(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
يوم في بيت الرسول   (عبد الملك بن قاسم)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: يوم في بيت الرسول

المؤلف: عبد الملك بن محمد القاسم

الناشر: دار القاسم

عدد الصفحات: 87

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 جُمادَى الأولى 1432

রাসূলের ঘরে একটি দিন   (আব্দুল মালিক ইবনে কাসিম)

বিভাগ: সীরাত উন-নবী


বই: রাসূলের ঘরে একটি দিন

লেখক: আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসিম

প্রকাশক: দারুল কাসিম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুমাদাল উলা ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي بعث رسوله بالهدى ودين الحق، والصلاة والسلام على إمام المرسلين المبعوث رحمة للعالمين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فإن غالب الناس في هذا الزمن بين غالٍ وجافٍ، فمنهم من غلا في الرسول صلى الله عليه وسلم حتى وصل به الأمر إلى الشرك -والعياذ بالله- من دعا الرسول صلى الله عليه وسلم والاستغاثة به، وفيهم من غفل عن اتباع هديه صلى الله عليه وسلم وسيرته فلم يتخذها نبراسًا لحياته ومعلمًا لطريقه.

ورغبة في تقريب سيرته ودقائق حياته إلى عامة الناس بأسلوب سهل ميسر كانت هذه الورقات القليلة التي لا تفي بكل ذلك. لكنها وقفات ومقتطفات من صفات النبي صلى الله عليه وسلم وشمائله، ولم أستقصها، بل اقتصرت على ما أراه قد تفلت من حياة الناس، مكتفيًا عند كل خصلة ومنقبة بحديثين أو ثلاثة، فقد كانت حياته صلى الله عليه وسلم حياة أمة وقيام دعوة ومنهاج حياة .. وهو عليه الصلاة والسلام أمة في الطاعة والعبادة، وكرم الخلق وحسن المعاملة، وشرف المقام، ويكفي ثناء الله عز وجل عليه: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ}.

وأهل السنة والجماعة ينزلون الرسول صلى الله عليه وسلم منزلته التي أنزله الله إياها، فهو عبد الله ورسوله وخليله وصفيه، يحبونه أكثر من أولادهم وآبائهم بل أكثر من أنفسهم لكنهم لا يغلون فيه ولا يطرونه وحسبه تلك المنزلة.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল রসূলের ইমাম, বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। এরপর:

বর্তমান যুগে অধিকাংশ মানুষই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে এতোটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, তা তাদের শিরক পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই—যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দুআ করা এবং তাঁর নিকট উদ্ধার প্রার্থনা করা। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা তাঁর আদর্শ ও সীরাত অনুসরণের ব্যাপারে গাফেল, ফলে তারা একে তাদের জীবনের আলোকবর্তিকা ও পথের দিশারি হিসেবে গ্রহণ করেনি।

সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তাঁর সيرة (সীরাত) ও জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলো পৌঁছে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই সংক্ষিপ্ত পৃষ্ঠাগুলো রচিত হয়েছে, যা এই প্রসঙ্গের পূর্ণ বিবরণের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির কিছু খণ্ডাংশ ও উদ্ধৃতি মাত্র। আমি এখানে বিস্তারিত অনুসন্ধান করিনি, বরং সে সব বিষয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা আমি মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যেতে দেখছি। প্রতিটি বৈশিষ্ট্য ও গুণের বর্ণনায় দুই বা তিনটি হাদীস উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। কেননা তাঁর জীবন ছিল একটি জাতির জীবন, দাওয়াতের প্রতিষ্ঠা এবং জীবন পরিচালনার পদ্ধতি। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম আনুগত্য ও ইবাদত, মহান চরিত্র ও সদাচার এবং সুউচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে নিজেই এক উম্মত (আদর্শ)। তাঁর প্রশংসায় মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।"

আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই মর্যাদাই প্রদান করে যা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন। তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রসূল, তাঁর খলীল এবং মনোনীত ব্যক্তি। তাঁরা তাঁকে নিজেদের সন্তান ও পিতা অপেক্ষা, এমনকি নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন; তবে তাঁরা তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন না এবং তাঁর প্রশংসায় অতিরঞ্জন করেন না। তাঁর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেই মর্যাদাই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪)
ونحن على هذا الأمر سائرون فلا نبتدع الموالد ولا نقيم الاحتفالات، بل نحبه كما أمر ونطيعه فيما أمر، ونجتنب ما نهى عنه وزجر.

فمبلغ العلم فيه أنه بشر … وأنه خير خلق الله كلهم

أغر عليه للنبوة خاتم … من نور يلوح ويشهد

وضم الإله اسم النبي إلى اسمه … إذا قال في الخمس المؤذن أشهد

وشق له من اسمه ليجله … فذو العرش محمود وهذا أحمد

 

وإن فاتنا في هذه الدنيا رؤية الحبيب صلى الله عليه وسلم وتباعدت بيننا الأيام .. فأدعو الله عز وجل أن نكون ممن قال فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم: «وددت أنا قد رأينا إخواننا» قالوا: ألسنا إخوانك يا رسول الله؟ قال: «أنتم أصحابي، وإخواننا الذين لم يأتوا بعد» فقالوا: كيف تعرف من لم يأت بعد من أمتك يا رسول الله؟ فقال: «أرأيت لو أن رجلاً له خيل غر محجلة بين ظهري خيل دهم بهم ألا يعرف خيله»؟ قالوا: بلى يا رسول الله، قال: «فإنهم يأتون غرًا محجلين من الوضوء، وأنا فرطهم على الحوض … » (1).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.
আমরা এই বিষয়ের ওপর অটল রয়েছি; সুতরাং আমরা মিলাদ উদ্ভাবন করি না এবং কোনো উৎসব পালন করি না, বরং আমরা তাঁকে সেভাবেই ভালোবাসি যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যে বিষয়ে তিনি আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করি, আর যা থেকে তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা বর্জন করি।

তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানের সর্বোচ্চ সীমা এই যে তিনি একজন মানুষ … এবং তিনি আল্লাহর সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

তিনি দীপ্তিময়, তাঁর ওপর নবুওয়াতের মোহর রয়েছে … যা জ্যোতি থেকে উদ্ভাসিত হয় এবং সাক্ষ্য দেয়।

আর ইলাহ নবীর নামকে নিজের নামের সাথে যুক্ত করেছেন … যখন মুয়াজ্জিন পাঁচ ওয়াক্তে 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি' বলে।

আর তিনি তাঁর সম্মানার্থে নিজের নাম থেকে তাঁর নাম নির্গত করেছেন … সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' আর ইনি হলেন 'আহমাদ'।

 

যদি এই পৃথিবীতে প্রিয়তম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দর্শন আমাদের না হয়ে থাকে এবং আমাদের মাঝে সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ হয়ে থাকে.. তবে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে আমরা যদি আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন: «তোমরা হলে আমার সাহাবী, আর আমাদের ভাই তারা যারা এখনো আসেনি» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো আসেনি তাদের আপনি কীভাবে চিনবেন? তিনি বললেন: «তোমার কী মনে হয়, যদি কোনো ব্যক্তির কপালে ও পায়ে সাদা চিহ্নবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে যা কুচকুচে কালো ঘোড়ার দলের মধ্যে রয়েছে, তবে কি সে তার ঘোড়াগুলোকে চিনতে পারবে না»? তাঁরা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তারা ওযুর কারণে উজ্জ্বল কপাল ও উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট হয়ে আসবে, আর আমি হাউজের নিকট তাদের অগ্রবর্তী হিসেবে উপস্থিত থাকব … » (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
أدعو الله عز وجل أن يجعلنا ممن يتلمس أثره صلى الله عليه وسلم ويقتفي سيرته وينهل من سنته كما أدعو الله عز وجل أن يجمعنا معه في جنات عدن، وأن يجزيه الجزاء الأوفى جزاء ما قدم. وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

عبد الملك بن محمد بن عبد الرحمن القاسم
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পদাঙ্ক অন্বেষণ করে, তাঁর সীরাত অনুসরণ করে এবং তাঁর সুন্নাহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তেমনিভাবে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের জান্নাতে আদনে তাঁর সাথে একত্রিত করেন এবং তিনি যা পেশ করেছেন তার জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাসিম
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الزيارة

سنعود قرونًا خلت ونقلب صفحات مضت، نقرأ فيها ونتأمل سطورها، ونقوم بزيارة لرسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته عبر الحروف والكلمات .. سندخل بيته ونرى حاله وواقعه ونسمع حديثه، نعيش في البيت النبوي يومًا واحدًا فحسب، نستلهم الدروس والعبر ونستنير بالقول والفعل.

لقد تفتحت معارف الناس وكثرت قراءتهم وأخذوا يزورون الشرق والغرب عبر الكتب والرسائل وعبر الأفلام والوثائق، ونحن أحق منهم بزيارة شرعية لبيت الرسول صلى الله عليه وسلم نطل على واقعه جادين في تطبيق ما نراه ونعرفه، ولضيق المقام نعرج على مواقف معينة في بيته، علنا نربي أنفسنا ونطبق ذلك في بيوتنا.

أخي المسلم:

نحن لا نعود سنوات مضت وقرونًا خلت لنستمتع بما غاب عن أعيننا ونرى حال من سبقنا فحسب، بل نحن نتعبد لله عز وجل بقراءة سيرته صلى الله عليه وسلم واتباع سنته والسير على نهجه وطريقه، امتثالاً لأمر الله عز وجل لنا بوجوب محبة رسوله الكريم، ومن أهم علامات محبته صلى الله عليه وسلم طاعته فيما أمر واجتناب ما نهى عنه وزجر.

يقول الله عز وجل عن وجوب طاعته وامتثال أمره صلى الله عليه وسلم وجعله إمامًا وقدوة: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (1).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 31.
যিয়ারত

আমরা বিগত শতাব্দীগুলোতে ফিরে যাব এবং ফেলে আসা পৃষ্ঠাগুলো উল্টাব, সেখানে আমরা পাঠ করব এবং তার পঙ্ক্তিগুলো নিয়ে চিন্তা করব। আমরা অক্ষর ও শব্দের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহে তাঁর নিকট একটি যিয়ারত করব। আমরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করব এবং তাঁর অবস্থা ও বাস্তবতা দেখব এবং তাঁর কথা শুনব; আমরা কেবল একটি দিন নববী গৃহে অতিবাহিত করব, যেখান থেকে আমরা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করব এবং তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করব।

মানুষের জ্ঞান উন্মুক্ত হয়েছে এবং তাদের পাঠের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বইপত্র, চিঠিপত্র এবং চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম ভ্রমণ করছে। আমরা তাদের চেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহে একটি শরয়ি যিয়ারত করার অধিক হকদার, যেন আমরা তাঁর বাস্তবতার দিকে দৃষ্টিপাত করি এবং যা দেখি ও জানি তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। পরিসর সীমিত হওয়ার কারণে আমরা তাঁর ঘরের নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার ওপর আলোকপাত করব, যেন আমরা নিজেদের সংশোধন করতে পারি এবং আমাদের ঘরে তা প্রয়োগ করতে পারি।

হে আমার মুসলিম ভাই:

আমরা বিগত বছর বা কয়েক শতাব্দী পূর্বে কেবল আমাদের চোখের আড়ালে থাকা বিষয়গুলো উপভোগ করতে এবং আমাদের পূর্বসূরিদের অবস্থা দেখতে ফিরে যাই না। বরং আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত করি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত পাঠ, তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর পথ ও পদ্ধতির ওপর চলার মাধ্যমে। এটি তাঁর সম্মানিত রাসূলকে ভালোবাসার যে অপরিহার্যতা মহান আল্লাহ আমাদের ওপর অর্পণ করেছেন, তার আনুগত্য প্রকাশের নিমিত্তে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসার অন্যতম প্রধান নিদর্শন হলো তিনি যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা থেকে তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও তাঁর আদেশ পালনের আবশ্যকতা এবং তাঁকে ইমাম ও আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} (১)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1).

وقد ذكر الله طاعة الرسول واتباعه في نحو من أربعين موضعًا في القرآن (2) ولا سعادة للعباد، ولا نجاة في المعاد إلا باتباع رسوله، {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ}.

وجعل الرسول صلى الله عليه وسلم حبه من أسباب الحصول على حلاوة الإيمان فقال عليه الصلاة والسلام: «ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما … » (3).

وقال عليه الصلاة والسلام: «فوالذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده» (4).

وسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم سيرة عطرة زكية منها نتعلم وعلى هديها نسير.

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية: 21.

(2) مجموع فتاوى ابن تيمية 1/ 4.

(3) متفق عليه.

(4) رواه مسلم.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (১)।

আল্লাহ কুরআনের প্রায় চল্লিশটি স্থানে রাসূলের আনুগত্য ও তাঁর অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন (২)। আর বান্দাদের জন্য কোনো সৌভাগ্য নেই এবং পরকালে কোনো মুক্তি নেই তাঁর রাসূলের অনুসরণ ছাড়া: "এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এটিই মহাফল। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে ঈমানের স্বাদ লাভের অন্যতম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন … " (৩)।

তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই" (৪)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনচরিত এক সুগন্ধিময় ও পবিত্র জীবনচরিত, যা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি এবং তাঁর হেদায়েতের ওপর পথ চলি।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১।

(২) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ১/ ৪।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৪) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الرحلة

الرحلة إلى حيث بيت الرسول صلى الله عليه وسلم ورؤية دقائق حياته وأسلوب معاملته أمر مشوق للغاية كيف إذا احتسبنا فيه الأجر والمثوبة. إنها عظة وعبرة، وسيرة وقدوة، واتباع واقتداء، وهذه الرحلة رحلة بين الكتب ورواية على ألسنة الصحابة، وإلا فلا يجوز شد الرحال إلى قبر ولا بيت الرسول صلى الله عليه وسلم ولا إلى غيره، سوى لثلاثة مساجد ذكرها الرسول صلى الله عليه وسلم بقوله: «لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجدي هذا، والمسجد الأقصى» (1).

ويجب أن نمتثل أمر الرسول صلى الله عليه وسلم فلا نشد الرحال إلا لهذه المساجد الثلاثة والله عز وجل يقول: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}.

ونحن لا نتتبع آثار النبي صلى الله عليه وسلم، قال ابن وضاح: «أمر عمر بن الخطاب رضي الله عنه بقطع الشجرة التي بويع تحتها النبي صلى الله عليه وسلم فقطعها لأن الناس كانوا يذهبون فيصلون تحتها، فخاف عليهم الفتنة» (2).

وقال ابن تيمية رحمه الله عن غار حراء: وكان النبي صلى الله عليه وسلم قبل النبوة يتحنث فيه، وفيه نزل عليه الوحي أولاً، لكن من حين نزل عليه الوحي ما صعد إليه بعد ذلك، ولا قربه، لا هو ولا أصحابه،

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

(2) القصة في البخاري ومسلم.
ভ্রমণ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরের দিকে যাত্রা করা এবং তাঁর জীবনের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি ও তাঁর জীবনযাপনের পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করা অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়, বিশেষ করে যখন আমরা এতে সওয়াব ও প্রতিদানের নিয়ত করি। এটি হলো উপদেশ ও শিক্ষা, সীরাত ও আদর্শ এবং অনুসরণ ও অনুকরণ। আর এই সফরটি হলো কিতাবসমূহের পাতার সফর এবং সাহাবীগণের মুখে বর্ণিত বর্ণনার সফর; অন্যথায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর, তাঁর ঘর কিংবা অন্য কিছুর উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়, কেবল তিনটি মসজিদ ব্যতীত যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: «তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও (সফর বা বিশেষ যাত্রা) করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা» (১)।

আমাদের অবশ্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশের আনুগত্য করতে হবে, তাই আমরা এই তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করব না। মহান আল্লাহ বলেন: {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।}

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিচিহ্নগুলোর অনুসরণ করি না। ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: «উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন যার নিচে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বায়আত সম্পন্ন হয়েছিল। অতঃপর তিনি সেটি কেটে ফেলেন কারণ মানুষ সেখানে যাতায়াত করত এবং তার নিচে সালাত আদায় করত; ফলে তিনি তাদের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করেছিলেন» (২)।

ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হেরা গুহা সম্পর্কে বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের পূর্বে সেখানে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং সেখানেই সর্বপ্রথম তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়। কিন্তু যখন থেকে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়া শুরু হলো, এরপর তিনি আর সেখানে আরোহণ করেননি এবং তার নিকটবর্তীও হননি; না তিনি নিজে, না তাঁর সাহাবীগণ।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(২) ঘটনাটি বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد أقام بمكة بعد النبوة بضع عشرة سنة لم يزره ولم يصعد إليه، وكذلك المؤمنون معه بمكة، وبعد الهجرة أتى مكة مرارًا في عمرة الحديبية، وعام الفتح، وأقام بها قريبًا من عشرين يومًا وفي عمرة الجعرانة، ولم يأت غار حراء ولا زاره .. » (1).

ها نحن نطل على المدينة النبوية وهذا أكبر معالمها البارزة بدأ يظهر أمامنا، إنه جبل أحد الذي قال عنه الرسول صلى الله عليه وسلم: «هذا جبل يحبنا ونحبه» (2).

وقبل أن نلج بيت الرسول صلى الله عليه وسلم ونرى بناءه وهيكله، لا نتعجب إن رأينا المسكن الصغير والفراش المتواضع فإن الرسول صلى الله عليه وسلم أزهد الناس في الدنيا وكان متقللاً منها، لا ينظر إلى زخارفها وأموالها: «بل جعلت قرة عينه في الصلاة» (3).

وقد قال صلى الله عليه وسلم عن الدنيا: «مالي وللدنيا، ما مثلي ومثل الدنيا إلا كراكب سار في يوم صائف، فاستظل تحت شجرة ساعة من نهار، ثم راح وتركها» (4).

وقد أقبلنا على بيت الرسول صلى الله عليه وسلم ونحن نستحث الخطى سائرين في طرق المدينة، هاهي قد بدت حجر أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى 27/ 251.

(2) متفق عليه.

(3) رواه النسائي.

(4) رواه الترمذي.
আর তিনি নবুওয়াতের পর মক্কায় দশ বছরেরও বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে (হেরা গুহায়) যাননি এবং তাতে আরোহণও করেননি; তাঁর সাথে মক্কায় অবস্থানরত মুমিনগণও অনুরূপ করেছিলেন। আর হিজরতের পর তিনি হুদায়বিয়ার উমরাহ, মক্কা বিজয়ের বছর—যখন তিনি সেখানে প্রায় বিশ দিন অবস্থান করেছিলেন—এবং জি’রানা’র উমরাহ’র সময় বারবার মক্কায় এসেছেন, তবুও তিনি হেরা গুহায় আসেননি এবং তা পরিদর্শনও করেননি... (১)।

এই তো আমরা মদিনা মুনাওয়ারার দিকে তাকাচ্ছি এবং এর সবচেয়ে বড় ও বিশিষ্ট নিদর্শনটি আমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে; এটি হলো ওহুদ পাহাড়, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এটি এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও একে ভালোবাসি” (২)।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশ করার এবং তাঁর ঘরের অবকাঠামো ও গঠন দেখার আগে, আমরা যদি তাঁর ক্ষুদ্র বাসস্থান এবং সাধারণ বিছানা দেখি তবে যেন অবাক না হই; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরাগী ছিলেন এবং দুনিয়া থেকে খুব সামান্যই গ্রহণ করতেন। তিনি দুনিয়ার চাকচিক্য ও ধন-সম্পদের দিকে তাকাতেন না; বরং: “সালাতেই তাঁর চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে” (৩)।

আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া সম্পর্কে বলেছেন: “দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমি এবং এই দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো কেবল সেই আরোহীর মতো, যে গ্রীষ্মের এক তপ্ত দিনে ভ্রমণ করল এবং দিনের কিছু সময় একটি গাছের নিচে ছায়া গ্রহণ করল, তারপর সে প্রস্থান করল এবং গাছটিকে ছেড়ে চলে গেল” (৪)।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং মদিনার পথে চলতে চলতে দ্রুত কদম ফেলছি; এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণীগণের কক্ষগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

--------------------------------------------

(১) মাজমু’উল ফাতাওয়া ২৭/ ২৫১।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৩) নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
مبنية من جريد عليه طين، بعضها من حجارة مرضومة (1) وسقوفها كلها من جريد.

وكان الحسن يقول: كنت أدخل بيوت أزواج النبي صلى الله عليه وسلم في خلافة عثمان بن عفان فأتناول سقفها بيدي (2).

إنه بيت متواضع وحجر صغيرة لكنها عامرة بالإيمان والطاعة وبالوحي والرسالة!

***

--------------------------------------------

(1) مرضومة: أي بعضها فوق بعض.

(2) الطبقات الكبرى لابن سعد 1/ 499، 501، وانظر السيرة النبوية لابن كثير 2/ 274.
এগুলো খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি ছিল যার ওপর কাদা লেপন করা ছিল, আবার কোনো কোনোটি সাজানো পাথর (১) দিয়ে নির্মিত এবং সেগুলোর ছাদ ছিল পুরোপুরি খেজুরের ডালের।

হাসান বলতেন: উসমান বিন আফফানের খিলাফতকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ঘরে প্রবেশ করতাম এবং আমি আমার হাত দিয়ে সেই ঘরের ছাদ ছুঁতে পারতাম (২)।

এটি একটি সাধারণ ঘর এবং ছোট ছোট কামরা ছিল, তবে তা ঈমান, আনুগত্য, ওহী এবং রিসালাত দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল!

***

--------------------------------------------

(১) সাজানো: অর্থাৎ একটির ওপর আরেকটি রাখা।

(২) আত-তাবাকাতুল কুবরা, ইবন সা’দ ১/ ৪৯৯, ৫০১ এবং দেখুন আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ইবন কাসির ২/ ২৭৪।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌صفة الرسول صلى الله عليه وسلم -

ونحن نقترب من بيت النبوة ونطرق بابه استئذانًا .. لندع الخيال يسير مع من رأى النبي صلى الله عليه وسلم يصفه لنا كأننا نراه، لكي نتعرف على طلعته الشريفة ومحياه الباسم.

عن البراء بن عازب رضي الله عنه قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهًا، وأحسنهم خلقًا، ليس بالطويل البائن، ولا بالقصير» (1).

وعنه رضي الله عنه قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم مربوعًا بعيد ما بين المنكبين، له شعر يبلغ شحمة أذنيه، رأيته في حلة حمراء لم أر شيئًا قط أحسن منه» (2).

وعن أبي إسحاق السبيعي قال: «سأل رجل البراء بن عازب: أكان وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل السيف؟ قال: لا بل مثل القمر» (3).

وعن أنس رضي الله عنه قال: «ما مسست بيدي ديباجًا ولا حريرًا، ولا شيئًا ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا شممت رائحة أطيب من ريح رسول الله صلى الله عليه وسلم» (4).

ومن صفاته عليه الصلاة والسلام الحياء حتى قال عنه أبو

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) رواه البخاري.

(3) رواه البخاري.

(4) متفق عليه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য-

আমরা যখন নবুওয়াতের গৃহের নিকটবর্তী হই এবং অনুমতি চেয়ে এর দরজায় করাঘাত করি.. তখন আসুন আমাদের কল্পনাকে সেই সকল মহান ব্যক্তির সাথে চলতে দেই যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সচক্ষে দেখেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন যেন আমরা তাঁকে দেখতে পাচ্ছি, যাতে আমরা তাঁর মহিমান্বিত অবয়ব এবং হাস্যোজ্জ্বল চেহারা সম্পর্কে জানতে পারি।

বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চেহারার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন এবং দৈহিক গঠনেও ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না» (১)।

তাঁর (বারা ইবনে আযেব) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল, তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত। আমি তাঁকে লাল বর্ণের পোশাকে দেখেছি, আমি কখনো তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কিছু দেখিনি» (২)।

আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযেবকে জিজ্ঞেস করলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা কি তরবারির মতো ছিল? তিনি বললেন: না, বরং চাঁদের মতো ছিল» (৩)।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি আমার হাত দিয়ে এমন কোনো মোটা রেশম বা চিকন রেশম কিংবা অন্য কোনো বস্তু স্পর্শ করিনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম ছিল। আর আমি এমন কোনো ঘ্রাণ গ্রহণ করিনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দেহের ঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধময় ছিল» (৪)।

তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল লজ্জা, এমনকি তাঁর সম্পর্কে আবু...

--------------------------------------------

(১) বুখারী বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারী বর্ণনা করেছেন।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
سعيد الخدري رضي الله عنه: «كان صلى الله عليه وسلم أشد حياء من العذراء في خدرها، فإذا رأى شيئًا يكرهه عرفناه في وجهه» (1).

إنها صفات موجزة في وصف خلقة الرسول صلى الله عليه وسلم وخلقه وقد أكمل له الله عز وجل الخلق والخلق بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্দার অন্তরালে থাকা কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লাজুক ছিলেন। যখন তিনি এমন কিছু দেখতেন যা তিনি অপছন্দ করতেন, তখন আমরা তাঁর চেহারায় তা বুঝতে পারতাম» (১)।

এগুলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দৈহিক গঠন ও চরিত্রের বর্ণনায় কিছু সংক্ষিপ্ত গুণাবলি। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর গঠন ও চরিত্রকে পূর্ণতা দান করেছেন; আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كلام الرسول صلى الله عليه وسلم -

أما وقد رأينا الرسول صلى الله عليه وسلم وبعض صفاته، لنرا حديثه وكلامه، وما هي صفته وكيف هي طريقته لنستمع قبل أن يتحدث عليه الصلاة والسلام.

عن عائشة رضي الله عنها قالت: «ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسرد سردكم هذا، ولكنه كان يتكلم بكلام بين، فصل، يحفظه من جلس إليه» (1).

وكان هينًا لينًا يحب أن يفهم كلمه، ومن حرصه على أمته كان يراعي الفوارق بين الناس، ودرجات فهمهم واستيعابهم، وهذا يستوجب أن يكون حليمًا صبورًا.

عن عائشة رضي الله عنها قالت: «كان كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم كلامًا فصلاً يفهمه كل من يسمعه» (2).

وتأمل رفق الرسول وسعة صدره ورحابته وهو يعيد كلامه ليُفهم.

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعيد الكلمة ثلاثًا لتعقل عنه» (3).

وكان صلى الله عليه وسلم يلاطف الناس ويهدئ من روعهم، فالبعض تأخذه

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود.

(2) رواه أبو داود.

(3) رواه البخاري.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা -

যেহেতু আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করেছি, তাই এখন আসুন আমরা তাঁর হাদিস ও কথা প্রত্যক্ষ করি; তাঁর বৈশিষ্ট্য কী ছিল এবং তাঁর কথা বলার পদ্ধতি কেমন ছিল—তা আমরা তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কথা বলার আগেই শুনে নিই।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো এভাবে অনর্গল ও দ্রুত কথা বলতেন না; বরং তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুবিন্যস্তভাবে কথা বলতেন, যা তাঁর নিকট উপবিষ্ট ব্যক্তি অনায়াসে মুখস্থ করে নিতে পারত» (১)।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও কোমল হৃদয়ের; তিনি পছন্দ করতেন যেন তাঁর কথা অনুধাবন করা যায়। উম্মতের প্রতি তাঁর পরম হিতাকাঙ্ক্ষার কারণে তিনি মানুষের মধ্যকার পার্থক্য এবং তাদের বোধশক্তি ও অনুধাবন ক্ষমতার স্তরের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, আর এর জন্য অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সহনশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুষ্পষ্ট, যা শ্রবণকারী প্রত্যেকেই বুঝতে পারত» (২)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোমলতা এবং তাঁর হৃদয়ের প্রশস্ততা ও উদারতা লক্ষ্য করুন, যেখানে তিনি তাঁর কথা পুনরায় ব্যক্ত করতেন যেন তা অনুধাবন করা যায়।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যাতে তা তাঁর পক্ষ থেকে যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায়» (৩)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন এবং তাদের ভয়-ভীতি দূর করে শান্ত করতেন, কারণ কারো কারো মধ্যে ভীতির উদ্রেক হতো...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৪)
المهابة والخوف.

عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل فكلمه فجعل يرعد فرائصه فقال له صلى الله عليه وسلم: «هون عليك فإني لست بملك، إنما أنا ابن امرأة تأكل القديد» (1).

***

--------------------------------------------

(1) رواه ابن ماجه.
গাম্ভীর্য ও ভয়।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এল এবং তাঁর সাথে কথা বলতে শুরু করল। (ভয়ে) তার শরীরের মাংসপেশি কাঁপছিল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: «তুমি শান্ত হও, আমি কোনো রাজা নই। আমি তো কেবল এমন এক নারীর সন্তান, যিনি শুকনো গোশত খেতেন» (১)।

***

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌داخل البيت

أذن لنا واستقر بنا المقام في وسط بيت نبي هذه الأمة عليه الصلاة والسلام، لنجيل النظر وينقل لنا الصحابة واقع هذا البيت من فرش وأثاث وأدوات وغيرها.

ونحن نعلم أن لا ينبغي إطلاق النظر في الحجر والدور، ولكن للتأسي والقدوة نرى بعضًا مما في هذا البيت الشريف، إنه بيت أساسه التواضع ورأس ماله الإيمان، ألا ترى أن جدرانه تخلو من صور ذوات الأرواح التي يعلقها كثير من الناس اليوم؟ فقد قال عليه الصلاة والسلام: «لا تدخل الملائكة بيتًا فيه كلب ولا تصاوير» (1)، ثم أطلق بصرك لترى بعضًا مما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يستعمله في حياته اليومية.

عن ثابت قال: أخرج إلينا أنس بن مالك قدح خشب، غليظًا مضببًا بحديد (2) فقال: يا ثابت هذا قدح رسول الله صلى الله عليه وسلم (3).

وكان صلى الله عليه وسلم يشرب فيه الماء والنبيذ (4) والعسل واللبن (5).

وعن أنس رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يتنفس في

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) مضببًا بحديد: أي مشدودًا بضباب من حديد لكي لا يتفرق الخشب.

(3) رواه الترمذي.

(4) قال الحافظ في الفتح: المراد بالنبيذ المذكور: تمرات نبذت في ماء، أي: نقعت فيه، كانوا يفعلون ذلك لاستعذاب الماء.

(5) رواه الترمذي.
ঘরের ভেতরে

আমাদের অনুমতি দেওয়া হলো এবং আমরা এই উম্মতের নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ঘরের মাঝখানে থিতু হলাম, যাতে আমরা দৃষ্টি প্রসারিত করতে পারি এবং সাহাবীগণ আমাদের কাছে এই ঘরের বিছানা, আসবাবপত্র, সরঞ্জাম ও অন্যান্য বিষয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

আমরা জানি যে, কক্ষ ও ঘরবাড়ির ভেতর অবাধে দৃষ্টিপাত করা সমীচীন নয়, তবে অনুসরণ ও আদর্শ গ্রহণের নিমিত্তে আমরা এই বরকতময় ঘরের কিছু অংশ দেখছি। এটি এমন এক ঘর যার ভিত্তি হলো বিনয় এবং যার মূলধন হলো ঈমান। আপনি কি দেখছেন না যে এর দেয়ালগুলো প্রাণীর ছবিমুক্ত, যা বর্তমান যুগের অনেক মানুষ ঝুলিয়ে রাখে? অথচ তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: «ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করে না যাতে কুকুর বা ছবি থাকে» (১)। অতঃপর আপনার দৃষ্টি প্রসারিত করুন সেই সব বস্তু দেখার জন্য যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতেন।

সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমাদের নিকট একটি মোটা কাঠের পেয়ালা বের করে আনলেন, যা লোহার পাত দিয়ে মজবুত করে আটকানো ছিল (২)। এরপর তিনি বললেন: হে সাবিত, এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেয়ালা (৩)।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে পানি, নাবীজ (৪), মধু এবং দুধ পান করতেন (৫)।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানের সময় শ্বাস নিতেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) লোহার পাত দিয়ে মজবুত করে আটকানো: অর্থাৎ লোহার পাত দিয়ে শক্ত করে বাঁধা যাতে কাঠ পৃথক হয়ে না যায়।

(৩) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেন: উল্লিখিত নাবীজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পানিতে ভেজানো কিছু খেজুর; অর্থাৎ তাতে ভিজিয়ে রাখা হতো, তারা পানি মিষ্টি করার জন্য এমনটি করতেন।

(৫) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
الشراب ثلاثًا» (1). يعني: يتنفس خارج الإناء.

ونهى عليه الصلاة والسلام «أن يتنفس في الإناء أو ينفخ فيه» (2).

أما ذلك الدرع الذي كان يلبسه رسول الله صلى الله عليه وسلم في جهاده، وفي معاركه الحربية وأيام البأس والشدة، فلربما أنه غير موجود الآن في المنزل، فقد رهنه الرسول صلى الله عليه وسلم عند يهودي في ثلاثين صاعًا من شعير اقترضها منه كما قالت ذلك عائشة (3) ومات الرسول صلى الله عليه وسلم والدرع عند اليهودي.

ولم يكن صلى الله عليه وسلم ليفجأ أهله بغتة يتخونهم، ولكن كان يدخل على أهله على علم منهم بدخوله، وكان يسلم عليهم (4).

وتأمل بعين فاحصة وقلب واع حديث الرسول صلى الله عليه وسلم: «طوبى لمن هدي إلى الإسلام، وكان عيشه كفافًا وقنع» (5)، وألق بسمعك نحو الحديث الآخر العظيم «من أصبح آمنًا في سربه (6) معافى في جسده، عنده قوت يومه، فكأنما حيزت له الدنيا بحذافيرها» (7).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

(2) رواه الترمذي.

(3) متفق عليه.

(4) زاد المعاد 2/ 381.

(5) رواه الترمذي.

(6) سربه: أي نفسه، وقيل: قومه.

(7) رواه الترمذي.
পানীয় তিনবারে (১)। অর্থাৎ: পাত্রের বাইরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করা।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাত্রের ভেতরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে অথবা তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন (২)।

আর সেই বর্মটি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জিহাদে, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং কঠিন ও বিপদের দিনগুলোতে পরিধান করতেন, তা সম্ভবত এখন ঘরে নেই। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে তা একজন ইহুদির কাছে বন্ধক রেখেছিলেন, যা তিনি তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, যেমনটি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন (৩)। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, বর্মটি সেই ইহুদির কাছেই ছিল।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের নিকট অতর্কিতে আসতেন না তাঁদের বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করার জন্য, বরং তিনি তাঁর প্রবেশের খবর জানিয়ে ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তাঁদের সালাম দিতেন (৪)।

আপনি গভীর পর্যবেক্ষণকারী দৃষ্টি এবং সচেতন হৃদয়ে রাসূলুল্লাহ (সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই হাদীসটি নিয়ে চিন্তা করুন: “সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যাকে ইসলামের দিকে হিদায়াত দান করা হয়েছে এবং যার জীবনধারণের উপকরণ পর্যাপ্ত আর সে তাতে তুষ্ট থাকে” (৫)। আর সেই অন্য এক মহান হাদীসের প্রতি মনোযোগ দিন: “যে ব্যক্তি তার নিজ আবাসে (৬) নিরাপদ অবস্থায় এবং সুস্থ শরীরে সকালে উপনীত হলো, যার নিকট তার একদিনের খাবার আছে, তবে যেন তার জন্য সমগ্র দুনিয়াকে তার পূর্ণতাসহ একত্রিত করা হলো” (৭)।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।

(২) তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।

(৪) যাদুল মা'আদ ২/৩৮১।

(৫) তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

(৬) সারবিহি: অর্থাৎ তার নিজের সত্তা, আবার বলা হয়েছে: তার জাতি বা সম্প্রদায়।

(৭) তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الأقارب

لنبي الأمة صلى الله عليه وسلم من الوفاء في صلة الرحم ما لا يفي عنه الحديث؛ فهو أكمل البشر وأتمهم في ذلك، حتى مدحه كفار قريش وأثنوا عليه ووصفوه بالصادق الأمين قبل بعثته عليه الصلاة والسلام، ووصفته خديجة رضي الله عنها بقولها: «إنك لتصل الرحم وتصدق … » الحديث.

هاهو عليه الصلاة والسلام يقوم بحق من أعظم الحقوق وبواجب من أعلى الواجبات، إنه يزور أمه التي ماتت عنه وهو ابن سبع سنين.

قال أبو هريرة رضي الله عنه: زار النبي صلى الله عليه وسلم قبر أمه، فبكى وأبكى من حوله فقال: «استأذنت ربي في أن أستغفر لها فلم يأذن لي، واستأذنته في أن أزور قبرها فأذن لي، فزوروا القبور، فإنها تذكر الموت» (1).

وتأمل محبته عليه الصلاة والسلام لقرابته وحرصه على دعوتهم وهدايتهم وإنقاذهم من النار .. وتحمل المشاق والمصاعب في سبيل ذلك.

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: لما نزلت هذه الآية: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} (2)، دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشًا فاجتمعوا فعمَّ وخصَّ، وقال: «يا بني عبد شمس، يا بني كعب بن لؤي

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) سورة الشعراء، الآية: 214.
আত্মীয়স্বজন

উম্মতের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় এমন একনিষ্ঠতা ছিল যা কেবল আলোচনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়; তিনি ছিলেন এই ক্ষেত্রে মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ। এমনকি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই কুরাইশ কাফেররা তাঁর প্রশংসা করত এবং তাঁকে সত্যবাদী ও বিশ্বাসী হিসেবে অভিহিত করত। খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন এবং সত্য কথা বলেন … » (হাদিস)।

এই তো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মহান অধিকার এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব পালন করছেন; তিনি তাঁর সেই মায়ের কবর যিয়ারত করছেন যিনি তাঁকে সাত বছর বয়সে রেখে ইন্তেকাল করেছিলেন।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করলেন, তখন তিনি স্বয়ং কাঁদলেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। অতঃপর তিনি বললেন: «আমি আমার রবের কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমি তাঁর কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়» (১)।

আপনি চিন্তা করে দেখুন স্বজনদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসা এবং তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া, হিদায়েত করা ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা করার বিষয়ে তাঁর প্রবল আগ্রহের কথা.. এবং এই পথে তিনি কত কষ্ট ও বাধা-বিপত্তি সহ্য করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} (২), তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের ডাকলেন। তারা সমবেত হলে তিনি সাধারণ ও নির্দিষ্টভাবে সম্বোধন করে বললেন: «হে বনু আবদে শামস, হে বনু কাব বিন লুআই

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।

(২) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ২১৪।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني مرة بن كعب أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني هاشم أنقذوا أنفسكم من النار، يا بني عبد المطلب أنقذوا أنفسكم من النار، يا فاطمة أنقذي نفسك من النار، فإني لا أملك لكم من الله شيئًا غير أن لكم رحمًا سأبلها ببلالها (1)» (2).

وها هو الحبيب صلى الله عليه وسلم لم يمل ولم يكل من دعوة عمه أبي طالب فعاود دعوته المرة بعد الأخرى، حتى إنه أتى إليه وهو في سياق الموت: «لما حضرت أبا طالب الوفاة دخل عليه النبي صلى الله عليه وسلم وعنده أبو جهل وعبد الله بن أبي أمية فقال: «أي عم، قل لا إله إلا الله كلمة أحاج لك بها عند الله عز وجل»، فقال أبو جهل وعبد الله بن أبي أمية: يا أبا طالب أترغب عن ملة عبد المطلب؟ قال: فلم يزالا يكلمانه حتى قال آخر شيء كلمهم به، على ملة عبد المطلب».

فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لأستغفرن لك مالم أنه عنك» فنزلت: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} (3) قال: ونزلت: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} (4)» (5).

--------------------------------------------

(1) (أي: أصلكم في الدنيا ولا أغني عنكم من الله شيئًا.

(2) رواه مسلم.

(3) سورة التوبة، الآية: 113.

(4) سورة القصص، الآية: 56.

(5) رواه أحمد والبخاري ومسلم.
তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো; হে বনু মুররাহ ইবনে কা'ব, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো; হে বনু আবদে মানাফ, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো; হে বনু হাশেম, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো; হে বনু আবদিল মুত্তালিব, তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো; হে ফাতিমা, তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। কেননা আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো উপকার করার মালিক নই, কেবল এতটুকু ছাড়া যে, তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে যা আমি তার যথাযথ হক আদায়ের মাধ্যমে বজায় রাখব (১)» (২)।

আর এই তো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবকে দাওয়াত দিতে গিয়ে কখনো ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করেননি। তিনি বারবার তাঁকে দাওয়াত দিয়েছেন, এমনকি তিনি তাঁর কাছে তখনো উপস্থিত হয়েছিলেন যখন তিনি মৃত্যুর সাকরাতি বা অন্তিম অবস্থায় ছিলেন: “যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। সে সময় তাঁর কাছে আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ উপস্থিত ছিল। তিনি বললেন: ‘হে চাচা, আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলুন; এটি এমন একটি বাক্য যার মাধ্যমে আমি মহামহিম আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য সওয়াল করতে পারব’। তখন আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়্যাহ বলল: ‘হে আবু তালিব, আপনি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হচ্ছেন?’ বর্ণনাকারী বলেন: তারা উভয়ে তাঁর সাথে অনবরত কথা বলতেই থাকল, শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের সাথে যে শেষ কথাটি বললেন তা হলো, (তিনি) আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর (অটল রইলেন)।”

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।” তখন অবতীর্ণ হলো: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়; তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে, তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী।} (৩) তিনি বলেন: এবং অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না।} (৪)» (৫)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আমি দুনিয়াতে তোমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করব, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে তোমাদের কোনো উপকারে আসতে পারব না।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৩।

(৪) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬।

(৫) আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد دعاه الرسول صلى الله عليه وسلم في حياته مرات ومرات، وفي اللحظات الأخيرة عند موته، ثم أتبعه الاستغفار له برًا به ورحمة حتى نزلت الآية، فسمع وأطاع عليه الصلاة والسلام وتوقف عن الدعاء للمشركين من قراباته، وهذه صورة عظيمة من صور الرحمة للأمة ثم هي في النهاية صورة من صور الولاء لهذا الدين والبراء من الكفار والمشركين حتى وإن كانوا قرابة وذوى رحم.

نبي أتانا بعد يأس وفترة … من الرسل، والأوثان في الأرض تعبد

فأمسى سراجًا مستنيرًا وهاديًا … يلوح كما لاح الصقيل المهند

وأنذرنا نارًا وبشر جنة … وعلمنا الإسلام فلله نحمد
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে বারবার আহ্বান করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তেও। অতঃপর তাঁর প্রতি সদাচরণ ও দয়াপরবশ হয়ে তিনি তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না আয়াত অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তা শ্রবণ করলেন ও আনুগত্য করলেন এবং তাঁর মুশরিক আত্মীয়দের জন্য দুআ করা বন্ধ করে দিলেন। এটি উম্মতের জন্য রহমতের এক মহান নিদর্শন, আর পরিশেষে এটি এই দ্বীনের প্রতি আনুগত্য এবং কাফের ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যদিও তারা নিকটাত্মীয় ও রক্তীয় সম্পর্কীয় হয়।

এক নবী আমাদের নিকট এসেছেন রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতি ও নৈরাশ্যের পর … যখন জমিনে মূর্তিপূজা করা হচ্ছিল

অতঃপর তিনি এক দীপ্তিময় প্রদীপ ও পথপ্রদর্শক হলেন … যা ধারালো পলিশ করা তলোয়ারের মতো উজ্জ্বলতা ছড়ায়

তিনি আমাদের জাহান্নাম থেকে সতর্ক করেছেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন … এবং আমাদের ইসলাম শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আল্লাহরই সকল প্রশংসা
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الرسول صلى الله عليه وسلم في بيته

بيت الإنسان هو محكه الحقيقي الذي يبين حسن خلقه، وكمال أدبه، وطيب معشره، وصفاء معدنه، فهو خلف الغرف والجدران لا يراه أحد من البشر وهو مع مملوكه أو خادمه أو زوجته يتصرف على السجية وفي تواضع جم دون تصنع ولا مجاملات مع أنه السيد الآمر الناهي في هذا البيت وكل من تحت يده ضعفاء، لنتأمل في حال رسول هذه الأمة وقائدها ومعلمها صلى الله عليه وسلم كيف هو في بيته مع هذه المنزلة العظيمة والدرجة الرفيعة! «قيل لعائشة: ماذا كان يعمل رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته؟ قالت: كان بشرًا من البشر: يفلي ثوبه ويحلب شاته، ويخدم نفسه» (1).

إنه نموذج للتواضع وعدم الكبر وتكليف الغير، إنه شريف المشاركة ونبيل الإعانة، وصفوة ولد آدم يقوم بكل ذلك، وهو في هذا البيت المبارك الذي شع منه نور هذا الدين لا يجد ما يملأ بطنه عليه الصلاة والسلام.

قال: النعمان بن بشير رضي الله عنه وهو يذكر حال النبي عليه أتم الصلاة وأزكى التسليم: «لقد رأيت نبيكم صلى الله عليه وسلم وما يجد من الدقل (2) ما يملأ بطنه» (3).

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد والترمذي.

(2) الدقل: رديء التمر.

(3) رواه مسلم.
তাঁর গৃহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

মানুষের ঘরই হলো তার প্রকৃত কষ্টিপাথর, যা তার সুন্দর চরিত্র, শিষ্টাচারের পূর্ণতা, আচরণের মাধুর্য এবং স্বভাবের বিশুদ্ধতা প্রকাশ করে। কেননা কক্ষ এবং দেয়ালের আড়ালে তাকে কোনো মানুষ দেখতে পায় না; সেখানে তিনি তার অধীনস্থ, সেবক বা স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিকভাবে এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আচরণ করেন, কোনো প্রকার লৌকিকতা বা কৃত্রিমতা ছাড়াই। অথচ তিনি সেই ঘরে আদেশ ও নিষেধকারী কর্তা এবং তাঁর অধীনে যারা আছেন তারা সকলেই দুর্বল। আসুন আমরা এই উম্মতের রাসূল, তাদের নেতা এবং শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করি—এমন মহান মর্যাদা ও উচ্চ আসনে আসীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর ঘরে কেমন ছিলেন! আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে কী কাজ করতেন?” তিনি বললেন: “তিনি মানুষের মধ্যে একজন সাধারণ মানুষই ছিলেন; তিনি নিজের কাপড় পরিষ্কার করতেন, নিজের বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন।” (১)।

এটি বিনয় এবং অহংকার বর্জন ও অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার এক মহান উদাহরণ। আদম সন্তানের শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তিনি এসব কাজ করতেন। আর এই বরকতময় ঘর থেকেই এই দ্বীনের আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল, অথচ সেই ঘরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পেট ভরার মতো খাবারও পেতেন না।

নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন: “আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি তাঁর পেট ভরার মতো সাধারণ মানের খেজুরও (২) পেতেন না।” (৩)।

--------------------------------------------

(১) আহমদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) দাকল: নিম্নমানের খেজুর।

(৩) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: «إن كنا آل محمد نمكث شهرًا ما نستوقد بنار إن هو إلا التمر والماء» (1).

ولم يكن هناك ما يشغل النبي صلى الله عليه وسلم عن العبادة والطاعة .. فإذا سمع حي على الصلاة حي على الفلاح لبى النداء مسرعًا وترك الدنيا خلفه.

عن الأسود بن يزيد قال: سألت عائشة رضي الله عنها، ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصنع في البيت؟ قالت: «كان يكون في مهن أهله، فإذا سمع بالأذان خرج» (2).

ولم يؤثر عنه صلى الله عليه وسلم أنه صلى الفريضة في منزله ألبتة، إلا عندما مرض واشتدت عليه وطأة الحمى، وصعب عليه الخروج وذلك في مرض موته صلى الله عليه وسلم.

ومع رحمته لأمته وشفقته عليهم إلا أنه أغلظ على من ترك الصلاة مع الجماعة فقال صلى الله عليه وسلم: «لقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام ثم آمر رجلاً أن يصلي بالناس ثم أنطلق معي برجال معهم حزم من حطب إلى قوم لا يشهدون الصلاة فأحرق عليهم بيوتهم» (3).

وما ذاك إلا من أهمية الصلاة في الجماعة وعظم أمرها. قال صلى الله عليه وسلم: «من سمع النداء فلم يجب فلا صلاة له إلا من عذر» (4)،

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري.

(2) رواه مسلم.

(3) متفق عليه.

(4) رواه ابن ماجه وابن حبان.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা মুহাম্মাদের পরিবারবর্গ এক মাস এমন অবস্থায় অতিবাহিত করতাম যে, আমাদের ঘরে আগুন জ্বালানো হতো না; কেবল খেজুর এবং পানিই ছিল আমাদের খাদ্য» (১)।

ইবাদত ও আনুগত্য থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিমুখ করার মতো কিছুই ছিল না। যখনই তিনি ‘নামাজের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো’ শুনতেন, দ্রুত সেই ডাকে সাড়া দিতেন এবং দুনিয়াকে পেছনে ফেলে যেতেন।

আসোয়াদ ইবন ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে কী করতেন? তিনি বললেন: «তিনি তাঁর পরিবারের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর যখনই আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে যেতেন» (২)।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তিনি কখনও ঘরে ফরজ নামাজ আদায় করেছেন; কেবল সেই সময় ব্যতীত যখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর ওপর জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে তাঁর জন্য বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর তা ছিল তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতার সময়ে।

উম্মতের প্রতি তাঁর দয়া ও মমতা থাকা সত্ত্বেও, যারা জামাতে নামাজ পরিত্যাগ করত তাদের প্রতি তিনি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার প্রবল ইচ্ছা হয় যে, আমি নামাজের নির্দেশ দিই এবং তা কায়েম করা হোক, এরপর একজনকে নির্দেশ দিই সে যেন মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়ে, আর আমি একদল লোক নিয়ে যাদের সাথে কাঠের আঁটি থাকবে, এমন লোকদের কাছে যাই যারা নামাজে উপস্থিত হয় না এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিই» (৩)।

এটি কেবল জামাতে নামাজের গুরুত্ব এবং এর বিষয়ের মাহাত্ম্যের কারণেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আযান শুনল অথচ (জামাতে) উপস্থিত হলো না, তার কোনো নামাজ হবে না, ওজর (যৌক্তিক কারণ) ব্যতীত» (৪),

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৪) ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
والعذر خوف أو مرض.

فأين المصلون اليوم؟ بجوار زوجاتهم وقد تركوا المساجد! ! ! أين عذر المرض أو الخوف! ! !
আর ওজর হলো ভয় অথবা অসুস্থতা।

তাহলে আজ মুসল্লিরা কোথায়? তারা তাদের স্ত্রীদের পাশে, অথচ তারা মসজিদসমূহ ত্যাগ করেছে! ! ! অসুস্থতা কিংবা ভয়ের ওজর আজ কোথায়! ! !
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌هديه وسمته صلى الله عليه وسلم -

حركة الإنسان وسكنته علامة على عقله ومفتاح لمعرفة قلبه.

وعائشة أم المؤمنين ابنة الصديق رضي الله عنهما خير من يعرف خلق النبي صلى الله عليه وسلم، وأدق من يصف حاله عليه الصلاة والسلام فهي القريبة منه في النوم واليقظة والمرض والصحة، والغضب والرضا.

تقول أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها: «لم يكن رسول

الله صلى الله عليه وسلم فاحشًا ولا متفحشًا، ولا صخابًا في الأسواق ولا يجزي بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويصفح» (1).

وهذا خلق نبي الأمة الرحمة المهداة والنعمة المسداة عليه الصلاة والسلام يصف لنا سبطه الحسين رضي الله عنه بعضًا من هديه صلى الله عليه وسلم حيث قال: سألت أبي عن سير النبي صلى الله عليه وسلم في جلسائه، فقال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم دائم البشر، سهل الخلق، لين الجانب، ليس بفظ غليظ ولا صخاب، ولا عياب، ولا مشاح، يتغافل عما لا يشتهي، ولا يؤيس منه راجيه، ولا يخيب فيه، قد ترك نفسه من ثلاث: الرياء، والإكثار، وما لا يعنيه، وترك الناس من ثلاث: كان لا يذم أحدًا ولا يعيبه، ولا يطلب عورته، ولا يتكلم إلا فيما رجا ثوابه، وإذا تكلم أطرق جلساؤه، كأنما على رءوسهم الطير، فإذا سكت تكلموا، لا يتنازعون عنده الحديث، من تكلم عنده أنصتوا

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد.
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ ও স্বভাব-

মানুষের নড়াচড়া ও স্থিরতা হলো তার বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন এবং তার অন্তরকে জানার চাবিকাঠি।

আর উম্মুল মুমিনীন সিদ্দীক-তনয়া আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানতেন এবং তাঁর অবস্থার নিখুঁত বর্ণনাকারী ছিলেন; কেননা তিনি নিদ্রা ও জাগরণ, অসুস্থতা ও সুস্থতা এবং ক্রোধ ও সন্তুষ্টির সময় তাঁর অত্যন্ত সন্নিকটে থাকতেন।

উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অশ্লীল ভাষী ছিলেন না, স্বভাবগতভাবে অশ্লীল আচরণকারীও ছিলেন না, বাজারে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতেন না এবং মন্দের বিনিময়ে মন্দ করতেন না; বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করতেন» (১)।

আর এটিই হলো উম্মতের নবী, উপহারস্বরূপ রহমত এবং দানকৃত নিআমত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র। তাঁর দৌহিত্র হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কিছু আদর্শ বর্ণনা করে বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর সঙ্গীদের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা প্রফুল্লচিত্ত, সহজ স্বভাবের এবং নম্র ছিলেন। তিনি রূঢ়, কঠোর স্বভাবের, উচ্চৈঃস্বরে চিৎকারকারী, দোষ অন্বেষণকারী কিংবা সংকীর্ণমনা ছিলেন না। যা তিনি পছন্দ করতেন না তা উপেক্ষা করতেন। তাঁর কাছে কোনো প্রত্যাশী নিরাশ হতো না এবং তিনি তাকে বঞ্চিত করতেন না। তিনি নিজেকে তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন: রিয়া (লোক দেখানো মানসিকতা), আধিক্য এবং নিরর্থক বিষয়। আর মানুষের ক্ষেত্রেও তিনি তিনটি বিষয় পরিহার করেছিলেন: তিনি কাউকে নিন্দা করতেন না, কাউকে দোষারোপ করতেন না, কারো দোষ-ত্রুটি বা গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করতেন না এবং কেবল সেই কথাই বলতেন যাতে সাওয়াবের আশা থাকতো। তিনি যখন কথা বলতেন, তাঁর মজলিসের সঙ্গীরা এমনভাবে মাথা নিচু করে থাকতেন যেন তাদের মাথায় পাখি বসে আছে। তিনি যখন নীরব হতেন, তখন তারা কথা বলতেন। তারা তাঁর সামনে কথা নিয়ে বিবাদ করতেন না। কেউ তাঁর সামনে কথা বললে তারা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন...»

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৪)
له حتى يفرغ حديثهم عنده حديث أولهم، يضحك مما يضحكون منه، ويتعجب مما يتعجبون منه، ويصبر للغريب على الجفوة في منطقه ومسألته حتى إن كان أصحابه ليستجلبونهم، ويقول: «إذا رأيتم طالب حاجة يطلبها فأرفدوه» (1)، ولا يقبل الثناء إلا من مكافئ، ولا يقطع على أحد حديثه حتى يجوز فيقطعه بنهي أو قيام» (2).

تأمل في سجايا وخصال نبي هذه الأمة واحدة تلو الأخرى .. وأمسك منها بطرف وجاهد نفسك للأخذ منها بسهم فإنها جماع الخير!

وكان من هديه صلى الله عليه وسلم تعليم جلسائه أمور دينهم .. ومن ذلك

أنه صلى الله عليه وسلم قال: «من مات وهو يدعو من دون الله ندًا دخل النار» (3).

ومنه قوله عليه الصلاة والسلام: «المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه» (4).

وقوله صلى الله عليه وسلم: «بشروا المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة» (5).

--------------------------------------------

(1) أي: أعينوه.

(2) رواه الترمذي.

(3) رواه البخاري.

(4) متفق عليه.

(5) رواه الترمذي وأبو داود.
তাঁর নিকট তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির কথা তেমনই গুরুত্ব পেত যেমনটি পেত তাদের প্রথম ব্যক্তির কথা। তারা যা নিয়ে হাসত, তিনিও তা নিয়ে হাসতেন। তারা যা দেখে অবাক হতো, তিনিও তা দেখে অবাক হতেন। তিনি বহিরাগত আগন্তুকের কথাবার্তা ও প্রশ্নের রূঢ়তা ধৈর্য ধরে সহ্য করতেন, এমনকি তাঁর সাহাবীগণ তখন সেই আগন্তুককে সাহায্য করার উদ্যোগ নিতেন। তিনি বলতেন: «যখন তোমরা দেখবে কেউ কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য সাহায্য চাচ্ছে, তখন তাকে সাহায্য করো» (১), তিনি যোগ্য নয় এমন কারো থেকে প্রশংসা গ্রহণ করতেন না। তিনি কারোর কথা মাঝপথে থামিয়ে দিতেন না যতক্ষণ না সে সীমা অতিক্রম করত; তখন তিনি তাকে নিষেধ করার মাধ্যমে বা উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তা থামিয়ে দিতেন (২)।

এই উম্মতের নবীর একেকটি স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি একে একে গভীর চিন্তা করো... এবং এর একটি প্রান্ত আঁকড়ে ধরো এবং এর থেকে কিছু অংশ গ্রহণ করার জন্য নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করো; কারণ এটিই সকল কল্যাণের আধার!

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাঁর মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া... এবং তারই অংশ হিসেবে

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মারা গেল যে সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে ডাকত, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে» (৩)।

এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণীর অংশ: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে» (৪)।

এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও» (৫)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তাকে সাহায্য করো।

(২) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৫) তিরমিযী ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقوله عليه الصلاة والسلام: «جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم» (1).

وعنه صلى الله عليه وسلم: أنه قال: «إن العبد ليتكلم بالكلمة ما يتبين فيها يزل بها إلى النار أبعد مما بين المشرق والمغرب» (2).

وقال صلى الله عليه وسلم: «إني لم أبعث لعانًا، وإنما بعثت رحمة» (3).

وعن عمر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم» (4). والإطراء: هو مجاوزة الحد في المدح.

وعن جندب بن عبد الله قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس وهو يقول: «إني أبرأ إلى الله أن يكون لي منكم خليل فإن الله قد اتخذني خليلاً كما اتخذ إبراهيم خليلاً ولو كنت متخذًا من أمتي خليلاً لاتخذت أبا بكر خليلاً، ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد فإني أنهاكم عن ذلك» (5).

وعلى هذا فلا تجوز الصلاة في المساجد التي فيها قبر أو قبور.

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود.

(2) متفق عليه.

(3) رواه مسلم.

(4) متفق عليه.

(5) رواه مسلم.
এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: «তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, জান এবং জিহ্বা দ্বারা জিহাদ করো» (১)।

এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দা কখনও এমন কোনো কথা বলে ফেলে যার ফলাফল সম্পর্কে সে ভেবে দেখে না, এর কারণে সে জাহান্নামের আগুনে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও গভীরে তলিয়ে যায়» (২)।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি অভিশাপকারী হিসেবে প্রেরিত হইনি, বরং আমি কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি» (৩)।

এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার প্রশংসায় এমন বাড়াবাড়ি করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারইয়ামের ক্ষেত্রে করেছিল» (৪)। আর 'ইতরা' (الإطراء) হলো প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা।

এবং জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি যে: «আমি আল্লাহর নিকট এই ঘোষণা দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্য থেকে আমার কোনো ‘খলীল’ (অন্তরঙ্গ বন্ধু) নেই। কেননা আল্লাহ আমাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেভাবে তিনি ইবরাহীমকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আর আমি যদি আমার উম্মতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম। সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিল তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি» (৫)।

এর ওপর ভিত্তি করে, যে মসজিদে একটি বা একাধিক কবর রয়েছে সেখানে সালাত আদায় করা বৈধ নয়।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৫) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌بناته صلى الله عليه وسلم -

كانت ولادة الأنثى في الجاهلية يومًا أسود في حياة الوالدين، بل وفي حياة الأسرة والقبيلة، وسار الحل بهذا المجتمع إلى وأد البنات وهن أحياء خوف العار والفضيحة، وكان الوأد يتم في صور بشعة، قاسية ليس فها للرحمة موطن ولا للمحبة مكان، فكانت البنت تدفن حية، وكانوا يتفننون في تلك الجريمة فمنهم من إذا ولدت له بنت تركها حتى تكون في السادسة من عمرها، ثم يقول لأمها: طيبيها وزينيها حتى أذهب بها إلى أحمائها، وقد حفر لها بئرًا في الصحراء فيبلغ بها البئر، فيقول لها: انظري فيها، ثم يدفعها دفعًا ويهيل عليها التراب بوحشية وقسوة.

وفي وسط هذا المجتمع الجاهلي خرج الرسول صلى الله عليه وسلم بهذا الدين العظيم الذي أكرم المرأة أمًا وزوجة وبنتًا وأختًا وعمة، وقد حظيت البنات بحب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد كان إذا دخلت عليه فاطمة ابنته قام إليها فأخذ بيدها فقبلها وأجلسها مجلسه، وكان إذا دخل عليها قامت إليه فأخذت بيده فقبلته وأجلسته في مجلسها (1).

ومع محبة النبي عليه الصلاة والسلام لبناته وإكرامه لهن إلا أنه رضي بطلاق ابنتيه أم كلثوم ورقية صابرًا محتسبًا من عتبة وعتيبة ابني أبي لهب بعد أن أنزل الله فيه {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَب}، وأبى صلى الله عليه وسلم أن يترك أمر الدعوة أو أن يتراجع فإن قريشًا هددت وتوعدت

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود والترمذي والنسائي.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যারা -

জাহেলিয়াত যুগে কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল পিতামাতার জীবনে, এমনকি পরিবার ও গোত্রের জীবনেও একটি অন্ধকার দিন। বস্তুত এই সমাজের ধারাটি কন্যা সন্তানদের লজ্জা ও অপমানের ভয়ে জীবন্ত কবর দেওয়ার দিকে ধাবিত হয়েছিল। এই জীবন্ত সমাহিত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বীভৎস ও নিঠুরভাবে সম্পন্ন হতো, যেখানে দয়ার কোনো স্থান ছিল না এবং ভালোবাসার কোনো অবকাশ ছিল না। কন্যা শিশুকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো। তারা এই অপরাধের ক্ষেত্রে নানা কৌশল অবলম্বন করত; তাদের মধ্যে কেউ এমন ছিল যে, যখন তার কোনো কন্যা সন্তান জন্ম নিত, তখন তাকে ছয় বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দিত। এরপর সে তার মাকে বলত: "তাকে সুগন্ধি মাখিয়ে দাও এবং সুসজ্জিত করো যাতে আমি তাকে তার আত্মীয়দের কাছে নিয়ে যেতে পারি।" অথচ সে মরুভূমিতে তার জন্য একটি গর্ত খনন করে রাখত। যখন সে তাকে নিয়ে সেই গর্তের কিনারে পৌঁছাত, তখন তাকে বলত: "এর ভেতরে তাকাও।" এরপর সে তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিত এবং অত্যন্ত নৃশংসতা ও কঠোরতার সাথে তার ওপর মাটি চাপা দিত।

এই জাহেলি সমাজের মাঝেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মহান দ্বীন নিয়ে আবির্ভূত হন, যা নারীকে মা, স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং ফুফু হিসেবে সম্মানিত করেছে। কন্যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অগাধ ভালোবাসা লাভ করেছিলেন। তাঁর কন্যা ফাতিমা যখন তাঁর নিকট আসতেন, তখন তিনি তাঁর সম্মানে উঠে দাঁড়াতেন, তাঁর হাত ধরতেন, তাঁকে চুম্বন করতেন এবং নিজের বসার স্থানে তাঁকে বসাতেন। আবার তিনি যখন ফাতিমার নিকট যেতেন, ফাতিমাও তাঁর সম্মানে উঠে দাঁড়াতেন, তাঁর হাত ধরতেন, তাঁকে চুম্বন করতেন এবং নিজের বসার স্থানে তাঁকে বসাতেন (১)।

কন্যাদের প্রতি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের গভীর মমতা ও সম্মান থাকা সত্ত্বেও, আবু লাহাবের দুই পুত্র উতবা ও উতাইবা যখন তাঁর দুই কন্যা উম্মে কুলসুম ও রুকাইয়্যাহকে তালাক প্রদান করেছিল, তখন তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ধৈর্য ধারণ করে তা মেনে নিয়েছিলেন। এটি ঘটেছিল যখন আল্লাহ তাআলা আবু লাহাবের কুৎসায় "আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক" নাযিল করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের মিশন পরিত্যাগ করতে কিংবা পিছু হটতে অস্বীকার করেন, যদিও কুরাইশরা নানাবিধ হুমকি ও সতর্কবার্তা প্রদান করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
حتى طلقت بنتي الرسول عليه الصلاة والسلام وهو ثابت صابر لا يتزعزع عن الدعوة لهذا الدين.

ومن صور الترحيب والبشاشة لابنته ما روته عائشة رضي الله عنها حيث قالت: كن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم عنده، فأقبلت فاطمة رضي الله عنها تمشي ما تخطيء مشيتها من مشية رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئًا فلما رآها رحب بها وقال: «مرحبًا بابنتي» ثم أجلسها عن يمينه أو عن شماله (1).

ومن عطفه ومحبته لبناته زيارتهن وتفقد أحوالهن وحل مشاكلهن .. أتت فاطمة رضي الله عنها النبي صلى الله عليه وسلم تشكو إليه ما تلقى في يديها من الرحى وتسأله خادمًا، فلم تجده، فذكرت ذلك لعائشة رضي الله عنها فلما جاء الرسول صلى الله عليه وسلم أخبرته قال علي رضي الله عنه: فجاءنا وقد أخذنا مضاجعنا، فذهبنا نقوم، فقال: «مكانكما» فجاء فقعد بيننا حتى وجدت برد قدميه على صدري، فقال: «ألا أدلكما على ما هو خير لكما من خادم؟ إذا أويتما إلى فراشكما، أو أخذتما مضاجعكما، فكبرا أربعًا وثلاثين وسبحا ثلاثًا وثلاثين، واحمدا ثلاثًا وثلاثين فهذا خير لكما من خادم» (2).

ولنا في رسول الله صلى الله عليه وسلم أسوة حسنة في صبره وعدم جزعه فقد توفي جميع أبنائه وبناته في حياته -عدا فاطمة رضي الله عنها ومع

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) رواه البخاري.
এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যাকে যখন তালাক দেওয়া হলো, তখনও তিনি এই দ্বীনের দাওয়াত থেকে অবিচল ও ধৈর্যশীল ছিলেন এবং বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি।

তাঁর কন্যার প্রতি তাঁর অভ্যর্থনা এবং প্রফুল্লতার একটি চিত্র হলো যা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ তাঁর কাছে ছিলেন, এমতাবস্থায় ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা হেঁটে আসছিলেন এবং তাঁর হাঁটার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটার ভঙ্গি থেকে বিন্দুমাত্র ভিন্ন ছিল না। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেন: «স্বাগতম আমার কন্যা», তারপর তাঁকে তাঁর ডান অথবা বাম পাশে বসালেন (১)।

তাঁর কন্যাদের প্রতি তাঁর মমতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিল তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাঁদের সমস্যার সমাধান করা.. ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং জাঁতা ঘোরানোর ফলে তাঁর হাতে যে কষ্ট হচ্ছিল সে সম্পর্কে অভিযোগ করলেন এবং একজন সেবক চাইলেন। তিনি তাঁকে না পেয়ে বিষয়টি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে জানালেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তখন তিনি (আয়েশা) তাঁকে সংবাদটি দিলেন। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা আমাদের বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে উদ্যত হলাম, তখন তিনি বললেন: «তোমরা নিজ নিজ স্থানেই থাকো»। এরপর তিনি এসে আমাদের মাঝখানে বসলেন, এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর দুই পায়ের শীতলতা অনুভব করলাম। তিনি বললেন: «আমি কি তোমাদের এমন কিছু বলে দেব না যা তোমাদের জন্য একজন সেবকের চেয়েও উত্তম? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে অথবা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেবে, তখন চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার, তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ এবং তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ বলবে; এটি তোমাদের জন্য একজন সেবকের চেয়েও উত্তম» (২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধৈর্য এবং বিচলিত না হওয়ার মধ্যে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে; কেননা ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত তাঁর সকল পুত্র ও কন্যা তাঁর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেছিলেন এবং...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।

(২) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
هذا فلم يلطم خدًا ولم يشق ثوبًا ولم يقم المآدب وسرادقات التعزية، بل كان عليه الصلاة والسلام صابرًا محتسبًا راضيًا بقضاء الله وقدره.

وقد عهد إلينا بوصية عظيمة وأحاديث جليلة هي سلوة للمحزون وتنفيس للمكروب، منها قوله صلى الله عليه وسلم: «إنا لله وإنا إليه راجعون، اللهم أجرني في مصيبتي واخلف لي خيرًا منها، إلا أخلف الله له خيرًا منها» (1). وقد جعل الله عز وجل كلمات الاسترجاع وهي قول المصاب: «إنا لله وإنا إليه راجعون» ملاذًا وملجأ لذوي المصائب، واجزل المثوبة للصابرين وبشرهم بثواب من عنده تعالى: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ}.

***

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.
তিনি গাল চাপড়াননি, কাপড় ছিঁড়েননি এবং শোকসভা বা শোকের তাঁবু স্থাপন করেননি; বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধৈর্যশীল ছিলেন, সওয়াবের প্রত্যাশী ছিলেন এবং আল্লাহর ফয়সালা ও তকদীরের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন।

তিনি আমাদের জন্য এক মহান অসিয়ত এবং মর্যাদাপূর্ণ হাদিসসমূহ রেখে গেছেন, যা শোকাতুর ব্যক্তির জন্য সান্ত্বনা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রশান্তি স্বরূপ। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণী: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাকে আমার এই বিপদে সওয়াব দান করুন এবং আমাকে এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করুন”, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তার চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করবেন। (১)। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ‘ইস্তিরজা’র বাক্যসমূহকে—যা হলো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির এই বলা: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”—বিপদগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় ও অবলম্বন বানিয়েছেন। তিনি ধৈর্যশীলদের জন্য মহান প্রতিদান নির্ধারিত করেছেন এবং তাদেরকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন: “ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে পরিপূর্ণরূপে প্রদান করা হবে।”

***

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌معاملة الزوجة

في دوحة الأسرة الصغيرة تبقى الزوجة مربط الفرس وجذع النخلة والسكن والقرب.

يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «الدنيا كلها متاع، وخير متاع الدنيا الزوجة الصالحة» (1).

ومن حسن خلقه وطيب معشره عليه الصلاة والسلام، نجده ينادي أم المؤمنين بترخيم اسمها ويخبرها خبرًا تطير له القلوب والأفئدة!

قالت عائشة رضي الله عنها: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يومًا: «يا عائش! هذا جبريل يقرئك السلام» (2).

بل هذا نبي الأمة صلى الله عليه وسلم وأكملها خلقًا وأعظمها منزلة، يضرب صورًا رائعة في حسن العشرة ولين الجانب ومعرفة الرغبات العاطفية والنفسية لزوجته، وينزلها المنزلة التي تحبها كل أنثى وامرأة لكي تكون محظية عند زوجها!

قالت عائشة رضي الله عنها: «كنت أشرب وأنا حائض، فأناوله النبي صلى الله عليه وسلم، فيضع فاه على موضع في فيشرب، وأتعرق العرق (3) فيتناوله ويضع فاه على موضع في» (4).

--------------------------------------------

(1) صحيح الجامع الصغير.

(2) متفق عليه.

(3) أي آخذ ما على العظم من اللحم.

(4) رواه مسلم.
স্ত্রীর সাথে আচরণ

ছোট পরিবারের উদ্যান-বাটিকায় স্ত্রী-ই হলেন মূল কেন্দ্রবিন্দু, খেজুর গাছের কাণ্ড, প্রশান্তি এবং নৈকট্যের আধার।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «সমগ্র পৃথিবীই হলো ভোগের সামগ্রী, আর পৃথিবীর সর্বোত্তম সামগ্রী হলো নেককার স্ত্রী» (১)।

তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্র ও চমৎকার আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা দেখি যে, তিনি উম্মুল মুমিনীনকে তাঁর নামের সংক্ষিপ্ত আদুরে নামে ডাকতেন এবং তাঁকে এমন সংবাদ দিতেন যাতে অন্তর ও প্রাণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে!

আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন: «হে আয়িশ! এই যে জিবরীল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন» (২)।

বরং এই উম্মতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি চরিত্রের দিক থেকে পূর্ণতম এবং মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতম, তিনি দাম্পত্য জীবনে সদ্ভাব, নম্রতা এবং স্ত্রীর আবেগীয় ও মানসিক চাহিদার উপলব্ধির এক চমৎকার উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি তাঁকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন যা প্রতিটি নারী তার স্বামীর কাছে প্রিয়পাত্রী হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করে!

আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম, এরপর আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম; তখন তিনি পাত্রের ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগাতেন যেখানে আমি মুখ রেখেছিলাম এবং তিনি পান করতেন। আবার আমি হাড় থেকে গোশত ছিঁড়ে খেতাম (৩), এরপর তিনি তা নিতেন এবং ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগাতেন যেখানে আমি মুখ রেখেছিলাম» (৪)।

--------------------------------------------

(১) সহীহুল জামি' আস-সাগীর।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৩) অর্থাৎ হাড়ের ওপর লেগে থাকা গোশত খাওয়া।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولم يكن صلى الله عليه وسلم كما زعم المنافقون واتهمه المستشرقون بتهم زائفة وادعاءات باطلة .. بل ها هو يتلمس أجمل طرق العشر الزوجية وأسهلها.

عن عائشة رضي الله عنها: «إن النبي صلى الله عليه وسلم قبل امرأة من نسائه ثم خرج إلى الصلاة ولم يتوضأ» (1).

والرسول صلى الله عليه وسلم في مواطن عدة يوضح بجلاء مكانة المرأة السامية لديه وأن لهن المكانة العظيمة والمنزلة الرفيعة، ها هو صلى الله عليه وسلم يجيب على سؤال عمرو بن العاص رضي الله عنه ويعلمه أن محبة الزوجة لا تخجل الرجل الناضج السوي القويم.

عن عمرو بن العاص أنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الناس أحب إليك؟ قال: «عائشة» (2).

ولمن أراد بعث السعادة الزوجية في حياته عليه أن يتأمل حديث أم المؤمنين رضي الله عنها وكيف كان عليه الصلاة والسلام يفعل معها.

عن عائشة رضي الله عنها قالت: «كنت أغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء واحد» (3).

ونبي هذه الأمة صلى الله عليه وسلم لا يترك مناسبة إلا استفاد منها لإدخال

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود والترمذي.

(2) متفق عليه.

(3) رواه البخاري.
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেমন ছিলেন না যেমনটি মুনাফিকরা দাবি করেছিল এবং প্রাচ্যবিদরা মিথ্যা অভিযোগ ও ভিত্তিহীন দাবির মাধ্যমে তাঁর ওপর আরোপ করেছিল.. বরং এই তো তিনি দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সহজতম পথগুলো অন্বেষণ করছেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের একজনকে চুম্বন করলেন, অতঃপর নামাজের জন্য বেরিয়ে গেলেন এবং তিনি (নতুন করে) অজু করেননি» (১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর নিকট নারীর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাদের যে মহান অবস্থান ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই তো তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং তাঁকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা একজন পরিপক্ক, ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক প্রকৃতির মানুষকে লজ্জিত করে না।

আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: «আয়েশা» (২)।

আর যে ব্যক্তি তার জীবনে দাম্পত্য সুখের সঞ্চার করতে চায়, তাকে উম্মুল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কেমন আচরণ করতেন সে বিষয়ে চিন্তা করতে হবে।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম» (৩)।

এই উম্মতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতেন না যা তিনি প্রবেশের জন্য কাজে লাগাতেন না...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইয়াওমুন ফী বাইতির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩১)
السرور على زوجته وإسعادها بكل أمر مباح.

تقول عائشة رضي الله عنها: خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره، وأنا جارية لم أحمل اللحم ولم أبدن، فقال للناس: «تقدموا» فتقدموا ثم قال: «تعالي حتى أسابقك» فسابقته فسبقته، فسكت عني حتى حملت اللحم، وبدنت وسمنت وخرجت معه في بعض أسفاره فقال للناس «تقدموا» ثم قال: «تعالي أسابقك» فسبقني، فجعل يضحك ويقول: «هذه بتلك» (1).

إنها مداعبة لطيفة واهتمام بالغ، يأمر القوم أن يتقدموا لكي يسابق زوجته، ويدخل السرور على قلبها، ثم ها هو يجمع لها دعابة ماضية وأخرى حاضرة، ويقول: «هذه بتلك»!

ومن ضرب في أرض الله الواسعة اليوم وتأمل حال علية القوم ليعجب من فعله صلى الله عليه وسلم وهو نبي كريم وقائد مظفر وسليل قريش وبني هاشم، في يوم من أيام النصر قافلاً عائدًا منتصرًا يقود جيشًا عظيمًا، ومع هذا فهو الرجل الودود اللين الجانب مع زوجاته أمهات المؤمنين، لم تنسه قيادة الجيش ولا طول الطريق ولا الانتصار في المعركة أن معه زوجات ضعيفات يحتجن منه إلى لمسة حانية وهمسة صادقة تمسح مشقة الطريق وتزيل تعب السفر!

روى البخاري أنه صلى الله عليه وسلم لما رجع من غزوة خيبر وتزوج صفية بنت حيي رضي الله عنها كان يدير كساء حول البعير الذي تركبه

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد.
স্ত্রীর মনে আনন্দ দান করা এবং প্রতিটি বৈধ বিষয়ের মাধ্যমে তাকে সুখী রাখা।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর কোনো এক সফরে বের হলাম। তখন আমি ছিলাম এক কিশোরী, আমার শরীরে মাংস লাগেনি এবং আমি স্থূল ছিলাম না। তিনি লোকজনকে বললেন: "তোমরা এগিয়ে যাও।" তারা এগিয়ে গেল। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "এসো, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" আমি তাঁর সাথে প্রতিযোগিতা করলাম এবং তাঁর আগে চলে গেলাম। এরপর তিনি এ বিষয়ে নিরব থাকলেন, যতক্ষণ না আমার শরীরে মাংস লাগল এবং আমি স্থূল ও ভারী হলাম। পরবর্তীতে অন্য এক সফরে আমি তাঁর সাথে বের হলাম। তিনি লোকজনকে বললেন: "তোমরা এগিয়ে যাও।" এরপর তিনি আমাকে বললেন: "এসো, এবার আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করি।" এবার তিনি আমার আগে চলে গেলেন। এরপর তিনি হাসতে হাসতে বললেন: "এটি সেই আগেরটির বদলা।" (১)।

এটি ছিল এক চমৎকার কৌতুক এবং অত্যন্ত গভীর মনোযোগের বহিঃপ্রকাশ; তিনি লোকজনকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন যাতে তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে দৌড়াতে পারেন এবং তাঁর হৃদয়ে আনন্দ দিতে পারেন। অতঃপর তিনি এখানে অতীতের একটি কৌতুক এবং বর্তমানের একটি কৌতুককে একত্রিত করে বলেন: "এটি সেই আগেরটির বদলা!"

আজ যে ব্যক্তি আল্লাহর এই প্রশস্ত জমিনে বিচরণ করবে এবং সমাজের উচ্চপদস্থ ও অভিজাত ব্যক্তিদের অবস্থার দিকে লক্ষ করবে, সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই কার্যাবলি দেখে বিস্মিত হবে। অথচ তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত নবী, এক বিজয়ী সেনাপতি এবং কুরাইশ ও বনি হাশিমের মহান বংশধর। বিজয়ের দিনগুলোর একটিতে যখন তিনি একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করে বিজয়ী বেশে ফিরছিলেন, তখনো তিনি তাঁর স্ত্রীদের—উম্মাহাতুল মুমিনিনের—প্রতি অত্যন্ত প্রেমময় ও কোমল স্বভাবের ছিলেন। সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব, দীর্ঘ পথ কিংবা যুদ্ধের বিজয়—কোনো কিছুই তাঁকে ভুলিয়ে দেয়নি যে, তাঁর সাথে দুর্বল স্ত্রীরা রয়েছেন যাদের তাঁর পক্ষ থেকে এক মমতাভরা স্পর্শ এবং অকৃত্রিম সহমর্মিতার প্রয়োজন রয়েছে, যা পথের ক্লান্তি মুছে দেবে এবং সফরের অবসাদ দূর করবে!

ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খায়বারের যুদ্ধ থেকে ফিরলেন এবং সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিবাহ করলেন, তখন সাফিয়্যাহ যে উটে আরোহণ করতেন তার চারপাশে তিনি চাদর জড়িয়ে দিচ্ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন।