(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الزواج بنية الطلاق من خلال أدلة الكتاب والسنة ومقاصد الشريعة الإسلامية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الزواج بنية الطلاق من خلال أدلة الكتاب والسنة ومقاصد الشريعة الإسلامية
المؤلف: صالح بن عبد العزيز بن إبراهيم آل منصور (ت 1429 هـ)
تقريظ: محمد بن صالح العثيمين، صالح بن محمد اللحيدان، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، السعودية
الطبعة: الأولى، 1428 هـ
عدد الصفحات: 141
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الآخرة 1432
কুরআন ও সুন্নাহর দলিল এবং ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) আলোকে তালাকের নিয়তে বিবাহ বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল (مسائل فقهية)
কিতাব: কুরআন ও সুন্নাহর দলিল এবং ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) আলোকে তালাকের নিয়তে বিবাহ
লেখক: সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম আল-মানসুর (ওফাত ১৪২৯ হিজরি)
অভিমত (تقريظ): মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন, সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইদান, সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقريظ لفضيلة الشيخ/محمد بن صالح العثيمين رحمه اللهتصفحت هذا البحث الذي كتبه الدكتور صالح بن عبد العزيز آل منصور في حكم النكاح بنية الطلاق فوجدته بحثاً قيماً، لم يمر بي مثله في بابه، وقد أجاد فيه وأفاد، فجزاه الله تعالى خيراً، وجعلنا وإياه من الهداة المهتدين، الصالحين المصلحين، إنه جود كريم.
كتبه: محمد الصالح العثيمين
في 28 من شهر شوال سنة 1413هـ
সম্মানিত শাইখ-এর পক্ষ হতে প্রশংসাপত্র/মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)আমি ডক্টর সালিহ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানসুর কর্তৃক তালাকের নিয়তে বিবাহের বিধান সম্পর্কে রচিত এই গবেষণাটি পর্যালোচনা করেছি এবং একে একটি অত্যন্ত মূল্যবান গবেষণা হিসেবে পেয়েছি; এই বিষয়ে এর আগে আমার নিকট এমন কোনো কাজ আসেনি। তিনি এতে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবং বিষয়টিকে তথ্যবহুল করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের ও তাঁকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং নেককার ও সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত করুন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দানশীল ও মহানুভব।
এটি লিখেছেন: মুহাম্মাদ আল-সালিহ আল-উসাইমীন
২৮শে শাওয়াল, ১৪১৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تقريظ صاحب الفضيلةرئيس المجلس الأعلى للقضاء وعضو هيئة كبار العلماءالشيخ صالح بن محمد اللحيدانالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين المبعوث رحمة للعالمين نبينا محمد وعلى آله وصحابته ومن سار على منهجه واقتفى أثره إلى يوم الدين.
وبعد؛ فقد رغب إلى أخي وزميلي في الدراسة فضيلة الدكتور الشيخ صالح بن عبد العزيز المنصور، الأستاذ المشارك في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، في كلية الشريعة في القصيم، مطالعة ما كتبه حول الزواج بنية الطلاق، وتقريظ رسالته في هذا الموضوع، وقد وعدته بإنجاز ما طلب، وتحقيق ما فيه رغب مرة تلو أخرى، ثم يعوقني عن الوفاء بما وعدت به عوائق كثيرة، ويبدو أن فضيلته كان قد علم برأيي في هذه المسألة، فإني قد أفتيت بعدم جواز مثل هذا النكاح منذ فترة ليست بالقصيرة في مجالس عامة، وفي بعض اللقاءات الجامعية، وقد حصل من ذلك شيء في عام 1399هـ، في جامعة البترول وأبديت أن ذلك يصح أن يقال عنه إنه شبيه بالزنى المنظم، ما دامت النية مستقرة على عدم استمرار عقد النكاح، ثم إني أثرت ذلك في بعض اجتماعات هيئة كبار العلماء قبل عام 1400هـ، وقد اطلعت في حينها على الخلاف في المسألة، وذاكرت بعض مشائخنا في هذا الأمر، وكيف نجعل النية مؤثرة في نكاح المحلل الذي قد لا يذكر في عقده شرط طلاق، ولا نية تحليل، ومع ذلك يعد هذا النكاح باطلاً؛ لأن النية أثرة فيه. وأبديت
সম্মানিত শায়খের প্রশংসাপত্রসুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং হাই কাউন্সিল অফ সিনিয়র স্কলারসের সদস্যশায়খ সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইদানসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা, বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী-সাথী ও যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর মানহাজ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর; আমার ভাই এবং শিক্ষা জীবনের সহপাঠী সম্মানিত ডক্টর শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানসুর—যিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কাসিম শরীয়াহ অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক—আমাকে তাঁর 'তালাকের নিয়তে বিবাহ' সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি পড়ার এবং এর ওপর একটি প্রশংসাপত্র লেখার অনুরোধ করেছেন। আমি তাঁকে একাধিকবার তাঁর অনুরোধ পূরণ করার এবং তাঁর আকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু বারবার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা আমাকে আমার সেই প্রতিশ্রুতি পালনে বাধা দিয়েছে। মনে হচ্ছে তিনি এই বিষয়ে আমার অভিমত সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কারণ আমি দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন জনসভা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সেমিনারে এই ধরনের বিবাহ বৈধ না হওয়ার ফতোয়া দিয়ে আসছি। ১৩৯৯ হিজরিতে পেট্রোলিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং আমি অভিমত ব্যক্ত করেছিলাম যে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের নিয়ত অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে, ততক্ষণ একে 'পরিকল্পিত ব্যভিচার' বলাই সংগত। এরপর আমি ১৪০০ হিজরির পূর্বেই হাই কাউন্সিল অফ সিনিয়র স্কলারসের কিছু অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। সেই সময় আমি এই মাসআলার মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমাদের কিছু শায়খের সাথে এই বিষয়ে মতবিনিময় করেছি যে, আমরা মুহাল্লিল (যে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে) এর বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়তকে কেন প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য করি—যেখানে হয়তো বিবাহের চুক্তিতে তালাকের কোনো শর্ত বা হালাল করার নিয়ত স্পষ্টভাবে উল্লেখও থাকে না, তবুও সেই বিবাহ বাতিল (باطل) হিসেবে গণ্য হয়; কারণ সেখানে নিয়তের প্রভাব রয়েছে। আমি অভিমত ব্যক্ত করেছি যে...
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أن فيه شبهًا من نكاح المتعة الذي ينص فيه على الأجل؛ لأن العبرة في كثير من العقود بالنية، إلى غير ذلك مما كان قد تردد في فكري وتراجعت فيه مع أن أيدني من كبار مشائخنا، وحاولت استصدار ما قد ينفع الله به من فتوى ذات أثر. إلا أن هيبة ما ذكره صاحب المغني موفق الدين بن قدامة رحمه الله ومن وافقه قد تكون حالت دون ذلك، وقد بقيت مستاءًا من انزلاق كثير من الشباب في هذا المنحدر، وأنهي عنه وأفتي بعدم موافقته لمقاصد الشريعة وقواعدها المحكمة، وأصولها المتينة.
ولما أبدى لي فضيلة أخي الدكتور صالح بن عبد العزيز المنصور أنه، أعد كتابة في هذا الموضوع ورغب أن أشارك ولو بكلمة عابرة، وافقت ورجوت أن أدرس الرسالة وأتحدث عن الموضوع ورسالة فضيلته، إلا أن ما شرحته آنفًا كان حائلاً بيني وبين إعطاء تصور عن رسالة فضيلته مع تأييد الفكرة، فقلت ما لا يدرك كله لا يترك كله، وقصد أخي أن أقف معه في هذا الميدان، والوقوف معه في مثل ذلك وقوف مع الحق وتأييد للصواب من القول، ومن فعل ذلك محتسبًا الأجر والثواب من الله، فإن الله لا يضيع أجر من أحسن عملاً.
أقول: لقد جاء الله بالإسلام ليُبقي ما كان سليمًا من علاقات الناس ومنسجمًا مع الفطرة ويستبعد ما يضادها، وكان العرب موضوع ذلك بالدرجة الأولى، ومعلوم أن العرب كانت لهم أنكحة في الجاهلية مختلفة الأشكال والمقاصد فأقر منها ما خلا عن الغدر والخيانة، واشتمل على سلامة النية، وتوفرت فيه مستلزمات العقود الصحيحة، وانتفت عنه موانع الصحة، وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن أنكحة بعينها، وعلم من ذلك أن ما شابهها فهو ملحق بها، فقد نهى عن نكاح المحلل، ولعن فاعله وحرم نكاح المتعة، وتوعد عمر رضي الله عنه برجم فاعله، وقد أقر ما ليس شبيهًا بذلك بأن كان نكاح رغبة حاضرة ومستمرة؛ لأن الهدف من
কারণ এতে নিকাহে মুতআ’র সাদৃশ্য রয়েছে যেখানে সময়সীমা উল্লেখ করা হয়; যেহেতু বহু চুক্তির ক্ষেত্রে নিয়তই মূল বিবেচ্য বিষয়। এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় আমার ভাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং আমি এ থেকে পিছু হটেছিলাম, যদিও আমাদের বড় বড় শায়খদের অনেকে আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। আমি এমন এক প্রভাবশালী ফতোয়া জারির চেষ্টা করেছিলাম যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা (মানুষের) উপকার করবেন। তবে আল-মুগনি প্রণেতা মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তার সাথে একমত পোষণকারীদের বর্ণনার গাম্ভীর্য সম্ভবত এতে প্রতিবন্ধক হয়েছিল। আমি অনেক যুবকের এই স্খলনের ফলে ব্যথিত ছিলাম এবং আমি এ থেকে নিষেধ করি এবং ফতোয়া দেই যে এটি শরীয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্য), সুদৃঢ় (محكمة) নিয়মাবলী এবং মজবুত মূলনীতিসমূহের (أصول) সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
যখন আমার পরম শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর সালেহ বিন আব্দুল আজিজ আল-মানসুর আমাকে জানালেন যে তিনি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং চাইলেন যে আমি যেন অন্তত দু-একটি কথার মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণ করি, তখন আমি রাজি হলাম এবং আশা করেছিলাম যে আমি এই রিসালাহটি (প্রবন্ধ) অধ্যয়ন করব এবং বিষয়টি ও তার রিসালাহটি নিয়ে আলোচনা করব। তবে ইতিপূর্বে আমি যা ব্যাখ্যা করেছি, তা তার রিসালাহ সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং ধারণাটির প্রতি সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমি বললাম, 'যা পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জন করা যায় না, তা পুরোপুরি বর্জন করা উচিত নয়'। আমার ভাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন এই ময়দানে তার পাশে দাঁড়াই। আর এ জাতীয় বিষয়ে তার সাথে অবস্থান নেওয়া মানেই হকের (সত্যের) সাথে অবস্থান নেওয়া এবং সঠিক বক্তব্যের সমর্থন করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এরূপ কাজ করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।
আমি বলব: আল্লাহ তাআলা ইসলামকে পাঠিয়েছেন মানুষের সম্পর্কের মধ্যে যা সঠিক ও ফিতরাতের (প্রকৃতির) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল তা বজায় রাখতে এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোকে বর্জন করতে। আরবগণই ছিল এর প্রাথমিক ক্ষেত্র। এটি সবারই জানা যে, জাহেলি যুগে আরবদের মাঝে বিভিন্ন প্রকারের ও উদ্দেশ্যের বিবাহ প্রচলিত ছিল। ইসলাম সেগুলোর মধ্য থেকে সেই বিবাহগুলোকে অনুমোদন দিয়েছে যা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা মুক্ত ছিল, যাতে নিয়তের বিশুদ্ধতা ছিল এবং যাতে সঠিক (صحيحة) চুক্তির প্রয়োজনীয় শর্তাবলী বিদ্যমান ছিল এবং যা শুদ্ধতার পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে মুক্ত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুনির্দিষ্ট কিছু বিবাহের ব্যাপারে নিষেধ করেছেন, যা থেকে এটি বোঝা যায় যে সেগুলোর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোও একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নিকাহে মুহাল্লিল থেকে নিষেধ করেছেন এবং এর সম্পাদনকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং নিকাহে মুতআ হারাম (حرم) করেছেন। ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সম্পাদনকারীকে পাথর নিক্ষেপের (রজম) হুমকি দিয়েছিলেন। আর তিনি সেগুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন যা এগুলোর সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, বরং তা ছিল উপস্থিত ও নিরবচ্ছিন্ন আগ্রহের বিবাহ; কারণ বিবাহের লক্ষ্য হলো...
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
النكاح متعدد الجوانب فهو للذة، والمتعة، والحصول على الرحمة والمودة، وكسب الولد، وتوفير السكن، والخدمة، والأنس، وحفظ المال القائم عليه، إذ أن المرأة الصالحة خير ما يكنزه المرء المسلم؛ لأنها مبعث المودة، والرحمة، وموضع السرور، ومكان الأمن على ماله، وموضع حرثه، وهي القائمة على تربية أفراد الأسرة في مبدأ نموهم وحال طراوة أفكارهم وأجسامهم، ولا يكون ذلك في زواج لا نية في استدامته، ولا أمل في إنجاب من ورائه، فنكاح المتعة معلوم القصد منه، ومثله نكاح المحلل، وقد لا يختلف عنه النكاح الذي ظاهره الاستدامة وباطنه الانقطاع والاكتفاء بنيل اللذة وحدها أو نيلها مع الخدمة والعزم على قطع حبل هذا النكاح وحل عقدته في وقت لاحق مستقر لدى الزوج معلوم لديه، فإذا كان النكاحان حرامين بالنص، فما أجدر أن يلحق بهما هذا النكاح الذي كانت النية فيه من جانب الزوج منعقدة على قطعه عن الاستمرار.
والشريعة الكاملة في أحكامها ذات الأسس القويمة والقواعد المتينة، لا يتوقع أن يكون في تشريعها تناقض أو تنافر أو أن تشتمل على نوع من الغدر أو الغرر؛ بل إن سبيل تشريعها الوضوح والبيان ونفي الغدر والغش والخيانة، ومعلوم أن امرأة يعقد عليها وتحسب أنها مقصودة لتكون أمًا، وربة بيت. وواقع الحال في قرارة نفس الزوج أنه يريدها لقضاء وطر حاضر وحاجة عاجلة، مع عزيمة جازمة على الفراق في أجل يعلمه ولا ينوي تجاوزه إنما هو خديعة وغش، فإن اتفقا على الفراق كانت المتعة المحرمة بالنص الصريح.
وإذا كان المحلل آثمًا وعمله محرمًا ولو لم يعلم بنيته أحد، ولو كان يقصد جمع شمل أسرة فرقها الطلاق، وأربكها حمق الزوج أو الزوجين، فإن من يريد متعة النفس ونيل الشهوة جدير بأن يكون حكمه
নিকাহ (বিবাহ) বহুমুখী; এটি স্বাদ আস্বাদন, উপভোগ, রহমত ও মমতা অর্জন, সন্তান লাভ, আবাসন নিশ্চিতকরণ, সেবা, হৃদ্যতা এবং সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যম। কেননা একজন পুণ্যবতী নারী একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য সর্বোত্তম সম্পদ; কারণ তিনি মমতা ও রহমতের উৎস, আনন্দের আধার, সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী এবং বংশ বিস্তারের ক্ষেত্র। তিনি পরিবারের সদস্যদের শৈশব এবং তাদের চিন্তা ও দেহের কোমল অবস্থায় লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেন। এটি এমন বিবাহে সম্ভব নয় যেখানে স্থায়িত্বের কোনো নিয়ত নেই এবং সন্তান লাভের কোনো আশা নেই। সাময়িক বিবাহ (نكاح المتعة)-এর উদ্দেশ্য সুপরিচিত, ঠিক তেমনি হালালা বিবাহ (نكاح المحلل)-এর ক্ষেত্রেও। আর সেই বিবাহও এর চেয়ে ভিন্ন নয় যার বাহ্যিক রূপ স্থায়ী কিন্তু অভ্যন্তরে বিচ্ছেদের সংকল্প লুকায়িত এবং শুধুমাত্র কামতৃপ্তি লাভ বা সেবার সাথে কামতৃপ্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়, যেখানে স্বামী তার মনে একটি নির্দিষ্ট সময় পর বিবাহের এই বন্ধন ছিন্ন করার এবং এর চুক্তি বিলোপ করার সুদৃঢ় সংকল্প পোষণ করে। সুতরাং যদি পূর্বোক্ত দুই প্রকার বিবাহ অকাট্য দলিল (نص) অনুযায়ী নিষিদ্ধ (حرام) হয়, তবে এই বিবাহকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই হবে অধিক সমীচীন যেখানে স্বামীর পক্ষ থেকে স্থায়িত্ব বজায় না রাখার নিয়ত সুদৃঢ়।
শরীয়ত তার বিধানসমূহে পূর্ণাঙ্গ এবং সুদৃঢ় ভিত্তি ও শক্তিশালী মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর বিধানে কোনো বৈপরীত্য বা অনৈক্য থাকবে অথবা কোনো প্রকার প্রতারণা বা অনিশ্চয়তা (غرر) থাকবে—এমনটি কল্পনা করা যায় না। বরং শরীয়তের পথ হলো স্পষ্টতা, বর্ণনা এবং বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা ও খিয়ানত দূর করা। এটি সুবিদিত যে, যখন কোনো নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হয়, তখন তিনি মনে করেন যে তাকে একজন মা এবং গৃহকর্ত্রী হওয়ার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ স্বামীর মনের অন্তরালে বাস্তবতা হলো যে, সে কেবল উপস্থিত কামনাবাসনা চরিতার্থ করা এবং জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য তাকে চায়, সাথে বিচ্ছেদের সুদৃঢ় সংকল্প পোষণ করে যা কেবল সে-ই জানে এবং সে তা অতিক্রম করার নিয়ত করে না; এটি নিছক প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা। আর যদি তারা বিচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হয়, তবে তা হবে অকা্য দলিল (النص الصريح) দ্বারা নিষিদ্ধ (محرم) সেই সাময়িক বিবাহ (المتعة)।
যদি হালালাকারী (المحلل) পাপী হয় এবং তার কাজ নিষিদ্ধ (محرم) হয়—যদিও তার নিয়ত সম্পর্কে কেউ না জানে এবং যদিও তার উদ্দেশ্য তালাক দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারকে একত্রিত করা হয় যা স্বামী বা স্বামী-স্ত্রীর মূর্খতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল—তবে যে ব্যক্তি কেবল আত্মতৃপ্তি ও প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে চায়, তার বিধানও (একই হওয়া) অধিক যুক্তিযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
كذلك، ولا شك من وجود الخلاف لكن الخلاف إذا لم يُسند أحد جوانبه نصٌ أو مفهوم نص كان الناظر فيه غير ملزم بأخذ طرف، إلا ما اندرج منه تحت قواعد الشريعة وأصولها.
وإذا وجد لبعض فحول العلماء قولان في مثل هذه المسألة، فالمتعين الأخذ بما وافق الدليل وتمشى مع قواعد الشريعة واندرج في سبيلها القويم، وكون شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله له رأيان في المسألة وغيره يؤيد صحة هذا النكاح وآخر يبطله، يحملنا على أن نقول: الجدير بشيخ الإسلام أن يكون رأيه الخاص بإباحة هذا النكاح، كان في أول أمره تبعًا للموقف، ومن كان على هذا القول ثم استبان له الرأي، بعد اتساع دائرة علمه وإحاطته بالسنة ومقاصد الشريعة وتعمقه في الغوص على مدلولات النصوص وحكمة التشريع، فصار إلى خلاف الرأي الأول، ولا شك أن كل إنسان يؤخذ من قوله ما وافق الدليل، ويستغنى عن ما خالف الدليل بالدليل نفسه أو ما فهم منه، وإحسان الظن، بالعلماء أمر لازم، وشيخ الإسلام ومن سبقه ومن لحقه أولى الناس بإحسان الظن، لكن الواجب الأخذ بما اتفق مع حكمة التشريع، وانسجم مع أدلة الكتاب والسنّة، والحق إنما هو الموافق للدليل، ولا يشترط له أن يقول به الأكثر، إنما الممنوع أن يخالف الأخذ به إجماعًا متيقنًا، وهذه المسألة التي كتب فيها فضيلة الدكتور صالح ليس فيها إجماع؛ بل لو قيل إن الأكثر على كراهة هذا النكاح لكان ذلك صوابًا، والكراهية في عرف السلف قد تكون قرينة التحريم، وهي اللائقة في هذا البحث.
إن حماية الأمة من الوقوع في الحرام أو الاحتيال عليه ولو لم يقصد الاحتيال أمر متعين، ومن عرف ما وقع الناس فيه ويقعون يجزم بأن الحق إن شاء الله مع من منع من هذا النكاح، الذي لم تصحبه نية كريمة، ولا قصد نزيه، وربما جر إلى فساد عريض وإضاعة ذرية كثيرة بسبب الانسياق في هذا المنحدر المظلم.
অনুরূপভাবে, মতপার্থক্য বিদ্যমান থাকার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মতপার্থক্যপূর্ণ কোনো পক্ষের সমর্থনে যখন কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص) বা পাঠের মর্মার্থ (مفهوم نص) বিদ্যমান না থাকে, তখন পর্যালোচনাকারীর জন্য কোনো এক পক্ষ অবলম্বন করা বাধ্যতামূলক নয়; কেবল সেই বিষয়টি ছাড়া যা শরিয়তের মূলনীতি ও কাঠামোর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।
যখন এই ধরনের মাসআলায় কতিপয় বরেণ্য আলেমের দুটি অভিমত পাওয়া যায়, তখন যা দলিলের (دليل) অনুকূল, শরিয়তের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর সঠিক পথের অন্তর্ভুক্ত—তা গ্রহণ করাই অবধারিত। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর এই মাসআলায় দুটি মত থাকা এবং অন্য কারো এই নিকাহ বা বিবাহের বৈধতাকে (صحة) সমর্থন করা কিংবা কারো একে বাতিল গণ্য করা আমাদের একথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে যে: এই বিবাহ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে শায়খুল ইসলামের যে ব্যক্তিগত অভিমত ছিল, তা সম্ভবত তাঁর প্রাথমিক জীবনে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ছিল। আর যিনি এই মতের ওপর ছিলেন, অতঃপর তাঁর জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পর, সুন্নাহ ও শরিয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) সম্পর্কে পরিবেষ্টিত জ্ঞান লাভের পর এবং পাঠসমূহের (نصوص) অন্তর্নিহিত অর্থ ও শরিয়ত প্রবর্তনের প্রজ্ঞা গভীরভাবে অনুধাবনের পর তাঁর নিকট সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে এবং তিনি প্রথম মতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেকের কথার মধ্য থেকে তাই গ্রহণ করা হবে যা দলিলের (دليل) অনুকূল হবে এবং যা দলিলের পরিপন্থী তা খোদ দলিল বা দলিলের মর্মার্থ দ্বারা বর্জন করা হবে। ওলামায়ে কেরামের প্রতি সুধারণা পোষণ করা আবশ্যক এবং শায়খুল ইসলাম ও তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ সুধারণার অধিক হকদার। তবে যা শরিয়ত প্রবর্তনের প্রজ্ঞার সাথে একমত এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের (أدلة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা গ্রহণ করাই ওয়াজিব। সত্য কেবল তাই যা দলিলের (دليل) অনুসারী; আর এর জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হওয়া শর্ত নয়। কেবল যা নিষিদ্ধ তা হলো, কোনো সুনিশ্চিত ঐকমত্যের (إجماع) বিপরীতে কিছু গ্রহণ করা। আর যে মাসআলাটি সম্পর্কে সম্মানিত ডক্টর সালেহ লিখেছেন, সেখানে কোনো ঐকমত্য (إجماع) নেই। বরং যদি বলা হয় যে, অধিকাংশ আলেম এই নিকাহ বা বিবাহকে অপছন্দনীয় (كراهة) মনে করেন, তবে তা-ই সঠিক হবে। আর সালাফদের পরিভাষায় অপছন্দনীয়তা (كراهية) কখনো হারামের (تحريم) ইঙ্গিত বহন করে, যা এই গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযুক্ত।
উম্মাহকে হারামে (حرام) নিপতিত হওয়া কিংবা এর জন্য কৌশলের (احتيال) আশ্রয় নেয়া থেকে রক্ষা করা—এমনকি যদি কৌশলের উদ্দেশ্য নাও থাকে—তা একটি আবশ্যকীয় বিষয়। মানুষ বর্তমানে কিসে লিপ্ত আছে এবং ভবিষ্যতে কিসে লিপ্ত হতে পারে তা যে ব্যক্তি জানে, সে নিশ্চিতভাবেই বলবে যে, ইনশাআল্লাহ সত্য তাদের সাথে যারা এই নিকাহ বা বিবাহকে নিষিদ্ধ করেছেন, যার সাথে কোনো মহৎ নিয়ত বা স্বচ্ছ উদ্দেশ্য নেই। এটি সম্ভবত ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং এই অন্ধকার পথে ধাবিত হওয়ার কারণে অসংখ্য সন্তান-সন্ততিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إنني آسف إذ لم أقم بدراسة رسالة أخي دراسة تليق بها، وبالموضوع الذي كتبت من أجله غير أني أقول: إن أخي الدكتور صالح بعلمه وطول تمرسه في التعليم ولا سيما في العلم الذي هو محيط هذه الرسالة، وهو الفقه؛ يجعل دراسة رسالته من باب فضول القول، ولعله يرضى عني بعرضي المرفق بهذه الكتابة المتسرعة وأسأل الله أن ينفع بعلم فضيلته ويبارك بجهودنا جميعًا، وأن يهيء أسباب إغلاق أبواب الشر ومسالك التجاوز على حدود الشريعة، وأن يصلح شباب الأمة الإسلامية وكهولها ويمنحهم العفة والسلامة من الوقوع فيما حرّمه على عباده، وأن يهيئ كل قائم على ثغر من ثغور العلم والمعرفة إلى الصواب من القول إنه مجيب الدعاء - وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
قال ذلك الفقير إلى الله:
صالح بن محمد اللحيدان.
القصيم - البكيرية
ليلة الجمعة 27/ 10/1414هـ
আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে, আমি আমার ভাইয়ের এই গবেষণা পত্রটির (رسالة) এমনভাবে পর্যালোচনা করতে পারিনি যা এর এবং যে বিষয়ের ওপর এটি লিখিত হয়েছে তার উপযুক্ত। তবে আমি বলব: আমার ভাই ডক্টর সালেহ তাঁর জ্ঞান এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, বিশেষ করে এই গবেষণার মূল পরিমণ্ডল—অর্থাৎ ফিকহ (الفقه)—বিষয়ে যে প্রজ্ঞা রাখেন, তাতে তাঁর এই গবেষণার ওপর পর্যালোচনা করাটা এক প্রকার বাহুল্যই মনে হয়। আশা করি এই তড়িঘড়ি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর এই ইলম বা জ্ঞান দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন। তিনি যেন মন্দের দ্বারসমূহ রুদ্ধ করার এবং শরীয়তের (شريعة) সীমালঙ্ঘনের পথগুলো বন্ধ করার উপায় সহজ করে দেন। তিনি যেন মুসলিম উম্মাহর তরুণ ও বৃদ্ধদের সংশোধন করেন এবং তাঁদেরকে চারিত্রিক পবিত্রতা দান করেন ও তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ থেকে রক্ষা করেন। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতিটি ধারক-বাহককে তিনি যেন সঠিক কথা ও কর্মের তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী (الفقير إلى الله) এই ব্যক্তি এটি বলেছেন:
সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইদান।
আল-কাসিম - আল-বুকাইরিয়্যাহ
শুক্রবার রাত, ২৭/১০/১৪১৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تقريظ لفضيلة الشيخ الدكتورصالح بن فوزان الفوزانالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه
… وبعد:
فقط اطلعت على الرسالة التي ألفها الأخ الشيخ صالح بن عبد العزيز آل منصور، بعنوان (الزواج بنية الطلاق)، والتي اتجه فيها إلى تحريم هذا العقد وبطلانه؛ لما يفضي إليه من مفاسد، ذكر كثيرًا منها، وأجاب عن أدلة المصححين لهذا العقد، ووجدته قد أجاد وأفاد في هذه المسألة التي صارت مثار حديث الناس وتساؤلاتهم.
সম্মানিত শায়খ ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান-এর একটি অভিমত (تقريظ)সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর
… অতপর:
আমি ভ্রাতৃপ্রতিম শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ আল-মনসুর রচিত ‘তালাকের নিয়তে বিবাহ’ শীর্ষক পুস্তিকাটি পাঠ করেছি। এতে তিনি এই চুক্তিটিকে হারাম (تحريم) এবং বাতিল (بطلان) প্রমাণের দিকে ধাবিত হয়েছেন; কারণ এটি এমন অনেক ক্ষতিকর বিষয়ের (مفاسد) দিকে নিয়ে যায় যার অনেকগুলোই তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি এই চুক্তিকে যারা সঠিক বা বৈধ (مصححين) বলেন, তাদের দলিলসমূহের জবাব প্রদান করেছেন। আমি তাকে এই মাসআলায় অত্যন্ত নিপুণ ও তথ্যবহুল হিসেবে পেয়েছি, যা বর্তমানে মানুষের আলোচনা ও জিজ্ঞাসার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أرجو الله تعالى أن ينفع بها المسلمين، وأن يكتب له الأجر والثواب على ما قام به من مجهود بدافع النصيحة للمسلمين، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه.
كتبه
صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং মুসলিমদের প্রতি নসিহত পেশ করার উদ্দেশ্যে তিনি যে শ্রম ব্যয় করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাঁকে প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدمة الطبعة الأولىإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله، فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له القائل: {وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} [الروم: 21].
وأشهد أن سيدنا ونبينا محمدًا عبده ورسوله، القائل: «تزوجوا الودود الولود؛ فإني مكاثر بكم» (1).
والقائل: «استوصوا بالنساء» (2)، والقائل: «خيركم خيركم لأهله، وأنا خيركم لأهلي» (3)، صلى الله عليه، وعلى آله وصحابته ومن دعا بدعوته واهتدى بهديه إلى يوم الدين.
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা তাঁরই নিকট তওবা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি ইরশাদ করেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} [আর-রুম: ২১]।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি ইরশাদ করেছেন: “তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে অধিক মমতাময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারিনী; কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব” (১)।
তিনি আরও বলেছেন: “তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো” (২), এবং আরও বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম, আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম” (৩)। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের পথে আহ্বান জানায় ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أما بعد:
فقد أثير في هذه السنوات الأخيرة مسألة جواز الزواج بنية الطلاق وفتوى بعض العلماء بصحة هذا النكاح، فما كاد يسمع دعاة الإباحية والرذيلة مثل هذا الخبر، إلا وسارعوا إلى نشره في مختلف الصحف مباركة مثل هذا؛ بل ما كاد يسمع كثير من الرجال والشباب الذي تنازعهم شهواتهم في الوقوع في جريمة الزنى - لولا ما عندهم من حياء ووازع إيماني - إلا وانطلقوا سراعًا، زرافات ووحدانًا، إلى بلاد الشرق والغرب، ووجدوا ذلك متنفسًا لغرائزهم، وميلاً مع شهواتهم ولذاتهم.
وما كنت أتصور في أول الأمر إلا أن هذا رأي جمهور العلماء، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية؛ بل ذكر ابن قدامة في كتابه (المغني) أن النكاح صحيح لا بأس به في قول عامة العلماء، إلا الأوزاعي، وما دام الأمر كذلك، كفى به مقنعًا على جواز هذا النكاح.
ومع ذلك، فما زالت نفسي تنفر من هذا النكاح، حتى قدّر الله لي السفر إلى أمريكا، لحضور مؤتمر رابطة الشباب المسلم العربي الذي عقد بتاريخ 3/ 5/1408هـ، في ولاية أوكلاهوما في أمريكا، فأثير في المؤتمر بعض الأسئلة عن مثل هذا النكاح، إذ كان هذا النكاح يشغل بال كثير من الشباب المسلم الغيور، فذكروا لنا واقع كثير من الشباب المغتربين والسائحين من المسلمين، وذكروا لنا وقائع مؤلمة.
قال بعضهم لي: إنه يعرف شابًا تزوج تسعين امرأة، وذكر لي أيضًا أن كثيرًا من الفتيات أنجبن أولادًا، فكان حظهن التشريد والضياع،
অতঃপর:
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালাকের নিয়তে বিবাহের বৈধতার বিষয়টি এবং এই বিবাহের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কোনো কোনো আলেমের ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার আহ্বায়করা যখনই এই খবর শুনতে পেল, তখনই তারা বিভিন্ন সংবাদপত্রে একে স্বাগত জানিয়ে তা দ্রুত প্রচার করতে শুরু করল; এমনকি অনেক পুরুষ ও যুবক, যাদের কুপ্রবৃত্তি তাদের জেনার পাপে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করছিল—যদি না তাদের মাঝে লজ্জা ও ঈমানের বাধা থাকত—তারাও দলে দলে কিংবা একাকী দ্রুত প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর দিকে যাত্রা শুরু করল এবং এটিকে তাদের পাশবিক প্রবৃত্তি ও লালসা চরিতার্থ করার একটি উপায় হিসেবে গ্রহণ করল।
শুরুর দিকে আমি ধারণা করেছিলাম যে, এটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত এবং এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহরও মনোনীত মত; এমনকি ইবনে কুদামা তাঁর 'আল-মুগনি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ আলেমদের মতে এই বিবাহটি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই, কেবল ইমাম আওযায়ী ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন এই বিবাহের বৈধতার ব্যাপারে এটিই যথেষ্ট দলিল হিসেবে গণ্য হয়েছিল।
তা সত্ত্বেও, আমার মন সর্বদা এই বিবাহের ব্যাপারে বিমুখ ছিল, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আমার জন্য আমেরিকার ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে ৩/৫/১৪০৮ হিজরি তারিখে অনুষ্ঠিত 'আরব মুসলিম যুবক সংগঠন'-এর সম্মেলনে যোগদানের সফর নির্ধারণ করে দিলেন। সেই সম্মেলনে এই জাতীয় বিবাহ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, যেহেতু এই বিবাহটি অনেক আত্মমর্যাদাশীল মুসলিম যুবকের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা আমাদের কাছে প্রবাসী ও পর্যটক অনেক মুসলিম যুবকের বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করেন এবং আমাদের কিছু বেদনাদায়ক ঘটনার কথা শোনান।
তাদের একজন আমাকে বললেন: তিনি এমন এক যুবককে চেনেন যে নব্বইজন নারীকে বিবাহ করেছে; তিনি আরও উল্লেখ করলেন যে, অনেক তরুণী সন্তান জন্ম দিয়েছে, কিন্তু তাদের ভাগ্যে জুটেছে কেবল গৃহহীনতা ও ধ্বংস।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبعض الفتيات المسلمات المغتربات وبعض من أسلمن ارتددن عن الإسلام، وسمعت الكثير من المآسي، مما جعلني أرجع إلى ما قاله العلماء في هذه المسألة.
وبالرجوع إلى كلامهم وأدلتهم، وبالرجوع إلى مقاصد الشريعة الإسلامية من الزواج، وجدت أن النكاح بنية الطلاق يتعارض مع مقاصد الشريعة الإسلامية في مشروعية النكاح، لما يجره من مفاسد عظيمة تضر ببعض الضروريات التي اتفقت عليها جميع الشرائع (1).
والشرائع جاءت بجلب المصالح ودرء المفاسد، وسأشير إن شاء الله تعالى إلى بعض المفاسد التي تترتب على الزواج بنية الطلاق.
لذا؛ فإنه يجب على علماء الإسلام دراسة هذه المسألة دراسة جادة من جميع الجوانب؛ من حيث سلبياتها وإيجابياتها، وإني في هذا البحث الموجز سأتناول بمشيئة الله تعالى الفقرات التالية:
1 - المراد بالزواج الذي شرعه الله تعالى.
2 - مقاصد الشريعة من الزواج.
3 - نماذج من الأنكحة التي حرمها الله تعالى.
4 - لماذا حرمت هذه الأنكحة؟
5 - المراد بالنكاح بنية الطلاق.
6 - أقوال العلماء في هذه المسألة، ودليل كلٍ، وبيان الراجح.
7 - مناقشة أدلة وشبه المجيزين.
8 - علاقة النكاح بنية الطلاق بالأنكحة التي حرمها الله وبيان مصادمته لمقاصد الشريعة.
--------------------------------------------
বিদেশে অবস্থানরত কিছু মুসলিম তরুণী এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসলাম ত্যাগ করে ধর্মত্যাগী (ارتددن) হয়েছে এবং আমি অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা শুনেছি, যা আমাকে এই বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম যা বলেছেন তার দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তাঁদের বক্তব্য ও দলীলসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এবং বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة الإسلامية)-এর প্রতি লক্ষ্য করলে আমি দেখতে পাই যে, বিবাহবিচ্ছেদের নিয়তে বিবাহ (نكاح بنية الطلاق) করা বিবাহের বৈধতা সংক্রান্ত ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী। কারণ এটি এমন গুরুতর অপকারিতা (مفاسد) বয়ে আনে যা সকল ধর্মবিধান (شرائع) কর্তৃক ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে স্বীকৃত কিছু মৌলিক অপরিহার্যতা (ضروريات)-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে (১)।
আর ধর্মবিধানসমূহ (شرائع) কল্যাণ (مصالح) নিশ্চিত করতে এবং অপকারিতা (مفاسد) দূর করতে অবতীর্ণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি বিবাহবিচ্ছেদের নিয়তে বিবাহের ফলে উদ্ভূত কিছু অপকারিতা (مفاسد)-র দিকে ইঙ্গিত করব।
তাই; ইসলামের আলেমদের উচিত এই বিষয়টি এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—সকল দিক থেকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা। আমি এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করব:
1 - আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বিধিবদ্ধ বিবাহের (زواج) তাৎপর্য।
2 - বিবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة)।
3 - আল্লাহ তাআলা যেসব বিবাহ (أنكحة) হারাম করেছেন তার কিছু নমুনা।
4 - কেন এই বিবাহ (أنكحة) গুলো হারাম করা হয়েছে?
5 - বিবাহবিচ্ছেদের নিয়তে বিবাহ (نكاح بنية الطلاق)-এর অর্থ।
6 - এই বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য, প্রত্যেকের দলীল এবং অগ্রগণ্য (راجح) মতের বর্ণনা।
7 - যারা এটি বৈধ মনে করেন তাদের দলীল ও সংশয়সমূহ (شبه) নিয়ে পর্যালোচনা।
8 - আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন এমন বিবাহগুলোর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের নিয়তে বিবাহের সম্পর্ক এবং শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের সাথে এর বিরোধের বর্ণনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
9 - الخاتمة.
واعتبر هذه المحاولة نواة لدراسة هذا الموضوع دراسة شاملة كاملة، ينظر فيها العلماء بعين البصيرة، بحيث تستمد حكمها من مقاصد الشريعة الإسلامية التي جاءت بما يجلب المصالح، ويدرأ المفاسد عن الإنسانية.
وهذا ما ظهر لي في هذا البحث، فإن يكن صوابًا فمن الله تعالى، والحمد لله على التسديد والتوفيق، وإن يكن خطأ أو فيه خطأ؛ فمن نفسي التي هي محل الخطأ، وشرع الله بريء، ورحم الله امرءًا أرشدني إلى طريق الحق، أو زادني توضيحًا وتبصيرًا.
اللهم اسلك بنا صراطك المستقيم، وعلمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وأعذنا من القول عليك أو على رسولك بلا علم، واغفر اللهم لنا ووالدينا ووالديهم وأولادنا وزوجاتنا ومشايخنا ومن له حق علينا وإخواننا المسلمين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
المؤلف الفقير إلى عفو ربه
صالح بن عبد العزيز بن إبراهيم آل منصور
القصيم - بريدة في 3/ 5/1413هـ
৯ - উপসংহার।
আমি এই প্রচেষ্টাকে এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ গবেষণার সূচনাবিন্দু হিসেবে গণ্য করি, যা আলেমগণ অন্তর্দৃষ্টির সাথে বিবেচনা করবেন; যেন এটি ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة الإسلامية) থেকে তার বিধান গ্রহণ করে, যা মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে এবং অকল্যাণ দূর করতে অবতীর্ণ হয়েছে।
এই গবেষণায় যা আমার কাছে প্রতিভাত হয়েছে তা-ই এখানে উপস্থাপিত হয়েছে। যদি তা সঠিক হয় তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর সঠিক পথপ্রদর্শন ও তাওফীকের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আর যদি তা ভুল হয় বা তাতে কোনো ভুল থাকে, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে, যা ভুলের আধার; আল্লাহর শরীয়ত এ থেকে মুক্ত। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি আমাকে সত্যের পথ দেখাবেন অথবা আমার কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও বোধগম্য করবেন।
হে আল্লাহ! আমাদের আপনার সরল পথ (صراط مستقيم)-এর ওপর পরিচালিত করুন। আমাদের এমন জ্ঞান (علم) দান করুন যা আমাদের উপকারে আসবে এবং আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করুন। আপনার অথবা আপনার রাসূল (رسول)-এর ব্যাপারে জ্ঞান (علم) ছাড়া কোনো কথা বলা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আমাদের, আমাদের পিতামাতা, তাঁদের পিতামাতা, আমাদের সন্তান-সন্ততি, আমাদের স্ত্রীগণ, আমাদের মাশায়েখ (مشايخ), যাদের আমাদের ওপর অধিকার (حق) রয়েছে এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের ক্ষমা করে দিন।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের (الأنبياء والمرسلين) মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবী (نبي) মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবী (صحابة)-র ওপর।
তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী লেখক
সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম আল-মানসুর
আল-কাসিম - বুরাইদাহ, তারিখ: ৩/৫/১৪১৩ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله منور البصائر، والعالم بمكنونات الضمائر، يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، الهادي من شاء من عباده سواء السبيل، فأراه الحق حقًا ورزقه اتباعه، والباطل باطلاً ورزقه اجتنابه، وأرسل رسوله بالهدى ودين الحق، فما من شيء يقرب الناس إلى ربهم ويسعدهم في دينهم ودنياهم إلا بينه صلى الله عليه وسلم لأمته، وما من شيء يجرهم إلى الشقاء في الدنيا والآخرة ويبعدهم عن شرعه إلا حرمه عليهم وحذرهم منه، جاء بجلب المصالح ودرء المفاسد، فما كانت مصلحته أكثر من مفسدته شرعه لهم، وما كانت مفسدته ومضرته أكثر من مصلحته حرمه على أمته، وهذه سمة تجدها فيما شرع الله من أمر أو نهي، كما أنه شرع تقديم درء المفاسد على جلب المصالح، فسلك هذا المسلك علماء السلف ومن نوّر الله بصائرهم من علماء الأمة، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه، ومن سلك مسلكهم ونهج نهجهم إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن عداوة الشيطان للإنسان قديمة ومستمرة، فقد آلى على نفسه وأقسم لربه أن يضل بني آدم، فقد قال: {قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ * إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} [الحجر: 39، 40]، وقال في آية أخرى: {فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} [ص: 82]، وقال: {وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآَمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آَذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَآَمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُبِينًا * يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا *
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্তর্দৃষ্টিসমূহকে আলোকোজ্জ্বলকারী এবং অন্তরের নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তিনি চোখের চোরা চাউনি এবং অন্তর যা গোপন রাখে সে সম্পর্কে অবগত। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দেন; ফলে তিনি তাকে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করেন। তিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; সুতরাং মানুষকে তাদের রবের নিকটবর্তী করে এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ায় সৌভাগ্যবান করে এমন কোনো বিষয়ই নেই যা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য বর্ণনা করেননি। আর যা কিছু তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভাগ্যের দিকে টেনে নেয় এবং তাঁর শরীয়ত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা তিনি তাদের জন্য হারাম করেছেন এবং সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করেছেন। তিনি কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূরীকরণের বিধান নিয়ে এসেছেন। সুতরাং যে বিষয়ের কল্যাণ অকল্যাণের চেয়ে বেশি, তিনি তা তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন; আর যে বিষয়ের অকল্যাণ ও ক্ষতি কল্যাণের চেয়ে বেশি, তিনি তা তাঁর উম্মতের জন্য হারাম করেছেন। এটিই আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বিধিবদ্ধ প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের বৈশিষ্ট্য। যেমন তিনি কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অকল্যাণ দূর করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান দিয়েছেন। সালাফ (السلف) আলিমগণ এবং উম্মতের সেই সকল আলিম—যাদের অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ আলোকিত করেছেন—তাঁরা এই পথই অনুসরণ করেছেন। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ ও পন্থা অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
মানুষের প্রতি শয়তানের শত্রুতা অতি প্রাচীন ও নিরবচ্ছিন্ন। সে নিজের ওপর দায়িত্ব নিয়েছে এবং তার রবের নিকট শপথ করেছে যে সে আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করবে। সে বলেছে: {সে বলল, ‘হে আমার রব! আপনি যেহেতু আমাকে বিপথগামী করেছেন, আমিও জমিনে তাদের কাছে (পাপ কাজকে) অবশ্যই সুশোভিত করব এবং আমি তাদের সবাইকে অবশ্যই বিপথগামী করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া’} [আল-হিজর: ৩৯, ৪০]। অন্য আয়াতে সে বলেছে: {সে বলল, ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই অবশ্যই বিপথগামী করব’} [সোয়াদ: ৮২]। সে আরও বলেছে: {আর আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, অবশ্যই তাদের মিথ্যা আশ্বাস দেব এবং অবশ্যই তাদের আদেশ দেব, ফলে তারা পশুর কান চিরবে এবং অবশ্যই তাদের আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, সে নিশ্চিতভাবে সুস্পষ্ট ক্ষতিতে পতিত হবে। সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের মিথ্যা আশ্বাস দেয়; আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় *
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًا} [النساء: 119 - 121].
لذا فإنه لا يألو جهدًا وذريته في إضلال بني آدم بشتى الوسائل والطرق، صغرت أو كبرت دقت أو جلت عظمت أو صغرت، ولما كانت النساء من أعظم الحبائل والوسائل التي يصل بها إبليس اللعين إلى إفساد المجتمع وضياعه، وضعفه وانصرافه عن الواجبات والوقوع في المحرمات، فقد أحكم المصائد والأشراك بشتى الوسائل، بما يزينه من الإغراءات لبعض الناس والشبه التي تجعل بعض الناس يدعون لبعض الأنكحة، التي تتعارض مع مقاصد الشريعة في النكاح - كنكاح المتعة، والتحليل، والشَّغَار - ومن ذلك نكاح الزواج بنية الطلاق، بشبهة أنه سبب يمنع من الوقوع في الزنا، وعلاج مؤقت للغرباء والعزاب حتى يتيسر لهم الاستقرار أو تتوفر لهم مؤنة الزواج الحقيقي، هكذا استساغ هؤلاء هذه الشبه وزينوها لهم، فما كان من ذلك إلا أن عزف كثير من الشباب العزاب عن الزواج خوفًا من وجود المشاكل الزوجية والتزاماتها المستمرة، وزهد كثير من المتزوجين بزوجاتهم فصاروا في بلادهم يتزوجون ويطلقون يشبعون رغباتهم، ويروون نهماتهم؛ بل سارع الكثير منهم في إجازاتهم إلى السفر إلى خارج بلادهم إلى البلدان العربية أو البلاد الشرقية والغربية وغيرها فيتزوج أحدهم عدة زوجات، وربما تزوج في شهر واحد ما يزيد على العشرين، وربما كان عنده زوجة أو زوجات، ومن المعلوم أن الرجل لا يجوز له أن يجمع في ذمته أكثر من أربع زوجات، وهذا حرام بإجماع أهل العلم (1)،
وهذا مما علم من
--------------------------------------------
{তাদেরই আবাসস্থল হলো জাহান্নাম এবং তারা সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ পাবে না} [আন-নিসা: ১১৯ - ১২১]।
কাজেই সে (শয়তান) এবং তার বংশধরেরা বনী আদমকে পথভ্রষ্ট করার জন্য সব ধরনের উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বনে কোনো ত্রুটি করে না, তা ছোট হোক বা বড়, সূক্ষ্ম হোক বা স্থূল, মহান হোক বা তুচ্ছ। যেহেতু নারী জাতি ইবলিস লানাতুল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাঁদ ও মাধ্যম, যার মাধ্যমে সে সমাজকে কলুষিত ও ধ্বংস করে, সমাজকে দুর্বল করে এবং তাদের কর্তব্য থেকে বিমুখ করে হারাম কাজে লিপ্ত করে। তাই সে বিভিন্ন উপায়ে প্রলোভন এবং বিভ্রান্তিকর সংশয় (شبهة) সাজিয়ে ফাঁদ বিস্তার করেছে। এর ফলে কিছু মানুষ এমন সব বিবাহের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে যা শরীয়তের বিবাহের মাকাসিদ বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী—যেমন মুতআ বিবাহ (نكاح المتعة), তাহলীল বিবাহ (التحليل), এবং শিগার বিবাহ (الشغار)। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তালাকের নিয়তে বিবাহ করা, এই অজুহাতে যে এটি ব্যভিচার থেকে বাঁচার একটি মাধ্যম এবং প্রবাসীদের ও অবিবাহিতদের জন্য একটি সাময়িক সমাধান যতক্ষণ না তাদের জন্য স্থায়িত্ব লাভ করা বা প্রকৃত বিবাহের খরচ জোগাড় করা সহজ হয়। এভাবেই তারা এই সংশয়গুলোকে (شبه) গ্রহণ করেছে এবং নিজেদের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। এর ফলে অনেক অবিবাহিত যুবক দাম্পত্য কলহ এবং স্থায়ী দায়িত্বের ভয়ে বিবাহ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেক বিবাহিত পুরুষ নিজ স্ত্রীদের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে এবং তারা দেশ-বিদেশে বিয়ে ও তালাকের মাধ্যমে কেবল নিজেদের লালসা চরিতার্থ করছে এবং কামনাবাসনা মিটাচ্ছে। এমনকি তাদের অনেকেই ছুটির দিনগুলোতে আরব দেশগুলো বা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ভ্রমণে যায় এবং একেকজন একাধিক বিয়ে করে; হয়তো এক মাসেই বিশটির বেশি বিয়ে করে ফেলে, অথচ তার কাছে আগে থেকেই স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রী বর্তমান থাকে। এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন পুরুষের জন্য তার অধীনে একত্রে চারটির বেশি স্ত্রী রাখা বৈধ নয় এবং এটি আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা ইজমা (إجماع) অনুযায়ী হারাম। (১),
এবং এটি এমন বিষয় যা জানা গিয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الدين تحريمه بالضرورة، كما أنه إذا أراد أن يتزوج وعنده أربع نسوة يطلق من شاء منهن ثم ينتظر حتى تنتهي عدتها ثم يتزوج بدلها، ولكن الذي يحصل ويا للأسف من كثير من هؤلاء أنه يتزوج في شهر واحد أكثر من أربع زوجات، فمن البدهي المقطوع به أنه تزوج أكثر من أربع قبل نهاية المطلقة الرابعة من عدتها، وربما حملت بعض هؤلاء النسوة المطلقات فأنكر آباؤهم هؤلاء الأولاد فكان حظهم الضياع والتشرد.
إن كثيرًا من هؤلاء الذين يتزوجون بنية الطلاق لا يبالي بأصل الزوجة ولا خلقها ولا أمانتها ولا دينها، ويتخذ موانع للحمل، وهكذا يظل يتمتع ويتنقل طوال إجازته في مراتع الشهوات، وربما حمل على نفسه الأمراض الخطيرة، وجرها إلى زوجته الحقيقية ومجتمعه، فامتلأت كثير من بيوت الأسر بالفتيات المطلقات والعوانس لا يرغب فيهن أحد،
ধর্মের অকাট্য বিধান অনুযায়ী এর নিষিদ্ধতা সর্বজনবিদিত। যেমন, যদি কেউ বিবাহ করতে চায় এবং তার অধীনে চারজন স্ত্রী বর্তমান থাকে, তবে সে তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তালাক দেবে, এরপর তার ইদ্দত (عدّة) শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং তার পরিবর্তে অন্য কাউকে বিবাহ করবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এদের অনেকের ক্ষেত্রে যা ঘটে তা হলো—তারা এক মাসেই চারের অধিক নারীকে বিবাহ করে। এটি সুস্পষ্ট ও নিশ্চিত যে, সে চতুর্থ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর ইদ্দত (عدّة) শেষ হওয়ার আগেই চারের অধিক বিয়ে সম্পন্ন করেছে। অনেক সময় এই তালাকপ্রাপ্তা নারীদের কেউ কেউ গর্ভবতী হয়ে পড়ে, তখন তাদের পিতৃপক্ষ এই সন্তানদের অস্বীকার করে, ফলে তাদের ভাগ্যে জোটে বিনাশ ও বাস্তুহীনতা।
প্রকৃতপক্ষে, যারা তালাকের নিয়তে বিবাহ করে তাদের অনেকেই স্ত্রীর বংশপরিচয়, চরিত্র, আমানতদারি বা দ্বীনদারির তোয়াক্কা করে না। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এভাবেই নিজের ছুটির পুরোটা সময় লালসার চারণভূমিতে উপভোগ ও বিচরণে কাটিয়ে দেয়। অনেক সময় সে নিজের দেহে ভয়াবহ ব্যাধি বহন করে নিয়ে আসে এবং তা তার প্রকৃত স্ত্রী ও সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। ফলে অসংখ্য পরিবারের ঘর তালাকপ্রাপ্তা এবং অবিবাহিতা নারীতে পূর্ণ হয়ে গেছে, যাদের প্রতি কেউ আগ্রহ দেখায় না।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وحدَّث ولا حرج مع وجود هذه المغريات التي توجد على الساحة عن ما يحدث من الفساد الخلقي، والاجتماعي، والديني، والاقتصادي.
لما رأيت ذلك وخطورته على الفرد والأسر والمجتمعات؛ تبين لي أنه يجب على طلبة العلم أن يدرسوا هذه الظاهرة دراسة متأنية، فينظروا مدى ارتباطها بأصول وقواعد الزواج الحقيقي ومنافاتها لها، وما إيجابيات هذا الزواج وسلبياته؟ وهل هذا الزواج يوافق مقاصد الشارع في مشروعيته للزواج أو ينافيه؟ وهل المصلحة في هذا الزواج تربو على المفسدة أو العكس؟
لذا فإني نظرت في أقوال وأدلة من أجازه ومن منعه، واستعنت الله واستلهمته الرشد والصواب، فسطَّرت هذا البحث مدعمًا بالأدلة الشرعية والفطرية والعقلية، وذكرت أدلة من قال بجوازه فأجبت عنها بأجوبة هادئة هادفة، مبينًا مقاصد الشارع الكريم من النكاح المعروف عند الإنس والجن والعرب والعجم، وهو الزواج الذي لا يفكر فيه صاحبه عند عقد الزواج بالتخلي عنه بعد يوم أو يومين أو فترة زمنية، وإذا قيل إن فلانًا سيتزوج فلانة لا يخطر في بال أحد من الناس أنه يتزوجها اليوم ليطلقها غدًا بعد انتهاء غرضه، هذا هو الزواج المعروف عند الناس. ويحمل أمر الشارع وترغيبه في الزواج على ما هو متعارف عليه عند الناس، وعلى الزواج الأكمل والأفضل وهو الزواج الذي ينوي فيه صاحبه عند عقد النكاح الاستمرار والدوام.
وذكرت وجه ارتباط الزواج بنية الطلاق بنكاح المتعة، ونكاح التحليل، وهو أن كلاً منها لا يقصد فيه المتزوج الدوام والاستمرار؛ بل ذكرت أن نكاح الزواج بنية الطلاق الضرر فيه أكثر، وبينت كيف كان ذلك.
وبينت ما يترتب على الرزواج بنية الطلاق من مفاسد عظيمة تربو على المصالح المزعومة، ومن قواعد الشرع أن درء المفاسد مقدم على
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান এই প্রলোভনগুলোর উপস্থিতিতে নৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অবক্ষয় ঘটছে, তা নিয়ে নির্দ্বিধায় আলোচনা করা যায়।
যখন আমি এই বিষয়টি এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর এর ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করলাম, তখন আমার নিকট এটি স্পষ্ট হলো যে, ইলম অন্বেষণকারীদের উচিত এই প্রবণতাটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করা। তারা যেন প্রকৃত বিবাহের মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলির (قواعد) সাথে এর সংশ্লিষ্টতা অথবা বৈপরীত্যের মাত্রা খতিয়ে দেখেন; আর এই বিবাহের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলোই বা কী? এই বিবাহ কি বিবাহের বিধিবদ্ধতার ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشارع) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাকি তার পরিপন্থী? আর এই বিবাহের ক্ষেত্রে কি জনকল্যাণ (المصلحة) অনিষ্টের (المفسدة) তুলনায় অধিক নাকি এর বিপরীত?
তাই আমি এই বিষয়টি যারা বৈধ (جواز) বলেছেন এবং যারা নিষেধ করেছেন, তাদের মতামত ও দলিলসমূহ (أدلة) পর্যালোচনা করেছি। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং তাঁর নিকট সঠিক পথ ও নির্ভুল সিদ্ধান্তের দিকনির্দেশনা চেয়েছি। অতঃপর আমি শরিয়তসম্মত, স্বভাবজাত ও যৌক্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই গবেষণাটি রচনা করেছি। যারা এর বৈধতার (جواز) কথা বলেছেন, তাদের দলিলসমূহ (أدلة) উল্লেখ করে আমি সেগুলোর অত্যন্ত শান্ত ও লক্ষ্যনিষ্ঠ উত্তর প্রদান করেছি। এখানে আমি মানব-দানব এবং আরব-অনারব নির্বিশেষে সবার নিকট পরিচিত বিবাহের ক্ষেত্রে মহান শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشارع) স্পষ্ট করেছি। এটি এমন এক বিবাহ, যেখানে বিবাহের চুক্তিকালীন (عقد النكاح) কোনো পক্ষই এক বা দুই দিন অথবা নির্দিষ্ট কোনো সময় পর তা ছিন্ন করার কথা চিন্তা করে না। যখন বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি অমুক নারীকে বিবাহ করবে, তখন কারো মনেই এই ধারণা উদয় হয় না যে, সে তাকে আজ বিবাহ করছে আগামীকাল নিজের উদ্দেশ্য পূরণ শেষে তালাক দেওয়ার জন্য। মানুষের নিকট এটিই সুপরিচিত বিবাহ। বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতার নির্দেশ ও উৎসাহ মূলত মানুষের নিকট যা প্রচলিত এবং যা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম বিবাহের ওপরই প্রযোজ্য; আর তা হলো এমন বিবাহ, যেখানে বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) সময় ব্যক্তি স্থায়িত্ব ও দীর্ঘস্থায়ীত্বের নিয়ত করে।
আমি তালাকের নিয়তে বিবাহের সাথে মুতআ বিবাহ (نكاح المتعة) এবং তাহলিল বিবাহের (نكاح التحليل) সংশ্লিষ্টতার দিকগুলো উল্লেখ করেছি। আর তা হলো—এগুলোর কোনোটিতেই বিবাহকারী স্থায়িত্ব ও দীর্ঘস্থায়ীত্বের সংকল্প করে না। বরং আমি এটিও উল্লেখ করেছি যে, তালাকের নিয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি এবং তা কীভাবে হয় তাও বর্ণনা করেছি।
তালাকের নিয়তে বিবাহের ফলে যে বৃহৎ অনিষ্ট (المفاسد) সাধিত হয়, যা তথাকথিত জনকল্যাণের (المصالح) তুলনায় অনেক বেশি, তা আমি স্পষ্ট করেছি। আর শরিয়তের একটি মূলনীতি (قواعد الشرع) হলো—অনিষ্ট দূর করা (درء المفاسد) কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য...
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جلب المصالح، وأن ما كانت مفسدته أعظم من مصلحته فإن الشريعة جاءت بتحريمه، كل ذلك وأكثر من ذلك ذكرته في كتابي مبسطًا وموضحًا، وسميته (الزواج بنية الطلاق).
وقد بذلت في هذا البحث جهدًا رجعت فيه إلى كتاب الله تعالى، وسنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقوال السلف، وعرضته على مقاصد الشريعة في الزواج، فتبين لي أن الزواج شرع لمقاصد عظيمة منها: إعفاف وتحصين كل من الزوجين، ولا يكون الإعفاف إلا بالاستدامة، أما زواج لفترة كزواج المتعة أو الزواج بنية الطلاق ونحو ذلك، فإنه لا يحصل به إعفاف. ومنها حصول الولد، وكثرة النسل لمباهاة الرسول صلى الله عليه وسلم بهم الأنبياء، ولا تحصل الذرية بزواج بنية الطلاق كما هو الواقع المر الأليم. ومنها السكن وترابط الأسر وقوتها، والزواج بنية الطلاق لا يحصل به سكن ولا ترابط للأسر. كما أن أولياء المرأة متى عرفوا عن الزوج هذه النية فإنهم سيمقتونه، ويعادونه، وربما انتقموا لأنفسهم، إلى غير ذلك مما سأذكره مفصلاً من مقاصد الشرع في الزواج الحقيقي.
وقد خرجت الطبعة الأولى في وقت كبرت فيه هذه الفتنة وانتشرت وأصبحت حديث السُّمَّار في المجالس، فكان لخروج الكتاب أعظم الأثر حيث جعل العلماء والمنتسبين إلى العلم ينظرون في هذه المسألة، فكان منهم المؤيد للتحريم والمجوز لهذا الزواج، فصار الناس في بلبلة وحيرة من حكم هذا الزواج، وقد ظهرت أثناء ذلك كثير من السلبيات التي ذكرتها في كتابي، وحينئذ أشار علي بعض الأخوة بإعادة طباعته مرة أخرى، فرأيت أن ذلك متعين علي، لا سيما وقد أفتى بعض المنتسبين إلى العلم بجوازه وأورد كثيرًا من الشبه والأدلة التي لا تصح.
لذا جاءت هذه الطبعة الثانية من واقع المجتمع الذي يعيش كثير من شبابه وكهوله وشيبه هذه الفتنة.
কল্যাণ হাসিল করা এবং যার অপকারিতা তার উপকারের চেয়ে অধিক, শরিয়ত তা হারাম (تحريم) করার বিধান নিয়ে এসেছে; এই সবকিছু এবং এর চেয়েও বেশি কিছু আমি আমার কিতাবে সহজ ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং তার নাম দিয়েছি ‘তালাকের নিয়তে বিবাহ’।
এই গবেষণায় আমি যথাযথ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি যেখানে আমি মহান আল্লাহর কিতাব, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং পূর্বসূরি পুণ্যবানদের (السلف) বক্তব্যের সাহায্য নিয়েছি এবং বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের লক্ষ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) আলোকে তা উপস্থাপন করেছি। ফলে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বিবাহ মহান কিছু উদ্দেশ্যে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকের চারিত্রিক পবিত্রতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর এই পবিত্রতা স্থায়িত্ব ব্যতীত অর্জিত হয় না। পক্ষান্তরে, সাময়িক বিবাহ যেমন— মুত’আ বিবাহ (زواج المتعة) বা তালাকের নিয়তে বিবাহ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোর মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জিত হয় না। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো সন্তান লাভ এবং অধিক বংশবৃদ্ধি করা যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্য নবীদের সামনে তাদের নিয়ে গর্ব করতে পারেন; অথচ তিক্ত ও বেদনাদায়ক বাস্তবতার ন্যায় তালাকের নিয়তে বিবাহের মাধ্যমে সন্ততানি লাভ করা সম্ভব হয় না। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো মানসিক প্রশান্তি এবং পারিবারিক বন্ধন ও সুদৃঢ়তা; তালাকের নিয়তে বিবাহের মাধ্যমে কোনো প্রশান্তি বা পারিবারিক বন্ধন অর্জিত হয় না। তদুপরি, মহিলার অভিভাবকরা যখনই স্বামীর এই নিয়ত সম্পর্কে জানতে পারবে, তারা তাকে ঘৃণা করবে, তার সাথে শত্রুতা পোষণ করবে এবং সম্ভবত নিজেদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে— এ ছাড়াও প্রকৃত বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের যে সকল লক্ষ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) রয়েছে তা আমি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব।
প্রথম সংস্করণটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল যখন এই ফিতনা (فتنة) বিশাল আকার ধারণ করেছিল এবং ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মজলিসগুলোতে এটি গল্পগুজবের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। তাই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে এক বিশাল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, যা উলামায়ে কেরাম এবং ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এই মাসআলাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের মধ্যে কেউ একে হারাম (تحريم) করার পক্ষে মত দিয়েছেন, আবার কেউ এই বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। ফলে মানুষ এই বিবাহের বিধান সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও সংশয়ের মধ্যে পতিত হয়। এই সময়ে অনেক নেতিবাচক দিক প্রকাশ পায় যা আমি আমার কিতাবে উল্লেখ করেছি। তখন কোনো কোনো দ্বীনি ভাই আমাকে এটি পুনরায় মুদ্রণের পরামর্শ দেন। ফলে আমি দেখলাম যে এটি করা আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যেহেতু ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কেউ কেউ এর বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন এবং এমন অনেক সংশয় ও দলিল উপস্থাপন করেছেন যা বিশুদ্ধ নয় (لا تصح)।
তাই এই দ্বিতীয় সংস্করণটি সমাজের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে অনেক যুবক, মধ্যবয়সী এবং বৃদ্ধরা এই ফিতনার (فتنة) মধ্যে নিপতিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد امتازت هذه الطبعة على الطبعة الأولى بما يلي:
1 - ذكرت فيها كثيرًا من الشبه والأدلة التي ذكرها من أجازه مما لم أذكره في الطبعة الأولى، وأجبت عليها بما يتفق مع الأدلة الشرعية، والفطرية، والنظر الصحيح.
كما ناقشت أدلة المجوزين من حيث الإسناد.
2 - ذكرنا أن أصول الإمام مالك رحمه الله تقتضي إلزامه القول بتحريم الزواج بنية الطلاق.
3 - حررت في هذه الطبعة مذهب الإمام أحمد وأصحابه، وبينت أنهم يرون تحريم هذا الزواج، ولم يجوزه إلا ابن قدامة، وصاحب الشرح الكبير، وابن مفلح، وشيخ الإسلام ابن تيمية.
4 - حققت رأي شيخ الإسلام، وذكرت أن منهج شيخ الإسلام رحمه الله في تقعيده، واستدلالاته، وأحكامه على نظائر هذه المسألة، واعتماده على قاعدة المصالح ودرء المفاسد وغير ذلك من قواعده وأصوله، تجعله يلتزم بتحريم الزواج بنية الطلاق.
وبينت في هذه الطبعة أن شيخ الإسلام لم يُفْتِ بجواز الزواج بنية الطلاق لمن كان مقيمًا ومستقرًا في بلده، إنما هذه الفتوى لمن كان مقيمًا في بلد الغربة، كما سترى ذلك إن شاء الله في ثنايا البحث.
5 - ذكرت في هذه الطبعة رأي ابن القيم استنباطًا من خلال أدلته، وأصوله.
6 - كما ذكرت في هذه الطبعة رأي المانعين المتأخرين، ومنهم الشيخ محمد بن صالح العثيمين، واللجنة الدائمة، ورأي المجمع الفقهي التابع للرابطة الإسلامية.
7 - وقد امتازت هذه الطبعة بزيادة التحقيق، وتخريج الأحاديث.
বর্তমান সংস্করণটি প্রথম সংস্করণের তুলনায় নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে:
১ - এতে আমি বৈধতাদানকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া অনেক সংশয় ও দলিলসমূহ (أدلة) উল্লেখ করেছি যা প্রথম সংস্করণে উল্লেখ করিনি। আমি সেগুলোর উত্তর শরয়ি দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية), স্বভাবজাত বোধ এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রদান করেছি।
সেই সাথে আমি বৈধতাদানকারীদের দলিলসমূহ (أدلة) সনদ (إسناد)-এর বিচারে পর্যালোচনা করেছি।
২ - আমি উল্লেখ করেছি যে, ইমাম মালেক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূলনীতিসমূহ (أصول) তালাকের নিয়তে বিবাহকে হারাম বলার দাবি রাখে।
৩ - এই সংস্করণে আমি ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীদের মাযহাব (مذهب) সুবিন্যস্ত করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, তাঁরা এই বিবাহকে হারাম মনে করেন; ইবনে কুদামা, আশ-শারহুল কাবীর-এর লেখক, ইবনে মুফলিহ এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ব্যতীত অন্য কেউ একে বৈধ বলেননি।
৪ - আমি শাইখুল ইসলামের মতামতের তাহকিক (تحقيق) করেছি এবং উল্লেখ করেছি যে, শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد), দলিল উপস্থাপন (استدلالات), এই মাসআলা (مسألة)-এর সমজাতীয় বিষয়গুলোতে তাঁর রায় বা বিধান (أحكام), এবং জনকল্যাণ ও অনিষ্ট দূরীকরণ (قاعدة المصالح ودرء المفاسد)-সহ তাঁর অন্যান্য নিয়ম ও মূলনীতিসমূহের (أصول) ওপর নির্ভরতা তাঁকে তালাকের নিয়তে বিবাহ হারাম বলার দিকেই নিয়ে যায়।
আমি এই সংস্করণে স্পষ্ট করেছি যে, শাইখুল ইসলাম নিজ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারীর জন্য তালাকের নিয়তে বিবাহের বৈধতার ফতোয়া (فتوى) দেননি; বরং এই ফতোয়া কেবল প্রবাসীদের জন্য ছিল, যা ইনশাআল্লাহ গবেষণার ভেতরে দেখতে পাবেন।
৫ - আমি এই সংস্করণে ইবনুল কাইয়্যিমের দলিলসমূহ (أدلة) ও মূলনীতিসমূহ (أصول) থেকে গবেষণালব্ধ (استنباطًا) সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর মতামত উল্লেখ করেছি।
৬ - সেই সাথে আমি এই সংস্করণে পরবর্তী যুগের নিষেধকারীদের মতামত উল্লেখ করেছি, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাইখ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমিন, আল-লাজনাতুদ দায়িমা এবং রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর ফিকহ একাডেমি (المجمع الفقهي)-এর মতামত।
৭ - বর্তমান সংস্করণটি অধিকতর তাহকিক (تحقيق) এবং হাদিসের তাখরিজ (تخريজ) বা উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
8 - كما ذكرت في هذه الطبعة الفرق بين الزواج بنية الطلاق وزواج المسيار.
هذا ما ظهر لي في هذه المسألة، فإن يكن ما عملته صوابًا فمن الله تعالى، والحمد لله على التسديد، وإن يكن خطأ فمن نفسي والشيطان وشرع الله بريء من كل رأي أو قول يخالفه. وأستغفر الله وأتوب إليه من كل ذنب وخطيئة إن أريد إلا الخير للإسلام والمسلمين، أسأل الله تعالى أن يرينا الحق حقًا ويرزقنا اتباعه، والباطل باطلاً ويرزقنا اجتنابه، ولا يجعله ملتبسًا علينا فنضل يا حي يا قيوم يا رحمن يا رحيم، يا ذا الجلال والإكرام، أسألك باسمك الأعظم أن تجيب دعاءنا فترزقنا العلم النافع والعمل الصالح وتجعل خير أعمارنا خواتيهما وخير أيامنا يوم نلقاك، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
المؤلف
صالح بن عبد العزيز بن إبراهيم آل منصور
8 - একইভাবে আমি এই সংস্করণে তালাকের নিয়তে বিবাহ এবং মিসইয়ার বিবাহের মধ্যকার পার্থক্যও উল্লেখ করেছি।
এই মাসআলায় আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তা-ই এখানে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আমার এই কর্ম যদি সঠিক হয়, তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহর শরীয়ত এমন প্রতিটি মত বা উক্তি থেকে বিমুক্ত যা এর পরিপন্থী। আমি প্রতিটি পাপ ও বিচ্যুতি থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি। আমি ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করি না। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সত্যকে সত্যরূপে প্রদর্শন করেন এবং তার অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যারূপে প্রদর্শন করেন এবং তা বর্জনের তাওফিক দান করেন। তিনি যেন বিষয়টিকে আমাদের নিকট অস্পষ্ট না করেন যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হই। হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক, হে পরম করুণাময়, হে অতি মেহেরবান, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! আমি আপনার সুমহান নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, আপনি আমাদের দোয়া কবুল করুন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করুন। আমাদের জীবনের শেষ সময়কে সর্বোত্তম করুন এবং আমাদের সেই দিনটিকে শ্রেষ্ঠ দিন করুন যেদিন আমরা আপনার সাক্ষাৎ লাভ করব। আমাদের শেষ নিবেদন হলো—যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীবর্গের ওপর।
লেখক
সালিহ বিন আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম আল মনসুর
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المراد بالزواج الذي شرعه الله تعالىالنكاح المشروع: هو ما وافق ما شرعه الله لنا، فاجتمعت فيه الأركان والشروط، وخلا من الموانع التي تمنع صحته، وخلا من الغش والخداع من الزوجين أو من أحدهما، وكانت نية كل من الزوجين توافق مقاصد الشريعة في النكاح.
وأما النكاح الذي لا يحبه الله، فهو ما اختل فيه شيء من الأركان أو الشروط، أو وجد فيه شيء من الموانع، أو وجد فيه غش أو خداع، أو لم يرد فيه الزوجان أو أحدهما مقاصد الشريعة في النكاح، فهذا كله ليس مشروعًا.
فكل نكاح وافق ما شرعه الله تعالى صحيح، ظاهرًا وباطنًا، وليس كل نكاح صحيح في الظاهر يكون مشروعًا، والله أعلم.
فنكاح الرجل المتبرع بتحليل المرأة المطلقة ثلاثًا لزوجها، الذي لا يعلم بنيته إلا الله، فيتزوجها من أجل أن يحلها لزوجها، هو في الظاهر نكاح صحيح، ولكنه في الباطن ليس مشروعًا؛ بل يأثم.
وكذلك إذا تزوج الرجل المرأة وفي نيته طلاقها بعد أجل معلوم له هو في الظاهر نكاح صحيح، ما دام لم تعلم به الزوجة ولا وليها، ولكن مثل هذا الزواج يتعارض مع مقاصد الشريعة في النكاح، وغشٌ وخداعٌ للزوجة وأوليائها، وإذا كان كذلك، فهو في الباطن ليس مشروعًا.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (النكاح هو النكاح المعروف عند المسلمين، وهو النكاح الذي جعل الله فيه بين الزوجين مودة ورحمة) (1).
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্দেশিত বিবাহের মর্মার্থশরিয়তসম্মত বিবাহ হলো তা, যা আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। ফলে এতে রোকন বা স্তম্ভসমূহ (الأركان) ও শর্তসমূহ (الشروط) পূর্ণ হয় এবং এর সঠিকতা বা বৈধতা (صحة) বিনষ্টকারী সকল প্রতিবন্ধকতা (الموانع) থেকে মুক্ত থাকে। তদুপরি স্বামী-স্ত্রীর উভয় পক্ষ বা কোনো এক পক্ষের প্রতারণা ও চাতুরি থেকে মুক্ত থাকে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উদ্দেশ্য বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
আর যে বিবাহ আল্লাহ পছন্দ করেন না, তা হলো এমন বিবাহ যাতে রোকন বা স্তম্ভসমূহ (الأركان) অথবা শর্তসমূহের (الشروط) কোনো একটির বিচ্যুতি ঘটে, অথবা যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা (الموانع) বিদ্যমান থাকে, অথবা যাতে কোনো প্রতারণা বা চাতুরি থাকে, অথবা যেখানে স্বামী-স্ত্রী বা তাদের কোনো একজন বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পালন করতে চায় না। এই সব কিছুই শরিয়তসম্মত নয়।
সুতরাং যে বিবাহ আল্লাহ তাআলা যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার অনুকূলে হয়, তা প্রকাশ্য (ظاهرًا) ও অপ্রকাশ্য (باطنًا) উভয় দিক থেকেই সহিহ বা সঠিক (صحيح)। তবে বাহ্যিকভাবে সহিহ বা সঠিক (صحيح) হওয়া প্রতিটি বিবাহই যে শরিয়তসম্মত হবে এমনটি নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
উদাহরণস্বরূপ, তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে তার (পূর্ববর্তী) স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছায় করা বিবাহ (নিকাহে হালালা), যার নিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না; সে যদি তাকে তার স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, তবে তা বাহ্যিকভাবে একটি সহিহ বা সঠিক (صحيح) বিবাহ মনে হলেও অপ্রকাশ্যভাবে (باطنًا) তা শরিয়তসম্মত নয়; বরং সে পাপিষ্ঠ হবে।
তদ্রূপ, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে এই নিয়তে বিবাহ করে যে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর সে তাকে তালাক দিয়ে দেবে—যা কেবল সেই জানে—তবে যতক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রী ও তার অভিভাবক এ বিষয়ে অবগত না হবে, ততক্ষণ তা বাহ্যিকভাবে সহিহ বা সঠিক (صحيح) বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই ধরণের বিবাহ বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং স্ত্রী ও তার অভিভাবকদের সাথে একটি প্রতারণা ও চাতুরি। আর যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তা অপ্রকাশ্যভাবে (باطنًا) শরিয়তসম্মত নয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: "বিবাহ হলো মুসলমানদের নিকট সুপরিচিত সেই বিবাহ, যার মাধ্যমে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مقاصد الشريعة في الزواجأما مقاصد الشريعة في الزواج، فقد بينها الله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم بقوله: {وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [الروم: 21].
وقوله تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالْآَنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ} [البقرة: 187].
وقوله تعالى: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا} [النساء: 19].
وقول رسول الله صلوات الله وسلامه عليه: «تزوجوا الودود الولود، فإني مكاثر بكم الأمم» (1).
وقوله صلى الله عليه وسلم للمغيرة بن شعبة: «اذهب فانظر إليها؛ فإنه أحرى أن يؤدم بينكما»، قال ابن حجر: (يؤدم بينكما؛ أي: تدوم المودة) (2).
--------------------------------------------
বিবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহবিবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।} [রূম: ২১]।
এবং আল্লাহর বাণী: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সংগত হওয়া হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অনুসন্ধান করো।} [বাকারা: ১৮৭]।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন অতিবাহিত করো। অতঃপর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হতে পারে যে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।} [নিসা: ১৯]।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক স্নেহময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিণী। কেননা আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের সামনে সংখ্যাধিক্য প্রদর্শন করব" (১)।
এবং মুগীরা ইবনে শু'বাহকে উদ্দেশ্য করে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "যাও এবং তাকে দেখে নাও; কেননা এর ফলে তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব ও ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার অধিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।" ইবনে হাজার বলেন: (তোমাদের মাঝে সদ্ভাব সৃষ্টি হওয়া; অর্থাৎ ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالزوجة إذًا هي السكن كله، سكن القلب، وسكن الجوارح، وسكن الحواس، وسكن الفكر، هي الاستقرار الكامل، وهذا السكن مصحوب بالمودة والرحمة من الطرفين، فهي اللباس الذي يلبسه الرجل، فيلصق بجسمه، فيجد فيه الظل والدفء والستر، فيستر به جسمه وعورته، كما أنه لباس لها، تجد فيه الظل والدفء، والستر، فتستر به جسمها وعورتها.
قال ابن عباس في معنى قوله تعالى: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ}؛ قال: (هن سكن لكم وأنتم سكن لهن)، وهو قول مجاهد وقتادة والسدي (1).
والزواج بنية الطلاق لا يتحقق به السكن الدائم، الذي أراده الشارع، كما في تفسير ابن عباس وغيره.
قال ابن جرير: (فإن قال قائل وكيف يكون نساؤنا لباسًا لنا، ونحن لباسًا لهن، واللباس إنما هو ما لبس، قيل لذلك وجهان من المعاني؛ أحدهما: أن يكون كل واحد منهما جعل لصاحبه لباسًا لاجتماعهما عند النوم في ثوب واحد، وانضمام جسد كل واحد منهما لصاحبه بمنزلة ما يلبسه على جسده من ثيابه فقيل لكل واحد منهما هو لباس لصاحبه.
والوجه الآخر: أن يكون جعل كل واحد منهما لصاحبه لباسًا لأنه سكن له كما قال جل ثناؤه: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا} [الفرقان: 47]، يعني بذلك سكنًا تسكنون فيه، وكذلك زوجة الرجل سكنه، يسكن إليها كما قال تعالى ذكره: {وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا} [الأعراف: 189]. فيكون كل واحد منهما لباسًا لصاحبه بمعنى سكونه إليه، ثم قال: فجائز أن يكون قوله تعالى: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ} بمعنى أن كل
--------------------------------------------
স্ত্রী তবে পূর্ণ প্রশান্তি, হৃদয়ের প্রশান্তি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রশান্তি, ইন্দ্রিয়ের প্রশান্তি এবং চিন্তার প্রশান্তি; তিনি পূর্ণ স্থিরতা। এই প্রশান্তি উভয় পক্ষের ভালোবাসা ও দয়ার সাথে যুক্ত। তিনি এমন এক পোশাক যা পুরুষ পরিধান করে, যা তার শরীরের সাথে মিশে থাকে এবং এতে সে ছায়া, উষ্ণতা ও আবরণ খুঁজে পায়। এর মাধ্যমে সে তার শরীর ও গোপনীয়তা রক্ষা করে; তেমনি পুরুষও তার জন্য এক পোশাক, যাতে সে ছায়া, উষ্ণতা ও আবরণ খুঁজে পায় এবং এর মাধ্যমে সে তার শরীর ও গোপনীয়তা রক্ষা করে।
মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক} এর অর্থ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস বলেন: (তারা তোমাদের জন্য প্রশান্তি এবং তোমরা তাদের জন্য প্রশান্তি), আর এটি মুজাহিদ, কাতাদাহ ও সুদ্দি-এরও অভিমত (১)।
তালাকের নিয়তে বিবাহ করার মাধ্যমে সেই স্থায়ী প্রশান্তি অর্জিত হয় না যা বিধানদাতা চেয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যদের তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে জারীর বলেন: (যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, আমাদের স্ত্রীরা কীভাবে আমাদের জন্য পোশাক এবং আমরা তাদের জন্য পোশাক হতে পারেন, অথচ পোশাক তো কেবল তাই যা পরিধান করা হয়? এর জবাবে বলা যায়, এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে; একটি হলো: ঘুমের সময় একই কাপড়ে উভয়ের একত্রিত হওয়া এবং একে অপরের দেহের সাথে মিশে থাকা একজনের শরীরে পরিহিত কাপড়ের সমতুল্য। তাই তাদের প্রত্যেককে অন্যের জন্য পোশাক বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় তাৎপর্যটি হলো: তাদের প্রত্যেককে অন্যের জন্য পোশাক সাব্যস্ত করা হয়েছে কারণ সে তার জন্য প্রশান্তি, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ (পোশাক)} [আল-ফুরকান: ৪৭], অর্থাৎ প্রশান্তি যাতে তোমরা বিশ্রাম নাও। তেমনি পুরুষের স্ত্রী হলো তার প্রশান্তি, যার কাছে সে প্রশান্তি লাভ করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তিনি তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি লাভ করে} [আল-আরাফ: ১৮৯]। সুতরাং তাদের প্রত্যেকে অন্যের জন্য পোশাক হওয়ার অর্থ হলো তার কাছে প্রশান্তি লাভ করা। এরপর তিনি বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক} এর অর্থ হওয়া সম্ভব যে প্রত্যেক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
واحد منكم ستر لصاحبه فيما يكون بينكم من الجماع عن أبصار الناس) (1).
وهذه المعاني لا توجد في الزواج بنية الطلاق.
ويشهد لما قلنا أن المراد باللباس الدوام والاستمرار بل دوام العمر كله، قول العرب: لبست فلانة عمري؛ أي: كانت معي شبابي كله، وتقول العرب: وتلبس حب فلانة بدمي ولحمي؛ أي: اختلط، ويقال: لبست قومًا؛ أي: تحليت بهم دهرًا (2)، فهذا معنى اللباس عند العرب يقصد به الدوام والاستمرار.
الله أكبر! ما أبلغ قوله تعالى: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ}! فإذا كانت لباسًا له يستر بها عورته، فهي إذًا تغض بصره وتحصن فرجه، فلا يطمح إلى ما حرم الله عليه فيكشف عورته وهو الساتر لعورتها، وإذا كان الرجل لباسًا لها تستر جسمها وعورتها به، فهو إذًا يغض بصرها ويحصن فرجها، فلا تطمح إلى ما حرم الله عليها فتكشف عورتها له.
وفي قوله تعالى: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ}، إشارة إلى الدوام والاستمرار كما هو ظاهر كلام العرب؛ لأن ستر العورة يراد به الستر دائمًا، إذ لو كان مؤقتًا، كنكاح المتعة أو التحليل أو الزواج بنية الطلاق، لم يحصل به الستر، وقد جاء في المثل السائر: ثوب العارية لا يستر.
لا إله إلا الله والله أكبر! ما أبلغ وما أشمل وأكمل وأعظم هذه الآية: {هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ}! كم فيها من معنى وبلاغة وحكمٍ!
--------------------------------------------
...তোমাদের প্রত্যেকেই তোমাদের মধ্যকার সহবাসের ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি থেকে তার সঙ্গীর জন্য আবরণ স্বরূপ) (১)।
আর এই অর্থগুলো তালাকের নিয়তে কৃত বিবাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।
আমরা যা বলেছি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয় যে, 'পোশাক' (লিবাস) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা, বরং সারা জীবনের স্থায়িত্ব। যেমন আরবরা বলে থাকে: 'আমি অমুক নারীকে আমার জীবনব্যাপী পরিধান করেছি'; অর্থাৎ: সে আমার পুরো যৌবনকাল জুড়ে আমার সাথে ছিল। আরবরা আরও বলে: 'অমুক নারীর ভালোবাসা আমার রক্ত ও মাংসের সাথে পোশাকের ন্যায় মিশে গেছে'; অর্থাৎ: তা ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে। বলা হয়: 'আমি এক কওমের পোশাক হয়েছি'; অর্থাৎ: আমি দীর্ঘকাল তাদের দ্বারা সজ্জিত হয়েছি (২)। সুতরাং আরবদের নিকট পোশাকের এই অর্থ দ্বারা স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতাকেই উদ্দেশ্য করা হয়।
আল্লাহু আকবার! মহান আল্লাহর এই বাণী কতই না অলঙ্কারপূর্ণ: {তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক}! সুতরাং স্ত্রী যখন স্বামীর জন্য পোশাক হয় যার মাধ্যমে স্বামী তার লজ্জাস্থান আবৃত রাখে, তখন সে (স্ত্রী) স্বামীর দৃষ্টিকে অবনত রাখতে সাহায্য করে এবং তার লজ্জাস্থানকে রক্ষা করে। ফলে স্বামী আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের প্রতি লালায়িত হয় না যাতে তার লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, অথচ সে (স্বামী) ছিল স্ত্রীর লজ্জাস্থানের আবরণ। আর পুরুষ যখন স্ত্রীর জন্য পোশাক হয় যার মাধ্যমে স্ত্রী তার শরীর ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখে, তখন সে (স্বামী) স্ত্রীর দৃষ্টিকে অবনত রাখতে সাহায্য করে এবং তার লজ্জাস্থানকে রক্ষা করে। ফলে স্ত্রী আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের প্রতি লালায়িত হয় না যাতে তার লজ্জাস্থান অন্যের সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক}-এর মধ্যে স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যেমনটি আরবদের কথোপকথন থেকে স্পষ্ট হয়; কারণ লজ্জাস্থান আবৃত করা দ্বারা সর্বদা আবৃত রাখাই উদ্দেশ্য। কেননা যদি তা সাময়িক হয়, যেমন নিকাহুল মুতআ, নিকাহুল তাহলীল কিংবা তালাকের নিয়তে বিবাহ, তবে তার দ্বারা প্রকৃত আবরণ অর্জিত হয় না। প্রচলিত প্রবাদে রয়েছে: 'ধারে আনা পোশাক লজ্জাস্থান ঢাকতে পারে না'।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার! এই আয়াতটি কতই না অলঙ্কারপূর্ণ, ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ এবং মহান: {তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক}! এর মধ্যে কত গভীর অর্থ, অলঙ্কার এবং প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فبالزواج يحصل الأولاد، الذين يخلد بهم الرجل ذكره، ويقوي بهم ساعده، ويصل بهم عقبه، ويكثر بهم المسلمون والمؤمنون الذين يعبدون الله تعالى ويجاهدون في سبيله، وينشرون العدل في ربوع البلاد، فتقوى بهم شوكة المسلمين، ويكاثر بهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الأمم يوم القيامة.
وجاء في هذا المعنى ما رواه أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأمر بالباءة وينهى عن التبتل نهيًا شديدًا، ويقول: «تزوجوا الودود الولود، فإني مكاثر بكم الأنبياء يوم القيامة» (1).
وما رواه عبد الله بن عمر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انكحوا أمهات الأولاد، فإني أباهي بكم يوم القيامة» (2).
وما رواه معقل بن يسار، قال: (جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني أصبت امرأة ذات حسب وجمال، وإنها لا تلد، أفأتزوجها؟ قال: «لا» ثم أتاه الثانية، فنهاه، ثم أتاه الثالثة، فقال: «تزوجوا الودود الولود، فإني مكاثر بكم» (3).
وسيأتي إن شاء الله زيادة توضيح لنماذج من مقاصد الشريعة في النكاح في الجواب على أدلة المجيزين للزواج بنية الطلاق) (4).
--------------------------------------------
বিবাহের মাধ্যমে সন্তানসন্ততি লাভ হয়, যাদের মাধ্যমে ব্যক্তি তার স্মৃতিকে অম্লান রাখে, তার শক্তি বৃদ্ধি পায়, তার বংশধারা অব্যাহত থাকে এবং এর মাধ্যমে মুসলিম ও মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর পথে জিহাদ করে এবং দেশজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। ফলে এর দ্বারা মুসলিমদের প্রতাপ শক্তিশালী হয় এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) কিয়ামতের দিন তাদের মাধ্যমে অন্যান্য উম্মতের সামনে আধিক্য প্রদর্শন করবেন।
এই মর্মে আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বিবাহের আদেশ দিতেন এবং কঠোরভাবে বৈরাগ্য বরণ করতে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: «তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী; কেননা আমি কিয়ামতের দিন নবীদের সামনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব» (১)।
আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: «তোমরা অধিক সন্তান দানকারী মায়েদের বিবাহ করো, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের নিয়ে গৌরব করব» (২)।
মাকিল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: আমি এমন এক নারী পেয়েছি যে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সুন্দরী, কিন্তু সে সন্তান জন্ম দিতে পারে না। আমি কি তাকে বিবাহ করব? তিনি বললেন: «না»। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন, তিনি আবারও নিষেধ করলেন। এরপর তৃতীয়বার আসলেন, তখন তিনি বললেন: «তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বিবাহ করো, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব» (৩)।
তালাকের নিয়তে বিবাহের বৈধতা দানকারীদের দলিলের উত্তরে বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়তের উদ্দেশ্যের বিভিন্ন নিদর্শনের অধিকতর ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
نماذج من الأنكحة التي حرمها الله1 - نكاح المتعة:
وهو زواج الرجل المرأة إلى أجل مسمى يتفقان عليه، بحيث ينتهي النكاح بنهاية المدة المتفق عليها، كما هو معلوم.
وقد حرم الله نكاح المتعة تحريمًا مؤبدًا إلى قيام الساعة بإجمال أهل السنة والجماعة، وذلك لمنافاته مقاصد الشريعة الإسلامية في مشروعية النكاح.
2 - نكاح الشَّغَار:
وهو أن يزوج الرجل موليته على أن يزوجه الآخر موليته.
ومنهم من زاد في حد الشغار بقوله: (وليس بينهما صداق)، وذلك استنادًا إلى ما رواه نافع عن ابن عمر: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الشغار، والشغار أن يزوج الرجل ابنته على أن يزوجه ابنته وليس بينهما صداق» (1).
ولهذا ذهب بعض العلماء إلى أن العلة في التحريم هي خلو بضع كل منهما من الصداق، فإذا سمي الصداق، فلا يضر الشرط.
وهذا قد يكون وجيهًا إذا ثبت أن تفسير الشغار مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولكن لم يثبت رفعه؛ بل قد يكون من تفسير الإمام مالك أو نافع أو ابن
--------------------------------------------
আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিবাহসমূহের কিছু দৃষ্টান্ত১ - মুতআ বিবাহ (নিকাহুল মুতআ):
আর তা হলো একজন পুরুষ কর্তৃক একজন নারীকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ করা যার ওপর তারা উভয়ে একমত হয়, যাতে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিবাহটিও সমাপ্ত হয়ে যায়, যেমনটি সর্বজনবিদিত।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐকমত্য অনুসারে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত মুতআ বিবাহকে চিরস্থায়ীভাবে হারাম করেছেন; আর তা বিবাহের বৈধতার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী হওয়ার কারণে।
২ - শিগার বিবাহ (নিকাহুশ শিগার):
আর তা হলো কোনো ব্যক্তি তার অভিভাবকত্বাধীন নারীকে এই শর্তে বিবাহ দেওয়া যে, অপর ব্যক্তিও তার অভিভাবকত্বাধীন নারীকে তার নিকট বিবাহ দেবে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিগার-এর সংজ্ঞায় এই কথাটি বৃদ্ধি করেছেন যে: (এবং তাদের উভয়ের মাঝে কোনো মোহরানা থাকবে না), এটি নাফে’ কর্তৃক ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর ভিত্তি করে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার থেকে নিষেধ করেছেন; আর শিগার হলো কোনো ব্যক্তি তার কন্যাকে এই শর্তে বিবাহ দেওয়া যে, অপর ব্যক্তিও তার কন্যাকে তার নিকট বিবাহ দেবে এবং তাদের মাঝে কোনো মোহরানা থাকবে না» (১)।
এ কারণে কোনো কোনো আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো উভয়ের পক্ষ থেকে মোহরানা না থাকা; সুতরাং যদি মোহরানা নির্ধারণ করা হয়, তবে শর্তটি আর ক্ষতিকর হবে না।
আর এটি যুক্তিসঙ্গত হতে পারত যদি শিগার-এর এই ব্যাখ্যাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে সাব্যস্ত হতো, কিন্তু এর উন্নীত (مرفوع) হওয়া প্রমাণিত নয়; বরং এটি ইমাম মালিক অথবা নাফে’ অথবা ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
عمر، وإذا تطرق إلى الدليل الاحتمال، سقط به الاستدلال.
قال الإمام الشافعي رحمه الله فيما حكاه البيهقي في المعرفة: (لا أدري التفسير عن النبي صلى الله عليه وسلم أو عن ابن عمر أو من نافع أو عن مالك) (1).
وقال الخطيب (تفسير الشغار ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما هو من قول مالك) (2).
ويؤيد ما ذكره أيضًا أن معظم الروايات الأخرى لم تذكر هذا التفسير:
أ- منها: ما رواه ابن عمر رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا شغار في الإسلام» (3).
ب- ومنها: ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه، قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الشغار»، زاد ابن نمير: والشغار أن يقول الرجل: زوجني ابنتك وأزوجك ابنتي، أو: زوجني أختك وأزوجك أختي (4).
ج- ومنها: ما رواه عبد الرحمن بن هرمز الأعرج، أن العباس بن عبد الله بن عباس أنكح عبد الرحمن بن الحكم ابنته وأنكحه عبد الرحمن ابنته، وقد كانا جعلا صداقًا، فكتب معاوية بن أبي سفيان إلى مروان بن الحكم يأمره بالتفريق بينهما، وقال في كتابه: (هذا الشغار الذي نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم) (5).
د- ومنها: ما رواه عمران بن حصين، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا جلب ولا جنب ولا شغار في الإسلام، ومن انتهب، فليس منا» (6).
--------------------------------------------
উমর; আর যখন দলিলে সম্ভাব্যতার অবকাশ তৈরি হয়, তখন তার মাধ্যমে দলিল পেশ করার যোগ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ইমাম শাফেঈ (রহ.) 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে আল-বায়হাকীর বর্ণনা অনুযায়ী বলেছেন: (আমি জানি না এই ব্যাখ্যা কি নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে, নাকি ইবনে উমর, নাফে বা মালিকের পক্ষ থেকে) (১)।
আল-খতীব বলেন: (শিগারের ব্যাখ্যা নবী (সা.)-এর কথা নয়, বরং এটি মালিকের উক্তি) (২)।
তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সমর্থনে আরও একটি বিষয় হলো যে, অধিকাংশ অন্যান্য বর্ণনায় এই ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করা হয়নি:
ক- সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «ইসলামে কোনো শিগার নেই» (৩)।
খ- সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) শিগার থেকে নিষেধ করেছেন», ইবনে নুমাইর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: আর শিগার হলো কোনো ব্যক্তি বলবে: তুমি তোমার মেয়েকে আমার কাছে বিয়ে দাও এবং আমি আমার মেয়েকে তোমার কাছে বিয়ে দেব, অথবা: তুমি তোমার বোনকে আমার কাছে বিয়ে দাও এবং আমি আমার বোনকে তোমার কাছে বিয়ে দেব (৪)।
গ- সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ আল-আ'রাজ থেকে বর্ণিত যে, আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তার মেয়েকে আবদুর রহমান ইবনে আল-হাকামের কাছে বিয়ে দিলেন এবং আবদুর রহমানও তার মেয়েকে তার কাছে বিয়ে দিলেন, এবং উভয়েই মোহর নির্ধারণ করেছিলেন। অতঃপর মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান মারওয়ান ইবনে আল-হাকামের কাছে চিঠি লিখে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানোর নির্দেশ দিলেন এবং চিঠিতে বললেন: (এটিই হলো সেই শিগার যা থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন) (৫)।
ঘ- সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «ইসলামে জিলাব নেই, জানাব নেই এবং শিগার নেই, আর যে ব্যক্তি লুণ্ঠন করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়» (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فإن قال قائل: ما تقول فيما ذكره القرطبي حيث يقول رحمه الله: (تفسير الشغار صحيح موافق لما ذكره أهل الغلة، فإن كان مرفوعًا، فهو المقصود، وإن كان من قول الصحابي، فمقبول أيضًا؛ لأنه أعلم بالمقال، وأقعد بالحال) (1).
فجوابنا على هذا: أن نقول: إن مجيء ذلك التفسير موافقًا للغة العرب لا يلزم منه حصر صورة الشغار في هذا المعنى، فلغة العرب يرجع إليها في تفسير ألفاظ الشرع إذا لم يفسرها الشرع أو من أخذ عن المشرع، كالصحابة، وإذا لم يعارض التفسير مقاصد الشرع.
وحصر الشغار على صورة الخلو من الصداق فقط يتنافى مع مقاصد الشريعة، ذلك أنه ربما يكون فيه ضرر على المرأة وظلم لها، ومما يؤيد هذا أن النكاح يصح عقده، ولو لم يسم صداق في العقد، فذكر الصداق أو عدمه ليس له تأثير في صحة العقد أو عدمه.
وأما قولهم: وإن كان من قول الصحابي، فمقبول أيضًا؛ لأنه أعلم بالمقال وأقعد بالحال.
نقول لهم: أثبتوا لنا أنه قول الصحابي، ثم بعد ذلك ننظر في قول الصحابي.
ويمكن أن يقال: للشغار صورتان.
إحداهما: الصورة المذكورة، وهي خلو بضع كل منهما من الصداق.
والصورة الثانية: أن يشترط كل واحد من الوليين على الآخر أن يزوجه موليته (2)، فيكون عدم الصداق في هذا النكاح بعض العلة في
--------------------------------------------
যদি কেউ প্রশ্ন করেন: ইমাম কুরতুবী যা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (শিগারের ব্যাখ্যাটি সঠিক (صحيح) এবং ভাষাবিদদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি এটি মারফু (مرفوع) হয়, তবে এটিই উদ্দিষ্ট, আর যদি তা সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) হয়, তবে তাও গ্রহণযোগ্য (مقبول); কারণ তিনি বক্তব্য সম্পর্কে অধিক অবগত এবং পরিস্থিতির সাথে অধিক পরিচিত) (১)।
এর উত্তরে আমাদের বক্তব্য হলো: সেই ব্যাখ্যাটি আরবী ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, শিগারের রূপটি কেবল এই অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আরবী ভাষার দিকে তখনই প্রত্যাবর্তন করা হয় যখন শরীয়তের শব্দগুলোর ব্যাখ্যা শরীয়ত অথবা যারা শরীয়ত প্রণেতার নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন (যেমন সাহাবীগণ) তারা প্রদান না করেন, এবং যদি সেই ব্যাখ্যা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী না হয়।
আর শিগারের সংজ্ঞাকে কেবল মোহরহীন হওয়ার ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা শরীয়তের উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ এতে নারীর ক্ষতি ও তার প্রতি জুলুমের সম্ভাবনা থাকে। এর স্বপক্ষে একটি যুক্তি হলো, মোহর উল্লেখ না করলেও নিকাহর চুক্তি শুদ্ধ হয়; সুতরাং মোহরের উল্লেখ থাকা বা না থাকা চুক্তির শুদ্ধতা (صحة) বা অশুদ্ধতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না।
আর তাদের এই বক্তব্য সম্পর্কে: “যদি তা সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) হয়, তবে তাও গ্রহণযোগ্য (مقبول); কারণ তিনি বক্তব্য সম্পর্কে অধিক অবগত এবং পরিস্থিতির সাথে অধিক পরিচিত।”
আমরা তাদের বলব: আগে আমাদের কাছে এটি সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) হিসেবে প্রমাণ করুন, তারপর আমরা সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي) নিয়ে আলোচনা করব।
বলা যেতে পারে যে: শিগারের দুটি রূপ রয়েছে।
এক: বর্ণিত রূপটি, যা হলো মোহর থেকে উভয়ের শূন্য থাকা।
দ্বিতীয় রূপটি হলো: দুই অভিভাবকের একে অপরের ওপর এই শর্তারোপ করা যে, সে তার অধীনস্থ নারীকে তার কাছে বিবাহ দেবে (২), ফলে এই বিবাহে মোহরের অনুপস্থিতি হবে অন্যতম কারণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
النهي، لوجود الظلم للزوجة بحرمانها الصداق، ولكن لا يلزم من عدم وجود بعض العلة عدم وجود البعض الآخر، وهو ظلم الزوجة بإكراهها أو خداعها بالزواج ممن لا يصلح لها ولا ترضاه.
فعلى هذا، نقول: الحكمة من تحريم نكاح الشغار - والله أعلم - هو ما قد يحصل في هذا النكاح من ظلم للمرأتين من الأولياء، فربما يظلم الولي موليته، فلا يزوجها بالكفء، من أجل أن يجعلها صداقًا لزوجة يختارها له أو لولده الذي لا ترغب فيه النساء أو الأولياء.
وماذا تستفيد المرأة من الصداق إذا سمي في العقد مهما بلغ قدره وهي تزوج برجل لا ترضى دينه ولا أمانته أو لا ترغبه البتة؟
لذا؛ لا يجوز لنا أن نقيد نهي الرسول صلى الله عليه وسلم عن الشغار بعدم وجود الصداق، والله أعلم.
3 - نكاح المحلَّل:
هو أن يتزوج الرجل المرأة التي طلقت ثلاثًا من أجل أن يحلها لزوجها الأول، سواء شرط ذلك في العقد أو قبله، أو نوى الزوج الثاني التحليل دون شرط، وجاء في هذا:
أ- ما رواه ابن مسعود رضي الله عنه، قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المحلَّل والمحلَّل له» (1).
ب- ما رواه عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا أخبركم بالتيس المستعار؟». قالوا: بلى يا رسول الله، قال: «هو
--------------------------------------------
নিষেধাজ্ঞা (النهي), স্ত্রীর মোহর (الصداق) থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে তাকে জুলুম করার কারণে। তবে কোনো একটি কারণ (العلة) না থাকার মানে এই নয় যে অন্য কারণটিও অনুপস্থিত থাকবে। আর তা হলো স্ত্রীকে বাধ্য করার মাধ্যমে বা তার অনুপযুক্ত ও অপছন্দনীয় কারো সাথে বিবাহের প্রবঞ্চনার মাধ্যমে তার প্রতি জুলুম করা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলি: শিগার বিবাহের (نكاح الشغار) হিকমত (الحكمة) - আল্লাহই ভালো জানেন - তা হলো অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দুই নারীর প্রতি জুলুমের আশঙ্কা। কারণ অনেক সময় অভিভাবক (الولي) তার অধীনস্থ নারীর প্রতি জুলুম করে তাকে সমমর্যাদাসম্পন্ন পাত্রের (الكفء) সাথে বিবাহ দেয় না, বরং তাকে নিজের বা তার সন্তানের জন্য এমন কোনো নারীর মোহর (صداق) হিসেবে ব্যবহার করে যাকে অন্য নারী বা অভিভাবকরা পছন্দ করে না।
আর চুক্তিতে (العقد) মোহরের (الصداق) পরিমাণ যা-ই নির্ধারিত হোক না কেন, নারী তা থেকে কী লাভ পাবে যদি তাকে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেওয়া হয় যার দ্বীনদারি বা আমানতদারিতে সে সন্তুষ্ট নয় অথবা যাকে সে একেবারেই পছন্দ করে না?
তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত শিগার (الشغار) সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাকে (نهي) মোহর (الصداق) না থাকার সাথে সীমাবদ্ধ করা আমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
৩ - হালালকারী বিবাহ (نكاح المحلَّل):
এটি হলো তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কোনো পুরুষ কর্তৃক এই উদ্দেশ্যে বিবাহ করা যাতে সে তার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হতে পারে। চাই তা চুক্তিতে (العقد) বা চুক্তির আগে শর্ত করা হোক, কিংবা দ্বিতীয় স্বামী শর্তহীনভাবে তাকে হালাল করার নিয়ত করুক। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে:
ক- ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন হালালকারী (المحلَّل) এবং যার জন্য হালাল করা হয় (المحلَّل له) তাদের উভয়ের উপর» (১)।
খ- উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি কি তোমাদেরকে ভাড়া করা পাঠা (التيس المستعار) সম্পর্কে খবর দেব না?»। তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তিনি বললেন: «সে হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজ-জাওয়াজু বিনিইয়্যাতিত তালাক মিন খিলালি আদিল্লাতিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া মাকাসিদিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
المحلَّل، لعن الله المحلَّل والمحلَّل له» (1).
ج- وما روى عن عمر رضي الله عنه، أنه جاء إليه رجل، فسأله عن رجل طلق امرأته ثلاثًا، فتزوجها أخ له عن غير مؤامرة ليحلها لأخيه، هل
--------------------------------------------
মুহাল্লিল (যে ব্যক্তি হালালা করে); আল্লাহ তাআলা মুহাল্লিল এবং যার জন্য হালালা করা হয়েছে (মুহাল্লাল লাহু) উভয়ের ওপর লানত করেছেন (১)।
গ- এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, অতঃপর তার এক ভাই কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই তাকে বিবাহ করল যেন তাকে তার (পূর্বের) ভাইয়ের জন্য হালাল করে দিতে পারে, এতে কি...
--------------------------------------------