(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث القدسية   (جمال محمد علي الشقيري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث القدسية

إعداد وتدقيق: جمال محمد علي الشقيري

الناشر: مكتبة دار الثقافة للنشر والتوزيع، عمان - الأردن

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1432

আল-আহাদিসুল কুদসিয়া   (জামাল মুহাম্মদ আলি আশ-শুকাইরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-আহাদিসুল কুদসিয়া

সম্পাদনা ও নিরীক্ষণ: জামাল মুহাম্মদ আলি আশ-শুকাইরি

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারুস সাকাফাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী, আম্মান - জর্ডান

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

আল-শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الأحاديث القدسية]ـ

إعداد وتدقيق: جمال محمد علي الشقيري

الناشر: مكتبة دار الثقافة للنشر والتوزيع، عمان - الأردن

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
—[আল-আহাদীস আল-কুদসিয়্যাহ]—

সম্পাদনা ও নিরীক্ষণ: জামাল মুহাম্মদ আলী আশ-শুকাইরি

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারুথ সাকাফাহ প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, আম্মান - জর্ডান

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌1 - (ما جاء في فضل ذكر الله تعالى وكلمة التوحيد)

حديث فضل الذكر من صحيح البخاري

 

من باب فضل الله تعالى ج - 8 ص 86 - 87 متن البخاري طبعة ميري.

1 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيد، حَدَّثَنَا جَريرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبي صَالِحٍ عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ؛ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «إنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً، يَطُوفُونَ في الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإذَا وَجَدُوا قَوْما يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوُا: هَلُمُّوا إلَى حَاجَتِكُمْ، قَالَ: فَيَحُفُّونَهُمْ بأَجْنِحَتِهِمْ إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، قَالَ:
‌১ - (আল্লাহ তাআলার যিকির এবং তাওহীদের কালিমার ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে)

সহীহ বুখারী হতে যিকিরের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীস

 

আল্লাহ তাআলার ফযীলত অধ্যায় হতে, খণ্ড - ৮, পৃষ্ঠা ৮৬ - ৮৭, বুখারীর মূল পাঠ, মীরি সংস্করণ।

১ - কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রয়েছেন, যারা পথে পথে পরিভ্রমণ করেন এবং যিকিরকারীদের তালাশ করেন। অতঃপর যখন তারা এমন একদল লোককে পান যারা আল্লাহর যিকির করছে, তখন তারা একে অপরকে ডেকে বলেন: তোমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে এসো। তিনি বলেন: অতঃপর ফেরেশতারা তাদেরকে দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত নিজেদের ডানা দিয়ে ঘিরে ফেলেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ - وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ -: مَا يَقُولُ عِبَادِي؟ قَالَ: يَقُولُونَ: يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ، وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ، فَيَقُولُ: هَلْ رَأَوْني؟ قَالَ: فَيَقُولُونَ: لَا، وَاللَّهِ مَا رأَوْكَ، قَالَ: فَيَقُولُ: وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْني؟ قَالَ: يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادةً، وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدا وَتَحْمِيدا، وَأَكْثَرَ تَسْبِيحا، قَالَ: فَيَقُولُ: فَمَا يَسْأَلُونَني؟ قَالَ: يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ، قَالَ: يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: يَقُولُونَ: لا، وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا، قَالَ: فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: يَقُولُونَ: لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصا، وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبا، وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً، قَالَ: فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ؟ قَالَ: يَقُولُونَ: مِنَ النَّارِ، قَالَ: يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: يَقُولُونَ: لَا، وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا، قَالَ: يَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارا، وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً، قَالَ: فَيَقُول أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، قَالَ: يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ: فِيهِمْ فُلَانٌ، لَيْسَ مِنْهُم، إنَّمَا جَاءَ لِحَاجَة، قَالَ: هُمُ الجُلَسَاءُ، لَا يَشْقَى بهِمْ جَلِيسُهُمْ».

অতঃপর তাদের রব তাদের জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত—: "আমার বান্দারা কী বলছে?" তিনি (ফেরেশতা) বলেন: তারা বলছে: তারা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, আপনার মহিমা বর্ণনা করছে, আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার গুণগান গাইছে। অতঃপর তিনি বলেন: "তারা কি আমাকে দেখেছে?" তিনি বলেন: তারা বলে: "না, আল্লাহর কসম, তারা আপনাকে দেখেনি।" তিনি বলেন: "যদি তারা আমাকে দেখত তবে কেমন হতো?" তিনি বলেন: তারা বলে: "যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আপনার ইবাদতে আরও বেশি একনিষ্ঠ হতো, আপনার আরও বেশি গুণগান ও প্রশংসা করত এবং আরও অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করত।" তিনি বলেন: "অতঃপর তারা আমার কাছে কী প্রার্থনা করছে?" তিনি বলেন: "তারা আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছে।" তিনি বলেন: "তারা কি তা দেখেছে?" তিনি বলেন: তারা বলে: "না, হে রব, আল্লাহর কসম, তারা তা দেখেনি।" তিনি বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?" তিনি বলেন: তারা বলে: "যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এর জন্য আরও বেশি লালায়িত হতো, তা পাওয়ার জন্য আরও বেশি ব্যাকুল হতো এবং এর প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বহুগুণ বেড়ে যেত।" তিনি বলেন: "তারা কী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে?" তিনি বলেন: "জাহান্নাম থেকে।" তিনি বলেন: "তারা কি তা দেখেছে?" তিনি বলেন: তারা বলে: "না, হে রব, আল্লাহর কসম, তারা তা দেখেনি।" তিনি বলেন: "যদি তারা তা দেখত তবে কেমন হতো?" তিনি বলেন: তারা বলে: "যদি তারা তা দেখত, তবে তারা তা থেকে আরও বেশি পলায়ন করত এবং তাকে আরও বেশি ভয় পেত।" অতঃপর তিনি বলেন: "আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।" তিনি বলেন: ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা বলেন: "তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি রয়েছে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে কেবল কোনো প্রয়োজনে এসেছিল।" তিনি বলেন: "তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সঙ্গীও দুর্ভাগা হয় না।"

(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
حديث فضل الذكر من صحيح مسلم من باب فضل مجالس الذكر - ج - 10 من هامش القسطلاني

 

2 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إنَّ لِلَّهِ تبارك وتعالى مَلَائِكَةً، سَيَّارَةً فُضْلاً، يَبْتَغُونَ مَجَالِسَ الذِّكْرِ، فَإذَا وَجَدُوا مَجْلِسا فِيهِ ذِكْرٌ، قَعَدُوا مَعَهُمْ، وَحَفَّ بَعْضُهُمْ بَعْضا بِأَجْنِحَتِهِمْ، حَتَّى يَمْلأُوا مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ السَّماءِ الدُّنْيَا، فَإذَا انْصَرَفُوا عَرَجُوا وَصَعِدُوا إلَى السَّمَاءِ، قَالَ: فَيَسْأَلُهُمْ اللَّهُ عز وجل وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ -: مِنْ أَيْنِ جِئْتُمْ؟ فَيَقُولُونَ: جِئْنَا مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ في الأَرْضِ، يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ، وَيُهِلِّلُونَكَ وَيَحْمِدُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ، قَالَ: وَمَا يَسْأَلُونِي؟ قَالُوا: يَسْأَلُونَكَ جَنَّتَكَ، قَالَ: وَهَلْ رَأَوْا جَنَّتِي؟ قَالُوا: لَا، أَيْ رَبِّ، قَالَ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا جَنتِي؟ قَالُوا: وَيَسْتَجِيرُونَكَ، قَالَ: وَمِمَّ يَسْتَجِيرُوني؟ قَالُوا: مِنْ نَارِكَ يَا رَبِّ، قَالَ: وَهَلْ رَأَوْا نَارِي؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا نَارِي؟ قَالُوا: وَيَسْتَغْفِرُونَكَ، قَالَ: فَيَقُولُ: قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، وَأَعْطَيْتُهُمْ مَا سَأَلُوا، وَأَجَرْتُهُمْ مِمَّا اسْتَجَارُوا، قَالَ: يَقُولُونَ: رَبِّ فِيهِمْ فُلَانٌ، عَبْدٌ خَطَّاءٌ، إنَّمَا مَرَّ فَجَلَس مَعَهُمْ، قَالَ: فَيَقُولُ: وَلَهُ غَفَرْتُ، هُمُ الْقَوْمُ، لَا يَشْقى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ».
সহীহ মুসলিম থেকে যিকিরের ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস, যিকিরের মজলিসের ফযীলত অধ্যায় - ১০ম খণ্ড, আল-কাসতাল্লানীর টীকা থেকে।

 

২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কিছু অতিরিক্ত পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, যারা যিকিরের মজলিসগুলো খুঁজে বেড়ান। যখন তারা এমন কোনো মজলিস পান যেখানে যিকির হচ্ছে, তখন তারা তাদের সাথে বসে পড়েন এবং একে অপরকে নিজেদের ডানা দিয়ে ঘিরে ফেলেন, এমনকি তারা তাদের এবং দুনিয়ার আসমানের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে ফেলেন। যখন তারা প্রস্থান করেন, তখন তারা উপরে আরোহণ করেন এবং আসমানের দিকে চলে যান। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের জিজ্ঞেস করেন—অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন—: তোমরা কোত্থেকে এলে? তারা বলেন: আমরা যমীনে আপনার এমন কিছু বান্দার কাছ থেকে এসেছি, যারা আপনার তাসবীহ পাঠ করছিল, তাকবীর পাঠ করছিল, তাহলীল পাঠ করছিল, আপনার প্রশংসা করছিল এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করছিল। তিনি বলেন: তারা আমার কাছে কী প্রার্থনা করছিল? তারা বলেন: তারা আপনার কাছে আপনার জান্নাত প্রার্থনা করছিল। তিনি বলেন: তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? তারা বলেন: না, হে রব! তিনি বলেন: তাহলে তারা যদি আমার জান্নাত দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: আর তারা আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছিল। তিনি বলেন: তারা কোন জিনিস থেকে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছিল? তারা বলেন: হে রব, আপনার জাহান্নাম থেকে। তিনি বলেন: তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে? তারা বলেন: না। তিনি বলেন: তাহলে তারা যদি আমার জাহান্নাম দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: এবং তারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিল। তিনি বলেন: তখন তিনি (আল্লাহ) বলেন: আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম, তারা যা চেয়েছে আমি তাদের তা দান করলাম এবং তারা যা থেকে আশ্রয় চেয়েছে আমি তাদের তা থেকে আশ্রয় দিলাম। তিনি বলেন: ফেরেশতারা বলেন: হে রব, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি ছিল, যে অত্যন্ত পাপিষ্ঠ এক বান্দা; সে কেবল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের সাথে বসে পড়েছিল। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ বলেন: আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম। তারা এমন এক দল, যাদের মজলিসে উপবেশনকারীও দুর্ভাগা হয় না।»
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
حديث فضل الذكر من صحيح الترمذيباب ما جاءَ (إن لله ملائكة سياحين في الأرض) ج - 2 ص 280

 

3 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رضي الله عنهما قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ في الأَرْضِ، فَضْلاً عَنْ كُتَّابِ النَّاسِ، فَإذَا وَجَدُوا أَقْوَاما يَذْكُرُونَ اللَّهَ، تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إلَى بُغْيَتِكُمْ، فَيَجِيئُونَ فَيَحُفُّونَ بِهِمْ إلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ اللَّهُ: عَلَى أَيِّ شَيْءٍ تَرَكْتُمْ عِبَادِي يَصْنَعُونَ؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ يَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ وَيَذْكُرُونَكَ. قَالَ: فَيَقُولُ: فَهَلْ رَأَوْني؟ فَيَقُولُونَ: لَا، قَالَ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْني؟ قَالَ: فَيَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْكَ لَكَانُوا أَشَدَّ لَكَ تَحْمِيدا، وَأَشَدَّ تَمْجِيدا، وَأَشَدَّ لَكَ ذِكْرا، قَالَ: فَيَقُولُ: وَأَيَّ شَيْءٍ يَطْلُبُونَ؟ قَالَ: فَيَقُولُونَ: يَطْلُبُونَ الْجَنَّةَ. قَالَ: فَيَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: فَيَقُولُونَ: لَا، قَالَ: فَيَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟ قَالَ: فَيَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ لَهَا طَلَبا، وَأَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصا، قَالَ: فَيَقُولُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَتَعَوَّذُونَ؟ قَالُوا: يَتَعَوَّذُونَ مِنَ النَّارِ، قَالَ: فَيَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ فَيَقُولُونَ: لَا، فَيَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟ فَيَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا هَرَبا، وأَشَدَّ مِنْهَا خَوْفا، وَأَشَدَّ مِنْهَا تَعَوُّذا، قَالَ: فَيَقُولُ: فَإنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، فَيَقُولُونَ: إنَّ فِيهِمْ فُلَانا الْخَطَّاءَ لَمْ يُرِدْهُمْ، إنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ، فَيَقُولُ: هُمُ الْقَوْمُ لَا يَشْقَى لَهُمْ جَلِيسٌ».

قال الترمذي: حديث حسن صحيح.
সহীহ তিরমিযী থেকে জিকিরের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস: (নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু বিচরণকারী ফেরেশতা রয়েছে যারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করেন) অধ্যায়। খণ্ড - ২, পৃষ্ঠা ২৮০।

 

৩ - আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ই বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বিচরণকারী ফেরেশতা রয়েছেন যারা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করেন, তারা মানুষের আমলনামা লেখকদের অতিরিক্ত। যখন তারা এমন এক সম্প্রদায়কে পান যারা আল্লাহর জিকির করছে, তখন তারা একে অপরকে ডেকে বলেন: তোমরা তোমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এসো। অতঃপর তারা আসেন এবং দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত তাদেরকে ঘিরে রাখেন। তখন আল্লাহ বলেন: তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী করা অবস্থায় রেখে এসেছ? তারা বলেন: আমরা তাদেরকে আপনার প্রশংসা করতে, আপনার মহিমা বর্ণনা করতে এবং আপনার জিকির করতে থাকা অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বলেন: আল্লাহ তখন বলেন: তারা কি আমাকে দেখেছে? তারা বলেন: না। তিনি বলেন: তবে তারা আমাকে দেখলে কেমন হতো? তারা বলেন: যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও বেশি আপনার প্রশংসা করত, আরও বেশি আপনার মহিমা বর্ণনা করত এবং আরও অধিক আপনার জিকির করত। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: তারা কী প্রার্থনা করছে? তারা বলেন: তারা জান্নাত প্রার্থনা করছে। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: তারা কি তা দেখেছে? তারা বলেন: না। তিনি বলেন: তবে তারা যদি তা দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: যদি তারা তা দেখত, তবে তারা তা লাভের জন্য আরও বেশি ব্যাকুল হতো এবং সেটির প্রতি আরও বেশি লালায়িত হতো। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: তারা কী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে? তারা বলেন: তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: তারা কি তা দেখেছে? তারা বলেন: না। তিনি বলেন: তবে তারা যদি তা দেখত তবে কেমন হতো? তারা বলেন: যদি তারা তা দেখত, তবে তারা তা থেকে আরও দ্রুত পলায়ন করত, তাকে আরও বেশি ভয় করত এবং তা থেকে আরও বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করত। তিনি বলেন: আল্লাহ তখন বলেন: আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। ফেরেশতারা বলেন: তাদের মধ্যে অমুক পাপিষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছে যে তাদের (জিকিরের) উদ্দেশ্যে আসেনি, বরং সে অন্য কোনো প্রয়োজনে এসেছিল। আল্লাহ বলেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের মজলিসে বসা ব্যক্তিও দুর্ভাগা হয় না।»

তিরমিযী বলেন: হাদিসটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
حديث (إذا قال العبد: لا إله إلا الله يقول الله: صدق عبدي).

أخرجه ابن ماجه في سننه - باب - (فضل لا إله إلا الله) ج - 2 ص 219.

4 - عَنِ أَبي إسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ أَبي مُسْلِمٍ، أَنَّهُ شَهِدَ عَلَى أَبي هُرَيْرَةَ وَأَبي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنهما أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ - قَالَ: «إذَا قَالَ الْعَبْدُ: لا إلهَ إلَاّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: صَدَقَ عَبْدِي، لَا إلهَ إلَاّ أَنَا، وَأَنَا اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا إلهَ إلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ، قَالَ: صَدَقَ عَبْدي، لَا إلهَ إلَاّ أَنَا وَحْدِي، وَإذَا قَالَ: لا إلهَ إلَاّ اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، قَالَ: صَدَقَ عَبْدِي، لَا إلهَ إلَاّ أَنَا وَلَا شَرِيكَ لِي، وَإذَا قَالَ: لَا إلهَ إلَاّ اللَّهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، قَالَ: صَدَقَ عَبْدِي، لَا إلهَ إلَاّ أَنَا، لِي الْمُلْكُ، وَلِيَ الْحَمْدُ، وَإذَا قَالَ: لَا إلهَ إلَاّ اللَّهُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَاّ بِاللَّهِ، قَالَ: صَدَقَ عَبْدِي، لَا إلهَ إلَاّ أَنَا، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَاّ بي».

قَالَ أَبُو إسْحَاقَ: ثُمَّ قَالَ الأَغَرُّ شَيْئا لَمْ أَفْهَمْهُ، قَالَ: فَقُلْتُ لأَبي جَعْفَر: مَا قَالَ؟ فقَالَ: (مَنْ رُزقَهُنَّ عِنْدَ مَوْتِهِ لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ).

(حديث فضل الحامدين)

 

أَخرجه النسائي في سننه، من باب - فضل الحامدين - ج - 2 ص 220.

5 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ
হাদিস (যখন বান্দা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে)।

এটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন - পরিচ্ছেদ - (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ফজিলত) খণ্ড - ২, পৃষ্ঠা ২১৯।

৪ - আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি আল-আগার আবু মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন বান্দা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান, তখন মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমিই মহান। আর যখন বান্দা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি একক। আর যখন বান্দা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার কোনো শরিক নেই। আর যখন সে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সকল রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সকল রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমারই। আর যখন সে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে) ফেরার বা (ইবাদতের) কোনো শক্তি নেই, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই»।

আবু ইসহাক বলেন: এরপর আল-আগার এমন কিছু বললেন যা আমি বুঝতে পারিনি। তিনি বলেন: তখন আমি আবু জাফরকে জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কী বলেছেন? তিনি বললেন: (মৃত্যুর সময় যার ভাগ্যে এই বাক্যগুলো জুটবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না)।

(প্রশংসাকারীদের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস)

 

এটি নাসায়ি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ - প্রশংসাকারীদের ফজিলত - খণ্ড - ২, পৃষ্ঠা ২২০।

৫ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
حَدَّثَهُمْ «أَنَّ عَبْدا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ قَالَ: يَا رَبِّ، لَكَ الْحَمْدُ، كَمَا يَنْبَغِي لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ، فَعَضَلَتْ بِالْمَلَكَيْن، فَلَمْ يَدْرِيَا كَيْفَ يَكْتُبَانِهَا، فَصَعِدَا إلَى السَّمَاءِ، وَقَالَا: يَا رَبَّنَا، إنَّ عَبْدَكَ قَالَ مَقَالَةً، لَا نَدْرِي كَيْفَ نَكْتُبُهَا؟ قَالَ اللَّهُ عز وجل وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا قَالَ عَبْدُهُ -: مَاذَا قَالَ عَبْدِي؟ قَالَا يَا رَبِّ، إنَّهُ قَالَ: يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلال وَجْهِكَ وَعَظِيمِ سُلْطَانِكَ، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل لَهُمَا: اكْتُبَاهَا كَمَا قَالَ عَبْدِي، حَتَّى يَلْقَاني فَأَجْزِيَهُ بِهِ».

তিনি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে জনৈক বান্দা বললেন: ‘হে আমার রব! আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার মহান কর্তৃত্বের উপযোগী সর্বপ্রকার প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য।’ এতে ফেরেশতাদ্বয় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন এবং এটি কীভাবে লিপিবদ্ধ করবেন তা বুঝতে পারলেন না। ফলে তাঁরা আসমানে আরোহণ করলেন এবং বললেন: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার এক বান্দা এমন এক কথা বলেছে যা আমরা কীভাবে লিপিবদ্ধ করব তা বুঝতে পারছি না।’ আল্লাহ—যিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত, আর তিনি তাঁর বান্দা যা বলেছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত—জিজ্ঞেস করলেন: ‘আমার বান্দা কী বলেছে?’ তাঁরা বললেন: ‘হে প্রতিপালক! সে বলেছে: হে আমার রব! আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার মহান কর্তৃত্বের উপযোগী প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য।’ তখন আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাঁদেরকে বললেন: ‘আমার বান্দা যেভাবে বলেছে তোমরা ঠিক সেভাবেই তা লিখে রাখো, যতক্ষণ না সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমি তাকে এর প্রতিদান প্রদান করি’।

(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
حديث كثرة قول النبي صلى الله عليه وسلم

(سبحان الله وبحمده، أستغفر الله، وأتوب إليه)

من صحيح مسلم - كتاب الصلاة - باب ما يقال في الركوع والسجود ج - 3 ص 128 هامش القسطلاني.

6 - حَدَّثَني مُحَمَّدُ بْنُ مُثَنَّى، حَدَّثَني عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوق، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنهما قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ: «سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إلَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَاكَ تُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِه، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، وَأَتُوبُ إلَيْهِ، فَقَالَ: خَبَّرَني رَبِّي عز وجل أَنِّي سَأَرَى عَلَامَةً في أُمَّتي، فَإذَا رَأَيْتُهَا أَكْثَرْتُ مِنْ قَوْلِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، وَأَتُوبُ إلَيْهِ، فقَدْ رَأَيْتُهَا، {إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ * وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجاً * فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابَا}.

وفي رواية لمسلم عنها زيادة: (اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিক হারে এই কথা বলার হাদিস: (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি)

সহীহ মুসলিম থেকে - সালাত অধ্যায় - রুকু ও সিজদায় যা বলা হয় অনুচ্ছেদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১২৮, কাসতাল্লানি টীকা।

৬ - মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল আলা আমাকে বর্ণনা করেছেন, দাউদ আমাদের নিকট আমেরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক হারে বলতেন: «সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি» (অর্থাৎ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই দিকে ফিরে আসছি)। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে অধিক মাত্রায় «সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি» বলতে দেখছি। তিনি বললেন: আমার রব আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। সুতরাং যখন আমি তা দেখব, তখন যেন অধিক হারে «সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি» বলি। আর আমি তা দেখে নিয়েছি, (তা হলো): {যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় * এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন * তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।}

মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে: (হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; তিনি এর মাধ্যমে কুরআনের নির্দেশের বাস্তবায়ন করছিলেন)।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
حديث (فيمن يموت وهو يشهد أن لا إله إلا الله)

أخرجه الترمذي في جامعه - باب (فيمن يموت وهو يشهد أَن لا إله إلا الله).

7 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن عمرِو بن الْعَاصِ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ اللَّهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلاً مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُوُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَنْشُرُ لَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلاًّ، كُلُّ سِجلٍّ مِثْلُ مَدِّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئا؟ أَظَلَمَكَ كَتَبَتي الْحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ: لَا، يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: أَفَلَكَ عُذْرٌ؟ فَيَقُولُ: لَا، يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: بَلَى، إنَّ لَكَ حَسَنَةً، فَإنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتُخْرَجُ بِطَاقَةٌ، فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إلهَ إلَاّ اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَيَقُولُ: احْضُرْ وَزْنَكَ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَاّتِ؟ فقَالَ: إنَّكَ لَا تُظْلَمُ، قَالَ: فَتُوضَعُ السِّجِلَاّتُ في كِفَّةٍ، وَالبِطَاقَةُ في كِفَّةٍ، فَطَاشَتِ السِّجِلَاّتُ، وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ، فَلَا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ أَحَدٌ».

(وقال أبو عيسى الترمذي: حديث حسن غريب).

8 - وأَخرج هذا الحديث ابن ماجه في سننه، عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أيضا - من باب (ما يرجى من رحمة الله يوم القيامة).

وألفاظه مثل ألفاظ الترمذي - إلا أنه زاد فيه:

(أَلَكَ عَنْ ذَلِكَ حَسَنَةٌ؟ فَيَهَابُ الرَّجُلُ، فَيَقُولُ: لَا، فَيَقُولُ: بَلَى، إنَّ لَكَ حَسَنَات، وَإنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ (الخ)).
হাদীস (যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে তার বিষয়ে)

তিরমিযী তার জামি'তে এটি বর্ণনা করেছেন - অধ্যায় (যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে)।

৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে পৃথক করবেন। অতঃপর তার জন্য নিরানব্বইটি দপ্তর (আমলনামা) উন্মুক্ত করবেন, যার প্রতিটি দপ্তর হবে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। তারপর আল্লাহ বলবেন: ‘তুমি কি এর মধ্য থেকে কিছু অস্বীকার কর? আমার রক্ষণাবেক্ষণকারী লেখকগণ কি তোমার ওপর জুলুম করেছে?’ সে বলবে: ‘না, হে আমার রব!’ আল্লাহ বলবেন: ‘তোমার কি কোনো ওজর আছে?’ সে বলবে: ‘না, হে আমার রব!’ আল্লাহ বলবেন: ‘হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমার একটি নেকি রয়েছে; আজ তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।’ অতঃপর একটি চিরকুট বের করা হবে, যাতে রয়েছে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।’ আল্লাহ বলবেন: ‘তোমার ওজনের (পাল্লার) কাছে উপস্থিত হও।’ সে বলবে: ‘হে আমার রব! এই দপ্তরগুলোর মোকাবিলায় এই চিরকুটের কী বা মূল্য?’ তিনি বলবেন: ‘নিশ্চয় তোমার ওপর জুলুম করা হবে না।’ তিনি বলেন: ‘অতঃপর এক পাল্লায় দপ্তরগুলো রাখা হবে এবং অন্য পাল্লায় চিরকুটটি রাখা হবে; ফলে দপ্তরগুলো হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং চিরকুটটি ভারী হয়ে যাবে। আল্লাহর নামের বিপরীতে কোনো কিছুই ভারী হতে পারে না’।”

(আবু ঈসা তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান গরীব)।

৮ - ইবনে মাজাহও তার সুনানে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন - অধ্যায় (কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত হতে যা আশা করা যায়)।

এর শব্দাবলি তিরমিযীর শব্দের ন্যায় - তবে তিনি এতে বৃদ্ধি করেছেন:

(“তোমার কি এর বিনিময়ে কোনো নেকি আছে? তখন লোকটি ভীত হয়ে পড়বে এবং বলবে: না। আল্লাহ বলবেন: হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমার কাছে আমাদের নিকট নেকি রয়েছে এবং আজ তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না (ইত্যাদি))।”
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حديث (أُشهدكم أَني قد غفرت لعبدي ما بين طرفي الصحيفة) أخرجه الإمام الترمذي في جامعه

 

(من أبواب الجنائز) ج - 1 ص 183. قال بسنده:

9 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِك رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ حَافِظَيْنِ رَفَعَا إلَى اللَّهِ مَا حَفِظَا مِنْ لَيْل أَوْ نَهَار، فَيَجدُ اللَّهُ في أَوَّلِ الصَّحِيفَةِ، وَفِي آخِرِ الصَّحِيفَةِ خَيْرا، إلَاّ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي مَا بَيْنَ طَرَفي الصَّحِيفَةِ».

(حديث في فضل ذكر الله، والخوف منه تعالى) أخرجه أبو عيسى الترمذي ج - 2 ص 98

 

10 - عَنْ أَنَس رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: «يَقُولُ اللَّهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْما، أَوْ خَافَني في مَقَامٍ».

قال أبو عيسى الترمذي: حديث حسن غريب.

(حديث في تفرغ القلب لعبادة الله والتوكل عليه)

 

أخرجه الترمذي في جامعه بسنده قال:

11 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عن النَّبِيِّ قَالَ: «إنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ، تَفَرَّغْ لِعِبَادَتي، أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى، وَأَسُدَّ فَقْرَكَ، وَإلَاّ تَفْعَلَ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً، وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ».

قال أبو عيسى الترمذي رحمه الله: حديث حسن غريب.
হাদিস (আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার বান্দার জন্য আমলনামার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ ক্ষমা করে দিয়েছি) ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে‘ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

(জানাজা অধ্যায়সমূহ থেকে) খণ্ড - ১, পৃষ্ঠা ১৮৩। তিনি স্বীয় সনদে বলেন:

৯ - আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো দুজন সংরক্ষণকারী ফেরেশতা নেই যারা দিন বা রাতে যা সংরক্ষণ করেছেন তা আল্লাহর নিকট উত্তোলন করেন, অতঃপর আল্লাহ আমলনামার শুরুতে এবং আমলনামার শেষে কল্যাণ দেখতে পান, তবে আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার বান্দার জন্য আমলনামার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ ক্ষমা করে দিয়েছি।»

(আল্লাহর জিকির এবং তাঁকে ভয় করার ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস) আবু ঈসা তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন, খণ্ড - ২, পৃষ্ঠা ৯৮

 

১০ - আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহ বলেন: তোমরা জাহান্নাম থেকে তাকে বের করে আনো যে আমাকে কোনো একদিন স্মরণ করেছে অথবা কোনো স্থানে আমাকে ভয় করেছে।»

আবু ঈসা তিরমিযী বলেন: হাদিসটি হাসান গারীব।

(আল্লাহর ইবাদতের জন্য অন্তরকে নিবিষ্ট করা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা সংক্রান্ত হাদিস)

 

তিরমিযী তাঁর জামে‘ গ্রন্থে স্বীয় সনদে এটি বর্ণনা করে বলেছেন:

১১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে নিবিষ্ট করো, আমি তোমার অন্তরকে সচ্ছলতায় পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য মোচন করে দেব। আর যদি তুমি তা না করো, তবে আমি তোমার হাত দুটিকে ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য মোচন করব না।»

আবু ঈসা তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদিসটি হাসান গারীব।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حديث قول الله تعالى: (انظروا إلى عبدي هذا/

 

يؤذن ويقيم الصلاة يخاف مني) أخرجه النسائي في سننه - باب (الأذان لمن يصلي وحده) ج - 2 ص 20

12 - عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِر رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ، في رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ، يُوَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: انْظُروا إلَى عَبْدِي هَذَا، يُوَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ، يَخَافُ مِنِّي، قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ».

حديث: (خلقت عبادي كلهم حنفاءَ) من صحيح الإمام مسلم

 

(باب الصفات التي يعرف بها في الدنيا أهل الجنة وأهل النار) - ج - 10 ص 314 وما بعدها

13 - حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ الْمَسْمَعِيُّ، وَابْنُ مُثَنًّى، قَالَا: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَام، حَدَّثَنِي أَبي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشَّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ خَمَّارٍ الْمُجَاشِعِيِّ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ في خُطْبَتِهِ: «أَلَا إنَّ رَبِّي أَمَرَني أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَني يَوْمي هَذَا: كُلُّ مَال نَحَلْتُهُ عَبْدا حَلَالٌ، وَإنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ، وَإنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِين، فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ، وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ،
মহান আল্লাহর বাণীর হাদীস: (আমার এই বান্দার প্রতি লক্ষ্য করো/

 

সে আযান দেয় এবং ইকামত দেয়, সে আমাকে ভয় করে) এটি ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন - পরিচ্ছেদ (একাকী সালাত আদায়কারীর আযান) খণ্ড - ২ পৃষ্ঠা ২০

১২ - উকবা বিন আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি: «তোমার রব পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত কোনো এক মেষপালকের কাজে আশ্চর্য হন, যে সালাতের জন্য আযান দেয় এবং সালাত আদায় করে। তখন মহান আল্লাহ বলেন: তোমরা আমার এই বান্দার প্রতি লক্ষ্য করো, সে আযান দেয় এবং ইকামত দেয়, সে আমাকে ভয় করে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছি।»

হাদীস: (আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি) সহীহ ইমাম মুসলিম থেকে

 

(দুনিয়াতে যে গুণাবলির মাধ্যমে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের চেনা যায় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ) - খণ্ড - ১০ পৃষ্ঠা ৩১৪ এবং পরবর্তী অংশ

১৩ - আবু গাসসান আল-মাসমাঈ এবং ইবনে মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: মুয়ায বিন হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর থেকে, তিনি ইয়াদ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ একদিন তাঁর ভাষণে বললেন: «জেনে রাখো, আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজ শিখিয়েছেন: আমি আমার কোনো বান্দাকে যে সম্পদ দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা এসেছে এবং তাদের দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুত করেছে, আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা তাদের ওপর হারাম করে দিয়েছে,
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانا، وَإنَّ اللَّهَ نَظَرَ إلَى أَهْلِ الأَرْضِ، فَمَقَتَهُمْ: عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ، إلَاّ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَقَالَ: إنَّمَا بَعَثْتُكَ لأَبْتَلِيكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ، وَأَنْزَلْتُ عَلَيْكَ كِتَابا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ، تَقْرَوُهُ نَائِما وَيَقْظَانَ، وَإنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَحْرِقَ قُرَيْشا، فَقُلْتُ: رَبِّ، إذا يَثْلُغُوا رَأْسِي، فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ: اسْتَخْرِجُهُمْ كَمَا اسْتَخْرَجُوكَ، وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ، وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقُ عَلَيْكَ، وَابْعَثْ جَيْشا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ، وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ، قَالَ: وَأَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ: ذُو سُلْطَان مُقْسِطٌ، مُتَصَدِّقٌ، مُوَفَّقٌ، وَرَجُلٌ رَحِيم، رَقِيقُ الْقَلْبِ لِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٍ، وَعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيَال - قَالَ: وَأَهْلُ النَّارِ خَمْسَةٌ: الضَّعَيفُ الَّذِي لَا زَبْرَ لَهُ، الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعا، لَا يَبْتَغُونَ أَهْلاً وَلَا مَالاً، والْخَائِنُ الَّذِي لَا يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإنْ دَقَّ إلَاّ خَانَهُ، وَرَجُلٌ لَا يُصْبِحُ وَلا يُمْسِي، إلَاّ وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ، وَذَكَرَ الْبُخْلَ - أَو الْكَذِبَ، وَالشَّنْطِيرُ الْفَحَّاشُ».

ولم يذكر أبو غسَّان في حديثه: (وَأَنْفِقْ فَسَيُنْفَقُ عَلَيْكَ).

14 - وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُثَنَّىً الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ بِهَذَا الإسْنَادِ، وَلَمْ يَذْكُر في حديثِهِ: (كُلُّ مَال نَحَلْتُهُ عَبْدا حَلَالٌ).

وأخرجه الإمام مسلم برواية أخرى قَالَ: حدثني عبد الرحمن، عن بشر العدوي، حدثنا يحيى بن سعيد، عن هشام صاحب الدستوائي،
আর আমি তাদের নির্দেশ দিয়েছি যে, তারা যেন আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি। আর আল্লাহ জমিনবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন—তাদের আরব ও অনারব সকলের প্রতি—আহলে কিতাবদের কিছু অবশিষ্ট লোক ছাড়া। আর তিনি বললেন: আমি আপনাকে কেবল আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং আপনার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা করার জন্যই প্রেরণ করেছি। আর আমি আপনার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারবে না, আপনি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় পাঠ করবেন। আর আল্লাহ আমাকে কুরাইশদের জ্বালিয়ে দেওয়ার (ধ্বংস করার) নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বললাম: হে আমার রব! তবে তো তারা আমার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে এবং একে রুটির মতো বানিয়ে ফেলবে। তিনি বললেন: আপনি তাদের বের করে দিন যেমন তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন, আমরা আপনাকে সাহায্য করব। আর আপনি ব্যয় করুন, অচিরেই আপনার ওপর ব্যয় করা হবে। আর আপনি একটি বাহিনী প্রেরণ করুন, আমরা তার পাঁচগুণ বাহিনী প্রেরণ করব। আর যারা আপনার আনুগত্য করে তাদের নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন যারা আপনার অবাধ্যতা করে। তিনি বললেন: জান্নাতি লোক তিন প্রকার: ন্যায়পরায়ণ শাসক যিনি দানশীল ও সুপথপ্রাপ্ত; আর দয়ালু ব্যক্তি যার অন্তর প্রতিটি আত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি কোমল; আর সেই পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি যে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও যাঞ্চা করে না এবং পরিবারের বোঝা বহন করে। তিনি বললেন: আর জাহান্নামী লোক পাঁচ প্রকার: সেই দুর্বল ব্যক্তি যার কোনো বিবেক-বুদ্ধি নেই, যারা তোমাদের মাঝে অনুসারী হিসেবে থাকে, তারা পরিবার বা সম্পদ কিছুই কামনা করে না; আর সেই খিয়ানতকারী যার লালসা কারো কাছে গোপন নয় যদিও তা অতি তুচ্ছ হয় তবুও সে তাতে খিয়ানত করে; আর সেই ব্যক্তি যে সকাল ও সন্ধ্যায় আপনার পরিবার ও সম্পদ নিয়ে প্রতারণা করার ধান্ধায় থাকে। তিনি কৃপণতা বা মিথ্যার কথা উল্লেখ করলেন—এবং অশ্লীল কটুভাষী দুশ্চরিত্র ব্যক্তি।

আর আবু গাসসান তার বর্ণিত হাদিসে ‘আর আপনি ব্যয় করুন, অচিরেই আপনার ওপর ব্যয় করা হবে’ কথাটি উল্লেখ করেননি।

১৪ - আর আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না আল-আনাযী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি আদি, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এই একই সনদে। তবে তিনি তার হাদিসে ‘আমি বান্দাকে যা কিছু দান করেছি তা হালাল’ কথাটি উল্লেখ করেননি।

আর ইমাম মুসলিম এটি অন্য একটি বর্ণনায় উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান, বিশর আল-আদাবী থেকে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, হিশাম দাস্তুওয়ায়ী থেকে,
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
حدثنا قتادة، عن مطرف، عن عياض بن خمار، أن رَسُولَ اللَّهِ خطب ذات يوم، - وساق الحديث.

15 - وَحَدَّثَنِي أَبُو عَمَّار حُسَيْنُ بْنُ حُرَيْث، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَن الْحُسَيْنِ، عَنْ مُطَرِّف. - حَدَّثَني قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشَّخِّيرِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ خَمَّار، أَخِي بَنِي مُجَاشِعٍ، قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ خَطِيبا، فقَالَ: إنَّ رَبِّي أَمَرَنِي - وساق الحديث، بمثل حديث هشام عن قتادة، وزاد فيه:
কাতাদাহ মুতাররিফ থেকে এবং তিনি ইয়াদ বিন হিমার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভাষণ প্রদান করলেন—অতঃপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

১৫ - এবং আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাদল ইবনে মুসা হুসাইন থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। কাতাদাহ মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে, তিনি বনু মুজাশী' গোত্রের ভাই ইয়াদ বিন হিমার থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খতীব হিসেবে আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি কাতাদাহ থেকে হিশামের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং তাতে বর্ধিত করলেন:
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
«وَأَنَّ اللَّهَ أَوْحَى إلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا، حَتَّى لَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَبْغِي أَحَدٌ عَلَى أَحَد» - وقال في حديثه:
«এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতি ওহি পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয় অবলম্বন করো, যাতে কেউ কারো ওপর অহংকার না করে এবং কেউ কারো ওপর সীমালঙ্ঘন না করে» - এবং তিনি তাঁর হাদিসে বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
«وَهُمْ فِيكُمْ تَبَعا لَا يَبْغُونَ أَهْلاً ولَا مَالاً» - فقلت: فيكون ذلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَاللَّهِ لَقَدْ أَدْرَكْتُهُمْ في الْجَاهِلِيَّةِ، وَإنَّ الرَّجُلَ لَيَرْعَى عَلَى الْحَيِّ، مَا بِهِ إلَاّ وَلِيدَتُهُمْ يَطَوُهَا».
«আর তারা তোমাদের মাঝে অনুসারী হিসেবে থাকবে, যারা কোনো পরিবার বা সম্পদ কামনা করবে না» - আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এমন কি ঘটবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমি জাহেলিয়াত যুগে তাদের পেয়েছি; তখন জনৈক ব্যক্তি কোনো গোত্রের পশু চরাত, আর বিনিময় হিসেবে তাদের দাসীটি ছাড়া তার আর কিছুই ছিল না যার সাথে সে সংগত হতো।»
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌2 - (ما جاء في تصحيح العقيدة) حديث: (يسبّ ابن آدم الدهر)

 

من البخاري في كتاب التفسير - (سورة الجاثية) ج - 6 ص 133.

16 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْريُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ عز وجل يُوْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، بيَدِي الأَمْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ والنَّهَارَ».

وأخرجه البخاري أيضا، في باب (لا تسبوا الدهر) ج - 8 ص 41 من كتاب الأدب.

17 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: «قالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ: يَسُبُّ بَنُو آدَمَ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، بِيَدِي اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ».

وأخرجه البخاري أيضا في كتاب التوحيد - باب قول الله تعالى: {يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُواْ كَلَامَ اللَّهِ} باللفظ المذكور هنا، منقولاً من كتاب التفسير.

وأخرج هذا الحديث مسلم وأبو داود في الأدب. والنسائي في التفسير. وفي رواية لمسلم بلفظ:
২ - (আকিদা সংশোধনের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে) হাদিস: (আদম সন্তান কালকে গালি দেয়)

 

বুখারি শরিফের তাফসির অধ্যায় থেকে - (সুরা আল-জাছিয়াহ) খণ্ড - ৬, পৃষ্ঠা ১৩৩।

১৬ - আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হুমায়দী, তিনি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়, সে কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই কাল; আমার হাতেই সকল বিষয়, আমিই রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।»

ইমাম বুখারি এটি আদব অধ্যায়ের (তোমরা কালকে গালি দিও না) অনুচ্ছেদেও উল্লেখ করেছেন, খণ্ড - ৮, পৃষ্ঠা ৪১।

১৭ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ বলেন: আদম সন্তান কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই কাল; আমার হাতেই রাত ও দিন।»

ইমাম বুখারি এটি তাওহিদ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন - মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়} অনুচ্ছেদে, তাফসির অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত এই শব্দেই।

এই হাদিসটি মুসলিম ও আবু দাউদ আদব অধ্যায়ে এবং নাসায়ি তাফসির অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় এই শব্দে এসেছে:
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
18 - «يُوْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَقُولُ: يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ، فَإنِّي أَنَا الدَّهْرُ، أُقَلِّبُ لَيْلَهُ وَنَهَارَهُ».

وبقية روايات مسلم كروايات البخاري هنا، فلا داعي لذكرها.
১৮ - «আদমসন্তান আমাকে কষ্ট দেয়; সে বলে: হায় কালের বিড়ম্বনা! অথচ আমিই কাল, আমিই এর রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।»

মুসলিমের অবশিষ্ট বর্ণনাগুলো এখানে বুখারীর বর্ণনাসমূহের অনুরূপ, তাই সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
حديث (كذَّبني ابن آدم، ولم يكن له ذلك)

 

أخرجه البخاري في كتاب التفسير - من سورة الإخلاص ج - 6 ص 160.

19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ قَالَ: «قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كَذَّبَني ابْنُ آدمَ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إيَّايَ، فَقَوْلُهُ: لَنْ يُعِيدَني كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إيَّايَ، فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدا وَأَنَا الأَحَدُ الصَّمَدُ، لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لي كُفُوا أَحَدٌ».

20 - وفي رواية عنه: «أَمَّا تَكْذِيبُهُ إيَّايَ، أَنْ يَقُولَ: إنِّي لَنْ أُعِيدَهُ كَمَا بَدَأْتُهُ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إيَّايَ، أَنْ يَقُولَ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدا، وأَنَا الصَّمَدُ، لَمْ أَلِدْ، وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لي كُفُوا أَحَدٌ».

وأخرجه النسائي في سننه - باب أرواح المؤمنين - ج - 4 ص 112 فقال بعد السند.

21 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - قَالَ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَم، وَلَمْ
হাদিস (আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথচ তার জন্য তা শোভনীয় ছিল না)

 

ইমাম বুখারী এটি কিতাবুত তাফসির - সূরা আল-ইখলাস পরিচ্ছেদ - খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৬০-এ উদ্ধৃত করেছেন।

১৯ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-যিনাদ আল-আরাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথচ তার জন্য তা শোভনীয় ছিল না; এবং সে আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ তার জন্য তা শোভনীয় ছিল না। আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই কথা বলা: ‘তিনি আমাকে পুনরায় জীবিত করবেন না যেভাবে তিনি আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন’, অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার জন্য পুনরায় সৃষ্টি করার চেয়ে অধিক সহজ নয়। আর আমাকে গালি দেওয়ার বিষয়টি হলো তার এই কথা বলা: ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’, অথচ আমিই একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।’»

২০ - এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: «আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই কথা বলা যে: ‘নিশ্চয়ই তিনি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেভাবে আমি তাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছি’। আর আমাকে গালি দেওয়ার বিষয়টি হলো তার এই কথা বলা: ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’, অথচ আমিই অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।’»

এবং ইমাম নাসাঈ এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে - মুমিনদের রূহের অধ্যায় - খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১২-তে উদ্ধৃত করেছেন এবং সনদের পর বলেছেন:

২১ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, এবং...»
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُكَذِّبَنِي، وشَتَمَنِي ابْنُ آدَمَ، وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتُمَنِي، أَمَّا تَكْذِيبُهُ إيَّايَ فَقَوْلُهُ: إنِّي لا أُعِيدُهُ كَما بَدَأْتُهُ، وَلَيْسَ آخِرُ الْخَلْقِ بِأَعَزَّ عَلَيَّ مِنْ أَوَّلِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إيَايَ فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدا، وَأَنَا اللَّهُ الأَحَدُ الصَّمَدُ - لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لي كُفُوا أَحَدٌ».

আদম সন্তানের জন্য আমাকে অস্বীকার করা সমীচীন ছিল না, এবং সে আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ তার জন্য তা সংগত ছিল না। তার আমাকে অস্বীকার করা হলো তার এই উক্তি: ‘আমি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করব না যেভাবে তাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম।’ অথচ সৃষ্টির পুনরাবৃত্তি করা আমার নিকট প্রথমবার সৃষ্টির চেয়ে অধিক কঠিন নয়। আর তার আমাকে গালি দেওয়া হলো তার এই উক্তি: ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ অথচ আমিই আল্লাহ, এক, অমুখাপেক্ষী—আমি কাউকে জন্ম দেইনি এবং আমাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নেই।

(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
حديث (أصبح من عبادي مؤمن بي وكافر)

 

أخرجه البخاري - من أبواب الاستسقاء - باب - قول الله تعالى: {وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ}.

22 - حَدَّثَنَا إسمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَني مَالِكٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ، عَلَى إثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ
হাদিস (আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং কেউ অবিশ্বাসী হয়ে ভোরে উপনীত হয়েছে)

 

ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন - বৃষ্টির প্রার্থনা অধ্যায়সমূহ থেকে - পরিচ্ছেদ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের রিজিকের শুকরিয়ার পরিবর্তে একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ}।

২২ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন সালেহ ইবনে কাইসান থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়াতে রাতের বেলা হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পর আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
النَّبيُّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ لَهُمْ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَال: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُوْمِنٌ بي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُوْمِنٌ بِي، كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي، مُوْمِنٌ بِالْكَوَاكِبِ».

وأخرج البخاري - رحمه الله تعالى - هذا الحديث في كتاب التوحيد - باب {يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُواْ كَلَامَ اللَّهِ} ج - 9 ص 145 (بسنده).

23 - عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: مُطِرَ النَّبِيُّ فقَالَ: «قَالَ اللَّهُ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي كَافِرٌ بي، وَمُوْمِنٌ بي».

24 - وأخرجه الإمام مالك - رحمه الله تعالى - في الموطأ، عن زيد بن خالد الجهني أيضا بلفظ كلفظ البخاري المذكور هنا أولاً، من باب الاستسقاء. ج - 1 من الموطأ هامش المصابيح ص 91.

وأخرجه النسائي في سننه - باب كراهية الاستمطار بالكواكب بروايتين: إحداهما عن أبي هريرة، والثانية عن زيد بن خالد الجهني، ورواية أبي هريرة مختصرة عن رواية زيد بن خالد وهي هذه:
নবী মানুষের অভিমুখী হয়ে তাদের বললেন: «তোমরা কি জানো তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মুমিন এবং কেউ কাফির অবস্থায় সকালে উপনীত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলেছে: আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি মুমিন এবং নক্ষত্রের প্রতি কাফির। আর যে ব্যক্তি বলেছে: অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার প্রতি কাফির এবং নক্ষত্রের প্রতি মুমিন।»

এবং ইমাম বুখারী -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এই হাদীসটি কিতাবুত তাওহীদ - অনুচ্ছেদ {তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায়} খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৪৫-এ (নিজ সনদে) বর্ণনা করেছেন।

২৩ - যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবীর সময়ে বৃষ্টি হলো, অতঃপর তিনি বললেন: «আল্লাহ বলেছেন: আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি কাফির হয়ে এবং কেউ মুমিন হয়ে সকালে উপনীত হয়েছে।»

২৪ - এবং ইমাম মালিক -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এটি মুওয়াত্তায় যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি থেকেও বর্ণনা করেছেন যা এখানে প্রথমে উল্লিখিত বুখারীর শব্দের অনুরূপ, বৃষ্টি প্রার্থনা অধ্যায় থেকে। মুওয়াত্তার ১ম খণ্ড, মাসাবীহ-এর টীকা, পৃষ্ঠা ৯১।

এবং নাসাঈ তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন - নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করার অপছন্দনীয়তা অনুচ্ছেদে দুটি বর্ণনায়: একটি আবু হুরায়রা থেকে এবং দ্বিতীয়টি যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি থেকে। আবু হুরায়রার বর্ণনাটি যায়িদ ইবনে খালিদের বর্ণনার চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং তা হলো এই:
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
25 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: مَا أَنْعَمْتُ عَلَى عِبَادِي مِنْ نِعْمَةٍ، إلَاّ أَصْبَحَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ بِهَا كَافِرِينَ، يَقُولُونَ: الْكَوْكَبُ، وَبِالْكَوْكَبِ».

وأما رواية زيد بن خالد الجهني. فهي باللفظ الآتي:

26 - عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: مُطِرَ النَّبيُّ فقَالَ: «أَلَمْ تَسْمَعُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمُ اللَّيْلَةَ؟ قَالَ: مَا أَنْعَمْتُ عَلَى عِبَادِي مِنْ نِعْمَةٍ، إلَاّ أَصْبَحَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بِهَا
২৫ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আমি আমার বান্দাদের ওপর যে নেয়ামতই বর্ষণ করি না কেন, তাদের মধ্য হতে একটি দল পরদিন সকালেই তার কারণে অস্বীকারকারী (কাফির) হয়ে যায়। তারা বলে: অমুক নক্ষত্র এবং অমুক নক্ষত্রের কারণে (বৃষ্টি হয়েছে)।"

আর যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি-র বর্ণনাটি নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

২৬ - যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে বৃষ্টি হলো, অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি শোনোনি তোমাদের রব আজ রাতে কী বলেছেন? তিনি বলেছেন: আমি আমার বান্দাদের ওপর যে নেয়ামতই বর্ষণ করি না কেন, তাদের একটি দল পরদিন সকালেই তার কারণে...
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
كَافِرِينَ، يَقُولُونَ: مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا، وَكَذَا، فَأَمَّا مَنْ آمَنَ بِي، وَحَمِدَنِي عَلَى سُقْيَايَ، فَذَاكَ الَّذِي آمَنَ بِي، وَكَفَرَ بِالْكَوْكَبِ،
অবিশ্বাসীরা; তারা বলে: ‘অমুক এবং অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে’। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমার বৃষ্টিদানের জন্য আমার প্রশংসা করেছে, সে-ই আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং নক্ষত্রকে অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
وَمَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا، وَكَذَا، فَذَاكَ الَّذِي كَفَرَ بِي، وَآمَنَ بِالْكَوْكَبِ».

حديث (ومن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي) أخرجه البخاري في كتاب التوحيد

 

(باب) قول الله: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} ج - 9 ص 162

27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ اْلعَلَاءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْل، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبي زُرْعَةَ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قال اللَّهُ عز وجل: وَمَنْ أظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي؟ فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً، أَوْ لِيَخْلُقوا حَبَّةً، أَوْ شَعِيرَةً».
আর যে ব্যক্তি বলল: 'অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে', সে মূলত আমার সাথে কুফরি করল এবং নক্ষত্রের ওপর ঈমান আনল।"

হাদিস (আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে উদ্যত হয়) এটি বুখারি 'কিতাবুত তাওহিদ'-এ বর্ণনা করেছেন।

 

(পরিচ্ছেদ) আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা আমল করো তা সৃষ্টি করেছেন} খণ্ড - ৯ পৃষ্ঠা ১৬২

২৭ - মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু ফুযাইল আমাদের নিকট উমারা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু যুরআ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আমার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করতে যায়? তারা পারলে একটি অণু সৃষ্টি করুক, অথবা তারা একটি শস্যদানা কিংবা একটি যব সৃষ্টি করুক।»
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
وأخرجه البخاري أيضا في كتاب اللباس - باب - (نقْضِ الصور) فقَالَ:

28 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ دَارا بِالْمَدِينَةِ، فَرَأَى في أَعْلَاهَا مُصَوِّرا يُصَوِّرُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقولُ: (أي قال الله تعالى): «وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي؟ فَلْيَخْلُقُوا حَبَّةً، وَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً».

ثُمَّ دَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ حَتَّى بَلَغَ إبِطَهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، شَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ؟ قَالَ: «مُنْتَهَى الْحِلْيَةِ».

29 - وأخرجه مسلم في صحيحه بلفظ: (دَخَلْتُ مَعَ أَبي هُرَيْرَةَ في دَارِ مَرْوَانَ فَرَأَى فِيهَا تَصَاوِيرَ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل وَمَن أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقا كَخَلْقِي؟ فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً، أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً».
এবং ইমাম বুখারী এটি ‘পোশাক’ অধ্যায়ের — (ছবি ধ্বংসকরণ) অনুচ্ছেদেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

২৮ - মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রার সাথে মদীনার একটি বাড়িতে প্রবেশ করলাম। সেখানে তিনি তার উপরিভাগে একজন চিত্রকরকে ছবি আঁকতে দেখলেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি (অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা বলেছেন): «ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে যায়? তারা পারলে একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক, অথবা তারা পারলে একটি অণু সৃষ্টি করুক।»

তারপর তিনি এক পাত্র পানি চাইলেন এবং বগল পর্যন্ত তাঁর দুই হাত ধুইলেন। আমি বললাম: হে আবু হুরায়রা, আপনি কি এটি আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: «অলংকারের শেষ সীমা পর্যন্ত।»

২৯ - এবং ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: (আমি আবু হুরায়রার সাথে মারওয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করলাম, সেখানে তিনি অনেক ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «মহান আল্লাহ বলেছেন: ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে যায়? তারা পারলে একটি অণু সৃষ্টি করুক, অথবা তারা পারলে একটি যব সৃষ্টি করুক।»)
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
حديث: (إنَّ أُمتك لا يزالون يقولون: ما كذا، ما كذا؟ حتى يقولوا: هذا الله … الخ).

أخرجه الإمام مسلم - رحمه الله تعالى - في كتاب الإيمان - بابُ (الوسوسة في الإيمان).

30 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِك رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ قَالَ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: إنَّ أُمَّتَكَ لَا يَزَالُونَ يَقُولُونَ: مَا كَذَا؟ مَا كَذَا؟ حَتَّى يَقُولُوا: هَذَا اللَّهُ، خَلَقَ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟».

31 - وَحَدَّثَنَا إسْحَاقُ بْنُ إبْرَاهِيمَ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ (ح) وَحَدَّثَنا أَبُو بَكْرِ بنُ أَبي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَليٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، كِلَاهُمَا عَنِ الْمُخْتَارِ، عَنْ أَنَس رضي الله عنه عَنِ النَّبيِّ بِهذَا الْحَدِيثِ.

غير أن إسحاق لم يذكر قالَ: «قالَ اللَّهُ عز وجل: إنَّ أُمَّتَكَ».

وكذلك أخرجه مسلم بروايات كثيرة، ليس في واحدة منها - (قال الله تعالى): فمنها ما رواه بسنده إلى أبي هريرة:

32 - عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ، حَتَّى يُقَالَ: هَذَا - خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئا فَلْيَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ».
হাদিস: (নিশ্চয়ই আপনার উম্মত ক্রমাগত জিজ্ঞাসা করতে থাকবে: এটা কী, ওটা কী? যতক্ষণ না তারা বলবে: এই তো আল্লাহ … ইত্যাদি)।

ইমাম মুসলিম -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- এটি ইমান অধ্যায়ে - (ইমানের ক্ষেত্রে কুমন্ত্রণা) পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

৩০ - আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে জুরারা আল-হাদরামি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুখতার ইবনে ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মত ক্রমাগত বলতে থাকবে: এটা কী? ওটা কী? যতক্ষণ না তারা বলবে: এই তো আল্লাহ, তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? »।

৩১ - এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জারির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ) এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবনে আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যায়িদা থেকে, তারা উভয়ই মুখতার থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

তবে ইসহাক উল্লেখ করেননি যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মত...»।

অনুরূপভাবে মুসলিম এটি অনেক বর্ণনায় সংকলন করেছেন, যার একটিতেও (আল্লাহ তাআলা বলেছেন) কথাটি নেই: তন্মধ্যে একটি তিনি তাঁর সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন:

৩২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মানুষ ক্রমাগত একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতে থাকবে, যতক্ষণ না বলা হবে: এই তো - আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? সুতরাং যে ব্যক্তি এর মধ্য থেকে কিছু অনুভব করবে, সে যেন বলে: আমি আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি।»
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
33 - ومنها: عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ، فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا، وَكَذَا، حَتَّى يَقُولَ لَهُ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإذَا بَلَغَ ذَلِكَ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ، وَلْيَنْتَهِ».

وكذا أخرجه مسلم بروايات عن أبي هريرة مثل الرواية الأُولى، وكلها ليس فيها: (قال الله … الخ).
৩৩ - এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারো নিকট আসে, অতঃপর সে বলে: এটি কে সৃষ্টি করেছে? ওটি কে সৃষ্টি করেছে? এমনকি পরিশেষে সে তাকে জিজ্ঞাসা করে: তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তা থেকে বিরত থাকে।"

অনুরূপভাবে ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) হতে প্রথম বর্ণনার ন্যায় আরও কিছু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যেগুলোর কোনোটিতেই: (আল্লাহ বলেছেন … ইত্যাদি) কথাটি নেই।
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
حديث: إن الله تعالى قال: من ذا الذي يتأَلى عليَّ، أَن لا أَغفر لفلان).

أخرجه الإمام مسلم في صحيحه، - باب النهي عن تقنيط الإنسان من رحمة الله تعالى).

34 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيد، عَنْ مُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ جُنْدُب رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ
হাদিস: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলেছেন: কে সেই ব্যক্তি যে আমার নামে শপথ করে বলছে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না?)

এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, - মানুষকে মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত অধ্যায়।)

৩৪ - সুওয়াইদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবন সুলায়মান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আবু ইমরান আল-জাওনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জানদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল...
(খণ্ড: ١) আল-আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥١)
اللَّهِ حَدَّثَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ: «وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلَان، وَإنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لَا أَغْفِرَ لِفُلَان، فَإنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ، أَوْ كَمَا قَالَ» وأخرج نظير هذا الحديث أبو داود في سننه. (باب في النهي عن البغي) ج - 4 ص 215 بلفظ أطول، ومعه قصة، وهاهو ذا بسنده، قَالَ:

35 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَنْبَأَنَا عَليُّ بْنُ ثَابِت، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّار، قَالَ: حَدَّثَني ضَمْضَمُ بْنُ جَوْس، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «كَانَ رَجُلَانِ في بَنِي إسْرَائِيلَ مُتَوَاخِيَيْنِ، فَكَانَ أَحَدُهُمَا يُذْنِبُ، والآخَرُ مُجْتَهِدٌ في الْعِبَادَةِ، فَكَانَ لَا يَزَالُ الْمُجْتَهِدُ يَرَى الآخَرَ عَلَى الذَّنْبِ، فَيَقُولُ لَهُ: أَقْصِرْ، فَقَالَ: خَلِّني وَرَبِّي،
আল্লাহর রাসূল বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বলল: «আল্লাহর কসম, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আর আল্লাহ তাআলা বললেন: কে সেই ব্যক্তি যে আমার ওপর শপথ করে বলে যে আমি অমুককে ক্ষমা করব না? নিশ্চয়ই আমি অমুককে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নিষ্ফল করে দিয়েছি, অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন»। ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন (অন্যায় সীমালঙ্ঘন নিষেধ সংক্রান্ত অধ্যায়), ৪র্থ খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা, আরও দীর্ঘ শব্দে এবং একটি ঘটনার সাথে; আর এটিই হলো তার সনদসহ বর্ণনা, তিনি বলেন:

৩৫ - মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ ইবনু সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনু সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইকরিমাহ ইবনু আম্মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দামদাম ইবনু জাওস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: «বনী ইসরাঈলে দুই ব্যক্তি ছিল যারা পরস্পর ভাই ছিল। তাদের একজন পাপে লিপ্ত থাকত এবং অন্যজন ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী ছিল। সেই ইবাদতকারী ব্যক্তি সর্বদা অপরজনকে পাপে লিপ্ত থাকতে দেখত এবং তাকে বলত: বিরত হও। তখন সে বলল: আমাকে আমার রবের সাথে ছেড়ে দাও,