(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على حسن الضالعي - ضمن «آثار المعلمي» القسم: الفرق والردود
الكتاب: الرد على حسن الضالعي
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (6)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: عدنان بن صفا خان البخاري
راجعه: مُحَمَّد أجمَل الإصلَاحِي - سُعُود بن عَبد العزيز العُريفي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
হাসান আদ-দালেয়ীর খণ্ডন - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’ এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডন
গ্রন্থ: হাসান আদ-দালেয়ীর খণ্ডন
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (৬)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
তাহকিক: আদনান বিন সাফা খান আল-বুখারি
নিরীক্ষণ: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সউদ বিন আবদুল আজিজ আল-উরাইফি
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়ায়িদ প্রকাশনী এবং বিতরণ কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছে: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
الرسالة السادسة
الردّ على حسن الضَّالعي
ষষ্ঠ পত্র
হাসান আদ-দালি’ঈ-র খণ্ডন
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم
[ص 3]
(1) [الحمد لله الذي لم يتَّخذ ولدًا، ولم يكن] له شريكٌ في الملك، ولم يكن له وليٌّ من الذُّلِّ وكبِّره تكبيرًا، [وصلَّى الله على نبينا محمِّد،] الذي أنزلت عليه: {وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي [مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ] وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا} [الإسراء: 80]، وعلى آله وأصحابه، [ومن تبعهم بإحسان، وسلَّم] تسليمًا كثيرًا، أمَّا بعد.
فإنِّي عند وجودي بعَدَن، أواخر سنة 1341 هـ[بلغني عن رجلٍ يُدعَى] السيِّد حسن باهارون كان مقيمًا بالضَّالع ثم بيافع، يدعو الناس [إلى بعض العقائد الباطنية الحلوليَّة]، سيأتي ذكر شيءٍ منها إن شاء الله. وإنَّه قد اتَّبعه خَلْقٌ كثيرٌ، وألَّف جماعةٌ من العلماء في الإنكار [على أقواله وضلاله].
[ومنهم] شيخنا، إمام الشريعة والحقيقة في وقته، الشيخ العلَّامة سالم بن عبد الرحمن باصهي، ثم السَّيِّد [
… ]، ثمَّ السيِّد [
…(2)].
وسألني بعض الإخوان أن أحذو حذوهم، بكتابة رسالةٍ في هذه القضيَّة، فاعتذرت بقصوري، ثمَّ تذكَّرتُ قول صاحب الهمزيَّة
(3):
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[পৃষ্ঠা ৩]
(১) [সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং] রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই, আর যিনি লাঞ্ছনা থেকে রক্ষাকারী কোনো অভিভাবকের মুখাপেক্ষী নন; এবং আপনি তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন যথাযথভাবে। [এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর,] যাঁর ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে: {এবং বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রবেশ করান [সত্যনিষ্ঠভাবে এবং আমাকে বের করুন সত্যনিষ্ঠভাবে] আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি} [আল-ইসরা: ৮০]; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, [এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর, এবং বর্ষিত হোক] প্রচুর পরিমাণে শান্তি ও সালাম। অতঃপর।
আমি যখন ১৩৪১ হিজরি সনের শেষভাগে আদেন শহরে অবস্থান করছিলাম, [তখন জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পারি যাকে ডাকা হয়] সাইয়্যিদ হাসান বাহারুন নামে। তিনি আদ-দালি ও পরবর্তীতে ইয়াফিতে অবস্থান করতেন। তিনি মানুষকে [কিছু বাতেনি হুলুলি (অনুপ্রবেশবাদী) আকিদার দিকে] আহ্বান জানাচ্ছিলেন; ইনশাআল্লাহ এর কিছু বিবরণ সামনে আসবে। তাঁর অনুসারী হিসেবে বহু লোক জুটে গিয়েছিল এবং একদল আলেম তাঁর [বক্তব্য ও ভ্রান্তির] প্রতিবাদে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
[তাঁদের মধ্যে রয়েছেন] আমাদের শায়খ, সমকালীন শরীয়ত ও হাকিকতের ইমাম, শায়খ আল্লামা সালিম বিন আব্দুর রহমান বাসহি; এরপর সাইয়্যিদ [
… ], এরপর সাইয়্যিদ [
…(২)]।
কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে এই বিষয়ে একটি পুস্তিকা লিখে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার অনুরোধ করেন। আমি নিজের অক্ষমতা জানিয়ে ওজর পেশ করলাম, কিন্তু পরক্ষণেই 'হামজিয়্যাহ'
(৩) কাব্যগ্রন্থের লেখকের উক্তিটি আমার মনে পড়ে গেল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
وائْتِ بالمُسْتَطاعِ مِن عَمَلِ الْبِرْ
… ـرِ فقد تُسقِطُ الثِّمارَ الإتاءُ
مع أنِّي تصفَّحتُ بعض تلك الرسائل، فرأيتها منسوجةً بالحِدَّة والغضب، وذلك وإن كان محمودًا في الشَّرع لكن الأَولى في خطاب الجُهَّال الرِّفق واللِّين، والسَّعي في إيضاح الحقائق باللُّطف والحِكمة، لأنَّ الجهل داءٌ عَيَاءٌ، لا يتيسَّر له دواءٌ إلَّا إذا وُجِد طبيبٌ حاذقٌ.
وليس القصد من التَّأليف في هذه القضيَّة مجرَّد إقامة الحُجَّة والخروج من عهدة السُّكوت، بل القصد مع ذلك إنقاذ هؤلاء المساكين من تخبُّطات الشياطين.
وقد عزمتُ ــ مستعينًا بالله تعالى ــ على كتابة أوراق في هذا الصَّدد، تنحصر في مقدِّمة وفصول.
المقدِّمة: فيما بلغني عن هذا الرجل وأصحابه، بأسانيدها.
[ص 5] الفصل الأوَّل: في وحدة الوجود التي يلهج بها المتصوِّفة، وبيان عقائد أئمَّة الصوفيَّة.
الفصل الثاني: في معنى الوحدة عند المتطرِّفين، وما يشبه ذلك من مقالات الفرق، والأدلَّة المناقضة لذلك من العقل والنقل.
الفصل الثالث: في حكم من دعا إلى ذلك، أو اعتقد، أو شكَّ، أو سكت.
الخاتمة ــ ختم الله لنا بخير الدنيا والآخرة ــ: في أحاديث واردة في التَّحذير من الدَّجاجلة، أعاذنا الله والمسلمين من شرِّهم.
আর পুণ্যকর্মের মধ্য থেকে সাধ্যানুযায়ী সম্পাদন করো
… কেননা দানশীলতা ফলকে অবনত করে দিতে পারে।
যদিও আমি সেই পত্রিকাসমূহের কিছু অংশ পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে তীব্রতা ও ক্রোধে রঞ্জিত দেখতে পেয়েছি; আর তা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসনীয় হলেও অজ্ঞদের সম্বোধন করার ক্ষেত্রে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন এবং দয়া ও প্রজ্ঞার সাথে সত্য উন্মোচনে সচেষ্ট হওয়াই শ্রেয়। কেননা মূর্খতা এমন এক কঠিন ব্যাধি, যার প্রতিকার কোনো দক্ষ চিকিৎসকের উপস্থিতি ব্যতীত সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য কেবল অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন এবং নীরব থাকার দায়ভার থেকে মুক্তি পাওয়া নয়, বরং এর পাশাপাশি মূল লক্ষ্য হলো এই অসহায় মানুষগুলোকে শয়তানের বিভ্রান্তি থেকে উদ্ধার করা।
তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এই বিষয়ে কিছু পৃষ্ঠা রচনার সংকল্প করেছি, যা একটি ভূমিকা ও কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত।
ভূমিকা: এই ব্যক্তি এবং তার অনুসারীদের সম্পর্কে সূত্রসহ আমার নিকট যা পৌঁছেছে সেই প্রসঙ্গে।
[পৃষ্ঠা ৫] প্রথম পরিচ্ছেদ: 'ওয়াহদাতুল উজুদ' (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) প্রসঙ্গে যা সুফিদের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় এবং সুফি ইমামগণের আকিদাহ বা বিশ্বাসের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চরমপন্থীদের নিকট 'অদ্বৈতবাদ'-এর অর্থ এবং বিভিন্ন ফিরকার সদৃশ মতবাদসমূহ, আর এগুলোর বিপক্ষে যৌক্তিক ও শাস্ত্রীয় প্রমাণের বিবরণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান করে, অথবা তা বিশ্বাস করে, অথবা এ নিয়ে সংশয় পোষণ করে, কিংবা নীরব থাকে—তার বিধান প্রসঙ্গে।
উপসংহার —আল্লাহ আমাদের ইহকাল ও পরকাল কল্যাণময় করুন—: দাজ্জাল বা প্রতারকদের সম্পর্কে সতর্কবাণী সম্বলিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে; আল্লাহ আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তাদের অনিষ্ট হতে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
المقدِّمة
سمعتُ شيخنا إمام الحقِّ والحقيقة، السيِّد محمد بن علي بن إدريس قدَّس الله سِرَّه مرارًا يخبر عن هذا الرجل المدعو السَّيِّد حسن الضَّالعي أنَّه كان في صَبْيَا يتظاهر بالحلول والاتِّحاد، بحيث يرى الشيء كالرجل والبقرة والشاة والدَّابة، فيشير إليه قائلًا: "هذا الله"!
وقال شيخنا ــ قُدِّس سرُّه ـ: وألَّف شيخنا الإمام سالم بن عبد الرحمن باصهي رحمه الله رسالةً في الردِّ عليه سمَّاها "كشف الغطا".
وقد ذكر سيِّدنا ــ قُدِّس سرُّه ــ هذا الرجل في مؤلَّفٍ له، وحكى عنه نحو ما مرَّ، إلى أن قال: "والعجب أنَّ هذا الرجل كان يظنُّ أنَّ شيخنا ــ قُدِّس سرُّه ــ لا يعرف شيئًا من علوم القوم، ولم يَدْرِ أنَّه إمام التوحيد الخاص في زمانه.
وفي أوائل 1338 هـ وصل إلى جِيزان سيِّدٌ من أهل الضَّالع، قافلًا من الحج، وأخبرني عن هذا الرجل بمثل ما مرَّ سابقًا، وأنَّه يتَّخذ له تلاميذ ويسوسهم، حتى إذا وثق بأحدهم أخذ عليه المواثيق المغلَّظة، ثم يقول له: اعبد نفسك". وحكى عنه غير ذلك.
وأخبرت شيخنا ــ قُدِّس سِرُّه ــ حينئذٍ، فذكر لي مثل ما مرَّ سابقًا، وزاد أنَّه وصل إليه كتابٌ من الرجل المذكور قائلًا: "إنَّ والدكم هو شيخ فتحي، يريد والد شيخنا الإمام علي بن محمد بن أحمد بن إدريس رضي الله عنهم". وأنكر شيخنا ــ قُدِّس سِرُّه ــ ذلك.
ভূমিকা
আমি আমাদের শাইখ, সত্য ও হাকিকতের ইমাম, আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইদ্রিস (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন)-কে বারবার এই ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিতে শুনেছি, যাকে সাইয়্যিদ হাসান আদ-দালিঈ বলা হতো। তিনি বলতেন যে, ওই ব্যক্তি সাবয়্যা অঞ্চলে হুলুল (সৃষ্টিতে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) ও ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির একীভূত হওয়া)-এর মিথ্যা প্রকাশ করত; এমনকি সে মানুষ, গরু, বকরি বা চতুষ্পদ জন্তুর মতো কোনো কিছু দেখলে সেদিকে ইশারা করে বলত: "এই তো আল্লাহ!"
আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) বলেছেন: আমাদের শাইখ ইমাম সালিম ইবনে আবদুর রহমান বাসহি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর খণ্ডনে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "কাশফুল গিতা" (আবরণ উন্মোচন)।
আমাদের সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) তাঁর একটি গ্রন্থে এই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে পূর্বোক্ত কথার মতোই বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি পরিশেষে বলেছেন: "আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ব্যক্তি ধারণা করত যে আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) এই সম্প্রদায়ের (সুফি সাধকদের) জ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানেন না; অথচ সে জানত না যে, তিনি ছিলেন তাঁর যুগের বিশেষ একত্ববাদতত্ত্বের (তাওহিদে খাস) ইমাম।"
১৩৩৮ হিজরি সনের শুরুর দিকে আদ-দালি'র অধিবাসী এক সাইয়্যিদ হজ থেকে ফেরার পথে জিজানে আগমন করেন। তিনি আমাকে এই ব্যক্তি সম্পর্কে পূর্বোক্ত বিবরণের মতোই সংবাদ প্রদান করেন। তিনি জানান যে, সে নিজের জন্য কিছু শিষ্য গ্রহণ করে এবং তাদের পরিচালনা করে; যখন সে তাদের কারো ওপর পূর্ণ আস্থা পায়, তখন তার কাছ থেকে কঠোর অঙ্গীকার গ্রহণ করে এবং এরপর তাকে বলে: "তোমার নিজের উপাসনা করো।" তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও অন্যান্য তথ্যও বর্ণনা করেছেন।
আমি তখন আমাদের শাইখকে (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে পূর্বের মতোই তথ্য প্রদান করেন এবং অতিরিক্ত হিসেবে বলেন যে, ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁর কাছে একটি পত্র এসেছিল যেখানে সে বলেছিল: "নিশ্চয়ই আপনার পিতা হলেন শাইখ ফাতহি"—এর দ্বারা সে আমাদের শাইখ ইমাম আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইদ্রিস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পিতাকে উদ্দেশ্য করেছিল। আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) তা অস্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
[ص 8] وأخبرني السَّيِّد العلَّامة محمد بن حيدر النُّعمي
(1)، والشيخ الفاضل محمد إبراهيم صديق [
… ] وغيرهما أنَّ الرجل المذكور عند وجوده بصَبْيَا كان يشير إلى أي شيءٍ يراه قائلًا: "هذا الله"!
وههنا في عَدَن وقفتُ على كرَّاسةٍ منسوبةٍ إلى رجلٍ يُدعَى صالح الطيَّار، ذكر فيها سنده عن هذا الرجل عن الشيخ حسَّان عن الفاسي، إلى آخر ما ذكر.
فذكرت ما مرَّ من كتابته إلى شيخنا ــ قُدِّس سِرُّه ــ أنَّ والده هو شيخُ فتْحِهِ، وما بينه وبين هذا من التنافي، فكأنَّه اعتمد قول عمران بن حِطَّان
(2):
يومًا يمانٍ إذا لاقَيْتُ ذا يمَنٍ
… وإن لقِيتُ معدِّيًّا فعَدْناني
كأنَّه عندما كتب إلى شيخنا ــ قُدِّس سِرُّه ــ أراد التقرُّب إليه بمشيخة والده، ولمَّا كان بهذه الجهة القريبة من جهة الشيخ حسَّان المعتقدَة فيه= تقرَّبَ إليهم بذلك.
وقد لقيتُ هنا بعدن بعض المعتقدين فيه وأخبر أنه يذكر أنَّ شيخنا الإمام ــ قُدِّس سِرُّه ــ من تلامذته، وهذا عجيب؛ فإنِّي بحمد الله تعالى
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৮] এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বিজ্ঞ আল্লামা সায়্যিদ মুহাম্মদ বিন হায়দার আল-নু’মি
(১) ও ফযীলতপূর্ণ শায়খ মুহাম্মদ ইব্রাহিম সিদ্দিক [
… ] এবং আরও অনেকে যে, উক্ত ব্যক্তি সাবইয়া-তে থাকাকালীন যা কিছু দেখতেন সেদিকে ইঙ্গিত করে বলতেন: "এটাই আল্লাহ!"
এবং এখানে আদনে আমি সালিহ আল-তাইয়্যার নামক এক ব্যক্তির প্রতি নিসবতকৃত একটি পুস্তিকা হাতে পেয়েছি, যাতে তিনি এই ব্যক্তির মাধ্যমে শায়খ হাসসান থেকে এবং আল-ফাসি থেকে তাঁর সনদ বর্ণনা করেছেন; তাঁর বর্ণনার শেষ পর্যন্ত এভাবেই রয়েছে।
আমি আমাদের শায়খ—তাঁর গূঢ় রহস্য পবিত্র করা হোক—এর কাছে প্রেরিত তাঁর সেই পত্রের কথা উল্লেখ করেছি যে তাঁর পিতাই হলেন তাঁর আধ্যাত্মিক উন্মেষ (ফাতহ)-এর শায়খ। পূর্ববর্তী বর্ণনার সাথে এর যে বৈপরীত্য রয়েছে, তা দেখে মনে হয় যেন তিনি ইমরান বিন হিত্তান
(২)-এর উক্তির ওপর নির্ভর করেছেন:
কোনো দিন আমি ইয়ামানি যখন কোনো ইয়ামানির দেখা পাই
… আর যদি কোনো মাআদ্দির দেখা পাই তবে আমি আদনানি
মনে হচ্ছে, তিনি যখন আমাদের শায়খ—তাঁর গূঢ় রহস্য পবিত্র করা হোক—এর কাছে লিখেছিলেন, তখন তিনি তাঁর পিতার শায়খ হওয়ার সূত্রে শায়খের নৈকট্য পেতে চেয়েছিলেন। আবার যখন তিনি শায়খ হাসসানের অনুসারীদের এই অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন—যাঁকে তারা বিশেষ শ্রদ্ধাভক্তি করে—তখন তিনি সেই পরিচয়ে তাদের কাছে ঘনিষ্ট হতে চাইলেন।
আমি এখানে আদনে তাঁর প্রতি আস্থাশীল কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তারা জানায় যে, তিনি নাকি বলে থাকেন আমাদের শায়খ ইমাম—আল্লাহ তাঁর পবিত্র রহস্য উচ্চকিত করুন—তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত। এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর; কারণ আমি মহান আল্লাহর প্রশংসার সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
لازمت شيخنا نحو ست سنين لا يكاد يخلو قومٌ منها [أن أذاكره] في العلوم النافعة، وهو ينكر هذا [
… ].
ومع هذا فقد ذكر لي بعض الإخوان أنَّ هذا السَّند الذي حكاه الطيَّار لا يطابق سند الشيخ حسَّان. وقد تصفَّحتُ الكرَّاسة المذكورة فوجدتُه بناها على تأويل بعض آيات وأحاديث، يشوِّه وجوهها ويغيِّر ألفاظها!
منها قوله: "وقال صلى الله عليه وسلم لسيِّدنا جبريل عليه السلام: "يا أخي جبريل، أتدري كم لك في العمر"؟ قال: لا أعلم، ولكن يا سيِّدي إنِّي أشوف نجم غرار، كان يظهر بعد كلِّ سبعين ألف سنة مرَّةً واحدةً، وقد شُفْتُهُ سبعين ألف مرَّةٍ. قال له صلى الله عليه وسلم: "أنا ذلك النجم الغرار". قال: صدقت، وبالحق نطقت"
(1)!
فأنت ترى هذا الحديث ــ على علَّاته ــ كيف مسَخَه وشوَّهه.
وقال: "وقال صلى الله عليه وسلم: "علماء أمَّتي كأنبياء بني إسرائيل"
(2). قال: إذْ اسْمُ النبوَّة ممنوعٌ بعده صلى الله عليه وسلم. ويُفهم من هذا أنَّه لم يمنع إلَّا الاسم فقط!
وقال: "وكذلك أهل السلسلة المباركة اتَّصلوا بسِرِّه، من شيخ في شيخ،
--------------------------------------------
আমি আমাদের শায়খের সান্নিধ্যে প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত করেছি, এমন কোনো মজলিস অতিবাহিত হতো না বললেই চলে যাতে আমি তাঁর সাথে উপকারী জ্ঞানসমূহ নিয়ে মুজাকারা (আলোচনা) না করতাম; অথচ তিনি এটি অস্বীকার করতেন [
…]।
তা সত্ত্বেও কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে জানিয়েছেন যে, আত-তৈয়্যার যে সনদের কথা বর্ণনা করেছেন তা শায়খ হাসানের সনদের সাথে মিলে না। আমি উল্লেখিত পুস্তিকাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি যে, তিনি এটি কিছু আয়াত ও হাদীসের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন, যার মর্মার্থকে তিনি বিকৃত করেছেন এবং শব্দাবলী পরিবর্তন করেছেন!
এর মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নেতা জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বললেন: 'হে ভাই জিবরাঈল! তোমার বয়স কত তুমি কি জানো?' তিনি বললেন: 'আমি জানি না, তবে হে আমার মনিব! আমি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতাম যা প্রতি সত্তর হাজার বছর অন্তর একবার উদিত হতো, আর আমি সেটি সত্তর হাজার বার দেখেছি।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: 'আমিই ছিলাম সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র।' জিবরাঈল (আ.) বললেন: 'আপনি সত্য বলেছেন এবং হকের সাথেই কথা বলেছেন'"
(১)!
আপনি দেখছেন যে, এই হাদীসটি—তার সকল ত্রুটি সত্ত্বেও—তিনি কীভাবে বিকৃত ও কলঙ্কিত করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: 'আমার উম্মতের উলামায়ে কেরাম বনী ইসরাঈলের নবীদের সদৃশ'"
(২)। তিনি বলেন: যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর 'নবুওয়াত' নামটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আর এর দ্বারা এটাই বোঝা যায় যে, শুধুমাত্র নাম ব্যবহার করা ব্যতীত অন্য কিছুই নিষিদ্ধ করা হয়নি!
তিনি আরও বলেছেন: "অনুরূপভাবে এই বরকতময় সিলসিলার (ধারার) ব্যক্তিবর্গ তাঁর আধ্যাত্মিক রহস্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন, এক শায়খ থেকে অন্য শায়খের মাধ্যমে,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
إلى عصرنا هذا، في معرفة العلوم الإلهيَّة، الذي قال فيها صلى الله عليه وسلم: "كلُّكم هلكى إلَّا أنا، أنا وما هؤلاء عليه"
(1). يعني: كبار الصحابة.
وقال صلى الله عليه وسلم[ص 7]: "ما فضلكم أبو بكرٍ بكثرة الصلاة والعبادة، وإنَّما لشيءٍ وضعه الله في صدره"
(2). وهي المعرفة الحقيقيَّة بالله الواحد الأحد، حتى عرف نفسه أنَّه هو عين الحقِّ المبين؛ لصِحَّة الحديث عن النَّبي صلى الله عليه وسلم: "مَن عرف نفسَه عرف ربَّه"
(3).
أي: معرفة النفس بانتفاء البشريَّة وظهور الأحديَّة تُعْدِمُنا الأسماء والصفات و .. و .. و .. ؛ لأنَّ الأحديَّة جمع، وجمع الجمع، ولا تقبل أسماء ولا صفات.
أو هي ذات [صرفة] مجرَّدة، ما تقبل إلَّا اسم الله، وإلَّا فحكمها حكم العموم، وعموم العموم، ولا تقبل كم، ولا كيف، ولا أين، ولا متى، ولا تقبل ضرب المثل، ولا المساحة، ولا تقبل الماضي، ولا المستقبل، ولا
--------------------------------------------
আমাদের বর্তমান কাল পর্যন্ত, ঐশী জ্ঞান (উলুম আল-ইলাহিয়্যাহ) অর্জনের ক্ষেত্রে, যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ব্যতীত তোমাদের সকলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত; আমি এবং যারা সেই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা আমি ধারণ করি"
(১)। অর্থাৎ: প্রবীণ সাহাবীগণ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [পৃ. ৭] বলেছেন: "আবু বকর অধিক সালাত ও ইবাদতের মাধ্যমে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেননি, বরং তা এমন এক বিষয়ের কারণে যা আল্লাহ তাঁর বক্ষে প্রোথিত করে দিয়েছেন"
(২)। আর তা হলো এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রকৃত পরিচয় (মা'রিফাত), এমনকি তিনি নিজের সত্তাকে এমনভাবে চিনেছেন যে তিনি তাকেই সুস্পষ্ট সত্যের (আল-হাক্কুল মুবিন) প্রতিফলন হিসেবে জেনেছেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদীসটির মর্মার্থ সঠিক: "যে ব্যক্তি নিজের নফসকে (সত্তাকে) চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে"
(৩)।
অর্থাৎ: মানবীয় গুণাবলীর বিলোপ এবং আহাদিয়্যাত বা নিরঙ্কুশ একত্বের প্রকাশের মাধ্যমে নফসের পরিচয় লাভ করা আমাদের থেকে নাম ও গুণাবলী এবং .. ও .. ও .. অপসারিত করে; কারণ আহাদিয়্যাত হলো সমাহার এবং সমাহারের সমাহার (জামউ জামউল জাম), যা নাম বা গুণাবলী গ্রহণ করে না।
অথবা এটি এক বিশুদ্ধ বিমূর্ত সত্তা, যা আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করে না। অন্যথায় এর বিধান হবে সাধারণ ও অতি-সাধারণের বিধানের মতো। এটি পরিমাণ, গুণ, স্থান কিংবা কাল গ্রহণ করে না এবং এটি উপমা পেশ করা, পরিমাপ, অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ কোনোটাই গ্রহণ করে না, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
الحال، بل كل الشؤون والمظاهر، و .. و .. ".
وذكر الصفات وأنواع الوجود في الحيوانات والجمادات ثم قال: "فكلُّ هؤلاء داخل تحت حيطة الأحديَّة، وهي العارف الكامل، الواصل الشَّاهد، لذاته بذاته، الله ولا شيء معه".
إلى أن قال: "قُلْ ما شئتَ في هذا المقام فأنت مكانك أحديٌّ، وبعضهم لمَّا عرف نفسه بنفسه ــ سبحانه وتعالى ــ نظر إلى الفوق والتحت، والأمام والوراء، واليمين والشمال، فلم يجد محلًّا يستند إليه، ولا مكان يأويه، ولا شيء يسند إليه، [فأمير] نفسه، فعرف نفسه بنفسه سبحانه وتعالى"، وقال:
رأيتُ ربِّي بعين ربِّي
… فقال: من أنت؟ فقلتُ: أنتَ
(1)فهو سبحانه وتعالى الشَّاهد والمشهود، الشَّاهد في مقام الأحديَّة التي أنت أنت، هي هي أنت، فاعرف! في هذا الكلام العجيب، الذي لا يفهمه إلَّا [ .. و .. ] ولا [تخطئ في ذاتك]، وإن [تلوت] خذ الكتاب بقوَّة، وأْمُر أهلك يأخذوا بأحسنها، فيصفو لنا حسنها، ونتعطَّر بعطر أهلها، حتى إنَّ المحبَّ يصل بالمحبوب، و [
… ] المحبُّ المحبوب، وأنت الحي القيُّوم:
ولا تلتفت في السَّيْر غير فكلُّ ما
… سوى اللهِ غيرٌ فاتخذْ ذِكْرَهُ حِصْنَا
وقُلْ ليسَ لي في غير ذاتيَ مَطْلَبٌ
… فلا صورةٌ تُجْلَى ولا طُرْفةٌ تُجْنَى
(2)إلخ.
--------------------------------------------
অবস্থা, বরং সমস্ত বিষয় ও প্রকাশসমূহ, এবং .. এবং .. ।
তিনি গুণাবলি এবং প্রাণী ও জড়বস্তুর অস্তিত্বের প্রকারভেদ উল্লেখ করেন, অতঃপর বলেন: "এই সকলই একত্বের (আহাদিয়্যাহ) পরিবেষ্টনের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো পূর্ণ আরিফ (জ্ঞানী), যিনি স্বীয় সত্তার মাধ্যমে স্বীয় সত্তার জন্য পৌঁছেছেন ও প্রত্যক্ষ করেছেন—আল্লাহ, এবং তাঁর সাথে কিছুই নেই।"
তিনি আরও বলেন: "এই মাকামে তুমি যা ইচ্ছা বলো, কেননা তুমি তোমার নিজ স্থানে একত্বময় (আহাদি); তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) মাধ্যমে নিজেকে চিনতে পেরেছেন, তখন তিনি উপরে-নিচে, সামনে-পেছনে এবং ডানে-বামে তাকিয়েছেন, কিন্তু এমন কোনো অবলম্বন পাননি যার ওপর নির্ভর করা যায়, না পেয়েছেন কোনো আশ্রয়স্থল, আর না এমন কিছু যার দিকে নিজেকে সমর্পণ করা যায়, [অতঃপর তিনি] নিজের অধিপতি হলেন এবং তাঁর মাধ্যমে নিজেকে চিনলেন (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা)।" তিনি বলেন:
আমি আমার রবের চোখ দিয়ে আমার রবকে দেখেছি
… অতঃপর তিনি বললেন: তুমি কে? আমি বললাম: আপনিই আপনি
(১)সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা হলেন সাক্ষী (শাহেদ) এবং সাক্ষ্যপ্রাপ্ত (মাশহুদ), সেই একত্বের মাকামে তিনি সাক্ষী যেখানে তুমিই তুমি, আর সেই সত্তাই তুমি; অতএব জেনে নাও! এই বিস্ময়কর বক্তব্যের মাঝে, যা [ .. এবং .. ] ব্যতীত অন্য কেউ বোঝে না, এবং [তোমার সত্তার বিষয়ে ভুল করো না], আর যদি তুমি [পাঠ করো] ‘দৃঢ়তার সাথে কিতাবটি ধারণ করো’ এবং ‘তোমার পরিবারকে নির্দেশ দাও যেন তারা এর উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ করে’, তবে এর সৌন্দর্য আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে এবং আমরা এর অধিকারীদের সুগন্ধে সুবাসিত হব, এমনকি প্রেমিক প্রেমাস্পদের কাছে পৌঁছে যাবে এবং [
… ] প্রেমিকই প্রেমাস্পদ হয়ে যাবে; আর আপনিই চিরঞ্জীব ও অনাদি সত্তা (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম):
ভ্রমণের পথে অন্যের দিকে ফিরে তাকিও না, কেননা আল্লাহ ব্যতীত
… যা কিছু আছে সবই পর; অতএব তাঁর যিকিরকে দুর্গ হিসেবে গ্রহণ করো
আর বলো, আমার সত্তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাঝে আমার কোনো উদ্দেশ্য নেই
… তাই কোনো রূপ উদ্ভাসিত হয় না এবং কোনো ফল আহরিত হয় না
(২)ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
أقول: لستُ الآن في صدد الرَّدِّ، وإنَّما الحديث الذي ساقه: "ما فضلكم أبو بكر .. الخ" على علَّاته من الواضح أنَّ المراد به غير ما ذكر، وإنَّما الشيء الذي وَقَر في صدره هو معرفة نفسه بالعجز والضعف، [ص 10] كما رُوِيَ عنه صلى الله عليه وسلم في الدُّعاء: "اللَّهم لا تَكِلْني إلى نفسي، فإنَّك إن تَكِلْني إلى نفسي تَكِلْني إلى ضعفٍ وعَورةٍ وذَنْب". أو كما قال
(1).
فلمَّا عرف سيِّدنا أبو بكر نفسه حق المعرفة بالضَّعف والعجز ونحوهما من الأوصاف انتقل من ذلك إلى حقيقة الإيمان بالله تعالى، صفات الجلال والجمال والكمال؛ فإنَّ الإنسان إذا عرف نفسه بالعبودية فقد عرف ربَّه بالربوبيَّة، وكلما ازدادت معرفته لنفسه بحقيقتها، من الضعف والعبودية والعجز في الصورة= ازدادت معرفته وإيمانه بربوبية الله تعالى وقوَّته وقدرته وجلاله.
وهذا معنى الحديث الآخر الذي ذكره، أعني: "مَن عرف نفسه فقد عرف ربَّه" كما هو واضح.
إلى أن قال بعد كلام طويل: "وتحتاج هذه إلى الكتم والخمول حتى يريد الله بالظهور". وهذا يدلُّ على أنَّ قصد هؤلاء القوم بثُّ دعوتهم، ثم إظهارها وإثارة فتنة، عكس مقاصد أهل الله، الذين إنَّما قصدهم إصلاح
--------------------------------------------
আমি বলছি: আমি এখন খণ্ডন করার পর্যায়ে নেই; বরং তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "আবু বকর তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেননি... ইত্যাদি", তার ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও এটি স্পষ্ট যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য তা নয় যা উল্লেখ করা হয়েছে। বরং তাঁর অন্তরে যা বদ্ধমূল হয়েছিল তা হলো নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে অবগতি, [পৃষ্ঠা ১০] যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দোয়ার বর্ণনায় এসেছে: "হে আল্লাহ! আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না; কারণ আপনি যদি আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেন, তবে আমাকে দুর্বলতা, ত্রুটি ও গুনাহের দিকে ঠেলে দেবেন।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন
(১).
সুতরাং যখন আমাদের নেতা আবু বকর নিজেকে দুর্বলতা, অক্ষমতা ও এজাতীয় গুণাবলির মাধ্যমে যথাযথভাবে চিনতে পারলেন, তখন তিনি তা থেকে আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের হাকিকত তথা তাঁর মহিমা, সৌন্দর্য ও পূর্ণতার গুণাবলির দিকে ধাবিত হলেন। কেননা মানুষ যখন নিজেকে দাসত্বের মাধ্যমে চিনে নেয়, তখন সে তার রবকে প্রভুত্বের মাধ্যমে চিনতে পারে। আর বাহ্যত নিজের দুর্বলতা, দাসত্ব ও অক্ষমতার হাকিকত সম্পর্কে তার জ্ঞান যত বাড়ে, আল্লাহ তাআলার প্রভুত্ব, শক্তি, ক্ষমতা ও মহিমা সম্পর্কে তার মারেফাত ও ঈমান তত বৃদ্ধি পায়।
আর এটিই হলো তাঁর উল্লিখিত অন্য হাদিসটির অর্থ, অর্থাৎ: "যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে", যেমনটি সুস্পষ্ট।
দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এক পর্যায়ে বলেছেন: "আর এগুলো গোপন রাখা এবং আত্মপ্রচারে বিমুখ থাকা প্রয়োজন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তা প্রকাশ করার ইচ্ছা করেন।" এটি নির্দেশ করে যে, এই কওমের উদ্দেশ্য হলো তাদের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া, অতঃপর তা প্রকাশ করা এবং ফেতনা সৃষ্টি করা; যা আল্লাহওয়ালাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত, যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সংশোধন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
القلوب ما تيسَّر.
إلى أن قال: "ولقد اغترُّوا كثيرًا، وتكبَّروا على المشايخ، وأُوقِعُوا في الجحيم، كمثل الفقهاء الزَّنادقة الوهَّابيَّة، الذين يتكبَّرون على أهل الباطن"!
إلى أن قال: "ولقد رأينا أناسًا في النَّار كثيرًا، وأكثرهم الفقهاء، والعلماء، وأهل الرأي، وأهل الرِّئاسة في الدُّنيا"!
إلى أن قال: "وأمَّا الألوهيَّة فهي تقبُّل الأحكام، و .. ، و .. ، ومنها السَّعادة والشقاوة، و .. ، و .. ، وإقامة نظام العالَم، مِن عابد ومعبود، ورازق ومرزوق، وتفاضل الأعلى على الأدنى".
إلى أن قال: "لأن برزخها أوسع البرازخ ومن أسماء كثيرة يُسمَّى العرش، وأمَّا الكتاب، والوجود المطلق، والذات الساذج، والزلال الأبيض، و .. ، و .. ، فسبحان من تفضَّل على ذاته بذاته .. الخ"!
إلى أن قال: "فصلٌ: اعْلَمْ أنَّ الله واجب الوجود، فوجوده مطلقٌ، ووجود ثان له مقيَّد مطلق، من عند الأسماء مقيَّد ومن عند الذَّات مطلق.
والصفات متعدِّدة، والذات واحدة، والكُلُّ مربوط بالكُلِّ، كما قال بعض المشايخ: الكلُّ بالكل مربوط، فليس له عنه انفكاك، خذوا ما قلته عنِّي، [لأنَّ] أصل الشيء كُلّه البرنامج، ولا شيء معه، ولا ذكر للشيء، ولا غير، ولا ذكر للغير، وأنت البرنامج، علمتَ أم لم تعلم، ولكن أنت من العارفين، وغيرك محجوبون
(1) بك، ولم يعلموا، ولكن الغطا والغين الذي
--------------------------------------------
অন্তরের জন্য যা সহজসাধ্য।
অতঃপর তিনি বলেন: "তারা অত্যন্ত প্রবঞ্চিত হয়েছে, মাশায়েখদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেছে এবং তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে; ঠিক যেমন সেই জিন্দিক ওহাবী ফকীহগণ, যারা আধ্যাত্মিক সাধকদের প্রতি অহংকার করে!"
অতঃপর তিনি বলেন: "আমরা জাহান্নামে অনেক মানুষ দেখেছি, যাদের অধিকাংশ হলো ফকীহ, আলিম, রায়-পন্থী (যুক্তিবাদী) এবং পার্থিব নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি!"
অতঃপর তিনি বলেন: "আর উপাস্যত্ব হলো বিধানসমূহ গ্রহণ করা, এবং... এবং... আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, এবং... এবং... এবং বিশ্বব্যবস্থা কায়েম করা—যার মধ্যে রয়েছে ইবাদতকারী ও উপাস্য, রিযিকদাতা ও রিযিকপ্রাপ্ত এবং উচ্চস্তরের সাথে নিম্নস্তরের শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য।"
অতঃপর তিনি বলেন: "কেননা তার বরজখ (অন্তরাল) হলো প্রশস্ততম বরজখ এবং এর অনেক নামের মধ্যে একটি হলো আরশ। আর কিতাব, পরম অস্তিত্ব, শুদ্ধ সত্তা, শুভ্র স্বচ্ছ বারিধারা এবং... এবং... তবে পবিত্র সেই সত্তা যিনি নিজের সত্তার মাধ্যমে নিজের সত্তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন... ইত্যাদি!"
অতঃপর তিনি বলেন: "পরিচ্ছেদ: জেনে রেখো যে, আল্লাহ হলেন আবশ্যিক অস্তিত্ব, সুতরাং তাঁর অস্তিত্ব পরম। এবং তাঁর জন্য দ্বিতীয় একটি অস্তিত্ব রয়েছে যা আপেক্ষিক-পরম; নামের দিক থেকে তা আপেক্ষিক এবং সত্তার দিক থেকে তা পরম।
গুণাবলী বহুবিধ, কিন্তু সত্তা এক। সবকিছুই সবকিছুর সাথে যুক্ত, যেমনটি কোনো কোনো মাশায়েখ বলেছেন: 'সবকিছুর সাথে সবকিছুই যুক্ত, সুতরাং তা থেকে তার কোনো বিচ্ছেদ নেই।' আমি যা বলেছি তা আমার পক্ষ থেকে গ্রহণ করো, [কেননা] সবকিছুর মূল হলো 'মূল নকশা' (আল-বারনামাজ); তাঁর সাথে অন্য কিছু নেই, কোনো কিছুর উল্লেখ নেই, 'অন্য' বলে কিছু নেই এবং অন্যের কোনো অস্তিত্বও নেই। আর তুমিই সেই 'মূল নকশা', তুমি তা জানো বা না জানো। কিন্তু তুমি মারেফতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত, আর অন্যরা তোমার মাধ্যমেই পর্দার অন্তরালে আবৃত
(১) রয়েছে এবং তারা জানে না। তবে আবরণ এবং কলুষতা যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
[ص 11] على العين، والران الذي على القلب، قال الله تعالى: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
(1)} [المطففين: 14]، أَلَا ترى إلى قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} [الفتح: 10]، وهي يد رسول الله، ورسول الله هو البرنامج الكامل، والأنموذج الشامل، و [
… ] الواصل الموصل.
ولهذا حقِّق توحيد ذاتك بذاتك في ذاتك لذاتك، في قوله تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 21] أي: هو أنفسكم أفلا تبصرون!
وقوله تعالى: {وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى} [الأنفال: 17]، والرامي هو رسول الله يوم بدر.
فافهم المعنى فقد دان المنى، وادخل الدار واقصد نحونا، واستمع لما يوحى إليك من قولنا، الذي قولك لك، المنزل على قلب نبيك: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (1) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (2) وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} [النجم: 1 - 3]، وأدنى؛ لكلام ابن عباس: "إنَّ محمدًا رأى ربَّه بعين الرأس"
(2).
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ১১] চোখের আবরণ এবং হৃদয়ের ওপরকার মরিচা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {কখনোই নয়, বরং তারা যা অর্জন করত, তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে
(১)} [আল-মুতাফফিফিন: ১৪]। আপনি কি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেন না: {নিশ্চয় যারা আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর নিকটই বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর} [আল-ফাতহ: ১০]। আর এটি হলো রাসূলুল্লাহর হাত; আর রাসূলুল্লাহ হলেন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি, সামগ্রিক আদর্শ এবং [ ... ] সংযোগকারী মাধ্যম।
এই কারণেই আপনার সত্তার মাধ্যমে আপনার সত্তার মাঝেই আপনার সত্তার জন্য আপনার নিজ সত্তার তাওহীদ (একত্ব) প্রতিষ্ঠা করুন; মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তবে কি তোমরা দেখবে না?} [আয-যারিয়াত: ২১] অর্থাৎ: তিনি তোমাদের সত্তা, তবে কি তোমরা দেখবে না!
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন} [আল-আনফাল: ১৭]। অথচ বদরের যুদ্ধে নিক্ষেপকারী ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ।
সুতরাং এর অর্থ অনুধাবন করুন, কেননা কাঙ্ক্ষিত বস্তু নিকটবর্তী হয়েছে। ঘরে প্রবেশ করুন এবং আমাদের অভিমুখী হোন। আপনার প্রতি যা ওহী করা হয় তা শ্রবণ করুন, যা আপনারই কথা যা আপনার জন্য, যা আপনার নবীর হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছে: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয় (১) তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি (২) আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না (৩)} [আন-নাজম: ১ - ৩]। এবং 'আদনা' (নিকটবর্তী); ইবনে আব্বাসের উক্তি অনুযায়ী: "নিশ্চয় মুহাম্মাদ তাঁর রবকে চর্মচক্ষে দেখেছেন"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
إلى أن قال: "وأمَّا حضرة الأحديَّة وهي الحضرة المباركة، وهي حضرة الطمس وبحر الغمس، وبرزخ جمع الجمع".
إلى أن قال يخاطب صاحب هذا المقام: "فتارة يكون ظاهرك خَلَقًا هاويًا، وباطنك حقًّا، وتارة يكون ظاهرك حقًّا وباطنك خَلَقًا".
إلى أن قال: "حتى تنظر إلى [
… ] صاحب هذا المقام: "يسمَّى بخطِّ الاستواء، ولا أظنُّ أحدًا يقدر يقف عليه [
… ] الكمال".
قال: "وهذا المقام من المحال؛ لأنَّه ما وقع لسيِّد المرسلين؛ لصحَّة قوله: "إنَّه لَيُغَان على قلبي، فأستغفر الله في اليوم واللَّيلة سبعين مرَّة"
(1)؛ لأنَّ اجتماع الحضور والغيبة، والصِّحَّة والسقم في بدن واحد محالٌ، واجتماع الموت والحياة في هيكل واحد محالٌ، ولا جَمَعَ هذا الشيء إلَّا ذو الجلال
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: "আর আহাদিয়্যাতের (এককত্বের) উপস্থিতি সম্পর্কে বলতে হয় যে, এটি একটি বরকতময় উপস্থিতি। এটি হলো আত্মবিলুপ্তির স্থান ও নিমজ্জনের সাগর এবং এটি 'জামউল জাম' (একত্রীকরণের একত্রীকরণ) এর অন্তরাল (বারযাখ)।"
তিনি এই মাকামের অধিকারীকে সম্বোধন করে আরও বলেন: "কখনও তোমার বাহ্যিক রূপ হয় বিলীয়মান সৃষ্টিজগত এবং তোমার অভ্যন্তরীণ সত্তা হয় সত্য (হক); আবার কখনও তোমার বাহ্যিক রূপ হয় সত্য (হক) এবং তোমার অভ্যন্তরীণ সত্তা হয় সৃষ্টিজগত।"
তিনি আরও বলেন: "যতক্ষণ না তুমি [
… ] এই মাকামের অধিকারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করছ: 'একে বিষুবরেখা (খাত্তুল ইস্তিওয়া) বলা হয়। আমার মনে হয় না যে, [
… ] পূর্ণতার স্তরে কেউ এতে অটল থাকতে সক্ষম হবে'।"
তিনি বলেন: "আর এই মাকামটি অসম্ভব; কারণ এটি রাসূলগণের সরদারের ক্ষেত্রেও ঘটেনি; যেহেতু তাঁর এই উক্তিটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত: 'নিশ্চয়ই আমার হৃদয়ে এক প্রকার আবরণের সৃষ্টি হয়, তাই আমি দিনে ও রাতে আল্লাহর কাছে সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করি'
(১); কারণ একই দেহে উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি এবং সুস্থতা ও অসুস্থতার একত্র হওয়া অসম্ভব। একই কাঠামোতে মৃত্যু ও জীবনের সহাবস্থানও অসম্ভব; আর মহিমান্বিত আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ এই বিষয়গুলোকে একত্র করেননি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯২)
والإكرام، فهو الفرد الجامع .. " الخ.
إلى أن قال: "وقد قال في الكرامة: إنَّ العارفين لا [كرامة
… ] النظر إلى وجه الله الكريم في كل صورة، وفي كل سورة، وفي كل أخضر ويابس، وفي كل حال ومقال، وخصام وجدال، وجلال وجمال، وفعل واعتقاد".
إلى أن قال بعد كلام طويل في التَّحريض على كثرة الذِّكر: "فلا أحد بَلَغَ مبلغ عالي
(1) يسقط عنه التَّكليف، فسقوط التَّكليف يوجب عليه التكليف، ولا يسعه إلَّا الاتِّباع لسيِّد البشر، سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم ".
[ص 14] إلى أن قال: " [في دعاء: أن يبارك بغير تعب،
… في كل شيء به له
… ]، لكن تفضل على ذاتك بذاتك .. إلخ".
انتهى ما أردنا حكايته من تلك الكرَّاسة، وهي كبيرة، وهي من جنس ما حكيناه، وأستغفر الله العظيم أولًا وآخرًا.
وقال السَّيِّد العلَّامة علوي ما نصُّه: "وهذا هو رجل اسمه حسن بن إبراهيم، ويدَّعي أنه من آل با [معروف] آل باعلوي، وحاشاهم أن يكون هذا الدَّجَّال منهم، وقد كتب كتبًا متعدِّدة إلى السادة العلويين، ففتشوا فلم يجدوا له حسبًا ولا نسبًا.
ومن أخلاق هذا الرجل أنَّه يتفاخر ويتظاهر أنَّه أخذ عن شيوخٍ في مصر والشام والعراق والحجاز والمغرب واليمن، وأنَّه وقع على العلم المكنون".
إلى أن قال: "وقد سار داعي من دعاته إلى الحبشة، واسمه السَّيِّد صالح ــ بزعمه ــ وحاشا لله أنَّه سيِّد، بل هو السيئ الطالح، القرمطي، فعلَّم أناسًا
--------------------------------------------
এবং মহানুভবতা, তিনি সেই অদ্বিতীয় সংগ্রাহক..." ইত্যাদি।
তিনি আরও বলেন: "তিনি অলৌকিকত্ব (কারামাত) সম্পর্কে বলেছেন: নিশ্চয়ই আরিফগণ (মারেফাতপ্রাপ্তগণ) প্রতিটি আকৃতিতে, প্রতিটি সূরায়, প্রতিটি সজীব ও নির্জীব বস্তুতে, প্রতিটি অবস্থায় ও বক্তব্যে, বিবাদ ও তর্কে এবং গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্যে, কর্মে ও বিশ্বাসে মহান আল্লাহর পবিত্র চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করা ছাড়া অন্য কোনো [কারামাত বা অলৌকিকত্ব...] দেখেন না।"
দীর্ঘ আলোচনার পর অধিক জিকির করার প্রতি উৎসাহিত করে তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তিই এমন উচ্চ স্তরে
(১) পৌঁছাতে পারে না যাতে তার উপর থেকে শরয়ী বিধানের বাধ্যবাধকতা (তাকলিফ) রহিত হয়ে যায়; কেননা শরয়ী বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়া স্বয়ং তার ওপর সেই বাধ্যবাধকতাকেই আবশ্যক করে তোলে। আর মানবকুলের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ ব্যতীত তার আর কোনো গত্যন্তর নেই।"
[পৃষ্ঠা ১৪] তিনি আরও বলেন: "[প্রার্থনার মধ্যে: যেন কোনো ক্লান্তি ছাড়াই বরকত দান করা হয়, ... প্রতিটি বস্তুতে তাঁর মাধ্যমে তাঁর জন্য ...], তবে আপনার সত্তার মাধ্যমে আপনার সত্তার ওপর অনুগ্রহ করুন... ইত্যাদি।"
উক্ত পুস্তিকা থেকে আমরা যা বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই শেষ হলো; এটি একটি বিশাল পুস্তিকা এবং আমরা যা বর্ণনা করেছি এটি তারই অনুরূপ। আর আমি প্রথম এবং শেষে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
বিখ্যাত পন্ডিত সায়্যিদ আলউয়ী যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "এই ব্যক্তিটি হাসান ইবনে ইবরাহিম নামে পরিচিত, এবং সে দাবি করে যে সে বা-[মা'রুফ] বা-আলউয়ী পরিবারের বংশধর; অথচ তারা এই চরম মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) থেকে বহু দূরে। সে সায়্যিদ আলউয়ীগণের কাছে অনেক চিঠি লিখেছে, কিন্তু তারা অনুসন্ধান করে তার কোনো আভিজাত্য বা বংশীয় পরিচয় খুঁজে পাননি।
এই লোকটির স্বভাবের মধ্যে রয়েছে অহংকার করা এবং এমন জাহির করা যে, সে মিশর, সিরিয়া, ইরাক, হিজাজ, মরক্কো এবং ইয়ামেনের শায়খদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং সে গুপ্ত রহস্যময় জ্ঞানের (ইলমে মাকনুন) সন্ধান পেয়েছে।"
তিনি আরও বলেন: "তার দাওয়াত প্রচারকারীদের মধ্য থেকে একজন আবিসিনিয়ায় গিয়েছে, যার নাম সায়্যিদ সালিহ — তার নিজের দাবি অনুযায়ী — অথচ আল্লাহর শপথ, সে মোটেও সায়্যিদ নয়; বরং সে একজন পাপিষ্ঠ মন্দ লোক এবং কারমাতি মতবাদে বিশ্বাসী। সে লোকজনকে শিক্ষা দিয়েছে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৩)
منهم أن يكونوا مثل فرعون إذ قال: {أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى} [النازعات: 24]. و [رتَّب] عليهم أورادًا من قولهم: أنا الله! ".
إلى أن قال بعد ذكر بعض [من]
(1) تبعه هذا الرجل: "عقيدتهم أنَّ الذوات كلّها متساوية؛ لأنَّها الله بذاته، (تعالى الله)، فذات أعظم نبيٍّ أو وليٍّ هي وذات الخنزير سواء؛ لأنَّ النبيَّ اللهُ، وقع نبيًّا وذهب يطلب مركزه، والخنزير كذلك [
… ]
(2).
ويقولون: إنَّ فرعون أعرف من موسى؛ لأنَّه قال: "أنا ربُّكم"، وموسى جاهلٌ، وهكذا محمد صلى الله عليه وسلم وأبو جهل لعنه الله بمنزلةٍ واحدةٍ.
وهذه العقائد من أسرارهم التي لا تُفشَى، ولا يعلِّمونها إلَّا من خرج من مزالق التوحيد، وهم خصوص الخصوص. وهم في الحقيقة الذين بلغوا الرتبة الفرعونيَّة.
وهذا الضَّالعي يقول: إنَّ الحياة هي نفس الوجود، وإنَّ الوجود هو جميع المخلوقات، وينكر علم الغيب لله، ويجعل جميع التطوُّرات في الوجود اللهَ بذاته، يتطوَّر ويطلب مركزه، وعنده أنّ قول الله [
… ]
(3) كلام باطل، كما سنحكي ألفاظه إن شاء الله تعالى.
ومذهبهم أنَّ قول القائل: "لعنك الله" مثل قولك: "رحمك الله"، ولا يتحاشون عن جماع الحائض، يتسارُّون بهذا الأمر بينهم.
--------------------------------------------
তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বাসনা হলো ফেরাউনের মতো হওয়া, যখন সে বলেছিল: {আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক} [আন-নাযিয়াত: ২৪]। এবং তিনি তাদের জন্য 'আমিই আল্লাহ' বলার মাধ্যমে কিছু অজিফা বা জিকির [নির্ধারিত] করে দিয়েছেন।
এই ব্যক্তির অনুসরণকারীদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "তাদের আকিদা বা বিশ্বাস হলো যে, সকল সত্তা সমান; কেননা এগুলো মূলত আল্লাহরই সত্তা (আল্লাহ তাআলা এর ঊর্ধ্বে)। ফলে শ্রেষ্ঠ কোনো নবী বা অলির সত্তা এবং শূকরের সত্তা অভিন্ন; কারণ নবী হলেন আল্লাহ, যিনি নবী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে নিজের অবস্থানের অনুসন্ধান করছেন এবং শূকরও তদ্রূপ [
… ]
(২)।
তারা বলে: ফেরাউন মূসা (আলাইহিস সালাম) অপেক্ষা অধিক পরিজ্ঞাত ছিল; কারণ সে বলেছিল: "আমিই তোমাদের প্রতিপালক", আর মূসা ছিলেন অজ্ঞ। একইভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অভিশপ্ত আবু জাহেল একই স্তরের।
এই বিশ্বাসগুলো তাদের এমন কিছু গোপন রহস্য যা ফাঁস করা হয় না এবং যারা তাওহিদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তারা ছাড়া অন্য কাউকে এগুলো শিক্ষা দেওয়া হয় না; এরাই হলো বিশেষের বিশেষ গোষ্ঠী। প্রকৃতপক্ষে তারাই ফেরাউনি স্তরে পৌঁছেছে।
আর এই দ্বালি'য়ী বলে: জীবনই হলো মূল অস্তিত্ব, আর অস্তিত্ব হলো যাবতীয় সৃষ্টিজগত। সে আল্লাহর গায়েবি ইলম বা অদৃশ্য জ্ঞানকে অস্বীকার করে এবং অস্তিত্বের সকল বিবর্তনকে স্বয়ং আল্লাহর সত্তা হিসেবে গণ্য করে, যা বিবর্তিত হয় এবং নিজের কেন্দ্র অনুসন্ধান করে। তার নিকট আল্লাহর বাণী [
… ]
(৩) হলো বাতিল কথা, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তার ভাষ্য থেকেই বর্ণনা করব।
তাদের মতাদর্শ হলো, কারো বলা "আল্লাহ তোমাকে লানত করুন" কথাটি "আল্লাহ তোমাকে রহম করুন" বলার মতোই। তারা ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না এবং নিজেদের মধ্যে এই বিষয়টি গোপন রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৪)
[ص 13] إلى أن قال: "وينكرون حقيقة الأرواح، ويقولون: هي تطوُّرات الذَّات الإلهيَّة، تطلب مركزها لا غير".
ولهم خزعبلات كثيرة تشابه ما تقدَّم، نتحاشى عن حكايتها، مثل قولهم في المجامعة والغائط. نعوذ بالله.
فعندهم أنَّ الرجل والمرأة ليسا مخلوقين من مخلوقات الله، بل هما الله، ويقولون في المجامعة كلمات كفريَّة تقشعرُّ منها الجلود ــ والعياذ بالله ــ لا نقدر على حكايتها.
إلى أن قال: "وحسن الضَّالعي هذا قد اجتمع بالشيخ الصالح العلَّامة سالم بن عبد الرحمن بن عوض باصهي، فلمَّا رآه الشيخ المذكور ضالًّا في اعتقاده ألَّف رسالةً سمَّاها "كشف الغطا عمَّا يحصل لبعض السَّالكين من الخَطَا"، يظنُّ أنَّه سيرجع بها.
وحيث إنَّ ضلاله بسبب عدم فهمه كلام الصوفية، ولم يعلم أنَّه ليس من الصوفيَّة، بل هو ملحدٌ أصليٌّ، متمكِّنٌ من إلحاده، وإنَّما يتظاهر بحكاية كلام الصوفيَّة ليستجلب الناس؛ لعِلمه أنَّ الناس يعتقدون [في
(1)] المتصوِّفة والمتنسِّكة.
فلمَّا ظهر بدعوته الخبيثة إلى دينه الجديد الخبيث المخبث في جبل يافع ألَّف الشيخ المذكور رسالةً أخرى [تذييلًا]
(2) لتلك الرسالة، قال فيها ما نصُّه: "وبعد، فقد بلغني أنَّه ظهر رجلٌ في جبل يافع يسمَّى السَّيِّد حسن
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ১৩] এক পর্যায়ে তিনি বলেন: "তারা রূহের হাকীকত বা বাস্তবতা অস্বীকার করে এবং বলে: এগুলো হলো খোদায়ী সত্তার বিবর্তন মাত্র, যা কেবল তার কেন্দ্র অনুসন্ধান করে।"
তাদের আরও অনেক অসার ও আজগুবি ধারণা রয়েছে যা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর মতোই, আমরা সেগুলো বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকছি; যেমন—সঙ্গম ও মলত্যাগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য। আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
তাদের মতে, নারী ও পুরুষ আল্লাহর কোনো সৃষ্টি নয়, বরং তারা নিজেরাই আল্লাহ। আর তারা সঙ্গম নিয়ে এমন সব কুফরি কথা বলে যা শুনলে শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে—আল্লাহর কাছে আমরা এ থেকে আশ্রয় চাই—আমরা তা বর্ণনা করতে সক্ষম নই।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন: "এই হাসান আদ-দালি'য়ী পুণ্যবান আলেম আল্লামা সালিম বিন আবদুর রহমান বিন আউয়াদ বাসাহি-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। উল্লিখিত শায়খ যখন তাকে আকিদাহর ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত দেখলেন, তখন তিনি 'কাশফুল গিতা আম্মা ইয়াহসুলু লি-বা'দিস সালিকিনা মিনাল খাতা' (সালেকীন বা আধ্যাত্মিক পথের পথিকদের কারও কারও ভুলভ্রান্তি উন্মোচন) নামক একটি পুস্তিকা রচনা করেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, এর মাধ্যমে সে হয়তো সত্যের পথে ফিরে আসবে।
যেহেতু তার এই বিভ্রান্তি ছিল সুফীগণের পরিভাষা ও বক্তব্য না বোঝার কারণে, আর সে জানত না যে সে আদতে সুফীগণের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সে একজন মজ্জাগত নাস্তিক এবং নিজ নাস্তিকতায় অটল; সে কেবল মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য সুফীগণের বক্তব্যের ভান করে। কারণ সে জানে যে, মানুষের সুফী ও ইবাদতগুজারগণের প্রতি [ভক্তি ও বিশ্বাস
(১)] রয়েছে।
যখন সে জাবালে ইয়াফে'-তে তার নতুন জঘন্য ও কলুষিত ধর্মের প্রতি খবিস দাওয়াত নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল, তখন উল্লিখিত শায়খ সেই পূর্ববর্তী পুস্তিকাটির একটি [পরিশিষ্ট]
(২) হিসেবে আরেকটি পুস্তিকা রচনা করেন। তাতে তিনি যা লিখেছেন তার মূলপাঠ নিম্নরূপ: "অতঃপর, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জাবালে ইয়াফে'-তে জনৈক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যাকে সাইয়্যেদ হাসান বলা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৫)
الضَّالعي، يدعو الناس إلى وحدة الوجود، وهي: اعتقاد أنَّ هذه الموجودات كلَّها عين الحقِّ، وأن لا خَلْقَ أصلًا، فتعجَّبتُ لذلك غاية العجب؛ حيث إنَّ هذا الرجل المسمَّى السيِّد حسن الضَّالعي قد اتَّفقت به منذ سبع سنوات في صَبْيَا، قرية من قرى اليمن، مشهورة، وأخبرني أنَّه طاف البلاد، ولا مصر إلَّا ودخله، واتفق بعلمائه وصلحائه، واجتمعنا في صَبْيَا نحو ثلاثة أشهر.
وفي تلك المدَّة كلِّها ونحن نتذاكر العلوم، حتى بيَّن لنا طريقته التي هو عليها كتب الشيخ محيي الدِّين بن عربي، وكتب عبد الكريم الكيلاني، مؤلِّف كتاب "الإنسان الكامل"
(1).
وأنَّه معتقدٌ معتقداتهم، في أنَّ هذا الوجود وما فيه من المخلوقات كلّها عين الحقِّ متنوّع بزعمه، وأن لا خلق أصلًا، وأنَّ هذه المخلوقات كلَّها عين الحق تنوّع ذاته، فتارة يجعلها جبالًا، وتارةً يجعلها ريحًا، وتارةً يجعلها بحارًا، وهكذا، فما هناك خلقٌ أصلًا".
فانْبَهَرتُ من هذا الاعتقاد الخبيث، فقلت: يا سيِّد حسن، هذه وحدة الوجود، التي أجمعت الأمَّة كلُّها على كفر أهلها ومنتحليها [ص 16] ومعتقديها.
بل معتقد ذلك كافرٌ بالقرآن من أوَّله إلى آخره؛ لأنَّ القرآن مصرِّحٌ بأنَّ العالَم وما فيه خَلْقُ الله، قال الله جلَّ ذكرُه: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الزمر: 62]، وقال تعالى: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} [الأنعام: 1]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ
--------------------------------------------
আদ-দালি’য়ি মানুষকে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ (অস্তিত্বের একত্ববাদ)-এর দিকে আহ্বান জানান; আর তা হলো এই বিশ্বাস যে, এই সকল বিদ্যমান বস্তু মূলত স্বয়ং সত্যের (আল্লাহর) সারসত্তা এবং আদতে কোনো সৃষ্টি নেই। আমি এতে চরমভাবে বিস্মিত হলাম; কেননা সায়্যিদ হাসান আদ-দালি’য়ি নামক এই ব্যক্তির সাথে সাত বছর আগে ইয়ামেনের একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম ‘সাবিয়া’-তে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং এমন কোনো বড় জনপদ নেই যেখানে তিনি প্রবেশ করেননি এবং সেখানকার আলিম ও নেককার ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। সাবিয়াতে আমরা প্রায় তিন মাস একত্রিত ছিলাম।
সেই পুরোটা সময় আমরা ইলম বা জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতাম। অবশেষে তিনি আমাদের সামনে তাঁর অনুসৃত পথ স্পষ্ট করলেন, যা মূলত শায়খ মুহিউদ্দিন ইবন আরাবির কিতাবসমূহ এবং ‘আল-ইনসান আল-কামিল’
(১) গ্রন্থের রচয়িতা আব্দুল কারিম আল-কিলানির কিতাবসমূহের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
তিনি তাদের মতাদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন যে, এই অস্তিত্ব এবং এর মধ্যকার সকল মাখলুক বা সৃষ্টি মূলত তাঁর দাবি অনুযায়ী স্বয়ং সত্যেরই বিচিত্র রূপ; মূলত কোনো সৃষ্টি নেই। বরং এই সকল সৃষ্টি হলো স্বয়ং সত্যের সত্তারই বিচিত্র আত্মপ্রকাশ; কখনো তিনি সেগুলোকে পাহাড়রূপে প্রকাশ করেন, কখনো বায়ুরূপে, কখনো বা সমুদ্ররূপে; আর এভাবেই চলতে থাকে। সুতরাং সেখানে মূলত কোনো সৃষ্টিই নেই।"
এই জঘন্য বিশ্বাস দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমি বললাম: "হে সায়্যিদ হাসান! এটিই তো ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’, যার অনুসারী, প্রবক্তা এবং বিশ্বাসীদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে পুরো উম্মত একমত হয়েছে [পৃষ্ঠা ১৬]।
বরং এই বিশ্বাসের পোষণকারী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো কুরআনের সাথেই কুফরি করল। কারণ কুরআন দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে যে, এই জগত এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা} [যুমার: ৬২]। তিনি আরও বলেন: {তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন} [আন’আম: ১]। তিনি আরও বলেন: {এবং অবশ্যই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৬)
خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ} [الأعراف: 11]، وقال تعالى: {الَّذِي
(1) خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ} [الفرقان: 59]، وقال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ} الآية [المؤمنون: 12]، وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]. إلى آخر ما قال الله من أول القرآن إلى آخره، في أنَّ العالَم وما فيه خلق الله، هو الذي خلقهم.
وأنت تقول: إنَّهم عينُ الله، لا خلقُ الله، وتنكر الخلق رأسًا، والقرآن أثبت الخلق صريحًا، فكلامك هذا إنكار لما في القرآن صريحًا، وتكذيب
(2) لنصوص القرآن كله من أوله إلى آخره.
فعند ذلك توقَّف، وبقي يُغالط بكلام القوم الدقيق، وشطحاتهم، وسائر ألفاظهم التي توهم هذا القول، وأنا أقول له: لم يريدوا بهذا الكلام ما تعتقده أصلًا، وحاشاهم من ذلك.
وطالت المراجعة فيما بيني وبينه في ذلك، حتى قال لي: صوِّر لي ما عرفته من كلامهم، وما مرادهم بتلك الألفاظ، فجعلنا له نبذةً، وسمَّيناها "كشف الغطا عمَّا يحصل لبعض السَّالكين من الخطا عند مقدمات حال الفنا والفتح والمواهب والعطا"، وبيَّنَّا في ذلك الصواب من الخطا؛ لأنَّ الغلط يدخل على الإنسان في الطريق من محلَّين:
الأول: من مطالعة كتب القوم الدقيقة المعقَّدة، خصوصًا كتب محيي
--------------------------------------------
"আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের রূপদান করেছি" [আল-আরাফ: ১১], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "যিনি
(১) আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন" [আল-ফুরকান: ৫৯], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আমি অবশ্যই মানুষকে কাদার নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি" [আল-মুমিনুন: ১২] আয়াত পর্যন্ত, এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আয-যারিয়াত: ৫৬]। কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ যা কিছু বলেছেন—বিশ্বজগৎ এবং এতে যা কিছু আছে তা আল্লাহর সৃষ্টি, তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন।
অথচ আপনি বলছেন: তারা আল্লাহরই সত্তা, আল্লাহর সৃষ্টি নয়; এবং আপনি সৃষ্টিতত্ত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবে সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করেছে। সুতরাং আপনার এই কথা কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্যের সরাসরি অস্বীকৃতি এবং কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল ভাষ্যের প্রতি মিথ্যারোপ।
(২)তখন তিনি থমকে গেলেন এবং সুফিগণের সূক্ষ্ম কথা, তাঁদের আধ্যাত্মিক ভাবোচ্ছ্বাস এবং এমন সব পরিভাষা দিয়ে কূটতর্ক করতে লাগলেন যা এই ভ্রান্ত মতবাদের ভ্রম তৈরি করে। আমি তাঁকে বললাম: তাঁরা এসব কথার মাধ্যমে মোটেও তা উদ্দেশ্য করেননি যা আপনি বিশ্বাস করেন; তাঁরা এমন বিশ্বাস থেকে মুক্ত ও পবিত্র।
এ বিষয়ে আমার ও তাঁর মধ্যে দীর্ঘ বাদানুবাদ চলল, শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে বললেন: "তাঁদের বক্তব্য থেকে আপনি যা বুঝেছেন এবং ঐসব পরিভাষা দ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য কী, তা আমার কাছে ব্যক্ত করুন।" তখন আমি তাঁর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনা করলাম এবং এর নাম দিলাম "কাশফুল গিতা আম্মা ইয়াহসুলু লি-বাদিস সালিকিনা মিনাল খাতা ইনদা মুকাদ্দিমাতি হালিল ফানা ওয়াল ফাতহি ওয়াল মাওয়াহিবি ওয়াল আতা" (ফানা, ফাতহ ও আধ্যাত্মিক অনুগ্রহ লাভের প্রারম্ভিক স্তরে কতিপয় পথিকের স্খলনজনিত পর্দার উন্মোচন)। এতে আমি সত্য ও ভ্রান্তির পার্থক্য স্পষ্ট করেছি; কারণ আধ্যাত্মিক পথে মানুষের বিভ্রান্তি দুটি উৎস থেকে প্রবেশ করে:
প্রথমত: সুফিগণের সূক্ষ্ম ও জটিল কিতাবসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে, বিশেষ করে মহিউদ্দিনের কিতাবসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
الدين والكيلاني عبد الكريم، وما جرى مجرى ذلك؛ فيفهم المطالع من ذلك غير المراد لدقَّة الكلام
(1). ولهذا المعنى حرَّموا قراءة كتب هذين الشيخين، وما جرى مجراها.
والمحلُّ الثاني الذي يحصل الغلط على السَّالك فيه: عند مقدِّمات الفتح، وقد بيَّنَّا هذا كلَّه في النُّبذة المذكورة غاية البيان والإيضاح، وميَّزنا فيها بمعونة الله الخطأ من الصواب.
فلمَّا أُوقِف على تلك النُّبذة سكت وانقبض، وأخذ نحو شهرٍ كالمضطرب في أمره.
ثمَّ إن الله تكرَّم عليه، فرأى رؤيا بعد مُضِيِّ هذه المدَّة، فجاء إليَّ وقال: إنِّي رأيت سيِّدنا أبا بكر الصِّديق في المنام، فقلتُ له: مرادي أن تريني رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: قُم، وأخذ بيدي، [فلم يزل] يمشي معي حتى وصلنا مسجدكم هذا، فوجدناك في المسجد وحدك [ص 9]، فقال لي أبو بكر: هذا النبيُّ، يعنيكَ.
فقلتُ له: هذا صاحبي فلان! قال: هذا النبيُّ.
قال: فعرفتُ عند ذلك أنَّك على الحقِّ، وعلى الهدي المحمَّدي، وكل
--------------------------------------------
...আদ-দীন এবং আবদুল কারিম আল-কিলানি [জিলি] এবং এই ধারার অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও; ফলে পাঠক কথার সূক্ষ্মতার কারণে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে ভিন্ন কিছু বুঝে নিতে পারেন
(১)। আর এই কারণেই তারা [উলামায়ে কেরাম] এই দুই শায়খের কিতাব এবং এই জাতীয় অন্যান্য কিতাব পাঠ করা নিষিদ্ধ করেছেন।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি যেখানে সালেকের (আধ্যাত্মিক পথযাত্রীর) পদস্খলন ঘটে, তা হলো 'ফাতহ' বা আধ্যাত্মিক উন্মেষের প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে। আমরা উক্ত পুস্তিকায় এই বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছি এবং আল্লাহর সাহায্যে সেখানে ভুল ও সঠিকের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছি।
যখন তাকে সেই পুস্তিকাটি সম্পর্কে অবগত করা হলো, তখন তিনি নিস্তব্ধ ও সংকুচিত হয়ে গেলেন এবং প্রায় এক মাস যাবৎ নিজের বিষয়টি নিয়ে এক প্রকার অস্থিরতার মধ্যে কাটালেন।
অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করলেন; এই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন। এরপর তিনি আমার কাছে এসে বললেন: "আমি স্বপ্নে আমাদের সায়্যিদ আবু বকর সিদ্দিক-কে দেখেছি। আমি তাকে বললাম: আমার আকাঙ্ক্ষা হলো আপনি আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখাবেন। তিনি বললেন: ওঠো, এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং [একটানা] আমার সাথে হাঁটতে লাগলেন যতক্ষণ না আমরা আপনাদের এই মসজিদে পৌঁছালাম। সেখানে আমরা আপনাকে মসজিদে একাকী অবস্থায় পেলাম [পৃষ্ঠা ৯], তখন আবু বকর আমাকে বললেন: ইনিই নবী—অর্থাৎ আপনাকে উদ্দেশ্য করে।"
আমি তাকে বললাম: "ইনি তো আমার বন্ধু অমুক!" তিনি বললেন: "ইনিই নবী।"
তিনি বললেন: "সেই মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারলাম যে আপনি সত্যের ওপর এবং মুহাম্মাদি হিদায়াতের ওপর রয়েছেন, আর সমস্ত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৮)
ما قلتَه حقٌّ وصِدقٌ.
حكى لي هذه الرؤيا بالمجمع من الخلق، [وظننتُ]
(1) أنَّه قد رجع عن هذه النِّحلة؛ لأنَّها ظهرت لي منه أشاير القبول، ولم يذكر لي شيئًا مخالفًا ذلك، وغلب على ظنِّي أنَّه رجع عن ذلك الاعتقاد الخبيث، وبقي عندنا بعد ذلك نحو شهر، وسار وهو على حاله المحمود.
واتَّفقت به مرَّةً في عَدَن، بعد سنةٍ أو نحوها، وحصل بيني وبينه من البِشْر والفرح والمحبَّة، حتى قال لي: أشهدُ بالله أنَّك واصلٌ، وأنا أعلم أنِّي لستُ بهذه المثابة. إنَّما فرحت منه واستدلَّيت
(2) بذلك الكلام".
[ص 15] وقال أخوه السيِّد عبد الله بن طاهر في جوابٍ كتبه إلى الشيخ عبد الله بن علي [الفوري] بعد ذكر الرجل المسمَّى بالسيِّد صالح ما لفظه: "فاعْلم أيَّها الوالد ــ نفعنا الله بصالح دعواتك ــ أنَّا اطَّلَعْنا وتحقَّقنا من الرجل المذكور تحقُّقًا كان عندنا كالشمس في الظُّهور، أنَّه ليس من أهل النُّور، بل من أهل الكذب والزُّور، بل لنا على ما بلغنا عنه من سوء الاعتقاد، وأنَّه من أهل الكفر والإلحاد، ينتحل مذهب القائلين ــ والعياذ بالله ــ بالحلول والاتحاد".
إلى أن قال: "ولعلَّه لا يخفى عليكم ما حاصلٌ في جبل يافِع من دجَّال الضَّالع، الكاذب المفتون، الذي سمَّى نفسه أبا هارون، والسادةُ الكرام آل باهارون ــ بل جميع أهل البيت الطَّاهر ــ منه بريئون، قال صلى الله عليه وسلم: "من
--------------------------------------------
আপনি যা বলেছেন তা সত্য এবং যথার্থ।
তিনি এক বিশাল জনসমাবেশে আমার কাছে এই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেছিলেন, আর [আমি ধারণা করেছিলাম] যে তিনি এই ভ্রান্ত মতাদর্শ থেকে ফিরে এসেছেন; কারণ তার পক্ষ থেকে আমার কাছে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল এবং তিনি আমার কাছে এর পরিপন্থী কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। আমার প্রবল ধারণা হয়েছিল যে তিনি সেই কলুষিত বিশ্বাস থেকে ফিরে এসেছেন। এরপর তিনি আমাদের কাছে প্রায় এক মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তার সেই প্রশংসনীয় অবস্থার ওপরেই প্রস্থান করেছিলেন।
প্রায় এক বছর বা তার কিছুকাল পরে এডেনে (আদেন) তার সাথে আমার একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন আমাদের উভয়ের মাঝে অত্যন্ত প্রসন্নতা, আনন্দ ও সৌহার্দ্য বিনিময় হয়েছিল, এমনকি তিনি আমাকে বলেছিলেন: "আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন আল্লাহপ্রাপ্ত (ওয়াসিল) ব্যক্তি, আর আমি জানি যে আমি এই স্তরের কেউ নই।" আমি তার এই কথায় আনন্দিত হয়েছিলাম এবং তা থেকেই এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রমাণ গ্রহণ করেছিলাম।
[পৃষ্ঠা ১৫] এবং তাঁর ভ্রাতা সৈয়দ আবদুল্লাহ বিন তাহের, শেখ আবদুল্লাহ বিন আলী [আল-ফাওরি]-এর নিকট লিখিত এক পত্রে সাইয়্যেদ সালেহ নামক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করার পর যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "হে শ্রদ্ধেয় পিতা—আল্লাহ যেন আপনার নেক দোয়ার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন—আপনি জেনে রাখুন যে, আমরা উক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে সবিস্তারে অবগত হয়েছি এবং তা আমাদের কাছে মধ্যগগনের সূর্যের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সে হেদায়েতের আলোপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নয়, বরং সে মিথ্যা ও প্রবঞ্চনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। বরং তার কু-আকিদা সম্পর্কে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা থেকে প্রমাণিত যে সে কুফর ও নাস্তিকতার অনুসারী; সে—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি—সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে অনুপ্রবেশ (হুলুল) এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির একত্ব (ইত্তিহাদ) মতবাদে বিশ্বাসীদের পন্থা অবলম্বন করে।"
পরবর্তীতে তিনি বলেছেন: "আর সম্ভবত ইয়াফে পাহাড়ে দালআ'র সেই দাজ্জাল সম্পর্কে যা ঘটছে তা আপনাদের কাছে অবিদিত নয়, সেই ফিতনাগ্রস্ত চরম মিথ্যাবাদী যে নিজের নাম রেখেছে আবু হারুন। অথচ সম্মানিত সৈয়দগণ অর্থাৎ আলে বা-হারুন—বরং পবিত্র আহলে বাইতের সকলেই—তার সাথে সম্পর্কহীন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯৯)
انتسب إلى غير أبيه أو انتمى إلى غير مواليه فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفًا ولا عدلًا"
(1).
وأنساب آل با هارون وشجرتهم محفوظة ومضبوطة، وسيرهم محمودة ومغبوطة، ما فيهم كذَّابٌ ولا دجَّالٌ، ولا داعٍ إلى ضلال، ولا يعرف لهذا الفاجر بهم انتساب ولا اتِّصال .. الخ".
وقال با [شيخ] في أوائل رسالته: "قد وصل إلينا سؤالٌ من محبٍّ صادق، وخِلٍّ موافق، وهو الشيخ الفاضل محسن بن قاسم بن حسين الجهوري اليافعي محتدًا، والموسط بلدًا، قد ملأ الله قلبه بالإيمان، فأنكر الباطل وعزم على إزالته بلسانه ويده والجنان، وفَّقنا الله وإيَّاه لمرضاته، وسلك بنا وبه سبيل نجاته، آمين.
مضمونه بعد البسملة والحمدلة: ما قول ساداتي العلماء الأعلام ــ نفع الله بهم الخاص والعام ــ في هذا الرجل الذي خرج إلى جبل يافع، بلاد برية، وأرض بادية، يُقال له: حسن بن هارون أظهر أمورًا بطَّالة، كفرٌ صريحٌ في الشريعة الغراء، وقد قرأنا عنده، وقال: إنَّ العقيدة التي تؤخذ عليها العهد والمواثيق من الطالب، ونأمره بكتمها هي علم التوحيد، وهو علم الباطن، ويقول: إنَّ الوجود والموجودات كلها الله، الظاهرة والباطنة، وكل رطب ويابس، وطاهر ونجس، وكافر ومسلم، وحق وباطل، وحلال وحرام= كل ذلك الله لا غير، تعالى الله عمَّا يقول هذا الجاحد الكافر علوًّا كبيرًا.
وقال برفع التكاليف عن الناس، لا صلاة، ولا صيام، ولا زكاة عليهم،
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি নিজেকে নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্পৃক্ত করল অথবা নিজের অভিভাবক ব্যতীত অন্যের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করল, তার ওপর আল্লাহর, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না"
(১)।
আর আল বা-হারুন পরিবারের বংশপরম্পরা ও তাদের বংশলতিকা সংরক্ষিত ও সুবিন্যস্ত। তাদের জীবনচরিত প্রশংসিত ও ঈর্ষণীয়। তাদের মধ্যে কোনো মিথ্যাবাদী কিংবা দাজ্জাল নেই, এবং গোমরাহীর দিকে আহ্বানকারীও কেউ নেই। এই পাপাচারী ব্যক্তির সাথে তাদের কোনো বংশীয় সম্পৃক্ততা বা সংযোগের কথা জানা যায় না... ইত্যাদি"।
বা [শাইখ] তাঁর রিসালার শুরুতে বলেছেন: "আমাদের নিকট জনৈক সত্যনিষ্ঠ মুহিব্ব ও সুহৃদ ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি প্রশ্ন এসেছে; তিনি হলেন বংশমর্যাদার দিক থেকে ইয়াফেয়ী এবং বাসস্থানের দিক থেকে মাওয়াসিত এলাকার অধিবাসী ফাজিল শায়খ মুহসিন ইবনে কাসিম ইবনে হুসাইন আল-জাওহুরী। আল্লাহ তাঁর অন্তরকে ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। ফলে তিনি বাতিলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্বীয় জিহ্বা, হাত ও অন্তরের দ্বারা তা নির্মূল করার সংকল্প করেছেন। আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ও তাঁকে নাজাতের পথে পরিচালিত করুন। আমিন।
বাসমালাহ ও হামদালার পর বিষয়বস্তু নিম্নরূপ: আমাদের সায়্যিদ তথা বরেণ্য আলেমগণ—যাদের দ্বারা আল্লাহ সাধারণ ও বিশেষ সকল মানুষকে উপকৃত করেছেন—তাদের অভিমত কী এই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে ইয়াফেয় পাহাড়ে তথা এক মরু প্রান্তরে আবির্ভূত হয়েছে; তাকে হাসান বিন হারুন বলা হয়। সে কিছু ভ্রান্ত বিষয় প্রকাশ করেছে যা উজ্জ্বল শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট কুফর। আমরা তার নিকট পাঠ গ্রহণ করেছি, তখন সে বলেছে: 'যে আকিদার ওপর ছাত্রের কাছ থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয় এবং আমরা তাকে তা গোপন রাখার নির্দেশ দেই, তা হলো তাওহীদ বিদ্যা, যা মূলত ইলমে বাতিন (গুপ্ত জ্ঞান)।' সে আরও বলে: 'অস্তিত্ব ও অস্তিত্বশীল যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহ—প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য, আর্দ্র হোক বা শুষ্ক, পবিত্র হোক বা অপবিত্র, কাফের হোক বা মুসলিম, সত্য হোক বা মিথ্যা এবং হালাল হোক বা হারাম—এসবই আল্লাহ ছাড়া আর কিছু নয়।' এই অস্বীকারকারী কাফের যা বলছে, আল্লাহ তা থেকে অত্যন্ত পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে।
সে মানুষের ওপর থেকে শরিয়তের বিধিবিধান (তাকলীফ) তুলে নেওয়ার কথা বলেছে; তাদের ওপর কোনো সালাত নেই, কোনো সিয়াম নেই এবং কোনো জাকাত নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০০)
ولا حج، وإنَّما الحج عبادة جدار!
وقال: إنَّ القرآن إنَّما هو حديث الرسل والفراعنة، والمذكور فيه من جبال وأحجار وأشجار، وجنَّة ونار، وحشر ونشر، ومشرق ومغرب= فهي فيك أيها الإنسان جميعا .. الخ.
[ص 19] وخلاصة تخبُّطات المخذول ــ والعياذ بالله ــ أنَّه ينكر محمَّدًا صلى الله عليه وآله وسلم والقرآن. فاضْبطوا هذا:
س: بأيِّ شيءٍ ثبَت عندك الإنجيل؟
ج: بثبات التوراة.
س: بأيِّ شيءٍ ثبتت التوراة؟
ج: بإقرار القرآن.
س: القرآن في زعمك ليس بشيءٍ، فكيف تتَّخذه حجَّةً في دينك؟
ج: أثبتُ التوراة [بالتواريخ] الأجنبيَّة.
س: التواريخ الأجنبيَّة ــ كما بينَّا سابقًا ــ لا تقوم بها حُجَّةٌ؛ لأنَّ مصدرها عن أحبار اليهود، وكم في التواريخ من كذبٍ مناقض للعقل.
ج: أثبتُ التوراة بنقل الكواف لها.
س: قد بينَّا لك عدم اتِّصال النَّقل كافَّة عن كافَّةٍ، وما جرى على التوراة من الغربة والإحراق [وغير ذلك].
ج: ثبت الإنجيل بنقل الكواف.
س: ليس بأيدي النَّصارى إنجيل منزَّلٌ على عيسى، وإنَّما هي تواريخ لفَّقَهَا "مَتَّى" [وإخوانه].
আর কোনো হজ্জ নেই, বরং হজ্জ হলো কেবল একটি দেয়ালের উপাসনা!
আর তিনি বললেন: কুরআন তো কেবল রাসূলগণ এবং ফেরাউনদের উপাখ্যান; আর এতে পাহাড়, পাথর, বৃক্ষরাজী, জান্নাত, জাহান্নাম, হাশর ও নশর (পুনরুত্থান), পূর্ব ও পশ্চিমের যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে—হে মানুষ, সেই সবকিছুই তোমার ভেতরে বিদ্যমান... ইত্যাদি।
[পৃষ্ঠা ১৯] আর এই পরিত্যক্ত ব্যক্তির বিভ্রান্তিকর প্রলাপের সারসংক্ষেপ হলো—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—সে মুহাম্মদ (তাঁর ওপর এবং তাঁর বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং কুরআনকে অস্বীকার করে। অতএব এটি ভালোভাবে অনুধাবন করুন:
প্রশ্ন: আপনার নিকট ইঞ্জিল কিসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে?
উত্তর: তাওরাতের প্রমাণের মাধ্যমে।
প্রশ্ন: তাওরাত কিসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনের স্বীকৃতির মাধ্যমে।
প্রশ্ন: আপনার দাবি অনুযায়ী কুরআন তো কিছুই নয়, তবে আপনি কীভাবে একে আপনার ধর্মের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন?
উত্তর: আমি বিদেশী [ইতিহাসের] মাধ্যমে তাওরাতকে প্রমাণ করি।
প্রশ্ন: বিদেশী ইতিহাস—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি—তার মাধ্যমে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না; কারণ এর উৎস হলো ইহুদি পণ্ডিতগণ। আর ইতিহাসে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপন্থী কত যে মিথ্যা রয়েছে!
উত্তর: আমি তাওরাতকে নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতির মাধ্যমে প্রমাণ করি।
প্রশ্ন: আমরা আপনার কাছে স্পষ্ট করেছি যে, সর্বসাধারণের নিকট থেকে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার কোনো ধারাবাহিকতা নেই এবং তাওরাতের ওপর যে বিলুপ্তি ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা [সহ অন্যান্য বিষয়] ঘটেছে তাও বর্ণনা করেছি।
উত্তর: ইঞ্জিল নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রশ্ন: খ্রিস্টানদের হাতে ঈসার ওপর অবতীর্ণ কোনো ইঞ্জিল নেই; বরং এগুলো কেবল কিছু ইতিহাস যা "মথি" [এবং তার সহযোগীরা] সাজিয়েছে বা সংকলন করেছে।
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০১)
ج: اتَّصلت الكوافُّ بـ"مَتَّى" وإخوانه، وظهرت لهم معجزات.
س: هل كانوا أنبياء مع قول المسيح عليه السلام؟
ج: إن لم يكونوا أنبياء فأصحاب المسيح نقلوا عنه، كما نقل أصحاب محمَّدٍ عنه.
س: أصحاب محمَّد كانوا [من الثِّقة التي] تقوم بهم الحُجَّة في إثبات القرآن وغيره من المعتقدات، ثم لم يزل الأمر كذلك إلى الآن. [ولا كذلك أصحاب متَّى] كما أشرنا إليه سابقًا عن "الملل والنِّحَل"، وهو شيءٌ واضحٌ يعلمه النَّصارى وغيرهم.
وقد نقل الإمام رحمةُ الله في [كتابه "إظهار] الحق"
(1) عن أكابر أهل الكتاب الاتِّفاق على وقوع التَّحريف والتَّبديل الذي لا يُحْصَى في العَهْدَين العتيق والجديد مرارًا عمدًا وسهوًا، وذكروا أسباب ذلك، و [حرَّروها] بأوضح بيان، وأنَّ علماء [هم] الكبار لم يكونوا يتحاشون عن ذلك، بل يعدُّونه قربة، ولا يخفونه عن أمثالهم، وها نحن نرى كثيرًا ممَّا نقله علماء المسلمين قديمًا عن كتب العهدين لا يوجد بعضه في كتبهما الموجودة اليوم.
ج: أثبتُّ التوراة بما فيها من التَّبشير بعيسى ورفعه وصفته .. الخ؛ لأنَّه من الإخبار بالغيب، ولا داعي لليهود إلى تزوير ذلك، وهو ضدُّهم، وبثبوتها أثبت ما تضمَّنته تلك البشارة .. إلخ.
--------------------------------------------
উ: ম্যাথু ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে জনসমষ্টির নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল এবং তাঁদের মাধ্যমে অলৌকিক নিদর্শন (মুজিযা) প্রকাশিত হয়েছিল।
প্র: ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামের বাণীর উপস্থিতিতে তাঁরা কি নবী ছিলেন?
উ: তাঁরা যদি নবী না-ও হয়ে থাকেন, তবে মসীহের সঙ্গীরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, ঠিক যেমন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
প্র: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এমন [নির্ভরযোগ্য ছিলেন যে] কুরআন ও অন্যান্য বিশ্বাস্য বিষয়সমূহ প্রমাণের ক্ষেত্রে তাঁদের মাধ্যমে অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত বিষয়টি তেমনই চলে আসছে। [কিন্তু ম্যাথুর সঙ্গীদের বিষয়টি এমন নয়], যেমনটি আমরা পূর্বে ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছি; এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যা খ্রিস্টান ও অন্যরা অবগত আছে।
ইমাম রহমতুল্লাহ তাঁর [‘ইযহারুল হক’]
(১) গ্রন্থে আহলে কিতাবদের বড় বড় পণ্ডিতদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা পুরাতন ও নতুন নিয়মে (ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট) ইচ্ছাকৃত এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে অসংখ্যবার অগণিত বিকৃতি ও পরিবর্তনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাঁরা এর কারণগুলোও উল্লেখ করেছেন এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তা [লিপিবদ্ধ করেছেন]। এমনকি তাঁদের বড় বড় আলেমরাও এ কাজ থেকে বিরত থাকতেন না, বরং একে পুণ্য ও নৈকট্য লাভের উপায় মনে করতেন এবং সমমনাদের কাছে তা গোপন করতেন না। বর্তমানে আমরা মুসলিম পণ্ডিতদের প্রাচীন গ্রন্থসমূহে দুই টেস্টামেন্ট থেকে উদ্ধৃত এমন অনেক কিছুই দেখতে পাই, যার কিছু অংশ বর্তমানের প্রচলিত গ্রন্থগুলোতে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
উ: আমি তাওরাতকে সত্যায়ন করেছি যাতে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমনের সুসংবাদ, তাঁর আসমানে উত্তোলন এবং তাঁর গুণাবলি ইত্যাদি বর্ণিত রয়েছে; কারণ এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ (গায়বি খবর) এবং ইহুদিদের জন্য এগুলো জাল করার কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা তা তাদের বিরুদ্ধেই যায়। আর তাওরাতের সত্যতা প্রমাণের মাধ্যমে আমি সেই সুসংবাদগুলোর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদিও সাব্যস্ত করেছি... ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০২)
س: في هذا احتمالان:
الأول: ما تقوله اليهود، أنَّهم دسُّوا على النَّصارى أولئك النَّفر ليشوِّشوا دينهم، وذكرنا لك بعض شواهد ذلك، والشواهد عليه كثيرةٌ، أقلها أنَّه باعتراف النصارى أنَّ أولئك النَّفر كانوا يظهرون اليهوديَّة .. الخ، فلعلَّهم رأوا أنَّ أقرب ما يستهوون به أتباع النصرانية أن يزوِّروا لهم بشارةً في التَّوراة، مشوبةً بأوهام التَّثليث! فهذا الوجه يفسخ الشُّبهة التي ظننتَها مثبِتَةً للتوراة و [
… ] عليها.
ولو سلَّمنا ثبوت التوراة فقد ذكرنا سابقًا وجهين في تلك البشارة:
أحدهما: أنَّ الذين تلاعبوا بالتوراة من المرتدِّين والزنادقة وعبدة الأوثان وجدوا البشارة بعيسى في التوراة، فزادوا فيها مثل ما زادوا في غيرها، من ذكر الأبوَّة والبنوَّة وغيرهما.
الثاني: أنَّ أولئك النَّفر الذين دسَّهم اليهود لتشويش دين النَّصارى هم الذين زادوا تلك الأشياء، لاستهواء النَّصارى، ومع ذلك فقد احترس اليهود لأنفسهم بتأخير تاريخ [
… ].
وأيضًا احترسوا بذكر فصول في الإنجيل، أنَّ عيسى دعا بالمغفرة
(1) للذين صلبوه، وعفا عنهم، وأنَّه لم يجيء لنقص حرفٍ واحدٍ من التوراة، إلى آخر ما شرحناه سابقًا. نسأل الله العافية.
ولعل هنالك احتمالات غير ما ذكرنا.
والقصد أنَّ مثل تلك الشُّبهة لا يقتنع بها العاقل حُجَّة في دينه، وهل
--------------------------------------------
প্রশ্ন: এক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমটি: যা ইহুদিরা বলে থাকে, যে তারা খ্রিস্টানদের মধ্যে সেই ব্যক্তিবর্গকে অনুপ্রবেশ করিয়েছিল যাতে তারা তাদের ধর্মকে বিভ্রান্ত ও বিশৃঙ্খল করে দিতে পারে। আমরা ইতিপূর্বে এর কিছু প্রমাণ আপনার সামনে পেশ করেছি, আর এর সপক্ষে প্রমাণ অনেক। যার মধ্যে ন্যূনতম হলো খোদ খ্রিস্টানদের স্বীকারোক্তি যে, সেই লোকগুলো ইহুদি ধর্ম প্রকাশ করত... ইত্যাদি। সম্ভবত তারা মনে করেছিল যে, খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের প্রলুব্ধ করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাওরাতের মধ্যে তাদের অনুকূলে একটি সুসংবাদ জাল করা, যা ত্রিত্ববাদের ভ্রান্ত ধারণায় কলুষিত! সুতরাং এই প্রেক্ষিতটি সেই সংশয়কে নিরসন করে দেয় যা আপনি তাওরাতের প্রামাণিকতা এবং এর ওপর [
… ] প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে মনে করেছিলেন।
আর যদি আমরা তাওরাতের প্রামাণিকতা মেনেও নেই, তবুও আমরা ইতিপূর্বে সেই সুসংবাদ সম্পর্কে দুটি দিক উল্লেখ করেছি:
প্রথমটি: মুরতাদ, যিন্দিক ও মূর্তিপূজকদের মধ্য থেকে যারা তাওরাত নিয়ে কারসাজি করেছে, তারা তাওরাতে ঈসা (আলাইহিস সালাম) সংক্রান্ত সুসংবাদটি পেয়েছিল। অতঃপর তারা এতে অন্যান্য বিকৃতির ন্যায় পিতৃত্ব ও পুত্রত্বের বর্ণনা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি যোগ করে দিয়েছিল।
দ্বিতীয়টি: ইহুদিরা খ্রিস্টানদের ধর্মকে বিকৃত করার জন্য যে দলটিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছিল, তারাই খ্রিস্টানদের প্রলুব্ধ করার জন্য সেই বিষয়গুলো সংযোজন করেছিল। তা সত্ত্বেও, ইহুদিরা [
… ] এর ইতিহাস পিছিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করেছিল।
তাছাড়া তারা ইঞ্জিলের বিভিন্ন অধ্যায়ে এই কথা উল্লেখ করেও সতর্কতা অবলম্বন করেছিল যে, ঈসা তাকে ক্রুশবিদ্ধকারীদের জন্য ক্ষমা
(১) প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাদের মার্জনা করেছিলেন; আর তিনি তাওরাতের একটি অক্ষরও বিলোপ করতে আসেননি—পূর্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি।
সম্ভবত আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও বহু সম্ভাবনা বিদ্যমান।
সারকথা হলো, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার দ্বীনের ক্ষেত্রে এ জাতীয় সংশয়কে অকাট্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে আশ্বস্ত হতে পারেন না। আর কি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
رأيت هذه الشبهة الضعيفة أقوى شيءٍ يتبعه العاقل ويتَّخذه دينًا، حتى وجدتها أقوى من القرآن وما معه!
ليتك راجعت التوراة والإنجيل هذه المزيَّفِين المبدَّلين، لنقف على ما أعمى الله عنه أولئك الأنذال، في الفصول التي ترجَّح أن تكون بشارة بمحمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، فإنَّها كثيرة. ومع هذا فقد عرفت ما في هذه الكتب من الكذب والمناقضات، وأنَّ مؤلِّفي الأناجيل كذَّابون، لا يصحُّ [أخذ] دينٍ منهم، ولا يصحُّ إطلاق الحواريين عليهم، وإن لم نعلم أسماءهم الآن.
سبحان من وسع كل شيءٍ علمًا، ونعوذ به من الخذلان، ونبتهل إلى الله تعالى أن يثبِّت قلوبنا على الإيمان، ويختم لنا بالإحسان.
[ص 17] ثم أخذ هذا المخذول يتخبَّط في خيالات واهية، إلى أن قال: "فلِمَ لَمْ يكذِّب القرآنُ التوراة والإنجيل"؟
فنقول: يا مخذول، أي شيء مسمَّى التوراة والإنجيل في الحقيقة؟ أليس هو الكتابَيْن المنزَّلَين من الله تعالى؟ لا شكَّ في ذلك.
وقد بيَّنَّا لك بما سبق أنَّ ما بأيدي القوم من قبل بعثة النَّبيِّ صلى الله عليه وآله وسلم مبدَّلٌ مغيَّرٌ، قد اختلط فيه الحق بالباطل.
وأمَّا قوله تعالى: {قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا} [آل عمران: 93]؛ فسمَّى ما بأيديهم "التوراة" لاشتماله على شيءٍ منها، من جملته الشيء المسوقةُ الآيةُ لبيانِهِ، مع أنَّهم كانوا يسمُّون ذلك السِّفْر بالتَّوراة ويزعمون أنَّه التَّوراة.
إلى أن قال: {يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ} [آل عمران: 45]، لِمَ كانت البشارة خلاف [المعتاد]؟
আমি এই দুর্বল সংশয়টিকে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির অনুসরণযোগ্য এবং ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করার মতো সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় হিসেবে দেখেছি, এমনকি আমি একে কুরআন এবং তার সাথে যা আছে তার চেয়েও শক্তিশালী মনে করেছি!
যদি আপনি এই জাল ও পরিবর্তিত তাওরাত এবং ইঞ্জিল পর্যালোচনা করতেন, তবে সেই অধ্যায়গুলোতে যে বিষয়গুলো থেকে আল্লাহ ওই অধমদের অন্ধ করে রেখেছেন, সেগুলো আমরা দেখতে পেতাম; যেগুলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুসংবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আর এগুলোর সংখ্যা অনেক। তা সত্ত্বেও, আপনি এই বইগুলোতে থাকা মিথ্যা এবং স্ববিরোধিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ইঞ্জিল রচয়িতারা মিথ্যাবাদী, তাদের কাছ থেকে ধর্ম গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তাদের ওপর 'হাওয়ারী' (শিষ্য) শব্দটির প্রয়োগও সঠিক নয়, যদিও বর্তমানে আমরা তাদের নাম জানি না।
পবিত্র সেই সত্তা যাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। আমরা লাঞ্ছনা থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং মহান আল্লাহর কাছে বিনীত প্রার্থনা জানাই যে, তিনি যেন আমাদের অন্তরকে ঈমানের ওপর অবিচল রাখেন এবং আমাদের শেষ পরিণতি যেন ইহসানের সাথে করেন।
[পৃষ্ঠা ১৭] অতঃপর এই লাঞ্ছিত ব্যক্তি অসার কল্পনার জালে হাত-পা ছুড়তে শুরু করল, এমনকি সে বলল: "তবে কুরআন কেন তাওরাত ও ইঞ্জিলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি?"
আমরা বলি: হে লাঞ্ছিত! প্রকৃতপক্ষে তাওরাত ও ইঞ্জিল নামে অভিহিত বস্তুটি কী? তা কি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ দুটি কিতাব নয়? এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইতিপূর্বে আমরা আপনার কাছে স্পষ্ট করেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে থেকেই ওই সম্প্রদায়ের কাছে যা বিদ্যমান ছিল, তা পরিবর্তিত ও বিকৃত; যাতে সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তবে তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো} [আলে ইমরান: ৯৩]; এখানে তাদের কাছে যা বিদ্যমান তাকে "তাওরাত" নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে মূল তাওরাতের কিছু অংশ অবশিষ্ট রয়েছে, যার মধ্যে সেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত যার বর্ণনার জন্য আয়াতটি নাযিল হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা সেই খণ্ডটিকে তাওরাত বলত এবং দাবি করত যে এটিই প্রকৃত তাওরাত।
এমনকি তিনি বলেছেন: {তিনি তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যাঁর নাম হলো মসীহ} [আলে ইমরান: ৪৫], কেন এই সুসংবাদটি [স্বাভাবিক] নিয়মের বিপরীত ছিল?
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
نقول لك: كما بُشِّر إبراهيم بإسحاق، ومن وراء إسحاق يعقوب، وزكريا بيحيى، فإنَّ إبراهيم وزكريا كانا قد كبرا، فلذلك بُشِّرا؛ لأنَّ مجيء الولد للكبير خلاف المعتاد، فبُشِّرا بخلاف المعتاد.
وكذلك مريم عليها السلام، لمَّا كان الولد من غير أبٍ كان خلاف المعتاد= بُشِّرت على خلاف المعتاد.
قال المخذول: لم سُمِّي المسيح؟ أقوال، في الجملة أنَّه مسح بدهن كان يمسح به الأنبياء، ما حكمة التخصيص بالتسمية، وقد حصل لكلِّهم واحيرتاه!
أقول: أيها المخذول، نعوذ بالله من الخذلان الذي أصبح يريك الهباء في أجرام الجبال، ما منعك أن تقول: المَسْح في اللُّغة يطلق على أن يخلق الله الشيء مباركًا، ومنه قول رسول الله صلى الله عليه وسلم في جرير بن عبد الله البجلي: "يطلع عليكم رجل عليه مَسْحَة ملَك، هو خير ذي يَمَن"
(1).
فإن قلتَ: فليس الأنبياء جميعهم مباركين؟
قلتُ: بلى! أفليسوا كلهم عبيد الله، فلِمَ خُصِّصَ يعقوبُ بإسرائيل
(2).
--------------------------------------------
আমরা আপনাকে বলছি: যেমন ইব্রাহীমকে ইসহাক ও ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং জাকারিয়াকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল; যেহেতু ইব্রাহীম ও জাকারিয়া উভয়েই অতিশয় বৃদ্ধ হয়েছিলেন, তাই তাদেরকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ হওয়া সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী, তাই তাদেরকে এই বিশেষ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল।
একইভাবে মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর ক্ষেত্রেও যখন পিতা ছাড়াই সন্তান লাভ হওয়া ছিল সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী, তখন তাকেও সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়েই সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল।
সেই লাঞ্ছিত ব্যক্তি বলেছে: কেন তাকে 'মসীহ' নামকরণ করা হলো? এ বিষয়ে বহু বক্তব্য রয়েছে, যার সারকথা হলো— তাকে এমন এক তেল দ্বারা মাসহ্ (অভিষেক) করা হয়েছিল যা দ্বারা নবীগণকে মাসহ্ করা হতো। তাহলে কেবল তাকেই এই নামে বিশিষ্ট করার রহস্য কী, যেখানে এটি সকলের ক্ষেত্রেই ঘটেছিল? হায় আফসোস!
আমি বলছি: হে লাঞ্ছিত ব্যক্তি! আমরা আল্লাহর নিকট এমন লাঞ্ছনা থেকে পানাহ চাই যা আপনাকে পাহাড়ের বিশালত্বের মাঝেও ধূলিকণা দেখাচ্ছে। ভাষাগতভাবে 'মাসহ্' শব্দটি আল্লাহ তাআলা কোনো কিছুকে অত্যন্ত বরকতময় হিসেবে সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়— এ কথা বলতে আপনাকে কিসে বাধা দিল? যেমনটি জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "তোমাদের সামনে এখন এমন এক ব্যক্তি উপস্থিত হবেন যার অবয়বে ফেরেশতাসুলভ আভা বিদ্যমান, তিনি ইয়ামানের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।"
(১)।
আপনি যদি বলেন: তবে কি সকল নবীই বরকতময় নন?
আমি বলব: অবশ্যই তারা বরকতময়! কিন্তু তারা সকলেই কি আল্লাহর বান্দা নন? তবে কেন কেবল ইয়াকুবকে 'ইসরাঈল' নামে বিশিষ্ট করা হলো?
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
وهذا من الأسئلة الواهية.
قال المخذول: ما حكمة ولادته من عذراء بدون أبٍ بعد استقرار ناموس التناسل؟
نقول له: كما قال تعالى: {وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ} [مريم: 21]. يا مخذول هذه خارقةٌ من جملة الخوارق، كإحيائه للموتى، وإبرائه للأَكْمَهِ والأبرص، وكما وقع لغيره من الأنبياء الإحياء والإبراء ونحوهما، وكرمي أصحاب الفيل وغيرها.
وهَبْ أنَّ لذلك حكمة أخرى هل هنالك أدنى شبهة على ألوهيَّته؟ !
وقد قيل: إنَّ الحِكمة هو أن يكمل أقسام الخلق، خلق آدم من غير حيٍّ، وحواء من حيٍّ ذكر فقط، وبقيَّة الناس من حيَّيْن، ذكر وأنثى، فخلق المسيح تكملة للأقسام، من حيٍّ أنثى فقط؛ للدلالة على [أنَّ] قدرة الله تعالى شاملة لخلق أضداد، يعني: لكلِّ قِسمٍ من الأقسام.
[ص 20] قال المخذول: وما الحكمة في خلقه كهيئة الطير طيرًا، وإحياء الموتى، وهذا من وظائف
(1) الله الخاصَّة؟
نقول: يا مخذول! أمَّا إحياء الموتى فقد وقع لغيره أكثر منه، وأمَّا خلقه كهيئة الطَّير فليست بأغرب من الإحياء؛ لأنَّ كلًّا منهما حياة واردة على موات.
ودعنا من هذا، هل كان الإحياء بإذن الله أو بدون إذن الله؟
--------------------------------------------
এটি ভিত্তিহীন প্রশ্নগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
সেই পরিত্যক্ত ব্যক্তি বলেছে: প্রজননের স্বাভাবিক নিয়ম সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পিতা ছাড়াই জনৈক কুমারীর গর্ভে তাঁর জন্মের রহস্য কী?
আমরা তাকে বলি: মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: {যাতে আমি তাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন স্বরূপ করি} [মারইয়াম: ২১]। হে পরিত্যক্ত! এটি হলো বহু অলৌকিক নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত একটি ঘটনা; যেমন তাঁর মৃতকে জীবিত করা, জন্মান্ধ ও শ্বেতী রোগীকে আরোগ্য করা। আর অন্যান্য নবীগণের মাধ্যমেও মৃতকে জীবিত করা, আরোগ্য দান করা এবং এই জাতীয় অলৌকিকতা সংঘটিত হয়েছে, যেমন হস্তীবাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ।
আর ধরে নিলাম এর অন্য কোনো রহস্যও আছে, তবুও কি তাঁর উপাস্য হওয়ার বিষয়ে সামান্যতম কোনো সংশয় থাকতে পারে?!
বলা হয়ে থাকে: এর রহস্য হলো সৃষ্টির প্রকারভেদগুলো পূর্ণ করা; আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে কোনো জীবিত সত্তা ছাড়া, হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল জীবিত পুরুষ থেকে, এবং বাকি সকল মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষ ও নারী—উভয় জীবিত সত্তা থেকে। তাই সৃষ্টির প্রকারভেদ পূর্ণ করতে মসীহকে কেবল জীবিত নারী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এটি প্রমাণ করার জন্য যে, মহান আল্লাহর ক্ষমতা বিপরীতমুখী সকল কিছু সৃষ্টিতেই ব্যাপৃত, অর্থাৎ সৃষ্টির প্রতিটি প্রকারের ওপরই তিনি সক্ষম।
[পৃষ্ঠা ২০] সেই পরিত্যক্ত ব্যক্তি বলেছে: মাটির পাখির ন্যায় আকৃতি দিয়ে তাকে পাখিতে রূপান্তর করা এবং মৃতকে জীবিত করার মধ্যে রহস্য কী, অথচ এগুলো তো আল্লাহরই বিশেষ কার্যাবলির
(১) অন্তর্ভুক্ত?
আমরা বলি: হে পরিত্যক্ত! মৃতকে জীবিত করার বিষয়টি তো তাঁর ছাড়া অন্যদের মাধ্যমেও অধিক মাত্রায় সংঘটিত হয়েছে। আর পাখির আকৃতি প্রদানের বিষয়টি মৃতকে জীবিত করার চেয়ে অধিক বিস্ময়কর কিছু নয়; কারণ এ দুটোর প্রতিটিই হলো নির্জীব বস্তুর ওপর জীবনের সঞ্চার করা।
আর এ কথা বাদ দাও, মৃতকে জীবিত করা কি আল্লাহর অনুমতিতে হয়েছিল নাকি আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
إن كان بإذن الله ــ كما هو الواقع ــ والذي نقرُّ به فقد تبيَّن أنَّه ليس للمسيح إلَّا السَّبب؛ إذْ افْتَقَرَ إلى إذن غيره.
وإن قلتَ: إنَّه بلا إذن من الله تعالى فهذا كذبٌ بحتٌ، وتكذيبٌ لكتب الله تعالى.
ثمَّ ذكر حديث مسلم
(1): "ما من مولودٍ إلَّا والشيطان ينخسه إلَّا عيسى ابن مريم وأمَّه"، وسأل عن عِلَّة التَّخصيص؟
فيُقال له: يا مخذول ما من نبيٍّ من الأنبياء إلَّا وله مزايا، فلو كان كل من له مزيَّةٌ يستدلُّ بها على إلهيَّته لامتلأت الدنيا آلهةً!
ثم عاد المخذول في إنكار التَّحريف، وزعم أنَّه لا حامل لليهود على زيادة ذلك في توراتهم؛ لأنَّه ينادي عليهم بالكفر.
أقول: لم أقف على هذا الفصل من التوراة، حتى أتأمله على صحَّته، ولكن الجواب ــ وبالله الثِّقة ــ من وجهين:
الأول: أنَّه كان في التوراة المنزَّلة ذكر عيسى عليه السلام وزمنه وصفته .. الخ، فلمَّا تلاعبت الأيدي بالتوراة ودسَّت ذلك جعله هذا المخذول دليلًا على التثليث. قد ذكر [
… ] في التوراة كثيرًا من الناس باسم ابن الله، وأبناء، وزوجة، تعالى الله عن ذلك علوًّا كبيرًا، فلمَّا بُعِث المسيح كانت التوراة قد انتشرت قليلًا، فلم يمكنهم إزالة ذلك.
الثاني: أن يكون اليهود بعد وفاة المسيح علموا أنَّه إذا ثبت دينُه كانت
--------------------------------------------
যদি তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই হয়—যেমনটি বাস্তবতা—এবং যা আমরা স্বীকার করি, তবে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মসীহের কোনো ভূমিকা নেই কেবল মাধ্যম হওয়া ছাড়া; যেহেতু তিনি অন্যের অনুমতির মুখাপেক্ষী ছিলেন।
আর আপনি যদি বলেন: এটি আল্লাহ তাআলার অনুমতি ব্যতিরেকেই ছিল, তবে তা নির্জলা মিথ্যা এবং আল্লাহ তাআলার কিতাবসমূহকে অস্বীকার করার নামান্তর।
অতঃপর তিনি মুসলিমের হাদীস
(১) উল্লেখ করেছেন: "প্রত্যেক নবজাতককেই শয়তান খোঁচা দেয়, কেবল ঈসা ইবনে মারইয়াম ও তাঁর মাতা ব্যতীত", এবং তিনি এই বিশেষত্বের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
এমতাবস্থায় তাকে বলা হবে: হে লাঞ্ছিত! নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী নেই যাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। এখন যদি প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যক্তিকে তার সেই বৈশিষ্ট্যের কারণে উপাস্য হওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, তবে পৃথিবী উপাস্যে ভরে যেত!
এরপর সেই লাঞ্ছিত ব্যক্তি বিকৃতি অস্বীকারের দিকে ফিরে এল এবং দাবি করল যে, ইয়াহূদীদের জন্য তাদের তাওরাতে এটি অতিরিক্ত যোগ করার কোনো কারণ ছিল না; কারণ এটি তাদের ওপর কুফরের ঘোষণা দেয়।
আমি বলব: আমি তাওরাতের এই অধ্যায়টি দেখিনি যাতে এর সত্যতা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারি, তবে উত্তরটি—এবং আল্লাহর ওপরই ভরসা—দুইটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথমত: অবতীর্ণ তাওরাতে ঈসা আলাইহিস সালামের উল্লেখ, তাঁর সময়কাল ও তাঁর গুণাবলি ইত্যাদির বিবরণ ছিল। কিন্তু যখন মানুষের হাত তাওরাত নিয়ে কারসাজি করল এবং এতে প্রক্ষিপ্ত বিষয় ঢুকিয়ে দিল, তখন এই লাঞ্ছিত ব্যক্তি সেটিকে ত্রিত্ববাদের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করল। তাওরাতে অনেক মানুষকে 'আল্লাহর পুত্র', 'পুত্রগণ' এবং 'স্ত্রী' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও অতি পবিত্র। অতঃপর যখন মসীহ প্রেরিত হলেন, তখন তাওরাত কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছিল, ফলে তাদের পক্ষে তা মুছে ফেলা সম্ভব ছিল না।
দ্বিতীয়ত: মসীহের তিরোধানের পর ইয়াহূদীরা জানতে পারল যে, যদি তাঁর দ্বীন সাব্যস্ত হয়ে যায়, তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
القاضية على دينهم المبدَّل المغيَّر، فدسُّوا
(1) هؤلاء القوم، أصحاب الأناجيل، لتبديل دين المسيح، واليهود تدَّعي هذا، كما في "الملل"
(2) وغيرها، فتوسَّل هؤلاء الشياطين إلى تبديل دين المسيح، بذكر تلك الزيادة في التوراة.
في التوراة ذكر المسيح، وبتعيين السَنَة، والبلد، والصِّفة، ومدَّة مكثه، وارتفاعه، وأنَّهم سيكفرون به، ويعاملونه بكذا وكذا؛ حتى يعر [ف] من عرف [المسيح] أو شا [هده]، فيقولوا: [إن] نعته في [التوراة
… ] وقد حكم [بذلك] التوراة وعلى هذا التوراة [ .... ] النصرانية.
وعلى كلا القولين فقد رأيتُ في التَّواريخ أنَّ الزِّيادة التي أسقطها اليهود من تاريخ الدنيا إنَّما أسقطوها معارضة للمسيح؛ لأنَّه موصوفٌ في توراتهم بزمانه فأخَّروا التاريخ، وقالوا: إنَّ المسيح لم يجئ بعد.
ولم أطَّلع في الحال على ذكر المسيح في التوراة حتى أحقِّق النَّظر في التاريخ، ولكن قد علمت الحامل لليهود على الزيادة في هذه التوراة.
فكأنَّ اليهود قصدوا تضليل النَّصارى بترك تلك الصفة في التوراة، ودفعوا الكفر عن أنفسهم بتأخير التاريخ.
ويدلُّ على هذا عِدَّة فصول في الإنجيل، منها ما في "إنجيل لوقا" [
… ] قال: "فلمَّا بلغوا إلى الموضع الذي يدعى "الأجرد"
(3) صلبوه فيه، وصلبوا
--------------------------------------------
...তাদের বিকৃত ও পরিবর্তিত ধর্মের ওপর চরম আঘাতস্বরূপ; তাই ইঞ্জিলের অনুসারী এই লোকগুলো মাসীহ-এর ধর্ম পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে (তাদের মাঝে) অনুপ্রবেশ করিয়েছিল
(১); ইহুদিরাও এমনটিই দাবি করে, যেমনটি 'আল-মিলাল' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর এই শয়তানরা তাওরাতে ওই নির্দিষ্ট অতিরিক্ত অংশ সংযোজনের মাধ্যমে মাসীহ-এর ধর্ম পরিবর্তনের পথ খুঁজে নিয়েছিল।
তাওরাতে মাসীহ-এর উল্লেখ রয়েছে; সেখানে তাঁর (আগমনের) বছর, শহর, গুণাবলি, তাঁর অবস্থানের সময়কাল এবং তাঁর ঊর্ধ্বারোহণের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে, তারা তাঁকে অস্বীকার করবে এবং তাঁর সঙ্গে অমুক অমুক আচরণ করবে; যাতে যারা মাসীহ-কে চিনেছে বা [দেখেছে], তারা তাঁকে চিনতে পারে। ফলে তারা বলবে: [নিশ্চয়ই] তাঁর গুণাবলি [তাওরাতে ...] এবং তাওরাত [তদ্বারা] ফয়সালা দিয়েছে এবং এই তাওরাতের ওপর ভিত্তি করেই [ .... ] খ্রিষ্টধর্ম।
উভয় মতেই আমি ইতিহাস গ্রন্থসমূহে দেখেছি যে, ইহুদিরা পৃথিবীর ইতিহাস থেকে যে অতিরিক্ত অংশটি বাদ দিয়েছে, তা তারা মূলত মাসীহ-এর বিরোধিতা করার জন্যই বাদ দিয়েছে। কারণ তাদের তাওরাতেই তাঁর সময়কাল নির্দিষ্ট করা ছিল; তাই তারা ইতিহাসকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং বলেছে যে, মাসীহ এখনও আসেননি।
ইতিহাসের বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে যাচাই করার জন্য বর্তমানে তাওরাতে মাসীহ-এর উল্লেখ সম্পর্কে আমি অবগত হইনি, তবে ইহুদিদেরকে এই তাওরাতে অতিরিক্ত অংশ সংযোজনে কী প্ররোচিত করেছে, তা আমি জানতে পেরেছি।
যেন ইহুদিরা তাওরাত থেকে মাসীহ-এর সেই গুণাবলি বাদ দিয়ে খ্রিষ্টানদের বিভ্রান্ত করার সংকল্প করেছিল এবং ইতিহাসকে পিছিয়ে দিয়ে নিজেদের ওপর থেকে কুফর (অবিশ্বাস) দূর করার চেষ্টা করেছিল।
ইঞ্জিলের বেশ কিছু অধ্যায় এর প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে "লূকের সুসমাচার" [
… ]; তিনি বলেছেন: "অতঃপর তারা যখন 'আল-আজরাদ'
(৩) নামক স্থানে পৌঁছাল, সেখানে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল এবং ক্রুশবিদ্ধ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٦)
আর-রাদ্দু আলা হাসান আদ-দালিই - দিমনুন আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
معه السارقين والعابثين، عن يمينه وشماله، فقال يسوع: يا أبتاه اغفر لهم؛ لأنَّهم يجهلون ما يصنعون، ولا يدرون فعلهم". فدسَّ ذلك اليهودي هذه الكلمة ليتخلَّص اليهود من ملامة النَّصارى، مع ما يلزمها من التَّضليل شأن [عيسى].
ولا يعزب عنك أنَّ هوى اليهود تضليل النصارى والتلاعب بهم، بالمحالات والمتناقضات، ومع هذا فمَن وقف على تاريخ التوراة والإنجيل، على ما شرحه ابن حزمٍ ورحمة الله الهندي باعتراف أهل الكتاب لم يُعِرْ هذه الشبهة أدنى نظرٍ؛ لأنَّه يرى أنَّ سوق التلاعبات فيها لا تزال قائمة، وأنَّها في بعض الأزمان تفقد ثم تخرج من مصدر واحدٍ، وأنَّ القوم يرون التبديل والتغيير دينًا.
ولقد صرت بسبب اطِّلاعي على ما ذكره ابن حزمٍ ورحمة الله على شكٍّ من هذه التوراة المطبوعة وحُقَّ لي أن أشك، هل ثَمَّ نسخة في الكون يوافقها؟ وهل [تلك] النسخة نُقِلَت عن نسخةٍ أم لا؟
ولا سبيل لأَن يجد أحد ما أجد إلَّا باطِّلاعه على ما اطَّلعت!
তাঁর সাথে ডানে ও বামে চোর এবং দুরাচারীরা ছিল। তখন ঈসা বললেন: "হে পিতা, আপনি তাদের ক্ষমা করুন; কারণ তারা যা করছে তা তারা জানে না এবং তাদের এই কর্ম সম্পর্কে তারা অনবগত।" অতঃপর সেই ইহুদি এই বাক্যটি প্রবিষ্ট করিয়ে দিয়েছিল যেন ইহুদিরা খ্রিস্টানদের ভর্ৎসনা থেকে মুক্তি পায়, যার সাথে ঈসার [আ.] ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।
আর আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, ইহুদিদের প্রবৃত্তি হলো অসম্ভব ও স্ববিরোধী বিষয়াদির মাধ্যমে খ্রিস্টানদের বিভ্রান্ত করা এবং তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। তা সত্ত্বেও, যারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের ইতিহাসের ব্যাপারে ইবনে হাজম এবং রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি কর্তৃক আহলে কিতাবদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রদত্ত ব্যাখ্যার বিষয়ে অবগত হয়েছেন, তারা এই সংশয়কে নূন্যতম গুরুত্বও প্রদান করবেন না; কেননা তিনি দেখতে পান যে, এতে কারচুপির ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো কোনো যুগে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় একক কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়; আর সেই সম্প্রদায় ধর্মগ্রন্থে পরিবর্তন ও পরিমার্জনকে ধর্মেরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করে।
ইবনে হাজম এবং রহমতুল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন সে বিষয়ে অবগত হওয়ার পর বর্তমানের এই মুদ্রিত তাওরাত সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে এবং আমার জন্য এই সন্দেহ পোষণ করাই সংগত যে, বিশ্বে এমন কোনো পাণ্ডুলিপি কি বিদ্যমান যার সাথে এর মিল রয়েছে? আর [সেই] পাণ্ডুলিপিটি কি অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে নাকি হয়নি?
আর আমি যে সত্য উপলব্ধি করেছি, তা অন্য কারো পক্ষে অনুধাবন করার কোনো পথ নেই, যদি না সে ঐ সকল বিষয়ের ওপর দৃষ্টিপাত করে যার ওপর আমি করেছি!