(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: -)
الضياء اللامع من صحيح الكتب الستة وصحيح الجامع (محمد نصر الدين محمد عويضة)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الضياء اللامع من صحيح الكتب الستة وصحيح الجامع
المؤلف: محمد نصر الدين محمد عويضة
عدد الصفحات: 560
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1432
সহীহ কুতুবে সিত্তাহ ও সহীহুল জামে হতে প্রদীপ্ত আলোকধারা (মুহাম্মদ নাসরুদ্দিন মুহাম্মদ উওয়ায়দাহ)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সহীহ কুতুবে সিত্তাহ ও সহীহুল জামে হতে প্রদীপ্ত আলোকধারা
লেখক: মুহাম্মদ নাসরুদ্দিন মুহাম্মদ উওয়ায়দাহ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬০
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١)
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرورِ أنفسنا وسيئاتِ أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي، واشهد أن لا إله إلا الله الواحد القهار شهادةٌ أدخرها ليومٍ تذهل فيه العقول وتشخص فيه الأبصار شهادةٌ أرجو بها النجاةَ من دار البوار وأؤمل بها جناتٍ تجري من تحتها الأنهار، هو الأولُ فليس قبله شيء والآخرُ فليس بعده شيء والظاهر فليس فوقه شيء والباطن فليس دونه شيء، ليس كمثلهِ شيء وهو السميع البصير وأشهد أن محمد عبده ورسوله المصطفى المختار الماحي لظلام الشرك بثواقب الأنوار صلى الله عليه وعلى اله وأصحابه البررة الأطهار صلاةً تدوم بتعاقب الليل والنهار.(يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ). … [آل عمران ـ102](يا أيها النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَتَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًاً) [النساء/ 1](يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) [الأحزاب 70 - 71]أما بعد[*] لما كان زادُ الداعيةِ إلى الله - بعد تقوى الله - أن يكونَ على علمٍ صحيح مرتكزٍ على الكتاب والسنةِ الصحيحةِ حيث يستمدُ من نورهما نوراً ومن ضيائهماً لمعانًا ليضئ له الطريق في الدعوةِ إلى الله على بصيرة امتثالا لقوله تعالى: (قُلْ هَذِهِ سَبِيلِيَ أَدْعُو إِلَىَ اللّهِ عَلَىَ بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ) [سورة: يوسف - الآية: 108]
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক ও মহা প্রতাপশালী; এমন এক সাক্ষ্য যা আমি সেই দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখছি যেদিন বিবেকসমূহ দিশেহারা হয়ে যাবে এবং চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে যাবে। এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি ধ্বংসের আবাসস্থল থেকে মুক্তি আশা করি এবং এমন জান্নাতসমূহের প্রত্যাশা করি যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত। তিনিই আদি, তাঁর পূর্বে কিছুই নেই; তিনিই অন্ত, তাঁর পরে কিছুই নেই; তিনিই প্রকাশমান, তাঁর উপরে কিছুই নেই; আর তিনিই অপ্রকাশিত, তাঁর নিচে কিছুই নেই। তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত রাসূল, যিনি উজ্জ্বল নূরের বিচ্ছুরণে শিরকের অন্ধকার বিদূরিত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান ও পবিত্র পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এমন দরুদ যা দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় সর্বদা অব্যাহত থাকবে।(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) … [আল-ইমরান: ১০২](হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) [আন-নিসা: ১](হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।) [আল-আহযাব: ৭০-৭১]অত:পর,[*] যেহেতু আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর পাথেয়—আল্লাহর তাকওয়ার পর—হলো কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত সঠিক ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা; যেখান থেকে সে সেই নূর ও আলো গ্রহণ করবে যা আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পথে তাঁর জন্য অন্তর্দৃষ্টির (বসীরাত) আলো সঞ্চার করবে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: (বলুন: এটিই আমার পথ, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।) [সূরা ইউসুফ: ১০৮]
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢)
[*] ولما كان الكتاب والسنة لطالب العلم كالجناحين للطائر يتمسك بهما ويعض عليهما بالنواجذ لأن ذلك سبيل النجاةِ من الضلال لقول النبي صلى الله عليه وسلم فيما ثبت في صحيح الجامع عن أبى هريرة رضي الله عنه (تركتُ فيكم شيئين لن تضلوا بعدهما كتاب الله وسنتي، ولن يتفرقا حتى يردا عليَّ الحوض)ولأنه يجب على طالب العلم أن يتمسك بالوحيين كليهما (الكتاب والسنة) وليس الكتاب فقط لقول النبي صلى الله عليه وسلم فيما ثبت فى صحيح أبي داوود عن المقدام ابن معد يكرب رضي الله عنه (ألا وإني أوتيتُ القرآنَ ومثلَه معه) ولأن ما حرَّم رسول الله مثل ما حرم الله بنص السنة الصحيحة كما في الحديث الآتي:(حديث المقدام ابن معد يكرب رضي الله عنه الثابت في صحيحي أبي داوود و الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (يوشك الرجل متكئاً على أريكته يُحَدَثُ بحديثٍ من حديثٍ فيقول بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه من حلالٍ استحللناه وما وجدنا فيه من حرامٍ حرمناه، ألا وإن ما حرَّم رسول الله مثل ما حرم الله)، ولذا كان السلف الصالح يدعون إلى التمسك بالوحيين كليهما ويضللون من يتمسك بالكتاب فقط ، قال أبو قلابة: إذا رأيت رجل يقول هات الكتاب ودعنا من السنة فاعلم أنه ضال.وقال الإمام احمد رحمه الله:دين النبي محمدٍ أخبارُ … نعم المطيةُ للفتى الآثارُلا ترغبَنَّ عن الحديثِ وأهله … فالرأيُ ليلٌ والحديثُ نهارُوقال الشافعي رحمه اللهكُلُ العلومِ سوى القرآنِ مشغلةٌ … إلا الحديثِ وعلم الفقه في الدينالعلمُ ما كان فيه قال حدثنا … وما سوى ذاك وسواسِ الشياطينلهذه الأسبابِ مجتمعة رأيت أن أقدم هذا الجهدَ المُقل المسمى (الضِيَاءُ اللامِعُ من صحيحِ الكتبِ الستةِ وصحيحِ الجامع) عساه أن يكون عوناً بعد الله تعالى لكل طالب علم في فروع العلم المختلفة مبتدأً بالأهم فالمهم فأبدأ بأحاديث التوحيد لأن التوحيد مُقَدَّمٌ على العمل والأصلُ الذي يترتبُ عليه غيره إذ لا ينفع مع الشركِ عمل، ثم أحاديث الفقه لأن الفقه هو أول ما يجب على العبد أن يتعلمه من دينه بعد التوحيد لأنه لا يتحقق للعبد متابعة النبي صلى الله عليه وسلم في عباداته ومعاملاته إلا عن طريق الفقه، ثم أنتقل إلى أحاديث الفضائل ليتحلى بها طالب العلم ثم أعقبها
যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহ জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য পাখির দুটি ডানার মতো, যা সে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে; কারণ এটিই পথভ্রষ্টতা থেকে নাজাতের পথ। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ আল-জামি’-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে প্রমাণিত হয়েছে: (আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ। আর তারা ততক্ষণ পর্যন্ত একে অপর থেকে পৃথক হবে না যতক্ষণ না হাউজে আমার নিকট উপস্থিত হয়)।এবং যেহেতু একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য উভয় ওহী (কুরআন ও সুন্নাহ) আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব, শুধুমাত্র কুরআন নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ আবু দাউদে মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে প্রমাণিত হয়েছে: (জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও একটি বিষয় দান করা হয়েছে)। আরও একারণে যে, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই, যা সহীহ সুন্নাহর ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত। যেমন পরবর্তী হাদিসে রয়েছে:(সহীহ আবু দাউদ ও তিরমিজিতে মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদিস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে তার খাটে হেলান দিয়ে থাকবে এবং তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে—আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা হালাল মানবো আর যা হারাম পাব তা হারাম মানবো। সাবধান! জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই)।এজন্যই সালাফে সালেহীন উভয় ওহীকে আঁকড়ে ধরার প্রতি আহ্বান জানাতেন এবং যারা শুধু কুরআনকে আঁকড়ে ধরে তাদের পথভ্রষ্ট বলতেন। আবু কিলাবা বলেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে বলছে—কুরআন আনো এবং সুন্নাহ বাদ দাও, তবে জেনে রেখো সে পথভ্রষ্ট।ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো হাদিস … যুবকের জন্য কতই না উত্তম বাহন হলো আছার (বর্ণনা)।তুমি হাদিস ও আহলে হাদিস থেকে বিমুখ হয়ো না … কারণ মানুষের রায় হলো অন্ধকার রাত আর হাদিস হলো উজ্জ্বল দিন।ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:কুরআন ব্যতীত সকল বিদ্যাই সময়ের অপচয় … তবে হাদিস এবং দ্বীনের ফিকহ বিদ্যা ব্যতীত।প্রকৃত জ্ঞান তাই যাতে 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' কথাটি আছে … এছাড়া যা কিছু আছে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র।এই সকল কারণ একত্রিত হওয়ার কারণে আমি আমার এই সামান্য প্রচেষ্টাকে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার নাম দিয়েছি ‘আদ-দিয়াউল লামি’ মিন সহীহিল কুতুবিস সিত্তাহ ওয়া সহীহিল জামি’। আশা করি আল্লাহর তাওফীকে এটি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য সহায়ক হবে। আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দিয়ে শুরু করছি; প্রথমে তাওহীদের হাদিসসমূহ দ্বারা শুরু করছি। কারণ তাওহীদ আমলের চেয়ে অগ্রগণ্য এবং এটিই সেই মূল ভিত্তি যার ওপর অন্য সবকিছু নির্ভর করে। কেননা শিরক থাকা অবস্থায় কোনো আমলই উপকারে আসে না। এরপর ফিকহ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, কারণ তাওহীদের পর ফিকহ হলো বান্দার দ্বীনের প্রথম প্রয়োজনীয় শিক্ষা। কেননা ইবাদত ও লেনদেনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ ফিকহ ছাড়া সম্ভব নয়। এরপর আমি ফাযায়েল বা মর্যাদাহানিকর হাদিসগুলোর দিকে যাব যাতে জ্ঞান অন্বেষণকারী তা দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করতে পারে, এরপর...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٣)
أحاديث الرذائل ليتخلى عنها فيكون هذا الكتاب عوناً بعد الله تعالى للداعيةُ إلى الله في كل ما يحتاجه من أدلة من السنة الصحيحة في فروع العلم ُمَرتَبَة حسب أهميتها مما يُؤهله إلى الدعوة إلى الله على بصيرة.عملي في هذا الكتاب:(1) إيراد صفوة الأحاديث الصحيحة من الكتب الستة وصحيح الجامع مرتبة على كتب العلم حسب الأهم فالمهم من العلوم الشرعية فأبدأ بالتوحيد ثم الفقه ثم الفضائل، راجياً الله تعالى أن يجعل هذا الكتاب عوناً لطالب العلم _ بعد الله تعالى _ في الحصول على بُغْيَتِه من الحديث الصحيح في شتى أبواب العلم.(2) أنني لا أورد حديثاً إلا عزوته إلى بعض الكتب الصحيحة على المنهج الآتي:ما كان في الصحيحين أو أحدهما أكتفي بذلك، وما لم يكن في الصحيحين أو أحدهما أعزوه إلى صحيح السنن الأربعة إن كان موجوداً بها كلها، وإن كان موجوداً في بعضها فإنني أعزوه إلى كتابين فقط منهم وإن كان موجوداً في ثلاث، وإن كان موجوداُ في كتاب واحد منهم أعزوه إليه، وهكذا تجدني أقدم الكتب الستة على غيرها لأنها عماد طالب العلم في الحديث - بعد الله تعالى -، وما لم يكن في الكتب الستة فإنني أعزو الحديث إلى غيرها من الكتب الصحيحة ولا سيما صحيح الجامع، ونادراً ما أذكر صحيح الأدب المفرد أو السلسلة الصحيحة، (فيكون أغلب الأحاديث الصحيحة التي أذكرها من الكتب الستة وصحيح الجامع) كما أنك تجدني أيها القارئ الكريم أُحِيلُ في تصحيح الحديث وتضعيفه على العلامةِ الضياءِ اللامعِ الشيخ الألباني حفظه الله، ونحن حينما نحيل على الشيخ الألباني فإننا - ولاشك - نحيلُ على مَلِيٍّ لأنه كوكبُ نظائره وزهرةُ إخوانه في هذا الشأن في زماننا هذا العالم الجليل الذي وسَّع دائرةَ الاستفادةِ من السنة بتقديمه مشروع (تقريب السنة بين يدي الأمة) ذلك المشروع الذي بذل فيه أكثر من أربعين عاما، ومن أراد أن يعرف هذه الفائدة العظيمة فلينظر على سبيل المثال إلى السنن الأربعة التي ظلَّت مئات السنين محدودة الفائدة جداً حيث كانت الاستفادة منها مقتصرة على من كان له باع في تصحيح الحديث وتضعيفه ولكن بعد تقديم الشيخ الألباني لصحيح السنن الأربعة اتسعت دائرة الاستفادة حتى تعم كل طالب عالمٍ أراد أن يستفيد، وهذا ولا شك فائدة عظيمة جداً عند من نور الله بصيرته وأراد الإنصاف، ومن المؤسف في زماننا هذا أن نرى بعض طلبة العلم ممن لا يُقًامُ لهم وزناً في العلم يتطاولون
নিকৃষ্ট স্বভাবসমূহ বর্জনের লক্ষ্যে সে সংক্রান্ত হাদিসসমূহ (সংকলিত হয়েছে), যাতে এই কিতাবটি মহান আল্লাহর পরে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য ইলমের বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় সহিহ সুন্নাহর দলিলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সহায়ক হয়। এগুলো গুরুত্বের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা তাকে দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর পথে দাওয়াতের যোগ্য করে তুলবে।এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি:(১) কুতুব সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) এবং সহিহুল জামে থেকে বাছাইকৃত সহিহ হাদিসসমূহ শারয়ি জ্ঞানসমূহের গুরুত্বের ক্রমানুসারে ইলমি পরিচ্ছেদ অনুযায়ী উপস্থাপন করা। আমি তাওহিদ দিয়ে শুরু করেছি, এরপর ফিকহ এবং তারপর ফজিলতসমূহ (বর্ণনা করেছি)। মহান আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি এই কিতাবটিকে মহান আল্লাহর সাহায্যের পর ইলমের বিভিন্ন অধ্যায়ে সহিহ হাদিস থেকে উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য সহায়ক করে তুলবেন।(২) আমি কোনো হাদিসই উল্লেখ করিনি যতক্ষণ না তা নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো না কোনো সহিহ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছি:যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তার কোনো একটিতে রয়েছে, আমি কেবল সেটির উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যা সহিহাইন বা তার কোনো একটিতে নেই, সেটি যদি চার সুনান গ্রন্থেই বিদ্যমান থাকে তবে আমি তা ‘সহিহ সুনানে আরবাআ’-এর উদ্ধৃতি দিয়েছি। যদি তার কয়েকটিতে থাকে, তবে আমি কেবল দুটি কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছি যদিও তা তিনটিতে বিদ্যমান থাকে। আর যদি কেবল একটি কিতাবে থাকে তবে সেটিরই উদ্ধৃতি দিয়েছি। এভাবে আপনি আমাকে অন্য কিতাবসমূহের তুলনায় কুতুব সিত্তাহকে অগ্রাধিকার দিতে দেখবেন, কারণ হাদিসের ক্ষেত্রে এটিই ইলম অন্বেষণকারীর মূল স্তম্ভ—মহান আল্লাহর সাহায্যের পর। আর যা কুতুব সিত্তাহতে নেই, আমি সেই হাদিসকে অন্যান্য সহিহ কিতাব বিশেষ করে ‘সহিহুল জামে’ এর দিকে সম্বন্ধ করেছি। আমি খুব কমই ‘সহিহুল আদাবুল মুফরাদ’ বা ‘সিলসিলাতুস সহিহা’ উল্লেখ করেছি। (ফলে আমার উল্লেখ করা অধিকাংশ সহিহ হাদিসই কুতুব সিত্তাহ ও সহিহুল জামে থেকে সংগৃহীত)। হে সম্মানিত পাঠক, আপনি আমাকে হাদিস সহিহ বা জয়িফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক আল্লামা শায়খ আলবানি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন)-এর ওপর নির্ভর করতে দেখবেন। আমরা যখন শায়খ আলবানির উদ্ধৃতি দেই, তখন নিঃসন্দেহে আমরা একজন সমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরই উদ্ধৃতি দেই; কারণ এই শাস্ত্রে তিনি বর্তমান যুগে তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে উজ্জ্বল নক্ষত্র ও প্রস্ফুটিত পুষ্প। এই মহান আলেম সুন্নাহ থেকে উপকৃত হওয়ার পরিধিকে বিস্তৃত করেছেন তাঁর ‘তাকরীবুস সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ’ (উম্মতের নিকট সুন্নাহকে সহজবোধ্যকরণ) প্রকল্পের মাধ্যমে, যে কাজে তিনি চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। যিনি এই মহান উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান, তিনি উদাহরণস্বরূপ চার সুনান গ্রন্থের দিকে তাকাতে পারেন, যা শত শত বছর ধরে খুবই সীমিত উপকারে আসত; কেননা এর থেকে ফায়দা হাসিল কেবল তাদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল যাদের হাদিস সহিহ ও জয়িফ নির্ধারণে পারদর্শিতা ছিল। কিন্তু শায়খ আলবানি কর্তৃক ‘সহিহ সুনানে আরবাআ’ উপস্থাপনের পর এর থেকে উপকৃত হওয়ার পরিধি এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে, ইলম অন্বেষণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই এখন এর থেকে উপকৃত হতে পারছেন। যার দূরদর্শিতাকে আল্লাহ আলোকিত করেছেন এবং যিনি ন্যায়বিচার করতে চান, তাঁর কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক বিশাল প্রাপ্তি। আমাদের এই যুগে এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ইলম অন্বেষণকারী এমন কিছু লোক যাদের ইলমি কোনো ওজন নেই, তারা ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٤)
على الشيخ الألباني ويجترئون عليه ويترقبون له الهفوات ويتصيدون له الأخطاء ويلتمسون العثرات ليشهروا به وهذا - ولا شك - يدل على فسادِ النية وسوء الطوية وسقامةِ الضمائر ولؤم السرائر ويدل كذلك على أن قلبه أخلى من جوف البعير، إذ لو تعلم العلم لعلم أن من أدب العلم التوادَ فيه، ولقد كان ابن عباس رضي الله عنهما يأخذ بركاب زيد ابن ثابت رضي الله عنه ويقول هكذا أًمِرْنا أن نفعل بالعلماء، وكان الشافعي رحمه الله يقول لعبد الله ابن الإمام أحمد: أبوك من الستة الذين أدعو لهم كل يوم عند السحر، ولا أدري كيف سوَّلت لهم أنفسهم أن يتطاولوا على عالم صاحب حديث رسول الله أكثر من نصف قرن ولا أدري كيف يتطاولون على العَالِم والكتاب والسنة طافحين بما يدل على احترام أهل العلم وتوقيرهم، ألا فليحذر طالب العلم من أن يكون سيئ الخلق ناطحاً للسحاب يترقب للعالم الهفوات ويلتمس العثرات ليشهر به فإن ذلك ينقصُ من مقدار التقوى عنده مما يكون سبباً في حرمانه من العلم، بل ينبغي لطالب العلم أن يكون كريمَ الطباع حميدَ السجايا مهذبَ الأخلاق سليمَ الصدر مفتاحاً للخير مغلاقاً للشر إذا تكلم غنم وإذا سكت سلم وينبغي له أن يعرف أن العالم مع جلالته وعظم قدره قد يخطأ في اجتهاده فإن لكل جوادٍ كبوة ولكل عالم هفوة وسبحان من له الكمال، فلا يكن خطأ العالم سبب لانتقاصك لحقه أو فرصة للنيلِ منه، وليكن نصب عينيك أن العالم مثابٌ على اجتهاده سواء أصاب أم أخطأ وحسبُك حديث النبي صلى الله عليه وسلم الثابت في الصحيحين عن عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما -أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران، وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر.، ثم عليك بعد ذلك أن تترك العالم هو الذي يحكم على العالم و أخرج من بين النسور ولا تناطح السحاب.هذا والله أسأل أن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم وسبباً لنيلِ جناتِ النعيم وأن يعصمني وقارئه من الشيطان الرجيم، وما كان في هذا الكتاب من صوابٍ فمن الواحد المنان، وما كان من خطأ فمن نفسي ومن الشيطان، والله برئ منه وأنا راجعٌ عنه بإذن الله، فنسأل الله أن يحملنا على فضله ولا يحملنا على عدله إنه سبحانه على من يشاءُ قدير وبالإجابة جدير وهو حسبنا ونعم الوكيل وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين. أبو رحمة / محمد نصر الدين محمد عويضةالمدرس بالجامعة الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بجدة فرع مدركة ورهاط وهدى الشام10/ 9/1417 هجرية
শেখ আলবানীর বিরুদ্ধে তারা ধৃষ্টতা দেখায়, তাঁর ভুলভ্রান্তির অপেক্ষায় থাকে, তাঁর ভুলগুলো শিকার করে এবং তাঁর ত্রুটিগুলো খুঁজে বেড়ায় যাতে তাঁকে জনসমক্ষে হেয় করা যায়। এটি নিসন্দেহে নিয়তের কলুষতা, অন্তরের কুটিলতা, বিবেকের রুগ্নতা এবং স্বভাবের নীচতার প্রমাণ দেয়। এটি আরও নির্দেশ করে যে, তাদের অন্তর উটের পেটের চেয়েও বেশি শূন্য। কারণ, সে যদি ইলম অর্জন করত, তবে জানত যে ইলমের একটি শিষ্টাচার হলো একে অপরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সওয়ারির রেকাব ধরতেন এবং বলতেন, "আলেমদের সাথে এমন আচরণ করার জন্যই আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহকে বলতেন, "তোমার পিতা সেই ছয়জন ব্যক্তির একজন যাঁদের জন্য আমি প্রতিদিন শেষ রাতে দুআ করি।" আমি জানি না কীভাবে তাদের কুপ্রবৃত্তি তাদের এমন একজন আলেমের প্রতি ধৃষ্টতা দেখাতে প্ররোচিত করল যিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের খিদমত করেছেন। আমি জানি না কীভাবে তারা একজন আলেমের ব্যাপারে এমন ধৃষ্টতা দেখায়, যেখানে কুরআন ও সুন্নাহ আলেমদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের নির্দেশে পরিপূর্ণ। অতএব, ইলম অন্বেষণকারীর সতর্ক হওয়া উচিত যেন সে দুশ্চরিত্র না হয় এবং মেঘের সাথে টক্কর দিতে না চায়, যেন সে আলেমের ভুলভ্রান্তি ও চ্যুতি অন্বেষণ না করে তাঁকে অপদস্থ করার জন্য। কেননা এটি তার তাকওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যা তাকে ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বরং ইলম অন্বেষণকারীর উচিত উদার স্বভাবের, প্রশংসনীয় গুণাবলির অধিকারী, উন্নত চরিত্রের ও পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী হওয়া; কল্যাণের চাবিকাঠি ও অকল্যাণের প্রতিবন্ধক হওয়া; যখন সে কথা বলবে তখন যেন তা কল্যাণ বয়ে আনে এবং যখন নীরব থাকবে তখন যেন নিরাপদ থাকে। তাঁর আরও জানা উচিত যে, আলেম ব্যক্তি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও নিজ ইজতিহাদে ভুল করতে পারেন। কেননা প্রতিটি তেজী ঘোড়ারই পতন আছে এবং প্রতিটি আলেমেরই ভুলভ্রান্তি আছে; আর কেবল সেই সত্তাই পবিত্র যাঁর জন্য রয়েছে পূর্ণতা। সুতরাং আলেমের ভুল যেন তাঁর প্রাপ্য সম্মান ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয় বা তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ না হয়ে দাঁড়ায়। আপনার দৃষ্টির সামনে থাকা উচিত যে, আলেম তাঁর ইজতিহাদের জন্য পুরস্কার পাবেন—তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান বা ভুল করুন। আপনার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর সেই হাদিসটিই যথেষ্ট, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক বিচার করার সময় ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি প্রতিদান। আর যখন তিনি বিচার করার সময় ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।" এরপর আপনার উচিত আলেমের ব্যাপারে বিচার করার দায়িত্ব আলেমদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া। আপনি শিকারি পাখিদের মাঝ থেকে বেরিয়ে আসুন এবং মেঘের সাথে টক্কর দেবেন না।পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভের মাধ্যম বানান। তিনি যেন আমাকে এবং এর পাঠককে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করেন। এই বইয়ে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা পরম দাতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ এ থেকে মুক্ত এবং আমি আল্লাহর ইচ্ছায় তা থেকে ফিরে আসছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ করেন এবং আমাদের সাথে তাঁর ইনসাফ (বিচার) অনুযায়ী আচরণ না করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দুআ কবুলের যোগ্য। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আবু রহমাহ / মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ উওয়াইদাহশিক্ষক, আল-জামেয়া আল-খাইরিয়্যাহ লি-তাহফিজিল কুরআন আল-কারীম, জেদ্দা; মাদরাকাহ, রুহাত এবং হুদাশ শাম শাখা১০/ ০৯/ ১৪১৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٥)
{ … كتاب التوحيد} باب: التوحيد أول ما يجب أن يتعلمه العبد من دينهقال تعالى: (فَاعْلَمْ أَنّهُ لَا إِلَهَ إِلا اللّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ) (محمد / 19)(حديث ا بن عباس في الصحيحين) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذٍ ابن جبل حين بعثه إلى اليمن: إنك ستأتي قوماً أهل كتاب، فإذا جئتهم فادعهم إلى أن يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فإن هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم خمسَ صلواتٍ في كل يومٍ وليلة، فإن هم أطاعوا لك بذلكفأخبرهم أن الله قد فرض عليهم صدقةً تؤخذ من أغنيائهم فتُردُ على فقرائهم، فإن هم أطاعوا لك بذلك فإياك وكرائم أموالهم، واتقِ دعوةَ المظلومِ فإنه ليس بينه وبين الله حجاب.(حديث ابن عمر رضي الله عنهما الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والحج وصوم رمضان)(حديثُ جندب ابن عبد الله صحيح ابن ماجة) قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ونحن فتيانٌ حزَاوِرَة، فتعلمنا الإيمانَ قبل أن نتعلم القرآن، ثم تعلمنا القرآنَ فازددنا به إيمانا. باب: من أنواع التوحيد توحيد الربوبيةِ قال تعالى (ألا له الخلقُ والأمر) {الأعراف / 54}
... কিতাবুত তাওহীদ (একত্ববাদ অধ্যায়) পরিচ্ছেদ: তাওহীদ হলো প্রথম বিষয় যা একজন বান্দার তার দ্বীন থেকে শিক্ষা করা আবশ্যকমহান আল্লাহ বলেন: (অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ও মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ এবং তোমাদের অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন) (মুহাম্মদ / ১৯)(সহীহাইন-এ বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীস) তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাকে বললেন: নিশ্চয়ই আপনি আহলে কিতাবের একটি সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছেন। সুতরাং যখন আপনি তাদের কাছে পৌঁছাবেন, তখন তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাবেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। যদি তারা আপনার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে অবগত করুন যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা আপনার এই কথা মেনে নেয়,তবে তাদেরকে অবগত করুন যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া (বণ্টন করা) হবে। যদি তারা আপনার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের মূল্যবান ধন-সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করুন, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা)(সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহর সহীহ হাদীস) তিনি বলেন, আমরা যখন শক্তিশালী যুবক ছিলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা কুরআন শেখার আগেই ঈমান শিখেছিলাম, এরপর আমরা কুরআন শিখলাম এবং এর মাধ্যমে আমাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেল। পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকত্বের একত্ববাদ) মহান আল্লাহ বলেন: (জেনে রাখুন, সৃষ্টি ও নির্দেশ কেবল তাঁরই) {আল-আরাফ / ৫৪}
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٦)
والأمرُ هنا معناه التدبير.و قال تعالى (لله ملك السموات والأرض) {المائدة / 17}(حديث جبير بن مطعم رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في المغرب بالطور، فلما بلغ هذه الآية: {أم خلقوا من غير شيء أم هم الخالقون. أم خلقوا السماوات والأرض بل لا يوقنون. أم عندهم خزائن ربك أم هم المسيطرون}. كاد قلبي أن يطير.(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله لما قضى الخلق، كتب عنده فوق عرشه: إن رحمتي سبقت غضبي). باب: من أنواع التوحيد توحيد الألوهيةقال تعالى: (شَهِدَ اللّهُ أَنّهُ لَا إِلَهَ إِلاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) (آل عمران /18)وقال تعالى: (فَاعْلَمْ أَنّهُ لَا إِلَهَ إِلا اللّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ) (محمد / 19)(حديثُ عُبَادةَ ابن الصامت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من شهدَ أن لا إله إلا الله وحده لا شَرِيكَ له وأن محمداً عبدُ الله ورسولُه وأن عيسى عبدُ اللهِ ورسولُه وكلمتُه ألقاها إلى مريمَ وروحٌ منه والجنةُ حقٌ والنارُ حقٌ أدخله الله الجنةَ على ما كان من العمل. باب: من أنواع التوحيد توحيد الأسماء والصفات(حديث ابن مسعود في السلسلة الصحيحة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ما أصاب عبداً همٌ ولا حزنٌ فقال: اللهم إني عبدك وابن عبدك وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماضٍ فيَّ حكمك، عدلٌ فيَّ قضاؤك، أسألك بكلِ اسمٌ هو لك سميت به نفسك أو أنزلته في كتابك أو علمته أحدٌ من خلقك أن تجعل
এবং এখানে 'আদেশ' এর অর্থ হলো পরিচালনা।মহান আল্লাহ বলেন: (আসমান ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই) {আল-মায়িদাহ / ১৭}(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত জুবায়ের ইবনে মুতঈম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি, যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন: {তারা কি স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না। নাকি তাদের কাছে তোমার রবের ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে, নাকি তারা এর নিয়ন্ত্রক?} তখন আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত নির্ধারণ করলেন, তখন তিনি তাঁর আরশের উপরে তাঁর কাছে লিখে রাখলেন: নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে)। পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রকারভেদের মধ্যে উলুহিয়্যাহর তাওহীদমহান আল্লাহ বলেন: (আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (তা-ই সাক্ষ্য দেয়), তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (আল ইমরান / ১৮)মহান আল্লাহ আরও বলেন: (অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, এবং আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন নারী-পুরুষদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণস্থল এবং তোমাদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবগত আছেন) (মুহাম্মদ / ১৯)(সহীহাইন-এ বর্ণিত উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যাই হোক না কেন। পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রকারভেদের মধ্যে নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ(সিলসিলা সহীহাহ-তে বর্ণিত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো বান্দা যখন কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখ-কষ্টে পতিত হয় এবং বলে: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার সন্তান ও আপনার দাসীর সন্তান; আমার ললাট আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার হুকুম কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ; আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি—যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন—যাতে আপনি করেন...'
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٧)
القرآن العظيم ربيع قلوبي ونورَ بصري وجلاء حزني وذهاب همِّي إلا أذهب الله همَّه وأبدله مكانه فرجاً.(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن لله تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة. باب: أصحابُ التوحيدِ يفوزون بخيري الدنيا والآخرةقال تعالى: (الّذِينَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُوَاْ إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلََئِكَ لَهُمُ الأمْنُ وَهُمْ مّهْتَدُونَ) (الأنعام /82)وقال تعالى: (قُلْ إِنّمَآ أَنَاْ بَشَرٌ مّثْلُكُمْ يُوحَىَ إِلَيّ أَنّمَآ إِلََهُكُمْ إِلََهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَآءَ رَبّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبّهِ أَحَدَا) (الكهف /110)(حديثُ ابن مسعودٍ في الصحيحين) قال لما نزلت: الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلمٍ أولئك لهم الأمن وهم مهتدون. شق ذلك على المسلمين وقالوا أينا لم يظلم نفسه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس ذلك، إنما هو الشرك، ألم تسمعوا ما قال لقمان لابنه وهو يعظه يا بني لا تُشركْ بالله إن الشرك لظلمٌ عظيم. لا يقبلُ الله تعالى العملَ إلا من الموحدينقال تعالى: (قُلْ إِنّمَآ أَنَاْ بَشَرٌ مّثْلُكُمْ يُوحَىَ إِلَيّ أَنّمَآ إِلََهُكُمْ إِلََهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَآءَ رَبّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبّهِ.(حديثُ أبي هريرةَ صحيح مسلم): أن النبي صلى الله عليه وسلم قال - قال الله تعالى: أنا أغنى الشركاءِ عن الشرك، من عمل عملاً أشركَ فيه معي غيري تركته وشركه.(حديثُ جندب ابن عبد الله في الصحيحين): أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من سمَّعَ سمَّعَ الله به ومن يُرائي يُرائي الله به.
মহান কুরআন আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার দৃষ্টির আলো, আমার দুঃখের মোচনকারী এবং আমার উদ্বেগের অপসারক—যাতে আল্লাহ তার উদ্বেগ দূর করে দেন এবং তার পরিবর্তে তাকে আনন্দ দান করেন।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পরিচ্ছেদ: তাওহীদপন্থীরা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে সফলকাম হয়মহান আল্লাহ বলেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (শিরকের) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।" (আল-আনআম: ৮২)মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।" (আল-কাহফ: ১১০)(সহীহাইন-এ বর্ণিত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) তিনি বলেন, যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত"—এটি মুসলিমদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো এবং তারা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের ওপর জুলুম করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "বিষয়টি তেমন নয়, বরং এটি হলো শিরক। তোমরা কি শোনোনি লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দেওয়ার সময় যা বলেছিলেন: হে বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক করো না, নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম।" আল্লাহ তাআলা কেবল তাওহীদপন্থীদের আমলই কবুল করেনমহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।"(সহীহ মুসলিমের আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি অংশীদারদের মধ্যে শিরক (অংশীদারিত্ব) থেকে সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।"(সহীহাইন-এ বর্ণিত জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তার গোপন উদ্দেশ্য মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তাকে লজ্জিত করবেন (অর্থাৎ তার লোক দেখানোর বিষয়টি প্রকাশ করে দেবেন)।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٨)
(حديثُ أبي أُمامة صحيح النسائي): أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الله تعالى لا يقبلُ من العملِ إلا ما كان خالصاً وابتُغيَ به وَجهُهُ.(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:إن أول الناس يقضى يوم القيامة عليه رجل استشهد فأتي به فعرفه نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال قاتلت فيك حتى استشهدت قال كذبت ولكنك قاتلت لأن يقال جريء فقد قيل ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن فأتي به فعرفه نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال تعلمت العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن قال كذبت ولكنك تعلمت العلم ليقال عالم وقرأت القرآن ليقال هو قارئ فقد قيل ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار ورجل وسع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله فأتي به فعرفه نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال ما تركت من سبيل تحب أن ينفق فيها إلا أنفقت فيها لك قال كذبت ولكنك فعلت ليقال هو جواد فقد قيل ثم أمر به فسحب على وجهه ثم ألقي في النار. باب: أصحابُ التوحيدِ يفوزون بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم -(حديثُ أبي هريرة في الصحيحين): أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لكلِ نبيٍ دعوةٌ مستجابةٌ فتعجَّلَ كل نبيٍ دعوته، وإني اختبأتُ دعوتي شفاعةٌ لأُمتي يوم القيامة، فهي نائلةٌ إن شاء الله من مات من أمتي لا يشركْ بالله شيئاً.(حديثُ أبي هريرة صحيح البخاري): قال. قلت يا رسول الله من أسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة؟ لقد ظننتُ يا أبا هريرةَ أن لا يسأ لني عن هذا الحديثِ أحدٌ أوَّلَ منك لما رأيتُ من حرصكَ على الحديث، أسعدُ الناسِ بشفاعتي يوم القيامةِ من قال لا إ له إ لا الله خالصاً من قِبِلِ نفسه. باب: أصحابُ التوحيد لا يخلدون في النار
(আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত হাদীস, সহীহ আন-নাসায়ী): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কোনো আমল কবুল করেন না কেবল সেটি ব্যতীত যা একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে করা হয়েছে এবং যার দ্বারা তাঁর চেহারা অন্বেষণ করা হয়েছে।(আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, যা সহীহ মুসলিমে সাব্যস্ত হয়েছে) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:কিয়ামতের দিন প্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতগুলো দেখাবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন, ‘তুমি এসব নেয়ামত দ্বারা কী আমল করেছ?’ সে বলবে, ‘আমি আপনার পথে লড়াই করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি।’ তিনি বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি লড়াই করেছ যেন তোমাকে সাহসী বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এমনকি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি যে ইলম শিক্ষা করেছে, অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতগুলো দেখাবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন, ‘তুমি এসব নেয়ামত দ্বারা কী আমল করেছ?’ সে বলবে, ‘আমি ইলম শিক্ষা করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ তিনি বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ইলম শিক্ষা করেছ যেন তোমাকে আলেম বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছ যেন তোমাকে ক্বারী বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এমনকি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেছিলেন এবং সব ধরনের সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতগুলো দেখাবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি বলবেন, ‘তুমি এসব নেয়ামত দ্বারা কী আমল করেছ?’ সে বলবে, ‘আপনি যেসব পথে ব্যয় করা পছন্দ করেন এমন কোনো পথ আমি বাদ দেইনি যেখানে আপনার জন্য ব্যয় করিনি।’ তিনি বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি তা করেছ যেন তোমাকে দাতা বলা হয়, আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। পরিচ্ছেদ: তাওহীদপন্থীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ লাভে ধন্য হবে -(সহীহাইন তথা বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরায়রার হাদীস): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীর একটি কবুলযোগ্য দুআ রয়েছে। প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ দুআ দুনিয়াতে দ্রুত করে ফেলেছেন। আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য আমার দুআটি গোপন করে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে এটি লাভ করবে।(আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীস, সহীহ বুখারী): তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে? (তিনি বললেন) হে আবু হুরায়রা! হাদীসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ দেখে আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে আর কেউ আমাকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সেই হবে, যে নিজের অন্তরের একনিষ্ঠতা সহকারে বলবে: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। পরিচ্ছেদ: তাওহীদপন্থীরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٩)
(حديثُ أنس في الصحيحين): أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعاذَ رَدِيفه على الرحل، قال يا معاذ: قال لبيك يا رسول الله وسعديك، قال:، يا معاذ، قال لبيك يا رسول الله وسعديك (ثلاثاً) قال: ما من أحدٍ يشهدُ أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله صدقاً من قلبه إلا حرَّمه الله على النار، قال يا رسول الله أفلا أخبرُ به الناسَ فيستبشرون؟ قال: إذاً يتكلوا. وأخبر بها معاذ ٌ عند موته تأثما ً.(حديثُ أبي ذرٍ في الصحيحين): قال أتيتُ النبي صلى الله عليه وسلم وعليه ثوبٌ أبيض وهو نائم ثم أتيتهُ وقد استيقظ فقال: ما من عبدٍ قال لا إله إلا الله ثم مات على ذلك إلا أدخله الله الجنة. قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال وإن زنى وإن سرق. قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال وإن زنى وإن سرق. قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال وإن زنى وإن سرق على رغمِ أنفِ أبي ذر.(حديثُ أنس في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يخرجُ من النارِ من قال لا إله إلا الله وفي قلبهِ وزنُ شُعيرةِ من خير، ويخرجُ من النارِ من قال لا إله إلا الله وفي قلبهِ وزن بُرةٍ من خير، ويخرجُ من النارِ من قال لا إله إلا الله وفي قلبهِ وزنِ ذَرةٍ من خير.(حديثُ أبي سعيدٍ صحيح الترمذي): أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يخرجُ من النارِ من كان في قلبهِ مثقالُ ذرةٍ من إيمان. باب: تكفيرُ الذنوب لأصحاب التوحيد(حديثُ عُبَادةَ ابن الصامت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من شهدَ أن لا إله إلا الله وحده لا شَرِيكَ له وأن محمداً عبدُ الله ورسولُه وأن عيسى عبدُ اللهِ ورسولُه وكلمتُه ألقاها إلى مريمَ وروحٌ منه والجنةُ حقٌ والنارُ حقٌ أدخله الله الجنةَ على ما كان من العمل.(حديثُ أنس صحيح الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يَقُولُ: "قالَ الله تبارك وتعالى: يا ابنَ آدَمَ إِنّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى ما كانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي. يا ابنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَت ذُنُوبُكَ عَنَانَ السّمَاءِ ثُمّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي. يا ابنَ آدَمَ إنّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأرْضِ خَطَايَا ثُمّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بي شَيْئاً لأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً".
(সহীহাইন-এ বর্ণিত আনাসের হাদীস): আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুয়ায তাঁর পিছনে বাহনের পিঠে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, হে মুয়ায! সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত ও আপনার হুকুম পালনে প্রস্তুত। তিনি বললেন, হে মুয়ায! সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত ও আপনার হুকুম পালনে প্রস্তুত (তিনবার)। তিনি বললেন: যে ব্যক্তিই আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়? তিনি বললেন: তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। আর মুয়ায তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহের আশঙ্কায় (ইলম গোপন করার ভয়ে) এ খবরটি পৌঁছে দিয়েছিলেন।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু যর-এর হাদীস): তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, তখন তিনি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমাচ্ছিলেন। এরপর আমি তাঁর নিকট আসলাম যখন তিনি জেগে উঠলেন। তখন তিনি বললেন: যে কোনো বান্দা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’ বলবে, অতঃপর এ অবস্থার ওপরই মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমি বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। আমি বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। আমি বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আবু যরের নাক ধূলিমলিন হওয়া সত্ত্বেও।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আনাসের হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে যে বলবে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তার হৃদয়ে একটি যব পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে; এবং জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে যে বলবে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তার হৃদয়ে একটি গমের দানা পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে; এবং জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে যে বলবে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তার হৃদয়ে একটি অণু পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে।(তিরমিযীর সহীহ হাদীস, আবু সাঈদ হতে বর্ণিত): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে যার হৃদয়ে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে। পরিচ্ছেদ: তাওহীদপন্থীদের গুনাহ মোচন হওয়া(সহীহাইন-এ বর্ণিত উবাদা ইবনে সামিতের হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা একটি রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যেমনই হোক না কেন।(তিরমিযীর সহীহ হাদীস, আনাস হতে বর্ণিত) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা রাখবে, তোমার পক্ষ থেকে যা-ই হোক না কেন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং আমি পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব এবং আমি পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার কাছে পৃথিবী পূর্ণ গুনাহ নিয়ে আসো এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমার কাছে পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٠)
باب: حقُ الله على العبادِ وحقُ العبادِ على الله(حديثُ معاذ ابن جبل في الصحيحين) قال: كنتُ رَدِيفَ النبي صلى الله عليه وسلم على حمارٍ يُقَالُ له عُفَيْر، فقال لي يا معاذ: أتدري ما حقُ اللهِ على العبادِ وما حقُ العبادِ على الله؟ قلتُ الله ورسوله أعلم. قال فإن حق الله على العبادِ أن يعبدوه ولا يشرِكوا به شيئاً، وحقُ العبادِ على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئاً، قلتُ يا رسولَ الله أفلا أبشِّرْ به الناس؟ قال لا تبشرْهم فيتكلوا. باب: من التوحيدِ أن تشهدَ أن عيسى عبدُ اللهِ ورسولهقال الله تعالى: (إِنّ مَثَلَ عِيسَىَ عِندَ اللّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ ثِمّ قَالَ لَهُ كُن فَيَكُونُ) [آل عمران /59](حديثُ عُبَادةَ ابن الصامت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من شهدَ أن لا إله إلا الله وحده لا شَرِيكَ له وأن محمداً عبدُ الله ورسولُهوأن عيسى عبدُ اللهِ ورسولُه وكلمتُه ألقاها إلى مريمَ وروحٌ منه والجنةُ حقٌ والنارُ حقٌ أدخله الله الجنةَ على ما كان من العمل. باب: من حقَّق التوحيدَ دخلَ الجنةَ بغيرِ حساب(حديثُ ابن عباس في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: عُرِضت عليَّ الأمم فجعل يمرُ النبي معه الرجل والنبيُ معه الرجلان والنبي معه الرهط والنبي ليس معه أحد، ورأيتُ سواداً كثيراً سدَّ الأفق فرجوتُ أن تكون أمتي فقِيل هذا موسى وقومه، ثم قِيل ليَ انظر هكذا وهكذا فرأيتُ سواداً كثيراً سدَّ الأفق فقِيل هؤلاء أمتُك ومع هؤلاءِ سبعون ألفاً يدخلون الجنةَ بغيرِ حساب فتفرَّقَ الناسُ ولم يبينْ لهم، فتذاكرَ أصحابُ النبيِ صلى الله عليه وسلم فقالوا نحن وُلدنا في الشرك ولكن هؤلاء أبناؤنا، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال {هم الذين لا يتطيرون ولا يكتوون ولا يسترقون وعلى ربهم
পরিচ্ছেদ: বান্দার উপর আল্লাহর হক এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক(সহীহাইন-এ বর্ণিত মুআয ইবনে জাবালের হাদীস) তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে 'উফাইর' নামক একটি গাধার উপর আরোহী ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর কী হক এবং আল্লাহর উপর বান্দার কী হক? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা যেন কেবল তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করে না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন, তাদের সুসংবাদ দিও না, অন্যথায় তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। পরিচ্ছেদ: ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল—এ সাক্ষ্য প্রদান করা তাওহীদের অন্তর্ভুক্তআল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বললেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল।) [আল-ইমরান: ৫৯](সহীহাইন-এ বর্ণিত উবাদাহ ইবনুস সামিতের হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূলএবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন। পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাওহীদকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে, সে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে(সহীহাইন-এ বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার সামনে জাতিসমূহকে উপস্থাপন করা হলো। আমি দেখলাম কোনো নবীর সাথে মাত্র একজন লোক যাচ্ছে, কোনো নবীর সাথে দুইজন লোক, কোনো নবীর সাথে একটি ছোট দল এবং কোনো নবীর সাথে কেউ নেই। এরপর আমি বিশাল একটি জনসমষ্টি দেখলাম যা দিগন্তকে ঢেকে ফেলেছে। আমি আশা করলাম যে হয়তো তারা আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হলো, ইনি মূসা এবং তাঁর কওম। তারপর আমাকে বলা হলো, আপনি এদিকে ও ওদিকে তাকান। আমি দেখলাম বিশাল এক জনসমষ্টি যা দিগন্তকে ঢেকে ফেলেছে। আমাকে বলা হলো, এরা আপনার উম্মত এবং এদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপর লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং তিনি তাদের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ পরস্পর আলোচনা করতে লাগলেন এবং বললেন, আমরা তো শিরকের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি, কিন্তু সম্ভবত এরা আমাদের সন্তানরা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি পৌঁছালে তিনি বললেন, {তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা কুলক্ষণ মানে না, লোহা পুড়িয়ে শরীরে দাগ দেয় না, ঝাড়ফুঁক কামনা করে না এবং তারা তাদের রবের ওপর}
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١١)
يتوكلون} فقام عُكَّاشةُ ابن مِحصن فقال: أمنهم أنا يا رسولَ الله؟ قال: أنت منهم، فقام آخر فقال أمنهم أنا؟ قال: سبقك بها عُكَّاشة.(حديث أَبَي أُمَامَةَ رضي الله عنه الثابت في صحيحي الترمذي وابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:" وعدني رَبِّىأَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِى سَبْعِينَ أَلْفاً لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابَ مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفاً وَثَلَاثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ ربيِ ". باب: أصحاب التوحيد لا يُخَلَدون في النار(حديثُ أبي ذرٍ الثابت في الصحيحين) قال أتيتُ النبيَ صلى الله عليه وسلم وعليه ثوبٌ أبيض وهو نائم ثم أتيته وقد استيقظ فقال: ما من عبدٍ قال لا إله إلا الله ثم مات على ذلك إلا دخل الجنةَ، قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق. قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق. قلتُ وإن زنى وإن سرق؟ قال: وإن زنى وإن سرق على رَغمِ أنفِ أبي ذر.(حديثُ أنس الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يخرجُ من النار من قال لاإله إلا الله وفي قلبه وزنُ شُعَيْرَةٍ من خير، ويخرجُ من النارِ من قال لاإله إلا الله وفي قلبه وزنُ بُرَةٍ من خير ويخرجُ من النارِ من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن ذرةٍ من خير.(حديثُ أبي سعيدٍ في صحيحِ الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرجُ من النارِ من كان في قلبه مِثقالُ ذرةٍ من إيمان. باب: التطيرُ يُنافي التوحيد(حديثُ أبي هريرةَ في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا عدوى ولا طِيَرَة ولا هامةُ ولا صفر وفرَّ من المجذومِ فرارك من الأسد.
নির্ভর করে} অতঃপর উক্কাশাহ ইবনে মিহসান দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর অন্য একজন দাঁড়িয়ে বললেন: আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: উক্কাশাহ তোমার অগ্রগামী হয়েছে।(আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস, যা তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-এর সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে সাব্যস্ত হয়েছে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যাদের কোনো হিসাব নেই এবং কোনো শাস্তিও নেই। প্রত্যেক হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং আমার রবের হাতসমূহের অঞ্জলি থেকে তিন অঞ্জলি।" পরিচ্ছেদ: তাওহিদপন্থীরা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে না(সহিহাইন-এ সাব্যস্ত আবু যার-এর হাদিস) তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমাচ্ছিলেন। এরপর আমি পুনরায় তাঁর নিকট আসলাম যখন তিনি জাগ্রত হলেন। তখন তিনি বললেন: "এমন কোনো বান্দা নেই যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে অতঃপর সে এর উপরই মৃত্যুবরণ করেছে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আমি বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি পুনরায় বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" আমি আবারো বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আবু যার-এর নাক ধূলিমলিন হওয়া সত্ত্বেও।"(সহিহাইন-এ সাব্যস্ত আনাস-এর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং যার অন্তরে এক যব পরিমাণ কল্যাণ বিদ্যমান। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং যার অন্তরে এক গম পরিমাণ কল্যাণ বিদ্যমান। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে এবং যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ কল্যাণ বিদ্যমান।"(তিরমিযীর সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত আবু সাঈদ-এর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ ঈমান বিদ্যমান।" পরিচ্ছেদ: কুলক্ষণ বা অমঙ্গল বিশ্বাস করা তাওহিদের পরিপন্থী(সহিহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা-এর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই (যা আল্লাহর হুকুম ছাড়া নিজে নিজে সংক্রমিত হয়), কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, প্যাঁচার অশুভ ডাক বলতে কিছু নেই এবং সফর মাসের অশুভ হওয়া বলতেও কিছু নেই। আর কুষ্ঠরোগী থেকে তুমি সেভাবেই পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٢)
باب: لماذا نخافُ من الشِرْكقال تعالى: (إِنّ اللّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَآءُ وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدِ افْتَرَىَ إِثْماً عَظِيماً) [سورة: النساء (النساء / 48)وقال تعالى) إِنّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ حَرّمَ اللّهُ عَلَيهِ الْجَنّةَ وَمَأْوَاهُ النّارُ وَمَا لِلظّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ) (المائدة / 72)وقال تعالى (وَلَقَدْ أُوْحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنّ مِنَ الْخَاسِرِينَ) (الزمر / 65)وقال تعالى (وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبّ اجْعَلْ هََذَا الْبَلَدَ آمِناً وَاجْنُبْنِي وَبَنِيّ أَن نّعْبُدَ الأصْنَامَ) (إبراهيم / 35)(حديثُ ابن عباس في صحيحِ الجامع) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: الشركُ في أمتي أخفى من دبيبِ النملِ على الصفا.(حديث أبي سعيد في صحيح ابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ألا أخبركم بما هو أخوف عليكم عندي من المسيح الدجال؟ ". قالوا: بلي. قال: " الشرك الخفي، يقوم الرجل فيصلي فيزين صلاته، لما يري من نظر رجل.(حديث محمود بن لبيد رضي الله عنه الثابت في صحيح الجامع) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر الرياء يقول الله يوم القيامة إذا جزي الناس بأعمالهم: اذهبوا إلى الذين كنتم تراءون في الدنيا فانظروا هل تجدون عندهم جزاء. باب: حكم من تعلق تميمةً لرفعِ البلاءِ أو دفعه(حديثُ عقبة ابن عمر في السلسلةِ الصحيحة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من تعلَّق تميمةً فقد أشرك.(حديث ابن مسعود في صحيح ابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الرُقى والتمائمَ والتِوَلَةَ شرك.(حديث عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ رضي الله عنه الثابت في صحيح الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:" مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئاً وُكِلَ إِلَيْهِ ".
পরিচ্ছেদ: আমরা কেন শিরক ভয় করিআল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং শিরক ছাড়া অন্য যা কিছু তা যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে এক মহাপাপ রচনা করল।" [সূরা আন-নিসা: ৪৮]আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।" [সূরা আল-মায়িদা: ৭২]আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী করা হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।" [সূরা আয-যুমার: ৬৫]আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যখন ইবরাহীম বললেন: হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।" [সূরা ইবরাহীম: ৩৫](সহীহুল জামে-তে বর্ণিত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে শিরক মসৃণ পাথরের ওপর পিঁপড়ার চলার গতির চেয়েও বেশি সূক্ষ্ম ও গোপন।(সহীহ ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না যা আমার কাছে তোমাদের জন্য মাসীহ দাজ্জালের চেয়েও বেশি ভয়ের?" তারা বললেন: "অবশ্যই।" তিনি বললেন: "তা হলো গোপন শিরক; কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং সে তার সালাতকে দীর্ঘ ও সুন্দর করে যখন সে কারো দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ হতে দেখে।"(সহীহুল জামে-তে প্রমাণিত মাহমুদ ইবনে লাবীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের ওপর যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো ছোট শিরক অর্থাৎ রিয়া (লোকদেখানো আমল)। কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে তাদের আমলের প্রতিদান দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ বলবেন: তোমরা তাদের কাছে যাও যাদেরকে দুনিয়াতে দেখাতে, তারপর দেখ তাদের কাছে কোনো প্রতিদান পাও কি না।" পরিচ্ছেদ: বিপদ দূর করার জন্য বা তা প্রতিহত করার জন্য কবজ লটকানোর বিধান(সিলসিলাহ সহীহাহ-তে বর্ণিত উকবা ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কবজ লটকাল, সে শিরক করল।(সহীহ ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই (অবৈধ) ঝাড়ফুঁক, কবজ এবং তিওয়ালা (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টির জাদু) হলো শিরক।(সহীহ তিরমিযীতে প্রমাণিত আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিছু লটকাবে, তাকে সেই জিনিসের ওপরই সোপর্দ করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٣)
(حديث رُوَيْفِع بن ثابت رضي الله عنه الثابت في صحيح أبي داوود) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يا رُوَيْفِع لعل الحياة ستطول بك بعدي فأخبر الناس أنه من عقد لحيته أو تقلد وترا أو استنجى برجيعِ دابة أو عظم فإن محمدا صلى الله عليه وسلم منه بريء. باب: حكم الرُقَى(حديث عوف ابن مالك في صحيحِ مسلم) قال كُنا نَرقى في الجاهلية فقلنا يا رسول الله كيف ترى في ذلك؟ قال: أعرضوا عليَّ رُقاكم لابأس بالرُقى ما لم يكن شركاً.(حديث عائشةَ في الصحيحين) قالت كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إذا أتى مريضاً أو أُتِيَ به إليه قال: أذْهِب البأس ربِ الناس اشفِ أنت الشافي لاشفاء إلا شفاءك شفاءاً لايُغادرُ سقماً.(حديث عائشة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول للمريض: بسم الله تُرْبةُ أرضنا بريقةِ بعضنا يُشفى سقِيمنا بإذن ربنا.(حديث أبي سعيد في صحيح مسلم) أن جبريل عليه السلام أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمدُ أشتكيت؟ قال نعم، قال بسم الله أرقيك من كل شئٍ يُؤذيك ومن شر كل نفسٍ أو عين حاسدٍ الله يشفيك بسم الله أرقيك.(حديث ابن مسعود في صحيح ابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الرُقى والتمائمَ والتِوَلَةَ شرك. باب: من تبرك بحجرٍ أو شجرٍ ونحوهقال تعالى: (أَفَرَأَيْتُمُ اللاّتَ وَالْعُزّىَ، وَمَنَاةَ الثّالِثَةَ الاُخْرَىَ) (النجم/ 19،20)(حديث أبي واقدٍ في صحيح الترمذي) قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى حُنين ونحن حُدثاء عهدٍ بكفر وللمشركين سِدْرَةٌ يعكفون عندها وينُطون بها أسلحتهم يُقال لها ذاتُ أنواط، فمررنا بسدرةٍ فقلنا يا رسول الله اجعل لنا ذاتَ أنواط كما لهم ذات أنواط فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الله أكبر- إنها السُنن قلتم والذي نفسي بيده كما قالت بنو إسرائيل لموسى اجعل لنا إلهاً كما لهم آلهة قال إنكم قومٌ تجهلون، لتركبُن سنن من قبلكم.
(সুনানে আবু দাউদে সাব্যস্ত রুওয়াইফি ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে রুওয়াইফি! সম্ভবত আমার পরে তোমার জীবন দীর্ঘ হবে, তাই মানুষকে জানিয়ে দাও যে, যে ব্যক্তি তার দাড়িতে গিট দেয়, বা (পশুর) ধনুকের ছিলার মালা গলায় ঝুলায়, অথবা পশুর বিষ্ঠা বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করে, তবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে সম্পর্কহীন। অধ্যায়: ঝাড়ফুঁকের বিধান(সহিহ মুসলিমের আউফ ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) তিনি বলেন, আমরা জাহেলিয়াতের যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? তিনি বললেন: তোমাদের ঝাড়ফুঁকগুলো আমার কাছে উপস্থাপন করো। ঝাড়ফুঁকে কোনো দোষ নেই যতক্ষণ না তাতে শিরক থাকে।(সহিহাইন-এ বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস) তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে আসতেন অথবা কাউকে তাঁর কাছে আনা হতো, তখন তিনি বলতেন: হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন, আপনি আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী, আপনার আরোগ্য ছাড়া আর কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।(সহিহাইন-এ বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বলতেন: আল্লাহর নামে, আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের মধ্য থেকে কারোর লালা দ্বারা, আমাদের রবের অনুমতিক্রমে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করবে।(সহিহ মুসলিমের আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থবোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাঈল বললেন: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট অথবা হিংসুকের বদনজর থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।(সুনানে ইবনে মাজাহ-তে সাব্যস্ত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই (শিরকি) ঝাড়ফুঁক, তাবিয এবং তিওয়ালাহ (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টির জাদুকরী তাবিয) হলো শিরক। অধ্যায়: যে ব্যক্তি পাথর, গাছ বা এই জাতীয় কিছু দ্বারা বরকত কামনা করেমহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উজ্জা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?) (আন-নাজম: ১৯-২০)(সুনানে তিরমিজিতে সাব্যস্ত আবু ওয়াকিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুনাইনের যুদ্ধে বের হলাম। আমরা তখন কুফরি ছেড়ে নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছি। মুশরিকদের একটি কুল গাছ ছিল যার কাছে তারা অবস্থান করত এবং তাতে তাদের যুদ্ধাস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত, যে গাছটিকে ‘জাতু আনওয়াত’ বলা হতো। আমরাও একটি কুল গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্যও একটি ‘জাতু আনওয়াত’ নির্ধারণ করে দিন যেমন মুশরিকদের ‘জাতু আনওয়াত’ রয়েছে। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহু আকবার! এ তো পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, তোমরা ঠিক তেমনই বললে যেমন বনী ইসরাঈল মুসাকে বলেছিল, ‘তাদের যেমন উপাস্য রয়েছে আমাদের জন্যও তেমন একজন উপাস্য নির্ধারণ করে দিন’। তিনি (মুসা) বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ জাতি’। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٤)
حكم التِّوَلة(حديث ابن مسعود صحيحي أبي داوود وابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن الرقى والتمائم والتِّوَلة شرك. باب ما جاء في الذبحِ لغير اللهقال تعالى: (قُلْ إِنّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي للّهِ رَبّ الْعَالَمِينَ) [سورة: الأنعام / 162](حديث علي في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لعن الله من لعن والديه، ولعن الله من ذبح لغير الله، ولعن الله من آوى مُحِْدثاً، ولعن الله من غيَّرَ مَناطَ الأرض. باب: لا يُذبح بمكان كان يُذبحُ فيه لغيرِ الله(حديث ثابت ابن الضحاك في صحيح أبي داوود) قال نذر رجلٌ أن ينحر إبلاً ببوانة فسأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: هل كان فيها وثنٌ من أوثانِ الجاهليةِ يُعبد؟ قال لا، قال: فهل كان فيها عيدٌ من أعيادهم؟ قال لا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أوفِ بنذرك فإنه لا وفاءَ لنذرٍ في معصيةِ الله ولا فيما لا يملكُ ابن آدم. باب: حكم النذرِ لغيرِ اللهقال تعالى: (وَمَآ أَنفَقْتُمْ مّن نّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مّن نّذْرٍ فَإِنّ اللّهَ يَعْلَمُهُ) [سورة: البقرة / 270]قال تعالى: (يُوفُونَ بِالنّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْماً كَانَ شَرّهُ مُسْتَطِيراً) [سورة: الإنسان / 7](حديث عائشة في صحيحِ البخاري) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من نذر أن يطيع الله فلْيُطعه ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصه.
তিওয়ালাহর বিধান(আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-এর সহিহ সূত্রে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই ঝাড়ফুঁক (তন্ত্র-মন্ত্র), তাবিজ এবং তিওয়ালাহ (ভালোবাসার জাদু) শিরক। পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে জবাই করার বর্ণনাআল্লাহ তাআলা বলেন: (বলুন, "নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের রব আল্লাহরই জন্য") [সূরা: আল-আনআম / ১৬২](সহিহ মুসলিমে আলীর বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে লানত করেছেন যে তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয়, আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে লানত করেছেন যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে জবাই করে, আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে লানত করেছেন যে কোনো বিদআতকারীকে (বা অপরাধীকে) আশ্রয় দেয় এবং আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে লানত করেছেন যে জমির সীমানা পরিবর্তন করে। পরিচ্ছেদ: এমন স্থানে জবাই করা যাবে না যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে জবাই করা হতো(সহিহ আবু দাউদে সাবিত ইবনে দাহহাকের বর্ণিত হাদিস) তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বুয়ানা নামক স্থানে উট জবাই করার মানত করল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "সেখানে কি জাহেলি যুগের কোনো প্রতিমা ছিল যার পূজা করা হতো?" সে বলল: "না"। তিনি বললেন: "সেখানে কি তাদের কোনো উৎসব পালিত হতো?" সে বলল: "না"। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমার মানত পূর্ণ করো, কারণ আল্লাহর নাফরমানি হয় এমন কাজে মানত পূর্ণ করা বৈধ নয় এবং আদমের সন্তান যার মালিক নয় এমন বিষয়েও মানত পূর্ণ করা যায় না।" পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করার বিধানআল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা যা কিছু ব্যয় করো অথবা যা কিছু মানত করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন) [সূরা: আল-বাকারাহ / ২৭০]আল্লাহ তাআলা বলেন: (তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেই দিনকে ভয় করে যার অনিষ্ট হবে ব্যাপক) [সূরা: আল-ইনসান / ৭](সহিহ বুখারিতে আয়েশার বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানি করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফরমানি না করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٥)
باب: حكم الاستعاذة بغير اللهقال تعالى قال تعالى: (وَإِمّا يَنزَغَنّكَ مِنَ الشّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّهِ إِنّهُ هُوَ السّمِيعُ الْعَلِيمُ) [سورة: فصلت - الآية: 36]قال تعالى: (وَأَنّهُ كَانَ رِجَالٌ مّنَ الإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مّنَ الْجِنّ فَزَادوهُمْ رَهَقاً) [سورة: الجن / 6](حديث خولة بنت حكيمٍ السُلَمِية في صحيح مسلم) أن النبي … صلى الله عليه وسلم قال: من نزل منزلاً فقال أعوذُ بكلماتِ الله التاماتِ من شر ما خلق لم يضره شئٌ حتى يرتحل من منزله ذلك.(حديث ابن عباس في صحيح البخاري) قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يُعَوِّذُ الحسنَ والحسين ويقول كان أبا كما يُعَوِّذُ بهما إسماعيلَ وإسحاق {أعوذُ بكلمات الله التامة من شر كلِ شيطانٍ وهامة ومن كلِ عينٍ لامة} باب: حكم دعاء غير اللهقال تعالى: (وَمَن يَدْعُ مَعَ اللّهِ إِلَهَا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنّمَا حِسَابُهُ عِندَ رَبّه إِنّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ) [سورة: المؤمنون - الآية: 117](حديث النعمان ابن بشير في صحيحي أبي داوود والترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: الدعاء هو العبادة. باب: حكم الاستغاثة بغير اللهقال تعالى: (وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ اللّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرّكَ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنّكَ إِذاً مّنَ الظّالِمِينَ) [سورة: يونس / 106]
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট আশ্রয় প্রার্থনার বিধানমহান আল্লাহ বলেন: (আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।) [সূরা: ফুসসিলাত - আয়াত: ৩৬]মহান আল্লাহ বলেন: (আর মানুষের মধ্যকার কিছু লোক জিনের মধ্যকার কিছু লোকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।) [সূরা: আল-জিন / ৬](সহীহ মুসলিমের খাওলা বিনতে হাকিম আস-সুলামিয়্যাহ বর্ণিত হাদীস) নবী … সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে বলে: ‘আমি আল্লাহর নিখুঁত বাক্যসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে সেই স্থান থেকে প্রস্থান না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।(সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদীস) তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং বলতেন যে, তোমাদের পিতা (ইব্রাহিম আ.) এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে ইসমাইল ও ইসহাকের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন: {আমি আল্লাহর নিখুঁত বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক অনিষ্টকারী চোখ (বদনজর) থেকে।} পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকার বিধানমহান আল্লাহ বলেন: (যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে, যার স্বপক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই; তবে তার হিসাব কেবল তার রবের নিকট। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না।) [সূরা: আল-মুমিনুন - আয়াত: ১১৭](আবু দাউদ ও তিরমিযীর সহীহ সূত্রে বর্ণিত নুমান ইবনে বাশিরের হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দুয়াই হলো ইবাদত। পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট বিপদ উদ্ধারের প্রার্থনা করার বিধানমহান আল্লাহ বলেন: (আর আপনি আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবেন না যে আপনার উপকার করতে পারে না এবং আপনার ক্ষতিও করতে পারে না। অতঃপর যদি আপনি তা করেন, তবে অবশ্যই আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।) [সূরা: ইউনুস / ১০৬]
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٦)
قال تعالى: (وَإِن يَمْسَسْكَ اللّهُ بِضُرّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلاّ هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدّ لِفَضْلِهِ يُصَيبُ بِهِ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرّحِيمُ) [سورة: يونس / 107]قال تعالى: (إِنّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللّهِ أَوْثَاناً وَتَخْلُقُونَ إِفْكاً إِنّ الّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقاً فَابْتَغُواْ عِندَ اللّهِ الرّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُواْ لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ) [سورة: العنكبوت / 17]قال تعالى: (وَمَنْ أَضَلّ مِمّن يَدْعُو مِن دُونِ اللّهِ مَن لاّ يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَىَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَآئِهِمْ غَافِلُونَ * وَإِذَا حُشِرَ النّاسُ كَانُواْ لَهُمْ أَعْدَآءً وَكَانُواْ بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ) [سورة: الأحقاف 5، 6]قال تعالى: (أَمّن يُجِيبُ الْمُضْطَرّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السّوَءَ وَيَجْعَلُكُمْ حُلَفَآءَ الأرْضِ أَإِلََهٌ مّعَ اللّهِ قَلِيلاً مّا تَذَكّرُونَ) [سورة: النمل / 62](حديث أبي هريرة في الصحيحين) قال قام رسولُ الله صلى الله عليه وسلم حين أُنزل عليه (وأنذر عشيرتك الأقربين) فقال: يا معشرَ قريشٍ - أو كلمة نحوها - اشتروا أنفسكم لا أغني عنكم من اتلله شيئاً، يا عباس ابن عبد المطلب لا أغني عنك من الله شيئاً، ويا صفيةُ عمةُ رسولِ الله لا اغني عنكِ من الله شيئاً، ويا فاطمةُ بنتِ محمدٍ سليني من مالي ما شئتِ لا أغني عنكِ من الله شيئاً.(حديث أبي موسى في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: على كل مسلمٍ صدقة، قالوا يا نبي الله فمن لم يجد؟ قال: يعمل بيده فينفع نفسه ويتصدَّق. قالوا فإن لم يجد؟ قال: يُعينُ ذا الحاجةِ الملهوفِ فإنه له صدقة. قالوا فإن لم يجد؟ قال: فليعمل بالمعروفِ وليُمسك عن الشرِ فإنه له صدقة. باب: جواز التوسل بالإيمانِ بالله وبرسوله(حديث بُريدة في صحيحي أبي داوود والترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم سمع رجلاً يقول اللهم إني أسألك بأني أشهد أنك أنت الله لا إله إلا أنت الأحدُ الصمد الذي لم يلد ولم يُولد ولم يكن له كفواً أحد فقال: لقد دعا الله باسمه الأعظم الذي إذا دُعِيَ به أجاب وإذا سُئِلَ به أعطى.
মহান আল্লাহ বলেন: (আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো বিপদে ফেলেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।) [সূরা ইউনুস: ১০৭]মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল মূর্তিপূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছ, তারা তোমাদের রিজিক দেওয়ার কোনো ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আল্লাহর কাছেই রিজিক তালাশ করো, তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে।) [সূরা আল-আনকাবুত: ১৭]মহান আল্লাহ বলেন: (ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের ডাক সম্পর্কে বেখবর। আর যখন মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্র করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।) [সূরা আল-আহকাফ: ৫, ৬]মহান আল্লাহ বলেন: (নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।) [সূরা আন-নামল: ৬২](সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হলো: (আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন), তখন তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়—অথবা অনুরূপ কোনো কথা—তোমরা নিজেদের আত্মাকে (পরকাল থেকে) কিনে নাও, আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস! আমি আল্লাহর বিপরীতে আপনার কোনো উপকারে আসব না। হে রাসূলুল্লাহর ফুফু সফিয়্যাহ! আমি আল্লাহর বিপরীতে আপনার কোনো উপকারে আসব না। হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমা! আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও, কিন্তু আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সদকা করা আবশ্যক। তারা বললেন, হে আল্লাহর নবী! যদি কেউ তা না পায়? তিনি বললেন: সে নিজ হাতে কাজ করবে, তাতে নিজের উপকার হবে এবং সদকাও করবে। তারা বললেন, যদি তাও না পায়? তিনি বললেন: সে যেন আর্ত বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করে, এটি তার জন্য সদকা। তারা বললেন, যদি তাও না পায়? তিনি বললেন: তবে সে যেন সৎ কাজ করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে, এটিই তার জন্য সদকা। অধ্যায়: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের মাধ্যমে উসিলা ধরার বৈধতা(আবু দাউদ ও তিরমিযীর সহীহ বর্ণনায় বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।" তখন তিনি বললেন: সে আল্লাহকে তাঁর এমন 'ইসমে আযম' (মহান নাম) দিয়ে ডেকেছে, যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে চাইলে তিনি দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
باب: جواز التوسل بالأعمال الصالحة(حديث ابن عمر رضي الله عنهما الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: خرج ثلاثة يمشون فأصابهم المطر، فدخلوا في غار في جبل، فانحطت عليهم صخرة، قال: فقال بعضهم لبعض: ادعوا الله بأفضل عمل عملتموه.فقال أحدهم: اللهم إني كان لي أبوان شيخان كبيران، فكنت أخرج فأرعى، ثم أجيء فأحلب فأجيء بالحلاب، فآتي أبواي فيشربان، ثم أسقي الصبية وأهلي وامرأتي، فاحتبست ليلة، فجئت فإذا هما نائمان، قال: فكرهت أن أوقظهما، والصبية يتضاغون عند رجلي، فلم يزل ذلك دأبي ودأبهما، حتى طلع الفجر، اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك، فافرج عنا فرجة نرى منها السماء، قال: ففرج عنهم.وقال الآخر: اللهم إن كنت تعلم أني أحب امرأة من بنات عمي كأشد ما يحب الرجل النساء، فقالت: لا تنال ذلك منها حتى تعطيها مائة دينار، فسعيت حتى جمعتها، فلما قعدت بين رجليها قالت: اتق الله ولا تفض الخاتم إلا بحقه، فقمت وتركتها، فإن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك، فافرج عنا فرجة، قال: ففرج عنهم الثلثين.وقال الآخر: اللهم إن كنت تعلم أني استأجرت أجيرا بفرق من ذرة فأعطيته، وأبى ذلك أن يأخذ، فعمدت إلى ذلك الفرق فزرعته، حتى اشتريت منه بقرا وراعيها، ثم جاء فقال: يا عبد الله أعطيني حقي، فقلت: انطلق إلى تلك البقر وراعيها فإنها لك، فقال: أتستهزئ بي؟ قال: فقلت: ما أستهزئ بك ولكنها لك، اللهم إن كنت تعلم أني فعلت ذلك ابتغاء وجهك فافرج عنا، فكشف عنهم). باب: جواز التوسل بدعائه صلى الله عليه وسلم يوم كان حياً (حديث عطاء ابن أبي رباح في الصحيحين) قال: قال لي ابن عباس رضي الله عنهما ألا أُريك امرأةً من أهل الجنة؟ قلتُ بلى، قال هذه المرأةُ السوداء، أتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت إني أُصرع
পরিচ্ছেদ: নেক আমলের মাধ্যমে উসিলা ধরার বৈধতা(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তি ভ্রমণে বের হয়েছিল, এমতাবস্থায় তারা বৃষ্টির কবলে পড়ল। তারা পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিল। তখন একটি বিশাল পাথর তাদের ওপর ধসে পড়ল (এবং গুহার মুখ বন্ধ করে দিল)। তিনি বলেন: তখন তারা একে অপরকে বলল, তোমরা তোমাদের কৃত সর্বোত্তম আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করো।তাদের একজন বলল: হে আল্লাহ! আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন। আমি বাইরে গিয়ে পশু চরাতাম, এরপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং সেই পাত্রভর্তি দুধ নিয়ে আসতাম। আমি প্রথমে আমার পিতা-মাতাকে পান করাতাম, এরপর শিশুদের, আমার পরিবারকে এবং আমার স্ত্রীকে পান করাতাম। একদিন রাতে ফিরতে আমার দেরি হয়ে গেল, আমি যখন আসলাম তখন তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাদের জাগানো অপছন্দ করলাম, আর শিশুরা আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার্ত হয়ে চিৎকার করছিল। ভোর হওয়া পর্যন্ত আমার এবং তাদের এই অবস্থাই বজায় ছিল। হে আল্লাহ! আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে আমাদের জন্য পাথরটি কিছুটা সরিয়ে দিন যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তিনি বলেন: তখন তাদের জন্য পাথরটি কিছুটা সরে গেল।দ্বিতীয়জন বলল: হে আল্লাহ! আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আমার এক চাচাতো বোনকে একজন পুরুষ যেভাবে কোনো নারীকে গভীরভাবে ভালোবাসে সেভাবে ভালোবাসতাম। সে বলল: তুমি আমাকে একশ দিনার না দেওয়া পর্যন্ত আমার থেকে তোমার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না। আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে তা সংগ্রহ করলাম। এরপর যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম, সে বলল: আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায্য অধিকার ছাড়া সীলমোহর (সতীত্ব) নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং তাকে ছেড়ে দিলাম। আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে আমাদের জন্য পাথরটি আরও কিছুটা সরিয়ে দিন। তিনি বলেন: তখন পাথরটি দুই-তৃতীয়াংশ সরে গেল।তৃতীয়জন বলল: হে আল্লাহ! আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি এক 'ফরাক' ভুট্টার বিনিময়ে একজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম এবং তাকে তার মজুরি দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। এরপর আমি সেই ভুট্টা নিয়ে চাষ করলাম, এমনকি তা থেকে আমি গরু ও তার রাখাল ক্রয় করলাম। অনেকদিন পর সে এসে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার প্রাপ্য মজুরি দিয়ে দাও। আমি বললাম: ওই গরু ও রাখালের কাছে যাও, ওসব তোমারই। সে বলল: আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন? তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না, বরং ওগুলো তোমারই। হে আল্লাহ! আপনি যদি জেনে থাকেন যে আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করেছি, তবে আমাদের মুক্তি দিন। তখন পাথরটি তাদের ওপর থেকে পুরোপুরি সরে গেল। পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর দোয়ার মাধ্যমে উসিলা ধরার বৈধতা (সহীহাইন-এ বর্ণিত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর হাদীস) তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতী একজন মহিলা দেখাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এই কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাটি; সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وإني أتكشف فادعُ الله لي. قال إن شئتِ صبرتِ ولكِ الجنة وإن شئتِ دعوتُ الله أن يُعافيكِ فقالت أصبر، فقالت إني أتكشف فادعُ الله لي ألا أتكشف فدعا لها. باب: الشفاعةقال تعالى: (وَكَمْ مّن مّلَكٍ فِي السّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلاّ مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرْضَىَ) (النجم / 26)(حديث أبي هريرة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لكل نبيٍ دعوةٌ لكل نبي دعوة مستجابة فتعجل كل نبي دعوته و إني خبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة فهي نائلة إن شاء الله من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئا.(حديثُ أبي هريرة صحيح البخاري): قال. قلت يا رسول الله من أسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة؟ لقد ظننتُ يا أبا هريرةَ أن لا يسأ لني عن هذا الحديثِ أحدٌ أوَّلَ منك لما رأيتُ من حرصكَ على الحديث، أسعدُ الناسِ بشفاعتي يوم القيامةِ من قال لا إ له إ لا الله خالصاً من قِبِلِ نفسه.(حديث أنس في صحيح أبي داوود) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال شفاعتي لأهلِ الكبائرِ من أمتي.[*] أولاً الشفاعة العظمى:قال تعالى: (وَمِنَ الْلّيْلِ فَتَهَجّدْ بِهِ نَافِلَةً لّكَ عَسَىَ أَن يَبْعَثَكَ رَبّكَ مَقَاماً مّحْمُوداً) (الإسراء / 79)(حديث جابر في صحيح البخاري) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من قال حين يسمع النداء: اللهم رب هذه الدعوة التامة و الصلاة القائمة آت محمدا الوسيلة و الفضيلة و ابعثه مقاما محمودا الذي وعدته حلت له شفاعتي يوم القيامة.(حديث ابن عمر في صحيح البخاري) قال: إن الناس يصيرون يوم القيامة جثا كل أمة تتبع نبيها يقولون: يا فلان اشفع يا فلان اشفع حتى تنتهي الشفاعة إلى محمد صلى الله عليه وسلم فذلك يوم يبعثه الله المقام المحمود.
এবং আমি বিবস্ত্র হয়ে পড়ি, তাই আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন। তিনি বললেন, তুমি যদি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পার এবং তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে; আর যদি চাও তবে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি যেন তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করেন। তখন তিনি বললেন, আমি ধৈর্যই ধারণ করব। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, যেহেতু আমি বিবস্ত্র হয়ে পড়ি, তাই আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তখন তিনি তাঁর জন্য দুআ করলেন। অধ্যায়: সুপারিশ (শাফায়াত)মহান আল্লাহ বলেন: (আকাশমন্ডলীতে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তার জন্য অনুমতি দেওয়ার পর।) (আন-নাজম: ২৬)(সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিমের আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক নবীর জন্য একটি কবুলযোগ্য বিশেষ দুআ রয়েছে। প্রত্যেক নবীই তাদের সেই দুআটি দুনিয়াতে দ্রুত করে ফেলেছেন, আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য আমার দুআটি জমা করে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ, আমার উম্মতের মধ্যে যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, তারা এটি লাভ করবে।(সহীহ বুখারীর আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস): তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে? তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ দেখে আমি আগেই ধারণা করেছিলাম যে তোমার আগে কেউ এই হাদিস সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তি হবে, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ চিত্তে নিজের অন্তর থেকে বলবে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।(সহীহ আবু দাউদের আনাস বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার সুপারিশ হবে আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য।[*] প্রথমত: মহা-সুপারিশ (আশ-শাফায়াতুল উজমা):মহান আল্লাহ বলেন: (আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম করো, যা তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত; শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।) (আল-ইসরা: ৭৯)(সহীহ বুখারীর জাবির বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আযান শোনার পর বলে: হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব, মুহাম্মাদকে ওয়াসিলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ পাওনা হয়ে যাবে।(সহীহ বুখারীর ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস) তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মানুষ দলবদ্ধ হয়ে হাঁটু গেড়ে বসবে, প্রত্যেক উম্মত তাদের নবীর অনুসরণ করবে এবং বলবে: হে অমুক! সুপারিশ করুন, হে অমুক! সুপারিশ করুন। অবশেষে সুপারিশের আবেদন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে পৌঁছাবে। আর সেদিনই আল্লাহ তাঁকে ‘মাকামে মাহমুদ’ বা প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
(حديث أنس في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إذا كان يوم القيامة ماج الناس بعضهم في بعض فيأتون آدم فيقولون اشفع لنا إلى ربك فيقول لست لها ولكن عليكم بإبراهيم فإنه خليل الرحمن فيأتون إبراهيم فيقول لست لها ولكن عليكم بموسى فإنه كليم الله فيأتون موسى فيقول لست لها ولكن عليكم بعيسى فإنه روح الله وكلمته فيأتون عيسى فيقول لست لها ولكن عليكم بمحمد صلى الله عليه وسلم فيأتونني فأقول أنا لها فأستأذن على ربي فيؤذن لي ويلهمني محامد أحمده بها لا تحضرني الآن فأحمده بتلك المحامد وأخر له ساجدا فيقال يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعط واشفع تشفع فأقول يا رب أمتي أمتي فيقال انطلق فأخرج منها من كان في قلبه مثقال شعيرة من إيمان فأنطلق فأفعل ثم أعود فأحمده بتلك المحامد ثم أخر له ساجدا فيقال يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعط واشفع تشفع فأقول يا رب أمتي أمتي فيقال انطلق فأخرج منها من كان في قلبه مثقال ذرة أو خردلة من إيمان فأنطلق فأفعل ثم أعود فأحمده بتلك المحامد ثم أخر له ساجدا فيقال يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعط واشفع تشفع فأقول يا رب أمتي أمتي فيقول انطلق فأخرج من كان في قلبه أدنى أدنى أدنى مثقال حبة خردل من إيمان فأخرجه من النار فأنطلق فأفعل.[*] ثانياً شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم في استفتاح باب الجنة:(حديث أنس في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أنا أول الناس يشفع في الجنة، وأنا أكثر الناس تبعاً.(حديث أنس في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: آتي باب الجنة فأستفتح فيقول الخازن: من أنت؟ فأقول: محمد فيقول: بك أمرت أن لا أفتح لأحد قبلك.[*] ثالثاً: شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم في إخراج الموحدين من النار:(حديث أنس في صحيح البخاري) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يخرج قومٌ من النار بعد ما مسهم منها سفعٌ فيدخلون الجنة فيسميهم أهل الجنة الجهنميين.(حديث أبي سعيد في صحيح الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم يخرج من النار من كان في قلبه مثقال ذرة من الإيمان.رابعاً: خروج أقوامٌ من النار برحمة الله تعالى بدون شفاعة الشافعين:
(সহীহাইন-এ বর্ণিত আনাসের হাদীস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন মানুষ অস্থির হয়ে একে অপরের ওপর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়বে। তারা আদমের কাছে আসবে এবং বলবে, "আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন।" তিনি বলবেন, "আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা ইবরাহীমের কাছে যাও, কারণ তিনি রহমানের খলীল (বন্ধু)।" তারা ইবরাহীমের কাছে আসবে, তিনি বলবেন, "আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা মূসার কাছে যাও, কারণ তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলা ব্যক্তি (কালীমুলাহ)।" তারা মূসার কাছে আসবে, তিনি বলবেন, "আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা ঈসার কাছে যাও, কারণ তিনি আল্লাহর রূহ এবং তাঁর বাণী।" তারা ঈসার কাছে আসবে, তিনি বলবেন, "আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাও।" তারা তখন আমার কাছে আসবে, আর আমি বলব, "আমিই এর উপযুক্ত।" এরপর আমি আমার রবের কাছে অনুমতি চাইব এবং আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি আমাকে এমন সব প্রশংসার বাক্য শিখিয়ে দেবেন যা দিয়ে আমি তাঁর প্রশংসা করব, যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই। তখন আমি সেই প্রশংসাগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করব এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন বলা হবে, "হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোলো, বলো—তোমার কথা শোনা হবে, চাও—তোমাকে দেওয়া হবে, এবং সুপারিশ করো—তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।" আমি বলব, "হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত!" তখন বলা হবে, "যাও এবং জাহান্নাম থেকে তাকে বের করে আনো যার অন্তরে এক যব পরিমাণ ঈমান রয়েছে।" আমি যাব এবং তাই করব। এরপর পুনরায় ফিরে আসব এবং সেই প্রশংসাগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করব এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। বলা হবে, "হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোলো, বলো—তোমার কথা শোনা হবে, চাও—তোমাকে দেওয়া হবে, এবং সুপারিশ করো—তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।" আমি বলব, "হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত!" বলা হবে, "যাও এবং তাকে বের করে আনো যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ বা সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে।" আমি যাব এবং তাই করব। এরপর পুনরায় ফিরে আসব এবং সেই প্রশংসাগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করব এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন বলা হবে, "হে মুহাম্মাদ! তোমার মাথা তোলো, বলো—তোমার কথা শোনা হবে, চাও—তোমাকে দেওয়া হবে, এবং সুপারিশ করো—তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।" আমি বলব, "হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত!" তখন তিনি বলবেন, "যাও এবং তাকে বের করে আনো যার অন্তরে সরিষার দানার চাইতেও অতি অতি অতি সামান্য পরিমাণ ঈমান রয়েছে; তাকে জাহান্নাম থেকে বের করো।" এরপর আমি যাব এবং তাই করব।[*] দ্বিতীয়ত: জান্নাতের দরজা খোলার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুপারিশ:(সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত আনাসের হাদীস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমিই জান্নাতের ব্যাপারে প্রথম সুপারিশকারী হব এবং আমিই হব সেই ব্যক্তি যার অনুসারী সংখ্যা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক।(সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত আনাসের হাদীস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার আবেদন করব। তখন জান্নাতের প্রহরী জিজ্ঞেস করবে: "আপনি কে?" আমি বলব: "মুহাম্মাদ।" তখন সে বলবে: "আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার আগে আমি কারো জন্য দরজা না খুলি।"[*] তৃতীয়ত: জাহান্নাম থেকে একত্ববাদীদের বের করার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুপারিশ:(সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আনাসের হাদীস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: একদল লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এমন অবস্থায় যখন আগুনের দহন তাদের ঝলসিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জান্নাতবাসীরা তাদের 'জাহান্নামী' বলে অভিহিত করবে।(সহীহ তিরমিযীতে বর্ণিত আবু সাঈদের হাদীস) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাহান্নাম থেকে তাকে বের করে আনবেন যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে।চতুর্থত: সুপারিশকারীদের সুপারিশ ছাড়াই মহান আল্লাহর রহমতে জাহান্নাম থেকে একদল লোকের বের হওয়া:
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
(حديث أبي سعيدٍ في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فيشفع النبيون والملائكة والمؤمنون فيقول الجبار: بقيت شفاعتي فيقبضُ قبضةً من النار فيخرج أقواماً قد امتحشوا فيُلقون في نهرٍ بأفواه الجنة يُقال له ماء الحياة فينبتون في حافتيه كما تنبت الحبة في حميل السيل.[*] خامساً: شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم في تخفيف عذاب أبي طالب:(حديث أبي سعيد في الصحيحين) أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم وذكر عنده عمه 0فقال لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة فيجعل في ضحضاح من النار يبلغ كعبيه يغلي منه أم دماغه - يعني أبا طالب -. باب: أسعد الناس بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم -(حديث أبي هريرة في صحيح البخاري) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال: لا إله إلا الله خالصا من قلبه. باب: هداية التوفيق بيد الله تعالى وحده(حديث سعيد ابن المسيَّب عن أبيه الثابت في الصحيحين) قال لما حضرت أبا طالبٍ الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده أبا جهل وعبد الله بن أمية بن المغيرة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عم قل لا إله إلا الله كلمةً أشهد لك بها عند الله، فقال أبو جهل وعبد الله بن أبي أمية: يا أبا طالب أترغبُ عن ملةِ عبد المطلب؟، فلم يزل رسول الله يعرضها عليه ويعيدُ له تلك المقالة حتى قال أبو طالب آخر ما كلمهم هو على ملةِ عبد المطلب وأبى أن يقول لا إله إلا الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أما والله لأستغفرنَّ لك ما لم أُنه عنك فأنزل الله تعالى: (مَا كَانَ لِلنّبِيّ وَالّذِينَ آمَنُوَاْ أَن يَسْتَغْفِرُواْ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوَاْ أُوْلِي قُرْبَىَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيّنَ لَهُمْ أَنّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ) [سورة: التوبة - الآية: 113]
(সহীহাইনে বর্ণিত আবু সাঈদ-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নবীগণ, ফেরেশতাগণ এবং মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। অতঃপর মহাপরাক্রমশালী (আল্লাহ) বলবেন: "এখন আমার সুপারিশ বাকি আছে।" অতঃপর তিনি আগুনের মধ্য হতে তাঁর হাতের এক মুষ্টিতে একদল লোককে ধরবেন এবং এমন কিছু কওমকে বের করে আনবেন যারা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। তারপর তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত একটি নদীতে নিক্ষেপ করা হবে যাকে 'মাউল হায়াত' (জীবনী সুধা) বলা হয়। ফলে তারা তার দুই তীরে এমনভাবে গজিয়ে উঠবে যেমন বন্যার স্রোতে বয়ে আসা পলিমাটির মাঝে বীজ গজিয়ে ওঠে।[*] পঞ্চম: আবু তালিবের আযাব লাঘব করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ:(সহীহাইনে বর্ণিত আবু সাঈদের হাদীস) তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন—যখন তাঁর সামনে তাঁর চাচার কথা উল্লেখ করা হলো—তখন তিনি বললেন: "সম্ভবত কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে, ফলে তাকে আগুনের একটি অগভীর স্তরে রাখা হবে যা তার টাখনু পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং তাতে তার মস্তিষ্কের মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে" - অর্থাৎ আবু তালিব। পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ লাভে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান ব্যক্তি -(সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আবু হুরায়রার হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে একনিষ্ঠ চিত্তে নিজের অন্তর থেকে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। পরিচ্ছেদ: তাওফীকের হিদায়েত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে(সহীহাইনে বর্ণিত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব তার পিতা থেকে বর্ণিত হাদীস) তিনি বলেন, যখন আবু তালিবের মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবু জাহল এবং আব্দুল্লাহ বিন আবু উমাইয়া বিন মুগীরাকে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে চাচা! আপনি বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', এমন একটি বাক্য যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নিকট আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারব। তখন আবু জাহল ও আব্দুল্লাহ বিন আবু উমাইয়া বলল: হে আবু তালিব! আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের আদর্শ থেকে বিমুখ হচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রমাগত তাকে এটি পেশ করতে থাকলেন এবং সেই কথাটির পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আবু তালিব তাদের সাথে শেষ যে কথাটি বললেন তা হলো তিনি আব্দুল মুত্তালিবের আদর্শের ওপরই অটল আছেন এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন: "নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, যখন তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তারা জাহান্নামের অধিবাসী।" [সূরা: আত-তাওবা - আয়াত: ১১৩]
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
التحذير من الغلو في الصالحين وأنه سبب كفر بني آدمقال تعالى يقول: (يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ إِلاّ الْحَقّ)[النساء/171](حديث ابن عباس في صحيح البخاري) في قوله تعالى وقالوا لا تذرن آلهتكم ولا تذرن وداً ولا سواعاً ولا يغوث ويعوق ونسراً، قال هذه أسماء رجالٍ صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون فيها أنصاباً وسموها بأسمائهم، ففعلوا ولم تعبد، حتى إذا هلك أولئك ونُسي العلم عُبدت.(حديث عمر في صحيح البخاري) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا تطروني لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم فإنما أنا عبد فقولوا: عبد الله و رسوله.(حديث عبد الله ابن الشخير في صحيح أبي داوود) قال انطلقت في وفد بني عامر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا أنت سيدنا فقال: السيد الله تبارك وتعالى، قلنا وأفضلنا فضلاً وأعظمنا طولاً فقال: قولوا بقولكم أو بعض قولكم ولا يستجرينكم الشيطان.(حديث ابن عباس الثابت في صحيحي النسائي و ابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: غداة العقبة وهو على ناقته اُلقُطْ لي حصى فلقطت له سبع حصيات هن حصى الخَذْف، فجعل ينفضُهُنَّ في كفه ويقولُ (أمثال هؤلاء فارْموا) ثم قال (يا أيها الناس إياكم والغلوَّ في الدين فإنه أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين.(حديث ابن مسعود الثابت في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: هلك المتنطعون، قالها ثلاثاً. باب: ما جاء في التغليظ فيمن عبد الله عند القبر
নেককারদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার বিষয়ে সতর্কতা এবং এটিই আদম সন্তানের কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার কারণমহান আল্লাহ বলেন: (হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না)[আন-নিসা/১৭১](সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) মহান আল্লাহর এই বাণীর (আর তারা বলেছিল: তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর পরিত্যাগ করো না ‘ওয়াদ’, ‘সুওয়া’, ‘ইয়াগুছ’, ‘ইয়াউক’ এবং ‘নাসর’কে) ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: “এগুলো নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের কিছু নেককার ব্যক্তির নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের মনে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তারা যেখানে বসে মজলিস করত সেখানে তাদের কিছু স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করো এবং সেগুলোকে তাদের নামেই নামকরণ করো। তারা তাই করল কিন্তু তখন সেগুলোর ইবাদত করা হয়নি। অবশেষে যখন সেই প্রজন্ম মৃত্যুবরণ করল এবং সঠিক ইলম বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন সেগুলোর ইবাদত শুরু হলো।”(সহীহ বুখারীতে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না যেমন খ্রিস্টানরা মরিয়ম তনয় (ঈসা) এর অতি প্রশংসা করেছিল। আমি তো কেবল একজন বান্দা। অতএব তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।”(সুনানে আবু দাউদে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) তিনি বলেন: আমি বনী আমীর গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলাম। আমরা বললাম, আপনি আমাদের সাইয়্যেদ (নেতা)। তিনি বললেন: “সাইয়্যেদ হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা।” আমরা বললাম, আপনি আমাদের মধ্যে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং দানে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বললেন: “তোমরা তোমাদের কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, কিন্তু শয়তান যেন তোমাদের তার প্ররোচনায় না ফেলে।”(সুনানে নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাবার সকালে তাঁর উটের পিঠে সওয়ার থাকা অবস্থায় বললেন: “আমার জন্য কঙ্কর কুড়িয়ে আনো।” তখন আমি তাঁর জন্য ছোট আকারের সাতটি কঙ্কর কুড়িয়ে আনলাম। তিনি সেগুলো তাঁর হাতের তালুতে নিয়ে ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: “এই আকারের কঙ্কর দিয়েই তোমরা পাথর নিক্ষেপ করো।” অতঃপর তিনি বললেন: “হে লোকসকল, তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা থেকে সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।”(সহীহ মুসলিমে ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়েছে।” তিনি কথাটি তিনবার বললেন। অনুচ্ছেদ: কবরের কাছে আল্লাহর ইবাদতকারীর ব্যাপারে যে কঠোরতা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
(حديث عائشة في الصحيحين) أن أم سلمة ذكرت لرسول الله صلى الله عليه وسلم كنيسة رأتها بأرض الحبشة وما فيها من الصور فقال: أولئك إذا مات فيهم الرجل الصالح أو العبد الصالح بنوْا على قبره مسجداً وصوَّروا فيه تلك الصور أولئك شرارُ الخلق عند الله يوم القيامة.(حديث عائشة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في مرضه الذي مات فيه لعن الله اليهود و النصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد.(حديث ابن عمر في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبورا. باب: لا تجعلوا قبري عيداً (حديث أبي هريرة في صحيح أبي داود) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تجعلوا بيوتكم قبورا و لا تجعلوا قبري عيدا و صلوا علي فإن صلاتكم تبلغني حيث كنتم. باب: لا يجوز شدِّ الرحال إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم -(حديث أبي هريرة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تُشدُّ الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجد الرسول والمسجد الأقصى. باب: ما جاء في أن بعض هذه الأمة يعبدُ الأوثانقال تعالى: (أَلَمْ تَرَ إِلَى الّذِينَ أُوتُواْ نَصِيباً مّنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلّذِينَ كَفَرُواْ هَؤُلاءِ أَهْدَىَ مِنَ الّذِينَ آمَنُواْ سَبِيلاً) [سورة: النساء / 51](حديث أبي سعيد في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لتتبعن سنن الذين من قبلكم شبرا بشبر أو ذراعا بذراع حتى لو سلكوا جحر ضَبٍ لسلكتموه قالوا: اليهود و النصارى؟ قال: فمن؟.
(সহীহায়নে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদিস) উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবিসিনিয়া ভূখণ্ডে তাঁর দেখা একটি গির্জা এবং তাতে বিদ্যমান প্রতিকৃতিসমূহের কথা উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন: "তারা এমন এক সম্প্রদায় যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো সৎ লোক অথবা নেক বান্দা মারা যেত, তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে ওইসব প্রতিকৃতি অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।"(সহীহায়নে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় বলেছেন: "আল্লাহর লানত ইহুদি ও নাসারাদের ওপর, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে।"(সহীহায়নে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কিছু সালাত তোমাদের ঘরে আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না।" পরিচ্ছেদ: আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না (সহীহ আবু দাউদে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না। আর তোমরা আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে থাকে।" পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয় -(সহীহায়নে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, রাসূলের এই মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা।" পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে - এ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেমহান আল্লাহ বলেন: "তুমি কি তাদের দেখনি যাদের কিতাবের এক অংশ প্রদান করা হয়েছিল? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কাফিরদের সম্পর্কে বলে যে, মুমিনদের তুলনায় এরাই অধিকতর সঠিক পথে পরিচালিত।" [সূরা আন-নিসা: ৫১](সহীহায়নে আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে বিঘত পরিমাণ ও হাত পরিমাণ; এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তা-ই করবে।" সাহাবীগণ আরজ করলেন: "তারা কি ইহুদি ও নাসারা?" তিনি বললেন: "তবে আর কারা?"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
(حديث أبي هريرة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا تقوم الساعة حتى تضطرب ألياتُ نساءِ دوسٍ على ذي الخلصة، وذي الخلصةِ طاغيةُ دَوسٍ التي كانوا يعبدون في الجاهلية.(حديث ثوبان رضي الله عنه الثابت في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن الله زوى لي الأرض فرأيت مشارقها ومغاربها وإن أمتي سيبلغ ملكها ما زوى لي منها وأعطيت الكنزين الأحمر والأبيض وإني سألت ربي لأمتي أن لا يهلكها بسنة عامة وأن لا يسلط عليهم عدوا من سوى أنفسهم فيستبيح بيضتهم وإن ربي قال يا محمد إني إذا قضيت قضاء فإنه لا يرد وإني أعطيتك لأمتك أن لا أهلكهم بسنة عامة وأن لا أسلط عليهم عدوا من سوى أنفسهم يستبيح بيضتهم ولو اجتمع عليهم من بأقطارها أو قال من بين أقطارها حتى يكون بعضهم يهلك بعضا ويسبي بعضهم بعضا. باب ما جاء في السحرقال تعالى: (وَاتّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشّيَاطِينُ عَلَىَ مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلََكِنّ الشّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلّمُونَ النّاسَ السّحْرَ وَمَآ أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتّىَ يَقُولَا إِنّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاّ بِإِذْنِ اللّهِ وَيَتَعَلّمُونَ مَا يَضُرّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الَاخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ) [البقرة 102](حديث عائشة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم سُحِر حتى إنه ليخيل إليه أنه يفعل الشيء وما يفعله، وأنه قال لها ذات يومٍ: أتاني ملكان فجلس أحدهما عند رأسي والآخر عند رجلي فقال ما وجع الرجل؟ قال مطبوب، قال من طبَّه؟ قال لبيد ابن الأعصم في مشطٍ ومشاطةٍ وفي جف طلع ذكر من بئر زَرْوَان.(حديث أبي هريرة في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا يا رسول الله وما هن؟ قال: الشرك بالله و السحر و قتل النفس التي حرم الله إلا بالحق و أكل الربا و أكل مال اليتيم و التولي يوم الزحف و قذف المحصنات الغافلات المؤمنات.
(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রের নারীদের নিতম্ব 'যুল-খালাসাহ' মূর্তির চতুর্দিকে দুলতে থাকবে। আর যুল-খালাসাহ ছিল দাওস গোত্রের সেই মূর্তি যা তারা জাহেলী যুগে পূজা করত।(সহীহ মুসলিম-এ সাব্যস্ত সওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য সমগ্র পৃথিবীকে সংকুচিত করে দিয়েছিলেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তগুলো দেখতে পেয়েছি। শীঘ্রই আমার উম্মতের রাজত্ব ওই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল। আমাকে লাল ও সাদা দুটি গুপ্তধন প্রদান করা হয়েছে। আমি আমার রবের নিকট আমার উম্মতের জন্য প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তাদেরকে সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত এমন কোনো শত্রু যেন তাদের ওপর চাপিয়ে না দেন যারা তাদের অস্তিত্বকে সমূলে বিনাশ করে দেবে। আমার রব বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা আর রদ করা হয় না। আমি তোমার উম্মতের জন্য তোমাকে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি তাদেরকে সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করব না এবং তাদের নিজেদের ছাড়া এমন কোনো শত্রু তাদের ওপর চাপিয়ে দেব না যারা তাদের অস্তিত্ব সমূলে বিনাশ করে দেবে—যদিও পৃথিবীর প্রান্তগুলো থেকে সবাই তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তবে তারা নিজেরাই একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে। যাদু সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেন: (তারা অনুসরণ করেছিল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত। সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলে হারূত ও মারূত নামক দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, 'আমরা তো কেবল পরীক্ষা, সুতরাং তোমরা কুফরী করো না'। অতঃপর তারা তাদের নিকট থেকে তা শিখত যার মাধ্যমে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে আখেরাতে তার কোনো অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের আত্মাকে বিক্রয় করেছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত!) [আল-বাকারাহ: ১০২](সহীহাইন-এ বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদু করা হয়েছিল, যার ফলে তাঁর কাছে মনে হতো যে তিনি কোনো কাজ করেছেন কিন্তু বাস্তবে তিনি তা করেননি। একদিন তিনি তাঁকে বললেন: আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন। তাঁদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অন্যজন আমার পায়ের কাছে বসলেন। একজন জিজ্ঞেস করলেন, এই লোকটির রোগ কী? অন্যজন বললেন, তাঁকে যাদু করা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে তাঁকে যাদু করেছে? তিনি বললেন, লাবীদ ইবনুল আসম; একটি চিরুনি, চিরুনি করার সময় ঝরে পড়া চুল এবং একটি পুরুষ খেজুর গাছের পুং-রেণুর আবরণের মধ্যে। যা 'যারওয়ান' নামক কূপে রাখা হয়েছে।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে থাকো। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু, ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া আল্লাহ যে জীবন হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সতী-সাধ্বী উদাসীন ঈমানদার নারীদের ওপর অপবাদ দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
باب: من أنواع السحر(حديث ابن عباس في صحيحي أبي داوود وابن ماجة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من اقتبس شعبةً من النجوم فقد اقتبس شعبةً من السحر زاد ما زاد.(حديث ابن مسعود في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ألا أنبئكم ما العَضَةُ؟ هي النميمةُ القالةُ بين الناس.(حديث ابن عمر رضي الله عنهما الثابت في صحيح البخاري) قال: جاء رجلان من المشرق فخطبا، فقال النبي: (إن من البيان لسحرا). باب: إن العيافة والطرْق والطِيرَةَ من الجبت(حديث أبو عبد الله الهلالي في صحيح ابن حبان) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن العيافة والطرْق والطِيرَةَ من الجبت. باب: حكم من أتى كاهنا(حديث صفية بنت أبي عُبيد في صحيح مسلم) عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة.(حديث أبي هريرة في صحيحي أبي داوود والترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من أتى كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد.
পরিচ্ছেদ: জাদুর বিভিন্ন প্রকার(আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো শাখা শিক্ষা করল, সে জাদুরই একটি শাখা শিক্ষা করল; সে এর যতটুকু বৃদ্ধি করবে, তার জাদুর অংশও ততটুকু বৃদ্ধি পাবে।(সহিহ মুসলিমে বর্ণিত ইবনে মাসউদের হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব না 'আল-আদাহ' কী? তা হলো চোগলখোরি, যা মানুষের মধ্যে কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়।(সহিহ বুখারিতে প্রমাণিত ইবনে ওমরের হাদিস) তিনি বলেন: পূর্ব দিক থেকে দুই ব্যক্তি এসে ভাষণ দিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা জাদুর মতো প্রভাবশালী। পরিচ্ছেদ: নিশ্চয়ই পক্ষী উড়ানো (আয়াফাহ), মাটিতে রেখা টানা (তরক্ব) এবং কুলক্ষণ গ্রহণ করা (তিয়ারাহ) 'জিবত'-এর অন্তর্ভুক্ত(সহিহ ইবনে হিব্বানে আবু আব্দুল্লাহ আল-হিলালির হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আয়াফাহ, তরক্ব এবং তিয়ারাহ 'জিবত'-এর অন্তর্ভুক্ত। পরিচ্ছেদ: গণকের কাছে যাওয়ার বিধান(সহিহ মুসলিমে সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক স্ত্রীর সূত্রে বর্ণিত) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো অতীন্দ্রিয়বাদীর কাছে গিয়ে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল করা হবে না।(আবু দাউদ ও তিরমিজিতে বর্ণিত আবু হুরায়রার হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে এল এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
باب: حكم النُشرة(حديث جابر في صحيح أبي داود) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: سئل عن النُشرة قال هي من عمل الشيطان. باب: حكم التطيرقال تعالى: (أَلآ إِنّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللّهُ وَلََكِنّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ) [سورة: الأعراف / 131]قال تعالى: (قَالُواْ طَائِرُكُم مّعَكُمْ أَإِن ذُكّرْتُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مّسْرِفُونَ) [يس / 19](حديثُ أبي هريرةَ في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا عدوى ولا طِيَرَة ولا هامةُ ولا صفر وفرَّ من المجذومِ فرارك من الأسد.(حديثُ ابن مسعود في صحيحي أبي داوود والترمذي) قال الطِيَرَة شرك - ثلاثاً - وما منا إلا 000 ولكن يُذْهبه الله بالتوكل.(حديثُ عبد الله ابن عمرو في السلسلة الصحيحة) أن النبي صلى الله عليه وسلم قالمن ردَّتْه الطِيَرَةُ عن حاجته فقد أشرك. قلتُ فما كفارةُ ذلك؟ قال: أن تقول اللهم لاخيرَ إلا خيْرُك ولا طَيرَ إلا طَيْرُك ولا إله غيرُك. باب: حكم الاستسقاء بالنجومقال تعالى: (وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنّكُمْ تُكَذّبُونَ) [الواقعة / 82](حديث أبي موسى في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركوهن: الفخر بالأحساب و الطعن في الأنساب و الاستسقاء بالنجوم والنياحة.(حديث زيد بن خالد الجُهني في الصحيحين) قال صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الصبح بالحديبية على إثرِ سماءٍ كانت من الليل، فلما انصرف أقبل على الناس فقال: هل تدرون ماذا قال ربكم؟ قالوا الله ورسوله أعلم، قال الله: أصبح من عبادي مؤمن بي و كافر فأما من
অধ্যায়: নুশরার বিধান(সহীহ আবু দাউদে বর্ণিত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নুশরা (জাদুর মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত। অধ্যায়: কুলক্ষণ গ্রহণের বিধানআল্লাহ তাআলা বলেন: (জেনে রেখো, তাদের অশুভ ভাগ্য তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না) [সূরা: আল-আরাফ / ১৩১]আল্লাহ তাআলা বলেন: (তারা বলল, তোমাদের অশুভ ভাগ্য তোমাদের সাথেই রয়েছে। তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে বলেই কি তোমরা এরূপ বলছ? বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়) [ইয়াসিন / ১৯](সহীহাইন বা বুখারি ও মুসলিমের আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো সংক্রামক ব্যাধি (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া) নিজে নিজে ছড়ায় না, কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ নেই, প্যাঁচার অমঙ্গল নেই এবং সফর মাসের অশুভ নেই। আর কুষ্ঠরোগী থেকে তুমি সেভাবে পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো।(আবু দাউদ ও তিরমিজির সহীহ সনদে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) তিনি বলেন: অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরক—তিনবার বললেন—আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে এর কোনো প্রভাব পড়ে না, তবে আল্লাহ তাআলা তা তাওয়াক্কুল বা তাঁর ওপর ভরসার মাধ্যমে দূর করে দেন।(সিলসিলা সহীহাহ-তে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অশুভ লক্ষণ যাকে তার প্রয়োজন পূরণ থেকে ফিরিয়ে রাখল, সে শিরক করল। আমি বললাম, এর কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত কী? তিনি বললেন: তুমি বলবে, হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আপনার অশুভ বা ফয়সালা ছাড়া কোনো অশুভ নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। অধ্যায়: নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনার বিধানআল্লাহ তাআলা বলেন: (আর তোমরা তোমাদের প্রাপ্ত রিজিকের পরিবর্তে একে অস্বীকার করছ) [আল-ওয়াকিআ / ৮২](সহীহ মুসলিমের আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের মাঝে জাহেলিয়াত যুগের চারটি বিষয় রয়েছে যা তারা বর্জন করবে না: আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা, বংশমর্যাদায় আঘাত হানা, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।(সহীহাইন বা বুখারি ও মুসলিমের যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়াতে রাতের বৃষ্টির পর আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে তিনি মানুষের দিকে ফিরে বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি (আল্লাহ) বললেন: আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং কেউ আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে ভোরে উপনীত হয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قال: مطرنا بفضل الله و رحمته فذلك مؤمن بي كافر بالكواكب و أما من قال: مطرنا بنوء كذا و كذا فذلك كافر بي و مؤمن بالكواكب. باب: مقامات الإيمانقال تعالى: (أُولََئِكَ الّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىَ رَبّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنّ عَذَابَ رَبّكَ كَانَ مَحْذُوراً) [سورة: الإسراء - الآية: 57](حديث ابن مسعود في صحيح البخاري) قال [أُولََئِكَ الّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىَ رَبّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ كان ناس من الإنس يعبدون ناسا من الجن فأسلم الجن وتمسك هؤلاء بدينهم. باب: إفراد محبة العبودية بالله سبحانهقال تعالى: (وَمِنَ النّاسِ مَن يَتّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبّونَهُمْ كَحُبّ اللّهِ وَالّذِينَ آمَنُواْ أَشَدّ حُبّاً للّهِ وَلَوْ يَرَى الّذِينَ ظَلَمُوَاْ إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنّ الْقُوّةَ للّهِ جَمِيعاً وَأَنّ اللّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ) [سورة: البقرة - الآية: 165]قال تعالى: (قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبّ إِلَيْكُمْ مّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبّصُواْ حَتّىَ يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ وَاللّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ) [التوبة / 24] باب: تقديم محبة رسوله على المال والولد والناس أجمعين(حديث أنس في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله و رسوله أحب إليه مما سواهما و أن يحب المرء لا يحبه إلا لله و أن يكره أن يعود في الكفر بعد إذ أنقذه الله منه كما يكره أن يلقى في النار.
তিনি বললেন: "আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি," সে আমার প্রতি ঈমানদার এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলে: "অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের বৃষ্টি হয়েছে," সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি ঈমানদার। পরিচ্ছেদ: ঈমানের স্তরসমূহমহান আল্লাহ বলেন: (তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের আজাব অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।) [সূরা: বনী ইসরাঈল - আয়াত: ৫৭](সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ইবনে মাসউদের হাদীস) তিনি বলেন: [তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আজাবকে ভয় করে—মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক একদল জিনের ইবাদত করত, অতঃপর সেই জিনেরা ইসলাম গ্রহণ করল, কিন্তু ওই মানুষগুলো তাদের পূর্বের দ্বীনই আঁকড়ে ধরে রইল।] পরিচ্ছেদ: ইবাদতগত ভালোবাসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করামহান আল্লাহ বলেন: (আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে আল্লাহর ভালোবাসার মতো ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অনেক সুদৃঢ়। আর যদি জালেমরা আজাব প্রত্যক্ষ করার সময়কার অবস্থা দেখত, তবে বুঝতে পারত যে সমস্ত শক্তি আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।) [সূরা: বাকারা - আয়াত: ১৬৫]মহান আল্লাহ বলেন: (বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা—যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা কর এবং তোমাদের পছন্দের ঘরবাড়ি—আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর ফয়সালা আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী কওমকে হেদায়েত দান করেন না।) [তওবা / ২৪] পরিচ্ছেদ: সম্পদ, সন্তান ও সকল মানুষের ওপর আল্লাহর রাসূলের ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেওয়া(সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসা; আর কুফরি থেকে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করা।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
(حديث أنس في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين".(حديث عمر في صحيح البخاري) أن عمر رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم: " إنك لأحب إلى من كل شيء إلا من نفسي. قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا والذي نفسي بيده، حتى أكون أحب إليك من نفسك. قال: الآن والله لأنت أحب إلى من نفسي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم الآن يا عمر " باب: الحب في الله أوثق عرى الإيمان(حديث أبي أمامة في صحيح أبي داود) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من أحب لله و أبغض لله و أعطى لله و منع لله فقد استكمل الإيمان.(حديث ابن عباس في صحيح الجامع) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أوثق عرى الإيمان: الموالاة في الله و المعاداة في الله و الحب في الله و البغض في الله عز و جل. فصلٌ: في الخوفقال تعالى: (إِنّمَا الْمُؤْمِنُونَ الّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ) [الأنفال / 2]و قال تعالى: (إِنّمَا ذَلِكُمُ الشّيْطَانُ يُخَوّفُ أَوْلِيَاءَهُ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُمْ مّؤْمِنِينَ) [آل عمران / 175](حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:يؤتى بجهنم يوم القيامة لها سبعون ألف زمام مع كل زمام سبعون ألف ملك يجرونها.(حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن أهون أهل النار عذاباً يوم القيامة لرجل، توضع في أخمص قدميه جمرة، يغلي منها دماغه، ما يرى أن أحداً أشدَّ منه عذاباً وإنه لأهونهم عذابا.(حديث أنس رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) قال: خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم خطبة ما سمعت مثلها قط قال: (لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا). قال فغطى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وجوههم لهم خنين.
(সহীহাইন-এ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"(সহীহ বুখারীতে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি আমার নিকট আমার নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য সকল কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ না আমি তোমার নিকট তোমার নিজের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" তিনি বললেন: "এখন আল্লাহর শপথ! আপনি আমার নিকট আমার নিজের চেয়েও অধিক প্রিয়।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উমর! এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)।" পরিচ্ছেদ: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের মজবুততম হাতল(সহীহ আবু দাউদে আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসলো, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করলো, আল্লাহর জন্য দান করলো এবং আল্লাহর জন্য প্রদান থেকে বিরত থাকলো, সে তার ঈমান পূর্ণ করলো।"(সহীহ আল-জামি'-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঈমানের মজবুততম হাতল হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব করা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা করা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং মহান আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা।" অনুচ্ছেদ: ভীতি প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা বলেন: (মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।) [আল-আনফাল: ২]এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই এটি শয়তান, যে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়; সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।) [আল-ইমরান: ১৭৫](সহীহ মুসলিমে সাব্যস্ত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, যার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রতিটি লাগামের সাথে সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে যারা তা টেনে আনবেন।(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত নু'মান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব হবে সেই ব্যক্তির, যার পায়ের তালুর নিচে একটি আগুনের কয়লা রাখা হবে এবং যার ফলে তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটতে থাকবে। সে মনে করবে যে, তার চেয়ে কঠিন আযাব আর কারো হচ্ছে না, অথচ সে-ই তাদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব ভোগ করছে।(সহীহাইন-এ সাব্যস্ত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস) তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি ভাষণ দিলেন যার মতো আর কখনো শুনিনি। তিনি বললেন: (আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি)। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং তাঁদের কান্নার শব্দ হতে থাকলো।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
(حديث المقداد بن الأسود رضي الله عنه الثابت في صحيح مسلم) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: تدنى الشمس يوم القيامة من الخلق حتى تكون منهم كمقدار ميل، فيكون الناس على قدر أعمالهم في العرق فمنهم من يكون إلى كعبيه ومنهم من يكون إلى ركبتيه ومنهم من يكون إلى حِقْوَيْه ومنهم من يلجمه العرق إلجاما.(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (يعرق الناس يوم القيامة حتى يذهب عرقهم في الأرض سبعين ذراعاً، ويلجمهم حتى يبلغ آذانهم).(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في صحيح مسلم) قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ سمع وجبة فقال النبي صلى الله عليه وسلم تدرون ما هذا؟ قال قلنا الله ورسوله أعلم، قال هذا حجر ُرِمىَ به في النار منذ سبعين خريفا فهو يهوى في النار الآن حتى انتهى إلى قعرها فسمعتم وَجْبَتَها.(حديث عدي بن حاتم رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (ما منكم من أحد إلا سيكلمه ربه ليس بينه وبينه ترجمان، فينظر أيمن منه فلا يرى إلا ما قدَّم من عمله، وينظر أشأم منه فلا يرى إلا ما قدَّم، وينظر بين يديه فلا يرى إلا النار تلقاء وجهه، فاتقوا النار ولو بشِقِّ تمرة).(حديث أبي هريرة رضي الله عنه الثابت في صحيح الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ خَافَ أَدْلَجَ وَمَنْ أَدْلَجَ بَلَغَ المَنْزِلَ أَلَا إِنّ سِلْعَةَ الله غَالِيَةٌ أَلَا إِنّ سِلْعَةَ الله الْجَنّةُ".(حديث جابر رضي الله عنه الثابت في صحيح الجامع) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: مررت ليلة أسري بي بالملأ الأعلى و جبريل كالحِلْسِ البَالِي من خشية الله تعالى.(حديث عائشة رضي الله عنها الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: تحشرون حفاة عراة غُرْلاً). قالت عائشة: فقلت: يا رسول الله، الرجال والنساء ينظر بعضهم إلى بعض؟ فقال: (الأمر أشد من أن يهمهم ذاك).(حديث ابن مسعود رضي الله عنه الثابت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الصادق المصدوق، قال: (إن أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوماً نطفة، ثم يكون علقةً مثل ذلك، ثم يكون مضغةَ مثل ذلك، ثم يُرسل الله المَلَك فينفُخُ فيه الروح ويُؤْمَرُ بأربعِ كلمات: بكتب رزقه وأجله وعملهِ وشقي أو سعيد، فوالله إن أحدكم
(সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন সূর্যকে সৃষ্টির এতো নিকটে আনা হবে যে, তা তাদের থেকে মাত্র এক মাইল দূরত্বে থাকবে। ফলে মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে থাকবে; তাদের মধ্যে কারো ঘাম হবে গোড়ালি পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, আর কাউকে ঘাম লাগামের মতো পরিবেষ্টন করে ফেলবে।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কিয়ামতের দিন মানুষের এতো ঘাম হবে যে, সেই ঘাম জমিনে সত্তর হাত পর্যন্ত নিচে চলে যাবে এবং তা তাদের লাগামের মতো বেষ্টন করবে, এমনকি তা তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে)।(সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, এমন সময় একটি বিকট পতনের শব্দ শোনা গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা কি জানো এটি কী?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "এটি একটি পাথর যা সত্তর বছর আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এটি এখন পর্যন্ত জাহান্নামের গভীরে পড়ছিল এবং এই মাত্র তার তলদেশে গিয়ে পৌঁছেছে, আর তোমরা সেই পতনের শব্দই শুনতে পেলে।"(সহীহাইন-এ বর্ণিত আদী ইবনে হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই তার রব কথা বলবেন, যেখানে তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না। তখন সে তার ডান দিকে তাকাবে কিন্তু তার প্রেরিত আমল ছাড়া আর কিছুই দেখবে না; সে তার বাম দিকে তাকাবে কিন্তু তার প্রেরিত আমল ছাড়া আর কিছুই দেখবে না; আর সে তার সামনের দিকে তাকাবে কিন্তু তার মুখের সামনে জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। অতএব, তোমরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো, যদিও তা একটি খেজুরের টুকরো সদকা করার বিনিময়ে হয়)।(সহীহ তিরমিযীতে বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ভয় পায় সে রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করে, আর যে ব্যক্তি আগেভাগে যাত্রা শুরু করে সে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান; জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য হলো জান্নাত।"(সহীহুল জামি'-তে বর্ণিত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মিরাজের রাতে আমি যখন উচ্চতর ফেরেশতামণ্ডলীর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন জিবরাঈলকে মহান আল্লাহর ভয়ে জীর্ণশীর্ণ পুরনো পশমী চাদরের মতো মনে হচ্ছিল।(সহীহাইন-এ বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-র হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদেরকে নগ্নপদ, উলঙ্গ ও খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষ ও মহিলারা কি একে অপরের দিকে তাকাবে? তিনি বললেন: (পরিস্থিতি এর চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে যে, তারা একে অপরের দিকে তাকানোর চিন্তা করবে)।(সহীহাইন-এ বর্ণিত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ: (তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত শুক্রাণু হিসেবে জমা থাকে, এরপর সমপরিমাণ সময় তা রক্তপিণ্ড হিসেবে থাকে, এরপর সমপরিমাণ সময় তা মাংসপিণ্ড হিসেবে থাকে। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তিনি তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন। আর তাকে চারটি বিষয় লিখে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিযিক, তার আয়ু, তার আমল এবং সে কি দুর্ভাগা হবে নাকি সৌভাগ্যবান। আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে কেউ একজন...)
(খণ্ড: ১)
আদ-দিয়াউল লামি মিন সহীহিল কুতুবিল সিত্তা ওয়া সহীহিল জামি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ليعمل بعمل أهل الجنة، حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع، فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها، وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار، حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع، فيسبق عليه الكتاب، فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها).(حديث شداد بن أوس رضي الله عنه الثابت في صحيح الجامع) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله تعالى: و عزتي و جلالي لا أجمع لعبدي أمنين و لا خوفين إن هو أمنني في الدنيا أخفته يوم أجمعُ عبادي و إن هو خافني في الدنيا أمنته يوم أجمعُ عبادي. فصلٌ: في الرجاءقال تعالى: (وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلّ شَيْءٍ) [الأعراف / 156]قال تعالى: (قُلْ يَعِبَادِيَ الّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىَ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رّحْمَةِ اللّهِ إِنّ اللّهَ يَغْفِرُ الذّنُوبَ جَمِيعاً إِنّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرّحِيمُ) [الزمر / 53](حديثُ عُبَادةَ ابن الصامت في الصحيحين) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: من شهدَ أن لا إله إلا الله وحده لا شَرِيكَ له وأن محمداً عبدُ الله ورسولُه وأن عيسى عبدُ اللهِ ورسولُه وكلمتُه ألقاها إلى مريمَ وروحٌ منه والجنةُ حقٌ والنارُ حقٌ أدخله الله الجنةَ على ما كان من العمل.(حديثُ أنس صحيح الترمذي) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يَقُولُ: "قالَ الله تبارك وتعالى: يا ابنَ آدَمَ إِنّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى ما كانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي. يا ابنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَت ذُنُوبُكَ عَنَانَ السّمَاءِ ثُمّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي. يا ابنَ آدَمَ إنّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأرْضِ خَطَايَا ثُمّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بي شَيْئاً لأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً".(حديثُ أنس في الصحيحين): أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعاذَ رَدِيفه على الرحل، قال يا معاذ: قال لبيك يا رسول الله وسعديك، قال:، يا معاذ، قال لبيك يا رسول الله وسعديك (ثلاثاً) قال: ما من أحدٍ يشهدُ أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله صدقاً من قلبه إلا حرَّمه الله على النار، قال يا رسول الله أفلا أخبرُ به الناسَ فيستبشرون؟ قال: إذاً يتكلوا. وأخبر بها معاذ ٌ عند موته تأثما ً.(حديثُ معاذ ابن جبل في الصحيحين) قال: كنتُ رَدِيفَ النبي صلى الله عليه وسلم على حمارٍ يُقَالُ له عُفَيْر، فقال لي يا معاذ: أتدري ما حقُ اللهِ على العبادِ وما حقُ العبادِ على الله؟ قلتُ الله ورسوله
...জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার এবং জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর তাকদির প্রবল হয়, ফলে সে জাহান্নামীদের আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার এবং জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর তাকদির প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতবাসীদের আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে।(সহীহুল জামে’তে প্রমাণিত শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস) যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ! আমি আমার কোনো বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা এবং দুটি ভয় একত্রে করি না। যদি সে দুনিয়াতে আমার থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করে, তবে যেদিন আমি আমার বান্দাদের একত্রিত করব, সেদিন তাকে আমি ভীত করব। আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে, তবে যেদিন আমি আমার বান্দাদের একত্রিত করব, সেদিন তাকে আমি নিরাপদ করব। পরিচ্ছেদ: আশা (রাজা) প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং আমার দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে) [আল-আরাফ / ১৫৬]আল্লাহ তাআলা বলেন: (বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু) [আয-যুমার / ৫৩](সহীহাইন-এ বর্ণিত উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারিয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রুহ, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যাই হোক না কেন।(সুনানুত তিরমিযীতে বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সহীহ হাদিস) যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: "হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে, তোমার থেকে যা-ই প্রকাশ পাক না কেন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আস এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।"(সহীহাইন-এ বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস): রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারির ওপর ছিলেন এবং মুআয তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, হে মুআয! মুআয বললেন, আমি উপস্থিত ইয়া রাসূলাল্লাহ এবং ধন্য। তিনি বললেন, হে মুআয! মুআয বললেন, আমি উপস্থিত ইয়া রাসূলাল্লাহ এবং ধন্য (তিনবার)। তিনি বললেন: যে কোনো ব্যক্তি অন্তর থেকে সত্যতার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। মুআয বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে? তিনি বললেন: তবে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। আর মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহের ভয়ে একাজটি করেছিলেন।(সহীহাইন-এ বর্ণিত মুআয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস) তিনি বলেন: আমি উফায়র নামক একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল...