(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: -)
السنة كلها تشريع - موسى شاهين لاشين القسم: علوم الحديث
الكتاب: السُنَّةُ كُلُّهَا تَشْرِيعٌ
المؤلف: موسى شاهين لاشين (ت 1430هـ)
الناشر: بحث بمجلة كلية الشريعة بجامعة قطر العدد العاشر
عدد الصفحات: 87
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1432
সুন্নাহর পুরোটাই বিধান - মুসা শাহীন লাশিন বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: সুন্নাহর পুরোটাই বিধান
লেখক: মুসা শাহীন লাশিন (মৃত্যু ১৪৩০ হি.)
প্রকাশক: কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া অনুষদ সাময়িকীর দশম সংখ্যায় প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، - আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ].
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: -)
السُنَّةُ كُلُّهَا تَشْرِيعٌ
الأستاذ الدكتور موسى شاهين لاشين
الخبير الأول بمركز بحوث السُنَّة والسيرة / جامعة قطر
عدد الأجزاء: 1.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
--------------------------------------------
সুন্নাহর পুরোটাই বিধান প্রণয়ন (تشريع)
প্রফেসর ডক্টর মুসা শাহীন লাশিন
সুন্নাহ ও সিরাত গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বিশেষজ্ঞ / কাতার বিশ্ববিদ্যালয়
খণ্ড সংখ্যা: ১।
মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি — আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন —।
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
التقى فارسان، فكانت بينهما لوحة معلقة، بيضاء من جهة أحدهما، سوداء من جهة الآخر، قال الأول: ما أجمل هذه اللوحة البيضاء؟، قال الثاني: إنها سوداء، وتجادلا حتى كَادَا يَقْتَتِلَانِ، وأدركهما فارس ثالث، يعلم حقيقة اللوحة، فقال لهما: لا عليكما. تبادلا المواقع. فتبادلا، فوجد كل منهما أنَّ صاحبه كان على صواب.
وهكذا كثير من الخلافات بين الباحثين، تنشأ من عدم التلاقي على اصطلاح واحد أو عدم تحديدهم لموطن البحث، فيحكم كل منهم على شىء غير ما يحكم عليه الآخر وقد تكون عبارة الحكم غير دقيقة، كَأَنْ يُعَمَّمَ الحُكْمُ وَيُرِيدُ بِهِ خَاصًّا، أَوْ يُخَصَّصُ وَيُرِيدُ العُمُومَ، ولو حرر المراد ربما بطل الإيراد.
وموضوعنا (السُنَّةُ وَالتَّشْرِيعُ - أَوْ السُنَّةُ تَشْرِيعِيَّةٌ وَغَيْرُ تَشْرِيعِيَّةٍ - أَوْ السُنَّةُ كُلُّهَا تَشْرِيعٌ) موضوع أثير في هذه الأيام، وَعَالَجَهُ المُتَخَصِّصُ وَغَيْرُ المُتَخَصِّصِ، وكتبت فيه كتابات سطحية، وكتابات علمية. والتبس فيه الحق بالباطل، وكثر فيه اللغو، ونصبت حوله الشُبُهَاتُ، حتى كادت الحقيقة العلمية تختفى وراء الظلال.
ولو حرر المراد لانقشع الكثير من السحب، وربما تَمَّ الاتفاق بين المختلفين إذا صلح القصد وخلصت النيات.
القَضِيَّةُ مُكَوَّنَةٌ مِنْ كَلِمَتَيْنِ: السُنَّةُ وَالتَّشْرِيعُ.
وَالسُنَّةُ في اللغة الطريقة مُطْلَقًا، حَسَنَةً أَوْ سَيِّئَةً، وفي التنزيل: {وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَاّ أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ} (1).
قال الزجاج: «سُنَّةُ الأوَّلِينَ أَنَّهُمْ عَايَنُوا العَذَابَ، فَقَالَ المُشْرِكُونَ: {اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ}» (2).
وفي الحديث: «مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَمَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا» (3).
وكل من ابتدأ أمراً عمل به قوم بعده قيل: هو الذى سَنَّهُ.
وفي حديث المجوس: «سُنُّوا بِهِمْ سُنََّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ» (4) أي خذوهم وعاملوهم على طريقة أهل الكتاب واقبلوا منهم الجزية (5).
والسُنَّةُ عتد الفقهاء تعدل المندوب والمُستحَبَّ، فهي حكم شرعى للفعل المطلوب
--------------------------------------------
দুইজন অশ্বারোহীর সাক্ষাৎ হলো। তাদের মাঝখানে একটি ফলক ঝুলানো ছিল, যার একপাশ ছিল সাদা এবং অন্যপাশ কালো। প্রথমজন বললেন: "এই সাদা ফলকটি কতই না সুন্দর!" দ্বিতীয়জন বললেন: "এটি তো কালো।" তাদের মধ্যে বিতর্ক চলল এমনকি তারা যুদ্ধ করার উপক্রম হলেন। তখন তৃতীয় এক অশ্বারোহী আসলেন, যিনি ফলকটির প্রকৃত অবস্থা জানতেন। তিনি তাদের বললেন: "বিচলিত হয়ো না। তোমরা তোমাদের অবস্থান পরিবর্তন করো।" তারা অবস্থান পরিবর্তন করলেন এবং দেখলেন যে তাদের সাথী সঠিক কথা বলছিলেন।
গবেষকদের মধ্যে অনেক মতবিরোধ এভাবেই সৃষ্টি হয়। এর কারণ হলো একটি একক পরিভাষা (اصطلاح) এর ব্যাপারে একমত না হওয়া অথবা গবেষণার ক্ষেত্রটি নির্ধারণ না করা। ফলে তাদের প্রত্যেকে এমন একটি বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদান করেন যা অন্যের হুকুমকৃত বিষয় থেকে ভিন্ন। কখনো কখনো হুকুমের শব্দাবলী বা প্রকাশভঙ্গি সঠিক হয় না; যেমন—হুকুমকে ব্যাপক (عام) করা হয় অথচ তা দ্বারা বিশেষ (خاص) কিছু উদ্দেশ্য থাকে, অথবা বিশেষ করা হয় অথচ তা দ্বারা ব্যাপকতা (العموم) উদ্দেশ্য থাকে। যদি উদ্দেশ্যটি সুস্পষ্ট করা হতো, তবে হয়তো আপত্তির অবকাশ থাকতো না।
আমাদের আলোচ্য বিষয়—(সুন্নাহ (السنة) ও শরয়ি বিধান (التشريع) - অথবা সুন্নাহ (السنة) বিধানমূলক (تشريعية) ও অ-বিধানমূলক (غير تشريعية) - অথবা সমগ্র সুন্নাহই (السنة) বিধান (تشريع))—বর্তমান সময়ে এটি একটি অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। বিশেষজ্ঞ ও অ-বিশেষজ্ঞ উভয়েই এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন; এতে অগভীর ও বৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার লেখাই রচিত হয়েছে। ফলে সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটেছে, অনর্থক কথার প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে এবং সংশয় (الشبهات) তৈরি হয়েছে, যার ফলে বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ ছায়ার আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
যদি উদ্দেশ্যটি সুস্পষ্ট করা হতো, তবে অনেক কুয়াশা কেটে যেত এবং উদ্দেশ্য ও নিয়ত সৎ হলে মতবিরোধকারীদের মধ্যে ঐকমত্য সম্ভব হতো।
বিষয়টি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: সুন্নাহ (السنة) ও শরয়ি বিধান (التشريع)।
শাব্দিক অর্থে সুন্নাহ (السنة) হলো—যেকোনো পথ বা পদ্ধতি, তা ভালো হোক বা মন্দ। পবিত্র কোরআনে এসেছে: "লোকদের কাছে হেদায়াত আসার পর ঈমান আনা এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে এই বিষয়ই তাদের বিরত রেখেছে যে, তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের নীতি (سنة) আসবে..." (১)।
জাজ্জাজ বলেছেন: «পূর্ববর্তীদের নীতি (سنة) হলো তারা আজাব প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন মুশরিকরা বলেছিল: {হে আল্লাহ! এটি যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো}» (২)।
হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির (سنة) প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা এরপর তা আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির (سنة) প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই গুনাহ এবং যারা তা আমল করবে তাদের গুনাহও বর্তাবে» (৩)।
যে ব্যক্তিই কোনো বিষয়ের সূচনা করে এবং পরবর্তীতে একদল লোক তার ওপর আমল করে, তখন বলা হয়: সে-ই এর রীতি (سن) প্রবর্তন করেছে।
মাজুসিদের (অগ্নিউপাসক) ব্যাপারে হাদিসে এসেছে: «তাদের সাথে আহলে কিতাবদের রীতি (سنة) অনুসরণ করো» (৪); অর্থাৎ তাদের সাথে আহলে কিতাবদের পদ্ধতিতে আচরণ করো এবং তাদের থেকে জিজয়া গ্রহণ করো (৫)।
ফকিহদের (فقهاء) নিকট সুন্নাহ (السنة) বলতে পছন্দনীয় (مندوب) এবং মুস্তাহাব (مستحب) বোঝায়; এটি তলবকৃত কর্মের জন্য একটি শরয়ি বিধান (حكم شرعى)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
طَلَبًا غير جازم، يثاب فاعله، ولا يعاقب تاركه، فيقال مثلا: ركعتان قبل صلاة الصبح سُنَّةٌ وركعتا تحية المسجد سُنَّةٌ، وهذا المعنى هو المراد من قول ابن عباس: «لَيْسَ بِسُنَّةٍ» فيما رواه الامام أحمد في " مسنده " عن أبي الطفيل. قَالَ: قُلْتُ لابْنِ عَبَّاسٍ: «يَزْعُمُ قَوْمُكَ أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم رَمَلَ بِالْبَيْتِ، وأنَّ ذلك سُنَّةٌ؟». فَقَالَ: «صَدَقُوا، وَكَذَبُوا». قلتُ: «مَا صَدَقُوا؟ وَمَا كَذَبُوا؟». قال: «صَدَقُوا. رَمَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَيْتِ، وَكَذَبُوا. لَيْسَ بسُنَّةٍ، إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ: دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ - زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ - حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ (*)، فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَقْدِمُوا مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ، وَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلاثًةَ أَيَّامٍ، فَقَدِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ [قُعَيْقِعَانَ] (
… )، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاثًا» (**) وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ. قلتُ: ويزعم قومك أنه طاف بين الصفا والمروة على بعير؟ وأنَّ ذلك سُنَّةٌ؟ فقال: صدقوا، وكذبوا، فقلت: وما صدقوا؟ وما كذبوا؟ فقال: صدقوا قد طاف بين الصفا والمروة على بعير، وكذبوا ليس بسُنَّة، كانوا لا يدفعون عن رسول الله ولا يصرفون عنه، فطاف على بعير، ليسمعوا كلامه، ولا تناله أيديهم. قلت: ويزعم قومك أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم سعى بين الصفا والمروة، وأنَّ ذلك سُنَّة؟ قال: صدقوا .. الحديث (6).
فابن عباس أراد بِالسُنَّةِ مَا هُوَ مَطْلُوبٌ شَرْعًا يُثَابُ فَاعِلُهُ، فنفى أَنْ يكون الرمل في الطواف سُنَّةٌ مُلْزِمَةٌ مطلوبة يثاب عليه، وهو رأي لابن عباس، وعلى خلافه جمهور الفقهاء، إذ يرون أنه مستحب، لحديث ابن عمر الذي رواه " البخاري " و " مسلم ".
والمقصود هنا أَنَّ ابن عباس استعمل لفظ السُنَّةِ في المطلوب شَرْعًا، ولم يرد به السُنَّة عند الأُصُولِيِّينَ، وَالمُحَدِّثِينَ [أَقْوَالُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْعَالُهُ وَتَقْرِيرَاتُهُ] فأثبت فعل النبي صلى الله عليه وسلم وَنَفَى أَنَّهُ سُنَّةٌ، فمن شاء رمل، ومن شاء لم يرمل.
والسُنَّة عند الأُصُولِيِّينَ [أَقْوَالُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْعَالُهُ وَتَقْرِيرَاتُهُ] وَالمُحَدِّثُونَ يزيدون على هذه [وَصِفَاتُهُ الخَلْقِيَّة وَالخُلُقِيَّة] فهي عندهم تساوي الحديث المرفوع.
أما لفظ التشريع فهو الحكم الشرعي لكل فعل من أفعال المُكَلَّفِينَ، سواء أكان الحكم هو الوجوب أم الحرمة أم الندب أم الكراهة أم الإباحة.
وَلَا شُبْهَةَ فِي أَنَّ الحرمة والوجوب والكراهة والندب حكم شرعي، إنما قد توجد
--------------------------------------------
একটি অ-অপরিহার্য দাবি, যার পালনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: ফজরের নামাজের পূর্বের দুই রাকাত সুন্নাত (سُنَّةٌ) এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদের দুই রাকাত সুন্নাত (سُنَّةٌ)। আর আবু তুফায়েল থেকে বর্ণিত ইমাম আহমদের মুসনাদ-এ ইবনে আব্বাসের উক্তি "এটি সুন্নাত (سُنَّةٌ) নয়" দ্বারা এই অর্থই উদ্দেশ্য। তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: "আপনার কওম দাবি করে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার চারপাশে রমল করেছেন এবং এটি সুন্নাত (سُنَّةٌ)?" তিনি বললেন: "তারা সত্য বলেছে আবার মিথ্যাও বলেছে।" আমি বললাম: "তারা কী সত্য বলেছে আর কী মিথ্যা বলেছে?" তিনি বললেন: "তারা সত্য বলেছে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার চারপাশে রমল করেছিলেন। কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছে (যে এটি বিধিবদ্ধ সুন্নাত)। হুদায়বিয়ার সময় কুরাইশরা বলেছিল: মুহাম্মদ ও তার সঙ্গীদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ না তারা উকুনের (النَّغَفِ) মতো মরে যায়। অতঃপর তারা যখন পরবর্তী বছর আসার এবং মক্কায় তিন দিন অবস্থানের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সন্ধি করল, তখন তিনি আসলেন এবং মুশরিকরা কুআইকিআন পাহাড়ের দিক থেকে দেখছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমরা তিনবার কাবার চারপাশে রমল করো' এবং এটি সুন্নাত (سُنَّةٌ) নয়।" আমি বললাম: আপনার কওম দাবি করে যে তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে উটের পিঠে চড়ে তাওয়াফ করেছেন এবং তা সুন্নাত (سُنَّةٌ)? তিনি বললেন: "তারা সত্য বলেছে আবার মিথ্যা বলেছে।" আমি বললাম: "তারা কী সত্য বলেছে আর কী মিথ্যা বলেছে?" তিনি বললেন: "তারা সত্য বলেছে যে তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে উটের পিঠে চড়ে তাওয়াফ করেছেন, কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছে যে এটি সুন্নাত (سُنَّةٌ) নয়। লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরছিল না এবং তারা তাঁর থেকে দূরে যাচ্ছিল না, তাই তিনি উটের পিঠে চড়ে তাওয়াফ করলেন যাতে তারা তাঁর কথা শুনতে পায় এবং তাদের হাত যেন তাঁর নাগাল না পায়।" আমি বললাম: আপনার কওম দাবি করে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করেছেন এবং তা সুন্নাত (سُنَّةٌ)? তিনি বললেন: "তারা সত্য বলেছে .. হাদিস (৬)।
এখানে ইবনে আব্বাস সুন্নাত (السُنَّةِ) দ্বারা শরিয়তগতভাবে কাম্য বিষয় বুঝিয়েছেন যার পালনকারী সওয়াব লাভ করে। ফলে তিনি তাওয়াফের মধ্যে রমল করা একটি বাধ্যতামূলক কাম্য সুন্নাত (سُنَّةٌ) হওয়াকে অস্বীকার করেছেন যার উপর সওয়াব পাওয়া যায়। এটি ইবনে আব্বাসের একটি অভিমত, যার বিপরীতে জুমহুর ফকিহগণ অবস্থান করেন; কেননা তারা এটিকে পছন্দনীয় (مستحب) মনে করেন, ইবনে উমরের সেই হাদিসের কারণে যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, ইবনে আব্বাস সুন্নাত (السُنَّةِ) শব্দটি শরিয়তগতভাবে কাম্য অর্থে ব্যবহার করেছেন। তিনি উসুলবিদদের (الأُصُولِيِّينَ) বা হাদিস বিশারদদের (المُحَدِّثِينَ) পরিভাষায় [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি] অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেননি। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মকে সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু তা সুন্নাত (سُنَّةٌ) হওয়াকে অস্বীকার করেছেন; অর্থাৎ যার ইচ্ছা সে রমল করবে, আর যার ইচ্ছা সে করবে না।
আর উসুলবিদদের (الأُصُولِيِّينَ) নিকট সুন্নাত হলো [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি]। আর হাদিস বিশারদগণ (المُحَدِّثُونَ) এর সাথে [তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলি] যোগ করেন। তাই তাঁদের নিকট এটি মারফু (المرفوع) হাদিসের সমতুল্য।
পক্ষান্তরে তাশরি শব্দটি হলো মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের প্রতিটি কর্মের শরয়ি বিধান, চাই সেই বিধানটি আবশ্যকতা (الوجوب), নিষিদ্ধতা (الحرمة), পছন্দনীয় (الندب), অপছন্দনীয় (الكراهة) বা বৈধতা (الإباحة) যাই হোক না কেন।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নিষিদ্ধতা (الحرمة), আবশ্যকতা (الوجوب), অপছন্দনীয় (الكراهة) এবং পছন্দনীয় (الندب) একটি শরয়ি বিধান। তবে এখানে থাকতে পারে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
شُبْهَةٌ عند البعض فِي أنَّ الإباحة حُكْمٌ شَرْعِىٌّ، والدارس لأصول الفقه يعلم من أئمته أَنَّ الإباحة حكم شرعي.
فالآمدى يُعَرِّفُ المباح بأنه ما دَلَّ الدليل السمعى على خطاب الشارع بِالتَّخْيِيرِ فيه بين الفعل والترك من غير بدل. (7).
والفخر الرازي يقول: القسم الثاني للإباحة، وتثبت بطرق ثلاثة:
[1] أَنْ يقول الشارع: إِنْ شئتم فافعلوا، وإنْ شئتم فاتركوا.
[2] أَنْ تدل أخبار الشرع على أنه لا حرج في الفعل والترك.
[3] أنْ لا يتكلم الشرع فيه البتة، ولكن انعقد الإجماع مع ذلك أَنَّ مَا لَمْ يَرِدْ فِيهِ طلب فعل ولا طلب ترك فالمكلف فيه غير مُخَيَّرٍ.
فالإباحة لا تتحقق إلَاّ على أحد هذه الوجوه الثلاثة المذكورة، وفي جميعها خطاب الشرع دَلَّ عليها، فكانت الإباحة من الشرع (8).
وَالإِمَامُ الجُوَيْنِيُّ يَقُولُ: «المُبَاحُ مَا خَيَّرَ الشَّارِعُ فِيهِ بَيْنَ الفِعْلِ وَالتَّرْكِ مِنْ غَيْرِ اقْتِضَاءٍ وَلَا زَجْرٍ، وَلَا حُكْمَ عَلَى العُقَلَاءِ قَبْلَ وُرُودِ الشَّرْعِ، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الأَحْكَامَ هِيَ الشَّرَائِعُ بِأَعْيَانِهَا، وَقَدْ افْتَرَقَتْ المُعْتَزِلَةُ، فَذَهَبَ بَعْضُهُمْ إِلَى أَنَّ مَا لَا يُعَيِّنْ العَقْلُ فِيهِ قُبحًا وَلَا حُسْنًا فَهُوَ عَلَى الحَظْرِ قَبْلَ وُرُودِ الشَّرْعِ، وَذَهَبَ آخَرُونَ إِلَى أَنَّهُ عَلَى الإِبَاحَةِ» (9).
وَالشَّاطِبِيُّ يَقُولُ: «المَقْصَدُ الشَّرْعِيُّ مِنْ وَضْعِ الشَّرِيعَةِ إِخْرَاجُ المُكَلَّفِ مِنْ دَاعِيَةِ هَوَاهُ، حَتَّى يَكُونَ عَبْدًا للهِ اخْتِيَارًا، كَمَا هُوَ عَبْدٌ لِلَّهِ اضْطِرَارًا
… وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ، لَمْ يَصِحَّ لأَحَدٍ أَنْ يَدَّعِيَ عَلَى الشَّرِيعَةِ أَنَّهَا وُضِعَتْ عَلَى مُقْتَضَى تَشَهِّي الْعِبَادِ وَأَغْرَاضِهِمْ؛ إِذْ لَا تَخْلُو أَحْكَامُ الشَّرْعِ مِنَ الْخَمْسَةِ [إما الوجوب أو التحريم أو الندب أو الكراهة أو الإباحة].
أَمَّا الْوُجُوبُ وَالتَّحْرِيمُ، فَظَاهِرٌ مُصَادَمَتُهَا لِمُقْتَضَى الاسْتِرْسَالِ الدَّاخِلِ تَحْتَ الاخْتِيَارِ؛ إِذْ يُقَالُ لَهُ: «افْعَلْ كَذَا» كَانَ لَكَ فِيهِ غَرَضٌ أَمْ لَا، وَ «لَا تَفْعَلْ كَذَا». كَانَ لَكَ فِيهِ غَرَضٌ أَمْ لَا
… [وَأَمَّا سَائِرُ الأَقْسَامِ]- وَإِنْ كَانَ ظَاهِرُهَا الدُّخُولَ تَحْتَ [خِيَرَةِ] الْمُكَلَّفِ، فَإِنَّمَا دَخَلَتْ بِإِدْخَالِ الشَّارِعِ لَهَا تَحْتَ اخْتِيَارِهِ، فَهِيَ رَاجِعَةٌ إِلَى إِخْرَاجِهَا عَنِ اخْتِيَارِهِ، أَلَا تَرَى أَنَّ الْمُبَاحَ قَدْ يَكُونُ لَهُ فِيهِ اخْتِيَارٌ وَغَرَضٌ؟، وَقَدْ لَا يَكُونُ؟ [فَعَلَى تَقْدِيرِ أَنَّ لَيْسَ لَهُ فِيهِ اخْتِيَارٌ، بَلْ فِي رَفْعِهِ مَثَلاً، كَيْفَ يُقَالُ: إِنَّهُ دَاخِلٌ تَحْتَ اخْتِيَارِهِ؟] فَكَمْ مِنْ صَاحِبِ هَوًى يَوَدُّ لَوْ كَانَ الْمُبَاحُ الْفُلَانِيُّ مَمْنُوعًا، حَتَّى إِنَّهُ لَوْ وُكِّلَ إِلَيْهِ مَثَلاً تَشْرِيعُهُ لَحَرَّمَهُ، كَمَا يَطْرَأُ لِلْمُتَنَازِعَيْنِ فِي حَقٍّ فَسُبْحَانَ الَّذِي أَنْزَلَ فِي كِتَابِهِ: {وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ} (10).
--------------------------------------------
কারো কারো নিকট একটি সংশয় রয়েছে যে বৈধতা (إباحة) কি একটি শরয়ী বিধান (حكم شرعي)? অথচ উসুলুল ফিকহের শিক্ষার্থীরা তাদের ইমামগণের নিকট থেকে জানেন যে বৈধতা (إباحة) একটি শরয়ী বিধান (حكم شرعي)।
আল-আমেদী মুবাহ (مباح)-এর সংজ্ঞায় বলেন, এটি এমন বিষয় যার করার বা না করার ব্যাপারে কোনো বিনিময় ছাড়াই শারিয়াত দাতা কর্তৃক ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা (تخيير) প্রদান সংক্রান্ত সম্বোধন শ্রুতিগ্রাহ্য দলিলের (دليل سمعي) মাধ্যমে প্রমাণিত। (৭)।
ফখর আল-রাজি বলেন: বৈধতার (إباحة) দ্বিতীয় প্রকার তিনটি উপায়ে সাব্যস্ত হয়:
[১] শারিয়াত দাতা বলবেন: তোমরা চাইলে করো, আর চাইলে বর্জন করো।
[২] শরয়ি বর্ণনা বা সংবাদসমূহ (أخبار الشرع) একথার ওপর প্রমাণ পেশ করবে যে, করা বা না করার মধ্যে কোনো গুনাহ নেই।
[৩] শরয়ি বিধানে সে বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি, তবে এ বিষয়ে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যে বিষয়ে কোনো কাজ করার নির্দেশ বা বর্জনের নির্দেশ আসেনি, সেখানে মুকাল্লাফ (مكلف) বা দায়বদ্ধ ব্যক্তি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত নয়।
সুতরাং বৈধতা (إباحة) উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি ব্যতিরেকে অর্জিত হয় না এবং সবকটিতেই শরয়ি সম্বোধন তার ওপর প্রমাণ পেশ করে। ফলে বৈধতা (إباحة) শরয়ি বিধান হিসেবে গণ্য হয় (৮)।
ইমাম জুওয়াইনী বলেন: «মুবাহ (مباح) হলো তা, যার করার বা না করার ক্ষেত্রে শারিয়াত দাতা কোনো প্রকার তলব বা দাবি (اقتضاء) এবং ধমক বা নিষেধাজ্ঞা (زجر) ছাড়াই ইখতিয়ার প্রদান করেছেন। শরয়ি বিধান আসার পূর্বে বিবেকবানদের ওপর কোনো হুকুম বা বিধান (حكم) নেই; এই নীতির ভিত্তিতে যে, শরয়ি আহকামসমূহ (أحكام) সরাসরি শরয়ি বিধিনিষেধ। মুতাজিলাগণ এ বিষয়ে বিভক্ত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, যে বিষয়ে বিবেক মন্দ বা ভালো হওয়া নির্ধারণ করতে পারে না, তা শরয়ি বিধান আসার পূর্বে নিষিদ্ধ (حظر) থাকে। অন্যরা মনে করেন যে তা বৈধতা (إباحة)-এর অন্তর্ভুক্ত» (৯)।
শাতibi বলেন: «শরিয়ত প্রবর্তনের শরয়ি উদ্দেশ্য (مقصد شرعي) হলো মুকাল্লাফ (مكلف)-কে তার প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বের করে আনা, যাতে সে স্বেচ্ছায় আল্লাহর বান্দা হয়ে যায়, যেভাবে সে স্বভাবগতভাবে আল্লাহর বান্দা … আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে শরিয়তের ব্যাপারে কারো এ দাবি করা সঠিক নয় যে, এটি বান্দার খেয়াল-খুশি ও স্বার্থ অনুযায়ী প্রবর্তিত হয়েছে। কেননা শরিয়তের বিধানসমূহ পঞ্চ-বিধানের [হয়ত ওয়াজিব (وجوب), অথবা হারাম (تحريم), অথবা মানদুব (ندب), অথবা মাকরুহ (كراهة), অথবা মুবাহ (إباحة)] বাইরে নয়।
ওয়াজিব (وجوب) ও হারাম (تحريم) এর বিষয়টি তো সুস্পষ্ট যে, তা মানুষের প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে স্বাধীনভাবে চলার পরিপন্থী; কারণ তাকে বলা হয়: 'এটি করো', চাই তাতে তোমার কোনো উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক, এবং 'এটি করো না', চাই তাতে তোমার উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক … [আর অন্যান্য বিভাগসমূহ]—যদিও বাহ্যিকভাবে মুকাল্লাফ (مكلف)-এর পছন্দের অধীনে মনে হয়, কিন্তু তা শারিয়াত দাতা কর্তৃক তার ইখতিয়ারভুক্ত করার কারণেই হয়েছে। ফলে তা তার নিজ পছন্দের গণ্ডি থেকে বের করে আনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আপনি কি দেখছেন না যে, মুবাহ (مباح) বিষয়ে কখনো তার পছন্দ বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, আবার কখনো নাও থাকতে পারে? [ধরে নেওয়া হলো যে তার কোনো পছন্দ নেই, বরং তা বিলোপ করার মধ্যেই রয়েছে, তবে কীভাবে বলা হয় যে এটি তার পছন্দের অন্তর্ভুক্ত?] প্রবৃত্তির অনুসারী অনেক ব্যক্তিই কামনা করে যদি অমুক মুবাহ (مباح) বিষয়টি নিষিদ্ধ হতো, এমনকি তাকে যদি আইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো তবে সে তা হারাম করত, যেমনটি কোনো অধিকার নিয়ে বিবাদকারীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন: {সত্য যদি তাদের কামনার অনুগামী হত, তবে আসমানসমূহ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত} (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فإذن، إِبَاحَةُ الْمُبَاحِ مَثَلاً لَا تُوجِبُ دُخُولَهُ بِإِطْلَاقٍ تَحْتَ اخْتِيَارِ المُكَلَّفِ، إِلَاّ مِنْ حَيْثُ كَانَ قَضَاءً مِنَ الشَّارِعِ، وَإِذْ ذَاكَ يَكُونُ اخْتِيَارُهُ تَابِعًا لِوَضْعِ الشَّارِعِ، وَغَرَضُهُ مَأْخُوذًا مِنْ تَحْتِ الإِذْنِ الشَّرْعِيِّ» (11).
فالإباحة على ما سبق حكم شرعي، نقل الآمدي اتفاق المسلمين على ذلك وَبَيَّنَ أنه لم يخالف في ذلك إلَاّ بعض المعتزلة (12).
وموضوعنا أخص من ذلك الحكم العام، موضوعنا: هَلْ فِعْلُ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَوْلُهُ أَوْ تَقْرِيرُهُ لِفِعْلٍ مِنَ الأَفْعَالِ يُعْطَى حُكْمًا شَرْعِيًّا؟ أقل ما يقال عنه: إنه رفع الحرج عن فعله؟ أو لا يعطى هذا الحكم؟.
«أَكَلَ صلى الله عليه وسلم القِثَّاءَ بِالرُّطَبِ» (13)، هل يفيد هذا إباحة أكل القثاء بالرطب أو لا يفيد؟ هل يفيد هذا جواز الجمع بين لونين من الطعام أو لا يجيز؟ لو سألنا المخالف: ما الحكم الشرعى لأكل القثاء بالرطب؟ هل هو حلال جائز؟ أو حرام ممنوع؟ ماذا يقول؟ لا مناص له من أنْ يقول: حلال جائز، فإذا قلنا له: ما دليلك؟ قال: فعله النبى صلى الله عليه وسلم.
واذا سألنا المُخَالِفَ: ما الذي يدل عليه فعل الرسول صلى الله عليه وسلم لفعل من الأفعال؟ لا مناص له من أَنْ يقول: يدل على مطلق الإذن الذي يشمل الوجوب والندب والإباحة ما لم يوجد دليل على تعيين واحد منها. إلى هذا ذهب جمهور الأُصُولِيِّينَ، وقال بعضهم: يفيد الوجوب إلَاّ إذا وجدت قرينة مانعة من الوجوب، وقال بعضهم: يفيد الاستحباب إلَاّ إذا وجدت قرينة مُعَيَّنَةٌ لغيره.
قال إمام الحرمين: «الأَفْعَالُ الجِبِلِيَّةُ التِي لَا يَخْلُو ذُو الرُّوحِ عَنْ جَمِيعِهَا كَالسُّكُونِ وَالحَرَكَةِ وَالقِيَامِ وَالقُعُودِ وَمَا ضَاهَاهَا مِنْ تَغَايُرِ أَطْوَارِ النَّاسِ لَا اسْتِمْسَاكَ بِهَا مِنْ فِعْلِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم (أَيْ لَا اِلْتِزَامَ بِالاِقْتِدَاءِ بِهَا وُجُوبًا أَوْ اِسْتِحْبَابًا) أَمَّا مَا عَدَاهَا مِمَّا يَقَعُ فِي سِيَاقِ القُرْبِ فَقَدْ ذَهَبَتْ طَوَائِفٌ مِنَ المُعْتَزِلَةِ إِلَى أَنَّ فِعْلَهُ صلى الله عليه وسلم مَحْمُولٌ عَلَى الوُجُوبِ وَيَتَعَيَّنُ اتِّبَاعَهُ فِيهِ،
… وَذَهَبَ ذَاهِبُونَ إِلَى أَنَّ فِعْلَهُ لَا يَدُلُّ عَلَى الوُجُوبِ، وَلَكِنَّهُ مَحْمُولٌ عَلَى الاِسْتِحْبَابِ، وَفِي كَلَامِ الشَّافِعِىِّ مَا يَدُلُّ عَلَىَ ذَلِكَ، وَذَهَبَ [الوَاقِفِيَّةُ] إِلَىَ الوَقْفِ».
ثم قال: «فَمَنْ ادَّعَى أَنَّ الفِعْلَ بِعَيْنِهِ يَقْتَضِيَ الاِسْتِحْبَابَ فَهُوَ زَلَلٌ، [فَإِنَّ الفِعْلَ لَا صِيْغَةَ لَهُ] وَمَنْ ادَّعَى أَنَّهُ لَا يَتَأَسََّى بِفِعْلِ المُصْطَفَىَ صلى الله عليه وسلم فِيمَا ثَبَتَ قَصَدَ القُرْبَ فِيهِ فَقَدْ أَبْعَدَ [أَيْضًا]».
ثُمَّ قَالَ: «وَأَمَّا فِعْلَهُ المُرْسَلَ، الذِي لَا يَظْهَرُ وُقُوعَهُ مِنْهُ عَلَىَ قَصْدِ [القُرْبَةِ] (وَهُوَ
--------------------------------------------
সুতরাং, উদাহরণস্বরূপ মুবাহ বা বৈধতার (إباحة) বিধান একে নিরঙ্কুশভাবে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ইচ্ছার অধীনে ন্যস্ত করে না; বরং এটি কেবল শারী’ (বিধানদাতা)-এর পক্ষ থেকে একটি ফয়সালা হওয়ার কারণেই মুবাহ। এমতাবস্থায় তার ইচ্ছাধিকার শারী’-এর প্রবর্তিত বিধানের অনুগামী হবে এবং তার উদ্দেশ্যটি শরয়ী অনুমতির গণ্ডি থেকেই গৃহীত হবে। (১১)।
পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী ইবাহাহ বা বৈধতা (إباحة) একটি শরয়ী হুকুম। আল-আমিদী এই বিষয়ে মুসলিমদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল কতিপয় মুতাযিলা ব্যতীত আর কেউ এতে দ্বিমত পোষণ করেনি (১২)।
আমাদের আলোচ্য বিষয়টি সেই সাধারণ হুকুমের চেয়েও বিশিষ্ট। আমাদের আলোচনার বিষয় হলো: নবী (সা.)-এর কোনো কাজ, কথা কিংবা কোনো কাজের প্রতি তাঁর মৌন সম্মতি (تقرير) কি কোনো শরয়ী হুকুম প্রদান করে? কমপক্ষে এর ব্যাপারে কি এটুকু বলা যায় যে, তা উক্ত কাজটি করার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা দূর করে দিয়েছে? নাকি এটি এমন কোনো হুকুম প্রদান করে না?
"নবী (সা.) তাজা খেজুরের সাথে শসা খেয়েছেন" (১৩)। এটি কি খেজুরের সাথে শসা খাওয়ার বৈধতা (إباحة) বুঝায়, নাকি বুঝায় না? এটি কি দুই ধরনের খাবার একত্রে গ্রহণ করার বৈধতা বুঝায়, নাকি দেয় না? আমরা যদি বিরোধিতাকারীকে প্রশ্ন করি: তাজা খেজুরের সাথে শসা খাওয়ার শরয়ী হুকুম কী? এটি কি হালাল ও বৈধ, নাকি হারাম ও নিষিদ্ধ? সে কী বলবে? তাকে অবশ্যই বলতে হবে: এটি হালাল ও বৈধ। আমরা যদি তাকে বলি: আপনার দলিল কী? সে বলবে: নবী (সা.) এটি করেছেন।
আর আমরা যদি বিরোধিতাকারীকে প্রশ্ন করি: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো কাজ কিসের ওপর প্রমাণ পেশ করে? তবে তাকে অবশ্যই বলতে হবে: এটি নিরঙ্কুশ অনুমতির ওপর প্রমাণ পেশ করে, যা ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب), মানদুব বা পছন্দনীয়তা (ندب) এবং ইবাহাহ বা বৈধতাকে (إباحة) অন্তর্ভুক্ত করে—যতক্ষণ না এর কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার জন্য অন্য কোনো দলিল পাওয়া যায়। অধিকাংশ উসুলবিদ (أصوليين) এই মত গ্রহণ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب) বুঝায়, যদি না ওয়াজিব হওয়ার পথে কোনো বাধা প্রদানকারী অনুষঙ্গ পাওয়া যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি ইসতিহবাব বা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া বুঝায়, যদি না অন্য কিছু নির্দিষ্ট করার মতো কোনো অনুষঙ্গ থাকে।
ইমামুল হারামাইন বলেন: "মানবীয় সহজাত কার্যাবলি (الأفعال الجبلية), যা থেকে কোনো প্রাণধারী ব্যক্তিই মুক্ত নয়—যেমন স্থির থাকা, নড়াচড়া করা, দাঁড়ানো, বসা এবং মানুষের অবস্থার পরিবর্তনশীলতার অনুরূপ বিষয়সমূহ—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই সকল কাজ থেকে কোনো বিধান গ্রহণের আবশ্যকতা নেই (অর্থাৎ ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে এগুলোর অনুসরণ অপরিহার্য নয়)। তবে এই সকল কাজ ব্যতীত যা ইবাদত বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়, সে বিষয়ে মুতাযিলাদের একদল মনে করে যে, নবী (সা.)-এর সেই কাজ ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب) হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা অবধারিত।
… আবার অনেকে মনে করেন যে, তাঁর কাজ ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب) বুঝায় না, বরং তা ইসতিহবাব বা মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে গণ্য হবে; ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যেও এর স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। আর ওয়াকিফিয়্যাহ সম্প্রদায় এক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে নীরব থাকার (وقف) মত পোষণ করেছেন।"
অতপর তিনি বলেন: "সুতরাং কেউ যদি দাবি করে যে, কোনো কাজ তার সত্তাগত কারণেই ইসতিহবাব বা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দাবি রাখে, তবে তা একটি বিচ্যুতি; কেননা কাজের কোনো শব্দগত রূপ বা সিগাহ নেই। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, ইবাদতের নিয়তে কৃত বলে প্রমাণিত কার্যাবলিতে নবী মুস্তফা (সা.)-এর অনুসরণ করা হবে না, সেও সত্য থেকে দূরে সরে গেছে।"
অতপর তিনি বলেন: "আর তাঁর সেই সাধারণ কাজ (مرسل), যা তাঁর পক্ষ থেকে ইবাদত বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না (এবং তা...)"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
مَوْضُوعُ بَحْثِنَا) فَقَدْ ذَهَبَ طَوَائِفٌ مِنْ حَشْوِيَّةِ الفُقَهَاءِ إِلَى أَنَّهُ مَحْمُولٌ عَلَى الوُجُوبِ، عُزِيَ ذَلِكَ إِلَى ابْنِ سُرَيْجٍ
… أَمَّا الوَاقِفِيَّةُ فَيُطْرَدُونَ [مَذَاهِبَهُمْ] فِي الوَقْفِ [فِي هَذِهِ الصُّوَرَةِ أَظْهَرُ]، وَأَمَّا أَصْحَابُ النَّدْبِ فَقَدْ يَصِيرُونَ إِلَيْهِ، وَهُوَ رَدِيءٌ مُزَيَّفٌ».
ثم قال: «فَالمُخْتَارُ إِذَنْ أَنَّ فِعْلَهُ صلى الله عليه وسلم لَا يَدُلُّ بِعَيْنِهِ، وَلَكِنْ يُثَبِتُ عِنْدَنَا وُجُوبَ حَمْلِهِ عَلَى نَفْيِ الحَرَجِ فِيهِ عَنْ الأُمَّةِ، وَمُسْتَنَدُ هَذَا الاخْتِيَارِ إِلَى عِلْمِنَا أَنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ اخْتَلَفُوا فِي حَظْرٍ أَوْ إِبَاحَةٍ فَنَقَلَ النَّاقِلِ فِي مَوْضِعِ اخْتِلَافِهِمْ فِعْلاً عَنْ المُصْطَفَىَ صلى الله عليه وسلم لَفَهِمُوا مِنْهُ أَنَّهُ لَا حَرَجَ عَلَىَ الأُمَّةِ فِي فِعْلِهِ. وُجَاحِدُ هَذَا جَاهِلٌ بِمَسَالِكِ النَّقْلِ فَضْلاً عَنْ المَعْنَى وَاللَّفْظِ» (14) ثم قال: «وَالذِي ذَهَبَ إِلَيْهِ جَمَاهِيرُ الأُصُولِيِّينَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَىَ مُكَلَّفًا يَفْعَلُ فِعْلاً، أَوْ يَقُولُ قَوْلاً، فَقَرَّرَهُ عَلَيْهِ، وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَيْهِ كَانَ ذَلِكَ شَرْعًا مِنْهُ فِي رَفْعِ الحَرَجِ فِيمَا رَآهُ» (15) وقال الشاطبى: «جُمْهُورُ الأُصُولِيِّينَ يَرَوْنَ أَنَّ الفِعْلَ مِنَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم يَدُلُّ عَلَىَ مُطْلَقِ الإِذْنِ الذِي يَشْمَلُ الوُجُوبَ وَالنَّدْبَ وَالإِبَاحَةَ، مَا لَمْ يُوجَدْ دَلِيلٌ عَلَىَ تَعْيِينِ وَاحِدٍ مِنْهَا، وَكَوْنُ الفِعْلِ صَادِرًا عَنْ الرَّسُولِ عليه الصلاة والسلام بِوَصْفِهِ بَشَرًا كَالأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالنَّوْمِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الأُمُورِ الجِبِلِيَّةِ قَرِينَةً عَلَىَ أَنَّ الفِعْلَ يُفِيدُ الإِبَاحَةَ، لَا الوُجُوبَ وَلَا النَّدْبَ» (16).
هذه النصوص سُقْنَاهَا لِنُحَدِّدَ المُرَادَ من قضيتنا [السُنَّةُ كُلُّهُا تَشْرِيعٌ] وَقَدْ بَيَنَّا أَنَّ المُرَادَ من السُنَّةِ أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته، وَأَنَّ المُرَادَ من التشريع إثبات حُكْمٍ شَرْعِيٍّ، ولو الإباحة، فأصبح المدلول: أقوال النبى صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته كلها تثبت حُكْمًا شَرْعِيًّا.
يؤكد هذا المعنى الإمام ابن تيمية - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى - فيقول: «فَكُلُّ مَا قَالَهُ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ النُّبُوَّةِ، وَأَقَرَّ عَلَيْهِ، وَلَمْ يُنْسَخْ فَهُوَ تَشْرِيعٌ، لَكِنَّ التَّشْرِيعَ يَتَضَمَّنُ الإِيجَابَ وَالتَّحْرِيمَ وَالإِبَاحَةَ، وَيَدْخُلُ فِي ذَلِكَ مَا دَلَّ عَلَيْهِ مِنْ المَنَافِعِ فِي الطِّبِّ. فَإِنَّهُ يَتَضَمَّنُ إبَاحَةَ [ذَلِكَ] الدَّوَاءِ وَالانْتِفَاعَ بِهِ فَهُوَ شَرْعٌ لإِبَاحَتِهِ، وَقَدْ يَكُونُ شَرْعًا لاسْتِحْبَابِهِ
… وَالمَقْصُودُ: أَنَّ جَمِيعَ أَقْوَالِهِ يُسْتَفَادُ مِنْهَا شَرْعٌ» (17).
وَيُصَرِّحُ بهذه القضية بوضوح عُمْدَةُ المُحَقِّقِينَ الأُصُولِيِّينَ الأستاذ الدكتور عبد الغني عبد الخالق (18) إذ يقول - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -: «فَكُلُّ مَا تَلَفَّظَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا عَدَا القُرْآنِ - أَوْ ظَهَرَ مِنْهُ، مِنْ ابْتِدَاءِ رِسَالَتِهِ إِلَى نِهَايَةِ حَيَاتِهِ، فَهُوَ مِنْ سُنَّتِهِ، سَوَاءٌ أَثَبَتَ حُكْمًا
--------------------------------------------
(আমাদের আলোচনার বিষয়) ফুকাহাদের হাশউইয়্যাহর (حشوية) একটি দল মনে করেন যে, এটি ওয়াজিব (وجوب) হিসেবে গণ্য হবে; এই মতটি ইবনে সুরাইজের দিকে নিসবত করা হয়... পক্ষান্তরে ওয়াকিফিয়্যাহ (الواقفية) পন্থীরা তাদের স্থগিতকরণের (وقف) মাযহাব অনুযায়ী এ ক্ষেত্রেও স্থগিতকরণের নীতি গ্রহণ করেন [এই সূরতে এটিই অধিক স্পষ্ট]। আর যারা মুস্তাহাব (ندব) হওয়ার প্রবক্তা, তারা হয়তো সেই দিকেই ধাবিত হন; তবে তা নিকৃষ্ট ও অসার।
অতঃপর তিনি বলেন: «সুতরাং পছন্দনীয় মত হলো—তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্ম স্বয়ং নির্দিষ্ট কোনো বিধান নির্দেশ করে না। তবে আমাদের নিকট এটি সাব্যস্ত হয় যে, উম্মতের ওপর থেকে কাঠিন্য দূর করার অর্থে একে গ্রহণ করা ওয়াজিব (وجوب)। এই পছন্দের ভিত্তি হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যদি কোনো বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা (حظر) অথবা বৈধতা (إباحة) নিয়ে মতভেদ করতেন এবং তাদের মতভেদের স্থলে যদি কোনো বর্ণনাকারী মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো আমল বর্ণনা করতেন, তবে তারা তা থেকে এটাই বুঝতেন যে, এই কাজটি করার ক্ষেত্রে উম্মতের জন্য কোনো সংকীর্ণতা নেই। যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে, সে অর্থের নিগূঢ়তা ও শব্দের প্রয়োগ তো দূরের কথা, বর্ণনার পথ (مسالك النقل) সম্পর্কেও মূর্খ» (১৪)। অতঃপর তিনি বলেন: «অধিকাংশ উসুলবিদ যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো মুকাল্লাফকে (مكلف) কোনো কাজ করতে বা কোনো কথা বলতে দেখতেন এবং তিনি তার ওপর মৌনসম্মতি (تقرير) প্রদান করতেন এবং তা অস্বীকার করতেন না, তবে তাঁর এই অবস্থানটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংকীর্ণতা দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে প্রবর্তিত শরিয়ত (شرع) হিসেবে গণ্য হতো» (১৫)। আল-শাতিবি বলেন: «অধিকাংশ উসুলবিদের অভিমত হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সম্পাদিত কোনো কর্ম নিরঙ্কুশ অনুমতির (إذن) ওপর প্রমাণ (دلالة) পেশ করে, যা ওয়াজিব (وجوب), মুস্তাহাব (ندب) এবং মুবাহ (إباحة) সবটুকুই শামিল করে—যতক্ষণ না এর কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মানুষ হিসেবে সম্পাদিত কাজসমূহ—যেমন পানাহার, নিদ্রা এবং অন্যান্য স্বভাবজাত বিষয়সমূহ (الأمور الجبلية)—এই আলামত (قرينة) বহন করে যে, সেই কাজটি বৈধতা (إباحة) প্রকাশ করে, ওয়াজিব (وجوب) বা মুস্তাহাব (ندب) নয়» (১৬)।
আমাদের আলোচ্য বিষয় [সুন্নাহর পুরোটাই শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع)] এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য আমরা এই পাঠগুলো উপস্থাপন করেছি। আমরা ইতোমধ্যেই বর্ণনা করেছি যে, সুন্নাহর উদ্দেশ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিসমূহ (تقريرات); আর শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একটি শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) সাব্যস্ত করা, এমনকি তা বৈধতা (إباحة) হলেও। ফলে এর অর্থ দাঁড়ালো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিসমূহ (تقريرات)—সবই একটি শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) সাব্যস্ত করে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই অর্থটিকে জোরালো করে বলেন: «নবুয়ত প্রাপ্তির পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু বলেছেন এবং যার ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করেছেন এবং যা রহিত (منسوخ) হয়নি, তা-ই শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع)। তবে এই শরিয়ত প্রণয়নের অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াজিব (إيجاب), হারাম (تحريم) এবং মুবাহ (إباحة) করা। এমনকি চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিনি যেসব উপকারের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি সেই ওষুধের বৈধতা (إباحة) এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এর বৈধতার কারণে এটি শরিয়ত; আবার কখনো এটি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার কারণেও শরিয়ত হতে পারে... মূল উদ্দেশ্য হলো: তাঁর সকল কথা থেকেই শরিয়ত (شرع) আহরিত হয়» (১৭)।
উসুলশাস্ত্রবিদ মুহাক্কিকগণের (محققين) প্রধান অবলম্বন উস্তাদ ডক্টর আব্দুল গনি আব্দুল খালিক (১৮) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু উচ্চারণ করেছেন—কুরআন ব্যতীত—অথবা তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রিসালাতের শুরু থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত, তার সবই তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, চাই তা কোনো বিধান সাব্যস্ত করুক...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
عَامًّا لِسَائِرِ أَفْرَادِ الأُمَّةِ - وَهَذَا هُوَ الأَصْلُ - أَمْ أَثْبَتَ حُكْمًا خَاصًّا بِهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ خَاصًّا بِبَعْضِ أَصْحَابِهِ رضي الله عنهم وَسَوَاءٌ أَكَانَ فِعْلُهُ صلى الله عليه وسلم جِبِلَّيًّا أَمْ كَانَ غَيْرَ جِبِلِّيٍّ، فَمَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ فِعْلٍ يَصْدُرُ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم إِلَاّ وَيُثَبِِتُ حُكْمًا شَرْعِيًّا، يَجِبُ اعْتِقَادُ ثُبُوتِهِ، بِقَطْعِ النَّظَرِ عَنْ كَوْنِهِ إِيجَابًا أَوْ نَدْبًا أَوْ تَحْرِيمًا أَوْ كَرَاهَةً أَوْ إِبَاحَةً، وَبِقَطْعِ النَّظَرِ أَيْضًا عَنْ كَوْنِهِ عَامًّا لِجَمِيعِ الأُمَّةِ، أَوْ خَاصًّا بِالبَعْضِ، كَائِنًا مَنْ كَانَ ذَلِكَ البَعْضُ، وَبِقَطْعِ النَّظَرِ كَذَلِكَ عَنْ كَوْنِهِ مُتَعَلِّقًا بِفِعْلٍ طَبِيعِيٍّ جِبِلِّيٍّ أَوْ بِغَيْرِهِ مِنْ سَائِرِ الأَفْعَالِ الاخْتِيَارِيَّةِ المُخْتَلِفَةِ» (19).
هذه القضية [السُنَّةُ كُلُّهُا تَشْرِيعٌ]، لم يخالف فيها أحد من علماء المسلمين في أربعة عشر قرنًا مضت، ولم نسمع ولم نعلم أَنَّ وَاحِدًا من علماء المسلمين قَسَّمَ السُنَّةَ أي الحديث، إلى تشريع وإلى غير تشريع، حتى كان النصف الثاني من القرن الخامس عشر الهجري، فكان أول من قَسَّمَ السُنَّةَ إلى تشريع وإلى غير تشريع فضيلة المرحوم الشيخ محمود شلتوت في كتابه: " الإسلام عقيدة وشريعة ".
ويقول الدكتور يوسف القرضاوى: «وَعَنْ الشَّيْخِ شَلْتُوتْ أَخَذَ الكَثِيرُ مِنْ المُعَاصِرِينَ فِيمَا كَتَبُوهُ عَنْ السُّنَّةِ وَتَقْسِيمِهَا إِلَىَ تَشْرِيعِيَّةٍ وَغَيْرِ تَشْرِيعِيَّةٍ» (20).
والتحقيق أنَّ الذين ساروا في ركاب الشيخ شلتوت ليسوا كثيرين، فهم حتى اليوم لا يتجاوزون أصابع اليد الواحدة، وسنعرض آرَاءَهُمْ وَشُبَهَهُمْ، ثم نناقشها مناقشة موضوعية علمية إِنْ شاء اللهُ.
ماذا يقول فضيلة الشيخ محمود شلتوت؟
يَقُولُ: «مَا وَرَدَ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم وَدُوِّنَ فِي كُتُبِ الحَدِيثِ مِنْ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ وَتَقْرِيرَاتِهِ عَلَى أَقْسَامٍ:
- أَحَدُهَا: مَا سَبِيِلُهُ سَبِيِلُ الحَاجَةِ البَشَرِيَّةِ كَالأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالنَّوْمِ وَالمَشْيِ وَالتَّزَاوُرِ وَالمُصَالَحَةِ بَيْنَ شَخْصَيْنِ بِالطُّرُقِ العُرْفِيَّةِ وَالشَّفَاعَةِ وَالمُسَاوَمَةِ فِي البَيْعِ وَالشِّرَاءِ.
- ثَانِيهَا: مَا سَبِيِلُهُ سَبِيِلُ التَّجَارِبِ وَالعَادَةِ الشَّخْصِيَّةِ أَوْ الاجْتِمَاعِيَّةِ، كَالذِي وَرَدَ فِي شُؤُونِ الزِّرَاعَةِ وَالطَبِّ وَطُولِ اللِّبَاسِ وَقَِصَرِهِ.
- ثَالِثُهَا: مَا سَبِيِلُهُ التَّدْبِيرُ الإِنْسَانِيُّ أَخْذًا مِنَ الظُّرُوفِ الخَاصَّةِ، كَتَوْزِيعِ الجُيُوشِ عَلَى
--------------------------------------------
উম্মতের সকল ব্যক্তির জন্য সাধারণ (عام) — এবং এটিই মূল নীতি (الأصل) — নাকি এটি তাঁর (সা.) জন্য নির্দিষ্ট (خاص) কোনো বিধান সাব্যস্ত করেছে, অথবা তাঁর কোনো সাহাবীর (রা.) জন্য নির্দিষ্ট; এবং তাঁর (সা.) এই কর্ম স্বভাবজাত (جبلي) হোক কিংবা স্বভাবজাত নয় (غير جبلي) এমন হোক; রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রকাশিত প্রতিটি কথা বা কাজ একটি শরয়ী বিধান (حكماً شرعياً) সাব্যস্ত করে, যার সত্যতার ওপর বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব, তা আবশ্যক (إيجاب), পছন্দনীয় (ندب), হারাম (تحريم), অপছন্দনীয় (كراهة) বা বৈধ (إباحة) যাই হোক না কেন। এবং তা সমগ্র উম্মতের জন্য সাধারণ (عام) হোক বা বিশেষ কারো জন্য নির্দিষ্ট (خاص) হোক, চাই তিনি যে কেউই হোন না কেন। একইভাবে তা প্রাকৃতিক স্বভাবজাত (جبلي) কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক অথবা অন্যান্য বিভিন্ন ইচ্ছাধীন কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক — তাতে কোনো পার্থক্য নেই (১৯)।
এই বিষয়টি [পুরো সুন্নাহই বিধান বা শরীয়ত প্রবর্তন (تشريع)], বিগত চৌদ্দ শতাব্দীতে মুসলিম আলেমদের মধ্যে কেউ এর বিরোধিতা করেননি। আমরা শুনিনি বা জানি না যে, কোনো মুসলিম আলেম সুন্নাহ অর্থাৎ হাদিসকে বিধান (تشريع) এবং বিধান নয় (غير تشريع) এমন ভাগে বিভক্ত করেছেন, যতক্ষণ না হিজরি পঞ্চদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ উপস্থিত হয়েছে। সর্বপ্রথম সুন্নাহকে বিধান (تشريع) এবং বিধান নয় (غير تشريع) এমন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন মরহুম শায়খ মাহমুদ শালতুত তাঁর ‘আল-ইসলাম আকিদাহ ওয়া শারিয়াহ’ গ্রন্থে।
ড. ইউসুফ আল-কারজাভি বলেন: «শায়খ শালতুতের কাছ থেকে অনেক সমসাময়িক লেখক সুন্নাহ সম্পর্কে লেখার সময় এটি গ্রহণ করেছেন এবং সুন্নাহকে বিধানগত (تشريعية) ও অ-বিধানগত (غير تشريعية) ভাগে বিভক্ত করেছেন» (২০)।
প্রকৃত অনুসন্ধান হলো, যারা শায়খ শালতুতের পথ অনুসরণ করেছেন তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়; আজ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা হাতের আঙুলে গণনা করা যায়। আমরা ইনশাআল্লাহ তাদের মতামত ও সংশয়গুলো তুলে ধরব এবং এরপর সেগুলো নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা করব।
শায়খ মাহমুদ শালতুত কী বলেন?
তিনি বলেন: «নবী (সা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং হাদিসের কিতাবসমূহে তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে, তা কয়েক ভাগে বিভক্ত:
- এক: যা মানবিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত (الحاجة البشرية), যেমন: পানাহার, নিদ্রা, হাঁটাচলা, লোকজনের সাথে সাক্ষাৎ করা, প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করা, সুপারিশ করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ে দরদাম করা।
- দুই: যা অভিজ্ঞতা (التجارب) এবং ব্যক্তিগত বা সামাজিক অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: কৃষি কাজ, চিকিৎসা এবং পোশাকের দৈর্ঘ্য বা ক্ষুদ্রতা বিষয়ক বর্ণনা।
- তিন: যা বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে মানবীয় ব্যবস্থাপনা হিসেবে গণ্য, যেমন: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য বিন্যাস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
المَوَاقِعِ الحَرْبِيَّةِ، وَتَنْظِيمِ الصُّفُوفِ فِي المَوْقَِعَةِ الوَاحِدَةِ، وَالكُمُونِ وَالفَرِّ، وَاخْتِيَارِ أَمَاكِنَ النُّزُولِ، وَمَا إِلَى ذَلِكَ مِمَّا يَعْتَمِدُ عَلَى وَحْيٍ الظُّرُوفِ وَالدُّرْبَةِ الخَاصَّةِ.
وَكُلُّ مَا نُقِلَ مِنْ هَذِهِ الأَنْوَاعِ الثَّلَاثَةِ لَيْسَ شَرْعًا يَتَعَلَّقُ بِهِ طَلَبُ الفِعْلِ وَالتَّرْكِ، وَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشُّؤُونِ البَشَرِيَّةِ التِي لَيْسَ مَسْلَكَ الرَّسُولِ فِيهَا تَشْرِيعًا وَلَا مَصْدَرٌ تَشْرِيعِ» (21).
ثم يقول:
«وَمِنْ هُنَا نَجِدُ أَنَّ كَثِيرًا مِمَّا نُقِلَ عَنْهُ صُوِّرَ بِأَنَّهُ شَرْعٌ أَوْ دِينٌ أَوْ سُنَّةٌ أَوْ مَنْدُوبٌ، وَهُوَ لَمْ يَكُنْ فِي الحَقِيقَةِ صَادِرًا عَلَى وَجْه التَشْرِيعِ أَصْلاً، وَقَدْ كَثُرَ ذَلِكَ فِي الأَفْعَالِ الصَّادِرَةِ عَنْهُ بِصِفَتِهِ البَشَرِيَّةِ، أَوْ بِصِفَةِ العَادَةِ وَالتَّجَارِبِ» (22).
فالشيخ شلتوت ينفي التشريع بأحكامه الأربعة [الوجوب والندب والحرمة والكراهة] عن جميع أقواله وأفعاله وتقريراته صلى الله عليه وسلم الواردة في هذه الأمور الثلاثة، إذ يقول: «وَكُلُّ مَا نُقِلَ مِنْ هَذِهِ الأَنْوَاعِ الثَّلَاثَةِ لَيْسَ شَرْعًا يَتَعَلَّقُ بِهِ طَلَبُ الفِعْلِ وَالتَّرْكِ».
وينفي تشريع حكم الإباحة في هذه الأمور الثلاثة، إذ يقول: «وَإِنَّمَا هُوَ - أَيْ مَا نُقِلَ - مِنَ الشُّؤُونِ البَشَرِيَّةِ التِي لَيْسَ مَسْلَكَ الرَّسُولِ فِيهَا تَشْرِيعًا وَلَا مَصْدَرَ تَشْرِيعٍ».
وأبرز ما في هذه الأمور الثلاثة، وأكثرها وُرُودًا ما سبيله سبيل الحاجة البشرية وأبرز هذا النوع ما يتعلق بالأكل والشرب، وَلِهَذَا سَنَكْتَفِي بِالرَدِّ عَلَيْهِ بِشَأْنِهِمَا.
يقول الله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ} (23).
وَيَقُولُ صلى الله عليه وسلم لِعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ: «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَكُُلْ»، قََالَ عَدِيٌّ: «فَإِنْ أَكَلَ؟» قََالَ: «فَلَا تَأْكُلْ، فَإِنَّهُ لَمْ يُمْسِكْ عَلَيْكَ، إِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ». قََالَ عَدِيٌّ: «أُرْسِلُ كَلْبِي فَأَجِدُ مَعَهُ كَلْبًا آخَرَ؟». قَالَ: «لَا تَأْكُلْ، فَإِنَّكَ إِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تُسَمِّ عَلَى آخَرَ» (24).
فهل قول الرسول صلى الله عليه وسلم هَذَا لَيْسَ تَشْرِيعًا؟ وَلَيْسَ بَيَانًا للناس ما أنزل إليهم؟ وَلَيْسَ تَحْرِيمًا وَلَا تَحْلِيلاً؟ ويقول الله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ} (25). ويقول صلى الله عليه وسلم عن البحر: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الحِلُّ مَيْتَتُهُ» (26) فمن الذي أَحَلَّ السَّمَكَ المَيِّتَ؟ أليس رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
--------------------------------------------
যুদ্ধের অবস্থানসমূহ, একক যুদ্ধের ক্ষেত্রে সারিবদ্ধভাবে সৈন্য পরিচালনা করা, অতর্কিত আক্রমণ ও পলায়ন কৌশল, অবতরণস্থল নির্বাচন এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ যা উপস্থিত পরিস্থিতির দাবি এবং বিশেষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল।
“আর এই তিন প্রকার থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা শরিয়ত (تشريع) নয় যার সাথে কোনো কাজ করা বা বর্জনের দাবি জড়িত থাকে। বরং এটি মানবিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যাতে রাসুলের কর্মপদ্ধতি কোনো বিধান প্রণয়ন (تشريع) নয় এবং বিধানের উৎসও (مصدر تشريع) নয়” (২১)।
এরপর তিনি বলেন:
“এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর থেকে বর্ণিত অনেক বিষয়কেই শরিয়ত (تشريع), দ্বীন, সুন্নাহ (سنة) অথবা পছন্দনীয় (مندوب) হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে তা আদতেই বিধান প্রণয়ন হিসেবে প্রকাশ পায়নি। তাঁর মানবীয় সত্তা হিসেবে কিংবা অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে সম্পাদিত কাজগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি প্রচুর ঘটেছে” (২২)।
সুতরাং শায়খ শালতুত এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতি (تقريرات) থেকে এর চারটি বিধানের [আবশ্যকতা (وجوب), পছন্দনীয়তা (ندب), নিষিদ্ধতা (حرمة) এবং অপছন্দনীয়তা (كراهة)] মাধ্যমে বিধান প্রণয়নকে অস্বীকার করেছেন। কেননা তিনি বলেন: “আর এই তিন প্রকার থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা শরিয়ত (تشريع) নয় যার সাথে কোনো কাজ করা বা বর্জনের দাবি জড়িত থাকে।”
এবং তিনি এই তিনটি বিষয়ে বৈধতার (إباحة) বিধান প্রণয়নকেও অস্বীকার করেছেন। কারণ তিনি বলেন: “বরং তা—অর্থাৎ যা কিছু বর্ণিত হয়েছে—মানবিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যাতে রাসুলের কর্মপদ্ধতি কোনো বিধান প্রণয়ন (تشريع) নয় এবং বিধানের উৎসও (مصدر تشريع) নয়।”
এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং যা সবচেয়ে বেশি বর্ণিত হয়েছে, তা হলো মানুষের জাগতিক প্রয়োজন। আর এই প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পানাহার সংক্রান্ত বিষয়। তাই আমরা তাঁর এই মতের খণ্ডনে কেবল এই দুটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করব।
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে যে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে? আপনি বলুন, তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারি পশুপাখি যাদেরকে তোমরা শিকার করতে শিখিয়েছ—আল্লাহ তোমাদের যা শিখিয়েছেন তা থেকে। সুতরাং তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে তা থেকে খাও এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত} (২৩)।
এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদি বিন হাতিমকে বলেন: “যখন তুমি তোমার শিকারি কুকুর পাঠাবে এবং আল্লাহর নাম নেবে, তখন তুমি খাও।” আদি (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: “যদি কুকুরটি (শিকারের অংশ) খেয়ে ফেলে?” তিনি বললেন: “তবে খেয়ো না, কারণ সে তা তোমার জন্য রাখেনি, বরং নিজের জন্য রেখেছে।” আদি (রা.) বললেন: “আমি আমার কুকুরটি পাঠালাম কিন্তু তার সাথে অন্য কুকুর দেখতে পেলাম?” তিনি বললেন: “তবে খেয়ো না, কারণ তুমি তোমার কুকুরের ওপর আল্লাহর নাম নিয়েছ, অন্যের ওপর নয়” (২৪)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী কি তবে বিধান প্রণয়ন (تشريع) নয়? এটি কি মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনা নয়? এটি কি হারাম করা কিংবা হালাল করা নয়? মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য মৃত জন্তু ও রক্ত হারাম করা হয়েছে} (২৫)। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন: “এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল” (২৬)। তবে মৃত মাছকে কে হালাল করলেন? তিনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬০)
ويقول القرآن الكريم في وصف النبي صلى الله عليه وسلم: {يَأْمُرُهُمْ بِالمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ المُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَبَائِثَ} (27) فكيف ينفي عنه صلى الله عليه وسلم تشريع الحل والحرمة في المأكول والمشروب؟ ونسوق هنا بعض آداب الأكل والشرب الواردة في الصحيح وبعضها واجب، وبعضها مندوب، وَبَعْضُهَا مُحَرَّمٌ، وبعضها مكروه، ليتبين الخطأ الواضح في نفي التشريع عنها.
عَنْ عُمَرَ بْنَ أَبِي سَلَمَ رضي الله عنه قال: كُنْتُ غُلَامًا فِي حَجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا غُلَامُ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ» (28).
وفي ذَمِّ الشَّرَهِ والتنفير من الجشع في الأكل يقول صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ» (29).
ويقول صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ - فَإِنْ لَمْ يُجْلِسْهُ مَعَهُ - فَلْيُنَاوِلْهُ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ، أَوْ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَعِلَاجَهُ» (30).
وَنَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الكَرْعِ، وَهُوَ الشُّرْبُ مُنْكَفِئًا عَلَى الإِنَاءِ وَتَنَاوُلِ الشَّرَابِ بِالفَمِ، كَمَا تَشْرَبُ البَهَائِمُ، فَعَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: «مَرَرْنَا عَلَى بِرْكَةٍ، فَجَعَلْنَا نَكْرَعُ فِيهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَكْرَعُوا، وَلَكِنِ اغْسِلُوا أَيْدِيَكُمْ، ثُمَّ اشْرَبُوا [فِيهَا]» (31).
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عَنْ اخْتِنَاثِ الأَسْقِيَةِ (32) أَيْ الشُّرْبُ مِنْ فَمِ الإِنَاءِ الكَبِيرِ، مَنْعًا مِنْ تَوَارُدِ الأَفْوَاهِ عَلَى المَكَانِ الوَاحِدِ مِمَّا يُغَيِّرُ رَائِحَتَهُ، فَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: «[أَنَّ النَّبِيَّ] صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُشْرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ، لأَنَّ ذَلِكَ يُنْتِنُهُ» (33).
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عن التنفس عند الشُّرْبِ، فَقَالَ: «إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ» (34).
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عن النفخ في الشراب عند الشرب، فَقَالَ رَجُلٌ: القَذَاةُ أَرَاهَا فِي الإِنَاءِ؟ قَالَ: «أَهْرِقْهَا»، قَالَ: فَإِنِّي لَا أَرْوَى مِنْ نَفَسٍ وَاحِدٍ؟ قَالَ: «فَأَبِنِ القَدَحَ إِذَنْ عَنْ فِيكَ» (35). قال الحافظ ابن حجر: «وَالنَّفْخُ فِي الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ أَشَدُّ مِنَ التَنَفُّسِ فِيهِ» (36).
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عن الشرب في آنية الذهب والفضة (37).
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআন নবী (সা.)-এর বর্ণনায় বলে: {তিনি তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেন ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন} (২৭)। সুতরাং পানাহার সম্পর্কিত হালাল ও হারামের বিধান প্রবর্তনের বিষয়টি তাঁর (সা.) থেকে কীভাবে অস্বীকার করা সম্ভব? আমরা এখানে পানাহার সংক্রান্ত কিছু আদব উল্লেখ করছি যা সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যার কিছু আবশ্যিক (واجب), কিছু পছন্দনীয় (مندوب), কিছু নিষিদ্ধ (محرم) এবং কিছু অপছন্দনীয় (مكروه); যাতে এ সংক্রান্ত বিধান থাকাকে অস্বীকার করার সুস্পষ্ট ভুলটি প্রতিভাত হয়।
ওমর ইবনে আবি সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোলে প্রতিপালিত একজন বালক ছিলাম। আহারের সময় থালার চতুর্দিকে আমার হাত লাফালাফি করত (অর্থাৎ এদিক-ওদিক যেত)। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন: «হে বালক! আল্লাহর নাম নাও (বিসমিল্লাহ বলো), তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার নিকটবর্তী স্থান থেকে খাও» (২৮)।
ভোজনবিলাসিতার নিন্দা এবং অতিভোজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করতে গিয়ে নবী (সা.) বলেন: «মুমিন এক অন্ত্রে আহার করে, আর কাফের সাত অন্ত্রে আহার করে» (২৯)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: «তোমাদের কারো কাছে যখন তার সেবক খাবার নিয়ে আসে—সে যদি তাকে সাথে বসিয়ে না খাওয়ায়—তবে যেন তাকে এক লোকমা বা দুই লোকমা অথবা এক গ্রাস বা দুই গ্রাস খাবার দেয়। কেননা সে-ই তো এর তাপ ও তৈরির শ্রম সহ্য করেছে» (৩০)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আল-কার্উ’ তথা পশুর মতো পাত্রে মুখ লাগিয়ে সরাসরি পান করতে নিষেধ করেছেন। এটি হলো পাত্রের ওপর উপুড় হয়ে সরাসরি মুখ দিয়ে পান করা, যেমন চতুষ্পদ জন্তু পান করে। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা একটি জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমরা তাতে সরাসরি মুখ লাগিয়ে পান করতে শুরু করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘তোমরা সরাসরি মুখ লাগিয়ে পান করো না, বরং হাত ধৌত করো এবং এরপর হাতে করে পান করো’» (৩১)।
নবী (সা.) ‘ইখতিনাফুল আসকিয়াহ’ (৩২) তথা বড় পাত্রের বা মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ বড় পাত্রের মুখ থেকে সরাসরি পান করা; যাতে একই স্থানে বারবার সবার মুখের স্পর্শ এড়ানো যায়, যা এর গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: «নবী (সা.) মশকের মুখ থেকে সরাসরি পান করতে নিষেধ করেছেন, কারণ তা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়» (৩৩)।
নবী (সা.) পান করার সময় পাত্রের ভেতর নিঃশ্বাস ছাড়তে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: «তোমাদের কেউ যখন পান করে, সে যেন পাত্রের ভেতরে নিঃশ্বাস না ছাড়ে» (৩৪)।
নবী (সা.) পানীয়তে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: আমি যদি পাত্রে কোনো ময়লা দেখি? তিনি বললেন: «তা ঢেলে ফেলে দাও।» সে বলল: আমি তো এক নিঃশ্বাসে তৃপ্ত হই না। তিনি বললেন: «তবে পাত্রটি তোমার মুখ থেকে সরিয়ে নাও (নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য)» (৩৫)। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়া তাতে নিঃশ্বাস ছাড়ার চেয়েও গুরুতর» (৩৬)।
নবী (সা.) স্বর্ণ ও রৌপ্য পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন (৩৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَأَمَرَ صلى الله عليه وسلم بتغطية أواني الطعام والشراب، فقال: «أَطْفِئُوا المَصَابِيحَ إِذَا رَقَدْتُمْ، وَغَلِّقُوا الأَبْوَابَ، وَأَوْكُوا الأَسْقِيَةَ، وَخَمِّرُوا الطَّعَامَ وَالشَّرَابَ» (38) أي غطوه.
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عن الأكل من وسط الإناء، فعن ابن عباس رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «البَرَكَةُ تَنْزِلُ وَسَطَ الطَّعَامِ فَكُلُوا مِنْ حَافَتَيْهِ وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهِ» (39). وَرَغَّبَ صلى الله عليه وسلم في المواساة بالطعام، والمشاركة فيه، والاجتماع عليه، فقال: «طَعَامُ الوَاحِدِ يَكْفِي الاثْنَيْنِ، وَطَعَامُ الاثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ، وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ» (40).
وحفاظًا على أحاسيس الآخرين «مَا عَابَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا قَطُّ، كَانَ إِذَا اشْتَهَى شَيْئًا أَكَلَهُ، وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ» (41).
فَهَلْ بَعْدَ اسْتِعْرَاضِ هَذِهِ التَشْرِيعَاتِ السَّامِيَةِ الرَّاقِيَةِ نَسْتَسِيغُ نَفْيَ التَّشْرِيعَ عَنْهَا؟ وَنَقُولُ: إِنَّهَا مِنَ الشُّؤُونِ البَشَرِيَّةِ التِي لَيْسَ مَسْلَكَ الرَّسُولِ فِيهَا تَشْرِيعًا؟ وَلَا مَصْدَرَ تَشْرِيعٍ؟.
هل يستسيغ مسلم أن هذه الأوامر والنواهي والتوجيهات، وكل ما نقل من أمثالها ليس شَرْعًا يتعلق به طلب الفعل أو طلب الترك؟
لا نملك إلا أن نقول: غفر الله له ورحمه، فقد كانت هذه القذيفة التي لم يُلْقَ لها بَالاً قنبلة فَجَّرَهَا الدكتور عبد المنعم النمر في ميدان آخر، وذهب إلى أن كثير من أفعال النبي صلى الله عليه وسلم وأقواله ليست للتشريع، وليست خاضعة لوحي، بل صادرة عن اجتهادات بشرية، يجوز لمن يأتي بعده أن يجتهد مثله، وأن يخالفه في أفعاله وتقريراته وأقواله وبخاصة ما جاء عنه في المعاملات التي لَمْ تَرِدْ في القرآن الكريم.
وقال بالحرف الواحد: «فَمَا دَامَ الرَّسُولُ كَانَ يَجْتَهِدُ، وَمَا دَامَ هَذَا الاجْتِهَادُ قَدْ شَمِلَ الكَثِيرَ مِنْ أَنْوَاعِ المُعَامَلَاتِ أَفَلَا يَجُوزُ لِمَنْ يَأْتِي بَعْدَهُ أَنْ يُدْلِي فِي المَوْضُوعِ بِاجْتِهَادِهِ أَيْضًا؟ هَادِفًا إِلَى تَحْقِيْقِ المَصْلَحَةِ، وَلَوْ أَدَّىَ اجْتِهَادُهُ إِلَى غَيْرِ مَا قَرَّرَهُ الرَّسُولُ بِاجْتِهَادِهِ؟» (42).
وَيَحْصِرُ الدُّكْتُورُ النَّمِرْ السُنَّةَ التَشْرِيعِيَّةَ فِي دَائِرَةٍ ضَيِّقَةٍ، فَيَقُولُ: «نُسَارِعُ فَنُقَرِّرُ أَنَّ كُلَّ مَا صَدَرَ عَنِ الرَّسُولِ مِنْ شُؤُونِ الدِّينِ فِي العَقِيدَةِ وَالعِبَادَةِ وَالحَلَالِ وَالحَرَامِ وَالعُقُوبَاتِ وَالأَخْلَاقِ وَالآدَابِ لَا شَأْنَ لَنَا بِهِ إِلَاّ مَنْ نَاحِيَةِ فَهْمِهِ».
ثم يقول: «لَكِنْ هُنَاكَ أَحَادِيثٌ كَثِيرَةٌ تَتَّصِلُ بِمُعَامَلَاتِ النَّاسِ فِي حَيَاتِهِمْ مِنْ بَيْعِ وَشِرَاءٍ
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদ্য ও পানীয়ের পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: «তোমরা যখন ঘুমাতে যাও তখন বাতি নিভিয়ে দাও, দরজা বন্ধ করো, মশক বা পানপাত্রের মুখ বেঁধে দাও এবং খাদ্য ও পানীয় ঢেকে রাখো» (৩৮) অর্থাৎ তা আবৃত করো।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাত্রের মাঝখান থেকে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বরকত খাবারের মাঝখানে নাযিল হয়, তাই তোমরা এর চারপাশ থেকে খাও এবং মাঝখান থেকে খেয়ো না» (৩৯)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবারের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা, পারস্পরিক অংশগ্রহণ এবং একত্রে আহারের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: «একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট, দুইজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট» (৪০)।
অন্যদের অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রেখে «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনোই কোনো খাবারের ত্রুটি বর্ণনা করেননি; যদি তাঁর কোনো কিছু পছন্দ হতো তবে তিনি তা খেতেন, আর যদি অপছন্দ হতো তবে তা বর্জন করতেন» (৪১)।
এই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও মহৎ বিধানসমূহ পর্যালোচনা করার পর কি আমরা এ থেকে শরিয়াহর বিধান প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করাকে গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারি? এবং আমরা কি বলতে পারি যে: এগুলো নিছক মানবিক বিষয়াবলী যেগুলোর ক্ষেত্রে রাসূলের আদর্শ কোনো বিধান নয়? কিংবা বিধানের উৎসও নয়?।
কোনো মুসলিম কি এটা মেনে নিতে পারে যে, এই সব আদেশ, নিষেধ, দিকনির্দেশনা এবং এ জাতীয় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা শরিয়াহর এমন কোনো বিধান নয় যার সাথে কোনো কাজ করার বা বর্জনের নির্দেশ যুক্ত থাকতে পারে?
আমরা কেবল এটুকুই বলতে পারি: আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার প্রতি দয়া করুন। কেননা ডক্টর আব্দুল মোনয়েম আল-নিমর এই যে বেপরোয়া মন্তব্য করেছেন, তা মূলত একটি ভিন্ন ময়দানে বিস্ফোরিত বোমার মতো ছিল। তিনি মনে করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনেক কাজ ও কথা শরিয়াহর বিধান হিসেবে গণ্য নয় এবং তা ওহির অধীনও নয়; বরং সেগুলো মানবিক ইজতিহাদের বহিঃপ্রকাশ। ফলে তাঁর পরবর্তী কারো জন্য তাঁর মতোই ইজতিহাদ করা এবং তাঁর কার্যাবলি, মৌনসম্মতি ও বক্তব্যের বিরোধিতা করা বৈধ, বিশেষ করে মুয়ামালাত (লেনদেন) সংক্রান্ত সেই সব বিষয়াবলিতে যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি হুবহু বলেছেন: «যেহেতু রাসূল ইজতিহাদ করতেন এবং যেহেতু এই ইজতিহাদ অনেক ধরনের লেনদেনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তবে কি তাঁর পরবর্তী কারো পক্ষে জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিষয়ে নিজের ইজতিহাদ পেশ করা জায়েজ নয়? যদিও তাঁর ইজতিহাদ রাসূলের ইজতিহাদ অনুযায়ী নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বিপরীত হয়?» (৪২)।
ডক্টর নিমর বিধানগত সুন্নাহকে একটি সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন: «আমরা দ্রুতই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছি যে, আকিদা, ইবাদত, হালাল-হারাম, শাস্তি, আখলাক ও আদবের মতো দ্বীনি বিষয়াবলিতে রাসূল থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে, তা অনুধাবন করা ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো করণীয় নেই»।
অতঃপর তিনি বলেন: «কিন্তু এখানে অনেক হাদিস রয়েছে যা মানুষের জীবন সংশ্লিষ্ট লেনদেন যেমন ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وَرَهْنٍ وَإِجَارَةٍ وَقِرَاضٍ وَلُقَطَةٍ وَسَلَمٍ
… » الخ (43).
فالدكتور النمر لم يكتف بالمباح ليجعله مِنَ السُنَّةِ غَيْرِ التَّشْرِيعِيَّةِ، بَلْ أَدْخَلَ المُعَامَلَاتِ التِي لَمْ تَرِدْ فِي القُرْآنِ [وَ] فِي السُنَّةِ غَيْرِ التَّشْرِيعِيَّةِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ في ذلك بين واجب أو مندوب أو مباح، بل ولا بين مُحَرَّمٍ أو مكروه، فحكم على ما يقرب من نصف السُنَّةِ بأنه غير تشريع.
وَقَدْ رَدَدْتُ عليه في بحث بعنوان: " السُنَّةُ وَالتَشْرِيعُ " (*)، نشر في " مجلة مركز بحوث السنة والسيرة " بجامعة قطر - العدد الثاني، ولا حاجة بنا هنا للرد عليه، فهذا البحث سأخصه بالمباحات مما سبيله الحاجة البشرية، لأثبت أن أقواله وأفعاله وتقريراته صلى الله عليه وسلم مِمَّا سَبِيلُهُ العَادَةُ أَوْ الحَاجَةُ البَشَرِيَّةُ كُلُّهَا تُعْطَى حُكْمًا شَرْعِيًّا، أَقَلُّهُ الإِبَاحَةُ وَرَفْعِ الحَرَجِ.
أما ولي الله الدهلوي فلم يُقَسِّمْ السُنَّةَ إلى تشريع وإلى غير تشريع، وإنما قَسَّمَهَا من حيث طلب الاتباع وعدم الاتباع، من حيث طلب الفعل والترك، أو عدم طلب الفعل والترك، إلى ما سبيله تبليغ الرسالة وإلى ما ليس من باب تبليغ الرسالة، وجعل من الأخير ما فعله صلى الله عليه وسلم على سبيل العادة دون العبادة، فهو في الحقيقة لا يدخل تقسيمه في مجال بحثنا، وغاية ما قاله أن بعض ما فعله صلى الله عليه وسلم ليس من باب تبليغ الرسالة، لكن هل هو تشريع، يرفع الحرج عن هذا الفعل؟ أو ليس تَشْرِيعًا؟ لم يتعرض لهذا الموضوع، وتعبيره بعد أن ذكر أمثلة (لَيْسَ مِنَ الأُمُورِ اللَاّزِمَةِ لِجَمِيعِ الأُمَّةِ) ونحن لا نقول: إن المباح من الأمور اللازمة.
أما الدكتور عبد الحميد متولي فقد اعتمد اعْتِمَادًا أَسَاسِيًا وَكُلِّيًّا عَلَى كَلَامِ الشيخ شلتوت، وَلَمْ يُقَدِّمْ دَلِيلاً وَاحِدًا يمكن مناقشته، بل لم يأت بجديد.
وأما الدكتور محمد سليم العوا فقد عرض ما قاله ولي الله الدهلوي، وعرض تقسيم ابن قتيبة والقرافي لِلْسُنَّةِ - وَسَنَعْرِضُهُمُا قََرِيبًا - ثم تعرض لموقف الصحابة من بعض السُّنَنِ المَرْوِيَّةِ عَنْ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وكان كل حرصه أن يصل إلى أَنَّ بَعْضَ السُّنَنِ (أي بعض أقواله وأفعاله وتقريراته صلى الله عليه وسلم لَمْ تَكُنْ شَرْعًا لازمًا عَامًّا فِي كُلِّ الأَحْوَالِ.
وأحدث من كَتَبَ في موضوعنا بإسهاب، وتولى العرض بحماس، ونادى بصوت عَالٍ عَنْ وُجُودِ سُنَّةٍ غَيْرَ تَشْرِيعِيَّةٍ الدكتور يوسف عبد الله القرضاوي في مقاله (الجَانِبُ
--------------------------------------------
বন্ধক, ইজারা, কিরাদ (লাভের অংশীদারিত্ব), কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু এবং অগ্রিম ক্রয়
... » ইত্যাদি (৪৩)।
বস্তুত ডক্টর আন-নামর কেবল মুবাহ (مباح) বিষয়গুলোকে অ-বিধানিক সুন্নাহ (السنة غير التشريعية)-এর অন্তর্ভুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এমন সব লেনদেনকেও (المعاملات) অ-বিধানিক সুন্নাহর (السنة غير التشريعية) অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা কুরআন বা সুন্নাহয় (السنة) উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে তিনি ওয়াজিব (واجب), মানদুব (مندوب) বা মুবাহ (مباح)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, এমনকি হারাম (محرم) বা মাকরুহ (مكروه)-এর মধ্যেও কোনো ভেদাভেদ রাখেননি। ফলে তিনি সুন্নাহর (السنة) প্রায় অর্ধেককেই অ-বিধানিক হিসেবে রায় দিয়েছেন।
আমি তাঁর এই মতের প্রতিবাদ করেছি "আস-সুন্নাহ ওয়াত তাশরি" (*) শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে, যা কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের "সুন্নাহ ও সিরাত গবেষণা কেন্দ্র সাময়িকী"-র দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এখানে তাঁর প্রতিবাদের পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। এই গবেষণায় আমি মানবীয় প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট মুবাহ (مباح) বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেব, যাতে প্রমাণ করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যেসব কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি (تقريرات) অভ্যাস (عادة) বা মানবীয় প্রয়োজনের তাগিদে সাধিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিই একটি শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) মর্যাদা রাখে, যার সর্বনিম্ন স্তর হলো বৈধতা (الإباحة) এবং সংকীর্ণতা দূর করা।
অন্যদিকে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি সুন্নাহকে (السنة) বিধানিক ও অ-বিধানিক—এভাবে ভাগ করেননি; বরং তিনি অনুসরণের দাবি এবং অনুসরণের দাবি না থাকার দিক থেকে, অর্থাৎ কোনো কাজ করা বা বর্জনের নির্দেশ থাকা বা না থাকার দিক থেকে একে ভাগ করেছেন—রিসালাত পৌঁছানো (تبليغ الرسالة)-এর অন্তর্ভুক্ত বিষয় এবং রিসালাত পৌঁছানোর (تبليغ الرسالة) অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয় হিসেবে। শেষোক্ত ভাগের মধ্যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওইসব কাজকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা ইবাদত (عبادة) হিসেবে নয় বরং অভ্যাসগত (عادة) কারণে সম্পাদিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁর এই বিভাজন আমাদের আলোচনার মূল বিষয়ের আওতাভুক্ত নয়। তিনি বড়জোর যা বলেছেন তা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু কাজ রিসালাত পৌঁছানোর (تبليغ الرسالة) অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু তা কি কোনো বিধান (تشريع), যা এই কাজের বৈধতাকে প্রতিষ্ঠিত করে? নাকি তা বিধান (تشريع) নয়? তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি। উদাহরণ দেওয়ার পর তাঁর উক্তি হলো: (এটি উম্মতের সকলের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়)। আর আমরাও বলি না যে, মুবাহ (مباح) কোনো আবশ্যকীয় বিষয়।
আর ডক্টর আব্দুল হামিদ মুতাওয়াল্লি এক্ষেত্রে মূলত এবং পুরোপুরিভাবে শেখ শালতুতের কথার ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি আলোচনার যোগ্য নতুন কোনো দলিল উপস্থাপন করেননি, এমনকি নতুন কিছু নিয়েও আসেননি।
ডক্টর মুহাম্মদ সালিম আল-আওয়া শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির বক্তব্য এবং সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে ইবনে কুতাইবা ও আল-কারাফির বিভাজন উপস্থাপন করেছেন—যা আমরা শীঘ্রই আলোচনা করব। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কিছু সুন্নাহর (السنن) প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যে, কিছু সুন্নাহ (السنن) (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি (تقريرات)) সকল অবস্থায় সাধারণ ও আবশ্যকীয় শরিয়ত (شرع) ছিল না।
আমাদের আলোচ্য বিষয়ে যিনি সবচেয়ে আধুনিককালে সবিস্তারে লিখেছেন, উৎসাহের সাথে উপস্থাপন করেছেন এবং উচ্চস্বরে অ-বিধানিক সুন্নাহর (سنة غير تشريعية) অস্তিত্বের কথা প্রচার করেছেন, তিনি হলেন ডক্টর ইউসুফ আব্দুল্লাহ আল-কারজাভি তাঁর নিবন্ধ (আল-জানিব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
التشريعي في السُنَّةِ النبوية) نشر في " مجلة بحوث السنة والسيرة " بجامعة قطر - العدد الثالث 1988 م.
وقبل مناقشة ما جاء في هذا المقال أقرر أن هناك قضيتين مختلفتين تَمَامًا، الأولى تقول: بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ تَشْرِيعًا مُلْزَمًا، أَيْ لَيْسَ مَطْلُوبًا الاقتداء بها، وهذه قضية مُسَلَّمَةٌ، ففعله المباح والجائز ليس مَطْلُوبًا الاقتداء به، بل قد يفعل خلاف الأَوْلَى لبيان الجواز، فلا يلزم اتباعه فيه، ليس فيما جَرَتْ به العادة وما سبيله الحاجة البشرية فحسب بل فيما هو من العبادة، أو وسيلة العبادة، فقد اغتسل صلى الله عليه وسلم هو وعائشة رضي الله عنها عاريين يغترفان من إناء واحد، تختلف أيديهما فيه يسابقان في الاغتراف، حتى تقول له: «دَعْ لِي، دَعْ لِي» (44).
وَتَجَرُّدُ الزوجين من ثيابهما عند الغسل أو عند الجماع جائز، لكنه خِلَافُ الأَوْلَى فَلَيْسَ مَطْلُوبًا الاقْتِدَاءُ بِهِ. واعتزل رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه شَهْرًا في مشربة في المسجد، لا يدخل عليهن بيوتهن (45)، لَمَّا أَغْضَبْنَهُ غَضَبًا كَبِيرًا، وهو الحليم الصابر الرؤوف الرحيم الذي تحمل من قومه الأذى أضعاف أضعاف ما لقي من زوجاته، وكان يقول: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ»، فالاعتزال مشروع، لَكِنَّهُ لَيْسَ مَطْلُوبًا الاقْتِدَاءُ بِهِ.
ولم يضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده امرأة له ولا خَادِمًا قَطُّ (46)، وليس مَطْلُوبًا الاقْتِدَاءُ بِهِ فِيهِ، فالضرب للتأديب مشروع.
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِالمُدِّ (47) (بحفنة ماء واحدة) وغيره يتوضأ بعشر حفنات ويغتسل صلى الله عليه وسلم من الجنابة بِصَاعٍ (أربع حفنات) وغيره يغتسل بعشرين حفنة، وَلَيْسَ مَطْلُوبًا الاقْتِدَاءُ بِهِ في ذلك، ولكن فعله تشريع.
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي في الليل إحدى عشرة ركعة أو ثلاث عشرة ركعة (48)، وكان بعض الصحابة يُصَلِّي أكثر من ذلك، لا يقتدى به صلى الله عليه وسلم.
وكان يصوم في السفر وبعض أصحابه مفطر، ويفطر في السفر، وبعض أصحابه صائم (49).
بل كان يفعل الشيء وينهى غيره عن فعله، فهو صلى الله عليه وسلم يواصل، وينهى عن الوصال، قَالُوا: إِنَّكَ تُوَاصِلُ؟ قَالَ: «وَأَيُّكُمْ مِثْلِي، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِ» (50).
بل كان صلى الله عليه وسلم يفعل الشيء - كخصوصية - وَيُحَرِّمُ هذا الشيء على جميع أفراد أُمَّتِهِ
--------------------------------------------
(সুন্নাহে নববীতে বিধানগত দিক) কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের "মাজাল্লাতু বুহুস আস-সুন্নাহ ওয়াস-সিরাহ"-এ প্রকাশিত - তৃতীয় সংখ্যা ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ।
এই প্রবন্ধে যা আলোচিত হয়েছে তা পর্যালোচনার পূর্বে আমি বলতে চাই যে, এখানে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় রয়েছে। প্রথমটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু কাজ বাধ্যতামূলক বিধান (تشريع ملزم) নয়, অর্থাৎ সেগুলো হুবহু অনুসরণের দাবি রাখে না। এটি একটি স্বীকৃত বিষয় (مسلمة)। সুতরাং তাঁর বৈধ (مباح) এবং অনুমোদিত (جائز) কাজগুলো অনুসরণ করা জরুরি নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে তিনি বৈধতা বর্ণনার জন্য অনুত্তম (خلاف الأولى) কাজও করেছেন, তাই সেসব ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। এটি কেবল স্বভাবজাত অভ্যাস বা মানুষের সাধারণ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইবাদত বা ইবাদতের মাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আয়েশা (রা.) বিবস্ত্র অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করেছেন, তাঁদের হাত একই পাত্রে যাতায়াত করছিল এবং কে আগে পানি নেবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছিলেন, এমনকি আয়েশা (রা.) বলছিলেন: «আমার জন্য রাখুন, আমার জন্য রাখুন» (৪৪)।
গোসল বা মিলনের সময় স্বামী-স্ত্রীর পোশাকমুক্ত হওয়া বৈধ (جائز), কিন্তু তা অনুত্তম (خلاف الأولى)। তাই এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ কাম্য নয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের প্রতি ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে এক মাস তাঁদের থেকে পৃথক হয়ে মসজিদের একটি কক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেননি (৪৫)। অথচ তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, সহনশীল এবং দয়ালু, যিনি স্বজাতির কাছ থেকে নিজের স্ত্রীদের চেয়ে বহুগুণ বেশি কষ্ট সহ্য করেছিলেন এবং বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমার জাতিকে ক্ষমা করে দিন, কেননা তারা জানে না।» সুতরাং এমন বিচ্ছিন্ন অবস্থান বৈধ (مشروع), কিন্তু তা অনুসরণের দাবি রাখে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে কখনো কোনো স্ত্রী কিংবা কোনো সেবককে প্রহার করেননি (৪৬)। তবে এ ক্ষেত্রেও তাঁর অনুসরণ করা অপরিহার্য নয়, কারণ আদব বা শিষ্টাচার শেখানোর জন্য প্রহার করা বৈধ (مشروع)।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ (المد) (এক অঞ্জলি পানি) দিয়ে অজু করতেন (৪৭), অথচ অন্যরা দশ অঞ্জলি পানি দিয়ে অজু করে। আবার তিনি জানাবাত (নাপাকি) থেকে পবিত্র হতে এক সা’ (الصاع) (চার অঞ্জলি) পানি দিয়ে গোসল করতেন, যেখানে অন্যরা বিশ অঞ্জলি পানি দিয়ে গোসল করে। এসব ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ জরুরি নয়, তবে তাঁর এই কাজগুলো শরিয়তের বিধান (تشريع)।
তিনি রাতে এগারো বা তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন (৪৮), অথচ কোনো কোনো সাহাবী এর চেয়ে বেশি সালাত আদায় করতেন, তাঁরা এসব ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুবহু অনুকরণ করতেন না।
তিনি সফরে সিয়াম পালন করতেন অথচ তাঁর কোনো কোনো সাহাবী তা ভঙ্গ করতেন। আবার তিনি সফরে সিয়াম ভঙ্গ করতেন অথচ তাঁর কোনো কোনো সাহাবী তা পালন করতেন (৪৯)।
এমনকি তিনি নিজে কোনো কাজ করতেন অথচ অন্যদের তা করতে নিষেধ করতেন। তিনি ‘সওমে বিসাল’ (টানা রোজা) রাখতেন এবং অন্যদের তা করতে নিষেধ করতেন। সাহাবীগণ বললেন: আপনি তো সওমে বিসাল পালন করেন? তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে আমার মতো কে আছে? আমি তো রাত যাপন করি এমন অবস্থায় যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান» (৫০)।
বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো কাজ নিজের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য (خصوصية) হিসেবে পালন করতেন এবং সেই কাজটিকে উম্মতের বাকিদের জন্য নিষিদ্ধ (يُحَرِّمُ) করে দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
فهو يتزوج فوق الأربع، وَيُحَرِّمُ عَلَى الأُمَّةِ الاقتداء به في ذلك التشريع الخاص به.
فأفعاله صلى الله عليه وسلم غير الملزمة لِلأُمَّةِ، وغير المطلوب الاقتداء بها كثيرة، وكثيرة جِدًّا.
القضية الثانية: بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم ليست للتشريع أصلاً، فلا يؤخذ منها حكم ملزم أو غير ملزم.
والذين يُقَسِّمُونَ السُنَّةَ إلى تَشْرِيعِيَّةٍ وَغَيْرِ تَشْرِيعِيَّةٍ لا يريدون بِغَيْرِ التَّشْرِيعِيَّةِ غير الملزمة وغير المطلوب الاقتداء بها، وإنما يقصدون أنها لا تفيد حُكْمًا شَرْعِيًّا أَصْلاً. يظهر ذلك من عباراتهم الصريحة في ذلك «مَسْلَكُ الرَّسُولِ فِيهَا لَيْسَ تَشْرِيعًا وَلَا مَصْدَرَ تَشْرِيعٍ» (22)، «[إِنَّ] بَعْضَ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَصْدُرُ عَنْهُ بِمُقْتَضَى البَشَرِيَّةِ المَحْضَ، فَلَيْسَ لَهَا أَيَّ صِفَةٍ تَشْرِيعِيَّةٍ» (51).
كما يظهر ذلك بجلاء في قصرهم غير التشريعية على الأصناف الثلاثة عند الشيخ شلتوت، وعلى المعاملات عند الدكتور النمر، وعلى بعض ما سبيله سبيل الحاجة البشرية عند الدكتور القرضاوى، مع أن التشريعية غير الملزمة كثيرة لا تنحصر فيما حصروها فيه كما أوضحنا.
نؤكد أننا أمام قضيتين متغايرتن تَمَامًا.
الأولى: بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ تَشْرِيعًا مُلْزَمًا. فالنفي نفي الإلزام، لا نفي التشريع.
الثانية: بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ تَشْرِيعًا. فالنفي نفي التشريع.
وقد أوضحنا أن القضية الأولى مُسَلَّمَةٌ، لا نقاش فيها، بل هي بديهية عند أهل العلم، أما الثانية فهي الجديدة على العلماء، وهي موضوع البحث، نحن نقول: جميع أفعاله صلى الله عليه وسلم يؤخذ منها حكم شرعي، أقله رفع الحرج عن الأمة، والمخالف يقول: بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم ليس لها أي صفة تشريعية.
والظاهرة الغريبة التي اشترك فيها المخالفون التردد في العبارة بين القضيتن، يعبر بما يفيد أنه يعنى القضية الأولى تارة، ويعبر بما يفيد أنه يعنى القضية الثانية تارة أخرى.
فالشيخ شلتوت يقول: «وَكُلُّ مَا نُقِلَ مِنْ هَذِهِ الأَنْوَاعِ الثَّلَاثَةِ لَيْسَ شَرْعًا يَتَعَلَّقُ بِهِ طَلَبُ الفِعْلِ وَالتَّرْكِ».
فتظن أنه يعني القضية الأولى، وأنه يعني نفي الإلزام، ونفي طلب الفعل أو طلب
--------------------------------------------
তিনি চারের অধিক বিবাহ করতেন এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত এই বিশেষ শরীয়াহ প্রণয়নের (تشريع) ক্ষেত্রে উম্মতের জন্য তাঁর অনুসরণ করা তিনি নিষিদ্ধ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন অনেক কর্ম রয়েছে যা উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং যা অনুসরণ করা অপরিহার্য নয়, আর এ ধরণের কর্মের সংখ্যা অনেক এবং অত্যন্ত বেশি।
দ্বিতীয় বিষয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজ আদতে শরীয়াহ প্রণয়নের (تشريع) জন্য নয়; সুতরাং তা থেকে বাধ্যতামূলক বা অ-বাধ্যতামূলক কোনো বিধান (حكم) গ্রহণ করা হবে না।
আর যারা সুন্নাহকে বিধানগত (تشريعية) এবং অ-বিধানগত (غير تشريعية) হিসেবে বিভক্ত করেন, তারা 'অ-বিধানগত' বলতে অ-বাধ্যতামূলক বা যা অনুসরণ করা অপরিহার্য নয় এমনটি বোঝান না; বরং তারা বোঝাতে চান যে, তা আদতে কোনো শারয়ী বিধানের (حكم شرعي) ফায়দা দেয় না। এটি তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকেই প্রতীয়মান হয়: «সেসব ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসৃত পথ কোনো শরীয়াহ প্রণয়ন (تشريع) নয় এবং বিধানের উৎসও (مصدر تشريع) নয়» (২২), «[নিশ্চয়ই] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কথা ও কাজ নিছক মানবিক প্রকৃতির তাগিদে তাঁর থেকে প্রকাশ পেয়েছে, তাই সেগুলোর কোনো বিধানগত (تشريعية) বৈশিষ্ট্য নেই» (৫১)।
এটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যখন শেখ শালতুত অ-বিধানগত বিষয়গুলোকে তিনটি শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ করেন, ডক্টর আন-নামার সেগুলোকে লেনদেনের ক্ষেত্রে এবং ডক্টর আল-কারযাভী সেগুলোকে মানবিক প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করেন; অথচ আমরা যেমনটি স্পষ্ট করেছি যে, অ-বাধ্যতামূলক বিধানগত বিষয়গুলো অনেক এবং তারা যে বিষয়গুলোর মধ্যে এগুলোকে সীমাবদ্ধ করেছেন তা কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
আমরা জোর দিয়ে বলছি যে, আমাদের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয় রয়েছে।
প্রথমটি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজ বাধ্যতামূলক শরীয়াহ প্রণয়ন (تشريع) নয়। এখানে অস্বীকৃতিটি বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে, বিধানের (تشريع) ক্ষেত্রে নয়।
দ্বিতীয়টি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজ আদৌ শরীয়াহ প্রণয়ন (تشريع) নয়। এখানে অস্বীকৃতিটি সরাসরি বিধানের (تشريع) ক্ষেত্রে।
আমরা স্পষ্ট করেছি যে প্রথম বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত (مسلمة), এতে কোনো বিতর্ক নেই, বরং আলেমদের নিকট এটি স্বতঃসিদ্ধ। আর দ্বিতীয় বিষয়টি আলেমদের নিকট নতুন এবং এটিই গবেষণার মূল বিষয়। আমরা বলি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কাজ থেকেই শারয়ী বিধান (حكم شرعي) গ্রহণ করা হয়, যার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো উম্মতের ওপর থেকে সংকীর্ণতা দূর করা। আর ভিন্নমত পোষণকারীরা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজের কোনো বিধানগত (تشريعية) বৈশিষ্ট্য নেই।
একটি অদ্ভুত বিষয় যা ভিন্নমত পোষণকারীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তা হলো দুই বিষয়ের মাঝে শব্দ চয়নে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া; কখনও তিনি এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা দ্বারা প্রথম বিষয়টি উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনও এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা দ্বারা দ্বিতীয় বিষয়টি উদ্দেশ্য হয়।
শেখ শালতুত বলেন: «এই তিন প্রকারের যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা এমন কোনো বিধান (شرع) নয় যার সাথে কোনো কাজ করা বা বর্জনের দাবি (طلب) সংশ্লিষ্ট থাকে»।
তখন আপনি মনে করতে পারেন যে তিনি প্রথম বিষয়টি উদ্দেশ্য করছেন এবং তিনি বাধ্যবাধকতা কিংবা কাজ করা বা বর্জনের দাবিকে (طلب) অস্বীকার করছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
الترك.
وبعدها يقول: «وَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشُّؤُونِ البَشَرِيَّةِ التِي لَيْسَ مَسْلَكَ الرَّسُولِ فِيهَا تَشْرِيعًا وَلَا مَصْدَرَ تَشْرِيعٍ» (22). والدكتور النمر يقول في [ص 57]: «لَا يُصْبِحُ مَا قَرَّرَهُ الرَّسُولُ بِاجْتِهَادِهِ حُكْمًا ثَابِتًا لِلأَبَدِ» فتظن أنه يعني القضية الأولى، وأنه يعني نفي استمرار الإلزام للأبد.
ثم ينفي في [ص 26] عن الأحاديث الكثيرة التي تتصل بمعاملات الناس أنها تخضع لوحي مباشر أو سكوتي أو إقراري، فتظن أنه يعني القضية الثانية، وأنه ينفي عنها التشريع أَصْلاً.
والدكتور القرضاوي يقول: «لِهَذَا كَانَ البَحْثُ المُهِمُّ هُنَا هُوَ بَيَانُ مَا يُعْتَبَرُ مِنَ السُنَّةِ تَشْرِيعًا يُكَلِّفُ النَّاسَ اتِّبَاعَهُ وَالعَمَلَ بِهِ، وَمَا لَيْسَ مِنْ بَابِ التَّشْرِيعِ وَالتَّكْلِيفِ» (52).
ويقول: «فَمَا كَانَ مِنْ هَذَا القَبِيلِ
… فَلَيْسَ مِنَ السُنَّةِ التَّشْرِيعِيَّةِ التِي يَجِبُ اتِّبَاعَهَا» (53).
فتظن أنه يعني القضية الأولى المُسَلَّمَةَ، وأنه يعني نفي الالتزام، ونفي التكليف ونفي وجوب الاتباع.
ويقول: «أَهَمُّ مَا يَجِبُ أَنْ نُنَبِّهَ عَلَيْهِ، وَنُلْفِتَ الأَنْظَارَ إِلَيْهِ هُوَ ضَرُورَةَ التَّدْقِيقِ، وَشِدَّةَ التَحَرِّي فِي التَّمْيِيزِ بَيْنَ مَا جَاءَ فِي السُنَّةِ لِلْتَّشْرِيعِ، وَمَا لَمْ يَجِيءَ لِلْتَّشْرِيعِ» (54).
ويقول: «إِنَّ بَعْضَ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَصْدُرُ عَنْهُ بِمُقْتَضَى البَشَرِيَّةِ المَحْضَ فَلَيْسَ لَهَا أَيَّ صِفَةٍ تَشْرِيعِيَّةٍ» (51).
فتظن أنه يعني القضية الثانية، محل النزاع، وأنه يعني نفي التشريع أَصْلاً.
ثم يناقض هذا الاتجاه، فيثبت أن أفعال الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم التي سبيلها سبيل الطبيعة البَشَرِيَّةِ تفيد المشروعية، فهي تشريع، فيقول: «فَالفِعْلُ - أَيْ فِعْلَهُ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالنَّوْمِ وَالمَشْيِ وَالجُلُوسِ وَنَحْوِهَا - كَمَا ذَكَرْنَا مِنْ قَبْلُ - لَا يَدُلُّ عَلَىَ أَكْثَرَ مِنَ المَشْرُوعِيَّةِ، وَلَا يَدُلُّ عَلَىَ وُجُوبٍ وَلَا اسْتِحْبَابٍ فِي نَفْسِهِ، كَمَا فِي قَضِيَّةِ الأَكْلِ بِاليَدِ وَمَا شَابَهَهَا، وَلَكِنْ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ تَشَبُّهًا بِالرَّسُولِ الكَرِيمِ، وَحُبًّا لِكُلِّ مَا صَدَرَ عَنْهُ فَهُوَ مُحْسِنٌ وَمَأْجُورٌ بِنِيَّتِهِ، كَمَا نَبَّهْنَا لِذَلِكَ مِنْ قَبْلُ، وَأَشَارَ إِلَيْهِ السَيِّدُ رَشِيدُ رِضَا فِي بَحْثِهِ» (55).
فهو هنا يُقَرِّرُ أَنَّ أفعاله صلى الله عليه وسلم تدل على المشروعية، فهي تشريع.
أما أقواله صلى الله عليه وسلم فهو يُقَرِّرُ - كما يُقَرِّرُ علماء الأصول - أنها تدل على أكثر من
--------------------------------------------
বর্জন।
এরপর তিনি বলেন: "এটি কেবলমাত্র সেই সকল মানবীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যাতে রাসূলের কর্মপন্থা বিধান (تشريع) কিংবা বিধানের উৎস (مصدر تشريع) নয়।" (২২)। ড. আল-নামির [পৃ. ৫৭] এ বলেন: "রাসূল তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে যা নির্ধারণ করেছেন তা চিরস্থায়ী বিধান (حكم) হিসেবে গণ্য হবে না।" ফলে আপনার মনে হতে পারে যে তিনি প্রথম বিষয়টি বুঝিয়েছেন এবং তিনি চিরস্থায়ী আবশ্যকতা (إلزام) অস্বীকার করতে চেয়েছেন।
এরপর তিনি [পৃ. ২৬] এ মানুষের লেনদেন সংক্রান্ত অসংখ্য হাদিস সম্পর্কে অস্বীকার করেছেন যে সেগুলো সরাসরি প্রত্যাদেশ (وحي), মৌনতা (سكوتي) কিংবা সম্মতিসূচক (إقراري) প্রত্যাদেশের আওতাভুক্ত। ফলে আপনি মনে করতে পারেন যে তিনি দ্বিতীয় বিষয়টি বুঝিয়েছেন এবং তিনি সেগুলোর বিধানদাতা (تشريع) হওয়ার বিষয়টিকেই মূলত অস্বীকার করেছেন।
ড. আল-কারজাভি বলেন: "এ কারণেই এখানকার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো সুন্নাহর মধ্য থেকে কোনটি বিধান (تشريع) হিসেবে গণ্য—যা মানুষকে তা অনুসরণ ও আমল করতে বাধ্য করে—আর কোনটি বিধান (تشريع) ও বাধ্যবাধকতার (تكليف) পর্যায়ভুক্ত নয়, তা স্পষ্ট করা।" (৫২)।
তিনি বলেন: "এই জাতীয় যা কিছু আছে... তা সেই বিধানিক সুন্নাহর (السنة التشريعية) অন্তর্ভুক্ত নয় যা অনুসরণ করা ওয়াজিব (يجب)।" (৫৩)।
ফলে আপনি মনে করতে পারেন যে তিনি সর্বজনস্বীকৃত (مسلمة) প্রথম বিষয়টি বুঝিয়েছেন এবং তিনি বাধ্যবাধকতা (التزام), ধর্মীয় আবশ্যকতা (تكليف) এবং অনুসরণের আবশ্যকতা (وجوب الاتباع) অস্বীকার করতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন: "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন তা হলো—সুন্নাহর যে অংশ বিধান (تشريع) হিসেবে এসেছে এবং যা বিধান (تشريع) হিসেবে আসেনি, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে গভীর সূক্ষ্মতা ও কঠোর সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা।" (৫৪)।
তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু কথা ও কাজ কেবলমাত্র মানবীয় তাগিদে সম্পাদিত হয়েছে, তাই সেগুলোর কোনো বিধানিক বৈশিষ্ট্য (صفة تشريعية) নেই।" (৫১)।
ফলে আপনি মনে করতে পারেন যে তিনি বিরোধপূর্ণ (محل النزاع) দ্বিতীয় বিষয়টি বুঝিয়েছেন এবং তিনি মূলত বিধান (تشريع) হওয়ার বিষয়টিকেই অস্বীকার করেছেন।
এরপর তিনি এই মতের বৈপরীত্য প্রকাশ করেন এবং প্রমাণ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে কাজগুলো মানবীয় স্বভাবজাত, সেগুলো বৈধতা (مشروعية) প্রকাশ করে; সুতরাং সেগুলোও বিধান (تشريع)। তিনি বলেন: "কাজ—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পানাহার, ঘুম, হাঁটা, বসা ও এই জাতীয় কর্মকাণ্ড—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—তা কেবল বৈধতা (مشروعية) ছাড়া অন্য কিছুর প্রমাণ দেয় না। এটি স্বতন্ত্রভাবে কোনো আবশ্যকতা (وجوب) কিংবা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার প্রমাণ দেয় না, যেমন হাতে আহার করার বিষয়টি বা এই জাতীয় অন্যান্য কাজ। তবে কেউ যদি রাসূলের সাদৃশ্য গ্রহণের নিয়তে এবং তাঁর থেকে প্রকাশিত প্রতিটি বিষয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে তা করে, তবে সে সৎকর্মশীল এবং তার নিয়তের কারণে সওয়াবপ্রাপ্ত হবে; যেমনটি আমরা আগে সতর্ক করেছি এবং সাইয়্যিদ রশিদ রিদা তাঁর গবেষণায় এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন।" (৫৫)।
সুতরাং তিনি এখানে সাব্যস্ত করছেন যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাজগুলো বৈধতার (مشروعية) প্রমাণ দেয়, ফলে তা বিধান (تشريع)।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ক্ষেত্রে তিনি সাব্যস্ত করেছেন—যেমনটি মূলনীতিবিদ আলেমগণ (علماء الأصول) সাব্যস্ত করেন—যে সেগুলো এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রমাণ দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
المشروعية، أي على ما هو أكثر من الإباحة، تدل على الاستحباب أو الإرشاد في الأمر، وعلى الكراهية في النهي، وقد تدل على الإيجاب في الأمر، أو التحريم في النهي، تَبَعًا للقرائن. (55).
ونحن نغض الطرف عن هذا التَرَدُّدِ فِي العِبَارَةِ، ونعتبر هذا البحث - على أي حال - تَأْيِيدًا وَتَوْضِيحًا للقضية الأولى، وَرَدًّا وَتَفْنِيدًا للقضية الثانية، أَيًّا كَانَ قَائِلُهَا، ونعرض الشبهات الواردة في أبحاث المخالفين، وَنَرُدُّ عليها بما يثبت أَنَّ جميع أفعاله صلى الله عليه وسلم تشريع إن شاء الله.
1 - يذكرون قولاً للإمام ابن قتيبة (56) وقولاً للإمام القَرَافِي (57) كأنهم يستأنسون أو يستدلون بأقوالهما، وَلَا دَلِيلَ لَهُمْ فِي ذَلِكَ وَلَا أُنْسٌ. فماذا قال ابن قتيبة؟.
قال في " تأويل مختلف الحديث ": «وَالسُّنَنُ عِنْدَنَا ثَلَاثٌ: سُنَّةٌ أَتَاه جِبْرِيلُ عليهما السلام عَنْ اللهِ تَعَالَى، كَقَوْلِهِ: «لَا تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا وَلَا عَلَى خَالَتِهَا» (58)، وَالسُنَّةُ الثَّانِيَةُ سُنَّةٌ أَبَاحَ اللهُ لَهُ أَنْ يَسُنَّهَا، وَأَمَرَهُ بِاسْتِعْمَالِ رَأْيَهِ فِيهَا، فلَهُ أَنْ يَتَرَخَّصَ فِيهَا لِمَنْ شَاءَ، عَلَى حَسَبِ العِلَّةِ وَالعُذْرِ، كتحريمه الحَرِير عَلَى الرِّجَالِ، وَإذْنِهِ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بَنِ عَوْفٍ فِيهِ، لِعِلَّةٍ كَانَتْ بِهِ. وَالسُنَّةُ الثَّالِثَةُ مَا سَنَّهُ لَنَا تَأْدِيبًا، فَإِنْ نَحْنُ فَعَلْنَاهُ كَانَتْ لَنَا الفَضِيلَةُ فِي ذَلِكَ، وَإِنْ نَحْنُ تَرَكْنَاهُ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْنَا إِنْ شَاءَ اللهُ، كَأَمْرِهِ فِي العِمَّةِ بِالتَّحَلِّي (أََيْ كَأَمْرِهِ فِي العِمَامَةِ بِتَطْوِيقِهَا تَحْتَ الحَنَكِ) (59).
فأنت ترى أن أقل الأقسام التي ذكرها - وَهِيَ قَضِيَّةٌ فِي اللِّبَاسِ وَهَيْئَتِهِ - قد جعلها تَشْرِيعًا يُثَابُ فَاعِلُهُ، وليس فيما قاله سُنَّةٌ غَيْرُ تَشْرِيعِيَّةٍ.
2 - وأما الإمام القرافي فيقول:
«تَصَرُّفَاتُهُ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا مَا يَكُونُ بِالتَّبْلِيغِ وَالفَتْوَى إجمَاعًا، وَمِنْهَا مَا يُجْمِعُ النَّاسُ عَلَى أَنَّهُ بِالقَضَاءِ، وَمِنْهَا مَا يُجْمِعُ النَّاسُ عَلَى أَنَّهُ بِالإِمَامَةِ، وَمِنْهَا مَا يَخْتَلِفُ العُلمَاءُ فِيهِ، لِتَرَدُّدِهِ بَيْنَ رُتْبَتَيْنِ فَصَاعِدًا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَغْلِبُ عَلَيْهِ رُتْبَةٌ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَغْلِبُ عَلَيْهِ أُخْرَى.
ثم تَصَرُّفَاتُهُ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الأَوْصَافِ تَخْتَلِفُ آثَارُهَا فِي الشَّرِيعَةِ، فَكُلُّ مَا قَالَهُ صلى الله عليه وسلم أَوْ فَعَلَهُ عَلَى سَبِيلِ التَّبْلِيغِ كَانَ ذَلِكَ حُكْمًا عَامًّا عَلَى الثَّقَلَيْنِ إِلَى يَوِم القِيَامَةِ، فَإِنْ كَانَ مَأْمُورًا بَهِ أَقْدَمَ عَلَيْهِ كُلُّ أَحَدٍ بِنَفَسِهِ، وَكَذَا المُبَاحُ، وَإِنْ كَانَ مَنْهِيًّا عَنْهُ اجْتَنَبَهُ كُلُّ أَحَدٍ
--------------------------------------------
বিধানযোগ্যতা (المشروعية), অর্থাৎ যা নিছক বৈধতার (الإباحة) ঊর্ধ্বে, তা আদেশসূচক বাক্যে মুস্তাহাব (الاستحباب) বা দিকনির্দেশনা (الإرشاد) এবং নিষেধসূচক বাক্যে মাকরুহ (الكراهية) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আবার পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرائن) ভিত্তিতে আদেশে ওয়াজিব (الإيجاب) বা নিষেধে হারাম (التحريم) হওয়ার ওপরও দালালত করতে পারে। (৫৫)।
আমরা শব্দচয়নের এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে এই আলোচনাকে—যেকোনো অবস্থাতেই—প্রথম বিষয়ের সমর্থন (تأييد) ও ব্যাখ্যা হিসেবে এবং দ্বিতীয় বিষয়ের (এর প্রবক্তা যেই হোক না কেন) খণ্ডন (تفنيد) ও প্রত্যাখ্যান হিসেবে গণ্য করছি। আমরা বিরোধীদের গবেষণায় উপস্থাপিত সংশয়গুলো (الشبهات) তুলে ধরছি এবং সেগুলোর এমন জবাব দিচ্ছি যার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, ইনশাআল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কাজই শরিয়ত প্রবর্তন (تشريع)।
১ - তারা ইমাম ইবনে কুতাইবাহর (৫৬) একটি উক্তি এবং ইমাম কারাফীর (৫৭) একটি উক্তি উল্লেখ করেন, যেন তারা এই দুইজনের বক্তব্যের মাধ্যমে সান্ত্বনা খুঁজছেন অথবা দলিল পেশ করছেন। অথচ এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই এবং সান্ত্বনারও কিছু নেই। ইবনে কুতাইবাহ কী বলেছেন?
তিনি "তালিফ মুখতালিফ আল-হাদিস" গ্রন্থে বলেছেন: «আমাদের নিকট সুন্নাহ (السنن) তিন প্রকার: প্রথম সুন্নাহ (سنة) যা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন, যেমন তাঁর বাণী: ‘কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা যাবে না’ (৫৮)। দ্বিতীয় সুন্নাহ (سنة) হলো যা প্রবর্তনের অনুমতি আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন এবং তাতে নিজের রায় (الرأي) প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তিনি কারণ ও ওজরের ভিত্তিতে যাকে ইচ্ছা তাতে ছাড় দিতে পারেন; যেমন পুরুষদের জন্য রেশম হারাম করা সত্ত্বেও আব্দুর রহমান বিন আউফকে তাঁর একটি রোগের কারণে এর অনুমতি দেওয়া। তৃতীয় সুন্নাহ (سنة) হলো যা তিনি আমাদের শিষ্টাচার (تأديبًا) শেখানোর জন্য প্রবর্তন করেছেন। আমরা যদি তা পালন করি তবে আমাদের জন্য তাতে ফজিলত (الفضيلة) রয়েছে, আর যদি তা বর্জন করি তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো গুনাহ নেই; যেমন পাগড়ি পরিধানের পদ্ধতির (পাগড়ির নিম্নাংশ থুতনির নিচ দিয়ে ঘুরিয়ে প্যাঁচানো) ব্যাপারে তাঁর নির্দেশ (৫৯)।
আপনি লক্ষ্য করুন যে, তিনি যে বিভাগগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে ক্ষুদ্রতম বিভাগটিকেও—যা পোশাক ও তার ধরন সম্পর্কিত বিষয়—তিনি শরিয়ত প্রবর্তন (تشريع) হিসেবে গণ্য করেছেন যার পালনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হবে। তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে শরিয়ত-বহির্ভূত কোনো সুন্নাহ (سنة) নেই।
২ - আর ইমাম কারাফী বলেন:
«রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মসমূহের (تصرفاته) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সর্বসম্মতিক্রমে তাবলিগ (التبليغ) ও ফতোয়া (الفتوى) হিসেবে গণ্য; কিছু এমন যা বিচার (القضاء) হিসেবে হওয়ার ব্যাপারে মানুষ একমত; কিছু এমন যা ইমামত (الإمامة) বা নেতৃত্ব হিসেবে হওয়ার ব্যাপারে মানুষ একমত; আর কিছু বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, কারণ তা দুই বা ততোধিক স্তরের মাঝে দোলাচলমান। ফলে তাদের কেউ একে এক স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ অন্য স্তরের।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই গুণাবলি সম্পন্ন কর্মসমূহের (تصرفاته) প্রভাব শরিয়তে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবলিগ (التبليغ) হিসেবে যা কিছু বলেছেন বা করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত জিন ও মানবজাতির জন্য সাধারণ বিধান (حكمًا عامًّا) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তা যদি আদেশপ্রাপ্ত বিষয় হয় তবে প্রত্যেকে নিজ থেকেই তা পালনে অগ্রগামী হবে, মুবাহ (المباح) বা বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাই। আর যদি তা নিষিদ্ধ (منهيًّا عنه) বিষয় হয় তবে প্রত্যেকে তা বর্জন করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
بِنَفْسِهِ.
وَكُلُّ مَا تَصَرَّفَ فِيهِ صلى الله عليه وسلم بِوَصْفِ الإِمَامَةِ لَا يَجُوزُ لأَحَدٍ أَنْ يُقْدِمَ عَلَيْه بِإِذْنِ الإِمَامِ اقْتِدَاءً بِهِ عليه السلام، وَلأَنَّ سَبَبَ تَصَرُّفِهِ فِيهِ بِوَصْفِ الإِمَامَةِ دُونَ التَّبْلِيغِ يَقْتَضِي ذَلِكَ».
وضرب الإمام القرافي لهذا النوع أمثلة منها بعض الجيوش، وصرف أموال بيت المال، وتولية القضاء وَالوُلَاّةِ، وعقد العهود، إلى نحو ذلك.
«وَمَا تَصَرَّفَ فِيهِ صلى الله عليه وسلم بِوَصْفِ القَضَاءِ لَا يَجُوزُ لأَحَدٍ أَنْ يُقْدِمَ عَلَيْهِ إلَاّ بِحُكْمِ حَاكِمٍ لأَنَّ السَّبَبَ الذِي لأَجْلِهِ تَصَرَّفَ فِيهِ صلى الله عليه وسلم بِوَصْفِ القَضَاءِ يَقْتَضِي ذَلِكَ».
وَمَثَّلَ الإِمَامُ القرافي بفصله صلى الله عليه وسلم بين اثنين في دعاوى الأموال أو أحكام الأبدان ونحوها بالبينات أو الأيمان والنكولات ونحوها.
ثم ذكر مسائل اختلف العلماء فِي تَصَرُّفَاتِهِ صلى الله عليه وسلم فيها، منها قوله صلى الله عليه وسلم لِهِنْدٍ بِنْتِ [عُتْبَةَ] امْرَأَةُ أَبِي سُفْيَانَ لَمَّا قَالَتْ لَهُ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَلَيْسَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي [وَوَلَدِي، إِلَاّ مَا أَخَذْتُ مِنْهُ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ]، فَقَالَ لَهَا عليه السلام: «خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ، بِالمَعْرُوفِ» (60).
اخْتَلَفَ العُُلَمَاءُ فِي هَذَا التَّصَرُّفُ مِنْهُ عليه السلام هَلْ هُوَ بِطَرِيقِ الفَتْوَى؟ فَيَجُوزُ لِكُلِّ مَنْ ظَفِرَ بِحَقِّهِ أَوْ بِجِنْسِهِ أَنْ يَأْخُذَهُ بِغَيْرِ عِلْمِ خَصْمِهِ بِهِ؟ [وَمَشْهُورُ مَذْهَبِ مَالِكٍ خِلَافُهُ بَلْ هُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِيِّ أَوْ هُوَ تَصَرُّفٌ بِالقَضَاءِ] فَلَا يَجُوزُ لأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ جِنْسَ حَقِّهِ [أَوْ حَقَّهُ] إذَا تَعَذَّرَ أَخْذُهُ مِنَ الغَرِيمِ إلَاّ بِقَضَاءِ قَاضٍ؟ حَكَى الْخَطَّابِيُّ القَوْلَيْنِ عَنْ العُلَمَاءِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ (61).
والذي يعنينا من هذا البحث أن الإمام القرافي لَمْ يَنْفِ التَّشْرِيعَ عَنْ أَيِّ فِعْلٍ مِنْ هَذِهِ الأَفْعَالِ، وأن بحثه في الفرق بين التشريع بصفة الرسالة والتبليغ، والتشريع بصفة الإمامة، والتشريع بصفة الفتوى، والتشريع بصفة القضاء، والكل تشريع.
والذي يعنينا في مثال هند وأبي سفيان أنه تشريع بالنسبة لهند، لا خلاف في ذلك، على معنى أنه أَحَلَّ لها أن تأخذ بالمعروف، ولا عقاب عليها يوم القيامة إن فعلت ذلك، أما أنه يقاس عليها غيرها أو لا يقاس؟ فهذا أمر آخر.
وَمِمَّا هو معلوم أن التشريع والإباحة بصفة خاصة قد تكون قاصرة على شخص دون غيره، كما سبق في إباحة الحرير لعبد الرحمن بن عوف لعذر، وقد يستثني
--------------------------------------------
স্বয়ং।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাষ্ট্রপ্রধানের (الإمامة) গুণাবলীতে যা কিছু পরিচালনা করেছেন, তাঁর ইত্তিবা (অনুসরণ) হিসেবে ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) অনুমতি ব্যতীত কারো জন্য তাতে অগ্রসর হওয়া বৈধ নয়। কারণ, তাবলিগ (التبليغ) ব্যতিরেকে কেবল ইমামতের (الإمامة) গুণাবলীতে তাঁর কাজ করার প্রেক্ষাপট এটাই দাবি করে।
ইমাম আল-কারাফি এই প্রকারের জন্য কিছু উদাহরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ, বায়তুল মালের অর্থ ব্যয় করা, বিচারক ও গভর্নর নিয়োগ দেওয়া, সন্ধি-চুক্তি সম্পাদন করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।
«আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচারকের (القضاء) গুণাবলীতে যা কিছু পরিচালনা করেছেন, বিচারকের রায় ব্যতীত কারো জন্য তাতে অগ্রসর হওয়া বৈধ নয়। কারণ, যে কারণে তিনি বিচারকের (القضاء) গুণাবলীতে কাজ করেছেন তা এটাই দাবি করে»।
ইমাম আল-কারাফি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আর্থিক দাবি বা শারীরিক দণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ (البينات), শপথ (الأيمان), কিংবা শপথ প্রত্যাখ্যান (النكولات) ইত্যাদির মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান করাকে।
এরপর তিনি এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের প্রকৃতি নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি। যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: "আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক, তিনি আমাকে এবং আমার সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন না, তবে আমি তাঁর অজান্তে যা গ্রহণ করি তা ব্যতীত।" তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি ন্যায়সঙ্গতভাবে (بالمعروف) তোমার এবং তোমার সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্রহণ করো।" (৬০)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আচরণটি কী প্রকৃতির ছিল তা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। এটি কি ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের পর্যায়ে ছিল? ফলে যে ব্যক্তি তার প্রাপ্য হক বা সেই জাতীয় কিছু লাভে সক্ষম হয়, তার জন্য কি প্রতিপক্ষের অজান্তেই তা গ্রহণ করা বৈধ হবে? (মালিকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত এর বিপরীত, বরং এটি শাফেয়ি মাজহাবের মত)। অথবা এটি কি বিচারকের বিচার (القضاء) হিসেবে ছিল? ফলে দেনাদারের কাছ থেকে হক আদায় করা যদি অসম্ভব হয়, তবে বিচারকের ফয়সালা ব্যতীত কারো জন্য তার সমজাতীয় প্রাপ্য হক গ্রহণ করা কি বৈধ হবে না? ইমাম খাত্তাবি এই হাদিস সম্পর্কে আলেমদের পক্ষ থেকে এই দুটি মতই বর্ণনা করেছেন (৬১)।
আমাদের এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, ইমাম আল-কারাফি এসব কর্মকাণ্ডের কোনটি থেকেই শরিয়ত প্রবর্তন (التشريع) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। বরং তাঁর আলোচনার মূল বিষয় হলো—রিসালাত (الرسالة) ও তাবলিগের (التبليغ) ভিত্তিতে শরিয়ত প্রবর্তন, ইমামত বা রাষ্ট্র পরিচালনার (الإمامة) ভিত্তিতে শরিয়ত প্রবর্তন, ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের মাধ্যমে শরিয়ত প্রবর্তন এবং বিচারকের বিচারকার্যের (القضاء) মাধ্যমে শরিয়ত প্রবর্তনের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করা; আর এগুলোর প্রতিটিই শরিয়ত প্রবর্তনের (التشريع) অন্তর্ভুক্ত।
হিন্দ ও আবু সুফিয়ানের উদাহরণের ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচ্য বিষয় হলো, এটি হিন্দের জন্য একটি শরয়ি বিধান (تشريع), এতে কোনো দ্বিমত নেই। এর অর্থ হলো, তিনি (নবী) তার জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করা হালাল করে দিয়েছেন এবং তিনি যদি তা করেন তবে কিয়ামতের দিন তাঁর কোনো শাস্তি হবে না। তবে তাঁর এই বিষয়ের ওপর অন্যদের কিয়াস (القياس) করা যাবে কি যাবে না—তা ভিন্ন বিষয়।
এটি একটি সুবিদিত বিষয় যে, বিশেষ কোনো গুণের ভিত্তিতে শরিয়ত প্রবর্তন (التشريع) বা বৈধতা (الإباحة) প্রদান কখনো কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য হতে পারে, অন্যদের জন্য নয়; যেমনটি ইতিপূর্বে ওজরের কারণে আব্দুর রহমান বিন আউফ-এর জন্য রেশম ব্যবহারের বৈধতা প্রদানের ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং এটি কখনো ব্যতিক্রম (استثناء) হিসেবেও হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
بالإباحة نوع من العام، كما حدث في استثناء الإذخر من شجر الحرم فأبيح قطعه وَحَرَّمَ قطع غيره، وقد يكون التشريع قَاصِرًا على زمن دون غيره، كما حدث في ادخار لحم الأضحية حيث قال: صلى الله عليه وسلم في عام: «مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلَا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَبَقِيَ فِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ» فَلَمَّا كَانَ العَامُ المُقْبِلُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا [عَامَ] المَاضِي؟ قَالَ: «كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا، فَإِنَّ [ذَلِكَ] العَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا» (62).
فالنهي عن الادخار من الأضحية كَانَ مَقْصُورًا عَلَى سُنَّةٍ وَاحِدَةٍ لِسَبَبٍ مِنَ الأَسْبَابِ، ثم رفع الحظر، وأبيح الادخار فيما بعد تلك السَنَةِ، وكل من الحظر والإباحة تشريع خاص بزمن.
3 - استدل المخالف بأثر ابن عباس الذي ذكرناه عند الكلام عَلَى السُنَّةِ عند الفقهاء حيث قال ابن عباس عن قومه: «صَدَقُوا وَكَذَبُوا»، فأثبت فعل النبي صلى الله عليه وسلم لِلْرَّمَلِ، وَنَفَى أَنَّهُ سُنَّةٌ، ويقول المخالف: وهذا يعني أمرين في غاية الأهمية.
أولهما: أن ما كان سُنَّةً فهو مطلوب الاتباع.
وثانيهما: أن بعض ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بِسُنَّةٍ وهو ما يعبر عنه المعاصرون بأنه ليس للتشريع (63). وهذا خلط بين القضيتين، وإدخال لإحداهما في الأخرى، فكلام ابن عباس حاصله: بعض أفعال النبي صلى الله عليه وسلم ليست مطلوبة الاتباع، وَهَذِهِ قَضِيَّةٌ مُسَلَّمَةٌ مَحْسُومَةٌ لَا نُنَاقِشُ فِيهَا، فكل أفعاله التي لبيان الجواز أو الإباحة ليست للتشريع، أي ليست للتشريع الملزم، لكفونا مؤونة النقاش، ولأغلقنا ملف الدعوى، لكن القضية الأخرى موضوع النزاع، بعض أفعال النبي صلى الله عليه وسلم ليست للتشريع مُطْلَقًا، ولا يثبت بها حكم شرعي أَصْلاً مُلْزِمٌ أَوْ غَيْرَ مُلْزِمٍ، ثم إن أثر ابن عباس المستدل به ليس فيما سبيله العادة والحاجة البشرية، وهي الدعوى التي يتبناها المخالف، وإنما هو في العبادة، في عبادة الحج وهيئاتها، في الرمل في الطواف وفي الركوب في السعي بين الصفا والمروة، وفي السعي نفسه، وفي رمي الجمرات، والمخالف يُسَلِّمُ بأن أفعاله صلى الله عليه وسلم في أمور العبادات تشريع.
ولو سألناه عن حكم الرمل بالنسبة للصحابة الذين كانوا معه صلى الله عليه وسلم والذين
--------------------------------------------
বৈধতার বিষয়টি সাধারণ (عام) নির্দেশের একটি প্রকার, যেমনটি হারামের গাছপালার মধ্য থেকে ইযখির ঘাসকে ব্যতিক্রম করার ক্ষেত্রে ঘটেছিল; ফলে এটি কর্তন করা বৈধ করা হয়েছিল এবং অন্যগুলো কর্তন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আবার কখনও বিধান প্রণয়ন (تشريع) এক সময়ের জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে, অন্য সময়ের জন্য নয়; যেমনটি কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। নবী (সা.) এক বছর বলেছিলেন: «তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর এমন অবস্থায় ভোরে উপনীত না হয় যে, তার ঘরে কুরবানীর কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকে»। পরবর্তী বছর সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি গত বছরের মতো করব? তিনি বললেন: «তোমরা আহার করো, অন্যকে খাওয়াও এবং জমিয়ে রাখো। কেননা গত বছর মানুষের মধ্যে কষ্ট (দুর্ভিক্ষ) ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাদের সাহায্য করো» (৬২)।
সুতরাং কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা বিশেষ কোনো কারণে একটি মাত্র বছরের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। অতঃপর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং ঐ বছরের পর থেকে জমিয়ে রাখা বৈধ করা হয়। আর এই নিষেধাজ্ঞা ও বৈধতা—উভয়ই হলো সময়-সাপেক্ষ বিশেষ বিধান প্রণয়ন (تشريع)।
৩ - বিরোধী পক্ষ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সেই বর্ণনা (أثر) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা আমরা ফকিহদের নিকট সুন্নাহ (سنة) সংক্রান্ত আলোচনার সময় উল্লেখ করেছি। সেখানে ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর কওম সম্পর্কে বলেছিলেন: «তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যা বলেছে», এর মাধ্যমে তিনি নবী (সা.)-এর রমল (দ্রুতপদে চলা) করার বিষয়টিকে সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু তা সুন্নাহ (سنة) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বিরোধী পক্ষ বলেন: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নির্দেশ করে।
প্রথমটি: যা সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য, তা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
দ্বিতীয়টি: নবী (সা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু অংশ সুন্নাহ (سنة) নয়, যাকে সমসাময়িকরা 'বিধান প্রণয়নের জন্য নয়' (ليس للتشريع) বলে অভিহিত করেন (৬৩)। এটি দুটি বিষয়ের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি এবং একটিকে অন্যটির মধ্যে প্রবিষ্ট করার নামান্তর। ইবনে আব্বাসের (রা.) কথার সারসংক্ষেপ হলো: নবী (সা.)-এর কিছু কাজ অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয় নয়; আর এটি একটি স্বীকৃত ও মীমাংসিত বিষয় যা নিয়ে আমরা বিতর্ক করি না। তাঁর যে সকল কাজ বৈধতা বা অনুমোদনের বর্ণনার জন্য ছিল, সেগুলো বিধান প্রণয়নের জন্য নয় (ليس للتشريع)—অর্থাৎ সেগুলো কোনো বাধ্যতামূলক বিধান প্রণয়নের (تشريع) জন্য নয়। তারা যদি এটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে আমাদের বিতর্কের প্রয়োজন হতো না এবং আমরা এই মামলার নথি বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু আসল বিরোধপূর্ণ বিষয়টি হলো—নবী (সা.)-এর কিছু কাজ মোটেও বিধান প্রণয়নের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো শারয়ী বিধান (حكم شرعي) আদৌ প্রমাণিত হয় না, চাই তা বাধ্যতামূলক হোক বা না হোক। অথচ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর যে বর্ণনা (أثر) দ্বারা দলিল দেওয়া হচ্ছে, সেটি মানুষের অভ্যাস বা প্রাকৃতিক প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়—যে দাবিটি বিরোধী পক্ষ করে থাকেন—বরং সেটি ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয়, অর্থাৎ হজের ইবাদত ও তার পদ্ধতির ক্ষেত্রে; যেমন তওয়াফের সময় রমল করা, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময় সওয়ারিতে আরোহণ করা, খোদ সায়ী করা এবং জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। অথচ বিরোধী পক্ষও স্বীকার করেন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে নবী (সা.)-এর কাজগুলো বিধান প্রণয়নের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত।
আমরা যদি তাঁকে ঐ সকল সাহাবীর ক্ষেত্রে রমল করার বিধান (حكم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যারা নবী (সা.)-এর সাথে ছিলেন এবং যারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
أمروا به لقال: تشريع يثاب على فعله ويعاقب على تركه، فغايته أنه تشريع غير عام وغير دائم لكنه تشريع. فما جاء في حديث ابن عباس من أفعاله صلى الله عليه وسلم كله شرع وتشريع.
4 - ويستدل المخالف على أن بعض أقواله وبعض أفعاله صلى الله عليه وسلم لم تكن للتشريع بأن الصحابة كانوا يفهمون ذلك فيخالفون أوامره ونواهيه، كما في أمرهم بِصَبْغِ الشَّيْبِ مُخَالَفَةً لِلْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، وكما في نهيه لهم عن الوصال (64)، ولا دليل له على ذلك، فإن الصحابة لم يفهموا من الأمر والنهي عدم التشريع، وإنما فهموا عدم الإلزام، وأن الأمر والنهي غير جازمين، فرأوا أنه تشريع إباحة.
5 - يستدل على دعواه ببشريته صلى الله عليه وسلم، فيقول: «وَمِمَّا لَا رَيْبَ فِيهِ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ بَشَرًا مِنَ النَّاسِ، وَلَمْ يَكُنْ مَلَكًا، وَأَنَّ رِسَالَتَهُ لَمْ تُلْغِ بَشَرِيَّتَهُ، وَأَنَّ بَعْضَ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ كَانَتْ تَصْدُرُ مِنْهُ بِمُقْتَضَى البَشَرِيَّةِ المَحْضِ، فَلَيْسَ لَهَا أَيَّ صِفَةٍ تَشْرِيعِيَّةٍ، مِثْلَ مَا وَرَدَ أَنَّهُ كَانَ يُعْجِبُهُ الذِّرَاعُ مِنَ الشَّاةِ، وَأَنَّهُ يُحِبُّ الدُّبَّاءَ (أَيْ القَرْعَ) فَهَذَا وَذَاكَ أَمْرٌ جِبِلِيٌّ تَخْتَلِفُ فِيهِ أَمْزِجَةُ البَشَرِ، فَلَوْ وَجَدَ مُسْلِمٌ لَا يُعْجِبَهُ لَحْمَ الذِّرَاعِ، بَلْ يُعْجِبُهُ لَحْمَ الظَّهْرِ أَوْ الفَخِذِ فلَا ضَيْرَ عَلَيْهِ، وَكَذَلِكَ مَنْ لَا يُحِبُّ الدُّبَّاءَ، وَإنمَا يُحِبُّ أَصْنَافًا أُخْرَى مِنَ الخُضْرَوَاتِ» (65).
ونحن بدورنا نسأله: صحيح أن رسالته صلى الله عليه وسلم لَمْ تُلْغِ بَشَرِيَّتَهُ، فَهَلْ بَشَرِيَّتُهُ صلى الله عليه وسلم تُلْغِي رِسَالَتَهُ في وقت من الأوقات؟ وبعبارة أخرى: هل هو ليس رسولاً في لحظة من اللحظات؟ أم هما متلازمان، وهو بشر رسول في جميع أوقاته وأحواله؟.
هل بعض أقواله وأفعاله التي تَصْدُرُ مِنْهُ بِمُقْتَضَى البَشَرِيَّةِ المَحْضِ لَا تُفِيدُ حُكْمًا شَرْعِيًّا للبشرية برفع الحرج عنها إذا وقع من الأُمَّةِ مثلها؟ هل حُبُّهُ للقرع لا يبيح للأمة حب القرع؟ هل حُبُّهُ للذراع لا يبيح للأمة حب الذراع؟
نعيد إلى الأذهان ما سُقْنَاهُ من النصوص عند تحديدنا لِلَفْظِ السُنَّةِ وَالتَشْرِيعِ، حيث ذكرنا قول الشاطبي: «جُمْهُورُ الأُصُولِيِّينَ يَرَوْنَ أَنَّ الفِعْلَ مِنَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم يَدُلُّ عَلَىَ مُطْلَقِ الإِذْنِ الَّذِي يَشْمَلُ الوُجُوبَ وَالنَّدْبَ وَالإِبَاحَةَ، مَا لَمْ يُوجَدْ دَلِيلٌ عَلَىَ تَعْيِينِ وَاحِدٍ مِنْهَا، وَكَوْنُ الفِعْلِ صَادِرًا عَنْ الرَّسُولِ عليه الصلاة والسلام بِوَصْفِهِ بَشَرًا كَالأَكْلِ
--------------------------------------------
যদি তাদের এটি করার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে তিনি বলতেন: এটি এমন একটি বিধান (تشريع) যার পালনে সওয়াব রয়েছে এবং বর্জনে শাস্তি রয়েছে। এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ ও অস্থায়ী বিধান (تشريع), কিন্তু এটি বিধানই (تشريع)। সুতরাং ইবনে আব্বাসের হাদিসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা কিছু রয়েছে, তার সবই শরিয়ত (شرع) এবং বিধানের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত।
4 - বিরুদ্ধবাদী পক্ষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু কথা ও কাজ বিধান (تشريع) হওয়ার জন্য নয় বলে দলিল পেশ করে এই যুক্তিতে যে, সাহাবীগণ তা বুঝতেন এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের বিরুদ্ধাচরণ করতেন। যেমন: ইহুদি ও নাসারাদের বিরোধিতা করার জন্য পক্ক কেশে কলপ করার নির্দেশ এবং নিরবচ্ছিন্ন রোজা রাখা (وصال) (৬৪) থেকে তাঁদের নিষেধ করা। অথচ এ বিষয়ে তার কাছে কোনো দলিল নেই; কারণ সাহাবীগণ আদেশ ও নিষেধ থেকে বিধানের (تشريع) অনুপস্থিতি বুঝতেন না, বরং তাঁরা কেবল বাধ্যবাধকতাহীনতা বুঝেছিলেন এবং এই যে, আদেশ ও নিষেধগুলো চূড়ান্ত বা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে তাঁরা এটিকে বৈধতার বিধান (تشريع إباحة) হিসেবে গণ্য করতেন।
5 - তিনি তাঁর দাবির স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানবিক সত্তার দলিল দিয়ে বলেন: «নিঃসন্দেহে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্য থেকে একজন মানুষ ছিলেন, কোনো ফেরেশতা ছিলেন না। তাঁর রিসালাত তাঁর মানবিকতাকে বিলুপ্ত করেনি এবং তাঁর কিছু কথা ও কাজ নিছক মানবিক তাগিদে সংঘটিত হতো। তাই সেগুলোর কোনো বিধানিক (تشريعية) বৈশিষ্ট্য নেই। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বকরির সামনের পায়ের গোশত পছন্দ করতেন এবং তিনি কদু পছন্দ করতেন। এসব বিষয় হলো প্রাকৃতিক (جبلي), যাতে মানুষের রুচি ভিন্ন ভিন্ন হয়। অতএব, কোনো মুসলিম যদি সামনের পায়ের গোশত পছন্দ না করে বরং পিঠ বা রানের গোশত পছন্দ করে, তবে তার কোনো ক্ষতি নেই। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি কদু পছন্দ করে না, বরং অন্য কোনো সবজি পছন্দ করে» (৬৫)।
আমরা এর জবাবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি: এটি সত্য যে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাত তাঁর মানবিকতাকে বিলুপ্ত করেনি, কিন্তু তাঁর মানবিকতা কি কোনো সময়ে তাঁর রিসালাতকে বিলুপ্ত করে? অন্য কথায়: তিনি কি কোনো একটি মুহূর্তের জন্যও রাসূল নন? নাকি উভয়টি অবিচ্ছেদ্য এবং তিনি তাঁর সকল সময়ে ও সকল অবস্থায় একজন 'মানব-রাসূল'?
নিছক মানবিক তাগিদে তাঁর থেকে প্রকাশ পাওয়া কিছু কথা ও কাজ কি মানবতার জন্য কোনো শরয়ি বিধান (حكم شرعي) প্রদান করে না—যেমন উম্মতের পক্ষ থেকে অনুরূপ কিছু ঘটলে তাদের সংকীর্ণতা দূর করা (رفع الحرج)? কদুর প্রতি তাঁর ভালোবাসা কি উম্মতের জন্য কদু ভালোবাসাকে বৈধ করে না? বকরির সামনের পায়ের গোশতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কি উম্মতের জন্য তা ভালোবাসাকে বৈধ করে না?
সুন্নাহ ও বিধান (تشريع) পরিভাষা নির্ধারণের সময় আমরা যেসকল পাঠ উদ্ধৃত করেছিলাম, তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি; যেখানে আমরা ইমাম শাতিবীর এই উক্তি উল্লেখ করেছিলাম: «অধিকাংশ উসুলবিদ (جمهور الأصوليين) মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজ সাধারণ অনুমতির (مطلق الإذن) ইঙ্গিত দেয়, যা ওয়াজিব (وجوب), মুস্তাহাব (ندب) এবং মুবাহ (إباحة) হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে—যতক্ষণ না এর মধ্যে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার দলিল পাওয়া যায়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কাজ মানুষ হিসেবে সংঘটিত হওয়া, যেমন আহার করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وَالشُّرْبِ وَالنَّوْمِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الأُمُورِ الجِبِلِيَّةِ قَرِينَةً عَلَىَ أَنَّ الفِعْلَ يُفِيدُ الإِبَاحَةَ، لَا الوُجُوبَ وَلَا النَّدْبَ» (16). (*).
كما ذكرنا قول إمام الحرمين: «فَالْمُخْتَارُ [إِذَنْ] أَنَّ فِعْلَهُ صلى الله عليه وسلم لَا يَدُلُّ بِعَيْنِهِ، وَلَكِنْ يُثَبُتُ عِنْدَنَا وُجُوبَ حَمْلِهِ عَلَى نَفْيِ الحَرَجِ فِيهِ عَنْ الأُمَّةِ، وَمُسْتَنَدُ هَذَا الاخْتِيَارِ [إِلَى] عِلْمِنَا أَنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ اخْتَلَفُوا فِي حَظْرٍ أَوْ إِبَاحَةٍ، فَنَقَلَ النَّاقِلِ فِي مَوْضِعِ اخْتِلَافِهِمْ فِعْلاً عَنْ المُصْطَفَىَ صلى الله عليه وسلم لَفَهِمُوا مِنْهُ أَنَّهُ لَا حَرَجَ عَلَىَ الأُمَّةِ فِي فِعْلِهِ. وُجَاحِدُ هَذَا جَاهِلٌ بِمَسَالِكِ النَّقْلِ فَضْلاً عَنْ المَعْنَى وَاللَّفْظِ» (14) (**).
6 - ويستدل المخالف على وجود أفعال للنبي صلى الله عليه وسلم لا تشريع فيها بغضبه ورضاه صلى الله عليه وسلم فيقول: «كَمَا أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام بِحُكْمِ بَشَرِيَّتِهِ يَرْضَىَ وَيَغْضَبُ، وَقَدْ يَصْدُرُ عَنْهُ فِي حَالِ الغَضَبِ مَا لَا يَقْصِدُهُ مِنْ قَوْلٍ أَوْ دُعَاءٍ عَلَىَ بَعْضِ النَّاسِ، فَيَجِبُ عَلَىَ أَهْلِ الْعِلْمِ مُرَاعَاةُ ذَلِكَ، وَلَا يَتَجَاوَزُوا بِهِ هَذَا المَجَالَ إِلَى مَجَالِ التَّشْرِيعِ وَاسْتِنْبَاطِ الأَحْكَامِ». ثم ساق ما رواه " مسلم " عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أن رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَلَبَ مِنْهُ أَنْ يَدْعُو لَهُ مُعَاوِيَةَ، فَجَاءَ فَوَجَدَهُ يَأْكُلُ، فَرَجَعَ، فَقَالَ لِلْنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: هُوَ يَأْكُلُ، قَالَ: «اذْهَبْ فَادْعُ لِي مُعَاوِيَةَ»، فَجَاءَهُ، فَوَجَدَهُ يَأْكُلُ، فَرَجَعَ، فَقَالَ لِلْنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: هُوَ يَأْكُلُ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «لَا أَشْبَعَ اللهُ بَطْنَهُ».
كما ساق حَدِيثًا آخَرَ، وراه " مسلم " أَيْضًا، أَنَّ رَجُلَيْنِ دَخَلَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَاهُ بِشَيْءٍ، فَأَغْضَبَاهُ، فَلَعَنَهُمَا، وَسَبَّهُمَا، فَسَأَلَتْهُ عَائِشَةُ، فَقَالَ لَهَا: «أَوَ مَا عَلِمْتِ مَا شَارَطْتُ عَلَيْهِ رَبِّي؟، قُلْتُ: اللهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ لَعَنْتُهُ، أَوْ سَبَبْتُهُ فَاجْعَلْهُ لَهُ زَكَاةً وَأَجْرًا» (66). فالمخالف يرى أن هذين الحديثين لا تشريع فيهما، ولكن الراسخين في العلم من الصفوة الأوائل استنبطوا من هذين الحديثين ومن غضبه صلى الله عليه وسلم وتصرفه هذا بمقتضى غضبه أَحْكَامًا شرعية جليلة، منها أن الغضب جائز على الأنبياء كما هو جائز على غيرهم من البشر، وأن الغاضب قد يقول ما لا يقصد، وبخاصة إذا كان رحيمًا بالمغضوب عليه كالأم تدعو على ابنها ساعة الغضب، وهي لا تحب له شَرًّا وهي لا تقصد أن تصيبه ما تدعو به عليه، ولذلك قالوا عنها: يدعو لسانها وقلبها يقول: لا. ورسول الله صلى الله عليه وسلم أرحم بالأُُمَّةِ من الأم على ولدها، مصداقًا لقوله تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ
--------------------------------------------
পানাহার, নিদ্রা এবং এ জাতীয় অন্যান্য সৃষ্টিগত স্বভাবজাত (الجبلية) বিষয়সমূহ এই আলামত বহন করে যে, এই কাজগুলো বৈধতা (الإباحة) প্রকাশ করে, কোনো আবশ্যকতা (الوجوب) বা পছন্দনীয়তা (الندব) নয়। (১৬)। (*).
যেমনটি আমরা ইমামুল হারামাইনের উক্তি উল্লেখ করেছি: «অতঃপর পছন্দনীয় মত এটিই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো হুকুম নির্দেশ করে না; তবে আমাদের নিকট এটি সাব্যস্ত হয় যে, একে উম্মতের জন্য সংকীর্ণতা বা গুনাহ না থাকার ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। এই মতের ভিত্তি হলো আমাদের এই জ্ঞান যে, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কোনো নিষিদ্ধতা (الحظر) বা বৈধতা (الإباحة) বিষয়ে মতবিরোধ করতেন, আর বর্ণনাকারী (الناقل) তাদের মতবিরোধের স্থানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কাজ বর্ণনা করতেন, তবে তারা তা থেকে এটিই বুঝতেন যে, এই কাজটি করার ক্ষেত্রে উম্মতের জন্য কোনো গুনাহ বা সংকীর্ণতা নেই। আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে, সে অর্থের গূঢ়তত্ত্ব ও শব্দের প্রয়োগ তো বটেই, বরং বর্ণনা পদ্ধতি (مسالك النقل) সম্পর্কেও অজ্ঞ।» (১৪) (**).
৬ - প্রতিপক্ষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কিছু কাজ যাতে কোনো শরয়ি বিধান নেই—তার সপক্ষে তাঁর ক্রোধ ও সন্তুষ্টিকে দলিল হিসেবে পেশ করে বলেন: «যেহেতু তিনি তাঁর মানবীয় প্রকৃতির কারণে সন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হতেন, এবং কখনও কখনও ক্রোধের অবস্থায় তাঁর পক্ষ থেকে এমন কথা বা কারও বিরুদ্ধে বদদোয়া প্রকাশ পেতে পারত যা তিনি মূলত উদ্দেশ্য করতেন না; তাই আলিমগণের জন্য এ বিষয়টি খেয়াল রাখা অপরিহার্য। তারা যেন একে বিধান প্রণয়ন এবং বিধান উদ্ভাবন (استنباط الأحكام)-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার না করেন।» এরপর তিনি মুসলিম-এ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুআবিয়াকে ডেকে আনতে বলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন মুআবিয়া খাচ্ছেন, তাই তিনি ফিরে আসলেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: সে খাচ্ছে। তিনি বললেন: «যাও, মুআবিয়াকে ডেকে আনো।» তিনি পুনরায় গিয়ে তাকে খেতে দেখলেন এবং ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: সে তো খাচ্ছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আল্লাহ তার পেট পূর্ণ না করুন।»
তিনি আরেকটি হাদিসও উল্লেখ করেছেন, যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, দুইজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে কোনো বিষয়ে কথা বললে তিনি রাগান্বিত হন এবং তাদের অভিশাপ দেন ও ভর্ৎসনা করেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে বলেন: «তুমি কি জানো না আমি আমার রবের সাথে কী অঙ্গীকার করেছি? আমি বলেছি: হে আল্লাহ, আমি তো একজন মানুষ মাত্র, সুতরাং আমি যদি কোনো মুসলিমকে অভিশাপ দেই বা গালি দেই, তবে আপনি তাকে তার জন্য পবিত্রতা ও প্রতিদান স্বরূপ কবুল করুন।» (৬৬)। প্রতিপক্ষ মনে করেন এই হাদিস দুটিতে কোনো শরয়ি বিধান নেই। কিন্তু প্রথম যুগের বরেণ্য বিজ্ঞ আলিমগণ এই দুটি হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই ক্রোধ ও আচরণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি বিধানসমূহ বের করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো—অন্যান্য মানুষের মতো নবীদের ক্ষেত্রেও রাগান্বিত হওয়া বৈধ (جائز), আর রাগান্বিত ব্যক্তি কখনও এমন কথা বলতে পারে যা সে উদ্দেশ্য করে না, বিশেষ করে যদি সে ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত দয়ালু হয়; যেমন মা রাগের মাথায় সন্তানের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন অথচ তিনি তার কোনো ক্ষতি চান না এবং যা বলছেন তা কার্যকর হোক সেটিও তার উদ্দেশ্য থাকে না। এজন্যই বলা হয়ে থাকে: মায়ের জিহ্বা বদদোয়া করলেও তার হৃদয় বলে ‘না’। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের প্রতি সন্তানের প্রতি মায়ের চেয়েও অধিক দয়ালু, মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা অনুযায়ী: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি তোমাদের কষ্ট হওয়াকে অসহ্য বোধ করেন...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭১)
عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} (67)
لقد اشتبه على المخالف أن كل تشريع يطلب الاقتداء به، فظن أنه لا يطلب الاقتداء به صلى الله عليه وسلم، في غضبه، فلا تشريع في هذا الفعل منه صلى الله عليه وسلم، وليس الأمر كما ظن، فالتشريع هنا أن الغضب عند البشر غير مقدور عليه، وغير مكتسب، وإنما هو انفعال لا يدخل تحت الإرادة، وهو معفو عنه - إِنْ شَاءَ اللهُ - في الحدود غير المقدور عليها، فإذا غضب مسلم بعد إثارة فقلت له: لا تغضب؟ قال لك رسول الله صلى الله عليه وسلم غضب، فإذا صدر عنه وهو غاضب ما لا يصدر عنه في حال الرضا فقلت له: لِمَ لَمْ تسيطر على أعصابك؟ ولم صدر منك مثل هذا؟ قال لك: صدر من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو غاضب ما لا يصدر عنه في حال الرضا.
فالتشريع في التماس العذر، ورجاء عفو الله عما صدر في حال الغضب، وبخاصة إذا عالج الآثار المترتبة عليه، بأن يدعو بخير لمن دعا عليه بشر، وأن يعوضه بنفع عما أصابه من ضُرٍّ، وأن يطلب السماح والصفح ممن أساء إليه.
إن الله تعالى أراد لرسوله صلى الله عليه وسلم أن يغضب، وأن يأتي بأمور تقع من ابن آدم حين يغضب، ويمسك عن أمور ينبغي أن يمسك عنها المسلم حين يغضب، لِيُعَّلِّمَ الأُمَّةَ حُدُودَ ما يعفى عنه وما لا يعفى عنه، ولِيُعَّلِّمَ الأُمَّةَ علاج آثار الغضب.
كما أراد لرسوله صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْسَى، وَأَنْ يَنْسَى فِي الصَّلَاةِ، فَيُسَلِّمَ من ثِنْتَيْنِ فِي صَلَاةٍ رُبَاعِيَّةٍ، ليقول: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي» (68). ثم يعلمنا أحكام النسيان في الصلاة.
إِنَّ أُمُورًا كثيرة غير مكتسبة تقع للأنبياء بحكم بشريتهم، لتتدخل الشريعة برسم الحدود الجائزة، والحدود الممنوعة.
الحزن مثلاً عند المصيبة، يموت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ابنه إبراهيم عليه السلام، فيحزن، ويبكي، وتدمع عيناه، بل يجري دمعهما، فَيَقُولُ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: يَا رَسُولَ اللهِ، تَبْكِي، أَوَ لَمْ تَنْهَى عَنِ الْبُكَاءِ؟ فَيَقُولُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا هَذَا رَحْمَةٌ» رِقَّةُ قَلْبٍ «مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ»، «إِنَّمَا نَهَيْتُ عَنْ صَوْتَيْنِ أَحْمَقَيْنِ فَاجِرَيْنِ: صَوْتٍ عِنْدَ نَغَمَةِ لَهْوٍ وَلَعِبٍ وَمَزَامِيرِ الشَيْطَانٍ، وَصَوْتٍ عِنْدَ مُصِيبَةٍ، وَخَمْشِ وُجُوهٍ، وَشَقِّ جُيُوبٍ، وَرَنَّةِ شَيْطَانٍ»، «إِنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ، وَلَا نَقُولُ مَا يُسْخِطُ الرَّبَّ» (69).
--------------------------------------------
{তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য দুঃসহ; তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়।} (৬৭)
বিরোধীদের নিকট এই বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে যে, প্রতিটি বিধানের (تشريع) ক্ষেত্রেই তাঁর অনুসরণ (اقتداء) করা আবশ্যক। তাই তারা মনে করেছে যে, রাগান্বিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ (اقتداء) করা কাম্য নয়; ফলে তাঁর এই কার্যের মাঝে কোনো বিধান (تشريع) নেই। অথচ বিষয়টি তাদের ধারণার মতো নয়। বরং এখানে বিধান (تشريع) হলো এই যে, মানুষের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা সাধ্যাতীত এবং এটি অর্জনযোগ্য কোনো বিষয় নয়; বরং এটি এমন এক আবেগীয় অবস্থা যা মানুষের ইচ্ছাশক্তির অধীন নয়। আর অনিয়ন্ত্রিত সীমার মধ্যে এটি—ইনশাআল্লাহ—ক্ষমাযোগ্য। সুতরাং কোনো মুসলিম উত্তেজিত হওয়ার পর যদি রাগান্বিত হয় এবং আপনি তাকে বলেন: ‘রাগ করবেন না’, তখন সে আপনাকে বলতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রাগান্বিত হয়েছেন। আবার রাগান্বিত অবস্থায় যদি তার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকাশ পায় না এবং আপনি তাকে বলেন: ‘কেন আপনি নিজের স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না? কেন আপনার থেকে এমনটি ঘটল?’, তখন সে আপনাকে বলতে পারে: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকেও রাগান্বিত অবস্থায় এমন কিছু প্রকাশ পেত যা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকাশ পেত না।’
সুতরাং এখানে বিধান (تشريع) হলো ওজর কবুল করা এবং রাগান্বিত অবস্থায় যা ঘটে গেছে সেটির জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমার আশা করা। বিশেষ করে যখন সে এর ফলে সৃষ্ট প্রভাবের প্রতিকার করে—যেমন যার জন্য মন্দ দোয়া করেছিল তার জন্য কল্যাণের দোয়া করা, যাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছেছিল তাকে উপকারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং যার সাথে অসদাচরণ করেছিল তার নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করা।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রাগান্বিত হওয়া এবং ক্রোধের সময় মানুষের পক্ষ থেকে যা ঘটে থাকে তা ঘটা পছন্দ করেছেন। আবার রাগান্বিত অবস্থায় একজন মুসলিমের যা থেকে বিরত থাকা উচিত, তা থেকেও তাঁকে বিরত রেখেছেন। যেন তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিতে পারেন যে, কোন সীমার বিষয়গুলো ক্ষমাযোগ্য এবং কোনগুলো ক্ষমাযোগ্য নয়; এবং উম্মতকে রাগের কুপ্রভাব প্রতিকারের উপায় শেখাতে পারেন।
ঠিক যেমনিভাবে তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য বিস্মৃতির (نسيان) শিকার হওয়া পছন্দ করেছেন, এমনকি সালাতের মধ্যেও; ফলে তিনি চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে দুই রাকাত পড়েই সালাম ফেরাতেন, যাতে তিনি বলতে পারেন: «আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই। সুতরাং আমি যদি ভুলে যাই, তবে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও» (৬৮)। এরপর তিনি আমাদের সালাতে বিস্মৃতির বিধানসমূহ (أحكام) শিক্ষা দেন।
নবীগণের মানবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁদের জীবনে এমন অনেক বিষয়ই ঘটে থাকে যা ইচ্ছাধীন নয়, যাতে শরিয়ত বৈধ ও নিষিদ্ধ সীমা রেখা অঙ্কনের মাধ্যমে তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ মুসিবতের সময় শোকাতুর হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি শোকাহত হন, ক্রন্দন করেন এবং তাঁর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়, এমনকি অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। তখন আবদুর রহমান (রা.) তাঁকে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন? আপনি কি ক্রন্দন করতে নিষেধ করেননি?’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এটি তো কেবল দয়া (رحمة)», অর্থাৎ হৃদয়ের কোমলতা। «যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।» «আমি কেবল দুটি নির্বুদ্ধিতা ও পাপাচারপূর্ণ শব্দ থেকে নিষেধ করেছি: আমোদ-প্রমোদ ও শয়তানের বাদ্যযন্ত্রের সময়ের শব্দ, আর বিপদের সময়কার শব্দ—চেহারা খামচানো, জামার বুক ছিঁড়ে ফেলা এবং শয়তানি বিলাপ।’ ‘নিশ্চয়ই চোখ অশ্রু ঝরায়, তবে আমরা এমন কিছু বলি না যা প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করে» (৬৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭২)
والضحك مثلاً مبادئه التبسم، فإن انبسط الوجه حتى بدت الأسنان من السرور فهو الضحك، فإن كان بصوت بحيث يسمع من بعد فهو القهقهة، وَلَمْ يُسْمَعْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُقًهْقِهُ أبدًا، وَأَكْثَرُ مَا رُؤِيَ يَبْتَسِمُ، تَعَجُّبًا، أَوْ إِعْجَابًا، أَوْ مُلَاطَفَةً، وَقَلَّمَا ضحك حتى بدت نواجذه، أي أضراسه.
قال ابن بطال: «وَالَّذِي يَظْهَرُ مِنْ مَجْمُوعِ الأَحَادِيثِ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي مُعْظَمِ أَحْوَالِهِ لَا يَزِيدُ عَلَى التَّبَسُّمِ وَرُبَّمَا زَادَ عَلَى ذَلِكَ فَضَحِكَ، وَالمَكْرُوهُ مِنْ ذَلِكَ إِنَّمَا هُوَ الإِكْثَارُ مِنْهُ، أَوِ الإِفْرَاطُ فِيهِ لأَنَّهُ يُذْهِبُ الوَقَارَ، وَالَّذِي يَنْبَغِي أَنْ يُقْتَدَى بِهِ مِنْ فِعْلِهِ مَا وَاظَبَ عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ»، فَقَدْ رَوَى البُخَارِيُّ فِي " الأَدَبِ المُفْردِ " وَابْنُ مَاجَهْ [مِنْ وَجْهَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَفَعَهُ] «لَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ القَلْبَ» الحَدِيثُ (70).
وهكذا يتبين أن الشبهات التي تعلق بها المُخَالِفُونَ شُبُهَاتٍ وَاهِيَةٍ، نشأ أكثرها من التباس الأمر عندهم بين التشريع العام الملزم المطلوب، والتشريع غير الملزم وغير المطلوب.
ولكنهم كلهم على اختلاف مناهجهم ينفون التشريع عن بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم، بل ينفون الرسالة عنه في بعض أفعاله، كلهم يقول ذلك، والفرق بينهم الأفعال التي تطبق عليها هذه الصفة.
فالشيخ شلتوت يطبقهاعلى ما سبيله الحاجة البشرية، كالأكل والشرب والنوم والمشي والتزاور، وما سبيله التجارب والعادة الشخصية أو الاجتماعية، وما سبيله سبيل التدبير الإنساني، أَخْذًا من الظروف الخاصة، لا يفرق في ذلك بَيْنَ مُحَرَّمٍ أَوْ مَكْرُوهٍ، أَوْ وَاجِبٍ أَوْ مَنْدُوبٍ، أَوْ مُبَاحٍ، ويقول: «وَكُلُّ مَا نُقِلَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَدُوِّنَ فِي كُتُبِ الحَدِيثِ مِنْ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ وَتَقْرِيرَاتِهِ مِنْ هَذِهِ الأَنْوَاعِ الثَلَاثَةِ لَيْسَ شَرْعًا يَتَعَلَّقُ بِهِ الفِعْلُ وَالتَّرْكُ، وَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشُؤُونِ البَشَرِيَّةِ التِي لَيْسَ مَسْلَكَ الرَّسُولِ فِيهَا تَشْرِيعًا وَلَا مَصْدَرَ تَشْرِيعٍ» (22).
والدكتور النمر يطبقها على المعاملات المالية التي لم ترد في القرآن الكريم.
والدكتور القرضاوي - وهو أضيقهم دائرة في التطبيق - «يُطَبِّقُهَا عَلَى بَعْضَ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ صلى الله عليه وسلم، مِمَّا سَبِيلُهُ سَبِيلُ الحَاجَةِ البَشَرِيَّةِ، فَإِنَّهَا تَصْدُرُ مِنْهُ بِمُقْتَضَى البَشَرِيَّةِ المَحْضَ، وَلَيْسَ لَهَا - فِي رَأْيِهِ - أَيَّ صِفَةٍ تَشْرِيعِيَّةٍ». فكلهم ينفي التشريع من أساسه عن بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم، ينفي أَنْ يكون في هذه الأفعال صَادِرًا عَنْ وَحْيٍ، أَوْ مُرَاقَبًا مِنْ وَحْيٍ، وكأن هذه الأفعال ليس لها حكم عند اللهِ، مع أننا نعتقد أن كل مؤمن، بل كل
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ, হাসির প্রাথমিক ধাপ হলো মুচকি হাসি। যদি আনন্দের কারণে মুখমণ্ডলে প্রফুল্লতা ফুটে ওঠে এবং দাঁত দেখা যায়, তবে তাকে হাসি বলা হয়। আর যদি তা এমন উচ্চশব্দে হয় যা দূর থেকে শোনা যায়, তবে তা হলো অট্টহাসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো অট্টহাসি দিতে শোনা যায়নি। বিস্ময়, প্রশংসা কিংবা মমতা প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁকে অধিকাংশ সময় মুচকি হাসতেই দেখা যেত। তিনি খুব কমই এমনভাবে হাসতেন যাতে তাঁর মাড়ির দাঁত অর্থাৎ পেষক দাঁত প্রকাশ পায়।
ইবনে বাত্তাল বলেন: «হাদিসসমূহের সামগ্রিক বিশ্লেষণ থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুচকি হাসির বেশি কিছু করতেন না। তবে কখনো কখনো এর চেয়ে বেশি হাসতেন। হাসির ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় (مكروه) দিক হলো এর আধিক্য বা এতে বাড়াবাড়ি করা, কারণ এটি গাম্ভীর্য বিনাশ করে। তাঁর কর্মপদ্ধতির মধ্যে যা অনুসরণযোগ্য, তা হলো সেই বিষয় যার ওপর তিনি নিয়মিত অবিচল থাকতেন।» ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদ-এ এবং ইবনে মাজাহ [আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে (رفعه) দুটি সূত্রে] বর্ণনা করেছেন: «তোমরা অধিক হেসো না, কারণ অধিক হাসি অন্তরকে মৃত করে ফেলে» হাদিস (৭০)।
এভাবে এটি স্পষ্ট হয় যে, বিরোধীরা যে সংশয়গুলো আঁকড়ে ধরেছে তা অত্যন্ত অসার; এগুলোর অধিকাংশের উৎপত্তি হয়েছে তাদের নিকট আবশ্যিক সাধারণ বিধান এবং অ-বাধ্যতামূলক বিষয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটার কারণে।
কিন্তু তারা সকলে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজকে বিধান হিসেবে অস্বীকার করেন; এমনকি তারা তাঁর কিছু কাজে নবুয়তের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেন। তারা সবাই এ কথা বলেন, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো কোন কাজগুলোর ওপর এই বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করা হবে তা নিয়ে।
শায়খ শালতুত একে সেই সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করেন যা মানবিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত, যেমন—আহার, পানীয়, নিদ্রা, চলাফেরা ও পারস্পরিক সাক্ষাৎ এবং যা ব্যক্তিগত বা সামাজিক অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত, কিংবা যা বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে মানবিক ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত। তিনি এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ (محرم), অপছন্দনীয় (مكروه), আবশ্যিক (واجب), পছন্দনীয় (مندوب) বা বৈধ (مباح)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এবং হাদিস গ্রন্থসমূহে তাঁর যেসব কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرات) এই তিন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে, তা এমন কোনো বিধান নয় যা পালন করা বা বর্জন করা সম্পর্কিত; বরং এগুলো মানবিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেখানে রাসূলের কর্মপন্থা কোনো বিধান নয় এবং বিধানের উৎসও নয়» (২২)।
ডক্টর আল-নিমর একে এমন সব আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন যা কুরআনে কারিমে বর্ণিত হয়নি।
আর ডক্টর আল-কারযাভী—যিনি এই প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংকীর্ণ পরিসর অনুসরণ করেন—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কিছু কথা ও কাজের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করেন যা মানবিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর মতে, এগুলো কেবল বিশুদ্ধ মানবিক তাড়না থেকে তাঁর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এগুলোর কোনো বিধিবদ্ধ বৈশিষ্ট্য নেই। সুতরাং তারা সবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু কাজের ক্ষেত্রে মূলগতভাবে বিধান হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা অস্বীকার করেন যে, এই কাজগুলো ওহীর মাধ্যমে উৎসারিত বা ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেন আল্লাহর কাছে এই কাজগুলোর কোনো হুকুম নেই, যদিও আমরা বিশ্বাস করি যে প্রত্যেক মুমিন, বরং প্রত্যেক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
إنسان مراقب من الله، محاسب على ما يفعل، مِصْدَاقًا لقوله تعالى: {مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَاّ لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ} (71).
فكيف تفلت أفعال محمد صلى الله عليه وسلم من المراقبة والتوجيه؟ وهو الذي أُمِرَتْ الأُمَّةُ بطاعته والاقتداء به؟ كيف نقول: إِنَّ فِعْلاً مِنْ أَفْعَالِهِ لا يخضع للرقابة والتوجيه؟ وهو الذي حُوسِبَ وَعُوتِبَ على أنه امتنع عن كل طعام يحبه، إرضاء لأزواجه؟ فَنَزَلَ فِيهِ قُرْآنٌ يُتْلَى {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ، قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ} (72).
كَيْفَ نَقُولُ: إِنَّ فِعْلاً مِنْ أَفْعَالِهِ صلى الله عليه وسلم لا يخضع للرقابة والتوجيه؟ وهو الذي حُوسِبَ وَعُوتِبَ على عوارض انفعالاته؟ وَتَجَهَّمَ وَجْهُهُ فِي مُلَاقَاةِ أَعْمَى لَا يَرَاهُ؟ ولا يتأثر بعبوسه؟ فَنَزَلَ فِيهِ قُرْآنٌ يُتْلَى {عَبَسَ وَتَوَلَّى (1) أَنْ جَاءَهُ الأَعْمَى (2) وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى (3) أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى (4) أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى (5) فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى (6) وَمَا عَلَيْكَ أَلَاّ يَزَّكَّى (7) وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى (8) وَهُوَ يَخْشَى (9) فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى (10) كَلَاّ إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ (11)} (73).
كَيْفَ نَقُولُ: إِنَّ فِعْلاً مِنْ أَفْعَالِهِ صلى الله عليه وسلم لا يخضع للرقابة والتوجيه؟ وهو الذي حُوسِبَ وَعُوتِبَ على خلجات قلبه؟ ودواخل نفسه، فَنَزَلَ فِيهِ قُرْآنٌ يُتْلَى {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ} (74).
أليست هذه الأفعال قد صدرت منه صلى الله عليه وسلم بصفته البشرية؟ أليس الإقبال على طعام والامتناع عنه ما دام مُبَاحًا أَمْرًا من أمور الدنيا المحض؟ وَمِمَّا سبيله سبيل الحاجة البشرية؟
أليس العبوس عَارِضًا من العوارض الجِبِلِّيَّةِ والانفعالات البشرية؟ أليست خطرات النفس وما يدور بداخلها من الخواطر البشرية؟.
لكنها كلها خضعت لرقابة الوحي، وتوجيه الوحي، وهي مثال ودليل على أن كل أفعاله صلى الله عليه وسلم مراقبة من فوق سبع سموات، خاضعة للوحي بالإقرار أو التعديل.
ثم إن المخالفين يتفقون معنا في أن رؤياه صلى الله عليه وسلم وَحْيٌ، وإلهامه صلى الله عليه وسلم وَحْيٌ واجتهاده صلى الله عليه وسلم بِمَنْزِلَةِ الوَحْيِ، أي بعد أن يقر، وينزل جبريل عليه السلام، وتمر فترة تسمح بالتعديل، وهو بمنزل الوحي قَطْعًا ما لم يعدل حتى لحق صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى.
إن الشافعي يُصَرِّحُ بأن كل فعل من أفعال المكلفين له حكم عند الله، وهذه عقيدة إسلامية، لأن أي فعل للمكلف إما أن يكون مَرْضِيًّا عنه من الله تعالى، وإما أن يكون غير
--------------------------------------------
মানুষ আল্লাহ কর্তৃক পর্যবেক্ষণাধীন, সে যা করে তার জন্য সে জিজ্ঞাসিত হবে। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: {সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার জন্য একজন তৎপর পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকে।} (৭১)।
তবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি কীভাবে পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা থেকে বাইরে থাকতে পারে? অথচ উম্মতকে তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা কীভাবে বলতে পারি যে, তাঁর কোনো কাজ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার অধীন নয়? অথচ তাঁর স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় কোনো খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কারণে তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়েছিল এবং অনুযোগ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তিলাওয়াতকৃত কুরআন নাজিল হয়েছে: {হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন আপনি কেন তা হারাম করছেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন।} (৭২)।
আমরা কীভাবে বলতে পারি যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো কাজ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার ঊর্ধ্বে? অথচ তাঁর আবেগপ্রসূত আচরণের কারণেও তাঁকে জবাবদিহি ও অনুযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। একজন অন্ধ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁর মুখমণ্ডল সংকুচিত হয়েছিল, যে তাঁকে দেখতে পায়নি এবং তাঁর ভ্রুকুটিতে প্রভাবিতও হয়নি। এ বিষয়ে পঠিত কুরআন নাজিল হয়েছে: {তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। (১) কারণ তাঁর কাছে অন্ধ লোকটি এলো। (২) আপনি কী জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো। (৩) অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং উপদেশ তার উপকারে আসত (৪) পক্ষান্তরে যে বেপরোয়া, (৫) আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন। (৬) অথচ সে যদি পরিশুদ্ধ না হয়, তবে আপনার কোনো দায় নেই। (৭) আর যে আপনার কাছে ছুটে এলো, (৮) এবং সে ভয় করে, (৯) আপনি তাকে অবজ্ঞা করছেন। (১০) কখনোই নয়, এটি তো একটি উপদেশবাণী। (১১)} (৭৩)।
আমরা কীভাবে বলতে পারি যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো কাজ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার আওতাভুক্ত নয়? অথচ তাঁর অন্তরের স্পন্দন ও মনের অভ্যন্তরীণ চিন্তার জন্যও তাঁকে জবাবদিহি ও অনুযোগ করা হয়েছে। অতঃপর এ বিষয়ে পঠিত কুরআন নাজিল হয়েছে: {স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন আপনি তাকে বলছিলেন: তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো। আর আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করছিলেন তা আল্লাহ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন এবং আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহই ভয়ের অধিক হকদার।} (৭৪)।
এই কাজগুলো কি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানবিক সত্তা থেকে উৎসারিত হয়নি? কোনো খাদ্য গ্রহণ করা বা তা থেকে বিরত থাকা—যতক্ষণ পর্যন্ত তা বৈধ (مباح)—তা কি কেবলই দুনিয়াবি বিষয় নয়? এবং তা কি মানবিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
ভ্রুকুটি কি স্বভাবজাত বিষয়গুলোর একটি এবং মানবিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়? মনের সংকল্প এবং এর অভ্যন্তরে যা আবর্তিত হয় তা কি মানবিক চিন্তা নয়?
কিন্তু এ সব কিছুই ওহির (وحي) পর্যবেক্ষণে ও ওহির (وحي) নির্দেশনার অধীন ছিল। এটি উদাহরণ এবং দলিল যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি কাজ সপ্ত আসমানের ওপর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যা সমর্থন (إقرار) বা সংশোধনের মাধ্যমে ওহির (وحي) অনুগত।
তদুপরি, বিরোধীরাও আমাদের সাথে একমত যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্ন দেখা ওহি (وحي), তাঁর ইলহাম (إلهام) হলো ওহি (وحي) এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) ওহির (وحي) সমপর্যায়ের। অর্থাৎ তা সমর্থিত হওয়ার পর এবং জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হওয়ার পর, যখন সংশোধনের অবকাশ থাকে এমন সময় পার হয়ে যায়। আর তা নিশ্চিতভাবে ওহির (وحي) মর্যাদায় থাকে যতক্ষণ না তা সংশোধিত হয়, এমনকি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে (রফিক আল-আলা) চলে যাওয়া পর্যন্ত।
ইমাম শাফেঈ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মুকাল্লাফ (مكلف) বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর নিকট বিধান (حكم) রয়েছে। এটি একটি ইসলামি আকিদা (عقيدة), কারণ মুকাল্লাফ (مكلف)-এর যেকোনো কাজ হয় আল্লাহ তাআলার কাছে সন্তোষজনক হবে, নতুবা অসন্তোষজনক হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
مرضي عنه - وكل من طرفي المباح مرضي عنه - ويستحيل أن يفعل الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم فِعْلاً لَا يَرْضَى عَنْهُ اللهُ، ثم يتركه اللهُ دون توجيه لما يرضيه، وبعبارة أخرى: كل فعل من أفعاله صلى الله عليه وسلم إما أن يكون مُوَافِقًا لِمَا شَرَّعَهُ اللهُ لِلْمُسْلِمِينَ، وُجُوبًا أَوْ نَدْبًا أَوْ إِبَاحَةً وَحِينَئِذٍ ينزل جبريل عليه السلام، وَيُقِرُّهُ صَرَاحَةً، أو يسكت عنه، فيكون إِقْرَارًا سُكُوتِيًا، ويكون شَرْعًا للمسلمين، حيث لم يعدل هذا الحكم حتى لحق الرسول صلى الله عليه وسلم بربه، لأنه تعالى أمرهم أن يقتدوا به صلى الله عليه وسلم في أفعاله {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (75).
وإما أن يكون غير موافق لما شرعه اللهُ للمسلمين، فيستحيل سكوت الله عليه ويعدل قَطْعًا بوسيلة من الوسائل، بالإلهام، أو بالمنام، أو بالاجتهاد، أو بالوحي الصريح.
سواء في ذلك الفعل الذي صدر منه صلى الله عليه وسلم بالإلهام، أو بالاجتهاد، أو حتى بالطبيعة وَالجِبِلَّةِ أو العادة وَالعُرْفِ.
وكان الصحابة رضي الله عنهم يؤمنون بذلك، لبس نعله في الصلاة فلبسوا نعالهم، فلما خلع نعله - لسبب لا يعلمونه - خلعوا نعالهم، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ لَهُمْ: «مَا حَمَلَكُمْ عَلَى إِلْقَاءِ نِعَالِكُمْ؟»، قَالُوا: رَأَيْنَاكَ أَلْقَيْتَ نَعْلَيْكَ، فَأَلْقَيْنَا نِعَالَنَا. قَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّ فِيهِمَا قَذَرًا - أَوْ قَالَ: أَذًى» (76). ونزل صلى الله عليه وسلم ضيفًا على أبي أيوب الأنصاري فتكلفوا له طعامًا، فيه بعض البقول (الثوم) فكره أكله، أكل من غيره، ولم يمد يده إليه فلم يمدوا إليه أيديهم، فقال لأصحابه: «كُلُوا، فَإِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُوذِيَ صَاحِبِي» (77).
ودخل خالد بن الوليد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على ميمونة بنت الحارث الهلالية زوجة رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وهي خالة خالد، وخالة ابن عباس رضي الله عنهم فوجد عندها ضَبًّا (78) مَحْنُوذًا - أَيْ مَشْوِيًّا - قدمت به أختها حُفَيْدَةَ بِنْتَ الحَارِثِ مِنْ نَجْدٍ، فَقَدَّمَتْ الضَبَّ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قَلَّمَا يُقَدِّمُ يَدَهُ لِطَعَامٍ حَتَّى يُحَدَّثَ بِهِ، وَيُسَمَّى لَهُ، فأهوى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يده إلى الضب، فقالت امرأة من النسوة الحضور: أَخْبِرْنَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَدَّمْتُهُنَّ لَهُ. هُوَ الضَبُّ يَا رَسُولَ اللهِ. فَرَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَنْ الضَبِّ فَلَمْ يَمُدَّ خالد بن الوليد يده، وقال: أحرام الضب يا رسول الله؟ قال: «لَا، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ
--------------------------------------------
পছন্দনীয় (مرضي عنه) - এবং বৈধতার (إباحة) প্রতিটি দিকই পছন্দনীয় (مرضي عنه) - আর এটি অসম্ভব যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কোনো কাজ করবেন যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে সন্তোষজনক বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান না করেই ছেড়ে দেবেন। অন্য কথায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি কাজ হয় আল্লাহ মুসলিমদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার অনুকূলে হবে - তা আবশ্যকতা (وجوباً), পছন্দনীয়তা (ندباً) কিংবা বৈধতা (إباحة) যাই হোক না কেন - এমতাবস্থায় জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হন এবং স্পষ্টভাবে তা সমর্থন করেন, অথবা সে বিষয়ে নীরব থাকেন, ফলে তা মৌনসম্মতি (إقراراً سكوتياً) হিসেবে গণ্য হয় এবং মুসলিমদের জন্য তা শরীয়ত (شرعاً) হিসেবে সাব্যস্ত হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের সান্নিধ্যে না যাওয়া পর্যন্ত এই বিধান (حكم) পরিবর্তিত হয়নি; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর কার্যাবলীতে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকাল আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} (৭৫)।
আর যদি এমন হয় যে, তা আল্লাহ মুসলিমদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার অনুকূলে নয়, তবে সেক্ষেত্রে আল্লাহর নীরব থাকা অসম্ভব এবং তিনি অবশ্যই কোনো না কোনো উপায়ে তা সংশোধন করে দেন - হোক তা ইলহাম (إلهام), স্বপ্ন (منام), ইজতিহাদ (اجتهاد) কিংবা স্পষ্ট ওহি (وحي صريح)-এর মাধ্যমে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রকাশিত সেই কাজটি ইলহাম (إلهام), ইজতিহাদ (اجتهاد), এমনকি তাঁর প্রকৃতি ও সহজাত প্রবৃত্তি (الجبلة) অথবা অভ্যাস ও প্রথা (العرف) অনুযায়ী হলেও তাতে কোনো পার্থক্য নেই।
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এটি বিশ্বাস করতেন। তিনি সালাতে জুতা পরিধান করলে তাঁরাও জুতা পরিধান করতেন; আবার তিনি যখন জুতা খুলে ফেলতেন - যা তাঁদের কাছে অজ্ঞাত কোনো কারণে - তাঁরাও তাঁদের জুতা খুলে ফেলতেন। সালাত শেষ করে তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন: «তোমাদের জুতা নিক্ষেপ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?», তাঁরা বললেন: আমরা আপনাকে আপনার জুতা নিক্ষেপ করতে দেখেছি, তাই আমরাও আমাদের জুতা নিক্ষেপ করেছি। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে সংবাদ দিলেন যে সে দুটিতে অপবিত্রতা (قذر) - অথবা বললেন: ময়লা (أذى) - রয়েছে» (৭৬)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু আইয়ুব আনসারীর মেহমান হলেন। তাঁরা তাঁর জন্য কিছু খাবার তৈরি করলেন যাতে কিছু সবজি (রসুন) ছিল। তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন এবং অন্যগুলো খেলেন। তিনি সেই খাবারের দিকে হাত বাড়াননি বলে তাঁরাও হাত বাড়ালেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: «তোমরা খাও, কেননা আমি তোমাদের মতো নই; আমি আমার সঙ্গীর (ফেরেশতা) কষ্ট হওয়ার ভয় করি» (৭৭)।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মায়মুনা বিনতে হারিস আল-হিলালিয়ার ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী এবং খালিদ ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর খালা ছিলেন। সেখানে তিনি ভুনা করা একটি ধব (৭৮) দেখতে পেলেন, যা তাঁর বোন হুফাইদা বিনতে হারিস নাজদ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ধবটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে পেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাধারণত কোনো খাবারের নাম এবং পরিচয় না জানা পর্যন্ত তাতে হাত দিতেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধবটির দিকে হাত বাড়ালে উপস্থিত মহিলাদের একজন বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানিয়ে দাও তারা তাঁকে কী পরিবেশন করেছে। হে আল্লাহর রাসূল! এটি হলো ধব। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধবটি থেকে হাত সরিয়ে নিলেন। খালিদ বিন ওয়ালিদও হাত বাড়ালেন না এবং জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! ধব কি হারাম (حرام)? তিনি বললেন: «না, তবে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ». قال خالد بن الوليد: فَاجْتَزَرْتُهُ فَأَكَلْتُهُ، وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ إِلَيَّ (79). هكذا كان الصحابة يعلمون أن أكله صلى الله عليه وسلم تشريع، ويخافون من امتناعه صلى الله عليه وسلم من أكل شيء أن يكون مَمْنُوعًا وَحَرَامًا، ولا يتصور مسلم أنهم يُسَوُّونَ بين أكل رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام وأكل غيره من الصحابة لهذا الطعام، وما ذلك إلا لإيمانهم بأن فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم تشريع، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُؤَكِّدُ لَهُمْ هذا المعنى، فحين يحكم لهم بالقول بِحِلِّ شَيْءٍ كَانَ يُؤَكِّدُ هَذَا التَّحْلِيلَ اللفظي بالتحليل العملي فيسألهم أن يشركوه في أكل ما يسألون عن أكله فبعد أن أَحَلَّ لهم أكل الحمار الوحشي، وَقَالَ لَهُمْ: «كُلُوهُ، هُوَ حَلَالٌ»، قَالَ لَهُمْ: «هَلْ مَعَكُمْ مِنْهُ شَيْءٌ؟» فَنَاوَلُوهُ العَضُدَ فَأَكَلَهَا (80). وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ لَهُمْ: «كُلُوا وَأَطْعِمُونِي». قال بعض العلماء؛ طلب النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أن يأكل تَطْيِيبًا لقلب من أكل وبيانًا للجواز بالقول والفعل لإزالة الشُبْهَةِ (81). إن الذين ينفون التشريع عن فعل النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في الأكل والشرب يُسَوُّونَ بَيْنَ أَكْلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَكْلِ أَبِي جَهْلٍ وَأَبِي لَهَبٍ، فالكل عندهم صادر عن الجبلة والعادة والطبيعة البشرية. وما هكذا يفهم الإسلام.
هذا وإن ما يتعلق بالطعام والشراب يجري حكمه في جميع الأفعال الجبلية البشرية حتى قضاء الحاجة، وعلاقة الرجل بالمرأة، وهي أمور جبلية يشترك فيها الحيوان الأعجم مع الإنسان، تدخلت الشريعة الإسلامية فيها، وتدخلت السُنَّةُ النَّبَوِيَّةُ نحوها بتهذيب الطبائع وتقويم العادات.
كانوا يقضون الحاجة جماعات، يرى بعضهم بعضًا، ويكلم بعضهم بعضًا، فَعَلَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ البُعْدَ عِنْدَ قَضَاءِ الحَاجَةِ، وَعَلَّمَهُمْ التواري والتستر وعدم الكلام مِمَّا لم يكن مألوفًا وكانوا يبولون قِيَامًا، فلما بال رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا قال بعضهم لبعض: انظروا، إنه يبول جَالِسًا كما تبول المرأة (82).
وكانوا لا يؤاكلون الحائض، ولا يأكلون ما عملت يداها، ولا يخالطونها ولا يلامسونها، عادات يهودية جاهلية، فتدخلت الشريعة بتغيير ما لا يصلح، فكان رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يباشر نساءه فوق الإزار وَهُنَّ حُيَّضٌ (84)، وتغسل زوجته له رأسه وهي حائض (85)، ويطلب من زوجته الحائض أن تناوله فراش الصلاة، فَتَقُولُ لَهُ: إِنِّي حَائِضٌ؟ فَيَقُولُ لَهَا: «إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ» (86)، وتشرب عائشة من الإناء، وهي حائض، فيطلبه منها
--------------------------------------------
"এটি আমার কওমের ভূখণ্ডে নেই, তাই আমি এটি গ্রহণে অনীহা বোধ করছি।" খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন: "অতঃপর আমি তা কাটলাম এবং আহার করলাম, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন (৭৯)।" এভাবেই সাহাবীগণ জানতেন যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহার গ্রহণ ছিল একটি শরয়ি বিধান (تشريع), এবং তাঁরা কোনো কিছু খাওয়া থেকে তাঁর বিরত থাকাকে তা নিষিদ্ধ (حراما) হওয়ার আশঙ্কা করতেন। কোনো মুসলিমই এমনটি কল্পনা করতে পারে না যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহার গ্রহণ এবং অন্য কোনো সাহাবীর আহার গ্রহণের বিষয়টিকে সমান মনে করতেন; আর এটি ছিল কেবল এ কারণে যে, তাঁদের বিশ্বাস ছিল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কর্মই শরয়ি বিধান (تشريع)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতেন। যখন তিনি তাঁদের জন্য কোনো কিছু বৈধ (حلال) হওয়ার শাব্দিক হুকুম দিতেন, তখন তিনি সেই মৌখিক বৈধকরণকে কর্মগত বৈধকরণের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করতেন। তাই যে বিষয় সম্পর্কে তাঁরা প্রশ্ন করতেন, তা আহার করার সময় তিনি তাঁদের সাথে শরিক হতে চাইতেন। যেমন বন্য গাধার গোশত খাওয়ার বৈধতা দেওয়ার পর এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে "তোমরা এটি খাও, এটি বৈধ (حلال)" বলার পর তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের কাছে কি এর কিছু অংশ আছে?" তখন তাঁরা তাঁকে সামনের পা প্রদান করলে তিনি তা আহার করলেন (৮০)। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি তাঁদের বললেন: "তোমরা খাও এবং আমাকেও খাওয়াও।" কিছু আলিম বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা আহার করছিল তাদের মনকে আশ্বস্ত করার জন্য এবং সংশয় (الشبهة) দূর করতে কথা ও কাজের মাধ্যমে বৈধতা (جواز) প্রকাশের উদ্দেশ্যে খাবার চেয়েছিলেন (৮১)। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহার ও পান সংক্রান্ত কর্ম থেকে শরয়ি বিধান (تشريع) হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে, তারা মূলত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহার গ্রহণ এবং আবু জাহল ও আবু লাহাবের আহার গ্রহণের মধ্যে সমতা বিধান করে। তাদের মতে সব কিছুই কেবল মানবীয় প্রকৃতি (الجبلة), অভ্যাস ও মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকে উৎসারিত। অথচ ইসলামকে এভাবে বোঝা হয় না।
তাছাড়া আহার ও পান সংক্রান্ত এই বিধান সমস্ত মানবিক স্বভাবজাত (الجبلية) কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, এমনকি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। এগুলো এমন স্বভাবজাত বিষয় যাতে ইতর প্রাণীও মানুষের সাথে অংশীদার, অথচ ইসলামি শরিয়ত এতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নববী সুন্নাহ মানুষের স্বভাবকে পরিমার্জিত করতে এবং অভ্যাসকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এতে ভূমিকা রেখেছে।
তারা (জাহেলি যুগে) দলবদ্ধভাবে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করত, একে অপরকে দেখত এবং একে অপরের সাথে কথা বলত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে যাওয়ার শিক্ষা দিলেন। তিনি তাঁদের এমনভাবে আত্মগোপন ও শরীর ঢেকে রাখার এবং কথা না বলার শিক্ষা দিলেন যা পূর্বে প্রচলিত ছিল না। তারা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করত, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বসে প্রস্রাব করলেন, তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল: "দেখ, তিনি নারীর মতো বসে প্রস্রাব করছেন (৮২)।"
তারা ঋতুবতী নারীর সাথে একত্রে আহার করত না, তার হাতের তৈরি খাবার খেত না এবং তার সাথে মেলামেশা বা তাকে স্পর্শ করত না। এগুলো ছিল ইহুদি ও জাহেলি যুগের কুসংস্কার। অতঃপর শরিয়ত যা সঠিক নয় তা পরিবর্তনের জন্য হস্তক্ষেপ করল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের ঋতুবস্থায় কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করতেন (৮৪), তাঁর স্ত্রী ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর মাথা ধুইয়ে দিতেন (৮৫), এবং তিনি তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীর কাছে নামাজের বিছানা চেয়ে পাঠাতেন। স্ত্রী বলতেন: "আমি তো ঋতুবতী?" তখন তিনি তাঁকে বলতেন: "তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নয় (৮৬)।" আয়েশা (রা.) ঋতুবতী অবস্থায় পাত্র থেকে পান করতেন, অতঃপর তিনি তাঁর কাছ থেকে সেটি চাইতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
- صلى الله عليه وسلم فتناوله، فيضع فَاهُ على موضع فَمِهَا حين شربت، فيشرب من مكان شُرْبِهَا وتنهش من قطعة اللحم، وهي حائض، فيتناولها منها، وينهش من المكان الذي نهشت منه، ويضع فمه على موضع فمها، ويتكئ في حجرها، وهي حائض، فيقرأ القرآن (87).
كل هذه الأفعال سبيلها سبيل الحاجة البشرية، وكلها شرع وتشريع، يقول الإمام النووي استنباطًا من هذه الأحاديث: «[فَفِيهِ جَوَازُ] النَّوْمِ مَعَ الحَائِضِ وَالاِضْطِجَاعِ مَعَهَا فِي لِحَافٍ وَاحِدٍ، إِذَا كَانَ هُنَاكَ حَائِلٌ يَمْنَعُ مِنْ مُلَاقَاةِ البَشَرَةِ فِيمَا بَيْنَ السُّرَّةِ وَالرُّكْبَةِ، أَوْ يَمْنَعُ الفَرْجَ وَحْدَهُ عِنْدَ مَنْ لَا يُحَرِّمُ إِلَاّ الفَرْجَ، قَالَ العُلَمَاءُ: لَا تُكْرَهُ مُضَاجَعَةُ الْحَائِضِ، وَلَا قُبْلَتُهَا وَلَا الاِسْتِمْتَاعُ بِهَا فِيمَا فَوْقَ السُّرَّةِ وَتَحْتَ الرُّكْبَةِ، وَلَا يُكْرَهُ وَضْعُ يَدِهَا فِي شَيْءٍ مِنَ الْمَائِعَاتِ، وَلَا يُكْرَهُ غَسْلُهَا رَأْسَ زَوْجِهَا أَوْ غَيْرَهُ مِنْ مَحَارِمِهَا، [وَتَرْجِيلُهُ] وَلَا يُكْرَهُ طَبْخُهَا وَعَجْنُهَا وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنَ الصَّنَائِعِ، وَسُؤْرُهَا وَعَرَقُهَا طَاهِرَانِ، وَكُلُّ هَذَا مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَقَدْ نَقَلَ [الإِِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ] بْنُ جَرِيرٍ [فِي كِتَابِهِ فِي مَذَاهِبِ الْعُلَمَاءِ] وَإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ عَلَى هَذَا كُلِّهِ، وَدَلَائِلُهُ مِنَ السُّنَّةِ ظَاهِرَةٌ مَشْهُورَةٌ» (88)، فمن أين لنا هذه الأحكام الشرعية لو لم تكن أفعاله هذه تشريعًا؟.
نعم. وإن ما يجري في الطعام والشراب يجري حكمه في جميع الأفعال الجبلية البشرية، ففي اللباس حَرَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم على الرجال تطويل الثياب كِبْرًا وَفَخْرًا فقال: «مَا أَسْفَلَ الكَعْبَيْنِ فَفِي النَّارِ» (89). وقال: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ، لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ القِيَامَةِ» (90).
وَحَرَّمَ عليهم لبس الحرير، فقال: «مَنْ لَبِسَ الحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الآخِرَةِ» (91).
وَنَهَى صلى الله عليه وسلم عن المشي في نعل واحدة، فقال: «لَا يَمْشِي أَحَدُكُمْ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ، لِيُحْفِهِمَا جَمِيعًا، أَوْ لِيُنْعِلْهُمَا جَمِيعًا» (92).
وفي مباحات الثياب لبس صلى الله عليه وسلم الإزار والرداء، ولبس الجُبَّةَ الشَّامِيَّةَ، ولبس القميص ولبس جُبَّةً من صوف، ولبس القباء، وكسا بعض أصحابه البرانس، واشترى السراويل، وَرُوِيَ أَنَّهُ لَبِسَهَا، ولبس العمامة، وَتَقَنَّعَ، وَعَصَّبَ رَأْسَهُ بِخِرْقَةٍ فَوْقَ العِمَامَةِ ولبس على رأسه المغفر، وكانت العمامة السوداء فوق المغفر، ولبس البردة النجراني ولبس الحبرة، وكانت أحب الثياب إليه، وهي على وزن (عنبة) وهي بردة يمانية مخططة موشاة مزينة، ولبس الشملة، وهي ثوب طويل أشبه بما يعرف في أيامنا بالشال، يلتحف بها،
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করতেন এবং তিনি যেখানে পান করতেন সেখানে মুখ রেখে পান করতেন। তিনি ঋতুবতী (حائض) থাকা অবস্থায় গোশতের টুকরো দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খেতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থেকে তা গ্রহণ করতেন এবং তিনি যে স্থান থেকে ছিঁড়ে খেতেন, ঠিক সেই স্থানে মুখ লাগিয়ে আহার করতেন। তিনি তার মুখে মুখ রাখতেন এবং তার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন, অথচ তখন তিনি ঋতুবতী (حائض) ছিলেন (৮৭)।
এই সব কার্যাবলী মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত এবং এর সবই শরয়ি বিধানের অংশ। এই হাদিসগুলো থেকে ইস্তিম্বাত (استنباط) করে ইমাম নববী বলেন: «[এর মধ্যে] ঋতুবতী (حائض) মহিলার সাথে ঘুমানো এবং একই চাদরে অবস্থান করার বৈধতা রয়েছে, যদি নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী স্থানে চামড়া স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখার মতো কোনো আড়াল থাকে, অথবা যারা কেবল যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্য কিছুকে নিষিদ্ধ (حرام) করেন না তাদের নিকট শুধু যৌনাঙ্গকে আড়াল করা হয়। আলেমগণ বলেছেন: ঋতুবতী মহিলার সাথে একই বিছানায় শোয়া, তাকে চুম্বন করা বা নাভির উপরে ও হাঁটুর নিচে তার সাথে আনন্দ উপভোগ করা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়। কোনো তরল দ্রব্যে তার হাত রাখা, তার স্বামীর বা তার অন্যান্য মাহরামদের মাথা ধুইয়ে দেওয়া বা চুল আঁচড়ে দেওয়া অপছন্দনীয় (مكروه) নয়। তার রান্না করা, আটা মাখানো এবং এই জাতীয় অন্যান্য গৃহস্থালি কাজ করাও অপছন্দনীয় (مكروه) নয়। তার উচ্ছিষ্ট ও ঘাম পবিত্র। এই সব কিছুর ওপর ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর তার আলেমদের মাযহাব বিষয়ক কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এ সবের ওপর মুসলমানদের ঐকমত্য (إجماع) উদ্ধৃত করেছেন। সুন্নাহ থেকে এর দলীলসমূহ প্রকাশ্য ও প্রসিদ্ধ (مشهور)» (৮৮)। সুতরাং তার এই কাজগুলো যদি বিধান হিসেবে সাব্যস্ত না হতো, তবে আমরা এই শরয়ি বিধানগুলো কোথা থেকে পেতাম?
হ্যাঁ, পানাহার সম্পর্কিত বিধিবিধান যেমনিভাবে প্রযোজ্য, মানুষের সকল স্বভাবজাত কার্যাবলীর ক্ষেত্রেও তেমন বিধান কার্যকর। পোশাকের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহংকার ও গর্ববশত পুরুষদের জন্য পোশাক দীর্ঘ করা নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন। তিনি বলেছেন: «টাখনুর নিচে পোশাকের যে অংশ থাকবে তা জাহান্নামে যাবে» (৮৯)। তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় মাটির সাথে টেনে নিয়ে বেড়াবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না» (৯০)।
তিনি তাদের ওপর রেশম পরিধান করা নিষিদ্ধ (حرام) করেছেন এবং বলেছেন: «যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা পরিধান করবে না» (৯১)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পায়ে জুতা পরে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। হয় সে উভয় পায়ে জুতা পরবে নতুবা উভয় পা নগ্ন রাখবে» (৯২)।
পোশাকের বৈধ (مباح) বিষয়গুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযার ও রিদা (লুঙ্গি ও চাদর), শামী জুব্বা, কামিস (জামা), পশমি জুব্বা এবং কাবা পরিধান করেছেন। তিনি তার কোনো কোনো সাহাবীকে বুরনুস (টুপিযুক্ত চাদর) পরিয়েছেন, পায়জামা কিনেছেন এবং বর্ণিত আছে যে তিনি তা পরিধানও করেছেন। তিনি পাগড়ি পরিধান করেছেন, মাথার ওপর কাপড় (তাকান্নু) দিয়েছেন এবং পাগড়ির ওপর খিরকা (কাপড়) দিয়ে মাথা বেঁধেছেন। তিনি মাথায় মগফর (রণশিরস্ত্রাণ) পরেছেন এবং মগফরের ওপর কালো পাগড়ি ছিল। তিনি নাজরানি বুরদাহ এবং হিবরাহ পরিধান করেছেন যা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় পোশাক। হিবরাহ হলো ইয়েমেনের নকশা করা ও কারুকাজ মণ্ডিত চাদর। তিনি শামলাহ পরিধান করেছেন, যা একটি দীর্ঘ কাপড়, অনেকটা বর্তমান সময়ের শালের মতো, যা দিয়ে শরীর জড়িয়ে রাখা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
فكان صلى الله عليه وسلم يتجوز من اللباس والبسطة ويتوسع في اللباس فلا يضيق، ولا يقتصر على صنف بعينه، فلبس الثياب السود والخضر والبيض والحمر وذات الخطوط وذات الأعلام والسادة، وقال: «كُلُوا وَاشْرَبُوا وَالبَسُوا وَتَصَدَّقُوا، فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلَا مَخِيلَةٍ» (93).
المُبَاحُ تَكْلِيفٌ شَرْعِيٌّ:إِنَّ الشُّبْهَةَ في أضيق نطاقها تكمن في المباح من أفعاله صلى الله عليه وسلم التي سبيلها الحاجة البشرية والعادة البيئية، ولما كان فِي رَدِّ هَذِهِ الشُّبْهَةِ رَدٌّ لما عداها من باب أولى رَكَّزْنَا وَنُرَكِّزُ عَلَيْهَا لِنُثْبِتَ أَنَّ هذا النوع من أفعاله صلى الله عليه وسلم تشريع، لأنه تكليف شرعي.
نعم المباح نفسه تكليف وإلزام بعدم تجاوزه، والاختيار فيه إنما هو داخل في دائرة الجواز. وهو تكليف وإلزام بفعل أحد الخيارات المباحة، فالأكل والشرب في أصله وجملته واجب، يحرم الامتناع عنه مُدَّةً تُعَرِّضُ النفس للهلاك، والاختيار في المأكول والبدائل واللباس في أصله وجملته واجب، يحرم التجرد منه نِهَائِيًّا وكشف العورة للناظرين والاختيار في بدائل اللبس والملبوس. فالمباح تكليف وتشريع، لكنه ليس تكليفًا بأحد المباحات دون غيره، وإنما هو تكليف من حَيْثِيَّتَيْنِ، حَيْثِيَّةُ الإِلْزَامِ بِعَدَمِ التَّجَاوُزِ، وَحَيْثِيَّةُ التَّحَرُّكِ فِي دَائِرَتِهِ.
يُعَبِّرُ عن ذلك الشاطبي بقوله: (*).
«[وَأَمَّا سَائِرُ الأَقْسَامِ - وَإِنْ كَانَ ظَاهِرُهَا] الدُّخُولَ تَحْتَ [خِيَرَةِ] المُكَلَّفِ، فَإِنَّمَا دَخَلَتْ بِإِدْخَالِ الشَّارِعِ لَهَا تَحْتَ اخْتِيَارِهِ، [فَهِيَ رَاجِعَةٌ إِلَى إِخْرَاجِهَا] عَنِ اخْتِيَارِهِ، أَلَا تَرَى أَنَّ المُبَاحَ قَدْ يَكُونُ لَهُ فِيهِ اخْتِيَارٌ وَغَرَضٌ؟، وَقَدْ لَا يَكُونُ؟ [فَعَلَى تَقْدِيرِ أَنَّ لَيْسَ لَهُ فِيهِ اخْتِيَارٌ، بَلْ فِي رَفْعِهِ مَثَلاً، كَيْفَ يُقَالُ: إِنَّهُ دَاخِلٌ تَحْتَ اخْتِيَارِهِ؟] فَكَمْ مِنْ صَاحِبِ هَوًى يَوَدُّ لَوْ كَانَ المُبَاحُ الفُلَانِيُّ مَمْنُوعًا، حَتَّى إِنَّهُ لَوْ وُكِّلَ إِلَيْهِ مَثَلاً تَشْرِيعُهُ لَحَرَّمَهُ، كَمَا يَطْرَأُ لِلْمُتَنَازِعَيْنِ فِي حَقٍّ. (الشُّفْعَةُ مَثَلاً، أَوِ الطَلَاقُ، أَوْ تَعَدُّدِ الزَّوْجَاتِ)
…فإذن، إِبَاحَةُ المُبَاحِ مَثَلاً لَا تُوجِبُ دُخُولَهُ بِإِطْلَاقٍ تَحْتَ اخْتِيَارِ المُكَلَّفِ، إِلَاّ مِنْ حَيْثُ كَانَ قَضَاءً [مِنَ] الشَّارِعِ، وَإِذْ ذَاكَ يَكُونُ اخْتِيَارُهُ تَابِعًا لِوَضْعِ الشَّارِعِ، وَغَرَضُهُ مَأْخُوذًا مِنْ تَحْتِ الإِذْنِ الشَّرْعِيِّ لَا بِالاسْتِرْسَالِ الطَّبِيعِيِّ، وَهَذَا هُوَ عَيْنُ إِخْرَاجِ الْمُكَلَّفِ عَنْ دَاعِيَةِ هَوَاهُ حَتَّى يَكُونَ [عَبْدًا لِلَّهِ]» (94).
وَإِلَيْكَ أَمْثِلَةٌ تُوَضِّحُ المَقْصُودَ:
يقول الله تعالى: {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} (95).
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদামাটা পোশাক ও বিছানা ব্যবহার করতেন, আবার উন্নত পোশাকও পরিধান করতেন এবং এক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা অবলম্বন করতেন না। তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রকারের পোশাকে সীমাবদ্ধ থাকতেন না; বরং তিনি কালো, সবুজ, সাদা, লাল, ডোরাকাটা, নকশা করা এবং সাধারণ কাপড়ও পরিধান করেছেন। তিনি বলেছেন: «তোমরা খাও, পান করো, পরিধান করো এবং দান করো—অপচয় ও অহংকার ব্যতিরেকে» (৯৩)।
বৈধ (مباح) বিষয়ও শরয়ী বিধান (تكليف شرعي):রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মানুষের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশগত অভ্যাসের সাথে সংশ্লিষ্ট যে সকল বৈধ (مباح) কর্ম রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সংশয় অত্যন্ত সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। যেহেতু এই সংশয় নিরসন করার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের সংশয় আরও জোরালোভাবে নিরসিত হয়, তাই আমরা এ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি এবং করছি, যাতে এটি প্রমাণ করা যায় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ ধরনের কার্যাবলিও বিধান প্রণয়ন (تشريع)-এর অন্তর্ভুক্ত; কেননা তা একটি শরয়ী বিধান (تكليف شرعي)।
হ্যাঁ, বৈধ (مباح) বিষয়টি নিজেই একটি বিধান এবং এর সীমা লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে এটি বাধ্যতামূলক। এখানে নির্বাচনের সুযোগটি কেবল বৈধতার পরিধির ভেতরেই বিদ্যমান। এটি বৈধ বিকল্পগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি পালনের ব্যাপারে দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। আহার ও পান করা এর মূল এবং সামগ্রিক দিক থেকে আবশ্যক (واجب), তাই এমন সময় পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকা হারাম (حرام) যা মানুষের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করে। তদ্রূপ পোশাক পরিধান করা এবং এর বিকল্পগুলো বেছে নেওয়া এর মূল এবং সামগ্রিক দিক থেকে আবশ্যক (واجب); পোশাক পুরোপুরি পরিত্যাগ করা এবং দর্শকদের সামনে লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করা হারাম (حرام)। সুতরাং বৈধ (مباح) বিষয়ও একটি বিধান এবং বিধান প্রণয়ন (تشريع), তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি বৈধ কাজের ক্ষেত্রে নয়, বরং এটি দুটি দিক থেকে বিধান: একটি হলো সীমা অতিক্রম না করার বাধ্যবাধকতার দিক থেকে, আর অন্যটি হলো এর গণ্ডির ভেতরে বিচরণ করার দিক থেকে।
এ প্রসঙ্গে আল-শাতিবী বলেন: (*)।
«[আর অবশিষ্ট বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে—যদিও সেগুলোর বাহ্যিক রূপ] মুকাল্লাফ (مکلف)-এর [পছন্দ বা এখতিয়ারের] অন্তর্ভুক্ত মনে হয়, তবে তা কেবল শরিয়ত প্রণেতা (شارع)-এর পক্ষ হতে তার এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত করার কারণেই সম্ভব হয়েছে। [মূলত এটি বিষয়টি মুকাল্লাফের ব্যক্তিগত] এখতিয়ারের বাইরে নিয়ে যাওয়ার নামান্তর। আপনি কি দেখেন না যে, বৈধ (مباح) বিষয়ে কখনও মুকাল্লাফের এখতিয়ার ও উদ্দেশ্য থাকে, আবার কখনও থাকে না? [যদি ধরে নেওয়া হয় যে তার কোনো এখতিয়ার নেই, বরং সেই বৈধতা তুলে নেওয়ার মাঝেই কল্যাণ নিহিত, তবে কীভাবে বলা যায় যে এটি তার এখতিয়ারভুক্ত?] কত প্রবৃত্তি পূজারী এমন রয়েছে যারা কামনা করে যে যদি অমুক বৈধ (مباح) বিষয়টি নিষিদ্ধ হতো! এমনকি যদি তাকে সেই বিধান প্রণয়ন (تشريع)-এর দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে সে তা হারাম (حرام) করে দিতো; যেমনটি কোনো অধিকার নিয়ে বিবাদকারীদের ক্ষেত্রে ঘটে। (উদাহরণস্বরূপ: শাফা বা অগ্রক্রয়াধিকার, অথবা তালাক, অথবা বহুবিবাহের ক্ষেত্রে)
…অতএব, বৈধ (مباح) বিষয়ের বৈধতা মানেই তা নিরঙ্কুশভাবে মুকাল্লাফ (مکلف)-এর এখতিয়ারভুক্ত হওয়া নয়, বরং এটি শরিয়ত প্রণেতা (شارع)-এর ফয়সালা হওয়ার দিক থেকে তার এখতিয়ারভুক্ত। আর তখন তার নির্বাচন শরিয়ত প্রণেতা (شارع)-এর নির্ধারণের অনুগামী হয় এবং তার উদ্দেশ্যটি হয় শরয়ী অনুমতির অধীনে, নিছক প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে নয়। আর এটিই হলো মুকাল্লাফ (مکلف)-কে তার প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বের করে আনা, যাতে সে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা (عبد لله) হতে পারে» (৯৪)।
আপনার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য ধরবেন না, কিন্তু যে শপথ তোমরা মজবুতভাবে করো, তার জন্য তিনি তোমাদের ধরবেন। সুতরাং এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মাঝারি ধরনের খাবার দেওয়া, যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে দিয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্রদান করা কিংবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা} (৯৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فقد كلف الحالف وألزم بأحد أمور ثلاثة، هو مختار بينها، يباح له أن يقوم بأي منها.
وإذا كنت تملك كُوبًا من لبن فإنه يباح لك أن تشربه، وأن تضع فيه عَسَلاً، وأن تخلطه بليمون أو برتقال أو تفاح أو موز، وأن تشرب بعضه وتترك بعضه، وأن تهديه لغيرك، لكن لا يباح لك أن تتفل أو تبصق فيه، أو أن تخلطه ببول أو دم أو خمر، أو نجس، بل لا يباح لك أن تريقه على الأرض وغيرك في احتياج إليه.
وإذا كان على مائدتك أصناف من الطعام، بعضها حلال وبعضها حرام، لحم خنزير ولحم ضأن، ولحم ميتة، وَلَحْمٌ مُذَكًّى، وخمر ولبن، فأنت مُخَيَّرٌ في دائرة المباح من الطعام والشراب، تأكل وتشرب من هذا وتدع ذاك، وتشتهي منها هذا وتعاف منها ذاك، بعض الناس يشتهي الجراد وَبَعْضُهُمْ يَعَافُهُ، بعض الناس يشتهي الأرنب، وَبَعْضُهُمْ يَعَافُهُ، رسول الله صلى الله عليه وسلم يَعَافُ الضَبَّ وخالد بن الوليد يلتهمه التهامًا، حركة في دائرة محددة وحظر ومنع من تجاوزها إلى الحرام.
وإذا كنت تملك عشرين ثَوْبًا حَلَالاً فإنه يباح لك أن تلبس منها ما تشاء في الصباح وما تشاء في المساء، وأن تهمل منها ما تشاء، وأن تعتز منها بما تشاء، لكن ليس لك أن تتجاوز بها دائرة المباحات إلى المحرمات، فلا يجوز لك أن تفسدها أو تحرقها، بل لا يجوز لك أن تلبسها فَخْرًا وَرِيَاءَ النَّاسِ. وإذا كنت تملك مائة ألف دينار فإنه يباح لك أن تشتري منها عَقَّارًا أَوْ مَتَاعًا أو سيارة أو مصنعًا أو متجرًا أو مزرعة، أو تتنعم منها بأصناف النعم المباحة، أكلاً وشربًا ولباسًا وسياحة، وكل إنسان أعلم بشؤون دنياه وما يصلحها وما يفسدها، لكن لا يتجاوز دائرة المباحات، فلا يشتري منها خمرًا، أو خنزيرًا، ولا يتعامل بها في الرِّبَا، ولا يغش بها ولا يخادع، بَلْ يَحْرُمُ عَلَيْهِ أَنْ يُشْعِلَ فِي بَعْضِهَا نَارًا، أَوْ يُمَزِّقَهَا وَيَرْمِي بِهَا، بَلْ يَحْرُمُ عَلَيْهِ أَنْ يَقْتُرَ عَلَى نَفْسِهِ، أَوْ أَنْ يُسْرِفَ أَوْ يُبَذِّرَ فِي إِنْفَاقِهَا.
يقول صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ حَدَّ حُدُودًا فَلَا تَقْرَبُوهَا، وَفَرَضَ فَرَائِض فَلَا تُضَيِّعُوهَا، وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ - لَا عَنْ نِسْيَانٍ، وَلَكِنْ رَحْمَةً بِكُمْ - فَلَا تَكَلَّفُوهَا» أي فلا تتكلفوها، ولا تلزموا أنفسكم بها وَلَا تَتَزَمَّتُوا فِي اقْتِفَائِهَا وَتَتَبُّعِهَا (96).
ويقول الله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ} (97).
--------------------------------------------
শপথকারীকে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং তাকে তাতে বাধ্য করা হয়েছে; সে এগুলোর মধ্যে যেকোনোটি বেছে নিতে স্বাধীন এবং তার জন্য সেগুলোর যেকোনোটি পালন করা বৈধ (مباح)।
আপনার নিকট যদি এক পেয়ালা দুধ থাকে, তবে আপনার জন্য তা পান করা, তাতে মধু মিশ্রিত করা, তাতে লেবু, কমলা, আপেল বা কলা মেশানো, তার কিছু অংশ পান করা ও বাকিটা রেখে দেওয়া এবং অন্যকে তা উপহার দেওয়া বৈধ (مباح)। কিন্তু আপনার জন্য তাতে থুতু ফেলা বা নিষ্ঠীবন ত্যাগ করা, কিংবা তাতে প্রস্রাব, রক্ত, মদ বা কোনো অপবিত্র (نجس) বস্তু মিশ্রিত করা বৈধ নয়। এমনকি অন্য কেউ যখন সেটির প্রয়োজনবোধ করছে, তখন আপনার জন্য তা মাটিতে ঢেলে দেওয়াও বৈধ নয়।
আপনার দস্তরখানে যদি বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যবস্তু থাকে, যার কিছু হালাল (حلال) এবং কিছু নিষিদ্ধ (حرام)—যেমন শূকরের মাংস ও ভেড়ার মাংস, মৃত পশুর মাংস ও জবেহকৃত (مذكى) পশুর মাংস, মদ ও দুধ; তবে আপনি পানাহারের ক্ষেত্রে বৈধতার (مباح) গণ্ডির মধ্যে ইচ্ছাধিকারী। আপনি এটি থেকে আহার করতে পারেন বা পান করতে পারেন এবং ওটি বর্জন করতে পারেন; এগুলোর কোনটি আপনার রুচিসম্মত হতে পারে আবার কোনটি অরুচিকর হতে পারে। কিছু মানুষ পঙ্গপাল পছন্দ করে আবার কেউ কেউ তা অপছন্দ করে। কিছু মানুষ খরগোশ পছন্দ করে আবার কেউ কেউ তা অপছন্দ করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোসাপ অপছন্দ করতেন, অথচ খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে আহার করতেন। এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে বিচরণ এবং সেই সীমা অতিক্রম করে নিষিদ্ধ (حرام) বিষয়ের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা।
আপনার নিকট যদি বিশটি হালাল (حلال) পোশাক থাকে, তবে সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পছন্দমতো তা পরিধান করা, কোনোটি বর্জন করা বা কোনোটি সযত্নে রাখা আপনার জন্য বৈধ (مباح)। কিন্তু আপনার জন্য বৈধতার (مباحات) গণ্ডি অতিক্রম করে নিষিদ্ধ (محرمات) বিষয়ের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং আপনার জন্য সেগুলো নষ্ট করা বা পুড়িয়ে ফেলা জায়েজ নয়, এমনকি অহংকার (فخر) ও লোকদেখানোর (رياء) বশবর্তী হয়ে সেগুলো পরিধান করাও জায়েজ নয়। আপনার নিকট যদি এক লক্ষ দিনার থাকে, তবে তা দিয়ে জমিজমা, আসবাবপত্র, যানবহন, কলকারখানা, দোকান বা খামার ক্রয় করা কিংবা আহার, পানীয়, পোশাক ও ভ্রমণের মতো বিভিন্ন বৈধ (مباح) নেয়ামত উপভোগ করা আপনার জন্য বৈধ (مباح)। প্রত্যেক মানুষই তার পার্থিব বিষয় এবং কিসে তার কল্যাণ বা অকল্যাণ হবে সে সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তবে সে যেন বৈধতার (مباحات) সীমা অতিক্রম না করে। সে যেন তা দিয়ে মদ বা শূকর ক্রয় না করে, সুদের (ربا) কারবার না করে এবং প্রতারণা (غش) বা ধোঁকাবাজি (خداع) না করে। বরং তার জন্য অর্থের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া বা তা ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া নিষিদ্ধ (حرام)। এমনকি নিজের ওপর কৃপণতা করা কিংবা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় (إسراف) বা অপব্যয় (تبذير) করাও তার জন্য নিষিদ্ধ (حرام)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু সীমা (حدود) নির্ধারণ করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা তা অতিক্রম করো না। তিনি কিছু বিধান আবশ্যিক (فرائض) করেছেন, কাজেই সেগুলো নষ্ট করো না। এবং তিনি কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন—ভুলে যাওয়ার কারণে নয়, বরং তোমাদের প্রতি দয়াবশত—কাজেই তোমরা সেগুলো নিয়ে অনর্থক ঘাটাঘাটি করো না» অর্থাৎ তোমরা অহেতুক কষ্ট করো না, নিজেদের ওপর তা বাধ্যতামূলক করো না এবং সেসবের অনুসন্ধানে কঠোরতা (تزمت) প্রদর্শন করো না (৯৬)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আল্লাহর সাজসজ্জা—যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন—এবং পবিত্র রিজিকসমূহ কে নিষিদ্ধ (حرم) করেছে? বলুন, এগুলো পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন কেবল তাদেরই জন্য} (৯৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
ويقول: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا} (98).
ويقول: {كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} (99).
ويقول: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} (100).
ويقول: {وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا} (101).
ويقول: {وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا، إِنَّ المُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا} (102).
ويقول صلى الله عليه وسلم: «كُلْ مَا شِئْتَ، وَالْبَسْ مَا شِئْتَ، مَا أَخْطَأَتْكَ [اثْنَتَانِ]: سَرَفٌ، أَوْ مَخِيلَةٌ» (103).
وهكذا يتضح لنا بجلاء لا يقبل الشك أن المباح تكليف شرعي في دائرة اختيارية سواء أكان سبيله سبيل الحاجة البشرية، أو العادة، أَوْ الجِبِلَّةِ، وَسَوَاءً أَكَانَ حُكْمُ إِبَاحَتِهِ صَادِرًا عَنْ اللهِ تعالى قُرْآنًا، أَوْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلاً أَوْ فِعْلاً أَوْ تَقْرِيرًا.
وقد سبق أن ذكرنا قول الفخر الرازي (القسم الثاني: الإباحة) (*)، وتثبت بطرق ثلاثة:
والفخر الرازي يقول: القسم الثاني للإباحة، وتثبت بطرق ثلاثة:
[1] أَنْ يقول الشارع: إنْ شئتم فافعلوا، وإنْ شئتم فاتركوا.
[2] أَنْ تدل أخبار الشرع على أنه لا حرج في الفعل والترك.
[3] أَنْ لا يتكلم الشرع فيه البتة، ولكن انعقد الإجماع مع ذلك أَنَّ ما لم يرد فيه طلب فعل ولا طلب ترك فالمكلف فيه غير مُخَيَّرٍ.
فالإباحة لا تتحقق إلَاّ على أحد هذه الوجوه الثلاثة المذكورة، وفي جميعها خطاب الشرع دَلَّ عليها، فكانت الإباحة من الشرع» (8) (*).
ويقول صلى الله عليه وسلم: «كَانَ أَهْلُ الجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ، وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا» فَبَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ، صلى الله عليه وسلم وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ، وَأَحَلَّ حَلَالَهُ، وَحَرَّمَ حَرَامَهُ، فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ، وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ، وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ» (104) ثُمَّ تَلَا قَوْلَهُ تَعَالَى: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَاّ أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ} (105).
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেন: {আর তোমরা খাও ও পান করো এবং অপচয় করো না} (৯৮)।
এবং তিনি বলেন: {আমরা তোমাদেরকে যে উত্তম রিযিক দান করেছি তা থেকে আহার করো} (৯৯)।
এবং তিনি বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা যা আহার করেছে সে বিষয়ে তাদের কোনো গোনাহ নেই, যখন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে} (১০০)।
এবং তিনি বলেন: {তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবাবদ্ধ করো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে} (১০১)।
এবং তিনি বলেন: {আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ} (১০২)।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: «তুমি যা ইচ্ছে খাও এবং যা ইচ্ছে পরিধান করো, যতক্ষণ না তোমার মধ্যে দুটি বিষয় ভুলবশত ঢুকে পড়ে: অপচয় অথবা অহংকার» (১০৩)।
এভাবে আমাদের কাছে কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মুবাহ (বৈধ) বিষয়টি ঐচ্ছিক পরিমণ্ডলে একটি শরয়ি দায়িত্ব; চাই তার মাধ্যম মানবিক প্রয়োজন হোক, অথবা প্রথা কিংবা সহজাত স্বভাবজাত হোক। আর এর বৈধতার বিধান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কুরআনের মাধ্যমে আসুক কিংবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তব্য (قول), কর্ম (فعل) অথবা মৌনসম্মতি (تقرير)-এর মাধ্যমে আসুক।
আমরা ইতিপূর্বে ফখরুদ্দীন রাযীর উক্তি (দ্বিতীয় প্রকার: ইবাহাহ বা বৈধতা) (*) উল্লেখ করেছি, যা তিনটি পদ্ধতিতে সাব্যস্ত হয়:
আর ফখরুদ্দীন রাযী বলেন: বৈধতার দ্বিতীয় প্রকার তিনটি পদ্ধতিতে সাব্যস্ত হয়:
[১] বিধানদাতা (শারী‘) বলবেন: যদি তোমরা চাও তবে করো, আর যদি চাও তবে ছেড়ে দাও।
[২] শরয়ি বর্ণনাদি একথার ওপর প্রমাণ পেশ করবে যে, কাজটি করা বা না করার ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা বা গুনাহ নেই।
[৩] শরয়ি বিধানে সে সম্পর্কে আদতেই কোনো কথা বলা হবে না, তবে এ সত্ত্বেও ইজমা (ঐক্যমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যে বিষয়ে কোনো কাজ করার আদেশ বা বর্জনের নির্দেশ আসেনি, সে বিষয়ে মুকাল্লাফকে (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কোনো এখতিয়ার বা স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি।
সুতরাং উল্লিখিত এই তিনটি উপায়ের কোনো একটি ছাড়া ইবাহাহ (বৈধতা) অর্জিত হয় না এবং এর সবকটিতেই শরয়ি সম্বোধন তার ওপর নির্দেশনা প্রদান করেছে। ফলে ইবাহাহ বা বৈধতা শরয়ি বিধান থেকেই উৎসারিত» (৮) (*)।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: «জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা অনেক কিছু খেত এবং অনেক কিছু ঘৃণাবশত বর্জন করত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করলেন। তিনি তাঁর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম করেছেন। সুতরাং তিনি যা হালাল করেছেন তা হালাল, আর যা হারাম করেছেন তা হারাম। আর যে বিষয়ে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন তা মার্জনাযোগ্য (عفو)» (১০৪)। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তেলাওয়াত করলেন: {বলুন, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি আহারকারীর জন্য আহার করা হারাম এমন কিছু পাই না, মৃত জানোয়ার, প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস ব্যতীত...} (১০৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতু কুল্লুহা তাশরী - মুসা শাহীন লাশীন
(পৃষ্ঠা: ৮০)
قال الحافظ ابن حجر: «وَالاسْتِدْلَالُ بِهَذَا لِلْحِلِّ إِنَّمَا يَتِمُّ فِيمَا لَمْ يَأْتِ فِيهِ نَصٌّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم» (106).
وإذا ثبت أن المباح تكليف شرعي ثبت أنه تشريع، وثبت أن كل أفعال النبي صلى الله عليه وسلم تشريع.
فِعْلُ المُبَاحِ طَاعَةٌ للهِ وَرَسُولِهِ يُثَابُ عَلَيْهِ:أَوَّلاً: لو وضعت أمام ابنك تُفَّاحًا وبرتقالاً وموزًا وعنبًا وتمرًا، وَقُلْتَ لَهُ: كُلْ ما شئت من هذه الأصناف، فَأَكَلَ. أَيَكُونُ مُطِيعًا، أَمْ عَاصِيًا؟ أَيَكُونُ مُحْسِنًا أَمْ مُسِيئًا؟ لا خلاف أَنَّهُ يَكُونُ مُطِيعًا مُحْسِنًا، المُطِيعُ المُحْسِنُ يَسْتَحِقُّ الإِحْسَانَ.
وَلَوْ أَنَّ آدَمَ عليه السلام أَكَلَ مِنْ حَيْثُ شَاءَ مِنْ ثِمَارِ الجَنَّةِ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ الشَّجَرَةِ التِي نُهِيَ عَنْ الأَكْلِ مِنْهَا، يَكُونُ مُطِيعًا؟ أَمْ عَاصِيًا؟ مُحْسِنًا أم مُسِيئًا؟ لَا شَكَّ أَنَّهُ يَكُونُ مُطِيعًا مُحْسِنًا يَسْتَحِقُّ الإِحْسَانَ.
وحينما قال الله تعالى لمريم: {وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا، {فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا} (107). وفعلت مريم ما أمرت به، أكلت وشربت وَقَرَّتْ عَيْنًا، فعلت ما هو في صالحها، وما هو محبوب لديها مما سبيله سبيل الحاجة البشرية، أتكون مطيعة أم عاصية؟ لا شك أنها تكون طائعة. فَفِعْلُ المُبَاحِ طاعة لله ولرسوله ولو لم يصحبه قصد الطاعة، ولا نِيَّةَ التقرب.
ثَانِيًا: يقول الله تعالى: {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ} (108). أي سيئاتكم الصغائر، فجعل الله تعالى في مقابل اجتناب الكبائر أَجْرًا حَسَنًا، وهو ما نُعَبِّرُ عنه حين نقول: " المُحَرَّمُ مَا يُعَاقَبُ عَلَى فِعْلِهِ، وَيُثَابُ عَلَىَ تَرْكِهِ "، ولا خلاف في هذا بين العلماء إذا صاحب هذا الاجتناب نِيَّة الطَّاعَةِ، وَقَصْدَ التَقَرُّبِ، واستحضار الخوف من الله، لكن قصدنا من هذا البحث أن مجرد اجتناب الكبائر إحسان يُثَابُ عَلَيْهِ، مهما كانت أسباب هذا الاجتناب، فقد ربط الله تعالى الأجر على الاجتناب ذاته، صاحبه نية تقرب أو لم يصاحبه.
ثَالِثًا: لا شك أن البعد عن الحرام يمنع العقاب عليه، ولو بدون قصد، فلا يعاقب على الزنا من لم يزن، حَتَّى مَنْ هَمَّ بالزنا ولم يزن لم يكتب عليه سيئة بل كتبت له حسنة،
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «বৈধতার জন্য এর দ্বারা দলিল পেশ করা কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন সে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো স্পষ্ট বিধান (نص) না থাকে» (১০৬)।
যখন এটি প্রমাণিত হলো যে মুবাহ (مباح) কাজ একটি শরয়ী বিধান, তখন এটিও প্রমাণিত হলো যে এটি শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত, এবং এটিও সাব্যস্ত হলো যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল কাজই শরীয়তভুক্ত।
মুবাহ কাজ সম্পাদন করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য, যার জন্য সওয়াব পাওয়া যায়:প্রথমত: যদি আপনি আপনার সন্তানের সামনে আপেল, কমলা, কলা, আঙুর ও খেজুর রাখেন এবং তাকে বলেন: 'এই সবগুলোর মধ্য থেকে তোমার যা ইচ্ছা খাও,' আর সে তা খায়। তবে সে কি আনুগত্যকারী (مطيع) হবে নাকি অবাধ্য (عاصي)? সে কি সদাচারী (محسن) হবে নাকি পাপাচারী (مسيء)? এতে কোনো দ্বিমত নেই যে সে একজন আনুগত্যকারী (مطيع) ও সদাচারী (محسن) হিসেবে গণ্য হবে, আর আনুগত্যকারী সদাচারী ব্যক্তি উত্তম প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য।
আর আদম (আলাইহিস সালাম) যদি জান্নাতের ফলমূল থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা খেতেন এবং সেই গাছ থেকে না খেতেন যা থেকে খেতে তাকে নিষেধ করা হয়েছিল, তবে কি তিনি আনুগত্যকারী (مطيع) হতেন? নাকি অবাধ্য (عاصي)? সদাচারী (محسن) নাকি পাপাচারী (مسيء)? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি আনুগত্যকারী ও সদাচারী হতেন এবং উত্তম প্রতিদানের যোগ্য হতেন।
যখন মহান আল্লাহ মারইয়ামকে বলেছিলেন: {আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডে ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পাকা খেজুর ফেলবে। সুতরাং তুমি খাও, পান করো এবং চক্ষু জুড়াও} (১০৭)। অতঃপর মারইয়াম যা তাকে আদেশ করা হয়েছিল তা-ই করলেন; তিনি আহার করলেন, পান করলেন এবং চক্ষু জুড়ালেন। তিনি তা-ই করলেন যা তার কল্যাণে ছিল এবং যা মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনে তার কাছে প্রিয় ছিল। তবে তিনি কি আনুগত্যশীলা ছিলেন নাকি অবাধ্য? নিঃসন্দেহে তিনি আনুগত্যশীলা ছিলেন। সুতরাং মুবাহ (مباح) কাজ করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তাতে আনুগত্যের সংকল্প বা নৈকট্য লাভের নিয়ত (نية) না থাকে।
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবীরা গুনাহ (كبائر), সেগুলো যদি তোমরা বর্জন করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো (سيئات) মোচন করে দেব} (১০৮)। অর্থাৎ তোমাদের ছোট গুনাহসমূহ। এখানে আল্লাহ তাআলা বড় গুনাহসমূহ বর্জন করার বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান রেখেছেন। এটিই আমরা এভাবে প্রকাশ করি যখন বলি: "হারাম (محرم) হলো তা, যা সম্পাদন করলে শাস্তি হয় এবং যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায়।" আলেমদের মধ্যে এতে কোনো দ্বিমত নেই যদি এই বর্জন করার সাথে আনুগত্যের নিয়ত (نية), নৈকট্য লাভের ইচ্ছা এবং আল্লাহর প্রতি ভয় বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আমাদের এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো—কেবল বড় গুনাহ বর্জন করাই একটি পুণ্য যা সওয়াবের যোগ্য, সেই বর্জন করার কারণ যাই হোক না কেন। কারণ আল্লাহ তাআলা প্রতিদানকে খোদ বর্জন করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, সেখানে নৈকট্য লাভের নিয়ত (نية) থাকুক বা না থাকুক।
তৃতীয়ত: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হারাম (حرام) থেকে দূরে থাকা তজ্জনিত শাস্তি থেকে রক্ষা করে, এমনকি যদি তাতে কোনো নির্দিষ্ট সংকল্প নাও থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি ব্যভিচার করেনি তাকে ব্যভিচারের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। এমনকি যে ব্যক্তি ব্যভিচারের ইচ্ছা করেছিল কিন্তু তা করেনি, তার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হয় না, বরং তার জন্য একটি নেকি (حسنة) লেখা হয়।
--------------------------------------------