(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: -)
الرد على اللمع   (شحاتة صقر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد على اللمع

المؤلف: شحاتة محمد صقر

الناشر: دار الخلفاء الراشدين -الإسكندرية (مصر)

عدد الصفحات: 265

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1432

আর-রাদ্দু আলাল লুমা’   (শেহাতা সাকর)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: আর-রাদ্দু আলাল লুমা’

লেখক: শেহাতা মুহাম্মদ সাকর

প্রকাশক: দারুল খুলাফায়ির রাশিদিন - আলেকজান্দ্রিয়া (মিশর)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা সংস্করণে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

* قال تعالى: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59].

* قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: « … إنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسكوا بها وعَضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» (1)، «عَضُّوا عليها بالنواجذ»: كناية عن شدة التمسك بها، و «النواجذ»: الأضراس.

* قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم» (2).

* قال الإمام مالك رحمه الله: «من ابتدع في الإسلام بدعة يراها حسنة فقد زعم أن محمداً صلى الله عليه وآله وسلم خان الرسالة؛ لأن الله يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3]، فما لم يكن يومئذ ديناً فلا يكون اليوم ديناً» (3).

* قال الإمام الزهري رحمه الله: «الاعتصام بالسنة نجاة؛ لأن السنة ـ كما قال مالك ـ مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك».

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام أبو داود (4607) وصححه الشيخ الألباني، وروى الإمام مسلم لفظة: «كل بدعة ضلالة».

(2) رواه الإمام الدارمي (175).

(3) الاعتصام للإمام الشاطبي (1/ 54).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

* মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত করো—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই শ্রেষ্ঠতর এবং পরিণামে সর্বোত্তম।" [সূরা আন-নিসা: ৫৯]।

* রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: « ... নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা» (১), «দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা» বলতে একে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার কথা বুঝানো হয়েছে, আর «নাওয়াজিজ» অর্থ হলো মাড়ির দাঁত।

* আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা-ই যথেষ্ট» (২)।

* ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল যাকে সে উত্তম (হাসানাহ) মনে করে, সে যেন দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) রিসালতের ক্ষেত্রে খিয়ানত করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৩]। সুতরাং সেদিন যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না» (৩)।

* ইমাম যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই মুক্তি নিহিত; কারণ সুন্নাত—যেমনটি ইমাম মালিক বলেছেন—নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকার মতো; যে তাতে আরোহণ করল সে মুক্তি পেল, আর যে তা থেকে পিছিয়ে থাকল সে ধ্বংস হলো»।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আবু দাউদ (৪৬০৭) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। ইমাম মুসলিম «প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা» শব্দবন্ধটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম দারেমী (১৭৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম শাতীবী বিরচিত আল-ইতিসাম (১/ ৫৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن اهتدى بهديه واتبع سنته إلى يوم الدين، أما بعد ..

فمن فضل الله على هذه الأمة أنه أكمل هذا الدين، وما قُبِض رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلا وقد بلغ الرسالة، فكل ما يحتاجه الناس في دينهم فهو في كتاب الله عز وجل وسنة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم ولذلك حذر النبي صلى الله عليه وآله وسلم من البدع فقال: «كل بدعة ضلالة» (1)، وأمر باتباع سنته وسنة الخلفاء الراشدين المهديين (2).

ولكن أهل البدع من حيث يشعرون أو لا يشعرون يحاولون زعزعة أصل من أصول أهل السنة والجماعة، وهو الاقتصار في أمور الدين على اتباع النبي صلى الله عليه وآله وسلم، واعتمادهم في ذلك إما على شبهات لا دليل فيها أو على آراء رجال يجب أن نترك أقوالهم إذا خالفت كتاب الله عز وجل أو سنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.

والغرض من هذا الكتاب كشف البدع وأثرها السيئ في هدم دين الإسلام، والرد على كتاب (اللمع في تجلية البدع) لمؤلفه الأستاذ محمد حسين وهو أحد رموز جماعة الإخوان المسلمين، وقد حاول فيه تبرير مقولة: «إن في الإسلام بدعة حسنة» وهذا ينتج عنه هدم الكثير من السنن وفتح باب الابتداع في الدين، وقد احتوى الكتاب على بعض البدع والأخطاء التي رد عليها العلماء وفندوا الشبهات التي اعتمد عليها من سبقوه في تلك البدع والأخطاء.

ومن الواجب الرد على هذا الكتاب لسببين:

1 - كثرة الشبهات التي أوردها.

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام مسلم (867).

(2) رواه الإمام أبو داود (4607)، وصححه الشيخ الألباني.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েত গ্রহণ করবে ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর...

এই উম্মতের ওপর আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ যে, তিনি এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওফাত ততক্ষণ পর্যন্ত হয়নি, যতক্ষণ না তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পুরোপুরি পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং মানুষের তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে যা কিছু প্রয়োজন, তা মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মধ্যেই বিদ্যমান। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বিদ‘আত সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন: «প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা» (১), এবং তিনি তাঁর সুন্নাহ ও সুপথপ্রাপ্ত হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন (২)।

কিন্তু বিদ‘আতপন্থীরা জ্ঞাতসারে হোক বা অজ্ঞাতসারে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্যতম একটি মূলনীতিকে টলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে; আর তা হলো দ্বীনি বিষয়ে কেবলমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। তারা এক্ষেত্রে হয় এমন সব সংশয়ের ওপর নির্ভর করে যার কোনো প্রমাণ নেই, অথবা এমন সব ব্যক্তিদের মতামতের ওপর নির্ভর করে যাদের কথা বর্জন করা ওয়াজিব যদি তা মহান আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী হয়।

এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য হলো বিদ‘আতসমূহ এবং ইসলাম ধর্ম বিনাশে এর অশুভ প্রভাব উন্মোচন করা এবং ‘আল-লুমা‘ ফী তাজলিআতিল বিদা‘ (বিদ‘আতের স্বরূপ উন্মোচনে আলোকচ্ছটা)’ নামক গ্রন্থের খণ্ডন করা, যার লেখক হলেন উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন—যিনি ইখওয়ানুল মুসলিমিন জামা‘আতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি সেখানে এই দাবিটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে: «ইসলামে বিদ‘আতে হাসানা বা উত্তম বিদ‘আত রয়েছে»। এর ফলে অসংখ্য সুন্নাহ বিলুপ্ত হয় এবং দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচিত হয়। গ্রন্থটিতে এমন কিছু বিদ‘আত ও ভুলভ্রান্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা উলামায়ে কেরাম ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই সকল সংশয় নিরসন করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে পূর্ববর্তীরা সেই সব বিদ‘আত ও ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছিল।

দুটি কারণে এই গ্রন্থটির প্রতিবাদ বা উত্তর প্রদান করা আবশ্যক:

১ - এতে উপস্থাপিত সংশয়সমূহের আধিক্য।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৮৬৭)।

(২) ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (৪৬০৭), এবং শাইখ আলবানী একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৭)
2 - أن مؤلفه أحد رموز جماعة الإخوان المسلمين، ومعنى ذلك أن هذا الكتاب سيكون مصدراً من مصادرهم الثقافية التي يعتمدون عليها في عباداتهم ومعاملاتهم وسلوكياتهم ودعوتهم، بل إن بعضهم ينشره في أوساط الشباب ويعتبره حجة على أصحاب المنهج السلفي الذين يدْعون إلى هدم البدع.

* ويحتوى هذا الرد على:

1 - منهج الأستاذ محمد حسين في كتابه.

2 - مقدمة بها قواعد أساسية في السنن والبدع.

3 - الرد على الشبهات التي استدل بها الأستاذ محمد حسين على أن في الإسلام بدعة حسنة.

4 - بيان موقف الأستاذ محمد حسين من الأحاديث الضعيفة.

5 - الرد على البدع والأخطاء التي ذكرها الأستاذ محمد حسين في كتابه.

6 - مناقشة بعض أراء الأستاذ محمد حسين في كتابه (سلوكيات وأحكام المرأة في المجتمع المسلم).

ونسأل الله سبحانه أن يهدي المسلمين للتمسك بسنة النبي صلى الله عليه وآله وسلم بفهم السلف الصالح، وأن يجعلنا لَبِنات صالحات في بنيان التمكين لدين الإسلام، وأن يرزقنا الانتصار على أنفسنا والتغلب على الهوا، وأن يؤلف بين قلوب العاملين للإسلام، وأن يوحد كلمتهم على كلمة التوحيد واتباع النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ونسأل الله عز وجل أن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل، ونشكر كل من ساهم في نشر هذا الكتاب بإضافة شيء أو تصويب خطأ، ونسأل كل من له تعقيب على شيء في هذا الكتاب أن يبادر بإرساله؛ فالدين النصيحة.
২ - এর লেখক ইখওয়ানুল মুসলিমিন জামায়াতের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। এর অর্থ হলো, এই বইটি তাদের সাংস্কৃতিক উৎসসমূহের একটি উৎস হিসেবে গণ্য হবে, যার ওপর তারা তাদের ইবাদত, লেনদেন, আচরণ এবং দাওয়াতী কর্মকাণ্ডে নির্ভর করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ এটি তরুণদের মাঝে প্রচার করে এবং একে সেই সালাফি মানহাজের অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গণ্য করে, যারা বিদআত নির্মূলের আহ্বান জানান।

* আর এই খণ্ডনমূলক উত্তরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১ - উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইনের তাঁর বইয়ে অনুসৃত মানহাজ (পদ্ধতি)।

২ - একটি ভূমিকা, যাতে সুন্নাহ এবং বিদআত সম্পর্কিত মৌলিক নিয়মাবলি রয়েছে।

৩ - সেই সকল সংশয়ের জবাব, যার মাধ্যমে উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন ইসলামে 'বিদআতে হাসানা' (উত্তম বিদআত) থাকার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।

৪ - যয়ীফ (দুর্বল) হাদীসের ব্যাপারে উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইনের অবস্থানের বর্ণনা।

৫ - উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন তাঁর বইয়ে যে সকল বিদআত ও ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন, তার খণ্ডন।

৬ - উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইনের 'মুসলিম সমাজে নারীর আচরণ ও বিধানসমূহ' নামক বইয়ে বর্ণিত কিছু মতামতের পর্যালোচনা।

আর আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলমানদেরকে সালফে সালেহীনদের বুঝ অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার তাওফীক দান করেন এবং ইসলাম ধর্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ইমারতে আমাদের নেককার ভিত্তি হিসেবে কবুল করেন। তিনি যেন আমাদের নিজেদের নফসের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন এবং কুপ্রবৃত্তির ওপর জয়ী করেন। ইসলামের জন্য যারা কাজ করছেন তাদের অন্তরসমূহের মধ্যে হৃদ্যতা দান করেন এবং তাওহীদের কালিমা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের ভিত্তিতে তাদের বাক্যকে ঐক্যবদ্ধ করেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) প্রার্থনা করছি। যারা এই বইটির কোনো কিছু সংযোজন বা ভুল সংশোধনের মাধ্যমে এর প্রচারে অংশ নিয়েছেন আমরা তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আর যারা এই বইয়ের কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে চান, তাদের নিকট অনুরোধ তারা যেন দ্রুত তা পাঠিয়ে দেন; কেননা দ্বীন হলো নসিহত (সদিচ্ছা ও সদুপদেশ)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৮)
* تنبيه:

الاعتماد في الرد على كتاب (اللمع) على أول طبعة للكتاب وقد صدرت طبعة أخرى تزيد أربع صفحات، فإن كان لدى القارئ الطبعة الجديدة وأراد الرجوع إلى المصدر فليُضف إلى كل رقم صفحة أحيل إليها في الكتاب أربع صفحات فمثلاً إذا كانت الإحالة إلى (ص55) فسيجدها في نسخته (ص59) وهكذا.

 

شحاتة محمد صقر

أبو حمص في 26 من ذي القعدة

1426 هجرية

saqrmhm@gawab.com
সতর্কবার্তা:

'আল-লুমা' গ্রন্থের প্রত্যুত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে বইটির প্রথম সংস্করণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বইটির একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে যা চার পৃষ্ঠা বর্ধিত। অতএব, পাঠকের কাছে যদি নতুন সংস্করণটি থাকে এবং তিনি মূল উৎসের উদ্ধৃতি যাচাই করতে চান, তবে তাকে এই বইয়ে উল্লিখিত প্রতিটি পৃষ্ঠাসংখ্যার সাথে চার পৃষ্ঠা যোগ করে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো উদ্ধৃতি (পৃষ্ঠা ৫৫)-এর দিকে নির্দেশ করে, তবে তিনি তার সংগ্রহে থাকা কপিতে সেটি (পৃষ্ঠা ৫৯)-এ খুঁজে পাবেন এবং এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রেও হিসাব করতে হবে।

 

শিহাতাহ মুহাম্মদ সাকর

২৬শে জিলকদ, আবু হিমস

১৪২৬ হিজরি

saqrmhm@gawab.com
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌كيف تناقش مبتدعاً؟

لسان حال المبتدع أنه مُفْترٍ على الله تعالى مُدَّعٍ أن الدين لم يكمل وأنه ببدعته يكمله، ويمكن ضَرْب مثل للمبتدع به تنقطع حجته ويسقط دليله وهذا المثل هو: أن المريض إذا ذهب إلى الطبيب يشكو إليه داء فإن الطبيب بعد أن يشخص الداء يصف الدواء، ويوصيه بأن يتناول الدواء بحسب وصْفة معينة مثلاً في الصباح مرة وفي المساء مرة، وهذا يبلعه وهذا يشربه، وثالث يأخذه في الوريد، ولا تجد المريض مهما بلغ حمقه معترضاً على الطبيب فيما وصفه له، ولا تجد عاقلاً يقول: لِمَ لا أتبع طريقة أخرا، فبدل أن آخذ الدواء كل صباح ومساء آخذه مرة واحدة، وبدل أن أكتفي بهذا النوع أزيد أنواعاً أخرا. . لا أحد من المرضى ولا من الناس يقول مثل ذلك، لماذا؟ لأن الكل يسلم للطبيب تخصصه، ويعلم أنه بدراسته وتجربته أعرَف بطرق العلاج.

هذا التسليم من الناس جميعاً للطبيب لا نجد مثله منهم تجاه طبيب القلوب محمد صلى الله عليه وآله وسلم فتجد كل من هب ودب يفترى ويقول: لِمَ لا أزيد هذه العبادة؟ لِمَ لا أخترع هذه العبادة؟ لِمَ لا أخترع هذه الكيفية؟ أليست كلها قربة إلى الله؟ فقل لمثل هذا: لِمَ لا تترك دواء الطبيب وتتناول دواء آخر؟ لِمَ لا تزيد على الدواء نوعاً آخر؟ لِمَ لا تغير كيفية تناول الدواء وتتناول الدواء مرة واحدة؟

لن يفعل من ذلك شيئاً، لأنه يرى الطبيب أدرى بما وصف، ونحن نرى أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أدرى بما شرع بإذن الله تعالا.

وإنكار ابن مسعود رضي الله عنه للذكر الجماعي أبرز مثال لإنكار السلف لمثل هذه المحدثات.
একজন বিদআতীকে আপনি কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

একজন বিদআতীর অবস্থার বাস্তবতা হলো এই যে, সে মহান আল্লাহর ওপর অপবাদ আরোপকারী এবং সে যেন পরোক্ষভাবে দাবি করে যে, ধর্ম পূর্ণতা লাভ করেনি এবং সে তার বিদআতের মাধ্যমে একে পূর্ণ করছে। বিদআতীর সামনে এমন একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা সম্ভব, যার মাধ্যমে তার যুক্তি খণ্ডন হবে এবং তার দলিল অসার প্রমাণিত হবে। সেই দৃষ্টান্তটি হলো: যখন কোনো রোগী কোনো চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তার রোগের কথা জানায়, তখন চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করার পর ওষুধের ব্যবস্থা দেন এবং একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ওষুধ সেবনের নির্দেশ দেন; যেমন সকালে একবার ও সন্ধ্যায় একবার, কোনোটি গিলতে হবে, কোনোটি পান করতে হবে এবং তৃতীয়টি শিরার মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। কোনো রোগী যতই নির্বোধ হোক না কেন, চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তাকে আপত্তি করতে দেখা যায় না। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও বলতে দেখা যায় না যে: কেন আমি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করব না? সকালে ও সন্ধ্যায় ওষুধ সেবনের পরিবর্তে কেন তা একবারে গ্রহণ করব না? কিংবা কেন আমি কেবল এই প্রকারের ওষুধের ওপর সন্তুষ্ট না থেকে আরও কিছু প্রকার বৃদ্ধি করব না? কোনো রোগী বা সাধারণ মানুষ এমন কথা বলে না। কেন? কারণ প্রত্যেকেই চিকিৎসকের বিশেষায়িত জ্ঞানকে মেনে নেয় এবং জানে যে, তার পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার কারণে তিনি চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।

চিকিৎসকের প্রতি মানুষের এই যে সর্বজনীন আনুগত্য, এর অনুরূপ আনুগত্য আমরা অন্তরের চিকিৎসক মুহাম্মদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাদের মাঝে দেখতে পাই না। ফলে দেখা যায়, যে কেউ যা ইচ্ছা বলে এবং উদ্ভাবন করে বলে: কেন আমি এই ইবাদতটি বাড়িয়ে দিচ্ছি না? কেন আমি এই ইবাদতটি উদ্ভাবন করছি না? কেন আমি এই ইবাদতের পদ্ধতিটি নিজে তৈরি করছি না? এগুলো কি সবই আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম নয়? এমতাবস্থায় এমন ব্যক্তিকে বলুন: কেন আপনি চিকিৎসকের ওষুধ ছেড়ে অন্য ওষুধ গ্রহণ করেন না? কেন আপনি ওষুধের ওপর অন্য কোনো প্রকার বৃদ্ধি করেন না? কেন আপনি ওষুধ সেবনের পদ্ধতি পরিবর্তন করে একবারে সব ওষুধ গ্রহণ করেন না?

সে এর কিছুই করবে না, কারণ সে মনে করে চিকিৎসক তার নির্দেশিত ব্যবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত। আর আমরা বিশ্বাস করি যে, রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর প্রবর্তিত শরিয়ত সম্পর্কে অধিক অবগত।

আর সম্মিলিত জিকিরের ক্ষেত্রে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অস্বীকৃতি হলো এ জাতীয় নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের বিরুদ্ধে সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের আপত্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌منهج الأستاذ محمد حسين في كتابه

1 - عدم الاعتماد في الترجيح على الكتاب والسنة بل الاعتماد على ما ينتقيه من أقوال العلماء والتي تؤيد رأيه، وبالتالي اعتبار المسألة خلافية ويجوز الأخذ بأي القولين، مع عدم اعتبار أن من الخلاف ما هو سائغ معتبر وما هو غير سائغ وغير معتبر لمخالفته الصريحة للكتاب والسنة.

2 - ينتقى من آراء العالم الواحد ما يشتهيه من آراء تؤيد قوله في مسألة ما، وقد يضرب بقوله عرض الحائط في مسألة أخرا، فقد نقل (ص75) نقولاً عن الأئمة مالك والشافعي وأحمد رأى أنها تؤيد رأيه ثم قال: «هؤلاء أئمة الإسلام والفقه … فمن نأخذ عن غيرهم؟»، وفي مسألة أخرى (ص81) ترك قولهم جميعاً وأخذ بقول لشيخ الإسلام ابن تيمية، ثم قال: «انظر رعاك الله وشرح صدرك لقبول فقه العلماء إلى قول الإمام ابن تيمية … » ثم لما كان كلام الإمام!!! ابن تيمية في التوسل بذات الرسول صلى الله عليه وآله وسلم يخالف رأيه ضرب بكلام الإمام!!! عرض الحائط بل رد عليه (ص130 - 133) واتهم الإمام!!! ابن تيمية (ص130) برد الحديث الصحيح وأعمال الصحابة.

3 - الاستدلال بأحاديث ضعيفة وبناء أحكام عليها رغم أنه اشترط (ص32) ألا يعمل بالحديث الضعيف في الأحكام والعقائد، بل أحيانا يذكر أحاديث أو آثاراً ويبني عليها أحكاماً دون أن يذكر الذي أخرجها من أهل العلم ولا درجتها من الصحة أو الضعف اكتفاء بأن العالم الفلاني ذكرها حتى وإن كان هذا العالم لا يشترط ذكر ما هو صحيح في كتابه، فمثلاً ذكر حديثاً (ص108) ثم قال: «ذكره القرطبي في التفسير» ولم يذكر من الذي رواه أو درجته من الصحة أو الضعف، بل إنه ذكر أثراً عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ونسبه للإمام الغزالي في (إحياء علوم الدين) ولم يذكر من
উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইনের কিতাবে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি

১ - কোনো মতকে অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর না করে বরং আলেমদের বক্তব্যের মধ্য থেকে এমন কিছু অংশ নির্বাচন করা যা তাঁর নিজস্ব মতকে সমর্থন করে; ফলশ্রুতিতে মাসআলাটিকে ইজতিহাদি বা মতপার্থক্যপূর্ণ গণ্য করে উভয় মতের যেকোনোটি গ্রহণ করা বৈধ বলে মনে করা। এক্ষেত্রে মতভেদের প্রকারভেদ অর্থাৎ কোনটি গ্রহণযোগ্য এবং কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট বিরোধিতার কারণে কোনটি অগ্রহণযোগ্য—সে বিষয়টি বিবেচনায় না নেওয়া।

২ - তিনি নির্দিষ্ট কোনো আলেমের মতামতের মধ্য থেকে নিজের খেয়ালখুশি মতো সেই বক্তব্যগুলোই বেছে নেন যা কোনো মাসআলায় তাঁর নিজের মতকে জোরালো করে, আবার অন্য মাসআলায় সেই একই আলেমের উক্তিকে সম্পূর্ণ বর্জন করেন। তিনি (৭৫ পৃষ্ঠায়) ইমাম মালিক, শাফেয়ী এবং আহমাদ থেকে এমন কিছু উদ্ধৃতি দিয়েছেন যা তাঁর মতের পক্ষে যায়, এরপর বলেছেন: «এঁরা হলেন ইসলামের এবং ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম... তাঁদের বাদ দিয়ে আমরা আর কার কাছ থেকে গ্রহণ করব?», অথচ অন্য একটি মাসআলায় (৮১ পৃষ্ঠায়) তিনি তাঁদের সকলের বক্তব্য পরিত্যাগ করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি উক্তি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: «আল্লাহ আপনাকে হেফজ করুন, আলেমদের ফিকহ কবুল করার জন্য আপনার বক্ষ প্রশস্ত করুন, ইমাম ইবনে তাইমিয়য়াহর বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করুন...»। অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সত্তার মাধ্যমে অসিলা গ্রহণের বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য তাঁর মতের বিরুদ্ধে গেল, তখন তিনি ইমামের সেই বক্তব্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে প্রত্যাখ্যান করলেন বরং তার প্রতিবাদ জানালেন (১৩০ - ১৩৩ পৃষ্ঠা), এমনকি তিনি (১৩০ পৃষ্ঠায়) ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরুদ্ধে সহিহ হাদিস এবং সাহাবিদের আমল প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগ আনলেন।

৩ - দুর্বল হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে বিধান তৈরি করা, যদিও তিনি (৩২ পৃষ্ঠায়) শর্তারোপ করেছিলেন যে আহকাম ও আকাইদের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস অনুযায়ী আমল করা যাবে না। অধিকন্তু, কখনও কখনও তিনি এমন সব হাদিস বা আছার উল্লেখ করেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে বিধান নির্ধারণ করেন যেখানে তিনি এটি কোন আলেম বর্ণনা করেছেন কিংবা এর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার মান কী—তা উল্লেখ করেন না। কোনো নির্দিষ্ট আলেম এটি উল্লেখ করেছেন—একথা বলাকেই তিনি যথেষ্ট মনে করেন, যদিও সংশ্লিষ্ট সেই আলেম তাঁর কিতাবে কেবল সহিহ রেওয়ায়েত উল্লেখ করার শর্ত করেননি। উদাহরণস্বরূপ, তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করে (১০৮ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: «কুরতুবী এটি তাফসিরে উল্লেখ করেছেন», অথচ হাদিসটি কে বর্ণনা করেছেন কিংবা এর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার স্তর কী, তা তিনি উল্লেখ করেননি। এমনকি তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি আছার বর্ণনা করে তা ইমাম গাজ্জালীর (এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন) কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন কিন্তু তিনি উল্লেখ করেননি যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১১)
الذي أخرجه حتى يبني عليه حكماً، ومعلوم أن الإحياء مليء بالضعيف بل والموضوع وما لا أصل له.

4 - بتْر النقول التي ينقلها أحيانا وعدم ذكر بقية الكلام إن كان يخالف ما ذهب إليه، ومن أمثلة ذلك:

أ- نقل (ص120 - 121) تعريف الإمام الشاطبي للبدعة الإضافية ثم قال: «وضرب ـ أي الشاطبي ـ لذلك أمثلة» اهـ، ولم يذكر الأمثلة لأنها تهدم كثيراً من البدع التي ذكرها في الكتاب، ولم يكمل شرح الإمام الشاطبي للتعريف وهو قوله: «والفرق بينهما من جهة المعنى: أن الدليل عليها من جهة الأصل قائم ومن جهة الكيفيات أو الأحوال أو التفاصيل لم يقم عليها مع أنها محتاجة إليه لأن الغالب وقوعها في التعبديات لا في العادات المحضة» (1) هذا الكلام يهدم كثيراً من البدع التي ذكرها الأستاذ محمد حسين في كتابه.

ب- نقل (ص20) عن الحافظ ابن رجب الحنبلي ما يوهم أنه يؤيد رأيه ولم ينقل توضيح ابن رجب لهذا الكلام في نفس الكتاب (2).

جـ- نقل (ص114) كلاماً لشيخ الإسلام ابن تيمية رأى أنه يؤيد رأيه ولم ينقل بقية الكلام لأنه يهدم ما ذهب إليه (3).

د - نقل (ص103 - 104) كلاماً لابن الحاج في (المدخل) عن صيام النبي صلى الله عليه وآله وسلم يوم الاثنين اليوم الذي ولد فيه، ولم ينقل كلام ابن الحاج في الإنكار الشديد على بدعة المولد (4).

هـ- ذكر (ص133) حديث الأعمى واستدل به على جواز التوسل بذات

--------------------------------------------

(1) الاعتصام (1/ 276).

(2) انظر ذلك في الرد على الشبهة (3) من الشبهات التي استدل بها على جواز الابتداع في الدين.

(3) انظر تفصيل ذلك في الرد على البدعة (3): إحياء عشر ذي الحجة جماعة في المساجد.

(4) انظر الرد على بدعة الاحتفال، الشبهة رقم (4).
যা তিনি উদ্ধৃত করেছেন যাতে তার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান প্রদান করা যায়। অথচ এটি সুপরিচিত যে, 'আল-ইহয়া' দুর্বল, এমনকি জাল এবং ভিত্তিহীন বর্ণনায় ভরপুর।

৪ - মাঝেমধ্যে উদ্ধৃতিসমূহ কাটছাঁট করা এবং বক্তব্যের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ না করা যদি তা তাঁর অবলম্বিত মতের পরিপন্থী হয়। এর কিছু উদাহরণ হলো:

ক- তিনি (১২০-১২১ পৃষ্ঠায়) ইমাম শাতিবির 'বিদআতে ইদাফিয়্যাহ' (সংযোজিত বিদআত)-এর সংজ্ঞাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর বলেছেন: «এবং তিনি (অর্থাৎ শাতিবি) এর জন্য কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন»। এখানেই তিনি ইতি টেনেছেন; তিনি উদাহরণগুলো উল্লেখ করেননি কারণ সেগুলো তাঁর বইয়ে বর্ণিত অনেক বিদআতকেই অসার প্রমাণ করে দেয়। এমনকি তিনি সংজ্ঞার ব্যাপারে ইমাম শাতিবির পূর্ণ ব্যাখ্যাটিও উল্লেখ করেননি, যা হলো: «অর্থগত দিক থেকে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো: মূলগত দিক থেকে এর সপক্ষে দলীল বিদ্যমান থাকে, কিন্তু পদ্ধতি, অবস্থা বা খুঁটিনাটি বিবরণের দিক থেকে এর সপক্ষে কোনো দলীল থাকে না; অথচ দলীল থাকা প্রয়োজন ছিল, কারণ এগুলো সাধারণত ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়েই ঘটে থাকে, নিছক আচার-প্রথার ক্ষেত্রে নয়» (১)। এই বক্তব্যটি উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন তাঁর বইয়ে উল্লেখ করা অনেক বিদআতকেই সমূলে বিনাশ করে দেয়।

খ- তিনি (২০ পৃষ্ঠায়) হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে তিনি হয়তো লেখকের মতকে সমর্থন করছেন। অথচ তিনি একই বইয়ে উক্ত বক্তব্যের ব্যাপারে ইবনে রজবের ব্যাখ্যাটি উদ্ধৃত করেননি (২)।

গ- তিনি (১১৪ পৃষ্ঠায়) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এমন কিছু কথা উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি মনে করেছেন তাঁর মতের পক্ষে যায়। কিন্তু তিনি বক্তব্যের বাকি অংশ উদ্ধৃত করেননি, কারণ তা তাঁর গৃহীত মতকে খণ্ডন করে দেয় (৩)।

ঘ- তিনি (১০৩-১০৪ পৃষ্ঠায়) ইবনুল হাজ্জের 'আল-মাদখাল' গ্রন্থ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সোমবার দিনে—যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন—রোজা রাখা সংক্রান্ত কথা উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু মিলাদ নামক বিদআতের কঠোর প্রতিবাদে ইবনুল হাজ্জের যে বক্তব্য রয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি (৪)।

ঙ- তিনি (১৩৩ পৃষ্ঠায়) দৃষ্টিহীন ব্যক্তির হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে সত্তার ওসিলায় তাওসসুল জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে দলীল পেশ করেছেন

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিসাম (১/২৭৬)।

(২) দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয় উদ্ভাবন বা বিদআত জায়েজ হওয়ার সপক্ষে তিনি যেসমস্ত সংশয়কে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, তার মধ্যে ৩ নম্বর সংশয়ের খণ্ডনটি দেখুন।

(৩) এর বিস্তারিত বিবরণ দেখুন ৩ নম্বর বিদআতের খণ্ডনে: মসজিদে জামাতবদ্ধভাবে জিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের ইবাদত পালন করা।

(৪) মিলাদ উদযাপনের বিদআতের খণ্ডন দেখুন, ৪ নম্বর সংশয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১২)
الرسول صلى الله عليه وآله وسلم وحذف منه قول الأعمى: «اللهم شفعني فيه»؛ لأنه دليل على أن الأعمى إنما توسل بدعاء النبي صلى الله عليه وآله وسلم وليس بذاته (1).

ونقل (ص35) عن الإمام ابن قيم الجوزية في كتاب (إعلام الموقعين) أن الإمام أحمد يعمل بالضعيف إذا لم يوجد غيره وفي رواية: ضعيف الحديث عندنا أحب مِنْ رَأْي الرجال، ولم يذكر توضيح الإمام ابن القيم لهذا الكلام في (إعلام الموقعين: 1/ 33) حيث قال «وليس المراد بالضعيف عنده الباطل، ولا المنكر، ولا ما في روايته متهم بحيث لا يسوغ الذهاب في العمل به، بل الحديث الضعيف عنده قسيم الصحيح، وقسم من اقسام الحسن، ولم يكن يقسم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف، بل إلى صحيح وضعيف، وللضعيف عنده مراتب».

ز- نقل (ص73) عن (الآداب الشرعية) لابن مفلح: «وقال صاحب المحيط من الحنفية: إن أبا حنيفة رحمه الله ارتدى برداء ثمين قيمته أربعمائة دينار وكان يجره على الأرض، فقيل له: أوَلَسْنا نُهينا عن هذا؟! قال: إنما ذلك لذوي الخيلاء ولسنا منهم»، وبالرجوع إلى مصدر نقله نجد أن صاحب المحيط رحمه الله قد نقل هذا الكلام بدون إسناد، بصيغة التمريض التي توحي بضعف الرواية، لا بصيغة الجزم كما ذكر الأستاذ محمد حسين، قال ابن مفلح رحمه الله: «وقال صاحب المحيط من الحنفية: ورُوِيَ أن أبا حنيفة رحمه الله ارتدى برداء ثمين قيمته أربعمائة دينار وكان يجره على الأرض، فقيل له: أوَلَسْنا نُهينا عن هذا؟! قال: إنما ذلك لذوي الخيلاء ولسنا منهم» (2).

--------------------------------------------

(1) انظر مسألة التوسل.

(2) الآداب الشرعية (3/ 521).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং সেখান থেকে অন্ধ ব্যক্তির এ কথাটি মুছে ফেলা হয়েছে: "হে আল্লাহ, আমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন"; কারণ এটি প্রমাণ করে যে, অন্ধ ব্যক্তি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দুআর মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর সত্তার মাধ্যমে নয় (১)।

এবং (৩৫ পৃষ্ঠায়) ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর 'ইলামুল মুয়াক্কিঈন' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ইমাম আহমাদ অন্য কিছু পাওয়া না গেলে যয়িফ (দুর্বল) হাদিস অনুযায়ী আমল করতেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আমাদের কাছে যয়িফ হাদিস মানুষের রায়ের (মতামতের) চেয়ে অধিক প্রিয়"। অথচ লেখক 'ইলামুল মুয়াক্কিঈন' (১/৩৩) গ্রন্থে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করেননি, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "তাঁর (ইমাম আহমাদের) নিকট যয়িফ দ্বারা বাতিল, মুনকার বা এমন বর্ণনাকারী উদ্দেশ্য নয় যার বর্ণনার কারণে সেটির ওপর আমল করা বৈধ হয় না। বরং তাঁর কাছে যয়িফ হাদিস সহিহর সমান্তরাল এবং হাসানেরই একটি প্রকার। তিনি হাদিসকে সহিহ, হাসান ও যয়িফ—এই তিন ভাগে বিভক্ত করতেন না, বরং সহিহ ও যয়িফ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করতেন এবং তাঁর নিকট যয়িফের বিভিন্ন স্তর ছিল।"

ঝ- ইবনে মুফলিহ-এর 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' থেকে (৭৩ পৃষ্ঠায়) উদ্ধৃত হয়েছে: "হানাফি মাযহাবের 'আল-মুহিত' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি চারশত দিনার মূল্যের একটি দামী চাদর পরিধান করতেন এবং সেটি মাটির ওপর দিয়ে টেনে নিতেন। তাঁকে বলা হলো: আমাদেরকে কি এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেন: ওটা কেবল দাম্ভিকদের জন্য, আর আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।" কিন্তু তাঁর উদ্ধৃতিটির মূল উৎসের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখি যে, 'আল-মুহিত' গ্রন্থের লেখক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই কথাটি কোনো সনদ ছাড়াই 'তামরিজ' বা অনিশ্চয়তা সূচক শব্দ ব্যবহার করে উদ্ধৃত করেছেন, যা বর্ণনার দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করে; উস্তাদ মুহাম্মদ হুসাইন যেভাবে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন সেভাবে নয়। ইবনে মুফলিহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "হানাফি মাযহাবের 'আল-মুহিত' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: বর্ণিত আছে যে, আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি চারশত দিনার মূল্যের একটি দামী চাদর পরিধান করতেন এবং সেটি মাটির ওপর দিয়ে টেনে নিতেন। তাঁকে বলা হলো: আমাদেরকে কি এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেন: ওটা কেবল দাম্ভিকদের জন্য, আর আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নই" (২)।

--------------------------------------------

(১) অসিলা বা তাওয়াসসুল বিষয়ক আলোচনা দেখুন।

(২) আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ (৩/ ৫২১)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أقوال للشيخ حسن البنا رحمه الله في وجوب اتباع النبي صلى الله عليه وآله وسلم نهديها لأتباعه

أولاً: « … فأول واجباتنا نحن الإخوان أن نبين للناس حدود هذا الإسلام واضحة كاملة بينة لا زيادة فيها ولا نقص ولا لبس معها، وذلك هو الجزء النظري من فكرتنا، وأن نطالبهم بتحقيقها ونحملهم على إنفاذها ونأخذهم بالعمل بها، وذلك هو الجزء العملي من هذه الفكرة، وعمادنا في ذلك كله كتاب الله الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه والسنة الصحيحة الثابتة عن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، والسيرة المطهرة لسلف هذه الأمة» (1).

ثانياً: «القرآن الكريم والسنة المطهرة مرجع كل مسلم في تعريف أحكام الإسلام ويفهم القرآن طبقاً لقواعد اللغة العربية من غير تكليف ولا تعسف ويرجع في فهم السنة المطهرة إلى رجال الحديث الثقات» (2).

ثالثاً: «الإلهام والخواطر والكشف والرؤى ليست من أدلة الأحكام الشرعية» (3).

رابعاً: «كل أحد يؤخذ من كلامه ويترك إلا المعصوم صلى الله عليه وآله وسلم وكل ما جاء عن السلف رضوان الله عليهم موافقاً للكتاب والسنة قبلناه وإلا فكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم أولى بالاتباع» (4).

خامساً: «العرف الخاطئ لا يغير حقيقة الألفاظ الشرعية بل يجب التأكد من حدود المعاني المقصود بها والوقوف عندها» (5).

--------------------------------------------

(1) مجموعة الرسائل (ص83 - 84).

(2) الرسائل (ص268).

(3) الرسائل (ص268).

(4) الرسائل (ص296).

(5) الرسائل (ص270).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে শায়খ হাসান আল-বান্না (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু বাণী, যা আমরা তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে উপহার দিচ্ছি

প্রথমত: « ... সুতরাং ইখওয়ান হিসেবে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো মানুষের সামনে এই ইসলামের সীমারেখাকে স্পষ্টভাবে, পূর্ণাঙ্গভাবে এবং প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করা, যেখানে কোনো বাড়াবাড়ি, ঘাটতি বা অস্পষ্টতা থাকবে না। এটিই হলো আমাদের চিন্তাধারার তাত্ত্বিক অংশ। আর (আমাদের কাজ হলো) তাদেরকে এটি বাস্তবায়নের দাবি জানানো, এটি কার্যকর করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং এর ওপর আমল করতে পরিচালিত করা। এটিই হলো এই চিন্তাধারার ব্যবহারিক অংশ। আর এই সবকিছুর মূলে আমাদের অবলম্বন হলো আল্লাহর কিতাব, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সহীহ সুন্নাহ এবং এই উম্মতের সালাফে সালেহীনের পবিত্র সীরাত» (১)।

দ্বিতীয়ত: «পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ হচ্ছে ইসলামের বিধান সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুসলমানের মূল উৎস। কুরআনকে আরবি ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী বুঝতে হবে, কোনো প্রকার কষ্টকল্পনা বা জবরদস্তি ছাড়াই। আর সুন্নাহ বুঝার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হাদীস বিশারদদের শরণাপন্ন হতে হবে» (২)।

তৃতীয়ত: «ইলহাম (ঐশ্বরিক প্রেরণা), অন্তরের খেয়াল, কাশফ (অতীন্দ্রিয় উন্মোচন) এবং স্বপ্ন—এগুলো শরীয়তের বিধানের কোনো দলীল নয়» (৩)।

চতুর্থত: «নিষ্পাপ (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা হতে পারে আবার বর্জনও করা হতে পারে। সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কাছ থেকে যা কিছু এসেছে এবং যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে তা আমরা গ্রহণ করি। অন্যথায় মহামহিম আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহই অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য» (৪)।

পঞ্চমত: «ভুল প্রথা বা লোকজ রীতি শরয়ী পরিভাষার প্রকৃত অর্থ পরিবর্তন করতে পারে না; বরং উদ্দিষ্ট অর্থের সীমানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং সেখানেই স্থির থাকা আবশ্যক» (৫)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুআতুর রাসায়িল (পৃষ্ঠা ৮৩ - ৮৪)।

(২) আর-রাসায়িল (পৃষ্ঠা ২৬৮)।

(৩) আর-রাসায়িল (পৃষ্ঠা ২৬৮)।

(৪) আর-রাসায়িল (পৃষ্ঠা ২৯৬)।

(৫) আর-রাসায়িল (পৃষ্ঠা ২৭০)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৪)
سادساً: «وإذا صح الحديث فقد وجب العمل به، وإن لم يخرجه الشيخان، ولا يترك العمل به لرأي ولا تقليد إمام ولا لتوهم اجتماع، قال ابن القيم في (إعلام الموقعين): والذي ندين الله عليه، ولا يسعنا غيره، أن الحديث إذا صح عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ولم يصح عنه حديث آخر ينسخه، أن الفرض علينا وعلى الأمة الأخذ بحديثه، وترك ما خالفه، ولا نتركه لخلاف أحد من الناس، كائنا من كان، لا راويه ولا غيره، إذ من الممكن أن ينسى الراوي الحديث، ولا يحضره وقت الفتيا، أو يفطن لدلالته على تلك المسألة، أو يتأول تأويلاً مرجوحاً، أو يكون في ظنه ما يعارضه ولا يكون معارضاً في نفس الأمر، أو يقلد غيره في فتواه بخلافه لاعتقاده أنه أعلم منه وأنه إنما خالفه لما هو أقوى منه، ولو قُدّر انتفاء ذلك كله ـ ولا سبيل إلى العلم بانتفائه ولا ظنه ـ لم يكن الراوي معصوماً» (1).

--------------------------------------------

(1) مباحث في علوم الحديث (ص57 - 58)، ط. دار التوزيع والنشر الإسلامية.
ষষ্ঠত: «হাদিস যখন বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়, তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়; যদিও তা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা না করে থাকেন। কোনো ব্যক্তিগত অভিমত, কোনো ইমামের তাকলিদ কিংবা কোনো ঐকমত্যের কল্পিত ধারণার বশবর্তী হয়ে এর ওপর আমল বর্জন করা যাবে না। ইবনুল কাইয়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন' গ্রন্থে বলেছেন: আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে দ্বীন পালন করি এবং যা ছাড়া আমাদের কোনো গত্যন্তর নেই তা হলো—যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয় এবং তার বিপরীতে একে রহিতকারী অন্য কোনো বিশুদ্ধ হাদিস না থাকে, তখন সেই হাদিস গ্রহণ করা আমাদের এবং উম্মতের ওপর ফরজ এবং এর পরিপন্থি যা কিছু আছে তা বর্জন করা। আমরা কোনো মানুষের বিরোধিতার কারণে এটি ত্যাগ করব না, তিনি যেই হোন না কেন—হোক তিনি উক্ত হাদিসের বর্ণনাকারী কিংবা অন্য কেউ। কেননা এটি সম্ভব যে, বর্ণনাকারী হয়তো হাদিসটি ভুলে গেছেন, অথবা ফতোয়া প্রদানের সময় সেটি তার স্মরণে আসেনি, অথবা সংশ্লিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে এর দালিলিক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেননি, কিংবা তিনি এর কোনো দুর্বল ব্যাখ্যা করেছেন, অথবা তার ধারণা মতে এমন কিছু রয়েছে যা এর পরিপন্থি, অথচ বাস্তবে তা পরিপন্থি নয়, অথবা তিনি তার ফতোয়ায় হাদিসের বিপরীতে অন্য কারো তাকলিদ করেছেন এই বিশ্বাসে যে, উক্ত ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং তিনি নিশ্চয়ই এর চেয়ে কোনো শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই হাদিসটির বিরোধিতা করেছেন। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এর কোনোটিই ঘটেনি—অথচ তা না ঘটার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানার বা ধারণা করার কোনো উপায় নেই—তবুও বর্ণনাকারী তো আর মাসুম (নির্ভুল) নন» (১)।

--------------------------------------------

(১) মাবাহিস ফি উলুমিল হাদিস (পৃ. ৫৭-৫৮), দারুত তাওজি' ওয়ান নাশর আল-ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌قواعد أساسية في السنن والبدع ينبغي معرفتها

‌‌القاعدة الأولى

تعريف البدعة
(1)

قال الشيخ صالح الفوزان: «البدعة في اللغة: مأخوذة من البَدْع، وهو الاختراع على غير مثال سابق، ومنه قوله ـ تعالى ـ: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} [البقرة: 117] أي مخترعها على غير مثال سابق، وقوله ـ تعالى ـ: {قُلْ مَا كُنتُ بِدْعًا مِّنْ الرُّسُلِ} [الأحقاف: 9] أي: ما كنت أول من جاء بالرسالة من الله إلى العباد، بل تقدمني كثير من الرسل. ويقال: ابتدع فلان بدعة، يعني: ابتدأ طريقة لم يُسبَق إليها.

والابتداع على قسمين: ابتداع في العادات كابتداع المخترعات الحديثة، وهذا مباح؛ لأن الأصل في العادات الإباحة. وابتداع في الدين وهذا مُحرَّم؛ لأن الأصل فيه التوقيف، قال صلى الله عليه وآله وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (2)، وفي رواية: «من عمل عملًا ليس عليه أمرنا فهو رد» (3).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «البدعة في الدين هي ما لم يشرعه الله ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وهو ما لم يأمر به أمر إيجاب ولا استحباب، فأما ما أمر به أمر إيجاب أو استحباب، وعُلِم الأمر به بالأدلة الشرعية فهو من الدين الذي شرعه الله، وسواء

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوي (4/ 108)، الاعتصام للإمام الشاطبي (1/ 42 - 46، 2/ 421 - 422، 438). محاضرات في العقيدة والدعوة (1/ 99 - 100) بتصرف.

(2) رواه الإمام البخاري (2697)، والإمام مسلم (1718).

(3) رواه الإمام مسلم.
‌‌সুন্নাহ ও বিদআত সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালা যা জানা আবশ্যক

‌‌প্রথম মূলনীতি

বিদআতের সংজ্ঞা
(১)

শায়খ সালিহ আল-ফাওজান বলেন: «আভিধানিক অর্থে বিদআত: এটি ‘আল-বাদউ’ শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত ব্যতিরেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {তিনি আসমান ও যমীনের আদি স্রষ্টা} [আল-বাকারাহ: ১১৭], অর্থাৎ কোনো পূর্বনমুনা ছাড়াই তিনি এগুলোর উদ্ভাবক। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তো রাসূলদের মধ্যে প্রথম নই} [আল-আহকাফ: ৯], অর্থাৎ: আমিই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের কাছে রিসালাত নিয়ে আসা প্রথম ব্যক্তি নই, বরং আমার পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি একটি বিদআত উদ্ভাবন করেছে, অর্থাৎ: সে এমন এক পদ্ধতির সূচনা করেছে যার কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত ছিল না।

উদ্ভাবন বা বিদআত দুই প্রকার: লৌকিক প্রথা বা অভ্যাসের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, যেমন আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ। এটি বৈধ; কারণ অভ্যাসের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, এটি হারাম বা নিষিদ্ধ; কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো শরয়ী দলিলের ওপর নির্ভরশীলতা (তাওকীফ)। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে আমাদের এই দ্বীনি বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য» (২), এবং অপর এক বর্ণনায় এসেছে: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার প্রতি আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য» (৩)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: «দ্বীনের মধ্যে বিদআত হলো তা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বিধিবদ্ধ করেননি। আর তা হলো এমন বিষয় যা পালনের জন্য ওয়াজিব বা মুস্তাহাব কোনো নির্দেশই আসেনি। পক্ষান্তরে যে বিষয়ে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং শরয়ী দলিলের মাধ্যমে সেই আদেশের কথা জানা গিয়েছে, তা আল্লাহর বিধিবদ্ধ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, চাই তা...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/ ১০৮), ইমাম শাতিবীর আল-ইতিসাম (১/ ৪২ - ৪৬, ২/ ৪২১ - ৪২২, ৪৩৮)। মুহাদারাত ফিল আকীদাহ ওয়াদ দাওয়াহ (১/ ৯৯ - ১০০) কিছুটা পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত।

(২) ইমাম বুখারী (২৬৯৭) এবং ইমাম মুসলিম (১৭১৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৬)
كان هذا مفعولاً على عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم أو لم يكن، فما فُعِل بعده بأمره ـ من قتال المرتدين، والخوارج المارقين، وفارس والروم والترك، وإخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب وغير ذلك ـ هو من سنته.

ولهذا كان عمر بن عبد العزيز رحمه الله يقول: سن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم سننًا، الأخذ بها تصديقٌ لكتاب الله، واستكمال لطاعة الله، وقوة على دين الله. ليس لأحد تغييرها ولا النظر في رأي من خالفها، من اهتدى بها فهو مهتد، ومن استنصر بها فهو منصور، ومن خالفها واتبع غير سبيل المؤمنين ولاه الله ما تولى وأصلاه جهنم وساءت مصيرًا، فسنة خلفائه الراشدين هي: مما أمر الله به ورسوله، وعليه أدلة شرعية مفصلة».

قال الإمام الشاطبي: «البدعة طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشرعية يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله سبحانه، (تضاهى: تشابه).

فلو كانت طريقة مخترعة في الدنيا على الخصوص لم تُسَمّ بدعة كإحداث الصنائع والبلدان التي لا عهد بها فيما تقدم.

* ولما كانت الطرائق في الدين تنقسم، فمنها ما له أصل في الشريعة ومنها ما ليس له أصل فيها، خُصّ منها القسم المخترع، أي طريقة ابتُدِعت على غير مثال تقدمها من الشارع، وبهذا القيد انفصلت عن كل ما ظهر لبادي الرأي أنه مخترَع مما هو متعلق بالدين، كعلم النحو والتصريف ومفردات اللغة وأصول الفقه وأصول الدين، وسائر العلوم الخادمة للشريعة، فإنها وإن لم توجد في الزمان الأول، فأصولها موجودة في الشرع، إذ علوم اللسان هادية للصواب في الكتاب والسنة، فحقيقتها إذاً أنها فقه التعبد بالألفاظ الشرعية كيف تُؤْخَذ وتُؤَدَّا.

* البدعة تشابه الطريقة الشرعية من غير أن تكون في الحقيقة كذلك بل هي مضادة لها من أوجه متعددة، منها:

1 - وضع الحدود كالناذر للصيام قائماً لا يقعد، ضاحياً لا يستظل، والاختصاص في الانقطاع للعبادة، والاقتصار في المأكل والمشرب على صنف دون
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রচলিত ছিল কি ছিল না, তা বিবেচ্য নয়; বরং তাঁর নির্দেশে তাঁর পরবর্তীকালে যা কিছু করা হয়েছে—যেমন মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ধর্মত্যাগী খারেজীদের মোকাবিলা, পারস্য, রোম ও তুর্কি বিজয় এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কারসহ অন্যান্য বিষয়—তা তাঁর সুন্নাহরই অন্তর্ভুক্ত।

এজন্যই উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু পন্থা (সুন্নাহ) প্রবর্তন করেছেন, যা গ্রহণ করা আল্লাহর কিতাবকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার নামান্তর, আল্লাহর আনুগত্যের পূর্ণতা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকার শক্তি স্বরূপ। কারো জন্য এটি পরিবর্তন করার বা এর বিরোধিতাকারীর মতামতের দিকে তাকানোর অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে হেদায়েত খুঁজবে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে, আর যে এর মাধ্যমে সাহায্য চাইবে সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর যে এর বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেবেন যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, যা অতি মন্দ এক প্রত্যাবর্তন স্থল। সুতরাং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা আদেশ করেছেন তারই অংশ, এবং এর স্বপক্ষে বিস্তারিত শারয়ি দলিল বিদ্যমান।»

ইমাম শাতবি বলেছেন: «বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে এমন এক উদ্ভাবিত পথ যা শরীয়তের সদৃশ, যার ওপর চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতে আধিক্য অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে। (সদৃশ অর্থ: সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

যদি তা বিশেষভাবে দুনিয়াবি কোনো উদ্ভাবিত পদ্ধতি হতো, তবে তাকে বিদআত বলা হতো না; যেমন এমন শিল্পকলা বা শহর-নগরের উদ্ভাবন যা ইতিপূর্বে বিদ্যমান ছিল না।

* যেহেতু দ্বীনের পথসমূহ বিভক্ত—যার কিছু অংশের ভিত্তি শরীয়তে রয়েছে আর কিছু অংশের ভিত্তি নেই—সেহেতু উদ্ভাবিত অংশটিকে (বিদআত হিসেবে) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ এমন পথ যা শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী কোনো দৃষ্টান্ত ছাড়াই নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই শর্তের মাধ্যমে দ্বীন সংশ্লিষ্ট আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভাবিত মনে হওয়া বিষয়গুলো থেকে একে পৃথক করা হয়েছে; যেমন—নাহু (ব্যাকরণ), তাসরীফ (রূপান্তর), ভাষাতত্ত্ব, উসূলে ফিকহ এবং উসূলে দ্বীনসহ শরীয়তের অন্যান্য সহায়ক বিজ্ঞানসমূহ। কারণ এগুলোর অস্তিত্ব প্রথম যুগে না থাকলেও এগুলোর মূল ভিত্তি শরীয়তে বিদ্যমান। কেননা ভাষাবিজ্ঞান হলো কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক অর্থ অনুধাবনের পথপ্রদর্শক; সুতরাং এর প্রকৃত রূপ হলো শারয়ি শব্দাবলির মাধ্যমে ইবাদতের বিধান—কীভাবে তা গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে হবে তার সঠিক বুঝ।

* বিদআত বাহ্যিকভাবে শরীয়তের পদ্ধতির সদৃশ হলেও বাস্তবে তা তেমন নয়, বরং এটি বিভিন্ন দিক থেকে শরীয়তের পরিপন্থী। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - এমন সব সীমা নির্ধারণ করা যেমন কেউ দাঁড়িয়ে রোজা রাখার মানত করল যে সে বসবে না, রোদে থাকবে যে সে ছায়ায় যাবে না; অথবা ইবাদতের জন্য সংসার ত্যাগ করা কিংবা পানাহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো এক প্রকার খাদ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৭)
صنف من غير علة.

2 - التزام الكيفيات والهيئات المعينة، كالذكر بهيئة الاجتماع على صوت واحد، واتخاذ يوم ولادة النبي صلى الله عليه وآله وسلم عيداً، وما أشبه ذلك.

3 - التزام العبادات المعيَّنة في أوقات معينة لم يوجد لها ذلك التعيين في الشريعة، كالتزام صوم يوم النصف من شعبان (1) وقيام ليلته.

فلو كانت لا تضاهي الأمور المشروعة لم تكن بدعة، لأنها تصير من باب الأفعال العادية».

* هل البدع تدخل في العادات؟

قال الإمام الشاطبي: «العاديات من حيث هي عادية لا بدعة فيها، ومن حيث يُتَعَبَّد بها أو توضع وضع التعبد ـ تدخلها البدعة، وأفعال المكلفين ـ بحسب النظر الشرعي فيها ـ على ضَرْبين: أحدهما: أن تكون من قبيل التعبدات، والثاني: أن تكون من قبيل العادات.

وثبت في الأصول الشرعية أنه لابد في كل عادي من شائبة التعبد؛ لأن ما لم يُعقَل معناه على التفصيل من المأمور به أو المنهي عنه فهو المراد بالتعبدي وما عُقِل معناه وعُرِفت مصلحته أو مفسدته فهو المراد بالعادي، فالطهارات والصلوات والصيام والحج كلها تعبدي، والبيع والنكاح والشراء والطلاق والإجارات والجنايات كلها عادي؛ لأن أحكامها معقولة المعنا، ومع أنها معقولة المعنى لابد فيها من التعبد إذ هي مقيدة بأمور شرعية لا خيرة للمكلف فيها، وإذا كان كذلك فقد ظهر اشتراك القسمين في معنى التعبد، فإن جاء الابتداع في الأُمور العادية من ذلك الوجه، صح دخوله في العاديات كالعبادات، وإلا فلا».

--------------------------------------------

(1) أما إن صامه على أنه أحد الأيام البيض (13، 14، 15) فهذا من السنة، فعن ملحان القيسي رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يأمرنا أن نصوم البيض: ثلاث عشرة، وأربع عشرة، وخمس عشرة، قال: قال: «هن كهيئة الدهر»، رواه الإمام أبو داود (2449)، وصححه الشيخ الألباني.
নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কাঠামো মেনে চলা, যেমন সম্মিলিতভাবে সমস্বরে জিকির করা, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবসকে ঈদ (উৎসব) হিসেবে গ্রহণ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

৩ - বিশেষ সময়ে এমন সুনির্দিষ্ট ইবাদত পালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যার কোনো ভিত্তি শরীয়তে নেই, যেমন শাবান মাসের মধ্যবর্তী দিনে (১৫ তারিখ) রোজা রাখা (১) এবং উক্ত রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকা।

যদি এগুলো শরীয়তসম্মত বিষয়াবলির সদৃশ না হতো, তবে তা বিদআত হতো না; কারণ তখন তা সাধারণ অভ্যাসগত কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত হতো।»

* বিদআত কি সাধারণ অভ্যাসের (আদাত) অন্তর্ভুক্ত হয়?

ইমাম শাতিবী রহ. বলেছেন: «অভ্যাসগত বিষয়গুলো সাধারণ অভ্যাস হওয়ার দিক থেকে তাতে কোনো বিদআত নেই; তবে যখন সেগুলোকে ইবাদত হিসেবে পালন করা হয় কিংবা ইবাদতের আদলে নির্ধারণ করা হয়—তখন তাতে বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটে। আর শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (মুকাল্লাফ) কর্ম দুই প্রকার: প্রথমত: ইবাদত সংক্রান্ত কার্যাবলী, এবং দ্বিতীয়ত: অভ্যাসগত কার্যাবলী।

শরীয়তের মূলনীতিতে এটি প্রমাণিত যে, প্রতিটি অভ্যাসগত বিষয়ের মধ্যেও ইবাদতের প্রভাব থাকা অনিবার্য; কারণ শরীয়তের আদেশ বা নিষেধের যা কিছু বিস্তারিত অর্থ বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, তা-ই ইবাদত (তআব্বুদি) হিসেবে গণ্য। আর যার অর্থ বোধগম্য এবং যার উপকারিতা বা অপকারিতা জানা যায়, তাকেই অভ্যাসগত (আদি) বিষয় বলা হয়। সুতরাং পবিত্রতা অর্জন, নামাজ, রোজা এবং হজ—এগুলো সবই ইবাদত। আর কেনাবেচা, বিবাহ, ক্রয়, তালাক, ইজারা এবং অপরাধসমূহ—এগুলো সবই অভ্যাসগত; কারণ এগুলোর বিধানসমূহের অন্তর্নিহিত কারণ বোধগম্য। তবে এগুলোর কারণ বোধগম্য হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে ইবাদতের দিকটি থাকা অপরিহার্য, কেননা সেগুলো শরঈ বিধিবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ, যেখানে কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ইখতিয়ার নেই। বিষয়টি যখন এমন, তখন উভয় প্রকার কার্যাবলীর মধ্যে ইবাদতের অর্থ বিদ্যমান থাকা স্পষ্ট হলো। সুতরাং যদি অভ্যাসগত বিষয়সমূহে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন উদ্ভাবন (বিদআত) আসে, তবে ইবাদতের ন্যায় অভ্যাসগত বিষয়গুলোতেও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটা সঠিক হবে, অন্যথায় নয়।»

--------------------------------------------

(১) তবে যদি কেউ এই নিয়তে রোজা রাখে যে তা আইয়ামে বিয (প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ)-এর অন্তর্ভুক্ত, তবে তা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত হবে। হযরত মিলহান আল-কায়সী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিয অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন: «এগুলো সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য», এটি ইমাম আবু দাউদ (২৪৪৯) বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানী একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالأفعال العادية قد تدخل في نطاق البدع بنية صاحبها سواء في الفعل (كلبس الصوف بقصد التقرب إلى الله)، أو في الترك (كالتقرب إلى الله بالصمت الدائم، أو بالامتناع عن الخبز واللحم وشرب الماء البارد، أو بالقيام في الشمس وترك الاستظلال).

সুতরাং সাধারণ কার্যাবলিও সম্পাদনকারীর নিয়তের কারণে বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; চাই তা কোনো কাজ করার মাধ্যমে হোক (যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশমি বস্ত্র পরিধান করা), অথবা কোনো কিছু বর্জনের মাধ্যমে (যেমন সর্বদা মৌনতা অবলম্বনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা, কিংবা রুটি, গোশত ও শীতল পানি পান করা থেকে বিরত থাকা, অথবা ছায়া পরিত্যাগ করে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা)।

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌القاعدة الثانية

الحث على التمسك بالدين وإحياء السنة والتحذير من الابتداع

قال الشيخ على محفوظ:

* قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3] فإذا كان الله سبحانه قد أكمل لنا الدين بما أنزله في كتابه العربي المبين وعلى لسان نبيه الأمين وبين لنا من حلال وحرام، فمن اتبع غير سبيل المؤمنين فهو الحقيق بهذا الوعيد الشديد، قال تعالى: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءتْ مَصِيرًا} [النساء: 115].

* قال تعالى: {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} [الأنعام: 38] أي ما تركنا وما أغفلنا شيئاً يحتاج إليه من الأشياء المهمة، فقد نفى سبحانه التقصير فيما شرع من كتابه الحكيم الذي هو متن السنة، وقد أمر تعالى باتباع سبيله وما شرع من الدين القويم، ونهى عن اتباع غير سبيل المؤمنين فقال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] فذكر تعالى أن له سبيلاً واحداً سماه صراطاً مستقيماً لأنه أقرب طريق إلى الحق والخير والسلام، وأن هناك سبلاً متعددة يتفرق متبعوها عن ذلك الصراط، وهي طرق الشيطان، وحث سبحانه على اتباع سبيله الذي هو الكتاب والسنة حثاً مقروناً بالنهي عن اتباع السبل مبيناً أن ذلك سبب للتفرق، ولذا ترى المسلمين العاملين قد لزموا سبيلاً واحداً أمروا بسلوكه وأما أهل البدع والأهواء فقد افترقوا في سبلهم على حسب معتقداتهم الفاسدة وآرائهم الكاسدة.

* قال تعالى: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] قال العلماء: معناه: إلى الكتاب والسنة، فأمر سبحانه برد الأمر في حالة النزاع إلى كتابه
দ্বিতীয় মূলনীতি

দীনের ওপর অবিচল থাকা ও সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করার উৎসাহ প্রদান এবং বিদআত সম্পর্কে সতর্কীকরণ

শাইখ আলী মাহফুজ বলেন:

* মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাঁর সুস্পষ্ট আরবি কিতাবে এবং তাঁর বিশ্বস্ত নবীর জবানে যা অবতীর্ণ করেছেন তার মাধ্যমে আমাদের জন্য দীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন এবং আমাদের জন্য হালাল ও হারাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তখন মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ যে অনুসরণ করবে, সে-ই এই কঠোর হুঁশিয়ারির যোগ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {কারও কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যে পথ বেছে নিয়েছে আমি তাকে সেই পথেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস!} [আন-নিসা: ১১৫]।

* মহান আল্লাহ বলেন: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [আল-আনআম: ৩৮]। অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজনীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আমি ছেড়ে দিইনি বা উপেক্ষা করিনি। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর হিকমতপূর্ণ কিতাবে যা বিধিবদ্ধ করেছেন তাতে কোনো প্রকার অপূর্ণতা থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন, যা সুন্নাহর মূল পাঠস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথ এবং দীনের যে সুদৃঢ় বিধান প্রদান করেছেন তা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে} [আল-আনআম: 153]। আল্লাহ তাআলা এখানে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পথ একটিই এবং তিনি একে ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ (সরল পথ) বলে নামকরণ করেছেন; কারণ এটিই সত্য, কল্যাণ ও শান্তির নিকটতম পথ। অন্যদিকে আরও অনেক পথ রয়েছে যার অনুসারীরা ওই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, আর সেগুলো হলো শয়তানের পথ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পথ—যা মূলত কুরআন ও সুন্নাহ—অনুসরণ করার ব্যাপারে জোরালো তাগিদ দিয়েছেন এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য পথ অনুসরণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন; সেই সাথে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটিই অনৈক্যের কারণ। এই কারণেই আপনি আমলকারী মুসলিমদের দেখবেন যে তারা একটি পথেই অবিচল রয়েছে যে পথে চলার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজারীরা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অসার মতামতের ভিত্তিতে নানাবিধ পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

* মহান আল্লাহ বলেন: {যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯]। উলামায়ে কেরাম বলেন: এর অর্থ হলো কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিরোধের ক্ষেত্রে বিষয়টি তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২০)
العزيز وسنة نبيه صلى الله عليه وآله وسلم ففي حالة الوفاق أولا.

* قال تعالى: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ} [آل عمران: 31] فقد جعل سبحانه وتعالى علامة محبته اتباع الرسول صلى الله عليه وآله وسلم فمن لم يتبع الرسول وادعى محبة الله تعالى فهو كاذب في دعواه فإن عصيان الرسول عصيان لله تعالا، {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [النساء: 80] وعصيان الله تعالى ينافي محبته، فالخيرة في اتباع الرسول صلى الله عليه وآله وسلم والشر في مخالفة سنته، فإذاً الواجب علينا معاشر المسلمين اتباعه في جميع أقواله وأفعاله والتأسي به في سائر أحواله، قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [الحشر: 7]، وما أخبث رجلاً ترك سبيل السُنة الشارحة للكتاب واستبدل العذب بالعذاب، {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] (1).

* قال الحافظ ابن كثير: «{فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} أي: عن أمر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وهو سبيله ومنهاجه وطريقته وشريعته فتوزن الأقوال والأعمال بأقواله وأعماله، فما وافق ذلك قُبِل وما خالفه فهو مردود على قائله وفاعله، كائناً من كان كما ثبت في الصحيحين وغيرهما عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» (2) أي: فليحذر ولْيَخْش من خالف شريعة الرسول باطناً أو ظاهراً {أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} أي: في قلوبهم، من كفر أو نفاق أو بدعة {أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} أي: في الدنيا، بقتل أو حد أو حبس، أو نحو ذلك» (3).

* قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لّكُلّ شَيْءٍ} [النحل: 89].

قال مجاهد: «تبيانًا للحلال والحرام» (4).

--------------------------------------------

(1) الإبداع في مضار الابتداع للشيخ علي محفوظ (ص17 - 19) بتصرف.

(2) رواه الإمام البخاري (2697)، الإمام مسلم (1718).

(3) تفسير القرآن العظيم (عند تفسير الآية 63 من سورة النور).

(4) تفسير القرطبيّ (10/ 164).
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ; অতএব প্রথমত ঐকমত্যের ক্ষেত্রে।

* মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন" [আলে ইমরান: ৩১]। সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্যকে তাঁর ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ করে না অথচ আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে, সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী। কেননা রাসূলের অবাধ্যতা মূলত আল্লাহরই অবাধ্যতা; "যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল" [নিসা: ৮০]। আর আল্লাহর অবাধ্যতা তাঁর ভালোবাসার পরিপন্থী। সুতরাং কল্যাণ নিহিত রয়েছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণের মধ্যে এবং অকল্যাণ নিহিত রয়েছে তাঁর সুন্নাহর বিরোধিতার মধ্যে। অতএব, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমাদের কর্তব্য হলো তাঁর সকল কথা ও কাজে তাঁর অনুসরণ করা এবং তাঁর জীবনের সকল অবস্থায় তাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" [হাশর: ৭]। সেই ব্যক্তি কতই না নিকৃষ্ট যে কিতাবুল্লাহর ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহর পথ ত্যাগ করেছে এবং সুমিষ্ট পানীয়র বদলে আজাব গ্রহণ করেছে; "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে" [নূর: ৬৩] (১)।

* হাফেজ ইবনে কাসির রহ. বলেন: "«অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়» অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশের বিরোধিতা করে। তাঁর নির্দেশ হলো তাঁর পথ, পদ্ধতি, আদর্শ ও শরিয়ত। সুতরাং সকল কথা ও কাজ তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে; যা এর সাথে মিলবে তা কবুল করা হবে এবং যা এর বিপরীত হবে তা বর্জনীয় ও প্রত্যাখ্যাত হবে, তা পালনকারী যেই হোন না কেন। যেমন বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত» (২)। অর্থাৎ: যে ব্যক্তি রাসূলের শরিয়তের গোপনে বা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করবে, সে যেন সাবধান ও ভীত হয় «যে তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে» অর্থাৎ: তাদের অন্তরে কুফর, নিফাক বা বিদআতের ফেতনা দেখা দেবে, «অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে» অর্থাৎ: দুনিয়াতে হত্যা, হদ বা কারাবরণ অথবা অনুরূপ শাস্তির মাধ্যমে" (৩)।

* মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "আমি আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা" [নাহল: ৮৯]।

মুজাহিদ রহ. বলেন: "হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ" (৪)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ আলি মাহফুজ রচিত ‘আল-ইবদা’ ফি মাদারিল ইবতিদা’ (পৃ. ১৭ - ১৯) থেকে সংক্ষেপিত।

(২) ইমাম বুখারি (২৬৯৭) ও ইমাম মুসলিম (১৭১৮) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) তাফসীরুল কুরআনিল আজিম (সূরা নূরের ৬৩ নম্বর আয়াতের তাফসীরে)।

(৪) তাফসীরে কুরতুবী (১০/ ১৬৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২১)
قال الإمام القرطبيُّ: «أي ما تركنا شيئًا من أمر الدين إلَاّ وقد دللنا عليه في القرآن، إمَّا دلالة مبيَّنة مشروحة، وإمَّا مجملة يُتَلقَّى بيانُها من الرسول عليه الصلاة والسلام، أو من الإجماع، أو من القياس الذي ثبت بنص الكتاب، قال الله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لّكُلّ شَيْءٍ} [النحل: 89]، وقال: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذّكْرَ لِتُبَيّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44]، وقال: {وَمَا ءاتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [الحشر: 7]. فأجْمَلَ في هذه الآية وآية النحل ما لم ينص عليه مما لم يذكره، فصدق خبر الله بأنه ما فرط في الكتاب من شيءٍ إلَاّ ذكره، إمَّا تفصيلاً وإمَّا تأصيلاً، وقال: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3]» (1).

* قال صلى الله عليه وآله وسلم: «إنِّي قد تركت فيكم شيئين لن تضلوا بعدهما: كتاب الله وسنتي، ولن يفترقا حتى يردا عليّ الحوض» (2).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «وما خالف النصوص فهو بدعة باتفاق المسلمين» (3).

* قال صلى الله عليه وآله وسلم: « … ولكني أقوم وأنام، وأصوم وأفطر، وأتزوج النساء، وآكل اللحم، فمن رغب عن سنتي فليس مني» (4).

قال الإمام الشاطبي: «والرأيُ إذا عارض السنة فهو بدعة وضلالة» (5).

* قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: « … إنه من يَعِش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسكوا بها وعَضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثاتِ الأمور فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» (6)، عضوا عليها

--------------------------------------------

(1) تفسير القرطبي (6/ 420).

(2) رواه الإمام الحاكم في المستدرك (1/ 93)، وصححه الشيخ الألبانِيُّ.

(3) مجموع الفتاوى (20/ 163).

(4) رواه البخاري (5063)، ومسلم (1401).

(5) الاعتصام (2/ 335).

(6) رواه الإمام أبو داود (4607) وصححه الشيخ الألباني، وروى الإمام مسلم لفظة: «كل بدعة ضلالة».
ইমাম কুরতুবী বলেন: «অর্থাৎ আমরা দ্বীনের কোনো বিষয়ই বাদ দিইনি যা কুরআনে নির্দেশ করিনি; তা হতে পারে সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে, অথবা সংক্ষিপ্ত নির্দেশনার মাধ্যমে যার ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে, অথবা ইজমা কিংবা কিতাবুল্লাহর অকাট্য প্রমাণ (নস) দ্বারা সাব্যস্ত কিয়াসের (অনুমান) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা} [আন-নাহল: ৮৯], এবং তিনি বলেন: {আর আমি তোমার প্রতি যিকর নাযিল করেছি যাতে তুমি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দাও যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪], এবং তিনি বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। সুতরাং তিনি এই আয়াতে এবং সূরা নাহলের আয়াতে এমন সব বিষয়কে সংক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা স্পষ্টভাবে এখানে উল্লেখিত হয়নি, ফলে আল্লাহর এই সংবাদ সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেননি, হয় তা বিস্তারিতভাবে অথবা নীতিগতভাবে। তিনি আরও বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]» (১)।

* রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। এই দুটি কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না তারা হাউযে কাউসারে আমার নিকট উপস্থিত হয়» (২)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: «যা নসের (অকাট্য দলিলের) পরিপন্থী, মুসলিমদের ঐক্যমত্য অনুযায়ী তা বিদআত» (৩)।

* রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: « ... কিন্তু আমি সালাত আদায় করি ও নিদ্রা যাই, সিয়াম পালন করি ও তা ভঙ্গ করি, নারীদের বিবাহ করি এবং গোশত ভক্ষণ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়» (৪)।

ইমাম শাতিবী বলেন: «যখন কোনো অভিমত সুন্নাহর বিরোধী হয়, তখন তা বিদআত ও ভ্রষ্টতা» (৫)।

* রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: « ... তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা। তোমরা তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা» (৬), মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে কুরতুবী (৬/ ৪২০)।

(২) ইমাম হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (১/ ৯৩) এবং শায়খ আলবানী একে সহীহ বলেছেন।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (২০/ ১৬৩)।

(৪) বুখারী (৫০৬৩) এবং মুসলিম (১৪০১) বর্ণনা করেছেন।

(৫) আল-ইতিসাম (২/ ৩৩৫)।

(৬) ইমাম আবু দাউদ (৪৬০৭) বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। ইমাম মুসলিম «প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা» শব্দাংশটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২২)
بالنواجذ: كناية عن شدة التمسك بها، والنواجذ: الأضراس.

قال الإمام الشاطبي: «يطلق لفظ السنة على ما جاء منقولاً عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم على الخصوص مما لم يُنَصّ عليه في الكتاب العزيز، بل إنّ ما نُصَّ عليه من جهته صلى الله عليه وآله وسلم كان بياناً لما في الكتاب أولاً.

ويُطلَق أيضاً في مقابلة البدعة، فيقال: فلان على سنة، إذا عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ويقال: فلان على بدعة، إذا عمل على خلاف ذلك.

ويطلق أيضاً لفظ السنة على ما عمل عليه الصحابة رضي الله عنهم، وُجِد ذلك في الكتاب والسنة أو لم يوجد، لكونه اتباعاً لسنة ثبتت عندهم، لم تُنْقل إلينا، أو اجتهاداً مجتمعاً عليه منهم أو من خلفائهم، فإن إجماعهم إجماع، وعمل خلفائهم راجع أيضاً إلى حقيقة الإجماع، من جهة حَمْل الناس عليه حسبما اقتضاه النظر المصلحي عندهم، فيدخل تحت هذا الإطلاق المصالح المرسلة والاستحسان، كما فعلوا في حَدّ الخمر، وتضمين الصناع، وجمع المصحف، وحمل الناس على القراءة بحرف واحد من الحروف السبعة، وتدوين الدواوين، وما أشبه ذلك، ويدل على هذا الإطلاق قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين» (1) اهـ.

قال الشيخ عبد الله دراز ـ تعليقاً على قول الإمام الشاطبي السابق ـ: «فقد أضاف صلى الله عليه وآله وسلم السنّة إليهم كما أضافها إلى نفسه، فسُنّتهم هي ما عملوه استناداً لسنته، وإن لم تطلع عليها منقولة عنه، وكذا ما استنبطوه بما اقتضاه نظرهم في المصلحة».

* قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو ردّ» (2).

قال الإمام النوويُّ: «قال أهل العربية: الرد هنا بمعنى المردود، ومعناه: فهو باطل غير معتد به». وقال: «وهذا الحديث قاعدة عظيمة من قواعد الإسلام، وهو من جوامع كلمه صلى الله عليه وآله وسلم، فإنه صريح في رد كل البدع والمخترعات»، وقال: «وهذا

--------------------------------------------

(1) الموافقات (4/ 3).

(2) رواه البخاري (2697)، ومسلم (1718).
মাড়ির দাঁত দিয়ে: এটি কোনো কিছুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার রূপক বর্ণনা; আর 'নাওয়াজিজ' অর্থ হলো মাড়ির দাঁত।

ইমাম শাতেবী বলেন: «'সুন্নাহ' শব্দটি বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে যা কিছু স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা ছিল প্রাথমিকভাবে আল-কুরআনেরই ব্যাখ্যা।

এটি বিদআতের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি সুন্নাতের ওপর আছেন—যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা করেছেন তার অনুসরণ করেন। আবার বলা হয়: অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছেন—যখন তিনি তার বিপরীত কাজ করেন।

সুন্নাহ শব্দটি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের আমলের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, চাই তা কুরআন ও সুন্নাহয় পাওয়া যাক বা না যাক। কারণ তা তাঁদের নিকট প্রমাণিত কোনো সুন্নাহর অনুসরণ হিসেবে গণ্য—যা আমাদের পর্যন্ত বর্ণনা সূত্রে পৌঁছায়নি, অথবা তা ছিল তাঁদের বা তাঁদের খলিফাগণের পক্ষ থেকে কোনো সম্মিলিত ইজতিহাদ। কেননা তাঁদের ইজমা হলো ইজমা (ঐকমত্য), আর তাঁদের খলিফাগণের আমলও প্রকৃতপক্ষে ইজমার অন্তর্ভুক্ত। জনকল্যাণের প্রয়োজনে তাঁরা মানুষকে কোনো বিষয়ের ওপর পরিচালনা করেছেন। এর আওতায় 'মাসালিহে মুরসালাহ' এবং 'ইস্তিহসান' অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমনটি তাঁরা করেছিলেন মদ্যপানের দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে, কারিগরদের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে, পবিত্র কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে, মানুষকে সাত হরফের পরিবর্তে এক হরফে কিরাত পড়ার নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে, দপ্তরসমূহ (দিওয়ান) স্থাপনের ক্ষেত্রে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে। এই অর্থের সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী প্রমাণ বহন করে: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" (১) উদ্ধৃতি শেষ।

শায়খ আবদুল্লাহ দারায — ইমাম শাতেবীর পূর্বোক্ত বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে — বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাহকে নিজের দিকে যেভাবে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, ঠিক সেভাবেই তাঁদের (সাহাবাদের) দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। সুতরাং তাঁদের সুন্নাহ হলো তা-ই যা তাঁরা তাঁর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই আমল করেছেন, যদিও তা তাঁর থেকে বর্ণিত রূপে আপনার নিকট পৌঁছায়নি। তেমনিভাবে তা-ই যা তাঁরা জনকল্যাণের নিরিখে তাঁদের ইজতিহাদ দ্বারা উদ্ঘাটন করেছেন।»

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।» (২)।

ইমাম নববী বলেন: «আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন: এখানে 'রাদ্দ' শব্দটি 'মারদুদ' (প্রত্যাখ্যাত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো: তা বাতিল এবং অগ্রহণযোগ্য।» তিনি আরও বলেন: «এই হাদিসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি মহান মূলনীতি। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী) এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি সমস্ত বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বক্তব্য।» তিনি আরও বলেন: «এবং এটি

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত (৪/৩)।

(২) বুখারি (২৬৯৭), মুসলিম (১৭১৮)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الحديث مما ينبغي حفظه واستعماله في إبطال المنكرات، وإشاعة الاستدلال به» (1).

قال الحافظ ابن رجب: «فمن تقرب إلى الله بعمل لم يجعله الله ورسوله قربة إلى الله فعمله باطل مردود» (2).

وقال الحافظ ابن حجر: «وهذا الحديث معدود من أصول الإسلام، وقاعدة من قواعده؛ فإن من اخترع في الدين ما لا يشهد له أصل من أصوله فلا يلتفت إليه» (3).

* قال صلى الله عليه وآله وسلم: «إنَّه لم يكن نبيٌّ قبلي إلَاّ كان حقًا عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم، وينذرهم شرّ ما يعلمه لهم» (4).

قيل لسلمان رضي الله عنه: قد علَّمكم نبيُّكم صلى الله عليه وآله وسلم كلَّ شيء؛ حتى الخراءة!!. فقال: «أجل، لقد نهانا أن نستقبل القبلة لغائط أو بول، أن نستنجي باليمين، أو أن نستنجي بأقلّ من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي برجيع أو بعظم» (5).

* قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «من أحيا سنة من سنتي فعمل بها الناس، كان له مثل أجر من عمل بها لا ينقص من أجورهم شيئاً، ومن ابتدع بدعة فعُمِل بها، كان عليه أوزار من عمل بها لا ينقص من أوزار من عمل بها شيئاً» (6).

--------------------------------------------

(1) شرح مسلم (12/ 16).

(2) جامع العلوم والحكم (1/ 178).

(3) فتح الباري (5/ 302).

(4) رواه مسلم (1844).

(5) رواه مسلم (262).

(6) رواه الإمام ابن ماجه (209) وصححه الشيخ الألباني.
এই হাদিসটি এমন একটি বিষয় যা মুখস্থ রাখা উচিত এবং অপকর্মসমূহ বাতিল করতে ও এর মাধ্যমে দলিল প্রদানের ব্যাপক প্রচলন ঘটানোয় ব্যবহার করা উচিত» (১)।

হাফেজ ইবনে রাজাব বলেন: «যে ব্যক্তি এমন আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেননি, তবে তার সেই আমল বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত» (২)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: «এই হাদিসটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি এবং এর ভিত্তিগুলোর অন্যতম একটি ভিত্তি হিসেবে গণ্য; কেননা যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যার পক্ষে দ্বীনের কোনো মূলনীতির প্রমাণ নেই, তবে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না» (৩)।

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পূর্ববর্তী এমন কোনো নবী ছিলেন না যার ওপর এ দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে তাদের জন্য কল্যাণকর যা কিছু জানতেন সেদিকে পথপ্রদর্শন করবেন এবং অকল্যাণকর যা কিছু জানতেন তা থেকে তাদের সতর্ক করবেন» (৪)।

সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হলো: তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তো তোমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের নিয়ম পর্যন্ত!! তিনি বললেন: «হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি আমাদের মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে শৌচকার্য করতে অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন» (৫)।

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কোনো সুন্নাতকে জিন্দা করবে অতঃপর মানুষ সে অনুযায়ী আমল করবে, তবে যে ব্যক্তি সে অনুযায়ী আমল করল তার সমপরিমাণ সওয়াব সেই জিন্দাকারীর জন্য থাকবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করা হলো, তবে যারা সে অনুযায়ী আমল করল তাদের পাপের বোঝা সেই উদ্ভাবনকারীর ওপর বর্তাবে, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না» (৬)।

--------------------------------------------

(১) শারহু মুসলিম (১২/ ১৬)।

(২) জামিউল উলূমি ওয়াল হিকাম (১/ ১৭৮)।

(৩) ফাতহুল বারী (৫/ ৩০২)।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৮৪৪)।

(৫) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৬২)।

(৬) ইমাম ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (২০৯) এবং শেখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌القاعدة الثالثة

الأسباب التي أدت إلى ظهور البدع
(1)

1 - الجهل بأحكام الدين: كلما امتد الزمن وبعد الناس عن آثار الرسالة قَلّ العلم وفشا الجهل، كما أخبر بذلك النبي صلى الله عليه وآله وسلم بقوله: « … من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً» (2)، وقوله: «إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يُبْق عالماً اتخذ الناس رؤوساً جهالاً فسُئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا» (3) (انتزاعاً: أي محواً من الصدر).

2 - اتباع الهوى: من أعرض عن الكتاب والسنة اتبع هواه، كما قال تعالى: {فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللهِ} [القصص: 50] والبدع إنما هي من نسيج الهوى المتبع.

3 - التعصب للآراء والرجال يحول بين المرء واتباع الدليل ومعرفة الحق، قال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا} [البقرة: 170]، وهذا هو شأن المتعصبين اليوم من بعض اتباع المذاهب والصوفية والقبوريّين إذا دُعوا إلى اتباع الكتاب والسنة ونَبْذ ما هم عليه مما يخالفها، احتجوا بمذاهبهم ومشايخهم وآبائهم وأجدادهم.

4 - التشبه بالكفار: وهو من أشد ما يوقع في البدع، كما في حديث أبى واقد الليثى: أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم لما خرج إلى حنين مرّ بشجرة للمشركين يقال لها ذات

--------------------------------------------

(1) محاضرات في العقيدة والدعوة للشيخ صالح الفوزان (1/ 105 - 107) البدع الحولية للشيخ عبد الله التويجري (51 - 59) بتصرف.

(2) رواه الإمام أبو داود (4607) وصححه الألباني.

(3) رواه الإمام البخاري (100، 7307)، الإمام مسلم (2673).
তৃতীয় মূলনীতি

বিদআত প্রকাশের কারণসমূহ
(১)

১ - দ্বীনের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা: সময়ের ব্যবধান বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ যখন নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী থেকে দূরে সরে যায়, তখন ইলম বা জ্ঞান হ্রাস পায় এবং অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে। যেমনটি নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর এই বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন: « ... তোমাদের মধ্যে যারা দীর্ঘজীবী হবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে» (২), এবং তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তর থেকে সরাসরি ইলম বা জ্ঞান ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের বিদায়ের মাধ্যমেই তিনি জ্ঞান তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হলে তারা না জেনেই ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে» (৩) (ছিনিয়ে নেওয়া: অর্থাৎ অন্তর থেকে মুছে দেওয়া)।

২ - প্রবৃত্তির অনুসরণ: যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়, সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখুন যে তারা কেবল তাদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?} [কাসাস: ৫০]। আর বিদআত মূলত অনুসৃত প্রবৃত্তিরই বহিঃপ্রকাশ।

৩ - মতাদর্শ ও ব্যক্তিবর্গের প্রতি অন্ধভক্তি: এটি মানুষকে দলিলের অনুসরণ ও সত্য অনুধাবন করতে বাধা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তারা বলে: বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যে আদর্শে পেয়েছি তারই অনুসরণ করব} [বাকারা: ১৭০]। বর্তমান যুগের কতিপয় মাজহাব অনুসারী, সুফি ও কবরপূজারী চরমপন্থীদের অবস্থাও ঠিক তদ্রূপ; যখন তাদের কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাদের বর্তমান বিভ্রান্তি পরিত্যাগের আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা তাদের মাজহাব, পীর-মাশায়েখ এবং বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে বিতর্ক করে।

৪ - কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন: এটি বিদআতে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আবু ওয়াকিদ আল-লায়ছি বর্ণিত হাদিসে এসেছে: যখন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) হুনাইনের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন তিনি মুশরিকদের একটি গাছের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাকে বলা হতো 'জাত...'

--------------------------------------------

(১) শায়খ সালিহ আল-ফাওজানের ‘মুহাদারাত ফিল আকিদাহ ওয়াদ দাওয়াহ’ (১/ ১০৫ - ১০৭) এবং শায়খ আবদুল্লাহ আল-তুওয়াইজিরির ‘আল-বিদাউল হাওলিয়্যাহ’ (৫১ - ৫৯) থেকে সংক্ষেপিত।

(২) ইমাম আবু দাউদ (৪৬০৭) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন।

(৩) ইমাম বুখারি (১০০, ৭৩০৭) এবং ইমাম মুসলিম (২৬৭৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৫)
أنواط، يعلقون عليها أسلحتهم، قالوا: «يا رسول الله اجعل لنا ذات أنواط كما لهم ذات أنواط»، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «سبحان الله، هذا كما قال قوم موسى {اجْعَل لَّنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ} [الأعراف: 138]، والذي نفسي بيده لتركبُنَّ سنّة من كان قبلكم» (1).

ففي هذا الحديث أن التشبه بالكفار هو الذي حمل بني إسرائيل وبعض أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم أن يطلبوا هذا الطلب القبيح من نبيهم، وهو أن يجعل لهم آلهة يعبدونها ويتبرَّكون بها من دون الله، وهذا هو نفس الواقع اليوم، فإن غالب الناس من المسلمين قلدوا الكفار في عمل البدع والشركيات كأعياد الموالد، وإقامة الأيام والأسابيع لأعمال مخصصة، والاحتفال بالمناسبات الدينية والذكريات وإقامة التماثيل والنصب التذكارية، وإقامة المآتم وبدع الجنائز والبناء على القبور وغير ذلك.

5 - اتباع المتشابه ابتغاء الفتنة من العلماء المبتدعين، وابتغاء تأويله من العلماء المتعالمين.

6 - الجهل بالسنة: ويشمل الجهل بمكانة السنة من التشريع، ويشمل الجهل بمصطلح الحديث، وعدم التفريق بين الأحاديث الصحيحة وبين الأحاديث الضعيفة والموضوعة.

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام الترمذي (2285) وصححه الشيخ الألباني.
আনওয়াত, সেখানে তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। তারা বলল: «হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একটি ‘জাতু আনওয়াত’ নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের একটি ‘জাতু আনওয়াত’ রয়েছে», তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «সুবহানাল্লাহ, এটি ঠিক তেমন কথা যেমনটি মূসার কওম বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন উপাস্য স্থির করে দিন যেমন তাদের অনেক উপাস্য রয়েছে} [আল-আ’রাফ: ১৩৮]। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে» (১)।

এই হাদিসে প্রতীয়মান হয় যে, কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনই বনী ইসরাঈল এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু সাহাবীকে তাঁদের নবীর কাছে এই জঘন্য আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; আর তা হলো তাদের জন্য এমন উপাস্য নির্ধারণ করে দেওয়া যাদের তারা ইবাদত করবে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের থেকে বরকত গ্রহণ করবে। বর্তমানের বাস্তব চিত্রও ঠিক একই রকম। কেননা অধিকাংশ মুসলিম বিদআত ও শিরকি কর্মকাণ্ডে কাফেরদের অনুকরণ করছে, যেমন—জন্মবার্ষিকী (মাওলিদ) পালন করা, নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষ দিবস ও সপ্তাহ নির্ধারণ করা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন করা, মূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা এবং শোকগাথা ও জানাজা সংশ্লিষ্ট বিদআতসমূহ এবং কবরের ওপর সৌধ নির্মাণসহ অন্যান্য বিষয়াদি।

৫ - বিদআতী আলেমদের পক্ষ থেকে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং তথাকথিত আলেমদের পক্ষ থেকে অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট বিষয়সমূহের অনুসরণ করা।

৬ - সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা: এর অন্তর্ভুক্ত হলো শরিয়তের বিধানে সুন্নাহর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতা, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সহিহ হাদিসের সাথে যয়িফ ও মাওযু হাদিসের পার্থক্য করতে না পারা।

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২২৮৫) এবং শায়খ আলবানী একে সহিহ বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌القاعدة الرابعة

تقسيم السنة إلى فعلية وتركية
(1)

سنة النبي صلى الله عليه وآله وسلم كما تكون بالفعل تكون بالترك، فكما كلفنا الله تعالى باتباع النبي صلى الله عليه وآله وسلم في فعله الذي يتقرب به إذا لم يكن من باب الخصوصيات، كذلك طالبنا باتباعه في تركه فيكون الترك سنة، وكما لا نتقرب إلى الله تعالى بترك ما فعل، لا نتقرب إليه بفعل ما ترك فلا فرق بين الفاعل لما ترك والتارك لما فعل. والكلام في ترك شيء لم يكن في زمنه صلى الله عليه وآله وسلم مانع منه وتوفرت الدواعي على فعله، كتركه الأذان للعيدين، والغسل لكل صلاة، وصلاة ليلة النصف من شعبان، والأذان للتراويح، والقراءة على الموتا، فهذه أمور تُركت في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم السنين الطوال مع عدم المانع من فعلها ووجود مقتضيها، لأنها عبادات والمقتضي لها موجود وهو التقرب إلى الله تعالا، والوقت وقت تشريع وبيان للأحكام، فلو كانت ديناً وعبادة يُتقرب بها إلى الله تعالى ما تركها السنين الطويلة مع أمره بالتبليغ وعصمته من الكتمان، فتركه صلى الله عليه وآله وسلم لها ومواظبته على الترك ـ مع عدم المانع ووجود المقتضي ومع أن الوقت وقت تشريع ـ دليل على أن المشروع فيها هو الترك، وأن الفعل خلاف المشروع، فلا يتقرب بها؛ لأن القربة لابد أن تكون مشروعة.

وأما ما فعله الخلفاء ولم يكن موجوداً من قبلُ فهو لا يخرج عن أمور لم يوجد لها المقتضي في عهد الرسول صلى الله عليه وآله وسلم بل في عهد الخلفاء كجمع المصحف، أو كان المقتضي موجوداً في عهد الرسول ولكن كان هناك مانع كصلاة التراويح في جماعة فإن المانع من

--------------------------------------------

(1) الإبداع (ص34 - 44) بتصرف. القول الفصل في حكم الاحتفال بمولد خير الرسل (ص78 - 79).
চতুর্থ উসুল (নীতিমালা)

সুন্নাহকে করণীয় ও বর্জনীয় হিসেবে ভাগ করা
(১)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ যেমন তাঁর কর্মের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তেমনি তাঁর বর্জনের মাধ্যমেও সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ তাআলা যেভাবে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সেই কর্মসমূহ অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি নৈকট্য লাভ করতেন—যদি তা তাঁর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত না হয়—অনুরূপভাবে তিনি আমাদের তাঁর বর্জনকে অনুসরণ করতেও দাবি করেছেন; ফলে বর্জন করাও একটি সুন্নাহ। এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য আমরা যেভাবে তাঁর কৃত কর্মটি বর্জন করার মাধ্যমে তালাশ করি না, তেমনি তাঁর বর্জনকৃত বিষয়টি করার মাধ্যমেও তাঁর নৈকট্য প্রত্যাশা করি না। সুতরাং তাঁর বর্জনকৃত বিষয়ের সম্পাদনকারী এবং তাঁর কৃত বিষয়ের বর্জনকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আর এমন বিষয় বর্জন করার ক্ষেত্রে আলোচনা যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে তা পালনের কোনো প্রতিবন্ধক ছিল না এবং তা করার যথেষ্ট প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল; যেমন: দুই ঈদের জন্য আযান দেওয়া বর্জন করা, প্রতি সালাতের জন্য গোসল করা, শাবানের মধ্য রজনীর (শবে বরাতের) সালাত, তারাবীর জন্য আযান দেওয়া এবং মৃতদের জন্য পাঠ (কুরআন তিলাওয়াত) করা। এই বিষয়গুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে দীর্ঘ বছর যাবৎ বর্জন করা হয়েছিল, অথচ এগুলো পালনের কোনো বাধা ছিল না এবং এর প্রেক্ষাপটও বিদ্যমান ছিল; কারণ এগুলো ইবাদত আর এর প্রেক্ষাপট তথা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই বিদ্যমান ছিল। উপরন্তু, সেই সময়টি ছিল শরীয়ত প্রণয়ন ও বিধান বর্ণনার সময়। সুতরাং এগুলো যদি দ্বীন ও ইবাদত হতো যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়, তবে প্রচারের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো বিধান গোপন করা থেকে তাঁর সুরক্ষার (মাসুমিয়াত) নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ তা বর্জন করতেন না। অতএব, প্রতিবন্ধক না থাকা এবং প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এবং সময়টি শরীয়ত প্রণয়নের সময় হওয়া সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এগুলো বর্জন করা এবং সেই বর্জনের ওপর অটল থাকা প্রমাণ করে যে, এই ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত বিষয় হলো তা বর্জন করা, আর তা সম্পাদন করা শরীয়ত পরিপন্থী। সুতরাং এর মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করা যাবে না; কারণ নৈকট্য অর্জনের কাজ অবশ্যই শরীয়তসম্মত হতে হবে।

আর খুলাফায়ে রাশেদীন যা করেছেন অথচ যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না, তা এমন বিষয়ের বাইরে নয় যার প্রেক্ষাপট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল না বরং তা খলীফাদের যুগে সৃষ্টি হয়েছিল—যেমন পবিত্র কুরআন সংকলন করা; অথবা যার প্রেক্ষাপট রাসূলের যুগেও বিদ্যমান ছিল কিন্তু সেখানে কোনো প্রতিবন্ধক ছিল—যেমন জামাতের সাথে তারাবীর সালাত আদায় করা; কারণ সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ছিল...

--------------------------------------------

(১) আল-ইবদা (পৃষ্ঠা ৩৪ - ৪৪) পরিমার্জিত। আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমিল ইহতিফালি বি-মাওলিদি খাইরিল রুসুল (পৃষ্ঠা ৭৮ - ৭৯)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৭)
إقامتها جماعة والمواظبة عليها خوف أن تُفْرَض، فلما زال المانع بانتهاء زمن الوحي صح الرجوع فيها إلى ما رسمه النبي صلى الله عليه وآله وسلم في حال حياته.

* ما تركه النبي صلى الله عليه وآله وسلم مع قيام المقتضي على فعله فتركه هو السنة وفعله بدعة مذمومة، لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يفارق الدنيا إلا بعد أن أكمل الله الدين وأتم نعمته على المسلمين {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسلام دِينًا} [المائدة: 3].

* عدم عمل السلف الصالح بالنص على الوجه الذي يفهمه مَنْ بعدهم، يمنع اعتبار ذلك الفهم صحيحاً، إذ لو كان صحيحاً لم يعزب عن فهم السلف الصالح ويفهمه من بعدهم، كما يمنع اعتبار ذلك النص دليلاً عليه؛ إذ لو كان دليلاً لعمل به السلف الصالح.

*قال الإمام الشافعي رحمه الله: «ولكنا نتبع السنة فعلًا وتركًا» (1).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (3/ 475).
এটি জামাতের সাথে সম্পাদন করা এবং তাতে অবিচল থাকা কেবল এই আশঙ্কায় ত্যাগ করা হয়েছিল যে, পাছে তা ফরজ হয়ে যায়। অতঃপর ওহীর সময়কাল শেষ হওয়ার মাধ্যমে যখন সেই প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় যা নির্ধারিত করেছিলেন, তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যথার্থ হলো।

* কোনো কাজ করার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা বর্জন করেছেন, তা বর্জন করাই সুন্নাহ এবং তা সম্পাদন করা নিন্দনীয় বিদআত। কারণ মহান আল্লাহ দীনকে পূর্ণাঙ্গ এবং মুসলিমদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করার পরেই কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইহলোক ত্যাগ করেছেন— {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদা: ৩]।

* পরবর্তী প্রজন্ম কোনো নস বা দলিলকে যেভাবে বোঝে, সালাফে সালেহীন কর্তৃক সেই পদ্ধতিতে তার ওপর আমল না করা উক্ত সমঝ বা বোঝাপড়াকে সঠিক হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। কেননা, সেটি যদি সঠিক হতো তবে তা সালাফে সালেহীনের বোধগম্যতার বাইরে থেকে কেবল পরবর্তীদের দ্বারা অনুভূত হতো না। তদ্রূপ এটি উক্ত নসকে সেই বিষয়ের দলিল হিসেবে গ্রহণ করতেও বাধা প্রদান করে; কারণ সেটি যদি দলিলই হতো তবে সালাফে সালেহীন অবশ্যই তার ওপর আমল করতেন।

* ইমাম শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: «বরং আমরা সুন্নাহর অনুসরণ করি—করণীয় এবং বর্জনীয় উভয় ক্ষেত্রেই» (১)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৩/ ৪৭৫)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌القاعدة الخامسة

الأصل في العبادات المنع

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «الأصل الذي بنى الإمام أحمد وغيره من الأئمة عليه مذاهبهم أن أعمال الخلق تنقسم إلى عبادات يتخذونها دينًا ينتفعون بها في الآخرة أو في الدنيا والآخرة، وإلى عادات ينتفعون بها في معايشهم.

فالأصل في العبادات أن لا يشرع منها إلا ما شرعه الله.

والأصل في العادات أن لا يحظر منها إلا ما حظره الله» (1).

وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: «ومعلوم أنه لا حرام إلا ما حرمه الله ورسوله، ولا تأثيم إلا ما أثم الله ورسوله به فاعله، كما أنه لا واجب إلا ما أوجبه الله، ولا حرام إلا ما حرمه الله، ولا دينًا إلا ما شرعه الله فالأصل في العبادات البطلان حتى يقوم دليل على الأمر، والأصل في العقود والمعاملات الصحة حتى يقوم دليل على البطلان والتحريم.

والفرق بينهما أن الله سبحانه لا يعبد إلا بما شرعه على ألسنة رسله؛ فإن العبادة حقه على عباده وحقه الذي أحقه هو ورضي به وشرَعه. وأما العقود والشروط والمعاملات فهي عفو حتى يحرمها؛ ولهذا نعى الله سبحانه على المشركين مخالفة هذين الأصلين: وهو تحريم ما لم يحرمه والتقرب إليه بما لم يشرعه. وهو سبحانه لو سكت عن إباحة ذلك وتحريمه لكان ذلك عفوًا لا يجوز الحكم بتحريمه وإبطاله؛ فإن الحلال ما

--------------------------------------------

(1) اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم (2582)
পঞ্চম মূলনীতি

ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো নিষিদ্ধতা

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণ যে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তাঁদের মাযহাবসমূহ গড়ে তুলেছেন তা হলো—সৃষ্টির কার্যাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, ইবাদত যা তারা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে এবং যার মাধ্যমে তারা আখিরাতে অথবা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে উপকৃত হয়; এবং দ্বিতীয়ত, অভ্যাস বা প্রথা (আদাত) যা তারা তাদের জীবনযাত্রায় ব্যবহার করে উপকৃত হয়।

ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো, আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু ইবাদত হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আর অভ্যাস বা প্রথার ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো, আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা যাবে না» (১)।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু হারাম নয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যার ওপর গুনাহ সাব্যস্ত করেছেন তা ছাড়া কোনো কাজে গুনাহ নেই। ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহ যা ওয়াজিব করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছু ওয়াজিব নয়, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছু হারাম নয় এবং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছু দ্বীন নয়। অতএব, ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল হলো তা অসিদ্ধ (বাতিল) হওয়া, যতক্ষণ না তা পালনের নির্দেশনার সপক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে চুক্তি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল হলো তা সঠিক (সহিহ) হওয়া, যতক্ষণ না তা বাতিল বা হারাম হওয়ার সপক্ষে কোনো দলিল পাওয়া যায়।

এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার ইবাদত কেবল সেই পন্থায় করতে হবে যা তিনি তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ করেছেন; কারণ ইবাদত হলো তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকার (হক), যা তিনি স্বয়ং নির্ধারণ করেছেন, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যার বিধান তিনি দিয়েছেন। আর চুক্তি, শর্তাবলি ও লেনদেনের বিষয়গুলো ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত (বা অনুমোদিত), যতক্ষণ না তিনি তা হারাম করেন। একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মুশরিকদের এই দুই মূলনীতি লঙ্ঘনের কারণে নিন্দা করেছেন: তা হলো আল্লাহ যা হারাম করেননি তাকে হারাম করা এবং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেননি তার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যদি কোনো বিষয় বৈধ বা হারাম ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকতেন, তবে সেটি ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত (বা অনুমোদিত) বলে গণ্য হতো; সেক্ষেত্রে তা হারাম বা বাতিল ঘোষণা করা জায়েয হতো না। কারণ হালাল হলো তা-ই যা...

--------------------------------------------

(১) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম (২/৫৮২)
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ২৯)
أحله الله والحرام ما حرمه وما سكت عنه فهو عفوٌ» (1).

وقال أيضًا: «ولا حرام إلا ما حرمه الله كما أنه لا عبادة إلا ما شرعها الله» (2)

* التمسك بالعمومات مع الغفلة عن بيان الرسول صلى الله عليه وآله وسلم بفعله وتركه هو من اتباع المتشابه الذي نهى الله عنه، ولو عوّلنا على العمومات وصرَفْنا النظر عن البيان لانفتح باب كبير من أبواب البدعة لا يمكن سده.

مثال: قال تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56] لو صح الأخذ بالعمومات لصح أن يُتقرب إلى الله بالصلاة والسلام على النبي في قيام الصلاة وركوعها واعتدالها وسجودها إلى غير ذلك من المواضع التي لم يضعها الرسول صلى الله عليه وآله وسلم فيها، ومَن الذي يجيز التقرب إلى الله تعالى بمثل ذلك وتكون الصلاة بهذه الصفة عبادة معتبرة؟ وكيف هذا مع حديث «صلوا كما رأيتموني أصلا» (3)، فلا يقرب إلى الله إلا العمل بما شرع، وعلى الوجه الذي شرع.

* كان الصحابة رضي الله عنهم يرون في ترك الرسول صلى الله عليه وآله وسلم للفعل، مع وجود المقتضي له، الحظر وأنه منهي عنه، دليل ذلك أنه لما قُدِّم الضب إلى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم رفع يده عنه وترك أكْله فقال خالد بن الوليد: «أحرامٌ الضبّ يا رسول الله؟» قال: «لا، ولكنه لم يكن بأرض قومي فأجدني أعافه»، قال خالد: «فاجتززته فأكلته ورسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ينظر إلا» (4)، فلو لم يكن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم متبَّعاً في تركه كما هو متبع في فعله، لما كان لتوقف الصحابة وترْك الأكل من الضب وجه وقد فهموا، وهم أدرى الناس بالدين،

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين (1/ 344).قال صلى الله عليه وآله وسلم: «ما أحل الله في كتابه فهو حلال، وما حرم فهو حرام، وما سكت عنه فهو عفو، فاقبلوا من الله عافيته؛ فإن الله لم يكن لينسى شيئا وتلا {وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا}» (مريم: 64) أخرجه الأئمة الدارقطني والحاكم والبيهقي وحسنه الشيخ الألباني.

(2) إعلام الموقعين (1/ 344)

(3) رواه الإمام البخاري (631).

(4) رواه الإمام البخاري (5391) والضب: حيوان من الزواحف.
আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হালাল, আর যা হারাম করেছেন তা হারাম; আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা ক্ষমা বা মার্জনীয় (১)।

তিনি আরও বলেছেন: «আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু হারাম নয়, ঠিক যেমন আল্লাহ যা শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু ইবাদত নয়» (২)

* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কর্ম ও বর্জনের মাধ্যমে প্রদত্ত ব্যাখ্যার প্রতি উদাসীন থেকে কেবল সাধারণ বিধানগুলো (আম-বিধান) আঁকড়ে ধরা হলো সেই অস্পষ্ট বা সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলোর (মুতাশাবিহ) অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। যদি আমরা কেবল সাধারণ বিধানের ওপর নির্ভর করি এবং ব্যাখ্যার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিই, তবে বিদআতের এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হবে যা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

উদাহরণস্বরূপ: মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} [আল-আহজাব: ৫৬]। যদি সাধারণ বিধানগুলো গ্রহণ করা সঠিক হতো, তবে নামাজের কিয়াম, রুকু, ইতিদাল (রুকু থেকে দাঁড়ানো) ও সিজদাসহ অন্যান্য অবস্থানে—যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম দরুদ ও সালাম পাঠের বিধান দেননি—সেসব স্থানেও দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা বৈধ হতো। আর নামাজের এই বিশেষ অবস্থায় দরুদ পাঠকে ইবাদত হিসেবে কে বৈধতা দেবে? অথচ হাদিসে এসেছে: «তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে পড়তে দেখেছ» (৩)। সুতরাং শরীয়ত অনুযায়ী এবং যেভাবে নির্দেশিত হয়েছে সেভাবে আমল করা ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়।

* সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম মনে করতেন যে, কোনো কাজের প্রেক্ষাপট বা প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তা বর্জন করেন, তবে তা নিষিদ্ধ বা বর্জনীয়। এর প্রমাণ হলো, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সামনে দব্ব (এক প্রকার মরুভূমির সরীসৃপ) পেশ করা হলো, তিনি তা থেকে হাত সরিয়ে নিলেন এবং তা খাওয়া বর্জন করলেন। তখন খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন: «হে আল্লাহর রাসুল! দব্ব কি হারাম?» তিনি বললেন: «না, তবে এটি আমার কওমের এলাকায় ছিল না, তাই আমি এটি খেতে অপছন্দ করছি বা অরুচি বোধ করছি»। খালিদ বলেন: «অতঃপর আমি তা টেনে নিয়ে খেলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তা দেখছিলেন» (৪)। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কর্মের মতো যদি তাঁর বর্জনও অনুসরণীয় না হতো, তবে সাহাবায়ে কেরামের থেমে যাওয়া বা দব্ব খাওয়া থেকে বিরত থাকার কোনো কারণ থাকত না; অথচ তাঁরা ছিলেন দ্বীন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাজ্ঞ,

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন (১/৩৪৪)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হালাল করেছেন তা হালাল, আর যা হারাম করেছেন তা হারাম। আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা ক্ষমা; সুতরাং তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই ক্ষমাকে গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ কোনো কিছুই বিস্মৃত হন না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হন না}» (মারইয়াম: ৬৪)। ইমাম দারা কুতনী, হাকেম ও বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানী একে হাসান বলেছেন।

(২) ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন (১/৩৪৪)

(৩) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৬৩১)।

(৪) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৫৩৯১) এবং দব্ব: এক প্রকার সরীসৃপ প্রাণী।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩০)
أولاً أنه امتنع عنه فتركوه، وبعد أن أخبرهم بأن هناك سبباً أخر ـ وهو عدم الإلف ـ أكلوا منه ولم يروا بذلك بأساً (1).

* قال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا لَوْ كَانَ خَيْرًا مَّا سَبَقُونَا إِلَيْهِ} [الأحقاف: 11]، قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: «أي قالوا عن المؤمنين بالقرآن لو كان القرآن خيراً ما سبقنا هؤلاء إليه، يعنون بلالاً وعماراً وصهيباً وخباباً رضي الله عنهم وأشباهم من المستضعفين والعبيد والإماء … وأما أهل السنة والجماعة فيقولون في كل فعل وقول لم يثبت عن الصحابة رضي الله عنهم هو بدعة، لأنه لو كان خيراً لسبقونا إليه؛ لأنهم لم يتركوا خصلة من خصال الخير إلا وقد بادروا إليها» (2).

قال ابن مسعود رضي الله عنه: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم» (3).

قال حذيفة رضي الله عنه: «كل عبادة لم يتعبد بها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فلا تتعبدوا بها؛ فإن الأول لم يدع للآخر مقالاً» (4).

* يستدل كثير من الناس بالنصوص العامة لتسويغ بدعهم، والتدليل على واقعهم! وهذا خطأ كبير.

فمثلاً: لو أن عدداً من الناس دخلوا مسجداً للصلاة فيه، فما أن دخلوا حتى اقترح أحدُهم عليهم أن يصلوا تحية المسجد جماعة!! فجابهه بعض أصحابه بالإنكار والرد!! فاستدل عليهم المقترِح بأحاديث فضل صلاة الجماعة!! فافترقوا رأيين!! بعضهم وافق على هذا الاستدلال، والبعض الآخر خالف؛ لأن هذا الدليل إنما مورده في غير هذا المقام! فما هو القول الفصل؟

قال الإمام الشاطبي رداً على من يستدل بالأدلة العامة على خلاف فهم السلف

--------------------------------------------

(1) الإبداع (ص34 - 44) بتصرف.

(2) تفسير القرآن العظيم (عند تفسير الآية 11 من سورة الأحقاف).

(3) رواه الدرامي (175).

(4) الأمر بالاتباع للسيوطي (ص62).
প্রথমত, তিনি এটি থেকে বিরত থেকেছিলেন, ফলে তাঁরাও এটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি তাঁদের জানালেন যে এর পিছনে অন্য একটি কারণ রয়েছে—আর তা হলো অনভ্যস্ততা—তখন তাঁরা তা ভক্ষণ করেন এবং এতে কোনো দোষ মনে করেননি (১)।

* মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফিররা মুমিনদের সম্পর্কে বলে, ‘যদি এটি কোনো কল্যাণকর বিষয় হতো, তবে তারা এতে আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারত না’} [আল-আহকাফ: ১১], হাফিজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অর্থাৎ তারা কুরআনের প্রতি বিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলত, ‘যদি কুরআন কোনো কল্যাণকর বস্তু হতো, তবে এই লোকগুলো আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারত না’। এর মাধ্যমে তারা বিলাল, আম্মার, সুহাইব এবং খাব্বাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও তাঁদের মতো দুর্বল ব্যক্তি, দাস এবং দাসীদের উদ্দেশ্য করত … আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ সেই প্রতিটি কাজ বা কথা সম্পর্কে বলেন যা সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে প্রমাণিত নয় যে, তা বিদআত। কারণ, যদি তা কল্যাণকর হতো তবে তাঁরা অবশ্যই এ কাজে আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতেন। কেননা কল্যাণের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন, বরং তাঁরা সর্বদাই তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন» (২)।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «তোমরা অনুসরণ করো, নব উদ্ভাবন করো না; কারণ তোমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে» (৩)।

হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যে ইবাদত করেননি, তোমরাও সেই ইবাদত করো না; কারণ পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদের জন্য কোনো কথা বলার সুযোগ রাখেননি» (৪)।

* অনেক মানুষ তাদের বিদআতগুলোকে বৈধতা দিতে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে সাধারণ নস বা পাঠ্যসমূহ ব্যবহার করে থাকে! আর এটি একটি বড় ভুল।

উদাহরণস্বরূপ: যদি একদল লোক মসজিদে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের পরপরই তাদের মধ্যে কেউ প্রস্তাব দেয় যে তারা যেন জামাআতের সাথে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ সালাত আদায় করে!! তখন তাদের কিছু সঙ্গী অস্বীকৃতি ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে এর মোকাবিলা করল!! এমতাবস্থায় প্রস্তাবকারী ব্যক্তি জামাআতে সালাত আদায়ের ফযীলত বিষয়ক হাদীসসমূহকে দলিল হিসেবে পেশ করল!! তখন তারা দুটি মতে বিভক্ত হয়ে পড়ল!! কেউ কেউ এই দালিলিক উপস্থাপনার সাথে একমত হলো, আবার কেউ ভিন্নমত পোষণ করল; কারণ এই দলিলের প্রয়োগস্থল এই ক্ষেত্রটি নয়! তাহলে এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী?

সালাফে সালিহীনের বুঝের বিপরীতে গিয়ে যারা সাধারণ দলিলসমূহ পেশ করে, তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে ইমাম শাতবী বলেন—

--------------------------------------------

(১) আল-ইবদা (পৃ. ৩৪-৪৪) পরিমার্জিত।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (সূরা আল-আহকাফের ১১ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)।

(৩) আদ-দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন (১৭৫)।

(৪) আস-সুয়ূতী রচিত আল-আমর বিল ইত্তিবা (পৃ. ৬২)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩১)
والدعاء إلى العمل به على غير الوجه الذي مضوا عليه في العمل به ما ملخصه: «لو كان دليلاً عليه؛ لم يعزب عن فهم الصحابة والتابعين ثم يفهمه هؤلاء، فعمل الأولين كيف كان مصادم لمقتضى هذا المفهوم ومعارِض له، ولو كان ترك العمل.

فما عمل به المتأخرون من هذا القسم مخالف لإجماعِ الأولين، وكل من خالف الإجماع؛ فهو مخطئ، وأمة محمد صلى الله عليه وآله وسلم لا تجتمع على ضلالةٍ، فما كانوا عليه من فعلٍ أو تركٍ؛ فهو السنة والأمر المعتبر، وهو الهدا، وليس ثَمَّ إلَا صواب أو خطأ، فكل من خالف السلف الأولين؛ فهو على خطأ، وهذا كافٍ … » (1).

ثم قال: «فلهذا كله؛ يجب على كل ناظر في الدليل الشرعي مراعاة ما فهم منه الأولون، وما كانوا عليه في العمل به؛ فهو أحرى بالصواب، وأقوم في العلم والعمل» (2).

وقال الإمام الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله: «ولا يجوز إحداث تأويل في آيةٍ أو سنةٍ لم يكن على عهد السلف ولا عرفوه ولا بينوه للأمة؛ فإن هذا يتضمن أنهم جهِلوا الحق في هذا، وضلوا عنه، واهتدى إليه هذا المعترض المستأخر» (3) ا. هـ.

فإذا وضحت هذه القاعدة، ظهر لك أي الفريقين أهدى في المثال الذي صدرنا لك الكلام به (صلاة تحية المسجد جماعة)؛ إذ ذاك الدليل العام لم يجرِ عليه عمل السلف رضي الله عنهم أو فهمهم؛ استدلالاً به على الجماعة في غيرِ الوارد؛ كالفرائض أو التراويح ونحوهما، فهو جرى ـ إذاً ـ على جزءٍ من أجزاء عمومه لا على جميع أجزائه.

ومثال آخر: روى الإمام أبو داود في سننه بسند حسن عن مجاهد؛ قال: «كنت مع ابن عمر، فثوب رجل في الظهرِ أو العصر، فقال: اخرج بنا؛ فإن هذه بدعة» (4).

--------------------------------------------

(1) الموافقات (3/ 72).

(2) الموافقات (3/ 77).

(3) الصارم المنكي في الرد على السبكي (ص318).

(4) رواه الإمام أبو داود (538) وحسنه الشيخ الألباني.
এবং সেটির ওপর আমল করার প্রতি এমনভাবে আহ্বান করা যা পূর্ববর্তীদের অনুসৃত পদ্ধতির বিপরীত, তার সারকথা হলো: «যদি এটি তার ওপর কোনো দলিল হতো; তবে তা সাহাবী ও তাবেয়ীদের উপলব্ধি থেকে বাদ পড়ত না এবং পরবর্তীতে এরা তা বুঝত না। প্রথম যুগের ব্যক্তিদের আমল কেমন ছিল, তা তো এই ধারণার দাবি ও প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং তার বিরোধী ছিল, এমনকি যদি তা আমল বর্জন করার ক্ষেত্রেও হয়।

সুতরাং পরবর্তীরা এই শ্রেণির যা কিছু আমল করেছে তা প্রথম যুগের ব্যক্তিদের ইজমার (ঐক্যমত্যের) পরিপন্থী, আর যে কেউ ইজমার বিরোধিতা করবে সে ভুলকারী; আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত গোমরাহীর ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না। সুতরাং তারা কাজ কিংবা বর্জন করার ক্ষেত্রে যে রীতির ওপর ছিলেন, সেটিই হলো সুন্নাহ ও ধর্তব্য বিষয় এবং সেটিই হলো হিদায়াত। সেখানে সঠিক কিংবা ভুল ছাড়া আর কিছু নেই। অতএব যারা প্রথম যুগের সালাফদের বিরোধিতা করবে তারা ভুলের ওপর রয়েছে, আর এটিই যথেষ্ট … » (১)।

এরপর তিনি বলেন: «এই সব কারণে, শরয়ি দলিলের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হলো পূর্ববর্তীরা যা বুঝেছেন এবং আমলের ক্ষেত্রে তারা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা রক্ষা করা; কেননা সেটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে অধিক সুদৃঢ়» (২)।

ইমাম হাফিজ ইবনে আব্দুল হাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «কুরআনের কোনো আয়াত বা সুন্নাহর এমন কোনো নতুন ব্যাখ্যা প্রদান করা জায়েয নেই যা সালাফদের যুগে ছিল না, তারা তা জানতেন না এবং উম্মতের নিকট তা বর্ণনাও করেননি; কারণ এটি এমন অর্থ বহন করে যে, তারা এ বিষয়ে সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন, আর এই পরবর্তী প্রতিবাদী ব্যক্তিটি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে» (৩) সমাপ্ত।

যখন এই মূলনীতিটি স্পষ্ট হলো, তখন আপনার নিকট প্রতিভাত হবে যে, শুরুতে আমরা যে উদাহরণের অবতারণা করেছিলাম (জামাতে তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাত আদায় করা), তাতে কোন পক্ষ অধিক সঠিক পথের অনুসারী; কারণ সেই সাধারণ দলিলটির ওপর সালাফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের আমল বা তাদের উপলব্ধি ছিল না; অর্থাৎ ফরয সালাত বা তারাবিহ বা এই জাতীয় ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে জামাতের সপক্ষে এই দলিলটি পেশ করা হয়নি। সুতরাং এটি তখন তার সাধারণত্বের একটি বিশেষ অংশের ওপর প্রযুক্ত হয়েছিল, তার সকল অংশের ওপর নয়।

আরেকটি উদাহরণ: ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে হাসান সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি ইবনে উমরের সাথে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি যোহর বা আসরের সময় সালাতের জন্য অতিরিক্ত আহ্বান (তাসউইব) করল। তখন তিনি বললেন: আমাদের নিয়ে বের হয়ে চলো; কারণ এটি বিদআত» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুয়াফাকাত (৩/ ৭২)।

(২) আল-মুয়াফাকাত (৩/ ৭৭)।

(৩) আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি (পৃ. ৩১৮)।

(৪) ইমাম আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (৫৩৮) এবং শেখ আলবানী একে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومعنى التثويب: هؤلاء الَذين يقومون على أبواب المساجد، فينادون: الصلاة، الصلاة، فلو جاء أحد قائلاً: هل من ضيرٍ على من ذكّر بالصلاة والله يقول: {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} [الذاريات: 55]؟! لمَاَ قُبِلَ قولُه، بل رُدَّ عليه فهمُه، إذ لم يفهم السلف رضي الله عنهم من هذه الآية هذا الإطلاق وهذا العموم، ومعلوم عن ابن عمر رضي الله عنهما شدة اتباعه، ودقة التزامه.

مثال آخر: عن نافع أن رجلاً عطس إلى جنب ابن عمر رضي الله عنهما، فقال: «الحمد لله، والسلام على رسوله»، قال ابن عمر: «وأنا أقول: الحمد لله والسلام على رسول الله، وليس هكذا علمنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، علمنا أن نقول: الحمد لله على كل حالٍ» (1)، فقد أنكر ابن عمر رضي الله عنهما على هذا الرجل مع أن عموم قولِ الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً} [الأحزاب: 56] تدخل فيه تلك الصلاة، ولكن ما هكذا فهمها الصحابة فمَن بعدهم وما هكذا طبقها السلف الصالح رضي الله عنهم، وفهمُهم أوْلا، ومرتبتهم أعلا.

مثال آخر: رأى سعيد بن المسيب رحمه الله رجلاً يصلي بعد طلوع الفجر أكثر من ركعتين، يكثر فيهما الركوع والسجود، فنهاه، فقال: يا أبا محمد، يعذبني الله على الصلاة؟ قال: «لا … ولكن يعذبك على خلاف السنة» (2).

مثال آخر: قال رجل للإمام مالك بن أنس: «يا أبا عبد الله، من أين أُحْرِم؟» فقال الإمام مالك: «من ذي الحليفة، من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم» فقال: «إني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر» قال: «لا تفعل، فإني أخشى عليك الفتنة» فقال: «وأي فتنة في هذه؟ إنما هي أميال أزيدها!» قال: «وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقتَ إلى فضيلة قصّر عنها رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم؟! إني سمعت الله يقول: {فَلْيَحْذَرِ

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام الترمذي (2894)، وحسنه الشيخ الألباني.

(2) رواه الإمام عبد الرزاق (4755) وإسناده صحيح.
আর ‘তাসহউইব’-এর অর্থ হলো: সেই সমস্ত লোক যারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকে: ‘সালাত, সালাত’। এখন যদি কেউ এসে বলে: ‘সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মধ্যে ক্ষতি কী? অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি উপদেশ দিন, নিশ্চয় উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} [আয-যারিয়াত: ৫৫]?!’ তবে তার এই কথা কবুল করা হবে না, বরং তার এই বুঝকে প্রত্যাখ্যান করা হবে। কেননা সলফগণ (রাদিআল্লাহু আনহুম) এই আয়াত থেকে এমন ব্যাপকতা ও সাধারণ অর্থ গ্রহণ করেননি। আর ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা)-এর সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসরণ এবং কঠোর আনুগত্যের বিষয়টি সর্বজনবিদিত।

অন্য একটি উদাহরণ: নাফে’ থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা)-এর পাশে হাঁচি দিল এবং বলল: ‘আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিহি’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা) বললেন: ‘আমিও বলি: আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এভাবে শেখাননি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন আমরা যেন বলি: আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল (সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)’ (১)। ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুমা) এই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন যদিও মহান আল্লাহর বাণীর সাধারণ মর্মের অন্তর্ভুক্ত এটি: {নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও} [আল-আহযাব: ৫৬]। কিন্তু সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তীগণ বিষয়টি এভাবে বোঝেননি এবং সলফে সালেহীন (রাদিআল্লাহু আনহুম) এভাবে তা প্রয়োগ করেননি। আর তাঁদের বুঝই হলো অধিক অগ্রগণ্য এবং তাঁদের মর্যাদা হলো সর্বোচ্চ।

অন্য একটি উদাহরণ: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহিমাহুল্লাহ) এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দুই রাকাতের বেশি সালাত আদায় করছে এবং তাতে রুকু-সিজদাহ দীর্ঘ করছে। তিনি তাকে এটি করতে নিষেধ করলেন। তখন লোকটি বলল: ‘হে আবু মুহাম্মদ! আল্লাহ কি আমাকে সালাতের জন্য শাস্তি দেবেন?’ তিনি বললেন: ‘না … কিন্তু তিনি তোমাকে সুন্নাহর বিরোধিতার জন্য শাস্তি দেবেন’ (২)।

অন্য একটি উদাহরণ: এক ব্যক্তি ইমাম মালিক বিন আনাসকে বললেন: ‘হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব?’ ইমাম মালিক বললেন: ‘যুল-হুলাইফা থেকে, যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) ইহরাম বেঁধেছিলেন।’ লোকটি বলল: ‘আমি মসজিদ থেকে, অর্থাৎ কবরের কাছ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই।’ তিনি বললেন: ‘এমন করো না, কেননা আমি তোমার ওপর ফিতনার (বিপদ বা পথভ্রষ্টতার) আশঙ্কা করছি।’ লোকটি বলল: ‘এতে আবার কিসের ফিতনা? এগুলো তো স্রেফ কয়েক মাইলের দূরত্ব যা আমি বাড়িয়ে করছি!’ তিনি বললেন: ‘এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে তুমি মনে করছ তুমি এমন এক ফযীলতের দিকে অগ্রগামী হয়েছ যা অর্জনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সক্ষম হননি?! আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: {অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয়...}

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২৮৯৪) এবং শেখ আলবানী একে হাসান বলেছেন।

(২) ইমাম আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন (৪৭৫৫) এবং এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল লুমা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]» (1).

ونلاحظ في هذه الأمثلة أن الدافع إلى البدعة ومخالفة السنة كان الحرص علا الخير والزيادة في الطاعة ومع ذلك فقد أكد الأئمة على ضرورة الوقوف عند حدود السنن، وهم في ذلك على قاعدة عظيمة في تجريد الاتباع ذكرها التابعي الجليل سعيد بن جبير رحمه الله وهي قوله: «قد أحسن من انتهى إلى ما سمع» (2).

--------------------------------------------

(1) ذكر الإمام الشاطبي في (الاعتصام 1/ 132) أن ابن العربي حكاه عن الزبير بن بكار.

وقال الشيخ الألباني في (الضعيفة) (رقم 210): «قد روى البيهقي كراهة الإحرام قبل الميقات عن عمر وعثمان رضي الله عنهما، وهو الموافق لحكمة تشريع المواقيت، وما أحسن ما ذكر الشاطبي رحمه الله في (الاعتصام) (1/ 167) ومن قبله الهروي في (ذم الكلام) … (3/ 54 / 1) عن الزبير بن بكار قال: «حدثني سفيان بن عيينة قال: سمعت مالك بن أنس وأتاه رجل فقال: يا أبا عبد الله من أين أحرم؟ قال: من ذي الحليفة من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر، قال: «لا تفعل فإني أخشى عليك الفتنة»، فقال: وأي فتنة في هذه؟ إنما هي أميال أزيدها! قال: وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقت إلى فضيلة قصرعنها رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم؟! إني سمعت الله يقول! {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]».

(2) رواه الإمام مسلم في الإيمان (1/ 199).
...যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" [আন-নূর: ৬৩] (১)।

আমরা এই উদাহরণগুলোতে লক্ষ্য করি যে, বিদআত এবং সুন্নাহর বিরোধিতার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল কল্যাণের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং ইবাদতে আধিক্য। তা সত্ত্বেও ইমামগণ সুন্নাহর সীমারেখার মধ্যেই অবস্থান করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা অনুসরণের বিশুদ্ধতার একটি মহান মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন, যা বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। তা হলো তাঁর এই উক্তি: "সেই ব্যক্তিই উত্তম কাজ করেছে, যে শ্রবণকৃত বিষয়ের (শরয়ি দলিলের) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।" (২)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাতোবি (আল-ইতিসাম ১/ ১৩২) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল আরাবি এটি জুবায়ের ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণনা করেছেন।

শায়খ আলবানি (আদ-দাইফাহ) (নং ২১০) গ্রন্থে বলেছেন: "বায়হাকি উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মিকাতের পূর্বেই ইহরাম বাঁধার অপছন্দনীয়তা বর্ণনা করেছেন, যা মিকাত নির্ধারণের হিকমতের সাথে সংগতিপূর্ণ। ইমাম শাতোবি (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ইতিসাম' (১/ ১৬৭) গ্রন্থে এবং তাঁর পূর্বে হারায়ি 'যাম্মুল কালাম' … (৩/ ৫৪ / ১) গ্রন্থে জুবায়ের ইবনে বাক্কার থেকে কতই না চমৎকার বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন! তিনি বলেন: «সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি যখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব? তিনি বললেন: যুল হুলাইফাহ থেকে, যেখান থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন লোকটি বলল: আমি মসজিদ (নববী) থেকে তথা কবরের নিকট থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই। তিনি বললেন: «এমন করো না, কারণ আমি তোমার ওপর ফিতনার আশঙ্কা করছি», তখন লোকটি বলল: এতে আবার ফিতনার কী আছে? এটি তো কেবল কয়েক মাইলের আধিক্য মাত্র! তিনি বললেন: «এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, তুমি মনে করছ তুমি এমন এক ফযিলত অর্জন করতে পেরেছ যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) করতে পারেননি?! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} [সূরা আন-নূর: ৬৩]»।

(২) ইমাম মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে (১/ ১৯৯) বর্ণনা করেছেন।