(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: -)
الجيل الموعود بالنصر والتمكين القسم: كتب عامة
الكتاب: الجيل الموعود بالنصر والتمكين
المؤلف: مجدي الهلالي
الناشر: دار الأندلس الجديدة للنشر والتوزيع، مصر
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 68
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1432
বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্ম বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্ম
লেখক: মাজদি আল-হিলালি
প্রকাশক: দারুল আন্দালুস আল-জাদিদাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، মিশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: -)
الجيل الموعود
بالنصر والتمكين
د / مجدي الهلالي
প্রতিশ্রুত প্রজন্ম
বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠা লাভকারী
ড. মাজদি আল-হিলালি
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى للناشر
1429هـ - 2008م
رقم الإيداع: 27133/ 2007
الترقيم الدولي: I.S.B.N.
6-96-6142-977
دار الأندلس الجديدة للنشر والتوزيع
------------------------
18 شارع مطر - أحمد حلمي - شبرا مصر - ت:0101068135
newandalus@hotmail.com
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রকাশকের পক্ষ থেকে প্রথম সংস্করণ
১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
ডেপোজিট নম্বর: ২৭১৩৩/ ২০০৭
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নম্বর: I.S.B.N.
6-96-6142-977
দারুল আন্দালুস আল-জাদিদ প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
------------------------
১৮ মাতার সড়ক - আহমদ হেলমি - শুবরা মিসর - টেলিফোন: ০১০১০৬৮১৩৫
newandalus@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২)
رب يسر وأعن يا كريم
المقدمةإن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أما بعد:
فلقد وعد الله طائفة من عباده المؤمنين بأن يورثهم الأرض، ويمكنهم فيها {إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} (الأعراف:128).
ولم يحدد الله عز وجل زمانًا ولا مكانًا لظهور تلك الطائفة المنصورة، بل حدد شروطًا وصفات إذا ما حققها جيل من الأجيال في أي زمان وأي مكان فإن وعده سبحانه وتعالى سيتحقق لهم: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (النور:55).
ومهما اجتهد المجتهدون، وتحرك العاملون للإسلام هنا وهناك، فإن هذا لا يكفي لإعادة مجد الإسلام من جديد، إلا إذا تضمنت حركتهم واجتهادهم العمل على استكمال صفات الجيل الموعود بالنصر والتمكين.
إن وعد الله لا يتخلف: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} (الأنبياء:105)، هذا الوعد ينتظر من يستوفي شروط استدعائه لكي يتحقق.
ويحكي لنا التاريخ أن جيلًا من الأجيال قد استطاع أن يحقق الشروط المطلوبة لتنفيذ الوعد الإلهي، هو جيل الصحابة رضوان الله عليهم فكان الوفاء السريع والكريم من الله عز وجل لهذا الجيل، فأورثهم الأرض، ومكن لهم فيها، وملكهم ممالكها في سنوات قليلة: {وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيم} (التوبة:111).
فحري بنا ونحن نعيش مرحلة دقيقة من تاريخ أمتنا، حيث الليل الدامس الذي يغشانا، والنفق المظلم الذي نسير فيه، والدم النازف من جسد الأمة العاني .. حريّ بنا أن نتكاتف جميعًا لإيجاد هذا الجيل الموعود بالنصر والتمكين، وأن نضحي في سبيل تكوينه بالغالي والرخيص، وأن نكثر من التأمل في جيل الصحابة - رضوان الله عليهم - وكيف استطاعوا أن يستكملوا متطلبات النصر والتأييد الإلهي، لنحذو حذوهم ونتشبه بهم ..
وتشبهوا إن لم تكونوا مثلهم
… إن التشبه بالرجال فلاح
وحول هذا الموضوع - الجيل الموعود بالنصر والتمكين - يدور الحديث في هذه الصفحات والتي نسأل الله أن يلهمنا فيها الرشد والسداد، وأن يتقبلها منا بكرمه وفضله ..
{سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} (البقرة:32).
হে রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে দয়াময়।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই হেদায়েত কামনা করি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে একটি দলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে জমিনের উত্তরাধিকারী করবেন এবং সেখানে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন: {নিশ্চয়ই এ জমিন আল্লাহর; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য} (আল-আরাফ: ১২৮)।
মহান আল্লাহ এই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة)-এর আবির্ভাবের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নির্ধারণ করে দেননি; বরং তিনি কিছু শর্ত ও গুণাবলি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা যদি কোনো যুগে বা কোনো স্থানে কোনো প্রজন্ম পূরণ করতে পারে, তবে তাদের জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে জমিনে খিলাফত দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে তারাই ফাসেক} (আন-নূর: ৫৫)।
গবেষকগণ যতই গবেষণা করুক এবং ইসলামের কর্মীরা এখানে-সেখানে যতই তৎপরতা চালাক না কেন, তা ইসলামের হারানো গৌরব নতুন করে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট নয়—যতক্ষণ না তাদের তৎপরতা ও প্রচেষ্টার মধ্যে বিজয় ও প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত সেই প্রজন্মের গুণাবলি অর্জনের কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতির কোনো ব্যত্যয় ঘটে না: {আমি তো যিকরের পর যবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দারাই জমিনের উত্তরাধিকারী হবে} (আল-আম্বিয়া: ১০৫)। এই প্রতিশ্রুতি সেই প্রজন্মের অপেক্ষায় রয়েছে যারা এর শর্তাবলি পূরণ করবে, যাতে তা বাস্তবায়িত হতে পারে।
ইতিহাস আমাদের বলে যে, একটি প্রজন্ম মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিল, আর তারা হলো সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর প্রজন্ম। ফলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রজন্মের জন্য দ্রুত ও সম্মানজনক প্রতিদান এসেছিল; তিনি তাদেরকে জমিনের উত্তরাধিকারী করেছেন, সেখানে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অল্প কয়েক বছরেই তাদের বিশাল বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি করেছেন: {আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি পালনকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে কেনাবেচা করেছ সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং এটিই হলো মহা সাফল্য} (আত-তাওবা: ১১১)।
সুতরাং আমরা যখন আমাদের উম্মাহর ইতিহাসের এক নাজুক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছি—যেখানে ঘন অন্ধকার আমাদের গ্রাস করে আছে, যে অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে আমরা চলছি এবং উম্মাহর ক্লান্ত দেহ থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে—এমতাবস্থায় আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত সেই বিজয় ও প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্ম তৈরির জন্য। সেই প্রজন্ম গঠনের পথে আমাদের মূল্যবান সবকিছু বিসর্জন দিতে হবে। আর সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদের অধিকতর চিন্তা-গবেষণা করা উচিত যে, কীভাবে তারা আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূর্ণ করতে পেরেছিলেন, যাতে আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি এবং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে পারি...
তোমরা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করো যদি তাদের মতো হতে নাও পারো
… নিশ্চয়ই মহাপুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করাই হলো সফলতা।
এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই—অর্থাৎ বিজয় ও প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্ম—এই পৃষ্ঠাগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ ও কল্যাণের দিশা দেন এবং তাঁর করুণা ও অনুগ্রহে আমাদের এই কাজ কবুল করে নেন।
{আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (আল-বাকারা: ৩২)।
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفصل الأوللماذا الجيل الموعود؟!
প্রথম পরিচ্ছেদকেন প্রতিশ্রুত প্রজন্ম?!
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
الفصل الأول
لماذا الجيل الموعود؟!
ما يحدث لأمتنا الإسلامية من ذل وهوان لا يخفى على أحد، فالجراح تملأ جسد الأمة، والضعف والوهن قد أصابه، ولم يعد المسلمون على قلب رجل واحد، ولا راية واحدة، بل تعددت راياتهم، واختلفت وجهاتهم، وتكالب عليهم أعداؤهم من كل مكان.
لقد صرنا أذل أهل الأرض .. لا قيمة لنا، ولا اعتبار لوجودنا، ويكفي ما يفعله بنا إخوان القردة والخنازير وحلفاؤهم الذين وضعونا تحت أقدامهم وسامونا سوء العذاب
… يقتلون أبناءنا، ويهدمون بيوتنا، ويعتقلون شبابنا .. كل ذلك يحدث تحت سمع وبصر العالم أجمع .. وضع مخزٍ ومرير تعيشه أمة والإسلام، فإلى متى سيستمر ذلك؟!
-
أملنا في الله وحده:مما يزيد الأمر تعقيدًا أن التفوق المادى والتكنولوجي الذي أحرزه أعداؤنا يجعل من الصعب علينا أن نلحق بهم، وفي نفس الوقت فإن الواقع يُخبرنا بأنهم لن يسمحوا لنا بالاقتراب منهم، فضلًا عن التفوق عليهم، فالمساحة التي أتاحوا لنا الحركة فيها محدودة جدًا.
معنى ذلك أن الحسابات المادية تثبت وتؤكد حقيقة استمرار الوضع البائس الذي تعيشه الأمة الإسلامية، بل وستزداد الأوضاع سوءًا نتيجة المطوحات غير المحدودة للصهيونية والصليبية العالمية في بلاد الإسلام.
نعم هذه هي حسابات أهل الأرض، أما حسابات أهل الإيمان فتخبرنا بأن هناك قوة عظيمة لا يمكن للعقل البشري أن يتصور مداها .. هذه القوة إن ساندت أحدًا مهما كان ضعفه؛ فالنصر يكون حليفه بغض النظر عن قوة أعدائه .. إنها القوة الإلهية، قوة الجبار سبحانه وتعالى الذي له جنود السماوات والأرض، والذي يملك كل شئ، يملك الريح والعواصف، والرعد والبرق، والزلال والبراكين و .. ويملك أنفاس أعدائنا.
هذه القوة هي أملنا الوحيد في مواجهة هجمات أعدائنا الشرسة، وإعادة مجدنا، وريادتنا للبشرية من جديد.
هذه القوة هي التي ساندت الفئة الضعيفة من بني إسرائيل ضد فرعون الطاغية وقومه فماذا حدث؟!
{وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ} (الأعراف:137).
- هل نترك الأسباب:
ليس معنى القول بأن أملنا في الله وحده أن نترك الأسباب المادية بدعوى عدم جدواها، وبأن أعداءنا لن يسمحوا لنا بمنافستهم أو الاقتراب منهم في مجالات التقدم العلمي، بل المطلوب هو العكس
… أن نملأ كل فراغ يُتاح أمامنا، ونتغلغل في كل القطاعات، ونجتهد غاية الاجتهاد في امتلاك أسباب القوة، لا لأننا سننتصر بها، ولكن لأن الله عز وجل طالبنا بذلك: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ} (الأنفال:60).
وعلى قدر اجتهادنا في الأخذ بما يُتاح أمامنا من أسباب نكون قد حققنا شرطًا من شروط النصر والتغيير، مع الأخذ في الاعتبار أن الأسباب بعينها لن تحقق لنا النصر، بل الذي سيحققه هو الله
… أليس هو القائل: {وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} (الأنفال:10)، والقائل: {إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} (آل عمران:160).
-
متى نصر الله؟!
فإن كان أملنا في الله وحده، فمتى إذن يتحقق هذا الأمل، فدافع الله عنا، وينصرنا على أعدائنا ويُمكَّن لنا في الأرض؟!
প্রথম পরিচ্ছেদ
কেন এই প্রতিশ্রুত প্রজন্ম?!
আমাদের মুসলিম উম্মাহর ওপর যে লাঞ্ছনা ও অপমান আপতিত হচ্ছে তা কারো কাছে অজানা নয়। পুরো উম্মাহর দেহ আজ ক্ষতবিক্ষত, দুর্বলতা ও অসারতা একে গ্রাস করেছে। মুসলিমরা আজ এক হৃদয়ে স্পন্দিত নয়, নেই কোনো একক পতাকাতলে; বরং তাদের পতাকাসমূহ বহুধা বিভক্ত, তাদের লক্ষ্যগুলো ভিন্ন এবং চারপাশ থেকে শত্রুরা তাদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
আমরা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে লাঞ্ছিত জাতিতে পরিণত হয়েছি। আমাদের কোনো মূল্য নেই, আমাদের অস্তিত্বের কোনো গুরুত্ব নেই। বানর ও শুকরের বংশধর এবং তাদের মিত্ররা আমাদের সাথে যা করছে তা-ই যথেষ্ট, যারা আমাদের পদদলিত করেছে এবং আমাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছে
… তারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে, আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে এবং আমাদের যুবকদের বন্দী করছে। এই সবকিছু ঘটছে সমগ্র বিশ্বের চোখের সামনে। উম্মাহ এবং ইসলাম এক অত্যন্ত অবমাননাকর ও তিক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কতকাল এই অবস্থা চলতে থাকবে?!
-
আমাদের একমাত্র আশা আল্লাহর ওপর:বিষয়টিকে যা আরও জটিল করে তুলছে তা হলো আমাদের শত্রুদের অর্জিত বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, যা আমাদের জন্য তাদের সমকক্ষ হওয়া কঠিন করে তুলেছে। একই সময়ে বাস্তবতা আমাদের বলছে যে, তারা কখনোই আমাদের তাদের কাছাকাছি হতে দেবে না, তাদের ছাড়িয়ে যাওয়া তো দূরের কথা। কারণ আমাদের চলাচলের জন্য তারা যে পরিসর ছেড়ে দিয়েছে তা অত্যন্ত সীমিত।
এর অর্থ হলো বস্তুগত সমীকরণগুলো মুসলিম উম্মাহর এই করুণ অবস্থা অব্যাহত থাকার বাস্তবতাকে প্রমাণ ও নিশ্চিত করে, বরং বিশ্বব্যাপী জায়নবাদ ও ক্রুসেডারদের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সীমাহীন লালসার ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
হ্যাঁ, এগুলো হলো দুনিয়াদারদের হিসাব। কিন্তু ঈমানদারদের হিসাব আমাদের বলে যে, সেখানে এক মহান শক্তি রয়েছে যার সীমা মানবমস্তিষ্ক কল্পনাও করতে পারে না। এই শক্তি যাকে সাহায্য করবে সে যতই দুর্বল হোক না কেন, শত্রুর শক্তি যাই হোক না কেন, বিজয় তার পদচুম্বন করবে। তা হলো ঐশী শক্তি—সেই মহাপরাক্রমশালী সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার শক্তি, যাঁর অধীনে রয়েছে আসমান ও যমীনের সেনাবাহিনী, যাঁর মালিকানাধীন সবকিছু—বায়ু ও ঝড়, বজ্র ও বিদ্যুৎ, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি এবং যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমাদের শত্রুদের প্রতিটি নিঃশ্বাস।
আমাদের শত্রুদের প্রচণ্ড আক্রমণ মোকাবিলায় এবং আমাদের হারানো গৌরব ও মানবতার নেতৃত্ব পুনরায় ফিরিয়ে আনতে এই শক্তিই আমাদের একমাত্র আশা।
এই শক্তিই ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বনী ইসরাঈলের দুর্বল দলটিকে সাহায্য করেছিল, তারপর কী ঘটেছিল?!
{আর যারা দুর্বল গণ্য হতো আমরা তাদের সেই ভূখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম যেখানে আমরা বরকত দিয়েছি। আর আপনার রবের সর্বোত্তম বাণী বনী ইসরাঈলের ওপর পূর্ণ হলো তাদের ধৈর্যের কারণে এবং আমরা ধ্বংস করে দিলাম যা ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় নির্মাণ করেছিল এবং যা তারা সুউচ্চ করত।} (আল-আরাফ: ১৩৭)।
- আমরা কি উপায়-উপকরণ বর্জন করব:
আমাদের একমাত্র আশা আল্লাহর ওপর—একথা বলার অর্থ এই নয় যে, আমরা কার্যকর নয় এই অজুহাতে বস্তুগত উপায়-উপকরণগুলো বর্জন করব, কিংবা শত্রুরা আমাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে দেবে না ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকব। বরং দাবি হলো এর উল্টোটা
… আমাদের সামনে যেটুকু সুযোগ আছে তার প্রতিটি শূন্যস্থান পূরণ করা, প্রতিটি খাতে প্রবেশ করা এবং শক্তির উৎসগুলো অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো। এটা এজন্য নয় যে আমরা এর মাধ্যমে বিজয়ী হবো, বরং এজন্য যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন: {আর তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের আতঙ্কিত করবে।} (আল-আনফাল: ৬০)।
আমাদের সামনে থাকা সুযোগ ও উপায়গুলো গ্রহণে আমাদের প্রচেষ্টার মাত্রা অনুযায়ী আমরা বিজয় ও পরিবর্তনের একটি শর্ত পূরণ করব। তবে মনে রাখতে হবে যে, শুধুমাত্র এই উপায়গুলো আমাদের বিজয় এনে দেবে না, বরং বিজয় দানকারী হলেন আল্লাহ
… তিনি কি বলেননি: {আর বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে} (আল-আনফাল: ১০)? এবং তিনি আরও বলেছেন: {যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী হওয়ার কেউ নেই; আর যদি তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তবে তিনি ছাড়া আর কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।} (আল ইমরান: ১৬০)।
-
আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে؟!
আমাদের আশা যদি কেবল আল্লাহর ওপরই হয়, তবে এই আশা কখন পূরণ হবে, কখন আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে শত্রুদের হটিয়ে দেবেন, আমাদের বিজয় দান করবেন এবং যমীনে আমাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন?!
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أفاض القرآن في الإجابة على هذا السؤال، وأخبرتنا آياته أن للنصر والتمكين شروطًا، بها يُستدعى ويُستجلب، منها قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ} (الرعد:11)، وقوله تعالى: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} (محمد:7)،
وقوله: {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} (آل عمران:120).
فلابد إذن من نصرة الله على نفوسنا، وتغيير ما بها، والانتقال من كل حال يغضب الله عز وجل إلى الحال الذي يرضيه
…لابد من تغيير عميق يضرب في أعماق الأمة ويعيدها إلى الله إن أردنا الخروج من حالة التيه التي نمر بها.
-
بث الروح:ولكي يتغير حال الأمة من المرض إلى الصحة لابد من وجود من يأخذ بيدها، ويدلها على الدواء، ويعينها على تغيير ما تلبست به مما يغضب الله عز وجل.
لابد من جود طائفة أو جيل ينطلق وسط الأمة فيبث الروح والأمل، ويبين لها طريق الصلح مع الله، وبخاصة أن الأمة الإسلامية الآن مهيأة لذلك أكثر من أي وقت آخر، فلقد أسفر أعدؤها عما كانوا يعملون على إخفائه من عداوة وكراهية وحقد أسود. فآلات الذبح لإخواننا المسلمين تُجهزَّ أمام أعيننا، ومخططاتهم الرامية لتذويب شخصيتنا يخبروننا بها قبل تنفيذها إمعانًا في إذلالنا، والقضاء على أي أمل يراودنا
…-
توجيه العاطفة:نعم، ليست الأمة كلها في غيبوبة، بل هناك عاطفة جياشة تجاه الإسلام، تتنامى بمرور الأيام، ولعل من تلك العاطفة: امتلاء المساجد بالشباب والشيوخ، والإقبال على حلقات القرآن، ودروس العلم، ومنها كذلك: انتشار الحجاب بين المسلمات.
عاطفة جيدة توجد الآن في ربوع الأمة، ولكنها وحدها لا تكفي، بل لابد من حُسن توجيهها إلى الاتجاه الصحيح .. اتجاه التغيير الحقيقي لما في النفس من جوانب عدة ليشمل التصورات والاهتمامات، والسر والعلن، والأقوال والأفعال .. تغييرًا يعيد تشكيل العقل، ويُمكِّن للإيمان في القلب، ويطرد منه حب الدنيا، فينعكس ذلك على السلوك بالمسارعة في الخيرات، والطمع في الدرجات العلى في الجنة، والتعلق بالله عز وجل، وقطع الطمع مما في أيدى الناس، مع بذل غاية الجهد في حُسن الإعداد، وامتلاك أسباب القوة.
هذه المهمة - مهمة توجيه العاطفة لإحداث التغيير الحقيقي في النفوس - تحتاج إلى مجهود ضخم، وتعاهد، ومتابعة .. وهنا يأتي دور الجيل الموعود، فهو الجيل المنوط به مهمة تغيير الأمة، وتهيئة أرضها لاستقبال المدد الإلهي.
نعم، إنها مهمة صعبة، ولن يكون الطريق إلى تحقيقها مفروشًا بالورود، فسيقف أمامها أهواء الناس، وحبهم للدنيا وعدم رغبتهم في التضحية ولو بشيء يسير منها، ولكن مع الإصرار ووجود القدوة الصالحة في أبناء جيل التغيير، ومع تأكد من حولهم من صدقهم وحرصهم على مصلحتهم وعدم طلبهم أجرًا وراء أفعالهم .. كل ذلك وغيره من شأنه أن يُعيد الأمة إلى الله شيئًا فشيئًا، وبخاصة إذا ما انتهج أبناء الجيل الموعود أسلوب الحكمة في الدعوة، وتقديم مفهوم التغيير للناس بصورة محببة ومبسطة يستطيعها الجميع.
-
قيادة الأمة في الضراء:على قدر الجهد الذي سيبذله أبناء الجيل الموعود في إيقاظ الأمة، وبث الروح فيها وحُسن توجيه عاطفتها تجاه التغيير الحقيقي والصلح مع الله .. على قدر ذلك كله يكون المدد والتأييد من الله عز وجل، والذي سيأتي حتمًا لتبدأ تباشير الفجر في البزوغ، وتشرق شمس الإسلام من جديد في أجزاء متفرقة من الأمة.
فماذا سيحدث عند ذلك؟
কুরআন এই প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে প্রদান করেছে এবং এর আয়াতসমূহ আমাদের জানিয়েছে যে, বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে এগুলোকে আহ্বান করা ও আনয়ন করা হয়। তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কওমের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে} (আর-রাদ: ১১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদমসমূহ অবিচল রাখবেন} (মুহাম্মদ: ৭),
এবং তাঁর বাণী: {আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না} (আলি ইমরান: ১২০)।
কাজেই অবশ্যই আমাদের নিজেদের নফসের উপর আল্লাহকে সাহায্য করতে হবে, নফসের মধ্যকার বিষয়াবলি পরিবর্তন করতে হবে এবং আল্লাহ যা কিছুতে রাগান্বিত হন তেমন প্রতিটি অবস্থা থেকে এমন অবস্থায় উত্তরণ ঘটাতে হবে যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে …
যদি আমরা এই বিভ্রান্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাই যার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, তবে উম্মাহর গভীরে প্রোথিত এক গভীর পরিবর্তন অপরিহার্য যা উম্মাহকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেবে।
-
স্পৃহা সঞ্চার:আর উম্মাহর অবস্থা অসুস্থতা থেকে সুস্থতায় পরিবর্তনের জন্য এমন কারো উপস্থিতি প্রয়োজন যে উম্মাহর হাত ধরবে, তাকে ওষুধের সন্ধান দেবে এবং আল্লাহ যা কিছুতে রাগান্বিত হন তেমন বিষয়াবলি পরিবর্তন করতে তাকে সাহায্য করবে।
উম্মাহর অভ্যন্তরে এমন একটি দল বা প্রজন্মের উত্থান আবশ্যক যারা স্পৃহা ও আশার সঞ্চার করবে, আল্লাহর সাথে সন্ধির পথ প্রদর্শন করবে; বিশেষ করে যেহেতু ইসলামি উম্মাহ এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এর জন্য বেশি প্রস্তুত। কারণ তার শত্রুরা ঘৃণা ও চরম বিদ্বেষের যে বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করত, তা এখন প্রকাশ করে দিয়েছে। আমাদের মুসলিম ভাইদের নিধনের যন্ত্রসমূহ আমাদের চোখের সামনে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আমাদের ব্যক্তিত্বকে বিলীন করে দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের চক্রান্তগুলো বাস্তবায়নের আগেই তারা আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে—আমাদের আরও লাঞ্ছিত করতে এবং আমাদের মনে উঁকি দেওয়া যেকোনো আশার আলো নিভিয়ে দিতে …
-
আবেগের সঠিক দিকনির্দেশনা:হ্যাঁ, পুরো উম্মাহ অচেতন হয়ে নেই; বরং ইসলামের প্রতি এক প্রবল আবেগ রয়েছে যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভবত সেই আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ হলো: মসজিদে যুবক ও বৃদ্ধদের আধিক্য, কুরআনের হালকায় অংশগ্রহণ এবং ইলমি দরসসমূহ; এবং একইভাবে মুসলিম নারীদের মাঝে হিজাবের প্রসার।
উম্মাহর সকল প্রান্তে এখন একটি ইতিবাচক আবেগ বিদ্যমান, কিন্তু কেবল এটিই যথেষ্ট নয়। বরং একে সঠিক দিকে ধাবিত করা প্রয়োজন... আর তা হলো নফসের বিভিন্ন দিকের প্রকৃত পরিবর্তনের পথ, যাতে এর অন্তর্ভুক্ত হয় চিন্তাধারা, আগ্রহসমূহ, গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় এবং কথা ও কাজ। এমন এক পরিবর্তন যা আকলকে নতুনভাবে গঠন করবে, অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করবে এবং সেখান থেকে দুনিয়াপ্রীতি দূর করবে; ফলে তার প্রতিফলন ঘটবে নেক কাজে ত্বরান্বিত হওয়ার মাধ্যমে, জান্নাতের উচ্চ মাকাম লাভের আকাঙ্ক্ষায়, মহান আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে এবং মানুষের কাছে যা আছে তার আশা ত্যাগ করার মাধ্যমে। সাথে সাথে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণে এবং শক্তির উপকরণ অর্জনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হবে।
এই মহান দায়িত্ব—নফসের মাঝে প্রকৃত পরিবর্তন আনয়নের জন্য আবেগের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান—বিশাল পরিশ্রম, প্রতিশ্রুতি এবং নিয়মিত তদারকির দাবি রাখে। এখানেই সেই প্রতিশ্রুত প্রজন্মের ভূমিকা আসে। এটিই সেই প্রজন্ম যার কাঁধে উম্মাহর পরিবর্তনের এবং খোদায়ী সাহায্য গ্রহণের জন্য ভূমি প্রস্তুত করার দায়িত্ব অর্পিত।
হ্যাঁ, এটি একটি কঠিন কাজ এবং এই লক্ষ্য অর্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। এর সামনে মানুষের প্রবৃত্তি, দুনিয়াপ্রীতি এবং দুনিয়ার সামান্য অংশও বিসর্জন দিতে তাদের অনিচ্ছা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু দৃঢ়তা এবং পরিবর্তনের প্রজন্মের সন্তানদের মাঝে সৎ আদর্শের উপস্থিতির মাধ্যমে, এবং তাদের চারপাশের মানুষ যখন তাদের সততা, তাদের কল্যাণকামিতা এবং তাদের কর্মের বিনিময়ে কোনো প্রতিদান না চাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হবে... তখন এসব কিছু উম্মাহকে ধীরে ধীরে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনবে; বিশেষ করে যদি প্রতিশ্রুত প্রজন্মের সন্তানেরা দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের পন্থা অবলম্বন করে এবং মানুষের সামনে পরিবর্তনের ধারণাটিকে একটি প্রিয় ও সহজবোধ্য রূপে উপস্থাপন করে যা সবার পক্ষে সম্ভব।
-
দুঃসময়ে উম্মাহর নেতৃত্ব:প্রতিশ্রুত প্রজন্মের সন্তানেরা উম্মাহকে জাগ্রত করতে, তাতে স্পৃহা সঞ্চার করতে এবং প্রকৃত পরিবর্তন ও আল্লাহর সাথে সন্ধির দিকে উম্মাহর আবেগকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে যতটুকু প্রচেষ্টা ব্যয় করবে; ঠিক সেই পরিমাণ সাহায্য ও সমর্থন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবে। আর তা অবশ্যই আসবে যাতে ভোরের শুভ সূচনা হতে শুরু করে এবং উম্মাহর বিভিন্ন অংশে ইসলামের সূর্য নতুন করে উদিত হয়।
তখন কী ঘটবে?
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
يخبرنا التاريخ أنه بمجرد ظهور شعاع النور، وإعلان بداية استيقاظ المارد وتململه من القمقم الذي وضع فيه، فإن جميع القوى الكافرة والتي تحيط بأمتنا ستتوحد ضدنا، وتعمل على إطفاء هذا النور، وإجهاض الأمل، والقضاء على المشروع الإسلامي
…** ستكون مقاطعة شاملة من الجميع، وستزداد الضغوط على كل مكان تُرفع فيه راية الإسلام.
** ستكون ضغوطًا شديدة لتفت في عضد الأمة، وتعمل على تركيعها، ومن المتوقع أن تُحدث هذه الضغوط ضيقًا وتذمرًا بين عموم الناس، فهم إن كانوا قد أعلنوا تأييدهم للإسلام، واستعدادهم للتضحية من أجله، فإنهم قد لا يستطيعون تحمل توابع المقاطعة، كحرمانهم من بعض احتياجاتهم الأساسية فضلًا عن الترفيهية والكمالية .. هنا يأتي دور الجيل الموعود الذي سيعمل جاهدًا على توفير احتياجات الناس، وبث روح الأمل في نفوسهم، والعمل على تثبيتهم، ورفع معنوياتهم، وربطهم بالله عز وجل.
معنى ذلك أن هؤلاء الخُلَّص لن يناموا في هذه الظروف إلا بعد أن ينام الناس، ولن يأكلوا إلا بعد أن يطمئنوا أن الطعام قد وصل للجميع.
** دور خطير ينتظر هذا الجيل في بداية وجود الدولة الإسلامية، لو لم ينهض به لضاع كل شئ، ولعادت الأمور إلى أسوأ مما هي عليه والعياذ بالله.
-
مع الجيل الأول:هذه المراحل، وهذه الأوضاع الصعبة، مرت على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن معه من الجيل الأول .. جيل السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار، الذين كانوا بمثابة الركائز التي قام عليها المجتمع المسلم في المدينة
… هذا المجتمع تعرض في بداية تكوينه إلى ضغوط شديدة، ومحاصرة، ومقاطعة، وتهديدات، وحروب
…قال أبو العالية في تفسير قوله تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (النور:55).
قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه بمكة نحوًا من عشر سنين يدعون إلى الله وحده، وإلى عبادته وحده لا شريك له سرًا، وهم خائفون لا يؤمرون بالقتال حتى أمروا بالهجرة إلى المدينة، فقدموها، فأمرهم الله بالقتال، فكانوا بها خائفين يُمْسون في السلاح ويُصبحون في السلاح، فصبروا على ذلك ما شاء الله، ثم إن رجلًا من الصحابة قال: يا رسول الله
… أبد الدهر نحن خائفون هكذا؟! أما يأتي علينا يوم نأمن فيه ونضع عنا السلاح؟! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لن تصبروا إلا يسيرًا حتى يجلس الرجل منكم في الملأ العظيم محتبيًا ليست فيه حديدة) وأنزل الله هذه الآية، فأظهر الله نبيه على جزيرة العرب، فآمنوا ووضعوا السلاح ....
وقال البراء بن عازب: نزلت هذه الآية ونحن في خوف شديد (1).
-
لماذا الضراء؟
إذن فهناك فترة قاسية ستمر بها الأمة وبخاصة في الأماكن التي سترتفع فيها راية الإسلام ....
فإن قلت: ولماذا تمر الأمة الصاعدة بهذه الفترة، ولماذا ستُترك لهذه الفتنة العظيمة وهي تقف بمفردها أمام العالم أجمع؟!
كان الجواب في قوله تعالى: {الم ? أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آَمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ ? وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} (العنكبوت:1 - 3).
--------------------------------------------
ইতিহাস আমাদের সাক্ষ্য দেয় যে, যখনই আলোর দ্যুতি প্রকাশ পায় এবং খাঁচায় বন্দি দৈত্যের জেগে ওঠা ও নড়েচড়ে বসার সংকেত পাওয়া যায়, তখনই আমাদের উম্মাহকে পরিবেষ্টনকারী সকল কুফরি শক্তি আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা এই আলো নির্বাপিত করতে, আশার অঙ্কুর বিনষ্ট করতে এবং ইসলামি প্রকল্পকে ধূলিসাৎ করতে সচেষ্ট হয়
…** এটি হবে সবার পক্ষ থেকে এক সর্বাত্মক বয়কট এবং যেখানেই ইসলামের পতাকা সমুন্নত হবে, সেখানেই চতুর্দিক থেকে চাপ বৃদ্ধি পাবে।
** উম্মাহর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য এবং তাদের নতজানু করার জন্য এই চাপ হবে অত্যন্ত তীব্র। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই প্রবল চাপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংকীর্ণতা ও অসন্তোষ দেখা দেবে। কারণ, তারা যদিও ইসলামের প্রতি তাদের সমর্থন এবং এর জন্য আত্মত্যাগের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে, তবুও তারা বয়কটের এই কঠিন পরিণতি সহ্য করতে সক্ষম নাও হতে পারে; যেমন মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি বিলাসদ্রব্য ও আরাম-আয়েশ থেকে বঞ্চিত হওয়া। এখানেই সেই প্রতিশ্রুত প্রজন্মের ভূমিকা স্পষ্ট হবে যারা মানুষের প্রয়োজন পূরণে জানপ্রাণ চেষ্টা করবে, তাদের অন্তরে আশার সঞ্চার করবে, তাদের অবিচল রাখতে কাজ করবে, তাদের মনোবল চাঙ্গা করবে এবং সর্বোপরি তাদের মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে সম্পৃক্ত করবে।
এর অর্থ হলো, এই নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গ এমন পরিস্থিতিতে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না যতক্ষণ না মানুষ ঘুমাচ্ছে, এবং ততক্ষণ পর্যন্ত আহার করবেন না যতক্ষণ না তারা নিশ্চিত হচ্ছেন যে খাবার সবার কাছে পৌঁছেছে।
** ইসলামি রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে এই প্রজন্মের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। যদি তারা এতে সফল না হয়, তবে সবকিছুই বিলীন হয়ে যাবে এবং পরিস্থিতি পূর্বের চেয়েও শোচনীয় অবস্থায় ফিরে যাবে—আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
-
প্রথম প্রজন্মের সাথে:এই পর্যায়গুলো এবং এই কঠিন পরিস্থিতিগুলো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাথে থাকা প্রথম প্রজন্মের ওপর দিয়েও অতিক্রান্ত হয়েছে। তারা ছিলেন মুহাজির (المهاجرين) ও আনসার (الأنصار) দের মধ্য থেকে সেই অগ্রবর্তী প্রথম সারির (السابقين الأولين) দল, যারা মদীনায় গড়ে ওঠা মুসলিম সমাজের মূল স্তম্ভ হিসেবে দণ্ডায়মান ছিলেন
… এই সমাজ তার প্রারম্ভিক পর্যায়ে চরম চাপ, অবরোধ, বয়কট, হুমকি ও যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছিল
…আবু আল-আলিয়াহ মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে খিলাফত দান করবেন, যেমন তিনি খিলাফত দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে তারাই তো ফাসিক।} (আন-নূর: ৫৫)।
তিনি বলেন: নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবী (صحابة) গণ মক্কায় প্রায় দশ বছর যাবৎ এক আল্লাহর দিকে এবং তাঁর ইবাদতের দিকে—যার কোনো শরিক নেই—গোপনে দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন এবং তাঁদের যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি, যতক্ষণ না তাঁদের মদীনায় হিজরত করার আদেশ দেওয়া হলো। তাঁরা সেখানে আসার পর আল্লাহ তাঁদের যুদ্ধের নির্দেশ দেন। সেখানেও তাঁরা ভয়ের মধ্যে ছিলেন, সন্ধ্যা ও সকালে তাঁরা সর্বদা অস্ত্রসজ্জিত থাকতেন। আল্লাহ তায়ালা যতদিন চেয়েছিলেন তাঁরা এর ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। এরপর সাহাবী (صحابة) গণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল
… আমরা কি সারা জীবন এভাবেই ভীত থাকব?! আমাদের জীবনে কি এমন কোনো দিন আসবে না যেদিন আমরা নিরাপদ হবো এবং আমাদের অস্ত্র নামিয়ে রাখব?! রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: (তোমরা অল্পকাল ধৈর্য ধরো, অচিরেই তোমাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি কোনো অস্ত্র ছাড়াই বিশাল জনসমাবেশে নিশ্চিত হয়ে বসতে পারবে)। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে আরব উপদ্বীপে বিজয় দান করেন, ফলে মানুষ ঈমান আনে এবং অস্ত্র ত্যাগ করে ....
বারা ইবনে আযিব বলেন: এই আয়াতটি তখন নাযিল হয়েছিল যখন আমরা চরম ভয়ের মধ্যে ছিলাম (১)।
-
কেন এই বিপদ?সুতরাং উম্মাহকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে, বিশেষ করে সেই অঞ্চলগুলোতে যেখানে ইসলামের ঝাণ্ডা সমুন্নত হবে ....
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কেন উদীয়মান উম্মাহকে এই সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, এবং কেন তাকে এই মহাসংকট বা ফিতনার (فتنة) মুখে একা ছেড়ে দেওয়া হবে যেখানে সে সমগ্র বিশ্বের মোকাবিলায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকবে?!
এর উত্তর মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {আলিফ লাম মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা (يفتنون) করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা (فتنا) করেছি। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী (صدقوا) এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (الكاذبين)।} (আল-আনকাবুত: ১-৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
فهذه الفترة تُعد بمثابة امتحان لمدى صدق الأمة في حبها لله وتعلقها به وتوكلها عليه، ومدى استعدادها للتضحية من أجله، وهي فترة المخاض الأخيرة لولادة الأمة الفتية القوية ..
ومن فوائدها كذلك أنها تقطع تعلق القلوب بما سوى الله، وتُجَرُّدها له سبحانه .. فعندما تنقطع الأسباب المادية، وينعدم الصبر، وتشتد الخطوب، لا تجد الأمة أمامها إلا الله عز وجل فتهرع إليه، وتدعوه دعاء المضطر المشرف على الغرق .. حينئذ يأتي الفرج، ويأتي النصر والتمكين: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ} (البقرة:214).
-
قيادة الأمة في السراء:وبعد فترة الضيق والشدائد، سيأتي الفرج - بإذن الله - وتبدأ الأمة في التوحد شيئًا فشيئًا، وتتساقط رايات الباطل بسهولة ويسر، وهنا يظهر لجيل التغيير دور جديد ألا وهو العمل على تجميع الأمة على راية واحدة، وقيادتها لإقامة الخلافة الإسلامية، واسترداد كل الديار المغتصبة، وإنقاذ المسلمين المستضعفين في شتى بقاع العالم
…ويستمر دور الجيل الموعود بعد ذلك في نشر الإسلام وأستاذية العالم وتحقيق وعد رسول الله صلى الله عليه وسلم ببلوغ هذا الدين الآفاق، وفتح روما لتُصبح الدولة الإسلامية بذلك هي القوة الأولى في العالم، تنشر الأمن والأمان، وتنقذ البشرية من الضلالة، وتخرجها من الظلمات إلى النور.
نعم سيحدث ذلك - بإذن الله - كما حدث مع الجيل الأول، الذي بدأ بأفراد مطاردين مضطهدين في مكة، يقرأون القرآن، ويستمعون إلى آيات الوعد بالنصر والتمكين، وأقصى أمانيهم في ذلك الوقت أن يبيتوا آمنين، وألا يتعرض أحد منهم لأذى
… هؤلاء هم أنفسهم الذين رأو التمكين بأم أعينهم، وشاهدوا عز الإسلام ومجده، ويا للعجب أن يصبح خوفهم بعد ذلك على أنفسهم من فتنة بسط الدنيا عليهم ..
أخرج البخاري في صحيحه أن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه أُتي بطعام وكان صائما، فقال: قُتل مصعب بن عمير وهو خير مني، وكُفِّن في بُردة أن غُطي رأسه بدت رجلاه، وإن غُطي رجلاه بدا رأسه، وقتل حمزة وهو خير مني، ثم بسط لنا في الدنيا ما بُسط، أو قال: أُعطينا من الدنيا، وقد خشينا أن تكون حسناتنا قد عُجِّلت لنا، ثم جعل يبكي حتى ترك الطعام.
وهذا خباب بن الأرت رضي الله عنه يعود نفر من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فيقولون له: أبشر يا عبد الله، إخوانك تُقم عليهم غدًا، فبكى وقال: أما إنه ليس بي جزع، ولكنكم ذكَّرتموني أقوامًا وسميتم لي إخوانًا، وإن أولئك قد مَضَوا بأجورهم كما هي، وإني أخاف أن يكون ثواب ما تذكرون من تلك الأعمال ما أوتينا بعدهم (1).
-
الاستفادة من الدروس السابقة:على جيل التغيير ألا يتخلى عن مهمته في قيادة الأمة حتى بعد أن يتم لها السيادة وأستاذية العالم، بل عليه أن يستمر في بناء الأجيال، والحفاظ عليها من أمراض الأمم مثل الترف والظلم، ومن ثَّم البعد عن الله عز وجل، والخروج من دائرة معيته وولايته.
--------------------------------------------
এই সময়কালটি মূলত উম্মাহর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার সত্যতা, তাঁর প্রতি গভীর অনুরাগ ও তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলের একটি পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ত্যাগের প্রস্তুতির পরিমাপক হিসেবেও এটি কাজ করে। এটি একটি শক্তিশালী ও নবীন উম্মাহর জন্মের পূর্বের প্রসবকালীন কষ্টের মতো একটি চূড়ান্ত পর্যায় ..
এর অন্যতম একটি উপকারিতা হলো, এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় এবং কেবল তাঁর প্রতিই মুখাপেক্ষী হতে শেখায় .. যখন পার্থিব সকল উপায়-উপকরণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে আসে এবং বিপদ-আপদ তীব্রতর হয়, তখন উম্মাহ আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত সামনে আর কাউকে পায় না। ফলে তারা তাঁর দিকেই ছুটে যায় এবং এমন এক নিরুপায়ের মতো তাঁকে ডাকে যে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করে .. তখনই মুক্তি আসে এবং বিজয় ও কর্তৃত্ব ত্বরান্বিত হয়: {তোমরা কি মনে করছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? দুঃখ-দৈন্য ও রোগ-বালাই তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রসূল ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।} (আল-বাকারাহ: ২১৪)।
-
সচ্ছলতা ও সুখের সময়ে উম্মাহর নেতৃত্ব:সংকীর্ণতা ও কঠিন পরিস্থিতির পর আল্লাহর ইচ্ছায় সচ্ছলতা আসবে এবং উম্মাহ ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করবে। বাতিলের পতাকাগুলো অতি সহজেই লুটিয়ে পড়বে। তখন পরিবর্তনের সেই প্রজন্মের সামনে একটি নতুন ভূমিকা প্রকাশিত হবে, তা হলো উম্মাহকে একটি পতাকার নিচে সমবেত করা এবং ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের নেতৃত্ব দেওয়া। পাশাপাশি দখলকৃত সকল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মজলুম মুসলিমদের রক্ষা করা
…এরপর প্রতিশ্রুত সেই প্রজন্মের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে ইসলামের প্রচার এবং বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব ও শিক্ষকতার আসনে আসীন হওয়ার মাধ্যমে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই প্রতিশ্রুতি—যা দিগন্তব্যাপী এই দ্বীন পৌঁছে যাওয়ার কথা এবং রোম বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান শক্তিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন—বাস্তবায়িত হবে। তারা সর্বত্র শান্তি ও নিরাপত্তা ছড়িয়ে দেবে এবং মানবজাতিকে ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসবে।
হ্যাঁ, আল্লাহর ইচ্ছায় এটি ঘটবে—যেভাবে প্রথম প্রজন্মের সাথে ঘটেছিল। যারা মক্কায় নির্যাতিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জীবন শুরু করেছিলেন, যারা কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং বিজয় ও কর্তৃত্বের প্রতিশ্রুতির আয়াতগুলো শুনতেন। সেই সময়ে তাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা ছিল কেবল নিরাপদে রাত অতিবাহিত করা এবং কোনো অনিষ্টের শিকার না হওয়া
… এই মানুষগুলোই স্বচক্ষে সেই কর্তৃত্ব ও প্রতিষ্ঠা দেখেছিলেন এবং ইসলামের সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরবর্তীতে তাদের ভয় কেবল এই ছিল যে, দুনিয়ার প্রাচুর্য বুঝি তাদের জন্য কোনো ফিতনা হিসেবে দেখা দেয় ..
সহীহ বুখারী-তে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট খাদ্য নিয়ে আসা হলো এবং তিনি তখন রোযা পালন করছিলেন। তিনি বললেন: মুসআব ইবনে উমাইর শহীদ হয়েছেন এবং তিনি আমার চেয়েও উত্তম ছিলেন, তাকে এমন এক চাদরে কাফন দেওয়া হয়েছিল যা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বেরিয়ে যেত। হামযাহও শহীদ হয়েছেন এবং তিনিও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। এরপর আমাদের জন্য দুনিয়ার নেয়ামত অঢেলভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। অথবা তিনি বলেছিলেন: আমাদের দুনিয়া থেকে যা প্রদান করা হয়েছে তাতে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমাদের ভালো কাজের প্রতিদান বুঝি ইহকালেই দ্রুত দিয়ে দেওয়া হলো। এরপর তিনি কাঁদতে থাকলেন এবং খাবার স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকলেন।
আর খাব্বাব ইবনে আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর অবস্থা এমন ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী তাঁকে দেখতে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আগামীকাল আপনি আপনার ভাইদের সাথে মিলিত হবেন। তখন তিনি কেঁদে দিলেন এবং বললেন: আমি মৃত্যুভয়ে ভীত নই, কিন্তু আপনারা আমাকে এমন সব লোক ও ভাইদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যারা তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদানসহ গত হয়েছেন। আর আমি ভয় পাচ্ছি যে, আপনারা আমাদের সেই সব আমলের যে প্রতিদানের কথা বলছেন তা বুঝি আমাদের পরবর্তী সময়ের প্রাপ্তি হিসেবে ত্বরান্বিত করা হয়েছে (১)।
-
পূর্ববর্তী শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়া:পরিবর্তনের সেই প্রজন্মের উচিত হবে না উম্মাহর নেতৃত্বের দায়িত্ব ত্যাগ করা, এমনকি বিশ্বব্যাপী আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হওয়ার পরেও। বরং তাদের কর্তব্য হবে নতুন প্রজন্ম গঠন অব্যাহত রাখা এবং বিলাসিতা ও জুলুমের মতো জাতিসমূহের ধ্বংসাত্মক ব্যাধি থেকে তাদেরকে রক্ষা করা, যাতে তারা আল্লাহ তায়ালার থেকে দূরে সরে না যায় এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য ও অভিভাবকত্ব থেকে বিচ্যুত না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
وخلاصة القول: إن حاجة الأمة الآن لوجود جيل التغيير - الجيل الموعود بالنصر والتمكين - حاجة شديدة وماسة تستلزم تكاتف كل الجهود من أجل تكوينه، ولِمَ لا وهو الجيل الذي سيبث الروح في الأمة -بإذن الله- ويوجه عاطفتها توجيهًا صحيحًا نحو التغيير الحقيقي، وسيستمر جيل التغيير في قيادة الأمة فترة الضيق والكرب والمقاطعة المتوقعة من أعداء الإسلام، وسيستمر كذلك في فترة السراء والفتوحات والخلافة وأستاذية العالم، ولن يضع سلاحه أو يركن إلى الدعة بعد ذلك، بل سيواصل بناء الأجيال والحفاظ على المجد والعزة والعمل على نشر الدين الحق في كل مكان …
সারকথা হলো: বর্তমানে পরিবর্তনের একটি প্রজন্মের আবশ্যকতা—বিজয় ও ক্ষমতা লাভের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্ম—এক চরম ও জরুরি প্রয়োজন, যা এই প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে সকল প্রচেষ্টার ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে। আর কেনই বা নয়, কারণ এটিই সেই প্রজন্ম যারা আল্লাহর ইচ্ছায় উম্মাহর মাঝে প্রাণের সঞ্চার করবে এবং এর আবেগকে প্রকৃত পরিবর্তনের দিকে সঠিক (صحيح) পথে পরিচালিত করবে। পরিবর্তনের এই প্রজন্ম ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য সংকীর্ণতা, ক্লেশ ও বয়কটের সময়েও উম্মাহর নেতৃত্ব দান অব্যাহত রাখবে। একইভাবে সচ্ছলতা, বিজয়, খিলাফত এবং বিশ্ব-নেতৃত্বের সময়েও তারা সুদৃঢ় থাকবে। তারা এরপর তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না কিংবা আরাম-আয়েশে গা ভাসিয়ে দেবে না; বরং তারা পরবর্তী প্রজন্মগুলোর গঠন, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা রক্ষা এবং সর্বত্র সত্য দ্বীন প্রচারের কাজ চালিয়ে যাবে …
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الثانيمع صفات الجيل الموعود
দ্বিতীয় অধ্যায়প্রতিশ্রুত প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثاني
مع صفات الجيل الموعود
أخبرنا الله عز وجل في كتابه بأن هناك صفات وشروطًا ينبغي أن تتوفر في الطائفة أو الجيل الذي سيمكنه سبحانه ويمده بمدده وتأييده، وينصره على أعدائه .. ولا يشترط لذلك مكان أو زمان بعينه، فالأمر متاح للجميع عبر الزمان والمكان، المطلوب فقط هو استيفاء الشروط المؤهِّلة للدخول في معية الله وكفايته ونصره.
-
ليس كلامًا نظريًا:وقبل أن ينتقل الحديث عن صفات الجيل الموعود، هناك أمر جدير بلفت الانتباه إليه وهو أن الكلام عن الجيل الموعود، وما يمكن أن يحققه الله له ليس كلامًا نظريًا افتراضيًا تُسَوَّد به الصفحات، وليس أماني أو أحلامًا نحلم بها، ونهرب من خلالها من واقعنا المر .. لا والله، بل هي حقائق يمكنها أن تحدث وبأسرع مما قد يتخليه البعض لو اجتهدنا جميعًا في استكمال الشروط المطلوبة، وانتفضنا لتحقيق صفات الجيل الموعود في أنفسنا وفيمن حولنا: {مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لِيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ} (الحج:15).
ويحكي لنا تاريخ أمتنا بأن هناك جيلًا من الأجيال قام بتحقيق تلك الشروط في نفسه فحقق الله وعده معه
… ذلكم هو جيل الصحابة - رضوان الله عليهم - والذين كانوا قبل إسلامهم غاية في الجاهلية والفرقة والتشرذم، ليأتي الإسلام، ويدخل نوره في قلوبهم، ويحدث التغيير الداخلي فتعاد صياغة شخصياتهم من جديد، ويحققون ما طلبه الله منهم، فيحدث الوفاء السريع والكريم منه سبحانه فيمكن لهم في الأرض، ليحطموا الإمبراطوريات الظالمة، وليصبحوا في سنوات قليلة القوة الأولى في العالم، وينقلوا البشرية إلى عهد جديد زاهر.
هذا الجيل كان قبل إسلامه أبعد بكثير عن الله مما نحن عليه الآن، ومع ذلك فإنه غيَّر ما بنفسه، واستوفى الشروط المؤهلة للنصر والتمكين ساد الأرض، وصنع المجد العظيم للإسلام.
إذن فالأمر الآن بين أيدينا .. لا نحتاج لإعدادات ضخمة، أو مساعدات خارجية، أو ..... ، بل نحتاج إلى أن نُغير ما بأنفسنا ليظهر من بيننا الجيل الموعود الذي يقود الأمة إلى العز والسيادة كما حدث مع الجيل الأول.
-
ضياع المجد:ولأن وعد الله لا يُخلف: فعندما حققت طائفة من البشر الصفات والشروط المؤهلة للنصر - مع قلة الأسباب المادية لديها - نصرها الله عز وجل، ومكنها في الأرض، وعندما بدأت الأجيال التالية لها في التنازل شيئًا فشيئًا عن تلك الصفات، كان الخذلان والخسارة، والعودة مرة أخرى إلى الوراء، ليعلو شأن الكفار من جديد ويصل الوضع إلى ما نحن فيه الآن من بؤس وضياع.
وما فتئ الزمان يدور حتى
… مضى بالمجد قوم آخرونا
وأصبح لا يُرى في الركب قومي
… وقدعاشوا أئمته سنينا
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
প্রতিশ্রুত প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন যে, এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও শর্ত রয়েছে যা সেই দল বা প্রজন্মের মধ্যে থাকা আবশ্যক, যাদেরকে তিনি শক্তিশালী করবেন এবং তাঁর সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে ধন্য করবেন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা কাল শর্ত নয়; বরং কাল ও স্থান নির্বিশেষে এটি সবার জন্যই উন্মুক্ত। কেবল আল্লাহর সান্নিধ্য, নিরাপত্তা ও সাহায্য পাওয়ার যোগ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ পূরণ করাই কাম্য।
-
এটি নিছক তাত্ত্বিক কথা নয়:প্রতিশ্রুত প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করার আগে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন; তা হলো, এই প্রতিশ্রুত প্রজন্ম এবং আল্লাহ তাদের মাধ্যমে যা অর্জন করাবেন সে সম্পর্কে আলোচনা কেবল কোনো কাল্পনিক তাত্ত্বিক কথা নয় যা দিয়ে পৃষ্ঠাগুলো কালো করা হবে। এটি কোনো অলীক কল্পনা বা নিছক স্বপ্নও নয় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের তিক্ত বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইব। না, আল্লাহর কসম! বরং এগুলো এমন এক বাস্তব সত্য যা কল্পনার চেয়েও দ্রুত ঘটা সম্ভব যদি আমরা সকলে প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণে সচেষ্ট হই এবং নিজেদের মাঝে ও আমাদের চারপাশের মানুষের মাঝে প্রতিশ্রুত প্রজন্মের গুণাবলি অর্জনে সজাগ হই: {যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে (রাসূলকে) সাহায্য করবেন না, সে আকাশের দিকে একটি রশি ঝুলিয়ে দিক, তারপর তা কেটে দিক (নিজেকে ঝুলিয়ে দিক), এরপর দেখুক তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করতে পারে কি না।} (আল-হজ্জ: ১৫)।
আমাদের উম্মাহর ইতিহাস আমাদের বলে যে, এমন এক প্রজন্ম গত হয়েছে যারা নিজেদের মধ্যে সেই শর্তাবলি বাস্তবায়ন করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদের সাথে কৃত তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন
… তারা হলেন সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই প্রজন্ম। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা চরম জাহেলিয়াত, বিভেদ ও অনৈক্যের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলেন। অতঃপর ইসলাম এলো এবং তাদের হৃদয়ে নূরের প্রবেশ ঘটল; তাদের অভ্যন্তরে এমন এক পরিবর্তন সাধিত হলো যে তাদের ব্যক্তিত্ব নতুনভাবে গড়ে উঠল। তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করলেন, ফলে মহান আল্লাহ দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাঁর ওয়াদা পূরণ করলেন এবং জমিনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করলেন। তারা জালিম সাম্রাজ্যগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন এবং অল্প ক’বছরের মধ্যেই বিশ্বের প্রধান শক্তিতে পরিণত হলেন। তারা মানবজাতিকে এক নতুন সোনালী যুগে পৌঁছে দিলেন।
এই প্রজন্মটি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে বর্তমান সময়ের আমাদের চেয়েও আল্লাহ থেকে অনেক বেশি দূরে ছিল। তা সত্ত্বেও তারা নিজেদের অভ্যন্তরে পরিবর্তন এনেছিল এবং বিজয় ও প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করেছিল। ফলে তারা পৃথিবীর নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ইসলামের জন্য মহান গৌরব বয়ে এনেছিল।
সুতরাং বিষয়টি এখন আমাদের হাতেই... আমাদের বিশাল কোনো আয়োজন বা বহিরাগত সাহায্যের প্রয়োজন নেই, বরং আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করা প্রয়োজন যাতে আমাদের মধ্য থেকে সেই প্রতিশ্রুত প্রজন্মের উত্থান ঘটে, যারা এই উম্মাহকে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকে পরিচালিত করবে, যেমনটি প্রথম প্রজন্মের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।
-
গৌরব হারানো:আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো খেলাফ হয় না। তাই যখন একদল মানুষ বিজয়ের উপযোগী গুণাবলি ও শর্তাবলি অর্জন করেছিল—পার্থিব উপকরণের স্বল্পতা সত্ত্বেও—আল্লাহ তাদের সাহায্য করেছিলেন এবং জমিনে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। আর যখন পরবর্তী প্রজন্মগুলো ধীরে ধীরে সেই গুণাবলি বর্জন করতে শুরু করল, তখন নেমে এলো লাঞ্ছনা ও ক্ষতি। তারা পুনরায় পেছনের দিকে ফিরে গেল, ফলে কাফেরদের প্রভাব-প্রতিপত্তি নতুন করে বৃদ্ধি পেল এবং পরিস্থিতি বর্তমানের এই দুর্দশা ও ধ্বংসের পর্যায়ে এসে পৌঁছাল।
কালচক্র ঘুরতে ঘুরতে আজ
… অন্য এক জাতি গৌরব নিয়ে চলে গেছে।
আর কাফেলায় আমার কওমকে আজ দেখা যায় না
… অথচ দীর্ঘকাল তারাই ছিল এর ইমাম ও নেতা।
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
-
سنة الله في بني إسرائيل:ولقد تحقق وعد الله وجرت سنته بشقيها على بني إسرائيل، فعندما حقق جيل من أجيالهم الشروط المؤهلة للدخول في المعية الإلهية كان العون والمدد والنصر منه سبحانه: {وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ} (الأعراف:137).
هذا التمكين الإلهي إنما حدث لبني إسرائيل عندما حققوا ما طلبه الله منهم، فهل حافظوا عليه؟! يخبرنا القرآن بأنهم بعد ذلك بدأوا بالانحراف والابتعاد التدريجي عن الحال الذي أَهلَّهم للدخول في دائرة المعية والتفضيل الإلهي، وبدأ الكِبر والظلم، بل والشرك يظهر بينهم
… فأمهلهم الله عز وجل وتجاوز عنهم مرة ومرة لعلهم يعودون لسابق عهدهم، لكنهم تمادوا في غيهم، وأصروا على ظلمهم واستكبارهم فكان عقابهم الأليم من الله عز وجل: {ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَّا بِحَبْلٍ مِنَ اللَّهِ وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآَيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ} (آل عمران:112).
-
الكرامة على قدر الاستقامة:إذن فالدخول في دائرة التأييد الإلهي يستلزم شروطًا، والاستمرار في الوجود فيها يتطلب الثبات على هذه الشروط، فكرامة العباد عند ربهم بمقدار استقامتهم وتقواهم، واستمرار الكرامة باستمرار الاستقامة.
ألم يقل سبحانه لحبيبه محمد صلى الله عليه وسلم: {وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ} (الرعد:37). إنه قانون سماوي {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا} (الكهف:49).
-
مع صفات جيل التغيير:مما سبق يتبين لنا أنه لابد من وجود جيل تتحقق فيه الصفات التي تؤهله للدخول في دائرة المعية والنصر والتأييد الإلهي .. نعم، قد تتوفر هذه الصفات في أفراد هنا أو هناك، ولكن هذا وحده لا يكفي، بل لابد من وجود جيل مترابط يتنزل عليه النصر والتمكين.
أما صفات جيل التمكين فلقد تحدث عنها القرآن في العديد من آياته، فعلينا أن نبحث عنها ونتأملها ونستخرج منه ما تدل عليه من صفات ....
وإليك أخي القارئ بعضًا من هذه الآيات:
1 - قال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (النور:55).
في هذه الآية نجد أن الله عز وجل قد وعد طائفة من عباده المؤمنين بالاستخلاف والتمكين وربط هذا الوعد بعبادته وعدم الشرك به، أي أن من صفات الجيل الموعود: العبادة، والإخلاص التام لله عز وجل.
-
বনী ইসরায়েলের বিষয়ে আল্লাহর সুন্নাত (রীতি):বনী ইসরায়েলের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তাঁর সুন্নাত (رنة) উভয় দিক থেকেই কার্যকর হয়েছে। যখন তাদের কোনো প্রজন্ম ঐশ্বরিক সান্নিধ্য (معية) লাভের যোগ্য শর্তাবলি পূরণ করেছিল, তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য, সহায়তা ও বিজয় এসেছিল: {আর যে কওমকে দুর্বল মনে করা হত, আমি তাদেরকে সেই ভূমির পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী বানালাম, যাতে আমি বরকত দান করেছি। আর বনী ইসরায়েলের ধৈর্যের কারণে তাদের বিষয়ে তোমার প্রতিপালকের উত্তম প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হলো এবং ফেরাউন ও তার কওম যা নির্মাণ করত এবং তারা যা তৈরি করত তা আমি ধ্বংস করে দিলাম} (আল-আরাফ: ১৩৭)।
এই ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠা (تمكين) বনী ইসরায়েলের জন্য তখনই অর্জিত হয়েছিল যখন তারা আল্লাহর দাবি পূরণ করেছিল। কিন্তু তারা কি তা রক্ষা করতে পেরেছিল?! কুরআন আমাদের জানায় যে, এরপর তারা বিচ্যুতি এবং ধীরে ধীরে সেই অবস্থা থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে যা তাদের ঐশ্বরিক সান্নিধ্য (معية) ও শ্রেষ্ঠত্বের গণ্ডিতে প্রবেশের যোগ্য করেছিল। তাদের মধ্যে অহংকার, জুলুম এমনকি শিরক (شرك) প্রকাশ পেতে শুরু করে... তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাদেরকে অবকাশ দিলেন এবং বারবার মার্জনা করলেন যাতে তারা তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু তারা তাদের ভ্রষ্টতায় সীমা লঙ্ঘন করল এবং তাদের অন্যায় ও অহংকারে অটল থাকল; ফলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হলো: {তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি অথবা মানুষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি থাকলে ভিন্ন কথা। তারা আল্লাহর গজব নিয়ে ফিরেছে এবং তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা একারণে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত এবং অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করত। তা তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনেরই পরিণাম} (আল ইমরান: ১১২)।
-
অটলতা অনুযায়ী সম্মান লাভ:সুতরাং, ঐশ্বরিক সাহায্যের গণ্ডিতে প্রবেশের জন্য কিছু শর্ত প্রয়োজন এবং তাতে স্থায়িত্বের জন্য ওই শর্তগুলোর ওপর অটল থাকা আবশ্যক। কেননা, বান্দার মর্যাদা তার প্রতিপালকের কাছে তার অটলতা (استقامة) ও তাকওয়া (تقوى) অনুযায়ী হয়ে থাকে; আর অটলতা অব্যাহত থাকার মাধ্যমেই সম্মানও অব্যাহত থাকে।
মহান আল্লাহ কি তাঁর প্রিয়তম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেননি: {তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য কোনো অভিভাবক ও রক্ষাকারী থাকবে না} (আর-রাদ: ৩৭)। এটি একটি আসমানি কানুন: {আর তোমার প্রতিপালক কাউকেও জুলুম করেন না} (আল-কাহফ: ৪৯)।
-
পরিবর্তনের প্রজন্মের গুণাবলি প্রসঙ্গে:উপোরিউক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এমন একটি প্রজন্মের অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক যাদের মধ্যে ওই সকল গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে যা তাদের ঐশ্বরিক সান্নিধ্য (معية), বিজয় ও সাহায্যের গণ্ডিতে প্রবেশের যোগ্য করে তোলে। হ্যাঁ, এই গুণাবলি হয়তো এখানে-সেখানে কিছু ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু কেবল এটিই যথেষ্ট নয়; বরং এমন এক সুসংহত প্রজন্মের প্রয়োজন যাদের ওপর বিজয় ও প্রতিষ্ঠা (تمكين) নাযিল হয়।
আর প্রতিষ্ঠা (تمكين) প্রাপ্ত প্রজন্মের গুণাবলি সম্পর্কে কুরআন তার অনেক আয়াতে বর্ণনা করেছে। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো সেগুলো খুঁজে বের করা, তা নিয়ে চিন্তা করা এবং সেগুলো যে গুণাবলির ইঙ্গিত দেয় তা আহরণ করা... হে পাঠক ভাই, এখানে আপনার জন্য এ সংক্রান্ত কিছু আয়াত তুলে ধরা হলো:
১ - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন। আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক (شرك) করবে না। এরপর যারা কুফরি করবে, তারাই তো পাপাচারী (فاسق)} (আন-নূর: ৫৫)।
এই আয়াতে আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর মুমিন বান্দাদের এক দলকে প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) ও প্রতিষ্ঠার (تمكين) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এই প্রতিশ্রুতিকে তাঁর ইবাদত ও শিরক (شرك) বর্জন করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত প্রজন্মের গুণাবলি হলো: ইবাদত এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ একনিষ্ঠতা (إخلاص)।
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
2 - قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ? إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ ? وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} (المائدة:54 - 56).
هذه الآيات تتحدث عن بعض صفات حزب الله الذي يُكرمه سبحانه بالغلبة والنصر
… هذه الصفات هي:
أولًا: حب الله.
ثانيًا: التواضع.
ثالثًا: الجهاد المتواصل.
رابعًا: العبادة.
خامسًا: الموالاة والتآخي.
3 - قال تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ} (الأنفال:60).
تتناول هذه الآية صفة الجهاد بمفهومها الواسع من بذل الجهد في الإعداد المادي بكل صوره المتاحة، وفي حدود الاستطاعة.
4 - قال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ
… رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ الظَّالِمِينَ ? وَلَنُسْكِنَنَّكُمُ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِهِمْ ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ} (إبراهيم:13 - 14).
هنا تركز الآيات على الخوف من الله عز وجل كصفة أساسية من صفات التمكين.
5 - قال تعالى: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ ? إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ} (الأنبياء:105، 106).
من خلال هذه الآيات نجد أن العبادة والصلاح لابد وأن يكونا من صفات جيل التمكين.
6 - قال تعالى: {وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا} (الأعراف:137)، وقال تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآَيَاتِنَا يُوقِنُونَ} (السجدة:24).
في هذه الآيات نجد الصبر والثبات على الحق من أهم صفات الطائفة المنصورة: {تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَا أَنْتَ وَلَا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} (هود:49).
7 - قال تعالى: {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ? وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ} (هود:112، 113).
هنا نجد الوجه الإلهي للفئة المؤمنة بضرورة التحلي بصفة الوسطية والاعتدال، فالطغيان يمثل التشدد، والركون يمثل التفريط والترخص أما الاستقامة فهي بينهما، وبدونها يبتعد المؤمنون عن دائرة الولاية والنصرة الإلهية كما بينت الآيات.
ومما يؤكد هذا المعنى قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (البقرة:143).
2 - মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আপন দীন থেকে ফিরে যাবে, তবে অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি হবে কোমল আর কাফিরদের প্রতি কঠোর; তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। তোমাদের প্রকৃত বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং সেই মুমিনগণ যারা নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং তারা বিনত (রুকুকারী)। আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই হবে বিজয়ী।} (আল-মায়িদা: ৫৪ - ৫৬)।
এই আয়াতসমূহ আল্লাহর দলের (হিজবুল্লাহ) কিছু গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করে, যাদেরকে মহান আল্লাহ বিজয় ও সাহায্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেন... সেই গুণগুলো হলো:
প্রথমত: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।
দ্বিতীয়ত: বিনয়।
তৃতীয়ত: নিরবচ্ছিন্ন জিহাদ।
চতুর্থত: ইবাদত।
পঞ্চমত: আনুগত্য ও ভ্রাতৃত্ব।
3 - মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধাশ্ব প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের আতঙ্কিত করবে।} (আল-আনফাল: ৬০)।
এই আয়াতটি জিহাদের গুণাবলিকে তার ব্যাপক অর্থে চিত্রিত করে, যা হলো বিদ্যমান সকল উপায়ে বস্তুগত প্রস্তুতি গ্রহণে সামর্থ্যের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করা।
4 - মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফিররা তাদের রাসুলদের বলেছিল, আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে আমাদের ভূখণ্ড থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে। তখন তাদের রব তাদের প্রতি ওহি পাঠালেন যে... আমি অবশ্যই জালিমদের ধ্বংস করে দেব। এবং তাদের পর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে এই জমিনে বসবাস করাব। এটি তার জন্য, যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং ভয় করে আমার শাস্তির হুঁশিয়ারিকে।} (ইবরাহিম: ১৩ - ১৪)।
এখানে আয়াতসমূহ ক্ষমতায়নের (তামকিন) অন্যতম মৌলিক গুণ হিসেবে আল্লাহর ভয়ের ওপর আলোকপাত করেছে।
5 - মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জাবুর কিতাবে উপদেশের পর লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয়ই ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে এক পয়গাম।} (আল-আম্বিয়া: ১০৫, ১০৬)।
এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, ইবাদত ও নেক আমল অবশ্যই ক্ষমতায়নপ্রাপ্ত প্রজন্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হতে হবে।
6 - মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমার রবের উত্তম বাণী বনী ইসরাঈলের জন্য পূর্ণ হলো, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল।} (আল-আরাফ: ১৩৭), এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।} (আস-সাজদা: ২৪)।
এই আয়াতগুলোতে আমরা হকের ওপর ধৈর্য ও অবিচল থাকাকে সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখতে পাই: {এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি আপনার প্রতি ওহি করছি; যা ইতিপূর্বে আপনি বা আপনার কওম জানত না। সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।} (হুদ: ৪৯)।
7 - মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অবিচল থাকুন এবং আপনার সাথে যারা তাওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই তিনি তোমরা যা করো তা প্রত্যক্ষ করেন। আর তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পোড়ো না, নতুবা তোমাদেরকে আগুন স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।} (হুদ: ১১২, ১১৩)।
এখানে আমরা মুমিন দলের ঐশী রূপরেখা খুঁজে পাই, যা ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা (الاعتدال) অবলম্বনের আবশ্যকতা তুলে ধরে। কেননা সীমালঙ্ঘন হলো উগ্রপন্থা, আর জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়া হলো শিথিলতা ও আপসকামিতা; পক্ষান্তরে অবিচলতা (ইস্তিকামাত) হলো এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পথ। এই গুণটি ছাড়া মুমিনরা আল্লাহর অভিভাবকত্ব ও ঐশী সাহায্যের পরিধি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, যেমনটি আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
এই বিষয়টিকে সুদৃঢ় করে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسطا) হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন।} (আল-বাকারা: ১৪৩)।
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - وفي مقابل الآيات التي تتحدث عن صفات الجيل الموعود بالنصر والتمكين، نجد أن هناك آيات تتحدث عن أسباب الهزيمة والخروج من دائرة المعية والتأييد الإلهي، ويُفهم من هذه الآيات ضرورة التخلي عن هذه الصفات لمن يريد النصر والتمكين
… منها قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآَخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآَخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ ? إِلَّا تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (التوبة:38،39).
فالتعلق بالدنيا من أخطر الأسباب التي تؤدي إلى الخروج من دائرة المعية والنُصرة الإلهية، ومن ثَّم فمن الضروري أن يكون الزهد في الدنيا وعدم التعلق بها من صفات الجيل الموعود.
- الصفات العشر:
فإذا ما أردنا أن نجمع الصفات التي دلت عليها الآيات السابقة لوجدناها:
1 - الإخلاص لله عز وجل.
2 - محبة الله.
3 - الخوف من الله.
4 - العبادة.
5 - التواضع.
6 - الزهد في الدنيا.
7 - الجهاد في سبيل الله.
8 - الصبر والثبات.
9 - المولاة والتآخي.
تبقى صفة عاشرة لها أهمية كبيرة وينبغي أن تتوفر في جيل التغيير ألا وهي صفة الوسطية والاعتدال
… هذه الصفة طالب الله عز وجل رسوله صلى الله عليه وسلم ومن معه بالتحقق بها وهم لا يزالون في مكة مطاردين ومضطهدين .. قال تعالى: {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ? وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ} (هود:112، 113).
فالطغيان يمثل التشدد، والركون يمثل التفريط والترخص، أما الاستقامة فهي بينهما، وبدونها يبتعد المؤمنون عن دائرة الولاية والنصرة الإلهية كما بينت الآيات.
- بين الفردية والجماعية:
الملاحظ في الصفات السابقة أن بعضًا منها يأخذ طابعًا فرديًا، بمعنى أنها تخص كل فرد على حدة وينبغي عليه أن يحققها في نفسه كالإخلاص لله وحبه والخوف منه، والبعض الآخر من الصفات يأخذ طابعًا جماعيًا بمعنى أنه لا يمكن تحقيقه إلا من خلال مجموع الأفراد بعضهم مع بعض كالإعداد والمؤاخاة، وهذا ما يؤكد عليه القرآن في خطابه الموجه للفئة المؤمنة، والذي نلحظ فيه أنه يخاطبهم بصيغة الجمع باعتبار أن العديد من الصفات الرئيسية لجيل التمكين لا يمكن تحقيقها إلا من خلال تكاتف الأفراد مع بعضهم البعض، وانصهارهم في بوتقة واحدة .. تأمل معي قوله تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآَتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} (الحج:41). وقوله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (التوبة:71).
- هل يمكن إضافة صفات أخرى؟!
8 - বিজয় এবং ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্মের গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা আয়াতগুলোর বিপরীতে আমরা এমন কিছু আয়াত খুঁজে পাই যা পরাজয়ের কারণ এবং মহান আল্লাহর সঙ্গ ও স্বর্গীয় সাহায্যের বৃত্ত থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে। এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায় যে, যারা বিজয় ও ক্ষমতায়ন প্রত্যাশা করে তাদের জন্য এই স্বভাবগুলো বর্জন করা অপরিহার্য
… তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয় তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে মাটিতে লেগে থাকো? তোমরা কি আখিরাতের বদলে দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সম্ভার অতি সামান্য। যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।} (আত-তাওবাহ: ৩৮, ৩৯)।
সুতরাং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি হলো এমন এক বিপজ্জনক কারণ যা মহান আল্লাহর সঙ্গ ও ঐশী সাহায্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার দিকে ধাবিত করে। অতএব, এটি আবশ্যক যে দুনিয়াবিমুখতা এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি যেন সেই প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্মের অন্যতম গুণ হয়।
- দশটি গুণাবলি:
আমরা যদি পূর্বোক্ত আয়াতগুলোতে নির্দেশিত গুণাবলিগুলো একত্রিত করতে চাই তবে সেগুলো হবে:
1 - মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (ইখলাস)।
2 - আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।
3 - আল্লাহভীতি।
4 - ইবাদত।
5 - বিনয়।
6 - দুনিয়াবিমুখতা।
7 - আল্লাহর পথে জিহাদ।
8 - ধৈর্য ও অবিচলতা।
9 - বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব।
দশম একটি গুণ বাকি থাকে যার গুরুত্ব অত্যধিক এবং পরিবর্তনের প্রজন্মের মধ্যে সেটি বিদ্যমান থাকা আবশ্যক; আর তা হলো মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য
… মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীদের এই গুণটি অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যখন তাঁরা মক্কায় শত্রুদের দ্বারা পশ্চাদ্ধাবিত ও নির্যাতিত হচ্ছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তুমি সেভাবে অবিচল থাকো যেভাবে তোমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা তোমার সাথে তওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় তিনি তোমরা যা করো তা প্রত্যক্ষ করেন। আর তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় তোমাদের আগুন স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না, ফলে তোমাদের সাহায্য করা হবে না।} (হূদ: ১১২, ১১৩)।
এখানে সীমালঙ্ঘন চরমপন্থার প্রতিনিধিত্ব করে এবং ঝুঁকে পড়া শিথিলতা ও অবহেলাকে প্রতিনিধিত্ব করে; আর 'ইস্তিকামাত' বা অবিচলতা হলো এই দুইয়ের মাঝামাঝি। আয়াতগুলোতে যেমন স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি ছাড়া মুমিনরা আল্লাহর অভিভাবকত্ব ও সাহায্যের বৃত্ত থেকে দূরে সরে যায়।
- ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিষয়ের মাঝে:
পূর্বোক্ত গুণাবলিগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, সেগুলোর কিছু ব্যক্তিগত রূপ ধারণ করে, অর্থাৎ সেগুলো প্রতিটি ব্যক্তির সাথে এককভাবে সংশ্লিষ্ট এবং তার নিজের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা আবশ্যক—যেমন আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও ভীতি। আবার অন্য কিছু গুণ সমষ্টিগত রূপ ধারণ করে, অর্থাৎ সমষ্টিগত প্রচেষ্টার মাধ্যম ছাড়া সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়—যেমন প্রস্তুতি গ্রহণ ও ভ্রাতৃত্ব। পবিত্র কুরআন মুমিনদের প্রতি তার সম্বোধনে এই বিষয়টির ওপরই জোর দিয়েছে, যেখানে আমরা লক্ষ্য করি যে কুরআন তাদের বহুবচনে সম্বোধন করেছে। কারণ ক্ষমতায়নপ্রাপ্ত প্রজন্মের অনেকগুলো প্রধান গুণই ব্যক্তিদের পারস্পরিক সংহতি এবং একটি লক্ষ্যে একীভূত হওয়া ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। আমার সাথে মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য করুন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতায়ন দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের (المعروف) আদেশ দেবে ও অসৎকাজে (المنكر) নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে।} (আল-হজ্জ: ৪১)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের (المعروف) আদেশ দেয় ও অসৎকাজে (المنكر) নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদের ওপরই আল্লাহ অচিরেই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (আত-তাওবাহ: ৭১)।
- আরও কি গুণাবলি যোগ করা সম্ভব?!
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قبل الانتقال للحديث عن هذه الصفات العشر بشيء من التفصيل هناك ملاحظة جديرة بلفت الانتباه إليها، وهي أن البعض منا قد يرى أن هناك صفات أخرى يمكنه إضافتها إلى هذه الصفات، سواء كانت فردية كالعلم والتوكل على الله، أو جماعية كالانضباط والطاعة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
نعم، لا بأس من ذلك وبخاصة أن هذه الصفات - كما سيأتي بيانه - ما هي إلا ثمار تنطلق من محاور عدة، هذه المحاور عندما تتحقق في الجيل الموعود فإنها ستثمر بمشيئة الله هذه الصفات العشر وغيرها مما قد يضيفه، وبطريقة طبيعية وسلسة.
معنى هذا أن تلك الصفات ليست على سبيل الحصر، وإن كانت تشكل أهم ما يميز الجيل الموعود من سمات.
وفي الصفحات المقبلة سيتم - بعون الله - إلقاء الضوء على الصفات العشر للجيل الموعود، مع عرض لنماذج من الجيل الأول والذي تحققت فيه هذه الصفات.
أولًا: الإخلاص لله عز وجل(جيل مخلص)
قال تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (النور:55).
فالآية تخاطب المؤمنين وتبشرهم بالوعد الإلهي بالتمكين والاستخلاف في الأرض شريطة أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئًا.
والملاحظ أن الآية ذكرت كلمة "شَيْئًا" لتخرج بالشرك من الدائرة الضيقة -دائرة الشرك الظاهر- إلى الدائرة الواسعة التي تتضمن كل أنواع الشرك سواء كان ذلك في التوجه أو الاستعانة
…- شرك التوجه والقصد:
وشرك التوجه هو أن يقصد المرء من أفعاله رضا الله من ناحية، ومن ناحية أخرى يريد بتلك الأفعال رضا الناس وحبهم له، وعلو منزلته عندهم
… ، أو يقصد بأعماله رضا الله، وكذلك الحصول على مغنم أو جاه، أو أي فائدة دنيوية.
فكل ما ينافي التوجه التام والمطلق لله عز وجل فهو شرك.
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (قال الله تعالى: أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملًا أشرك فيه معي غيري، تركته وشركه) (1).
وعن شداد بن أوس قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يبكي، فقلت ما يبكيك يا رسول الله؟! قال: (إني تخوفت على أمتي الشرك أما أنهم لا يعبدون صنمًا ولا شمسًا ولا قمرًا ولا حجرًا ولكنهم يراءون بأعمالهم) (2).
- شرك الاستعانة:
وكما أننا مطالبون بإخلاص التوجه لله عز وجل، وأن يكون رضاه وحده هو المقصد في جميع أعمالنا، فإننا كذلك مطالبون بأن نستعين به وحده على أداء أي عمل، فلا حول ولا قوة لأحد إلا بالله، وعندما يستعين المرء بغير ربه ويظن أنه يصل لهدفه بدونه سبحانه فقد أشرك به
…ومن الصور الخفية للاستعانة بغير الله:
الاستعانة بالنفس والاعتقاد بما حباها الله من إمكانات على أنها ملك ذاتّي للعبد يفضُلُ بها غيره، أو أنه يمكنه استخدامها والاعتماد عليها وقتما شاء، فإذا ما وصل لهدفه فرح بنفسه ونظر إليها بعين الرضا والإعجاب
… فهذا هو الإعجاب بالنفس الذي يُعد من أخطر أنواع الشرك بالله.
إذن فالشرك بالله يشمل كل شيء يشترك في توجه العبد بأعماله إلى الله، ويشمل كذلك كل شيء يستعين به العبد على القيام بتلك الأعمال.
يقول ابن تيمية: الرياء من باب الإشراك بالخلق، والعُجب من باب الإشراك بالنفس.
--------------------------------------------
এই দশটি গুণাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে একটি বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন; সেটি হলো, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, এই গুণাবলিগুলোর সাথে আরও কিছু গুণ যোগ করা সম্ভব, হোক তা ব্যক্তিগত যেমন ইলম ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, অথবা সামষ্টিক যেমন শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।
হ্যাঁ, এতে কোনো বাধা নেই; বিশেষ করে যেহেতু এই গুণাবলিগুলো—যেভাবে পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করা হবে—কয়েকটি মৌলিক ভিত্তি থেকে উৎসারিত ফল মাত্র। এই ভিত্তিগুলো যখন প্রতিশ্রুত প্রজন্মের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে এই দশটি গুণাবলি এবং এর সাথে আরও যা কিছু যোগ করা হতে পারে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
এর অর্থ এই যে, গুণাবলিগুলো কেবল এই দশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যদিও এগুলো প্রতিশ্রুত প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যের প্রধান দিকগুলো গঠন করে।
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আল্লাহর সাহায্যে প্রতিশ্রুত প্রজন্মের দশটি গুণের ওপর আলোকপাত করা হবে এবং প্রথম প্রজন্মের কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করা হবে, যাদের মধ্যে এই গুণাবলিগুলো বাস্তবায়িত হয়েছিল।
প্রথমত: মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস(একনিষ্ঠ প্রজন্ম)
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের দীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন; তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। এরপর যারা কুফরি করবে, তারাই তো পাপাচারী।} (আন-নূর: ৫৫)।
আয়াতটি মুমিনদের সম্বোধন করছে এবং তাদেরকে পৃথিবীতে সক্ষমতা ও প্রতিনিধিত্ব লাভের ঐশী প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুসংবাদ দিচ্ছে, এই শর্তে যে তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।
লক্ষণীয় যে, আয়াতে "কোনো কিছুকে" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে শিরকের ধারণাটি সংকীর্ণ পরিমণ্ডল—প্রকাশ্য শিরক—থেকে বের হয়ে এক ব্যাপক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত হয়, যা সব ধরণের শিরককে অন্তর্ভুক্ত করে; হোক তা লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে কিংবা সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্রে...
- লক্ষ্য ও সংকল্পের শিরক:
লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের শিরক হলো এই যে, মানুষ তার কাজের মাধ্যমে একদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করে এবং অন্যদিকে সেই একই কাজের মাধ্যমে মানুষের সন্তুষ্টি, ভালোবাসা এবং তাদের কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা করে... অথবা তার কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি কোনো পার্থিব লাভ, পদমর্যাদা বা অন্য কোনো দুনিয়াবি ফায়দা হাসিলের ইচ্ছা করে।
সুতরাং, মহান আল্লাহর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন ও নিরঙ্কুশ মনোযোগের পরিপন্থী যা কিছু আছে, তা-ই শিরক।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে ব্যক্তি কোনো কাজ করে তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করে, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি) (১)।
শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাঁদতে দেখে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: (আমি আমার উম্মতের ওপর শিরকের আশঙ্কা করছি। তারা যে মূর্তি, সূর্য, চন্দ্র বা পাথরের পূজা করবে—এমন নয়; বরং তারা তাদের আমলের মাধ্যমে রিয়া বা লোক-দেখানো প্রদর্শন করবে) (২)।
- সাহায্য প্রার্থনার শিরক:
যেভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করতে এবং আমাদের সমস্ত কাজে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে আদিষ্ট, ঠিক তেমনি প্রতিটি কাজ সম্পাদনে একমাত্র তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করতেও আমরা আদিষ্ট। কেননা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। যখন কোনো ব্যক্তি তার রব ছাড়া অন্য কারো সাহায্য প্রার্থনা করে এবং মনে করে যে তিনি ছাড়া সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে, তবে সে শিরক করল...
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাহায্য প্রার্থনার প্রচ্ছন্ন রূপগুলোর মধ্যে একটি হলো:
নিজের ওপর নির্ভর করা এবং আল্লাহ তাকে যা কিছু সামর্থ্য দান করেছেন তাকে নিজের সত্তাগত অধিকার বলে মনে করা যার মাধ্যমে সে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে; অথবা মনে করে যে সে এগুলো যখন ইচ্ছা ব্যবহার করতে ও এগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারে। এরপর যখন সে তার লক্ষ্যে পৌঁছায়, তখন নিজের সাফল্যে আনন্দিত হয় এবং আত্মতৃপ্তি ও আত্মমুগ্ধতার দৃষ্টিতে নিজের দিকে তাকায়... এটাই হলো আত্মমুগ্ধতা যা আল্লাহর সাথে শিরকের অন্যতম বিপজ্জনক প্রকার হিসেবে গণ্য।
অতএব, আল্লাহর সাথে শিরক এমন সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে যা বান্দার আমল আল্লাহর দিকে নিবেদিত হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার হয় এবং যা আমল সম্পাদনের ক্ষেত্রে বান্দার সাহায্যকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: রিয়া হলো সৃষ্টির সাথে শিরক করার অন্তর্ভুক্ত, আর আত্মমুগ্ধতা হলো নিজের সত্তার সাথে শিরক করার অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ويقول: المعجب بنفسه لا يحقق إياك نستعين، كما أن المرائي لا يحقق إياك نعبد (1).
- خطورة الشرك الخفي:
أما خطورة الشرك الخفي من رياء أو عجب وما يؤديان إليه من غرورو وكبر ونفاق فكبيرة، أقلها إحباط العمل، فكل عمل يخالطه رياء أو عجب فقد أُحبط، وصار هباءً منثورًا، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ} (البقرة:264).
ومع إحباط العمل فإن العجب يؤدي إلى غضب الله ومقته، قال صلى الله عليه وسلم: (من تَعظَّم في نفسه، واختال في مشيته، لقي الله وهو عليه غضبان) (2) .. وقال: (النادم ينتظر الرحمة، والمعجب ينتظر المقت) (3).
ويؤدي العُجب أيضًا إلى الخذلان وحرمان التوفيق والتعرض للفتن، ولنا في قصة غزوة حنين أبلغ مثال: {وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ} (التوبة:25).
فليست القضية فقط في إخلاص التوجه لله، بل لابد كذلك من الاستعانة الصادقة به سبحانه، وعدم رؤية العمل أو رؤية النفس بعين الفرح والرضا والإعجاب
…من هنا يتأكد لدينا ضرورة وجود صفة الإخلاص التام لله عز وجل في التوجه والاستعانة لأبناء الجيل الموعود وإلا فلا نصر ولا تمكين.
- من مظاهر الإخلاص:
عندما يسير العبد في طريق الإخلاص لله عز وجل فإن هذا من شأنه أن يترك عليه آثارًا وعلامات يشعر بها بداخله، ويلاحظها عليه من حوله
…- من هذه العلامات أن العبد لن ينتظر من وراء عمله رضا رؤسائه عنه، أو توجيه الثناء له، أو خلع الألقاب عليه، أو تقديمه على غيره من زملائه.
- ومنها أن يسعى لإخفاء مكانه وعمله غاية الإمكان، فلا يتحدث به تلميحًا ولا تصريحًا.
- ومنه أنه لن يسعى لمعرفة رأي الناس في أعماله، بل يعمل العمل ويجتهد في نسيانه وإخفائه وعدم التحدث به.
- ومنها أيضًا: أن يخاف على نفسه من فتنة الشهرة والأضواء، فيدفعها عن نفسه غاية الإمكان.
- ومنها: أنه يستوي عنده العمل في المقدمة، مع العمل في المؤخرة، بل إن عمله في المؤخرة سيكون أحب إليه حيث لا يتعرض لنظر الناس أو ثنائهم عليه.
- ومنها: استواء المدح والذم لديه، حتى إنه ليدفع مدح الناس لخوفه على نفسه من آثاره السلبية.
- ومنها: عدم ضيقه إذا ما نُسب عمله إلى غيره.
- ومنها: مساعدته للآخرين في أعمالهم والعمل على إنجاحها دون أن يشعر به أحد.
- ومنها: وجود خبيئة من أعمال صالحة بينه وبين الله لا يعلمها أحد سواه.
- ومنها: أنه لن يضيق صدره إذا ما تخطاه الاختيار للقيام بعمل له فيه سابقة خبرة أكثر من غيره، بل إنه يساعد من اختير لذلك ويقدم له نصائحه وخبرته.
- ومنها: أنه لن يهتم برضا الناس عنه أو سخطهم عليه.
- ومنها: أنه لن يتحدث عن نفسه بما يزكيها، ولا يكثرمن قول أنا
… لي
… عندي
… .
- ومنها: أنه لن يفتخر على أحد بشيء حباه الله به.
- ومنها: أنه لن يُحاول إظهار كل إمكاناته وما يعلمه أمام الآخرين.
- ومنها: أنه لن ينظر إلى مغنم من وراء عمله، ولن يستغل منصبه في تحقيق منافع دنيوية له أو لأقاربه وأصدقائه.
- ومنها: عدم المنِّ بالعطايا على الآخرين، وعدم تذكيرهم بها بأي شكل من الأشكال.
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি ‘আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই’ (ইইয়াকা নাসতায়িন) আয়াতের গূঢ় রহস্য উপলব্ধি করতে পারে না, যেমনটি লোকপ্রদর্শনকারী ব্যক্তি ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি’ (ইইয়াকা নাবুদু) আয়াতের প্রকৃত মর্ম উদ্ধার করতে পারে না (১)।
- গোপন শিরকের ভয়াবহতা:
লোকপ্রদর্শন বা আত্মমুগ্ধতা এবং এগুলো থেকে উদ্ভূত বিভ্রম, অহংকার ও নিফাক (ভণ্ডামি) এর মতো গোপন শিরকের ভয়াবহতা অত্যন্ত প্রকট; এর ন্যূনতম পরিণাম হলো আমল বাতিল হয়ে যাওয়া। সুতরাং যে আমলের সাথে লোকপ্রদর্শন বা আত্মমুগ্ধতা মিশে থাকে তা পণ্ড হয়ে যায় এবং বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের সদকাকে নষ্ট করো না, সেই ব্যক্তির মতো যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য।" (আল-বাকারা: ২৬৪)।
আমল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আত্মমুগ্ধতা আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের মনে নিজেকে বড় মনে করে এবং অহংকারের সাথে পথ চলে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন" (২)। তিনি আরও বলেন: "অনুতপ্ত ব্যক্তি রহমতের প্রতীক্ষায় থাকে, আর আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির প্রতীক্ষায় থাকে" (৩)।
আত্মমুগ্ধতা মানুষকে চরম লাঞ্ছনা, তাওফিক থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং ফিতনার সম্মুখীন হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। এ ক্ষেত্রে হুনাইনের যুদ্ধের ঘটনা আমাদের জন্য এক বড় উদাহরণ: "এবং হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে আত্মমুগ্ধ করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং জমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।" (আত-তাওবা: ২৫)।
সুতরাং বিষয়টি কেবল আল্লাহর অভিমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর কাছে ঐকান্তিকভাবে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং নিজের আমল বা নিজেকে আনন্দ, সন্তুষ্টি ও আত্মমুগ্ধতার দৃষ্টিতে না দেখাও অপরিহার্য
…এখান থেকে আমাদের কাছে এটি সুনিশ্চিত হয় যে, প্রতিশ্রুতিশীল প্রজন্মের আল্লাহর অভিমুখী হওয়া এবং তাঁর সাহায্য কামনার ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য পূর্ণ নিষ্ঠা থাকা অত্যাবশ্যক; অন্যথায় কোনো বিজয় বা কর্তৃত্ব অর্জিত হবে না।
- নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশসমূহ:
যখন কোনো বান্দা আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠার পথে পরিচালিত হয়, তখন এর কিছু প্রভাব ও চিহ্ন তার অন্তরে সৃষ্টি হয় যা সে নিজে অনুভব করে এবং তার চারপাশের মানুষও তা লক্ষ্য করে
…- এসব চিহ্নের একটি হলো, বান্দা তার আমলের বিনিময়ে ঊর্ধ্বতনদের সন্তুষ্টি, প্রশংসা লাভ, কোনো খেতাব অর্জন বা সহকর্মীদের ওপর তাকে অগ্রাধিকার প্রদানের প্রতীক্ষায় থাকবে না।
- অন্যটি হলো, আমল ও নিজের অবস্থানকে যথাসম্ভব গোপন রাখার চেষ্টা করা; সে বিষয়ে ইশারা-ইঙ্গিতে বা স্পষ্টভাবে কোনো কথা না বলা।
- আমলের ব্যাপারে মানুষের মন্তব্য জানার চেষ্টা না করা, বরং আমল করার পর তা ভুলে যেতে, গোপন রাখতে এবং তা নিয়ে আলোচনা না করতে সচেষ্ট হওয়া।
- খ্যাতির মোহ ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার ফিতনা সম্পর্কে নিজের ব্যাপারে ভীত থাকা এবং যথাসম্ভব নিজেকে এ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।
- প্রথম সারিতে থেকে কাজ করা এবং পেছনের সারিতে থেকে কাজ করা তার কাছে সমান অনুভূত হওয়া। বরং পেছনের সারিতে থেকে কাজ করাই তার কাছে অধিক প্রিয় হবে, কারণ সেখানে মানুষের দৃষ্টি বা প্রশংসার সম্ভাবনা থাকে না।
- প্রশংসা ও নিন্দা তার কাছে সমান হওয়া, এমনকি সে মানুষের প্রশংসাকে এড়িয়ে চলে নিজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের ভয়ে।
- নিজের কাজ অন্য কারো নামে প্রচারিত হলেও মনে কষ্ট না পাওয়া।
- লোকচক্ষুর অগোচরে অন্যদের কাজে সাহায্য করা এবং তা সফল করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
- তার ও আল্লাহর মাঝে এমন কিছু গোপন নেক আমল থাকা যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।
- কোনো কাজে তার অধিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যদি তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচন করা হয়, তবে সে মনঃক্ষুণ্ণ না হওয়া; বরং যাকে নির্বাচন করা হয়েছে তাকে সে সাহায্য করবে এবং নিজের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
- মানুষের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির পরোয়া না করা।
- নিজের পবিত্রতা বর্ণনার উদ্দেশ্যে আত্মপ্রশংসা না করা এবং 'আমি', 'আমার জন্য', 'আমার কাছে'—এসব শব্দের বাহুল্য পরিহার করা
…।
- আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা নিয়ে কারো ওপর অহংকার না করা।
- অন্যদের সামনে নিজের সকল যোগ্যতা ও জ্ঞান জাহির করার চেষ্টা না করা।
- আমলের পেছনে কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তির আশা না করা এবং নিজের পদমর্যাদাকে নিজের অথবা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের পার্থিব স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার না করা।
- কাউকে কিছু দান করে খোঁটা না দেওয়া এবং কোনোভাবেই তা মনে করিয়ে না দেওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- ومنها: أنه يكثر من الاستغفار بعد أعماله الصالحة.
- ومنها: أنه يجاهد نفسه ولا يستسلم لخواطر العُجب، بل يعالجها ويسقيها الشراب المضاد الذي يعيد لها التوازن ويضعها في قالب العبودية.
- ومنها أنه لن يرى أنه مخلص، بل يسيء دومًا الظن بنفسه، ويتهمها بالنفاق و
… و
… وأشياء كثيرة تدل على الإخلاص التام لله عز وجل في التوجه والاستعانة.
- الجيل الأول والإخلاص:
الناظر والمدقق في سيرة الصحابة - رضوان الله عليهم - وهم الجيل الذي تحقق فيهم وعد الله بالاستخلاف والتمكين، يجد أن مظاهر صفة الإخلاص قد تجلت فيهم بوضوح.
انظر مثلًا إلى حرصهم على إخفاء أعمالهم والذي يتجلى في هذا الأثر:
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزاة، ونحن ستة نفر بيننا بعير نعتقبه، قال: فنقبت أقدامنا، فنقبت قدماي، وسقطت أظافري، فكنا نلف على أرجلنا الخرق، فسميت غزوة ذات الرقاع لما كنا نعصب على أرجلنا من الخرق.
قال أبو بريدة: فحدث أبو موسى بهذا الحديث ثم كره ذلك، كأنه يكره أن يكون شيئًا من عمله أفشاه (1).
وهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يدخل المسجد فيرى معاذ بن جبل رضي الله عنه يبكي عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما يبكيك؟ فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إن اليسير من الرياء شرك، وإن الله يحب الأتقياء الأخفياء الذين إذا غابوا لم يفتقدوا وإذا حضروا لم يُعرفوا، قلوبهم مصابيح الهدى، ينجون من كل غبراء مظلمة) (2).
لقد كانوا شديدي الحذر من أنفسهم، وكانوا يقفون بالمرصاد أمام كل خواطر العُجب، يقول عروة: رأيت عمر بن الخطاب رضي الله عنه وعلى عاتقه قربة ماء، فقلت: يا أمير المؤمنين لا ينبغي لك هذا، فقال: لما أتتني الوفود بالسمع والطاعة دخَلَت في نفسي نخوة، فأحببت أن أكسرها، ومضى بالقربة إلى حجرة امرأة من الأنصار فأفرغها في إنائها
…وهذا أبو بكر الصديق رضي الله عنه يبعث برسالة إلى خالد بن الوليد رضي الله عنه بعد انتصاراته في العراق يقول له فيها: فليهنك أبا سليمان النية والحظوة فأتمم يتم الله لك، ولا يدخلنك عُجب فتخسر وتُخذل، وإياك أن تُدل بعمل فإن الله له المن وهو ولي الجزاء (3).
وهذا أبو عبيدة بن الجراح رضي الله عنه يؤم قومًا، فلما انصرف قال: مازال الشيطان بي آنفًا حتى رأيت أن لي فضلًا على من خلفي، لا أَؤم أبدًا (4).
وكانوا يتدافعون المدح ولا يستسلمون له فهذا علي بن أبي طالب رضي الله عنه يقول لما أُثني عليه: اللهم اغفر لي ما لا يعلمون، ولا تؤاخذني بما يقولون، واجعلني خيرًا مما يظنون.
وقال رجل يومًا لابن عمر رضي الله عنهما: يا خير الناس، وابن خير الناس، فقال: ما أنا بخير الناس، ولا ابن خير الناس، ولكني عبد من عباد الله، أرجو الله وأخافه، والله لن تزالوا بالرجل حتى تُهلكوه.
أما خوفهم على أنفسهم من النفاق فإليك هذا الخبر:
قال ابن أبي مليكة: أدركت ثلاثين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم كلهم يخاف النفاق على نفسه.
وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول لحذيفة رضي الله عنه: أُنشدك الله هل سمَّاني لك رسول الله صلى الله عليه وسلم، يعني من المنافقين؟ فيقول: لا، ولا أُزكِّي بعدك أحدًا (5).
--------------------------------------------
- এর মধ্যে রয়েছে: তিনি তাঁর নেক আমলের পর অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করেন।
- এর মধ্যে আরও রয়েছে: তিনি তাঁর নফসের সাথে জিহাদ করেন এবং আত্মতৃপ্তির কুমন্ত্রণার কাছে আত্মসমর্পণ করেন না, বরং এর প্রতিকার করেন এবং এমন প্রতিষেধক পান করান যা তার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে এবং তাকে দাসত্বের ছাঁচে প্রতিষ্ঠিত করে।
- এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তিনি নিজেকে মুখলিস (একনিষ্ঠ) মনে করবেন না, বরং সর্বদা নিজের নফস সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করবেন এবং তাকে নিফাকের (মুনাফিকি) অভিযোগে অভিযুক্ত করবেন এবং
… ও
… এমন অনেক বিষয় যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ একনিষ্ঠতার পরিচয় দেয়।
- প্রথম প্রজন্ম ও একনিষ্ঠতা (ইখলাস):
সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবনী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে—তাঁরা এমন এক প্রজন্ম যাঁদের মাধ্যমে পৃথিবীতে খিলাফত ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছিল—তাঁদের মাঝে একনিষ্ঠতার বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
উদাহরণস্বরূপ, আমল গোপন রাখার বিষয়ে তাঁদের আগ্রহের দিকে লক্ষ্য করুন, যা এই আসারে (বর্ণনায়) ফুটে উঠেছে:
আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে এক যুদ্ধে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন ব্যক্তি, আমাদের একটি উট ছিল যার পিঠে আমরা পালাক্রমে আরোহণ করতাম। তিনি বলেন: (হাঁটতে হাঁটতে) আমাদের পা ফেটে গেল, আমার পা দুটিও ফেটে গেল এবং নখগুলো পড়ে গেল। তখন আমরা আমাদের পায়ে ন্যাকড়া পেঁচিয়ে নিতাম। একারণেই একে ‘জাতুর রিকা’ (ন্যাকড়াওয়ালা) যুদ্ধ বলা হতো, যেহেতু আমরা পায়ে ন্যাকড়া বাঁধতাম।
আবু বুরাইদাহ বলেন: আবু মুসা (রা.) এই হাদিসটি বর্ণনা করলেন, কিন্তু পরে তিনি তা অপছন্দ করলেন। মনে হলো তিনি এটা পছন্দ করছেন না যে, তাঁর আমলের কোনো কিছু প্রকাশ হয়ে যাক (১)।
আর এই যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), তিনি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবরের পাশে কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই সামান্যতম রিয়া শিরক, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐসব মুত্তাকি ও আত্মগোপনকারী বান্দাদের ভালোবাসেন, যাঁরা অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাঁদের খুঁজে পায় না এবং উপস্থিত হলেও কেউ তাঁদের চিনে না; তাঁদের অন্তরসমূহ হলো হিদায়াতের প্রদীপ, তাঁরা প্রতিটি অন্ধকার ফেতনা থেকে মুক্তি পায়) (২)।
তাঁরা নিজেদের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এবং আত্মতৃপ্তির যেকোনো ভাবনার বিরুদ্ধে সদা সজাগ থাকতেন। উরওয়াহ বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে তাঁর কাঁধে পানির মশক বহন করতে দেখেছি। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, এটা আপনার জন্য শোভা পায় না। তিনি বললেন: যখন বিভিন্ন প্রতিনিধি দল আমার আনুগত্যের ঘোষণা নিয়ে এল, তখন আমার মনে অহংকারের উদ্রেক হলো। তাই আমি তা চূর্ণ করতে চাইলাম। অতঃপর তিনি মশকটি নিয়ে জনৈক আনসারি নারীর কামরায় গিয়ে তাঁর পাত্রে পানি ঢেলে দিলেন
…আর এই যে আবু বকর সিদ্দিক (রা.), তিনি ইরাক বিজয়ের পর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.)-এর কাছে একটি চিঠি পাঠালেন, তাতে বললেন: "হে আবু সুলাইমান! তোমার নিয়ত ও অর্জিত সাফল্যের জন্য তোমাকে মোবারকবাদ। তুমি তোমার কাজ পূর্ণ করো, আল্লাহ তোমার জন্য তা পূর্ণ করে দেবেন। সাবধান! তোমার মধ্যে যেন আত্মতৃপ্তি না আসে, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হবে। আর কখনও নিজের আমলের কারণে গৌরব করো না, কারণ সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহর এবং তিনিই প্রতিফল দাতা" (৩)।
আর এই যে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.), তিনি একবার এক সম্প্রদায়ের ইমামতি করলেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তখন বললেন: "শয়তান অবিরত আমাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছিল যতক্ষণ না আমার মনে এই ধারণা জন্মাল যে, আমার পেছনে যাঁরা আছে তাঁদের চেয়ে আমি শ্রেষ্ঠ। আমি আর কখনো ইমামতি করব না" (৪)।
তাঁরা প্রশংসা থেকে দূরে থাকতেন এবং এর সামনে নতি স্বীকার করতেন না। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) যখন তাঁর প্রশংসা করা হতো তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্কে যা জানে না তা আপনি ক্ষমা করে দিন, তারা যা বলে সে জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং তারা যা ধারণা করে আমাকে তার চেয়ে উত্তম বানিয়ে দিন।"
এক ব্যক্তি একদিন ইবনে উমর (রা.)-কে বললেন: "হে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠ মানুষের পুত্র!" তিনি বললেন: "আমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নই এবং শ্রেষ্ঠ মানুষের পুত্রও নই; বরং আমি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজন সাধারণ বান্দা। আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি এবং তাঁকে ভয় করি। আল্লাহর কসম, তোমরা কোনো ব্যক্তির পিছু ছাড়ো না যতক্ষণ না তাকে ধ্বংস করে দাও।"
আর নিজেদের ব্যাপারে নিফাকের ভয় সম্পর্কে এই সংবাদটি লক্ষ্য করুন:
ইবনে আবি মুলাইকা বলেন: "আমি নবী (সা.)-এর ত্রিশজন সাহাবীর দেখা পেয়েছি, যাঁদের প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিফাকের (মুনাফিকি) ভয় করতেন।"
وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول لحذيفة رضي الله عنه: أُنشدك الله هل سمَّاني لك رسول الله صلى الله عليه وسلم، يعني من المنافقين؟ فيقول: لا، ولا أُزكِّي بعدك أحدًا (5).উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হুজাইফা (রা.)-কে বলতেন: "আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) কি মুনাফিকদের তালিকায় আমার নাম উল্লেখ করেছেন?" তিনি বলতেন: "না, আর আপনার পরে আমি আর কাউকে নির্দোষ বলে প্রত্যয়ন করব না" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثانيًا: تمكن حب الله من القلب(جيل محب لله عز وجل
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ?إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ ? وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آَمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} (المائدة:54 - 56).
فالآيات تتحدث عن الجيل والطائفة التي يحبها الله عز وجل ويرضى عنها ويكتب لها الغلبة على أعدائها ..
هذا الطائفة لها عدة صفات بينتها الآيات السابقة، وأول هذه الصفات هي حبهم لله عز وجل {يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ}.
فإن قلت: ولكن المسلمين جميعًا يحبون الله عز وجل، فما الداعي لوجود هذه الصفة؟!
نعم، هناك حب لله في القلوب، ولكن الحب الذي يريده - سبحانه - من الجيل الموعود حبٌ يهيمن على القلب، ويتمكن منه حتى يصير الله أحبّ إليه من كل شيء {وَالَّذِينَ آَمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ} (البقرة:165).
هذا الحب الصادق له علامات يُعرف بها
… منها:
1 - طاعة المحبوب والعمل على مرضاته:
العبد المحب لله يسارع ويبادر إلى نيل رضاه .. انظر إلى موسى عليه السلام وهو يترك بني إسرائيل وراءه ذاهبًا للقاء ربه قائلًا: {وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى} (طه:84).
ولا يزال المحب الصادق يحرص على إرضاء ربه، وإن بذل في سبيل ذلك كل ما يملك: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ} (البقرة:207).
2 - سرعة الإنابة:
من علامات الحب الصادق مسارعة العبد بالتوبة والاستغفار، والاعتذار، وسكب العبرات، واسترضاء مولاه إذا ما وقع في ذنب، أو قصَّر في أداء واجب لخوفه الدائم من غضب ربه عليه .. انظر إلى محمد صلى الله عليه وسلم وهو يناجي ربه ويسترضيه بعد ما حدث له في الطائف من تكذيب وإعراض، وخوفه من أن يكون سبب ذلك منه
… يقول صلى الله عليه وسلم: (
… إن لم يكن بك غضب عليَّ فلا أبالي غير أن عافيتك هي أوسع لي
… أعوذ بنور وجهك الذي أشرقت له الظلمات، وصلح عليه أمر الدنيا والآخرة أن يحلّ علىَّ غضبك، أو أن ينزل بي سخطك، لك العتبى حتى ترضى، ولا حول ولا قوة إلا بك
… ).
3 - الشكر على عطاياه:
المحب الصادق في حبه يتلقى هدايا وعطايا ربه بفرح وسعادة وامتنان، وينسب إليه كل فضل وخير يأتيه، ونراه دائمًا ذاكرًا لأنعمه، حامدًا شاكرًا له عليها.
4 - الصبر على البلايا والرضا بالقضاء:
فالمحب الصادق لله يتحمل إبتلاء ربه له ويرضى بقضائه، فهو يعلم أنه لا يريد به إلا الخير وأنه ما ابتلاه إلا ليطهره، ويقربه إليه: {وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ} (الرعد:22).
5 - كثرة المناجاة:
من علامات الحب الصادق لله حب الخلوة به، وكثرة مناجاته والثناء عليه، والانطراح بين يديه .. ولما كانت المناجاة تخص المحبوب وحده، فإن المحب دائمًا ينتظر حتى تهدأ الأصوات، وتنام العيون، ويخلو المكان، حتى يهرع إلى ربه، ويأنس به، وما أجمل لحظات الأنس في رحاب الصلاة، وبالأخص في السجود .. لذلك كانت أفضل صلاة بعد المكتوبة قيام الليل حيث يتهيأ الجو للاتصال
… في هذا الوقت ينزل ربنا إلى السماء الدنيا نزولًا يليق بجلاله وكماله ..
فكيف بمن يدعي حب الله أن يعرض عن لقاء حبيبه، أو يتركه وينام؟!!
দ্বিতীয়ত: অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসার দৃঢ় অবস্থান(আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ানের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এক প্রজন্ম)
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যায়, তবে শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে; যারা মুমিনদের প্রতি কোমল ও কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে; তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দায় ভয় পাবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ—যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং তারা (আল্লাহর সমীপে) অবনত থাকে। আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, (তারাই আল্লাহর দল) আর নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে।} (আল-মায়িদাহ: ৫৪ - ৫৬)।
এই আয়াতগুলো সেই প্রজন্ম ও দল সম্পর্কে আলোচনা করছে যাদের আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং যাদের জন্য তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অবধারিত করে দিয়েছেন...
এই দলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম বৈশিষ্ট্যটি হলো আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ানের প্রতি তাদের ভালোবাসা {তিনি তাদের ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে}।
যদি আপনি বলেন: কিন্তু সকল মুসলমানই তো আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসেন, তবে এই বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা কী?!
হ্যাঁ, হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু সুমহান আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুত প্রজন্মের কাছ থেকে যে ভালোবাসা কামনা করেন, তা হলো এমন এক ভালোবাসা যা হৃদয়ের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করবে এবং সেখানে এমনভাবে জেঁকে বসবে যে আল্লাহ তাঁর কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে উঠবেন {আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অতি সুদৃঢ়} (আল-বাকারা: ১৬৫)।
এই সত্যকার ভালোবাসার কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দ্বারা এটি চেনা যায়
… তার মধ্যে রয়েছে:
১ - প্রিয়তমের আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া:
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী বান্দা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে ত্বরান্বিত ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে... মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি বনী ইসরাঈলকে পেছনে রেখে আপন রবের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দ্রুত গমন করে বলেছিলেন: {হে আমার রব, আমি আপনার কাছে তাড়াতাড়ি আসলাম যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন} (ত্বহা: ৮৪)।
সত্যকার প্রেমিক সর্বদা আপন রবকে সন্তুষ্ট করতে সচেষ্ট থাকেন, যদিও এর বিনিময়ে তাকে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে হয়: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে দেয়} (আল-বাকারা: ২০৭)।
২ - দ্রুত আল্লাহর অভিমুখী হওয়া:
সত্যকার ভালোবাসার অন্যতম লক্ষণ হলো বান্দার পক্ষ থেকে তওবা, ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত হওয়া, চোখের পানি বিসর্জন দেওয়া এবং কোনো গুনাহে লিপ্ত হলে বা কোনো ওয়াজিব পালনে ত্রুটি করলে আপন মনিবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা; কারণ সে সর্বদা রবের রাগান্বিত হওয়ার ভয় পায়... মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে তাকিয়ে দেখুন, যখন তায়েফে তাঁর সাথে মিথ্যাচার ও বিমুখতা প্রদর্শন করা হয়েছিল, তখন তিনি কীভাবে আপন রবের সাথে নিভৃতে নিবেদন করছিলেন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে এর কারণ হয়তো তাঁর নিজের কোনো ত্রুটি
… তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: (
… আপনি যদি আমার ওপর রাগান্বিত না হন তবে আমি পরোয়া করি না, যদিও আপনার দানকৃত নিরাপত্তা আমার জন্য অনেক প্রশস্ত
… আমি আপনার চেহারার সেই নূরের আশ্রয় চাচ্ছি যার দ্বারা অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় এবং দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়াদি সংশোধিত হয়, যাতে আপনার ক্রোধ আমার ওপর অবতীর্ণ না হয় অথবা আপনার অসন্তুষ্টি আমার ওপর নেমে না আসে। আমি আপনার কাছেই ক্ষমা চাই যতক্ষণ না আপনি সন্তুষ্ট হন। আর আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই
… )।
৩ - তাঁর দানসমূহের জন্য শুকরিয়া আদায় করা:
আপন ভালোবাসায় সত্যবাদী ব্যক্তি রবের উপহার ও দানসমূহ আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে। তার কাছে আসা প্রতিটি অনুগ্রহ ও কল্যাণকে সে রবের দিকেই নিসবত করে। আমরা তাকে সর্বদা আল্লাহর নেয়ামত স্মরণে রত এবং তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখি।
৪ - বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকা:
আল্লাহর প্রতি সত্যকার ভালোবাসা পোষণকারী ব্যক্তি রবের পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা ধৈর্যভরে সহ্য করে এবং তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে। সে জানে যে তিনি তার জন্য কেবল কল্যাণই চান এবং তিনি তাকে কেবল পবিত্র করার জন্য ও নিজের নিকটবর্তী করার জন্যই পরীক্ষায় ফেলেন: {এবং যারা তাদের রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করে} (আর-রাদ: ২২)।
৫ - অধিক পরিমাণে নিভৃতে মুনাজাত করা:
আল্লাহর প্রতি সত্যকার ভালোবাসার অন্যতম লক্ষণ হলো তাঁর সাথে নির্জনে সময় কাটানো পছন্দ করা, অধিক পরিমাণে তাঁর সাথে মুনাজাত ও তাঁর প্রশংসা করা এবং তাঁর সামনে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া... যেহেতু মুনাজাত কেবল প্রিয়জনের সাথেই হয়ে থাকে, তাই প্রেমাস্পদ সর্বদা অপেক্ষা করে কখন চারপাশ নিস্তব্ধ হবে, চোখগুলো ঘুমিয়ে পড়বে এবং নির্জনতা তৈরি হবে, যাতে সে দ্রুত আপন রবের সান্নিধ্যে ছুটে যেতে পারে এবং তাঁর সাথে হৃদ্যতা অনুভব করতে পারে। নামাজের পরিসরে এই হৃদ্যতার মুহূর্তগুলো কতই না চমৎকার, বিশেষ করে সিজদাবনত অবস্থায়... এই কারণেই ফরয নামাজের পর তাহাজ্জুদের নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি হয়... এই সময়ে আমাদের রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এমনভাবে যা তাঁর মর্যাদা ও পূর্ণতার জন্য উপযুক্ত...
এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে, সে কীভাবে আপন প্রিয়তমের সাথে সাক্ষাৎ থেকে বিমুখ থাকতে পারে অথবা তাঁকে ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকতে পারে?!!
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أخذ الفضيل بن عياض بيد الحسين بن زياد وقال: يا حسين، ينزل الله تعالى كل ليلة إلى سماء الدنيا، فيقول الرب: ((كذب من ادعى محبتي، فإذا جَنَّه الليل نام عني .. أليس كل حبيب يحب خلوة حبيبه؟ ها أنذا مطلع على أحبائي إذا جَنَّهُم الليل، مثلتُ نفسي بين أعينهم فخاطبوني على المشاهدة، وكلموني على الحضور، غدًا أقرُّ عين أحبائي في جنتي)) (1).
6 - حب الرسول صلى الله عليه وسلم لله: ومن علامات الحب الصادق: حب ما يحبه سبحانه، وأحب ما يحبه الله عز وجل .. رسول الله صلى الله عليه وسلم.
والترجمة العملية لحب الله والرسول صلى الله عليه وسلم: طاعته صلى الله عليه وسلم فيما جاء به من ربه: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (آل عمران:31).
ولقد اشتد حب الله في قلوب الصحابة فذهب بعضهم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليخبروه بذلك ويقولون له: يا رسول الله، والله إنا لنحب ربنا، فأنزل الله عز وجل قوله {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (2).
ويعلق الحافظ ابن كثير على هذه الآية فيقول: هذه الآية حاكمة على كل من ادعى محبة الله ليس هو على الطريقة المحمدية فإنه كاذب في دعواه حتى يتبع الشرع المحمدي، والدين النبوي في جميع أقواله وأفعاله، قال الحسن: زعم قوم أنهم يحبون الله، فابتلاهم الله بهذه الآية (3).
7 - ومن علامات الحب الصادق: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما:
فكل حب آخر من حب للزوجة أو الأولاد أو الآباء أو الأمهات
… ينبغي أن يكون تابعًا لهذا الحب
… لايزاحمه، ولا يعارضه، ويظهر هذا جليًا عند تعارض حب الله ورسوله ومقتضياتهما مع حب شيء آخر كما قال تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آَبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} (التوبة:24) (4).
8 - ومن علامات الحب الصادق: الحب في الله والبغض في الله: فالمحب الصادق في دعواه يحب ما يحبه مولاه، ويبغض ما يبغضه.
--------------------------------------------
ফুযাইল ইবনে আইয়ায হুসাইন ইবনে যিয়াদের হাত ধরে বললেন: হে হুসাইন, আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং রব বলেন: "সে মিথ্যা বলেছে যে আমার মহব্বতের দাবি করে, অথচ রাত তাকে আচ্ছন্ন করলেই সে আমাকে ভুলে ঘুমিয়ে পড়ে... প্রত্যেক প্রেমিক কি তার প্রেমাস্পদের সাথে নির্জনতা পছন্দ করে না? এই তো আমি আমার প্রিয়জনদের প্রতি লক্ষ্য রাখছি যখন রাত তাদের আচ্ছন্ন করে। আমি নিজেকে তাদের চোখের সামনে উপস্থাপন করি, ফলে তারা আমাকে প্রত্যক্ষ করার অনুভবে সম্বোধন করে এবং উপস্থিতির অনুভবে আমার সাথে কথা বলে। আগামীকাল আমি আমার জান্নাতে আমার প্রিয়জনদের চোখ শীতল করব" (১)।
৬ - আল্লাহর প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা: এবং সত্য ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো: মহান আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা ভালোবাসা, আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যা ভালোবাসেন তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হলেন... আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার ব্যবহারিক প্রয়োগ হলো: তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (আল ইমরান: ৩১)।
সাহাবায়ে কেরামের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা অত্যন্ত প্রবল ছিল, ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে তাঁকে তা অবহিত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কসম আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তাকে ভালোবাসি। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (২)।
হাফেয ইবনে কাসীর এই আয়াতের ওপর মন্তব্য করে বলেন: এই আয়াতটি এমন প্রত্যেকের জন্য ফয়সালাকারী যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে অথচ সে মুহাম্মাদী পন্থায় নেই; সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী (كاذب) যতক্ষণ না সে তার সকল কথা ও কাজে মুহাম্মাদী শরীয়ত এবং নববী দ্বীন অনুসরণ করবে। হাসান বলেন: একদল লোক ধারণা করেছিল যে তারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করেন (৩)।
৭ - এবং সত্য ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যেন তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন:
স্ত্রী, সন্তান, পিতা বা মাতার প্রতি অন্য সকল ভালোবাসা... এই প্রধান ভালোবাসার অনুসারী হওয়া বাঞ্ছনীয়... যা এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না এবং এর পরিপন্থী হবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা এবং তাঁদের চাহিদার সাথে যখন অন্য কোনো প্রিয় বস্তুর ভালোবাসার সংঘাত ঘটে, তখন বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোত্রীয় লোক, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত} (তাওবাহ: ২৪) (৪)।
৮ - এবং সত্য ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা: সুতরাং যে ব্যক্তি তার দাবিতে সত্যনিষ্ঠ প্রেমিক, সে তা-ই ভালোবাসে যা তার মনিব ভালোবাসেন এবং তা-ই ঘৃণা করে যা তিনি ঘৃণা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال صلى الله عليه وسلم: (أوثق عرى الإيمان الموالاة في الله، والمعاداة في الله، والحب في الله والبغض في الله) (1).
فيُحب أي إنسان على قدر ما يحبه الله فيه من صفات. قال صلى الله عليه وسلم: (ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا في الله، وأن يكره أن يعود إلى الكفر بعد أن أنقذه الله منه كما يكره أن يُقذف في النار) (2).
معنى ذلك أن هذا العبد يحب المسلمين، ويكره الكافرين، ويحب المسلم الملتزم بأوامر الله أكثر من المقصر في جنبه، ويحب المؤمن القوي أكثر من المؤمن الضعيف، ويحب أهل المساجد المحافظين على الجمع والجماعات المتبعين لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر ممن لا يحافظون على ذلك.
ويحب أهل الجهاد السائرين في الطريق الصحيح لتمكين دين الله في الأرض أكثر من غيرهم ممن قعد عن الجهاد أو انحرف عن طريقه، ويحب في القاعدين التزامهم بالأوامر الأخرى أكثر من غيرهم من المسلمين الشاردين .. وهكذا.
9 - ومن علامات الحب الصادق: حب القرآن:
من يحب الله حبًا صادقًا من البديهي أن يحب كلامه ويلتذ به، ويُكثر من قراءته، والاستماع إليه وفهم المراد به.
قال ابن مسعود – رضي الله عنه – لا يسأل أحدكم عن نفسه إلا القرآن فمن أحب القرآن فهو يحب الله ورسوله (3).
إن كنت تزعم حبي
… لم هجرت كتابي
أما تأملت ما فيه
… من لذيذ خطابي
10 - كثرة ذكره: ومن علامات حب الله: كثرة ذكره.
فالمحب يُكثر من ذكر محبوبه، لذلك ترى لسانه دومًا رطبًا بذكر الله فهو لقلبه كالماء للسمك قال صلى الله عليه وسلم: (مثل الذي يذكر ربه والذي لا يذكر ربه مثل الحي والميت) (4).
11 - الدعوة إلى الله:
ومن علامات حب الله: دعوة الناس إلى الله، وتحبيبهم فيه ودلالتهم عليه، قال أبو الدرداء: لما أهبط الله آدم إلى الأرض قال له: يا آدم أحبني وحببني إلى خلقي
…قال صلى الله عليه وسلم: (خيار أمتي من دعا إلى الله وحبب إليه عباده) (5).
12 - ومنها الغضب لله:
والغيرة عليه إذا ما انتهكت محارمه، وعُطِّل شرعه، ونُحَّي كتابه.
13 - ومنها حب الجهاد والشهادة في سبيل الله:
فالجهاد في سبيل الله هو بذل الجهد والطاقة من أجل رضا الله عز وجل، أما الشهادة فهي تعد بمثابة أكبر دليل على أن حبه سبحانه أحب للعبد من كل شئ.
- الصحابة وحبهم لله:
امتلأت قلوب الصحابة بحب الله، وظهرت آثار ذلك الحب في سلوكهم، وتجلت بوضوح عند تعارضها مع المحاب الأخرى.
ولقد تعارضت هذه المحبة مع محبة الآباء والأبناء والإخوان وذلك في معركة بدر فماذا حدث؟!
لقد قتل أبو عبيدة رضي الله عنه أباه المشرك حين لاقاه في المعركة، وهمَّ أبو بكر الصديق رضي الله عنه بقتل ابنه عبد الرحمن، أما مصعب بن عمير رضي الله عنه فقد قتل أخاه عبيد بن عمير، وعمر بن الخطاب رضي الله عنه قتل قريبًا له، و ....
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (ঈমানের সবচেয়ে মজবুত হাতল হলো আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা) (১)।
তাই যেকোনো মানুষকে তার ভেতরে থাকা গুণাবলি অনুযায়ী আল্লাহ তাকে যতটুকু ভালোবাসেন, ঠিক ততটুকুই ভালোবাসতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া, কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করা) (২)।
এর অর্থ হলো, এই বান্দা মুসলিমদের ভালোবাসবে এবং কাফিরদের ঘৃণা করবে। সে আল্লাহর বিধান পালনে যত্নবান মুসলিমকে অবহেলাকারীর চেয়ে বেশি ভালোবাসবে। সে শক্তিশালী মুমিনকে দুর্বল মুমিনের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে। যারা মসজিদের সাথে যুক্ত, জুমুআ ও জামাতের প্রতি যত্নবান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসারী, তাদেরকে সে ওই ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে যারা এর প্রতি যত্নবান নয়।
সে ওইসব মুজাহিদদের ভালোবাসবে যারা জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক পথে পরিচালিত, তাদের তুলনায় যারা জিহাদ থেকে বিমুখ হয়েছে বা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আবার যারা সঙ্গত কারণে জিহাদে অংশ নিতে পারেনি, তাদের অন্যান্য ইবাদতের প্রতি আনুগত্যের কারণে সে তাদেরকে পথভ্রষ্ট মুসলিমদের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে—এভাবেই ভালোবাসার তারতম্য হবে।
৯ - সত্য ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন: কুরআনের প্রতি ভালোবাসা:
যে ব্যক্তি আল্লাহকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসে, এটা স্বাভাবিক যে সে তাঁর কালামকেও ভালোবাসবে এবং তা থেকে স্বাদ গ্রহণ করবে। সে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করবে, তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং এর মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করবে।
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, "তোমাদের কেউ যেন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে জিজ্ঞাসা না করে; যে কুরআনকে ভালোবাসে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে (৩)।"
যদি তুমি আমার ভালোবাসার দাবি করো... তবে কেন আমার কিতাবকে পরিত্যাগ করলে?
তুমি কি তাতে একটুও চিন্তা করো না... যা আমার পক্ষ থেকে অত্যন্ত চমৎকার সম্বোধন?
১০ - অধিক পরিমাণে স্মরণ করা: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর অধিক জিকির করা।
কারণ প্রেমিক সর্বদা তার প্রিয়জনকে নিয়ে স্মরণে মগ্ন থাকে। তাই আপনি দেখবেন তার জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে। অন্তরের জন্য জিকির হলো মাছের জন্য পানির মতো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে স্মরণ করে আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে স্মরণ করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো) (৪)।
১১ - আল্লাহর পথে আহ্বান:
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো: মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, তাদের অন্তরে আল্লাহর মহব্বত সৃষ্টি করা এবং আল্লাহর দিকে তাদের পথপ্রদর্শন করা। আবু দারদা (রা.) বলেন: যখন আল্লাহ আদম (আ.)-কে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন তখন তাকে বললেন: হে আদম! আমাকে ভালোবাসো এবং আমার সৃষ্টির কাছে আমাকে প্রিয় করে তোলো...
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আমার উম্মতের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা আল্লাহর দিকে আহ্বান করে এবং তাঁর বান্দাদের নিকট তাঁকে প্রিয় করে তোলে) (৫)।
১২ - আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হওয়া:
আল্লাহর জন্য আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করা; যখন তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তাঁর শরিয়তকে অকেজো করা হয় এবং তাঁর কিতাবকে অবজ্ঞা করা হয়।
১৩ - আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদাতের প্রতি ভালোবাসা:
আল্লাহর পথে জিহাদ হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করা। আর শাহাদাত হলো এই কথার সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, বান্দার নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে মহান আল্লাহর ভালোবাসাই সবচেয়ে প্রিয়।
- সাহাবীগণ এবং আল্লাহর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা:
সাহাবীগণের অন্তর আল্লাহর ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল। তাঁদের আচরণের মাধ্যমে এই ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছিল এবং যখন পার্থিব অন্যান্য প্রিয় বস্তুর সাথে আল্লাহর ভালোবাসার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, তখন তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
বদর যুদ্ধে এই ভালোবাসা যখন পিতা, পুত্র ও ভাইদের ভালোবাসার মুখোমুখি হয়েছিল, তখন কী ঘটেছিল?!
আবু উবাইদাহ (রা.) যুদ্ধে তাঁর মুশরিক পিতাকে পেয়ে হত্যা করেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর পুত্র আবদুর রহমানকে হত্যার সংকল্প করেছিলেন। মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) তাঁর ভাই উবাইদ ইবনে উমাইরকে হত্যা করেছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর এক নিকটাত্মীয়কে হত্যা করেছিলেন এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفيهم نزل قوله تعالى: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (المجادلة:22).
وتجلى تمكن حب الله في قلوب الصحابة عند الهجرة من مكة إلى المدينة، فلقد ترك المهاجرون أموالهم وديارهم وهاجروا فرارًا بدينهم وامتثالًا لأوامر رسولهم صلى الله عليه وسلم، كل ذلك ما كان ليحدث لو لم يكن حب الله عز وجل مهيمنًا على قلوبهم.
عن الزبير رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسًا بقُباء ومعه نفر، فقام مصعب بن عمير رضي الله عنه، عليه بُردة ما تكاد تواريه، ونكَّس القوم، فجاء فسلَّم فردوا عليه، فقال فيه النبي صلى الله عليه وسلم خيرًا وأثنى عليه، ثم قال: (لقد رأيت هذا عند أبويه بمكة يكرمانه وينعمانه، وما فتى من فتيان قريش مثله، ثم خرج من ذلك ابتغاء مرضاة الله ونصرة رسوله .. ) (1).
- حب الرسول:
أما حبهم للرسول صلى الله عليه وسلم، فالأمثلة كثيرة
… أخرج الطبراني عن عروة ابن الزبير أن المشركين الذين قتلوا خبيب بن عدي رضي الله عنه نادوه قبل قتله وهو مصلوب: أتحب أن محمدًا مكانك؟ فقال: لا والله العظيم! ما أحب أن يفديني بشوكة يشاكها في قدمه.
أما سرعة مبادرتهم للجهاد في سبيل الله فإليك ما فعله حنظلة رضي الله عنه، فحينما استشهد في أحد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن صاحبكم حنظلة لتغسله الملائكة فأسالوا أهله ما شأنه) فسُئلت صاحبته (زوجته)، فقالت: خرج وهو جُنُب حين سمع الهاتفة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لذلك غسلته الملائكة) (2).
أما حبهم للشهادة فلا تسل عنه، فلقد كانوا يسابقون إليها تسابقًا عجيبًا، فهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول لأخيه يوم أحد: خذ درعي يا أخي. قال: أريد الشهادة مثل الذي تريد، فتركاها جميعًا (3).
وهذا عبد الله بن جحش رضي الله عنه يدعو الله قبل معركة أحد فيقول: اللهم إني أقسم عليك أن القى العدو غدًا، فيقتلني، ثم يبقروا بطني، ويجدعوا أنفي وأذني، ثم تسألني بم ذالك؟ فأقول: فيك (4).
أما معاذ بن جبل رضي الله عنه فأمره عجيب في حبه لربه، فعندما اشتد به النزع بعد إصابته بالطاعون كان كلما أفاق فتح طوقْه ثم قال: اخنقني خنقك، فوعزتك إنك لتعلم أن قلبي يحبك (5).
ثالثًا: الخوف الشديد من الله عز وجل(جيل خاشع، خائف من الله)
قال تعالى: {فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ الظَّالِمِينَ ? وَلَنُسْكِنَنَّكُمُ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِهِمْ ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ} (إبراهيم:13،14).
وقال تعالى: {إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} (الأعراف:128).
وقال تعالى مخاطبًا رسوله: {تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَا أَنْتَ وَلَا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} (هود:49).
--------------------------------------------
তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে; এমনকি তারা যদি তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা আত্মীয়-স্বজনও হয়। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ (নূর) দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে} (আল-মুজাদিলা: ২২)।
মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় সাহাবীগণের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার পূর্ণতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মুহাজিরগণ তাদের ধন-সম্পদ ও ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছিলেন এবং শুধুমাত্র দ্বীন রক্ষা এবং তাঁদের রাসূল (সা.)-এর আদেশ পালনার্থে হিজরত করেছিলেন। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তাদের অন্তরে আধিপত্য বিস্তার না করলে এসব কিছুই সম্ভব হতো না।
যুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কুবাতে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর সাথে একদল লোক ছিল। তখন মুসআব ইবন উমায়ের (রা.) উঠে দাঁড়ালেন, তাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল যা তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে আবৃত করতে পারছিল না। উপস্থিত লোকেরা মাথা নিচু করল। তিনি এসে সালাম দিলেন এবং তারা সালামের উত্তর দিল। অতঃপর নবী (সা.) তাঁর সম্পর্কে কল্যাণকর কথা বললেন এবং তাঁর প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি বললেন: (আমি মক্কায় তার পিতা-মাতার নিকট তাকে দেখেছি, তারা তাকে অনেক আদর-যত্নে ও নেয়ামতের মধ্যে রেখেছিল। কুরাইশ যুবকদের মধ্যে তার মতো কেউ ছিল না। অতঃপর সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর রাসূলের সাহায্যের উদ্দেশ্যে সেই সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করে বেরিয়ে এসেছে...) (১)।
- রাসূলের প্রতি ভালোবাসা:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসার অনেক উদাহরণ রয়েছে
… তাবারানী উরওয়াহ ইবন যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه) যে, খুবায়েব ইবন আদি (রা.)-কে যখন মুশরিকরা শূলে চড়িয়ে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তারা তাঁকে লক্ষ্য করে ডেকে বলল: তুমি কি পছন্দ করো যে তোমার জায়গায় মুহাম্মদ (সা.) থাকুক? তিনি বললেন: না, মহান আল্লাহর কসম! আমি এটা কখনোই পছন্দ করি না যে, আমার জীবনের বিনিময়ে তাঁর পায়ে একটি কাঁটাও বিঁধুক।
আল্লাহর পথে জিহাদে তাঁদের দ্রুত অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে হানজালা (রা.) যা করেছিলেন তা লক্ষ্য করুন। যখন তিনি উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: (তোমাদের সাথী হানজালাকে ফেরেশতারা গোসল করাচ্ছে, তোমরা তাঁর স্ত্রীর নিকট জিজ্ঞাসা করো তাঁর বিষয়টি কী?) তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তিনি যুদ্ধের আহ্বান শোনামাত্রই নাপাক (جُنُب) অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: (এ কারণেই ফেরেশতারা তাঁকে গোসল করিয়েছে) (২)।
শাহাদাতের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার তো তুলনাই নেই। তাঁরা শাহাদাত লাভে একে অপরের সাথে বিস্ময়করভাবে প্রতিযোগিতা করতেন। এই তো উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর ভাইকে বললেন: হে ভাই, আমার বর্মটি গ্রহণ করো। তিনি বললেন: আপনি যা (শাহাদাত) চাচ্ছেন, আমিও তাই চাচ্ছি। ফলে তাঁরা দুজনেই বর্মটি ত্যাগ করলেন (৩)।
আবদুল্লাহ ইবন জাহশ (রা.) উহুদ যুদ্ধের পূর্বে আল্লাহর নিকট দোয়া করে বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখি হই এবং তারা আমাকে হত্যা করে আমার পেট চিরে ফেলে এবং আমার নাক-কান কেটে ফেলে। এরপর আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করবেন—কেন এমন হলো? তখন আমি বলব: আপনার সন্তুষ্টির জন্য (৪)।
মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.)-এর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি তো বিস্ময়কর। যখন প্লেগ আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু যন্ত্রণা তীব্র হলো, তখন তিনি সজাগ হওয়া মাত্রই তাঁর গলার বন্ধনী খুলে বলতেন: (হে মউত!) তুমি আমাকে তোমার মরণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করো; আপনার ইজ্জতের কসম, আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে আমার অন্তর আপনাকে ভালোবাসে (৫)।
তৃতীয়ত: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর প্রতি তীব্র ভয়(এক বিনয়াবনত প্রজন্ম, যারা আল্লাহকে ভয় করে)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, আমি অবশ্যই জালিমদের ধ্বংস করব। এবং তাদের পর তোমাদেরকে অবশ্যই এ দেশে বসবাস করতে দেব। এটি তার জন্য যে আমার সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতিকে ভয় করে} (ইব্রাহীম: ১৩-১৪)।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানান। আর শেষ পরিণাম মুত্তাকীদের (পরহেজগারদের) জন্য} (আল-আরাফ: ১২৮)।
তিনি তাঁর রাসূলকে সম্বোধন করে আরও বলেছেন: {এসব অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি আপনার প্রতি ওহী করছি; যা এর আগে আপনি বা আপনার কওম কেউই জানতেন না। অতএব আপনি ধৈর্য ধরুন, নিশ্চয়ই শেষ পরিণাম মুত্তাকীদের (পরহেজগারদের) জন্য} (হুদ: ৪৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
من خلال هذه الآيات يتبين لنا أن الخوف من الله ينبغي أن يملأ قلوب أبناء الجيل الموعود بالنصر والتمكين
… خوف مبعثه الإجلال والتعظيم والمهابة لله عز وجل، ومبعثه كذلك الشعور بالتقصير في القيام بحقوق العبودية
… وخوف من عاقبة الذنوب التي لا ينفك عنها بشر
… ومن التعرض لسوء الخاتمة، ومن سكرات الموت وحساب القبر، ومن أهوال يوم القيامة، ومن العرض على الله والتعرض للحساب، وعدم رجحان كفة الحسنات، وعدم الجواز على الصراط
…وفارق كبير بين خوف عارض يهز المشاعر، ويُرسل العبرات، ثم يمضي إلى حال سبيله، وبين خوف دائم يملأ القلب ويجعله دائمًا في حالة من التذكر والانتباه ....
إن الخوف المطلوب وجوده في قلوب أبناء جيل التمكين هو الخوف الذي يدفع للعمل ويثمر التقوى والحذر والورع في كل الأقوال والأفعال، فيتحرى صاحبه الدقة في كلامه، ويترك الكثير من المباح مخافة الوقوع في الحرام
…المطلوب هو خوف يدفع صاحبه لتعظيم شعائر الله: {ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ} (الحج:32). ويجعله مسارعًا في الخيرات: {إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ ? وَالَّذِينَ هُمْ بِآَيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ ?وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ ?وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آَتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ ? أُولَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ} (المؤمنون:57، 61).
معنى ذلك أن الخوف من الله له دور كبير في استقامة العبد على الصراط المستقيم ومن ثّم دخوله إلى دائرة الولاية والنصرة والكفاية الإلهية {إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} (آل عمران:120).
-
نماذج من خوف الصحابة:وعندما نبحث عن هذه الصفة في جيل الصحابة نجد أنها قد تمكنت منهم تمكنًا شديدًا، وظهرت آثارها على حياتهم وسلوكهم، فهذا أبو بكر الصديق رضي الله عنه، وهو خير من في الأمة بعد الأنبياء وبعد الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: يا ليتني كنت شجرة تؤكل ثم تعضد. وذُكر عنه أنه كان يمسك بلسانه ويقول: هذا الذي أوردني الموارد، وكان بيكي كثيرًا ويقول: ابكوا، فإن لم تبكوا فتباكوا (1).
وهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول عند موته: والله لو أن لي طلاع الأرض ذهبًا لافتديت به من عذاب الله عز وجل قبل أن آراه
…وكانت آخر كلماته قبل موته: ويلي وويل أمي إن لم يغفر الله لي.
وهذا عثمان رضي الله عنه يقول: لو أنني بين الجنة والنار لا أدري إلى أيتهما يؤمر بي، لاخترت أن أكون رمادًا قبل أن أعلم إلى أيتهما أصير.
قال أبو عبيدة الجراح رضي الله عنه: وددت أني كبش فذبحني أهلي وأكلوا لحمي وحسوا مرقي.
وكان عبد الله بن عباس أسفل عينيه مثل الشراك البالي من الدموع ..
وهذا أبو ذر يقول: يا ليتني كنت شجرة تعضد، وددت أني لم أُخلق (2).
وقال رجل عند عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: ما أحب أن أكون من أصحاب اليمين، أكون من المقربين أحب إلىَّ. فقال عبد الله: لكن ههنا رجل ودَّ لو أنه مات لم يُبعث
… يعني نفسه.
وكان شداد بن أوس الأنصاري رضي الله عنه إذا دخل الفراش يتقلب على فراشه لا يأتيه النوم فيقول: اللهم إنَّ النار أذهبت منى النوم، فيقوم فيصلي حتى يُصبح.
وهذه أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها تقول: والله لوددت أني شجرة، والله لوددت أني كنت مَدَرة، والله لوددت أنَّ الله لم يكن خلقني شيئًا قط (3).
--------------------------------------------
এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয় যে, বিজয় ও প্রতিষ্ঠার (تمكين) অঙ্গীকারপ্রাপ্ত প্রজন্মের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভয় থাকা আবশ্যক… এমন ভয় যা আল্লাহর মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও গাম্ভীর্যবোধ থেকে উৎসারিত, এবং যা দাসত্বের হক আদায়ে নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতির অনুভূতি থেকে জাত… এবং গোনাহের পরিণতির ভয় যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়… আরও ভয় হলো মন্দ পরিণতি (سوء الخاتمة), মৃত্যুর যন্ত্রণা, কবরের আযাব, কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা, আল্লাহর সামনে উপস্থিতি ও হিসাবের মুখোমুখি হওয়া, নেক আমলের পাল্লা হালকা হওয়া এবং পুলসিরাত (صراط) পার হতে না পারার ভয়…
আবেগকে নাড়া দেওয়া ও অশ্রু বিসর্জনকারী সাময়িক ভয়—যা কিছুক্ষণ পর তার আপন পথে বিলীন হয়ে যায়—আর অন্তরে স্থায়ীভাবে বিরাজমান ভয়—যা অন্তরকে সর্বদা জিকির ও সতর্ক অবস্থায় রাখে—এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।
বিজয় ও প্রতিষ্ঠার প্রজন্মের অন্তরে যে পর্যায়ের ভয় থাকা কাম্য, তা হলো সেই ভয় যা আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে এবং কথা ও কাজে তাকওয়া, সতর্কতা ও পরহেজগারি (ورع) ফলপ্রসূ করে। ফলে সেই ব্যক্তি তার কথায় সূক্ষ্মতা বজায় রাখে এবং হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে অনেক বৈধ (مباح) বিষয়ও বর্জন করে…
কাম্য হলো এমন ভয় যা তার অধিকারীকে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে: {এটাই আল্লাহর বিধান; এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া থেকেই উদ্ভূত} (হাজ্জ: ৩২)। এবং তাকে নেক কাজে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত করে: {নিশ্চয়ই যারা তাদের রবের ভয়ে আতঙ্কিত থাকে, যারা তাদের রবের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করে, যারা তাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করে না এবং যারা তাদের যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে তাদের অন্তর প্রকম্পিত থাকে—কারণ তারা তাদের রবের কাছে ফিরে যাবে—তারাই দ্রুত কল্যাণকর কাজ সম্পাদন করে এবং তারাই তাতে অগ্রগামী হয়} (মুমিনুন: ৫৭, ৬১)।
এর অর্থ হলো, সিরাতুল মুস্তাকিমে (صراط مستقيم) বান্দার অবিচল থাকার পেছনে আল্লাহর ভয়ের এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে, যার মাধ্যমে সে আল্লাহর বন্ধুত্ব (ولاية), সাহায্য ও খোদায়ী হিফাজতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। {যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না} (আল ইমরান: ১২০)।
-
সাহাবায়ে কিরামের খোদাভীতির কিছু নমুনা:যখন আমরা সাহাবায়ে কিরামের প্রজন্মের মাঝে এই গুণের সন্ধান করি, তখন দেখতে পাই যে তা তাদের মধ্যে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে প্রোথিত ছিল এবং তাদের জীবন ও আচরণে এর প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই যে আবু বকর সিদ্দিক (রা.), যিনি নবী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, তিনি বলতেন: "হায়! আমি যদি একটি গাছ হতাম যা ভক্ষণ করা হয় এবং পরে কেটে ফেলা হয়।" তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি নিজের জিহ্বা ধরতেন এবং বলতেন: "এই জিহ্বাই আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।" তিনি প্রচুর কাঁদতেন এবং বলতেন: "তোমরা কাঁদো, আর যদি কান্না না আসে তবে কান্নার ভান করো (১)।"
আর ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় বলতেন: "আল্লাহর কসম! যদি আমার কাছে পৃথিবী সমান স্বর্ণ থাকত, তবে আল্লাহর আযাব দেখার পূর্বেই তা থেকে মুক্তি পেতে আমি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম…"
মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ কথা ছিল: "আমার জন্য ধ্বংস এবং আমার মায়ের জন্য ধ্বংস, যদি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা না করেন।"
আর উসমান (রা.) বলতেন: "যদি আমি জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে এমন অবস্থায় থাকি যে আমি জানি না আমাকে কোনটির দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, তবে আমার গন্তব্য কোথায় হবে তা জানার আগেই আমি ছাই হয়ে যাওয়া পছন্দ করতাম।"
আবু উবাইদাহ আল-জাররাহ (রা.) বলতেন: "আমি পছন্দ করতাম যদি আমি একটি দুম্বা হতাম, তারপর আমার পরিবারের লোকজন আমাকে যবাই করত, আমার গোশত খেত এবং আমার ঝোল পান করত।"
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর চোখের নিচে অশ্রু ঝরার কারণে জীর্ণ চামড়ার ফিতার মতো দাগ পড়ে গিয়েছিল…
আবু যার (রা.) বলতেন: "হায়! আমি যদি একটি গাছ হতাম যা কেটে ফেলা হয়। আমি যদি সৃষ্টিই না হতাম (২)।"
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর নিকট এক ব্যক্তি বললেন: "আমি ডানপন্থী হওয়ার চেয়ে নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া বেশি পছন্দ করি।" ইবনে মাসউদ (রা.) তখন বললেন: "কিন্তু এখানে এমন এক ব্যক্তি আছে যে কামনা করে যে সে যদি মারা যেত এবং তাকে আর পুনরুত্থিত করা না হতো!" … অর্থাৎ তিনি নিজেকে বোঝাচ্ছিলেন।
শাদ্দাদ বিন আওস আনসারী (রা.) যখন বিছানায় যেতেন, তখন ছটফট করতেন, তাঁর ঘুম আসত না। তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! জাহান্নামের আগুন আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।" এরপর তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সকাল পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন।
আর উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলতেন: "আল্লাহর কসম! আমি যদি একটি গাছ হতাম। আল্লাহর কসম! আমি যদি মাটির ঢেলা হতাম। আল্লাহর কসম! আমি যদি এমন কিছু হতাম যা আল্লাহ কখোনোই সৃষ্টি করেননি (৩)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ودخل عليها ابن عباس رضي الله عنهما وهي تموت فأثنى عليها، فقالت: دعني منك، فوالذي نفسي بيده لوددت أني كنت نسيًا منسيًا (1).
رابعًا: جيل عابدقال تعالى: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ ? إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ} (الأنبياء:105،106).
- فجيل التمكين جيل عابد لله عز وجل
… كثير الذكر، كثير الطاعة،
… جيل تعرفه الملائكة، وتشهد له المساجد بأنه من عمَّارها وأوتادها.
- يبكر للصلاة، ويحافظ على السنن .. لا يفوته قيام الليل مهما كان تعبه
…- له أوراد يحافظ عليها من نوافل وصلوات وكذلك الأذكار وقراءة القرآن.
- قرة عينه في الصلاة .. يطيل الركوع والسجود، ويكثر مناجاة ربه ..
- كثير الإنفاق .. كثير الصيام .. كثير الدعاء ..
- لا يشغله اهتمامه بالناس ودعوتهم عن اهتمامه بنفسه، فهو دومًا يحافظ على توازنه، وزاده الإيماني.
- هكذا كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم:
يصف علي بن أبي طالب رضي الله عنه الصحابة فيقول: لقد رأيت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، فلم أر اليوم شيئًا يشبههم، لقد كانوا يُصبحون شُعثًا غُبرًا، بين أعينهم أمثال رُكب المعزى، قد باتوا لله سُجدًا وقيامًا، يتلون كتاب الله يراوحون بين جباههم وأقدامهم، فإذا أصبحوا ذكروا الله فمادوا كما يميد الشجر في يوم الريح، وهَملَتْ أعينهم حتى تبلّ ثيابهم
… (2).
لقد كان الصحابة رضوان الله عليهم شديدي الحرص على العبادة وعلى الصلاة وبخاصة صلاة الجماعة بالمسجد، يقول ابن مسعود رضي الله عنه: "من سرّه أن يلقى الله غدًا مسلمًا، فليحافظ على هؤلاء الصلوات حيث يُنادى بهن، فإن الله تعالى شرع لنبيكم عليه الصلاة والسلام سُنن الهدى وإنهن من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم، وما من رجل يتطهرَّ فيُحسن الطهور، ثم يعمد إلى مسجد من هذه المساجد إلا كتب الله له بكل خطوة يخطوها حسنة، ويرفعه بها درجة، ويحط عنه سيئة، ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق، ولقد كان الرجل يؤتى به يُهادى بين الرجلين حتى يُقام في الصف".
ويقول عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: كنا إذا فقدنا الرجل في الفجر والعشاء أسأنا به الظن (3).
-
رهبان الليل:ومع شدة حرصهم على صلاة الجماعة، كانوا كذلك حريصين على قيام الليل، وكانوا يتعاملون معه على أنه مصدر أنسهم وسعادتهم، ولم يكن يصرفهم عنه تعب ولا سفر .. .
فكانوا كما وُصفوا رهبانًا بالليل، فرسانًا بالنهار ..
يحيون ليلهم بطاعة ربهم، بتلاوة، وتضرع، وسؤال وعيونهم تجري بفيض دموعهم، مثل انهمال الوابل الهطال، في الليل رهبان، وعند جهادهم لعدوهم من أشجع الأبطال، وإذا بدا علم الرهان رأيتهم بصالح الأعمال.
جاءت هند زوج أبي سفيان رضي الله عنه زوجها صبيحة فتح مكة، فقالت له أريد أن أبايع محمدًا صلى الله عليه وسلم، قال أبو سفيان: قد رأيتك تكفرين، قالت: أي والله، والله ما رأيت الله تعالى عُبد حق عبادته في هذا المسجد قبل الليلة، والله إن باتوا إلا مصلين قيامًا وركوعًا وسجودًا (4).
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং তাঁর প্রশংসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও; সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই কামনা করি যে আমি যদি সম্পূর্ণ বিস্মৃত ও বিলীন হয়ে যেতাম।" (১)।
চতুর্থত: এক ইবাদতগুজার (عابد) প্রজন্মমহান আল্লাহ বলেন: "আমি যিকরের (উপদেশ) পর যাবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয়ই এতে ইবাদতকারী কওমের জন্য পর্যাপ্ত বার্তা রয়েছে।" (আল-আম্বিয়া: ১০৫, ১০৬)।
- সুতরাং প্রতিষ্ঠার প্রজন্ম হবে মহান আল্লাহর জন্য এক ইবাদতগুজার (عابد) প্রজন্ম
… যারা অধিক যিকিরকারী, অধিক আনুগত্যশীল
… এমন এক প্রজন্ম যাদেরকে ফেরেশতারা চেনে এবং মসজিদসমূহ তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় যে তারা মসজিদের আবাদকারী ও স্তম্ভস্বরূপ।
- তারা সালাতের জন্য আগেভাগে যায় এবং সুন্নাতসমূহ রক্ষা করে... ক্লান্তি যত বেশিই হোক না কেন, তাদের কিয়ামুল লাইল ছুটে যায় না
…- তাদের নির্দিষ্ট কিছু ওযীফা থাকে যা তারা নফল ইবাদত ও সালাত এবং তদ্রূপ যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিয়মিত আদায় করে।
- সালাতের মধ্যেই তাদের চক্ষু শীতল হয়... তারা রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করে এবং তাদের রবের সাথে অধিক মুনাজাত (গোপন আলাপ) করে...
- অধিক দানকারী... অধিক সিয়াম পালনকারী... অধিক দুআকারী...
- মানুষের প্রতি তাদের মনোযোগ ও দাওয়াতের ব্যস্ততা তাদের নিজেদের নফসের সংশোধন থেকে বিমুখ করে না; বরং তারা সর্বদা তাদের ভারসাম্য ও ঈমানি পাথেয় রক্ষা করে চলে।
- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এমনই ছিলেন:
আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবীগণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণকে দেখেছি, কিন্তু আজ এমন কাউকে দেখি না যারা তাঁদের সদৃশ হতে পারে। তাঁরা ভোরে উপনীত হতেন এলোমেলো চুলে ও ধূলিমলিন অবস্থায়। তাঁদের চোখের মাঝে ছাগলের হাঁটুর দাগের মতো চিহ্ন থাকত (অধিক সিজদাহর কারণে)। তাঁরা আল্লাহর জন্য সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত অতিবাহিত করতেন, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতেন এবং কপাল ও পায়ের ওপর পর্যায়ক্রমে ভর দিতেন। যখন সকাল হতো, তাঁরা আল্লাহর যিকির করতেন এবং প্রবল বাতাসের দিনে গাছ যেমন হেলেদুলে ওঠে, তাঁরাও তেমনি আন্দোলিত হতেন। আর তাঁদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরত, এমনকি তাঁদের পোশাক সিক্ত হয়ে যেত..." (২)।
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ইবাদত ও সালাতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, বিশেষ করে মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে। ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে ব্যক্তি আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে আনন্দিত বোধ করে, সে যেন এই সালাতগুলো হিফাযত করে যেখানে এগুলোর আযান দেওয়া হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য হেদায়েতের সুন্নাতসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এগুলো সেই হেদায়েতের সুন্নাতসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত। যদি তোমরা নিজেদের ঘরে সালাত আদায় করো যেমনটি এই পেছনে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার ঘরে করে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত পরিত্যাগ করো, তবে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। যে কোনো ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করে এবং তা উত্তমরূপে সম্পাদন করে, অতঃপর এই মসজিদসমূহের কোনো একটির দিকে যায়, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে একটি নেকি লিখে দেন, এর মাধ্যমে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার পাপ মোচন করেন। আমি দেখেছি যে, আমাদের মধ্যে কেবল সেই মুনাফিক (منافق) ছাড়া আর কেউ জামাত থেকে পেছনে থাকত না যার নিফাক সুষ্পষ্ট। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না তাকে কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।"
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "আমরা যখন ফজর ও এশার সালাতে কাউকে অনুপস্থিত পেতাম, তখন তার প্রতি আমরা কুধারণা পোষণ করতাম।" (৩)।
-
রাতের দরবেশ (رهبان):জামাতের সাথে সালাত আদায়ের প্রবল আগ্রহের পাশাপাশি তাঁরা কিয়ামুল লাইলের ব্যাপারেও অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাঁরা একে তাঁদের প্রশান্তি ও সুখের উৎস হিসেবে গ্রহণ করতেন। কোনো ক্লান্তি বা সফর তাঁদেরকে এ থেকে বিরত রাখতে পারত না...
তাঁরা তেমনই ছিলেন যেমনটি তাঁদের বর্ণনায় বলা হয়েছে—"রাতে দরবেশ (رهبان) এবং দিনে অশ্বারোহী বীর"...
তাঁরা তাঁদের রাতকে রবের আনুগত্যে, তিলাওয়াতে, অনুনয়-বিনয়ে এবং প্রার্থনায় জীবিত রাখতেন। তাঁদের চোখ থেকে প্রবল বৃষ্টির মতো অশ্রু প্রবাহিত হতো। তাঁরা রাতে ছিলেন দরবেশ (رهبان) এবং শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের সময় সাহসী বীর। আর যখন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আসত, তখন তাঁদেরকে সৎকর্মশীল হিসেবে দেখা যেত।
মক্কা বিজয়ের সকালে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর স্বামীর কাছে এসে বললেন যে, তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বাইআত হতে চান। আবু সুফিয়ান বললেন: "আমি তো তোমাকে কুফরি করতে দেখেছি।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি আজকের রাতের আগে এই মসজিদে আল্লাহ তাআলাকে তাঁর প্রকৃত হক অনুযায়ী ইবাদত করতে কাউকে দেখিনি। আল্লাহর কসম, তাঁরা রাত কাটিয়েছেন সালাত আদায়কারী হিসেবে—দণ্ডায়মান, রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায়।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
خامسًا: التواضع(جيل متواضع)
من أهم الصفات التي ينبغي أن تتوفر في الجيل الموعود بالنصر والتمكين: التواضع، والتي يؤكد عليها ما جاء في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ} (المائدة:54). فالذلة للمؤمنين وخفض الجناح لهم يدل على تواضع صاحبه.
وحقيقة التواضع أن يكون المرء عند نفسه صغيرًا
… وهي حالة قلبية يعيشها العبد وتظهر آثارها في سلوكه وتعاملاته مع ربه، ومع نفسه، و
مع الناس.
-
مع الله:تواضع العبد في علاقته مع ربه تنطلق من رؤيته لحقيقته وأصله، وأنه مخلوق عاجز، ضعيف، جاهل
… أصله هو التراب، والماء المهين
… وتنطلق كذلك من استشعاره لعظمة ربه، وجلاله، وكماله، وعظيم فضله عليه.
هذه الحالة القلبية ينبغي لها أن يترجمها العبد في صورة تذلل ومسكنة وخضوع لله عز وجل، وإظهار لعظيم افتقاره وحاجته إليه، وأنه مهما أوتي من أشكال الصحة أو القوة أو الجمال أو الثراء .. فهو كما هو: عبد ذليل لرب جليل، وأن هذه الأشياء لم تغير من حقيقته شيئًا.
-
مع النفس:وحقيقة التواضع مع النفس هو استصغار المرء لها، ورؤيتها بعين النقص، ووضعها دائمًا في منزلة أقل مما ينبغي أن تكون، وحسبك في ذلك ما فعله موسى عليه السلام عندما استصغر نفسه، واستكثر أن يتحمل الرسالة بمفرده، وطلب من ربه أن يساعده في حملها أخوه هارون عليه السلام: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُو} (القصص:34).
مع أن الواقع يدل على أنه عليه السلام قد قام بها خير القيام.
ومن صور تواضع المرء: عدم تقديم نفسه للقيام بعمل ما، وكذلك رؤيته لنفسه أنها ليست أهلًا للعمل الذي يتم ترشيحه له ....
ومنها أنه يمشي على الأرض هونًا، فلا يتبختر أو يختال.
- مع الناس:
تواضع المرء مع الناس ينطلق من رؤيته لهم على أنهم أفضل منه مهما كانت أعماله أو رتبته، فهو دائمًا ينظر إلى الجانب الإيجابي لكل من يتعامل معه ويستشعر أفضليته عليه.
ويظهر ذلك في سلوكه معه .. فهو لا يستنكف عن خدمة أهله، ويخفض جناحه للمؤمنين، ويجيب دعوة الفقراء والضعفاء، ويكثر من الجلوس مع المساكين، ويسعى في قضاء حوائج الناس و
… .
-
تواضع الصحابة:لقد تجلت هذه الصفة وظهرت آثارها بوضوح في جيل الصحابة رضوان الله عليهم
… انظر إلى أبي بكر رضي الله عنه وقد استمر في حلب الأغنام لجيرانه بعد توليه الخلافة، ويقول لهم بعد أن ظنوا أنه لن يستمر في ذلك: بل لعمري لأحلبنها لكم، وإني لأرجو أن لا يغيرني ما دخلت فيه عن خُلق كنت عليه، فاستمر يحلب لهم (1).
وفي أول خطبة بعد توليه الخلافة يقول للناس: قد وليت عليكم ولست بخيركم .. مع أنه رضي الله عنه خير الناس جميعًا بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكنه استصغار النفس.
وهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يدخل بيت المقدس فاتحًا فماذا كان حاله؟
--------------------------------------------
পঞ্চম: বিনয়(একটি বিনয়ী প্রজন্ম)
বিজয় ও প্রতিষ্ঠা প্রদানের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্মের মধ্যে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি থাকা আবশ্যক, তার মধ্যে অন্যতম হলো: বিনয়। মহান আল্লাহর এই বাণী এ বিষয়টিকে সুদৃঢ় করে: {হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্য থেকে যারা নিজ দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি হবে বিনয়ী এবং কাফিরদের প্রতি হবে কঠোর} (আল-মায়িদাহ: ৫৪)। মুমিনদের প্রতি বিনম্র হওয়া এবং তাদের সামনে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া ব্যক্তির বিনয়কেই নির্দেশ করে।
বিনয়ের প্রকৃত রূপ হলো মানুষ নিজেকে নিজের কাছে তুচ্ছ মনে করবে
… এটি অন্তরের এমন এক অবস্থা যা একজন বান্দা লালন করে এবং এর প্রভাব তার আচরণে এবং তার রবের সাথে, নিজের সাথে এবং
মানুষের সাথে তার লেনদেনে প্রকাশ পায়।
-
আল্লাহর সাথে:রবের সাথে বান্দার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিনয়ের উৎস হলো তার নিজের বাস্তবতা ও উৎস সম্পর্কে অনুধাবন করা। সে যে এক অক্ষম, দুর্বল ও অজ্ঞ সৃষ্টি
… তার মূল উপাদান যে মাটি এবং তুচ্ছ পানি
… আর এই বিনয়ের বোধ আরও জাগ্রত হয় তার রবের মহানুভবতা, মহিমা, পূর্ণতা এবং তার ওপর রবের অসীম অনুগ্রহ উপলব্ধি করার মাধ্যমে।
অন্তরের এই অবস্থাকে বান্দার উচিত মহান আল্লাহর সামনে হীনম্মন্যতা, দীনতা ও আনুগত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা এবং তাঁর কাছে নিজের চরম মুখাপেক্ষিতা ও অভাব তুলে ধরা। তাকে সুস্থতা, শক্তি, সৌন্দর্য কিংবা প্রাচুর্য যা-ই দেওয়া হোক না কেন, সে যা ছিল তা-ই থাকবে: অর্থাৎ এক মহান রবের হীন বান্দা; এবং এই নেয়ামতগুলো তার বাস্তব সত্তার কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না।
-
নিজের সাথে:নিজের সাথে বিনয় প্রদর্শনের প্রকৃত রূপ হলো নিজেকে ছোট মনে করা, নিজেকে ত্রুটির দৃষ্টিতে দেখা এবং নিজেকে সর্বদা প্রাপ্য পদের চেয়ে নিম্নস্তরে রাখা। এ বিষয়ে আপনার জন্য মুসা আলাইহিস সালাম-এর দৃষ্টান্তই যথেষ্ট, যখন তিনি নিজেকে ছোট মনে করেছিলেন এবং একাকী এই রিসালাতের দায়িত্ব পালন করাকে অনেক বড় কাজ মনে করেছিলেন। তিনি এই দায়িত্ব পালনে তাঁর ভাই হারুন আলাইহিস সালাম-কে সাহায্যকারী হিসেবে পেতে রবের নিকট প্রার্থনা করেছিলেন: {আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী; তাই তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে পাঠান, সে আমাকে সমর্থন করবে; আমি ভয় করি যে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে} (আল-কাসাস: ৩৪)।
অথচ বাস্তবতা এই যে, তিনি আলাইহিস সালাম সর্বোত্তমভাবেই তা আঞ্জাম দিয়েছিলেন।
মানুষের বিনয়ের অন্যতম রূপ হলো: কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য নিজেকে নিজে এগিয়ে না দেওয়া, তেমনি নিজেকে সেই কাজের যোগ্য মনে না করা যার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে...।
এর আরেকটি দিক হলো জমিনে নম্রভাবে পথ চলা, দম্ভভরে বা অহংকার করে না হাঁটা।
- মানুষের সাথে:
মানুষের সাথে ব্যক্তির বিনয় এখান থেকে উৎসারিত হয় যে, সে নিজের আমল বা পদমর্যাদা যা-ই হোক না কেন, অন্য মানুষকে নিজের চেয়ে উত্তম মনে করবে। সে সর্বদা তার সাথে লেনদেনকারী প্রতিটি মানুষের ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে তাকাবে এবং নিজের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করবে।
এটি তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়.. যেমন সে তার পরিবারের খেদমত করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, মুমিনদের প্রতি সদয় ও বিনম্র থাকে, দরিদ্র ও দুর্বলদের দাওয়াত কবুল করে, অভাবী মানুষদের সাথে অধিক সময় অতিবাহিত করে এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে
… ।
-
সাহাবীগণের বিনয়:সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম-দের প্রজন্মের মাঝে এই গুণটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিকশিত হয়েছিল এবং এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল
… আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে তাকান, তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তাঁর প্রতিবেশীদের বকরি দোহন করে দিতেন। প্রতিবেশীরা যখন ধারণা করল যে তিনি হয়তো এখন আর এই কাজ করবেন না, তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: অবশ্যই, আমার জীবনের কসম! আমি তোমাদের জন্য তা দোহন করে দেব এবং আমি আশা করি আমি যে দায়িত্বে প্রবেশ করেছি তা আমাকে আমার পূর্বের স্বভাব থেকে বিচ্যুত করবে না। অতঃপর তিনি তাদের জন্য কাজ চালিয়ে যান (১)।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম খুতবায় তিনি মানুষকে বলেছিলেন: আমাকে তোমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই.. যদিও তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর সমস্ত মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু এটি ছিল তাঁর নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করার বহিঃপ্রকাশ।
আর এই যে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বিজয়ী বেশে বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করছেন, তখন তাঁর অবস্থা কেমন ছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كان بينه وبين الغلام الذي معه مناوبة .. فلما قرب من الشام كانت نوبة ركوب الغلام، فركب الغلام وأخذ عمر بزمام الناقة فاستقبله الماء في الطريق، فجعل عمر يخوض في الماء، ونعله تحت إبطه اليسرى، وهو آخذ بزمام الناقة، فخرج أبو عبيدة الجراح رضي الله عنه وكان أميرًا على الشام، وقال: يا أمير المؤمنين إن عظماء الشام يخرجون إليك، فلا يحسن أن يروك على هذه الحالة، فقال عمر: إنما أعزنا الله بالإسلام، فلا نبالي بمقالة الناس (1).
ومر يومًا على امرأة وهي تعصد العصيدة، فقال: ليس هكذا يُعصد، ثم أخذ المسوط، فقال: هكذا (2).
وعند موته رضي الله عنه قال لابنه عبد الله رضي الله عنه: اطرح وجهي يا بني بالأرض لعل الله يرحمني .. قال: فمسح خديه بالتراب (3).
ورُئي عثمان بن عفان رضي الله عنه يركب على بغلة، وخلفه غلامه نائل وهو خليفة، ورُئي كذلك نائمًا في المسجد في ملحفة وليس حوله أحد وهو أمير المؤمنين (4).
ولما بعث عمر أبا هريرة أميرًا للبحرين دخلها وهو راكب على حمار، وجعل يقول: طرِّقوا للأمير، طرّقوا للأمير (5).
وكان عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه لا يُعرف من بين عبيده أي من تواضعه في الزي (6).
وكان سلمان الفارسي رضي الله عنه أميرًا بالمدائن، ومر برجل من عظمائها قد اشترى شيئًا، فحسب سلمان حمالًا، فقال: تعالى فاحمل هذا، فحمله سلمان، فجل يتلقاه الناس ويقولون: أصلح الله الأمير، نحن نحمل عنك، فأبى أن يدفع لهم، فقال الرجل في نفسه: ويحك إني لم أسخر إلا الأمير، فجعل يعتذر إليه ويقول: لم أعرفك أصلحك الله، فقال: انطلق، فذهب به إلى منزله، ثم قال: لا أسخر أحدًا أبدًا (7).
سادسًا: الزهد في الدنيا(جيل زاهد)
جيل التغيير جيل زاهد في الدنيا بمفهوم الزهد الحقيقي ألا وهو انصراف الرغبة عن الدنيا ومجافاتها كما قال صلى الله عليه وسلم: (مالي والدنيا ومالي!) (8).
وكيف لا يكون الجيل الموعود بالنصر والتمكين كذلك، وحب الدنيا والرغبة فيها من أهم العوائق التي تحول بين العبد وبين الدخول في دائرة المعية الإلهية. وما أصاب الأمة ما أصابها من ضعف وذل إلا بحبها للدنيا ورغبتها فيها، وإيثارها إياها على الآخرة، ولقد تنبأ رسولنا صلى الله عليه وسلم بذلك فقال: (يوشك أن تداعى عليكم الأمم من كل أفق، كما تداعى الأكلة إلى قصعتها، قيل: يا رسول الله! فمن قلة يومئذ؟ قال: لا، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، يُجعل الوهن في قلوبكم، ويُنزع الرعب من قلوب عدوكم، لحبكم الدنيا وكراهيتكم الموت) (9).
لابد إذن من توافر هذه الصفة في الجيل الموعود، وأن يخرج حب الدنيا من قلوب أبنائه
… عليه أن يكون شعاره في الحياة "ما قل وكفى خير مما كثر وألهى".
لا ينبغي عليه أن يفكر كثيرًا في المال، بل ينظر إليه على حقيقته في أنه وسيلة يستجلب بها حاجاته وحاجات أهله الأساسية، ويصون بها وجهه عن سؤال الناس واستجدائهم.
- طموح ولكن .. !!:
إن جيل التمكين جيل طموح، ولكن ماهي طموحاته؟! هل في العلاوة والمنصب والجاه .. هل في شراء أرض لبناء عقار لأبنائه؟! .... هل في زيادة رصيده في البنك؟!
--------------------------------------------
তাঁর এবং তাঁর সাথে থাকা ভৃত্যটির মধ্যে সওয়ার হওয়ার পালা নির্ধারিত ছিল। যখন তিনি সিরিয়ার কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন ছিল ভৃত্যটির সওয়ার হওয়ার পালা। ফলে ভৃত্যটি সওয়ার হলো এবং উমর উটের লাগাম ধরলেন। পথে তাঁর সামনে পানি পড়ল, তখন উমর পানির মধ্য দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন; তাঁর জুতো জোড়া বাম বগলের নিচে ছিল এবং তিনি উটের লাগাম ধরে ছিলেন। আবু উবাইদাহ আল-জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বেরিয়ে এলেন, তিনি তখন সিরিয়ার আমির ছিলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, সিরিয়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আপনার সাথে সাক্ষাত করতে আসবে, তারা আপনাকে এই অবস্থায় দেখা শোভন হবে না। উমর বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাই আমরা মানুষের কথার পরোয়া করি না (১)।
একদিন তিনি এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে জাউ (আসিদাহ) রান্না করছিল। তিনি বললেন: এভাবে রান্না করে না। তারপর তিনি নাড়ানি কাঠিটি নিলেন এবং বললেন: এভাবে (২)।
মৃত্যুর সময় তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে বৎস, আমার মুখমণ্ডল মাটির ওপর রাখো, হয়তো আল্লাহ আমার প্রতি দয়া করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি তাঁর গাল দুটি ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিলেন (৩)।
উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে খলিফা থাকা অবস্থায় একটি খচ্চরের পিঠে সওয়ার হতে দেখা যেত, যেখানে তাঁর পেছনে তাঁর ভৃত্য নায়েল থাকত। একইভাবে আমিরুল মুমিনিন হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে মসজিদে একা একটি চাদর গায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা যেত, তাঁর আশেপাশে কেউ থাকত না (৪)।
উমর যখন আবু হুরায়রাকে বাহরাইনের আমির হিসেবে পাঠালেন, তখন তিনি একটি গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং বলতে থাকেন: আমিরের জন্য পথ ছেড়ে দাও, আমিরের জন্য পথ ছেড়ে দাও (৫)।
আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদে বিনয় ও সাধারণত্বের কারণে তাঁর ভৃত্যদের মাঝ থেকে আলাদা করে চেনা যেত না (৬)।
সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মাদায়েনের আমির ছিলেন। তিনি সেখানকার এক গণ্যমান্য ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি কিছু সওদা করেছিলেন। লোকটি সালমানকে একজন কুলি মনে করে বসল এবং বলল: এসো, এটা বহন করো। সালমান তা বহন করলেন। পথে লোকেরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে লাগল এবং বলতে লাগল: আল্লাহ আমিরের মঙ্গল করুন, আমরা আপনার পক্ষ থেকে এটি বহন করছি। কিন্তু তিনি তাদের কাছে বোঝাটি হস্তান্তর করতে অস্বীকার করলেন। লোকটি মনে মনে বলল: ধিক্কার আমাকে! আমি স্বয়ং আমিরকে দিয়েই বোঝা বহন করালাম। সে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে লাগল এবং বলতে লাগল: আমি আপনাকে চিনতে পারিনি, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। তিনি বললেন: চলো, এবং তাকে নিয়ে তার বাড়ি পর্যন্ত গেলেন। এরপর লোকটি বলল: আমি আর কখনো কাউকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করাব না (৭)।
ষষ্ঠ: দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা(দুনিয়াবিমুখ এক প্রজন্ম)
পরিবর্তনের কারিগর সেই প্রজন্মটি ছিল দুনিয়ার প্রতি বিমুখতার প্রকৃত অর্থেই অনাসক্ত; আর তা হলো দুনিয়ার প্রতি লালসা বর্জন করা এবং তা থেকে দূরে থাকা, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (দুনিয়ার সাথে আমার কীসের সম্পর্ক! আমার এবং দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো একজন আরোহীর মতো) (৮)।
বিজয় ও নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্মটি কেনই বা এমন হবে না, অথচ দুনিয়ার মোহ এবং এর প্রতি আকাঙ্ক্ষা হলো বান্দা ও আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যের স্তরে প্রবেশের মধ্যবর্তী অন্যতম প্রধান অন্তরায়। উম্মাহ আজ যে দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে, তা কেবল দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা, এর প্রতি মোহ এবং আখিরাতের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই হয়েছে। আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিপূর্বেই এ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন: (খুব শীঘ্রই বিভিন্ন জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেভাবে ভক্ষণকারীরা খাবারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? তিনি বললেন: না, বরং তোমরা হবে প্লাবনের ফেনার মতো। তোমাদের অন্তরে দুর্বলতা (ওয়াহন) সৃষ্টি করে দেওয়া হবে এবং তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেওয়া হবে; আর তা হবে তোমাদের দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করার কারণে) (৯)।
কাজেই প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত সেই প্রজন্মের মাঝে এই গুণের সমাবেশ থাকা জরুরি এবং তাদের সন্তানদের অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহ বের করে দিতে হবে
… জীবনে তাদের স্লোগান হওয়া উচিত "যা পরিমাণে কম কিন্তু যথেষ্ট, তা সেই প্রাচুর্যের চেয়ে উত্তম যা মানুষকে বিমুখ ও গাফেল করে রাখে।"
তাদের অর্থের বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়া উচিত নয়, বরং একে এর প্রকৃত রূপেই দেখা উচিত—অর্থাৎ এটি কেবল নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম এবং মানুষের কাছে হাত পাতা ও সাহায্য চাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়।
- উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কিন্তু..!!:
সাফল্য ও নেতৃত্বের সেই প্রজন্মটি অবশ্যই উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কিন্তু তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কীসের প্রতি?! তা কি কেবল পদোন্নতি, পদমর্যাদা আর প্রতিপত্তির জন্য? তা কি সন্তানদের জন্য অট্টালিকা নির্মাণের নিমিত্তে জমি কেনার জন্য?!.... তা কি ব্যাংকে জমানো টাকার ব্যালেন্স বৃদ্ধির জন্য?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لا، فهذه كلها طموحات دنيوية لا قيمة لها، ولن تفيده في مستقبله الحقيقي هناك في الدار الآخرة.
أما طموحاته الحقيقية فهي عند الله عز وجل، في الفردوس الأعلى
… في رؤية مولاه
… في مصاحبة رسوله وحبيبه صلى الله عليه وسلم.
طموحاته في الشهادة في سبيل الله وأن تكون روحه في حواصل طير خضر
…من هنا فإنه يتعامل مع الدنيا على حقيقتها بأنها مزرعة للآخرة
… .
- لا يُساوم:
إن جيل التغيير جيل عابد لله عز وجل، وحر من كل ما سواه
…لا يأسره شيء من حطام الدنيا .. لا تأسره وظيفة يخاف من فقدانها، أو منصب يخشى فواته
… .
جيل وضحت عنده الغاية، وتعلق بصره بالسماء، فهدفه الأسمى رضا الله وجنته، أما ما دون ذلك فهو زاهد فيه
… لا يعنيه كثيرًا إن كان غنيًا أو فقيرًا
… أن رُزق بأولاد أو لم يرزق
… أن كان في منصب رفيع أو وضيع.
ومن آثار حرية هذا الجيل أنه غير مقيد بأثقال تمنعه من الحركة: أنه لا يساوم على شيء من هذه الدنيا، فنتيجة المساومة معروفة.
ومما يعين هذا الجيل على الحرية من أسر الدنيا: ألا يتشعب في المشاريع الاقتصادية، وأن يكون زاده في الدنيا كزاد الراكب، فلا يتوسع في كماليات تحتاج منه إلى مصاريف كثيرة تصبح أداةً تضغط عليه، وأثقالًا تربط قلبه بالدنيا.
وليس معنى هذا أن يكون جيل التمكين جيلًا فقيرًا، بل المقصد ألا تشغل الدنيا فكره أو تأسر قلبه، فالمهمة العظيمة المنوطة به تستدعي منه عدم التعلق بشيء سوى الله
… تأمل معي هذا الحديث النبوي الشريف لتعرف أهمية عدم تعلق القلب بالدنيا
… .
قال صلى الله عليه وسلم: (غزا نبي من الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم فقال لقومه: لا ينبعني رجل ملك بُضع امرأة وهو يريد أن يبني بها ولم يبن بها، ولا أحد بنى بيوتًا ولم يرفع سقوفها، ولا أحد اشترى غنمًا أو خلفات وهو ينتظر أولادها
… ) (1).
فهنا اشترط هذا النبي شروطًا لمن يريد الخروج معه، القاسم المشترك لهذه الشروط هو عدم وجود ما يشغل الذهن، أو يكون وسيلة ضغط على الشخص تجعله متثاقلًا في حركته، يتمنى عدم الموت لكي يعود ويتفقد أشغاله.
من هنا ندرك قيمة توجيه الرسول صلى الله عليه وسلم لأصحابه: (لا تتخذوا الضيعة فترغبوا في الدنيا) (2).
- من لوازم الحرية:
ومن أخطر الأشياء التي يمكنها أن تجذب أبناء جيل التمكين إلى الأرض وتحد من حريتهم، وتضع الأثقال في قلوبهم، أن لا تكون زوجته وأولاده على مستواه من الفهم، ووضوح الغاية مما يشكل أمامه عائقًا كبيرًا يعوق حركته وتجرده، ولقد بين لنا القرآن في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ} (التغابن:14).
وقال صلى الله عليه وسلم: (الولد ثمرة القلب، وإنه مجبنة مبخلة محزنة) (3).
من هنا كان من الضروري أن يختار أبناء هذا الجيل لأنفسهم زوجات يشعُرنْ بهموم الأمة، ويدركن حاجتها إلى جيل جديد يُخرجها - بإذن الله - من النفق المظلم الذي تسير فيه منذ زمن طويل، ويدركن أيضًا أن هذا الجيل ليس كبقية الناس في أحلامه وطموحاته الدنيوية، لذلك فلن يطالبن بفرش وثير ومسكن واسع، وسيارة حديثة و
… بل سيطالبن أزواجهم ببذل المزيد من الجهد في العمل المطلوب منهم، وليس ذلك فحسب بل سيكُنَّ بجوارهم معينات ومؤازرات، فجيل التمكين ليس قاصرًا على الرجال فقط، بل الرجال والنساء سواءً بسواء
…--------------------------------------------
না, এগুলো সবই মূল্যহীন পার্থিব উচ্চাকাঙ্ক্ষা, যা পরকালের সেই প্রকৃত ভবিষ্যতে তার কোনো উপকারে আসবে না।
পক্ষান্তরে তার প্রকৃত উচ্চাকাঙ্ক্ষা তো মহান আল্লাহর কাছে, জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ'লায়
… নিজ প্রতিপালকের দিদারে
… এবং তাঁর রাসূল ও প্রিয়জন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যে।
তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করা এবং তার রুহ যেন সবুজ পাখির উদরে থাকে
…এখান থেকেই সে দুনিয়াকে তার প্রকৃত রূপে দেখে থাকে যে, এটি পরকালের শস্যক্ষেত্র
… ।
- কোনো আপস করে না:
পরিবর্তনের এ প্রজন্ম মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ ইবাদতকারী এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত
…দুনিয়ার কোনো তুচ্ছ সম্পদ তাকে বন্দি করতে পারে না.. কোনো চাকরি হারানোর ভয় বা পদমর্যাদা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তাকে কাবু করতে পারে না
… ।
এ প্রজন্মের লক্ষ্য সুষ্পষ্ট, তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে নিবদ্ধ; তাই তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর জান্নাত। এ ছাড়া অন্য সব কিছুর প্রতি তারা বিমুখ
… সে ধনী না দরিদ্র, তার সন্তানাদি আছে কি নেই, সে উচ্চপদে আসীন নাকি নিম্নপদে—এসব বিষয়ে সে খুব একটা বিচলিত হয় না।
এই প্রজন্মের স্বাধীনতার অন্যতম প্রভাব হলো তারা এমন কোনো বোঝার ভারে শৃঙ্খলিত নয় যা তাদের পথচলায় বাধা দেয়। তারা দুনিয়ার কোনো তুচ্ছ স্বার্থে আপস করে না, কারণ আপসের পরিণাম সুপরিচিত।
দুনিয়ার বন্দিত্ব থেকে এই প্রজন্মকে স্বাধীন হতে যা সাহায্য করে তা হলো: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব বেশি জড়িয়ে না পড়া এবং দুনিয়াতে নিজের পাথেয়কে একজন মুসাফিরের পাথেয় সমতুল্য রাখা। তাই সে এমন সব বিলাসিতায় গা ভাসায় না যার জন্য প্রচুর ব্যয়ের প্রয়োজন হয় এবং যা তার ওপর চাপের সৃষ্টি করে ও তার হৃদয়কে দুনিয়ার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে।
এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিষ্ঠার এই প্রজন্ম দরিদ্র হবে; বরং উদ্দেশ্য হলো দুনিয়া যেন তাদের চিন্তার জগৎ দখল না করে বা তাদের হৃদয়কে বন্দি না করে। কেননা তাদের ওপর অর্পিত মহান দায়িত্ব মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার দাবি রাখে
… দুনিয়ার প্রতি আসক্তিহীনতার গুরুত্ব বুঝতে আমার সাথে এই পবিত্র হাদিসটি লক্ষ্য করুন
… ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হলেন। তিনি তাঁর কওমকে বললেন: এমন কোনো ব্যক্তি যেন আমার অনুসরণ না করে যে কোনো মহিলার সাথে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং তার সাথে বাসর করার ইচ্ছা রাখে কিন্তু এখনো তা করেনি; কিংবা এমন ব্যক্তি যে ঘর তৈরি করেছে কিন্তু এখনো তার ছাদ তোলেনি; অথবা এমন ব্যক্তি যে গর্ভবতী ছাগল বা উট ক্রয় করেছে এবং সেগুলোর বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় আছে
… " (১)।
এখানে উক্ত নবী তাঁর সাথে অভিযানে গমনেচ্ছুদের জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন। এই শর্তগুলোর মূল ভিত্তি হলো এমন কোনো বিষয় না থাকা যা মনকে ব্যস্ত রাখে কিংবা ব্যক্তির ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করে যা তার গতি মন্থর করে দেয় এবং তাকে মৃত্যুর পরিবর্তে পুনরায় ফিরে এসে নিজ কাজ তদারকি করার আকাঙ্ক্ষা জাগায়।
এখান থেকেই আমরা সাহাবীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই নির্দেশনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি: "তোমরা জমিজমার পেছনে বেশি মগ্ন হয়ো না, তাহলে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে" (২)।
- স্বাধীনতার আবশ্যকতা:
প্রতিষ্ঠার প্রজন্মের সন্তানদের মাটির দিকে টেনে নামানোর এবং তাদের স্বাধীনতা খর্ব করার অন্যতম বিপজ্জনক বিষয় হলো—তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের বুঝ এবং লক্ষ্যের স্বচ্ছতা যদি তাদের পর্যায়ের না হয়। এটি তাদের পথচলা ও একনিষ্ঠতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো" (আত-তাগাবুন: ১৪)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সন্তান হৃদয়ের ফল, তবে সে ভীরুতা, কৃপণতা ও বিষণ্ণতার উদ্রেককারী" (৩)।
এখান থেকেই এ প্রজন্মের সন্তানদের জন্য এমন স্ত্রী নির্বাচন করা জরুরি যারা উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত হবে এবং উম্মাহকে দীর্ঘদিনের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনার জন্য একটি নতুন প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে। তারা আরও বুঝবে যে, পার্থিব স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রজন্ম সাধারণ মানুষের মতো নয়। তাই তারা আরামদায়ক শয্যা, বিশাল অট্টালিকা কিংবা আধুনিক গাড়ির আবদার করবে না
… বরং তারা তাদের স্বামীদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে উদ্বুদ্ধ করবে। শুধু তাই নয়, তারা তাদের পাশে থেকে সাহায্যকারী ও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করবে। কারণ প্রতিষ্ঠার এ প্রজন্ম শুধু পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়েই এতে সমান অংশীদার
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- الزهاد الأوائل:
كان الصحابة أكثر الخلق عبودية لله عز وجل بعد الرسل، ومن ثَّم كانوا أكثر الخلق حرية من الدنيا، لقد كانت صفة الزهد في الدنيا من أبرز الصفات التي ميزتهم عما سواهم
… يقول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه لمن بعده من التابعين: أنتم أكثر صومًا وصلاة من أصحاب محمد وهم كانوا خيرًا منكم. فقالوا: وبمَ ذلك؟، قال: كانوا أزهد منكم في الدنيا، وأرغب في الآخرة (1).
لقد كانوا يخافون من بسط الدنيا، فهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه أتته غنائم القادسية، فجعل يتصفحها وينظر إليها وهو يبكي ومعه عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه، فقال عبد الرحمن: يا أمير المؤمنين هذا يوم فرح وسرور، فقال: أجل، ولكن لم يؤت هذا قوم قط إلا أورثتهم العداوة والبغضاء (2).
وهذا سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه يدخل على سلمان رضي الله عنه يعوده، فبكى سلمان، فقال سعد: ما يبكيك؟ تلقى أصحابك، وترد على رسول الله صلى الله عليه وسلم الحوض، وتُوفى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنك راض! فقال: ما أبكي جزعًا من الموت ولا حرصًا على الدنيا، ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم عهد إلينا فقال: (ليكن بُلغة أحدكم من الدنيا كزاد الراكب) وهذه الأوساد حولي، وإنما حوله مِطْهرة أو إنجاتة (3) ونحوها.
- مفهوم التهلكة:
لقد كان الصحابة رضوان الله عليهم يدركون أن التهلكة ليست في الموت في سبيل الله بل في الركون إلى الدنيا.
عن أبي عمران رضي الله عنه قال: حمل رجل من المهاجرين بالقسطنطينية على صف العدو حتى خرقه، ومعنا أبو أيوب الأنصاري رضي الله عنه، فقال ناس: ألقى بيده إلى التهلكة. فقال أبو أيوب: نحن أعلم بهذه الآية، إنما نزلت فينا. صحبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وشهدنا معه المشاهد ونصرناه، فلما فشا الإسلام وكثر أهله، وكنا قد آثرناه على الأهلين والأموال والأولاد، وقد وضعت الحرب أوزارها، فنرجع إلى أهلينا وأولادنا فنقيم فيهما، فنزل فينا: {وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} (البقرة:195)، فكانت التهلكة في الإقامة في الأهل والمال وترك الجهاد (4).
- جيل الأحرار:
حاولت قريش مساومة صهيب الرومي رضي الله عنه على عدم الهجرة إلى المدينة أو ترك ماله الذي جمعه نظير عمله عندهم فماذا فعل صهيب؟!
قال لهم: أرأيتم إن دفعت إليكم مالي تتخلون عني؟ قالوا: نعم، يقول صهيب: فدفعت إليهم مالي فخلوا عني فخرجت حتى قدمت المدينة فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، فقال (ربح صهيب، ربح صهيب) مرتين، وفيه وفي أمثاله نزلت الآية: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ} (البقرة:207) (5).
- الزهد في المال:
ومما يدل على أن طموح الصحابة كان في زيادة رصيدهم من نعيم الآخرة هو كثرة إنفاقهم للمال مع شدة حاجتهم إليه، فإن كنت في شك من هذا فتأمل معي هذا الخبر:
لما أتى عمر الشام، طاف بها ونزل بحمص، فأمر أن يكتبوا له فقراءهم، فرُفع إليه الكتاب، فإذا فيه سعيد بن عامر " أميرها ".
قال: من سعيد بن عامر؟ قالوا: أميرنا! قال: أميركم؟ قالوا: نعم، فعجب عمر فقال: كيف يكون أميركم فقيرًا؟ أين عطاؤه؟ وأين رزقه؟، قالوا: يا أمير المؤمنين، لا يمسك شيئًا، فبكى عمر، ثم عمد إلى ألف دينار، فصرَّها - أي وضعها في صُرَّة - ثم بعث إليه بها، وقال: أقرئه السلام وقل: بعث بها إليك أمير المؤمنين تستعين بها على حاجتك.
--------------------------------------------
- প্রারম্ভিক যুহদ পালনকারীগণ (الزهاد الأوائل):
রাসূলগণের পরে সাহাবীগণ (الصحابة) ছিলেন সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর প্রতি সর্বাপেক্ষা অধিক ইবাদতকারী, আর সেই কারণেই তারা ছিলেন দুনিয়ার মোহ থেকে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুক্ত। দুনিয়াবিমুখতা বা যুহদ (الزهد) ছিল এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্য যা তাদেরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছিল
… আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পরবর্তী তাবিঈগণের (التابعين) উদ্দেশ্যে বলতেন: তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (الصحابة) তুলনায় অধিক রোজা রাখো এবং অধিক সালাত আদায় করো, অথচ তারা ছিলেন তোমাদের চেয়ে উত্তম। তারা জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কেন? তিনি বললেন: তারা তোমাদের চেয়ে দুনিয়ার প্রতি অধিক বিরাগী (أزهد) এবং আখিরাতের প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন (১)।
তারা পার্থিব প্রাচুর্যের প্রসারে ভীত হতেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট যখন কাদিসিয়ার যুদ্ধের গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এলো, তিনি তা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তাঁর সাথে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। আব্দুর রহমান বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, আজ তো আনন্দ ও খুশির দিন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে এই সম্পদ যে কওমকেই দেওয়া হয়েছে, এটি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষই তৈরি করেছে (২)।
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সালমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখতে তাঁর কাছে আসলেন। সালমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কাঁদছিলেন। সাদ বললেন: আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি আপনার সাথীদের সাথে মিলিত হবেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাউজে উপস্থিত হবেন; আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন! তিনি বললেন: আমি মৃত্যুর ভয়ে কিংবা দুনিয়ার প্রতি আসক্তির কারণে কাঁদছি না; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: (তোমাদের কারো জন্য দুনিয়ার উপকরণ যেন একজন মুসাফিরের পাথেয় সমতুল্য (بلغة) হয়)। অথচ এই যে আমার চারপাশে এতোসব বালিশ, অথচ তাঁর চারপাশে ছিল কেবল ওযুর পাত্র বা ধৌত করার পাত্র (৩) জাতীয় কিছু।
- ধ্বংসের ধারণা (التهلكة):
সাহাবীগণ (الصحابة) এটা উপলব্ধি করেছিলেন যে, ধ্বংস (التهلكة) আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করার মধ্যে নয়, বরং দুনিয়ার প্রতি মগ্ন হওয়ার মধ্যে নিহিত।
আবু ইমরান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কনস্টান্টিনোপলে মুহাজিরদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি শত্রুবাহিনীর ব্যূহের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন যে তা ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। আমাদের সাথে আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। কিছু লোক বলতে লাগলেন: সে তো নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের (التهلكة) দিকে ঠেলে দিল। তখন আবু আইয়ুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমরা এই আয়াত সম্পর্কে অধিক অবগত, এটি আমাদের উদ্দেশ্যেই নাযিল হয়েছিল। আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছি, বিভিন্ন যুদ্ধে তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করেছি এবং তাঁকে সাহায্য করেছি। যখন ইসলাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল এবং এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, আর আমরা ইতিপূর্বে আমাদের পরিবার, সম্পদ ও সন্তানদের ওপর ইসলামকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম, তখন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমরা ভাবলাম আমাদের পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে গিয়ে সেখানে বসবাস করি। তখন আমাদের সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল হয়: {আর আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের (التهلكة) মধ্যে নিক্ষেপ করো না} (আল-বাকারাহ: ১৯৫)। সুতরাং ধ্বংস (التهلكة) ছিল পরিবার ও সম্পদে মগ্ন থাকা এবং জিহাদ পরিত্যাগ করার মধ্যে (৪)।
- মুক্ত মানুষের প্রজন্ম:
কুরাইশরা সুহাইব আল-রুমী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মদীনায় হিজরত না করার জন্য অথবা তাদের নিকট কাজ করে অর্জিত সমুদয় সম্পদ ত্যাগ করার শর্তে প্রলোভিত করার চেষ্টা করেছিল। তখন সুহাইব কী করেছিলেন?!
তিনি তাদের বললেন: আমি যদি তোমাদের কাছে আমার সম্পদ দিয়ে দেই, তবে কি তোমরা আমার পথ ছেড়ে দেবে? তারা বলল: হ্যাঁ। সুহাইব বলেন: অতঃপর আমি আমার সম্পদ তাদের দিয়ে দিলাম এবং তারা আমার পথ ছেড়ে দিল। আমি মদিনায় পৌঁছলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এই সংবাদ পৌঁছালো। তিনি দুইবার বললেন: (সুহাইব লাভবান হয়েছে, সুহাইব লাভবান হয়েছে)। তাঁর এবং তাঁর মতো ব্যক্তিদের ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছে: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়} (আল-বাকারাহ: ২০৭) (৫)।
- সম্পদের ক্ষেত্রে যুহদ (الزهد):
সাহাবীগণের (الصحابة) লক্ষ্য যে আখিরাতের নেয়ামতের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করা ছিল, তার প্রমাণ হলো নিজেদের তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তাদের অত্যধিক সম্পদ ব্যয় করা। আপনার যদি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকে, তবে আমার সাথে এই সংবাদটি লক্ষ্য করুন:
উমর যখন শামে আসলেন, তিনি সেখানে ভ্রমণ করলেন এবং হিমসে অবস্থান করলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন যেন হিমসের দরিদ্রদের তালিকা লিখে তাঁর কাছে পেশ করা হয়। যখন তালিকাটি তাঁর কাছে পেশ করা হলো, দেখা গেল তাতে হিমসের আমীর সাঈদ ইবনে আমিরের নাম রয়েছে।
উমর বললেন: এই সাঈদ ইবনে আমির কে? তারা বলল: আমাদের আমীর! তিনি বললেন: তোমাদের আমীর? তারা বলল: হ্যাঁ। উমর বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন: তোমাদের আমীর দরিদ্র হন কী করে? তাঁর ভাতা কোথায় যায়? তাঁর বরাদ্দকৃত জীবিকা (رزقه) কোথায়? তারা বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, তিনি নিজের কাছে কিছুই রাখেন না। এ কথা শুনে উমর কেঁদে ফেললেন। এরপর তিনি এক হাজার দীনার চাইলেন এবং তা একটি থলিতে ভরলেন। অতঃপর তা তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেন: তাঁকে সালাম জানাবে এবং বলবে— আমীরুল মুমিনীন এটি আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فجاء بها إليه الرسول، فنظر، فإذا هي دنانير، فجعل يسترجع! وتقول له امرأته: ما شأنك؟ أمات أمير المؤمنين؟ قال: بل أعظم من ذلك، قالت: فما شأنك؟ قال: الدنيا أتتني! الفتنة دخلت عليَّ! قال: فاصنع فيها ما شئت. قال: عندك عَوْن؟ قالت: نعم. فأخذ ذريعة له، فصر دنانير فيها صُررًا، ثم جعلها في مِخلاة، ثم اعترض بها جيشًا من جيوش المسلمين، فأمضاها كلها (1).
سابعًا: جيل مجاهدمن سمات الجيل الموعود أنه جيل مجاهد في سبيل الله، يبذل جهده ووسعه وطاقته من أجل رضا ربه، ينطبق عليه قوله تعالى: {يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ} (المائدة:54).
لقد وضحت الرؤية لهذا الجيل، ورُفع له علم الخلافة وأستاذية العالم، فشمَّر للوصول إليه، وجعل حياته وإمكاناته وفقًا لتنفيذ هذا الهدف، ولا ينتظر من ذلك إلا رضا مولاه عنه.
جيل لا يبخل بأي جهد يبذله للوصول إلى هدفه، ولِمَ لا وهو يعلم أن إقامة هذا الدين لن تكون إلا بجهد البشر في البداية ليأتي التأييد الإلهي تبعًا لوجود هذا الجهد كما قال تعالى: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} (محمد:7).
من هنا يعلم أبناء هذا الجيل أن أي جهد يبذلونه - مهما كان ضئيلًا - فإنه يمثل خطوة مهمة في بناء المشروع الإسلامي، لذلك فهم يصلون الليل بالنهار من أجل الوصول إلى أهدافهم دون الإخلال بواجباتهم تجاه أنفسهم أو أهليهم.
لقد أوقف هذا الجيل حياته من أجل هدفه، وجعل كل شيء آخر على هامش تفكيره .. أجلَّ الكثير من متع نفسه من أجل مشروعه ومشروع الأمة العظيم، يدفعه لذلك الحُرقة الشديدة التي تملأ قلبه على أحوال أمته وما يحدث لها من ذل وهوان لم يسبق له مثيل.
تراه دومًا على استعداد تام للتضحية بأي شيء من أجل رضا الله وتحكيم شرعه ورفع رايته.
على استعداد لأن يبذل ماله ووقته وجهده وراحته
…وعلى استعداد كذلك للتضحية بالمنصب والعقود المغرية التي من شأنها أن تُحسن وضعه المالي.
هيأ نفسه وبيته للبذل وتحمل خشونة العيش وكذلك المضايقات والإيذاءات التي من المتوقع أن يتعرض لها.
وتتصاعد التضحية لتصل إلى درجة التضحية بالنفس طمعًا في رضا ربه والفوز بمكانة الشهداء عنده.
-
مع الصحابة وجهادهم في سبيل الله:لقد أوقف الصحابة حياتهم من أجل الله وجاهدوا في سبيله وتحملوا خشونة العيش والجوع والأذى رغبة فيما عنده سبحانه وتعالى.
عن أبي موسى رضي الله عنه قال: " لو رأيتنا ونحن مع نبينا صلى الله عليه وسلم، لحسبت أنما ريحنا ريح الضأن، إنما لباسنا الصوف وطعامنا الأسودان التمر والماء" (2).
وعن محمد بن سيرين قال: " كان الرجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يأتي عليه ثلاثة أيام لا يجد شيئًا يأكله فيأخذ الجلدة فيشويها فيأكلها فإذا لم يجد شيئًا أخذ حجرًا فشد صلبه" (3).
-
وضوح الهدف:لقد كان أبناء الجيل الأول يعلم بوضوح هدفه في الدنيا، وأن الله عز وجل قد اختارهم لينشروا دينه، ويقوموا بالشهادة على الناس، ويسعوا لإخراجهم من الظلمات إلى النور، لذلك انتشروا في الأرض يدعون الخلق إلى الله، ويجاهدون في سبيله .. لم يركنوا إلى الدنيا، ولم ينقطعوا للعبادة، أو مجاورة الحرم .. لم يقيموا في مدينة نبيهم صلى الله عليه وسلم، مع ما في ذلك من فضل عظيم، لأنهم علموا أن الله عز وجل يريد منهم الدعوة والجهاد وتعبيد الأرض له سبحانه.
--------------------------------------------
বার্তাবাহক সেগুলো তাঁর কাছে নিয়ে এলেন। তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে সেগুলো স্বর্ণমুদ্রা, অমনি তিনি 'ইন্না লিল্লাহ' (استرجاع) পড়তে শুরু করলেন! তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন: "আপনার কী হয়েছে? আমিরুল মুমিনিন কি ইন্তেকাল করেছেন?" তিনি বললেন: "না, বরং তার চেয়েও বড় কিছু।" স্ত্রী বললেন: "তবে আপনার কী হয়েছে?" তিনি বললেন: "দুনিয়া আমার কাছে চলে এসেছে! ফিতনা (الفتنة) আমার ওপর আপতিত হয়েছে!" স্ত্রী বললেন: "তাহলে এটি নিয়ে আপনার যা ইচ্ছা করুন।" তিনি বললেন: "তোমার কাছে কি কোনো সাহায্যকারী (থলি) আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি নিজের একটি চাদর নিলেন এবং তাতে মুদ্রাগুলো ছোট ছোট পোটলায় বাঁধলেন। তারপর সেগুলো একটি ঝোলায় ভরে মুসলিম বাহিনীর একটি দলের মুখোমুখি হলেন এবং তার সবটুকুই বিলিয়ে দিলেন (১)।
সপ্তম: এক মুজাহিদ প্রজন্মপ্রতিশ্রুত প্রজন্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহর পথে এক মুজাহিদ প্রজন্ম, যারা তাদের রবের সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য বিলিয়ে দেয়। তাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রযোজ্য: {তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পাবে না} (সূরা আল-মায়েদাহ: ৫৪)।
এই প্রজন্মের সামনে লক্ষ্য ও রূপরেখা স্পষ্ট। তাদের সামনে খিলাফত এবং বিশ্ব-নেতৃত্বের ঝাণ্ডা উত্তোলিত হয়েছে, তাই তারা তা অর্জনে কোমর বেঁধে নেমেছে। তারা তাদের জীবন ও সক্ষমতাকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত করেছে এবং এর বিনিময়ে কেবল তাদের মহান রবের সন্তুষ্টিরই প্রত্যাশা করে।
এটি এমন এক প্রজন্ম যারা তাদের লক্ষ্যপানে পৌঁছাতে কোনো শ্রম দিতেই কৃপণতা করে না। আর করবেই বা কেন, যেখানে তারা জানে যে এই দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুরুতে মানুষের প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যার ধারাবাহিকতায় খোদায়ী সাহায্য ও সমর্থন নেমে আসে; যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে (আল্লাহর দ্বীনকে) সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপসমূহ দৃঢ় করবেন} (সূরা মুহাম্মাদ: ৭)।
এখান থেকেই এই প্রজন্মের সন্তানেরা জানে যে, তারা যে শ্রমই প্রদান করুক না কেন—তা যত সামান্যই হোক—তা ইসলামি মিশন গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তাই তারা নিজেদের নফসের প্রতি বা পরিবারের প্রতি কর্তব্য পালনে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়েই লক্ষ্য অর্জনে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে।
এই প্রজন্ম তাদের লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে এবং অন্য সবকিছুকে তাদের চিন্তার প্রান্তসীমায় ঠেলে দিয়েছে। তারা নিজেদের মহান লক্ষ্য এবং উম্মাহর মহান প্রকল্পের স্বার্থে ব্যক্তিগত অনেক ভোগ-বিলাসকে বিসর্জন দিয়েছে। তাদের অন্তরে উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর ওপর আপতিত নজিরবিহীন লাঞ্ছনা ও অপমানের জন্য যে তীব্র দহন ও অস্থিরতা বিদ্যমান, তা-ই তাদের এই ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে।
আপনি তাদের সর্বদা যেকোনো কিছু উৎসর্গ করতে প্রস্তুত দেখতে পাবেন—কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর শরিয়ত প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর পতাকাকে সমুন্নত করার নিমিত্তে।
তারা তাদের সম্পদ, সময়, শ্রম এবং আরাম-আয়েশ বিলিয়ে দিতে সদা প্রস্তুত
…তেমনিভাবে তারা নিজেদের উচ্চপদ এবং আকর্ষণীয় সব বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করতেও প্রস্তুত, যা তাদের আর্থিক অবস্থাকে অনেক উন্নত করতে পারত।
তারা নিজেদের এবং নিজ পরিবারকে ত্যাগ স্বীকার, জীবনযাপনের কঠোরতা সহ্য করা এবং পথে আসতে পারে এমন সম্ভাব্য সব প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছে।
তাদের এই ত্যাগের মহিমা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে জীবন উৎসর্গ করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়—একমাত্র রবের সন্তুষ্টি এবং তাঁর কাছে শহীদদের (الشهداء) মর্যাদা লাভের আশায়।
-
সাহাবিগণ (الصحابة) এবং আল্লাহর পথে তাঁদের জিহাদ প্রসঙ্গে:সাহাবিগণ (الصحابة) আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং মহান আল্লাহর কাছে যা সংরক্ষিত রয়েছে তার আশায় জীবনযাপনের কঠোরতা, ক্ষুধা ও কষ্ট অম্লান বদনে সহ্য করেছিলেন।
আবু মুসা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তুমি যদি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে থাকাকালীন আমাদের দেখতে পেতে, তবে আমাদের শরীরের গন্ধকে ভেড়ার গন্ধ বলে মনে করতে; আমাদের পোশাক ছিল কেবল পশমের আর আমাদের খাবার ছিল কেবল 'আসওয়াদান' অর্থাৎ খেজুর ও পানি" (২)।
মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের (الصحابة) মাঝে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যার ওপর দিয়ে টানা তিন দিন পার হয়ে যেত অথচ তিনি খাওয়ার মতো কিছুই পেতেন না। তখন তিনি কোনো পশুর চামড়া কুড়িয়ে তা পুড়িয়ে ভক্ষণ করতেন। আর যদি কিছুই না পেতেন, তবে পাথর নিয়ে পেটে বাঁধতেন যাতে পিঠ সোজা রাখতে পারেন" (৩)।
-
লক্ষ্যের স্পষ্টতা:প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের কাছে দুনিয়াতে তাদের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। তারা জানতেন যে, মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর দ্বীন প্রচার করার জন্য, মানুষের ওপর সাক্ষী হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য এবং মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনার প্রচেষ্টার জন্যই মনোনীত করেছেন। তাই তারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে এবং তাঁর পথে জিহাদ করতে। তারা দুনিয়ার মোহে পড়ে থাকেননি, কেবল ইবাদতে মগ্ন হয়ে যাওয়া কিংবা হারাইন শরিফাইনের সান্নিধ্যে পড়ে থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেননি। তারা তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র নগরীতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেননি—যদিও তার ফজিলত অপরিসীম—কেননা তারা জানতেন যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের কাছ থেকে দাওয়াত, জিহাদ এবং পুরো জমিনকে তাঁর ইবাদতের অনুগত করা প্রত্যাশা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জীলুল মাউয়ূদ বিন-নাসরি ওয়াত-তামকীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تأمل معي ربعيّ بن عامر رضي الله عنه وهو أحد عامة جيش المسلمين الذين ذهبوا لفتح بلاد فارس وهو يخاطب رستم قائد الفرس، فحين سأله رستم: " ما جاء بكم؟ " قال: " الله ابتعثنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جَوْر الأديان إلى عدل الإسلام، فأرسلنا بدينه إلى خلقه لندعوهم إليه، فمن قبل ذلك قبلنا منه ورجعنا عنه، ومن أبى قاتلناه حتى نفضي إلى موعود الله، وما موعود الله؟ قال: الجنة لمن مات على قتال من أبى، والظفر لمن بقى" .. (1).
- وضوح الغاية:
أما غايتهم - رضوان الله عليهم - فقد كانت واضحة أمامهم تمام الوضوح، وتمثل في رضا الله وبلوغ جنته
… لقد اقتربت الجنة أمام أعينهم، فازداد شوقهم إليها، ومن ثَّم العمل على دخولها ..
تأمل معي ما حدث لحرام بن ملحان رضي الله عنه وهو أحد القراء الذين استشهدوا في بئر معونة
… لقد ذهب بكتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عدو الله عامر بن الطفيل، فلم ينظر فيه وأمر رجلًا فطعنه بالحربة من خلفه، فلما أنفذها فيه ورأى الدم قال حِرَام: " الله أكبر، فزت ورب الكعبة".
وفي بدر وقف صلى الله عليه وسلم يُحرض أصحابه على القتال فقال لهم: (والذي نفس محمد بيده لا يقاتلهم اليوم رجل فيُقتل صابرًا محتسبًا مقبلًا غير مدبر إلا أدخله الله الجنة)، وقال وهو يحضهم على القتال: (قوموا إلى جنة عرضها السماوات والأرض)، وحينئذ قال عمير بن الحمام: " بخ بخ "، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما يحملك على قول بخ بخ؟) قال: " لا، والله يارسول الله إلا رجاء أن أكون من أهلها "، قال: (فإنك من أهلها)، فأخرج ثمرات من قرنه فجعل يأكل منهن، ثم قال: " لئن أنا حييت آكل تمراتي هذه إنها لحياة طويلة، فرمى بما كان معه من التمر، ثم قاتلهم حتى قتل".
وكذلك سأله عوف بن الحارث بن العفراء، فقال: " يا رسول الله ما يضحك الرب من بعده "! قال: (غمسه يده في العدو حاسرًا)، فنزع درعًا كان عليه فقذفها ثم أخذ سيفه فقاتل القوم حتى قتل (2).
وهذا جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه يعقر فرسه في مؤتة ويقاتل الروم حتى قتل وهو يقول:
يا حبذا الجنة واقترابها
… طيبة وباردة شرابها
والروم قد دنا عذابها
… كافرة بعيدة أنسابها
علىَّ إذا لاقيتها ضرابها (3)
ثامنًا: الصبر والثبات(جيل صابر)
من الصفات الأساسية للجيل الموعود بالنصر والتمكين أنه جيل صابر .. يتحمل ما يلاقيه من ضغوط، ويجتاز ما يقابله من عقبات، ويثبت أمام المحن والبلايا التي يتعرض لها في طريقه لتحقيق هدفه المنشود.
لقد علم أبناء هذا الجيل بأن الطريق الذي يوصلهم إلى هدفهم ليس مفروشًا بالورود والرياحين، بل طريق صعب، مرير، طويل
… ملئ بالأشواك والعقبات
… يقف على جانبيه شياطين الإنس والجن يعملون جاهدين على إيقاف المسيرة، والحيلولة دون وصولهم إلى غايتهم التي نذروا حياتهم من أجلها في رضا مولاهم والفوز بجنته.
علم أبناء هذا الجيل طبيعة الطريق فوطنوا أنفسهم على ذلك، واعتصموا بربهم، وعاهدوه على المُضى قُدمًا في هذا الطريق، فإما أن يموتوا فيه مجاهدين في سبيل مولاهم، صابرين، ثابتين على عهدهم، أو يصلوا إلى هدفهم: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} (الأحزاب:23).
--------------------------------------------
আমার সাথে রাবি বিন আমির (রা.)-এর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন, যিনি পারস্য বিজয়ের লক্ষ্যে প্রেরিত মুসলিম বাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক ছিলেন। তিনি পারস্য সেনাপতি রুস্তমের সাথে কথা বলছিলেন। যখন রুস্তম তাঁকে প্রশ্ন করল: "তোমাদের আসার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন যেন আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে বান্দার ইবাদত থেকে সরিয়ে আল্লাহর ইবাদতের দিকে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে তার প্রশস্ততার দিকে এবং ধর্মসমূহের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের করে নিয়ে আসতে পারি। তাই তিনি তাঁর সৃষ্টিজীবের নিকট তাঁর দ্বীনসহ আমাদের পাঠিয়েছেন যেন আমরা তাদেরকে এর দিকে আহ্বান করি। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, আমরা তার পক্ষ থেকে তা কবুল করব এবং তার দেশ থেকে ফিরে যাব। আর যে তা অস্বীকার করবে, আমরা তার বিরুদ্ধে লড়াই করব যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর প্রতিশ্রুত স্থানে পৌঁছাই। রুস্তম জিজ্ঞেস করল: আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কী? তিনি বললেন: যারা এই অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মারা যাবে তাদের জন্য জান্নাত, আর যারা বেঁচে থাকবে তাদের জন্য বিজয়।" .. (১)।
- লক্ষ্যের স্পষ্টতা:
তাদের লক্ষ্য - রাদিয়াল্লাহু আনহুম - তাদের সামনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ছিল, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর জান্নাতে পৌঁছানোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হতো
… জান্নাত তাঁদের চোখের সামনে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল, ফলে জান্নাতের প্রতি তাঁদের ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এর ফলে সেখানে প্রবেশের জন্য আমল করার প্রেরণা বেড়ে গিয়েছিল ..
আমার সাথে হারাম বিন মিলহান (রা.)-এর ঘটনাটি নিয়ে চিন্তা করুন, যিনি বির-এ-মাউনায় শহীদ হওয়া ক্বারীগণের (قرّاء) একজন ছিলেন
… তিনি আল্লাহর শত্রু আমির বিন তুফাইলের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। সে পত্রটির দিকে না তাকিয়েই এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিল, যে পেছন থেকে তাঁকে বর্শা দিয়ে আঘাত করল। বর্শাটি যখন তাঁর শরীর ভেদ করে চলে গেল এবং তিনি রক্ত দেখতে পেলেন, তখন হারাম (রা.) বললেন: "আল্লাহু আকবার, কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি।"
বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করতে দাঁড়িয়ে তাঁদের বললেন: (সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আজ যে ব্যক্তি ধৈর্যশীল ও সওয়াবের প্রত্যাশী হয়ে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং নিহত হবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)। তিনি যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে আরও বললেন: (তোমরা ওঠো সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিন সমান), তখন উমাইর বিন আল-হুমাম বললেন: "বাহ্ বাহ্", রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তোমাকে বাহ্ বাহ্ বলতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?) তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম, আমি কেবল এই প্রত্যাশায় তা বলেছি যে আমি এর অধিবাসী হতে পারব", তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই তুমি এর অধিবাসী)। অতঃপর তিনি তাঁর তূণ থেকে কয়েকটি খেজুর বের করে তা খেতে লাগলেন, তারপর বললেন: "আমি যদি এই খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে তা হবে দীর্ঘ জীবন", অতঃপর তাঁর সাথে থাকা খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন।
অনুরূপভাবে আফরা-র পুত্র আউফ বিন আল-হারিস তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল, কোন কাজ রবকে তাঁর বান্দার প্রতি হাসায়!" তিনি বললেন: (বর্ম ছাড়াই শত্রুর মাঝে নিজের হাত ডুবিয়ে দেওয়া [ঝাঁপিয়ে পড়া]), তখন তিনি তাঁর গায়ে থাকা বর্মটি খুলে ছুঁড়ে মারলেন এবং তরবারি হাতে নিয়ে দলের সাথে যুদ্ধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন (২)।
আর এই যে জাফর বিন আবি তালিব (রা.), তিনি মুতার যুদ্ধে তাঁর ঘোড়ার পা কেটে দেন এবং রোমানদের সাথে লড়াই করতে করতে শহীদ হন, যখন তিনি বলছিলেন:
ওহ, কতই না প্রিয় জান্নাত এবং তার নৈকট্য
… পবিত্র এবং সুশীতল তার পানীয়
রোমানদের জন্য আযাব ঘনিয়ে এসেছে
… তারা কাফির এবং তাদের বংশমর্যাদা সুদূর
তাদের মোকাবিলায় তাদের আঘাত করা আমার জন্য আবশ্যক (৩)
অষ্টম: ধৈর্য ও অবিচলতা(এক ধৈর্যশীল প্রজন্ম)
বিজয় ও সক্ষমতার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রজন্মের অন্যতম মৌলিক গুণ হলো এই যে, এটি একটি ধৈর্যশীল প্রজন্ম .. যা সকল চাপ সহ্য করে, সকল বাধা অতিক্রম করে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে আসা সকল পরীক্ষা ও বিপদের সামনে অটল থাকে।
এই প্রজন্মের সন্তানেরা জানতেন যে, তাঁদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ পুষ্পশোভিত নয়, বরং তা কঠিন, তিক্ত ও দীর্ঘ
… কণ্টকাকীর্ণ ও বাধাবিপত্তিতে পূর্ণ
… এর দুই পাশে মানুষ ও জিনের শয়তানরা ওঁত পেতে আছে যারা এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য এবং তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, যে লক্ষ্যের জন্য তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে, অর্থাৎ তাদের মাওলার সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ করা।
এই প্রজন্মের সন্তানেরা পথের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতেন, তাই তাঁরা নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করেছিলেন এবং তাঁদের রবের আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা তাঁর সাথে এই পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন; হয় তাঁরা তাঁদের মাওলার পথে ধৈর্যশীল ও অঙ্গীকারে অটল মুজাহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেন, অথবা তাঁদের লক্ষ্যে পৌঁছাবেন: {মু’মিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের মানত পূর্ণ করেছে, আবার কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি।} (সূরা আল-আহযাব: ২৩)।
--------------------------------------------