(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
شرح الموقظة للذهبي   (أبو المنذر المنياوي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح الموقظة للذهبي

الجزء الأول (الحديث الصحيح)

المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي

الناشر: المكتبة الشاملة، مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 155

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1432

শরাহ আল-মুওয়াক্কিযাহ লিয-যাহাবি   (আবু আল-মুনযির আল-মিনয়াওয়ি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: শরাহ আল-মুওয়াক্কিযাহ লিয-যাহাবি

প্রথম খণ্ড (সহিহ (صحيح) হাদিস)

লেখক: আবু আল-মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তাফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনয়াওয়ি

প্রকাশক: আল-মাকতাবা আল-শামেলা, মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির (কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح الموقظة

في علم مصطلح الحديث

للحافظ المحدث المؤرِّخ شمس الدين محمد بن أحمد الذهبي

(673 هـ - 748 هـ)

رحمه الله تعالى

الجزء الأول

الحديث الصحيح

تأليف الفقير إلى عفو ربه الغني: أبي المنذر: محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي

عفا الله عنه

الطبعة الأولى

1432هـ - 2011م

المكتبة الشاملة
আল-মুওয়াক্কিযাহর ব্যাখ্যা

হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিদ্যায়

হাফেজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث) ও ঐতিহাসিক শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আয-যাহাবীর বিরচিত

(৬৭৩ হি. - ৭৪৮ হি.)

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

প্রথম খণ্ড

সহিহ (صحيح) হাদিস

রচনায় স্বীয় অমুখাপেক্ষী প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী: আবুল মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনিয়াউই

আল্লাহ তাঁকে মার্জনা করুন

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হি. - ২০১১ খ্রি.

আল-মাকতাবাতুশ শামিলা
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1432 هـ - 2011 م

رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 4/ 2011
স্বত্বাধিকার লেখকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ

আল-মাকতাবা আল-শামেলা-তে জমার নম্বর ৪/২০১১
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

شرح الموقظة

 

‌‌المقدمة: …

ـ[[بسم الله الرحمن الرحيم، والصلاة والسلام على محمد وآله وصحبه. رب زدني علماً، ووفق يا كريم. قال الشيخُ الإمامُ العالمُ العلَاّمة، الرُّحْلةُ المحقَّق، بحر الفوائد، ومَعْدِنُ الفرائد، عُمدةُ الحُفَّاظِ والمحدثين، وعُدَّةُ الأئمةِ المحقَّقين، وآخِرُ المجتهدين، شمسُ الدين محمدُ بن أحمد بنُ عُثمان الذهبيُّ الدمشقي رحمه الله ونفعنا بعلومه وجميع المسلمين].]ـ

 

‌‌فيها مسائل:

‌‌الأولي: هذه مقدمة للكتاب رقمها: البقاعي، حيث جاء في آخر الرسالة: تَمَّتْ المقدِّمةُ: الموقظة، علَّقها لنفسه الفقير إبراهيم بن عمر بن حَسَنِ الرَّباطِ الرَّوْحائيُّ، وهو الشهير بالبقاعي أحد تلاميذ الحافظ ابن حجر وملازميه في السفر والحضر (1). وهذه المقدمة ملفقة من نسختين خطيتين للكتاب كما ذكر أبو غدة.

‌‌الثانية: في بيان بعض المعاني الواردة فيها، فقوله: (الرُّحْلةُ) بالضم الشيء الذي يرتحل إليه، والمقصود بيان سعة علم الإمام الذهبي، وأنه أهل لأن يُرتحل إليه.

وقوله: (مَعْدِنُ الفرائد) المعدن: بمعنى الثبوت والاستقرار، قال الخليل بن أحمد في العين: [قال تعالى: {جَنَّاتُ عَدْنٍ} أي: استقرار وثبات وعدن بمكان كذا: استقر ومنه المعدن: لمستقر الجواهر]، ومقصوده بقوله: (معدن الفرائد) أن الذهبي استقر عنده من العلم ما ليس عند غيره، وهذا تأكداً لوصفه بأنه رُّحْلةُ.

وقوله: (عُمدةُ الحُفَّاظِ والمحدثين، وعُدَّةُ الأئمةِ المحقَّقين) انتقد الشيخ سليم الهلالي هذه العبارة وقال إن فيها مبالغة ومجازفة، وعلل ذلك بقوله: فإن

--------------------------------------------

(1) - انظر ترجمته في: الأنس الجليل 2: 496، والدرر الكامنة 1: 50، وطبقات الشافعية 6: 82، والضوء اللامع 1: 100، والبدر الطالع 1: 19، وشذرات الذهب 7: 339، والأعلام للزركلي 1/ 56. وانظر أيضاً مقدمة أبي غدة للموقظة ص/11.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শারহু আল-মুওয়াকিজাহ

 

‌‌ভূমিকা: …

ـ[[পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সঙ্গীদের ওপর। হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন এবং হে দয়াময়! আমাকে তাওফিক দান করুন। শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আল্লামা, পর্যটনস্থল ও মুহাক্কিক (الرُّحْلةُ المحقَّق), ফাওয়ায়েদ-এর সমুদ্র, দুর্লভ বিষয়ের আধার (مَعْدِنُ الفرائد), হাফেজ (حُفَّاظِ) ও মুহাদ্দিসদের (محدثين) প্রধান অবলম্বন, মুহাক্কিক (محقَّقين) ইমামগণের পাথেয় এবং সর্বশেষ মুজতাহিদ (مجتهدين), শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-জাহাবি আদ-দিমাশকি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে আমাদের ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন—তিনি বলেছেন:]।]ـ

 

‌‌এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

‌‌প্রথমত: এটি গ্রন্থের একটি ভূমিকা যা আল-বিকায়ি চিহ্নিত করেছেন। পাণ্ডুলিপির শেষে যেমনটি এসেছে: 'ভূমিকা: আল-মুওয়াকিজাহ সমাপ্ত হলো'। এটি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন ফকীর ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আর-রাবাত আর-রওহায়ি, যিনি হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজার এর অন্যতম ছাত্র এবং সফরে ও আবস্থানে তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত আল-বিকায়ি নামে খ্যাত (১)। আবু গুদ্দাহ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এই ভূমিকাটি গ্রন্থের দুটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে সংকলিত হয়েছে।

‌‌দ্বিতীয়ত: এতে উল্লিখিত কিছু অর্থের বর্ণনায়; তাঁর বক্তব্য: '(আর-রুহলাহ - الرُّحْلةُ)' পেশ (দম্মাহ) যোগে, এর অর্থ এমন বিষয় বা সত্তা যার দিকে সফর করা হয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো ইমাম জাহাবির ইলমের ব্যাপকতা বর্ণনা করা এবং এটি বোঝানো যে, তিনি ইলম অর্জনের জন্য সফর করে যাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি।

এবং তাঁর বক্তব্য: '(মা'দানুল ফরায়েদ - مَعْدِنُ الفرائد)'। মা'দান (খনি) অর্থ হলো স্থায়িত্ব ও স্থিরতা। খলিল বিন আহমদ আল-আইন গ্রন্থে বলেছেন: [আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {জান্নাতু আদন}, অর্থাৎ: স্থায়িত্ব ও স্থিরতা। কোনো স্থানে 'আদানা' করার অর্থ হলো সে সেখানে স্থায়ী হয়েছে। আর এখান থেকেই 'মা'দান' (খনি) শব্দটি এসেছে, যা রত্নপাথরের আধার]। 'মা'দানুল ফরায়েদ' (দুর্লভ বিষয়ের আধার) দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, জাহাবির কাছে এমন ইলম স্থায়ীভাবে সঞ্চিত রয়েছে যা অন্যের কাছে নেই। আর এটি তাঁকে 'আর-রুহলাহ' হিসেবে বিশেষিত করার একটি জোরালো সমর্থন।

এবং তাঁর বক্তব্য: '(হাফেজ (حُفَّاظِ) ও মুহাদ্দিসদের (محدثين) প্রধান অবলম্বন এবং মুহাক্কিক (محقَّقين) ইমামগণের পাথেয়)'। শায়খ সালিম আল-হিলালি এই বাক্যটির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে এতে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি রয়েছে। তিনি এর কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেছেন: কেননা

--------------------------------------------

(১) - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-উনসুল জলিল ২: ৪৯৬, আদ-দুরারুল কামিনাহ ১: ৫০, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৬: ৮২, আদ-দউউল লামি' ১: ১০০, আল-বাদরুত তালি' ১: ১৯, শাজারাতুয যাহাব ৭: ৩৩৯, আল-আ'লাম লির জিরিকলি ১/ ৫৬। আরও দেখুন আল-মুওয়াকিজাহ গ্রন্থে আবু গুদ্দাহর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
عمدة العبد التوكل على ربه؛ لقوله تعالى: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} وَعُدَّة المرء التقوى؛ لقوله تعالى: {وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى}. وفي هذا التعقب والتعليل نظر؛ فالذهبي أهل لما ذكر فإنه من الأئمة المشهود لهم بالعلم، قال عنه (1) تلميذه الصفدي: «حافظ لا يجارى ولافظ لا يُبارى، أتقن الحديث ورجاله، ونظر عللهُ وأحواله، وعرف تراجم الناس، وأزال الإبهام في تواريخهم، لم أجد عنده جمود المحدثين ولا كودنة النقلة بل هو فقيه النظر، له دربة بأقوال الناس، ومذاهب الأئمة من السلف وأرباب المقالات». وقال عنه التاج السبكي: «إمام الوجود حفظاً، وذهب العصر معنى ولفظاً، وشيخ الجرح والتعديل، ورجل الرجال في كل سبيل، كأنما جمعت الأمة في صعيد واحد فنظرها ثم أخذ يُعبَّر عنها إخبار من حضرها». وقال عنه السخاوي: «وهو من أهل الاستقراء التام في نقد الرجال»، وقال عنه ابن كثير الدمشقي: «الحافظ الكبير، مؤرخ الإسلام، وشيخ المحدثين، وخاتمة الحفاظ»، وقال عنه جلال الدين السيوطي: «إن المحدثين عيال في الرجال وغيرها من فنون الحديث على أربعة: المِزي، والذهبي، والعراقي، وابن حجر».

وأما تعليله فإنما يتجه للإطلاق وكلامهم على التقييد فلا معارضة.

وقوله: (آخِرُ المجتهدين) انتقده أيضا الشيخ الهلالي بأن فيها إيحاءً بغلق باب الاجتهاد، وفي تعقبه نظر كسابقه فليس فيما قال الناسخ ما يشير إلى قوله بغلق باب الاجتهاد بل مقصوده مدح الذهبي بأن آخر مجتهدي عصره، فالوصف بالأخروية كالوصف بالأولية وبالقدم نسبي.

 

‌‌توطئة:

(قال الشيخ عبد العزيز السعيد في شرحه للموقظة: [وهذا الكتاب: " كتاب الموقظة " للإمام الذهبي رحمه الله كتاب مختصر نافع مفيد، وتظهر أهميته في أن الإمام الذهبي رحمه الله له تعقبات وتعليقات على من سبقه، وهذه التعقبات والتعليقات صادرة عن إمام له نفس حديثي، ليس كغيره ممن سلف.

--------------------------------------------

(1) - نقلا عن مقدمة السير (1/ 169)، رسالة: موقف الإمام الذهبي من الدولة العبيدية نسباً ومعتقداً للدكتور/ سعد بن موسى الموسى.
একজন বান্দার প্রধান অবলম্বন হলো তাঁর রবের ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তাঁর জন্য যথেষ্ট}। আর মানুষের শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া}। আর এই পর্যালোচনা ও আপত্তির পেছনে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে; কেননা ইমাম যাহাবি উল্লিখিত বিষয়ের জন্য যোগ্য ব্যক্তি, কারণ তিনি এমন একজন ইমাম যাঁদের ইলম বা জ্ঞান সর্বজনস্বীকৃত। তাঁর সম্পর্কে (১) তাঁর ছাত্র আস-সাফাদি বলেছেন: "তিনি এমন একজন হাফিজ (حافظ) যাঁর কোনো সমকক্ষ নেই এবং এমন এক বাগ্মী (لافظ) যাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি হাদিস এবং এর বর্ণনাকারীদের (رجال) বিষয়ে পূর্ণ পারদর্শী ছিলেন। তিনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) ও এর অবস্থাসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মানুষের জীবনী সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি তাঁদের ইতিহাস থেকে অস্পষ্টতা দূর করেছেন। আমি তাঁর মাঝে হাদিস বিশারদদের জড়তা বা নিছক নকলকারীদের স্থবিরতা পাইনি; বরং তিনি ছিলেন গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ (فقيه)। মানুষের মতামত, সালাফদের মাজহাব এবং বিভিন্ন মতাদর্শীদের উক্তি সম্পর্কে তাঁর অগাধ অভিজ্ঞতা ছিল।" তাজ আল-সুবকি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "মুখস্থশক্তির দিক থেকে তিনি বিশ্বের ইমাম, আর অর্থ ও শব্দের বিচারে তিনি এই যুগের স্বর্ণ (যাহাব)। তিনি জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের শায়খ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرجال) চিনবার দক্ষ কারিগর। মনে হয় যেন পুরো উম্মতকে এক ময়দানে সমবেত করা হয়েছে এবং তিনি তাঁদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, অতঃপর তাঁদের সম্পর্কে এমন সংবাদ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন।" আস-সাখাভি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (نقد الرجال) ক্ষেত্রে পূর্ণ পর্যালোচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সুমহান হাফিজ (الحافظ), ইসলামের ইতিহাসবিদ, মুহাদ্দিসদের (المحدثين) শায়খ এবং হাফিজদের (الحفاظ) ধারায় অনন্য।" জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীদের (الرجال) জ্ঞান এবং হাদিসের অন্যান্য শাখায় মুহাদ্দিসগণ চারজনের মুখাপেক্ষী: আল-মিযযি, আয-যাহাবি, আল-ইরাকি এবং ইবনে হাজার।"

আর তাঁর আপত্তির বিষয়টি নিঃশর্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু তাঁদের বক্তব্য ছিল শর্তযুক্ত; ফলে এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই।

আর লেখকের উক্তি "শেষ মুজতাহিদ" সম্পর্কে শেখ আল-হিলালিও সমালোচনা করেছেন এই বলে যে, এর মধ্যে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে তাঁর এই পর্যালোচনার পেছনেও পূর্বের ন্যায় পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে; কারণ পাণ্ডুলিপি লেখকের বক্তব্যে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই, বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইমাম যাহাবির প্রশংসা করা যে তিনি তাঁর যুগের শেষ মুজতাহিদ (مجتهد)। শেষ হওয়ার গুণটি প্রথম বা প্রাচীন হওয়ার গুণের মতোই আপেক্ষিক।

 

‌‌উপক্রমণিকা:

(শেখ আব্দুল আজিজ আস-সাঈদ আল-মুওয়াকিজাহ-এর ব্যাখ্যায় বলেন: [এই কিতাবটি অর্থাৎ ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর "কিতাব আল-মুওয়াকিজাহ" একটি সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ। এর গুরুত্ব এখানে প্রকাশ পায় যে, ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পূর্বসূরিদের ওপর কিছু পর্যালোচনা ও মন্তব্য করেছেন। এই পর্যালোচনা ও মন্তব্যগুলো এমন একজন ইমামের পক্ষ থেকে এসেছে যাঁর হাদিসশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে, যা তাঁর পূর্ববর্তীদের অনেকের চেয়ে ভিন্নতর।

--------------------------------------------

(১) - সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর ভূমিকা (১/১৬৯) থেকে সংগৃহীত, ড. সাদ বিন মুসা আল-মুসা রচিত "ইমাম যাহাবির অবস্থান উবাইদি রাষ্ট্র, তাদের বংশপরিচয় ও আকিদার ক্ষেত্রে" শীর্ষক অভিসন্দর্ভ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
فبعض من تقدم تكلم في هذا الاصطلاح، إلا أنه غلب عليه الجانب الفقهي، وأما الإمام الذهبي رحمه الله وإن كان قد اختصر هذا الكتاب من كتاب " الاقتراح " لشيخه ابن دقيق العيد الذي اختصره من " علوم الحديث " للحافظ ابن الصلاح؛ إلا أن نفس الإمام الذهبي الحديثي ظهر في هذا الكتاب في تعقباته وتعليقاته.

وكذلك تظهر أهمية هذا الكتاب في بعض المباحث التي أوردها المؤلف رحمه الله ولم يسبق إليها، وبخاصة ما كان منها متعلقا في علم الرجال، فله مباحث في علم الرجال وفي طبقات الحفاظ لا تجدها في كتاب من كتب مصطلح الحديث إلا في هذا الكتاب، ووجودها في هذا الكتاب يزداد أهمية لكونها صادرة عن إمام له عناية بعلم الرجال، وله عناية تامة في هذا؛ حتى شهد له الأئمة الحفاظ بذلك.

وهذا الكتاب: " كتاب الموقظة " للإمام الحافظ الذهبي رحمه الله لا بد أن نعرف هذه اللفظة أو هذه التسمية؛ لأن معرفة هذه التسمية فيها شحن للهمم في دراسة هذا الفن والاعتناء بهذا الكتاب: ف " الموقظة " الهاء فيها للتأنيث، وموقظ: اسم فاعل من الإيقاظ وهو الانتباه، فالاستيقاظ والإيقاظ معناه الانتباه، فكأن المؤلف -رحمه الله تعالى- يلفت الانتباه -انتباه طالب العلم- إلى الاعتناء بهذا الفن، أو يلفت الانتباه إلى دراسة هذا الكتاب بخصوصه. فهو إما لفت الانتباه لدراسة هذا الفن على وجه العموم، أو لفت الانتباه لدراسة هذا الكتاب على وجه الخصوص؛ لما حواه من المباحث المهمة التي قل -أو بعضها قل- أن يوجد إلا عند الإمام الذهبي، ولا شك أن هذه التسمية مطابقة للمسمى الذي اشتمل عليه هذا الكتاب … ].

 

ـ[قال الإمام الذهبي: [1 -‌‌ الحديثُ الصحيح: هو ما دَارَ على عَدْلٍ مُتْقِنٍ واتَّصَل سَنَدُه. فإن كان مُرسَلاً ففي الاحتجاج به اختلاف. وزاد أهلُ الحديث: سلامتَهُ من الشذوذِ والعِلَّة. وفيه نظر على مقتضى نظر الفقهاء، فإنَّ كثيراً من العِلَل يأبَوْنها. فالمجُمْعُ على صِحَّتِه إذاً: المتصلُ السالمُ من الشذوذِ والعِلَّة، وأنْ يكون رُواتُه ذوي ضَبْطٍ وعدالةٍ وعدمِ تدليس]]ـ
ইতিপূর্বে যারা এই পরিভাষা (اصطلاح) নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের ওপর ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি প্রবল ছিল। ইমাম আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) যদিও এই কিতাবটি তার উস্তাদ ইবনু দাকীক আল-ঈদ-এর ‘আল-ইকতিরাহ’ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা তিনি আবার হাফিয ইবনুস সালাহ-এর ‘উলূমুল হাদিস’ থেকে সংক্ষেপ করেছিলেন; তবুও এই কিতাবে ইমাম যাহাবীর নিজস্ব হাদিসতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তার পর্যালোচনামূলক টীকা ও মন্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

অনুরূপভাবে এই কিতাবটির গুরুত্ব লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত এমন কিছু আলোচনার (مباحث) মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যা ইতিপূর্বে কেউ করেননি, বিশেষ করে বর্ণনাকারী মূল্যায়ন বিদ্যা (علم الرجال) সংক্রান্ত বিষয়গুলো। ইলমুর রিজাল (علم الرجال) এবং হাফিযগণের স্তর (طبقات الحفاظ) বিন্যাস নিয়ে তার এমন কিছু আলোচনা (مباحث) রয়েছে যা এই কিতাব ছাড়া অন্য কোনো হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত কিতাবে পাওয়া যায় না। এই কিতাবে এগুলোর উপস্থিতি অধিক গুরুত্ব বহন করে কারণ এগুলো এমন একজন ইমামের পক্ষ থেকে এসেছে যার ইলমুর রিজাল (علم الرجال) শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে এবং এ বিষয়ে তার পূর্ণ দক্ষতা আছে; এমনকি হাফিয (حافظ) ইমামগণও এ ব্যাপারে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ইমাম হাফিয (حافظ) আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই কিতাব ‘আল-মুকিযাহ’-এর নামকরণের তাৎপর্য আমাদের জানতে হবে। কারণ এই নামকরণ জানার মধ্যে এই শাস্ত্র (فن) চর্চা এবং এই কিতাবের প্রতি যত্নবান হওয়ার ক্ষেত্রে হিম্মত বা উদ্দীপনা নিহিত রয়েছে। ‘মুকিযাহ’ শব্দের শেষে ‘হা’ বর্ণটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক, আর ‘মুকিয’ শব্দটি ‘ঈকায’ (জাগ্রত করা) থেকে উদ্ভূত ‘ইসমুল ফায়িল’ বা কর্তাবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ হলো সচেতন করা। জাগ্রত হওয়া এবং জাগ্রত করার অর্থ হলো সচেতন হওয়া। সুতরাং লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) যেন তালিবে ইলম বা শিক্ষার্থীর মনোযোগ এই শাস্ত্রের (فن) প্রতি অথবা বিশেষভাবে এই কিতাবটি অধ্যয়নের প্রতি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। এটি হয় সাধারণভাবে এই শাস্ত্র (فن) অধ্যয়নের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ, অথবা বিশেষভাবে এই কিতাবটি পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ; কারণ এতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা (مباحث) রয়েছে যা ইমাম যাহাবী ছাড়া অন্যদের কাছে খুব কমই পাওয়া যায়। নিঃসন্দেহে এই কিতাবের বিষয়বস্তুর সাথে এর নামকরণের পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে … ]।

 

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: [১ -‌‌ সহিহ (صحيح) হাদিস: এটি সেই হাদিস যা এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভুল (متقن) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত এবং যার সনদ (سند) ধারাবাহিক সংযুক্ত (متصل)। যদি তা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হয়, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। হাদিস বিশারদগণ এতে অতিরিক্ত শর্তারোপ করেছেন: এটি অসঙ্গতি (شذوذ) এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত হওয়া। ফকীহদের (فقهاء) দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কেননা তারা অনেক ত্রুটিকেই (علل) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সুতরাং যার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে তা হলো: যা ধারাবাহিক সংযুক্ত (متصل), অসঙ্গতি (شذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত, এবং এর বর্ণনাকারীগণ পূর্ণ আয়ত্ত ক্ষমতা (ضبط), ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পন্ন ও বর্ণনায় প্রতারণা (تدليس) থেকে মুক্ত]
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
قوله: (الحديثُ الصحيح) أي لذاته لا لغيره؛ لأنه المقصود عند الإطلاق، وهاهنا بحث في دخول الحسن في الصحيح، وقد درج المصنف على جعلهما قسيمين، وسيأتي هذا البحث عند الكلام على الحسن في محله من الرسالة بمشيئة الله.

 

‌‌فائدة: الفرق بين قولهم: حديث صحيح، وإسناد صحيح.

قال ابن الصلاح في مقدمته (ص/20): [قولهم: (هذا حديث صحيح الإسناد أو حسن الإسناد)

دون قولهم: (هذا حديث صحيح أو حديث حسن)؛ لأنه قد يقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولا يصح لكونه شاذا أو معللا، غير أن المصنف المعتمد منهم إذا اقتصر على قوله: إنه صحيح الإسناد ولم يذكر له علة ولم يقدح فيه فالظاهر منه الحكم له بأنه صحيح في نفسه؛ لأن عدم العلة والقادح هو الأصل والظاهر والله أعلم].

وناقش ابن حجر تقييد ابن الصلاح الأخير ووجهه فقال في النكت (1/ 474): [قلت: لا نسلم أن عدم العلة هو الأصل، إذ لو كان هو الأصل ما اشترط عدمه في شرط الصحيح، فإذا كان قولهم: صحيح الإسناد يحتمل أن يكون مع وجود العلة لم يتحقق عدم العلة، فكيف يحكم له بالصحة. وقوله: إن المصنف المعتمد إذا اقتصر … الخ يوهم أن التفرقة التي فرقها أولاً مختصة بغير المعتمد وهو كلام ينبو عنه السمع، لأن المعتمد هو قول المعتمد وغير المعتمد لا يعتمد. والذي يظهر لي أن الصواب التفرقة بين من يفرق في وصفه الحديث بالصحة بين التقييد والإطلاق وبين من لا يفرق.

فمن عرف من حاله بالاستقراء التفرقة يحكم له بمقتضى ذلك ويحمل إطلاقه على الإسناد والمتن معاً وتقييده على الإسناد فقط ومن عرف من حاله أنه لا يصف الحديث دائماً وغالباً إلا بالتقييد فيحتمل أن يقال في حقه ما قال المصنف آخراً والله أعلم.]

وكلام الحافظ مقيد بمن عرف حاله بالاستقراء ويحمل على الاستقراء التام، وأما الاستقراء الناقص أو من لم يعلم حاله فقد قال عنه ابن حجر: (فيحتمل أن
তাঁর কথা: "(সহিহ (صحيح) হাদিস)" অর্থাৎ এটি 'সহিহ লি-জাতিহি' (لذاته) হাদিস, 'সহিহ লি-গাইরিহি' (لغيره) নয়; কেননা সাধারণভাবে হাদিসকে সহিহ বললে এটিই উদ্দেশ্য থাকে। এখানে হাসান (حسن) হাদিস কি সহিহ (صحيহ) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না তা নিয়ে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। গ্রন্থকার এই দুই প্রকারকে দুটি ভিন্ন বিভাগ হিসেবে গণ্য করার রীতি অনুসরণ করেছেন। ইনশাআল্লাহ, রিসালার যথাযথ স্থানে হাসান (حسن) সম্পর্কে আলোচনার সময় এই বিষয়টি আসবে।

 

‌‌জ্ঞাতব্য: 'সহিহ (صحيহ) হাদিস' এবং 'সহিহ সনদ (إسناد صحيح)' বলার মধ্যে পার্থক্য।

ইবনে আস-সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমায় (পৃ. ২০) বলেন: [তাদের কথা: "(এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট হাদিস বা হাসান সনদ (حسن الإسناد) বিশিষ্ট হাদিস)" বলাটি

"(এটি সহিহ (صحيح) হাদিস বা হাসান (حسن) হাদিস)" বলার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের; কারণ, কখনও বলা হয় যে 'এটি সহিহ সনদ (صحيহ الإسناد) বিশিষ্ট হাদিস', কিন্তু হাদিসটি সহিহ (صحيহ) নয়; কেননা তা সম্ভবত শাজ (شاذ) কিংবা মুআল্লাল (معلل)। তবে নির্ভরযোগ্য (معتمد) মুসান্নিফগণ যদি কেবল এটুকু বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন যে 'এটি সহিহ সনদ (صحيহ الإسناد) বিশিষ্ট' এবং এতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) উল্লেখ না করেন বা কোনো দোষারোপ না করেন, তবে বাহ্যিকভাবে এটিই প্রতীয়মান হয় যে তিনি একে মূলত সহিহ (صحيহ) হিসেবেই হুকুম দিয়েছেন; কারণ সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) ও দোষমুক্ত থাকাই হচ্ছে মূল নীতি ও বাহ্যিক অবস্থা। আল্লাহই ভালো জানেন।]

ইবনে হাজার (রহ.) ইবনে আস-সালাহর শেষোক্ত সীমাবদ্ধতা ও অভিমতটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং 'আন-নুকাত' (১/৪৭৪) গ্রন্থে বলেছেন: [আমি বলব: আমরা এটি স্বীকার করি না যে ত্রুটিমুক্ত থাকাই মূল নীতি; কেননা যদি সেটিই মূল হতো তবে সহিহ (صحيহ) হওয়ার শর্তাবলীতে একে শর্ত হিসেবে রাখা হতো না। অতএব, যখন তাদের কথা 'সহিহ সনদ (صحيহ الإسناد)' হওয়ার মধ্যে সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থাকার সম্ভাবনা থাকে, তখন ত্রুটিহীন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় না। এমতাবস্থায় কীভাবে একে সহিহ (صحيহ) বলে হুকুম দেওয়া যায়? আর তাঁর (ইবনে আস-সালাহর) কথা: 'নির্ভরযোগ্য মুসান্নিফ যদি সংক্ষেপে বলেন...' ইত্যাদি কথাটি এমন এক বিভ্রান্তি তৈরি করে যে, শুরুতে তিনি যে পার্থক্যের কথা বলেছেন তা কেবল অনির্ভরযোগ্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এটি এমন এক কথা যা শ্রবণে খটকা লাগে। কারণ নির্ভরযোগ্যদের কথাই নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্যদের কথা প্রামাণ্য নয়। আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, সঠিক পদ্ধতি হলো ওই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করা যিনি হাদিসকে সহিহ (صحيহ) বলার ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত (تقييد) ও শর্তহীন (إطلاق) শব্দের মধ্যে পার্থক্য করেন এবং ওই ব্যক্তির মধ্যে যিনি এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন না।

সুতরাং নিবিড় পর্যবেক্ষণের (استقراء) মাধ্যমে যার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি পার্থক্য করেন, তার ক্ষেত্রে সেই নিয়মই প্রযোজ্য হবে। তার শর্তহীন বক্তব্য সনদ (إسناد) ও মতন (متن) উভয়ের ওপর বর্তাবে এবং তার শর্তযুক্ত বক্তব্য কেবল সনদের (إسناد) ওপর বর্তাবে। আর যার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত শব্দ ছাড়া হাদিসের বর্ণনা দেন না, তার ক্ষেত্রে মুসান্নিফ (ইবনে আস-সালাহ) শেষে যা বলেছেন তা প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আল্লাহই ভালো জানেন।]

হাফিজ (ইবনে হাজার)-এর কথাটি কেবল ওই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার অবস্থা পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণের (استقراء تام) মাধ্যমে জানা গেছে। আর অসম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ (استقراء ناقص) বা যার অবস্থা জানা নেই, তার ব্যাপারে ইবনে হাজার বলেছেন: (সম্ভবত...)
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
يقال في حقه ما قال المصنف آخرا) والأقرب أن نعتمد ما قاله عنه ابن الصلاح أولا من التفرقة بين الإطلاق والتقييد فإنه لا تلازم بين الإسناد والمتن إذ قد يصح السند أو يحسن لاستجماع شرائطهما ولا يصح المتن لشذوذ أو علة وقد لا يصح السند ويصح المتن من طريق أخرى، ويؤيد ذلك أيضا أننا خالفنا ابن الصلاح واعتبرنا أن العلة في الحديث هي الأصل.

قال طاهر الجزائري في توجيه النظر (1/ 509) موضحاً للقول الأول الذي ذكره ابن الصلاح: [وقال بعض العلماء الذي لا يشك فيه أن الإمام منهم لا يعدل عن قوله صحيح إلى قوله صحيح الإسناد إلا لأمر ما وعلى كل حال فالتقييد بالإسناد ليس صريحا في صحة المتن أو ضعفه ويشهد لعدم التلازم ما رواه النسائي من حديث أبي بكر بن خلاد عن محمد بن فضيل عن يحيى بن سعيد عن أبي سلمة عن أبي هريرة تسحروا فإن في السحور بركة قال هذا حديث منكر وإسناده حسن وقد أورد الحاكم في مستدركه غير حدث يحكم على إسناده بالصحة وعلى المتن بالوهاء لعلته أو شذوذه وقد فعل نحو لك كثير من المتقدمين وممن فعل ذلك من المتأخرين الحافظ المزي فإنه تكرر منه الحكم بصلاحية الإسناد ونكارة المتن].

 

‌‌قوله: (هو ما دَارَ) أي ما يكون رواته في جميع الطبقات على ما وصف من العدالة والإتقان. وفي استعماله لهذه الكلمة نكتة لطيفة وهي أنه بذلك يبين شرطه في الصحيح وهو: ألا يوجد من بين رواته من ليس على ما وصف، وإيضاحه أن قوله دار من قولهم: (دَارَتِ) المسألة أي كلما تعلقت بمحلّ توقف ثبوت الحكم على غيره فينقل إليه ثم يتوقف على الأول وهكذا (1)، فلو انخرم تحقق الشرط في أحد الرواة لانقطع الدور.

وهناك نكتة أخرى من استعماله هذا اللفظ، وهي ما في هذا اللفظ من إشعار بالاتصال على النحو المذكور، بمعنى أنه إذا تحقق الشرط المذكور من صفات الرواة فلا بد من تحقق تمام الدور والاتصال ليحكم بصحة الحديث.

--------------------------------------------

(1) - انظر المصباح المنير مادة (دار).
(তাঁর সম্পর্কে তা-ই বলা হয় যা লেখক শেষে বলেছেন) এবং অধিকতর সঠিক বিষয় হলো আমরা ইবনে আস-সালাহ প্রথমে যা বলেছেন তার ওপর নির্ভর করব, যা হলো নিরঙ্কুশ (إطلاق) এবং শর্তযুক্ত (تقييد) করার মধ্যকার পার্থক্য। কারণ সনদ (إسناد) এবং মতন (متن)-এর মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই; কেননা কখনও সনদ সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) হতে পারে তার শর্তাবলি পূর্ণ করার কারণে, অথচ বিচ্যুতি (شذوذ) বা ত্রুটি (علة)-এর কারণে মতন সহিহ (صحيح) না-ও হতে পারে। আবার কখনও সনদ সহিহ (صحيح) না-ও হতে পারে, কিন্তু অন্য কোনো সূত্রে মতন সহিহ (صحيح) হতে পারে। এটি এই বিষয়টিকেও সমর্থন করে যে, আমরা ইবনে আস-সালাহর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছি এবং হাদিসের ক্ষেত্রে ত্রুটি (علة)-কেই মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছি।

তাহের আল-জাজাইরি তাওজিহুন নজর (১/৫০৯) গ্রন্থে ইবনে আস-সালাহ উল্লিখিত প্রথম মতটি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: [কিছু আলেম বলেছেন যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো, তাঁদের মধ্যকার ইমামগণ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া 'সহিহ (صحيح)' শব্দ থেকে বিচ্যুত হয়ে 'সনদটি সহিহ (صحيح الإسناد)' শব্দ ব্যবহার করেন না। যা-ই হোক, সনদের সাথে শর্তযুক্ত করাটি মতনের সহিহ (صحيহ) হওয়া বা দুর্বল (ضعيف) হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নয়। এই অবিচ্ছেদ্যতা না থাকার প্রমাণ হলো নাসায়ি কর্তৃক বর্ণিত আবু বকর বিন খাল্লাদ থেকে বর্ণিত হাদিসটি, যা মুহাম্মদ বিন ফুদাইল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।" তিনি বলেছেন: এটি একটি মুনকার (منكر) হাদিস, যদিও এর সনদ হাসান (حسن)। হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে একাধিক হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি সনদের ওপর সহিহ (صحة) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন আর মতনের ওপর ত্রুটি (علة) বা বিচ্যুতি (شذوذ)-এর কারণে দুর্বলতার (وهاء) হুকুম দিয়েছেন। পূর্ববর্তীদের (متقدمين) মধ্যে অনেকে এমনটি করেছেন এবং পরবর্তীদের (متأخرين) মধ্যে হাফেজ মিযযি এমনটি করেছেন; তাঁর নিকট থেকে বারবার সনদের সঠিকতা (صلاحية الإسناد) এবং মতনের মুনকার হওয়া (نكارة المتن) বিষয়ে হুকুম পাওয়া গেছে।]

 

‌‌তাঁর বক্তব্য: (এটি যা আবর্তিত হয়) অর্থাৎ এর বর্ণনাকারীরা যেন সকল স্তরে (طبقات) বর্ণিত ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং মুখস্থশক্তির দৃঢ়তা (إتقان)-এর ওপর থাকেন। তাঁর এই শব্দ ব্যবহারের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে, আর তা হলো এর মাধ্যমে তিনি সহিহ (صحيহ)-এর ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত স্পষ্ট করেছেন, তা হলো: বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে না যে বর্ণিত গুণের ওপর নেই। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর 'দারা' (আবর্তিত হওয়া) শব্দটি আরবদের এই কথা থেকে এসেছে: 'মাসআলাটি আবর্তিত হয়েছে (دَارَتِ)', অর্থাৎ যখনই এটি কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন হুকুম সাব্যস্ত হওয়া অন্যটির ওপর নির্ভর করে, এরপর সেটির দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং পুনরায় প্রথমটির ওপর নির্ভর করে—এভাবেই চলতে থাকে (১)। সুতরাং যদি কোনো একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে শর্তটি লঙ্ঘিত হয়, তবে এই আবর্তন (دور) বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

এই শব্দটি ব্যবহারের আরেকটি সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে, আর তা হলো এই শব্দের মধ্যে উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال)-এর একটি আভাস পাওয়া যায়। এর অর্থ হলো, যখন বর্ণনাকারীদের গুণাবলির ক্ষেত্রে উল্লিখিত শর্তটি বাস্তবায়িত হবে, তখন হাদিসের সহিহ (صحة) হওয়ার হুকুম প্রদানের জন্য আবর্তনের পূর্ণতা এবং নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) থাকা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) - আল-মিসবাহুল মুনির দেখুন, (دار) শব্দমূল।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌قوله: (على عَدْلً) وفيه مسائل، والله نسأل السداد.

‌‌(تعريف العدالة:

التعريف المشهور المتداول للعدالة هو تعريف ابن حجر، ولذا فإننا سوف نبدأ بذكره ونتوقف معه، قال ابن حجر في شرح النخبة (ص/25): (والمراد بالعدل من له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة. والمراد بالتقوى اجتناب الأعمال السيئة من شرك أو فسق أو بدعة)

 

‌‌واعترض الصنعاني في " ثمرات النظر في علم الأثر " على هذا التعريف بعدة اعتراضات:

‌‌الاعتراض الأول: عدم الملازمة بينه وبين التعريف اللغوي للعدالة:

قال الصنعاني (ص/53: 55): [تفسير العدالة بما ذكره الحافظ تطابقت عليه كتب الأصول وإن حذف البعض قيد الابتداع إلا أنهم الكل اتفقوا أنها ملكة إلى آخره وهذا ليس معناها لغة ففي القاموس العدل ضد الجور وهو إن كان كلامه في هذه الألفاظ قليل الإفادة لأنه يقول والجور نقيض العدل فيدور، وفي النهاية العدل الذي لا يميل به الهوى، وهو وإن كان تفسيرا للعادل فقد أفاد المراد في غيرها. العدل: الاستقامة، وللمفسرين في قوله تعالى) إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْأِحْسَانِ)، أقوال في تفسيره قال الرازي بعد سرده للأقوال إنه عبارة عن الأمر المتوسط بين طرفي الإفراط والتفريط وهو قريب من تفسيره بالاستقامة، وقد فسر الاستقامة الصحابة وهم أهل اللغة بعدم الرجوع إلى عبادة الأوثان وأنكر أبو بكر رضي الله عنه على من فسرها بعدم الإتيان بذنب وقال حملتم الأمر على أشده … ].

 

‌‌الاعتراض الثاني: نقد العدالة بالملكة المذكورة:

وقال (ص/55: 58): [والحاصل أن تفسير العدالة بالملكة المذكورة ليس معناها لغة ولا أتى عن الشارع حرف واحد بما يفيدها والله تعالى قال في الشهود (وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ) (مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاء) وهو كالتفسير للعدل والمرضي من تسكن النفس إلى خبره ويرضى به القلب ولا يضطرب من خبره ويرتاب، ومنه) تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ) … فالعدل من اطمأن القلب إلى خبره وسكنت النفس إلى ما رواه، وأما القول بأنه من له هذه الملكة التي هي كيفية راسخة تصدر عنها الأفعال بسهولة
তাঁর উক্তি: (একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির ওপর ভিত্তি করে) এবং এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে, আল্লাহর কাছে আমরা সঠিক পথের প্রার্থনা করি।

(ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞা:

ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত সংজ্ঞা হলো ইবনে হাজার-এর প্রদানকৃত সংজ্ঞা; আর একারণেই আমরা তাঁর সংজ্ঞা উল্লেখ করার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করব এবং সেখানে আলোকপাত করব। ইবনে হাজার শারহু নাখবাতিল ফিকার গ্রন্থে (পৃ. ২৫) বলেছেন: (ন্যায়পরায়ণ (عدل) বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যার মধ্যে এমন একটি স্বভাবজাত গুণ (ملكة) বিদ্যমান, যা তাকে তাকওয়া (تقوى) এবং মনুষ্যত্ব (مروءة) আঁকড়ে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। আর তাকওয়া (تقوى) বলতে শিরক, ফাসেকী (فسق) বা বিদআত (بدعة) এর মতো মন্দ কাজসমূহ পরিহার করাকে বোঝায়)।

 

আস-সানআনী তাঁর "সামারাতুন নাজর ফি ইলমিল আসার" গ্রন্থে এই সংজ্ঞার ওপর কয়েকটি আপত্তি উত্থাপন করেছেন:

প্রথম আপত্তি: এই সংজ্ঞার সাথে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) আভিধানিক সংজ্ঞার সামঞ্জস্যহীনতা:

আস-সানআনী (পৃ. ৫৩-৫৫) বলেন: [হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজার ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, উসুল শাস্ত্রের (أصول) গ্রন্থসমূহ তার সাথে একমত হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বিদআত (ابتداع) বর্জনের শর্তটি বাদ দিয়েছেন, তবুও তারা সকলে একমত হয়েছেন যে এটি একটি স্বভাবজাত গুণ (ملكة)... ইত্যাদি। অথচ আভিধানিকভাবে এর অর্থ এমনটি নয়। 'আল-কামুস' অভিধানে বলা হয়েছে, ন্যায়পরায়ণতা (عدل) হলো অন্যায়ের (جور) বিপরীত। যদিও এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যা খুব একটা ফলপ্রসূ নয় কারণ সেখানে বলা হয়েছে অন্যায় (جور) হলো ন্যায়পরায়ণতা (عدل)-এর বিপরীত, যা একটি বৃত্তাকার সংজ্ঞায় পরিণত হয়। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলো সে ব্যক্তি যাকে প্রবৃত্তি বিচ্যুত করতে পারে না। এটি যদিও ন্যায়পরায়ণ (عادل) ব্যক্তির ব্যাখ্যা, তবুও এটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশ করে। আদল (عدل): ইস্তিকামাত বা দৃঢ়তা (استقامة)। মহান আল্লাহর বাণী 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও সদাচরণের নির্দেশ দেন'-এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের বিভিন্ন মত রয়েছে। ইমাম রাজি সেই মতগুলো পর্যালোচনার পর বলেন, এটি হলো বাড়াবাড়ি (إفراط) এবং ছাড়াছাড়ি (تفريط)-এর মধ্যবর্তী একটি বিষয়, যা ইস্তিকামাত (استقامة) সংজ্ঞার কাছাকাছি। সাহাবীগণ, যারা ভাষার পণ্ডিত ছিলেন, তাঁরা ইস্তিকামাত-এর (استقامة) ব্যাখ্যা করেছেন মূর্তিপূজায় পুনরায় ফিরে না আসা হিসেবে। আবু বকর (রা.) সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে এর ব্যাখ্যা গুনাহ না করা হিসেবে করেছিল এবং তিনি বলেছিলেন যে তোমরা বিষয়টিকে অনেক কঠিন করে ফেলেছ... ]।

 

দ্বিতীয় আপত্তি: উল্লিখিত স্বভাবজাত গুণ (ملكة) দ্বারা ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞায়নের সমালোচনা:

তিনি আরও বলেন (পৃ. ৫৫-৫৮): [সারকথা হলো, ন্যায়পরায়ণতা-কে (عدالة) উল্লিখিত স্বভাবজাত গুণ (ملكة) দ্বারা ব্যাখ্যা করা এর আভিধানিক অর্থ নয়, আর শরয়ি বিধাতা থেকেও এমন কোনো একটি শব্দও আসেনি যা এই অর্থ প্রকাশ করে। আল্লাহ তাআলা সাক্ষীগণের ক্ষেত্রে বলেছেন, 'তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো' এবং 'যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো'। এটি মূলত ন্যায়পরায়ণ (عدل)-এর একটি ব্যাখ্যা। আর পছন্দনীয় (مرضي) সেই ব্যক্তি যার সংবাদে মন আশ্বস্ত হয় এবং অন্তর সন্তুষ্ট থাকে, আর যার সংবাদে কোনো অস্থিরতা বা সংশয় তৈরি হয় না। এর উদাহরণ হলো 'পারস্পরিক সম্মতির (تراض) ভিত্তিতে ব্যবসা'... অতএব ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলো সেই ব্যক্তি যার সংবাদের প্রতি অন্তর আশ্বস্ত হয় এবং যার বর্ণিত (رواه) বিষয়ের প্রতি মন শান্ত থাকে। আর এটি বলা যে, ন্যায়পরায়ণ হলো সেই ব্যক্তি যার মধ্যে এমন স্বভাবজাত গুণ (ملكة) রয়েছে যা একটি দৃঢ় অবস্থা এবং যা থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যাদি সম্পাদিত হয়...]
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
يمتنع بها عن اقتراف كل فرد من أفراد الكبائر وصغائر الخسة كسرقة لقمة والتطفيف بحبة تمرة والرذائل الجائزة كالبول في الطرقات وأكل غير السوقي فيه فهذا تشديد في العدالة لا يتم إلا في حق المعصومين وأفراد من خلص المؤمنين بل قد جاء في الأحاديث أن (كل بني آدم خطاؤون وخير الخطائين التوابون) (1) وأنه ما من نبي إلا عصى أو هم بمعصية فما ظنك عمن سواهم وحصول هذه الملكة في كل راو من رواة الحديث عزيز الحصول لا يكاد يقع ومن طالع تراجم الرواة علم ذلك وأنه ليس العدل إلا من قارب وسدد وغلب خيره شره … ].

إلا أن الشيخ حاتم العوني في رسالته " خلاصة التأصيل لعلم الجرح والتعديل " لم يرتضِ هذا الاعتراض حيث قال: [تعريف العدالة (على الإطلاق): ملكة تحمل صاحبها على ملازمة التقوى والمروءة. وتعريف العدالة بتلك الملكة ليس عليه انتقاد في نظري؛ لأن تعريف العدالة بذلك ليس هو تعريف العدل، فمن كانت له تلك الملكة لا يلزم من اتصافه بها أن يكون معصوماً، فقد يخالف صاحب الملكة ملكته أحياناً، وقد يتجاوز ذو السجية سجيته، وكما قيل في بيان ذلك: ((لكل جواد كبوة، ولكل سيفٍ نبوة)) وعليه: فإن لا أرى أن هناك فرقاً بين تعريف العدل بصاحب تلك الملكة وتعريفه بأنه: من كان الغالب عليه فعل الطاعات وترك المعاصي، أو بأنه: من غلب خيره شره.

ثم إن الملكات (والسجايا) تتفاوت في القوة والتمكن، فليس كل من كان الجود سجيته بلغ مبلغ حاتم الطائي، ولا كل من كانت التقوى والمروءة ملكةً له بلغ مبلغ أبي بكر وعمر رضي الله عنهما. وهذا هو مقتضى اعتقاد أهل السنة والجماعة بأن الإيمان يزيد وينقص، وأن أصحابه فيه متفاوتون … ثم قال: تعريف العدل: من كانت له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة، وهو: المسلم العاقل البالغ السالم من أسباب الفسق وخوارم المروءة].

وهذا التعقب على الاعتراض ليس بشيء؛ وذلك لأن من عََّرفَ العدالة بهذه الملكة، أو عرف العدل بمن له هذه الملكة، فقد قصد وجود ملزوم ذلك من ملازمة

--------------------------------------------

(1) - رواه الترمذي وابن ماجه والحاكم وغيرهم من حدث أنس، وحسنه الألباني.
যার মাধ্যমে সে প্রতিটি কবিরা গুনাহ (الكبائر) এবং নিচুতম সগিরা গুনাহ (صغائر الخسة) — যেমন এক লোকমা খাবার চুরি করা, একটি খেজুরের ওজনে কম দেওয়া এবং রাস্তাঘাটে পেশাব করা কিংবা উচ্চবংশীয় ব্যক্তির বাজারে বসে খাওয়ার মতো বৈধ অথচ সৌজন্যবোধ বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকে। আদল বা চারিত্রিক সততার (العدالة) ক্ষেত্রে এটি এমন এক কঠোরতা যা মাসুম বা নিষ্পাপ (معصومين) ব্যক্তি এবং অত্যন্ত একনিষ্ঠ মুমিনদের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। বরং হাদিসসমূহে এসেছে যে, (প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলকারী এবং ভুলকারীদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাওবা করে) (১) এবং এমন কোনো নবী নেই যিনি কোনো গুনাহ করেননি বা গুনাহ করার সংকল্প করেননি; তাহলে অন্যদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী? হাদিসের প্রত্যেক বর্ণনাকারীর (راو) মধ্যে এই গুণ বা স্বভাবজাত যোগ্যতা (ملكة) পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ এবং এটি সচরাচর ঘটে না। যারা বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرواة) পাঠ করেছেন তারা এটি জানেন। আর প্রকৃতপক্ষে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (العدل) কেবল তিনিই যিনি সঠিক পথের কাছাকাছি থাকেন, সোজা পথে চলেন এবং যার কল্যাণের দিকটি মন্দের ওপর প্রবল হয় … ]।

তবে শেখ হাতেম আল-আউনি তার 'খুলাসাতুত তাসিল লি ইলমিল জারহ ওয়াত তাদিল' নামক রিসালায় এই আপত্তির সাথে একমত হননি। তিনি বলেছেন: [আদল বা চারিত্রিক সততার (العدالة) সাধারণ সংজ্ঞা হলো: এমন এক গুণ বা স্বভাবজাত যোগ্যতা (ملكة) যা এর অধিকারীকে তাকওয়া (التقوى) এবং মুরুআত বা সৌজন্যবোধ (المروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে। আমার দৃষ্টিতে উক্ত গুণের মাধ্যমে আদল বা চারিত্রিক সততার (العدالة) সংজ্ঞায়ন করাটা আপত্তিকর নয়; কারণ আদল বা চারিত্রিক সততার (العدالة) সংজ্ঞা দেওয়া আর ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির (العدل) সংজ্ঞা দেওয়া এক কথা নয়। সুতরাং কারো মধ্যে সেই গুণ বা স্বভাবজাত যোগ্যতা (ملكة) থাকলেই তাকে মাসুম বা নিষ্পাপ (معصوم) হতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। কারণ অনেক সময় উক্ত গুণের অধিকারী ব্যক্তি তার গুণের বিপরীত কাজ করে বসতে পারে এবং স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তি তার স্বভাবের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারে। যেমনটি এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে: ((প্রত্যেক তেজস্বী ঘোড়ারই পদস্খলন আছে, আর প্রত্যেক তলোয়ারেরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া আছে))। এর ভিত্তিতে আমি মনে করি না যে, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে (العدل) উক্ত গুণের অধিকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা এবং তাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যে—যার ওপর আনুগত্য প্রকাশ ও পাপাচার বর্জন প্রবল থাকে অথবা যার কল্যাণের দিকটি মন্দের ওপর প্রবল হয়—এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে।

অতঃপর স্বভাবজাত গুণাবলি (ملكات) ও প্রকৃতিসমূহ (سجايا) শক্তি ও দৃঢ়তার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। দানশীলতা যার স্বভাব সে-ই হাতেম তাঈ-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না, আর তাকওয়া (التقوى) ও মুরুআত বা সৌজন্যবোধ (المروءة) যার স্বভাবজাত গুণ সে-ই আবু বকর ও উমর (রা.)-এর স্তরে পৌঁছাতে পারে না। আর এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার দাবি যে, ইমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং এর অধিকারীরা ইমানের স্তরে পরস্পর থেকে ভিন্ন হয় … অতঃপর তিনি বলেন: ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির (العدل) সংজ্ঞা হলো: যার এমন গুণ বা স্বভাবজাত যোগ্যতা (ملكة) রয়েছে যা তাকে তাকওয়া (التقوى) এবং মুরুআত বা সৌজন্যবোধ (المروءة) বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে; আর তিনি হলেন: এমন বিবেকবান ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম, যিনি ফাসেক হওয়ার কারণসমূহ (أسباب الفسق) এবং সৌজন্যবোধ বিনষ্টকারী (خوارم المروءة) বিষয়াবলি থেকে মুক্ত]।

আপত্তির ওপর এই পাল্টা জবাবটি ততোটা জোরালো নয়; কারণ যারা আদল বা চারিত্রিক সততাকে (العدالة) এই গুণের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন অথবা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে (العدل) এই গুণের অধিকারী হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন, তারা মূলত এর আবশ্যিক ফলাফল হিসেবে সেই গুণের ওপর অবিচল থাকাকেই উদ্দেশ্য করেছেন

--------------------------------------------

(1) - তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং অন্যান্যরা আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
التقوى والمروءة، بمعنى أنه لكي يصح وصف صاحب هذه الملكة بالعدالة فلابد من أن تحمل صاحبها على ملازمة التقوى والمروءة، فإن اختل هذا الحمل فقد اختل وجود العدالة، وعلى قدر هذا الاختلال يكون الاختلال في الوصف بالعدالة، والمقصود هنا بيان العدالة التامة المطلقة التي هي شرط الصحة لا مطلق الاتصاف، ومن هنا يظهر وجه اعتراض الصنعاني، بالإضافة إلى ما ذكره من عدم وجود علاقة بين المعنى اللغوي للعدالة وتفسيرها بهذه الملكة؛ وعليه فإني أتوقف في قبول هذا التعقب على اعتراض الصنعاني. …

 

‌‌الاعتراض الثالث: قبولهم رواية فاسق التصريح:

قال الصنعاني (ص/95: 102): [الإشكال عليهم في قبول رواية الرافضي الساب للصحابة والناصبي الساب لعلي رضي الله عنه مع عدهم السب للصحابة من الكبائر كما صرح به في جمع الجوامع وفي الفصول فإذا قبلوا فاعل الكبيرة وليس إلا لظن صدقه مع أن مرتكب الكبيرة فاسق تصريح لا تأويل، وقد سبق في تفسير العدالة أنه لا بد من السلامة منه وقد نقل الإجماع على عدم قبول قول فاسق التصريح كما في الفصول وغيره واستدل له صاحب الفصول بقوله تعالى (إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا) الآية، وأصاب في الاستدلال بها على ذلك لأنها نزلت في الوليد بن عقبة كما تطابق عليه أئمة التفسير وهو فاسق تصريح بشربه الخمر كما في صحيح مسلم، وذكره بشرب الخمر ابن عبد البر والذهبي … وإذا تتبعت ما سلف علمت أن الآية دلت على أنه يتوقف في خبر الفاسق تصريحا لا يرد بل يقتضي البحث عما أخبر به لا رد خبره (1).

فإن قلت قد وقع الإجماع على عدم قبول خبره ورده فيكف نافى الإجماع الآية قلت لا نسلم الإجماع كيف وهؤلاء أئمة الحديث رووا عن فساق التصريح الذين يسبون الشيخين ويسبون عليا وغيرهم وحينئذ فلا بد من تخصيص الكبائر في رسم العدالة بما عدا سب المسلم.

--------------------------------------------

(1) والآية تدل على جواز قبول خبره إن تبين صدقه، ورده إن كان كاذبا، فلا تعارض بينها وبين اختيار أن مدار العدالة على مظنة الصدق وعدم الكذب.
তাকওয়া (تقوى) এবং শালীনতা (مروءة), অর্থাৎ এই গুণ বা স্বভাবের (ملكة) অধিকারীকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণের অধিকারী হিসেবে অভিহিত করা তখনই সঠিক হবে যখন তা তার অধিকারীকে তাকওয়া (تقوى) এবং শালীনতা (مروءة) আঁকড়ে ধরতে বাধ্য করে। যদি এই বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে ত্রুটি ঘটে, তবে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অস্তিত্বেও ত্রুটি দেখা দেয়। আর এই ত্রুটির মাত্রা অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) বিশেষণেও ত্রুটি দেখা দেয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) বর্ণনা করা যা (হাদিস) সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত, কেবল সাধারণ কোনো গুণ হিসেবে নয়। এখান থেকেই সানআনি-এর আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়, এছাড়া তিনি ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) আভিধানিক অর্থ এবং একে স্বভাবজাত গুণ হিসেবে ব্যাখ্যার মধ্যে কোনো সম্পর্কের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন; তাই সানআনি-এর আপত্তির বিপরীতে এই খণ্ডন গ্রহণে আমি দ্বিধান্বিত। …

 

‌‌তৃতীয় আপত্তি: প্রকাশ্য পাপাচারীর (فاسق التصريح) বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা:

সানআনি (পৃ. ৯৫: ১০২) বলেন: [সাহাবিদের গালিদানকারী রাফেজি (رافضي) এবং আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে গালিদানকারী নাসিবিদের (ناصبي) বর্ণনা (رواية) গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি আপত্তি রয়েছে, যেখানে তারা সাহাবিদের গালি দেওয়াকে কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, যেমনটি 'জামউল জাওয়ামি' এবং 'আল-ফুসুল' কিতাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তারা যদি কবিরা গুনাহে (الكبائر) লিপ্ত ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করেন, তবে তা কেবল তার সত্যবাদিতার ধারণার ভিত্তিতেই করেন। অথচ কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) ছাড়াই সরাসরি প্রকাশ্য পাপাচারী (فاسق تصريح)। ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞায় ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে যে, এটি (পাপাচার) থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক। আর 'আল-ফুসুল' ও অন্যান্য কিতাবে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকাশ্য পাপাচারীর (فاسق التصريح) কথা গ্রহণ না করার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) বর্ণিত হয়েছে। 'আল-ফুসুল' এর লেখক মহান আল্লাহর বাণী: 'যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করো' (আয়াত) দিয়ে এর প্রমাণ পেশ করেছেন। তিনি এই আয়াতের মাধ্যমে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তা ওয়ালিদ ইবনে উকবাহ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যেমনটি তাফসিরের ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনি সহিহ মুসলিম-এর বর্ণনা অনুযায়ী মদ্যপানের কারণে একজন প্রকাশ্য পাপাচারী (فاسق تصريح) ছিলেন। ইবনে আবদিল বার ও জাহাবিও তার মদ্যপানের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন... আপনি যদি পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো অনুসরণ করেন তবে জানবেন যে, আয়াতটি নির্দেশ করছে যে প্রকাশ্য পাপাচারীর (فاسق تصريحا) সংবাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে হবে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে না; বরং সে যা সংবাদ দিয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা আবশ্যক, তার সংবাদ সরাসরি প্রত্যাখ্যান (رد) করা নয় (১)।

আপনি যদি বলেন যে, তার সংবাদ (خبر) গ্রহণ না করা এবং প্রত্যাখ্যান (رد) করার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে ইজমা (إجماع) কীভাবে আয়াতের বিরোধী হলো? আমি বলব, আমরা এই ইজমা (إجماع) স্বীকার করি না। কারণ এই হাদিস বিশারদগণ (أئمة الحديث) এমন প্রকাশ্য পাপাচারীদের (فساق التصريح) থেকে বর্ণনা করেছেন যারা শায়খাইন (আবু বকর ও উমর) এবং আলিকে গালি দিত। এমতাবস্থায় ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞায় কবিরা গুনাহকে (الكبائر) মুসলিমকে গালি দেওয়া ব্যতীত অন্যান্য গুনাহের জন্য সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) আয়াতটি নির্দেশ করে যে, যদি তার সত্যবাদিতা স্পষ্ট হয় তবে তার সংবাদ (خبر) গ্রহণ করা বৈধ, আর সে মিথ্যাবাদী হলে তা প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে। সুতরাং এই আয়াতের সাথে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ভিত্তি সত্যবাদিতার ধারণা এবং মিথ্যা না বলার ওপর হওয়া সংক্রান্ত মতামতের কোনো বিরোধ নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن هنا تزداد بصيرة في أن رسم العدالة بذلك الرسم لا يتم في حق الرواة وأن المرجع ليس إلا في ظن الصدق فإن قلت قد أبطل الله تعالى شهادة القاذف فقال (وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا) والقذف كبيرة فيلحق به سائر الكبائر في عدم القبول لأخبار مرتكبها، قلت أما أولا فإنه قياس فاسد الوضع لمصادمته آية التبين.

وثانيا إنه لا قياس لكبيرة على كبيرة لعدم معرفة الوجه الجامع وإلا لزم إيجاب حد القذف في كل كبيرة بالقياس عليه.

فالحق أن القذف لعظم حرمة المؤمنات وهتك حجاب عفتهن كانت عقوبة القاذف شديدة في الدنيا بأمرين جلده ثمانين جلدة ثم إسقاطه عن قبول الشهادة ولو في حبة خردل فلا يحلق به غيره (1).

فإن قلت وكيف يعرف أن المخبر يفيد خبره الظن فإنه إنما يعرف ذلك من خالط المخبر قلت ما يعرف به عدالة المخبرين الذين لم يلقهم المخبر له يعرف صدق المخبرين فإن معرفة أحوال الرواة من تراجمهم يفيد ذلك].

 

‌‌الاعتراض الرابع: القصور في تعريف التقوى:

قال الصنعاني (ص/ 47): [في رسم الحافظ للتقوى قصورا فإنها اجتناب المحرمات والإتيان بالواجبات وقد اقتصر على الفصل الأول من فصلي رسمها ومنهم من فسرها بالاحتراز عما يذم شرعا وهو صحيح شامل للأمرين].

 

‌‌الاعتراض الخامس: العدالة والبدعة (2):

قال الصنعاني (ص/24: 29): [قسم الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى البدعة في النخبة إلى قسمين: إلى ما يكون بمكفر أو بمفسق، واختار في شرحها أن الأول لا يكون قادحا في الراوي إلا إذا كان ردا لأمر معلوم من الدين ضرورة أو عكسه أي إثباتا لأمر معلوم بالضرورة أنه ليس منه وإنما فسرنا العكس بهذا لأن ذكر الاعتقاد لا دخل له في كون الفعل بدعة فلا بد من حمله على إثبات أمر ليقابل

--------------------------------------------

(1) - وهذه الآية في الشهادة، وقد فرق العلماء بين الشهادة والرواية من وجوه كثيرة، لعله يأتي بسطها في غير هذا الموضوع بإذن الله تعالى.

(2) - سوف يأتي للمؤلف كلاماً عن البدعة في آخر رسالته، وسوف أتكلم عليها هناك - إن شاء الله - بأوسع من ذلك، فاللهم بلغ، وسدد، واعن يا كريم.
এখান থেকে এই অন্তর্দৃষ্টি আরও বৃদ্ধি পায় যে, সততার (عدالة) সংজ্ঞায়ন সেই পদ্ধতিতে বর্ণনাকারীদের (رواة) ক্ষেত্রে পূর্ণতা পায় না এবং এর মূল ভিত্তি কেবল সত্যবাদিতার প্রবল ধারণার (ظن الصدق) ওপর নির্ভরশীল। আপনি যদি বলেন যে, আল্লাহ তাআলা অপবাদদানকারীর সাক্ষ্য (شهادة) বাতিল ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন: (وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا) "আর তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না", আর অপবাদ দেওয়া একটি কবিরা গুনাহ (كبيرة), অতএব এর সাথে অন্যান্য সকল কবিরা গুনাহকেও (كبيرة) যুক্ত করা উচিত যাতে এ ধরনের পাপে লিপ্ত ব্যক্তির বর্ণিত সংবাদ গ্রহণ না করা হয়। আমি বলব, প্রথমত এটি একটি ভ্রান্ত অনুমান (قياس فاسد الوضع), কারণ এটি প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের নির্দেশের (آية التبين) সাথে সাংঘর্ষিক।

দ্বিতীয়ত, এক কবিরা গুনাহকে (كبيرة) অন্য কবিরা গুনাহের (كبيرة) সাথে তুলনা বা অনুমান (قياس) করা চলে না, কারণ এগুলোর মধ্যে সংযোগকারী সাধারণ বৈশিষ্ট্য (الوجه الجامع) অজ্ঞাত। অন্যথায়, অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে প্রতিটি কবিরা গুনাহের (كبيرة) ক্ষেত্রেও অপবাদের নির্ধারিত দণ্ড (حد القذف) প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ত।

প্রকৃত সত্য হলো, মুমিন নারীদের মর্যাদার বিশালতা এবং তাদের সতীত্বের আবরণ লুণ্ঠন করার ভয়াবহতার কারণে অপবাদদানকারীর শাস্তি দুনিয়াতে দুটি বিষয়ের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে: তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা এবং এরপর তার সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের যোগ্যতা চিরতরে বাতিল করা, এমনকি তা একটি সরিষার দানা পরিমাণ তুচ্ছ বিষয়ে হলেও। সুতরাং অন্য কোনো বিষয়কে এর সাথে যুক্ত করা যাবে না (১)।

যদি আপনি বলেন, সংবাদদাতার সংবাদ যে প্রবল ধারণার (ظن) উদ্রেক করে তা কীভাবে জানা যাবে? কেননা এটি কেবল তার পক্ষেই জানা সম্ভব যে উক্ত সংবাদদাতার সাথে মেলামেশা করেছে। আমি বলব, যে ব্যক্তি সংবাদদাতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেনি, সে যেভাবে তাদের সততা (عدالة) জানতে পারে, সেভাবেই তাদের সত্যবাদিতাও জানতে পারে। কারণ বর্ণনাকারীদের (رواة) জীবনী (تراجم) সংক্রান্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করলে এটি জানা সম্ভব হয়।

 

‌‌চতুর্থ আপত্তি: তাকওয়া (تقوى)-এর সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধতা:

আস-সানআনি বলেন (পৃষ্ঠা ৪৭): [হাফিজ (ইবনে হাজার) কর্তৃক প্রদত্ত তাকওয়া (تقوى)-এর সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ তাকওয়া (تقوى) হলো হারাম বিষয়সমূহ বর্জন করা এবং ওয়াজিবসমূহ পালন করা। অথচ তিনি সংজ্ঞার দুটি অংশের মধ্যে কেবল প্রথম অংশটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আবার কেউ কেউ তাকওয়ার ব্যাখ্যা করেছেন শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে নিন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা হিসেবে, যা উভয় অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটিই সঠিক]।

 

‌‌পঞ্চম আপত্তি: সততা (عدالة) এবং বিদআত (بدعة) (২):

আস-সানআনি বলেন (পৃষ্ঠা ২৪-২৯): [হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) নুখবাতুল ফিকার গ্রন্থে বিদআতকে (بدعة) দুই ভাগে ভাগ করেছেন: যা কুফর সাব্যস্ত করে এবং যা ফাসেক সাব্যস্ত করে। তিনি এর ব্যাখ্যায় (নুখবাতুল ফিকারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুজহাতুন নাজার'-এ) এই মত গ্রহণ করেছেন যে, প্রথম প্রকারটি বর্ণনাকারীর (راوي) জন্য ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না তা দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত কোনো বিষয়কে অস্বীকার করার পর্যায়ে পড়ে অথবা এর বিপরীত হয়, অর্থাৎ দ্বীনের অংশ নয় এমন বিষয়কে অকাট্যভাবে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলে প্রমাণ করে। আমরা 'বিপরীত' কথাটি এই অর্থে ব্যাখ্যা করেছি কারণ কেবল বিশ্বাসের উল্লেখ থাকা কোনো কাজকে বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না। অতএব একে কোনো বিষয় প্রমাণের অর্থে গ্রহণ করতে হবে যেন এটি একটি বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে]

--------------------------------------------

(১) - এই আয়াতটি সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান সংক্রান্ত। উলামায়ে কেরাম সাক্ষ্য (شهادة) এবং রেওয়ায়েত (رواية)-এর মধ্যে অনেক দিক থেকে পার্থক্য করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ অন্য কোনো স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।

(২) - লেখকের বিদআত (بدعة) সংক্রান্ত আলোচনা এই রিসালার শেষে আসবে। আমি সেখানে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। হে দয়াময় আল্লাহ, কবুল করুন, সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং সাহায্য করুন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
إنكار أمر فيكون إلماما بالأمرين اللذين هما مرجع البدعة ومنشؤها وهما النقص في الدين والزيادة فيه … وكان حق العبارة أن يقول أو إثبات غيره أي إثباتا لأمر في الدين معلوم بالضرورة أنه ليس منه قلت إلا أنه لا يخفى أنه من كان بهذه الصفة فهو كافر لرده ما علم من الدين ضرورة وإثباته ما ليس منه ضرورة وكلا الأمرين كفر وإنه تكذيب للشارع وتكذيبه في أي أمر علم من الدين ضرورة إثباته أو نفيه كفر فهذا ليس من محل النزاع إذ النزاع في مجرد الابتداع لا في الكافر الكفر الصريح فلا نزاع فيه وإذا كان من هو بهذه الصفة فقد جاوز رتبة الابتداع إلى أشر منه وأنه لا يرد من أهل ذلك القسم إلا هذا عرفت أنه لا يرد أحد من أهل هذا القسم وأن كل مبتدع مقبول وأما ما يكون ابتداعه بمفسق فقد اختاره لنفسه ونقله عن الجماهير أنه يقبل ما لم يكن داعية وحينئذ فرده لأجل كونه داعية إلى بدعته لا لأجل بدعته فتحصل من هذا أن كل مبتدع مقبول سواء كان بمكفر أو بمفسق واستثناؤه لمن رد ما علم فاثبت من الدين ضرورة أو زاد فيه ما ليس بضرورة ليس لأجل بدعته بل لرده وإثباته ما ليس من الدين ضرورة وكذا رد الداعية لأجل دعوته لا لأجل بدعته والكل ليس من محل النزاع، ثم لا يخفى أن الحافظ وأهل مذهبه لا يرون التكفير بالتأويل فكأنه قسم البدعة على رأي غيره … انتهى

ثم قال: مسألة قبول كافر التأويل وفاسقه:

وهذه هي مسألة قبول كافر التأويل وفاسقه وقد نقل صاحب العواصم إجماع الصحابة على قبول فساق التأويل من عشر طرق في كتبه الأربعة ونقل أدلة غير الإجماع واسعة إذا عرفت هذا فحق عبارة النخبة أن يقال ونقبل المبتدع مطلقا إلا الداعية]

ثم قال (ص/52 - 53): [قال في الزواجر وقد عد شيخ الإسلام الصلاح العلائي في قواعده والجلال البلقيني وغيرهما البدعة من الكبائر ولفظ الجلال البلقيني في تعداد الكبائر السادسة عشرة البدعة وهي المراد بترك السنة. إذا عرفت هذا فلا يخلو إما أن يقول قائل: المبتدع عدل وإن ابتداعه لا يخل بعدالته فهذا رجوع عن رسم العدالة بما ذكره فهذه الأحاديث وأقوال العلماء منادية على أن الابتداع من الكبائر وقد رسموا الكبيرة بما توعد عليه بخصوصه وهو صادق على
কোনো বিষয় অস্বীকার করা, যা সেই দুটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যা বিদআত (بدعة)-এর প্রত্যাবর্তনস্থল ও উৎস; আর তা হলো দ্বীনের মধ্যে কোনো বিষয় হ্রাস করা অথবা তাতে বৃদ্ধি করা … বক্তব্যের যথার্থতা দাবি করে যে তিনি বলবেন, অথবা অন্য কিছু সাব্যস্ত করা; অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা যা অকাট্যভাবে পরিচিত যে তা দ্বীনের অংশ নয়। আমি বলব, তবে এটি অস্পষ্ট নয় যে, যে ব্যক্তি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, সে কাফের (كافر) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সে দ্বীনের অকাট্যভাবে প্রমাণিত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করছে এবং যা দ্বীনের অংশ নয় তা অকাট্যভাবে সাব্যস্ত করছে। আর এই উভয় বিষয়ই কুফর (كفر)। এটি মূলত শরীয়ত প্রণেতার প্রতি মিথ্যারোপ; আর দ্বীনের অকাট্য প্রমাণিত কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মিথ্যারোপ করা কুফর (كفر)। তাই এটি মতভেদের স্থান নয়; কেননা মতভেদ কেবল নব-আবিষ্কার বা বিদআত (ابتداع) নিয়ে, স্পষ্ট কাফের (كافر)-এর ব্যাপারে নয়; এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আর যখন কেউ এই বৈশিষ্ট্যে পৌঁছায়, তখন সে বিদআত (ابتداع)-এর স্তর অতিক্রম করে তার চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে চলে যায়। এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল তাকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। আপনি জানতে পারলেন যে, এই শ্রেণীর অন্য কাউকে প্রত্যাখ্যান করা হয় না এবং প্রত্যেক বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তিই গ্রহণযোগ্য (مقبول)। আর যার নব-আবিষ্কার বা বিদআত (ابتداع) ফাসেক সাব্যস্তকারী (مفسق) পর্যায়ের, তার ক্ষেত্রে তিনি (ইবনে হাজার) নিজের জন্য যা পছন্দ করেছেন এবং জমহুর ওলামাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তা হলো—যতক্ষণ সে নিজ বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) না হবে, ততক্ষণ তাকে গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় তাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হওয়ার কারণে, তার বিদআত (بدعة)-এর কারণে নয়। সারকথা হলো, প্রত্যেক বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তিই গ্রহণযোগ্য (مقبুল), চাই সে কাফের সাব্যস্তকারী (مكفر) বিদআতের অনুসারী হোক বা ফাসেক সাব্যস্তকারী (مفسق) বিদআতের। আর দ্বীনের অকাট্য কোনো বিষয় প্রত্যাখ্যান করে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে বা দ্বীনের বহির্ভূত বিষয় বৃদ্ধি করার কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হলে তা তার বিদআতের কারণে নয়, বরং তার অকাট্য বিষয় প্রত্যাখ্যান ও সাব্যস্ত করার কারণে। তদ্রূপ আহ্বানকারী (داعية)-কে প্রত্যাখ্যান করা তার আহ্বানের কারণে, তার বিদআতের কারণে নয় এবং এর কোনোটিই মতভেদের মূল স্থান নয়। অতঃপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাফেজ এবং তার মাযহাবের অনুসারীগণ ব্যাখ্যার কারণে কাফের সাব্যস্ত করা সমর্থন করেন না। মনে হচ্ছে তিনি অন্যের মতানুসারে বিদআতকে বিন্যস্ত করেছেন … সমাপ্ত।

অতঃপর তিনি বলেন: ব্যাখ্যার কারণে কাফের ও পাপাচারী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতার মাসআলা:

আর এটি হলো ব্যাখ্যার কারণে কাফের (كافر) ও পাপাচারী (فاسق) সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতার মাসআলা। আল-আওয়াসিম গ্রন্থের লেখক তার চারটি কিতাবে দশটি সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যার কারণে পাপাচারী (فساق التأويل) সাব্যস্ত ব্যক্তিদের গ্রহণযোগ্যতার ওপর সাহাবীগণের ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন এবং ঐক্যমত্য ছাড়াও বহু বিস্তৃত দলিল পেশ করেছেন। যদি আপনি এটি জানতে পারেন, তবে নুখবাহ-এর বক্তব্যের যথার্থতা হবে এমন বলা যে, 'আমরা সাধারণভাবে বিদআতী (مبتدع)-কে গ্রহণ করব কেবল আহ্বানকারী (داعية) ব্যতীত'।

অতঃপর তিনি বলেন (পৃ. ৫২ - ৫৩): আজ-জাওয়াজির গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, শাইখুল ইসলাম সালাহ আল-আলাই তার কাওয়ায়িদ গ্রন্থে এবং জালাল আল-বালকিনি ও অন্যান্যরা বিদআত (بدعة)-কে কবিরা গুনাহ (كبائر)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। জালাল আল-বালকিনির শব্দে কবিরা গুনাহ (كبائر)-এর বর্ণনায় ষোড়শ বিষয়টি হলো বিদআত (بدعة), যা দ্বারা সুন্নাহ ত্যাগ করা উদ্দেশ্য। যদি আপনি এটি জানতে পারেন, তবে বিষয়টি এমন হওয়া থেকে খালি নয় যে—হয় কেউ বলবে: বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং তার নব-আবিষ্কার বা বিদআত (ابتداع) তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-কে নষ্ট করে না। তবে এটি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর সংজ্ঞায় তার বর্ণিত মূলনীতি থেকে সরে আসা হবে। কেননা হাদিসসমূহ এবং ওলামাদের উক্তি ঘোষণা দিচ্ছে যে নব-আবিষ্কার বা বিদআত (ابتداع) কবিরা গুনাহ (كبائر)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কবিরা গুনাহের সংজ্ঞা দিয়েছেন এমন বিষয় দ্বারা যার জন্য বিশেষভাবে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
البدعة، ومن هنا ينقدح لك أن من حذف البدعة من رسم العدالة فلدخولها في لفظ الكبائر المذكورة في الرسم أو يقول إنها تخل بالعدالة فهذا يعود على شرطية العدالة في الراوي بالنقض].

 

‌‌المبتدع الداعية إلى بدعته:

قال (ص/103: 105): [سبقت الإشارة إلى أنهم قد استثنوا من المبتدعة الداعية فقالوا ولا يقبل خبره قال في التنقيح فإن قلت ما الفرق بين الداعية وغيره عندهم قلت ما أعلم أنهم ذكروا فيه شيئا ولكن نظرت فلم أجد غير وجهين: أحدهما أن الداعية شديد الرغبة في استمالة قلوب الناس إلى ما يدعوهم إليه فربما حمله عظيم ذلك على تدليس أو تأويل. الوجه الثاني أن الرواية عن الداعية تشتمل على مفسدة وهي إظهار أهليته للرواية وأنه من أهل الصدق والأمانة وذلك تغرير لمخالطته وفي مخالطة من هو كذلك للعامة مفسدة كبيرة قلت وهذا الوجه الآخر قد أشار إليه أبو الفتح القشيري نقله عنه الحافظ ابن حجر ثم قال في التنقيح والجواب عن الأول أنها تهمة ضعيفة لا تساوي الورع أي المانع الشرعي الذي يمنع ذلك المبتدع المتدين من الفسوق في الدين وارتكاب دناءة الكذب. الذي يتنزه عنه كثير من الفسقة المتمردين كيف والكاذب لا يخفى تزويره وعما قليل ينكشف تدليسه وتغريره ويفهمه النقاد وتتناوله ألسنة أهل الأحقاد وأهل المناصب الرفيعة يأنفون من ذلك فكيف إذا كانوا من أهل الجمع بين الصيانة والديانة. وقد احتجوا بقتادة لما قويت عندهم عدالة أمانته وهو داعية على أصولهم إلى بدعة الاعتزال. قال الإمام الذهبي في التذكرة كان يرى القدر ولم يكن يقنع حتى كان يصيح به صياحا. ثم قال صاحب التنقيح والجواب عن الثاني أنا نقول إما أن يقوم الدليل الشرعي على قبولهم أو لا إن لم يدل على وجوب قبولهم لم نقبلهم دعاة كانوا أو غير دعاة وإن دل على وجوب القبول لم يصلح ما أورده مانعا من امتثال الأمر ولا مسقطا انتهى

فعلمت من هذا كله قبول من لم يتهم بالكذب وعدم شرطية العدالة بالمعنى الذي أرادوه وهو أنه لا يرد من المبتدعة إلا من أجاز الكذب لنصرة مذهبه كالخطابية]

 

‌‌إخراج الشيخان لبعض المبتدعة:

وقال (ص/85: 93): [وفي البخاري من المبتدعة أمم لا يحصون وفي
বিদআত (البدعة), এখান থেকেই আপনার কাছে প্রতিভাত হবে যে, যারা সততার (العدالة) সংজ্ঞা থেকে বিদআতকে (البدعة) বাদ দিয়েছেন, তারা একে সংজ্ঞায় বর্ণিত কবিরা গুনাহের (الكبائر) শব্দাবলীর অন্তর্ভুক্ত মনে করার কারণেই তা করেছেন। অথবা যদি কেউ বলেন যে এটি সততাকে (العدالة) ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তা বর্ণনাকারীর (الراوي) সততার (العدالة) শর্তারোপের পরিপন্থী।

 

‌‌স্বীয় বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী বিদআতি (المبتدع):

তিনি (পৃষ্ঠা ১০৩-১০৫) বলেন: [পূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তারা বিদআতিদের (المبتدعة) মধ্য থেকে আহ্বানকারীকে (الداعية) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন যে তার সংবাদ (خبر) কবুল করা হবে না। 'আত-তানকিহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি আপনি বলেন তাদের নিকট আহ্বানকারী (الداعية) এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি বলব যে তারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই, তবে আমি গভীর পর্যবেক্ষণের পর কেবল দুটি কারণ পেয়েছি: প্রথমটি হলো, আহ্বানকারী (الداعية) মানুষকে তার মতাদর্শের দিকে আকৃষ্ট করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন, যা তাকে হয়তো তাদলিস (تدليس) অথবা অপব্যাখ্যার (تأويل) দিকে প্ররোচিত করতে পারে। দ্বিতীয় কারণটি হলো, আহ্বানকারীর (الداعية) নিকট থেকে বর্ণনা (الرواية) গ্রহণের মধ্যে একটি অনিষ্টতা (مفسدة) নিহিত রয়েছে, আর তা হলো বর্ণনার (الرواية) জন্য তাকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সে যে সত্যবাদিতা (الصدق) ও বিশ্বস্ততার (الأمانة) অধিকারী তা প্রকাশ করা। এটি মূলত তার সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে একটি প্রতারণা, আর এ ধরণের ব্যক্তির সাথে সাধারণ মানুষের মেলামেশায় এক বিরাট অনিষ্টতা (مفسدة) রয়েছে। আমি বলব, এই দ্বিতীয় কারণটির দিকে আবু আল-ফাতহ আল-কুশায়রি ইঙ্গিত করেছেন যা হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এরপর 'আত-তানকিহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রথমটির উত্তর হলো যে এটি একটি দুর্বল (ضعيفة) অভিযোগ যা খোদাভীতির (الورع) সমতুল্য নয়; অর্থাৎ সেই শরয়ি বাধা যা ধর্মপ্রাণ বিদআতিকে (المبتدع) দ্বীনের ব্যাপারে পাপাচার (الفسوق) এবং ঘৃণ্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত রাখে। যে মিথ্যা থেকে অনেক বিদ্রোহী পাপাচারীও (الفسقة) দূরে থাকে। আর মিথ্যুক (الكاذب) ব্যক্তির জালিয়াতি গোপন থাকে না, শীঘ্রই তার তাদলিস (تدليس) ও প্রতারণা প্রকাশ হয়ে পড়ে, যা সমালোচকগণ (النقاد) বুঝতে পারেন এবং বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের মুখে তা আলোচিত হয়। উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিরাই যেখানে এ ধরণের কাজকে ঘৃণা করেন, সেখানে যারা আত্মরক্ষা ও ধর্মনিষ্ঠার অধিকারী তারা তো অবশ্যই তা করবেন। তারা কাতাদাহর (রহ.) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যখন তাদের নিকট তাঁর বিশ্বস্ততা ও সততা (العدالة) শক্তিশালী হয়েছে, অথচ তিনি তাদের মূলনীতি অনুযায়ী ইতিজাল (الاعتزال)-এর বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী (داعية) ছিলেন। ইমাম যাহাবি ‘তাজকিরাহ’ গ্রন্থে বলেন, তিনি কদর (القدر) মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এতেই ক্ষান্ত ছিলেন না বরং তিনি উচ্চস্বরে এর প্রচার করতেন। এরপর 'আত-তানকিহ' এর লেখক বলেন, দ্বিতীয়টির উত্তর হলো যে আমরা বলি—হয় তাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে শরয়ি দলিল বিদ্যমান থাকবে নতুবা থাকবে না। যদি তাদের গ্রহণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে দলিল না থাকে, তবে তারা আহ্বানকারী (دعاة) হোন বা না হোন আমরা তাদের গ্রহণ করব না। আর যদি গ্রহণের আবশ্যকতা সম্পর্কে দলিল পাওয়া যায়, তবে তিনি যে আপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন তা নির্দেশ পালনে বাধা হতে পারে না এবং তা বাতিলও করতে পারে না। সমাপ্ত।

এই সব কিছু থেকে বোঝা গেল যে, যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ নেই তাকে গ্রহণ করা হবে। আর সততা (العدالة) তাদের উদ্দেশ্যকৃত অর্থে শর্ত নয়। এর অর্থ হলো বিদআতিদের (المبتدعة) মধ্য থেকে কেবল তাদেরকেই প্রত্যাখ্যান করা হবে যারা নিজেদের মতবাদকে বিজয়ী করার জন্য মিথ্যার বৈধতা দেয়, যেমন খাত্তাবিয়া সম্প্রদায়।]

 

‌‌শায়খাইন কর্তৃক কিছু বিদআতির (المبتدعة) বর্ণনা গ্রহণ:

তিনি (পৃষ্ঠা ৮৫-৯৩) বলেন: [আর সহিহ বুখারিতে অসংখ্য বিদআতি (المبتدعة) বর্ণনাকারী রয়েছেন এবং...
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
غيره من الأمهات وناهيك أنه أخرج لعمران بن حطان الخارجي المادح لقاتل علي رضي الله عنه بالأبيات المشهورة السائرة وأخرج البخاري وأبو داود والترمذي لعمران بن مسلم القصير قال يحيى القطان كان يرى القدر وهو مستقيم الحديث وأخرج الستة للفضل بن دكين وهو شيعي وأخرج الستة لأبي معاوية الضرير قال الحاكم احتجا به وقد اشتهر عنه الغلو قال الإمام الذهبي غلو التشيع وقد وثقه العجلي وأخرجوا أيضا لعدي بن ثابت وقد قال فيه ابن معين شيعي مفرط وقال الدارقطني رافضي غال وأخرج البخاري لإبراهيم بن طهمان وقد رموه بالإرجاء وأخرج البخاري لإسماعيل بن أبان وهو أحد شيوخه قال الجوزجاني كان مائلا عن الحق ولم يكن يكذب في الحديث قال ابن عدي يعني ما عليه الكوفيون من التشيع قال الحافظ ابن حجر الجوزجاني كان ناصبيا منحرفا عن علي فهو ضد الشيعي المنحرف عن عثمان والصواب موالاتهم جميعا ولا ينبغي لنا تسمع قول مبتدع في مبتدع انتهى.

وأخرج الشيخان لأيوب بن عايذ بن مدلج وثقة ابن معين وأبو حاتم والنسائي والعجلي وأبو داود وزاد أبو داود وكان مرجئا وقال البخاري وكان يرى الإرجاء إلا أنه صدوق وأخرج البخاري والترمذي والنسائي ليحيى بن صالح الوحاظي (1) الحمصي وثقه ابن معين وأبو اليمان قال إسحاق بن منصور كان مرجئا إذا عرفت هذا فهؤلاء جماعة بين مرجئ وقدري وشيعي وناصبي غال وخارجي أخرجت أحاديثهم في الصحيحين وغيرهما ووثقوا كما سمعت وهم قطرة من رجال الكتب الستة الذين لهم هذه البدع وحكموا بصحة أحاديثهم مع الابتداع الذي ليس وراءه وراء وهل وراء بدعة الخوارج من شيء فهو دليل ناهض على إجماعهم على أن عمدة قبول الرواية وعلتها حصول الظن بصدق الراوي وعدم تلوثه بالكذب ألا ترى قول مالك في جماعة لا عدالة لهم كانوا لئن يخروا من السماء إلى الأرض أسهل عليهم من أن يكذبوا فما لاحظ إلا ظنه بصدقهم وقول من قال في إسماعيل بن أبان كان مائلا عن الحق إلا أنه كان لا يكذب في الحديث.

--------------------------------------------

(1) بالأصل: أبو حائطي، والتوصيب من كتب التراجم.
অন্যান্য মূল গ্রন্থগুলোর (উম্মাহাত) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনার জানার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি খারিজি (خارجي) ইমরান ইবনে হিত্তানের হাদিস বর্ণনা করেছেন, যিনি আলী (রা.)-এর হত্যাকারীকে তার বিখ্যাত ও বহুল প্রচারিত কবিতাগুলোর মাধ্যমে প্রশংসা করেছিলেন। বুখারি, আবু দাউদ এবং তিরমিজি ইমরান ইবনে মুসলিম আল-কাসীর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেছেন, তিনি তাকদির অস্বীকারের মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন সঠিক হাদিস বর্ণনাকারী (مستقيم الحديث)। বুখারি, মুসলিম ও চার সুনানসহ ছয়টি কিতাবের সংকলকগণ ফজল ইবনে দুকাইন থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন শিয়া (شيعي)। এই ছয়টি কিতাবে আবু মুআবিয়া আদ-দাবির থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাকিম বলেছেন, তারা তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যদিও তার চরমপন্থা (غلو) প্রসিদ্ধ ছিল। ইমাম জাহাবি বলেছেন, এটি শিয়া মতবাদের চরমপন্থা (غلو التشيع); তবে ইজলি তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। তারা আদি ইবনে সাবিত থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার সম্পর্কে ইবনে মাইন বলেছেন, তিনি কট্টর শিয়া (شيعي مفرط) ছিলেন এবং দারা কুতনি বলেছেন, তিনি ছিলেন চরমপন্থী রাফেজি (رافضي غال)। বুখারি ইব্রাহিম ইবনে তাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, যাকে লোকেরা মুরজিয়া মতবাদের (إرجاء) অনুসারী বলে অভিযুক্ত করেছেন। বুখারি ইসমাইল ইবনে আবান থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন, যিনি তার অন্যতম উস্তাদ ছিলেন। জুজজানি তার সম্পর্কে বলেছেন, তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত (مائلا عن الحق) ছিলেন কিন্তু হাদিসে মিথ্যা বলতেন (يكذب) না। ইবনে আদি বলেন, এর অর্থ হলো কুফাবাসীদের মাঝে প্রচলিত শিয়া মতবাদের (تشيع) প্রতি তার ঝোঁক ছিল। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন, জুজজানি নিজে ছিলেন নাসিবি (ناصبيا) এবং আলীর প্রতি বিদ্বেষী; সুতরাং তিনি ছিলেন উসমানের প্রতি বিদ্বেষী চরমপন্থী শিয়ার বিপরীত মেরুর। আর সঠিক পথ হলো তাদের সবার প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা এবং এক বিদআতপন্থীর (مبتدع) বিষয়ে অন্য বিদআতপন্থীর (مبتدع) কথা আমাদের গ্রহণ করা উচিত নয়। সমাপ্ত।

বুখারি ও মুসলিম আইয়ুব ইবনে আইজ ইবনে মুদলিয থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাকে ইবনে মাইন, আবু হাতিম, নাসায়ি, ইজলি এবং আবু দাউদ নির্ভরযোগ্য (وثقة) বলেছেন। আবু দাউদ আরও যোগ করেছেন যে তিনি মুরজিয়াপন্থী (مرجئا) ছিলেন। ইমাম বুখারি বলেছেন, তিনি মুরজিয়া মতবাদে (إرجاء) বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যবাদী (صدوق)। বুখারি, তিরমিজি ও নাসায়ি ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-উহাজি (১) আল-হিমসি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাকে ইবনে মাইন এবং আবু আল-ইয়ামান নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ইসহাক ইবনে মনসুর বলেছেন, তিনি মুরজিয়াপন্থী (مرجئا) ছিলেন। আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন বুঝুন যে এরা মুরজিয়াপন্থী (مرجئا), কাদরিয়াপন্থী (قدري), শিয়া (شيعي), চরমপন্থী (غال) নাসিবি (ناصبيا) এবং খারিজিদের (خارجي) একটি দল, যাদের হাদিস বুখারি ও মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তারা নির্ভরযোগ্য (وثقوا) বলে গণ্য হয়েছেন যেমনটি আপনি শুনলেন। কুতুবুস সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের মাঝে এ ধরনের বিদআত ছিল, তারা সমুদ্রের এক বিন্দুর মতো। তাদের বিদআত থাকা সত্ত্বেও ইমামগণ তাদের হাদিসগুলোকে সহিহ হিসেবে গণ্য করেছেন। খারিজিদের বিদআতের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে? এটি একটি জোরালো দলিল যে, তাদের নিকট বর্ণনা (رواية) গ্রহণের মূল ভিত্তি এবং মানদণ্ড হলো বর্ণনাকারীর (الراوي) সত্যবাদিতা (صدق) সম্পর্কে প্রবল ধারণা হওয়া এবং মিথ্যার কলুষতা থেকে মুক্ত থাকা। আপনি কি দেখেননি ইমাম মালিকের সেই বক্তব্য যেখানে তিনি এমন একদল লোক সম্পর্কে বলেছেন যাদের কোনো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ছিল না, অথচ আসমান থেকে জমিনে পড়ে যাওয়া তাদের কাছে হাদিসে মিথ্যা বলা (يكذبوا) অপেক্ষা সহজ ছিল? এখানে তিনি কেবল তাদের সত্যবাদিতা (صدقهم) সম্পর্কে নিজের প্রবল ধারণাকেই বিবেচনা করেছেন। আবার ইসমাইল ইবনে আবান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত (مائلا عن الحق) ছিলেন, কিন্তু তিনি হাদিসে কখনো মিথ্যা বলতেন (يكذب) না।

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: আবু হাইতি; সংশোধনীটি জীবনী গ্রন্থসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
مناقشة غريبة:

وكذا توثيقهم لجميع من سمعت مع ذكرهم لعظائم بدعهم ما ذاك إلا لأن المدار على ظن الصدق لا غير وكفاك بقول الحافظ ابن حجر إنه لا أثر للتضعيف مع ظن الصدق والضبط وإذا عرفت هذا اتضح لك ما في رسم الصحيح والحسن من الاختلال حيث أخذوا عدالة الراوي شرطا فيهما وفسروا العدالة بما لا بدعة معه ووصلوا إلى محل التصحيح والتحسين فحكموا على أحاديث المبتدعة بهما وقد أطبقت على تلك الشريطة كتب أصول الحديث وكتب أصول الفقه حتى إنه لم يستدل ابن الحاجب في مختصر المنتهى ولا من تابعه كمؤلف نهاية السؤل وشرحها على شرطية العدالة في الراوي وإنما اشتغلا بتفسيرها كأن شرطيتها أمر قد علم من الدين ضرورة]

(ومما يؤيد ما قاله أيضاً إخراج الأئمة في دواوين السنة لبعض المبتدعة فيما يتعلق ببدعتهم، فقد روى الإمام أحمد ومسلم والترمذي والنسائي وابن ماجه: عن عدي بن ثابت عن زر قال: قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: والذي فلق الحبة وبرأ النسمة إنّه لعهد النبي الأمّي صلى الله عليه وسلم إليّ أنّ لا يحبني إلا مؤمن ولا يبغضني إلا منافق.

وعدي بن ثابت: قال عنه الذهبي في الكاشف: ثقة، لكنه قاص الشيعة وإمام مسجدهم بالكوفة.

( … وللشيخ عبد الله السعد تحقيق لطيف حول مبحث العدالة، وعلاقتها بالبدعة، انقل عبارته لأهميتها قال: [فأما ما يتعلق بالعدالة: فالعدالة هي: " الاستقامة " وهذه الاستقامة مرجعها إلى الاعتقاد والأقوال والأعمال. فلا بد أن يكون الاعتقاد والأقوال والأعمال مستقيمة حتى يكون هذا الراوي مستقيماً وعدلاً. لكن أحياناً قد تتخلف بعض هذه الأشياء ومع ذلك لا يضر هذا الراوي فيما يتعلق بالحكم عليه من حيث الثقة وعدم ذلك.

فمثلاً المبتدع إذا لم تكن بدعته بدعة كبرى تخرجه من الملة. فهذا لا ينافي أن يحكم عليه بالثقة. وذلك أنه إذا كان صادقاً وكان حافظاً وضابطاً، فهذا لا يمنع من إطلاق الثقة عليه وإن كان هو ليس بعدل فيما يتعلق بالاعتقاد وذلك بسبب
একটি অভিনব আলোচনা:

অনুরূপভাবে, আপনার শোনা সকল রাবিকে তাদের গুরুতর বিদআত (بدعة) থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্ভরযোগ্য গণ্য করা (توثيق) কেবল সত্যবাদিতার প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে, অন্য কিছু নয়। হাফেজ ইবনে হাজারের এই উক্তিটিই আপনার জন্য যথেষ্ট যে, সত্যবাদিতা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) বিদ্যমান থাকলে দুর্বল গণ্য করার (تضعيف) কোনো প্রভাব থাকে না। আর আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) এর সংজ্ঞার অসংগতি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল; কারণ তারা উভয়ের ক্ষেত্রে রাবির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এর ব্যাখ্যা করেছেন এমনভাবে যেখানে কোনো বিদআত (بدعة) থাকবে না। অথচ যখন তারা সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) বলার পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তখন বিদআতিদের (مبتدع) হাদিসের ওপর উক্ত দুই প্রকারেরই হুকুম প্রদান করেছেন। উসুলুল হাদিস এবং উসুলুল ফিকহ এর গ্রন্থসমূহ এই শর্তের ওপর একমত হয়েছে, এমনকি ইবনে হাজিব তার মুখতাসারুল মুনতাহা গ্রন্থে বা তার অনুসারীরা—যেমন নিহায়াতুস সূল ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের রচয়িতা—রাবির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হওয়ার ওপর কোনো দলিল পেশ করেননি; বরং তারা কেবল এর সংজ্ঞায়িতকরণে লিপ্ত হয়েছেন, যেন এই শর্তটি দ্বীনের একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।

(ইমামগণের সুন্নাহর সংকলনসমূহে বিদআতিদের বর্ণিত হাদিস স্থান দেওয়াও উপরোক্ত কথাকে সমর্থন করে, বিশেষ করে যখন তা তাদের বিদআত (بدعة) সংশ্লিষ্ট হয়। ইমাম আহমদ, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: আদি ইবনে সাবিত থেকে, তিনি জির থেকে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেছেন: সেই সত্তার কসম যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয়ই নিরক্ষর নবী (সা.) আমার কাছে অঙ্গীকার করেছেন যে, কেবল মুমিনই আমাকে ভালোবাসবে এবং কেবল মুনাফিকই আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে।

আদি ইবনে সাবিত: যাহাবি আল-কাশিফ গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তিনি ছিলেন শিয়াদের কিচ্ছাকার এবং কুফায় তাদের মসজিদের ইমাম।

( … ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং বিদআত (بدعة) এর সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে শেখ আবদুল্লাহ আল-সা’দের একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে, গুরুত্বের কারণে আমি তার বক্তব্যটি এখানে উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেন: [ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সংক্রান্ত আলোচনা: ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) হলো: "অবিচলতা (استقامة)"। আর এই অবিচলতার (استقامة) মূল উৎস হলো বিশ্বাস, কথা এবং কাজ। সুতরাং রাবিকে অবিচল ও ন্যায়পরায়ণ (عدল) হতে হলে তার বিশ্বাস, কথা ও কাজ অবশ্যই সঠিক হতে হবে। তবে কখনো কখনো এর কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলেও তা নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) বা অনির্ভরযোগ্যতার হুকুমের ক্ষেত্রে ওই রাবির কোনো ক্ষতি করে না।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিদআতি (مبتدع) যদি এমন হয় যার বিদআত (بدعة) তাকে মিল্লাত বা ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার মতো বড় বিদআত (بدعة) নয়, তবে এটি তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয় না। কারণ, তিনি যদি সত্যবাদী হন এবং প্রখর মুখস্থ ও স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابط) হন, তবে তা তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে আখ্যায়িত করতে বাধা দেয় না, যদিও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) নন, আর তার কারণ হলো...
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
بدعته لأن هذا ليس له علاقة في الحكم على الراوي من حيث الثقة وعدمها.

تلك الثقة التي تدعونا لقبول الإسناد وعدم رده. ولذلك أهل العلم وثقوا كثيراً من الرواة ممن وصف ببدعة وقبلوهم في مجال الرواية وصححوا أحاديثهم.

مثال ذلك: محمد بن إسحاق بن خزيمة رحمه الله، قال في صحيحه: " حدثنا عباد بن يعقوب الرواجني الثقة في حديثه، المتهم في دينه (1) " ففرق ما بين توثيقه في حديثه وما بين اعتقاده فقال: " المتهم في دينه " وذلك أنه متهم بالتشيع، ففي الحقيقة أن البدعة لا يرد بها الخبر مطلقاً على القول الصحيح، سواءً كان هذا الراوي روى فيما يؤيد بدعته أو فيما لا يؤيد بدعته. وقد اختلف أهل العلم في هذه المسألة على ثلاثة أقوال (2):

القول الأول: رد رواية المبتدع مطلقاً. وأن الراوي المبتدع لا يقبل في مجال الرواية، وبالتالي لا يصح خبره ولا يقبل.

وهذا القول يذهب إليه أحياناً " أبو حاتم بن حبان البستي " صاحب الصحيح وهناك أمثلة على تضعيفه لبعض الرواة الثقات من أجل بدعتهم. فمثلاً أنه ضعف " حريز بن عثمان الرحبي" وهو ثقة ثبت وإنما الذي دعاه إلى تضعيفه، هو ما يتعلق ببدعته ألا وهى بدعة النصب، فلذلك ذهب إلى تضعيفه مع أنه ثقة ثبت وممن يذهب إلى ذلك أبو إسحاق إبراهيم ابن يعقوب الجوزجاني وخاصة فيمن وصف بالتشيع، فكان يرد حديث من هو موصوف بذلك. إلا نفراً من الرواة ممن اشتهروا بالحفظ والضبط كأبي إسحاق عمرو بن عبد الله السبيعي، وسليمان بن مهران الأعمش مع أنه حاول أن يرد أحاديثهم، ثم قبلهم.

--------------------------------------------

(1) - ولفظ ابن خزيمة: (المتهم في رأيه الثقة في حديثه).

(2) - وقد وصل بها أبو بكر كافي قي رسالته منهج الإمام البخاري في تصحيح الأحاديث وتعليلها (من خلال الجامع الصحيح) والتي أعدها لنيل درجة الماجستير، من جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية بقسنطينة الجزائر، والتي طبعت بدار ابن حزم إلى خمسة أقوال، وزاد: تقبل رواية المبتدع إذا كان مرويه مما يشتمل على ما ترد به بدعته، وذلك لبعده حينئذ عن تهمة الكذب 'تقبل روايته إذا كانت بدعته صغرى، وإذا كانت كبرى فلا تقبل. ولعل الله عزوجل يمن بعرض أدلة هذه الأقوال بأوسع من ذلك عند محله من الموقظة.
তাঁর বিদআত; কারণ বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) বা অনির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

সেই নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) যা আমাদের সনদ (إسناد) গ্রহণ করতে এবং তা প্রত্যাখ্যান না করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই কারণেই ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ এমন অনেক বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য (وثقوا) হিসেবে গণ্য করেছেন যাদের বিদআতের বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছিল, এবং তাঁরা বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তাঁদের গ্রহণ করেছেন ও তাঁদের বর্ণিত হাদিসসমূহকে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

উদাহরণস্বরূপ: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সহিহ-তে বলেছেন: "আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব আল-রওয়াজিনি, যিনি তাঁর হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু তাঁর দ্বীনের বিষয়ে অভিযুক্ত (متهم) (১)"। ফলে তিনি তাঁর হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) এবং তাঁর আকিদার মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর দ্বীনের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (متهم)"। এর কারণ হলো তিনি শিয়া মতবাদের (تشيع) অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সঠিক (صحيح) মতানুযায়ী বিদআতের কারণে সংবাদ (خبر) ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয় না; চাই সেই বর্ণনাকারী (راوي) তার বিদআতের সমর্থনে বর্ণনা করুক বা না করুক। এই মাসআলায় আলেমগণ তিনটি মতভেদে (أقوال) বিভক্ত হয়েছেন (২):

প্রথম মত: বিদআতি ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা। অর্থাৎ বিদআতি বর্ণনাকারীকে (راوي) বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে না এবং ফলশ্রুতিতে তার বর্ণিত সংবাদ (خبر) সহিহ (يصح) হবে না ও তা গ্রহণ করা হবে না।

এই মতটির দিকে মাঝে মাঝে সহিহ-এর লেখক "আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি" ঝুঁকেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে বিদআতের কারণে অনেক নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার উদাহরণ রয়েছে। যেমন, তিনি "হারিজ ইবনে উসমান আল-রাহবি"-কে দুর্বল (ضعف) বলেছেন, অথচ তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثقة ثبت)। তাঁকে দুর্বল (تضعيف) বলার পেছনে মূল কারণ ছিল তাঁর বিদআত সংশ্লিষ্ট বিষয়, আর তা হলো নাসবি (النصب) মতবাদ। তাই তিনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة ثبت) হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার দিকে গিয়েছেন। আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-জুজাজানিও এই মতের অনুসারী ছিলেন, বিশেষ করে যাদের শিয়া মতবাদের (تشيع) বিশেষণে বিশেষিত করা হতো। তিনি এ ধরনের বিশেষণে বিশেষিত ব্যক্তিদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করতেন। তবে এমন কিছু বর্ণনাকারী বাদে যারা স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (الحفظ والضبط) জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, যেমন আবু ইসহাক আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-সাবি'ঈ এবং সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশ; যদিও তিনি তাঁদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - ইবনে খুজাইমাহ-এর শব্দ হলো: (তাঁর মতাদর্শের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (متهم), তাঁর হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة))।

(২) - আবু বকর কাফি তাঁর 'মানহাজুল ইমামিল বুখারি ফি তাসহিহিল আহাদিস ওয়া তা'লিলিহা (মিন খিলালিল জামিউস সহিহ)' শীর্ষক অভিসন্দর্ভে (যা তিনি আলজেরিয়ার কুস্তানতিনায় অবস্থিত জামিয়াতুল আমির আব্দুল কাদিরুল ইসলামিয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং যা দার ইবনে হাজম থেকে প্রকাশিত হয়েছে) এই মতগুলোকে পাঁচটি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেছেন: বিদআতি ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) গ্রহণযোগ্য হবে যদি তার বর্ণিত বিষয়টি এমন হয় যা তার বিদআতকে খণ্ডন করে; কারণ তখন তার মিথ্যা বলার সংশয় থাকে না। 'তার বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে যদি তার বিদআত ছোট (صغرى) হয়, আর যদি বড় (كبرى) হয় তবে কবুল করা হবে না। সম্ভবত মহান আল্লাহ তাআলা আল-মুকিজাহ-এর সংশ্লিষ্ট স্থানে এই মতগুলোর দলিলসমূহ আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ দান করবেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
القول الثاني: هو التفصيل: فإذا كان هذا الراوي روى حديثاً يؤيد بدعته فهنا لا يقبل، وأما إذا روى حديثاً لا يؤيد بدعته فيقبل ، وهذا التفصيل قال به إبراهيم بن إسحاق الجوزجاني كذلك، واختاره كثير من المتأخرين ومنهم الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله.

القول الثالث: أن البدعة لا تؤثر على الراوي. إذا ثبت أنه حافظ ضابط وصادق ليس بكاذب، وهذا قول جمهور النقاد، جمهور المتقدمين وعلى رأسهم" الإمام علي ابن المديني ويحيى بن معين ويحيى بن سعيد القطان" وغيرهم، وعلى هذا المذهب البخاري ومسلم والترمذي والنسائي" وغيرهم من أهل العلم بالحديث.

ومن ذلك: أن مسلم بن الحجاج رحمه الله خرج من طريق عدي بن ثابت عن زر بن حبيش عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه، قال: " إنه لعهد النبي الأمي إلى أنه لا يحبك إلا مؤمن ولا يبغضك إلا منافق " وعدي بن ثابت" موصوف بأنه قاص الشيعة. ولا شك أن هذا الحديث قد يكون فيه تأييد لبدعته. وهو لا يدل على ذلك. ومع ذلك خرج الإمام مسلم هذا الحديث له من طريقه … فأقول إن القول الثالث هو القول الصحيح لأنه:

أولاً: قول المتقدمين من أهل العلم بالحديث.

ثانياً: أنه الذي جرى عليه العمل.

ثالثاً: أنه الذي يدل عليه الدليل وذلك أنا قد وثقنا هذا الراوي فيما يتعلق بضبطه وحفظه (1)، ولم نجد له حديثاً منكرا. فحكمنا على هذا الراوي أنه ثقة إذاً علينا أن نقبل روايته سواء كانت هذه الرواية تتعلق ببدعته أو لا وأما القول بأن الراوي إذا روى حديثاً يؤيد بدعته أنه يرد حديثه وإذا روى حديثا لا يؤيد بدعته فإنه يقبل حديثه، فهذا قول فيه تناقض وتدافع، وذلك لأنك قد حكمت عليه بأنه ثقة فيلزم من هذا قبولك لحديثه، وإما إذا رددت حديثه فيما يؤيد بدعته فهذا مصير منك إلى عدم القول بثقته، وإلى الشك في ثقته، وإلى إمكان كذبه وإتيانه بشيء

--------------------------------------------

(1) - لاحظ أن العدالة الدينية هي الاستقامة في الدين، واما العدالة في الرواية فهي تتعلق بحفظ الرواة وضبطهم لما يرونه، وهي المقصودة هنا.
দ্বিতীয় মতটি হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ: যদি এই বর্ণনাকারী এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন যা তার বিদআতকে সমর্থন করে, তবে তা গ্রহণ করা হবে না; আর যদি তিনি এমন হাদিস বর্ণনা করেন যা তার বিদআতকে সমর্থন করে না, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। এই বিস্তারিত মতটি ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-জুজজানিও ব্যক্ত করেছেন এবং পরবর্তী যুগের অনেক আলেম এটি গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম।

তৃতীয় মতটি হলো: বিদআত বর্ণনাকারীর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, যদি এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, তথ্য সংরক্ষণে নির্ভুল এবং সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী (كذاب) নন। এটিই অধিকাংশ সমালোচক ও পূর্ববর্তী যুগের অধিকাংশ আলেমের অভিমত, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম আলি ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আরও অনেকে। এই মূলনীতির ওপরই ইমাম বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি এবং হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ ছিলেন।

এর উদাহরণ হলো: মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহিমাহুল্লাহ) আদি ইবনে সাবিত-এর সূত্রে, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে এবং তিনি আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: "উম্মি নবীর পক্ষ থেকে আমার প্রতি এটি একটি অঙ্গীকার ছিল যে, মুমিন ছাড়া কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ আমাকে ঘৃণা করবে না।" আদি ইবনে সাবিত শিয়াদের গল্পকার হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে এই হাদিসটিতে তার বিদআতের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে, যদিও হাদিসটি স্বয়ং তা নির্দেশ করে না। তা সত্ত্বেও ইমাম মুসলিম তার সূত্র থেকেই এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন … তাই আমি বলছি যে, তৃতীয় মতটিই সঠিক, কারণ:

প্রথমত: এটি হাদিস শাস্ত্রের পূর্ববর্তী আলেমদের অভিমত।

দ্বিতীয়ত: এটিই হাদিস শাস্ত্রে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি।

তৃতীয়ত: এটিই দলীল দ্বারা সমর্থিত। তা হলো আমরা এই বর্ণনাকারীকে তার তথ্য সংরক্ষণ ও মুখস্থ করার (১) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছি এবং তার বর্ণিত কোনো হাদিসকে আমরা বর্জনীয় (منكر) হিসেবে পাইনি। যখন আমরা এই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তখন আমাদের জন্য তার বর্ণনা গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়, তা তার বিদআতের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা না হোক। আর যে বলা হয়—বর্ণনাকারী যখন তার বিদআতকে সমর্থন করে এমন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং যখন তার বিদআতকে সমর্থন করে না এমন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা গ্রহণ করা হবে—এই বক্তব্যটি স্ববিরোধী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, আপনি যেহেতু তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে বিচার করেছেন, তাই তার হাদিস গ্রহণ করা আপনার জন্য অপরিহার্য। অন্যথায়, আপনি যদি তার বিদআত সমর্থিত হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তা আপনার পক্ষ থেকে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে অস্বীকার করার নামান্তর এবং তার বিশ্বস্ততার ওপর সন্দেহ পোষণ করা ও তার মিথ্যা বলার বা ভুল কিছু নিয়ে আসার সম্ভাবনা স্বীকার করার শামিল।

--------------------------------------------

(১) - লক্ষ্য করুন যে, ধর্মীয় ন্যায়নিষ্ঠতা (আদালাহ) হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা, আর বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠতা হলো বর্ণনাকারীদের মুখস্থ রাখার শক্তি ও যা বর্ণনা করছেন তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট; এবং এখানে এটিই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
يؤيد بدعته، إذن لم تثبت لك ثقة هذا الراوي، وقد حكمت قبل ذلك بأنه ثقة فهذا القول ضعيف وليس بصحيح وهذا ما يتعلق بمسألة العدالة … ].

وقال أبو بكر كافي في رسالته منهج "الإمام البخاري في تصحيح الأحاديث وتعليلها من خلال الجامع الصحيح" (ص/103: 106) بعد أن عرض الأقوال الخمسة التي وقف عليها في حكم الرواية عن أهل البدع: [بعد أن سردت أقوال الأئمة ومذاهبهم في الرواية عن أهل البدع والأهواء، فقد تبين أن مذاهبهم متباينة جداً. امتزجت فيها أقوال المحدثين بآراء علماء الكلام والأصول. فلا بد من استجلاء الموقف العملي للمحدثين من خلال مصنفاتهم، ومن هؤلاء الإمام البخاري رحمه الله فكيف تعامل مع روايات أهل البدع في صحيحه؟

إذا تأملنا رجال البخاري رحمه الله نجد جملة كبيرة منهم قد رموا ببدع اعتقاية مختلفة وقد أورد الحافظ في " هدي الساري " (1) من رمي من رجال البخاري بطعن في الاعتقاد فبلغوا (69) راوياً، ومن خلال التتبع لهؤلاء الرواة يمكن أن نستخلص المعايير التي اعتمدها البخاري في الرواية عن أهل البدع ويمكن أن نجملها في النقاط التالية:

- … ليس فيهم من بدعتهم مكفرة.

- … أكثرهم لم يكن داعية إلى بدعته، أو كان داعية ثم تاب (2).

- … أكثر ما يروي لهم في المتابعات والشواهد.

- … أحياناً يروى لهم في الأصول لكن بمتابعة غيرهم لهم.

- … كثير منهم لم يصح ما رموا به.

إذن فالعبرة إنما هي صدق اللهجة، وإتقان الحفظ، وخاصة إذا انفرد المبتدع بشيء ليس عند غيره.

وما ذهب إليه البخاري هو مذهب كثير من المحدثين، ومن هؤلاء تلميذه وخريجه الإمام مسلم، فقد روى في صحيحه عن أهل البدع والأهواء المعروفين

--------------------------------------------

(1) - هدي الساري (ص/483 - 484).

(2) - انظر ترجمة: عمران بن حطان في هدي الساري ص404، وترجمة شبابة بن سوار في الهدي ص469، وترجمة: عبد الحميد بن عبدالرحمن الحماني في الهدي ص437.
...তার বিদআতকে সমর্থন করে, তবে আপনার কাছে এই বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) প্রমাণিত হয়নি, অথচ আপনি এর আগে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে হুকুম দিয়েছিলেন। সুতরাং এই বক্তব্যটি দুর্বল (ضعيف) এবং এটি সহিহ (صحيح) নয়। আর এটি ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট … ]।

আবু বকর কাফি তাঁর গবেষণাপত্র "মানহাজুল ইমাম আল-বুখারি ফি তাসহিহিল আহাদিস ওয়া তা’লিলিহা মিন খিলালিল জামিউস সহিহ" (পৃষ্ঠা/১০৩: ১০৬)-এ বিদআতীদের থেকে বর্ণনার বিধান সম্পর্কে তাঁর সামনে আসা পাঁচটি অভিমত পেশ করার পর বলেন: [বিদআতী ও প্রবৃত্তিপূজারীদের থেকে বর্ণনার ব্যাপারে ইমামগণের উক্তি ও মাযহাবসমূহ আলোচনার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁদের মাযহাবসমূহ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এতে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যের সাথে ইলমুল কালাম এবং উসুলবিদগণের মতামতের সংমিশ্রণ ঘটেছে। তাই মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহের আলোকে তাঁদের ব্যবহারিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম বুখারি (রহ.), তিনি তাঁর সহিহ সংকলনে বিদআতীদের বর্ণনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?

যদি আমরা বুখারি (রহ.)-এর বর্ণনাকারীদের (رجال) নিয়ে চিন্তা করি, তবে দেখব যে তাঁদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আকিদাগত বিদআতের অভিযোগ আনা হয়েছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'হাদইউস সারি' (১)-এ বুখারির সেই বর্ণনাকারীদের (رجال) নাম উল্লেখ করেছেন যাদের আকিদার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (طعن) করা হয়েছে, যাদের সংখ্যা ৬৯ জন বর্ণনাকারী (راوياً)। এই বর্ণনাকারীদের পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা সেই মানদণ্ডগুলো বের করতে পারি যা বুখারি বিদআতীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে অবলম্বন করেছেন এবং আমরা সেগুলোকে নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপ করতে পারি:

- … তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার বিদআত কুফুরির (مكفرة) স্তরের।

- … তাদের অধিকাংশ তাদের বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) ছিলেন না, অথবা আহ্বানকারী ছিলেন কিন্তু পরে তওবা করেছেন (২)।

- … তাদের থেকে অধিকাংশ বর্ণনা মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد) হিসেবে এসেছে।

- … মাঝে মাঝে মূল বর্ণনায় (الأصول) তাদের থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তবে অন্যদের সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) থাকা সাপেক্ষে।

- … তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক (صح) বলে প্রমাণিত হয়নি।

সুতরাং মূল বিবেচ্য বিষয় হলো বাচনভঙ্গির সত্যতা এবং হিফযের পূর্ণতা, বিশেষ করে যখন কোনো বিদআতী এমন কিছু এককভাবে বর্ণনা (انفرد) করেন যা অন্য কারো কাছে নেই।

ইমাম বুখারি যে পথ অবলম্বন করেছেন, তা অনেক মুহাদ্দিসেরই মাযহাব। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর ছাত্র এবং সুযোগ্য উত্তরসূরি ইমাম মুসলিম। তিনিও তাঁর সহিহ সংকলনে সুপরিচিত বিদআতী এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - হাদইউস সারি (পৃষ্ঠা/৪৮৩ - ৪৮৪)।

(২) - দেখুন: হাদইউস সারি পৃষ্ঠা ৪০৪-এ ইমরান ইবনে হিত্তান-এর জীবনী, হাদইউস সারি পৃষ্ঠা ৪৬৯-এ শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার-এর জীবনী এবং হাদইউস সারি পৃষ্ঠা ৪৩৭-এ আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হিমমানি-এর জীবনী।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بالصدق والإتقان، وخاصة إذا انضم إلى ذلك الورع والتقوى، وما ذهب إليه الشيخان هو رأي أكثر الأئمة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، وإنما توقف من توقف منهم في الرواية عن أهل البدع إما لأنه لم يتبين لهم صدقهم، أو أرادوا محاصرة البدعة وإخمادها حتى لا تفشوا، ولكن شاء الله تعالى أن تكثر البدع وتفشو، وتبناها كثير من العلماء والفقهاء والعباد فلم يكن من المصلحة ترك رواياتهم، لأن في تركها، اندراساً للعلم، تضييعاً للسنن. فكانت المصلحة الشرعية تقتضي قبولها ما داموا ملتزمين بالصدق والأمانة. قال الخطيب البغدادي - بعد أن ذكر أسماء كثير من الرواة احتج بهم وهم منسوبون إلى بدع اعتقادية مختلفة: ". دون أهل العلم قديماً وحديثاً رواياتهم واحتجوا بأخبارهم، فصار ذلك كالإجماع منهم، وهو أكبر الحجج في هذا الباب وبه يقوى الظن في مقارنة الصواب " (1).

وقال علي بن المديني: " لو تركت أهل البصرة لحال القدر، ولو تركت أهل الكوفة لذلك الرأي خربت الكتب " (2).]

(وعليه فالأظهر، والمعمول به في الصحيحين وغيرهما من دواوين السنن أن المبتدع، روايته مقبولة إذا كان معروفا بالصدق والأمانة، لم يظهر عليه ولم يكن من مذهبه استحلال الكذب، فهذا تقبل روايته كما خرج الشيخان لمثل هذه الطائفة، حتى وإن روى ما يؤيد بدعته، فإن الراجح والمعمول به قبول روايته أيضاً إن كان على النحو السابق؛ وعليه فالأنسب حذف قيد السلامة من البدع في رسم عدالة الرواة.

فإن قيل أن البدع تدخل في الكبائر قيل: بل إن جنس البدع أعظم جرما من جنس الكبائر لما فيها من افتئات واستدراك على الشرع بالزيادة والنقص، إلا أن هذا لا يمنع من أن تكون بعض البدع أخف من بعض الكبائر فالكلام على الجنس. حتى أنه وإن قيل إن البدع لا تقاس على الكبائر لما فيها من نوع شبهة تأويل لما بَعُد ذلك؛ وعليه فدخول البدع في حكم المعاصي لا يصح لما بينهما من الفروق، وقد أوضحت ذلك في بحث البدعة عند الكلام على أقسام البدع.

--------------------------------------------

(1) - الكفاية ص153 - 154.

(2) - المصدر نفسه ص157.
সত্যবাদিতা (الصدق) ও নির্ভুলতার (الإتقان) সাথে, বিশেষ করে যদি এর সাথে সংযতশীলতা (الورع) ও তাকওয়া (التقوى) যুক্ত হয়। দুই শায়খ যা গ্রহণ করেছেন তা-ই সাহাবি, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী অধিকাংশ ইমামদের অভিমত। বিদআতিদের (أهل البدع) থেকে বর্ণনা (الرواية) গ্রহণের ক্ষেত্রে যারা বিরত থেকেছেন, তারা হয় তাদের সত্যবাদিতা (الصدق) সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি বলে বিরত থেকেছেন, অথবা তারা চেয়েছিলেন বিদআতকে (البدعة) সীমাবদ্ধ ও নির্মূল করতে যাতে তা ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা চাইলেন যে বিদআত (البدعة) বৃদ্ধি পাক ও ছড়িয়ে পড়ুক। অনেক আলেম, ফকিহ ও আবিদ একে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন, তাই তাদের বর্ণনা (الرواية) বর্জন করা কল্যাণকর ছিল না; কারণ তা বর্জন করলে ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং সুন্নাহসমূহ সংরক্ষিত হতো না। সুতরাং শরয়ি স্বার্থের দাবি ছিল যে, যতক্ষণ তারা সত্যবাদিতা (الصدق) ও আমানতদারির ওপর অটল থাকবেন, ততক্ষণ তাদের বর্ণনা (الرواية) কবুল করা হবে। খতিব বাগদাদি অনেক বর্ণনাকারীর (الرواة) নাম উল্লেখ করার পর—যাদেরকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে (احتج بهم) অথচ তারা বিভিন্ন আকিদাগত বিদআতের (بدع اعتقادية) সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন—বলেন: "অতীত ও বর্তমানের আলেমগণ তাদের বর্ণনা (الرواية) লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাদের সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন (احتجوا بأخبارهم); ফলে এটি তাদের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতি বা ইজমার (الإجماع) মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে এটিই সবচেয়ে বড় দলিল এবং এর মাধ্যমেই সঠিক হওয়ার প্রবল ধারণা জন্মে।" (১)।

আলী ইবনুল মাদিনি বলেন: "যদি আমি কদর (القدر) মতবাদের কারণে বসরার অধিবাসীদের ত্যাগ করতাম, আর রায় (الرأي) বা যুক্তিনির্ভর মতবাদের কারণে কুফার অধিবাসীদের ত্যাগ করতাম, তবে কিতাবসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত।" (২)।]

(এর ভিত্তিতে অধিক স্পষ্ট এবং সহিহাইন ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থসমূহে যা অনুসৃত তা হলো: বিদআতি (المبتدع) ব্যক্তির বর্ণনা (الرواية) গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যদি সে সত্যবাদিতা (الصدق) ও আমানতদারির জন্য সুপরিচিত হয়, তার মধ্যে মিথ্যার প্রকাশ না ঘটে এবং মিথ্যাকে বৈধ মনে করা তার মাজহাব না হয়। এমতাবস্থায় তার বর্ণনা (الرواية) কবুল করা হবে, যেমনটি দুই শায়খ এ জাতীয় একদল লোকের হাদিস গ্রহণ করেছেন। এমনকি যদি সে তার বিদআতের (البدعة) সপক্ষেই বর্ণনা (الرواية) করে, তবুও অগ্রগণ্য ও অনুসৃত মত অনুযায়ী তার বর্ণনা (الرواية) গ্রহণ করা হবে যদি সে পূর্বোক্ত গুণের অধিকারী হয়। অতএব, বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة) নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদআত থেকে মুক্ত থাকার শর্তটি বাদ দেওয়া অধিকতর উপযুক্ত।

যদি বলা হয় যে বিদআত (البدعة) কবিরা গুনাহর (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত, তবে বলা হবে: বরং বিদআতের (البدعة) ধরন কবিরা গুনাহর (الكبائر) ধরনের চেয়েও গুরুতর অপরাধ। কারণ এতে শরিয়তের ওপর খবরদারি করা হয় এবং তাতে পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের মাধ্যমে নতুন কিছু সংযোজন করা হয়। তবে এটি কোনো কোনো বিদআত (البدعة) কোনো কোনো কবিরা গুনাহর (الكبائر) চেয়ে হালকা হওয়াকে বাধা দেয় না; কারণ এখানে আলোচনাটি মূল ধরণ নিয়ে। এমনকি যদি বলা হয় যে বিদআতকে (البدعة) কবিরা গুনাহর (الكبائر) সাথে তুলনা করা যাবে না কারণ এতে এক প্রকার ব্যাখ্যার অস্পষ্টতা থাকে, তবুও বিষয়টি সত্য থেকে দূরে নয়। সুতরাং বিদআতকে (البدعة) পাপাচারের (المعاصي) হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়, কারণ উভয়ের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। বিদআতের প্রকারভেদ আলোচনার সময় আমি আমার বিদআত বিষয়ক গবেষণায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।

--------------------------------------------

(১) - আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ১৫৩ - ১৫৪।

(২) - একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৭।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
وإنما ذهبنا إلى قبول رواية المبتدعة للمصلحة في رواية السنة فقد انتشرت البدع من التشيع والنصب ونحوهما في عصر التابعين، وتابعيهم، ولو رددنا رواية المبتدعة لذهب جُلّ السنة، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

 

‌‌(تعريفات أخرى للعدالة:

تعريف الغزالي:

قال في المستصفى (ص/125): [والعدالة عبارة عن استقامة السيرة والدين ويرجع حاصلها إلى هيئة راسخة في النفس تحمل على ملازمة التقوى والمروءة جميعا حتى تحصل ثقة النفوس بصدقه ، فلا ثقة بقول من لا يخاف الله تعالى خوفا وازعا عن الكذب. ثم لا خلاف في أنه لا يشترط العصمة من جميع المعاصي. ولا يكفي أيضا اجتناب الكبائر بل من الصغائر ما يرد به كسرقة بصلة وتطفيف في حبة قصدا. وبالجملة كل ما يدل على ركاكة دينه إلى حد يستجرئ على الكذب بالأعراض الدنيوية ، كيف وقد شرط في العدالة التوقي عن بعض المباحات القادحة في المروءة نحو الأكل في الطريق والبول في الشارع وصحبة الأراذل وإفراط المزح؟ والضابط في ذلك فيما جاوز محل الإجماع أن يرد إلى اجتهاد الحاكم ، فما دل عنده على جراءته على الكذب رد الشهادة به وما لا فلا ، وهذا يختلف بالإضافة إلى المجتهدين ، وتفصيل ذلك من الفقه لا من الأصول.]

تعريف ابن النجار الحنبلي:

قال ابن النجار في شرح الكوكب المنير (ص/272): [(وهي) أي العدالة في اللغة: التوسط في الأمر من غير زيادة ولا نقصان ، وهي في اصطلاح أهل الشرع (صفة) أي كيفية نفسانية ، وتسمى قبل رسوخها حالا (راسخة في النفس) أي نفس المتصف بها (تحمله) على ملازمة التقوى والمروءة ، وتحمله أيضا على (ترك الكبائر).]

تعريف ابن السمعاني:

قال ابن السمعاني: [لابد في العدل من أربع شرائط: المحافظة على فعل الطاعة، واجتناب المعصية، وأن لا يرتكب من الصغائر ما يقدح في دين أو
আমরা সুন্নাহ বর্ণনার বৃহত্তর স্বার্থে বিদাতীদের (المبتدعة) বর্ণনা গ্রহণ করার নীতি অবলম্বন করেছি। কারণ তাবিঈ ও তাবে-তাবিঈদের যুগে শিয়া ও নাসবি মতবাদ এবং অনুরূপ বিদাতসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল। যদি আমরা বিদাতীদের (المبتদعة) বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করতাম, তবে সুন্নাহর অধিকাংশ অংশই হারিয়ে যেত। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

 

‌‌(আদালত বা ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) অন্যান্য সংজ্ঞা:

ইমাম গাজালীর সংজ্ঞা:

তিনি আল-মুস্তাসফা (পৃ. ১২৫) গ্রন্থে বলেছেন: [ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো জীবন ও দ্বীনের সঠিক অবস্থার একটি অভিব্যক্তি। এর সারমর্ম হলো অন্তরের এমন এক সুদৃঢ় বৈশিষ্ট্য যা ব্যক্তিকে তাকওয়া (التقوى) ও শালীনতা (المروءة) উভয়টি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে তার সত্যবাদিতার প্রতি মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করে না যা তাকে মিথ্যা থেকে বিরত রাখে, তার কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এরপর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সমস্ত গুনাহ থেকে নিষ্পাপ (العصمة) হওয়া শর্ত নয়। আবার কেবল কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে বেঁচে থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সগিরা গুনাহের (الصغائر) মধ্যেও এমন কিছু আছে যা দ্বারা বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হয়, যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি পেঁয়াজ চুরি করা বা মাপে সামান্য কম দেওয়া। মোটকথা, যা কিছু তার দ্বীনদারির দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং জাগতিক স্বার্থে মিথ্যা বলার দুঃসাহস জোগায়, তা-ই এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ যেখানে আদালত বা ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) শর্ত হিসেবে এমন কিছু বৈধ কাজ (المباحات) থেকে বেঁচে থাকাকেও গণ্য করা হয়েছে যা শালীনতা (المروءة) ক্ষুণ্ণ করে, যেমন রাস্তায় বসে খাবার খাওয়া, জনপথে প্রস্রাব করা, নীচ লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা এবং অতিরিক্ত ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা? ইজমা (الإجماع) বা ঐকমত্যের বিষয়ের বাইরে এ ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বিষয়টি বিচারকের ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর ছেড়ে দেওয়া। বিচারকের নিকট যা মিথ্যা বলার দুঃসাহস প্রকাশ করে বলে মনে হবে, তার মাধ্যমে সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে; আর যা তা নয়, সেটি বাতিল হবে না। এটি মুজতাহিদদের (المجتهدين) ভিন্নতার কারণে ভিন্ন হতে পারে। আর এর বিস্তারিত আলোচনা ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, উসুল (الأصول) শাস্ত্রের নয়।]

ইবনে নাজ্জার হাম্বলীর সংজ্ঞা:

ইবনে নাজ্জার শারহুল কাওকাবিল মুনীর (পৃ. ২৭২) গ্রন্থে বলেছেন: [(এটি) অর্থাৎ আভিধানিক অর্থে আদালত (العدالة) হলো: কোনো বিষয়ে আধিক্য বা কমতি ছাড়াই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। আর শরয়ি পরিভাষায় এটি হলো একটি (গুণ), অর্থাৎ মানসিক অবস্থা, যা সুদৃঢ় হওয়ার আগে 'হাল' বা ক্ষণস্থায়ী অবস্থা বলা হয়; যা (অন্তরে সুদৃঢ়) অর্থাৎ গুণটি যার মধ্যে আছে তার অন্তরে এটি সুদৃঢ় থাকে এবং তাকে তাকওয়া (التقوى) ও শালীনতা (المروءة) বজায় রাখতে (উদ্বুদ্ধ করে)। এছাড়া এটি তাকে (কবিরা গুনাহ ত্যাগেও (ترك الكبائر)) উদ্বুদ্ধ করে।]

ইবনে সামআনীর সংজ্ঞা:

ইবনে সামআনী বলেছেন: [ন্যায়পরায়ণ (العدل) ব্যক্তির জন্য চারটি শর্ত থাকা আবশ্যক: আনুগত্যের কাজসমূহ নিয়মিত পালন করা, নাফরমানি বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং এমন কোনো সগিরা গুনাহ (الصغائر) না করা যা দ্বীনের ক্ষেত্রে ত্রুটি সৃষ্টি করে অথবা]
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
عرض، وأن لا يفعل من المباحات ما يسقط القدر ويُكسبُ الندم، وأن لا يعتقد من المذاهب ما يردُّهُ أصول الشرع] (1).

تعريف المرتضى الزيدي:

قال المرتضي في البحر الزخار (6/ 50): [العدالة هي ملازمة التقوى والمروءة].

تعريف ابن الحاجب:

قال ابن الحاجب: [هي محافظة دينية تحمل على ملازمة التقوى والمروءة، ليس معها بدعة، وتتحقق باجتناب الكبائر، وترك الإصرار على الصغائر، وبعض الصغائر، وبعض المباح] (2).

 

(ونختم بتعريف الإمام الشافعي الذي استحسنه الصنعاني حيث قال في ثمرات النظر (ص/72 - 73): [وقد قال الشافعي في العدالة قولا استحسنه كثير من العقلاء من بعده قال لو كان العدل من لم يذنب لم نجد عدلا ولو كان كل ذنب لا يمنع من العدالة لم نجد مجروحا ولكن من ترك الكبائر وكانت محاسنه أكثر من مساوئه فهو عدل انتهى (3). قلت: وهذا قوله حسن ويؤيده أن أهل اللغة فسروا العدل بنقيض الجور وليس الجور عبارة عن ملكة راسخة توجب إتيان كل معصية ولا الجائر لغة كل من يأتي معصية بل من غلب جوره على عدله]

--------------------------------------------

(1) - نقلا عن رسالة: الأصل في الناس الجهالة لا العدالة للردادي، وعزاه لـ: "إرشاد الفحول" (1/ 264)، وانظر: "مقدمة ابن الصلاح" (105 - 106)، و"مذكرة أصول الفقه" (ص204).

(2) - نقلا عن المنهج الحديث للسماحي - قسم الرواة (ص/55، 56).

(3) - وروى عنه الخطيب بسنده في الكفاية (ص/90): عن البويطى قال: قال الشافعي لا اعلم أحدا أعطى طاعة الله حتى لم يخلطها بمعصية الله إلا يحيى بن زكريا عليه السلام ولا عصى الله فلم يخلط بطاعة فإذا كان الأغلب الطاعة فهو المعدل وإذا كان الأغلب المعصية فهو المجرح.
মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং অনুশোচনা বয়ে আনে এমন কোনো বৈধ (مباح) কাজ না করা এবং এমন কোনো মতবাদ পোষণ না করা যা শরয়ি মূলনীতি (أصول الشرع) দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়] (১)।

মুরতাজা আজ-জাইদির সংজ্ঞা:

আল-মুরতাজা 'আল-বাহরুজ জাখখার' (৬/৫০) গ্রন্থে বলেছেন: [আদালত (العدالة) হলো তাকওয়া (التقوى) এবং মুরুওয়াত (المروءة) এর ওপর অবিচল থাকা]।

ইবনুল হাজিবের সংজ্ঞা:

ইবনুল হাজিব বলেছেন: [এটি (আদালত) এমন একটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা যা তাকওয়া (التقوى) ও মুরুওয়াত (المروءة) এর ওপর অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে, যার সাথে কোনো বিদআত (بدعة) থাকে না। আর এটি অর্জিত হয় কবিরা গুনাহ (الكبائر) বর্জন করা, সগিরা গুনাহের (الصغائر) ওপর অটল না থাকা, কিছু সগিরা গুনাহ (الصغائر) ও কিছু মুবাহ (المباح) কাজ বর্জনের মাধ্যমে] (২)।

 

(আমরা ইমাম শাফেয়ির সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে ইতি টানব, যা আস-সানআনি পছন্দ করেছেন। তিনি 'সামারাতুন নাজার' (পৃষ্ঠা ৭২-৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: [ইমাম শাফেয়ি আদালত (العدالة) প্রসঙ্গে এমন একটি কথা বলেছেন যা পরবর্তীকালের অনেক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি পছন্দ করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি আদিল (العدل) সেই ব্যক্তি হতো যে কোনো পাপ করেনি, তবে আমরা কোনো আদিল (العدل) খুঁজে পেতাম না। আবার প্রতিটি পাপই যদি আদালত (العدالة)-এর অন্তরায় না হতো, তবে আমরা কোনো মাজরুহ (مجروح) খুঁজে পেতাম না। বরং যিনি কবিরা গুনাহ (الكبائر) বর্জন করেন এবং যার নেক কাজ তার মন্দ কাজের চেয়ে বেশি, তিনিই আদিল (العدل)। (সমাপ্ত)] (৩)। আমি (গ্রন্থকার) বলি: তাঁর এই বক্তব্যটি উত্তম (حسن) এবং ভাষাবিদগণ 'আদল' (العدل)-কে জুলুম বা অন্যায়ের বিপরীত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যা একে সমর্থন করে। আর অন্যায় বা জুলুম এমন কোনো বদ্ধমূল স্বভাবের নাম নয় যা প্রতিটি গুনাহ করতে বাধ্য করে, আর ভাষাগতভাবে জায়েজ বা অন্যায়কারী সেই ব্যক্তি নয় যে কেবল একটি গুনাহ করে; বরং সে-ই জায়েজ যার জুলুম তার ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রবল হয়]

--------------------------------------------

(১) - 'আর-রাদ্দাদি' রচিত 'আল-আসলু ফিন নাসিল জাহালাতু লা আল-আদালাতু' নামক রিসালা থেকে উদ্ধৃত এবং তিনি একে 'ইরশাদুল ফুহুল' (১/২৬৪) এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। আরও দেখুন: 'মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ' (১০৫-১০৬) এবং 'মুজাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ' (পৃষ্ঠা ২০৪)।

(২) - আস-সামাহি রচিত 'আল-মানহাজুল হাদিস' - রাবিগণের বিভাগ (পৃষ্ঠা ৫৫, ৫৬) থেকে উদ্ধৃত।

(৩) - আল-খতিব আল-বাগদাদি তার থেকে 'আল-কিফায়া' (পৃষ্ঠা ৯০) গ্রন্থে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন: আল-বুইতি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: আমি এমন কাউকে চিনি না যে আল্লাহর আনুগত্য এমনভাবে করেছে যে তার সাথে কোনো গুনাহ মিশ্রিত হয়নি, একমাত্র ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আলাইহিস সালাম ব্যতীত। আবার কেউ এমনভাবে আল্লাহর নাফরমানি করেনি যার সাথে কোনো আনুগত্য মিশ্রিত হয়নি। সুতরাং যখন আনুগত্যের পাল্লা ভারী হবে, সে-ই ন্যায়নিষ্ঠ (المعدل); আর যখন নাফরমানির পাল্লা ভারী হবে, সে-ই মাজরুহ (المجرح)।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم قال في نهاية رسالته (ص/151) مبينا أن العدالة التي تشترط في الراوي لقبول روايته ما هي إلا ظن صدقه وعدم كذبه: [لا يشترط في قبول الرواة إلا ظن صدق الراوي وضبطه ولا يرد إلا بكذبه وسوء حفظه ونحوهما وأن هذا شرط متفق عليه بين كل طائفة والخلاف في القدح، وما عداه قد أقمنا الأدلة على أنه لا قدح به في الرواية].

وقد روى الخطيب في الكفاية (ص/ 90) بعض الآثار مما يؤيد ذلك منها: وقال سمعت مالك بن أنس يقول سمعت الزهرى يقول سمعت سعيد بن المسيب يقول ليس من شريف ولا عالم ولا ذي سلطان إلا وفيه عيب لا بد ولكن من الناس من لا تذكر عيوبه، من كان فضله أكثر من نقصه وهب نقصه لفضله.

 

وقد لاح لك مما سبق أن الصواب عدم اعتبار أن سب المسلم من القوادح في العدالة الخاصة بالرواية، وأيضا أنه لا يشترط الخلو من البدعة في رسم العدالة، وأن مدار العدالة على مظنة صدق الرواي.

 

‌‌شروط أخرى للعدالة: …

وسوف نناقش الشروط الأخرى التي وضعها العلماء للعدالة، وبيان الموقف الصحيح منها، وقد بحث الشيخ أبو بكر كافي في رسالته " منهج الإمام البخاري" هذه الشروط، وإليك ملخص ما قاله مع بعض التصرف والزيادة حسبما يقتضي الحال (1)، والله الموفق.

 

‌‌أولاً: الإسلام:

لا تقبل رواية الكافر يهوديا كان، أو نصرانيا، أو غيرهما إجماعاً. وقد حكى الإجماع على ذلك الغزالي في المستصفى (2) والرازي في المحصول (3) وغيرهما.

--------------------------------------------

(1) وانظر رسالته من (ص 75): (ص 97)

(2) المستصفى من علم الأصول - دار الفكر - بيروت - ج1 ص156.

(3) المحصول في علم أصول الفقه ج2 ص567.
এরপর তিনি তার রিসালাহর শেষে (পৃষ্ঠা ১৫১) বর্ণনা করেছেন যে, একজন বর্ণনাকারীর (راوي) হাদিস গ্রহণের জন্য তার মাঝে যে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকা শর্ত করা হয়েছে, তা মূলত তার সত্যবাদিতার প্রবল ধারণা এবং মিথ্যার অনুপস্থিতি মাত্র: [বর্ণনাকারীদের (رواة) গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা এবং তার নির্ভুলতার (ضبط) প্রবল ধারণা ছাড়া অন্য কিছু শর্ত করা হয়নি; আর তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে না তার মিথ্যা (كذب) কিংবা তার মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء حفظ) বা এই জাতীয় বিষয় ছাড়া। এটি এমন এক শর্ত যার ওপর প্রতিটি দল বা গোষ্ঠী ঐকমত্য পোষণ করেছে। মতভেদ কেবল ত্রুটির (قدح) ক্ষেত্রে; আর এর বাইরে অন্য বিষয়গুলো যে বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো দোষ (قدح) নয়, সে ব্যাপারে আমরা প্রমাণাদি পেশ করেছি।]

খতিব বাগদাদী আল-কিফায়া গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৯০) এর সমর্থনে কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি জুহরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, আলিম বা প্রভাবশালী ব্যক্তি নেই যার মধ্যে কোনো না কোনো দোষ নেই। কিন্তু মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের দোষ আলোচনা করা হয় না; যার গুণ তার দোষের চেয়ে বেশি, তার গুণাবলির খাতিরে তার দোষগুলোকে মার্জনা করা হয়।"

 

পূর্বের আলোচনা থেকে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সঠিক মত হলো—কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষ ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) জন্য কোনো ত্রুটি বা প্রতিবন্ধক (قوادح) হিসেবে গণ্য হবে না। তদুপরি, ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সংজ্ঞায় বিদআত (بدعة) থেকে মুক্ত থাকাও শর্ত নয়। বরং ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতার প্রবল ধারণা।

 

‌‌ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অন্যান্য শর্তাবলি: …

আমরা এখন উলামায়ে কেরাম ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) জন্য যেসব শর্তাবলি নির্ধারণ করেছেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব এবং সেগুলোর ব্যাপারে সঠিক অবস্থান ব্যাখ্যা করব। শেখ আবু বকর কাফি তার রিসালাহ "মানহাজ আল-ইমাম আল-বুখারি"-তে এই শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিচে তার আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পরিমার্জন ও পরিবর্ধনসহ উপস্থাপন করা হলো (১), আল্লাহই তৌফিকদাতা।

 

‌‌প্রথমত: ইসলাম:

ইহুদি, খ্রিস্টান বা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী হোক না কেন, কাফেরের বর্ণনা (رواية) সর্বসম্মতিক্রমে (إجماع) গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম গাযালি আল-মুস্তাসফা গ্রন্থে (২), আল-রাজি আল-মাহসুল গ্রন্থে (৩) এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে ঐকমত্যের (إجماع) কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তার রিসালাহর ৭৫ থেকে ৯৭ পৃষ্ঠা দেখুন।

(২) আল-মুস্তাসফা মিন ইলমিল উসুল - দার আল-ফিকর - বৈরুত - ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৬।

(৩) আল-মাহসুল ফি ইলমি উসুল আল-ফিকহ - ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৭।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الخطيب البغدادي: " ويجب أن يكون وقت الأداء مسلماً لأن الله تعالى قال: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} وإن أعظم الفسق الكفر، فإن كان خبر الفاسق مردوداً (1) مع صحة اعتقاده فخبر الكافر بذلك أولى (2) فالإسلام إذا شرط عند الأداء والتبليغ وليس شرطاً عند التحمل فيصح تحمل الكافر " وقد ثبت روايات كثيرة لغير واحد من الصحابة كانوا حفظوها قبل إسلامهم وأدوها بعده " (3).

وأضرب أمثلة على ذلك من صحيح البخاري رحمه الله:

1) رواية محمد بن جبير عن أبيه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في المغرب بالطور وذلك أول ما وقر الإيمان في قلبي " (4)

قال الحافظ: واستدل به على صحة أداء ما تحمله الراوي في حال الكفر، وكذا الفسق إذا أداه في حال العدالة " (5).

2) حديث أبي سفيان بقصة هرقل (6) التي كانت قبل إسلامه فقد رواها البخاري في صحيحه كاملة في كتاب بدء الوحي ثم قطعها في مواضع كثيرة مستنبطاً منها في كل مرة حكماً فقهياً أو فائدة جديدة.

 

‌‌ثانياً: البلوغ:

هذا الشرط يتعلق بحالتين من حالات الراوي: حالة السماع والتحمل، ثم حالة الأداء والرواية.

ولقد تنازع العلماء والمحدثون قديماً في ذلك، فمنهم من اشترط سناً معيناً للتحمل، ومنهم من صحح سماع الصغير. وقد ذكر هذا الخلاف الخطيب البغدادي في الكفاية فقال: " قل من كان يكتب الحديث - على ما بلغنا - في عصر التابعين

--------------------------------------------

(1) والآية لا تدل على أن خبر الفاسق مردود إلا إن حمل على الكاذب، وإنما مقصود الآية التوقف في خبر الفاسق حتى يتبين صدقه.

(2) الكفاية في علم الرواية ص99.

(3) المصدر نفسه.

(4) البخاري في كتاب المغازي، باب شهود الملائكة بدراً (4/ 1475) (3798).

(5) فتح الباري ج2 ص290.

(6) رجه البخاري في كتاب بدء الوحي، باب 6 حديث رقم (7)، ج1 ص42 - 44 مع الفتح.
আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "বর্ণনা প্রদানের (الأداء) সময় বর্ণনাকারীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও}। আর সবচেয়ে বড় পাপাচার (الفسق) হলো কুফর। সুতরাং সঠিক আকিদা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود) হয় (১), তবে কাফিরের সংবাদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য (২)। অতএব, বর্ণনা ও প্রচারের (الأداء والتبليغ) সময় ইসলাম একটি শর্ত, তবে গ্রহণের (التحمل) সময় এটি শর্ত নয়; তাই কাফিরের গ্রহণ (تحمل) বিশুদ্ধ (يصح)।" আর অনেক সাহাবির পক্ষ থেকে এমন বহু বর্ণনা সাব্যস্ত হয়েছে যা তাঁরা তাঁদের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সংরক্ষণ করেছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের পর তা বর্ণনা (أدوا) করেছেন (৩)।

এবং আমি এর কিছু উদাহরণ সহিহ বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে পেশ করছি:

১) মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের নামাজে সূরা তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি; আর এটিই ছিল প্রথমবার যখন আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল" (৪)।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হয়েছে যে, বর্ণনাকারী কাফির অবস্থায় যা গ্রহণ (تحمله) করেছেন, তার বর্ণনা প্রদান (أداء) বিশুদ্ধ; অনুরূপভাবে পাপাচার (الفسق) অবস্থায় গ্রহণের পর তা ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) অর্জন করা অবস্থায় বর্ণনা করলেও তা বিশুদ্ধ" (৫)।

২) হিরাক্লিয়াসের ঘটনা সম্বলিত আবু সুফিয়ানের হাদিস (৬) যা তাঁর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ঘটেছিল। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'কিতাবু বাদউল ওহি'-তে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর বিভিন্ন স্থানে তা খণ্ড খণ্ড করে উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিবারই তা থেকে কোনো ফিকহি বিধান অথবা নতুন কোনো শিক্ষা আহরণ করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: বয়ঃপ্রাপ্তি (البلوغ):

এই শর্তটি বর্ণনাকারীর দু’টি অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট: শ্রবণ ও গ্রহণের (السماع والتحمل) অবস্থা, এবং বর্ণনা ও বর্ণনা প্রদানের (الأداء والرواية) অবস্থা।

আলেম ও মুহাদ্দিসগণ প্রাচীনকাল থেকেই এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গ্রহণের (التحمل) জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স শর্ত করেছেন, আবার কেউ শিশুর শ্রবণকে বিশুদ্ধ (صحح) বলে গণ্য করেছেন। আল-খতিব আল-বাগদাদি 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে এই মতভেদ উল্লেখ করে বলেছেন: "আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী তাবেয়িদের যুগে হাদিস লিখে রাখার লোকের সংখ্যা খুবই কম ছিল—

--------------------------------------------

(১) আয়াতটি এ কথা নির্দেশ করে না যে পাপাচারীর (فاسق) সংবাদ সরাসরি প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود), যদি না তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য করা হয়; বরং আয়াতের উদ্দেশ্য হলো পাপাচারীর (فاسق) সংবাদের ক্ষেত্রে স্থগিত থাকা (التوقف) যতক্ষণ না তার সত্যতা স্পষ্ট হয়।

(২) আল-কিফায়া ফি ইলমি রেওয়ায়াহ, পৃষ্ঠা ৯৯।

(৩) একই উৎস।

(৪) বুখারি, কিতাবুল মাগাজি, বাবু শুহুদিল মালাইকাতি বাদরান (৪/১৪৭৫) (৩৭৯৮)।

(৫) ফাতহুল বারি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯০।

(৬) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবু বাদউল ওহি, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৭), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২-৪৪, ফাতহুল বারি সহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقريباً منه إلا من جاوز حد البلوغ، وصار في عداد من يصلح لمجالسة العلماء ومذاكرتهم، وسؤالهم. وقيل إن أهل الكوفة لم يكن الواحد منهم يسمع الحديث إلا

بعد استكماله عشرين سنة، ويشتغل قبل ذلك بحفظ القرآن وبالتعبد.

وقال قوم: الحد في السماع خمس عشرة سنة، وقال غيرهم: ثلاث عشرة، وقال جمهور العلماء: يصح لمن سنه دون ذلك، وهذا هو عندنا الصواب " (1).

وقد ذهب الإمام البخاري رحمه الله في صحيحه إلى صحة سماع الصغير قبل البلوغ، وقد ترجم لهذه المسألة في كتاب العلم بقوله: "باب متى يصح سماع الصغير؟ " وأورد فيه حديثين:

أولهما: حديث ابن عباس قال:" أقبلت راكباً على أتان، وأنا يومئذ قد ناهزت الاحتلام، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بمنى إلى غير جدار، فمررت بين يدي بعض الصف، وأرسلت الأتان ترتع، فدخلت في الصف، فلم ينكر لك علي" (2).

وثانيهما: حديث محمود بن الربيع قال: " عقلت من النبي صلى الله عليه وسلم مجة مجها في وجهي وأنا ابن خمس سنين من دلو " (3).

وقال العلامة العيني: " ومراده (أي بهذه الترجمة) الاستدلال على أن البلوغ ليس شرطاً في التحمل " (4).

ومن المحدثين من قيده بخمس سنين. قال ابن الصلاح رحمه الله: " والتحديد بخمس هو الذي استقر عليه عمل أهل الحديث من المتأخرين … والذي ينبغي في ذلك أن يعتبر في كل صغير حاله على الخصوص، فإن وجدناه مرتفعاً عن حال من لا يعقل فهماً للخطاب ورداً للجواب ونحو ذلك صححنا سماعه، وإن كان دون خمس. وإن لم يكن كذلك لم نصحح سماعه وإن كان ابن خمس بل ابن

--------------------------------------------

(1) الكفاية في علم الرواية ص73.

(2) أخرجه البخاري في كتاب العلم، باب متى يصح سماع الصغير حديث رقم (76) ج1 ص205.

(3) أخرجه البخاري في كتاب العلم، باب متى يصح سماع الصغير حديث رقم (77) ج1 ص207.

(4) عمدة القاري شرح صحيح البخاري ج2 ص68.
এর কাছাকাছি সময় অথবা যে ব্যক্তি বয়ঃপ্রাপ্তির সীমা অতিক্রম করেছে এবং আলেমদের মজলিসে বসার, তাঁদের সাথে আলোচনা করার ও তাঁদেরকে প্রশ্ন করার উপযোগী হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, কুফাবাসীদের মধ্যে কেউ বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হাদিস শুনতেন না এবং এর পূর্বে তাঁরা কুরআন হিফজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন।

একদল বলেছেন: শ্রবণ (سماع)-এর বয়সসীমা পনের বছর; অন্যরা বলেছেন: তের বছর; আর অধিকাংশ আলেম (جمهور العلماء) বলেছেন: যার বয়স এর কম তার জন্যও এটি সহিহ (صحيح) হওয়া সম্ভব। আমাদের নিকট এটিই সঠিক মত (১)।

ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থে বয়ঃপ্রাপ্তির পূর্বে শিশুর হাদিস শ্রবণের (سماع) বিশুদ্ধতার (صحة) অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি কিতাবুল ইলম-এ এই মাসআলাটি নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ (ترجمة) রচনা করেছেন যার শিরোনাম: "কখন শিশুর হাদিস শ্রবণ (سماع) শুদ্ধ হয়?" এবং সেখানে তিনি দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: "আমি একটি গাধীর পিঠে চড়ে আসলাম, আমি তখন বয়ঃসন্ধির কাছাকাছি পৌঁছেছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিনায় কোনো দেয়াল ছাড়াই সালাত আদায় করছিলেন। আমি কাতারের একটি অংশের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধীটিকে চরে খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিলাম। অতঃপর আমি কাতারে শামিল হলাম, কিন্তু আমার এ কাজে কেউ আপত্তি করেননি" (২)।

দ্বিতীয়টি: মাহমুদ ইবনুল রাবি (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বালতি থেকে আমার মুখে যে পানি কুলি করে দিয়েছিলেন, তা আমি স্মরণে (عقلت) রেখেছি; তখন আমার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর" (৩)।

আল্লামা আইনি (রহ.) বলেন: "আর তাঁর উদ্দেশ্য (অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদ দ্বারা) এই দলিল পেশ করা যে, হাদিস গ্রহণের (تحمل) ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তি কোনো শর্ত নয়" (৪)।

মুহাদ্দিসগণের (محدثين) মধ্যে কেউ কেউ একে পাঁচ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন: "পাঁচ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিই পরবর্তী যুগের (متأخرين) আহলে হাদিসদের (أهل الحديث) কর্মপন্থা হিসেবে স্থির হয়েছে... তবে এক্ষেত্রে যা হওয়া উচিত তা হলো, প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা। যদি আমরা দেখতে পাই যে, সে এমন স্তরে পৌঁছেছে যেখানে সে কথা বুঝতে পারে এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম, তবে তার শ্রবণকে (سماع) আমরা সহিহ (صحيح) গণ্য করব, যদিও তার বয়স পাঁচ বছরের কম হয়। আর যদি অবস্থা এমন না হয়, তবে তার শ্রবণকে (سماع) আমরা সহিহ (صحيح) বলব না, যদিও তার বয়স পাঁচ বছর হয়, বরং..."

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়া, পৃষ্ঠা ৭৩।

(২) বুখারি এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: কখন শিশুর হাদিস শ্রবণ শুদ্ধ হয়? হাদিস নম্বর ৭৬, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৫।

(৩) বুখারি এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: কখন শিশুর হাদিস শ্রবণ শুদ্ধ হয়? হাদিস নম্বর ৭৭, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৭।

(৪) উমদাতুল কারি শারহু সহিহিল বুখারি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৮।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
خمسين " (1).

وقال - الإمام الذهبي رحمه الله: " واصطلح المحدثون على جعلهم سماع ابن خمس سنين سماعاً، وما دونها حضوراً، واستأنسوا بأن محموداً عقل مجة، ولا دليل فيه (2)، والمعتبر إنما هو أهلية الفهم والتمييز " (3).

وما اختاره ابن الصلاح والذهبي - رحمهما الله - هو المختار إن شاء الله، وعليه يدل صنيع الإمام البخاري في صحيحه فقد أخرج أحاديث مجموعة من الصحابة ممن تحملوا في صباهم كابن عباس، ومحمود بن الربيع، وأنس بن مالك، والنعمان بن بشير، وعائشة، ونحوهم وهؤلاء سمعوا وهم دون البلوغ، وأخرج لمن دونهم في السن كالسبطين الحسن والحسين رضي الله عنهما.

فالمحققون من أهل العلم على عدم اعتبار تحديد سن معين بل المعتبر عندهم هو العقل والتمييز (4).

 

‌‌ثالثاً: العقل:

وهو من شروط العدالة المجمع عليها، حكى الإجماع على ذلك الخطيب البغدادي وغيره من العلماء (5) قال رحمه الله: " وأما الأداء بالرواية فلا يكون صحيحاً يلزم العمل به إلا بعد البلوغ، ويجب أيضاً أن يكون الراوي في وقت أدائه عاقلاً مميزاً، والذي يدل على وجوب كونه بالغاً عاقلاً، ما أخبرنا القاضي أبو عمر والقاسم بن جعفر قال ثنا محمد بن أحمد اللؤلؤي، قال ثنا أبو داود قال ثنا موسى بن إسماعيل قال ثنا وهيب عن خالد عن أبي الضحى عن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " رفع القلم عن ثلاثة، عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث ص117.

(2) أي لا يلزم من عقل المجة عقل غيرها مما يسمعه فالمجة شئ حسي بسيط بخلاف تحمل الحديث فإنه مركب من ألفاظ ومعان ذات نسق معين، قد لا يستوعبها ولا يضبطها ذهن الطفل، الذي استوعب بعض الأشياء الحسية البسيطة كالمجة.

(3) الموقظة " في علم مصطلح الحديث " - اعتنى به عبد الفتاح أبو غدة - ص61.

(4) فتح المغيث ج2 ص14 - 15.

(5) انظر الكفاية ص99، وشروط الأئمة الخمسة ص53، وتدريب الراوي: ج1 ص300.
পঞ্চাশ " (১)।

এবং ইমাম আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণ পাঁচ বছর বয়সের শিশুর শ্রবণকে 'শ্রবণ' (سماع) হিসেবে গণ্য করতে এবং এর চেয়ে কম বয়সীদের উপস্থিতিকে 'উপস্থিতি' (حضور) হিসেবে গণ্য করতে একমত হয়েছেন। তারা মাহমুদ (ইবনুর রাবী‘)-এর কুলি মনে রাখার ঘটনা থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন, তবে এতে কোনো অকাট্য দলিল নেই (২); প্রকৃতপক্ষে গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো বুঝমান হওয়া এবং পার্থক্য করার ক্ষমতা (تمييز) থাকা" (৩)।

ইবনে সালাহ ও যাহাবী (রহিমাহুমাল্লাহ) যা পছন্দ করেছেন সেটিই ইনশাআল্লাহ অগ্রগণ্য মত। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে যা করেছেন তা এরই প্রমাণ দেয়। তিনি সাহাবীদের এমন একটি দলের হাদিস বর্ণনা করেছেন যারা শৈশবে হাদিস গ্রহণ (تحمل) করেছিলেন, যেমন ইবনে আব্বাস, মাহমুদ ইবনুর রাবী‘, আনাস ইবনে মালিক, নুমান ইবনে বশীর, আয়েশা এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ। তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁদের চেয়েও কম বয়সী রাসুলুল্লাহর দুই নাতি হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনাও সংকলন করেছেন।

সুতরাং আলেমদের মধ্যে যারা গবেষক (محققون), তাঁদের নিকট নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণের কোনো আবশ্যকতা নেই; বরং তাঁদের নিকট বিবেচ্য বিষয় হলো বুদ্ধি এবং পার্থক্য করার ক্ষমতা (تمييز) (৪)।

 

‌‌তৃতীয়ত: বুদ্ধি (العقل):

এটি ন্যায়পরায়ণতা বা গ্রহণযোগ্যতার (عدالة) অন্যতম শর্ত যার ওপর ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল-খতিব আল-বাগদাদী এবং অন্যান্য আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন (৫)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বর্ণনার মাধ্যমে হাদিস পৌঁছে দেওয়ার (أداء) বিষয়টি ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না এবং তার ওপর আমল করা আবশ্যক হবে না যতক্ষণ না বর্ণনাকারী প্রাপ্তবয়স্ক হয়। এছাড়া হাদিস বর্ণনার (أداء) সময় বর্ণনাকারীকে (রাবী) অবশ্যই বুদ্ধিমান ও পার্থক্য করার যোগ্য (تمييز) হতে হবে। বর্ণনাকারীর প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়ার আবশ্যকতা সম্পর্কে যা আমাদের কাযী আবু ওমর ও কাসিম ইবনে জাফর জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-লুলুয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট মুসা বিন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন খালিদ থেকে, তিনি আবু দুহা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'তিন ব্যক্তি থেকে (হিসাবের) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, এবং শিশু যতক্ষণ না সে...

--------------------------------------------

(১) উলূমুল হাদিস, পৃ. ১১৭।

(২) অর্থাৎ, কুলি করার বিষয়টি মনে রাখা থেকে অন্য যে কোনো বিষয় যা সে শ্রবণ করে তা মনে রাখা আবশ্যক হয় না। কারণ কুলি করা একটি সাধারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, পক্ষান্তরে হাদিস গ্রহণ (تحمل) করা হলো শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে গঠিত একটি সুশৃঙ্খল বিষয়, যা হয়তো শিশুর মেধা ধারণ বা মুখস্থ (ضبط) করতে সক্ষম হবে না, যদিও সে কুলির মতো সাধারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কিছু বিষয় মনে রাখতে পারে।

(৩) আল-মুকিযাহ "ফি ইলমি মুসতালাহিল হাদিস" - আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ সম্পাদিত - পৃ. ৬১।

(৪) ফাতহুল মুগীস, খণ্ড ২, পৃ. ১৪-১৫।

(৫) দেখুন: আল-কিফায়া, পৃ. ৯৯; শুরুতুল আইম্মাতিল খামসাহ, পৃ. ৫৩ এবং তাদরীবুর রাবী: খণ্ড ১, পৃ. ৩০০।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
يحتلم، وعن المجنون حتى يعقل " (1) ولأن حال الراوي إذا كان طفلاً أو مجنوناً

دون حال الفاسق من المسلمين. وذلك أن الفاسق يخاف ويرجو، ويجتنب ذنوباً، ويعتمد قربات، وكثير من الفساق يعتقدون أن الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم والتعمد له ذنب كبير، وجرم غير مغفور، فإذا كان خبر الفاسق الذي هذه حاله غير مقبول فخبر الطفل والمجنون أولى بذلك، والأمة مع هذا مجتمعة على ما ذكرناه لا نعرف بينها خلاف فيه " (2).

 

‌‌رابعاً: السلامة من أسباب الفسق (3):

الفسق هو ارتكاب الكبيرة أو الإصرار على الصغيرة (4) وقد أفاض العلماء في تعريف الكبيرة والصغيرة، وكيفية التمييز بين الصغائر والكبائر وعددها، بل هناك من أفردها بالتصنيف (5) والذي يهمنا هنا هو ذكر مسألتين وقع فيهما النزاع ومحاولة معرفة الراجح فيهما.

المسألة الأولى:

 

ما حكم التائب من الكذب (6) في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ذهب

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود بنفس لفظ الخطيب من طريق علي رضي الله عنه في كتاب الحدود، باب

المجنون يسرق أو يصيب حداً ج4 ص560، رقم (4403) بإسناد حسن، وهو حديث صحيح بطرقه.

(2) الكفاية ص99.

(3) سبق أن تكلمنا على الفسق وعلاقته بالعدالة، وإنما نضيف هنا بعض المسائل التي لم نتكلم عليها هناك.

(4) فتح المغيث ج1 ص315. وروي: " لا صغيرة مع إصرار ولا كبيرة مع استغفار" مرفوعا من حديث ابن عباس وأنس وأبي هريرة وعائشة رضي الله عنهم وجميع أسانيدها واهية ساقطة. وانظر تفصيلها في: السلسة الضعيفة (رقم4810)، ولكنه صح من قول ابن عباس عند البيهقي وابن أبي حاتم وابن جرير وغيرهم. ولكن الإصرار يحتاج لضابط.

(5) انظر: مدارج السالكين: ج1 ص321، وقواعد الأحكام في مصالح الأنام: ج1 ص19، والكبائر للذهبي، والزواجر عن اقتراف الكبائر لابن حجر الهيتمي، وهما خاصان بهذا الموضوع.

(6) وينبغي التفريق بين ممن اتهم بالكذب وبين من اتصف فعلاً بالكذب، وإن كان كلاً من

الوصفين من أوصاف الجرح. لكن لا يخفى أن الكذاب قد تحقق فيه الوصف فعلاً أما المتهم بالكذب فلم يتحقق فيه هذا الوصف.
স্বপ্নদোষ (বালিগ) হওয়া পর্যন্ত, এবং পাগলের থেকে যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হয়।" (১) কারণ একজন বর্ণনাকারীর (راوي) অবস্থা যখন সে শিশু বা পাগল হয়, তখন তা মুসলিমদের মধ্যে পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির অবস্থার চেয়েও নিম্নতর। এর কারণ হলো, পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তি ভয় করে এবং আশা পোষণ করে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে এবং পুণ্য কর্মের ওপর নির্ভর করে। অনেক পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা করা একটি কবিরা গুনাহ (ذنب كبير) এবং ক্ষমাহীন অপরাধ। সুতরাং যদি এমন পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির সংবাদ (خبر) অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول) হয়, তবে শিশু ও পাগলের সংবাদ (خبر) অগ্রাহ্য হওয়ার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এ বিষয়ে উম্মাহ আমাদের বর্ণিত বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ এবং এতে কোনো মতভেদ (خلاف) আছে বলে আমাদের জানা নেই (২)।

 

‌‌চতুর্থত: পাপাচারের কারণসমূহ থেকে মুক্ত থাকা (৩):

পাপাচার (فسق) হলো কবিরা গুনাহ (كبيرة) করা অথবা সগিরা গুনাহের (صغيرة) ওপর অবিচল থাকা (৪)। আলিমগণ কবিরা গুনাহ (كبيرة) ও সগিরা গুনাহের (صغيرة) সংজ্ঞা, এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের পদ্ধতি এবং এদের সংখ্যার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; এমনকি কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন (৫)। আমাদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুটি মাসআলা উল্লেখ করা যেগুলোতে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে সঠিক (راجح) বিষয়টি জানার চেষ্টা করা।

প্রথম মাসআলা:

 

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে মিথ্যা (كذب) বলার পর তওবাকারীর বিধান কী (৬)? তিনি চলে গেছেন

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি খতিবের শব্দেই আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে কিতাবুল হুদুদ-এর 'পাগল চুরি করলে বা হদপ্রাপ্ত হলে' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, ৪র্থ খণ্ড, ৫৬০ পৃষ্ঠা, নং (৪৪০৩), একটি হাসান (حسن) সনদে (إسناد); এবং বিভিন্ন সূত্রের (طرق) বিবেচনায় এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।

(২) আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ৯৯।

(৩) ইতিপূর্বে আমরা পাপাচার (فسق) এবং ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এখানে কেবল কিছু মাসআলা যোগ করছি যা সেখানে আলোচনা করা হয়নি।

(৪) ফাতহুল মুগিস, ১ম খণ্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠা। মারফু (مرفوع) হিসেবে ইবনে আব্বাস, আনাস, আবু হুরায়রা ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "অবিচলতার সাথে কোনো সগিরা গুনাহ (صغيرة) নেই এবং ইস্তিগফারের সাথে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) নেই।" এর সকল সনদ (أسانيد) অত্যন্ত দুর্বল ও পরিত্যাজ্য (واهية ساقطة)। বিস্তারিত দেখুন: সিলসিলাহ যায়িফাহ (নং ৪৮১০); তবে এটি ইবনে আব্বাস-এর উক্তি হিসেবে বায়হাকি, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে জারির ও অন্যদের নিকট সহিহ (صح) প্রমাণিত। তবে অবিচলতার (إصرار) জন্য একটি মানদণ্ড (ضابط) প্রয়োজন।

(৫) দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন: ১ম খণ্ড, ৩২১ পৃষ্ঠা; কাওয়ায়িদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম: ১ম খণ্ড, ১৯ পৃষ্ঠা; জাহাবির আল-কাবায়ির এবং ইবনে হাজার হাইতামির আয-যাওয়াযির আন ইক্কতিরাফিল কাবায়ির—এই দুটি গ্রন্থ বিশেষভাবে এই বিষয়ের ওপর রচিত।

(৬) যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে (متهم بالكذب) এবং যে বাস্তবে মিথ্যায় বিশেষিত হয়েছে, এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত; যদিও এই দুটি গুণই জারহ (جرح) বা দোষারোপের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি অস্পষ্ট নয় যে, চরম মিথ্যাবাদীর (كذاب) ক্ষেত্রে গুণটি বাস্তবে প্রমাণিত, কিন্তু যার বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ রয়েছে (متهم بالكذب) তার ক্ষেত্রে এই গুণটি প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
أكثر العلماء والمحدثين إلى أن التائب من الكذب في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقبل روايته. وإلى هذا ذهب سفيان الثوري، وعبد الله بن المبارك ورافع بن الأشرس، وأبو نعيم الفضل بن دكين، وأحمد بن حنبل، وأبو بكر الحميدي، ويحي بن معين (1) ووجه عدم قبول روايته - وإن حسنت توبته - أن ذلك تغليظاً وجزراً بليغاً عن الكذب عليه صلى الله عليه وسلم لعظم مفسدته، فإنه يصير شرعاً مستمراً إلى يوم القيامة. بخلاف الكذب على غيره والشهادة، فإن مفسدتهما قاصرة ليست عامة (2) وألحقوا بالكاذب المتعمد من أخطأ وصمم على خطئه بعد أن يبين له ذلك ممن يثق بعلمه لمجرد عناد (3).

لكن ذهب الإمام النووي رحمه الله إلى قبول رواية التائب من الكذب في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: " هذا الذي ذكره هؤلاء الأئمة ضعيف مخالف للقواعد الشرعية، والمختار القطع بصحة توبته في هذا وقبول رواياته بعدها إذا صحت توبته بشروطها المعروفة وهي: الإقلاع عن المعصية، والندم على فعلها، والعزم على أن لا يعود إليها، فهذا هو الجاري على قواعد الشرع، وقد أجمعوا على صحة رواية من كان كافراً فأسلم، وأكثر الصحابة كانوا بهذه الصفة - أي كانوا كفاراً فأسلموا - وأجمعوا على قبول شهادتهم، ولا فرق بين الشهادة والرواية في هذا، والله أعلم " (4).

وما ذهب إليه الإمام النووي رحمه الله مبني على القواعد الأصولية حيث استعمل القياس لإثبات هذا الحكم، وهو قياس التائب من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم على الكافر إذا أسلم، ومثل له بقبول الأئمة لرواية الصحابة، وقد كانوا كفاراً ثم أسلموا. لكن هذا القياس معترض، بأن الصحابة قد عدلهم القرآن

--------------------------------------------

(1) شروط الأئمة الخمسة للحازمي ص53، وفتح المغيث للسخاوي: ج1 ص365 - 369.

(2) شرح صحيح مسلم ج1 ص70.

(3) فتح المغيث: ج1 ص366.

(4) شرح صحيح مسلم ج1 ص70.
অধিকাংশ আলেম এবং হাদিস বিশেষজ্ঞ (المحدثون) এই মত পোষণ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা থেকে তওবাকারীর বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে না। সুফিয়ান আল-সাওরি, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, রাফি ইবনুল আশরাস, আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন, আহমদ ইবনে হাম্বল, আবু বকর আল-হুমাইদি এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। তার তওবা উত্তম হওয়া সত্ত্বেও বর্ণনা (رواية) কবুল না করার কারণ হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচারের ভয়াবহ পরিণতির কারণে এটি একটি কঠোর ব্যবস্থা এবং অপরাধ থেকে বিরত রাখার প্রভাবশালী মাধ্যম। কেননা এর ফলে তা কিয়ামত পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন শরয়ি বিধানে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলা এবং সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এ দুটির অনিষ্টতা সীমিত, তা সর্বজনীন নয়। তারা ইচ্ছাকৃত মিথ্যাবাদীর কাতারে তাকেও শামিল করেছেন যে ব্যক্তি ভুল করার পর কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম কর্তৃক বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ার পরেও স্রেফ হঠকারিতার কারণে নিজের ভুলের ওপর অটল থাকে।

তবে ইমাম নববী (রহ.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা থেকে তওবাকারীর বর্ণনা (رواية) কবুল করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "এইসব ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন তা দুর্বল (ضعيف) এবং শরয়ি মূলনীতির পরিপন্থী। গ্রহণযোগ্য মত হলো—এই পরিস্থিতিতে তার তওবা বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া এবং এরপর তার বর্ণনা (رواية) কবুল করা; যদি তার তওবা পরিচিত শর্তানুসারে সহিহ (صحيح) হয়। আর তওবার শর্তগুলো হলো: পাপাচার ত্যাগ করা, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। শরয়ি মূলনীতি অনুযায়ী এটিই সংগত। আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, কোনো কাফের ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে তার বর্ণনা (رواية) সহিহ (صحيح) বলে গণ্য হবে; অধিকাংশ সাহাবি এই অবস্থার ওপরই ছিলেন—অর্থাৎ তারা কাফের ছিলেন অত:পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আলেমগণ তাদের সাক্ষ্য (شهادة) কবুল করার ব্যাপারেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর এক্ষেত্রে সাক্ষ্য (شهادة) ও বর্ণনার (رواية) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।"

ইমাম নববী (রহ.) যে মতটি পোষণ করেছেন তা উসুল বা মূলনীতিশাস্ত্রীয় নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে তিনি এই বিধানটি প্রমাণের জন্য কিয়াস (قياس) পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। আর সেটি হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা বলা থেকে তওবাকারীকে ওই কাফেরের সাথে তুলনা করা যে ইসলাম গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি ইমামদের নিকট সাহাবিদের বর্ণনা (رواية) কবুল হওয়ার বিষয়টি পেশ করেছেন, যারা কাফের ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তবে এই কিয়াস (قياس) আপত্তিযোগ্য, কারণ সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা (تعديل) কুরআন দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-হাজিমির শুরুল আইম্মাতিল খামসাহ, পৃ. ৫৩ এবং সাখাভির ফাতহুল মুগিস: খণ্ড ১, পৃ. ৩৬৫ - ৩৬৯।

(২) শারহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃ. ৭০।

(৩) ফাতহুল মুগিস: খণ্ড ১, পৃ. ৩৬৬।

(৪) শারহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃ. ৭০।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الكريم وشهد بصدق إيمانهم وإسلامهم. وأما التائب من الكذب في حديث رسول الله. فأنى لنا أن نعرف صدق توبته، حتى نحكم بعدالته ونقبل روايته، كما أنه مبني

على انعدام الفارق بين الرواية والشهادة، والفارق موجود هنا.

وقد سبق إلى انتقاد النووي في هذا شيخ الإسلام زكريا الأنصاري فقد قال - بعد أن ساق كلام النووي السابق -: " كنت أميل إليه، ثم ظهر لي أن الأوجه ما قاله الأئمة لما مر، ويؤيده قول أئمتنا أن الزاني إذا تاب لا يعود محصناً، ولا يحد قاذفه، وأما إجماعهم على صحة رواية من كان كافراً فأسلم، فلنص القرآن على غفران ما سلف. والفرق بين الرواية والشهادة أن الرواية الكذب فيها أغلظ منه في الشهادة لأن متعلقها لازم لكل المكلفين، وفي كل الأعصار كما مر، مع خبر (إن كذباً علي ليس ككذب على أحد) (1) " (2).

وعليه فالراجح عدم قبول رواية التائب من الكذب في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم لعدم قيام الأدلة الكافية على ذلك - والله تعالى أعلم -.

المسألة الثانية:

 

‌‌التائب من الكذب في حديث الناس وغيره من أسباب الفسق. هذا الصنف من الرواة قبل المحدثون رواياتهم إلا خلافاً لبعض الأصوليين كالسمعاني والصيرفي (3). ولا عبرة بهذا الخلاف لأن المعتبر هو إجماع أهل الفن وهم هنا المحدثون ولم ينقل عنهم خلاف في ذلك. وأما ما قاله الحافظ البلقيني: " وما نقل عن الصيرفي يقرب منه ما قال ابن حزم: من أسقطنا حديثه لم نعد لقبوله أبداً، ومن احتججنا به لم نسقط روايته أبداً، وكذا ما قاله بن حبان في آخرين ".

في الواقع أن ما ذهب إليه ابن حزم لا علاقة له البتة بما يراه الصيرفي فابن حزم ذكر هذا بصدد الرد على من يقبل روايات الضعفاء في الرقاق والفضائل

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، عن المغيرة بن شعبة، كتاب الجنائز، باب ما يكره من النياحة على الميت، حديث رقم (1291)، ج3 ص191 مع الفتح. ورواه مسلم في مقدمة صحيحه ج1 ص10 حديث رقم (4).

(2) فتح الباقي شرح ألفية العراقي لزكريا الأنصاري ج1 ص335.

(3) علوم الحديث ص104 - 105.
...এবং তাদের ঈমানের সত্যতা ও ইসলামের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর রাসুলুল্লাহর হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা থেকে তাওবাকারীর ব্যাপারে বলা যায়—আমরা কীভাবে তার তাওবার সত্যতা নিশ্চিত করব যাতে তার আদালত (عدالة) সম্পর্কে ফয়সালা দিতে পারি এবং তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করতে পারি? উপরন্তু, এটি বর্ণনা (رواية) ও সাক্ষ্যের (شهادة) মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকার ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, অথচ এখানে পার্থক্য বিদ্যমান।

এ বিষয়ে ইমাম নববীর সমালোচনায় শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নববীর পূর্বোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: "আমিও এই মতের দিকেই ঝুঁকেছিলাম, কিন্তু পরে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইমামগণের বক্তব্যই অধিক যৌক্তিক। আর আমাদের ইমামগণের বক্তব্য একে সমর্থন করে যে, ব্যভিচারী যদি তাওবাও করে তবুও সে পুনরায় মুহসান (محصن) হিসেবে গণ্য হয় না এবং তাকে অপবাদ দানকারীর ওপর হদ প্রয়োগ করা হয় না। আর কাফির ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে তার বর্ণনা (رواية) বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে তাদের যে ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে, তা মূলত অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ক্ষমা করে দেওয়ার ব্যাপারে কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যের কারণে। আর বর্ণনা (رواية) ও সাক্ষ্যের (شهادة) মধ্যে পার্থক্য হলো—বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক গুরুতর। কারণ এর প্রভাব সমস্ত শরিয়ত দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের ওপর এবং সকল যুগে পরিব্যপ্ত, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। সাথে তো এই হাদিসটি রয়েছেই: 'নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়' (১)" (২)।

সুতরাং, অগ্রগণ্য (راجح) মত হলো—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা থেকে তাওবাকারীর বর্ণনা (رواية) কবুলযোগ্য নয়, কারণ এর স্বপক্ষে যথেষ্ট দলিল বিদ্যমান নেই—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—।

দ্বিতীয় মাসআলা:

 

‌‌মানুষের সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা বলা বা পাপাচারের (فسق) অন্য কোনো কারণে লিপ্ত ব্যক্তি তাওবা করলে তার হুকুম। এই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের বর্ণনা (رواية) হাদিস বিশারদগণ (محدثون) গ্রহণ করেছেন। তবে সামআনি ও সায়রাফির মতো কিছু উসুলবিদগণ (أصوليون) ভিন্নমত পোষণ করেছেন (৩)। এই মতভেদের কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ গ্রহণযোগ্য হলো এই শাস্ত্রের পণ্ডিত তথা হাদিস বিশারদদের (محدثون) ঐক্যমত (إجماع), আর তাদের থেকে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত বর্ণিত হয়নি। হাফেজ বুলকিনি যা বলেছেন: "সায়রাফি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার কাছাকাছি ইবনে হাজমের বক্তব্য: 'যাকে আমরা হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জন করেছি, তাকে আর কখনোই গ্রহণ করব না এবং যাকে আমরা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছি তার বর্ণনা (رواية) কখনোই বর্জন করব না'। অনুরূপ কথা ইবনে হিব্বানও অন্যদের সম্পর্কে বলেছেন।"

প্রকৃতপক্ষে, ইবনে হাজম যে দিকে গিয়েছেন তার সাথে সায়রাফির মতের কোনো সম্পর্ক নেই। ইবনে হাজম এ কথাটি বলেছেন সেই সব লোকদের খণ্ডন প্রসঙ্গে, যারা রিকাক (رقاق) ও ফজিলত (فضائل) বিষয়ক আলোচনায় দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, মুগিরা ইবনে শুবা থেকে, জানাজা অধ্যায়, মৃতের ওপর বিলাপ করা অপছন্দনীয় হওয়া পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১২৯১, ফাতহুল বারিসহ ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯১। ইমাম মুসলিম তার সহিহর মুকাদ্দিমায় এটি বর্ণনা করেছেন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০, হাদিস নং ৪।

(২) ফাতহুল বাকি শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, জাকারিয়া আল-আনসারি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৫।

(৩) উলুমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ১০৪ - ১০৫।
(খণ্ড: ১) শারহুল মুওকিজাহ লিয যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويتجنبها في الأحكام والحلال والحرام، كما هو مذهب كثير من أئمة الحديث، فهو يرى أن الراوي إما أن يكون من العدالة والضبط بحيث تقبل أحاديثه جملة، أو

ينزل عن درجة القبول فترد أحاديثه جملة.

 

‌‌خامساً: السلامة من خوارم المروءة:

عرفت المروءة بتعاريف كثيرة، جلها يرجع إلى العادات الجارية بين الناس. فقال بعضهم: "المروءة كمال المرء كما أن الرجولة كمال الرجل ".

وقال بعضهم:"المروءة هي قوة للنفس تصدر عنها الأفعال الجميلة المستحقة للمدح شرعاً وعقلاً وعرفاً ".

وقال آخرون: " المروءة صون النفس عن الأدناس، ورفعها عما يشين عند الناس " وقيل: "سيرة المرء بسيرة أمثاله في زمانه ".

ومن أحسن تعاريفها " هي آداب نفسانية، تحمل مراعاتها الإنسان على الوقوف عند محاسن الأخلاق، وجميل العادات " (1).

واشتراط العلماء للمروءة سببه: أن الإخلال بها إما يكون لخبل في العقل، أو لنقصان في الدين، أو لقلة حياء وكل ذلك رافع للثقة بقوله (2).

وقد جرى نزاع كبير واعتراض على من أدخل المروءة في شروط العدالة المتفق عليها (3).

ومما يجدر التنبيه إليه هنا - وهو أن اشتراط المروءة والقدح في الراوي الذي يتصف بما هو من خوارمها، إنما هو موكول للعالم الناقد مع إضافة أسباب أخرى قد فصلها الإمام الخطيب البغدادي حيث قال: " وقد قال الكثير من الناس: يجب أن يكون المحدث والشاهد مجتنبين لكثير من المباحات نحو التبذل والجلوس للتنزه في الطرقات، والأكل في الأسواق، وصحبة العامة الأرذال، والبول على قوارع

--------------------------------------------

(1) توجيه النظر إلى أصول الأثر ص28 - 29.

(2) المرجع نفسه ص 29.

(3) انظر هذه الاعتراضات والجواب عليها في: التقييد والإيضاح ص114 - 115 وفتح المغيث: ج1 ص316 - 317، وشرح العراقة لألفيته: ج1 ص300 - 303، وتدريب الراوي: ج1 ص305 - 306.
ويتجنبها في الأحكام والحلال والحرام، كما هو مذهب كثير من أئمة الحديث، فهو يرى أن الراوي إما أن يكون من العدالة والضبط بحيث تقبل أحاديثه جملة، أو

এবং অনেক হাদিস বিশারদগণের মাজহাব অনুযায়ী তিনি বিধান (আহকাম) এবং হালাল-হারামের ক্ষেত্রে তা পরিহার করেন। কারণ তিনি মনে করেন যে, একজন বর্ণনাকারী (راو) হয় এমন চারিত্রিক সততা (عدالة) ও নির্ভুলতার (ضبط) অধিকারী হবেন যার ফলে তার বর্ণিত সকল হাদিস সামগ্রিকভাবে কবুল করা হবে, অন্যথায়

ينزل عن درجة القبول فترد أحاديثه جملة.

তিনি গ্রহণযোগ্যতার স্তর থেকে নিচে নেমে যাবেন এবং তার সকল হাদিস সামগ্রিকভাবে বর্জন করা হবে।

 

‌‌খামসা: মানবিক মর্যাদা (مروءة) ক্ষুণ্নকারী বিষয় (خوارم) থেকে মুক্ত থাকা:

মুরুআহ বা মানবিক মর্যাদার অনেক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশ মানুষের প্রচলিত রীতিনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করে। কেউ কেউ বলেছেন: "মুরুআহ হলো মানুষের পূর্ণতা, যেমন পুরুষত্ব হলো পুরুষের পূর্ণতা।"

আবার কেউ বলেছেন: "মুরুআহ হলো আত্মার এমন এক শক্তি যা থেকে এমন সব সুন্দর কাজ প্রকাশ পায় যা শরিয়ত, বিবেক এবং সামাজিক প্রথার বিচারে প্রশংসার দাবিদার।"

অন্যরা বলেছেন: "মুরুআহ হলো আত্মাকে অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করা এবং মানুষের নিকট যা মর্যাদাহানিকর তা থেকে নিজেকে উর্ধ্বে রাখা।" আবার বলা হয়েছে: "নিজের সমসাময়িক সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সচ্চরিত্র অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই হলো মুরুআহ।"

এর অন্যতম সুন্দর সংজ্ঞা হলো: "এটি এমন এক আত্মিক শিষ্টাচার, যার অনুসরণ মানুষকে উত্তম চরিত্র এবং সুন্দর রীতিনীতি আঁকড়ে ধরতে বাধ্য করে।" (১)।

ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক মুরুআহর শর্তারোপ করার কারণ হলো: এতে ত্রুটি আসা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক বৈকল্যের কারণে, অথবা দ্বীনের অপূর্ণতার কারণে, অথবা লজ্জাহীনতার কারণে; যার প্রতিটিই তার বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতাকে (ثقة) বিনষ্ট করে। (২)।

যারা সর্বসম্মত চারিত্রিক সততার (عدالة) শর্তাবলীর মধ্যে মুরুআহকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাদের বিষয়ে অনেক মতভেদ ও আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে (৩)।

এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো—মুরুআহর শর্তারোপ করা এবং বর্ণনাকারীর (راو) মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী দোষে তাকে অভিযুক্ত করা মূলত বিজ্ঞ সমালোচক (ناقد) আলিমের বিবেচনার ওপর ন্যস্ত। এর সাথে আরও কিছু কারণ যুক্ত হতে পারে যা ইমাম খতিব বাগদাদি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "অনেক লোক বলেছেন: মুহাদ্দিস (محدث) এবং সাক্ষীকে অনেক বৈধ বিষয় থেকেও বিরত থাকতে হবে, যেমন—জৌলুস হারানো বা সাধারণ বেশে চলাফেরা করা, রাস্তার পাশে বিনোদনের জন্য বসা, বাজারে খাবার খাওয়া, নিচ প্রকৃতির সাধারণ লোকদের সাহচর্যে থাকা এবং রাস্তার মাঝে প্রস্রাব করা..."

--------------------------------------------

(১) তাওজিহুন নজর ইলা উসুলিল আসার, পৃ. ২৮-২৯।

(২) প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯।

(৩) এই আপত্তি ও তার উত্তরসমূহের জন্য দেখুন: আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ, পৃ. ১১৪-১১৫; ফাতহুল মুগিস: ১খ, পৃ. ৩১৬-৩১৭; আলফিয়্যাহ-এর ইরাকি শরাহ: ১খ, পৃ. ৩০০-৩০৩; এবং তাদরিবুর রাবি: ১খ, পৃ. ৩০৫-৩০৬।