(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: -)
المغيث بأدلة المواريث   (محمد العماري)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: المغيث بأدلة المواريث

إعداد: أبو أحمد، محمد بن أحمد بن محمد العماري

عدد الصفحات: 44

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432

উত্তরাধিকারের দলীলসমূহের মাধ্যমে সাহায্যকারী   (মুহাম্মদ আল-আম্মারি)

বিভাগ: ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) এবং অসিয়তসমূহ


বই: উত্তরাধিকারের দলীলসমূহের মাধ্যমে সাহায্যকারী

প্রস্তুতিতে: আবু আহমদ, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আম্মারি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আখির ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة متون المبتدئين: الفرائض؛ المتن الأول.

 

المغيث بأدلة المواريث

تأليف

محمد بن أحمد بن محمد العماري

عضو الدعوة والإرشاد

بوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد

بالمملكة العربية السعودية

موقع المؤلف على الإنترنت

http://www.alammary.net

البريد للإكتروني

Alammary281@alammary.net

Alammary4@hotmail.com
প্রারম্ভিকদের জন্য মূলপাঠের ধারাবাহিকতা: উত্তরাধিকার আইন; প্রথম পাঠ।

 

আল-মুগীস বি আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (উত্তরাধিকারের দলীলসমূহ সম্বলিত সাহায্যকারী)

রচনা

মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আম্মারি

দাওয়াত ও ইরশাদ সদস্য

ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ে

সৌদি আরব রাজতন্ত্রে

ইন্টারনেটে লেখকের ওয়েবসাইট

http://www.alammary.net

ই-মেইল

Alammary281@alammary.net

Alammary4@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان مالم يعلم، الحمد لله الذي خلق الإنسان علمه البيان.

والصلاة والسلام على الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى … أما بعد فهذا المغيث بأدلة الموارث جعله الله لوجهه خالصاً ،ولي، ولجميع المسلمين نافعا.

وعلى القاريء: إذا رأى خطأً أن يصلح أو زللاً أن يصفح.

ومنْ يصادفْ هفوةً فليصلحا … بعدَ تأملٍ لها وليصفحا

فقدْ جمعتُه على استعجالِ … معْ غربتي عنْ أهلِ ذي المجالِ

 

‌‌كتاب: الإرث.

‌‌باب: تعريف الإرث.

الإرث: لغة. هو ما يبقى من الأشياء.

عَنِ ابْنِ مِرْبَعٍ الْأَنْصَارِي رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِعَرَفَةَ (كُونُوا عَلَى مَشَاعِرِكُمْ هَذِهِ فَإِنَّكُمْ عَلَى إِرْثٍ مِنْ إِرْثِ إِبْرَاهِيمَ) رواه أحمد (1) وغيره وصححه الألباني (2)

والإرث: شرعاً. هو كل ما يتركه الميت بعده قليلاً كان أ وكثيراً.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء: 7]

 

‌‌باب: أركان الإرث.

للإرث ثلاثة أركان.

الركن الأول: موتُ المورِّثِ، أو الحكم بموته كالمفقود أو تقدير موته كالجنين.

--------------------------------------------

(1) مسند أحمد 17233 (ج 28 / ص 468)

(2) صحيح ابن ماجة رقم3002 (ج 2 / ص 172)
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা (ভাষা) শিক্ষা দিয়েছেন।

এবং সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, যিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তা কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয় … অতঃপর, এটি হলো 'আল-মুগীস বি আদিল্লাতিল মাওয়ারিস' (উত্তরাধিকারের দলীলসহ সাহায্যকারী), আল্লাহ একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং আমার ও সকল মুসলিমের জন্য একে উপকারী করুন।

আর পাঠকের প্রতি অনুরোধ: তিনি যদি কোনো ভুল দেখেন তবে যেন তা সংশোধন করে দেন অথবা কোনো বিচ্যুতি দেখলে যেন তা ক্ষমা করেন।

যে ব্যক্তি কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবে সে যেন তা সংশোধন করে … তা নিয়ে গভীর চিন্তার পর, এবং যেন ক্ষমা করে দেয়।

আমি এটি তাড়াহুড়োর সাথে সংকলন করেছি … এই বিষয়ের পারদর্শীদের থেকে আমার প্রবাস বা দূরত্বের মাঝে।

 

কিতাব: উত্তরাধিকার (মিরাস).

অধ্যায়: উত্তরাধিকারের সংজ্ঞা.

উত্তরাধিকার (মিরাস): আভিধানিক অর্থ। এটি হলো কোনো জিনিসের যা অবশিষ্ট থাকে।

ইবনে মিরবা আল-আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে বলেছিলেন, (তোমরা তোমাদের এই হজের নিদর্শনগুলোর ওপর অটল থাকো, কেননা তোমরা ইব্রাহিমের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের ওপর আছ)। এটি আহমাদ (১) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন (২)।

উত্তরাধিকার (মিরাস): শরয়ী পরিভাষায়। এটি হলো মৃত ব্যক্তি তার পরে যা কিছু রেখে যায়, তা অল্প হোক বা বেশি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন যা রেখে যায় তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন যা রেখে যায় তাতে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা অল্প হোক বা বেশি, এক নির্ধারিত অংশ।} [সূরা নিসা: ৭]

 

অধ্যায়: উত্তরাধিকারের রুকনসমূহ.

উত্তরাধিকারের তিনটি রুকন রয়েছে।

প্রথম রুকন: সম্পত্তি ত্যাগকারীর (মুওয়াররিস) মৃত্যু, অথবা বিচারকের নির্দেশে মৃত সাব্যস্ত হওয়া যেমন নিখোঁজ ব্যক্তি, অথবা মৃত্যুর প্রাক্কলন করা যেমন গর্ভস্থ ভ্রূণ।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদে আহমাদ ১৭২৩৩ (খণ্ড ২৮ / পৃষ্ঠা ৪৬৮)

(২) সহীহ ইবনে মাজাহ নম্বর ৩০০২ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ১৭২)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২)
قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

ففي قوله: {إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ} دليل على موت المورث.

الركن الثاني: حياة الوارث عند موت المورث، أو الحكم بحياته كالمفقود أو تقدير حياته كالجنين. فإن مات قبله فلا يرث منه.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء: 7]

واللام في قوله: ژ لِّلرِّجَالِ ژو قوله: ژ وَلِلنِّسَاء ژ للملك و الميت لايملك.

الركن الثالث: أن يكون الميت قد ترك شيئاً بعده. فإن لم يترك شيئاً فلا إرث.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء: 7] الشاهد مما ترك

 

‌‌باب: شروط الإرث.

للإرث ثلاثة شروط:

الشرط الأول: ثبوت موت المورث أو إلحاقه بالأموات حكما كالمفقود أو تقديرا كالجنين، إذا سقط ميتا بسبب الجناية على أمه.
মহান আল্লাহ বলেন: "তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন; যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, আর তার এক বোন থাকে, তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি বোনের কোনো সন্তান না থাকে। অতঃপর যদি তারা দুই বোন হয়, তবে তারা তার পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা ভাই ও বোন উভয়ই হয়, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" [আন-নিসা: ১৭৬]

সুতরাং তাঁর বাণী: "যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায়"-এর মধ্যে সম্পদ প্রদানকারীর (মুতাল্লিকের) মৃত্যুর প্রমাণ রয়েছে।

দ্বিতীয় রুকন: সম্পদ প্রদানকারীর মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারীর (ওয়ারিশের) জীবিত থাকা, অথবা নিখোঁজ ব্যক্তির মতো তাকে জীবিত হিসেবে গণ্য করা, কিংবা গর্ভস্থ সন্তানের মতো তাকে জীবিত হিসেবে অনুমান করা। যদি সে তার আগেই মারা যায়, তবে সে তার থেকে উত্তরাধিকার পাবে না।

মহান আল্লাহ বলেন: "পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; তা অল্প হোক বা বেশি—এক নির্ধারিত অংশ।" [আন-নিসা: ৭]

আর তাঁর বাণী "পুরুষদের জন্য" এবং "নারীদের জন্য"-এর মধ্যে ‘লাম’ অক্ষরটি মালিকানা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর মৃত ব্যক্তি মালিকানার যোগ্য নয়।

তৃতীয় রুকন: মৃত ব্যক্তি তার পেছনে কোনো কিছু রেখে যাওয়া। যদি সে কোনো কিছু রেখে না যায়, তবে কোনো উত্তরাধিকার থাকবে না।

মহান আল্লাহ বলেন: "পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; তা অল্প হোক বা বেশি—এক নির্ধারিত অংশ।" [আন-নিসা: ৭]। এখানে দলিলযোগ্য অংশ হলো "যা সে রেখে গেছে"।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকারের শর্তাবলি.

উত্তরাধিকারের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম শর্ত: সম্পদ প্রদানকারীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া অথবা নিখোঁজ ব্যক্তির মতো আইনগতভাবে তাকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত করা, অথবা গর্ভস্থ সন্তানের মতো অনুমিতভাবে তাকে মৃত গণ্য করা—যদি মায়ের ওপর কোনো অপরাধমূলক আঘাতের কারণে সে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৩)
قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

فعلق الإرث بهلاك المورث

الشرط الثاني: تحقق حياة الوارث حين موت المورث، أو إلحاقه بالأحياء حكما كالمفقود، والحمل.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء: 7]

واللام في للرجال وللنساء للملك والميت لايملك

 

الشرط الثالث: العلم بسبب التوارث، من قرابة، أو نكاح، أو ولاء.

عَنِ بُرَيْدَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ وَاحِدٌ فِى الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِى النَّارِ فَأَمَّا الَّذِى فِى الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِى الْحُكْمِ فَهُوَ فِى النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِى النَّارِ».رواه أبو داود (1) حديث صحيح لغيره.

 

‌‌باب: أنواع الإرث.

الإرث نوعان جمعها الرحبي رحمه الله في قوله.

الإرثُ نوعانِ هما … فرضٌ وتعصيبٌ على ماقسما

فالإرثُ في نصِّ الكتابِ سته … لافرضَ في الإرثِّ سواها البته

نصفٌ وربعٌ ثم نصفُ الربعِ … والسدسُ والثلثُ بنصِّ الشرع

والثلثانِ وهما التمامُ … فاحفظْ فكلُّ حافظٍ إمامُ

 

النوع الأول: إرث بالفرض.

--------------------------------------------

(1) سنن أبى داود (3/ 324) باب القاضي يخطىء
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন: যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে আর তার এক বোন থাকে, তবে সে তার রেখে যাওয়া সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি তার (বোনের) কোনো সন্তান না থাকে। যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা তার রেখে যাওয়া সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত।} [আন-নিসা: ১৭৬]

সুতরাং তিনি উত্তরাধিকারকে সম্পত্তি প্রদানকারীর মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় শর্ত: সম্পত্তি প্রদানকারীর মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারীর জীবিত থাকা নিশ্চিত হওয়া, অথবা হুকুমগতভাবে তাকে জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত করা, যেমন নিখোঁজ ব্যক্তি এবং গর্ভস্থ সন্তান।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা অল্প হোক বা বেশি—এ এক নির্ধারিত অংশ।} [আন-নিসা: ৭]

আর 'পুরুষদের জন্য' এবং 'নারীদের জন্য' কথাটিতে যে 'লাম' বর্ণটি রয়েছে, তা মালিকানা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অথচ মৃত ব্যক্তি কোনো কিছুর মালিক হয় না।

 

তৃতীয় শর্ত: উত্তরাধিকারের কারণ সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেমন আত্মীয়তা, বিবাহ অথবা দাসমুক্তিজনিত সম্পর্ক (ওয়ালা)।

বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিচারক তিন প্রকার; এক প্রকার জান্নাতি এবং দুই প্রকার জাহান্নামি। জান্নাতি বিচারক হলো সেই ব্যক্তি, যে সত্যকে জেনেছে এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা করেছে। আর যে ব্যক্তি সত্য জানার পর বিচারে জুলুম করেছে, সে জাহান্নামি। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে বিচার কার্য সম্পাদন করেছে, সেও জাহান্নামি।» আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (১), এটি লি-গাইরিহি সহিহ হাদিস।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকারের প্রকারভেদ.

উত্তরাধিকার দুই প্রকার, যা ইমাম রাহবী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর এই পংক্তিতে সংকলন করেছেন:

উত্তরাধিকার দুই প্রকার তা হলো … নির্ধারিত অংশ এবং আসাবাহ, যে নিয়মে তা বন্টিত হয়েছে।

কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নির্ধারিত উত্তরাধিকার ছয়টি … উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এগুলোর বাইরে কোনো নির্ধারিত অংশ নেই।

অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ ও এক-অষ্টমাংশ … এবং শরয়ি বিধান অনুযায়ী ষষ্ঠাংশ ও এক-তৃতীয়াংশ।

আর দুই-তৃতীয়াংশ, যার মাধ্যমে এটি পূর্ণ হয় … সুতরাং তুমি তা মুখস্থ করো, কারণ প্রত্যেক হাফেজই (স্মৃতিধর) একজন ইমাম।

 

প্রথম প্রকার: নির্ধারিত অংশের (ফরজ) মাধ্যমে উত্তরাধিকার।

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ (৩/ ৩২৪), পরিচ্ছেদ: বিচারকের ভুল করা।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৪)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (1) ومسلم (2)

وأهل الفرائض هم الذين بين الله نصيبهم بالقرآن.

النوع الثاني: إرث بعصبة النسب.

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». رواه مسلم (3)

النوع الثالث: إرث بعصبة الولاء إذا عدمت عصبة النسب.

عن ابن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الولاء لحمة كلحمة النسب لا يباع ولا يوهب) رواه بن حبان (4) والحاكم (5) وصححه وصححه الألباني (6)

وعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: َإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ) رواه البخاري (7) ومسلم (8)

النوع الرابع: إرث بالرد إذا لم يكن فيه عصبة بالنسب ولا بالولاء.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(2) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(3) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(4) صحيح ابن حبان رقم 4950 (ج 11 / ص 325) باب البيع المنهي عنه

(5) المستدرك على الصحيحين للحاكم رقم 7990 (ج 4 / ص 379) كتاب الفرائض

(6) الجامع الصغير وزيادته رقم13113 (ج 1 / ص 1312)

(7) صحيح البخاري رقم1493 (ج 3 / ص 553) بَاب الصَّدَقَةِ عَلَى مَوَالِي أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

(8) صحيح مسلم رقم 3859 (ج 4 / ص 215) باب إنما الولاء لمن اعتق.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো (ফারায়েয) তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষের জন্য।" ইমাম বুখারী (১) ও ইমাম মুসলিম (২) এটি বর্ণনা করেছেন।

আর নির্ধারিত অংশের অধিকারী (আহলুল ফারায়েয) হলেন তারা, যাদের অংশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: রক্ত সম্পর্কীয় আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশের অধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। এরপর নির্ধারিত অংশ যা অবশিষ্ট রাখবে, তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষের জন্য।" ইমাম মুসলিম (৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয় প্রকার: আযাদকারী ও আযাদকৃত দাসের (ওয়ালা) আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার, যখন রক্ত সম্পর্কীয় আসাবা বিদ্যমান না থাকে।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ওয়ালা (মুক্ত করার সম্পর্ক) হচ্ছে বংশীয় সম্পর্কের মতো একটি বন্ধন, যা বিক্রি করা যায় না এবং দানও করা যায় না।" ইবনে হিব্বান (৪) ও হাকেম (৫) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানীও (৬) একে সহীহ বলেছেন।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই 'ওয়ালা' তার জন্য যে মুক্ত করে দিয়েছে।" ইমাম বুখারী (৭) ও ইমাম মুসলিম (৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ প্রকার: 'রাদ' (উদ্বৃত্ত অংশ বণ্টন) এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার, যদি সেখানে রক্ত সম্পর্কীয় বা ওয়ালা সম্পর্কের কোনো আসাবা না থাকে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, নম্বর ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১), অনুচ্ছেদ: পিতা ও মাতার পক্ষ থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(২) সহীহ মুসলিম, ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষের জন্য।

(৩) সহীহ মুসলিম, ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষের জন্য।

(৪) সহীহ ইবনে হিব্বান, নম্বর ৪৯৫০ (খণ্ড ১১ / পৃষ্ঠা ৩২৫), অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়।

(৫) হাকেম প্রণীত আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, নম্বর ৭৯৯০ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৩৭৯), কিতাবুল ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন)।

(৬) আল-জামেউস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, নম্বর ১৩১১৩ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ১৩১২)।

(৭) সহীহ বুখারী, নম্বর ১৪৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৫৫৩), অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের আযাদ করা দাস-দাসীদের সাদকা প্রদান।

(৮) সহীহ মুসলিম, নম্বর ৩৮৫৯ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ২১৫), অনুচ্ছেদ: নিশ্চয়ই ওয়ালা তার জন্য যে মুক্ত করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৫)
فيرد الباقي بعد الفروض إن لم يكن فيه عصبة على أصحاب الفروض على قدر فروضهم بسبب القرابة ولا يرد على الزوجين لعدم القرابة.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء: 7]

النوع الخامس: إرث بالرحم إن لم يكن فيه عاصب بالنسب ولابالولاء ولا صاحب فرض يرد له المال غير الزوجين.

قَالَ تَعَالَى: {وَأُوْلُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلَّا أَن تَفْعَلُوا إِلَى أَوْلِيَائِكُم مَّعْرُوفاً كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُوراً} [الأحزاب: 6]

و عَنِ الْمِقْدَامِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «الْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ يَفُكُّ عَانِيَهُ وَيَرِثُ مَالَهُ». رواه أبو داود (1) وصححه الألباني (2)

وعن عمر بن الخطاب و عائشة رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (الخال وارث من لا وارث له) رواه الترمذي (3) وحسنه الألباني (4)

النوع السادس: إرث بالولاية العامة على المسلمين وتسمى ببيت المال إذا انعدم الإرث بالعصبة والرد والرحم.

--------------------------------------------

(1) () سنن أبى داود رقم2903 (ج 3 / ص 83)

(2) () الجامع الصغير وزيادته رقم2354 (ج 1 / ص 236)

(3) سنن الترمذي رقم2103 (ج 4 / ص 421) ميراث الخال

(4) () إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل رقم 1700 (ج 6 / ص 137)
নির্ধারিত অংশগুলো (ফরজ) বণ্টনের পর যদি কোনো আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী) না থাকে, তবে অবশিষ্ট অংশ নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে অংশীদারদের মাঝে তাদের নির্ধারিত অংশের অনুপাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বৈবাহিক সম্পর্কজনিত উত্তরাধিকারী হওয়ায় এবং রক্তীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর ওপর তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা অল্প হোক কিংবা বেশি—এক নির্ধারিত অংশ।} [আন-নিসা: ৭]

পঞ্চম প্রকার: জাবিল আরহাম (দূরবর্তী রক্তীয় আত্মীয়) এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার, যদি সেখানে বংশীয় বা আযাদকরণসূত্রে কোনো আসাবা না থাকে এবং স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত এমন কোনো নির্ধারিত অংশের অংশীদার না থাকে যার ওপর সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহর বিধানে মুমিন ও মুহাজিরদের অপেক্ষা জাবিল আরহামগণ একে অপরের অধিক নিকটবর্তী। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি কোনো কল্যাণমূলক কাজ করতে চাও (তা করতে পারো)। এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।} [আল-আহযাব: ৬]

মিকদাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মামু ওই ব্যক্তির উত্তরাধিকারী যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই; তিনি তার বন্দিকে মুক্ত করেন (বা জরিমানা আদায় করেন) এবং তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হন।" এটি আবু দাউদ (১) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (২) একে সহীহ বলেছেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মামু ওই ব্যক্তির উত্তরাধিকারী যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই।" এটি তিরমিযী (৩) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে হাসান বলেছেন।

ষষ্ঠ প্রকার: মুসলমানদের ওপর সাধারণ অভিভাবকত্বের মাধ্যমে উত্তরাধিকার, যাকে বাইতুল মাল বলা হয়; যখন আসাবা, রদ এবং জাবিল আরহামের মাধ্যমে উত্তরাধিকারের আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকে না।

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, নম্বর ২৯০৩ (৩য় খণ্ড / পৃষ্ঠা ৮৩)

(২) আল-জামিউস সগির ওয়া যিয়াদাতুহু, নম্বর ২৩৫৪ (১ম খণ্ড / পৃষ্ঠা ২৩৬)

(৩) সুনান তিরমিযী, নম্বর ২১০৩ (৪র্থ খণ্ড / পৃষ্ঠা ৪২১), মামার উত্তরাধিকার অধ্যায়

(৪) ইরওয়াউল গালীল ফি তাখরিজি আহাদিসি মানারিস সাবিল, নম্বর ১৭০০ (৬ষ্ঠ খণ্ড / পৃষ্ঠা ১৩৭)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৬)
عَنْ الْمِقْدَامِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «أَنَا وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ أَفُكُّ عَانِيَهُ وَأَرِثُ مَالَهُ». رواه أبو داود (1) وصححه الألباني (2)

و عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الله ورسوله مولى من لا مولى له) رواه الترمذي (3) وحسنه الألباني (4)

 

‌‌باب: أسباب الإرث.

الأسباب التي يرث بها الحي من الميت ثلاثة.

جمعها الرحبي رحمه الله في قوله:

أسباب ميراث الورى ثلاثه … كل يفيد ربه الوراثه

وهي … وهي نكاح وولاء ونسب

مابعدهن للمواريث سبب

 

السبب الأول: الزواج.

فعقد الزواج الصحيح على المسلمة (5) الحرة (6) يتوارث به الزوجان وإن لم يحصل جماع ولا خلوة.

--------------------------------------------

(1) سنن أبى داود رقم2903 (ج 3 / ص 83)

(2) الجامع الصغير وزيادته رقم2354 (ج 1 / ص 236)

(3) سنن الترمذي رقم2103 (ج 4 / ص 421) ميراث الخال

(4) إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل رقم 1700 (ج 6 / ص 137)

(5) فإن كانت الزوجة كافرة كالكتابية فلا توارث بينهما لاختلاف الدين فلا يرثها ولا ترثه.

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ)

(6) فإن كانت الزوجة أمة فلا توارث بينهما فلا يرثها لأن مالها لسيدها وليس لها ولا ترثه لأنها لا تملك إذ هي مملوكة لسيدها.
মিকদাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "আমি ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকারী যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই; আমি তার বন্দীকে মুক্তি দেব এবং তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হব।" আবু দাউদ (১) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (২) একে সহীহ বলেছেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঐ ব্যক্তির অভিভাবক যার কোনো অভিভাবক নেই।" তিরমিযী (৩) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে হাসান বলেছেন।

 

‌‌অধ্যায়: উত্তরাধিকারের কারণসমূহ.

যে সকল কারণে জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির নিকট থেকে উত্তরাধিকার লাভ করে তা তিনটি।

ইমাম রাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কবিতায় এগুলোকে একত্রে বর্ণনা করেছেন:

মানুষের উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি … যার প্রতিটিই অধিকারীকে উত্তরাধিকার প্রদান করে

আর সেগুলো হলো … বিবাহ, দাসমুক্তি (ওয়ালা) এবং বংশীয় সম্পর্ক

এগুলো ছাড়া উত্তরাধিকার লাভের আর কোনো কারণ নেই

 

প্রথম কারণ: বিবাহ।

কোনো স্বাধীন (৬) মুসলিম নারীর (৫) সাথে সঠিক বিবাহ চুক্তির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের উত্তরাধিকারী হয়, যদিও সহবাস বা নির্জনবাস সংঘটিত না হয়।

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ নম্বর ২৯০৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৮৩)

(২) আল-জামেউস সগির ওয়া যিয়াদাতুহু নম্বর ২৩৫৪ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ২৩৬)

(৩) সুনানে তিরমিযী নম্বর ২১০৩ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৪২১) মামার উত্তরাধিকার অধ্যায়

(৪) ইরওয়াউল গালীল ফী তাখরিজি আহাদিস মানারুস সাবিল নম্বর ১৭০০ (খণ্ড ৬ / পৃষ্ঠা ১৩৭)

(৫) স্ত্রী যদি কাফের হয় যেমন আহলে কিতাব নারী, তবে ধর্মের ভিন্নতার কারণে তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকার হবে না; ফলে স্বামী তার উত্তরাধিকারী হবে না এবং স্ত্রীও স্বামীর উত্তরাধিকারী হবে না।

উসামা ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফেরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।"

(৬) স্ত্রী যদি দাসী হয় তবে তাদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকার থাকবে না। স্বামী তার উত্তরাধিকারী হবে না কারণ তার সম্পদ তার মালিকের জন্য, তার নিজের নয়। আর সেও স্বামীর উত্তরাধিকারী হবে না কারণ সে মালিকানার অধিকারী নয়, যেহেতু সে তার মুনিবের মালিকানাধীন।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ تَعَالَى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

و ٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه:فِى رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَمَاتَ عَنْهَا وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا الصَّدَاقَ فَقَالَ لَهَا الصَّدَاقُ كَامِلاً وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ. فَقَالَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِهِ فِى بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ. رواه أبو داود (1) وصححه الألباني (2)

السبب الثاني: النسب بجهاته الأربع.

الجهة الأولى: الأبوة؛ وهم الآباء وآباؤهم والأمهات وأمهاتهن.

قَالَ تَعَالَى: {وَلأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلأُمِّهِ السُّدُسُ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ آبَآؤُكُمْ وَأَبناؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيما حَكِيماً} [النساء: 11]

--------------------------------------------

(1) سنن أبى داود رقم2116 (2/ 202) باب فِيمَنْ تَزَوَّجَ وَلَمْ يُسَمِّ صَدَاقًا حَتَّى مَاتَ

(2) () صحيح أبي داود رقم 1839 (6/ 341)
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তারা যা রেখে গেছে তা থেকে তোমাদের জন্য চারভাগের একভাগ; তারা যে অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। আর তারা তোমাদের ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে চারভাগের একভাগ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তারা তোমাদের ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে আটভাগের একভাগ পাবে; তোমরা যে অসিয়ত করো তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর।} [আন-নিসা: ১২]

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন, অতঃপর তার সাথে বাসর করার পূর্বেই এবং তার জন্য মোহর নির্ধারণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: ঐ নারীর জন্য পূর্ণ মোহর রয়েছে, তার ওপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক এবং সে মিরাস (উত্তরাধিকার) পাবে। তখন মা’কিল ইবনে সিনান বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিরওয়া বিনতে ওয়াশিক-এর ব্যাপারে এরূপই ফয়সালা দিতে শুনেছি। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (১) এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন (২)।

দ্বিতীয় কারণ: চার প্রকারের বংশীয় আত্মীয়তা।

প্রথম প্রকার: পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব; তারা হলেন পিতা ও তাঁদের পিতৃপুরুষগণ এবং মাতা ও তাঁদের মাতৃকুল।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয়ভাগের একভাগ, যদি তার সন্তান থাকে। আর যদি তার কোন সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই কেবল তার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মায়ের জন্য তিনভাগের একভাগ। কিন্তু যদি তার ভাই-বোন থাকে, তবে তার মায়ের জন্য ছয়ভাগের একভাগ; সে যা অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারে অধিক নিকটবর্তী তা তোমরা জান না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: ১১]

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, নম্বর ২১১৬ (২/ ২০২), অধ্যায়: মোহর নির্ধারণ না করে বিয়ে করার পর মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি প্রসঙ্গে।

(২) () সহিহ আবু দাউদ, নম্বর ১৮৩৯ (৬/ ৩৪১)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৮)
الجهة الثانية: البنوة؛ وهم الأبناء وأبناؤهم. قَالَ تَعَالَى: {يُوصِيكُمُ اللّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ فَإِن كُنَّ نِسَاء فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء: 11]

و قَالَ تَعَالَى: {آبَآؤُكُمْ وَأَبناؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيما حَكِيماً} [النساء: 11]

الجهة الثالثة: الأخوة؛ وهم الإخوان وأبناؤهم.

كإخوة الميت من أبويه أومن أبيه فقط. قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

أو إخوة الميت من أمه. قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَو امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ فَإِن كَانُوَاْ أَكْثَرَ مِن ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاء فِي الثُّلُثِ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَآرٍّ وَصِيَّةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء: 12]

الجهة الرابعة: الأعمام وأبناؤهم.
দ্বিতীয় দিক: সন্তানত্ব; তারা হলো পুত্রগণ এবং তাদের সন্তানগণ। মহান আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু যদি কেবল দুইয়ের অধিক কন্যা থাকে, তবে তাদের জন্য ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা সে রেখে গেছে। আর যদি একজনই হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক।” [আন-নিসা: ১১]

এবং মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের পিতা এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারের দিক থেকে অধিক নিকটতর, তা তোমরা জানো না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [আন-নিসা: ১১]

তৃতীয় দিক: ভ্রাতৃত্ব; তারা হলো ভাইগণ এবং তাদের সন্তানগণ।

যেমন মৃত ব্যক্তির আপন ভাই অথবা কেবল বৈমাত্রেয় ভাই। মহান আল্লাহ বলেন: “তারা তোমার নিকট ফতোয়া জানতে চায়। বলো: আল্লাহ তোমাদের ‘কালালাহ’ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন; যদি কোনো পুরুষ মারা যায় যার কোনো সন্তান নেই এবং তার এক বোন থাকে, তবে তার জন্য সে যা রেখে গেছে তার অর্ধেক। আর সে তার উত্তরাধিকারী হবে যদি তার কোনো সন্তান না থাকে। অতঃপর যদি দুই বোন হয়, তবে তাদের জন্য সে যা রেখে গেছে তার তিন ভাগের দুই ভাগ। আর যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান। আল্লাহ তোমাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” [আন-নিসা: ১৭৬]

অথবা মৃত ব্যক্তির বৈপিত্রেয় ভাই। মহান আল্লাহ বলেন: “আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকার ‘কালালাহ’ হিসেবে বণ্টিত হয় এবং তার থাকে এক ভাই অথবা এক বোন, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। আর যদি তারা এর অধিক হয়, তবে তারা সবাই তিন ভাগের এক ভাগে অংশীদার হবে; এটি করা হবে অসিয়ত বা ঋণের পর, যা দ্বারা ক্ষতি করা হয় না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল।” [আন-নিসা: ১২]

চতুর্থ দিক: চাচাগণ এবং তাদের সন্তানগণ।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ৯)
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (1) ومسلم (2)

ولمسلم (3) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».

وعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةُ سَعْدِ بِابْنَتَيْنِ لَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَاتَانِ بِنْتَا سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ قُتِلَ مَعَكَ يَوْمَ أُحُدٍ وَقَدِ اسْتَفَاءَ عَمُّهُمَا مَالَهُمَا وَمِيرَاثَهُمَا كُلَّهُ فَلَمْ يَدَعْ لَهُمَا مَالاً إِلَاّ أَخَذَهُ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم لِعَمِّهِمَا «أَعْطِهِمَا الثُّلُثَيْنِ وَأَعْطِ أُمَّهُمَا الثُّمُنَ وَمَا بَقِىَ فَلَكَ».رواه أبو داود (4) وحسنه الألباني (5)

 

السبب الثالث: الولاء.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(2) () صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(3) () صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(4) () سنن أبى داود رقم2893 (ج 3 / ص 80) باب مَا جَاءَ فِى مِيرَاثِ الصُّلْبِ

(5) () صحيح أبي داود رقم2514 (ج 2 / ص 560)
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য)। বুখারী (১) ও মুসলিম (২) এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং মুসলিমের বর্ণনায় (৩) রয়েছে: "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর নির্দিষ্ট অংশ প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।"

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাদ-এর স্ত্রী তার দুই কন্যাকে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরা দুজন সাদ ইবনে রাবি‘র কন্যা, যে আপনার সাথে উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তাদের চাচা তাদের সমস্ত সম্পদ ও মিরাস নিয়ে নিয়েছে এবং তাদের জন্য কোনো সম্পদ অবশিষ্ট রাখেনি যা সে গ্রহণ করেনি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের চাচাকে বললেন: "তাদের দুজনকে দুই-তৃতীয়াংশ দাও এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার জন্য।" আবু দাউদ (৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৫) একে হাসান বলেছেন।

 

তৃতীয় কারণ: আল-ওয়ালা (মুক্ত দাসের উত্তরাধিকার)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১), অনুচ্ছেদ: পিতা ও মাতা হতে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(২) সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।

(৩) সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।

(৪) সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৮৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৮০), অনুচ্ছেদ: সন্তানদের উত্তরাধিকার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।

(৫) সহীহ আবু দাউদ, হাদিস নং ২৫১৪ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ৫৬০)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১০)
عن ابن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الولاء لحمة كلحمة النسب لا يباع ولا يوهب) رواه بن حبان (1) والحاكم (2) وصححه وصححه الألباني (3)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ).رواه البخاري (4) ومسلم (5)

فالمعتق ذكراً كان أوأنثى يرث من عبده المعتق تعصيباً إذا لم يكن له وارث من النسب أو وجد وارث من النسب ممنوع من الإرث بأحد موانع الإرث الثلاثة.

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: َإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ) رواه البخاري (6) ومسلم (7)

فالولاء يرث به المسلم عبده المسلم الذي أعتقه لا الكافر لاختلاف الدين.

عن ابن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الولاء لحمة كلحمة النسب لا يباع ولا يوهب) رواه بن حبان (8) والحاكم (9) وصححه وصححه الألباني (10)

--------------------------------------------

(1) صحيح ابن حبان رقم 4950 (ج 11 / ص 325) باب البيع المنهي عنه

(2) () المستدرك على الصحيحين للحاكم رقم 7990 (ج 4 / ص 379) كتاب الفرائض

(3) () الجامع الصغير وزيادته رقم13113 (ج 1 / ص 1312)

(4) () صحيح البخاري رقم 2535 (ج 6 / ص 388) بَاب بَيْعِ الْوَلَاءِ وَهِبَتِهِ

(5) صحيح مسلم رقم 3861 (ج 4 / ص 216) باب النَّهْىِ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَهِبَتِهِ

(6) صحيح البخاري رقم1493 (ج 3 / ص 553) بَاب الصَّدَقَةِ عَلَى مَوَالِي أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

(7) صحيح مسلم رقم 3859 (ج 4 / ص 215) باب إنما الولاء لمن اعتق.

(8) صحيح ابن حبان رقم 4950 (ج 11 / ص 325) باب البيع المنهي عنه

(9) () المستدرك على الصحيحين للحاكم رقم 7990 (ج 4 / ص 379) كتاب الفرائض

(10) () الجامع الصغير وزيادته رقم13113 (ج 1 / ص 1312)
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ওয়ালা বা মুক্তিদাসের সাথে সম্পর্ক বংশীয় সম্পর্কের ন্যায় একটি নিবিড় বন্ধন, যা বিক্রি করা যায় না এবং দানও করা যায় না) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান (১) ও হাকেম (২) এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন (৩)

এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওয়ালা বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৪) ও মুসলিম (৫)

সুতরাং মুক্তিদানকারী পুরুষ হোক বা নারী, সে তার মুক্তদাসের উত্তরাধিকার থেকে আসাবা হিসেবে অংশ পাবে যদি তার কোনো বংশীয় উত্তরাধিকারী না থাকে অথবা যদি কোনো বংশীয় উত্তরাধিকারী থাকা সত্ত্বেও সে উত্তরাধিকারের তিনটি বাধার কোনো একটির কারণে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৬) ও মুসলিম (৭)

সুতরাং ওয়ালার উত্তরাধিকারের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার সেই মুসলিম দাসের উত্তরাধিকারী হবে যাকে সে মুক্ত করেছে; কিন্তু কাফির উত্তরাধিকারী হবে না ধর্মের ভিন্নতার কারণে।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ওয়ালা বা মুক্তিদাসের সাথে সম্পর্ক বংশীয় সম্পর্কের ন্যায় একটি নিবিড় বন্ধন, যা বিক্রি করা যায় না এবং দানও করা যায় না) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান (৮) ও হাকেম (৯) এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন (১০)

--------------------------------------------

(১) সহীহ ইবনে হিব্বান নম্বর ৪৯৫০ (খণ্ড ১১ / পৃষ্ঠা ৩২৫) নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়

(২) () হাকেম প্রণীত আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন নম্বর ৭৯৯০ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৩৭৯) ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) কিতাব

(৩) () আল-জামি আস-সাগীর ওয়া জিয়াদাতুহু নম্বর ১৩১১৩ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ১৩১২)

(৪) () সহীহ বুখারী নম্বর ২৫৩৫ (খণ্ড ৬ / পৃষ্ঠা ৩৮৮) ওয়ালা বিক্রি ও দান অধ্যায়

(৫) সহীহ মুসলিম নম্বর ৩৮৬১ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ২১৬) ওয়ালা বিক্রি ও দান করা নিষেধ সংক্রান্ত অধ্যায়

(৬) সহীহ বুখারী নম্বর ১৪৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৫৫৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের মুক্তদাসদের সাদকা করার অধ্যায়

(৭) সহীহ মুসলিম নম্বর ৩৮৫৯ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ২১৫) নিশ্চয়ই ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে অধ্যায়।

(৮) সহীহ ইবনে হিব্বান নম্বর ৪৯৫০ (খণ্ড ১১ / পৃষ্ঠা ৩২৫) নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়

(৯) () হাকেম প্রণীত আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন নম্বর ৭৯৯০ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৩৭৯) ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) কিতাব

(১০) () আল-জামি আস-সাগীর ওয়া জিয়াদাতুহু নম্বর ১৩১১৩ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ১৩১২)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১১)
فإذا كان الولاء كلحمة النسب والمسلم لا يرث الكافر مع ثبوت النسب فكذلك المسلم لا يرث الكافر مع ثبوت الولاء.

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنْزِلُ فِى دَارِكَ بِمَكَّةَ فَقَالَ «وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مِنْ رِبَاعٍ أَوْ دُورٍ». وَكَانَ عَقِيلٌ وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ هُوَ وَطَالِبٌ وَلَمْ يَرِثْهُ جَعْفَرٌ وَلَا عَلِىٌّ شَيْئًا لأَنَّهُمَا كَانَا مُسْلِمَيْنِ وَكَانَ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ كَافِرَيْنِ. رواه البخاري (1) ومسلم (2)

 

‌‌باب: موانع الإرث.

يمنع الوارث من أخذ إرثه الثابت له ثلاثة موانع بها يصبح وجوده كعدمه.

جمعها الرحبي رحمه الله في قوله:

ويمنعُ الشخصَ مِنَ الميراثِ … واحدةٌ مِنَ عِلَلٍ ثَلاًثِ

رقٌ وقتلٌ واختلافُ دينِ … فافهمْ فَلَيْسَ الشكُ كَالْيَقينِ

 

المانع الأول: الرق.

فالرقيق بجميع أنواعه (3) لا يرث من زوجه ولا من قرابته لأنه لا يملك إذ هو مملوك لسيده.

ولا يرثه زوجه ولا قرابته لأنه وماله لسيده فلا مال له ولا يحجب أحداً عن الميراث فوجوده كعدمه.

المانع الثاني: القتل.

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم «لَيْسَ لِلْقَاتِلِ شَىْءٌ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَارِثٌ فَوَارِثُهُ أَقْرَبُ النَّاسِ إِلَيْهِ وَلَا يَرِثُ الْقَاتِلُ شَيْئًا».رواه أبو داود (4) وصححه الألباني (5)

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم 1589 (ج 4 / ص 105) بَاب نُزُولِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ

(2) صحيح مسلم رقم3360 (ج 4 / ص 108) باب النزول بمكة للحاج

(3) الرقيق سبعة أنواع القن والمكاتب و المدبر وأم الولد والمعلق والموصى بعتقه والمبعض.

(4) سنن أبى داود رقم 4566 (ج 4 / ص 313) باب ديات الأعضاء

(5) الجامع الصغير وزيادته رقم9553 (ج 1 / ص 956)
যেহেতু ওয়ালা (আনুগত্যের সম্পর্ক) বংশীয় সম্পর্কের মতো, আর বংশীয় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না, সেহেতু ওয়ালা থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না।

উসামাহ বিন যায়িদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মক্কায় আপনার নিজ ঘরে অবস্থান করবেন?" তিনি বললেন, "আকিল কি আমাদের জন্য কোনো ঘর-বাড়ি বা ভূসম্পত্তি বাকি রেখেছে?" আকিল এবং তালিব তাদের পিতা আবু তালিবের উত্তরাধিকারী হয়েছিল, কিন্তু জা'ফর এবং আলী কোনো কিছুর উত্তরাধিকারী হননি। কারণ তারা দুজন মুসলিম ছিলেন, আর আকিল ও তালিব কাফির ছিল। বুখারি (১) এবং মুসলিম (২) এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ.

উত্তরাধিকারীর জন্য নির্ধারিত মীরাস লাভে তিনটি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যার উপস্থিতিতে উত্তরাধিকারীর অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য হয়।

রাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) তার কবিতায় এগুলো এভাবে একত্রিত করেছেন:

ব্যক্তিকে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করে … তিনটি কারণের যেকোনো একটি

দাসত্ব, হত্যা এবং ধর্মের ভিন্নতা … বুঝে নাও, সংশয় নিশ্চিত জ্ঞানের মতো নয়

 

প্রথম প্রতিবন্ধকতা: দাসত্ব।

সকল প্রকারের দাস (৩) তার স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়দের থেকে উত্তরাধিকার পায় না; কারণ সে কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না, যেহেতু সে তার মুনিবের মালিকানাধীন।

তেমনিভাবে তার স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়রাও তার উত্তরাধিকারী হয় না; কারণ সে এবং তার সম্পদ তার মুনিবের। ফলে তার কোনো নিজস্ব সম্পদ থাকে না এবং সে অন্য কাউকেও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত (হাজব) করে না; তার উপস্থিতি অনুপস্থিতির মতোই গণ্য।

দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা: হত্যা।

আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হত্যাকারীর জন্য (মীরাসের) কিছুই নেই। এমনকি নিহতের যদি কোনো উত্তরাধিকারী না-ও থাকে, তবে তার নিকটতম ব্যক্তিই উত্তরাধিকারী হবে, কিন্তু হত্যাকারী কিছুই পাবে না।" আবু দাউদ (৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৫) একে সহীহ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারি, নম্বর ১৫৮৯ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ১০৫), পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কায় অবতরণ।

(২) সহীহ মুসলিম, নম্বর ৩৩৬০ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ১০৮), পরিচ্ছেদ: হাজীদের মক্কায় অবতরণ।

(৩) দাস সাত প্রকার: ক্বিন (পূর্ণ দাস), মুকাতাব (চুক্তিভুক্ত), মুদাব্বার (মৃত্যুর পর স্বাধীন হওয়ার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত), উম্মুল ওয়ালাদ (সন্তানের জননী দাসী), মুআল্লাক (শর্তাধীন স্বাধীন), অসিয়তকৃত স্বাধীন এবং মুবা'আদ (আংশিক স্বাধীন)।

(৪) সুনান আবু দাউদ, নম্বর ৪৫৬৬ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৩১৩), পরিচ্ছেদ: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্তপণ।

(৫) আল-জামি' আস-সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, নম্বর ৯৫৫৩ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ৯৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১২)
فالقاتل عمداً أو خطأً: لا يرث من زوجه إذا قتله ولا من قريبه إذا قتله ولا ممن أعتق إذا قتله فوجوده كعدمه.

 

المانع الثالث: اختلاف الدين.

فالحي المسلم: لا يرث شيئاً من مال الكافر لا بالزوجية ولا بالنسب ولا بالولاء فوجوده كعدمه.

والحي الكافر: لا يرث شيئاً من مال المسلم لا بالنسب ولا بالولاء فوجوده كعدمه.

عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ) رواه البخاري (1) ومسلم (2)

وكذلك: أهل ملتين لا يتوارثون بالزوجية ولا بالقرابة ولا بالنسب

لا اختلاف دينهما كاليهودية والنصرانية.

وكذا: سائر الملل المختلفة لا يتوارثون بالزوجية ولا بالقرابة ولا بالنسب لا اختلاف الدين.

و يتوارث أهل الملة الواحدة بالزوجية والقرابة والنسب

للإتفاق في الدين.

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «لَا يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ شَتَّى». رواه أبو داود (3) وصححه الألباني (4)

فائدة: معرفة حكم التوارث بين الملل يفيد لو تحاكم إلى مسلم أهل ملتين فيحكم بينهما بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم أو يتركهما.

قَالَ تَعَالَى: {فَإِن جَآؤُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُم أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئاً وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} [المائدة: 42]

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6764 … (ج 17 / ص 94) بَاب لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ

(2) صحيح مسلم رقم4225 (ج 5 / ص 59) الفرائض

(3) سنن أبى داود رقم2913 (ج 3 / ص 85) باب هل يرث المسلم الكافر.

(4) صحيح وضعيف سنن أبي داود رقم2911 (ج 1 / ص 2)
সুতরাং ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত হত্যাকারী: সে তার স্ত্রী বা স্বামীকে হত্যা করলে তার থেকে মিরাস পাবে না, তার নিকটাত্মীয়কে হত্যা করলে তার থেকে মিরাস পাবে না এবং যাকে সে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছে তাকে হত্যা করলে তার থেকেও মিরাস পাবে না। সুতরাং (উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে) তার অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য হবে।

 

তৃতীয় প্রতিবন্ধক: ধর্মের ভিন্নতা।

সুতরাং জীবিত মুসলিম: সে কাফেরের সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পাবে না—বৈবাহিক সম্পর্কের কারণেও নয়, বংশীয় সম্পর্কের কারণেও নয়, আবার মুক্তিদাতার সম্পর্কের (ওয়ালা) কারণেও নয়। অতএব তার অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য হবে।

এবং জীবিত কাফের: সে মুসলিমের সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পাবে না—বংশীয় সম্পর্কের কারণেও নয়, ওয়ালা-এর সম্পর্কের কারণেও নয়। অতএব তার অস্তিত্ব না থাকার মতোই গণ্য হবে।

উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফেরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।" এটি বুখারী (১) ও মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।

তদ্রূপ: দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা বৈবাহিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা বা বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না। তাদের ধর্মের ভিন্নতাই এর কারণ, যেমন ইহুদি ধর্ম ও খ্রিষ্টধর্ম।

এবং একইভাবে: অন্যান্য সমস্ত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও বৈবাহিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা বা বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না, ধর্মের ভিন্নতার কারণে।

আর একই ধর্মের অনুসারীরা বৈবাহিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা ও বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে।

যেহেতু তাদের ধর্ম অভিন্ন।

আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারে না।" এটি আবু দাউদ (৩) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে সহীহ বলেছেন।

জ্ঞাতব্য: বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে উত্তরাধিকারের বিধান জানা এই জন্য উপকারী যে, যদি দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারী কোনো মুসলিমের কাছে বিচারের জন্য আসে, তবে তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী তাদের মধ্যে বিচার করবেন অথবা তাদের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তারা যদি আপনার কাছে আসে তবে আপনি তাদের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করুন অথবা তাদের উপেক্ষা করুন। আর আপনি যদি তাদের উপেক্ষা করেন তবে তারা আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু আপনি যদি বিচার করেন তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে বিচার করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।} [আল-মায়িদাহ: ৪২]

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৬৪ … (১৭শ খণ্ড / ৯৪ পৃষ্ঠা) অধ্যায়: মুসলিম কাফেরের মিরাস পাবে না এবং কাফেরও মুসলিমের মিরাস পাবে না।

(২) সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪২২৫ (৫ম খণ্ড / ৫৯ পৃষ্ঠা) মিরাস অধ্যায়।

(৩) সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৯১৩ (৩য় খণ্ড / ৮৫ পৃষ্ঠা) অধ্যায়: মুসলিম কি কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে?

(৪) সহীহ ও যয়ীফ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৯১১ (১ম খণ্ড / ২ পৃষ্ঠা)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كتاب: الوارث.

‌‌باب: تعريف الوارث.

الوارث: لغة. الباقي.

قَالَ تَعَالَى: {فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلأُمِّهِ الثُّلُثُ} ا [النساء: 11] وورثه أبواها أي بقي بعده

الوارث: شرعاً. هو من يأخذ كل ما تركه الميت أو بعضه.

قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

 

‌‌باب: أقسام الوارث ستة.

القسم الأول: وارث بالفرض الذي فرضه الله له من النصف أو الربع أو الثمن أو السدس أو الثلث أو الثلثان.

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (1) ومسلم (2)

القسم الثاني: وارث بعصبة النسب.

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». رواه مسلم (3)

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(2) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(3) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
গ্রন্থ: ওয়ারিশ (উত্তরাধিকারী).

অধ্যায়: ওয়ারিশের সংজ্ঞা.

ওয়ারিশ: আভিধানিক অর্থে অবশিষ্ট বা উত্তরজীবী ব্যক্তি।

মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতা তার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।} [নিসা: ১১]। এখানে ‘তার পিতা-মাতা তার উত্তরাধিকারী হয়’ অর্থ হলো—তারা তার মৃত্যুর পর অবশিষ্ট থাকল বা জীবিত থাকল।

ওয়ারিশ: শরয়ি পরিভাষায়—সে ব্যক্তি, যে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সবটুকু অথবা কিছু অংশ সম্পদ লাভ করে।

মহান আল্লাহ বলেন: {লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া বা ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ‘কালালাহ’ (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন; যদি কোনো পুরুষ মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে আর তার এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার রেখে যাওয়া সম্পদের অর্ধেক। আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি তার (বোনের) কোনো সন্তান না থাকে। যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা তার রেখে যাওয়া সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর সমান হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [নিসা: ১৭৬]

 

অধ্যায়: ওয়ারিশের প্রকারভেদ ছয়টি.

প্রথম প্রকার: নির্ধারিত অংশ (ফর্দ) অনুযায়ী ওয়ারিশ; যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারিত করেছেন—অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ, এক-অষ্টমাংশ, এক-ষষ্ঠাংশ, এক-তৃতীয়াংশ অথবা দুই-তৃতীয়াংশ।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নির্ধারিত অংশগুলো তাদের প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।” বুখারি (১) ও মুসলিম (২) এটি বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: বংশীয় আসাবা (রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়) হিসেবে ওয়ারিশ।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশগুলো তাদের প্রাপকদের মধ্যে বণ্টন করো, অতঃপর নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।” মুসলিম (৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারি, নম্বর ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১), অধ্যায়: পিতা ও মাতার নিকট হতে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(২) সহীহ মুসলিম ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অধ্যায়: নির্ধারিত অংশগুলো তাদের প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।

(৩) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), অধ্যায়: নির্ধারিত অংশগুলো তাদের প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৪)
القسم الثالث: وارث بعصبة الولاء إن لم يكن للميت وارث بعصبة النسب.

عن ابن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الولاء لحمة كلحمة النسب لا يباع ولا يوهب) رواه بن حبان (1) والحاكم (2) وصححه وصححه الألباني (3)

وعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: َإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ) رواه البخاري (4) ومسلم (5)

النوع الرابع: وارث بالرد إذا لم يكن فيه عصبة بالنسب ولا بالولاء.

فيرد الباقي بعد الفروض إن لم يكن فيه عصبة بالنسب ولابالولاء على أصحاب الفروض على قدر فروضهم للقرابة بالميت ولا يرد على الزوجين لعدم القرابة.

قَالَ تَعَالَى: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاء نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَّفْرُوضاً} [النساء:7]

القسم الخامس: وارث بالرحم إن لم يكن للميت وارث بالنسب ولا بالولاء ولا صاحب فرض يرد له المال غير الزوجين.

قَالَ تَعَالَى: {وَأُوْلُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلَّا أَن تَفْعَلُوا إِلَى أَوْلِيَائِكُم مَّعْرُوفاً كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُوراً} [الأحزاب: 6]

--------------------------------------------

(1) صحيح ابن حبان رقم 4950 (ج 11 / ص 325) باب البيع المنهي عنه

(2) () المستدرك على الصحيحين للحاكم رقم 7990 (ج 4 / ص 379) كتاب الفرائض

(3) () الجامع الصغير وزيادته رقم13113 (ج 1 / ص 1312)

(4) صحيح البخاري رقم1493 (ج 3 / ص 553) بَاب الصَّدَقَةِ عَلَى مَوَالِي أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

(5) صحيح مسلم رقم 3859 (ج 4 / ص 215) باب إنما الولاء لمن اعتق.
তৃতীয় বিভাগ: আযাদ করার কারণে সৃষ্ট আসাবাত (উত্তরাধিকারী), যদি মৃতের বংশীয় আসাবাত থেকে কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে।

ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আযাদ করার কারণে সৃষ্ট সম্পর্ক (ওয়ালা) বংশীয় সম্পর্কের মতোই সুদৃঢ়, যা বিক্রয় করা যায় না এবং দানও করা যায় না।" এটি ইবনে হিব্বান (১) ও আল-হাকিম (২) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং আলবানী (৩) একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন।

আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ওয়ালা (উত্তরাধিকার লাভের অধিকার) তারই প্রাপ্য যে আযাদ বা মুক্ত করেছে।" এটি বুখারী (৪) ও মুসলিম (৫) বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ প্রকার: রাদ্দ (অবশিষ্টাংশ ফেরত পাওয়া) এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হওয়া, যখন সেখানে বংশীয় বা আযাদ করার কারণে কোনো আসাবাত না থাকে।

নির্ধারিত অংশ (ফারজ) প্রদানের পর যদি বংশীয় বা আযাদ করার কারণে কোনো আসাবাত না থাকে, তবে অবশিষ্টাংশ নির্ধারিত অংশীদারদের নিকট তাদের নির্ধারিত অংশের আনুপাতিক হারে ফেরত দেওয়া হবে মৃতের সাথে তাদের নিকটাত্মীয়তার কারণে। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীর নিকট ফেরত দেওয়া হবে না, কারণ তাদের মধ্যে (বংশীয়) আত্মীয়তা নেই।

মহান আল্লাহ বলেন: {পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পদে পুরুষদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পদে নারীদেরও অংশ আছে; সম্পদ অল্প হোক কিংবা বেশি, এক নির্ধারিত অংশ।} [নিসা: ৭]

পঞ্চম বিভাগ: যাবুল আরহাম (আত্মীয়তা) এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হওয়া, যদি মৃতের কোনো বংশীয় বা আযাদ করার কারণে কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে এবং স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত এমন কোনো নির্ধারিত অংশের অধিকারী না থাকে যার নিকট সম্পদ ফেরত দেওয়া যায়।

মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মুমিন ও মুহাজিরদের তুলনায় রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক নিকটবর্তী, তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি কোনো কল্যাণ করতে চাও (তবে করতে পার)। এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।} [আহযাব: ৬]

--------------------------------------------

(১) সহীহ ইবনে হিব্বান নং ৪৯৫০ (খণ্ড ১১ / পৃষ্ঠা ৩২৫) নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়।

(২) হাকিম কর্তৃক আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন নং ৭৯৯০ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৩৭৯) উত্তরাধিকার (ফারায়েয) কিতাব।

(৩) আল-জামেউস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু নং ১৩১১৩ (খণ্ড ১ / পৃষ্ঠা ১৩১২)।

(৪) সহীহ বুখারী নং ১৪৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৫৫৩) নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের আযাদকৃত দাসদের সদকা প্রদান অধ্যায়।

(৫) সহীহ মুসলিম নং ৩৮৫৯ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ২১৫) অধ্যায়: নিশ্চয়ই ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে আযাদ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৫)
و عَنِ الْمِقْدَامِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «الْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ يَفُكُّ عَانِيَهُ وَيَرِثُ مَالَهُ». رواه أبو داود (1) وصححه الألباني (2)

 

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الله ورسوله مولى من لا مولى له والخال وارث من لا وارث له) رواه الترمذي (3) وحسنه الألباني (4)

و عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الخال وارث من لا وارث له) رواه الترمذي (5) وصححه الألباني مرفوعاً (6)

و عن عبد الله قال: الخالة بمنزلة الأم والعمة بمنزلة الأب وبنت الأخ بمنزلة الأخ وكل ذي رحم بمنزلة رحمه التي يدلي بها إذا لم يكن وارث ذو قرابة) رواه الدارمي (7)

وعن بكر بن عبد الله المزني: أن رجلا هلك وترك عمته وخالته فأعطى عمر العمة نصيب الأخ وأعطى الخالة نصيب الأخت) رواه الدارمي (8)

وعن الشعبي: في عمة وبنت أخ قال المال لابنة الأخ رواه الدارمي (9)

القسم السادس: وارث بالولاية العامة على المسلمين وتسمى ببيت المال إن لم يكن للميت وارث بالنسب ولا بالولاء ولا بالرد ولا بالرحم.

--------------------------------------------

(1) () سنن أبى داود رقم2903 (ج 3 / ص 83)

(2) () الجامع الصغير وزيادته رقم2354 (ج 1 / ص 236)

(3) سنن الترمذي رقم2103 (ج 4 / ص 421) ميراث الخال

(4) إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل رقم 1700 (ج 6 / ص 137)

(5) سنن الترمذي رقم2104 (ج 4 / ص 422)

(6) إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل رقم 3 (ج 6 / ص 139)

(7) سنن الدارمي رقم 2981 (ج 2 / ص 463)

(8) سنن الدارمي رقم 3049 (ج 2 / ص 474)

(9) سنن الدارمي رقم3054 (ج 2 / ص 475)
মিকদাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যার কোনো ওয়ারিশ নেই, মামা তার ওয়ারিশ। তিনি তার বন্দীকে মুক্ত করেন এবং তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হন।" এটি আবু দাউদ (১) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (২) একে সহীহ বলেছেন।

 

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঐ ব্যক্তির অভিভাবক যার কোনো অভিভাবক নেই এবং মামা ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ যার কোনো ওয়ারিশ নেই) এটি তিরমিযী (৩) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে হাসান বলেছেন।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মামা ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ যার কোনো ওয়ারিশ নেই") এটি তিরমিযী (৫) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৬) একে মারফু হিসেবে সহীহ বলেছেন।

আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খালা মায়ের স্থলাভিষিক্ত, ফুফু বাবার স্থলাভিষিক্ত এবং ভ্রাতুষ্পুত্রী ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত। আর যদি নিকটাত্মীয় কোনো ওয়ারিশ না থাকে, তবে প্রত্যেক নিকটাত্মীয় (যিল আরহাম) সেই আত্মীয়ের স্থলাভিষিক্ত হবে যার মাধ্যমে সে সম্পর্কিত) এটি দারেমী (৭) বর্ণনা করেছেন।

বকর বিন আবদুল্লাহ আল-মুযানী থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এবং তার ফুফু ও খালাকে রেখে গেল। তখন উমর ফুফুকে ভাইয়ের অংশ এবং খালাকে বোনের অংশ প্রদান করেন) এটি দারেমী (৮) বর্ণনা করেছেন।

আশ-শা'বী থেকে বর্ণিত: ফুফু ও ভ্রাতুষ্পুত্রীর ক্ষেত্রে তিনি বলেন, সম্পদ ভ্রাতুষ্পুত্রীর জন্য। এটি দারেমী (৯) বর্ণনা করেছেন।

ষষ্ঠ বিভাগ: মুসলমানদের ওপর সাধারণ অভিভাবকত্বের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হওয়া; একে বাইতুল মাল বলা হয়, যদি মৃত ব্যক্তির বংশীয় ওয়ারিশ, আযাদ করার কারণে উত্তরাধিকারী (ওয়ালা), অবশিষ্টাংশ পাওয়ার মাধ্যমে উত্তরাধিকারী (রাদ্দ) অথবা নিকটাত্মীয় (যিল আরহাম) কোনো ওয়ারিশ না থাকে।

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, নম্বর ২৯০৩ (৩য় খণ্ড / ৮৩ পৃষ্ঠা)

(২) আল-জামিউস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, নম্বর ২৩৫৪ (১ম খণ্ড / ২৩৬ পৃষ্ঠা)

(৩) সুনান তিরমিযী, নম্বর ২১০৩ (৪র্থ খণ্ড / ৪২১ পৃষ্ঠা), মামার উত্তরাধিকার

(৪) ইরওয়াউল গালীল ফী তাখরীজি আহাদীসি মানারিস সাবীল, নম্বর ১৭০০ (৬ষ্ঠ খণ্ড / ১৩৭ পৃষ্ঠা)

(৫) সুনান তিরমিযী, নম্বর ২১০৪ (৪র্থ খণ্ড / ৪২২ পৃষ্ঠা)

(৬) ইরওয়াউল গালীল ফী তাখরীজি আহাদীসি মানারিস সাবীল, নম্বর ৩ (৬ষ্ঠ খণ্ড / ১৩৯ পৃষ্ঠা)

(৭) সুনান দারেমী, নম্বর ২৯৮১ (২য় খণ্ড / ৪৬৩ পৃষ্ঠা)

(৮) সুনান দারেমী, নম্বর ৩০৪৯ (২য় খণ্ড / ৪৭৪ পৃষ্ঠা)

(৯) সুনান দারেমী, নম্বর ৩০৫৪ (২য় খণ্ড / ৪৭৫ পৃষ্ঠা)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৬)
عَنْ الْمِقْدَامِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «أَنَا وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ أَفُكُّ عَانِيَهُ وَأَرِثُ مَالَهُ». رواه أبو داود (1) وصححه الألباني (2) … و عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الله ورسوله مولى من لا مولى له) رواه الترمذي (3) وحسنه الألباني (4)

 

‌‌كتاب: قسمة الإرث.

‌‌باب: ما يخرج أولاً.

مؤنة تجهيزه بعد موته من قيمة كفن وحنوط، وأجرة مغسل وحافر ودافن، تخرج من ماله قبل كل شيء.

 

‌‌باب: ما يخرج ثانياً.

دينه فيخرج من ماله قبل وصيته وقبل قسمته بين الورثة. سواء كان لله كالزكاة والنذر والكفارة أو كان للناس كالقرض والإجار وثمن المبيع.

قَالَ تَعَالَى: {مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَآرٍّ وَصِيَّةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء:12]

وعن علي رضي الله عنه قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالدين قبل الوصية. وأنتم تقرؤنها (من بعد وصية يوصى بها أو دين) رواه بن ماجة (5) وحسنه الألباني (6)

 

‌‌باب: ما يخرج ثالثاً.

وصيته. تخرج من ماله قبل قسمته بين الورثة.

قَالَ تَعَالَى: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 11]

و قَالَ تَعَالَى: {مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

و قَالَ تَعَالَى: {مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

--------------------------------------------

(1) سنن أبى داود رقم2903 (ج 3 / ص 83)

(2) الجامع الصغير وزيادته رقم2354 (ج 1 / ص 236)

(3) سنن الترمذي رقم2103 (ج 4 / ص 421) ميراث الخال

(4) إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل رقم 1700 (ج 6 / ص 137)

(5) سنن ابن ماجه رقم2715 (ج 2 / ص 906) باب لا وصية لوارث

(6) صحيح ابن ماجة رقم2706 (ج 2 / ص 112)
মিকদাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যার কোনো উত্তরাধিকারী নেই, আমি তার উত্তরাধিকারী। আমি তার বন্দীকে মুক্ত করি এবং তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হই»। এটি আবু দাউদ (১) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (২) একে সহীহ বলেছেন ... আর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যার কোনো অভিভাবক নেই, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার অভিভাবক) এটি তিরমিযী (৩) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে হাসান বলেছেন।

 

‌‌কিতাব: উত্তরাধিকার বণ্টন.

‌‌অধ্যায়: যা সবার আগে বের করা হবে.

মৃত্যুর পর তার দাফন-কাফনের খরচ যেমন কাফনের কাপড় ও সুগন্ধির মূল্য, এবং গোসলদাতা, কবর খননকারী ও দাফনকারীর পারিশ্রমিক, অন্য সবকিছুর আগে তার সম্পদ থেকে বের করা হবে।

 

‌‌অধ্যায়: যা দ্বিতীয়ত বের করা হবে.

ঋণ; এটি তার ওসিয়ত পূরণ এবং ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টনের আগে তার সম্পদ থেকে বের করা হবে। চাই তা আল্লাহর হক হোক—যেমন যাকাত, মানত ও কাফফারা—অথবা মানুষের হক হোক—যেমন ঋণ, ভাড়া এবং বিক্রিত পণ্যের মূল্য।

মহান আল্লাহ বলেন: {কারো কোনো ওসিয়ত যা সে করে যায় কিংবা ঋণ পরিশোধ করার পর; যাতে কারো ক্ষতি করা না হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল} [আন-নিসা: ১২]

আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওসিয়তের আগে ঋণ পরিশোধের ফয়সালা করেছেন। অথচ তোমরা আয়াতটি পাঠ করো এভাবে (ওসিয়ত করার পর যা সে করে যায় কিংবা ঋণ পরিশোধের পর)। এটি ইবনে মাজাহ (৫) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৬) একে হাসান বলেছেন।

 

‌‌অধ্যায়: যা তৃতীয়ত বের করা হবে.

তার ওসিয়ত। এটি ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টনের আগে তার সম্পদ থেকে বের করা হবে।

মহান আল্লাহ বলেন: {ওসিয়ত করার পর যা সে করে যায় কিংবা ঋণ পরিশোধের পর} [আন-নিসা: ১১]

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের কৃত ওসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর} [আন-নিসা: ১২]

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের কৃত ওসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর} [আন-নিসা: ১২]

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ নম্বর ২৯০৩ (৩য় খণ্ড / পৃষ্ঠা ৮৩)

(২) আল-জামেউস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু নম্বর ২৩৫৪ (১ম খণ্ড / পৃষ্ঠা ২৩৬)

(৩) সুনানে তিরমিযী নম্বর ২১০৩ (৪র্থ খণ্ড / পৃষ্ঠা ৪২১) মামার উত্তরাধিকার

(৪) ইরওয়াউল গালীল ফি তাখরীজি আহাদীতি মানারিস সাবীল নম্বর ১৭০০ (৬ষ্ঠ খণ্ড / পৃষ্ঠা ১৩৭)

(৫) সুনানে ইবনে মাজাহ নম্বর ২৭১৫ (২য় খণ্ড / পৃষ্ঠা ৯০৬) অধ্যায়: উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো ওসিয়ত নেই

(৬) সহীহ ইবনে মাজাহ নম্বর ২৭০৬ (২য় খণ্ড / পৃষ্ঠা ১১২)
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا تجوز الوصية لغيروارث ولا تنفذ بأكثر من الثلث مالم يأذن الورثة. عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ رضي الله عنه قَالَ: عَادَنِى النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أُوصِى بِمَالِى كُلِّهِ. قَالَ «لَا». قُلْتُ فَالنِّصْفُ. قَالَ «لَا». فَقُلْتُ أَبِالثُّلُثِ فَقَالَ «نَعَمْ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ».رواه البخاري (1) ومسلم (2)

ولا تجوز الوصية للوارث بأي شيءٍ ولا تنفذ.

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ رضي الله عنه يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ «إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِى حَقٍّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ».رواه أبو داود (3) وغيره وصححه الألباني (4)

 

‌‌باب: الباقي بعد المؤنة والدين والوصية يقسم على أصحاب الفروض وما بقي يعطى للعصبة.

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». رواه مسلم (5)

 

‌‌باب: بيان أصحاب الفروض.

أولاً: الأبوان.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم2744 (ج 7 / ص 122) بَاب الْوَصِيَّةِ بِالثُّلُثِ

(2) صحيح مسلم رقم4301 (ج 5 / ص 72) باب الوصية بالثلث

(3) سنن أبى داود رقم2872 (ج 3 / ص 73) باب ماجاء في الوصية للوارث

(4) صحيح أبي داود رقم 2494 (ج 2 / ص 554)

(5) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য অসিয়ত করা বৈধ নয় এবং এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত তা কার্যকর হবে না যতক্ষণ না উত্তরাধিকারীরা অনুমতি প্রদান করে। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) আমাকে দেখতে আসলেন, তখন আমি বললাম, আমি কি আমার সমস্ত সম্পদের অসিয়ত করব? তিনি বললেন, "না"। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন, "না"। আমি বললাম, তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।" এটি বুখারি (১) ও মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।

আর উত্তরাধিকারীর অনুকূলে কোনো কিছুর অসিয়ত করা বৈধ নয় এবং তা কার্যকর হবে না।

আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিদায় হজের বছরের খুতবায় বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক (অধিকার) প্রদান করেছেন, সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই।" এটি আবু দাউদ (৩) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী (৪) একে সহিহ বলেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: দাফন-কাফনের খরচ, ঋণ এবং অসিয়ত পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদ নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা আসাবাহ (নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়)-দের প্রদান করা হবে।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।" এটি মুসলিম (৫) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট অংশীদারদের (আসহাবুল ফুরুজ) বিবরণ।

প্রথমত: পিতামাতা।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ২৭৪৪ (খণ্ড ৭ / পৃষ্ঠা ১২২), পরিচ্ছেদ: এক-তৃতীয়াংশের অসিয়ত করা।

(২) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৪৩০১ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৭২), পরিচ্ছেদ: এক-তৃতীয়াংশের অসিয়ত।

(৩) সুনানে আবু দাউদ, নম্বর ২৮৭২ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৭৩), পরিচ্ছেদ: উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

(৪) সহিহ আবু দাউদ, নম্বর ২৪৯৪ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ৫৫৪)।

(৫) সহিহ মুসলিম, ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯), পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ تَعَالَى: {وَلأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلأُمِّهِ السُّدُسُ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ آبَآؤُكُمْ وَأَبناؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيما حَكِيماً} [النساء:11]

فالأبوان يرثان من أولادهما بعد موتهم إذا كانا موجودين أو مفقودين ولم تثبت وفاتهما حقيقة ولا حكما.

ثانياً: الزوجان.

قَالَ تَعَالَى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

فالزوجان يرث كل واحد منهما من زوجه بعد وفاته إذا كان موجوداً … أو مفقوداً ولم تثبت وفاته حقيقة ولا حكما قبل موت زوجه.

ثالثاً: البنات وبنات الإبن الموجود منهن والحمل منهن والمفقود الذي لم يثبت موته حقيقة ولا حكما قبل موت مورثه يقدر له إرثه.

قَالَ تَعَالَى: {فَإِن كُنَّ نِسَاء فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء:11]

رابعاً: الأخوات لأبوين أو لأب الموجود منهن والحمل والمفقود الذي لم يثبت موته حقيقة ولا حكما قبل موت مورثه يقدر له إرثه.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তার পিতা-মাতার জন্য—তাদের প্রত্যেকের জন্য সে যা রেখে গেছে তা থেকে এক-ষষ্ঠাংশ, যদি তার সন্তান থাকে। আর যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার ওয়ারিশ হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ। আর যদি তার ভাইয়েরা থাকে, তবে তার মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, তার কৃত ওসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী তা তোমরা জানো না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: ১১]

সুতরাং পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের মৃত্যুর পর তাদের থেকে উত্তরাধিকার লাভ করবেন, যদি তারা বিদ্যমান থাকেন অথবা নিখোঁজ হন এবং প্রকৃতভাবে বা আইনত তাদের মৃত্যু প্রমাণিত না হয়।

দ্বিতীয়ত: স্বামী-স্ত্রী।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তারা যা রেখে গেছে তা থেকে এক-চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। আর তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-চতুর্থাংশ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে এক-অষ্টমাংশ, তোমাদের কৃত ওসিয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর।} [আন-নিসা: ১২]

সুতরাং স্বামী ও স্ত্রীর প্রত্যেকের মৃত্যুর পর অপরজন উত্তরাধিকার লাভ করবে, যদি সে বিদ্যমান থাকে … অথবা নিখোঁজ থাকে এবং তার জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর পূর্বে প্রকৃতভাবে বা আইনত তার মৃত্যু প্রমাণিত না হয়।

তৃতীয়ত: কন্যা এবং পুত্র-কন্যাগণ—তাদের মধ্যে যারা বিদ্যমান আছে, যারা গর্ভস্থ এবং যারা নিখোঁজ যাদের মৃত্যু উত্তরাধিকার দাতার মৃত্যুর আগে প্রকৃতভাবে বা আইনত প্রমাণিত হয়নি, তাদের জন্য উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করা হবে।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা যদি দুইয়ের অধিক নারী হয়, তবে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ। আর যদি সে একজন হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক।} [আন-নিসা: ১১]

চতুর্থত: সহোদর বোন অথবা বৈমাত্রেয় বোন—তাদের মধ্যে যারা বিদ্যমান আছে, যারা গর্ভস্থ এবং যারা নিখোঁজ যাদের মৃত্যু উত্তরাধিকার দাতার মৃত্যুর আগে প্রকৃতভাবে বা আইনত প্রমাণিত হয়নি, তাদের জন্য উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

خامساَ: الأخوة لأم الموجود منهم والحمل والمفقود الذي لم يثبت موته حقيقة ولا حكما قبل موت مورثه يقدر له إرثه.

قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَو امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ فَإِن كَانُوَاْ أَكْثَرَ مِن ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاء فِي الثُّلُثِ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَآرٍّ وَصِيَّةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء: 12]

 

‌‌باب: بيان العصبة.

العصبة نوعان:

النوع الأول: عصبة النسب وهم خمسة.

أولاً: الأبناء وأبناؤهم الموجود منهم والحمل والمفقود الذي لم يثبت موته حقيقة ولا حكما قبل موت مورثه فيقدر له إرثه.

قَالَ تَعَالَى: {يُوصِيكُمُ اللّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ} [النساء: 11]

وعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (1) ومسلم (2)

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(2) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
মহান আল্লাহ বলেন: {লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া বা সমাধান জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ (পিতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে সমাধান দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, কিন্তু তার এক বোন থাকে, তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। আর যদি বোন মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, তবে ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। এরপর যদি বোন দুইজন হয়, তবে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে। তোমরা যাতে পথভ্রষ্ট না হও সেজন্য আল্লাহ তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট বর্ণনা দিচ্ছেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আন-নিসা: ১৭৬]

পঞ্চম: বৈপিত্রেয় ভাইবোন; তাদের মধ্যে যারা বিদ্যমান এবং গর্ভস্থ ভ্রূণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তি যার মৃত্যু তার উত্তরাধিকারদাতার মৃত্যুর পূর্বে প্রকৃতপক্ষে বা আইনত প্রমাণিত হয়নি, তার জন্য উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করা হবে।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি কোনো পুরুষ বা মহিলার উত্তরাধিকার কালালাহ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং তার এক ভাই বা এক বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি তারা এর চেয়ে অধিক হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশে অংশীদার হবে; এটি অসিয়ত বা ঋণের পর, যাতে কারো ক্ষতি করা না হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল।} [আন-নিসা: ১২]

 

‌‌অধ্যায়: আসাবার বর্ণনা.

আসাবা দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: বংশীয় আসাবা এবং তারা পাঁচ প্রকার।

প্রথমত: পুত্র সন্তান এবং তাদের পুত্রগণ; তাদের মধ্যে যারা বিদ্যমান এবং গর্ভস্থ ভ্রূণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তি যার মৃত্যু তার উত্তরাধিকারদাতার মৃত্যুর পূর্বে প্রকৃতপক্ষে বা আইনত প্রমাণিত হয়নি, তার জন্য উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করা হবে।

মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।} [আন-নিসা: ১১]

এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য)। বুখারী (১) ও মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী নং ৬৭৩২ (১৭ খণ্ড / ৪১ পৃষ্ঠা) অধ্যায়: পিতা ও মাতার নিকট হতে সন্তানের মিরাস।

(২) সহীহ মুসলিম ৪২২৬ (৫ খণ্ড / ৫৯ পৃষ্ঠা) অধ্যায়: তোমরা নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২০)
ولمسلم (1) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».

ثانياً: الأباء وآباؤهم إذا انعدم الأبناء وأبناؤهم.

قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء: 176]

و قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَو امْرَأَةٌ} [النساء: 12]

وعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (2) ومسلم (3) … ولمسلم (4) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».

ثالثاَ: الإخوة لأبوين أو لأب المولود منهم والحمل والمفقود الذي لم يثبت موته حقيقة ولا حكما قبل موت مورثه يقدر له إرثه وأبناؤهم الذكور إذا انعدم الأبناء والآباء.

قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(2) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(3) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(4) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
এবং মুসলিমের বর্ণনায় (১): «তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফারায়েজ (নির্ধারিত অংশ) প্রাপকদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর ফারায়েজ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।»

দ্বিতীয়ত: সন্তান এবং তাদের সন্তানদের অভাব থাকলে পিতা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন পিতাগণ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা তোমার কাছে ফতোয়া চায়। বলো, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন: যদি কোনো পুরুষ মারা যায় যার কোনো সন্তান নেই...} [আন-নিসা: ১৭৬]

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি কোনো পুরুষ বা নারীর উত্তরাধিকার কালালাহ হিসেবে বণ্টন করা হয়...} [আন-নিসা: ১২]

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য)। এটি বুখারি (২) ও মুসলিম (৩) বর্ণনা করেছেন … এবং মুসলিমের বর্ণনায় (৪): «তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফারায়েজ (নির্ধারিত অংশ) প্রাপকদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর ফারায়েজ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।»

তৃতীয়ত: সহোদর ভাই অথবা বৈমাত্রেয় ভাই, তাদের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী সন্তান, গর্ভস্থ সন্তান এবং নিখোঁজ ব্যক্তি যার মৃত্যু তার উত্তরাধিকারদাতার মৃত্যুর পূর্বে বাস্তবে বা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি—তার জন্য তার মীরাস নির্ধারণ করে রাখা হবে এবং সন্তান ও পিতার অনুপস্থিতিতে তাদের পুত্র সন্তানগণ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তারা ভাই ও বোন উভয়ই হয়, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আন-নিসা: ১৭৬]

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (৫ম খণ্ড / পৃ. ৫৯) অনুচ্ছেদ: নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।

(২) সহীহ বুখারি নং ৬৭৩২ (১৭তম খণ্ড / পৃ. ৪১) অনুচ্ছেদ: পিতা ও মাতার নিকট থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(৩) সহীহ মুসলিম ৪২২৬ (৫ম খণ্ড / পৃ. ৫৯) অনুচ্ছেদ: নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।

(৪) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (৫ম খণ্ড / পৃ. ৫৯) অনুচ্ছেদ: নির্ধারিত অংশসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২১)
وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ).رواه البخاري (1) ومسلم (2)

ولمسلم (3) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».

وعن علي رضي الله عنه قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أعيان بني الأم ليتوارثون دون بني العلات) رواه بن ماجة (4) وحسنه بن ماجة (5)

رابعاً: الأخت الشقيقة إذا انعدم الأخوة الأشقاء سواء كانت موجودة أو حملاً أو مفقودة لم يثبت موتها حقيقة ولا حكما قبل موت مورثها مع البنات سواء كن موجودات أو كن حملَا أو مفقودات.

عَنْ الإسْوَدِ رضي الله عنه قَالَ: قَضَى فِينَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النِّصْفُ لِلْابْنَةِ وَالنِّصْفُ لِلْأُخْتِ) رواه البخاري (6)

والأخت لأب تنزل منزلة الأخت الشقيقة إذا انعدمت.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(2) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(3) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(4) سنن ابن ماجه رقم2715 (ج 2 / ص 906) باب لاوصية لوارث

(5) صحيح ابن ماجة رقم2706 (ج 2 / ص 112)

(6) صحيح البخاري رقم 6741 (ج 17 / ص 57) بَاب مِيرَاثُ الْأَخَوَاتِ مَعَ الْبَنَاتِ عَصَبَةٌ
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ (ফারায়েজ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।" এটি বুখারী (১) ও মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।

এবং মুসলিমের (৩) বর্ণনায় রয়েছে: "তোমরা সম্পদ বণ্টন করো নির্দিষ্ট অংশের হকদারদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী, অতঃপর নির্দিষ্ট অংশগুলো যা অবশিষ্ট রাখবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।"

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফয়সালা দিয়েছেন যে, সহোদর ভাইয়েরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে, বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা নয়। এটি ইবনে মাজাহ (৪) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ (৫) এটিকে হাসান বলেছেন।

চতুর্থত: সহোদর বোন, যখন সহোদর ভাই অনুপস্থিত থাকে; চাই সে উপস্থিত থাকুক বা গর্ভস্থ ভ্রূণ হিসেবে থাকুক অথবা নিখোঁজ থাকুক যার মৃত্যু প্রকৃতভাবে বা আইনগতভাবে তার উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মৃত্যুর আগে প্রমাণিত হয়নি; কন্যাদের উপস্থিতিতে (উত্তরাধিকার লাভ করবে), চাই কন্যারা উপস্থিত থাকুক বা গর্ভস্থ ভ্রূণ হিসেবে থাকুক অথবা নিখোঁজ থাকুক।

আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের মাঝে ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, অর্ধেক কন্যার জন্য এবং অর্ধেক বোনের জন্য। এটি বুখারী (৬) বর্ণনা করেছেন।

এবং বৈমাত্রেয় বোন সহোদর বোনের স্থলাভিষিক্ত হবে যখন সহোদর বোন অনুপস্থিত থাকবে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, নং ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১) অধ্যায়: পিতা ও মাতা থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(২) সহীহ মুসলিম, ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অধ্যায়: তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।

(৩) সহীহ মুসলিম, ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অধ্যায়: তোমরা নির্দিষ্ট অংশসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।

(৪) সুনানে ইবনে মাজাহ, নং ২৭১৫ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ৯০৬) অধ্যায়: উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই।

(৫) সহীহ ইবনে মাজাহ, নং ২৭০৬ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ১১২)।

(৬) সহীহ বুখারী, নং ৬৭৪১ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৫৭) অধ্যায়: কন্যাদের সাথে আসাবাহ হিসেবে বোনদের উত্তরাধিকার।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২২)
عَنْ هُزَيْلٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ رضي الله عنه لَأَقْضِيَنَّ فِيهَا بِقَضَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم للْابْنَةِ النِّصْفُ وَلِابْنَةِ الِابْنِ السُّدُسُ وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ) رواه البخاري (1)

فإن وجد الإخوة مع الأخوات فللذكر مثل حظ الأنثيين. .

قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

خامساً: الأعمام وأبناؤهم إذا انعدم الآباء والأبناء و الأخوة لأبوين أو لأب وأبناؤهم دون الإخوة لأم لأنهم لا يحجبون الأعمام ولا أبنائهم فهم يرثون بالفرض والأعمام بالتعصيب.

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (2) ومسلم (3)

ولمسلم (4) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ».

--------------------------------------------

(1) البخاري رقم6742 (ج 17 / ص 58) بَاب مِيرَاثُ الْأَخَوَاتِ مَعَ الْبَنَاتِ عَصَبَةٌ

(2) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(3) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(4) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
হুযাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা দেব। অথবা তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কন্যার জন্য অর্ধেক, পৌত্রীর (ছেলের মেয়ের) জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা বোনের জন্য।" (বুখারী কর্তৃক বর্ণিত ১)

সুতরাং যদি বোনদের সাথে ভাইয়েরা থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তারা ভাই-বোন হয় অর্থাৎ পুরুষ ও নারী হয়, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে। তোমরা পথভ্রষ্ট হবে এই আশঙ্কায় আল্লাহ তোমাদের জন্য (তাঁর বিধান) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [নিসা: ১৭৬]

পঞ্চম: চাচারা এবং তাদের ছেলেরা, যখন পিতা, পুত্র, সহোদর ভাই বা বৈমাত্রেয় ভাই এবং তাদের ছেলেরা না থাকে। তবে বৈপিত্রীয় ভাইদের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তারা চাচাদের বা তাদের সন্তানদের উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করে না; তারা নির্ধারিত অংশের (ফরজ) মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয় এবং চাচারা অবশিষ্টভোগী (আসাবা) হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করে।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।" (বুখারী ২ ও মুসলিম ৩ কর্তৃক বর্ণিত)

আর মুসলিমের (৪) বর্ণনায় রয়েছে: "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সম্পদকে নির্ধারিত অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করো, অতঃপর নির্ধারিত অংশগুলো বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।"

--------------------------------------------

(১) বুখারী নং ৬৭৪২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৫৮) অনুচ্ছেদ: কন্যাদের সাথে আসাবা হিসেবে বোনদের উত্তরাধিকার

(২) সহীহ বুখারী নং ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১) অনুচ্ছেদ: পিতা ও মাতা থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার

(৩) সহীহ মুসলিম ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য

(৪) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অনুচ্ছেদ: তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়ের জন্য
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةُ سَعْدٍ بِابْنَتَيْنِ لَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَاتَانِ بِنْتَا سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ قُتِلَ مَعَكَ يَوْمَ أُحُدٍ وَقَدِ اسْتَفَاءَ عَمُّهُمَا مَالَهُمَا وَمِيرَاثَهُمَا كُلَّهُ فَلَمْ يَدَعْ لَهُمَا مَالاً إِلَاّ أَخَذَهُ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم لِعَمِّهِمَا «أَعْطِهِمَا الثُّلُثَيْنِ وَأَعْطِ أُمَّهُمَا الثُّمُنَ وَمَا بَقِىَ فَلَكَ».رواه أبو داود (1) وحسنه الألباني (2)

النوع الثاني: عصبة بالولاء إذا لم يوجد عصبة بالنسب.

فإذا مات المعتق وليس له عصبة بالنسب ورثه من أعتقه تعصيباً بالولاء ذكراً كان أو أنثى.

عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: َإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ) رواه البخاري (3) ومسلم (4)

 

‌‌كتاب: بيان نصيب كل وارث.

‌‌باب: ميراث آباء الميت.

يرث الأب بالفرض تارة وبالتعصيب تارة و بهما أخرى.

فيرث بالفرض سدس مال ولده المتوفى أو بنته المتوفاة إن كان لولده الميت أولاد ذكور أو إناث أو لأولاده الذكور أبناء أو بنات.

قَالَ تَعَالَى: {وَلأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء:11]

فإن لم يكن لولده الميت أولاد ذكور وإنما له بنات.

ورث سدس ماله فرضاً. قَالَ تَعَالَى: {وَلأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء:11]

--------------------------------------------

(1) سنن أبى داود رقم2893 (ج 3 / ص 80) باب مَا جَاءَ فِى مِيرَاثِ الصُّلْبِ

(2) صحيح أبي داود رقم2514 (ج 2 / ص 560)

(3) صحيح البخاري رقم1493 (ج 3 / ص 553) بَاب الصَّدَقَةِ عَلَى مَوَالِي أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

(4) صحيح مسلم رقم 3859 (ج 4 / ص 215) باب إنما الولاء لمن اعتق.
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সা'দের স্ত্রী তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরা সা'দ ইবনে রাবি'র দুই কন্যা, যে আপনার সাথে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তাদের চাচা তাদের সকল ধন-সম্পদ ও মিরাস গ্রহণ করেছে এবং তাদের জন্য কোনো সম্পদই অবশিষ্ট রাখেনি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের চাচাকে বললেন: "তাদের দুই-তৃতীয়াংশ দাও, আর তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দাও এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (১) এবং আলবানী একে হাসান বলেছেন (২)।

দ্বিতীয় প্রকার: রক্তীয় সম্পর্কের কোনো আসাবা না থাকলে 'ওয়ালা' (মুক্ত করে দেওয়ার সম্পর্ক) ভিত্তিক আসাবা।

সুতরাং যখন কোনো মুক্ত ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো রক্তীয় সম্পর্কের আসাবা না থাকে, তখন যে তাকে মুক্ত করেছে সে 'ওয়ালা'-এর মাধ্যমে আসাবা হিসেবে তার উত্তরাধিকার লাভ করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী।

আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ওয়ালা কেবল তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে।" এটি বুখারী (৩) ও মুসলিম (৪) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌কিতাব: প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশ বর্ণনা।

‌‌বাব: মৃত ব্যক্তির পিতাদের উত্তরাধিকার।

পিতা কখনো নির্ধারিত অংশ (ফরজ) হিসেবে, কখনো আসাবা হিসেবে এবং কখনো উভয় উপায়ে উত্তরাধিকারী হন।

তিনি তাঁর মৃত পুত্র বা মৃত কন্যার সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ নির্ধারিত অংশ হিসেবে পান যদি মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান থাকে অথবা পুত্রের কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান থাকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য সে যা রেখে গেছে তা থেকে এক-ষষ্ঠাংশ থাকবে যদি তার সন্তান থাকে} [নিসা: ১১]

সুতরাং যদি মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্র সন্তান না থাকে বরং কেবল কন্যা সন্তান থাকে।

তবে তিনি নির্ধারিত অংশ হিসেবে সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য সে যা রেখে গেছে তা থেকে এক-ষষ্ঠাংশ থাকবে যদি তার সন্তান থাকে} [নিসা: ১১]

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ নম্বর ২৮৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৮০) বাব: মিরাস সম্পর্কিত আলোচনা

(২) সহীহ আবু দাউদ নম্বর ২৫১৪ (খণ্ড ২ / পৃষ্ঠা ৫৬০)

(৩) সহীহ বুখারী নম্বর ১৪৯৩ (খণ্ড ৩ / পৃষ্ঠা ৫৫৩) বাব: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের মুক্ত দাস-দাসীদের সাদাকা দেওয়া

(৪) সহীহ মুসলিম নম্বর ৩৮৫৯ (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ২১৫) বাব: ওয়ালা কেবল তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৪)
وورث الباقي تعصيباً. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». رواه مسلم (1)

فإن لم يكن لولده الميت أولاد ذكور ولا إناث ولا لأولاده الذكور أبناء أو بنات.

ورث جميع المال بالتعصيب إذا لم يكن معه أصحاب فروض.

فإن كان معه أصحاب فروض أخذ ما يبقى بعدهم.

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». رواه مسلم (2)

والأب يمنع جميع الأخوة من الإرث الذكور والإناث لأبوين أو لأب أو لأم وأبنائهم فلا يرثون معه شيئاً.

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ). رواه البخاري (3) ومسلم (4)

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(2) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ

(3) صحيح البخاري رقم6732 (ج 17 / ص 41) بَاب مِيرَاثِ الْوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ

(4) صحيح مسلم 4226 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
এবং অবশিষ্টাংশ আসাবা (উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য অবশিষ্টাংশ) হিসেবে লাভ করবে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশীদারদের (আহলুল ফারায়েজ) মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)

যদি মৃত ব্যক্তির সন্তানের কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান না থাকে এবং তার পুত্রদেরও কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান না থাকে।

যদি তার সাথে অন্য কোনো নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারী (আসহাবুল ফুরুজ) না থাকে, তবে সে আসাবা হিসেবে সমস্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে।

আর যদি তার সাথে নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারীগণ থাকেন, তবে তাদের অংশ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সে গ্রহণ করবে।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত অংশীদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২)

এবং পিতা সকল ভাইকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন, তারা সহোদর ভাই হোক বা বৈমাত্রেয় ভাই কিংবা বৈপিত্রীয় ভাই বা বোন হোক এবং তাদের সন্তানদেরও; সুতরাং পিতার উপস্থিতিতে তারা উত্তরাধিকারের কিছুই পাবে না।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" বুখারী (৩) ও মুসলিম (৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অধ্যায়: নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য।

(২) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অধ্যায়: নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য।

(৩) সহীহ বুখারী নং ৬৭৩২ (খণ্ড ১৭ / পৃষ্ঠা ৪১) অধ্যায়: পিতা ও মাতার নিকট থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার।

(৪) সহীহ মুসলিম ৪২২৬ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অধ্যায়: নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولمسلم (1) «اقْسِمُوا الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». والأب أقرب من الإخوة.

و قَالَ تَعَالَى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِن كَانُواْ إِخْوَةً رِّجَالاً وَنِسَاء فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّواْ وَاللّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء176]

والكلالة أن لا يكون له والد ولا ولد.

فإن وجد والد أو ولد حجب الأخوة لأبوين أو لأب الذكور والإناث فلا يرثون شيئاً.

قَالَ تَعَالَى: {وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَو امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ فَإِن كَانُوَاْ أَكْثَرَ مِن ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاء فِي الثُّلُثِ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَآرٍّ وَصِيَّةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء:12]

والكلالة أن لا يكون له والد ولا ولد.

فإن وجد والد أو ولد حجب الأخوة لأم الذكور والإناث فلا يرثون شيئاً.

والجد ينزل منزلة الأب. لأن الجد يسمى أباً وإن علا.

قَالَ تَعَالَى: {يَا بَنِي آدَمَ} [الأعراف:27]

و قَالَ تَعَالَى: {مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ} [الحج: 78]

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 4228 (ج 5 / ص 59) باب أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِىَ فَلأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ
এবং সহীহ মুসলিমে (১) বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফারায়েজের (নির্ধারিত অংশের) হকদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করো। অতঃপর নির্ধারিত অংশসমূহ যা অবশিষ্ট থাকবে, তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" আর পিতা ভাইদের তুলনায় অধিক নিকটবর্তী।

মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে 'কালালাহ' (পিতামাতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে ফয়সালা দিচ্ছেন—যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, কিন্তু তার এক বোন থাকে, তবে সে তার রেখে যাওয়া সম্পদের অর্ধেক পাবে। আর সে (ভাই) তার (বোনের) উত্তরাধিকারী হবে যদি বোনের কোনো সন্তান না থাকে। অতঃপর যদি বোন দুইজন হয়, তবে তারা তার রেখে যাওয়া সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। আর যদি তারা ভাই ও বোন উভয়ই হয়, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আন-নিসা: ১৭৬]

আর কালালাহ হলো এমন মৃত ব্যক্তি যার কোনো পিতা ও সন্তান নেই।

যদি পিতা বা সন্তান বর্তমান থাকে তবে তা সহোদর ভাই-বোন অথবা বৈমাত্রেয় ভাই-বোনদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, ফলে তারা কিছুই পাবে না।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি কোনো পুরুষ বা নারীর উত্তরাধিকার 'কালালাহ' (পিতামাতা ও সন্তানহীন) হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং তার এক ভাই বা এক বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)। আর যদি তারা এর চেয়ে অধিক হয়, তবে তারা সবাই এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) অংশীদার হবে; (এই বণ্টন হবে) এমন ওসিয়ত যা করা হয়েছে কিংবা ঋণের পর, যাতে কারও ক্ষতি না হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল।} [আন-নিসা: ১২]

আর কালালাহ হলো এমন ব্যক্তি যার কোনো পিতা ও সন্তান নেই।

যদি পিতা বা সন্তান বর্তমান থাকে তবে তা বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, ফলে তারা কিছুই পাবে না।

আর দাদা পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন। কারণ দাদাকে পিতাই বলা হয়, যদিও তিনি ঊর্ধ্বতন স্তরের হন।

মহান আল্লাহ বলেন: {হে আদমের সন্তানগণ।} [আল-আরাফ: ২৭]

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের পিতা ইবরাহীমের আদর্শ।} [আল-হাজ্জ: ৭৮]

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম ৪২২৮ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ৫৯) অনুচ্ছেদ: ফারায়েজ (নির্ধারিত অংশসমূহ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তির জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَعَنِ الْبَرَاء رضي الله عنه: أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ حُنَيْنٍ: أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ) رواه البخاري (1) ومسلم (2)

والشاهد: قوله. أنا بن عبد المطلب مع أنه جده إذ أبوه عبد الله بن عبد المطلب.

وقد جعله أبو بكر أباً ولم يعرف له مخالف من الصحابة حتى مات رضي الله عنه.

والجد يأخذ حكم الأب في كل شيء في الإرث والحجب على الصحيح.

فيرث ما يرث الأب بالفرض أو التعصيب ويحجب من يحجب الأب من الأخوة الذكور والإناث لأبوين أو لأب أو لأم.

قال الرحبي رحمه الله:

والجد مثل الأب عند فقده … في حوزما يصيبه ومده

 

‌‌باب: ميراث أمهات الميت.

فأم الميت ترث سدس مال ابنها المتوفى أو بنتها المتوفاة.

إذا كان لولدها الميت أولاد ذكور أو إناث أو لأولاده الذكور أبناء أو بنات مهما نزلوا. … قَالَ تَعَالَى: {وَلأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء:11]

وقال الرحبي رحمه الله:

والأب يستحقه مع الولد … وهكذا الأم بتنزيل الصمد

وهكذا مع ولد الإبن الذي … مازال يقفو إثره ويحتذي

 

وكذلك ترث الأم سدس مال ابنها المتوفى أو بنتها المتوفاة. إذا كان لولدها الميت أخوان أو أختان فأكثر أشقاء أو لأب أو لأم وارثين أو محجوبين.

قَالَ تَعَالَى: {فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلأُمِّهِ السُّدُسُ … } [النساء:11]

وقال الرحبي رحمه الله:

وهولها أيضاً مع الإثنين … من إخوة الميت فقس هذين

 

فإن لم يكن لابنها المتوفى أو بنتها المتوفاة. أولاد ولا إخوان من أبويهما أومن أبيهما أومن أمهما.

فلها ثلث مال ولدها المتوفى.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري رقم2930 (ج 7 / ص 429) بَابُ مَنْ صَفَّ أَصْحَابَهُ عِنْدَ الْهَزِيمَةِ وَنَزَلَ عَنْ دَابَّتِهِ وَاسْتَنْصَرَ

(2) صحيح مسلم رقم 4715 (ج 5 / ص 167) باب في غزوة حنين
আল-বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে বলেছিলেন: "আমি নবী, এটি মিথ্যা নয়; আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর।" এটি বুখারি (১) এবং মুসলিম (২) বর্ণনা করেছেন।

এখানে দলিল হলো: তাঁর কথা "আমি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র", অথচ তিনি ছিলেন তাঁর দাদা, কারণ তাঁর পিতা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাদাকে পিতার মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সাহাবীদের মধ্যে কেউ এর বিরোধিতা করেছেন বলে জানা যায়নি।

সঠিক মতানুসারে, উত্তরাধিকার প্রাপ্তি এবং বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে দাদা সকল বিষয়ে পিতার হুকুম লাভ করেন।

সুতরাং পিতা যা উত্তরাধিকার হিসেবে পান, দাদা তা নির্ধারিত অংশ হিসেবে অথবা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে লাভ করবেন। এবং পিতা যাদের বঞ্চিত করেন, দাদা তাদের অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনদের বঞ্চিত করবেন।

রাহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:

পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা পিতার মতোই ... সে যা পায় তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এবং তার সীমারেখার ক্ষেত্রে।

 

‌‌অধ্যায়: মৃত ব্যক্তির মায়েদের উত্তরাধিকার.

মৃত ব্যক্তির মা তার মৃত পুত্র বা কন্যার সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবেন।

যদি তার মৃত সন্তানের কোনো পুত্র বা কন্যা থাকে অথবা তার পুত্রের কোনো পুত্র বা কন্যা থাকে, তারা স্তরে যত নিচেই হোক না কেন। ... মহান আল্লাহ বলেন: {আর তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য সে যা রেখে গেছে তার এক-ষষ্ঠাংশ, যদি তার সন্তান থাকে} [আন-নিসা: ১১]

রাহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:

সন্তান থাকলে পিতা এর (এক-ষষ্ঠাংশের) হকদার হন ... এবং একইভাবে মা-ও আস-সামাদের অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী।

অনুরূপভাবে নাতির ক্ষেত্রেও যে ... সর্বদা তার (পুত্রের) পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং স্থলাভিষিক্ত হয়।

 

অনুরূপভাবে মা তার মৃত পুত্র বা কন্যার সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন, যদি মৃত ব্যক্তির দুই বা ততোধিক ভাই বা বোন থাকে—তারা সহোদর হোক, বা বৈমাত্রেয় হোক, বা বৈপিত্রেয় হোক, তারা উত্তরাধিকারী হোক অথবা অন্য কারও কারণে বঞ্চিত হোক।

মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তার ভাই-বোন থাকে তবে তার মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ...} [আন-নিসা: ১১]

রাহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:

মৃত ব্যক্তির দুইজন ভাই থাকলেও মা এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন ... সুতরাং এই দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করো।

 

আর যদি মৃত পুত্র বা কন্যার কোনো সন্তান না থাকে এবং তাদের সহোদর, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় কোনো ভাই-বোন না থাকে।

তবে মা তার মৃত সন্তানের সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পাবেন।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, নম্বর ২৯৩০ (খণ্ড ৭ / পৃষ্ঠা ৪২৯), অধ্যায়: পরাজয়ের সময় যিনি তাঁর সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন এবং সওয়ারি থেকে নেমে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

(২) সহিহ মুসলিম, নম্বর ৪৭১৫ (খণ্ড ৫ / পৃষ্ঠা ১৬৭), অধ্যায়: হুনাইনের যুদ্ধ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৭)
قَالَ تَعَالَى: {فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلأُمِّهِ الثُّلُثُ} [النساء: 11]

وقال الرحبي رحمه الله:

والثلث فرض الأم حيث لا ولد … ولا من الإخوة جمع ذو عدد

كاثنين أو ثنتين أو ثلاث … حكم الذكور فيه كالإناث

ولابن ابن معه أو بنته … ففرضها الثلث كما بينته

 

وإذا كان زوج بنتها المتوفاة وأبو بنتها موجودين وليس لبنتها أولاد ولا إخوان فلأمها ثلث الباقي. وهي العمريتان.

فيخرج نصيب الزوج النصف والباقي يقسم ثلاثة أقسام لأبيه قسمان ولأمه قسم.

قال الرحبي رحمه الله:

وإن يكن زوج وأم وأب … فثلث الباقي لها مرتب

 

وإذا كانت زوجة ولدها المتوفى وأبوولدها موجودين وليس لولدها أولاد ولا إخوان ولا أولاد لهما.

فيخرج نصيب الزوجة الربع والباقي يقسم ثلاثة أقسام لأبيه قسمان ولأمه قسم.

قال الرحبي رحمه الله:

وهكذا مع زوجة فصاعدا … فلا تكن عن العلوم قاعدا

 

وجدة الميت لأبيه أو لأمه تنزل منزلة أمه في السدس إذا لم تكن له أم.

عَنِ بُرَيْدَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ رضي الله عنه أَطْعَمَ الْجَدَّةَ السُّدُسَ إِذَا لَمْ يَكُنْ أُمٌّ. رواه النسائي (1) والبيهقي (2)

وعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَى الْجَدَّةَ السُّدُسَ. رواه البيهقي (3)

وجدات الميت أمهات أبي أبيه أو أمهات أم أم أبيه أو أمهات أم أمه ينزلن منزلة جدته وإن علون فيشتركن في السدس.

قال الرحبي رحمه الله:

والسدس فرض جدة في النسب … واحدة كانت لأم وأب

وإن تساوى عدد الجدات … وكن كلهن وارثات

فالسدس بينهن بالسوية … في القسمة العادلة الشرعية

--------------------------------------------

(1) سنن النسائي الكبرى 6338 (ج 4 / ص 73) ذكر الجدات والأجداد ومقادير نصيبهم

(2) سنن البيهقي الكبرى رقم 12070 (ج 6 / ص 226) باب لاترث مع الأم الجدة

(3) السنن الكبرى للبيهقي رقم12713 (ج 6 / ص 235) باب فرض الجدة والجدتين
মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যদি তার কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতাই তার উত্তরাধিকারী হয়, তবে তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।} [আন-নিসা: ১১]

এবং ইমাম রাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

আর এক-তৃতীয়াংশ হলো মায়ের নির্ধারিত অংশ যখন কোনো সন্তান থাকবে না … এবং একদল ভাই-বোনও থাকবে না।

যেমন দুজন অথবা ততোধিক ভাই কিংবা বোন … এতে পুরুষদের বিধান নারীদের বিধানের মতোই।

এবং মৃত ব্যক্তির পৌত্র (ছেলের ছেলে) কিংবা পৌত্রীর উপস্থিতিতেও … তার অংশ এক-তৃতীয়াংশ হবে যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি।

 

আর যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী এবং পিতা বর্তমান থাকে এবং মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা ভাই-বোন না থাকে, তবে তার মায়ের জন্য অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ। আর এটিই উমারিয়াতাইন (উমর রা.-এর ফয়সালাকৃত মাসআলাহ) নামে পরিচিত।

এক্ষেত্রে স্বামীর অংশ অর্ধেক বের করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ তিন ভাগে ভাগ করা হবে; পিতার জন্য দুই ভাগ এবং মায়ের জন্য এক ভাগ।

ইমাম রাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

যদি স্বামী, মা ও বাবা বর্তমান থাকে … তবে তার (মায়ের) জন্য অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ সুবিন্যস্ত।

 

আর যদি মৃত ব্যক্তির স্ত্রী এবং পিতা বর্তমান থাকে এবং মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা ভাই-বোন না থাকে এবং তাদেরও কোনো সন্তান না থাকে।

তখন স্ত্রীর অংশ এক-চতুর্থাংশ বের করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ তিন ভাগে ভাগ করা হবে; পিতার জন্য দুই ভাগ এবং মায়ের জন্য এক ভাগ।

ইমাম রাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

অনুরূপভাবে স্ত্রীর ক্ষেত্রেও (এই নিয়ম প্রযোজ্য) … সুতরাং তুমি জ্ঞান অর্জন থেকে বিমুখ হয়ে বসে থেকো না।

 

মৃত ব্যক্তির দাদি বা নানি মায়ের অনুপস্থিতিতে মায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এক-ষষ্ঠাংশ পাবে।

বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাদি বা নানিকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন যখন মা ছিল না। এটি নাসায়ী (১) ও বায়হাকী (২) বর্ণনা করেছেন।

এবং মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাদি বা নানিকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন। এটি বায়হাকী (৩) বর্ণনা করেছেন।

মৃতের দাদি-নানিগণ যেমন পিতার মায়ের মা অথবা মাতার মাতার মা, তারা দাদি বা নানির স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তারা উচ্চ স্তরের হলেও এক-ষষ্ঠাংশের মধ্যে অংশীদার হবে।

ইমাম রাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

আর নসব বা বংশপরম্পরায় দাদি বা নানির অংশ হলো এক-ষষ্ঠাংশ … চাই সে মায়ের দিক থেকে হোক কিংবা পিতার দিক থেকে।

যদি দাদি বা নানির সংখ্যা একাধিক হয় … এবং তারা সকলেই উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য হয়।

তবে তাদের মধ্যে এক-ষষ্ঠাংশ সমানভাবে বণ্টন করা হবে … শরীয়াহর ন্যায়সংগত বণ্টন পদ্ধতি অনুযায়ী।

--------------------------------------------

(১) সুনানে নাসায়ী আল-কুবরা ৬৩৩৮ (৪র্থ খণ্ড / পৃষ্ঠা ৭৩) দাদি-নানি ও দাদাদের আলোচনা এবং তাদের অংশের পরিমাণ অধ্যায়।

(২) সুনানে বায়হাকী আল-কুবরা নম্বর ১২০৭০ (৬ষ্ঠ খণ্ড / পৃষ্ঠা ২২৬) মায়ের উপস্থিতিতে দাদি বা নানি উত্তরাধিকারী না হওয়া অধ্যায়।

(৩) আস-সুনান আল-কুবরা লিল বায়হাকী নম্বর ১২৭১৩ (৬ষ্ঠ খণ্ড / পৃষ্ঠা ২৩৫) দাদি বা নানি এবং দুই দাদি বা নানির নির্ধারিত অংশ অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুগিস বি-আদিল্লাতিল মাওয়ারিস (পৃষ্ঠা: ২৮)
فللميت ثلاث جدات: من جهة أبيه جدتان أم أبي أبيه وأم أم أبيه.

ومن جهة أمه جدة واحدة وهي أم أم أمه فقط.

 

‌‌باب: ميراث زوج الميت.

فصل: في بيان ميراث الزوج من زوجته.

قَالَ تَعَالَى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

وقال الرحبي رحمه الله:

النصف فرض خمسة أفراد … الزوج والأنثى من الأولاد

والربع فرض الزوج إن كان معه … من ولد الزوجة من قد منعه

 

فصل: في بيان ميراث الزوجة من زوجها أو الزوجات.

قَالَ تَعَالَى: {وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ} [النساء: 12]

وقال الرحبي رحمه الله:

وهولكل زوجة أو أكثرا … مع عدم الأولاد فيما قدرا

وذكرأولاد البنين يعتمد … حيث اعتمدنا القول في ذكرالولد

والثمن للزوجة والزوجات … مع البنين أومع البنات

ومع أولاد البنين فاعلم … ولاتظن الجمع شرطاً فافهم

 

‌‌باب: ميراث أولاد الميت الذكور والإناث وبنات وأبناء أولاده الذكور.

قَالَ تَعَالَى: {يُوصِيكُمُ اللّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ فَإِن كُنَّ نِسَاء فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ} [النساء: 11]
মৃত ব্যক্তির জন্য তিনজন দাদি/নানি থাকতে পারে: পিতার দিক থেকে দুইজন - পিতার পিতার মাতা এবং পিতার মাতার মাতা।

এবং মাতার দিক থেকে একজন নানি, তিনি হলেন কেবল মাতার মাতার মাতা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির স্বামীর উত্তরাধিকার।

অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর সম্পদ থেকে স্বামীর উত্তরাধিকারের বর্ণনায়।

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের স্ত্রীদের ত্যাজ্য সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের ত্যাজ্য সম্পদের এক-চতুর্থাংশ; তারা যে ওসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর।} [আন-নিসা: ১২]

রাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

অর্ধেক হলো পাঁচ ব্যক্তির নির্ধারিত অংশ … স্বামী এবং সন্তানদের মধ্য থেকে কন্যা

আর এক-চতুর্থাংশ হলো স্বামীর নির্ধারিত অংশ যদি তার সাথে থাকে … স্ত্রীর এমন কোনো সন্তান যে তাকে (অর্ধেক থেকে) সরিয়ে দেয়

 

অনুচ্ছেদ: স্বামী থেকে স্ত্রী বা স্ত্রীদের উত্তরাধিকারের বর্ণনায়।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমাদের ত্যাজ্য সম্পদ থেকে তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের ত্যাজ্য সম্পদ থেকে তাদের জন্য এক-অষ্টমাংশ; তোমরা যে ওসিয়ত করো তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর।} [আন-নিসা: ১২]

রাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

আর তা প্রত্যেক স্ত্রী বা একাধিকের জন্য … নির্ধারিত ক্ষেত্রে সন্তান না থাকার অবস্থায়

আর পুত্রসন্তানদের সন্তানদের (নাতি-নাতনি) কথা গণ্য হবে … যেখানে আমরা 'সন্তান' শব্দের বর্ণনায় নির্ভর করেছি

আর এক-অষ্টমাংশ স্ত্রী ও স্ত্রীদের জন্য … পুত্রদের সাথে অথবা কন্যাদের সাথে

এবং পুত্রসন্তানদের সন্তানদের সাথেও, জেনে রাখুন … আর বহুবচনকে শর্ত মনে করবেন না, বরং বিষয়টি বুঝুন

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পুত্র ও কন্যা সন্তান এবং মৃত ব্যক্তির পুত্রসন্তানদের পুত্র ও কন্যাদের উত্তরাধিকার।

মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। আর যদি তারা শুধু নারী (কন্যা) হয় দুইয়ের অধিক, তবে তাদের জন্য ত্যাজ্য সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ। আর যদি সে কেবল একজন হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক।} [আন-নিসা: ১১]