(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: -)
واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني القسم: مسائل فقهية
الكتاب: واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني
إعداد: سمير محمد جمعة العواودة
الناشر: جامعة القدس
عام النشر: 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 241
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الرسالة العلمية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব ও অধিকার: ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক আলোচনা বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় বিষয়াদি
গ্রন্থ: ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব ও অধিকার: ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক আলোচনা
সংকলনে: সমীর মুহাম্মদ জুমুআহ আল-আওয়াদাহ
প্রকাশক: আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশের বছর: ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির (একাডেমিক থিসিস) অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: -)
جامعة القدس
الدراسات العليا
واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية
مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني
سمير محمد جمعة العواودة
رسالة ماجسيتر
القدس - فلسطين
2010 م - 1431هـ
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চতর গবেষণা অনুষদ
ইসলামি শরিয়তে শ্রমিকদের কর্তব্য ও অধিকারসমূহ
ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা
সমীর মুহাম্মদ জুমা আল-আওয়াউদা
মাস্টার্স থিসিস
জেরুজালেম - ফিলিস্তিন
২০১০ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية
مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني
إعداد:
سمير محمد جمعة العواودة
بكالوريوس الفقه والتشريع من جامعة الخليل
إشراف: الدكتور عروة عكرمة صبري
المشرف المشارك: الدكتور ياسر زبيدات
قدمت هذه الرسالة استكمالاً لمتطلبات درجة الماجستير في الفقه والتشريع وأصوله من كلية الدعوة وأصول الدين/ جامعة القدس.
1431هـ/2010م
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইসলামী শরিয়তে শ্রমিকদের কর্তব্য ও অধিকার
ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
প্রণয়নকারী:
সমীর মুহাম্মদ জুমআ আল-আওয়াদাহ
আল-খলিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিকহ ও আইন বিষয়ে স্নাতক
তত্ত্বাবধানে: ডক্টর উরওয়াহ ইকরামা সাবরি
সহ-তত্ত্বাবধায়ক: ডক্টর ইয়াসির জুবাইদাত
এই থিসিসটি আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ থেকে ফিকহ, আইন ও উসুলুল ফিকহ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে পেশ করা হয়েছে।
১৪৩১ হিজরি/২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ২)
جامعة القدس
عمادة الدراسات العليا
برنامج الفقه والتشريع
إجازة الرسالة
واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني
اسم الطالب: سمير محمد جمعة العواودة
الرقم الجامعي: 20714451
المشرف الرئيس: الدكتور عروة عكرمة صبري
المشرف المشارك: الدكتور ياسر زبيدات
نوقشت هذه الرسالة وأجيزت بتاريخ:27/ 7/ 2010l م من أعضاء لجنة المناقشة المدرجة أسماؤهم وتواقيعهم:
1. رئيس لجنة المناقشة الدكتور عروة صبري
… التوقيع .......................
2. المشرف المشارك الدكتور ياسر زبيدات
… التوقيع .......................
3. الممتحن الداخلي الدكتور حسام الدين عفانة
… التوقيع ......................
4. الممتحن الخارجي الدكتور جمال الكيلاني
… التوقيع .......................
القدس - فلسطين
1431هـ/2010م
আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চশিক্ষা অনুষদ
ফিকহ ও আইন প্রণয়ন প্রোগ্রাম
থিসিস অনুমোদন
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের কর্তব্য ও অধিকার এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে এর তুলনা
ছাত্রের নাম: সামীর মুহাম্মদ জুমআ আল-আওয়াদাহ
বিশ্ববিদ্যালয় আইডি: ২০৭১৪৪৫১
প্রধান তত্ত্বাবধায়ক: ডক্টর উরওয়া ইকরিমা সাবরি
সহকারী তত্ত্বাবধায়ক: ডক্টর ইয়াসির জুবাইদাত
এই থিসিসটি ২৭/০৭/২০১০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে আলোচিত ও অনুমোদিত হয়েছে। নিম্নে আলোচনা কমিটির সদস্যদের নাম ও স্বাক্ষর প্রদান করা হলো:
১. আলোচনা কমিটির সভাপতি ডক্টর উরওয়া সাবরি
… স্বাক্ষর .......................
২. সহকারী তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর ইয়াসির জুবাইদাত
… স্বাক্ষর .......................
৩. অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ডক্টর হুসামুদ্দীন আফানা
… স্বাক্ষর ......................
৪. বহিঃস্থ পরীক্ষক ডক্টর জামাল আল-কিলানি
… স্বাক্ষর .......................
কুদস - ফিলিস্তিন
১৪৩১ হিজরি/২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৩)
الإهداء إلى منارة العلم الذي علّم المتعلمين، إلى سيّد الخلق والمرسلين، سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.
إلى الينبوع الذي لا يملّ العطاء، إلى من حاكت سعادتي بخيوط منسوجة من قلبها، والدتي العزيزة.
إلى من سعى وتعب لأنعم بالراحة والهناء، الذي لم يبخل بشيءٍ من أجل دفعي في طريق النجاح، والدي العزيز.
إلى من قاست معي أكثر من همّ، وعانت الكثير من الصعوبات، وتحمّلت معي سهر الليالي وتعب الأيام، زوجتي الغالية، وأهلها الكرام، ومعهم أبنائي الغوالي.
إلى من حُبهم يجري في عروقي، ويلهج بذكراهم فؤادي، أشقائي وعائلاتهم وشقيقاتي وعائلاتهن، وزملائي في جمعية دورا الإسلامية لرعاية الأيتام ومدرسة الصديق الخيرية الأساسية.
إلى من علموني حروفاً من ذهب، وكلمات من دُرر، أهل الشريعة في جامعة الخليل، وكلية الدعوة وأصول الدين في جامعة القدس.
إلى من ساعدوني وتحمّلوا معي عناء البحث والتوثيق، العاملين في مكتبتي كلية الدعوة وبلدية الخليل، كان الله معهم.
إلى العمّال المخلصين وأرباب العمل أجمعين.
أهدي عملي المتواضع هذا.
الطالب
سمير محمد العواودة
উৎসর্গ জ্ঞানের সেই আলোকবর্তিকার প্রতি যিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়েছেন, সকল সৃষ্টি ও রাসুলগণের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সেই চিরপ্রবহমান প্রস্রবণের প্রতি যার দান কখনো ফুরায় না, যিনি নিজের হৃদয়ের তন্তু দিয়ে আমার সুখের বুনন গেঁথেছেন, আমার প্রিয় জননী।
যিনি প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন যাতে আমি সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারি, যিনি সাফল্যের পথে আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেননি, আমার প্রিয় পিতা।
যিনি আমার সাথে অনেক উদ্বেগ ভাগ করে নিয়েছেন, বহু প্রতিকূলতা সয়েছেন এবং আমার সাথে বিনিদ্র রজনী ও দিনান্তের ক্লান্তি সহ্য করেছেন, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী, তাঁর সম্মানিত পরিবার এবং সেই সাথে আমার স্নেহাস্পদ সন্তানগণ।
যাঁদের ভালোবাসা আমার রক্তে প্রবহমান এবং যাঁদের স্মরণে আমার হৃদয় সদা স্পন্দিত হয়, আমার ভাই ও তাঁদের পরিবারবর্গ, বোন ও তাঁদের পরিবারবর্গ এবং 'দুরা ইসলামিক সোসাইটি ফর অরফান কেয়ার' ও 'আল-সিদ্দিক চ্যারিটেবল বেসিক স্কুল'-এ কর্মরত আমার সহকর্মীবৃন্দ।
যাঁরা আমাকে স্বর্ণাক্ষর এবং মুক্তাতুল্য বাণী শিক্ষা দিয়েছেন, হেবরন বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদ এবং আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন অনুষদের বিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী।
যাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন এবং গবেষণা ও তথ্যপ্রমাণের শ্রমসাধ্য কাজে আমার সাথে কষ্ট স্বীকার করেছেন, দাওয়াহ অনুষদ ও হেবরন পৌরসভা লাইব্রেরির কর্মীগণ; আল্লাহ তাঁদের সহায় হোন।
সকল নিষ্ঠাবান কর্মী এবং উদ্যোক্তাগণের প্রতি।
আমি আমার এই বিনীত কর্মটি উৎসর্গ করছি।
ছাত্র
সমীর মুহাম্মাদ আল-আওয়াউদা
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإقرار أقر أنا معدّ الرسالة بأنها قُدمت لجامعة القدس، لنيل درجة الماجستير، وأنها نتيجة أبحاثي الخاصة، باستثناء ما تم الإشارة له حيث ورد، وأن هذه الدراسة، أو أي جزء منها، لم يقدم لنيل درجة عليا لأي جامعة أو معهد آخر.
التوقيع ..........................
مقدم الرسالة: سمير محمد جمعة العواودة
التاريخ:27/ 7/2010م
অঙ্গীকারনামা আমি, এই অভিসন্দর্ভের রচয়িতা, অঙ্গীকার করছি যে, এটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে এবং এটি আমার নিজস্ব গবেষণার ফসল, কেবল সেই অংশগুলো ব্যতীত যেখানে যথাযথভাবে সূত্র নির্দেশ করা হয়েছে। আরও অঙ্গীকার করছি যে, এই গবেষণাটি বা এর কোনো অংশ অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য দাখিল করা হয়নি।
স্বাক্ষর: ..........................
অভিসন্দর্ভ উপস্থাপনকারী: সমীর মুহাম্মদ জুমুআ আল-আওয়াদাহ
তারিখ: ২৭/০৭/২০১০ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৫)
الشكر والعرفان انطلاقاً من قول الله سبحانه وتعالى: {وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ} (1) وامتثالاً لقول الرسول صلى الله عليه وسلم:" لا يشكر الله من لا يشكر الناس" (2)، وعرفاناً بالفضل لأهله فإنني أجد نفسي ملزمة بالشكر الجزيل إلى كل من أسهم وساعد ونصح وشجّع في هذا البحث، وأخصّ منهم:
الدكتوران الفاضلان اللذان تفضلا بقبول الإشراف على هذا العمل: فضيلة الدكتور عروة عكرمة صبري حفظه الله تعالى، والدكتور ياسر زبيدات بارك الله فيه، فلقد جادا عليّ بالنصائح والتوجيهات والتصويبات، وأعطياني أغلى الأوقات وأنفسها.
الأساتذة الكرام اللذين تفضلوا بالموافقة على إثراء هذا البحث من خلال مناقشة هذا العمل وهم:
1. الدكتور جمال الكيلاني عميد كلية الشريعة في جامعة النجاح الوطنية.
2. الدكتور حسام الدين عفانة أستاذ الفقه وأصوله في جامعة القدس، والذي كان قد تفضّل وأشار علي بموضوع هذا البحث.
ولن أنسى التقدم بوافر الشكر إلى بقية أساتذتي الكرام ابتداءً بالأساتذة في كلية الشريعة في جامعة الخليل، وانتهاءً بإخوانهم في كلية الدعوة وأصول الدين وكلية القرآن والدراسات الإسلامية، وبرنامج الفقه والتشريع في جامعة القدس، وجميع العاملين في الحقل العلمي من موظفين، راجياً من الله أن يبقيهم منارة للعلم الشرعي وأهله، ولا يفوتني أن أتقدم بالشكر لأُسر المكتبات العامة في مكتبة بلدية الخليل ومكتبة جامعة الخليل وأتوّجهم بالعاملين في مكتبتي كلية الحقوق و الدعوة وأصول الدين في جامعة القدس، وبجوارهم كل من ساعد في طبع وتدقيق ومراجعة هذا العمل المتواضع.
--------------------------------------------
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো নিজের কল্যাণের জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে; আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, তবে নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মহানুভব} (১)—এর প্রেক্ষিতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না" (২)—এর অনুসরণে এবং গুণীজনের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমি এই গবেষণায় যারা অবদান রেখেছেন, সাহায্য করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং উৎসাহ জুগিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করাকে নিজের আবশ্যিক কর্তব্য বলে মনে করছি। বিশেষভাবে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
দুইজন সম্মানিত ডক্টর যারা সদয়ভাবে এই কাজটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন: শ্রদ্ধেয় ডক্টর উরওয়া ইকরিমা সাবরি (আল্লাহ তায়ালা তাঁকে হিফাজত করুন) এবং ডক্টর ইয়াসির জুবাইদাত (আল্লাহ তাঁকে বরকত দান করুন)। তাঁরা আমাকে মূল্যবান উপদেশ, দিকনির্দেশনা ও সংশোধনী প্রদান করেছেন এবং তাঁদের অত্যন্ত মূল্যবান ও দামি সময় আমাকে ব্যয় করেছেন।
সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ যারা এই কাজের পর্যালোচনার মাধ্যমে এই গবেষণাকে সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাঁরা হলেন:
১. ডক্টর জামাল আল-কিলানি, আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শরীয়া অনুষদের ডিন।
২. ডক্টর হুসামুদ্দিন আফানা, আল-কুদস ইউনিভার্সিটির ফিকহ ও উসূলে ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক, যিনি সদয় হয়ে আমাকে এই গবেষণার বিষয়টি প্রস্তাব করেছিলেন।
আমি আমার অন্যান্য সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলব না—শুরুতেই হেব্রন (আল-খলীল) ইউনিভার্সিটির শরীয়া অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ থেকে শুরু করে আল-কুদস ইউনিভার্সিটির দাওয়াহ ও উসূলে দীন অনুষদ, কুরআন ও ইসলামি স্টাডিজ অনুষদ এবং ফিকহ ও আইন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা এই জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নিয়োজিত আছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে শরয়ী জ্ঞান ও জ্ঞানপিপাসুদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে বাঁচিয়ে রাখেন। সেই সাথে হেব্রন মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরি ও হেব্রন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির কর্মীগণ এবং বিশেষভাবে আল-কুদস ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদ ও দাওয়াহ ও উসূলে দীন অনুষদের লাইব্রেরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি যারা এই বিনম্র কাজটি মুদ্রণ, নিরীক্ষণ ও পর্যালোচনায় সহায়তা করেছেন তাদের সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الملخصتناول هذا البحث والمعنون بـ" واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني " الواجبات والحقوق للعامل في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني، حيث بدأت فيه بتعريف الواجب عند علماء اللغة وعلماء الشريعة الإسلامية، ثم بيان معنى الحق لغة واصطلاحاً وكذلك عند علماء القانون، بعد ذلك بيان المعنى المراد من مصطلح العمل عند علماء الشريعة الإسلامية، وناقش البحث مشروعية عقد الإجارة في الشريعة الإسلامية والتكييف الفقهي لوظيفة العامل، مع بيان نوعي الإجارة على الأشخاص (الأجير الخاص والأجير المشترك) وأهم الفروق بينهما، بعد ذلك تطرق البحث للحديث عن نظرة الإسلام للعمل وللعمال في حقل التجارة والزراعة وبقية المجالات، مبيّناً تكريم الإسلام للعامل بغضّ النظر عن وظيفته.
ثم تناول البحث واجبات العمال في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني، وهذه الواجبات هي: إنجاز العمل المُتفق عليه على أكمل وجه، ومتابعة العامل على متابعته للعمل بنفسه، وكذلك ضرورة التواجد في مكان العمل المحدد، وأهمية المحافظة على أدوات العمل التي تكون تحت مسؤولية العامل، ثم تنفيذ العامل لأوامر صاحب العمل ضمن الحدود التي وضعتها الشريعة الإسلامية وأثبتتها نصوص القانون.
ثم تطرق البحث للواجبات الأخلاقية التي ترتبط بمبدأ حُسن النية، وهي عدم إفشاء أسرار العمل مؤكداً ضرورة تفريق القانون بين السرّ المهني والخبرة المكتَسَبة من العمل، ثم ضرورة معاملة عملاء صاحب العمل معاملة حسنة، ثم بيّن البحث أهمية استعمال العامل لوسائل النظافة والوقاية المتوفرة في موقع العمل، ثم تناول البحث الحقوق الأخلاقية للعامل التي يجب أن يتمتع بها، وتشمل ضرورة توفير الدولة فرص العمل المناسبة للقادرين على العمل، ثم النظرة الإنسانية الموسومة بالعطف والرحمة للعامل، وضرورة العمل على رفع الروح المعنوية للعامل وتحفيزه الدائم من قِبل صاحب العمل أو من ينوب عنه، ثم تطرق البحث لمسألة تشغيل الأطفال وبيان الأثر السلبي من الناحية الشرعية والقانونية.
كما أشار هذا البحث إلى حق العامل في تأدية العبادات، ثم تناول البحث موضوع حق العامل في الأجرة وبيان كيفية تحديدها والأمور التي ينبغي
সারসংক্ষেপ“শরিয়তে ইসলামি ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের আলোকে শ্রমিকের কর্তব্য ও অধিকারসমূহ” শীর্ষক এই গবেষণাটি শরিয়তে ইসলামি এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিকের দায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছে। এতে ভাষাবিদ ও ইসলামি শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের নিকট কর্তব্যের (ওয়াজিব) সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। এরপর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘অধিকার’ (হক)-এর অর্থ এবং আইনবিদদের নিকট এর তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইসলামি শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের নিকট ‘শ্রম’ (আমল) পরিভাষাটির উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। এই গবেষণায় ইসলামি শরিয়তে ইজারা (ভাড়া বা নিয়োগ) চুক্তির বৈধতা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ফিকহী স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিদের ইজারার দুটি প্রকার (আযীর খাস বা ব্যক্তিগত শ্রমিক এবং আযীর মুশ্তারাক বা সাধারণ শ্রমিক) এবং তাদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর ব্যবসা, কৃষি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে শ্রমিকের পদমর্যাদা নির্বিশেষে ইসলামের পক্ষ থেকে তাকে প্রদত্ত সম্মানের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অতঃপর গবেষণাটি শরিয়তে ইসলামি ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিকের কর্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে। এই কর্তব্যগুলো হলো: চুক্তিবদ্ধ কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা, শ্রমিক কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে কাজের তদারকি বজায় রাখা, নির্দিষ্ট কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার আবশ্যকতা এবং শ্রমিকের জিম্মায় থাকা কাজের সরঞ্জামাদির রক্ষণাবেক্ষণ করা। এরপর ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত এবং আইনি বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে থেকে নিয়োগকর্তার আদেশ পালন করা।
এরপর গবেষণাটি সদিচ্ছার নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৈতিক দায়িত্বসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে। এগুলো হলো—কাজের গোপনীয়তা প্রকাশ না করা। এক্ষেত্রে পেশাগত গোপনীয়তা এবং কাজ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আইনগত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া নিয়োগকর্তার গ্রাহকদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার আবশ্যকতা এবং কর্মস্থলে উপলব্ধ পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে শ্রমিকের প্রাপ্য নৈতিক অধিকারসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা তার ভোগ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে—কর্মে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, শ্রমিকের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা মিশ্রিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা এবং নিয়োগকর্তা বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে শ্রমিকের মনোবল বৃদ্ধি ও নিয়মিত অনুপ্রেরণা প্রদানের আবশ্যকতা। এরপর শিশুশ্রমের বিষয় এবং শরিয়ত ও আইনের দৃষ্টিতে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও এই গবেষণায় শ্রমিকের ইবাদত পালনের অধিকারের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এরপর শ্রমিকের মজুরি লাভের অধিকার, তা নির্ধারণের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা...
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৭)
مراعاتها عند تحديدها، وذلك بالمقارنة بين ما أوردته الشريعة الإسلامية وما ذكرته قوانين العمل مبيّنا الحاجة الماسة لتحديد الحد الأدنى من الأجور في فلسطين، وناقشت ربط الأجرة بمؤشر غلاء المعيشة، بعد ذلك ذكرت الوقت الشرعي والقانوني لدفع الأجرة والضمانات التي لا بدّ من توافرها لدفع الأجرة، ثم قواعد الوفاء بدفع الأجرة في الوقت المحدد.
تطرق البحث لمناقشة الإجازات وبيان المعنى المقصود من الإجازة وأنواعها، كما ناقش البحث حكم التأمين في الشريعة الإسلامية، وحق العامل في التعويض عن كل ما يلحق به من أضرار نتيجة قيامه بالعمل المُتفق عليه، وناقش أيضاً التكييف الفقهي لمكافأة نهاية الخدمة وموقف القانون منها، كما تطرق للراتب التقاعدي، والموقف الشرعي والقانوني منه، وتناول البحث الموقف الشرعي من حق العامل في تقديم الشكاوى ضد صاحب العمل، وكذلك حقه في التظاهر والإضراب عن العمل، كما تطرق البحث لأحكام ابتكارات العامل وكيفية الاستفادة منه، ثم ذيّلت الأطروحة بالمسارد التي تخدم البحث.
مشكلة البحث: تكمن مشكلة البحث في قلة معرفة العمال بواجباتهم وحقوقهم وخصوصاً المعاصرة منها.
أهمية البحث: تعتبر هذه الدراسة مهمة نظراً لحاجة المكتبة إليها، ولبيان أوجه الاتفاق والافتراق بين الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
منهجية البحث: اتبعت في بحثي المنهج الوصفي مع المقارنة والتحليل في بعض المواطن.
أهم النتائج:
1. أن ينصّ قانون العمل الفلسطيني على أحكام تشغيل الأطفال.
2. أن تستحق المرأة العاملة إجازة الوضع بمجرد اجتيازها لفترة التجربة في العمل.
3. وفرة التوجيهات الإسلامية التي تركز على غرس معرفة العامل بواجباته وحقوقه.
4. عندما ألزم الإسلام الإنسان بالمحافظة على الجسد فإنه قرر مبدأ الإجازات بأنواعها.
5. العامل مُلزم بضمان ما أتلفه بتقصير أو إهمال.
6. الراتب التقاعدي ومكافأة نهاية الخدمة حقٌ للعامل.
7. الاحتجاج والتظاهر والإضراب عن العمل وسائل مشروعة إذا كانت غايتها وأساليبها مشروعة.
8. الابتكار حق لصاحبه، ولا يجوز الاعتداء عليه.
মজুরি নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিবেচনা করা, যা ইসলামী শরীয়াহর বিধান এবং শ্রম আইনের বিধানসমূহের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকের সাথে মজুরিকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এরপর মজুরি পরিশোধের শরঈ ও আইনি সময় এবং মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জামানতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর নির্ধারিত সময়ে মজুরি পরিশোধের নিয়মাবলি বর্ণনা করা হয়েছে।
এ গবেষণায় ছুটির বিষয়ে আলোচনা এবং ছুটির উদ্দেশ্য ও এর প্রকারভেদসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও গবেষণায় ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বীমার বিধান এবং চুক্তিবদ্ধ কাজ করার ফলে শ্রমিকের কোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাকুরিকাল শেষে গ্র্যাচুইটির ফিকহী স্বরূপ এবং এ বিষয়ে আইনের অবস্থানও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তদুপরি অবসরকালীন ভাতা এবং সে বিষয়ে শরঈ ও আইনি অবস্থানও এতে উঠে এসেছে। গবেষণায় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে শ্রমিকের অভিযোগ দায়েরের অধিকার, সেইসাথে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট করার অধিকারের বিষয়ে শরঈ অবস্থান আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকের উদ্ভাবন সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতিও এতে স্থান পেয়েছে। পরিশেষে গবেষণা সংশ্লিষ্ট নির্ঘণ্টের মাধ্যমে অভিসন্দর্ভটি সমাপ্ত করা হয়েছে।
গবেষণার সমস্যা: শ্রমিকদের নিজ দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে জ্ঞানের অভাবই এই গবেষণার মূল সমস্যা।
গবেষণার গুরুত্ব: গ্রন্থাগারে এই বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ইসলামী শরীয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো উন্মোচনের কারণে এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা পদ্ধতি: এই গবেষণায় আমি বর্ণনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং কিছু ক্ষেত্রে তুলনা ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছি।
প্রধান ফলাফলসমূহ:
১. ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শিশুশ্রম সংক্রান্ত বিধানাবলি অন্তর্ভুক্ত করা।
২. কর্মজীবী নারী তার শিক্ষানবিশকাল অতিক্রম করার পরপরই মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী হওয়া।
৩. শ্রমিকের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইসলামী নির্দেশনার প্রাচুর্য।
৪. ইসলাম যখন মানুষকে তার শরীরের যত্ন নিতে বাধ্য করেছে, তখন সে সব ধরণের ছুটির নীতিও নির্ধারণ করে দিয়েছে।
৫. অবহেলা বা ত্রুটির কারণে শ্রমিক কোনো কিছুর ক্ষতিসাধন করলে সে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
৬. অবসরকালীন ভাতা এবং চাকুরিকাল শেষে গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক শ্রমিকের একটি অধিকার।
৭. প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং ধর্মঘট বৈধ মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে, যদি এর উদ্দেশ্য এবং পদ্ধতি বৈধ হয়।
৮. উদ্ভাবন উদ্ভাবকের নিজস্ব অধিকার, যা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৮)
Abstract
In this research with its address "The Duties and Rights in Islamic Sharee'a compared with the Palestinian Work Law" the duties and rights to the worker in both Islamic Sharee'a and the Palestinian Work Law.
I begin it by defining the duty from the Sharee'a and language scientists point of view، and showing the concept of the right lingnisti cally and Idiomatically، also as the law scientists defrint it، after that defring the labor from the share،a scientists point of view.
In this research there is discussion about the legality of rent decument and the FiKh adjusts to the labor job with defring the Two sorts employe: the special and the common employers with their defferences ،after that this research talks about the Islamic look at work and workers in the field of agriculture and commerce and other aspects.
Showing how Islam encourages and rewards the worker for away from looking and his job. the research discusses the duhes of Labours Sharee'a and the Palestinian work law. These duties are finishing the work well ،watching the worker how he fullfil the work himself ، being in the work fild، Keeping the work tools safely، and implemining honestly the orders of the work owner with in the limita that the Islamic sharee،a and the Law prove.
In this research also there is the morals duties which is related to the good will intention. Such as not to say the work secrets to any one ، and the necessary of dealing the agents of the work owner in agood way. also in the research you can find the neccassary of using the means of healthy and safety that available in the work held.then the moral rights to the Labour as the role of the state to find work opporitunities to the workers and the humanitarian look to the Labour، and to encourage the labour and reward him.From the work owner، the research talks about the bad effects for permithing the child to work.the research talk about the rights to the Labour to do his worships law his salary from Islamic Sharee،a and law point of view in palestin in evey single details.
In the research then is adiscussion about the work leares and their different kinds the insurance in Islamic Sharee'a، the worker right to be compensated if he exposed to dangers ،the worker rights of finishing the job after lony years and hoe this can be solred from both Sharee،a and Palestine laws. Retirement ،complaining against the work owner، demonstating and stor working also the research talks also about the worker's in versions and how can be in vested from it. At the end of the dissertation you can see clearly the references.
The research problem
The lack of workers Knowing about their and rights.
The necessary of the research
The library needs it ، especially to know the agree and this agree between the Palestine and the Sharee،a.
The research way
সারসংক্ষেপ
“ইসলামি শরীয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের আলোকে শ্রমিকের কর্তব্য ও অধিকার: একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন” শীর্ষক এই গবেষণায় ইসলামি শরীয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইন উভয় ক্ষেত্রে শ্রমিকের কর্তব্য ও অধিকারসমূহ আলোচিত হয়েছে।
আমি গবেষণার শুরুতে শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ এবং ভাষাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গিতে 'কর্তব্য'-এর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছি এবং শাব্দিক ও পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'অধিকার'-এর ধারণা ব্যাখ্যা করেছি, যেমনটি আইনবিদগণ সংজ্ঞায়িত করেছেন। এরপর শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গিতে 'শ্রম'-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছি।
এই গবেষণায় ইজারা বা শ্রম চুক্তির বৈধতা এবং শ্রমের ক্ষেত্রে ফিকহী বিধিবিধানের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে শ্রমিক বা কর্মচারীর দুটি প্রকার: ব্যক্তিগত শ্রমিক এবং সাধারণ শ্রমিক-এর সংজ্ঞা ও তাদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে, কৃষি, বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলাম কীভাবে শ্রমিককে উৎসাহিত করে এবং তার কাজের জন্য তাকে পুরস্কৃত করে তা এখানে প্রদর্শিত হয়েছে। এই গবেষণায় ইসলামি শরীয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের কর্তব্যসমূহ আলোচিত হয়েছে। এই কর্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুচারুভাবে কাজ সম্পন্ন করা, শ্রমিক কীভাবে নিজেই কাজটি সম্পাদন করছে তা তদারকি করা, কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকা, কাজের সরঞ্জামাদি নিরাপদে রাখা এবং ইসলামি শরীয়াহ ও আইনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে মালিকের আদেশ সততার সাথে বাস্তবায়ন করা।
এই গবেষণায় সদিচ্ছার সাথে সম্পর্কিত নৈতিক কর্তব্যসমূহও স্থান পেয়েছে; যেমন—কাজের গোপনীয়তা কারও কাছে প্রকাশ না করা এবং মালিকের প্রতিনিধিদের সাথে মার্জিত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে উপলব্ধ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার উপকরণসমূহ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এতে আলোচিত হয়েছে। অতঃপর শ্রমিকের নৈতিক অধিকার, যেমন—শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা, শ্রমিকের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শ্রমিককে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করার বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে শিশুকে শ্রমে নিযুক্ত করার নেতিবাচক প্রভাবসমূহ নিয়েও গবেষণাটিতে আলোচনা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনে প্রচলিত ইসলামি শরীয়াহ ও আইনের বিস্তারিত পরিপেক্ষিতে শ্রমিকের ইবাদত পালনের অধিকার এবং তার মজুরি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর গবেষণায় বিভিন্ন প্রকার ছুটি, ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী বিমা ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্মুখীন হলে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার এবং দীর্ঘকাল চাকরি শেষে শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকারসমূহ এবং কীভাবে ইসলামি শরীয়াহ ও ফিলিস্তিনি আইন উভয়টির মাধ্যমে এর সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অবসর গ্রহণ, নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি শ্রমিকের উদ্ভাবন এবং তা থেকে কীভাবে সুফল ভোগ করা যায়, সেই বিষয়েও গবেষণায় আলোকপাত করা হয়েছে। গবেষণাপত্রের শেষে তথ্যসূত্রসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার সমস্যা
শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব।
গবেষণার প্রয়োজনীয়তা
গ্রন্থাগারে এই বিষয়ের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনি আইন এবং শরীয়াহর মধ্যকার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগুলো জানার জন্য এর বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৯)
I Followed in my research the discriphon way in addihon to contrast and analyze in some cases.
Results
1. The Palestinian Labour law must have texts about the lethality of the letting the children work.
2. The work woman has right to lay permission "without depending of how many years she is at works.
3. Allot of Sharee،a texts to worker to Know his rights and dutes.
4. To keep your body safe in Islam، there are sereral kind of leaves.
5. The worker is responsible for his failing in the work or destroying tools.
6. The retirement salary and endying job reword is afull right to the worker.
7. To stop working ،Protest ، and demonstrations are full rights for the workers to achieve their legitimate rights.
8. Innovation is afull right for its owner if is forbiclen to violate.
আমি আমার গবেষণায় বর্ণনামূলক পদ্ধতির পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে তুলনা ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।
ফলাফলসমূহ
১. ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শিশুশ্রমের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবশ্যই বিধান থাকতে হবে।
২. কর্মজীবী নারী কত বছর যাবৎ কর্মরত আছেন তা বিবেচনা না করেই মাতৃত্বকালীন ছুটি লাভের অধিকার রাখেন।
৩. শ্রমিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ জানার জন্য শরিয়াহর প্রচুর বর্ণনা ও মূলনীতি রয়েছে।
৪. ইসলামে শরীর সুস্থ রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
৫. শ্রমিক তার কাজে অবহেলা বা যন্ত্রাংশ নষ্ট করার জন্য দায়ী থাকবেন।
৬. অবসরকালীন ভাতা এবং চাকরির সমাপ্তিকালীন পারিতোষিক শ্রমিকের পূর্ণ অধিকার।
৭. নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি, প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করা শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার।
৮. উদ্ভাবনের ওপর উদ্ভাবকের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং এটি লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১০)
المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد:
فإن من مميزات الدين الإسلامي شمولية أحكامه لكل نواحي الحياة وجوانبها، إذ إن تشريعات هذا الدين العظيم شملت كل ما يحتاجه البشر، سواء أكان في المعاملات أم العبادات أم غيرهما، فما من خيرٍ إلا وقد دلّ الناس عليه، وما من شرٍ إلا و حذرهم منه، لذلك كانت شريعة الإسلام صالحة لكل زمانٍ ومكان؛ فأحكام الإسلام وتشريعاته تستوعب مختلف المسائل والقضايا التي تستجد في واقع الناس وحياتهم.
فمنذ بدء الخليقة ظهرت الحاجة إلى إدارة العائلة أو القبيلة أو القرية أو المجتمع أو الدولة، ومع تطور البشرية تطورت الحاجة إلى وضع القوانين والأنظمة التي تضبط هذا التطور والتقدم، ومن هذا المنطلق جاءت الشريعة الإسلامية بمبادئ وأحكام عامة وتفصيلية تنظم من خلالها علاقة العامل مع صاحب العمل، والتي لا بدّ من إبرازها وإلقاء الضوء عليها، كما أن لتنظيم العلاقة بين صاحب العمل والعامل أثراً إيجابياً في عنصر الإنتاج، والذي يؤثر بشكل مباشر في التنمية والتقدم؛ لذا وجدت أسباباً داعية لاختيار هذا الموضوع، فكانت كثيرة أذكر منها:
1. عدم وجود دراسة مستقلة فيه على مستوى فلسطين - حسب علمي- فما وجدت من كتب في هذا الموضوع مقارنة مع القانون الفلسطيني.
2. ما ألمسه في الحياة اليومية من قلة علم واضحة لدى العامل وصاحب العمل في معرفة كليهما لحقوقه وواجباته.
3. حاجة المكتبة الإسلامية للتأصيل الشرعي لحقوق العامل وواجباته التي قررتها القوانين.
4. بيان الحقوق أو الواجبات التي سكت عنها القانون الفلسطيني ولم يذكرها- إن وجدت -.
5. تعريف العمال بحقوقهم الشرعية، وكذا بيان حقوق ربّ العمل والتزامات كل منهم تِجاه الآخر.
منهج الدراسة
اتبعت في دراستي لهذا الموضوع المنهج الوصفي مع المقارنة والتحليل، حيث حصرت المواد القانونية التي تتعلق بحقوق العمال وواجباتهم ومحاولة البحث عن شروحها، وعند انعدامها اتجهت نحو القوانين العربية المجاورة والشبيهة، كقانون العمل الأردني والمصري والسعودي، ثم قارنت هذه المواد بما تحدث عنه الفقهاء المسلمون القدامى والمعاصرون، وما قررته المجامع والهيئات الشرعية
ভূমিকা নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই কাছে তওবা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইসলাম ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ও দিকের ওপর এর বিধানের ব্যাপকতা। কেননা এই মহান ধর্মের শরিয়ত মানুষের প্রয়োজনীয় সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে, চাই তা লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক কিংবা ইবাদত বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি মানুষকে পথ দেখাননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। এই কারণেই ইসলামের শরিয়ত সব সময় এবং সব স্থানের জন্য উপযুক্ত। ইসলামের বিধান ও শরিয়ত মানুষের বাস্তব জীবনে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা ও বিষয়াবলিকে ধারণ করে।
সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিবার, গোত্র, গ্রাম, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মানবজাতির বিবর্তনের সাথে সাথে এই বিবর্তন ও অগ্রগতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই ইসলামি শরিয়ত সাধারণ ও বিস্তারিত এমন কিছু নীতি ও বিধান নিয়ে এসেছে যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তার সাথে শ্রমিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়, যা ফুটিয়ে তোলা এবং যার ওপর আলোকপাত করা অপরিহার্য। একইভাবে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা সরাসরি উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। তাই এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই আমি উল্লেখ করছি:
১. আমার জানামতে ফিলিস্তিনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা নেই। ফিলিস্তিনি আইনের সাথে তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে এই বিষয়ে আমি কোনো বই খুঁজে পাইনি।
২. দৈনন্দিন জীবনে আমি শ্রমিক এবং নিয়োগকর্তা উভয়ের মধ্যেই তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞানের স্পষ্ট অভাব লক্ষ্য করি।
৩. আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত শ্রমিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহের শরয়ি ভিত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ইসলামি গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা।
৪. ফিলিস্তিনি আইনে যে সকল অধিকার বা কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি বা যে বিষয়ে আইন নীরব—যদি থেকে থাকে—তা বর্ণনা করা।
৫. শ্রমিকদের তাদের শরয়ি অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা এবং একইভাবে নিয়োগকর্তার অধিকার ও একে অপরের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা।
গবেষণার পদ্ধতি
এই বিষয়টি অধ্যয়নে আমি তুলনামূলক আলোচনা ও বিশ্লেষণসহ বর্ণনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। যেখানে আমি শ্রমিকদের অধিকার ও কর্তব্য সংক্রান্ত আইনি ধারাগুলো একত্রিত করেছি এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছি। যখন সেগুলো পাওয়া যায়নি, তখন আমি প্রতিবেশী ও সমধর্মী আরব দেশগুলোর আইনের দিকে মনোনিবেশ করেছি, যেমন জর্ডান, মিশর ও সৌদি আরবের শ্রম আইন। অতঃপর আমি এই ধারাগুলোকে প্রাচীন ও সমসাময়িক ইসলামি ফকিহদের বক্তব্য এবং শরয়ি কাউন্সিল ও সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের সাথে তুলনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المعاصرة، ثم أثبت المآخذ على القانون الوضعي، وبيّنت الاستدراكات التي رآها الباحث ضرورية، فكان عملي في هذا البحث على النحو الآتي:
1. عزو الآيات القرآنية وبيان موضعها من القرآن الكريم.
2. بيان وجه الاستدلال من الآيات القرآنية.
3. تخريج الأحاديث النبوية من كتب الأحاديث.
4. الإتيان بحكم المحدثين على الأحاديث التي أسوقها خلال الدراسة- ما استطعت لذلك سبيلا-.
5. بيان شرح الأحاديث النبوية مستعيناً بكتب شروح الحديث.
6. تخريج الآثار الواردة في الدراسة.
7. الرجوع إلى كتب الفقه الإسلامي لبيان أصل الحقوق أو الواجبات التي ذكرها القانون.
8. الاعتماد على النسخة الرسمية لقانون العمل الفلسطيني الصادرة في سنة 2000م.
9. الترجمة للأعلام الذين يرد ذكرهم في الدراسة.
10. الاستعانة بشروحات قانون العمل الفلسطيني.
11. بيان أهم نقاط الاتفاق والافتراق بين الحقوق الواردة في الشريعة الإسلامية وتلك التي ساقها القانون.
الدراسات السابقة
عندما عقدت العزم على البحث في هذا الموضوع بحثت عمن كتب قبلي فيه فما وجدت إلا القليل من الكتب أذكر منها:
1. حقوق العمال في الإسلام للباحث عدنان بن خالد شعبان، وهي رسالة دكتوراة أُجيزت من كلية الشريعة والقانون في جامعة الأزهر في سنة 1971م، بإشراف الدكتور محمد إبراهيم الخضراوي، ولم أتمكن من الاطلاع عليها، لعدم توفرها في المكتبات الفلسطينية وعجزي عن إحضارها من مكان نشرها.
2. حقوق العمال وواجباتهم في الإسلام للباحث علي بن عبد الله الغامدي، وهي رسالة ماجستير أُجيزت من المعهد العالي للقضاء في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية سنة 1984م، بإشراف الدكتور عبد العظيم شرف الدين، وواجهت فيها ما واجهته في الرسالة الأولى.
3. العمال في رعاية الإسلام لمؤلفه محمد محمد الطويل، وطبع سنة 1998م في مكتبة الغد في مصر.
الخطة التفصيلية
جعلت رسالتي في ثلاثة فصول وخاتمة، فكانت على النحو الآتي:
সমসাময়িক, এরপর মানবরচিত আইনের ত্রুটিগুলো সাব্যস্ত করেছি এবং গবেষক যা প্রয়োজনীয় মনে করেছেন সেই সংশোধনগুলো স্পষ্ট করেছি। এই গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
১. কুরআনের আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান এবং পবিত্র কুরআনে সেগুলোর স্থান নির্দেশ করা।
২. কুরআনের আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের ধরন বর্ণনা করা।
৩. হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে নববী হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করা।
৪. গবেষণার মধ্যে আমি যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, সেগুলোর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের হুকুম বা মন্তব্য প্রদান করা—সাধ্যানুযায়ী।
৫. হাদিসের শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থের সহায়তায় নববী হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা।
৬. গবেষণায় বর্ণিত আসারগুলোর (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) তাখরিজ করা।
৭. আইনে উল্লিখিত অধিকার বা দায়িত্বগুলোর মূল ভিত্তি স্পষ্ট করতে ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়া।
৮. ২০০০ সালে প্রকাশিত ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সরকারি কপির ওপর নির্ভর করা।
৯. গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী প্রদান করা।
১০. ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সহায়তা গ্রহণ করা।
১১. ইসলামি শরিয়তে বর্ণিত অধিকার এবং আইনে উল্লেখিত অধিকারগুলোর মধ্যে মিল ও অমিলের প্রধান দিকগুলো স্পষ্ট করা।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ
যখন আমি এই বিষয়ে গবেষণার সংকল্প করলাম, তখন আমার পূর্বে যারা এই বিষয়ে লিখেছেন তাদের সন্ধান করলাম। আমি খুব অল্প সংখ্যক বই পেয়েছি, যার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. গবেষক আদনান বিন খালিদ শাবান রচিত 'ইসলামে শ্রমিকদের অধিকার'। এটি একটি পিএইচডি থিসিস যা ১৯৭১ সালে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও আইন অনুষদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইবরাহিম আল-খাদরাউয়ি-এর তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি লাইব্রেরিগুলোতে এটি না থাকায় এবং এর প্রকাশনা স্থান থেকে সংগ্রহ করতে না পারায় আমি এটি পর্যবেক্ষণ করতে পারিনি।
২. গবেষক আলি বিন আব্দুল্লাহ আল-গামদি রচিত 'ইসলামে শ্রমিকদের অধিকার ও দায়িত্ব'। এটি একটি মাস্টার্স থিসিস যা ১৯৮৪ সালে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে ড. আব্দুল আজিম শরাফউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত হয়েছে। প্রথম থিসিসটির ক্ষেত্রে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, এখানেও সেই একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।
৩. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আত-তাবিল রচিত 'ইসলামের আশ্রয়ে শ্রমিক', এটি ১৯৯৮ সালে মিশরের মাকতাবাতুল গাদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বিস্তারিত রূপরেখা
আমি আমার থিসিসটি তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ ছিল:
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأول: تعريف بالواجبات والحقوق والتكييف الفقهي لوظيفة العامل وأسس اختياره، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف بالواجبات والحقوق والتكييف الفقهي لوظيفة العامل، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: تعريف الواجب والحق.
المطلب الثاني: التكييف الفقهي لوظيفة العامل.
المبحث الثاني: نظرة الإسلام للعمل والعمال وأسس اختيار العمال في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: نظرة الإسلام للعمل والعمال.
المطلب الثاني: أسس اختيار العمال في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
الفصل الثاني: واجبات العمال في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني، ويشمل المباحث الآتية:
المبحث الأول: واجبات العمال في الشريعة الإسلامية، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: إنجاز العمل على الوجه المطلوب.
المطلب الثاني: متابعة العامل للعمل بنفسه.
المطلب الثالث: عدم الغياب عن العمل أثناء فترة العمل.
المطلب الرابع: الحفاظ على ما تحت رعايته من آلات وأدوات ومعدات.
المطلب الخامس: التعويض والضمان
المطلب السادس: تنفيذ الأوامر بالقدر الذي يخص العمل.
المبحث الثاني: واجبات العمال الأخلاقية وتشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: عدم إفشاء أسرار العمل.
المطلب الثاني: إحسان معاملة عملاء صاحب العمل.
المطلب الثالث: التعاون بما يحقق مصالح العمل.
المطلب الرابع: استعمال وسائل النظافة والوقاية.
الفصل الثالث: حقوق العمال في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني، وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: حقوق العمال الأخلاقية، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: حق العامل على الدولة في توفير فرصة عمل.
المطلب الثاني: حق العامل في المعاملة الإنسانية.
المطلب الثالث: حق العامل في رفع الروح المعنوية وتحفيزه.
المبحث الثاني: حق العامل في تأدية العبادات، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: حق العامل في تأدية فريضة الحج.
প্রথম অধ্যায়: কর্তব্য ও অধিকারের পরিচিতি, শ্রমিকের পদের ফিকহি স্বরূপ এবং তার নির্বাচনের ভিত্তি; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কর্তব্য ও অধিকারের পরিচিতি এবং শ্রমিকের পদের ফিকহি স্বরূপ; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কর্তব্য ও অধিকারের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শ্রমিকের পদের ফিকহি স্বরূপ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামি শরিয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিক নির্বাচনের ভিত্তি; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিক নির্বাচনের ভিত্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি শরিয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিকদের কর্তব্যসমূহ; এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের কর্তব্যসমূহ; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শ্রমিকের সশরীরে কাজ তদারকি করা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কর্মঘণ্টায় কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত না থাকা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নিজের অধীনে থাকা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ক্ষতিপূরণ ও জামিনদারিত্ব।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: কাজের পরিধি অনুযায়ী নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শ্রমিকদের নৈতিক দায়িত্বসমূহ; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কাজের গোপনীয়তা প্রকাশ না করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নিয়োগকর্তার গ্রাহকদের সাথে সদাচরণ করা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কাজের স্বার্থে সহযোগিতা প্রদান করা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তৃতীয় অধ্যায়: ইসলামি শরিয়াহ ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিকদের অধিকারসমূহ; এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শ্রমিকদের নৈতিক অধিকারসমূহ; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রতি শ্রমিকের অধিকার।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মানবিক আচরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মনোবল বৃদ্ধি ও উদ্দীপনা লাভের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার; এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: হজ পালন করার ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الثاني: حق العامل في تأدية الصلوات المفروضة.
المطلب الثالث: حق العامل في تأدية صلاة الجمعة.
المطلب الرابع: حق العامل في تأدية النوافل والسنن الراتبة.
المبحث الثالث: حق العامل في الأجرة، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: تحديد الأجرة.
المطلب الثاني: الاعتماد على مؤشر غلاء المعيشة في تحديد الأجرة، والحكم الشرعي في ذلك.
المطلب الثالث: وقت دفع الأجرة وتملكها.
المطلب الرابع: ضمانات الوفاء بالأجرة.
المطلب الخامس: قواعد الوفاء بالأجر.
المبحث الرابع: حق العامل في الإجازات، وتشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: الإجازة السنوية.
المطلب الثاني: الإجازة الأسبوعية.
المطلب الثالث: الإجازة المرضية.
المطلب الرابع: الإجازة الأمومة.
المطلب الخامس:.إجازة العارضة.
المبحث الخامس: حق العامل في التأمين والتعويض، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: التأمين في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
المطلب الثاني: التعويض في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
المبحث السادس: حق العامل في مكافأة نهاية الخدمة والتقاعد، ويشمل المطالب الآتية.
المطلب الأول: مكافأة نهاية الخدمة في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
المطلب الثاني: الراتب التقاعدي في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
المبحث السابع: حق العامل في الشكوى و التقاضي و التظاهر والإضراب عن العمل، وحق الابتكار، ويشمل المطالب الآتية:
المطلب الأول: الشكوى والتقاضي.
المطلب الثاني: التظاهر والإضراب عن العمل.
المطلب الثالث: حق الابتكار.
وأسأل الله العظيم ربّ العرش الكريم أن يكون قد وفقني وأعانني في كتابة هذه الرسالة، متضرعاً إليه سبحانه أن ينفع بها المسلمين، ويستفيد منها العامل وصاحب العمل؛ ليقوم الناس بالقسط، فما كان صواباً فمن توفيق الله لعبده، وما كان مجانباً للصواب فمن نفسي و الشيطان، -أعاذنا الله منه -.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফরজ নামাজ আদায়ে শ্রমিকের অধিকার।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জুমার নামাজ আদায়ে শ্রমিকের অধিকার।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নফল ও সুন্নতে রাতেবা নামাজ আদায়ে শ্রমিকের অধিকার।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পারিশ্রমিক প্রাপ্তিতে শ্রমিকের অধিকার, যা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পারিশ্রমিক নির্ধারণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিশ্রমিক নির্ধারণে জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকের ওপর নির্ভরতা এবং এ সংক্রান্ত শরয়ী বিধান।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পারিশ্রমিক প্রদানের সময় এবং এর মালিকানা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পারিশ্রমিক পরিশোধের নিশ্চয়তা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পারিশ্রমিক পরিশোধের নীতিমালা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ছুটির ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, যা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বার্ষিক ছুটি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাপ্তাহিক ছুটি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অসুস্থতাজনিত ছুটি।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মাতৃত্বকালীন ছুটি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নৈমিত্তিক ছুটি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিমা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে শ্রমিকের অধিকার, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে বিমা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: চাকরিকাল শেষে আনুতোষিক ও অবসরকালীন ভাতার ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, যা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে চাকরিকাল শেষে আনুতোষিক।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়াহ এবং ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে অবসরকালীন ভাতা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: অভিযোগ পেশ, মামলা পরিচালনা, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি এবং উদ্ভাবনের অধিকার, যা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিযোগ ও মামলা পরিচালনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উদ্ভাবনের অধিকার।
আমি মহান আল্লাহ, যিনি সম্মানিত আরশের প্রতিপালক, তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই গবেষণাপত্রটি রচনায় তাওফিক ও সাহায্য দান করে থাকেন। আমি তাঁর নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়েই যেন এর দ্বারা লাভবান হয়; যাতে মানুষ ইনসাফের সাথে কাজ পরিচালনা করতে পারে। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রতি তাওফিকস্বরূপ, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: -)
واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني القسم: مسائل فقهية
الكتاب: واجبات العمال وحقوقهم في الشريعة الإسلامية مقارنة مع قانون العمل الفلسطيني
إعداد: سمير محمد جمعة العواودة
الناشر: جامعة القدس
عام النشر: 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 241
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الرسالة العلمية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব ও অধিকার: ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক আলোচনা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব ও অধিকার: ফিলিস্তিনি শ্রম আইনের সাথে একটি তুলনামূলক আলোচনা
প্রস্তুতকারী: সমীর মুহাম্মদ জুমুআ আল-আওয়াদাহ
প্রকাশক: আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশকাল: ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের (গবেষণাপত্র) অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আখের ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১)
الفصل الأول: تعريف بالواجبات والحقوق والتكييف الفقهي لوظيفة العامل وأسس اختياره، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف بالواجبات والحقوق والتكييف الفقهي لوظيفة العامل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: تعريف الواجب والحق والعمل.
المطلب الثاني: التكييف الفقهي لوظيفة العامل.
المبحث الثاني: نظرة الإسلام للعمل والعمال وأسس اختيار العامل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: نظرة الإسلام للعمل والعمال.
المطلب الثاني: أسس اختيار العامل في الشريعة الإسلامية وقانون العمل الفلسطيني.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কর্তব্য ও অধিকারের পরিচিতি, শ্রমিকের কর্মের ফিকহী স্বরূপ এবং তার নির্বাচনের ভিত্তি, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কর্তব্য ও অধিকারের পরিচিতি এবং শ্রমিকের কর্মের ফিকহী স্বরূপ, এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: কর্তব্য, অধিকার ও কাজের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: শ্রমিকের কর্মের ফিকহী স্বরূপ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শ্রমিক নির্বাচনের ভিত্তি, এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: কাজ ও শ্রমিকের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরীআত ও ফিলিস্তিনি শ্রম আইনে শ্রমিক নির্বাচনের ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ২)
المطلب الأولتعريف الواجب والحق والعملأولاً: تعريف الواجب لغة واصطلاحاً، فالواجب في اللغة من وجب الشيء يجب وجوباً، أي لزم (1)، ووجبت الشيء جعلته لازماً، واستوجب لشيءٍ استحقه (2)، والواجب أيضاً من وجب الشيء إذا سقط، ومن ذلك قول الله سبحانه وتعالى: {وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (3) واستوجب الشيء بمعنى ثبت. (4) وفي اصطلاح علماء الشريعة الإسلامية فقد عرّفه الإمام الآمدي (5) رحمه الله الواجب بقوله:" ما طلب الشارع فعله من المكلَّف طلباً حتمياً، مقترناً على حتمية فعله، ويُثاب فاعله، ويُعاقَب تاركه، ويُكفَّر منكره إذا ثبت بدليل قطعي" (6)، وهو" ما طلب الشارع فعله على وجه اللزوم، بحيث يذم تاركه، ومع الذم العقاب، ويُمدح فاعله ومع المدح الثواب" (7)،
والواجب في العمل: اسم لما لزم علينا بدليل فيه شُبهة، كخبر الواحد (8)،والعام المخصوص، والآية المؤوَّلة، وذلك كصدقة الفطر والأضحية (9)،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদওয়াজিব, হক ও আমল-এর সংজ্ঞাপ্রথমত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ওয়াজিবের সংজ্ঞা; আভিধানিক অর্থে ওয়াজিব শব্দটি 'ওয়াজাবা' (وجب) থেকে এসেছে যার অর্থ কোনো কিছু আবশ্যক হওয়া। অর্থাৎ যখন কোনো কিছু অবধারিত হয় (১), আর আমি কোনো কিছুকে ওয়াজিব করেছি মানে আমি সেটাকে আবশ্যক করেছি। কোনো কিছুর জন্য 'ইস্তাওজাবা' (استوجب) করার অর্থ হলো তার যোগ্য হওয়া (২)। এছাড়া ওয়াজিব শব্দটি 'ওয়াজাবা' থেকে পতিত হওয়া বা পড়ে যাওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আর কুরবানির উটগুলোকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি, তোমাদের জন্য তাতে কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় সেগুলোর ওপর তোমরা আল্লাহর নাম স্মরণ করো। এরপর যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যায় (ওয়াজাবাত), তখন তোমরা তা থেকে আহার করো এবং যে অভাবী ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট ও যে অভাবী হাত পাতে—উভয়কেই তা থেকে খাওয়াও। এভাবেই আমি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} (৩)। আবার কোনো কিছু সাব্যস্ত হওয়া বা স্থির হওয়া অর্থেও 'ইস্তাওজাবা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। (৪) ইসলামী শরীয়াহর আলেমদের পরিভাষায় ইমাম আমেদী (৫) (রহিমাহুল্লাহ) ওয়াজিবের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "শারআ (আইনপ্রণেতা) মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে সক্ষম ব্যক্তি)-এর নিকট থেকে কোনো কাজ করার জন্য যে অকাট্য তলব বা দাবি জানিয়েছেন, যা পালন করা আবশ্যকীয়তার সাথে যুক্ত; এবং এর সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয়, বর্জনকারী শাস্তির যোগ্য হয় এবং এটি যদি অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয় তবে অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হয়" (৬)। আর ওয়াজিব হলো "শারআ যা আবশ্যকীয়ভাবে করার দাবি জানিয়েছেন, এমনভাবে যে এর বর্জনকারী নিন্দিত হয় এবং নিন্দার সাথে সাথে শাস্তির উপযোগী হয়, আর এর সম্পাদনকারী প্রশংসিত হয় এবং প্রশংসার সাথে সাথে সওয়াবের অধিকারী হয়" (৭)।
আর আমলের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো: এমন বিষয়ের নাম যা এমন দলিলের ভিত্তিতে আমাদের ওপর আবশ্যক হয়েছে যাতে সংশয় (ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ) রয়েছে, যেমন খবর-ই-ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) (৮), আম-মাখসুস (বিশেষায়িত সাধারণ পাঠ) এবং রূপক অর্থযুক্ত আয়াত। এর উদাহরণ হলো সাদাকাতুল ফিতর এবং কুরবানি (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৩)
ثانياً: تعريف الحق في لغة واصطلاحاً: مصدر حقَّ الأمر: بمعنى وجب وثبت، ويأتي بمعنى: أوضح وصدق وذلك لقول الله سبحانه وتعالى: {لِيُنذِرَ مَن كَانَ حَيّاً وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} (1)، واستحق الشيء واستحق الأمر إذا استوجبه، واستحق الإثم بمعنى وجبت عليه عقوبته، ومنه قول الله سبحانه وتعالى: {فَإِنْ عُثِرَ عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْماً فَآخَرَانِ يِقُومَانُ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِن شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذاً لَّمِنَ الظَّالِمِينَ} (2) والاستحقاق طلب الحق (3)، ويُطلق أيضاً على المِلك والمال، والأمر الموجود الثابت ومن ذلك قول الله سبحانه وتعالى: {لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ} (4)،ويرى بعض المعاصرين أن كل الاستعمالات اللغوية المستعملة لكلمة الحق تدور حول معنى الثبوت والوجوب، (5) كما يُطلق الحق كذلك على اسمٍ من أسماء الله سبحانه وتعالى أو من صفاته، كما يُطلق على القرآن الكريم، وهو ضد الباطل، والموت، والحزم، (6) وهو في اصطلاح أهل المعاني: الحكم المطابق للواقع، ويُطلق على الأقوال والعقائد والأديان والمذاهب باعتبار اشتمالها على ذلك. (7)
وبالنسبة لتعريف الحق عند علماء الشريعة الإسلامية فلم أقف - بعد عناء البحث- على تعريف جامع للحق بالمعنى العام، وذلك لاعتمادهم على التعريف اللغوي، إلا ما وجدته عند صاحب كتاب البحر الرائق الذي عرّفه بقوله:" الحق ما يستحقه الرجل" (8)، كما وجدت تعريفاً آخر لصاحب شرح المنار فقال:" الحق هو الشيء الموجود من كل وجه، ولا ريب في وجوده" (9)، ومن ذلك قول الرسول
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে হকের সংজ্ঞা: 'হাক্কা আল-আমর' (حقَّ الأمر) এর মূলধাতু (মাসদার); এটি আবশ্যক হওয়া এবং সাব্যস্ত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি আরও স্পষ্ট হওয়া ও সত্য হওয়া অর্থ প্রকাশ করে, যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই বাণীর কারণে: {যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন তাকে যে জীবিত এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে কথাটি সাব্যস্ত হতে পারে} (১)। কোনো কিছু 'ইস্তাহাক্কা' (استحق) হওয়া এবং কোনো বিষয় 'ইস্তাহাক্কা' হওয়া মানে তা আবশ্যক হওয়া। 'ইস্তাহাক্কা আল-ইছম' (পাপের অধিকারী হওয়া) অর্থ হলো তার ওপর সেই অপরাধের শাস্তি আবশ্যক হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {অতঃপর যদি জানা যায় যে, তারা উভয়ে অপরাধী হয়েছে (পাপ সাব্যস্ত করেছে), তবে তাদের পরিবর্তে অন্য দুইজন দাঁড়াবে তাদের মধ্য হতে যাদের হক তারা নষ্ট করেছিল, অতঃপর তারা আল্লাহর নামে শপথ করবে যে, আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যের চেয়ে অধিকতর সত্য এবং আমরা সীমালঙ্ঘন করিনি, অন্যথায় আমরা অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবো} (২)। আর 'ইস্তিহকাক' (استحقاق) অর্থ হলো হক বা অধিকার তলব করা (৩)। এটি মালিকানা, সম্পদ এবং বিদ্যমান ও সাব্যস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়; যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {তাদের অধিকাংশের ওপর কথাটি সাব্যস্ত হয়ে গেছে, ফলে তারা বিশ্বাস করবে না} (৪)। কোনো কোনো সমসাময়িক পণ্ডিত মনে করেন যে, হক শব্দের সকল আভিধানিক প্রয়োগ মূলত সাব্যস্ত হওয়া এবং আবশ্যক হওয়ার অর্থকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় (৫)। তদ্রূপ 'আল-হাক্ক' মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একটি নাম অথবা তাঁর গুণাবলীর (সিফাত) মধ্যে একটি গুণ হিসেবেও অভিহিত হয়। আবার এটি কুরআনুল কারীমের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এটি বাতিল, মৃত্যু এবং দৃঢ় সংকল্পের বিপরীত (৬)। আর অর্থ-বিশেষজ্ঞদের (আহলুল মা'আনি) পরিভাষায় এটি হলো: বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিধান। এটি কথা, আকিদা, ধর্ম এবং মাজহাব বা মতাদর্শের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়, সেগুলোতে বাস্তবতার উপস্থিতি বিবেচনায় (৭)।
ইসলামি শরীয়তের পণ্ডিতদের নিকট হকের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে—দীর্ঘ অনুসন্ধানের কষ্টের পর—আমি সাধারণ অর্থে হকের কোনো পূর্ণাঙ্গ (জামে) সংজ্ঞা পাইনি, কারণ তারা আভিধানিক সংজ্ঞার ওপরই নির্ভর করেছেন। তবে 'আল-বাহরুর রায়িক' কিতাবের লেখকের কাছে যা পেয়েছি, যেখানে তিনি একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "হক হলো তা-ই, যা একজন ব্যক্তি প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য হয়" (৮)। এছাড়া 'শারহুল মানার' এর লেখকের একটি সংজ্ঞাও আমি পেয়েছি, তিনি বলেন: "হক হলো এমন এক বিদ্যমান বস্তু যা সকল দিক থেকেই বিদ্যমান এবং যার অস্তিত্বে কোনো সন্দেহ নেই" (৯)। এরই অংশ হলো রাসুলের বাণী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৪)
- صلى الله عليه وسلم:" العين حق، ولو كان شيء سابق القدر لسبقته العين، وإذا استغسلتم فاغسلوا " (1)، وهذا تعريف الحق بالمعنى اللغوي - والله تعالى أعلم-،ومن خلال استعمالات الفقهاء لكلمة الحق نرى أنهم لم يُطلقوها على معنىً واحد، لأنهم أطلقوا هذا اللفظ على معانٍ مختلفة، وكلها راجعة إلى المعنى اللغوي، ومنهم من أطلق كلمة الحق على جميع الحقوق المالية وغير المالية فيُقال مثلاً: حق لله تعالى وحق للعباد (2)، وقد يستعملون هذا اللفظ ليدل على مرافق العقارات كحق المسيل وحق الطريق، وكذلك الحقوق المتعلقة بالبنايات في العصر الحديث، كحق الصعود للطوابق العليا، ومنهم من يستعمل لفظ الحق في البدل على ما ينشأ عن العقد الصحيح من التزامات، فعقد البيع مثلاً إذا تم بصورة صحيحة فينشأ عنه نقل الملكية للمشتري، وكذلك تسليم المبيع، ودفع الثمن حسب الحقوق، وكل هذه حقوق متعلقة بالعقد. (3) أما علماء أصول الفقه فقد اهتموا بالحق وتقسيماته في باب المحكوم به، والذي هو فعل المكلَّف الذي يتعلق به خطاب الشارع (4)، وهو عند الحنفية ينقسم باعتبار ما يُضاف إليه إلى قسمين هما:
القسم الأول: حق لله تعالى، وهو ما يتعلق به النفع العام لجميع العالم، فلا يختص به واحد دون واحد، وإضافته إلى الله تعالى لعظيم خطره، وأهميته، وشمول نفعه للجميع (5)، وهذا أقرب ما يكون عند علماء القانون بالأمور المتعلقة بالنظام العام، غير أنه عند الحنفية شامل للمصلحة الدنيوية والأخروية، ولا يختص بالدنيوية كما هو عند علماء القانون ومن الأمثلة على ذلك حرمة الزنا التي يتعلق بها عموم النفع من سلامة الأنساب (6).
القسم الثاني: حقوق العباد، وهذه الحقوق هي التي تتعلق بالأفراد وليس بالنظام، بل لا دخل للنظام فيها، وهي ما يتعلق بمصلحة خاصة دنيوية، كحُرمة مال الغير، وحق الدية، وحق بدل المتلفات.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন: “নজর লাগা সত্য, আর যদি কোনো কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে নজরই তাকে অতিক্রম করত। আর যখন তোমাদেরকে গোসল করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল করো।” (১)। এটি হলো আভিধানিক অর্থে ‘হক’ (অধিকার)-এর সংজ্ঞা—আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—। ফকীহগণের ‘হক’ শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা একে কেবল একটি অর্থে প্রয়োগ করেননি; বরং তাঁরা এই শব্দটিকে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছেন, যার প্রতিটিই আভিধানিক অর্থের দিকে ফিরে যায়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ‘হক’ শব্দটিকে সকল প্রকার আর্থিক ও অ-আর্থিক অধিকারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। যেমন বলা হয়: আল্লাহর হক এবং বান্দার হক (২)। আবার কখনো তাঁরা এই শব্দটি স্থাবর সম্পত্তির সুবিধাদি বোঝাতে ব্যবহার করেন, যেমন—পানি নিষ্কাশনের অধিকার এবং যাতায়াতের অধিকার। তেমনিভাবে আধুনিক যুগের ভবন সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ, যেমন—উপরের তলায় ওঠার অধিকার। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ‘হক’ শব্দটিকে বৈধ চুক্তির ফলে সৃষ্ট দায়বদ্ধতার প্রতিদান হিসেবে ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তার ফলে ক্রেতার কাছে মালিকানা হস্তান্তর, বিক্রিত পণ্য সোপর্দ করা এবং অধিকার অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের বিষয়টি উদ্ভূত হয়। আর এই সবগুলোই চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকার। (৩) অন্যদিকে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ ‘মাহকুম বিহি’ (যার ওপর বিধান কার্যকর হয়) অধ্যায়ে হক ও এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ‘মাহকুম বিহি’ হলো মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) সেই কাজ, যার সাথে শারী‘আতের সম্বোধন সংশ্লিষ্ট (৪)। হানাফী মাযহাব মতে, যার দিকে এটি সম্বন্ধিত করা হয় সেই বিবেচনায় হক দুই প্রকার, যথা:
প্রথম প্রকার: আল্লাহর হক। এটি এমন বিষয় যা সমগ্র বিশ্বের সাধারণ কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট নয়। একে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে এর সুমহান গুরুত্ব এবং সকলের জন্য এর উপযোগিতার ব্যাপকতার কারণে (৫)। আইনবিদদের দৃষ্টিতে এটি ‘জনশৃঙ্খলা’ (Public Order) সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে হানাফীগণের মতে এটি ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতের কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে, আইনবিদদের মতো কেবল পার্থিব কল্যাণে সীমাবদ্ধ নয়। এর একটি উদাহরণ হলো ব্যভিচারের নিষিদ্ধতা, যার সাথে বংশধারার সুরক্ষার মতো সাধারণ কল্যাণ জড়িত (৬)।
দ্বিতীয় প্রকার: বান্দার হক। এই অধিকারগুলো ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট, ব্যবস্থার (সিস্টেম) সাথে নয়; বরং এতে ব্যবস্থার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। এগুলো বিশেষ পার্থিব স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন—অন্যের সম্পদের অলঙ্ঘনীয়তা, দিয়তের (রক্তপণ) অধিকার এবং নষ্টকৃত জিনিসের বিনিময় পাওয়ার অধিকার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقد أضاف العلماء قسماً ثالثاً، وهو ما يشمل حقاً لله تعالى وحقاً للعباد، كحد القذف مثلاً، فيرى الحنفية أن حق الله تعالى وحق العبد إذا اجتمعا في شيء، ونفذ أحدهما سقط الآخر، وقالوا: لا يُجمع قطع وتغريم في السرقة (1)، بينما يرى غيرهم أنه لا تنافي بين الحقين (2)، وإنما يُعرف الفرق بين هذه الحقوق بصحة إسقاط الحق، فما كان لله تعالى فلا يجوز إسقاطه، وكل ما جاز إسقاطه فهو حق للعبد. وقد نسب الدكتور الدريني (3) رحمه الله لعلماء الأصول تعريفاً للحق بقوله:" الحق الموجود والمراد به هنا حكم يثبت" وعلّق على هذا التعريف بأمرين هما:
الأول: أنه بُني عن منشأ الحق ومصدره؛ لأن الحق لا يُعدُّ حقاً في نظر الشرع الإسلامي إلا إذا جاء من النصوص الشرعية ما يقرره، وتقرير الحق لا يكون إلا بحكم شرعي.
الثاني: أن الحكم إن أُريد به خطاب الله المتعلق بأفعال المكلّفين فالحق ليس هو الخطاب نفسه، وإنما هو الأثر المترتب والثابت بالخطاب، فعلاقة الحق بالحكم هي علاقة المسبّب بالسبب، واستخلص الدكتور الدريني- رحمه الله أن هذا تعريف بالأعم؛ لأن كل حق حكم، وليس كل حكم حقاً، (4) هذا وقد اجتهد فقهاء العصر في تحديد معنى الحق وانقسموا في ذلك إلى قسمين:
القسم الأول: وهؤلاء عرّفوه بحسب الغاية منه فقالوا:" هو مصلحة ثابتة للفرد أو المجتمع أو لهما معاً يقررها الشارع الحكيم" (5)، ولكن يؤخذ على هذا التعريف أن الحق ليس مصلحة للفرد أو المجتمع، وإنما هو وسيلة يمكن أن يسلكها المكلف للوصول إلى المصلحة.
--------------------------------------------
আলেমগণ একটি তৃতীয় বিভাগ যোগ করেছেন, যা মহান আল্লাহর হক এবং বান্দার হক উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন অপবাদের শাস্তি (হাদ্দে কাজফ)। হানাফীগণ মনে করেন যে, কোনো বিষয়ে যদি মহান আল্লাহর হক ও বান্দার হক একত্রিত হয় এবং এর একটি কার্যকর হয়, তবে অন্যটি রহিত হয়ে যায়। তারা বলেন: চুরির অপরাধে হাত কাটা এবং ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা একত্রে প্রযোজ্য হবে না (১), অন্যদিকে অন্যান্যরা মনে করেন যে, উভয় হকের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই (২)। বরং এই হকগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার উপায় হলো হক প্রত্যাহার করার বৈধতা; যা মহান আল্লাহর হক তা প্রত্যাহার করা জায়েজ নয়, আর যা প্রত্যাহার করা জায়েজ তা হলো বান্দার হক। ড. দিরিনী (৩) (রাহিমাহুল্লাহ) উসুলবিদগণের প্রতি হকের একটি সংজ্ঞা আরোপ করে বলেছেন: "হক হলো বিদ্যমান বিষয়, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাব্যস্ত হওয়া কোনো বিধান।" তিনি এই সংজ্ঞার ওপর দুটি বিষয়ে মন্তব্য করেছেন:
প্রথমত: এটি হকের উৎস ও উৎপত্তিস্থলের ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছে; কারণ ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো বিষয় ততক্ষণ পর্যন্ত হক হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না শরীয়তের দলীল থেকে তা সাব্যস্ত করার মতো প্রমাণ আসে। আর হকের স্বীকৃতি কেবল শরয়ী বিধানের মাধ্যমেই সম্ভব।
দ্বিতীয়ত: বিধান দ্বারা যদি মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-দের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন উদ্দেশ্য হয়, তবে হক স্বয়ং সেই সম্বোধন নয়; বরং এটি সেই সম্বোধনের মাধ্যমে অর্জিত ও সাব্যস্ত হওয়া ফলাফল। সুতরাং হকের সাথে বিধানের সম্পর্ক হলো কারণের সাথে কার্যের সম্পর্কের মতো। ড. দিরিনী (রাহিমাহুল্লাহ) এই উপসংহার টেনেছেন যে, এটি একটি অতি-ব্যাপক সংজ্ঞা; কারণ প্রতিটি হকই একটি বিধান, কিন্তু প্রতিটি বিধান হক নয়। (৪) বর্তমান যুগের ফকীহগণ হকের সংজ্ঞা নির্ধারণে ইজতিহাদ করেছেন এবং এক্ষেত্রে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম ভাগ: তারা হকের উদ্দেশ্যের নিরিখে সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং বলেছেন: "এটি ব্যক্তি বা সমাজ অথবা উভয়ের জন্য সাব্যস্ত এমন এক কল্যাণ, যা প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা নির্ধারণ করেছেন" (৫)। তবে এই সংজ্ঞার সমালোচনায় বলা হয় যে, হক স্বয়ং ব্যক্তি বা সমাজের কল্যাণ নয়, বরং এটি একটি মাধ্যম যা মুকাল্লাফ ব্যক্তি কল্যাণে পৌঁছানোর জন্য অবলম্বন করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৬)
القسم الثاني: وهؤلاء عرّفوا الحق حسب موضوعه، فهو عندهم:" ما ثبت للإنسان استيفاؤه" (1) وأخذ الدريني- رحمه الله على هذا التعريف أنه غير مانع؛ لأنه يشمل الرخصة والإباحة، إذ هي مما يثبت استيفاؤه شرعاً كذلك، كما لا يشمل التعريف حقوق الأسرة مثل حق الولي في تأديب الصغير، وذلك لأن المصلحة عائدة على غير صاحب الحق وهو المولّى عليه. (2)
أو هو اختصاص مظهر فيما يقصد له شرعاً (3)،ثم اختار الدكتور الدريني رحمه الله تعريفاً للحق فقال:"هو اختصاص يقرّ به الشرع سلطة على شيء أو اقتضاء أداء من آخر تحقيقاً لمصلحة معينة (4) "، ويُمكن ترجيح هذا التعريف للأسباب الآتية:
1. يميز بين الحق وغايته، فالحق ليس هو المصلحة بل هو وسيلة للوصول لهذه المصلحة.
2. يشمل حقوق الله تعالى وكذلك حقوق الأشخاص الطبيعية والاعتبارية.
3. يُبين مدى استعمال الحق بما أُلقي عليه من قيد" تحقيقاً لمصلحة معينة".
4. يستبعد هذا التعريف المصلحة من تعريف الحق وكذلك الإرادة.
5. يشمل هذا التعريف حقوق الأسرة وحقوق المجتمع.
6. لم يجعل هذا التعريف الحماية الشرعية للحق عنصراً فيه، بل جعل الحماية الشرعية للحق من مستلزماته، فهي تالية من حيث وجودها لوجود الحق. (5)
ومعروف أن الحقوق تثبت بالأدلة، خاصة في موضع النزاعات، كمن ادّعى على غيره مالاً فعليه وصف مصدره، وهل هذا الحق كان ببيع أو قرض.
وعرّفه الأستاذ مصطفى الزرقا (6) رحمه الله بقوله:" اختصاص يقرُّ به الشرع سلطة أو تكليفاً" (7) وذلك كحق الولي في التصرف على من تحت ولايته، فإنه سلطة لشخص على شيء.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিভাগ: তারা 'হক' বা অধিকারকে এর বিষয়বস্তু অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাদের মতে এটি হলো: "যা আদায় করা মানুষের জন্য সাব্যস্ত হয়েছে।" (১) আদ-দুরিনী (রাহিমাহুল্লাহ) এই সংজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি 'জামে-মানে' (সংজ্ঞার পূর্ণতা ও অনন্যতা রক্ষা করা) নয়; কারণ এতে 'রুখসাত' (ছাড়) এবং 'ইবাহাত' (বৈধতা)-ও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেহেতু এগুলোও শারঈভাবে আদায়ের যোগ্য। তদুপরি, এই সংজ্ঞা পরিবারের অধিকারসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাসন করার ক্ষেত্রে অভিভাবকের অধিকার। কারণ এক্ষেত্রে কল্যাণ অধিকারের মালিকের কাছে নয়, বরং যার ওপর অধিকার প্রয়োগ করা হচ্ছে (অধীনস্থের) তার কাছে ফিরে যায়। (২)
অথবা এটি একটি প্রকাশ্য বিশেষত্ব যা শারঈভাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (৩)। অতঃপর ডক্টর আদ-দুরিনী (রাহিমাহুল্লাহ) অধিকারের একটি সংজ্ঞা নির্বাচন করে বলেছেন: "এটি এমন একটি বিশেষত্ব যা শরীয়ত কর্তৃক স্বীকৃত; যা কোনো বস্তুর ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করে অথবা নির্দিষ্ট কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অন্যের কাছ থেকে কোনো কিছু আদায়ের দাবি জানায় (৪)।" নিম্নোক্ত কারণে এই সংজ্ঞাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে:
১. এটি অধিকার এবং এর লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য করে; ফলে অধিকার নিজেই লক্ষ্য বা কল্যাণ নয়, বরং সেই কল্যাণে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম।
২. এটি আল্লাহর অধিকারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও আইনি ব্যক্তিদের অধিকারকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
৩. 'নির্দিষ্ট স্বার্থ হাসিল'—এই শর্ত আরোপের মাধ্যমে এটি অধিকার প্রয়োগের পরিধি স্পষ্ট করে।
৪. এই সংজ্ঞাটি অধিকারের সংজ্ঞা থেকে 'স্বার্থ' ও 'ইচ্ছা'কে পৃথক রাখে।
৫. এই সংজ্ঞাটি পরিবারের অধিকার এবং সমাজের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।
৬. এই সংজ্ঞা অধিকারের শারঈ সুরক্ষাকে এর মৌলিক উপাদান হিসেবে গণ্য করেনি, বরং একে অধিকারের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে রেখেছে; কারণ সুরক্ষার অস্তিত্ব অধিকারের অস্তিত্বের পরবর্তী বিষয়। (৫)
এটি সুবিদিত যে, বিশেষ করে বিরোধের ক্ষেত্রে অধিকার প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। যেমন কেউ যদি অন্যের কাছে সম্পদের দাবি করে, তবে তাকে সেই সম্পদের উৎসের বর্ণনা দিতে হবে এবং এই অধিকার কি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে নাকি ঋণের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে তা স্পষ্ট করতে হবে।
উস্তাদ মুস্তাফা আয-যারকা (৬) (রাহিমাহুল্লাহ) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "এটি শরীয়ত স্বীকৃত এমন একটি বিশেষত্ব যা কর্তৃত্ব বা আবশ্যিক দায়িত্ব প্রদান করে" (৭)। যেমন অভিভাবকের অধীনে থাকাদের ওপর তার পরিচালনার অধিকার; এটি কোনো বিষয়ের ওপর ব্যক্তির কর্তৃত্ব স্বরূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৭)
والمراد بالاختصاص: علاقة تشمل الحق الذي موضوعه مالي، كاستحقاق الدَّين في الذمة بأي سبب كان، والذي موضوعه ممارسة سلطة شخصية، كممارسة الولي ولايته، والوكيل وكالته.
وهذه العلاقة لكي تكون حقاً يجب أن تختص بشخص معيّن أو بفئة، إذ لا معنى للحق إلا عندما يتصور فيه ميزة ممنوحة لصاحبه، وممنوعة عن غيره، أما ما كان من قبيل الإباحات العامة، كالاصطياد، والاحتطاب فلا تعدُّ حقاً بالمعنى المراد هنا؛ إذ لا يوجد شخص مطالب بأداء هذا الحق لصاحبه، ثم إن هذا الاختصاص لا يكون معتبَراً ما لم يعتبره الشرع، ولذا اشتُرط إقرار الشرع له، إذ لا حق إلا ما اعتبره الشرع حقاً.
والمراد بالسلطة: ما يشمل سلطة شخص على شخص، كحق الولاية على النفس فهي للولي على القاصر؛ إذ له حق تأديبه وتطبيبه، والسلطة على شيء معين كحق الملكية، فهي سلطة على ذات الشيء.
والمراد بالتكليف: تكليف الغير بأداء ما في عهدته لصاحب الحق، كقيام الأجير بعمله، وقيام المدين بأداء دينه.
وما ذكره فضيلة الشيخ الزرقا- رحمه الله في تعريفه وجيه وجامع، غير أن الفقهاء المتقدمين رحمهم الله لم يلتزموا في تعاريفهم ما التزمه المناطقة والأصوليون ومتأخرو الفقهاء بأن التعريف لا بد وأن يكون جامعاً مانعاً؛ لأن أكثر تعاريفهم إنما هو تعريف شمولي في الجملة، وهو ما يعرف عند المناطقة بالتعريف بالرسم، ولهذا نجد أن الفقهاء رحمهم الله يستعملون الحق بمعانٍ عدّة، وفي مواضع مختلفة، وكلها ترجع إلى المعاني اللغوية للحق (1)، والعلاقة بين الحق والواجب: أن الحق هو ما يستحقه صاحبه، بحيث يخوله سلطة على الآخرين، وبذلك تنشغل ذمم هؤلاء الآخرين بما يجب أن يؤدوه نحو صاحب الحق، وقد اجتهد فقهاء القانون في تعريف الحق وبيان وجهات نظرهم في مفهومه، وقد تبين لنا من خلال الاستقراء أن مذاهبهم تنحصر في أربعة مذاهب:
--------------------------------------------
ইখতিসাস (বিশেষ সংশ্লিষ্টতা) বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন একটি সম্পর্ক যা আর্থিক বিষয়বস্তুর অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন যে কোনো কারণেই হোক জিম্মায় থাকা ঋণের পাওনা সাব্যস্ত হওয়া; এবং যা ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন অভিভাবকের তার অভিভাবকত্ব চর্চা করা এবং প্রতিনিধির তার প্রতিনিধিত্ব চর্চা করা।
এই সম্পর্কটি অধিকার বা 'হক' হওয়ার জন্য তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রেণির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া আবশ্যক। কারণ অধিকারের কোনো অর্থ থাকে না যদি না এতে এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের ধারণা থাকে যা এর মালিককে প্রদান করা হয়েছে এবং অন্যদের জন্য তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যা সাধারণ অনুমতির অন্তর্ভুক্ত, যেমন শিকার করা বা কাঠ সংগ্রহ করা, তা এখানে উদ্দেশ্যকৃত অর্থে অধিকার হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যাকে মালিকের অনুকূলে এই অধিকার আদায় করার জন্য দাবি করা যায়। তদুপরি, এই সংশ্লিষ্টতা ততক্ষণ পর্যন্ত ধর্তব্য হবে না যতক্ষণ না শরিয়ত একে গণ্য করে। এ কারণেই শরিয়তের অনুমোদনের শর্তারোপ করা হয়েছে; যেহেতু শরিয়ত যাকে অধিকার হিসেবে গণ্য করেছে তা ব্যতীত অন্য কোনো অধিকার নেই।
সুলতাহ (কর্তৃত্ব) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যা একজনের ওপর অন্যজনের কর্তৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন জীবনের ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার, যা নাবালকের ওপর তার অভিভাবকের থাকে; কারণ তার তাকে শাসন ও চিকিৎসা করার অধিকার রয়েছে। আর কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর ওপর কর্তৃত্ব যেমন মালিকানার অধিকার, যা বস্তুর সত্তার ওপর কর্তৃত্ব নির্দেশ করে।
তাকলিফ (দায়বদ্ধ করা) বলতে উদ্দেশ্য হলো: অন্যের জিম্মায় থাকা বিষয় অধিকারীর অনুকূলে আদায় করার জন্য তাকে আদিষ্ট করা, যেমন শ্রমিকের তার কাজ সম্পাদন করা এবং ঋণদাতার পাওনা পরিশোধ করা।
ফযিলাতুশ শায়খ যারকা (রহিমাহুল্লাহ) তার সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন তা যুক্তিযুক্ত ও সর্বাঙ্গীণ। তবে পূর্বসূরি ফকিহগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) তাদের সংজ্ঞায় সেই নিয়ম অনুসরণ করেননি যা যুক্তিবিদ, উসুলবিদ ও পরবর্তীকালের ফকিহগণ আবশ্যক করেছেন যে, সংজ্ঞাকে অবশ্যই 'জামে-মানে' (সবটুকু অন্তর্ভুক্তকারী ও অন্য সবকিছু বর্জনকারী) হতে হবে; কারণ তাদের অধিকাংশ সংজ্ঞাই ছিল মূলত সামগ্রিক বর্ণনামূলক সংজ্ঞা, যা যুক্তিবিদদের কাছে 'তারিফ বিল রসম' হিসেবে পরিচিত। এই কারণেই আমরা দেখি যে ফকিহগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) 'হক' শব্দটিকে বিভিন্ন অর্থে ও বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করেছেন, যার সবই হকের আভিধানিক অর্থের দিকে ফিরে যায় (১)। অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক হলো: অধিকার হলো তা যা এর মালিকের প্রাপ্য, যা তাকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করে। এর ফলে অন্যদের জিম্মা সেই কাজের মাধ্যমে দায়বদ্ধ হয় যা তাদের অধিকারীর অনুকূলে আদায় করা আবশ্যক। আইনের ফকিহগণ অধিকারের সংজ্ঞা প্রদান এবং এর ধারণার ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে ইজতিহাদ করেছেন। পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের মতাদর্শগুলো চারটি ধারায় সীমাবদ্ধ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৮)
المذهب الأول: باعتبار صاحب الحق وهو ما يُعرف بالمذهب الشخصي أو نظرية الإرادة، حيث عرّفه أصحاب هذا المفهوم بقولهم:" الحق قدرة أو سلطة إرادية يخولها القانون شخصاً معيناً ويرسم حدودها" (1) ومن ثَمّ فهو صفة تلحق بشخص معيّن، ولكن هذا التعريف يتنافى مع هو متعارف في الشرائع من وجود حقوق لعديمي الإرادة كالصغير والمجنون.
المذهب الثاني: باعتبار المصلحة في الحق وموضوعه وهذا ما يُعبّر عنه بالمذهب الموضوعي، حيث عرّفه أصحابه بقولهم:" الحق مصلحة يحميها القانون" (2)، ويؤخذ على هذا التعريف أنه جعل المصلحة معياراً للحق، وليس كل حق مصلحة، وليس كل مصلحة تكوّن حقا.
المذهب الثالث: وهو يجمع بين شرط مباشرة الحق وبين الهدف من المصلحة وهو ما يُعرف بالمذهب المختلط، وعرّفه أصحاب هذا المذهب بأنه" القدرة الإرادية المعطاة لشخص من الأشخاص في سبيل تحقيق مصلحة يحميها القانون". (3)
المذهب الرابع: وقد جاء أصحاب هذا المذهب بتعريف مستحدَث يكشف عن خصائص الحق المميزة له، فقالوا:"الحق استئثار بقيمة معينة يمنحه القانون لشخص ويحميه" (4) ثم عرّفه الدكتور عبد الرزاق السنهوري (5) رحمه الله بقوله:" الحق مصلحة ذات قيمة مالية يحميها القانون" (6).ومن العلماء من اختار للحق تعريفاً بقوله:" هو ميزة يمنحها القانون لشخص، ويضمنها بوسائله، يتصرف الشخص بمقتضاها
--------------------------------------------
প্রথম মতবাদ: অধিকারের মালিকের বিবেচনায়, যা ব্যক্তিগত মতবাদ বা ইচ্ছার মতবাদ হিসেবে পরিচিত। এই ধারণার প্রবক্তারা একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "অধিকার হলো এমন এক ইচ্ছাশক্তি বা কর্তৃত্ব যা আইন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করে এবং তার সীমা নির্ধারণ করে দেয়।" (১) অতএব, এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকে। তবে এই সংজ্ঞাটি বিভিন্ন আইন ব্যবস্থায় স্বীকৃত রীতির সাথে সাংঘর্ষিক, যেখানে শিশু এবং উন্মাদ ব্যক্তির মতো ইচ্ছাশক্তিহীন ব্যক্তিদেরও অধিকার বিদ্যমান থাকে।
দ্বিতীয় মতবাদ: অধিকারের স্বার্থ ও বিষয়ের বিবেচনায়, যাকে বস্তুনিষ্ঠ মতবাদ বলা হয়। এর প্রবক্তারা একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "অধিকার হলো আইন কর্তৃক সংরক্ষিত একটি স্বার্থ।" (২) এই সংজ্ঞার সমালোচনায় বলা হয় যে, এটি স্বার্থকে অধিকারের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে, অথচ প্রতিটি অধিকারই স্বার্থ নয় এবং প্রতিটি স্বার্থই অধিকার গঠন করে না।
তৃতীয় মতবাদ: এটি অধিকার প্রয়োগের শর্ত এবং স্বার্থের লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যা মিশ্র মতবাদ হিসেবে পরিচিত। এই মতবাদের প্রবক্তারা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "আইন কর্তৃক সংরক্ষিত কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে প্রদত্ত ইচ্ছাশক্তি বা সামর্থ্যই হলো অধিকার।" (৩)
চতুর্থ মতবাদ: এই মতবাদের অনুসারীরা একটি আধুনিক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা অধিকারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। তারা বলেছেন: "অধিকার হলো কোনো নির্দিষ্ট মূল্য বা সম্পদের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য, যা আইন কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করে এবং সুরক্ষা দেয়।" (৪) এরপর ডক্টর আবদুর রাজ্জাক আল-সানহুরি (৫) (রহিমাহুল্লাহ) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "অধিকার হলো আর্থিক মূল্যসম্পন্ন একটি স্বার্থ যা আইন কর্তৃক সংরক্ষিত।" (৬) আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ অধিকারের সংজ্ঞায় এটি বেছে নিয়েছেন: "এটি এমন একটি বিশেষ সুবিধা যা আইন কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করে এবং নিজ উপায়ে তার নিশ্চয়তা দেয়, যার ভিত্তিতে ব্যক্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ৯)
في مال يؤول إليه باعتباره مملوكاً أو مستحقاً" (1)، ومن خلال استعراض مذاهب فقهاء القانون في تعريف الحق يتبين للباحث أنه من الصعوبة بمكان أن يتفق الفقهاء على تعريف جامع ومانع للحق.
وقد اتفق معنى "الحقّ" في الشريعة والقانون في أمرين:
1 - يقف حقُّ الشخص "سواء أكان طبيعياً أم اعتبارياً"حين تتعارض غاية منحه هذا الحقَّ مع غاية منح حقٍّ آخر لشخصٍ آخر.
2 - حماية صاحب الحقِّ من الآخرين، وبقاء هذه الحماية ما دام صاحب الحقِّ يتَّجه إلى الغاية التي مُنِح الحقُّ لأجلها، هذا وقد اختلف معنى "الحقّ" في الشريعة والقانون في ثلاثة أمور:
1. نظرة الإسلام للحقِّ مبنيةٌ على أنه واجبٌ على الغير، بينما نظرة القانون له على أنَّه حقٌّ مستحقٌّ لمباشِره.
2. مبنى الإسلام في نظرته للحقوق هو مصلحة الجماعة مع مراعاة الحقوق الفردية، بينما مبنى نظرة القانون هو مصلحة الفرد أولاً.
3. يشمل تعريف "الحقّ" في الإسلام من قد لا يناله فائدة من ذلك، كحقوق الله تعالى، بينما "الحقّ" في القانون مرتبطٌ بمستفيد. (2)
أما تعريف العمل لغة: فهو المهنة والفعل، من عمِلَ عمَلاً، والجمع أعمال، وأعمله واستعمله غيره طلب إليه العمل، واعتمَلَ عمل بنفسه وأعمل رأيه، والعامل على الصدقة الذي يسعى في جمعها، والعامل من يعمل في مهنة أو صنعة (3).
أما تعريف العمل اصطلاحاً فله تعريفات عدّة، منها ما يوضح العمل بصورته العامة، ومنها ما يقيده بالمفهوم الشرعي أو الاقتصادي. ومن هذه التعريفات:
"العمل كل ما يصدر من فعل أو حركة عن أي جسم كان، فقد يصدر عن الجمادات، والنباتات، والحيوانات أفعال وحركات مختلفة تعتبر أعمالا" (4).
أما في الاصطلاح الشرعي فقد عرّفه الإمام محمد بن حسن الشيباني (5) بما يرادف هذا اللفظ في لسان الشرع، وهو الكسب بقوله: " الاكتساب في عرف اللسان هو طلب تحصيل المال بما يحل من أسباب " (6)،
--------------------------------------------
সেই সম্পদের ক্ষেত্রে যা মালিকানা বা পাওনা হিসেবে তাঁর দিকে বর্তায়" (১), এবং অধিকারের (হক) সংজ্ঞায় আইনশাস্ত্রবিদদের মতবাদসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষকের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, অধিকারের একটি সর্বজনীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ (জামে ও মানে) সংজ্ঞার বিষয়ে ফকীহদের একমত হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
শরীয়াহ এবং আইনে "অধিকার" (হক) এর অর্থ দুটি বিষয়ে একমত হয়েছে:
১ - ব্যক্তির অধিকার—তা প্রাকৃতিক হোক বা আইনি—সেখানে স্থগিত হয়ে যায় যেখানে তাকে এই অধিকার প্রদানের উদ্দেশ্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে অন্য কোনো অধিকার প্রদানের উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
২ - অধিকারের মালিককে অন্যদের থেকে সুরক্ষা প্রদান করা, এবং যতক্ষণ অধিকারের মালিক সেই উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হয় যার জন্য অধিকারটি প্রদান করা হয়েছে, ততক্ষণ এই সুরক্ষা বজায় রাখা। তবে, শরীয়াহ এবং আইনে "অধিকার" এর অর্থ তিনটি বিষয়ে ভিন্ন হয়েছে:
১. অধিকারের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এই ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, এটি অন্যের উপর একটি কর্তব্য (ওয়াজিব), পক্ষান্তরে আইনের দৃষ্টিতে এটি এমন একটি অধিকার যা সরাসরি ব্যবহারকারীর পাওনা।
২. অধিকারের ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রেখে সামষ্টিক স্বার্থ রক্ষা করা, যেখানে আইনের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হলো প্রাথমিকভাবে ব্যক্তির স্বার্থ।
৩. ইসলামে "অধিকার" এর সংজ্ঞা এমন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে যা থেকে কোনো ব্যক্তি সরাসরি উপকৃত নাও হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর অধিকারসমূহ; পক্ষান্তরে আইনে "অধিকার" সর্বদা কোনো সুবিধাভোগীর সাথে সম্পর্কিত। (২)
অভিধানের পরিভাষায় কাজের (আমল) সংজ্ঞা: এটি পেশা এবং ক্রিয়া বুঝায়। এটি 'আমালা আমালান' থেকে আগত, যার বহুবচন হলো 'আমাল'। কেউ কাউকে কাজ করতে বললে 'আ’মালাহু' বা 'ইস্তা’মালাহু' বলা হয়। 'ই’তামালা' অর্থ নিজে কাজ করা এবং 'আ’মালা রাইয়াহু' অর্থ নিজের রায় বা বুদ্ধিকে কাজে লাগানো। সদকার উপর নিয়োজিত 'আমিল' হলেন তিনি যিনি তা সংগ্রহে সচেষ্ট থাকেন। আর 'আমিল' (শ্রমিক/কর্মী) হলেন তিনি যিনি কোনো পেশা বা শিল্পে নিয়োজিত থাকেন (৩)।
পারিভাষিক অর্থে কাজের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে; যার কোনটি সাধারণ রূপ বর্ণনা করে, আবার কোনটি শরয়ী বা অর্থনৈতিক ধারণার সাথে একে সীমাবদ্ধ করে। এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
"যেকোনো বস্তু থেকে প্রকাশিত প্রতিটি ক্রিয়া বা নড়াচড়াই হলো কাজ। সুতরাং জড় পদার্থ, উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুল থেকে বিভিন্ন ক্রিয়া ও নড়াচড়া প্রকাশিত হতে পারে যা কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়" (৪)।
শরয়ী পরিভাষায় ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানী (৫) একে এমন শব্দ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেছেন যা শরীয়াহর ভাষায় এর সমার্থক, আর তা হলো উপার্জন (কাসব)। তিনি বলেন: "ভাষার প্রথা অনুযায়ী উপার্জন হলো হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করা" (৬),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهو في المفهوم الاقتصادي: "الجهد الإرادي الذي يبذله الإنسان مستهدفا ًإنتاج السلع والخدمات" (1).
--------------------------------------------
এবং অর্থনৈতিক ধারণায় এটি হলো: "পণ্য ও সেবা উৎপাদনের লক্ষ্যে মানুষের পক্ষ থেকে ব্যয়িত স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রচেষ্টা" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الثانيالتكييف الفقهي لوظيفة العاملالشائع استعمال عقد الإجارة على الأشخاص للدلالة على وظيفة العامل، مع أن هناك مصطلحات أخرى يستعملها الفقهاء، وهي عقد إجارة الأشخاص، أو عقد الإجارة على العمل، أو عقد منافع الأشخاص، والمصطلحات الثلاثة وإن كانت صحيحة، إلا أن الأدقَّ منها هو عقد الإجارة على العمل، أو منفعة الشخص (1)، ومن جهة أخرى فإن الإجارة على عمل الأشخاص هو أحد نوعي الإجارة عند جمهور الفقهاء (2)، في حين ذهب المالكية إلى أن لفظ الإجارة يُستعمل للإجارة على عمل الأشخاص، واستعملوا لفظ الكراء على الإجارة الواردة على الأعيان فقالوا:" الإجارة تُطلق على منافع من يعقل، وأن الكراء يُطلق على العقد الوارد على منافع من لا يعقل" (3) لذلك فإن إجارة الأشخاص تقع على صورتين:
الأولى: الأجير الخاص: الذي استؤجر على أن يعمل للمستأجر فقط، ويُسمّيه الفقهاء أجير الوَحد (4)، كالخادم، والموظف، والعامل في شركة أو مؤسسة، فهو يعمل لمعيّن عملاً مؤقتاً، ويكون عقده لمدة، ويستحق الأجرة بتسليم نفسه في هذه المدة؛ لأن منافعه صارت مستحقة لمن استأجره في مدة العقد (وحول هذا النوع تجري دراستنا بإذن الله تعالى).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদশ্রমিকের কর্মসংস্থানের ফিকহী স্বরূপশ্রমিকের কর্মসংস্থান বোঝাতে সাধারণত 'ব্যক্তি ভাড়া' (ইজারা আলাল আশখাস) চুক্তির পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়। যদিও ফকীহগণ এ ক্ষেত্রে আরও কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো হলো: ব্যক্তি ভাড়া চুক্তি, কর্ম ভাড়া চুক্তি অথবা ব্যক্তির উপযোগ ভাড়া চুক্তি। এই তিনটি পরিভাষাই সঠিক হলেও অধিকতর সূক্ষ্ম পরিভাষা হলো 'কর্ম ভাড়া চুক্তি' অথবা 'ব্যক্তির উপযোগ' (১)। অন্যদিকে, জুমহুর ফকীহগণের নিকট ব্যক্তির কর্ম ভাড়া হলো ইজারার দুই প্রকারের মধ্যে একটি (২)। পক্ষান্তরে মালিকীগণ মনে করেন, 'ইজারা' শব্দটি ব্যক্তির কর্ম ভাড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং তারা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির (আ'ইয়ান) ভাড়ার ক্ষেত্রে 'কিরা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তারা বলেন: "বিবেকসম্পন্ন সত্তার উপযোগের ক্ষেত্রে 'ইজারা' শব্দটি প্রযুক্ত হয়, আর বিবেকহীন বস্তুর উপযোগ সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে 'কিরা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়" (৩)। ফলে ব্যক্তির ইজারা বা ভাড়া দুই পদ্ধতিতে হতে পারে:
প্রথমত: বিশেষ শ্রমিক: যাকে কেবলমাত্র নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করার নিমিত্তে ভাড়া করা হয়েছে। ফকীহগণ তাকে 'একক শ্রমিক' (৪) হিসেবে অভিহিত করেন। যেমন: গৃহকর্মী, চাকুরিজীবী এবং কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। সে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের জন্য সাময়িকভাবে কাজ করে এবং তার চুক্তিটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হয়। সে এই মেয়াদে নিজেকে অর্পণ করার মাধ্যমে পারিশ্রমিকের অধিকারী হয়; কারণ চুক্তিকালীন সময়ে তার উপযোগ নিয়োগকর্তার প্রাপ্য সাব্যস্ত হয়েছে (ইনশাআল্লাহ, এই প্রকারটি নিয়েই আমাদের আলোচনা পরিচালিত হবে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثانية: الأجير المشترك، وهو الذي يعمل لأكثر من مستأجر وبعقود مختلفة، ولا يتقيّد بالعمل لواحدٍ دون غيره، كالطبيب في عيادته أو المهندس في مكتبه، وهذا يستحق أجره على العمل وليس على المدة، وقد جاء في المادة رقم (424) من مجلة الأحكام العدلية (1) أن الأجير المشترك لا يستحق الأجرة إلا بالعمل، وجاء أيضاً في المادة رقم (425) من المجلة نفسها أن الأجير الخاص يستحق الأجرة إذا كان في مدة الإجارة حاضراً للعمل، ولا يُشترط عمله. (2) ويتبن لنا أن الفروق بين الأجير الخاص والأجير المشترك -كما ورد في شرح المجلة- من وجوه:
الوجه الأول: من حيث الماهية، وسبق بيانه؛ إذ إن الأجير الخاص يعمل للمستأجر فقط، والأجير المشترك يعمل للمستأجر وغيره.
الوجه الثاني: من حيث استحقاق الأجرة؛ فالأجير المشترك لا يستحق أجرة عمله إلا بالعمل؛ لأن عقد الإجارة من عقود المعاوضة، والمعاوضة تقتضي المساواة، فإذا سلّم الأجير المشترك العمل إلى المؤجِّر استحق أن يستلم أجرته على ذلك، فالعمل يستلزم الأجرة والأجرة لا تُستحق إلا بالعمل المتقن حسب الاتفاق، أما الأجير الخاص فيستحق الأجرة بمجرد تسليم نفسه، ولو لم يعمل، فإذا منعه مانع من العمل، كانقطاع الكهرباء، أو انعدام الموادّ الخام في المنشأة فإنه يستحق الأجر.
الوجه الثالث: من حيث الضمان، فالأجير الخاص لا يضمن ما يهلك في يده، إلا إذا هلك بتعدٍّ أو تقصير منه، أما الأجير المشترك فإنه يضمن ما يهلك في يده ولو لم يتعدّ، كمن أخطأ في صناعة ثوب فجاء قصيراً، لا يمكن لبسه بأي حال من الأحوال، فإن الأجير المشترك (الخياط) يضمن الثوب، ويُلزم بصناعة آخر بدل التالف.
الوجه الرابع: من حيث رعي الفروع، فالأجير الخاص يُجبر على رعي فروع الأغنام إذا عمل راعياً، أما الأجير المشترك فلا يُجبر على ذلك (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সাধারণ শ্রমিক, তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি একাধিক নিয়োগকর্তার জন্য বিভিন্ন চুক্তির অধীনে কাজ করেন এবং অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল একজনের জন্য কাজ করতে বাধ্য থাকেন না; যেমন ক্লিনিকে অবস্থানরত চিকিৎসক বা অফিসে কর্মরত প্রকৌশলী। তিনি কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য হন, সময়ের বিনিময়ে নয়। ‘মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিইয়্যাহ’ (১)-এর ৪২৪ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণ শ্রমিক কাজ সম্পন্ন করা ব্যতীত পারিশ্রমিকের অধিকারী হন না। একই মাজাল্লার ৪২৫ নম্বর ধারায় আরও এসেছে যে, বিশেষ শ্রমিক যদি ইজারার মেয়াদে কাজের জন্য উপস্থিত থাকেন, তবেই তিনি পারিশ্রমিকের অধিকারী হবেন, তার কাজ করা শর্ত নয়। (২) মাজাল্লার ব্যাখ্যায় যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাতে আমাদের কাছে বিশেষ শ্রমিক ও সাধারণ শ্রমিকের মধ্যে পার্থক্যসমূহ নিম্নোক্ত দিক থেকে স্পষ্ট হয়:
প্রথম দিক: স্বরূপ বা প্রকৃতির দিক থেকে; যা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, বিশেষ শ্রমিক কেবল নিয়োগকর্তার জন্যই কাজ করেন, আর সাধারণ শ্রমিক নিয়োগকর্তা ও অন্যান্যদের জন্যও কাজ করেন।
দ্বিতীয় দিক: পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারের দিক থেকে। সাধারণ শ্রমিক কাজ করা ব্যতীত তার কাজের পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য হন না; কারণ ইজারা চুক্তি হলো বিনিময়মূলক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, আর বিনিময় সমতা দাবি করে। সুতরাং যখন সাধারণ শ্রমিক নিয়োগকর্তার কাছে কাজ হস্তান্তর করেন, তখন তিনি তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের অধিকারী হন। অতএব, কাজের জন্য পারিশ্রমিক আবশ্যক হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা ব্যতীত পারিশ্রমিক প্রাপ্য হয় না। অন্যদিকে, বিশেষ শ্রমিক নিজেকে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমেই পারিশ্রমিকের অধিকারী হন, যদিও তিনি কাজ না করেন। সুতরাং যদি কোনো বাধা তাকে কাজ থেকে বিরত রাখে, যেমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের অভাব, তবুও তিনি পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য হবেন।
তৃতীয় দিক: দায়বদ্ধতার দিক থেকে। বিশেষ শ্রমিকের হাতে কোনো কিছু বিনষ্ট হলে তিনি তার জন্য দায়ী থাকেন না, যদি না তা তার সীমালঙ্ঘন বা অবহেলার কারণে ঘটে থাকে। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকের হাতে যা বিনষ্ট হয় তার জন্য তিনি দায়ী থাকেন, যদিও তিনি সীমালঙ্ঘন না করেন। যেমন কেউ যদি পোশাক তৈরিতে ভুল করেন এবং তা ছোট হয়ে যায় যা কোনোভাবেই পরিধানযোগ্য নয়, তবে সাধারণ শ্রমিক (দর্জি) সেই পোশাকের জন্য দায়ী থাকবেন এবং নষ্ট হওয়া পোশাকের পরিবর্তে অন্য একটি তৈরি করে দিতে বাধ্য থাকবেন।
চতুর্থ দিক: পশুর বাচ্চাদের চরানোর দিক থেকে। বিশেষ শ্রমিক যদি রাখাল হিসেবে কাজ করেন, তবে তাকে মেষের বাচ্চাদেরও চরাতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু সাধারণ শ্রমিককে তা করতে বাধ্য করা যাবে না (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومما يدل على مشروعية الإجارة على الأشخاص، تلك الأدلة من الآيات القرآنية المطهّرة والأحاديث النبوية الشريفة، وإجماع أهل العلم منذ عهدٍ بعيد، وكذلك المصالح المتحققة من الإجارة، وهذه الأدلة على النحو الآتي:
أولاً: من القرآن الكريم.
1. قول الله سبحانه وتعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُم بِمَعْرُوفٍ وَإِن تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُ أُخْرَى} (1) ووجه الاستدلال من هذه الآية أن الله سبحانه وتعالى أمر بإعطاء الأجر للمرضعة على عمل الرضاعة، وهذا يدل على مشروعية ذلك، كما يدل على وجوب الالتزام بدفع الأجر مقابل العمل في الإجارة، حيث يقول الإمام الشافعي (2) رحمه الله:"
… فأجاز الإجارة على الرضاع، والرضاع يختلف لكثرة رضاع المولود وقلّته، وكثرة اللبن وقلّته، ولكن لما لم يوجد فيه إلا هذا جازت الإجارة عليه، وإذا جازت عليه جازت على مثله، وما هو في مثل معناه وأحرى أن يكون أبين منه" (3) وجاء في تفسير الآية السابقة:"ويدل على أن الأُجرة إنما تستحق بالفراغ من العمل ولا تستحق بالعقد، لأنه أوجبها بعد الرضاع " (4)، قال الله سبحانه وتعالى:" {فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُم بِمَعْرُوفٍ} (5)،
والرضاع يختلف، فيكون صبي أكثر رضاعاً من صبي، وتكون امرأة أكثر لبناً من امرأة أخرى، ويختلف لبنها فيقلّ ويكثر، فتجوز الإجارات على هذا؛ لأنه لا يوجد فيه أقرب مما يحيط العلم به من هذا.
--------------------------------------------
ব্যক্তি বা শ্রমের বিনিময়ে ইজারার বৈধতার বিষয়টি পবিত্র কুরআনের আয়াত, সম্মানিত নববী হাদিস, প্রাচীনকাল থেকে ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য এবং ইজারা থেকে অর্জিত বিভিন্ন স্বার্থ ও কল্যাণ দ্বারা প্রমাণিত। এই দলিলগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে।
১. মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে বসবাস কর, তাদেরকেও সেখানে বাস করতে দাও। তাদেরকে সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না। আর যদি তারা গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসব পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যয় করো। অতঃপর তারা যদি তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদেরকে তাদের পারিশ্রমিক দাও এবং এ ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করো। আর যদি তোমরা পরস্পর সংকটে পড় (বনিবনা না হয়), তবে অন্য কোনো নারী তাকে স্তন্যদান করবে} (১)। এই আয়াত থেকে দলিলে প্রেক্ষিত হলো, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্তন্যদানকারী নারীকে স্তন্যদানের কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি উক্ত বিষয়ের বৈধতা নির্দেশ করে, যেমনটি ইজারার ক্ষেত্রে কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক প্রদানের প্রতিশ্রুতির আবশ্যকতাকেও প্রমাণ করে। এক্ষেত্রে ইমাম শাফেঈ (২) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: " … অতঃপর তিনি স্তন্যদানের বিনিময়ে ইজারা বৈধ করেছেন; অথচ নবজাতকের দুধ পানের আধিক্য বা স্বল্পতা এবং দুধের পরিমাণের কম-বেশির কারণে স্তন্যদান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যেহেতু এ ক্ষেত্রে এর বাইরে বিকল্প কিছু নেই, তাই এর বিনিময়ে ইজারা বৈধ করা হয়েছে। আর যদি এর ওপর ইজারা জায়েজ হয়, তবে অনুরূপ অন্যান্য কাজ এবং যা এর সমার্থবোধক সেগুলোর ক্ষেত্রেও ইজারা বৈধ হবে, বরং সেগুলো তো এর চেয়েও অধিক স্পষ্ট হওয়ার দাবি রাখে" (৩)। পূর্বোক্ত আয়াতের তাফসিরে এসেছে: "এটি প্রমাণ করে যে, পারিশ্রমিক কাজের সমাপ্তির পরেই প্রাপ্য হয়, কেবল চুক্তির মাধ্যমে নয়। কারণ আল্লাহ স্তন্যদানের পরেই তা আবশ্যক করেছেন" (৪)। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "{অতঃপর তারা যদি তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদেরকে তাদের পারিশ্রমিক দাও এবং এ ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করো}" (৫),
আর স্তন্যদান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; যেমন এক শিশু অন্য শিশুর চেয়ে বেশি দুধ পান করতে পারে, অথবা এক নারীর দুধ অন্য নারীর চেয়ে বেশি হতে পারে এবং একই নারীর দুধের পরিমাণও কম-বেশি হতে পারে। তা সত্ত্বেও এর ওপর ইজারা জায়েজ; কারণ এর চেয়ে বেশি নিশ্চিত ও পরিবেষ্টিত জ্ঞান অর্জনের আর কোনো উপায় নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াজিবাতুল উম্মাল ওয়া হুকু কুহুম ফিশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ মুকারানাতান মাআ কানুনিল আমাল আল-ফিলিস্তিনি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2. استدلوا بقول الله سبحانه وتعالى: {أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضاً سُخْرِيّاً وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ} (1) حيث جاء في تفسيرها:" أي جعلنا ذلك؛ لأننا لو سوينا بينهم في كل هذه الأحوال لم يخدم أحد أحداً، ولم يصر أحد منهم مسخراً لغيره، وحينئذ يقتضي ذلك خراب العالم وفساد نظام الدنيا" (2) كما تشير هذه الآية الكريمة إلى أهمية الإجارة في إعمار الأرض، وتحقيق وظيفة الاستخلاف فيها وتطبيق هذا المبدأ واقعاً عملياً.
3. استدلوا أيضاً بقول الله سبحانه وتعالى: {وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُواْ أَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّا آتَيْتُم بِالْمَعْرُوفِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} (3) ووجه الاستدلال من هذه الآية الكريمة أنها تدل على رفع الحرج عمن يستأجر امرأة لإرضاع ولدٍ من أولاده بالأجر، وفي ذلك دليلٌ على مشروعية إجارة الأشخاص.
4. قول الله سبحانه وتعالى: {قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ {26} قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَن تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْراً فَمِنْ عِندِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ {27} قَالَ ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ {28}} (4) ووجه الاستدلال أن الآيات تحوي دلالة واضحة على جواز الاستئجار على العمل؛ لأن شرع من قبلنا شرع لنا ما لم يرد ناسخ (5)،ويؤيد ذلك أن الإمام البخاري (6) رحمه الله عقد لذلك باباً خاصاً وجعل له عنواناً (باب إذا استأجر اجيراً فبيّن له الأجل ولم يبيّن له العمل" لقوله سبحانه وتعالى: {قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَن تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْراً فَمِنْ عِندِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ} (7) وقد احتجّ الإمام الشافعي رحمه الله بهذه الآية على مشروعية الإجارة (8).
--------------------------------------------
2. তারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তারা কি তোমার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি এবং তাদের একজনকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তারা যা জমা করে, তা থেকে তোমার রবের রহমত অধিকতর উত্তম} (১) এর তাফসীরে এসেছে: "অর্থাৎ আমি এটি করেছি; কারণ যদি আমি তাদের সকল ক্ষেত্রে সমান করে দিতাম, তবে কেউ কাউকে সেবা করত না এবং কেউ কারো অনুগত হতো না। এমতাবস্থায় তা জগতের ধ্বংস এবং দুনিয়ার ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘাতত" (২) তদ্রূপ এই মহিমান্বিত আয়াতটি পৃথিবী আবাদকরণে এবং পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বের (খিলাফত) দায়িত্ব পালনে ও এই নীতিটি বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগে ইজারার (শ্রম বা সম্পদ ভাড়ায় নিয়োগ) গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে।
3. তারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমেও দলিল পেশ করেছেন: {আর তোমরা যদি তোমাদের সন্তানদের কোনো ধাত্রী দ্বারা স্তন্যদান করাতে চাও, তবে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, যদি তোমরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যা দেওয়ার তা অর্পণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, তোমরা যা করো আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন} (৩) এই মহিমান্বিত আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, এটি সেই ব্যক্তির ওপর থেকে সংকীর্ণতা দূর করার প্রমাণ দেয় যে ব্যক্তি তার সন্তানদের একজনকে স্তন্যদান করার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো মহিলাকে নিয়োগ করে। এর মধ্যে ব্যক্তিদের ইজারা বা শ্রম নিয়োগের বৈধতার দলিল রয়েছে।
4. মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তাদের দুইজনের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর হিসেবে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনার মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত’ {২৬} তিনি বললেন, ‘আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে। তবে যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ করো, সেটা তোমার পক্ষ থেকে হবে। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবে’ {২৭} সে বলল, ‘আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তিই রইল। এই দুই মেয়াদের যে কোনোটি আমি পূর্ণ করি না কেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি, আল্লাহ তার সাক্ষী’ {২৮}} (৪) আর দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো এই যে, আয়াতগুলো কাজের বিনিময়ে নিয়োগের বৈধতার ওপর স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে; কারণ আমাদের পূর্ববর্তীদের শারঈ বিধান আমাদের জন্যও বিধান যতক্ষণ না কোনো রহিতকারী দলিল আসে (৫)। ইমাম বুখারী (৬) রহিমাহুল্লাহ এর সমর্থনে একটি স্বতন্ত্র অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং তার শিরোনাম দিয়েছেন "অনুচ্ছেদ: যখন কেউ কোনো মজুর নিয়োগ করে এবং তার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় কিন্তু কাজের ধরন নির্দিষ্ট না করে" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর কারণে: {তিনি বললেন, ‘আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে। তবে যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ করো, সেটা তোমার পক্ষ থেকে হবে। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবে’} (৭) আর ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ ইজারার বৈধতার সপক্ষে এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন (৮)।
--------------------------------------------