(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: -)
الاعتصام للشاطبي ت الشقير والحميد والصيني   (الشاطبي الأصولي النحوي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الاعْتِصَام

المؤلف: إبراهيم بن موسى بن محمد اللخمي الغرناطي الشهير بالشاطبي (ت 790هـ)

تحقيق ودراسة:

الجزء الأول: د. محمد بن عبد الرحمن الشقير

الجزء الثاني: د سعد بن عبد الله آل حميد

الجزء الثالث: د هشام بن إسماعيل الصيني

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1432

আশ-শাতিবি রচিত আল-ইতিসাম, তাহকিক: আশ-শুকাইর, আল-হুমাইদ ও আস-সাইনি   (উসুলি ও নাহবি শাস্ত্রবিদ আশ-শাতিবি)

বিভাগ: আক্বিদা


বই: আল-ইতিসাম

লেখক: ইব্রাহিম বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-লাখমি আল-গারনাতি, যিনি আশ-শাতিবি নামে পরিচিত (মৃত ৭৯০ হি.)

তাহকিক ও গবেষণা:

প্রথম খণ্ড: ড. মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আশ-শুকাইর

দ্বিতীয় খণ্ড: ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ

তৃতীয় খণ্ড: ড. হিশাম বিন ইসমাইল আস-সাইনি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ৩

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: -)
رسائل جامعية (67)

ـ[الاعْتِصَام]ـ

المؤلف: إبراهيم بن موسى بن محمد اللخمي الغرناطي الشهير بالشاطبي (المتوفى: 790هـ)

تحقيق ودراسة:

الجزء الأول: د. محمد بن عبد الرحمن الشقير

الجزء الثاني: د سعد بن عبد الله آل حميد

الجزء الثالث: د هشام بن إسماعيل الصيني

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ইউনিভার্সিটি থিসিস (৬৭)

—[আল-ইতিসাম]—

লেখক: ইবরাহিম বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-লাখমি আল-গারনাতি, যিনি আশ-শাতিবি নামে সুপরিচিত (মৃত্যু: ৭৯০ হিজরি)

সম্পাদনা ও গবেষণা:

প্রথম খণ্ড: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আশ-শুকাইর

দ্বিতীয় খণ্ড: ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ

তৃতীয় খণ্ড: ড. হিশাম বিন ইসমাইল আস-সিনি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

أصل هذا الكتاب رسالة جامعية مقدمة من الطالب محمد بن عبد الرحمن الشقير حصل بها على درجة الماجستير بتقدير ممتاز وذلك في عام 1414 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এই গ্রন্থের মূল উৎস হলো শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-শুকাঈর কর্তৃক উপস্থাপিত একটি একাডেমিক থিসিস, যার মাধ্যমে তিনি ১৪১৪ হিজরি সনে চমৎকার (মুমতাজ) ফলাফলসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٣)
الاعتصام
আল-ইতিসাম
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٤)
حقوق الطبع محفوظة لدار ابن الجوزي

الطبعة الأولى

محرم 1429 هـ - 2008 م

حقوق الطبع محفوظة 1429 هـ، لا يسمح بإعادة نشر هذا الكتاب أو أي جزء منه بأي شكل من الأشكال أو حفظه ونسخه في أي نظام ميكانيكي أو إليكتروني يمكن استرجاع الكتاب أو ترجمته إلى أي لغة أخرى دون الحصول على إذن خطي مسبق من الناشر.
দার ইবনুল জাওযীর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম প্রকাশ

মুহাররম ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

মুদ্রণস্বত্ব সংরক্ষিত ১৪২৯ হিজরি, প্রকাশকের পূর্বলিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বই বা এর কোনো অংশ কোনো রূপেই পুনরায় প্রকাশ করা, অথবা কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও অনুলিপি করা যেখান থেকে বইটি পুনরায় উদ্ধার করা যায়, অথবা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা অনুমোদিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد: فقد حذر الله عز وجل من التفرق والاختلاف بعد الائتلاف، فقال سبحانه وتعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (105)} [آل عمران: 105]، وقال سبحانه وتعالى: {وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ فِيمَا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ (19)} [يونس: 19].

وقال تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (159)} [الأنعام: 159].

وقال تَعَالَى: {وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (31) مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ (32)} [الروم: 31، 32].

وذكر الله عز وجل اختلاف بني إسرائيل في التوراة، فقال سبحانه
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার চেয়ে থাকো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।} [আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর: মহান আল্লাহ ঐক্যের পর বিভেদ ও মতবিরোধ থেকে সতর্ক করেছেন। সুতরাং তিনি পবিত্র ও মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর দলে দলে বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।} [আলে ইমরান: ১০৫], এবং তিনি পবিত্র ও মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {মানুষ তো কেবল একই উম্মতভুক্ত ছিল, অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হলো। আর যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।} [ইউনুস: ১৯]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের দীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয়টি কেবল আল্লাহর নিকট সমর্পিত, অতঃপর তারা যা করত তিনি তাদের তা জানিয়ে দেবেন।} [আনআম: ১৫৯]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রতিটি দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।} [রূম: ৩১, ৩২]।

মহান আল্লাহ তাওরাতের ক্ষেত্রে বনী ইসরাঈলের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি পবিত্র ও মহান আল্লাহ বলেছেন-
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٦)
وتعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ (110)} [هود: 110].

والاختلاف واقع في هذه الأمة أكثر من غيرها من الأمم.

فعن عوف بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: "افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، فواحدة في الجنة، وسبعون في النار، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة، فإحدى وسبعون في النار وواحدة في الجنة، والذي نفس محمد بيده لتفترقن أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، واحدة في الجنة، وثنتان وسبعون في النار". قيل: يا رسول الله من هم؟ قال: "الجماعة" (1).

وقد أمرنا الله عز وجل أن نعتصم بحبله جميعًا ولا نتفرق، فقال سبحانه وتعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا} [آل عمران: 103]، وبيَّن قبل ذلك أن مفتاح الاعتصام وعدم الفرقة هو تقوى الله حق تقاته، فأمر به قبل الأمر بالاعتصام، فقال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا}.

والذين فرقوا دينهم وكانوا شيعًا ليسوا من الذين اتقوا الله حق تقاته، بل هم من الذين اتبعوا أهواءهم، وامتلأت قلوبهم بالبغي والحسد والكبر والهوى وغير ذلك مما ينافي تقوى الله.

وقد بيَّن الله عز وجل هؤلاء في مواطن من كتابه، وبين السبب الذي لأجله اختلفوا وتفرقوا، فقال تَعَالَى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (213)} [البقرة: 213].

--------------------------------------------

(1) انظر تخريجه في النص المحقق (ص 15).
এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি অবশ্যই মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্বঘোষিত একটি সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় তারা এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে (১১০)} [হুদ: ১১০]।

আর এই উম্মতের মধ্যে অন্যান্য উম্মতের তুলনায় মতভেদ অধিক মাত্রায় ঘটেছে।

আউফ ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি জান্নাতি এবং সত্তরটি জাহান্নামী। আর নাসারারা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একাত্তরটি জাহান্নামী এবং একটি জান্নাতি। আর যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, অবশ্যই আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে; তাদের মধ্যে একটি জান্নাতি এবং বাহাত্তরটি জাহান্নামী।" জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: "আল-জামায়াত" (১)।

আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল আমাদের সকলকে তাঁর রজ্জু মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না} [আলে ইমরান: ১০৩]। এর আগে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রজ্জু আঁকড়ে ধরা এবং বিচ্ছিন্ন না হওয়ার চাবিকাঠি হলো আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করা। তাই তিনি রজ্জু আঁকড়ে ধরার নির্দেশের আগে তাকওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না (১০২) আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না}।

আর যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তারা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং তাদের অন্তর বিদ্রোহ, হিংসা, অহংকার, প্রবৃত্তি এবং যা কিছু আল্লাহর তাকওয়ার পরিপন্থী, সেসব দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেছে।

আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তাদের কথা বর্ণনা করেছেন এবং যে কারণে তারা মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতায় লিপ্ত হয়েছে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মানুষ এক উম্মতভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠালেন এবং মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিল তা মীমাংসা করার জন্য তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর তারা কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তাতে মতভেদ করল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে মুমিনদের সেই সত্যের দিকে হেদায়েত দিলেন যাতে তারা মতভেদ করছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়েত দেন (২১৩)} [আল-বাকারাহ: ২১৩]।

--------------------------------------------

(১) সম্পাদিত মূল পাঠে এর সূত্রায়ন (তাহরিজ) দেখুন (পৃষ্ঠা ১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٧)
فبين سبحانه وتعالى أن الناس كانوا أمة واحدة، فاختلفوا، وأن سبب الاختلاف بينهم هو البغي والظلم.

وقال سبحانه وتعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ (19)} [آل عمران: 19].

وبيَّن سبحانه وتعالى أن من أسباب البغي والظلم الْمُوقِعِ في الاختلاف: الحسد الذي يجعل الحاسد يرفض الحق وهو يعرفه، ويجادل عن الباطل، فقال سبحانه وتعالى: {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (109)} [البقرة: 109].

ثم بيَّن أن فريقًا من الناس يعرفون سبيل الرشد ولا يتخذونه سبيلاً؛ استكباراً وعناداً، وهذا من الظلم والبغي، وإن يروا سبيل الغي والضلال يتخذوه سبيلاً، ولذلك صرفهم الله عن طريق الحق جزاءً وفاقاً، فقال سبحانه وتعالى: {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلاً وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلاً ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ (146)} [الأعر اف: 146].

كما بيَّنْ الله عز وجل أن من سننه في خلقه أن يوقع بينهم العداوة والبغضاء إذا تركوا شيئاً من شرعه ولم يعملوا به، فقال سبحانه وتعالى عن النصارى: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ (14)} [المائدة: 14].

وقد اختلفت هذه الأمة كما اختلف مَنْ قبلها من الأمم؛ مصداقاً لقوله صلى الله عليه وسلم: "لتتبعن سنن من كان قبلكم" (1)، وظهرت فيها الفرق التي أخبر

--------------------------------------------

(1) انظر تخريجه في النص المحقق (1/ 16، 2/ 92، 3/ 128، 186، 188).
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, মানুষ এক জাতি ছিল, অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হলো এবং তাদের এই মতভেদের মূল কারণ ছিল সীমালঙ্ঘন ও জুলুম।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশত তারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল। আর যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।" [আল ইমরান: ১৯]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বর্ণনা করেছেন যে, মতভেদের কারণ হওয়া সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের অন্যতম একটি উৎস হলো: হিংসা, যা হিংসুক ব্যক্তিকে সত্য জানা সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করতে এবং বাতিলের পক্ষে বিতর্ক করতে প্ররোচিত করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "আহলে কিতাবদের অনেকেই চায় যদি তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় তোমাদেরকে কাফিরে পরিণত করতে পারত! তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও কেবল নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিংসাবশত তারা এটি চায়। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং এড়িয়ে চলো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ পাঠান। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" [আল বাকারা: ১০৯]।

অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের একটি দল সঠিক পথ চিনেও অহংকার ও হঠকারিতাবশত তা গ্রহণ করে না; আর এটি জুলুম ও সীমালঙ্ঘনেরই অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে তারা যদি ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টতার পথ দেখে তবে সেটাকেই পথ হিসেবে গ্রহণ করে। আর এ কারণেই আল্লাহ তাদের কর্মের উপযুক্ত প্রতিফলস্বরূপ সত্যের পথ থেকে বিমুখ করে দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ওই সব লোকদের বিমুখ করে দেব যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে বেড়ায়। তারা যদি সমস্ত নিদর্শনও দেখে তবুও তাতে বিশ্বাস করবে না। আর যদি তারা সঠিক পথ দেখে তবে সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না, কিন্তু যদি তারা ভ্রান্ত পথ দেখে তবে সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এটি এ কারণে যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তারা সে সম্পর্কে গাফেল ছিল।" [আল আরাফ: ১৪৬]।

আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আরও বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর একটি নিয়ম হলো—যখন তারা তাঁর শরীয়তের কোনো অংশ বর্জন করে এবং তা অনুযায়ী আমল করে না, তখন তিনি তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নাসারাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর যারা বলে 'আমরা নাসারা', আমি তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা তার একাংশ ভুলে গেল। ফলে আমি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা জাগিয়ে দিলাম। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অচিরেই তাদেরকে সংবাদ দেবেন।" [আল মায়িদা: ১৪]।

আর এই উম্মতও তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মতোই মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীরই সত্যায়ন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে" (১)। আর এই উম্মতের মধ্যে সেই সব দলগুলোর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে যে সম্পর্কে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সম্পাদিত মূল পাঠ্যের (নাসুল মুহাক্কাক) ১/ ১৬, ২/ ৯২, ৩/ ১২৮, ১৮৬, ১৮৮ পৃষ্ঠায় এর সূত্রগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٨)
عنها النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الافتراق، وادَّعت كل فرقة أنها على الحق وما عداها على الباطل.

ولكن مع وجود هذا الاختلاف والتفرق، فلا يزال في الأمة طائفة منصورة قائمة بالحق، داعية إليه، لا يضرها من خالفها، ولا من خذلها، إلى أن يأتي أمر الله وهم على ذلك.

ولذلك اهتم سلف هذه الأمة بالدعوة إلى الاعتصام بالكتاب والسنة، والتحذير من البدع والأهواء، وكثرت أقوالهم ومؤلفاتهم في هذه المسألة.

فكُتِبَتْ كتب كثيرة في السنة وبيان منهج السلف الصالح، وفي الرد على أهل الأهواء والبدع.

ومن هذه الكتب الكثيرة، كتاب الإمام أحمد رحمه الله تعالى في "الرد على الجهمية"، وكتاب "السنة" لعبد الله بن الإمام أحمد بن حنبل، وكتاب "خلق أفعال العباد" للبخاري، وكتاب "السنة" لابن أبي عاصم، وكتاب "السنة" لمحمد بن نصر المروزي، وكتاب "الشريعة" للآجري، و"شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة" للالكائي، وغير ذلك من كتب السلف رضوان الله عليهم.

وبعض هذه الكتب، عُنِيَ فيها مؤلفوها بالكتابة في التحذير من الأهواء والبدع، فألف ابن وضاح القرطبي كتابه "البدع والنهي عنها"، وألف أبو بكر الطرطوشي كتابه "الحوادث والبدع"، وألف أبو شامة كتاب "الباعث على إنكار البدع والحوادث"، ولكن اقتصرت هذه الكتب -في الغالب- على النقل المجرد للنصوص الواردة في التحذير من البدع والنهي عنها، دون تحليل لمعانيها، وتحقيق مسائلها، مما جعل الإمام الشاطبي يقوم بتصنيف كتابه الفذ "الاعتصام"، الذي أشار رحمه الله تعالى فيه إلى هذه الكتب السابقة، ومأخذه عليها، فقال: "وإذا استقام هذا الأصل -أي كَتْبَ العلم لحفظ الدين- فَاحْمِلْ عَلَيْهِ كَتْبَ الْعِلْمِ مِنَ السُّنَنِ وَغَيْرِهَا إِذَا خِيفَ عَلَيْهَا الِانْدِرَاسُ، زِيَادَةً عَلَى مَا جَاءَ فِي الْأَحَادِيثِ؛ مِنَ الْأَمْرِ بِكَتْبِ الْعِلْمِ، وأنا
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভক্তির হাদীসে যা বর্ণনা করেছেন, এবং প্রতিটি দলই দাবি করেছে যে তারা হকের ওপর রয়েছে এবং তারা ব্যতীত অন্য সবাই বাতিলের ওপর রয়েছে।

কিন্তু এই মতপার্থক্য এবং বিভক্তি থাকা সত্ত্বেও, এই উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি সাহায্যপ্রাপ্ত দল থাকবে যারা হকের ওপর অটল থাকবে, এর দিকে আহ্বান করবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে বা যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।

এই কারণেই এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার দাওয়াত এবং বিদআত ও প্রবৃত্তি পূজার ব্যাপারে সতর্ক করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, এবং এই বিষয়ে তাঁদের বাণী ও সংকলনসমূহ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

ফলে সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের মানহাজ বর্ণনা এবং প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতপন্থীদের খণ্ডনে অনেক কিতাব লেখা হয়েছে।

এই বহু সংখ্যক কিতাবসমূহের মধ্যে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর কিতাব ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের পুত্র আবদুল্লাহর কিতাব ‘আস-সুন্নাহ’, বুখারীর কিতাব ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’, ইবনে আবি আসিমের কিতাব ‘আস-সুন্নাহ’, মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযীর কিতাব ‘আস-সুন্নাহ’, আল-আজুরীর কিতাব ‘আশ-শারীআহ’, আল-লালকাঈর ‘শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ’ এবং সালাফদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আরও অন্যান্য কিতাব উল্লেখযোগ্য।

আর এই কিতাবগুলোর মধ্যে কিছু এমন ছিল যেখানে লেখকরা প্রবৃত্তি ও বিদআতের বিরুদ্ধে সতর্ক করার ব্যাপারে মনোনিবেশ করেছিলেন; যেমন ইবনে ওয়াদদাহ আল-কুরতুবী তাঁর কিতাব ‘আল-বিদাউ ওয়ান নাহয়ু আনহা’ রচনা করেন, আবু বকর আত-তোরতূশী তাঁর কিতাব ‘আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা’ রচনা করেন এবং আবু শামাহ ‘আল-বায়িস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদিস’ কিতাবটি রচনা করেন। কিন্তু এই কিতাবগুলো—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—বিদআত থেকে সতর্ক করার এবং তা নিষেধ করার ক্ষেত্রে বর্ণিত পাঠ্যসমূহের নিছক উদ্ধৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলোর অর্থের বিশ্লেষণ এবং মাসয়ালাগুলোর তাহকীক ছাড়াই। যা ইমাম আশ-শাতিবীকে তাঁর অনন্য কিতাব ‘আল-ইতিসাম’ রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যাতে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এই পূর্ববর্তী কিতাবগুলো এবং সেগুলোর ওপর তাঁর আপত্তির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: “আর যখন এই মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত হলো—অর্থাৎ দ্বীন সংরক্ষণের জন্য ইলম লিপিবদ্ধ করা—তখন আপনি সুন্নাহ ও অন্যান্য বিষয়ের ইলম লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি এর ওপর প্রয়োগ করুন যখন তা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়; হাদীসে ইলম লিপিবদ্ধ করার যে আদেশ এসেছে তার অতিরিক্ত হিসেবে। এবং আমি...”
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٩)
أَرْجُو أَنْ يَكُونَ كَتبُ هَذَا الْكِتَابِ الَّذِي وَضَعْتُ يَدِي فِيهِ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ؛ لِأَنِّي رَأَيْتُ بَابَ الْبِدَعِ فِي كَلَامِ الْعُلَمَاءِ مُغْفَلاً جِدًّا إِلَّا مِنَ النَّقْلِ الْجَلِيِّ؛ كَمَا نَقَلَ ابْنُ وَضَّاحٍ، أَوْ يُؤْتَى بِأَطْرَافٍ مِنَ الْكَلَامِ لَا يَشْفِي الْغَلِيلَ بِالتَّفَقُّهِ فِيهِ كَمَا يَنْبَغِي، ولم أجده عَلَى شِدَّةِ بَحْثِي عَنْهُ، إِلَّا مَا وَضَعَ فِيهِ أَبُو بَكْرٍ الطَّرْطُوشِيُّ، وَهُوَ يَسِيرُ فِي جَنْبِ مَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ فِيهِ، وَإِلَّا مَا وَضَعَ النَّاسُ فِي الْفِرَقِ الثِّنْتَيْنِ وَالسَّبْعِينَ، وَهُوَ فَصْلٌ مِنْ فُصُولِ الْبَابِ وَجُزْءٌ مِنْ أَجْزَائِهِ، فَأَخَذْتُ نَفْسِي بِالْعَنَاءِ فِيهِ، عَسَى أَنْ يَنْتَفِعَ واضعه، وقارئه، وَنَاشِرُهُ، وَكَاتِبُهُ، وَالْمُنْتَفِعُ بِهِ، وَجَمِيعُ الْمُسْلِمِينَ، إِنَّهُ ولي ذلك ومُسْدِيه بسعة رحمته" (1).

انتهي كلامه رحمه الله تعالى.

ويمتاز كتاب الشاطبي من غيره من الكتب الأخرى التي ألفت في البدع بميزات عدة، أهمها:

1 - دراسته للآيات والأحاديث والآثار الواردة في معنى البدعة، والتحذير منها، والأمر بلزوم السنة دراسة تحليلية، قائمة على الاستنباط والدقة في الفهم، والتحقيق العلمي للمسائل التي يطرقها.

2 - الترتيب العلمي والتسلسلي لموضوعات الكتاب، مما يساعد القارئ على استيعاب موضوعاته، وفهمها.

3 - قوة الشاطبي العلمية، والعقلية، ورصانة أسلوبه، ودقة عباراته وألفاظه.

4 - شمولية الكتاب لموضوعه، وجمعه لأطراف القضية التي تصدَّى لها، فقد عرَّف البدعة، والمسائل المتعلقة بها، وأسبابها، وذم البدع، وبيَّن سوء منقلب أصحابها، وأن البدع كلها مذمومة، ثم بيَّن مأخذ أهل البدع في الاستدلال، وحكم البدع الحقيقية والإضافية، وبيَّن أن البدع ليست على مرتبة واحدة، وناقش مسألة: هل البدع تدخل في الأمور العادية أو هي خاصة بالأمور العبادية فقط، وعقد فصلاً مُهِمّاً عن الفرق بين البدع

--------------------------------------------

(1) (3/ 16).
"আমি আশা করি যে এই গ্রন্থটি রচনা করা, যাতে আমি হাত দিয়েছি, তা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ আমি আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে বিদআতের বিষয়টি অত্যন্ত অবহেলিত অবস্থায় দেখেছি, কেবল স্পষ্ট বর্ণনাগুলো ছাড়া; যেমন ইবনে ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন, অথবা এমন কিছু বিচ্ছিন্ন বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে যা যথাযথ অনুধাবনের মাধ্যমে পিপাসা মেটায় না। আমি এটি নিয়ে কঠোর অনুসন্ধানের পরও আবু বকর আল-তারতুশি যা রচনা করেছেন তা ছাড়া আর কিছুই পাইনি, অথচ তা প্রয়োজনীয় বিষয়ের তুলনায় খুবই সামান্য। অথবা লোকেরা বাহাত্তর ফেরকা সম্পর্কে যা লিখেছে, তা তো এই প্রসঙ্গের একটি পরিচ্ছেদ বা একটি অংশ মাত্র। তাই আমি এতে নিজেকে কষ্টের সম্মুখীন করেছি, যাতে এর রচয়িতা, পাঠক, প্রকাশক, লেখক, এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তি এবং সকল মুসলিম উপকৃত হয়। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর রহমতের প্রশস্ততার মাধ্যমে এর অভিভাবক এবং দাতা।" (১).

তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

বিদআত বিষয়ে রচিত অন্যান্য গ্রন্থের তুলনায় শাতিবির কিতাবটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১ - বিদআতের অর্থ, এর থেকে সতর্কতা এবং সুন্নাহর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কিত আয়াত, হাদিস ও আসারসমূহের বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন, যা ইস্তিনবাত (মূলনীতি আহরণ) ও সূক্ষ্ম বোধশক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং আলোচিত মাসআলাসমূহের জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

২ - গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহের বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বিন্যাস, যা পাঠককে এর বিষয়সমূহ আয়ত্ত করতে এবং বুঝতে সহায়তা করে।

৩ - শাতিবির জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি, তাঁর শৈলীর গাম্ভীর্য এবং শব্দ ও বাক্যের সূক্ষ্মতা।

৪ - বিষয়ের পূর্ণাঙ্গতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সকল দিক একত্রিত করা। তিনি বিদআতের সংজ্ঞা দিয়েছেন, এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ ও কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন, বিদআতের নিন্দা করেছেন এবং বিদআতিদের অশুভ পরিণতির কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে সব বিদআতই নিন্দনীয়। এরপর তিনি বিদআতিদের দলীল গ্রহণের পদ্ধতি, প্রকৃত (হাকিকি) ও আপেক্ষিক (ইদাফি) বিদআতের বিধান স্পষ্ট করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে বিদআত সব এক স্তরের নয়। তিনি এই মাসআলাটিও আলোচনা করেছেন যে: বিদআত কি কেবল পার্থিব প্রথাগত বিষয়েও প্রবেশ করে নাকি তা কেবল ইবাদতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ? এছাড়াও তিনি বিদআতের প্রকারভেদের পার্থক্য সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উপস্থাপন করেছেন...

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٠)
والمصالح المرسلة والاستحسان، ثم درس حديث الافتراق دراسة وافية من حيث معناه، وما يندرج تحته من مسائل مُهِمَّة، وأخيرًا عقد باباً لبيان الصراط المستقيم الذي ينبغي للمسلم سلوكه، وهذا ترتيب دقيق، يدل على عظم فقه صاحبه رحمه الله تعالى.

5 - مناقشته للشُّبَه التي تمسك بها أهل البدع، وجعلوها أدلة لبدعهم، وقيامه بنقضها وبيان خطأ الاستدلال بها، وأنها لا تخفي على الراسخين.

وقد طبع الكتاب عدة طبعات، معظمها مليئة بالسقط والتصحيف والأخطاء (1)، لا يزال معها الكتاب بحاجة إلى خدمة؛ من ضبط نصٍّ، وتخريج أحاديث وآثار، وتعليق على ما لا بُدَّ منه، وغير ذلك؛ مما دفعنا إلى إعادة تحقيقه، والتعليق عليه، فقام الدكتور محمد بن عبد الرحمن الشقير بكتابة قسم الدراسة من بدايته إلى نهاية المبحث الخامس: (قيمة الكتاب العلمية)، وتحقيق الأبواب الثلاثة الأولى.

وقام الدكتور سعد بن عبد الله آل حميّد بتحقيق الباب الرابع والخامس والسادس والسابع.

وقام الدكتور هشام بن إسماعيل الصيني بتحقيق الباب الثامن والتاسع والعاشر، وكتابة الملحق الخاص بالفرق في نهاية الكتاب.

وما سوى ذلك فهو عمل مشترك بين المحققين.

وأصل هذا العمل كان رسائل علمية بجامعة أم القرى، فالقسم الأول هو أطروحه الدكتور محمد الشقير للماجستير، وقد نوقشت بتاريخ 1415 هـ، والقسم الثالث هو أطروحة الدكتور هشام الصيني للماجستير أيضاً، وقد نوقشت بتاريخ 1413 هـ.

وأما القسم الثاني فلم يتم الاتفاق بين دار ابن الجوزي وبين الطالب

--------------------------------------------

(1) ولا نستثني من ذلك سوى الطبعة التي قام بتحقيقها الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان فهي أحسن الطبعات السابقة؛ كما سيأتي بيانه إن شاء الله.
এবং মাসালিহে মুরসালা ও ইসতিহসান; এরপর তিনি দলবিভক্তির হাদিসটি এর অর্থ এবং এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। সবশেষে তিনি মুসলিমদের জন্য অনুসরণযোগ্য সিরাতে মুস্তাকিম বর্ণনার জন্য একটি অধ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন। এটি একটি সূক্ষ্ম বিন্যাস, যা এর লেখকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।

৫ - বিদআতিরা যেসব সংশয়কে আঁকড়ে ধরেছে এবং সেগুলোকে তাদের বিদআতের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে, সেগুলোর ব্যাপারে তাঁর আলোচনা; এবং সেগুলোকে খণ্ডন করা ও সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার ভুলগুলো স্পষ্ট করা, যা গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে গোপন থাকে না।

বইটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার অধিকাংশ সংস্করণই বিভিন্ন বিলুপ্তি, শব্দগত বিকৃতি ও ভুলে ভরা (১)। এর ফলে বইটি এখনও সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা রাখে; যেমন মূল পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, হাদিস ও আছারসমূহের সূত্র বিশ্লেষণ (তাখরিজ), আবশ্যকীয় টীকা প্রদান এবং অন্যান্য কাজ। আর এটিই আমাদের নতুন করে এর তাহকিক ও টীকা প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-শুকাাইর শুরু থেকে পঞ্চম পরিচ্ছেদ—(বইটির বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব)—এর শেষ পর্যন্ত গবেষণামূলক অংশটি লিখেছেন এবং প্রথম তিনটি অধ্যায়ের তাহকিক সম্পন্ন করেছেন।

এবং ড. সা’দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ের তাহকিক সম্পন্ন করেছেন।

এবং ড. হিশাম বিন ইসমাইল আল-সিনি অষ্টম, নবম ও দশম অধ্যায়ের তাহকিক করেছেন এবং বইয়ের শেষে ফিরকাসমূহ সম্পর্কিত বিশেষ পরিশিষ্টটি লিখেছেন।

এ ছাড়া বাকি অংশগুলো মুহাক্কিকদের যৌথ কাজ।

এই কাজের মূল ভিত্তি ছিল উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক থিসিসসমূহ। প্রথম অংশটি ছিল ড. মুহাম্মদ আল-শুকাাইরের মাস্টার্স থিসিস, যা ১৪১৫ হিজরিতে সমর্থিত হয়েছিল। আর তৃতীয় অংশটি ছিল ড. হিশাম আল-সিনির মাস্টার্স থিসিস, যা ১৪১৩ হিজরিতে সমর্থিত হয়েছিল।

তবে দ্বিতীয় অংশের ব্যাপারে দারু ইবনিল জাওযি এবং সেই ছাত্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।

--------------------------------------------

(১) আমরা এর থেকে কেবল শায়খ মাশহুর বিন হাসান আল-সালমানের তাহকিককৃত সংস্করণটিকেই ব্যতিক্রম মনে করি, কারণ এটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম; যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١١)
الذي قام بتحقيقه، فقام الدكتور سعد الحميد بتحقيقه، وكان هذا من أسباب تأخير صدور هذه الطبعة.

وفيما يلي وصف لخطة العمل في هذا الكتاب:

فقد قسمنا الكتاب إلى قسمين، تعقبها الفهارس.

* القسم الأول: الدراسة، وفيه بابان:

- الباب الأول: التعريف بالمؤلف، وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: عصر المؤلف، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الحالة السياسية.

المبحث الثاني: الحالة الاجتماعية.

المبحث الثالث: الحالة العلمية.

الفصل الثاني: حياة المؤلف الشخصية، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: اسمه وكنيته ونسبه ونسبته.

المبحث الثاني: مولده ونشأته وموطنه.

المبحث الثالث: محنته وما اتهم به.

المبحث الرابع: وفاته.

الفصل الثالث: حياة المؤلف العلمية، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: طلبه للعلم وشيوخه.

المبحث الثاني: تلاميذه.

المبحث الثالث: ثقافته ومؤلفاته.

المبحث الرابع: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث الخامس: عقيدته.

- الباب الثاني: التعريف بالكتاب وطبعاته ونُسَخِه الْخَطِّيَّة، وفي فصلان:
যা তিনি সম্পাদনা করেছেন; সুতরাং ড. সা'দ আল-হুমাইদ এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এই সংস্করণটি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার এটি অন্যতম কারণ ছিল।

নিচে এই গ্রন্থের কর্মপরিকল্পনার বিবরণ দেওয়া হলো:

আমরা গ্রন্থটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছি, যার পরে নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করা হয়েছে।

* প্রথম ভাগ: গবেষণা ও পাঠ, এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:

- প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের ব্যক্তিগত জীবন, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয় ও নিসবত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও স্বদেশ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর কারাবরণ/পরীক্ষা এবং তাঁর প্রতি আরোপিত অভিযোগসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন, এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলম অর্জন ও শিক্ষকগণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর পাণ্ডিত্য ও গ্রন্থাবলি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা।

- দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি, এর সংস্করণসমূহ ও পাণ্ডুলিপিসমূহ, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٢)
الفصل الأول: التعريف بالكتاب، وفيه خمس مباحث:

المبحث الأول: اسم الكتاب.

المبحث الثاني: موضوعه.

المبحث الثالث: سبب تأليفه.

المبحث الرابع: توثيق نسبته إلى مؤلِّفه.

المبحث الخامس: قيمته العلمية.

الفصل الثاني: التعريف بطبعات الكتاب، ونُسَخِه الخطّيَّة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بطبعات الكتاب.

المبحث الثاني: التعريف بنسخ الكتاب الخطّيَّة.

* القسم الثاني: النص المحقق.

 

‌‌منهجنا في تحقيق الكتاب

‌‌أولاً: المقابلة بين النسخ:

قمنا بالمقابلة بين النسخ، واتبعنا طريقة اختيار النص الصحيح، وذلك لعدم توفر نسخة يمكن الاعتماد عليها وجعلها أصلاً، مع ملاحظة ما يلي:

أ- لا نشير إلى الفروق في لفظ الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، والترضي عن الصحابة رضي الله عنهم، بل نثبت أكمل صيغة وردت في المخطوطات.

ب- لا نشير إلى الفروق بين النسخ في:

(قال الله تعالى) و (قال تعالى)، بل نثبت أكمل صيغة وردت في المخطوطات.

جـ- بالنسبة إلى الفروق بين نسخ الاعتصام والكتب التي نقل منها الشاطبي، لا نشير إلا إلى الفروق المهمة بينهما.

د- إذا أجمعت النسخ على كلمة أو جملة يظهر -من غير جزم- أنها
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি, এতে পাঁচটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: গ্রন্থের নাম।

দ্বিতীয় বিষয়: এর বিষয়বস্তু।

তৃতীয় বিষয়: এটি রচনার কারণ।

চতুর্থ বিষয়: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

পঞ্চম বিষয়: এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি পরিচিতি, এতে দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণসমূহের পরিচিতি।

দ্বিতীয় বিষয়: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহের পরিচিতি।

* দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদিত মূল পাঠ।

 

‌‌গ্রন্থ সম্পাদনায় আমাদের পদ্ধতি

‌‌প্রথমত: পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যে তুলনা:

আমরা পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যে তুলনা করেছি এবং সঠিক পাঠটি নির্বাচনের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। এর কারণ ছিল নির্ভরযোগ্য এবং মূল হিসেবে গ্রহণ করার মতো কোনো একক পাণ্ডুলিপি লভ্য ছিল না। সেই সাথে নিচের বিষয়গুলো লক্ষণীয়:

ক- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত (দুরুদ) পাঠ এবং সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের বাক্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের পার্থক্যের প্রতি আমরা ইশারা করিনি; বরং পাণ্ডুলিপিসমূহে প্রাপ্ত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপটিই আমরা স্থির করেছি।

খ- পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যে (আল্লাহ তাআলা বলেছেন) এবং (তিনি তাআলা বলেছেন)-এর পার্থক্যের প্রতি আমরা ইঙ্গিত করিনি; বরং পাণ্ডুলিপিসমূহে প্রাপ্ত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপটিই আমরা ব্যবহার করেছি।

গ- আল-ইতিসাম গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং শাতেবী যেসকল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমরা কেবল গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলোই উল্লেখ করেছি।

ঘ- যদি পাণ্ডুলিপিসমূহ কোনো শব্দ বা বাক্যের ওপর ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিশ্চিত না হলেও আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে এটি-
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٣)
خطأ أو فيها سقط، فنثبت ما وجدناه في النسخ في الأغلب، ونشير في الهامش إلى الكلمة أو الجملة التي نظن أنها أقرب إلى الصواب.

أما إذا أجمعت النسخ على خطأ أو سقط جزماً، وكان الخطأ في نقل نقله الشاطبي عن بعض الكتب، ووجدنا الصواب في الكتب التي نقل منها، فنثبت الصواب ونشير إلى ذلك في الهامش.

 

‌‌ثانياً: التعليق:

علقنا على المسائل المهمة التي يُحتاج إليها في فهم النص، أو قد تُشكل على بعض القراء، ولم نعلق على كل مسألة ترد خشية إثقال الحواشِي بالتعليقات التي لا يحتاج إليها -في الغالب- معظم طلبة العلم.

 

‌‌ثالثاً: الآيات القرآنية:

قمنا بمراجعة الآيات القرآنية، وعزوها إلى سورها، مع ذكر أرقام الآيات.

 

‌‌رابعاً: الأحاديث والآثار:

خرجنا الأحاديث والآثار من الكتب المشهورة كالصحيحين والسنن والمسانيد، وأما بالنسبة إلى صحة الحديث، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما، اكتفينا بذلك، وإن كان في غير الصحيحين، ذكرنا حكم العلماء عليه -إن وجد- بالصحة أو الضعف، سواء من العلماء السابقين أو المعاصرين، وقد نجتهد في الحكم على الحديث والأثر أحياناً.

 

‌‌خامساً: عزو الأقوال والنصوص:

قمنا بعزو النصوص -التي نقلها الشاطبي- إلى الكتب المطبوعة حسب الاستطاعة.

 

‌‌سادساً: ترجمة الأعلام:

ترجمنا ترجمة مختصرة للأعلام غير المشهورين.
ভুল বা কোনো অংশ বাদ পড়া থাকলে, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা পেয়েছি তা-ই বহাল রেখেছি এবং পাদটীকায় সেই শব্দ বা বাক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছি যা আমাদের নিকট সঠিকের অধিকতর কাছাকাছি বলে মনে হয়েছে।

কিন্তু যদি পাণ্ডুলিপিগুলো নিশ্চিতভাবে কোনো ভুল বা বাদ পড়ার বিষয়ে একমত হয়, এবং সেই ভুলটি যদি শাতিবি কর্তৃক কোনো কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে হয়, আর আমরা যদি সেই মূল কিতাবে সঠিক পাঠটি খুঁজে পাই, তবে আমরা সঠিকটিই বহাল রেখেছি এবং পাদটীকায় তা উল্লেখ করেছি।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: টীকা প্রদান:

আমরা মূল পাঠ বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় অথবা যা কিছু পাঠকদের নিকট অস্পষ্ট হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের ওপর টীকা প্রদান করেছি। আমরা প্রতিটি বিষয়ে টীকা প্রদান করিনি যাতে পাদটীকা এমন সব মন্তব্যের ভারে ন্যুব্জ না হয়ে পড়ে যার প্রয়োজন সাধারণত অধিকাংশ জ্ঞানান্বেষীর নেই।

 

‌‌তৃতীয়ত: কুরআনের আয়াতসমূহ:

আমরা কুরআনের আয়াতসমূহ যাচাই করেছি এবং আয়াতের নম্বরসহ সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে নির্দেশ করেছি।

 

‌‌চতুর্থত: হাদিস ও আসারসমূহ:

আমরা বুখারি ও মুসলিম, সুনান ও মাসানিদ এর মতো প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিস ও আসারসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি। হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে, যদি হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের উভয়টিতে অথবা যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমরা সেটির ওপরই নির্ভর করেছি। আর যদি তা বুখারি ও মুসলিম ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবে থাকে, তবে পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক আলেমদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত (যদি থাকে) সেটির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার হুকুম উল্লেখ করেছি। কখনও কখনও আমরা হাদিস ও আসারের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদও করেছি।

 

‌‌পঞ্চমত: উক্তি ও পাঠের উৎস নির্দেশ:

ইমাম শাতিবি যে সকল পাঠ উদ্ধৃত করেছেন, সাধ্যানুযায়ী আমরা সেগুলো মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতির সাথে মিলিয়ে দিয়েছি।

 

‌‌ষষ্ঠত: ব্যক্তিবর্গের পরিচয়:

আমরা স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা পরিচয় প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌سابعاً: شرح الكلمة الغريبة:

قمنا بشرح الكلمات الغريبة من معاجم اللغة، وضبطنا بالشكل الكلمات التي تحتاج إلى ضبط.

 

‌‌ثامناً: التعريف بالفِرَق:

عرفنا بالفرق من خلال كتب الفرق المشهورة، وذكرنا التعريف في هامش النص، ما عدا الفرق التي سردها الشاطبي أثناء كلامه على مسألة تعيين الفرق في الباب التاسع، وهي أكثر من اثنتين وسبعين فرقة، فقد أفرد لها محقق الباب التاسع ملحقاً خاصّاً في نهاية البحث.

 

‌‌تاسعاً: التعريف بالبلدان والأماكن:

قمنا بالتعريف بالبلدان والأماكن غير المشهورة، من خلال كتب معاجم البلدان.

 

‌‌عاشراً: الفهارس:

قمنا بوضع فهارس علمية تساعد الباحث في الكشف عن مسائل الكتاب، وهي:

1 - فهرس الآيات القرآنية.

2 - فهرس الأحاديث النبوية.

3 - فهرس الآثار.

4 - فهرس الأعلام.

5 - فهرس الفرق.

6 - فهرس الأماكن والبقاع.

7 - فهرس موضوعات الكتاب.

وبعد: فهذا ما استطعنا من جهد، فما كان فيه من صواب فهو بتوفيق
সপ্তম: অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা:

আমরা ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ থেকে অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করেছি এবং যে শব্দগুলোতে হরকত বা স্বরচিহ্ন প্রদান করা প্রয়োজন ছিল, আমরা সেগুলোর যথাযথ রূপ নির্ধারণ করেছি।

 

অষ্টম: দলসমূহের পরিচিতি:

আমরা প্রসিদ্ধ দল বা ফিরকা বিষয়ক গ্রন্থাবলি থেকে দলগুলোর পরিচয় পেশ করেছি এবং মূল পাঠের টীকায় সেই সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি; তবে সেই দলগুলো ব্যতীত যেগুলো শাতবী নবম অধ্যায়ে দল নির্ধারণের মাসআলা আলোচনার সময় ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো বাহাত্তরেরও বেশি দল, আর নবম অধ্যায়ের গবেষক সেগুলোর জন্য গবেষণার শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন।

 

নবম: দেশ ও স্থানসমূহের পরিচিতি:

আমরা ভৌগোলিক অভিধানসমূহের মাধ্যমে অখ্যাত দেশ ও স্থানসমূহের পরিচয় তুলে ধরেছি।

 

দশম: নির্ঘণ্টসমূহ:

আমরা কিছু তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি যা গবেষককে কিতাবের মাসআলাসমূহ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে, সেগুলো হলো:

১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২ - হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

৩ - আছার-এর নির্ঘণ্ট।

৪ - বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ঘণ্ট।

৫ - ফিরকা বা দলসমূহের নির্ঘণ্ট।

৬ - স্থান ও ভূখণ্ডের নির্ঘণ্ট।

৭ - কিতাবের বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।

পরিশেষে: এটিই আমাদের সাধ্যমতো প্রচেষ্টা, সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহর তাওফিকেই হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٥)
من الله عز وجل، وما كان من خطأ فهو من قصور البشر وعجزهم، ولا نقول إلا كما قال الشاطبي رحمه الله: "فَالْإِنْسَانُ -وَإِنْ زَعَمَ فِي الْأَمْرِ أَنَّهُ أَدْرَكَهُ وَقَتَلَهُ عِلْمًا- لَا يَأْتِي عَلَيْهِ الزَّمَانُ إِلَّا وَقَدْ عَقَلَ فِيهِ مَا لَمْ يَكُنْ عَقَلَ، وَأَدْرَكَ مِنْ عِلْمِهِ مَا لَمْ يَكُنْ أَدْرَكَ قَبْلَ ذَلِكَ، كُلُّ أَحَدٍ يُشَاهِدُ ذَلِكَ مِنْ نَفْسِهِ عِيَانًا، وَلَا يَخْتَصُّ ذَلِكَ عِنْدَهُ بِمَعْلُومٍ دون معلوم، ولا بذات دون صفة، ولا فعل دون حكم" (1).

و"المنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه" (2).

وأخيراً، فإنا نحمد الله عز وجل ونشكره على توفيقه لنا في إتمام هذا العمل.

ثم إنّا نشكر كل من ساعدنا في إتمام هذا الجهد، ونسأل الله عز وجل أن يكتب لهم الأجر ويحط عنهم الوزر، وأن يتقبل عملنا خالصاً لوجهه، ويغفر لنا خطأنا وتقصيرنا، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

المحققون

--------------------------------------------

(1) انظر النص المحقق (ص 286).

(2) "القواعد" لابن رجب (ص 3).
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা মানুষের সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতাপ্রসূত। আমরা শুধু তাই বলি যা ইমাম শাতবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষ—যদিও কোনো বিষয়ে দাবি করে যে সে তা সম্যকভাবে উপলব্ধি করেছে এবং জ্ঞানগতভাবে আয়ত্তে এনেছে—সময়ের আবর্তনে তার কাছে এমন কিছু বিষয় স্পষ্ট হয় যা আগে সে বুঝতে পারেনি এবং সে তার জ্ঞানের এমন কিছু উপলব্ধি করে যা ইতিপূর্বে করেনি। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করে এবং এটি তার কাছে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সত্তা হোক বা গুণাবলি, কাজ হোক বা বিধান—সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।" (১)।

এবং "ন্যায়পরায়ণ সেই ব্যক্তি যে মানুষের অধিক শুদ্ধতার মাঝে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেয়" (২)।

পরিশেষে, আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি এই কাজটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করার জন্য।

অতঃপর আমরা তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই প্রচেষ্টা সম্পন্ন করতে আমাদের সাহায্য করেছেন। আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের জন্য পুণ্য লিখে দেন এবং তাদের পাপসমূহ মোচন করেন। আর তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কবুল করেন যা শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত এবং আমাদের ভুল ও ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

গবেষকবৃন্দ

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সম্পাদিত মূল পাঠ (পৃ. ২৮৬)।

(২) ইবনে রজব প্রণীত "আল-কাওয়ায়িদ" (পৃ. ৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٧)
القسم الأول‌‌ الدراسة

* وفيه بابان:

الباب الأول: التعريف بالمؤلف.

الباب الثاني: التعريف بالكتاب وطبعاته ونُسخِه الخطيّة.
প্রথম অংশগবেষণামূলক আলোচনা

* এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি এবং এর মুদ্রণ ও পাণ্ডুলিপিসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الباب الأول التعريف بالمؤلف

* وفيه ثلاثة فصول:

الفصل الأول: عصر المؤلِّف.

الفصل الثاني: حياة المؤلف الشخصية.

الفصل الثالث: حياة المؤلف العلمية.
প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচয়

* এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের ব্যক্তিগত জীবন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الفصل الأول عصر المؤلِّف

* وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الحالة السياسية.

المبحث الثاني: الحالة الاجتماعية.

المبحث الثالث: الحالة العلمية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ

* এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌المبحث الأول الحالة السياسية

عاش الإمام الشاطبي رحمه الله في القرن الثامن الهجري، وكانت حياته في مدينة غرناطة (1) الأندلسية، والتي كان يحكمها في ذلك الوقت ملوك بني نصر، ويسمون كذلك ملوك بني الأحمر، ويعود نسبهم إلى الصحابي الجليل سعد بن عبادة الأنصاري رضي الله عنه (2). وقد حكمت هذه الدولة مملكة غرناطة ما يزيد على قرنين ونصف، حيث نشأت مملكتهم عام 635 هـ على يد مؤسس الدولة الغالب بالله أبي عبد الله محمد بن يوسف بن محمد بن نصر بن قيس الخزرجي الأنصاري، وانتهت عام 897 هـ على أيدي نصارى إسبانيا (3).

وقد عاشت هذه الدولة اضطرابات سياسية بين ملوكها، بعد مؤسسها الأول، فها هو لسان الدين ابن الخطيب (4) أحد وزراء الدولة المقربين يصور لنا ما وقع بين ملوكها بعد مؤسسها الأول فيقول: " … وولِّي بعده ولده

--------------------------------------------

(1) غرناطة: بفتح أوله وسكون ثانيه، ثم نون، وبعد الألف طاء مهملة، وأغرناطة بالألف في أوله أسقطها العامة، وهي أقدم مدن كورة البيرة من أعمال الأندلس وأعظمها وأحسنها وأحصنها. انظر: "معجم البلدان" لياقوت الحموي (4/ 195)، "الإحاطة في أخبار غرناطة" للسان الدين ابن الخطيب (1/ 91).

(2) "الإحاطة في أخبار غرناطة" (1/ 119).

(3) "نهاية الأندلس" لعبد الله عنان (ص 139).

(4) هو محمد بن عبد الله بن سعيد المعروف بلسان الدين ابن الخطيب، ذو الوزارتين، أديب، شاعر، مؤرخ، مشارك في الطب وغيره، ومن كتبه "الإحاطة في أخبار غرناطة" و"اللمحة البدرية في الدولة النصرية" وغيرهما.

انظر: "نفح الطيب" للمقري (8/ 130)، "شجرة النور الزكية" لمحمد مخلوف (ص 230).
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা

ইমাম শাতবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে বসবাস করতেন। তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছিল আন্দালুসিয়ার গ্রানাডা (১) শহরে, যা সেই সময়ে বনু নাসর রাজবংশের রাজারা শাসন করতেন। তাঁরা বনু আহমার রাজবংশ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের বংশধারা মহান সাহাবী সাদ বিন উবাদাহ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে (২)। এই রাষ্ট্র গ্রানাডা রাজ্যকে আড়াই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শাসন করেছিল। তাদের রাজ্যের সূচনা হয়েছিল ৬৩৫ হিজরি সালে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আল-গালিব বিল্লাহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন কাইস আল-খাজরাজি আল-আনসারীর হাতে এবং এর সমাপ্তি ঘটে ৮৯৭ হিজরি সালে স্পেনের খ্রিস্টানদের হাতে (৩)।

এই রাষ্ট্রটি তার প্রথম প্রতিষ্ঠাতার পর তার রাজাদের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রত্যক্ষ করেছিল। এই তো লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব (৪), যিনি রাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন, তিনি আমাদের সামনে তার রাজাদের মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠাতার পরে যা ঘটেছিল তার চিত্র তুলে ধরে বলেন: " ... এবং তাঁর পরে তাঁর সন্তান দায়িত্ব লাভ করেন

--------------------------------------------

(১) গ্রানাডা: প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ ও দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন, এরপর নুন এবং আলিফের পর মুহমালাহ ত্বা। শুরুতে আলিফ যুক্ত 'আগরনাদা'-ও বলা হয়, যা সাধারণ মানুষ বর্জন করেছে। এটি আন্দালুসিয়ার আল-বিরাহ অঞ্চলের প্রাচীনতম, সর্বশ্রেষ্ঠ, অতি সুন্দর ও সুরক্ষিত শহর। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাভী রচিত "মু'জামুল বুলদান" (৪/১৯৫), লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব রচিত "আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ" (১/৯১)।

(২) "আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ" (১/১১৯)।

(৩) আবদুল্লাহ ইনান রচিত "নিহায়াতুল আন্দালুস" (পৃষ্ঠা ১৩৯)।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সাঈদ, লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব নামে পরিচিত, 'জু আল-উজারাতাইন' (দুই মন্ত্রণালয়ের অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত। তিনি সাহিত্যিক, কবি, ঐতিহাসিক এবং চিকিৎসাশাস্ত্র ও অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে "আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ" এবং "আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ ফিদ দাওলাতিন নাসরিয়্যাহ" অন্যতম।

দেখুন: আল-মাক্কারীর "নাফহুত তীব" (৮/১৩০), মুহাম্মদ মাখলুফের "শাজারাতুন নূরুজ জাকিয়্যাহ" (পৃষ্ঠা ২৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وسَمِيُّه السلطان -ثاني ملوكها وعظيمها- أبو عبد الله، وطالت مدته إلى أن توفي عام احد وسبع مئة، وولِّي بعده ولده وسَمِيُّه أبو عبد الله محمد، وخُلع يوم الفطر من عام ثمانية وسبع مئة، وتوفي في شوال عام أحد عشر وسبع مئة، وولِّي بعده خالعه أخوه نصر أبو الجيوش، وارتبك أمره، وطلب الأمر ابن عم أبيه السلطان أبو الوليد إسماعيل بن الفرج بن إسماعيل صنو الأمير الغالب بالله أول ملوكهم، فتغلب على دار الإمارة في ثاني ذي القعدة من عام ثلاثة عشر وسبع مئة، وانتقل نصر مخلوعاً إلى مدينة وادي آشي، وتوفي عام اثنين وعشرين وسبع مئة، وتمادى ملك السلطان أبي الوليد إلى الثالث والعشرين من رجب عام خمسة وعشرين وسبع مئة، ووثب عليه ابن عمه في طائفة من قرابته فقتلوه ببابه، وخاب فيما أملوه سعيهم، فقتلوا كلهم يومئذٍ، وتولَّى أمره ولده محمد، واستمر إلى ذي الحجة من عام أربعة وثلاثين وسبع مئة، وقتل بظاهر جبل الفتح بأيدي جنده من المغاربة، وتولَّى الأمر بعده أخوه أبو الحجاج يوسف، ودام ملكه إلى يوم عيد الفطر من عام خمسة وخمسين وسبع مئة، وترامى عليه في صلاته ممرور بمدية في يده فقتله، وقدم لأمره الأكبر من أولاده … " (1).

وابنه هذا هو محمد بن أبي الحجاج، وقد سلب منه ملكه ثم عاد إليه عام 763 هـ، "واستمر ملكه إلى أن توفي عام 793 هـ، ودامت فتن داخلية حتى سقطت مملكتهم عام 897 هـ على أيدي نصارى إسبانيا" (2).

ولا يخفي ما يصوره نص ابن الخطيب السابق من الاضطرابات السياسية الداخلية بين ملوك هذه الدولة.

وقد عانت هذه الدولة من العدو الخارجي، وهم النصارى الإسبان الذين كانوا يتربصون بهم، ولا يفترون عن مهاجمتهم إلا إذا انشغلوا بالقتال فيما بينهم، وجهاد هذه الدولة ضد النصارى من أروع حسناتها، حيث

--------------------------------------------

(1) "الإحاطة في أخبار غرناطة" (1/ 119)، "اللمحة البدرية" (ص 33 - 34).

(2) "نهاية الأندلس" لعبد الله عنان (ص 27 - 54، 139).
তাঁর নামধারী সুলতান—তাদের দ্বিতীয় এবং মহান বাদশাহ—আবু আব্দুল্লাহ, তাঁর রাজত্বকাল দীর্ঘ হয়েছিল যতক্ষণ না তিনি ৭০১ সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পর তাঁর পুত্র এবং তাঁর নামধারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ক্ষমতা লাভ করেন এবং ৭০৮ সালের ঈদুল ফিতরের দিন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তিনি ৭১১ সালের শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পর তাঁকে ক্ষমতাচ্যুতকারী তাঁর ভাই নাসর আবুল জুইউশ শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তাঁর শাসনকাল ছিল বিশৃঙ্খল। এরপর তাঁর পিতার চাচাতো ভাই সুলতান আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল ইবনে আল-ফারাজ ইবনে ইসমাইল ক্ষমতা দাবি করেন, যিনি তাদের প্রথম বাদশাহ আল-আমির আল-গালিব বিল্লাহর ভাই ছিলেন। অতঃপর তিনি ৭১৩ সালের ২রা জিলকদ তারিখে ইমারাতের কেন্দ্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। নাসর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ওয়াদি আশী শহরে চলে যান এবং ৭২২ সালে ইন্তেকাল করেন। সুলতান আবুল ওয়ালিদের রাজত্ব ৭২৫ সালের ২৩শে রজব পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তাঁর একদল আত্মীয়স্বজনসহ তাঁর এক চাচাতো ভাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁর গৃহের দরজায় তাঁকে হত্যা করে। কিন্তু তারা যা আশা করেছিল তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেদিন তাদের সকলকেই হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তা ৭৩৪ সালের জিলহজ মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তিনি জাবালুল ফাতহ-এর বাইরে তাঁর মরক্কান সৈন্যদের হাতে নিহত হন। তাঁর পর তাঁর ভাই আবু হাজ্জাজ ইউসুফ শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তাঁর রাজত্ব ৭৫৫ সালের ঈদুল ফিতর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। নামাজেরত অবস্থায় এক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি ছুরি হাতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে হত্যা করে। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়জনকে … " (১)।

তাঁর এই পুত্র হলেন মুহাম্মদ বিন আবুল হাজ্জাজ, তাঁর কাছ থেকে রাজত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে ৭৬৩ হিজরিতে তা পুনরায় তাঁর নিকট ফিরে আসে। "তাঁর রাজত্ব ৭৯৩ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী ছিল এবং ৮৯৭ সালে স্পেনের খ্রিস্টানদের হাতে তাদের রাজ্যের পতন হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ চলতে থাকে" (২)।

ইবনে খতিবের পূর্বোক্ত বর্ণনাটি এই রাষ্ট্রের বাদশাহদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার যে চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে তা অস্পষ্ট নয়।

এই রাষ্ট্রটি বাহ্যিক শত্রুর দ্বারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আর তারা হলো স্প্যানিশ খ্রিস্টানরা যারা তাদের জন্য ওত পেতে থাকত। তারা আক্রমণ করা থেকে তখনই বিরত থাকত যখন তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে এই রাষ্ট্রের জিহাদ ছিল তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুণ্যকর্ম, যেখানে

--------------------------------------------

(১) "আল-ইহাতা ফি আখবারি গ্রানাডা" (১/১১৯), "আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ" (পৃ. ৩৩-৩৪)।

(২) আবদুল্লাহ ইনানের "নিহায়াতুল আন্দালুস" (পৃ. ২৭-৫৪, ১৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
واجهت النصارى ما يزيد على قرنين، مع إحاطة العدو بها، ومع بعدها عن ديار المسلمين.

وكان من حسنات هذه الدولة إيواؤها للمسلمين الذين كانت تسقط مدنهم في أيدي النصارى.

وقد كان للعلماء دور هام في الساحة السياسية، ويبرز ذلك في توعيتهم للناس، وتحذيرهم من هذا العدو، وتحريك حمياتهم. قال في أزهار الرياض: "لما تقلص الإسلام بالجزيرة، واسترد الكفار أكثر أمصارها وقراها على وجه العنوة والصلح والاستسلام، لم يزل العلماء والكتاب والوزراء يحركون حميات ذوي البصائر والأبصار، ويستنهضون عزماتهم في كل الأمصار" (1).

ولم يقتصر علماء الأندلس على الجهاد باللسان والقلم، بل شاركوا بأنفسهم في المعارك ضد النصارى، ومن ذلك معركة طريف (2) وغيرها.

وقد عاصر الإمام الشاطبي رحمه الله ما يقارب أربعة ملوك من ملوك هذه الدولة بداية من السلطان أبي الوليد إسماعل بن فرج 722 - 725 هـ، ونهاية بمحمد بن يوسف بن إسماعيل 755 - 793 هـ.

ولا يظهر من ترجمة الإمام الشاطبي أنه كان ذا عناية بما يدور في الواقع السياسي، وإنما كان شغله العلم والتعليم، والدعوة إلى السنة والنهي عن البدع، والاجتهاد في الإصلاح. ولا شك أن ذلك من أعظم أسباب قيام الدول وبقائها.

--------------------------------------------

(1) "أزهار الرياض في أخبار القاضي عياض" للمقري (1/ 63).

(2) هي موقعة وقعت بين المسلمين والنصارى في الأندلس سنة (741 هـ)، وقد استشهد في هذه المعركة عدد كبير من العلماء، وقد انتصر المسلمون فيها. انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" (4/ 332)، "نفح الطيب" (5/ 14).
তারা খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করেছে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে, যেখানে শত্রুরা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছিল এবং মুসলিম ভূখণ্ড থেকে তারা দূরে অবস্থিত ছিল।

এই রাষ্ট্রের অন্যতম পুণ্যময় কাজ ছিল সেইসব মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়া, যাদের শহরগুলো খ্রিস্টানদের হস্তগত হয়েছিল।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি, এই শত্রুর ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা এবং তাদের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। 'আযহারুর রিয়াদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যখন উপদ্বীপে ইসলামের প্রভাব সংকুচিত হয়ে এল এবং কাফেররা বলপ্রয়োগ, সন্ধি কিংবা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সেখানকার অধিকাংশ শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধার করল, তখন আলেম, লেখক ও মন্ত্রীরা প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের আত্মমর্যাদাবোধকে নাড়া দিতে এবং প্রতিটি জনপদে তাদের সংকল্পকে জাগ্রত করতে সচেষ্ট ছিলেন" (১)।

আন্দালুসের আলেমগণ কেবল লেখনী ও বক্তব্যের জিহাদেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তারা খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে তারিফের যুদ্ধ (২) এবং অন্যান্য যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য।

ইমাম শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) এই রাষ্ট্রের প্রায় চারজন শাসকের শাসনামল পেয়েছিলেন, যার সূচনা হয়েছিল সুলতান আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল বিন ফারাজ ৭২২ - ৭২৫ হি. থেকে এবং সমাপ্তি ঘটেছিল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইসমাইল ৭৫৫ - ৭৯৩ হি. এর মাধ্যমে।

ইমাম শাতবির জীবনী থেকে এমনটা প্রকাশ পায় না যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যা ঘটছিল সেদিকে তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল; বরং তাঁর একমাত্র ব্যস্ততা ছিল ইলম ও শিক্ষাদান, সুন্নাহর দিকে দাওয়াত, বিদআত থেকে নিষেধ করা এবং সংস্কারের পথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আর নিঃসন্দেহে এটিই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও স্থায়িত্বের অন্যতম প্রধান কারণ।

--------------------------------------------

(১) আল-মাক্কারীর 'আযহারুর রিয়াদ ফি আখবারি আল-কাদি ইয়াদ' (১/৬৩)।

(২) এটি ৭৪১ হিজরিতে আন্দালুসে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক আলেম শাহাদাত বরণ করেন এবং এতে মুসলিমরা বিজয়ী হয়েছিল। দেখুন: 'আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা' (৪/৩৩২), 'নাফহুত তীব' (৫/১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌المبحث الثاني الحالة الاجتماعية

لقد صور لنا لسان الدين ابن الخطيب الحالة الاجتماعية في مملكة غرناطة تصويراً حسناً، ولا سيما أنه كان من أهلها. فقد تكلم عن سكان مملكة غرناطة من حيث قوتهم، وعملتهم، وملابسهم، وحُلِيُّ نسائهم، وأجناسهم البشرية، وتعداد قراهم، وأحوالهم الدينية، بل حتى أوصافهم الخلقية.

فعن أقواتهم قال رحمه الله: "وقوتهم الغالب البر الطيب عامة العام … ، وفواكههم اليابسة عامة العام متعددة، يدخرون العنب سليماً من الفساد إلى شطر العام، إلى غير ذلك من التين والزبيب والتفاح .. ، إلى غير ذلك مما لا ينفد ولا ينقطع مدده إلا في الفصل الذي يُزهد في استعماله" (1).

ويقول رحمه الله عن عملتهم: "وصرفهم فضة خالصة، وذهب إبريز طيب محفوظ" (2).

وعن خيرات بلادهم قال رحمه الله: "ولها معادن جوهرية من ذهب وفضة ورصاص وحديد .. ، وقال بعض المؤرخين: ومن كرم أرضنا أنها لا تعدم زريعة بعد زريعة، ورعياً بعد رعي طول العام، وفي عمالتها المعادن الجوهرية .. " (3)، ثم ذكر خيراتها المتعددة.

وقال عن قرى هذه المملكة: "وتنيف أسماؤها على ثلاث مئة قرية ما

--------------------------------------------

(1) انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" لابن الخطيب (1/ 137).

(2) نفس المرجع (1/ 137).

(3) نفس المرجع (1/ 98 - 99).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা

লিসানুদ্দিন ইবনুল খতিব আমাদের সামনে গ্রানাডা রাজ্যের সামাজিক অবস্থার একটি চমৎকার চিত্র অঙ্কন করেছেন, বিশেষ করে যেহেতু তিনি নিজেই সেখানকার অধিবাসী ছিলেন। তিনি গ্রানাডা রাজ্যের বাসিন্দাদের খাদ্যশস্য, মুদ্রা, পোশাক-পরিচ্ছদ, নারীদের অলঙ্কার, তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, গ্রামের সংখ্যা, ধর্মীয় অবস্থা এবং এমনকি তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

তাদের খাদ্যশস্য সম্পর্কে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাদের প্রধান খাদ্য হলো সারাবছরের জন্য ভালো মানের গম … , এবং তাদের শুকনো ফলমূলও সারাবছর প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। তারা আঙুরকে পচন থেকে রক্ষা করে বছরের অর্ধেক সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে। এছাড়াও রয়েছে ডুমুর, কিশমিশ এবং আপেল... এমন আরও অনেক কিছু যা শেষ হয় না এবং যার সরবরাহ বন্ধ হয় না, কেবল সেই ঋতু ছাড়া যখন সেগুলোর ব্যবহার অপছন্দ করা হয়" (১)।

তাদের মুদ্রা সম্পর্কে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাদের বিনিময় মাধ্যম ছিল খাঁটি রুপা এবং সংরক্ষিত বিশুদ্ধ স্বর্ণ" (২)।

তাদের দেশের প্রাচুর্য সম্পর্কে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সেখানে সোনা, রুপা, সিসা এবং লোহার মূল্যবান খনি রয়েছে... এবং কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন: আমাদের ভূমির বদান্যতা এই যে, এখানে সারাবছর এক ফসলের পর অন্য ফসল এবং এক চারণভূমির পর অন্য চারণভূমির অভাব হয় না। এর প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোতে মূল্যবান খনি বিদ্যমান..." (৩), এরপর তিনি এর বহুমুখী প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

এই রাজ্যের গ্রামগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন: "এর নামগুলো তিনশ’রও বেশি গ্রামের উপরে যা

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল খতিবের "আল-ইহাতা ফি আখবারি গ্রানাডা" (১/ ১৩৭)।

(২) একই উৎস (১/ ১৩৭)।

(৩) একই উৎস (১/ ৯৮ - ৯৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عدا ما يجاور الحضرة من كثير من قرى الإقليم، أو ما استضافته الحصون المجاورة" (1). ثم شرع في ذكرها.

وقال في موضع آخر: "وقد ذكرنا أن أكثر هذه القرى أمصار فيها ما يناهز خمسين خطبة، تنصب فيها لله المنابر، وترفع الأيدي، وتتوجه الوجوه" (2).

وقال عن ألسنتهم وأجناسهم: "وألسنتهم فصيحة عربية، ويتخللها غرب كثير، وتغلب عليهم الإمالة، وأخلاقهم أبية في معاني المنازعات، وأنسابهم عربية، وفيهم من البربر والمهاجرة كثير" (3).

ولقد جمعت مملكة غرناطة كثيراً من مسلمي الأندلس الذين كانوا يأوون إليها بسبب احتلال النصارى لبلادهم مما أدى إلى استثمار ما في هذه البلاد من خيرات وافرة.

وأما تجارة غرناطة فقد كانت تجارة واسعة بسبب الثغور الجنوبية البحرية، لا سيما مالقة (4) والمريّة (5)، فهي من أغنى الثغور الأندلسية وأزخرها بالحركة التجارية، فاستطاعت غرناطة أن تربط صلات اقتصادية تجارية مع دول أخرى" (6).

ويبدو أن الوضع الاقتصادي في زمن الإمام الشاطبي قد اعتراه الضعف حتى إن بيت المال أصبح عاجزاً عن تجديد بناء أسوار الحصون، واختلف

--------------------------------------------

(1) نفس المرجع (1/ 126).

(2) انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" (1/ 132).

(3) نفس المرجع (1/ 134).

(4) مالقة: بفتح اللام والقاف، مدينة بالأندلس عامرة من أعمال (رية) سورها على شاطىء البحر بين الجزيرة الخضراء والمرية. "معجم البلدان" (5/ 43).

(5) المرية: بالفتح ثم الكسر وتشديد الياء بنقطتين من تحتها، وهي مدينة كبيرة من كورة البيرة من أعمال الأندلس من بناء الأمير الناصر لدين الله عبد الرحمن بن محمد.

انظر: "معجم البلدان" (5/ 119 - 120).

(6) انظر: "نهاية الأندلس" لعبد الله عنان (ص 326).
"রাজধানীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অসংখ্য গ্রাম কিংবা নিকটস্থ কেল্লাগুলোতে আশ্রয় নেওয়া জনবসতি ছাড়াও (১)। এরপর তিনি সেগুলোর বর্ণনা দিতে শুরু করেন।

তিনি অন্য স্থানে বলেন: "আমরা উল্লেখ করেছি যে, এই গ্রামগুলোর অধিকাংশই হলো বড় শহর, যাতে প্রায় পঞ্চাশটি জুমার খুতবা হয়, আল্লাহর জন্য সেখানে মিম্বর স্থাপন করা হয়, হাত তোলা হয় এবং চেহারাগুলো সেদিকে নিবদ্ধ করা হয়" (২)।

তিনি তাদের ভাষা ও বংশ সম্পর্কে বলেন: "তাদের ভাষা সুস্পষ্ট আরবি, যার মধ্যে প্রচুর পশ্চিমা টান রয়েছে এবং তাদের উচ্চারণে ইমালাহ প্রাধান্য পায়। বিবাদ-বিসংবাদের ক্ষেত্রে তাদের স্বভাব অত্যন্ত মর্যাদাবান ও তেজস্বী, তাদের বংশধারা আরবি এবং তাদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক বারবার ও মুহাজির রয়েছে" (৩)।

গ্রানাডা রাজ্য আন্দালুসের এমন অনেক মুসলিমকে একত্রিত করেছিল যারা খ্রিস্টানদের দেশ দখলের কারণে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। এর ফলে এই ভূখণ্ডের প্রচুর সম্পদের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

আর গ্রানাডার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, দক্ষিণ সমুদ্রতীরবর্তী বন্দরগুলোর কারণে তা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত, বিশেষ করে মালাগা (৪) এবং আলমেরিয়া (৫)। এগুলো ছিল আন্দালুসের অন্যতম সমৃদ্ধ বন্দর এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত মুখর। ফলে গ্রানাডা অন্যান্য দেশের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল (৬)।

প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম শাতিবির যুগে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল, এমনকি বাইতুল মাল দুর্গের প্রাচীরগুলো পুনর্নির্মাণে অক্ষম হয়ে পড়েছিল এবং মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১/ ১২৬)।

(২) দেখুন: "আল-ইহাতা ফি আখবার-ই গারনাতাহ" (১/ ১৩২)।

(৩) একই উৎস (১/ ১৩৪)।

(৪) মালাগা: লাম এবং কাফ বর্ণে ফাতাহ (যবর) সহ, এটি আন্দালুসের একটি জনবহুল শহর এবং রায়্যাহ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রাচীর সমুদ্রতীরবর্তী আল-জাজিরাতুল খাদরা এবং আলমেরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। "মুজামুল বুলদান" (৫/ ৪৩)।

(৫) আলমেরিয়া: ফাতাহ (যবর), এরপর কাসরাহ (জের) এবং নিচে দুই নকতা বিশিষ্ট ইয়া বর্ণে তাশদিদ সহ। এটি আন্দালুসের এলভিরা অঞ্চলের একটি বড় শহর যা আমির আন-নাসির লি-দিনিল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ কর্তৃক নির্মিত।

দেখুন: "মুজামুল বুলদান" (৫/ ১১৯ - ১২০)।

(৬) দেখুন: আব্দুল্লাহ ইনান রচিত "নিহায়াতুল আন্দালুস" (পৃ. ৩২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الفقهاء هل يجوز توظيف ذلك على الأهالي؟ وكان الإمام الشاطبي ممن أفتى بالجواز اعتماداً على مبدأ المصلحة المرسلة (1).

ومن مظاهر الضعف المالي: استفتاء بعضهم للإمام الشاطبي: "هل يباح لأهل الأندلس بيع الأشياء التي منع العلماء بيعها من أهل الحرب كالسلاح وغيره، لكونهم محتاجين إلى النصارى في أشياء أخرى من المأكول والملبوس وغير ذلك؟ أم لا فرق بين أهل الأندلس وغيرهم من أرض الإسلام؟ … " (2).

ولعل سبب ما وقع فيه أهل الأندلس من الضيق: بعدهم عن الله والإسراف في التنعم، فقد وصفهم ابن الخطيب بالعناية البالغة بالتّزيُّن، كما ذكر فشو الغناء في بلادهم؛ حيث قال عن نسائهم: "وقد بلغن من التفنن في الزينة لهذا العهد، والمظاهرة بين المصبغات، والتنفيس بالذهبيات والديباجيات، والتماجن في أشكال الحلي، إلى غاية نسأل الله أن يغض عنهن فيها عين الدهر، ويكفكف الخطب، ولا يجعلها من قبيل الابتلاء والفتنة، وأن يعامل جميع من بها بستره، ولا يسلبهم خفي لطفه بعزته وقدرته" (3).

وقال عن فشو الغناء عندهم: "والغناء بمدينتهم فاش حتى في الدكاكين التي تجمع صنائعها كثيراً من الأحداث … " (4).

وكانت البدع فاشية أيضاً في هذا المجتمع، فقد قال الإمام الشاطبي في مقدمة هذا الكتاب: " .. لِأَنَّهُ لَمَّا كَثُرَتِ الْبِدَعُ وَعَمَّ ضَرَرُهَا، وَاسْتَطَارَ شَرَرُهَا، وَدَامَ الْإِكْبَابُ عَلَى الْعَمَلِ بِهَا، وَالسُّكُوتُ من المتأخرين على الْإِنْكَارِ لَهَا، وَخَلَفَتْ بَعْدَهُمْ خُلُوفٌ جَهِلُوا أَوْ غفلوا عن القيام بفرض القيام

--------------------------------------------

(1) انظر: "فتاوى الإمام الشاطبي" (ص 28)، وقريب من هذا ما في "الاعتصام" للشاطبي (2/ 121 - 123).

(2) انظر: "فتاوى الإمام الشاطبي" (ص 144 - 147).

(3) انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" (1/ 139).

(4) المصدر السابق (1/ 137).
ফকিহগণ [আলোচনা করেছেন] এটি কি জনসাধারণের ওপর আরোপ করা জায়েজ? আর ইমাম শাতবি মাসলাহাতুল মুরসালাহ (জনকল্যাণ) নীতির ওপর ভিত্তি করে এর বৈধতার ফতোয়া দানকারীদের একজন ছিলেন (১)।

আর্থিক দুর্বলতার অন্যতম প্রকাশ ছিল ইমাম শাতবিকে করা কারো কারো এই ইস্তফতা (জিজ্ঞাসা): "আন্দালুসের অধিবাসীদের জন্য কি সেই সমস্ত জিনিস বিক্রি করা বৈধ যা ওলামায়ে কেরাম হারবি (যুদ্ধরত) কাফেরদের কাছে বিক্রি করা নিষেধ করেছেন, যেমন অস্ত্রশস্ত্র এবং অন্যান্য জিনিস, কারণ তাদের খাদ্য, পোশাক এবং অন্যান্য জিনিসের জন্য নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) প্রয়োজন রয়েছে? নাকি আন্দালুস ও অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডের অধিবাসীদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই? … " (২)।

সম্ভবত আন্দালুসের অধিবাসীরা যে সংকটে পড়েছিল তার কারণ ছিল: আল্লাহর থেকে তাদের দূরত্ব এবং ভোগবিলাসে অপচয়। ইবনে আল-খাতিব তাদের সাজসজ্জার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি তাদের ভূখণ্ডে গানের প্রসারের কথা উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি তাদের নারীদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারা বর্তমান সময়ে সাজসজ্জার ক্ষেত্রে নানা বৈচিত্র্য অবলম্বন, রঙ-বেরঙের বস্ত্র পরিধান, স্বর্ণালঙ্কার ও রেশমি পোশাকের প্রাচুর্য এবং অলঙ্কারের শৈলীতে এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে যে, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি কালচক্রের দৃষ্টি তাদের থেকে ফিরিয়ে নেন, বিপদ দূর করেন এবং একে পরীক্ষা ও ফেতনা হিসেবে গণ্য না করেন। আর যেন তাদের সকলের সাথে স্বীয় পর্দার (গোপন রাখার) আচরণ করেন এবং তাঁর মর্যাদা ও কুদরতের অসিলায় তাঁর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ তাদের থেকে ছিনিয়ে না নেন" (৩)।

তিনি তাদের মাঝে গানের প্রসারের ব্যাপারে বলেছেন: "তাদের শহরে গান এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, এমনকি সেই দোকানগুলোতেও যেখানে কারুশিল্পের কাজে অনেক যুবক একত্রিত হয় … " (৪)।

এই সমাজে বিদআতও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইমাম শাতবি এই কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: " .. কারণ যখন বিদআত বৃদ্ধি পেল এবং এর ক্ষতি ব্যাপক আকার ধারণ করল, এর স্ফুলিঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, এর ওপর আমল করা অব্যাহত থাকল এবং পরবর্তী যুগের লোকেরা তা অস্বীকার করার ব্যাপারে নীরবতা পালন করল, আর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটল যারা [সঠিক দ্বীন] জানত না অথবা ফরজ দায়িত্ব পালনে উদাসীন ছিল

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতবি" (পৃ. ২৮), এবং এর কাছাকাছি বিষয় রয়েছে শাতবির "আল-ইতিসাম" (২/ ১২১ - ১২৩) গ্রন্থে।

(২) দেখুন: "ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতবি" (পৃ. ১৪৪ - ১৪৭)।

(৩) দেখুন: "আল-ইহাতা ফি আখবার গাৰ্নাতা" (১/ ১৩৯)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ১৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فِيهَا، صَارَتْ كَأَنَّهَا سُنَنٌ مُقَرَّرَاتٌ، وَشَرَائِعُ مِنْ صَاحِبِ الشَّرْعِ مُحَرَّرَاتٌ، فَاخْتَلَطَ الْمَشْرُوعُ بِغَيْرِهِ، فَعَادَ الرَّاجِعُ إِلَى مَحْضِ السُّنَّةِ كَالْخَارِجِ عَنْهَا كَمَا تقدم، فالتبس بعضها ببعض … " (1).

ولا شك أن فشو المعاصي والبدع، وركون الناس إلى الدنيا سبب في زوال النعم، وقد كانت هذه الأمور سبباً في ذهاب دولة المسلمين بالأندلس.

--------------------------------------------

(1) انظر النص المحقق (ص 36).
সেখানে এগুলো যেন সুনির্ধারিত সুন্নাহ এবং শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে প্রবর্তিত বিধানের মতো হয়ে গেছে, ফলে শরীয়তসম্মত বিষয়গুলো অন্য সবকিছুর সাথে মিশে গেছে। অতঃপর যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, বিশুদ্ধ সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তি যেন সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত বলে গণ্য হতে থাকে, ফলে এগুলোর কিছু অংশ অন্যটির সাথে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে ... " (১)।

নিঃসন্দেহে গুনাহ ও বিদআতের প্রসার এবং দুনিয়ার প্রতি মানুষের আসক্তি নিয়ামত দূর হওয়ার কারণ, আর এই বিষয়গুলোই আন্দালুসে মুসলিমদের শাসন বিলুপ্তির কারণ হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) সম্পাদিত মূল পাঠ দেখুন (পৃ. ৩৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌المبحث الثالث الحالة العلمية

لقد كان الزمن الذي عاش فيه الإمام الشاطبي من أفضل الأزمنة العلمية، سواء في المشرق أو في المغرب، فقد عاش الإمام الشاطبي في القرن الثامن الهجري، وهو قرن حافل بشخصيات علمية ومؤلفات رائعة في جميع الفنون.

ففي المشرق كان زمن الإمام ابن القيم، والحافظ الذهبي، والإمام ابن كثير، والإمام ابن رجب، وأمثال هؤلاء العلماء الكبار.

وفي المغرب أيضاً كان المستوى العلمي في أروع مراحله، إذ نجد العلماء الكبار، والفنون المتعددة، والمناظرات العلمية، واهتمام الأمراء بالعلم، وغير ذلك من صور الرقي العلمي.

يقول الشيخ محمد الطاهر ابن عاشور: "وكان العلماء من سائر الفنون متوافرين في بلاد الأندلس. وهذه طائفة كانت في عصر واحد أواخر القرن الثامن، من سنة 772 حتى 800 ما منها إلا إمام يُعْنَى إليه ويعتمد في علمه عليه؛ مثل ابن جُزَيّ وابن لب وابن الفخار وابن الجياب وابن عاصم في الفقهاء، وأبي حيان وابن الصايغ في النحاة، والشاطبي في الأصول وفلسفة الشريعة، وابن الخطيب وابن زمرك والوزير ابن عاصم في رجال القلم والسياسة، وابن هذيل الحكيم في الفلسفة. إنما كان القضاء الأخير على العلم بالأندلس في القرن التاسع" (1).

وقد كان لاهتمام أمراء الدولة النصرية بالعلم وتشجيعهم لأهله دور

--------------------------------------------

(1) "أليس الصبح بقريب" لابن عاشور (ص 79).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমী অবস্থা

ইমাম শাতিবি যে যুগে বসবাস করতেন, তা ছিল ইলমী বা জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়, তা প্রাচ্য হোক বা পাশ্চাত্য। ইমাম শাতিবি অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে বসবাস করতেন, যা ছিল সকল বিদ্যায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং চমৎকার সব রচনায় সমৃদ্ধ একটি শতাব্দী।

প্রাচ্যে সেটি ছিল ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, হাফেজ যাহাবি, ইমাম ইবনে কাসির, ইমাম ইবনে রজব এবং তাঁদের মতো বড় বড় আলেমদের সময়।

পশ্চিমাঞ্চলেও (মাগরিব) ইলমী মান ছিল তার শ্রেষ্ঠ পর্যায়ে। সেখানে আমরা বড় বড় আলেম, নানাবিধ জ্ঞান-শাখা, ইলমী বিতর্ক, ইলমের প্রতি আমিরদের গুরুত্বারোপ এবং ইলমী উন্নতির এমন বহু চিত্র দেখতে পাই।

শায়খ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর বলেন: "আন্দালুসে জ্ঞানের সকল শাখার আলেমদের প্রাচুর্য ছিল। এটি ছিল অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগের এমন একটি দল, যারা ৭৭2 থেকে ৮০০ হিজরি পর্যন্ত একই যুগে বিদ্যমান ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন ইমাম, যাঁদের কাছে ইলমের প্রয়োজনে সকলে ছুটে যেত এবং যাঁদের ইলমের ওপর নির্ভর করা হতো; যেমন ফকিহদের মধ্যে ইবনে জুযাই, ইবনে লুব, ইবনে আল-ফাকখার, ইবনে আল-জায়্যাব ও ইবনে আসেম; ব্যাকরণবিদদের মধ্যে আবু হাইয়ান ও ইবনে আস-সায়েগ; উসুল ও শরিয়তের দর্শনে শাতিবি; সাহিত্য ও রাজনীতির ক্ষেত্রে ইবনুল খাতিব, ইবনে যুমরুক ও উজির ইবনে আসেম; এবং দর্শনে ইবনে হুযাইল আল-হাকিম। আন্দালুসে ইলমের চূড়ান্ত অবসান মূলত নবম শতাব্দীতেই ঘটেছিল" (১)।

নসরি সালতানাতের আমিরদের ইলমের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি তাঁদের উৎসাহ প্রদানের একটি বড় ভূমিকা ছিল

--------------------------------------------

(১) ইবনে আশুর রচিত "আলাইসা আস-সুবহু বি-কারিব" (পৃ. ৭৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
هام في رفع المستوى العلمي في مملكتهم، خاصة في عهد السلطان أبي الحجاج يوسف بن إسماعيل النصري المتوفي سنة 755 هـ، فقد كان عالماً أديباً شغوفاً بالعلوم (1).

واشتهر الأمير أبو الوليد إسماعيل بن السلطان يوسف الثاني المتوفي سنة 805 هـ بحبه للأدباء والعلماء، وله في الأدب كتاب "نثير الجمان في شعر من نظمني وإياه الزمان"، وقد ترجم فيه لأعلام عصره في الشعر والأدب.

وأما عن المراكز العلمية في مملكة غرناطة، فاشتهر منها مركزان:

الأول: الجامع الأعظم، وقد كان مقصداً لطلاب العلم، كما كان مقصداً للعباد. ومن أشهر مدرسيه: أبو سعيد فرج بن لب، وأبو بكر أحمد بن جُزَيّ.

الثاني: المدرسة النصرية، وقد أنشئت هذه المدرسة في عهد السلطان يوسف أبي الحجاج المتوفي سنة 755 هـ، وقد قال عنها لسان الدين ابن الخطيب: "جاءت نسيجة وحدها بهجة وصدراً وظرفاً وفخامة" (2).

وممن قام بالتدريس فيها محمد بن علي بن أحمد الخولاني المعروف بابن الفخار المتوفي سنة 754 هـ (3)، وفرج بن قاسم بن أحمد بن لب التغلبي المتوفي سنة 783 هـ (4).

وقد كان من أسباب هذه النهضة العلمية في غرناطة: تجمع مسلمي الأندلس فيها بسب استيلاء النصارى على مدنهم، فاجتمعت في غرناطة ثقافات عديدة، وقدرات علمية متنوعة.

وأما المذهب السائد عند أهل الأندلس فهو مذهب الإمام مالك رحمه الله (5)، فقد كان هو العمدة في الفتوى والقضاء (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" لابن الخطيب (1/ 20).

(2) نفس المرجع (1/ 509).

(3) نفس المرجع (3/ 35).

(4) نفس المرجع (4/ 254).

(5) انظر: "الإحاطة في أخبار غرناطة" لابن الخطيب (1/ 134).

(6) "فتاوى الإمام الشاطبي" (ص 31).
তাদের রাজ্যে বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, বিশেষ করে সুলতান আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে ইসমাইল আন-নাসরীর (মৃত্যু ৭৫৫ হিজরি) আমলে। তিনি একজন আলেম, সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন (১)।

সুলতান দ্বিতীয় ইউসুফের পুত্র আমির আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি) সাহিত্যিক ও আলেমদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। সাহিত্যে তাঁর রচিত একটি গ্রন্থ হলো 'নাথীরুল জুমান ফি শায়রি মান নাজমানি ওয়া ইয়াহুয জামান'। এতে তিনি তাঁর সমসাময়িক কবিতা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবনী বর্ণনা করেছেন।

আর গ্রানাডা রাজ্যের শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দুটি কেন্দ্র প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল:

প্রথমত: আল-জামেউল আজম (প্রধান মসজিদ); এটি জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের গন্তব্য হওয়ার পাশাপাশি ইবাদতকারীদেরও আশ্রয়স্থল ছিল। এর বিখ্যাত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু সাঈদ ফারাজ ইবনে লুব্ব এবং আবু বকর আহমদ ইবনে জুজাই।

দ্বিতীয়ত: আল-মাদরাসা আন-নাসরিয়া; এই মাদ্রাসাটি সুলতান ইউসুফ আবুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ৭৫৫ হিজরি)-এর শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর সম্পর্কে লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব বলেছেন: "এটি সৌন্দর্য, প্রাধান্য, সুষমা ও মহিমায় অনন্য এক সৃষ্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল" (২)।

সেখানে যারা শিক্ষকতা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইবনে ফাকখার নামে পরিচিত মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-খাওলানী (মৃত্যু ৭৫৪ হিজরি) (৩) এবং ফারাজ ইবনে কাসিম ইবনে আহমদ ইবনে লুব্ব আত-তাগলিবি (মৃত্যু ৭৮৩ হিজরি) (৪)।

গ্রানাডায় এই জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের অন্যতম কারণ ছিল খ্রিস্টানদের দ্বারা অন্যান্য শহর দখলের ফলে আন্দালুসের মুসলমানদের সেখানে একত্রিত হওয়া। এর ফলে গ্রানাডায় বহুবিধ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় বৈজ্ঞানিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটেছিল।

আর আন্দালুসবাসীদের মধ্যে প্রচলিত মাযহাব ছিল ইমাম মালেক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব (৫)। ফতোয়া ও বিচারিক কার্যে এটিই ছিল প্রধান ভিত্তি (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল খাতিব রচিত "আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা" (১/ ২০)।

(২) প্রাগুক্ত (১/ ৫০৯)।

(৩) প্রাগুক্ত (৩/ ৩৫)।

(৪) প্রাগুক্ত (৪/ ২৫৪)।

(৫) দেখুন: ইবনুল খাতিব রচিত "আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা" (১/ ১৩৪)।

(৬) "ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতিবি" (পৃষ্ঠা ৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الفصل الثاني حياة المؤلف الشخصية

* وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: اسمه، وكنيته، ونسبه.

المبحث الثاني: مولده، ونشأته، وموطنه.

المبحث الثالث: محنته، وما ابتلي به، واتهامه من خصومه.

المبحث الرابع: وفاته.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের ব্যক্তিগত জীবন

* এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপনাম এবং বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, লালন-পালন এবং আবাসভূমি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর অগ্নিপরীক্ষা, তিনি যে বিপদে পতিত হয়েছিলেন এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর আনীত অভিযোগসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিসাম লিশ-শাতিবী তাহকীক আশ-শুকুয়াইর ওয়াল হামীদ ওয়াস সীনী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌المبحث الأول اسمه، وكنيته، ونسبه

أجمع من ترجم للإمام الشاطبي على أن اسمه: إبراهيم بن موسى بن محمد. ولم يزيدوا على هذا الاسم أحداً.

أما كنيته: فقد أجمعوا أيضاً على أن كنيته: أبو إسحاق.

وأما نسبه: فهو من قبيلة لَخْم، وهي قبيلة من قبائل اليمن، ومنهم كانت ملوك العرب في الجاهلية، وهم آل عمرو بن عدي بن نصر الَّلخْمي (1).

وأما نسبته: فهو الغرناطي الشاطبي.

فأما الغرناطي فنسبة إلى مملكة غرناطة التي عاش بها، وتقدم الكلام عليها.

وأما الشاطبي فنسبة إلى مدينة شاطبة، وهي مدينة في شرق الأندلس (2).

ولا نعلم سبب نسبته إلى شاطبة، فلعلها كانت مهاجر أسرته قبل غرناطة.

--------------------------------------------

(1) انظر:"الأنساب" للسمعاني (5/ 132)،"الصحاح" للجوهري (20285)، "معجم قبائل العرب" لكحالة (3/ 1012).

(2) انظر: "معجم البلدان" لياقوت (3/ 309).
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, কুনিয়া এবং বংশ পরিচয়

যারা ইমাম শাতিবীর জীবনী রচনা করেছেন তারা সকলে একমত হয়েছেন যে, তাঁর নাম হলো: ইবরাহীম ইবন মূসা ইবন মুহাম্মদ। তাঁরা এই নামের সাথে অন্য কাউকে যুক্ত করেননি।

আর তাঁর কুনিয়া (উপনাম): এ ব্যাপারেও তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে তাঁর কুনিয়া হলো: আবু ইসহাক।

আর তাঁর বংশ পরিচয়: তিনি লখম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যা ইয়ামানের একটি গোত্র। জাহেলী যুগে আরবদের রাজাগণ তাদের মধ্য থেকেই ছিলেন, আর তাঁরা হলেন আমর ইবন আদি ইবন নাসর আল-লখমীর বংশধর (১)।

আর তাঁর নিসবত (ভৌগোলিক সম্পৃক্ততা): তিনি আল-গারনাতি আশ-শাতিবী।

গারনাতি হলো গ্রানাডা (গারনাতা) রাজ্যের প্রতি নিসবত যেখানে তিনি বসবাস করতেন, যার আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর শাতিবী হলো শাতিবা শহরের প্রতি নিসবত, যা পূর্ব আন্দালুসের একটি শহর (২)।

শাতিবা শহরের সাথে তাঁর নিসবতের কারণ আমাদের জানা নেই, সম্ভবত এটি গ্রানাডায় আসার আগে তাঁর পরিবারের হিজরতস্থল বা আবাসভূমি ছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সামআনীর "আল-আনসাব" (৫/ ১৩২), জাওহারীর "আস-সিহাহ" (২০২৮৫), কাহহালার "মু'জাম কাবাইলিল আরব" (৩/ ১০১২)।

(২) দেখুন: ইয়াকূতের "মু'জামুল বুলদান" (৩/ ৩০৯)।