(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: -)
أصول الفقه الذي لا يسع الفقيه جهله   (عياض السلمي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: أصُولُ الِفقهِ الذي لا يَسَعُ الفَقِيهَ جَهُلهُ

المؤلف: عياض بن نامي السلمي

الناشر: دار التدمرية، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 494

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1432

উসুলুল ফিকহ যা কোনো ফকিহ-র পক্ষে অজানা থাকা সম্ভব নয়   (আয়াদ আস-সুলামী)

বিষয়: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: উসুলুল ফিকহ যা কোনো ফকিহ-র পক্ষে অজানা থাকা সম্ভব নয়

লেখক: আয়াদ বিন নামী আস-সুলামী

প্রকাশক: দার আত-তাদমুরিয়্যাহ، রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩২

(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: -)
أصول الفقه

الذي لا يسع الفقيهَ جهلُه

 

تأليف

أ. د. عياض بن نامي السلمي

عضو هيئة التدريس بقسم أصول الفقه

بكلية الشريعة بالرياض
উসুলুল ফিকহ

যা কোনো ফকিহর অজানা থাকা অনুচিত

 

রচনায়

প্রফেসর ড. ইয়াদ বিন নামি আল-সুলামি

উসুলুল ফিকহ বিভাগের শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য

শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদ
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله الذي بحمده تتم الصالحات، وترفع الدرجات، أحمده على آلائه ونعمه، وأعوذ به من عذابه وغضبه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، بعثه الله بالحق بشيراً ونذيراً، فبشر ويسر، وحذر وأنذر، حتى تركنا على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه واقتفى أثره إلى يوم الدين.

أما بعد: فقد طلب مني كثير من الإخوان في مناسبات عديدة أن أكتب كتاباً في أصول الفقه يكون متوسطاً في حجمه، جامعاً لأهم مسائل هذا العلم، مع وضوح العبارة وضرب الأمثلة التي تقربه للفهم وتظهر فوائده لطلاب العلم.

وقد رأيت أن أجيب طلبهم بتأليف كتاب يحتوي على ما لا يستغني عنه الفقيه من أصول الفقه، مع تجنب الإطالة في مسائل الخلاف، والاكتفاء بالأقوال المشهورة وأهم أدلتها، والعناية ببيان حقيقة الخلاف، وتصحيح ما يقع من الوهم أو سوء الفهم للمشتغلين بهذا العلم في تحرير مسائله وتقريرها وتصويرها.

وقد عُنيتُ عنايةً خاصة بثمرات الخلاف، والوقوف عند بعض القضايا الشائكة وتحريرها وتقريبها للفهم، وقد أخالف ما عليه أكثر الأصوليين في اختيار رأي أو تعريف، أو نحو ذلك، لا رغبةً في المخالفة، ولكن إيضاحاً لما أعتقده من الحق، أو تصحيحاً لخطأ نشأ عن سوء الفهم أو تضارب النقول عن أئمة الأصول.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমেই যাবতীয় সৎকাজ সম্পন্ন হয় এবং মর্যাদাসমূহ বৃদ্ধি পায়। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর দান ও নিআমতসমূহের ওপর, এবং তাঁর নিকট আশ্রয় চাই তাঁর আযাব ও ক্রোধ থেকে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহ তাঁকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন ও সহজ করেছেন এবং সাবধান ও সতর্ক করেছেন, এমনকি তিনি আমাদের এক সুস্পষ্ট উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর: অনেক ভাই বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি উসূলে ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির ওপর এমন একটি বই লিখি যা আকারে হবে মাঝারি এবং এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর সংকলন হবে। সেই সাথে এর ভাষা হবে সহজবোধ্য এবং এতে উদাহরণ দেওয়া হবে যা একে সহজে বুঝতে সাহায্য করবে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট এর উপকারিতা ফুটিয়ে তুলবে।

আমি তাঁদের অনুরোধ রক্ষা করা সমীচীন মনে করেছি এমন একটি বই রচনার মাধ্যমে, যাতে উসূলে ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির সেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা থেকে একজন ফকীহ বিমুখ থাকতে পারেন না। এতে মতবিরোধপূর্ণ মাসআলাগুলোতে দীর্ঘ আলোচনা বর্জন করা হয়েছে এবং কেবল প্রসিদ্ধ মতসমূহ ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দলীলগুলো উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে। পাশাপাশি মতবিরোধের প্রকৃত রূপ বর্ণনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এই শাস্ত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন, উপস্থাপন ও চিত্রায়নের ক্ষেত্রে যেসব বিভ্রান্তি বা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, তা সংশোধনের চেষ্টা করা হয়েছে।

আমি মতবিরোধের ফলাফলের (ছামারা) প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি এবং কিছু জটিল বিষয়ের গভীরে গিয়ে সেগুলো বিশ্লেষণ করে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেছি। কোনো মত বা সংজ্ঞা পছন্দ করার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ উসূলবিদদের বিপরীত অবস্থান নিতে পারি; এটা বিরোধিতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং আমি যা সত্য মনে করি তা স্পষ্ট করার জন্য অথবা ভুল বুঝাবুঝি কিংবা উসূলের ইমামদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার পরস্পর বিরোধিতার কারণে সৃষ্ট কোনো ভুল সংশোধনের জন্য।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد اجتهدتُ في أن يكون الكتاب شاملاً للمناهج التي تدرس في كليات الشريعة وأصول الدين في الجامعات السعودية؛ رجاء أن يكون الطلابُ أولَ المستفيدين منه.

وليشمل الكتاب جميع المسائل المهمة في أصول الفقه قسمته إلى تمهيد وستة أبواب وخاتمة، على النحو التالي:

التمهيد: التعريف بأصول الفقه.

الباب الأول: الحكم الشرعي.

الباب الثاني: أدلة الأحكام الشرعية.

الباب الثالث: دلالة الألفاظ.

الباب الرابع: التعارض وطرق دفعه.

الباب الخامس: الاجتهاد.

الباب السادس: التقليد.

وقد رأيت أن لا أثقل الكتاب بالهوامش والحواشي، فاقتصرت على توثيق المعلومات التي لا يتكرر وجودها في كتب التخصص، أو التي فيها شيء من الغرابة.

وفي تخريج الأحاديث اقتصرت على عزو الحديث لمن خرَّجه في الصلب، وإذا خُرّج في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت به.

واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم.

والحمد لله أولا وآخرا. وصلى الله وسلم على رسوله وآله وصحبه أجمعين.

عياض السلمي

الرياض 1/ 1/1426هـ
আমি এই কিতাবটিকে এমনভাবে ব্যাপক করার প্রচেষ্টা করেছি যাতে এটি সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শরীয়াহ এবং উসুলুদ্দিন অনুষদসমূহে পঠিত পাঠ্যক্রমসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে; এই আশায় যে ছাত্ররাই যেন এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম উপকৃত হতে পারে।

কিতাবটি যাতে উসুলুল ফিকহের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহকে শামিল করে, সে লক্ষ্যে আমি একে একটি ভূমিকা, ছয়টি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: উসুলুল ফিকহের পরিচয়।

প্রথম অধ্যায়: শরয়ী বিধান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: শরয়ী বিধানের দলীলসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: শব্দের তাৎপর্য।

চতুর্থ অধ্যায়: বৈপরীত্য এবং তা নিরসনের পদ্ধতিসমূহ।

পঞ্চম অধ্যায়: ইজতিহাদ।

ষষ্ঠ অধ্যায়: তাকলীদ।

আমি কিতাবটিকে টীকা ও পাদটীকা দ্বারা ভারাক্রান্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই আমি কেবল সেই তথ্যগুলোর উৎস উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহে সচরাচর পাওয়া যায় না, অথবা যেগুলোর মধ্যে কিছুটা বিরলতা রয়েছে।

হাদিসের তাখরীজের ক্ষেত্রে আমি মূল পাঠেই হাদিসটি যিনি সংকলন করেছেন তার উদ্ধৃতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি তা সহীহাইন অথবা এর যেকোনো একটিতে সংকলিত হয়ে থাকে, তবে আমি সেটুকুই যথেষ্ট মনে করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।

ইয়াদ আস-সুলামী

রিয়াদ ১/১/১৪২৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التمهيد

التعريف بأصول الفقه

1 -‌‌ نشأة أصول الفقه:

أصول الفقه ككثير من العلوم الإسلامية لم يأخذ شكله النهائي الذي يميزه عن سائر علوم الشريعة إلا في آخر القرن الثاني، أما في العهد النبوي وعهد الصحابة وأوائل عهد التابعين فلم يكن أصول الفقه علما مستقلا متميزا عن غيره من علوم الشريعة، ولكن قواعده العامة كانت موجودة منذ عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فالأدلة الشرعية التي هي موضوع هذا العلم الرئيس كانت معروفة، والاستدلال بالكتاب والسنة والقياس كان حاصلا في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ودلالة الكتاب والسنة كانت معروفة للصحابة ـ رضوان الله عليهم ـ بحكم معرفتهم بلغة العرب التي نزل بها القرآن وتكلم بها الرسول صلى الله عليه وسلم، فهم أمراء الفصاحة والبيان، وأعرف الناس بمعاني اللغة من حقيقة ومجاز، وإطلاق وتقييد، وعموم وخصوص، ومنطوق ومفهوم، ولم يكونوا بحاجة إلى أن توضع لهم قواعد تبين طرق الدلالات.

وهم بالإضافة إلى ما سبق قد عرفوا أسباب النزول، والظروف التي قيلت فيها الأحاديث القولية، وشهدوا الحوادث التي قضى فيها الرسول صلى الله عليه وسلم بقضاء أو سنَّ فيها سنة، فأغناهم ذلك عن كثير مما احتاج إليه المتأخرون، وكانوا يجمعون إلى ذلك سلامة النية وحسن القصد في طلب الحق من غير هوى ولا تعصب.

كان الصحابة رضي الله عنهم يفزعون إلى الرسول صلى الله عليه وسلم فيما يعرض لهم من الحوادث،
উপক্রমণিকা

উসুলুল ফিকহ-এর পরিচিতি

১ -‌‌ উসুলুল ফিকহ-এর উদ্ভব:

অন্যান্য অনেক ইসলামী শাস্ত্রের মতো উসুলুল ফিকহ-ও দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষভাগের আগে এমন পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেনি যা একে শরীয়তের অন্যান্য শাস্ত্র থেকে স্বতন্ত্র করে। তবে নবুওয়াতকাল, সাহাবীগণের যুগ এবং তাবেঈগণের প্রাথমিক যুগে উসুলুল ফিকহ শরীয়তের অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পৃথক কোনো স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে বিদ্যমান ছিল না। কিন্তু এর সাধারণ মূলনীতিসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। শরয়ী দলিলসমূহ, যা এই শাস্ত্রের প্রধান আলোচ্য বিষয়, তা সুপরিচিত ছিল। কিতাব, সুন্নাহ এবং কিয়াসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেই প্রচলিত ছিল। আর কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যগত তাৎপর্য সাহাবীগণের — রাদিয়াল্লাহু আনহুম — নিকট সুপরিচিত ছিল; কারণ তাঁরা সেই আরবী ভাষা সম্পর্কে জানতেন যে ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলেছেন। তাঁরা ছিলেন বিশুদ্ধ ভাষা ও বাগ্মিতার অধিপতি এবং শব্দের হাকীকত (আক্ষরিক) ও মাজায (রূপক), ইতলাক (অবারিত) ও তাকিদ (সীমাবদ্ধ), উমুম (সাধারণ) ও খুসুস (বিশেষ), এবং মানতুক (সুস্পষ্ট বক্তব্য) ও মাফহুম (উহ্য মর্মার্থ) সহ ভাষার বিবিধ অর্থ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। ভাষ্য বা দালালাত বুঝার পদ্ধতিসমূহ ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র মূলনীতি প্রণয়নের প্রয়োজন তাঁদের ছিল না।

পূর্বোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও তাঁরা শানে নুযূল (অহি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট) এবং রাসূলের বাচনিক হাদিসসমূহ কোন পরিস্থিতিতে বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। আর তাঁরা এমন সব ঘটনার সাক্ষী ছিলেন যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ফয়সালা দিয়েছেন অথবা কোনো সুন্নত প্রবর্তন করেছেন। ফলে এই জ্ঞান তাঁদেরকে এমন অনেক বিষয় থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছিল যা পরবর্তী প্রজন্মের লোকেদের প্রয়োজন হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁদের ছিল অন্তরের শুভ্রতা এবং কোনো প্রবৃত্তি বা গোঁড়ামি ছাড়াই সত্য অন্বেষণের সৎ উদ্দেশ্য।

কোনো ঘটনার সম্মুখীন হলে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসূলুল্লাহ সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরণাপন্ন হতেন,
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
فإن كان الحكم قد أوحي إليه به أفتاهم وأرشدهم، سواء أكان الوحي متلواً أم غير متلو، وإن لم ينزل عليه في ذلك وحي صريح نظر فيما أوحي إليه، فإن ظهر له حكم المسألة أخبرهم به وإلا انتظر الوحي الذي لا يلبث أن يأتيه عن قرب بحكم ما أشكل عليه.

سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصدقة بالحمر الأهلية، فقال: «ما أُنزل علي فيها شيء إلا هذه الآية الفاذة الجامعة: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ (7) وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة 7 - 8]» (متفق عليه).

فهذا استدلال من الرسول صلى الله عليه وسلم بعموم الكتاب على مسألة جزئية، ومثله إنكاره على أبي بن كعب رضي الله عنه تأخره عن إجابة ندائه لاشتغاله بالصلاة، واستدلاله عليه بعموم قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} [الأنفال 24] (أخرجه أحمد والترمذي)، ومثل هذه القصة ما حصل لأبي سعيد بن المعلى رضي الله عنه (أخرجه البخاري).

ومن اجتهاداته فيما لم يرد فيه نص بخصوصه ولا بعمومه اجتهاده في أخذ الفداء من أسرى بدر، وعقد الصلح مع أهل مكة عام الحديبية، وسيأتي لهذا مزيد بيان في باب الاجتهاد إن شاء الله تعالى.

وأما الصحابة رضوان الله عليهم بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانوا يجتهدون في فهم النصوص من الكتاب والسنة، ويسأل بعضهم بعضا فيما خفي عليه، ويقيسون المسائل بما يشبهها، ولم يكونوا بحاجة إلى وضع قواعد تضبط استدلالهم مع حضور تلك القواعد في أذهان المجتهدين منهم، وكذلك كان الحال في عهد كبار التابعين مع ظهور التفاضل بينهم في العلم والفتوى.

وفي أواخر عهد التابعين بدأت المدارس الفقهية تظهر قدرا أكبر من التمايز
যদি কোনো বিধান তাঁর নিকট ওহী করা হতো, তবে তিনি তাদের ফতোয়া দিতেন এবং পথনির্দেশ করতেন; ওহী পঠিত (কুরআন) হোক কিংবা অপঠিত (সুন্নাহ)। আর যদি সেই বিষয়ে তাঁর নিকট কোনো স্পষ্ট ওহী নাযিল না হতো, তবে তাঁর নিকট যা ওহী করা হয়েছে তাতে তিনি অনুসন্ধান করতেন। যদি বিষয়টির বিধান তাঁর কাছে স্পষ্ট হতো, তবে তিনি তাদের তা জানাতেন, অন্যথায় ওহীর অপেক্ষা করতেন যা শীঘ্রই তাঁর অস্পষ্ট বিষয়ের বিধান নিয়ে আসত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গৃহপালিত গাধা সদকা করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: "এই অনন্য ও ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি ছাড়া এ বিষয়ে আমার প্রতি আর কিছুই নাযিল হয়নি: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও সে দেখতে পাবে} [আল-যিলযাল: ৭-৮]" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এটি কিতাবের (কুরআনের) সাধারণ বাণী থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর দলিল গ্রহণের উদাহরণ। অনুরূপ উদাহরণ হলো উবাই ইবনে কাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর ডাকে সাড়া দিতে বিলম্ব করার কারণে তিরস্কার করা, কারণ তিনি সালাতে মশগুল ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর এই সাধারণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর ওপর দলিল পেশ করেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে} [আল-আনফাল: ২৪] (আহমাদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন)। অনুরূপ ঘটনা আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা রাযিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল (বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন)।

যে সব বিষয়ে কোনো বিশেষ বা সাধারণ নস (দলিল) ছিল না সেগুলোতে তাঁর ইজতিহাদের উদাহরণ হলো বদরের যুদ্ধবন্দীদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের ব্যাপারে তাঁর ইজতিহাদ এবং হুদাইবিয়ার বছরে মক্কাবাসীদের সাথে সন্ধি চুক্তি সম্পাদন। ইনশাআল্লাহ 'বাবুল ইজতিহাদ' বা ইজতিহাদ অধ্যায়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করতেন। কোনো বিষয় অস্পষ্ট হলে তাঁরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিষয়গুলোকে কিয়াস করতেন। তাঁদের দলিল গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো নিয়ম-কানুন বা মূলনীতি সংকলনের প্রয়োজন তাঁদের ছিল না, কারণ সেই মূলনীতিগুলো তাঁদের মুজতাহিদগণের হৃদয়ে (স্বভাবজাতভাবে) বিদ্যমান ছিল। অনুরূপ অবস্থা বড় বড় তাবিঈগণের যুগেও ছিল, যদিও তাঁদের মধ্যে ইলম ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে মর্যাদাগত পার্থক্য প্রকাশ পেয়েছিল।

তাবিঈগণের যুগের শেষ দিকে ফিকহী মাযহাবগুলোর মধ্যে পার্থক্যের মাত্রা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
والاختلاف، فبرز في العراق ما سمي أخيرا بمدرسة أهل الرأي، وبرز في المدينة ما عرف بمدرسة أهل الحديث (1). وكان طلاب الفتوى يترددون بين علماء هذا الاتجاه أو ذاك، وربما سأل بعضهم في النازلة أكثر من عالم من غير أن ينكر هؤلاء أو أولئك على عوام الناس سؤالهم لمن يثقون به.

وكان في كل بلد من حواضر الإسلام علماء يرجع إليهم الناس في الفتيا والقضاء، ولهؤلاء العلماء طلاب تأثروا بمنهجهم واقتفوا آثارهم وربما التقى العلماء فتناظروا وأدلى كل منهم بحجته، فإما أن يرجع أحدهم إلى قول صاحبه أو يبقى على رأيه لقناعته بصحته لا حبا في الخلاف، وربما التقى الطلاب فتفاخر كل منهم بأستاذه ومعلمه.

وفي هذه الأثناء بدأ التعصب لرأي الشيخ والإعجاب به يطغى على الإنصاف عند بعض الطلاب، ولم تكن هناك قواعد يرجع إليها لوزن الآراء ومعرفة الراجح منها والمرجوح.

وفي هذا الوقت كثر اختلاط العجم بالعرب، وضعف اللسان العربي، ودخل الوضع في الحديث لنصرة مذهب سياسي أو لتأييد رأي، وتصدر للرواية من لم يكن أهلا، واحتاج القرآن إلى تفسير وإيضاح، واحتاجت السنة إلى تمييز الصحيح منها عن الضعيف.

ولذلك كله شرع الإمام الشافعي رحمه الله في وضع قواعد تضبط الاستدلال، وتبين ما يصلح دليلا وما لا يصلح، وتبين عمل الفقيه عند تعارض الأدلة عنده، وتؤسس قواعد الفهم لنصوص الكتاب والسنة، فكتب الرسالة، وجعلها بمثابة مقدمة لكتاب الأم، فتلقاها أكثر الناس بالقبول وأعجبوا بها

--------------------------------------------

(1) في معالم السنن: انقسام أهل الزمان إلى أهل حديث وأثر، وأهل فقه ونظر.
এবং মতভেদ; ফলে ইরাকে এমন এক ধারা আত্মপ্রকাশ করল যা পরবর্তীতে ‘আহলুর রায়’ (যুক্তিপন্থী) মাযহাব হিসেবে অভিহিত হলো এবং মদিনায় ‘আহলুল হাদিস’ (হাদিসপন্থী) মাযহাব হিসেবে পরিচিত ধারার উদ্ভব ঘটল (১)। ফতোয়া অন্বেষণকারীরা এই বা ওই মতাদর্শের আলেমদের কাছে যাতায়াত করতেন। কখনও কখনও কোনো উদ্ভূত সমস্যার ক্ষেত্রে তাদের কেউ কেউ একাধিক আলেমকে প্রশ্ন করতেন; আর তারা (আলেমরা) সাধারণ মানুষের আস্থভাজন কাউকে প্রশ্ন করার বিষয়টিকে অস্বীকার বা নিন্দা করতেন না।

ইসলামের প্রতিটি প্রধান জনপদে এমন আলেমগণ ছিলেন যাদের কাছে মানুষ ফতোয়া ও বিচারকার্যের জন্য শরণাপন্ন হতো। এই আলেমদের এমন একদল ছাত্র ছিল যারা তাদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করত। কখনও কখনও আলেমদের মধ্যে সাক্ষাৎ হতো এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হতেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ দলিল পেশ করতেন; ফলে হয় তাদের কেউ তার সঙ্গীর মতের দিকে ফিরে আসতেন অথবা নিজের মতের সঠিকতার বিষয়ে দৃঢ়বিশ্বাসের কারণে তাতেই অটল থাকতেন, মতভেদের প্রতি অনুরাগের বশবর্তী হয়ে নয়। কখনও ছাত্ররা একত্রিত হয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ উস্তাদ ও শিক্ষককে নিয়ে গর্ব করত।

এই সময়ে কিছু ছাত্রের মধ্যে শাইখের মতের প্রতি গোঁড়ামি এবং তার প্রতি অতিমুগ্ধতা ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সে সময় মতামতের গুরুত্ব যাচাই এবং এর মধ্যে কোনটি অগ্রগণ্য আর কোনটি বর্জনীয় তা জানার জন্য প্রত্যাবর্তন করার মতো কোনো মূলনীতি ছিল না।

এই সময় অনারবদের সাথে আরবদের মেলামেশা বৃদ্ধি পায় এবং আরবি ভাষার প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মাযহাবকে বিজয়ী করতে বা কোনো বিশেষ মতকে সমর্থন যোগাতে হাদিস জাল করার প্রবণতা অনুপ্রবেশ করে। এছাড়া যারা যোগ্য নন এমন ব্যক্তিরা হাদিস বর্ণনায় অগ্রণী হয়ে ওঠেন। ফলে কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং সুন্নাহর মধ্য থেকে সহিহ ও জয়িফ (দুর্বল) হাদিস পৃথক করার আবশ্যকতা তৈরি হয়।

এসব কারণেই ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি সুসংহত করতে এবং কোনটি দলিল হিসেবে যোগ্য আর কোনটি অযোগ্য তা স্পষ্ট করতে কিছু মূলনীতি প্রণয়ন শুরু করেন। এছাড়া দলিলের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য দেখা দিলে ফকিহ বা ফিকাহবিদের করণীয় কী হবে তা বর্ণনা করেন এবং কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর পাঠসমূহ (নস) বোঝার মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর তিনি ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এটিকে ‘কিতাবুল উম্ম’-এর ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেন। অধিকাংশ মানুষ এটি সানন্দে গ্রহণ করেন এবং এর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

--------------------------------------------

(১) ‘মাআলিমুস সুনান’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: সমকালীন ব্যক্তিবর্গ আহলুল হাদিস ও আসার (হাদিস ও বর্ণনাপন্থী) এবং আহলুল ফিকহ ও নাজার (ফিকহ ও যুক্তিপন্থী)—এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
حتى قال الإمام أحمد: «ما أحد من أصحاب الحديث حمل محبرة إلا وللشافعي عليه مِنَّة، فقلنا: يا أبا محمد كيف ذلك؟ قال: إن أصحاب الرأي كانوا يهزأون بأصحاب الحديث حتى علمهم الشافعي وأقام عليهم الحجة» (1). ولم يكن كتاب الرسالة هو كل ما كتبه الشافعي في أصول الفقه، بل كتب كتبا أخرى لكنها لم تكن في شمول الرسالة ولا في تمحضها لمسائل هذا العلم، ومن تلك الكتب اختلاف الحديث، وإبطال الاستحسان، وجماع العلم، وكتاب أحكام القرآن (2).

وبعد الإمام الشافعي تتابع التأليف في هذا العلم فكتب الإمام أحمد بن حنبل كتاب طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم، وكتب داود الظاهري: الإجماع، وإبطال التقليد، وخبر الواحد، والخصوص والعموم، وكتب عيسى بن أبان كتابا في خبر الواحد، وكتب الكرخي رسالة في أصول الفقه طبعت مع كتاب تأسيس النظر لأبي زيد الدبوسي وهي تقع في ورقات قليلة أشبه بقواعد فقهية لعلماء الحنفية، ومن أقدم كتب الحنفية الموجودة: الفصول، لأبي بكر الجصاص، وهو مطبوع محقق.

وكان القرنان الخامس والسادس هما عصر ازدهار التأليف في أصول الفقه، حيث ظهرت فيهما أهم كتب أصول الفقه مثل العمد للقاضي عبد الجبار، والمعتمد لأبي الحسين البصري، واللمع، والتبصرة كلاهما لأبي إسحاق الشيرازي، والعدة للقاضي أبي يعلى، والمستصفى، والمنخول، وشفاء الغليل للغزالي، والواضح لابن عقيل، والتمهيد لأبي الخطاب الكلوذاني، وأصول السرخسي، وأصول البزدوي، وإحكام الفصول، والإشارة، لأبي الوليد الباجي.

--------------------------------------------

(1) الانتقاء لابن عبد البر ص 86.

(2) البحر المحيط 1/ 7.
এমনকি ইমাম আহমাদ বলেছেন: «হাদিস বিশারদদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে দোয়াত বহন করেছেন অথচ তার ওপর শাফি'য়ীর অনুগ্রহ নেই। তখন আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: হে আবু মুহাম্মাদ, এটি কীভাবে হলো? তিনি বললেন: রায়-পন্থীরা (যুক্তিনির্ভর ফকিহগণ) হাদিস বিশারদদের নিয়ে উপহাস করত, যতক্ষণ না শাফি'য়ী তাদের শিক্ষা দিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল পেশ করলেন» (১)। 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি উসূলুল ফিকহ বিষয়ে ইমাম শাফি'য়ীর রচিত একমাত্র গ্রন্থ ছিল না, বরং তিনি আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে সেগুলো 'আর-রিসালাহ' এর মতো এত ব্যাপক ছিল না এবং কেবল এই শাস্ত্রের বিষয়াবলীর ওপর নিবিড়ভাবে রচিতও ছিল না। সেই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'ইখতিলাফুল হাদিস', 'ইবতালুল ইসতিহসান', 'জিমাউল ইলম' এবং 'আহকামুল কুরআন' (২)।

ইমাম শাফি'য়ীর পর এই শাস্ত্রের ওপর লেখালেখি অব্যাহত থাকে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল 'তাত আর-রাসুল' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গ্রন্থটি রচনা করেন। দাউদ আজ-জহিরি রচনা করেন: 'আল-ইজমা', 'ইবতালুত তাকলীদ', 'খবরুল ওয়াহিদ' এবং 'আল-খুসস ওয়াস উমুম'। ঈসা ইবনে আবান 'খবরুল ওয়াহিদ' বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখেন এবং আল-কারখি উসূলুল ফিকহ বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেন যা আবু জায়েদ আদ-দাব্বুসীর 'তাসিসুন নাজর' গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে। এটি মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা যা হানাফি আলেমদের ফিকহী মূলনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। হানাফি মাযহাবের বিদ্যমান প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবু বকর আল-জাসসাস রচিত 'আল-ফুসুল', যা সম্পাদিত আকারে মুদ্রিত।

পঞ্চম এবং ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দী ছিল উসূলুল ফিকহ রচনার স্বর্ণযুগ। এই সময়েই উসূলুল ফিকহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো আত্মপ্রকাশ করে, যেমন: কাজী আব্দুল জব্বারের 'আল-উমাদ', আবুল হুসাইন আল-বসরীর 'আল-মুতামাদ', আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর 'আল-লুমা' এবং 'আত-তাবসিরাহ', কাজী আবু ইয়া'লার 'আল-উদ্দাহ', আল-গাজালীর 'আল-মুসতাসফা', 'আল-মানখুল' ও 'শিফাউল গালীল', ইবনে আকীলের 'আল-ওয়াদিহ', আবু খাত্তাব আল-কালওয়াজানীর 'আত-তামহীদ', সারখাসীর 'উসূলে সারখাসী', বাজদাবীর 'উসূলে বাজদাবী' এবং আবুল ওয়ালিদ আল-বাজীর 'ইহকামুল ফুসুল' ও 'আল-ইশারা'।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইনতিকা, পৃষ্ঠা ৮৬।

(২) আল-বাহরুল মুহীত ১/ ৭।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي أواخر القرن السادس وما بعده انتشرت المختصرات والشروح، فأما المختصرات فكان القصد منها الحفظ وجمع أكبر قدر من المسائل الأصولية في كتاب صغير يمكن حفظه. وأما الشروح فكان القصد منها حل ما في المختصرات من إشكال، وتفصيل ما فيها من إجمال، وتقريب المسائل بضرب الأمثلة وبيان الراجح من الأقوال بذكر الأدلة.

وفي العصر الحديث ضعفت همم الناس عن حفظ المختصرات، وقصرت أفهامهم عن إدراك ما فيها من المبهمات، ولم يجدوا من الوقت ما يقضونه في دراسة المطولات، من الشروح والمؤلفات، فاحتاجوا إلى نوع جديد من المؤلفات، يكون سهل العبارة محصلا للمقصود من أصول الفقه بأيسر طريق.

ولما كان أصول الفقه من علوم الآلة لا من العلوم التي تقصد لذاتها وإنما للتوصل إلى الفقه في الدين ومعرفة الحلال من الحرام بطريق يطمئن إليها العالم ويقتنع بها طالب العلم، لم أر بأساً من الإسهام في إعادة صياغة هذا العلم بأسلوب ميسر، مع المحافظة على أسسه وقواعده، ومحاولة التقريب بينه وبين الفقه، ليمتزج العلمان فتؤخذ الثمرة من المثمِر طرية يانعة.

وما يتخوّف منه بعض الغيورين من ابتعاد الناس عن كتب التراث وجهلهم بلغتها وأسلوبها إن هم اكتفوا بتلك المؤلفات الحديثة، لا أرى له ما يؤيده من النقل ولا من العقل؛ فإن النقل إنما جاء بالأمر بالتفقه في الدين ومعرفة حكم الله جل وعلا بالطريق الصحيح والعمل به: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة 122] «رحم الله امرأ سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها»، ولم يتعبدنا الله جل وعلا بقراءة كتاب غير كتابه ولا بحفظ كلام سوى كلامه، ولم يتعبدنا الله بالاجتهاد في فهم معميات المختصرات، ولا بالاجتهاد في منطوق
ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং পরবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ (মুখতাসার) ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরহ) প্রসার ঘটে। সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর উদ্দেশ্য ছিল হিফজ করা এবং ক্ষুদ্র পরিসরের বইয়ে সর্বাধিক সংখ্যক উসূলি মাসআলা একত্র করা যা সহজে মুখস্থ করা যায়। আর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের জটিলতা নিরসন করা, তার সারসংক্ষেপের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া এবং উদাহরণ পেশ ও দলীল আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগণ্য মতগুলো স্পষ্ট করে মাসআলাগুলোকে বোধগম্য করে তোলা।

বর্তমান যুগে সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহ মুখস্থ করার ক্ষেত্রে মানুষের উদ্যম স্তিমিত হয়ে পড়েছে এবং সেগুলোর অস্পষ্ট বিষয়াবলি অনুধাবনে তাদের বোধশক্তিও হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও রচনাবলি অধ্যয়নের পেছনে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত সময়ও তাদের নেই। ফলে এমন এক নতুন ধরণের রচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে যার ভাষা হবে সহজ এবং যা সংক্ষিপ্ততম উপায়ে উসূলে ফিকহের মূল উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হবে।

যেহেতু উসূলে ফিকহ কোনো স্ব-উদ্দেশ্যমূলক বিজ্ঞান নয়, বরং এটি একটি যান্ত্রিক বিজ্ঞান (উলূমুল আ'লা) যার লক্ষ্য হলো দ্বীনী গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করা এবং এমন এক পদ্ধতিতে হালাল ও হারামের পরিচয় লাভ করা যাতে একজন আলেম আশ্বস্ত হতে পারেন এবং একজন শিক্ষার্থী পরিতৃপ্ত হতে পারেন; তাই আমি এই ইলমের মূলভিত্তি ও মূলনীতিসমূহ রক্ষা করে একে সহজ পদ্ধতিতে পুনঃবিন্যাস করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা বোধ করিনি। আমি একে ফিকহের সাথে এমনভাবে নিকটবর্তী করার প্রয়াস পেয়েছি যাতে উভয় ইলম মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় এবং ফলবান বৃক্ষ থেকে সতেজ ও পরিপক্ক ফল আহরণ করা যায়।

কিছু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মানুষ যদি এই আধুনিক রচনাবলির ওপর নির্ভর করে তবে তারা তুরাথ বা ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহ থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে এবং সেগুলোর ভাষা ও শৈলী সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাবে—আমি তাদের এই আশঙ্কার সপক্ষে কুরআন-সুন্নাহর কোনো দলীল কিংবা যুক্তিনির্ভর কোনো প্রমাণ দেখি না। কেননা শরীয়তের দলীলসমূহ তো এসেছে দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করার জন্য এবং সঠিক পদ্ধতিতে মহান আল্লাহর বিধান জেনে সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য: {তবে কেন তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে একটি ছোট দল বের হলো না যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের জাতির কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} [আত-তাওবাহ ১২২]। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা স্মরণ রেখেছে এবং যেভাবে শুনেছে সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।" মহান আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব তিলাওয়াত করার কিংবা তাঁর কালাম ব্যতীত অন্য কারও কথা মুখস্থ করার মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করতে আমাদের নির্দেশ দেননি। মহান আল্লাহ আমাদের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের জটিল রহস্য উন্মোচনে সাধনা করা কিংবা শব্দের বাহ্যিক অর্থের গবেষণায়...
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১০)
كلام أحد من خلقه ومفهومه إلا كلام رسوله صلى الله عليه وسلم الذي هو حجة يجب تأملها والنظر فيها وفق ما تقرر من قواعد الفهم والاستدلال.

وأما العقل فإنه يقتضي ضرورة البحث عن الحق بأيسر وسيلة وأقربها، وأن لا يضيع الإنسان عمره في سلوك الدروب المتعرجة مع تمكنه من الوصول إلى الغاية بالطريق المستقيم.

وليس معنى هذا الكلام الدعوة إلى ترك كتب المتقدمين والاكتفاء عنها بكتب المتأخرين، وإنما المقصود أن لا يظن من لم يسعفه ذهنه بإدراك كتب المتقدمين أن الطريق أمامه موصدة فيرضى بمرتبة التقليد، بل عليه أن يعرف مما كتبه المحدثون ما يمكنه من الاختيار والترجيح، ويعينه على معرفة القول الباطل من الصحيح.

2 -‌‌ تعريف أصول الفقه:

لا أظن أن هذا العلم بعد اشتهاره وكثرة المؤلفات فيه بحاجة إلى تعريف، فهو أشهر من أن يعرف، ولكن العادة جرت بأن كل من كتب في أصول الفقه يذكر تعريفه، إما لأن هذا العلم متداخل مع علوم شتى من علوم الشريعة مثل الفقه والحديث والتفسير، ومتداخل مع علوم اللغة كعلم المعاني والبيان والنحو، وإما لأن الذين كتبوا في هذا العلم من المتقدمين اعتادوا أن يذكروا تعريفه لأنه لم يتميز في عهدهم تميزا كاملا عن غيره من العلوم ثم جاء من بعدهم فقلدهم، وإما لأنهم تأثروا بما يقوله أهل المنطق من أنه يجب على كل من درس علما أن يعرف تعريفه وموضوعه وغايته، ثم يشرع في تعلم مسائله.

وإرضاء لرغبة عامة طلاب العلم أذكر التعريف المختار لهذا العلم بالنظر إلى كونه مركباً إضافياً، وبالنظر إلى كونه عَلَماً على عِلم مخصوص من علوم الشريعة.
সৃষ্টির কারো কথা এবং তার মর্ম (পরিপূর্ণ দলিল নয়), কেবল তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ব্যতীত, যা একটি অকাট্য দলিল। অনুধাবন ও দলিল প্রয়োগের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী তা গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

আর বিবেক-বুদ্ধির দাবি হলো, সত্যকে সহজতম ও নিকটতম পন্থায় অনুসন্ধান করা। লক্ষ্যপানে পৌঁছানোর জন্য যখন সরল পথ বিদ্যমান থাকে, তখন আঁকাবাঁকা পথে চলে মানুষের নিজের জীবন নষ্ট করা উচিত নয়।

এই কথার অর্থ পূর্ববর্তী আলিমদের কিতাব বর্জন করা এবং তাদের পরিবর্তে পরবর্তী আলিমদের কিতাবের ওপর তুষ্ট থাকা নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো, যার মেধা পূর্ববর্তীদের কিতাব অনুধাবনে সহায়তা করে না, সে যেন এটা মনে না করে যে তার সামনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং সে যেন অন্ধ অনুকরণের স্তরেই সন্তুষ্ট না থাকে। বরং আধুনিক লেখকদের লেখা থেকে তার সেই বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত যা তাকে যাচাই-বাছাই ও অগ্রাধিকার প্রদানের সক্ষমতা দান করবে এবং যা তাকে সঠিক ও ভুল মতের পার্থক্যে সহায়তা করবে।

২ -‌‌ উসূলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা:

আমার মনে হয় না যে, এই শাস্ত্রটি প্রসিদ্ধি লাভ করার এবং এতে বিপুল পরিমাণ গ্রন্থ রচিত হওয়ার পর নতুন করে সংজ্ঞায়নের প্রয়োজন আছে; কারণ এটি সংজ্ঞায়িত হওয়ার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ। তবুও একটি প্রথা চলে আসছে যে, উসূলুল ফিকহ নিয়ে যারা লেখেন তারা এর সংজ্ঞা উল্লেখ করেন। এর কারণ হতে পারে এই শাস্ত্রটি শরীয়তের নানাবিধ শাস্ত্র যেমন— ফিকহ, হাদীস ও তাফসীরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং ভাষাতত্ত্বের বিভিন্ন শাখা যেমন— মা‘আনী, বায়ান ও নাহুর সাথেও সম্পৃক্ত। অথবা কারণ হতে পারে যে, এই শাস্ত্রে যারা পূর্বকালে লিখেছেন তারা এর সংজ্ঞা প্রদান করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন, কারণ তাদের যুগে এটি অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পুরোপুরি স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত ছিল না; অতঃপর পরবর্তীরা এসে তাদের অনুসরণ করেছেন। অথবা এমনও হতে পারে যে, তারা যুক্তিবিদদের এই মতের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো শাস্ত্র অধ্যয়ন করবে তার জন্য সেই শাস্ত্রের সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় ও লক্ষ্য জানা আবশ্যক, এরপর সে তার মাসআলাগুলো শেখা শুরু করবে।

সাধারণ জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি এই শাস্ত্রের জন্য মনোনীত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করছি— প্রথমত সম্বন্ধযুক্ত পদ হিসেবে এর গঠন বিবেচনা করে, এবং দ্বিতীয়ত শরীয়তের একটি বিশেষ শাস্ত্রের নাম বা পরিভাষা হিসেবে এর বিশেষত্ব বিবেচনা করে।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
أـ …‌‌ تعريف أصول الفقه بالنظر الأول:

أصول الفقه مركب من مضاف ومضاف إليه، وتعريفه يقتضي معرفة جزءيه، والمضاف إليه آصل من المضاف، فينبغي أن نعرفه أولا ثم نعرف المضاف.

تعريف الفقه:

الفقه في اللغة: الفهم، أو هو معرفة باطن الشيء والوصول إلى أعماقه، كما يقول الراغب الأصفهاني في المفردات، أو هو فهم الأشياء الدقيقة، ومنه قوله تعالى: {وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء44] {قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ} [هود91].

وفي الاصطلاح: «العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية».

شرح التعريف:

قولهم: (العلم): جنس، يشمل العلم بالأحكام الشرعية وبغيرها من التصورات والأحكام. والمراد به هنا مطلق الإدراك الشامل للظن واليقين. وليس المراد به الإدراك القطعي اليقيني؛ لأن كثيرا من مسائل الفقه ظنية، بل إن من العلماء من خص الفقه بمعرفة المسائل الاجتهادية ولم يجعل المسائل الظاهرة التي يشترك في معرفتها العامة والخاصة من الفقه. أو يقال: المراد بالعلم مجموعة المعارف المندرجة تحت هدف كلي واحد، كما يقال: علم الطب، وعلم الفلك، مع أن كثيرا من قضاياهما ظني. وهذا أولى من جواب الرازي الذي زعم فيه أن الفقه ليس من باب الظنون؛ لأنه مبني على مقدمتين قطعيتين فيكون قطعياً.
অ— ...‌‌ প্রথম দৃষ্টিকোণ থেকে উসূলে ফিকহের সংজ্ঞা:

উসূলে ফিকহ হলো মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এবং মুদাফ ইলাইহি (যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে) এর একটি যৌগিক রূপ। এর সংজ্ঞা প্রদান করার জন্য এর উভয় অংশ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আর মুদাফ ইলাইহি হলো মুদাফ-এর মূল বা ভিত্তি, তাই প্রথমে আমাদের সেটি জানা উচিত এবং এরপর মুদাফ সম্পর্কে জানা উচিত।

ফিকহের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ফিকহ: কোনো কিছু অনুধাবন করা, অথবা কোনো বিষয়ের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা এবং এর গভীরে পৌঁছানো, যেমনটি রাগিব আল-আসফাহানি তার ‘আল-মুফরাদাত’ গ্রন্থে বলেছেন। অথবা এটি হলো সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা (তসবিহ) বুঝতে পারো না} [আল-ইসরা: ৪৪] এবং {তারা বলল: হে শুআইব, তুমি যা বলো তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না} [হুদ: ৯১]।

পারিভাষিক অর্থে: «বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত শরয়ি আমলি (ব্যবহারিক) বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান»।

সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তাদের বক্তব্য: (জ্ঞান বা আল-ইলম): এটি একটি সাধারণ শ্রেণি (জিনস), যা শরয়ি বিধান এবং তা ব্যতীত অন্যান্য ধারণা ও বিধান সংক্রান্ত জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ উপলব্ধি যা প্রবল ধারণা (যন) এবং নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকিন) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে উদ্দেশ্য সুনিশ্চিত বা অকাট্য জ্ঞান নয়; কারণ ফিকহের অনেক মাসআলাই ধারণাপ্রসূত। বরং একদল আলেম ফিকহকে শুধুমাত্র ইজতিহাদমূলক মাসআলা জানার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং এমন সব প্রকাশ্য মাসআলাসমূহকে ফিকহের অন্তর্ভুক্ত করেননি যা সাধারণ ও বিশেষ সকল মানুষই অবগত। অথবা বলা যায়: জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একটি সামগ্রিক লক্ষ্যের অধীনে বিন্যস্ত জ্ঞানসমষ্টি, যেমন বলা হয়: চিকিৎসাবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা, যদিও এগুলোর অনেক বিষয়ই ধারণাপ্রসূত। এটি ইমাম রাজির উত্তরের চেয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ফিকহ ধারণার (যন) অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এটি দুটি অকাট্য প্রাঙ্গণের (মুকাদ্দিমা) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, ফলে এটি অকাট্য হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
وهاتان المقدمتان هما:

1 - مقدمة وجدانية، وهي ما يجده المجتهد في نفسه من الظن بأن هذا حكم الله.

2 - مقدمة إجماعية، وهي الإجماع على أن ما هذا شأنه يجب العمل به.

وإنما قلت: إن هذا أولى؛ لما في جواب الرازي من التكلف.

وقولهم: (بالأحكام): قيد أخرج العلم بما لا حكم فيه وهو التصور. والحكم يراد به هنا: إثبات أمر لآخر أو نفيه عنه.

وقولهم: (الشرعية): أخرج العلم بالأحكام غير الشرعية كالحكم بصحة العبارة لغة أو بخطئها، وكالعلم بنفع هذا الدواء للمريض وضرره، فالأول حكم لغوي، والثاني طبي.

وقولهم: (العملية) أي: المتعلقة بما يصدر عن الناس من أعمال كالصلاة والزكاة والصوم والبيع، وهذا القيد يخرج الأحكام الاعتقادية، فإن العلم بها لا يسمى فقها في الاصطلاح؛ لاختصاص الفقه بالعلم بالأحكام العملية، وهذا لا ينفي أنهم كانوا يطلقون اسم الفقه الأكبر على مسائل الاعتقاد، ولكن هذا العلم اختص باسم آخر وهو علم التوحيد أو علم الكلام.

وقولهم: (المكتسب): صفة للعلم، والعلم المكتسب هو الحادث الذي يحصل باجتهاد وعمل، فيخرج علم الله جل وعلا فإنه أزلي، وعلم جبريل عليه السلام فإنه حصل بإعلام الله له ولا كسب له فيه، وعلم الرسول صلى الله عليه وسلم بما أوحي إليه فإنه علم لدُنِّيٌّ فلا يسمى فقها في الاصطلاح، وأما ما حصل باجتهاد من الرسول صلى الله عليه وسلم فيدخل في مسمى الفقه.

وقولهم: (من أدلتها التفصيلية)، متعلق بقولهم المكتسب، فالأدلة هي وسيلة اكتساب هذا العلم، وهذا يخرج علم المقلد فإنه ليس مكتسبا من الأدلة بل
আর এই ভূমিকা দুটি হলো:

১ - একটি স্বজ্ঞা-নির্ভর ভূমিকা; আর তা হলো মুজতাহিদ তার নিজের মধ্যে যে প্রবল ধারণা খুঁজে পান যে এটিই আল্লাহর বিধান।

২ - একটি ইজমা-ভিত্তিক ভূমিকা; আর তা হলো এমন বিষয়ের ওপর ইজমা বা ঐকমত্য যে, যার অবস্থা এমন তার ওপর আমল করা ওয়াজিব।

আমি কেবল বলেছি যে এটিই অধিকতর উত্তম; কারণ রাজীর জবাবে কৃত্রিমতা রয়েছে।

তাদের উক্তি: (বিধানাবলি দ্বারা): এটি এমন একটি শর্ত যা এমন বিষয়ের জ্ঞানকে বের করে দেয় যাতে কোনো বিধান নেই, আর তা হলো ধারণা (তাসাউর)। আর এখানে বিধান বলতে উদ্দেশ্য হলো: এক বিষয়ের জন্য অন্য বিষয়কে সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে তা অস্বীকার করা।

তাদের উক্তি: (শরয়ি): এটি অ-শরয়ি বিধানাবলির জ্ঞানকে বের করে দেয়, যেমন ভাষাগতভাবে কোনো বাক্যের শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতার বিধান প্রদান করা, অথবা রোগীর জন্য এই ওষুধের উপকারিতা বা অপকারিতা জানা। প্রথমটি ভাষাগত বিধান এবং দ্বিতীয়টি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধান।

তাদের উক্তি: (ব্যবহারিক) অর্থাৎ: মানুষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কাজসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন সালাত, জাকাত, সওম এবং ক্রয়-বিক্রয়। এই শর্তটি আকিদাগত বিধানসমূহকে বের করে দেয়, কারণ সেগুলোর জ্ঞানকে পারিভাষিক পরিভাষায় ফিকহ বলা হয় না; কেননা ফিকহ কেবল ব্যবহারিক বিধানাবলির জ্ঞানের সাথে নির্দিষ্ট। এটি এ কথাকে অস্বীকার করে না যে তারা আকিদার মাসআলাগুলোর ওপর 'আল-ফিকহুল আকবার' নাম ব্যবহার করতেন, কিন্তু এই শাস্ত্রটি অন্য একটি নামে বিশেষায়িত হয়েছে আর তা হলো তাওহিদ শাস্ত্র বা কালাম শাস্ত্র।

তাদের উক্তি: (অর্জিত): এটি ইলম বা জ্ঞানের একটি গুণ। আর অর্জিত জ্ঞান হলো সেই নতুন জ্ঞান যা ইজতিহাদ ও শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এর ফলে মহান আল্লাহর জ্ঞান এর বহির্ভূত হয়ে যায়, কেননা তাঁর জ্ঞান অনাদি। আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর জ্ঞানও এর বহির্ভূত, কারণ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানোর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এবং এতে তাঁর কোনো অর্জন বা চেষ্টা নেই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি যা ওহি করা হয়েছে সে সম্পর্কিত তাঁর জ্ঞানও এর বহির্ভূত, কারণ তা ঐশী জ্ঞান (ইলমে লাদুন্নি), তাই পারিভাষিক অর্থে একে ফিকহ বলা হয় না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইজতিহাদের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে তা ফিকহ-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

তাদের উক্তি: (এর বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে): এটি তাদের 'অর্জিত' উক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং দলিলসমূহ হলো এই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। এটি মুকাল্লিদ বা অনুসারীর জ্ঞানকে বের করে দেয়, কারণ তার জ্ঞান দলিল থেকে অর্জিত নয় বরং...
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
اكتسبه بتقليد غيره.

والأدلة التفصيلية: هي الأدلة الجزئية الخاصة بكل مسألة فقهية، مثل آية: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة 3] الدالة على تحريم كل أجزاء الميتة. وحديث: «أيما إهاب دبغ فقد طهر» (أخرجه أحمد وأصحاب السنن من حديث ابن عباس مرفوعا، ومعناه في صحيح مسلم) الدال على طهارة جلد الميتة بالدبغ، وقياس الخنزير على الكلب في وجوب غسل الإناء من سؤره سبعا، وهكذا سائر الأدلة التفصيلية.

ومع أن كلمة الفقه لم تكن تطلق في الاصطلاح الأول إلا على الأحكام الشرعية العملية المستنبطة من أدلتها التفصيلية بنوع من الاجتهاد، غير أن المتأخرين أصبحوا يطلقون هذه الكلمة على جميع الأحكام العملية التي تحويها كتب الفقه المصنفة مع أن فيها ما يشترك في معرفته الخاص والعام من المسلمين؛ لدلالة النصوص القطعية المشتهرة عليه، فيكون الفقه اسما لمجموع تلك المسائل لا للعلم بها أو ببعضها.

وتأسيساً على ما سبق أصبح اسم الفقيه يطلق على من عرف تلك الأحكام، سواء عرفها بنظر واجتهاد، أو عرفها تقليدا لإمام من الأئمة.

ولو راعينا المعنى المراد من كلمة الفقه في عرف القرآن والسنة وعرف الصحابة والتابعين، لقصرنا اسم الفقيه على من عرف الأحكام الشرعية التي تحتاج في إدراكها إلى نظر واجتهاد دون ما يشترك فيه عامة المسلمين، وكانت معرفته مبنية على إدراك أدلتها لا تقليداً لغيره، ولم نفرق بين الأحكام الاعتقادية والعملية.

وهاهنا سؤال أورده الآمدي وغيره، خلاصته: أن الفقه إذا كان هو العلم بالأحكام الخ، فينبغي أن لا يسمى فقيها إلا من علم تلك الأحكام كلها، وهذا
যা সে অন্যের অনুকরণের মাধ্যমে অর্জন করেছে।

আর বিস্তারিত দলিলসমূহ: তা হলো প্রতিটি ফিকহি মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ আংশিক দলিলসমূহ, যেমন: {তোমাদের জন্য মৃত পশু হারাম করা হয়েছে} [আল-মায়িদাহ ৩] আয়াতটি, যা মৃত পশুর সকল অংশ হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে। এবং হাদিস: «যে কোনো চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়» (এটি আহমাদ এবং সুনান গ্রন্থকারগণ ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল অর্থ সহিহ মুসলিমে রয়েছে), যা চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে। আর কুকুরের উচ্ছিষ্টের পাত্র সাতবার ধৌত করার আবশ্যকতা অনুযায়ী শুকরকে কুকুরের ওপর কিয়াস করা, এবং অনুরূপভাবে অন্যান্য সকল বিস্তারিত দলিল।

যদিও প্রাথমিক পরিভাষায় 'ফিকহ' শব্দটি কেবল এক প্রকার ইজতিহাদের মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আহরিত আমলি (ব্যবহারিক) শরয়ি বিধানসমূহের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতো, তবে পরবর্তীগণ এই শব্দটি ফিকহ শাস্ত্রের সংকলিত গ্রন্থসমূহে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত আমলি বিধানের ওপর প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন। অথচ সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা সাধারণ এবং বিশিষ্ট সকল মুসলিমই সমানভাবে জানেন; কারণ সেগুলোর সপক্ষে সুপ্রসিদ্ধ অকাট্য পাঠ্য (নস) বিদ্যমান। ফলে ফিকহ শব্দটি সেই সকল মাসআলার সমষ্টির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা জানার বা তার কিছু অংশ জানার নাম নয়।

উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, 'ফকিহ' নামটি এখন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যিনি সেই বিধানগুলো জানেন, চাই তিনি সেগুলো গবেষণা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে জেনে থাকুন, অথবা কোনো ইমামের অনুকরণের মাধ্যমে জেনে থাকুন।

যদি আমরা কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের প্রথায় 'ফিকহ' শব্দের উদ্দিষ্ট অর্থের প্রতি লক্ষ রাখতাম, তবে আমরা 'ফকিহ' নামটি কেবল এমন ব্যক্তির জন্য সীমাবদ্ধ রাখতাম যিনি এমন শরয়ি বিধানসমূহ জানেন যা অনুধাবনের জন্য গবেষণা ও ইজতিহাদের প্রয়োজন হয়, সাধারণ মুসলিমদের জানা সাধারণ বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতো না। আর তাঁর সেই জ্ঞান হতো দলিলের উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে, অন্যের অনুকরণের ভিত্তিতে নয়; এবং আমরা আকিদাগত ও আমলি বিধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতাম না।

এখানে আল-আমিদি ও অন্যরা একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো: ফিকহ যদি হয় বিধানাবলির জ্ঞান ইত্যাদি, তবে কেবল সেই ব্যক্তিকেই ফকিহ বলা উচিত যিনি সেই সমস্ত বিধানের সবকটি জানেন, আর এটি—
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يجتمع لواحد بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد ثبت عن العلماء توقفهم في بعض المسائل ولم يمنع ذلك من إطلاق وصف الفقه عليهم، ولم يخرجوا من الفقهاء لتوقفهم.

والجواب عنه: أن المراد بالعلم بتلك الأحكام ليس حضورها في ذهن العالم بالفعل، وإنما حضور أكثرها في ذهنه، وقدرته على استنباط بعضها بعد النظر والاجتهاد، فيكون علمه لبعضها بالفعل وللباقي بالقوة القريبة بحيث يستطيع معرفتها دون حاجة إلى تعلم علم جديد.

 

تعريف الأصول:

الأصول: جمع أصل، وهو في اللغة: ما يبنى عليه غيره. ويطلق على منشأ الشيء.

وفي الاصطلاح: أطلق لفظ الأصل على عدة معان، أهمها ما يلي:

1 - الدليل: كما يقول الفقهاء: الأصل في هذه المسألة الكتاب والسنة والإجماع، أي: الدليل عليها.

2 - القاعدة المستمرة: كما يقول الأصوليون: الأصل أن الخاص مقدم على العام عند التعارض، وكما يقول النحاة: الأصل في المبتدأ التقديم وفي الخبر التأخير.

3 - الراجح: كما يقول الأصوليون: الأصل بقاء ما كان على ما كان. والأصل براءة الذمة من التكاليف الشرعية.

4 - مخرج المسألة الفرضية، أي: العدد الذي تخرج منه الفروض المقدرة بلا كسر، كما يقول الفرضيون: أصل هذه المسألة كذا، وأصول المسائل 2، 3، 4، 6، 8، 12، 18، 24.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর এটি কারো পক্ষে একত্রে অর্জন করা সম্ভব নয়। উলামায়ে কিরামের পক্ষ থেকে কিছু কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে তাঁদের সিদ্ধান্ত প্রদানে বিরত থাকা (তাওয়াককুফ) প্রমাণিত রয়েছে, যা তাঁদের ওপর ফিকহ-এর গুণারোপ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি এবং এই বিরত থাকার কারণে তাঁরা ফুকাহাদের কাতার থেকে বিচ্যুত হননি।

এর উত্তর হলো: উক্ত বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দ্বারা উদ্দেশ্য সেগুলোর প্রতিটি বাস্তবে আলিমের মস্তিষ্কে উপস্থিত থাকা নয়, বরং সেগুলোর অধিকাংশ তাঁর স্মৃতিতে উপস্থিত থাকা এবং চিন্তা-গবেষণা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে সেগুলোর কিছু অংশ উদ্ঘাটন করার সক্ষমতা রাখা। ফলে সেগুলোর কিছু ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞান হবে বাস্তবভিত্তিক এবং অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে জ্ঞান হবে নিকটবর্তী সক্ষমতা স্বরূপ, যাতে করে তিনি নতুন কোনো জ্ঞান অর্জন করার প্রয়োজন ছাড়াই সেগুলো জানতে সক্ষম হন।

 

উসূল-এর সংজ্ঞা:

উসূল: এটি আসল-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে: যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে। একে কোনো জিনিসের উৎস বা উৎপত্তিস্থল হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

পারিভাষিক অর্থে: 'আসল' শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:

১ - দলিল: যেমন ফুকাহায়ে কিরাম বলেন: এই মাসআলার 'আসল' হলো কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা; অর্থাৎ এগুলোর স্বপক্ষে দলিল।

২ - শাশ্বত মূলনীতি: যেমন উসূলবিদগণ বলেন: আসল হলো বিরোধের সময় বিশেষ (খাস) সাধারণ (আম)-এর ওপর প্রাধান্য পাওয়া। যেমন ব্যাকরণবিদগণ বলেন: মুবতাদা-এর ক্ষেত্রে আসল হলো আগে আসা এবং খবরের ক্ষেত্রে আসল হলো পরে আসা।

৩ - অগ্রগণ্য: যেমন উসূলবিদগণ বলেন: আসল হলো কোনো বিষয় পূর্বে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় বহাল থাকা। আর আসল হলো শরয়ি দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের জিম্মা বা দায় মুক্ত থাকা।

৪ - উত্তরাধিকার মাসআলার গাণিতিক ভিত্তি: অর্থাৎ সেই সংখ্যা যা থেকে নির্ধারিত অংশগুলো কোনো ভগ্নাংশ ছাড়াই বের করা যায়। যেমন ফারায়েজ শাস্ত্রবিদগণ বলেন: এই মাসআলার 'আসল' হলো এত। আর মাসআলাসমূহের 'উসূল' হলো ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ১২, ১৮, ২৪।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
5 - المقيس عليه، كما يقول الأصوليون في باب القياس: أركان القياس أربعة: الأصل، والفرع، والعلة، والحكم.

وأقرب هذه المعاني لإطلاق الأصل هنا هو المعنى الأول ثم الثاني.

ب ـ …‌‌ تعريف أصول الفقه باعتباره علَماً:

وأما أصول الفقه الذي هو علَم على علم من علوم الشريعة فهو: كما عرفه الرازي: «مجموع طرق الفقه الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد».

شرح التعريف:

قوله: (مجموع طرق الفقه) أي: مجموع الطرق التي توصل إلى إدراك الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.

وعبَّر بالطرق دون الأدلة؛ لأن الأدلة عند كثير من العلماء لا تشمل ما يفيد الظن مثل القياس والاستصلاح ونحوهما من الطرق التي جعلها الفقهاء أمارات على الأحكام، وإنما تطلق على النصوص القطعية والإجماع القطعي فحسب.

قوله: (الإجمالية): نسبة إلى الإجمال وهو ضد التفصيل، وعبر بالإجمالية ليخرج طرق الفقه التفصيلية التي يعد الاشتغال بها من عمل الفقيه كما أسلفنا.

وبحث الأصولي لا يتعلق بآية من القرآن بخصوصها كيف تدل على ما دلت عليه من الأحكام، ولا حديث بعينه، ولا قياس بعينه، وإنما يبحث في حجية الكتاب وحجية السنة وحجية القياس، وهكذا. فهو يبحث في عوارض تلك الأدلة وما توصف به من قوة أو ضعف وإحكام أو نسخ، وفي شروطها وترتيبها وكيفية الجمع بينها عند تعارضها في نظر من لم يتأملها جيدا.
৫ - মাকিস আলাইহি (যার ওপর তুলনা করা হয়), যেমনটি উসুলবিদগণ কিয়াসের অধ্যায়ে বলে থাকেন: কিয়াসের রুকন চারটি: আসল (মূল), ফারউ (শাখা), ইল্লাত (কারণ) এবং হুকুম (বিধান)।

আর এখানে 'আসল' শব্দের প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই অর্থগুলোর মধ্যে প্রথমটি এবং এরপর দ্বিতীয়টি সবচেয়ে নিকটবর্তী।

খ — ...‌‌পরিভাষা হিসেবে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা:

আর উসুলুল ফিকহ, যা শরীয়তের ইলমসমূহের একটি বিশেষ শাস্ত্রের নাম, তার সংজ্ঞা ইমাম রাজি এভাবে দিয়েছেন: "ফিকহের সামগ্রিক পদ্ধতিসমূহ, সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার নিয়ম এবং উপকার গ্রহণকারীর অবস্থা এর সমষ্টি।"

সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তাঁর উক্তি: (ফিকহের পদ্ধতিসমূহের সমষ্টি) অর্থাৎ: সেই সকল পদ্ধতির সমষ্টি যা বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে আমলী শারয়ী বিধানসমূহ উপলব্ধি করার পথে নিয়ে যায়।

তিনি 'আদিল্লাহ' (দলীলসমূহ) এর পরিবর্তে 'তুরুক' (পদ্ধতিসমূহ) শব্দ ব্যবহার করেছেন; কারণ অনেক আলেমের মতে 'দলীল' বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় না যা কেবল প্রবল ধারণা (জন্ন) প্রদান করে, যেমন: কিয়াস, ইস্তিসলাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য পদ্ধতি যেগুলোকে ফকিহগণ বিধানের আলামত বা চিহ্ন হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং 'দলীল' শব্দটি কেবল অকাট্য নস এবং অকাট্য ইজমার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

তাঁর উক্তি: (সামগ্রিক): এটি 'ইজমাল' (সামগ্রিকতা) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত যা 'তাফসিল' (বিস্তারিত)-এর বিপরীত। তিনি 'সামগ্রিক' শব্দ ব্যবহার করেছেন ফিকহের বিস্তারিত পদ্ধতিগুলোকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য, যেগুলোতে নিয়োজিত থাকা ফকিহদের কাজ, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

একজন উসুলবিদের গবেষণা কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় যে, তা কীভাবে তার নির্দেশিত বিধানের ওপর প্রমাণ পেশ করছে, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট হাদিস বা নির্দিষ্ট কিয়াসের সাথেও নয়। বরং তিনি কিতাবুল্লাহর প্রামাণ্যতা, সুন্নাহর প্রামাণ্যতা এবং কিয়াসের প্রামাণ্যতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সেই দলীলগুলোর বিভিন্ন আনুষঙ্গিক অবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন এবং সেগুলো শক্তি বা দুর্বলতা, সুদৃঢ়তা (ইহকাম) বা রহিত হওয়া (নাসখ) এবং সেগুলোর শর্তাবলি, তারতিব বা বিন্যাস এবং আপাত বৈপরিত্যের সময় সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
قوله: (وكيفية الاستفادة منها) أي: طرق استفادة الأحكام من الأدلة والأمارات الموصلة إليها، وهذا يشمل طرق الدلالة اللفظية والعقلية، وطرق نصب الدليل الذي يوصل إلى معرفة الحكم الشرعي، سواء أكان الدليل نصّاً من قرآن أو سنة ونحوهما أم معقولا من النص كالقياس والاستصلاح وغيرهما، وهذا يدخل ما ذكره الأصوليون في دلالات الألفاظ من العام والخاص والمطلق والمقيد، والأمر والنهي، والمنطوق والمفهوم، كما يُدخل طرق معرفة العلة المستنبطة ونحو ذلك مما لا يخفى.

قوله: (وحال المستفيد) أي: وكيفية حال المستفيد، والمراد بالمستفيد صنفان: المجتهد والمقلد، فالمجتهد يستفيد الحكم من الدليل أو الأمارة التي نصبها الشرع لتهدي إلى الحكم. والمقلد يستفيد الحكم من المجتهد بسؤاله عنه.

وحال المجتهد والمقلد مما يدخل في أصول الفقه، فالعلم بشروط الاجتهاد وحكمه، وأنواع المجتهدين وآداب الاجتهاد وحكم التقليد وآداب الاستفتاء، وما يتبع ذلك كله داخل في أصول الفقه.

وهذا التعريف من أجود التعريفات التي ذكرها الأصوليون، غير أنه عبر بلفظ الكيفية، وهي مصدر صناعي من الكيف، وليست فصيحة كما يقول أهل اللغة، والأولى أن يستعاض عنها بلفظ صفة.

كما أنه يمكن الاستعاضة عن قوله: «طرق الفقه» بـ «أدلة الفقه»؛ لأن الدليل يطلق على القطعي والظني على الصحيح من قولي العلماء كما سيأتي.

وهناك من جعل أصول الفقه هو العلم بتلك الأدلة على سبيل الإجمال وكيفية الاستدلال بها. الخ.

والأصولي: هو من عرف طرق الفقه الإجمالية وصفة الاستفادة منها وحال المستفيد.
তাঁর বক্তব্য: (এবং তা থেকে উপকার অর্জনের পদ্ধতি) অর্থাৎ: দলিলসমূহ ও আলামতসমূহ যা কোনো হুকুম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, তা থেকে বিধানসমূহ আহরণ বা অর্জনের উপায়সমূহ। এটি শাব্দিক ও যৌক্তিক নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ এবং শরিয়তের বিধান জানার জন্য দলিল স্থাপনের পদ্ধতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। চাই সেই দলিলটি কুরআন বা সুন্নাহর মতো কোনো নস (মূল পাঠ) হোক অথবা নস থেকে লব্ধ কোনো যৌক্তিক বিষয় যেমন কিয়াস (অনুরূপ অনুমান), ইসতিসলাহ (জনকল্যাণ চিন্তা) ও অন্যান্য বিষয় হোক। উসুলবিদগণ শব্দের অর্থগত নির্দেশনার ক্ষেত্রে যা কিছু উল্লেখ করেছেন যেমন: আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিঃশর্ত) ও মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), আদেশ ও নিষেধ, মানতুক (সুস্পষ্ট উচ্চারিত অর্থ) ও মাফহুম (অন্তর্নিহিত অর্থ)—এই সবই এর অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ইল্লত (কার্যकारण) উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহ এবং এই জাতীয় আরও যত বিষয় রয়েছে, সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর বক্তব্য: (এবং উপকার গ্রহণকারীর অবস্থা) অর্থাৎ: উপকার গ্রহণকারীর অবস্থা কেমন হবে। এখানে 'উপকার গ্রহণকারী' বলতে দুই শ্রেণির মানুষকে বোঝানো হয়েছে: মুজতাহিদ এবং মুকাল্লিদ। মুজতাহিদ সেই দলিল বা আলামত থেকে বিধান গ্রহণ করেন যা শরিয়ত বিধানের দিকে পথপ্রদর্শনের জন্য নির্ধারণ করেছে। আর মুকাল্লিদ কোনো মুজতাহিদকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে বিধান গ্রহণ করেন।

মুজতাহিদ ও মুকাল্লিদের অবস্থা উসুলুল ফিকহেরই অন্তর্ভুক্ত বিষয়। সুতরাং ইজতিহাদের শর্তাবলি ও এর বিধান, মুজতাহিদদের প্রকারভেদ, ইজতিহাদের আদবসমূহ, তাকলিদের বিধান ও ইস্তিফতার (ফতোয়া জিজ্ঞাসার) আদবসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি সবই উসুলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত।

উসুলবিদগণ যতগুলো সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, এটি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা। তবে তিনি এখানে 'কাইফিয়াত' (পদ্ধতি) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা 'কাইফ' থেকে গঠিত একটি কৃত্রিম মাসদার (ক্রিয়ামূল)। ভাষাবিদদের মতে এটি অত্যন্ত সাবলীল শব্দ নয়। বরং এর পরিবর্তে 'সিফাত' (বৈশিষ্ট্য) শব্দটি ব্যবহার করা অধিকতর উত্তম ছিল।

তেমনিভাবে তাঁর ব্যবহৃত শব্দ 'তুরুকুল ফিকহ' (ফিকহের পথসমূহ)-এর পরিবর্তে 'আদিল্লাতুল ফিকহ' (ফিকহের দলিলসমূহ) ব্যবহার করা সম্ভব ছিল; কারণ আলেমদের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধ মতানুসারে 'দলিল' শব্দটি অকাট্য ও ধারণামূলক উভয় প্রকার প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা সামনে আসবে।

আবার কেউ কেউ উসুলুল ফিকহকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো সামগ্রিকভাবে সেই দলিলসমূহ সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ইত্যাদি।

উসুলবিদ (উসুলি) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ফিকহের সামগ্রিক পথসমূহ, সেগুলো থেকে উপকার অর্জনের বৈশিষ্ট্য এবং উপকার গ্রহণকারীর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد شاع إطلاق اسم الأصولي على كل من له اشتغال بعلم أصول الفقه تعليما وتأليفا، كما شاع إطلاق أصول الفقه على الجملة الغالبة من مسائل هذا العلم، فصح أن يسمى أصوليا من أدرك غالب مسائله بالفعل وكانت له ملكة تمكنه من إدراك ما عداها دون حاجة إلى تعلم علم جديد أو التلقي عن عالم آخر.

3 -‌‌ موضوع أصول الفقه:

موضوع هذا العلم: الأدلة، سواء أكانت قطعية أم ظنية.

وقيل: موضوعه: الأدلة والأحكام.

والذي يظهر من تعريف الفخر الرازي الذي نقلناه فيما سبق، أن هذا العلم له ثلاثة موضوعات رئيسة هي:

1 - طرق الفقه على سبيل الإجمال، ويقصد بها الأدلة بنوعيها القطعي والظني، أو المتفق عليه والمختلف فيه، والبحث فيها يشمل حجيتها وقوتها في الإيصال إلى الحكم، وشروط حجيتها وترتيبها وجميع عوارضها.

2 - صفة الاستفادة منها، وهذا يشمل طرق الدلالة أهي عقلية أم لفظية؟ حقيقية أم مجازية؟ بطريق المنطوق أم المفهوم؟ بطريق الخصوص أم العموم؟. وهذا يعرف عند المتأخرين بطرق الاستنباط، كما يشمل طرف معرفة العلة وإجراء الأقيسة.

3 - صفة المجتهد والمقلد وما يتبع ذلك من شروط الاجتهاد وأحكامه، وسبيل دفع التعارض والمرجحات، ومعنى التقليد وأحكامه.
আর উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান ও রচনার কাজে নিয়োজিত সকলের ওপর 'উসূলী' নামটির প্রয়োগ ব্যাপকতা লাভ করেছে, যেমনভাবে এই শাস্ত্রের অধিকাংশ মাসআলার ওপর 'উসূলুল ফিকহ' শব্দের প্রয়োগ প্রসিদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এমন ব্যক্তিকে 'উসূলী' বলা সঠিক হবে, যিনি বাস্তবে এর অধিকাংশ মাসআলা আয়ত্ত করেছেন এবং তাঁর মধ্যে এমন এক যোগ্যতা তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে তিনি নতুন কোনো শাস্ত্র শিক্ষা করা বা অন্য কোনো আলিমের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়াই অবশিষ্ট বিষয়গুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হন।

৩ -‌‌ উসূলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয়:

এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: দলিলসমূহ, তা অকাট্য হোক বা ধারণাপ্রসূত।

আর বলা হয়েছে: এর আলোচ্য বিষয় হলো: দলিলসমূহ ও বিধানসমূহ।

ইমাম ফখরুল রাজি-র যে সংজ্ঞা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি তা থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই শাস্ত্রের তিনটি প্রধান আলোচ্য বিষয় রয়েছে, সেগুলো হলো:

১ - সামগ্রিক বিচারে ফিকহ অর্জনের পথসমূহ। এর দ্বারা দলিলসমূহের উভয় প্রকার তথা অকাট্য ও ধারণাপ্রসূত, অথবা সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহকে বোঝানো হয়েছে। এগুলোর আলোচনা মূলত সেগুলোর প্রামাণিকতা, বিধান পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সেগুলোর শক্তি, প্রামাণিকতার শর্তাবলি, সেগুলোর ধারাবাহিকতা এবং এ সংশ্লিষ্ট সকল আনুষঙ্গিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

২ - সেগুলো থেকে বিধান গ্রহণের পদ্ধতি। এটি দালালাত বা নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে—যেমন: সেগুলো কি বুদ্ধিভিত্তিক নাকি শাব্দিক? প্রকৃত নাকি রূপক? উচ্চারিত অর্থের মাধ্যমে নাকি অনুধাবিত অর্থের মাধ্যমে? বিশেষত্বের মাধ্যমে নাকি ব্যাপকতার মাধ্যমে? পরবর্তী যুগের আলিমদের নিকট এটি ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। এটি বিধানের কারণ বা ইল্লাত শনাক্তকরণ এবং কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান প্রক্রিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

৩ - মুজতাহিদ ও মুকাল্লিদের বৈশিষ্ট্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইজতিহাদের শর্তাবলি ও বিধানসমূহ, দলিলসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ নিরসনের উপায় ও কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মানদণ্ডসমূহ, এবং তাকলিদের অর্থ ও এর বিধানসমূহ।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
4 -‌‌ فوائد علم أصول الفقه:

لا شك أن العلم يشرف بشرف الغاية من تعلمه، وأصول الفقه له غايات عظيمة وفوائد كبيرة في الدنيا والآخرة، وأهم غاياته وأهدافه ما يلي:

1 - التفقه في الدين، ومعرفة ما للمكلف وما عليه من الحقوق والواجبات، وهذا يحصل بمعرفة أصول الفقه وتطبيق قواعده على الأدلة التفصيلية وعلى الحوادث الجزئية.

وقد يقول قائل إن الفقه قد جمع من قبل العلماء السابقين، ودونت فيه الدواوين الكبيرة فلا حاجة إلى البدء من حيث بدأوا، فلم تبق حاجة لدراسة علم أصول الفقه.

والجواب أن كثرة ما كتب في علم الفقه يدعو طالب العلم إلى تعلم أصول الفقه؛ ليعرض هذه الثروة الفقهية الضخمة التي اختلفت فيها أقوال الفقهاء وتعددت أدلتهم على الميزان العادل، والمحك المظهر للخطأ من الصواب، وهو أصول الفقه، فمن عرف أصول الفقه نظرا وتطبيقا يمكنه أن يعرف من تلك الأقوال والمذاهب ما هو أقرب إلى الحق وأجرى على قواعد الشريعة. والخلاصة أن كثرة المؤلفات الفقهية تدعو إلى تعلم هذا العلم والتعمق فيه لنقد الأقوال وبيان الراجح من المرجوح.

2 - معرفة الحكم الشرعي لكل ما يجدُّ من الحوادث والوقائع التي لم يرد فيها بخصوصها نص صريح ولا ظاهر بيِّن، ولم يتكلم عنها الفقهاء السابقون لعدم وجودها في عصرهم. ونحن نرى في هذه الأيام حجم المسائل التي تعرض على المجامع الفقهية من حيث عددها ومن حيث خطورتها وأهميتها وتعقيدها، حتى إن بعضها يتوقف فيه علماء المجمع الفقهي ولا يصدرون فيه فتوى لعدم اكتمال صورته في أذهانهم، أو للحاجة إلى مزيد بحث في
4 -‌‌ উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উপকারিতা:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অর্জিত জ্ঞানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মহত্ত্বের মাধ্যমেই ইলমের মর্যাদা নির্ধারিত হয়। উসুলুল ফিকহের ইহকাল ও পরকালে সুমহান লক্ষ্য এবং বিশাল উপকারিতা রয়েছে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ:

1 - দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন এবং মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়া। এটি উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং এর নিয়মাবলিকে বিস্তারিত দলিল ও বিশেষ বিশেষ ঘটনার ওপর প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়।

কেউ কেউ বলতে পারেন যে, ফিকহ শাস্ত্র পূর্ববর্তী আলেমগণ সংকলন করে গেছেন এবং এতে বড় বড় গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে, তাই তাঁরা যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখান থেকে নতুন করে শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই; ফলে উসুলুল ফিকহ পাঠ করার আর কোনো আবশ্যকতা অবশিষ্ট নেই।

এর উত্তর হলো, ফিকহ শাস্ত্রে বিপুল পরিমাণ রচনার প্রাচুর্যই ইলম অন্বেষণকারীকে উসুলুল ফিকহ শিখতে উদ্বুদ্ধ করে; যেন তিনি এই বিশাল ফিকহি সম্পদকে—যেখানে ফকিহদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে এবং তাঁদের দলিলের বহুত্ব রয়েছে—একটি ন্যায়নিষ্ঠ মানদণ্ড এবং সত্য ও ভুলের পার্থক্যকারী কষ্টিপাথরের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন, আর সেই মানদণ্ডটিই হলো উসুলুল ফিকহ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক উভয় দিক থেকে উসুলুল ফিকহ সম্পর্কে জানবেন, তিনি সেই সব মতামত ও মাযহাবের মধ্য থেকে কোনটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং শরিয়তের নিয়মাবলির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবেন। সারকথা হলো, ফিকহি রচনার প্রাচুর্যই এই শাস্ত্র শিক্ষা করা এবং এতে গভীরতা অর্জন করার আহ্বান জানায়, যাতে বিভিন্ন মতামত যাচাই করা যায় এবং শক্তিশালী ও দুর্বল মতের পার্থক্য স্পষ্ট করা যায়।

2 - নতুনভাবে উদ্ভূত এমন প্রতিটি ঘটনা ও পরিস্থিতির শরয়ি বিধান জানা, যে বিষয়ে বিশেষভাবে কোনো স্পষ্ট নস বা প্রকাশ্য বর্ণনা আসেনি এবং পূর্ববর্তী ফকিহগণ তাঁদের যুগে এগুলোর অস্তিত্ব না থাকায় সে সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেননি। আমরা বর্তমানে ফিকহি একাডেমিগুলোর সামনে উপস্থাপিত মাসয়ালাগুলোর বিশালতা প্রত্যক্ষ করছি—তা সংখ্যার দিক থেকে হোক কিংবা এর ভয়াবহতা, গুরুত্ব ও জটিলতার দিক থেকে হোক—এমনকি কোনো কোনো বিষয়ে ফিকহি একাডেমির আলেমগণ সিদ্ধান্ত দিতে থমকে যান এবং কোনো ফতোয়া প্রদান করেন না, কারণ তাঁদের কাছে বিষয়টির স্বরূপ পূর্ণাঙ্গভাবে স্পষ্ট হয় না অথবা আরও গবেষণার প্রয়োজন অনুভূত হয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأدلة، أو للاختلاف في تكييفه.

ومن القضايا التي جدت في هذا العصر على غير مثال سابق: التلقيح الصناعي، وأطفال الأنابيب، والرحم المستعار، وتجميد الأجنة والبويضات، والاستنساخ، وقضايا الحاسوب وبرامجه، وقضايا الانترنت، وإجراء العقود عن طريقه، والقضايا السياسية وكيفية حلها كالقضايا الحدودية بين الدول وما أشبه ذلك.

3 - معرفة حِكَم الشريعة وأسرارها بالتأمل في علل الأحكام ومقاصدها ومعرفة المقاصد الشرعية الضرورية والحاجية والتحسينية، وتنزيل كل مقصد في منزلته عند التزاحم، ومعرفة ترتيب الواجبات والمستحبات لتقديم الأقوى دليلا والأكثر نفعا على ما سواه، ومعرفة المصالح والمفاسد ومعرفة المعتبر منها في الشرع والملغى، ومعرفة درجات المعتبر لتقديم ما يستحق التقديم.

4 - مواجهة خصوم الشريعة الإسلامية الذين يزعمون أن الشريعة لم تعد صالحة للتطبيق في هذا الزمن، وذلك ببيان قدرة الشريعة على استيعاب حاجات الناس في الحاضر والمستقبل، وقدرتها على حل مشاكل الناس بما يتفق مع نصوص الوحي وعمل الصحابة والتابعين، وهذا لا يتم إلا بمعرفة أصول الفقه والقدرة على القياس والتخريج، والإحاطة بطرق الاستنباط من منطوق ومفهوم، وخصوص وعموم، وإطلاق وتقييد ونحو ذلك مما يدرس في أصول الفقه، ولو انصرف الناس عن دراسة هذا العلم لانسد باب الاجتهاد، ووقف الناس عندما اشتملت عليه كتب الفقه القديمة التي كتبت لتستوعب مشاكل العصر الذي هي فيه.

5 - حماية الفقيه من التناقض، فالفقيه الذي لم يتعمق في دراسة هذا العلم تأتي فتاواه متناقضة فيفرق بين المتماثلات، ويسوي بين المختلفات، وهذا
দলীলসমূহের কারণে, অথবা এর আইনি রূপরেখা নির্ধারণের পার্থক্যের কারণে।

এই যুগে পূর্ব কোনো দৃষ্টান্ত ছাড়াই উদ্ভূত হওয়া সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে: কৃত্রিম প্রজনন, টেস্টটিউব বেবি, ভাড়া করা জরায়ু, ভ্রূণ ও ডিম্বাণু হিমায়িতকরণ, ক্লোনিং, কম্পিউটার ও এর প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বিষয়াদি, ইন্টারনেট সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং এর মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন, রাজনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধানের পদ্ধতি যেমন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যবর্তী সীমান্ত সমস্যা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।

৩ - বিধানের কারণ ও উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে শরীয়তের হিকমত ও রহস্যগুলো জানা এবং শরীয়তের অত্যাবশ্যকীয়, প্রয়োজনীয় ও সৌন্দর্যবর্ধক লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; আর এগুলোর পারস্পরিক সংঘাতের সময় প্রত্যেকটির যথাযথ স্তর বিন্যাস করা এবং দলিলগতভাবে অধিক শক্তিশালী ও অধিক উপকারী বিষয়কে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসমূহের ক্রমবিন্যাস সম্পর্কে জানা। এছাড়া কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে জানা এবং শরীয়ত অনুযায়ী এর কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বর্জনীয় তা চেনা, সেই সাথে গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলোর স্তর সম্পর্কে জানা যাতে যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।

৪ - ইসলামী শরীয়তের বিরোধীদের মোকাবিলা করা যারা দাবি করে যে, এই যুগে শরীয়ত আর প্রয়োগযোগ্য নয়; ওহীর বর্ণনা এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের কর্মপদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যতের মানুষের প্রয়োজন মিটানো এবং সমস্যা সমাধানে শরীয়তের সক্ষমতা বর্ণনার মাধ্যমে তা করতে হবে। আর এটি উসূলে ফিকহ জানা এবং কিয়াস ও তাখরিজ করার সক্ষমতা অর্জন এবং ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতিসমূহ যেমন: মানতুক ও মাফহুম, খাস ও আম, এবং মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা ব্যতীত সম্ভব নয় যা উসূলে ফিকহে পড়ানো হয়। যদি মানুষ এই শাস্ত্র অধ্যয়ন থেকে বিমুখ হয়ে যায় তবে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ কেবল প্রাচীন ফিকহী গ্রন্থসমূহের ওপর স্থবির হয়ে পড়বে যেগুলো মূলত সেই সময়ের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সংকলিত হয়েছিল।

৫ - ফকীহকে স্ববিরোধিতা থেকে রক্ষা করা; কারণ যে ফকীহ এই শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেননি তার ফতোয়াসমূহ স্ববিরোধী হয়ে থাকে, ফলে তিনি সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করে ফেলেন এবং ভিন্নধর্মী বিষয়গুলোকে এক করে ফেলেন, আর এটি
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
يضعف الثقة فيما يقول، ويسيء إلى الشريعة ويقلل من قيمتها في نفوس الجاهلين بها من المسلمين أو غيرهم. وأما من أحاط بأصول الفقه تأصيلا وتطبيقا فإنه يبرز الوجه المشرق للشريعة الربانية، ويكون بفتاواه وآرائه داعيا للإسلام مرغبا فيه ذابا عنه شبه الأعداء.

وأخيراً ربما يظن كثير من الناس أن أصول الفقه تقتصر فائدته على الفقه في المسائل العملية، والحق خلاف ذلك؛ فإن فائدة هذا العلم لا يستغني عنها المفسر والمحدث والمتكلم والباحث في العقائد، وكل من يحتاج إلى فهم نصوص الوحي والاستدلال بها، فإن هذا العلم عبارة عن قواعد للفهم الصحيح والاستدلال الصحيح، والجمع بين ما ظاهره التعارض، ولهذا نستطيع القول إن تسميته بأصول الفقه لا يعني اقتصار فائدته على استنباط الأحكام الفقهية، ولعل الذين سموا مؤلفاتهم بالأصول من غير تقييد بالفقه لحظوا هذا الملحظ فعمموا، ومن هؤلاء الغزالي الذي سمى كتابه: «المستصفى من علم الأصول» والرازي سمى كتابه: «المحصول من علم الأصول» والبيضاوي سماه: «منهاج الأصول في علم الأصول» والشوكاني سماه: «إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول».

والناظر في مسائل هذا العلم يجد كلامهم عن أصول التفسير وأصول الحديث إلى جانب طرق الاستنباط من الأدلة النقلية التي يستوي في الحاجة إليها المفسر والمحدث وغيرهما.
এটি তার বক্তব্যের প্রতি আস্থা দুর্বল করে দেয়, শরীয়তের প্রতি অসদাচরণ করে এবং মুসলিম বা অমুসলিমদের মধ্যে যারা শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের অন্তরে এর মূল্য কমিয়ে দেয়। পক্ষান্তরে, যিনি উসুলুল ফিকহকে মূলনীতি ও প্রয়োগের দিক থেকে পূর্ণরূপে আয়ত্ত করেছেন, তিনি রব্বানী শরীয়তের উজ্জ্বল দিকটি ফুটিয়ে তোলেন এবং তার ফতোয়া ও মতামতের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি আহ্বানকারী, এর প্রতি অনুরাগী এবং শত্রুদের সংশয়সমূহ নিরসনকারী হন।

পরিশেষে, সম্ভবত অনেক মানুষ মনে করেন যে উসুলুল ফিকহ-এর উপযোগিতা কেবল ব্যবহারিক মাসআলা সংক্রান্ত ফিকহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু সত্য এর বিপরীত। কেননা এই ইলমের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, মুতাকাল্লিম এবং আকীদা গবেষক—কেউই অমুখাপেক্ষী নন। সেই সাথে ওহীর নসসমূহ বুঝতে এবং তা থেকে দলীল পেশ করতে যারই প্রয়োজন হয়, তার জন্যই এটি অপরিহার্য। কারণ এই ইলম মূলত সঠিক অনুধাবন এবং সঠিক দলীল পেশ করার মূলনীতিসমূহ, এবং বাহ্যিকভাবে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নামান্তর। এই কারণে আমরা বলতে পারি যে, এর নামকরণ 'উসুলুল ফিকহ' করার অর্থ এই নয় যে এর উপকারিতা কেবল ফিকহী বিধান আহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত যারা তাদের গ্রন্থসমূহের নাম ফিকহের সাথে নির্দিষ্ট না করে কেবল 'উসুল' রেখেছেন, তারা এই বিষয়টি লক্ষ্য করেই একে ব্যাপক অর্থ প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম গাজালী, যিনি তার গ্রন্থের নাম দিয়েছেন: 'আল-মুস্তাসফা মিন ইলমিল উসুল'; ইমাম রাযী, যিনি তার গ্রন্থের নাম দিয়েছেন: 'আল-মাহসুল মিন ইলমিল উসুল'; বায়যাবী, যিনি নাম দিয়েছেন: 'মিনহাজুল উসুল ফি ইলমিল উসুল'; এবং শাওকানী, যিনি নাম দিয়েছেন: 'ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকীকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল'।

এই শাস্ত্রের মাসআলাসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি দেখতে পাবেন যে, এতে উসুলুত তাফসীর এবং উসুলুল হাদীস সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি দলীলসমূহ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতিগুলোও আলোচিত হয়েছে, যা মুফাসসির, মুহাদ্দিস এবং অন্যান্য সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োজনীয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
5 -‌‌ استمداد أصول الفقه:

يستمد علم أصول الفقه مادته مما يلي:

1 -‌‌ القرآن الكريم والسنة النبوية:

فإن هذين المصدرين هما أساس العلوم الشرعية كلها، فكل علم لا أصل له في الكتاب والسنة فليس من علوم الشريعة.

ووجه استمداده من هذين المصدرين أن موضوعات علم أصول الفقه ثلاثة أنواع كما سبق، أهمها أدلة الأحكام، والقرآن والسنة ترجع إليهما جميع الأدلة التي يذكرها الأصوليون سواء أكانت نقلية أم عقلية، محل اتفاق أم محل اختلاف، فحجية الإجماع والقياس والمصالح والاستحسان والعرف وشرع من قبلنا وأقوال الصحابة، راجعة إلى الكتاب والسنة، وطرق الدلالة، وطرق دفع التعارض بين الأدلة، وبيان منزلة كل دليل، راجع إلى الكتاب والسنة، ولهذا نجد أن أكثر القواعد الأصولية قد استدل عليها بالقرآن أو بالسنة أو بهما معاً.

2 -‌‌ علم أصول الدين، ويعبر عنه أكثرهم بعلم الكلام:

ووجه استمداد أصول الفقه منه أن العلم بالأدلة الإجمالية وصحة الاستدلال بها مبني على معرفة الله تعالى وصفاته وما يجب له سبحانه وما يجوز له وما يمتنع إطلاقه عليه، والعلم بصدق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما جاء به عن ربه وما يجوز أن يقع من الرسول صلى الله عليه وسلم وما لا يجوز.

3 ـ‌‌ اللغة العربية:

ووجه استمداده من اللغة العربية: أن اللغة هي وعاء الكتاب والسنة، والكتاب نزل بلغة العرب، والسنة القولية جاءت بلسان الرسول العربي، والاستدلال بهما مبني على معرفة طرق العرب في الإفهام والفهم، ومن جملة
5 -‌‌ উসুলুল ফিকহের উৎসসমূহ:

উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র তার উপকরণসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে গ্রহণ করে:

1 -‌‌ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ:

নিশ্চয়ই এই দুটি উৎস সকল শরয়ী বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। সুতরাং যে বিজ্ঞানের কোনো ভিত্তি কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে নেই, তা শরয়ী বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এই দুটি উৎস থেকে এর উপকরণ গ্রহণের প্রেক্ষিত হলো এই যে, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়সমূহ পূর্বে যেমনটি গত হয়েছে তিন প্রকার। তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিধানের দলীলসমূহ। আর উসুলবিদগণ যেসব দলীলের কথা উল্লেখ করেন, চাই সেগুলো বর্ণনাভিত্তিক হোক বা বুদ্ধিভিত্তিক, সর্বসম্মত হোক বা মতভেদপূর্ণ—সেসবই কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। অতএব ইজমা, কিয়াস, মাসালিহ, ইসতিহসান, উরফ, আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত এবং সাহাবীদের বক্তব্যের প্রামাণ্যতা কুরআন ও সুন্নাহর দিকেই ফিরে যায়। তদ্রূপ নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ, দলীলসমূহের মধ্যকার বিরোধ নিরসনের উপায় এবং প্রতিটি দলীলের মর্যাদা বর্ণনা করাও কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, অধিকাংশ উসুলি মূলনীতিগুলোর স্বপক্ষে কুরআন অথবা সুন্নাহ অথবা উভয়টি থেকেই দলীল পেশ করা হয়েছে।

2 -‌‌ ইলমে উসুলুদ দীন, যাকে অধিকাংশ আলিম ইলমে কালাম বলে অভিহিত করেন:

এ থেকে উসুলুল ফিকহের উপকরণ গ্রহণের প্রেক্ষিত হলো এই যে, সামষ্টিক দলীলসমূহ এবং সেগুলোর মাধ্যমে দলীলাদি পেশ করার বিশুদ্ধতা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর জন্য যা আবশ্যক, যা তাঁর জন্য সম্ভব এবং যা তাঁর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা অসম্ভব—সেসব জানার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর সত্যতা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে যা ঘটা সম্ভব আর যা অসম্ভব তা জানার ওপরও এটি নির্ভরশীল।

3 ـ‌‌ আরবি ভাষা:

আরবি ভাষা থেকে এর উপকরণ গ্রহণের প্রেক্ষিত হলো এই যে: ভাষা হলো কুরআন ও সুন্নাহর ধারক, আর কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং বাচনিক সুন্নাহও আরবি ভাষাভাষী রাসূলের কণ্ঠ নিঃসৃত হয়েছে। আর এই দুই উৎস থেকে দলীল গ্রহণ করা আরবদের বুঝানো ও বুঝার পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এবং মোটকথা হলো-
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
أصول‌‌ الفقه طرق دلالة الألفاظ على المعاني من عموم وخصوص، وإطلاق وتقييد، واشتراك وإجمال، ومنطوق ومفهوم، وحقيقة ومجاز، وهذه كلها إنما يتبع فيها ما جرى عليه عرف أهل اللغة الذين نزل القرآن بلغتهم وتكلم الرسول صلى الله عليه وسلم بها، إلا أن يكون للشرع عرف حادث فيقدم عند الاحتمال.

وفي هذا يقول إمام الحرمين: «ومن مواد أصول الفقه العربية؛ فإنه يتعلق طرف صالح منه بالكلام على مقتضى الألفاظ، ولن يكون المرء على ثقة من هذا الطرف حتى يكون محققا مستقلا باللغة العربية» (1).

4 ـ الفقه:

وجَعْل الفقه مما يستمد منه أصول الفقه مشكل؛ من جهة أن الفقه كما عرفوه هو: «العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية» فلو كان الأصول مستمدا من الفقه لما عرف إلا بعد معرفة الفقه، والحال أن الفقه لا يعرف إلا بعد معرفة الأصول فيكون دوراً ممتنعاً.

وعدل الآمدي وغيره إلى الاستعاضة عن الفقه بالأحكام الشرعية، وأوضح أن المقصود تصوُّر تلك الأحكام ومعرفة حقائقها حتى يتصور إثباتها أو نفيها، ولا يقصد معرفة وجودها أو نفيها في آحاد المسائل؛ فإن هذا لا يعرف إلا بمعرفة أصول الفقه.

ومراد من عبر بالفقه: أن أصول الفقه يحتاج في إدراكه إلى إدراك أمثلة من الفقه يمثل بها لتتضح القواعد الأصولية، فالأصولي حين يتكلم عن طرق الدلالة يحتاج إلى ضرب أمثلة فقهية توضح مقصده، وإلا كان كلامه نظريا يصعب استيعابه وفهمه، كما أنه لا بد له من معرفة معنى الأحكام الفقهية

--------------------------------------------

(1) البرهان 1/ 84.
উসূলে ফিকহ হলো অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনার পদ্ধতিসমূহ—যেমন আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), ইতলাক (নিরঙ্কুশ) ও তাকয়ীদ (শর্তযুক্ত), ইশতিরাক (অংশীদারিত্ব) ও ইজমাল (সংক্ষিপ্ততা), মানতূক (উচ্চারিত) ও মাফহূম (ব্যঞ্জিত), এবং হাকীকত (প্রকৃত) ও মাজায (রূপক)। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে সেই ভাষাভাষীদের প্রচলিত রীতি (উরফ) অনুসরণ করা হবে যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলেছেন। তবে যদি শরীয়তের কোনো নতুন পরিভাষা বা রীতি থাকে, তবে সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে ইমামুল হারামাইন বলেন: «উসূলে ফিকহের উপাদানসমূহের মধ্যে একটি হলো আরবি ভাষা; কেননা উসূলে ফিকহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শব্দের দাবি বা প্রায়োগিক অর্থের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এই বিষয়ে কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ আস্থাশীল হতে পারবে না যতক্ষণ না সে আরবি ভাষায় দক্ষ ও স্বতন্ত্র গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে» (১)।

৪. ফিকহ:

ফিকহকে উসূলে ফিকহের অন্যতম উৎস হিসেবে গণ্য করা সমস্যাসংকুল; কারণ ফিকহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তারা বলেন: «বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানের জ্ঞান।» সুতরাং উসূলে ফিকহ যদি ফিকহ থেকে গৃহীত হতো, তবে ফিকহ জানার আগে উসূলে ফিকহ জানা সম্ভব হতো না; অথচ বাস্তবতা হলো উসূলে ফিকহ জানা ছাড়া ফিকহ জানা সম্ভব নয়। ফলে এটি একটি অসম্ভব চক্রের সৃষ্টি করে।

আল-আমিদী এবং অন্যরা ফিকহ শব্দের পরিবর্তে 'শরয়ী বিধান' (আল-আহকামুশ শারইয়্যাহ) শব্দটি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই বিধানগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করা এবং সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ জানা, যাতে সেগুলো সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার বিষয়টি কল্পনা করা যায়। প্রতিটি স্বতন্ত্র মাসআলায় বিধানের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব জানা এখানে উদ্দেশ্য নয়; কারণ সেটি উসূলে ফিকহ জানা ছাড়া জানা সম্ভব নয়।

আর যারা ফিকহ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন তাদের উদ্দেশ্য হলো: উসূলে ফিকহ অনুধাবন করার জন্য ফিকহের এমন কিছু উদাহরণের প্রয়োজন হয় যা দ্বারা উসূলী কায়দা বা মূলনীতিগুলো স্পষ্ট হয়। সুতরাং উসূলবিদ যখন নির্দেশনার পদ্ধতি (দালালাত) নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তাকে ফিকহী উদাহরণ পেশ করতে হয় যা তার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে। অন্যথায় তার আলোচনা কেবল তাত্ত্বিক থেকে যাবে যা আয়ত্ত করা এবং বোঝা কঠিন হবে। তদুপরি, ফিকহী বিধানসমূহের অর্থ জানাও তার জন্য অপরিহার্য।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ১/ ৮৪।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
كالواجب والمندوب والحرام والمكروه الخ؛ لأنه حين يقرر حجية السنة يقرر أن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم واجبة، وأن معصيته حرام، ولا بد من تصور معنى الواجب والحرام، وهكذا سائر القواعد الأصولية.

وأما من جعل المستمد منه الأحكام الشرعية كالآمدي ومن تبعه، فمراده تصور معنى المحرم والمكروه والمباح والواجب والمندوب والصحيح والفاسد، ونحو ذلك من الأحكام.
যেমন ওয়াজিব, মানদুব, হারাম, মাকরুহ ইত্যাদি; কারণ যখন কেউ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত করেন, তখন তিনি এটিও সাব্যস্ত করেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তাঁর অবাধ্যতা হারাম; আর ওয়াজিব ও হারামের মর্ম উপলব্ধি করা আবশ্যক, এবং উসূলের অন্যান্য মূলনীতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।

আর যারা শারঈ আহকাম বা বিধানসমূহ যেখান থেকে আহরিত হয় সেগুলোকে উৎস হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমন আমেদি ও তাঁর অনুসারীরা, তাদের উদ্দেশ্য হলো হারাম, মাকরুহ, মুবাহ, ওয়াজিব, মানদুব, সহিহ, ফাসিদ এবং এই জাতীয় বিধানসমূহের অর্থ উপলব্ধি করা।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الباب الأول

الحكم الشرعي

‌‌تعريفه:

الحكم في اللغة: المنع، ومنه سميت حَكَمَةُ الدابة وهي حديدة في اللجام، لأنها تمنع الدابة من مخالفة مراد صاحبها. ويطلق الحكم بمعنى القضاء، وفيه معنى المنع؛ لأن قضاء القاضي يمنع ضياع الحقوق.

وفي اصطلاح جمهور الأصوليين: «خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع».

وعند الفقهاء: هو مقتضى خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين الخ، أو مدلول خطاب الله الخ.

ومال بعض الأصوليين إلى اختيار هذا التعريف؛ لأن التعريف الأول يلزم منه اتحاد الدليل والحكم في التعريف، والمعروف عند الفقهاء التفريق بينهما.

شرح التعريف:

قولهم: (خطاب الله)، الخطاب في اللغة توجيه الكلام نحو الغير لإفهامه. والمرادا بخطاب الله هنا: أمره ونهيه، وخبره وما تفرع عنه من وعد ووعيد، وتعليق على سبب أو شرط ونحو ذلك. وهو يشمل ما عرف من كلامه المقروء الذي أوحاه إلى رسوله صلى الله عليه وسلم سواء أكان قرآنا أم سنة، وما عرف من فعل الرسول صلى الله عليه وسلم، وما عرف من سائر الأدلة فإنها عائدة إلى الوحي المتلو أو غير المتلو، وما هو عائد إليهما أو إلى أحدهما فهو بمنزلتهما.
প্রথম পরিচ্ছেদ

হুকুম শারঈ (শরীয়তের বিধান)

এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে হুকুম (বিধান) হলো: নিবৃত্ত করা বা বাধা দেওয়া। আর এ থেকেই পশুর লাগামের লোহাকে 'হাকামাহ' বলা হয়, কারণ এটি পশুকে তার মালিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতে বাধা দেয়। হুকুম শব্দটি 'কাজ্বা' বা ফয়সালার অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে বাধা দেওয়ার অর্থ বিদ্যমান; কারণ বিচারকের রায় অধিকার নষ্ট হওয়া থেকে বাধা দেয়।

অধিকাংশ উসুলবিদদের পরিভাষায়: "মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন, যা দাবি (আদেশ বা নিষেধ), ইখতিয়ার (ঐচ্ছিকতা) অথবা ওয়াদ' (শর্ত বা কারণ নির্ধারণ) হিসেবে হয়ে থাকে।"

আর ফকিহদের মতে: এটি হলো মুকাল্লাফদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধনের দাবি বা প্রতিপাদ্য বিষয় ইত্যাদি, অথবা আল্লাহর সম্বোধনের নির্দেশিত অর্থ ইত্যাদি।

কিছু উসুলবিদ এই সংজ্ঞাকেই গ্রহণ করার দিকে ঝুঁকেছেন; কারণ প্রথম সংজ্ঞার ফলে সংজ্ঞার মধ্যে দলিল এবং বিধান এক হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ ফকিহদের নিকট প্রসিদ্ধ হলো এই দুটির মাঝে পার্থক্য করা।

সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তাদের উক্তি: (আল্লাহর সম্বোধন); অভিধানে 'খিতাব' বা সম্বোধন হলো অন্যকে কোনো বিষয় বোঝানোর উদ্দেশ্যে তার প্রতি কথা নিবদ্ধ করা। আর এখানে 'আল্লাহর সম্বোধন' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাঁর আদেশ, নিষেধ, সংবাদ এবং এ থেকে উদ্ভূত প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবার্তা, এবং কোনো কারণ বা শর্তের সাথে কোনো বিষয়কে যুক্ত করা ইত্যাদি। এটি আল্লাহর সেই পঠিত বাণীকে অন্তর্ভুক্ত করে যা তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ওহী করেছেন, চাই তা কুরআন হোক বা সুন্নাহ। তদ্রূপ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কর্মসমূহ এবং অন্যান্য যাবতীয় দলিল থেকে যা প্রমাণিত, তাও এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এই সব কিছুই মূলত তিলাওয়াতকৃত ওহী (কুরআন) অথবা অ-তিলাওয়াতকৃত ওহীর (সুন্নাহ) দিকেই ফিরে যায়। আর যা এই দুটির দিকে অথবা এ দুটির কোনো একটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তা এ দুটির স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই গণ্য।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذا التفسير أولى من تفسير بعضهم للخطاب بأنه الكلام النفسي؛ لأن إطلاق هذا اللفظ يجر إلى الوقوع في مذهب القائلين إن كلام الله ليس هو اللفظ المسموع، بل هو معنى قائم بذاته، وأن القرآن المسموع عبارة عن كلام الله وليس كلام الله. وهذا مردود بقوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} [التوبة 6]. فإنه يدل على أن كلام الله هو ذلك اللفظ المسموع المقروء، وما تضمنه من المعنى المراد لله جل وعلا.

ولا يمكن تفسير الخطاب هنا بأنه كلام الله بلفظه ومعناه؛ لأنه حينئذ لا يشمل إلا الخطاب الوارد في القرآن فيخرج ما دلت عليه السنة وما دل عليه الإجماع والقياس وغيرهما من الأدلة؛ لأن لفظها ليس من الله.

وقولهم: (المتعلق بأفعال المكلفين)، أي: الذي له ارتباط بأفعال المكلفين من جهة كونها مطلوبة أو غير مطلوبة، ومن جهة صحتها وفسادها وما يتبع ذلك.

وأفعال المكلفين: كل ما يدخل تحت قدرة المكلف، فتشمل الأعمال القلبية، وأعمال الجوارح فيدخل في ذلك إيجاب الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والإيمان باليوم الآخر والإيمان بالقدر خيره وشره، كما تدخل أفعال الجوارح من صلاة وحج وزكاة ونحو ذلك.

وتشمل الإقدام على الفعل والكف عنه، فيدخل إيجاب الصوم الذي هو كف عن الطعام والشراب والجماع بنية، كما يدخل إيجاب الصلاة التي هي عبارة عن أفعال وأقوال مخصوصة.

والمراد بالمكلفين: من توافرت فيهم شروط التكليف الآتي ذكرها. والأولى أن يعبر بلفظ العباد؛ ليشمل المكلف وغيره؛ لأن من الأحكام ما يتعلق بالصغير والمجنون، وليسا مكلفين.
আর এই ব্যাখ্যাটি 'খিতাব' (সম্বোধন)-কে 'কালামে নফসি' (অভ্যন্তরীণ কালাম) হিসেবে কারো কারো সংজ্ঞায়িত করার তুলনায় অধিক উত্তম। কারণ, এই শব্দটির ব্যবহার সেই মতবাদের দিকে ধাবিত করে যারা মনে করে আল্লাহর কালাম শ্রুত শব্দাবলি নয়, বরং তা তাঁর সত্তায় বিদ্যমান একটি অর্থ মাত্র; আর শ্রবণযোগ্য কুরআন হলো আল্লাহর কালামের একটি বর্ণনা বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র, তা স্বয়ং আল্লাহর কালাম নয়। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে খণ্ডিত হয়: "আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়" [আত-তাওবাহ: ৬]। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কালাম হলো সেই শ্রবণযোগ্য ও পঠিত শব্দাবলি এবং এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর কাঙ্ক্ষিত অর্থসমূহ।

এখানে 'খিতাব' (সম্বোধন)-কে শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে আল্লাহর কালাম হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; কারণ এমতাবস্থায় এটি কেবল কুরআনে বর্ণিত সম্বোধনসমূহকেই অন্তর্ভুক্ত করবে। ফলে সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস এবং অন্যান্য দলিল যা নির্দেশ করে তা এর বাইরে চলে যাবে; কারণ সেগুলোর শব্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।

এবং তাঁদের উক্তি: "(মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট)", অর্থাৎ: যা মুকাল্লাফদের কার্যাবলির সাথে সম্পর্কিত; সেটি কাম্য হওয়া বা না হওয়া এবং সেটির শুদ্ধতা বা অসারতা ও তদানুষঙ্গিক বিষয়াদির দিক থেকে।

আর মুকাল্লাফদের কার্যাবলি: যা কিছু মুকাল্লাফের সক্ষমতার আওতাভুক্ত, যার মধ্যে অন্তরের কাজ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। ফলে এর মধ্যে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ হিসেবে সালাত, হজ, জাকাত ও এই জাতীয় বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত।

এটি কোনো কাজে প্রবৃত্ত হওয়া এবং কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা—উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে সিয়াম পালনের আবশ্যকতা এর অন্তর্ভুক্ত হয়, যা নিয়তসহ পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকার নাম; ঠিক যেমন সালাতের আবশ্যকতা এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিশেষ কিছু কথা ও কাজের সমষ্টি।

আর 'মুকাল্লাফ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: যাদের মধ্যে তাকলিফের (দায়বদ্ধতার) শর্তাবলি বিদ্যমান যা সামনে উল্লেখ করা হবে। এক্ষেত্রে 'ইবাদ' (বান্দা) শব্দটি ব্যবহার করাই অধিক উত্তম; যাতে মুকাল্লাফ এবং অ-মুকাল্লাফ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ কিছু বিধান শিশু ও পাগলের সাথেও সংশ্লিষ্ট, অথচ তারা মুকাল্লাফ নয়।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقولنا: المتعلق بأفعال المكلفين (أو العباد على ما هو الأولى)، يخرج كل خطاب من الله جل وعلا تعلَّق بما عدا ذلك، كالخطاب المتعلق بما لا يعقل من وصف للكون وما فيه من جبال وأشجار وأنهار وشمس وقمر ونحو ذلك، كقوله: {وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ (47) وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ} [الذاريات 47 - 48]، وكذلك ما ورد من ذكر أحوال الماضين كقوله تعالى: {إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ (7) الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ (8) وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ (9) وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ (10) الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ} [الفجر 7 - 11] فهذه الآيات وأمثالها ليست بالنظر إلى ذاتها حكما شرعيا، ولكن إذا ضم إليها ما ورد من الأمر بالتصديق بما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم من الوحي وما ورد من وجوب الاعتبار في أحوال الماضين والاتعاظ بما جرى لهم صارت متعلقة بأفعال المكلفين فتكون حكما.

وكذلك الآيات المتعلقة بذوات المكلفين كأصل خلقهم الوارد في قوله تعالى: {مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ} [طه 55] وقوله تعالى: {إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ طِينٍ} [ص 71]، فمن حيث إنها متعلقة بذوات المكلفين لا يصدق عليها تعريف الحكم، ولكن إذا ضممنا إلى ذلك ما أراده الله جل وعلا وأمر به من وجوب شكر النعمة صارت أحكاما. ولهذا المعنى قال بعض العلماء إن جميع آيات القرآن الكريم تستنبط منها أحكام شرعية، وأنكروا على من حصر آيات الأحكام في خمسمائة آية أو نحوها.

وقولهم: (بالاقتضاء)، المراد بالاقتضاء: الطلب، سواء أكان طلب فعل أم طلب ترك.

وطلب الفعل نوعان: طلب الفعل طلبا جازما، وهذا يسمى إيجابا، وطلب
এবং আমাদের কথা: (যা মুকাল্লাফদের বা বান্দাদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা বলাই অধিক উত্তম), এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সেই সকল সম্বোধন বের হয়ে যায় যা এছাড়া অন্য কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহাবিশ্ব এবং এতে বিদ্যমান পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষলতা, নদী-নালা, সূর্য ও চন্দ্র এবং এই জাতীয় বিবেকহীন বস্তুর বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্বোধন। যেমন তাঁর বাণী: ‘এবং আকাশ, আমি তা নির্মাণ করেছি আল্লাহর হাতসমূহ দিয়ে এবং নিশ্চয়ই আমি প্রশস্তকারী। আর জমিন, আমি তা বিছিয়েছি, কতই না চমৎকার প্রসারণকারী আমি।’ [আদ-যারিয়াত ৪৭-৪৮]। একইভাবে পূর্ববর্তীদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে যা এসেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম গোত্র, যাদের সমতুল্য কোনো জাতি জনপদসমূহে সৃষ্টি করা হয়নি। এবং সামুদ গোত্র, যারা উপত্যকায় পাথর কেটেছিল। এবং কীলকধারী ফিরআউন, যারা জনপদসমূহে সীমালঙ্ঘন করেছিল।’ [আল-ফজর ৭-১১]। সুতরাং এই আয়াতগুলো এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ তাদের মূল সত্তার বিচারে কোনো শরয়ি হুকুম বা বিধান নয়, কিন্তু যখন এর সাথে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা ওহি হিসেবে নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করার আদেশ এবং পূর্ববর্তীদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও তাদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা থেকে উপদেশ গ্রহণের আবশ্যকতা যুক্ত করা হয়, তখন তা মুকাল্লাফদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায় এবং তখন তা হুকুম বা বিধান হিসেবে গণ্য হয়।

একইভাবে মুকাল্লাফদের সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ, যেমন তাদের সৃষ্টির মূল উৎস সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: ‘তা থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি।’ [ত্বহা ৫৫] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয়ই আমি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করছি।’ [সোয়াদ ৭১]। সুতরাং এই আয়াতগুলো যেহেতু মুকাল্লাফদের সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই এর ওপর হুকুমের সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয় না। কিন্তু যখন আমরা এর সাথে সেই বিষয়টিকে যুক্ত করি যা মহান আল্লাহ উদ্দেশ্য করেছেন এবং নেয়ামতের শোকর আদায় করার যে আদেশ দিয়েছেন, তখন তা হুকুমে পরিণত হয়। এই অর্থের কারণেই কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, কুরআনে কারীমের সমস্ত আয়াত থেকেই শরয়ি হুকুম আহরণ করা সম্ভব, এবং যারা আহকামের আয়াতকে পাঁচশত বা এর কাছাকাছি সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন তারা তাদের প্রতিবাদ করেছেন।

এবং তাদের কথা: (দাবিকরণের মাধ্যমে), দাবিকরণ বা ইক্তিদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তলব বা চাওয়া, চাই তা কোনো কাজ করার তলব হোক বা কোনো কাজ বর্জন করার তলব হোক।

এবং কাজ করার তলব দুই প্রকার: কোনো কাজ করার জন্য জোরালোভাবে চাওয়া, একে ঈজাব বা অপরিহার্যতা বলা হয়, এবং চাওয়া
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفعل طلبا غير جازم ويسمى الندب.

وأما طلب الترك فنوعان أيضا وهما: طلب الترك طلبا جازما، وهو المسمى بالتحريم، وطلب الترك طلبا غير جازم، وهو المسمى بالكراهة.

ويعرف كون الطلب جازما أو غير جازم بطرق سيأتي بيانها عند الكلام عن أقسام الحكم التكليفي وتعريف كلٍّ منها.

وقولهم: (أو التخيير)؛ لإدخال القسم الخامس من أقسام الحكم التكليفي وهو الإباحة، وهو تخيير الشارع بين الفعل والترك، وقد أسقط بعضهم هذه الزيادة؛ لأن الإباحة ليست حكما شرعيا عنده بل هي حكم عقلي سابق للأحكام الشرعية، وهذا خطأ؛ فإن الإباحة حكم شرعي ولكنها قد تعرف بخطاب التخيير، وقد تعرف بسكوت الشارع عن الأمر والنهي، وقد تعرف بما سوى ذلك.

وقولهم: (أو الوضع)، المراد بالوضع: جعْلُ الشيءِ سبباً أو شرطاً أو مانعاً أو وصفه بالصحة أو الفساد أو البطلان.

وهذه الزيادة أسقطها بعضهم من تعريف الحكم؛ لأن ما عرف بالأحكام الوضعية راجع عنده إلى الأحكام التكليفية فلا حاجة إلى هذه الزيادة، وأما الذين أثبتوها فقد رأوا أن نصب الأسباب والشروط والموانع والإخبار عن التصرفات بأنها صحيحة أو فاسدة لا يدخل في التعريف إلا بهذه الزيادة.

وأما تعريف الحكم الشرعي عند الفقهاء فهو: مقتضى خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين الخ. والسبب في ميلهم إلى هذا أن الحكم عندهم صفة لفعل المكلف، ولهذا يقسمونه إلى حرام ومكروه وواجب ومندوب ومباح.

وعند الأصوليين الحكم اسم للخطاب الوارد من الله جل وعلا، فلا يقسمونه إلى حرام وواجب الخ ، بل إلى تحريم وإيجاب الخ كما سيأتي.
কাজ করার জন্য যা দৃঢ়তাহীন আবেদন, তাকে মন্দুব বলা হয়।

আর কোনো কিছু বর্জন করার আবেদনও দুই প্রকার, যথা: কোনো কিছু বর্জন করার জন্য দৃঢ় আবেদন, যাকে তাহরিম (হারাম করা) বলা হয়, এবং কোনো কিছু বর্জন করার জন্য দৃঢ়তাহীন আবেদন, যাকে কারাহাত (অপছন্দনীয় করা) বলা হয়।

কোনো আবেদন দৃঢ় নাকি দৃঢ়তাহীন, তা চেনার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যা হুকমে তাকলিফি-এর প্রকারভেদ ও প্রত্যেকটির সংজ্ঞার আলোচনায় সামনে আসবে।

এবং তাদের উক্তি: (অথবা স্বাধীনতা দান); এটি হুকমে তাকলিফি-এর পঞ্চম প্রকার তথা 'ইবাহাত' (বৈধতা)-কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, যা হলো কোনো কাজ করা বা না করার ব্যাপারে শারে' (শরীয়তপ্রণেতা) কর্তৃক বান্দাকে স্বাধীনতা প্রদান করা। কেউ কেউ এই বাড়তি অংশটুকু বাদ দিয়েছেন; কারণ তাদের নিকট ইবাহাত কোনো শরয়ি বিধান নয়, বরং তা শরয়ি বিধানসমূহ আসার পূর্ববর্তী একটি আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) বিষয়। তবে এটি একটি ভুল ধারণা; কেননা ইবাহাত একটি শরয়ি বিধান, তবে তা কখনও স্বাধীনতা প্রদানের সম্বোধনের মাধ্যমে জানা যায়, আবার কখনও আদেশ বা নিষেধ থেকে শারে'-এর নীরবতার মাধ্যমে জানা যায়, আবার কখনও অন্য উপায়েও জানা যেতে পারে।

এবং তাদের উক্তি: (অথবা নির্ধারণ করা), 'ওয়াদআ' (নির্ধারণ করা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কোনো বিষয়কে সবব (কারণ), শর্ত অথবা মানি' (প্রতিবন্ধক) হিসেবে নির্ধারণ করা, অথবা তাকে সহিহ (সঠিক), ফাসিদ (ত্রুটিযুক্ত) কিংবা বাতিল হিসেবে অভিহিত করা।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ হুকমের সংজ্ঞা থেকে এই বাড়তি অংশটুকু বাদ দিয়েছেন; কারণ তাদের নিকট যা 'আহকামে ওয়াদয়িয়্যাহ' হিসেবে পরিচিত, তা আসলে 'আহকামে তাকলিফি'-এরই অন্তর্ভুক্ত, ফলে এই অতিরিক্ত অংশের প্রয়োজন নেই। তবে যারা এটি সাব্যস্ত করেছেন, তারা মনে করেন যে—সবব, শর্ত ও মানি' নির্ধারণ করা এবং কর্মসমূহ সহিহ না ফাসিদ সে সম্পর্কে অবহিত করা—এই বাড়তি অংশটি ছাড়া সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয় না।

আর ফকিহগণের নিকট হুকমে শরয়ি-এর সংজ্ঞা হলো: মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শারে'-এর সম্বোধনের ফলাফল বা দাবি ইত্যাদি। তাদের এই সংজ্ঞার দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণ হলো, তাদের নিকট 'হুকুম' বা বিধান হলো মুকাল্লাফের কাজের একটি বৈশিষ্ট্য বা গুণ। এই কারণেই তারা একে হারাম, মাকরুহ, ওয়াজিব, মন্দুব ও মুবাহ—এই ভাগে বিভক্ত করেন।

অন্যদিকে উসুলিগণের নিকট হুকুম হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সম্বোধনের নাম। তাই তারা একে সরাসরি হারাম, ওয়াজিব ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করেন না; বরং তাহরিম (হারাম করা), ইজাব (আবশ্যক করা) ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করেন, যা সামনে আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أقسام الحكم الشرعي:

الحكم الشرعي عند الأصوليين قسمان: الحكم التكليفي، والحكم الوضعي.

هذا هو الشائع عندهم، ولكن الأولى أن يقسم ثلاثة أقسام كما هو واضح من تعريفه السابق، وهذه الأقسام هي:

1 - الحكم التكليفي.

2 - الحكم التخييري.

3 - الحكم الوضعي.

وذلك لأن الإباحة ليست من الأحكام التكليفية على الصحيح، وإنما عدت مع الأحكام التكليفية للاكتفاء بتقسيم الحكم إلى تكليفي ووضعي، وعدم زيادة قسم ثالث في أقسام الحكم الشرعي غير القسمين المذكورين.

وقد تكلف بعضهم لإدخال الإباحة في الحكم التكليفي فقال: إن دخولها في هذا القسم جاء من جهة وجوب اعتقاد الإباحة فيما سوَّى الشرع فيه بين الفعل والترك، ولا يخفى أنها حينئذ ليست إباحة وإنما هي إيجاب، وأن الحكم الوضعي يساوي الإباحة في ذلك، فلا بد أن نعتقد سببيَّة ما جعله الله سببا وشرطيَّة ما جعله شرطا.

والحكم التكليفي هو: خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء. وهذا يشمل الإيجاب، والندب، والتحريم، والكراهة.

فالإيجاب: طلب الفعل طلباً مشعراً بالذم على الترك. كقوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ} [الإسراء 78].

والندب: طلب الفعل طلباً مُشعراً بعدم الذم على الترك. كقوله: {فَكَاتِبُوهُمْ
শারঈ হুকুমের প্রকারভেদ:

উসুলবিদদের নিকট শারঈ হুকুম দুই প্রকার: হুকমে তাকলিফি (আদেশসূচক বিধান) এবং হুকমে ওয়াদয়ি (নির্ধারণসূচক বিধান)।

এটিই তাঁদের মাঝে প্রচলিত, তবে অধিক উত্তম হলো একে তিন ভাগে ভাগ করা, যেমনটি এর পূর্বোক্ত সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয়েছে। এই প্রকারগুলো হলো:

১ - হুকমে তাকলিফি।

২ - হুকমে তাখয়িরি (পছন্দমূলক বিধান)।

৩ - হুকমে ওয়াদয়ি।

কারণ হলো, বিশুদ্ধ মতানুসারে ইবাহাত (বৈধতা) হুকমে তাকলিফির অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং হুকুমকে তাকলিফি ও ওয়াদয়ি—এই দুই ভাগে সীমাবদ্ধ রাখার স্বার্থে এবং উল্লেখিত দুই প্রকারের বাইরে শারঈ হুকুমের কোনো তৃতীয় প্রকার বৃদ্ধি না করার জন্য একে হুকমে তাকলিফির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কেউ কেউ ইবাহাতকে হুকমে তাকলিফির অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে: এই প্রকারে এর অন্তর্ভুক্তি এসেছে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে যে, শরয়িভাবে করা বা না করার মধ্যে যে বিষয়টিকে সমান রাখা হয়েছে, সেটিকে মুবাহ (বৈধ) বলে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। আর এটি স্পষ্ট যে, এমতাবস্থায় তা আর ইবাহাত থাকে না বরং তা ইজাব (অনিবার্যতা) হয়ে যায়। আর হুকমে ওয়াদয়িও এ বিষয়ে ইবাহাতের মতোই। সুতরাং আল্লাহ যে বিষয়টিকে কারণ (সাবাব) সাব্যস্ত করেছেন সেটিকে কারণ হিসেবে এবং যে বিষয়টিকে শর্ত (শারত) সাব্যস্ত করেছেন সেটিকে শর্ত হিসেবে বিশ্বাস করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

হুকমে তাকলিফি হলো: মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে তলব বা দাবি (ইকতিদা) হিসেবে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন। এটি ইজাব (ওয়াজিব হওয়া), নাদব (মুস্তাহাব হওয়া), তাহরিম (হারাম হওয়া) এবং কারাহাত (মাকরূহ হওয়া)-কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজাব হলো: কোনো কাজ এমনভাবে তলব করা যা বর্জনের ক্ষেত্রে তিরস্কারের বার্তা দেয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো} [আল-ইসরা ৭৮]।

নাদব হলো: কোনো কাজ এমনভাবে তলব করা যা বর্জনের ক্ষেত্রে তিরস্কার না করার বার্তা দেয়। যেমন তাঁর বাণী: {তবে তোমরা তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও...
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا} [النور 33]، وقد عرف كونه مشعرا بعدم الذم على الترك من جهة أن الكتابة بيع العبد نفسه، وقد استقر في الأفهام أن الله لا يوجب على الإنسان بيع ماله، أو من حال الرسول صلى الله عليه وسلم مع أصحابه؛ فإنه لم يلزم أحدا منهم بمكاتبة عبده.

والتحريم: طلب ترك الفعل طلبا مشعراً بالذم على الفعل. كقوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} [الإسراء 32].

والكراهة: طلب ترك الفعل طلبا مشعرا بعدم الذم على الفعل. كقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يمش أحدكم بالنعل الواحدة»، وقد علم إشعاره بعدم الذم من كونه أدبا قصد به عدم تضرر الماشي.

وأما الحكم التخييري فهو: التسوية بين الفعل والترك. كقوله تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة 187].

وأما الحكم الوضعي فهو: خطاب الله بجعل الشيء سببا أو شرطا أو مانعا أو صحيحا أو فاسدا. وسيأتي تعريف كل منها وأمثلته بعد الفراغ من أقسام الحكم التكليفي عند الفقهاء.

 

‌‌تقسيم الحكم التكليفي عند الفقهاء:

الفقهاء يتكلمون في بيان حكم أفعال العباد، ولذلك جعلوا الحكم صفة لفعل العبد وقسموه إلى خمسة أقسام هي: الواجب، والمندوب، والمحرم، والمكروه، والمباح.

والحنفية زادوا على هذه الأقسام قسمين آخرين هما: الفرض، والمكروه كراهة تحريم.

وسنتكلم عن كل واحد من هذه الأقسام باختصار؛ لأن المقصود من ذكرها معرفة اصطلاحات الفقهاء، والقدرة على تصور الأحكام الشرعية.
"যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণের সন্ধান পাও" [আন-নূর: ৩৩]। এটি পরিত্যাগ করার কারণে নিন্দা না হওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়া যায় এই দিক থেকে যে, মুকাতাবাত (চুক্তিভিত্তিক মুক্তি) হলো দাসের নিজেকে নিজের কাছে বিক্রয় করা। আর এটি মানুষের বুঝশক্তিতে স্থির হয়ে আছে যে, আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর তার সম্পদ বিক্রয় করা ওয়াজিব করেন না। অথবা এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর সাহাবীদের সাথে আচরণের অবস্থা থেকে জানা যায়; কেননা তিনি তাদের কাউকে তার দাসের সাথে মুকাতাবাত করতে বাধ্য করেননি।

আর তাহরীম হলো: কোনো কাজ বর্জন করার এমন দাবি যা উক্ত কাজ করার কারণে নিন্দার উদ্রেক করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা একটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ" [আল-ইসরা: ৩২]।

আর কারাহাত হলো: কোনো কাজ বর্জন করার এমন দাবি যা উক্ত কাজ করার কারণে নিন্দার উদ্রেক করে না। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতো পরে না হাঁটে।" এটি যে নিন্দার উদ্রেক করে না তা অবগত হওয়া গেছে এই দিক থেকে যে, এটি একটি আদব বা শিষ্টাচার যার উদ্দেশ্য হলো পথচারীর ক্ষতি রোধ করা।

আর হুকম তাখয়ীরী (ঐচ্ছিক বিধান) হলো: কাজ করা এবং না করার মধ্যে সমতা বিধান করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সংগত হওয়া হালাল করা হয়েছে" [আল-বাকারা: ১৮৭]।

আর হুকম ওয়াদয়ী (নির্ধারিত বিধান) হলো: কোনো কিছুকে কারণ, শর্ত, প্রতিবন্ধক, সহীহ অথবা ফাসিদ হিসেবে নির্ধারণ করার ব্যাপারে আল্লাহর সম্বোধন। ফকীহগণের নিকট হুকম তাকলীফী-এর প্রকারভেদ আলোচনা শেষ করার পর এগুলোর প্রত্যেকটির সংজ্ঞা ও উদাহরণ সামনে আসবে।

 

‌‌ফকীহগণের নিকট হুকম তাকলীফী-এর প্রকারভেদ:

ফকীহগণ বান্দার আমলের বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে আলোচনা করেন, আর তাই তারা বিধানকে বান্দার কাজের বিশেষণ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন: ওয়াজিব, মানদুব, মুহররাম, মাকরূহ এবং মুবাহ।

আর হানাফীগণ এই প্রকারগুলোর সাথে আরও দুটি প্রকার যোগ করেছেন: ফরয এবং মাকরূহে তাহরীমী।

আমরা এই প্রত্যেকটি প্রকার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব; কারণ এগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো ফকীহগণের পরিভাষাগুলো জানা এবং শরয়ী বিধানসমূহ উপলব্ধি করার সক্ষমতা অর্জন করা।
(খণ্ড: ১) উসুলুল ফিকহিল্লাযি লা ইয়াসাউল ফাক্বিহা জাহলুহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الواجب

‌‌تعريفه:

الواجب في اللغة: الساقط، يقال: وجب إذا سقط. ويطلق الواجب بمعنى اللازم. وهذا الإطلاق ذكره بعض أهل اللغة ولكنه قد يكون متأثرا بالمعنى الشرعي للكلمة.

وفي الشرع هو: كل ما ورد الشرع بذم تاركه مطلقا.

وهو يشمل ما جاء في الشرع ذم لتاركه سواء أكان عملاً أم اعتقاداً.

ولفظ (مطلقاً) متعلق بتاركه، أي أن الذم يتناول من ترك الواجب تركا مطلقا، فلم يتركه في أول الوقت دون آخره، ولم يتركه ليفعل ما يقوم مقامه، ولم يتركه لقيام غيره من المكلفين به.

وهذا القيد في التعريف جيء به ليكون الحد جامعا لثلاثة أنواع من الواجبات هي:

1 - الواجب الموسع: كالصلاة التي يجوز تركها في أول الوقت مع فعلها في أثنائه، فلولا زيادة لفظ مطلقا لقيل إن الواجب الموسع في أول الوقت ليس بواجب؛ لأنه لا يذم تاركه.

2 - الواجب المخير: مثل وجوب التكفير عن اليمين الحانثة بواحد من ثلاثة: العتق، والإطعام، والكسوة. فكل واحد من هذه الثلاثة بخصوصه يجوز تركه من غير ذم لكن بشرط أن يفعل غيره، فلولا زيادة وصف الترك بالإطلاق لقيل الواجب المخير ليس داخلا.
ওয়াজিব

এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ওয়াজিব: পতিত বা ঝরে পড়া। বলা হয়ে থাকে, এটি ওয়াজিব হয়েছে যখন তা পতিত হয়। আবার ওয়াজিব শব্দটি আবশ্যিক অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ভাষাবিদদের কেউ কেউ এই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে এটি শব্দটির শরয়ি অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

আর শরয়ি পরিভাষায় এটি হলো: এমন প্রতিটি বিষয় যার পরিত্যাগকারীকে শরয়ত নিঃশর্তভাবে নিন্দা করেছে।

এটি এমন সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে যার পরিত্যাগকারীর নিন্দা শরয়তে এসেছে, চাই তা কর্মগত হোক বা বিশ্বাসগত।

আর 'নিঃশর্তভাবে' শব্দটি পরিত্যাগকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ, নিন্দা ঐ ব্যক্তিকে স্পর্শ করবে যে ওয়াজিবকে নিঃশর্তভাবে বর্জন করেছে; সুতরাং সে ওয়াজিবকে সময়ের শুরুতে ছেড়ে দিয়ে শেষে আদায় করেনি, কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত অন্য কিছু আদায়ের উদ্দেশ্যেও ছাড়েনি, আবার অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তা পালন করার কারণেও সে ছেড়ে দেয়নি।

সংজ্ঞার মধ্যে এই সীমাবদ্ধতাটুকু এজন্যই নিয়ে আসা হয়েছে যাতে এই সংজ্ঞাটি ওয়াজিবের তিনটি প্রকারকে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, সেগুলো হলো:

১ - ওয়াজিব আল-মুওয়াসসা (প্রশস্ত ওয়াজিব): যেমন সালাত, যা ওয়াক্তের শুরুতে ছেড়ে দিয়ে তার সময়ের ভেতরে অন্য কোনো অংশে আদায় করা বৈধ। সুতরাং 'নিঃশর্তভাবে' শব্দটি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ না করা হলে বলা হতো যে, ওয়াক্তের শুরুতে প্রশস্ত ওয়াজিবটি আসলে ওয়াজিব নয়; কারণ তখন তা পরিত্যাগকারী নিন্দিত হয় না।

২ - ওয়াজিব আল-মুখাইয়ার (পছন্দমূলক ওয়াজিব): যেমন কসম ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি পালন করা ওয়াজিব হওয়া: দাস মুক্ত করা, খাদ্য দান অথবা বস্ত্র দান। এই তিনটির প্রত্যেকটিই সুনির্দিষ্টভাবে নিন্দা ছাড়াই ছেড়ে দেয়া বৈধ, তবে শর্ত হলো অন্য একটি পালন করতে হবে। সুতরাং ত্যাগের বিষয়টিকে 'নিঃশর্ত' বিশেষণে বিশেষিত না করা হলে বলা হতো যে, পছন্দমূলক ওয়াজিব এর অন্তর্ভুক্ত নয়।