(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
التحرير شرح الدليل - كتاب الطهارة   (أبو المنذر المنياوي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: التحرير شرح الدليل (شرح دليل الطالب) - كتاب الطهارة

المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي

الناشر: المكتبة الشاملة، مصر

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 268

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1432

আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - পবিত্রতা অধ্যায়   (আবু আল-মুনযির আল-মিনইয়াওয়ী)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


গ্রন্থ: আত-তাহরীর শারহুদ দালীল (শারহু দালীলিল তালিব) - পবিত্রতা অধ্যায়

লেখক: আবু আল-মুনযির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আবদুল লতিফ আল-মিনইয়াওয়ী

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুশ শামিলা, মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের (কাগজ সংস্করণ) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
التحرير

شرح الدليل

للعلامة الفقيه الأصولي زين الدين مرعي بن يُوسُف الكرْمي الحنبلي.

(ت: 1033 هـ)

رحمه الله تعالى

الجزء الأول

قسم الطهارة

تأليف الفقير إلى عفو ربه الغني

أبي المنذر: محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي

عفا الله - تعالى - عنه

 

الطبعة الأولى

1432هـ / 2011م

المكتبة الشاملة
আত-তাহরীর

শারহু আদ-দালীল

আল্লামা, ফকীহ ও উসূলবিদ যাইনুদ্দীন মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-হাম্বালী-এর রচিত।

(মৃত্যু: ১০৩৩ হিজরী)

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন

প্রথম খণ্ড

পবিত্রতা অধ্যায়

তাঁর ঐশ্বর্যশালী রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দার রচনা

আবু আল-মুনযির: মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-মিনয়াভী

আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরী / ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

আল-মাকতাবাতুশ শামিলা
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1432 هـ / 2011 م

رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 5/ 2011
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরী / ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ

মাকতাবা শামিলাহ-তে জমা নম্বর ৫/ ২০১১
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الشارح:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبدُه ورسولُه.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.

أما بعد …

فنبدأ بعون الله تعالى وتوفيقه في شرح متن "دليل الطالب لنيل المطالب" للعلامة مرعي بن يُوسُف الكرْمي رحمه الله.

ونرجوا من الله القبول والسداد، وأن يمن علينا بإتمام هذا الشرح، وأن يتقبله وينفع به إنه ولي ذلك وهو القادر عليه.

 

نبدأ بنُّبْذَة عن‌‌ التعريف بالمؤلف.

هو الإمام العلامة زين الدين مرعي بن يُوسُف بن أبي بكر بن أحمد بن أبي بكر بن يُوسُف بن أحمد الكرْمي المقدسي المصري الأزهري الحنبلي.

ولد ونشأ المؤلف رحمه الله تعالى في بلدته طور كرْم وهي مدينة معروفة في فلسطين وإليه نسبتها، وتعلم فيها مبادئ القراءة والكتابة، وتلقى مبادئ العلوم، وحفظ القرآنَ الكريم، ورحل إلى بيت المقدس ونهل من معين العلم فيها وجالس العلماء واستفاد من العلوم التي لديهم، ثم رحل بعد ذلك إلى القاهرة، فأخذ العلم عن كثير من علمائها ومشايخها في الفقه والحديث والتفسير حتى أصبح يشار إليه بالبنان في مكانته العلمية فتصدر للتدريس والإفتاء، وقد بقي فيها يفيد ويستفيد حتى توفي رحمه الله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদের একটি সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।}

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলো সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।}

অতঃপর …

আমরা আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও তাওফীকে আল্লামা মারয়ী বিন ইউসুফ আল-কারমী রাহিমাহুল্লাহর "দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব" মাতনটির ব্যাখ্যা শুরু করছি।

আমরা আল্লাহর কাছে কবুলিয়াত ও সঠিক পথপ্রদর্শনের আশা করছি, এবং তিনি যেন আমাদের ওপর এই ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করেন এবং এটি কবুল করেন ও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর সর্বশক্তিমান।

 

আমরা শুরু করছি‌‌ লেখকের পরিচিতি সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে।

তিনি হলেন ইমাম আল্লামা যয়নুদ্দীন মারয়ী বিন ইউসুফ বিন আবু বকর বিন আহমদ বিন আবু বকর বিন ইউসুফ বিন আহমদ আল-কারমী আল-মাকদিসি আল-মিসরি আল-আযহারি আল-হানবালি।

লেখক রাহিমাহুল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ শহর তূর কারমে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন, এটি ফিলিস্তিনের একটি পরিচিত শহর এবং এর দিকেই তাঁর নিসবত (পরিচয়)। তিনি সেখানে পঠন-পাঠনের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন, মৌলিক জ্ঞানসমূহ অর্জন করেন এবং পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। এরপর তিনি বায়তুল মাকদিসে সফর করেন এবং সেখানকার ইলমের প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করেন, আলেমদের মজলিসে বসেন এবং তাঁদের নিকট থাকা ইলম থেকে উপকৃত হন। এরপর তিনি কায়রোতে পাড়ি জমান এবং ফিকহ, হাদিস ও তাফসিরের অনেক আলেম ও শায়খদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ইলমি মর্যাদার কারণে মানুষের কাছে তিনি অতি পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের জন্য নিয়োজিত হন। তিনি সেখানে আমৃত্যু ইলম বিতরণ ও অর্জনে নিয়োজিত ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
-‌‌ مذهبه:

درس المؤلف المذهب الحنبلي وتفقه فيه، ولذا فهو يعد من علماء الحنابلة الكبار،

وقد قام بتدريس الفقه الحنبلي بجامع ابن طولون بالقاهرة فترة من الزمن، وألف فيه الكتب والرسائل، مثل: كتاب " دليل الطالب، وكتاب غاية المنتهى في جمع الإقناع والمنتهى "

وقال:

لَئِنْ قلَّدَ الناسُ الأئمَّةَ إنني … لَفي مذهبِ الحَبْر ابن حنبل راغبُ

أُقلِّدُ فتواهُ وأعشقُ قولَهُ … وللناسِ فيما يعشَقُونَ مذَاهبُ

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

فقد قال عنه ابن حُمَيد في السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة (463): " العالم العلامة، البحر الفهامة، المدقق المحقق، المفسر المحدث، الفقيه، الأصولي، النحوي، أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر ".

وقال عنه ابن بدران في " المدخل " (442): " العلامة، بقية المجتهدين، أحد أكابر علماء هذا المذهب بمصر ".

وقال عنه محمد جميل الشِّطِي في مختصر طبقات الحنابلة (108): " شيخ الإسلام، أوحد العلماء الأعلام فريد عصره وزمانه، ووحيد دهره وأوانه، صاحب التآليف العديدة، والتحريرات المفيدة، العلامة بالتحقيق والفهامة بالتدقيق ".

قال عنه المُحبي في خلاصة الأثر (4/ 358): " أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر، وكان محدثا فقيها ذا اطلاع واسع على نقول الفقه ودقائق الحديث ".

 

‌‌مؤلفاته:

فقد برع في مختلف العلوم الشرعية في الفقه والتفسير والحديث والعقائد وغيرها، وكذا في علوم العربية كالنحو والصرف والبلاغة والأدب والشعر، وعلوم السيرة والتاريخ والسلوك وغيرها. ومؤلفاته كثيرة بلغت حوالي الثمانين تأليفاً ما بين كتاب كبير ورسالة صغيرة.

 

‌‌وفاته:

توفي الإمام العلامة بعد حياة حافلة بالعلم والتعليم والتدريس والإفتاء في القاهرة
‌তাঁর মাযহাব:

লেখক হাম্বলী মাযহাব অধ্যয়ন করেছেন এবং তাতে বুৎপত্তি লাভ করেছেন, একারণেই তিনি হাম্বলী মাযহাবের বড় আলেমদের একজন হিসেবে গণ্য হন।

তিনি এক সময় কায়রোর ইবনে তুলুন মসজিদে হাম্বলী ফিকহ অধ্যাপনা করেছেন এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন বই ও রিসালা রচনা করেছেন, যেমন: 'দলীলুত তালিব' এবং 'গায়াতুল মুনতাহা ফী জাময়িল ইকনা ওয়াল মুনতাহা'।

তিনি বলেছেন:

মানুষ যদি ইমামদের অনুসরণ করে তবে নিশ্চয়ই আমি … জ্ঞানতিলক ইবনে হাম্বলের মাযহাবের প্রতিই অনুরাগী।

আমি তাঁর ফাতওয়ার অনুসরণ করি এবং তাঁর বাণীকে ভালোবাসি … আর মানুষের ভালোবাসার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পথ থাকতেই পারে।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

ইবনে হুমাইদ ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরইহিল হানাবিলাহ’ (৪৬৩) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "মহা-আলিম, প্রজ্ঞার সমুদ্র, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, উসুলবিদ, নাহুবিদ এবং মিশরের হাম্বলী উলামাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।"

ইবনে বাদরান ‘আল-মাদখাল’ (৪৪২) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "বিদ্বান, মুজতাহিদগণের উত্তরসূরি এবং মিশরের এই মাযহাবের বড় আলেমদের একজন।"

মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি ‘মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ’ (১০৮) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "শাইখুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে অনন্য, তাঁর যুগের ও সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, বহু গ্রন্থ ও উপকারী লেখনীর প্রণেতা, গভীর পাণ্ডিত্য ও সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী আলেম।"

মুহিব্বী ‘খুলাসাতুল আসার’ (৪/৩৫৮) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "মিশরের হাম্বলী আলেমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি; তিনি মুহাদ্দিস ও ফকীহ ছিলেন এবং ফিকহী উদ্ধৃতি ও হাদীসের সূক্ষ্ম বিষয়াবলির ওপর তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল।"

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

তিনি ফিকহ, তাফসীর, হাদীস, আকীদাহসহ বিভিন্ন শরয়ী বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। একইভাবে নাহু, সরফ, বালাগাত, সাহিত্য ও কবিতা এবং সীরাত, ইতিহাস ও আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি আরবী ভাষাবিজ্ঞানেও তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর রচনাবলি সংখ্যায় অনেক, বড় কিতাব ও ছোট রিসালা মিলিয়ে তা প্রায় আশির কোঠায় পৌঁছেছে।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

জ্ঞান অর্জন, শিক্ষাদান, অধ্যাপনা ও ফাতওয়া প্রদানের এক কর্মমুখর জীবন কাটিয়ে এই মহা-বিদ্বান ইমাম কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وثلاثين وألف من الهجرة فرحمه الله رحمة واسعة.

 

‌‌التعريف بالمتن:

أما المتن الذي ندرسه " دليل الطالب لنيل المطالب "فهو متن مشهور في الفقه الحنبلي اختصره الشيخ مرعي من كتاب ابن النجار " منتهى الإرادات في جمع المقنع والتنقيح وزيادات " كما صرح بذلك جماعة من العلماء منهم:

الشيخ محمد بن مانع في حاشيته على دليل الطالب.

والشيخ صالح بن حسن البُهوتي في مقدمة شرحه " مسلك الراغب شرح دليل الطالب" … . وغيرهما.

وقد أشار الماتن نفسه إلى ذلك في مقدمة كتابه دليل الطالب حيث قال: [وأشهد أن محمداً عبده ورسوله … الفائز بمنتهى الإرادات من ربه … ]

ومنتهى الإرادات وهو أصل كتابنا من متون المذهب المعتمدة فقد اعتمده المتأخرون من عصر المؤلف حتى كان والد المؤلف يقرؤه للطلاب ويثني عليه وكاد الكتاب لشهرته ينسي ما قبله من متون المذهب المطولة فعكف الناس عليه شرحاً وتحشيةً واختصاراً وجمعاً له مع غيره.

وتعالوا نتوقف قليلا لنتعرف على أصل كتابنا وهو كتاب منتهى الإرادات وأهميته:

: [بعد أن وضع ابن قدامة متنه المشهور " المقنع " لقي قبولاً كبيراً داخل المذهب لكونه جاء على قول واحد هو الراجح في المذهب وتميز عن الكتب التي سبقته بأنه أوضح منها إشارة وأسلس عبارة وأجمع تقسيماً وتنويعاً كما أنه حوى غالب أمهات مسائل المذهب على توسط حجمه ومن هنا تناوله الحنابلة بالتآليف كالشروح والتعليقات التي تبيّنه وكتب اللغة التي توضح مصطلحاته وحدوده، وكتب التخريج التي تخرج أدلته وهذا الكتاب - وإن كان يعتبر نقلة علمية في المذهب - إلا أنه كان بحاجة إلى تحرير أكثر وتصحيح، فقد أطلق مؤلفه رحمه الله الخلاف في كثير من مسائله بصيغ متفاوتة أوصلها بعضهم إلى ما يزيد على ثلاثين صيغة ولم يفصح فيها بتقديم حكم. كما أنه قطع بمسائل وقدمها على أنها المذهب وهي غير الراجح في المذهب وأخلّ ببعض القيود والشروط الصحيحة في
হিজরি এক হাজার তেত্রিশ সালের রবিউল আউয়াল মাসে; আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌‌মূল পাঠের (মাতন) পরিচিতি:

আমরা যে মূল পাঠটি (মাতন) অধ্যয়ন করছি, তা হলো ‘দালীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব’। এটি হাম্বলী ফিকহের একটি প্রসিদ্ধ মাতন, যা শায়খ মারঈ ইবনে নাজ্জারের ‘মুনতাহাল ইরাদাত ফী জাময়িল মুকনি’ ওয়াত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছেন। একদল আলেম বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:

শায়খ মুহাম্মদ বিন মানে‘ তাঁর ‘দালীলুত তালিব’-এর ওপর লেখা হাশিয়াতে।

এবং শায়খ সালিহ বিন হাসান আল-বুহুতী তাঁর ‘মাসলাকুর রাগিব শারহু দালীলিত তালিব’ এর ভূমিকায় … । এবং আরও অনেকে।

স্বয়ং গ্রন্থকার তাঁর ‘দালীলুত তালিব’ গ্রন্থের ভূমিকায় এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল … যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে চরম আকাঙ্ক্ষা (মুনতাহাল ইরাদাত) লাভে সফল হয়েছেন … ]

‘মুনতাহাল ইরাদাত’ যা আমাদের গ্রন্থের মূল উৎস, তা মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মূল পাঠসমূহের (মাতন) অন্তর্ভুক্ত। লেখকের যুগ থেকে পরবর্তী আলেমগণ এটি গ্রহণ করেছেন, এমনকি লেখকের পিতাও এটি ছাত্রদের পড়াতেন এবং এর প্রশংসা করতেন। গ্রন্থটি তার ব্যাপক প্রসিদ্ধির কারণে মাযহাবের পূর্ববর্তী দীর্ঘ মাতনগুলোকে প্রায় ভুলিয়ে দিয়েছিল; ফলে মানুষ এর ব্যাখ্যা (শারহ), টীকা (হাশিয়া), সংক্ষিপ্তকরণ এবং অন্যান্য গ্রন্থের সাথে সমন্বয় করার কাজে মনোনিবেশ করেছে।

আসুন আমরা আমাদের গ্রন্থের মূল উৎস তথা ‘মুনতাহাল ইরাদাত’ গ্রন্থটি এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানার জন্য কিছুটা সময় দেই:

: [ইবনে কুদামা তাঁর বিখ্যাত মাতন ‘আল-মুকনি’ রচনা করার পর তা মাযহাবের ভেতরে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। কারণ এটি মাযহাবের একটি মাত্র বিশুদ্ধ (রাজাহ) মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল। এটি তার পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর চেয়ে অধিকতর সুস্পষ্ট ইঙ্গিতময়, প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী এবং অধিক বিন্যাস ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছিল। এছাড়া মাঝারি আকৃতির হওয়া সত্ত্বেও এটি মাযহাবের অধিকাংশ মৌলিক মাসআলা ধারণ করেছিল। ফলে হাম্বলী আলেমগণ এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রচনা তৈরি করেছেন, যেমন এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ), ব্যাখ্যামূলক টীকা (তালিকাত), এর পরিভাষা ও সীমানা স্পষ্ট করার জন্য লুগাত বা অভিধানগ্রন্থ এবং এর দলিলগুলো যাচাই করার জন্য তাখরীজ গ্রন্থ। এই কিতাবটি মাযহাবে এক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি আরও অধিক সংস্কার ও সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। কারণ এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) অনেক মাসআলায় মতভেদগুলোকে বিভিন্ন বিন্যাসে অস্পষ্ট রেখেছিলেন, যা কারো কারো মতে ত্রিশটিরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং সেখানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট হুকুমকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এছাড়া তিনি এমন কিছু মাসআলাকে চূড়ান্ত ও মাযহাব হিসেবে পেশ করেছিলেন যা মাযহাবের রাজাহ বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত ছিল না এবং তিনি কিছু সঠিক শর্ত ও সীমাবদ্ধতা পালনে ত্রুটি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المذهب إضافة إلى أن عبارته كانت بحاجة إلى إعادة نظر لما فيها من عموم أو إطلاق أو خلل لهذه الأسباب وغيرها كانت الحاجة ماسة لأن يوجد كتاب يتمم ويكمل النقص الذي في هذا المتن الشهير.

فجاء مجدد المذهب القاضي علي بن سليمان المرداوي ليسد هذا النقص بكتابه " التنقيح المشبع في تحرير أحكام المقنع "

فعالج أغلب ما كان ينتقد على متن المقنع حتى كان كما قال عنه الشُّوَيْكِي رحمه الله: " أجل كتاب اجتهد في جمعه وأتى بالصواب وأراح كل قاض ومفت من الأتعاب وسهّل لهم معرفة المذهب وقرّب لهم المقصد والمطلب " ومن هنا اشتهر هذا الكتاب لدى أعيان المذهب باسم " التصحيح " وسمي مؤلفه " بالمصحح " لأنه صحح المقنع في مسائله وعباراته ومع هذا العمل الجليل الذي قدمه المرداوي للمذهب إلا أنه رحمه الله ترك مسائل كثيرة في كتابه فلم يتناولها في التصحيح، كما أنه أسقط من كلام موفق الدين ابن قدامة أشياء كان يجب المحافظة عليها وبقاؤها مثل الشروط والقيود والاستثناءات الصحيحة في المذهب.

كما أنه رحمه الله كان يحيل الحكم في بعض الأحيان على المقنع ويطلقه من غير تقييد.

فلهذه المقتضيات وغيرها ظهرت الحاجة الشديدة للجمع بين هذين الكتابين - المقنع والتنقيح - حتى يتم المقصود في وجود متن يعتمد القول الصحيح في المذهب بعبارة سليمة واضحة المقصود. فظهرت لهذه المهمة الشاقة - الجمع بين المقنع والتنقيح - فيما أعلم ثلاث محاولات:

الأولى: قام بها العلامة أحمد بن عبد الله بن أحمد العسكري الصالحي) تلميذ المصحح المرداوي رحمه الله، في كتابه (المنهج في الجمع بين المقنع والتنقيح) إلا أنه توفي قبل أن يتم كتابه فقد وصل فيه إلى الوصايا.

الثانية: قام بها الشيخ أحمد الشُّوَيْكِي رحمه الله في كتابه " التوضيح في الجمع بين المقنع والتنقيح " وقد وصف كتابه هذا بوضوح العبارة حتى قيل إنه متن كالشرح.
মাযহাবের পাশাপাশি এর শব্দায়ন বা ইবারতগুলোও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল; কারণ তাতে অস্পষ্টতা, নিঃশর্ত বর্ণনা কিংবা কিছু ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। এই সকল কারণ ও অন্যান্য কারণে এমন একটি কিতাব প্রণয়নের তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল, যা এই প্রসিদ্ধ মূলগ্রন্থের অসম্পূর্ণতা দূর করবে এবং একে পূর্ণতা দান করবে।

অতঃপর মাযহাবের মুজাদ্দিদ কাযী আলী ইবনে সুলায়মান আল-মারদাবী এই অভাব পূরণের লক্ষ্যে তাঁর "আত-তানকীহ আল-মুশবি' ফী তাহরীর আহকামিল মুকনি'" কিতাবটি নিয়ে আসলেন।

তিনি মুকনি'-র মূলপাঠের ওপর আনীত অধিকাংশ সমালোচনা নিরসন করেছেন, এমনকি কিতাবটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যার সম্পর্কে শুওয়াইকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "এটি সংকলনের ক্ষেত্রে আপ্রাণ চেষ্টার ফলস্বরূপ এক মহান কিতাব, যা সঠিক সমাধান নিয়ে এসেছে এবং সকল বিচারক ও মুফতীকে কষ্টসাধ্য পরিশ্রম থেকে মুক্তি দিয়েছে। এটি তাঁদের জন্য মাযহাবের পরিচিতিকে সহজ করে দিয়েছে এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্য ও কাম্য বিষয়কে নিকটতর করেছে।" এখান থেকেই মাযহাবের বিশিষ্ট আলিমদের নিকট কিতাবটি "আত-তাসহীহ" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং এর লেখককে "আল-মুসাহহিহ" (সংশোধনকারী) হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ তিনি মুকনি'-র মাসয়ালা ও শব্দায়নের সংশোধন করেছেন। মাযহাবের প্রতি আল-মারদাবীর এই মহান অবদান থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর কিতাবে বহু মাসয়ালা ছেড়ে গিয়েছেন যা আত-তাসহীহ-এ আলোচনা করেননি। একইভাবে তিনি মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামাহ-এর বক্তব্য থেকে এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন যা সংরক্ষণ করা ও অবশিষ্ট রাখা জরুরি ছিল, যেমন মাযহাবের সঠিক শর্তাবলি, বিধি-নিষেধ ও ব্যতিক্রমসমূহ।

পাশাপাশি তিনি মাঝে মাঝে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মুকনি'-র উদ্ধৃতি দিতেন এবং কোনো বিধি-নিষেধ ছাড়াই তা নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করতেন।

এই সকল অনিবার্য কারণ ও অন্যান্য প্রেক্ষাপটে কিতাব দুটির—মুকনি' ও তানকীহ—সমন্বয়ের তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়, যাতে এমন একটি মূলগ্রন্থ অস্তিত্ব লাভ করে যা সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাষায় মাযহাবের বিশুদ্ধ মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে। এই কঠিন কাজের জন্য—অর্থাৎ মুকনি' ও তানকীহ-এর সমন্বয়ের লক্ষ্যে—আমার জানা মতে তিনটি প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়:

প্রথম: আল্লামা আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-আসকারী আস-সালিহী (যিনি মুসাহহিহ আল-মারদাবীর ছাত্র ছিলেন) তাঁর "আল-মানহাজ ফীল জাময়ি বাইনাল মুকনি' ওয়াত তানকীহ" নামক কিতাবে এই প্রচেষ্টা করেন। তবে তিনি কিতাবটি সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন; তিনি এতে "অসিয়ত" অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

দ্বিতীয়: শায়খ আহমাদ শুওয়াইকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর "আত-তাওযীহ ফীল জাময়ি বাইনাল মুকনি' ওয়াত তানকীহ" নামক কিতাবে এই কাজ আঞ্জাম দেন। তিনি তাঁর এই কিতাবটিকে শব্দায়নের প্রাঞ্জলতায় এমনভাবে বিশেষিত করেছেন যে, বলা হয়ে থাকে এটি এমন এক মূলগ্রন্থ যা ব্যাখ্যার মতোই সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الثالثة: قام بها تقي الدين محمد بن أحمد الْفَتُوحِي الشهير بـ " ابن النجار " في كتابه " منتهى الإرادات في الجمع بين المقنع والتنقيح وزيادات " ووصف علماء المذهب هذا الكتاب بأنه معقد العبارة ومع هذا فهو عمدة المتأخرين وقد لقي قبولاً كبيراً وحظي بالشروح والتعليقات]

وبعد ذلك جاء الشيخ مرعي فاختصر منتهى الإرادات في كتابه دليل الطالب لنيل المطالب.

 

‌‌أهمية الكتاب

يعتبر كتاب دليل الطالب لنيل المطالب من المتون المختصرة المعتمدة عند متأخري علماء المذهب الحنبلي.

لا يذكر فيه مؤلفه خلافاً في المسائل، وإنما يقتصر على رواية واحدة وهي ما صححه المحققون من علماء المذهب وما صار عليه مدار الفتوى عند المرجحين المتقنين كأمثال ابن قدامة (المقنع) والمرداوي (التنقيح المشبع) وابن النجار (منتهى الإرادات).

وقد أشار الشيخ مرعي في مقدمة كتابه دليل الطالب إلى ذلك فقال: (وبعد فهذا مختصر في الفقه على المذهب الأحمد مذهب الإمام أحمد بالغت في إيضاحه رجاء الغفران وبينت فيه الأحكام أحسن بيان لم أذكر فيه إلا ما جزم بصحته أهل التصحيح والعرفان وعليه الفتوى فيما بين أهل الترجيح والإتقان).

وقال ابن بدران: [ … حرر مسائله على الراجح من المذهب]

وقال د. بكر أبو زيد: [ … بناه على الراجح من المذهب]

 

وعليه فمن‌‌ أهم ميزات كتاب دليل الطالب:

1 - متن مختصر.

2 - مشهور بين أتباع المذهب.

3 - دقيق العبارة.

4 - سهل العبارة يخلو من التعقيد والإلغاز.

5 - يخلو من ذكر الدليل وهذا شأن المختصرات.

6 - اقتصر على رواية واحدة وهي الراجحة في المذهب.
তৃতীয়: এটি সম্পন্ন করেছেন তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-ফুতুহি, যিনি "ইবনুন নাজ্জার" নামে প্রসিদ্ধ, তার কিতাব "মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়ি বাইনাল মুকনি ওয়াত তানকিহ ওয়া যিয়াদাত"-এ। মাযহাবের আলেমগণ এই কিতাবটিকে জটিল ভাষাশৈলী সম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছেন, তবে তা সত্ত্বেও এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের প্রধান অবলম্বন এবং এটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে ও এর ওপর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচিত হয়েছে।

এরপর শায়খ মারঈ আগমন করেন এবং তিনি তার কিতাব "দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব"-এ "মুনতাহাল ইরাদাত"-এর সংক্ষিপ্তসার পেশ করেন।

 

‌‌কিতাবটির গুরুত্ব

"দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব" কিতাবটি হাম্বলী মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যবইসমূহের (মুতুন) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

এর লেখক এতে মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে মতভেদ উল্লেখ করেননি, বরং তিনি কেবল একটি বর্ণনার (রিওয়ায়াত) ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা মাযহাবের গবেষক আলেমগণ বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন এবং যা ইবনে কুদামা (আল-মুকনি), আল-মারদাওয়ী (আত-তানকিহ আল-মুশবি) এবং ইবনুন নাজ্জার (মুনতাহাল ইরাদাত)-এর মতো দক্ষ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের নিকট ফতোয়ার ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

শায়খ মারঈ তার "দালিলুত তালিব" কিতাবের ভূমিকায় সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (অতঃপর, এটি ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্তসার। আমি আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশায় এর ব্যাখ্যায় সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি এবং এতে আহকামসমূহ অত্যন্ত উত্তমভাবে বর্ণনা করেছি। নির্ভরযোগ্য আলেমগণ যেটিকে নিশ্চিতভাবে বিশুদ্ধ বলেছেন এবং অগ্রাধিকার প্রদানকারী দক্ষ ফকিহগণের নিকট যার ওপর ফতোয়া আবর্তিত হয়, তা ছাড়া আমি অন্য কিছু উল্লেখ করিনি)।

ইবনে বাদরান বলেছেন: [ … তিনি এর মাসআলাসমূহকে মাযহাবের অগ্রগণ্য মতের ভিত্তিতে পরিমার্জিত করেছেন]

ড. বকর আবু যায়দ বলেছেন: [ … তিনি এটিকে মাযহাবের অগ্রগণ্য মতের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন]

 

এর প্রেক্ষিতে‌‌ "দালিলুত তালিব" কিতাবটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১ - এটি একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যবই।

২ - এটি মাযহাবের অনুসারীদের মাঝে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

৩ - এর ভাষাশৈলী অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিঁখুত।

৪ - এর ভাষা অত্যন্ত সহজবোধ্য, যা সব ধরনের জটিলতা ও দুর্বোধ্যতামুক্ত।

৫ - এটি দলিল উল্লেখ বর্জিত, আর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহের বৈশিষ্ট্য এমনই হয়ে থাকে।

৬ - এটি কেবল একটি বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে, যা মাযহাবের অগ্রগণ্য মত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - المسائل مرتبة ترتيباً جيداً.

8 - يفصل بذكر الشروط والأركان والفروض والواجبات والسنن والمحرمات والمكروهات والمبطلات والقيود والاستثناءات.

ولذلك فقد عُنِيَ به المتأخرون من الحنابلة دراسةً وشرحاً وتحشيةً ونظماً وذلك لما عرفوه من غزارة علمه وكثرة فوائده … وما اعتنوا به إلا لجلالة قدره عندهم ومعرفتهم بما تضمنه من التحقيق.

 

‌‌منهجي في الشرح

1 - أشرح عبارة المؤلف بما يزيل ما فيها من إبهام إن كانت مستغلقة.

2 - أقسم المتن إلى مسائل.

3 - أضع تصورا لهذه المسائل إن كانت مستغلقة بما يُجليها بإذن الله؛ لأن الحكم على شيء فرعٌ عن تصوره.

4 - إن خالف الشيخ مرعي شرطه واختار قولا ضعيفا في المذهب أبين ذلك - وهو قليل -.

5 - أستدل للرواية الراجحة في المذهب بأشهر الأدلة وأقواها دلالة على محل النزاع ولا أشترط على نفسي استيعاب الأدلة؛ لأن هذا يطول ويخرجنا عن المقصود.

6 - أبين الراجح من الأقوال في المسائل مؤيدا كلامي بأشهر الأدلة وأقواها دلالة على محل النزاع.

7 - بالنسبة للتعاريف الذي يذكرها الماتن فلن أتعرض لنقدها بإضافة قيود وفواصل غير مذكورة في تعريف الماتن جريا وراء جعل الحد جامعا مانعا فمجال ذلك في الشرح الموسع بإذن الله وسوف أقتصر على التنبيهات المباشرة التي تمس الأجناس والفواصل التي يذكرها الشيخ في تعريفه.

وهذا أوان الشروع في المقصود.

والله المستعان وعليه البلاغ ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
7 - মাসআলাসমূহ অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিন্যস্ত।

8 - এটি শর্তাবলি, রুকনসমূহ, ফরজসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, সুন্নাতসমূহ, হারামসমূহ, মাকরূহসমূহ, বাতিলকারী বিষয়সমূহ, সীমাবদ্ধতা ও ব্যতিক্রমসমূহ বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে পৃথক করা হয়েছে।

এ কারণেই পরবর্তীকালের হাম্বলি আলিমগণ এটিকে অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা, টীকা ও কাব্যরূপ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এটি তারা করেছেন এর জ্ঞানের গভীরতা ও প্রচুর উপযোগিতা সম্পর্কে তাদের অবগতির কারণে... আর তারা এর গুরুত্ব দিয়েছেন কেবল তাদের নিকট এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত সূক্ষ্ম তাহকীক (বিশ্লেষণ) সম্পর্কে তাদের জানার কারণে।

 

‌‌ব্যাখ্যায় আমার পদ্ধতি

1 - আমি লেখকের বক্তব্য এমনভাবে ব্যাখ্যা করব যা তার অস্পষ্টতা দূর করে দেবে, যদি তা জটিল বা দুর্বোধ্য হয়।

2 - আমি মূল পাঠকে (মতন) বিভিন্ন মাসআলায় বিভক্ত করব।

3 - মাসআলাগুলো যদি জটিল হয় তবে আমি সেগুলোর এমন একটি চিত্র বা ধারণা পেশ করব যা আল্লাহর ইচ্ছায় সেগুলোকে স্পষ্ট করে তুলবে; কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হলো সেই বিষয়টি অনুধাবন করার একটি শাখা।

4 - যদি শায়খ মারঈ তাঁর নিজের শর্তের পরিপন্থী মাযহাবের কোনো দুর্বল মত গ্রহণ করেন, তবে আমি তা স্পষ্ট করে দেব - আর এমনটি খুব অল্পই ঘটেছে।

5 - আমি মাযহাবের অগ্রগণ্য (রাজীহ) বর্ণনার সপক্ষে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দলীলগুলো উপস্থাপন করব। আমি সমস্ত দলীলের বিস্তারিত বিবরণের শর্ত নিজের ওপর আরোপ করছি না; কারণ এতে আলোচনা দীর্ঘ হবে এবং আমাদের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করবে।

6 - আমি মাসআলাসমূহের মাঝে অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করব এবং আমার বক্তব্যের সমর্থনে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও শক্তিশালী দলীলসমূহ পেশ করব।

7 - মূল লেখক (মাতিন) যে সংজ্ঞাগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর সংজ্ঞায় অপ্রদত্ত কোনো সীমাবদ্ধতা বা ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্য যোগ করে সেটিকে 'জামে-মানি' (পরিপূর্ণ ও বহির্ভূতকারী) করার উদ্দেশ্যে আমি কোনো সমালোচনার অবতারণা করব না। আল্লাহর ইচ্ছায় বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের জন্য তা তোলা রইল। আমি কেবল সেই সরাসরি সতর্কবার্তাগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকব যা শায়খ তাঁর সংজ্ঞায় উল্লেখ করা সাধারণ বৈশিষ্ট্য (জিলস) ও পৃথককারী বৈশিষ্ট্যের (ফাসল) সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

আর এটিই হলো মূল উদ্দেশ্য শুরু করার মাহেন্দ্রক্ষণ।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة الماتن:

قال الشيخ مرعي رحمه الله: بسم الله الر حمن الرحيم، وبه ثقتي.

الحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له مالك يوم الدين.

وأشهد أن محمدا عبده ورسوله المبين لأحكام شرائع الدين الفائز بمنتهى الإرادات من ربه فمن تمسك بشريعته فهو من الفائزين صلى الله وسلم عليه وعلى جميع الأنبياء والمرسلين وعلى آل كل وصحبه أجمعين.

وبعد: فهذا مختصر في الفقه على المذهب الأحمد مذهب الإمام أحمد بالغت في إيضاحه رجاء الغفران وبينت فيه الأحكام أحسن بيان لم أذكر فيه إلا ما جَزم بصحته أهل التصحيح والعرفان وعليه الفتوى فيما بين أهل الترجيح والإتقان وسميته بـ "دليل الطالب لنيل المطالب".

والله أسأل أن ينفع به من اشتغل به من المسلمين وأن يرحمني والمسلمين إنه أرحم الراحمين.
মূল লেখকের ভূমিকা:

শায়খ মারঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি বিচার দিবসের অধিপতি।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যিনি দ্বীনের শরিয়তের বিধানসমূহের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী এবং স্বীয় রবের পক্ষ থেকে কাম্য বিষয়সমূহের চূড়ান্ত শিখরে আসীন ও সফলকাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর শরিয়তকে আঁকড়ে ধরবে, সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং সকল নবী ও রাসুলের ওপর এবং তাঁদের পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এটি ইমাম আহমদের মাযহাব—অর্থাৎ অতি প্রশংসিত মাযহাব—অনুসারে ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা লাভের আশায় আমি এটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এতে বিধানসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। বিজ্ঞ ও সত্যায়নকারী আলেমগণ যে বিষয়গুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হয়েছেন, আমি কেবল সেগুলোই এখানে উল্লেখ করেছি এবং প্রাধান্য দানকারী ও দক্ষ আলেমদের নিকট এগুলোর ওপরই ফতোয়া আবর্তিত হয়। আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি "দালিলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব"।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে সেইসব মুসলিমদের উপকৃত করেন যারা এটি নিয়ে চর্চা করবে এবং তিনি যেন আমার ওপর ও সকল মুসলিমের ওপর রহমত বর্ষণ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌كتاب الطهارة

‌‌مسألة - تعريف الطهارة:

بدأ الماتن بتعريف الطهارة في الاصطلاح فعرفها بأنها:

 

ـ[(رفع الحدث وزوال الخبث).]ـ.

والحدث: هو شيء معنوي غير محسوس يقوم بالبدن تمتنع معه الصلاة ونحوها - أي قراءة القرآن والطواف، وغير ذلك من العبادات التي يشترط لها الطهارة -.

• الأولى أن يقول: (ارتفاع الحدث) بدلا من قوله: (رفع الحدث)، إننا الآن نعرف الطهارة وليس التطهير. التطهير هو فعل المكلف فإذا أردت طهارة جسدي من الحدث فإنني أقوم بالأعمال المشروعة من غسل الوجه واليدين ونحو ذلك مما يرفع الحدث فإن تمت هذه الطهارة أكون قد تطهرت فالطهارة أثر التطهير وناتجة عنه.

إذن التطهير الرفع، والطهارة هي الأثر والارتفاع.

رفع مصدره رفعا، وارتفع مصدره ارتفاعا.

أنا الآن أعرف الطهارة وهي الارتفاع وليس الرفع ليحصل التطابق بين المفسَّر - الطهارة - والمفسِّر - وهو الارتفاع وليس الرفع -.

إذن الأولى أن نقول في تعريف الطهارة (ارتفاع الحدث) وليس (رفع الحدث).

• وزوال، أولى ممن عبر بإزالة؛ وذلك لأن تطهير النجاسة لا يشترط لها النية فإن زالت بنفسها بدون قصد من المكلف طهرت فإن نزل المطر على الملابس التي بها نجاسة فأزالها طهرت وإن كان هذا التطهير بدون قصد ونية المكلف لإزالتها.

قال تقي الدين في " شرح العمدة " (1/ 166): (إزالة النجاسة من باب المتروك ولهذا لا يحتاج إلى عمل أصلا).

قال البهوتي في " كشاف القناع" (1/ 48): (إزالة النجاسة لا يعتبر لها نية).

الخبث، والمقصود به هنا النجاسة الحسية.

إذن تعريف الطهارة على كلام الماتن (ارتفاع الحدث وزوال الخبث) وهناك تعقبات أخرى على هذا التعريف خارجة عن شرطنا فلن استطرد بذكرها.
পবিত্রতা অধ্যায়

মাসআলা - পবিত্রতার সংজ্ঞা:

মূল গ্রন্থকার পারিভাষিক অর্থে পবিত্রতার সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন। তিনি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে:

 

—[(হাদাস দূর হওয়া এবং অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া)]—।

হাদাস হলো: এমন একটি বিমূর্ত বিষয় যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, যা শরীরে অবস্থান করে এবং এর উপস্থিতিতে সালাত ও এর অনুরূপ ইবাদত—অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত, তাওয়াফ এবং অন্যান্য ইবাদত যার জন্য পবিত্রতা শর্ত—তা পালন করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• 'হাদাস দূর করা' (রাফউল হাদাস) বলার পরিবর্তে 'হাদাস দূরীভূত হওয়া' (ইরতিফাউল হাদাস) বলা বেশি উত্তম। কারণ আমরা এখন পবিত্রতা (তাহারাত) এর সংজ্ঞা দিচ্ছি, পবিত্রকরণ (তাতহীর) এর নয়। পবিত্রকরণ হলো শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির (মুকাল্লাফ) কাজ। আমি যদি আমার শরীরকে হাদাস থেকে পবিত্র করতে চাই, তবে আমি শরয়ি আমলসমূহ সম্পাদন করি, যেমন মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করা এবং এই জাতীয় কাজ যা হাদাসকে দূর করে। যখন এই পবিত্রতা সম্পন্ন হয়, তখন আমি পবিত্র হয়ে যাই। সুতরাং পবিত্রতা হলো পবিত্রকরণের একটি প্রভাব এবং এর থেকে উৎপন্ন ফলাফল।

অতএব, পবিত্রকরণ হলো দূর করা, আর পবিত্রতা হলো তার প্রভাব বা দূরীভূত হওয়া।

'রাফা' ক্রিয়ামূলের মাসদার (ক্রিয়াবিশেষ্য) হলো 'রাফআন', আর 'ইরতাফা' এর মাসদার হলো 'ইরতিফাআন'।

আমি এখন পবিত্রতার সংজ্ঞা দিচ্ছি যা মূলত 'দূরীভূত হওয়া' (ইরতিফা), 'দূর করা' (রাফ) নয়; যাতে সংজ্ঞেয় (পবিত্রতা) এবং সংজ্ঞার (যা মূলত দূরীভূত হওয়া, দূর করা নয়) মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

সুতরাং পবিত্রতার সংজ্ঞায় 'হাদাস দূরীভূত হওয়া' (ইরতিফাউল হাদাস) বলা উত্তম, 'হাদাস দূর করা' (রাফউল হাদাস) নয়।

• এবং 'দূরীভূত হওয়া' (জাওয়াল) শব্দটি 'দূর করা' (ইজালাহ) শব্দ ব্যবহারকারীর চেয়ে উত্তম। কারণ নজাসাত বা অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না। যদি দায়বদ্ধ ব্যক্তির কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই অপবিত্রতা নিজে নিজেই দূরীভূত হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। যদি অপবিত্রতা লেগে থাকা কাপড়ের ওপর বৃষ্টি পড়ে এবং তা দূর করে দেয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে; যদিও এই পবিত্রকরণ দায়বদ্ধ ব্যক্তির কোনো উদ্দেশ্য বা নিয়ত ছাড়াই ঘটেছে।

তাকিউদ্দীন 'শারহুল উমদাহ' (১/১৬৬) গ্রন্থে বলেন: (অপবিত্রতা দূর করা বর্জনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই এতে আদতে কোনো কাজের প্রয়োজন হয় না)।

আল-বাহুতি 'কাশশাফুল কিনা' (১/৪৮) গ্রন্থে বলেন: (নজাসাত বা অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে নিয়ত ধর্তব্য নয়)।

খাবাস; এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অপবিত্রতা।

অতএব, গ্রন্থকারের বক্তব্য অনুযায়ী পবিত্রতার সংজ্ঞা হলো (হাদাস দূরীভূত হওয়া এবং খাবাস বা অপবিত্রতা দূর হওয়া)। এই সংজ্ঞার ওপর আরও কিছু পর্যালোচনা রয়েছে যা আমাদের নির্ধারিত আলোচনার বাইরে, তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করে দীর্ঘ আলোচনা করব না।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ـ[وأقسام الماء ثلاثة:

أحدها: طهور وهو الباقي على خلقته يرفع الحدث ويزيل الخبث .. ]ـ

 

‌‌مسألة - أقسام الماء ثلاثة:

طهور وطاهر ونجس، فالطهور طاهر في نفسه مطهر لغيره، والطاهر هو الماء المتغير بطاهر يشرط ألا يخرجه عن كونه ماء ففرق بين أن نقول هذا ماء وقع فيه حبر وبين أن يغلب الحبر على أجزاء الماء حتى نقول هذا حبر فيه ماء، أو أن نقول: ماء في تراب، وطين. فالكلام في النوع الأول لا الثاني لأنه خرج عن إطلاقه ولم يشمله اسم الماء، والقسم الثالث هو الماء النجس، وسيأتي تفصيل الكلام على هذه الأنواع بإذن الله تعالى.

وفي المذهب رواية أخرى بأن قسمة الماء ثنائية طهور ونجس، وقد انتصر لهذه الرواية تقي الدين في "مجموع الفتاوى" (21/ 24) واختار أن الماء الذي تغير بالطاهرات كالأشنان والصابون والسدر والعجين وغير ذلك مما يغير الماء فإنه طهور ما لم يخرج عن إطلاقه وقد توسع في الاستدلال لذلك ومن الأدلة التي ذكرها:

1 - أن الذين ذهبوا إلى أن القسمة ثلاثية فرقوا بين المتماثلات فحكموا مثلا بطهورية الماء المتغير بما يشق صون الماء عنه كالطحلب وورق شجر ما لم يوضعا، فإن وضع قصدا فإنه يكون طاهرا وكذلك التفريق بين لملح المعدني والمائي في تغيير الماء وسيأتي الكرم تفصيليا على هذه الأنواع.

2 - قوله تعالى: (وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ) وقوله: (فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً) نكرة في سياق النفي فيعم كل ما هو ماء لا فرق في ذلك بين نوع ونوع فإن قيل إن المتغير لا يدخل في اسم الماء قيل تناول الاسم لمسماه لا فرق فيه بين التغير الأصلي والطارئ ولا بين التغير الذي يمكن الاحتراز منه والذي لا يمكن الاحتراز منه.

3 - ما ثبت «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اغتسل هو وميمونة من إناء واحد في قَصْعَةٍ فيها أثر العجين» إلى غير ذلك من الأدلة.
—[পানির প্রকারভেদ তিনটি:

তার একটি হলো: তহুর (পবিত্রকারী), যা তার প্রকৃত অবস্থার ওপর অবশিষ্ট থাকে, এটি হাদাস (অশুচিতা) দূর করে এবং খাবাস (নাপাকি) নির্মূল করে... ]—

 

‌‌মাসআলা - পানির প্রকারভেদ তিনটি:

তহুর (পবিত্রকারী), তাহির (পবিত্র) এবং নাজিস (নাপাক)। তহুর হলো যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। আর তাহির হলো ঐ পানি যা কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, শর্ত হলো তা যেন পানি হওয়া থেকে তাকে বের করে না দেয়। সুতরাং এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যে, আমরা বলি এটি একটি পানি যাতে কালি পড়েছে, আর কালির অংশ পানির ওপর এমনভাবে প্রবল হওয়া যে আমরা বলি এটি কালি যাতে পানি আছে, অথবা আমরা বলি: মাটিতে পানি বা কাদা। সুতরাং আলোচনা প্রথম প্রকার নিয়ে, দ্বিতীয় প্রকার নিয়ে নয়; কারণ দ্বিতীয়টি তার সাধারণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে এবং পানির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তৃতীয় প্রকার হলো নাপাক পানি। ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এই প্রকারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

মাযহাবে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যে, পানির বিভাজন দ্বিবিধ: তহুর এবং নাজিস। ইমাম তাকিউদ্দিন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (২১/২৪) গ্রন্থে এই বর্ণনার সপক্ষে মত দিয়েছেন এবং এই মত গ্রহণ করেছেন যে, যে পানি পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয়—যেমন ওশনান, সাবান, বরই পাতা এবং আটা ইত্যাদি যা পানিকে পরিবর্তিত করে—তা তহুর (পবিত্রকারী) হিসেবেই গণ্য হবে যতক্ষণ না তা সাধারণ পানির সংজ্ঞা থেকে বেরিয়ে যায়। তিনি এই মতের সপক্ষে বিস্তারিত দলিল পেশ করেছেন এবং তাঁর উল্লিখিত দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - যারা পানির প্রকারভেদ তিনটি বলে মনে করেন, তারা সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। যেমন তারা ঐ পানির পবিত্রকারী হওয়ার (তহুরিয়াত) ফায়সালা দিয়েছেন যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন, যেমন শেওলা এবং গাছের পাতা—যতক্ষণ না সেগুলো (উদ্দেশ্যমূলকভাবে) রাখা হয়। আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয় তবে তা (কেবল) তাহির বা পবিত্র হবে। অনুরূপভাবে পানির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খনিজ লবণ এবং জলজ লবণের মধ্যেও পার্থক্য করা হয়েছে। এই প্রকারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

২ - আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; সুতরাং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মুছে নাও)। এখানে (পানি না পাও) বাক্যে 'পানি' শব্দটি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যা পানির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে এক প্রকার ও অন্য প্রকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যদি বলা হয় যে, পরিবর্তিত পানি 'পানি' নামের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তার উত্তরে বলা হবে যে, কোনো সংজ্ঞায়িত বস্তুর ওপর নামের প্রয়োগের ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন এবং আকস্মিক পরিবর্তনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, আর যে পরিবর্তন থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব এবং যে পরিবর্তন থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়—উভয়ের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।

৩ - যা প্রমাণিত হয়েছে যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করেছেন যাতে আটার চিহ্ন ছিল।" এ ছাড়াও আরও অন্যান্য দলিল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
مسألة - تعريف‌‌ القسم الأول وهو الماء الطهور:

عرفه الماتن بأنه (الباقي على خلقته).

• خلقته أي صفته وهي الطهورية سواء أكان هذا البقاء حقيقي أو حكمي.

• حقيقي أي أن هذا الماء لم يتغير أحد أوصافه بأي مغير ولم يقيد بوصف دون آخر فهو على نفس الصفة التي خلقه الله عليه ومن أمثلته: ماء البحر وماء النهر والماء النابع من الأرض ومن العيون والآبار وما نزل من السماء من مطر وثلج وبَرَد.

• والماء الماء الطهور الحكمي وهو الذي تغير ولكن بما لا يسلبه الطهورية وذلك مثل الماء المتغير بملح مائي فالملح المائي من نفس جنس الماء وسوف يأتي الكلام عليه بإذن الله، أو المتغير بما لا يمازجه كالماء المتغير بقطع الكافور الصلبة أو بالدُّهْن ويدخل فيه أيضا الماء المتغير بطول المكث وبسمى الماء الأجن أو الآسن، أو المتغير بما يشق صون الماء عنه كالطحلب وورق الشجر.

كل هذا من الماء الطهور.

 

‌‌مسألة - استعمالات الماء الطهور:

قال الماتن:

 

ـ[يرفع الحدث ويزيل الخبث .. ]ـ

يرفع الحدث الأكبر والأصغر، ويزيل الخبث الطارئ على محل طاهر قبل طرؤه؛ لأن نجس العين لا يطهر فلو أن كلبا غسلناه بالماء مرات عديدة لا يطهر.

وعليه فطهارة المحل من الخبث تكون بإزالته عن المكان المراد تطهيره، أو باستحالتها.

 

‌‌فائدة - الأدلة على أن الماء الطهور يرفع الحدث ويزيل الخبث:

قال تعالى: (وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ) [الأنفال: 11] وكلمة ماء في الآية نكرة في سياق الامتنان فتعم كل ماء نازل من السماء كالثلج والبرد والمطر.

ومن الأدلة أيضا على تطهير الماء للخبث ما رواه الترمذي وغيره عن أسماء بنت أبي بكر: (أن امرأة سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن الثوب يصيبه الدم
মাসআলা - প্রথম প্রকারের সংজ্ঞা ‌ পবিত্রকারী পানি (তাহুর):

মূল গ্রন্থকার (মাতন প্রণেতা) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, (যা তার সৃষ্টিগত প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে)।

• তাঁর সৃষ্টিগত প্রকৃতি অর্থাৎ তার গুণাবলি, আর তা হলো পবিত্রতা; চাই এই অবশিষ্ট থাকা প্রকৃতগতভাবে হোক বা বিধানগত (হুকমান) ভাবে হোক।

• প্রকৃতগতভাবে—অর্থাৎ এই পানির কোনো একটি গুণ কোনো পরিবর্তনকারীর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়নি এবং এক গুণ বাদ দিয়ে অন্য গুণের সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। ফলে এটি সেই গুণের ওপরই রয়েছে যার ওপর আল্লাহ একে সৃষ্টি করেছেন। এর উদাহরণসমূহ হলো: সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ভূগর্ভ থেকে নির্গত পানি, ঝরনা ও কূপের পানি এবং আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টি, বরফ ও শিলা।

• আর বিধানগত পবিত্রকারী পানি হলো সেই পানি যা পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু এমন কিছু দ্বারা যা তার পবিত্র করার ক্ষমতাকে ছিনিয়ে নেয় না। উদাহরণস্বরূপ—জলাবদ্ধ লবণের কারণে পরিবর্তিত পানি। কারণ জলাশয়ের লবণ পানির স্বজাতীয়, এবং ইনশাআল্লাহ এ সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে। অথবা যা পানির সাথে মিশে যায় না এমন কিছু দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া, যেমন কর্পূরের কঠিন টুকরো বা তেল দ্বারা পরিবর্তিত পানি। এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে দীর্ঘকাল জমে থাকার কারণে পরিবর্তিত পানি, যাকে 'আজিন' বা 'আসীন' পানি বলা হয়। অথবা যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন—এমন কিছু দ্বারা পরিবর্তিত পানি, যেমন শৈবাল বা গাছের পাতা।

এসবই পবিত্রকারী পানির অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌মাসআলা - পবিত্রকারী পানির ব্যবহার:

মূল গ্রন্থকার বলেছেন:

 

—[তা হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করে এবং খাবাস (নাপাকি) দূরীভূত করে .. ]—

এটি বড় ও ছোট উভয় প্রকার হাদাস দূর করে এবং এমন কোনো পবিত্র স্থানে আপতিত নাপাকি দূরীভূত করে যা নাপাকি পড়ার আগে পবিত্র ছিল। কারণ যা সত্তাগতভাবে নাপাক তা পবিত্র হয় না; যেমন আমরা যদি কোনো কুকুরকে বহুবার পানি দিয়ে ধৌত করি, তবুও তা পবিত্র হবে না।

সুতারং, কোনো স্থানকে নাপাকি থেকে পবিত্র করার অর্থ হলো—পবিত্র করতে চাওয়া স্থানটি থেকে নাপাকি অপসারণ করা অথবা সেটির রূপান্তর ঘটা।

 

‌‌ফায়দা - পবিত্রকারী পানি যে হাদাস দূর করে এবং নাপাকি দূরীভূত করে তার প্রমাণাদি:

আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে তা দ্বারা তোমাদের পবিত্র করেন) [আল-আনফাল: ১১]। আয়াতে 'পানি' শব্দটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টবাচক হিসেবে এসেছে, তাই এটি আকাশ থেকে বর্ষিত সব ধরনের পানির ক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থ প্রদান করে, যেমন বরফ, শিলা ও বৃষ্টি।

নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে পানির কার্যকারিতার আরেকটি দলিল হলো যা তিরমিযী ও অন্যান্যরা আসমা বিনতে আবি বকর থেকে বর্ণনা করেছেন: (জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাপড়ে রক্ত লাগার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
من الحَيضة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حتيه ثم اقرصيه بالماء ثم رشيه وصلي فيه).

وما رواه مسلم عن أنس (أن أعرابيا بال في المسجد فقام إليه بعض القوم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: («دَعُوهُ وَلَا تُزْرِمُوهُ» - معناه لا تقطعوا والإزرام القطع - قَالَ: فَلَمَّا فَرَغَ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ).

وقد أجمع العلماء على التطهر بالماء الذي لم يخالطه نجاسة (1).وأجمعت الأمة أن الماء مطهر للنجاسات (2).

وكون الماء الطهور يرفع الحدث ويزيل الخبث هو الأصل إلا أن هذا الماء قد يعرض له ما يفقده أو يقلل من عمله في أحد الاستعمالين وذلك تكلم الماتن عن أنواع هذا الماء فقال:

 

ـ[وهو أربعة أنواع:

 

‌‌1 - ماء يحرم استعماله ولا يرفع الحدث ويزيل الخبث وهو ما ليس مباحا .. ]ـ

• وقوله: (ما ليس مباحا) أي كمغصوب أو مسروق، أو ما أُشتري بمال مغصوب أو مسروق، أو بماء مسبل لشرب، أو ماء آبار ديار ثمود - إلا بئر الناقة - (3) ونحو ذلك.

 

‌‌مسألة: الماء الطهور الغير مباح يحرم استعماله.

نعم من استعمل ماء مغصوبا مثلا فعليه إثم الغصب ويأثم لغصبه هذا الماء وهكذا الكلام على باقي أنواع الماء الغير مباح.

--------------------------------------------

(1) انظر: مراتب الإجماع لابن حزم (ص/16)، الإقناع في مسائل الإجماع لابن القَطان (1/ 80).

(2) انظر التمهيد لابن عبد البر (1/ 330)، بداية المجتهد لابن رشد (1/ 106)، الإقناع لابن القَطان (1/ 80).

(3) لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم أن يهريقوا ما استقوا من بئرها، وأن يعلفوا الإبل العجين الذي اعتجنوه بمائها، وأمرهم أن يستقوا من بئر الناقة.
ঋতুস্রাব থেকে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ওটি ঘষে ফেলো, এরপর পানি দিয়ে কচলে ফেলো, তারপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দাও এবং তাতে নামাজ পড়ো।

এবং ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (একজন গ্রাম্য লোক মসজিদে প্রস্রাব করল, তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে কেউ কেউ তার দিকে ধাবিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাব মাঝপথে বিচ্ছিন্ন করো না» - 'ইজরাম' শব্দের অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন করা বা মাঝপথে বন্ধ করা - তিনি বলেন: এরপর যখন সে প্রস্রাব শেষ করল, তখন তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং তার ওপর তা ঢেলে দিলেন)।

আর আলেমগণ ঐ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যাতে কোনো নাপাকি মিশ্রিত হয়নি (১)। এবং উম্মত একমত হয়েছে যে, পানি হলো নাপাকি দূরকারী (২)।

পবিত্র পানি অশুচিতা (হাদাস) দূর করে এবং নাপাকি (খাবাস) নির্মূল করে—এটাই হলো মূলনীতি। তবে এই পানিতে এমন কিছু আপতিত হতে পারে যা এর ব্যবহারযোগ্যতা নষ্ট করে দেয় অথবা এই দুই ব্যবহারের কোনো একটিতে এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এই কারণেই মূল লেখক এই পানির প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন:

 

—[আর এটি চার প্রকার:

 

‌‌১ - এমন পানি যার ব্যবহার হারাম এবং যা অশুচিতা (হাদাস) দূর করে না এবং নাপাকিও (খাবাস) নির্মূল করে না, আর তা হলো যা বৈধ নয় .. ]—

• এবং তাঁর কথা: (যা বৈধ নয়) অর্থাৎ যেমন জবরদখল করা বা চুরি করা পানি, অথবা যা জবরদখল করা বা চুরি করা অর্থ দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে, অথবা পানের জন্য নির্দিষ্ট বা ওয়াকফ করা পানি, অথবা সামুদ জাতির এলাকার কূপের পানি - উষ্ট্রীর কূপ ব্যতীত - (৩) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

 

‌‌মাসআলা: পবিত্র কিন্তু অবৈধ পানি ব্যবহার করা হারাম।

হ্যাঁ, যে ব্যক্তি উদাহরণস্বরূপ জবরদখল করা পানি ব্যবহার করবে, তার ওপর জবরদখল করার পাপ বর্তাবে এবং এই পানি জবরদখল করার কারণে সে গুনাহগার হবে। আর অবৈধ পানির অন্যান্য প্রকারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজম রচিত মারাতিবুল ইজমা (পৃষ্ঠা/১৬), ইবনুল কাত্তান রচিত আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা (১/ ৮০)।

(২) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহিদ (১/ ৩৩০), ইবনে রুশদ রচিত বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ১০৬), ইবনুল কাত্তান রচিত আল-ইকনা (১/ ৮০)।

(৩) কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা সেই কূপগুলো থেকে সংগৃহীত পানি ঢেলে ফেলে দেয় এবং সেই পানি দিয়ে যে খামির তৈরি করেছিল তা যেন উটকে খাইয়ে দেয়, আর তিনি তাদেরকে উষ্ট্রীর কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌مسألة: الماء الطهور الغير مباح لا يرفع الحدث.

قال المرداوي في "الإنصاف" (1/ 28 - 29): (وأما الوضوء بالماء المغصوب: فالصحيح من المذهب: أن الطهارة لا تصح به. وهو من مفردات المذهب. وعنه: تصح وتكره ، واختاره ابن عَبْدُوس في تذكرته).

قال ابن رجب في "قواعده": (وإن كان - أي الشرط - لا يختص بها ففي الصحة روايتان أشهرهما عدمها).

والقول بالبطلان في هذه الحالة هو الصحيح من مذهب أحمد إلا أن الأقوى أنه يقتضي الفساد لا البطلان، وهذا هو ما اختاره الطوفي وغيره، قال الطوفي في مختصره بعد أن استعرض الأقوال في المسألة: (والمختار أن النهي عن الشيء لذاته، أو وصف لازم له مبطل، ولخارج عنه غير مبطل، وفيه لوصف غير لازم تردد، والأولى الصحة).

إذن من تطهر من ماء غير مباح يأثم لغصبه واستعماله هذا الماء الغير مباح، وفي المذهب لا يرتفع حدثه، والراجح أنه يرتفع حدثه مع الإثم.

 

‌‌مسألة: الماء الطهور الغير مباح يزيل الخبث.

قال البهوتي في "المنح الشافيات" (1/ 135): (وأما إزالة النجاسة بالماء فلا يشترط فيها إباحته لأنها من قبيل التروك) وهذا القول هو الراجح فيرتفع الحدث ويزول الخبث بالماء الغير مباح مع الإثم إن كان عالما ذاكرا، والأمر في إزالة الخبث أهون من رفع الحدث به؛ لأنها من باب التروك ولا يلزم فيها نية.

 

‌‌النوع الثاني - ماء خلت به المرأة المكلفة لطهارة كاملة عن حدث.

2 - ـ[وماء يرفع حدث الأنثى لا الرجل البالغ والخنثى وهو ما خلت به المرأة المكلفة لطهارة كاملة عن حدث .. ]ـ

 

•‌‌ معنى خَلوتها بالماء:

معنى الْخَلْوَة في المذهب يدور على أمرين: الأول وهو الأصح في المذهب اعتبار عدم المشاهدة، وقد اختلفوا فيمن يرفع الْخَلْوَة بمشاهدته هل يشترط فيه أن يكون مكلفاً مسلماً؟ أو لا يشترط ذلك فلو كان صبياً أو امرأة أو كافراً زالت الْخَلْوَة. قولان في المذهب كما سيأتي.
‌‌মাসআলা: পবিত্র কিন্তু অবৈধ পানি হাদাস দূর করে না.

আল-মারদাভী 'আল-ইনসাফ' (১/ ২৮ - ২৯) গ্রন্থে বলেন: (আর জবরদখলকৃত পানি দিয়ে ওযু করার ব্যাপারে মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো: এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সহিহ হবে না। এটি এই মাযহাবের একক মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে যে: তা সহিহ হবে তবে মাকরূহ হবে, আর ইবনে আবদুস তাঁর 'তাযকিরাহ' গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন)।

ইবনে রজব তাঁর 'কাওয়াইদ' গ্রন্থে বলেন: (আর যদি এটি —অর্থাৎ শর্তটি— এর জন্য নির্দিষ্ট না হয়, তবে এর শুদ্ধতার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো এটি শুদ্ধ না হওয়া)।

এই অবস্থায় বাতিল হওয়ার বিষয়টিই ইমাম আহমদের মাযহাবের বিশুদ্ধ মত, তবে শক্তিশালী মত হলো এটি ফাসাদের দাবি রাখে বাতিলের নয়। আর এটিই তুফী ও অন্যান্যরা পছন্দ করেছেন। তুফী তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে এই মাসআলায় বিভিন্ন মতগুলো পর্যালোচনার পর বলেন: (পছন্দনীয় মত হলো, কোনো জিনিসের নিষেধাজ্ঞা যদি তার মূল সত্তার কারণে হয় বা তার সাথে অবিচ্ছেদ্য কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে হয় তবে তা আমলকে বাতিল করে দেয়। আর যদি তা বহির্ভূত কোনো বিষয়ের কারণে হয় তবে বাতিল করে না। আর অবিচ্ছেদ্য নয় এমন বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সংশয় রয়েছে, তবে সহিহ হওয়াটাই অগ্রগণ্য)।

সুতরাং, যে ব্যক্তি অবৈধ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করল সে জবরদখল এবং অবৈধ পানি ব্যবহারের কারণে গুনাহগার হবে। মাযহাব অনুযায়ী তার হাদাস দূর হবে না, তবে অগ্রগণ্য মত হলো গুনাহ হওয়া সত্ত্বেও তার হাদাস দূর হয়ে যাবে।

 

‌‌মাসআলা: পবিত্র কিন্তু অবৈধ পানি নাপাকি দূর করে.

আল-বাহুতী 'আল-মিনাহুশ শাফিয়াত' (১/ ১৩৫) গ্রন্থে বলেন: (আর পানি দ্বারা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে তার বৈধ হওয়া শর্ত নয়, কারণ এটি বর্জনীয় কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত)। এই মতটিই অগ্রগণ্য, ফলে অবৈধ পানি দ্বারা হাদাস দূর হবে এবং নাপাকিও অপসারিত হবে, তবে যদি সে এটি সম্পর্কে জ্ঞাত ও সচেতন থাকে তবে গুনাহগার হবে। আর নাপাকি দূর করার বিষয়টি হাদাস দূর করার চেয়ে সহজ; কারণ এটি বর্জনের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে নিয়ত করা আবশ্যক নয়।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার - ঐ পানি যা দ্বারা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী হাদাস থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে অবস্থান করেছেন.

২ - [এবং এমন পানি যা নারীর হাদাস দূর করে কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও হিজড়ার হাদাস দূর করে না, আর তা হলো সেই পানি যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী হাদাস থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছেন .. ]

 

•‌‌ পানির সাথে নির্জনে থাকার (খালওয়াহ) অর্থ:

মাযহাবে 'খালওয়াহ'-এর অর্থ দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়: প্রথমটি এবং যা মাযহাবের অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, কেউ দেখছে না এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করা। আর যার উপস্থিতিতে এই নির্জনতা বা খালওয়াহ শেষ হয়ে যায় তার ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন যে, তার জন্য কি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম হওয়া শর্ত? নাকি তা শর্ত নয়? ফলে সে যদি শিশু, নারী বা কাফির হয় তবে কি খালওয়াহ দূরীভূত হবে? এ বিষয়ে মাযহাবে দুটি মত রয়েছে যা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
والثاني: اعتبار انفرادها بالاستعمال سواء شوهدت أم لا.

الراجح هو اعتبار انفرادها بالاستعمال سواء شوهدت أم لا؛ وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال (وليغترفا جميعاً) فدل بمنطوقه على الجواز فيما إن شاركها زوجها، وبمفهومه على عدم الجواز إن لم يكن معها زوجها يعترف معها وسيأتي الكلام تفصيليا على هذا الحديث بإذن الله.

 

‌‌مسألة: الماء الذي خلت به المرأة المكلفة لطهارة كاملة عن حدث يرفع حدث الأنثى ولا يرفع حدث الرجل البالغ ولا الخنثى المشكل.

‌‌فائدة: لماذا لا يرفع حدث الخنثى؟

رجح أنه هذا الماء الذي خلت به المرأة لا يرفع حدث الخنثى فرجح جانب الحظر وذلك احتياطا للعبادة لاحتمال أن يكون رجلا.

إذن الراجح في المذهب أن هذا الماء يجوز استعماله في شتى أنواع الاستعمال للرجل والمرأة غير أنه لا يزيل حدث الرجل الأصغر أو الأكبر وكذلك الخنثى ويرفع حدث الأنثى والصبي وعلة المنع تعبدية.

ومن الأدلة على منع تطهر الرجل بفضل طهور المرأة ما رواه أحمد، وأبو داود، والترمذي وغيرهم - وصححه الشيخ الألباني - عنِ الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو وَهُوَ الْأَقْرَعُ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ».

ويستدل للجواز بما رواه مسلم في "صحيحه" (1/ 257) (323) عن ابْنُ جُرَيْجٍ، قال أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: أَكْبَرُ عِلْمِي، وَالَّذِي يَخْطِرُ عَلَى بَالِي أَنَّ أَبَا الشَّعْثَاءِ، أَخْبَرَنِي أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ بِفَضْلِ مَيْمُونَةَ».

الترجيح:

وقد سلك العلماء عدة مسالك في الجمع والترجيح بين هذه الأحاديث، وأولاها حمل النهي على للتنزيه وقرينة الصرف أحاديث الجواز، والحديث الذي ذكرته في أدلة الجواز ترد على من جمع بأن النهي محمول على الخلوة.
এবং দ্বিতীয়টি: ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার নির্জনতাকে বিবেচনা করা, চাই তা প্রত্যক্ষ করা হোক বা না হোক।

নির্ভরযোগ্য মত হলো ব্যবহারের সময় তার নির্জনতাকে বিবেচনা করা, চাই তা দেখা যাক বা না যাক; এর কারণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (তারা উভয়ে যেন একত্রে পানি নেয়), ফলে এর সরাসরি বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যদি তার স্বামী তার সাথে অংশগ্রহণ করে তবে তা জায়েজ। আর এর পরোক্ষ অর্থ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যদি তার সাথে তার স্বামী পানি গ্রহণ না করে তবে তা জায়েজ নয়। আর এই হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

 

‌‌মাসআলা: যে পানি দিয়ে কোনো মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য) নারী পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে সময় অতিবাহিত করেছে, তা নারীর হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করবে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা খুনসা মুশকিলে (উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি যার লিঙ্গ স্পষ্ট নয়) হাদাস দূর করবে না।.

‌‌ফায়দা: কেন খুনসার হাদাস দূর হবে না??

প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যে, নারী যে পানি নিয়ে নির্জনে পবিত্রতা অর্জন করেছে, তা খুনসার হাদাস দূর করবে না। এখানে নিষেধাজ্ঞার দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতা স্বরূপ, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে সে একজন পুরুষ হতে পারে।

অতএব, মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হলো এই যে, এই পানি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সব ধরণের কাজে ব্যবহার করা জায়েজ, তবে তা পুরুষের ছোট বা বড় হাদাস এবং একইভাবে খুনসার হাদাস দূর করবে না। কিন্তু তা নারী ও শিশুর হাদাস দূর করবে। আর এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো ইবাদতগত বা তাআব্বুদি।

নারীর পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের পবিত্রতা অর্জনের নিষেধাজ্ঞার দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে যা ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন—এবং শেখ আলবানী একে সহিহ বলেছেন—হাকাম বিন আমর আল-আকরা থেকে বর্ণিত যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো নারীর পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষের অজু করতে নিষেধ করেছেন।"

এবং জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করা হয় যা ইমাম মুসলিম তার "সহিহ" গ্রন্থে (১/ ২৫৭) (৩২৩) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমর বিন দিনার সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার জানামতে এবং আমার যা মনে পড়ে তা হলো আবুশ শা'সা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস তাকে জানিয়েছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মায়মুনাহর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতেন।"

সমন্বয় ও প্রাধান্য দান:

আলেমগণ এই হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও প্রাধান্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পথ অনুসরণ করেছেন। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো এই নিষেধাজ্ঞাকে তানজিহি (অপছন্দনীয় কিন্তু হারাম নয়) হিসেবে গ্রহণ করা, আর এর সপক্ষে প্রমাণ হলো জায়েজ হওয়ার হাদিসসমূহ। আর জায়েজ হওয়ার দলিলের ক্ষেত্রে আমি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি, তা তাদের বক্তব্যকে খণ্ডন করে যারা এভাবে সমন্বয় করেন যে, নিষেধাজ্ঞাটি কেবল নির্জনে পানি ব্যবহারের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌النوع الثالث:

ـ[3 - وماء يكره استعماله مع عدم الاحتياج إليه وهو ماء بئر بمقبرة وماء اشتد حره أو برده أو سخن بنجاسة أو بمغصوب أو استعمل في طهارة لم تجب أو في غسل كافر أو تغير بملح مائي أو بما لا يمازجه كتغيره بالعود القماري وقطع الكافور والدهن ولا يكره ماء زمزم إلا في إزالة الخبث .. ]ـ

قوله: (يكره استعماله) أي في طهارة أو في أكل وشرب، ونحو ذلك.

قوله: (مع عدم الاحتياج إليه) ومفهوم المخالفة أن الكراهة تزول عند تعينه بالحاجة إليه كأن لا يوجد غيره، قال البهوتي في "شرح منتهى الإرادات" (1/ 16): (فإن لم يجد غيره تعين، وكذا يقال في كل مكروه، إذ لا يترك واجب لشبهة).

 

‌‌مسألة - يكره استعمال ماء بئر بمقبرة مع عدم الاحتياج إليه.

الراجح هو جواز التطهر من هذا الماء بلا كراهة؛ لأن الكراهة حكم شرعي يحتاج لدليل ولا دليل، والشك في نجاسة الماء لا تجعل الطهارة منه مكروهة لأن الأصل في الماء الطهورية ولا ينتقل عن هذا الأصل إلا بيقين.

 

‌‌مسألة - يكره استعمال ماء اشتد حره أو برده مع عدم الاحتياج إليه.

قال ابن ضويان في " منار السبيل" (1/ 16): (لأنه يؤذي ويمنع كمال الطهارة).

وعلى ذلك فاستعمال هذا الماء إن لم يكن منه ثمَّ ضرر ولم يؤد استعماله إلى عدم استيعاب الأعضاء ولم يقصد المشقة على نفسه من استعماله فلا يخلو الأمر من كراهة نظرا لشدة برده أو حره مما يظن معه عدم إسباغه للوضوء.

 

‌‌‌‌مسألة - يكره استعمال الماء المسخن بنجاسة مع عدم الاحتياج إليه.

لاحظ أن هذه المسألة مفترضة فيما إذا كان الوقود نجسا فأما الطاهر كالخشب والقصب والشوك فلا يؤثر باتفاق العلماء وكذلك أرواث ما يؤكل لحمه من الإبل والبقر والغنم والخيل فإنها طاهرة في أصح قولي العلماء.

عندنا في هذه المسألة ثلاثة أقسام:

الأول - أن يتحقق وصول شيء من أجزاء النجاسة إلى الماء، والقول المعتمد
তৃতীয় প্রকার:

ـ[৩ - এবং এমন পানি যার ব্যবহার প্রয়োজন ব্যতিরেকে মাকরূহ; আর তা হলো কবরস্থানের কূপের পানি, অত্যন্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা পানি, অথবা নাপাকি দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি, অথবা জবরদখলকৃত জ্বালানি দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি, অথবা এমন পবিত্রতায় ব্যবহৃত পানি যা ওয়াজিব ছিল না, অথবা কাফিরের গোসলে ব্যবহৃত পানি, অথবা যা জলজ লবণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, অথবা যা পানির সাথে মিশে যায় না এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে যেমন উদ-ই-কামারি (আগর কাঠ), কর্পূরের টুকরো এবং তেল দ্বারা পরিবর্তন। আর যমযমের পানি মাকরূহ নয়, কেবল অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্র ব্যতীত... ]ـ

তাঁর বক্তব্য: (এর ব্যবহার মাকরূহ) অর্থাৎ পবিত্রতা অর্জন অথবা পানাহারে এবং এই জাতীয় কাজে।

তাঁর বক্তব্য: (প্রয়োজন ব্যতিরেকে) এর বিপরীত অর্থ হলো, যখন কোনো প্রয়োজনে এটি ব্যবহারের নির্দিষ্টতা দেখা দেয় তখন এই অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) দূর হয়ে যায়, যেমন অন্য কোনো পানি পাওয়া না গেলে। আল-বুহুতি "শারহু মুনতাহাল ইরাদাত" (১/ ১৬) গ্রন্থে বলেছেন: (যদি সে অন্য কিছু না পায় তবে এটিই নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর প্রতিটি মাকরূহ বিষয়ের ক্ষেত্রেই এমনটি বলা হয়, কেননা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ওয়াজিব পরিত্যাগ করা যায় না)।

 

মাসআলা - প্রয়োজন ব্যতিরেকে কবরস্থানের কূপের পানি ব্যবহার করা মাকরূহ।

অগ্রগণ্য মত হলো এই পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা কোনো প্রকার মাকরূহ হওয়া ছাড়াই জায়েজ; কারণ কারাহাত একটি শরয়ি বিধান যা প্রমাণের মুখাপেক্ষী, আর এখানে কোনো প্রমাণ নেই। পানির নাপাক হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ থাকা সেই পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনকে মাকরূহ করে না, কারণ পানির মূল প্রকৃতি হলো পবিত্র থাকা, আর নিশ্চিত জ্ঞান ব্যতীত এই মূল প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না।

 

মাসআলা - প্রয়োজন ব্যতিরেকে অত্যন্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা মাকরূহ।

ইবনে দাওয়াইয়ান "মানারুস সাবিল" (১/ ১৬) গ্রন্থে বলেছেন: (কারণ এটি কষ্টদায়ক এবং পবিত্রতার পূর্ণতা অর্জনে বাধা দেয়)।

অতএব, এই পানির ব্যবহারে যদি কোনো ক্ষতি না থাকে এবং এর ব্যবহার যদি অঙ্গসমূহ পূর্ণরূপে ধৌত করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি না করে এবং ব্যক্তি যদি এর ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার সংকল্প না করে, তবুও বিষয়টি কারাহাত থেকে মুক্ত নয়; তার তীব্র ঠান্ডা বা গরমের প্রতি লক্ষ রেখে, যার ফলে ওজু পূর্ণাঙ্গভাবে না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

মাসআলা - প্রয়োজন ব্যতিরেকে নাপাকি দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি ব্যবহার করা মাকরূহ।

লক্ষ্য করুন যে, এই মাসআলাটি তখন প্রযোজ্য যখন জ্বালানি নাপাক হয়। আর যদি তা পবিত্র হয় যেমন কাঠ, নলখাগড়া এবং কাঁটাযুক্ত গাছ, তবে আলেমদের ঐক্যমতে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। তেমনিভাবে যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় যেমন উট, গরু, ছাগল এবং ঘোড়া—তাদের বিষ্ঠা আলেমদের দুটি মতের মধ্যে বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী পবিত্র।

আমাদের নিকট এই মাসআলায় তিনটি ভাগ রয়েছে:

প্রথম - পানির মধ্যে নাপাকির কোনো অংশ পৌঁছানো নিশ্চিত হওয়া, আর নির্ভরযোগ্য মতটি হলো...
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
في المذهب أنه ينجسه إذا كان الماء يسيرا، والراجح أنه لا ينجسه إلا أن تغير، وسيأتي الكلام في ذلك بإذن الله.

الثاني - أن يكون الحائل بين الوقود النجس والماء حصين - أي محكم ومنيع.

الثالث - أن يكون الحائل بين الوقود النجس والماء غير حصين فالمذهب فيه في القسمين روايتان بالكراهة وعدمها، واختار تقي الدين عدم الكراهة.

قال تقي الدين في "مجموع الفتاوي" (21/ 69): (وهذه الكراهة لها مأخذان: أحدهما احتمال وصول أجزاء النجاسة إلى الماء فيبقى مشكوكا في طهارته شكا مستندا إلى إمارة ظاهرة فعلى هذا المأخذ متى كان بين الوقود والماء حاجز حصين كمياه الحمامات لم يكره لأنه قد تيقن أن الماء لم تصل إليه النجاسة.

والثاني أن سبب الكراهة كونه سخن بإيقاد النجاسة واستعمال النجاسة مكروه عندهم والحاصل بالمكروه مكروه.

ثم قال: وأما دخان النجاسة فهذا مبنى على أصل وهو أن العين النجسة الخبيثة إذا استحالت حتى صارت طيبة كغيرها من الأعيان الطيبة مثل أن يصير ما يقع في الملاحة من دم وميتة وخنزير ملحا طيبا كغيرها من الملح أو يصير الوقود رمادا … فالدخان والبخار المستحيل عن النجاسة طاهر لأنه أجزاء هوائية ونارية ومائية وليس فيه شيء من وصف الخبث).

وعليه فالراجح في الماء المسخن بالنجاسة أنه طهور ولا يكره التطهر به، ما لم يتحقق وصول النجاسة إليه وتغييرها له.

 

‌‌مسألة - يكره استعمال الماء المسخن بمغصوب مع عدم الاحتياج إليه.

قال الشيخ ابن جبرين في "شفاء العليل شرح منار السبيل" (ص/93): (ولعل الأرجح أن الماء المسخن بالمغصوب لا يكره لعدم الدليل على كراهته - وهذه هي الرواية الثانية عن أحمد - ولكن يأثم الغاصب - كما هو معلوم -.

 

‌‌مسألة - يكره استعمال الماء المستعمل في طهارة لم تجب أو في غسل كافر، مع عدم الاحتياج إليه.

والمقصود بالماء المستعمل هو الماء المنفصل عن أعضاء المتطهر لا الماء المتبقي الذي يعترف منه.
মাযহাবে এটি হলো যে, পানি যদি পরিমাণে অল্প হয় তবে তা একে অপবিত্র করে দেয়। তবে বিশুদ্ধ মত হলো যে, এটি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত একে অপবিত্র করে না। আল্লাহর ইচ্ছায় এ বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে।

দ্বিতীয় - নাপাক জ্বালানি এবং পানির মধ্যকার আড়ালটি সুরক্ষিত হওয়া—অর্থাৎ মজবুত এবং দুর্ভেদ্য হওয়া।

তৃতীয় - নাপাক জ্বালানি এবং পানির মধ্যকার আড়ালটি সুরক্ষিত না হওয়া। এ বিষয়ে উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে মাযহাবে মাকরূহ হওয়া এবং না হওয়া নিয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। তাক্বীউদ্দীন মাকরূহ না হওয়াকেই পছন্দ করেছেন।

তাক্বীউদ্দীন 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (২১/৬৯) গ্রন্থে বলেছেন: (এই মাকরূহ হওয়ার দুটি ভিত্তি রয়েছে: প্রথমটি হলো পানির মধ্যে নাপাকির অংশ পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকা, ফলে এর পবিত্রতার ব্যাপারে একটি প্রকাশ্য আলামত ভিত্তিক সন্দেহ থেকে যায়। এই ভিত্তি অনুযায়ী, যখন জ্বালানি এবং পানির মধ্যে হাম্মামের পানির মতো সুরক্ষিত কোনো আড়াল থাকে, তখন তা মাকরূহ হবে না; কারণ সেখানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নাপাকি পানিতে পৌঁছায়নি।

এবং দ্বিতীয়টি হলো, মাকরূহ হওয়ার কারণ হলো এটি নাপাক জ্বালানির মাধ্যমে উত্তপ্ত করা হয়েছে, আর তাদের মতে নাপাকি ব্যবহার করা মাকরূহ এবং যা মাকরূহ জিনিসের মাধ্যমে অর্জিত হয় তাও মাকরূহ।

এরপর তিনি বলেন: আর নাপাকির ধোঁয়ার বিষয়টি একটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তা হলো নাপাক ও অপবিত্র বস্তু যখন রূপান্তরিত হয়ে পবিত্র হয়ে যায় অন্যান্য পবিত্র বস্তুর মতো—যেমন লবণ তৈরির স্থানে পতিত রক্ত, মৃত প্রাণী ও শূকর রূপান্তরিত হয়ে অন্যান্য লবণের মতো পবিত্র লবণে পরিণত হওয়া অথবা জ্বালানি ভস্মে পরিণত হওয়া ... ফলে নাপাকি থেকে রূপান্তরিত ধোঁয়া ও বাষ্প পবিত্র, কারণ এগুলো বায়বীয়, অগ্নিজাত ও জলীয় অংশ এবং এতে অপবিত্রতার কোনো বৈশিষ্ট্য নেই)।

অতএব, নাপাকির দ্বারা উত্তপ্ত পানির ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত হলো যে, এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা মাকরূহ নয়, যতক্ষণ না এতে নাপাকি পৌঁছানো এবং পানির পরিবর্তন হওয়া নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

‌‌মাসআলা - প্রয়োজন না থাকলে জবরদখল করা বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত পানি ব্যবহার করা মাকরূহ।

শায়খ ইবনে জিবরীন 'শিফাউল আলীল শারহু মানারিস সাবীল' (পৃষ্ঠা ৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: (সম্ভবত বিশুদ্ধতর মত হলো, জবরদখল করা বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত পানি মাকরূহ নয়, কারণ এর মাকরূহ হওয়ার কোনো দলিল নেই—এটি ইমাম আহমাদ হতে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনা—তবে জবরদখলকারী গুনাহগার হবে, যেমনটি সর্বজনবিদিত।

 

‌‌মাসআলা - প্রয়োজন না থাকলে এমন পানি ব্যবহার করা মাকরূহ যা কোনো ওয়াজিব নয় এমন পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত হয়েছে অথবা কোনো কাফিরের গোসলে ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্যবহৃত পানি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই পানি যা পবিত্রতা অর্জনকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সেই অবশিষ্ট পানি নয় যা থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والمقصود بالطهارة الغير واجبة ما كانت لا عن حدث كالتجديد والغسلة الثانية والثالثة في الوضوء لأن الحدث يرتفع بالغسلة الأولى ، وكغسل الجمعة والعيدين

وكالماء المستعمل في غُسل كافر لأنه لم يرفع حدثا ولم يزل خبثا (ولو) كانت كتابية؛ اغتسلت من الحيض أو النفاس لحل وطء زوجها المسلم لأن هذا الغسل لا يسلب الماء طهوريته لعدم أهليتها للنية. ونحو ذلك.

والمذهب فيه روايتان في طهورية هذا الماء.

والراجح عدم كراهة هذا الماء، قال الشيخ ابن جبرين: (لأنه ماء طاهر قد لاقى محلا طاهرا فبقي طاهرا غير مكروه بوجه من الوجوه، ولا دليل لمن قال بكراهته).

ومما يستدل به على طهارة هذا الماء ما رواه أبو داود (1/ 32) (130) عن الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ رضي الله عنها (أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح برأسه من فضل ماء كان في يده) حسنه ابن حجر، والماء المتبقي في يده صلى الله عليه وسلم يحتمل أنه يكون بعد الغسلة الأولى لليد، فيكون مسح الرأس بماء استعمل في رفع حدث، فيدل على مسألتنا بالأولى، ويحتمل أن يكون بعد الغسلة الثانية أو الثالثة فيكون على هذا الاحتمال دليلا في مسألتنا.

 

‌‌مسألة - يكره استعمال الماء المتغير بمَلح مائي مع عدم الاحتياج إليه.

المَلح المائي هو الملح المنعقد من الماء، ويمكن الحصول عليه من الملاحات البحرية التي تتكون من تبخر الماء. والملح المائي هو الملح المستخدم في الطعام، وهو يمازج الماء ويذوب فيه فيكسبه طعما مالحا.

وقيده بالمائي: احترازاً من الملح المعدني، وهو ما يستخرج من باطن الأرض فهذا يسمى ملحاً معدنياً، أو حجريا، والملح المعدني في المذهب إذا خالط الماء فإن يسلبه الطهورية، ويجعله طاهرا غير مطهر.

والمذهب به روايتان في سلب الملح المائي لطهورية الماء. وفيه أيضا روايتان في الحكم بكراهيته.

الشرع لا يفرق بين المتماثلات فهذا الماء الذي وضع فيه ملح مائي هو من ناحية النتيجة كماء البحر، وقد نص النبي صلى الله عليه وسلم على طهورية ماء
ওয়াজিব বা আবশ্যিক নয় এমন পবিত্রতা বলতে সেই পবিত্রতাকে বোঝানো হয়েছে যা হাদাছ (শরয়ি অপবিত্রতা) দূর করার জন্য নয়। যেমন: অজুর নবায়ন (তাজদীদ) এবং অজুর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা; কারণ প্রথমবার ধোয়ার মাধ্যমেই হাদাছ দূর হয়ে যায়। এছাড়া জুমুআ ও দুই ঈদের গোসলও এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং কাফিরের গোসলে ব্যবহৃত পানিও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি কোনো হাদাছ দূর করেনি এবং কোনো খাবাছ (নাজাসাত) অপসারিত করেনি। এমনকি যদি সে কিতাবিয়া (আহলে কিতাব নারী) হয়; যে তার মুসলিম স্বামীর সাথে সহবাস হালাল করার জন্য হায়েজ বা নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার উদ্দেশ্যে গোসল করেছে। কারণ এই গোসল পানির পবিত্রতা হরণ করে না, যেহেতু তার (কাফের হওয়ার কারণে) নিয়ত করার যোগ্যতা নেই। এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

আর এই পানির পবিত্রতার ব্যাপারে মাযহাবে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

আর অগ্রগণ্য মত হলো এই পানি মাকরূহ নয়। শাইখ ইবনে জিবরীন রহ. বলেন: (কারণ এটি পবিত্র পানি যা একটি পবিত্র স্থানের সংস্পর্শে এসেছে, ফলে তা পবিত্রই রয়ে গেছে এবং কোনোভাবেই তা মাকরূহ নয়; আর যারা একে মাকরূহ বলেন তাদের কোনো দলিল নেই)।

এই পানির পবিত্রতার ব্যাপারে দলিল হিসেবে আবু দাউদে (১/৩২, ১৩০) রুবাই বিনতে মুআউওয়িজ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটি পেশ করা যায় (নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতের অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন)। ইবনে হাজার রহ. একে হাসান বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে অবশিষ্ট পানিটি প্রথমবার হাত ধোয়ার পরের পানি হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে হাদাছ দূর করার কাজে ব্যবহৃত পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করা সাব্যস্ত হয়, যা আমাদের আলোচ্য মাসআলায় আরও জোরালোভাবে দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আবার এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার ধোয়ার পরের পানি হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা অনুযায়ী এটি আমাদের মাসআলায় দলিল হবে।

 

‌‌মাসআলা - প্রয়োজন না থাকলে জলজ লবণের মাধ্যমে পরিবর্তিত পানি ব্যবহার করা মাকরূহ।

জলজ লবণ হলো সেই লবণ যা পানি থেকে জমে তৈরি হয়, এবং সমুদ্রের লবণাস্ত জলাশয় থেকে এটি পাওয়া যায় যা পানি বাষ্পীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। জলজ লবণ হলো সেই লবণ যা খাবারে ব্যবহৃত হয়, এটি পানির সাথে মিশে যায় এবং তাতে দ্রবীভূত হয়ে পানিকে লবণাক্ত স্বাদ প্রদান করে।

এখানে 'জলজ' শব্দ দিয়ে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হলো খনিজ লবণ থেকে বেঁচে থাকা; আর খনিজ লবণ হলো যা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয়, একে খনিজ বা পাথর লবণ বলা হয়। মাযহাব অনুযায়ী খনিজ লবণ যদি পানির সাথে মিশে যায়, তবে তা পানির পবিত্রতা হরণ করে এবং পানিকে পবিত্র কিন্তু পবিত্রতা অর্জনে অক্ষম (তাহার) করে দেয়।

জলজ লবণ পানির পবিত্রতা হরণ করে কি না সে বিষয়ে মাযহাবে দুটি বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে এটি ব্যবহারের হুকুম মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারেও দুটি বর্ণনা রয়েছে।

শরিয়ত সমজাতীয় বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করে না। সুতরাং এই পানি যাতে জলজ লবণ মেশানো হয়েছে, তা ফলাফলের দিক থেকে সমুদ্রের পানির মতোই। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমুদ্রের পানির পবিত্রতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
البحر والحكم على الأول بالكراهة دون الثاني، فالراجح أن هذا الماء طهور ولا كراهة في استعماله في رفع الحدث.

 

•‌‌ تنبيه:

قول المرداوي عن هذا النوع من الماء: (أَنَّهُ غَيْرُ مَكْرُوهِ الِاسْتِعْمَالِ، وَهُوَ الْمَذْهَبُ، جَزَمَ بِهِ ابْنُ مُنَجَّا فِي شَرْحِهِ، وَهُوَ ظَاهِرُ مَا جَزَمَ بِهِ فِي الشَّرْحِ، وَابْنُ عُبَيْدَانَ، وَمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ. وَقِيلَ: يُكْرَهُ، جَزَمَ بِهِ فِي الرِّعَايَتَيْنِ.) يدل على أن المذهب عدم كراهة الماء المتغير بالملح المائي على خلاف ما اختاره الشيخ مرعي، ولعله راعى الخلاف.

وجعل علة الكراهة مراعاة الخلاف لا يصح فالخلاف ليس من الأدلة الشرعية حتى تعلل به الكراهة كما أنه يقل أن تجد مسألة إلا وفيها خلاف بين العلماء فهل يصح أن نحكم على كل هذه المسائل بالكراهة مع أن الخلاف في كثير منها قد لا يكون معبرا ولا حظ له من النظر.

 

‌‌مسألة - يكره استعمال الماء المتغير بما لا يمازجه كتغيره بالعود الْقَمَارِيّ وقطع الكافور والدُهْن مع عدم الاحتياج إليه.

المسألة مفترضة في تغير الماء بما لا يمازجه ولذلك قيدنا الكافور بأنه قطع فإنه لو كان غير قطع لخالط.

العود الْقَمَارِيّ: منسوب إلى قِمار - بكسر القاف - موضع ببلاد الهند.

والمذهب فيه روايتان في كراهة هذا النوع من الماء والراجح أنه طهور ولا يكره التطهر به، وطالما أن ما ذكر لا يمازج الماء فإنه لا يخرجه عن إطلاقه، فتشمله الأدلة التي سبق ذكرها عند الانتصار لكون قسمة الماء ثنائية لا ثلاثية. والتعليل بالخلاف عليل كما سبق.

 

‌‌مسألة - ولا يكره ماء زمزم إلا في إزالة الخبث.

الراجح القول بكراهة الاغتسال منه وإزالة الخبث وجواز الوضوء بلا كراهة:

ومن الأدلة على جواز الوضوء منها ما رواه ما عبد الله بن أحمد في "زوائد المسند" (1/ 76) بإسناد حسن عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه مطولا
'আল-বাহর' এবং প্রথমটির ক্ষেত্রে মাকরূহ হওয়ার ফয়সালা করা হয়েছে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নয়; তাই বিশুদ্ধ মত হলো যে, এই পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং অপবিত্রতা দূর করার জন্য এটি ব্যবহারে কোনো কারাহাত নেই।

 

•‌‌ সতর্কতা:

এই প্রকারের পানি সম্পর্কে আল-মারদাওয়ীর উক্তি: (এটি ব্যবহারে কোনো কারাহাত নেই এবং এটিই মাযহাবের অভিমত; ইবনে মুনাজ্জা তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন, আর এটিই 'আশ-শরহুল কাবীর', ইবনে উবাইদান এবং 'মাজমাউল বাহরাইন' গ্রন্থে নিশ্চিতকৃত মতের বাহ্যিক দিক। কেউ কেউ বলেছেন: এটি মাকরূহ, যা দুই 'রিয়াত' গ্রন্থে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।) এটি প্রমাণ করে যে, শেখ মারয়ী যা বেছে নিয়েছেন তার বিপরীতে মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো খনিজ লবণ দ্বারা পরিবর্তিত পানি মাকরূহ নয়; সম্ভবত তিনি মতবিরোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিলেন।

মতবিরোধের প্রতি লক্ষ্য রাখাকে কারাহাতের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা সঠিক নয়; কারণ মতবিরোধ কোনো শরয়ী দলিল নয় যে এর দ্বারা কারাহাতের কারণ দর্শানো যাবে। তাছাড়া আপনি খুব কমই এমন কোনো মাসআলা পাবেন যেখানে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ নেই। সুতরাং মতবিরোধ থাকার কারণে কি এই সকল মাসআলার ক্ষেত্রে মাকরূহ হওয়ার ফয়সালা করা সঠিক হবে? অথচ এদের অনেকগুলোর মতবিরোধই ধর্তব্য নয় এবং এর কোনো শক্তিশালী ভিত্তি নেই।

 

‌‌মাসআলা - এমন বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি ব্যবহার করা মাকরূহ যা পানির সাথে মিশে যায় না (অমিশ্রণীয়), যেমন: কামারী উদ (আগরকাঠ), কর্পূরের টুকরো এবং তেল দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া, যদি এর কোনো প্রয়োজন না থাকে।

মাসআলাটি এমন পানি সম্পর্কে যা অমিশ্রণীয় বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, একারণেই আমরা কর্পূরকে 'টুকরো' হওয়ার শর্ত দিয়েছি; কারণ এটি টুকরো না হলে পানির সাথে মিশে যেত।

কামারী উদ: এটি ভারতের 'কামার' (ক্বাফ বর্ণে কাসরা সহ) নামক একটি স্থানের সাথে সম্পর্কিত।

এই প্রকার পানির কারাহাত সম্পর্কে মাযহাবে দুটি বর্ণনা রয়েছে এবং বিশুদ্ধ মত হলো এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন মাকরূহ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত উল্লিখিত বস্তুগুলো পানির সাথে মিশে না যায়, ততক্ষণ এটি পানিকে তার সাধারণ বৈশিষ্ট্য থেকে বের করে দেয় না। সুতরাং এটি ঐ সকল দলিলের অন্তর্ভুক্ত হবে যা পানির প্রকারভেদ তিনটির পরিবর্তে দুটি করার স্বপক্ষে আগে আলোচিত হয়েছে। আর মতবিরোধের কারণে কারাহাতের যুক্তি প্রদান করা একটি দুর্বল যুক্তি, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌‌মাসআলা - যমযমের পানি ব্যবহার করা মাকরূহ নয়, তবে অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে (মাকরূহ)।

বিশুদ্ধ মত হলো এটি দ্বারা গোসল করা এবং অপবিত্রতা দূর করা মাকরূহ, আর কারাহাত ছাড়াই ওযু করা জায়েয।

এর দ্বারা ওযু জায়েয হওয়ার একটি দলিল হলো যা আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ 'যাওয়াইদুল মুসনাদ' (১/৭৬) গ্রন্থে হাসান সনদে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وفيه: (فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بِسَجْلٍ من ماء زمزم فشرب منه وتوضأ).

وحجة من ذهب إلى منع الاغتسال منها:

قول العباس بن عبد المطلب وهو قائم عند زمزم وهو يرفع ثيابه بيده وهو يقول: «اللَّهُمَّ إِنِّي لَا أُحِلُّهَا لِمُغْتَسِلٍ، وَلَكِنْ هِيَ لِشَارِبٍ أَحْسَبُهُ» قَالَ: «وَمُتَوَضِّئٍ حِلٌّ وَبِلٌّ» رواه عبد الرزاق وأحمد في العلل وإسناد أحمد حسن، ونحوه عن ابن عباس عند عبد الرزاق وغيره ورواته ثقات.

ومعنى قوله: (حِلٌّ وَبِلٌّ) البِل المباح بلغة حِمْيَر بكسر الباء والمعنى أنها للمحرم حلال مباحة، وقيل: حِل وبَلّ، والبَلّ هو: الشفاء من قولهم بل من مرضه بَلّا: بَرَأَ وصَحَ كما قال فيها: شِفاء سُقْم. والمعنى أنها حلال للمحرم شفاء من الأمراض (1).

 

‌‌النوع الرابع - ماء لا يكره استعماله:

ـ[4 - وماء لا يكره استعماله كماء البحر والآبار والعيون والأنهار والحمام والمسخن بالشمس والمتغير بطول المكث أو بالريح من نحو ميتة أو بما يشق صون الماء عنه كطحلب وورق شجر ما لم يوضعا .. ]ـ

 

‌‌مسألة - ماء البحر لا يكره استعماله:

والدليل قوله صلى الله عليه وسلم عندما سأله رجل: يا رسول الله إنا نركب البحر ونحمل معنا القليل من الماء فإن توضأنا به عطشنا أفنتوضأ بماء البحر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (هو الطهور ماؤه الحل ميتته).

 

‌‌مسالة - ماء الآبار والعيون والأنهار لا يكره استعماله:

قال ابن ضويان في "منار السبيل" (1/ 16): (لحديث أبي سعيد قال قيل يا رسول الله أنتوضأ من بئر بضاعة وهي بئر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب وَالنَّتَن فقال صلى الله عليه وسلم: (الماء طهور لا ينجسه شيء) رواه أحمد وأبو داود والترمذي، وحديث: (أرأيتم لو أن نهرا بباب أحدكم يغتسل منه كل يوم

--------------------------------------------

(1) انظر مشارق الأنوار مادة (ب ل ل).
এবং এতে রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযমের এক বালতি পানি চাইলেন, অতঃপর তা থেকে পান করলেন এবং ওজু করলেন)।

যাঁরা যমযমের পানি দিয়ে গোসল করা নিষিদ্ধ মনে করেন তাঁদের দলিল হলো:

আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের উক্তি, যখন তিনি যমযমের পাশে দাঁড়িয়ে স্বীয় হাত দিয়ে কাপড় উঁচু করছিলেন এবং বলছিলেন: «হে আল্লাহ! আমি একে গোসলকারীর জন্য বৈধ করছি না, তবে পানকারীর জন্য একে বৈধ মনে করি।» তিনি আরও বলেন: «এবং ওজুকারীর জন্যও এটি বৈধ ও রোগমুক্তকারী।» এটি আব্দুর রাজ্জাক এবং আহমদ 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আহমদের বর্ণনাটির সনদ হাসান। একই ধরনের বর্ণনা ইবনে আব্বাস থেকে আব্দুর রাজ্জাক ও অন্যান্যদের নিকট বর্ণিত হয়েছে এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাঁর উক্তি 'হিল্লুন ওয়া বিল্লুন'-এর অর্থ: হিময়্যার গোত্রের ভাষায় 'বিল' মানে বৈধ (বা' বর্ণের নিচে কাসরা সহকারে)। এর অর্থ হলো এটি ইহরামকারীর জন্য হালাল ও বৈধ। আর কেউ কেউ বলেছেন: 'হিল্লুন ওয়া বাল্লুন' (বা' বর্ণের ওপর ফাতহা সহকারে), আর 'বাল্লুন' অর্থ হলো সুস্থতা; যেমন বলা হয় 'বাল্লা মিন মারাদিহি বাল্লান' অর্থাৎ সে তার রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং সুস্থ হয়েছে। যেমনটি যমযম সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি রোগের নিরাময়। সুতরাং এর অর্থ হলো এটি ইহরামকারীর জন্য হালাল এবং রোগ থেকে নিরাময়স্বরূপ (১)।

 

‌‌চতুর্থ প্রকার - যে পানি ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়:

ـ[৪ - এমন পানি যা ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়; যেমন: সমুদ্রের পানি, কূপ, ঝরনা, নদী, গোসলখানা, রৌদ্রে উত্তপ্ত পানি এবং দীর্ঘকাল একস্থানে জমে থাকার কারণে কিংবা বাতাসের মাধ্যমে প্রবাহিত কোনো মৃত প্রাণীর গন্ধে পরিবর্তিত পানি, অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত পানি যা থেকে পানি রক্ষা করা কঠিন—যেমন শেওলা ও গাছের পাতা, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে পানির ভেতর নিক্ষেপ করা হয়... ]ـ

 

‌‌মাসআলা - সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়:

এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, যখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে সফর করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি; যদি আমরা তা দিয়ে ওজু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওজু করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল)।

 

‌‌মাসআলা - কূপ, ঝরনা ও নদীর পানি ব্যবহার করা অপছন্দনীয় নয়:

ইবনে দুওয়াইয়ান 'মানারুস সাবিল' (১/ ১৬) গ্রন্থে বলেন: (আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বুদা'আহ কূপ থেকে ওজু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যেখানে মাসিকের ন্যাকড়া, কুকুরের মাংস এবং দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না) এটি আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। এবং হাদিস: (তোমরা কি মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে যা থেকে সে প্রতিদিন গোসল করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাশারিকুল আনোয়ার, (ব ল ল) মূলশব্দ।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
خمس مرات هل يبقى من درنه شيء (1)).

 

‌‌مسألة - ماء الحمّام لا يكره استعماله:

الحمّام مشدد، وهو مشتق من الحميم، والحميم الماء الساخن، ومن سمى الحمَّام حَمَّامًا لإسخانه من دخله، وقيل للمحموم محمومًا لسخونة جسده بالحرارة.

قال ابن ضويان في "منار السبيل" (1/ 17) معللا عدم كراهة استعمال ماء الحمام: (لأن الصحابة دخلوا الحمام ورخصوا فيه (2) ومن نقل عنه الكراهة علل بخوف مشاهدة العورة أو قصد التنعم به ذكره في المبدع وروى الدارقطني بإسناد صحيح عن عمر أنه كان يسخن له ماء في قُمْقُم فيغتسل به (3) وروى ابن أبي شيبة عن ابن عمر إنه كان يغتسل بِالحَمِيمِ - أي الماء المسخن -. (4)).

 

‌‌مسألة - الماء المسخن بالشمس لا يكره استعماله:

وما ورد من أن الماء المشمس يورث البرص لا يصح، فقد مرفوعا ورد عن عائشة، وأنس، وموقوفا على عمر رضي الله عنهم، ولا يصح شيء منها، وانظر الإرواء (1/ 50) (18) فقد فصل القول في بيان عللهم وحكم على حديث عائشة بالوضع.

 

‌‌مسألة - الماء المتغير بطول المكث لا يكره استعماله:

قال ابن قدامة في " المغني" (1/ 26): (الماء الآجن وهو الذي يتغير بطول مكثه في المكان من غير مخالطة شيء يغيره باق على إطلاقه في قول أكثر أهل العلم. قال ابن المنذر أجمع كل من نحفظ قوله من أهل العلم على الوضوء بالماء الآجن من غير نجاسة حلت فيه جائز غير ابن سيرين فإنه كره ذلك وقول الجمهور أولى فإنه يروى أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ من بئر كأن ماءه نُقَاعَةُ الحِنَّاءِ، أي ماء نقع فيه حناء - ولأنه تغير من غير مخالطة).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) انظر مصنف ابن أبي شيبة (1/ 103).

(3) صححه الشيخ الألباني في "الإرواء" (16).

(4) صححه الشيخ الألباني في المصدر السابق (17).
পাঁচবার (গোসল করলে) তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে (১))।

 

‌‌মাসআলা - হাম্মাম (গোসলখানা)-এর পানি ব্যবহার করা মাকরুহ নয়:

হাম্মাম শব্দটি তাশদীদযুক্ত। এটি ‘হামিম’ থেকে উদ্ভূত, আর হামিম মানে গরম পানি। যারা এতে প্রবেশ করে তাদের শরীর গরম করে দেয় বলে একে হাম্মাম নামকরণ করা হয়েছে। আর যার জ্বর হয়েছে তাকে ‘মাহমুম’ বলা হয় জ্বরের উত্তাপে তার শরীর উত্তপ্ত হওয়ার কারণে।

ইবনু দুওয়াইয়ান ‘মানারুস সাবিল’ (১/ ১৭) গ্রন্থে হাম্মামের পানি ব্যবহারে অপছন্দনীয়তা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন: (কারণ সাহাবীগণ হাম্মামে প্রবেশ করেছেন এবং এতে অনুমতি দিয়েছেন (২)। আর যাদের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয়তার কথা বর্ণিত হয়েছে, তারা সতর দেখে ফেলার ভয় অথবা কেবল বিলাসিতার উদ্দেশ্যে হওয়ার কারণে তা অপছন্দ করেছেন বলে কারণ দর্শিয়েছেন—এটি ‘আল-মুবদি’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আদ-দারাকুতনী সহীহ সনদে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর জন্য একটি কূমকূম (ধাতব পাত্র)-এ পানি গরম করা হতো এবং তিনি তা দিয়ে গোসল করতেন (৩)। ইবনু আবী শাইবাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘হামিম’ অর্থাৎ গরম পানি দিয়ে গোসল করতেন। (৪))।

 

‌‌মাসআলা - রোদে গরম হওয়া পানি ব্যবহার করা মাকরুহ নয়:

রোদে গরম হওয়া পানি শ্বেতী রোগ সৃষ্টি করে মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে তা সহীহ নয়। এটি মারফূ হিসেবে আয়েশা ও আনাস (রা.) থেকে এবং মাওকূফ হিসেবে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর কোনটিই সহীহ নয়। দেখুন ‘আল-ইরওয়া’ (১/ ৫০) (১৮), সেখানে লেখক এগুলোর ত্রুটিসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে জাল (মাওজু) বলে হুকুম দিয়েছেন।

 

‌‌মাসআলা - দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে পরিবর্তিত হওয়া পানি ব্যবহার করা মাকরুহ নয়:

ইবনু কুদামা ‘আল-মুগনী’ (১/ ২৬) গ্রন্থে বলেছেন: (আজন পানি—যা দীর্ঘক্ষণ এক স্থানে থাকার কারণে কোনো কিছু মিশে যাওয়া ছাড়াই পরিবর্তিত হয়ে যায়—অধিকাংশ আহলে ইলমের মতে তা তার মৌলিক পবিত্রতার (ইতলাক) ওপর বহাল থাকে। ইবনুল মুনযির বলেন: আমরা যাদের বক্তব্য সংরক্ষণ করি এমন সকল আহলে ইলম এ বিষয়ে একমত যে, নাপাকি প্রবেশ না করা পর্যন্ত আজন পানি দিয়ে অজু করা জায়েজ। তবে ইবনু সীরীন এটি অপছন্দ করেছেন। জমহুর উলামায়ে কিরামের মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য; কারণ বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা.) এমন একটি কূপের পানি দিয়ে অজু করেছিলেন যার পানি ছিল মেহদি ভেজানো পানির মতো—অর্থাৎ এমন পানি যাতে মেহদি ভেজানো হয়েছে—এবং কারণ হলো এটি অন্য কিছু মিশ্রিত হওয়া ছাড়াই পরিবর্তিত হয়েছে)।

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(২) দেখুন মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ (১/ ১০৩)।

(৩) শায়খ আলবানী ‘আল-ইরওয়া’ (১৬) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

(৪) শায়খ আলবানী পূর্বোক্ত উৎসে (১৭) একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن ضويان (1/ 17): (وكذلك ما تغير في آنية الأدم والنُحاس لأن الصحابة كانوا يسافرون وغالب أسقيتهم الأدم وهي تغير أوصاف الماء عادة ولم يكونوا يتيممون معها).

 

‌‌‌‌مسألة - الماء المتغير بالريح من نحو ميتة لا يكره استعماله:

وهذه حالة خاصة مما تغير فيه أحد أوصاف الماء - أي الريح - بنجاسة، ومع ذلك لا ينجس الماء بالاتفاق؛ لأن التغير لم يكن عن مخالطة، بل عن مجاورة، وينضبط المجاور بما يمكن فصله، والممازج بما لا يمكن فصله.

وصورة المسألة كأن يكون إلى جانب الماء جيفة، أو عذرة أو غيرهما، فتنقل الريح رائحة ذلك إلى الماء فتغيره، وأيضا كما لو سُدَّ فم الإناء بشجر أو نحوه فتغير منه الماء من غير مخالطة لشيء منه.

قال الشيخ العثيمين في " الشرح الممتع" (1/ 35): (ولا شكَّ أن الأَوْلَى التنزُّه عنه إن أمكن، فإِذا وُجِدَ ماء لم يتغيَّر فهو أفضل، وأبعد من أن يتلوَّث بماء رائحته خبيثة نجسة، وربما يكون فيه من النَّاحية الطبيَّة ضرر، فقد تحمل هذه الروائح مكروبات تَحُلُّ في هذا الماء). وكلام الشيخ العثيمين له وجه فالأولى ترك استعمال هذا الماء إن وجد غيره.

 

‌‌مسألة - الماء المتغير بما يشق صون الماء عنه كطحلب وورق شجر ما لم يوضع، لا يكره استعماله:

والحكم بعدم الكراهة هنا للمشقة الناتجة عن عدم انفكاكه وصعوبة التحرز منه، والمشقة تجلب التيسير، بعكس ما لو وضع قصدا، أو لم يكن مما يشق التحرز منه كما سيأتي.

لاحظ أن جمهور الحنابلة الذين قسموا الماء قسمة ثلاثية مثلوا للنوع الأول وهو الطهور ببعض المتغيرات وتحكموا في التفريق بين المتماثلات في التغير كأن يتغير عن مخالطة، أو عن مجاورة، وفرقوا بين ما يشق صون الماء عنه وما لا يشق، وبين وضع ما وضع قصدا، وما لم يوضع قصدا، وحكموا على بعضها بالكراهة، وبعضها بعدم الكراهة، وهذا مما يؤكد أن الراجح ما اختاره تقي الدين من أن قسمة الماء ثنائية، وقد سبق بعض كلامه.
ইবনে যুয়াইয়ান (১/১৭) বলেন: (অনুরূপভাবে চামড়া ও তামার পাত্রে যা পরিবর্তিত হয়, কারণ সাহাবায়ে কেরাম সফর করতেন এবং তাদের অধিকাংশ পানির পাত্র ছিল চামড়ার তৈরি, যা সাধারণত পানির গুণাগুণ পরিবর্তন করে দেয়, অথচ তারা তা থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করতেন না)।

 

‌‌‌‌মাসআলা - মৃতদেহের ন্যায় কোনো কিছুর ঘ্রাণে পরিবর্তিত পানির ব্যবহার মাকরুহ নয়:

পানির কোনো একটি গুণ—অর্থাৎ ঘ্রাণ—অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ অবস্থা। তা সত্ত্বেও সর্বসম্মতিক্রমে পানি অপবিত্র হয় না; কারণ এই পরিবর্তন সরাসরি মিশ্রণের (মুখালাতাহ) কারণে নয়, বরং নৈকট্যের (মুজাওয়ারাহ) কারণে হয়েছে। যা পৃথক করা সম্ভব তাকে 'মুজাওয়ার' (পার্শ্ববর্তী) বলা হয়, আর যা পৃথক করা সম্ভব নয় তাকে 'মুমাজিজ' (মিশ্রিত) বলা হয়।

মাসআলাটির চিত্র হলো যেমন পানির পাশে কোনো মৃতদেহ বা বিষ্ঠা অথবা অন্য কিছু থাকল, আর বাতাস সেটির গন্ধ পানির দিকে বয়ে নিয়ে এল এবং তাতে পানি পরিবর্তিত হয়ে গেল। অনুরূপভাবে যদি গাছের ডালপালা বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে পাত্রের মুখ বন্ধ করা হয় এবং কোনো কিছুর সরাসরি মিশ্রণ ছাড়াই পানি পরিবর্তিত হয়ে যায়।

শায়খ উসাইমিন "আশ-শারহুল মুমতি" (১/৩৫) গ্রন্থে বলেন: (নিঃসন্দেহে সম্ভব হলে এটি থেকে বেঁচে থাকা উত্তম। সুতরাং যদি এমন পানি পাওয়া যায় যা পরিবর্তিত হয়নি, তবে সেটিই অধিক উত্তম এবং দুর্গন্ধযুক্ত অপবিত্র ঘ্রাণ দ্বারা দূষিত পানি থেকে অধিক নিরাপদ। সম্ভবত চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এতে ক্ষতি থাকতে পারে, কারণ এই গন্ধগুলো জীবাণু বহন করতে পারে যা এই পানিতে অবস্থান নেয়)। শায়খ উসাইমিনের বক্তব্যের যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, তাই অন্য পানি পাওয়া গেলে এই পানির ব্যবহার বর্জন করা উত্তম।

 

‌‌মাসআলা - যা থেকে পানি রক্ষা করা কঠিন যেমন শেওলা এবং গাছের পাতা (যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলা হয়), তেমন কিছু দ্বারা পরিবর্তিত পানির ব্যবহার মাকরুহ নয়:

এখানে মাকরুহ না হওয়ার হুকুমটি সেই কষ্টের কারণে যা এটি থেকে পানিকে বিচ্ছিন্ন রাখার কাঠিন্য এবং তা থেকে বেঁচে থাকার জটিলতা থেকে সৃষ্টি হয়। আর কষ্ট সহজতা আনয়ন করে। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয় অথবা এমন বিষয় হয় যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন নয়, যেমনটি সামনে আসবে।

লক্ষ্য করুন যে, জমহুর হাম্বলিগণ যারা পানিকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন, তারা প্রথম প্রকার অর্থাৎ 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী) পানির উদাহরণ দিতে গিয়ে এমন কিছু পরিবর্তিত পানির উদাহরণ দিয়েছেন এবং সমজাতীয় পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন; যেমন কোনোটি মিশ্রণের কারণে পরিবর্তিত হওয়া, আবার কোনোটি নৈকট্যের কারণে। তারা পানি রক্ষা করা কঠিন এবং কঠিন নয়—এমন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, এবং যা ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়েছে ও যা ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়নি—তার মধ্যেও পার্থক্য করেছেন। তারা এগুলোর কোনোটিকে মাকরুহ এবং কোনোটিকে মাকরুহ নয় বলে হুকুম দিয়েছেন। এটি একথাই নিশ্চিত করে যে, তাকীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়া) যে মতটি বেছে নিয়েছেন সেটিই অগ্রগণ্য যে, পানির বিভাজন দ্বিবিধ (তহুর ও নাপাক)। ইতিপূর্বে তাঁর কিছু বক্তব্য অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القسم الثاني - الماء الطاهر:

ـ[الثاني: طاهر يجوز استعماله في غير رفع الحدث وزوال الخبث .. ]ـ

بدأ الماتن رحمه الله في الكلام على القسم الثاني من أقسام المياه التي ذكرها، وهو الماء الطاهر - أي في نفسه الغير مطهر لغيره -.

 

‌‌مسألة - الماء الطاهر يجوز استعماله في غير رفع الحدث وزوال الخبث.

كاستعماله في الطعام والشراب والعجن والتبرد ونحو ذلك من العادات.

 

‌‌مسألة - الماء الطاهر لا يجوز استعماله في رفع الحدث.

الراجح أن بعض أنواعه لا يزال بها الحدث اتفاقا لخروجها عن إطلاق الماء، والبعض الراجح عدم سلب طهوريته بتغيره كما سيأتي بإذن الله في الكلام على أنواعه.

 

‌‌مسألة - الماء الطاهر لا يجوز استعماله في زوال الخبث.

وهذه المسألة فيها خلاف في المذهب وقد اختار ابن عقيل وتقي الدين جواز إزالة الخبث بكل مائع طاهر مزيل كخل وسيأتي الكلام بإذن الله في الفائدة التالية.

 

ـ[وهو ما تغير كثير من لونه أو طعمه أو ريحه بشيء طاهر فإن زال تغيره بنفسه عاد إلى طهوريته .. ]ـ

 

‌‌مسألة - من الماء الطاهر ما تغير كثير من لونه أو طعمه أو ريحه بشيء طاهر:

معنى عبارته أن من الماء الطاهر ما تغير كثير - وهذا قيد هام فإن كان التغير قليلا فلا يدخل في كلامه - من أحد أوصافه اللون أو الطعم أو الرائحة بشيء طاهر. وهذه العبارة لابد من تقييد هذا الطاهر المُغيِّر بأمور وإلا لما استقامت العبارة وأصبحت غير صحيحة.

 

‌‌لابد من تقييد الطاهر المُغِّير بأن يكون:

1 - من غير جنس الماء كالملح المعدني، وذلك تحرزا من الملح المائي فإنه طاهر ويغير الماء ولكنه لا يسلبه طهوريته.

2 - أن يكون بوضع ما يشق صون الماء عنه، فما يشق صون الماء عنه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - পবিত্র পানি:

ـ[দ্বিতীয়টি: পবিত্র পানি যা অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা বৈধ...]ـ

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উল্লিখিত পানির প্রকারভেদসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছেন, আর তা হলো 'পবিত্র পানি'—অর্থাৎ যা স্বয়ং পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম নয়।

 

‌মাসআলা - পবিত্র পানি অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা বৈধ।

যেমন খাদ্য, পানীয়, আটা মাখা, শরীর শীতল করা এবং এই জাতীয় অভ্যাসগত কাজে এর ব্যবহার বৈধ।

 

‌মাসআলা - অপবিত্রতা দূর করার কাজে পবিত্র পানি ব্যবহার করা বৈধ নয়।

বিশুদ্ধ মতানুসারে এর কিছু প্রকারের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে অপবিত্রতা দূর করা যায় না, কারণ সেগুলো সাধারণ 'পানি' সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে। আর কিছু প্রকারের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত হলো যে, পরিবর্তনের ফলে এর পবিত্র করার ক্ষমতা লোপ পায় না, যেমনটি ইনশাআল্লাহ এর প্রকারভেদসমূহের আলোচনায় সামনে আসবে।

 

‌মাসআলা - নাপাকি দূর করার কাজে পবিত্র পানি ব্যবহার করা বৈধ নয়।

এই মাসআলাটিতে মাযহাবে মতভেদ রয়েছে। ইবনে আকীল এবং তাক্বীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়া) যেকোনো পবিত্র তরল যা নাপাকি অপসারণ করতে সক্ষম—যেমন ভিনেগার—তা দিয়ে নাপাকি দূর করা বৈধ বলে মত দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ পরবর্তী আলোচনায় এ বিষয়ে কথা আসবে।

 

ـ[আর তা হলো এমন পানি যার বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধের অনেকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তবে যদি এই পরিবর্তন নিজ থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় পবিত্র করার ক্ষমতাসম্পন্ন পানিতে পরিণত হবে...]ـ

 

‌মাসআলা - পবিত্র পানির একটি প্রকার হলো যার বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধের অনেকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে:

তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো পবিত্র পানির একটি প্রকার হলো যার বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ—এই তিন গুণের কোনো একটির 'অনেকাংশ' কোনো পবিত্র বস্তুর দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। এখানে 'অনেকাংশ' শব্দটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, কারণ পরিবর্তন যদি সামান্য হয় তবে তা এই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে পরিবর্তনকারী এই পবিত্র বস্তুটিকে কয়েকটি শর্তের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করতে হবে, অন্যথায় এই বক্তব্যটি সঠিক হবে না।

 

‌পরিবর্তনকারী পবিত্র বস্তুটিকে অবশ্যই যা হতে হবে:

১ - পানির জাতীয় বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া, যেমন খনিজ লবণ। এটি জলজ লবণ থেকে সতর্কতা স্বরূপ বলা হয়েছে, কারণ জলজ লবণ পবিত্র এবং তা পানির পরিবর্তন ঘটালেও এর পবিত্র করার ক্ষমতা নষ্ট করে না।

২ - এমন বস্তু মিশ্রিত করার মাধ্যমে হওয়া যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন নয়। কারণ যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন...
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كالطحلب وورق الشجر إن غيَّر الماء لا يسلبه الطهورية ولكنه إن وضع قصدا سلبه الطهورية.

3 - أن يكون غير موافق للماء في الطهورية كالتراب فإنه لا يسلب الماء طهوريته.

4 - أن يكون مما يمازج الماء كالزعفران والحبر، ونحوهما، وذلك تحرزا مما لا يمازجه كالدُهْن فإنه لا يسلب الماء طهوريته.

5 - ألا يكون في محل التطهير تحرزا مما لو كان التغير في محل التطهير فإنه لا يسلبه الطهورية وسيأتي الكلام على هذه المسألة بإذن الله.

6 - ألا يكون تمرا ويصير نبيذا ويشتد، وهذه حالة خاصة من التغير الكثير لأحد أوصاف الماء بالطاهر وتحوله إلى طاهر أيضا، فالنبيذ إذا اشتد أو أتى عليه ثلاثة أيام فإنه يصير نجسا، وسيأتي الكلام على هذه المسألة - إن شاء الله -.

 

‌‌فائدة - حد التغير الكثير:

هناك أنواعا من التغير تخرج الماء عن إطلاقه بحيث لا يسمى ماء بإطلاق بل يسمى مضافا.

قال ابن قدامة في "المغني" (1/ 24): (إن المضاف لا تحصل به الطهارة وهو على ثلاثة أضرب أحدها: ما لا تحصل به الطهارة رواية واحدة وهو على ثلاثة أنواع أحدها ما اعتصر من الطاهرات كماء الورد وماء القرنفل وما ينزل من عروق الشجر إذا قطعت رطبة.

الثاني: ما خالطه طاهر فغير اسمه وغلب على أجزائه حتى صار صبغا أو حبرا أو خلا أو مرقا ونحو ذلك.

الثالث: ما طبخ فيه طاهر فتغير به كماء الباقلا المغلي فجميع هذه الأنواع لا يجوز الوضوء بها ولا الغسل … قال أبو بكر بن المنذر أجمع كل من نحفظ قوله من أهل العلم أن الوضوء غير جائز بماء الورد وماء الشجر وماء العصفر ولا تجوز الطهارة إلا بماء مطلق يقع عليه اسم الماء ولأن الطهارة إنما تجوز بالماء وهذا لا يقع عليه اسم الماء بإطلاقه).
যেমন শৈবাল এবং গাছের পাতা, যদি এগুলো পানির পরিবর্তন ঘটায় তবে তা পানির পবিত্রতা (পবিত্র করার ক্ষমতা) কেড়ে নেয় না, তবে যদি এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পানির ভেতর রাখা হয় তবে তা পবিত্রতা কেড়ে নেয়।

৩ - মিশ্রিত বস্তুটি পবিত্রতার ক্ষেত্রে পানির সমধর্মী না হওয়া, যেমন মাটি; কেননা এটি পানির পবিত্রতা কেড়ে নেয় না।

৪ - বস্তুটি পানির সাথে মিশে যায় এমন হওয়া, যেমন জাফরান ও কালি এবং এই জাতীয় বস্তুসমূহ। এটি ওইসব বস্তু থেকে বেঁচে থাকার জন্য যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন তেল; কেননা এটি পানির পবিত্রতা কেড়ে নেয় না।

৫ - পরিবর্তনের স্থানটি যেন পবিত্রতা অর্জনের স্থান (অঙ্গ) না হয়। এটি ওই অবস্থা থেকে বেঁচে থাকার জন্য যখন পরিবর্তনটি পবিত্রতা অর্জনের স্থানে ঘটে; সেক্ষেত্রে তা পানির পবিত্রতা কেড়ে নেয় না। ইনশাআল্লাহ এই মাসআলা সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।

৬ - তা যেন খেজুর না হয় যা 'নাবিজ' (এক প্রকার পানীয়) এ পরিণত হয় এবং কড়া বা তীব্র হয়ে যায়। এটি পানির কোনো একটি গুণের পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে অত্যধিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ অবস্থা, যা পবিত্র বস্তুতে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং নাবিজ যখন কড়া হয়ে যায় অথবা এর ওপর তিন দিন অতিবাহিত হয় তখন তা অপবিত্র হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ এই মাসআলা সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।

 

‌‌উপকারিতা - অত্যধিক পরিবর্তনের সীমা:

এমন কিছু ধরণের পরিবর্তন রয়েছে যা পানিকে তার নিরঙ্কুশ বা সাধারণ অবস্থা থেকে বের করে দেয়, ফলে তাকে কেবল পানি বলা যায় না, বরং 'মুদাফ' বা মিশ্রিত পানি বলা হয়।

ইবনে কুদামা 'আল-মুগনী' (১/২৪)-তে বলেছেন: (নিশ্চয়ই মিশ্রিত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জিত হয় না। এটি তিন প্রকার। প্রথম প্রকার: যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত না হওয়া সম্পর্কে একটিই বর্ণনা রয়েছে, এটি আবার তিন ধরণের। প্রথম ধরণ হলো: যা পবিত্র বস্তু থেকে নিংড়ে বের করা হয়, যেমন গোলাপ জল, লবঙ্গ পানি এবং গাছ কাটার পর তার ডাল থেকে যা নির্গত হয়।

দ্বিতীয়: যার সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে তার নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে এবং পানির উপাদানগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে, এমনকি তা রঙ, কালি, সিরকা বা ঝোল এবং এই জাতীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তৃতীয়: যাতে কোনো পবিত্র বস্তু রান্না করা হয়েছে এবং এর ফলে তা পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন শিমের সিদ্ধ পানি। এই সকল প্রকার পানি দ্বারা অজু করা বা গোসল করা জায়েজ নয় … আবু বকর ইবনুল মুনজির বলেছেন, আমরা যাদের কথা স্মরণ রাখতে পেরেছি সেই সকল আলেম একমত হয়েছেন যে, গোলাপ জল, গাছের পানি এবং কুসুম ফুলের পানি দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়। আর কেবল নিরঙ্কুশ পানি যা কেবল পানি হিসেবে অভিহিত হয়, তা ব্যতীত পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নয়। কেননা পবিত্রতা কেবল পানি দ্বারাই বৈধ, আর এসবের ওপর নিরঙ্কুশভাবে পানির নাম প্রযোজ্য হয় না)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وغير هذه الأنواع مما سبق ذكره لا تخرج الماء عن إطلاقه وتدخل على الراجح في الماء الطهور.

 

‌‌مسألة - فإن زال تغير الماء الطاهر بنفسه عاد إلى طهوريته.

وتعقب اللبدي قوله (بنفسه) فقال في "حاشيته على نيل المآرب" (ص/12): (ليس بقيد، بل إن زال تغيره بإضافة ونحوها عاد إلى طهوريته).

إذن يعود الماء الطاهر المتغير لطهوريته بزوال التغير بنفسه، أو بضم شيء إليه وفي الأخير تفصيل سوف يأتي بإذن الله.

 

ـ‌‌[ومن الطاهر: ما كان قليلا واستعمل في رفع حدث .. ]ـ

• حد القِلة: وحد القلة هو ما كان دون القلتين قال ابن قدامة في "الكافي" (1/ 7): (جعلت القلتان حدا بين القليل والكثير) وسوف يأتي بإذن الله الكلام على تحديد القُلة.

• معنى الاستعمال: سبق بيان معنى الاستعمال وأنه هو الماء المنفصل عن أعضاء المتطهر لا الماء المتبقي الذي يعترف منه.

• جميع الأحداث سواء: قال ابن قدامة في " المغني" (1/ 29): (جميع الأحداث سواء فيما ذكرنا - أي في سلبها لطهورية الماء القليل باستخدامها فيه - الحدث الأصغر والجنابة والحيض والنفاس وكذلك المنفصل من غسل الميت إذا قلنا بطهارته - وذلك لأن هناك رواية أخرى في المذهب بنجاسة المستعمل في غسل الميت -.

 

‌‌مسألة - من الطاهر ما كان قليلا واستعمل في رفع حدث:

والمذهب به ثلاث روايات في هذا الماء الرواية المقدمة والتي عليها جماهير الأصحاب وهي ما اختارها الماتن أنه طاهر مسلوب الطهورية، والثانية أنه طهور، والثالثة انه نجس.

• يستدل للرواية المصححة في المذهب -: بما رواه مسلم عن أبي السَّائِبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» فَقَالَ: كَيْفَ يَفْعَلُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: «يَتَنَاوَلُهُ تَنَاوُلًا».
পূর্বোল্লিখিত এই প্রকারের বস্তুসমূহ পানিকে তার সাধারণ বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করে না এবং অগ্রগণ্য মতানুসারে তা পবিত্রকারী পানির অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌মাসআলা - যদি পবিত্র পানির পরিবর্তন নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় তার পবিত্রকারী অবস্থায় ফিরে আসবে।

আল-লাবাদী তার (নিজে থেকে) উক্তিটির ওপর মন্তব্য করে তার "হাশিয়া আলা নাইলিল মারিব" (পৃষ্ঠা: ১২) গ্রন্থে বলেছেন: (এটি কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়, বরং যদি পানি যোগ করা বা অনুরূপ অন্য কোনো উপায়েও পরিবর্তন দূর হয়, তবে তা পুনরায় তার পবিত্রকারী অবস্থায় ফিরে আসবে)।

সুতরাং, পরিবর্তিত পবিত্র পানি তার পবিত্রকারী গুণাগুণ ফিরে পায় যদি সেই পরিবর্তন নিজে থেকে দূর হয়ে যায় অথবা তার সাথে অন্য কিছু যোগ করার মাধ্যমে। আর শেষোক্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

 

ـ‌‌[এবং পবিত্র পানির অন্তর্ভুক্ত: যা পরিমাণে অল্প এবং নাপাকি দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে...]ـ

• অল্পের সীমা: অল্পের সীমা হলো যা দুই কুল্লার কম। ইবনে কুদামা "আল-কাফি" (১/ ৭) গ্রন্থে বলেছেন: (দুই কুল্লাকে অল্প ও অধিক পানির মধ্যবর্তী সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে) এবং অচিরেই ইনশাআল্লাহ কুল্লা নির্ধারণের আলোচনার বিবরণ আসবে।

• ব্যবহারের অর্থ: ব্যবহারের অর্থ ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তা হলো পবিত্রতা অর্জনকারীর অঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পানি, পাত্রে অবশিষ্ট থাকা পানি নয় যা থেকে পানি গ্রহণ করা হয়।

• সকল নাপাকিই সমান: ইবনে কুদামা "আল-মুগনি" (১/ ২৯) গ্রন্থে বলেছেন: (আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে সকল প্রকার নাপাকি সমান - অর্থাৎ অল্প পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তা ব্যবহারের মাধ্যমে - চাই তা ছোট নাপাকি, জানাবাত, হায়েদ বা নিফাস হোক। অনুরূপভাবে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন পানিও এর অন্তর্ভুক্ত যদি আমরা তাকে পবিত্র বলি। কারণ মাযহাবে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া পানি নাপাক হওয়ার বিষয়ে অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে)।

 

‌‌মাসআলা - পবিত্র পানির অন্তর্ভুক্ত হলো যা পরিমাণে অল্প এবং নাপাকি দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে:

এই পানির ব্যাপারে মাযহাবে তিনটি বর্ণনা রয়েছে। প্রথম ও অগ্রগণ্য বর্ণনা—যার ওপর অধিকাংশ ফকীহগণ রয়েছেন এবং যা গ্রন্থকার পছন্দ করেছেন—তা হলো এটি পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়। দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো তা পবিত্রকারী, এবং তৃতীয়টি হলো তা নাপাক।

• মাযহাবের বিশুদ্ধতম বর্ণনার সপক্ষে দলিল: ইমাম মুসলিম আবু সায়েব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।» তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবু হুরায়রা! সে তবে কী করবে? তিনি বললেন: «সে তা কোনো পাত্র দিয়ে তুলে তুলে ব্যবহার করবে।»
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وجه الاستدلال:

قال الزركشي في "شرحه على مختصر الخرقي" (1/ 13): (فلولا أن الغسل فيه لا يجزئ، وأن طهوريته تزول لم ينه عن ذلك).

المناقشة:

العلة غير منصوصة والجزم بأنها لخروجه عن الطهورية تحكم بلا دليل، والأولى أن تكون العلة النهي عن الاغتسال فيه لئلا يصير مستخبثا بتوارد الاستعمال فيبطل نفعه.

والدليل على أنه لا يصير مستعملا فهم أبو هريرة للحديث وقوله بأن يجوز أن يتناول منه للاغتسال أو الوضوء كما ورد في بعض طرق الحديث فدل على أن غمسه يده فيه للتناول بنية رفع الحدث لا تخرج الماء عن طهوريته.

ومن الأدلة على أنه غير مسلوب الطهورية:

• - ما سبق ذكره من أدلة تدل على أنه صلى الله عليه وسلم كان يغتسل بفضل نسائه من الجنابة، وهذا الماء لا يسلم من تطاير رشاش إليه وتناول ونحو ذلك، وقد علل النبي اغتساله من هذا الماء بقوله صلى الله عليه وسلم فيما رواه أحمد (6/ 330) من حديث ميمونة رضي الله عنها مرفوعا: (الماء ليس عليه جنابة أو لا ينجسه شيء) وله شواهد يصح بها يدل على أنه لا ينتقل إليه الحدث.

• - وأيضا قال ابن حزم في " المحلى" (1/ 184): (لا يختلف اثنان من أهل الإسلام في أن كل متوضئ فإنه يأخذ الماء فيغسل به ذراعيه من أطراف أصابعه إلى مرفقه وهكذا كل عضو في الوضوء وفي غسل الجنابة وبالضرورة والحس يدري كل ما مشاهد لذلك أن ذلك الماء قد وضئت به الكف وغسلت ثم غسل به أول الذراع ثم آخره وهذا ماء مستعمل بيقين ثم إنه يرد يده إلى الإناء وهي تقطر من الماء الذي طهر به العضو فيأخذ ماء آخر للعضو الآخر فبالضرورة يدري كل ذي حس سليم أنه لم يطهر العضو الثاني إلا بماء جديد قد مازجه ماء آخر مستعمل في تطهير عضو آخر وهذا ما لا مَخْلَصَ منه).
দলীল প্রদানের পদ্ধতি:

আয-যারকাশী তাঁর 'শারহু আলা মুখতাসারিল খিরাকী' (১/১৩) গ্রন্থে বলেন: (যদি তাতে গোসল করা যথেষ্ট না হতো এবং তার পবিত্র করার ক্ষমতা দূরীভূত না হতো, তবে তা থেকে নিষেধ করা হতো না)।

পর্যালোচনা:

কারণটি (ইল্লত) টেক্সটে স্পষ্টভাবে বর্ণিত নয় এবং এটি পবিত্রতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে বলাটি দলীলবিহীন একটি সিদ্ধান্ত। বরং উত্তম হলো, এতে গোসল করার নিষেধাজ্ঞার কারণটি এমন হওয়া যে, বারবার ব্যবহারের ফলে পানিটি নোংরা বা ঘৃণ্য হয়ে যাবে, ফলে এর উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যাবে।

পানিটি যে 'ব্যবহৃত' (মুসতামাল) হয়ে যায় না তার দলীল হলো হাদীসটির ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর বুঝ এবং তাঁর বক্তব্য যে, গোসল বা ওযুর জন্য তা থেকে পানি গ্রহণ করা জায়েয, যেমনটি হাদীসের কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, নাপাকী দূর করার নিয়তে পানি নেয়ার জন্য তাতে হাত ডুবানো পানিকে তার পবিত্র করার ক্ষমতা থেকে বের করে দেয় না।

এবং এটি যে তার পবিত্র করার ক্ষমতা হারায় না তার অন্যান্য দলীলের মধ্যে রয়েছে:

• - পূর্বে উল্লেখিত ঐ সকল দলীল যা প্রমাণ করে যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের জানাবাত পরবর্তী অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতেন। আর এই পানি পানির ছিটা পড়া বা হাত দেয়া ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে না। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পানি দিয়ে তাঁর গোসলের কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আহমাদ (৬/৩৩০) মায়মুনা (রাযি.)-এর হাদীসে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: (পানির ওপর কোনো জানাবাত নেই অথবা কোনো কিছু পানিকে অপবিত্র করে না)। এর এমন কিছু সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে যার মাধ্যমে এটি সহীহ হিসেবে গণ্য হয়, যা প্রমাণ করে যে পানির দিকে নাপাকী স্থানান্তরিত হয় না।

• - এছাড়া ইবনে হাযম 'আল-মুহাল্লা' (১/১৮৪) গ্রন্থে বলেছেন: (ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে এমন দুইজন পাওয়া যাবে না যারা এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করবেন যে, প্রত্যেক ওযুকারী ব্যক্তি পানি গ্রহণ করেন এবং তা দিয়ে আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে কনুই পর্যন্ত তার দুই হাত ধৌত করেন। ওযু এবং জানাবাতের গোসলের প্রতিটি অঙ্গের ক্ষেত্রেও তাই। প্রতিটি প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি আবশ্যিক জ্ঞান ও ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, ঐ পানি দিয়ে কব্জি ধৌত করা হয়েছে, এরপর তা দিয়ে হাতের প্রথম অংশ এবং এরপর শেষ অংশ ধৌত করা হয়েছে। এটি নিশ্চিতভাবেই ব্যবহৃত (মুসতামাল) পানি। এরপর সে পাত্রে হাত ফিরিয়ে নেয় এমতাবস্থায় যে তার হাত থেকে ঐ পানি টপকাচ্ছে যা দিয়ে সে অঙ্গটি পবিত্র করেছে, এরপর সে অন্য অঙ্গের জন্য নতুন পানি গ্রহণ করে। ফলে সুস্থ বিবেকসম্পন্ন প্রত্যেক ব্যক্তি আবশ্যিকভাবে এটি জানেন যে, দ্বিতীয় অঙ্গটি এমন নতুন পানি দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে যার সাথে অন্য অঙ্গ পবিত্র করার কাজে ব্যবহৃত পানি মিশে গেছে। আর এ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো উপায় নেই)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا وجه لقول من فرق بين الماء الذي يجري على يد المغتسل وعضو المتوضئ على وجه الاتصال وبين الماء المنفصل أو الذي ينتقل من عضو لعضو آخر لا يتصل به، وذلك لأن علة كونه مستعملا عندهم أن الحدث انتقل إليه بعد أن رفعه عن العضو فلا فرق بين أن ينفصل حقيقة عن العضو أو يبقى عليه بعد رفع الحدث عنه.

• ومن الأدلة أيضا كل ما سبق من أدلة تدل على أن قسمة الماء ثنائية فمفادها عدم وجود هذا القسم وان ما كان من الماء متغيرا تغيرا حكميا باستعماله في رفع حدث يدخل في الماء الطهور؛ لأنه ليس بنجس ولا يكون مسلوب الطهورية.

الترجيح:

وبعد فالراجح هو كون الماء المستعمل في إزالة حدث طهور، وأن هذا الاستعمال لا يسلبه طهوريته.

 

ـ‌‌[ما كان قليلا وانغمست فيه كل يد المسلم المكلف النائم ليلا نوما ينقض الوضوء قبل غسلها ثلاثا بنية وتسمية وذلك واجب .. ]ـ

•‌‌ التقييد بكون الماء دون القلتين:

قال المرداوي في "الإنصاف" (1/ 38): (محل الخلاف إذا كان الماء الذي غمس يده فيه دون القلتين أما إن كان قلتين فأكثر فلا يؤثر فيه الغمس شيئا بل هو باق على طهوريته قاله الأصحاب وهو واضح).

 

•‌‌ حكم غسلها قبل الغمس:

الخلاف هنا مبني على الخلاف في وجوب غسلها إذا قام من النوم، فمن قال بالوجوب فإن الغمس عنده يؤثر

في الماء - بناء على القسمة الثلاثية - ويسلبه طهوريته، ومن قال بالاستحباب فلا يسلبه طهوريته، ويكون كالطهارة المستحبة.

الماتن هنا عد هذا القسم من الماء المسلوب الطهورية يعني الغمس يؤثر في الماء إذن هو يرجح وجوب غسل اليدين إذا قام من النوم قبل غمسها في الإناء
গোসলকারী ও ওযুকারীর শরীরের অঙ্গের ওপর দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত পানি এবং বিচ্ছিন্ন পানি কিংবা এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে স্থানান্তরিত পানির মধ্যে যারা পার্থক্য করেন, তাদের সেই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তাদের নিকট পানি 'ব্যবহৃত' (মুস্তামাল) হওয়ার কারণ হলো, অঙ্গ থেকে অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার পর তা পানির মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং অঙ্গ থেকে প্রকৃতপক্ষে পানি আলাদা হওয়া বা হাদাস দূর করার পর অঙ্গের ওপর পানি অবশিষ্ট থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

• দলিলের অন্তর্ভুক্ত আরও হলো পূর্বে বর্ণিত সেই সকল প্রমাণাদি যা নির্দেশ করে যে, পানির প্রকারভেদ দ্বিবিধ। এর দাবি হলো এই (মুস্তামাল) প্রকারটির কোনো অস্তিত্ব নেই এবং হাদাস দূর করার কাজে ব্যবহারের কারণে যে পানির হুকমি পরিবর্তন ঘটে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (তাহুর) পানির অন্তর্ভুক্ত; কারণ তা নাপাক নয় এবং এর পবিত্র করার ক্ষমতাও বিলুপ্ত হয় না।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (তারজিহ):

পরিশেষে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো, হাদাস দূর করতে ব্যবহৃত পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী (তাহুর), এবং এই ব্যবহার তার পবিত্র করার ক্ষমতাকে ছিনিয়ে নেয় না।

 

ـ‌‌[যে পানি অল্প এবং তাতে সেই সামর্থ্যবান (মুকাল্লাফ) মুসলিমের পুরো হাত নিমজ্জিত হয়েছে যে রাতে এমনভাবে ঘুমিয়েছিল যা ওযু নষ্ট করে দেয়, আর তা (হাত) নিয়ত ও তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) সহকারে তিনবার ধৌত করার পূর্বে নিমজ্জিত করা হয়েছে, এবং তা করা ওয়াজিব .. ]ـ

•‌‌ পানি দুই কুল্লার কম হওয়ার শর্তারোপ:

আল-মারদাউয়ি 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে (১/৩৮) বলেন: (মতভেদের ক্ষেত্রটি হলো যখন ওই পানি যাতে সে হাত ডুবিয়েছে তা দুই কুল্লার কম হয়। আর যদি তা দুই কুল্লা বা তার বেশি হয় তবে তাতে হাত ডুবানো কোনো প্রভাব ফেলবে না, বরং তা তার পবিত্রকারী গুণেই বহাল থাকবে। এটি আমাদের মাযহাবের ইমামগণ বলেছেন এবং বিষয়টি সুস্পষ্ট)।

 

•‌‌ ডুবানোর পূর্বে হাত ধৌত করার বিধান:

এখানকার মতভেদটি ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ধৌত করার আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার মতভেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুতরাং যারা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তা, তাদের নিকট হাত ডুবানো পানির ওপর প্রভাব ফেলে—পানির ত্রিবিধ প্রকারভেদের ভিত্তিতে—এবং তা পানির পবিত্র করার ক্ষমতা বিলুপ্ত করে দেয়। আর যারা মুস্তাহাব হওয়ার প্রবক্তা, তাদের নিকট এটি পানির পবিত্র করার ক্ষমতা বিলুপ্ত করে না এবং তা মুস্তাহাব পবিত্রতার মতোই গণ্য হয়।

মূল গ্রন্থকার (মাতিন) এখানে এই প্রকারটিকে পবিত্র করার ক্ষমতা হারানো পানির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অর্থাৎ তার মতে হাত ডুবানো পানির ওপর প্রভাব ফেলে। সুতরাং তিনি ঘুম থেকে ওঠার পর পাত্রে হাত ডুবানোর পূর্বে দুই হাত ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا صريح في عبارته حيث قال في آخرها: (قبل غسلها ثلاثا بنية وتسمية وذلك واجب).

روى البخاري (1/ 72) (160)، ومسلم (1/ 233) (278) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: (إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا فإنه لا يدري أين باتت يده) وليس عند البخاري التثليث.

وهذا الحديث ظاهر في وجوب غسل اليد ثلاثا قبل أن يغمسها في الإناء، وقد اعتذر الجمهور عن الوجوب بأن التعليل بأمر يقتضي الشك قرينة صارفة عن الوجوب إلى الندب.

وقد ردَّ ذلك الشوكاني فقال معقبا في "نيل الأوطار" (1/ 170): (وقد دفع بأن التشكيك في العلة لا يستلزم التشكيك في الحكم وفيه أن قوله: (لا يدري أين باتت يده) ليس تشكيكا في العلة بل تعليلا بالشك وأنه يستلزم ما ذكر).

 

•‌‌ هل يشترط أن يكون مسلما مكلفا:

ظاهر قول الماتن رحمه الله: (المسلم المكلف) أن غمس الكافر، أو الصبي، والمجنون لا يؤثر في الماء، وهذا الظاهر صححه المرداوي، ومال إليه ابن قدامة في "المغني"، واختاره المجد في "شرح الهداية"، وغيرهم، والذي أراه أنه لا فرق بين غمس وغمس - على اعتبار أن الغمس يسلب الماء طهوريته- وذلك لأن الشارع جعل غمس القائم من النوم يده في الإناء سببا لسلب الماء طهوريته، وهذا من الأحكام الوضعية، ومن استدل على التفريق فقد نظر إليه من ناحية الحكم التكليفي على أن الأقوى أن الكفار مخاطبون بفروع الشريعة على أصح قولي المذهب بشرط تقدم الإسلام.

أضف أن شمول الحكم للكافر والصبي والمجنون أولى من المسلم العاقل البالغ فالصبي لا يحسن الطهارة والكافر لا يستنزه من البول، والمجنون لا يعقل فهؤلاء أولى بسلب الماء طهوريته من المسلم العاقل البالغ الذي يحسن الطهارة ويستنزه من بوله.

 

•‌‌ هل يختص النوم بنوم الليل؟

قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث: (أين باتت يده) يدل على أن النوم
এটি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যেখানে তিনি এর শেষে বলেছেন: (নিয়ত ও তাসমিয়া বা বিসমিল্লাহসহ তিনবার ধোয়ার পূর্বে, আর তা ওয়াজিব)।

বুখারি (১/ ৭২) (১৬০) এবং মুসলিম (১/ ২৩৩) (২৭৮) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: (তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন পাত্রে হাত না ডোবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কারণ সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে)। আর বুখারির বর্ণনায় তিনবার ধোয়ার কথা নেই।

এই হাদিসটি পাত্রে হাত ডোবানোর আগে হাত তিনবার ধোয়া ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট। তবে জমহুর উলামায়ে কেরাম ওয়াজিব না হওয়ার সপক্ষে এই ওজর পেশ করেছেন যে, সন্দেহের উদ্রেককারী কোনো বিষয়কে কারণ হিসেবে দর্শানো ওয়াজিব থেকে মুস্তাহাবের দিকে পরিবর্তনের একটি আলামত।

শাওকানি একে খণ্ডন করেছেন এবং "নাইলুল আওতার" (১/ ১৭০) গ্রন্থে মন্তব্য করে বলেছেন: (এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, কারণের মধ্যে সংশয় থাকা বিধানের মধ্যে সংশয় থাকাকে আবশ্যক করে না। আর এতে কথা হলো, তাঁর বাণী: "সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে" এটি কারণের মধ্যে সংশয় নয়, বরং সংশয়কেই কারণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং এটি উল্লিখিত বিষয়টিকে আবশ্যক করে)।

 

•‌‌ তাকে কি মুসলিম ও মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য) হওয়া শর্ত:

মূল গ্রন্থের লেখক রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি: (মুসলিম মুকাল্লাফ) থেকে বাহ্যত বোঝা যায় যে, কাফের, শিশু অথবা পাগলের হাত ডোবানো পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। মারদাবি এই বাহ্যিক অর্থটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, ইবনে কুদামা "আল-মুগনি" গ্রন্থে এর দিকেই ঝুঁকেছেন এবং মাজদ "শারহুল হিদায়া" গ্রন্থে একে গ্রহণ করেছেন, এছাড়াও অন্যান্যরা। তবে আমার মতে, হাত ডোবানোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—এই বিবেচনায় যে হাত ডোবানো পানির পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়। এর কারণ হলো, বিধানদাতা ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির পাত্রে হাত ডোবানোকে পানির পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন, আর এটি আহকামে ওয়াদিয়্যাহ এর অন্তর্ভুক্ত। যারা পার্থক্যের দলিল দিয়েছেন, তারা একে আহকামে তাকলিফির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। যদিও মাযহাবের অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে কাফেররা ইসলামের শর্ত সাপেক্ষে শরিয়তের শাখা-প্রশাখার বিধান পালনে আদিষ্ট।

অধিকন্তু, কাফের, শিশু ও পাগলের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হওয়া বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য। কারণ শিশু পবিত্রতা অর্জনে পারদর্শী নয়, কাফের প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করে না এবং পাগল বিবেকহীন; ফলে বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম যে কিনা পবিত্রতা অর্জনে পারদর্শী এবং প্রস্রাব থেকে পবিত্র থাকে, তার তুলনায় এদের দ্বারা পানির পবিত্রতা নষ্ট হওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

 

•‌‌ ঘুম কি রাতের ঘুমের সাথে নির্দিষ্ট?

হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে) নির্দেশ করে যে, ঘুম
(খণ্ড: ১) আত-তাহরীর শারহুদ দালীল - কিতাবুত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
المؤثر ما كان ليلا فالبيتوتة هي الدخول في الليل، وهو المذهب.

قال الخليل بن أحمد: (البيتوتة دخولك في الليل تقول بت أصنع كذا إذا كان بالليل. وبالنهار ظللت ومن فسر بات على النوم فقد أخطأ ألا ترى أنك تقول بت أراعي النجوم معناه بت أنظر إليها فكيف نام وهو ينظر إليها وتقول أباتهم الله إباتة حسنة فباتوا بيتوتة صالحة وأتاهم الأمر بياتا أي أتاهم في جوف الليل وبات يصلي).

والذي أراه أن نوم النهار يلحق بنوم الليل، وأنه لا يعمل مفهوم المخالفة للحديث لأن ذكر البيتوتة فيه جريا على الغالب كقوله تعالى: (وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ) [النساء: 23] فالربيبة محرمة بالشرط المذكور وإن لم تكن في الحجر. كما أن العلة متحققة في كل نوم.

وقال ابن حجر في "الفتح" (1/ 263): (التعليل يقتضي إلحاق نوم النهار بنوم الليل وإنما خص نوم الليل بالذكر للغلبة).

 

•‌‌ اشتراط النية:

خالف الشيخ مرعي الصحيح من المذهب واشترط النية عند الغمس ليُسلَب الماء طهوريته.

وقد ذكر المرداوي في " الإنصاف" (1/ 42): أن المذهب وما عليه جماهير الأصحاب أن الغمس يؤثر سواء كان قبل نية غسلها أو بعده، وقال القاضي ويحتمل أن لا يؤثر إلا بعد النية.

وقد استدل ابن ضويان لاشتراط النية بحديث: (إنما الأعمال بالنيات).

والصواب عدم اشتراط النية؛ لأن العلة كما بينها النبي صلى الله عليه وسلم هي مظنة النجاسة، وخشية تنجيس الماء، وغسل النجاسة من باب التروك لا يفتقر لنية.

 

•‌‌ اشتراط التسمية:

اشترط التسمية أيضا أبو الخطاب قياسا على الوضوء، وهذا القياس مع الفارق للنص على التسمية في الوضوء دون غمس اليدين، وليس هو مثله في أحكامه فافترقا.
প্রভাবশালী বা বিবেচ্য বিষয়টি হলো রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, সুতরাং 'বাইতুতাহ' (রাত্রিযাপন) হলো রাতে প্রবেশ করা, আর এটিই হচ্ছে মাযহাব (গৃহীত মত)।

খলীল বিন আহমাদ বলেছেন: ('বাইতুতাহ' হলো তোমার রাতে প্রবেশ করা। তুমি বলো: 'বিততু আসনাউ কাযা' (আমি রাতটি অমুক কাজ করে কাটিয়েছি) যখন সেটি রাতে হয়। আর দিনের বেলা হলে তুমি বলো 'যলালতু'। আর যে ব্যক্তি 'বাতা' (রাত কাটানো) এর ব্যাখ্যা 'ঘুমানো' দিয়ে করে, সে ভুল করেছে। তুমি কি দেখছো না যে, তুমি বলো: 'বিততু উরাঈন নুজূম' (আমি রাতটি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে কাটিয়েছি), এর অর্থ হলো: আমি রাতটি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে কাটিয়েছি। সুতরাং সে কীভাবে ঘুমালো যখন সে সেগুলোর দিকে তাকাচ্ছিল? আর তুমি বলো: 'আবাতাহুমুল্লাহু ইবাতাতান হাসানাহ' (আল্লাহ তাদের উত্তম রাত কাটানোর তাওফীক দিয়েছেন), ফলে তারা উত্তম রাত্রিযাপন করলো। আর তাদের কাছে নির্দেশটি এসেছে 'বাইয়াতান' অর্থাৎ রাতের গভীরে এসেছে। আর সে রাত জেগে সালাত আদায় করলো)।

আর আমি যা মনে করি তা হলো, দিনের ঘুমও রাতের ঘুমের সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং হাদীসের ক্ষেত্রে 'মাফহুমুল মুখালাফাহ' (বিপরীত অর্থ) কার্যকর হবে না। কারণ সেখানে 'বাইতুতাহ' (রাত্রিযাপন) এর উল্লেখ কেবল অধিকাংশ সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর তোমাদের সেই পালিত কন্যারা যারা তোমাদের কোলে লালিত-পালিত হচ্ছে ঐ স্ত্রীদের পক্ষ থেকে যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো) [আন-নিসা: ২৩]। সুতরাং পালিত কন্যা উল্লেখিত শর্তে হারাম হবে যদিও সে কোলে লালিত-পালিত না হয়। তেমনিভাবে কারণটি প্রতিটি ঘুমের মধ্যেই বিদ্যমান।

ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'তে (১/ ২৬৩) বলেছেন: (কারণের যৌক্তিকতা দিনের ঘুমকে রাতের ঘুমের সাথে যুক্ত করার দাবি রাখে, আর রাতের ঘুমকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কেবল সচরাচর ঘটে থাকে বলে)।

 

•‌‌ নিয়ত শর্ত হওয়া:

শায়খ মারঈ মাযহাবের বিশুদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছেন এবং হাত ডুবানোর সময় নিয়ত করাকে শর্ত করেছেন যাতে পানি তার পবিত্রতা হারায়।

আর আল-মারদাওয়ী 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে (১/ ৪২) উল্লেখ করেছেন যে: মাযহাব এবং অধিকাংশ ফকীহদের মত হলো যে, হাত ডুবানো পানির ওপর প্রভাব ফেলবে চাই তা হাত ধোয়ার নিয়তের আগে হোক বা পরে। আর কাযী বলেছেন, এটি সম্ভব যে নিয়ত ছাড়া কোনো প্রভাব পড়বে না।

আর ইবনে দ্বোইয়ান নিয়ত শর্ত হওয়ার পক্ষে হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)।

আর সঠিক মত হলো নিয়ত শর্ত না হওয়া; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বর্ণনা করেছেন যে, কারণটি হলো নাপাকির সম্ভাবনা এবং পানি নাপাক হওয়ার আশঙ্কা। আর নাপাকি ধোয়া 'বাবে তরূক' (পরিত্যাজ্য বিষয়াবলী) এর অন্তর্ভুক্ত যা নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়।

 

•‌‌ তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) শর্ত হওয়া:

আবুল খাত্তাব ওযুর ওপর কিয়াস (অনুমান) করে তাসমিয়াহকেও শর্ত করেছেন। তবে ওযুর ক্ষেত্রে তাসমিয়াহর পক্ষে স্পষ্ট নস (দলিল) থাকলেও হাত ডুবানোর ক্ষেত্রে নেই বিধায় এই কিয়াসটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি এর বিধানের অনুরূপ নয়, ফলে উভয়টি ভিন্ন।