(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فتاوى الأئمة في النوازل المدلهمة القسم: كتب عامة
الكتاب: فتاوى الأئمة في النوازل المدلهمة، وتبرئة دعوة وأتباع محمد بن عبدالوهاب من تهمة التطرف والإرهاب
المؤلف: محمد بن حسين بن سعيد بن هادي بن عبد الرحمن بن محمد بن حسن بن سفران القحطاني
الناشر: دار الأوفياء للطبع والنشر - الرياض
عدد الصفحات: 309
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
ঘোরতর দুর্যোগে ইমামগণের ফাতাওয়া বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: ঘোরতর দুর্যোগে ইমামগণের ফাতাওয়া, এবং চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ থেকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ও অনুসারীদের নির্দোষ প্রমাণ
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন সাঈদ বিন হাদি বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন সাফুরান আল-কাহতানি
প্রকাশক: দার আল-আওফিয়া মুদ্রণ ও প্রকাশনা - রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[فتاوى الأئمة في النوازل المدلهمة، وتبرئة دعوة وأتباع محمد بن عبدالوهاب من تهمة التطرف والإرهاب]ـ
المؤلف: محمد بن حسين بن سعيد بن هادي بن عبد الرحمن بن محمد بن حسن بن سفران القحطاني
الناشر: دار الأوفياء للطبع والنشر - الرياض
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[চরম সংকটকালে ইমামগণের ফতোয়া এবং চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ হতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াত ও অনুসারীদের নির্দোষ প্রমাণ]ـ
লেখক: মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন সাঈদ বিন হাদি বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন সাফ্রান আল-কাহতানি
প্রকাশক: দারুল আওফিয়া লিত-তাবি ওয়ান-নাশর - রিয়াদ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
المملكة العربية السعودية
رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء
مكتب المفتي العام
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وأشرف المرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن على دربه واقتفى أثره إلى يوم الدين .. أما بعد:
فقد اطلعنا على كتاب (فتاوى الأئمة في النوازل المدلهمة) والذي جمعه الشيخ محمد بن حسين القطحاني -وفقه الله- فألفيناه كتابا قيما نافعا في بابه؛ ذلك أنه عند حدوث الفتن ونزول النوازل بالأمة الإسلامية يتحتم على أفرادها الرجوع إلى أهل العلم الراسخين الذين يدركون بتوفيق من الله ونور منه وبما آتاهم الله من العلم والهدى يدركون الأمور على حقيقتها ويعلمون ما يصلح الأمة في حالتها الراهنة ونازلتها الحادثة، كما أنهم يسيرون بالأمة وفق شرع الله في سائر الأحوال، وهذا المنهج القويم؛ أعني رد الأمور إلى أهلها عند حدوث الفتن أصل شرعي، يقول الله تعالى: {وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم}.
وما جمعه الشيخ محمد القحطاني من فتاوى وبيانات هي لعلماء نحسبهم -ولا نزكي على الله أحدا- علماء ربانيين نهلوا من العلم الصحيح فتعلموا وعلموا وبصروا الناس بما يصلحهم في أمر دينهم ودنياهم.
فكان الكتاب مرجعا لمن نزلت به نازلة يعلم قول أهل في نظائرها فيسكن جنانه ويعبد ربه على بصيرة. فجزى الله جامعها كل خير، وجزى الله هؤلاء العلماء الفضلاء عن المسلمين خير الجزاء وجعل ما علموا وبينوا في ميزان حسناتهم مدخرا لهم أحوج ما يكونون إليه.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين،،،
المفتي العام للمملكة العربية السعودية
ورئيس هيئة كبار العلماء وإدارة البحوث العلمية والإفتاء
عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সৌদি আরব রাজ্য
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগীয় প্রধানের কার্যালয়
গ্র্যান্ড মুফতির দপ্তর
যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবি মুহাম্মাদ-এর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিবৃন্দের ওপর এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
আমরা 'ফাতাওয়া আল-আইম্মাহ ফিল নাওয়াজিল আল-মুদলাহিম্মাহ' নামক কিতাবটি পর্যালোচনা করেছি, যা শেখ মুহাম্মাদ বিন হুসাইন আল-কাহতানি—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—সংকলন করেছেন। আমরা একে এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী কিতাব হিসেবে পেয়েছি। কারণ এই যে, যখন মুসলিম উম্মাহর ওপর ফিতনা (فتنة) ও কঠিন দুর্যোগ (نازلة) আপতিত হয়, তখন উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিজ্ঞ আলেমদের (عالم) শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। যাঁরা আল্লাহর তাওফিক ও তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নূরের মাধ্যমে এবং আল্লাহ তাঁদের যে ইলম ও হেদায়েত দান করেছেন তার মাধ্যমে বিষয়গুলোর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে উম্মাহর জন্য কী কল্যাণকর তা জানেন। তেমনিভাবে তাঁরা সকল পরিস্থিতিতে আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী উম্মাহকে পরিচালিত করেন। আর এই সঠিক মানহাজ (منهج)—অর্থাৎ ফিতনার (فتنة) সময় বিষয়গুলোকে তার যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট সোপর্দ করা—একটি শরিয়তসম্মত মূলনীতি (أصل)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যখন শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ তাদের কাছে আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। অথচ যদি তারা তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে সোপর্দ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) নিতে সক্ষম, তারা এর প্রকৃত রহস্য অনুধাবন করতে পারত।"
শেখ মুহাম্মাদ আল-কাহতানি যেসব ফতোয়া ও বিবৃতি সংকলন করেছেন, সেগুলো এমন সব আলেমদের পক্ষ থেকে এসেছে যাঁদের আমরা—কারো পবিত্রতার গ্যারান্টি আমরা আল্লাহর কাছে দিই না—রব্বানি (رباني) আলেম (عالم) হিসেবে গণ্য করি। তাঁরা সঠিক ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন, শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন এবং মানুষকে তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের পথে পরিচালিত করেছেন।
ফলে এই কিতাবটি এমন ব্যক্তির জন্য একটি মারজা (مرجع) বা আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিগণিত হবে যার ওপর কোনো দুর্যোগ (نازلة) আপতিত হয়েছে। সে অনুরূপ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য জানতে পারবে, ফলে তার অন্তর প্রশান্ত হবে এবং সে স্বচ্ছ জ্ঞান (بصيرة)-এর ওপর ভিত্তি করে তার রবের ইবাদত করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের সংকলককে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই গুণী আলেমদের (عالم) মুসলমানদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। তাঁরা যা শিক্ষা দিয়েছেন ও বর্ণনা করেছেন, তা তাঁদের নেকির পাল্লায় এবং তাঁদের চরম প্রয়োজনে সঞ্চিত পাথেয় হিসেবে কবুল করুন।
আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবিবৃন্দের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
সৌদি আরব রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি
সিনিয়র উলামা কাউন্সিল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগের প্রধান
আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল শেখ
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الشيخ صالح بن فوزان الفوزانالحمد لله الذي من علينا بنعمة الإسلام، وأمرنا بالتمسك به ليوصلنا به إلى دار السلام، والصلاة والسلام على نبينا محمد خير الأنام. وعلى آله وصحابته البررة الكرام، أما بعد:
فقد اطلعت على ما جمعه الأخ الشيخ: محمد بن حسين القحطاني من كلام العلماء وفتاواهم في موضوع الأحداث الجارية من بعض الشباب المغرر بهم من أقوال وأفعال شاذة، وخروج على الآداب الإسلامية، وإخلال بالأمن، وترويع وتقتيل للأبرياء.
ولا شك أن لكل حادث حديثا، فتكلم العلماء بما يقتضيه الشرع حول تلك الأحداث، واستنكروها، وبينوا حكمها وحكم القائم بها في الإسلام؛ نصيحة للأمة، وكشفا للشبهات، على ما يقتضيه الواجب عليهم نحو هذه التصرفات المشينة، فكان فيما جمعه الشيخ محمد من كلامهم وفتاواهم فيما سماه:
(فتاوى الأئمة في حكم التفجيرات في البلاد الإسلامية وغيرها) خير مقنع لمن أراد الله هدايته، ومن لم يرد الله هدايته فلن تملك له من الله شيئا.
فجزاه الله خير الجزاء، ونفع بمجهوده الطيب. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
كتبه:
صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان
শায়খ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজানের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের নিআমত দান করেছেন এবং এটি মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি এর মাধ্যমে আমাদের শান্তির নিকেতনে পৌঁছে দেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সৃষ্টির সেরা; এবং তাঁর পরিবার ও পুণ্যবান সম্মানিত সাহাবীবৃন্দের ওপর। অতঃপর:
আমি ভ্রাতৃপ্রতিম শায়খ মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-কাহতানি সংকলিত আলেমদের সেই সব বক্তব্য ও ফতোয়াগুলো পর্যালোচনা করেছি, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্ত একদল যুবকের বিচ্ছিন্ন (شاذة) কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড, ইসলামী শিষ্টাচার লঙ্ঘন, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নিরপরাধ মানুষকে আতঙ্কিত করা ও হত্যার বিষয়ে প্রদান করা হয়েছে।
নিঃসন্দেহে প্রতিটি পরিস্থিতিরই একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস (কথা বা বিধান) রয়েছে। তাই আলেমগণ শরিয়তের দাবি অনুযায়ী ঐ সকল ঘটনাবলী সম্পর্কে কথা বলেছেন, এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং উম্মতের জন্য কল্যাণকামিতা হিসেবে ও সংশয়সমূহ নিরসনে ইসলামে এ সব কাজের এবং এগুলোতে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিধান বর্ণনা করেছেন; যা এই নিন্দনীয় আচরণের প্রতি তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। শায়খ মুহাম্মদ তাদের সেই বক্তব্য ও ফতোয়াগুলো একটি সংকলনে একত্রিত করেছেন যার নাম তিনি দিয়েছেন:
(ইসলামী রাষ্ট্রসমূহ ও অন্যান্য স্থানে বোমা হামলার বিধান সম্পর্কে ইমামগণের ফতোয়া); এটি সেই ব্যক্তির জন্য উত্তম সন্তুষ্টিদায়ক দলিল যাকে আল্লাহ হেদায়েত দিতে চান। আর আল্লাহ যার হেদায়েত চান না, তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই।
আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার এই উত্তম প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ করুন। আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবৃন্দের ওপর।
লেখকের স্বাক্ষর:
সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
اللهم إنا نستكفي بك الافتتان بإطراء المادح، وإغضاء المسامح، كما نستكفي بك الانتصاب لإزراء القادح، وهتك الفاضح.
قال الإمام الشافعي (1):
ما ناظرت أحدا قط على الغلبة وبودي أن جميع الخلق تعلموا هذا الكتاب -يعني كتبه-
على أن لا ينسب إلي منه شيء (2)
وقال رحمه الله: (3) "ليس إلى السلامة من الناس سبيل فانظر الذي فيه صلاحك فالزمه".
--------------------------------------------
হে আল্লাহ! আমরা প্রশংসাকারীর অতিশয়োক্তি দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া এবং ক্ষমাশীলের উপেক্ষা প্রদর্শন থেকে আপনার মাধ্যমে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি, যেমনটি আমরা সুরক্ষা চাই নিন্দাকারীর অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং কুৎসা রটনাকারীর অপমান থেকে।
ইমাম শাফেঈ (১) বলেছেন:
"আমি কখনোই কারো সাথে বিজয়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে বিতর্কে লিপ্ত হইনি এবং আমি মনে-প্রাণে কামনা করি যে, সমস্ত সৃষ্টি এই কিতাবগুলো—অর্থাৎ তাঁর গ্রন্থসমূহ—শিখুক,
তবে এর কোনো কিছুই যেন আমার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা না হয়।" (২)
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) (৩) আরও বলেছেন: "মানুষের (সমালোচনা) থেকে নিরাপদ থাকার কোনো পথ নেই, সুতরাং যাতে তোমার কল্যাণ নিহিত আছে তা দেখো এবং তা আঁকড়ে ধরো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وبعد:
أحمد الله الذي بنعمته تتم الصالحات؛ على ما يسر ووفق لهذا الكتاب من الرواج الكبير، والانتشار العريض، وما كنت أظن أن يبلغ هذا الكتاب ما بلغ؛ حتى توافرت عليه الثناءات، وأطبقت لحسنه الجماعات، وما ذاك إلا لتوفيق الله أولا، ثم لمتانة ما فيه من فقه علمائنا، ولاة أمرنا، "أئمة الأنام، وزوامل الإسلام، الذين حفظوا على الأمة معاقد الدين ومعاقله، وحموا من التغيير والتكدير موارده ومناهله" (1) أمناء الشريعة، وعدول الأمة، "فقهاء الإسلام، ومن دارت الفتيا على أقوالهم بين الأنام، الذين خصوا باستنباط الأحكام، وعنوا بضبط الحلال من الحرام" (2) فقد حوى كلامهم النصائح والدرر، ودار في فقه الحديث والسور، وحمل العلم النافع بأنواعه؛ حتى غدت علومهم، وجميل فهومهم؛ بلسما شافيا، ودواء ناجعا، لمن طلب السلامة، ورام الكرامة.
وهذا شأن الراسخين في العلم، الذين أفنوا فيه أزمانا وأعمارا، وحملوه يقينا واقتدارا، حتى غدوا كالجبل الأشم في وجه شبه الغالين والجافين، قال ابن القيم رحمه الله: "إن الراسخ في العلم لو وردت عليه من الشبه بعدد أمواج البحر؛ ما أزالت يقينه، ولا قدحت فيه شكا؛ لأنه
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
আমি সেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা পায়; তিনি এই কিতাবটিকে যে বিপুল জনপ্রিয়তা ও ব্যাপক প্রচারের তাওফিক দিয়েছেন সেজন্য। আমি কল্পনাও করিনি যে এই কিতাবটি এমন উচ্চতায় পৌঁছাবে; এমনকি এর ওপর ভূয়সী প্রশংসা বর্ষিত হয়েছে এবং সর্বস্তরের আলেমগণ এর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। আর এটি মূলত প্রথমত আল্লাহর তাওফিকের কারণে, অতঃপর এতে আমাদের উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনের কর্ণধারদের ফিকহের যে সুদৃঢ়তা রয়েছে তার কারণে। তাঁরা হলেন "সৃষ্টি জগতের ইমাম (أئمة), ইসলামের পতাকাবাহী, যাঁরা উম্মতের জন্য দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি ও দুর্গসমূহ সংরক্ষণ করেছেন এবং এর উৎস ও ঝর্ণাধারাগুলোকে পরিবর্তন ও কলুষতা থেকে রক্ষা করেছেন।" (১) তাঁরা শরীয়তের আমানতদার এবং উম্মতের ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিবর্গ, "ইসলামের ফকিহগণ, যাঁদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই মানুষের মাঝে ফতোয়া আবর্তিত হয়, যাঁরা বিধান আহরণে (استنباط) বিশেষায়িত এবং হালাল-হারামের সীমারেখা নির্ধারণে নিবিষ্ট।" (২) তাঁদের কথা ও বাণী উপদেশ ও মুক্তাতুল্য জ্ঞানে সমৃদ্ধ, যা হাদিস ও কুরআনের সূরার ফিকহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তাঁরা সকল প্রকার উপকারী জ্ঞান বহন করেছেন; যার ফলে তাঁদের ইলম এবং চমৎকার বোধশক্তি এক পশম-তুল্য আরোগ্য ও কার্যকর মহৌষধে পরিণত হয়েছে তাঁদের জন্য, যারা নিরাপত্তা ও সম্মান অন্বেষণ করে।
আর এটাই হলো জ্ঞানে সুগভীর (راسخين) ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য, যাঁরা এর পেছনে যুগ ও জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং সুদৃঢ় ইয়াকিন ও পারদর্শিতার সাথে তা বহন করেছেন, এমনকি তাঁরা সীমালঙ্ঘনকারী ও শিথিলকারীদের সংশয়ের মুখে সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল থেকেছেন। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জ্ঞানে সুগভীর (راسخ) ব্যক্তির নিকট যদি সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় অসংখ্য সংশয়ও উপস্থিত হয়, তবুও তা তাঁর ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাসকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে না এবং তাঁর মধ্যে কোনো সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে না; কারণ তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قد رسخ في العلم، فلا تستفزه الشبهات؛ بل إذا وردت عليه: ردها حرس العلم وجيشه مغلولة مغلوبة" (1).
قال ابن أبي العز: "كل أمة قبل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم علماؤها شرارها، إلا المسلمين؛ فإن علماءهم خيارهم، فإنهم خلفاء الرسول في أمته، جعلهم الله بمنزلة النجوم؛ يهتدى بها في ظلمات البر والبحر" (2).
هذا وإن من اللازم عرض فهومنا للوحيين عليهم، والصدور عن ما رأوه وقرروه؛ وذلك لتكامل علومهم، ودقة فهومهم، وإسناد فقههم، قال الشيخ محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ رحمه الله: "فلو أن إنسانا قال: ما نقبل إلا بظاهر لفظ القرآن، وتعلق بظاهر لفظ لا يعرف معناه، أو أوله على غير تأويله، ولم يعرضه على العلماء؛ بل يعتمد على فهمه هو؛ فقد ضاهى الخوارج المارقين" (3).
فلا مناص من اتباع العلماء الشيوخ الأكابر، أهل البصر الحديد، والرأي السديد، فعن أبي أمية اللخمي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أشراط الساعة ثلاثة: إحداهن أن يلتمس العلم عند الأصاغر» (4).
وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "فساد الدين إذا جاء العلم من قبل الصغير استعصى عليه الكبير، وصلاح الناس إذا جاء العلم من قبل
--------------------------------------------
"তিনি জ্ঞানে সুদৃঢ় (راسخ), তাই কোনো সংশয় তাকে বিচলিত করতে পারে না; বরং যখন তা তার নিকট উপস্থিত হয়, তখন ইলমের অতন্দ্র প্রহরী ও বাহিনী সেগুলোকে শৃঙ্খলিত ও পরাভূত অবস্থায় প্রতিহত করে" (১).
ইবন আবিল ইয বলেছেন: "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরণের পূর্ববর্তী প্রত্যেক উম্মতের আলেমগণ ছিল তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম, কেবল মুসলিম উম্মাহ ব্যতীত; কেননা তাদের আলেমগণ হলেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম (خيار)। তারা উম্মতের মাঝে রাসূলের প্রতিনিধি (خلفاء)। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নক্ষত্ররাজির সমতুল্য করেছেন; যার মাধ্যমে স্থলভাগ ও জলভাগের অন্ধকারে পথপ্রদর্শন লাভ করা যায়" (২)।
তদুপরি, ওহীদ্বয়ের ব্যাপারে আমাদের বুঝ ও উপলব্ধিকে তাঁদের নিকট পেশ করা এবং তাঁরা যা সমীচীন মনে করেছেন ও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা গ্রহণ করা অপরিহার্য। আর তা তাঁদের ইলমের পূর্ণতা, প্রজ্ঞার সূক্ষ্মতা এবং তাঁদের ফিকহ বা সমঝের নির্ভরযোগ্য সনদের (إسناد) কারণেই। শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আল-শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি বলে যে, 'আমরা কুরআনের শব্দের কেবল বাহ্যিক (ظاهر) রূপ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করব না' এবং সে এমন শব্দের বাহ্যিক অর্থের সাথে লেগে থাকে যার অর্থ সে জানে না, অথবা তার অপব্যাখ্যা (تأويل) করে এবং তা আলেমদের নিকট উপস্থাপনা না করে বরং কেবল নিজের বুঝের ওপর নির্ভর করে; তবে সে ধর্মত্যাগী (مارقين) খারেজীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করল" (৩)।
সুতরাং প্রবীণ বিজ্ঞ আলেম, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সঠিক মতের অধিকারীদের অনুসরণ করা ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই। আবু উমাইয়া আল-লাখমি থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের (أشراط الساعة) মধ্যে তিনটি উল্লেখযোগ্য: তার একটি হলো অযোগ্য ছোটদের (أصاغر) নিকট ইলম অন্বেষণ করা" (৪)।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "দ্বীনের বিপর্যয় ঘটে যখন ইলম ছোটদের পক্ষ থেকে আসে এবং বড়রা তার অনুগামী হতে অস্বীকার করে। আর মানুষের কল্যাণ নিহিত থাকে যখন ইলম তাদের পক্ষ থেকে আসে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الكبير تابعه عليه الصغير" (1).
قال ابن مسعود رضي الله عنه:" لا يزال الناس بخير ما أخذوا العلم عن أكابرهم وعن أمنائهم وعلمائهم، فإذا أخذوا عن صغارهم وشرارهم هلكوا" (2).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قدم على عمر رجل، فجعل عمر يسأله عن الناس، فقال: يا أمير المؤمنين قد قرأ منهم القرآن كذا وكذا. فقال: ابن عباس، فقلت: والله ما أحب أن يتسارعوا يومهم هذا في القرآن هذه المسارعة، قال: فزبرني عمر، ثم قال: مه، قال: فانطلقت إلى أهلي مكتئبا حزينا، فقلت: قد كنت نزلت من هذا الرجل منزلة؛ فلا أراني إلا قد سقطت من نفسه، قال: فرجعت إلى منزلي فاضطجعت على فراشي، حتى عادني نسوة أهلي، وما بي وجع، وما هو إلا الذي تقبلني به عمر. قال: فبينا أنا على ذلك أتاني رجل، فقال: أجب أمير المؤمنين. قال: خرجت فإذا هو قائم ينتظرني، قال: فأخذ بيدي ثم خلا بي، فقال: ما الذي كرهت مما قال الرجل آنفا؟. قال: فقلت: يا أمير المؤمنين إن كنت أسأت فإني أستغفر الله وأتوب إليه، وأنزل حيث أحببت. قال: لتحدثني بالذي كرهت مما قال الرجل. فقلت: يا أمير المؤمنين متى ما تسارعوا هذه المسارعة يحيفوا، ومتى ما يحيفوا يختصموا، ومتى ما يختصموا يختلفوا، ومتى ما يختلفوا يقتتلوا.
--------------------------------------------
"বড়দের অনুসরণ করে ছোটরা" (১)।
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা তাদের প্রবীণ (أكابر), বিশ্বস্ত (أمناء) এবং আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করবে। কিন্তু যখন তারা তাদের নবীন (صغار) ও মন্দদের (شرار) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে" (২)।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর (রা.)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসলেন। ওমর (রা.) তাকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন। তখন সেই ব্যক্তি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! তাদের মধ্য থেকে অনেকে এভাবে কুরআন পাঠ করেছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! মানুষ বর্তমানে কুরআনের ক্ষেত্রে যেভাবে এই দ্রুতগতি অবলম্বন করছে, আমি তা পছন্দ করি না। তিনি বলেন: ওমর (রা.) আমাকে ধমক দিলেন এবং বললেন: থামো। তিনি বলেন: এরপর আমি বিষণ্ণ ও দুঃখিত চিত্তে নিজের পরিবারের নিকট ফিরে গেলাম। আমি মনে মনে বললাম, আমি তো এই লোকটির নিকট একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ছিলাম; কিন্তু এখন দেখছি আমি তাঁর দৃষ্টি থেকে পড়ে গেছি। তিনি বলেন: আমি বাড়িতে ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়লাম, এমনকি আমার পরিবারের মহিলারা আমাকে দেখতে আসলেন, অথচ আমার কোনো শারীরিক ব্যাধি ছিল না; বরং ওমর (রা.) আমার সাথে যে আচরণ করেছিলেন সেটিই ছিল এর কারণ। তিনি বলেন: আমি যখন এই অবস্থায় ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: আমিরুল মুমিনীনের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেন: আমি বের হলাম এবং দেখলাম তিনি দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নির্জনে নিয়ে গেলেন। এরপর বললেন: কিছুক্ষণ আগে ওই ব্যক্তি যা বলেছিল, তার মধ্যে তোমার অপছন্দনীয় বিষয়টি কী ছিল? তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি যদি মন্দ কিছু করে থাকি তবে আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি, আপনি আমাকে যেখানে রাখতে চান আমি সেখানেই থাকব। তিনি বললেন: ওই ব্যক্তির কথায় তোমার যা অপছন্দ হয়েছে তা আমাকে অবশ্যই বলবে। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! যখন তারা এভাবে দ্রুতগতি অবলম্বন করবে তখন তারা অবিচার করবে, আর যখন তারা অবিচার করবে তখন তারা বিবাদে লিপ্ত হবে, আর যখন তারা বিবাদে লিপ্ত হবে তখন তারা মতবিরোধে জড়াবে, আর যখন তারা মতবিরোধে জড়াবে তখন তারা একে অপরকে হত্যা করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فقال عمر: "لله أبوك! لقد كنت أكاتمها الناس حتى جئت بها" (1).
هذا .. وإن في البعد عن اتباع العلماء السبب الأكيد لإدخال الوهن على أمة محمد صلى الله عليه وسلم، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "من فارق السبيل كان كمن يمشي في الصحراء بغير دليل، فهذا هلاكه أقرب إليه من نجاته". فلا تلتفت يمينا أو شمالا إلا وترى من الشرور العظيمة، والمفاسد الجسيمة؛ ما لا يحصيه إلا الله عز وجل، وما هذه الفتن التي تنخر في جسد الأمة؛ من اختطاف وتفجير، واغتيال وتكفير؛ إلا أوضح دليل على ما أقول، فإن مشاكل الأمة لا تحل بقول فلان أو فلان من الصالحين أو الوعاظ؛ لمجرد أنه يحمل هم الإسلام! قال سحنون بن سعيد: "لا أدري ما هذا الرأي؟! سفكت به الدماء، واستحلت به الفروج، واستخفت به الحقوق، غير أنا وجدنا رجلا صالحا فقلدناه" (2).
قال الشيخ سعد بن عتيق (3) رحمه الله: "ومن أعظم أسباب التفرق والاختلاف، والعدول عن طريق الحق والإنصاف؛ ما وقع فيه كثير من الناس من الإفتاء في دين الله بغير علم، والخوض في مسائل العلم بلا فهم ولا دراية، قال الله تعالى: {فمن أظلم ممن افترى على الله كذبا ليضل الناس بغير علم إن الله لا يهدي القوم الظالمين} وقد قال في هذا الصنف من الناس: {ليحملوا أوزارهم كاملة يوم القيامة ومن أوزار الذين يضلونهم بغير علم ألا ساء ما يزرون}.
--------------------------------------------
উমর (রা.) বললেন: "তোমার পিতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান হোক! আমি এটি মানুষের কাছে গোপন রাখছিলাম যতক্ষণ না তুমি তা প্রকাশ করলে" (১)।
এটি হচ্ছে.. আর নিশ্চয়ই উলামায়ে কিরামের অনুসরণ থেকে দূরে থাকার মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ওপর দুর্বলতা (وهن) প্রবেশের নিশ্চিত কারণ নিহিত রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে যেন মরুভূমিতে কোনো প্রমাণ বা পথপ্রদর্শক (دليل) ছাড়াই পথ চলছে; তার জন্য ধ্বংস তার মুক্তির চেয়েও নিকটবর্তী।" সুতরাং আপনি ডানে বা বামে যেদিকেই তাকান না কেন, মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ গণনা করতে পারে না এমন মহান অনিষ্ট এবং গুরুতর ফাসাদ দেখতে পাবেন; আর উম্মতের দেহে কামড় বসানো এই সকল ফিতনা—যেমন অপহরণ, বোমা বিস্ফোরণ, হত্যাকাণ্ড এবং তাকফির (تكفير)—আমি যা বলছি তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ (دليل)। কেননা উম্মতের সমস্যাবলি নেককার বা ওয়ায়েজদের মধ্যকার অমুক বা তমুকের কথার মাধ্যমে সমাধান হবে না; শুধুমাত্র একারণেই যে সে ইসলামের ব্যথা হৃদয়ে ধারণ করে! সাহনুন ইবনে সাঈদ বলেছেন: "আমি জানি না এই রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) কী?! এর মাধ্যমে রক্ত ঝরানো হয়েছে, লজ্জাস্থানকে বৈধ করা হয়েছে এবং অধিকারকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়েছে; অথচ আমরা একজন নেককার লোক পেয়েছি এবং তার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করেছি" (২)।
শাইখ সাদ বিন আতিক (৩) (রহ.) বলেছেন: "দলাদলি ও মতভেদের অন্যতম প্রধান কারণ এবং সত্য ও ইনসাফের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার মূল কারণ হলো—আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান (علم) ছাড়াই ফতোয়া প্রদান (إفتاء)-এর ক্ষেত্রে অনেক মানুষের লিপ্ত হওয়া, এবং ইলমের মাসআলাসমূহে বুঝ ও প্রজ্ঞা (دراية) ছাড়াই অনধিকার চর্চা করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে মানুষকে জ্ঞান (علم) ছাড়াই বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।} আর এই শ্রেণীর মানুষের ব্যাপারে তিনি বলেছেন: {যাতে তারা কিয়ামতের দিন তাদের নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণরূপে বহন করে এবং তাদের পাপের বোঝাও বহন করে যাদেরকে তারা জ্ঞান (علم) ছাড়াই বিভ্রান্ত করে। সাবধান! তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট!}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وإني لأهيب بإخوتي من طلبة العلم بالسير حثيثا لخدمة علمائنا الأجلاء، وبيان أفضالهم وجهودهم، ونشر توجيهاتهم وعلومهم، فهم أخص من يوالى ويحب، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "فيجب على المسلمين بعد موالاة الله ورسوله؛ موالاة المؤمنين، كما نطق به القرآن، خصوصا العلماء الذين هم ورثة الأنبياء، الذين جعلهم الله بمنزلة النجوم؛ يهتدى بهم في ظلمات البر والبحر، وقد أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، إذ كل أمة قبل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم فعلماؤها شرارها؛ إلا المسلمين؛ فإن علماءهم خيارهم، فإنهم خلفاء الرسول في أمته، والمحيون لما مات من سنته، بهم قام الكتاب، وبه قاموا، وبهم نطق الكتاب وبه نطقوا .. " (1).
وبعد: فتمتاز هذه الطبعة بأمر نفيس ألا وهو تقديم إمامين كبيرين، وشيخين جليلين؛ سماحة مفتي عام المملكة العربية السعودية الشيخ العلامة النحرير: عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ، وشيخي وأستاذي الفقيه العلم المربي الدكتور: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، بنى الله لهم في الجنة دارا، وأخمد لعدوهم نارا، وأعلى لهم في الدنيا منارا.
ومما امتازت به هذه الطبعة زيادة عدد صالح من الفتاوى المهمة في موضوع الكتاب؛ وكان شرطي ولا يزال: هو النقل -من المعاصرين- عن أعضاء هيئة كبار العلماء، خلا فتاوى للشيخ المحدث: ناصر الدين الألباني
--------------------------------------------
আমি আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই যে, তাঁরা যেন আমাদের মহান উলামায়ে কেরামের খিদমতে, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনা করতে এবং তাঁদের দিকনির্দেশনা ও জ্ঞানসমূহ প্রচার করতে দ্রুত সচেষ্ট হন। কেননা তাঁরাই হচ্ছেন আনুগত্য ও ভালোবাসার (موالاة) এবং মহব্বতের সর্বাধিক যোগ্য। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্যের (موالاة) পর মুমিনদের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা (موالاة) পোষণ করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক, যেমনটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সেই উলামায়ে কেরামের প্রতি যাঁরা নবীদের ওয়ারিশ। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে নক্ষত্রতুল্য করেছেন, যাঁদের মাধ্যমে স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথচলা যায়। তাঁদের হিদায়াত এবং প্রজ্ঞার (دراية) বিষয়ে মুসলমানগণ ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেরণের পূর্বে প্রত্যেক জাতির আলেমরাই ছিল তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম; কিন্তু মুসলমানদের আলেমগণ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁরা উম্মতের মাঝে রাসূলের উত্তরসূরি এবং তাঁর সুন্নতের যা বিলুপ্ত হয়েছে তার পুনরুজ্জীবনকারী। তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁরাও কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলেছে এবং তাঁরাও কিতাবের মাধ্যমে কথা বলেছেন..." (১)।
অতঃপর: এই সংস্করণটি একটি অমূল্য বৈশিষ্ট্যে অনন্য, আর তা হলো দুইজন মহান ইমাম এবং বরেণ্য শায়খের ভূমিকা প্রদান; তাঁরা হলেন সৌদি আরবের সম্মানিত গ্র্যান্ড মুফতি, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-শেখ এবং আমার শায়খ ও শিক্ষক, ফকিহ, বিজ্ঞ ও মুরব্বি ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান। আল্লাহ জান্নাতে তাঁদের জন্য গৃহ নির্মাণ করুন, তাঁদের শত্রুদের আগুন নির্বাপিত করুন এবং দুনিয়াতে তাঁদের সম্মানের মিনার সমুন্নত করুন।
এই সংস্করণের আরেকটি বিশেষ দিক হলো কিতাবের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া বৃদ্ধি করা। সমসাময়িকদের মধ্য থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমার শর্ত ছিল এবং যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে: তা হলো 'হায়আত কিবারিল উলামা' (উচ্চ উলামা পরিষদ)-এর সদস্যদের মধ্য থেকে উদ্ধৃত করা; কেবল মুহাদ্দিস (محدث) শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর ফতোয়া ব্যতীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
-رحمه الله، وفتوى لشيخي الأول، وأستاذي المبجل، الأديب العريب، الفقيه الأريب: صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ.
وأختم المقال بكلمة قالها أمير المؤمنين هشام بن عبد الملك عندما ظهر في عهده رجل يقول بالقدر، وقد أغوى خلقا كثيرا. فأحضره هشام بن عبد الملك وأحضر الإمام الأوزاعي ليناظره، فغلبه الأوزاعي بالحجة والبيان، وبهت الرجل، ولم يستطع جوابا، فقال هشام بن عبد الملك: "حياة الخلق وقوام الدين بالعلماء" (1).
وبعد:
فهل من مستجيب للسداد، ونداء الحق والرشاد، في فتاوى الأئمة، الذين يربون الأمة، ويدفعون عنها -بإذن الله- في النوازل المدلهمة؟!.
وكتب
محمد بن حسين بن سعيد آل سفران القحطاني
--------------------------------------------
—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, এবং এটি আমার প্রথম শাইখ, আমার সম্মানিত উস্তাদ, বিজ্ঞ সাহিত্যিক ও বিচক্ষণ ফকিহ: সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল আশ-শাইখ-এর একটি ফতোয়া।
আমি এই প্রবন্ধটি আমিরুল মুমিনিন হিশাম বিন আব্দুল মালিকের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি যা তিনি তখন বলেছিলেন যখন তাঁর শাসনামলে তাকদির (তাকদির অস্বীকারকারী) মতবাদে বিশ্বাসী এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল এবং সে বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তখন হিশাম বিন আব্দুল মালিক তাকে তলব করেন এবং ইমাম আওজাইকে তাঁর সাথে বিতর্ক করার জন্য উপস্থিত করেন। অতঃপর ইমাম আওজাই অকাট্য দলিল ও সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে তাকে পরাজিত করেন এবং লোকটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে ও কোনো উত্তর দিতে সক্ষম হয়নি। তখন হিশাম বিন আব্দুল মালিক বলেছিলেন: "সৃষ্টির জীবন এবং দ্বীনের স্থায়িত্ব আলেমদের মাধ্যমেই সম্ভব" (১)।
অতঃপর:
সঠিক পথ এবং সত্য ও হিদায়াতের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো কি কেউ আছে, যা সেই সকল ইমামদের ফতোয়ার মধ্যে নিহিত যারা এই উম্মতকে গড়ে তোলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে ঘোরতর বিপদাপদে উম্মতের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন?!
লিখেছেন
মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন সাঈদ আল সাফরান আল কাহতানি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الإمام البخاري رحمه الله:
باب الفتنة التي تموج كموج البحر
وقال ابن عيينة عن خلف بن حوشب:
كانوا يستحبون أن يتمثلوا بهذه الأبيات عند الفتن
قال امرؤ القيس:
الحرب أول ما تكون فتية
… تسعى بزينتها لكل جهول
حتى إذا اشتعلت وشب ضرامها
… ولت عجوزا غير ذات حليل
شمطاء ينكر لونها وتغيرت
… مكروهة للشم والتقبيل
ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:
পরিচ্ছেদ: সেই ফিতনা (فتنة) যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে
ইবনে উয়ায়না খালাফ বিন হাওশাব থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন:
তাঁরা ফিতনার (فتنة) সময় এই কবিতাগুলো উদাহরণ হিসেবে পেশ করা পছন্দ করতেন
ইমরুল কায়েস বলেছেন:
যুদ্ধ যখন প্রথম শুরু হয় তখন তা এক নবযৌবনা তরুণীর মতো থাকে
… যে তার রূপ-লাবণ্য নিয়ে প্রতিটি অজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করতে ধাবিত হয়
অবশেষে যখন তা প্রজ্জ্বলিত হয় এবং তার অগ্নিশিখা তীব্র রূপ নেয়
… তখন তা স্বামীহীন এক বৃদ্ধার ন্যায় রূপ ধারণ করে প্রস্থান করে
এমন এক পাকা চুলবিশিষ্ট বৃদ্ধা যার বর্ণ বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গেছে
… যা ঘ্রাণ নেওয়া বা চুম্বনের জন্য অত্যন্ত কদর্য
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمةالحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل؛ بقايا من أهل العلم، يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يحيون بكتاب الله تعالى الموتى، ويبصرون بنور الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس أحيوه، وكم من ضال تائه قد هدوه؛ فما أحسن أثرهم على الناس، وما أقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة، وأطلقوا عنان الفتنة؛ فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، يتكلمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهال الناس بما يشبهون عليهم، فنعوذ بالله من فتنة المضلين.
ونشهد أن لا إله إلا الله الملك الحق المبين، وأن محمدا عبده ورسوله الأمين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن سار على نهجه واستن بسنته إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن الله جل وعلا اختار محمدا صلى الله عليه وسلم لنفسه وليا، وبعثه إلى خلقه نبيا، ليدعو الخلق من عبادة العباد إلى عبادته، ومن اتباع السبل إلى لزوم طاعته؛ حيث كان الخلق في جاهلية جهلاء، وعصبية مضلة عمياء، يهيمون في الفتن حيارى، ويخوضون في الأهواء سكارى، يترددون في بحار الضلالة،
ভূমিকা (مقدمة)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলগণের আগমনের মধ্যবর্তী বিরতিকালীন সময়ে প্রত্যেক যুগে ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্য হতে একদল অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে রেখেছেন; যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের (هدى) দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ হতে আসা নিগ্রহে ধৈর্য ধারণ করেন। তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। শয়তানের শিকারে পরিণত হওয়া কত যে মৃতকে তারা পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং কত দিশেহারা পথভ্রষ্টকে তারা সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না চমৎকার, আর তাদের প্রতি মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ (انتحال) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা (تأويل) দূর করেন; যারা বিদআতের (بدعة) ঝান্ডা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার (فتنة) লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব (কুরআন) বিষয়ে যেমন মতবিরোধকারী, তেমনি কিতাবের পরিপন্থী; আবার কিতাব পরিত্যাগের বিষয়ে তারা একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব বিষয়ে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট (متشابه) কথা নিয়ে আলোচনা করে এবং সাধারণ মানুষকে সংশয়পূর্ণ কথার মাধ্যমে প্রতারিত করে। আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা (فتنة) হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সত্য ও সুস্পষ্ট রাজাধিরাজ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও আমানতদার রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ ও সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করবেন, তাদের সবার ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর সৃষ্টির নিকট নবী (نبي) হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টির ইবাদত হতে স্রষ্টার ইবাদতের দিকে এবং বিবিধ ভ্রান্ত পথ অনুসরণ হতে তাঁর আনুগত্যের পথে আহ্বান করেন। তখন সৃষ্টিজগত ঘোর জাহিলিয়্যাত (جاهلية) এবং অন্ধ ও বিভ্রান্তিকর সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল; তারা ফিতনার (فتنة) মধ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ঘুরে বেড়াত এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় মত্ত হয়ে পথ চলত। তারা গোমরাহির (ضلالة) অতল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল।
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويجولون في أودية الجهالة. شريفهم مغرور، ووضيعهم مقهور، فبعثه الله إلى خلقه رسولا، وجعله إلى جنانه دليلا، فبلغ صلى الله عليه وسلم عنه رسالاته، وبين المراد بآياته، وأمر بكسر الأصنام، ودحض الأزلام، حتى أسفر الحق عن محضه، وأبدى الليل عن صبحه، وانحط به أعلام الشقاق، وانهشم بيضة النفاق. وإن في لزوم سنته تمام السلامة، وجماع الكرامة، لا تطفأ سرجها، ولا تدحض حججها، من لزمها عصم، ومن خالفها ندم، إذ هي الحصن الحصين، والركن الركين، الذين بان فضله، ومتن حبله، من تمسك به ساد، ومن رام خلافه باد، فالمتعلقون به أهل السعادة في الآجل، والمغبوطون بين الأنام في العاجل.
وإني لما رأيت حاجة الناس إلى فتاوى علماء الأمة في الأمور النازلة المدلهمة؛ رأيت جمعها في كتاب واحد؛ لتكون نورا في الظلمات، ويقينا في المدلهمات، وطمأنينة في المشكلات، وليكون بها النجاة من الفتن، وسلامة الدين والعرض والبدن، في أوقات ينسى فيها العلم، ويندر الحلم، ويقل الاتباع، ويكثر الابتداع، وتنشق الألفة، وتحل الفرقة، وينزل فيها البلاء، وتراق الدماء، فيها .. يتبرأ من أهل الولاء، ويتولى أهل البراء، ولا مخرج من الفتن إلا بالاعتصام بالسنة والأثر، ومراجعة التاريخ والسير، والعلم بأن هلاك أمة محمد هو بالبعد عن الهدي النبوي وورثته، والتنكب عن العلم وحملته.
قال الحق جل وعلا في محكم التنزيل: {ولقد ضربنا للناس في هذا القرآن من كل مثل ولئن جئتهم بآية ليقولن الذين كفروا إن أنتم إلا مبطلون كذلك يطبع الله على قلوب الذين لا يعلمون فاصبر إن وعد الله حق ولا يستخفنك الذين لا يوقنون} [الروم: آية 58 - 60].
এবং তারা অজ্ঞতার উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তাদের সম্ভ্রান্তরা ছিল অহংকারী এবং নিম্নবিত্তরা ছিল নিগৃহীত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাতের পথপ্রদর্শক বানালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে অর্পিত রিসালাতসমূহ পৌঁছে দিলেন, তাঁর আয়াতসমূহের উদ্দেশ্য বর্ণনা করলেন, মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিলেন এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরের (الأزلام) প্রথা বিলুপ্ত করলেন। পরিশেষে সত্য তার বিশুদ্ধতায় উদ্ভাসিত হলো এবং অন্ধকার অপসারিত হয়ে ভোরের আলো ফুটে উঠল। তাঁর মাধ্যমে বিভেদের পতাকাসমূহ অবনমিত হলো এবং মুনাফেকির শক্তি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। নিশ্চয়ই তাঁর সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরার মাঝে রয়েছে পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সকল সম্মানের আধার। এর প্রদীপসমূহ কখনো নির্বাপিত হয় না এবং এর প্রমাণসমূহ (حجج) কখনো খণ্ডিত হয় না। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরল সে সুরক্ষিত হলো এবং যে তার বিরোধিতা করল সে লজ্জিত হলো। কেননা তা হলো এক সুরক্ষিত দুর্গ এবং এক সুদৃঢ় স্তম্ভ, যার শ্রেষ্ঠত্ব সুষ্পষ্ট এবং রজ্জু অত্যন্ত মজবুত। যে তা অবলম্বন করল সে নেতৃত্ব লাভ করল এবং যে তার বিরুদ্ধাচরণ করল সে ধ্বংস হলো। সুতরাং যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে তারা পরকালে সৌভাগ্যবান হবে এবং ইহকালে মানুষের মাঝে ঈর্ষার পাত্র হিসেবে গণ্য হবে।
আমি যখন সমসাময়িক ভয়াবহ ও নবাগত সমস্যাবলিতে (النازلة) উম্মাহর আলেমদের ফতোয়ার প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করলাম, তখন আমি তা একটি গ্রন্থে সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম; যাতে তা অন্ধকারের মাঝে আলোকবর্তিকা হয়, ঘোর বিপদে এক নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) হয় এবং জটিলতায় প্রশান্তি বয়ে আনে। আর যেন এর মাধ্যমে ফিতনা থেকে মুক্তি এবং দ্বীন, মান-সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তা অর্জিত হয়—এমন এক সময়ে যখন ইলম বিস্মৃত হওয়া হচ্ছে, সহনশীলতা বিরল হয়ে পড়ছে, অনুসরণ (اتباع) কমে যাচ্ছে এবং বিদআত (ابتداع) বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং বিভেদ জন্ম নিচ্ছে। নেমে আসছে বালা-মুসিবত এবং রক্তপাত ঘটছে। যেখানে পরম সুহৃদদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে এবং বর্জনের যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা হচ্ছে। সুন্নাহ (سنة) ও আছার (أثر) আঁকড়ে ধরা এবং ইতিহাস ও সীরাত পর্যালোচনা ছাড়া ফিতনা থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ নেই। আর এই জ্ঞান রাখা যে, উম্মতে মুহাম্মাদীর ধ্বংস নিহিত রয়েছে নববী হিদায়াত ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের থেকে দূরে সরে যাওয়ায় এবং ইলম ও ইলমের বাহকদের থেকে বিমুখ হওয়ায়।
মহান সত্যাল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: {আর নিশ্চয় আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত পেশ করেছি। আর আপনি যদি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেন, তবে যারা কুফরি করেছে তারা অবশ্যই বলবে, ‘তোমরা তো কেবল বাতিলপন্থী।’ এভাবেই আল্লাহ জ্ঞানহীনদের অন্তরে মোহর মেরে দেন। সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।} [সূরা আর-রুম: আয়াত ৫৮ - ৬০]।
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير، وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله، إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير، فهل بعد هذا الخير من شر؟ قال: نعم، قلت: وهل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: نعم، وفيه دخن. قلت: وما دخنه؟ قال: قوم يهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر. قلت: فهل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: نعم، دعاة إلى أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها. قلت: يا رسول الله، صفهم لنا. فقال: هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا. قلت: فما تأمرني إن أدركني ذلك؟ قال: تلزم جماعة المسلمين وإمامهم. قلت: فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام؟ قال: فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك (1).
وبعد: فبين يديك أخي الكريم فتاوى لعلماء أئمة، أنت مأمور باتباعهم، ولزوم هديهم، أضعها بين يديك، لم أنقص فيها أو أزد، وإنما هو النقل والتبويب.
أسال الله جل في علاه أن يوفقنا لكل خير، وأن يباعدنا من كل شر،
--------------------------------------------
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: মানুষ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, তা আমাকে পেয়ে বসবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়াত ও অকল্যাণের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিকট এই কল্যাণ নিয়ে আসলেন; এই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তাতে কিছুটা ধোঁয়াটেভাব বা মালিন্য (دخن) থাকবে। আমি বললাম: সেই ধোঁয়াটেভাব বা মালিন্য (دخن) কী? তিনি বললেন: এমন এক গোষ্ঠী যারা আমার সুন্নাহ বা আদর্শ ছাড়া অন্য পথে পরিচালিত করবে; তাদের কিছু কাজ তোমার কাছে পরিচিত (ভালো) মনে হবে এবং কিছু কাজ অপরিচিত বা মন্দ (تنكر) মনে হবে। আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারী এক দল দাঈ বা প্রচারক; যে ব্যক্তি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: তারা আমাদেরই স্বজাতীয় এবং তারা আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম: যদি আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি মুসলিমদের জামাআত (جماعة) ও তাদের ইমামকে (إمام) আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম: যদি তাদের কোনো জামাআত (جماعة) এবং কোনো ইমাম (إمام) না থাকে? তিনি বললেন: তবে তুমি ওই সকল দল বা ফিরকা (الفرق) থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন (اعتزل) হয়ে যাও, যদিও তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে ধরে পড়ে থাকতে হয়; মৃত্যু আসা পর্যন্ত তুমি এই অবস্থাতেই অবিচল থাকবে (১)।
অতঃপর: হে আমার সম্মানিত ভাই, আপনার সম্মুখে বরণীয় ইমামগণের ফতোয়াসমূহ (فتاوى) উপস্থাপিত হলো, আপনি তাঁদের অনুসরণ করতে এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথের ওপর অটল থাকতে আদিষ্ট। আমি এগুলো আপনার নিকট পেশ করছি; আমি এতে কোনো কিছু হ্রাস বা বৃদ্ধি করিনি, বরং এটি নিছক বর্ণনা ও অধ্যায় বিন্যাস (تبويب) মাত্র।
আমি সুউচ্চ মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল কল্যাণের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের সকল অকল্যাণ থেকে দূরে রাখেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأن يعصمنا من الفتن ما ظهر منها وبطن، وأن يجعلنا مفاتيح للخير مغاليق للشر، وأن ينصر دينه، ويعلي كلمته. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
وكتب
أفقر العباد إلى الله وأحوجهم لعفوه ومغفرته ورضاه
محمد بن حسين بن سعيد آل سفران القحطاني
الرياض حرسها الله
ص. ب: 816 الرياض 11321
এবং তিনি যেন আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করেন, এবং আমাদের কল্যাণের চাবিকাঠি ও অকল্যাণের প্রতিবন্ধক হিসেবে কবুল করেন, এবং তিনি যেন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
আল্লাহর নিকট অত্যন্ত দীন এবং তাঁর ক্ষমা, মাগফিরাত ও সন্তুষ্টির সর্বাধিক মুখাপেক্ষী বান্দা
মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন সাঈদ আল সাফরাান আল কাহনতানি
রিয়াদ, আল্লাহ একে হেফাযত করুন
পোস্ট বক্স: ৮১৬, রিয়াদ ১১৩২১
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فتاوى الأئمةفيحكم التفجيرات والتخريب في البلاد الإسلامية وغيرها
ইমামগণের ফতোয়াসমূহবিষয়েমুসলিম দেশসমূহ ও অন্যত্র বোমা হামলা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিধান (حكم)
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بيان من هيئة كبار العلماء حول حوادث التفجير الأخيرةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين؛ نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإن مجلس هيئة كبار العلماء في دورته التاسعة والخمسين التي انعقدت في مدينة الطائف، ابتداء من تاريخ 11/ 6/ 1424هـ؛ قد استعرض ما جرى مؤخرا في المملكة العربية السعودية من تفجيرات؛ استهدفت تخريبا، وقتل أناس معصومين، وأحدثت فزعا وإزعاجا.
كما استعرض ما اكتشف من مخازن للأسلحة، ومتفجرات خطيرة؛ معدة للقيام بأعمال تخريب ودمار في هذه البلاد؛ التي هي حصن الإسلام، وفيها حرم الله، وقبلة المسلمين، ومسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولأن مثل هذه الاستعدادات الخطيرة المهيأة لارتكاب الإجرام؛ من أعمال التخريب، والإفساد في الأرض؛ مما يزعزع الأمن، ويحدث قتل الأنفس، وتدمير الممتلكات الخاصة والعامة، ويعرض مصالح الأمة لأعظم الأخطار.
ونظرا لما يجب على علماء البلاد من البيان تجاه هذه الأخطار: من وجوب التعاون بين كافة أفراد الأمة لكشفها، ودفع شرها، والتحذير منها، وتحريم السكوت عن الإبلاغ عن كل خطر يبيت ضد هذا الأمن: رأى المجلس وجوب البيان؛ لأمور تدعو الضرورة إلى بيانها في هذا الوقت؛ براءة للذمة، ونصحا للأمة، وإشفاقا على أبناء المسلمين من أن يكونوا أداة فساد وتخريب، وأتباعا لدعاة الضلالة والفتنة والفرقة، وقد أخذ
সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সিনিয়র স্কলারদের পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিযাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত; আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সিনিয়র স্কলারদের পরিষদের উনষাটতম অধিবেশনে, যা ১১/০৬/১৪২৪ হিজরি তারিখ থেকে তায়েফ নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সৌদি আরবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সেই বিস্ফোরণগুলোর পর্যালোচনা করেছে; যেগুলোর লক্ষ্য ছিল নাশকতামূলক ধ্বংসযজ্ঞ এবং এমন সব মানুষকে হত্যা করা যাদের জীবন ও রক্ত শরিয়ত কর্তৃক সংরক্ষিত, যা জনমনে চরম ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
একইভাবে পরিষদ উদ্ধারকৃত সেই সব অস্ত্রের গুদাম এবং বিপজ্জনক বিস্ফোরকসমূহও পর্যালোচনা করেছে, যা এই দেশে নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল; যে দেশ ইসলামের দুর্গ এবং যেখানে আল্লাহর পবিত্র হারাম, মুসলিমদের কিবলা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ অবস্থিত। যেহেতু অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে তৈরি এই ধরনের বিপজ্জনক প্রস্তুতিসমূহ, যেমন নাশকতামূলক ধ্বংসযজ্ঞ এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা; যা নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, প্রাণের বিনাশ ঘটায়, ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে এবং উম্মাহর স্বার্থকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
আর এই সকল বিপদের মুখে দেশের আলেমদের ওপর যে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের আবশ্যকতা রয়েছে: যেমন—এগুলো উন্মোচন করা, এদের অনিষ্ট প্রতিহত করা, এ সম্পর্কে সতর্ক করা এবং এই নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক যেকোনো বিপদ সম্পর্কে তথ্য প্রদান না করে নীরব থাকাকে হারাম গণ্য করার ক্ষেত্রে উম্মাহর সকল ব্যক্তির মধ্যে সহযোগিতা করা ওয়াজিব; তাই পরিষদ বর্তমান সময়ে কিছু জরুরি বিষয় স্পষ্ট করাকে আবশ্যক মনে করেছে। এটি করা হয়েছে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির জন্য, উম্মাহর প্রতি কল্যাণকামিতা স্বরূপ এবং মুসলিম সন্তানদের প্রতি এই মমত্ববোধ থেকে যাতে তারা ধ্বংস ও বিপর্যয়ের হাতিয়ার না হয় এবং পথভ্রষ্টতা, ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টিকারীদের অনুসারী না হয়। আর গ্রহণ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الله تعالى على أهل العلم الميثاق؛ أن يبينوا للناس، قال الله سبحانه: {وإذ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتاب لتبيننه للناس ولا تكتمونه} لذلك كله وتذكيرا للناس، وتحذيرا من التهاون في أمر الحفاظ على سلامة البلاد من الأخطار؛ فإن المجلس يرى بيان ما يلي:
أولا: إن القيام بأعمال التخريب والإفساد -من تفجير وقتل وتدمير للممتلكات- عمل إجرامي خطير، وعدوان على الأنفس المعصومة، وإتلاف للأموال المحترمة، فهو مقتض للعقوبات الشرعية الزاجرة الرادعة، عملا بنصوص الشريعة ومقتضيات حفظ سلطانها، وتحريم الخروج على من تولى أمر الأمة فيها، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من خرج من الطاعة وفارق الجماعة فمات مات ميتة جاهلية، ومن قاتل تحت راية عمية يغضب لعصبة، أو يدعو إلى عصبة، أو ينصر عصبة فقتل فقتلة جاهلية، ومن خرج على أمتي يضرب برها وفاجرها ولا يتحاشى من مؤمنها ولا يفي لذي عهد عهده فليس مني ولست منه» (1).
ومن زعم أن هذه التخريبات وما يراد من تفجير وقتل: من الجهاد؛ فذلك جاهل ضال، فليست من الجهاد في سبيل الله في شيء. ومما سبق فإنه قد ظهر وعلم أن ما قام به أولئك ومن وراءهم؛ إنما هو من الإفساد والتخريب والضلال المبين، وعليهم تقوى الله عز وجل، والرجوع إليه، والتوبة، والتبصر في الأمور، وعدم الانسياق وراء عبارات وشعارات فاسدة، ترفع لتفريق الأمة وحملها على الفساد، وليست في حقيقتها من
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা আহলে ইলমদের (জ্ঞানী ব্যক্তিদের) ওপর অঙ্গীকার (الميثاق) অর্পণ করেছেন যেন তারা মানুষের কাছে সত্য বর্ণনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "আর যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা অবশ্যই মানুষের কাছে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।" মূলত এসব কারণে এবং মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে মজলিস (পরিষদ) নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছে:
প্রথমত: নাশকতা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা—যেমন বিস্ফোরণ ঘটানো, হত্যা এবং জানমালের ধ্বংসসাধন—একটি গুরুতর অপরাধমূলক কাজ এবং সংরক্ষিত জীবনের (الأنفس المعصومة) ওপর আক্রমণ ও সম্মানিত সম্পদের বিনাশ। এটি শরিয়াহর দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবি রাখে। এটি শরিয়াহর অকাট্য দলীল এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব রক্ষার অপরিহার্যতা এবং উম্মাহর দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (الخروج) করার হারামের (تحريم) বিধানের বাস্তবায়ন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «যে ব্যক্তি আনুগত্য পরিহার করল এবং জামাত (الجماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন (فارق) হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, সে জাহিলিয়াতপূর্ণ মৃত্যুবরণ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো উদ্দেশ্যহীন পতাকাতলে যুদ্ধ করল, গোত্রপ্রীতির কারণে রাগান্বিত হলো অথবা গোত্রপ্রীতির দিকে আহ্বান জানাল কিংবা গোত্রপ্রীতিতে সাহায্য করতে গিয়ে নিহত হলো, তার মৃত্যু জাহিলিয়াতপূর্ণ মৃত্যু। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বের হলো এবং এর সৎ ও অসৎ নির্বিশেষে সকলকে আঘাত করতে থাকল, এমনকি এর মুমিনদের প্রতিও ভ্রূক্ষেপ করল না এবং যাদের সাথে অঙ্গীকার করা হয়েছে তাদের অঙ্গীকারও পূর্ণ করল না, সে আমার উম্মতভুক্ত নয় এবং আমিও তার সাথে সংশ্লিষ্ট নই» (১)।
আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড জিহাদের (الجهاد) অন্তর্ভুক্ত; তবে সে এক মূর্খ ও পথভ্রষ্ট (ضال)। আল্লাহর পথে জিহাদের (الجهاد) সাথে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট ও জ্ঞাত হয়েছে যে, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং যারা তাদের নেপথ্যে রয়েছে; তাদের কাজ মূলত ফাসাদ, নাশকতা এবং সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা (الضلال المبين)। তাদের উচিত আল্লাহ عز وجل কে ভয় করা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তওবা (التوبة) করা, বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও তাদের বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করার জন্য যেসব ভ্রান্ত বুলি ও স্লোগান তোলা হয়, সেগুলোর পেছনে অন্ধভাবে না চলা। মূলত বাস্তবিকভাবে এগুলো সত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الدين، وإنما هي من تلبيس الجاهلين والمغرضين، وقد تضمنت نصوص الشريعة عقوبة من يقوم بهذه الأعمال، ووجوب ردعه، والزجر عن ارتكاب مثل عمله، ومرد الحكم بذلك إلى القضاء.
ثانيا: وإذ تبين ما سبق؛ فإن مجلس هيئة كبار العلماء يؤيد ما تقوم به الدولة -أعزها الله بالإسلام- من تتبع لتلك الفئة، والكشف عنهم؛ لوقاية البلاد والعباد شرهم، ولدرء الفتنة عن ديار المسلمين وحماية بيضتهم، ويجب على الجميع أن يتعاونوا في القضاء على هذا الأمر الخطير؛ لأن ذلك من التعاون على البر والتقوى الذي أمرنا الله به في قوله سبحانه: {وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان واتقوا الله إن الله شديد العقاب}.
ويحذر المجلس من التستر على هؤلاء، أو إيوائهم، فإن هذا من كبائر الذنوب، وهو داخل في عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لعن الله من آوى محدثا» متفق عليه (1)، وقد فسر العلماء (المحدث) في هذا الحديث بأنه من يأتي بفساد في الأرض، فإذا كان هذا الوعيد الشديد فيمن آواهم؛ فكيف بمن أعانهم أو أيد فعلهم.
ثالثا: يهيب المجلس بأهل العلم أن يقوموا بواجبهم، ويكثفوا إرشاد الناس في هذا الشأن الخطير؛ ليتبين بذلك الحق.
رابعا: يستنكر المجلس ما يصدر من فتاوى وآراء تسوغ هذا الإجرام، أو تشجع عليه؛ لكونه من أخطر الأمور وأشنعها، وقد عظم الله شأن الفتوى
--------------------------------------------
ধর্ম, বরং এগুলো তো মূর্খ ও কুচক্রীদের প্রতারণা মাত্র। শরীয়াহর দলিলাদিতে এ জাতীয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং তাদের প্রতিরোধ ও এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখার আবশ্যকতা বর্ণিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে বিচারের ভার বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত।
দ্বিতীয়ত: পূর্বোক্ত বিষয়সমূহ স্পষ্ট হওয়ার পর; উচ্চতর উলামা পরিষদ রাষ্ট্র কর্তৃক—আল্লাহ তাকে ইসলামের মাধ্যমে শক্তিশালী করুন—সেই গোষ্ঠীকে খুঁজে বের করা এবং তাদের স্বরূপ উন্মোচনের পদক্ষেপকে সমর্থন জানায়; যেন দেশ ও জনগণকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা যায় এবং মুসলিম ভূখণ্ড থেকে ফেতনা দূর করা ও তাদের ঐক্য ও সংহতি সুরক্ষা করা সম্ভব হয়। এই বিপজ্জনক বিষয়টি নির্মূল করার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা করা আবশ্যক; কেননা এটি নেক কাজ ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে নির্দেশ দিয়েছেন: "তোমরা নেক কাজ ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।"
পরিষদ এদের তথ্য গোপন করা বা তাদের আশ্রয় দেওয়া সম্পর্কে সতর্ক করছে, কারণ এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণীর আওতাভুক্ত: "যে ব্যক্তি কোনো বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে (محدث) আশ্রয় দেয়, তার ওপর আল্লাহর লানত।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১)। উলামায়ে কেরাম এই হাদিসে ‘মুহদিস’ (محدث)-এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, সে হলো ওই ব্যক্তি যে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সুতরাং আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধেই যদি এমন কঠোর হুঁশিয়ারি থাকে, তবে যে তাদের সাহায্য করে বা তাদের কর্মকে সমর্থন জানায়, তার অবস্থা কেমন হবে?
তৃতীয়ত: পরিষদ আলেম সমাজকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা এই বিপজ্জনক বিষয়ে মানুষের দিকনির্দেশনা প্রদান জোরদার করেন; যাতে সত্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চতুর্থত: পরিষদ এমন সকল ফতোয়া ও মতামতকে প্রত্যাখ্যান করছে যা এই অপরাধকে বৈধতা দেয় অথবা এর প্রতি উৎসাহিত করে; কেননা এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জঘন্য বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ ফতোয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بغير علم، وحذر عباده منها، وبين أنها من أمر الشيطان، قال تعالى: {يا أيها الناس كلوا مما في الأرض حلالا طيبا ولا تتبعوا خطوات الشيطان إنه لكم عدو مبين إنما يأمركم بالسوء والفحشاء وأن تقولوا على الله ما لا تعلمون} ويقول سبحانه: {ولا تقولوا لما تصف ألسنتكم الكذب هذا حلال وهذا حرام لتفتروا على الله الكذب إن الذين يفترون على الله الكذب لا يفلحون متاع قليل ولهم عذاب أليم} ويقول جل وعلا: {ولا تقف ما ليس لك به علم إن السمع والبصر والفؤاد كل أولئك كان عنه مسئولا}، وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص من آثامهم شيئا» متفق عليه (1).
ومن صدر منه مثل هذه الفتاوى أو الآراء التي تسوغ هذا الإجرام؛ فإن على ولي الأمر إحالته إلى القضاء، ليجري نحوه ما يقتضيه الشرع؛ نصحا للأمة وإبراء للذمة وحماية للدين، وعلى من آتاه الله العلم التحذير من الأقاويل الباطلة، وبيان فسادها، وكشف زورها، ولا يخفى أن هذا من أهم الواجبات، وهو من النصح لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم، ويعظم خطر تلك الفتاوى إذا كان المقصود بها زعزعة الأمن، وزرع الفتن والقلاقل، ومن القول في دين الله بالجهل والهوى، لأن ذلك استهداف للأغرار من الشباب ومن لا علم عنده بحقيقة هذه الفتاوى، والتدليس عليهم بحججها الواهية، والتمويه على عقولهم بمقاصدها الباطلة، وكل هذا شنيع وعظيم في دين الإسلام، ولا يرتضيه أحد من
--------------------------------------------
জ্ঞান ব্যতিরেকে [কথা বলা], এবং তিনি তাঁর বান্দাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, আর স্পষ্ট করেছেন যে এটি শয়তানের কাজ। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো কেবল তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর নামে এমন সব কথা বলতে বলে যা তোমরা জানো না।} এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য তোমরা বলো না যে— ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা সফলকাম হবে না। [এ তো] সামান্য ভোগ মাত্র; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই কৈফিয়ত তলব করা হবে।} এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর সেই পরিমাণ গুনাহ বর্তাবে যা তার অনুসারীদের ওপর বর্তাবে, এতে তাদের গুনাহের কোনো কমতি হবে না» সর্বসম্মত (متفق عليه) (১)।
যাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের ফতোয়া বা মতামত প্রকাশ পায় যা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়; তবে উলিল আমর বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো তাকে বিচার বিভাগের কাছে সোপর্দ করা, যাতে তার বিরুদ্ধে শরয়ি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়; এটি উম্মতের প্রতি কল্যাণকামিতা, দায়মুক্তি এবং দ্বীনের সুরক্ষার খাতিরে। আর আল্লাহ যাকে জ্ঞান দান করেছেন, তার কর্তব্য হলো বাতিল বক্তব্যসমূহ থেকে সতর্ক করা, সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করা এবং তাদের মিথ্যাচার উন্মোচন করা। এটি যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যিক দায়িত্ব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না; আর এটি আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামিতার অন্তর্ভুক্ত। এই ফতোয়াগুলোর বিপদ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন এর উদ্দেশ্য হয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। আর অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে কথা বলাও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় সেই সব সহজ-সরল যুবক ও সাধারণ মানুষকে যাদের এই ফতোয়াগুলোর হাকিকত সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, এবং তাদের বিভ্রান্ত করা ও তাদের ওপর দুর্বল যুক্তির মাধ্যমে প্রতারণা (تدليس) করা হয় এবং বাতিল উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে তাদের বিবেককে আচ্ছন্ন করা হয়। এই সবকিছুই ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত জঘন্য ও গুরুতর বিষয় এবং কোনো মুসলিম তা পছন্দ করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المسلمين ممن عرف حدود الشريعة، وعقل أهدافها السامية، ومقاصدها الكريمة.
وعمل هؤلاء المتقولين على العلم؛ من أعظم أسباب تفريق الأمة ونشر العداوات بينها.
خامسا: على ولي الأمر منع الذين يتجرءون على الدين والعلماء، ويزينون للناس التساهل في أمور الدين والجرأة عليه وعلى أهله، ويربطون بين ما وقع وبين التدين والمؤسسات الدينية.
وإن المجلس ليستنكر ما يتفوه به بعض الكتاب: من ربط هذه الأعمال التخريبية بالمناهج التعليمية، كما يستنكر استغلال هذه الأحداث للنيل من ثوابت هذه الدولة المباركة القائمة على عقيدة السلف الصالح، والنيل من الدعوة الإصلاحية التي قام بها شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.
سادسا: إن دين الإسلام جاء بالأمر بالاجتماع، وأوجب الله ذلك في كتابه، وحرم التفرق والتحزب، يقول الله عز وجل: {واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا} ويقول سبحانه: {إن الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا لست منهم في شيء} فبرأ الله رسوله صلى الله عليه وسلم من الذين فرقوا دينهم وحزبوه وكانوا شيعا، وهذا يدل على تحريم التفرق، وأنه من كبائر الذنوب.
وقد علم من الدين بالضرورة وجوب لزوم الجماعة، وطاعة من تولى إمامة المسلمين في طاعة الله، يقول الله عز وجل: {يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم} وعن أبي هريرة رضي الله
মুসলমানদের মধ্যে যারা শরীয়তের (الشريعة) সীমারেখা সম্পর্কে অবগত এবং এর সুউচ্চ লক্ষ্য ও মহান উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে সক্ষম।
আর ইলমের ওপর এই মিথ্যাচারীদের (المتقولين) কর্মকাণ্ড উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি এবং পারস্পরিক শত্রুতা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
পঞ্চম: দ্বীন ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি দুঃসাহস প্রদর্শনকারী, মানুষের সামনে দ্বীনি বিষয়ে শিথিলতা (التساهل) ও দ্বীন ও দ্বীনদারদের প্রতি ধৃষ্টতাকে সুশোভিতকারী এবং যা কিছু ঘটেছে তার সাথে ধর্মীয় সংহতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনকারীদের প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রপ্রধানের (ولي الأمر) দায়িত্ব।
এই কাউন্সিল কিছু লেখকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে, যারা এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে। একইভাবে এই কাউন্সিল এই ঘটনাগুলোকে পুঁজি করে সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) আকিদার (عقيدة) ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বরকতময় রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালাসমূহের (ثوابت) ক্ষতি সাধন এবং শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর সূচিত সংস্কারমূলক দাওয়াতের অবমাননা করার অপচেষ্টারও নিন্দা জানাচ্ছে।
ষষ্ঠ: ইসলাম ধর্ম ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ নিয়ে এসেছে। আল্লাহ তাঁর কিতাবে একে আবশ্যিক (أوجب) করেছেন এবং অনৈক্য ও দলবাজিকে (التحزب) নিষিদ্ধ (حرم) করেছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না}। তিনি সুবহানাহু আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত (شيعا) হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই}। সুতরাং আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে, দলবাজি করেছে এবং উপদলে বিভক্ত হয়েছে। এটি অনৈক্য নিষিদ্ধকরণ (تحريم) হওয়ার প্রমাণ দেয় এবং এটি কবিরা গুনাহসমূহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত।
দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় (علم من الدين بالضرورة) হিসেবে এটি সর্বজনবিদিত যে, জামায়াতবদ্ধ থাকা এবং আল্লাহর আনুগত্যের ভিত্তিতে মুসলমানদের নেতৃত্বের (إمامة) দায়িত্ব পালনকারীর আনুগত্য করা আবশ্যিক (وجوب)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর বা দায়িত্বশীল (أولي الأمر) তাদেরও}। আর আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عليك السمع والطاعة في عسرك ويسرك ومنشطك ومكرهك .. » أخرجه مسلم (1)، وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله، ومن يطع الأمير فقد أطاعني، ومن يعص الأمير فقد عصاني» متفق عليه (2)، وقد سار على هذا سلف الأمة؛ من الصحابة رضي الله عنهم ومن جاء بعدهم في وجوب السمع والطاعة.
لكل ما تقدم ذكره فإن المجلس يحذر من دعاة الضلالة والفتنة والفرقة، الذين ظهروا في هذه الأزمان، قلبوا على المسلمين أمرهم، وحرضوهم على معصية ولاة أمرهم، والخروج عليهم، وذلك من أعظم المحرمات، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «أنه ستكون هنات وهنات، فمن أراد أن يفرق أمر هذه الأمة وهي جميع فاضربوه بالسيف كائنا من كان» أخرجه مسلم (3)، وفي هذا تحذير لدعاة الضلالة والفتنة والفرقة، وتحذير لمن سار في ركابهم عن التمادي في الغي المعرض لعذاب الدنيا والآخرة، والواجب التمسك بهذا الدين القويم، والسير فيه على الصراط المستقيم، المبني على الكتاب والسنة وفق فهم الصحابة رضي الله عنهم ومن تبعهم بإحسان، ووجوب تربية النشء والشباب على هذا المنهاج القويم والصراط المستقيم؛ حتى يسلموا بتوفيق من الله من التيارات الفاسدة، ومن تأثير دعاة الضلالة والفتنة والفرقة، وحتى ينفع الله بهم أمة الإسلام، ويكونوا حملة
--------------------------------------------
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমার ওপর শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক তোমার কঠিন ও সহজ অবস্থায়, তোমার পছন্দ ও অপছন্দের মুহূর্তে...» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)। আর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। যে আমিরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল; আর যে আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (২)। উম্মতের সালাফগণ—সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং তাঁদের পরবর্তীগণ শোনা ও আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার এই মূলনীতির ওপরই চলেছেন।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে, এই মজলিস (পরিষদ) বিভ্রান্তি, ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টিকারী সেসব আহ্বানকারীদের থেকে সতর্ক করছে, যারা এই যুগে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা মুসলমানদের বিষয়াবলিকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং তাদেরকে তাদের শাসকবর্গের অবাধ্যতা ও তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ব্যাপারে প্ররোচিত করেছে; আর এটি অন্যতম মহাপাপ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «অচিরেই অনেক ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। সুতরাং কেউ যদি এই উম্মতের ঐক্যবদ্ধ থাকাবস্থায় তাতে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তবে সে যে-ই হোক না কেন তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করো» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)। আর এতে বিভ্রান্তি, ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টিকারীদের জন্য সতর্কতা রয়েছে এবং যারা তাদের অনুসারী হয়ে পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত রয়েছে তাদের জন্যও সাবধানবাণী রয়েছে, যা দুনিয়া ও আখেরাতের আযাবের সম্মুখীন করে। আর সুদৃঢ় এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারীদের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলা ওয়াজিব। এবং শিশু-কিশোর ও যুবকদের এই সুদৃঢ় মানহাজ ও সঠিক পথের ওপর গড়ে তোলা ওয়াজিব; যাতে আল্লাহর তৌফিকে তারা কলুষিত স্রোতধারা এবং বিভ্রান্তি, ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকতে পারে, এবং আল্লাহ যেন তাদের মাধ্যমে উম্মতে মুসলিমার উপকার করেন এবং তারা যেন এর বাহক হতে পারে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
علم، وورثة للأنبياء، وأهل خير وصلاح وهدى.
ويكرر التأكيد على وجوب الالتفاف حول قيادة هذه البلاد وعلمائها، ويزداد الأمر تأكدا في مثل هذه الأوقات؛ أوقات الفتن.
كما يحذر الجميع حكاما ومحكومين من المعاصي والتساهل في أمر الله فشأن المعاصي خطير، وليحذروا من ذنوبهم، وليستقيموا على أمر الله، ويقيموا شعائر دينهم، ويأمروا بالمعروف، وينهوا عن المنكر. وقى الله بلادنا وجميع بلاد المسلمين كل سوء، وجمع الله كلمة المسلمين على الحق والهدى، وكبت الله أعداءه أعداء الدين، ورد كيدهم في نحورهم، إنه سبحانه سميع قريب، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن سار على دربه واقتفى أثره إلى يوم الدين.
هيئة كبار العلماء
رئيس المجلس/ عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ.
صالح بن محمد اللحيدان.
عبد الله بن سليمان المنيع.
عبد الله بن عبد الرحمن الغديان.
د. صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان.
حسن بن جعفر العتمي.
محمد بن عبد الله السبيل.
د. عبد الله بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ.
জ্ঞান, নবীদের উত্তরাধিকারী এবং কল্যাণ, ন্যায়নিষ্ঠা ও হেদায়েতের অনুসারী।
এবং এই ভূখণ্ডের নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের সান্নিধ্যে থাকার আবশ্যকতাকে পুনরুল্লেখ করা হচ্ছে; বিশেষ করে ফিতনা (فتن)-এর মতো বর্তমান সময়গুলোতে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে।
পাশাপাশি তিনি শাসক ও শাসিত সকলকেই পাপাচার এবং আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্ক করছেন; কেননা পাপাচারের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা যেন নিজ নিজ গুনাহ থেকে সতর্ক থাকে, আল্লাহর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকে, দ্বীনের বিধিবিধানসমূহ কায়েম করে এবং সৎকাজের (المعروف) আদেশ দেয় ও অসৎকাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ আমাদের দেশ ও সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন, হকের ওপর মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করুন, তাঁর শত্রু অর্থাৎ দ্বীনের শত্রুদের পর্যুদস্ত করুন এবং তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটে। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, তাদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ
পরিষদ সভাপতি/ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-শেখ।
সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইদান।
আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানি।
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-গাদইয়ান।
ড. সালেহ বিন ফাউজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউজান।
হাসান বিন জাফর আল-উতমি।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাবীল।
ড. আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-শেখ।
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
محمد بن سليمان البدر.
د. عبد الله بن عبد المحسن التركي.
محمد بن زيد آل سليمان.
د. بكر بن عبد الله أبو زيد / لم يحضر لمرضه /.
د. عبد الوهاب بن إبراهيم أبو سليمان.
د. صالح بن عبد الله بن حميد.
د. أحمد بن علي سير المباركي.
د. عبد الله بن علي الركبان.
د. عبد الله بن محمد المطلق.
মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাদর।
ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আল-তুর্কি।
মুহাম্মদ বিন যাইদ আল সুলাইমান।
ড. বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যাইদ / অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি /।
ড. আবদুল ওয়াহাব বিন ইব্রাহিম আবু সুলাইমান।
ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ।
ড. আহমদ বিন আলী সীর আল-মুবারকী।
ড. আবদুল্লাহ বিন আলী আল-রুকবান।
ড. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুতলাক।
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بيان من هيئة كبار العلماء حول حادث التفجير الذي وقع في الرياضالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده؛ محمد وآله وصحبه، أما بعد:
فإن مجلس هيئة كبار العلماء في جلسته الاستثنائية المنعقدة في مدينة الرياض يوم الأربعاء 13/ 3/1424هـ استعرض حوادث التفجيرات التي وقعت في مدينة الرياض مساء يوم الاثنين 11/ 3/1424هـ، وما حصل بسبب ذلك؛ من قتل، وتدمير، وترويع، وإصابات لكثير من الناس من المسلمين وغيرهم.
ومن المعلوم أن شريعة الإسلام قد جاءت بحفظ الضروريات الخمس، وحرمت الاعتداء عليها، وهي: الدين والنفس والمال والعرض والعقل.
ولا يختلف المسلمون في تحريم الاعتداء على الأنفس المعصومة، والأنفس المعصومة في دين الإسلام:
إما أن تكون مسلمة؛ فلا يجوز بحال الاعتداء على النفس المسلمة وقتلها بغير حق، ومن فعل ذلك فقد ارتكب كبيرة من كبائر الذنوب العظام، يقول الله تعالى: {ومن يقتل مؤمنا متعمدا فجزاؤه جهنم خالدا فيها وغضب الله عليه ولعنه وأعد له عذابا عظيما} [النساء:93]. ويقول سبحانه: {من أجل ذلك كتبنا على بني إسرائيل أنه من قتل نفسا بغير نفس أو فساد في الأرض فكأنما قتل الناس جميعا ومن أحياها فكأنما أحيا الناس جميعا} [المائدة: 32].
রিয়াদে সংঘটিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে হাইআতু কিবারিল উলামার (জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ) পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই; মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর। অতপর:
হাইআতু কিবারিল উলামার (জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ) কাউন্সিল ১৪২৪ হিজরির ১৩/০৩ তারিখে বুধবার রিয়াদ নগরীতে অনুষ্ঠিত তাদের এক বিশেষ অধিবেশনে, ১৪২৪ হিজরির ১১/০৩ সোমবার সন্ধ্যায় রিয়াদ নগরীতে সংঘটিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাবলি এবং এর ফলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ, ত্রাস সৃষ্টি এবং মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষের আহত হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।
আর এটি সুপরিজ্ঞাত যে, ইসলামি শরিয়ত পাঁচটি মৌলিক বিষয় সংরক্ষণের বিধান নিয়ে এসেছে এবং সেগুলোর ওপর আক্রমণ করাকে হারাম (নিষিদ্ধ) সাব্যস্ত করেছে। সেগুলো হলো: দ্বীন, জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও বিবেক।
নিরাপদ ও সুরক্ষিত প্রাণের ওপর আক্রমণ হারাম হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। আর ইসলাম ধর্মে সুরক্ষিত প্রাণ বলতে বোঝায়:
হয় তা মুসলিম প্রাণ হবে; সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে আক্রমণ করা এবং তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি এটি করবে, সে কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অত্যন্ত জঘন্য একটি অপরাধ করল। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে লানত করেছেন এবং তার জন্য এক ভয়াবহ আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন} [আন-নিসা: ৯৩]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে, যে ব্যক্তি প্রাণের বদলে প্রাণ অথবা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি একটি প্রাণ বাঁচাল, সে যেন সমস্ত মানুষকে বাঁচাল} [আল-মায়িদা: ৩২]।
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال مجاهد رحمه الله: "في الإثم" وهذا يدل على عظم قتل النفس بغير حق، ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث: النفس بالنفس، والثيب الزاني، والمارق من الدين التارك للجماعة» متفق عليه (1) وهذا لفظ البخاري.
ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام، وحسابهم على الله» متفق عليه (2)، من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، وفي سنن النسائي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لزوال الدنيا أهون على الله من قتل رجل مسلم» (3). ونظر ابن عمر رضي الله عنهما يوما إلى البيت أو إلى الكعبة فقال: (ما أعظمك وأعظم حرمتك، والمؤمن أعظم حرمة عند الله منك).
كل هذه الأدلة -وغيرها كثير- تدل على عظم حرمة دم المرء المسلم، وتحريم قتله لأي سبب من الأسباب إلا ما دلت عليه النصوص الشرعية، فلا يحل لأحد أن يعتدي على مسلم بغير حق؛ يقول أسامة بن زيد رضي الله عنهما: «بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحرقة، فصبحنا القوم فهزمناهم، ولحقت أنا ورجل من الأنصار رجلا منهم، فلما غشيناه؛ قال: لا
--------------------------------------------
মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "পাপের ক্ষেত্রে" এবং এটি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "এমন একজন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তিনটি কারণের একটি ব্যতীত: জীবনের বদলে জীবন (প্রতিশোধ), বিবাহিত ব্যভিচারী এবং দ্বীন ত্যাগকারী যে জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।" এটি ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) (১) এবং এটি বুখারীর শব্দ।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। তারা যখন এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে ইসলামের হক ব্যতীত, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।" এটি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস হতে ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) (২), আর সুনানে নাসায়ীতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করার চেয়ে আল্লাহর কাছে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিক তুচ্ছ।" (৩)। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একদিন বায়তুল্লাহ বা কাবার দিকে তাকিয়ে বললেন: "(হে কাবা!) তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না মহান! অথচ একজন মুমিনের মর্যাদা আল্লাহর কাছে তোমার চেয়েও বেশি মহান।"
এই সকল দলিল—এবং এ ছাড়াও আরও অনেক—একজন মুসলিমের রক্তের পবিত্রতার ভয়াবহতা এবং শরীয়াহর নির্দেশিত কারণ ব্যতীত যে কোনো কারণে তাকে হত্যা করার নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে। সুতরাং কারো জন্য বৈধ নয় কোনো মুসলিমের ওপর অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করা। উসামা বিন যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের আল-হুরাকাহ-এর দিকে পাঠালেন, আমরা ভোরে সেখানে পৌঁছলাম এবং তাদের পরাজিত করলাম। আমি এবং একজন আনসারী ব্যক্তি তাদের একজনের পিছু নিলাম, যখন আমরা তাকে আয়ত্তে আনলাম; সে বলল: লা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إله إلا الله، فكف الأنصاري؛ فطعنته برمحي حتى قتلته، فلما قدمنا بلغ النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا أسامة أقتلته بعدما قال لا إله إلا الله، قلت: كان متعوذا، فما زال يكررها؛ حتى تمنيت أني لم أكن أسلمت قبل ذلك اليوم» متفق عليه (1)، وهذا لفظ البخاري.
وهذا يدل أعظم الدلالة على حرمة الدماء، فهذا رجل مشرك، وهم مجاهدون في ساحة القتال، لما ظفروا به وتمكنوا منه؛ نطق بالتوحيد، فتأول أسامة رضي الله عنه قتله على أنه ما قالها إلا ليكفوا عن قتله، ولم يقبل النبي صلى الله عليه وسلم عذره وتأويله، وهذا من أعظم ما يدل على حرمة دماء المسلمين وعظيم جرم من يتعرض لها.
وكما أن دماء المسلمين محرمة فإن أموالهم محرمة محترمة بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا» أخرجه مسلم (2). وهذا الكلام قاله النبي صلى الله عليه وسلم في خطبة يوم عرفة، وأخرج البخاري (3) ومسلم (4) نحوه في خطبة يوم النحر.
وبما سبق يتبين تحريم قتل النفس المعصومة بغير حق، ومن الأنفس المعصومة في الإسلام: أنفس المعاهدين، وأهل الذمة، والمستأمنين، فعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من قتل
--------------------------------------------
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তখন আনসারী ব্যক্তিটি হাত গুটিয়ে নিলেন; কিন্তু আমি আমার বর্শা দিয়ে তাকে আঘাত করলাম এবং তাকে হত্যা করলাম। যখন আমরা ফিরে এলাম, বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছাল। তিনি বললেন: 'হে উসামা! তুমি কি তাকে "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই" বলার পরও হত্যা করলে?' আমি বললাম: 'সে তো কেবল আত্মরক্ষার আশ্রয় নিয়েছিল।' তিনি বারবার কথাটি বলতে থাকলেন; এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলাম যে, যদি আমি সেই দিনের আগে ইসলাম গ্রহণ না করতাম। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১), এবং এটি বুখারীর শব্দবিন্যাস।
এটি রক্তের পবিত্রতার ওপর সবচেয়ে বড় দলিল হিসেবে গণ্য হয়। কেননা এই লোকটি ছিল একজন মুশরিক এবং তারা যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদ হিসেবে লড়াই করছিলেন। যখন তারা তার ওপর বিজয় লাভ করলেন এবং তাকে আয়ত্তে আনলেন, তখন সে তাওহীদের বাক্য উচ্চারণ করল। কিন্তু উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার হত্যার স্বপক্ষে এই ব্যাখ্যা দিলেন যে, সে কেবল হত্যা থেকে বাঁচার জন্যই তা বলেছে। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অজুহাত ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। এটি মুসলমানদের রক্তের পবিত্রতা এবং যে ব্যক্তি এতে হস্তক্ষেপ করে তার অপরাধের ভয়াবহতার এক মহান প্রমাণ।
আর যেভাবে মুসলমানদের রক্ত হারাম (নিষিদ্ধ), তেমনি তাদের ধন-সম্পদও হারাম ও মর্যাদাপূর্ণ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমনি হারাম, যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাসে এবং তোমাদের এই শহরে।" এটি মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাটি আরাফাতের দিনের খুতবায় বলেছিলেন, আর বুখারী (৩) ও মুসলিম (৪) কুরবানির দিনের খুতবায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে কোনো সংরক্ষিত জান (নিষ্পাপ প্রাণ) হত্যা করার অবৈধতা স্পষ্ট হয়। ইসলামে সংরক্ষিত জানগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম (معاهد), জিম্মি (أهل الذمة), এবং নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمن)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
معاهدا لم يرح رائحة الجنة، وإن ريحها توجد من مسيرة أربعين عاما» أخرجه البخاري (1).
ومن أدخله ولي الأمر المسلم بعقد أمان وعهد؛ فإن نفسه وماله معصوم، لا يجوز التعرض له، ومن قتله فإنه كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لم يرح رائحة الجنة» وهذا وعيد شديد لمن تعرض للمعاهدين.
ومعلوم أن أهل الإسلام ذمتهم واحدة، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «المؤمنون تتكافأ دماؤهم ويسعى بذمتهم أدناهم» (2).
ولما أجارت أم هانئ رضي الله عنها رجلا مشركا عام الفتح وأراد علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن يقتله؛ ذهبت للنبي صلى الله عليه وسلم فأخبرته، فقال صلى الله عليه وسلم: «قد أجرنا من أجرت يا أم هانئ» أخرجه البخاري ومسلم (3).
والمقصود أن من دخل بعقد أمان أو بعهد من ولي الأمر لمصلحة رآها؛ فلا يجوز التعرض له ولا الاعتداء لا على نفسه ولا ماله.
إذا تبين هذا: فإن ما وقع في مدينة الرياض من حوادث التفجير أمر محرم لا يقره دين الإسلام، وتحريمه جاء من وجوه:
1 - أن هذا العمل اعتداء على حرمة بلاد المسلمين وترويع للآمنين فيها.
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে (معاهدا) হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্বের পথ থেকেও পাওয়া যায়।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)।
আর যাকে কোনো মুসলিম শাসক নিরাপত্তা চুক্তি (عقد أمان) ও অঙ্গীকারের (عهد) মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন, তার জান ও মাল সংরক্ষিত (معصوم); তার বিরুদ্ধে কোনো হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। যে তাকে হত্যা করবে, তার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন: "সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" এটি চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিদের (المعاهدين) ক্ষতিসাধনকারীর জন্য এক কঠোর সতর্কবাণী।
এটি সুনিশ্চিত যে, মুসলিমদের নিরাপত্তা প্রদানের অধিকার (ذمة) অভিন্ন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "মুমিনদের রক্ত সমমর্যাদার এবং তাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সাধারণ ব্যক্তিও নিরাপত্তা প্রদানের (بذمتهم) অধিকার রাখে" (২)।
মক্কা বিজয়ের বছর যখন উম্মে হানি (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জনৈক মুশরিক ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদান করলেন এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে হত্যা করতে চাইলেন; তখন উম্মে হানি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উম্মে হানি! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)।
সারকথা হলো, যে ব্যক্তি শাসকের পক্ষ থেকে কোনো জনস্বার্থ বিবেচনায় নিরাপত্তা চুক্তির (عقد أمان) অধীনে বা অঙ্গীকারের (عهد) মাধ্যমে প্রবেশ করেছে, তার ওপর কোনো আক্রমণ বা তার জান-মালের ওপর কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন করা বৈধ নয়।
বিষয়টি যখন স্পষ্ট হলো, তখন রিয়াদ শহরে সংঘটিত বোমা হামলার ঘটনাগুলো একটি নিষিদ্ধ (محرم) বিষয় যা ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না। এর নিষিদ্ধতা কয়েকটি দিক থেকে প্রমাণিত:
১ - এই কাজ মুসলিম ভূখণ্ডের পবিত্রতার ওপর এক চরম সীমালঙ্ঘন এবং সেখানে বসবাসরত নিরাপদ মানুষদের আতঙ্কিত করার শামিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতাওয়াল আইম্মাহ ফিন নাওয়াযিলিল মুদলাহিম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - أن فيه قتلا للأنفس المعصومة في شريعة الإسلام.
3 - أن هذا من الإفساد في الأرض.
4 - أن فيه إتلافا للأموال المعصومة.
وإن مجلس هيئة كبار العلماء إذ يبين حكم هذا الأمر؛ ليحذر المسلمين من الوقوع في المحرمات المهلكات، ويحذرهم من مكائد الشيطان، فإنه لا يزال بالعبد حتى يوقعه في المهالك؛ إما بالغلو بالدين، وإما بالجفاء عنه ومحاربته والعياذ بالله، والشيطان لا يبالي بأيهما ظفر من العبد، لأن كلا طريقي الغلو والجفاء من سبل الشيطان التي توقع صاحبها في غضب الرحمن وعذابه.
وما قام به من نفذوا هذه العمليات من قتل أنفسهم بتفجيرها، فهو داخل في عموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من قتل نفسه بشيء في الدنيا عذب به يوم القيامة» أخرجه أبو عوانة في "مستخرجه" (1) من حديث ثابت بن الضحاك رضي الله عنه.
وفي "صحيح مسلم" من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «من قتل نفسه بحديدة، فحديدته في يده يتوجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا، ومن شرب سما فقتل نفسه فهو يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا، ومن تردى من جبل فقتل نفسه فهو يتردى في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا» (2) وهو في البخاري بنحوه.
--------------------------------------------
2 - এতে ইসলামি শরিয়তে সংরক্ষিত প্রাণের বিনাশ ঘটে।
3 - এটি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
4 - এতে সংরক্ষিত ধন-সম্পদের বিনাশ ঘটে।
উচ্চ উলামা পরিষদ যখন এই বিষয়ের বিধান স্পষ্ট করছে, তখন তারা মুসলিমদের ধ্বংসাত্মক হারাম কার্যাবলিতে লিপ্ত হওয়া থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক করছে। শয়তান একজন বান্দার পিছু ছাড়ে না যতক্ষণ না তাকে ধ্বংসের খাদে নিপতিত করে; হয় দ্বীনের ক্ষেত্রে চরমপন্থার (غلو) মাধ্যমে, অথবা দ্বীন থেকে বিমুখতা (جفاء) ও এর সাথে শত্রুতার মাধ্যমে—আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। শয়তান বান্দার ওপর এই দুইটির যেটি দিয়েই জয়ী হোক না কেন, সে তাতে পরোয়া করে না; কারণ চরমপন্থা ও বিমুখতা উভয় পথই শয়তানের রাস্তা, যা তার অনুসারীকে দয়াময় আল্লাহর ক্রোধ ও আজাবের দিকে ধাবিত করে।
যারা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিজেদের উড়িয়ে দিয়ে এই অভিযানগুলো সম্পন্ন করেছে, তাদের এই কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে তা দিয়েই আজাব দেওয়া হবে।” এটি আবু আওয়ানা তাঁর মুস্তাখরাজ গ্রন্থে (১) সাবেত বিন দাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
এবং সহিহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: “যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সেই লোহা তার হাতে থাকবে এবং সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, সেখানে সে সর্বদা ও চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে তা ঢক ঢক করে পান করতে থাকবে, সেখানে সে সর্বদা ও চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে একইভাবে নিচে পতিত হতে থাকবে, সেখানে সে সর্বদা ও চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।” (২) এটি বুখারি-তেও অনুরূপ (بنحوه) শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------