(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: -)
سجود التلاوة وأحكامه   (صالح اللاحم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: سجود التلاوة وأحكامه

المؤلف: د صالح بن عبد الله اللاحم

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ

عدد الصفحات: 163

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 جُمادَى الآخرة 1432

তেলাওয়াতের সিজদাহ ও এর বিধানসমূহ   (সালেহ আল-লাহিম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: তেলাওয়াতের সিজদাহ ও এর বিধানসমূহ

লেখক: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أرسله بكتابه المبين، هاديًا إلى الصراط المستقيم، جعل سبحانه أمثاله عبرًا لمن تدبرها، وأوامره هدى لمن استبصر، وشرح فيه واجبات الأحكام، وفرق فيه بين الحلال والحرام.

خاطب به أولياءه ففهموا، وبين لهم مراده فعلموا. فقراء القرآن حفظة علمه المخزون وخلفاء أنبيائه وأمنائه.

والواجب على من خصه الله بحفظ كتابه أن يتلوه حق تلاوته، ويتدبر حقائق عبارته ويتفهم عجائبه، ويتبين غرائبه قال تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} [ص: 29] وقال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد: 24].

جعلنا الله ممن يقوم بحقه، ويرعاه حق رعايته، ويقوم بقسطه ولا يلتمس الهدي من غيره.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع:

كان مما دعاني إلى اختيار هذا الموضوع للكتابة فيه جملة أمور من أهمها:

1 - أن أكون ممن قال فيهم المصطفى صلوات الله وسلامه عليه:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি তাঁকে তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবসহ প্রেরণ করেছেন, যা সরল পথের দিশারি। মহান আল্লাহ এই কিতাবের দৃষ্টান্তসমূহকে চিন্তাশীলদের জন্য শিক্ষা বানিয়েছেন, তাঁর নির্দেশসমূহকে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য হেদায়েত করেছেন। এতে তিনি আবশ্যকীয় বিধানাবলি ব্যাখ্যা করেছেন এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছেন।

তিনি এর মাধ্যমে তাঁর বন্ধুদের সম্বোধন করেছেন এবং তারা তা বুঝতে পেরেছে, আর তাদের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন এবং তারা তা জেনেছে। অতএব, কুরআন পাঠকারীরাই হলেন তাঁর সংরক্ষিত ইলমের ধারক এবং তাঁর নবীগণের প্রতিনিধি ও বিশ্বস্ত আমানতদার।

আর আল্লাহ যাকে তাঁর কিতাব হিফজ করার জন্য বিশেষায়িত করেছেন, তার ওপর কর্তব্য হলো যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করা, এর বাণীর হাকিকত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো অনুধাবন করা এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো স্পষ্ট করা। মহান আল্লাহ বলেন: “এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে।” [সোয়াদ: ২৯] মহান আল্লাহ আরও বলেন: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?” [মুহাম্মদ: ২৪]।

আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কুরআনের হক আদায় করে, একে যথাযথভাবে রক্ষা করে, এর ইনসাফ কায়েম করে এবং কুরআন ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত অন্বেষণ করে না।

 

‌‌বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:

এই বিষয়টি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তার মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:

১ - আমি যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যাদের সম্পর্কে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
«خيركم من تعلم القرآن وعلمه» (1). ألا وإن من تعليمه؛ تعليم ما فيه القيام بحقه وهذا منه إن شاء الله.

2 - أهمية هذا الموضوع وعدم وجود مؤلف خاص به يجمع أحكامه، يقربه ويجعله في متناول قارئ القرآن.

3 - تباين أقوال أهل العلم في جملة من أهم أحكامه، فمن قائل بوجوبه بحيث لا يسع القارئ تركه، ومن قائل بسنيته ومثل ذلك اختلافهم في مواضع السجود وما يسجد فيه، وما لا يسجد، وكذا اختلافهم في اشتراط الطهارة له واستقبال القبلة، وستر العورة،

ومن ذلك: اختلافهم في جواز السجود في أوقات النهي عن الصلاة، أو عدم جوازه ومن ذلك التكبير في أوله، وفي القيام منه، وكذا السلام.

وغير ذلك كثير. فأحببت أن أشارك بجهد في هذا أتتبع فيه القول الذي تسنده الأدلة، وتشهد له الأصول.

 

‌‌منهج البحث:

وقد اتبعت في بحثي لهذا الموضوع المنهج التالي:

1 - أقوم بعرض المسألة الحاضرة بذكر مواضع الاتفاق، إن وجد ثم أتبع ذلك بموضع الخلاف، ذاكرًا القول أولاً فالقائل، ثم أتبع ذلك بذكر الأدلة، وما أورد عليها من مناقشة.

2 - رجحت ما ظهر لي رجحانه، حين عذر علي التوفيق بين الأقوال، وإعمال جميع ما ورد في المسألة من أدلة صحيحة.

3 - عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها في كتاب الله، بذكر السورة، ورقم الآية.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب فضائل القرآن، باب خيركم من تعلم القرآن وعلمه (6/ 108).
«তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়» (১)। জেনে রাখা আবশ্যক যে, সেই শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হলো—তাতে বিদ্যমান হুকুমসমূহ যথাযথভাবে পালনের শিক্ষা দেওয়া; আর ইনশাআল্লাহ, এই কিতাবটিও তারই অংশ।

২ - এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং এই সংক্রান্ত আহকামসমূহকে (বিধিব্যবস্থা) একত্রিত করে এমন কোনো স্বতন্ত্র রচনার অনুপস্থিতি, যা বিষয়টিকে সহজবোধ্য করবে এবং কুরআন পাঠকের হাতের নাগালে নিয়ে আসবে।

৩ - এর গুরুত্বপূর্ণ আহকামসমূহের বেশ কিছু ক্ষেত্রে আলেমগণের মতামতের ভিন্নতা। তাঁদের মধ্যে কেউ একে ওয়াজিব (وجوب) বা আবশ্যক হওয়ার কথা বলেছেন, যা বর্জন করার অবকাশ পাঠকের নেই; আবার কেউ একে সুন্নাত (سنة) হওয়ার কথা বলেছেন। অনুরূপভাবে তাঁদের মতভেদ রয়েছে সিজদাহর স্থানসমূহ নিয়ে—কিসে সিজদাহ দিতে হবে আর কিসে দিতে হবে না। তেমনিভাবে সিজদাহর জন্য পবিত্রতা (طهارة) অর্জন, কিবলামুখী হওয়া এবং সতর (عورة) আবৃত রাখা শর্ত হওয়া বিষয়েও তাঁদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সালাত আদায়ের নিষিদ্ধ সময়গুলোতে সিজদাহ করা বৈধ (جواز) হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে তাঁদের মতপার্থক্য। আরও রয়েছে সিজদাহর শুরুতে তাকবির (تكبير) বলা, সিজদাহ থেকে ওঠার সময় তাকবির বলা এবং অনুরূপভাবে সালাম (سلام) প্রদান করা সংক্রান্ত মতভেদ।

এছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে। তাই আমি এই বিষয়ে একটি প্রচেষ্টায় শরিক হতে চেয়েছি, যেখানে আমি সেই মতটি অনুসরণ করব যা দলিলসমূহ (أدلة) দ্বারা সমর্থিত এবং মূলনীতিসমূহ (أصول) যার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি:

এই বিষয়ের গবেষণায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - আমি আলোচ্য বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয়গুলো উল্লেখ করি (যদি থাকে), অতঃপর মতভেদের (خلاف) বিষয়টি উল্লেখ করি। এক্ষেত্রে প্রথমে বক্তব্য এবং পরে বক্তার নাম উল্লেখ করি; এরপর দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণনা করি এবং তার ওপর যেসব পর্যালোচনা উত্থাপিত হয়েছে তা উল্লেখ করি।

২ - যখন মতামতগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা এবং উক্ত বিষয়ে বর্ণিত সকল সহিহ (صحيحة) দলিল অনুযায়ী আমল করা আমার নিকট দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, তখন আমার নিকট যে মতটি প্রাধান্যযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে, আমি সেটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছি।

৩ - আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে আল্লাহর কিতাবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে সম্পৃক্ত করেছি—সুরা এবং আয়াত নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি ফাযায়িলুল কুরআন কিতাবে, 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়' অনুচ্ছেদে (৬/ ১০৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
4 - خرجت الأحاديث الواردة في البحث، وما كان منها في صحيح البخاري أو مسلم اكتفيت به، وما لم يخرجه أحدهما أو كلاهما، خرجته من الصحاح والمسانيد المتبقية، مع بيان درجة الحديث وقد اعتمدت في ذلك على ما ذكره أهل العلم في ذلك.

5 - خرجت الآثار الواردة في البحث من مظانها، مع بيان درجة الأثر إن وجدت في ذلك نقلاً.

6 - ترجمت للأعلام الواردة في البحث باستثناء الصحابة، والأئمة الأربعة لشهرتهم فلا يحتاجون إلى تعريف، وجعلت ذلك في ملحق خاص تجنبًا لإثقال الحواشي.

7 - عملت في آخر البحث فهرسًا اشتمل على ما يلي:

1 - فهرس للآيات القرآنية.

2 - فهرس للأحاديث.

3 - فهرس للآثار.

4 - فهرس للمراجع.

5 - فهرس لموضوعات البحث.

 

‌‌خطة البحث:

تشتمل خطة البحث على: تمهيد، وثلاثة فصول، وخاتمة:

التمهيد وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: في فضل تلاوة القرآن.

المبحث الثاني: في ما يلزم قارئ القرآن، وحامله من تعظيم القرآن وحرمته عند التلاوة.

المبحث الثالث: في التعريف بسجود التلاوة.

الفصل الأول: في حكم سجود التلاوة؛ وفيه مبحثان:
4 - আমি গবেষণায় উল্লিখিত হাদিসসমূহ তাখরিজ (تخريج) করেছি; এর মধ্যে যেগুলো সহীহ বুখারী বা মুসলিমে রয়েছে, আমি কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যেগুলো এই দুই কিতাবের কোনোটিতে বা উভয়টিতে নেই, সেগুলো আমি অন্যান্য সহীহ ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ থেকে তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং হাদিসের মান (درجة) বর্ণনা করেছি। এক্ষেত্রে আমি এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি।

5 - আমি গবেষণায় বর্ণিত আসার (الآثار) সমূহ সেগুলোর সম্ভাব্য উৎস থেকে বর্ণনা করেছি এবং আসার (الآثار)-এর মান (درجة) সংক্রান্ত কোনো উদ্ধৃতি পাওয়া গেলে তা উল্লেখ করেছি।

6 - সাহাবী এবং চার ইমাম ব্যতীত আমি গবেষণায় উল্লিখিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি; কারণ তাঁরা অত্যন্ত সুপরিচিত বিধায় তাঁদের পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। পাদটীকাকে ভারাক্রান্ত করা এড়াতে আমি জীবনীর এই অংশটি একটি বিশেষ পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি।

7 - গবেষণার শেষে আমি একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি, যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

1 - কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।

2 - হাদিসসমূহের সূচি।

3 - আসার (الآثار)-এর সূচি।

4 - তথ্যসূত্রের সূচি।

5 - গবেষণার বিষয়বস্তুর সূচি।

 

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত:

ভূমিকা অংশে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াতকারী ও হাফেজের জন্য তিলাওয়াতের সময় কুরআনের মর্যাদা রক্ষা ও সম্মান প্রদর্শনের অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিজদায়ে তিলাওয়াতের পরিচয় প্রসঙ্গে।

প্রথম অধ্যায়: সিজদায়ে তিলাওয়াতের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে; এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأول: في حكمه للتالي.

المبحث الثاني: في حكمه للمستمع والسامع.

الفصل الثاني: في عدد سجدات التلاوة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: ما اتفق على السجود فيه.

المبحث الثاني: ما اختلف في السجود فيه.

الفصل الثالث: مواضع السجود من آيات سجود التلاوة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: ما اتفق على موضعه.

المبحث الثاني: ما اختلف في موضعه.

الفصل الرابع: في أحكام سجود التلاوة؛ وفيه مبحثان:

المبحث الأول: في أحكامه داخل الصلاة.

المبحث الثاني: في أحكامه خارج الصلاة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তিলওয়াতকারীর জন্য এর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারী (المستمع) ও সাধারণ শ্রবণকারীর (السامع) জন্য এর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তিলওয়াতে সিজদাহর সংখ্যা বর্ণনায়, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যে ক্ষেত্রে সিজদাহ করার ব্যাপারে ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যে ক্ষেত্রে সিজদাহ করার ব্যাপারে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: তিলওয়াতে সিজদাহর আয়াতসমূহ থেকে সিজদাহর স্থানসমূহ, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যার স্থানের ব্যাপারে ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যার স্থানের ব্যাপারে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: তিলওয়াতে সিজদাহর বিধানাবলি (أحكام) প্রসঙ্গে; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাতের অভ্যন্তরে এর বিধানাবলি (أحكام) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের বাইরে এর বিধানাবলি (أحكام) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التمهيد

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: في فضل تلاوة القرآن.

المبحث الثاني: في ما يلزم قارئ القرآن وحامله من تعظيم القرآن وحرمته.

المبحث الثالث: في التعريف بسجود التلاوة.
প্রারম্ভিকা

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও এর মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে কুরআন তিলাওয়াতকারী এবং বাহকের (হিফযকারী) উপর যা আবশ্যক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিজদায়ে তিলাওয়াতের পরিচিতি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول

فضل تلاوة القرآن

حثّ سبحانه عباده المؤمنين على تلاوة كتابه العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، ووعد من قام بحقه في ذلك بالأجر العظيم، والثواب الجزيل، وقد تواترت النصوص في الكتاب والسنة في بيان ذلك.

أولا: من الكتاب:

قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ * لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ} [فاطر: 29، 30].

فالذين يتلون كتاب الله: هم الذين يستمرون على تلاوته ويداومونها، والمراد بالتجارة ثواب الطاعة، ومعنى {لَنْ تَبُورَ} لن تكسد ولن تهلك، وهي صفة للتجارة، والإخبار برجائهم لثواب ما عملوا بمنزلة الوعد بحصول مرجوهم (1).

قال مطرف بن عبد: قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ .. } الآية: هذه آية القراء (2).

ثانيًا: من السنة:

1 - حديث ابن عمر؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا حسد إلا في اثنتين

--------------------------------------------

(1) فتح القدير للشوكاني (4/ 348) زاد المسير لابن الجوزي (6/ 486).

(2) جامع البيان عن تأويل القرآن لابن جرير الطبري (22/ 133) وزاد المسير (6/ 486).
প্রথম পরিচ্ছেদ

কুরআন তিলাওয়াতের মর্যাদা

মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে তাঁর সুমহান কিতাব তিলাওয়াত করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, যার সামনে বা পেছন কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা বাতিল আসার সুযোগ নেই। আর তিনি ওই ব্যক্তিদের মহা প্রতিদান ও প্রচুর সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা এর যথাযথ হক আদায় করে। এ বিষয়টি বর্ণনায় কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ মুতাওয়াতির (تواترت) পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রথমত: কুরআন থেকে:

আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ধ্বংস হবে না। যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিদান দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল ও অতিশয় গুণগ্রাহী।} [ফাত্বির: ২৯, ৩০]।

যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে তারা হলো তারা, যারা নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখে। এখানে 'ব্যবসা' বলতে আনুগত্যের সওয়াব বা প্রতিদানকে বোঝানো হয়েছে। আর {لَنْ تَبُورَ} এর অর্থ হলো তা কখনো মন্দা হবে না এবং ধ্বংস হবে না; এটি মূলত ব্যবসার একটি বৈশিষ্ট্য। তাদের কৃতকর্মের সওয়াবের আশা করার সংবাদ প্রদান মূলত তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভের প্রতিশ্রুতির স্থলাভিষিক্ত (১)।

মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ বলেন: আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে...} শেষ পর্যন্ত—এই আয়াতটি হলো কারী বা তিলাওয়াতকারীদের আয়াত (২)।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে:

১ - ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুইটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ঈর্ষা নেই...

--------------------------------------------

(১) শওকানি কৃত ফাতহুল কাদির (৪/৩৪৮) এবং ইবনুল জাওজি কৃত জাদুল মাসির (৬/৪৮৬)।

(২) ইবনে জারির তাবারী কৃত জামিউল বয়ান আন তাবীলিল কুরআন (২২/১৩৩) এবং জাদুল মাসির (৬/৪৮৬)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
رجل علمه الله القرآن فهو يتلوه آناء الليل، وآناء النهار فسمعه جار له: فقال ليتني أوتيت مثل ما أوتي فلان، فعملت مثل ما يعمل، ورجل آتاه الله مالاً فهو يهلكه في الحق، فقال رجل: ليتني أوتيت مثل ما أوتي فلان فعملت مثل ما يعمل» (1).

2 - حديث عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مثل الذي يقرأ القرآن وهو حافظ له مع السفرة الكرام، ومثل الذي يقرؤه وهو يتعاهده وهو عليه شديد فله أجران» (2).

3 - حديث أبي موسى الأشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن مثل الأترجة ريحها طيب وطعمها طيب … » (3).

4 - حديث أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: «اقرأوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعًا لأصحابه» (4).

5 - حديث عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: «يقال لصاحب القرآن: اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا؛ فإن منزلتك عند آخر آية تقرؤها» (5).

6 - حديث عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: «من قرأ حرفًا من

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب فضائل القرآن، باب اغتباط صاحب القرآن (6/ 108).

(2) أخرجه البخاري في كتاب تفسير القرآن، باب سورة (عبس) (6/ 80) ومسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها، باب فضل الماهر بالقرآن، والذي يتتعتع فيه (1/ 549).

(3) أخرجه البخاري في عدة مواضع؛ منها: كتاب فضائل القرآن، باب فضل القرآن على سائر الكلام (6/ 107) ومسلم في كتاب صلاة المسافرين، باب من يقوم بالقرآن ويعلمه (1/ 558) حديث (266).

(4) أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين، باب فضل قراءة القرآن وسورة البقرة (1/ 553) (252).

(5) أخرجه أبو داود في كتاب الصلاة، باب استحباب الترتيل في القرآن (2/ 73) (1464) والترمذي في أبواب فضائل القرآن (5/ 177) (2914) وقال: حديث حسن صحيح.
একজন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন শিখিয়েছেন, সে তা রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তিলাওয়াত করে। তার এক প্রতিবেশী তা শুনে বলল: 'হায়! আমাকেও যদি অমুক ব্যক্তির মতো (জ্ঞান) দেওয়া হতো, তবে আমিও তার মতো আমল করতাম।' আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা হকের পথে ব্যয় করে। তখন অন্য এক ব্যক্তি বলল: 'হায়! আমাকেও যদি অমুক ব্যক্তির মতো (সম্পদ) দেওয়া হতো, তবে আমিও তার মতো আমল করতাম।' (১)।

2 - আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা মুখস্থ রাখে, সে সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা বারবার পড়ার চেষ্টা করে অথচ তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব» (২)।

3 - আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার এবং স্বাদও উত্তম … » (৩)।

4 - আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন তা তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে» (৪)।

5 - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কুরআনের অধিকারীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করো, আর তারতীলের সাথে পাঠ করো যেভাবে দুনিয়াতে পাঠ করতে; কারণ তোমার মর্যাদা হবে তোমার পাঠ করা সর্বশেষ আয়াতের নিকট» (৫)।

6 - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি (কুরআনের) একটি অক্ষর পাঠ করবে

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি ফাযায়িলুল কুরআন গ্রন্থে, 'কুরআনের অধিকারীর প্রতি ঈর্ষা পোষণ' পরিচ্ছেদে (৬/১০৮) বর্ণনা করেছেন।

(2) ইমাম বুখারি এটি তাফসীরুল কুরআন গ্রন্থে, 'সুরা আবাসা' পরিচ্ছেদে (৬/৮০) এবং ইমাম মুসলিম সালাতুল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা গ্রন্থে, 'কুরআনে পারদর্শীর মর্যাদা এবং যে ব্যক্তি তিলাওয়াতের সময় আটকে যায় তার মর্যাদা' পরিচ্ছেদে (১/৫৪৯) বর্ণনা করেছেন।

(3) ইমাম বুখারি এটি বেশ কিছু স্থানে বর্ণনা করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে: ফাযায়িলুল কুরআন গ্রন্থে, 'সকল বাণীর ওপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব' পরিচ্ছেদ (৬/১০৭) এবং ইমাম মুসলিম সালাতুল মুসাফিরিন গ্রন্থে, 'যে ব্যক্তি কুরআন নিয়ে দাঁড়ায় এবং তা শিক্ষা দেয়' পরিচ্ছেদ (১/৫৫৮) হাদিস (২৬৬)।

(4) ইমাম মুসলিম এটি সালাতুল মুসাফিরিন গ্রন্থে, 'কুরআন ও সুরা বাকারাহ পাঠের মর্যাদা' পরিচ্ছেদে (১/৫৫৩) (২৫২) বর্ণনা করেছেন।

(5) আবু দাউদ এটি সালাত গ্রন্থে, 'কুরআনে তারতীল মুস্তাহাব হওয়া' পরিচ্ছেদে (২/৭৩) (১৪৬৪) এবং তিরমিজি ফাযায়িলুল কুরআন এর অধ্যায়গুলোতে (৫/১৭৭) (২৯১৪) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
كتاب الله تعالى فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقوال: ألم حرف ولكن ألف حرف، ولام حرف وميم حرف» (1).

7 - حديث أنس بن مالك؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن لله أهلين من الناس» قالوا: يا رسول الله! من هم؟ قال: «هم أهل القرآن، أهل الله وخاصته» (2).

هذا غيض من فيض؛ اخترت منه ما أحسبه كافيًا بالغرض الذي سيق لأجله.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في أبواب فضائل القرآن، باب ما جاء من قرأ حرفًا من كتاب الله ما له من الأجر (5/ 175) حديث (2910) وقال: حديث حسن صحيح، غريب من هذا الوجه.

(2) أخرجه ابن ماجه في مقدمة السنن، باب فضل من تعلم القرآن وعلمه (1/ 78) حديث 215 وقال في الزوائد: إسناده صحيح.
আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে (যে ব্যক্তি একটি হরফ পাঠ করল), তার জন্য একটি পুণ্য রয়েছে এবং প্রতিটি পুণ্য তার দশ গুণের সমান। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি হরফ; বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ এবং ‘মীম’ একটি হরফ (১)।

৭ - আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু আপনজন রয়েছেন।” তাঁরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা কারা? তিনি বললেন: “তাঁরা হলেন কুরআনের অনুসারীগণ (আহলুল কুরআন), যাঁরা আল্লাহর পরিবারভুক্ত এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বান্দা” (২)।

এটি ছিল প্রাচুর্যের মাঝে সামান্য কিছু অংশ মাত্র; আমি তা থেকে এমন কিছু নির্বাচন করেছি যা সেই উদ্দেশ্যের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি যার জন্য এটি উপস্থাপিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি ‘কুরআনের ফজিলতসমূহ’ অধ্যায়ে, ‘আল্লাহর কিতাব থেকে যে ব্যক্তি একটি হরফ পাঠ করল তার সওয়াব’ পরিচ্ছেদে (৫/ ১৭৫), হাদিস নং (২৯১০) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি সুন্দর (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح), এই সূত্রে এটি একক (غريب)।

(২) ইবনে মাজাহ এটি ‘সুনান’-এর মুকাদ্দিমায়, ‘কুরআন শিক্ষা ও প্রদানের ফজিলত’ পরিচ্ছেদে (১/ ৭৮), হাদিস নং ২১৫ বর্ণনা করেছেন এবং ‘আজ-জাওয়াইদ’-এ বলেছেন: এর সূত্র (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثاني

في ما يلزم قارئ القرآن وحامله

من تعظيم القرآن وحرمته عند تلاوة القرآن

ذكر أهل العلم جملة من الأمور التي ينبغي على قارئ القرآن الإتيان بها عند التلاوة؛ فمن ذلك:

1 - أنه ينبغي له أن يستاك ويتخلل فيطيب فاه عند القراءة؛ إذ هو طريق القرآن (1).

2 - أن لا يقرأ القرآن إلا على طهارة (2)، إلا أن يكون جنبًا فيجب عليه الاغتسال قبل القراءة، ومثله الحائض عند أكثر أهل العلم فلا تقرأ شيئًا من القرآن حتى تطهر.

3 - أن لا يمس القرآن إلا على طهارة (3)، وهذا غير مختص بالجنب، بل هو في حق المحدث حدثًا أصغر على ما ذهب إليه جمهور أهل العلم.

4 - ومن ذلك ترك قراءته في المواضع القذرة، وأن يختار لذلك المكان النظيف، وذلك تعظيمًا للقرآن (4).

5 - أنه يستحب التعوذ قبل القراءة (5)، لقوله تعالى: {فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27) التذكار (107) كشاف القناع (1/ 430) التبيان (58).

(2) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27) كشاف القناع (1/ 431).

(3) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27).

(4) كشاف القناع (1/ 432) التبيان (61).

(5) كشاف القناع (1/ 431) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কুরআন তিলাওয়াতকারী ও বাহকের জন্য যা আবশ্যক

কুরআন তিলাওয়াতের সময় কুরআনের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে

আলেমগণ (أهل العلم) এমন কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন যা কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য তিলাওয়াতের সময় পালন করা উচিত; তার মধ্যে রয়েছে:

১ - তিলাওয়াতের সময় তার মেসওয়াক করা ও দাঁত খিলাল করা উচিত যাতে তার মুখ সুগন্ধিযুক্ত হয়; কারণ মুখ হলো কুরআনের পথ (১)।

২ - পবিত্রতা (طهارة) ব্যতীত কুরআন তিলাওয়াত না করা (২), তবে কেউ যদি জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় থাকে তবে তিলাওয়াতের পূর্বে তার ওপর গোসল করা আবশ্যক (واجب)। অধিকাংশ আলেমদের (أهل العلم) মতে ঋতুবতী নারীর বিধানও তদ্রূপ, তাই সে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত কুরআনের কিছুই তিলাওয়াত করবে না।

৩ - পবিত্রতা (طهارة) অবস্থা ব্যতীত কুরআন স্পর্শ না করা (৩), এটি কেবল জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং জমহুর (جمهور) আলেমদের মত অনুযায়ী এটি ছোট নাপাকি (حدث أصغر) থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

৪ - এর অন্তর্ভুক্ত হলো অপবিত্র স্থানে তিলাওয়াত করা বর্জন করা এবং তিলাওয়াতের জন্য পরিচ্ছন্ন স্থান নির্বাচন করা, এটি কুরআনের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ (৪)।

৫ - তিলাওয়াতের পূর্বে তাআউউয (تعوذ) পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب) (৫), আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে...

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১/ ২৭), আত-তিযকার (১০৭), কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৩০), আত-তিবইয়ান (৫৮)।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১/ ২৭), কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৩১)।

(৩) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১/ ২৭)।

(৪) কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৩২), আত-তিবইয়ান (৬১)।

(৫) কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৩১), আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১/ ২৭)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [النحل: 98] وأن يقرأ: (بسم الله الرحمن الرحيم) إذا كان ابتداء قراءته من أول السورة (1).

6 - أن يحمد الله عند الفراغ من القراءة على توفيقه ونعمته بجعله من آل القرآن، وأن يسأل الثبات عليها (2).

7 - أنه يستحب له أن يخلو لتلاوته حتى لا يقطع عليه أحد بكلام، فإن كان ولا بد، لم يقطع قراءته ساعة فساعة بكلام الآدميين من غير ضرورة (3).

8 - أن تكون قراءته بتدبر، وتفهم، وخشوع، وأن يستعمل فيه ذهنه وفهمه حتى يعقل ما يخاطب به، ويتأمل الأوامر والنواهي ويعتقد قبول ذلك (4). والأدلة على ذلك أكثر من أن تحصى؛ قال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد: 24] وقال تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} [ص: 29].

9 - أن يقف على آية الوعد فيرغب إلى الله تعالى، ويسأله من فضله، وأن يقف على آية الوعيد فيستجير بالله منه (5).

10 - أن يمسك عن القراءة إذا تثاءب حتى ينتهي من التثاؤب، ثم يستأنف القراءة (6)، وقد قال صلى الله عليه وسلم: «إذا تثاءب أحدكم فليمسك بيده على فيه، فإن الشيطان يدخل» (7).

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27).

(2) كشاف القناع (14/ 430).

(3) الجامع الأحكام القرآن (1/ 27).

(4) كشاف القناع (1/ 431) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27) التذكار (109) التبيان (65).

(5) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27) التبيان (71).

(6) الجامع لأحكام القرآن (1/ 27) كشاف القناع (1/ 431) التبيان (95).

(7) أخرجه مسلم في كتاب الزهد، باب تشميت العاطس وكراهية التثاؤب (4/ 2293).
"অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন" [আন-নাহল: ৯৮] এবং তিনি যেন পাঠ করেন: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) যদি তার তিলাওয়াতের শুরু সূরার প্রথম থেকে হয় (১)।

৬ - তিলাওয়াত সমাপ্তির সময় আল্লাহর তাওফিকের জন্য এবং তাঁকে কুরআনের অনুসারী করার নেয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করা এবং এর ওপর অটল থাকার তাওফিক প্রার্থনা করা (২)।

৭ - তার জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো তিলাওয়াতের জন্য নির্জনতা অবলম্বন করা যাতে কেউ কথার মাধ্যমে তাতে ব্যাঘাত না ঘটায়। তবে একান্ত প্রয়োজন না হলে মানুষের কথাবার্তার কারণে বারবার তিলাওয়াত বন্ধ না করা (৩)।

৮ - তার তিলাওয়াত হতে হবে গভীর চিন্তা (تدبر), অনুধাবন ও একাগ্রতার সাথে এবং তিলাওয়াতে নিজ মেধা ও বোধশক্তি প্রয়োগ করা যাতে সে তার প্রতি যা সম্বোধন করা হচ্ছে তা বুঝতে পারে; আদেশ ও নিষেধগুলো নিয়ে চিন্তা করে এবং তা গ্রহণের দৃঢ় বিশ্বাস রাখে (৪)। এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?} [মুহাম্মদ: ২৪] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে এবং বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে} [ছোয়াদ: ২৯]।

৯ - যখন সে সুসংবাদের (وعد) আয়াতের নিকট পৌঁছাবে তখন আল্লাহ তাআলার প্রতি অনুরাগী হবে এবং তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে; আর যখন শাস্তির (وعيد) আয়াতের নিকট পৌঁছাবে তখন তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (৫)।

১০ - যখন হাই আসবে তখন হাই শেষ হওয়া পর্যন্ত তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকা, অতঃপর পুনরায় তিলাওয়াত শুরু করা (৬)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কারো যখন হাই আসে, সে যেন হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে, কারণ শয়তান প্রবেশ করে» (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১/২৭)।

(২) কাশশাফুল কিনা (১৪/৪৩০)।

(৩) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১/২৭)।

(৪) কাশশাফুল কিনা (১/৪৩১), আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১/২৭), আত-তিযকার (১০৯), আত-তিবইয়ান (৬৫)।

(৫) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১/২৭), আত-তিবইয়ান (৭১)।

(৬) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (১/২৭), কাশশাফুল কিনা (১/৪৩১), আত-তিবইয়ান (৯৫)।

(৭) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যুহদ অধ্যায়ে, হাঁচিদাতার দোয়ার জবাব দেয়া এবং হাই তোলা অপছন্দীয় হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে (৪/২২৯৩)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
11 - إذا ابتدأ القراءة فينبغي أن تكون بدايته من أول الكلام المرتبط بعضه بعضا، إذا ابتدأ القراءة من وسط السورة، وأن يقف على الكلام المرتبط، إذا لم يقف على آخر السورة (1).

12 - أن يمسك عن القراءة إذا عرض له ريح حتى يتكامل خروجها، ثم يعود إلى القراءة (2).

13 - ومن حرمته ألا يجهر بعضٌ على بعض في القراءة فيفسد عليه، حتى يبغض إليه ما يسمع ويكون كهيئة المغالبة (3).

14 - ألا يجهر بقراءته بين مصلين، أو نيام جهرا يؤذيهم (4).

15 - ومن حرمته ألا يقرأه في الأسواق، ولا في مواطن اللغط واللغو، ومجمع السفهاء (5).

16 - ومن حرمته إذا وضع المصحف ألا يتركه منشورًا، وألا يضع فوقه شيئًا من الكتب حتى يكون أبدًا عاليًا لسائر الكتب (6).

17 - ومن حرمته أن يضعه في حجره إذا قرأه أو على شيء بين يديه ولا يضعه بالأرض (7).

--------------------------------------------

(1) التبيان (92).

(2) كشاف القناع (1/ 432) التبيان (95).

(3) الجامع لأحكام القرآن (1/ 29) كشاف القناع (1/ 431).

(4) كشاف القناع (431) الشرح الصغير (1/ 577).

(5) كشاف القناع (1/ 433) الجامع لأحكام القرآ، (1/ 29).

(6) الجامع لأحكام القرآن (1/ 28).

(7) الجامع لأحكام القرآن (1/ 28).
11 - যখন কেউ তিলাওয়াত শুরু করবে, তখন সূরার মাঝখান থেকে শুরু করলেও এমন স্থান থেকে আরম্ভ করা উচিত যা অর্থগতভাবে পরবর্তী অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ। একইভাবে, সূরার শেষে না থামলে অর্থগতভাবে সংগতিপূর্ণ স্থানেই বিরতি দেওয়া উচিত (1)।

12 - বায়ু নির্গত হওয়ার উপক্রম হলে তিলাওয়াত বন্ধ রাখা, যতক্ষণ না তা পূর্ণরূপে নির্গত হয়। এরপর পুনরায় তিলাওয়াত শুরু করা (2)।

13 - কুরআনের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হলো তিলাওয়াতের সময় একজন অন্যজনের ওপর উচ্চস্বরে না পড়া যাতে অন্যের পাঠে বিঘ্ন ঘটে; কারণ এতে শ্রবণকারী যা শুনছে তার প্রতি তার মনে বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং বিষয়টি পারস্পরিক প্রতিযোগিতার মতো রূপ নিতে পারে (3)।

14 - সালাত আদায়কারী কিংবা নিদ্রিত ব্যক্তিদের মাঝে এমন উচ্চস্বরে তিলাওয়াত না করা যা তাদের কষ্টের কারণ হয় (4)।

15 - কুরআনের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হলো বাজারে, শোরগোল ও অনর্থক বাক্যালাপের স্থানে এবং নির্বোধদের সমাবেশে এটি তিলাওয়াত না করা (5)।

16 - কুরআনের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হলো যখন মুসহাফ রাখা হয়, তখন তা খোলা অবস্থায় ফেলে না রাখা এবং এর ওপর অন্য কোনো কিতাব না রাখা, যাতে এটি সর্বদা অন্য সব কিতাবের উঁচুতে থাকে (6)।

17 - কুরআনের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হলো তিলাওয়াতের সময় তা কোলে রাখা অথবা সামনে কোনো কিছুর ওপর রাখা এবং সরাসরি মাটিতে না রাখা (7)।

--------------------------------------------

(1) আল-তিবিয়ান (92)।

(2) কাশশাফুল কিনা (1/ 432), আল-তিবিয়ান (95)।

(3) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (1/ 29), কাশশাফুল কিনা (1/ 431)।

(4) কাশশাফুল কিনা (431), আল-শারহুল সাগির (1/ 577)।

(5) কাশশাফুল কিনা (1/ 433), আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (1/ 29)।

(6) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (1/ 28)।

(7) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন (1/ 28)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الثالث

في التعريف بسجود التلاوة

سجود التلاوة: أي: السجود بسبب التلاوة.

والإضافة فيه من باب إضافة المسبب إلى السبب (1)، كخيار العيب، وخيار الرؤية، وحج البيت، وأقوى وجوه الاختصاص اختصاص المسبب بالسبب (2).

وقد أورد عليه: أن السماع سبب في حق المستمع، فكان ينبغي أن يكون التعريف: بسجود التلاوة والسماع.

وقد أجاب عنه العيني: بأن الإجماع منعقد على كون التلاوة سببًا، واختلفوا في سببية السماع، فقال بعضهم: ليس السماع سببًا، ولذلك اقتصرت إضافة السجدة إلى التلاوة دون السماع، أو يقال: إن التلاوة أصل في الباب؛ لأنها إذا لم توجد لم يوجد السماع فكان ذكرها مشتملاً على السماع من وجه فاكتفي به (3).

--------------------------------------------

(1) البناية شرح الهداية للعينين (2/ 709) حاشية ابن قاسم على الروض المربع (2/ 232).

(2) البناية (2/ 709).

(3) المصدر السابق والصفحة.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সেজদায়ে তেলাওয়াতের (سجود التلاوة) পরিচয় প্রসঙ্গে

সেজদায়ে তেলাওয়াত (سجود التلاوة): অর্থাৎ, তেলাওয়াতের কারণে যে সেজদা করা হয়।

আর এখানে সম্বন্ধটি হলো কারণের দিকে ফলাফলের সম্বন্ধ (إضافة المسبب إلى السبب) করার অন্তর্ভুক্ত (১), যেমন: ত্রুটিজনিত ইখতিয়ার (خيار العيب), দর্শনের ইখতিয়ার (خيار الرؤية) এবং বাইতুল্লাহর হজ; আর বিশেষায়নের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো কারণের সাথে ফলাফলের বিশেষায়ন (اختصاص المسبب بالسبب) (২)।

এর ওপর একটি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে: শ্রবণকারীর ক্ষেত্রে শ্রবণই হলো কারণ, তাই সংজ্ঞাটি 'তেলাওয়াত ও শ্রবণের সেজদা' হওয়া উচিত ছিল।

আল-আইনী এর উত্তর দিয়েছেন যে: তেলাওয়াত কারণ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে শ্রবণের কারণ হওয়া প্রসঙ্গে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: শ্রবণ কোনো কারণ নয়; একারণেই সেজদার সম্বন্ধ কেবল তেলাওয়াতের সাথেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, শ্রবণের সাথে নয়। অথবা বলা যায়: তেলাওয়াতই হলো এ অধ্যায়ের মূল ভিত্তি (أصل); কারণ যদি তেলাওয়াত না থাকে তবে শ্রবণও বিদ্যমান থাকে না। তাই তেলাওয়াতের উল্লেখ একদিক থেকে শ্রবণকেও অন্তর্ভুক্ত করে, একারণেই একে যথেষ্ট মনে করা হয়েছে (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-বিনায়াহ শারহুল হিদায়াহ, আল-আইনী (২/ ৭০৯); হাশিয়াতু ইবনি কাসিম আলা আর-রওদিল মুরবি' (২/ ২৩২)।

(২) আল-বিনায়াহ (২/ ৭০৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ও পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول

في حكم سجود التلاوة

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: في حكمه للتالي.

المبحث الثاني: في حكمه للمستمع والسامع.
প্রথম পরিচ্ছেদ

সিজদায়ে তিলাওয়াতের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তিলাওয়াতকারীর জন্য এর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শ্রোতা ও শ্রবণকারীর জন্য এর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول

في حكمه للتالي

وقد اختلف أهل العلم فيه على ثلاثة أقوال:

القول الأول: إن ذلك واجب مطلقًا، أي: في الصلاة وخارجها:

ذهب إليه الحنفية (1)، وأحمد في رواية عنه (2)، اختارها ابن تيمية (3)، وقد استدل هؤلاء بما يلي:

أولا: من الكتاب:

1 - قوله تعالى: {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ * وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} [الانشقاق: 20، 21].

ووجه الدلالة: أن الله ذمهم على ترك السجود، وإنما استحق الذم بترك الواجب (4).

ونوقش الاستدلال من أوجه:

الوجه الأول: أنه محمول على الصلاة (5).

الوجه الثاني: أن الآية وردت في ذم الكفار وتركهم السجود

--------------------------------------------

(1) انظر: الهداية (1/ 87) المبسوط (2/ 4) بدائع الصنائع (1/ 180) البناية (2/ 716) تبيين الحقائق (1/ 205).

(2) الإنصاف (2/ 193) المبدع (2/ 28).

(3) مجموع الفتاوى (23/ 139) الإنصاف (2/ 193).

(4) البناية (2/ 719) المبسوط (2/ 4) بدائع الصنائع (1/ 180) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 127) المبدع (2/ 28) المجموع (4/ 61) الحاوي (2/ 200) المغني (2/ 365).

(5) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 137).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

তিলাওয়াতকারীর জন্য এর বিধান প্রসঙ্গে

এ বিষয়ে আহলে ইলমগণ তিনটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি সাধারণভাবে ওয়াজিব (واجب), অর্থাৎ: সালাতের ভেতরে এবং বাইরে:

হানাফিগণ (১), এবং আহমাদ তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী (২) এই মত পোষণ করেছেন। ইবনে তাইমিয়া এটি পছন্দ করেছেন (৩)। তারা নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

প্রথমত: কিতাব (কুরআন) থেকে:

১ - আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের কী হয়েছে যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সেজদা করে না।} [আল-ইনশিকাক: ২০, ২১]।

দলিল প্রয়োগের ধরণ (وجه الدلالة): আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেজদা পরিত্যাগ করার কারণে নিন্দা করেছেন। আর কেবল ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করার কারণেই কেউ নিন্দার যোগ্য হয় (৪)।

এই ইস্তিদলাল (الاستدلال) নিয়ে কয়েকটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: এটি সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট (৫)।

দ্বিতীয় দিক: আয়াতটি কাফেরদের নিন্দা এবং তাদের সেজদা ত্যাগ করার প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-হিদায়া (১/ ৮৭), আল-মাবসুত (২/ ৪), বাদায়েউস সানায়ে (১/ ১৮০), আল-বিনায়া (২/ ৭১৬), তাবিইনুল হাকায়েক (১/ ২০৫)।

(২) আল-ইনসাফ (২/ ১৯৩), আল-মুবদি (২/ ২৮)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৩/ ১৩৯), আল-ইনসাফ (২/ ১৯৩)।

(৪) আল-বিনায়া (২/ ৭১৯), আল-মাবসুত (২/ ৪), বাদায়েউস সানায়ে (১/ ১৮০), মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (২৩/ ১২৭), আল-মুবদি (২/ ২৮), আল-মাজমু (৪/ ৬১), আল-হাউয়ি (২/ ২০০), আল-মুগনি (২/ ৩৬৫)।

(৫) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (২৩/ ১৩৭)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
استكبارًا، بدليل ما تعقبه من الوعيد الذي لا يستحقه من ترك سجود التلاوة (1).

وأجيب: بأن هذا خلاف قولكم؛ لأنكم تستحبون السجود في الآية.

وردت الإجابة: بأنا نسجد مبالغة في مخالفة الكفار، وترك الاستكبار، وذلك يسحب، ولهذا يستحب في المرة الثانية والثالثة ولا يجب بالإجماع بيننا (2).

الوجه الثالث: أن معنى {لَا يَسْجُدُونَ} أي: لا يعتقدون فضله، ولا مشروعيته، ولذلك قال: {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُكَذِّبُونَ} [الانشقاق: 22] (3).

2 - قوله تعالى: {فَاسْجُدُوا لِلهِ وَاعْبُدُوا} [النجم: 62] وفي العلق {وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ} [العلق: 19] وهذا أمر، ومطلق الأمر الوجوب (4).

ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: أن المراد بالسجود في هذه الآيات، سجود الصلاة (5).

الوجه الثاني: أن إيجاب السجود مطلقًا ليس يقتضي وجوبه مقيدًا وهو عند القراءة، أي: عند قراءة آية السجود، ولو كان الأمر كما زعموا لكانت الصلاة تجب عند قراءة الآية التي فيها الأمر بالصلاة، وإذا لم يجب ذلك فليس يجب السجود عند قراءة الآية التي فيها الأمر

--------------------------------------------

(1) الحاوي (2/ 201) المجموع (4/ 26) المغني (2/ 366).

(2) الانتصار في المسائل الكبار (2/ 390).

(3) الحاوي (2/ 201) المغني (2/ 366).

(4) البناية (2/ 719) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 139، 140) المجموع (4/ 61).

(5) المجموع (4/ 62).
ঔদ্ধত্যবশত, যার প্রমাণ হলো এর পরে আসা সেই ধমক বা সতর্কবাণী, যা তিলাওয়াতের সিজদা (سجود التلاوة) বর্জনকারী প্রাপ্য হতে পারে না (১)।

এর উত্তর হলো: এটি আপনাদের মতের পরিপন্থী; কারণ আপনারা এই আয়াতের ক্ষেত্রে সিজদা করাকে মুস্তাহাব (مستحب) গণ্য করেন।

এর জবাবে বলা হয়েছে: আমরা কাফিরদের বিরোধিতা এবং ঔদ্ধত্য বর্জনের ক্ষেত্রে আধিক্য প্রদর্শনের জন্য সিজদা করি, আর তা কাম্য ও অনুসৃত; এই কারণেই দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এটি মুস্তাহাব (مستحب) হয় এবং আমাদের মাঝে ইজমার (إجماع) ভিত্তিতে তা ওয়াজিব (واجب) নয় (২)।

তৃতীয় দিক: {তারা সিজদা করে না} এর অর্থ হলো: তারা এর মর্যাদা ও বিধিবদ্ধতা (مشروعية) বিশ্বাস করে না, এই কারণেই আল্লাহ বলেছেন: {বরং যারা কুফরি করেছে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে} [আল-ইনশিকাক: ২২] (৩)।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হও এবং ইবাদত করো} [আন-নাজম: ৬২] এবং সূরা আলাক-এ আছে {সিজদা করো ও নিকটবর্তী হও} [আল-আলাক: ১৯]। এটি একটি নির্দেশ (أمر), আর সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে (৪)।

এটি বিভিন্নভাবে পর্যালোচিত হয়েছে:

প্রথম দিক: এই আয়াতগুলোতে সিজদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাতের সিজদা (৫)।

দ্বিতীয় দিক: সাধারণভাবে কোনো সিজদাকে ওয়াজিব (إيجاب) করা নির্দিষ্ট অবস্থায়—অর্থাৎ তিলাওয়াতের সময়—তার ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে অপরিহার্য করে না। তারা যা দাবি করেছেন বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে যে আয়াতে সালাতের নির্দেশ রয়েছে তা পাঠ করার সময়ও সালাত ওয়াজিব (تجب) হতো। আর যদি সেটি ওয়াজিব না হয়, তবে নির্দেশ সম্বলিত আয়াত পাঠ করার সময় সিজদাও ওয়াজিব হবে না।

--------------------------------------------

(১) আল-হাউয়ি (২/ ২০১), আল-মাজমু' (৪/ ২৬), আল-মুগনি (২/ ৩৬৬)।

(২) আল-ইনতিসার ফিল মাসাইলিল কিবার (২/ ৩৯০)।

(৩) আল-হাউয়ি (২/ ২০১), আল-মুগনি (২/ ৩৬৬)।

(৪) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৯), মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৩৯, ১৪০), আল-মাজমু' (৪/ ৬১)।

(৫) আল-মাজমু' (৪/ ৬২)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
بالسجود من الأمر بالسجود (1).

وأجيب: بأن المسلمين قد أجمعوا على أن الأخبار الواردة في السجود عند تلاوة القرآن هي بمعنى الأمر بالسجود مقيدًا بالتلاوة أي: عند التلاوة، وورد الأمر به مطلقا فوجب حمل المطلق على المقيد، وليس الأمر في ذلك بالسجود كالأمر بالصلاة، فإن الصلاة قيد وجوبها بقيود أخر.

وأيضًا: فإن النبي صلى الله عليه وسلم قد سجد فيها فبين لنا بذلك معنى الأمر بالسجود الوارد فيها، أي: أنه عند التلاوة فوجب أن يحمل مقتضى الأمر في الوجوب عليه (2).

الوجه الثالث: على فرض التسليم بأنه أمر بالسجود عند التلاوة، فإنه يتعين حمله على الندب، جمعًا بينه وبين ما ورد عنه صلى الله عليه وسلم من ترك السجود أحيانا (3).

3 - قوله تعالى: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15].

فهذا الكلام يقتضي أنه لا يؤمن بآياته إلا من إذا ذكر بها خر ساجدا وسبح بحمد ربه، وهو لا يستكبر (4).

ونوقش: بأن المراد به التزام السجود واعتقاده، فإن فعله ليس بشرط في الإيمان إجماعًا، ولذا قرنه بالتسبيح، وهو قوله: {خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا} [السجدة: 15] وليس التسبيح بواجب (5).

ولأن ظاهر الآية يقتضي أن جميع الآيات يجب أن يسجد لها إذا

--------------------------------------------

(1) نقله ابن رشد عن الجويني، بداية المجتمع (1/ 162).

(2) بداية المجتمهد (1/ 162).

(3) الانتصار (2/ 390).

(4) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 141) الانتصار (2/ 390).

(5) الانتصار (2/ 391)، كشاف القناع (1/ 445).
সাজদাহ করার নির্দেশ থেকে সাজদাহর মাধ্যমে (১)।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: মুসলিমগণ এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাজদাহ সংক্রান্ত বর্ণিত সংবাদসমূহ (الأخبار) তিলাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট সাজদাহর নির্দেশের অর্থ বহন করে। অর্থাৎ: তিলাওয়াতের সময়; এবং এই বিষয়ে নির্দেশটি শর্তহীন (مطلق) ভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাই শর্তহীনকে (المطلق) শর্তযুক্তের (المقيد) ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। আর এই ক্ষেত্রে সাজদাহর নির্দেশটি সালাতের নির্দেশের মতো নয়, কেননা সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অন্য আরও কিছু শর্তের সাথে যুক্ত।

এছাড়া: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে সাজদাহ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি আমাদের নিকট এতে বর্ণিত সাজদাহর নির্দেশের অর্থ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন; অর্থাৎ: এটি তিলাওয়াতের সময়ের জন্য, তাই নির্দেশের দাবিকে এর ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক (২)।

তৃতীয় দিক: তিলাওয়াতের সময় সাজদাহ করার নির্দেশকে মেনে নেওয়ার ভিত্তিতে একে সুপারিশকৃত বা মুস্তাহাব (الندب) হিসেবে গণ্য করা নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যাতে এই নির্দেশ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাঝেমধ্যে সাজদাহ ত্যাগ করার যে বর্ণনা এসেছে, উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা যায় (৩)।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা সাজদাহয় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]।

এই বক্তব্যটি দাবি করে যে, তাঁর আয়াতসমূহের ওপর তারা ব্যতীত অন্য কেউ ঈমান আনে না, যাদেরকে যখন তা দ্বারা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা সাজদাহয় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে আর তারা অহংকার করে না (৪)।

এর সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাজদাহকে আবশ্যক মেনে নেওয়া এবং এর বিশ্বাস পোষণ করা। কেননা সাজদাহ করা ঈমানের জন্য শর্ত নয়—এ ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماعًا) রয়েছে। একারণেই সাজদাহকে তাসবিহ পাঠের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যা মহান আল্লাহর বাণী: {তারা সাজদাহয় লুটিয়ে পড়ে এবং তাসবিহ পাঠ করে} [আস-সাজদাহ: ১৫]। আর তাসবিহ পাঠ করা ওয়াজিব নয় (৫)।

এবং যেহেতু আয়াতের বাহ্যিক অর্থ দাবি করে যে, সকল আয়াতের জন্যই সাজদাহ করা ওয়াজিব যখন...

--------------------------------------------

(১) ইবন রুশদ আল-জুওয়াইনি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ১৬২)।

(২) বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ১৬২)।

(৩) আল-ইনতিসার (২/ ৩৯০)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৪১), আল-ইনতিসার (২/ ৩৯০)।

(৫) আল-ইনতিসার (২/ ৩৯১), কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৪৫)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
ذكرها، وهذا لا يقول به أحد، فسقط ظاهرها وعلم أن المراد بها ما ذكرنا (1).

4 - أن أي السجدة تفيد الوجوب أيضًا، لأنها ثلاثة أقسام: قسم فيه الأمر الصريح به، وقسم تضمن حكاية استنكاف الكفرة حيث أمروا به، وقسم فيه حكاية فعل الأنبياء السجود. وكل من الامتثال، والاقتداء، ومخالفة الكفرة واجب (2).

ويمكن أن يناقش: بأنه لا يصح من الحنفية؛ لأنهم لا يقولون بالسجود في مواضع الأمر، وأما الاقتداء فلا يجب فيما فعلوه على وجه الاستحباب، أما ما ورد في شأن ذم الكفار لتركهم السجود، فلعدم اعتقادهم فضله ولا مشروعيته، ولتركهم له استنكافًا، واستكبارًا (3).

ثانيًا من السنة:

حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قرأ ابن آدم السجدة فسجد، اعتزل الشيطان يبكي ويقول: يا ويله، وفي رواية: يا ويلتي، أمر ابن آدم بالسجود فسجد فله الجنة، وأمرت بالسجود فأبيت فلي النار» (4).

والاستدلال به من وجهين:

الوجه الأول: أنه قال: «أمر ابن آدم» والأمر للوجوب (5).

الوجه الثاني: أنه قربة، فالسجدة التي أمر بها تلك كانت واجبة؛ فكذا هذه (6).

--------------------------------------------

(1) الانتصار (2/ 391).

(2) فتح القدير (2/ 13) البناية (2/ 719).

(3) انظر: (20).

(4) الحديث أخرجه مسلم في كتاب الإيمان، باب بيان إطلاق اسم الكفر على من ترك الصلاة (1/ 87) حديث (133).

(5) المبسوط (2/ 4) فتح القدير (2/ 13) البناية (2/ 719) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 156).

(6) البناية (2/ 719).
তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, এবং এটি কেউ বলেন না, ফলে এর বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) বাতিল হয়ে যায় এবং এটি স্পষ্ট হয় যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি (১)।

৪ - সিজদার আয়াতগুলোও ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে; কারণ এগুলো তিন প্রকার: এক প্রকার যাতে এটি করার জন্য সরাসরি আদেশ রয়েছে, এক প্রকার যাতে কাফেরদের অবাধ্যতার বিবরণ রয়েছে যখন তাদের আদেশ করা হয়েছিল, এবং এক প্রকার যাতে নবীদের সিজদা করার কর্ম বর্ণিত হয়েছে। আর আদেশ পালন করা, অনুসরণ করা এবং কাফেরদের বিরোধিতা করা ওয়াজিব (واجب) (২)।

এর ওপর আলোচনা বা আপত্তি তোলা যেতে পারে যে: এটি হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সঠিক নয়; কারণ তাঁরা আদেশের স্থানগুলোতে সিজদা করার কথা বলেন না। আর অনুকরণের বিষয়টি মুস্তাহাব (مستحب) হিসেবে করা কাজের ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) হয় না। পক্ষান্তরে সিজদা ত্যাগ করার কারণে কাফেরদের নিন্দার যে বিষয়টি এসেছে, তা মূলত এর শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈধতার প্রতি তাদের বিশ্বাসের অভাব এবং অহংকার ও অবাধ্যতা বশত সিজদা ত্যাগ করার কারণে (৩)।

দ্বিতীয়ত সুন্নাহ থেকে:

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন আদম সন্তান সিজদার আয়াত পাঠ করে এবং সিজদা করে, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে যায় এবং বলে: হায় আক্ষেপ! আর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: আমার ধ্বংস! আদম সন্তানকে সিজদার আদেশ করা হয়েছে এবং সে সিজদা করেছে, তাই তার জন্য জান্নাত; আর আমাকে সিজদার আদেশ করা হয়েছে কিন্তু আমি তা অস্বীকার করেছি, তাই আমার জন্য জাহান্নাম» (৪)।

এর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের দুটি দিক রয়েছে:

প্রথম দিক: তিনি বলেছেন: «আদম সন্তানকে আদেশ করা হয়েছে», আর আদেশ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে (৫)।

দ্বিতীয় দিক: এটি একটি ইবাদত, সুতরাং যে সিজদার আদেশ দেওয়া হয়েছে তা ওয়াজিব (واجبة) ছিল; অতএব এটিও তদ্রূপ (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনতিসার (২/ ৩৯১)।

(২) ফাতহুল কাদির (২/ ১৩), আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৯)।

(৩) দেখুন: (২০)।

(৪) হাদীসটি ইমাম মুসলিম কিতাবুল ঈমান, 'সালাত বর্জনকারীর ওপর কুফর শব্দ ব্যবহারের বর্ণনা' অনুচ্ছেদে (১/ ৮৭), হাদীস নং (১৩৩) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(৫) আল-মাবসুত (২/ ৪), ফাতহুল কাদির (২/ ১৩), আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৯), মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৫৬)।

(৬) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৯)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
ونوقش من ثلاثة أوجه:

الوجه الأول: بأن هذا حكاية قول إبليس (1)، وهو ليس إلا قوله: … {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف: 12].

وأجيب: بأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك ولم ينكره (2).

الوجه الثاني: أنه إخبار عن السجود الواجب (3).

الوجه الثالث: أنه لو سلم بأنه أمر، فقد ورد ما يصرفه عن الوجوب، وهو ما يأتي في أدلة القول الثالث.

ثالثًا: من أقوال الصحابة:

1 - ما صح عن عثمان رضي الله عنه أنه قال: «إنما السجدة على من استمعها» (4).

2 - ما روي عن ابن عباس؛ أنه قال: «إنما السجدة على من جلس لها» (5).

3 - وعن ابن عمر؛ أنه قال: «إنما السجدة على من سمعها» (6).

قالوا: و «على» كلمة إيجاب؛ فدل على وجوب السجود (7).

ونوقش: الاستدلال من أوجه:

--------------------------------------------

(1) البناية (2/ 719).

(2) البناية (2/ 719).

(3) المسائل الفقهية من تفسير القرطبي (1/ 214).

(4) أخرجها البخاري معلقا بصيغة الجزم، في أبواب سجود القرآن، وسننها باب من رأى أن الله تعالى لم يوجب السجود (2/ 33).

وقد وصله ابن أبي شيبة، كما في المصنف، كتاب الصلوات، باب من قال: السجدة على من جلس لها، ومن سمعها (2/ 5) وعبد الرزاق في المصنف، في كتاب فضائل القرآن، باب السجدة على من استمعها، وسعيد بن منصور كما في التعليق، (2/ 412) من طريق قتادة عن سعيد بن المسيب، وقد صححها الحافظ كما في الفتح (2/ 558).

(5) أخرجه ابن أبي شيبة، وعبد الرزاق في الموضع السابق.

(6) أخرجه ابن أبي شيبة في الكتاب، والباب السابق.

(7) المبسوط (2/ 4) البناية (2/ 717).
এবং একে তিনটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: এটি ইবলিসের উক্তির বর্ণনা (১), আর তা কেবল তার এই উক্তি: … {আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে} [আল-আ’রাফ: ১২]।

এর উত্তর দেয়া হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তা অস্বীকার করেননি (২)।

দ্বিতীয় দিক: এটি ওয়াজিব সাজদাহ সম্পর্কে সংবাদ (৩)।

তৃতীয় দিক: যদি এটি মেনে নেওয়া হয় যে এটি নির্দেশ, তবে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা একে ওয়াজিব হওয়া থেকে ফিরিয়ে দেয়, আর তা হলো যা তৃতীয় মতের দলীলসমূহে সামনে আসবে।

তৃতীয়ত: সাহাবীগণের উক্তি থেকে:

১ - উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «সাজদাহ কেবল তার জন্য যে তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে» (৪)।

২ - ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «সাজদাহ কেবল তার জন্য যে এর জন্য বসেছে» (৫)।

৩ - এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «সাজদাহ কেবল তার জন্য যে তা শুনেছে» (৬)।

তারা বলেন: আর «আলা» শব্দটি আবশ্যিকতা বুঝায়; সুতরাং এটি সাজদাহ ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে (৭)।

এবং এই দলীল গ্রহণকে কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আল-বিনায়াহ (২/৭১৯)।

(২) আল-বিনায়াহ (২/৭১৯)।

(৩) আল-মাসাইলুল ফিকহিয়্যাহ মিন তাফসীরিল কুরতুবী (১/২১৪)।

(৪) বুখারী এটি ঝুলন্ত (معلقا) ও দৃঢ়তাপূর্ণ ভাষায় (بصيغة الجزم) বর্ণনা করেছেন, সাজদাহাতুল কুরআনের অধ্যায়সমূহে, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি মনে করেন আল্লাহ তাআলা সাজদাহ ওয়াজিব করেননি (২/৩৩)।

এবং ইবনে আবি শাইবাহ একে নিরবচ্ছিন্নভাবে (وصله) বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মুসান্নাফ-এ রয়েছে, কিতাবুস সালাত, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বলেছেন: সাজদাহ তার জন্য যে এর জন্য বসেছে এবং যে তা শুনেছে (২/৫); এবং আব্দুর রাজ্জাক মুসান্নাফ-এ, কিতাবু ফাদাইলিল কুরআন, অনুচ্ছেদ: সাজদাহ তার জন্য যে মনোযোগ দিয়ে শুনেছে; এবং সাঈদ ইবনে মানসুর যেমনটি আত-তালীক-এ রয়েছে (২/৪১২), কাতাদাহর সূত্রে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে; এবং হাফিজ একে সহিহ (صحح) বলেছেন যেমনটি ফাতহুল বারী-তে রয়েছে (২/৫৫৮)।

(৫) ইবনে আবি শাইবাহ এবং আব্দুর রাজ্জাক এটি পূর্বোক্ত স্থানে বর্ণনা করেছেন।

(৬) ইবনে আবি শাইবাহ এটি পূর্বোক্ত কিতাব ও অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

(৭) আল-মাবসুত (২/৪), আল-বিনায়াহ (২/৭১৭)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
الوجه الأول: أنها ليست بصريحة في الإيجاب، إذ يمكن حملها على أن السجود المستحب إنما هو في حق المستمع.

الوجه الثاني: أنها لو صحت وكانت صريحة في الوجوب لكانت معارضة بما هو أقوى منها، وهو ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من ترك السجود أحيانًا (1)، ومثله ما ثبت من إقرار الصحابة لقول عمر في الخطبة (إن الله لم يكتبها علينا إلا أن نشاء) (2).

رابعًا: من المعقول:

1 - ولأنها لو لم تكن واجبة لما جاز أداؤها في الصلاة؛ لأن أداءها زيادة سجدة، وهي تطوع توجب الفساد (3).

ونوقش: بأنها لو كانت واجبة لوجب إذا تلاها في الصلاة فلم يسجد حتى خرج من الصلاة أنه يقضيها (4).

وأجيب عنه: بأنها وجبت بسبب التلاوة في الصلاة؛ فأصبحت لها مزية الصلاة، فكان وجوبها كاملاً وأداؤها خارج الصلاة ناقص فلا يتأدى الكامل بالناقص (5).

ويمكن أن ترد الإجابة: بأن الحكم بنقصانها خارج الصلاة، يحتاج إلى دليل ولا دليل.

2 - ولأنه سجود يفعل في الصلاة، فكان واجبًا كسجود الصلاة (6).

ونوقش: بأنه ينتقض بسجود السهو فإنه عندهم غير واجب (7).

--------------------------------------------

(1) انظر: (27).

(2) انظر: (30، 31).

(3) البناية (1/ 719) بدائع الصنائع (1/ 180).

(4) الانتصار (2/ 391).

(5) الهداية وفتح القدير (2/ 18، 21).

(6) الحاوي (2/ 201) المغني (2/ 367) المبدع (2/ 28/).

(7) المغني (2/ 367).
প্রথম দিক: এটি ওয়াজিব (إيجاب) হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নয়, কারণ একে এভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব যে মুস্তাহাব (المستحب) সিজদা কেবল শ্রোতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

দ্বিতীয় দিক: যদি এটি সহিহ (صحيحة) হতো এবং ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট হতো, তবে এটি তার চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণের বিরোধী হতো। আর তা হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মাঝেমধ্যে সিজদা বর্জন করার মাধ্যমে প্রমাণিত (১), এবং অনুরূপভাবে যা উমর (রা.)-এর খুতবার বক্তব্যের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের সম্মতির মাধ্যমে প্রমাণিত যে, (আল্লাহ আমাদের ওপর তা অপরিহার্য করেননি, তবে আমরা চাইলে করতে পারি) (২)।

চতুর্থত: যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ (من المعقول):

১ - কেননা তা যদি ওয়াজিব (واجبة) না হতো, তবে সালাতে তা আদায় করা বৈধ হতো না; কারণ তা আদায় করা একটি অতিরিক্ত সিজদা, আর তা নফল (تطوع) যা সালাত নষ্ট (فساد) হওয়ার কারণ (৩)।

এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে: যদি তা ওয়াজিব (واجبة) হতো, তবে সালাতে তিলাওয়াত করার পর সালাত থেকে বের হওয়া পর্যন্ত সিজদা না করলে তা কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব হতো (৪)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: সালাতের মধ্যে তিলাওয়াতের কারণে তা ওয়াজিব হয়েছে; ফলে এতে সালাতের বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে। সুতরাং এর ওয়াজিব (وجوب) হওয়াটি ছিল পূর্ণাঙ্গ (كامل) আর সালাতের বাইরে এর আদায় হবে অপূর্ণাঙ্গ (ناقص), আর অপূর্ণাঙ্গ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আদায় হয় না (৫)।

এই উত্তরের বিপরীতে বলা যেতে পারে: সালাতের বাইরে একে অপূর্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন, অথচ এর কোনো প্রমাণ নেই।

২ - আর যেহেতু এটি এমন এক সিজদা যা সালাতে করা হয়, তাই এটি সালাতের সিজদার মতোই ওয়াজিব (واجب) হবে (৬)।

এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে: এটি সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা খণ্ডিত হয়, কারণ তাদের মতে তা ওয়াজিব (واجب) নয় (৭)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (২৭)।

(২) দেখুন: (৩০, ৩১)।

(৩) আল-বিনায়া (১/ ৭১৯) বাদায়িউস সানায়ি (১/ ১৮০)।

(৪) আল-ইনতিসার (২/ ৩৯১)।

(৫) আল-হিদায়া ও ফাতহুল কাদির (২/ ১৮, ২১)।

(৬) আল-হাভি (২/ ২০১) আল-মুগনি (২/ ৩৬৭) আল-মুবদি (২/ ২৮/)।

(৭) আল-মুগনি (২/ ৩৬৭)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأجيب: بأن هذا غير صحيح، إذ الصحيح من المذهب وجوبه (1).

3 - ولأنه ركن مفرد عن أركان الصلاة الأصلية شرعت قربة خارج الصلاة فوجب أن تكون واجبة، قياسًا على القيام في صلاة الجنازة (2).

القول الثاني: إنه واجب في الصلاة، مسنون خارجها:

ذهب إليه أحمد في رواية عنه (3).

ولم أجد مستند أحمد فيما ذهب إليه من هذا التفصيل، ولعله ما ثبت من مواظبة النبي صلى الله عليه وسلم من السجود في الصلاة، مع ما نقل عنه من عدم سجوده أحيانًا خارج الصلاة، كما في حديث زيد بن ثابت (4).

القول الثالث: إنه سنة مطلقًا:

ذهب إليه المالكية (5)، والشافعية (6)، وأحمد في رواية عنه، وهي المذهب (7)، والظاهرية (8)، والليث بن سعد، والأوزاعي (9)، وإسحاق، وأبو ثور (10).

--------------------------------------------

(1) أي: مذهب الحنفية انظر: الهداية (1/ 74).

(2) البناية (2/ 719).

(3) الإنصاف (2/ 193) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 139، 155) المبدع (2/ 28) الانتصار (2/ 380).

(4) يأتي قريبًا (27).

(5) القوانين الفقهية (62) المعونة (1/ 286) المدونة (1/ 110) بداية المجتهد (1/ 161) المنتقى (1/ 349) شرح الخرشي (1/ 350).

(6) الحاوي (2/ 200) المجموع (4/ 61) المهذب (1/ 92) مغني المحتاج (1/ 214) روضة الطالبين (1/ 318).

(7) الإنصاف (2/ 193) المبدع (2/ 28) المغني (2/ 346) الفروع (1/ 500) الكافي (1/ 158) الانتصار (2/ 380) المستوعب (2/ 251).

(8) المحلى (5/ 106) المجموع (4/ 61).

(9) المغني (3/ 364).

(10) المجموع (4/ 61).
এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: এটি সঠিক নয়, কারণ মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী এটি ওয়াজিব (১)।

৩ - এবং যেহেতু এটি নামাজের মূল রুকনগুলোর বাইরে একটি স্বতন্ত্র রুকন যা নামাজের বাইরে ইবাদত হিসেবে বিধিবদ্ধ হয়েছে, তাই এটি ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক; জানাজার নামাজের কিয়ামের (দাঁড়ানো) সাথে কিয়াসের ভিত্তিতে (২)।

দ্বিতীয় মত: এটি নামাজের ভেতরে ওয়াজিব এবং নামাজের বাইরে সুন্নাত।

ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি এই মত পোষণ করেছেন (৩)।

ইমাম আহমাদ যে বিস্তারিত বিভাজন উল্লেখ করেছেন তার স্বপক্ষে কোনো ভিত্তি আমি খুঁজে পাইনি; সম্ভবত এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের মধ্যে সিজদার প্রতি নিয়মিত আমল এবং নামাজের বাইরে কখনো কখনো তাঁর সিজদা না করার বর্ণনার কারণে হতে পারে, যেমনটি যায়েদ ইবনে সাবিত-এর হাদিসে রয়েছে (৪)।

তৃতীয় মত: এটি সাধারণভাবে সুন্নাত।

মালেকি (৫), শাফেয়ি (৬), ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) - যা মাযহাবের প্রধান মত (৭), জাহেরি (৮), লাইস বিন সাদ, আওযায়ি (৯), ইসহাক এবং আবু সাওর এই মত গ্রহণ করেছেন (১০)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: হানাফি মাযহাব, দেখুন: আল-হিদায়া (১/৭৪)।

(২) আল-বিনায়া (২/৭১৯)।

(৩) আল-ইনসাফ (২/১৯৩), মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (২৩/১৩৯, ১৫৫), আল-মুবদি (২/২৮), আল-ইনতিসার (২/৩৮০)।

(৪) সামনে শীঘ্রই আসছে (২৭)।

(৫) আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ (৬২), আল-মাউনা (১/২৮৬), আল-মুদাওওয়ানা (১/১১০), বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/১৬১), আল-মুন্তাকা (১/৩৪৯), শারহুল খারশি (১/৩৫০)।

(৬) আল-হাউয়ি (২/২০০), আল-মাজমু (৪/৬১), আল-মুহাজ্জাব (১/৯২), মুগনি আল-মুহতাজ (১/২১৪), রওজাতুত তালিবিন (১/৩১৮)।

(৭) আল-ইনসাফ (২/১৯৩), আল-মুবদি (২/২৮), আল-মুগনি (২/৩৪৬), আল-ফুরু (১/৫০০), আল-কাফি (১/১৫৮), আল-ইনতিসার (২/৩৮০), আল-মুস্তাওয়িব (২/২৫১)।

(৮) আল-মুহাল্লা (৫/১০৬), আল-মাজমু (৪/৬১)।

(৯) আল-মুগনি (৩/৩৬৪)।

(১০) আল-মাজমু (৪/৬১)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأدلة:

أولاً من السنة:

1 - حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه؛ قال: قرأت على النبي صلى الله عليه وسلم … {وَالنَّجْمِ} [النجم: 1] فلم يسجد فيها (1).

فلو كان السجود واجبا لسجد رسول الله وأمر به زيدًا (2).

ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يسجدها على الفور، ولا يلزم منه أنه ليس فيه سجدة ولا نفي الوجوب (3).

وأجيب: بأنه لو كان كما ذكروا لم يطلق الراوي نفي السجود (4).

الوجه الثاني: أنه يحتمل أن زيدًا قرأها بعد الصبح، أو بعد العصر ولا يحل السجود في ذلك الوقت بالاتفاق (5).

وأجيب عنه بجوابين:

الأول: عدم التسليم بوجود الاتفاق على عدم مشروعية السجود، فالخلاف موجود؛ إذ من أهل العلم من يقول بجواز فعل ذوات الأسباب في وقت النهي، ومنهم من يقول: بأن السجود للتلاوة ليس بصلاة فلا نهي فيه (6).

الجواب الثاني: أنه لو كان السبب ما ذكروه لم يطلق زيد النفي،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في أبواب سجود القرآن وسننها، باب من قرأ السجدة، ولم يسجد (2/ 32).

(2) المجموع (2/ 61) الحاوي (2/ 200) المغني (2/ 365)، الانتصار (2/ 381).

(3) البناية (2/ 715) العناية (2/ 14).

(4) المجموع (2/ 61) الانتصار (2/ 382).

(5) المجموع (2/ 61) الانتصار (2/ 382).

(6) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 165) المحلى (5/ 165).
প্রমাণসমূহ:

প্রথমত সুন্নাহ থেকে:

১ - জায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সূরা আন-নাজম পাঠ করলাম … কিন্তু তিনি তাতে সিজদা করেননি (১)।

যদি সিজদা করা আবশ্যক (واجب) হতো, তবে আল্লাহর রাসূল সিজদা করতেন এবং জায়েদকেও তার নির্দেশ দিতেন (২)।

এটি কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচিত হয়েছে:

প্রথম দিক: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাৎক্ষণিকভাবে সিজদা করেননি, আর এর দ্বারা এটি আবশ্যক নয় যে সেখানে সিজদা নেই অথবা এর দ্বারা আবশ্যকতা (وجوب) নাকচ হয় না (৩)।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে: তারা যা উল্লেখ করেছেন বিষয়টি যদি তেমনই হতো, তবে বর্ণনাকারী (الراوي) সিজদা না করার বিষয়টি নিঃশর্তভাবে (إطلاق) উল্লেখ করতেন না (৪)।

দ্বিতীয় দিক: এটি সম্ভাবনা রাখে যে, জায়েদ এটি ফজরের পর অথবা আসরের পর পাঠ করেছিলেন, আর ঐ সময়ে ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী সিজদা করা বৈধ নয় (৫)।

এর জবাবে দু’টি উত্তর দেওয়া হয়েছে:

প্রথমত: সিজদা বৈধ না হওয়ার বিষয়ে যে ঐকমত্য (اتفاق)-এর কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না; কারণ এক্ষেত্রে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান। কেননা আলেমদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা নিষিদ্ধ সময়ে কারণ-সংশ্লিষ্ট ইবাদত (ذوات الأسباب) পালনের বৈধতার কথা বলেন, আবার তাদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যারা বলেন: তিলাওয়াতের সিজদা কোনো সালাত নয়, তাই এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই (৬)।

দ্বিতীয় উত্তর: তারা যে কারণ উল্লেখ করেছেন যদি তা-ই হতো, তবে জায়েদ সিজদা না করার বিষয়টি নিঃশর্তভাবে (إطلاق) প্রকাশ করতেন না,

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন কুরআন ও এর সুন্নাহর সিজদা অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত পাঠ করল কিন্তু সিজদা করল না (২/ ৩২)।

(২) আল-মাজমু (২/ ৬১), আল-হাভি (২/ ২০০), আল-মুগনি (২/ ৩৬৫), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮১)।

(৩) আল-বিনায়া (২/ ৭১৫), আল-ইনায়া (২/ ১৪)।

(৪) আল-মাজমু (২/ ৬১), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮২)।

(৫) আল-মাজমু (২/ ৬১), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮২)।

(৬) মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (২৩/ ১৬৫), আল-মুহাল্লা (৫/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويجعله الحجة في ترك السجود (1).

الوجه الثالث: احتمال أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن على طهارة (2).

ونوقش: بأن الصحيح عدم اشتراط الطهارة لسجود التلاوة (3).

ولو سلم باشتراطها، وكان سبب الترك عدم الطهارة، لبين ذلك، وقال: لم أسجد لأني على غير وضوء (4).

الوجه الرابع: أنه لم يسجد؛ لأن زيدًا لم يسجد (5)، كما قال ابن مسعود لتميم ابن حذلم: أنت إمامنا، فإن سجدت سجدنا (6).

ويمكن أن يجاب عنه: بأنكم لا تشترطون ذلك لسجود المستمع.

الوجه الخامس: أن السجود في {وَالنَّجْمِ} وحدها منسوخ؛ بخلاف غيرها مما في المفصل كـ «اقرأ» و «الانشقاق».

لما كان الشيطان قد ألقاه حين ظن أنه وافقهم، ترك السجود فيها بالكلية سدًا لهذه الذريعة (7).

2 - ما روي أن رجلاً قرأ عند رسول الله صلى الله عليه وسلم آية سجدة فسجد، وقرأها آخر فلم يسجد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «كنت إمامنا، فلو سجدت سجدنا» (8).

--------------------------------------------

(1) المجموع (2/ 62) الانتصار (2/ 382).

(2) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 158) الانتصار (2/ 381).

(3) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 165) المحلى (5/ 165).

(4) الانتصار (2/ 381).

(5) مجموع الفتاوى لابن تيمية (23/ 158).

(6) أخرجه البخاري معلقًا بصيغة الجزم في أبواب سجود القرآن وسننها، باب من سجد لسجود القارئ (2/ 33).

وقد وصله ابن أبي شيبة كما في المصنف (2/ 19) وعبد الرزاق (3/ 344) والبيهقي (2/ 81) وسعيد بن منصور كما في التعليق (2/ 409) وفي الفتح (2/ 556).

(7) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 159).

(8) أخرجه الشافعي في المسند (1/ 122 - 359) والبيهقي (2/ 324) من طريقين وضعفها قال: والمحفوظ من طريق عطاء بن يسار مرسل، وأخرجه ابن أبي شيبة من طريق آخر عن زيد بن أسلم (2/ 19) وقال الحافظ في الفتح: ورجاله ثقات إلا أنه مرسل (2/ 556) وانظر: تعليق التعليق (2/ 411) وكذا إرواء الغليل (2/ 226).
এবং তিনি এটিকে সিজদা ত্যাগ করার সপক্ষে দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন (১)।

তৃতীয় দিক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র অবস্থায় ছিলেন না বলে সম্ভাবনা রয়েছে (২)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: সঠিক (صحيح) মত হলো তিলাওয়াতের সিজদার জন্য পবিত্রতা শর্ত নয় (৩)।

যদি পবিত্রতা শর্ত হিসেবে মেনেও নেওয়া হয় এবং সিজদা ত্যাগের কারণ অপবিত্রতা হতো, তবে তিনি তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন এবং বলতেন: "আমি সিজদা করিনি কারণ আমি ওজু অবস্থায় নেই" (৪)।

চতুর্থ দিক: তিনি সিজদা করেননি; কারণ জায়েদ সিজদা করেননি (৫), যেমনটি ইবনে মাসউদ তামীম ইবনে হাযলামকে বলেছিলেন: "আপনি আমাদের ইমাম, সুতরাং আপনি যদি সিজদা করেন তবে আমরাও সিজদা করব" (৬)।

এর উত্তরে বলা যেতে পারে: আপনারা শ্রবণকারীর সিজদার জন্য এটিকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন না।

পঞ্চম দিক: শুধুমাত্র সূরা আন-নাজম-এর সিজদা রহিত (منسوخ); মুফাসসাল সূরার অন্যান্য সিজদা যেমন— সূরা ইকরা ও আল-ইনশিকাক-এর বিধান এর বিপরীত।

যখন শয়তান তা নিক্ষেপ করেছিল এবং তিনি মনে করেছিলেন যে তিনি তাদের সাথে একমত হয়েছেন, তখন এই পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি এতে সিজদা করা সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেছিলেন (৭)।

২ - বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সিজদার আয়াত পাঠ করলেন এবং তিনি সিজদা করলেন; অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি তা পাঠ করলেন কিন্তু তিনি সিজদা করলেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি আমাদের ইমাম ছিলে, তুমি যদি সিজদা করতে তবে আমরাও সিজদা করতাম" (৮)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু (২/ ৬২), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮২)।

(২) মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৫৮), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮১)।

(৩) মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৬৫), আল-মুহাল্লা (৫/ ১৬৫)।

(৪) আল-ইনতিসার (২/ ৩৮১)।

(৫) মাজমু আল-ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৫৮)।

(৬) এটি বুখারি তাঁর সিজদাহ আল-কুরআন ও এর সুন্নাতসমূহ অধ্যায়ের 'যে ব্যক্তি পাঠকারীর সিজদার কারণে সিজদা করে' অনুচ্ছেদে (২/ ৩৩) সুনিশ্চিত ভঙ্গিতে (بصيغة الجزم) ঝুলন্ত (معلقًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শাইবা এটি আল-মুসান্নাফ (২/ ১৯)-এ নিরবচ্ছিন্নভাবে (وصله) বর্ণনা করেছেন এবং তেমনিভাবে আব্দুর রাজ্জাক (৩/ ৩৪৪), বাইহাকি (২/ ৮১), সাঈদ ইবনে মানসুর যেমনটি আত-তালিক (২/ ৪০৯)-এ রয়েছে এবং আল-ফাতহ (২/ ৫৫৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৫৯)।

(৮) এটি শাফেয়ি আল-মুসনাদ (১/ ১২২ - ৩৫৯)-এ এবং বাইহাকি (২/ ৩২৪)-এ দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এগুলোকে দুর্বল (ضعفها) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: আতা ইবনে ইয়াসারের সূত্রে বর্ণিত সংরক্ষিত (المحفوظ) বর্ণনাটি হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل)। ইবনে আবি শাইবা জায়েদ ইবনে আসলামের অন্য একটি সূত্রে (২/ ১৯) এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ-এ বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), কিন্তু এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) (২/ ৫৫৬)। আরও দেখুন: তাগলীক আত-তালিক (২/ ৪১১) এবং ইরওয়াউল গালীল (২/ ২২৬)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفيه دليلان:

الأول: أنه لم يأمره بالسجود وأقره على تركه.

الثاني: قوله: «لو سجدت سجدنا» على سبيل المتابعة والتخيير (1).

ونوقش: بأنه مرسل، والمرسل من قسم الضعيف، فلا يصلح للاحتجاج.

3 - قوله صلى الله عليه وسلم للأعرابي حين سأله، ماذا فرض عليه من الصلاة؟ «خمس صلوات في اليوم والليلة» قال: هل علي غيرها؟ قال: «لا؛ إلا أن تتطوع» (2).

ووجه الاستدلال: أنه صلاة فيدخل في عموم قوله: «لا؛ إلا أن تتطوع» ولو كانت واجبة لما ترك البيان بعد السؤال (3).

ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: أنه في الفرائض، وهو عندنا واجب غير فرض (4).

ويمكن أن يجاب عنه: بأن هذا اصطلاح لهم حادث، وما كان الصحابة يفرقون بينهما (5).

الوجه الثاني: أنه فيما وجب ابتداء، لا فيما يوجبه العبد على نفسه.

ودليله: أنه لم يذكر المنذور مع وجوبه (6).

--------------------------------------------

(1) الحاوي (2/ 201) الانتصار (2/ 384).

(2) أخرجه البخاري في كتاب الإيمان، باب الزكاة من الإسلام (1/ 17) ومسلم في كتاب الإيمان باب بيان الصلوات التي هي أحد أركان الإسلام (1/ 40).

(3) المغني (2/ 366) المبسوط (2/ 40).

(4) البناية (2/ 718).

(5) فتح الباري (2/ 559).

(6) المبسوط (2/ 4).
এতে দুটি দলিল রয়েছে:

প্রথমটি: তিনি তাকে সেজদা করার নির্দেশ দেননি এবং তা বর্জন করার ওপর তাকে মৌন সমর্থন দিয়েছেন।

দ্বিতীয়টি: তাঁর উক্তি: «যদি আপনি সেজদা করতেন তবে আমরাও সেজদা করতাম» যা অনুসরণ ও ঐচ্ছিকতার ভিত্তিতে (১)।

এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে যে: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), আর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দুর্বল (ضعيف) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি দলিল হিসেবে পেশ করার (للاحتجاج) যোগ্য নয়।

৩ - জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তাঁর ওপর সালাতের মধ্য থেকে কী ফরজ করা হয়েছে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি: «দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত»। সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: «না; তবে তুমি যদি নফল (تتطوع) হিসেবে আদায় করো» (২)।

দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি (الاستدلال) হলো: এটি একটি সালাত, তাই এটি তাঁর সাধারণ উক্তি: «না; তবে তুমি যদি নফল (تتطوع) হিসেবে আদায় করো» এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি এটি ওয়াজিব (واجبة) হতো, তবে প্রশ্ন করার পর তা স্পষ্ট করা বাদ দিতেন না (৩)।

কয়েকটি দিক থেকে এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: এটি ফরজ (الفرائض) কার্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর এটি আমাদের নিকট ওয়াজিব (واجب), ফরজ (فرض) নয় (৪)।

এর উত্তরে বলা সম্ভব যে: এটি তাদের একটি নবউদ্ভাবিত পরিভাষা (اصطلاح), আর সাহাবীগণ এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতেন না (৫)।

দ্বিতীয় দিক: এটি ঐ বিষয়ে যা প্রাথমিকভাবে ওয়াজিব হয়েছে, ঐ বিষয়ে নয় যা বান্দা নিজের ওপর ওয়াজিব করে নেয়।

এর দলিল: তিনি মানতকৃত বিষয়কে ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও উল্লেখ করেননি (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাবি (২/ ২০১), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৪)।

(২) বুখারি এটি কিতাবুল ঈমান, ইসলামে জাকাত অধ্যায়ে (১/ ১৭) এবং মুসলিম কিতাবুল ঈমান, ইসলামের অন্যতম রুকন হিসেবে সালাতের বর্ণনা অধ্যায়ে (১/ ৪০) বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-মুগনি (২/ ৩৬৬), আল-মাবসুত (২/ ৪০)।

(৪) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৮)।

(৫) ফাতহুল বারি (২/ ৫৫৯)।

(৬) আল-মাবসুত (২/ ৪)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - ما روي عنه صلى الله عليه وسلم أنه لم يسجد في المفصل (1)، وبما روي عنه أنه سجد فيها (2).

فوجه الجمع بين ذلك يقتضي أن لا يكون السجود واجبًا، وذلك بأن يكون كل واحد حدث بما رأى، من قال: إنه سجد، ومن قال: إنه لم يسجد (3).

ثانيًا: ما أثر عن الصحابة:

ما ثبت عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قرأ سورة النحل على المنبر يوم الجمعة، حتى إذا جاء السجدة نزل، فسجد وسجد الناس، حتى إذا كانت الجمعة القابلة قرأ بها، حتى إذا جاءت السجدة؛ قال: يا أيها الناس: إنَّما نمر بالسجود فمن سجد فقد أصاب، ومن لم يسجد فلا إثم عليه (4).

وفي رواية: إن الله لم يكتبها علينا إلا أن نشاء (5).

وهذا الفعل من عمر في هذا الموطن والمجمع العظيم دليل ظاهر في إجماعهم على أنه ليس بواجب (6).

ونوقش من أوجه:

الوجه الأول: أنه منقطع (7)، فلا يصلح للاحتجاج.

ونوقش: بأن هذا وهم، فالصحيح أن الخبر متصل (8).

--------------------------------------------

(1) انظر: تخريجه (62).

(2) انظر: تخريجه (37، 63).

(3) بداية المجتهد (1/ 161).

(4) أخرجه البخاري، في أبواب سجود القرآن وسنتها، باب من رأى أن الله صلى الله عليه وسلم لم يوجب السجود (2/ 34).

(5) أخرجه البخاري في الكتاب والباب السابق (2/ 34).

(6) المنتقى (1/ 351) الحاوي (2/ 201) المجموع (4/ 63) المغني (2/ 366) المبدع (2/ 28) مجموع فتاوى ابن تيمية (23).

(7) فتح الباري (2/ 559) المنتقى (1/ 351).

(8) فتح الباري (2/ 559).
4 - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মুফাসসাল সূরাগুলোতে সাজদাহ করেননি (১), আবার এ-ও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সেগুলোতে সাজদাহ করেছেন (২)।

এই দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি এটি দাবি করে যে, সাজদাহ ওয়াজিব নয়; আর তা এভাবে যে, বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে যা দেখেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন—যিনি বলেছেন যে তিনি সাজদাহ করেছেন এবং যিনি বলেছেন যে তিনি সাজদাহ করেননি (৩)।

দ্বিতীয়ত: সাহাবীগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে:

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি জুমুআর দিন মিম্বারের ওপর সূরা আন-নাহল পাঠ করলেন, এমনকি যখন সাজদাহর আয়াত আসলো তখন তিনি মিম্বার থেকে নামলেন এবং সাজদাহ করলেন এবং লোকেরাও সাজদাহ করল। অতঃপর পরবর্তী জুমুআয় তিনি সেই সূরাটি পাঠ করলেন, যখন সাজদাহর আয়াত আসলো; তিনি বললেন: হে লোকসকল! আমরা সাজদাহর আয়াতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করি, সুতরাং যে সাজদাহ করল সে সঠিক করল, আর যে সাজদাহ করল না তার ওপর কোনো গুনাহ নেই (৪)।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর এটি আবশ্যক করেননি, তবে আমরা চাইলে তা করতে পারি (৫)।

উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই কাজ এমন এক স্থান এবং বিশাল সমাবেশে ঘটা তাঁদের ঐকমত্য (إجماع)-এর এক প্রকাশ্য প্রমাণ যে, এটি ওয়াজিব নয় (৬)।

এবং কয়েকটি দিক থেকে এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে:

প্রথম দিক: বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) (৭), তাই এটি দলিল হিসেবে পেশ করার (احتجاج) উপযুক্ত নয়।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা মাত্র, বরং সঠিক (الصحيح) কথা হলো সংবাদটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: এর তাখরিজ (تخريج) (৬২)।

(২) দেখুন: এর তাখরিজ (تخريج) (৩৭, ৬৩)।

(৩) বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ১৬১)।

(৪) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, সাজদাহর আয়াত ও এর সুন্নাহ অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি মনে করেন যে আল্লাহ সাজদাহ ওয়াজিব করেননি (২/ ৩৪)।

(৫) বুখারি এটি পূর্বোক্ত কিতাব ও অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (২/ ৩৪)।

(৬) আল-মুনতাকা (১/ ৩৫১), আল-হাউয়ী (২/ ২০১), আল-মাজমু (৪/ ৬৩), আল-মুগনী (২/ ৩৬৬), আল-মুবদি (২/ ২৮), মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া (২৩)।

(৭) ফাতহুল বারী (২/ ৫৫৯), আল-মুনতাকা (১/ ৩৫১)।

(৮) ফাতহুল বারী (২/ ৫৫৯)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
الوجه الثاني: التسليم بموجبه أنه لم تكتب علينا، بل أوجبت وفرق بين الفرض والواجب (1).

وأجيب: بأن هذا اصطلاح لهم حادث، ولم يكن الصحابة يفرقون بينهما (2).

ثم يرده قول عمر: (ومن لم يسجد فلا إثم عليه).

الوجه الثالث: أنه مؤول بأنه لم يجب علينا التعجيل بسجدة التلاوة، فأراد أن يبين للقوم التأخير عن حالة الوجوب (3).

وأجيب عنه: بأن هذا يرده قوله (ومن لم يسجد فلا إثم عليه).

الوجه الرابع: أن قوله (إلا أن نشاء) لا يخلو أن يريد به نشاء وجوبها فلا يجوز ذلك؛ لأن الواجب يتعلق بإيجاب الشرع، لا بمشيئتنا فثبت أنه أراد إلا أن نشاء قراءتها (4).

وأجيب عنه: بأن فيه بعدًا ويرده تصريح عمر بقوله: (ومن لم يسجد فلا إثم عليه) فإن انتفاء الإثم عمن ترك الفعل مختاراً يدل على عدم وجوبه (5).

الوجه الخامس: أنه قد يكون المراد منه أن الله لم يكتب علينا السجود في هذه الحال، وهو إذا قرأها الإمام على المنبر، يبين ذلك أن السجود في هذه الحال ليس كالسجود المطلق؛ لأنه يقطع فيه الإمام الخطبة، ويعمل عملاً كثيرًا، والسنة في الخطبة الموالاة، فلما تعارض هذا، وهذا صار السجود غير واجب، لأن القارئ يشتغل بعبادة أفضل منه، وهو خطبة الناس، وإن سجد جاز .. فإذا كان كذلك لم يبق فيه

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع (1/ 180).

(2) فتح الباري (2/ 559).

(3) المبسوط (2/ 4).

(4) ذكره لهم أبو الخطاب في الانتصار (2/ 386) وكذا ابن حجر في الفتح (2/ 559).

(5) فتح الباري (2/ 559) الانتصار (2/ 386).
দ্বিতীয় দিক: এর দাবি মেনে নেওয়া যে, এটি আমাদের ওপর ফরয (فرض) করা হয়নি, বরং ওয়াজিব (واجب) করা হয়েছে; আর ফরয (فرض) এবং ওয়াজিব (واجب)-এর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান (১)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি তাদের একটি পরবর্তী পরিভাষা (اصطلاح حادث), এবং সাহাবীগণ এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না (২)।

অতঃপর ওমরের এই উক্তিটি একে খণ্ডন করে: (আর যে সিজদাহ করবে না তার কোনো গুনাহ নেই)।

তৃতীয় দিক: এটি এভাবে ব্যাখ্যাত (مؤول) হয়েছে যে, তিলাওয়াতের সিজদাহ ত্বরান্বিত করা আমাদের ওপর ওয়াজিব (واجب) নয়। ফলে তিনি উপস্থিত লোকদের সামনে আবশ্যকতা (وجوب) এর অবস্থা থেকে বিলম্ব করার বিষয়টি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন (৩)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: তাঁর এই উক্তি (আর যে সিজদাহ করবে না তার কোনো গুনাহ নেই) একে খণ্ডন করে।

চতুর্থ দিক: তাঁর এই উক্তি (যদি না আমরা চাই)-এর ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থেকে যায় যে, তিনি এর দ্বারা সিজদাহর আবশ্যকতা (وجوب) বুঝিয়েছেন, তবে তা বৈধ নয়; কারণ ওয়াজিব (واجب) বিষয়টি শরীয়তের বিধান প্রদানের (إيجاب الشرع) সাথে সংশ্লিষ্ট, আমাদের ইচ্ছার সাথে নয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনি এর দ্বারা পাঠ করার ইচ্ছা করাকে বুঝিয়েছেন (৪)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এতে দূরবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওমরের সুস্পষ্ট উক্তি: (আর যে সিজদাহ করবে না তার কোনো গুনাহ নেই) একে খণ্ডন করে। কারণ স্বেচ্ছায় কোনো কাজ বর্জনকারীর ওপর থেকে গুনাহ অপসারিত হওয়া উক্ত কাজটি ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার প্রমাণ বহন করে (৫)।

পঞ্চম দিক: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা এই অবস্থায় আমাদের ওপর সিজদাহ ফরয (فرض) করেননি; আর তা হলো যখন ইমাম মিম্বরের ওপর তা পাঠ করেন। এটি স্পষ্ট করে যে, এই অবস্থার সিজদাহ সাধারণ সিজদাহর মতো নয়; কারণ এতে ইমাম খুতবা বিচ্ছিন্ন করেন এবং অনেক কাজ সম্পাদন করেন, অথচ খুতবার সুন্নাহ (سنة) হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। যখন এই দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী হলো, তখন সিজদাহটি আর ওয়াজিব (واجب) থাকল না; কারণ পাঠকারী এর চেয়েও উত্তম ইবাদতে মশগুল রয়েছেন, আর তা হলো মানুষের সামনে খুতবা প্রদান। আর যদি তিনি সিজদাহ করেন তবে তা বৈধ... যদি বিষয়টি এমনই হয় তবে এতে আর অবশিষ্ট থাকল না।

--------------------------------------------

(১) বাদায়েউস সানায়ে (১/ ১৮০)।

(২) ফাতহুল বারী (২/ ৫৫৯)।

(৩) আল-মাবসুত (২/ ৪)।

(৪) আবু আল-খাত্তাব এটি আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হাজার ফাতহুল বারী (২/ ৫৫৯) গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

(৫) ফাতহুল বারী (২/ ৫৫৯), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৬)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
حجة، ولو كان مرفوعًا (1).

الوجه السادس: أنه لو كان صريحًا، لكان قوله، وإقرار من حضر وليسوا كل المسلمين (2).

الوجه السابع: أنه معارض بمثله من أقوال الصحابة في وجوبه، كما ثبت عن عثمان، وابن عباس، وابن عمر (3).

ثالثًا: من المعقول:

1 - أن الأصل عدم الوجوب حتى يثبت دليل صحيح صريح في الأمر به، ولا معارض له، ولا قدرة لهم على هذا (4).

2 - ولأن ما شرع لأجل التلاوة لم يكن واجبًا، أصله التأمين، والتعوذ وسؤال الرحمة (5).

3 - وقياسًا على سجود الشكر (6).

4 - ولأنه يجوز فعله على الراحلة بالاتفاق في السفر، فلو كان واجبًا لم يجز كسجود صلاة الفرض (7).

ونوقش: بأن أداءها كما وجبت، فإن تلاوتها على الدابة مشروعة فكان كالشروع على الدابة في التطوع (8).

وأجيب عن المناقشة: بأنها لو كانت واجبة لم يجز فعلها ولو وجد سببها على الراحلة، ألا ترى أنه لو دخل عليه وقت الصلاة، وهو على الراحلة لم يجز له فعلها، وإن كان الوقت سبب الوجوب (9).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (23/ 159).

(2) المصدر السابق (23/ 159).

(3) المصدر السابق، والأثر عن هؤلاء سبق تخريجه (24).

(4) المجموع (4/ 62) الانصار (2/ 388) حاشية ابن قاسم (2/ 234).

(5) الانتصار (2/ 386).

(6) المجموع (4/ 62).

(7) المنتقى (1/ 351) المجموع (4/ 62) الانتصار (2/ 386).

(8) البناية (2/ 7189 العناية (2/ 14) فتح القدير (2/ 13) الانتصار (2/ 388).

(9) الانتصار (2/ 388).
এটি দলিল (حجة), যদিও তা মারফু (مرفوع) হত (১)।

ষষ্ঠ দিক: যদি তা সুস্পষ্ট (صريح) হত, তবে তা হত কেবল তাঁর বক্তব্য এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সমর্থন, যা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করে না (২)।

সপ্তম দিক: এটি সাহাবীগণের অনুরূপ বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে যা এর ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি উসমান, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে উমর থেকে প্রমাণিত হয়েছে (৩)।

তৃতীয়ত: যুক্তিগত দিক থেকে:

১ - মূল বিধান হলো ওয়াজিব না হওয়া, যতক্ষণ না সেই নির্দেশনার ব্যাপারে কোনো সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট (صريح) দলিল সাব্যস্ত হয় যার কোনো বিরোধী নেই; আর তাদের পক্ষে এমন দলিল পেশ করার সক্ষমতা নেই (৪)।

২ - আর যা কেবল তিলাওয়াতের খাতিরে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে তা ওয়াজিব নয়; এর মূল ভিত্তি হলো 'আমিন' বলা, আউযুবিল্লাহ পড়া এবং রহমত প্রার্থনা করা (৫)।

৩ - এবং কৃতজ্ঞতার সিজদার সাথে কিয়াস করার মাধ্যমে (৬)।

৪ - এছাড়া সফর অবস্থায় সওয়ারির ওপর এটি পালন করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ; যদি এটি ওয়াজিব হত, তবে তা জায়েজ হত না, যেমনটি ফরজ নামাজের সিজদার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে (৭)।

পর্যালোচনা করা হয়েছে যে: এটি আদায় করা যেমন ওয়াজিব হয়েছে, তেমনি সওয়ারির ওপর এর তিলাওয়াতও বিধিবদ্ধ; ফলে এটি সওয়ারির ওপর নফল ইবাদত শুরু করার মতো (৮)।

পর্যালোচনার উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: যদি এটি ওয়াজিব হত, তবে সওয়ারির ওপর এর কারণ বিদ্যমান থাকলেও তা আদায় করা বৈধ হত না। আপনি কি দেখেন না যে, যদি সওয়ারির ওপর থাকা অবস্থায় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তবে তার জন্য তা সেখানে আদায় করা বৈধ হয় না, যদিও ওয়াক্ত হওয়াটাই ওয়াজিব হওয়ার কারণ (৯)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২৩/ ১৫৯)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (২৩/ ১৫৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, আর এই ব্যক্তিবর্গের বর্ণনা (أثر) ইতিপূর্বে তাখরিজ করা হয়েছে (২৪)।

(৪) আল-মাজমু (৪/ ৬২), আল-আনসার (২/ ৩৮৮), হাশিয়াহ ইবনে কাসিম (২/ ২৩৪)।

(৫) আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৬)।

(৬) আল-মাজমু (৪/ ৬২)।

(৭) আল-মুনতাকা (১/ ৩৫১), আল-মাজমু (৪/ ৬২), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৬)।

(৮) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৮৯), আল-ইনাইয়াহ (২/ ১৪), ফাতহুল কাদির (২/ ১৩), আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৮)।

(৯) আল-ইনতিসার (২/ ৩৮৮)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
5 - ولأنها صلاة غير واجبة، فوجب أن لا يكون السجود لها واجبًا، أصله إذا أعاد تلك الآية (1).

6 - ولأنه لما لم يجب عند العودة إلى التلاوة لم يجب عند ابتداء التلاوة كالطهارة (2).

7 - أنها لو كانت واجبة لما أديت في سجود الصلاة وركوعها (3).

ونوقش: بأن أداءها في ضمن شيء لا ينافي وجوبها في نفسها كالسعي إلى الجمعة يتأدى بالسعي إلى التجارة (4).

8 - أنها لو كانت واجبة لما تداخلت (5).

ونوقش: بأنه إنما جاز التداخل، لأن المقصود منها إظهار الخضوع والخشوع، وذلك يحصل بمرة واحدة (6).

9 - أنها لو كانت واجبة بطلت الصلاة بتركها كالصلاتية (7).

ونوقش: بالفرق؛ لأن الصلاتية جزء الصلاة، بخلاف السجدة فليس بجزء الصلاة (8).

10 - ولأن كل سجود لا تبطل الصلاة بتركه فهو مسنون كسجود السهو (9).

الترجيح:

والذي يظهر لي رجحانه هو القول الثالث، من عدم وجوب السجود؛ لقوة ما بني عليه من استدلال، وسلامة أدلته من المناقشة المضعفة للاستدلال، في مقابل ضعف ما أورده الموجبون للسجود من أوجه للاستدلال.

--------------------------------------------

(1) الحاوي (2/ 201).

(2) الحاوي (2/ 201).

(3) ذكره لهم صاحب البناية (2/ 718) والعناية (2/ 14).

(4) المصدران السابقان.

(5) البناية (2/ 718) العناية (2/ 14).

(6) المصادر السابقة.

(7) البناية (2/ 718).

(8) المصدر السابق.

(9) الحاوي (2/ 201).
5 - আর যেহেতু এটি ওয়াজিব (واجب) নয় এমন সালাত, তাই এর সাজদাহ ওয়াজিব (واجب) না হওয়া আবশ্যক; এর মূলনীতি হলো যখন সেই আয়াতটি পুনরাবৃত্তি করা হয় (১)।

6 - আর যেহেতু তিলাওয়াত পুনরাবৃত্তির সময় এটি ওয়াজিব (واجب) হয় না, তাই তিলাওয়াত শুরুর সময়ও এটি ওয়াজিব (واجب) হবে না, যেমন তাহারাত (পবিত্রতা) (২)।

7 - এটি যদি ওয়াজিব (واجب) হতো, তবে তা সালাতের সাজদাহ ও রুকুতে আদায় করা যেত না (৩)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: কোনো কিছুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে তা আদায় হওয়া স্বয়ং সেটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পরিপন্থী নয়; যেমন জুমার দিকে ধাবিত হওয়ার ওয়াজিবটি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ধাবিত হওয়ার মাধ্যমেও আদায় হয়ে যায় (৪)।

8 - এটি যদি ওয়াজিব (واجب) হতো, তবে তা একটি অপরটির অন্তর্ভুক্ত হতো না (৫)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি অন্তর্ভুক্ত হওয়া কেবল এ কারণেই বৈধ হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা, আর তা একবার আদায়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয় (৬)।

9 - এটি যদি ওয়াজিব (واجب) হতো, তবে তা পরিত্যাগ করলে সালাত বাতিল হয়ে যেত, যেমনটি সালাতের রুকন সাজদাহর ক্ষেত্রে হয় (৭)।

এর উত্তরে পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে; কারণ সালাতের নিজস্ব সাজদাহ সালাতের অংশ, পক্ষান্তরে এই সাজদাহ সালাতের অংশ নয় (৮)।

10 - আর যেহেতু প্রতিটি সাজদাহ যা বর্জন করলে সালাত বাতিল হয় না, তা সুন্নাহ (مسنون); যেমন সাজদাহ সাহু (৯)।

অগ্রগণ্য মত (তারজিহ):

আমার নিকট সাজদাহ ওয়াজিব (واجب) না হওয়ার তৃতীয় মতটিই অগ্রগণ্য বলে প্রতীয়মান হয়; কারণ এর ইস্তিদলাল (দলিল প্রয়োগ) অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর দলিলসমূহ এমন আপত্তি থেকে মুক্ত যা দলিল হিসেবে গ্রহণকে দুর্বল (ضعيف) করে দেয়। এর বিপরীতে যারা সাজদাহ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কথা বলেছেন, তাদের উপস্থাপিত ইস্তিদলালের দিকগুলো দুর্বল (ضعيف)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাভি (২/ ২০১)।

(২) আল-হাভি (২/ ২০১)।

(৩) বিনায়াহ গ্রন্থকার (২/ ৭১৮) এবং ইনায়াহ গ্রন্থকার (২/ ১৪) তাদের পক্ষে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) পূর্বোক্ত উভয় উৎস।

(৫) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৮), আল-ইনায়াহ (২/ ১৪)।

(৬) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

(৭) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৮)।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস।

(৯) আল-হাভি (২/ ২০১)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌المبحث الثاني

في حكمه للمستمع والسامع

وفيه مطلبان:

 

‌‌المطلب الأول: في حكم السجود.

المطلب الثاني: في شروطه.

المطلب الأول: في حكم السجود

وفيه مسألتان:

 

‌‌المسألة الأولى: في حكمه للمستمع.

المسألة الثانية: في حكمه للسامع.

المسألة الأولى: في حكمه للمستمع (1):

اختلف أهل العلم في حكم سجود التلاوة للمستمع على قولين:

القول الأول: إنه واجب:

ذهب إليه الحنفية (2) وأحمد في رواية عنه (3) اختارها

--------------------------------------------

(1) المستمع هو الذي يقصد الاستماع للقراءة في الصلاة أو غيرها، بلا نزاع، حاشية ابن قاسم على الروض المربع (2/ 233) كشاف القناع (1/ 445).

(2) الهداية (1/ 78) المبسوط (2/ 4) بدائع الصنائع (1/ 180).

(3) الإنصاف (2/ 193) المبدع (2/ 28) حاشية ابن قاسم (2/ 234).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

মনোযোগী শ্রোতা (مستمع) ও অনিচ্ছাকৃত শ্রবণকারী (سامع)-এর জন্য এর বিধান প্রসঙ্গে

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: সাজদাহর বিধান প্রসঙ্গে.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর শর্তাবলি প্রসঙ্গে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাজদাহর বিধান প্রসঙ্গে

এতে দুটি মাসআলা (مسألة) রয়েছে:

 

‌‌প্রথম মাসআলা: মনোযোগী শ্রোতার (مستمع) জন্য এর বিধান প্রসঙ্গে.

দ্বিতীয় মাসআলা: অনিচ্ছাকৃত শ্রবণকারীর (سامع) জন্য এর বিধান প্রসঙ্গে।

প্রথম মাসআলা: মনোযোগী শ্রোতার (مستمع) জন্য এর বিধান (১):

মনোযোগী শ্রোতার (مستمع) জন্য তিলাওয়াতের সাজদাহর (سجود التلاوة) বিধান সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এটি ওয়াজিব (واجب):

হানাফিগণ (২) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী (৩) এই মত পোষণ করেছেন, যা তিনি পছন্দ করেছেন

--------------------------------------------

(১) মনোযোগী শ্রোতা (مستمع) হলেন তিনি, যিনি সালাতে বা সালাতের বাইরে তিলাওয়াত শোনার ইচ্ছা পোষণ করেন, এতে কোনো মতভেদ নেই। হাশিয়াহ ইবনু কাসিম আলা রওদিল মুরবি (২/ ২৩৩), কাশশাফুল কিনা (১/ ৪৪৫)।

(২) হিদায়াহ (১/ ৭৮), মাবসুত (২/ ৪), বাদাউস সানায়ে (১/ ১৮০)।

(৩) ইনসাফ (২/ ১৯৩), মুবদি (২/ ২৮), হাশিয়াহ ইবনু কাসিম (২/ ২৩৪)।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ابن تيمية (1).

وقد استدل هؤلاء بما استدلوا به في المبحث السابق في وجوبه على التالي ومن أهمها ما يلي:

1 - قوله تعالى: {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ * وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} [الانشقاق: 20، 21].

ووجهه: أن الله ذمهم على ترك السجود، وإنما يذم بترك الواجب (2).

2 - قوله تعالى: {فَاسْجُدُوا لِلهِ وَاعْبُدُوا} [النجم: 62]، وقوله: {وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ} [العلق: 19] وهذا أمر، ومطلق الأمر للوجوب (3).

3 - قوله تعالى: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15].

وهذا من أبلغ الأمر والتخصيص؛ فإنه نفي الإيمان عمن ذكر بآيات ربه ولم يسجد إذا ذكر بها (4).

4 - ما ورد عن عثمان، وابن عباس وابن عمر؛ أنهم قالوا: السجدة على من استمعها، على من جلس لها، على من سمعها (5). اختلفت ألفاظهم بهذه، و"على" كلمة إيجاب (6).

5 - لأنها لو لم تكن واجبة لما جاز أداؤها في الصلاة؛ لأن أداءها زيادة سجدة، وهي تطوع، توجب الفساد (7).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (23/ 139، 140، 155، 156).

(2) المبسوط (2/ 4) بدائع الصنائع (1/ 180) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 127).

(3) البناية (2/ 719) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 139).

(4) مجموع فتاوى ابن تيمية (23/ 139).

(5) سبق تخريج هذه الآثار (24).

(6) المبسوط (2/ 4) البناية (2/ 717).

(7) البناية (1/ 719).
ইবন তাইমিয়্যাহ (১)।

সাজদাহ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়ে তাঁরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে যা দ্বারা দলীল দিয়েছেন তার পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারাও দলীল পেশ করেছেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিম্নরূপ:

১ - মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তাদের কী হয়েছে যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সাজদাহ করে না} [আল-ইনশিক্বাক: ২০, ২১]।

এর ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহ তাআলা তাদের সাজদাহ বর্জন করার কারণে নিন্দা করেছেন, আর নিন্দা কেবল ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করার কারণেই করা হয়ে থাকে (২)।

২ - মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদাহ করো এবং তাঁর ইবাদত করো} [আন-নাজম: ৬২], এবং তাঁর বাণী: {সাজদাহ করো এবং নিকটবর্তী হও} [আল-আলাক্ব: ১৯]। এটি একটি নির্দেশ (أمر), আর সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে (৩)।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদের যখন তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তখন তারা সাজদাহয় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]।

এটি নির্দেশ (أمر) এবং নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) একটি অত্যন্ত জোরালো পদ্ধতি; কেননা যার কাছে তার রবের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় অথচ সে তখন সাজদাহ করে না, তার থেকে ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে (৪)।

৪ - উসমান, ইবন আব্বাস এবং ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; তাঁরা বলেছেন: সাজদাহ তার ওপর যে তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছে, যে সাজদাহর জন্য বসেছে এবং যে তা শুনেছে (৫)। তাঁদের শব্দ চয়নে ভিন্নতা থাকলেও 'আলা' (على) শব্দটি ওয়াজিব (إيجاب) হওয়ার অর্থ নির্দেশ করে (৬)।

৫ - কারণ যদি এটি ওয়াজিব (واجب) না হতো, তবে সালাতের মধ্যে এটি আদায় করা বৈধ হতো না; কেননা (সালাতে) এর আদায় একটি অতিরিক্ত সাজদাহ হিসেবে গণ্য হতো, আর এটি নফল (تطوع) হওয়ার কারণে সালাত নষ্ট (فساد) হওয়ার কারণ হতো (৭)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু আল-ফাতাওয়া (২৩/ ১৩৯, ১৪০, ১৫৫, ১৫৬)।

(২) আল-মাবসুত (২/ ৪), বাদায়েউস সানায়ে (১/ ১৮০), মাজমু ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১২৭)।

(৩) আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৯), মাজমু ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৩৯)।

(৪) মাজমু ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ (২৩/ ১৩৯)।

(৫) এই আছারগুলোর (آثار) তখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (২৪)।

(৬) আল-মাবসুত (২/ ৪), আল-বিনায়াহ (২/ ৭১৭)।

(৭) আল-বিনায়াহ (১/ ৭১৯)।