(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
المنهج الصحيح القسم: العقيدة
الكتاب: المنهج الصحيح
المؤلف: عبد الله بن محمد الغنيمان
الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 109
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الآخرة 1432
আল-মানহাজুস সহিহ বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: আল-মানহাজুস সহিহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الواحد الأحد، الفرد الصمد، الذي لم يكن له كفؤا أحد، خلق الإنسان في كبد، ورفع السموات بلا عمد، يفعل ما يشاء، ويحكم ما يريد.
وأشهد أن لا إله إلا الله الحق المبدئ المعيد، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق فهدى به من يريد.
أما بعد:
فهذا المنهج الصحيح اجتهدت في تبويبه، وتنظيم أدلته وترتيبه.
أسأل الله تعالى أن ينفع به، وأن يجعله عملا صالحا خالصا لوجهه، إنه مولى النعم، المنان بالفضل والكرم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক ও অদ্বিতীয়, যিনি অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত, যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি মানুষকে শ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশমন্ডলীকে কোনো স্তম্ভ ছাড়াই উন্নত করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং যা ইচ্ছা তা-ই বিধান প্রদান করেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি অস্তিত্ব দানকারী ও পুনরায় ফিরিয়ে আনয়নকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেছেন।
অতঃপর:
এটি একটি সঠিক মানহাজ (পদ্ধতি), যা আমি পরিচ্ছেদ বিন্যাসে এবং এর প্রমাণাদি সুসংগঠিত ও ক্রমানুসারে সাজাতে সচেষ্ট হয়েছি।
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল নেয়ামতের মালিক এবং অনুগ্রহ ও বদান্যতা দানকারী।
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
(1)
باب أول ما يجب لله على العبدقال الله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 256].
وقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} [القتال: 19].
وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ} [النحل: 36].
وقال عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25].
وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].
وعن ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا إلى اليمن قال: «إنك تقدم على قوم أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله عز وجل، فإذا عرفوا الله فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم، فإذا فعلوا فأخبرهم أن الله فرض
(১)
বান্দার ওপর আল্লাহর প্রথম যা ওয়াজিব সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদআল্লাহ তাআলা বলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল, যা ছিঁড়ে যাবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-বাকারাহ: ২৫৬]।
তিনি আরও বলেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য আর মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন।} [আল-কিতাল: ১৯]।
তিনি আরও বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। এরপর তাদের মধ্য থেকে কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে।} [আন-নাহল: ৩৬]।
মহা প্রতাপশালী ও মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এই ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আল-আম্বিয়া: ২৫]।
তিনি আরও বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমারই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬]।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুআযকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; তাই তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় আল্লাহর ইবাদত করার দিকে। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যখন তারা এটি পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর ফরজ করেছেন...»
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
عليهم زكاة تؤخذ من أموالهم وترد على فقرائهم، فإذا أطاعوا بها فخذ منهم وتوق كرائم أموال الناس» متفق عليه (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، ويؤمنوا بي وبما جئت به، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها، وحسابهم على الله». رواه مسلم (2).
وعن أبي مالك عن أبيه رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه، وحسابه على الله». رواه مسلم (3).
* * * * *
--------------------------------------------
তাদের ওপর জাকাত নির্ধারিত করা হয়েছে যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যখন তারা এটি মেনে নেবে, তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং মানুষের মূল্যবান সম্পদসমূহ (জোর করে নেওয়া) থেকে বেঁচে থাকো। (মুত্তাফাকুন আলাইহি/বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত) (১)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমার ওপর ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর ঈমান আনে। যখন তারা এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ রক্ষা করে নেবে—ইসলামি বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
আবু মালিক তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং আল্লাহকে ছেড়ে অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করবে, তার সম্পদ ও রক্ত (হানি করা) হারাম হয়ে যাবে এবং তার হিসাব আল্লাহর নিকট।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
(2)
باب دليل وحدانية الله تعالىفي الخلق والتدبير والعبادة
قال الله تعالى: {أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [الرعد: 16].
وقال تعالى: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ} [الطور: 35 - 36].
وقال عز وجل: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آَدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ * أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آَبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ} [الأعراف: 172 - 173].
وقال تعالى: {سَنُرِيهِمْ آَيَاتِنَا فِي الْآَفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53].
وقال تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ اِئْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [الأحقاف: 4].
وعن أبي سلام عن مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن رسول الله
(২)
আল্লাহ তাআলার একত্বের প্রমাণের পরিচ্ছেদসৃষ্টি, পরিচালনা এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে
মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি তারা আল্লাহর জন্য এমন কিছু অংশীদার সাব্যস্ত করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করেছে, ফলে সৃষ্টিসমূহ তাদের কাছে সদৃশ মনে হয়েছে? আপনি বলুন, আল্লাহই প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি অদ্বিতীয়, মহাপরাক্রমশালী।} [আর-রাদ: ১৬]।
এবং তিনি বলেন: {নাকি তারা কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না কি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না।} [আত-তুর: ৩৫ - ৩৬]।
এবং তিনি আরও বলেন: {আর যখন আপনার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে নিজেদের ব্যাপারে সাক্ষী করে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম’। অথবা বলতে না পার যে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো ইতিপূর্বে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর ছিলাম; তবে কি আপনি পথভ্রষ্টদের কৃতকর্মের জন্য আমাদের ধ্বংস করবেন?’} [আল-আরাফ: ১৭২ - ১৭৩]।
এবং তিনি বলেন: {আমি অচিরেই দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য। আপনার প্রতিপালক কি যথেষ্ট নন যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?} [ফুসসিলাত: ৫৩]।
এবং তিনি বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো, তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা জমিনে কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও, অথবা আসমানসমূহে তাদের কি কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} [আল-আহকাফ: ৪]।
আবু সাল্লাম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
- صلى الله عليه وسلم قال: «بخ بخ، خمس ما أثقلهن في الميزان: لا إله إلا الله، والله أكبر، وسبحان الله، والحمد لله، والولد الصالح يتوفى فيحتسبه والده».
وقال: «بخ بخ لخمس من لقي الله مستيقنا بهن دخل الجنة؛ يؤمن بالله، واليوم الآخر، وبالجنة والنار، والبعث بعد الموت، والحساب». رواه الإمام أحمد (1).
وعن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس شيء إلا وهو أطوع لله تعالى من ابن آدم». رواه الطبراني في الصغير (2).
وعن أبي رزين العقيلي رضي الله عنه قال: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله، كيف يحيي الله الموتى؟.
قال: «أما مررت بأرض من أرضك مجدبة، ثم مررت بها مخصبة؟».
قال: نعم، قال: «كذلك النشور» الحديث رواه الإمام أحمد (3).
* * * * *
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «চমৎকার চমৎকার! পাঁচটি বিষয় মিজানের পাল্লায় কতই না ভারী: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সুমহান, আল্লাহ অতীব পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর, এবং সেই নেককার সন্তান যে মারা গেলে তার পিতা (আল্লাহর নিকট) সওয়াবের আশা করে»।
তিনি আরও বলেছেন: «চমৎকার চমৎকার! পাঁচটি বিষয়ের জন্য; যে ব্যক্তি এগুলোর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: সে আল্লাহর ওপর, পরকালের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর এবং হিসাবের ওপর ঈমান আনবে»। ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আদম সন্তান ছাড়া এমন কোনো বস্তু নেই যা মহান আল্লাহর অধিক অনুগত নয়»। তাবারানি এটি 'আস-সাগীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২)।
আবু রাজিন আল-উকাইলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ কীভাবে মৃতদের জীবিত করবেন?
তিনি বললেন: «তুমি কি তোমার এলাকার এমন কোনো শুষ্ক ও অনুর্বর ভূমির পাশ দিয়ে যাওনি, যা পরে আবার শস্য-শ্যামল ও উর্বর অবস্থায় দেখেছ?»
তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন: «পুনরুত্থান ঠিক এভাবেই হবে» হাদিসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৩)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
(3)
باب الإيمان بالله تعالىقال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ} [البقرة: 208].
وقال تعالى: {قُولُوا آَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ}] ٍالبقرة: 136].
وقال تعالى: {وَيَقُولُونَ آَمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ * وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ * وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ * أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولَئِكَ هُمَ الظَّالِمُونَ * إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [النور: 47 - 51].
وقال تعالى: {وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ} [الحجرات: 7].
فأخبر أن الذنوب بعضها كفر، وبعضها فسوق، وبعضها عصيان، وأخبر تعالى أنه كرهها كلها إلى المؤمنين، والطاعات كلها داخلة في الإيمان، ولهذا لم يفرق بينها.
(৩)
আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু} [আল-বাকারা: ২০৮]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে আর যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত (মুসলিম)} [আল-বাকারা: ১৩৬]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর প্রতি ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি।’ অতঃপর তাদের একদল এর পরেও বিমুখ হয় এবং তারা মুমিন নয়। আর যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করেন, তখন তাদের একটি দল বিমুখ হয়ে যায়। আর যদি সত্য তাদের স্বপক্ষে হয়, তবে তারা অত্যন্ত অনুগত হয়ে তাঁর নিকট ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, নাকি তারা সংশয়ে নিপতিত? নাকি তারা ভয় পায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো জালিম। মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করেন, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম} [আন-নূর: ৪৭ - ৫১]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {কিন্তু আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সঠিক পথপ্রাপ্ত} [আল-হুজুরাত: ৭]।
সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, পাপসমূহের কিছু কুফর, কিছু পাপাচার এবং কিছু অবাধ্যতা; আর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুমিনদের কাছে এই সবগুলোকে ঘৃণ্য করে দিয়েছেন। আর সকল প্রকার আনুগত্যই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, এই কারণেই তিনি এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يوما بارزا للناس، فأتاه رجل فقال: يا رسول الله، ما الإيمان؟
قال: «الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتابه ولقائه ورسله، وتؤمن بالبعث الآخر». رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم (1).
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن المؤمن ليس باللعان، ولا الطعان، ولا الفاحش، ولا البذيء». رواه الإمام أحمد والبخاري في الأدب المفرد (2).
عن أبي شريح رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «والله لا يؤمن، والله لا يؤمن، والله لا يؤمن»، قيل: من يا رسول الله؟.
قال: «الذي لا يأمن جاره بوائقه». رواه البخاري (3).
وقال الحسن: "ليس الإيمان بالتحلي ولا بالتمني، ولكن ما وقر في القلب وصدقته الأعمال".
* * * * *
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের সামনে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী?
তিনি বললেন: «ঈমান হলো আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাগণকে, তাঁর কিতাবকে, তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে, তাঁর রাসূলগণকে এবং আপনি বিশ্বাস করবেন পরকালীন পুনরুত্থানকে»। ইমাম আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি অভিশাপকারী নয়, দোষান্বেষণকারী নয়, অশ্লীলভাষী নয় এবং কটুভাষী নয়»। ইমাম আহমাদ এবং বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
আবু শুরাইহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়», জিজ্ঞেস করা হলো: কে, হে আল্লাহর রাসূল?
তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না»। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
হাসান বসরী বলেন: "ঈমান কেবল বাহ্যিক সজ্জা বা আকাঙ্ক্ষার নাম নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং কাজ বা আমল দ্বারা যা সত্য প্রমাণিত হয়"।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(4)
باب الإسلام والفرق بينه وبين الإيمانقال الله تعالى: {فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ * فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [الذاريات: 35 - 36].
وقال تعالى: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آَمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ وَإِنْ تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الحجرات: 14].
وقال تعالى: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [الأحزاب: 35].
وعن ابن عمر رضي الله عنه قال: حدثني أبي عمر بن الخطاب قال: بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يا محمد، أخبرني عن الإسلام؟.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا».
قال: صدقت، فعجبنا له يسأله ويصدقه، قال: فأخبرني عن الإيمان؟.
قال: «الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن
(৪)
ইসলাম এবং এর ও ঈমানের মধ্যকার পার্থক্যের অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আমি সেখানে যারা মুমিন ছিল তাদের বের করে আনলাম। * কিন্তু আমি সেখানে মুসলিমদের একটি ঘর ছাড়া আর কোনো ঘর পাইনি।} [আয-যারিয়াত: ৩৫ - ৩৬]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {মরুবাসী আরবরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন, ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি; কারণ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, তবে তিনি তোমাদের আমল থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।} [আল-হুজুরাত: ১৪]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী} [আল-আহযাব: ৩৫]।
ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা যখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে অত্যন্ত সাদা পোশাক ও অত্যন্ত কালো চুল বিশিষ্ট একজন লোক আবির্ভূত হলেন। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনত না। পরিশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তিনি তাঁর দুই হাঁটু নবীজির দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং তাঁর দুই হাতের তালু নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন।
অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «ইসলাম হলো তুমি এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করবে»।
সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর ওপর বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। সে বলল: তবে আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন।
তিনি বললেন: «ঈমান হলো তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের ওপর; আর তুমি বিশ্বাস করবে...»
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بالقدر خيره وشره».
قال: صدقت، قال: فأخبرني عن الإحسان؟.
قال: «أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك».
قال: فأخبرني عن الساعة، قال: «ما المسئول عنها بأعلم من السائل».
قال: فأخبرني عن أماراتها، قال: «أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان».
قال: ثم انطلق، فلبثت مليا، ثم قال لي: «يا عمر، أتدري من السائل؟».
قلت: الله ورسوله أعلم، قال: «فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم». رواه مسلم (1).
وعن بهز بن حكيم رضي الله عنه عن أبيه عن جده قال: قلت: يا نبي الله، ما أتيتك حتى حلفت أكثر من عددهن - لأصابع يديه - أن لا آتيك، ولا آتي دينك، وإني كنت امرءاً لا أعقل شيئاً إلا ما علمني الله ورسوله، وإني سألتك بوجه الله بما بعثك الله؟ قال: «بالإسلام»، قال: وما آيات الإسلام؟ قال: «أن تقول: أسلمت وجهي لله، وتخليت، وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة». رواه النسائي وابن ماجه (2).
وعن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم قسما، فقلت: يا رسول الله، أعط فلانا فإنه مؤمن، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أو مسلم»، أقولها ثلاثا ويرددها ثلاثا «أو
--------------------------------------------
তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি (ঈমান আনা)।”
তিনি বললেন, “আপনি সত্য বলেছেন।” তিনি বললেন, “তাহলে আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।”
তিনি বললেন, “তা হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন আপনি তাঁকে দেখছেন। আর আপনি যদি তাঁকে নাও দেখেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই আপনাকে দেখছেন।”
তিনি বললেন, “তাহলে আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন।” তিনি বললেন, “এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন।”
তিনি বললেন, “তাহলে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে আমাকে বলুন।” তিনি বললেন, “তা হলো দাসী তার মালিককে প্রসব করবে, আর আপনি দেখবেন নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র মেষপালকদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে।”
তিনি বললেন: তারপর তিনি চলে গেলেন। আমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, “হে উমর! আপনি কি জানেন প্রশ্নকারী কে ছিলেন?”
আমি বললাম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বললেন, “তিনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
বাহজ ইবনে হাকিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, “হে আল্লাহর নবী! আমি আপনার কাছে আসব না এবং আপনার দ্বীন গ্রহণ করব না বলে এই আঙুলগুলোর চেয়েও (তিনি তাঁর দুই হাতের আঙুলগুলো ইশারা করে দেখালেন) বেশি বার কসম খেয়েছিলাম। আমি এমন এক ব্যক্তি ছিলাম যে কিছুই বুঝতাম না, কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাকে যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া। আমি আপনাকে আল্লাহর চেহারার উসিলায় জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ আপনাকে কী দিয়ে পাঠিয়েছেন?” তিনি বললেন, “ইসলাম দিয়ে।” তিনি বললেন, “ইসলামের নিদর্শনগুলো কী?” তিনি বললেন, “তা হলো আপনি বলবেন: আমি আমার চেহারাকে আল্লাহর প্রতি সমর্পণ করলাম এবং অন্য সব পরিহার করলাম, আর আপনি সালাত কায়েম করবেন এবং জাকাত প্রদান করবেন।” এটি নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (২)।
সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু বন্টন করলেন। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে দিন, কেননা তিনি একজন মুমিন।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “নাকি মুসলিম?” আমি এটি তিনবার বললাম এবং তিনিও তিনবার এর পুনরাবৃত্তি করলেন, “নাকি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مسلم»، ثم قال: «إني لأعطي الرجل وغيره أحب إلي منه مخافة أن يكبه الله في النار». متفق عليه (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم». رواه الترمذي والنسائي (2).
* * * * *
--------------------------------------------
মুসলিম», অতঃপর তিনি বললেন: «আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য কেউ আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, এই ভয়ে যে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করতে পারেন।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার নিকট মানুষ তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে।» তিরমিযী ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(5)
باب الإيمان بالرسلقال الله تعالى: {آَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ} [الحديد: 7].
وقال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158].
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «والذي نفس محمد بيده، لا يسمع بي أحد من هذه الأمة، يهودي ولا نصراني ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به، إلا كان من أصحاب النار». رواه مسلم (1).
وعن أنس رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين». متفق عليه (2).
* * * * *
--------------------------------------------
(৫)
রাসূলগণের প্রতি ঈমানের অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তিনি তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন তা থেকে ব্যয় করো।} [আল-হাদীদ: ৭]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। অতএব তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৫৮]।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মতের যে কেউ—চাই সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনেই মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।» এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(6)
بابقول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آَمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} [الحجرات: 15].
وقال الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آَيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ * الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [الأنفال: 2 - 3].
وعن أبي مالك عن أبيه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله، حرم ماله ودمه، وحسابه على الله». رواه مسلم (1).
وهذا يدل على أن الإيمان قول وعمل وعلم، يزيد بالطاعات وينقص بالمعاصي، كما هو قول أهل السنة.
* * * * *
--------------------------------------------
(৬)
অধ্যায়আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুমিন কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তারা সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই সত্যবাদী।} [আল-হুজুরাত: ১৫]।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুমিন কেবল তারাই, যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় তখন তাদের হৃদয় প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।} [আল-আনফাল: ২ - ৩]।
আবু মালিক তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের ইবাদত করা হয় তাদেরকে অস্বীকার করবে, তার ধন-সম্পদ ও রক্ত (অন্যের জন্য) হারাম হয়ে গেল, আর তার হিসাব আল্লাহর ওপর সোপর্দ হবে।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
আর এটি প্রমাণ করে যে, ঈমান হলো কথা, কাজ ও জ্ঞানের নাম; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়, যেমনটি আহলুস সুন্নাহর অভিমত।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(7)
بابقول الله تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65].
وقال الله تعالى: {وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِنْدَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ} [المائدة: 43].
قال ابن القيم في الآية الأولى: "أقسم سبحانه بنفسه المقدسة قسما مؤكدا بالنفي قبله على عدم إيمان الخلق حتى يحكموا رسوله في كل ما شجر بينهم من الأصول والفروع وأحكام الشرع وأحكام العباد والصفات وغيرها، ولم يثبت لهم الإيمان بمجرد التحكيم حتى ينتفي عنهم الحرج ـ وهو ضيق النفس ـ، وحتى ينضاف إلى ذلك الرضى به والتسليم لحكمه" (1). اهـ.
وعن عروة بن الزبير أن عبد الله بن الزبير حدثه أن رجلا من الأنصار خاصم الزبير عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في شراج الحرة التي يسقون بها النخل، فقال الأنصاري: سرح الماء يمر، فأبى عليهم، فاختصموا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اسق يا زبير، ثم أرسل الماء إلى جارك»، فغضب الأنصاري، فقال: يا رسول الله، أن كان ابن عمتك، فتلون وجه نبي الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: «يا زبير اسق، ثم احبس الماء حتى يرجع إلى الجدر».
--------------------------------------------
(৭)
পরিচ্ছেদআল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনোরূপ কুণ্ঠাবোধ না থাকে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা আপনাকে কীভাবে বিচারক নিযুক্ত করবে অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, যাতে আল্লাহর বিধান বিদ্যমান? এরপরও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। মূলত তারা মুমিন নয়} [আল-মায়িদাহ: ৪৩]।
ইবনুল কাইয়্যিম প্রথম আয়াত সম্পর্কে বলেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র সত্তার শপথ করে—যার আগে একটি না-সূচক শব্দ দ্বারা শপথকে আরও জোরালো করা হয়েছে—ঘোষণা করেছেন যে, সৃষ্টিজগত ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার যাবতীয় বিবাদে—তা উসুল (মূলনীতি) হোক কিংবা ফুরু (শাখা-প্রশাখা), শরয়ি বিধান হোক কিংবা বান্দাদের বিচার-আচার অথবা আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী) বা অন্য কিছু—রাসূলুল্লাহকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেয়। আর শুধু বিচারক মানলেই তাদের ঈমান সাব্যস্ত হবে না, যতক্ষণ না তাদের অন্তর থেকে সংকীর্ণতা—যা মনের সংকীর্ণতা বুঝায়—দূর হয় এবং এর সাথে সেই বিচারের প্রতি সন্তুষ্টি ও পূর্ণ আনুগত্য যুক্ত হয়" (১)। সমাপ্ত।
উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁকে জানিয়েছেন, জনৈক আনসারি ব্যক্তি হাররাহ অঞ্চলের পানির নালা নিয়ে—যা দিয়ে তারা খেজুর গাছে পানি দিতেন—জুবাইর (রা.)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বিবাদে লিপ্ত হলেন। আনসারি ব্যক্তিটি বললেন: 'পানি ছেড়ে দাও যেন তা প্রবাহিত হতে পারে', কিন্তু তিনি (জুবাইর) তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিচার নিয়ে আসলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: «হে জুবাইর! তুমি পানি সেচন করো, তারপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও», এতে আনসারি ব্যক্তিটি রাগান্বিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি এমন বিচার করলেন? তখন আল্লাহর নবী (সা.)-এর চেহারার রং বদলে গেল (রাগে)। এরপর তিনি বললেন: «হে জুবাইর! তুমি পানি সেচন করো, এরপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল পর্যন্ত ফিরে আসে (অর্থাৎ গাছতলার চারদিকের বাঁধ পূর্ণ হয়)»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فقال الزبير: والله إني لأحسب هذه الآية نزلت في ذلك: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا}. متفق عليه (1).
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد إذ دخل رجل على جمل، ثم أناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ.
فقال له: ابن عبد المطلب، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «قد أجبتك».
فقال الرجل: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة، فلا تجد علي في نفسك.
قال: «سل عما بدا لك».
قال: أسألك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟.
قال: «اللهم نعم».
قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟.
قال: «اللهم نعم».
قال: أنشد بالله، آلله أمرك أن نأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فنقسمها على فقرائنا؟.
--------------------------------------------
যুবাইর বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি এই আয়াতটি সেই বিষয়েই অবতীর্ণ হয়েছে: {অতঃপর তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেবে, এরপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করবে না এবং তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে মেনে নেবে}। বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সংকলিত (১)।
আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমরা মসজিদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উটে চড়ে প্রবেশ করল, অতঃপর সে মসজিদে উটটিকে বসাল এবং সেটিকে বাঁধল। এরপর সে বলল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কোনটি? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, আমরা বললাম: এই যে হেলান দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তিটি।
অতঃপর সে তাঁকে বলল: হে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «আমি তোমার কথা শুনছি (বা উত্তর দিচ্ছি)»।
লোকটি বলল: আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব এবং প্রশ্নে আপনার প্রতি কঠোর হব, তাই আপনি আপনার মনে আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হবেন না।
তিনি বললেন: «তোমার যা মনে আসে তা-ই জিজ্ঞেস করো»।
সে বলল: আমি আপনাকে আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন?
তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, হ্যাঁ»।
সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন?
তিনি বললেন: «হে আল্লাহ, হ্যাঁ»।
সে বলল: আমি আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের ধনীদের থেকে এই সদকা গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «نعم».
قال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة أخو بني سعد بن بكر. متفق عليه، واللفظ للبخاري (1).
وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به». قال النووي: حديث صحيح (2).
* * * * *
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হ্যাঁ।"
লোকটি বললেন: "আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম। আমি আমার পেছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি এবং আমি বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রের ভাই দিমাম ইবনে সা'লাবা।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন), এবং শব্দগুলো বুখারীর (১)।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" ইমাম নববী বলেছেন: হাদিসটি সহিহ (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(8)
باب قيام الحجة بالرسلقال الله تعالى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [النساء: 165].
وقال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [المائدة: 92].
وقال تعالى: {وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِمْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَى هَؤُلَاءِ} [النحل: 89].
وقال تعالى: {وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ فَمَنْ آَمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ} [الأنعام: 48 - 49].
وقال تعالى: {تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ * قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ * وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك: 8 - 10].
وعن أبي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يجيء نوح وأمته فيقول الله تعالى: هل بلغت؟ فيقول: نعم أي رب، فيقول لأمته: هل
(৮)
রাসূলগণের মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।} [আন-নিসা: ১৬৫]।
এবং তিনি আরও বলেন: {আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো; কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখো যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।} [আল-মায়িদাহ: ৯২]।
এবং তিনি আরও বলেন: {সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং আমি আপনাকে এদের ওপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব।} [আন-নাহল: ৮৯]।
এবং তিনি আরও বলেন: {আর আমি রাসূলগণকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি; সুতরাং যারা ঈমান আনবে ও নিজেদের সংশোধন করে নেবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তাদের অবাধ্যতার কারণে আযাব স্পর্শ করবে।} [আল-আনআম: ৪৮ - ৪৯]।
এবং তিনি আরও বলেন: {ক্রোধে ও আক্রোশে তা যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’ তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি, তোমরা তো এক মহা বিভ্রান্তিতে আছ।’ আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা এই প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।’} [আল-মুলক: ৮ - ১০]।
আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নূহ এবং তাঁর উম্মত আসবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: আপনি কি পৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক। তখন তিনি তাঁর উম্মতকে বলবেন: কি...»
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بلغكم؟ فيقولون: لا ما جاءنا من نبي، فيقول لنوح: من يشهد لك؟ فيقول: محمد صلى الله عليه وسلم وأمته، فنشهد أنه قد بلغ ـ وهو قوله جل ذكره ـ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} [البقرة: 143]». رواه البخاري (1).
وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أعطيت خمسا لم يعطهن أحد قبلي، كان كل نبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى كل أحمر وأسود، وأحلت لي الغنائم ولم تحل لأحد قبلي، وجعلت لي الأرض طيبة طهورا ومسجدا، فأيما رجل أدركته الصلاة صلى حيث كان، ونصرت بالرعب بين يدي مسيرة شهر، وأعطيت الشفاعة». متفق عليه، واللفظ لمسلم (2).
وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من سمع بي من أمتي أو يهودي أو نصراني ثم لم يؤمن بي، دخل النار». رواه أبو داود الطيالسي، وقال الهيثمي: رواه النسائي وابن أبي شيبة ورجاله رجال الصحيح (3).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة، يهودي ولا نصراني ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به إلا كان من أصحاب النار». رواه مسلم (4).
* * * * *
--------------------------------------------
তিনি কি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন? তখন তারা বলবে: না, আমাদের নিকট কোনো নবী আসেননি। অতঃপর তিনি নূহকে বলবেন: তোমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মত। অতঃপর আমরা সাক্ষ্য দেব যে, তিনি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছেন—আর তা-ই মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে দান করা হয়নি; ইতিপূর্বে প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে তাঁর স্বজাতির নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে পাঠানো হয়েছে প্রত্যেক লাল ও কালোর (অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতির) নিকট। আমার জন্য গনিমতের মাল (যুদ্ধের লব্ধ সম্পদ) হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না। আমার জন্য জমিনকে পবিত্র, শুচি এবং সিজদাহর স্থান (মসজিদ) বানানো হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তির নামাজের সময় হবে সে যেখানেই থাকুক না কেন যেন নামাজ পড়ে নেয়। আমাকে এক মাসের দূরত্বের পথ পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে শাফায়াত (সুপারিশ করার অধিকার) প্রদান করা হয়েছে।» এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন), তবে শব্দচয়ন মুসলিমের (২)।
আবু মুসা আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার এই উম্মতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমার কথা শুনবে, চাই সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান, অতঃপর সে আমার ওপর ঈমান আনবে না, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।» আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি বলেছেন: নাসাঈ এবং ইবনে আবি শাইবাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী (৩)।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! এই উম্মতের কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান যদি আমার কথা শোনে, অতঃপর মৃত্যুবরণ করে এবং আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না আনে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
(9)
باب الإيمان بالملائكةقال الله تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [فاطر: 1] 0
وقال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ * لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ * يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ * وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: 26 - 29].
وقال تعالى: {آَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} [البقرة: 285].
وقال تعالى: {وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ * كِرَامًا كَاتِبِينَ * يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ} [الانفطار: 10 - 12].
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الملائكة يتعاقبون، ملائكة بالليل، وملائكة بالنهار، ويجتمعون في صلاة الفجر والعصر، ثم يعرج إليه الذين باتوا فيكم، فيسألهم ـ وهو أعلم ـ فيقول: كيف تركتم عبادي؟ فيقولون: تركناهم يصلون، وأتيناهم
(৯)
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান রাখা বিষয়ক অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, যিনি ফেরেশতাদের বার্তাবাহক হিসেবে নিয়োগ করেছেন—যারা দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার ডানা বিশিষ্ট; তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।} [ফাতির: ১] ০
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র-মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে তা তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে না, কিন্তু তাদের জন্য যাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। আর তাদের মধ্যে যে বলবে, ‘আমিই তিনি ছাড়া ইলাহ’, তাকে আমি জাহান্নামের প্রতিদান দেব; এভাবেই আমি জালিমদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।} [আল-আম্বিয়া: ২৬-২৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর।} [আল-বাকারা: ২৮৫]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর নিয়োজিত আছে রক্ষণাবেক্ষণকারীগণ, যারা সম্মানিত লেখকবৃন্দ; তোমরা যা করো তারা তা জানে।} [আল-ইনফিতার: ১০-১২]।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ফেরেশতারা পর্যায়ক্রমে তোমাদের মাঝে পালাবদল করে আসে—একদল রাতে এবং একদল দিনে। তারা ফজর ও আসরের সালাতে একত্রিত হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে যারা রাত যাপন করেছিল তারা আল্লাহর দিকে উঠে যায়; তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক অবগত—: ‘তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে?’ তারা বলে: ‘আমরা তাদের সালাত আদায় করা অবস্থায় রেখে এসেছি এবং যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায়রত ছিল।’»
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
يصلون». متفق عليه (1).
وعنه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا كان يوم الجمعة وقفت الملائكة على باب المسجد، يكتبون الأول فالأول، ومثل المُهَجِّر كمثل الذي يهدي بدنه، ثم كالذي يهدي بقرة، ثم كبشا، ثم دجاجة، ثم بيضة، وإذا خرج الإمام طووا صحفهم، ويسمعون الذكر». متفق عليه (2).
وعن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «ألا تصفون كما تصف الملائكة عند ربها».
فقلنا: يا رسول الله، وكيف تصف الملائكة عند ربها؟
قال: «يتمون الصفوف الأول، ويتراصون في الصف» (3).
* * * * *
--------------------------------------------
তারা সালাত আদায় করেন।" এটি সর্বসম্মত (১)।
এবং তাঁর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "যখন জুমার দিন উপস্থিত হয়, ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান নেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রথম আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে ব্যক্তি প্রথমে আসে তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে একটি উট কোরবানি দেয়। তারপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির মতো যে একটি গরু সদকা করে, তারপর একটি ভেড়া, তারপর একটি মুরগি এবং সবশেষে একটি ডিম। এরপর যখন ইমাম (খুতবার জন্য) বের হন, তখন তাঁরা তাঁদের খাতাগুলো গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহকারে জিকির শুনতে থাকেন।" এটি সর্বসম্মত (২)।
এবং জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমরা কি সেভাবে কাতারবদ্ধ হবে না যেভাবে ফেরেশতারা তাঁদের রবের নিকট কাতারবদ্ধ হয়?"
আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতারা তাঁদের রবের নিকট কীভাবে কাতারবদ্ধ হয়?
তিনি বললেন: "তারা প্রথম কাতারগুলো পূর্ণ করে এবং কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলেমিশে দাঁড়ায়" (৩)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(10)
باب الإيمان بكتب الله تعالىقال الله تعالى: {قُولُوا آَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 136].
وقال تعالى: {وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ} [البقرة: 89].
وقال تعالى: {آَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285].
وعن سعيد بن المسيب قال: سمعت صهيبا يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما آمن بالقرآن من استحل محارمه». رواه الترمذي ورواه البيهقي بسند رجاله ثقات (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من الأنبياء نبي إلا أعطي ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحيا أوحاه الله إلي، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة». متفق عليه (2).
* * * * *
--------------------------------------------
(১০)
মহান আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যকার কারো মাঝে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত (মুসলিম)} [আল-বাকারা: ১৩৬]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব আসল, যা তাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী, অথচ তারা ইতিপূর্বে (এই কিতাবের মাধ্যমে) কাফিরদের ওপর বিজয় প্রার্থনা করত। অতঃপর যখন তাদের কাছে তা আসল যা তারা চিনতে পেরেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করল। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত} [আল-বাকারা: ৮৯]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর এবং মুমিনগণও। তারা সকলে ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল} [আল-বাকারা: ২৮৫]।
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সুহাইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কুরআনের হারামকৃত বিষয়গুলোকে হালাল করে নিয়েছে, সে কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি।» তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকী এটি এমন সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (১)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নবীগণের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁকে এমন কিছু (নিদর্শন) দেওয়া হয়নি যার ওপর মানুষ ঈমান আনত, আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি নাযিল করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীদের দিক থেকে আমি তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি হব।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(11)
باب من بلغه القرآن فقد قامت عليه الحجةقال الله تعالى: {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآَنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آَلِهَةً أُخْرَى قُلْ لَا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ} [الأنعام: 19].
وقال تعالى: {هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 138].
وقال تعالى: {هَذَا بَلَاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} [إبراهيم: 52].
وقال عز وجل: {وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآَنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنْذِرِينَ} [النمل: 92].
وقال تعالى: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآَنٌ مُبِينٌ * لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} [يس: 69 - 70].
وقال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان: 1].
قال عبد الرزاق، عن معمر، عن قتادة في قوله: {لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بلغوا عن الله، فمن بلغته آية من كتاب
(১১)
পরিচ্ছেদ: যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে, তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছেআল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, সাক্ষ্য হিসেবে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বড়? বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার কাছে এটি পৌঁছে তাকে সতর্ক করতে পারি। তোমরা কি সত্যিই সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে? বলুন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি না। বলুন, তিনি তো কেবল একমাত্র উপাস্য এবং তোমরা যা শরিক করো তা থেকে নিশ্চয়ই আমি মুক্ত।} [আল-আনআম: ১৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এটি মানুষের জন্য এক সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।} [আল-ইমরান: ১৩৮]।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি মানুষের জন্য এক বার্তা, যাতে এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা জানতে পারে যে তিনিই কেবল একমাত্র ইলাহ, আর যাতে বুদ্ধিমানেরা উপদেশ গ্রহণ করে।} [ইব্রাহিম: ৫২]।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি। সুতরাং যে ব্যক্তি হিদায়াত প্রাপ্ত হবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই হিদায়াত প্রাপ্ত হবে, আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হবে তাকে বলুন, আমি তো কেবল সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত।} [আন-নামল: ৯২]।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটি তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। যাতে তিনি সতর্ক করেন তাকে যে জীবিত, আর যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে দণ্ডাজ্ঞা সত্য সাব্যস্ত হয়।} [ইয়াসিন: ৬৯ - ৭০]।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অত্যন্ত বরকতময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।} [আল-ফুরকান: ১]।
আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি কাতাদা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার কাছে এটি পৌঁছে তাকে সতর্ক করতে পারি} যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও; সুতরাং আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত যার কাছে পৌঁছেছে...
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الله فقد بلغه أمر الله» (1).
وقال ابن عباس: "من بلغه القرآن فهو له نذير من الناس". رواه ابن أبي حاتم (2).
وقال محمد بن كعب في قوله تعالى: {وَمَنْ بَلَغَ} قال: "من بلغه القرآن فكأنما رأى النبي صلى الله عليه وسلم وكلمه". رواه ابن أبي حاتم وابن جرير (3).
وقال مقاتل: "من بلغه القرآن من الجن والإنس فهو نذير له" (4).
وقال البغوي: "يعني من بلغه القرآن من العجم وغيرهم من الأمم إلى يوم القيامة" (5).
* * * * *
--------------------------------------------
আল্লাহ, তবে তার কাছে আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছেছে» (১)।
ইবনে আব্বাস বলেন: "মানুষের মধ্যে যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে, কুরআন তার জন্য সতর্ককারী।" এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (২)।
মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে} প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেন: "যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে, সে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছে এবং তাঁর সাথে কথা বলেছে।" এটি ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন (৩)।
মুকাতিল বলেন: "জিন ও মানুষের মধ্যে যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে, তা তার জন্য সতর্ককারী" (৪)।
বাগভী বলেন: "অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত অনারব ও অন্যান্য জাতির মধ্যে যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে" (৫)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(12)
باب الإيمان باليوم الآخرقال الله تعالى: {وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآَخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ} [البقرة: 4].
وقال تعالى: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ} [البقرة: 281].
وقال تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ} [آل عمران: 185].
وقال عز وجل: {وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ * وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ * قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَا وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ} [الأنعام: 29 - 31].
وعن ابن عباس رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إنكم ملاقوا الله حفاة، عراة، مشاة، غرلا». متفق عليه (1).
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله - صلى الله عليه
--------------------------------------------
(১২)
পরকাল বা শেষ দিবসের প্রতি ঈমান অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনে, আর তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।} [আল-বাকারা: ৪]।
এবং তিনি আরও বলেন: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা অর্জন করেছে তা পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।} [আল-বাকারা: ২৮১]।
এবং তিনি আরও বলেন: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকার সামগ্রী।} [আলি ইমরান: ১৮৫]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা বলে, 'আমাদের এই পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না।' আপনি যদি দেখতেন যখন তাদের তাদের রবের সামনে দণ্ডায়মান করা হবে! তিনি বলবেন, 'এ কি সত্য নয়?' তারা বলবে, 'অবশ্যই, আমাদের রবের কসম!' তিনি বলবেন, 'তাহলে তোমরা যে কুফরি করতে তার কারণে আজ আজাব ভোগ কর।' যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এমনকি যখন হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত উপস্থিত হবে, তখন তারা বলবে, 'হায় আফসোস! এ ব্যাপারে আমরা যে অবহেলা করেছি তার জন্য।' আর তারা তাদের পিঠে নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে। দেখ, তারা যা বহন করছে তা কতই না নিকৃষ্ট!} [আল-আনআম: ২৯ - ৩১]।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা আল্লাহর সাথে খালি পায়ে, নগ্ন দেহে, পায়ে হাঁটা অবস্থায় এবং খতনাবিহীন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وسلم -: «تحشرون حفاة، عراة، غرلا»، قالت عائشة رضي الله عنها: فقلت: يا رسول الله، الرجال والنساء ينظر بعضهم إلى بعض، فقال: «الأمر أشد من أن يهمهم ذاك». متفق عليه (1).
وعن عدي بن حاتم رضي الله عنه قال: "بينما أنا عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ أتاه رجل فشكا إليه الفاقة، ثم أتاه آخر فشكا إليه قطع السبيل، فقال: يا عدي، هل رأيت الحيرة؟ قلت: لم أرها، وقد أنبئت عنها، قال: «فإن طالت بك حياة لترين الظعينة ترتحل من الحيرة حتى تطوف بالكعبة لا تخاف أحدا إلا الله».
قلت فيما بيني وبين نفسي: فأين دُعّار طي الذين قد سعَّروا البلاد.
«ولئن طالت بك حياة لتفتحن كنوز كسرى»، قلت: كسرى بن هرمز؟
قال: «كسرى بن هرمز، ولئن طالبت بك حياة لترين الرجل يخرج ملء كفه من ذهب أو فضة يطلب من يقبله منه فلا يجد أحدا يقبله منه، وليلقين الله أحدكم يوم يلقاه وليس بينه وبينه ترجمان يترجم له، فيقول: ألم أرسل إليك رسولا فبلغك؟ فيقول: بلى، فيقول: ألم أعطك مالا وأفضل عليك؟ فيقول: بلى، فينظر عن يمينه ولا يرى إلا جهنم، وينظر يساره فلا يرى إلا جهنم، فاتقوا النار ولو بشق تمرة، فمن لم يجد تمرة فبكلمة طيبة».
قال عدي: فرأيت الظعينة ترتحل من الحيرة حتى تطوف بالكعبة ولا تخاف إلا الله تعالى، وكنت فيمن أفتتح كنوز كسرى بن هرمز، ولئن طالت بكم حياة لترون ما قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم يخرج ملئ كفه". متفق عليه، واللفظ للبخاري (2).
* * * * *
--------------------------------------------
- এবং (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদেরকে নগ্নপদ, নগ্নদেহ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে।" আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষ এবং নারী কি একে অপরের দিকে তাকাবে? তিনি বললেন: "পরিস্থিতি এর চেয়েও ভয়াবহ হবে যে তারা একে অপরের দিকে তাকানোর কথা চিন্তা করবে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।
আদি ইবনে হাতিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে দারিদ্র্যের অভিযোগ করল। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এসে পথিমধ্যে দস্যুতার অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেন: হে আদি! তুমি কি হিরা (শহর) দেখেছ? আমি বললাম: আমি তা দেখিনি, তবে তার সম্পর্কে আমাকে জানানো হয়েছে। তিনি বললেন: যদি তোমার জীবন দীর্ঘ হয়, তবে তুমি অবশ্যই দেখবে যে একজন ভ্রমণকারী নারী হিরা থেকে যাত্রা করে কাবার তাওয়াফ করবে, অথচ সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না।"
আমি মনে মনে বললাম: তাহলে 'তায়' গোত্রের সেই দস্যুরা কোথায় যাবে যারা সারা দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে রেখেছে?
"আর যদি তোমার জীবন দীর্ঘ হয় তবে অবশ্যই কিসরার (পারস্য সম্রাটের) ধনভাণ্ডার বিজিত হবে।" আমি বললাম: হরমুজের পুত্র কিসরা?
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, হরমুজের পুত্র কিসরা। আর যদি তোমার জীবন দীর্ঘ হয় তবে তুমি অবশ্যই দেখবে যে এক ব্যক্তি তার মুষ্ঠিভর্তি স্বর্ণ বা রৌপ্য নিয়ে বের হবে এবং এমন কাউকে খুঁজবে যে তা গ্রহণ করবে, কিন্তু সে তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না। এবং তোমাদের প্রত্যেকেই অবশ্যই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যেদিন তার ও তাঁর (আল্লাহর) মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না যে তার হয়ে অনুবাদ করে দেবে। অতঃপর তিনি বলবেন: আমি কি তোমার কাছে কোনো রাসূল পাঠাইনি যিনি আমার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন? সে বলবে: অবশ্যই। তিনি বলবেন: আমি কি তোমাকে ধন-সম্পদ দান করিনি এবং তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিনি? সে বলবে: অবশ্যই। অতঃপর সে তার ডান দিকে তাকাবে এবং জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না, আর তার বাম দিকে তাকাবে এবং জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। সুতরাং তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও তা খেজুরের একটি টুকরোর বিনিময়ে হয়। আর যে তা পাবে না, সে যেন একটি সুন্দর কথার মাধ্যমে হলেও তা করে।"
আদি বলেন: "অতঃপর আমি সেই ভ্রমণকারী নারীকে দেখেছি যে হিরা থেকে যাত্রা করে কাবার তাওয়াফ করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পায়নি। আর আমি নিজে হরমুজের পুত্র কিসরার ধনভাণ্ডার বিজয়ের অভিযানে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আর যদি তোমাদের জীবন দীর্ঘ হয় তবে অবশ্যই তোমরা দেখতে পাবে যা আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, এক ব্যক্তি তার মুষ্ঠিভর্তি (সম্পদ) নিয়ে বের হবে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, আর হাদিসের শব্দগুলো বুখারীর (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(13)
باب الإيمان بالبعثقال الله تعالى: {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} [التغابن: 7].
وقال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} [سبأ: 3].
وقال تعالى: {أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ} [المطففين: 4].
وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن عبد حتى يؤمن بأربع؛ يشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله بعثني بالحق، ويؤمن بالموت، والبعث بعد الموت، ويؤمن بالقدر». رواه الترمذي وابن ماجه والحاكم (1).
* * * * *
--------------------------------------------
(১৩)
পুনরুত্থানে ঈমান আনয়ন সম্পর্কিত অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: {কাফিররা দাবি করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, ‘অবশ্যই হবে, আমার রবের কসম! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে, এরপর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।’} [আত-তাগাবুন: ৭]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফিররা বলে, ‘আমাদের কাছে কিয়ামত আসবে না।’ বলুন, ‘অবশ্যই আসবে, আমার রবের কসম! যিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; আসমানসমূহ ও জমিনে একটি অণু পরিমাণ বস্তুও তাঁর অগোচরে নয় এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কিছুই এমন নেই যা একটি সুস্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) নেই।’} [সাবা: ৩]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে?} [আল-মুতাফফিফিন: ৪]।
আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ের ওপর ঈমান আনে; সে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন; সে মৃত্যুর ওপর ঈমান রাখবে; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে ঈমান রাখবে এবং তাকদিরের ওপর ঈমান রাখবে।» তিরমিযি, ইবনে মাজাহ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(14)
باب الإيمان بنعيم القبر وعذابهقال الله تعالى: {النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آَلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ} [غافر: 46].
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشي، إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة، وإن كان من أهل النار فمن أهل النار، فيقال: هذا مقعدك حتى يبعثك الله إليه يوم القيامة». متفق عليه (1).
وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن أهل القبور يعذبون في قبورهم عذابا تسمعه البهائم». متفق عليه (2).
* * * * *
--------------------------------------------
(১৪)
কবরের নেয়ামত ও আযাবের ওপর ঈমান আনা সংক্রান্ত অধ্যায়আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {তাদেরকে সকাল ও সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে), ‘ফিরআউনের অনুসারীদেরকে কঠোরতম আযাবে প্রবেশ করাও।’} [গাফির: ৪৬]।
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল ও সন্ধ্যায় তার সামনে তার অবস্থানস্থল পেশ করা হয়। সে যদি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে জান্নাতবাসীদের অবস্থানস্থল (পেশ করা হয়), আর যদি সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে জাহান্নামবাসীদের অবস্থানস্থল (পেশ করা হয়)। অতঃপর বলা হয়: এটিই তোমার অবস্থানস্থল, যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে সেদিকে পুনরুত্থিত করেন।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই কবরবাসীরা তাদের কবরে এমন আযাব ভোগ করে যা চতুষ্পদ জন্তুরা শুনতে পায়।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(15)
باب ما يسأل عنه العبد في قبرهقال الله تعالى: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ} [إبراهيم: 27].
وعن أنس رضي الله عنه أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن العبد إذا وضع في قبره، وتولى عنه أصحابه إنه ليسمع قرع نعالهم، فيأتيه ملكان فيقولان: ما كنت تقول في هذا الرجل ـ يعني: محمدا صلى الله عليه وسلم ـ.
قال: فأما المؤمن فيقول: أشهد أنه عبد الله ورسوله، فيقال: انظر إلى مقعدك من النار، قد أبدلك الله مقعدا في الجنة، فيراهما جميعا.
وأما الكافر أو المنافق فيقول: لا أدري كنت أقول ما يقول الناس، فيقال: لا دريت ولا تليت، ثم يضرب بمطرقة من حديد ضربة بين أذنيه فيصيح صيحة يسمعها من يليه إلا الثقلين». متفق عليه، واللفظ للبخاري (1).
وعنه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن المؤمن إذا وضع في قبره أتاه ملك فيقول: ما كنت تعبد؟ فإن هداه الله قال: كنت أعبد الله، فيقال له: ما كنت تقول في هذا الرجل؟ فيقول: هو عبد الله ورسوله، فما يسأل عن شيء غيرها بعد، فينطلق به إلى بيت كان له في النار، فيقال: هذا بيتك كان لك في النار، ولكن الله عصمك ورحمك فأبدلك به بيتا في الجنة فيراه، فيقول: دعوني حتى أذهب فأبشر أهلي، فيقال له: اسكن.
--------------------------------------------
(১৫)
কবরে বান্দাকে যা জিজ্ঞাসা করা হবে তার অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং আল্লাহ জালিমদেরকে বিভ্রান্ত করেন আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন} [ইব্রাহিম: ২৭]।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা তার থেকে প্রস্থান করে, সে তখন তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। এমতাবস্থায় তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন এবং বলেন: এই ব্যক্তি—অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—সম্পর্কে তুমি কী বলতে?
তিনি বলেন: মুমিন ব্যক্তি তখন বলবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হবে: জাহান্নামে তোমার স্থানের দিকে তাকাও, আল্লাহ তার পরিবর্তে তোমাকে জান্নাতে একটি স্থান দান করেছেন। তখন সে উভয়টিই দেখতে পাবে।
আর কাফের বা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না, লোকেরা যা বলত আমি তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে: তুমি জানোনি এবং তুমি পাঠও করোনি। এরপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দুই কানের মাঝে এক আঘাত করা হবে, ফলে সে এমন এক চিৎকার দিবে যা জিন ও মানুষ ব্যতীত তার নিকটবর্তী সকল সৃষ্টি শুনতে পাবে»। মুত্তাফাকুন আলাইহি, আর শব্দাবলী বুখারীর (১)।
তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে একজন ফেরেশতা আসেন এবং বলেন: তুমি কার ইবাদত করতে? যদি আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেন তবে সে বলে: আমি আল্লাহর ইবাদত করতাম। তাকে বলা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে? সে বলবে: তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। এরপর তাকে অন্য কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে না। তখন তাকে জাহান্নামে তার যে ঘর ছিল সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বলা হবে: এটি তোমার সেই ঘর যা জাহান্নামে তোমার জন্য ছিল, কিন্তু আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছেন ও তোমার ওপর রহম করেছেন এবং তার বদলে তোমাকে জান্নাতে একটি ঘর দান করেছেন। তখন সে সেটি দেখবে এবং বলবে: আমাকে ছেড়ে দাও যাতে আমি গিয়ে আমার পরিবারকে সুসংবাদ দিতে পারি। তাকে বলা হবে: তুমি শান্ত হয়ে থাকো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: وإن الكافر إذا وضع في قبره أتاه ملك فينهره فيقول له: ما كنت تعبد؟ فيقول: لا أدري. فيقال له: لا دريت ولا تليت، فيقال له: ما كنت تقول في هذا الرجل؟ فيقول: كنت أقول ما يقوله الناس، فيضربه بمطراق بين أذنيه، فيصيح صيحة يسمعها الخلق غير الثقلين». رواه أبو داود (1).
وعن البراء بن عازب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ} [إبراهيم: 27]، قال: «نزلت في عذاب القبر». متفق عليه (2).
* * * * *
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আর নিশ্চয়ই কাফির ব্যক্তিকে যখন তার কবরে রাখা হয়, তখন একজন ফেরেশতা তার নিকট এসে তাকে ধমক দেন এবং তাকে বলেন: তুমি কার ইবাদত করতে? সে বলে: আমি জানি না। তখন তাকে বলা হয়: তুমি জানোনি এবং তুমি অনুসরণ করোনি। এরপর তাকে বলা হয়: তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলে: মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তার দুই কানের মাঝে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়, ফলে সে এমনভাবে চিৎকার করে যে জিন ও মানুষ ব্যতিরেকে সৃষ্টিজগতের সকলে তা শুনতে পায়। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭], তিনি বললেন: «এটি কবরের আজাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে»। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করতে একমত হয়েছেন (২)।
* * * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মানহাজুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(16)
باب الإيمان بالحشرقال الله تعالى: {وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا أَيْنَ شُرَكَاؤُكُمُ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ} [الأنعام: 22].
وقال تعالى: {يَوْمَ تَشَقَّقُ الْأَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًا ذَلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرٌ} [ق: 44].
وقال تعالى: {وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا} [الكهف: 47].
وقال تعالى: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} [البقرة: 203].
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يحشر الناس على ثلاث طرائق: راغبين، وراهبين، واثنان على بعير، وثلاثة على بعير، وعشرة على بعير، وتحشر بقيتهم النار، تقيل معهم حيث قالوا، وتبيت معهم حيث باتوا، تصبح معهم حيث أصبحوا، وتمسي معهم حيث أمسوا». متفق عليه (1).
وعن أنس رضي الله عنه: "أن رجلا قال: يا نبي الله، كيف يحشر الكافر، على وجهه؟ قال: «أليس الذي أمشاه على رجلين قادر على أن يمشيه على وجهه يوم القيامة».
قال قتادة: بلى وعزة ربنا". متفق عليه (2).
* * * * *
--------------------------------------------
(১৬)
হাশরের (একত্রীকরণের) প্রতি ঈমান আনয়ন সংক্রান্ত অধ্যায়আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যেদিন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল তাদের বলব: তোমাদের সেই শরিকরা কোথায়, যাদের তোমরা (শরিক বলে) ধারণা করতে?} [আল-আন‘আম: ২২]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যেদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে তারা দ্রুতবেগে বেরিয়ে আসবে; এই সমবেত করা আমার জন্য অতি সহজ।} [ক্বাফ: ৪৪]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যেদিন আমি পর্বতমালাকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন উন্মুক্ত প্রান্তর হিসেবে, আর আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর তাদের কাউকেও বাদ দেব না।} [আল-কাহফ: ৪৭]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, তোমাদের তাঁরই নিকট সমবেত করা হবে।} [আল-বাক্বারাহ: ২০৩]।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «মানুষকে তিনটি তরিকায় হাশরের ময়দানে একত্র করা হবে: (একদল) আশান্বিত হয়ে এবং (একদল) ভীত হয়ে; (একদল) উটের পিঠে আরোহী হয়ে—দুজন এক উটে, তিনজন এক উটে, দশজন এক উটে; আর অবশিষ্টদের আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে দুপুরে বিশ্রাম নেবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে থাকবে, তারা যেখানে রাত কাটাবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে থাকবে, তারা যেখানে ভোরে উপনীত হবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে থাকবে এবং তারা যেখানে সন্ধ্যায় উপনীত হবে আগুনও তাদের সাথে সেখানে থাকবে।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর নবী, কাফিরকে কীভাবে তার মুখের ওপর ভর দিয়ে সমবেত করা হবে? তিনি বললেন: «যিনি তাকে দুই পায়ের ওপর চলাফেরা করিয়েছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন তাকে তার মুখের ওপর ভর দিয়ে চলাফেরা করাতে সক্ষম নন?»
ক্বাতাদাহ বলেন: অবশ্যই সক্ষম, আমাদের রবের ইজ্জতের কসম।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (২)।
* * * * *
--------------------------------------------