(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم   (ثائر سلامة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم

المؤلف: أبو مالك، ثائر سلامة

عدد الصفحات: 37

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432

রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিচয়   (থা’ইর সালামা)

বিভাগ: সিরাত-উন-নবী


বই: রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিচয়

লেখক: আবু মালিক, থা’ইর সালামা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউস সানি ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم (1):

 

فإذا تبين لك، يا رعاك الله، أن الله تعالى يختص بفضله من يشاء من عباده، ليكرمهم، ويشرفهم بفهم معاني آيات القرآن، ويجعل منهم أئمة، يهدون للهدى، يكشف عن قلوبهم ظلمات الجهل المُدْلَهمَّة، ويطهرها من أدناسِ الرَّيْنِ وأجناسِ الرَّيْبِ، ويملؤها إيماناً وحِكْمَة، ويخصهم بالقِسْمِ الأسْنى، والشَّرَفِ الأَبْهى، والقدح الأعلى، وأن الناس يتفاوتون في هذا الفضل، فيرفع الله منهم أقواما لأعلى الدرجات، ويجعل منهم أحبارا، حتى يكون واحدهم ترجمانا للقرآن (2)، فيفتح الله عليه من حقائق العلوم، وخَوارق الفُهوم، ما لا رقت إليه من سواه هِمَّةٌ، ولا تحركت نحوه من غيره عَزْمَةٌ، ولا شك أنه ما بلغ هذه المنزلة إلا بفضل الله، لعلو همته، ورفعة مكانته عند الله تعالى حتى اختصه بهذا الفضل، فيكون ترجمانا لكلام الله،

--------------------------------------------

(1) فصل من كتاب تفسير كتاب الله تعالى المسمى: البيان والتبيان في تفسير كتاب الرؤوف الرحمن، لأبي مالك، ثائر سلامة، غفر الله له ولوالديه، ولزوجه ولذريته ولمن له حق عليه، وللمسلمين والمسلمات، بفضل رحمة الله تعالى وتفضله وواسع كرمه.

(2) وقد كانت الصحابة رضي الله عنهم علماء كل منهم مخصوص بنوع من العلم كعلي رضي الله عنه بالقضاء وزيد بالفرائض ومعاذ بالحلال والحرام وأُبي بالقراءة فلم يُسَمَّ أحدٌ منهم بحراً إلا عبد الله بن عباس لاختصاصه دونهم بالتفسير وعلم التأويل، وقال فيه علي بن أبي طالب: كأنما ينظر إلى الغيب من ستر رقيق. وقال فيه عبد الله بن مسعود: نِعْمَ تُرجمان القرآن عبد الله بن عباس، وقد مات ابن مسعود في سنة ثنتين وثلاثين، وعمّر بعده ابن عباس ستاً وثلاثين سنة، فما ظنك بما كسبه من العلوم بعد ابن مسعود نعم كان لعلي فيه اليد السابقة قبل ابن عباس وقال ابن عطية: فأما صدر المفسرين والمؤيد فيهم فعلي بن أبي طالب ويتلوه ابن عباس.
রহমতের নবীর (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পরিচয় (১):

 

হে আল্লাহ আপনার হেফাযতকারী (পাঠক), আপনার নিকট যদি এটি স্পষ্ট হয়ে থাকে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহের জন্য বিশিষ্ট করেন, যাতে তাদের সম্মানিত করেন এবং কুরআনের আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবনের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা দান করেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন ইমাম তৈরি করেন যারা হিদায়াতের পথ দেখান, তিনি তাদের অন্তর থেকে অজ্ঞতার নিকষ কালো অন্ধকার দূর করেন এবং কলুষতার আবিলতা ও সংশয়ের পঙ্কিলতা থেকে তা পবিত্র করেন। তিনি তাদের অন্তরকে ঈমান ও প্রজ্ঞা দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন এবং তাদের সর্বোত্তম অংশ, উজ্জ্বলতম শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ আসনে আসীন করেন। নিশ্চয়ই মানুষ এই অনুগ্রহ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্তরের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফলে আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে কিছু সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ মর্তবায় উন্নীত করেন এবং তাদের মধ্য থেকে এমন প্রাজ্ঞ আলেম তৈরি করেন যে, তাদের একেকজন কুরআনের সার্থক অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারক হয়ে ওঠেন (২)। অতঃপর আল্লাহ তাদের জন্য ইলমের নিগূঢ় সত্য ও বোধশক্তির এমন অনন্য দ্বার উন্মোচন করেন, যার দিকে অন্য কারো আকাঙ্ক্ষা পৌঁছাতে পারেনি এবং অন্য কারো সংকল্প সেদিকে ধাবিত হয়নি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি কেবল আল্লাহর অনুগ্রহেই এই সুউচ্চ মকামে পৌঁছেছেন; আর তা আল্লাহর নিকট তার সুউচ্চ হিম্মত ও উচ্চ মর্যাদার কারণে, এমনকি আল্লাহ তাকে এই বিশেষ অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তিনি আল্লাহর কালামের সার্থক ভাষ্যকার হতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) এটি ‘আল-বায়ান ওয়াত তিবইয়ান ফি তাফসিরি কিতাবির রউফুর রহমান’ নামক আল্লাহর কিতাবের তাফসির গ্রন্থ থেকে একটি পরিচ্ছেদ, যা আবু মালিক সাঈর সালামাহ এর রচনা; আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে, তার স্ত্রীকে, তার বংশধরদের, যার ওপর তার হক রয়েছে তাদের এবং সকল মুসলিম নর-নারীকে তাঁর রহমত, অনুগ্রহ ও প্রশস্ত দয়ার উসিলায় ক্ষমা করুন।

(২) সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সকলেই আলেম ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকে ইলমের এক একটি বিশেষ শাখায় পারদর্শী ছিলেন। যেমন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বিচারকার্যে, যায়েদ ফারায়েজ (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) বিদ্যায়, মুয়ায হালাল-হারাম বিষয়ে এবং উবাই কিরাত শাস্ত্রে। তবে তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ছাড়া কাউকেই ‘বাহর’ (জ্ঞানের সাগর) বলা হয়নি; কারণ তিনি তাদের তুলনায় তাফসির ও তাবিল (ব্যাখ্যা) শাস্ত্রে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন। তার সম্পর্কে আলী বিন আবি তালিব বলেছেন: ‘তিনি যেন পাতলা পর্দার আড়াল থেকে অদৃশ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।’ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তার সম্পর্কে বলেছেন: ‘আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস কুরআনের কতই না চমৎকার ব্যাখ্যাকারক!’ ইবনে মাসউদ বত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং ইবনে আব্বাস তার পরে আরও ছত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন। সুতরাং ইবনে মাসউদের ইন্তেকালের পরে তিনি যে পরিমাণ ইলম অর্জন করেছিলেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা কী! তবে অবশ্যই ইবনে আব্বাসের আগে এই বিষয়ে আলীর অগ্রণী হাত (ভূমিকা) ছিল। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: মুফাসসিরদের প্রধান এবং তাদের মধ্যে ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন আলী বিন আবি তালিব, আর তার পরেই হলেন ইবনে আব্বাস।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২)
ولكن، ما حال من اختصه الله بفضل أن يُنَزِّلَ عليه هذا الكلام، -كلام الله-، فيكون هُوَ هُوَ من يُبَيِّنُ للناس ما نُزِّلَ إليهم، ويبعثه الله شَهِيدًا عَليهم، أعظم الناس شرفا ومقدارا، على يديه قامت الحجة، وترك الناس على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، ولا يتنكبها إلا ضال، لا شك أنه سيد ولد بني آدم جميعا، وأعلاهم منزلة، فلا بد من أن نقدم بمقدمة نعرف بها القارئ بنبي الرحمة صلوات ربي وسلامه عليه، وأن نصفه له كأنما يراه، وسنرجؤ وصف أخلاقه، وجميل فعاله، ورجاحة عقله، وصفاته القيادية، وهديه، وعدله، وعلاقاته، وسلمه وحربه، وصبره، وحكمته، لموضعه من التفسير، وسنقتصر الآن على أن نقول إنه:

‌‌محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، رسول الله، ونبيه،

‌‌صاحبُ الجَمَالِ المُسَرْبَلِ بالجَلالِ، المَكْسُوِّ بجَمِيلِ الخِصَالِ وحَمِيدِ الخِلالِ، ظَاهِرُ الوَضَاءَةِ، أَبْلَجُ (1)، مَلِيحُ الوَجْهِ مُشْرِقُهُ، أَبْيَضُ اللَّوْنِ أَزْهَرُهُ (2)،

--------------------------------------------

(1) البُلوجُ: الإشراق. تقول: بَلَجَ الصبحُ يَبْلُجُ بالضم، أي أضاء. وانْبَلَجَ وتَبَلَّجَ مثله. وتبلَّج فلانٌ، إذا ضحك وهشَّ.

(2) وفي رواية: مُشْرَبَاً حُمْرَةً، وليسَ بِالْأبْيَضِ الأَمْهَقِ، ولا بِالْآدَمِ، ومعنى: وليس بالأبيض الأمهق: أي ليس بالذي بياضه خالص لا يشوبه حمرة ولا غيرها كلون الثلج واللبن. فالمراد أنه كان نيِّر البياض أزهر. وقد جاء في رواية: أنه «كان بياضه مشوباً بالحمرة». وهو أحسن أنواع الألوان المستحسنة عند الطباع الموزونة، وهذا معنى قوله: (ولا بالآدم) أي الشديد السمرة، وقد كان عيسى عليه سلام الله آدم، أي شديد السمرة.
কিন্তু সেই সত্তার অবস্থা কেমন হবে, যাঁকে আল্লাহ তাআলা এই কালাম—আল্লাহর কালাম—নাজিল করার শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে বিশেষিত করেছেন। ফলে তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাঁকে তাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করবেন। তিনি মর্যাদায় ও মানে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ। তাঁর মাধ্যমেই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি মানুষকে এক উজ্জ্বল সুস্পষ্ট পথে রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না এবং পথভ্রষ্ট ছাড়া কেউ তা পরিত্যাগ করে না। নিঃসন্দেহে তিনি সমস্ত আদম সন্তানের সর্দার এবং মর্যাদায় তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাই এমন একটি ভূমিকার অবতারণা করা আবশ্যক যার মাধ্যমে আমরা পাঠককে রহমতের নবী (তাঁর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেব এবং তাঁর বর্ণনা এমনভাবে প্রদান করব যেন পাঠক তাঁকে দেখছেন। তবে তাঁর চরিত্র, সুন্দর কার্যাবলি, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণাবলি, আদর্শ, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্পর্ক, যুদ্ধ ও সন্ধি, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার বর্ণনা আমরা তাফসিরের নির্দিষ্ট স্থানে আলোচনা করার জন্য স্থগিত রাখব। বর্তমানে আমরা শুধু এটুকুই বলব যে, তিনি হলেন:

‌‌মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আল্লাহর রাসূল ও তাঁর নবী,

‌‌গাম্ভীর্যমণ্ডিত সৌন্দর্যের অধিকারী, যিনি উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যে ভূষিত, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী ও প্রদীপ্ত (১), কমনীয় ও ভাস্বর মুখমণ্ডলের অধিকারী, উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের অধিকারী (২),

--------------------------------------------

(১) 'বুলুজ' অর্থ হলো উজ্জ্বলতা। বলা হয়: 'ভোর প্রদীপ্ত হয়েছে', অর্থাৎ আলোকিত হয়েছে। অন্যান্য সমার্থক শব্দগুলোও একই অর্থ প্রকাশ করে। আর অমুক ব্যক্তি প্রদীপ্ত হয়েছে—এটি তখন বলা হয় যখন কেউ হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল হয়।

(২) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: তিনি ছিলেন লালচে আভার সংমিশ্রিত শ্বেত বর্ণের, অত্যন্ত ফ্যাকাশে সাদা নন এবং অতি তামাটে বা গাঢ় শ্যামলা নন। 'অত্যন্ত ফ্যাকাশে সাদা নন' এর অর্থ হলো—তাঁর গায়ের রঙ এমন নিরেট সাদা ছিল না যাতে লাল বা অন্য কোনো রঙের মিশেল নেই, যেমন বরফ বা দুধের রঙ হয়। বরং উদ্দেশ্য হলো—তিনি ছিলেন উজ্জ্বল দীপ্তিময় শ্বেত বর্ণের। এক বর্ণনায় এসেছে: "তাঁর শুভ্রতা ছিল লালচে আভার সংমিশ্রণ।" আর সুষম রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষের নিকট এটিই বর্ণের শ্রেষ্ঠতম প্রকার। আর 'অতি তামাটে নন' কথাটির অর্থ হলো—তিনি অতি গাঢ় শ্যামলা বর্ণের ছিলেন না। অথচ ঈসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন গাঢ় শ্যামলা বর্ণের।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
مُسْتَدِيْرُ الوَجْهِ (1) وَسِيمٌ (2) قَسِيمٌ (3) حَسَنٌ وَضِيْءٌ (4)،

وَكَانَ صلى الله عليه وسلم فَخْمًا (5) مُفَخَّمًا (6)، يَتَلأْلأُ وَجْهُهُ (7) كَتَلألُؤِ القَمَرِ لَيلَةَ الْبَدْرِ، لا عَابِسٌ وَلا مُفَنَّدٌ (8)، إِذَا سُرَّ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ، حَتَّى كَأَنَّ وَجْهَهُ صلى الله عليه وسلم قِطْعَةُ قَمَرٍ، (قال:) أي جَابِرُ (لا بَلْ كَانَ) أَيْ وَجْهُهُ (مِثلَ الشَّمْسِ وَالقَمَرِ) أَيْ في قُوَّةِ الضِّيَاءِ وَكَثْرَةِ النُّورِ،

--------------------------------------------

(1) (وكان) أي وجهه (مستديراً) أي مائلاً إلى التدوير، إذ ورد في شمائله أنه لم يكن مكلثم الوجه.

(2) الوسيمُ الثابتُ الحُسْنِ كأَنه قد وُسِمَ

(3) القَسامُ: الحسنُ. وفلانٌ قَسيمُ الوجهِ ومُقَسَّمُ الوجه، أي حسن الوجه جميل، ورجل مُقَسَّم الوجهِ أَي جميل كله كأَن كل موضع منه أَخذ قِسْماً من الجمال.

(4) الوَضاءةُ: الحُسْنُ والنظافةُ، والوَضَاءة الحُسْنُ والبَهْجةُ.

(5) أي عظيماً في نفسه

(6) روي في حديث ابن أبي هالة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان فَخْماً مُفَخَّماً أَي عظيماً مُعَظَّماً في الصدور والعيون ولم تكن خِلْقته في جسمه الضخامة، وقيل [معناها] الفَخامة في وجهه: نُبْلُه وامْتِلاؤه مع الجمال والمهابة وأتيْنا فلاناً فَفَخَّمْناه أي عَظَّمْناه ورفعنا من شأْنه، أي كان معظماً في صدور الصدور وعيون العيون لا يستطيع مكابر أن لا يعظمه وإن حرص على ترك تعظيمه كان مخالفاً لما في باطنه.

(7) أي يضيء ويتوهج

(8) غير عابس الوجه، والمُفَنَّدُ: الضعيفُ الرأْي، أَي الذي لا فائدة في كلامه لكبرٍ أَصابه، فأم معبد إذ تصفه عليه سلام الله تقول بأنه ليس من ضعاف الرأي، ولا من الذين يخرفون في الكلام لكِبَرٍ أَصابَهُمْ.
মন্ডলাকার চেহারাবিশিষ্ট (১), সুশ্রী (২), সুসংগত সৌন্দর্যের অধিকারী (৩), সুন্দর ও উজ্জ্বল (৪),

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মহিমান্বিত (৫) ও মর্যাদাসম্পন্ন (৬); তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের উজ্জ্বলতার ন্যায় জ্বলজ্বল করত (৭); তিনি বিমর্ষ চেহারার ছিলেন না এবং বুদ্ধিহীনও ছিলেন না (৮)। তিনি যখন আনন্দিত হতেন, তাঁর চেহারা উদ্ভাসিত হয়ে উঠত, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা যেন চাঁদের একটি টুকরো মনে হতো। (জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন:) না, বরং তাঁর চেহারা ছিল (সূর্য ও চন্দ্রের মতো), অর্থাৎ আলোর তীব্রতা ও জ্যোতির আধিক্যের দিক থেকে।

--------------------------------------------

(১) (এবং ছিল) অর্থাৎ তাঁর চেহারা (মন্ডলাকার) অর্থাৎ গোলাকৃতির দিকে ঝুঁকে থাকা, কেননা তাঁর শামায়েলে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি স্থূল মুখমণ্ডলের অধিকারী ছিলেন না।

(২) ‘ওয়াসিম’ হলো সেই ব্যক্তি যার সৌন্দর্য সুদৃঢ়, যেন তাকে সৌন্দর্যের চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

(৩) ‘কাসাম’ অর্থ সৌন্দর্য। অমুক ব্যক্তি ‘কাসিমুল ওয়াজহ’ বা ‘মুকাসসামুল ওয়াজহ’ অর্থাৎ সুশ্রী ও সুন্দর চেহারার অধিকারী। ‘মুকাসসামুল ওয়াজহ’ বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যার পুরো সত্তাই সুন্দর, যেন তার প্রতিটি অঙ্গ সৌন্দর্যের একটি অংশ লাভ করেছে।

(৪) ‘ওয়াদাআহ’ অর্থ সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা; আর ‘ওয়াদাআহ’ মানে সৌন্দর্য ও কমনীয়তা।

(৫) অর্থাৎ নিজের সত্তাগতভাবে মহান।

(৬) ইবনে আবি হালাহ-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন ‘ফাক্বমান মুফাক্বখামান’ অর্থাৎ অন্তর ও চোখের দৃষ্টিতে মহান ও মর্যাদাবান। তাঁর শারীরিক গঠন অতি স্থূল ছিল না। বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো তাঁর চেহারার মহিমা: সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্যের সাথে তাঁর চেহারার আভিজাত্য ও পূর্ণতা। ‘আমরা অমুক ব্যক্তির কাছে গেলাম এবং তাকে সম্মান জানালাম’ অর্থাৎ আমরা তাকে সম্মান দান করলাম এবং তার মর্যাদা উচ্চ করলাম। অর্থাৎ তিনি অন্তর ও চোখের দৃষ্টিতে মহিমান্বিত ছিলেন; কোনো দাম্ভিক ব্যক্তিও তাঁকে সম্মান না করে থাকতে পারত না, আর যদি সে তাঁকে সম্মান না করার চেষ্টা করত, তবে তা তার অন্তরের বিশ্বাসের বিপরীত হতো।

(৭) অর্থাৎ আলোকিত হওয়া এবং প্রোজ্জ্বল হওয়া।

(৮) অর্থাৎ বিমর্ষ চেহারার নন। আর ‘মুফান্নাদ’ হলো দুর্বল বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি, অর্থাৎ বার্ধক্যের কারণে যার কথার কোনো উপযোগিতা থাকে না। উম্মে মাবাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন তাঁর বর্ণনা দেন, তখন তিনি বলেন যে তিনি দুর্বল বিচারবুদ্ধির ছিলেন না এবং বার্ধক্যজনিত কারণে প্রলাপ বকতেন না।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وَلَمْ يَكُنْ بِالْمُطَهَّمِ (1)

--------------------------------------------

(1) المُطَهَّمُ: القليلُ لَحْم الوَجْه عن كراع: ووَجْهٌ مُطَهَّمٌ أي مُجْتَمِعٌ مُدَوَّرٌ والمُطَهَّمُ المُنْتَفِخُ الوجهِ ضِدُّ، وقيل المُطَهَّمُ السمينُ الفاحشُ، ووصَف عليٌّ عليه السلام سَيِّدَنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لم يكن بالمُطَهَّمِ ولا بالمُكَلْثَمِ قال ابن سيده هو يحتمل أن يُفسَّرَ بالوجوه الثلاثة وفي الصحاح أي لم يكن بالمُدَوَّرِ الوجْه ولا بالمُوَجَّنِ ولكنه مَسْنُونُ الوجْهِ [والمسنون اللطيف الدقيق الأَنف] [أقول: في نفس الخبر عن علي رضي الله عنه بعد قوله: ولا بالمكلثم: قال: وكان في الوجه تدوير، فهذا يعني عدم دقة ما ذهب إليه الجوهري في الصحاح من أنه لم يكن مدور الوجه] الأزهري: سئل أَبو العباس عن تفسير المُطَهَّم في هذا الحديث فقال المُطَهَّم مُخْتَلَفٌ فيه فقالت طائفة هو الذي كلُّ عُضْوٍ منه حسَنٌ على حِدته وقالت طائفة المُطَهَّمُ السمينُ الفاحِشُ السِّمَنِ فقد تَمَّ النفْيُ في قوله لم يكن بالمُطَهَّم وهذا مَدْحٌ ومن قال إنه النَّحافةُ فقد تَمَّ النفي في هذا لأَن أُمَّ مَعْبَدٍ وصَفَتْه بأَنه لم تَعِبْه نُحْلةٌ ولم تَشِنْه ثُجْلة أي انتفاخُ بَطنٍ قال وأما من قال التَّطْهِيمُ الضِّخَمُ فقد صح النَّفْي فكأَنه قال لم يكن بالضَّخْم قال وهكذا وصفه عليٌّ رِضْوانُ الله عليه فقال كان بادناً مُتماسِكاً قال ابن الأثير لم يكن بالمُطَهَّمِ وهو المُنْتَفِخُ الوَجهِ وقيل الفاحشُ السِّمَنِ وقيل النحيفُ الجِسْمِ وهو من الأضداد انتهى من لسان العرب، والذي أراه، والعلم عند الله، أن أدق المعاني هو نفي أن يكون منتفخ الوجه، أو نفي أن يكون قليل لحم الوجه إذ أن الكلمة من الأضداد، فهذا معنى: ليس بالمطهم، أما نفي أن يكون مكلثما، فمعناه أن وجهه لم يكن قصير الحنك، داني الجبهة، بل كان عليه السلام ممتلئ الوجه، كما نفهم من الروايات الأخرى، ولكنه ليس منتفخا، وكان عليه السلام مستدير الوجه، ومن وصف: أسيل الوجه نفهم أن في الوجه اقتراب من الاستطالة، فهو ما بين المستدير والمائل للاستطالة قليلا، فخبرٌ قال: كان مدور الوجه، وآخر قال: وفي الوجه تدوير، ولعل الثاني أقرب للدقة، إذ أنه قال: فيه تدوير، وأوصافه الأخرى أثبتت أنه كان أسيل الوجه، فلهذا جمعنا بينها بهذا الجمع، والعلم عند الله تعالى.
তিনি অতিশয় স্থূলকায় ছিলেন না (১)

--------------------------------------------

(১) আল-মুতাহহাম: কুরা'র বর্ণনা অনুযায়ী চেহারার মাংস কম হওয়া। আর 'ওয়াজহুন মুতাহহাম' অর্থাৎ সংকুচিত গোলাকার চেহারা। আবার আল-মুতাহহাম অর্থ ফোলা চেহারাও হয়, যা এর বিপরীত। কেউ কেউ বলেন, আল-মুতাহহাম হলো অত্যন্ত স্থূলকায়। আলী (আলাইহিস সালাম) আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি অতিশয় স্থূলকায় (মুতাহহাম) ছিলেন না এবং গোলগাল মাংসল মুখবিশিষ্ট (মুকালসাম) ছিলেন না। ইবনে সিদাহ বলেন, একে এই তিনটি অর্থেই ব্যাখ্যা করার সম্ভাবনা রয়েছে। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অর্থাৎ তিনি গোলাকার চেহারা কিংবা ফোলা গালবিশিষ্ট ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মসৃণ ও দীর্ঘাকৃতি চেহারার [আর আল-মাসনুন হলো সুন্দর ও সুক্ষ্ম নাকবিশিষ্ট]। [আমি বলছি: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একই খবরে 'ওয়ালা বিল মুকালসাম' বলার পর তিনি বলেছেন: 'এবং তাঁর চেহারায় গোলাকার ভাব ছিল'। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, আল-জাওহারী 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে তিনি গোলাকার চেহারার ছিলেন না বলে যা উল্লেখ করেছেন, তা সঠিক নয়]। আল-আযহারী বলেন: আবুল আব্বাসকে এই হাদিসে 'আল-মুতাহহাম'-এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'আল-মুতাহহাম' নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছে, এটি এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার প্রতিটি অঙ্গ স্বতন্ত্রভাবে সুন্দর। অন্য একদল বলেছে, আল-মুতাহহাম হলো অত্যন্ত স্থূলকায়। সুতরাং 'তিনি অতিশয় স্থূলকায় ছিলেন না'—এই বাক্যে নেতিবাচক বর্ণনাটি পূর্ণতা পেয়েছে এবং এটি একটি প্রশংসা। আর যারা বলে এর অর্থ কৃশতা বা জীর্ণতা, তাদের ক্ষেত্রেও এই নেতিবাচকতা সঠিক, কারণ উম্মে মাবাদ তাঁর বর্ণনায় বলেছেন যে, 'জীর্ণতা তাঁকে দোষী করেনি এবং পেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (ভুঁড়ি) তাঁকে সৌন্দর্যহীন করেনি'। তিনি বলেন, আর যারা বলে 'তাতহীম' মানে বিশালদেহী হওয়া, তাদের ক্ষেত্রেও এই নেতিবাচকতা সঠিক হয়েছে, যেন তিনি বলেছেন, তিনি বিশালদেহী বা অতি স্থূল ছিলেন না। তিনি বলেন, এভাবেই আলী (রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহি) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি সুঠাম ও সুসংহত দেহের অধিকারী ছিলেন। ইবনুল আসীর বলেন, 'আল-মুতাহহাম' নয়—এর অর্থ হলো তিনি ফোলা চেহারার ছিলেন না। আবার বলা হয়েছে অত্যন্ত স্থূল, অথবা বলা হয়েছে কৃশদেহী; এটি মূলত বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত—লিসানুল আরব থেকে সমাপ্ত। আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় এবং প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট, তা হলো এর সবচেয়ে নির্ভুল অর্থ হলো তাঁর চেহারা ফোলা হওয়াকে নাকচ করা অথবা চেহারায় মাংস কম হওয়াকে নাকচ করা, যেহেতু শব্দটি বিপরীতার্থক অর্থ প্রদান করে। এটিই 'আল-মুতাহহাম' না হওয়ার অর্থ। আর 'মুকালসাম' না হওয়ার অর্থ হলো, তাঁর চেহারার চোয়াল ছোট ছিল না এবং কপাল নিচের দিকে চাপা ছিল না, বরং তিনি (আলাইহিস সালাম) ভরাট চেহারার অধিকারী ছিলেন, যা আমরা অন্যান্য বর্ণনা থেকে বুঝতে পারি, তবে তা ফোলা ছিল না। তিনি (আলাইহিস সালাম) গোলাকার চেহারার ছিলেন; আর 'মসৃণ ও দীর্ঘাকৃতি চেহারা' (আসীলুল ওয়াজহ) বর্ণনা থেকে আমরা বুঝি যে, চেহারায় কিছুটা দীর্ঘাকৃতির ভাব ছিল। সুতরাং তাঁর চেহারা ছিল গোলাকার এবং সামান্য দীর্ঘাকৃতির মাঝামাঝি। একটি বর্ণনায় এসেছে যে তিনি গোলাকার চেহারার ছিলেন এবং অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে চেহারায় গোলাকার ভাব ছিল। সম্ভবত দ্বিতীয়টিই অধিকতর নির্ভুল, যেহেতু বলা হয়েছে 'তাতে গোলাকার ভাব ছিল'। আর তাঁর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে যে তিনি মসৃণ ও দীর্ঘাকৃতি চেহারার ছিলেন। একারণেই আমরা এই উভয় বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছি। আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর নিকট রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
وَلَا بِالْمُكَلْثَمِ (1) وَكَانَ فِي الْوَجْهِ تَدْوِيرٌ (2)، أَبْيَضُ مُشْرَبٌ (3)،

كَثِيفُ شَعْرِ اللِّحْيَةِ كَثُّها (4) حَسَنُها، لِحْيتُهُ غَيرُ مُسْبَلَةٍ (5)،

--------------------------------------------

(1) قال شمر قال أَبو عبيد في صفة النبي صلى الله عليه وسلم إنه لم يكن بالمُكَلْثَم قال معناه أَنه لم يكن مستدير الوجه ولكنه كان أَسِيلاً صلى الله عليه وسلم وقال شمر المُكَلْثَمُ من الوجوه القَصِيرُ الحنكِ الدّاني الجَبهة المستدير الوجه وفي النهاية لابن الأَثير مستدير الوجهِ مع خفة اللحم قال ولا تكون الكَلْثَمة إلَاّ مع كثرة اللحم انتهى، فهو عليه سلام الله لم يكن مكلثما، ولا مطهما، بل كان أسيل الوجه أي في وجهه استطالة ونعومة.

(2) وَالْمَعْنَى أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ الْإِسَالَةِ وَالِاسْتِدَارَةِ

(3) روى البخاري أن ابْنَ عُمَرَ كان يَتَمَثَّلُ بِشِعْرِ أَبِي طَالِبٍ:

وَأَبْيَضَ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِوَجْهِهِ ثِمَالُ الْيَتَامَى عِصْمَةٌ لِلْأَرَامِلِ

قَوْله: (ثِمَال) بِكَسْرِ الْمُثَلَّثَة وَتَخْفِيف الْمِيم هُوَ الْعِمَاد وَالْمَلْجَأ وَالْمُطْعِم وَالْمُغِيث وَالْمُعِين وَالْكَافِي.

(4) كث اللحية: الكثوثة: أن تكون اللحية غير دقيقة ولا طويلة، ولكن فيها كثافة من غير عظم ولا طول، وفي القاموس كثت كثرت أصولها وكثفت وقصرت وجعدت ولذا روي كانت ملتفة وفي شرح المقامات للشريشي كثة كثيرة الأصول بغير طول ويقال للحية إذا قُصَّ شعرها وكثر إنها لكثة.

(5) في لسان العرب: والسَّبَلة عند العرب مُقَدَّم اللحية وما أَسْبَل منها على الصدر يقال للرجل إِذا كان كذلك رجل أَسْبَلُ ومُسَبَّل إِذا كان طويل اللحية، انتهى، فالمعنى إذن أن لحيته صلى الله عليه وسلم لم تكن طويلة، لذا قال في الروايات الأخرى: غَيْرُ دَقِيقِها ولا طَويلِها، فطول شعر لحيته إذن متوسط.
এবং তিনি গোলাকার মুখাবয়ব বিশিষ্ট ছিলেন না (১), তবে তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলাকার ভাব ছিল (২), তিনি ছিলেন লালিমা মিশ্রিত উজ্জ্বল গৌরবর্ণের (৩),

তাঁর দাড়ি মোবারকের চুল ছিল ঘন, সুবিন্যস্ত (৪) ও সুন্দর; তাঁর দাড়ি সুদীর্ঘ (বক্ষ পর্যন্ত ঝুলন্ত) ছিল না (৫),

--------------------------------------------

(১) শাম্মার বলেন, আবু উবাইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি 'মুকালসাম' ছিলেন না। তিনি বলেন, এর অর্থ হলো তাঁর চেহারা গোলাকার ছিল না, বরং তিনি ছিলেন সুশ্রী দীর্ঘাকৃতি মুখাবয়ব বিশিষ্ট সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। শাম্মার আরও বলেন, 'মুকালসাম' চেহারা বলতে এমন চেহারাকে বোঝায় যার চিবুক ছোট, কপাল নিচু এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে ইবনুল আসীর বলেছেন, মাংসের স্বল্পতা সহ গোলাকার চেহারাকে 'মুকালসাম' বলা হয়। তিনি বলেন, মাংসের আধিক্য ছাড়া 'কালসামা' হয় না। সারকথা হলো, আল্লাহ তাআলার শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি 'মুকালসাম' বা 'মুতাহহাম' (অত্যন্ত স্থূলকায়) ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন 'আসীলুল ওয়াজহ' অর্থাৎ তাঁর মুখমণ্ডল ছিল সামান্য লম্বাটে এবং মসৃণ।

(২) এর অর্থ হলো, তাঁর চেহারা লম্বাটে এবং গোলাকার- এই দুইয়ের মাঝামাঝি ছিল।

(৩) ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর আবু তালিবের কবিতার উদ্ধৃতি দিতেন:

তিনি এমন এক উজ্জ্বল গৌরবর্ণের অধিকারী, যাঁর চেহারার অসিলায় মেঘের নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়; তিনি পিতৃহীনদের আশ্রয় এবং বিধবাদের রক্ষক।

তাঁর উক্তি: (সিমাল) শব্দটি 'সা' বর্ণে কাসরা (জের) এবং 'মীম' বর্ণে তাশদীদ ছাড়া উচ্চারিত হয়। এর অর্থ হলো স্তম্ভ, আশ্রয়স্থল, আহার দাতা, উদ্ধারকারী, সাহায্যকারী এবং যথেষ্ট সহায়।

(৪) দাড়ি ঘন হওয়া: এর অর্থ হলো দাড়ি পাতলা বা অতিরিক্ত লম্বা না হওয়া, বরং তা স্থূলতা বা অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য ছাড়াই ঘন হওয়া। 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে, 'কাশশাত' মানে চুলের গোড়া অনেক হওয়া, ঘন হওয়া, খাটো হওয়া এবং কোঁকড়ানো হওয়া। এ কারণেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর দাড়ি ছিল ঘন সন্নিবিষ্ট। শারিশি রচিত 'শারহুল মাকামাত'-এ আছে, 'কাশশাহ' মানে দৈর্ঘ্য ছাড়াই চুলের গোড়া অনেক হওয়া। যখন দাড়ির চুল ছোট এবং সংখ্যায় অনেক হয়, তখন তাকে 'কাশশাহ' বলা হয়।

(৫) 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে আছে: আরবদের পরিভাষায় 'সাবালা' হলো দাড়ির সম্মুখভাগ এবং যা বুকের ওপর ঝুলে থাকে। কোনো ব্যক্তির দাড়ি এমন হলে তাকে 'আসবাল' বা 'মুসাব্বাল' বলা হয়, অর্থাৎ যার দাড়ি দীর্ঘ। সুতরাং অর্থ হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি দীর্ঘ ছিল না। এই কারণেই অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে: "তিনি পাতলা বা দীর্ঘ দাড়ির অধিকারী ছিলেন না।" অতএব তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ছিল মাঝারি।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
حَسَنُ الثَّغْرِ (1)، (ضَلِيعُ الفَمِ (2)

--------------------------------------------

(1) حُلْوُ المَبْسَمِ، وروى الترمذي حديثا: مَا كَانَ ضَحِكُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا تَبَسُّمًا"

(2) وروى مسلم عن شُعْبَة عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَلِيعَ الْفَمِ أَشْكَلَ الْعَيْنِ مَنْهُوسَ الْعَقِبَيْنِ، قَالَ: قُلْتُ لِسِمَاكٍ مَا ضَلِيعُ الْفَمِ؟ قَالَ: عَظِيمُ الْفَمِ، قَالَ قُلْتُ: مَا أَشْكَلُ الْعَيْنِ؟ قَالَ: طَوِيلُ شَقِّ الْعَيْنِ، قَالَ: قُلْتُ مَا مَنْهُوسُ الْعَقِبِ؟ قَالَ: قَلِيلُ لَحْمِ الْعَقِبِ، [والعَقِب، بكسر القاف: مؤخَّر القدم].

وَأَمَّا قَوْله فِي ضَلِيع الْفَم فَكَذَا قَالَهُ الْأَكْثَرُونَ، وَهُوَ الْأَظْهَر. قَالُوا: وَالْعَرَب تَمْدَحُ بِذَلِكَ، وَتَذُمُّ صِغَر الْفَم، وَهُوَ مَعْنَى قَوْل ثَعْلَب فِي ضَلِيع الْفَم وَاسِع الْفَم.

 

وَأَمَّا قَوْله فِي أَشْكَل الْعَيْن فَقَالَ الْقَاضِي هَذَا وَهْم مِنْ سِمَاك بِاتِّفَاقِ الْعُلَمَاء، وَغَلَطٌ ظَاهِرٌ، وَصَوَابه مَا اِتَّفَقَ عَلَيْهِ الْعُلَمَاء، وَنَقَلَهُ أَبُو عُبَيْد وَجَمِيع أَصْحَاب الْغَرِيب أَنَّ الشُّكْلَة حُمْرَة فِي بَيَاض الْعَيْنَيْنِ، وَهُوَ مَحْمُود، وَالشُّهْلَة بِالْهَاءِ حُمْرَة فِي سَوَاد الْعَيْن. وَأَمَّا (الْمَنْهُوس) فَبِالسِّينِ الْمُهْمَلَة. هَكَذَا ضَبَطَهُ الْجُمْهُور. وَقَالَ صَاحِب التَّحْرِير وَابْن الْأَثِير: رُوِيَ بِالْمُهْمَلَةِ وَالْمُعْجَمَة، وَهُمَا مُتَقَارِبَانِ، وَمَعْنَاهُ قَلِيل لَحْم الْعَقِب كَمَا قَالَ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
সুন্দর সম্মুখের দাঁত বিশিষ্ট (১), প্রশস্ত মুখ বিশিষ্ট (২)

--------------------------------------------

(১) মিষ্টি হাসিমাখা মুখ। তিরমিযী একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাসি কেবল মুচকি হাসিই ছিল।"

(২) মুসলিম শু'বাহ থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাহ-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখ বিশিষ্ট, রক্তিম আভা যুক্ত চোখ এবং মাংসহীন গোড়ালি বিশিষ্ট ছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি সিমাককে জিজ্ঞাসা করলাম, প্রশস্ত মুখ কী? তিনি বললেন: বড় মুখ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, রক্তিম আভা যুক্ত চোখ কী? তিনি বললেন: চোখের লম্বা চেরা অংশ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মাংসহীন গোড়ালি কী? তিনি বললেন: গোড়ালিতে অল্প মাংস থাকা। [আর 'আকিব' (ক্বাফ বর্ণে কাসরা সহ) হলো পায়ের পেছনের অংশ]।

আর প্রশস্ত মুখ সম্পর্কে অধিকাংশ আলিম এই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন এবং এটিই অধিক স্পষ্ট। তাঁরা বলেন: আরবরা এর প্রশংসা করে এবং ছোট মুখের নিন্দা করে। এটিই প্রশস্ত মুখ সম্পর্কে ছালাবের উক্তির অর্থ, অর্থাৎ চওড়া মুখ।

 

আর রক্তিম আভা যুক্ত চোখ সম্পর্কে কাযী বলেন, এটি আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী সিমাকের একটি ধারণা এবং সুস্পষ্ট ভুল। এর সঠিক অর্থ হলো যা আলেমগণ একমত হয়ে বলেছেন এবং যা আবু উবাইদ ও সকল দুরূহ শব্দ বিশেষজ্ঞগণ উদ্ধৃত করেছেন যে, 'শুকলহ' হলো চোখের সাদা অংশে লালচে আভা থাকা, যা একটি প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য। আর 'শুহলাহ' (হা বর্ণ সহ) হলো চোখের কালো অংশে লালচে ভাব। আর 'মানহুস' শব্দটি সীন (সিন মুহমালাহ) বর্ণ দিয়ে। অধিকাংশ আলিম এভাবেই শব্দটিকে চিহ্নিত করেছেন। 'আত-তাহরীর' এর লেখক এবং ইবনুল আসীর বলেন: এটি সীন এবং শীন উভয় বর্ণেই বর্ণিত হয়েছে, এবং শব্দ দুটি অর্থগতভাবে কাছাকাছি। এর অর্থ হলো গোড়ালিতে মাংস কম থাকা, যেমনটি তিনি বলেছেন। আল্লাহই অধিক ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
حَسَنُهُ) (1)، أَشْنَبُ (2)، مُفَلَّجُ الأَسْنَانِ، (3)

--------------------------------------------

(1) أي وسيعه، وهو كناية عن غاية الفصاحة ونهاية البلاغة. وقال النووي: أي عظيمه. هكذا قاله الأكثرون. وهو الأظهر. قالوا: والعرب تمدح بذلك وتذم صغر الفم، في القاموس: رجل ضليع الفم أي عظيمه أو واسعه، أو عظيم الأسنان متراصفها.

(2) أشنب: أي أبيض الأسنان مع بريق وتحديد فيها أو هو رونقها وماؤها أو بردها وعذوبتها

(3) مفلج الأسنان: أي مفرج ما بين الثنايا، وفَلَجُ الأَسنان تباعُدٌ بينها، ورجل أَفْلَجُ إِذا كان في أَسْنانِه تَفَرُّقٌ، والفَلَجُ في الأَسنان تباعد ما بين الثّنايا والرَّباعِيات خِلْقةً فإِن تُكُلِّفَ فهو التفليجُ، ورجل مُفَلَّجُ الثنايا أَي مُنْفَرِجُها وهو خلاف المُتراصِّ الأَسنان وفي صفته صلى الله عليه وسلم أَنه كان مُفَلَّجَ الأَسنانِ وفي رواية أَفْلَجَ الأَسنانِ وفي الحديث أَنه لَعَنَ المُتَفَلِّجاتِ للحُسْنِ أَي النساءَ اللاتي يَفْعَلْنَ ذلك بأَسنانهن رغبة في التحسين، وأما الثنايا والرباعيات: والرَّباعِيةُ مثل الثمانية إِحدى الأَسنان الأَربع التي تلي الثَّنايا بين الثَّنِيّة والنّاب تكون للإِنسان وغيره والجمع رَباعِياتٌ قال الأَصمعي للإِنسان من فوق ثَنِيّتان ورَباعِيتان بعدهما ونابانِ وضاحِكان وستةُ أَرْحاء من كل جانب وناجِذان وكذلك من أَسفل انتهى، فالمعنى إذن: أن مقدم أسنانه صلى الله عليه وسلم، التي بين النابين، كانت مفلجة، أي مفروقة فرقا جميلا، وفي الخبر الآخر: كان ضليع الفم، ومعناه كما مر يومي بتراصف أسنان الفم، وفي الخبر أيضا أنه كان أشنب، أي لأسنانه بريق وتحديد، فهذه صفة أسنانه عليه سلام الله ..
(তাঁর মুখগহ্বর ছিল) প্রশস্ত (১), উজ্জ্বল শুভ্র (২), এবং ফাঁক ফাঁক দাঁতবিশিষ্ট (৩),

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ প্রশস্ত; এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিগূঢ় অর্থ প্রকাশক। ইমাম নববী বলেছেন: অর্থাৎ বড়। অধিকাংশ আলেম এমনটিই বলেছেন এবং এটিই অধিক স্পষ্ট। তাঁরা বলেছেন: আরবরা এর প্রশংসা করত এবং ছোট মুখকে ত্রুটি মনে করত। 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে: 'যালিউল ফাম' অর্থ প্রশস্ত বা বড় মুখ সম্পন্ন ব্যক্তি, অথবা যার দাঁতগুলো বড় ও সুবিন্যস্ত।

(২) আশনাব: অর্থাৎ শুভ্র ও উজ্জ্বল দাঁত যাতে চমক ও তীক্ষ্ণতা রয়েছে, অথবা এটি হচ্ছে দাঁতের সজীবতা ও লাবণ্য কিংবা এর শীতলতা ও মাধুর্য।

(৩) মুফাল্লাজুল আসনান: অর্থাৎ সামনের দাঁতগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে ফাঁকা থাকা। 'ফালাজুল আসনান' বলতে দাঁতগুলোর মধ্যকার দূরত্বকে বোঝায়। যে ব্যক্তির দাঁতগুলো ফাঁকা ফাঁকা থাকে তাকে 'আফলাজ' বলা হয়। প্রাকৃতিকভাবেই সামনের চার দাঁতের মাঝে যে দূরত্ব থাকে তাকে 'ফালাজ' বলা হয়; আর যদি কৃত্রিমভাবে তা করা হয় তবে তাকে 'তাফলীজ' বলা হয়। 'মুফাল্লাজুত ছানাইয়া' বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার সামনের দাঁতগুলো পৃথক পৃথক, যা ঘন সন্নিবেশিত বা গাদাগাদি করা দাঁতের বিপরীত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছিলেন 'মুফাল্লাজুল আসনান' এবং অন্য বর্ণনায় 'আফলাজুল আসনান'। হাদীসে সৌন্দর্য লাভের উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে দাঁত ফাঁককারী নারীদের প্রতি লানত বা অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। আর সামনের প্রধান ও পার্শ্ববর্তী দাঁতসমূহ (ছানাইয়া ও রাবাইয়াত) প্রসঙ্গে: 'রাবাইয়াহ' হলো সেই চারটি দাঁত যা সামনের প্রধান দুটি দাঁতের পার্শ্ববর্তী এবং 'ছানিয়াহ' ও 'নাব' (ক্যানাইন)-এর মাঝখানে অবস্থিত, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে একই রকম এবং এর বহুবচন হলো 'রাবাইয়াত'। আসমায়ী বলেছেন: মানুষের উপরের পাটিতে দুটি 'ছানিয়াহ' এবং তার পাশে দুটি 'রাবাইয়াহ' থাকে, এরপর দুটি 'নাব' (ক্যানাইন), তারপর দুটি 'দাহিক' এবং প্রতিটি পাশে ছয়টি করে 'আরহা' (মোলার) ও দুটি 'নাজিয' থাকে; একইভাবে নিচের পাটিতেও। সুতরাং সারকথা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনের দাঁতগুলো, যা দুই ক্যানাইনের মাঝে অবস্থিত, তা ছিল 'মুফাল্লাজ' বা চমৎকারভাবে পৃথক ও সুন্দর। অন্য বর্ণনায় এসেছে: তিনি ছিলেন 'যালিউল ফাম', যার অর্থ ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তাঁর মুখগহ্বর ও দাঁত ছিল প্রশস্ত ও সুবিন্যস্ত। আরও বর্ণনায় এসেছে যে তিনি ছিলেন 'আশনাব', অর্থাৎ তাঁর দাঁতগুলোতে চমক ও তীক্ষ্ণতা ছিল। এটিই হলো তাঁর (আলাইহিস সালাম) দাঁত ও মুখের শারীরিক বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
تَامُّ الأُذُنَيْنِ، أَسِيلُ الْجَبِينِ صَلْتُ (1) الْجَبِينِ، أَسِيلُ الْخَدَّيْنِ (2)، سَهْلُهُمَا (3)، مُفَاضُهُمَا (4)، يُقْبِلُ جَمِيعَاً، وَيُدْبِرُ جَمِيعَاً،

--------------------------------------------

(1) الصَّلْتُ: البارِزُ المُسْتَوي، ورجل صَلْتُ الجَبين واضحُه وفي صفة النبي صلى الله عليه وسلم أَنه كان صَلْتَ الجبين قال خالدُ بن جَنْبَةَ الصَّلْتُ الجبينِ الواسعُ الجَبينِ الأَبيضُ الجَبينِ الواضحُ وقيل الصَّلْتُ الأَمْلَس وقيل البارزُ يقال أَصْبَحَ صَلْتَ الجَبين يَبْرُقُ، وقال أَبو عبيد الصَلْتُ الجبينِ المُسْتَوي وقال ابن شميل الصَّلْتُ الواسعُ المُسْتَوي الجميل وفي حديث آخر كان سَهْلَ الخَدَّيْنِ صَلْتَهما.

(2) ورجلٌ أَسيلُ الخدِّ، إذا كان ليِّن الخدّ طويلَه، وكلُّ مسترسلٍ أَسِيلٌ، كذا في الصحاح، وفي لسان العرب: والأَسِيلُ الأَمْلس المستوي وقد أَسُل أَسالة وأَسُل خَدُّه أَسالة امَّلَسَ وطال، وخدٌّ أَسِيل وهو السهل الليِّن وقد أَسُل أَسالة أَبو زيد من الخدود الأَسِيلُ وهو السهل اللين الدقيق المستوي.

(3) ليس فيهما نتوء ولا ارتفاع وهو بمعنى خبر البيهقي وغيره كان أسيل الخدين وذلك أعذب عند العرب.

(4) مستويهما، مع شيء من الامتلاء.
তাঁর কান দুটি ছিল নিখুঁত, কপাল ছিল মসৃণ ও প্রশস্ত (১), গাল দুটি ছিল কোমল (২), সমতল (৩), এবং কিছুটা ভরাট (৪)। তিনি যখন কারও দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন এবং যখন প্রস্থান করতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবেই প্রস্থান করতেন।

--------------------------------------------

(১) 'আস-সালত' অর্থ: স্পষ্ট ও সমতল। কোনো ব্যক্তির কপাল 'সালত' হওয়ার অর্থ হলো তা স্পষ্ট হওয়া। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলির বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি 'সালত আল-জাবিন' বা প্রশস্ত কপালবিশিষ্ট ছিলেন। খালিদ বিন জানবাহ বলেন, 'সালত আল-জাবিন' বলতে প্রশস্ত, শ্বেতশুভ্র ও উজ্জ্বল কপাল বোঝায়। কেউ কেউ বলেছেন, 'আস-সালত' মানে মসৃণ, আবার কেউ বলেছেন স্পষ্ট বা প্রকাশিত। বলা হয়ে থাকে যে, তার কপাল উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। আবু উবাইদ বলেন, 'সালত আল-জাবিন' অর্থ সমতল কপাল। ইবনে শুমাইল বলেন, 'আস-সালত' অর্থ প্রশস্ত, সমতল ও সুন্দর। অন্য এক হাদিসে এসেছে, তাঁর গাল দুটি ছিল কোমল ও মসৃণ।

(২) কোনো ব্যক্তিকে 'আসিলুল খাদ্দ' বলা হয় তখন, যখন তার গাল কোমল ও দীর্ঘ হয়। প্রতিটি মসৃণ ও প্রলম্বিত বিষয়ই 'আসিল'। 'সাহাহ' গ্রন্থে এমনটিই উল্লেখ আছে। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আল-আসিল' অর্থ মসৃণ ও সমতল। গাল 'আসিল' হওয়ার অর্থ হলো তা মসৃণ ও দীর্ঘ হওয়া। 'আসিল' গাল হলো কোমল ও নরম। আবু যায়িদ গালের বর্ণনায় 'আসিল' বলতে কোমল, নরম, সূক্ষ্ম ও সমতলকে বুঝিয়েছেন।

(৩) অর্থাৎ গাল দুটিতে কোনো অস্বাভাবিক উঁচু অংশ বা স্ফীতি ছিল না। এটি ইমাম বায়হাকি ও অন্যদের বর্ণিত "তিনি কোমল গালবিশিষ্ট ছিলেন" বর্ণনারই অনুরূপ, যা আরবদের নিকট অধিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বলে বিবেচিত হতো।

(৪) সামান্য ভরাটভাবসহ সমতল।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
أَكْحَلُ، عظيمُ الْعَيْنَيْنِ، في عينيه دُعجٌ (1)، أَشْكَلُ الْعَيْنَيْنِ (2) طويلُ شَعْرِ الأَجْفَانِ، أَزَجُّ (3) أقْرَنُ (4)،

--------------------------------------------

(1) وفي الخبر الآخر: أَدْعَجُ الْعَيْنَيْنِ أَهْدَبُ الْأَشْفَارِ،، والدَّعَجُ شدَّة سواد سواد العين وشدة بياض بياضها، وقيل شدة سوادها مع سعتها، وهو الأصح هنا، إذ أن بياض عينيه شابتهما حمرة، وعن محمد بن علي رضي الله عنه عن أبيه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضخم الرأس، عظيم العينين، هدب الأشفار، مشرب العين بحمرة، كثّ اللحية، أزهر اللون، إذا مشى تكفأ كأنما يمشي في صُعُد، وإذا التفت التفت جميعاً، شثن الكفين والقدمين». وفي رواية أخرى: فِي عَيْنَيْهِ حُمْرَةٌ.

(2) الأشكل على ما في القاموس ما فيه حمرة وبياض مختلطة، أو ما فيه بياض [يضرب] إلى حمرة، (قيل: ما أشكل العينين. قال: طويل شق العين) بفتح الشين. قال القاضي عياض: تفسير سماك اشكال العينين وهم منه وغلط ظاهر. وصوابه ما اتفق عليه العلماء ونقله أبو عبيدة وجميع أصحاب الغريب، وهو أن الشكلة حمرة في بياض العين، وهو محمود.

(3) والزَّجَجُ رِقَّة مَحَطِّ الحاجبين ودِقَّتُهُما وطولهما وسُبُوغُهما واسْتِقْواسُهُما وقيل الزَّجَجُ دِقَّة في الحاجبين وطُولٌ والرجل أَزَجُّ وحاجب أَزَجُّ ومُزَجَّجٌ وزَجَّجَتِ المرأَةُ حاجبها بالمِزَجِّ دققته وطوّلته وقيل أَطالته بالإِثمد.

(4) مرققهما مع تقوس، أَزِجَ وأَزَجَ العُشْبُ طالَ، والقَرَنُ التقاء طرفي الحاجبين .. فالمعنى أن حاجبيه طويلان ورقيقان ومقوسان ومتصلان، وفي الخبر الآخر في غير قرن، فيجمع بينهما أنهما كادا يلتقيان، ولم يلتقيا، وإنما فرق بينهما عِرْقٌ، جاء في لسان العرب: والقَرَنُ التقاء طرفي الحاجبين وقد قَرِنَ وهو أَقْرَنُ ومَقْرُون الحاجبين وحاجب مَقْرُون كأَنه قُرِن بصاحبه وقيل لا يقال أَقْرَنُ ولا قَرْناء حتى يضاف إِلى الحاجبين وفي صفة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم سَوابِغَ في غير قَرَنٍ: القَرَن بالتحريك التقاء الحاجبين قال ابن الأَثير وهذا خلاف ما روته أُم معبد فإِنها قالت في صفته صلى الله عليه وسلم أَزَجُّ أَقْرَنُ أَي مَقْرُون الحاجبين قال والأَول الصحيح في صفته صلى الله عليه وسلم وسوابغ حال من المجرور وهو الحواجب أَي أَنها دقت في حال سبوغها. انتهى
কাজল কালো আঁখি সম্পন্ন, বড় বড় চোখ বিশিষ্ট, তাঁর চোখে ছিল গভীর কালো আভা (১), লাল আভা যুক্ত সাদা চোখ বিশিষ্ট (২), চোখের পাতার লোমগুলো ছিল দীর্ঘ, সরু ও ধনুকাকৃতি দীর্ঘ ভ্রু বিশিষ্ট (৩) এবং উভয় ভ্রু মিলিত (৪),

--------------------------------------------

(১) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি ছিলেন অত্যন্ত কালো চোখ এবং দীর্ঘ চোখের পাতার অধিকারী। 'দা'জ' শব্দের অর্থ হলো চোখের মণির গভীর কালো ভাব এবং সাদা অংশের চরম শুভ্রতা। আবার কেউ কেউ বলেছেন, প্রশস্ততার সাথে চোখের মণির চরম কৃষ্ণতা; আর এখানে এটিই অধিক সঠিক, কারণ তাঁর চোখের সাদা অংশে লালিমার মিশ্রণ ছিল। মুহাম্মদ ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় মাথা বিশিষ্ট, বড় চোখ বিশিষ্ট, দীর্ঘ চোখের পাতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর চোখের সাদা অংশ লাল আভা মিশ্রিত ছিল, তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল। যখন তিনি হাঁটতেন, সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন যেন তিনি কোনো উচ্চ ভূমি থেকে নামছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে শরীর ফিরিয়ে তাকাতেন। তাঁর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ছিল মোটা ও শক্তিশালী।» অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: তাঁর দু’চোখে রক্তিম আভা ছিল।

(২) 'আল-কামুস' অভিধান অনুযায়ী 'আশকাল' বলতে এমন চোখকে বোঝায় যাতে লাল এবং সাদার মিশ্রণ থাকে, অথবা যাতে সাদা অংশ লালের দিকে ঝুঁকে থাকে। (বলা হয়েছে: 'আশকালুল আইনাইন' কী? তিনি বললেন: চোখের ফাটল বা বিস্তার লম্বা হওয়া)। কাজী আয়াজ বলেন: সিমাক-এর পক্ষ থেকে 'আশকালুল আইনাইন'-এর এই ব্যাখ্যা তাঁর একটি ভ্রম এবং স্পষ্ট ভুল। সঠিক সেটিই যার ওপর ওলামাগণ একমত হয়েছেন এবং আবু উবাইদাহসহ সকল 'গারিব' (দুর্লভ শব্দ) বিশেষজ্ঞগণ যা বর্ণনা করেছেন, তা হলো, 'শুকলাহ' বলতে চোখের সাদা অংশে বিদ্যমান লাল আভা বোঝায়, যা প্রশংসনীয় একটি বৈশিষ্ট্য।

(৩) 'যাজাজ' হলো ভ্রুর প্রান্তদ্বয়ের সূক্ষ্মতা, চিকন হওয়া, দীর্ঘ হওয়া, পূর্ণতা এবং ধনুকের মতো বক্র হওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, ভ্রুদ্বয়ের সূক্ষ্মতা এবং দৈর্ঘ্যই হলো 'যাজাজ'। এমন পুরুষকে 'আজাজ' এবং ভ্রুকে 'আজাজ' বা 'মুযাজ্জাজ' বলা হয়। যখন কোনো নারী তার ভ্রু কৃত্রিমভাবে সরু বা দীর্ঘ করে, তখন তাকে 'যাজ্জাজাত' বলা হয়। কেউ বলেছেন, ইছমিদ সুরমার মাধ্যমে তা দীর্ঘ করা।

(৪) বক্রতার সাথে ভ্রুদ্বয় সূক্ষ্ম হওয়া। ঘাস লম্বা হওয়া অর্থেও 'আজিজা' বা 'আজাজা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর 'কারান' হলো দুই ভ্রুর প্রান্তদ্বয় মিলিত হওয়া। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়, তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল দীর্ঘ, রেশমি চিকন, ধনুকের মতো বাঁকা এবং পরস্পর যুক্ত। অন্য বর্ণনায় 'মিলিত নয়' এমন শব্দও এসেছে; এই দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, ভ্রু দুটি প্রায় মিলে যাওয়ার মতো নিকটবর্তী ছিল কিন্তু পুরোপুরি মেলেনি, বরং একটি রগ সে দুটিকে পৃথক করে রেখেছিল। 'লিসানুল আরব' অভিধানে এসেছে: 'কারান' হলো দুই ভ্রুর প্রান্তদ্বয় মিলিত হওয়া। এমন ব্যক্তিকে 'আকরান' বা 'মাকরুনুল হাজিবাইন' বলা হয়, যেন এক ভ্রু অন্যটির সাথে জোড়া লাগানো। কেউ বলেছেন, 'আকরান' বা 'কারনা' শব্দ দুটি ভ্রুর সাথে সম্বন্ধ করা ছাড়া এককভাবে বলা হয় না। আমাদের সাইয়্যিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলির বর্ণনায় এসেছে—"ভ্রুদ্বয় ছিল পূর্ণ কিন্তু মিলিত নয়"। এখানে 'কারান' বলতে ভ্রুর মিলনস্থল বোঝানো হয়েছে। ইবনুল আসির বলেন, এটি উম্মে মাবাদ যা বর্ণনা করেছেন তার বিপরীত, কেননা তিনি নবীজির গুণাবলিতে 'আজাজ্জু আকরান' (দীর্ঘ ও মিলিত ভ্রু বিশিষ্ট) শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রথমটিই (মিলিত না হওয়া) নবীজির গুণ বর্ণনায় অধিক বিশুদ্ধ। 'সাওয়াবিগ' শব্দটি এখানে মাজরুর অর্থাৎ ভ্রুর অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো ভ্রুগুলো পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিল। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
أَزَجُّ الحَواجِبِ، سَوَابِغ (1)، في غَيْرِ قَرْنٍ، بينَهُمَا عِرْقٌ يُدِرُّهُ الغَضَبُ (2)

--------------------------------------------

(1) شيء سابغٌ أَي كامِلٌ وافٍ، وسَبَغَتِ النِّعْمةُ تَسْبُغُ سُبُوغاً اتسعت وإِسْباغُ الوُضوءِ المُبالَغة فيه وإتْمامُه وأَسْبَغَ الله عليه النِّعْمةَ أَكْمَلَها وأَتَمَّها ووسَّعَها.

(2) (سوابغ) بالسين أفصح من الصاد جمع سابغة أي كاملات. قال الزمخشري: حال من المجرور وهو الحواجب وهي فاعلة في المعنى إذ تقديره أزج حواجبه أي زجت حواجبه (في غير قرن) بالتحريك أي اجتماع يعني أن طرفي حاجبيه قد سبقا أي طالا حتى كادا يلتقيان ولم يلتقيا (بينهما) أي الحاجبين (عرق) بكسر فسكون (يدره) أي يحركه نافراً (الغضب) كان إذا غضب امتلأ ذلك العرق دماً كما يمتلئ الضرع لبناً إذا در فيظهر ويرتفع. فالحاصل إذن: أن حواجبه كادت تلتقي وتجتمع فيما بين العينين، إلا أنها لم تلتق، وبينها شريان دم ظاهر عند الغضب.
তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল সরু, প্রলম্বিত ও পূর্ণাঙ্গ, যা জোড়া লাগানো ছিল না। সে দুইয়ের মাঝে একটি রগ ছিল, যা রাগের সময় ফুলে উঠত।

--------------------------------------------

(১) কোনো বস্তু ‘সাবগি’ হওয়ার অর্থ হলো সেটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত হওয়া। নেয়ামত ‘সাবাগাত’ হওয়ার অর্থ হলো তা প্রশস্ত হওয়া। ওযুর ‘ইসবাগ’ অর্থ হলো তা অত্যন্ত যত্নসহকারে পূর্ণরূপে সম্পাদন করা। আর আল্লাহ তায়ালা কারো ওপর নেয়ামত ‘আসবাহা’ করেছেন মানে হলো তিনি তা পূর্ণাঙ্গ, সমাপ্ত ও প্রশস্ত করেছেন।

(২) (সোয়াবগি) শব্দটি ‘সিন’ বর্ণ দিয়ে উচ্চারণ করা ‘সদ’ অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ; এটি ‘সাবিগাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ পূর্ণাঙ্গ। ইমাম যামাখশারী বলেন: এটি এখানে ‘হাওয়াজিব’ বা ভ্রু-এর অবস্থা বর্ণনা করছে। এটি অর্থের দিক থেকে কর্তা হিসেবে ব্যবহৃত, কারণ এর গূঢ় অর্থ হলো তাঁর ভ্রুদ্বয় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রলম্বিত ছিল। ‘ফি গাইরি করনিন’ এর অর্থ হলো ভ্রুদ্বয় পরস্পর জোড়া লেগে না থাকা। অর্থাৎ তাঁর ভ্রুদ্বয়ের দুই প্রান্ত দীর্ঘ হওয়ার কারণে প্রায় মিলিত হওয়ার উপক্রম হতো কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা মিলিত হতো না। ‘বায়নাহুমা’ অর্থাৎ ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি ‘ইরক’ বা রগ ছিল। ‘ইউদিররুহু’ অর্থাৎ রাগের কারণে তা ফুলে উঠত। তিনি যখন রাগান্বিত হতেন, তখন সেই রগটি রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে যেত, ঠিক যেমন ওলান দুধে পূর্ণ হলে তা দৃশ্যমান ও উঁচু হয়ে যায়। সারকথা হলো: তাঁর ভ্রুদ্বয় দুই চোখের মাঝখানে প্রায় মিলিত হওয়ার উপক্রম হতো, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা মিলিত হতো না; আর ভ্রুদ্বয়ের মাঝে একটি রক্তবাহী শিরা ছিল যা রাগের সময় প্রকাশ পেত।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
أهْدَبُ أَشْفَارِ العَيْنَيْنِ، في أَشْفَارِهِ (1) وَطَفٌ (2)، وفي صَوْتِهِ صَحَلٌ (3) وحُسْنٌ، وفي عُنُقِهِ سَطَعٌ (4)، كَأَنَّ عُنُقَهُ جِيْدُ دُمْيَةٍ (5)، في صَفَاءِ الفِضَّةِ.

--------------------------------------------

(1) شُفْرُ العين منابت الأَهداب من الجفون الجوهري: الأَشْفارُ حروف الأَجفان التي ينبت عليها الشعر وهو الهدب.

(2) الوطَفُ كثرة شعر الحاجبين والعينين والأَشفار مع اسْترخاء وطول.

(3) في صوته صَحَلٌ أَي بُحُوحة وفي صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم حين وصَفَتْه أُمّ مَعْبَد وفي صوته صَحَلٌ هو بالتحريك كالبُحَّة وأَن لا يكون حادًّا.

(4) وعُنُق سَطْعاءُ: التي طالت، ويقال في رفعه عنقه سَطَعَ يَسْطَعُ، وقد سَطِعَ سَطَعاً وسَطَعَ يَسْطَعُ رفع رأْسه ومدَّ عُنقه.

(5) كأن عنقه بضم المهملة وبضم النون وتسكن (جيد) بكسر فسكون وهما بمعنى وإنما عبر به تفنناً وكراهة للتكرار اللفظي (دمية) كعجمة بمهملة ومثناة تحتية الصورة المنقوشة من نحو رخام أو عاج شبه عنقه بعنقها لأنه يتأنق في صنعتها مبالغة في حسنها وخصها لكونها كانت مألوفة عندهم دون غيرها (في صفاء الفضة) حال مقيدة لتشبيهه به أي كأنه هو حال صفائه قال الزمخشري: وصف عنقه بالدمية في الاستواء والاعتدال وظرف الشكل وحسن الهيئة والكمال وبالفضة في اللون والإشراق والجمال.
তিনি ছিলেন দীর্ঘ নেত্রপল্লব বিশিষ্ট, তাঁর চোখের পাপড়িতে ছিল ঘন ও দীর্ঘ চুলের সমাহার, তাঁর কণ্ঠে ছিল কিঞ্চিৎ গাম্ভীর্যপূর্ণ ভারী ভাব ও মাধুর্য। তাঁর গ্রীবায় (ঘাড়ে) ছিল দৈর্ঘ্য। তাঁর গ্রীবা যেন কোনো কারুকার্যখচিত মূর্তির গর্দান, যা রূপার ন্যায় স্বচ্ছ বা উজ্জ্বল।

--------------------------------------------

(১) চোখের 'শুফর' হলো চোখের পাতার সেই স্থান যেখান থেকে পাপড়ি গজায়। আল-জাওহারী বলেন: 'আশফার' হলো চোখের পাতার কিনারাসমূহ যেখানে লোম বা পাপড়ি গজায়।

(২) 'ওয়াতফ' হলো ভ্রু এবং চোখের পাতার পাপড়ির আধিক্য, সেই সাথে তাতে দীর্ঘতা ও কিঞ্চিৎ বক্রতা থাকা।

(৩) তাঁর কণ্ঠে ছিল 'সাহাল' অর্থাৎ কণ্ঠস্বরে একপ্রকার গাম্ভীর্যপূর্ণ গদগদ ভাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনায় উম্মে মাবাদ যখন তাঁর বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন, "তাঁর কণ্ঠে ছিল সাহাল"। এটি স্বরের একপ্রকার গাম্ভীর্যপূর্ণ ভারী ভাব, যা খুব তীক্ষ্ণ নয়।

(৪) দীর্ঘ গ্রীবাকে 'সাতআ' বলা হয়। যখন কেউ তার ঘাড় উঁচু করে তখন বলা হয় 'সাতাআ ইয়াসতাউ'। মাথা উঁচু করা ও ঘাড় লম্বা করার ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ হয়।

(৫) "যেন তাঁর গ্রীবা" (এখানে 'উনুুক' এবং 'জীদ' উভয় শব্দের অর্থই গর্দান বা ঘাড়)। ভাষাশৈলীর বৈচিত্র্য আনতে এবং শব্দের পুনরাবৃত্তি এড়াতে 'জীদ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 'দুময়াহ' হলো মার্বেল পাথর বা হাতির দাঁত দিয়ে খোদাই করা কারুকার্যখচিত কোনো প্রতিকৃতি বা মূর্তি। তাঁর গ্রীবাকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ এই ধরনের মূর্তি তৈরিতে চরম নৈপুণ্য ও সৌন্দর্যের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো এবং তৎকালীন আরবে এটি আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত ছিল। "রূপার স্বচ্ছতায়" কথাটি রূপার উজ্জ্বল অবস্থার সাথে তুলনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম যামাখশারী বলেন: তাঁর গ্রীবাকে কারুকার্যখচিত মূর্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে এর সরলতা, ভারসাম্যপূর্ণ গড়ন এবং কাঠামোর সৌন্দর্যের পূর্ণতার কারণে; আর রূপার সাথে তুলনা করা হয়েছে এর বর্ণ, উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্যের কারণে।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
أَقْنَى (1) العِرْنَيْنِ (2) له نُورٌ يعلوه، يحسبه من لم يتأمله أشم.

--------------------------------------------

(1) أقنى العرنين، يعني: الأنف، والقنا أن يكون فيه دقة مع ارتفاع في قصبته، يقول منه: رجل أقنى، وامرأة قنواء، والأشم: أن يكون الأنف دقيقا لا قنا فيه. والقَنا مصدر الأَقْنَى من الأُنوف والجمع قُنْوٌ وهو ارتفاع في أَعلاه بين القصبة والمارنِ من غير قبح، ابن سيده والقَنا ارتفاع في أَعلى الأَنف واحْديدابٌ في وسطه وسُبُوغٌ في طرَفه وقيل هو نُتوء وسَطِ القصبة وإشْرافُه وضِيقُ المَنْخَرَيْن رجل أَقْنَى وامرأَة قَنْواء بَيِّنة القَنا وفي صفة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أَقْنَى العِرْنين القَنا في الأنف طوله ودِقَّة أَرْنبته مع حدَب في وسطه والعِرْنينُ الأَنف، أقنى بقاف فنون مخففة من القنا وهو ارتفاع أعلى الأنف واحد يدأب وسطه (العرنين) أي طويل الأنف مع دقة أرنبته وهو بكسر فسكون الأنف أو ما صلب منه أو أوله حيث يكون الشم والقنا فيه طوله ودقة أرنبته مع حدب في وسطه (له) أي للعرنين أو للنبي صلى الله عليه وسلم وهو أقرب (نور) بنون مضمومة (يعلوه) يغلبه من حسنه وبهاء رونقه (يحسبه) بضم السين وكسرها أي النبي أو عرنينه (من لم يتأمله) أي يمعن النظر فيه (أشم) مرتفعاً قصبة الأنف قال محقق: وذا يفيد أن قناه كان قليلاً فمن عكس انعكس عليه ومن قال المشهور كان أشم فالكتب المشهورة تكذبه اهـ. ومراده الدلجي والشمم ارتفاع قصبة الأنف وإشراف الأرنَبَةِ.

(2) وعِرْنَينُ كل شيء أَوَّله وعِرْنينُ الأَنف تحت مُجْتَمَع الحاجبين وهو أَول الأَنف حيث يكون فيه الشَّمَمُ يقال هم شُمُّ العَرانينِ والعِرْنينُ الأَنف كله وقيل هو ما صَلُبَ من عَظْمِه قال ذو الرمة تَثْني النِّقابَ على عِرْنِينِ أَرْنَبةٍ شَمّاءَ مارِنُها بالمِسْكِ مَرْثُومُ وفي صفته صلى الله عليه وسلم أقْنى العِرْنينِ أَي الأَنف وقيل رأْس الأنف.
(১) তাঁর নাসিকা ছিল উন্নত ও সরু (২), তাঁর ওপর একটি জ্যোতি উদ্ভাসিত হতো, যে ব্যক্তি গভীরভাবে লক্ষ্য করত না সে তাঁকে উচ্চ নাসিকাযুক্ত মনে করত।

--------------------------------------------

(১) আকনা আল-ইরনাইন, অর্থাৎ: নাসিকা। 'কানা' বলতে বুঝায় নাসিকার বাঁশি উন্নত হওয়ার সাথে সাথে সূক্ষ্ম হওয়া। এর থেকে বলা হয়: উন্নত নাসিকাযুক্ত পুরুষ ও উন্নত নাসিকাযুক্তা নারী। আর 'আশাম্ম' হলো এমন নাসিকা যা সূক্ষ্ম কিন্তু তাতে কোনো উঁচু বাঁক নেই। 'কানা' শব্দটি 'আকনা' এর মূল রূপ যা নাসিকার বর্ণনায় ব্যবহৃত হয় এবং এর বহুবচন হলো 'কুনউ'। এটি হলো নাসিকার অগ্রভাগ ও বাঁশির মধ্যবর্তী উপরের অংশের সৌন্দর্যমণ্ডিত উচ্চতা। ইবনে সিদাহ বলেন: 'কানা' হলো নাসিকার উপরিভাগের উচ্চতা, মধ্যভাগের কিঞ্চিৎ বক্রতা এবং অগ্রভাগের পূর্ণতা। কেউ কেউ বলেন, এটি হলো নাসিকার বাঁশির মধ্যভাগের স্থূলতা, উচ্চতা এবং নাসারন্ধ্রের সংকীর্ণতা। এমন পুরুষকে 'আকনা' এবং নারীকে 'কানওয়া' বলা হয় যার মধ্যে 'কানা' এর স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ছিলেন 'আকনা আল-ইরনাইন', অর্থাৎ তাঁর নাসিকা দীর্ঘ এবং অগ্রভাগ সূক্ষ্ম হওয়ার সাথে সাথে মধ্যভাগে সামান্য বক্রতা ছিল। 'ইরনাইন' মানে নাসিকা। 'আকনা' শব্দটি কাফ ও নুন বর্ণের হালকা উচ্চারণে 'কানা' থেকে আগত যার অর্থ নাসিকার উপরিভাগের উচ্চতা ও মধ্যভাগের বক্রতা। (ইরনাইন) অর্থাৎ দীর্ঘ নাসিকা যার অগ্রভাগ সূক্ষ্ম। এটি জের ও সুকুন সহযোগে গঠিত, যার অর্থ নাসিকা বা তার শক্ত অংশ অথবা এর শুরুর দিক যেখানে ঘ্রাণ নেওয়া হয়। আর তাতে 'কানা' থাকা মানে হলো তার দীর্ঘতা ও অগ্রভাগের সূক্ষ্মতার সাথে মধ্যভাগে সামান্য বক্রতা থাকা। (লাহু) অর্থাৎ নাসিকার জন্য অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য, যা অধিকতর সঠিক। (নূর) শব্দটি নুন বর্ণের পেশ যোগে। (ইয়ালুহু) অর্থাৎ এর সৌন্দর্য ও ঔজ্জ্বল্যের কারণে জ্যোতি তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করত। (ইয়াহসাবুগু) সিন বর্ণের পেশ বা জের উভয় প্রকারে পড়া যায়, অর্থাৎ নবীজিকে বা তাঁর নাসিকাকে মনে করত। (মান লাম ইয়াতাআম্মালহু) অর্থাৎ যে ব্যক্তি গভীরভাবে তা পর্যবেক্ষণ করত না। (আশাম্ম) অর্থাৎ নাসিকার বাঁশি অনেক উঁচুতে অবস্থিত মনে করত। মুহাক্কিক বলেন: এটি প্রমাণ করে যে তাঁর নাসিকার সেই বক্রতা ছিল সামান্য, তাই যারা এর বিপরীত বর্ণনা করে তারা ভুল করে। আর যারা বলেন যে তিনি প্রসিদ্ধ মতে 'আশাম্ম' ছিলেন, প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ তাদের সেই দাবিকে নাকচ করে দেয়। এখানে দুলজি-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর 'শামাম' হলো নাসিকার বাঁশির উচ্চতা এবং অগ্রভাগের প্রাধান্য।

(2) কোনো জিনিসের 'ইরনাইন' হলো তার প্রারম্ভ। নাসিকার 'ইরনাইন' হলো দুই ভ্রুর সংযোগস্থলের নিচের অংশ, যা নাসিকার শুরু এবং যেখানে উচ্চতা থাকে। বলা হয় তারা 'উন্নত নাসিকা সম্পন্ন'। 'ইরনাইন' মানে পুরো নাসিকাও হয়। আবার বলা হয় এটি নাসিকার হাড়ের শক্ত অংশ। কবি যু-রুম্মাহ বলেছেন: "তিনি তাঁর ওড়নাটি তাঁর উন্নত ও সুউচ্চ নাসিকার অগ্রভাগের ওপর টেনে দিলেন, যার অগ্রভাগ কস্তুরী দ্বারা সুবাসিত ছিল।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায় 'আকনা আল-ইরনাইন' মানে উন্নত নাসিকা, আবার কেউ বলেছেন নাসিকার অগ্রভাগ।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ضَخْمُ الرَّأْسِ (1) شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، وكانَ شعرُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم إلى أنصافِ أُذنيهِ (2). وفي رواية: بينَ أُذنيهِ وعاتقِه. «وعن أنس: كان يَضْرِبُ (3)

--------------------------------------------

(1) ضَخْمُ الرَّأْسِ: أَيْ عَظِيمُهُ، وفي رواية للبخاري، قال: (كان ضخم الرأس) أي عظيمه وهو ممدوح عند العرب لدلالته على عظمة صاحبه وسعادته وإشارته إلى كمال رياسته وسيادته، ووصفت أعضاؤه صلى الله عليه وسلم بالعَظَمَةِ والضخامة، فناسب أن يكون الرأس متناسبا معها.

(2) كان غالب أحواله أن يكون شعره صلى الله عليه وسلم إلى قرب منكبيه، وكان ربما طال حتى يصير ذؤابة ويتخذ منه عقائص وضفائر كما أخرج أبو داود والترمذي بسند حسن من حديث أم هانىء قالت: «قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة وله أربع غدائر» وفي لفظ «أربع ضفائر» وفي رواية ابن ماجه «أربع غدائر يعني ضفائر» والغدائر بالغين المعجمة جمع غديرة بوزن عظيمة، والضفائر بوزنه. فالغدائر هي الذوائب والضفائر هي العقائص، فحاصل الخبر أن شعره طال حتى صار ذوائب فضفره أربع عقائص، وهذا محمول على الحال التي يبعد عهده بتعهده شعره فيها وهي حالة الشغل بالسفر ونحوه والله أعلم. وقد أخرج أبو داود والنسائي وابن ماجه وصححه من رواية عاصم بن كليب عن أبيه عن وائل بن حجر قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم ولي شعر طويل فقال ذناب ذباب، فرجعت فجززته، ثم أتيت من الغد فقال: «إني لم أَعْنِكَ» وهذا أحسن انتهى من فتح الباري، والمعنى أنه لم يعنه بقوله: ذناب ذباب، ولم يذم طول شعره.

(3) قد جاء في صفته صلى الله عليه وسلم أَشْعَر الذراعَيْن والمَنْكِبَين وأَعْلى الصَّدرِ، وفي صفة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فَسِيحُ ما بين المَنْكِبَينِ أَي بعيد ما بينهما يصفه صلى الله عليه وسلم بسعة صدره ..
মাথা ছিল বড় (১), চুল ছিল অত্যন্ত কালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল ছিল তাঁর কানের লতির অর্ধেক পর্যন্ত (২)। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তাঁর কান এবং কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: (চুল) পৌঁছে যেত (৩)

--------------------------------------------

(১) মাথা বড় হওয়া: অর্থাৎ তাঁর মাথা ছিল বৃহদাকার। বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে: (তাঁর মাথা বড় ছিল), অর্থাৎ তাঁর মাথা ছিল বৃহদাকার। আরবদের নিকট এটি প্রশংসনীয় ছিল, কারণ এটি ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌভাগ্যের প্রমাণ এবং তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের পূর্ণতার পরিচায়ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহকে সুগঠিত ও শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তাই মাথাটি সেই অঙ্গগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।

(২) অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল কাঁধের কাছাকাছি পর্যন্ত থাকত। কখনও কখনও তা দীর্ঘ হয়ে ঝুঁটি বা লতির মতো হয়ে যেত এবং তা থেকে বিনুনি বা গুচ্ছ তৈরি করা হতো। যেমন আবু দাউদ ও তিরমিজি উম্মে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদিস থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করেন এমতাবস্থায় যে তাঁর চুলে চারটি বেণী ছিল।" অন্য শব্দে আছে "চারটি বিনুনি"। ইবনে মাজাহর বর্ণনায় আছে "চারটি ঘাদাইর অর্থাৎ বিনুনি"। 'ঘাদাইর' শব্দটি 'ঘাদিরা' এর বহুবচন, আর 'দাফাইর' তার সমার্থক। মোদ্দা কথা হলো, তাঁর চুল দীর্ঘ হয়ে ঝুঁটিতে পরিণত হলে তিনি তা চারটি বিনুনিতে বাঁধতেন। এটি সেই অবস্থার ওপর নির্ভরশীল যখন দীর্ঘ সময় চুলের পরিচর্যা সম্ভব হতো না, যেমন সফরের ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণ। আল্লাহই ভালো জানেন। আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ আসিম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং আমার চুল ছিল দীর্ঘ। তিনি বললেন, অশুভ চিহ্ন। এরপর আমি ফিরে গিয়ে তা কেটে ফেললাম। পরদিন আবার এলে তিনি বললেন: 'আমি তোমাকে উদ্দেশ্য করিনি'।" এটি ফাতহুল বারী থেকে সংক্ষেপিত। এর অর্থ হলো, "অশুভ চিহ্ন" কথাটি দিয়ে তিনি তাকে উদ্দেশ্য করেননি এবং তাঁর চুলের দৈর্ঘ্যকেও নিন্দা করেননি।

(৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনায় এসেছে যে, তাঁর দুই বাহু, দুই কাঁধ এবং বক্ষের উপরিভাগ পশমযুক্ত ছিল। তাঁর গুণাবলীতে আরও এসেছে যে, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। অর্থাৎ এর দ্বারা তাঁর বক্ষের প্রশস্ততা বর্ণনা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
شَعرُ رأس النبي (1) صلى الله عليه وسلم مَنكِبَيه (2)» وكان شعره «دُونَ الجُمَّةِ وفَوْقَ الوَفْرَةِ» (3). إن انْفَرَقَتْ عَقِيْقَتُهُ (4) فَرَقَ، وإلا فلا، وَكَانَ حَسَنَ الشَّعَرِ رَجِلَهُ (5)،

--------------------------------------------

(1) روى مسلم عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ أَحْسَنَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَعْرُهُ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ

(2) «عن قتادةَ قال: سألت أنسَ بن مالِك رضي الله عنه عن شعر رسولِ الله صلى الله عليه وسلم فقال: كان شعرُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم رَجِلاً، ليس بالسَّبطِ ولا الْجَعدِ بينَ أُذنيهِ وعاتقهِ». وجمع ابن بطال بين اللفظين المختلفين في الحديث بأن ذلك إخبار عن وقتين، فكان إذا غفل عن تقصيره بلغ قريب المنكبين وإذا قصه لم يجاوز الأذنين وجمع غيره بأن الثاني كان إذا اعتمر يقصر والأول في غير تلك الحالة وفيه بعد، «له شعر يبلغ شحمة أذنيه إلى منكبيه» وحاصله أن الطويل منه يصل إلى المنكبين وغيره إلى شحمة الأذن.

(3) والجمة من شعر الرأس ما سقط على المنكبين، والوفرة شعر الرأس إذا وصل إلى شحمة الأذن. ولعل اختلاف الروايات باعتبار اختلاف الحالات.

(4) أي إن انقلبت عقيقته أي شعر رأسه انفرق بسهولة لخلفة شعره حينئذ (فرق) بالتخفيف أي جعل شعره نصفين نصفاً عن يمينه ونصفاً عن شماله سمي عقيقة تشبيهاً بشعر المولود قبل أن يحلق فاستعير له اسمه (وإلا) بأن كان مختلطاً متلاصقاً لا يقبل الفرق بدون ترجل (فلا) يفرقه بل يتركه بحاله معقوصاً أي وفرة واحدة والحاصل أنه إن كان زمن قبول الفرق فرقه وإلا تركه غير مفروق

(5) أي فيه تكسر يسير، يقال رجل شعره إذا مشطه فكان بين السبوطة والجعودة، وشعر مرجل أي مسرح وكان شعره عليه سلام الله بأصل خلقته مسرحاً ..
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথার চুল (১) তাঁর দুই কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত (২)» এবং তাঁর চুল ছিল «'জুম্মাহ'র (কাঁধ পর্যন্ত ঝুলে থাকা চুল) চেয়ে ছোট এবং 'ওয়াফরাহ'র (কানের লতি পর্যন্ত চুল) চেয়ে বড়» (৩)। যদি তাঁর মাথার চুল (৪) নিজে থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত তবে তিনি সিঁথি করতেন, অন্যথায় করতেন না। তাঁর চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং ঈষৎ ঢেউখেলানো (৫),

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত কোনো ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে বেশি সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল তাঁর দুই কাঁধ স্পর্শ করত। তিনি চওড়া কাঁধবিশিষ্ট ছিলেন। তিনি দীর্ঘকায়ও ছিলেন না, আবার খর্বকায়ও ছিলেন না।

(২) «কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুল ছিল ঈষৎ ঢেউখেলানো, যা একেবারে সোজা ছিল না এবং খুব বেশি কোঁকড়ানোও ছিল না, যা তাঁর দুই কান এবং দুই কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছাত।» ইবনে বাত্তাল হাদিসের এই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, এটি ভিন্ন ভিন্ন দুই সময়ের বর্ণনা। যখন তিনি চুল ছোট করার বিষয়ে শিথিলতা করতেন, তখন তা কাঁধের কাছাকাছি পৌঁছাত; আর যখন তিনি চুল কাটতেন, তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। অন্য কেউ এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, দ্বিতীয় অবস্থাটি ছিল উমরার সময় যখন তিনি চুল ছোট করতেন, আর প্রথম অবস্থাটি অন্য সাধারণ সময়ের; তবে এই মতটি কিছুটা অবাস্তব। «তাঁর চুল কানের লতি থেকে কাঁধ পর্যন্ত ছিল।» সারকথা হলো, লম্বা হলে তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত এবং অন্যথায় কানের লতি পর্যন্ত থাকত।

(৩) মাথার যে চুল কাঁধ পর্যন্ত ঝুলে থাকে তাকে 'জুম্মাহ' বলা হয়, আর মাথার চুল যখন কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে তখন তাকে 'ওয়াফরাহ' বলা হয়। সম্ভবত বর্ণনার এই ভিন্নতা ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে হয়েছে।

(৪) অর্থাৎ যদি তাঁর মাথার চুলগুলো বিন্যস্ত করার সময় সহজে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত, তবে তিনি সিঁথি করতেন অর্থাৎ চুলগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করতেন—এক ভাগ ডানে এবং অন্য ভাগ বামে। নবজাতকের জন্মের পর মাথা মুণ্ডন করার আগে যে চুল থাকে তার সাথে সাদৃশ্য রেখে রূপক অর্থে এখানে চুলকে 'আকীকাহ' বলা হয়েছে। আর যদি চুলগুলো জট পাকানো বা পরস্পর লেগে থাকত এবং বিন্যস্ত করা ছাড়া সিঁথি করা সম্ভব না হতো, তবে তিনি সিঁথি করতেন না; বরং তা একগুচ্ছ অবস্থায় ছেড়ে দিতেন। মোদ্দাকথা হলো, যখন সিঁথি করা সম্ভব হতো তখন তিনি সিঁথি করতেন, নতুবা সিঁথি ছাড়াই ছেড়ে দিতেন।

(৫) অর্থাৎ চুলে সামান্য ঢেউ ছিল। যখন চুল আঁচড়ানোর পর তা একেবারে সোজা এবং খুব বেশি কোঁকড়ানো অবস্থার মাঝামাঝি থাকে, তখন তাকে 'রাজিল' বলা হয়। 'মারজাল' মানে হলো বিন্যস্ত চুল। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুল জন্মগতভাবেই বিন্যস্ত বা পরিপাটি ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ (1) الْقَطِطِ وَلَا بِالسَّبِطِ (2) بل كَانَ جَعْدًا رَجِلًا،

--------------------------------------------

(1) الجعد من الشعر خلاف السبط وقيل هو القصير، والسَّبْطُ الشعر الذي لا جُعُودة فيه وشعر سَبْطٌ وسَبِطٌ مُسْتَرْسِلٌ غير جَعْدٍ وفي الحديث في صفة شعره ليس بالسَّبْطِ ولا بالجَعْدِ القَطِطِ السَّبْطُ من الشعر المُنْبَسِطُ المُسْتَرْسِلُ والقَطِطُ: الشدِيدُ الجُعُودةِ أَي كان شعره وسَطاً بينهما.

(2) الشعر الجعد هو الذي يتجعد كشعور السودان، والسبط هو الذي يسترسل فلا يتكسر منه شيء كشعور الهنود، والقطط ـ بفتح الطاء ـ البالغ في الجعودة بحيث يتفلفل، فالمعنى إذن أن شعره صلى الله عليه وسلم كان رجلا، لم يكن مسترسلا شديد النعومة، بل كان ما بين ذلك وبين أن يكون جعدا.
আর তিনি অতিরিক্ত কোঁকড়ানো (১) চুল বিশিষ্ট ছিলেন না এবং একেবারে সোজাসাপ্টা (২) চুল বিশিষ্টও ছিলেন না; বরং তাঁর চুল ছিল ঢেউখেলানো।

--------------------------------------------

(১) চুলের ক্ষেত্রে কোঁকড়ানো ভাব হলো সোজাসাপ্টার বিপরীত। কেউ কেউ বলেছেন এটি ছোট চুল। সোজাসাপ্টা চুল হলো যাতে কোনো কোঁকড়ানো ভাব থাকে না। সোজাসাপ্টা বা মসৃণ চুল হলো যা প্রসারিত এবং কোঁকড়ানো নয়। হাদীসে তাঁর চুলের বর্ণনায় এসেছে যে, তা একেবারে সোজাসাপ্টা ছিল না এবং অত্যন্ত কোঁকড়ানোও ছিল না। সোজাসাপ্টা চুল বলতে প্রসারিত ও সোজা চুলকে বোঝায়, আর 'কাতাত' বলতে অত্যন্ত কোঁকড়ানো চুলকে বোঝায়। অর্থাৎ তাঁর চুল ছিল এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি।

(২) কোঁকড়ানো চুল হলো যা সুদানীদের চুলের মতো কোঁচকানো। সোজাসাপ্টা চুল হলো যা সোজা হয়ে ঝুলে থাকে এবং যাতে কোনো ভাঁজ সৃষ্টি হয় না, যেমন ভারতীয়দের চুল। আর 'কাতাত' (ত-এ জবর সহ) হলো অত্যন্ত কোঁকড়ানো যা গোল গোল পেঁচিয়ে থাকে। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল ছিল ঢেউখেলানো, তা অতিরিক্ত মসৃণ বা সোজাসাপ্টা ছিল না, বরং তা সোজাসাপ্টা ও কোঁকড়ানো চুলের মাঝামাঝি স্তরের ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
أَجْرَدُ (1) طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ (2)، موصولُ ما بين اللُّبَّةِ والسُّرَّةِ بشعر يجري كالخطِّ، عاري اليدين والبطن مما سوى ذلك، أَشْعَرُ الذِّرَاعَينِ والمنْكِبَيْنِ وأَعَالي الصَّدْرِ، أنْوَرُ المُتَجَرَّدِ (3)، أجْمَلُ النَّاسِ وأبهاهُمْ من بَعيدٍ، وأجْلاهُمْ وأحْسَنُهُمْ من قَريبٍ، إن صَمَتَ فَعَلَيْهِ الوَقَارُ، وإنْ تَكَلَّمَ سَمَاهُ وَعَلَاهُ البَهَاءُ، وَفِيهِ حَيَاءٌ (4)، حُلْوُ المنْطِقِ ِِِ، فَصْلٌ (5)

--------------------------------------------

(1) قال ابن الأَثير الأَجرد الذي ليس على بدنه شعر ولم يكن صلى الله عليه وسلم كذلك وإِنما أَراد به أَن الشعر كان في أَماكن من بدنه كالمسربة والساعدين والساقين فإِن ضدَّ الأَجْرَد الأَشعرُ وهو الذي على جميع بدنه شعر.

(2) طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ: بِفَتْحِ الْمِيمِ وَسُكُونِ السِّينِ وَضَمِّ الرَّاءِ الشَّعْرُ الْمُسْتَدَقُّ الَّذِي يَأْخُذُ مِنْ الصَّدْرِ إِلَى السُّرَّةِ، (أجرد) أي الذي ليس على بدنه شعر. ولم يكن كذلك، وإنما أراد به أن الشعر كان في أماكن من بدنه كالمسربة والساعدين والساقين. فإن ضد الأجرد هو الأشعر الذي على جميع بدنه شعر. وقد بين بقوله: (ذو مسربة) أنه لم يكن أجرد على الإطلاق، وفي بعض … الروايات: طويل المشربة، ولعله خطأ طباعي، فبعد البحث الطويل، استقر رأيي على أن الصواب هو طويل المسربة، والله أعلم.

(3) في اللسان: والتجرُّدُ التعرِّي وفي صفته صلى الله عليه وسلم أَنه كان أَنورَ المتجرِّدِ أَي ما جُرِّدَ عنه الثياب من جسده وكُشِف يريد أَنه كان مشرق الجسد.

(4) روى البخاري ومسلم عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ- واللفظ لمسلم- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشَدَّ حَيَاءً مِنْ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ.

(5) كلامه فصل .. روى الترمذي عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هَذَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمُ بِكَلَامٍ بَيْنَهُ فَصْلٌ يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ.
শরীরের অধিকাংশ অংশ লোমহীন (১), দীর্ঘ পশম-রেখা বিশিষ্ট (২), কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত একটি রেখার মতো প্রবহমান পশম দ্বারা যুক্ত, এ ছাড়া দুই হাত ও পেট পশমহীন, দুই বাহু, দুই কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগ পশমযুক্ত, শরীরের অনাবৃত অংশ অত্যন্ত উজ্জ্বল (৩), দূর থেকে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও লাবণ্যময়, এবং কাছ থেকে সবচেয়ে দীপ্তিময় ও সুদর্শন; যখন তিনি নীরব থাকতেন, তখন তাঁর ওপর গাম্ভীর্য বিরাজ করত, আর যখন কথা বলতেন, তখন তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য ফুটে উঠত, এবং তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল লজ্জা (৪), তিনি ছিলেন মধুর ভাষী ও তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট (৫)

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসীর বলেন, 'আজরাদ' হলো যার শরীরে পশম নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেমন ছিলেন না; বরং তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে পশম শরীরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ছিল, যেমন মাসরুবাহ (বুক থেকে নাভি পর্যন্ত রেখা), দুই বাহু এবং দুই নলা। কেননা 'আজরাদ'-এর বিপরীত হলো 'আশ'আর', যার অর্থ হলো যার সারা শরীর পশমে ঢাকা থাকে।

(২) দীর্ঘ পশম-রেখা বিশিষ্ট: মীম-এর জবর, সীন-এর সাকিন এবং রা-এর পেশ সহকারে; এর অর্থ হলো সেই চিকন পশম যা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। (আজরাদ) অর্থাৎ যার শরীরে পশম নেই। তিনি তেমন ছিলেন না, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পশম তাঁর শরীরের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে ছিল যেমন মাসরুবাহ, দুই বাহু এবং দুই নলা। কেননা আজরাদের বিপরীত হলো আশ'আর, যার পুরো শরীর পশমযুক্ত। তিনি 'পশম-রেখা বিশিষ্ট' (যূ মাসরুবাহ) বলার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ঢালাওভাবে পশমহীন ছিলেন না। কোনো কোনো বর্ণনায় 'তবিলুল মাশরুবাহ' এসেছে, সম্ভবত এটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি; দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আমার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সঠিক শব্দ হলো 'তবিলুল মাসরুবাহ', আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে আছে: 'তাজাররুদ' অর্থ অনাবৃত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায় এসেছে যে তিনি ছিলেন 'আনোয়ারুল মুতাজাররদ' অর্থাৎ তাঁর শরীরের যে অংশ থেকে কাপড় সরানো হতো বা যা উন্মুক্ত থাকতো তা ছিল উজ্জ্বল; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন তাঁর দেহ ছিল অত্যন্ত দীপ্তিময়।

(৪) বুখারী ও মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন—শব্দগুলো মুসলিমের—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লাজুক ছিলেন। যখন তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন, আমরা তাঁর মুখমণ্ডল দেখেই তা বুঝতে পারতাম।

(৫) তাঁর কথা ছিল সুস্পষ্ট... তিরমিযী যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো গড়গড় করে একনাগাড়ে কথা বলতেন না; বরং তিনি এমনভাবে স্পষ্টভাবে কথা বলতেন যে, যারা তাঁর কাছে বসত তারা তা অনায়াসে মুখস্থ করে নিতে পারত।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
لا نَزْرٌ ولا هَذَرٌ (1)، كَأَنَّ مَنْطِقَهُ خَرَزَاتٍ نُظْمٍ يَتَحَدَّرْنَ، أُوتيَ جَوَامِعَ الْكَلِمِ، أَفْصَحُ النَّاسِ لِسَانَاً، وأقْوَاهُمْ حُجَّةً وَبُرْهَانَاً، بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، عَرِيضُ الصَّدْرِ لم تعبه ثجلة ولم تُزْرِ به صُقْلةٌ (2) (وفي رواية) صَعْلَةٌ (3)، كان بَادِناً مُتَمَاسِكاً، سَواءَ الْبَطْنِ (4)

--------------------------------------------

(1) كلامه بيِّنٌ وسطٌ ليس بالقليل ولا بالكثير، وفي حديث أُمِّ مَعْبَد لا نَزْر ولا هَذَر النَّزْر القليل أَي ليس بقليل فيدُلَّ على عِيٍّ ولا كثيرٍ فاسد.

(2) أَي لم تَعِبْهُ دِقَّة ونُحُول، ورواه بعضهم ولم تَعِبْه ثُجلةٌ ولم تُزْرِ به صَعْلةٌ فالثُّجْلة استرخاء البطن والصَّعْلة صِغَرُ الرأْس وبعضهم يَرْويه لم تَعِبْه نُحْلة

(3) الثجلة: كبر البطن، والصعلة: صغر الرأس، يعني أنه صلى الله عليه وسلم لم يكن كبير البطن ولا صغير الرأس، لم تُزْرِ به ثُجْلة أَي ضِخَمُ بَطْن ويروى بالنون والحاء أَي نُحُول ودِقَّة، الجوهري: الثُّجْلة بالضم عِظَم البطن وسَعَتُه، ورواه بعضهم ولم تَعِبْه ثُجلةٌ ولم تُزْرِ به صَعْلةٌ فالثُّجْلة استرخاء البطن والصَّعْلة صِغَرُ الرأْس وبعضهم يَرْويه لم تَعِبْه نُحْلة، فالمعنى إذن: لم يكن نحيلا، ولا صاحب بطن مسترخية.، وأما الصعلة، ففي وصف علي رضي الله عنه لرأسه الشريفة، ضخم الرأس، فنجمع بين وصف أم معبد بأنه لم يعبه صغر رأس، مع وصف علي بأنه كان ضخم الرأس، بأن حجم رأسه الشريفة أقرب للعظم، منها للصغر، بما يملؤ العين مهابة، وإنما وصف بضخم الرأس لأن هذا الوصف من البلاغة للدلالة على العظمة والسعادة وكمال الرياسة.

(4) وفي صفته صلى الله عليه وسلم مُفاض البطنِ أَي مُسْتَوي البطنِ مع الصَّدْرِ وقيل المُفاضُ أَن يكون فيه امْتِلاءٌ ..
তার কথা খুব অল্পও ছিল না, আবার অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘও ছিল না (১), যেন তার কথাগুলো একটি সুতোয় গাঁথা মতির মালা যা থেকে একটির পর একটি ঝরে পড়ছে। তাকে প্রদান করা হয়েছিল সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা (জাওয়ামিউল কালিম), তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী এবং দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনে তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি ছিলেন প্রশস্ত কাঁধ বিশিষ্ট এবং চওড়া বুকের অধিকারী। পেটের স্থূলতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করেনি এবং কৃশতা কিংবা মাথার ক্ষুদ্রতা তাকে হীন করেনি (২) (অন্য বর্ণনায় এসেছে) মাথার ক্ষুদ্রতা (৩)। তিনি সুঠাম ও মজবুত দেহের অধিকারী ছিলেন এবং তার পেট ও বুক ছিল সমান্তরাল (৪)।

--------------------------------------------

(১) তার কথা ছিল সুস্পষ্ট ও পরিমিত, না ছিল খুব অল্প, আর না ছিল খুব বেশি। উম্মে মা’বাদ বর্ণিত হাদীসে এসেছে: 'না ছিল অল্প, না ছিল অসারতা'। 'নাজর' অর্থ সামান্য, অর্থাৎ তা এতো কম ছিল না যা তার বাক-অক্ষমতা প্রকাশ করে, আবার এতো বেশিও ছিল না যা অসার ও ত্রুটিযুক্ত।

(২) অর্থাৎ শরীরের অতি কৃশতা বা জীর্ণতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করেনি। কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, পেটের স্থূলতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করেনি এবং মাথার ক্ষুদ্রতা তাকে হীন করেনি। 'থুজলাহ' অর্থ পেটের স্থিতিহীনতা বা ঝুলে পড়া এবং 'সা'লাহ' অর্থ মাথার ক্ষুদ্রতা। কেউ কেউ এটি 'নুহলাহ' বা অতিশয় রোগা হওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(৩) 'থুজলাহ' অর্থ পেটের বিশালতা এবং 'সা'লাহ' অর্থ মাথার ক্ষুদ্রতা। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় পেট বা ছোট মাথা বিশিষ্ট ছিলেন না। 'থুজলাহ তাকে হীন করেনি' অর্থ তার পেট বড় ছিল না। এটি নুন ও হা বর্ণ দিয়েও (নুহলাহ) বর্ণিত হয়েছে যার অর্থ কৃশতা বা শরীরের জীর্ণতা। জওহারী বলেছেন: 'থুজলাহ' অর্থ পেটের বিশালতা ও প্রশস্ততা। কেউ কেউ এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, স্থূলতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করেনি এবং ক্ষুদ্রতা তাকে হীন করেনি। 'থুজলাহ' অর্থ পেটের ঝুলে পড়া এবং 'সা'লাহ' অর্থ মাথার ক্ষুদ্রতা, আর কেউ কেউ এটি 'নুহলাহ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: তিনি জীর্ণ বা অতিশয় রোগা ছিলেন না এবং ঝুলে পড়া পেটের অধিকারীও ছিলেন না। আর 'সা'লাহ'র বিষয়ে বলা যায় যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার মাথার বর্ণনায় তাকে বড় মস্তক বিশিষ্ট বলেছেন। সুতরাং আমরা উম্মে মা’বাদের বর্ণনা (মাথার ক্ষুদ্রতা তাকে হীন করেনি) এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনাকে (তিনি বড় মস্তক বিশিষ্ট ছিলেন) এভাবে সমন্বয় করতে পারি যে, তার মাথার আকার বড়র দিকেই ছিল, যা দেখার সাথে সাথে মনে গাম্ভীর্যের উদ্রেক করত। তাকে বড় মস্তক বিশিষ্ট বলা হয়েছে কারণ এটি অলঙ্কারশাস্ত্রে মহত্ত্ব, সৌভাগ্য ও নেতৃত্বের পূর্ণতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।

(৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনায় 'মুফাদুল বাতান' এসেছে, অর্থাৎ তার পেট বুকের সাথে সমতলে ছিল। আবার কেউ বলেছেন 'মুফাদ' মানে হলো পেট পূর্ণ থাকা।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالصَّدْرِ (1)، ضَخْمَ الْكَرَادِيسِ (2)

--------------------------------------------

(1) قال البيهقي: كان بطنه غير مستفيض فهو مساو لصدره وظهره عريض فهو مساو لبطنه أو العريض بمعنى الوسيع أو مجاز عن احتمال الأمور

(2) ضَخْمُ الْكَرَادِيسِ: هِيَ رُءُوسُ الْعِظَامِ وَأَحَدُهَا كُرْدُوسٌ وَقِيلَ هِيَ مُلْتَقَى كُلِّ عَظْمَيْنِ ضَخْمَيْنِ كَالرُّكْبَتَيْنِ وَالْمِرْفَقَيْنِ وَالْمَنْكِبَيْنِ أَرَادَ أَنَّهُ ضَخْمُ الْأَعْضَاءِ.
এবং বক্ষদেশ (১), বড় অস্থিসন্ধিবিশিষ্ট (২)

--------------------------------------------

(১) বাইহাকী বলেন: তাঁর উদর স্ফীত ছিল না, বরং তা বক্ষদেশের সাথে সমান ছিল। তাঁর পিঠ ছিল প্রশস্ত, যা উদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথবা প্রশস্ত অর্থ বিশাল, অথবা এটি বিভিন্ন বিষয় ধৈর্যধারণ ও বহনের একটি রূপক।

(২) বড় অস্থিসন্ধিবিশিষ্ট: এগুলো হলো হাড়ের প্রান্তভাগ, যার একবচন হলো ‘কুরদুস’। বলা হয়েছে যে, এগুলো হলো দুটি বড় হাড়ের মিলনস্থল যেমন—দুই হাঁটু, দুই কনুই এবং দুই কাঁধ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি সুঠাম ও বড় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গবিশিষ্ট ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ (1) وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، أَجْوَدُ النَّاسِ كَفَّا وَأَشْرَحُهُمْ صَدْرًا وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً وَأَكْرَمُهُمْ عِشْرَةً مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً هَابَهُ وَمَنْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً أَحَبَّهُ يَقُولُ نَاعِتُهُ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ.

(ورأيت الخاتم) بفتح التاء ويكسر، أي خاتم النبوّة. (عند كتفه مثل بيضة الحمامة.) أي مدوّراً (يشبه) أي لونه (جسده) أي لون سائر أعضائه. والمعنى لم يخالف لونه لون بشرته،

--------------------------------------------

(1) روى الترمذي عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ كَانَ خَاتَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي الَّذِي بَيْنَ كَتِفَيْهِ غُدَّةً حَمْرَاءَ مِثْلَ بَيْضَةِ الْحَمَامَةِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وروى البخاري عَنْ الْجُعَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ قَالَ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَقَعَ فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ وَتَوَضَّأَ فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتِمٍ بَيْنَ كَتِفَيْهِ قَالَ ابْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحُجْلَةُ مِنْ حُجَلِ الْفَرَسِ الَّذِي بَيْنَ عَيْنَيْهِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ مِثْلَ زِرِّ الْحَجَلَةِ. وَجَزَمَ التِّرْمِذِيّ بِأَنَّ الْمُرَاد بِالْحُجْلَةِ الطَّيْر الْمَعْرُوف، وَأَنَّ الْمُرَاد بِزِرِّهَا بَيْضهَا، وَيُعَضِّدهُ ما عِنْد مُسْلِم عَنْ جَابِر بْن سَمُرَة " كَأَنَّهُ بَيْض حَمَامَة ".
তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ছিল নবুওয়াতের মোহর (১) এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল, বক্ষপ্রসারিত হওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে প্রশস্ত (বিশাল হৃদয়ের অধিকারী), সত্যবাদীতায় মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগণ্য, স্বভাবে সর্বাধিক কোমল এবং সাহচর্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে অভিভূত (ভীত) হতো, আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁর সাথে মিশত সে তাঁকে ভালোবাসত। তাঁর গুণ বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

(এবং আমি মোহরটি দেখেছি) ‘তা’ বর্ণে জবর বা যের যোগে পঠিত, অর্থাৎ নবুওয়াতের মোহর। (তাঁর কাঁধের কাছে কবুতরের ডিমের মতো।) অর্থাৎ গোলাকার (সদৃশ) অর্থাৎ এর রঙ (তাঁর দেহের) অর্থাৎ তাঁর শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রঙের মতো। এর অর্থ হলো, এর রঙ তাঁর গায়ের চামড়ার রঙের চেয়ে ভিন্ন ছিল না।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোহর অর্থাৎ যা তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ছিল, তা ছিল লালচে মাংসপিণ্ড সদৃশ, যা কবুতরের ডিমের মতো। আবু ঈসা (তিরমিযী) বলেন, এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস। আর বুখারী জুআঈদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সায়েব ইবনে ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমার খালা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর পানি পান করলাম। তারপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে থাকা মোহরটির দিকে তাকালাম। ইবনে উবাইদিল্লাহ বলেন, ‘হুজলা’ হলো ঘোড়ার দুই চোখের মাঝখানের শুভ্রতা। ইব্রাহিম ইবনে হামযাহ বলেন, ‘হুজলা’ পাখির বোতামের মতো। তিরমিযী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, ‘হুজলা’ দ্বারা সুপরিচিত পাখি উদ্দেশ্য, আর তার বোতাম দ্বারা তার ডিম উদ্দেশ্য। এর সমর্থনে মুসলিম-এ জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত হাদিসটি রয়েছে: “যেন তা কবুতরের ডিম”।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
سَمِينُ الكَفَّيْنِ (1) والقَدَمَيْنِ، (2) شَثْنُ الْكَفَّيْنِ (3) وَالْقَدَمَيْنِ (4)، إِذَا مَشَى تَقَلَّعَ كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ مَعًا، شَبْحُ الذِّرَاعَيْنِ (5)،

--------------------------------------------

(1) (وكان سبط الكفين) أي غليظهما. قال أبو عبيدة: يعني أنهما إلى الغلظ والقصر أميل. وقال غيره: هو الذي في أنامله غلظ بلا قصر. ويحتمل أن يكون كناية عن الجود، لأن العرب تقول للبخيل جعد الكف، وفي ضده سبط الكف.

(2) قال ابن بطال: كانت كفه صلى الله عليه وسلم ممتلئة لحماً، غير أنها مع ضخامتها كانت لينة كما تقدم في حديث أنس.

(3) بِفَتْحِ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ الْمُثَلَّثَةِ وَبِالنُّونِ اي لم يكن نحيف الكفين والقدمين مع ليونتهن وقِيلَ اللِّينُ فِي الْجِلْدِ وَالْغِلَظُ فِي الْعِظَامِ فَيَجْتَمِعُ لَهُ نُعُومَةُ الْبَدَنِ مَعَ الْقُوَّةِ

(4) للإيماء إلى الشجاعة والثبات والقوّة في العبادات، ويحمد ذلك في الرجال لأنه أشد لقبضهم وأدل على قوّتهم، ويذم في النساء لفوات المطلوب منهن وهو الرعانة. ثم المراد غلظ العضو في الخلقة لا خشونة الجلد لما صح عن أنس: ما مسست ديباجة ولا حريرة ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي صفته صلى الله عليه وسلم: شَثْنُ الكفين والقدمين أَي أَنهما تميلان إلى الغِلَظِ والقِصَر وقيل هو الذي في أَنامله غلظ بلا قصر ويحمد ذلك في الرجال لأَنه أَشدُّ لقَبْضِهم ويذم في النساء.

(5) أَي عريضهما وفي صفة النبي صلى الله عليه وسلم أَنه كان مَشْبُوحَ الذراعين أَي طويلَهما وقيل عريضهما وفي رواية كان شَبْح الذراعين ..
তাঁর দুই হাতের তালু (১) এবং দুই পা ছিল মাংসল, (২) দুই হাতের তালু (৩) এবং দুই পা ছিল সুঠাম ও প্রশস্ত (৪), যখন তিনি হাঁটতেন, তখন সবলে কদম তুলতেন যেন তিনি কোনো ঢালু স্থান দিয়ে নিচে নামছেন। আর তিনি যখন কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে (পুরো শরীর নিয়ে) ফিরতেন। তাঁর দুই বাহু ছিল দীর্ঘ ও প্রশস্ত (৫),

--------------------------------------------

(১) (তাঁর দুই হাতের তালু ছিল প্রশস্ত) অর্থাৎ তা ছিল মাংসল। আবু উবাইদাহ বলেন: এর অর্থ হলো তা মাংসল হওয়া এবং দৈর্ঘ্যে কিছুটা ছোট হওয়ার দিকে ধাবিত। অন্যরা বলেছেন: এটি এমন যার আঙুলগুলো মোটা কিন্তু ছোট নয়। এটি দানশীলতার রূপক হওয়াও সম্ভব, কারণ আরবরা কৃপণকে 'সংকুচিত হাতের তালু বিশিষ্ট' বলে এবং এর বিপরীতকে 'প্রশস্ত হাতের তালু বিশিষ্ট' বলে।

(২) ইবনে বাত্তাল বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালু মাংসল ছিল, তবে তা প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও নরম ছিল, যেমনটি আনাস (রা.)-এর হাদিসে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) বর্ণটি যবরযুক্ত 'শিন', সুকুনযুক্ত 'সা' এবং 'নুন' সহযোগে (শাছন)। এর অর্থ হলো তাঁর হাতের তালু এবং পা দুটি নরম হওয়া সত্ত্বেও চিকন বা সরু ছিল না। বলা হয়েছে যে, চামড়ায় ছিল কোমলতা এবং হাড়ে ছিল মজবুত গঠন, ফলে তাঁর মাঝে শরীরের কোমলতার সাথে শক্তির সমন্বয় ঘটেছিল।

(৪) এটি সাহসিকতা, অটলতা এবং ইবাদতে শক্তির দিকে ইঙ্গিত দেয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় কারণ এটি কোনো কিছু মজবুতভাবে ধরার জন্য অধিক সহায়ক এবং শক্তির পরিচায়ক, আর নারীদের ক্ষেত্রে এটি নিন্দনীয় কারণ তাদের ক্ষেত্রে যা কাম্য তা হলো কমনীয়তা। এখানে অঙ্গের সৃষ্টিগত প্রশস্ততা ও মাংসল গঠন উদ্দেশ্য, চামড়ার খসখসে হওয়া নয়; কেননা আনাস (রা.) থেকে সহিহ রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম কোনো রেশম বা দিবায স্পর্শ করিনি। তাঁর গুণাবলিতে বলা হয়েছে: তাঁর দুই হাতের তালু এবং পা ছিল 'শাছন' (মাংসল ও প্রশস্ত), অর্থাৎ তা মাংসল ও কিছুটা ছোট হওয়ার দিকে ধাবিত। বলা হয়েছে, এটি এমন আঙুল যা মাংসল কিন্তু ছোট নয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় কারণ তা মজবুতভাবে ধরার জন্য অধিক উপযোগী, আর নারীদের ক্ষেত্রে তা নিন্দনীয়।

(৫) অর্থাৎ তাঁর বাহুদ্বয় প্রশস্ত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি ছিলেন 'মাশবুহুল যিরাআইন' অর্থাৎ তাঁর বাহুদ্বয় ছিল দীর্ঘ। আবার বলা হয়েছে প্রশস্ত। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি প্রশস্ত বাহু বিশিষ্ট ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
(طَويلُ الزّنْدَيْنِ)، رَحْبُ الرَّاحِةِ (1)، جَلِيلُ الْمُشَاشِ (2) وَالْكَتَدِ (3) سَبْطُ القصبِ (4)، سَائِلُ (5)

--------------------------------------------

(1) والرَحْبُ، بالفتح: الواسِعُ

(2) والمُشاشُ كلُّ عظم لا مُخّ فيه يُمْكنك تتّبعُه، وفي صفة النبي صلى الله عليه وسلم أَنه كان جليلَ المُشاشِ أَي عَظِيمَ رُءُوسِ الْعِظَامِ كَالْمِرْفَقَيْنِ والْكَتِفَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ، قال الجوهري والمُشاشةُ واحدة المُشاشِ وهي رُءُوسُ الْعِظَامِ الليّنة التي يمكن مضغُها ومنه الحديث مُلِئَ عَمّارٌ إِيماناً إِلى مُشاشِه والمُشاشةُ ما أَشرفَ من عظْم المنكِب،

(3) والكَتَدِ الكَتِدُ بفتح التاء وكسرها مُجْتَمِعُ الْكَتِفَيْنِ وَهُوَ الْكَاهِلُ وَهُوَ مُقَدَّمُ أَعْلَى الظَّهْرِ مِمَّا يَلِي الْعُنُقَ وَهُوَ الثُّلُثُ الْأَعْلَى مِمَّا يَلِي الظَّهْرَ وَفِيهِ سِتُّ فَقَرَاتٍ، ومنه الحديث كنا يوم الخندق نَنْقُلُ الترابَ على أَكتادِنا جَمْع الكتد.

(4) والقَصَبُ عظام الأَصابع من اليدين والرجلين وقيل هي ما بين كل مَفْصِلَيْن من الأَصابع وفي صفته عليه السلام: سَبْطُ القَصَب، القَصَبُ من العظام كلُّ عظم أَجوفَ فيه مُخٌّ واحدتُه قَصَبة وكلُّ عظمٍ عَريضٍ لَوْحٌ، والسبْطُ والسِبطُ بسكون الباء وكسرها الممتدُّ الذي ليس فيه تَعَقُّدٌ ولا نُتوء والقَصَبُ يريد بها ساعِدَيه وساقَيْه.

(5) سائل الأَطراف أَي ممتدّها، وفي روايات: سَائِر أو سَابِل الأَطْرَافِ، وكلها بمعنى ممتد الأطراف ..
(দুই কবজি লম্বা), প্রশস্ত হাতের তালু বিশিষ্ট (১), বড় অস্থির জোড়া বিশিষ্ট (২) এবং চওড়া কাঁধ বিশিষ্ট (৩), সোজা ও সুঠাম অস্থি বিশিষ্ট (৪), প্রলম্বিত (৫)

--------------------------------------------

(১) এবং 'রাহব' (যবর যোগে) অর্থ: প্রশস্ত।

(২) এবং 'মুশাশ' হলো এমন প্রতিটি হাড় যাতে মজ্জা নেই এবং যা আপনি আলাদা করতে পারেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলির বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি 'জালিলুল মুশাশ' ছিলেন, অর্থাৎ হাড়ের সন্ধিস্থল বা অগ্রভাগসমূহ যেমন—কনুই, কাঁধ এবং হাঁটু বড় ছিল। জওহারি বলেন, 'মুশাশাহ' হলো 'মুশাশ'-এর একবচন, আর তা হলো হাড়ের নরম অগ্রভাগ যা চিবানো যায়। এর থেকেই হাদিসে এসেছে: আম্মার (রা.) ঈমান দ্বারা তার অস্থির সন্ধিস্থল পর্যন্ত পরিপূর্ণ ছিলেন। আর 'মুশাশাহ' হলো কাঁধের হাড়ের উঁচু অংশ।

(৩) আর 'কাতাদ' বা 'কাতিদ' (তা বর্ণে ফাতহাহ বা কাসরাহ যোগে) হলো দুই কাঁধের মিলনস্থল, যা হলো কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান। এটি ঘাড় সংলগ্ন পিঠের উপরিভাগের সম্মুখ অংশ এবং পিঠের উপরিভাগের এক-তৃতীয়াংশ, যেখানে ছয়টি কশেরুকা রয়েছে। এর থেকেই হাদিসে এসেছে: খন্দকের যুদ্ধে আমরা আমাদের কাঁধের ওপর মাটি বহন করছিলাম; এখানে 'আকতাদ' হলো 'কাতাদ'-এর বহুবচন।

(৪) আর 'কাসাব' হলো হাত ও পায়ের আঙুলের হাড়সমূহ। বলা হয়েছে, এটি আঙুলের প্রতি দুই গিঁটের মধ্যবর্তী অংশ। তাঁর (আলাইহিস সালাম) বর্ণনায় রয়েছে: 'সাবতুল কাসাব'। হাড়ের মধ্যে 'কাসাব' হলো প্রতিটি ফাঁপা হাড় যাতে মজ্জা থাকে, এর একবচন হলো 'কাসাবাহ'। আর প্রতিটি চওড়া হাড় হলো 'লাওহ'। 'সাবত' বা 'সিবত' (বা বর্ণে সুকুন বা কাসরাহ যোগে) অর্থ হলো সেই প্রলম্বিত বস্তু যাতে কোনো বক্রতা বা উঁচু-নিচু নেই। 'কাসাব' দ্বারা তিনি তাঁর দুই বাহু ও দুই নলা উদ্দেশ্য করেছেন।

(৫) 'সায়েলুল আতরাফ' অর্থাৎ প্রলম্বিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। বিভিন্ন বর্ণনায় 'সা-ইর' অথবা 'সাবিলুল আতরাফ' এসেছে, সবগুলোর অর্থই হলো প্রলম্বিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
الأَطْرَافِ، خُمْصانُ الأَخْمَصَين (1)، مسيحُ القَدَمَيْنِ (2) يَنْبُو عَنْهُمَا الماءُ، إذا زالَ زالَ قلعاً، وتخطَّى تَكَفِّياً، ويمشي هوناً، ذريعُ المِشْيَة إذا مَشَى كأنَّما يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ، وإذا التَفَتَ التَفَتَ معاً، (3) خَافِضُ الطَّرْفِ، نظرُهُ إلى الأرض أطولُ من نظره إلى السماء، جُلُّ نظرهِ الملاحظةُ، يسوقُ أصحابَهُ، يَبْدُرُ من لَقِيَ بِالسَّلَامِ.

--------------------------------------------

(1) قال ثعلب سأَلت ابن الأَعرابي عن قول عليّ كرم اللّه وجهه في الحديث كان رسولُ اللّه صلى الله عليه وسلم خُمْصانَ الأَخْمَصَين فقال إِذا كان خَمَصُ الأَخْمَصِ بِقَدْرٍ لم يرتفِع جدّاً ولم يستوِ أَسْفلُ القدمِ جِدّاً فهو أَحسنُ ما يكون فإِذا استوى أَو ارتفع جدّاً فهو ذمّ فيكون المعنى أَن أَخْمَصَه مُعْتدل الخَمَصِ، الأَزهري: الأَخْمَصُ من القدم الموضع الذي لا يَلْصَقُ بالأَرض منها عند الوطءِ والخُمْصانُ المبالِغُ منه أَي أَن ذلك الموضع من أَسْفلِ قدَمِه شديدُ التجافي عن الأَرض الصحاح الأَخْمَصُ ما دخل من باطن القدم فلم يُصِب الأَرض والتَّخامُصُ التجافي عن الشيء انتهى من لسان العرب، والمعنى أن قدمه الشريفة فيها تقوس وسطها، لا يصيب الأرض حين يطؤها ولم تكن قدمه منبسطة.

(2) أَراد أَنهما مَلْساوانِ لَيِّنَتانِ ليس فيهما تَكَسُّرٌ ولا شُقاقٌ إِذا أَصابهما الماء نَبا عنهما.

(3) (وَإِذَا اِلْتَفَتَ) أَيْ أَرَادَ الِالْتِفَاتَ إِلَى أَحَدِ جَانِبَيْهِ (اِلْتَفَتَ مَعًا) أَيْ بِكُلِّيَّتِهِ، والمعنى أنه لا يلتفت بأن يدير وجهه فقط باتجاه التفاتته.
তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল সুগঠিত, তাঁর পায়ের তলদেশের মধ্যভাগ ছিল গভীর বক্রতাসম্পন্ন (১), তাঁর পদযুগল ছিল মসৃণ (২) যার ওপর থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে যেত। যখন তিনি পথ চলতেন, তখন বলিষ্ঠভাবে কদম বাড়াতেন, সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন এবং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে হাঁটতেন। তাঁর হাঁটার গতি ছিল দ্রুত, যখন তিনি হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। আর যখন তিনি কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন (৩)। তিনি দৃষ্টি অবনত রাখতেন, আকাশের তুলনায় জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘ হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের সামনে দিয়ে চলতে দিতেন এবং যাঁর সাথে দেখা হতো তাঁকে আগে সালাম দিতেন।

--------------------------------------------

(১) ছা'লাব বলেন, আমি ইবনুল আরাবীকে হাদীসে বর্ণিত আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'খুমসানুল আখমাসাইন' ছিলেন। তিনি বললেন: যখন পায়ের তলার বক্রতা পরিমাণমতো হয়—যা অত্যধিক গভীরও নয় আবার পুরোপুরি সমতলও নয়—তখন তা অত্যন্ত সুন্দর দেখায়। যদি তা পুরোপুরি সমান বা অত্যধিক গভীর হয়ে যায় তবে তা দোষণীয়। সুতরাং এর অর্থ হলো তাঁর পায়ের তালুর বক্রতা ছিল সুসংগত। আল-আযহারী বলেন: পায়ের তলার যে অংশটি হাঁটার সময় মাটিতে লাগে না তাকে 'আখমাস' বলা হয়। আর 'খুমসান' হলো তার আধিক্য বা গভীরতা বুঝাতে ব্যবহৃত শব্দ; অর্থাৎ তাঁর পায়ের নিচের ওই অংশটি মাটি থেকে বেশ পৃথক থাকতো। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: পায়ের তলার ভেতরের দিকে ঢুকে থাকা যে অংশটি মাটিতে লাগে না তাকে 'আখমাস' বলে। আর 'তাক্বামুস' অর্থ হলো কোনো কিছু থেকে দূরে থাকা। 'লিসানুল আরব' থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত। মূল কথা হলো, তাঁর সম্মানিত পায়ের মাঝখানে বক্রতা ছিল, হাঁটার সময় তা মাটিতে লাগত না এবং তাঁর পা সমতল ছিল না।

(২) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর পদযুগল ছিল মসৃণ ও কোমল, যাতে কোনো ভাঁজ বা ফাটা ছিল না। ফলে পানি লাগলে তা সেখান থেকে গড়িয়ে পড়ে যেত।

(৩) (এবং যখন ফিরতেন) অর্থাৎ যখন তিনি কোনো একদিকে ফেরার ইচ্ছা করতেন (তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন) অর্থাৎ পুরো শরীর ঘুরিয়ে ফিরতেন। এর অর্থ হলো, তিনি কেবল ঘাড় ঘুরিয়ে কারো দিকে তাকাতেন না।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَا مَسِسْت حَرِيرًا وَلَا دِيبَاجًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، (1)

--------------------------------------------

(1) وفي صحيح مسلم عن ثَابِت عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَزْهَرَ اللَّوْنِ كَأَنَّ عَرَقَهُ اللُّؤْلُؤُ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ وَلَا مَسِسْتُ دِيبَاجَةً وَلَا حَرِيرَةً أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا شَمِمْتُ مِسْكَةً وَلَا عَنْبَرَةً أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَوْله: (أَزْهَر اللَّوْن) هُوَ الْأَبْيَض الْمُسْتَنِير، وَهِيَ أَحْسَن الْأَلْوَان. قَوْله: (كَأَنَّ عَرَقه اللُّؤْلُؤ) أَيْ فِي الصَّفَاء وَالْبَيَاض. وفي صحيح مسلم عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عِنْدَنَا [أي نَامَ وقت الظهيرة] فَعَرِقَ وَجَاءَتْ أُمِّي بِقَارُورَةٍ فَجَعَلَتْ تَسْلِتُ الْعَرَقَ فِيهَا فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا الَّذِي تَصْنَعِينَ قَالَتْ هَذَا عَرَقُكَ نَجْعَلُهُ فِي طِيبِنَا وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطِّيبِ. قَوْله: (فَقَالَ عِنْدنَا فَعَرِقَ) أَيْ نَامَ لِلْقَيْلُولَةِ، قَوْله: (تَسْلُتُ الْعَرَقَ) أَيْ تَمْسَحُهُ وَتَتْبَعُهُ بِالْمَسْحِ .. وروى مسلم في صحيحه عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ بَيْتَ أُمِّ سُلَيْمٍ فَيَنَامُ عَلَى فِرَاشِهَا وَلَيْسَتْ فِيهِ قَالَ فَجَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ فَنَامَ عَلَى فِرَاشِهَا فَأُتِيَتْ فَقِيلَ لَهَا هَذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَامَ فِي بَيْتِكِ عَلَى فِرَاشِكِ قَالَ فَجَاءَتْ وَقَدْ عَرِقَ وَاسْتَنْقَعَ عَرَقُهُ عَلَى قِطْعَةِ أَدِيمٍ عَلَى الْفِرَاشِ فَفَتَحَتْ عَتِيدَتَهَا فَجَعَلَتْ تُنَشِّفُ ذَلِكَ الْعَرَقَ فَتَعْصِرُهُ فِي قَوَارِيرِهَا فَفَزِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا تَصْنَعِينَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ؟ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرْجُو بَرَكَتَهُ لِصِبْيَانِنَا قَالَ: أَصَبْتِ. قَوْله: (كَانَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ بَيْت أُمّ سُلَيْمٍ، فَيَنَامُ عَلَى فِرَاشهَا) وكَانَتْ مَحْرَمًا لَهُ صلى الله عليه وسلم، فَفِيهِ الدُّخُولُ عَلَى الْمَحَارِم، وَالنَّوْم عِنْدهنَّ، وَفِي بُيُوتهنَّ، وَجَوَاز النَّوْم عَلَى الْأُدُم، وَهِيَ الْأَنْطَاع وَالْجُلُود. قَوْله: (فَفَتَحَتْ عَتِيدَتهَا) هِيَ بِعَيْنٍ مُهْمَلَة مَفْتُوحَة ثُمَّ مُثَنَّاة مِنْ فَوْقُ ثُمَّ مِنْ تَحْتُ، وَهِيَ كَالصُّنْدُوقِ الصَّغِير، تَجْعَلُ الْمَرْأَة فِيهِ مَا يَعِزُّ مِنْ مَتَاعهَا. قَوْله: (فَفَزِعَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَا تَصْنَعِينَ؟) مَعْنَى فَزِعَ اِسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمه.
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা দীবায (উন্নতমানের রেশমি বস্ত্র) স্পর্শ করিনি। (১)

--------------------------------------------

(১) এবং সহীহ মুসলিমে সাবিত হতে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন, তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো ছিল। যখন তিনি হাঁটতেন, কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো দীবায বা রেশম স্পর্শ করিনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুগন্ধির চেয়ে অধিক সুঘ্রাণযুক্ত কোনো মিশক বা আম্বর আমি কখনো ঘ্রাণ নেইনি। তাঁর উক্তি: (উজ্জ্বল বর্ণ) অর্থ হলো দীপ্তিময় সাদা বর্ণ, আর এটিই হলো রঙের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁর উক্তি: (তাঁর ঘাম যেন মুক্তার মতো) অর্থাৎ স্বচ্ছতা ও শুভ্রতায়। এবং সহীহ মুসলিমে সাবিত হতে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট আসলেন এবং আমাদের এখানে বিশ্রাম (অর্থাৎ দুপুরের সময় ঘুমালেন) নিলেন। তিনি ঘামছিলেন, এমতাবস্থায় আমার মা একটি শিশি নিয়ে আসলেন এবং তাতে ঘাম জমা করতে শুরু করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে উঠলেন এবং বললেন: হে উম্মে সুলাইম! তুমি এটি কী করছ? তিনি বললেন: এটি আপনার ঘাম, যা আমরা আমাদের সুগন্ধিতে ব্যবহার করি এবং এটি সর্বোত্তম সুগন্ধি। তাঁর উক্তি: (আমাদের এখানে বিশ্রাম নিলেন ও ঘামলেন) অর্থাৎ কায়লুলা বা দুপুরের নিদ্রা গেলেন। তাঁর উক্তি: (ঘাম জমা করা) অর্থাৎ তা মুছে ফেলা এবং মুছার মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা। এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তাঁর বিছানায় ঘুমাতেন যখন তিনি সেখানে থাকতেন না। তিনি বলেন, একদিন তিনি আসলেন এবং তাঁর বিছানায় ঘুমালেন। তখন উম্মে সুলাইমকে এসে বলা হলো যে, এই যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার ঘরে আপনার বিছানায় ঘুমাচ্ছেন। তিনি বলেন, তখন তিনি আসলেন এবং দেখলেন নবীজি ঘামছেন এবং বিছানার ওপর রাখা চামড়ার একটি টুকরায় তাঁর ঘাম জমা হয়েছে। তখন তিনি তাঁর ছোট বাক্সটি খুললেন এবং সেই ঘাম শুষে নিতে লাগলেন এবং তাঁর শিশিতে তা নিংড়াতে লাগলেন। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সচকিত হয়ে জেগে উঠলেন এবং বললেন: হে উম্মে সুলাইম! তুমি কী করছ? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য এর বরকত আশা করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তুমি ঠিকই করেছ। তাঁর উক্তি: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমের ঘরে প্রবেশ করতেন এবং তাঁর বিছানায় ঘুমাতেন) এবং তিনি তাঁর মাহরাম ছিলেন। এতে মাহরামদের ঘরে প্রবেশ করা, তাদের কাছে এবং তাদের ঘরে ঘুমানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। আর এতে চামড়ার ওপর ঘুমানোর বৈধতাও রয়েছে, যা বিছানো চামড়া বা পশুর চামড়া। তাঁর উক্তি: (তিনি তাঁর 'আতীদাহ' বা ছোট বাক্সটি খুললেন) এটি আইন বর্ণ দিয়ে শুরু, এরপর উপরের নুকতাযুক্ত তা ও নিচের নুকতাযুক্ত ইয়া। এটি একটি ছোট সিন্দুকের মতো, যাতে একজন নারী তার মূল্যবান আসবাবপত্র রাখে। তাঁর উক্তি: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সচকিত হয়ে বললেন: তুমি কী করছ?) এখানে সচকিত হওয়া অর্থ হলো তাঁর ঘুম থেকে জেগে ওঠা।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌وفي حديث مُعَاذٍ رضي الله عنه: أَرْدَفَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ فِي سَفَرٍ فَمَا مَسِسْت شَيْئًا قَطُّ أَلْيَنَ مِنْ جِلْدِهِ صلى الله عليه وسلم، (ولا شممت) بكسر الميم ويفتح (مسكاً ولا عنبراً أطيب من رائحة النبي.) (1)

--------------------------------------------

(1) وفي الشمائل للترمذي: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم من أحسن الناس خلقاً، ولا مسست خزاً ولا حريراً قط ولا شيئاً كان ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا شممت مسكاً قط ولا عطراً كان أطيب من عرق رسول الله صلى الله عليه وسلم: وفي نسخة: من عرف بالفاء، (وعن جابر بن سمرة قال: صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الأولى) من باب إضافة الموصوف إلى الصفة، والمتبادر أنها الصبح. قال النووي وتبعه ابن الملك: هي صلاة الظهر. (ثم خرج) أي من المسجد (إلى أهله) أي متوجهاً إلى إحدى الحجرات الشريفة (وخرجت معه. فاستقبله ولدان) جمع وليد وهو الصبي (فجعل) أي شرع (يمسح) أي بيديه الكريمتين (خدي أحدهم واحداً واحداً) حال (وأما أنا فمسح خَدَّيَّ) بصيغة التثنية، وفي نسخة بالإفراد على إرادة الجنس. (فوجدت ليده برداً) أي راحة (أو ريحاً) أي رائحة طيبة. والظاهر أن أو بمعنى الواو، أو بمعنى بل. (كأنما أخرجها) أي إذا أخرج يده من الكم فكأنه أخرجها. (من جؤنة عطار) بضم الجيم وسكون الهمز ويبدل، أي سلته أو حقته وفي النهاية: هو بضم الجيم التي يعد فيها الطيب ويحرز. قال النووي: وفي الحديث بيان طيب ريحه صلوات الله عليه [وسلامه]، وهو ما أكرمه الله سبحانه وتعالى به. قالوا: وكانت هذه الريح الطيبة صفته وإن لم يمس طيباً، ومع هذا كان يستعمل الطيب في كثير من الأوقات مبالغة في طيب ريحه لملاقاة الملائكة وأخذ الوحي الكريم ومجالسة المسلمين.
মু'আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সফরে আমাকে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। আমি তাঁর চামড়া অপেক্ষা নরম কোনো কিছুই কখনো স্পর্শ করিনি। আর আমি কখনো (ঘ্রাণ নিইনি) 'মিম' বর্ণে কাসরা বা ফাতহা যোগে—এমন কোনো মৃগনাভি বা অম্বর ঘ্রাণ নিইনি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক উত্তম ছিল। (১)

--------------------------------------------

(১) তিরমিযীর শামাইল গ্রন্থে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের মধ্যে শারীরিক গঠনে সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন। আমি কখনো কোনো পশমী বস্ত্র বা রেশম অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতের তালু অপেক্ষা নরম কোনো কিছু স্পর্শ করিনি। আর আমি কখনো কোনো মৃগনাভি বা সুগন্ধি ঘ্রাণ নিইনি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘাম অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিযুক্ত ছিল। একটি পাণ্ডুলিপিতে 'ফা' বর্ণ যোগে 'আরফ' (সুগন্ধি) শব্দ রয়েছে। (জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে 'প্রথম সালাত' আদায় করেছিলাম।) এটি গুণবাচক শব্দকে বিশেষ্যের সাথে যুক্ত করার অধ্যায় থেকে এসেছে। সাধারণত এর দ্বারা ফজর সালাত উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন এবং ইবনুল মালিক তাঁর অনুসরণ করেছেন যে, এটি যোহরের সালাত। (তারপর তিনি বের হলেন) অর্থাৎ মসজিদ থেকে (নিজের পরিবারের কাছে) অর্থাৎ সম্মানিত কামরাসমূহের একটির দিকে মনোনিবেশ করে (এবং আমিও তাঁর সাথে বের হলাম। তখন কিছু শিশু তাঁর সামনে এল।) এটি 'ওয়ালিদ' এর বহুবচন যার অর্থ অল্পবয়স্ক বালক। (তিনি শুরু করলেন) অর্থাৎ আরম্ভ করলেন (হাত বুলিয়ে দিতে) অর্থাৎ তাঁর সম্মানিত দুই হাত দিয়ে (তাদের প্রত্যেকের গালে একে একে।) এটি 'হাল' বা অবস্থা বর্ণনা করছে। (আর আমার ক্ষেত্রে তিনি আমার দুই গালে হাত বুলিয়ে দিলেন।) দ্বিবচন শব্দে এটি বর্ণিত হয়েছে, তবে একটি পাণ্ডুলিপিতে একবচনেও রয়েছে যা দ্বারা জাতিগত অর্থ উদ্দেশ্য। (আমি তাঁর হাতে শীতলতা অনুভব করলাম) অর্থাৎ প্রশান্তি (অথবা সুগন্ধি) অর্থাৎ উত্তম ঘ্রাণ। বাহ্যত এখানে 'অথবা' শব্দটি 'এবং' অর্থে, অথবা 'বরং' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (যেন তিনি তা বের করলেন) অর্থাৎ যখন তিনি তাঁর হাত জামার হাতা থেকে বের করলেন তখন তা যেন ছিল এমন (সুগন্ধি বিক্রেতার সুগন্ধি রাখার পাত্র থেকে বের করা।) 'জুউনা' শব্দটি জিম বর্ণে পেশ এবং হামযা বর্ণে সাকিনসহ (যা হামযা ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে)। এর অর্থ ঝুড়ি বা কৌটা। 'নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি জিম বর্ণে পেশ দিয়ে, যাতে সুগন্ধি রাখা ও সংরক্ষণ করা হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই হাদীসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুঘ্রাণের বর্ণনা রয়েছে, যা দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁকে সম্মানিত করেছেন। আলেমগণ বলেছেন: এই সুঘ্রাণ ছিল তাঁর সহজাত বৈশিষ্ট্য, যদিও তিনি সুগন্ধি ব্যবহার না করতেন। তা সত্ত্বেও তিনি অনেক সময় অধিক সুঘ্রাণের উদ্দেশ্যে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন ফেরেশতাদের সাথে সাক্ষাৎ, পবিত্র ওহী গ্রহণ এবং মুসলিমদের সাথে বসার কারণে।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
رَبْعَةٌ لا تَشْنَؤُهُ من طُوْلٍ، ولا تَقْتَحِمُهُ عَيْنٌ من قِصَرٍ، رَبْعَةٌ ليسَ بالطَّويلِ البَائِنِ ولا القَصِيْرِ، وفي وصف علي رضي الله عنه له: لَمْ يَكُنْ بِالطَّوِيلِ الْمُمَّغِطِ وَلَا بِالْقَصِيرِ الْمُتَرَدِّدِ، وَكَانَ رَبْعَةً مِنْ الْقَوْمِ، وفي رواية: كَانَ عَظِيمَ الْهَامَةِ. فالجمع بين الروايات أنه كان أقربُ إلى الطول (1).

‌‌وفي وصف ابن أبي هالة له، -وكان وصَّافًا-: "وأطولَ مِن المربوع، وأقصرَ من المشذّب" (2)

--------------------------------------------

(1) وعن أنس رضي الله عنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل البائن) أي الباعد عن حد الاعتدال والمفرط طولاً، الذي يعد من قدر الرجال الطوال، أو الظاهر البين طوله، من بان إذا بعد أو ظهر. (ولا بالقصير) أي المتردد كما في رواية. والحاصل أنه كان معتدل القامة لكن إلى الطول أميل. فإن النفي نصب إلى قيد وصف البائن، فثبت أصل الطول ونوع منه، فهو بالنسبة إلى الطول البائن قصير. ولذا قيد نفي القصير بالمتردد. ويؤيده أنه جاء في رواية: أنه ربعة إلى الطول. وهذا إنما هو في حد ذاته، وإلا فما ماشاه طويل إلا غلبه في الطول، وفي النهاية: هو الذي ليس بطويل ولا قصير ولا جسيم، كأن خلقه يجيء به القصد من الأمور والمعتدل الذي لا يميل إلى أحد طرفي الإفراط والتفريط.

(2) وهو البائن الطول مع نحافة أي نقص في اللحم من قولهم نخلة شذباء أي طويلة بشذب أي قطع عنها جريدها ووقع في حديث عائشة عند ابن أبي خيثمة لم يكن أحد يماشيه من الناس ينسب إلى الطول إلا طاله رسول اللّه صلى الله عليه وسلم وربما اكتنفه الرجلان الطويلان فيطولهما فإذ فارقاه نسبا إلى الطول ونسب إلى الربعة.
তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের, অতিরিক্ত দীর্ঘতার কারণে কেউ তাঁকে অপছন্দ করত না এবং খাটো হওয়ার কারণে কারও দৃষ্টিতে তিনি তুচ্ছ ছিলেন না। তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির, অতিরিক্ত দীর্ঘও নন আবার খাটোও নন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে এসেছে: "তিনি অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না এবং একেবারে খাটোও ছিলেন না, বরং তিনি লোকদের মধ্যে মধ্যম গড়নের ছিলেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি ছিলেন বিশাল মস্তকবিশিষ্ট।" সুতরাং বর্ণনাসমূহের সমন্বয় হলো—তিনি দীর্ঘাকৃতির কাছাকাছি ছিলেন। (১)

‌‌ইবনে আবি হালাহ-এর বর্ণনায় —যিনি ছিলেন গুণাবলির চমৎকার বর্ণনাকারী—তাঁর সম্পর্কে এসেছে: "তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ এবং কৃশকায় দীর্ঘদেহীর চেয়ে কিছুটা খাটো।" (২)

--------------------------------------------

(১) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না।" অর্থাৎ যা স্বাভাবিক মাত্রার বাইরে এবং অতিরিক্ত লম্বা, যাকে দীর্ঘদেহী পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, অথবা যার দীর্ঘতা অত্যন্ত স্পষ্ট; এটি 'বানা' শব্দ থেকে আগত যার অর্থ দূরবর্তী হওয়া বা প্রকাশ পাওয়া। "এবং তিনি খাটোও ছিলেন না" অর্থাৎ অত্যন্ত বেঁটে বা সংকুচিত দেহের ছিলেন না যেমনটি অন্য বর্ণনায় এসেছে। সারকথা হলো তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন তবে দীর্ঘাকৃতির দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিলেন। কেননা এখানে দীর্ঘতার যে নেতিবাচক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা মূলত 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট, ফলে মূল দীর্ঘতা ও তার একটি প্রকার সাব্যস্ত হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত দীর্ঘের তুলনায় তিনি খাটো ছিলেন। একারণেই খাটো হওয়ার বিষয়টিকে 'সংকুচিত বা বেঁটে' গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর সমর্থনে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি ছিলেন দীর্ঘাকৃতির কাছাকাছি মধ্যম গড়নের। এটি ছিল তাঁর নিজস্ব অবয়ব, অন্যথায় কোনো দীর্ঘদেহী ব্যক্তি তাঁর সাথে হাঁটলে তিনি তাকে দীর্ঘতায় ছাড়িয়ে যেতেন। 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি এমন ব্যক্তি যিনি দীর্ঘ নন, খাটো নন এবং অত্যধিক স্থূলকায়ও নন; যেন তাঁর সৃষ্টিতে পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্য এসেছে যা কোনো প্রান্তিকতার দিকে ঝুঁকে নেই।

(২) এটি হলো কৃশতার সাথে অতিরিক্ত দীর্ঘ হওয়া অর্থাৎ শরীরে মাংসের স্বল্পতা থাকা। যেমন আরবরা বলে 'খেজুর গাছটি শাযবা' অর্থাৎ এটি দীর্ঘ এবং এর ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ইবনে আবি খাইসামার বর্ণনায় আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে: মানুষের মধ্যে এমন কোনো দীর্ঘদেহী ব্যক্তি ছিল না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাঁটলে তিনি তাকে দীর্ঘতায় ছাড়িয়ে যেতেন না। অনেক সময় দুইজন দীর্ঘদেহী ব্যক্তি তাঁর দুই পাশে থাকলেও তিনি তাঁদের চেয়ে দীর্ঘ মনে হতেন, তবে তাঁরা যখন তাঁর থেকে আলাদা হতেন তখন তাঁদের দীর্ঘই মনে হতো আর তাঁকে মধ্যম গড়নের মনে হতো।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
غُصْنٌ بَيْنَ غُصْنَيْنِ، فَهُوَ أنْضَرُ الثَّلاثَةِ مَنْظَرَا ًًًًًًًًًًٍٍََََِْْ، وأَحْسَنُهُمْ قَدْرَا ً، لَهُ رُفَقَاءُ يحُفُّونَ بِهِ، إن قال انْصَتُوا لِقَوْلِه ِِ، وإنْ أَمَرَ تَبَادَرُوا لأمْرِهِ، مَحشُودٌ مَحفُودٌ (1)، وَصَفَهُ أبو هريرة رضي الله عنه فقال: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّ الشَّمْسَ تَجْرِي فِي وَجْهِهِ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَسْرَعَ فِي مِشْيَتِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّمَا الْأَرْضُ تُطْوَى لَهُ إِنَّا لَنُجْهِدُ أَنْفُسَنَا وَإِنَّهُ لَغَيْرُ مُكْتَرِثٍ، ووصف علي رضي الله عنه مشيته فقال: إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا انْحَطَّ مِنْ صَبَبٍ (2).

--------------------------------------------

(1) عنده جماعة من أصحابه يطيعونه

(2) تَكَفَّا تَكَفِّيًا: قَالَ فِي النِّهَايَةِ أَيْ تَمَايَلَ إِلَى قُدَّامَ، هَكَذَا رُوِيَ غَيْرُ مَهْمُوزٍ وَالْأَصْلُ الْهَمْزُ. (كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ) بِتَشْدِيدِ الطَّاءِ أَيْ يَسْقُطُ. (مِنْ صَبَبٍ) أَيْ مَوْضِعٍ مُنْحَدِرٍ مِنْ الْأَرْضِ، يُرِيدُ أَنَّهُ كَانَ يَمْشِي مَشْيًا قَوِيًّا وَيَرْفَعُ رِجْلَيْهِ مِنْ الْأَرْضِ رَفْعًا بَائِنًا قَويَّاً، وَهِيَ مِشْيَةُ أَهْلِ الْجَلَادَةِ وَالْهِمَّةِ لَا كَمَنْ يَمْشِي اِخْتِيَالًا وَيُقَارِبُ خُطَاهُ تَنَعُّمًا، فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ مَشْيِ النِّسَاءِ وَيُوصَفْنَ بِهِ، كَذَا فِي الْمِرْقَاةِ بتصرف. وَالصَّبَبُ الْحُدُورُ.
তিনি যেন দুই ডালের মাঝখানে একটি ডাল, যা তাদের তিনজনের মধ্যে দেখতে সবচাইতে সজীব এবং মর্যাদায় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর অনেক সাথী রয়েছেন যারা তাঁকে ঘিরে রাখেন, তিনি কথা বললে তাঁরা তাঁর কথা শোনার জন্য নীরবতা অবলম্বন করেন, আর তিনি কোনো আদেশ করলে তাঁরা তা পালনের জন্য দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি সেবিত ও অনুসারী বেষ্টিত (১)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা সুন্দর কোনো বস্তু দেখিনি, যেন তাঁর মুখমন্ডলে সূর্য প্রবহমান। আর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা দ্রুত পথ চলতে কাউকে দেখিনি, যেন তাঁর জন্য জমিনকে গুটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে পথ চলতাম, অথচ তিনি কোনো ভ্রুক্ষেপ ছাড়াই অনায়াসে পথ চলতেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর হাঁটার ভঙ্গি বর্ণনা করে বলেন: তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন, যেন তিনি কোনো ঢালু স্থান দিয়ে নিচে নামছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর নিকট তাঁর একদল সাহাবী থাকতেন যারা তাঁর আনুগত্য করতেন।

(২) তাকাফ্ফা তাকাফ্ফুআন: ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে বলা হয়েছে অর্থাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া। এটি হামযাহবিহীন বর্ণিত হয়েছে, তবে এর মূল হলো হামযাহসহ। (যেন নিচের দিকে নামছেন) অর্থাৎ ঢালু জায়গা দিয়ে অবতরণ করছেন। (মিন সাবাবিন) অর্থাৎ জমিনের কোনো ঢালু জায়গা থেকে। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি বেশ শক্তিশালী পদক্ষেপে হাঁটতেন এবং ভূমি থেকে তাঁর পা-দ্বয় স্পষ্টভাবে ও শক্তভাবে উপরে উঠাতেন। এটি হলো ধৈর্যশীল ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের হাঁটার ভঙ্গি, সে ব্যক্তির মতো নয় যে অহঙ্কারবশত আয়েশীভাবে ছোট ছোট কদম ফেলে হাঁটে; কারণ সেটি হলো নারীদের হাঁটার ধরণ এবং তাঁদের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয়। ‘মিরকাত’ গ্রন্থে কিছুটা পরিমার্জনসহ এরূপই বলা হয়েছে। আর ‘সাবাব’ অর্থ ঢালু ভূমি।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وتوفَّاه الله على رأس ستين سنة وليسَ في رأسِه ولحيتِه عشرونَ شعرةً بيضاءَ (1)

--------------------------------------------

(1) وفي رواية لمسلم، قال: إنما كان البياض) أي صاحبه وهو الشعر الأبيض [أو البياض] كناية عن الشيب (في عنفقته) فتح العين وسكون النون ففاء ثم قاف، أي شعره النابت تحت شفته السفلى وفوق الذقن. (وفي الصدغين) بضم أوّله، أي الشعر المتدلي على ما بين العين والأذن. (وفي الرأس نبذ) بفتح النون وسكون الموحدة فذال معجمة، أي شيء يسير من شيب.
আল্লাহ তাঁকে ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ওফাত দান করেন এবং তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না। (১)

--------------------------------------------

(১) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন: শুভ্রতা (তথা এর অধিকারী সাদা চুল) মূলত বার্ধক্যের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে (তাঁর ‘আনফাকাহ’-তে); এটি আইন বর্ণে ফাতহা, নুন বর্ণে সুকুন এবং এরপর ফা ও ক্বফ সহযোগে গঠিত; অর্থাৎ তাঁর নিচের ঠোঁটের নিচে এবং চিবুকের ওপর গজানো চুল। (এবং দুই ‘সুদগ’-এ); এর প্রথম বর্ণে যম্মাহ হবে; অর্থাৎ চোখ ও কানের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলে থাকা চুল। (এবং মাথায় ছিল ‘নাবয’ তথা যৎসামান্য চুল); এখানে নুন বর্ণে ফাতহা, মুওয়াহহিদাহ (বা) বর্ণে সুকুন এবং এরপর যাল বর্ণ রয়েছে; অর্থাৎ বার্ধক্যজনিত যৎসামান্য সাদা চুল।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
قلتُ: صف لي منطقه. قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مُتَوَاصِلَ الأَحْزَانِ، دَائِمَ الْفِكْرَةِ، لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ، طَوِيلَ السَّكْتِ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِأَشْدَاقِهِ، وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ، كَلَامُهُ فَصْلٌ لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ، دَمِثٌ لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا المَهِينِ، يُعَظمُ النعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ، (لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئاً) لَا يَذُمُّ ذَوَاقَاً (طعاما) وَلَا يَمْدَحُهُ، وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا وَلَا مَا كَانَ لَهَا، فَإِذَا تُعُوطِيَ الْحَقَّ لَمْ يَعْرِفْهُ أَحَدٌ، وَلَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ، (حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ)، وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا، إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفهِ كُلهَا، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَّبَهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا فَيَضْرِبُ بِبَاطِنِ رَاحَتِهِ الْيُمْنى بَاطِنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْراى، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ، وَإِذَا ضَحِكَ غَضَّ طَرْفَهُ، جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ، وَيَفْتَرُّ عَنْ مِثْلِ حَب الْغَمَامِ،.
আমি বললাম: আপনি আমার কাছে তাঁর বাক্যালাপের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, সারাক্ষণ ভাবুক থাকতেন, তাঁর কোনো বিশ্রাম ছিল না। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি কথা বলতেন না। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন। তিনি স্পষ্টভাবে কথা শুরু ও শেষ করতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষেপে কথা বলতেন। তাঁর কথা ছিল সুস্পষ্ট ও মীমাংসাকারী, যাতে কোনো অনর্থক অতিরিক্ত কথা ছিল না এবং কোনো সংক্ষিপ্ততাও ছিল না। তিনি ছিলেন কোমল মেজাজের, কর্কশ বা হেয়কারী ছিলেন না। তিনি নিয়ামতকে সম্মান করতেন যদিও তা সামান্য হতো, (তার কোনো কিছুরই নিন্দা করতেন না), তিনি কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না এবং তার প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোনো বিষয় বা দুনিয়াবী স্বার্থ তাঁকে রাগান্বিত করত না। তবে যখন সত্যের অবমাননা করা হতো, তখন তাঁকে কেউ চিনতে পারত না এবং হকের সপক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তাঁর রাগের সামনে টিকতে পারত না। তিনি নিজের জন্য রাগান্বিত হতেন না এবং নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না। যখন তিনি ইশারা করতেন, তখন হাতের পুরো তালু দিয়ে ইশারা করতেন। যখন তিনি আশ্চর্যান্বিত হতেন, তখন হাত উল্টিয়ে দিতেন। আর কথা বলার সময় তিনি হাত দুটিকে মেলাতেন এবং ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ভেতরের অংশে আঘাত করতেন। তিনি যখন রাগান্বিত হতেন, তখন মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং বিমুখ হতেন। আর যখন খুশি হতেন, তখন দৃষ্টি নিচু করতেন। তাঁর অধিকাংশ হাসি ছিল মুচকি হাসি। যখন তিনি মুচকি হাসতেন, তখন তাঁর দাঁতগুলো শিলাখণ্ডের মতো উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠত।
(খণ্ড: ১) আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَكَانَ دُخُولُهُ لِبَيْتِهِ مَأْذُونٌ لَهُ فِي ذالِكَ، وَكَانَ إِذَا أَواى إِلاى مَنْزِلِهِ جَزَّأَ نَفْسَهُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ: جِزْءٌ لِلَّهِ، وَحُزْءٌ لأِهْلِهِ، وَجُزْءٌ لِنَفْسِهِ، ثُمَّ جَزَّأَ نَفْسَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ، فَيَرُدُّ ذالِكَ عَلاى الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةِ فَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئَاً، فَكَانَ مِنْ سِيرَتِهِ فِي جُزْءِ الأُمَّةِ إِيثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِأَدَبِهِ، وَقَسَمُهُ عَلاى قَدَرِ فَضْلِهِمْ فِي الدينِ، فَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ، فَأَقْسَمَهَا عَلَيْهِمْ فِيمَا يُصْلِحُهُمْ وَالأُمَّةَ وَإِخْبَارُهُمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ، وَيَقُولُ: لِيُبَلغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، وَأَبْلِغُونِي حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا، فَمَنْ بَلَّغَ سُلْطَانَاً حَاجَةً لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا يُثَبتُ اللَّهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُذْكَرُ عِنْدَهُ إِلَاّ ذالِكَ وَلَا يَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرَهُ، يَدْخُلُونَ عَلَيْهِ رُوَّادَاً، وَلَا يَفْتَرِقُونَ إِلَاّ مِنْ ذَوَاقٍ وَيَخْرُجُونَ أَدِلَّةً،.

তাঁর গৃহে প্রবেশের বিষয়টি ছিল তাঁর নিজস্ব ইখতিয়ারভুক্ত। যখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরতেন, তখন তিনি নিজের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ আল্লাহর ইবাদতের জন্য, এক ভাগ তাঁর পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। অতঃপর তিনি তাঁর নিজের ভাগের সময়টুকু নিজের ও সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট ফায়দা পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের কাছে কোনো কিছুই গোপন রাখতেন না। উম্মতের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত নীতি ছিল এই যে, তিনি তাঁর শিষ্টাচারের মাধ্যমে ফযীলতসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতেন এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদার ভিত্তিতে সময় বণ্টন করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক অভাবী, কেউ দুই অভাবের অধিকারী, আবার কেউ ছিলেন বহু অভাবগ্রস্ত। তিনি তাঁদেরকে এমন সব বিষয়ে ব্যাপৃত রাখতেন যা তাঁদের ও উম্মতের সংশোধনের জন্য উপযোগী হয় এবং তাঁদের জন্য যা করণীয় তা তিনি তাঁদের অবহিত করতেন। তিনি বলতেন: 'উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট আমার বাণী পৌঁছে দেয়। আর তোমরা আমার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজনের কথা পৌঁছে দাও, যে নিজে তা পৌঁছাতে সক্ষম নয়। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো শাসনকর্তার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দেয় যে তা নিজে করতে অক্ষম, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পা অবিচলিত রাখবেন।' তাঁর মজলিসে কেবল এজাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু আলোচিত হতো না এবং তিনি কারও নিকট থেকে এ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতেন না। তাঁরা তাঁর নিকট জ্ঞানান্বেষী হিসেবে প্রবেশ করতেন এবং কোনো কিছু আস্বাদন না করে বের হতেন না; আর তাঁরা একেকজন পথপ্রদর্শক হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেন।