(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
التوريث الدعوي القسم: كتب عامة
الكتاب: التوريث الدعويّ
المؤلف: مُحَمَّد بن حَسَن بْن عَقيل مُوسَى الشَّريْف
الناشر: دار الأندلس الخضراء للنشر والتوزيع، جدة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الآخرة 1432
দাওয়াহর উত্তরাধিকার বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: দাওয়াহর উত্তরাধিকার
লেখক: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আকিল মুসা আল-শরীফ
প্রকাশক: দারুল আন্দালুস আল-খাদরা প্রকাশনা ও বিতরণ، জেদ্দা - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
معالم على طريق الصحوة (18)
التوريث الدعويّ
د. محمد موسى الشريف
ইসলামী জাগরণের পথচিহ্ন (১৮)
দাওয়াতি উত্তরাধিকার
ড. মুহাম্মাদ মুসা আল-শরীফ
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال تعالى:
(ثم أورثنا الكتاب الذين اصطفينا من عبادنا)
وقال صلى الله عليه وسلم:
" إن الأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً، وإنما ورثوا العلم فمن أخذه أخذ بحظ وافر"
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
(অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের, যাদের আমি মনোনীত করেছি)
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল জ্ঞানকেই উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। অতএব যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক পূর্ণ অংশ লাভ করল।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدّمَةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد:
فهذه رسالة في التوريث وأهميته في حياة الدعاة إلى الله تعالى، وقد دفعني إلى الكتابة في هذا الموضوع أمور منها:
- ندرة الكتابة فيه؛ إذ أني لم أقف على من تكلم في هذه القضية، وقد أخذت على نفسي عهداً بألا أكتب في مواضيع قد طرقت من قبل طرقاً وافياً أو شبه وافٍ، وهذا الموضوع أحسب الكلام فيه جديداً، والله أعلم.
- أهمية الموضوع، كما سأوضح إن شاء الله تعالى في ثنايا الكتاب.
- تخصُّصه الدقيق؛ إذ أن من أحب الأمور إليّ تناول مثل هذه المواضيع الدقيقة وخدمتها وتجلية جوانبها
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের সবার ওপর। অতঃপর:
এটি উত্তরাধিকার এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের জীবনে এর গুরুত্ব বিষয়ক একটি পুস্তিকা। এই বিষয়ে লিখতে আমাকে যে বিষয়গুলো উদ্বুদ্ধ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
- এই বিষয়ে রচনার স্বল্পতা; কেননা আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি নিজের কাছে এই মর্মে অঙ্গীকার করেছি যে, এমন কোনো বিষয়ে লিখব না যা ইতিপূর্বে পরিপূর্ণ বা প্রায় পরিপূর্ণভাবে আলোচিত হয়েছে। আমার ধারণা মতে, এই বিষয়ে আলোচনাটি নতুন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
- বিষয়টির গুরুত্ব, যা ইনশাআল্লাহ আমি এই বইয়ের আলোচনায় স্পষ্ট করব।
- এর সূক্ষ্ম বিশেষত্ব; কেননা এই ধরণের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা, সেগুলোর সেবা করা এবং এর বিভিন্ন দিক উন্মোচন করা আমার অত্যন্ত প্রিয় বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المختلفة؛ إذ نحن في عصر تخصص التخصص، والمواضيع الدعوية العامة قد قتلت بحثاً، فينبغي أن يكتب الدعاة في مواضيعَ تفتقر إليها الساحة، هذا وقد مرت الكتابة في الصحوة الإسلامية بأطوار كان منها:
- طور إثبات عظمة الإسلام، وصلاحيته لكل زمان ومكان، ودعوة الناس إلى التمسك به والفخر بتعاليمه، وهذا كان في زمان انتشار الإلحاد والمذاهب الوضعية في أوائل القرن الهجري الفائت إلى الربع الأخير منه، وكان ذلك بسبب جملة عوامل لا مجال لذكرها في هذه المقدمة العَجِلة.
- طور بيان طرق الدعوة إلى الله تعالى، وتثبيت الدعاة، وطرد الشبهات عن طريقهم، وتحذيرهم من الوقوع في الشهوات، وكانت تلك الكتابات في زمان لاحق للطور الأول لكنه عاصره بعد ذلك.
- وكلا الطورين السابقين قد كتب فيهما كتب ورسائل كثيرة جداً، ملأت الساحة الثقافية.
- والطور الذي ينبغي الكتابة في شأنه في هذا الزمان هو الطور المخصَّص للدعاة إلى الله تعالى، والذي قد يغفلون عنه في زحمة الدعوة وانشغالهم بها،
বিভিন্ন ক্ষেত্রে; কারণ আমরা এখন অতি-বিশেষায়িতকরণের (تخصص التخصص) যুগে বাস করছি এবং দাওয়াহ সংক্রান্ত সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছে। তাই দাঈদের (دعاة) উচিত এমন সব বিষয়ে লেখালেখি করা যার অভাব বর্তমানে ময়দানে অনুভূত হচ্ছে। ইসলামী জাগরণ সম্পর্কিত লেখালেখি কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল:
- ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সকল কাল ও পাত্রে এর উপযোগিতা প্রমাণের পর্যায়; মানুষকে ইসলামকে আঁকড়ে ধরার এবং এর শিক্ষার ওপর গর্ব করার আহ্বান জানানো। এটি ছিল গত হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে শেষ চতুর্থাংশ পর্যন্ত নাস্তিক্যবাদ ও মানব রচিত মতবাদসমূহের বিস্তারের সময়কালে। এটি বেশ কিছু কারণের সমষ্টিগত ফলাফল ছিল যা এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় উল্লেখ করার অবকাশ নেই।
- আল্লাহর পথে দাওয়াহর পদ্ধতি বর্ণনা, দাঈদের (دعاة) অবিচল রাখা, তাদের পথ থেকে সংশয়সমূহ (شبهات) দূর করা এবং লালসা (شهوات) থেকে তাদের সতর্ক করার পর্যায়। এই লেখাগুলো প্রথম পর্যায়ের পরবর্তী সময়ে শুরু হলেও পরে তার সমসাময়িক হয়ে পড়েছিল।
- পূর্বোক্ত উভয় পর্যায়েই প্রচুর বই ও পুস্তিকা (رسائل) রচিত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে।
- আর বর্তমান সময়ে যে বিষয়ে লেখালেখি করা আবশ্যক তা হলো আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈদের (دعاة) জন্য বিশেষায়িত পর্যায়, যে বিষয়ে তারা দাওয়াহর ব্যস্ততা ও মগ্নতার কারণে হয়তো গাফেল হয়ে পড়েন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ويخاطبون فيها بالارتقاء بطرق الدعوة، وابتكار الوسائل الكفيلة بإحسان القيام عليها، وجعلها محوراً لالتقاء الطاقات وتفعيلها، وأحسب أن هذا المبحث- التوريث - من القضايا الدقيقة التي قد يُغفل عنها كلياً أو جزئياً؛ وهذا هو السبب المهم الذي دفعني إلى الكتابة في هذا الموضوع، والذي أرجو أن يكتبه الله تعالى لي حسناتٍ في صحائف أعمالي يوم ألقاه، إنه أكرم مسؤول وأعظم مأمول.
وهناك سبب آخر دعاني للكتابة في قضية التوريث هذه وهو ما شاهدته في هذا العقد الأخير من موت كثير من العلماء والدعاة وأهل الفضل والصلاح، الذين عاشوا مجاهدين عاملين، ثم ماتوا ومات مع أكثرهم خبرته وتجربته، ولم يُسجل أي ذكريات أو يترك كتباً يتحدث فيها عن تجربته ودعوته وعلمه، وهذه خسارة عظيمة كبيرة، وسأوضح في ثنايا الرسالة إن شاء الله تعالى سبل تلافي هذا الأمر.
هذا وقد كنت صنفت كتاب ((التدريب وأهميته في العمل الإسلامي)) قبل هذه الرسالة بمدة، وهممت أن ألحق به فصولاً في التوريث، ثم رأيت أن أفرد التوريث بالتصنيف لأهميته ولتباين بعض مباحثه عن مباحث التدريب، لكني أقرر هاهنا أنه لا بد لكل داعية إلى الله
দাওয়াতের পদ্ধতিসমূহকে উন্নত করা এবং তা যথাযথভাবে পালনে সক্ষম নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করার ব্যাপারে তাঁদের সম্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে দাওয়াতকে বিভিন্ন শক্তির মিলনস্থল ও সেগুলোর সক্রিয়করণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়। আমি মনে করি, এই উত্তরাধিকার (التوريث) সংক্রান্ত আলোচনাটি এমন এক সূক্ষ্ম বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে অবহেলিত হতে পারে। এটিই সেই গুরুত্বপূর্ণ কারণ যা আমাকে এই বিষয়ে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে আমার আমলনামায় পুণ্য হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন সেই দিনের জন্য যেদিন আমি তাঁর সাক্ষাত লাভ করব। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আবেদনস্থল এবং সুউচ্চ আশার স্থল।
এই উত্তরাধিকার (التوريث) সংক্রান্ত বিষয়ে আমার লেখার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। তা হলো—গত এক দশকে আমি অনেক আলেম, দাঈ (داعية) এবং পুণ্যবান ও নেককার ব্যক্তির প্রয়াণ প্রত্যক্ষ করেছি, যাঁরা আজীবন সংগ্রামশীল ও কর্মনিষ্ঠ ছিলেন। অতঃপর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁদের সাথে সাথে অধিকাংশের অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও বিদায় নিয়েছে। তাঁরা কোনো স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিপিবদ্ধ করেননি বা এমন কোনো কিতাব রেখে যাননি যেখানে তাঁদের অভিজ্ঞতা, দাওয়াত ও জ্ঞান (علم) সম্পর্কে কোনো আলোচনা রয়েছে। এটি একটি অপূরণীয় ও বিশাল ক্ষতি। ইনশাআল্লাহ, আমি এই পুস্তিকার আলোচনাপ্রবাহে এ পরিস্থিতি উত্তরণের উপায়সমূহ স্পষ্ট করব।
এই পুস্তিকাটি রচনার কিছুকাল আগে আমি 'আত-তাদরিব ওয়া আহমিয়্যাতুহু ফিল আমালিল ইসলামি' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছিলাম। তখন ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম যে, উত্তরাধিকার (التوريث) সংক্রান্ত কিছু পরিচ্ছেদ সেই গ্রন্থের সাথেই যুক্ত করে দেব। কিন্তু পরবর্তীতে আমি এর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এবং এর কিছু আলোচ্য বিষয় প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনার চেয়ে ভিন্ন হওয়ার কারণে উত্তরাধিকার (التوريث) বিষয়টিকে স্বতন্ত্রভাবে রচনার সিদ্ধান্ত নিই। তবে আমি এখানে এ কথাই নিশ্চিত করছি যে, আল্লাহর পথে প্রত্যেক আহ্বানকারীর (داعية) জন্য এটি একান্ত প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
تعالى، ولا بد لكل مؤسسة تدعو إلى الله تعالى من هذين الأمرين المهمين: التدريب والتوريث؛ فالتدريب يحافظ على سلامة المسيرة بل يرتقي بها، والتوريث الحسن يضمن استمرار العطاء وتناقله بين الأجيال، والله الموفق.
وكتبه العبد الفقير:
محمد بن موسى الشريف
الموقع على الشبكة: www.altareekh.com
البريد الإلكتروني: mmalshareef@hotmail.com
মহান আল্লাহ; আর আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত প্রদানকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়: প্রশিক্ষণ ও উত্তরাধিকার; প্রশিক্ষণ কর্মপন্থার সঠিকতা বজায় রাখে, বরং একে আরও সমুন্নত করে; আর উত্তম উত্তরাধিকার দানের এই ধারাবাহিকতা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এর সঞ্চালন নিশ্চিত করে। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা:
মুহাম্মদ বিন মুসা আল-শরীফ
ওয়েবসাইট: www.altareekh.com
ই-মেইল: mmalshareef@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
تمهيدقضية التوريث في العمل الإسلامي والدعوة إلى الله تعالى تعني أن يقدِّم السابق للَاّحق خلاصة تجاربه، وعصارة حياته الدعوية، ليبدأ اللاحق من نقطة انتهاء السابق، فهذه القضية إذاً من أهم القضايا الدعوية على الإطلاق لأنها توفر الجهود، وتسدد المسيرة، ويؤمن معها وبها الزلل والخلل إن شاء الله تعالى.
والملاحظ أن الهيئات الإسلامية والتجمعات الدعوية الرسمية منها والشعبية لا تكاد تلتفت إلى هذه القضية المهمة، فتجد المسؤولين يغادرون مواقعهم التي مكثوا فيها سنوات فيأتي مَن لا خبرة له أو صاحب الخبرة الضحلة ليتولى مسؤولية عمل لم يتقنه أو لم يحط به علماً كما ينبغي، وهو إما أن يكون قد شارك في فريق ذلك المسؤول عن العمل أو أنه جديد تماماً، وفي كلتا الحالتين فإنه قد ورث تركة ثقيلة، مدار إدارتها على تعاليمَ شفوية في أكثر
ভূমিকাইসলামী কর্মতৎপরতা ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারের বিষয়টি হলো, পূর্বসূরি তার উত্তরসূরির কাছে নিজের অভিজ্ঞতার নির্যাস এবং দাওয়াতি জীবনের সারমর্ম তুলে ধরবেন, যাতে উত্তরসূরি পূর্বসূরির সমাপ্তি বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করতে পারেন। সুতরাং এই বিষয়টি দাওয়াতি কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কেননা এটি শ্রম ও প্রচেষ্টাকে সাশ্রয় করে, যাত্রাপথকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ পদস্খলন ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
লক্ষ্যণীয় যে, সরকারি বা বেসরকারি—উভয় প্রকারের ইসলামী সংস্থা ও দাওয়াতি সংগঠনগুলোর মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার প্রবণতা নেই বললেই চলে। ফলে দেখা যায়, দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ বছরের পর বছর স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকার পর যখন বিদায় নেন, তখন এমন কেউ সেখানে স্থলাভিষিক্ত হন যার কোনো অভিজ্ঞতা নেই অথবা যার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সামান্য। ফলশ্রুতিতে তিনি এমন এক কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন যা তিনি নিপুণভাবে আয়ত্ত করেননি অথবা সে সম্পর্কে যেমনটা সম্যক অবগত হওয়া প্রয়োজন ছিল তেমনটা হতে পারেননি। তিনি হয়তো পূর্ববর্তী সেই দায়িত্বশীলের টিমে কাজ করেছেন অথবা তিনি একেবারেই নতুন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি এক ভারী উত্তরাধিকার লাভ করেন, যার পরিচালনার ভিত্তি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল মৌখিক নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأحيان ليبدأ طريقاً طويلاً يكاد يكون فيه لا صلة له بمن سبقه.
والضعف في قضية التوريث هذه ملحوظ في جوانب كثيرة منها:
- المؤسسات الدعوية والخيرية:
وذلك كهيئات الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والمراكز الدعوية، والمندوبيات التعاونية الدعوية، وجمعيات تحفيظ القرآن، ومكاتب وجمعيات البر وهيئات الإغاثة، إلخ .... وهي كلها لا تكاد تملك من وسائل التوريث الصحيحة إلا مقداراً يسيراً، لا يصح أن يُكتفى به.
- تدريس العلوم الشرعية:
يلاحظ أنه ليس بين من يُدَرِّسون العلوم الشرعية تنسيق ولا توريث إلا في النادر، فتجد مسجداً من المساجد يدرس الشيخ فيه كتاباً في الفقه مثلاً، ويطول عجبك إذا علمت أن مساجد كثيرة تدرِّس الكتاب نفسه في وقت واحد وفي أمكنة متقاربة؛ إذ يدرِّس من شاء ما شاء بلا تنسيق ولا توريث، ثم إنه قد يفرغ الشيخ من كتابه الذي يدرسه ليبدأ بتدريس الكتاب نفسه مرة أخرى، فلا يعتني بهؤلاء الذين درسوا كتابه لينقلهم إلى مستوى أعلى أو إلى مسجد
কখনো কখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য, যেখানে তাঁর পূর্বসূরিদের সাথে কোনো যোগসূত্র নেই বললেই চলে।
আর এই উত্তরসূরি তৈরির ক্ষেত্রে দুর্বলতা (ضعف) অনেক দিক থেকেই লক্ষণীয়, যেমন:
- দাওয়াতি এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ:
যেমন— সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ বিষয়ক সংস্থা, দাওয়াহ সেন্টার, দাওয়াতি প্রতিনিধি সংস্থা, কুরআন হিফজ সমিতি, জনকল্যাণমূলক সংস্থা ও ত্রাণ সংস্থা ইত্যাদি। এগুলোর প্রায় কোনোটিই উত্তরসূরি তৈরির সঠিক (صحيح) পদ্ধতির সামান্যতম অংশ ব্যতীত তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখে না, যা কোনোভাবেই যথেষ্ট হতে পারে না।
- শরয়ী ইলম শিক্ষাদান:
লক্ষ্য করা যায় যে, যারা শরয়ী ইলম শিক্ষাদান করেন তাদের মাঝে কদাচিৎ ব্যতীত কোনো প্রকার সমন্বয় বা উত্তরসূরি তৈরির ধারা নেই। আপনি হয়তো কোনো একটি মসজিদে দেখবেন যে, শায়খ সেখানে ফিকহ শাস্ত্রের একটি কিতাব পড়াচ্ছেন, কিন্তু আপনার বিস্ময় তখন চরমে পৌঁছাবে যখন দেখবেন অনেকগুলো মসজিদে একই সময়ে এবং নিকটবর্তী স্থানে একই কিতাব পড়ানো হচ্ছে; কেননা যে কেউ নিজের ইচ্ছামতো সমন্বয় বা উত্তরসূরি তৈরির ধারা বজায় না রেখেই পাঠদান করছেন। এরপর দেখা যায়, শায়খ হয়তো কিতাবটি শেষ করেছেন কিন্তু পুনরায় একই কিতাব পড়ানো শুরু করছেন; তিনি ঐসব ছাত্রদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করছেন না যারা ইতিপূর্বে তাঁর নিকট কিতাবটি সম্পন্ন করেছে, যাতে তাদের উচ্চতর কোনো স্তরে উন্নীত করা যায় অথবা অন্য কোনো মসজিদে
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
آخر، ولا يكاد الشيخ يكلف نفسه النظر في الطلاب ليختار منهم النابهين ليورثهم علمه وخبرته، وهذا مما سأوضحه في ثنايا الكتاب إن شاء الله تعالى (1).
- النتاج الفكري والثقافي:
وقلة التوريث في هذا الجانب ملحوظ إلى حد كبير؛ إذ أن عشرات من المؤلفين يكتبون في موضوع واحد مكرر مطروق، والذي يفترض هو أن يُنظر فيما هو معروض في الأسواق ويُقوّم فإن أغنى فهذا هو المطلوب، وإن لم يُغن فيؤلف بالقدر الذي يحتاج إليه الناس، وبهذا يكمل المؤلفون في تآليفهم بعضهم بعضاً، ويورث السابق للَاّحق المادة المهمة التي يبني عليها اللاحق تأليفه، لكنا لا نجد هذا أبداً إلا في القليل النادر.
وكم ألّف السابقون تآليف مهمة أُسدل عليها ستار النسيان وجاء من بعدهم ليكتب في الموضوع نفسه - سواء أعلم أم لم يعلم بالتأليف السابق - وقد يكون تأليف السابق أحسن وأعظم من تأليف اللاحق، لكن المشكلة تكمن في غياب التوريث تماماً، وكم أُلِّفت رسائل علمية في موضوعات مهمة. وقد مضى على هذه التآليف سنون عديدة، ثم يفاجأ الناس بمن يعيد التصنيف في الموضوع
--------------------------------------------
অন্যরা; তদুপরি শায়খও ছাত্রদের প্রতি নজর দেওয়ার তেমন কোনো পরিশ্রম করেন না যাতে তাদের মধ্য থেকে মেধাবীদের নির্বাচন করে নিজের ইলম ও অভিজ্ঞতা তাদের মাঝে উত্তরাধিকার হিসেবে হস্তান্তর (توريث) করতে পারেন। এটি এমন একটি বিষয় যা আমি কিতাবের ভেতরে ইনশাআল্লাহ তাআলা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব (১)।
- বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ফসল:
এই ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হস্তান্তরের (توريث) অভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়; কেননা কয়েক ডজন লেখক একই গতানুগতিক ও বারবার আলোচিত বিষয়ে লিখে চলেছেন। অথচ প্রত্যাশিত ছিল বাজারে যা বিদ্যমান আছে তা দেখা এবং সেটির মূল্যায়ন করা। যদি তা যথেষ্ট হয় তবে সেটিই কাম্য; আর যদি তা যথেষ্ট না হয়, তবে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে রচনা করা উচিত। এর মাধ্যমে লেখকরা তাদের রচনার দ্বারা একে অপরের পরিপূরক হতে পারেন এবং পূর্বসূরি উত্তরসূরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রেখে যান যার ওপর ভিত্তি করে উত্তরসূরি তার গ্রন্থ রচনা করেন। কিন্তু অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্র ছাড়া আমরা এটি কখনোই দেখতে পাই না।
পূর্বসূরিরা কতই না গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাদি রচনা করেছেন যা বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেছে। এরপর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এসে ঠিক একই বিষয়ে লিখতে শুরু করে—চাই সে পূর্ববর্তী রচনা সম্পর্কে জানুক বা না জানুক। অনেক সময় পূর্বসূরির রচনাটি উত্তরসূরির রচনার চেয়ে অধিকতর চমৎকার ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকে। কিন্তু মূল সমস্যাটি হলো উত্তরাধিকার হস্তান্তরের (توريث) সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কতই না উচ্চতর গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ রচিত হয়েছে; এসব রচনার ওপর দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মানুষ হঠাৎ কোনো এক ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হয় যে সে সেই একই বিষয়ে পুনরায় সংকলন (تصنيف) করছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
نفسه. والسبب هو أن المؤلف المتأخر لم يعرف بالتأليف المتقدم، أو أن المصنفات المتقدمة لم تنشر وإنما بقيت مطوية في خزائن النسيان.
ومثال على هذا أيضاً أننا نجد من يكتب في قيام الليل فيتبع سبيل من سبقه في التأليف بلا نظر إلى متطلبات العصر الحديث الذي يعيشه، ولا كيف يوفق بين تعقيداته ليخرج بطريقة علمية لتحقيق المطلوب من قيام الليل، وذلك لأن المؤلف اللاحق لم يكلِّف نفسه عناء وراثة السابق وراثة حقيقية نافعة.
ولهذا كله كثر الغثاء في السوق الثقافية الفكرية، وكثر الطرح النظري، وقَلّ الطرح العملي المناسب لحال أهل العصر.
- قلة الاستفادة من الدعاة والصالحين والعلماء:
إذ أن جمهرة كبيرة من الدعاة والصالحين والعلماء يغادرون هذه الحياة بدون أن تستفيد منهم الأجيال في وراثة مفيدة قائمة على أصول علمية واضحة، ولذلك يفقد العالم الإسلامي بهذا كنزاً ثميناً لا يعوّض غالباً إلا أن يشاء الله تعالى، فلو كانت هناك مؤسسات مهمتها استقاء ماعند أولئك الدعاة والعلماء والصالحين وتتبُّع أوضاعهم وتَسقُّط أخبارهم، وتسجيل المهم من خبرتهم وأحوالهم لكان ذلك
নিজে। এর কারণ হলো, পরবর্তী লেখকগণ পূর্ববর্তী রচনা সম্পর্কে অবহিত নন, অথবা পূর্ববর্তী সংকলনসমূহ প্রকাশিত না হয়ে বিস্মৃতির অন্তরালে ঢাকা পড়ে রয়েছে।
এর আরও একটি উদাহরণ হলো, আমরা কাউকে কিয়ামুল লাইল নিয়ে লিখতে দেখি যিনি তার পূর্বসূরিদের রচনার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন তার যাপিত আধুনিক যুগের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য না রেখেই, কিংবা কিয়ামুল লাইল থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এর জটিলতাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের কোনো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি উদ্ভাবন না করেই। এটি মূলত এ কারণে যে, পরবর্তী লেখক পূর্বসূরিদের নিকট থেকে প্রকৃত ও কার্যকর জ্ঞানগত উত্তরাধিকার লাভের কষ্টটুকু স্বীকার করেন না।
এই সব কারণেই বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসারতার আধিক্য ঘটেছে, তাত্ত্বিক আলোচনার প্রাবল্য বেড়েছে এবং সমকালীন মানুষের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায়োগিক আলোচনার অভাব দেখা দিয়েছে।
- দাঈ, নেককার ব্যক্তি এবং আলেমদের থেকে উপকৃত হওয়ার স্বল্পতা:
কেননা দাঈ, নেককার ও আলেমদের এক বিশাল অংশ এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছেন অথচ পরবর্তী প্রজন্ম স্পষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক মূলনীতির (أصول) ভিত্তিতে তাদের থেকে ফলপ্রসূ উত্তরাধিকার লাভ করতে পারছে না। এর ফলে মুসলিম বিশ্ব এমন এক অমূল্য সম্পদ হারাচ্ছে যা আল্লাহ না চাইলে সচরাচর অপূরণীয় রয়ে যায়। যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান থাকত যাদের কাজ হতো সেই দাঈ, আলেম ও নেককার ব্যক্তিদের নিকট থাকা জ্ঞান আহরণ করা, তাদের জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করা, তাদের সংবাদসমূহ (أخبار) অনুসন্ধান করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নথিবদ্ধ করা, তবে তা হতো
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أمراً حسناً يدل على عناية الأمة بالخيرة من أبنائها والعظماء منهم (1).
والعجيب أن الأمم من حولنا - شرقاً وغرباً- تنبهت إلى هذه القضية المهمة في وقت مبكر، وعقدت مجامع، وأسست مراكز، وعملت كل ما في وسعها للاستفادة التامة من علمائها وأعلامها، فلا يغادرون هذه الحياة إلا وقد حصلت الاستفادة التامة من حياتهم غالباً، فحبذا لو التفتنا إلى هذا الأمر المهم، إذ أنَ الجهود المبذولة اليوم لا تكاد تقتصر على مظاهر وشكليات في هذه القضية، نعم هي مهمة لكن لا ترتقي إلى أن تبلغ المستوى المطلوب من الاستفادة والتوريث الحسن، فما الذي سيستفيده المجتمع من حفلات التكريم وجوائزها - على قلتها وندرتها وذهابها لغير أهلها عادة - إذا اكتُفي بذلك ولم يُستفد من أولئك الأعلام الاستفادة الحقيقية.
وأشرع الآن في تفصيل ما أردت الحديث فيه، والله المستعان.
--------------------------------------------
এটি একটি উত্তম বিষয় যা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতি উম্মাহর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের পরিচয় দেয় (১)।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আমাদের চারপাশের জাতিগুলো—প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নির্বিশেষে—অনেক পূর্বেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজন করেছে, গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের আলেম ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের (أعلام) থেকে পূর্ণাঙ্গ ফায়দা গ্রহণের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঐসব মনীষীগণ ইহলোক ত্যাগ করার পূর্বেই তাদের জীবন থেকে পরিপূর্ণ সুফল লাভ করা সম্ভব হয়েছে। আক্ষেপের বিষয়, আমরা যদি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতাম! কেননা বর্তমানে এই ক্ষেত্রে যে প্রয়াস চালানো হচ্ছে, তা কেবল বাহ্যিক জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হ্যাঁ, এগুলোর গুরুত্ব আছে বটে, তবে তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের সুফল অর্জন ও যথাযথ জ্ঞান হস্তান্তরের (توريث) মানে পৌঁছাতে পারেনি। সমাজ এই সম্মাননা অনুষ্ঠান ও পুরস্কার থেকে কী-ই বা লাভ করবে—যদিও তা সংখ্যায় নগণ্য ও বিরল এবং সাধারণত অযোগ্যদের ভাগ্যে জোটে—যদি কেবল এটুকুতেই ক্ষান্ত থাকা হয় এবং সেই বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের (أعلام) থেকে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা না হয়?
এখন আমি যে বিষয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছি তার বিস্তারিত বিবরণ শুরু করছি, আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأولمعنى التوريث وتأصيله من الكتاب والسنة وعمل الصدر الأول من المسلمينويشتمل على أربعة مطالب:
- المطلب الأول: التوريث لغة واصطلاحاً.
- المطلب الثاني: التوريث في كتاب الله.
- المطلب الثالث: التوريث في السنة الشريفة.
- المطلب الرابع: عمل الصدر الأول من المسلمين.
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول)উত্তরাধিকার (التوريث)-এর অর্থ এবং কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলমানদের প্রথম প্রজন্মের (الصدر الأول) আমল (عمل) থেকে এর তাত্ত্বিক ভিত্তি (تأصيل)এটি চারটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطالب) সংবলিত:
- প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الأول): শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে উত্তরাধিকার (التوريث)।
- দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): আল্লাহর কিতাবে উত্তরাধিকার (التوريث)।
- তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث): পবিত্র সুন্নাহ-তে উত্তরাধিকার (التوريث)।
- চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الرابع): মুসলমানদের প্রথম প্রজন্মের (الصدر الأول) আমল (عمل)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الأولمعنى التوريثلغة:
وَرِث، يرث وَرْثاً، ووِراثة، ووِراثاً، وتُراثاً، وميراثاً، وإرثاً، وإراثاً.
صار ما خلّفه إليه فهو وارث، وهم ورثة ووُرّاث.
والمال مَوْرُوث، والأب مَوْرُوث.
ويقال لكل من حصل له شيء من غير تعب: قد ورث كذا.
وورث ماله ومجده.
وورث منه علماً: استفاد.
وورّثه: خلّف له مالاً أو مجداً.
প্রথম পরিচ্ছেদউত্তরাধিকার প্রদানের (التوريث) অর্থশাব্দিক অর্থ:
উত্তরাধিকার লাভ করা, উত্তরাধিকারী হওয়া বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া (وَرِث، يرث وَرْثاً، ووِراثة، ووِراثاً، وتُراثاً، وميراثاً، وإرثاً، وإراثاً)।
মৃত ব্যক্তি যা রেখে গেছেন তা তার দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, সুতরাং সে উত্তরাধিকারী (وارث), আর তারা হলো উত্তরাধিকারীগণ (ورثة) এবং (وُرّاث)।
ধন-সম্পদ হলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত (مَوْرُوث), এবং পিতা হলেন এমন ব্যক্তি যার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্তি ঘটে (مَوْرُوث)।
বিনা পরিশ্রমে কোনো কিছু লাভকারী প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়: সে অমুক বিষয়ের উত্তরাধিকার লাভ করেছে।
সে তার সম্পদ ও প্রতিপত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেছে।
সে তার নিকট থেকে জ্ঞান উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে: অর্থাৎ সে উপকৃত হয়েছে।
সে তাকে উত্তরাধিকারী করেছে: অর্থাৎ সে তার জন্য সম্পদ বা মর্যাদা রেখে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
والوارث من أسماء الله تعالى: قال تعالى: (ولله مِيرَاثُ السَّمَواتِ والأَرْضِ).
والوارثة: أن يحصل للإنسان شيء لا يكون عليه فيه تبعة ولا عليه محاسبة (1).
اصطلاحاً:
والتوريث المقصود في هذا البحث هو ما يتركه السابق للاّحق من خبرة أو تجربة أو لوائح أو طرائق في مجال الدعوة خاصة.
--------------------------------------------
'আল-ওয়ারিস' মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আর আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য)।
আর উত্তরাধিকার হলো: মানুষের এমন কিছু লাভ করা যার জন্য তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা কিংবা হিসাব প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকে না (১)।
পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে:
এই গবেষণায় 'উত্তরাধিকার' বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো—বিশেষ করে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্বসূরি উত্তরসূরির জন্য যে প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, নীতিমালা বা কর্মপন্থা রেখে যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثانيالتوريث في كتاب الله تعالىقد ذكر الله تعالى في كتابه الوارثة والتوريث مراراً (1)، وذلك علامة على أهمية هذه القضية، وقد كان الأنبياء العظام مهتمين بها أيضاً، فمن ذلك قوله تعالى قاصّاً قول زكريا عليه السلام: (وإني خِفْتُ المَوَلىَ مِن وراءى وكَانَتِ امرَأتي عَاقِراً فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيِّاً * يَرثُنيِ وَيَرِثُ مِنْءَالِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلهُ رَبِّ رَضِيّاُ*) (2) فزكريا عليه السلام يخاف انقطاع النبوة من نسله، ويريد من يرثه: يرث العلم ويرث النبوة، قال الأستاذ سيد قطب رحمه الله تعالى: ((صوّر حاله، وقدم رجاءه، ذكر ما يخشاه وعرض ما يطلبه: إنه يخشى مَن بعده، يخشاهم ألا يقوموا على تراثه (3) بما يرضاه، وتراثه هو دعوته التي يقوم عليها - وهو أحد أنبياء بني إسرائيل البارزين- وأهله الذين يرعاهم، ومنهم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني)মহান আল্লাহর কিতাবে উত্তরাধিকার প্রদান (التوريث)মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে উত্তরাধিকার (الوارثة) এবং উত্তরাধিকার প্রদান (التوريث) সম্পর্কে বহুবার (১) উল্লেখ করেছেন, যা এই বিষয়ের গুরুত্বের পরিচায়ক। মহান নবীগণও এই বিষয়ে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী, যেখানে তিনি জাকারিয়া আলাইহিস সালামের উক্তি বর্ণনা করেছেন: (আর আমি আমার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের (المَوَلىَ) ব্যাপারে আশঙ্কা করছি, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরসূরি দান করুন, যে আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে (يَرثُنيِ) এবং ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকার লাভ করবে (يَرِثُ); আর হে আমার রব! তাকে আপনার সন্তুষ্টিভাজন করুন) (২)। জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁর বংশ থেকে নবুওয়াতের ধারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং এমন একজনকে চেয়েছিলেন যে তাঁর উত্তরাধিকারী হবে: অর্থাৎ সে ইলম (জ্ঞান) এবং নবুওয়াতের উত্তরাধিকার লাভ করবে। উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি তাঁর অবস্থার চিত্রায়ন করেছেন এবং নিজের আকাঙ্ক্ষা পেশ করেছেন; যা নিয়ে তিনি ভীত ছিলেন তা উল্লেখ করেছেন এবং যা তিনি প্রার্থনা করছেন তা উপস্থাপন করেছেন: তিনি তাঁর পরবর্তীদের নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন যে, তারা যেন তাঁর ঐতিহ্যের (تراثه) (৩) ওপর সেভাবে কায়েম না থাকে যা তিনি পছন্দ করেন। আর তাঁর ঐতিহ্য (تراثه) হলো তাঁর দাওয়াত বা আহ্বান যার ওপর তিনি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন—তিনি বনী ইসরাঈলের অন্যতম বিশিষ্ট নবী ছিলেন—এবং তাঁর পরিবার-পরিজন যাদের তিনি দেখাশোনা করতেন, তাদের মধ্যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مريم التي كان قيِّماً عليها وهي تخدم المحراب الذي يتولاه
… وهو يخشى الموالي (1) من ورائه على هذا التراث كله، ويخشى ألا يسيروا فيه سيرته
… ذلك ما يخشاه، فأما ما يطلبه فهو الولي الصالح الذي يحسن الوراثة، ويحسن القيام على تراثه، وتراثه النبوة من آبائه وأجداده
… )) (2).
وقال الشيخ الإمام ابن كثير (3) رحمه الله تعالى:
((وجه خوفه أن خشي أن يتصرفوا بعده في الناس تصرفاً سيئاً، فسأل الله ولداً يكون نبياً من بعده ليسوسهم بنوبته وما يوحى إليه فأجيب في ذلك، لا أنه خشي من وراثتهم له ماله؛ فإن النبي أعظم منزلة وأجلُّ قدراً من أن يشفق على ماله إلى ما هذا حَدُّه أن يأنف من وراثة عصباته له، ويسأل أن يكون له ولد فيجوز ميراثه دونهم، هذا وجه.
الثاني: أنه لم يُذكر انه كان ذا مال بل كان نجاراً يأكل من كسب يديه، ومثل هذا لا يجمع مالاً، ولا سيما الأنبياء عليهم السلام فإنهم كانوا أزهد شيء في الدنيا.
الثالث: أنه قد ثبت في الصحيحين من غير وجه أن
--------------------------------------------
মরিয়ম, যাঁর তত্ত্বাবধায়ক তিনি ছিলেন এবং যিনি সেই মিহরাবে সেবারত ছিলেন যা তিনি পরিচালনা করতেন
… আর তিনি তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের (موالي) (১) নিয়ে এই সামগ্রিক ঐতিহ্যের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছিলেন, এবং ভয় পাচ্ছিলেন যে তারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না
… এটাই ছিল তাঁর ভয়ের কারণ। পক্ষান্তরে তিনি যা চেয়েছিলেন তা হলো একজন নেককার অভিভাবক, যে যথাযথভাবে উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং তাঁর উত্তরাধিকার আঞ্জাম দিতে সক্ষম হবে; আর তাঁর এই উত্তরাধিকার হলো তাঁর পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত নবুয়ত
… (২)।
এবং শায়খ ইমাম ইবনে কাসীর (৩) রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন:
((তাঁর আশঙ্কার কারণ এই যে, তিনি ভয় পাচ্ছিলেন তাঁর পরে তারা মানুষের সাথে মন্দ আচরণ করবে। ফলে তিনি আল্লাহর নিকট এমন একজন সন্তান প্রার্থনা করলেন যিনি তাঁর পরে নবী হবেন, যাতে তিনি নবুয়তের মাধ্যমে এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে তাদের পরিচালিত করতে পারেন। তাঁর এই প্রার্থনা কবুল করা হয়েছিল। বিষয়টি এমন নয় যে, তিনি তাঁর সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়ার ব্যাপারে তাদের নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন; কেননা একজন নবীর মর্যাদা ও সম্মান এতো উঁচুতে যে, তিনি তাঁর সম্পদের ব্যাপারে এমন পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন না যে তিনি তাঁর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের (عصبة) উত্তরাধিকারী হওয়াকে অপছন্দ করবেন এবং এমন একজন সন্তান চাইবেন যে তাদের বাদ দিয়ে তাঁর উত্তরাধিকার লাভ করবে; এটি একটি কারণ।
দ্বিতীয়ত: এটি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে তিনি সম্পদশালী ছিলেন, বরং তিনি একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলেন যিনি স্বহস্তে উপার্জিত রিযিক গ্রহণ করতেন। আর এই ধরণের ব্যক্তি সম্পদ জমা করেন না, বিশেষ করে নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম); কেননা তাঁরা ছিলেন দুনিয়ার প্রতি সবচেয়ে বেশি বিমুখ (أزهد)।
তৃতীয়ত: সহীহাইন-এ একাধিক সূত্রে (وجه) এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا نورث، ما تركناه فهو صدقة))، وفي رواية عند الترمذي بسند صحيح: ((نحن معشر الأنبياء لا نورث)) وعلى هذا فتعين حمل قوله: ((فهب لي من لدنك ولياً)) يرثني على ميراث النبوة (1).
ونعى الله تعالى على أقوام يرثون الكتاب بدون فهم ولا تطبيق ولا تدبر، فقال عن بني إسرائيل: (فخلف من بعدهم خلف ورثوا الكتاب يأخذون عرض هذا الأدنى ويقولون سيغفر لنا وإن يأتهم عرض مثله يأخذوه ألم يؤخذ عليهم ميثاق الكتاب أن لا يقولوا على الله إلا الحق ودرسوا ما فيه والدار الأخرة خير للذين يتقون أفلا تعقلون) (2).
قال الأستاذ سيد قطب رحمه الله تعالى:
((صفة هذا الخلف الذي جاء بعد ذلك السلف من قوم موسى أنهم ورثوا الكتاب ودرسوه، ولكنهم لم يتكيَّفوا به ولم تتأثر به قلوبهم ولا سلوكهم، شأن العقيدة حين تتحول إلى ثقافة تُدرس وعلم يحفظ، وكلما رأوا عرضاً من أعراض الحياة الدنيا تهافتوا عليه ثم تأولوا وقالوا: سيغفر لنا
… )) (3).
وقال تعالى:
(وإن الذين أورثوا الكتاب من بعدهم لفي شكٍ منه مريب) (4).
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমরা কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে)), এবং তিরমিজিতে সংকলিত একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: ((আমরা নবী সমাজ কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না))। আর এর ভিত্তিতে তাঁর এই উক্তি: ((সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন)) যে আমার উত্তরাধিকারী হবে—একে নবুওয়াতের উত্তরাধিকার অর্থে গ্রহণ করা সুনির্ধারিত হয়ে যায় (১)।
আল্লাহ তাআলা এমন সম্প্রদায়ের নিন্দা করেছেন যারা কোনো প্রকার অনুধাবন, প্রয়োগ ও চিন্তা-গবেষণা ব্যতিরেকেই কিতাবের উত্তরাধিকার লাভ করে। তিনি বনী ইসরাইল সম্পর্কে বলেছেন: (অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটল যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছিল; তারা এই নগণ্য দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ গ্রহণ করে এবং বলে, আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি তাদের কাছে অনুরূপ আরও কোনো সম্পদ আসে, তারা তাও গ্রহণ করে। তাদের নিকট থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া আর কিছুই বলবে না? অথচ তারা কিতাবে যা আছে তা পাঠ করেছে। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালীন নিবাসই উত্তম; তোমরা কি অনুধাবন করবে না?) (২)।
উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
((মুসা আ.-এর কওমের সেই নেককার পূর্বসূরিদের পরে আসা এই অযোগ্য উত্তরসূরিদের বৈশিষ্ট্য হলো যে, তারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছিল এবং তা পাঠ করেছিল, কিন্তু তারা সে অনুযায়ী নিজেদের গড়ে তোলেনি এবং তাদের অন্তর ও আচরণ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। এটি আকিদার সেই রূপ যখন তা কেবল পাঠ্য সংস্কৃতি ও মুখস্থ বিদ্যায় রূপান্তরিত হয়। যখনই তারা পার্থিব জীবনের কোনো তুচ্ছ সামগ্রী দেখতে পেত, তারা তার প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ত এবং এরপর অজুহাত দিয়ে বলত: শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে … )) (৩)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন:
(আর নিশ্চয়ই তাদের পরে যাদেরকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে, তারা সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والله تعالى يبين في كتابه العظيم أن الوراثة والتوريث بأمره ليس من ذلك شيء لأحد من الخلق، فهم ينتظرون مشيئته بتسليم واطمئنان، يقول تعالى قاصّاً قول نبيه موسى عليه السلام لبني إسرائيل: (إن الأرض لله يورثها من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين) (1) قال الأستاذ سيد رحمه الله تعالى: ((إن الأرض لله، وما فرعون وقومه إلا نزلاء فيها، والله يورثها من يشاء من عباده - وفق سنته وحكمته - فلا ينظر الداعون إلى رب العالمين إلى شيء من ظواهر الأمور التي تخيل للناظرين أن الطاغوت مكين في الأرض غير مزحزح عنها، فصاحب الأرض ومالكها هو الذي يقرر متى يطردهم منها)) (2).
وقال تعالى:
(ولقد كتبنا في الزبور من بعد الذكر أن الأرض يرثها عبادي الصالحون) (3) الذكر هو التوراة، والزبور كتاب نبي الله داود عليه الصلاة والسلام (4).
وهنا يتحدث الأستاذ سيد قطب -رحمه الله تعالى- حديثاً طويلاً عن هذه الوراثة ومَن يستحقها، وأختار من كلامه قوله: "ما هي هذه الوراثة؟ ومن هم عباد الله الصالحون؟ لقد
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, উত্তরাধিকার ও স্বত্বাধিকার প্রদান কেবল তাঁরই আদেশের অন্তর্ভুক্ত, এতে সৃষ্টির কারো কোনো হাত নেই। তাই তাঁরা (মুমিনগণ) পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও প্রশান্তির সাথে তাঁর ইচ্ছার প্রতীক্ষা করেন। আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের প্রতি তাঁর নবী মূসা আলাইহিস সালাম-এর উক্তি বর্ণনা করে বলেন: (নিশ্চয়ই যমীন আল্লাহর; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকার দান করেন এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য) (১)। উস্তাদ সাইয়্যেদ রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: ((নিশ্চয়ই যমীন আল্লাহর, আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় সেখানে কেবল ক্ষণস্থায়ী বাসিন্দা মাত্র। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা—তাঁর নির্ধারিত নিয়ম ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী—এর উত্তরাধিকারী দান করেন। সুতরাং রব্বুল আলামীনের পথে আহ্বানকারীরা যেন বাহ্যিক পরিস্থিতির এমন কোনো বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত না করেন, যা দর্শকদের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, তাগুত যমীনে এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে তাকে সেখান থেকে নড়ানো সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে যমীনের অধিপতি ও মালিকই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কখন তিনি তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করবেন)) (২)।
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন:
(আর আমি যিকরের পর যবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে) (৩)। যিকর হলো তাওরাত, আর যবূর হলো আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর কিতাব (৪)।
এখানে উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব —রাহিমাহুল্লাহ তাআলা— এই উত্তরাধিকার এবং কারা এর যোগ্য সে সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে আমি এই অংশটি চয়ন করছি: "এই উত্তরাধিকার কী? আর আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দারাই বা কারা? নিশ্চয়ই..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
استخلف الله آدم في الأرض لعمارتها وإصلاحها، وتنميتها وتحويرها، واستخدام الكنوز والطاقات المرصودة فيها، واستغلال الثروات الظاهرة والمخبوءة والبلوغ بها إلى الكمال المقدّر لها في علم الله، ولقد وضع الله للبشر منهجاً متكاملاً للعمل على وفقه في هذه الأرض
… في هذا المنهج ليست عمارة الأرض واستغلال ثرواتها والانتفاع بطاقاتها هو وحده المقصود، ولكن المقصود هو هذا مع العناية بضمير الإنسان ليبلغ الإنسان كماله المقدَّر له في هذه الحياة
… وقد يغلب على الأرض جبارون وظلمة وطغاة، وقد يغلب عليها همج ومتبربرون وغزاة، وقد يغلب عليها كفار فجَّار يحسنون استغلال قوى الأرض وطاقاتها استغلالاً مادياً، ولكن هذه ليست سوى تجارب الطريق، والوراثة الأخيرة هي للعباد الصالحين الذين يجمعون بين الإيمان والعمل الصالح
… وما على أصحاب الإيمان إلا أن يحققوا مدلول إيمانهم وهو العمل الصالح، والنهوض بتبعات الخلافة ليتحقق وعد الله وتجري سنته: ((أن الأرض يرثها عبادي الصالحون)) فالمؤمنون العاملون هم العباد الصالحون (1).
--------------------------------------------
আল্লাহ আদমকে পৃথিবীতে তাঁর খলিফা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছেন একে আবাদ ও সংস্কার করতে, এর উন্নয়ন ও রূপান্তর ঘটাতে, এতে সঞ্চিত ধনভাণ্ডার ও শক্তি ব্যবহার করতে এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন সম্পদগুলো আহরণ করে আল্লাহ্র জ্ঞানে নির্ধারিত পূর্ণতায় পৌঁছাতে। আল্লাহ মানুষের জন্য এই পৃথিবীতে কাজ করার নিমিত্তে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান প্রদান করেছেন
… এই জীবনবিধানে কেবল পৃথিবী আবাদ করা, এর সম্পদ আহরণ করা এবং এর শক্তি থেকে উপকৃত হওয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বরং এর সাথে মানুষের বিবেকেরও যত্ন নেওয়া উদ্দেশ্য, যাতে মানুষ এই জীবনে তার জন্য নির্ধারিত পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে
… পৃথিবীতে হয়তো কখনো প্রবল প্রতাপশালী, জালিম ও স্বৈরাচারীদের আধিপত্য সৃষ্টি হতে পারে, হয়তো এর ওপর বর্বর, অসভ্য ও আক্রমণকারীদের প্রাধান্য দেখা দিতে পারে, আবার কখনো এমন পাপাচারী কাফেরদের প্রভাব পড়তে পারে যারা বস্তুগতভাবে পৃথিবীর শক্তি ও সম্পদ কাজে লাগাতে পারদর্শী; কিন্তু এগুলো পথিমধ্যে পরীক্ষা মাত্র। আর চূড়ান্ত উত্তরাধিকার কেবল সেই পুণ্যবান বান্দাদের জন্য, যারা ঈমান ও নেক আমলের সমন্বয় ঘটায়
… আর মুমিনদের দায়িত্ব হলো কেবল তাদের ঈমানের দাবি তথা নেক আমল বাস্তবায়ন করা এবং খেলাফতের দায়িত্বসমূহ আঞ্জাম দেওয়া, যাতে আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ হয় এবং তাঁর পদ্ধতি বা সুন্নাহ কার্যকর হয়: ((নিশ্চয়ই আমার পুণ্যবান বান্দারা পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে))। সুতরাং আমলকারী মুমিনরাই হলেন সেই পুণ্যবান বান্দা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الصالحون والميراث:
ولما سبق أقول: إن الصالح يحرص على أن يُوَرَّث ميراثاً حسناً كما قال تعالى: (ثم أوثنا الكتاب الذين اصطفينا من عبادنا) (1) فيرث الصلاح والخير والقرآن والدعوة إلى الله تعالى، وهو كذلك يحرص على أن يُوَرِّث العمل الصالح؛ فيدع أولاداً صالحين، وأعمالاً صالحة، وذلك كان مطلباً لنبي الله إبراهيم عليه أفضل الصلاة والتسليم حيث قال: "واجعل لي لسان صدقٍ في الآخرين" (2) أي اجعل الآخرين الذين يأتون من بعدي يثنون عليّ ثناءً حسناً ويذكرونني ذكراً عاطراً، فأوتي ذلك عليه أفضل الصلاة والتسلييم كما قال تعالى (وتركنا عليه في الآخرين) (3) ثم طلب الوراثة العظمى: (واجعلني من ورثة جنة النعيم) (4) فأوتي ذلك عليه الصلاة والسلام، وليس أعظم من أن يترك العبد عملاً صالحاً يوّرثه لمن بعده من الأجيال، فيظل عطر ذكراه باقياً ما بقيت هذه الأرض، ويتردد صدى عمله في جنباتها يرشد العاملين ويهدي السائرين، والله الموفق.
--------------------------------------------
নেককার ব্যক্তিগণ এবং উত্তরাধিকার (ميراث):
পূর্বালোচনার প্রেক্ষিতে আমি বলি যে: নিশ্চয়ই একজন নেককার (صالح) ব্যক্তি একটি উত্তম উত্তরাধিকার (ميراث) রেখে যেতে সচেষ্ট থাকেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: (অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি) (১)। ফলে তিনি পুণ্য, কল্যাণ, কুরআন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের উত্তরাধিকার লাভ করেন। একইভাবে তিনি নেক আমল (عمل صالح) উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে আগ্রহী হন; ফলে তিনি সৎ সন্তান এবং নেক আমল রেখে যান। আর এটি আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এরও একটি আরজি ছিল, যখন তিনি বলেছিলেন: "এবং আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি (لسান صدق) বজায় রাখুন" (২)। অর্থাৎ, আমার পরে যারা আসবে, আপনি তাদের মাঝে আমার এমন সুখ্যাতি দান করুন যাতে তারা আমার প্রশংসা করে এবং সুগন্ধময় স্মৃতির সাথে আমাকে স্মরণ করে। ফলে তাঁকে তা দান করা হয়েছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: (এবং আমি পরবর্তীদের মধ্যে তাঁর সুখ্যাতি বজায় রেখেছি) (৩)। এরপর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার (وراثة) প্রার্থনা করেছিলেন: (আর আমাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের (ورثة) অন্তর্ভুক্ত করুন) (৪)। ফলে তাঁকে তা দান করা হয়েছিল। একজন বান্দার জন্য এর চেয়ে মহিমান্বিত আর কিছু নেই যে, তিনি এমন নেক আমল (عمل صالح) রেখে যাবেন যা তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার হবে। ফলে যতদিন এই পৃথিবী টিকে থাকবে, ততদিন তাঁর স্মৃতির সুবাস অবশিষ্ট থাকবে এবং তাঁর কর্মের প্রতিধ্বনি পৃথিবীর দিগন্ত জুড়ে অনুরণিত হতে থাকবে, যা আমলকারীদের পথ দেখাবে এবং পথিকদের হেদায়েত দান করবে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المطلب الثالثالتوريث في السنة الشريفة المطهرةقد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم جملة أحاديث يمكن أن يستنبط منها قواعد مهمة للتوريث، ويستنبط منها- أيضاً- عنايته الكبيرة بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم بهذه القضية الخطيرة، فمن تلك القواعد:
1. تناقل العلم فيما بين الصحابة ومَن بعدهم من أجيال المسلمين، أو مَن لم يحضر ما قاله صلى الله عليه وسلم، فمن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: ((ليبلغ الشاهدُ الغائب؛ فإن الشاهد عسى أن يُبَلِّغ من هو أوعى له منه)) (1).
وفي معنى هذا الحديث وردت عدة أحاديث منها قوله صلى الله عليه وسلم لو فد عبد القيس لما أرشدهم إلى بعض أمور دينهم: ((احفظوه وأخبروه مَن وراءكم)) (2).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদপবিত্র সুন্নাহর আলোকে জ্ঞানগত উত্তরাধিকারনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখান থেকে উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ আহরণ করা সম্ভব; আর তা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি তাঁর (আমার পিতা-মাতা তাঁর প্রতি উৎসর্গিত হোন) সুমহান গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টিও আহরণ করা যায়। সেই মূলনীতিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১. সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী মুসলিম প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানের সঞ্চারণ, অথবা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না তাদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়া। এর উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট (বার্তা) পৌঁছে দেয়; কেননা অনেক ক্ষেত্রে যাকে পৌঁছানো হয় সে উপস্থিত শ্রোতার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হতে পারে।" (১)
এই হাদিসের মর্মে আরও বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধিদলের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অন্যতম, যখন তিনি তাঁদেরকে দ্বীনের কিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন: "তোমরা এটি মুখস্থ রাখো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের অবগত করো।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فهذا التناقل المشار إليه هو نوع من التوريث.
ومن ذلك أيضاً ما كان من حال معاذ بن جبل رضي الله عنه حيث يحدثه النبي صلى الله عليه وسلم بحديث فيكتمه - كما أمره النبي صلى الله عليه وسلم ثم يورثه لمن بعده عندما حانت منيته، فقد حدّثه النبي صلى الله عليه وسلم، وهو رديفه على الرَّحْل، قال:
((يا معاذُ بنَ جبل)).
قال: لبيك يا رسول الله وسعديك.
قال: ((يا معاذ)).
قال: لبيك يا رسول الله وسعديك (ثلاثاً).
قال: ((ما من أحد يشهد أن لا إله ألا الله وأن محمداً رسول الله صدقاً من قلبه إلا حرمه الله على النار)).
قال: يا رسول الله، أفلا أخبر الناس فيستبشروا؟
قال: ((إذاً يتكلوا)) وأخبر بها معاذ عند موته تأثماً (1)
2. الاهتمام بنوعية التوريث وأنه ينبغي أن يكون في الأمور الجامعة المهمة للأمة:
--------------------------------------------
এই নির্দেশিত বর্ণনার স্থানান্তর হলো এক প্রকারের উত্তরাধিকার প্রদান।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো মুআয বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থা, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন এবং তিনি তা গোপন রেখেছিলেন—যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন তিনি তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন যখন তিনি তাঁর সওয়ারির পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন:
((হে মুআয বিন জাবাল))।
তিনি বললেন: আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল! এবং আমি আপনার সেবা ও আনুগত্যে সদা প্রস্তুত।
তিনি বললেন: ((হে মুআয))।
তিনি বললেন: আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল! এবং আমি আপনার সেবা ও আনুগত্যে সদা প্রস্তুত (তিনবার)।
তিনি বললেন: ((যে ব্যক্তিই অন্তরের সত্যতা সহকারে এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ অবশ্যই তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন))।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়?
তিনি বললেন: ((সেক্ষেত্রে তারা এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে))। আর মুআয তাঁর মৃত্যুর সময় পাপের ভয়ে (تأثماً) এই হাদিসটি বর্ণনা করেন (১)
২. উত্তরাধিকার প্রদানের গুণগত মানের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এটি উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সামগ্রিক বিষয়সমূহে হওয়া বাঞ্ছনীয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومثال ذلك قوله صلى الله عليه وسلم في شأن وراثة الأنبياء: ((إن الأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً ولكن ورثوا العلم فمن أخذه أخذ بحظ وافر)) (1).
3. التشجيع على توريث العمل الصالح:
فهذا النبي الأعظم صلى الله عليه وسلم يذكر في حديث له قضية يمكن أن تدرج ضمن التشجيع على التوريث، وهي قضية الأعمال الصالحة التي تتناقلها الأجيال بإعجاب ويكون أجرها للعامل الأول، فقد قال صلى الله عليه وسلم: ((من سن في الإسلام سنة حسنة فعُمل بها بعده كتب له مثل أجر من عمل بها ولا يَنقص من أجورهم شيء)) (2).
--------------------------------------------
এর উদাহরণ হলো নবীগণের উত্তরাধিকার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: ((নিশ্চয়ই নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান না, বরং তাঁরা কেবল জ্ঞানকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা অংশ লাভ করল)) (১)।
৩. নেক আমল উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান:
মহানবী (সা.) তাঁর একটি হাদিসে এমন একটি বিষয় উল্লেখ করেছেন যা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়ার উৎসাহের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে; আর তা হলো সেই সকল নেক আমল যা পরবর্তী প্রজন্মগুলো শ্রদ্ধার সাথে অনুসরণ করে এবং এর সওয়াব প্রথম আমলকারীর প্রাপ্য হয়। নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির সূচনা করল এবং তার পরবর্তীকালে সে অনুযায়ী আমল করা হলো, তবে তার জন্য ঐ আমলকারীর সমান সওয়াব লিখে দেওয়া হবে, অথচ তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4. جملة من الأعمال الإدارية للدولة الإسلامية الأولى:
هناك عدد من الأعمال التي شرعها النبي صلى الله عليه وسلم وهي مبينة لاهتمامه صلى الله عليه وسلم بهذه القضية، فمن ذلك إقراره لمبدأ الشورى لإدارة شؤون الدولة، وكذلك إشارته الواضحة بتولية أبي بكر الصديق رضي الله عنه من بعده، ومبادئ الحرب التي كان يبينها لهم صلى الله عليه وسلم والعلاقات بين الدول، وإقامة الحدود لحفظ الأمن والنفوس، وغير ذلك من القضايا الكثيرة التي سقت أمثلة لها فقط، وإلا فالدين كله توريث على الحقيقة، فكيفية الصلاة والزكاة والحج والصوم والمواريث وغير ذلك هي أنواع من التوريث، لكني إنما ذكرت هاهنا ما نص عليه النبي صلى الله عليه وسلم أنه توريث أو أشار إليه إشارة واضحة.
৪. প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের একগুচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু কার্যপদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন যা এই বিষয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপের পরিচায়ক। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শ (شورى) নীতির স্বীকৃতি প্রদান, তাঁর পরবর্তী সময়ে আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দায়িত্ব প্রদানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, যুদ্ধের সেসব মূলনীতি যা তিনি তাঁদের নিকট ব্যাখ্যা করতেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এবং জননিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার্থে দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করা ছাড়াও আরও অনেক বিষয় যেগুলোর কেবল কিছু উদাহরণ আমি এখানে পেশ করেছি। অন্যথায় প্রকৃতপক্ষে সমগ্র দ্বীনই হলো একটি উত্তরাধিকার (توريث); কেননা সালাত, জাকাত, হজ, সাওম এবং উত্তরাধিকার আইন (مواريث) ইত্যাদির নিয়মাবলি মূলত উত্তরাধিকারেরই (توريث) বিভিন্ন প্রকার। তবে আমি এখানে কেবল সেসব বিষয় উল্লেখ করেছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে পাঠ (نص) হিসেবে উত্তরাধিকার (توريث) বলে উল্লেখ করেছেন কিংবা যেগুলোর প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المطلب الرابععمل الصدر الأول من المسلمين ومَن بعدهمكان الصدر الأول من المسلمين يشيع فيهم التوريث في كثير من أمورهم، فهذا كتاب الله تعالى وقد ورثوا عمله خلفاً عن سلف وكابراً عن كابر، وورثوا طريقة قراءته كذلك، وهذه أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ورثوها بأسانيد متصلة، وقُل الشيء نفسه في الشعر الذي كان ديوانهم، ويتوارثونه جيلاً بعد جيل، وكل ذلك قبل عصر التدوين وانتشار الكتابة والكتب، وهناك بعض الأمثلة المهمة في التوريث كانت منتشرة بينهم، فمن ذلك:
1. المدارس الفقهية:
كان الصحابة رضي الله عنهم قد تفرقوا في الأمصار، وكان عند بعضهم علمٌ سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ووعاه قلبه مع من وعاه، وبعضهم تفرَّد بعلم لم يكن عند الآخرين،
চতুর্থ অনুচ্ছেদমুসলমানদের প্রথম প্রজন্ম ও তাদের পরবর্তীগণের কর্মপন্থামুসলমানদের প্রথম প্রজন্মের মাঝে তাদের অনেক কর্মকাণ্ডে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্তির বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এই হলো মহান আল্লাহর কিতাব, যার ওপর আমল করার বিষয়টি তারা পূর্বসূরিদের কাছ থেকে উত্তরসূরিগণ এবং বড়দের কাছ থেকে ছোটরা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন; একইভাবে তারা এর তিলাওয়াতের পদ্ধতিও উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। আর এই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ, যা তারা অবিচ্ছিন্ন (متصلة) সনদের (أسانيد) মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। কবিতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যা ছিল তাদের ইতিহাসের সংকলন (দিওয়ান) এবং তারা বংশপরম্পরায় এর উত্তরাধিকার লাভ করে এসেছেন। এই সবকিছুই ছিল হাদিস সংকলনের যুগ এবং লিখন ও কিতাব প্রসারের পূর্বের ঘটনা। তাদের মাঝে উত্তরাধিকারের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ প্রচলিত ছিল, যেমন:
১. ফিকহি মাযহাবসমূহ:
সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)গণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের কারো কারো কাছে এমন ইলম ছিল যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুনেছিলেন এবং অন্যদের সাথে তারাও তা হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। আবার তাদের কেউ কেউ এমন ইলম অর্জনে একক (تفرد) ছিলেন যা অন্যদের কাছে ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فبثُّوا كل ذلك في الأمصار التي سكنوها، حيث التفّ حول كل واحد من أولئك الأطهار مجموعة من التلاميذ ورثوا علمهم فاستفادوا منه أيَّما استفادة، ومثال على ذلك عبد الله بن مسعود رضي الله عنه (1) الذي استقر في الكوفة، وورث علمه جماعة كثيرة منهم علقمة (2) - وهو من أجلِّ تلاميذه- والأسود بن يزيد (3) وغيرهما، وورث علم أولئك وغيرهم جماعة منهم إبراهيم النَّخَعي (4) وورث علم إبراهيم جماعة أجلّهم حماد بن أبي سليمان (5).
--------------------------------------------
অতঃপর তাঁরা সেই সব জ্ঞান সেই সব জনপদে ছড়িয়ে দিলেন যেখানে তাঁরা বসবাস করতেন। সেখানে সেই পবিত্র ব্যক্তিদের প্রত্যেকের চারপাশেই একদল ছাত্র সমবেত হয়েছিলেন যারা তাঁদের ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করেন এবং তা থেকে প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হন। এর একটি উদাহরণ হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (১), যিনি কুফায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর ইলম লাভ করেছিলেন এক বিশাল জামাত, যাদের মধ্যে আলক্বামাহ (২)—যিনি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছাত্র—এবং আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ (৩) ও অন্যরা রয়েছেন। আর তাঁদের ও অন্যদের ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করেন এক জামাত যাদের মধ্যে ইব্রাহিম আন-নাখায়ি (৪) অন্যতম। আর ইব্রাহিমের ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করেন এক জামাত যাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলেন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলায়মান (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم جاء الإمام أبو حنيفة (1) الذي ورث علم كل أولئك حيث كان تلميذاً لحماد وعليه تفقَّه. وأسس مدرسة للفقه في الكوفة، وما زال تلاميذه يتوارثون علمه إلى يوم الناس هذا.
وقل الشيء نفسه في المدارس المختلفة التي نشأت في زمان السلف كالمدرسة المالكية والشافعية والحنبلية.
2. الوصايا:
الوصية نوع من أنواع التوريث، حيث يوصي الرجل بما رآه نافعاً وصالحاً، وهي خلاصة تجارب، ومجموعة حكم إن صدرت من حكيم مجرب، والوصية من مثل هذا كنز يحافظ عليه، ويعتنى به.
وللوصايا أصل وسلف في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فقد جاء في كتاب الله تعالى قوله جلَّ وعز: (ذالكم وصاكم به لعلكم تذكرون) (2).
وقال تعالى قاصّاً وصية بعض الأنبياء العظام:
(ووصى بها إبراهيم بنيه ويعقوب يابني إن الله اصطفى لكم الدين فلا تموتن إلا وأنتم مسلمون) (3) (4).
--------------------------------------------
এরপর ইমাম আবু হানিফা (১) আসলেন, যিনি তাঁদের সবার ইলম (জ্ঞান) উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন; যেহেতু তিনি হাম্মাদের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর কাছেই ফিকহ (فقه) অর্জন করেছেন। তিনি কুফায় ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের একটি ধারা বা মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর ছাত্ররা বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর ইলম উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করে চলেছেন।
সালাফদের যুগে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন মাযহাব যেমন—মালিকি, শাফেয়ী ও হাম্বলি মাযহাবের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
২. অসিয়ত (الوصايا) বা উপদেশসমূহ:
অসিয়ত (الوصية) হলো উত্তরাধিকারের একটি প্রকার, যেখানে একজন ব্যক্তি যা কল্যাণকর ও সঠিক মনে করেন সে বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন। এটি অভিজ্ঞতার সারনির্যাস এবং প্রজ্ঞার সমষ্টি, যদি তা কোনো অভিজ্ঞ প্রাজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসে। আর এ ধরনের ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা অসিয়ত (الوصية) হলো এমন এক ধনভাণ্ডার যা সংরক্ষণ ও যত্ন পাওয়ার যোগ্য।
মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة)-র মধ্যে অসিয়তের (الوصايا) ভিত্তি ও পূর্বসূত্র বিদ্যমান। মহান আল্লাহর কিতাবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী এসেছে: "তিনি তোমাদের এই নির্দেশ (وصاكم) দিয়েছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।" (২)
মহান আল্লাহ কতিপয় শ্রেষ্ঠ নবীদের অসিয়তের (وصية) কথা উল্লেখ করে বলেন:
"আর এর অসিয়ত (ووصى) করেছিল ইবরাহীম তার সন্তানদেরকে এবং ইয়াকুবও; (সে বলেছিল) হে আমার সন্তানরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করেছেন, কাজেই তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" (৩) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ورسولنا صلى الله عليه وسلم وصى صحابته بأمور مهمة فقال صلى الله عليه وسلم: ((أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة)) (1).
ووصى صلى الله عليه وسلم على فراش الموت: بـ ((الصلاةَ وما ملكت أيمانكم)) (2).
وقد كثر اعتناء المسلمين من بعده صلى الله عليه وسلم بالوصايا، وقد جرى عدد من أئمة المسلمين وساداتهم على الوصية التي تحمل خلاصة التجارب والحِكَم، فمن ذلك وصية أبي بكر الصديق لعمر الفاروق رضي الله تعالى عنهما حيث قال له: ((إني قد استخلفتك على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأوصاه بتقوى الله، ثم قال: يا عمر: إن لله حقاً بالليل لا يقبله في النهار، وحقاً في النهار لا يقبله بالليل، وإنه لا يقبل نافلة حتى تؤدي الفريضة، ألم تر يا عمر: إنما ثقلت موازين مَن ثقلت موازينه يوم القيامة باتباعهم الحق وثِقَله عليهم (3)، وحُقَّ لميزان لا يوضع فيه غداً إلا حق أن يكون ثقيلاً.
ألم تر يا عمر: إنما خفّت موازين مَن خفّت موازينه
--------------------------------------------
আমাদের রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং (নেতার কথা) শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি" (১)।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুশয্যায় অসিয়ত করেছেন: "নামাজ এবং তোমাদের অধীনস্থদের (দাস-দাসী) ব্যাপারে" (২)।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের মধ্যে অসিয়তের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অনেক মুসলিম ইমাম ও সর্দারগণ অসিয়ত করার এই ধারা অনুসরণ করেছেন, যা অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার সারসংক্ষেপ বহন করে। এর মধ্যে রয়েছে আবু বকর সিদ্দিক (রাজিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক ওমর ফারুক (রাজিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি কৃত অসিয়ত, যেখানে তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ওপর খলিফা নিযুক্ত করলাম।" এরপর তিনি তাঁকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করেন এবং বলেন: "হে ওমর! নিশ্চয়ই রাতের বেলায় আল্লাহর এমন কিছু হক রয়েছে যা তিনি দিনে গ্রহণ করেন না, আর দিনে আল্লাহর এমন কিছু হক রয়েছে যা তিনি রাতে গ্রহণ করেন না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি ফরজ আদায় করবে, ততক্ষণ তিনি কোনো নফল ইবাদত কবুল করবেন না। হে ওমর! তুমি কি দেখনি কিয়ামতের দিন তাদের মিজানের পাল্লা ভারী হবে যাদের পাল্লা সত্যের অনুসরণ এবং তাদের ওপর সেই সত্যের ভারের কারণে ভারী হয়েছে (৩); আর যে পাল্লায় আগামীকাল সত্য ব্যতীত অন্য কিছু রাখা হবে না, তা ভারী হওয়ারই যোগ্য।
হে ওমর! তুমি কি দেখনি যাদের মিজানের পাল্লা হালকা হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাওরীসুদ দাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يوم القيامة بإتباعهم الباطل وخِفّته عليهم (1)، وحُقّ لميزان لا يوضع فيه إلا باطل أن يكون خفيفاً.
ألم تر يا عمر: إنما نزلت آية الرخاء مع آية الشدة، وآية الشدة مع آية الرخاء ليكون المؤمن راغباً راهباً؛ لا يرغب رغبة يتمنى فيها على الله ماليس له، ولا يرهب رهبة يلقي فيها بيديه (2).
ألم تر يا عمر: إنما ذكر الله أهل النار بأسوأ أعمالهم فإذا دكرتهم قلت: إني لأرجو ألا أكون منهم، وأنه إنما ذكر أهل الجنة بأحسن أعمالهم - لأنه تجاوز لهم عما كان من سيِّء - فإذا ذكرتهم قلت: أين عملي من أعمالهم (3).
فإن حفظت وصيتي فلا يكونن غائب أحب إليك من حاضر من الموت ولست بمعجزه)) (4) (5).
3. الاعتناء بعلوم الأمم الأخرى وتوريثها توريثاً صحيحاً:
وهذا أعظم ما أسدته الأمة الإسلامية إلى الأمم
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন তাদের বাতিল অনুসরণের কারণে এবং তাদের নিকট তা সহজ মনে হওয়ার ফলে (১), আর যে পাল্লায় কেবল বাতিলই রাখা হবে, তা হালকা হওয়াই সমীচীন।
হে উমর, তুমি কি দেখনি: স্বাচ্ছন্দ্যের আয়াত কষ্টের আয়াতের সাথে এবং কষ্টের আয়াত স্বাচ্ছন্দ্যের আয়াতের সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে মুমিন ব্যক্তি আশান্বিত ও ভীত থাকে; সে যেন এমন আশা না করে যা তাকে আল্লাহর নিকট এমন কিছুর প্রত্যাশা করতে প্ররোচিত করে যার সে যোগ্য নয়, আবার সে যেন এমনভাবে ভীত না হয় যা তাকে নিরাশার দিকে ঠেলে দেয় (২)।
হে উমর, তুমি কি লক্ষ্য করোনি: আল্লাহ তাআলা জাহান্নামবাসীদের তাদের নিকৃষ্টতম আমলসমূহের সাথে উল্লেখ করেছেন, তাই যখন তুমি তাদের কথা স্মরণ করবে তখন বলবে: 'আমি আশা করি তাদের অন্তর্ভুক্ত হব না'। আর তিনি জান্নাতবাসীদের তাদের সর্বোত্তম আমলসমূহের সাথে উল্লেখ করেছেন—কারণ তিনি তাদের মন্দ আমলগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন—তাই যখন তুমি তাদের কথা স্মরণ করবে তখন বলবে: 'তাদের আমলসমূহের তুলনায় আমার আমল কোথায়!' (৩)।
যদি তুমি আমার এই অসিয়ত (وصية) রক্ষা করো, তবে মৃত্যু—যা উপস্থিত হবেই—তার চেয়ে প্রিয় কোনো অনুপস্থিত বিষয় যেন তোমার কাছে না হয়, আর তুমি একে ব্যর্থ করতে পারবে না (৪) (৫)।
৩. অন্যান্য জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তা সঠিকভাবে উত্তরসূরিদের নিকট পৌঁছে দেওয়া:
আর এটিই হলো মুসলিম উম্মাহ অন্যান্য জাতির প্রতি যা কিছু প্রদান করেছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
--------------------------------------------