(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
النظر من النسوة للرجال بغير شهوة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: النظر من النسوة للرجال بغير شهوة
إعداد: أبو أحمد، محمد بن أحمد بن محمد العماري
عدد الصفحات: 17
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432
কামভাব ব্যতিরেকে পুরুষদের প্রতি নারীদের দৃষ্টিপাত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কামভাব ব্যতিরেকে পুরুষদের প্রতি নারীদের দৃষ্টিপাত
প্রস্তুতি: আবু আহমাদ، মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-আম্মারি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউস সানি ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
النظر من النسوة للرجال بغير شهوة
تأليف
محمد بن أحمد العماري
عضو الدعوة والإرشاد بمكة المكرمة
কামনাবাসনা ব্যতীত নারীদের পুরুষদের প্রতি দৃষ্টিপাত
রচনায়
মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আম্মারি
মক্কা আল-মুকাররমায় দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগের সদস্য
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
الحمدُ للهِ الذي علَّمَ بالقلمِ ، علَّمَ الإنسانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ، الْحَمْدُ للهِ الذي خَلَقَ الإنْسَانَ ، عَلَمَهُ الْبَيَانَ.
وَالْصَّلَاةُ وَالْسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَمَنْ وَالَاهُ ، وَمَنِ اسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ وَاهْتَدَ ى بِهُدَاهُ. أَمَا بَعْدُ:
فَلَمَّا كَثُرَ الْجِدَالُ؛ في نَظَرِ الْمَرأَةِ بِغِيْرِ شَهْوَةٍ للرِّجَالِ؛ رَمَيْتُ بِسَهْمِي؛ لأُصِيْبَ مَا أَرْمِي.
فَإِنْ أَصَبْتُ فَبِالْسُنَّةِ وَالْقُرْآن؛ وَإِنْ أَخْطَأْتُ فَمِنْ نَفْسِي وَالْشَيْطَان؛ وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ مِنْهُ بَرِيْئَان.
فَأَقُوْلُ: مُسْتَعِيْنَاً بِاللهِ؛ طَالِبَاً مِنْهُ رِضَاهُ.
وَأَسْتَعِيْنَهُ عَلَى نَيْلِ الْرِّضَا
… وَأَسْتَمِدُّ لُطْفَهُ فِيْمَا قَضَا
وَقَدْ جَعَلْتُهُ عَلَى ثَلَاثَةُ فُصُوْل؛ لِيَسْهل عَلَى الْقَارِيءِ الْوَصُوْل.
الْفَصْلُ الأَوَّلُ: خَطَرُ الْنَظَرِ عَلَى الْنِّسْوَة؛ وَلَوْ بِغَيْرِ شَهْوَة.
أُخْتَاهُ:
إِذَا أَنْتِ لَمْ تَرْعَي اْلبُرُوْقَ اْللَّوَامِحَا
… وَنُمْتِ جَرَى مِنْ تَحْتِكِ الْسَّيْلُ سَائحَا
فَمَنْ نَظَرَتْ في الْرِجَال؛ قَتَلَتْ نَفْسَهَا عَلَى كُلِّ حَال.
كَمَا قَالَ الْشَاعِر: لِمَنْ أَطْلَقَ الْنَاظِر.
نَظَرُ الْعُيُوْن ِ إلى الْعُيُوْن ِ هُوَ الذي
… جَعَلَ الْهَلَاكَ إلي الْفُؤَاد ِ سَبِيْلا
مَازَالَت ِ اللْحَظَاتُ تَغْزُوا قَلْبَهُ
… حتى تَشَحَّط َ بَيْنَهُنَّ قَتِيْلا
وَمَنْ أَطَلَقت ِالْنَّظَر فَقَلْبُهَا في خَطَر.
تَمَتَّعْتُمَا يَا مُقْلَتَيَّ بِنَظْرَةٍ
… فَأَوْرَدْتُمَا قَلْبِي أَشَرَّ الْمَوَارِد ِ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বর্ণনাভঙ্গি (বা ভাব প্রকাশের ক্ষমতা) শিখিয়েছেন।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁর অনুসারী হয়েছে, যারা তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী চলেছে এবং তাঁর হেদায়েত দ্বারা পথপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের ওপর। অতঃপর:
যেহেতু পরপুরুষের প্রতি কামনাবাসনা ব্যতীত নারীর দৃষ্টিপাতের বিষয়ে বিতর্ক বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে; তাই আমি আমার তীর নিক্ষেপ করলাম; যেন আমি যা লক্ষ্য করেছি তা অর্জন করতে পারি।
যদি আমি সঠিক হই তবে তা সুন্নাহ ও কুরআনের কল্যাণে; আর যদি ভুল করি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।
সুতরাং আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে বলছি:
আমি সন্তুষ্টি লাভে তাঁরই সাহায্য চাইছি
… এবং তাঁর নির্ধারিত ফয়সালার ক্ষেত্রে তাঁর অনুগ্রহ কামনা করছি।
আমি এটিকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি; যাতে পাঠকের জন্য উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ হয়।
প্রথম পরিচ্ছেদ: নারীদের দৃষ্টিপাতের বিপদ; যদিও তা কামনাবাসনা ব্যতীত হয়.
হে প্রিয় বোন:
যদি তুমি চমকপ্রদ বিদ্যুচ্ছটার (বিপদের সংকেত) প্রতি লক্ষ্য না করো
… এবং নিদ্রামগ্ন থাকো, তবে তোমার নিচ দিয়ে প্লাবন বয়ে যাবে।
সুতরাং যে নারী পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করল, সে সর্বাবস্থায় নিজেকে ধ্বংস করল।
যেমনটি কবি তার জন্য বলেছেন যে দৃষ্টিকে অবাধ করে দিয়েছে:
চোখের প্রতি চোখের দৃষ্টিপাতই তো সেই মাধ্যম
… যা হৃদয়ের দিকে ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করে।
ক্রমাগত অপলক দৃষ্টি তার হৃদয়কে আক্রমণ করতে থাকে
… যতক্ষণ না সে সেগুলোর মাঝে ক্ষতবিক্ষত হয়ে লুটিয়ে পড়ে।
আর যে দৃষ্টিকে অবাধ করল, তার হৃদয় বিপদের সম্মুখীন.
হে আমার দুই নয়ন! তোমরা তো এক পলকের দর্শনে স্বাদ গ্রহণ করলে
… কিন্তু তোমরা আমার হৃদয়কে নিকৃষ্টতম গন্তব্যে উপনীত করলে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
أَعَيْنَيَّ كُفَّا عَنْ فُؤَادِي فَإنَّهُ
… مِنَ الْظُلْم ِ سَعْيُ اثْنَيْن ِ في قَتْل ِ وَاحِد ِ
وَلَنْ يَبْلُغَ الْحَاسِدُ وَالأَعْدَاء؛ مَا يَبْلُغُ الْنَّظَرُ مِنَ الْنِّسَاء.
وَمَنْ كَانَ يُؤْتَى مِنْ عَدُو ٍ وَحَاسِد ِ
… فَإنيَّ مِنْ عَيْنَيَّ أُوتَي وَمِنْ قَلْبِي
هُمَا اعْتَوَرَا نِي نَظْرَةً ثُمَّ فِكْرَة ً
… فَمَا أَبْقَيَا لِي مِنْ رُقَادٍ وَلَا لُبِّ
وَمَا رَمَتْ نَفْسَهَا؛ بِمِثْل ِطَرْفِهَا.
(رَمَانِي بِهَا طَرْفِي فَلَمْ يُخْط ِ مُقْلَتِي)
وَقاَلَ الْمُتَنَبِي:
وَأَنَا الْذِي اجْتَلَبَ الْمَنِيَّةَ طَرْفُهُ
… فَمَن ِ الْمُطَالَبُ وَالْقَتِيْلُ الْقَاتِلُ
فَكَمْ نَظْرَةٍ أَثَّرَتْ في الْفُؤَاد ، وَنَفَتْ عَنْ صَاحِبِهَا الْرُقَاد.
وَقدْ قِيْل:
كَمْ نَظْرَةٍ نَفَت ِ الْرُّقَادَ وَغَادَرَتْ
… في حَد ِّ قَلْبِي مَا بَقِيْتُ فُلُوْلَا
وَمَا جَنَتْ عَلَى جَسَدِهَا؛ بِمِثْلِ إِطْلَاقِ بَصَرِهَا. فَتَعِيْشُ تَهْوَى أَشْخَاصَاً؛ وَلَا تَرَى أَبْدَانَاً.
وَقَدْ قِيْل:
وَاللهِ يَا بَصَرِي الْجَانِي عَلَى جَسَدَي
… لأَطْفِئَنَّ بِدَمْعِي لَوْعَة َ الْحَزَن ِ
تَالله ِ تَطْمَعُ أَنْ أَبْكِي هَوَىً وَضَنَىً
… وَأَنْتَ تَشْبَعُ مِنْ نَوْم ٍ وَمِنْ وَسَن ِ
هَيْهَاتَ حتى تُرَى طَرْفاً بِلَا نظرِ
… كَمَا أَرَى في الْهَوَى شَخْصَاً بِلَا بَدَن ِ
وَالْنَظَر ، سَهْمٌ خَطِر؛ للرِّجَال ِ وَالْنِّسَاء؛ عَلَى حَدٍّ سَوَاء؛ إِنْ لَمْ يَزِدِ الْنِّسَاء.
كَمَا قَالَ النووي رحمه الله: وَهَذَا في الْمَرْأَةِ أَبْلَغُ؛ لأَنَّهَا أَشَدُّ شَهْوَةً ، وَأَقَلُ عَقْلا؛ فَتُسَارِعُ إليها الْفِتْنَه. حَكَاهُ عَنْهُ الْعَظِيْمُ أَبَادِي (1)
قَالَ تَعَالَى: {وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيراً} [الفرقان: 20]
قَالَ بْنُ رَجَبِ الْحَنْبَلِي رحمه الله: جَعَلَ اللهُ الْمَرْأَةُ فِتْنَةً للرَّجُلِ، وَالْرَّجُلَ فِتْنَةً للمَرْأَةِ.
--------------------------------------------
হে আমার দুই চোখ! তোমরা আমার হৃদয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া বন্ধ করো, কেননা এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে দুই জনের প্রচেষ্টা চালানো জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।
হিংসুক ও শত্রুরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না, যে পর্যায়ে নারীদের প্রতি দৃষ্টির প্রভাব পৌঁছায়।যাকে কোনো শত্রু বা হিংসুকের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হয় (সে তো সতর্ক হতে পারে), কিন্তু আমি তো আক্রান্ত হই আমার নিজের দুই চোখ এবং নিজের হৃদয়ের মাধ্যমে।
তারা উভয়ই (চোখ ও হৃদয়) পর্যায়ক্রমে আমার ওপর একবার দৃষ্টিপাত এবং একবার চিন্তার বোঝা চাপিয়ে দেয়; ফলে তারা আমার জন্য কোনো ঘুম বা বুদ্ধি অবশিষ্ট রাখেনি।
কোনো সত্তা নিজের চোখের দৃষ্টির ন্যায় অন্য কিছু দ্বারা নিজের ওপর এমনভাবে আঘাত করেনি।(আমার দৃষ্টিই আমাকে তা দ্বারা বিদ্ধ করেছে, আর তা আমার অক্ষিপল্লব লক্ষ্যভ্রষ্ট করেনি।)
আর আল-মুতানাব্বি বলেছেন:
আমিই সেই ব্যক্তি যার দৃষ্টি নিজের মৃত্যু ডেকে এনেছে; সুতরাং কাকে অভিযুক্ত করা হবে যখন নিহত ব্যক্তি নিজেই হত্যাকারী?
কত দৃষ্টি রয়েছে যা হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে এবং এর অধিকারীর ঘুম কেড়ে নেয়।বলা হয়ে থাকে:
কত দৃষ্টি ঘুম তাড়িয়ে দেয় এবং আমার বেঁচে থাকা পর্যন্ত হৃদয়ের মূলে ক্ষত সৃষ্টি করে রেখে যায়।
কোনো সত্তা দৃষ্টির অবাধ ব্যবহারের মতো নিজের শরীরের ওপর আর কোনো বড় অপরাধ করেনি। ফলে সে ব্যক্তিদের প্রতি আসক্ত হয়ে জীবন কাটায়, অথচ তাদের অবয়ব সশরীরে দেখতে পায় না।বলা হয়ে থাকে:
আল্লাহর কসম! হে আমার দৃষ্টি, যা আমার দেহের ওপর অপরাধকারী, আমি অবশ্যই আমার চোখের অশ্রু দিয়ে শোকের দহন নিভিয়ে দেব।
আল্লাহর শপথ! তুমি কি প্রত্যাশা করো যে আমি প্রেমাসক্তি ও যন্ত্রণায় ক্রন্দন করব, আর তুমি ঘুম ও তন্দ্রায় তৃপ্ত থাকবে?
তা অসম্ভব, যতক্ষণ না তোমাকে দৃষ্টিহীন চোখ হিসেবে দেখা যায়, যেমনটি আমি প্রেমে দেহহীন অবয়ব দেখি।
আর দৃষ্টি হলো একটি বিপজ্জনক তীর; যা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য, বরং নারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি হতে পারে।
যেমনটি ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি নারীর ক্ষেত্রে অধিকতর প্রযোজ্য; কারণ তাদের প্রবৃত্তি প্রবল এবং বুদ্ধিবৃত্তি (আবেগের প্রাবল্যে) কম; ফলে ফিতনা (فتنة) তাদের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়।" আজিম আবাদি (১) তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা (فتنة) স্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর তোমার রব সবকিছুর সম্যক দ্রষ্টা।} [আল-ফুরকান: ২০]
ইবনে রাজাব আল-হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা নারীকে পুরুষের জন্য পরীক্ষা (فتنة) এবং পুরুষকে নারীর জন্য পরীক্ষা (فتنة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قُلْتُ: أَتَصْبِرُونَ عَنِ الْنَّظَر ، وَمَا يَتْبَعُ الْبَصَر.
وَ قَالَ أَ بُو الْعَبَّاسِ الْنَّاشِيء:
عَيْنَاك ِ شَاهِدَتَان ِ أَنَّك ِمِنْ
… حَرِّ الْهَوَى تَجِدِ يْنَ مَا أَجدُ
بِك ِ مَا بِنَا لَكِنْ عَلَى مَضَض ٍ
… تَتَجَلَدِيْنَ وَمَا بِنَا جَلَدُ.
و عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ النَّظْرَةَ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ مَسْمُومٌ، مَنْ تَرَكَهَا مَخَافَتِي أَبْدَلْتُهُ إِيمَانًا يَجِدُ حَلاوَتَهُ فِي قَلْبِهِ) رواه الطبراني (1) والحاكم وصححه (2). وضعفه الألباني (3)
فَالْنَّظَرُ سَهْمٌ مَسْمُومٌ؛ يُصِيْبُ الْقَلْبَ بِجُرُوْح ٍ وَهُمُوْم؛ كَمَا أَخْبَرَ الْمَعْصُوْم؛ فَإِنْ لَمْ يُصِبْ قَلْبَهَا شَهْوَه؛ أَصَابَتْهُ مَحَبَّةٌ وَحَسْرَه.
قَالَ بْنُ الْقَيْمِ رحمه الله: (4) فَإِنَّ الْسَهْمَ شَأْنُهُ أَنْ يَسْرِيَ في الْقَلْب ِ؛ فَيَعْمَلَ فيهِ عَمَلَ الْسُمِّ الذي يُسْقَاهُ الْمَسْمُوم؛ فَإِنْ بَادَرَ وَاسْتَفْرَغَهُ وَإلا قَتَلَهُ.
وَقَالَ رحمه الله: (5) وَمَنْ كَرَّرَ الْنَّظَرَ ، وَنَقَبَ عَنْ مَحَاسِن ِ الْصُوْرَةِ ، وَنَقَلَهَا إلي قَلْبٍ فَارِغ ٍ؛ فَنَقَشَهَا فيه ِ تَمَكَّنَتِ الْمَحَبَّةُ.
وَ قَدْ شَكَتْ: امْرَأةٌ مِنْ سَهْم ِ الْحُبِ؛ الذي أَصَابَ الْقَلَب.
فَأَنْشَدَ تْ:
أَدْعُو الْذِي صَرَفَ الْهَوَى
… مِنْي إليْكَ وَمِنْكَ عَنْي
أَنْ يَبْتَلِيْكَ بِمَا ابْتَلَانِي
… أَوْ يَسُلَّ الْحُبَّ مِنْي
وَقَالَ رحمه الله ُ: (6) الْنَّظَرَةُ تَفْعَلُ في الْقَلْب ِ؛ مَا يَفْعَلُ الْسَهْمُ في الْرَّمِيْة ِ؛ فَإِنْ لَمْ تَقْتُلْهُ جَرَحَتْهُ.
--------------------------------------------
আমি বললাম: তোমরা কি দৃষ্টিপাত এবং দৃষ্টির পরবর্তী বিষয়গুলো থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে?
আবু আব্বাস আন-নাশি বলেন:
তোমার দু’টি চোখ সাক্ষী দিচ্ছে যে, তুমি
... অনুরাগের দহনে তাই অনুভব করছ যা আমি অনুভব করছি।
তোমার যা অবস্থা আমাদেরও তাই, তবে চরম যন্ত্রণার মাঝেও
... তুমি ধৈর্য ধরছ অথচ আমাদের মাঝে কোনো ধৈর্য অবশিষ্ট নেই।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (নিশ্চয়ই দৃষ্টি হলো ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলোর একটি। যে ব্যক্তি কেবল আমার ভয়ে তা বর্জন করবে, আমি তাকে এমন ঈমান দান করব যার মিষ্টতা সে তার অন্তরে অনুভব করবে)। তবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (১) এবং হাকীম এটি বর্ণনা করে একে সহিহ (صحيح) (২) বলেছেন। আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) (৩) বলেছেন।
সুতরাং দৃষ্টিপাত হলো একটি বিষাক্ত তীর; যা অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে, যেমনটি মাসুম (নিষ্পাপ রাসূল) সংবাদ দিয়েছেন। যদি তা অন্তরে কামলালসা বিদ্ধ করতে না পারে, তবে তা অবশ্যই অনুরাগ ও আক্ষেপ বিদ্ধ করবে।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: (৪) তীরের স্বভাব হলো হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া; অতঃপর তা সেখানে বিষের ন্যায় কাজ করে যা বিষাক্রান্ত ব্যক্তিকে পান করানো হয়। যদি সে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তা বের করে না দেয়, তবে তা তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।
তিনি (রহ.) বলেন: (৫) যে ব্যক্তি বারবার দৃষ্টিপাত করে এবং সৌন্দর্যের অনুসন্ধান করে বেড়ায় এবং তা একটি শূন্য হৃদয়ে স্থানান্তরিত করে, আর সেখানে তা খোদাই করে নেয়, তবে সেখানে ভালোবাসা গেঁথে যায়।
এক নারী হৃদয়ে বিদ্ধ হওয়া প্রেমের তীর সম্পর্কে অভিযোগ করে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যিনি অনুরাগকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন
... আমার থেকে তোমার প্রতি এবং তোমার থেকে আমার দিক থেকে,
তিনি যেন তোমাকে সেই পরীক্ষায় ফেলেন যাতে আমি আক্রান্ত হয়েছি
... অথবা আমার থেকে এই প্রেমকে সমূলে উপড়ে ফেলেন।
তিনি (রহ.) বলেন: (৬) একটি দৃষ্টি হৃদয়ে তেমন কাজ করে যেমনটি তীর নিশানার ওপর করে; তা যদি তাকে হত্যা না-ও করে, তবে অবশ্যই ক্ষতবিক্ষত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَقَالَ رحمه الله: (1) الْنَّظَرَةُ بِمَنْزِلَةِ الْشْرَارَةِ مِنَ الْنَّارِ؛ تُرْمَى في الْحَشِيْشِ الْيَابِس ِ؛ فَإِنْ لَمْ تُحْرِقْهُ كُلَّهُ أَحْرَقَتْ بَعْضَهُ.
وَقَدْ قِيْل:
كُلُّ الْحَوَادِث ِ مَبْدَاهَا مِنَ الْنَظَر ِ
… وَمُعْظَمُ الْنَّار ِ مِنْ مُسْتَصْغَر ِ الْشَرَر ِ
كَمْ نَظْرَةٍ فَتَكَتْ في قَلَبِ صَاحِبِهَا
… فَتْكَ الْسِهَام ِ بِلَا قَوْس ٍ وَلَاوَتَر ِ
وَقَالَتْ: أُخْرَى تَشْكُوى الْبَلْوَى.
ذَهَبْتُ بِعَقْلِي في هَوَاه ُ صَغِيْرَةً
… وَقَدْ كَبُرَتْ سِنِي فَرُدَّ بِهَا عَقْلِي
وَ إِلا فَسَوي الْحُبَّ بِيْنِي وَبِيْنَهُ
… فَإنَّكَ يَا مَوْلَاي تُوْصَفُ بِالْعَدْلِ
وَقاَلَ بْنُ الْقَيْمِ رحمه الله: وَمَنْ أَطَلَقَ نَظَرَهُ؛ دَامَتْ حَسْرَتُهُ؛ فَأَضَرُّ شَيءٍ عَلَى الْقَلْبِ إِرْسَالُ الْبَصَرِ؛ فَإِنَّهُ يُرِيْهِ مَا لَا صَبْرَ لَهُ عَنْهُ ، وَلَا وَصُوْلَ لَهُ إِليْهِ؛ وَذَلِكَ غَايَةُ أَلَمِهِ وَعَذَابِهِ. (2)
وَقَدْ قِيْل:
وَأَنْتَ مَتَى أَرْسَلْتَ طَرْفَكَ رَائدَاً
… لِقَلْبِكَ يَوْمَاً أَتْعَبَتْكَ الْمَنَاظِرُ
رَأَيْتَ الذي لَاكُلَّهُ أَنَتَ قَادِرٌ
… عَلَيْه ِ وَلَا عَنْ بَعْضِهِ أَنْتَ صَابِرُ
وَقَالَ رحمه الله: (3) وَالْنَّاظِرُ إِنَّمَا يَرْمِي مِنْ نَظَرِهِ بِسِهَامٍ هَدَفُهَا قَلْبُهُ.
ثُمَّ أنشدَ رحمه الله:
يَا رَامِيَاً بِسِهَام ِ اللَّحْظ ِمُجْتَهِدَاً
… أَنْتَ الْقَتِيْلُ بِمَا تَرْم ِ فَلَا تُصِب ِ
وَبَاعِثَ الْطَّرْف ِيَرْتَادُ الْشِفَاءَ لَهَ
… تَوَقَّهُ إِنَّهُ يَأْتِيْكَ بِالْعَطَبِ
--------------------------------------------
এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: (১) দৃষ্টি হলো আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গের সমতুল্য; যা শুকনো ঘাসের ওপর নিক্ষেপ করা হয়; যদি তা সম্পূর্ণকে পুড়িয়ে নাও ফেলে, তবে এর কিছু অংশ অবশ্যই দগ্ধ করে।
এবং বলা হয়েছে:
সকল ঘটনার সূত্রপাত হয় দৃষ্টিপাত হতে
… আর অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয় অতি ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ থেকে।
কত দৃষ্টিই না তার অধিকারীর হৃদয়ে এমনভাবে আঘাত হেনেছে
… যেমন তীরের আঘাত কোনো ধনুক কিংবা গুণ ছাড়াই বিদ্ধ হয়।
এবং অন্য এক নারী তার দুঃখ-দুর্দশার অভিযোগ করে বলেছেন:
অল্প বয়সে তার প্রেমে পড়ে আমি আমার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছি
… আর এখন আমার বয়স হয়েছে, অতএব তুমি আমার সেই হিতাহিত জ্ঞান ফিরিয়ে দাও।
অন্যথায়, আমার ও তার মাঝে ভালোবাসার সমতা বিধান করো
… কেননা হে আমার প্রভু! আপনি তো ন্যায়পরায়ণতা (عدل)-র গুণে গুণান্বিত।
এবং ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: আর যে ব্যক্তি আপন দৃষ্টিকে অবাধে ছেড়ে দেয়; তার আক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী হয়; আর অন্তরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো দৃষ্টির অবাধ বিচরণ; কেননা তা মানুষকে এমন কিছু দেখায় যার ওপর ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা তার নেই এবং তা লাভ করার কোনো পথও তার জানা নেই; আর এটাই হলো চরম বেদনা ও যন্ত্রণার কারণ। (২)
এবং বলা হয়েছে:
আর তুমি যখনই তোমার দৃষ্টিকে তোমার অন্তরের পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করবে
… তখন সেই দৃশ্যগুলো কোনো একদিন তোমাকে পরিশ্রান্ত করে তুলবে।
তুমি এমন কিছু দেখতে পাবে যার সবটুকু আয়ত্ত করতে তুমি সক্ষম নও
… আবার তার কিয়দংশ থেকেও ধৈর্য ধারণ করতে তুমি সমর্থ নও।
এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: (৩) আর যে দৃষ্টিপাতকারী, সে মূলত তার দৃষ্টির মাধ্যমে এমন কিছু তীর নিক্ষেপ করে যার লক্ষ্যবস্তু হলো তার নিজ অন্তর।
অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবৃত্তি করেছেন:
হে ঐ ব্যক্তি যে প্রচেষ্টার সাথে আপন দৃষ্টির তীর নিক্ষেপ করছো
… তুমি নিজেই তোমার নিক্ষিপ্ত তীরের আঘাতে নিহত, লক্ষ্যভেদ করতে যেয়ো না।
আর যে ব্যক্তি আরোগ্য লাভের আশায় দৃষ্টিকে পাঠায়
… তুমি এ থেকে সতর্ক থাকো, কেননা নিশ্চয়ই এটি তোমার নিকট ধ্বংসই বয়ে আনবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَلَمَّا كَانَ الْنَّظَر؛ بَابَاًَ للخَطَر؛ أُغْلِقَ الْبَاب؛ بِمَا في الْكِتَاب. {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ}
قَالَ بْنُ جَرِيْر رحمه الله: (1) يَا مُحَمَدُ قُلْ للمُؤْمِنَاتِ مِنْ أُمَّتِكَ يَغْضُضُنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ عَمَّا يَكْرَهُ الله ُ الْنَّظَرَ إِليْهِ مِمَّا نَهَاكُمْ عَنِ الْنَّظَرِ إِليهِ.
و َقاَلَ بْنُ عباس رضي الله عنه: (2) يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ عَنْ شَهَوَاتِهِنَّ فِيْمَا يَكْرَهُ الله.
وَفِيْهِ عَنْ سُفْيَانَ رحمه الله: يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ عَمَّا لَايَحِلُ لَهُنَّ.
وَقاَلَ بْنُ كَثِيْرٍ رحمه الله: (3)
يَغْضُضْنَ أَبْصَارَهُنَّ عَمَا حَرَمَ اللهُ عَلِيْهِنَّ مِنَ الْنَّظَرِ إلي غَيْرِ أَ زْوَاجِهِنَّ.
قُلْتُ: فَهَذِهِ الآية ُ مُطْلَقَة ٌ على كُلِّ حَال؛ في أَمْرِ ِ الْمَرْأَة ِ بِغَض ِ بَصَرِهَا عَنْ الْرِّجَال.
الْفَصْلُ الْثَانِي: الْعِلَةُ فِي تَحْرِيْم ِ الْنَّظَرِ وَالأَمْرِ بِغَضِّ الْبَصَرِ. الخَوْفُ مِنَ الْفِتْنَةِ؛ وَإِنِ انْتَفَتِ الْشَهْوَةُ.
{وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعاً فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاء حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} الأحزاب53 [الأحزاب: 53]
وَالْقَاعِدَةُ: الْحُكْمُ يَدُوْرُ مَعَ عِلَتِهِ وَجُوْدَاً وَعَدَمَاً
قَالَ بْنُ تَيْمِيَةَ رحمه الله: (4) وَإِنِ انْتَفَتِ الْشَهْوَةِ؛ يَبْقَى الْنَّظَرُ مَظَنَّةَ الْفِتْنَةِ؛ وَالأَصْلُ أَنَّ كُلَّ مَا كَانَ سَبَبَاً في الْفِتْنَةِ؛ فَإِنَّهُ لَا يَجُوْزُ.
قَالَ: وَمَنْ كَرَّرَ الْنَّظَرَ وَأَدَامَهُ ، وَقاَلَ: إِنِّي لَا أَنْظُرُ لِشَهْوَةٍ؛ فَقَدْ كَذَبَ؛ لأَنَّهُ لَمْ يَكُنِ الْنَّظَرُ إِلَا لِمَا حَصَلَ في قَلْبِهِ مِنَ اللَّذَّة ِ ، وَأَمَا نَظَرُ الْفَجْأَةِ؛ فَهْوَ عَفْوٌ إِذَا صَرَفَ بَصَرَهُ. قُلْتُ: وَهَذَا الْقَوْلُ جَدِيْر إِذْ عَلَيْهِ حَدِيْثُ جَرِيْر
--------------------------------------------
যখন দৃষ্টিপাত করা বিপত্তির একটি দ্বার, তখন কিতাব (কুরআন)-এর মাধ্যমে এই দ্বার রুদ্ধ করা হয়েছে। {এবং ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে}
ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (১) হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মুমিন নারীদের বলুন, আল্লাহ যে সব বিষয় দেখা অপছন্দ করেন এবং যা দেখতে তোমাদের নিষেধ করেছেন, তা থেকে যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: (২) আল্লাহ যা অপছন্দ করেন সেসব বিষয়ে তারা যেন তাদের লালসা থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখে।
এতে সুফিয়ান (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে: তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সে সব বিষয় থেকে অবনত রাখে যা তাদের জন্য বৈধ নয়।
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (৩)
আল্লাহ তাদের উপর যা হারাম করেছেন, অর্থাৎ স্বীয় স্বামী ব্যতীত অন্যের দিকে তাকানো থেকে তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে।
আমি বলছি: এই আয়াতটি সর্বাবস্থায় সাধারণ; যেখানে নারীকে পুরুষদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দৃষ্টিপাত করা হারাম হওয়ার এবং দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশের কারণ (علة)। ফিতনার আশঙ্কা; যদিও কামভাব অনুপস্থিত থাকে।
{তোমরা তাদের কাছে কোনো ব্যবহারের সামগ্রী চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} [আল-আহযাব: ৫৩]
আর মূলনীতি হলো: বিধান বা হুকুম তার কারণের (علة) উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত হয়।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (৪) কামভাব অনুপস্থিত থাকলেও দৃষ্টিপাত ফিতনার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে অবশিষ্ট থাকে; আর মূলনীতি হলো, যা কিছু ফিতনার কারণ হয়, তা জায়েজ নয়।
তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি বারবার ও দীর্ঘক্ষণ দৃষ্টিপাত করে এবং বলে: ‘আমি কামভাব নিয়ে তাকাচ্ছি না’, সে মিথ্যা বলেছে; কারণ অন্তরে কোনো স্বাদ অনুভূত না হলে সে এভাবে তাকাত না। তবে আকস্মিক দৃষ্টির বিষয়টি ক্ষমাযোগ্য যদি সে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। আমি বলছি: এই বক্তব্যটিই যথাযথ, কেননা এর সপক্ষে জারীরের হাদিস রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (1).
فَالأْمْرُ وَاضِحٌ جَلِي كَمَا فِي حَدِيْثِ عَلَى.
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم (قَالَ لَهُ يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِع ِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّمَا لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ) رَوَاهُ أَحَمَدُ (2) وَالْحَاكِمُ وَقاَلَ حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ» (3) وَحَسَنَهُ الألْبَانِي (4)
قَالَ الْنَّوَوِيُّ رحمه الله: (إِنَّّمَا مُنِعَ الْنَّظَرُ خَوْفَ الْفِتْنَه؛ وَ لأنَّ الْفِتْنَةَ مُشْتَرَكَةٌ؛ فَكَمَا يَخَافُ الْرَّجُلَ الإ فتتانَ بِهَا؛ فَإنَّهَا تَخَافُ الإ فتتانَ بِهِ (5)
قُلْتُ: وَهَذَا الْتَعْلِيْل دَلَّ عَلَيْهِ الْدَلِيْل.
عَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنه أَنَّ الْنَّبِي (لَوَى عُنُقَ الْفَضْلِ بْنِ عَبَاسٍ لَمَّا نَظَرَ فِي الْخَثْعَمِيْةِ فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ لَوَيْتَ عُنُقَ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَلَمْ آمَنْ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا) (6).
وَلأَحْمَدَ (قَالَ رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَخِفْتُ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا). (7).
قَالَ الْنَّوَوِي رحمه الله: (8) وَفِيْهِ دَلِيْلٌ عَلَى صَرْفِ الْفِتْنَةِ عَنْهُ وَعَنْهَا ، وَفِيْهِ غَضُ الْبَصَرِ عَنِ الأَجْنَبِيَاتِ ، وَغَضُهُنَّ عَنِ الْرِّجَالِ الأَجَانِبِ.
--------------------------------------------
জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আকস্মিক দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১)।
সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যেমনটি আলীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) তাকে বলেন, "হে আলী, দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টি দিয়ো না। কারণ প্রথমটি তোমার জন্য (ক্ষমাযোগ্য), কিন্তু পরবর্তীটি তোমার জন্য নয়।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২) এবং হাকেম; তিনি বলেন, হাদিসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সঠিক (صحيح), তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি (৩)। আলবানী একে সুন্দর (حسن) বলেছেন (৪)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফিতনার আশঙ্কায়; কারণ ফিতনার বিষয়টি উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পুরুষ যেমন মহিলার দ্বারা প্রলুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা করে, ঠিক তেমনি মহিলারাও পুরুষের দ্বারা প্রলুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা করে।" (৫)
আমি বলি: এই কারণ দর্শানো দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) ফজল ইবনে আব্বাসের ঘাড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন যখন তিনি খাসআমি গোত্রের এক মহিলার দিকে তাকিয়েছিলেন। তখন আব্বাস (রা.) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, কেন আপনি আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন? তিনি বললেন: "আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম এবং তাদের ব্যাপারে আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ বোধ করিনি।" (৬)।
মুসনাদ আহমাদে বর্ণিত হয়েছে: (তিনি বললেন, আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম এবং তাদের উভয়ের ওপর শয়তানের (প্রভাবের) আশঙ্কা করলাম)। (৭)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: (৮) এতে পুরুষ ও মহিলার উভয় থেকে ফিতনা প্রতিহত করার দলিল রয়েছে। পাশাপাশি এতে পরনারীদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার এবং পরপুরুষদের থেকে নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْفَصْلُ الْثَّالِثُ: حُكْمُ نَظَرِ الْمَرْأَة ِ بِشَهْوَةٍ وَبِغَيْرِ شهوة.
اتَفَقَ الْعُلَمَاء: عَلَى تَحْرِيْم ِ الْنَّظر ِ بِشَهَوَةٍ مِنَ الْنِّسَاءِ.
حَكَى الإتِفَاقَ: النووي رحمه الله. (1)
وَاخْتَلَفُوا: في نَظَر ِ الْمَرْأَه للرَّجُلِ مِنْ غَيْرِ شَهْوَه.
فَالْصَحِيْحُ الذي في الْنَّصِ صَرِيْح ، الْتَحْرِيْم، كَمَا في الْسُنَّةِ وَالْقُرْآنِ الْكَرِيم ، وَقَوْلِ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ قَدِيْم.
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنْ الزِّنَا مُدْرِكٌ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ متفق عليه واللفظ لمسلم (2).
قَالَ بْنُ الْقَيْمِ رحمه الله: (3) الْعَيْنُ مِرْآةُ الْقَلْبِ؛ فَإِذَا غَضَّ الْعَبْدُ بَصَرَهُ؛ غَضَّ الْقَلْبُ شَهْوَتَهُ ، وَإِذَا أَطْلَقَ بَصَرَهُ؛ أَطْلَقَ الْقَلْبُ شَهْوَتَهُ.
قُلْتُ: وَهَذَا عَامٌ للرِّجَالِ وَالْنِّسَاء ، عَلَى حَدٍ سَوَاء فَقَدْ أُمِرَ الْنِّسَاء في الْنُّور؛ بِمَا أُمِرَ بِهِ الْذُّ كُوْر.
قَالَ الإمَامُ الْشَافِعِي رحمه الله: (4) وَكَمَا لَايَجُوْزُ للرَّجُلِ أَنْ يَنْظُرَ في الْمَرْأَةِ؛ فَكَذَلِكَ لَايَجُوْزُ للمَرْأَةِ أَنْ تَنْظُرَ في الْرَّجُلِ لِهَذِهِ الآيَةِ.
وَ قَالَ بْنُ كَثِيْرٍ رحمه الله: (5) وَقَدْ ذَهَبَ كَثِيْرٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ: إِلي أَنَّهُ لَايَجُوْزُ للمَرْأَةِ الْنَّظَرُ إلي الْرِّجَالِ الأجَانِبِ؛ بِشَهْوَةٍ أَوْ بِغَيْرِ شَهْوَةٍ أَصْلاً
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কামভাবসহ এবং কামভাবহীন অবস্থায় নারীর দৃষ্টিপাতের বিধান।
আলেমগণ একমত হয়েছেন: নারীদের কামভাবসহ দৃষ্টিপাতের হারামের বিষয়ে।
ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন: ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)। (১)
তবে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন: কামভাবহীন অবস্থায় পুরুষের প্রতি নারীর দৃষ্টিপাতের বিষয়ে।
সুতরাং বিশুদ্ধ (صحيح) মত যা দলিলে সুস্পষ্ট, তা হলো এটি হারাম, যেমনটি সুন্নাহ ও পবিত্র কুরআনে রয়েছে এবং যা পূর্ববর্তী অধিকাংশ আলেমের অভিমত।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের যে অংশ নির্ধারিত রয়েছে সে অবশ্যই তাতে লিপ্ত হবে। চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টিপাত, কানের ব্যভিচার হলো শ্রবণ, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো পাকড়াও করা, পায়ের ব্যভিচার হলো কদম ফেলা, আর অন্তর আকাঙ্ক্ষা ও কামনা করে। আর লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়ন করে অথবা প্রত্যাখ্যান করে।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং শব্দচয়ন মুসলিম-এর। (২)
ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (৩) "চোখ হলো হৃদয়ের দর্পণ; সুতরাং বান্দা যখন তার দৃষ্টি অবনত রাখে, তখন হৃদয় তার কামনাকে সংযত করে। আর যখন সে তার দৃষ্টিকে অবাধ করে দেয়, তখন হৃদয় তার কামনাকে উম্মুক্ত করে দেয়।"
আমি বলি: এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য; কেননা সূরা আন-নূরে নারীদের সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যা পুরুষদের দেওয়া হয়েছে।
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (৪) "যেহেতু পুরুষের জন্য নারীর প্রতি তাকানো বৈধ নয়, তদ্রূপ এই আয়াতের ভিত্তিতে নারীর জন্যও পুরুষের প্রতি তাকানো বৈধ নয়।"
এবং ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (৫) "অনেক আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, পরপুরুষের প্রতি কামভাবসহ হোক বা কামভাবহীন—কোনো অবস্থাতেই নারীর তাকানো আদৌ বৈধ নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَ قَالَ الْنَّووي رحمه الله: (1) وَالْصَّحِيْحُ الذي عَلَيْهِ جَمْهُورُ الْعُلَمَاءِ ، وَأَكْثَرُ الْصَحَابَةِ؛ أَنَّهُ يَحْرُمُ عَلَى الْمَرْأَةِ الْنَّظَرُ إِلى الأَجْنَبِي؛ كَمَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ الْنَّظَرُ إِليْهَا. لِهَذِهِ الآيةِ؛ أَي آيةُ النُّوْرِ.
وَلأَنَّ الْفِتْنَةَ مُشْتَرَكَةٌ؛ فَكَمَا يَخَافُ الْرَّجُلُ الإفْتِتَانَ بِالْمَرْأَةِ؛ فَإِنَّ الْمَرَأَةَ تَخَافُ الإفْتِتَانَ بِالْرَّجُلِ.
وَقَالَ: إِنَّمَا مُنِعَ الْنَّظَرُ خَوْفَ الْفِتْنَةِ. (2)
وَللعَظِيْم ِ أَبَادِي رحمه الله وَلأَنَّ الْنِّسَاءَ أَحَدُ نَوْعَي الآدَمِيينَ؛ فَحَرُمَ عَلَيْهِنَّ الْنَّظَرُ إلي الْنَّوْعِ الآخَرِ قِيَاسَاً عَلَى الْرِّجَالِ (3).
وَأَمَا الْقَوْلُ بِجَوَازِ الْنَّظَرِ مِنَ الْمَرْأَه إذا كَانَ بِغَيْرِ شَهْوَه.
فَقَدْ قَالَ الْنَّوَوِي رحمه الله: (4) هَذَا قَوْلٌ ضَعِيْفٌ.
قَلْتُ: وَقَدِ اسْتُدِلَ عَلَى جَوَازِ نَظَرِ الْنِّسَاء؛ بِأَدِلَةٍ أَجَابَ عَنْهَا الْعُلَمَاء.
الْدَلِيْلُ الأَوَلُ: عَنْ عَائشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى الْحَبَشَةِ وَهُمْ يَلْعَبُونَ وَأَنَا جَارِيَةٌ فَاقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْعَرِبَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ) رواه مسلم (5).
الْجَوَابُ الأَوَلُ: نَظَرَتْ في الْحَبَشَةِ عَائشَه لأَنَّهَا غَيْرُ بَالِغَه.
وَعَلَى هَذَا دَلَ قَوْلُهَا (وَأَنَا جَارِيَةٌ فَاقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ الحَرِيصَةِ عَلَى اللَّهْوِ) متفق عليه (6).
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ رحمه الله (7) وَهَذِهِ الْزِّيَادةُ دَلِيْلٌ عَلَى أَنَّهَا لَمْ تَبْلُغْ.
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (১) সঠিক (الصحيح) অভিমত যা জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম এবং অধিকাংশ সাহাবী পোষণ করেছেন তা হলো, নারীর জন্য পরপুরুষের দিকে তাকানো হারাম; যেমন পুরুষের জন্য নারীর দিকে তাকানো হারাম। এই আয়াতের কারণে; অর্থাৎ সূরা আন-নূরের আয়াত।
কারণ ফিতনা উভয় পক্ষের জন্যই সমান; সুতরাং পুরুষ যেমন নারীর দ্বারা ফিতনায় পড়ার ভয় করে, নারীও তেমনি পুরুষের দ্বারা ফিতনায় পড়ার ভয় করে।
তিনি আরও বলেছেন: ফিতনার আশঙ্কার কারণেই দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (২)
আজিম আবাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেহেতু নারী হলো মানবজাতির দুই প্রকারের এক প্রকার; তাই পুরুষের ওপর কিয়াস (قياس) করে তাদের জন্য অন্য প্রকারের (পুরুষদের) দিকে তাকানো হারাম করা হয়েছে। (৩)।
আর কামভাব ছাড়া নারীর দৃষ্টিপাতের বৈধতার যে মতটি রয়েছে।
সে সম্পর্কে ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (৪) এটি একটি দুর্বল (ضعيف) মত।
আমি বলি: নারীদের দৃষ্টিপাতের বৈধতার সপক্ষে কিছু দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, যেগুলোর উত্তর আলেমগণ দিয়েছেন।
প্রথম দলিল: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে আড়াল করে রাখতেন এবং আমি হাবশীদের খেলা দেখতাম যখন তারা খেলাধুলা করছিল। আমি তখন ছিলাম একজন বালিকা। সুতরাং তোমরা অল্পবয়স্কা ও আমোদ-প্রমোদে আগ্রহী বালিকার আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৫)।
প্রথম উত্তর: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হাবশীদের দেখেছিলেন কারণ তিনি তখনো বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্কা হননি।
তাঁর এই উক্তিটিই এর প্রমাণ বহন করে: "আমি ছিলাম একজন বালিকা, সুতরাং তোমরা অল্পবয়স্কা ও আমোদ-প্রমোদে অত্যন্ত আগ্রহী বালিকার আকাঙ্ক্ষাকে বিবেচনা করো।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) (৬)।
ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (৭), এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) প্রমাণ করে যে তিনি তখনো প্রাপ্তবয়স্কা হননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَبِهَذَا قَالَ الْنَّوَوِيُّ رحمه الله: (1)
وَعَنْ أَنَسِ رضي الله عنه قَالَ: لَمَّا قَدِمَ الْنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِيْنَةَ (لَعِبَتِ الْحَبَشَةُ بِالْحِرَابِ فَرَحَاً بِقُدُوْمِهِ) رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ (2)
وَقَالَ: فَإِنْ كَانَتْ هَذِهِ الْقِصَةُ وَمَارَوَتْهُ عَائشَةُ رضي الله عنها وَاحِدَةٌ دَلَّ عَلَى أَنَّهَا غَيْرُ بَالِغَةٌ لأَنَّ الْنَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَنَى بِهَا حِيْنَ قَدِمَ الْمَدِيْنَةَ وَهْيَ ابْنَةُ تِسْعِ سِنِيْنَ.
قُلْتُ: وَالْذِي يَظْهَرُ أَنَّهَا لَيْسَتْ وَاحِدَةً لأَنَّ عَائشَةَ رضي الله عنها ذَكَرَتْ: أَنَّ لَعِبَ الْحَبَشَةَ كَانَ يَوْمَ عِيْدٍ
عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: (جَاءَ حَبَشٌ يَزْفِنُونَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي الْمَسْجِدِ فَدَعَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعْتُ رَأْسِي عَلَى مَنْكِبِهِ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى لَعِبِهِمْ حَتَّى كُنْتُ أَنَا الَّتِي أَنْصَرِفُ عَنْ النَّظَرِ إِلَيْهِمْ) (3)
وَلأَحْمَدَ: عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: (كُنْتُ أَلْعَبُ بِاللُّعَبِ فَيَأْتِينِي صَوَاحِبِي فَإِذَا دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَرْنَ مِنْهُ فَيَأْخُذُهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَرُدُّهُنَّ إِلَيَّ) (4)
الْجَوَابُ الْثَانِي: كَانَ نَظَرُ عَائشَةَ رضي الله عنها؛ لِمَنْ يَلْعَبُوْنَ بِالْحِرَابِ؛ قَبْلَ نُزُولِ آيَةِ الْحِجَابِ.
كَمَا دَلَّ عَلَيْهِ حَدِيْثُ أَنَسٍ هَذَا؛ إِذْ فِيْهِ أَنَّ لَعِبَ الْحَبَشَةِ كَانَ عِنْدَ قُدُوْمِ الْنَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمَدِيْنَة:؛ وَقُدُوْمُهُ كَانَ فِي الْسَنَةِ الأُوْلَى: وَ لَمْ يُشْرَعْ الْحِجَابُ إلا بَعْدَ غَزْوَةِ بني قُرَيْظَةَ؛ وَكَانَتْ عَقِبَ الْخَنْدَقِ سَنَةَ خَمْسٍ.
كَمَا قَالَتْ عَائشَةُ رضي الله عنها: (كُنْتُ في حِصْنِ بني حَارِثَةَ يَوْمَ الْخَنْدَ قِ وَكَانَتْ مَعْيَ أُمُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذِ في الْحِصْنِ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ الْحِجَابُ) رواه البيهقي رحمه الله (5).
وَفِيْهِ لَمَّا نَزَلَتْ تَوْبَةُ أَبي لُبَابَةَ لِمَا فَعَلَهُ مَعَ بني قُرَيْظَةَ.
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এভাবেই বলেছেন: (1)
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন হাবশীরা তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়ে বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন (2)
তিনি বলেন: যদি এই ঘটনা এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত ঘটনাটি এক হয়, তবে এটি নির্দেশ করে যে তিনি তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আগমন করার পর তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর।
আমি বলছি: যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই ঘটনাগুলো এক নয়; কারণ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উল্লেখ করেছেন যে, হাবশীদের খেলা ছিল ঈদের দিনে।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (এক ঈদের দিনে কিছু হাবশী লোক মসজিদে রণনৃত্য প্রদর্শন করছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন। আমি আমার মাথা তাঁর কাঁধের ওপর রাখলাম এবং তাদের খেলা দেখতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমি নিজেই তা দেখা থেকে সরে এলাম) (3)
মুসনাদে আহমাদে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি পুতুল নিয়ে খেলতাম এবং আমার বান্ধবীরা আমার কাছে আসত। যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করতেন, তারা তাঁর ভয়ে পালিয়ে যেত। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন) (4)
দ্বিতীয় উত্তর: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্শা নিয়ে খেলা দেখার বিষয়টি ছিল পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগে।
যেমনটি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই হাদিসটি প্রমাণ করে; যেহেতু এতে উল্লেখ আছে যে হাবশীদের সেই খেলা ছিল মদিনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের সময়। আর তাঁর আগমন ছিল হিজরি প্রথম বছরে। অথচ পর্দার বিধান বনু কুরাইজা যুদ্ধের আগে প্রবর্তিত হয়নি; যা খন্দক যুদ্ধের পর পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল।
যেমনটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: (খন্দক যুদ্ধের দিন আমি বনু হারিসার দুর্গে ছিলাম এবং আমার সাথে সেখানে উম্মে সা'দ ইবন মুআয ছিলেন। আর তা ছিল পর্দার বিধান জারি করার আগের ঘটনা) এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন (5)।
আর এতে (আরও উল্লেখ আছে) যখন বনু কুরাইজার সাথে করা আচরণের প্রেক্ষিতে আবু লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ার বিষয়টি নাযিল হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَتْ أُمُ سَلَمَةَ رضي الله عنها:أَفَلَا أُبَشِرُهُ: يَارَسُوْلَ اللهِ قَالَ: بَلَى قَالَتْ: فَقُمْتُ عَلَى بَابِ حِجْرَتِي فَقُلْتُ: وَذَلَكَ قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ عَلَيْنَا الْحِجَابُ يَا أَبَا لُبَابَةَ أَبْشِرْ فَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَيْكَ).
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ رحمه الله: وَغَزْوَةُ بني قُرَيْظَةَ كَانَتْ عَقِبَ الْخَنْدَقِ في سَنَةِ خَمْسٍ وَالْحِجَابُ كَانَ بَعْدَهُ وَبِهَذَا أَجَابَ الْبَيْهَقِيُّ (1) وَالْنَّوَوِي (2)
الْجَوَابُ الْثَالِثُ: عَلَى تَقْدِيْرِ أَنَّ عَائشَةَ رضي الله عنها بَالِغَةٌ وَأَنَّ الْحِجَابَ نَزَلَ قَبْلَ لَعِبِ الْحَبَشَةَ.
أُجِيْبَ: بِأَنَّ عَائشَةَ لَمْ تَنْظُرْ في أَبْدَانِ وَوَجُوْهِ الْشَبَابِ؛ وَإِنَّمَا نَظَرَتْ في اللَّعِبِ وَالْحِرَابِ.
وَعَلَيْهِ دَلَّ قَوْلُهَا رضي الله عنها: (لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا عَلَى بَابِ حُجْرَتِي وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ فِي الْمَسْجِدِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ أَنْظُرُ إِلَى لَعِبِهِمْ) رواه البخاري (3)
قَالَ الْنَّوَوِي رحمه الله: (4) وَأَقْوَى الأْجْوِبَةِ بِأَنَّهُ لَيْسَ في الْحَدِيْثِ بِأَنَّهَا نَظَرَتْ في وجُوهِهِمْ وَأَبْدَانِهِمْ
وَإِنَّمَا نَظَرَتْ في لَعِبِهِمْ وَحِرَابِهِمْ قال: وَلَايَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ تَعَمُّدُ الْنَّظَرِ إلى الْبَدَنِ وَإِنْ وَقَعَ بَلَا قَصْدٍ صَرَفَتْهُ في الْحَالِ قُلْتُ: وَقَدْ عُفِيَ عَنِ الْنَّظَرِ مِنْ غَيْرِ قَصْدٍ وَأُخِذَ الْنَّاظِرُ بِنَظِرِ الْعَمْدِ
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي) رواه مسلم (5).
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم (قَالَ لَهُ يَا عَلِيُّ إِنَّ لَكَ كَنْزًا مِنْ الْجَنَّةِ وَإِنَّكَ ذُو قَرْنَيْهَا فَلَا تُتْبِعْ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّمَا لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ) رَوَاهُ أَحَمَدُ (6) وَالْحَاكِمُ وَقاَلَ حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ» (7) وَحَسَنَهُ الألْبَانِي (8)
--------------------------------------------
উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তাকে সুসংবাদ দেব না?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি (উম্মে সালামাহ) বলেন: "আমি আমার কামরার দরজায় দাঁড়িয়ে বললাম—আর এটি ছিল আমাদের ওপর পর্দা (হিজাব) ফরজ হওয়ার আগে—হে আবু লুবাবাহ! সুসংবাদ গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার তাওবা কবুল করেছেন।"
বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: বনু কুরাইজা যুদ্ধ খন্দক যুদ্ধের পরপরই পঞ্চম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল এবং পর্দা (হিজাব)-এর বিধান এর পরে এসেছিল। বায়হাকি (১) ও নববী (২) এভাবেই উত্তর দিয়েছেন।
তৃতীয় উত্তর: এটি এই ধারণার ভিত্তিতে যে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন এবং আবিসিনিয়াবাসীদের যুদ্ধের মহড়ার আগেই পর্দার বিধান অবতীর্ণ হয়েছিল।
উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) যুবকদের শরীর বা চেহারার দিকে তাকাননি; বরং তিনি কেবল খেলা এবং বর্শার মহড়ার দিকেই তাকিয়েছিলেন।
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই উক্তিটি সেদিকেই নির্দেশ করে: (আমি একদিন আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কামরার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি যখন আবিসিনিয়াবাসীরা মসজিদে খেলা করছিল এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি।) সহিহ বুখারি বর্ণনা করেছেন (৩)।
নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (৪) উত্তরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো যে, হাদিসে এমন কিছু নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি তাদের মুখমণ্ডল বা শরীরের দিকে তাকিয়েছিলেন।
বরং তিনি কেবল তাদের খেলা এবং বর্শার মহড়াই দেখেছিলেন। তিনি বলেন: এর দ্বারা শরীরের প্রতি ইচ্ছাকৃত দৃষ্টিপাত করা আবশ্যক হয় না, আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়েও যায় তবে তৎক্ষণাৎ তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি (লেখক) বলছি: অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টিপাতের বিষয়টি ক্ষমাযোগ্য, তবে ইচ্ছাকৃত দৃষ্টিপাতের জন্য দর্শককে জবাবদিহি করতে হবে।
জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।) সহিহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৫)।
আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (তাকে বললেন: হে আলী! জান্নাতে তোমার জন্য একটি ভাণ্ডার রয়েছে এবং তুমি হবে এর দুই প্রান্তের অধিকারী। সুতরাং একবার দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টিপাত করো না। কারণ প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য হলেও পরবর্তীটি নয়।) মুসনাদে আহমাদ (৬) ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকেম) বলেছেন এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, যদিও তাঁরা এটি উদ্ধৃত করেননি (৭) এবং আলবানি একে হাসান (حسن) বলে গণ্য করেছেন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْدَلِيْلُ الْثَانِي: احْتَجُوا عَلَى جَوَازِ نَظَرِ الْمَرْأَةِ للرَّجُلِ بِغَيْرِ شَهْوَةٍ بِحَدِيْثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ.
عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ رضي الله عنها: (أَنَّ النَّبي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا (اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ) رواه مسلم (1).
وفي لفظ (2) (فَانْطَلِقِي إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الْأَعْمَى فَإِنَّكِ إِذَا وَضَعْتِ خِمَارَكِ لَمْ يَرَكِ)
قَالَ الْعِيْنِي: وَفَاطِمَةُ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ وَابْنُ أُمِ مَكْتُوْمٍ ابْنُ عَمِّهَا.
قُلْتُ: وَفِي لَفْظٍ لِمُسْلِمٍ: (اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ عَمِّكِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ ضَرِيرُ الْبَصَرِ تُلْقِي ثَوْبَكِ عِنْدَهُ) (3).
الْجَوَابُ الأَولُ: لَيْسَ في الْحَدِيْثِ مَا يَدُلُ عَلَى جَوَازِ نَظَرِ فَاطِمَةَ فِي بْنِ أُمِ مَكْتُوْمِ.
وَالأَصْلُ: أَنَّهَا مَأْمُوْرَةٌ بِغَضِ الْبَصَرِ عَنْهُ.
قَال الْمَبَارْكَافُورِي (4) وَأَيْضَاً لَيْسَ فِيْهِ رُخْصَة ٌلَهَا بِالْنَّظَرِ إِلَيْهِ؛ بَلْ فِيْهِ أَنَّهَا آمِنَةٌ عِنْدَهُ مِنْ نَظَرِ غَيْرِهِ؛ وَهِيَ مَأْمُوْرَةٌ بِغَضِ بَصَرِهَا عَنْهُ.
قَالَ الْصَنْعَانِي: وَالأَصْلُ تَحْرِيْمُ نَظَرالأَجْنَبِيَّةِ إِلَا بِدَلِيْلٍ. (5)
وَ قَالَ بْنُ عَبْدِ الْبَر: وَمَنْ مَنَعَ الْنَّظَرَ مِنَ الأَجْنَبِيَةِ؛ قَالَ: لَيْسَ فِي حَدِيْثِ فَاطِمَةَ؛ أَنَّهُ أَطَلَقَ لَهَا الْنَّظَرَ إِلَيْهِ. (6)
الْجَوَابُ الْثَانِي: أَنَّهُ يُمْكِنُهَا فِي بَيْتِهِ أَنْ تَعْتَدَّ ، وَلِبَصِرِهَا أَنْ تَغُضَ؛ إِذْ لَامُلَازَمَةَ بِيْنَ الإِجْتِمَاعِ وَالْنَّظَرِ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দলীল: তাঁরা কামনাবাসনা ব্যতিরেকে পুরুষের প্রতি নারীর দৃষ্টিপাত করার বৈধতার স্বপক্ষে ফাতিমা বিনতে কাইস-এর হাদিসের মাধ্যমে যুক্তি পেশ করেছেন।
ফাতিমা বিনতে কাইস (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন, "তুমি ইবনে উম্মে মাকতূমের নিকট ইদ্দত পালন করো, কারণ সে একজন অন্ধ ব্যক্তি; তুমি সেখানে তোমার (অতিরিক্ত) কাপড় রাখতে পারবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে (২): "তুমি অন্ধ ইবনে উম্মে মাকতূমের কাছে চলে যাও, কেননা তুমি যখন তোমার ওড়না সরাবে, সে তোমাকে দেখবে না।"
আইনী (র.) বলেন: ফাতিমা ছিলেন প্রথম যুগের হিজরতকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং ইবনে উম্মে মাকতূম ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই।
আমি বলছি: সহীহ মুসলিমের একটি পাঠে এসেছে: "তুমি তোমার চাচাতো ভাই ইবনে উম্মে মাকতূমের ঘরে ইদ্দত পালন করো, কারণ সে দৃষ্টিহীন; তুমি তাঁর কাছে তোমার কাপড় রাখতে পারবে।" (৩)।
প্রথম উত্তর: হাদিসে এমন কোনো বিষয় নেই যা ইবনে উম্মে মাকতূমের প্রতি ফাতিমার দৃষ্টিপাতের বৈধতা নির্দেশ করে।
আর মূল বিধান হলো: তাঁকে (ফাতিমাকে) তাঁর দিক থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুবারকপুরী (র.) বলেন (৪): তদুপরি এতে তাঁর জন্য তাঁর (পুরুষের) দিকে তাকানোর কোনো অনুমতি নেই; বরং এতে এই বিষয়টি রয়েছে যে, তিনি তাঁর নিকট অন্যের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবেন; অথচ তাঁকে তাঁর দিক থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সানআনী (র.) বলেন: মূল নীতি হলো কোনো প্রমাণ ছাড়া পরনারীর দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ। (৫)
ইবনে আব্দুল বার (র.) বলেন: যারা পরনারীর দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ করেছেন, তাঁরা বলেন: ফাতিমার হাদিসে এমন কিছু নেই যে তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) তাঁর জন্য পুরুষের দিকে তাকানোকে নিঃশর্ত বা বৈধ করে দিয়েছেন। (৬)
দ্বিতীয় উত্তর: তাঁর পক্ষে তাঁর (ইবনে উম্মে মাকতূমের) ঘরে ইদ্দত পালন করা এবং নিজের দৃষ্টি অবনত রাখা সম্ভব; যেহেতু একত্রে অবস্থান করা এবং দৃষ্টিপাতের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ الْعَظِيْمُ أَبَادِي: وَيُجَابُ بِأَنَّهُ يُمْكِنُ ذَلِكَ؛ أَي الإِعْتِدَادُ فِي بَيْتِهِ؛ مَعَ غَضِ الْبَصَرِ مِنْهَا، وَلَامُلَازَمَةَ بَيْنَ الإِجْتِمَاعِ فِي الْبَيْتِ وَالْنَّظَرِ. (1)
وَبِهَذَا أَجَابَ الْشَوْكَانِي: (2)
الْدَلِيْلُ الْثَالِثُ: عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ رضي الله عنه:فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ تِلْكِ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي) رواه مسلم (3).
الْجَوَابُ الأَوَلُ: لَا يَلْزَمُ مِنَ الْمَرُوْرِ وَالْزِيَارَةِ، نَظَرُ أُمِ شَرِيْكٍ فِي الْصَحَابَةِ؛ لأَنَّهُ لَا تَلَازُمَ بَيْنِ الْنَّظَرِ وَالْزِيَارِةِ؛ فَقَدْ تُزَارُ وَلَا تَنْظُرُ.
الْجَوَابُ الْثَانِي: عَنْ فَاطِمَةَ بِنْت قَيْسٍ رضي الله عنها أُخْتِ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ رضي الله عنه: وَكَانَتْ مِنْ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلِ (أَنَّ النَبي صلى الله عليه وسلم قَالَ لها انْتَقِلِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ وَأُمُّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ غَنِيَّةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ عَظِيمَةُ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَنْزِلُ عَلَيْهَا الضِّيفَانُ فَقُلْتُ سَأَفْعَلُ فَقَالَ لَا تَفْعَلِي إِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ كَثِيرَةُ الضِّيفَانِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْكِ خِمَارُكِ أَوْ يَنْكَشِفَ الثَّوْبُ عَنْ سَاقَيْكِ فَيَرَى الْقَوْمُ مِنْكِ بَعْضَ مَا تَكْرَهِينَ) رَوَاهُ مُسْلِمٌ (4)
وَهَذَا مَعْنَى يَغْشَاهَا أَصْحَابِي
قُلْتُ: وَلَا يَلْزَمُ مِنَ الْنَّفَقَةِ وَالإِحْسَانِ؟ الْنَّظَرُ في الْضِيْفَانِ
الْدَلِيْلُ الْرَابِعُ: حَدِيْثُ الْخَثْعَمِيَةُ.
--------------------------------------------
আজিম আবাদি বলেন: এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি সম্ভব; অর্থাৎ দৃষ্টি অবনত রেখে তার (ব্যক্তির) ঘরে ইদ্দত পালন করা সম্ভব; আর ঘরে অবস্থান করা এবং দৃষ্টিপাতের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। (১)
শাওকানিও এই একই উত্তর প্রদান করেছেন: (২)
তৃতীয় দলিল: ফাতিমা বিনতে কাইস (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে উম্মে শারিকের ঘরে ইদ্দত পালন করার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর বললেন: "তিনি এমন এক নারী যার নিকট আমার সাহাবীগণ যাতায়াত করেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩)।
প্রথম উত্তর: লোকজনের আসা-যাওয়া বা সাক্ষাতের কারণে উম্মে শারিকের সাহাবীগণের প্রতি দৃষ্টিপাত করা অপরিহার্য নয়; কারণ সাক্ষাৎ এবং দৃষ্টিপাতের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কেননা কারো সাথে সাক্ষাৎ হতে পারে অথচ তিনি তার দিকে দৃষ্টিপাত নাও করতে পারেন।
দ্বিতীয় উত্তর: দাহহাক বিন কাইস (রা.)-এর বোন ফাতিমা বিনতে কাইস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি প্রথম যুগের হিজরতকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (নবী ﷺ তাকে বললেন, "তুমি উম্মে শারিকের নিকট চলে যাও। উম্মে শারিক আনসারদের একজন ধনী নারী, যিনি আল্লাহর পথে প্রচুর ব্যয় করেন এবং তার নিকট মেহমানরা অবস্থান করে।" আমি বললাম, আমি শীঘ্রই তা করব। তখন তিনি বললেন, "তুমি তা করো না, কারণ উম্মে শারিকের নিকট প্রচুর মেহমান আসে। আমি অপছন্দ করি যে, তোমার মাথার ওড়না খসে পড়ুক অথবা তোমার গোছা থেকে কাপড় সরে যাক, ফলে লোকজন তোমার শরীরের এমন কিছু অংশ দেখে ফেলুক যা তুমি অপছন্দ করো।") এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৪)
আর এটাই হলো "আমার সাহাবীগণ তার নিকট যাতায়াত করেন" কথাটির মর্মার্থ।
আমি বলি: দান-সদকা এবং সদাচরণের ক্ষেত্রে মেহমানদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা কি অপরিহার্য?
চতুর্থ দলিল: খাসআমিয়াহ নারী সংক্রান্ত হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: (كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ تَسْتَفْتِيهِ فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الْآخَرِ) متفق عليه (1)
قَالَ الْعِيْنِي: (2) لَمْ يُنْقَلْ أَنَّهُ نَهَى الْمَرْأَةَ عَنِ الْنَّظَرِ إِلَيْهِ وَأَجَابَ: عَنْ ذَلِكَ بِجَوَابِيْنِ.
الْجَوَابُ الأَوَلُ: إِكْتَفَى الْنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَنْعِ الْفَضْلِ؛ لَمَّا رَأَى أَنَّهَا بِذَلِكَ تَعْلَمُ مَنْعَ نَظَرِهَا إِلَيْهِ؛ لأَنَّ حُكْمَهُمَا وَاحِدٌ.
قُلْتُ: وَهْوَ الأَصْلُ. قال تعالى {قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ} [النور: 30]
وقال تعالى {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ} [النور: 31]
الْجَوَابُ الْثَانِي: أَنَّهَا لَمْ تَحْتَجْ إِلي أَمْرٍ؛ لأَنَّهَا غَضَّتِ الْبَصَرَ؛ فَقَدْ تَنَبَهَتْ لِمَا فُعِلَ بِالْفَضْلِ؛ فَأَخَذَتْ مِنْهُ الْعَذْلَ.
قُلْتُ: وَيَدُلُّ عَلَيْهِ مَا وَرَدَ في لَفْظَةٍ حَدِيْثِيْه بِأَنَّهُ خَافَ الْفِتْنَةَ عَلَى الْفَضْلِ وَالْخَثْعَمِيْه
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنه: (أَنَّ الْنَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَوَ عُنُقَ الْفَضْلِ لَمَّا نَظَرَ في الْخَثْعَمِيْةِ (فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ لَوَيْتَ عُنُقَ بْنِ عَمِّكَ قَالَ رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَلَمْ آمَنْ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا) (3)
الْجَوَابُ الْثَالِثُ: أَنَّ الْنَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا صَرَفَ وَجَهَ الْفَضْلِ لأَوَلِ وَهَلَةٍ؛ لَمْ يَبْقَ مِنْهُ مَا تَنْظُرُ إِلَيْهِ الْمَرْأَةُ.
قَالَ الْنَّوَوِي رحمه الله: وَفِي صَرْفِهِ لِوَجْهِ الْفَضْلِ عَنِ الْمَرْأَةِ؛ دَلِيْلٌ عَلَى دَفْعِ الْفِتْنَةِ عَنْهُ وَعَنْهَا. (4)
قُلْتُ: وَعَلَيْهِ دَلَّ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم في لَفْظٍ لأَحْمَدَ (رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَخِفْتُ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا) رَوَاهُ أَحْمَدُ (5)
وَقَالَ: وَفِيْهِ الْحَثُّ عَلَى غَضِّ الْبَصَرِ عَنِ الأَجْنَبِيَاتِ ، وَغَضُّهُنَّ عَنِ الْرِّجَالِ الأَجَانِبِ. (6)
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (ফজল ইবনে আব্বাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের পেছনে বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় খাসআম গোত্রের একজন নারী তাঁর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে এলেন। ফজল সেই নারীর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং সেই নারীও ফজলের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজলের মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন।) এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। (১)
আল-আইনি বলেন: (২) এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি (নবীজি) সেই নারীকে তাঁর (ফজলের) দিকে তাকাতে নিষেধ করেছিলেন। এর উত্তরে তিনি দুটি জবাব দিয়েছেন।
প্রথম জবাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজলকে বিরত রাখাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন; কারণ তিনি দেখেছেন যে, এর মাধ্যমে সেই নারী নিজেও তাঁর দিকে তাকানো নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারবেন; যেহেতু তাদের উভয়ের বিধান অভিন্ন।
আমি বলি: আর এটিই হলো মূলনীতি। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} [সূরা আন-নূর: ৩০]
এবং আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।} [সূরা আন-নূর: ৩১]
দ্বিতীয় জবাব: সেই নারীর নির্দেশের প্রয়োজন হয়নি; কারণ তিনি দৃষ্টি অবনত করেছিলেন; কেননা ফজলের সাথে যা করা হয়েছিল তা থেকে তিনি সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
আমি বলি: হাদিস সংক্রান্ত (حديثية) একটি পাঠে বর্ণিত বিষয়টি এর প্রমাণ বহন করে যে, তিনি ফজল ও খাসআমী নারীর ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: (যখন ফজল খাসআমী নারীর দিকে তাকালেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজলের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন। তখন আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন আপনি আপনার ভাতিজার ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন? তিনি বললেন: আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম, তাই তাদের ব্যাপারে শয়তানের (প্ররোচনার) ভয় থেকে আমি নিরাপদ বোধ করলাম না।) (৩)
第三 জবাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম মুহূর্তেই ফজলের মুখ ঘুরিয়ে দিলেন, তখন সেই নারীর তাকানোর মতো আর কিছু অবশিষ্ট থাকেনি।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ফজলের মুখ সেই নারীর দিক থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার মধ্যে ফজল এবং সেই নারী—উভয়ের পক্ষ থেকে ফিতনা প্রতিহত করার প্রমাণ রয়েছে। (৪)
আমি বলি: আর এটিই মুসনাদে আহমাদ-এর একটি বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে: (আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম, তাই তাদের ব্যাপারে শয়তানের ভয় করলাম।) এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। (৫)
তিনি আরও বলেন: এতে পরনারীদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার এবং পরপুরুষদের থেকে নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْدَلِيْلُ الْخَامِسُ: مَا نَقَلَهُ الْمَبَارْكَافُوْرِي عَنِ الْسِيُوطِي وَأَبِي دَاودَ بِأَنَّ الْنِّسَاءَ أُمِرْنَ بِالْحِجَابِ لِئَلَا يَرَاهُنَّ الْرِّجَالُ ، وَلَمْ يُؤْمَرِ الْرِّجَالُ بِالْحِجَابِ لِئَلَا يَرَاهُمُ الْنِّسَاءُ؛ فَدَلَ عَلَى مُغَايَرَةِ الْحُكْمِ بَيْنَ الْطَائِفَتَيْنِ. (1)
الْجَوَابُ الأَوَلُ: هَذَا الْتَعْلِيْلُ يُخَالِفُ الْدَلِيْل؛ مِنَ الْكِتَابِ وَالْسُنَّةِ وَجَمْهُوْرِ الْعُلَمَاء؛ إِذْا لَمْ يُفَرِقُوا في الْنَّظَرِ بَيْنَ الْرِّجَالِ وَالْنِّسَاءِ؛ فَقَدْ أُمِرَ الْنِّسَاءُ في سُوْرَةِ الْنُّوْرِ بِمَا أُمِرَ بِهِ الْذُّكُوْرُ.
الْجَوَابُ الْثَانِي: الْنَّصُ جَاءَ فِي الْحُكْم ِ بِالْمُرَادَفَةِ؛ لَا بِالْمُغَايَرَةِ؛ فَقَدْ أُمِرَ الْنِّسَاءُ في الْنُّوْرِ بِمَا أُمِرَ بِهِ الْذُّكُوْرُ.
الْجَوَابُ الْثَالِثُ: هَذَا قِيَاسٌ مَعَ الْنَّص ِ وَلَاقِيَاسَ مَعَ الْنَص ِ بِالإِجْمَاع ِ
وَسِرُ الْجِدَال؛ نَظَرُ الْمَرْأَةِ للرِّجَال؛ في الْقَنَوَات؛ وَالْصُحُفِ وَالْمَجَلَات
وَخَيْرٌ مِنَ القولِ بِجَوَازِ نَظَرِ الْمَرْأَةِ إِلى الْرِّجَالِ مِنْ غَيْرِ شَهْوَةٍ. الْقَوْلُ بِجَوَازِ سَمَاعِ وَقِرَاءَةِ الْمَقَال مَعَ غَضِّ بَصَرِهِا عَنِ الْرِّجَال؛ إِذْ بِهِ جَاءَتْ الأَدِلَه مِنَ الْكِتَابِ وَالْسُنَّه.
فَالله ُ الذي بِغَضِّ الْبَصَرِ أَمَرَهُنَّ هُوَ الذي لِصَلَاةِ الْعِيْدِ وَ سَمَاعِ الْخُطْبَةِ أَخَرَجَهُنَّ.
فَلَا مُلَازَمَةَ بَيْنَ الْسَمْعِ وَالْبَصَرِ؛ إِذْ يُمْكِنُ للمَرْأَةِ أَنْ تَغُضَّ بَصَرَهَا عَنِ الْرِّجَال وَأَنْ تَسْمَعَ مِنْهُمُ الْمَقَال وَلَكِنْ مِنْ ضِيْقِ الْبَاع تَرْكُ تَحْقِيْقِ الْنِزَاعِ
قَالَ الْنَّاظِمُ:
وَالأَصْلُ فِي الْتَضْييقِ ضِيْقُ الْبَاع ِ
… وَقِلَةُ الْعِلْم ِ وَالاطِلَاع ِ
الخلاصة: أدلة المجيزين لنظر المرأة للرجل بغير شهوة من المتشابه وأدلة المانعين من المحكم.
قال تعالى {هُوَ الَّذِيَ أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ في قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاء تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَاّ اللّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِّنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَاّ أُوْلُواْ الألْبَابِ} [آل عمران: 7]
وَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الْآيَةَ (هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ
--------------------------------------------
পঞ্চম দলিল: আল-মুবারকপুরী ইমাম আস-সুয়ূতী ও আবু দাউদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, নারীদের পর্দার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পুরুষরা তাদের দেখতে না পায়, কিন্তু পুরুষদের পর্দার নির্দেশ দেওয়া হয়নি যাতে নারীরা তাদের দেখতে না পায়; সুতরাং এটি উভয় দলের বিধানের মধ্যে ভিন্নতা নির্দেশ করে। (১)
প্রথম উত্তর: এই যুক্তি কুরআন, সুন্নাহ এবং জমহুর আলেমদের দলিলের পরিপন্থী; কেননা তারা দৃষ্টির ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি; আর সূরা আন-নূরে নারীদের সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যা পুরুষদের দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় উত্তর: বিধানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশ (النص) অভিন্নতার প্রমাণ বহন করে, ভিন্নতার নয়; কেননা সূরা আন-নূরে নারীদের সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে যা পুরুষদের দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় উত্তর: এটি সুস্পষ্ট নির্দেশের (النص) উপস্থিতিতে কিয়াস (قياس); অথচ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী সুস্পষ্ট নির্দেশের (النص) উপস্থিতিতে কোনো কিয়াস (قياس) নেই।
তর্কের মূল রহস্য: চ্যানেল, সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে পুরুষদের প্রতি নারীদের দৃষ্টিপাত।
কামনাবাসনা ব্যতীত পুরুষের প্রতি নারীর দৃষ্টিপাত বৈধ হওয়ার উক্তির চেয়ে উত্তম হলো পুরুষের বক্তব্য শ্রবণ ও পাঠ করা বৈধ হওয়ার উক্তি, তবে তা হতে হবে পুরুষদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখার সাথে; কেননা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ এ পথেই এসেছে।
কারণ মহান আল্লাহ যিনি তাদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনিই তাদের ঈদের নামাজ ও খুতবা শোনার জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সুতরাং শ্রবণ ও দর্শনের মাঝে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই; কেননা একজন নারীর পক্ষে সম্ভব পুরুষদের থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা এবং তাদের থেকে বক্তব্য শ্রবণ করা। তবে জ্ঞানের সংকীর্ণতার কারণেই মতভেদের প্রকৃত সমাধান বর্জন করা হয়।
কবি বলেছেন:
সংকীর্ণতার মূল কারণ হলো সক্ষমতার অভাব
… এবং জ্ঞান ও জানাশোনার স্বল্পতা।
সারসংক্ষেপ: কামনাবাসনা ব্যতীত পুরুষের প্রতি নারীর দৃষ্টিপাত বৈধ মনে করার সপক্ষে দেওয়া দলিলসমূহ দ্ব্যর্থবোধক (متشابه) পর্যায়ভুক্ত এবং নিষেধকারীদের দলিলসমূহ সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট (محكم) পর্যায়ভুক্ত।
মহান আল্লাহ বলেন, {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো দ্ব্যর্থবোধক (متشابهات)। যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থবোধক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত সেগুলোর ব্যাখ্যা কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, ‘আমরা এগুলোর ওপর ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।’ আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে।} [সূরা আলে ইমরান: ৭]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো দ্ব্যর্থবোধক (متشابهات)। যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থবোধক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। আর আল্লাহ ব্যতীত সেগুলোর ব্যাখ্যা কেউ জানে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ) قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَأَيْتِ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُولَئِكِ الَّذِينَ سَمَّى اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ) رواه البخاري (1) ومسلم (2)
قَالَ الْشَيْخُ مُحَمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَابِ رحمه الله:
عَلَامَةُ أَهْلِ الْسُنَّةِ؛ الإسْتِدْلَالُ بِالأَدِلَةِ الْوَاضِحَةِ. وَعَلَامَةُ أَهَلِ الْزَيْغِ؛ الإِسْتِدْلَالُ باِلأَدِلَةِ الْمُتَشَابِهَةِ.
قلت: والمتشابه هوالذي له عدة معاني.
فمن اختارأحد المعاني بوحي الشيطان ضل.
{وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ} [الأنعام: 121]
{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ (3) كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَنْ تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ} [الحج: 3 - 4]
ومن اختارأحد المعاني بالهوى ضل.
{يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} [ص: 26]
ومن اختارأحد المعاني بالرأي ضل.
{إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَى} [النجم: 23]
{وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} [الأنعام: 116]
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْزِعُ الْعِلْمَ بَعْدَ أَنْ أَعْطَاكُمُوهُ انْتِزَاعًا وَلَكِنْ يَنْتَزِعُهُ مِنْهُمْ مَعَ قَبْضِ الْعُلَمَاءِ بِعِلْمِهِمْ فَيَبْقَى نَاسٌ جُهَّالٌ يُسْتَفْتَوْنَ فَيُفْتُونَ بِرَأْيِهِمْ فَيُضِلُّونَ وَيَضِلُّونَ).رواه البخاري (3)
ومن اختارأحد المعاني لمجرد قول إمام صالح ضل.
--------------------------------------------
...কেবল আল্লাহ এবং যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে: ‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।’ আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে। তিনি (আয়িশা রা.) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতসমূহের অনুসরণ করে, তবে তারাই সেই ব্যক্তি যাদের নাম আল্লাহ (কুরআনে) উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থাকো।" এটি বুখারি (১) ও মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।
শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
আহলে সুন্নাতের বৈশিষ্ট্য হলো সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে দলিল পেশ করা। আর বিভ্রান্তদের বৈশিষ্ট্য হলো অস্পষ্ট (متشابه) দলিলের মাধ্যমে দলিল পেশ করা।
আমি বলছি: অস্পষ্ট (متشابه) হলো তা-ই যার একাধিক অর্থ বিদ্যমান।
সুতরাং যে ব্যক্তি শয়তানের প্ররোচনায় কোনো একটি অর্থ গ্রহণ করল, সে পথভ্রষ্ট হলো।
{আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি এবং নিশ্চয়ই তা পাপাচার। আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি প্ররোচনা দেয় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে। আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক হবে।} [আন-আনআম: ১২১]
{আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান ছাড়াই এবং সে প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে। (৩) তার সম্পর্কে লিখে দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে প্রজ্বলিত আগুনের আজাবের দিকে পরিচালিত করবে।} [আল-হাজ্জ: ৩ - ৪]
আর যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির (هوى) বশবর্তী হয়ে কোনো একটি অর্থ গ্রহণ করল, সে পথভ্রষ্ট হলো।
{হে দাউদ, আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা বানিয়েছি, সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করো এবং প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব, যেহেতু তারা বিচার দিবসকে ভুলে গিয়েছিল।} [সোয়াদ: ২৬]
আর যে ব্যক্তি ব্যক্তিগত অভিমতের (رأي) ভিত্তিতে কোনো একটি অর্থ গ্রহণ করল, সে পথভ্রষ্ট হলো।
{এগুলো কেবল কিছু নাম যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছ, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল নাজিল করেননি। তারা কেবল ধারণা এবং নিজেদের প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করে, অথচ তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হেদায়েত এসেছে।} [আন-নাজম: ২৩]
{আর তুমি যদি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।} [আন-আনআম: ১১৬]
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে জ্ঞান দান করার পর তা তোমাদের মধ্য থেকে একবারে ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যু দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ইলম উঠিয়ে নেবেন। ফলে কেবল মূর্খ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে, যাদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা তাদের ব্যক্তিগত অভিমতের (رأي) ভিত্তিতে ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" এটি বুখারি (৩) বর্ণনা করেছেন।
আর যে ব্যক্তি কেবল কোনো নেককার ইমামের উক্তির ওপর ভিত্তি করে কোনো একটি অর্থ গ্রহণ করল, সেও পথভ্রষ্ট হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাজরু মিনান নিসওয়াতি লির রিজালি বিগাইরি শাহওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ تَعَالَى: {اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِّن دُونِ اللّهِ} [التوبة: 31]
وَعَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِى جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ». قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ آلْيَهُودَ وَالنَّصَارَى قَالَ «فَمَنْ».رواه البخاري (1) ومسلم (2)
ومن اختارأحد المعاني لمجرد قول إمام فاسق ضل. قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّ كَثِيراً مِّنَ الأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ الله} [التوبة: 34]
وعَنْ ثَوْبَانَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ) صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِى الأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ) رواه أبوداود (3) حديث صحيح لغيره.
ومن اختارأحد المعاني بدليل آخرمن الكتاب والسنة فلن يضل أبداً. {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} [طه: 123]
والمحكم: هوالذي له معنى واحد بين واضح لم ينسخ ولم يخص ولم يقيد. كقوله تعالى {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [البقرة: 185]
وَبِهَذَا الْقَدْرِ أَكْتَفِي؛ وَإلِيْهِ أَنْتَهِي.
ثُمَّ إلي هُنَا قَدِ انْتَهَيْتُ
… وَتَمَّ مَا بِجَمْعِهِ عَنَيْتُ
وَالْحَمْدُ للهِ عَلَى انْتِهَائِي
… كَمَا حَمِدْتُ اللهَ في ابْتِدَائِي
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ৩১]
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তা করবে।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! (তারা কি) ইহুদি ও নাসারা? তিনি বললেন: "তবে আর কারা?" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১) ও মুসলিম (২)।
আর যে ব্যক্তি কেবল কোনো পাপাচারী (فاسق) ইমামের কথার ভিত্তিতে কোনো একটি অর্থ বেছে নেয়, সে পথভ্রষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের মধ্যে অনেকে মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে} [আত-তাওবাহ: ৩৪]
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি আমার উম্মতের জন্য কেবল পথভ্রষ্টকারী নেতাদের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩), এটি অন্য সনদের ভিত্তিতে সহিহ (صحيح لغيره) হাদিস।
আর যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর অন্য কোনো দলিলের ভিত্তিতে কোনো একটি অর্থ বেছে নেয়, সে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। {অতঃপর যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না} [ত্বহা: ১২৩]
আর সুনির্ধারিত (المحكم): এটি হলো এমন যা কেবল একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, যা রহিত (منسوخ) করা হয়নি, বিশেষায়িত (مخصص) করা হয়নি এবং শর্তযুক্ত (مقيد) করা হয়নি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্যের সুস্পষ্ট নিদর্শনস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন সেজন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} [আল-বাকারা: ১৮৫]
আমি এই পরিমাণেই ক্ষান্ত হচ্ছি এবং এখানেই সমাপ্ত করছি।
অতঃপর আমি এখানে পৌঁছে সমাপ্ত করলাম … এবং আমি যা সংগ্রহের ইচ্ছা করেছিলাম তা পূর্ণ হলো।
সমাপ্তিতে আল্লাহর প্রশংসা করছি … যেমনটা শুরুতে তাঁর প্রশংসা করেছিলাম।
--------------------------------------------