(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: أبو مالك، ثائر سلامة
عدد الصفحات: 37
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الآخر 1432
রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিচয় বিভাগ: সিরাত-উন-নবী
বই: রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিচয়
লেখক: আবু মালিক, থা’ইর সালামা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১)
التعريف بنبي الرحمة صلى الله عليه وآله وسلم (1):
فإذا تبين لك، يا رعاك الله، أن الله تعالى يختص بفضله من يشاء من عباده، ليكرمهم، ويشرفهم بفهم معاني آيات القرآن، ويجعل منهم أئمة، يهدون للهدى، يكشف عن قلوبهم ظلمات الجهل المُدْلَهمَّة، ويطهرها من أدناسِ الرَّيْنِ وأجناسِ الرَّيْبِ، ويملؤها إيماناً وحِكْمَة، ويخصهم بالقِسْمِ الأسْنى، والشَّرَفِ الأَبْهى، والقدح الأعلى، وأن الناس يتفاوتون في هذا الفضل، فيرفع الله منهم أقواما لأعلى الدرجات، ويجعل منهم أحبارا، حتى يكون واحدهم ترجمانا للقرآن (2)، فيفتح الله عليه من حقائق العلوم، وخَوارق الفُهوم، ما لا رقت إليه من سواه هِمَّةٌ، ولا تحركت نحوه من غيره عَزْمَةٌ، ولا شك أنه ما بلغ هذه المنزلة إلا بفضل الله، لعلو همته، ورفعة مكانته عند الله تعالى حتى اختصه بهذا الفضل، فيكون ترجمانا لكلام الله،
--------------------------------------------
রহমতের নবীর (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পরিচয় (১):
হে আল্লাহ আপনার হেফাযতকারী (পাঠক), আপনার নিকট যদি এটি স্পষ্ট হয়ে থাকে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহের জন্য বিশিষ্ট করেন, যাতে তাদের সম্মানিত করেন এবং কুরআনের আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবনের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা দান করেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন ইমাম তৈরি করেন যারা হিদায়াতের পথ দেখান, তিনি তাদের অন্তর থেকে অজ্ঞতার নিকষ কালো অন্ধকার দূর করেন এবং কলুষতার আবিলতা ও সংশয়ের পঙ্কিলতা থেকে তা পবিত্র করেন। তিনি তাদের অন্তরকে ঈমান ও প্রজ্ঞা দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন এবং তাদের সর্বোত্তম অংশ, উজ্জ্বলতম শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ আসনে আসীন করেন। নিশ্চয়ই মানুষ এই অনুগ্রহ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্তরের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফলে আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে কিছু সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ মর্তবায় উন্নীত করেন এবং তাদের মধ্য থেকে এমন প্রাজ্ঞ আলেম তৈরি করেন যে, তাদের একেকজন কুরআনের সার্থক অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারক হয়ে ওঠেন (২)। অতঃপর আল্লাহ তাদের জন্য ইলমের নিগূঢ় সত্য ও বোধশক্তির এমন অনন্য দ্বার উন্মোচন করেন, যার দিকে অন্য কারো আকাঙ্ক্ষা পৌঁছাতে পারেনি এবং অন্য কারো সংকল্প সেদিকে ধাবিত হয়নি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি কেবল আল্লাহর অনুগ্রহেই এই সুউচ্চ মকামে পৌঁছেছেন; আর তা আল্লাহর নিকট তার সুউচ্চ হিম্মত ও উচ্চ মর্যাদার কারণে, এমনকি আল্লাহ তাকে এই বিশেষ অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তিনি আল্লাহর কালামের সার্থক ভাষ্যকার হতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২)
ولكن، ما حال من اختصه الله بفضل أن يُنَزِّلَ عليه هذا الكلام، -كلام الله-، فيكون هُوَ هُوَ من يُبَيِّنُ للناس ما نُزِّلَ إليهم، ويبعثه الله شَهِيدًا عَليهم، أعظم الناس شرفا ومقدارا، على يديه قامت الحجة، وترك الناس على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، ولا يتنكبها إلا ضال، لا شك أنه سيد ولد بني آدم جميعا، وأعلاهم منزلة، فلا بد من أن نقدم بمقدمة نعرف بها القارئ بنبي الرحمة صلوات ربي وسلامه عليه، وأن نصفه له كأنما يراه، وسنرجؤ وصف أخلاقه، وجميل فعاله، ورجاحة عقله، وصفاته القيادية، وهديه، وعدله، وعلاقاته، وسلمه وحربه، وصبره، وحكمته، لموضعه من التفسير، وسنقتصر الآن على أن نقول إنه:
محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، رسول الله، ونبيه،
صاحبُ الجَمَالِ المُسَرْبَلِ بالجَلالِ، المَكْسُوِّ بجَمِيلِ الخِصَالِ وحَمِيدِ الخِلالِ، ظَاهِرُ الوَضَاءَةِ، أَبْلَجُ (1)، مَلِيحُ الوَجْهِ مُشْرِقُهُ، أَبْيَضُ اللَّوْنِ أَزْهَرُهُ (2)،
--------------------------------------------
কিন্তু সেই সত্তার অবস্থা কেমন হবে, যাঁকে আল্লাহ তাআলা এই কালাম—আল্লাহর কালাম—নাজিল করার শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে বিশেষিত করেছেন। ফলে তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাঁকে তাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করবেন। তিনি মর্যাদায় ও মানে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ। তাঁর মাধ্যমেই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি মানুষকে এক উজ্জ্বল সুস্পষ্ট পথে রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না এবং পথভ্রষ্ট ছাড়া কেউ তা পরিত্যাগ করে না। নিঃসন্দেহে তিনি সমস্ত আদম সন্তানের সর্দার এবং মর্যাদায় তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাই এমন একটি ভূমিকার অবতারণা করা আবশ্যক যার মাধ্যমে আমরা পাঠককে রহমতের নবী (তাঁর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেব এবং তাঁর বর্ণনা এমনভাবে প্রদান করব যেন পাঠক তাঁকে দেখছেন। তবে তাঁর চরিত্র, সুন্দর কার্যাবলি, প্রখর বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্বের গুণাবলি, আদর্শ, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্পর্ক, যুদ্ধ ও সন্ধি, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার বর্ণনা আমরা তাফসিরের নির্দিষ্ট স্থানে আলোচনা করার জন্য স্থগিত রাখব। বর্তমানে আমরা শুধু এটুকুই বলব যে, তিনি হলেন:
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আল্লাহর রাসূল ও তাঁর নবী,
গাম্ভীর্যমণ্ডিত সৌন্দর্যের অধিকারী, যিনি উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যে ভূষিত, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী ও প্রদীপ্ত (১), কমনীয় ও ভাস্বর মুখমণ্ডলের অধিকারী, উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের অধিকারী (২),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مُسْتَدِيْرُ الوَجْهِ (1) وَسِيمٌ (2) قَسِيمٌ (3) حَسَنٌ وَضِيْءٌ (4)،
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم فَخْمًا (5) مُفَخَّمًا (6)، يَتَلأْلأُ وَجْهُهُ (7) كَتَلألُؤِ القَمَرِ لَيلَةَ الْبَدْرِ، لا عَابِسٌ وَلا مُفَنَّدٌ (8)، إِذَا سُرَّ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ، حَتَّى كَأَنَّ وَجْهَهُ صلى الله عليه وسلم قِطْعَةُ قَمَرٍ، (قال:) أي جَابِرُ (لا بَلْ كَانَ) أَيْ وَجْهُهُ (مِثلَ الشَّمْسِ وَالقَمَرِ) أَيْ في قُوَّةِ الضِّيَاءِ وَكَثْرَةِ النُّورِ،
--------------------------------------------
মন্ডলাকার চেহারাবিশিষ্ট (১), সুশ্রী (২), সুসংগত সৌন্দর্যের অধিকারী (৩), সুন্দর ও উজ্জ্বল (৪),
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মহিমান্বিত (৫) ও মর্যাদাসম্পন্ন (৬); তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের উজ্জ্বলতার ন্যায় জ্বলজ্বল করত (৭); তিনি বিমর্ষ চেহারার ছিলেন না এবং বুদ্ধিহীনও ছিলেন না (৮)। তিনি যখন আনন্দিত হতেন, তাঁর চেহারা উদ্ভাসিত হয়ে উঠত, এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা যেন চাঁদের একটি টুকরো মনে হতো। (জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন:) না, বরং তাঁর চেহারা ছিল (সূর্য ও চন্দ্রের মতো), অর্থাৎ আলোর তীব্রতা ও জ্যোতির আধিক্যের দিক থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَلَمْ يَكُنْ بِالْمُطَهَّمِ (1)
--------------------------------------------
তিনি অতিশয় স্থূলকায় ছিলেন না (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَلَا بِالْمُكَلْثَمِ (1) وَكَانَ فِي الْوَجْهِ تَدْوِيرٌ (2)، أَبْيَضُ مُشْرَبٌ (3)،
كَثِيفُ شَعْرِ اللِّحْيَةِ كَثُّها (4) حَسَنُها، لِحْيتُهُ غَيرُ مُسْبَلَةٍ (5)،
--------------------------------------------
এবং তিনি গোলাকার মুখাবয়ব বিশিষ্ট ছিলেন না (১), তবে তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলাকার ভাব ছিল (২), তিনি ছিলেন লালিমা মিশ্রিত উজ্জ্বল গৌরবর্ণের (৩),
তাঁর দাড়ি মোবারকের চুল ছিল ঘন, সুবিন্যস্ত (৪) ও সুন্দর; তাঁর দাড়ি সুদীর্ঘ (বক্ষ পর্যন্ত ঝুলন্ত) ছিল না (৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
حَسَنُ الثَّغْرِ (1)، (ضَلِيعُ الفَمِ (2)
--------------------------------------------
সুন্দর সম্মুখের দাঁত বিশিষ্ট (১), প্রশস্ত মুখ বিশিষ্ট (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
حَسَنُهُ) (1)، أَشْنَبُ (2)، مُفَلَّجُ الأَسْنَانِ، (3)
--------------------------------------------
(তাঁর মুখগহ্বর ছিল) প্রশস্ত (১), উজ্জ্বল শুভ্র (২), এবং ফাঁক ফাঁক দাঁতবিশিষ্ট (৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
تَامُّ الأُذُنَيْنِ، أَسِيلُ الْجَبِينِ صَلْتُ (1) الْجَبِينِ، أَسِيلُ الْخَدَّيْنِ (2)، سَهْلُهُمَا (3)، مُفَاضُهُمَا (4)، يُقْبِلُ جَمِيعَاً، وَيُدْبِرُ جَمِيعَاً،
--------------------------------------------
তাঁর কান দুটি ছিল নিখুঁত, কপাল ছিল মসৃণ ও প্রশস্ত (১), গাল দুটি ছিল কোমল (২), সমতল (৩), এবং কিছুটা ভরাট (৪)। তিনি যখন কারও দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন এবং যখন প্রস্থান করতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবেই প্রস্থান করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
أَكْحَلُ، عظيمُ الْعَيْنَيْنِ، في عينيه دُعجٌ (1)، أَشْكَلُ الْعَيْنَيْنِ (2) طويلُ شَعْرِ الأَجْفَانِ، أَزَجُّ (3) أقْرَنُ (4)،
--------------------------------------------
কাজল কালো আঁখি সম্পন্ন, বড় বড় চোখ বিশিষ্ট, তাঁর চোখে ছিল গভীর কালো আভা (১), লাল আভা যুক্ত সাদা চোখ বিশিষ্ট (২), চোখের পাতার লোমগুলো ছিল দীর্ঘ, সরু ও ধনুকাকৃতি দীর্ঘ ভ্রু বিশিষ্ট (৩) এবং উভয় ভ্রু মিলিত (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
أَزَجُّ الحَواجِبِ، سَوَابِغ (1)، في غَيْرِ قَرْنٍ، بينَهُمَا عِرْقٌ يُدِرُّهُ الغَضَبُ (2)
--------------------------------------------
তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল সরু, প্রলম্বিত ও পূর্ণাঙ্গ, যা জোড়া লাগানো ছিল না। সে দুইয়ের মাঝে একটি রগ ছিল, যা রাগের সময় ফুলে উঠত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
أهْدَبُ أَشْفَارِ العَيْنَيْنِ، في أَشْفَارِهِ (1) وَطَفٌ (2)، وفي صَوْتِهِ صَحَلٌ (3) وحُسْنٌ، وفي عُنُقِهِ سَطَعٌ (4)، كَأَنَّ عُنُقَهُ جِيْدُ دُمْيَةٍ (5)، في صَفَاءِ الفِضَّةِ.
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন দীর্ঘ নেত্রপল্লব বিশিষ্ট, তাঁর চোখের পাপড়িতে ছিল ঘন ও দীর্ঘ চুলের সমাহার, তাঁর কণ্ঠে ছিল কিঞ্চিৎ গাম্ভীর্যপূর্ণ ভারী ভাব ও মাধুর্য। তাঁর গ্রীবায় (ঘাড়ে) ছিল দৈর্ঘ্য। তাঁর গ্রীবা যেন কোনো কারুকার্যখচিত মূর্তির গর্দান, যা রূপার ন্যায় স্বচ্ছ বা উজ্জ্বল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَقْنَى (1) العِرْنَيْنِ (2) له نُورٌ يعلوه، يحسبه من لم يتأمله أشم.
--------------------------------------------
(১) তাঁর নাসিকা ছিল উন্নত ও সরু (২), তাঁর ওপর একটি জ্যোতি উদ্ভাসিত হতো, যে ব্যক্তি গভীরভাবে লক্ষ্য করত না সে তাঁকে উচ্চ নাসিকাযুক্ত মনে করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ضَخْمُ الرَّأْسِ (1) شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، وكانَ شعرُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم إلى أنصافِ أُذنيهِ (2). وفي رواية: بينَ أُذنيهِ وعاتقِه. «وعن أنس: كان يَضْرِبُ (3)
--------------------------------------------
মাথা ছিল বড় (১), চুল ছিল অত্যন্ত কালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল ছিল তাঁর কানের লতির অর্ধেক পর্যন্ত (২)। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তাঁর কান এবং কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: (চুল) পৌঁছে যেত (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شَعرُ رأس النبي (1) صلى الله عليه وسلم مَنكِبَيه (2)» وكان شعره «دُونَ الجُمَّةِ وفَوْقَ الوَفْرَةِ» (3). إن انْفَرَقَتْ عَقِيْقَتُهُ (4) فَرَقَ، وإلا فلا، وَكَانَ حَسَنَ الشَّعَرِ رَجِلَهُ (5)،
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথার চুল (১) তাঁর দুই কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত (২)» এবং তাঁর চুল ছিল «'জুম্মাহ'র (কাঁধ পর্যন্ত ঝুলে থাকা চুল) চেয়ে ছোট এবং 'ওয়াফরাহ'র (কানের লতি পর্যন্ত চুল) চেয়ে বড়» (৩)। যদি তাঁর মাথার চুল (৪) নিজে থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত তবে তিনি সিঁথি করতেন, অন্যথায় করতেন না। তাঁর চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং ঈষৎ ঢেউখেলানো (৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ (1) الْقَطِطِ وَلَا بِالسَّبِطِ (2) بل كَانَ جَعْدًا رَجِلًا،
--------------------------------------------
আর তিনি অতিরিক্ত কোঁকড়ানো (১) চুল বিশিষ্ট ছিলেন না এবং একেবারে সোজাসাপ্টা (২) চুল বিশিষ্টও ছিলেন না; বরং তাঁর চুল ছিল ঢেউখেলানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَجْرَدُ (1) طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ (2)، موصولُ ما بين اللُّبَّةِ والسُّرَّةِ بشعر يجري كالخطِّ، عاري اليدين والبطن مما سوى ذلك، أَشْعَرُ الذِّرَاعَينِ والمنْكِبَيْنِ وأَعَالي الصَّدْرِ، أنْوَرُ المُتَجَرَّدِ (3)، أجْمَلُ النَّاسِ وأبهاهُمْ من بَعيدٍ، وأجْلاهُمْ وأحْسَنُهُمْ من قَريبٍ، إن صَمَتَ فَعَلَيْهِ الوَقَارُ، وإنْ تَكَلَّمَ سَمَاهُ وَعَلَاهُ البَهَاءُ، وَفِيهِ حَيَاءٌ (4)، حُلْوُ المنْطِقِ ِِِ، فَصْلٌ (5)
--------------------------------------------
শরীরের অধিকাংশ অংশ লোমহীন (১), দীর্ঘ পশম-রেখা বিশিষ্ট (২), কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত একটি রেখার মতো প্রবহমান পশম দ্বারা যুক্ত, এ ছাড়া দুই হাত ও পেট পশমহীন, দুই বাহু, দুই কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগ পশমযুক্ত, শরীরের অনাবৃত অংশ অত্যন্ত উজ্জ্বল (৩), দূর থেকে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও লাবণ্যময়, এবং কাছ থেকে সবচেয়ে দীপ্তিময় ও সুদর্শন; যখন তিনি নীরব থাকতেন, তখন তাঁর ওপর গাম্ভীর্য বিরাজ করত, আর যখন কথা বলতেন, তখন তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য ফুটে উঠত, এবং তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল লজ্জা (৪), তিনি ছিলেন মধুর ভাষী ও তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لا نَزْرٌ ولا هَذَرٌ (1)، كَأَنَّ مَنْطِقَهُ خَرَزَاتٍ نُظْمٍ يَتَحَدَّرْنَ، أُوتيَ جَوَامِعَ الْكَلِمِ، أَفْصَحُ النَّاسِ لِسَانَاً، وأقْوَاهُمْ حُجَّةً وَبُرْهَانَاً، بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، عَرِيضُ الصَّدْرِ لم تعبه ثجلة ولم تُزْرِ به صُقْلةٌ (2) (وفي رواية) صَعْلَةٌ (3)، كان بَادِناً مُتَمَاسِكاً، سَواءَ الْبَطْنِ (4)
--------------------------------------------
তার কথা খুব অল্পও ছিল না, আবার অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘও ছিল না (১), যেন তার কথাগুলো একটি সুতোয় গাঁথা মতির মালা যা থেকে একটির পর একটি ঝরে পড়ছে। তাকে প্রদান করা হয়েছিল সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা (জাওয়ামিউল কালিম), তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী এবং দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনে তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি ছিলেন প্রশস্ত কাঁধ বিশিষ্ট এবং চওড়া বুকের অধিকারী। পেটের স্থূলতা তাকে ত্রুটিযুক্ত করেনি এবং কৃশতা কিংবা মাথার ক্ষুদ্রতা তাকে হীন করেনি (২) (অন্য বর্ণনায় এসেছে) মাথার ক্ষুদ্রতা (৩)। তিনি সুঠাম ও মজবুত দেহের অধিকারী ছিলেন এবং তার পেট ও বুক ছিল সমান্তরাল (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالصَّدْرِ (1)، ضَخْمَ الْكَرَادِيسِ (2)
--------------------------------------------
এবং বক্ষদেশ (১), বড় অস্থিসন্ধিবিশিষ্ট (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ (1) وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، أَجْوَدُ النَّاسِ كَفَّا وَأَشْرَحُهُمْ صَدْرًا وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً وَأَكْرَمُهُمْ عِشْرَةً مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً هَابَهُ وَمَنْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً أَحَبَّهُ يَقُولُ نَاعِتُهُ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ.
(ورأيت الخاتم) بفتح التاء ويكسر، أي خاتم النبوّة. (عند كتفه مثل بيضة الحمامة.) أي مدوّراً (يشبه) أي لونه (جسده) أي لون سائر أعضائه. والمعنى لم يخالف لونه لون بشرته،
--------------------------------------------
তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ছিল নবুওয়াতের মোহর (১) এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল, বক্ষপ্রসারিত হওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে প্রশস্ত (বিশাল হৃদয়ের অধিকারী), সত্যবাদীতায় মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগণ্য, স্বভাবে সর্বাধিক কোমল এবং সাহচর্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে অভিভূত (ভীত) হতো, আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁর সাথে মিশত সে তাঁকে ভালোবাসত। তাঁর গুণ বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।
(এবং আমি মোহরটি দেখেছি) ‘তা’ বর্ণে জবর বা যের যোগে পঠিত, অর্থাৎ নবুওয়াতের মোহর। (তাঁর কাঁধের কাছে কবুতরের ডিমের মতো।) অর্থাৎ গোলাকার (সদৃশ) অর্থাৎ এর রঙ (তাঁর দেহের) অর্থাৎ তাঁর শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রঙের মতো। এর অর্থ হলো, এর রঙ তাঁর গায়ের চামড়ার রঙের চেয়ে ভিন্ন ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
سَمِينُ الكَفَّيْنِ (1) والقَدَمَيْنِ، (2) شَثْنُ الْكَفَّيْنِ (3) وَالْقَدَمَيْنِ (4)، إِذَا مَشَى تَقَلَّعَ كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ مَعًا، شَبْحُ الذِّرَاعَيْنِ (5)،
--------------------------------------------
তাঁর দুই হাতের তালু (১) এবং দুই পা ছিল মাংসল, (২) দুই হাতের তালু (৩) এবং দুই পা ছিল সুঠাম ও প্রশস্ত (৪), যখন তিনি হাঁটতেন, তখন সবলে কদম তুলতেন যেন তিনি কোনো ঢালু স্থান দিয়ে নিচে নামছেন। আর তিনি যখন কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে (পুরো শরীর নিয়ে) ফিরতেন। তাঁর দুই বাহু ছিল দীর্ঘ ও প্রশস্ত (৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
(طَويلُ الزّنْدَيْنِ)، رَحْبُ الرَّاحِةِ (1)، جَلِيلُ الْمُشَاشِ (2) وَالْكَتَدِ (3) سَبْطُ القصبِ (4)، سَائِلُ (5)
--------------------------------------------
(দুই কবজি লম্বা), প্রশস্ত হাতের তালু বিশিষ্ট (১), বড় অস্থির জোড়া বিশিষ্ট (২) এবং চওড়া কাঁধ বিশিষ্ট (৩), সোজা ও সুঠাম অস্থি বিশিষ্ট (৪), প্রলম্বিত (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأَطْرَافِ، خُمْصانُ الأَخْمَصَين (1)، مسيحُ القَدَمَيْنِ (2) يَنْبُو عَنْهُمَا الماءُ، إذا زالَ زالَ قلعاً، وتخطَّى تَكَفِّياً، ويمشي هوناً، ذريعُ المِشْيَة إذا مَشَى كأنَّما يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ، وإذا التَفَتَ التَفَتَ معاً، (3) خَافِضُ الطَّرْفِ، نظرُهُ إلى الأرض أطولُ من نظره إلى السماء، جُلُّ نظرهِ الملاحظةُ، يسوقُ أصحابَهُ، يَبْدُرُ من لَقِيَ بِالسَّلَامِ.
--------------------------------------------
তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল সুগঠিত, তাঁর পায়ের তলদেশের মধ্যভাগ ছিল গভীর বক্রতাসম্পন্ন (১), তাঁর পদযুগল ছিল মসৃণ (২) যার ওপর থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে যেত। যখন তিনি পথ চলতেন, তখন বলিষ্ঠভাবে কদম বাড়াতেন, সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন এবং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে হাঁটতেন। তাঁর হাঁটার গতি ছিল দ্রুত, যখন তিনি হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। আর যখন তিনি কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন (৩)। তিনি দৃষ্টি অবনত রাখতেন, আকাশের তুলনায় জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘ হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের সামনে দিয়ে চলতে দিতেন এবং যাঁর সাথে দেখা হতো তাঁকে আগে সালাম দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَا مَسِسْت حَرِيرًا وَلَا دِيبَاجًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، (1)
--------------------------------------------
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে নরম কোনো রেশম বা দীবায (উন্নতমানের রেশমি বস্ত্র) স্পর্শ করিনি। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي حديث مُعَاذٍ رضي الله عنه: أَرْدَفَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ فِي سَفَرٍ فَمَا مَسِسْت شَيْئًا قَطُّ أَلْيَنَ مِنْ جِلْدِهِ صلى الله عليه وسلم، (ولا شممت) بكسر الميم ويفتح (مسكاً ولا عنبراً أطيب من رائحة النبي.) (1)
--------------------------------------------
মু'আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সফরে আমাকে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। আমি তাঁর চামড়া অপেক্ষা নরম কোনো কিছুই কখনো স্পর্শ করিনি। আর আমি কখনো (ঘ্রাণ নিইনি) 'মিম' বর্ণে কাসরা বা ফাতহা যোগে—এমন কোনো মৃগনাভি বা অম্বর ঘ্রাণ নিইনি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক উত্তম ছিল। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رَبْعَةٌ لا تَشْنَؤُهُ من طُوْلٍ، ولا تَقْتَحِمُهُ عَيْنٌ من قِصَرٍ، رَبْعَةٌ ليسَ بالطَّويلِ البَائِنِ ولا القَصِيْرِ، وفي وصف علي رضي الله عنه له: لَمْ يَكُنْ بِالطَّوِيلِ الْمُمَّغِطِ وَلَا بِالْقَصِيرِ الْمُتَرَدِّدِ، وَكَانَ رَبْعَةً مِنْ الْقَوْمِ، وفي رواية: كَانَ عَظِيمَ الْهَامَةِ. فالجمع بين الروايات أنه كان أقربُ إلى الطول (1).
وفي وصف ابن أبي هالة له، -وكان وصَّافًا-: "وأطولَ مِن المربوع، وأقصرَ من المشذّب" (2)
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের, অতিরিক্ত দীর্ঘতার কারণে কেউ তাঁকে অপছন্দ করত না এবং খাটো হওয়ার কারণে কারও দৃষ্টিতে তিনি তুচ্ছ ছিলেন না। তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির, অতিরিক্ত দীর্ঘও নন আবার খাটোও নন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে এসেছে: "তিনি অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না এবং একেবারে খাটোও ছিলেন না, বরং তিনি লোকদের মধ্যে মধ্যম গড়নের ছিলেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি ছিলেন বিশাল মস্তকবিশিষ্ট।" সুতরাং বর্ণনাসমূহের সমন্বয় হলো—তিনি দীর্ঘাকৃতির কাছাকাছি ছিলেন। (১)
ইবনে আবি হালাহ-এর বর্ণনায় —যিনি ছিলেন গুণাবলির চমৎকার বর্ণনাকারী—তাঁর সম্পর্কে এসেছে: "তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ এবং কৃশকায় দীর্ঘদেহীর চেয়ে কিছুটা খাটো।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
غُصْنٌ بَيْنَ غُصْنَيْنِ، فَهُوَ أنْضَرُ الثَّلاثَةِ مَنْظَرَا ًًًًًًًًًًٍٍََََِْْ، وأَحْسَنُهُمْ قَدْرَا ً، لَهُ رُفَقَاءُ يحُفُّونَ بِهِ، إن قال انْصَتُوا لِقَوْلِه ِِ، وإنْ أَمَرَ تَبَادَرُوا لأمْرِهِ، مَحشُودٌ مَحفُودٌ (1)، وَصَفَهُ أبو هريرة رضي الله عنه فقال: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّ الشَّمْسَ تَجْرِي فِي وَجْهِهِ وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَسْرَعَ فِي مِشْيَتِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّمَا الْأَرْضُ تُطْوَى لَهُ إِنَّا لَنُجْهِدُ أَنْفُسَنَا وَإِنَّهُ لَغَيْرُ مُكْتَرِثٍ، ووصف علي رضي الله عنه مشيته فقال: إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا انْحَطَّ مِنْ صَبَبٍ (2).
--------------------------------------------
তিনি যেন দুই ডালের মাঝখানে একটি ডাল, যা তাদের তিনজনের মধ্যে দেখতে সবচাইতে সজীব এবং মর্যাদায় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর অনেক সাথী রয়েছেন যারা তাঁকে ঘিরে রাখেন, তিনি কথা বললে তাঁরা তাঁর কথা শোনার জন্য নীরবতা অবলম্বন করেন, আর তিনি কোনো আদেশ করলে তাঁরা তা পালনের জন্য দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি সেবিত ও অনুসারী বেষ্টিত (১)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা সুন্দর কোনো বস্তু দেখিনি, যেন তাঁর মুখমন্ডলে সূর্য প্রবহমান। আর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা দ্রুত পথ চলতে কাউকে দেখিনি, যেন তাঁর জন্য জমিনকে গুটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে পথ চলতাম, অথচ তিনি কোনো ভ্রুক্ষেপ ছাড়াই অনায়াসে পথ চলতেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর হাঁটার ভঙ্গি বর্ণনা করে বলেন: তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন, যেন তিনি কোনো ঢালু স্থান দিয়ে নিচে নামছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وتوفَّاه الله على رأس ستين سنة وليسَ في رأسِه ولحيتِه عشرونَ شعرةً بيضاءَ (1)
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁকে ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ওফাত দান করেন এবং তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قلتُ: صف لي منطقه. قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مُتَوَاصِلَ الأَحْزَانِ، دَائِمَ الْفِكْرَةِ، لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ، طَوِيلَ السَّكْتِ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِأَشْدَاقِهِ، وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ، كَلَامُهُ فَصْلٌ لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ، دَمِثٌ لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا المَهِينِ، يُعَظمُ النعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ، (لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئاً) لَا يَذُمُّ ذَوَاقَاً (طعاما) وَلَا يَمْدَحُهُ، وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا وَلَا مَا كَانَ لَهَا، فَإِذَا تُعُوطِيَ الْحَقَّ لَمْ يَعْرِفْهُ أَحَدٌ، وَلَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ، (حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ)، وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا، إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفهِ كُلهَا، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَّبَهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا فَيَضْرِبُ بِبَاطِنِ رَاحَتِهِ الْيُمْنى بَاطِنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْراى، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ، وَإِذَا ضَحِكَ غَضَّ طَرْفَهُ، جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ، وَيَفْتَرُّ عَنْ مِثْلِ حَب الْغَمَامِ،.
আমি বললাম: আপনি আমার কাছে তাঁর বাক্যালাপের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, সারাক্ষণ ভাবুক থাকতেন, তাঁর কোনো বিশ্রাম ছিল না। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি কথা বলতেন না। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন। তিনি স্পষ্টভাবে কথা শুরু ও শেষ করতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষেপে কথা বলতেন। তাঁর কথা ছিল সুস্পষ্ট ও মীমাংসাকারী, যাতে কোনো অনর্থক অতিরিক্ত কথা ছিল না এবং কোনো সংক্ষিপ্ততাও ছিল না। তিনি ছিলেন কোমল মেজাজের, কর্কশ বা হেয়কারী ছিলেন না। তিনি নিয়ামতকে সম্মান করতেন যদিও তা সামান্য হতো, (তার কোনো কিছুরই নিন্দা করতেন না), তিনি কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না এবং তার প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোনো বিষয় বা দুনিয়াবী স্বার্থ তাঁকে রাগান্বিত করত না। তবে যখন সত্যের অবমাননা করা হতো, তখন তাঁকে কেউ চিনতে পারত না এবং হকের সপক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তাঁর রাগের সামনে টিকতে পারত না। তিনি নিজের জন্য রাগান্বিত হতেন না এবং নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না। যখন তিনি ইশারা করতেন, তখন হাতের পুরো তালু দিয়ে ইশারা করতেন। যখন তিনি আশ্চর্যান্বিত হতেন, তখন হাত উল্টিয়ে দিতেন। আর কথা বলার সময় তিনি হাত দুটিকে মেলাতেন এবং ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ভেতরের অংশে আঘাত করতেন। তিনি যখন রাগান্বিত হতেন, তখন মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং বিমুখ হতেন। আর যখন খুশি হতেন, তখন দৃষ্টি নিচু করতেন। তাঁর অধিকাংশ হাসি ছিল মুচকি হাসি। যখন তিনি মুচকি হাসতেন, তখন তাঁর দাঁতগুলো শিলাখণ্ডের মতো উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠত।
(খণ্ড: ১)
আত-তারিফ বিনাবিয়্যির রহমাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَكَانَ دُخُولُهُ لِبَيْتِهِ مَأْذُونٌ لَهُ فِي ذالِكَ، وَكَانَ إِذَا أَواى إِلاى مَنْزِلِهِ جَزَّأَ نَفْسَهُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ: جِزْءٌ لِلَّهِ، وَحُزْءٌ لأِهْلِهِ، وَجُزْءٌ لِنَفْسِهِ، ثُمَّ جَزَّأَ نَفْسَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ، فَيَرُدُّ ذالِكَ عَلاى الْعَامَّةِ بِالْخَاصَّةِ فَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئَاً، فَكَانَ مِنْ سِيرَتِهِ فِي جُزْءِ الأُمَّةِ إِيثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِأَدَبِهِ، وَقَسَمُهُ عَلاى قَدَرِ فَضْلِهِمْ فِي الدينِ، فَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ، فَأَقْسَمَهَا عَلَيْهِمْ فِيمَا يُصْلِحُهُمْ وَالأُمَّةَ وَإِخْبَارُهُمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ، وَيَقُولُ: لِيُبَلغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، وَأَبْلِغُونِي حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا، فَمَنْ بَلَّغَ سُلْطَانَاً حَاجَةً لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا يُثَبتُ اللَّهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُذْكَرُ عِنْدَهُ إِلَاّ ذالِكَ وَلَا يَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرَهُ، يَدْخُلُونَ عَلَيْهِ رُوَّادَاً، وَلَا يَفْتَرِقُونَ إِلَاّ مِنْ ذَوَاقٍ وَيَخْرُجُونَ أَدِلَّةً،.
তাঁর গৃহে প্রবেশের বিষয়টি ছিল তাঁর নিজস্ব ইখতিয়ারভুক্ত। যখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরতেন, তখন তিনি নিজের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ আল্লাহর ইবাদতের জন্য, এক ভাগ তাঁর পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। অতঃপর তিনি তাঁর নিজের ভাগের সময়টুকু নিজের ও সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট ফায়দা পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের কাছে কোনো কিছুই গোপন রাখতেন না। উম্মতের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত নীতি ছিল এই যে, তিনি তাঁর শিষ্টাচারের মাধ্যমে ফযীলতসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতেন এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদার ভিত্তিতে সময় বণ্টন করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক অভাবী, কেউ দুই অভাবের অধিকারী, আবার কেউ ছিলেন বহু অভাবগ্রস্ত। তিনি তাঁদেরকে এমন সব বিষয়ে ব্যাপৃত রাখতেন যা তাঁদের ও উম্মতের সংশোধনের জন্য উপযোগী হয় এবং তাঁদের জন্য যা করণীয় তা তিনি তাঁদের অবহিত করতেন। তিনি বলতেন: 'উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট আমার বাণী পৌঁছে দেয়। আর তোমরা আমার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজনের কথা পৌঁছে দাও, যে নিজে তা পৌঁছাতে সক্ষম নয়। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো শাসনকর্তার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দেয় যে তা নিজে করতে অক্ষম, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পা অবিচলিত রাখবেন।' তাঁর মজলিসে কেবল এজাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু আলোচিত হতো না এবং তিনি কারও নিকট থেকে এ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতেন না। তাঁরা তাঁর নিকট জ্ঞানান্বেষী হিসেবে প্রবেশ করতেন এবং কোনো কিছু আস্বাদন না করে বের হতেন না; আর তাঁরা একেকজন পথপ্রদর্শক হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেন।