(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: -)
الصلاة على رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم - فضلها ومعناها وكيفيتها ومواضعها والتحذير من تركها   (شحاتة صقر)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الصلاة على رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم - فضلها ومعناها وكيفيتها ومواضعها والتحذير من تركها

المؤلف: شحاتة محمد صقر

الناشر: مكتبة دار العلوم، البحيرة (مصر)

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1432

রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- এর ওপর দরুদ পাঠ: এর ফযিলত, অর্থ, পদ্ধতি, ক্ষেত্রসমূহ এবং তা বর্জনের ব্যাপারে সতর্কতা   (শেহাতা সাকর)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- এর ওপর দরুদ পাঠ: এর ফযিলত, অর্থ, পদ্ধতি, ক্ষেত্রসমূহ এবং তা বর্জনের ব্যাপারে সতর্কতা

লেখক: শেহাতা মুহাম্মাদ সাকর

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উলুম, আল-বুহাইরা (মিশর)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: -)
الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم

فضلها ومعناها وكيفيتها ومواضعها والتحذير من تركها

 

جمع وترتيب

شحاتة صقر
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ

এর ফযিলত, অর্থ, পদ্ধতি, ক্ষেত্রসমূহ এবং তা বর্জনের ব্যাপারে সতর্কতা

 

সংকলন ও বিন্যাস

শিহাতাহ সাকার
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: -)
جميع الحقوق محفوظة

 

رحم الله الإمام أحمد ـ إمام أهل السنة ـ الذي أنشد:

دينُ النبيِّ محمدٍ أخبارُ … نِعْمَ المَطِيَّةُ للفتى آثارُ

لا ترغَبَنَّ عن الحديثِ وأهلِهِ … فالرأيُ ليلٌ والحديثُ نهارُ

ولربما جهِلَ الفتى أثرَ الهدَى … والشمسُ بازغةٌ لها أنوارُ

 

الناشر: مكتبة دار العلوم

البحيرة ـ أبو حمص ـ حي الزهور

ت 0452569826ـ0129732131
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

আল্লাহ ইমাম আহমদ — আহলে সুন্নাতের ইমাম — এর প্রতি রহম করুন, যিনি আবৃত্তি করেছেন:

নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো সংবাদ (أخبار) … কোনো যুবকের জন্য সর্বোত্তম বাহন হলো বর্ণনা (آثار)

হাদিস এবং এর অনুসারীদের থেকে বিমুখ হয়ো না … কেননা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) হলো রাত্রি আর হাদিস হলো দিন

হয়তো যুবকটি হেদায়াতের বর্ণনা (أثر) সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে … অথচ সূর্য তার পূর্ণ আলো নিয়ে দেদীপ্যমান থাকে

 

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল উলুম

আল-বেহেইরা — আবু হুমুস — হাইয়্যুজ জুহুর

টেলিফোন: ০৪৫২৫৬৯৮২৬ — ০১২৯৭৩২১৩১
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}.

أما بعد: فإن خيرَ الحديث كلامُ الله، وخيرَ الهدي هدي محمد صلى الله عليه وآله وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.

فهذه رسالة في (الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم) جُمِعَتْ من كلام أهل العلم؛ نُوَفّي بها بعض حقه صلى الله عليه وآله وسلم علينا؛ فإن أعظم النعم التي تفضل الله بها علينا أن جعلنا من أمة الإسلام، ومن أمة هذه الحبيب صلى الله عليه وآله وسلم، فهو صلى الله عليه وآله وسلم البشير النذير، والسراج المنير، والرءوف الرحيم بأمته، العطوف بهم، الحريص عليهم.

والحديث عنه صلى الله عليه وآله وسلم مفتاح القلوب وبهجة النفوس، وأسعدُ الناس من يُوَفَّق في عبادته لله بالصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فإنها من أجَلّ العبادات التي يتقرب بها العبد إلى مولاه عز وجل، وينال بها مناه في الدنيا والآخرة.

وإن أولى الناس بشفاعة النبي صلى الله عليه وآله وسلم يوم القيامة أكثرهم صلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم، وعملًا بشريعته، وتمسكًا بسنته صلى الله عليه وآله وسلم.

والمُكْثِرُ من الصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يضرب البرهان الساطع والدليل القاطع على محبته لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، والرسول صلى الله عليه وآله وسلم يبشره بأنه مع من أحب.

فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: يا رسول الله، كيف تقول في رجل أحبَّ قوماً، ولم يلحق بهم؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ». (رواه البخاري ومسلم)

وليس لي من عمل في هذه الرسالة إلا الجمع والترتيب، والبحث عن صحة الأحاديث في كتب الشيخ الألباني رحمه الله. ومعظم هذه الرسالة من كتاب (جلاء الأفهام في الصلاة والسلام على خير الأنام) للإمام ابن القيم رحمه الله، واللهَ نسأل أن ينفع المسلمين بهذه الورقات وأن يرزقنا الإخلاص في السر والعلن.

اللهم ارزقنا حُبَّك وحُبَّ رسولِك صلى الله عليه وآله وسلم، واللهم اجعل حُبَّك وحُبَّ رسولِك صلى الله عليه وآله وسلم أحبَّ إلينا من المال والأهل والولد، ووفقنا لنصرة دينه، وارزقنا مرافقته في الجنة تفضلاً منك وإحساناً.

وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله وأمينِه على وحْيِه ـ سيدنا وإمامنا ونبينا محمد بن عبد الله ـ وعلى آله وأصحابه، ومن سلك سبيله واهتدى بهداه إلى يوم الدين.

شحاتة محمد صقر

saqrmhm@gawab.com
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না}, {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন}, {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করল।}

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) উদ্ভাবিত নতুন বিষয় এবং প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা জাহান্নামের আগুনের অন্তর্ভুক্ত।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা আলেমগণের আলোচনা থেকে সংকলিত হয়েছে; এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যে হক রয়েছে তার কিঞ্চিৎ আদায় করছি। কেননা আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেছেন তা হলো আমাদের ইসলামের উম্মত এবং এই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের উম্মতভুক্ত করা। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম হলেন সুসংবাদদানকারী, সতর্ককারী, উজ্জ্বল প্রদীপ এবং তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, মমতাময়ী ও হিতাকাঙ্ক্ষী।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আলোচনা হৃদয়ের চাবিকাঠি এবং আত্মার আনন্দ। সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সৌভাগ্যবান যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করার তৌফিক দান করা হয়েছে। এটি একটি মহান ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার মহান রব তথা মাওলার নৈকট্য লাভ করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য অর্জন করে।

কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি তারাই যারা তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তাঁর শরীয়ত অনুযায়ী আমল করে এবং তাঁর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর অধিক হারে দরুদ ও সালাম পাঠকারী ব্যক্তি তাঁর প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রমাণ ও চূড়ান্ত দলিল পেশ করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, সে তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে কোনো কওমকে ভালোবাসে কিন্তু তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «ব্যক্তি তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে»। (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)

এই পুস্তিকাটিতে আমার কাজ কেবল সংকলন ও বিন্যাস করা এবং শায়খ আলবানী রহমতুল্লাহি আলাইহির গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করা। এই পুস্তিকার অধিকাংশ বিষয়বস্তু ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহমতুল্লাহি আলাইহির ‘জালাউল আফহাম ফি আস-সালাতি ওয়াস-সালামু আলা খাইরিল আনাম’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সংক্ষিপ্ত লেখাটির মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং আমাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে ইখলাস দান করেন।

হে আল্লাহ! আমাদের আপনার মহব্বত এবং আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত নসিব করুন। হে আল্লাহ! আপনার ও আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতকে আমাদের নিকট সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির চেয়েও অধিক প্রিয় করে দিন। আমাদের আপনার দ্বীন বিজয়ের জন্য কাজ করার তৌফিক দিন এবং আপনার অনুগ্রহ ও ইহসান স্বরূপ জান্নাতে তাঁর সাহচর্য দান করুন।

সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর ওহীর আমানতদার—আমাদের নেতা, আমাদের ইমাম ও আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হবে তাদের ওপর।

শেহাতা মুহাম্মদ সাকার

saqrmhm@gawab.com
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أَمْرُ الله عز وجل بالصلاة والسلام على نبينا صلى الله عليه وآله وسلم -

قال الله عز وجل: {إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب:56].

قال أبو العالية: صلاة الله: ثناؤه عليه عند الملائكة، وصلاة الملائكة: الدعاء. وقال ابن عباس: يصلون: يبرِّكون. (رواه البخاري)

يُبَرِّكُونَ عَلَى النَّبِيّ صلى الله عليه وآله وسلم: أَيْ يَدْعُونَ لَهُ بِالْبَرَكَةِ.

وقال الإمام الترمذي رحمه الله: ورُوِيَ عن سفيان الثوري وغير واحد من أهل العلم قالوا: صلاة الرب: الرحمة، وصلاة الملائكة: الاستغفار.

والمقصود من هذه الآية: أن الله سبحانه أخبر عباده بمنزلة عبده ونبيه عنده في الملأ الأعلى، بأنه يثني عليه عند الملائكة المقربين، وأن الملائكة تصلي عليه.

ثم أمر تعالى أهل العالم السفلي بالصلاة والتسليم عليه، ليجتمع الثناء عليه من أهل العالمين العلوي والسفلي جميعًا.
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ-

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।} [আল-আহজাব: ৫৬]

আবু আল-আলিয়াহ বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত (صلاة) হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা (ثناء) করা, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত (صلاة) হলো দোয়া করা। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: তাঁরা সালাত পাঠ করেন (يصلون) অর্থ হলো: তাঁরা বরকত কামনা (يبركون) করেন। (বুখারি এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বরকত কামনা (يبركون) করা: অর্থাৎ তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করা।

ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন: সুফিয়ান সাওরি এবং একাধিক আলেম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তাঁরা বলেছেন: রবের পক্ষ থেকে সালাত (صلاة) হলো রহমত (رحمة), আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত (صلاة) হলো ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار)।

এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে ঊর্ধ্বজগতে তাঁর নিকট তাঁর বান্দা ও নবীর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত করেছেন যে, তিনি নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা (ثناء) করেন এবং ফেরেশতারাও তাঁর প্রতি সালাত (صلاة) পাঠ করেন।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা নিম্নজগতের অধিবাসীদেরকে তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত—উভয় জগতের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা (ثناء) সম্মিলিত হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৭)
فإذا كان مولانا سبحانه وتعالى في عظمته وكبريائه، وملائكته في أرضه وسمائه يصَلّون على النبي الأمي صلى الله عليه وآله وسلم إجلالاً لقدره، وتعظيماً لشأنه، وإظهاراً لفضله، وإشارة إلى قُربه من ربه، فما أحرانا نحن المؤمنين أن نُكثِر من الصلاة والسلام عليه امتثالاً لأمر الله سبحانه وتعالى، وقضاءً لبعض حقه صلى الله عليه وآله وسلم؛ فقد أخرجنا الله به من الظلمات إلى النور، وهدانا به إلى الصراط المستقيم، وجعلنا به من خير الأمم، وفضلنا به على سائر الناس أجمعين، وكتب لنا به الرحمة التي وسعت كل شيء {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآَيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ * الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ} [الأعراف:156 - 157]. فالحمد لله الذي هدانا للإسلام، والحمد لله أن جعلنا من أمة محمد صلى الله عليه وآله وسلم.

 

‌‌حكم الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

في مدى مشروعيّة هذه الصلاة أقوال:

أحدها: تجب في العمر مرة، في الصلاة أو في غيرها، ككلمة التوحيد؛ لأن الأمر مطلق لا يقتضي تكرارًا. والماهية تحصل بمرة.

قال القاضي عياض وابن عبد البر: وهو قول جمهور الأمة.

والثاني: أنه يجب الإكثار منها من غير تقييد بعدد.

والثالث: تجب كلما ذُكر.

والرابع: تجب في كل صلاة في تشهدها الأخير.

والخامس: إنها مستحَبّة وليست واجبة.

وهناك أقوال غيرها.

 

‌‌مواطن الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

1 - في الصلاة في آخر التشهد: وقد أجمع المسلمون على مشروعية الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في هذا الموضع واختلفوا في وجوبها فيه.

وقد استدل من قال بوجوب الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم بأن رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم سَمِعَ رَجُلًا يَدْعُو فِي صَلَاتِهِ لَمْ يُمَجِّدْ اللهَ تَعَالَى وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم: «عَجِلَ هَذَا» ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَمْجِيدِ رَبِّهِ ـ جَلَّ وَعَزَّ ـ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ». (صحيح رواه أبو داود).

وسمع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم رجلا يصلي فمجَّد الله وحمِدَه وصلى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ فقال صلى الله عليه وآله وسلم: «ادْعُ تُجَبْ وسَلْ تُعْطَ» (رواه النسائي بسند صحيح)

2 - في صلاة الجنازة بعد التكبيرة الثانية: لحديث أبي أمامة رضي الله عنه أنه أخبره رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أن السُّنَّة في الصَّلَاةِ علَى الجنَازةِ أنْ يُكَبِّر الإمَامُ، ثُمَّ يَقْرَأَ بفَاتِحَةِ الكِتَابِ بَعْدَ التَّكْبيرة الأولَى سِرًّا في نفْسِه، ثم يُصَلِّي على النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم … » (صحيح رواه النسائي وغيره)

3 - يوم الجمعة: فعَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ؛ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فِيهِ؛ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ»

قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ ـ يَقُولُونَ: بَلِيتَ ـ فَقَالَ: «إِنَّ الله عز وجل حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ» (صحيح رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه).

(فِيهِ النَّفْخَة): أَيْ النَّفْخَة الثَّانِيَة الَّتِي تُوصِل الْأَبْرَار إِلَى النِّعَم الْبَاقِيَة.
সুতরাং আমাদের মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন তাঁর মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে এবং তাঁর আসমান ও জমিনের ফেরেশতাগণ উম্মী নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর তাঁর উচ্চ মর্যাদার সম্মানার্থে, তাঁর শানকে মহিমান্বিত করতে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে এবং তাঁর রবের নিকট তাঁর নৈকট্যের প্রতি ইঙ্গিত করতে দরুদ পাঠ করেন, তখন মুমিন হিসেবে আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশের আনুগত্য করতে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাপ্য অধিকারের কিঞ্চিৎ আদায়ের লক্ষ্যে তাঁর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ ও সালাম পাঠ করা কতই না সমীচীন; কেননা আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে এনেছেন, তাঁর মাধ্যমে আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন, তাঁর মাধ্যমে আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন এবং সমস্ত মানুষের ওপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর তিনি আমাদের জন্য তাঁর সেই রহমত লিখে দিয়েছেন যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে {এবং আমার দয়া সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলির প্রতি ঈমান আনে। তারা হচ্ছে সেই সব লোক যারা রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি নিরক্ষর নবী} [আরাফ: ১৫৬ - ১৫৭]। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে ইসলামের হেদায়েত দিয়েছেন, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতভুক্ত করেছেন।

 

‌‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের বিধান -

এই দরুদ পাঠের শরয়ি বিধানের ব্যাপারে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমত: জীবনে একবার দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব, তা নামাজের ভেতরে হোক বা বাইরে, যেমনটি তাওহীদের বাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ আল্লাহর নির্দেশটি সাধারণ যা বারবার পালনের আবশ্যকতা বুঝায় না। আর একবার আদায়ের মাধ্যমেই মূল সত্তা অর্জিত হয়।

কাযী ইয়াদ ও ইবনে আব্দুল বার বলেন: এটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উম্মতের অভিমত।

দ্বিতীয়ত: কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়াই অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব।

তৃতীয়ত: যতবার তাঁর নাম উল্লেখ করা হবে, ততবারই দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব।

第四ত: প্রত্যেক নামাজের শেষ তাশাহহুদে এটি পাঠ করা ওয়াজিব।

পঞ্চমত: এটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়, ওয়াজিব নয়।

এগুলো ছাড়াও আরও অন্যান্য অভিমত রয়েছে।

 

‌‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্রসমূহ -

১ - নামাজের শেষ তাশাহহুদে: মুসলিমগণ এই স্থানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের বৈধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে সেখানে এর আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন, তারা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে নামাজে দোয়া করতে শুনলেন যে আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করেনি এবং নবীর ওপর দরুদও পাঠ করেনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে»। অতঃপর তিনি তাকে অথবা অন্য কাউকে ডেকে বললেন: «তোমাদের কেউ যখন নামাজ আদায় করবে, তখন সে যেন তার মহান প্রতিপালকের মহিমা ও তাঁর প্রশংসা দিয়ে শুরু করে, এরপর নবীর ওপর দরুদ পাঠ করে এবং তারপর যা ইচ্ছা দোয়া করে»। (সহিহ (صحيح) হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে নামাজ পড়তে শুনলেন যিনি আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসা বর্ণনা করলেন এবং নবীর ওপর দরুদ পাঠ করলেন; তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তুমি দোয়া কর, কবুল করা হবে এবং প্রার্থনা কর, তোমাকে দেওয়া হবে»। (নাসায়ি এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন)।

২ - জানাজার নামাজে দ্বিতীয় তাকবিরের পর: আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবির সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন: «জানাজার নামাজের সুন্নাহ (سنة) হলো ইমাম তাকবির দেবেন, এরপর প্রথম তাকবিরের পর মনে মনে চুপিচুপি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন, এরপর নবীর ওপর দরুদ পাঠ করবেন … » (সহিহ (صحيح) হাদিসটি নাসায়ি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)।

৩ - জুমার দিন: আওস বিন আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এই দিনে সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে এবং এই দিনে কিয়ামতের প্রচণ্ড শব্দ হবে; সুতরাং তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো; কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়»।

বর্ণনাকারী বলেন: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কীভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে অথচ আপনি জীর্ণ হয়ে মাটিতে মিশে যাবেন? —তারা বলছিলেন: আপনি পুরনো হয়ে যাবেন— তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন»। (সহিহ (صحيح) হাদিসটি আহমাদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন)।

(সিঙ্গায় ফুঁৎকার): অর্থাৎ দ্বিতীয়বার ফুঁক দেওয়া যা পুণ্যবানদেরকে চিরস্থায়ী নেয়ামতের দিকে পৌঁছে দেবে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১০)
(وَفِيهِ الصَّعْقَة): أَيْ الصَّيْحَة وَالْمُرَاد بِهَا الصَّوْت الْهَائِل الَّذِي يَمُوت الْإِنْسَان مِنْ هَوْله وَهِيَ النَّفْخَة الْأُولَى.

(فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاة فِيهِ): أَيْ فِي يَوْم الْجُمُعَة لِكَوْنِ إشْغَال الْوَقْت الْأَفْضَل بِالْعَمَلِ الْأَفْضَل هُوَ الْأَكْمَل وَالْأَجْمَل وَلِكَوْنِهِ سَيِّد الْأَيَّام فَيُصْرَف فِي الصلاة على سَيِّد الْأَنَام صلى الله عليه وآله وسلم.

(فَإِنَّ صَلَاتكُمْ مَعْرُوضَة عَلَيَّ) أَيْ هِيَ مَعْرُوضَة عَلَىَّ كَعَرْضِ الْهَدَايَا عَلَى مَنْ أُهْدِيَتْ إِلَيْهِ؛ فَهِيَ مِنْ الْأَعْمَال الْفَاضِلَة وَمُقَرِّبَة لَكُمْ إِلَيَّ كَمَا تُقَرِّبُ الْهَدِيَّة الْمُهْدِي إِلَى الْمُهْدَى إِلَيْهِ.

(قَالَ): أَيْ أَوْس الرَّاوِي (يَقُولُونَ): أَيْ الصَّحَابَة.

(حَرَّمَ عَلَى الْأَرْض أَجْسَاد الْأَنْبِيَاء): أَيْ مَنَعَهَا مِنْ أَنْ تَأْكُلهَا فَإِنَّ الْأَنْبِيَاء فِي قُبُورهمْ أَحْيَاء.

قال صلى الله عليه وآله وسلم: «الأنْبِيَاءُ أحْيَاءٌ في قُبُورِهِمْ يُصَلّونَ». (صحيح رواه أبو يعلى والبزار)

والحياة التي أثبتها هذا الحديث للأنبياء عليهم السلام إنما هي حياة برزخية، ليست من حياة الدنيا في شيء، ولذلك وجب الإيمان بها دون ضرب الأمثال لها ومحاولة تكييفها وتشبيهها بما هو المعروف عندنا في حياة الدنيا.

هذا هو الموقف الذي يجب أن يتخذه المؤمن في هذا الأمر: الإيمان بما جاء في الحديث دون الزيادة عليه بالأقيسة والآراء كما يفعل أهل البدع الذين وصل الأمر ببعضهم إلى ادعاء أن حياته صلى الله عليه وآله وسلم في قبره حياة حقيقية!! فقالوا: إنه يأكل ويشرب ويجامع نساءه!!! ويستقبل الزائرين ويصافحهم!!! ونحو ذلك.

فحياة الأنبياء في قبورهم إنما هي حياة برزخية لا يعلم حقيقتها إلا الله سبحانه وتعالى.

وقد قال الله عز وجل لنبيه صلى الله عليه وآله وسلم: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ _ (الزمر:30)، وقال: {وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ}. (الأنبياء:34) مع يقيننا الصادق أن روحه صلى الله عليه وآله وسلم في أعلى الجنان، وأن الله حرَّم على الأرض أجساد الأنبياء، وأن الحياة البرزخية تختلف عن الحياة الدنيا وعن الحياة الآخرة.

فإن بين الأحياء والأموات حاجز يمنع الاتصال فيما بينهم قطعيًا؛ وعلى هذا فيستحيل الاتصال بينهم لا ذاتًا ولا صفات، والله سبحانه وتعالى يقول: {وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} (المؤمنون:100) والبرزخ معناه: الحاجز الذي يحول دون اتصال هؤلاء بهؤلاء.
(এবং তাতে রয়েছে প্রচণ্ড গর্জন): অর্থাৎ মহান চিৎকার, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ভয়াবহ আওয়াজ যার প্রচণ্ডতায় মানুষ মৃত্যুবরণ করবে এবং এটি হলো প্রথম ফুঁৎকার।

(অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিকহারে দরুদ পাঠ করো): অর্থাৎ জুমার দিনে; কারণ সর্বোত্তম সময়কে সর্বোত্তম আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর। আর যেহেতু এটি দিনসমূহের সর্দার, তাই এই দিনটি সৃষ্টির সর্দার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠে ব্যয় করা উচিত।

(কেননা তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়): অর্থাৎ উপহার যেভাবে উপহারপ্রাপকের নিকট পেশ করা হয়, এটিও সেভাবেই আমার নিকট পেশ করা হয়; সুতরাং এটি ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে, যেমন উপহার উপহারদাতাকে উপহারপ্রাপকের নিকটবর্তী করে দেয়।

(তিনি বললেন): অর্থাৎ বর্ণনাকারী (راوي) আউস। (তারা বললেন): অর্থাৎ সাহাবীগণ।

(নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনের জন্য নবীদের শরীর ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন): অর্থাৎ জমিনকে তা ভক্ষণ করা থেকে বিরত রেখেছেন, কেননা নবীরা তাঁদের কবরে জীবিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত এবং তাঁরা সেখানে সালাত আদায় করেন।» (বিশুদ্ধ (صحيح), এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা এবং বাজ্জার)

এই হাদিস নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) জন্য যে জীবন সাব্যস্ত করেছে তা কেবলই বরজখি জীবন, এর সাথে দুনিয়াবি জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এর জন্য উদাহরণ পেশ করা কিংবা এর ধরণ ও সাদৃশ্য আমাদের পরিচিত দুনিয়াবি জীবনের সাথে খোঁজার চেষ্টা না করে এর প্রতি ঈমান রাখা ওয়াজিব।

একজন মুমিনের এই বিষয়ে এমন অবস্থান গ্রহণ করা উচিত: হাদিসে যা এসেছে তার প্রতি কোনো প্রকার অনুমান ও মতামতের সংযোজন ছাড়াই ঈমান আনা, যেমনটি বিদাতপন্থীরা করে থাকে। তাদের কারো কারো দাবি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কবরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের জীবন হলো হাকিকি (প্রকৃত) জীবন!! তারা বলেছে: তিনি সেখানে পানাহার করেন ও স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করেন!!! তিনি দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানান এবং মুসাফাহা করেন!!! ইত্যাদি।

সুতরাং কবরে নবীদের জীবন মূলত বরজখি জীবন, যার প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া আর কেউ জানে না।

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে} - (সুরা আজ-জুমার: ৩০), এবং বলেছেন: {আপনার পূর্বেও আমি কোনো মানুষকে চিরস্থায়ী করিনি; সুতরাং যদি আপনার মৃত্যু হয়, তবে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?} - (সুরা আল-আম্বিয়া: ৩৪)। এর সাথে আমাদের এই সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, তাঁর রুহ মুবারক জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে, আর আল্লাহ জমিনের জন্য নবীদের শরীর ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন এবং বরজখি জীবন দুনিয়াবি জীবন ও আখিরাতের জীবন থেকে ভিন্ন।

কেননা জীবিত ও মৃতদের মাঝে এমন এক পর্দা (আড়াল) রয়েছে যা তাদের পারস্পরিক যোগাযোগকে অকাট্যভাবে বাধা প্রদান করে। এর ওপর ভিত্তি করে তাদের মধ্যে সত্তাগত বা গুণগত কোনো যোগাযোগ অসম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {তাদের সামনে রয়েছে বরজখ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত} - (সুরা আল-মুমিনুন: ১০০)। আর বরজখ শব্দের অর্থ হলো: এমন অন্তরায় যা একদলকে অন্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১২)
4 - بعد سماع الأذان: فعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وآله وسلم يَقُولُ: «إِذَا سَمِعْتُمْ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ، ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ؛ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا الله لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ الله، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ؛ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ» (رواه مسلم).

(الْوَسِيلَة) قَدْ فَسَّرَهَا صلى الله عليه وآله وسلم بِأَنَّهَا مَنْزِلَة فِي الْجَنَّة.

وَقَوْله صلى الله عليه وآله وسلم: (حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَة) أَيْ وَجَبَتْ، وَقِيلَ: نَالَتْهُ.

تنبيه: هذا أمر من النبي صلى الله عليه وآله وسلم بالصلاة عليه بعد الأذان، وهذا عام يشمل المؤذن وغيره؛ قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم «إِذَا سَمِعْتُمْ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ، ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ» وكلمة (ثم) فيها دليل على أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم ليست من ألفاظ الأذان؛ لأن الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم تكون بعد ترديد ما يقوله المؤذن، فدل ذلك على أن المؤذن لا يرفع الصوت بالصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم بعد الأذان.

فهل كان بلال أو ابن أم مكتوم وكل من أذَّن للرسول صلى الله عليه وآله وسلم و رضي الله عنهم يفعلون ما يفعله بعض المؤذنين في هذا الزمان من رفع الصوت بالصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم بعد الأذان؟ وهل فُعِل ذلك في
4 - আজান শোনার পর: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: «যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে (আজান দিতে) শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো; কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য 'ওয়াসিলা' প্রার্থনা করো, কারণ তা জান্নাতের এমন এক মর্যাদা যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই উপযুক্ত, আর আমি আশা করি আমিই সেই ব্যক্তি হব। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য 'ওয়াসিলা' প্রার্থনা করবে, তার জন্য সুপারিশ অবধারিত বা ওয়াজিব (وجبت) হয়ে যাবে» (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

(আল-ওয়াসিলা) নবী (সা.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি জান্নাতের একটি উচ্চ মর্যাদা।

এবং নবী (সা.)-এর বাণী: (তার জন্য সুপারিশ সাব্যস্ত হলো) অর্থাৎ তা ওয়াজিব (وجبت) বা অবধারিত হয়ে গেল; আবার বলা হয়েছে: সে তা লাভ করল।

সতর্কবার্তা: এটি আজানের পর দরুদ পাঠ করার ব্যাপারে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ। এটি একটি সাধারণ (عام) নির্দেশ যা মুয়াজ্জিন এবং অন্যদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। নবী (সা.) বলেছেন: «যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো, অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো»। এখানে ‘অতঃপর’ (ثم) শব্দটির মধ্যে এই প্রমাণ (دليل) রয়েছে যে, নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা আজানের শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হয় মুয়াজ্জিনের শব্দের পুনরাবৃত্তি করার পর। সুতরাং এটি নির্দেশ করে যে, মুয়াজ্জিন আজানের পর উচ্চৈঃস্বরে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন না।

বিলাল (রা.) অথবা ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) এবং যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য আজান দিতেন, তাঁরা কি বর্তমান সময়ের কিছু মুয়াজ্জিনের মতো আজানের পর উচ্চৈঃস্বরে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করার কাজটি করতেন? আর এটি কি ইতিপূর্বে করা হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
عهد الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم الذين أُمِرْنا بالاقتداء بسنتهم وكذلك في عهد الأئمة الأربعة وأتباع التابعين أو أحد القرون الثلاثة المفضَّلة؟

اللهم لا. ومن قال بخلاف هذا فقد افترى على الإسلام ودعاته الأوائل.

وهل يوجد في صفة الأذان في أي كتاب من كتب الفقه والحديث المعتمدة ما أحدثه المؤذنون من الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم على المنائر بعد الأذان؟ اللهم إنه لا يوجد حتى في كتب الفقهاء المتأخرين.

قال صلى الله عليه وآله وسلم: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ» (متفق عليه). وكل بدعة في الدين ضلالة في النار. فكل ما لم يَرِدْ فِعْلُه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولا خلفائه الراشدين فهو مردود على صاحبه كائنًا من كان. ولا توجد بدعة حسنة وأخرى سيئة في الإسلام.

فالجهر بالصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عقب الأذان غير مشروع. قال ابن حجر في (الفتاوى الكبرى): «الأصل سنة والكيفية بدعة».
খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে—যাঁদের সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের নির্দেশ আমাদের প্রদান করা হয়েছে—এবং একইভাবে চার ইমামের যুগে, তাবে-তাবেয়িদের যুগে কিংবা অন্য কোনো শ্রেষ্ঠ তিন শতাব্দীর কোনো একটিতে কি এর অস্তিত্ব ছিল?

আল্লাহর কসম, না। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে, সে ইসলাম এবং এর আদি দাওয়াতদানকারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করল।

আর আজানের পদ্ধতির বর্ণনায় ফিকহ ও হাদিসের নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে কি এমন কিছু পাওয়া যায় যা বর্তমান সময়ের মুয়াজ্জিনরা আজানের পর মিনার থেকে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছে? আল্লাহর কসম, এটি এমনকি পরবর্তী যুগের ফকিহদের কিতাবসমূহেও পাওয়া যায় না।

নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"। (সর্বসম্মত (متفق عليه))। আর দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই (بدعة) ভ্রষ্টতা যা জাহান্নামে নিয়ে যায়। সুতরাং যে কাজের আমল নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) কিংবা খোলাফায়ে রাশেদিন থেকে বর্ণিত হয়নি, তা যে কেউ করুক না কেন তা কর্তার ওপরই প্রত্যাবর্তিত বা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। ইসলামে কোনো উত্তম নব-আবিষ্কৃত বিষয় (بدعة حسنة) কিংবা মন্দ নব-আবিষ্কৃত বিষয় (بدعة سيئة) বলে কিছু নেই।

অতএব, আজানের পর উচ্চৈঃস্বরে রাসুলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা শরিয়তসম্মত নয়। ইবনে হাজার আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা গ্রন্থে বলেছেন: "এর মূল বিষয়টি সুন্নাহ (سنة) হলেও বর্তমান পদ্ধতিটি নব-আবিষ্কৃত (بدعة)"।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكذلك قول المؤذن حين الأذان أو الإقامة: أشهد أن سيدنا محمدًا رسول الله. قال الحافظ ابن حجر: «إنه لا يزاد ذلك في الكلمات المأثورة».

قال الشيخ سيد سابق في (فقه السنة): «الأذان عبادة ومدار الأمر في العبادات على الاتباع فلا يجوز لنا أن نزيد شيئا أو ننقص شيئًا في ديننا. وفي الحديث الصحيح: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ» أي باطل.

5 - في كل مجلس: فَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: «مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً؛ فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ» (صحيح رواه الترمذي)

(إِلَّا كَانَ) أَيْ ذَلِكَ الْمَجْلِسُ.

(عَلَيْهِمْ تِرَةً) أَيْ تَبِعَةً وَمُعَاتَبَةً، أَوْ: نُقْصَانًا وَحَسْرَةً وَنَدَامَةً.

(فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ) أَيْ بِذُنُوبِهِمْ السَّابِقَةِ وَتَقْصِيرَاتِهِمْ اللَّاحِقَةِ.

(وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ) أَيْ فَضْلًا مِنْهُ وَرَحْمَةً.

6 - عند ذِكْرِه صلى الله عليه وآله وسلم: فعن الحسين بن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «البَخِيلُ منَْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» (صحيح رواه النسائي وابن حبان والحاكم).

وقد اختلف العلماء في وجوبها كلما ذكر اسمه صلى الله عليه وآله وسلم، فقال أبو جعفر الطحاوي، وأبو عبيد الله الحليمي: تجب الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم كلما ذكر اسمه.

وقال غيرهما: إن ذلك مستحب، وليس بفرض يأثم تاركه.

7 - عند دخول المسجد والخروج منه: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم: «إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم.ثُمَّ لْيَقُلْ: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ، فَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ». (صحيح رواه أبو داود)

وعَنْ فَاطِمَةَ رضي الله عنها ـ بِنْتِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم ـ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَقُولُ: «بِسْمِ اللهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ الله، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ».

وَإِذَا خَرَجَ قَالَ: «بِسْمِ اللهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ الله، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ فَضْلِكَ» (صحيح رواه ابن ماجه)
অনুরূপভাবে আযান বা ইকামতের সময় মুয়াজ্জিনের এই কথা বলা: 'আশহাদু আন্না সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ'। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "এটি বর্ণিত (مأثور) শব্দাবলির মধ্যে বৃদ্ধি করা যাবে না।"

শেখ সাইয়্যিদ সাবিক ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেন: "আযান একটি ইবাদত এবং ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো অনুসরণের (ইত্তিবা) ওপর। সুতরাং আমাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে কোনো কিছু বাড়ানো বা কমানো বৈধ নয়। আর সহিহ (صحيح) হাদিসে রয়েছে: 'যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।' অর্থাৎ তা বাতিল (باطل)।

৫ - প্রত্যেক মজলিসে (বৈঠকে): আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো সম্প্রদায় যদি এমন কোনো মজলিসে বসে যেখানে তারা আল্লাহর জিকির করেনি এবং তাদের নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেনি, তবে তা তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে। অতঃপর আল্লাহ চাইলে তাদের শাস্তি দেবেন অথবা চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেবেন।" (তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস)

("সেটি ছিল") অর্থাৎ সেই মজলিসটি।

("তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ") অর্থাৎ দায়বদ্ধতা ও তিরস্কার, অথবা: ঘাটতি, আফসোস ও অনুশোচনা।

("অতঃপর চাইলে তাদের শাস্তি দেবেন") অর্থাৎ তাদের পূর্ববর্তী পাপ ও পরবর্তী ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে।

("এবং চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেবেন") অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও দয়াবশত।

৬ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নাম উল্লেখ করার সময়: হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "সেই ব্যক্তিই কৃপণ, যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না।" (নাসায়ী, ইবনে হিব্বান ও হাকেম কর্তৃক বর্ণিত এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম যতবার উল্লেখ করা হবে ততবার দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব (واجب) হওয়া প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। আবু জাফর আত-তাহাবী এবং আবু উবাইদুল্লাহ আল-হালিমি বলেন: যতবার তাঁর নাম উল্লেখ করা হবে, ততবারই তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব (واجب)।

অন্যান্য উলামায়ে কেরাম বলেন: এটি মুস্তাহাব (مستحب), এটি ফরজ (فرض) নয় যে তা বর্জনকারী গুনাহগার হবে।

৭ - মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সালাম পেশ করে। অতঃপর যেন বলে: 'হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।' আর যখন বের হয় তখন যেন বলে: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি'।" (আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: 'আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং রাসূলুল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।'

আর যখন তিনি বের হতেন তখন বলতেন: 'আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং রাসূলুল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাগুলো খুলে দিন'।" (ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস)
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: «إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم. وَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ، وَإِذَا خَرَجَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم، وَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ» (صحيح رواه ابن ماجه).

8 - عند الدعاء: قال صلى الله عليه وآله وسلم: «كُلّ دُعَاءٍ مَحْجُوبٌ حَتَّى يُصَلَّى على النَّبِي صلى الله عليه وآله وسلم» (حسنه الألباني في صحيح الجامع).

وعن عبد الله بن أبي بكر قال: كنا بالخيف ومعنا عبد الله ابن أبي عتبة: فحمد الله وأثنى عليه، وصلى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ودعا بدعوات ثم قام فصلى بنا» (صحيح رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم)

9 - في القنوت: عن قتادة عن عبد الله بن الحارث: أن أبا حليمة معاذ رضي الله عنه كان يصلي على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في القنوت» (صحيح رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم)

10 - في الصباح والمساء: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حِينَ يُصْبِحُ عَشْراً، وحِينَ يُمْسِي عَشْراً أَدْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ القِيَامَة». (حسن رواه الطبراني)
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর সালাম পেশ করে এবং বলে: হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। আর যখন সে বের হয়, তখন যেন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর সালাম পেশ করে এবং বলে: হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।" (সহিহ (صحيح), এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন)।

৮ - দুআ করার সময়: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক দুআই স্থগিত থাকে যতক্ষণ না নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করা হয়।" (আলবানী এটিকে হাসান (حسن) আখ্যা দিয়েছেন সহিহুল জামে' গ্রন্থে)।

আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা খাইফ নামক স্থানে ছিলাম এবং আমাদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আবু উতবা ছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করলেন ও কিছু দুআ করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন।" (সহিহ (صحيح), এটি জাহযামী 'ফাদলুস সালাতি আলান নবী' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

৯ - কুনুতের মধ্যে: কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন: আবু হালিমা মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুনুতের মধ্যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করতেন।" (সহিহ (صحيح), এটি জাহযামী 'ফাদলুস সালাতি আলান নবী' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

১০ - সকাল ও সন্ধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে আমার ওপর দশবার এবং সন্ধ্যায় দশবার দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ লাভ করবে।" (হাসান (حسن), এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন)
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
11 - بين تكبيرات العيد: عن علقمة، أن ابن مسعود وأبا موسى، وحذيفة رضي الله عنهم، خرج عليهم الوليد بن عقبة قبل العيد يوماً، فقال لهم: «إن هذا العيد قد دنا فكيف التكبير فيه؟»

قال عبد الله: «تبدأ فتكبر تكبيرة تفتتح بالصلاة وتحمد ربك وتصلي على النبي محمد صلى الله عليه وآله وسلم، ثم تدعو أو تكبر وتفعل مثل ذلك، ثم تكبر وتفعل مثل ذلك، ثم تكبر وتفعل مثل ذلك، ثم تقرأ ثم تكبر وتركع، ثم تقوم فتقرأ وتحمد ربك وتصلي على النبي محمد صلى الله عليه وآله وسلم، ثم تدعو وتكبر الله، وتفعل مثل ذلك، ثم تكبر وتفعل مثل ذلك، ثم تركع.

فقال حذيفة وأبو موسى: صدق أبو عبد الرحمن».

(صحيح رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم)
11 - ঈদের তাকবিরসমূহের মধ্যবর্তী সময়ে: আলকামা থেকে বর্ণিত যে, ইবনে মাসউদ, আবু মুসা এবং হুজায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট ঈদের একদিন পূর্বে ওয়ালিদ বিন উকবা আসলেন এবং তাঁদেরকে বললেন: «নিশ্চয়ই এই ঈদ ঘনিয়ে এসেছে, সুতরাং এতে তাকবির প্রদানের পদ্ধতি কী?»

আবদুল্লাহ বললেন: «তুমি সালাত শুরু করার জন্য তাকবির দিয়ে প্রারম্ভ করবে, তোমার রবের প্রশংসা করবে এবং নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করবে। এরপর দোয়া করবে অথবা তাকবির দিবে এবং অনুরূপ করবে, এরপর তাকবির দিবে এবং অনুরূপ করবে, এরপর তাকবির দিবে এবং অনুরূপ করবে। অতঃপর (কিরাত) পাঠ করবে, এরপর তাকবির দিবে ও রুকু করবে। এরপর (দ্বিতীয় রাকাতে) দণ্ডায়মান হয়ে (কিরাত) পাঠ করবে, তোমার রবের প্রশংসা করবে এবং নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করবে। এরপর দোয়া করবে ও আল্লাহর তাকবির দিবে এবং অনুরূপ করবে, এরপর তাকবির দিবে এবং অনুরূপ করবে, অতঃপর রুকু করবে।»

হুজায়ফা ও আবু মুসা বললেন: «আবু আবদুর রহমান সত্য বলেছেন।»

(সহীহ (صحيহ), আল-জাহদামি এটি ফাদলুস সালাতি আলান নবী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌التحذير من ترك الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صعد المنبر فقال: «آمِين، آمِين، آمِين».

قيل: يا رسول الله، إنك صَعَدتَ المنبر فقلتَ: آمين، آمين، آمين؟

فقال: «إن جبريل عليه السلام أتاني فقال: مَنْ أدركَ شَهْرَ رمضانَ فلم يُغفَر له فدخلَ النارَ فأَبْعَدهُ الله، قُلْ: آمِين، فقلتُ: آمِين.

ومَن أَدْرَكَ أبَويْه أو أحدَهُما فلم يبرّهُما فمات، فدخلَ النارَ فأَبْعَدهُ الله، قُلْ: آمِين، فقلتُ: آمِين.

ومن ذُكِرْتَ عنده فلم يُصَلّ عليكَ فمات، فدخلَ النارَ فأَبْعَدهُ الله، قُلْ: آمِين، فقلتُ: آمِين». (حسن صحيح رواه ابن حبان)

وتأمل: جبريل عليه السلام يدعو ونبينا صلى الله عليه وآله وسلم يقول: آمين؛ فاحذر أخي المسلم.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ ত্যাগ করার বিষয়ে সতর্কবাণী -

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমিন, আমিন, আমিন»।

জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি মিম্বারে আরোহণ করে বললেন: আমিন, আমিন, আমিন?

তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করে বললেন: যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে (রহমত হতে) দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন।

আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল অথচ তাদের সাথে সদাচরণ করল না এবং সে মৃত্যুবরণ করে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন।

আর যার নিকট আপনার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না এবং সে মৃত্যুবরণ করে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন»। (হাসান (حسن) সহিহ (صحيح), ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন)

একটু ভেবে দেখুন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম দোয়া করছেন আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলছেন: আমিন; সুতরাং হে আমার মুসলিম ভাই, আপনি সতর্ক হোন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যার নিকট আমার নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না। আর সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যার নিকট (রমজান) প্রবেশ করল...
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عِنْدَهُ أَبَوَاهُ الْكِبَرَ فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ» (حسن صحيح رواه الترمذي)

وعن حسين بن علي رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «من ذُكِرْتُ عنده فخَطِىءَ الصلاةَ عليَّ، خَطِىءَ طريقَ الجنّة» (صحيح رواه الطبراني)

وعن حسين رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «البخيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلّ عَلَيَّ» (صحيح رواه النسائي وابن حبان)

وعن أبي ذر رضي الله عنه قال: «خرجت ذات يوم فأَتَيتْتُ رسولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «ألا أخبركم بأبخل الناس؟»

قالوا: «بلى يا رسول الله».

قال: «مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلّ عَلَيَّ فَذّلِكَ أبخَلُ النَّاسِ» (صحيح رواه ابن أبي عاصم في كتاب الصلاة).
...রমজান মাস পেল অতঃপর তাকে ক্ষমা করার পূর্বেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল; আর সেই ব্যক্তির নাসিকা ধূলিলুণ্ঠিত হোক যার নিকট তার পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলো অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না (হাসান সহিহ (حسن صحيح); তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন)।

হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যার নিকট আমার আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করতে ভুল করল, সে জান্নাতের পথ হারিয়ে ফেলল" (সহিহ (صحيح); তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন)।

হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি যার নিকট আমার কথা উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না" (সহিহ (صحيح); নাসায়ি ও ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন)।

আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদিন আমি বের হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: 'আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেব না?'"

তারা বললেন: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!"

তিনি বললেন: "যার নিকট আমার নাম আলোচিত হলো অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না, সেই ব্যক্তিই হলো সবচেয়ে কৃপণ" (সহিহ (صحيح); ইবনে আবি আসিম কিতাবুস সালাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الفوائد والثمرات الحاصلة بالصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

قد جاءت الأحاديث مستفيضة توضح فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وتبين مكانة المكثر من الصلاة عليه، فمن ثمرات الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم:

1 - امتثال أمر الله عز وجل وموافقته سبحانه وتعالى في الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم:

وإن اختلفت الصلاتان: فصلاتنا عليه دعاء وسؤال، وصلاة الله تعالى عليه ثناء وتشريف.

وأيضًا موافقة الملائكة فيها؛ قال الله عز وجل: {إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب:56].

2 - حصول عشر صلوات من الله عز وجل ومن الملائكة على المصلي بالصلاة مرة واحدة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم ولم تزل الملائكة تصلي عليه ما صلى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم:

قال صلى الله عليه وآله وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» (رواه مسلم).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে অর্জিত সুফল ও প্রাপ্তিসমূহ-

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ফজিলত এবং অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠকারীর মর্যাদা স্পষ্ট করে অনেক বহুল বর্ণিত (مستفيضة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের সুফলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করা এবং তাঁর ওপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে একমত হওয়া:

যদিও এই দুই সালাত বা দরুদ ভিন্নতর: আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরুদ হলো দোয়া ও প্রার্থনা, আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরুদ হলো প্রশংসা ও সম্মান প্রদর্শন।

পাশাপাশি এতে ফেরেশতাদের সাথেও ঐকমত্য পোষণ হয়; মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।" [আল-আহযাব: ৫৬]।

২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে মহান আল্লাহ এবং ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে দশবার রহমত লাভ হওয়া। আর বান্দা যতক্ষণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করতে থাকে, ফেরেশতারাও ততক্ষণ তার জন্য দোয়া করতে থাকে:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।" (মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২১)
وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ وَالْبُشْرَى فِي وَجْهِهِ فَقُلْنَا: إِنَّا لَنَرَى الْبُشْرَى فِي وَجْهِكَ؟

فَقَالَ: «إِنَّهُ أَتَانِي الْمَلَكُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ: أَمَا يُرْضِيكَ أَنَّهُ لَا يُصَلِّي عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا، وَلَا يُسَلِّمُ عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا». (صحيح رواه النسائي وغيره).

وعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رضي الله عنه قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى دَخَلَ نَخْلًا فَسَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ حَتَّى خِفْتُ أَوْ خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ اللهُ قَدْ تَوَفَّاهُ أَوْ قَبَضَهُ، فَجِئْتُ أَنْظُرُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: «مَا لَكَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ؟»

فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام قَالَ لِي أَلَا أُبَشِّرُكَ؟ إِنَّ اللهَ عز وجل يَقُولُ لَكَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ؛ فسَجَدْتُ للهِ شُكْرًا». (حسن رواه أحمد والحاكم).

وعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «أَكْثِرُوا الصلاةَ عَليَّ يوَْمَ الجمعَة؛ فإنه أتاني جِبريلُ آنفًا عن ربِّه عز وجل فقال: «مَا عَلَى
আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা তাঁর পিতা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আসলেন এবং তাঁর চেহারায় আনন্দের আভা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। আমরা বললাম: আমরা আপনার চেহারায় আনন্দের আভা দেখতে পাচ্ছি!

তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই ফেরেশতা আমার কাছে এসেছেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক বলছেন: আপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন যে, আপনার প্রতি কেউ একবার দরুদ পাঠ করলে আমি তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করব, এবং কেউ আপনার প্রতি একবার সালাম পেশ করলে আমি তার প্রতি দশবার সালাম বর্ষণ করব?» (সহিহ (صحيح), এটি নাসায়ি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)।

আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করে সিজদায় গেলেন এবং সিজদাকে দীর্ঘায়িত করলেন। এমনকি আমার ভয় বা আশঙ্কা হলো যে আল্লাহ হয়তো তাঁর রূহ কবজ করেছেন। তখন আমি কাছে গিয়ে দেখতে চাইলাম, এমতাবস্থায় তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: «হে আবদুর রহমান, তোমার কী হয়েছে?»

আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে বললেন, আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেব না? নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনার জন্য বলছেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করবে, আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করব, আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পেশ করবে, আমি তার প্রতি সালাম বর্ষণ করব; তাই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে সিজদা করলাম।» (হাসান (حسن), এটি আহমাদ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো; কারণ জিবরাঈল এইমাত্র তাঁর মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: কোনো...
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২২)
الأرضِ مِن مُسلمٍ يُصَلِّي عليكَ مرَّةً واحدةً إلا صليتُ أنا وملائكَتي عليهِ عشرًا» (حسن رواه الطبراني)

وقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَيَّ إِلَّا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا صَلَّى عَلَيَّ؛ فَلْيُقِلَّ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ». (حسن رواه ابن ماجه)

3 - مَن صلّى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم صلاة كتب الله له بهاً عشر حسنات، ومحا عنه عشر سيئات، ورفع له عشر درجات:

عَنْ أَبِي طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيِّ رضي الله عنه قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم يَوْمًا طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ؟ قَالَ: «أَجَلْ أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي عز وجل فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةً كَتَبَ اللهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهَا». (صحيح رواه أحمد والنسائي)

4 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لعرض اسم المصلي على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وكفى بالمرء نُبلاً أن يُذكر اسمه بين يدي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: فعن ابن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ
জমিনের কোনো মুসলিম তোমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আমি এবং আমার ফেরেশতাগণ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করব» (হাসান (حسن) এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি)

এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে কোনো মুসলিম আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, ফেরেশতারা তার ওপর ততক্ষণ রহমত বর্ষণ করতে থাকে যতক্ষণ সে আমার ওপর দরুদ পাঠরত থাকে; সুতরাং বান্দা চাইলে এর পরিমাণ কমাতে পারে অথবা বৃদ্ধি করতে পারে»। (হাসান (حسن) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ)

৩ - যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন:

আবু তালহা আল-আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এমন অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করলেন যে তাঁকে অত্যন্ত প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল এবং তাঁর চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠেছিল। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আজ আপনি অত্যন্ত প্রফুল্ল মনে ভোর অতিবাহিত করেছেন এবং আপনার চেহারায় আনন্দের আভা দেখা যাচ্ছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আমার প্রতিপালক আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক (ফেরেশতা) আমার নিকট এসে বললেন: আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্য অনুরূপ প্রতিদান দেবেন»। (সহিহ (صحيح) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ও নাসায়ি)

৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা, পাঠকারীর নাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থাপিত হওয়ার মাধ্যম। আর একজন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মুখে তার নাম স্মরণ করা হবে: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর একদল পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» (صحيح رواه النسائي وابن حبان)

وعن الحسن بن علي رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي». (صحيح رواه الطبراني).

5 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لرد النبي صلى الله عليه وآله وسلم الصلاة والسلام على المصلي والمُسَلّم عليه؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عليه السلام» (حسن رواه أحمد وأبو داود)

6 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لزيادة محبته صلى الله عليه وآله وسلم والقرب منه:

فعن أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «أكثِرُوا علَيَّ مِن الصلاةِ في كلِّ يومِ جمعة؛ فإن صلاةَ أمَّتي تُعرَضُ عليَّ في كلِّ يومِ جمعة؛ فمَن كانَ أكثرَهم عليَّ صلاةً كانَ أقربَهُم منِّي منزِلةً» (حسن رواه البيهقي)

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً». (حسن رواه الترمذي).

(أَوْلَى النَّاسِ بِي) أَيْ أَقْرَبُهُمْ بِي أَوْ أَحَقُّهُمْ بِشَفَاعَتِي.
জমিনে, তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার নিকট সালাম পৌঁছিয়ে দেন" (সহিহ (صحيح), নাসায়ি ও ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন)।

হাসান বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছায়।" (সহিহ (صحيح), তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন)।

৫ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা, দরুদ ও সালাম পাঠকারীর প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সালামের উত্তর প্রদানের কারণ; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কেউ আমাকে সালাম দেয়, আল্লাহ তাআলা আমার নিকট আমার রূহ ফিরিয়ে দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি।" (হাসান (حسن), আহমদ ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন)।

৬ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা তাঁর প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি এবং তাঁর নৈকট্য লাভের কারণ:

আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা প্রতি জুমুআর দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো; কেননা আমার উম্মতের দরুদ প্রতি জুমুআর দিনে আমার নিকট পেশ করা হয়; সুতরাং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করবে, মর্যাদার দিক থেকে সে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।" (হাসান (حسن), বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন)।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার ওপর দরুদ পাঠ করে।" (হাসান (حسن), তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন)।

(মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী) অর্থাৎ আমার সবচেয়ে কাছের অথবা আমার শাফায়াতের সবচেয়ে বেশি হকদার।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
(أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً) لِأَنَّ كَثْرَةَ الصَّلَاةِ مُنْبِئَةٌ عَنْ التَّعْظِيمِ الْمُقْتَضِي لِلْمُتَابَعَةِ النَّاشِئَةِ عَنْ الْمَحَبَّةِ الْكَامِلَةِ الْمُرَتَّبَةِ عَلَيْهَا مَحَبَّةُ الله تَعَالَى؛ قَالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمْ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} (آل عمران:31).

7 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لغفران الذنوب وسبب لكفاية العبد ما أهمه من أمر الدنيا والآخرة:

فعن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه قال: كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم إِذَا ذَهَبَ ثُلُثَا اللَّيْلِ قَامَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتْ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ».

قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلَاةَ عَلَيْكَ، فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلَاتِي؟

فَقَالَ: «مَا شِئْتَ».

قُلْتُ: الرُّبُعَ؟

قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ».

قُلْتُ: النِّصْفَ؟

قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ».

قُلْتُ: فَالثُّلُثَيْنِ؟

قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ».

قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا؟

قَالَ: «إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ».

(حسن صحيح رواه والترمذي)

قول أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه: «أُكْثِرُ الصَّلَاةَ عَلَيْكَ، فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلَاتِي؟» معناه: أكثِرُ الدعاء فكم أجعلُ لك من دعائي صلاةً عليك.

قال الإمام ابن القيم رحمه الله في (جلاء الأفهام): «وسُئِل شيخنا أبو العباس (ابن تيمية)، عن تفسير هذا الحديث فقال: كان لأبَيِّ ابْنِ كَعْبٍ دعاءٌ يدعو به لنفسه، فسأل النبي صلى الله عليه وآله وسلم: هل يجعل له منه ربعه صلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم؟

فقال: إن زِدتَ فهو خير لك. فقال له: النصف؟ فقال: إن زدت فهو خير، إلى أن قَالَ: «إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ»؛ لأن من صلى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم صلاةً صلى الله عليه بها عشراً، ومن صلى الله عليه كفاه همه وغفر له ذنبه، هذا معنى كلامه رضي الله عنه».اهـ.

وفي رواية لأحمد عن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ الله، أَرَأَيْتَ إِنْ جَعَلْتُ صَلَاتِي كُلَّهَا عَلَيْكَ؟
(তাদের মধ্যে যারা আমার ওপর সর্বাধিক দরুদ পাঠকারী) কারণ দরুদের আধিক্য এমন সম্মান ও মর্যাদার পরিচায়ক, যা পূর্ণ মহব্বত থেকে উৎসারিত আনুগত্যের দাবি রাখে; আর এই মহব্বতের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর মহব্বত অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (আলে ইমরান: ৩১)।

৭ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা পাপ মার্জনার মাধ্যম এবং দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বান্দার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কারণ:

উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়াতেন এবং বলতেন: "হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর জিকির করো, আল্লাহর জিকির করো। প্রকম্পনকারী (প্রথম ফুৎকার) উপস্থিত হয়েছে, যার পিছে পিছে আসবে পরবর্তী ফুৎকার। মৃত্যু তার যাবতীয় বিভীষিকা নিয়ে হাজির হয়েছে, মৃত্যু তার যাবতীয় বিভীষিকা নিয়ে হাজির হয়েছে।"

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ওপর প্রচুর পরিমাণে দরুদ পাঠ করি। আমি আমার দোয়ার কতটুকু অংশ আপনার দরুদের জন্য নির্ধারণ করব?

তিনি বললেন: "তোমার যতটুকু ইচ্ছা।"

আমি বললাম: চার ভাগের এক ভাগ?

তিনি বললেন: "তোমার যতটুকু ইচ্ছা, তবে যদি তুমি এর চেয়ে বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।"

আমি বললাম: অর্ধেক?

তিনি বললেন: "তোমার যতটুকু ইচ্ছা, তবে যদি তুমি এর চেয়ে বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।"

আমি বললাম: তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ?

তিনি বললেন: "তোমার যতটুকু ইচ্ছা, তবে যদি তুমি এর চেয়ে বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।"

আমি বললাম: আমি কি আমার দোয়ার পুরো অংশই আপনার জন্য নির্দিষ্ট করব?

তিনি বললেন: "তবে তো তোমার দুশ্চিন্তা লাঘবের জন্য এটাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা করা হবে।"

(হাসান (حسن) সহিহ (صحيح), ইমাম তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন)

উবাই বিন কাব (রা.)-এর উক্তি: "আমি আপনার ওপর প্রচুর দরুদ পাঠ করি, সুতরাং আমার দোয়ার কতটুকু অংশ আপনার দরুদের জন্য নির্ধারণ করব?"- এর অর্থ হলো: আমি প্রচুর দোয়া করি, সুতরাং আমার দোয়ার কতটুকু অংশ আপনার ওপর দরুদ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট করব?

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) 'জালাউল আফহাম' গ্রন্থে বলেন: "আমাদের শাইখ আবুল আব্বাস (ইবনে তাইমিয়্যাহ)-কে এই হাদিসের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: উবাই বিন কাব (রা.)-এর নিজস্ব কিছু দোয়া ছিল যা তিনি নিজের জন্য করতেন। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি কি তার সেই দোয়ার চার ভাগের এক ভাগ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট করবেন?

তিনি বললেন: যদি তুমি বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। তিনি তাকে বললেন: অর্ধেক? তিনি বললেন: যদি বৃদ্ধি করো, তবে তা কল্যাণকর হবে। শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তবে তো তোমার দুশ্চিন্তা লাঘবের জন্য এটাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা করা হবে"; কারণ যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। আর যার ওপর আল্লাহ রহমত নাজিল করেন, তিনি তার দুশ্চিন্তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার পাপ ক্ষমা করে দেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রা.)-এর বক্তব্যের মর্মার্থ এটাই।" - সমাপ্ত।

মুসনাদে আহমাদে উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী, যদি আমি আমার সম্পূর্ণ দোয়াই আপনার প্রতি দরুদ পাঠে উৎসর্গ করি?
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
قَالَ: «إِذَنْ يَكْفِيَكَ اللهُ تبارك وتعالى مَا أَهَمَّكَ مِنْ دُنْيَاكَ وَآخِرَتِكَ» (إسناد ها جيد)

8 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لنَيْل شفاعته صلى الله عليه وآله وسلم: فعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «مَنْ صَلَّى عليَّ أو سألَ لِيَ الوسيلةَ حقَّتْ عليهِ شفَاعَتي يَومَ القِيَامَة» (رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم وصححه الألباني)

9 - يُرجَى إجابة الدعاء إذا قدَّم الداعي الصلاةَ على النبي صلى الله عليه وآله وسلم أمامه: قال صلى الله عليه وآله وسلم: «كلُّ دعاءٌ محجوبٌ حتى يُصَلَّى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم». (حسنه الألباني في صحيح الجامع).

قال المناوي: (كلُّ دعاءٌ محجوبٌ) أي محجوب عن القبول (حتى يُصَلَّي) أي حتى يُصَلِّي الداعي (على النبي صلى الله عليه وآله وسلم) يعني أنه لا يرفع إلى الله حتى يستصحب الرافع معه الصلاة عليه؛ إذ هي الوسيلة إلى الإجابة».

وعن علي رضي الله عنه قال: «كل دعاء محجوب حتى يصلى على محمد صلى الله عليه وآله وسلم». (صحيح رواه الطبراني موقوفًا).
তিনি বললেন: «তবে মহান আল্লাহ আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য যথেষ্ট হবেন» (এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد))

৮ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা তাঁর শাফায়াত লাভের একটি কারণ: আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে অথবা আমার জন্য 'ওয়াসিলা' প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে যাবে» (জাহযামী এটি ফাদলুস সালাতি আলান নবী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন)

৯ - দুয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় যদি দুয়াকারী দুয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «প্রত্যেক দুয়া স্থগিত থাকে যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়»। (আলবানী সহিহুল জামে’ গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন)।

আল-মুনাউয়ী বলেন: (প্রত্যেক দুয়া স্থগিত) অর্থাৎ কবুল হওয়া থেকে বারিত (যতক্ষণ না দরুদ পাঠ করা হয়) অর্থাৎ যতক্ষণ না দুয়াকারী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর) দরুদ পাঠ করে। এর অর্থ হলো, যে বিষয়টি দুয়াকে উপরে নিয়ে যায় তা যতক্ষণ পর্যন্ত দরুদকে সঙ্গী না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা আল্লাহর নিকট উন্নীত হয় না; কারণ এটিই কবুল হওয়ার মাধ্যম।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «প্রত্যেক দুয়া স্থগিত থাকে যতক্ষণ না মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়»। (এটি সহিহ (صحيح), তাবারানী এটি মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: «إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ صلى الله عليه وآله وسلم» (صحيح رواه الترمذي)

10 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لطِيبِ المجلس، وأن لا يعود حسرة على أهله يوم القيامة. وتنجي من نتن المجلس الذي لا يذكر فيه الله ويحمد ويثنى عليه فيه، ويصلى على رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.

11 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم تنفي عن العبد اسم البخل إذا صلى عليه عند ذكره صلى الله عليه وآله وسلم، ويخرج بها العبد عن الجفاء.

12 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم ترمي صاحبها على طريق الجنة، وتخطئ بتاركها عن طريقها.

13 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سب لإبقاء الله سبحانه الثناء الحسن للمصلي عليه بين أهل السماء والأرض: لأن المصَلِّي طالبٌ من الله أن يثني على رسوله ويكرمه ويشرفه، والجزاء من جنس العمل، فلا بد أن يحصل للمصلي نوع من ذلك.

14 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب للبركة في ذات المصلي وعمله وعمره، وأسباب مصالحه: لأن المصلي داعٍ ربه أن يبارك علي النبي صلى الله عليه وآله وسلم وعلى آله، وهذا الدعاء مستجاب، والجزاء من جنسه.
সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই দোয়া আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে স্থগিত থাকে, তার কোনো কিছুই ওপরে আরোহণ করে না যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করো।" (সহিহ (صحيح), এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন)

১০ - নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ মজলিসকে আনন্দদায়ক ও পবিত্র করার মাধ্যম এবং কিয়ামতের দিন সেই মজলিসের সদস্যদের জন্য আক্ষেপের কারণ না হওয়ার উপায়। এটি সেই মজলিসের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দেয় যেখানে আল্লাহর জিকির করা হয় না, তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা হয় না এবং তাঁর রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করা হয় না।

১১ - নবী (সা.)-এর নাম শোনার পর তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করলে তা বান্দার থেকে কৃপণতার অপবাদ দূর করে এবং এর মাধ্যমে বান্দা রূঢ়তা বা ঔদাসীন্য থেকে মুক্ত হয়।

১২ - নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ তার পাঠকারীকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে, আর যে ব্যক্তি এটি বর্জন করে তাকে জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত করে।

১৩ - নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীদের মাঝে দরুদ পাঠকারীর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুখ্যাতি ও উত্তম প্রশংসা বজায় থাকার একটি কারণ। কারণ দরুদ পাঠকারী আল্লাহর কাছে তাঁর রাসুলের ওপর প্রশংসা বর্ষণ, তাঁকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করার প্রার্থনা করে; আর প্রতিদান তো আমলের ধরন অনুযায়ীই হয়ে থাকে, তাই দরুদ পাঠকারীও অবশ্যই এর অনুরূপ কিছু লাভ করবে।

১৪ - নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা স্বয়ং পাঠকারীর সত্তা, তার আমল, তার হায়াত এবং তার সামগ্রিক কল্যাণের উপায়সমূহে বরকতের একটি কারণ। কারণ দরুদ পাঠকারী তার রবের কাছে নবী (সা.) ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত নাযিলের প্রার্থনা করে, আর এই দোয়া কবুল করা হয়; সুতরাং এর প্রতিদানও দোয়ার অনুরূপ হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
15 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لنَيْل رحمة الله عز وجل للمصلي؛ لأن الرحمة ـ كما قال ابن القيم رحمه الله ـ إما بمعنى الصلاة كما قاله طائفة، وإما من لوازمها وموجباتها على القول الصحيح، فلا بد للمصلي عليه من رحمة تناله.

16 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لدوام محبته للرسول صلى الله عليه وآله وسلم وزيادتها وتضاعفها: وذلك عقد من عقود الإيمان الذي لا يتم إلا به، لأن العبد كلما أكثر من ذكر المحبوب، واستحضاره في قلبه، واستحضار محاسنه ومعانيه الجالبة لحبه، تضاعف حبه له وتزايد شوقه إليه، واستولى على جميع قلبه.

وإذا أعرض عن ذكره وإحضار محاسنه بقلبه، نقص حبه من قلبه، ولا شيء أقر لعين المحب من رؤية محبوبه، ولا أقر لقلبه من ذكره وذكر محاسنه، وتكون زيادة ذلك ونقصانه بحسب زيادة الحب ونقصانه في قلبه، والحس شاهد بذلك.

17 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لمحبته للعبد: فإنها إذا كانت سببًا لزيادة محبة المصَلِّى عليه له، فكذلك هي سبب لمحبته هو صلى الله عليه وآله وسلم للمصَلِّي عليه.
15 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা সালাত পাঠকারীর জন্য মহান আল্লাহর রহমত লাভের কারণ; কেননা রহমত—যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—হয়তো 'সালাত' (দরুদ) অর্থেই ব্যবহৃত হয় যেমনটি একটি দল বলেছে, অথবা বিশুদ্ধ (صحيح) অভিমত অনুযায়ী এটি সালাতের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ও প্রভাব। সুতরাং দরুদ পাঠকারীর ওপর রহমত বর্ষিত হওয়া অনিবার্য।

16 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা নিরবচ্ছিন্ন থাকা, তা বৃদ্ধি পাওয়া এবং বহুগুণ হওয়ার মাধ্যম। আর এটি ইমানের অন্যতম একটি অঙ্গীকার যা ব্যতীত ইমান পূর্ণতা পায় না। কেননা বান্দা যখনই তার প্রিয়জন সম্পর্কে অধিক আলোচনা করে, তাঁকে অন্তরে জাগ্রত রাখে এবং তাঁর সেই সৌন্দর্য ও গুণাবলি স্মরণ করে যা ভালোবাসাকে আকৃষ্ট করে, তখন তাঁর প্রতি বান্দার ভালোবাসা দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং তাঁর প্রতি ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত সমগ্র হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

আর যখনই সে তাঁর আলোচনা এবং তাঁর গুণাবলি অন্তরে জাগ্রত রাখা থেকে বিমুখ হয়, তখন তার অন্তর থেকে সেই ভালোবাসা হ্রাস পায়। প্রেমিকের চোখের জন্য প্রিয়তমের দিদারের চেয়ে শীতলকারী আর কিছু নেই এবং তার অন্তরের জন্য প্রিয়তমের স্মরণ ও তাঁর মহিমা বর্ণনার চেয়ে প্রশান্তিদায়ক আর কিছু নেই। এই হ্রাস-বৃদ্ধি মূলত তার হৃদয়ে থাকা ভালোবাসার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল, আর বাস্তবতা এর সাক্ষী।

17 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা বান্দার প্রতি তাঁর (নবীর) ভালোবাসার কারণ: কেননা এটি যদি দরুদ পাঠকারীর অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধির কারণ হয়, তবে অনুরূপভাবে এটি দরুদ পাঠকারীর প্রতি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসারও কারণ।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
18 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم سبب لهداية العبد وحياة قلبه: فإنه كلما أكثر الصلاة عليه وذكره، استولت محبته على قلبه، حتى لا يبقى في قلبه معارضةٌ لشيء من أوامره، ولا شكٌ في شيءٍ مما جاء به، بل يصير ما جاء به مكتوباً مسطوراً في قلبه، لا يزال يقرؤه على تعاقب أحواله، ويقتبس الهدى والفلاح وأنواع العلوم منه، وكلما ازداد في ذلك بصيرةً وقوةً ومعرفةً، ازدادَتْ صلاتُه عليه صلى الله عليه وآله وسلم.

19 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم أداء لأقل القليل من حقه.

20 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم متضمنة لذكر الله وشكره، ومعرفة إنعامه على عبيده بإرساله: فالمصَلِّي عليه صلى الله عليه وآله وسلم قد تضمنتْ صلاتُه عليه ذكر الله وذكر رسوله، وسؤاله أن يجزيه بصلاته عليه ما هو أهله، كما عرفنا ربنا وأسماءه وصفاته، وهدانا إلى طريق مرضاته، وعرفنا ما لنا بعد الوصول إليه، والقدوم عليه.

فهي متضمنة لكل الإيمان، بل هي متضمنة للإقرار بوجود الرب المدعو وعلمه وسمعه وقدرته وإرادته وصفاته وكلامه، وإرسال رسوله، وتصديقه في أخباره كلها، وكمال محبته، ولا ريب أن هذه هي أصول الإيمان، فالصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم متضمنة لعلم العبد ذلك، وتصديقه به، ومحبته له فكانت من أفضل الأعمال.
18 - নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা বান্দার হিদায়াত এবং তার অন্তরের জীবন লাভের কারণ: কেননা যখনই কোনো ব্যক্তি তাঁর ওপর অধিক দরুদ পাঠ করেন এবং তাঁকে স্মরণ করেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ওই ব্যক্তির অন্তরে এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর কোনো আদেশের বিপরীতে অন্তরে কোনো বিরোধিতার অবকাশ থাকে না এবং তাঁর আনীত কোনো বিষয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহও থাকে না। বরং তাঁর আনীত শিক্ষাগুলো ওই ব্যক্তির অন্তরে এমনভাবে অঙ্কিত ও লিপিবদ্ধ হয়ে যায় যে, সকল পরিস্থিতিতেই সে তা পাঠ করতে থাকে এবং তা থেকে হিদায়াত, সফলতা ও বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান আহরণ করে। এ ক্ষেত্রে তার অন্তর্দৃষ্টি, শক্তি ও পরিচয় যত বৃদ্ধি পায়, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর ওই ব্যক্তির দরুদ পাঠও তত বৃদ্ধি পায়।

19 - নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা তাঁর হকের সামান্যতম অংশ আদায় করার নামান্তর।

20 - নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা আল্লাহর জিকির ও তাঁর শোকর আদায়ের অন্তর্ভুক্ত, এবং নবি প্রেরণের মাধ্যমে বান্দাদের ওপর আল্লাহর যে অনুগ্রহ হয়েছে তা অনুধাবনের শামিল: সুতরাং দরুদ পাঠকারীর সালাত বা দরুদের মধ্যে আল্লাহর জিকির এবং তাঁর রাসুলের জিকির অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি রাসুলকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা অনুযায়ী প্রতিদান দান করেন, যেমনটি তিনি আমাদের নিকট আমাদের রব, তাঁর নাম ও গুণাবলিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সন্তুষ্টির পথে আমাদের পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ ও তাঁর কাছে গমনের পর আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে তা জানিয়েছেন।

এটি ঈমানের সকল অনুষঙ্গকে শামিল করে, বরং এটি প্রার্থিত রবের অস্তিত্বের স্বীকৃতি, তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ, কুদরত, ইচ্ছা, গুণাবলি, কথা, তাঁর রাসুল প্রেরণ এবং রাসুলের সকল সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) সত্যয়ন (تصديق) ও তাঁর প্রতি পূর্ণ মহব্বতের অন্তর্ভুক্ত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এগুলোই হলো ঈমানের মূলনীতি (أصول الإيمان)। সুতরাং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা বান্দার সেই জ্ঞান, তার সত্যয়ন (تصديق) এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ; তাই এটি সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌كيفية الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

هذه الصلاة تؤدَّى بأية صيغة كانت، وأفضلها ـ كما قال كثير من العلماء ـ هي الصلاة الإبراهيميّة التي تُقال بعد التشهد الأخير في الصلاة؛ لأن الأحاديث الصحيحة وردت في أنها هي التي علَّمها النبي صلى الله عليه وآله وسلم لأصحابه.

بعض الأحاديث الواردة في كيفية الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم:

1 - عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم وَنَحْنُ فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ: أَمَرَنَا اللهُ تَعَالَى أَنَّ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ؛ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟

فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه مسلم).

ورواه الترمذي ولفظه: … قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের পদ্ধতি-

এই দরুদ যেকোনো শব্দবিন্যাসেই পাঠ করা যায়, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘দরুদে ইব্রাহিম’, যা নামাজের শেষ তাশাহহুদের পর পাঠ করা হয়; কেননা সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে এভাবেই শিক্ষা দিয়েছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণিত কিছু হাদিস:

১ - আবু মাসউদ আল-আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন যখন আমরা সাদ ইবনে উবাদাহর মজলিসে ছিলাম। তখন বাশির ইবনে সাদ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনার ওপর দরুদ পাঠ করার জন্য; সুতরাং আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকলেন, এমনকি আমরা আকাঙ্ক্ষা করলাম যে তিনি যদি তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তবে ভালো হতো)! অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি বিশ্বজগতের মধ্যে ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

আর তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দবিন্যাস (لفظ) হলো: … রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর...»
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (صحيح).

2 - عن أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ رضي الله عنه أَنَّهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه البخاري).

3 - عن عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى قَالَ لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ: أَلَا أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً سَمِعْتُهَا مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم؟

فَقُلْتُ: بَلَى، فَأَهْدِهَا لِي.

فَقَالَ: سَأَلْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ الصَّلَاةُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ فَإِنَّ اللهَ قَدْ عَلَّمَنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكُمْ؟

قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.

اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ». (رواه البخاري).
ইব্রাহিম, এবং আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর সারা বিশ্বের মধ্যে; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (সহিহ (صحيح))।

2 - আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কীভাবে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করব? তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)।

3 - আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাব ইবনে উজরাহ (রা.) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না, যা আমি নবী (সা.)-এর কাছ থেকে শুনেছি?

আমি বললাম: অবশ্যই, আমাকে সেটি উপহার দিন।

তিনি বললেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনাদের—আহলে বাইতের—ওপর দরুদ পাঠ করার পদ্ধতি কী? কারণ আল্লাহ তো আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে আপনাদের ওপর সালাম পেশ করতে হয়।

তিনি বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত»। (বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
قَوْلهم: (كَيْف نُسَلِّم عَلَيْك) قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: فِيهِ إِشَارَة إِلَى السَّلَام الَّذِي فِي التَّشَهُّد وَهُوَ قَوْل: «السَّلَام عَلَيْك أَيّهَا النَّبِيّ وَرَحْمَة اللهِ وَبَرَكَاته»؛ فَيَكُون الْمُرَاد بِقَوْلِهِمْ: «فَكَيْف نُصَلِّي عَلَيْك» أَيْ بَعْد التَّشَهُّد.

4 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ الله، هَذَا التَّسْلِيمُ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟

قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ. وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ» (رواه البخاري).

5 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ هَذَا السَّلَامُ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي؟

قَالَ: «قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ» (رواه البخاري).

6 - عن أبي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ أَنَّهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟

قَالَ: «قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه البخاري ومسلم).

 

‌‌وقد ذكر الشيخ الألباني رحمه الله ما ثبت من صيغ الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم، وذلك في كتابه (صفة صلاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم -):

1 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه أحمد والطحاوي بسند صحيح)

قال الشيخ الألباني: وهذا كان يدعو به هو نفسه صلى الله عليه وآله وسلم.

2 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه البخاري ومسلم)

3 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ
তাদের উক্তি: (আমরা আপনাকে কীভাবে সালাম দেব) ইমাম বায়হাকি বলেন: এতে তাশাহহুদে পঠিত সালামের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যা হলো: «হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক»; সুতরাং তাদের উক্তি: «আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব» এর অর্থ হলো তাশাহহুদের পরে।

4 - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এটি তো হলো সালাম (এর পদ্ধতি), তবে আমরা আপনার ওপর দরুদ পাঠ করব কীভাবে?

তিনি বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ—আপনার বান্দা ও রাসুলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের ওপর বরকত নাযিল করেছেন» (সহিহ বুখারি)।

5 - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার প্রতি সালাম তো জানা হলো, তবে আমরা দরুদ পাঠ করব কীভাবে?

তিনি বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ—আপনার বান্দা ও রাসুলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন» (সহিহ বুখারি)।

6 - আবু হুমায়দ আস-সায়েদি থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার ওপর দরুদ পাঠ করব কীভাবে?

তিনি বললেন: «তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তানদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তানদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

 

‌শায়খ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের যে সকল পদ্ধতি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন, এবং তা তাঁর (সিফাতু সালাতিন নবী) নামক গ্রন্থে:

1 - «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ, তাঁর আহলে বাইত, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তানদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মদ, তাঁর আহলে বাইত, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তানদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (এটি ইমাম আহমাদ ও তাহাবি একটি সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন)

শায়খ আলবানি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এটি পাঠ করে দোয়া করতেন।

2 - «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত» (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

3 - «হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল...»
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه أحمد والنسائي وأبو يعلى)

4 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه مسلم وأبو عوانة)

5 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى ِإبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ» (رواه البخاري والنسائي والطحاوي وأحمد)

6 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه البخاري ومسلم)

7 - «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ؛ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» (رواه النسائي والطحاوي)
মুহাম্মাদের ওপর, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত, মহিমান্বিত» (বর্ণনা করেছেন আহমাদ, নাসায়ি ও আবু ইয়ালা)

4 - «হে আল্লাহ! উম্মি নবী মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর উম্মি নবী মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বিশ্বজগতের মধ্যে ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত, মহিমান্বিত।» (বর্ণনা করেছেন মুসলিম ও আবু আওয়ানা)

5 - «হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর।» (বর্ণনা করেছেন বুখারি, নাসায়ি, তহাবি ও আহমাদ)

6 - «হে আল্লাহ! মুহাম্মad এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর সন্তানদের ওপর রহমত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। আর মুহাম্মাদ এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর সন্তানদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত, মহিমান্বিত।» (বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম)

7 - «হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত নাযিল করুন এবং মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি রহমত ও বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত, মহিমান্বিত।» (বর্ণনা করেছেন নাসায়ি ও তহাবি)
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌حكم كتابة (ص) و (صلعم (إذا ذُكِرَ النبي صلى الله عليه وآله وسلم، بدلاً من كتابتها كاملة:

الذي ينبغي أن نعمله هو أن نصلي عليه صلى الله عليه وآله وسلم لفظاً كاملاً ونكتب ذلك كاملاً.

قال الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله: « … وبما أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم مشروعة في الصلوات في التشهد، ومشروعة في الخطب والأدعية والاستغفار، وبعد الأذان، وعند دخول المسجد، والخروج منه، وعند ذكره، وفي مواضع أخرى، فهي تتأكد عند كتابة اسمه في كتاب، أو مؤلَّف، أو رسالة، أو مقال، أو نحو ذلك.

والمشروع أن تكتب كاملةً تحقيقاً لما أمرنا الله تعالى به، ولِيَتَذَكَّرها القارئ عند مروره عليها، ولا ينبغي عند الكتابة الاقتصار في الصلاة على رسول الله على كلمة (ص) أو (صلعم) وما أشبهها من الرموز التي قد يستعملها بعض الكتبة والمؤلفين؛ لما في ذلك من مخالفة أمر الله سبحانه وتعالى في كتابه العزيز بقوله: {صَلُّوا عَلَيْهِ وسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (الأحزاب:56).

مع أنه لا يتم بها المقصود وتنعدم الأفضلية الموجودة في كتابة صلى الله عليه وسلم كاملة.

وقد لا ينتبه لها القارئ أو لا يفهم المراد بها، علمًا بأن الرمز لها قد كرهه أهل العلم وحذروا منه». [مجموع فتاوى الشيخ ابن باز (2/ 397 - 399]

 

‌‌معنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم -

‌‌معنى (اللهم): لا خلاف أن لفظة (اللهم) معناها: يا الله؛ ولهذا لا تستعمل إلا في الطلب، فلا يقال: اللهم غفور رحيم؛ بل يقال: اللهم اغفر لي وارحمني.

معنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم: مَعْنَى صَلَاة اللهِ عَلَى نَبِيّه: ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِ وَتَعْظِيمه.

وَصَلَاة الْمَلَائِكَة وَغَيْرهمْ عَلَيْهِ: طَلَب ذَلِكَ لَهُ مِنْ اللهِ تَعَالَى، وَالْمُرَاد طَلَب الزِّيَادَة لَا طَلَب أَصْل الصَّلَاة.

وَقِيلَ: صَلَاة اللهِ عَلَى خَلْقه تَكُون خَاصَّة وَتَكُون عَامَّة فَصَلَاتُه عَلَى أَنْبِيَائِهِ: هِيَ الثَّنَاء وَالتَّعْظِيم.

وَصَلَاتُه عَلَى غَيْرهمْ: الرَّحْمَة؛ فَهِيَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلّ شَيْء.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম উল্লেখ করার সময় তা পূর্ণাঙ্গভাবে লেখার পরিবর্তে সংক্ষেপে (সা.) বা (সলআম) লেখার বিধান:

আমাদের যা করা উচিত তা হলো মৌখিকভাবে তাঁর ওপর পূর্ণাঙ্গ সালাত (صلاة) পাঠ করা এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবেই লেখা।

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: « … যেহেতু সালাত ও তাশাহহুদের মধ্যে, খুতবা, দুআ, ইস্তিগফার, আযানের পর, মসজিদে প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময়, তাঁর আলোচনার সময় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সালাত (صلاة) পাঠ করা বিধিবদ্ধ, তাই কোনো বই, সংকলন, পত্র, নিবন্ধ বা এজাতীয় কিছুতে তাঁর নাম লেখার সময় এটি আরও বেশি গুরুত্বের সাথে পালনীয় (تأكد) হয়ে যায়।

শরীয়তসম্মত বিধান হলো এটি পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা, যাতে মহান আল্লাহ আমাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তা বাস্তবায়িত হয় এবং পাঠক যখন এর ওপর দিয়ে অতিক্রম করবেন তখন যেন তা স্মরণ করতে পারেন। রাসুলুল্লাহর ওপর সালাত (صلاة) লেখার সময় কেবল (সা.) বা (সলআম) অথবা এই জাতীয় কোনো সংকেত ব্যবহার করা উচিত নয় যা কোনো কোনো লেখক বা সংকলক ব্যবহার করে থাকেন; কারণ এটি মহান আল্লাহর কিতাবের সেই নির্দেশের পরিপন্থী যেখানে তিনি বলেছেন: {তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} (আল-আহযাব: ৫৬)।

অধিকন্তু, এর মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হাসিল হয় না এবং পূর্ণাঙ্গভাবে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' লেখার মধ্যে যে শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

কখনো কখনো পাঠক এর প্রতি খেয়াল করেন না অথবা এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা বুঝতে পারেন না; উল্লেখ্য যে, এই সংকেত ব্যবহার করাকে আলেম সমাজ (أهل العلم) অপছন্দ (كرهه) করেছেন এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।» [মাজমু' ফাতাওয়া শায়খ ইবন বাজ (২/ ৩৯৭ - ৩৯৯]

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর সালাত (صلاة) পাঠের অর্থ -

‘আল্লাহুম্মা’ (اللهم) শব্দের অর্থ: এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, ‘আল্লাহুম্মা’ (اللهم) শব্দের অর্থ হলো: ‘হে আল্লাহ’। এ কারণেই এটি কেবল প্রার্থনার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং ‘আল্লাহুম্মা গাফুরুর রাহিম’ বলা হয় না; বরং বলা হয়: ‘হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন’।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর সালাত (صلاة) পাঠের অর্থ: নবীর ওপর আল্লাহর সালাত (صلاة)-এর অর্থ হলো: তাঁর প্রশংসা (ثناء) ও তাঁর মহিমা বর্ণনা (تعظيم) করা।

আর ফেরেশতামণ্ডলী ও অন্যদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর সালাত (صلاة) পাঠের অর্থ হলো: মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য সেই প্রশংসা ও সম্মানের প্রার্থনা করা। এর উদ্দেশ্য হলো সম্মান বৃদ্ধি প্রার্থনা করা, মূল সালাতের অস্তিত্ব প্রার্থনা করা নয়।

বলা হয়েছে: সৃষ্টির ওপর আল্লাহর সালাত (صلاة) কখনো বিশেষ হয় আবার কখনো সাধারণ হয়। তাঁর নবীদের ওপর তাঁর সালাত (صلاة) হলো: প্রশংসা (ثناء) ও মহিমা বর্ণনা (تعظيم)।

আর অন্যদের ওপর তাঁর সালাত (صلاة) হলো: রহমত (رحمة); যা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌معنى (آل النبي صلى الله عليه وآله وسلم -):ذكر الإمام ابن القيم في (جلاء الأفهام) أن الناس اختلفوا في آل النبي صلى الله عليه وآله وسلم على أربعة أقوال:

القول الأول: هم الذين حرمت عليهم الصدقة، وفيهم ثلاثة أقوال للعلماء:1 - أنهم بنو هاشم، وبنو المطلب.

2 - أنهم بنو هاشم خاصة.

3 - أنهم بنو هاشم ومَن فوقَهم إلى بني غالب.

القول الثاني: أن آل النبي صلى الله عليه وآله وسلم هم ذريته وأزواجه خاصة.

القول الثالث: أن آله صلى الله عليه وآله وسلم أتباعه إلى يوم القيامة.

القول الرابع: أن آله صلى الله عليه وآله وسلم هم الأتقياء من أمته.

ثم ذكر حجج هذه الأقوال، ثم قال: «والصحيح القول الأول ويليه القول الثاني. وأما الثالث والرابع فضعيفان».

 

‌‌معنى اسم النبي محمد صلى الله عليه وآله وسلم واشتقاقه:

هذا الاسم هو أشهر أسمائه صلى الله عليه وآله وسلم، وهو في الأصل اسم مفعول من الحمد، وهو يتضمن الثناء على المحمود ومحبته وإجلاله وتعظيمه.

هذا هو حقيقة الحمد وبُني على زنة مُفَعَّل مثل مُعَظَّم، ومُحَبَّب، ومبجَّل، ونظائرها؛ لأن هذا البناء موضوع للتكثير.

فإن اشتق منه اسم فاعل، فمعناه من كثر صدور الفعل منه مرة بعد مرة، كمعلِّم، ومفهِّم، ومبيِّن، ومخلِّص، ونحوها، وإن اشتُقَّ منه اسم مفعول فمعناه من كثر تكرر وقوع الفعل عليه مرة بعد أخرى إما استحقاقاً أو وقوعاً.

فـ (محمَّد) هو الذي كثر حمد الحامدين له مرةً بعد أخرى، أوالذي يستحق أن يحمد مرة بعد أخرى.

فتسميته صلى الله عليه وآله وسلم بهذا الاسم لما اشتمل عليه من مسماه وهو الحمد، فإنه صلى الله عليه وآله وسلم محمودٌ عند الله، ومحمودٌ عند ملائكته، ومحمودٌ عند إخوانه من المرسلين، ومحمودٌ عند أهل الأرض كلهم، وإن كفر به بعضهم.

فإن ما فيه من صفات الكمال محمودٌ عند كل عاقل، وإن كابَرَ عقله جُحُوداً، أو عِنَاداً، أو جَهْلاً باتصافه بها، ولو عَلِمَ اتصافه بها لَحَمِدَهُ؛ فإنه يحمد من اتصف بصفات الكمال، ويجهل وجودها فيه، فهو في الحقيقة حامدٌ له.

وهو صلى الله عليه وآله وسلم اختُصَّ من مُسَمَّى الحمْد بما لم يجتمع لغيره؛ فإنه اسمه محمَّد وأحمد، وأمته الحمَّادون، يحمدون الله في السراء والضراء، وصلاتُه وصلاةُ أمَّتِه مفتَتَحة بالحمد، وخطبته مفتَتَحة
‌নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার (আ-ল)-এর অর্থ: ذكر ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (জালাউল আফহাম) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার বা 'আ-ল' সম্পর্কে মানুষের মাঝে চারটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম অভিমত: তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদের ওপর সদকা গ্রহণ করা হারাম। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের তিনটি বক্তব্য রয়েছে: ১- তারা হলেন বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিব।

২ - তারা বিশেষভাবে কেবল বনু হাশিম।

৩ - তারা হলেন বনু হাশিম এবং তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষ থেকে বনু গালিব পর্যন্ত।

দ্বিতীয় অভিমত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার হলেন কেবল তাঁর বংশধর এবং পত্নীগণ।

তৃতীয় অভিমত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার হলেন কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল অনুসারী।

চতুর্থ অভিমত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার হলেন তাঁর উম্মতের মুত্তাকি বা আল্লাহভীরুগণ।

অতঃপর তিনি এই অভিমতগুলোর স্বপক্ষে দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «সঠিক (الصحيح) হলো প্রথম অভিমতটি এবং এর পরেই দ্বিতীয় অভিমতটির অবস্থান। আর তৃতীয় ও চতুর্থ মত দুটি দুর্বল (ضعيفان)»।

 

‌‌নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি:

এই নামটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এটি মূলত 'হামদ' (প্রশংসা) শব্দ থেকে উৎপন্ন 'ইসম মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য), যা প্রশংসিত ব্যক্তির প্রশংসা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মহিমা প্রদর্শনকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এটিই প্রশংসার প্রকৃত রূপ এবং এটি 'মুফায়্যাল' ওজনে গঠিত, যেমন—মুয়ায্যাম (সম্মানিত), মুহাব্বাব (প্রিয়), মুবাজ্জাল (শ্রদ্ধেয়) এবং এর অনুরূপ শব্দসমূহ; কারণ এই গঠনটি আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

যদি এটি থেকে 'ইসম ফায়েল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) নির্গত হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় এমন ব্যক্তি যার থেকে বারবার কাজটি সম্পাদিত হয়, যেমন—মুয়াল্লিম (শিক্ষক), মুফাহহিম (বোধোদয়কারী), মুবায়্যিন (বর্ণনাকারী), মুখাল্লিস (উদ্ধারকারী) ইত্যাদি। আর যদি এটি থেকে 'ইসম মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য) নির্গত হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় এমন ব্যক্তি যার ওপর বারবার কাজটি আপতিত হয়, তা প্রাপ্যতার কারণেই হোক বা বাস্তব ঘটার কারণেই হোক।

সুতরাং 'মুহাম্মাদ' হলেন তিনি, যাঁর প্রতি প্রশংসাকারীদের প্রশংসা বারবার নিবেদিত হয় অথবা যিনি বারবার প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে তাঁর সত্তার মাঝে 'হামদ' বা প্রশংসার গুণসমূহ বিদ্যমান থাকার কারণে। নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর নিকট প্রশংসিত, তাঁর ফেরেশতাদের নিকট প্রশংসিত, তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম রাসূলগণের নিকট প্রশংসিত এবং জমিনের সকল অধিবাসীর নিকট প্রশংসিত—যদিও তাদের কেউ কেউ তাঁকে অস্বীকার করে।

কেননা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান পূর্ণতা ও মহোত্তম গুণাবলি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট প্রশংসিত, যদিও কেউ অস্বীকার, হঠকারিতা বা তাঁর সেই গুণাবলি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে নিজ বিবেকের সাথে অহংকার প্রদর্শন করে। যদি সে তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জানত, তবে অবশ্যই তাঁর প্রশংসা করত। কেননা সে মূলত পূর্ণতার গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিরই প্রশংসা করে, যদিও তাঁর মধ্যে সেই গুণের উপস্থিতি সম্পর্কে সে অজ্ঞ; ফলে সে প্রকৃতপক্ষে তাঁরই প্রশংসাকারী।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রশংসার এমন সব বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন যা অন্য কারো মাঝে একত্রে পাওয়া যায় না। তাঁর নাম মুহাম্মাদ ও আহমাদ, তাঁর উম্মত হলো হাম্মাদুন (অধিক প্রশংসাকারী), যারা সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করে। তাঁর সালাত ও তাঁর উম্মতের সালাত প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু হয় এবং তাঁর খুতবাও প্রশংসা দ্বারা শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সালাতু আলা রাসুলিল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম - ফাদলুহা ওয়া মানাহা ওয়া কাইফিয়্যাতুহা ওয়া মাওয়াদিহা ওয়াত তাহযীরু মিন তারকিহা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بالحمد، وكتابه ـ أي القرآن الكريم ـ مفتَتَح بالحمد، هكذا عند الله في اللوح المحفوظ أن خلفاءه وأصحابه يكتبون المصحف مفتتحًا بالحمد.

وبيده صلى الله عليه وآله وسلم لواء الحمد (1) يوم القيامة، ولما يسجد بين يدي ربه عز وجل للشفاعة، ويُؤْذَنُ له فيها، يحمد ربه بمحامد يفتحها عليه

--------------------------------------------

(1) ((1) عن أَبِي سَعِيدٍ الخدري رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ، وَبِيَدِي لِوَاءُ الْحَمْدِ وَلَا فَخْرَ، وَمَا مِنْ نَبِيٍّ يَوْمَئِذٍ آدَمَ فَمَنْ سِوَاهُ إِلَّا تَحْتَ لِوَائِي، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ وَلَا فَخْرَ». (صحيح رواه الترمذي)

قَوْلُهُ صلى الله عليه وآله وسلم: (أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ) قَالَهُ إِخْبَارًا عَمَّا أَكْرَمَهُ اللهُ تَعَالَى مِنْ الْفَضْلِ وَالسُّؤْدُدِ، وَتَحَدُّثًا بِنِعْمَةِ الله تَعَالَى عِنْدَهُ وَإِعْلَامًا مِنْهُ لِأُمَّتِهِ لِيَكُونَ إِيمَانُهُمْ بِهِ عَلَى حَسْبِهِ وَمُوجِبِهِ، وَلِهَذَا أَتْبَعَهُ بِقَوْلِهِ:

(وَلَا فَخْرَ) أَيْ أَنَّ هَذِهِ الْفَضِيلَةَ الَّتِي نِلْتُهَا كَرَامَةً مِنْ اللهِ لَمْ أَنَلْهَا مِنْ قِبَلِ نَفْسِي وَلَا بَلَغْتُهَا بِقُوَّتِي فَلَيْسَ لِي أَنْ أَفْتَخِرَ بِهَا، قَالَهُ الْجَزَرِيُّ. وَقَالَ النَّوَوِيُّ: فِيهِ وَجْهَانِ: أَحَدُهُمَا: قَالَهُ اِمْتِثَالًا لِأَمْرِ اللهِ تَعَالَى: {وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّك فَحَدِّثْ} وَثَانِيهِمَا: أَنَّهُ مِنْ الْبَيَانِ الَّذِي يَجِبُ عَلَيْهِ تَبْلِيغُهُ إِلَى أُمَّتِهِ لِيَعْرِفُوهُ وَيَعْتَقِدُوهُ وَيَعْمَلُوا بِمُقْتَضَاهُ فِي تَوْقيرِهِ صلى الله عليه وآله وسلم كَمَا أَمَرَهُمْ اللهُ تَعَالَى بِهِ» اِنْتَهَى.

«لِوَاءُ الْحَمْدِ»:اللواء: الرَّايَةُ، وَلَا يُمْسِكُهَا إِلَّا صَاحِبُ الْجَيْشِ.

ولِوَاءُ الْحَمْدِ عِبَارَةٌ عَنْ الشُّهْرَةِ وَانْفِرَادُهُ بِالْحَمْدِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ لِحَمْدِهِ لِوَاءً يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَقِيقَةً يُسَمَّى لِوَاءَ الْحَمْدِ.

قُلْت (أي المباركفوري ـ صاحب تحفة الأحوذي): حَمْلُ لِوَاءِ الْحَمْدِ عَلَى مَعْنَاهُ الْحَقِيقِيِّ هُوَ الظَّاهِرُ بَلْ هُوَ الْمُتَعَيَّنُ؛ لِأَنَّهُ لَا يُصَارُ إِلَى الْمَجَازِ مَعَ إِمْكَانِ الْحَقِيقَةِ.

«وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ» أَيْ لِلْبَعْثِ فَلَا يَتَقَدَّمُ أَحَدٌ عَلَيْهِ بَعْثًا، فَهُوَ مِنْ خَصَائِصِهِ صلى الله عليه وآله وسلم» اهـ بتصرف من (تحفة الأحوذي).
প্রশংসার মাধ্যমে, এবং তাঁর কিতাব — অর্থাৎ পবিত্র কুরআন — প্রশংসার মাধ্যমেই শুরু করা হয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলার নিকট লউহে মাহফুজে সাব্যস্ত রয়েছে যে, তাঁর খলিফাগণ এবং সাহাবীগণ প্রশংসার মাধ্যমেই মুসহাফ প্রারম্ভ করে তা লিখবেন।

আর কিয়ামতের দিন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হাতে প্রশংসার পতাকা থাকবে (১)। যখন তিনি সুপারিশের জন্য তাঁর মহান রবের সামনে সিজদাবনত হবেন এবং তাঁকে তার অনুমতি প্রদান করা হবে, তখন তিনি তাঁর রবের এমন সব প্রশংসার মাধ্যমে স্তুতি গাইবেন যা আল্লাহ তাঁর নিকট উন্মোচন করবেন।

--------------------------------------------

(১) আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি কিয়ামতের দিন আদম-সন্তানদের নেতা হব এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমার হাতে প্রশংসার পতাকা থাকবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই। সেদিন আদম ও অন্য সকল নবীই আমার পতাকার নিচে থাকবেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই»। (এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: (আমি আদম-সন্তানদের নেতা) — তিনি এটি আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করে সম্মানিত করেছেন তা জানানোর জন্য এবং তাঁর প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা আলোচনার জন্য বলেছেন। এছাড়াও এটি উম্মতকে অবহিত করার জন্য যেন তাঁর প্রতি তাদের ঈমান তাঁর প্রকৃত মর্যাদা ও হাক্ক অনুযায়ী হয়। এই কারণেই তিনি এর পরপরই বলেছেন:

(এতে কোনো অহংকার নেই) অর্থাৎ, আমি যে এই শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানস্বরূপ পেয়েছি, তা নিজের পক্ষ থেকে লাভ করিনি কিংবা নিজের শক্তিতে অর্জন করিনি। সুতরাং আমার এতে কোনো আত্মগর্ব বা অহংকার করার সুযোগ নেই। এটি জাযারী বলেছেন। ইমাম নববী বলেন: এর দুটি দিক রয়েছে: প্রথমত, আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের অনুসরণে তিনি এটি বলেছেন: {আর আপনার রবের নেয়ামতের কথা বর্ণনা করুন}। দ্বিতীয়ত, এটি সেই বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত যা উম্মতের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল, যেন তারা তা জানতে পারে, বিশ্বাস করে এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে এর দাবি অনুযায়ী আমল করে যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সমাপ্ত।

«প্রশংসার পতাকা»: 'লিওয়া' হলো পতাকা, যা বাহিনীর প্রধান ব্যতীত কেউ ধারণ করে না।

আর 'প্রশংসার পতাকা' দ্বারা সৃষ্টির সামনে তাঁর সুখ্যাতি এবং প্রশংসায় তাঁর একক অনন্যতা বোঝানো হয়েছে। তবে এটিও সম্ভব যে, কিয়ামতের দিন তাঁর প্রশংসার জন্য প্রকৃতপক্ষে একটি পতাকা থাকবে যার নাম হবে 'প্রশংসার পতাকা'।

আমি (অর্থাৎ মুবারকপুরী — তুহফাতুল আহওয়াযী গ্রন্থের লেখক) বলছি: প্রশংসার পতাকাকে এর প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা সুস্পষ্ট, বরং এটিই নির্ধারিত; কেননা প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হলে রূপক অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া যাবে না।

«আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে জমিন বিদীর্ণ হবে» অর্থাৎ পুনরুত্থানের জন্য; সুতরাং পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে তাঁর আগে কেউ অগ্রগামী হবে না। এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। — তুহফাতুল আহওয়াযী থেকে কিছুটা পরিমার্জিতভাবে সমাপ্ত।