(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: -)
من ذخائر ابن مالك في اللغة مسألة من كلام الإمام ابن مالك في الاشتقاق القسم: النحو والصرف
الكتاب: من ذخائر ابن مالك في اللغة مسألة من كلام الإمام ابن مالك في الاشتقاق
المؤلف: محمد بن عبد الله، ابن مالك الطائي الجياني، أبو عبد الله، جمال الدين (ت 672هـ)
المحقق: محمد المهدي عبد الحي عمار
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة التاسعة والعشرون. العدد السابع بعد المائة. (1418 - 1419هـ) / (1998 - 1999م)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 339
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ভাষাতত্ত্বে ইবনে মালিকের অনন্য সংকলন থেকে: ইশতিখাক (শব্দমূলতত্ত্ব) বিষয়ে ইমাম ইবনে মালিকের বক্তব্যের একটি মাসআলা বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: ভাষাতত্ত্বে ইবনে মালিকের অনন্য সংকলন থেকে: ইশতিখাক (শব্দমূলতত্ত্ব) বিষয়ে ইমাম ইবনে মালিকের বক্তব্যের একটি মাসআলা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়ানি, আবু আব্দুল্লাহ, জামালুদ্দিন (ওফাত ৬৭২ হি.)
সম্পাদক: মুহাম্মদ আল-মাহদি আব্দুল হাই আম্মার
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ২৯তম বর্ষ। ১০৭তম সংখ্যা। (১৪১৮ - ১৪১৯ হি.) / (১৯৯৮ - ১৯৯৯ খ্রি.)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৯
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
من ذخائر ابْن مَالك فِي اللُّغَة مَسْأَلَة من كَلَام الإِمَام ابْن مَالك فِي الِاشْتِقَاق
تَقْدِيم ودراسة وَتَحْقِيق وَتَعْلِيق
الدكتور: مُحَمَّد الْمهْدي عبد الْحَيّ عمار
أستاذ مساعد فِي كُلية اللُّغَة الْعَرَبيَّة
فِي الجامعة الإسلامية بِالْمَدِينَةِ المنورة
مُقَدّمَةالْحَمد لله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على إِمَام الْمُرْسلين وَخَاتم النَّبِيين سيدنَا وَنَبِينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه الطيبين الطاهرين.
أما بعد:
فَإِنَّهُ لجلى كل الْجلاء مَا لتحقيق المخطوطات ونفض الْغُبَار عَنْهَا وإخراجها من ظلمات المخازن من عَظِيم المزية وكبير الْفَائِدَة فِي خدمَة لُغَة الْقُرْآن ولسان السّنة.
وَلَقَد كَانَ ابْن مَالك من الْعلمَاء الأفذاذ الَّذين أثروا المكتبة الْعَرَبيَّة بمؤلفاتهم المفيدة فِي مُخْتَلف مجالاتها، وَقد حُقِّق بعض مؤلفاته ونشِر، وَلَكِن بَعْضهَا مَا زَالَ مخطوطاً ينْتَظر من يقوم بخدمته.
ورغبة مني فِي الْمُشَاركَة فِي خدمَة هَذَا التراث الْمُفِيد فقد قُمْت بتحقيق مَسْأَلَة لِابْنِ مَالك فِي الِاشْتِقَاق، وَلما كَانَت الْمَسْأَلَة المحققة مختصرة وخاصة بجزئية محدودة من الِاشْتِقَاق فقد مهدت لَهَا بِتَقْدِيم اشْتَمَل على أهم مسَائِل الِاشْتِقَاق؛ ليَكُون الْقَارئ لهَذِهِ الْمَسْأَلَة مستحضراً لموضوع الِاشْتِقَاق؛ ليسهل عَلَيْهِ فهمها واستيعاب محتواها ومضمونها، وَقد سلكت فِي عَمَلي الخطة التالية:
أَولا: الاستفتاح.
ثَانِيًا: التَّقْدِيم وَقد ضمنته سَبْعَة مطَالب وَهِي:
الْمطلب الأول: فِي بَيَان فَائِدَة الِاشْتِقَاق وَقُوَّة الْحَاجة إِلَيْهِ.
الْمطلب الثَّانِي: فِي بَيَان جهود الْعلمَاء فِي الِاشْتِقَاق.
الْمطلب الثَّالِث: فِي تَعْرِيف الِاشْتِقَاق وَبَيَان أَنْوَاعه.
ইমাম ইবন মালিকের ভাষাতাত্ত্বিক রত্নভাণ্ডার থেকে: শব্দমূলতত্ত্ব বিষয়ে ইমাম ইবন মালিকের বক্তব্যের একটি মাসআলা
উপস্থাপনা, গবেষণা, পাণ্ডুলিপি সম্পাদন ও টীকা
ডক্টর: মুহাম্মদ আল-মাহদি আব্দুল হাই আম্মার
সহকারী অধ্যাপক, আরবি ভাষা অনুষদ
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারাহ
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ইমাম ও নবীগণের সিলমোহর আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর।
অতঃপর:
কুরআনের ভাষা এবং সুন্নাহর বাণীর সেবায় পাণ্ডুলিপিসমূহ সম্পাদন করা, সেগুলোর ওপর জমে থাকা ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলা এবং সেগুলোকে সংরক্ষণাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে বের করে আনার যে সুমহান মর্যাদা ও বিশাল উপকারিতা রয়েছে, তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
ইবন মালিক ছিলেন সেই সকল অনন্য আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আরবি জ্ঞানভাণ্ডারকে তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ফলপ্রসূ রচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কিছু রচনা সম্পাদিত ও প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু অনেকগুলো এখনও পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়ে গেছে, যা উপযুক্ত সেবার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ফলপ্রসূ ঐতিহ্যের সেবায় শরিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় আমি শব্দমূলতত্ত্ব বিষয়ে ইবন মালিকের একটি মাসআলা সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছি। যেহেতু সম্পাদিত মাসআলাটি সংক্ষিপ্ত এবং শব্দমূলতত্ত্বের একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ, তাই আমি এর জন্য একটি ভূমিকা প্রস্তুত করেছি যাতে শব্দমূলতত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যাতে এই মাসআলাটির পাঠক শব্দমূলতত্ত্বের বিষয়টি স্মরণে রাখতে পারেন এবং এর বিষয়বস্তু ও মর্মার্থ অনুধাবন করা তাঁর জন্য সহজ হয়। আমি আমার কাজে নিম্নোক্ত কর্মপন্থা অনুসরণ করেছি:
প্রথমত: প্রারম্ভিকা।
দ্বিতীয়ত: ভূমিকা, যেখানে আমি সাতটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছি, সেগুলো হলো:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শব্দমূলতত্ত্বের উপকারিতা ও এর প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব বর্ণনায়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দমূলতত্ত্ব বিষয়ে আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনায়।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দমূলতত্ত্বের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
الْمطلب الرَّابِع: فِي الْخلاف فِي وُقُوع الِاشْتِقَاق والآراء فِي أصل المشتقات.
الْمطلب الْخَامِس: فِي بَيَان أَرْكَان الِاشْتِقَاق والأنواع الَّتِي لَا يدخلهَا.
الْمطلب السَّادِس: فِي المرجحات الَّتِي يُؤْخَذ بهَا عِنْد تردد الْكَلِمَة بَين أصلين.
الْمطلب السَّابِع: فِي التغييرات الَّتِي تحصل بَين الأَصْل الْمُشْتَقّ مِنْهُ وَالْفرع الْمُشْتَقّ.
ثَالِثا: الدراسة وَهِي قِسْمَانِ:
أ - دارسة المؤلِّف وَقد اختصرت الحَدِيث عَنهُ لشهرته وَقصرت كَلَامي عَنهُ فِي: نسبه: اسْم وكنيته ولقبه ونسبته، وتاريخ ميلاده ووفاته، وَذكرت عدد مصنفاته إِجْمَالا.
ب - دراسة الْمَسْأَلَة وَقد تَضَمَّنت: تَوْثِيق نسبتها، وَسبب وَضعهَا وَبَيَان أهميتها، وأتبعت ذَلِك بِوَصْف المخطوط.
رَابِعا: تَحْقِيق نَص الْمَسْأَلَة:
وَقد قُمْت فِيهِ بكتابتها وفْق الْقَوَاعِد الإملائية، وشرحت وَجه التَّمْثِيل من الْأَمْثِلَة وفسرت الْكَلِمَات الغريبة مَعَ تَوْثِيق ذَلِك كُله من مراجعه.
خَامِسًا: الفهرس:
هَذَا وَإِنِّي لِأَحْمَد الله الْعلي الْقَدِير على أَن مكنني من إنجاز هَذَا الْعَمَل الَّذِي مَا قصدت مِنْهُ إِلَّا وَجه الله ثمَّ خدمَة اللُّغَة الْعَرَبيَّة، فَإِن أكن قد وفقت فِيهِ فَذَلِك من فضل الله وجوده، وَإِن كَانَت الْأُخْرَى فحسبي أنني بذلت جهدي وَمَا بخلت بطاقتي، والتوفيق من الله. نَسْأَلهُ تَعَالَى أَن يوفقنا إِلَى مَا يُحِبهُ ويرضاه، وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله وَسلم على مُحَمَّد وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক) সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ এবং শব্দমূলের উৎস সম্পর্কিত মতামতসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ব্যুৎপত্তির রুকনসমূহ এবং যেসব বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত নয় তার বর্ণনা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যখন কোনো শব্দ দুটি মূলের মধ্যে দোদুল্যমান থাকে, তখন যেসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: যে মূল উৎস থেকে শব্দটি নির্গত হয়েছে এবং যা নির্গত হয়েছে (শাখা), তাদের মধ্যে সাধিত পরিবর্তনসমূহ।
তৃতীয়ত: পর্যালোচনা, যা দুই প্রকার:
ক - লেখকের পরিচিতি: তাঁর প্রসিদ্ধির কারণে আমি তাঁর সম্পর্কে আলোচনা সংক্ষেপ করেছি এবং আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রেখেছি তাঁর বংশপরিচয়: নাম, উপনাম, উপাধি ও নিসবাত, জন্ম ও মৃত্যু তারিখ এবং তাঁর রচনাবলির মোট সংখ্যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনায়।
খ - বিষয়বস্তুর পর্যালোচনা: এতে রয়েছে এর নিসবাত বা সূত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق), এটি রচনার কারণ ও গুরুত্ব বর্ণনা এবং এর সাথে পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।
চতুর্থত: মূল পাঠের তাহকিক (সম্পাদনা):
এতে আমি বানানরীতি অনুযায়ী পাঠটি লিপিবদ্ধ করেছি, উদাহরণগুলোর প্রয়োগপদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছি এবং মূল রেফারেন্সের ভিত্তিতে সকল তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) সহকারে দুর্লভ শব্দাবলির অর্থ বিশ্লেষণ করেছি।
পঞ্চমত: সূচিপত্র:
পরিশেষে, আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে এই কাজ সম্পন্ন করার সামর্থ্য দিয়েছেন; যার মাধ্যমে আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আরবি ভাষার সেবার সংকল্প করেছি। আমি যদি সফল হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও মহত্ত্ব। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং সামর্থ্যে কোনো কার্পণ্য করিনি; আর তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই কাজ করার তাওফিক দেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
تمهيد
الْمطلب الأول فِي بَيَان فَائِدَة الِاشْتِقَاق وَقُوَّة الْحَاجة إِلَيْهِإنّ المتأمل فِي اللُّغَة الْعَرَبيَّة وَمَا يحصل فِي بعض كلماتها من تفريعات، وَمَا يتولّد مِنْهَا من أَلْفَاظ مُخْتَلفَة المبنى مُتَقَارِبَة الْمَعْنى ليدرك بوضوح قيمَة الِاشْتِقَاق، الَّذِي يُعَدُّ من أبرز الخصائص الَّتِي مَهَّدت للغة الضَّاد سُبُل التَّوَسُّع، ومكنتها من الْقُدْرَة على مواكبة التطور الحضاري، والتفاعل مَعَ وَاقع البيئة والمجتمع، فَهِيَ بواسطته تتجدد مَعَ كل طور من أطوار الْحَيَاة، مُزَوِّدَةً الْمُتَكَلّم بهَا بِكُل متطلبات عصره من الْأَلْفَاظ، والتراكيب الَّتِي تمكنه من التَّعْبِير عَن كل مَا يطْرَأ فِي حَيَاته السياسية، والاجتماعية، والفكرية، والاقتصادية، مَعَ الْحفاظ على الْأُصُول الأولى لتِلْك الْأَلْفَاظ وبسبب الِاشْتِقَاق ظلّ آخر هَذِه اللُّغَة يتَّصل بأولها فِي نَسِيج متقن، من غير أَن تذْهب معالمها، أَو يَنْبَهم مَا خَلَّفَه السّلف من تُراث على الأجيال بعدهمْ، فالاشتقاق يُسَهِّل إِيجَاد صِيغ جَدِيدَة من الجذور الْقَدِيمَة، بِحَسب مَا يحْتَاج إِلَيْهِ الْإِنْسَان، فَعَن طَرِيقه يَسْتَطِيع الْعَرَبِيّ استبدال المصطلحات الْأَجْنَبِيَّة بِكَلِمَات عَرَبِيَّة فصيحة هِيَ أحسن تعبيراً وأدق دلَالَة على مفهومها، وَذَلِكَ باستمدادها من الْأُصُول الْمُنَاسبَة المتمتعة بسمات الرسوخ والحيوية الدائمة1، وَقد اشتدت الْحَاجة إِلَى الِاشْتِقَاق فِي عصرنا الْحَاضِرَة عصر التقنيات والمخترعات الَّتِي نحتاج إِلَى تعريبها، وسبيلنا إِلَى ذَلِك هُوَ الِاشْتِقَاق.
وَقد كَانَ لمجمعي اللُّغَة الْعَرَبيَّة فِي الْقَاهِرَة ودمشق دور بارز فِي اشتقاق الْأَسْمَاء الْمُنَاسبَة لكثير من تِلْكَ المخترعات.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দমূলতত্ত্বের (الاشتقاق) উপকারিতা এবং এর প্রয়োজনীয়তার বিবরণনিশ্চয়ই আরবি ভাষার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাতকারী এবং এর শব্দসমূহ থেকে নির্গত বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এবং তা থেকে উদ্ভূত ভিন্ন ভিন্ন গঠন অথচ নিকটবর্তী অর্থবোধক শব্দাবলি পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তি স্পষ্টভাবে শব্দমূলতত্ত্বের (الاشتقاق) গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন। এটি সেই অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য যা আরবি ভাষার প্রসারের পথ প্রশস্ত করেছে এবং একে সভ্যতার বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার এবং পরিবেশ ও সমাজের বাস্তবতার সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সক্ষমতা দান করেছে। এর মাধ্যমেই ভাষা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নতুনত্ব লাভ করে এবং সমকালীন যাবতীয় চাহিদা অনুযায়ী কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় শব্দ ও বাক্য সরবরাহ করে, যা একজন মানুষকে তার রাজনৈতিক, সামাজিক, তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক জীবনে উদ্ভূত সকল বিষয় প্রকাশ করতে সক্ষম করে তোলে; অথচ শব্দসমূহের আদি মূলসমূহ (الأصول) অক্ষুণ্ণ থাকে। এই শব্দমূলতত্ত্বের (الاشتقاق) কারণেই আরবি ভাষার পরবর্তী রূপ এর আদি রূপের সাথে এক নিপুণ বুননে আবদ্ধ থাকে, যার ফলে এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলীন হয় না এবং পূর্বসূরিগণ যে ঐতিহ্য রেখে গেছেন তা উত্তরসূরিদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায় না। শব্দমূলতত্ত্ব (الاشتقাক) মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাচীন শব্দমূল (الجذور) থেকে নতুন শব্দরূপ তৈরি করা সহজ করে দেয়। এর মাধ্যমে একজন আরবি ভাষাভাষী ব্যক্তি বিদেশি পরিভাষার পরিবর্তে শুদ্ধ আরবি শব্দ ব্যবহার করতে পারেন, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অর্থ ও মর্ম অধিকতর নিপুণভাবে প্রকাশ করে। এটি করা হয় এমন সব উপযুক্ত মূল (الأصول) থেকে শব্দ আহরণের মাধ্যমে যেগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং প্রাণবন্ত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। বর্তমান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যুগে আরবি পরিভাষা তৈরির ক্ষেত্রে শব্দমূলতত্ত্বের (الاشتقاق) প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং আমাদের এই লক্ষ্যের পথ হলো শব্দমূলতত্ত্ব (الاشتقاق)।
কায়রো ও দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমিগুলো অনেক আধুনিক উদ্ভাবনের জন্য উপযুক্ত শব্দ চয়নের (اشتقاق) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
الْمطلب الثَّانِي جهود الْعلمَاء فِي الِاشْتِقَاقلقد فطن الْعلمَاء مُنْذُ الْقدَم لفائدة الِاشْتِقَاق وأهميته واتضح لَهُم دوره البارز فِي إثراء اللُّغَة الْعَرَبيَّة بِمَا ينْتج عَنهُ من توليد للألفاظ والصيغ وربط بَين الْكَلِمَات ذَات الْحُرُوف المتجانسة والمعاني المتقاربة.
فَلذَلِك أولوه عناية فائقة، وَقَامُوا بدرسه وسطرت أقلامهم فِيهِ تراثاً عَظِيما وصلنا بعضه وسطت غير الزَّمَان على بعضه، فقد ذكر المؤرخون جمعا غفيراً من الْمُتَقَدِّمين الَّذين كَانَت لَهُم جهود جبارَة فِي هَذَا الميدان، فَمنهمْ من أفرد لَهُ مؤلفات، وَمِنْهُم من جعل لَهُ فصولاً ضمن كتبهمْ.
وَقد ربط المحدثون الحاضرَ بالماضي فِي هَذَا المجال، فَقَامُوا هم أَيْضا ببحثه وتمحيصه، وأودعوا مرئياتهم فِيهِ كتبا مُسْتَقلَّة، وأبحاثاً ضمن مؤلفاتهم.
وَقد قَامَ الدكتور عبد السَّلَام هَارُون فِي تَقْدِيمه لكتاب الِاشْتِقَاق لِابْنِ دُرَيْد بحصر شَامِل لِجُلِّ مؤلفات الِاشْتِقَاق مَعَ ذكر أَسمَاء مؤلفيها من الْمُتَقَدِّمين والمحدثين، وَنقل عَنهُ ذَلِك الْحصْر نَذِير مُحَمَّد مكتبي فِي مقدمته لتحقيق الْعلم الخفاق من علم الِاشْتِقَاق، وَزَاد عَلَيْهِ بعض المؤلفات الَّتِي توصل إِلَيْهَا من خلال بَحثه فِي هَذَا المجال، وَكَذَلِكَ قَامَ بحصر أَكثر تِلْكَ المؤلفات الدكتور رَمَضَان عبد التواب فِي مقدمته لتحقيق اشتقاق الْأَسْمَاء للأصمعي.
وَفِيمَا يَلِي ثَبت بأسماء أَصْحَاب تِلْكَ المؤلفات كَمَا ذكرهَا أُولَئِكَ الْمُحَقِّقُونَ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) নির্ণয়ে আলেমদের প্রচেষ্টাবিদ্বানগণ প্রাচীনকাল থেকেই শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তির (الاشتقاق) উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। আরবি ভাষাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এর অনবদ্য ভূমিকা তাঁদের কাছে স্পষ্ট ছিল; যা শব্দ ও রূপমূল তৈরির মাধ্যমে এবং সমজাতীয় বর্ণ ও কাছাকাছি অর্থবোধক শব্দগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সাধিত হয়।
এ কারণে তাঁরা এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এটি গবেষণায় ব্রতী হয়েছেন। তাঁদের কলম এ বিষয়ে এক মহান ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ করেছে, যার কিছু অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং কিছু অংশ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। ঐতিহাসিকগণ পূর্ববর্তী (المتقدمون) এক বিশাল দল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, এই ক্ষেত্রে যাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ছিল। তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁদের কিতাবসমূহে এর জন্য আলাদা অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন।
আধুনিক (المحدثون) গবেষকগণ এই ক্ষেত্রে বর্তমানের সাথে অতীতের সংযোগ স্থাপন করেছেন। তাঁরাও এটি নিয়ে গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো স্বতন্ত্র কিতাব আকারে অথবা তাঁদের বিভিন্ন রচনার অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
ডক্টর আবদুস সালাম হারুন ইবনে দুরিদ রচিত আল-ইশতিকাক কিতাবের ভূমিকায় পূর্ববর্তী (المتقدمون) ও আধুনিক (المحدثون) লেখকদের নামসহ শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) বিষয়ক অধিকাংশ রচনার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেশ করেছেন। নাজির মুহাম্মদ মাকতাবি তাঁর আল-ইলমুল খাফফাক মিন ইলমিল ইশতিকাক নামক কিতাবের তাহকিকের (تحقيق) ভূমিকায় তাঁর থেকে সেই তালিকাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত আরও কিছু রচনার নাম তাতে যুক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে, ডক্টর রমজান আবদুত তাওয়াব আসমাঈ রচিত ইশতিকাকুল আসমা কিতাবের তাহকিকের (تحقيق) ভূমিকায় এই জাতীয় অধিকাংশ রচনার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন।
নিচে সেই সকল গ্রন্থকারের নামের একটি তালিকা প্রদান করা হলো যেমনটি উক্ত গবেষকগণ (المحققون) উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
مُضَاف إِلَيْهَا مَا وقفت عَلَيْهِ من المؤلفات الَّتِي فَاتَتْهُمْ فَلم ترد فِي كتبهمْ.
1 - أَبُو عَليّ مُحَمَّد بن المستنير "قطرب" الْمُتَوفَّى سنة 206هـ، لَهُ كتاب (الِاشْتِقَاق) 1.
2 - أَبُو سعيد عبد الْملك بن قريب الْأَصْمَعِي الْمُتَوفَّى سنة 215هـ، لَهُ (اشتقاق الْأَسْمَاء) 2.
3 - أَبُو الْحسن سعيد بن مسْعدَة الْأَخْفَش الْأَوْسَط الْمُتَوفَّى سنة 215هـ لَهُ: (الِاشْتِقَاق) 3.
4 - أَبُو نصر أَحْمد بن حَاتِم الْبَاهِلِيّ ابْن أُخْت الْأَصْمَعِي الْمُتَوفَّى سنة 231هـ لَهُ: (اشتقاق الْأَسْمَاء) 4.
5 - أَبُو الْوَلِيد عبد الْملك بن قطن الْمهرِي القيرواني الْمُتَوفَّى سنة 253هـ، لَهُ (اشتقاق الْأَسْمَاء مِمَّا لم يَأْتِ بِهِ قطرب) 5.
6 - أَبُو الْفضل أَحْمد بن طَاهِر طيفور الْمُتَوفَّى سنة 280هـ. لَهُ (الْمُشْتَقّ) 6.
7 – أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يزِيد الْمبرد الْمُتَوفَّى سنة 285هـ، لَهُ (الِاشْتِقَاق) 7.
--------------------------------------------
এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে সেই সকল গ্রন্থাবলি যা আমি খুঁজে পেয়েছি এবং যা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি, ফলে তাদের কিতাবসমূহে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
১ - আবু আলী মুহাম্মদ বিন আল-মুসতানীর "কুতরুব", মৃত্যু ২০৬ হিজরি, তাঁর গ্রন্থ (আল-ইশতিকাক) ১।
২ - আবু সাঈদ আব্দুল মালিক বিন কুরাইব আল-আসমায়ী, মৃত্যু ২১৫ হিজরি, তাঁর (ইশতিকাক আল-আসমা) ২।
৩ - আবুল হাসান সাঈদ বিন মাসআদাহ আল-আখফাশ আল-আওসাত, মৃত্যু ২১৫ হিজরি, তাঁর রচিত: (আল-ইশতিকাক) ৩।
৪ - আবু নাসর আহমাদ বিন হাতিম আল-বাহিলি, আসমায়ীর ভাগ্নে, মৃত্যু ২৩১ হিজরি, তাঁর রচিত: (ইশতিকাক আল-আসমা) ৪।
৫ - আবুল ওয়ালিদ আব্দুল মালিক বিন কুতন আল-মাহরি আল-কায়রাওয়ানি, মৃত্যু ২৫৩ হিজরি, তাঁর রচিত (ইশতিকাক আল-আসমা মিম্মা লাম ইয়া'তি বিহি কুতরুব) ৫।
৬ - আবুল ফাদল আহমাদ বিন তাহির তাইফুর, মৃত্যু ২৮০ হিজরি। তাঁর রচিত (আল-মুশতাক) ৬।
৭ – আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-মুবাররাদ, মৃত্যু ২৮৫ হিজরি, তাঁর রচিত (আল-ইশতিকাক) ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
8 - أَبُو طَالب الْمفضل بن سَلمَة بن عَاصِم الْمُتَوفَّى سنة 300هـ، لَهُ (الِاشْتِقَاق) 1.
9 - أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن السّري الزّجاج الْمُتَوفَّى سنة 311هـ لَهُ (الِاشْتِقَاق) 2.
10 - أَبُو بكر مُحَمَّد بن سهل ابْن السراج الْمُتَوفَّى سنة 316هـ لَهُ (الِاشْتِقَاق) وَلم يتمه3.
11 - أَبُو بكر مُحَمَّد بن دُرَيْد الْمُتَوفَّى سنة 321هـ، لَهُ (الِاشْتِقَاق) 4.
12 -أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن إِسْحَاق الزجاجي الْمُتَوفَّى سنة 337هـ لَهُ (اشتقاق أَسمَاء الله وَصِفَاته) 5.
13 - أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الْمرَادِي ابْن النّحاس الْمُتَوفَّى سنة 338هـ لَهُ كِتَابَانِ:
أ - كتاب الِاشْتِقَاق لأسماء الله عزوجل.
ب - كتاب الِاشْتِقَاق6.
--------------------------------------------
8 - আবু তালিব আল-মুফাদ্দাল ইবনে সালামাহ ইবনে আসিম (মৃত্যু ৩০০ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ হলো (আল-ইশতিকাক) ১।
9 - আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল সাররি আল-জাজ্জাজ (মৃত্যু ৩১১ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ হলো (আল-ইশতিকাক) ২।
10 - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনুস সাররাজ (মৃত্যু ৩১৬ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ হলো (আল-ইশতিকাক), তবে তিনি তা সম্পন্ন করতে পারেননি ৩।
11 - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দুরিদ (মৃত্যু ৩২১ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ হলো (আল-ইশতিকাক) ৪।
12 - আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-জাজ্জাজি (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ হলো (ইশতিকাক আসমাইল্লাহ ওয়া সিফাতিহি) ৫।
13 - আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-মুরাদি ইবনুন নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি), তাঁর দুটি গ্রন্থ রয়েছে:
ক - কিতাবুল ইশতিকাক লি-আসমাইল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা (আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালীর নামসমূহের ব্যুৎপত্তি বিষয়ক গ্রন্থ)।
খ - কিতাবুল ইশতিকাক ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
14 - أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن جَعْفَر بن درسْتوَيْه الْمُتَوفَّى سنة 347هـ. لَهُ كِتَابَانِ:
أ- الِاشْتِقَاق الصَّغِير.
ب- الِاشْتِقَاق الْكَبِير1.
15 - أَبُو عبد الله الْحُسَيْن بن أَحْمد بن خالويه الْمُتَوفَّى سنة 370هـ، لَهُ كتاب (الِاشْتِقَاق) 2.
16 - أَبُو الْحسن عَليّ بن عِيسَى الرماني الْمُتَوفَّى 374هـ لَهُ كِتَابَانِ:
أ- الِاشْتِقَاق الصَّغِير.
ب - الِاشْتِقَاق الْكَبِير3.
17 - أَبُو الْقَاسِم يُوسُف بن عبد الله الزجاجي الْمُتَوفَّى سنة 415هـ، لَهُ: اشتقاق الْأَسْمَاء، أَو اشتقاق أَسمَاء الرياحين4.
18 - أَبُو عبيد الْبكْرِيّ عبد الله بن عبد الْعَزِيز الأندلسي الْمُتَوفَّى سنة 487هـ لَهُ (اشتقاق الْأَسْمَاء) 5.
19 - حجَّة الأفاضل عَليّ بن مُحَمَّد الْخَوَارِزْمِيّ الْمُتَوفَّى سنة 560هـ، لَهُ كتاب (اشتقاق أَسمَاء الْمَوَاضِع والبلدان) 6.
--------------------------------------------
১৪ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দারাস্তাওয়াইহ, মৃত্যু ৩৪৭ হিজরি। তাঁর দুটি গ্রন্থ রয়েছে:
ক- আল-ইশতিকাক আস-সাগির।
খ- আল-ইশতিকাক আল-কাবির১।
১৫ - আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে খালওয়াইহ, মৃত্যু ৩৭০ হিজরি। তাঁর 'আল-ইশতিকাক' ২ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
১৬ - আবু আল-হাসান আলী ইবনে ঈসা আর-রুম্মানি, মৃত্যু ৩৭৪ হিজরি। তাঁর দুটি গ্রন্থ রয়েছে:
ক- আল-ইশতিকাক আস-সাগির।
খ - আল-ইশতিকাক আল-কাবির৩।
১৭ - আবু আল-কাসিম ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জাজ্জাজি, মৃত্যু ৪১৫ হিজরি। তাঁর রচিত: ইশতিকাক আল-আসমা অথবা ইশতিকাক আসমা আর-রাইয়াহিন৪।
১৮ - আবু উবাইদ আল-বাকরি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-আন্দালুসি, মৃত্যু ৪৮৭ হিজরি। তাঁর ‘ইশতিকাক আল-আসমা’ ৫ গ্রন্থটি রয়েছে।
১৯ - হুজ্জাতুল আফাদিল আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি, মৃত্যু ৫৬০ হিজরি। তাঁর ‘ইশতিকাক আসমা আল-মাওয়াদিউ ওয়াল বুলদান’ ৬ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
20 - أَبُو بكر مُحَمَّد بن وَائِل الْبكْرِيّ الأندلسي الْمُتَوفَّى سنة 685هـ، لَهُ كتاب (الِاشْتِقَاق) 1.
21 - عَليّ بن عبد الْكَافِي السُّبْكِيّ الْمُتَوفَّى سنة 756هـ، لَهُ أرجوزة سَمَّاهَا: لمْعَة الْإِشْرَاق فِي أَمْثِلَة الِاشْتِقَاق2.
22 - الإِمَام مُحَمَّد بن عَليّ الشوكاي الْمُتَوفَّى سنة 1250هـ، لَهُ (نزهة الأحداق فِي علم الِاشْتِقَاق) 3.
وَمِمَّا يَنْبَغِي أَن يُضَاف إِلَى كتب الِاشْتِقَاق.
23 - كتاب (مقاييس اللُّغَة لِأَحْمَد بن الْحُسَيْن ابْن فَارس الْمُتَوفَّى سنة 395هـ4. فَإِنَّهُ تنَاول مواده اللُّغَوِيَّة فِي ضوء الِاشْتِقَاق.
24 - وَمثل ذَلِك مُعْجم الْبلدَانِ لياقوت الْحَمَوِيّ الْمُتَوفَّى سنة 626 فقد جرى فِيهِ على بَيَان اشتقاق أَسمَاء الْبلدَانِ5.
25 - السَّيِّد الإِمَام أَبُو الطّيب مُحَمَّد بن صديق خَان الْحُسَيْنِي الْمُتَوفَّى سنة 1307هـ، لَهُ: الْعلم الخفاق من علم الِاشْتِقَاق6.
26 - الْعَلامَة عبد الْقَادِر المغربي الْمُتَوفَّى سنة 1376هـ لَهُ: الِاشْتِقَاق والتعريب7.
--------------------------------------------
20 - আবু বকর মুহাম্মদ বিন ওয়াইল আল-বকরি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি), তাঁর ‘আল-ইশতিকাক’ নামক একটি গ্রন্থ ১ রয়েছে।
21 - আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি), তাঁর একটি অর্জুজা (أرجوزة) [ছন্দোবদ্ধ কাব্য] রয়েছে যার নাম: ‘লুমআতুল ইশরাক ফি আমসিলাতিল ইশতিকাক’ ২।
22 - ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ ‘নুজহাতুল আহদাক ফি ইলমিল ইশতিকাক’ ৩।
শব্দ-ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের তালিকায় যা যোগ করা সমীচীন:
23 - আহমদ বিন আল-হুসাইন ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) রচিত ‘মাকায়িসুল লুগাহ’ ৪ গ্রন্থটি। কেননা তিনি এতে ভাষাগত বিষয়সমূহ শব্দ-ব্যুৎপত্তির (الاشتقاق) আলোকে আলোচনা করেছেন।
24 - অনুরূপভাবে ইয়াকুত আল-হামাউয়ি (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি) রচিত ‘মুজামুল বুলদান’, এতে তিনি বিভিন্ন স্থানের নামের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) বর্ণনার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন ৫।
25 - সাইয়্যিদ ইমাম আবু তইয়্যিব মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক খান আল-হুসাইনি (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ: ‘আল-আলামুল খাফফাক মিন ইলমিল ইশতিকাক’ ৬।
26 - আল্লামা আব্দুল কাদির আল-মাগরিবি (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ: ‘শব্দ-ব্যুৎপত্তি ও আরবীকরণ (الاشتقاق والتعريب)’ ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৩)
27 - الْأُسْتَاذ عبد الله أَمِين لَهُ: كتاب الِاشْتِقَاق1.
28 - الدكتور فؤاد حنا ترز لَهُ (الِاشْتِقَاق) 2.
29 - الدكتور عبد الحميد أَبُو سكين لَهُ: (الِاشْتِقَاق وأثره فِي النمو اللّغَوِيّ) 3.
وَلم تهمل كتب فقه اللُّغَة والدراسات اللُّغَوِيَّة والصرفية جَانب الِاشْتِقَاق، بل إِنَّهَا قد تطرقت إِلَيْهِ وتناولته من جَمِيع النواحي، وَمن أَمْثِلَة ذَلِك الخصائص لِابْنِ جني، والصاحبي لِابْنِ فَارس، والمزهر للسيوطي من الْكتب الْقَدِيمَة، وَمن الحديثة تصريف الْأَسْمَاء لمُحَمد الطنطاوي، ودروس الصّرْف لمُحَمد مُحي الدّين عبد الحميد، ودقائق الْعَرَبيَّة للأمير أَمِين آل نَاصِر، وَفِي أصُول النَّحْو لسَعِيد الأفغاني، والمدخل إِلَى علم النَّحْو وَالصرْف للدكتو عبد الْعَزِيز عَتيق، ودراسات فِي فقه اللُّغَة للدكتور صبحي الصَّالح، كَمَا تنَاوله الدكتور عبد السَّلَام هَارُون فِي تَقْدِيمه لكتاب الِاشْتِقَاق لِابْنِ دُرَيْد.
وَمن الْعلمَاء من أفرد كلا من الْقلب والإبدال والنحت بالتأليف دون أَن يذكر أَنَّهَا من أَنْوَاع الِاشْتِقَاق مَعَ أَنَّهَا من صميمه وَمن أَمْثِلَة ذَلِك:
1 - أَبُو يُوسُف يَعْقُوب بن إِسْحَاق ابْن السّكيت الْمُتَوفَّى سنة 244 لَهُ كتاب الْقلب وَله كتاب الْإِبْدَال4.
2 - عبد الْوَاحِد بن عَليّ أَبُو الطّيب اللّغَوِيّ الْمُتَوفَّى بعد سنة 350هـ لَهُ كتاب الْإِبْدَال5.
--------------------------------------------
২৭ - অধ্যাপক আবদুল্লাহ আমিন, তাঁর রচিত: কিতাবুল ইশতিকাক।
২৮ - ডক্টর ফুয়াদ হান্না তারজ, তাঁর রচিত: (আল-ইশতিকাক)।
২৯ - ডক্টর আবদুল হামিদ আবু সাককিন, তাঁর রচিত: (ব্যুৎপত্তি এবং ভাষাগত প্রবৃদ্ধিতে এর প্রভাব) (الاشتقاق وأثره في النمو اللغوي)।
ভাষাতত্ত্ব (ফিকহুল লুগাহ), ভাষাবৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং রূপতত্ত্ব (সরফ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق)-র দিকটিকে উপেক্ষা করেনি; বরং এগুলো বিষয়টিকে স্পর্শ করেছে এবং এর সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রাচীন গ্রন্থসমূহের মধ্য থেকে ইবনে জিন্নি-র 'আল-খাসায়িস', ইবনে ফারিস-র 'আস-সাহিবী' এবং সুয়ুতী-র 'আল-মুজহির' এর উদাহরণ। আধুনিক গ্রন্থসমূহের মধ্যে মোহাম্মদ আল-তান্তাউয়ি-র 'তাসরিফুল আসমা', মোহাম্মদ মুহিউদ্দিন আবদুল হামিদ-র 'দুরুসুস সরফ', আমির আমিন আল নাসের-র 'দাকায়িকুল আরাবিয়্যাহ', সাঈদ আল-আফগানি-র 'ফী উসুলিন নাহু' (ব্যুৎপত্তি এবং ভাষাগত প্রবৃদ্ধিতে এর প্রভাব) (أصول النحو), ডক্টর আবদুল আজিজ আতিক-র 'আল-মাদখাল ইলা ইলমিন নাহু ওয়াস সরফ' এবং ডক্টর সুবহি আল-সালেহ-র 'দিরাসাত ফী ফিকহিল লুগাহ' উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ডক্টর আবদুস সালাম হারুন ইবনে দুরাইদ-র 'কিতাবুল ইশতিকাক' গ্রন্থের ভূমিকায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ বর্ণবিপর্যয় (القلب), বর্ণবিনিময় (الإبدال) এবং শব্দসংক্ষেপণ (النحت) বিষয়ে পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এগুলো ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق)-র প্রকারভেদ হিসেবে উল্লেখ না করলেও এগুলো মূলত এর মূল নির্যাস। এর উদাহরণ হলো:
১ - আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইসহাক ইবনে সাককিত, মৃত্যু ২৪৪ হি., তাঁর রচিত 'কিতাবুল কালব' এবং 'কিতাবুল ইবদাল'।
২ - আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী আবু তাইয়িব আল-লুগাউয়ি, মৃত্যু ৩৫০ হিজরির পর, তাঁর রচিত 'কিতাবুল ইবদাল'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
3 - أَبُو عَليّ الظهير الْفَارِسِي الْعمانِي لَهُ كتاب فِي النحت سَمَّاهُ (تَنْبِيه البارعين على المنحوت من كَلَام الْعَرَب) 1.
4 - جمال الدّين مُحَمَّد بن عبد الله بن مَالك لَهُ: الْوِفَاق فِي الْإِبْدَال2.
5 - أَحْمد فَارس الشدياق لَهُ: سر الليال فِي الْقلب والإبدال3.
وَمن الْكتب الَّتِي اشْتَمَلت على مبَاحث من الْأَنْوَاع الثَّلَاثَة جمهرة ابْن دُرَيْد والمزهر للسيوطي.
--------------------------------------------
৩ - আবু আলী আজ-জাহির আল-ফারিসি আল-উমানি। শব্দসংক্ষেপন (النحت) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার নাম দিয়েছেন 'তানবিহুল বারি'ইন আলাল মানহুত মিন কালামিল আরব' ১।
৪ - জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক। তাঁর রচিত: 'আল-বিফাক ফিল ইবদাল' ২।
৫ - আহমদ ফারিস আশ-শিদইয়াক। তাঁর রচিত: 'সিররুল লায়াল ফিল কালবি ওয়াল ইবদাল' ৩।
আর সেই সকল গ্রন্থাবলির মধ্যে যা এই তিন প্রকারের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলো হলো ইবনে দুরাইদের 'জামহারা' এবং সুয়ুতির 'আল-মুযহির'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
الْمطلب الثَّالِث: تَعْرِيف الِاشْتِقَاق وَبَيَان أَنْوَاعهأَولا: تَعْرِيفه:
فِي اللُّغَة: يُطلق على معَان مِنْهَا: أَخذ الشَّيْء من الشَّيْء، وَمِنْهَا الْأَخْذ فِي الْكَلَام وَالْخُصُومَة يَمِينا وَشمَالًا مَعَ ترك الْقَصْد، واشتقاق الْحَرْف من الْحَرْف أَخذه مِنْهُ، وَكَذَلِكَ أَخذ الْكَلِمَة من الْكَلِمَة، واشتقاق الْكَلَام إِخْرَاجه أحسن مخرج1
وَقد ورد بِمَعْنى أَخذ شَيْء من شَيْء فِي حَدِيث قدسي وَهُوَ قَوْله عَلَيْهِ الصَّلَاة
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق)-এর সংজ্ঞা ও এর প্রকারসমূহের বর্ণনাপ্রথমত: এর সংজ্ঞা:
অভিধানে: এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: এক বস্তু থেকে অন্য বস্তু গ্রহণ করা। এর অন্য অর্থ হলো কথা ও বিবাদের সময় মূল লক্ষ্য পরিহার করে ডানে ও বামে বিচরণ করা। একটি বর্ণ থেকে অন্য বর্ণের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) হলো তা থেকে সেটি গ্রহণ করা, অনুরূপভাবে এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ গ্রহণ করা। আর বাক্যের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق الكلام) হলো তাকে সর্বোত্তম আঙ্গিকে উপস্থাপন করা।১
এক বস্তু থেকে অন্য বস্তু গ্রহণ করার অর্থে এটি একটি হাদিসে কুদসি (حديث قدسي)-তে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাণী—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৫)
وَالسَّلَام فِيمَا يرويهِ عَن ربه عزوجل: أَنا الرَّحْمَن خلقت الرَّحِم وشققت لَهَا من اسْمِي1.
وَفِي الِاصْطِلَاح: أَخذ كلمة من أُخْرَى مَعَ تناسب بَينهمَا فِي الْمَعْنى وَاخْتِلَاف فِي الصِّيغَة2.
ثَانِيًا: أَنْوَاعه:
حصر الْعلمَاء الِاشْتِقَاق فِي أَرْبَعَة أَنْوَاع وَهِي:
الأول: الصَّغِير أَو الْأَصْغَر.
ويُعَرَّف بِأَنَّهُ: أَخذ صِيغَة من أُخْرَى مَعَ اتِّفَاقهمَا معنى ومادة أَصْلِيَّة وهيئة تركيب لَهَا؛ ليدل بِالثَّانِيَةِ على معنى الْأَصْلِيَّة بِزِيَادَة مفيدة؛ لأَجلهَا اخْتلفَا حروفا وتركيبا كضارب من الضَّرْب، وحَذِر من الحذَرِ3.
وَهَذَا النَّوْع هُوَ أَكثر أَنْوَاع الِاشْتِقَاق وروداً وَهُوَ المُرَاد عِنْد إِطْلَاق الِاشْتِقَاق.
وأفراده عشرَة هِيَ:
--------------------------------------------
এবং তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তিনি তাঁর মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক থেকে যা বর্ণনা করেন: "আমিই রহমান, আমি 'রাহিম' (রক্তীয় সম্পর্ক) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এর জন্য একটি নাম বুৎপন্ন করেছি"১।
এবং পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاح): অর্থগত মিল থাকা এবং শব্দরূপে (صيغة) ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ গ্রহণ করাকে বুৎপত্তি (اشتقاق) বলা হয়২।
দ্বিতীয়ত: এর প্রকারভেদ:
বিদ্বানগণ বুৎপত্তিকে (اشتقاق) চারটি প্রকারে সীমাবদ্ধ করেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথম: ক্ষুদ্র (صغير) বা ক্ষুদ্রতর (أصغر)।
এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: অর্থ, মূল উপাদানের মৌলিক বর্ণ (مادة أصلية) এবং গঠনগত বিন্যাসে মিল রেখে এক শব্দরূপ থেকে অন্য শব্দরূপ গ্রহণ করা; যাতে দ্বিতীয় শব্দটির মাধ্যমে একটি অর্থপূর্ণ বৃদ্ধির সাথে মূল অর্থকে নির্দেশ করা যায়; যার কারণে শব্দ দুটি অক্ষর এবং বিন্যাসে ভিন্ন হয়, যেমন: 'দারিব' শব্দটি 'দারব' থেকে এবং 'হাযির' শব্দটি 'হাযার' থেকে গৃহীত৩।
বুৎপত্তির (اشتقاق) প্রকারসমূহের মধ্যে এই প্রকারটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণভাবে 'বুৎপত্তি' (اشتقاق) বলতে এটিই উদ্দেশ্য।
এর শাখা বা রূপগুলো দশটি, সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৬)
4- اسْم الْفَاعِل 5- اسْم الْمَفْعُول 6- الصّفة المشبهة 7- اسْم التَّفْضِيل 8- اسْم الزَّمَان 9- اسْم الْمَكَان 10- اسْم الْآلَة1.
الثَّانِي: الِاشْتِقَاق الْكَبِير:
وعَرَّفوه بأنّه أَخذ كلمة من كلمة مَعَ تناسبهما فِي الْمَعْنى واتفاقهما فِي الْحُرُوف الْأَصْلِيَّة دون ترتيبها، مثل: حمد ومدح. وأيس ويئس، والحلم وَالْحمل، ودهده وهدد2، وَجُمْهُور الصرفيين يطلقون على هَذَا النَّوْع الْقلب المكاني3. وَأول من فكر فِيهِ الْخَلِيل بن أَحْمد الفراهيدي (ت170هـ) وعلىّ أساس تِلْكَ الفكرة رتب مُعْجَمه (كتاب الْعين) وَلَكِن أول من بسط فِيهِ القَوْل وَبَين جوانبه ووضحه أَبُو الْفَتْح عُثْمَان بن جني (ت392هـ) الَّذِي ذكر أَن شَيْخه أَبَا عليّ (ت 377هـ) كَانَ يسْتَأْنس بن يَسِيرا4.
الثَّالِث: الِاشْتِقَاق الْأَكْبَر
وهوأخذ لَفْظَة من أُخْرَى مَعَ تناسبهما فِي الْمَعْنى واتحادهما فِي أغلب الْحُرُوف، مَعَ كَون المتبقي من الْحُرُوف من مخرج أَو مخرجين متقاربين مثل: نعق
--------------------------------------------
৪- কর্তৃবাচক বিশেষ্য ৫- কর্মবাচক বিশেষ্য ৬- গুণবাচক বিশেষণ ৭- আধিক্যবাচক বিশেষ্য ৮- কালবাচক বিশেষ্য ৯- স্থানবাচক বিশেষ্য ১০- যন্ত্রবাচক বিশেষ্য১।
দ্বিতীয়: আল-ইশতিতাক আল-কাবীর (বৃহৎ বুৎপত্তি):
ভাষাবিদগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এবং মূল অক্ষরগুলোর বিন্যাস বজায় রাখা ব্যতিরেকে এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ গ্রহণ করা। যেমন: হামদ এবং মাদহ; আইসা এবং ইয়াইসা; আল-হিলম এবং আল-হামল; দাহদাহা এবং হাদ্দাদা২। অধিকাংশ রূপতত্ত্ববিদ এই প্রকারকে আল-কালবুল মাকানি (স্থানিক পরিবর্তন)৩ বলে অভিহিত করেন। এটি নিয়ে সর্বপ্রথম চিন্তা করেন খলিল বিন আহমদ আল-ফারাহিদি (মৃত্যু ১৭০ হিজরি) এবং সেই ধারণার ভিত্তিতেই তিনি তাঁর অভিধান কিতাবুল আইন বিন্যস্ত করেন। তবে এ বিষয়ে সর্বপ্রথম বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এর বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করেন আবুল ফাতহ উসমান ইবনে জিন্নি (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি), যিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শিক্ষক আবু আলী (মৃত্যু ৩৭৭ হিজরি) এর প্রতি সামান্য ঝোঁক রাখতেন৪।
তৃতীয়: আল-ইশতিতাক আল-আকবার (মহৎ বুৎপত্তি):
এটি হলো অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এবং অধিকাংশ অক্ষরের মিল রেখে এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ গ্রহণ করা, যেখানে অবশিষ্ট অক্ষরগুলো একই উচ্চারণস্থল বা কাছাকাছি দুটি উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারিত হয়। যেমন: না'আকা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
ونهق، وهتن وهتل، وثلب وثلم، وَيُطلق على هَذَا النَّوْع أَحْيَانًا الْإِبْدَال اللّغَوِيّ1.
الرَّابِع: الِاشْتِقَاق من الُكُبَّار:
وَهُوَ أَخذ كلمة من كَلِمَتَيْنِ أَو أَكثر مَعَ تناسب الْمَأْخُوذ والمأخوذ مِنْهُ فِي اللَّفْظ وَالْمعْنَى مثل: عبشمي وعبدري فِي عبد شمس وَعبد الدَّار، وبسمل وسبحل قَالَ بِسم الله وَسُبْحَان الله، وَكثير من الْعلمَاء يُسَمِّيه بالنحت2.
--------------------------------------------
নাহাক্ব, হাতান ও হাতাল, এবং থালাব ও থালাম; এই প্রকারটিকে কখনো কখনো ভাষাগত প্রতিস্থাপন (الإبدال اللغوي)১ বলা হয়ে থাকে।
চতুর্থ: কুব্বার ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق من الكبار):
এটি হলো দুই বা ততোধিক শব্দ থেকে একটি শব্দ গ্রহণ করা, যেখানে শব্দগত ও অর্থগত দিক থেকে গৃহীত শব্দ এবং যে উৎস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে। যেমন: 'আবদ শামস' ও 'আবদুদ দার' থেকে 'আবশামী' ও 'আবদারী'; এবং 'বিসমিল্লাহ' ও 'সুবহানাল্লাহ' বলার পরিপ্রেক্ষিতে 'বাসমালা' ও 'সাবহালা'। অনেক আলেম একে শব্দসংক্ষেপণ (النحت)২ বলে অভিহিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
الْمطلب الرَّابِع: الْخلاف فِي وُقُوع الِاشْتِقَاق والآراء فِي أصل المشتقات.
أَولا: الْخلاف فِي وُقُوعه:
اخْتلفت الآراء فِي وُقُوع الِاشْتِقَاق فِي اللُّغَة الْعَرَبيَّة فَقَالَ الْخَلِيل بن أَحْمد
ت (170هـ) وسيبويه (ت180هـ) وَجمع غفير من أَئِمَّة الْعَرَبيَّة: إِن بعض الْكَلم مُشْتَقّ وَبَعضه غير مُشْتَقّ، وَقَالَت طَائِفَة من الْمُتَأَخِّرين اللغويين إِن كل الْكَلم مُشْتَقّ، وَنسب هَذَا القَوْل إِلَى سِيبَوَيْهٍ والزجاج (ت 311هـ) .
وَقَالَ فريق ثَالِث - وَصفهم السُّيُوطِيّ بالنظار1 إِن الْكَلم كُله أصل
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ এবং ব্যুৎপন্ন (مشتقات) শব্দসমূহের মূল ভিত্তি সম্পর্কিত মতামত.
প্রথমত: ব্যুৎপত্তি সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ:
আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। খলিল ইবনে আহমদ
(মৃত্যু ১৭০ হিজরি) এবং সিবওয়াইহ (মৃত্যু ১৮০ হিজরি) সহ আরবি ভাষার ইমামগণের এক বিশাল গোষ্ঠী বলেছেন: কিছু শব্দ ব্যুৎপন্ন (مشتق) এবং কিছু শব্দ ব্যুৎপন্ন নয়। অন্যদিকে পরবর্তী ভাষাবিদদের একটি দল বলেছেন যে, সমস্ত শব্দই ব্যুৎপন্ন (مشتق); এই মতটি সিবওয়াইহ এবং আজ-জাজ্জাজ (মৃত্যু ৩১১ হিজরি)-এর প্রতিও সম্বন্ধ করা হয়েছে।
তৃতীয় একটি দল—যাদেরকে ইমাম সুয়ূতী তাত্ত্বিক ও তার্কিক (النظار)১ হিসেবে অভিহিত করেছেন—বলেছেন যে, সমস্ত শব্দই মূল (أصل)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৮)
، وَالرَّاجِح هُوَ الأول1.
ثَانِيًا: الآراء فِي أصل المشتقات:
تباينت آراء الْعلمَاء قَدِيما وحديثاً فِي أصل المشتقات، فَذهب جُمْهُور الْبَصرِيين: إِلَى أَن الْمصدر هُوَ أصل المشتقات، وَقد احْتَجُّوا لرأيهم بأدلة أوصلها بعض الْعلمَاء إِلَى الْعشْرَة، وَقد اخْتَار أَكثر الْمُتَقَدِّمين والمتأخرين رَأْيهمْ.
وَقَالَ الْكُوفِيُّونَ: إِن الْفِعْل هُوَ أصل المشتقات، وأوردوا على ذَلِك عدَّة أَدِلَّة، وَقد حاول بعض الْمُحدثين تاييد رَأْيهمْ2.
وَهَذَا الْخلاف وأدلة الْفَرِيقَيْنِ وردودهم مَبْسُوط فِي كثير من كتب الصّرْف بِخَاصَّة وَكتب النَّحْو بعامة وَلَا يَتَّسِع الْمقَام هُنَا لتفصيله3.
--------------------------------------------
এবং অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) হলো প্রথম মতটি ১।
দ্বিতীয়ত: বুৎপত্তিগত শব্দের (المشتقات) মূল উৎস সম্পর্কে মতামতসমূহ:
বুৎপত্তিগত শব্দের (المشتقات) মূল উৎস সম্পর্কে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বসরাবাসীদের অধিকাংশের (الجمهور) অভিমত হলো: মাসদার বা ক্রিয়ামূলই (المصدر) হলো বুৎপত্তিগত শব্দের (المشتقات) মূল উৎস। তাঁরা নিজেদের মতের সপক্ষে এমন কিছু প্রমাণ (أدلة) উপস্থাপন করেছেন যা কোনো কোনো আলেম দশটি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন এবং অধিকাংশ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ তাঁদের এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।
পক্ষান্তরে কুফাবাসীরা বলেছেন: ক্রিয়াই (الفعل) হলো বুৎপত্তিগত শব্দের (المشتقات) মূল উৎস, এবং তাঁরা এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রমাণ (أدلة) পেশ করেছেন। আধুনিক গবেষকদের কেউ কেউ তাঁদের এই মতকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন ২।
এই মতভেদ এবং উভয় পক্ষের প্রমাণাদি (أدلة) ও তাঁদের খণ্ডনসমূহ (الردود) বিশেষভাবে সরফ শাস্ত্রের অনেক কিতাবে এবং সাধারণভাবে নাহব শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে এখানে তা বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩১৯)
الْمطلب الْخَامِس فِي بَيَان أَرْكَان الِاشْتِقَاق والأنواع الَّتِي لَا يدخلهَاأَولا: أَرْكَان الِاشْتِقَاق:
لابد فِي عملية الِاشْتِقَاق من تحقق أَرْبَعَة أُمُور هِيَ أَرْكَانه.
1- الْمُشْتَقّ 2- الْمُشْتَقّ مِنْهُ 3- تشاركهما فِي الْمعَانِي والحروف.
4- أَن يكون بَينهمَا تَغْيِير لفظا مثل: طَالب من الطَّلَبِ أَو تَقْديرا مثل طَلَبَ من الطَّلَبِ1.
ثَانِيًا: الْأَنْوَاع الَّتِي لَا يدخلهَا الِاشْتِقَاق:
يذكر الْعلمَاء سِتَّة أَنْوَاع لَا ينقاس الِاشْتِقَاق مِنْهَا وَمَا ورد من ذَلِك يَعْدُّونه نَادرا مَقْصُورا على السماع، والأنواع هِيَ:
1 - الْأَسْمَاء الأعجمية.
2 - أَسمَاء الْأَصْوَات
3 - الْأَسْمَاء المتوغلة فِي الْإِبْهَام مثل: (مَنْ، مَاء، مهما) .
4 - الْأَلْفَاظ النادرة مثل: طُوبَى.
5 - الْأَسْمَاء الَّتِي لَهَا معَان متقابلة مثل الجون للأبيض وَالْأسود والجلل للكبير وَالصَّغِير.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ব্যুৎপত্তির (الاشتقاق) রুকনসমূহ এবং এতে অন্তর্ভুক্ত হয় না এমন প্রকারভেদের বর্ণনাপ্রথমত: ব্যুৎপত্তির (الاشتقاق) রুকনসমূহ:
ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) প্রক্রিয়ায় চারটি বিষয় অর্জিত হওয়া আবশ্যক, যা এর রুকন বা স্তম্ভ।
১- ব্যুৎপন্ন শব্দ (مشتق) ২- মূল শব্দ (مشتق منه) ৩- অর্থ ও বর্ণের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব থাকা।
৪- উভয়ের মধ্যে শাব্দিক (لفظي) পরিবর্তন থাকা, যেমন: ‘ত্বলব’ থেকে ‘ত্বালিব’; অথবা প্রচ্ছন্ন (تقديري) পরিবর্তন থাকা, যেমন: ‘ত্বলব’ থেকে ‘ত্বলাবা’।১
দ্বিতীয়ত: যে প্রকারগুলোর মধ্যে ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) কার্যকর হয় না:
আলেমগণ ছয়টি প্রকারের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) নিয়মমাফিক (قياسي) নয়। এ ক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে তাঁরা বিরল (نادر) এবং কেবলমাত্র শ্রুতিনির্ভর (سماع) হিসেবে গণ্য করেন। প্রকারগুলো হলো:
১ - অনারবীয় বা আজমি (أعجمي) নামসমূহ।
২ - ধ্বন্যাত্মক শব্দসমূহ (أسمَاء الْأَصْوَات)।
৩ - সেইসব বিশেষ্য যা অতিশয় অস্পষ্টতায় (إبهাম) নিমজ্জিত, যেমন: (মান, মা, মাহমা)।
৪ - বিরল (نادر) শব্দসমূহ, যেমন: 'তূবা'।
৫ - সেইসব বিশেষ্য যেগুলোর বিপরীতধর্মী অর্থ রয়েছে, যেমন: সাদা ও কালো উভয় অর্থে ‘আল-জাওন’ এবং বড় ও ছোট উভয় অর্থে ‘আল-জালাল’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
6 - الْحُرُوف1.
وَقد أجَاز مجمع اللُّغَة الْعَرَبيَّة الِاشْتِقَاق من الْأَعْيَان عِنْد الضَّرُورَة2.
--------------------------------------------
৬ - বর্ণসমূহ (الحروف)১।
আর আরবি ভাষা একাডেমি (مجمع اللغة العربية) বিশেষ প্রয়োজনের সময় বস্তু বা সত্তা (الأعيان) থেকে শব্দ গঠন বা ব্যুৎপত্তি (الاشتقاق) গ্রহণ করাকে বৈধ (أجاز) সাব্যস্ত করেছে২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
الْمطلب السَّادِس: فِي المرجحات الَّتِي تُؤْخَذ بهَا عِنْد تردد الْكَلِمَة بَين أصلين.
…الْمطلب السَّادِس: فِي المرجحات الَّتِي يُؤْخَذ بهَا عِنْد تردد الْكَلِمَة بَين أصلين:
لما كَانَت بعض الْكَلِمَات الْعَرَبيَّة مُحْتَملَة للاشتقاق من أَكثر من أصل فقد بحث الْعلمَاء عَن مَا يرجح كَونهَا من أحد تِلْكَ الْأُصُول وَقد أورد السُّيُوطِيّ ت 911هـ فِي المزهر تِلْكَ المرجحات فَقَالَ:
"وَإِذا ترددت الْكَلِمَة بَين أصلين فِي الِاشْتِقَاق طُلِب التَّرْجِيح وَله وُجُوه:
أَحدهَا: الأمكنية كمهدد علما من الهد أَو المهد فَيرد إِلَى المهد؛ لِأَن بَاب كُرُم أمكن وأوسع وأفصح وأخف من بَاب (كرّ) فيرجح بالأمكنية.
الثَّانِي: كَون أحد الْأَصْلَيْنِ أشرف؛ لِأَنَّهُ أَحَق بِالْوَضْعِ لَهُ، والنفوس أذكر لَهُ وَأَقْبل كدوران اشتقاق كلمة (الله) -فِيمَن اشتقها - بَين الِاشْتِقَاق من ((ألَهَ)) أَو ((لوه)) أَو ((وَله)) 1 فَيُقَال من ((أَلَه)) أشرف وأُقرب.
الثَّالِث: كَونه أظهر وأوضح كالإقبال والقُبُل.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কোনো শব্দ দুটি মূল উৎসের (أصل) মধ্যে দোদুল্যমান হলে যে সকল অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ের (المرجحات) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়.
…ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কোনো শব্দ দুটি মূল উৎসের (أصل) মধ্যে দোদুল্যমান হলে যে সকল অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ের (المرجحات) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়:
যেহেতু কিছু আরবি শব্দ একাধিক মূল উৎস (أصل) থেকে বুৎপত্তি (اشتقاق) লাভের সম্ভাবনা রাখে, তাই আলেমগণ এই উৎসগুলোর মধ্যে কোনো একটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের কারণসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছেন। আল্লামা সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) তাঁর ‘আল-মুযহির’ গ্রন্থে এই অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো (المرجحات) উল্লেখ করে বলেছেন:
"যখন কোনো শব্দ বুৎপত্তি (اشتقاق) লাভের ক্ষেত্রে দুটি মূল উৎসের (أصل) মাঝে দোদুল্যমান থাকে, তখন অগ্রাধিকার (الترجيح) অন্বেষণ করা হয় এবং এর কয়েকটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: সুদৃঢ়তা (الأمكنية)। যেমন 'মুহাদ্দাদ' (مهدد) নামক শব্দটি 'হাদ' (الهد) অথবা 'মাহদ' (المهد) থেকে উৎপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে একে 'মাহদ' (المهد) এর দিকেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়; কারণ 'কুরুমা' (كُرُم) এর অধ্যায়টি 'কাররা' (كرّ) অধ্যায়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী (أمكن), বিস্তৃত (أوسع), প্রাঞ্জল (أفصح) এবং সহজ (أخف)। ফলে সুদৃঢ়তার (الأمكنية) ভিত্তিতেই একে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয়ত: দুটি মূল উৎসের (أصل) কোনো একটির অধিক মর্যাদাশীল (أشرف) হওয়া; কারণ শাব্দিক গঠনের জন্য সেটিই অধিক উপযুক্ত এবং মানুষের অন্তর একে অধিক স্মরণ করে ও গ্রহণ করে। যেমন—যারা 'আল্লাহ' (الله) শব্দের বুৎপত্তি (اشتقاق) নিয়ে আলোচনা করেছেন—তাদের নিকট শব্দটি 'আলাহা' (أَلَهَ), 'লাহা' (لوه) অথবা 'ওয়ালিহা' (وَله) ১ এর মধ্য থেকে কোন্টি হতে উদ্ভূত তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এমতাবস্থায় বলা হয় যে, 'আলাহা' (أَلَه) থেকে হওয়াটিই অধিক মর্যাদাশীল (أشرف) এবং নিকটতর (أقرب)।
তৃতীয়ত: সেটি অধিকতর সুস্পষ্ট (أظهر) ও পরিষ্কার (أوضح) হওয়া, যেমন 'ইকবাল' (الإقبال) এবং 'কুবুল' (القُبُل)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২১)
لرابع: كَونه أخص فيرجح الْأَعَمّ كالفضل والفضيلة وَقيل عَكسه.
الْخَامِس: كَونه أسهل وَأحسن تَصرفا كاشتقاق الْمُعَارضَة من الْعرض بِمَعْنى الظُّهُور أَو من العرْض وَهُوَ النَّاحِيَة فَمن الظُّهُور أولى.
السَّادِس: كَونه أقرب وَالْآخر أبعد كالعقار يرِد إِلَى عقر الْفَهم لَا إِلَى أَنَّهَا تسكر فتعقر صَاحبهَا.
السَّابِع: كَونه أليق كالهداية بِمَعْنى الدّلَالَة لَا بِمَعْنى التَّقَدُّم من الهوادي بِمَعْنى المتقدمات.
الثَّامِن: كَونه مُطلقًا فيرجح على الْمُقَيد كالقرب والمقاربة.
التَّاسِع: كَونه جوهراً وَالْآخر عرضا لَا يصلح للمصدرية وَلَا شَأْنه أَن يشتق مِنْهُ فَإِن الرَّد إِلَى الْجَوْهَر حِينَئِذٍ أولى لِأَنَّهُ أسبق، فَإِن كَانَ مصدرا تعين الرَّد إِلَيْهِ؛ لِأَن اشتقاق الْعَرَب من الْجَوْهَر قَلِيل جدا وَالْأَكْثَر من المصادر"1.
--------------------------------------------
চতুর্থ: বিষয়টি অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص) হওয়া, এমতাবস্থায় অধিক ব্যাপক (الأعم) বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে; যেমন: আল-ফজল ও আল-ফযীলত। তবে কেউ কেউ এর বিপরীত মতও পোষণ করেছেন।
পঞ্চম: বিষয়টি সহজতর হওয়া এবং শব্দের রূপান্তরের ক্ষেত্রে অধিক উত্তম হওয়া; যেমন: 'মুয়ারাদাহ' শব্দটির উৎপত্তি 'আল-আর্দ' থেকে হওয়া যার অর্থ প্রকাশ পাওয়া (الظهور), অথবা 'আল-উরদ' থেকে হওয়া যার অর্থ পার্শ্ববর্তী এলাকা। এক্ষেত্রে 'প্রকাশ পাওয়া' (الظهور) অর্থটি গ্রহণ করাই অধিক উত্তম।
ষষ্ঠ: একটি অধিক নিকটবর্তী হওয়া এবং অন্যটি দূরবর্তী হওয়া; যেমন: 'আকার' শব্দটি 'বুদ্ধিবৃত্তিক মূলে' (عقر الفهم) প্রত্যাবর্তন করা, এই অর্থে নয় যে তা নেশাগ্রস্ত করে এবং মালিককে বুদ্ধিহীন করে দেয়।
সপ্তম: অধিক উপযুক্ত হওয়া; যেমন: 'হিদায়াত' শব্দটির অর্থ পথনির্দেশ (الدلالة) করা, অগ্রগামী হওয়া অর্থে নয়—যা 'হাওয়াদী' (الهوادي) শব্দ থেকে উৎপন্ন যার অর্থ অগ্রগামীসমূহ (المتقدمات)।
অষ্টম: বিষয়টি শর্তহীন (مطلقاً) হওয়া, ফলে এটি শর্তযুক্ত (المقيد) বিষয়ের ওপর প্রাধান্য পাবে; যেমন: নৈকট্য ও নিকটবর্তী হওয়া।
নবম: একটি মৌলিক সত্তা (جوهراً) হওয়া এবং অন্যটি আপেক্ষিক গুণ (عرضاً) হওয়া যা ক্রিয়ামূল (المصدرية) হওয়ার যোগ্য নয় এবং তা থেকে শব্দ বুৎপত্তি হওয়ার মতোও নয়; এক্ষেত্রে মৌলিক সত্তার (الجوهر) দিকে প্রত্যাবর্তন করাই অধিক উত্তম, কারণ এটি পূর্ববর্তী। তবে যদি সেটি ক্রিয়ামূল (مصدرًا) হয়, তবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক; কারণ আরবদের মাঝে মৌলিক সত্তা (الجوهر) থেকে শব্দ গঠন খুব কমই দেখা যায় এবং অধিকাংশ শব্দ ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) থেকেই গঠিত হয়।"১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২১)
الْمطلب السَّابِع: فِي التغيرات الَّتِي تحصل بَين الأَصْل الْمُشْتَقّ مِنْهُ وَالْفرع الْمُشْتَقّمن ينعم النّظر فِي الْمصدر - أصل الِاشْتِقَاق - وَمَا أَخذ مِنْهُ يَتَّضِح لَهُ أَن الْفرق بَينهمَا لَا يخرج عَن كَونه زِيَادَة حَرَكَة أونقصها، أَو زِيَادَة حرف أَو
সপ্তম পরিচ্ছেদ: মূল উৎস (الأصل) এবং তা থেকে উদ্ভূত শাখা (الفرع)-এর মধ্যে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ প্রসঙ্গেযে ব্যক্তি ক্রিয়ামূল (المصدر) — যা ব্যুৎপত্তির মূল উৎস (أصل الاشتقاق) — এবং তা থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করবেন, তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এই দুয়ের মধ্যকার পার্থক্য মূলত হরকতের (حركة) বৃদ্ধি বা হ্রাস, অথবা বর্ণের বৃদ্ধি বা...
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২২)
نَقصه، أَو نقص أَحدهمَا وَزِيَادَة الآخر أَو نقص الِاثْنَيْنِ أَو زيادتهما، أَو الْجمع بَين ذَلِك.
وَقد قَالَ أَبُو حَيَّان ت (745هـ) : إنَّ التغييرات الَّتِي تعرض بَين الْمُشْتَقّ والمشتق مِنْهُ تِسْعَة1.
وَلَكِن السُّيُوطِيّ ت (911هـ) ذكر أَن تِلْكَ التغييرات تَنْحَصِر فِي خَمْسَة عشر تغييراً، وَفِيمَا يَلِي بَيَانهَا كَمَا فِي المزهر:
الأول: زِيَادَة حَرَكَة كعَلِم وعِلْم.
الثَّانِي: زِيَادَة حرف كطَالِب وطَلَبَ.
الثَّالِث: زيادتهما كضَارِب وضَرْب.
الرَّابِع: نُقْصَان حَرَكَة كالفُرْس من الفَرَس2.
الْخَامِس: نُقْصَان مَادَّة كـ ((ثَبَتَ وثَباتٍ)) .
السَّادِس: نقصانهما كنَزَا ونَزَوَان.
السَّابِع: نُقْصَان حَرَكَة وَزِيَادَة مَادَّة كغضبي وَغَضب.
الثَّامِن: نقص مَادَّة وَزِيَادَة حَرَكَة كـ حَرَمٍ وحِرْمَان.
التَّاسِع: زيادتهما مَعَ نقصانهما كـ: استنوق من النَّاقة3.
الْعَاشِر: تغاير الحركتين كـ: بَطِرَ بَطَرَا.
الْحَادِي عشر: نُقْصَان حَرَكَة وَزِيَادَة أُخْرَى وحرف كـ: أَضْرِب من الضَّرْبِ.
الثَّانِي عشر: نُقْصَان مَادَّة وَزِيَادَة أُخْرَى كـ: راضع من الرَّضَاعَةِ.
--------------------------------------------
এগুলোর হ্রাস, অথবা উভয়ের কোনো একটির হ্রাস ও অন্যটির বৃদ্ধি, অথবা উভয়েরই হ্রাস বা উভয়েরই বৃদ্ধি, অথবা এই সবকিছুর সমন্বয়।
আবু হাইয়ান (মৃত্যু: ৭৪৫ হিজরি) বলেছেন: ব্যুৎপন্ন শব্দ ও মূল শব্দের মাঝে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে তা নয়টি।১
কিন্তু আস-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) উল্লেখ করেছেন যে, সেই পরিবর্তনগুলো পনেরটি পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং নিম্নে আল-মুযহির গ্রন্থ অনুযায়ী সেগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথম: হরকতের (স্বরচিহ্ন) বৃদ্ধি; যেমন 'আলিমা' (عَلِمَ) এবং 'ইলম' (عِلْم)।
দ্বিতীয়: বর্ণের বৃদ্ধি; যেমন 'তালিব' (طَالِب) এবং 'তালাবা' (طَلَبَ)।
তৃতীয়: হরকত ও বর্ণ উভয়েরই বৃদ্ধি; যেমন 'দারিব' (ضَارِب) এবং 'দারব' (ضَرْب)।
চতুর্থ: হরকতের হ্রাস; যেমন 'আল-ফারাস' (الفَرَس) থেকে 'আল-ফুরস' (الفُرْس)।২
পঞ্চম: মূল উপাদানের হ্রাস; যেমন 'সাবাতা' (ثَبَتَ) ও 'সিবাত' (ثَبات)।
ষষ্ঠ: হরকত ও মূল উপাদান উভয়েরই হ্রাস; যেমন 'নাযা' (نَزَا) ও 'নাযাওয়ান' (نَزَوَان)।
সপ্তম: হরকতের হ্রাস এবং মূল উপাদানের বৃদ্ধি; যেমন 'গাদবা' (غضبى) ও 'গাদাব' (غَضب)।
অষ্টম: মূল উপাদানের হ্রাস ও হরকতের বৃদ্ধি; যেমন 'হারাম' (حَرَم) ও 'হিরমান' (حِرْمَان)।
নবম: উভয়ের বৃদ্ধির সাথে উভয়ের হ্রাস; যেমন 'আন-নাকাহ' (النَّاقة) থেকে 'ইস্তানওয়াকা' (استنوق)।৩
দশম: দুই হরকতের ভিন্নতা; যেমন 'বাতিরা' (بَطِرَ) ও 'বাতারা' (بَطَرَا)।
একাদশ: এক হরকতের হ্রাস এবং অন্য একটি হরকত ও বর্ণের বৃদ্ধি; যেমন 'আদ-দারব' (الضَّرْب) থেকে 'আদরিবু' (أَضْرِب)।
দ্বাদশ: মূল উপাদানের হ্রাস এবং অন্য একটির বৃদ্ধি; যেমন 'আর-রাদাআহ' (الرَّضَاعَة) থেকে 'রাদি' (راضع)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২৩)
الثَّالِث عشر: نُقْصَان مَادَّة وَزِيَادَة أُخْرَى وحركة كـ ((خَافَ من الخَوْف)) ؛ لِأَن الْفَاء سَاكِنة فِي خوف لعدم التَّرْكِيب.
الرَّابِع عشر: نُقْصَان حَرَكَة وحرف وَزِيَادَة حَرَكَة فَقَط كـ ((عِدْ)) من الوَعْدِ فِيهِ نُقْصَان الْوَاو وحركتها وَزِيَادَة كسرة الْعين.
الْخَامِس عشر: نُقْصَان حَرَكَة وحرف وَزِيَادَة حرف كـ: فَاخِرْ من الفَخَارِ نقصت ألف وفتحة وزادت ألف 1.
وَهَذِه التغييرات بَين الْمُشْتَقّ والمشتق مِنْهُ هِيَ مَوْضُوع الْمَسْأَلَة الَّتِي قدمت لَهَا بِهَذِهِ المطالب.
وَقد بلغت التغييرات الَّتِي اشْتَمَلت عَلَيْهَا هَذِه الْمَسْأَلَة أَرْبَعَة وَعشْرين تغييراً2.
--------------------------------------------
ত্রয়োদশ: মূল উপাদানের হ্রাস (نقصان مادة) এবং অন্য একটি উপাদান ও স্বরচিহ্নের বৃদ্ধি (زيادة أخرى وحركة), যেমন ‘খাওফ’ থেকে ‘খাফা’; কারণ ‘খাওফ’ শব্দে ‘ফা’ বর্ণটি গঠনগত বিন্যাসের অভাবে সাকিন (ساكنة)।
চতুর্দশ: স্বরচিহ্ন ও বর্ণের হ্রাস (نقصان حركة وحرف) এবং শুধুমাত্র স্বরচিহ্নের বৃদ্ধি (زيادة حركة فقط), যেমন ‘আল-ওয়াদ’ থেকে ‘ইদ’; এতে ‘ওয়াও’ বর্ণ ও তার স্বরচিহ্নের হ্রাস ঘটেছে এবং ‘আইন’ বর্ণে কাসরাহ (كسرة) বৃদ্ধি পেয়েছে।
পঞ্চদশ: স্বরচিহ্ন ও বর্ণের হ্রাস (نقصان حركة وحرف) এবং একটি বর্ণের বৃদ্ধি (زيادة حرف), যেমন ‘আল-ফাখার’ থেকে ‘ফাখির’; এখানে একটি আলিফ ও একটি ফাতহাহর (فتحة) হ্রাস ঘটেছে এবং একটি আলিফ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যুৎপন্ন শব্দ (مشتق) এবং ব্যুৎপত্তিস্থলের (مشتق منه) মধ্যকার এই পরিবর্তনগুলোই হলো সেই মাসআলাহর (مسألة) মূল বিষয়বস্তু, যা আমি এই উপশিরোনামগুলোর (مطالب) মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি।
আর এই মাসআলাহটি সর্বমোট চব্বিশটি পরিবর্তনকে (تغييرا) অন্তর্ভুক্ত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২৭)
الدراسة
ابْن مَالك…الدراسة
أ - ابْن مَالك
اسْمه - نسبه - لقبه - كنيته تَارِيخ ميلاده - تَارِيخ وَفَاته عدد مصنفاته.
ب - الْمَسْأَلَة
تَوْثِيق نسبتها - سَبَب وَضعهَا - أهميتها - وصف المخطوط
أ - ابْن مَالك
اسْمه وَنسبه:
أجمع المترجمون لِابْنِ مَالك على أَن اسْمه ((مُحَمَّد)) وَلَكنهُمْ اخْتلفُوا فِي سلسلة آبَائِهِ وَيُمكن تَلْخِيص آرائهم فِي الصُّور التالية:
1 - مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الله بن مَالك.
وَردت هَذِه الصِّيغَة فِي أول بعض مؤلفاته1 وَذكرهَا بعض من تَرْجمهُ2.
2 - مُحَمَّد بن عبد الله بن مَالك، وَقد وَردت هَذِه الصِّيغَة أَيْضا فِي أَوَائِل بعض كتبه3، وَكَذَلِكَ صرح بهَا بعض مترجميه4.
3 - مُحَمَّد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد الله بن مَالك.
وَردت هَذِه الصِّيغَة فِي أول تَعْلِيق الفرائد على تسهيل الْفَوَائِد
--------------------------------------------
গবেষণা
ইবনে মালিক…গবেষণা
ক - ইবনে মালিক
তাঁর নাম - বংশপরিচয় - উপাধি - কুনিয়াত (كنية) - জন্ম তারিখ - মৃত্যু তারিখ - তাঁর রচনাবলির সংখ্যা।
খ - মাসয়ালা (বিষয়টি)
এর সম্পর্কের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) যাচাই - এটি রচনার কারণ - এর গুরুত্ব - পাণ্ডুলিপির বর্ণনা
ক - ইবনে মালিক
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
ইবনে মালিকের জীবনীকারগণ একমত পোষণ করেছেন যে তাঁর নাম হলো "মুহাম্মদ", তবে তাঁরা তাঁর পিতৃপুরুষদের ধারাক্রম নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মতামতসমূহকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে:
১ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক।
এই রূপটি তাঁর কিছু রচনার শুরুতে এসেছে১ এবং তাঁর জীবনীকারদের কেউ কেউ এটি উল্লেখ করেছেন২।
২ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক; এই রূপটিও তাঁর কিছু গ্রন্থের শুরুতে এসেছে৩ এবং একইভাবে তাঁর কয়েকজন জীবনীকারও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন৪।
৩ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক।
এই রূপটি 'তালীকুল ফারাইদ আলা তাসহিলিল ফাওয়াইদ' গ্রন্থের শুরুতে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২৮)
للدماميني1 وَذكرهَا بعض المترجمين لَهُ2.
4 - مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الله بن عبد الله بن مَالك ذكر هَذِه الصِّيغَة ابْن طولون فِي القلائد الجوهرية فِي تَارِيخ الصالحية الْقسم الثَّانِي3.
5 - مُحَمَّد بن مَالك وَردت هَذِه الرِّوَايَة فِي أول كتاب الْأَلْفَاظ الْمُخْتَلفَة فِي الْمعَانِي المؤتلفة4.
كنيته ولقبه:
لقد اشتهرت تكنيته بِابْنِهِ عبد الله، فَهُوَ أَبُو عبد الله، ولقبه الْمَشْهُور هُوَ جمال الدّين5، وَذكر بَعضهم لَهُ لقبا آخر وَهُوَ: جلا الْأَعْلَى6.
وَهُوَ ينتسب إِلَى قَبيلَة طَيء الْعَرَبيَّة، وَكَانَ مذْهبه الفقهي - فِي بداية حَيَاته الْمَذْهَب الْمَالِكِي ثمَّ انْتقل إِلَى الْمَذْهَب الشَّافِعِي7، وَقد ولد رحمه الله فِي مَدِينَة
--------------------------------------------
আদ-দামামিনির জন্য১ এবং তাঁর কিছু জীবনীকার (مترجمين) এটি উল্লেখ করেছেন২।
৪ - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক; ইবনে তুলুন এই পাঠ (صيغة)-টি 'আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়্যাহ ফি তারিখিস সালিহিয়্যাহ'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখ করেছেন৩।
৫ - মুহাম্মদ বিন মালিক; এই বর্ণনা (رواية)-টি 'আল-আলফাজ আল-মুখতালিফাহ ফিল-মাআনি আল-মু তালিফাহ' গ্রন্থের শুরুতে এসেছে৪।
তাঁর উপনাম (كنية) ও উপাধি (لقب):
তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর নামে তাঁর উপনাম (كنية) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, ফলে তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ। তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি (لقب) হলো জামালুদ্দিন৫, আর তাদের কেউ কেউ তাঁর জন্য অন্য একটি উপাধির (لقب) কথাও উল্লেখ করেছেন, যা হলো: জালা আল-আ'লা৬।
তিনি আরবের তায়্যি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর ফিকহী মাযহাব—জীবনের শুরুর দিকে—মালিকি মাযহাব ছিল, এরপর তিনি শাফেয়ি মাযহাবে স্থানান্তরিত হন৭। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ... শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩২৯)
جَيَّان1 الأندلسية وَتُوفِّي فِي دمشق.
تَارِيخ ميلاده ووفاته
تَارِيخ ميلاده:
اخْتلفت أَقْوَال المؤرخين فِي تَحْدِيد تَارِيخ ميلاده رحمه الله، فَمنهمْ من يرى أَنه ولد سنة ثَمَان وَتِسْعين وَخَمْسمِائة2. وَمِنْهُم من ذكر أَنه ولد سنة إِحْدَى وسِتمِائَة3 وَقيل: إِنَّه ولد سنة سِتّمائَة4، وَتردد بَعضهم فَقَالُوا إِنَّه ولد سنة سِتّمائَة أَو إِحْدَى وسِتمِائَة5.
تَارِيخ وَفَاته:
أـ أجمع المترجمون لَهُ على أَنه توفّي سنة 672هـ وَدفن بِدِمَشْق6.
مؤلفاته:
بلغت مؤلفاته الَّتِي وقفت على أسمائها خَمْسَة وَخمسين مصنفا، طبع بَعْضهَا
--------------------------------------------
আন্দালুসের জাইয়ান
1 এবং তিনি দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ
তাঁর জন্মের তারিখ:
ঐতিহাসিকদের মাঝে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জন্মের তারিখ নির্ধারণে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে তিনি ৫৯৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন
2। আবার কেউ উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৬০১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন
3। বলা হয়ে থাকে যে তিনি ৬০০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন
4। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা প্রকাশ করে বলেছেন যে তিনি ৬০০ অথবা ৬০১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন
5।
তাঁর মৃত্যুর তারিখ:
ক- তাঁর জীবনীকারগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে তিনি ৬৭২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং দামেস্কে সমাহিত হন
6।
তাঁর রচনাবলি:
তাঁর যেসব রচনাবলির নাম আমি জানতে পেরেছি, তার সংখ্যা পঞ্চান্নটি; যার কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
وَبَعضهَا مازال مخطوطاً1.
--------------------------------------------
এবং সেগুলোর কিছু অংশ এখনও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) হিসেবে রয়ে গেছে১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
ب -
الْمَسْأَلَةتَوْثِيق نِسْبَة الْمَسْأَلَة:
لقد جَاءَت نِسْبَة هَذِه الْمَسْأَلَة لِابْنِ مَالك صَرِيحَة فِي أول المخطوط حَيْثُ جَاءَ فِي أَوله بعد الْبَسْمَلَة (مَسْأَلَة من كَلَام الشَّيْخ الإِمَام الْعَلامَة أبي عبد الله مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الله بن مَالك الطَّائِي الجياني رحمه الله 2.
وَكَذَلِكَ نَسَبهَا لَهُ حاجي خَليفَة فِي كشف الظنون2، وَذكرهَا الدكتور حَاتِم الضَّامِن ضمن مؤلفات ابْن مَالك3، وَمِمَّنْ نَسَبهَا لَهُ أَيْضا بدر الزَّمَان مُحَمَّد شَفِيع النيبالي 4وعنوانها فِي المخطوط ((مَسْأَلَة)) وَفِي المراجع الَّتِي ذكرتها (رِسَالَة فِي الِاشْتِقَاق) وَلَكِن الرسَالَة يَصح إِطْلَاقهَا على الْمَسْأَلَة كَمَا يجوز أَن تسمى الرسَالَة مَسْأَلَة إِذا كَانَت فِي مَوْضُوع وَاحِد.
--------------------------------------------
ব -
মাসয়ালা (المسألة)মাসয়ালাটির (المسألة) সম্বন্ধকরণের প্রামাণ্যতা:
ইবনে মালিকের প্রতি এই মাসয়ালাটির (المسألة) সম্বন্ধ পাণ্ডুলিপির শুরুতেই সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে; যেখানে শুরুতে 'বাসমালাহ'-এর পর উল্লিখিত হয়েছে: "(শায়খ, ইমাম, আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক আত-তাই আল-জাইয়ানি রহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্য থেকে একটি মাসয়ালা (مسألة))। ২
অনুরূপভাবে হাজি খলিফা 'কাশফ উজ-জুনুন'-এ এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন ২, এবং ডক্টর হাতেম আদ-দামেন ইবনে মালিকের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন ৩। যারা এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন তাদের মধ্যে বদরুজ্জামান মুহাম্মদ শফি আল-নেপালিও রয়েছেন ৪। পাণ্ডুলিপিতে এর শিরোনাম হলো 'মাসয়ালা (مسألة)', আর আমি যে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলোতে এর নাম হলো 'রিসালাহ ফিল ইশতিকাক' (ব্যুৎপত্তি বিষয়ক পুস্তিকা)। তবে 'রিসালাহ' (رسالة) শব্দটিকে 'মাসয়ালা' (مسألة)-এর ওপর প্রয়োগ করা সঠিক, যেমনটি কোনো বিষয় একটি মাত্র প্রসঙ্গের ওপর হলে 'রিসালাহ' (رسالة)-কে 'মাসয়ালা' (مسألة) হিসেবে নামকরণ করাও বৈধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন জাখায়ির ইবনু মালিক ফিল লুগাহ মাসআলাতুন মিন কালামিল ইমাম ইবনু মালিক ফিল ইশতিকাক
(পৃষ্ঠা: ৩৩১)
سَبَب وضع الْمَسْأَلَة:
لقد أوضح ابْن مَالك السَّبَب الَّذِي دَفعه إِلَى وضع هَذِه الْمَسْأَلَة، فَقَالَ: "فَهَذِهِ أَمْثِلَة الْأَقْسَام الَّتِي تعرض فِي السُّؤَال، وَفِي السُّؤَال تَقْصِير، من قبل ذكر الِاسْم، فَالَّذِي يَنْبَغِي أَن يسْأَل عَن أمثلته تغيّر الْمُشْتَقّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْمُشْتَقّ مِنْهُ، ليدْخل فِي ذَلِك الْفِعْل، فَإِنَّهُ أصل الِاشْتِقَاق".
فَهَذَا تَصْرِيح مِنْهُ بِسَبَب وَضعه لهَذِهِ الْمَسْأَلَة، وَهُوَ ذَلِك السُّؤَال الَّذِي عُرِض عَن أَمْثِلَة التَّغْيِير الَّذِي يحصل بَين الْأَسْمَاء الْمُشْتَقّ بَعْضهَا من بعض.
وَلَكِن الشَّيْخ لم يكتف بالإجابة على هَذَا السُّؤَال وَقَالَ: إِن فِيهِ تقصيرا؛ لكَونه خَاصّا بالإسم.
وَقَالَ إِن الَّذِي يَنْبَغِي أَن يسْأَل عَنهُ هُوَ تغيّر الْمُشْتَقّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْمُشْتَقّ مِنْهُ، على وَجه الْعُمُوم؛ ليدْخل فِي ذَلِك الِاسْم وَالْفِعْل على حد سَوَاء.
وَقد أجَاب الشَّيْخ عَن ذَلِك السُّؤَال المفترض وَذكر أمثلته.
أهمية هَذِه الْمَسْأَلَة
إِن أهمية الْمَسْأَلَة تكمن فِي أَنَّهَا أوسع مَبْحَث مُسْتَقل - حسب علمي - يحصر التغيرات الَّتِي تحدث بَين الْمُشْتَقّ والمشتق مِنْهُ مَعَ توضيحها بالأمثلة وعَلى ذَلِك تكون هَذِه الْمَسْأَلَة عِنْد نشرها أول مَسْأَلَة مُسْتَقلَّة تنشر فِي هَذَا الْمَوْضُوع.
وصف المخطوطة
لقد اعتمدت فِي تَحْقِيق هَذِه الْمَسْأَلَة على نُسْخَة وَاحِدَة، عثرت على مصورة مِنْهَا فِي قسم المخطوطات بالمكتبة المركزية بالجامعة الإسلامية تَحت رقم (4239) .
মাসআলাটি উপস্থাপনের কারণ:
ইবনে মালিক এই মাসআলাটি (বিষয়টি) উপস্থাপনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "এগুলো হলো সেই সকল প্রকারের উদাহরণ যা প্রশ্নের মধ্যে উঠে এসেছে। তবে প্রশ্নের মধ্যে বিশেষ্যের (ইসম) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মূলত যে উদাহরণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল, তা হলো 'মূল' (মুশতাক মিনহু)-এর সাপেক্ষে 'ব্যুৎপন্ন' (মুশতাক)-এর পরিবর্তন; যাতে এর অন্তর্ভুক্ত ক্রিয়াও (ফেল) শামিল হতে পারে। কারণ ক্রিয়াই হলো ব্যুৎপত্তির মূল ভিত্তি।"
এটি তাঁর পক্ষ থেকে এই মাসআলাটি উপস্থাপনের কারণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বক্তব্য। এটি মূলত সেই প্রশ্ন যা বিভিন্ন বিশেষ্য একে অপর থেকে ব্যুৎপন্ন হওয়ার পরিবর্তনের উদাহরণ সম্পর্কে করা হয়েছিল।
কিন্তু শায়খ কেবল এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি বলেছেন যে এতে অপূর্ণতা রয়েছে, যেহেতু এটি কেবল বিশেষ্যের (ইসম) সাথে নির্দিষ্ট।
তিনি আরও বলেছেন যে, যথাযথ জিজ্ঞাসা হওয়া উচিত ছিল সাধারণভাবে 'মূল' (মুশতাক মিনহু)-এর সাপেক্ষে 'ব্যুৎপন্ন' (মুশতাক)-এর পরিবর্তন সম্পর্কে; যাতে বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ই সমানভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
অতঃপর শায়খ সেই অনুমিত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন এবং এর উদাহরণসমূহ উল্লেখ করেছেন।
এই মাসআলার গুরুত্ব
এই মাসআলার গুরুত্ব এখানে নিহিত যে, আমার জানামতে এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত স্বতন্ত্র গবেষণা যা 'ব্যুৎপন্ন' (মুশতাক) ও 'মূল' (মুশতাক মিনহু)-এর মধ্যে সংঘটিত পরিবর্তনগুলোকে উদাহরণের মাধ্যমে নিরূপণ করে। সে অনুযায়ী, এই মাসআলাটি প্রকাশিত হলে তা হবে এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রথম স্বতন্ত্র গবেষণা।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ
এই মাসআলাটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার একটি অনুলিপি আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি বিভাগে ৪২৩৯ নম্বর সংগ্রহের অধীনে পেয়েছি।