(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: -)
الروض الباسم في الذب عن سنة أبي القاسم - صلى الله عليه وسلم -   (ابن الوزير)

القسم: العقيدة


الكتاب: الرَّوضُ البَاسمْ في الذِّبِّ عَنْ سُنَّةِ أبي القَاسِم - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -

(وعليه حواشٍ لجماعةٍ من العلماء منهم الأمير الصّنعاني)

المؤلف: ابن الوزير، محمد بن إبراهيم بن علي بن المرتضى بن المفضل الحسني القاسمي، أبو عبد الله، عز الدين، من آل الوزير (ت 840هـ)

تقديم: فضيلة الشيخ العلامة بكر بن عبد الله أبو زيد

اعتنى به: علي بن محمد العمران

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الآخر 1432

আর-রওযুল বাসিম ফী আদ-দাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -   (ইবনুল উযীর)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: আর-রওযুল বাসিম ফী আদ-দাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -

(এতে একদল আলিমের টীকা রয়েছে, যাঁদের মধ্যে আল-আমীর আস-সানআনী অন্যতম)

লেখক: ইবনুল উযীর، মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আলী বিন আল-মুরতাদা বিন আল-মুফাদদাল আল-হাসানী আল-কাসিমী، আবু আব্দুল্লাহ، ইযযুদ্দীন، আল-উযীর বংশীয় (মৃত্যু ৮৪০ হিজরি)

উপস্থাপনা: ফযীলাতুশ শায়খ আল-আল্লামাহ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

তদারকি ও সম্পাদনা: আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ প্রকাশনা ও বিতরণ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউস সানি ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: -)
الروض الباسم

في الذب عن سنة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم

(وعليه حواشٍ لجماعة من العلماء منهم الأمير الصّنعاني)

 

تصنيف

الإمام المجتهد محمد بن إبراهيم الوزير

(775 - 840)

رحمه الله

 

تقديم

فضيلة الشيخ

بكر بن عبد الله أبو زيد

 

إعتنى به

علي بن محمد العمران

 

الجزء الأول

 

دار عالم الفوائد

للنشر والتوزيع
আর-রাওযুল বাসিম

আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিরক্ষায়

(এবং এতে আল-আমীর আস-সানআনীসহ একদল আলেমদের টীকা রয়েছে)

 

সংকলনে

ইমাম মুজতাহিদ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আল-ওয়াযীর

(৭৭৫ - ৮৪০)

আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন

 

উপস্থাপনায়

ফযীলাতুশ শাইখ

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ

 

সম্পাদনায়

আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান

 

প্রথম খণ্ড

 

দার আলমুল ফাওয়াইদ

প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢)
- أ -

 

‌‌تقديم

فضيلة الشيخ العلامة

بكر بن عبد الله أبو زيد

 

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده محمد وصحبه، ومن اهتدى بهديه.

أما بعد: فهذا صوت من صنعاء اليمن، ينصر السنة، ويدافع عن حملتها، ويذبّ عنهم وعنها، يدونه يراع العلامة ابن الوزير اليماني المُحلّى عند عامة من ترجمه بالإمام المجتهد: محمد بن إبراهيم بن علي القاسمي الصنعاني مدفناً. المتوفى سنة (840) -رحمه الله تعالى- يرقم سطوره في مُجالدةٍ مع شيخه العلامة ابن أبي القاسم اليماني، المنعوت عند علماء الزيدية بمجتهد المذهب في زمانه: علي ابن محمد الهادي. المتوفى سنة (837) -رحمه الله تعالى- إذ كتب ابن أبي القاسم إلى تلميذه ابن الوزير رسالة ينصحه فيها عن ميله إلى التخلي عن مذهب الزيدية من خلال نصرته للسنة وأهلها.

وقد حوت هذه الرسالة إرجافاً في الخصام، بنفثات اعتزالية، ومحاجات عقلية، وتعسفات وعصبية، وقدحاً في الرجوع إلى الآيات القرآنية، والمرويات الأثرية، والقواعد الشرعية، في سَوْرة انفعال؛ إذ بهت برجل من قطره، ومن بني جلدته، وقد تتلمذ على يده، فما هي إلا لحظات، وعينه تنفتح على تلميذه وهو ينابذه في مشربه، معتصماً بالله، ديدنه الوحيان الشريفان، جاعلاً مقالات الرجال دبر أذنيه، فاستوحش الشيخ من التلميذ، وتحامق عليه، واستعلى برسالته هذه، فتسلمها التلميذ ابن الوزير، وهش لها وبش، وكرّ وفرّ، وأقبل عليها إقبال الدهر، وأبداها صرخة حق في ضجة باطل، حتى قبضها الله،
- অ -

 

‌‌ভূমিকা

শ্রদ্ধেয় শাইখ আল্লামা

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

 

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই; অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা.), তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত হিদায়াতের পথে চলেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর: এটি ইয়েমেনের সানআ থেকে উত্থিত এক কণ্ঠস্বর, যা সুন্নাহকে সাহায্য করে, সুন্নাহর বাহকদের প্রতিরক্ষা করে এবং সুন্নাহ ও এর অনুসারীদের পক্ষ হয়ে লড়াই করে। এটি লিপিবদ্ধ করেছেন আল্লামা ইবনুল উযাইর আল-ইয়ামানির কলম, যাঁকে জীবনীকারগণ সাধারণত ‘ইমাম মুজতাহিদ’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন: মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আলী আল-কাসিমি আস-সানআনি (সেখানেই সমাহিত)। মৃত্যু ৮৪০ হিজরি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি তাঁর এই পঙক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর উস্তাদ আল্লামা ইবনে আবিল কাসিম আল-ইয়ামানির সাথে এক তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ময়দানে, যাঁকে যায়দি আলেমগণ তাঁর সমসাময়িক কালের ‘মাজহাবের মুজতাহিদ’ হিসেবে গণ্য করতেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-হাদী। মৃত্যু ৮৩৭ হিজরি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। যখন ইবনে আবিল কাসিম তাঁর ছাত্র ইবনুল উযাইরের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন, যাতে তিনি তাঁকে সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের সাহায্য করার মাধ্যমে যায়দি মাজহাব ত্যাগের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিয়েছিলেন।

এই পত্রটি বিবাদের ক্ষেত্রে এক প্রকার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে পূর্ণ ছিল, যাতে মুতাজিলি চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ, বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, স্বেচ্ছাচারিতা ও গোঁড়ামি বিদ্যমান ছিল। চরম উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এতে কুরআনের আয়াত, আছারি (বর্ণনাভিত্তিক) রেওয়ায়াত এবং শরীয়তের মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তনের নিন্দা জানানো হয়েছিল। কেননা তিনি নিজ ভূখণ্ডের এবং নিজ স্বগোত্রীয় এক ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন, যে তাঁর কাছেই শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিল। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর চোখ খুলে গেল এবং তিনি দেখতে পেলেন তাঁর ছাত্র তাঁরই আদর্শিক ধারার বিরোধিতা করছে, আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরছে, পবিত্র ওহীর দুই উৎসই (কুরআন ও সুন্নাহ) যার চিরন্তন পাথেয় এবং যে মানুষের কথাকে কর্ণপাত না করে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ফলে উস্তাদ তাঁর এই ছাত্রের প্রতি বিমুখ হলেন, তাঁর প্রতি রূঢ় আচরণ করলেন এবং নিজের এই পত্রের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চাইলেন। তখন ছাত্র ইবনুল উযাইর সেই পত্রটি গ্রহণ করলেন এবং অত্যন্ত প্রফুল্ল ও উৎফুল্ল চিত্তে এর মোকাবিলা করলেন। তিনি এর প্রতিটি বাক্যের অত্যন্ত নিপুণভাবে উত্তর দিলেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এতে মনোনিবেশ করলেন। বাতিলের কোলাহলের মাঝে তিনি সত্যের এক বজ্রনিঘোষ হিসেবে একে প্রকাশ করলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ একে কবুল করলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٣)
- ب -

 

ونفض التلميذ ما حثاه شيخه عليه من التحامق، ونقضها هذا التلميذ بكتاب مطول أسماه: ((العواصم والقواصم)) وهو مطبوع، ثم اعتصره مع زيادة إفادات، وإضافة مهمات في هذا الكتاب الذي بين يديك باسم ((الروض الباسم في الذب عن سنة أبي القاسم)) صلى الله عليه وسلم عنوان يلفت الأنظار، ويجذب القلوب، كيف وقد طابق اسمه مسماه لما احتواه من الذَّبِّ عن السنة، والذود عنها وعن حملتها، وكشف الشبه عنها، سنداً ومتناً، في أبحاث حديثية مسهبة، يبين فيها وجه الصواب، ويرد الشبه والاعتراض في مسائل طالما كثر فيها الجدل وطال، ومنها:

عدالة الراوي والرد على دعوى تعسر أو تعذر معرفتها، وإبطال تقديم طرق الاحتجاج العقلي على النقل المعصوم. ومبحث اتصال الراوية بكتب الجرح والتعديل، والمبحث الممتع إقامة حجج الله القاهرة على عدالة من عدّلهم الله -سبحانه- ورسوله صلى الله عليه وسلم وهم صحابته رضي الله عنهم ونثر الحصرم في وجوه المشككة. ومبحث في التنديد بمن حصر الصحيح في الصحيحين. وآخر في النقض على من ادعى صحة مافي الكتب الستة. وتحرير طرق التصحيح والتضعيف، ومعرفة الناسخ والمنسوخ، والبحث موعباً في معترك الأقران، حول مسألة الاجتهاد والتقليد، والذب عن الأئمة الأربعة وأهل الحديث، وتقرير شرفهم، وفضيحة من تحَطَّطَ عليهم.

والتعريج على مباحث عقدية في قضايا: الجبر، والتجسيم، والتأويل … وتأصيل القول في الاعتقاد على رسم الشرع المطهر لاغير، ومنابذة علم الكلام ونصيحة أهل الإسلام بالاهتمام بالقرآن، والنهي عن الابتداع.

إلى غير ذلك من أبحاث فائقة، يتخللها من النكات، والفوائد، الخير الكثير، والروض النمير، في فنون شتى.
- বা -

 

এবং ছাত্রটি তার উস্তাদ তাকে যে মূর্খতার প্রতি প্ররোচিত করেছিলেন তা ঝেড়ে ফেললেন এবং এই ছাত্রটি তার উস্তাদের সেই দাবিগুলোকে একটি দীর্ঘ কিতাবের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন যার নাম দিয়েছেন: ((আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম)); এটি মুদ্রিত হয়েছে। অতঃপর তিনি সেই কিতাবটিকে সারসংক্ষেপ করেছেন এবং সাথে কিছু অতিরিক্ত উপকারিতা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করেছেন আপনার হাতে থাকা এই কিতাবটিতে, যার নাম ((আর-রাওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম)) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এটি এমন একটি শিরোনাম যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং হৃদয়কে জয় করে। আর কেনই বা করবে না, যখন এর নাম তার বিষয়বস্তুর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে? কারণ এতে সুন্নাহর প্রতিরক্ষা, সুন্নাহ ও এর বাহকদের হেফাজত এবং সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উভয় দিক থেকে সুন্নাহর ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ উন্মোচন করা হয়েছে এমন সব বিস্তারিত হাদিসতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে, যেখানে সঠিক দিকটি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং দীর্ঘকাল ধরে চলা বিতর্কিত বিষয়গুলোতে আসা সংশয় ও আপত্তির উত্তর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:

বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (আদালত) এবং তা জানা কঠিন বা অসম্ভব—এমন দাবির খণ্ডন; এবং নির্ভুল বর্ণনার (নাকল) ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেওয়ার অসারতা। এছাড়া জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও প্রশংসা) বিষয়ক কিতাবসমূহের সাথে বর্ণনার সংযোগ সংক্রান্ত আলোচনা। আরও একটি চমৎকার আলোচনা হলো—যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন, অর্থাৎ তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর আল্লাহর অকাট্য দলিলসমূহ উপস্থাপন করা এবং সংশয়বাদীদের যুক্তিকে চূর্ণ করা। সহিহ হাদিসকে কেবল দুই সহিহ কিতাবের (বুখারি ও মুসলিম) মধ্যে সীমাবদ্ধকারীদের নিন্দা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) সবকিছুই সহিহ বলে দাবিদারদের বক্তব্যের খণ্ডন। হাদিস সহিহ বা দুর্বল (জইফ) নির্ণয়ের পদ্ধতিসমূহের বিশ্লেষণ, নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) জ্ঞান, এবং সমসাময়িকদের বিতর্কের ময়দানে ইজতিহাদ ও তাকলিদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা। চার ইমাম ও আহলে হাদিসগণের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা, তাঁদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদেরকে যারা হেয় প্রতিপন্ন করে তাদের মুখোশ উন্মোচন।

আকিদাহ বিষয়ক কিছু আলোচনা যেমন: জবর (অদৃষ্টবাদ), তাজসিম (সাদৃশ্য প্রদান), এবং তাবিল (ব্যাখ্যা) … এবং পবিত্র শরীয়তের নির্দেশিত পথ ছাড়া অন্য কিছু নয়—এমন বিশ্বাসের (আকিদাহ) মূলনীতি নির্ধারণ। ইলমুল কালামের বিরোধিতা, মুসলমানদেরকে কুরআনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার উপদেশ এবং বিদআত থেকে বারণ করা।

এছাড়াও আরও অনেক উচ্চতর গবেষণা রয়েছে, যার মাঝে মিশে আছে সূক্ষ্ম ইলমি তত্ত্ব, প্রচুর কল্যাণ ও উপকারিতা এবং বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٤)
- جـ -

 

وإلى هذا المشمول العجاب، ترجع أهمية هذا الكتاب، وإلى أن محاورة مؤلّفه ليست نظرية، وإنما هي ميدانية في مواجهة مذهب عرفه، وارتوى منه ثم نزع إلى السنة، ثم ثاقفه المتعصبة، فأبرزت لنا هذه المنازلة: هذا الكتاب ((الروض الباسم)) وأصله: ((العواصم والقواصم)) والظاهر أن جلّ مؤلفات هذا الحبر هي في هذا الميدان، مثل: ((إيثار الحق على الخلق)) -وهو مطبوع- وغيره.

لا جرم إذاً أن يسارع المصلحون إلى طبعه، وقد كان فضل السبق للشيخ محمد منير الدمشقي المتوفى سنة (1367) -رحمه الله تعالى-؛ إذ طبعه عام (13321) ، فحصلت الاستفادة منه، ورجوع أهل العلم إليه، ونقلهم منه، على مدى ما يقرب من مائة عام من تاريخ طبعه، ثم تتابعت طبعاته بعد -فجزا الله الجميع خير الجزاء وأوفاه-.

هذه إضاآت عن هذا الكتاب، وعن مؤلّفه، وعن نزوعه إلى السنة، وعن تعويل العلماء على كتابه.

وإن كتاباً بهذه المثابة لابد أن يكون أمام اهتمامات البصراء من أهل العلم وطلابه؛ لمتابعة طباعته وإخراجه.

وقد سمت همّة الشيخ الفاضل/ علي بن محمد عمران، إلى الإمساك بناصيته، والاعتناء بإخراجه على مجموعة نسخ خطية، فلما أحضره إليّ -تقبل الله منا ومنه- مطبوعاً في تجربته الأخيرة في نحو: (600) صفحة، ومقدمة التحقيق في نحو: (100) صفحة، وكشافاته في نحو: (150) صفحة، الجميع نحو: (850) صفحة، قرأت مقدمة التحقيق، وجملة من التعاليق، وفي مواضع من المتن، وفي فهارسه الكاشفة عن مخبآته، فتذكرت قول من مضى: ((دلّ على عاقل حسن اختياره)) وأضيف إليه: ((ودلّ على عاقل حسن عمله وإتقانه)) فقد جمع هذا الفاضل بين الحسنيين، وحاز الدّلالتين؛ إذ قد مشى في تحقيقه
- জিম -

 

এই বিস্ময়কর ব্যাপকতার মধ্যেই এই বইটির গুরুত্ব নিহিত। এছাড়া এর লেখকের বিতর্ক কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং তা একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের মোকাবিলায় ময়দানি লড়াইয়ের ফসল, যে মাযহাব সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন এবং যা থেকে তিনি পরিতৃপ্ত হয়েছিলেন, অতঃপর তিনি সুন্নাহর দিকে ফিরে আসেন। এরপর গোঁড়া ব্যক্তিরা তাঁর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, আর এই লড়াই আমাদের সামনে এই গ্রন্থটিকে ফুটিয়ে তুলেছে: "আর-রওযুল বাসিম", যার মূল উৎস হলো: "আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম"। প্রতীয়মান হয় যে, এই বিদগ্ধ পণ্ডিতের অধিকাংশ রচনাবলি এই ময়দানেই রচিত, যেমন: "ঈসারুল হাক্ব আলাল খালক্ব" (যা মুদ্রিত হয়েছে) এবং অন্যান্য।

সুতরাং এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, সংস্কারকগণ এটি ছাপানোর জন্য দ্রুত এগিয়ে আসবেন। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ১৩৬৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ মুহাম্মদ মুনির আদ-দিমাশকি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তিনি এটি ১৩৩২১ হিজরিতে ছাপিয়েছিলেন। এর ফলে এটি থেকে মানুষ উপকৃত হয়েছে, বিজ্ঞ আলেমগণ এর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং এর ছাপানোর ইতিহাস থেকে প্রায় একশ বছর ধরে তাঁরা এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এরপর এর আরও কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে—আল্লাহ তাদের সবাইকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।

এই গ্রন্থটি সম্পর্কে, এর লেখক সম্পর্কে, সুন্নাহর প্রতি তাঁর ঝোঁক সম্পর্কে এবং এই কিতাবের ওপর আলেমদের নির্ভরতা সম্পর্কে এগুলো ছিল কিছু আলোকপাত।

আর এমন উচ্চমর্যাদার একটি কিতাব অবশ্যই প্রজ্ঞাবান আলেম ও জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা উচিত, যাতে এর মুদ্রণ ও প্রকাশনার কাজ অব্যাহত থাকে।

শ্রদ্ধেয় শেখ আলী বিন মুহাম্মদ ইমরান এর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে এবং একাধিক পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি প্রকাশের যত্ন নিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়েছেন। যখন তিনি এটি আমার কাছে নিয়ে আসলেন—আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে ও তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করুন—তখন এর চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক মুদ্রণটি ছিল প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার, তাহক্বীক্বি ভূমিকা প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার এবং এর নির্ঘণ্টসমূহ প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার; সর্বমোট প্রায় ৮৫০ পৃষ্ঠা। আমি এর তাহক্বীক্বি ভূমিকা, টীকা-টিপ্পনীর একটি বড় অংশ, মূল পাঠের কিছু অংশ এবং এর রহস্য উন্মোচনকারী নির্ঘণ্টসমূহ পড়েছি। তখন আমার পূর্বসূরিদের সেই উক্তিটি মনে পড়ে গেল: "একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির পরিচয় মেলে তাঁর সুন্দর রুচি ও নির্বাচনের মাধ্যমে।" এর সাথে আমি আরও যোগ করতে চাই: "এবং একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির পরিচয় মেলে তাঁর কাজের সৌন্দর্য ও নিপুণতার মাধ্যমে।" এই গুণী ব্যক্তিটি উভয় কল্যাণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং উভয় নিদর্শনের অধিকারী হয়েছেন; কেননা তিনি তাঁর তাহক্বীক্বের কাজে...
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٥)
- د -

 

على أصول علمية نيرة، يعرف التزامه بها من كان له فضل عناية بالتحقيق، ولا أريد أن أطيل، فالعمل أمام فَوَقَةِ القراء، ومنصفيهم.

وقد عافاه الله من حشر الحواشي الطوال بلا طائل -تلك الظاهرة التي تمكن غير المختصين من استباحة حمى العلوم الشرعية-.

وله -أثابه الله- لفتات نفيسة في المقدمة، والحواشي، وقد أحسن كل الإحسان في كشافات الكتاب المصنفة على مجموعتين: ((الفهارس النظرية)) التي في وسع كل أحد عملها، و ((الفهارس العلمية)) التي لا يستطيع عملها بصفة دقيقة موعبة إلا طالب علم متمكن، ولا أحسب المحقق إلا ذلك.

وكم لإخواننا في الله علماء اليمن وطلابه من أياد بيضاء على العلم وأهله أحيوا فيها مآثر الأجداد، ووطؤا منهم على الأعقاب، فاتصل الأحفاد بالآباء والأجداد.

غفر الله لابن الوزير، ونفع الله بكتابه المسلمين، وجزى الله أخانا الشيخ علي بن محمد عمران خيراً على هذا العمل المبارك.

والحمد لله رب العالمين.

 

بكر بن عبد الله أبو زيد

في مصيف عام 1419

الطائف
- দ -

 

সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহের উপর ভিত্তি করে এই কাজ সম্পাদিত হয়েছে, যার প্রতি তাঁর (সম্পাদকের) অঙ্গীকার কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারবেন যারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) প্রতি বিশেষ যত্নবান। আমি কথা দীর্ঘ করতে চাই না, কারণ এই কর্মটি সুধী ও ন্যায়নিষ্ঠ পাঠকদের সম্মুখেই রয়েছে।

আল্লাহ তাঁকে নিরর্থক দীর্ঘ টীকা সংযোজন করা থেকে রক্ষা করেছেন—যেটি এমন একটি প্রবণতা যা অদক্ষ ব্যক্তিদের শরয়ি জ্ঞানের পবিত্রতাকে লঙ্ঘন করার সুযোগ করে দেয়।

ভূমিকা ও টীকাগুলোতে তাঁর—আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করুন—কিছু মূল্যবান সূক্ষ্ম আলোচনা রয়েছে। এছাড়া তিনি গ্রন্থের নির্ঘণ্টগুলোকে দুটি ভাগে বিন্যস্ত করে অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছেন: ((তাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ)) যা তৈরি করা যে কারও পক্ষেই সম্ভব, এবং ((ইলমি নির্ঘণ্টসমূহ)) যা কেবল একজন দক্ষ ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে সম্পন্ন করতে পারে না; আর আমি এই পাণ্ডুলিপি সম্পাদককে তেমনই মনে করি।

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়োজিত আমাদের ইয়েমেনি ভাই আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ইলম ও আহলে ইলমদের প্রতি কতই না মহান অবদান রয়েছে! এর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; ফলে উত্তরসূরিদের সাথে তাঁদের পূর্বপুরুষ ও মহান মনীষীদের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।

আল্লাহ ইবনুল উজিরকে ক্ষমা করুন, তাঁর গ্রন্থের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং আমাদের ভাই শায়খ আলী বিন মুহাম্মদ ইমরানকে এই বরকতময় কাজের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

১৪১৯ হিজরির গ্রীষ্মকালে

তায়েফ
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة التحقيق

 

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، من يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسلِمُونَ} [آل عمران:102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنهَا زَوجَهَا وَبَثَّ مِنهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيكُم رَقِيباً} [النساء:1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً، يُصْلِحْ لَكُم أَعْمَالَكُم وَيَغْفِر لَكُم ذُنُوبَكُم وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَد فَازَ فَوزاً عَظِيماً} [الأحزاب:70 - 71]

أما بعد؛ فإنّ أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم ، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، وكل ضلالة في النار.

فلا زال حرّاس الشريعة، وأمناء الملة في جلاد وجدال دائبين، مع كل ظالم لنفسه ومعتد على غيره، من مبتدع ضالّ مستدرك على الدين، أو جائر باغ معطل لأحكام الشرع القويم، تارة بالحجة والبرهان، وأخرى بالقوة والسلطان، بحسب وجود المقتضي وزوال المانع، فكم لهم في هذا السبيل من فضائل منشورة ومواقف مشهورة!!.
সম্পাদকের ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্ন করা থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১]

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।

শরিয়তের প্রহরী এবং উম্মাহর আমানতদারগণ সর্বদা সংগ্রাম ও বিতর্কে নিয়োজিত রয়েছেন—প্রত্যেক আত্মঘাতী এবং অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে; হোক সে বিদআতি ও পথভ্রষ্ট যে দ্বীনের ওপর খবরদারি করতে চায়, কিংবা সে জালেম ও অবাধ্য যে সঠিক শরিয়তের বিধানসমূহকে অকার্যকর করতে উদ্যত হয়। কখনও তারা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে লড়েছেন, আবার কখনও শক্তি ও শাসনের মাধ্যমে, যখন এর আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। এই পথে তাদের কতই না সুবিস্তৃত মর্যাদা এবং সুপ্রসিদ্ধ বীরত্বগাঁথা রয়েছে!!
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٦)
وهذا من حفظ الدين وتبليغه، قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((فالمرصدُونَ للعلم، عليهم للأمة حفظ الدين وتبليغه، فإذا لم يبلغوهم علم الدين، أو ضيعوا حفظه كان ذلك من أعظم الظلم للمسلمين، ولهذا قال تعالى: {إنَّ الَّذِينَ يَكتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالهُدَى مِن بَعدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَاّعِنُونَ} [البقرة:159] ، فإن ضرر كتمانهم تعدى إلى البهائم وغيرها، فلعنهم اللاعنون حتى البهائم)) (1) اهـ.

وكتابنا هذا كتاب ((الروض الباسم في الذب عن سنة أبي القاسم)) صلى الله عليه وسلم أحد ثمرات تلك المهمة الجهادية، فقد تصدى المؤلف -رحمه الله تعالى- لتلك الهجمة الشرسة التي شنّها أعداء السنن، وأنصار البدع، ودعاة التقليد، اللذين فضلوا منطق اليونان على آيات القرآن، وذمّوا صحابة الرسول الفضلاء، ومن بعدهم من أكابر العلماء.

فتصدّى ابن الوزير لذلك كله؛ فرفع السنن، ونصر الحديث وأهله، ودعا إلى الاجتهاد، وحث على طلب العلوم الشرعية ورغّب فيها وجعل عمادها الكتاب، والسنة النبوية، والآثار الصحابية، وذبّ عن هداة الأنام، وليوث الصّدام: صحابة نبينا عليه أفضل الصلاة والسلام، ومن بعدهم من علماء الإسلام.

وجهاد المؤلف رحمه الله هو من أفضل الجهاد، لأنّ من أفضله قول الحق مع شدة المعارض، كالذي يتكلم عند من يخاف سطوته وأذاه (2) ، وهكذا كان المؤلف-رحمه الله في تلك البلاد وفي ذلك

--------------------------------------------

(1) ((الفتاوى)) بواسطة ((الردود)): (ص/8) للشيخ بكر أبو زيد.

(2) ((زاد المعاد)): (3/ 65). ط، الثامنة.
এটি দীন সংরক্ষণ ও তা প্রচারের অন্তর্ভুক্ত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যারা ইলমের জন্য নিয়োজিত, উম্মতের জন্য দীন সংরক্ষণ ও তা প্রচার করা তাদের ওপর আবশ্যক। সুতরাং তারা যদি তাদের কাছে দীনের ইলম না পৌঁছায় অথবা তার সংরক্ষণে অবহেলা করে, তবে তা হবে মুসলিমদের প্রতি চরম জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমি যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদের লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদের লানত করে} [আল-বাকারা: ১৫৯]। কেননা তাদের এই গোপন করার ক্ষতি চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য প্রাণীর ওপরও পৌঁছায়, ফলে লানতকারীরা এমনকি চতুষ্পদ জন্তুরাও তাদের লানত করে)) (১) সমাপ্ত।

আমাদের এই গ্রন্থ "আর-রাওদুল বাসিম ফী আদ-দাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলো সেই জিহাদী মিশনের অন্যতম ফল। লেখক —রাহিমাহুল্লাহ তাআলা— সেই তীব্র আক্রমণের মোকাবিলা করেছেন যা সুন্নাহর শত্রু, বিদআতের সাহায্যকারী এবং তাকলীদপন্থীরা শুরু করেছিল, যারা কুরআনের আয়াতের ওপর গ্রীক যুক্তিবিদ্যাকে প্রাধান্য দিয়েছিল এবং রাসূলের ফযীলতপূর্ণ সাহাবী ও তাদের পরবর্তী বড় বড় আলিমদের নিন্দা করেছিল।

ইবনুল ওয়াযীর এই সবকিছুর মোকাবিলা করেছেন; তিনি সুন্নাহকে সমুন্নত করেছেন, হাদীস ও আহলুল হাদীসকে সাহায্য করেছেন, ইজতিহাদের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং শারঈ ইলম অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করেছেন। তিনি এর ভিত্তি হিসেবে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের আসারকে (কর্মধারা) নির্ধারণ করেছেন। তিনি সৃষ্টির পথপ্রদর্শক এবং সংগ্রামের সিংহপুরুষদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন, যারা হলেন আমাদের নবীর (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী ইসলামের আলিমগণ।

লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) এই জিহাদ সর্বোত্তম জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সর্বোত্তম জিহাদের অন্যতম হলো প্রবল বিরোধিতার মুখে সত্য কথা বলা, যেমন কোনো ব্যক্তি এমন কারো সামনে কথা বলে যার প্রতাপ ও ক্ষতির ভয় থাকে (২)। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সেই জনপদে এবং সেই সময়ে এমনই ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) ((আল-ফাতাওয়া)), ‘আর-রুদুদ’-এর মাধ্যমে: (পৃষ্ঠা: ৮), শাইখ বাকর আবু যায়েদ।

(২) ((যাদুল মা’আদ)): (৩/ ৬৫)। অষ্টম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٧)
الزمان متفرداً بالدعوة إلى الطريقة السنيّة، فخالف أهله وأهل بلده ومذهبه (1) ، فتناولته الألسنة البذيّة من أعداء السنة النبوية، ورموه عن قوس واحدة، فصاولهم وصاولوه، وجالدهم وجالدوه، إلا أنه احتسب ذلك كله جهاداً في الله، ((فلم تفزعه فيه ظلل الوشيج، ولم يجزعه فيه ارتفاع النشيج؛ مواقف حروب باشرها، وطوائف ضروب عاشرها، وأصناف خصوم لدّ اقتحم معها الغمرات، وواكلها مختلف الثمرات، وقطع جدالها قويّ لسانه، وجلادها شبا سنانه، قام بها وصابرها، بُلي بأصاغرها، وقاسا أكابرها، وأهل بدع قام في دفاعها، وجاهد في حطّ يفاعها، ومخالفة ملل بيّن لها خطأ التأويل، وسقم التعليل، وأسكت طنين الذباب في خياشم رؤوسهم بالأضاليل حتّى ناموا في مراقد الخضوع، وقاموا وأرجلهم تتساقط للوقوع، بأدلة أقطع من السيوف، وأجمع من السجوف، وأجلى من فلق الصّباح، وأجلب من فلق الرّماح:

إذا وثبت في وجه خطب تمزّقت

على كتفيه الدّرع وانتثر السّرد)) (2).

وقد كان المؤلف ابتدأ جوابه بكتابه الموسوعي العظيم ((العواصم والقواصم)) ، ثم اختصره واعتصره في هذا الكتاب، فرتّب

--------------------------------------------

(1) «فتح الخالق)): (ق/111) للصنعاني، نسخة الجرافي.

(2) اقتباس من كلام العلامة المنشىء أحمد بن يحيى بن فضل الله العمري (749هـ) في الثناء على شيخ الإسلام ابن تيمية -رحم الله الجميع- في كتابه ((مسالك الأبصار)) (مخطوط).
সেই সময়ে তিনি সুন্নী পদ্ধতির দাওয়াতের ক্ষেত্রে একাকী হয়ে পড়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর পরিবার, নিজ দেশের অধিবাসী এবং তাঁর মাযহাবের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন (১), যার কারণে সুন্নাহর শত্রুদের কটু জিহ্বাগুলো তাঁর সমালোচনা শুরু করে এবং তারা একযোগে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তিনি তাদের মোকাবিলা করেন এবং তারাও তাঁর মোকাবিলা করে। তিনি তাদের সাথে লড়াই করেন এবং তারাও তাঁর সাথে লড়াই করে। তবে তিনি এই সবকিছুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ হিসেবে গণ্য করেছিলেন। ((সেখানে বর্শার অরণ্যের ছায়া তাঁকে আতঙ্কিত করতে পারেনি, আর কান্নার রোলের উচ্চতা তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি। তিনি যুদ্ধের এমন সব ময়দানের সম্মুখীন হয়েছিলেন যা তিনি নিজেই পরিচালনা করেছিলেন এবং এমন সব আক্রমণকারী দলের সাথে লিপ্ত হয়েছিলেন যাদের তিনি মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি এমন সব কঠোর শত্রুদের ব্যুহ ভেদ করেছিলেন যাদের সাথে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন এবং তাদের দেওয়া বিভিন্ন তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর শক্তিশালী জিহ্বা তাদের বিতর্ককে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল এবং তাঁর তলোয়ারের ধার তাদের আক্রমণকে নস্যাৎ করে দিয়েছিল। তিনি এই কাজে অটল ছিলেন এবং ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তিনি তাদের ছোটদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন এবং বড়দের পক্ষ থেকে আসা কাঠিন্য সহ্য করেছিলেন। তিনি এমন সব বিদআতিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন যাদের দম্ভ চূর্ণ করার জন্য তিনি লড়াই করেছিলেন। তিনি এমন সব ভিন্ন মতাবলম্বীদের ভুল ব্যাখ্যার ত্রুটি এবং তাদের অসার যুক্তিগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি সেই সব পথভ্রষ্টদের মস্তিষ্কের ভেতর মাছির গুঞ্জনের মতো কুযুক্তিগুলোকে নীরব করে দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তারা পরাজয়ের গ্লানিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল এবং এমন অবস্থায় দন্ডায়মান হয়েছিল যেন তাদের পাগুলো পড়ে যাচ্ছে। তিনি এমন সব দলিল উপস্থাপন করেছিলেন যা তলোয়ারের চেয়েও তীক্ষ্ণ, পর্দার চেয়েও সংহত, সুবহে সাদিকের চেয়েও উজ্জ্বল এবং বর্শার আঘাতের চেয়েও তীব্র:

যখনই তিনি কোনো সংকটের মোকাবিলায় অবতীর্ণ হতেন, তখন তাঁর কাঁধের বর্ম ছিঁড়ে পড়ত এবং তার কড়াগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত)) (২)।

লেখক তাঁর এই উত্তর প্রদান শুরু করেছিলেন তাঁর বিশাল বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ 'আল-আওয়াসিম ওয়াল-কাওয়াসিম' এর মাধ্যমে। অতঃপর তিনি সেটিকে সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ করে এই কিতাবটিতে বিন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) 'ফাতহুল খালিক': (পৃষ্ঠা/১১১), সানআনী রচিত, আল-জিরাফী পাণ্ডুলিপি।

(২) এটি বিজ্ঞ লেখক আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ফাদলাল্লাহ আল-উমারি (মৃত্যু: ৭৪৯ হি.)-এর বক্তব্যের উদ্ধৃতি, যা তিনি শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহর প্রশংসায় তাঁর 'মাসালিকুল আবসার' (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে প্রদান করেছেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٨)
وهذّب، وقدّم وأخّر، وأتى من الحجج بأقواها، ومن اللوازم بما يلزم، ومن الاعتراض بما يُفحم، وزاد مع ذلك كله فوائد وقواعد وفرائد لا وجود لها في ((الأصل)) فأضحى كتاباً برأسه (1).

وقد سبق لهذا الكتاب أن طبع طبعات عدة -يأتي التعريف بها- وقد مضى على طبعته الأولى قرابة المئة عام، غير أن تلك الطبعات قد امتلأت بالتحريفات والسقط، مع عدم الوفاء بما تتطلبه مهمة التحقيق من أمور علمية وفنية، فانعقد العزم على تحقيق هذا الكتاب والعناية به، والله أسأل أن يكتب لي أجره إنه خير مسئول.

وقدّمت أموراً قبل تحقيقه هي:

1 - ترجمة المؤلف: ((لحفيد أخيه: محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم الوزير المتوفى سنة (897هـ))).

وصدّرت هذه الترجمة بمقدمة المحت فيها إلى أهمية دراسة شخصية ابن الوزير دراسة موعبة، وما حصل من تقصير في ترجمته من المتقدمين والمتأخرين والمحدّثين. ثم عرّفت بالمؤلّف «صاحب ترجمة ابن الوزير)) وبكتابه.

2 - دراسة الكتاب، وفيها:

-اسم الكتاب.

-إثبات نسبته للمؤلّف.

-تاريخ تأليفه.

-سبب تأليفه.

--------------------------------------------

(1) انظر (ص/75 - فما بعدها) من المقدمة.
তিনি এটিকে পরিমার্জিত করেছেন, আগে-পিছে বিন্যস্ত করেছেন এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দলিলগুলো উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি তুলে ধরেছেন এবং এমন সব আপত্তি উত্থাপন করেছেন যা প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করে দেয়। এর সাথে তিনি এমন সব বহু উপকারিতা, মূলনীতি ও অনন্য জ্ঞান যোগ করেছেন যা মূল গ্রন্থে (আল-আসল) ছিল না। ফলে এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে পরিণত হয়েছে (১)।

এই গ্রন্থটি ইতিপূর্বে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে—যার পরিচিতি সামনে আসবে। এর প্রথম মুদ্রণের পর প্রায় একশো বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী সেই সংস্করণগুলো বিকৃতি ও বিচ্যুতিতে ভরপুর ছিল এবং এতে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাই এই কিতাবটি সম্পাদনা ও এর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার সংকল্প করা হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এর প্রতিদান দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

এর সম্পাদনার পূর্বে আমি কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছি, যা নিম্নরূপ:

১ - লেখকের জীবনী: (এটি লিখেছেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদি বিন ইবরাহিম আল-ওয়াজির, মৃত্যু ৮৯৭ হিজরি)।

আমি এই জীবনীর শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, যেখানে ইবনে আল-ওয়াজিরের ব্যক্তিত্ব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত অধ্যয়নের গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছি। পাশাপাশি তাঁর জীবনী রচনায় পূর্বসূরি, উত্তরসূরি এবং সমসাময়িক গবেষকদের পক্ষ থেকে যে সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়েছে তাও উল্লেখ করেছি। এরপর আমি লেখকের (যিনি ইবনে আল-ওয়াজিরের জীবনী লিখেছেন) এবং তাঁর গ্রন্থের পরিচয় পেশ করেছি।

২ - গ্রন্থ পরিচিতি, যাতে রয়েছে:

- গ্রন্থের নাম।

- লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রমাণ।

- গ্রন্থটি রচনার ইতিহাস।

- গ্রন্থটি রচনার কারণ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ভূমিকার (পৃষ্ঠা ৭৫ ও পরবর্তী অংশ)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٩)
-موارده.

-الثناء على الكتاب، وعكسه.

-علاقة المختصر بالأصل، وأوجه المغايرة والامتياز بينهما.

-غرضه منه، ومنهجه فيه.

-تنبيهات على أمور لها تعلّق بالمنهج.

-طبعات الكتاب.

-مخطوطات الكتاب، ونماذج منها.

-عملي في الكتاب.

ثمّ ألحقت الكتاب بفهارس نظرية وعلمية، وهي:

1 - كشاف الآيات القرآنية.

2 - كشاف الأحاديث والآثار.

3 - كشاف الشعر.

4 - كشاف الكتب الواردة في المتن.

5 - كشاف الأعلام.

6 - كشاف موضوعات الكتاب على الفنون.

7 - كشاف الفوائد واللطائف.

8 - كشاف المصادر والمراجع.

9 - كشاف الموضوعات.

كتب/ عليّ بن محمد العمران

19/ 3/1419

في مكة المكرمة -حرسها الله-
-এর উৎসসমূহ।

-গ্রন্থটির প্রশংসা এবং এর বিপরীত।

-মূল গ্রন্থের সাথে সংক্ষেপিত রূপের সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্যের দিকসমূহ।

-এর উদ্দেশ্য এবং এতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।

-পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সতর্কীকরণ।

-গ্রন্থটির সংস্করণসমূহ।

-গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি এবং সেগুলোর কিছু নমুনা।

-গ্রন্থটিতে আমার সম্পাদিত কাজ।

অতঃপর আমি গ্রন্থটির শেষে তাত্ত্বিক ও জ্ঞানভিত্তিক নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করেছি, যেগুলো হলো:

১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২ - হাদিস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।

৩ - কাব্যাংশের নির্ঘণ্ট।

৪ - মূল পাঠে উল্লিখিত গ্রন্থাবলির নির্ঘণ্ট।

৫ - ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

৬ - শাস্ত্র অনুযায়ী গ্রন্থের বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।

৭ - উপকারী তথ্য ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলির নির্ঘণ্ট।

৮ - উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলির নির্ঘণ্ট।

৯ - বিষয়সূচি।

লিখেছেন/ আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

১৯/ ৩/ ১৪১৯

মক্কা আল-মুকাররামায় -আল্লাহ একে হেফাযত করুন-
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌أولاً: ترجمة المؤلّف

تمهيد

إن علماً كإبن الوزير رحمه الله لم يستوف حقّه من الدراسة الواعية الشاملة لجوانب حياته وآثاره!! تلك الدراسة القائمة على السّبر والاستقصاء والتتبّع. هذا رغم مالهذا الإمام من أهمية عظمى في التغيّرات الفكرية والعقدية في اليمن، فإنه وقف بقوّة وصلابة أمام الامتداد الزّيدي المعتزليّ، ناقضاً لمبانيه، داحضاً لشبهاته ومباغيه.

وتكمن أهميّة دراسة هذه الشخصيّة في جانبين:

أولهما: في تلك‌‌ الثروة العلمية التي خلّفها، حيث جمع بين العلوم النقلية، والعلوم العقلية -وقلّما يجتمعان-!!

أما العلوم النقليّة؛ فهذا الفنّ هو الذي أعجز الخصوم، إذ لا عناية بهم به، بل هم من أبعد الفرق عن الاعتناء بعلوم الحديث تدريساً وتصنيفاً (1) ، وقد اعترفوا له بذلك. فقد ((حُكي عن السيد العلامة شمس الدين أحمد بن محمد الأزرقي أنّه قال: لا يبلغ أحد في زماننا هذا من الاجتهاد ما بلغ إليه السيّد عز الدين محمد بن إبراهيم، وقد أحسنّا كل شيء إلا ما بلغ إليه، فلم نقدر عليه، لتمكّنه من معرفة

--------------------------------------------

(1) انظر ((الروض)): (ص/61، 175، 178) وهذا الجهل في عموم فرق الشيعة -والزيدية منهم- كما ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية، انظر ((منهاج السنّة)) (1/ 59) ، (5/ 163) ، (6/ 379) ، (7/ 413). ((القواعد الحديثية من المنهاج)): (ص/37، 58) للمحقق.
প্রথমত: লেখকের জীবনী

ভূমিকা

নিশ্চয়ই ইবনে আল-ওয়াযীর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো একজন আলিম তাঁর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিকের ওপর সচেতন ও ব্যাপক গবেষণার যথাযথ অধিকার এখনও পাননি!! সেই গবেষণা যা বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও গভীর পর্যবেক্ষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ ইয়ামেনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই ইমামের সুমহান গুরুত্ব রয়েছে। কেননা তিনি জায়েদি-মুতাযিলি মতবাদের প্রসারের সামনে অত্যন্ত শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়েছেন, তাদের মূলভিত্তিগুলোকে খণ্ডন করেছেন এবং তাদের সংশয় ও উদ্দেশ্যগুলোকে নস্যাৎ করেছেন।

এই ব্যক্তিত্বকে অধ্যয়নের গুরুত্ব দুটি দিকের মাঝে নিহিত:

প্রথমত: তাঁর রেখে যাওয়া সেই ইলমি সম্পদের মাঝে, যেখানে তিনি নকলি (উদ্ধৃতিমূলক) শাস্ত্র এবং আকলি (যুক্তিনির্ভর) শাস্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়েছেন—যা খুব কমই একত্রে দেখা যায়!!

আর নকলি শাস্ত্রের কথা বলতে গেলে; এটি এমন এক বিদ্যা যা প্রতিপক্ষকে অক্ষম করে দিয়েছে, যেহেতু এ বিষয়ে তাদের কোনো মনোযোগ নেই। বরং তারা হাদিস শাস্ত্রের পঠন-পাঠন ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দূরবর্তী ফিরকাগুলোর অন্যতম (১), এবং তারা তাঁর এই যোগ্যতার কথা স্বীকারও করেছেন। যেমনটি ((আল্লামা সায়্যিদ শামসুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আযরকি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমাদের এই যুগে ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সায়্যিদ ইযযুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম যে স্তরে পৌঁছেছেন, অন্য কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি যা অর্জন করেছেন তা ব্যতীত আমরা সব বিষয়েই পারদর্শিতা লাভ করেছি, কিন্তু তাঁর ওই স্তরে আমরা সক্ষম হতে পারিনি, কারণ তাঁর জ্ঞান অর্জনের সক্ষমতা রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ((আর-রাওদ)): (পৃষ্ঠা/৬১, ১৭৫, ১৭৮)। শিয়াদের সকল ফিরকার মাঝেই এই অজ্ঞতা বিদ্যমান—এবং জায়েদিরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত—যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া উল্লেখ করেছেন, দেখুন ((মিনহাজুস সুন্নাহ)) (১/ ৫৯), (৫/ ১৬৩), (৬/ ৩৭৯), (৭/ ৪১৩)। মুহাক্কিক প্রণীত ((আল-কাওয়ায়িদ আল-হাদিসিয়া মিনাল মিনহাজ)): (পৃষ্ঠা/৩৭, ৫৮)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١١)
الحديث ورجاله، وتبحّره في السمعيات)) (1).

وهو كما قال، فقد وصفه بالحفظ جماعة من العلماء واعترفوا له بذلك؛ كالنفيس العلوي (شيخه) ، والهادي الوزير، والصنعاني، والشوكاني. والناظر في كتبه (2) يجده واسع الحفظ (3) ، غزير الإطلاع، فهو يسرد في المسألة الواحدة أزيد من مئتي حديث مستحضراً لتراجم الرواة، وما قيل فيهم، وله اختيارات وترجيحات وعبارات تدلّ على تمكنه من هذا الفنّ، وله كلام على دقائق علوم الاصطلاح، والجرح والتعديل (4) ، وهو بكتب الحافظ الذهبي أشدّ عناية، بل يكاد يستظهرها خصوصاً ((النبلاء)) و ((الميزان)) (5).

أما العلوم العقليّة (6)؛ فقد بلغ منها الذروة العليا، بل هو جذيلها المحكّك، وعذيقها المرجّب، ((شهد له بذلك جميع أهل الزّمان، من الأقارب والأباعد، والمخالف له في الاعتقاد والمساعد)) (7).

ولا عجب -أيضاً-؛ لأن هذه الفنون هي التي أفنى فيها ابن

--------------------------------------------

(1) ((تاريخ بني الوزير)) (ق/36ب) نسخة المكتبة الغربية.

(2) قال الشوكاني في ((البدر الطالع)): (2/ 90) «ومن رام أن يعرف حاله ومقدار علمه (فعليه بمطالعة مصنفاته، فإنها شاهد عدل على علوّ طبقته، فإنه يسرد في المسألة الواحدة من الوجوه ما يبهر لبّ مطالعه ويعرّفه بقصر باعه)) اهـ.

(3) دلّلنا على كون المؤلف يكتب من حفظه، انظر المقدمة (ص/84).

(4) انظر الفهارس الموضوعية.

(5) انظر موارد المؤلف.

(6) كالأصول، والنحو، والمنطق وغيرها.

(7) ((تاريخ بني الوزير)): (ق/35ب).
হাদিস ও তার বর্ণনাকারীগণ এবং শ্রুত বিষয়গুলোতে (সামইয়্যাত) তার গভীর বুৎপত্তি (১)।

বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। একদল আলেম তাকে হাফেজ (মুখস্থকারী) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তার এই যোগ্যতাকে স্বীকার করে নিয়েছেন; যেমন আন-নাফিস আল-আলাভি (তার শিক্ষক), আল-হাদি আল-ওয়াজির, আস-সানআনি এবং আশ-শাওকানি। তার গ্রন্থাবলির পাঠক তাকে অগাধ মুখস্থশক্তি ও ব্যাপক অধ্যয়ন সমৃদ্ধ হিসেবে দেখতে পাবেন। তিনি একটি মাসয়ালাতেই বর্ণনাকারীদের জীবনী ও তাদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা উপস্থিত রেখে দুইশোরও বেশি হাদিস উল্লেখ করেন। এই বিদ্যায় তার পারদর্শিতা প্রমাণকারী বিভিন্ন নিজস্ব পছন্দ (ইখতিয়ার), প্রাধান্য প্রদান (তারজিহ) এবং অভিব্যক্তি রয়েছে। পরিভাষা বিজ্ঞান এবং জারাহ ও তা’দিল (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতেও তার আলোচনা রয়েছে। হাফেজ আয-যাহাবির কিতাবসমূহের প্রতি তার যত্ন অত্যন্ত গভীর, বরং তিনি সেগুলো মুখস্থই করে ফেলেছিলেন বললেই চলে, বিশেষ করে ‘আল-নুবালা’ এবং ‘আল-মিজান’ (৫)।

আর বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান (উলুম আল-আকলিয়া) (৬) এর ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন, বরং তিনি ছিলেন এর অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ। “নিকটবর্তী ও দূরবর্তী, এবং আকিদাগত বিরোধ পোষণকারী ও একমত পোষণকারী সমসাময়িক সকল মানুষই তার এই যোগ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন” (৭)।

আর এটি আশ্চর্যের কিছু নয়; কারণ এগুলোই সেই বিদ্যা যাতে ইবনে... (তার জীবন অতিবাহিত করেছেন)।

--------------------------------------------

(১) ‘তারিখ বানি আল-ওয়াজির’ (পৃষ্ঠা/৩৬খ), মাকতাবা আল-গারবিয়া পাণ্ডুলিপি।

(২) আশ-শাওকানি ‘আল-বদরুত তালি’ (২/ ৯০) গ্রন্থে বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার অবস্থা এবং তার ইলমের পরিমাণ জানতে চায়, তার উচিত হবে তার সংকলিত গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করা। কারণ তা তার উচ্চ মর্যাদার একজন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী। তিনি একটি মাসয়ালাতেই এমন সব দিক উল্লেখ করেন যা পাঠকের বিবেককে অভিভূত করে দেয় এবং পাঠককে নিজ যোগ্যতার স্বল্পতা অনুভব করায়।” সমাপ্ত।

(৩) লেখক যে তার মুখস্থ থেকে লিখতেন তার প্রমাণ আমরা দিয়েছি, দেখুন ভূমিকা (পৃষ্ঠা/৮৪)।

(৪) বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র দেখুন।

(৫) লেখকের উৎসসমূহ দেখুন।

(৬) যেমন উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র), নাহু (ব্যাকরণ), মান্তিক (তর্কশাস্ত্র) ইত্যাদি।

(৭) ‘তারিখ বানি আল-ওয়াজির’: (পৃষ্ঠা/৩৫খ)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٢)
الوزير عنفوان شبابه، وزهرة أيّامه، إلا أنه لم يقف منها موقف العاجز المسلّم، بل فحص وحقّق، وبحث ودقّق، حتى اتضحت له مناهج الصوب فسلكها، وانكشفت له سبل الباطل فزيّفها وردّها (1) ، وذلك بعد رجوعه إلى الكتاب والسنة، فقد وجد فيهما الشّفاء كلّه: دقّه وجلّه.

قال ابن الوزير (2) رحمه الله: ((فإني ما زلت مشغوفاً بدرك الحقائق، مشغولاً بطلب المعارف، مؤثراً الطلب لملازمة الأكابر، ومطالعة الدفاتر، والبحث عن حقائق مذاهب المخالفين، والتفتيش عن تلخيص أعذار الغالطين، محسّناً في ذلك للنيّة، متحريّاً فيه لطريق السويّة، متضرّعاً إلى الله تضرّع مضطر محتار، غريق في بحار الأنظار، طريح في مهاوي الأفكار، قد وهبت أيام شبابي ولذّاتي، وزمان اكتسابي ونشاطي، لكدورة علم الكلام والجدال، والنظر في مقالات أهل الضلال، حتى عرفت صحّة قول من قال:

لقد طفت في تلك المعالم كلها … وسيّرت طرفي بين تلك المعالم

فلم أر إلا واضعاً كفّ حائر … على ذقن أو قارعاً سنّ نادم (3)

وسبب (4) إيثاري لذلك، وسلوكي تلك المسالك: أنّ أول ما

--------------------------------------------

(1) انظر ((ترجمة ابن الوزير)): (ق/5 - 6أ).

(2) ((العواصم)): (1/ 201 - 202).

(3) عارض الإمام الصنعاني هذين البيتين بقوله:

لعلّك أهملت الطّواف بمعهد الرّ … سول ومن والاه من كلّ عالم

فمار حار من يهدي بهدي محمد … ولست تراه قارعاً سنّ نادم

(4) في ((العواصم)): «وبسبب)) وهو خطأ.
আল-ওয়াযীর তাঁর যৌবনের প্রারম্ভে এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোতে এক মুহূর্তের জন্যও একজন অক্ষম ও আত্মসমর্পণকারীর ন্যায় থেমে থাকেননি; বরং তিনি বিষদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করেছেন। পরিশেষে তাঁর নিকট সঠিক পথসমূহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তিনি তা অনুসরণ করেন। তাঁর সামনে বাতিলের পথগুলো উন্মোচিত হয় এবং তিনি সেগুলোকে অসার প্রমাণ করে প্রত্যাখ্যান করেন (১)। আর এটি ঘটেছিল কুরআন ও সুন্নাহর দিকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর; কারণ তিনি এই দুইয়ের মধ্যেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ যাবতীয় বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ নিরাময় খুঁজে পেয়েছিলেন।

ইবনুল ওয়াযীর (২) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: “আমি সর্বদা প্রকৃত সত্য উপলব্ধির নেশায় নিমগ্ন এবং জ্ঞান অন্বেষণে ব্যস্ত ছিলাম। বড় বড় আলিমদের সাহচর্য গ্রহণ, গ্রন্থাদি অধ্যয়ন, বিরোধীদের মতবাদের বাস্তবতা নিয়ে গবেষণা এবং পথভ্রষ্টদের অজুহাতসমূহের সারমর্ম অনুসন্ধানে আমি সচেষ্ট থাকতাম। এ ক্ষেত্রে আমি নিয়তকে পরিশুদ্ধ রাখতাম এবং সঠিক পথটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। আমি আল্লাহর কাছে একজন নিরুপায় ও দিশেহারা ব্যক্তির মতো বিনয়াবনত হয়ে প্রার্থনা করতাম, যে কি না গভীর চিন্তার সাগরে নিমজ্জিত এবং ভাবনার অতল গহ্বরে পতিত। আমি আমার যৌবনের দিনগুলো ও জীবনের আনন্দসমূহ এবং আমার উপার্জনের সময় ও উদ্যমকে ইলমুল কালামের কলুষতা, নিরর্থক বিতর্ক এবং পথভ্রষ্টদের মতবাদ পর্যালোচনায় উৎসর্গ করেছি। অবশেষে আমি সেই ব্যক্তির উক্তির সত্যতা উপলব্ধি করতে পেরেছি যিনি বলেছিলেন:

আমি সেই সমস্ত জ্ঞানকেন্দ্রগুলো চষে বেড়িয়েছি … আর আমার দৃষ্টিকে সেই সব নিদর্শনের মাঝে চালিত করেছি।

কিন্তু সেখানে আমি চিবুকে হাত রাখা কোনো এক বিভ্রান্ত ব্যক্তি … অথবা অনুশোচনায় দাঁত দিয়ে নখ কাটা অনুতপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কিছুই দেখিনি (৩)।

আর আমার এই পথ বেছে নেওয়ার এবং এ পথে চলার কারণ (৪) ছিল এই যে, সর্বপ্রথম যা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘তারজামাতু ইবনিল ওয়াযীর’: (পত্র/৫ - ৬ক)।

(২) ‘আল-আওয়াসিম’: (১/ ২০১ - ২০২)।

(৩) ইমাম সানআনী এই দুই পঙক্তির বিপরীতে বলেছেন:

সম্ভবত তুমি রাসূল এবং তাঁর অনুসারী প্রত্যেক আলিমের আস্তানায় বিচরণ করতে অবহেলা করেছ।

তাই যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয় সে কখনো দিশেহারা হয় না, আর তুমি তাকে কখনো অনুশোচনায় দাঁত দিয়ে নখ কাটতে দেখবে না।

(৪) ‘আল-আওয়াসিম’ গ্রন্থে ‘ওয়া বিসাবাবি’ রয়েছে, যা একটি ভুল।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٣)
قرع سمعي، ورسخ في طبعي: وجوب النّظر، والقول بأنّ من قلد في الاعتقاد فقد كفر، فاستغرقت في ذلك حدّة نظري، وباكورة عمري، وما زلت أرى كلّ فرقة من المتكلمين تداوي أقوالاً مريضة، وتقوّي أجنحة مهيضة، فلم أحصل على طائل، وتمثلت بقول القائل:

كلٌّ يداوي سقيماً من مقالته … فمن لنا بصحيح ما به سقم

 

فرجعت إلى كتاب الله، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وقلت: لا بدّ أن يكون فيها براهين وردود على مخالفي الإسلام، وتعليم وإرشاد لمن اتبع الرسول عليه أفضل الصلاة والسلام.

فتدبّرت ذلك، فوجدت الشّفاء كلّه، دقّه وجلّه، وانشرح صدري، وصلح أمري، وزال ما كنت به مبتلى، وأنشدت متمثلاً:

فألقت عصاها واستقرّ بها النّوى … كما قرّ عيناً بالإياب المسافر)) ا هـ.

وثانيهما: تلك‌‌ المدرسة الممتدّة للفكر الإصلاحي الذي اختطه ابن الوزير رحمه الله في تلك المنطقة، متمثلاً ذلك المنهج في نخبة من العلماء، لهم مواقف مسطورة، على تفاوت بينهم؛ فمن مقلّ ومستكثر، ومنهم:

-القاضي محمد بن محمد بن داود النهمي، رفيق ابن الوزير في الطلب.

-الحسن بن أحمد بن محمد بن علي بن صلاح الجلال … (1084هـ).

-محمد بن علي بن قيس (1) (1096هـ).

--------------------------------------------

(1) وقد نسخ كتاب ((العواصم)) ، وأوقف نسخة من «الروض الباسم)) ، انظر مخطوطات الكتاب.
আমার কানে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল এবং আমার স্বভাবে বদ্ধমূল হয়েছিল: বিচার-বিশ্লেষণ ও চিন্তাগবেষণার আবশ্যকতা এবং এই দাবি যে, যে ব্যক্তি আকিদাহর ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ করল সে কুফরি করল। ফলে এতে আমি আমার প্রখর বিচারবুদ্ধি এবং জীবনের প্রারম্ভিক সময় নিবিষ্ট করেছিলাম। আমি সর্বদা দেখতাম যে ইলমুল কালামের প্রত্যেকটি দল রুগ্ন মতবাদসমূহের চিকিৎসা করছে এবং ভেঙে পড়া ডানাগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে; কিন্তু আমি কোনো সার্থকতা খুঁজে পাইনি, আর আমি কবির এই পঙ্ক্তিটি আওড়ালাম:

প্রত্যেকেই তার বক্তব্যের অসুস্থতাকে সারিয়ে তুলতে চায় … কিন্তু আমাদের এমন সঠিক কথা কে দেবে যাতে কোনো অসুস্থতা নেই?

 

অতঃপর আমি আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরে এলাম এবং বললাম: অবশ্যই এর মধ্যে ইসলামের বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি ও খণ্ডন রয়েছে, এবং যারা রাসূলের (তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) অনুসরণ করে তাদের জন্য শিক্ষা ও সঠিক পথনির্দেশনা রয়েছে।

অতঃপর আমি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম এবং এর মধ্যেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ যাবতীয় নিরাময় খুঁজে পেলাম। আমার বক্ষ প্রশস্ত হলো, আমার অবস্থা সংশোধন হলো এবং আমি যে পরীক্ষায় নিপতিত ছিলাম তা দূর হয়ে গেল। তখন আমি দৃষ্টান্তস্বরূপ এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলাম:

অতঃপর সে তার লাঠিটি রেখে দিল এবং গন্তব্যে স্থির হলো … যেমন মুসাফির ফিরে এসে চোখের প্রশান্তি লাভ করে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আর দ্বিতীয়টি হলো: সেই‌ ‌বিস্তৃত সংস্কারবাদী চিন্তাধারার বিদ্যাপীঠ যা ইবনুল উজির (রাহিমাহুল্লাহ) সেই অঞ্চলে অঙ্কন করেছিলেন। এই মানহাজটি একদল বরেণ্য ওলামার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে, যাদের সুনির্ধারিত অবস্থান রয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে তারতম্য বিদ্যমান; কেউ কম অবদান রেখেছেন আবার কেউ বেশি। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

-কাজী মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন দাউদ আন-নাহমি, ইলম অন্বেষণে ইবনুল উজিরের সঙ্গী।

-আল-হাসান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন সালাহ আল-জালাল … (১০৮৪ হি.)।

-মুহাম্মাদ বিন আলি বিন কাইস (১) (১০৯৬ হি.)।

--------------------------------------------

(১) তিনি 'আল-আওয়াসিম' কিতাবটি অনুলিপি করেছিলেন এবং 'আর-রাওদুল বাসিম' কিতাবের একটি কপি ওয়াকফ করেছিলেন; গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٤)
-يحيى بن الحسين بن القاسم (1100هـ).

-صالح بن مهدي المقبلي (1108هـ).

-محمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (1182هـ) ، وهو وارث علوم ابن الوزير، وشارح كتبه (1).

-محمد بن علي الشوكاني (1250هـ).

-محمد بن عبد الملك الآنسيّ (1316هـ).

-أحمد بن عبد الله الجنداري (1337هـ).

-عبد الله بن محمد العيزري (1364هـ).

-حسين بن أحمد بن قاسم الخوثي (1386هـ).

((وإذا كان الإصلاح (الذي اختطه الرائد) يسير ببطء؛ فما هو المتسبّب، وإنما ذلك لطبيعة الزمان والمكان، وضعف المقتضيات، وقوة الموانع، وحسبه أن حرّك الخامد، وزعزع الجامد، وأجال اليد المصلحة)) (2)

ومن نافلة القول أن هذه الدراسات الوصفية لهذه المدارس

--------------------------------------------

(1) فثناؤه على ابن الوزير منقطع النظير، وقد شرح عدداً من كتبه:

- فشرح «تنقيح الأنظار)) بـ «توضيح الأفكار)).

- وشرح الديوان المسمّى بـ ((مجمع الحقائق والرقائق في ممادح ربّ الخلائق)) بـ ((فتح الخالق … )).

- وشرح عبارة لابن الوزير في ((الروض)) برسالة مستقلة وهي: ((إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد)).

- وله حاشية على ((إيثار الحق)) سمّاها: ((الأنوار على كتاب الإيثار)).

- وله حواشٍ على ((الروض)) أثبتناها في أماكنها من هذه الطبعة.

(2) من كلام الشيخ البشير الإبراهيمي بتصرف، انظر: ((آثاره)): (3/ 550).
-ইয়াহইয়া ইবনুল হুসাইন ইবনুল কাসিম (১১০০ হিজরি)।

-সালিহ ইবনে মাহদী আল-মুকবিলি (১১০৮ হিজরি)।

-মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-আমীর আস-সানআনী (১১৮২ হিজরি), তিনি ইবনুল উযীরের ইলমের উত্তরাধিকারী এবং তাঁর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাকারী (১)।

-মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী (১২৫০ হিজরি)।

-মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-আনসী (১৩১৬ হিজরি)।

-আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জিন্দারী (১৩৩৭ হিজরি)।

-আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আইযারী (১৩৬৪ হিজরি)।

-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে কাসিম আল-খাওসী (১৩৮৬ হিজরি)।

((যদি সংস্কার (যা অগ্রপথিক পরিকল্পিত করেছিলেন) মন্থর গতিতে চলে; তবে তার কারণ হলো সময় ও স্থানের প্রকৃতি, প্রয়োজনীয় উপকরণের দুর্বলতা এবং প্রতিবন্ধকতার শক্তি; তাঁর জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি স্থবিরতাকে সচল করেছেন, জড়তাকে প্রকম্পিত করেছেন এবং সংস্কারের হাত সঞ্চালিত করেছেন)) (২)

বলাই বাহুল্য যে, এই সকল চিন্তাধারার ওপর এই বর্ণনামূলক গবেষণাগুলো

--------------------------------------------

(১) ইবনুল উযীরের প্রতি তাঁর প্রশংসা অতুলনীয়, এবং তিনি তাঁর বেশ কিছু কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন:

- তিনি «তানকীহুল আনযার»-এর ব্যাখ্যা করেছেন «তাওদীহুল আফকার»-এর মাধ্যমে।

- এবং «মাজমাউল হাকায়িক ওয়ার রাকায়িক ফী মামাদিহি রব্বিল খালায়িক» নামক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন «ফাতহুল খালিক … »-এর মাধ্যমে।

- এবং «আর-রওদ» গ্রন্থে ইবনুল উযীরের একটি উক্তির ব্যাখ্যা করেছেন একটি স্বতন্ত্র রিসালার মাধ্যমে, যা হলো: «ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসীরিল ইজতিহাদ»।

- এবং «ঈসারুল হাক»-এর ওপর তাঁর একটি হাশিয়া (টীকা) রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন: «আল-আনওয়ার আলা কিতাবিল ঈসার»।

- এবং «আর-রওদ»-এর ওপর তাঁর আরও কিছু হাশিয়া রয়েছে যা আমরা এই সংস্করণের যথাযথ স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

(২) শাইখ আল-বাশীর আল-ইবরাহিমীর বক্তব্য থেকে কিছুটা পরিমার্জিত, দেখুন: «আসারুহু»: (৩/ ৫৫০)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٥)
الفكرية، لن تؤتي أكلها، ولن تقوم على سوقها، إلا بدراسة مسبقة شاملة عن رائد تلك المدرسة، ولمّا يحصل ذلك -فيما أعلم-.

وبعد؛ فلم يحض ابن الوزير رحمه الله بالترجمة لا من معاصريه، ولا من بعدهم. أما معاصريه؛ فلم يترجم له أحد منهم في كتبهم المشهورة كالمقريزي (845هـ) في ((درر العقود الفريدة)) ، فقد ترجم فيه لمعاصريه، ولا الحافظ ابن حجر (852هـ) في ((إنباء الغمر)) ، وهو على شرطه (1) ، ولا العيني في ((عقد الجمان)) ، ولا الفاسي (832هـ) في ((العقد الثمين)) (2) ، ولا ابن تغري بردي (874هـ) في ((المنهل الصافي)).

إلا ابن فهد (871هـ) فقد ترجمه ترجمة موجزة في ((معجمه)) نقل السخاوي في ((الضوء اللامع)): (6/ 272) جلّ ما فيها.

ثم ترجم له السخاوي ترجمة موجزة في ((الضوء)) جلّها من ((معجم ابن فهد)) ، وهذا يدل على عدم معرفته به، خاصّة أنه وهم فيها عدة أوهام!!.

ولذلك قال الشوكاني: ((وكذلك السخاوي لو وقف على (العواصم والقواصم) لرأى فيها ما يملأ عينيه وقلبه، ولطال عنان قلمه في ترجمته، ولكن لعله بلغه الاسم دون المسمّى)).

ثم قال: ((ولا ريب أن علماء الطوائف لا يكثرون العناية بأهل هذه الديار لاعتقادهم في الزيدية مالا مقتضى له، إلا مجرد التقليد لمن

--------------------------------------------

(1) وأورده عرضاً في ترجمة أخيه الهادي.

(2) ووهم الشوكاني في «البدر)): (2/ 92) فادّعى أن الفاسي ترجم له!! ولا وجود لذلك.
বুদ্ধিবৃত্তিক (আন্দোলন), তা ফলপ্রসূ হবে না এবং আপন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে না, যতক্ষণ না সেই মতাদর্শের অগ্রপথিক সম্পর্কে একটি পূর্ববর্তী ও ব্যাপক অধ্যয়ন সম্পন্ন হয়; এবং আমার জানামতে এখন পর্যন্ত তা হয়নি।

অতঃপর; ইবনুল উজির (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তী কারো কাছ থেকে জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব পাননি। তাঁর সমসাময়িকদের কথা বলতে গেলে, তাঁদের কেউই তাঁদের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেননি; যেমন আল-মাকরিজি (৮৪৫ হি.) তাঁর 'দুরারুল উকুদ আল-ফারিদাহ' গ্রন্থে, যেখানে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের জীবনী লিখেছেন; না হাফেজ ইবনে হাজার (৮৫২ হি.) তাঁর 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে—অথচ এটি তাঁর গ্রন্থের শর্তানুযায়ী ছিল (১)—না আল-আইনি তাঁর 'ইকদুল জুমান' গ্রন্থে, না আল-ফাসি (৮৩২ হি.) তাঁর 'আল-ইকদ আস-সামিন' গ্রন্থে (২), এবং না ইবনে তাগরি বারদি (৮৭৪ হি.) তাঁর 'আল-মানহাল আস-সাফি' গ্রন্থে।

কেবল ইবনে ফাহাদ (৮৭১ হি.) তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করেছেন; আস-সাখাবি তাঁর 'আদ-দাও আল-লামি' (৬/২৭২) গ্রন্থে এর অধিকাংশ বিষয়ই সেখান থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

অতঃপর আস-সাখাবি 'আদ-দাও' গ্রন্থে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন যার অধিকাংশ ইবনে ফাহাদের 'মু'জাম' থেকে নেওয়া; এটি তাঁর তাকে না জানার বিষয়টিকেই প্রমাণ করে, বিশেষ করে যেহেতু তিনি সেখানে বেশ কিছু ভুল করেছেন!!।

এই কারণেই আশ-শাওকানি বলেছেন: "তেমনিভাবে আস-সাখাবি যদি 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' গ্রন্থটি সম্পর্কে অবগত হতেন, তবে সেখানে এমন কিছু দেখতেন যা তাঁর চোখ ও অন্তরকে জুড়িয়ে দিত এবং তাঁর জীবনী রচনায় তাঁর কলম দীর্ঘতর হতো; কিন্তু সম্ভবত তাঁর কাছে কেবল নামটুকুই পৌঁছেছে, যাঁর নাম তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পৌঁছেনি।"

এরপর তিনি বলেন: "নিঃসন্দেহে বিভিন্ন উপদলের আলেমগণ এই অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দেন না; কারণ যাইদিয়াদের সম্পর্কে তাঁদের এমন কিছু ধারণা রয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই, বরং তা কেবল তাদের অন্ধ অনুসরণ যারা

--------------------------------------------

(১) এবং তিনি তাঁর ভাই আল-হাদীর জীবনীতে প্রসঙ্গক্রমে তাঁকে উল্লেখ করেছেন।

(২) আশ-শাওকানি 'আল-বদর' (২/৯২) গ্রন্থে ভুল করেছেন; তিনি দাবি করেছেন যে আল-ফাসি তাঁর জীবনী লিখেছেন!! অথচ এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٦)
لم يطلع على الأحوال، فإن في الديار الزيدية من أئمة الكتاب والسنة عدداً يجاوز الوصف يتقيدون بالعمل بنصوص الأدلة، ويعتمدون على ما صح في الأمهات الحديثية … ولا يرفعون إلى التقليد رأساً، لا يشوبون دينهم بشيءٍ من البدع التي لا يخلو أهل مذهب من المذاهب من شيء منها، بل هم على نمط السلف الصالح … )) (1) ا هـ.

أما أهل بلده؛ فقد انتصبوا لعداوته، والطعن فيه، والترسّل عليه، لا لشيء!! إلا لأنه ((ذبّ عن السنة ودفع عن أعراض أكابر العلماء وأفاضل الأمة، وناضل أهل البدع، ونشر علم الحديث، وسائر العلوم الشرعية في أرض لم يألف أهلها ذلك، لا سيما في تلك الأيام)) (2).

وكان قائد تلك الحملة: شيخه جمال الدين علي بن محمد بن أبي القاسم (837هـ) وهو المردود عليه في هذا الكتاب -كما سيأتي مشروحاً-.

قلت: بل بُلي بمن يطعن فيه من أهل بيته (3)!! ويقول: إنه ممن أضله الله على علم!! وهذا كما قيل:

وظلم ذوي القربى أشدّ مضاضةً … على النفس من وقع الحسام المهنّد (4).

ومن أبشع ما وقفت عليه في الكلام على المؤلف رحمه الله

--------------------------------------------

(1) ((البدر)): (2/ 83).

(2) قال الشوكاني: (2/ 92).

(3) انظر ((هِجَر العلم)): (1/ 194 - 195).

(4) البيت لطرفة بن العبد ((ديوانه)): (ص/113) ضمن معلقته.
তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন, কেননা জাইদি ভূখণ্ডে কিতাব ও সুন্নাহর এমন অসংখ্য ইমাম বিদ্যমান যারা বর্ণনাতীত। তাঁরা দলিলের ভাষ্য অনুযায়ী আমল করতে দায়বদ্ধ এবং হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করেন … তাঁরা তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেন না। তাঁরা তাঁদের দ্বীনকে এমন কোনো বিদআত দ্বারা কলুষিত করেন না যা থেকে কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসারীরা মুক্ত নয়। বরং তাঁরা সালাফে সালেহীনের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত … )) (১) সমাপ্ত।

আর তাঁর দেশের অধিবাসীদের কথা বললে, তারা তাঁর শত্রুতা, তাঁর নিন্দা এবং তাঁর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণে লিপ্ত হয়েছিল। এটি অন্য কোনো কারণে নয়!! বরং এজন্য যে, তিনি "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেছেন, উম্মতের মহান আলিম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করেছেন, বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্র ও অন্যান্য শরয়ি বিজ্ঞান এমন এক ভূখণ্ডে প্রচার করেছেন যেখানে মানুষ এগুলোর সাথে পরিচিত ছিল না, বিশেষ করে সেই সময়ে" (২)।

আর সেই অভিযানের নেতা ছিলেন: তাঁর উস্তাদ জামালুদ্দিন আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম (৮৩৭ হি.), যাঁর বক্তব্যের খণ্ডন এই কিতাবে করা হয়েছে—যেমনটি সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হবে।

আমি বলি: বরং তিনি তাঁর পরিবারের এমন সব লোক দ্বারাও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন যারা তাঁর নিন্দা করত (৩)!! তারা বলত: তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আল্লাহ জেনে-শুনে পথভ্রষ্ট করেছেন!! এটি ঠিক তেমন যেমনটি বলা হয়েছে:

আর নিকটাত্মীয়দের অবিচার মনের ওপর অধিক যন্ত্রণাদায়ক … ভারতীয় তলোয়ারের আঘাতের চেয়েও (৪)।

এবং লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আমি যা জানতে পেরেছি তার মধ্যে অন্যতম জঘন্য কথা হলো—

--------------------------------------------

(১) ((আল-বাদর)): (২/ ৮৩)।

(২) শাওকানি বলেছেন: (২/ ৯২)।

(৩) দেখুন ((হিজারুল ইলম)): (১/ ১৯৪ - ১৯৫)।

(৪) এই চরণটি তারাফাহ ইবনুল আবদের, তাঁর ((দিওয়ান)): (পৃষ্ঠা ১১৩), তাঁর মুআল্লাকার অন্তর্গত।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٧)
والتعصب عليه، مافاه به يحيى بن شمس الدين بن أحمد بن يحيى المرتضى (965هـ) ، فقد ساق القاضي الأكوع في ((هجر العلم)) (1) نقلاً عن هذا الرجل كلاماً شنيعاً مُقذعاً في حق الإمام ابن الوزير رحمه الله.

والشأن ما قاله الشوكاني: ((إن هذه قاعدة مطردة في كلّ عالم يتبحّر في المعارف العلمية، ويفوق أهل عصره، ويدين بالكتاب والسنة، فإنه لا بدّ أن يستنكره المقصّرون، ويقع له معهم محنة بعد محنة، ثمّ يكون أمره الأعلى، وقوله الأوْلى، ويصير له بتك الزلازل لسان صدقٍ في الآخرين، ويكون لعلمه حظ لا يكون لغيره .... )) (2) اهـ.

أمّا من ترجم له من أهل بلده فهم:

1 - تلميذه محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم الوزير … (897هـ) في ترجمة مستقلة، وهي التي نشرتها هنا في مقدمة هذا الكتاب.

2 - أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إبراهيم الوزير (985هـ). في ((تاريخ بني الوزير)) (ق/35ب-41ب).

3 - أحمد بن صالح بن محمد بن علي بن أبي الرجال (1092هـ) في ((مطلع البدور ومجمع البحور)) (مخطوط).

4 - يحيى بن الحسين بن القاسم (1100هـ) في ((طبقات الزيدية الصغرى)) (مخطوط).

5 - إبراهيم بن القاسم بن المؤيد (1153هـ) في ((طبقات الزيدية الكبرى)) (مخطوط).

--------------------------------------------

(1) (3/ 1321 - 1325).

(2) ((البدر الطالع)): (1/ 65) ، ونحوه في ((الفضل المبين)) / (ص/328) لجمال الدين القاسمي.
এবং তাঁর বিরুদ্ধে গোঁড়ামির বহিঃপ্রকাশ হলো সেই কথা যা ইয়াহইয়া ইবনে শামসুদ্দিন ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুরতাজা (৯৬৫ হিজরি) উচ্চারণ করেছেন। কাজী আল-আকওয়া ‘হিজারুল ইলম’ (১) গ্রন্থে এই ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে ইমাম ইবনুল উজির (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে অত্যন্ত জঘন্য ও অশ্লীল কথা বর্ণনা করেছেন।

বিষয়টি তেমনই যেমনটি শাওকানি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি এমন এক চিরন্তন নিয়ম যে, এমন প্রত্যেক আলেম যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, নিজ যুগের সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান এবং কিতাব ও সুন্নাহর আনুগত্য করেন, অবশ্যই অল্পজ্ঞানী বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করবে। তাদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর একের পর এক বিপদ আসতে থাকবে। এরপর শেষ পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্তই হবে সমুন্নত এবং তাঁর বক্তব্যই হবে অগ্রগণ্য। আর এই কঠিন পরীক্ষার বিনিময়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি সত্যের সুউচ্চ আসনে আসীন হবেন এবং তাঁর ইলমের এমন বিশেষ মর্যাদা অর্জিত হবে যা অন্য কারো ভাগ্যে জোটে না..." (২) সমাপ্ত।

তাঁর নিজ দেশের অধিবাসীদের মধ্যে যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন তারা হলেন:

১ - তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাদি ইবনে ইব্রাহিম আল-উজির … (৮৯৭ হিজরি) একটি স্বতন্ত্র জীবনীগ্রন্থে, যা আমি এই বইটির ভূমিকায় এখানে প্রকাশ করেছি।

২ - আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-উজির (৯৮৫ হিজরি), ‘তারিখু বনি আল-উজির’ (পত্র/৩৫খ-৪১খ) গ্রন্থে।

৩ - আহমদ ইবনে সালেহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবিল রিজাল (১০৯২ হিজরি), ‘মাতলাউল বদুর ওয়া মাজমাউল বুহুর’ (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে।

৪ - ইয়াহইয়া ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-কাসিম (১১০০ হিজরি), ‘তাবাকাতুয যাইদিয়্যাহ আস-সুগরা’ (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে।

৫ - ইব্রাহিম ইবনে আল-কাসিম ইবনে আল-মুয়াইয়্যাদ (১১৫৩ হিজরি), ‘তাবাকাতুয যাইদিয়্যাহ আল-কুবরা’ (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে।

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১৩২১ - ১৩২৫)।

(২) ‘আল-বাদরুত্তালি’: (১/ ৬৫), এবং অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে জামালুদ্দিন কাসেমির ‘আল-ফাদলুল মুবিন’ (পৃ/ ৩২৮)-এ।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٨)
6 - الوجيه العطّاب في ((تاريخه)) (1).

7 - الشوكاني (1250هـ) في ((البدر الطالع)) (2/ 81 - 93). وقال: إن ترجمته تحتمل مجلداً.

وقد ترجم له ترجمة هائلة، ونعته بعبارات ضخمة، لم يطلقها ولا مثلها على أحد ممن ترجم له في كتابه أجمع.

وغير هؤلاء ......

أما المحدثين؛ فقد قدّم حوله عدد من الدراسات العلمية هي:

- ((ابن الوزير اليمني ومنهجه الكلامي)) لرزق الحجر، طبع سنة … (1404هـ).

- ((إيثار الحق على الخلق)) لابن الوزير، دراسة وتحقيق، الجزء الأول، لأحمد مصطفى حسين صالح، رسالة ماجستير بجامعة الإمام محمد بن سعود عام (1403هـ) ، وطبعت سنة (1405هـ).

-الجزء الثاني من ((الإيثار)) ، رسالة ماجستير بالجامعة نفسها، لمحمد بن زيد العسكر، عام (1408هـ) ، ولمّا تطبع.

- ((ابن الوزير وآراؤه الاعتقادية)) ، رسالة دكتوراه بجامعة أم القرى، لعلي بن علي الحربي سنة (1406هـ) ، وطبعت سنة (1417هـ) في مجلدين.

- ((منهج ابن الوزير في الحديث)) رسالة دكتوراه، بالمغرب، لأخي العزيز محمد بن عبد الله باجعمان، ولمّا تناقش بعد.

-كما أفرده أحمد العليمي بباب كامل في رسالته للماجستير

--------------------------------------------

(1) نقل منه صاحب ترجمة ابن الوزير، وصاحب تاريخ آل الوزير والشوكاني.
৬ - আল-ওয়াজিহ আল-আত্তাব তার 'তারিখ' গ্রন্থে (১)।

৭ - আশ-শাওকানি (১২৫০ হিজরি) তার 'আল-বাদরুত তালি' (২/ ৮১ - ৯৩) গ্রন্থে। তিনি বলেছেন: তার জীবনী একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ডের দাবি রাখে।

তিনি তার একটি বিশাল জীবনী রচনা করেছেন এবং তাকে এমন সব মহিমান্বিত বিশেষণে ভূষিত করেছেন, যা তিনি তার বইয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেননি বা তার সদৃশ কিছুও বলেননি।

এবং এরা ছাড়াও আরও অনেকে...

আর আধুনিক গবেষকদের মধ্যে; তাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গবেষণামূলক অধ্যয়ন সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো হলো:

- রিজক আল-হাজ্জার লিখিত 'ইবনুল ওয়াজির আল-ইয়ামানি ওয়া মানহাজুহুল কালামি' (ইবনুল ওয়াজির আল-ইয়ামানি এবং তার কালামশাস্ত্রীয় মানহাজ), যা (১৪০৪ হিজরি) সালে মুদ্রিত হয়েছে।

- ইবনুল ওয়াজির রচিত 'ঈসারুল হাক্ব আলাল খালক্ব' (সৃষ্টির ওপর সত্যকে প্রাধান্যদান), গবেষণা ও সম্পাদনা: প্রথম খণ্ড, আহমদ মুস্তফা হুসাইন সালেহ; এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার্স থিসিস (১৪০৩ হিজরি), যা ১৪০৫ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

- 'আল-ঈসার'-এর দ্বিতীয় খণ্ড, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস, গবেষক: মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-আসকার, ১৪০৮ হিজরি; এটি এখনও মুদ্রিত হয়নি।

- 'ইবনুল ওয়াজির ওয়া আরাউহুল ই'তিক্বদিয়্যাহ' (ইবনুল ওয়াজির এবং তার আকিদাগত মতাদর্শ), উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি থিসিস, গবেষক: আলি বিন আলি আল-হারবি, ১৪০৬ হিজরি; এটি ১৪১৭ হিজরিতে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

- 'মানহাজু ইবনিল ওয়াজির ফিল হাদিস' (হাদিস শাস্ত্রে ইবনুল ওয়াজিরের মানহাজ), মরক্কোর একটি পিএইচডি থিসিস, গবেষক: আমার প্রিয় ভাই মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বাজমান; এটি এখনও উপস্থাপিত (ডিফেন্স) হয়নি।

- এছাড়াও আহমদ আল-আলিমি তার মাস্টার্স থিসিসে তার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল ওয়াজিরের জীবনীকার, 'তারিখু আলি ওয়াজির'-এর লেখক এবং আশ-শাওকানি এটি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ١٩)
((الصنعاني وكتابه توضيح الأفكار)): (ص/109 - 138) ، لم يقدم فيها جديداً!!.

-الإمام ابن الوزير وكتابه العواصم، للقاضي إسماعيل بن علي الأكوع.

ولمّا لم أرد تكرار الجهد، واجترار المعلومات؛ رأيت أن أسهم هنا بنشر ((ترجمة ابن الوزير)) لحفيد أخيه محمد بن عبد الله بن الهادي (897هـ).

وهذه ترجمته: من كتاب ((هجر العلم ومعاقله في اليمن)): (1/ 450 - 451).

هو: ((محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم بن علي بن المرتضى الوزير (1). عالم مبرز في كثير من العلوم، نسّابة شاعر أديب، وكان له خط جميل.

وقرأ على عمّ أبيه الإمام المجتهد محمد بن إبراهيم الوزير. طُلب منه أن يدعو إلى نفسه بالإمامة فوافق في بداية الأمر، ثم أعرض عنها. ذكره البريهي في تاريخه المطوّل، فقال: ((إنه التزم بمذهب الزيدية، وكان وزيراً للإمام الناصر، ثم عزله، وقال: إنه أطلع على قصيدة للفقيه إبراهيم الإخفافي ينتقد فيها مذهب الزيدية، مطلعها:

مذهبكم يا أيها الزيدية … مذهب حق جاء للعدلية

 

قال: ذلك تهكماً، فأجاب عليه محمد بن عبد الله الوزير بقوله:

قصيدة فريدة دريّة … رائعة في الوزن والرويّة

 

وهي (92) بيتاً تعرّض فيها للمذهب الشافعي، فردّ عليه …

--------------------------------------------

(1) وانظر: ((الضوء)): (8/ 120) ، و ((ملحق البدر الطالع)): (ص/202).
((আস-সান'আনী এবং তাঁর গ্রন্থ তাওদীহুল আফকার)): (পৃষ্ঠা/১০৯ - ১৩৮), এতে তিনি নতুন কিছু উপস্থাপন করেননি!!.

-ইমাম ইবনুল ওয়াযীর এবং তাঁর গ্রন্থ আল-আওয়াসিম, কাযী ইসমাঈল বিন আলী আল-আকওয়ার লেখা।

যেহেতু আমি একই শ্রমের পুনরাবৃত্তি এবং তথ্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাইনি; তাই আমি এখানে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাদী (৮৯৭ হি.) রচিত ((ইবনুল ওয়াযীরের জীবনী)) প্রকাশের মাধ্যমে অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এবং এটি হলো তাঁর জীবনী: ((হাজারুল ইলম ওয়া মা'আকিলুহু ফিল ইয়ামান)) গ্রন্থ থেকে: (১/ ৪৫০ - ৪৫১)।

তিনি হলেন: ((মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাদী বিন ইবরাহীম বিন আলী বিন আল-মুরতাদা আল-ওয়াযীর (১)। বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী একজন বিশিষ্ট আলেম, বংশলতিকাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক এবং তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল।

তিনি তাঁর পিতার চাচা ইমাম মুজতাহিদ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-ওয়াযীরের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। তাঁকে নিজের ইমামতের (নেতৃত্বের) জন্য আহ্বান জানাতে অনুরোধ করা হয়েছিল, শুরুতে তিনি তাতে সম্মতি দিলেও পরে তা থেকে বিমুখ হন। আল-বুরাইহী তাঁর দীর্ঘ ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: ((তিনি যায়দী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং ইমাম আন-নাসিরের মন্ত্রী ছিলেন, পরে তিনি তাকে পদচ্যুত করেন। তিনি (আল-বুরাইহী) বলেছেন: তিনি ফকীহ ইবরাহীম আল-ইখফাফীর একটি কবিতা দেখেছিলেন যাতে যায়দী মাযহাবের সমালোচনা করা হয়েছে, যার শুরুটা ছিল এমন:

হে যায়দী সম্প্রদায়, তোমাদের মাযহাব … সত্য মাযহাব যা ইনসাফকারীদের জন্য এসেছে

 

তিনি (আল-বুরাইহী) বলেন: এটি ছিল উপহাস স্বরূপ, তাই মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াযীর এর উত্তরে বলেন:

একটি অনন্য ও উজ্জ্বল কবিতা … ছন্দে ও ভাবনায় চমৎকার

 

এটি ৯২টি পঙ্‌ক্তিবিশিষ্ট, যাতে শাফেয়ী মাযহাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, অতঃপর তিনি তাকে জবাব দিলেন …

--------------------------------------------

(১) আরও দেখুন: ((আদ-দাও)): (৮/ ১২০), এবং ((মুলহাকুল বাদরিত তালি)): (পৃষ্ঠা/২০২)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٠)
علي بن أبي بكر السّحولي بقصيدة سماها ((الشهب الثاقبة الدامغة للفرقة القدرية الزائغة)) وهي في (260) بيتاً؛ مطلعها:

* ما بالكم يا معشر الزيدية *

ثم قال البريهي: ((وله يد باقعة في علم النحو والأدب والشعر)). توفي بحدّه ليلة السبت المسفرة عن (15 شعبان 897هـ) ، وذكر إبراهيم بن القاسم في ((طبقاته)) أنه توفي بصنعاء وقُبر في جربة الروض. وكان مولده بصعدة سنة (810هـ) انتهى.

أما‌‌ النسخة الخطية (1): فتقع في (7) ورقات في المكتبة الغربية بالجامع الكبير بصنعاء، بخط لطف بن سعد السّميني (2).

وهي نسخة جيدة ومقابلة، فرغ من نسخها في ذي القعدة سنة … (1336هـ) ، وفي نهايتها فائدة عن ابن الوزير لمّا سافر إلى الحج.

وقد التزمت الاقتصاد في التعليق على الكتاب، إلا في الكتب، فقد ذكرت كلّ ما فات المؤلف من كتب المترجم له، مع ذكر أماكن وجودها إن وقعت لي.

ولا يفوتني أن أنبه إلى أني قد حذفت جميع ما يتعلق بالتعريف بكتاب ((العواصم)) من هذه الترجمة، إذ لا تعلّق له بالترجمة، ولأن الكتاب مطبوع متداول، ولأن القاضي الأكوع قد فرّغ هذا التعريف في تقدمته للعواصم، فأغنى ذلك عن الإعادة، مع طول هذا التعريف فهو من (ق/1ب-4ب) ، والله -سبحانه- أستعين، وبه أستهدي.

--------------------------------------------

(1) انظر نماذج النسخة (ص/101 - فما بعدها).

(2) انظر (ص/95) من المقدمة، في الكلام على نسخة (ي).
আলী ইবনে আবু বকর আস-সাহুলি একটি কাসিদা রচনা করেছেন যার নাম তিনি দিয়েছেন ((আশ-শুহুবুস সাকিবাতুদ দামিগাতু লিল-ফিরকাতিল কাদরিয়্যাতিয যাইগা)) এবং এটি (২৬০) চরণের; যার শুরু এভাবে:

* হে যায়দি সম্প্রদায়, তোমাদের কী হলো? *

অতঃপর আল-বুরিহি বলেছেন: ((নাহু, আদব ও কবিতার জ্ঞানে তার অসামান্য দখল ছিল))। তিনি শনিবার রাতে হুদ্দা নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন, যা ছিল (১৫ শা’বান ৮৯৭ হিজরি) তারিখের ভোর। ইবরাহিম ইবনুল কাসিম তার ((তাবাকাত)) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সানআতে ইন্তেকাল করেন এবং জারবাতুর রওজ-এ সমাহিত হন। আর তার জন্ম ছিল সাদাহতে (৮১০ হিজরি) সনে। সমাপ্ত।

আর পাণ্ডুলিপি সংস্করণের (১): এটি সানআর জামে কাবিরের পশ্চিম লাইব্রেরিতে (৭) পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে, যা লুতফ ইবনে সাদ আস-সামিনির (২) হস্তলিপিতে লিখিত।

এটি একটি চমৎকার ও মূল পাঠের সাথে যাচাইকৃত পাণ্ডুলিপি, যার প্রতিলিপি তৈরির কাজ যিলকদ মাসে … (১৩৩৬ হিজরি) সনে সম্পন্ন হয় এবং এর শেষে ইবনুল উজিরের হজে যাওয়ার সময়ের একটি শিক্ষণীয় বিষয় বর্ণিত রয়েছে।

আমি এই বইটিতে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সংক্ষেপণ নীতি অবলম্বন করেছি, তবে গ্রন্থসমূহের বিবরণের ক্ষেত্রে আমি জীবনীকৃত ব্যক্তির সেই সমস্ত বইয়ের উল্লেখ করেছি যা মূল লেখকের আলোচনায় বাদ পড়েছিল, পাশাপাশি যদি সেগুলোর প্রাপ্তিস্থান আমার জানা থাকে তবে তাও উল্লেখ করেছি।

আমি আরও সতর্ক করে দিতে চাই যে, আমি এই জীবনী থেকে ((আল-আওয়াসিম)) গ্রন্থের পরিচিতি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় বাদ দিয়েছি; কারণ জীবনীর সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং বইটি বর্তমানে মুদ্রিত ও সুলভ। তদুপরি কাযি আল-আকওয়া ‘আল-আওয়াসিম’ গ্রন্থের ভূমিকায় এই পরিচিতিটুকু সবিস্তারে তুলে ধরেছেন, যা পুনরুক্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে। উপরন্তু এই পরিচিতিটি বেশ দীর্ঘ, যা (পত্র ১খ-৪খ) পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির নমুনা দেখুন (পৃষ্ঠা/১০১ - পরবর্তী অংশ)।

(২) ভূমিকার (পৃষ্ঠা/৯৫) দেখুন, যেখানে ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢١)
ترجمة ابن الوزير رحمه الله

تأليف

محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم الوزير

ت (897هـ)
ইবনুল উযাইর-এর জীবনী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

রচনা

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদী বিন ইবরাহীম আল-উযাইর

মৃত্যু (৮৯৭ হিজরি)
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

ربّ عونك

الحمد لله الذي أمرنا بحمده، وزادنا من فضله ورفده، وصلاته وسلامه على رسوله وعبده، وعلى آله وصحبه من بعده.

أما بعد؛ فإنّه سألني من لاح لي صدقه، وعظم عليّ حقّه من الإخوان المتّقين، ذوي الفضل والإخلاص واليقين: أن أجمع ترجمة مباركة لحيّ الوالد السيّد الإمام عزّ الدين، محيي سنة سيّد المرسلين: محمد بن إبراهيم -رحمه الله تعالى- وأضمّنها كلاماً وسيطاً، لا مختصراً ولا بسيطاً (1) ، وعلى أساليب تراجم المحدثين، دون أساليب المبتدعين المحدثين؛ فأجبته إلى ذلك بقدر طاقتي وإمكاني، وحسب قدرتي وإحساني (2) ، مستعيناً بالله سبحانه وتعالى فأقول:

هو شيخنا وإمامنا وبركتنا وقدوتنا: السيّد السّند، الإمام العلامة الرّحلة (3) الحجّة، السنّي الصّوفي، فريد العصر، ونادرة الدّهر، وخاتمة النّقاد، وحامل لواء الإسناد، وبقيّة أهل الاجتهاد بلا خلاف ولا عناد.

كشّاف أصداف الفرائد، قطّاف أزهار الفوائد، فاتح أقفال

--------------------------------------------

(1) أي: مبسوطاً واسعاً.

(2) غير واضحة بالأصل، ولعلها ما أثبته.

(3) بضم الراء المشددة، وهو من يُرحل إليه، انظر: ((أساس البلاغة)): (ص/158) للزمخشري.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে প্রভু, আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর প্রশংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দান থেকে আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন; আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল ও বান্দার প্রতি এবং তাঁর পরে তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি।

অতঃপর; মুত্তাকী ভাইদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তি—যার সততা আমার নিকট স্পষ্ট এবং আমার ওপর যার অধিকার অত্যন্ত মহৎ, যিনি মর্যাদা, নিষ্ঠা ও দৃঢ় বিশ্বাসের অধিকারী—তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা সাইয়্যিদ ইমাম ইজ্জুদ্দীন, যিনি রাসূলদের সরদারের সুন্নাতের পুনর্জীবিতকারী: মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর একটি বরকতময় জীবনী সংকলন করি। আমি যেন এতে এমন এক মধ্যমপন্থী আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করি যা অতি সংক্ষিপ্ত নয় আবার অতি দীর্ঘও (১) নয়; এবং তা যেন হয় মুহাদ্দিসগণের জীবনী রচনার পদ্ধতিতে, নবউদ্ভাবিত বিদআতিদের পদ্ধতিতে নয়। ফলে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করে আমার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এবং আমার সাধ্য ও উত্তম প্রচেষ্টা (২) মোতাবেক তাতে সাড়া দিচ্ছি এবং বলছি:

তিনি হলেন আমাদের শাইখ, আমাদের ইমাম, আমাদের বরকত এবং আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ: সাইয়্যিদ আস-সানাদ, ইমাম আল্লামা আর-রুহলাহ (৩), আল-হুজ্জাহ, সুন্নী সূফী, যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, কালের বিস্ময়, সমালোচকগণের শেষ উত্তরসূরি, বর্ণনাসূত্রের পতাকাবাহী এবং কোনো প্রকার বিতর্ক ও হঠকারিতা ছাড়াই ইজতিহাদ বা গবেষণার যোগ্য ব্যক্তিদের অবশিষ্ট প্রতিনিধি।

দুষ্প্রাপ্য মুক্তাসদৃশ বিষয়সমূহের ঝিনুক উন্মোচনকারী, জ্ঞানগর্ভ উপকারের পুষ্প আহরণকারী, বন্ধ তালার চাবিকাঠি উন্মোচনকারী...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: বিস্তারিত ও বিস্তৃত।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে বিষয়টি অস্পষ্ট, সম্ভবত এটিই আমি যা লিখেছি।

(৩) রা বর্ণের ওপর পেশ ও তাসদীদসহ; এর অর্থ হলো যার কাছে জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষ সফর করে যায়। দেখুন: যামাখশারী রচিত "আসাসুল বালাগাহ": (পৃষ্ঠা: ১৫৮)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٤)
اللطائف، مانح أثقال الظرائف (1) ، مصيب شواكل المشكلات بنواقد أنظاره، مطبق مفاصل المعضلات بصوارم أفكاره، مضحك كمائم النّكت من نوادره، مفتح نواظر الطّرف من (2) موارده ومصادره:

عزّ الدين، محيي سنّة سيد المرسلين، أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن عليّ بن المرتضى بن المفضّل الحسنيّ القاسميّ الهادوي، نسباً على السّماك عالياً، ومذهباً إلى الصواب هادياً.

كان رأساً في المعقول والمنقول، وإماماً في علمي الأصول (3) ، وله ردّ على صاحب ((النهاية)) (4) و ((المحصول)) (5) في إنكار التحسين والتقبيح العقليّ، لم يسبق إلى مثله، وكذلك الردود على غيره من غلاة المعتزلة في كثير من المسائل التي عادوا فيها السّمع من نصوص كتاب الله تعالى وسنّة رسوله صلى الله عليه وسلم ، وهي مبسوطة في كتابه الجامع الكبير الموسوم بـ ((العواصم)) فمن أراد الوقوف عليها فليطالعه موفّقاً.

‌‌[مولده]

مولده رضي الله عنه ورحمه- في شهر رجب الأصبّ، من شهور سنة خمس وسبعين وسبع مئة بهجرة الظّهراوين (6) من شظب،

--------------------------------------------

(1) في هامش النسخة: ((في المقابل عليها: أنفال الطرائف)) اهـ.

(2) في نسخة: ((في)) كذا في هامش النسخة.

(3) أصول الدين وأصول الفقه.

(4) ((نهاية العقول في الكلام في دراية الأصول)) ، مخطوط.

(5) ((المحصول في علم الأصول)) كلاهما لمحمد بن عمر الرازي الأشعري الملقب بـ «فخر الدين)) (606) طبع محقّقاً في جامعة الإمام.

(6) في هامش الأصل ما نصه: ((هجرة الظهراوين هي اليوم خاربة في رأس «جبل شظب)) ، المطل على ((سودة شظب)) من بلاد همدان في الشمال الغربي من صنعاء، على مرحلتين للمجدّ، والطريق إليها من عمران؛ فجبل عيال يزيد)) ا هـ.
সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের বর্ণনাকারী, শ্রেষ্ঠ চমৎকার উপহারসমূহের (১) দাতা, স্বীয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে জটিল সমস্যাবলির মূলে আঘাতকারী, প্রখর চিন্তাশক্তির মাধ্যমে কঠিন জটসমূহ মোচনকারী, স্বীয় বিরল রসবোধের মাধ্যমে কৌতুকের কলিগুলোকে প্রস্ফুটিতকারী, স্বীয় উৎসের ঝর্ণাধারা থেকে (২) দৃষ্টির মণি উন্মোচনকারী:

ইযযুদ্দীন, রাসুলগণের সরদারের সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনকারী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আলী ইবন আল-মুরতাদা ইবন আল-মুফাযযাল আল-হাসানি আল-কাসিমি আল-হাদাবি; বংশমর্যাদায় নক্ষত্রসম সুউচ্চ এবং সঠিক মাযহাবের দিকে দিশারি।

তিনি যুক্তিভিত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক উভয় জ্ঞানে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন এবং উসুল (৩) বা মূলনীতিশাস্ত্রদ্বয়ে ইমাম ছিলেন। বুদ্ধিভিত্তিক ভালো-মন্দের ধারণাকে অস্বীকার করার বিষয়ে 'নিহায়া' (৪) ও 'মাহসুল' (৫) গ্রন্থের লেখকের বিপক্ষে তাঁর এমন এক খণ্ডন রয়েছে, যা নজিরবিহীন। তদ্রূপ অন্যান্য চরমপন্থী মুতাযিলিদের বিরুদ্ধেও অনেক মাসআলায় তাঁর খণ্ডন রয়েছে, যেখানে তারা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর অকাট্য ভাষ্যের বিরোধিতা করেছিল। তাঁর 'আল-আওয়াসিম' নামক বৃহৎ সংকলন গ্রন্থে এগুলো সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে অবগত হতে চায়, সে যেন আল্লাহর তাওফিকে তা অধ্যয়ন করে।

‌‌[তাঁর জন্ম]

তাঁর জন্ম—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন ও রহম করুন—সাতশত পঁচাত্তর হিজরি সনের ‘রজব আল-আসাব’ মাসে, শাজাব-এর ‘হিজরাতুয যোহরাওয়াইন’ (৬) নামক স্থানে।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায়: "এর বিপরীতে রয়েছে: চমৎকার উপহারের অংশসমূহ।"

(২) একটি সংস্করণে রয়েছে: "মধ্যে", পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায় এমনটিই রয়েছে।

(৩) উসুলুদ্দীন (ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি) এবং উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি)।

(৪) ‘নিহায়াতুল উকূল ফি কালারি দরয়াতিল উসুল’, পাণ্ডুলিপি।

(৫) ‘আল-মাহসুল ফি ইলমিল উসুল’, উভয়টি ফখরুদ্দীন উপাধিতে পরিচিত মুহাম্মদ ইবন উমর আর-রাযী আশ-আরীর (৬০৬ হি.) রচনা, যা ইমাম ইউনিভার্সিটিতে তাহকীকসহ মুদ্রিত হয়েছে।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপির হাশিয়ায় যা বলা হয়েছে: "হিজরাতুয যোহরাওয়াইন বর্তমানে ‘জাবালু শাজাব’-এর চূড়ায় অবস্থিত একটি ধ্বংসাবশেষ, যা হামদান অঞ্চলের ‘সাওদাতু শাজাব’-এর উপরে অবস্থিত। এটি সানআ’র উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং একজন দ্রুতগামী আরোহীর জন্য দুই মঞ্জিলের পথ; এর রাস্তা ইমরান হয়ে ‘জাবালু ইয়াল ইয়াযিদ’ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وهو: جبل عالٍ باليمن. هكذا نقلته من خطّه رضي الله عنه وحفظته من غيره من الأهل (1).

‌‌[مؤلّفاته، وبعض شعره]

وله رضي الله عنه مصنّفات عديدة، ومجموعات مفيدة، منها: كتاب ((العواصم في الذبّ عن سنّة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم)) ، أربعة أجزاء مجلّدة (2) ، اشتمل من الفوائد على مالم يشتمل عليه كتاب، وها أنا أذكر ما تضمّنه كل جزء منها لإرشاد الطّالب لذلك، وتنبيه الرّاغب إليه، أرشدنا الله تعالى لما يحبّ ويرضى (3) …

ثمّ إنه -رحمه الله تعالى- ختم كتابه (4) بهذه الأبيات:

جمعت كتابتي راجياً لقبوله … من الله فالمرجو منه قريب

رجوت بنصر المصطفى وحديثه … تكفّر لي يوم الحساب ذنوب

ومن يتشفع بالحبيب محمد … إلى الله في أمرٍ فليس يخيب

--------------------------------------------

(1) وعليه؛ فما قاله السخاوي في ((الضوء اللامع)): (6/ 272) من أنه ولد تقريباً سنة خمس وستين وسبع مئة، ليس بصحيح!!.

(2) طبع في تسع مجلدات عن مؤسسة الرسالة، إلا أنه بحاجة إلى فهارس علمية، أرجو أن ينشط بهض الباحثين النابهين لعمل ذلك.

(3) ثمّ ذكر محتوى مجلّداته الأربع من (ق/1ب-4ب) ، وقد تقدّم الاعتذار عن عدم إثباتها.

(4) هذه الأبيات ليست في مطبوعة ((العواصم)) ولا ((الروض)) فلعلها في نسخة أخرى.
এটি হলো: ইয়ামেনের একটি উঁচু পাহাড়। এভাবেই আমি তাঁর হস্তলিপি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে এটি নকল করেছি এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্যদের নিকট থেকে তা সংরক্ষণ করেছি (১)।

‌‌[তাঁর রচনাবলি ও তাঁর কবিতার কিয়দাংশ]

তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) অনেকগুলো গ্রন্থ এবং বহু উপকারী সংকলন রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো: 'আল-আওয়াসিম ফিজ-যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যা চার খণ্ডে সম্বলিত (২)। এতে এমন সব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে যা অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না। আর আমি এখন এই কিতাব অন্বেষণকারীর পথনির্দেশনা এবং আগ্রহীদের বিষয়টি অবগত করার জন্য এর প্রতিটি খণ্ডে কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা উল্লেখ করছি; আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই বিষয়ের দিকে পরিচালিত করুন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন (৩) …

অতঃপর তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর কিতাবটি (৪) এই পংক্তিগুলো দ্বারা সমাপ্ত করেছেন:

আমি আমার এই লেখাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কবুল হওয়ার আশা নিয়ে সংকলন করেছি, আর তাঁর নিকট যা আশা করা হয় তা অতি নিকটেই।

আমি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর হাদিসের সহযোগিতার মাধ্যমে আশা রাখি যে, হাশরের দিনে আমার গুনাহসমূহ মোচন করে দেওয়া হবে।

আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে আল্লাহর দরবারে প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুপারিশকারী হিসেবে পেশ করে, সে কখনো বিফল হয় না।

--------------------------------------------

(১) এর ভিত্তিতে; সাখাবী তাঁর 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থে (৬/২৭২) যা বলেছেন যে, তিনি আনুমানিক সাতশ পঁয়ষট্টি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন, তা সঠিক নয়!!।

(২) এটি মুআসসাসাতুর রিসালাহ থেকে নয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, তবে এতে বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) প্রয়োজন। আমি আশা করি কোনো তীক্ষ্ণধী গবেষক এ কাজটির জন্য সচেষ্ট হবেন।

(৩) অতঃপর তিনি তাঁর চার খণ্ডের বিষয়বস্তু (পৃষ্ঠা ১খ-৪খ) উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত না করার ব্যাপারে পূর্বেই ওজর পেশ করা হয়েছে।

(৪) এই পংক্তিগুলো 'আল-আওয়াসিম' কিংবা 'আর-রাওদ' এর মুদ্রিত কপিতে নেই, সম্ভবত এগুলো অন্য কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فياحافظي علم الحديث لي اشفعوا … إلى الله فالرب الكريم يجيب

لعلّ كتابي أن يكون مذكّراً … لكم بالدّعا للعبد حين يغيب

ولا سيما بعد الممات عسى به … يبلّ غليل أو يكفّر حوب

ولا تغفلوا في أن بليت فودّكم … وإن بليت منّي العظام قشيب

ومهما رأيتم في كتابي قصوره … فستراً وغفراً فالقصور معيب

ولكنّ عذري واضح وهو أنّني … من الخلق أخطي تارة وأصيب

وقد ينثني الصّمصام وهو مجرّد … وينكسر المرّان وهو صليب

ولكنني أرجوه إن حلّ داركم … حلا منه ورد بالأجاج مشوب

يكون أجاجاً دونكم فإذا انتهى … إليكم تلقّى طيبكم فطيب

 

وقال في الدّعاء إلى السنّة بعد هذه الأبيات المذكورة (1):

عليك بأصحاب الحديث الأفاضل … تجد عندهم كلّ الهدى والفواضل

 

إلى آخرها، وهي معروفة، تركتها اختصاراً.

ومنها:

فلا تقتدوا إلا بهم وتيمموا … لهم منهجاً كالقدح ليس بزائل (2)

ألم تر أنّ المصطفى يوم جاءه الـ … ـوليد بقول الأحوذيّ المجادل

 

وفي هذا البيت إشارة إلى كلام الوليد بن المغيرة، أو عتبة بن ربيعة (3) لرسول الله صلى الله عليه وسلم ، حين عرض عليه المال والرّياسة، ويترك

--------------------------------------------

(1) هذه الأبيات وما بعدها، ليست في مطبوعة ((العواصم)) ، وهي في خاتمة ((الروض)): (2/ 595).

(2) في نسخة: ((بمائل)).

(3) هو عبتة بن ربيعة، كما أخرجه ابن أبي شيبة، وعبد بن حميد، وأبو يعلى والحاكم -وصححه- وابن مردويه، وأبو نعيم والبيهقي -كلاهما في ((الدلائل)) - وابن عساكر عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما وساق القصة في ذلك. وجاء من رواية ابن عمر، ومحمد بن كعب القرظي، وفي سياقها اختلاف. انظر: ((تفسير ابن كثير)): (4/ 98 - 99) ، و ((الدرّ المنثور)): (5/ 672/674).
হে হাদিস শাস্ত্রের হাফেজগণ, আল্লাহর কাছে আমার জন্য সুপারিশ করুন … কারণ দয়ালু রব দোয়া কবুল করেন।

সম্ভবত আমার এই কিতাবটি আপনাদেরকে … এই দাসের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুয়া করার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

বিশেষ করে মৃত্যুর পর; আশা করি এর মাধ্যমে … পিপাসা মিটবে অথবা পাপ মোচন হবে।

আমি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও আপনারা উদাসীন হবেন না; কেননা আপনাদের ভালোবাসা … চিরনতুন, যদিও আমার হাড়গুলো ক্ষয়ে যায়।

আমার কিতাবে আপনারা যদি কোনো ত্রুটি দেখেন … তবে তা গোপন করুন এবং ক্ষমা করুন, কারণ ত্রুটি তো দোষণীয়।

তবে আমার ওজর স্পষ্ট, আর তা হলো আমি তো … সৃষ্টিজীবের অন্তর্ভুক্ত; কখনও ভুল করি আবার কখনও সঠিক পথ পাই।

কখনও তীক্ষ্ণ তরবারি কোষমুক্ত অবস্থায় বেঁকে যায় … আর শক্ত বল্লমও ভেঙে যায়।

তবে আমি আশা করি, যদি এটি আপনাদের দ্বারে পৌঁছে … তবে এর নোনা স্বাদ মিষ্টতায় পরিবর্তিত হবে।

আপনাদের কাছে পৌঁছানোর আগে তা লোনা থাকতে পারে, কিন্তু যখন আপনাদের কাছে পৌঁছাবে … আপনাদের পবিত্রতার সংস্পর্শে তা সুগন্ধিময় ও উত্তম হয়ে যাবে।

 

উল্লিখিত এই কবিতাগুলোর পর তিনি সুন্নাহর দিকে আহ্বানের বিষয়ে বলেছেন (১):

তুমি মর্যাদাবান আহলে হাদিসদের আঁকড়ে ধরো … তাদের কাছেই তুমি সকল হেদায়েত ও শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে পাবে।

 

শেষ পর্যন্ত; এটি সুপরিচিত, সংক্ষেপ করার জন্য আমি তা বাদ দিয়েছি।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ হলো:

তোমরা তাদের ছাড়া অন্য কারো অনুসরণ করো না এবং তাদের মানহাজ অন্বেষণ করো … যা তীরের মতো সোজা ও চিরস্থায়ী (২)।

তুমি কি দেখনি যখন মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ওয়ালিদ এসেছিল … সেই চতুর ও বিতর্ককারীর কথা নিয়ে?

 

এই চরণে ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা অথবা উতবা ইবনে রবিআর (৩) কথার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন, যখন তিনি তাঁকে সম্পদ ও নেতৃত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তিনি তা বর্জন করেন...

--------------------------------------------

(১) এই কবিতাগুলো এবং পরবর্তী অংশ 'আল-আওয়াসিম'-এর মুদ্রিত কপিতে নেই, এটি 'আর-রাওদ'-এর শেষে রয়েছে: (২/ ৫৯৫)।

(২) এক পাণ্ডুলিপিতে 'বি মায়িল' (বক্র) শব্দ আছে।

(৩) তিনি হলেন উতবা ইবনে রবিআ, যেমনটি ইবনে আবি শাইবা, আবদ ইবনে হুমাইদ, আবু ইয়ালা, হাকিম -তিনি একে সহিহ বলেছেন-, ইবনে মারদুওয়াইহ, আবু নুয়াইম এবং বায়হাকি -উভয়ে 'আদ-দালাইল'-এ-, এবং ইবনে আসাকির জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে পুরো ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে উমর এবং মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এর বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। দেখুন: 'তাফসির ইবনে কাসির': (৪/ ৯৮-৯৯), এবং 'আদ-দুররুল মানসুর': (৫/ ৬৭২/৬৭৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٧)
دعوى النبوة، فلم يجب عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بتلاوة سورة السجدة (1) ، وعلى هذا كان أصحابه رضي الله عنهم، ومنها:

تنكّب منهاج المرا وتلاله … من السّجدة الآيات ذات الفواصل

ولم يجعل القرآن غير مصدّق … إذا لم تقدمه دروس الأوائل

كذا فعل الطيّار يوم خطابه … لأصحنةٍ (2) بين الخصوم المقاول (3)

تلا لهم آي الكتاب فأيقنوا … بها بشهادات الدّموع الهواطل

إلى جمل الإسلام صار أولو النّهى … وعادوا إليها بعد بُعد المراحل

أبو حامد (4) وابن الخطيب (5) وهكذا … الإمام الجويني الذي لم يماثل

كذا ابن عقيل (6) وهو أبرع عاقل … غدا وهو معقول كبعض العقائل

--------------------------------------------

(1) والسورة التي تلاها النبي صلى الله عليه وسلم هي: سورة فصّلت، من قوله تعالى: {حم} إلى {فَإِنْ أَعرَضُواْ فَقُلْ أَنْذَرتُكُم صَاعِقَةً مِثلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ} [فصلت:1 - 13].

(2) ((اسم النجاشي، وهو بمعنى عطيّة في الحبشية)) تمت. من هامش النسخة.

(3) في نسخة ((المحاول)).

(4) هو: الغزالي (505هـ).

(5) هو: الفخر الرازي (606هـ).

(6) أبو الوفاء الحنبلي صاحب ((الفنون)). (513هـ).
নবুওয়তের দাবি, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সূরা আস-সাজদাহ (১) তিলাওয়াত করা ছাড়া আর কোনো উত্তর দেননি এবং তাঁর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম এই পথেই ছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে:

বিতর্কের পথ এবং এর ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করো … আস-সাজদাহর সেই আয়াতসমূহ থেকে যা সুনির্দিষ্ট বিরতিসম্পন্ন।

এবং কুরআনকে অপ্রমাণিত সাব্যস্ত করো না … যদি পূর্ববর্তীদের পাঠসমূহ তার আগে পেশ না করা হয়।

তদ্রূপ (জাফর) তায়্যার তাঁর ভাষণের দিন করেছিলেন … আসহামার (২) সামনে বাদানুকারী প্রতিপক্ষদের (৩) মাঝে।

তিনি তাদের সামনে কিতাবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন, ফলে তারা তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করল … ঝরঝর করে পড়া অশ্রুর সাক্ষ্যের মাধ্যমে।

ইসলামের সারনির্যাসের দিকেই বুদ্ধিমানগণ ধাবিত হয়েছেন … এবং সুদীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর তারা তার দিকেই ফিরে এসেছেন।

আবু হামিদ (৪) ও ইবনুল খতিব (৫) এবং এভাবেই … ইমাম আল-জুওয়াইনী যার কোনো তুলনা ছিল না।

তদ্রূপ ইবনে আকিল (৬), যিনি অত্যন্ত দক্ষ বুদ্ধিমান … তিনি আজ বুদ্ধিবৃত্তিক আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সূরাটি তিলাওয়াত করেছিলেন তা হলো: সূরা ফুসসিলাত, মহান আল্লাহর বাণী: {হা-মীম} থেকে {অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো— আমি তোমাদের আদ ও সামূদ জাতির বজ্রের ন্যায় এক বজ্রের ভয় দেখাচ্ছি} পর্যন্ত [ফুসসিলাত: ১ - ১৩]।

(২) ((নাজাশির নাম, যা হাবশি ভাষায় 'উপহার' অর্থে ব্যবহৃত হয়)) সমাপ্ত। পাণ্ডুলিপির টীকা থেকে।

(৩) অন্য পাণ্ডুলিপিতে 'আল-মুহাওয়িল' (المحاول) রয়েছে।

(৪) তিনি হলেন: আল-গাযালী (৫০৫ হিজরি)।

(৫) তিনি হলেন: ফখর আল-রাযী (৬০৬ হিজরি)।

(৬) আবু আল-ওয়াফা আল-হাম্বলী, 'আল-ফুনুন' গ্রন্থের লেখক। (৫১৩ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ومنها:

عليكم بقول المصطفى فهو عصمة … من الزّيغ إني لست عنه بعادل

سعدت بذبّي عن حماه وحبّه … كما شقيت بالصّدّ عنه عواذلي

 

فلما وقف صنوه السيد العلامة الهادي بن إبراهيم رحمه الله على هذا الكتاب، وعلى هذه الأبيات، تلقّى ذلك بالقبول، وقال مجيباً لأخيه، وما أحسن ما يقول!:

وقفت على سمط من الدّر فاضل … ترقّ له شوقاً قلوب الأفاضل

لمتبع منهاج أحمد جدّه … وحامي حمى أقواله غير ناكل

بديع المعاني في بديع نظامه … وثيق المباني في فنون المسائل

إذا لزمت يمناه نصل يراعه … سجدن له طوعاً جباه المناضل

وإن خاض في بحر الكلام تزيّنت … بجوهره عنق الرّقاب العواطل

تبارى وقوم في الجدال فأصبحوا … وإن لججوا في علمهم في جداول

أسمت عيون الفكر في روض قوله … فأنشدت بيت الأبطحي (1) المواصل

أعوذ بربّ النّاس من كلّ طاعنٍ … علينا بشكّ أو ملحٍ بباطل

وثنّيت لمّا أن تصفحت نظمه … بقول فصيح نابه القول فاضل

/يروم أناس يلحقون بشأوه … وأين الثّريّا من يد المتناول (2)

وثلّثت بالبيت الشهير وإنّه … لدرّة عقد المفردات الكوامل

وقد زادني حبّاً لنفسي أنّني … بغيض إلى كلّ امريء غير طائل

علام افتراق الناس في الدين إنّه … لأمرٌ جليٌّ ظاهرٌ غير خامل

--------------------------------------------

(1) يعني: أبا طالب. كذا في هامش النسخة.

(2) في نسخة: ((المتطاول)).
এর মধ্য হতে:

তোমাদের ওপর মুস্তফার বাণীর অনুসরণ আবশ্যক, কেননা তা বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়; আমি তা থেকে বিমুখ নই … আমি তাঁর সম্মান রক্ষা ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার কারণে সৌভাগ্যবান হয়েছি, যেমন নিন্দুকেরা তাঁর পথ থেকে বিমুখ হয়ে দুর্ভাগা হয়েছে।

 

যখন তাঁর সহোদর সাইয়্যেদ আল্লামা আল-হাদি বিন ইবরাহিম (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাব ও এই কবিতাগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করলেন, তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর ভাইয়ের জবাবে যা বললেন, তা কতই না চমৎকার!:

আমি মনিমুক্তার এক শ্রেষ্ঠ হার প্রত্যক্ষ করেছি … যার প্রতি মহৎ ব্যক্তিদের অন্তরসমূহ আকাঙ্ক্ষায় বিগলিত হয়।

যিনি তাঁর পূর্বপুরুষ আহমদের আদর্শের অনুসারী … এবং তাঁর বাণীর মর্যাদাকে কোনো দ্বিধা ছাড়াই রক্ষা করেন।

এর চমৎকার বিন্যাসে রয়েছে অপূর্ব অর্থবহতা … এবং বিভিন্ন মাসআলায় এর ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ়।

যখন তাঁর ডান হাত কলম ধরল … তখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের ললাটগুলো স্বেচ্ছায় তার কাছে অবনত হলো।

আর যখন তিনি তত্ত্ববিদ্যার সাগরে অবগাহন করলেন … তখন তার মুক্তো দিয়ে শূন্য কণ্ঠসমূহ সুশোভিত হলো।

তিনি এক সম্প্রদায়ের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলেন, আর তারা তাদের জ্ঞানের সাগরে হাবুডুবু খেলেও … শেষ পর্যন্ত ক্ষুদ্র নালা সদৃশ প্রমাণিত হলো।

আমি তাঁর বাণীর উদ্যানে চিন্তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম … অতঃপর সেই মক্কাবাসীর (১) শ্লোক আবৃত্তি করলাম যিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী।

আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাই প্রত্যেক সেই আক্রমণকারী থেকে … যে সন্দেহের মাধ্যমে আমাদের ওপর আঘাত হানে কিংবা বাতিলের সাথে মিশে যায়।

যখন আমি তাঁর কাব্য অনুধাবন করলাম … তখন একজন বাগ্মী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির বাণীর মাধ্যমে তার দ্বিতীয় শ্লোকটি বললাম।

/কিছু লোক তাঁর উচ্চতায় পৌঁছাতে চায় … কিন্তু হস্তগত করার জন্য থুরাইয়া নক্ষত্র আর কোথায়! (২)

আমি সেই বিখ্যাত কবিতাটি দিয়ে তৃতীয় শ্লোকটি পূর্ণ করলাম … যা নিখুঁত শব্দমালার হারের মধ্যে এক অনন্য মুক্তো।

নিজের প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এ কারণে যে … আমি প্রতিটি অযোগ্য ব্যক্তির নিকট অপছন্দনীয়।

ধর্মের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে এই বিভেদ কিসের জন্য? … অথচ বিষয়টি তো সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য, কোনো গোপন বিষয় নয়।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আবু তালিব। কিতাবের পাণ্ডুলিপির টীকায় এমনই রয়েছে।

(২) একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ((হাত প্রসারিতকারী বা স্পর্ধাকারী))।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল বাসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - (পৃষ্ঠা: ٢٩)
عليك بما كان النبيّ محمّد … عليه، ودع ما شئت من قول قائل

هو المسلك المرضيّ والمذهب الذي … عليه مضى خير القرون الأوائل

فدن بالذي دان النبيّ وصحبه … من الدّين واترك غيرهم في بلابل

هم الشّامة الغرّا وهم سادة الورى … وهم بهجة الدّنيا ونور القبائل

وأرفع ما تدلي به من فضائل … على الخلق أدنى مالهم من فواضل

إذا أنت لم تسلك مسالك رشدهم … وتمسك من أقوالهم بالوصائل

فقد فاتك الحظّ السنّي ولم تكن … إلى الحق في نهج السّبيل بواصل

رضيت بدين المصطفى ووصيّه (1)

هم قادة القادات بعد نبيّهم … إلى مشرع الحق الرّوي (2) السلاسل

إلى السنة البيضاء والملة التي … عليها مثار النّقع من كلّ صائل

ولكنها عزّت بدعوة أحمد … وقامت ببرهان من الحق فاصل

--------------------------------------------

(1) يعني عليّاً رضي الله عنه. … وأصحابه أهل النّهى والفواضل

أقول: ولم يثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم أوصى لعلي بشيء البته مما يتعلق به الشيعة، فقد ثبت في ((صحيح البخاري)) (الفتح): (1/ 246) ، عن أبي جحيفة السوائي قال: قلت لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: هل عندكم كتاب؟ قال: لا، إلا كتاب الله، أو فهم أعطية رجل مسلم، أو مافي هذه الصحيفة.

قال: قلت: وما في هذه الصحيفة؟ قال: العقل، وفكاك الأسير، ولا يقتل مسلم بكافر.

وقد سأله -أيضاً- نحو هذه المسألة: قيس بن عباد -بضم المهملة وتخفيف الموحدة- والأشتر النخعي، كما ثبت في ((سنن النسائي)): (8 - 19).

(2) في نسخة ((السري)).
নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছুর ওপর ছিলেন তা আপনি আঁকড়ে ধরুন … আর মানুষের কথা থেকে যা খুশি বর্জন করুন।

এটিই হলো সন্তোষজনক পথ এবং সেই মতাদর্শ, যার ওপর … অতিবাহিত হয়েছে প্রথম যুগের সর্বোত্তম প্রজন্মগুলো।

নবী এবং তাঁর সাহাবীগণ দ্বীনের যে বিষয়গুলো অনুসরণ করেছেন, আপনিও তা পালন করুন … আর অন্যদের সংশয়ের মধ্যে ছেড়ে দিন।

তাঁরা হলেন উজ্জ্বল নিদর্শন এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গ … তাঁরা দুনিয়ার সৌন্দর্য এবং গোত্রসমূহের নূর।

সৃষ্টির ওপর আপনি শ্রেষ্ঠত্বের যে সর্বোচ্চ প্রমাণ পেশ করবেন … তা তো তাঁদের সামান্যতম শ্রেষ্ঠত্বেরই সমান।

আপনি যদি তাঁদের হেদায়াতের পথে না চলেন … এবং তাঁদের কথাগুলোকে মজবুতভাবে না ধরেন;

তবে আপনি মহান কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলেন এবং সত্যের পথে … চলনকারী হিসেবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেন না।

আমি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর উত্তরসূরির (১) দ্বীনের ওপর সন্তুষ্ট হলাম।

তাঁরা তাঁদের নবীর পরে নেতৃবৃন্দের নেতা … যাঁরা হকের সুপেয় (২) ও প্রবহমান উৎসের দিকে পথপ্রদর্শক।

সেই উজ্জ্বল সুন্নাহ এবং মিল্লাতের দিকে, যার ওপর … প্রতিটি আক্রমণকারীর ধুলোবালি উড্ডীন হয়েছে।

কিন্তু আহমদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হয়েছে … এবং হকের অকাট্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। … এবং তাঁর সাহাবীগণ যারা প্রজ্ঞা ও মর্যাদার অধিকারী।

আমি বলছি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর জন্য এমন কোনো কিছুর অসিয়ত (উত্তরাধিকার বা খিলাফত বিষয়ক) করে গেছেন বলে মোটেও প্রমাণিত হয়নি যা শিয়াগণ দাবি করে থাকে। 'সহীহ বুখারী' (ফাতহুল বারী: ১/২৪৬)-তে আবু জুহাইফা আল-সুওয়ায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললাম: আপনাদের কাছে কি (বিশেষ কোনো) কিতাব আছে? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কিতাব অথবা কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে আল্লাহ যে প্রজ্ঞা দান করেন তা অথবা এই সহীফায় (পাতায়) যা আছে তা ছাড়া আর কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমি বললাম: এই সহীফায় কী আছে? তিনি বললেন: রক্তপণ (দিয়াত), যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করা এবং কাফেরের বদলে কোনো মুসলিমকে হত্যা না করা।

কাইস বিন উবাদ এবং আশতার আন-নাখায়ীও তাঁকে এই ধরণের প্রশ্ন করেছিলেন, যেমনটি 'সুনানে নাসাঈ' (৮/১৯)-তে প্রমাণিত হয়েছে।

(২) কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি "আস-সারী" হিসেবে রয়েছে।