(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: -)
ديوان طرفة بن العبد   (طرفة بن العبد)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ديوان طرفة بن العبد

المؤلف: طَرَفَة بن العَبْد بن سفيان بن سعد البكري الوائلي أبو عمرو الشاعر الجاهلي (ت 564 م)

المحقق: مهدي محمد ناصر الدين

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الثالثة، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 81

أعده للشاملة: محمد العلوة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432

তুরাফা ইবনুল আবদের দিওয়ান   (তুরাফা ইবনুল আবদ)

বিভাগ: কবিতা ও কাব্যসমগ্র


গ্রন্থ: তুরাফা ইবনুল আবদের দিওয়ান

লেখক: তুরাফা বিন আল-আবদ বিন সুফিয়ান বিন সাদ আল-বাকরি আল-ওয়াইলি আবু আমর, জাহেলি যুগের কবি (মৃত্যু ৫৬৪ খ্রি.)

সম্পাদক: মাহদী মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-আলওয়াহ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউস সানি ১৪৩২

(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌طَرَفَة بن العبد

هو طرفة بن العبد بن سفيان بن سعد بن مالك بن ضبيعة بن قيس بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل. -وطرفة- بالتحريك في الأصل واحدة الطرفاء وهو الإثل(1) وبها لُقب طرفة واسمه عمرو(2).

وُلد في البحرين في بيت عريق الأصل والمحتد، فقد والده في سن مبكرة فنشأ يتيم الوالد ينفق بغير حساب فضيّق عليه أعمامه ورفضوا أن يعطوه حقه، وجاروا على أمّه، فظلموها حقها ويشير طرفة إلى ذلك في أبيات يقول فيها:

ما تنظرون بحق وردة(3) فيكم … صَغُرَ البنونُ ورهط وردة غُيَّبُ

قد يبعث الأمر العظيم صغيرُهُ … حتى تظل له الدماء تصبّبُ

والظلم فرَّق بين حبَّي وائلٍ … بكرٌ تساقيها المنايا تغلب

--------------------------------------------

(1) الإثل: المال القديم الموروث.

(2) الشنقيطي: شرح المعلقات العشر وأخبار شعرائها.

(3) وردة: وردة بنت قتادة بن عمرو بن مالك بن قيس بن ثعلبة عن المؤتلف والمختلف للآمدي.
তরাফা বিন আল-আবদ

তিনি হলেন তরাফা বিন আল-আবদ বিন সুফিয়ান বিন সাদ বিন মালিক বিন দ্বাবিয়া বিন কাইস বিন সালাবা বিন উকাবাহ বিন সাব বিন আলী বিন বাকর বিন ওয়াইল। আর 'তরাফা' শব্দটি হরকতসহ মূলত 'তরাফা' (এক জাতীয় বৃক্ষ)-এর একবচন, যার অর্থ হলো প্রাচীন সম্পদ; আর এ নামেই তিনি তরাফা উপাধি লাভ করেন এবং তাঁর প্রকৃত নাম আমর।

তিনি বাহরাইনের এক সুউচ্চ বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যপূর্ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতাকে হারান, ফলে তিনি ইয়াতীম হিসেবে বড় হন এবং বেহিসাব অর্থ ব্যয় করতেন। এতে তাঁর চাচারা তাঁর ওপর কঠোরতা শুরু করেন এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকার দিতে অস্বীকার করেন। তাঁরা তাঁর মায়ের ওপরও জুলুম করেন এবং তাঁর পাওনা অধিকার হরণ করেন। তরাফা সেদিকেই ইঙ্গিত করে তাঁর পঙ্ক্তিমালায় বলেন:

তোমাদের মাঝে ওয়ারদার(৩) পাওনা অধিকারের ব্যাপারে তোমরা কিসের প্রতীক্ষা করছ? অথচ সন্তানরা এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ওয়ারদার স্বজনরা অনুপস্থিত।

তুচ্ছ বিষয়ও অনেক সময় বৃহৎ বিষয়ের সূত্রপাত ঘটায়, পরিশেষে যার কারণে রক্ত ঝরতে থাকে।

আর জুলুমই ওয়াইলের দুই প্রিয় বংশের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে—বাকর ও তাগলিব, যারা একে অপরকে মৃত্যুর সুধা পান করাচ্ছে।

--------------------------------------------

(১) আল-আছল: প্রাচীন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ।

(২) আশ-শানকীতি: শারহুল মুআল্লাকাতিল আশর ওয়া আখবারু শুয়ারাউহা।

(৩) ওয়ারদা: ওয়ারদা বিনতে কাতাদা বিন আমর বিন মালিক বিন কাইস বিন সালাবা; আল-আমিদি রচিত 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থ থেকে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ومما يُلاحظ من سيرة الشاعر أن ظلم أعمامه له قد ترك عنده ردّة فعل سلبية فبدل أن يذعن للأمر الواقع، تمرد على حدود القبيلة واجترأ على الأقارب واندفع نحو الملذات ينفق على أصحابه وخلّانه مما زاد من حقد عشيرته عليه معزولاً يعيش بمفرده وهو في ذلك يقول:

إلى أن تحامتني العشيرة كلها … وأفردتُ إفراد البعير المعبد(1)

ولكن كيف يُكتب لحياة كحياة طرفة أن تدوم ومن أين يأتي بالمال وليس عنده مورد يدر عليه. أضف إلى ذلك أن صحبة السوء التي كانت بجانبه تخلت عنه حين أصبح صفر اليدين:

أسلمني قومي ولم يغضبوا … لسَوْءة حلت بهم، فادحهْ(2)

كلُّ خليلٍ كنت خاللته … لا ترك الله له واضحهْ(3)

كلهم اروغ من ثعلبٍ … ما أشبه الليلة بالبارحهْ

عاد طرفة إلى أهله لا يلوي على شيء ولا يملك شروى نقير، فحمله أخوه معبد بن العبد على رعاية إبله فأهملها. فأنبه أخوه وقال له: ((تُرى إن أخذت تردها بشعرك هذا؟)). فقال طرفة: ((لا أخرج حتى تعلم أن شعري يردّها)). فلجأ طرفة إلى ابن عمه مالك ليعينه على استرجاعها من آخذيها، وكانوا قوماً من مُضر. فانتهره مالك بعنف فتألم الشاعر ونظم معلقته واصفاً حالته وجور أهله عليه وذكر فيها سيدين من أقربائه فمدحهما بكثرة المال والولد وقال:

--------------------------------------------

(1) البعير المعبد: البعير الأجرب.

(2) السوءة: العشرة السيئة. الفادحة: المصيبة.

(3) الواضحة: السن التي تظهر عند الضحك.
কবির জীবনী থেকে যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো, তাঁর চাচাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি হওয়া অবিচার তাঁর মাঝে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তিনি গোত্রের সীমা লঙ্ঘন করে বিদ্রোহ করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন। তিনি ভোগ-বিলাসের দিকে ধাবিত হন এবং তাঁর বন্ধু ও সাথীদের পেছনে খরচ করতে থাকেন, যা তাঁর ওপর তাঁর বংশের বিদ্বেষকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি একা ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন:

যতক্ষণ না পুরো বংশ আমাকে পরিহার করল … এবং আমাকে এমনভাবে একা করে দেওয়া হলো যেমন চর্মরোগাক্রান্ত উটকে আলাদা করে দেওয়া হয়(১)

কিন্তু তরফার জীবনের মতো এমন জীবন কীভাবে স্থায়ী হওয়া সম্ভব? আর তাঁর কাছে টাকা আসবেই বা কোথা থেকে, যেখানে তাঁর আয়ের কোনো উৎস ছিল না? তদুপরি, তাঁর পাশে থাকা অসৎ সঙ্গীরা তাঁকে ত্যাগ করল যখন তিনি রিক্তহস্ত হয়ে পড়লেন:

আমার জাতি আমাকে সঁপে দিয়েছে এবং তারা রাগান্বিত হয়নি … তাদের ওপর আপতিত কোনো মন্দ বা গুরুতর বিপদের জন্য(২)

প্রতিটি বন্ধু যার সাথে আমি বন্ধুত্ব করেছিলাম … আল্লাহ তার কোনো দাঁত অক্ষত না রাখুন(৩)

তাদের সবাই শেয়ালের চেয়েও বেশি ধূর্ত … আজকের রাতের সাথে গতরাতের কতই না মিল!

তরফা অত্যন্ত রিক্তহস্তে এবং কপর্দকহীন অবস্থায় তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে এলেন। তখন তাঁর ভাই মা'বাদ বিন আল-আবদ তাঁকে উট চরানোর দায়িত্ব দিলেন, কিন্তু তিনি তাতে অবহেলা করলেন। তাঁর ভাই তাঁকে তিরস্কার করে বললেন: "তোমার কি মনে হয় তুমি তোমার এই কবিতা দিয়ে এগুলো ফিরিয়ে আনতে পারবে?" তখন তরফা বললেন: "আমি বের হবো না যতক্ষণ না তুমি জানতে পারো যে আমার কবিতাই এগুলো ফিরিয়ে আনবে।" এরপর তরফা তাঁর চাচাতো ভাই মালিকের কাছে সাহায্য চাইতে গেলেন যেন সে সেগুলো যারা নিয়ে গেছে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে সাহায্য করে; তারা ছিল মুদার গোত্রের লোক। মালিক তাঁকে কঠোরভাবে ধমক দিল, এতে কবি ব্যথিত হলেন এবং তাঁর মুয়াল্লাকা রচনা করলেন। সেখানে তিনি নিজের অবস্থা এবং তাঁর ওপর তাঁর পরিবারের জুলুমের বর্ণনা দিলেন এবং তাঁর আত্মীয়দের মধ্য থেকে দুইজন নেতার কথা উল্লেখ করে তাঁদের অধিক সম্পদ ও সন্তানের জন্য প্রশংসা করলেন এবং বললেন:

--------------------------------------------

(১) আল-বাঈর আল-মুআব্বাদ: চর্মরোগাক্রান্ত উট।

(২) আস-সুয়াহ: মন্দ আচরণ বা সঙ্গ। আল-ফাদিহা: বিপদ বা মুসিবত।

(৩) আল-ওয়াদিহা: হাসির সময় যে দাঁত প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৫)
فلو شاء ربي كنت قيس بن خالدٍ … ولو شاء ربّي كنت عمرو بن مرشدِ

فأصبحت ذا مالٍ كثيرٍ وزارني … بنون كرامٌ، سادةٌ لمسوّدِ

فدعاه أحدهما عمرو وكان له سبعة أولادٍ فأمرهم فدفع كل واحدٍ إلى طرفة عشرة من الإبل ثم أمر ثلاثة من أبناء بنيه فدفعوا له مثل ذلك. فردّ إبل أخيه وقد ردّها بشعره كما قال، وأقام ينفق من الباقي حتى نفد(1).

نشأ شاعرنا حاد الذكاء فخوراً تياهاً بشعره، لم يراع حرمة لقريب أو كبير فقد سمع خاله المتلمس(2) مرة يقول:

وقد أتناسى الهم عند احتقاره … بناجٍ، عليه الصيعرية، مكدم(3)

فقال طرفة: ((إستنوق الجمل)) لأن الصيعرية سمة للنوق فضحك القوم وغضب خاله ثم قال: ويل لهذا الفتى من لسانه.

وقد صحت مقولة المتلمس فيه فقد جنى عليه لسانه وأودى به إلى القتل. وقد تضاربت الروايات حول قصة مقتله إلا أن أكثرهم يؤكد حقيقة دامغة وهي أن أخته كانت عند عبد عمرو بن بشر وكان من سادات قومه فجار على أخت الشاعر وظلمها فشكته إليه فهجاه طرفة بقصيدة يقول فيها:

--------------------------------------------

(1) بطرس البستاني: أدباء العرب في الجاهلية وصدر الإسلام.

(2) المتلمس: جرير بن عبد المسيح بن عبد الله بن دوفن بن حرب بن وهب عن كتاب الأغاني للاصفهاني.

(3) الناجي: البعير الخفيف الذي ينجو بصاحبه. الصيعرية: سمة توسم بها النوق في بلاد اليمن دون الجمال. ورد هذا البيت في أكثر الروايات للمتلمس إلا أن الشنقيطي رواهُ للمسيب بن علس.
আমার পালনকর্তা যদি চাইতেন তবে আমি হতাম কায়স ইবনে খালিদ … আর আমার পালনকর্তা যদি চাইতেন তবে আমি হতাম আমর ইবনে মুরশিদ।

তাহলে আমি হতাম প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী এবং আমার নিকট আসত … এমন সম্মানীয় সন্তানগণ, যারা নেতৃত্বের যোগ্য নেতা হতো।

অতঃপর তাদের একজন, আমর তাকে ডাকলেন; তার সাতজন সন্তান ছিল। তিনি তাদের আদেশ দিলেন এবং তাদের প্রত্যেকে তরফাকে দশটি করে উট প্রদান করল। এরপর তিনি তার পৌত্রদের মধ্য থেকে তিনজনকে আদেশ দিলেন এবং তারা তাকে অনুরূপ দান করল। ফলে সে তার ভাইয়ের উটগুলো ফিরিয়ে দিল এবং সে তার কবিতার মাধ্যমেই সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিল যেমনটি সে বলেছিল। এরপর সে অবশিষ্ট সম্পদ ব্যয় করতে থাকল যতক্ষণ না তা নিঃশেষ হলো(১)।

আমাদের এই কবি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এবং নিজের কাব্য নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ও অহংকারী হয়ে বেড়ে উঠেছেন। তিনি কোনো নিকটাত্মীয় বা বড়দের মর্যাদার তোয়াক্কা করতেন না। একবার তিনি তার মামা মুতালাম্মিসকে(২) বলতে শুনলেন:

আমি যখন দুশ্চিন্তাকে তুচ্ছজ্ঞান করি তখন আমি তা ভুলে যাই … এমন এক দ্রুতগামী উটের সাহায্যে, যার ঘাড়ের উপরে সায়আরিয়া চিহ্ন বিদ্যমান এবং যা সুগঠিত(৩)

তখন তরফা বলল: "পুরুষ উটটি তো মাদি উটে পরিণত হয়েছে।" কারণ সায়আরিয়া হলো মাদি উটের বিশেষ চিহ্ন। এতে উপস্থিত লোকজন হেসে উঠল এবং তার মামা রাগান্বিত হলেন। তারপর তিনি বললেন: "এই যুবকের জিহ্বার কারণে তার ধ্বংস অনিবার্য।"

তরফার ব্যাপারে মুতালাম্মিসের কথাটি সত্য প্রমাণিত হয়েছিল; কেননা তার জিহ্বাই তার ওপর বিপদ ডেকে এনেছিল এবং তাকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা থাকলেও অধিকাংশ বর্ণনাই একটি অকাট্য সত্য নিশ্চিত করে যে, তার বোন আবদ আমর ইবনে বিশরের বিবাহবন্ধনে ছিলেন, যিনি তার গোত্রের নেতাদের অন্যতম ছিলেন। সে কবির বোনের ওপর অন্যায় ও জুলুম করেছিল, ফলে বোনটি কবির কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর তরফা তার নিন্দা করে একটি কবিতা রচনা করেন যাতে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) বুতরুস আল-বুস্তানি: জাহিলি ও প্রারম্ভিক ইসলামি যুগের আরব সাহিত্যিকগণ।

(২) মুতালাম্মিস: জারির ইবনে আবদিল মাসিহ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে দাওফান ইবনে হারব ইবনে ওয়াহাব; আল-আসফাহানি-এর কিতাবুল আগানি হতে।

(৩) আন-নাজি: দ্রুতগামী উট যা তার আরোহীকে নিয়ে দ্রুত বিপদ থেকে উদ্ধার পায়। আস-সায়আরিয়া: এটি এমন একটি চিহ্ন যা ইয়ামেন দেশে মাদি উটের গায়ে দেওয়া হয়, পুরুষ উটের গায়ে নয়। এই পঙক্তিটি অধিকাংশ বর্ণনায় মুতালাম্মিসের বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে শানকিতি এটি মুসাইয়্যিব ইবনে আলাসের বলে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولا خير فيه غير أن له غنىً … وإن له كشحاً إذا قامَ أهضما(1)

وكان من أفحش الهجاء عند العرب أن تصف رجلاً بوصف النساء فكيف بصهره صاحب الخصر النحيل الذي يشبه خصور النساء؟

فاتنا ذكر أن عمرو بن هند ملك الحيرة كان متذوقاً للشعر، يتوافد عليه الشعراء من كل جانب فوقد عليه طرفة مع خاله المتلمس فأنشده وأعجب بشعره وعاش في بلاطه نديماً لو ولولي عهده قابوس. وجاءت الصدف عكس ما يشتهي طرفة. فبينما كان يشرب يوماً بين يدي عمرو بن هند أطلت أخته فشبب بها طرفة حيث قال:

ألا يا ثاني الظبي الـ … ـذي يبرق شنفاهُ(2)

ولولا الملك القاعد … قد الثمني فاهُ

فنظر إليه عمرو بن هند نظرة غضب ويقال أنه وضعه في الأإقامة الجبرية وجعل عليه أخاه قابوس رقيباً.

اتفق بعدها أن عمرو بن هند خرج يوماً للصيد فأمعن في الطلب، فانقطع في نفرٍ من أصحابه حتى أصاب طريدته فنزل وقال لأصحابه اجمعوا حطباً، وفيهم عبد عمرو بن بشر صهر طرفة. فقال لهم عمرو: أوقدوا فأوقدوا وشووا. فبينما عمرو يأكل من شوائه وعبد عمرو بن بشر يقدم إليه إذ نظر إلى خصر قميصه منخرقاً فأبصر كشحه، وكان من أحسن أهل زمانه جسماً فقال له عمرو بن هنج: يا عبد عمرو لقد أبصر طرفة كشحك حيث يقول:

ولا خير فيه غير أن له غنىً … وإن له كشحاً إذا قامَ أهضما

--------------------------------------------

(1) الكشح: ما بين الخاصرة إلى الضبع. الأهضم: الرقيق.

(2) الشنفان: مفردها الشنف وهو أعلى موضع القرط في الأذن.
তার মাঝে সচ্ছলতা ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নেই … আর তার এমন একটি কটিদেশ রয়েছে যা দণ্ডায়মান অবস্থায় অতি ক্ষীণ।(১)

আরবদের নিকট নিকৃষ্টতম বিদ্রূপ ছিল কোনো পুরুষকে নারীর বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করা। তবে তার সেই ভগ্নিপতির অবস্থা কী হবে, যে এমন ক্ষীণ কোমরের অধিকারী যা অবিকল নারীদের কোমরের মতো?

আমরা উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছি যে, হিরার রাজা আমর ইবনুল হিন্দ কাব্যানুরাগী ছিলেন। সব দিক থেকে কবিরা তার দরবারে আসতেন। একদা তরফাহ তার মামা মুতালাম্মিসের সাথে রাজার কাছে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে কবিতা শোনালেন এবং রাজা তার কবিতায় মুগ্ধ হলেন। তিনি রাজার দরবারে থেকে গেলেন এবং যুবরাজ কাবুসের প্রিয় সঙ্গী হিসেবে জীবনযাপন করতে লাগলেন। কিন্তু ঘটনাক্রম তরফাহর ইচ্ছার বিপরীতে ঘটল। একদিন যখন তিনি আমর ইবনুল হিন্দের সম্মুখে মদ্যপান করছিলেন, তখন রাজার বোন উঁকি দিলেন। তরফাহ তাকে দেখে প্রেমমূলক এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

হায়, সেই হরিণ-গ্রীবা বাঁকানো সুন্দরী … যার কানের অলঙ্কারদ্বয় উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়াচ্ছে।(২)

যদি এই উপবিষ্ট রাজা না থাকতেন … তবে তার মুখই হতো আমার বিনিময়।

তখন আমর ইবনুল হিন্দ তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালেন। বলা হয় যে, তিনি তাকে নজরবন্দী করে রেখেছিলেন এবং তার ভাই কাবুসকে তার ওপর প্রহরী নিযুক্ত করেছিলেন।

এরপর একদা আমর ইবনুল হিন্দ শিকারে বের হলেন এবং শিকারের খোঁজে অনেক দূর চলে গেলেন। তিনি তার সঙ্গীদের একটি ছোট দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন এবং পরিশেষে তার শিকারটি ধরলেন। তিনি ঘোড়া থেকে নামলেন এবং সঙ্গীদের কাঠ সংগ্রহ করতে বললেন। তাদের মধ্যে তরফাহর ভগ্নিপতি আবদ আমর বিন বিশরও উপস্থিত ছিলেন। আমর তাদের বললেন: আগুন জ্বালাও। তারা আগুন জ্বালাল এবং মাংস ঝলসাল। আমর যখন সেই ঝলসানো মাংস খাচ্ছিলেন এবং আবদ আমর বিন বিশর তাকে খাবার পরিবেশন করছিলেন, তখন হঠাৎ তিনি তার জামার কোমরের ছিদ্র দিয়ে তার কটিদেশ দেখতে পেলেন। সে ছিল তার সময়ের অন্যতম সুদেহী পুরুষ। তখন আমর ইবনুল হিন্দ তাকে বললেন: হে আবদ আমর! তরফাহ নিশ্চয়ই তোমার কটিদেশ দেখেছিল, কারণ সে বলেছে:

তার মাঝে সচ্ছলতা ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নেই … আর তার এমন একটি কটিদেশ রয়েছে যা দণ্ডায়মান অবস্থায় অতি ক্ষীণ।

--------------------------------------------

(১) আল-কাশ্হ: কটিদেশ বা কোমর ও বগলের মধ্যবর্তী অংশ। আল-আহদাম: ক্ষীণ বা চিকন।

(২) আশ-শানফান: এর একবচন হলো 'শানফ', যা কানের উপরিভাগ যেখানে অলঙ্কার পরা হয়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৭)
فغضب عبد عمرو وقال: لقد قال في الملك أقبح من هذا، فقال عمرو بن هند: وما الذي قال؟ فندم عبد عمرو على الذي سبق منه وأبى أن يسمعه ما قال. فقال اسمعنيه وطرفة أمين. فأسمعه القصيدة التي يقول فيها طرفة:

فليت لنا مكان الملك عمرو … رغوثاً، حول قبتنا تخورُ(1)

لعمرك إن قابوس بن هندٍ … ليخلط ملكه نوك كثيرُ(2)

فسكت عمرو على ما وقر(3) في نفسه وكره أن يُعجل على طرفة لمكان قومه، فلما طالت المدة ظن طرفة أنه قد رضي عنه وكان المتلمس قد هجا عمرو بن هند أيضاً. فقدما إليه فجعل يريهما المحبة ليأنسا به، فلما طال مقامهما عنده قال لهما: لعلكما اشتقتما إلى أهلكما. قالا: نعم. فكتب لهما إلى عامله بالبحرين وهجر واسمه ربيعة بن الحارث العبدي. ولقبه المعكبر فلما هبطا النجف وقيل أرضاً قريبة من الحيرة، إذ هما بشيخ معه كسرة يأكلها وهو يتبرز ويقتل القمل. فقال له المتلمس: بالله ما رأيت شيخاً أحمق منك ولا أقل عقلاً. فقال له الشيخ: وما الذي أنكرت علي؟ فقال: تتبرز وتأكل وتقتل القمل! قال: إني أُخرج خبيثاً وأدخل طيباً وأقتل عدواً. ولكن أحمق مني من يجعل حتفه بيمينه وهو لا يدري، فتنبه المتلمس فإذا هو بغلام من أهل الحيرة فقال له: يا غلام أتقرأ؟ قال: نعم. ففتح كتابه ودفعه إليه فلما نظر إليه قال: ثكلت المتلمس أمه. وإذا في الكتاب: إذا أتاك المتلمس فاقطع يديه ورجليه وادفنه حياً. فرمى المتلمس صحيفته في نهر يقال له كافر ثم تبع طرفة ليدركه وقال له: تعلم أن ما كتب فيك إلا بمثل ما كتب فيّ. فقال طرفة: إن كان قد اجترأ عليك فما كان ليجترئ علي. فهرب المتلمس إلى الشام وانطلق طرفة إلى العامل المذكور،

--------------------------------------------

(1) الرغوث: الناقة المرضعة.

(2) النوك: الحماقة.

(3) وقر: سمع.
আবদ আমর ক্রোধান্বিত হলেন এবং বললেন: তিনি রাজার ব্যাপারে এর চেয়েও জঘন্য কথা বলেছেন। আমর ইবনে হিন্দ জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কী বলেছেন? তখন আবদ আমর যা বলে ফেলেছিলেন সেটির জন্য লজ্জিত হলেন এবং তিনি যা বলেছিলেন তা রাজাকে শুনাতে অস্বীকার করলেন। আমর বললেন: আমাকে তা শুনাও, আর তারাফা তো বিশ্বস্ত। তখন তিনি তাকে সেই কবিতাটি শুনালেন যেখানে তারাফা বলেছেন:

হায়! রাজা আমরের পরিবর্তে যদি আমাদের থাকতো … একটি দুগ্ধবতী উষ্ট্রী, যা আমাদের তাঁবুর আশেপাশে ডেকে বেড়াত।(১)

তোমার জীবনের শপথ! নিশ্চয়ই কাবুস ইবনে হিন্দের … রাজত্বে অনেক মূর্খতা মিশে আছে।(২)

আমর তাঁর মনে যা স্থান পেয়েছিল(৩) সে বিষয়ে নীরব থাকলেন এবং তারাফার গোত্রের মর্যাদার কারণে তার বিরুদ্ধে তাড়াহুড়ো করা অপছন্দ করলেন। যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, তারাফা ধারণা করলেন যে রাজা হয়তো তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর আল-মুতালম্মিসও আমর ইবনে হিন্দকে উপহাস করে কবিতা লিখেছিলেন। অতঃপর তারা উভয়েই তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে শুরু করলেন যাতে তারা তাঁর সাথে আশ্বস্ত বোধ করে। যখন তাঁর কাছে তাদের অবস্থান দীর্ঘ হলো, তিনি তাদের বললেন: সম্ভবত তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছ। তারা বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি বাহরাইন ও হাজারের শাসকের উদ্দেশ্যে তাদের জন্য পত্র লিখে দিলেন, যাঁর নাম ছিল রাবিআ ইবনুল হারিস আল-আবদি এবং তাঁর উপাধি ছিল আল-মুআকবার। যখন তাঁরা নাজফে পৌঁছালেন—বলা হয় যে এটি হিরার নিকটবর্তী একটি ভূমি—তখন তাঁরা জনৈক বৃদ্ধের দেখা পেলেন যার কাছে এক টুকরো রুটি ছিল যা তিনি খাচ্ছিলেন, অথচ তিনি মলত্যাগ করছিলেন এবং উকুন মারছিলেন। আল-মুতালম্মিস তাঁকে বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি তোমার চেয়ে অধিক নির্বোধ এবং স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো বৃদ্ধ দেখিনি। বৃদ্ধ তাঁকে বললেন: আপনি আমার মধ্যে কোন বিষয়টি অপছন্দ করলেন? তিনি বললেন: তুমি মলত্যাগ করছ, আবার খাচ্ছ এবং উকুনও মারছ! তিনি বললেন: আমি মন্দ বস্তুকে বের করে দিচ্ছি, পবিত্র বস্তুকে প্রবেশ করাচ্ছি এবং শত্রুকে হত্যা করছি। কিন্তু আমার চেয়েও বড় নির্বোধ তো সেই ব্যক্তি যে নিজের মৃত্যু নিজের ডান হাতে বহন করে অথচ সে তা জানে না। তখন আল-মুতালম্মিস সচেতন হয়ে উঠলেন এবং দেখলেন হিরা নিবাসী এক কিশোরকে। তিনি তাকে বললেন: হে কিশোর, তুমি কি পড়তে পারো? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তাঁর পত্রটি খুললেন এবং তার কাছে সমর্পণ করলেন। যখন সে এটি দেখল, সে বলল: আল-মুতালম্মিসের মা তাকে হারাক (হায় মুতালম্মিস!)। সেই পত্রে ছিল: যখন মুতালম্মিস তোমার কাছে আসবে, তখন তার হাত ও পা কেটে ফেলবে এবং তাকে জীবিত কবর দিবে। তখন আল-মুতালম্মিস তাঁর পত্রটি 'কাফির' নামক এক নদীতে নিক্ষেপ করলেন এবং তারাফাকে ধরার জন্য তাঁর পিছু নিলেন। তিনি তাকে বললেন: জেনে রেখো, আমার জন্য যা লেখা হয়েছে তোমার জন্য ঠিক তেমনই লেখা হয়েছে। তারাফা বললেন: তিনি যদি তোমার ওপর দুঃসাহস দেখিয়ে থাকেন, তবে আমার ওপর এমন দুঃসাহস দেখানোর কথা নয়। অতঃপর আল-মুতালম্মিস সিরিয়ার দিকে পালিয়ে গেলেন এবং তারাফা উক্ত শাসকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।

--------------------------------------------

(১) আর-রাগুস: দুগ্ধবতী উষ্ট্রী।

(২) আন-নাউক: মূর্খতা।

(৩) ওয়াকারা: শ্রবণ করা (হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া)।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৮)
حتى قدم عليه بالبحرين وهو بهجر(1)، فدفع إليه كتاب عمرو بن هند فقرأه فقال: تعلم ما فيه؟ قال: نعم أُمرتَ أن تجيزني وتُحسن إلي. فقال له العامل: إن بيني وبينك خؤولة أنا لها راع. فاهرب من ليلتك هذه فإني قد أمرت بقتلك فاخرج قبل أن تصبح ويعلم بك الناس. فقال له طرفة: اشتدت عليك جائزتي وأحببت أن أهرب وأجعل لعمرو بن هند عليّ سبيلاً، كأني أذنبت ذنباً والله لا أفعل ذلك أبداً. فلما أصبح أمر بحبسه وجاءت بكر بن وائل فقالت: قد طرفة فدعا به صاحب البحرين فقرأ عليهم كتاب الملك. قم أمر بطرفة فحبس وتكرم عن قتله، وكتب إلى عمرو بن هند أن ابعث إلى عاملك فإني غير قاتل الرجل، فبعث إليه عمرو بن هند رجلاً من بني تغلب يقال له عبد هند واستعمله على البحرين وكان رجلاً شجاعاً وأمره بقتل طرفة وقتل ربيعة بن الحارث العبدي. فقدمهما عبد هند، فقرأ عهده على أهل البحرين ولبث أياماً، واجتمعت بكر بن وائل فهمت به كوان طرفة يحضهم وانتدب له رجل من عبد القيس ثم من الحوائر يقال له أبو رشية. فقتله، فقبره معروف بهجر(2).

فقضى كرفة ولما يكمل العقد الثالث من عمره وقد رثته أخته الخرنق بأبيات تقول فيها:

عددنا له ستاً وعشرين حجةً … فلما توفاها استوى سيداً ضخما

نشير أخيراً إلى منزلة طرفة الأدبية:

قال ابن قتيبة: هو أجود الشعراء قصيدة وله بعد المعلقة شعر حسن. وقال ابن سلام الجمحي في طبقات الشعراء الجاهليين والإسلاميين أنه في الطبقة

--------------------------------------------

(1) هجر: ناحية بالبحرين.

(2) الشنقيطي: شرح المعلقات العشر وأخبار شعرائها.
যতক্ষণ না সে বাহরাইনের হাজারে তার কাছে পৌঁছাল(১), অতঃপর সে তার কাছে আমর ইবনে হিন্দের চিঠিটি পেশ করল। তিনি সেটি পাঠ করে বললেন: “তুমি কি জানো এতে কী আছে?” সে বলল: “হ্যাঁ, আপনাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে আমাকে পুরস্কৃত করতে এবং আমার সাথে সদ্ব্যবহার করতে।” তখন গভর্নর তাকে বললেন: “তোমার ও আমার মাঝে আত্মীয়তার (মাতুল) সম্পর্ক রয়েছে যা আমি রক্ষা করতে চাই। সুতরাং তুমি এই রাতেই পালিয়ে যাও, কারণ আমাকে তোমাকে হত্যার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সকাল হওয়ার আগেই এবং মানুষ তোমার সংবাদ জানার আগেই তুমি বেরিয়ে যাও।” তখন তারাফাহ তাকে বলল: “আমার পুরস্কার আপনার নিকট অত্যন্ত গুরুভার মনে হয়েছে এবং আপনি চেয়েছেন যে আমি পালিয়ে যাই, যাতে আমর ইবনে হিন্দ আমার বিরুদ্ধে কোনো পথ খুঁজে পায়, যেন আমি কোনো অপরাধ করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তা কখনোই করব না।” অতঃপর যখন সকাল হলো, তিনি তাকে কারারুদ্ধ করার আদেশ দিলেন এবং বকর ইবনে ওয়াইল গোত্র সেখানে আসল। তখন বাহরাইনের অধিপতি তাকে ডাকলেন এবং তাদের সামনে বাদশাহর চিঠিটি পাঠ করলেন। এরপর তিনি তারাফাহকে কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকলেন। তিনি আমর ইবনে হিন্দের নিকট এই মর্মে চিঠি লিখলেন যে, “আপনি আপনার অন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠান, কারণ আমি এই লোকটিকে হত্যা করতে পারব না।” তখন আমর ইবনে হিন্দ বনু তাগলিব গোত্রের ‘আবদ হিন্দ’ নামক এক ব্যক্তিকে পাঠালেন এবং তাকে বাহরাইনের গভর্নর নিযুক্ত করলেন। সে ছিল এক সাহসী ব্যক্তি। তাকে তারাফাহ এবং রাবিয়াহ ইবনে আল-হারিস আল-আবদিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হলো। আবদ হিন্দ তাদের উপস্থিত করল এবং বাহরাইনবাসীর সামনে নিজের নিয়োগপত্র পাঠ করল এবং কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করল। বকর ইবনে ওয়াইল গোত্র একত্রিত হয়ে তার ওপর আক্রমণ করার সংকল্প করল, আর তারাফাহ তাদের উৎসাহিত করছিল। তখন আবদ আল-কায়েস গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, যাকে আবু রশিয়াহ বলা হতো, তাকে হত্যা করল। তার কবর হাজার অঞ্চলে সুপরিচিত(২)।

তারাফাহ মৃত্যুবরণ করেন যখন তার বয়সের তৃতীয় দশক (ত্রিশ বছর) পূর্ণ হয়নি। তার বোন আল-খিরনিক কিছু পংক্তির মাধ্যমে তার বিলাপ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

আমরা তার ছাব্বিশটি বছর গণনা করেছিলাম … যখন তিনি তা পূর্ণ করলেন, তখন তিনি একজন মহান সরদার হিসেবে উঠলেন।

পরিশেষে আমরা তারাফাহর সাহিত্যিক মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করছি:

ইবন কুতাইবাহ বলেছেন: “কাসিদা রচনায় তিনি কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিপুণ এবং মুয়াল্লাকার বাইরেও তার চমৎকার কবিতা রয়েছে।” ইবন সালাম আল-জুমাহি তার ‘তাবাকাতু শুয়ারা আল-জাহিলিয়্যিন ওয়াল ইসলামিয়্যিন’ গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি সেই স্তরের...

--------------------------------------------

(১) হাজার: বাহরাইনের একটি অঞ্চল।

(২) আশ-শিনকিতি: শারহু আল-মুয়াল্লাকাত আল-আশর ওয়া আখবারু শুয়ারাউহা।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৯)
الرابعة من رهط فحول الشعراء وموضعه مع الأوائل. فأما طرفة فأشعر الناس واحد وهي قوله:

لخولة أطلال ببرقة ثهمد … وقفت بها أبكي وأبكي إلى الغد

ويليها:

أصحوت اليوم أم شاقتك هر … ومن الحب جنون مستقر

ومن بعد له قصائد حسان جياد.

وقال ابن رشيق: طرفة أفضل الناس واحدة عند العلماء وهي المعلقة. وسئل لبيد من أشعر العرب؟ فقال: الملك الضلي –يعني امرأ القيس- فسأله ثم من؟ فقال: الغلام القتيل. يعني طرفة. ثم من؟ فقال الشيخ أبو عقيل يعني نفسه.

ويكفي طرفة بن العبد من الفضل ما ذكره أئمة المؤرخين والعلماء بحقه. وهو الفتى اليافع الذي أتحق خزانة الأدب بهذا التراث العظيم.

مهدي محمد ناصر الدين.

ماجستير في اللغة العربية وآدابها.
প্রধান কবিদের দলের মধ্যে তিনি চতুর্থ এবং তাঁর অবস্থান অগ্রগণ্যদের সাথে। আর তারাফা হলেন তাঁর একটি একক কবিতার কারণে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি, আর তা হলো তাঁর উক্তি:

বারকাতু তাহমাদে খাওলার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে … আমি সেখানে দাঁড়িয়েছি এবং আগামীকাল পর্যন্ত কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়েছি

এবং এর পরবর্তী কবিতা:

তুমি কি আজ সচেতন হয়েছ নাকি হির্র তোমাকে ব্যাকুল করেছে … আর ভালোবাসা হলো এক স্থায়ী উন্মাদনা

এছাড়া তাঁর আরও কিছু সুন্দর ও চমৎকার কাসিদা রয়েছে।

ইবনে রাশিক বলেন: আলিমদের নিকট একটি একক কবিতার বিচারে তারাফা শ্রেষ্ঠ মানুষ, আর সেটি হলো মুয়াল্লাকা। লাবিদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কে? তিনি বললেন: সেই ভ্রান্ত বাদশাহ —অর্থাৎ ইমরুল কাইস— তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কে? তিনি বললেন: সেই নিহত যুবক —অর্থাৎ তারাফা। তারপর কে? তিনি বললেন: শেখ আবু আকিল —অর্থাৎ তিনি নিজে।

ঐতিহাসিক এবং আলিমগণের ইমামগণ তারাফা ইবনুল আবদের ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তা-ই যথেষ্ট। তিনি সেই কিশোর যুবক, যিনি সাহিত্যের ভাণ্ডারকে এই মহান ঐতিহ্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন।

মাহদী মুহাম্মদ নাসের উদ্দিন।

আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ.।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌قافية الباء

 

‌‌كل من عليها فان [الطويل]

فَكيفَ يُرجّي المرءُ دَهراً مُخلَّداً … وأعمالُهُ عَمّا قَلِيلٍ، تُحاسِبُهْ

ألم تَرَ لُقمانَ بنَ عادٍ تَتابَعتْ … عليه النّسورُ، ثمّ غابتْ كواكبه؟(1)

وللصّعبِ أسبابٌ تَجُلُّ خُطوبُها … أقامَ زماناً، ثمّ بانَتْ مَطالِبُه(2)

إذا الصّعْبُ ذو القَرنَينِ أرخى لواءَهُ … إلى مالكٍ ساماهُ، قامَتْ نَوادُبه(3)

يَسيرُ بوجهِ الحَتْفِ والعَيشُ جَمعُهُ … وتَمضي على وَجْهِ البِلادِ كَتائِبُه(4)

--------------------------------------------

(1) لقمان بن عاد: شخص زعمت العرب أنه عمَّر حياة سبعة أنسر ثم مات والمعنى: أن ما من إنسان يعيش على هذه الأرض إلى الأبد.

(2) الخطوب: واحدها الخطب وهو الأمر العظيم. بانت: ابتعدت.

(3) ذو القرنين: الإسكندر الأكبر. اللواء: الجند. مالك: ابن عم الشاعر. طلب منه طرفة أن يرد عليه إبلاً أخذها أناس من بني مُضَر فلامه مالك في ذلك وقال له: ((فرطت فيها، ثم أقبلت تتعب في طلبها)). ساماه: وازاه في السمو وارتفع فوقه.

(4) الحتف: الموت. الكتائب: مفردها الكتيبة وهي الفرقة من الجيش.
বা (ب) বর্ণের অন্ত্যমিল

 

‌এর উপর যা কিছু আছে সব নশ্বর

মানুষ কীভাবে শাশ্বত কাল বেঁচে থাকার আশা করে ... অথচ শীঘ্রই তার কর্মসমূহ তাকে হিসাবের সম্মুখীন করবে।

তুমি কি আদ বংশীয় লুকমানকে দেখনি, যার ওপর একের পর এক ... ঈগল অতিবাহিত হয়েছিল, তারপর তার নক্ষত্ররাজি অস্তমিত হলো?(১)

আর প্রতাপশালীর নিকট ছিল উপায়-উপকরণ যার বিপদসমূহ ছিল গুরুতর ... তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করলেন, অতঃপর তার কাম্য বিষয়সমূহ তিরোহিত হলো।(২)

যখন প্রতাপশালী যুল-কারনাইন তার ঝাণ্ডা নামিয়ে রাখলেন ... যখন তিনি মালিকের সমকক্ষ হতে চাইলেন, তখন বিলাপকারিণীগণ দাঁড়িয়ে গেল।(৩)

তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি পথ চলেন যখন জীবন ছিল তার সংগৃহীত পাথেয় ... আর দেশময় তার সেনাদলসমূহ বিচরণ করত।(৪)

--------------------------------------------

(১) লুকমান বিন আদ: এমন এক ব্যক্তি যার সম্পর্কে আরবরা ধারণা করত যে সে সাতটি ঈগলের আয়ুষ্কাল পর্যন্ত বেঁচে ছিল এবং তারপর মৃত্যুবরণ করেছিল। এর অর্থ হলো: এই পৃথিবীতে কোনো মানুষই চিরকাল বেঁচে থাকবে না।

(২) আল-খুতুব (الخطوب): এর একবচন আল-খাতব (الخطب), যার অর্থ গুরুতর বিষয়। বানাত (بانت): দূরে সরে গেল বা বিদায় নিল।

(৩) যুল-কারনাইন: আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। আল-লিওয়া (اللواء): সৈন্যবাহিনী। মালিক: কবির চাচাতো ভাই। তরফাহ তার নিকট বনু মুদার গোত্রের লোকদের ছিনিয়ে নেওয়া উটগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু মালিক এ জন্য তাকে তিরস্কার করে বলেছিলেন: "তুমি এগুলো অবহেলা করে হারিয়েছ, আর এখন তা খুঁজে পেতে কষ্ট করছ।" সামাহু (ساماه): মর্যাদায় সমকক্ষ হওয়া বা উপরে ওঠা।

(৪) আল-হাতফ (الحتف): মৃত্যু। আল-কাতায়েব (الكتائب): এর একবচন আল-কাতিবাহ (الكتيبة), যার অর্থ সেনাবাহিনীর একটি দল বা ব্রিগেড।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أدوا الحقوق [الوافر]

ما تَنظُرونَ بِحَقّ وَردَةَ فيكُمُ … صَغُرَ البَنونَ، ورَهطُ وردة َ غُيّبُ(1)

قد يَبعَثُ الأمرَ العَظِيمَ صغيرُهُ … حتى تَظَلّ له الدّماءُ تَصَبَّبُ(2)

والظُّلْمُ فَرّقَ بينَ حَبّيْ وَائِلٍ … بَكْرٌ تُساقيها المَنايا تَغْلِبُ(3)

قد يُورِدُ الظُّلْمُ المُبَيَّنُ آجناً … مِلْحاً، يُخالَطُ بالذعافِ، ويُقشَبُ(4)

وقِرافُ منْ لا يستفيقُ، دَعارةً … يُعدي كما يُعدي الصّحيحَ الأجْربُ(5)

والإثُم داءٌ، ليسَ يُرجى بُرؤُهُ … والبِرُّ بُرءٌ، ليسَ فيه مَعْطَبُ(6)

والصّدقُ يألَفُهُ الكريمُ، المرتجى … والكِذبُ يألَفُهُ الدَّنئُ، الأَخيَبُ

ولَقد بدا لي أَنَّه سيَغُولُني … ما غالَ"عاداً والقُرونَ، فاشعَبوا(7)

أدُّوا الحُقوقَ تَفِرْ لكُم أعراضُكم … إِنّ الكريم إذا يُحَرَّبُ يَغضَبُ(8)

--------------------------------------------

(1) وردة: والدة الشاعر الذي ظلمها أخواله على حفها بعد وفاة زوجها وأبوا أن يعطوها قسمتها. الرهط: القوم.

(2) تصبب: تتصبب أو تسيل.

(3) في البيت إشارة إلى حرب البسوس التي قامت بين قبيلتي بكر وتغلب.

(4) الآجن: المتغير اللون والطعم. الذعاف: السم القاتل. يقشب: يدمج ويخلط.

(5) الدعارة: الفسق والفجور. الأجرب: المصاب بداء الجرب.

(6) البرء: الشقاء. المعطب: السوء والضرر.

(7) يغول: يهلك. عاد: قبيلة عَصت أمر نبيّها هود فكانت من الهالكين. أشعبوا: بادوا وهلكوا.

(8) تفر: تكتمل وتتم. يُحرَّب: يُسلب ماله وثروته.
অধিকারসমূহ আদায় করো [ওয়াফির ছন্দ]

তোমাদের মাঝে ওয়ারদাহর হকের ব্যাপারে তোমরা কিসের অপেক্ষা করছো? যখন তার সন্তানরা ছোট এবং ওয়ারদাহর আত্মীয়-স্বজনরা অনুপস্থিত।

তুচ্ছ কোনো বিষয়ই হয়তো বড় কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দেয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে।

আর জুলুম-অবিচারই ওয়াইলের দুই প্রিয় বংশধরের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিল—বকর ও তাগলিবের মাঝে, যাদেরকে মৃত্যু সুধা পান করানো হয়েছিল।

স্পষ্ট জুলুম মানুষকে এমন দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণাক্ত পানির ঘাটে নিয়ে যায়, যা তীব্র বিষের সাথে মিশ্রিত ও সংমিশ্রিত।

যে ব্যক্তি পাপাচার থেকে ফিরে আসে না, তার সংশ্রব সুস্থ ব্যক্তিকে সেভাবেই সংক্রমিত করে যেভাবে খুজলি-পাঁচড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রামিত করে।

পাপ হলো এমন এক ব্যাধি যার আরোগ্য আশা করা যায় না, আর পুণ্য হলো এমন এক আরোগ্য যাতে কোনো অনিষ্ট নেই।

সত্যবাদিতাকে পছন্দ করে সেই সম্মানিত ব্যক্তি যার ওপর আশা রাখা যায়, আর মিথ্যাকে আপন করে নেয় সেই হীন ও ব্যর্থ ব্যক্তি।

আমার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, যা আদ জাতি ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে ধ্বংস করেছিল তা আমাকেও গ্রাস করবে; অতএব তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও।

তোমরা হক বা অধিকারসমূহ আদায় করে দাও, তবেই তোমাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে; কারণ সম্মানিত ব্যক্তিকে যখন সম্পদহীন ও উত্তেজিত করা হয়, তখন সে ক্রুদ্ধ হয়।

--------------------------------------------

(১) ওয়ারদাহ: কবির মা, যার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার মামারা তার হকের ওপর জুলুম করেছিল এবং তাকে তার প্রাপ্য অংশ দিতে অস্বীকার করেছিল। রাহাত: কওম বা গোষ্ঠী।

(২) তাসাব্বুব: প্রবাহিত হওয়া বা ঝরা।

(৩) এই চরণে বাসুসের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা বকর ও তাগলিব গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

(৪) আল-আজিন: যার রং ও স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। আয-যু'আফ: প্রাণঘাতী বিষ। ইউকাশিবু: সংমিশ্রণ করা।

(৫) আদ-দা'আরাহ: পাপাচার ও পঙ্কিলতা। আল-আজরাব: খুজলি বা পাঁচড়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।

(৬) আল-বুরু: আরোগ্য। আল-মু'তিব: অনিষ্ট ও ক্ষতি।

(৭) ইয়াগুলু: ধ্বংস করা। আদ: একটি গোত্র যারা তাদের নবী হূদ (আ.)-এর আদেশের অবাধ্য হয়েছিল, ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আশ'য়াবু: বিলুপ্ত হওয়া ও ধ্বংস হওয়া।

(৮) তাফিরু: পরিপূর্ণ হওয়া ও সম্পন্ন হওয়া। ইউহাররাবু: যার ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌قافية التاء

 

‌‌الخيل المغيرة [الكامل]

ولَقد شَهِدتُ الخيلَ وَهْيَ مُغيرة ٌ … ولَقد طَعَنْتُ مَجامِعَ الرَّبِلاتِ(1)

رَبِلاتِ جُودٍ، تحتَ قَدٍّ بارعٍ … حُلوِ الشّمائلِ، خِيرة ِ الهَلَكاتِ(2)

رَبِلاتِ خَيلٍ، ما تَزالُ مُغيرةً … يُقطِرنَ من عَلَقٍ على الثُّنَّاتِ(3)

--------------------------------------------

(1) المغيرة: المهاجمة. الربلات: مفردها الربلة وهي أصل الفخذ أو اللحمة العظيمة.

(2) الشمائل: مفردها الشميلة وهي الصفة والمزيّة. الهلكات: مفردها الهلكة وهي الجيفة.

(3) العلق: الدم. الثنّات: مفردها الثنّة وهي شعرات تكون في آخر رجل الفرس.
'তা' বর্ণানুক্রমিক অন্ত্যমিল

 

আক্রমণকারী অশ্বসমূহ [আল-কামিল ছন্দ]

নিশ্চয়ই আমি অশ্বারোহী বাহিনীকে আক্রমণোদ্যত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছি … এবং আমি আঘাত হেনেছি উরুর মাংসল সংযোগস্থলসমূহে(১)

সেই দানশীল উরুসমূহ, এক চমৎকার অবয়বের নিম্নে … যার স্বভাব মনোমুগ্ধকর এবং যে বিনাশী যুদ্ধের বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ(২)

অশ্বরাজির সেই উরুসমূহ, যারা অবিরত আক্রমণ চালিয়ে যায় … এবং ঘোড়ার পায়ের পেছনের লোমের ওপর তাজা রক্ত ঝরতে থাকে(৩)

--------------------------------------------

(১) আল-মুগিরাহ: আক্রমণকারী। আর-রাবিলাত: এর একবচন হলো আর-রাবিলাহ, যার অর্থ উরুর মূল বা সুসংহত মাংসপেশি।

(২) আশ-শামাইল: এর একবচন হলো আশ-শামিলাহ, যার অর্থ গুণ ও বৈশিষ্ট্য। আল-হালাকাত: এর একবচন হলো আল-হালাকাহ, যার অর্থ মৃতদেহ বা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

(৩) আল-আলাক: রক্ত। আস-সুন্নাত: এর একবচন হলো আস-সুন্নাহ, যা হলো ঘোড়ার পায়ের শেষপ্রান্তে গজানো একগুচ্ছ লোম।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌قافية الحاء

 

‌‌القلب السقيم [الطويل]

خَليليّ! لا واللَّهِ ما القَلبُ سالمٌ … وإنْ ظَهَرَتْ مِنّي شَمائِلُ صاحِ(1)

والاَّ، فما بالي، ولم أشهَد الوغى … أبِيتُ كأنّي مُثقَلٌ بِجِرَاحِ(2)

--------------------------------------------

(1) القلب السالم: المعافى من كل هم وداء. الشمائل: مفردها الشميلة وهي الصفة والمزيّة. الصاحي: الإنسان الذي يتكالك وعيه بعد الشرب.

(2) الوغى: الحرب.
‌'হা' বর্ণের অন্ত্যমিল

 

‌রুগ্ন হৃদয় [আত-তাবিল ছন্দ]

হে আমার দুই বন্ধু! আল্লাহর শপথ, হৃদয় তো সুস্থ নয় … যদিও আমার বাহ্যিক আচরণে সচেতন ব্যক্তির লক্ষণ ফুটে ওঠে।(১)

নতুবা, আমার কী হলো যে আমি যুদ্ধে উপস্থিত না হয়েও … এমনভাবে রাত অতিবাহিত করি যেন আমি জখমের ভারে জর্জরিত।(২)

--------------------------------------------

(১) সুস্থ হৃদয়: যা যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও ব্যাধি থেকে মুক্ত। শামায়িল: এর একবচন হলো ‘শামিলাহ’, যার অর্থ স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। সাহি: এমন ব্যক্তি যে পান করার পর স্বীয় চেতনা ফিরে পেয়েছে।

(২) আল-ওয়াগা: যুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌هل من نصيح؟ [الخفيف]

مَن عائِدي اللَّيلَةَ أم مَن نَصيحْ … بِتُّ بِنَصْبٍ، فَفُؤادي قَريحْ(1)

في سَلَفٍ أرعَنَ مُنفَجرٍ … يُقدِمُ أُولى ظُعُنٍ، كالطُّلوحْ(2)

عالَينَ رَقماً، فاخراً لَونُهُ … منْ عَبْقَرِيٍّ، كَنَجيعِ الذّبيحْ(3)

وَجَامِلٍ، خَوّعَ، من نِيبِهِ … زَجْرُ المُعَلَّى أُصُلاً، والسّفيحْ(4)

مَوضوعُها زَولٌ، ومَرفوعُها … كَمَرِّ صوبٍ لَجِبٍ، وسْطَ ريحْ(5)

--------------------------------------------

(1) العائد: الزائر أثناء المرض وتجمع على العُوَّاد. النصب: التعب. القريح: المجروح.

(2) السلف: الأهل والأقارب من الشيوخ والمسنين. الأرعن: الطائش، المنفجر: القادم من كل صوب. الظعن: الإبل الراحلة. الطلوح: الضعيفة.

(3) عالين: ارتفعن. الرقم: نوع من القماش المخطط. العبقري: الجيد الصنع. النجيع: الدم.

(4) الجامل: القطيع من الإبل. خوع: خلا ونقص. النيب: مفردها الناب وهي الناقة المتقدمة في السن. المعلى: من سهام الميسر. الأصل: مفردها الأصيل وهو ساعة غروب الشمس. السفيح: القدح الخاسر في الميسر.

(5) الزول: المصاب والبلاء. الصوب: المطر الغزير. اللجب: الصاخب.
উপদেশদাতা কি কেউ আছে? [আল-খাফিফ]

আজ রাতে কে আমার রোগশয্যার পরিদর্শক হবে অথবা কে উপদেশদাতা হবে? আমি যাতনায় রাত কাটিয়েছি, ফলে আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত।(১)

অবিবেচক ও চতুর্দিক থেকে ধেয়ে আসা অগ্রবর্তী এক দলের মাঝে, যারা ক্লান্ত-শ্রান্ত উটের ন্যায় প্রথম সারির বাহনগুলোকে অগ্রসর করছে।(২)

তারা উচ্চমানের কারুকার্যখচিত নকশাদার কাপড় চড়িয়েছে, যার বর্ণ চমৎকার; তা উৎকৃষ্ট গুণমানসম্পন্ন এবং যবেহকৃত পশুর তাজা রক্তের ন্যায় লাল।(৩)

আর উটের পালের বৃদ্ধ উটগুলো কমে যাওয়ায় তাদের হাঁকডাক দেওয়ার শব্দটি যেন গোধূলি বেলায় জুয়ার তীরের (বিজয়ী ও বিজিত তীরের) শব্দের ন্যায়।(৪)

তাদের ধীরগতি যেন এক আপদ, আর তাদের দ্রুতগতি ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে গর্জনশীল প্রবল বর্ষণের ন্যায়।(৫)

--------------------------------------------

(১) আল-আইদ: অসুস্থ অবস্থায় যে দেখতে আসে, এর বহুবচন হলো 'উওয়াদ'। আন-নাসব: ক্লান্তি ও যাতনা। আল-কারيح: আহত বা ক্ষতবিক্ষত।

(২) আস-সালাফ: বংশের বয়োবৃদ্ধ আত্মীয়-স্বজন। আল-আরআন: চঞ্চল বা অবিবেচক। আল-মুনফাজির: যা সবদিক থেকে ধেয়ে আসে। আজ-জান: ভ্রমণরত উটের কাফেলা। আত-তুলুহ: দুর্বল ও ক্লান্ত উট।

(৩) আলিন: তারা উপরে উঠিয়েছে। আর-রাকম: এক প্রকার নকশাদার কাপড়। আল-আবকারি: উৎকৃষ্ট কারুকার্যখচিত। আন-নাজী: রক্ত।

(৪) আল-জামিল: উটের পাল। খুয়া: খালি হওয়া বা কমে যাওয়া। আন-নিব: এর একবচন 'নাব', যার অর্থ বৃদ্ধ উট। আল-মুয়াল্লা: জুয়ার তীরের একটি নাম। আল-আসাল: এর একবচন 'আসিল', যার অর্থ সূর্যাস্তের সময়। আস-সাফিহ: জুয়ার খেলায় হেরে যাওয়া বা মূল্যহীন তীর।

(৫) আজ-জাওল: বিপদ ও মুসিবত। আস-সওব: প্রবল বৃষ্টি। আল-লাজাব: উচ্চশব্দ বা কোলাহলপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الليلة مثل البارحة [مخلع البسيط]

يلوم أصحابه في سجنه:

أَسْلَمَني قَوْمي، ولم يَغضَبوا … لِسَوْءةٍ، حلّتْ بهمْ، فادحَهْ(1)

كلُّ خليلٍ كُنتُ خاللتُهُ … لا تركَ اللَّهُ له واضِحهْ(2)

كلُّهُمُ أروَغُ من ثَعْلَبٍ … ما أشبهَ اللّيْلَة َ بالبارحَهْ

--------------------------------------------

(1) السوءة: العشرة السيئة. الفادحة: الأمر العظيم.

(2) خاللته: انخذته خليلاً. الواضحة: هي السن التي تظهر عند الضحك.
আজকের রাতটি ঠিক গতরাতের মতোই [মুখাল্লা আল-বাসিত ছন্দ]

তিনি কারাগারে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গীদের তিরস্কার করে বলেন:

আমার স্বজাতীয়রা আমাকে অসহায় অবস্থায় সঁপে দিয়েছে এবং তারা ক্ষুব্ধ হয়নি … তাদের ওপর আপতিত সেই মন্দ পরিণতির জন্য, যা ছিল অত্যন্ত গুরুতর।(১)

যেই বন্ধুকেই আমি অন্তরঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম … আল্লাহ যেন তার কোনো হাসিমাখা দাঁত অবশিষ্ট না রাখেন।(২)

তারা প্রত্যেকেই শেয়ালের চেয়েও বেশি ধূর্ত … আজকের রাতটি গতরাতের সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ!

--------------------------------------------

(১) আস-সুআহ: মন্দ আচরণ বা মন্দ সাহচর্য। আল-ফাদিহাহ: অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

(২) খালালতুহু: আমি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছি। আল-ওয়াদিহাহ: এটি সেই দাঁত যা হাসির সময় প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌قافية الدال

 

‌‌أطلال خولة [الطويل]

وهي معلقته.

لِخَولةَ أطْلالٌ بِبُرقَة ِ ثَهمَدِ … تَلوحُ كَباقي الوَشْمِ في ظاهِرِ اليَدِ(1)

وُقوفاً بها صَحْبي عليَّ مَطِيَّهُمْ … يَقولونَ: لا تَهْلِكْ أسىً وتَجَلّدِ(2)

كأنَّ حُدُوجَ المالِكِيَّةِ غُدوةً … خَلايا سَفينٍ بالنِّواصِفِ مِن دَدِ(3)

عَدَوْليّةٌ أو مِن سَفينِ ابنِ يامنٍ … يَجُورُ بها المَلّاحُ طَوراً ويَهْتَدي(4)

يَشُقُّ حَبابَ الماءِ حَيزومُها بها … كما قَسَمَ التُّربَ المُفايِلُ باليَدِ(5)

--------------------------------------------

(1) خولة: اسم امرأة. وكانت عادة أن يستهلو قصائدهم بذكر الحبيبة والأطلال في ذلك العهد. الأطلال: مفردها الطلل وهو ما تبقى من الأثر. البرقة: المكان الذي يكثر الحصى في ترابه. ثهمد: موضع. تلوح: تظهر. الوشم: النَقْش بالإبرة على الجسد بعد غمسها بالكحل أو أي صباغٍ آخر.

(2) المطي: مفردها المطية وهي الناقة. الأسى: الحزن. التجلد: الصبر.

(3) الحدوج: مفردها الحدج وهو مركب النساء. المالكية: الحدوج المنسوبة إلى بني مالك. الخلايا: مفردها الخلية وهي السفينة الكبيرة. النواصف: مفردها الناصفة: وهي الباحة الوسعة. الدد: اللهو واللعب.

(4) العدواية: الإبل المنسوبة إلى عدولى وهي قرية في البحرين. ابن يامن: رجل من عدولى اشتهر بصناعة السفن. يجور: يبتعد عن الطريق.

(5) الحباب: مفردها الحبابة وهي الموجة. الحيزوم: الصدر. الترب: التراب. المفايل: الذي يلعب بالتراب فيدفن شيئاً فيه ثم يقسمه ويسأل عن الشيء المخبَّأ في أي قسم صار.
‌‌'দাল' অন্ত্যমিলের কবিতা

 

‌‌খাওলার স্মৃতিচিহ্ন [তওয়ীল ছন্দ]

এটি তার মুআল্লাকা কবিতা।

তাহমাদের প্রস্তরময় ভূমিতে খাওলার ভিটেমাটির অবশিষ্টাংশ রয়েছে... যা হাতের উপরিভাগে উল্কির চিহ্নের মতো ভেসে উঠছে।(১)

সেখানে আমার সঙ্গীরা তাদের সওয়ারি থামিয়ে আমাকে বলছিল: শোকে প্রাণ বিসর্জন দিও না, বরং ধৈর্য ধরো।(২)

সাত সকালে বনু মালিকের নারীদের হাওদাগুলো যেন 'দাদ' উপত্যকার প্রশস্ত প্রাঙ্গণে চলমান বিশাল বিশাল জাহাজ।(৩)

সেগুলো আদুলা গ্রামের অথবা ইবনে ইয়ামিনের তৈরিকৃত জাহাজের মতো; মাঝি যা কখনও বাঁকা পথে চালায় আবার কখনও সঠিক পথে পরিচালনা করে।(৪)

জাহাজের অগ্রভাগ পানির তরঙ্গমালাকে এমনভাবে চিরে দিচ্ছে, যেমন মাটি নিয়ে খেলা করা ব্যক্তি আপন হাত দিয়ে মাটির স্তূপকে বিভক্ত করে।(৫)

--------------------------------------------

(১) খাওলা: একজন মহিলার নাম। সেই যুগে কবিদের রীতি ছিল কবিতার শুরুতে প্রিয়া এবং তার ফেলে আসা আবাসের ধ্বংসাবশেষ বা স্মৃতিচিহ্নের উল্লেখ করা। আতলাল (الأطلال): একবচনে 'তালাল', যার অর্থ কোনো নিদর্শনের অবশিষ্টাংশ। আল-বুরকাহ (البرقة): এমন স্থান যার মাটিতে কাঁকরের আধিক্য রয়েছে। তাহমাদ (ثهمد): একটি স্থানের নাম। তালুহ (تلوح): প্রকাশ পাওয়া বা দৃশ্যমান হওয়া। আল-ওয়াশম (الوشم): সুরমা বা অন্য কোনো রঞ্জক পদার্থে সুই ডুবিয়ে শরীরে নকশা করা বা উল্কি আঁকা।

(২) আল-মাতি (المطي): একবচনে 'মাতিয়্যাহ', যার অর্থ উষ্ট্রী বা সওয়ারি। আল-আসা (الأسى): দুঃখ বা শোক। আত-তাজাল্লুদ (التجلد): ধৈর্য ধারণ করা।

(৩) আল-হুদুজ (الحدوج): একবচনে 'হিদজ', যা মূলত নারীদের হাওদা বা উটের পিঠের সওয়ারি। আল-মালিকিয়্যাহ (المالكية): বনু মালিক গোত্রের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হাওদা। আল-খালায়া (الخلايا): একবচনে 'খালিয়্যাহ', যার অর্থ বিশাল জাহাজ। আন-নাওয়াছিফ (النواصف): একবচনে 'নাছিফাহ', যার অর্থ প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। আদ-দাদ (الدد): আমোদ-প্রমোদ বা খেলাধুলা।

(৪) আল-আদওয়ালিয়্যাহ (العدولية): বাহরাইনের 'আদুলা' নামক গ্রামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত জাহাজ। ইবনে ইয়ামিন: আদুলা গ্রামের একজন ব্যক্তি যিনি জাহাজ নির্মাণে প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইয়াজুরু (يجور): সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া।

(৫) আল-হাবাব (الحباب): একবচনে 'হাবাবাহ', যার অর্থ ঢেউ বা তরঙ্গ। আল-হাইযুম (الحيزوم): বক্ষদেশ বা অগ্রভাগ। আত-তুরব (التُرب): মাটি বা ধূলিকণা। আল-মুফায়িল (المفايل): ওই ব্যক্তি যে মাটি নিয়ে খেলার সময় তাতে কিছু লুকিয়ে রাখে, তারপর মাটিকে বিভক্ত করে জিজ্ঞাসা করে যে লুকানো বস্তুটি কোন অংশে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي الحيِّ أحوى يَنفُضُ المَردَ شادنٌ … مُظاهِرُ سِمْطَيْ لُؤلُؤٍ وَزَبَرجَدِ(1)

خَذولٌ تُراعي رَبْرَباً بِخَميلةٍ … تَناوَلُ أطرافَ البَريرِ، وتَرتَدي(2)

وتَبسِمُ عنْ ألمى، كأنَّ مُنَوِّراً … تَخَلّلَ حُرَّ الرّمْلِ دِعْصٌ له نَدي(3)

سَقَتْهُ إياةُ الشّمسِ إلَا لِثاثِهِ … أُسِفَّ وَلم تَكْدِمْ عليه بإثِمِدِ(4)

وَوَجْهٌ كأنَّ الشّمسَ حَلّتْ رِداءَها … عليه، نَقِيُّ اللّونِ لمْ يَتَخَدّدِ(5)

وإنّي لأمضي الهمّ، عند احتِضاره … بعَوْجَاءَ مِرْقالٍ تَروحُ وتَغتَدي(6)

أمُونٍ كألْواح الإرانِ نَصَأْتُها … على لاحِبٍ كأنّهُ ظَهْرُ بُرْجُدِ(7)

جَماليّةٍ وجْنَاءَ تَردي كأنّها … سَفَنَّجَةٌ تَبري لِأزعَرَ أربَدِ(8)

تُباري عِتاقاً ناجياتٍ، وأتبَعَتْ … وَظيفاً وَظيفاً فَوق مَورٍ مُعبَّدِ(9)

--------------------------------------------

(1) الأحوى: الأسمر الشفتين. الشادن: الغزال الذي كَبُر واستغنى عن أمّه. المظاهر: الذي يليس درعاً أو ثوباً فوق ثوب وهنا الذي لبس عقداً فوق عقد. السمط: الخيط الذي تنتظم فيه الجواهر. اللؤلؤ والزبرجد: من الأحجار الكريمة.

(2) الخذول: الظبية التي خذلت أولادها بالابتعاد عنهم. الربرب: القطيع من بقر الوحش. الخميلة: الأرض الملتفة الشجر. البرير: ثمر الأراك.

(3) الألمى: الفم الذي تضرب شفتاه نحو السواد. المنور: صفة لموصوف محذوف هو الأقحوان. الدعص: كثيب الرمل.

(4) إياة الشمس: شعاعها. اللثاث: مفردها اللثة وهي مغرز الأسنان. تكدم: تعض. الإثمد: الكحل.

(5) لم يتخدد: بن تظهر فيه التجاعيد.

(6) الاحتضار: الحضور. العوجاء: الناقة النشيطة التي لا تستقر في سيرها. المرقال: التي تسير سيراً شديداً.

(7) الأمون: الناقة التي يطمئن الراكب لها. الإران: التابوت الكبير. النصأة: الزجرة. اللاحب: الطريق السهل. البرجد: الثوب المخطط.

(8) الجمالية: الناقة التي تشبه الجمل في قوتها. الوجناء: الناقة الكثيرة اللحم. تردي: تعدو. السفنجة: النعامة. تبري: تظهر. الأزعر: الخفيف الشعر. الأربد: المغبر اللون كلون الرماد.

(9) العتاق: مفردها العتيق، وهو الكريم. الناجيات: مفردها الناجية وهي التي تسير سيراً سريعاً. الوظيف: العظم ما بين الرسغ إلى الركبة في الرجل أو ما بين الرسغ إلى المرفق في اليد. المور: الطريق. المعبد: السهل أثناء السير.
এবং গোত্রবাসীদের মাঝে এক শ্যামলা অধরবিশিষ্ট নবজাতক হরিণ-সদৃশ সুন্দরী রয়েছে, যে আরাক গাছের ফল পাড়ে … সে মুক্তা ও ফিরোজার দুই লহরী মালা পরিহিতা।(১)

সে যেন এক হরিণী যে তার পাল ছেড়ে দিয়ে এক নিবিড় উদ্যানে বিচরণ করে … যে পিলু গাছের ফল সংগ্রহ করছে এবং নিজেকে লতা-পাতায় আবৃত করছে।(২)

সে যখন হাসে, তখন তার শ্যামলা ওষ্ঠাধর থেকে শুভ্র দন্তরাজি বিকিরিত হয়, যেন তা আর্দ্র বালুকারাশির মাঝে ফুটে থাকা শিশিরসিক্ত শুভ্র ফুল।(৩)

সূর্যের কিরণ তার দাঁতের উজ্জ্বলতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে, কেবল দাঁতের মাড়ি ছাড়া; সেখানে যেন সুরমা লেপন করা হয়েছে কিন্তু তা কামড় দিয়ে লাগানো হয়নি।(৪)

এবং এমন এক উজ্জ্বল মুখমণ্ডল যেন সূর্য তার চাদরটি তার উপর বিছিয়ে দিয়েছে; যা নির্মল বর্ণের এবং যাতে কোনো বলিরেখা পড়েনি।(৫)

আর যখন আমার মনে দুশ্চিন্তা উপস্থিত হয়, তখন আমি এক অতি দ্রুতগামী ও চঞ্চল উষ্ট্রীর পিঠে সওয়ার হয়ে তা দূর করি, যে সকাল-সন্ধ্যা বিরামহীন পথ চলে।(৬)

সে এক নির্ভরযোগ্য শক্তিশালী উষ্ট্রী যার হাড়গুলো যেন বড় কফিনের তক্তার মতো মজবুত; আমি তাকে এমন এক প্রশস্ত পথে তাড়িয়ে নিয়ে চলি যা দেখতে ডোরাকাটা চাদরের পিঠের মতো।(৭)

উটের মতো শক্তিশালী এক মাংসল উষ্ট্রী, যে এমন দ্রুত বেগে ধাবিত হয় যেন সে ধূসর বর্ণের এক ক্ষিপ্র উটপাখি।(৮)

সে অভিজাত ও দ্রুতগামী উষ্ট্রীদের সাথে পাল্লা দেয় এবং মসৃণ সুগম পথের উপর একের পর এক পা এবং হাত দ্রুত ফেলে এগিয়ে চলে।(৯)

--------------------------------------------

(১) আল-আহওয়া: শ্যামলা ঠোঁটবিশিষ্ট। আশ-শাদিন: হরিণ শাবক যা বড় হয়েছে এবং মায়ের মুখাপেক্ষী নয়। আল-মুজাহির: যে একের উপর অন্য পোশাক বা বর্ম পরিধান করে, এখানে উদ্দেশ্য যে এক হারের উপর অন্য হার পরিধান করেছে। আস-সিমত: সেই সুতো যাতে মণি-মুক্তা গাঁথা থাকে। মুক্তা ও জাবারজাদ: মূল্যবান রত্ন পাথর।

(২) আল-খাজুল: সেই হরিণী যে তার সন্তানদের থেকে দূরে গিয়ে তাদের একা ফেলে রাখে। আর-রাবরাব: বুনো গরুর পাল। আল-খামিলা: ঘন গাছপালায় ঢাকা ভূমি। আল-বারির: আরাক গাছের ফল।

(৩) আল-আলমা: সেই মুখ যার ঠোঁট দুটির বর্ণ কালো আভাযুক্ত। আল-মুনাব্বির: এখানে একটি উহ্য বিশেষ্যের (কামিনী ফুল) বিশেষণ। আদ-দি’স: বালুর স্তূপ।

(৪) ইয়াতুশ শামস: সূর্যের রশ্মি। আল-লিসাস: একবচনে লিসাহ, যার অর্থ দাঁতের মাড়ি। তাকদামু: কামড়ানো। আল-ইসমদ: সুরমা।

(৫) লাম ইয়াতাকাদ্দাদ: যাতে বলিরেখা বা ভাঁজ পড়েনি।

(৬) আল-ইহতিজার: উপস্থিত হওয়া। আল-আওজা: কর্মঠ ও তেজস্বী উষ্ট্রী যা চলার সময় স্থির থাকে না। আল-মিরকাল: যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলে।

(৭) আল-আমুন: যে উষ্ট্রীর পিঠে আরোহী নিশ্চিন্ত থাকে। আল-ইরান: বড় কফিন বা সিন্দুক। আন-নাসআ: তাড়ানো বা ধমক দেওয়া। আল-লাহিব: সহজ ও প্রশস্ত পথ। আল-বারজাদ: ডোরাকাটা চাদর।

(৮) আল-জামালিয়্যাহ: যে উষ্ট্রী শক্তির দিক দিয়ে পুরুষ উটের মতো। আল-ওয়াজনা: মাংসল গাল বা দেহবিশিষ্ট উষ্ট্রী। তারদি: দ্রুত দৌড়ানো। আস-সাফান্নাহ: উটপাখি। তাবরি: প্রকাশিত হওয়া বা সদম্ভে চলা। আল-আজআর: পাতলা পশমবিশিষ্ট। আল-আরবাদ: ছাইয়ের মতো ধূসর বর্ণ।

(৯) আল-ইতাক: একবচনে আতিক, যার অর্থ সম্ভ্রান্ত বা অভিজাত। আন-নাজিয়াত: একবচনে নাজিয়া, যার অর্থ দ্রুতগামী। আল-ওয়াজিফ: পা-এর কবজি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অথবা হাত-এর কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়। আল-মাওর: পথ। আল-মুয়াব্বাদ: চলার জন্য সহজ বা সুগম পথ।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২১)
تَرَبَّعَتِ القُفّينِ في الشَّولِ تَرتَعي … حَدائِقَ مَوليِّ الأسِرَّة أغْيَدِ(1)

تَريعُ إلى صَوْتِ المُهيبِ، وتَتّقي … بِذي خُصَلٍ، رَوعاتِ أكلَفَ مُلبِدِ(2)

كأنّ جَنَاحَيْ مَضْرَحِيٍّ تَكَنّفَا … حِفافَيْهِ شُكّا في العَسِيبِ بمَسرَدِ(3)

فَطَوراً به خَلْفَ الزّميلِ، وتارةً … على حَشَفٍ كالشَّنِّ ذاوٍ مُجَدَّدِ(4)

لها فَخْذانِ أُكْمِلَ النّحْضُ فيهما … كأنّهُما بابا مُنِيفٍ مُمَرَّدِ(5)

وطَيُّ مَحالٍ كالحَنيّ خُلوفُهُ … وأجرِنَة ٌ لُزّتْ بِدَأيٍ مُنَضَّدِ(6)

--------------------------------------------

(1) تربعت: أقامت وحلّت في المكان. القفّان: موضع. الشوْل: مكان الرعي المرتفع. المولي: العشب الذي أصابه الولي وهو المطر. وهو يأتي بعد الوسمي. الأسرّة: مفردها السّر، وهو الخير والفضل. الأغيد: الناعم.

(2) تريع: تعود. المهيب: الراعي. ذو الخصل: الفَحْل من الإبل. الروعات: مفردها الروعة وهي الخشية والخوف. الأكلف: الفحل الذي يميل لونه إلى السواد. المبلد: الذي تبلد وبره من كثرة الوسخ.

(3) المضرحي: النسر الكبير الأبيض. تكنفا: أقاما. الحفافي: الجوانب. العسيب: عظم الذنب. المسرد: الأشقى. أو آلة حادة تستعمل للغرز.

(4) الهاء في به تعود للعسيب أو الذنب. الزميل: الراكب على الناقة خلف الراكب الأصلي. الحشف: مفردها الحشفة وهو الضرع الذي جفَّ لبنه. الشَّن: القربة البالية. الذاوي: الذابل. المجدد: الذي انقطع لبنه والمعنى أن هذه الناقة تضرب بذيلها يميناً ويسرة فتصيب مرة الراكب على ظهرها خلف الراكب الأول ومرة تصيب أخلافها التي جفَّ الحليب منها.

(5) النّحص: اللحم. الباب المنيف: الباب العائد للقصر العالي. الممرد: الأملس. والمعنى: أن اللحم قد غطّى فخذي هذه الناقة حتى أصبحا كباب قصر عالٍ عريض وأملس.

(6) المحال: مفردها المحالة وهي فقرة الظهر. الحنّى: الواحدة حنيّة وهي العصا. الخلوف: مفردها الخلف وهو الضلع. الأجرنة: مفردها الجران وهو باطن العنق. لزّت: ضمّت. الدأي: مفردها الدأية وهي خرزة الظهر والعنق. المنضد: الموضوع فوق بعضه البعض. وهو ما زال يصف فقار ظهر الناقة.
সে কাফফাইন ও শাওল নামক চারণভূমির উঁচু স্থানে বসন্তযাপন করে … কোমল ও বৃষ্টিস্নাত ঘাসে ভরা প্রাচুর্যময় উদ্যানে।(১)

সে রাখালের আহ্বানে ফিরে আসে এবং … অবিন্যস্ত পশমবিশিষ্ট কালো বর্ণের তেজস্বী উটের আতঙ্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করে।(২)

যেন একটি বড় সাদা ঈগলের দুই ডানা তার … লেজের হাড়ের দুই পাশে কোনো ছিদ্র করার যন্ত্র দিয়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।(৩)

কখনও এটি দিয়ে (লেজ দিয়ে) সহ-আরোহীর পেছনে আঘাত করে, আবার কখনও … পুরনো জীর্ণ মশকের ন্যায় শুষ্ক ও দুধহীন ওলানে আঘাত হানে।(৪)

তার রয়েছে এমন দুটি ঊরু যা মাংসে পরিপূর্ণ … যেন সেগুলো কোনো সুউচ্চ মসৃণ প্রাসাদের বিশাল দুই কপাট।(৫)

তার পিঠের হাড়ের ভাঁজগুলো ধনুকের ন্যায় বাঁকানো … এবং তার গ্রীবাদেশের নিম্নাংশ সুবিন্যস্ত মেরুদণ্ডের হাড়ের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত।(৬)

--------------------------------------------

(১) তারাব্বাআত: অবস্থান করল বা বসতি স্থাপন করল। আল-কাফফাইন: একটি স্থানের নাম। আশ-শাওল: চারণভূমির উঁচু স্থান। আল-মাউলি: সেই ঘাস যার ওপর 'ওয়ালি' নামক বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, যা 'ওয়াসমি' বৃষ্টির পরে আসে। আল-আসিররা: এর একবচন 'সিরর', যার অর্থ কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্ব। আল-আজিয়াদ: কোমল বা নমনীয়।

(২) তারি'উ: ফিরে আসে। আল-মুহিব: রাখাল। যু আল-খুসাল: মাদি উটের পালের রক্ষক বা তেজস্বী পুরুষ উট। আর-রাওআত: একবচন 'রাওআহ', যার অর্থ ভীতি বা আতঙ্ক। আল-আকলাফ: কালচে বর্ণের তেজস্বী উট। আল-মুলবিদ: ময়লার আধিক্যের কারণে যার পশম জট পাকিয়ে গেছে।

(৩) আল-মাদরাহি: বড় সাদা ঈগল। তাকান্নাফা: অবস্থান গ্রহণ করল। আল-হিফাফাই: দুই পার্শ্ব। আল-আসিব: লেজের হাড়। আল-মাসরাদ: ছিদ্র করার সূক্ষ্ম বা ধারালো যন্ত্র।

(৪) 'বিহি' এর সর্বনামটি 'আসিব' বা লেজের দিকে ফিরেছে। আজ-জামিল: প্রধান আরোহীর পেছনে উটের পিঠে বসা ব্যক্তি। আল-হাশাফ: একবচন 'হাশাফাহ', এমন ওলান যার দুধ শুকিয়ে গেছে। আশ-শান: পুরনো জীর্ণ মশক। আয-যাভি: শুষ্ক বা ম্লান। আল-মুজাদ্দাদ: যার দুধ বন্ধ হয়ে গেছে। মূল অর্থ হলো, এই উষ্ট্রীটি তার লেজ ডানে-বামে এমনভাবে ঝাপটায় যে, তা কখনও তার পিঠে বসা দ্বিতীয় আরোহীকে আঘাত করে, আবার কখনও তার সেই ওলানগুলোতে গিয়ে লাগে যা দুধশূন্য হয়ে শুকিয়ে গেছে।

(৫) আন-নাহদ: মাংস। আল-বাবুল মুনিফ: উচ্চ প্রাসাদের দরজা। আল-মুমাররাদ: মসৃণ। মূল অর্থ: মাংস এই উষ্ট্রীর দুই ঊরুকে এমনভাবে ঢেকে রেখেছে যে, তা দেখতে একটি সুউচ্চ প্রাসাদের প্রশস্ত ও মসৃণ দরজার মতো মনে হয়।

(৬) আল-মাহাল: একবচন 'মাহালাহ', এর অর্থ মেরুদণ্ডের হাড়। আল-হান্নি: একবচন 'হানিয়্যাহ', যার অর্থ ধনুক বা লাঠি। আল-খুলুফ: একবচন 'খলফ', যার অর্থ পাঁজরের হাড়। আল-আজবিনা: একবচন 'জিরান', যার অর্থ ঘাড়ের বা গ্রীবাদেশের ভেতরের অংশ। লুজ্জাত: যুক্ত করা হয়েছে। আদ-দায়ি: একবচন 'দায়িয়াহ', যার অর্থ পিঠ ও ঘাড়ের হাড়ের জোড়া। আল-মুনাসসাদ: যা একটির ওপর আরেকটি সাজানো। এখানে কবি উষ্ট্রীর পিঠের হাড়ের বর্ণনা দিচ্ছেন।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২২)
كأنَّ كِناسَيْ ضالَةٍ يُكنَفانِها … وأَطْرَ قِسِيٍّ تحتَ صُلْبٍ مُؤَيَّدِ(1)

لها مِرفَقانِ أفتَلانِ كأنّهَا … تَمُرّ بِسَلْمَيْ دالجٍ مُتَشَدّدِ(2)

كَقَنْطَرَةِ الرُّوميِّ أقسَمَ رَبُّها … لَتُكْتَنَفَنْ حتّى تُشادَ بقَرْمَدِ(3)

صُهابِيّةُ العُثْنُونِ مُوجَدَة ُ القَرَا … بَعِيدةُ وَخْدِ الرِّجلِ مَوَّارَةُ اليَدِ(4)

أُمرَّتْ يَداها فَتْلَ شَزْرٍ وأُجْنِحَتْ … لها عَضُداها في سَقِيفٍ مُسَنَّدِ(5)

جنوحٌ دِفاقٌ عَنْدلٌ ثم أُفرعَتْ … لها كتِفاها في مُعالىً مُصَعَّدِ(6)

كأنّ عُلوبَ النِّسْعِ في دَأَيَاتِها … مَوَارِدُ مِن خَلْقَاءَ في ظَهرِ قَردَدِ(7)

تَلاقَى، وأحياناً تَبينُ كأنّها … بَنائِقُ غُرٌّ في قميصٍ مُقَدَّدِ(8)

وأتْلَعُ نَهّاضٌ إذا صَعّدَتْ به … كسُكّان بُوصِيٍّ بدجْلَةَ مُصْعِد(9)

وجُمْجُمَةٌ مِثْلُ العَلاةِ كأنَّما … وعَى المُلتَقَى منها إلى حَرْفِ مِبرَدِ(10)

--------------------------------------------

(1) الكناس: مأوى الغزال أو الوحش يُتّخذ في أصل شجرة. الضالة: شجرة السدر البرية. كنافها: ناحيتها والهاء عائدة للضالة. الأطر: العطف. المؤيد: القوي.

(2) السلم: الدلو التي لها عروة واحدة. الدالج: الذي ينشل الدلو من البئر.

(3) قنطرة الرومي: القنطرة المرتفعة وقد شبه الناقة بها لكبرها وارتفاعها. القرمد: من أدوات البناء أو ما يدعى بالآجر والمعنى أن هذه الناقة عظيمة ومرتفعة كقنطرة الرومي الذي أقسم أن يبنيها بالآجر ليعيش في كنفها.

(4) الصهابية: التي يميل لونها إلى الإحمرار. العثنون: شعرات تحت لحيها الأسفل. الموجدة: القوية. القرا: الظهر. الوخد: السير السريع. الموّارة: السريعة.

(5) أمرّت: أحكمت الفتل. الشزر: الفتل المحكم. أجنحت: مالت. السقيف: السقف. العضد: الجنب.

(6) الدفاق: السريعة. العندل: الكبيرة الرأس. افرعت: ارتفعت. المعالى: صفة لموصوف محذوف وهو الظهر المرتفع.

(7) العلوب: الأثر الباقي من الحزام الذي يُشَدّ عليها. السير: الحزام أو العنان. الموارد: مفردها المورد وهو الماء. الخلقاء: الملساء. القردد: الأرض الصعبة الكثيرة الحصى.

(8) البنائق: مفردها البنيقة وهي عروة القميص أو دائرة في نحر الفرس.

(9) الأتلع النهاض: العنق الطويل. السكان: مؤخرة السفينة. البوصي: السفينة الكبيرة. دجلة: النهر المعروف.

(10) العلاة: السندان. الملتقى: طرف الجمجمة. المبرد: آلة حادة خشنة الجوانب.
যেন বন্য সিদর গাছের দুটি হরিণ-আবাস একে পরিবেষ্টন করে আছে … আর একটি শক্তিশালী মেরুদণ্ডের নিচে ধনুকের বাঁক।(১)

তার দুটি কনুই মজবুতভাবে মোচড়ানো, যেন সে … কোনো কঠোর পরিশ্রমী পানি উত্তোলনকারীর দুটি বালতির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছে।(২)

রোমানীয় সেতুর ন্যায়, যার মালিক কসম করেছিল যে— … একে অবশ্যই পরিবেষ্টন করা হবে যতক্ষণ না একে পোড়ানো ইট দিয়ে সুউচ্চ করা হয়।(৩)

তার থুতনির নিচের পশম লালচে আভার এবং পিঠ অত্যন্ত মজবুত; … তার পা সুদূরপ্রসারী ও দ্রুতগামী এবং তার হাত অত্যন্ত চঞ্চল ও ক্ষিপ্র।(৪)

তার হাতদ্বয়কে কষে পাকানো হয়েছে এবং তার দুই বাহু … একটি খুঁটিযুক্ত ছাদের ন্যায় হেলে আছে।(৫)

সে দ্রুতগামী ও বড় মস্তকবিশিষ্ট, অতঃপর … তার দুই কাঁধ একটি সুউচ্চ অবস্থানে উন্নীত করা হয়েছে।(৬)

যেন তার পাঁজরের হাড়ের ওপর জিনের ফিতার দাগগুলো … কঠিন ভূমির পিঠে অবস্থিত কোনো মসৃণ পাথরের পানির স্রোতধারার মতো।(৭)

সেগুলো মিলিত হয়, আবার কখনো পৃথক হয়ে যায়, যেন সেগুলো … কোনো ছিঁড়ে যাওয়া জামার সাদা কলি।(৮)

তার দীর্ঘ ঘাড় যখন সে উত্তোলন করে, তখন তা … দজলা নদীতে উজানগামী কোনো বিশাল নৌকার হালের মতো দেখায়।(৯)

তার মাথার খুলিটি নেহাইয়ের মতো শক্ত, যেন … তার মিলনস্থলগুলো কোনো রেতের ধারের মতো তীক্ষ্ণ।(১০)

--------------------------------------------

(১) কিনাস: হরিণ বা বন্য পশুর আশ্রয়স্থল যা গাছের গোড়ায় তৈরি হয়। দ্বালাহ: বন্য সিদর গাছ। কিনাসুহা: তার দিকসমূহ, এখানে হ-সর্বনামটি দ্বালাহ গাছের দিকে ফিরেছে। আত্রু: বাঁকানো। মুআইয়াদ: শক্তিশালী।

(২) সালম: এক হাতল বিশিষ্ট বালতি। দালিজ: যে ব্যক্তি কূপ থেকে বালতি টেনে তোলে।

(৩) কানতারাতুর রুমি: উঁচু সেতু; উটনীটি বড় ও উঁচু হওয়ায় কবি তাকে এর সাথে তুলনা করেছেন। কারমাদ: নির্মাণের উপকরণ বা যা ইট নামে পরিচিত। অর্থ হলো—এই উটনীটি রোমানীয় সেতুর মতো বিশাল ও উঁচু, যার নির্মাতা কসম করেছিল যে সে এটি ইট দিয়ে নির্মাণ করবে যাতে সে এর আশ্রয়ে থাকতে পারে।

(৪) সুহাবিইয়্যাহ: যার গায়ের রঙ লালের দিকে ঝুঁকে থাকে। উছনুন: নিচের চোয়ালের নিচের পশম। মুজাদাহ: শক্তিশালী। ক্বারা: পিঠ। ওয়াখদ: দ্রুত চলা। মাওয়ারাহ: দ্রুতগামী।

(৫) উম্মিরাত: পাকানো মজবুত করা হয়েছে। শাযর: কষে পাকানো। উজনিহাত: হেলে পড়েছে। সাকিফ: ছাদ। আদুদ: বাহু বা পার্শ্ব।

(৬) দিফাক্ব: দ্রুতগামী। আন্দাল: বড় মাথাওয়ালা। উফরিআত: উন্নত হয়েছে। মুআলা: এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের গুণ, যা হলো উঁচু পিঠ।

(৭) উলুব: জিনের ফিতা বা বেল্টের চিহ্ন যা তার ওপর বাঁধা হয়। সাইর: বেল্ট বা লাগাম। মাওয়ারিদ: একবচন মাওরিদ, যার অর্থ পানি। খালক্বা: মসৃণ পাথর। ক্বারদাদ: কঠিন ও কাঁকরময় ভূমি।

(৮) বানায়িক্ব: একবচন বানিয়াক্বাহ, যা জামার কলি বা ঘোড়ার ঘাড়ের বৃত্তাকার অংশ।

(৯) আতলাউন্নাহহাদ: দীর্ঘ ঘাড়। সুক্কান: নৌকার হাল বা পেছনের অংশ। বুসি: বড় নৌকা। দিজলা: প্রসিদ্ধ নদী।

(১০) আলাহ: নেহাই। মুলতাক্বা: মাথার খুলির প্রান্তভাগ। মিবরাদ: ধারালো খসখসে যন্ত্র বা রেত।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وخَدٌّ كقِرْطاسِ الشّآمي ومِشْفَرٌ … كسِبْتِ اليماني، قَدُّهُ لم يُجَرَّدِ(1)

وعَيْنَانِ كالماوَيّتَينِ استَكَنَّتَا … بكهْفَيْ حِجاجَيْ صخرة ٍ قَلْت موردِ(2)

طَحُورانِ عُوّارَ القذى، فتراهُما … كمَكْحُولَتَيْ مَذعورَةٍ أُمِّ فرقد(3)

وصادِقَتا سَمْعِ التوجُّسِ للسُّرى … لِهَجْسٍ خَفِيٍّ أو لصَوْتٍ مُندِّد(4)

مُؤلَّلتانِ تَعْرِفُ العِتقَ فِيهِما … كسامِعَتَيْ شاةٍ بحَوْمَلَ مُفْرَدِ(5)

وَأرْوَعُ نَبّاضٌ أحَذُّ مُلَمْلَمٌ، … كمِرداة ِ صَخرٍ في صَفِيحٍ مُصَمَّدِ(6)

وأعْلَمُ مَخروتٌ من الأنفِ مارِنٌ … عَتيقٌ مَتى تَرجُمْ به الأرض تَزدَدِ(7)

وإنْ شِئتُ لم تُرْقِلْ وإن شئتُ أرقَلتْ … مَخافة َ مَلْوِيٍّ مِنَ القَدِّ مُحصَدِ(8)

وإن شِئتُ سامى واسِطَ الكورِ رأسُها … وعامَتْ بِضَبْعَيْها نَجاءَ الخَفَيدَدِ(9)

على مِثلِها أمضي إذا قال صاحبي: … ألا لَيتَني أفديكَ منها وأفْتَدي

--------------------------------------------

(1) القرطاس: الورق. المشفر للبعير كالشفه للإنسان. السبت: جلد البقر المدبوغ. وهنا المنسوب إلى اليمن.

(2) الماويتان: مفردها الماوية وهي المرآة. الحجاج: العظم الذي يعلو العين. القلت: النقرة أو الحفرة في الحجر حيث يجتمع الماء.

(3) الطحور: المبعد. العوّار والقذى: مرض يصيب العيون. الفرقد: الجؤذر أو ابن البقرة الوحشية.

(4) صادقتا السمع: الأذنان. النوجس: الخوف والتنصت. السرى: مشي الليل. الهجس: الحركة. المندد: المرتفع.

(5) المؤللتان: مثنى المؤللة وهي الحادة. حومل: مكان.

(6) الأروع النبّاض: القلب الكثير الخوف. الأخذ: السريع. الململم: الصلب. المرادة: الصخرة الصلبة. الصفيح: الحجر المسطح. المصمّد: المحكم. والمعنى أن قلب الناقة يخاف عند أي حركة وهو كالصخرة بين أضلاع علااض مرصوغ رصفاً محكماً.

(7) الأعلم: الذي شقت شفته العليا. المخروت: المثقوب. المارن: الأنف اللين. ترجم: ترمي. تزدد: تزيد سرعتها وبشتد سرها.

(8) ترقل: تسير سيراً سريعاً. الملوي: السوط الطري. المحصد: المحكم الفتل. …

(9) سامى: ارتفع. الكور: الرحل. ضبعتها: عضدها. النجاء: السرعة. الخفيدد: ذكر النعام.
আর তার গালটি সিরীয় কাগজের মতো মসৃণ এবং ঠোঁটটি ইয়েমেনি পাকা চামড়ার মতো উন্নত, তার দেহ সুগঠিত।(১)

তার চোখ দুটি স্বচ্ছ দর্পণের ন্যায়, যা সুদৃঢ় পাথরের কোটরের মতো ভ্রু-অস্থির নিচে সুরক্ষিত, যেন পানি জমে থাকা কোনো গর্ত।(২)

চোখ দুটি ধুলোবালি ও ময়লা দূরকারী; তুমি সেগুলোকে শাবকবিশিষ্ট ভীত বন্য গাভীর সুরমা মাখা চোখের মতো দেখতে পাবে।(৩)

তার কান দুটি নৈশভ্রমণের সময় অতি সংবেদনশীল, যা সামান্য গোপন নড়াচড়া কিংবা উচ্চৈঃস্বরে করা শব্দও শুনতে পায়।(৪)

কান দুটি খাড়া ও তীক্ষ্ণ, যা তার আভিজাত্য প্রকাশ করে; যেন হাওমাল নামক স্থানে একাকী বিচরণকারী বন্য মেষের কানদ্বয়।(৫)

তার রয়েছে এক চঞ্চল, স্পন্দনশীল ও দ্রুতগামী সুসংহত হৃদয়, যা যেন সমতল ও মজবুত পাথরের পাটাতনে রাখা একটি শক্ত শিলাখণ্ড।(৬)

তার উপরের ঠোঁটটি চেরা, নাসারন্ধ্র ছিদ্রযুক্ত ও কোমল; সে এক উন্নত জাতের উষ্ট্রী, যখন সে দ্রুতবেগে পথ চলে তখন তার গতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।(৭)

আমি চাইলে সে মন্থর গতিতে চলে, আর চাইলে সে দ্রুতবেগে ধাবিত হয়—পাকানো চাবুকের আঘাতের ভয়ে।(৮)

আমি চাইলে তার মাথা জিনের অগ্রভাগকেও ছাড়িয়ে উঁচুতে উঠে যায় এবং সে তার বাহুদ্বয় দিয়ে উটপাখির ন্যায় দ্রুতবেগে সাঁতরে চলে।(৯)

এমন উটের পিঠেই আমি পথ পাড়ি দিই যখন আমার সাথী (ক্লান্তিতে) বলে: ‘হায়! আমি যদি তোমার পরিবর্তে উৎসর্গিত হতে পারতাম এবং মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পারতাম!’

--------------------------------------------

(১) কিরতাস: কাগজ। উটের ঠোঁট মানুষের ঠোঁটের মতো। সিবত: গরুর পাকা করা চামড়া; এখানে ইয়েমেনি চামড়া উদ্দেশ্য।

(২) মাওয়িয়াতান: একবচন মাওয়িয়াহ, যার অর্থ আয়না বা দর্পণ। হিজাজ: চোখের উপরের হাড়। কালত: পাথরের গর্ত যেখানে পানি জমা হয়।

(৩) তাহুর: দূরকারী। আওয়ার ও ক্বাযা: চোখের রোগ বা ময়লা। ফারক্বাদ: বন্য গাভীর শাবক।

(৪) সাদিক্বাতা সাময়ি: কান দুটি। তাওয়াজ্জুস: ভয় পাওয়া এবং কান খাড়া করে শোনা। সুরা: রাতে চলা। হাজস: সামান্য নড়াচড়া। মুনাদ্দিদ: উচ্চ শব্দ।

(৫) মুআল্লালাতান: মুআল্লালাহ-এর দ্বিবচন, যার অর্থ তীক্ষ্ণ। হাওমাল: একটি স্থানের নাম।

(৬) আরওয়াহ নাব্বায: অতি শঙ্কিত বা চঞ্চল হৃদয়। আহায্যু: দ্রুতগামী। মুলামলাম: শক্ত বা সুসংহত। মিরদাহ: শক্ত পাথর। সাফীহ: সমতল পাথর। মুসাম্মাদ: মজবুত। অর্থ হলো, উটের হৃদয় সামান্য নড়াচড়াতেও শঙ্কিত হয় এবং তা পাঁজরের হাড়ের মাঝে মজবুতভাবে স্থাপিত পাথরের মতো।

(৭) আ’লাম: যার উপরের ঠোঁট চেরা। মাখরুত: ছিদ্রযুক্ত। মারিন: নাকের নরম অংশ। তারজুম: আঘাত করা। তাযদাদ: গতি বৃদ্ধি পাওয়া।

(৮) তুরক্বিল: দ্রুত গতিতে চলা। মালওয়ি: পাকানো চাবুক। মুহসাদ: শক্তভাবে পাকানো। …

(৯) সামা: উঁচুতে উঠা। কাওর: উটের জিন। দ্ববআহা: বাহু বা বগল। নাজা: দ্রুতগতি। খাফায়দাদ: পুরুষ উটপাখি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وجاشَتْ إليه النّفسُ خوفاً، وخالَهُ … مُصاباً ولو أمسى على غَيرِ مَرصَدِ(1)

إذا القومُ قالوا مَن فَتًى؟ خِلتُ أنّني … عُنِيتُ فلمْ أكسَلْ ولم أتبَلّدِ(2)

أحَلْتُ عليها بالقَطيعِ فأجذَمتْ، … وقد خبَّ آل الأَمعَز المُتوقِّدِ(3)

فذالَتْ كما ذالَتْ ولِيدةُ مَجْلِسٍ … تُري ربّها أذيالَ سَحْلٍ مُمَدَّدِ(4)

ولَستُ بِحلاّلِ التّلاعِ مخافةً … ولكنْ متى يَسترْفِدِ القومُ أرْفِدِ(5)

فإن تُبغِني في حُلقةِ القومِ تَلقَني … وإنْ تَقتَنِصْني في الحوانيتِ تَصْطَدِ(6)

متى تأتِني أُصبحكَ كأساً رَوِيّةً … وإنْ كنتَ عنها ذا غِنًى فاغنَ وازْدَد(7)

وإنْ يَلتَقِ الحيُّ الجميعُ تُلاقِني … إلى ذِروةِ البَيتِ الرّفيع المُصَمَّدِ(8)

نَداماي بِيضٌ، كالنّجُومِ، وقَينَةٌ … تَروحُ عَلَينا بَينَ بُردٍ ومَجْسَدِ(9)

رَحيبٌ قِطابُ الجَيبِ منها، رقيقَةٌ … بِجَسّ النّدامى، بَضّة ُ المُتجرَّدِ(10)

إذا نحنُ قُلنا: أسمِعِينا انبرَتْ لنا … على رِسْلِها مَطروفَةً لم تَشَدَّدِ(11)

--------------------------------------------

(1) المرصد: الدرب.

(2) عُنيت: قُصِدت. أتبلد: أتوانى وأكسل.

(3) أحلت: أقبلت. القطيع: السوط. أجذمت: أسرعت في سيرها. الخب: سير الإبل. الآل: السراب ساعة الضحى. الأمعز: المكان الكثير الحصى. المتوقد: الذي سطع نور الشمس عليه.

(4) ذالت: تبخرت. الوليدة: الجارية. ربها: هنا صاحبها أي صاحب الجارية. السحل الممد: الثوب الأبيض الطويل.

(5) التلاع: مفردها التلعة وهي الأرض المرتفعة الكثيرة الماء. استرفد القوم: طلبوا العون. أرفد: أعين.

(6) تبغني: تطلبني. حلقة القوم: مكان اجتماعهم. الحوانيت: مفردها الحانوت أو الحانة وهي بيت الخمّار.

(7) أصبحك كأساً: أسقيك كأس خمرة في الصباح.

(8) البيت الرفيع: بيت الحسب والمجد. المصمد: المقصود.

(9) القينة: الفتاة المغنية. البرد: ضرب من الثياب وكذلك المجسد.

(10) الرحيب: الواسع. القطاب: أعلى الجيب. البضّة: الرقيقة الناعمة.

(11) المطروقة: الهادئة في أدائها.
প্রাণ ভয়ে উথলে উঠল, এবং সে তাকে বিপদগ্রস্ত মনে করল, যদিও সে কোনো গোপন ঘাটিতে ছিল না।…(১)

যখন লোকেরা বলে, "বীর যুবক কে?" আমি মনে করি যেন আমাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে; … তাই আমি অলসতা করি না এবং স্থবির হয়ে থাকি না।(২)

আমি তার ওপর চাবুক দিয়ে আঘাত করলাম, ফলে সে দ্রুত চলল; … যখন উত্তপ্ত কঙ্করময় ভূমির মরীচিকাগুলো চঞ্চল হয়ে উঠেছিল।(৩)

সে গর্বভরে হেলেদুলে চলতে লাগল যেমন কোনো মজলিসের সেবিকা হেলেদুলে চলে, … যে তার মনিবকে তার সাদা প্রলম্বিত বস্ত্রের আঁচল দেখায়।(৪)

আমি ভয়ের কারণে উচ্চভূমিতে বসবাসকারী নই, … কিন্তু কওম যখনই সাহায্য চায়, আমি সাহায্য করি।(৫)

যদি তুমি আমাকে কওমের মজলিসে খোঁজ করো তবে আমাকে সেখানে পাবে, … আর যদি আমাকে মদের দোকানে তালাশ করো তবে সেখানেই আমাকে শিকার করতে পারবে।(৬)

তুমি যখনই আমার কাছে আসবে, আমি তোমাকে এক তৃপ্তিদায়ক পানপাত্র দ্বারা প্রাতঃকালীন সুরা পান করাব; … আর যদি তুমি তা থেকে বিমুখ থাকতে চাও, তবে বিমুখ থাকতে পারো এবং তোমার সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারো।(৭)

আর যদি পুরো গোত্র সমবেত হয়, তবে তুমি আমাকে … আভিজাত্যের উচ্চ চূড়ায় এবং কাঙ্ক্ষিত সুউচ্চ গৃহে দেখতে পাবে।(৮)

আমার সহচরগণ নক্ষত্ররাজির ন্যায় উজ্জ্বল, আর এক গায়িকা … বিবিধ রঞ্জিত ও কারুকার্যময় বস্ত্র পরিধান করে আমাদের নিকট যাতায়াত করে।(৯)

তার জামার উপরিভাগ প্রশস্ত, সে সহচরদের স্পর্শে অত্যন্ত কোমল, … এবং অনাবৃত অবস্থায় সে অত্যন্ত লাবণ্যময়ী ও মসৃণ।(১০)

যখন আমরা বলি: "আমাদের কিছু শোনাও", তখন সে আমাদের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যে গেয়ে ওঠে, … সে তার গানে অত্যন্ত ধীরস্থির এবং কোনো কৃত্রিমতা করে না।(১১)

--------------------------------------------

(১) আল-মরসাদ: পথ বা ঘাটি।

(২) উনিতু: আমাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আতাবাল্লাদু: অলসতা করা বা পিছিয়ে থাকা।

(৩) আহালতু: অগ্রসর হলাম বা উদ্যত হলাম। আল-কাতী‘: চাবুক। আজযামাত: তার চলায় দ্রুততা করল। আল-খাব্বু: উটের চাল। আল-আল: দ্বিপ্রহরের মরীচিকা। আল-আম‘আয: অধিক কঙ্করময় স্থান। আল-মুতাওয়াক্কিদ: যার ওপর সূর্যের আলো প্রখরভাবে পড়েছে।

(৪) যালাত: গর্বভরে দুলল। আল-ওয়ালিদাহ: দাসী বা সেবিকা। রাব্বুহা: এখানে তার মালিক বা মনিব। আস-সুহুলুল মুমাদ্দাদ: লম্বা সাদা কাপড়।

(৫) আত-তিলা‘: এর একবচন তিল‘আহ, যা পানিবিশিষ্ট উচ্চভূমি। ইস্তারাফাদাল কওম: কওম সাহায্য প্রার্থনা করল। আরফিদু: আমি সাহায্য করি।

(৬) তাবগিনী: আমাকে খোঁজ করো। হালকাতুল কওম: তাদের সমাবেশের স্থান। আল-হাওয়ানীত: এর একবচন ‘হানূত’ বা ‘হানাহ’, যা শৌণ্ডিকালয় বা মদের দোকান।

(৭) উসাব্বিহুকা কা’সান: আমি তোমাকে সকালে মদের পেয়ালা পান করাব।

(৮) আল-বায়তুর রাফী‘: আভিজাত্য ও গৌরবের ঘর। আল-মুসাম্মাদ: গন্তব্যস্থল বা যা উদ্দেশ্য করা হয়।

(৯) আল-কায়নাহ: গায়িকা। আল-বুরদ: এক প্রকার বস্ত্র, অনুরূপ আল-মিজসাদও এক প্রকার বস্ত্র।

(১০) আর-রাহীব: প্রশস্ত। আল-কিতাব: জামার গলার দিকের উপরিভাগ। আল-বাযযাহ: পাতলা ও কোমল।

(১১) আল-মাতরূকাহ: স্বীয় পারফরম্যান্সে বা গানে ধীরস্থির ও শান্ত।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
إذا رَجّعَتْ في صَوتِها خِلْتَ صَوْتَها … تَجاوُبَ أظآرٍ على رُبَعٍ رَدي(1)

وما زال تَشرابي الخُمورَ، ولذَّتي … وبَيعي وإنفاقي طَريفي ومُتلَدي(2)

إلى أن تَحامَتني العَشيرةُ كلُّها … وأُفرِدتُ إفرادَ البَعيرِ المُعَبَّدِ(3)

رأيتُ بني غبراءَ لا يُنكِرونَني … ولا أهلُ هَذاكَ الطِّرفِ المُمَدَّدِ(4)

ألا أيُّهذا اللّائمي أحضُرَ الوغى … وأن أشهدَ اللذّات، هل أنتَ مُخلِدي(5)

فإنْ كُنْتَ لا تَسطِيع دَفْعَ مَنيَّتي … فَدعْني أبادْرها بما مَلَكَتْ يدي(6)

ولولا ثلاثٌ هُنّ مِنْ عِيشةِ الفتى … وجدِّكَ لم أحْفَلْ متى قامَ عُوَّدي(7)

فمِنهُنّ سَبْقي العاذِلاتِ بشَرْبَةٍ … كُمَيْتٍ متى ما تُعْلَ بالماءِ تُزبِدِ(8)

وكَرّي، إذا نادى المُضافُ، مُحَنَّباً … كسِيدِ الغَضا نَبّهَتْهُ المُتَوَرِّدِ(9)

وتقْصيرُ يوم الدَّجن والدَّجنُ مُعجِبٌ … ببَهْكَنَةٍ تحتَ الطِّرَافِ المُعَمَّدِ(10)

--------------------------------------------

(1) رجعت: رددت الصوت وتغنت به. الأظار: مفردها الظأر وهي الناقة التي لها ولد. الربع: ابن الناقة وهو صغير. الردي: الذي أصابه الهلاك.

(2) الطريف: المال المكتسب حديثاً. التليد: المال القديم.

(3) تحامتني: تجنبتني واعتزلتني. المعبد: المطلي بالقطران لإذلاله للركوب.

(4) بنو الغبراء: مساكين الأرض. الطراف: بيت الجلد الذي كان عادة للموسرين والوجهاء.

(5) الوغى: ساحة الحرب. مخلدي: ضامن عيشي إلى الأبد.

(6) تسطيع: تستطيع. المنية: الموت.

(7) الجد: الحظ وهنا قسم بهذا الحظ. لم أحفل: لم أبال. العوّد: مفردها العائد وهو الزائر أثناء المرض.

(8) العاذلات: مفردها العاذلة وهي اللائمة. الكميت: الخمر المعصورة من عنبٍ أحمر. تزبد: نعلوها رغوة.

(9) الكرّ: العطف والحنو. المضاف: الخائف والمذعور. المحنب: الملتوي اليد ويقصد الفرس. السيد: الذئب. الغضا: ضرب من الشجر. المتورد: القاصد للماء بغية الشرب.

(10) يوم الدجن: اليوم الممطر الكثير السحاب. البهكنة: الفتاة الجميلة الممتلئة الجسم. الطراف: البيت المصنوع كم الجلد وقد مرّ ذكره. المعمد: المرفوع بالعمد.
যখন সে তার স্বরে সুরের অনুরণন তোলে, তুমি মনে করবে তার সেই আওয়াজ যেন … একদল মা উটনীর সম্মিলিত ডাক, যারা তাদের মৃত শাবকের জন্য শোকাতুর।(১)

আমি সর্বদা মদ্যপান এবং আমোদ-প্রমোদে মত্ত ছিলাম, … আর আমার নতুন উপার্জিত ও পৈতৃক সম্পদ বিক্রয় ও ব্যয় করতে দ্বিধা করিনি।(২)

অবশেষে অবস্থা এই দাঁড়াল যে, আমার পুরো গোত্র আমাকে এড়িয়ে চলতে লাগল … এবং আমাকে সেভাবেই একাকী করে দেওয়া হলো, যেভাবে পিচ মাখা চর্মরোগাক্রান্ত উটকে পৃথক করে রাখা হয়।(৩)

আমি দেখলাম যে, নিঃস্ব মানুষেরা আমাকে অস্বীকার করে না, … আর না সেই সুউচ্চ ও বিস্তৃত চামড়ার তাঁবুর অধিপতিরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করে।(৪)

হে আমার সেই তিরস্কারকারী, যে আমাকে যুদ্ধে উপস্থিত হতে … এবং জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে দেখে দোষারোপ করছ; তুমি কি আমাকে অমর করতে পারবে?(৫)

যদি তুমি আমার মৃত্যুকে প্রতিহত করতে সমর্থ না হও, … তবে আমাকে ছেড়ে দাও, যেন আমার হস্তগত সম্পদ দিয়ে আমি দ্রুত জীবন উপভোগ করে নিতে পারি।(৬)

যদি যুবকের জীবনে তিনটি বিশেষ বিষয় না থাকত, … তবে তোমার সৌভাগ্যের কসম, আমার অসুস্থতার সময় রোগীরা কখন উঠে চলে গেল, সে পরোয়া আমি করতাম না।(৭)

তার মধ্যে একটি হলো—তিরস্কারকারিণী নারীদের জাগ্রত হওয়ার আগেই লালচে মদ্য পান করা, … যাতে পানি মেশানো হলে উপচে পড়া ফেনার সৃষ্টি হয়।(৮)

দ্বিতীয়টি হলো—যখন কোনো আর্ত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য ডাক দেয়, তখন ধনুকাকৃতি পা-বিশিষ্ট ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ক্ষিপ্রবেগে সেদিকে ছুটে যাওয়া, … যা দেখতে যেন গাদা বনের সেই নেকড়ে, যাকে পানি পান করতে আসা কেউ অতর্কিত সজাগ করে দিয়েছে।(৯)

আর তৃতীয়টি হলো—মেঘলা দিনে, যখন দিনটি অত্যন্ত মনোরম লাগে, তখন খুঁটিবিদ্ধ চামড়ার তাঁবুর নিচে … কোনো সুঠামদেহী রূপসীর সান্নিধ্যে সময় অতিবাহিত করে দীর্ঘ দিনটিকে সংক্ষিপ্ত করা।(১০)

--------------------------------------------

(১) রাজ্জাআত: সুরের পুনরাবৃত্তি করা বা গান গাওয়া। আল-আজআর: একবচনে 'জাইর', এমন উটনী যার শাবক আছে। আর-রুবা: উটনীর কচি বাচ্চা। আর-রাদি: যা ধ্বংস বা মৃত্যুর শিকার হয়েছে।

(২) আত-তারিফ: নতুন অর্জিত সম্পদ। আত-তালিদ: পুরাতন বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ।

(৩) তাহামাতনি: আমাকে এড়িয়ে চলা বা বর্জন করা। আল-মুয়াব্বাদ: যাকে বশীভূত করার জন্য বা চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য পিচ (আলকাতরা) মাখানো হয়েছে।

(৪) বানু গাবরা: পৃথিবীর নিঃস্ব বা দরিদ্র মানুষ। আত-তিরাফ: চামড়ার তৈরি ঘর, যা সাধারণত বিত্তবান ও মর্যাদাবানদের হয়ে থাকে।

(৫) আল-ওয়াগা: যুদ্ধক্ষেত্র। মুখলিদি: আমার চিরকাল বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দানকারী।

(৬) তাসতি: সমর্থ হওয়া। আল-মানিয়্যাহ: মৃত্যু।

(৭) আল-জাদ্দ: ভাগ্য, এখানে ভাগ্যের কসম খাওয়া হয়েছে। লাম আহফাল: আমি পরোয়া করি না। আল-উওয়াদ: একবচনে 'আইদ', অসুস্থ অবস্থায় দেখতে আসা ব্যক্তি।

(৮) আল-আজিলাত: একবচনে 'আজিলা', তিরস্কারকারিণী নারী। আল-কুমাইত: লাল আঙুর থেকে নিংড়ানো মদ। তুজবিদ: উপরিভাগে ফেনা ওঠা।

(৯) আল-কারর: আক্রমণ বা ফিরে আসা। আল-মুদাফ: ভীত ও বিপন্ন ব্যক্তি। আল-মুহাননাব: যার পা ধনুকের মতো বাঁকানো, এখানে ঘোড়াকে বোঝানো হয়েছে। আস-সাইদ: নেকড়ে। আল-গাদা: এক প্রকার গাছ। আল-মুতাওয়াররিদ: পানি পানের উদ্দেশ্যে আগত।

(১০) ইয়াওমুদ দাজন: মেঘাচ্ছন্ন বৃষ্টির দিন। আল-বাহকানাহ: পূর্ণযৌবনা সুন্দরী নারী। আত-তিরাফ: চামড়ার ঘর, যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-মুয়াম্মাদ: যা খুঁটি দিয়ে উঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
كأنّ البُرينَ والدّمالِيجَ عُلّقَتْ … على عُشَرٍ، أو خِروَعٍ لم يُخَضَّدِ(1)

كريمٌ يُرَوّي نفسه في حياتِهِ … ستَعلمُ، ان مُتنا غداً، أيُّنا الصّدي(2)

أرى قَبرَ نَحّامٍ بَخيلٍ بمالِهِ … كَقَبرِ غَويٍّ في البَطَالَةِ مُفسِدِ(3)

تَرى جُثْوَتَينِ من تُرَابٍ، عَلَيهِما … صَفائِحُ صُمٌّ مِن صَفيحٍ مُنَضَّدِ(4)

أرى المَوتَ يَعْتَامُ الكِرَامَ ويصْطفي … عَقِيلَةَ مالِ الفاحِشِ المُتَشدِّدِ(5)

أرى العَيش كَنزاً ناقِصاً كلَّ ليلةٍ … وما تَنقُصِ الأيّامُ والدّهرُ يَنفَدِ(6)

لَعَمْرُكَ إنَّ المَوْتَ ما أخْطَأَ الفَتى … لَكالطِّوَلِ المُرخى وثِنياهُ باليَدِ(7)

فما لي أراني وابنَ عمّي مالِكاً … متى أدنُ مِنهُ يَنأ عني ويَبعُدِ(8)

يَلومُ وما أدري عَلامَ يَلومُني … كما لامَني في الحيّ قُرطُ بنُ مَعبَدِ(9)

وأيْأسَني منْ كلِّ خيرٍ طَلَبْتُهُ … كأنّا وضَعْناهُ إلى رَمْسِ مُلْحَدِ(10)

على غير ذنبٍ قلتهُ، غيرَ أنّني … نَشَدْتُ فلم أُغْفِلْ حَمُولة َ مَعبَدِ(11)

--------------------------------------------

(1) البرين: حلقة توضع في أنف البعير. الدماليج: مفردها الدملج وهو السوار العريض. العشر: ضرب من الشجر وكذلك الخروع. لم يخضد: لم تُجز أوراقه.

(2) الصدي: الشديد العطش.

(3) النحام: البخيل الحريص. الغوي: الضال.

(4) الجثوتان: مفردها الجثوة وهي المرتفع من التراب والمعنى أنه يرى المساواة بين قبري البخيل والجواد ولا فارق بينهما أثناء الموت.

(5) يعتام: يختار. العقائل: مفردها العقيلة وهي المرأة الكريمة ذات الحسب. الفاحش المتشدد: الشديد البخل.

(6) ينفد: يتبدد وينتهي.

(7) الطول: الحبل الطويل الذي تُربط به الدابة لترعى. الثني: الطوي والرد.

(8) مالك: ابن عم الشاعر الذي سلبه مالاً وضعه في عهدته. ينأى: يبعد.

(9) قرط بن معبد: رجل من قبيلة الشاعر.

(10) أيأسني: جعل اليأس يدخل قلبي. الرمس الملحد: القبر.

(11) نشدت: طلبت. الحمولة: الإبل المعدة للعمل وللحمل عليها. معبد: معبد بن العبد بن سفيان شقيق طرفة.
যেন উটের নাকের বলয় এবং হাতের বাজুবন্দগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে … উশর বৃক্ষে অথবা ডালপালা না ছাঁটা কোনো রেড়ির গাছে।(১)

সে তো এক মহানুভব ব্যক্তি যে নিজের জীবদ্দশায় নিজেকে তৃপ্ত করে নেয়; … শীঘ্রই তুমি জানতে পারবে, যখন আগামীকাল আমরা মরে যাব, আমাদের মধ্যে কে অধিক তৃষ্ণার্ত।(২)

আমি দেখছি স্বীয় সম্পদে অতি কৃপণ ও লোভী ব্যক্তির কবর … ঠিক তেমনই, যেমনটি হলো পাপাচার ও বিফলতায় মগ্ন কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তির কবর।(৩)

তুমি দেখতে পাবে মাটির দুটি স্তূপ, যার ওপর রয়েছে … সুবিন্যস্ত পাথরের নিরেট ফলকসমূহ।(৪)

আমি দেখছি মৃত্যু মহানুভব ব্যক্তিদেরই বেছে নেয় এবং কেড়ে নেয় … অতি কৃপণ ও কঠোর ব্যক্তির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।(৫)

আমি জীবনকে দেখছি এমন এক ভাণ্ডার হিসেবে যা প্রতি রাতে হ্রাস পায়; … আর দিনগুলো যা কিছু ক্ষয় করে, মহাকাল তাকে নিঃশেষ করেই ছাড়ে।(৬)

তোমার জীবনের শপথ! মৃত্যু যতক্ষণ যুবককে আঘাত না করে লক্ষ্যচ্যুত থাকে, … ততক্ষণ তা সেই ঢিলেঢালা লম্বা রশির মতো যার প্রান্তদেশ হাতের মুঠোয় ধরা থাকে।(৭)

আমার কী হলো যে, আমি আর আমার চাচাতো ভাই মালিককে দেখছি; … আমি যখনই তার নিকটবর্তী হই, সে আমার থেকে দূরে সরে যায় এবং দূরত্ব বজায় রাখে।(৮)

সে আমাকে ভর্ৎসনা করে অথচ আমি জানি না সে কেন আমাকে দোষারোপ করছে, … যেমনটি গোত্রে কুরত ইবনে মাবাদ আমাকে দোষারোপ করেছিল।(৯)

সে আমার প্রার্থিত প্রতিটি কল্যাণ থেকে আমাকে নিরাশ করেছে, … যেন আমরা সেই কল্যাণকে কবরের গভীর গহ্বরে দাফন করে দিয়েছি।(১০)

অথচ আমার কোনো অপরাধ নেই, কেবল এটাই যে … আমি মাবাদের হারানো উটগুলো খুঁজেছি এবং সে ব্যাপারে কোনো অবহেলা করিনি।(১১)

--------------------------------------------

(১) বুরীন: উটের নাকে পরানো বলয়। দামালীজ: এর একবচন দিমলাজ, যা চওড়া বাজুবন্দ। উশর: এক প্রকারের গাছ, তেমনি খিরওয়াও এক প্রকারের গাছ। লাম ইউখাদ্দাদ: যার পাতা বা ডাল কাটা হয়নি।

(২) সাদি: অতিশয় তৃষ্ণার্ত।

(৩) নাহহাম: অতি কৃপণ ও লোভী। গাবী: পথভ্রষ্ট।

(৪) জুসওয়াতাইন: এর একবচন জুসওয়াহ, যার অর্থ মাটির স্তূপ বা ঢিবি। এর অর্থ হলো—তিনি কৃপণ এবং দানবীরের কবরের মধ্যে সমতা দেখতে পাচ্ছেন; মৃত্যুর পর তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।

(৫) ইয়াতাম: নির্বাচন করা বা বেছে নেওয়া। আকাইল: এর একবচনাকীলাহ, যার অর্থ অতি মূল্যবান সম্পদ বা সম্ভ্রান্ত নারী। ফাহিশ মুতাশাদ্দিদ: যে চরম কৃপণ।

(৬) ইয়ানফাদ: শেষ হয়ে যাওয়া বা বিলীন হওয়া।

(৭) তিওয়াল: লম্বা রশি যা দিয়ে পশুকে চরে বেড়ানোর জন্য বেঁধে রাখা হয়। সিনিউহু: রশির ভাঁজ বা প্রান্ত যা হাতে থাকে।

(৮) মালিক: কবির চাচাতো ভাই যে কবির গচ্ছিত সম্পদ আত্মসাৎ করেছিল। ইয়ানা: দূরে সরে যাওয়া।

(৯) কুরত ইবনে মাবাদ: কবির গোত্রের এক ব্যক্তি।

(১০) আইয়াসানি: আমাকে হতাশ করেছে। রামস মুলহাদ: কবর।

(১১) নাশাডতু: সন্ধান করা বা খোঁজা। হামুলাহ: বোঝা বহনের জন্য প্রস্তুত উট। মাবাদ: মাবাদ ইবনুল আবদ ইবনে সুফিয়ান, তিনি কবি তরফা-এর ভাই।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقرّبْتُ بالقُرْبى، وجَدِّكَ إنّني … متى يَكُ أمْرٌ للنَّكِيثَةِ أشهدِ(1)

وِإنْ أُدْعَ للجُلَّى أكُنْ من حُماتِها … وإنْ يَأتِكَ الأعداءُ بالجَهْدِ أَجْهَدِ(2)

وإن يَقذِفوا بالقَذع عِرْضَك أسقِهمْ … بكأْسِ حِياضِ الموتِ قبلَ التهدُّدِ(3)

بلا حَدَثٍ أحْدَثْتُهُ، وكَمُحْدِثٍ … هِجائي وقَذفي بالشّكاةِ ومُطْرَدي(4)

فلو كان مَولايَ امرءاً هو غيرَهُ … لَفَرّجَ كَرْبي أوْ لأنْظَرَني غَدي(5)

ولكِنّ مولايَ امْرُؤٌ هو خانِفِي … على الشكرِ والتَّسْآلِ أو أنا مُفتَدِ(6)

وظُلمُ ذوي القُرْبى أشَدُّ مَضَاضَةً … على المرءِ من وَقْعِ الحُسامِ المُهنّدِ(7)

فَذَرْني وخُلْقي، إنّني لَكَ شاكِرٌ … ولو حَلّ بَيْتي نائياً عندَ ضَرْغَدِ(8)

فلو شاءَ رَبي كنتُ قَيْسَ بنَ خالِدٍ … ولو شاءَ ربي كنتُ عَمْرَو بنَ مَرثَدِ(9)

فأصْبَحْتُ ذا مالٍ كثيرٍ، وزارَني … بَنُونَ كِرَامٌ سادَةٌ لِمُسَوَّدِ(10)

أنا الرّجُلُ الضَّرْبُ الذي تَعرِفونَهُ … خَشاشٌ كرأسِ الحيّةِ المُتَوَقّدِ(11)

--------------------------------------------

(1) النكيثة: الأمر العظيم. أشهد: أحضر. والمعنى أنه إذا ما اشتد الأمر على ذوي القربى فإنه يسرع لنجدتهم.

(2) الجلى: المصيبة الكبيرة.

(3) يقذفوا: يرموا. القذع: الرذيلة والفحش.

(4) الحدث: الجرم أو العمل الذي قمت به. الشكاة: الشكوى والشكاية. مطردي: الذي هجرني وطردني.

(5) مولاه: هنا ابن عمه مالك. الكرب: الحزن. أنظرني: أمهلني.

(6) التسآل والتساؤل واحد وهو السؤال. المفتدي: الذي يطلب خلاص نفسه.

(7) ذوي القربى: الأهل. المضاضة: الحرقة والحزن. الوقع: الضرب. الحسام المهند: السيف المصنوع في الهند.

(8) ذرني: دعني. النائي: البعيد. الضرغد: الجبل.

(9) قيس بن خالد وعمرو بن مرثد: سيدان كريمان من سادات العرب.

(10) المسوّد: النافذ الكلمة عند قومه.

(11) الرجل الضرب: الخفيف اللحم وهذه صفة محببة عند العرب لأن الرجل النحيف يكون أرشق في الحركة وأسرع عندما يشتد الأمر وتُطلب النجدة. الخشاش: المتيقظ الذكي.
আমি আত্মীয়তার বন্ধন দিয়ে নৈকট্য লাভ করেছি, আর তোমার দাদার কসম! যখনই কোনো মহাবিপদ উপস্থিত হয়, আমি সেখানে হাজির থাকি।…(১)

যদি কোনো গুরুতর বিপদে আমাকে ডাকা হয়, তবে আমি তার রক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত হই; আর যদি শত্রুরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে তোমার বিরুদ্ধে আসে, তবে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করি।…(২)

যদি তারা অশ্লীল বাক্য দিয়ে তোমার সম্মানে আঘাত করে, তবে আমি তাদের হুমকির পূর্বেই মৃত্যুর কুণ্ডের পেয়ালা পান করাই।…(৩)

আমি কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আমাকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে এবং আমাকে অপরাধীর ন্যায় বর্জন ও বহিষ্কার করা হচ্ছে।…(৪)

আমার অভিভাবক যদি তিনি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি হতেন, তবে তিনি অবশ্যই আমার দুঃখ লাঘব করতেন অথবা অন্তত আগামী দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিতেন।…(৫)

কিন্তু আমার অভিভাবক এমন এক ব্যক্তি যিনি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং যাচ্ঞা সত্ত্বেও আমার প্রতি বিমুখ থাকেন, অথবা আমাকে নিজের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করেন।…(৬)

আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে আসা জুলুম একজন মানুষের কাছে সুতীক্ষ্ণ ভারতীয় তলোয়ারের আঘাতের চেয়েও অধিক যন্ত্রণাদায়ক।…(৭)

অতএব আমাকে এবং আমার স্বভাবকে ছেড়ে দাও; আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব, যদিও আমার ঘর সুদূর দারগাদ পাহাড়ের নিকটবর্তী হয়।…(৮)

আমার রব যদি চাইতেন তবে আমি কাইস বিন খালিদ হতে পারতাম, আর আমার রব যদি চাইতেন তবে আমি আমর বিন মারসাদ হতে পারতাম।…(৯)

তাহলে আমি প্রভূত ধন-সম্পদের অধিকারী হতাম এবং সম্মানিত সন্তানেরা আমাকে দেখতে আসত, যারা কোনো নেতার অধীনে নিজেরাও নেতা হতো।…(১০)

আমি সেই মেদহীন হালকা-পাতলা গড়নের সুঠাম পুরুষ যাকে তোমরা চেনো; যে সদা সতর্ক সাপের দীপ্ত মস্তকের ন্যায় চটপটে।…(১১)

--------------------------------------------

(১) আন-নাকীসাহ: মহান বিষয় বা মহাবিপদ। আশহাদু: আমি উপস্থিত হই। এর অর্থ হলো, যখনই আত্মীয়স্বজনের ওপর কোনো কঠিন পরিস্থিতি নেমে আসে, তিনি তাদের সাহায্যার্থে দ্রুত উপস্থিত হন।

(২) আল-জুল্লা: বড় ধরনের মুসিবত।

(৩) ইয়াকযিফূ: তারা নিক্ষেপ করে। আল-কাযউ: হীনতা ও অশ্লীলতা।

(৪) আল-হাদাস: অপরাধ বা আমার কৃত কোনো কর্ম। আশ-শাকাত: অভিযোগ বা নালিশ। মুতরাদী: যে আমাকে বর্জন করেছে এবং তাড়িয়ে দিয়েছে।

(৫) মাওলাহু: এখানে তাঁর চাচাতো ভাই মালিক। আল-কারব: দুঃখ-বেদনা। আনযিরনী: আমাকে অবকাশ দিন।

(৬) আত-তাসআল এবং আত-তাসাউল একই অর্থ বহন করে, যা হলো প্রশ্ন বা যাচ্ঞা করা। আল-মুফতাদী: যে ব্যক্তি নিজের মুক্তি বা নিষ্কৃতি চায়।

(৭) যাউয়িল কুরবা: আত্মীয়স্বজন। আল-মাদাদাহ: দহন ও অন্তর্জ্বালা। আল-ওয়াকউ: আঘাত করা। আল-হুসামুল মুহান্নাদ: ভারতে প্রস্তুতকৃত ধারালো তলোয়ার।

(৮) যারনী: আমাকে ছেড়ে দাও। আন-নায়ী: দূরবর্তী। দারগাদ: একটি পাহাড়ের নাম।

(৯) কাইস বিন খালিদ এবং আমর বিন মারসাদ: আরবদের মধ্য থেকে দুজন অত্যন্ত দানশীল ও সম্মানিত নেতা।

(১০) আল-মুসাউওয়াদ: স্বগোত্রে যাঁর নির্দেশ বা কথা কার্যকর হয়।

(১১) আর-রাজুলুদ দারব: মেদহীন হালকা-পাতলা শরীরের অধিকারী। আরবদের নিকট এটি একটি কাঙ্ক্ষিত গুণ, কারণ কৃশদেহী ব্যক্তি অধিক ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন হয় এবং বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে। আল-খাশাশ: অত্যন্ত সতর্ক ও বুদ্ধিমান।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فآلَيْتُ لا يَنْفَكُّ كَشْحي بِطَانَة ً … لِعَضْبٍ رَقِيقِ الشَّفْرَتَينِ مُهَنَّدِ(1)

حُسامٍ، إذا ما قُمْتُ مُنْتَصِراً به … كَفَى العَودَ منه البدءُ، ليسَ بمِعضَدِ(2)

أخِي ثِقَةٍ لا يَنْثَني عن ضريبةٍ … إذا قِيلَ:"مهلاً! قال حاجِزُه:"قَدي"(3)

إذا ابْتَدَرَ القَوْمُ السّلاحَ وَجَدْتَني … مَنِيعاً، إذا بَلّتْ بقائِمِهِ يدي(4)

وبَرْكٍ هُجُود قد أثارَتْ مَخَافتي … بَوَادِيَها، أمْشي بعَضْبٍ مُجَرَّدِ(5)

فمرّتْ كَهاةٌ ذاتُ خَيْفٍ جُلالةٌ … عقِيلَةُ شَيْخٍ كالوبِيل يَلَنْدَدِ(6)

يقولُ، وقد تَرّ الوَظِيفُ وساقُها: … ألَسْتَ ترى أنْ قد أتَيْتَ بمُؤيِدِ؟(7)

وقال: ألا ماذا تَرَونَ بِشاربٍ … شديدٍ علينا بَغْيُهُ، مُتَعَمِّدِ؟(8)

وقالَ: ذَرُوهُ إنما نَفْعُها لهُ، … وإلاّ تَكُفّوا قاصِيَ البَرْكِ يَزْدَدِ(9)

--------------------------------------------

(1) الكشح: الخصر. العضب: السيف الفاطع. المهند: السيف المصنوع في الهند.

(2) المعضد: السيف الذي تقطع به الأشار والمقصود أن سيفه مخصص للطعن والقتل وليس لقطع الأشجار كغيره من السيوف.

(3) أخو الثقة: الذي يوثق به. ينثني: ينصرف. الضريبة: ما يُضرب بالسيف. قدي: حسبي. والمعنى أن هذا السيف لا يتعب من الطعن ويقول لصاحبه دعني أضرب فحسبي فإني قد شفيت غليلي من الطعن في الأعداء.

(4) ابتدروا السلاح: سارعوا إلى حمله. المنيع: القوي الذي لا يقهر. بلت بقائمه يدي: ظفرت يدي بهذا السلاح وأمسكت بقائمه السيف.

(5) البرك: الإبل الكريمة. الباركة: الباركة أي الجابسة. الهجود: مفردها الهاجد أو الهاجدة ومعناها النائم أو النائمة. البوادي: الأوائل. العضب المجرد: السيف القاطع.

(6) الكهاة: الناقة الضخمة. ذات الخيف: صابة الضرع الكبير. الجلالة: الناقة السمينة. العقيلة: الكريمة من النساء وقد مر شرحها. الوبيل: العصا الكبيرة. اليلندد: الشديدة الخصومة. يقول إن هذه الإبل قد مرّت بي شديدة الوف كعقيلة شيخ قد ضعف جسمه من الكبر وهو شيخ شديد الخصومة ويقصد بالشيخ والده حيث بدد طرفة كل ما ورثه عنه من مال وثروة.

(7) الوظيف: الساق من لإبل. ترّ: سقط. المؤيد: الأمر العظيم الشديد.

(8) يقول: قال الشيخ للحاضرين: ماذا ترون من جرأة هذا الفتى علينا. وكيف ندفع هذا الشاب الذي يشرب الخمر ويتجنى علينا بعقر كرائمنا عامداً متعمداً.

(9) ذروه: اتركوه. والهاء ف ينفعها عائدة للناقة وفي له عائدة لطرفة. البرك: الإبل الباركة. يزدد: يُكثر من عقرها ونَحْرها.
আমি কসম খেয়েছি যে, আমার কোমর কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না … এক তীক্ষ্ণ ফলক বিশিষ্ট ভারতীয় তলোয়ার থেকে।(১)

এমন এক ধারালো তলোয়ার, যখনই আমি সাহায্য পাওয়ার জন্য সেটি নিয়ে দাঁড়াই … তার প্রথম আঘাতই যথেষ্ট হয়, সেটি ডালপালা কাটার সাধারণ দা নয়।(২)

সেটি এক বিশ্বস্ত সঙ্গী, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা থেকে বিচ্যুত হয় না … যখন বলা হয়: "আহ্হ্ থামো!", তখন তার গতিরোধক বলে ওঠে: "যথেষ্ট হয়েছে"।(৩)

যখন লোকজন দ্রুত অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তখন তুমি আমাকে পাবে … অপরাজেয় অবস্থায়, যখন আমার হাত তলোয়ারের মুঠি জাপটে ধরে।(৪)

আর অনেক বসা উটের দল যাদেরকে আমার আতঙ্ক সজাগ করে দিয়েছে … তাদের সম্মুখভাগের দিকে আমি কোষমুক্ত ধারালো তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে যাই।(৫)

অতঃপর একটি বিশালদেহী, বড় ওলান বিশিষ্ট এবং হৃষ্টপুষ্ট উটনী সামনে পড়ল … যা ছিল এক জবরদস্ত ও কঠোর স্বভাবের বৃদ্ধের অতি প্রিয় সম্পদ।(৬)

সে (বৃদ্ধ) বলল, যখন উটনীর পায়ের নলি এবং গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল: … তুমি কি দেখছ না যে তুমি এক গুরুতর অনর্থ ঘটিয়ে ফেলেছ?(৭)

সে আরও বলল: এই মদ্যপায়ী সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী … যার অবাধ্যতা আমাদের প্রতি প্রবল এবং সে ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করছে?(৮)

সে বলল: ওকে ছেড়ে দাও, এর সুফল তো তারই হবে … তা না হলে যদি তোমরা ওকে বসা উটগুলোর থেকে বিরত না করো, তবে সে সেগুলোকে আরও অধিক হারে জবাই করবে।(৯)

--------------------------------------------

(১) আল-কাশহু: কোমর। আল-আদবু: ধারালো তলোয়ার। আল-মুহান্নাদু: ভারতে তৈরি তলোয়ার।

(২) আল-মি'দাদু: যে তলোয়ার দিয়ে গাছ কাটা হয়। উদ্দেশ্য হলো, তার তলোয়ারটি আঘাত ও হত্যার জন্য নির্ধারিত, অন্যান্য সাধারণ তলোয়ারের মতো গাছ কাটার জন্য নয়।

(৩) আখু সিকাহ: যার ওপর ভরসা করা যায়। ইয়ানসানি: ফিরে আসা বা বিরত হওয়া। আদ-দারিবা: তলোয়ারের লক্ষ্যবস্তু। ক্বাদি: আমার জন্য যথেষ্ট। এর অর্থ হলো, এই তলোয়ার আঘাত করতে ক্লান্ত হয় না এবং তার মালিককে বলে আমাকে আঘাত করতে দাও, আমার জন্য এই যথেষ্ট যে আমি শত্রুদের আঘাত করে নিজের ক্ষোভ মিটিয়েছি।

(৪) ইবতারাদুল সিলাহ: দ্রুত অস্ত্র ধারণ করা। আল-মানীউ: শক্তিশালী যাকে পরাজিত করা যায় না। বাল্লাত বি-ক্বাইমিহি ইয়াদি: আমার হাত এই তলোয়ারটি পেয়েছে এবং এর মুঠি জাপটে ধরেছে।

(৫) আল-বারকু: উন্নত জাতের উট। আল-বারিকা: বসা উট। আল-হুজুদু: এর একবচন হাজিদ বা হাজিদা, অর্থ নিদ্রিত। আল-বাওয়াদি: সম্মুখভাগ বা শুরুর উটগুলো। আল-আদবুল মুজাররাদু: কোষমুক্ত ধারালো তলোয়ার।

(৬) আল-কাহাতু: বিশাল উটনী। যাতুল খাইফ: বড় ওলান বিশিষ্ট। আল-জালালাতু: হৃষ্টপুষ্ট উটনী। আল-আকিলাতু: নারীদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত, এর ব্যাখ্যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল-ওয়াবীলু: বড় লাঠি। আল-ইলাংদাদু: কঠোর ঝগড়াটে। তিনি বলছেন যে, এই উটগুলো আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যা ছিল এক বৃদ্ধের অতি প্রিয় সম্পদ, যার শরীর বার্ধক্যের কারণে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল এবং সে ছিল অত্যন্ত ঝগড়াটে। বৃদ্ধ বলতে তিনি তার পিতাকে বুঝিয়েছেন, যার রেখে যাওয়া সমস্ত ধন-সম্পদ তারাফা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

(৭) আল-ওয়াযীফু: উটের পায়ের নলি। তাররা: বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গেল। আল-মুয়াইদু: অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

(৮) তিনি বলছেন: বৃদ্ধ উপস্থিতদের বললেন, এই যুবকের আমাদের ওপর ধৃষ্টতা সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? আর কীভাবে আমরা এই যুবককে প্রতিহত করব যে মদ পান করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সেরা উটগুলো জবাই করে আমাদের ওপর যুলুম করছে।

(৯) যারুহু: তাকে ছেড়ে দাও। (নফ-উহা) শব্দের 'হা' সর্বনামটি উটনীর দিকে এবং 'লাহু' শব্দের 'হু' সর্বনামটি তারাফার দিকে ফিরেছে। আল-বারকু: বসে থাকা উটগুলো। ইয়াযদাদু: সেগুলোকে আরও বেশি করে জবাই ও নহর করবে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فظَلَّ الإماءُ يَمْتَلِلْنَ حُوَارَها … ويُسْعَى علينا بالسّدِيفِ المُسَرْهَدِ(1)

فإن مُتُّ فانعِنيني بما أنا أهْلُهُ … وشُقّي عليَّ الجَيْبَ يا ابنَةَ مَعْبَدِ(2)

ولا تَجْعَلِيني كامرىءٍ ليسَ هَمُّهُ … كَهَمّي ولا يُغني غَنائي ومَشهَدي

بطيءٍ عنِ الجُلّى، سريعٍ إلى الخَنى … ذَلُولٍ بأجْماعِ الرّجالِ مُلهَّدِ(3)

فلو كُنْتُ وَغْلاً في الرّجالِ لَضَرّني … عَداوَةُ ذي الأصْحابِ والمُتَوحِّدِ(4)

ولكِنْ نَفى عنّي الرّجالَ جَراءتي … عليهِم وإقدامي وصِدْقي ومَحْتِدي(5)

لَعَمْرُكَ، ما أمْري عليّ بغُمّةٍ … نهاري، ولا لَيلي علىَّ بسَرْمَدِ(6)

ويومَ حَبَسْتُ النّفسَ عِند عِراكِهِ … حِفاظاً على عَوراتِهِ والتّهَدّدِ

على مَوطِنٍ يخْشى الفتى عندَهُ الرّدى … متى تَعْتَرِكْ فيه الفَرائِصُ تُرْعَدِ(7)

وأصفَرَ مَضْبُوحٍ نَظَرْتُ حِوارَهُ … على النارِ واستوْدَعتُهُ كَفَّ مُجمِدِ(8)

ستُبدي لكَ الأيامُ ما كنتَ جاهِلاً … ويأتِيكَ بالأخبارِ مَن لم تُزَوّدِ

ويَأتِيكَ بالأخبارِ مَنْ لم تَبِعْ له … بَتاتاً، ولم تَضْرِبْ له وقْتَ مَوعدِ(9)

--------------------------------------------

(1) الإماء: النساء ومفردها الأمة. يمتللن: يضعن لحمها على الجمر. الحوار: ابن الناقة. السديف: لحم السنام. المسرهد: المربى. وهذا البيت شبيه ببيت ورد في معلقة امرئ القيس حيث يقول:

وظل العذارى يرتمين بلحمها … وشحمٍ مهدَّاب الدمقس المفتلِ

(2) ابنة معبد: ابنة معبد بن العبد شقيق الشاعر. انعيني: أشيعي خبر موتي.

(3) الجلى: المصيبة الداهية. الخنى: السوء والفحشاء. الملهد: المضروب بالكف وفي الأمر كناية عن الذل والمهانة.

(4) الوغل: الضعيف.

(5) محتدي: أصلي.

(6) الغمّة: العتمة والظلمة. السرمد: الذي لا ينتهي.

(7) الردى: الموت. الفرائض: مفردها الفريضة وهي لحمة في أعلى الكتف وأعلى الفخذ ترتجف عند الخوف.

(8) الأصفر: صفة لموصوف محذوف هو القدح. المضبوح: القريب من النار. المجمد: الذي لا حظّ له في لعبة الميسر.

(9) البتات: ثوب المسافر.
দাসীগণ তার উটের বাচ্চার মাংস আগুনে ঝলসাতে লাগল … এবং আমাদের কাছে পরিবেশন করা হতে লাগল উটের কুঁজের চর্বিযুক্ত মাংস(১)

যদি আমি মারা যাই, তবে আমার যা গুণাবলী তার মাধ্যমে আমার মৃত্যুসংবাদ প্রচার করো … আর হে মা'বাদের কন্যা, আমার শোকে তোমার জামার বক্ষদেশ বিদীর্ণ করো(২)

আমাকে এমন কোনো ব্যক্তির মতো গণ্য করো না, যার সংকল্প … আমার সংকল্পের মতো নয় এবং যে আমার মতো কোনো কাজে বা উপস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে না

যে মহৎ কাজে ধীরগতি কিন্তু পাপাচারের দিকে দ্রুতগামী … যে মানুষের হাতে লাঞ্ছিত ও প্রহৃত(৩)

যদি আমি পুরুষদের মধ্যে দুর্বল হতাম, তবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করত … অনেক সঙ্গীবিশিষ্ট কিংবা একাকী শত্রুর শত্রুতা(৪)

কিন্তু মানুষের ওপর আমার সাহসিকতা, বীরত্ব, সত্যবাদিতা … এবং আমার আভিজাত্য আমার শত্রু বাহিনীকে আমা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে(৫)

তোমার জীবনের শপথ! দিনের বেলা আমার কাজ আমার কাছে অস্পষ্ট নয় … আর আমার রাতও আমার ওপর চিরস্থায়ী নয়(৬)

সেই দিনের কথা স্মরণীয়, যখন আমি যুদ্ধের ময়দানে নিজেকে অবিচল রেখেছিলাম … নিজের সম্মান রক্ষা এবং হুমকির মোকাবিলা করার জন্য

এমন এক স্থানে যেখানে বীর যুবকও মৃত্যুর ভয় পায় … যখন সেখানে লড়াই তীব্র হয় এবং ভয়ে মাংসপেশিগুলো কাঁপতে থাকে(৭)

আগুনে তপ্ত হলুদ বর্ণের তীরের মাধ্যমে আমি ভাগ্য পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছি … এবং তা এমন এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করেছি যে খেলায় অংশ নেয় না (যাতে পক্ষপাত না হয়)(৮)

অদূর ভবিষ্যতে দিনগুলো তোমার সামনে তা প্রকাশ করে দেবে যা তুমি জানতে না … এবং তোমার কাছে সংবাদ নিয়ে আসবে এমন কেউ যাকে তুমি কোনো পাথেয় দাওনি

তোমার কাছে খবর নিয়ে আসবে এমন ব্যক্তি, যার কাছে তুমি কোনো … পাথেয় বিক্রি করোনি এবং যার সাথে সাক্ষাতের কোনো সময়ও তুমি নির্ধারণ করোনি(৯)

--------------------------------------------

(১) দাসীগণ: নারীগণ, এর একবচন 'আমা'। তারা ঝলসাতে লাগল: তারা এর মাংস কয়লার ওপর রাখল। আল-হুওয়ার: উটনীর বাচ্চা। আস-সাদিফ: কুঁজের মাংস। আল-মুসারহাদ: পরিপুষ্ট বা চর্বিযুক্ত। এই পঙ্‌ক্তিটি ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকায় বর্ণিত একটি পঙ্‌ক্তির সদৃশ যেখানে তিনি বলেন:

আর কুমারীরা তার মাংস ও পাকানো পশমি সুতার মতো সুন্দর চর্বি নিয়ে লোফালুফি করতে লাগল।

(২) মা'বাদের কন্যা: কবি তারাফার ভাই মা'বাদ বিন আল-আবদ-এর কন্যা। আমার মৃত্যুসংবাদ প্রচার করো: আমার মৃত্যুর খবর সবার কাছে পৌঁছে দাও।

(৩) আল-জুল্লা: মহাবিপদ বা কঠিন পরিস্থিতি। আল-খনা: মন্দ কাজ ও অশ্লীলতা। আল-মুলহাদ: যাকে হাতের তালু দিয়ে প্রহার করা হয়েছে, এটি লাঞ্ছনা ও অপমানের রূপক।

(৪) আল-ওয়াগল: দুর্বল ব্যক্তি।

(৫) মাহতাদি: আমার মূল ভিত্তি বা বংশ।

(৬) আল-গুম্মাহ: অন্ধকার ও অস্পষ্টতা। আস-সারমাদ: যা কখনো শেষ হয় না।

(৭) আর-রাদা: মৃত্যু। আল-ফারায়েদ: এর একবচন ফারিদাহ, এটি কাঁধের ওপরের এবং উরুর ওপরের মাংসপেশি যা ভয়ের সময় কেঁপে ওঠে।

(৮) আল-আসফার: এটি একটি উহ্য বিশেষ্যের গুণবাচক নাম, যা দ্বারা ভাগ্য নির্ধারণী তীর বোঝানো হয়েছে। আল-মাদবুহ: আগুনের তাপে তপ্ত। আল-মুজমিদ: যার ভাগ্য নির্ধারণী খেলায় নিজের কোনো স্বার্থ বা অংশ নেই।

(৯) আল-বাতাত: মুসাফিরের আসবাবপত্র বা পোশাক।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌نبلاء السعي [الخفيف]

في مدح بني المنذر.

ورَكوبٍ تَعزِفُ الجِنُّ به … قبلَ هذا الجيلِ، من عَهدٍ أبَدْ(1)

وَضِبابٍ، سَفَرَ الماءُ بها … غَرِقَتْ أولاجُها غَيرَ السُّدَدْ(2)

فَهْيَ مَوتى، لَعِبَ الماءُ بها، … في غُثاءٍ، ساقَهُ السّيلُ، عُدَد(3)

قد تَبَطّنْتُ بِطِرْفٍ هَيكَلٍ … غَيرِ مَرباءٍ ولا جَأبٍ مُكَدّ(4)

قَائِداً قُدّامَ حَيٍّ سَلَفُوا … غيرَ أنكاسٍ، ولا وُغْلٍ رُفُدْ(5)

نُبَلاءِ السّعْيِ، مِن جُرْثُومَةٍ … تَترُكُ الدّنْيا، وتَنمي للبَعَدْ(6)

--------------------------------------------

(1) الركوب: الطريق الذي اعتاد الناس ركوبه. العزيف: صوت الجن. الجيل: الأمة من الناس. أبد: تقادم.

(2) الضباب: واحدها الضب وهو من الحبوانات. الأولاج: مفردها الولجة وهي المكان الذي يستتر الناس فيه اتقاءً للمطر. السدد: الماء المرتفع.

(3) الغثاء: ما يطفو على وجه الماء من النبات اليابس.

(4) تبطنت: أصبحت في بطنه. الطرف الهيكل: المهر الكريم الطويل. المرباء: الذي في مشيه ثقل. المد: المضروب بالسوط.

(5) الأنكاس: واحدها النكس وهو الجبان. الوغل: واحدها الوغيل وهو الضعيف. الرفد: مفردها الرفود وهو الكريم الجواد.

(6) الجرثومة: الأصل. الدنيا: الأشياء الصغيرة. تنمي: ترتفع.
প্রচেষ্টার মহানুভবগণ [খফীফ ছন্দ]

বনু মুনযিরের প্রশংসায়।

আর এক সুগম পথ যেখানে জিনরা সুর তোলে … এই প্রজন্মের আগে, অনাদি কাল থেকে(১)

আর কিছু গুই সাপ, যাদের আবাসস্থলে পানি বয়ে গিয়েছে … তাদের প্রবেশের গর্তগুলো ডুবে গেছে উঁচু স্থানগুলো ব্যতীত(২)

সেগুলো মৃতপ্রায়, পানি তাদের নিয়ে খেলছে, … স্রোতের বয়ে আনা স্তূপীকৃত আবর্জনার মাঝে(৩)

আমি এক সুঠামদেহী অভিজাত ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়েছি … যে মন্থর নয় এবং চাবুক খাওয়া কোনো ক্লান্ত পশু নয়(৪)

এক অতিবাহিত হওয়া গোত্রের সামনে আমি নেতৃত্বদানকারী … যারা ভীরু নয়, দুর্বল নয়, বরং দানশীল(৫)

প্রচেষ্টায় মহানুভব, এমন এক বংশীয় মূল থেকে … যারা তুচ্ছতা পরিহার করে এবং উচ্চতার দিকে ধাবিত হয়(৬)

--------------------------------------------

(১) আর-রুকুব: এমন পথ যা মানুষ চলাচলের জন্য অভ্যস্ত। আল-আযীফ: জিনের আওয়াজ। আল-জীল: মানুষের জাতি বা সম্প্রদায়। আবাদ: অতি প্রাচীন হওয়া বা সময়ের দীর্ঘতা।

(২) আদ-দ্বিবাব: এর একবচন ‘দ্বব’ (মরুভূমির গুই সাপ সদৃশ প্রাণী)। আল-আওলাজ: এর একবচন ‘ওয়ালাজাহ’, যা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষের আশ্রয়ের স্থান। আস-সুদাদ: উত্তাল বা উঁচুতে থাকা পানি।

(৩) আল-গুছা: পানির উপরে ভাসমান শুষ্ক লতাপাতা ও খড়কুটো।

(৪) তুবাত্তানতু: আমি তার অভ্যন্তরে বা পিঠে অবস্থান নিয়েছি। আত্ব-ত্বরফুল হাইকাল: দীর্ঘদেহী উন্নত জাতের ঘোড়া। আল-মিরবা: যার চলনে জড়তা বা ভারি ভাব আছে। আল-মুকাদ্দ: চাবুক দ্বারা প্রহৃত।

(৫) আল-আনকাস: এর একবচন ‘নিকস’, যার অর্থ ভীরু। আল-ওয়াগল: এর একবচন ‘ওয়াগীল’, যার অর্থ দুর্বল। আর-রিফদ: এর একবচন ‘রাফূদ’, যার অর্থ দানশীল ও মহানুভব।

(৬) আল-জুরছুমাহ: মূল বা ভিত্তি। আদ-দুনিয়া: তুচ্ছ বা ছোট বিষয়সমূহ। তানমী: বৃদ্ধি পাওয়া বা উন্নীত হওয়া।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يَزَعونَ الجَهلَ في مَجْلِسِهِمْ … وهُمُ أنصارُ ذي الحِلمِ الصَّمَد(1)

حُبُسٌ في المَحْلِ، حتى يُفسِحوا … لابتِغاءِ المجدِ، أو تَركِ الفَنَد(2)

سُمَحاءُ الفَقرِ، أجوادُ الغِنى … سادة ُ الشِّيبِ، مَخارِيقُ المُرُد(3)

--------------------------------------------

(1) يزعون: يمنعون. ذو الحلم: صاحب العقل الراجح. الصمد: المعروف بالمروءة.

(2) المحل: القحط والجدب. الفند: اللؤم.

(3) السمحاء: الأجواد الكرماء. المخاريق: مفردها المخراق وهو الكثير الكرم. المرد: واحدها الأمرد وهو الشاب الذي لم يلتح بعد.
তারা তাদের মজলিসে মূর্খতাকে প্রতিহত করে … এবং তারা প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের অধিকারীর সাহায্যকারী(১)

দুর্ভিক্ষের সময় তারা সংযত থাকে, যতক্ষণ না তারা অকৃপণভাবে দান করে … গৌরবের অন্বেষণে অথবা হীনতা ত্যাগের তরে(২)

দরিদ্র অবস্থায় তারা মহানুভব, সচ্ছলতায় দানশীল … তারা প্রবীণদের সরদার এবং অত্যন্ত দানশীল যুবক(৩)

--------------------------------------------

(১) 'ইযআউন': তারা প্রতিহত করে। 'যুল হিলম': প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। 'আস-সামাদ': বীরত্ব ও মহানুভবতার জন্য সুপরিচিত ব্যক্তি।

(২) 'আল-মাহল': দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি। 'আল-ফান্দ': হীনতা বা নীচতা।

(৩) 'আস-সামহা': দানশীল ও উদার ব্যক্তিবর্গ। 'আল-মাখারিক': এর একবচন হলো 'আল-মিখরাক', যার অর্থ অত্যন্ত দানশীল। 'আল-মুরুদ': এর একবচন হলো 'আল-আমরাদ', অর্থাৎ সেই যুবক যার এখনও দাড়ি ওঠেনি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌أرى الموت [الطويل]

إذا أنْتَ لم تَنفَعْ بوِدّكَ قُرْبَة … ولم تَنْكِ بالبُؤْسَى عدُوَّكَ فابْعَدِ(1)

أرى الموتَ لا يُرعي على ذي قَرابةٍ … وإنْ كان في الدّنْيا عزيزاً بمَقعَدِ

إذا شَاءَ يوْماً قادَهُ بِزِمَامِهِ … ومنْ يكُ في حَبْلِ المَنيّة ِ يَنْقَدِ

ولا خيرَ في خيرٍ ترى الشَّرَّ دونَهُ … ولا قائلٍ يأتِيكَ بعدَ التَّلَدُّدِ(2)

لَعَمْرُكَ! ما الأيامُ إلاّ مُعارَةٌ … فما اسطَعْتَ مِن مَعرُوفِها فتزَوّدِ(3)

عنِ المرْءِ لا تَسألْ وسَلْ عن قَرينه … فكُلُّ قَرينٍ بالمُقَارِنِ يَقْتَدي

--------------------------------------------

(1) تُنكى: تُقهر. البؤسى: من البؤس وهو الفقر والشدة.

(2) التلدد: الإقامة في المكان. والمعنى أنه لا فائدة ترجى من خيرٍ يعقبه قسر ولا من مكان تقيم فيخ ويقصدك إليه من كان لك عليه ثأر.

(3) اسطعت: استطعت.
আমি মৃত্যুকে দেখি [তবিল ছন্দ]

যদি তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে নিকটাত্মীয়ের কোনো উপকার করতে না পারো … আর তোমার শত্রুকে বিপদে পর্যুদস্ত করতে না পারো, তবে তুমি দূর হও(১)

আমি দেখি মৃত্যু কোনো আত্মীয়তার খাতির করে না … যদিও সে পৃথিবীতে উচ্চাসনে আসীন কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তি হয়

সে (মৃত্যু) যেদিন চায় তাকে তার লাগাম ধরে টেনে নিয়ে যায় … আর যে মৃত্যুর রশিতে আবদ্ধ হয়, সে অনুগত হয়ে চলে

এমন কল্যাণে কোনো কল্যাণ নেই যার আগে তুমি অকল্যাণ দেখতে পাও … আর না এমন কোনো কথা প্রদানকারীর মাঝে যে দ্বিধা বা বিলম্বের পর তোমার কাছে আসে(২)

তোমার জীবনের শপথ! দিনগুলো তো কেবল ধারের বস্তু মাত্র … তাই এর ভালো কাজগুলো থেকে যতটুকু পারো পাথেয় সংগ্রহ করে নাও(৩)

ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না, বরং তার সঙ্গী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো … কারণ প্রত্যেক সঙ্গীই তার সাথীকে অনুসরণ করে

--------------------------------------------

(১) তুনকা: পরাজিত হওয়া বা পর্যুদস্ত হওয়া। আল-বুসয়া: আল-বুস থেকে আগত, যার অর্থ দারিদ্র্য ও কঠোরতা।

(২) আত-তালাদ্দুদ: কোনো স্থানে অবস্থান করা। অর্থ হলো—এমন কল্যাণ থেকে কোনো উপকার আশা করা যায় না যার পেছনে বাধ্যবাধকতা থাকে, কিংবা এমন স্থানে অবস্থান করা থেকে যেখানে তোমার প্রতিপক্ষ প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তোমাকে খুঁজছে।

(৩) ইসতাতা: সামর্থ্য রাখা বা সক্ষম হওয়া।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌أبناء لُبنة [الكامل]

أبَني لُبَيْنَى، لَسْتُمُ بِيَدٍ … إلّا يَداً لَيْسَتْ لَهَا عَضُدُ!(1)

 

الخير خير [البسيط]

الخيرُ خيرٌ، وإنْ طالَ الزّمانُ به … والشّرُّ أخبثُ ما أوعيتَ من زادِ(2)

--------------------------------------------

(1) لُبينى: تصغير لبن وهو اسم امرأة.

(2) أوعيت: حفظت في الوعاء.
লুবনার সন্তানগণ [কামিল]

হে লুবাইনার সন্তানগণ, তোমরা কোনো শক্তিশালী হাত নও … তবে এমন হাত যার কোনো বাহু নেই!(১)

 

কল্যাণই কল্যাণ [বাসিত]

কল্যাণই কল্যাণ, যদিও তার ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় … আর মন্দ হলো পাথেয় হিসেবে তোমার সঞ্চিত নিকৃষ্টতম বস্তু।(২)

--------------------------------------------

(১) লুবাইনা: লুবনা শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, এটি একজন নারীর নাম।

(২) তুমি পাত্রস্থ করেছ: অর্থাৎ তুমি পাত্রে হিফাজত বা সংরক্ষণ করেছ।
(খণ্ড: ১) দিওয়ান তুরাফাহ বিন আল-আবদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌قافية الراء

 

‌‌القوم الكرام [السريع]

إنّي منَ القَوْمِ الذينَ، إذا … أزِمَ الشّتَاءُ ودوخِلَتْ حُجَرُهْ(1)

يوماً، ودونِيَتِ البُيُوتُ له … فثَنى قُبيلَ رَبِيعِهِمْ قِرَرُهْ(2)

رَفَعُوا المَنِيحَ، وكانَ رِزْقَهُمُ … في المُنْقِيَاتِ، يُقِيمُهُ يَسَرُهْ(3)

شَرْطاً قَويماً ليس يَحْبِسُهُ … لمّا تَتَابَعَ وِجْهَةً عُسُرُه(4)

تَلقى الجِفانَ بكُلّ صادِقَةٍ … ثُمّتْ تُرَدَّدُ بَيْنهُمْ حِيَرُهْ(5)

وترى الجِفانَ، لدى مجالِسِنا … مُتَحَيَّراتٍ، بَيْنَهُمْ سُؤُرُهْ(6)

فكأنَّها عَقْرَى لدى قُلُبٍ … يَصْفَرُّ مِنْ أغرابِها، صَقَرُهْ(7)

إنَّا لَنَعْلَمُ أنْ سَيُدْركُنَا … غَيْثٌ يُصِيبُ سَوامَنا مَطَرُهْ(8)

--------------------------------------------

(1) أزم الشتاء: اشتد. دوخلت الحجرات: وُضعت الغرف ضمن بعضها إتقاءً للبرد.

(2) ثنى: طوى وعطف. القرر: مفردها القره ومعناه البرد.

(3) المنيح: قدح ثانوي في لعبة الميسر لا حظ له. المنقيات: مفردها المنقية وهي الناقة السمينة. اليسر: القوم الذي يلعبون الميسر.

(4) العسر: الضيق والشدة.

(5) الجفان: مفردها الجفنة وهي القطعة أو وعاء الطعام الكبير. الصادقة: الناقة الكثيرة اللحم والشحم. تردد بينهم: تنقل من الواحد إلى الآخر. الحيِّر: قطع اللحم.

(6) المتحيرات: الممتلئات. السؤر: البقايا.

(7) العقرى: الجريحة والمعقورة. القُلُب: مفردها القليب وهي البئر. الأغراب: الماء الموجود حول البئر. الصقر: بقية الماء الآسن.

(8) الغيث: المطر. السوام: الإبل الراعبة.
‘রা’ বর্ণের অন্ত্যমিল

 

‌উদার ও মহৎ ব্যক্তিবর্গ [আস-সারী’ ছন্দ]

নিশ্চয়ই আমি এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যখন … শীত তীব্র রূপ ধারণ করে এবং (শীত নিবারণের জন্য) কক্ষগুলো একটির ভেতর অন্যটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।(১)

একদিন, যখন ঘরগুলোকে তার (শীতের) কারণে কাছাকাছি নিয়ে আসা হয় … তখন তাদের বসন্ত আসার পূর্বেই তার প্রচণ্ড শীত স্তিমিত হয়ে পড়ে।(২)

তারা ‘মানীহ’ (তীর) উত্তোলন করল, আর তাদের রিযিক ছিল … হৃষ্টপুষ্ট উষ্ট্রীসমূহের মধ্যে, যা জুয়াড়িদের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতো।(৩)

এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার, যা তাকে আটকে রাখে না … যখন চারদিক থেকে ক্রমাগত সংকট ঘনীভূত হতে থাকে।(৪)

তুমি প্রতিটি মাংসল উষ্ট্রীর কারণে পূর্ণ বড় বড় পাত্র দেখতে পাবে … অতঃপর মাংসের টুকরোগুলো তাদের মাঝে আবর্তিত হতে থাকে।(৫)

এবং তুমি আমাদের মজলিসগুলোতে বড় বড় পাত্রগুলো দেখতে পাবে … কানায় কানায় পূর্ণ অবস্থায়, যেগুলোর অবশিষ্টাংশ তাদের মাঝে রয়ে যায়।(৬)

সেগুলো যেন কূয়ার নিকট পড়ে থাকা যখম হওয়া উট … যার চারপাশের বদ্ধ পানির অবশিষ্টাংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে।(৭)

নিশ্চয়ই আমরা জানি যে, শীঘ্রই আমাদের নিকট এমন এক … বৃষ্টি আসবে, যার বারিধারা আমাদের চারণরত উষ্ট্রপালকে সিক্ত করবে।(৮)

--------------------------------------------

(১) শীত তীব্র হওয়া। কক্ষগুলো একটির ভেতর অন্যটি স্থাপন করা: শীত থেকে বাঁচার জন্য প্রকোষ্ঠগুলোকে সংকুচিত বা ঘনিষ্ঠ করা।

(২) সানা: গুটিয়ে নেওয়া বা স্তিমিত করা। আল-কুরর: এর একবচন ‘আল-কুররাহ’, যার অর্থ প্রচণ্ড শীত।

(৩) আল-মানীহ: মায়সির (জুয়া) খেলায় ব্যবহৃত একটি গৌণ তীর যার কোনো অংশ নির্ধারিত থাকে না। আল-মুনকিয়াত: এর একবচন ‘আল-মুনকিয়াহ’, যার অর্থ হৃষ্টপুষ্ট উষ্ট্রী। আল-ইয়াসার: সেই সম্প্রদায় যারা মায়সির বা জুয়া খেলে।

(৪) আল-উসর: সংকীর্ণতা ও কঠিন অবস্থা।

(৫) আল-জিফান: এর একবচন ‘আল-জিফনাহ’, যার অর্থ বড় পাত্র। আস-সাদিকাহ: প্রচুর মাংস ও চর্বিযুক্ত উষ্ট্রী। তাদের মাঝে আবর্তিত হওয়া: একজনের থেকে অন্যজনের কাছে স্থানান্তরিত হওয়া। আল-হিয়ার: মাংসের টুকরোসমূহ।

(৬) আল-মুতাহাইয়িরাত: কানায় কানায় পূর্ণ। আস-সু’র: অবশিষ্টাংশ বা উচ্ছিষ্ট।

(৭) আল-আকরা: আহত বা জখম হওয়া পশু। আল-কুলুব: এর একবচন ‘আল-কালীব’, যার অর্থ কূয়া। আল-আগরিব: কূয়ার চারপাশের পানি। আস-সাকর: বদ্ধ বা পচা পানির অবশিষ্টাংশ।

(৮) আল-গাইস: বৃষ্টি। আস-সাওয়াম: চারণভূমিতে বিচরণকারী উট।