طواف الإفاضة، ثم تحلل بعد ذلك صلى الله عليه وسلم.
ومن أمثلة الاضطراب أيضاً: حديث بريرة مع زوجها مغيث، فقد كان مغيث عبداً مملوكاً، وبريرة كانت مملوكة أيضاً، لكن بعض الروايات تقول: إن مغيثاً كان حراً، والرواية الأخرى تقول: كان عبداً، إذاً: هناك اضطراب للاختلاف الذي بين الروايتين، فلابد أن أحد الحديثين ضعيف والآخر صحيح.
قول الناظم: (عند أهيل الفن)، أي: عند أهل الصنعة، والله تعالى أعلم.
মুদতারিব হাদিসনাজিম (কাব্যকার) বলেছেন: সনদ অথবা মতনে যার মধ্যে ভিন্নতা পাওয়া যায়, শিল্পের বোদ্ধাগণের নিকট সেটিই মুদতারিব। মুদতারিব হয় সনদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা ভিন্নতার কারণে, অথবা মতনের ক্ষেত্রে ভিন্নতার কারণে। আর ইদতিরাব বা অস্থিরতা বলতে মূলত মতভেদকে বোঝায়। যদি বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে তাকে আর মুদতারিব বলা হয় না। কিন্তু যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবেই সেখানে ইদতিরাব বা বিশৃঙ্খলা ঘটে। আর এই মুদতারিব হাদিস হলো যঈফ বা দুর্বল হাদিসের একটি প্রকার।
এর উদাহরণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজ। তাঁর হজ পালনের ধরণ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে কোনো হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ইফরাদ’ হজ (শুধু হজ) করেছেন। অন্য হাদিসে এসেছে, তিনি ‘কিরান’ হজ (উমরা ও হজ একত্রে) করেছেন। আবার তৃতীয় প্রকার বর্ণনায় এসেছে, তিনি ‘তামাত্তু’ হজ (উমরা শেষ করে ইহরাম খুলে ফেলে পরে হজের ইহরাম বাধা) করেছেন।
আমরা এই তিন প্রকারের হজ নিয়ে কিছুটা আলোচনা করি। তওয়াফে কুদুম (আগমনি তওয়াফ) হলো সুন্নাত, তওয়াফে ইফাদাহ হলো রুকন (অপরিহার্য স্তম্ভ) এবং তওয়াফে বিদা (বিদায়ী তওয়াফ) হলো ওয়াজিব। কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে পশু জবাইয়ের (দম) মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ করা যায়, কিন্তু রুকন বা স্তম্ভ পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পূরণ হয় না। সুতরাং কেউ যদি তওয়াফে বিদা বর্জন করে, তবে তার ওপর পশু জবাই করা আবশ্যক হয়। আর যদি তওয়াফে ইফাদাহ বর্জন করে, তবে তার হজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ রুকনসমূহ পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পূরণ হয় না।
ইফরাদ হজকারীর জন্য তওয়াফ হলো তিনটি: প্রথমত মক্কায় নামার পর তিনি তওয়াফে কুদুম করবেন যা সুন্নাত, এরপর হজের সাঈ করবেন (তার জন্য একটিই সাঈ), এরপর ঈদের দিন তওয়াফে ইফাদাহ করবেন এবং সবশেষে প্রস্থানের সময় তওয়াফে বিদা করবেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তওয়াফ বা সাঈর ক্ষেত্রে আমলের দিক থেকে মুফরিদ (ইফরাদ হজকারী) এবং কারিন (কিরান হজকারী) এর মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
উত্তরকোনো পার্থক্য নেই। কারিন হজকারীও তওয়াফে কুদুম, তওয়াফে ইফাদাহ এবং তওয়াফে বিদা করবেন এবং তাকে একটি সাঈ করতে হবে।
তবে তামাত্তু হজকারীর ফিকহী বিধান অনুযায়ী তওয়াফে কুদুম নেই। কিন্তু তওয়াফের সংখ্যার দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। তামাত্তু হজকারীকেও তিনটি তওয়াফ করতে হয়: উমরার তওয়াফ, তওয়াফে ইফাদাহ এবং তওয়াফে বিদা। তবে তাকে দুটি সাঈ করতে হয়। তামাত্তু হজকারী প্রথমে উমরার তওয়াফ ও সাঈ করে হালাল হয়ে যান (ইহরাম খুলে ফেলেন), এরপর হজের জন্য পুনরায় ইহরাম বেঁধে তওয়াফে ইফাদাহ ও হজের সাঈ করেন।
অতএব, যখন আমরা বলি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইফরাদ হজ করেছেন, তখন সেই হাদিসটিও সঠিক; কারণ ‘ইফরাদ’ শব্দ দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো তিনি মুফরিদের ন্যায় আমলসমূহ সম্পাদন করেছেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে তিনি কিরান হজ করেছিলেন; কারণ তিনি সাথে করে ‘হাদি’ (কুরবানির পশু) নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: ‘আমি যদি আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি হাদি সাথে আনতাম না এবং একে উমরা বানিয়ে ফেলতাম (অর্থাৎ ইহরাম খুলে ফেলতাম)।’ অর্থাৎ তিনি এটাকে তামাত্তু হজে রূপান্তর করতেন। কারণ তামাত্তু হজ—যা আপনারা জানেন যে সর্বোত্তম পদ্ধতি—তা নিয়ে ওলামাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তামাত্তু হজকারী মীকাত থেকে উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করেন, এরপর উমরা সম্পন্ন করেন: অর্থাৎ তওয়াফ ও সাঈ করেন এবং চুল মুণ্ডন বা ছোট করে হালাল হয়ে যান। এরপর জিলহজ মাসের আট তারিখ (তারবিয়ার দিন) পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং হজের ইহরাম বেঁধে হজের কার্যাবলী সম্পন্ন করেন।
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরা ও হজের মাঝে ইহরাম অবস্থায় বহাল ছিলেন; কারণ তিনি উমরা ও হজের মাঝে কিরান করেছিলেন। হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী—যা অধিকতর শক্তিশালী মত—হজের নিয়ত করার পর তার ওপর উমরাকে প্রবেশ করানো জায়েজ নয়। যতক্ষণ আপনি ইফরাদ হজের নিয়ত করবেন, ততক্ষণ হজের ওপর উমরাকে দাখিল করা যাবে না। তবে উমরা করার পর তার ওপর হজের নিয়ত দাখিল করা জায়েজ।
সুতরাং আপনি এমন কিছু হাদিস পাবেন যা প্রমাণ করে তিনি কিরান করেছেন, কিছু হাদিস প্রমাণ করে তিনি তামাত্তু করেছেন এবং কিছু হাদিস প্রমাণ করে তিনি ইফরাদ করেছেন। আপনি হয়তো বলবেন: এখানে ইদতিরাব বা বিশৃঙ্খলা রয়েছে কারণ এতে ভিন্নতা আছে। কিন্তু আমরা বলি: এখানে কোনো ইদতিরাব নেই। কারণ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই তিন ধরণের হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। আর যদি সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে আপনি বলবেন যে এখানে কোনো ইদতিরাব নেই।
শায়খুল ইসলাম রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইফরাদ করেছেন এই বিবেচনায় যে তিনি ইফরাদ হজকারীর আমলসমূহ সম্পাদন করেছিলেন। তিনি তামাত্তু করেছেন এই বিবেচনায় যে তিনি উমরা ও হজ সম্পন্ন করেছেন যেভাবে তামাত্তু হজকারী করে থাকে, অর্থাৎ তিনি উমরা ও হজের জন্য একটিই সফর করেছিলেন। আর তিনি কিরান করেছিলেন এবং এটাই নিশ্চিত সত্য; কারণ তিনি সাথে করে হাদি বা কুরবানির পশু এনেছিলেন এবং তিনি তাঁর ইহরাম থেকে হালাল হননি। তিনি তওয়াফে কুদুম ও সাঈ করার পর হজের কার্যাবলী সম্পন্ন করা পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, এরপর তওয়াফে ইফাদাহ সম্পাদন করেন এবং তারপর তিনি হালাল হন।
মুদতারিব হাদিসের আরেকটি উদাহরণ হলো: বারীরা ও তাঁর স্বামী মুগীস সংক্রান্ত হাদিস। মুগীস একজন ক্রীতদাস ছিলেন এবং বারীরাও দাসী ছিলেন। কিন্তু কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে মুগীস স্বাধীন ছিলেন, আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে তিনি ক্রীতদাস ছিলেন। সুতরাং এই দুই বর্ণনার পার্থক্যের কারণে এখানে ইদতিরাব রয়েছে। ফলে এই দুই বর্ণনার একটি অবশ্যই দুর্বল এবং অপরটি সহিহ।
নাজিমের উক্তি: ‘শিল্পের বোদ্ধাগণের নিকট’, অর্থাৎ যারা ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞ তাদের নিকট। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح البيقونية - أسامة سليمان القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح البيقونية
المؤلف: أسامة علي محمد سليمان
مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
বাইকুনিয়ার ব্যাখ্যা - উসামা সুলায়মান বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: বাইকুনিয়ার ব্যাখ্যা
লেখক: উসামা আলী মুহাম্মদ সুলায়মান
গ্রন্থের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলামিক নেটওয়ার্ক (ইসলামওয়েব) ওয়েবসাইট দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড সংখ্যাটি হলো পাঠ নম্বর - ৫টি পাঠ ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ৪)
শারহুল বাইকুনিয়্যাহ - উসামা সুলাইমান
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح البيقونية [4]المدرج والمدبج من أنواع علوم الحديث، والمدرج ليس من كلام النبي عليه الصلاة والسلام، وقد يكون في أول المتن أو وسطه أو آخره، والمدبج هو ما رواه كل قرين عن قرينه.
শারহুল বাইকুনিয়া [৪]মুদরাজ ও মুদাব্বাজ হলো হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত; মুদরাজ নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বাণী নয় এবং তা মতনের শুরুতে, মাঝে অথবা শেষে হতে পারে। আর মুদাব্বাজ হলো তা-ই যা সমপর্যায়ের প্রত্যেক রাবী তাঁর সমপর্যায়ের রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।