(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: -)
القصاص والمذكرين القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: القصاص والمذكرين
المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)
المحقق: د. محمد لطفي الصباغ
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثانية، 1409 هـ - 1988م
عدد الصفحات: 373
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাহিনীকার ও উপদেশ প্রদানকারীগণ বিভাগ: হাদিসের ইল্লত ও প্রশ্নসমূহ
কিতাব: কাহিনীকার ও উপদেশ প্রদানকারীগণ
লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হি.)
তাহকীককারী: ড. মুহাম্মাদ লুৎফী আস-সাব্বাগ
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৩
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيموَبِه نستعين
الْحَمد لله الَّذِي نوع أَقسَام الْعُلُوم، وفاوت مقادير الْإِدْرَاك والفهوم، وباين بَين الْعُقُول والحلوم، وَأقَام المتيقظ يُنَبه النؤوم، أَحْمَده حمدا يسْتَمر ويدوم، وأعترف بِأَنَّهُ الْحَيّ القيوم، وأصلي على رَسُوله مُحَمَّد أشرف خَاتم لخير مختوم، وعَلى أَصْحَابه وَأَتْبَاعه إِلَى أَن يجْتَمع الْخلق للفصل وَيقوم، وَأسلم تَسْلِيمًا كثيرا.
سَأَلَ سَائل فَقَالَ: نرى كَلَام السّلف يخْتَلف فِي مدح الْقصاص وذمهم. فبعضهم يحرض على الْحُضُور عِنْدهم، وَبَعْضهمْ ينْهَى عَن ذَلِك. وَنحن نسْأَل أَن تذكر لنا فصلا يكون فصلا لهَذَا الْأَمر. فأجبت - وَالله الْمُوفق - أَنه لَا بُد من كشف حَقِيقَة هَذَا الْأَمر ليبين الْمَحْمُود مِنْهُ والمذموم.
فَأَقُول - وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق -: إِن لهَذَا الْفَنّ ثَلَاثَة أَسمَاء: قصَص، وتذكير، وَوعظ. فَيُقَال: قاص، ومذكر، وواعظ.
فالقاص هُوَ الَّذِي يتبع الْقِصَّة الْمَاضِيَة بالحكاية عَنْهَا وَالشَّرْح لَهَا وَذَلِكَ الْقَصَص. وَهَذَا فِي الْغَالِب عبارَة عَمَّن يروي أَخْبَار الماضين. وَهَذَا لَا يذم لنَفسِهِ، لِأَن فِي إِيرَاد أَخْبَار السالفين عِبْرَة لمعتبر، وعظة لمزدجر، واقتداء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।এবং তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি জ্ঞানের প্রকারভেদ করেছেন, উপলব্ধি ও বোধের মাত্রার মধ্যে তারতম্য ঘটিয়েছেন, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তির মাঝে পার্থক্য করেছেন, এবং ঘুমন্তদের সতর্ক করার জন্য জাগ্রতদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা সর্বদা অব্যাহত থাকবে, এবং আমি স্বীকার করছি যে তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। আর আমি দরুদ পাঠ করছি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সর্বোত্তম সমাপ্তির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মোহর, এবং তাঁর সাহাবী ও অনুসারীদের ওপর, যতদিন না সৃষ্টির বিচার ও পুনরুত্থানের জন্য একত্রিত হবে; এবং আমি তাঁর ওপর অধিক পরিমাণে সালাম বর্ষণ করছি।
এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে বললেন: আমরা দেখছি যে পূর্বসূরিদের (সালাফ) বক্তব্য কিচ্ছাকারদের প্রশংসা ও নিন্দার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। তাদের কেউ কেউ তাদের মজলিসে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ তা থেকে নিষেধ করেছেন। তাই আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি যে, আপনি আমাদের জন্য এমন একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করুন যা এই বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। আমি উত্তর দিলাম—এবং আল্লাহই তাওফিকদাতা—এই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা জরুরি যাতে এর মধ্য থেকে প্রশংসনীয় এবং নিন্দনীয় দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে যায়।
আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—এই শাস্ত্রের তিনটি নাম রয়েছে: কিসসা (কাহিনী বর্ণনা), তাযকির (স্মরণ করিয়ে দেওয়া) এবং ওয়াজ (উপদেশ প্রদান)। আর বলা হয়: কাস (কিচ্ছাকার), মুযাক্কির (স্মারক) এবং ওয়ায়েজ (উপদেশক)।
কাস (কিচ্ছাকার) হলেন তিনি যিনি অতীত কাহিনী বর্ণনা এবং তার ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে তার অনুসরণ করেন, আর একেই বলা হয় 'কাসাস' (কাহিনী বর্ণনা)। এটি সাধারণত এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যিনি অতীতকালের সংবাদ বর্ণনা করেন। এটি সত্তাগতভাবে নিন্দনীয় নয়, কারণ পূর্ববর্তীদের সংবাদ উপস্থাপনের মধ্যে শিক্ষাগ্রহণকারীর জন্য শিক্ষা, পাপ হতে বিরত থাকা ব্যক্তির জন্য উপদেশ এবং অনুসরণের বিষয় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
بصواب لمتبع وَقد قَالَ الله عز وجل: (نَحن نقص عَلَيْك أحسن الْقَصَص) . وَقَالَ: (إِن هَذَا لَهو الْقَصَص الْحق) .
وَإِنَّمَا كره بعض السّلف الْقَصَص لأحد سِتَّة أَشْيَاء:
أَحدهَا أَن الْقَوْم كَانُوا على الِاقْتِدَاء والاتباع، فَكَانُوا إِذا رَأَوْا مَا لم يكن على عهد رَسُول الله أنكروه حَتَّى أَن أَبَا بكر وَعمر لما أَرَادَا جمع الْقُرْآن قَالَ زيد: أتفعلان شَيْئا لم يَفْعَله رَسُول الله؟ .
وَالثَّانِي أَن الْقَصَص لأخبار الْمُتَقَدِّمين تندر صِحَّته، خُصُوصا مَا ينْقل عَن بني إِسْرَائِيل، وَفِي شرعنا غنية. وَقد جَاءَ عمر بن الْخطاب بِكَلِمَات من التَّوْرَاة إِلَى رَسُول الله، فَقَالَ لَهُ: أمطها عَنْك يَا عمر! خُصُوصا إِذْ قد علم مَا فِي الْإسْرَائِيلِيات من الْمحَال، كَمَا يذكرُونَ أَن دَاوُد - عَلَيْهِ السَّلَام
অনুসারীর জন্য সঠিক বিষয়ের সাথে। আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: (আমরা আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি)। এবং তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই এটিই হলো সত্য কাহিনী)।
নিশ্চয়ই সালাফদের কেউ কেউ কাহিনী বর্ণনা করাকে ছয়টি কারণে অপছন্দ করেছেন:
প্রথমত: সেই জাতি ছিল অনুসরণ ও অনুকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা যখনই এমন কিছু দেখতেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিল না, তারা তা প্রত্যাখ্যান করতেন। এমনকি যখন আবু বকর ও উমর (রা.) কুরআন সংকলন করতে চাইলেন, তখন যায়িদ (রা.) বললেন: আপনারা কি এমন কিছু করবেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?
দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তীদের সংবাদ সম্বলিত কাহিনীগুলোর বিশুদ্ধতা হওয়া বিরল, বিশেষ করে যা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণিত হয়েছে। অথচ আমাদের শরীয়ত আমাদের জন্য যথেষ্ট। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাওরাতের কিছু কথা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: হে উমর! একে তোমার থেকে সরিয়ে ফেলো। বিশেষ করে যখন ইসরাঈলী বর্ণনার মাঝে যে সকল অসম্ভব ও অসার বিষয় রয়েছে তা জানা যায়, যেমন তারা উল্লেখ করে যে দাউদ -আলাইহিস সালাম-
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
- بعث أوريا حَتَّى قتل وَتزَوج امْرَأَته، وَأَن يُوسُف حل سراويله عِنْد زليخا. وَمثل هَذَا محَال تتنزه الْأَنْبِيَاء عَنهُ، فَإِذا سَمعه الْجَاهِل هَانَتْ عِنْده الْمعاصِي وَقَالَ: لَيست معصيتي بعجب.
وَالثَّالِث أَن التشاغل بذلك يشغل عَن المهم من قِرَاءَة الْقُرْآن، وَرِوَايَة الحَدِيث، والتفقه فِي الدّين.
وَالرَّابِع أَن فِي الْقُرْآن من الْقَصَص وَفِي السّنة من العظة مَا يَكْفِي عَن غَيره مِمَّا لَا تتيقن صِحَّته.
وَالْخَامِس أَن أَقْوَامًا مِمَّن يدْخل فِي الدّين مَا لَيْسَ مِنْهُ قصوا. فأدخلوا فِي قصصهم مَا يفْسد قُلُوب الْعَوام.
وَالسَّادِس أَن عُمُوم الْقصاص لَا يتحرون الصَّوَاب وَلَا يحترزون من الْخَطَأ لقلَّة علمهمْ وتقواهم.
فَلهَذَا كره الْقَصَص من كرهه. فَأَما إِذا وعظ الْعَالم، وقص من يعرف الصَّحِيح من الْفَاسِد؛ فَلَا كَرَاهَة.
فصل وَأما التَّذْكِير فَهُوَ تَعْرِيف الْخلق نعم الله عز وجل عَلَيْهِم وحثهم على شكره وتحذيرهم من مُخَالفَته.
উরিয়াহকে পাঠানো হয়েছিল যতক্ষণ না তাকে হত্যা করা হয় এবং তার স্ত্রীকে বিবাহ করা হয়, আর ইউসুফ জুলাইখার নিকটে তার পায়জামা খুলেছিলেন। এই জাতীয় বিষয়সমূহ অসম্ভব, নবীগণ এসব থেকে পবিত্র। সুতরাং যখন কোনো মূর্খ ব্যক্তি তা শুনে, তখন তার নিকট পাপকাজসমূহ তুচ্ছ হয়ে যায় এবং সে বলে: "আমার পাপ তো কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়।"
তৃতীয়ত, এসব বিষয়ে মগ্ন থাকা কুরআন পাঠ, হাদিস বর্ণনা এবং দ্বীনের প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ করে রাখে।
চতুর্থত, কুরআনের কাহিনীসমূহ এবং সুন্নাহর নসিহতসমূহের মধ্যে যা রয়েছে, তা এমন সব বিষয় থেকে যথেষ্ট যেগুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত নয়।
পঞ্চমত, যারা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়কে দ্বীনের মধ্যে প্রবিষ্ট করায়, তাদের একদল লোক কিচ্ছা বর্ণনা করত। ফলে তারা তাদের কাহিনীগুলোর মধ্যে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা সাধারণ মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে।
ষষ্ঠত, সাধারণ গল্পকাররা সঠিকতা যাচাই করে না এবং তাদের জ্ঞান ও তাকওয়া কম হওয়ার কারণে ভুল থেকে বেঁচে থাকে না।
এই কারণেই যারা কিচ্ছা-কাহিনী অপছন্দ করেছেন তারা তা করেছেন। তবে যখন কোনো আলেম নসিহত করেন এবং এমন ব্যক্তি কাহিনী বর্ণনা করেন যিনি সঠিক ও ভ্রান্তের পার্থক্য জানেন, তবে তাতে কোনো অপছন্দনীয়তা নেই।
পরিচ্ছেদ আর 'তাযকির' (উপদেশ প্রদান) হলো সৃষ্টিজগতকে তাদের ওপর মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ সম্পর্কে জানানো, তাদের শুকরিয়া আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে সতর্ক করা।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
وَأما الْوَعْظ، فَهُوَ تخويف يرق لَهُ الْقلب وَهَذَانِ محمودان. وَقد صَار كثير من النَّاس يطلقون على الْوَاعِظ اسْم الْقَاص. وعَلى الْقَاص اسْم الْمُذكر، وَالتَّحْقِيق مَا ذكرنَا.
فصل وَإِذا قد صَار اسْم الْقَاص عَاما للأحوال الثَّلَاثَة، فلنذكر مَا قيل فِي ذَلِك من مدح، وذم، ولنشرح وُجُوه ذَلِك، منهجين جادة الصَّوَاب ناهين عَن بنيات الطَّرِيق.
وَقد قسمت هَذَا الْكتاب اثْنَي عشر بَابا وَالله الْمُوفق.
ذكر تراجم الْأَبْوَاب: الْبَاب الأول: فِي مدح الْقَصَص والوعظ.
الْبَابُ الثَّانِي: فِي ذِكْرِ أَوَّلِ مَنْ قَصَّ.
الْبَابُ الثَّالِثُ: فِي ذِكْرِ مَنْ يَنْبَغِي أَنْ يقص.
الْبَابُ الرَّابِعُ: فِي أَنَّهُ لَا يُقَصُّ إِلَّا بِإِذن الْأَمِير.
الْبَابُ الْخَامِسُ: فِي التَّعَاهُدِ بِالْمَوَاعِظِ وَقْتَ النَّشَاطِ لَهَا.
الْبَابُ السَّادِسُ: فِي ذِكْرِ مَنْ كَانَ يَحْضُرُ من الأكابر عِنْد الْقصاص.
الْبَابُ السَّابِعُ: فِي ذكْرِ مَا يُحْذَرُ مِنْهُ على الْقصاص.
الْبَابُ الثَّامِنُ: فِي ذَمِّ مَنْ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا يأتمر.
الْبَابُ التَّاسِعُ: فِي ذِكْرِ سَادَاتِ الْقُصَّاصِ وَالْمُذَكِّرِينَ.
الْبَابُ الْعَاشِرُ: فِي التَّحْذِيرِ مِنْ أَقْوَامٍ تَشَبَّهُوا بِالْمُذَكِّرِينَ فَأَحْدَثُوا وَابْتَدَعُوا
আর ওয়াজ (উপদেশ) হলো এমন ভীতিপ্রদর্শন যার ফলে অন্তর বিগলিত হয়, আর এই উভয়টিই প্রশংসনীয়। বর্তমানে অনেক মানুষ কিসসাকারীকে (গল্পকথক) ওয়ায়েজ বলতে শুরু করেছে এবং কিসসাকারীকে মুযাক্কির (স্মরণ করিয়ে দানকারী) বলতে শুরু করেছে; তবে প্রকৃত সত্য তাই যা আমরা উল্লেখ করেছি।
পরিচ্ছেদ আর যেহেতু 'কিসসাকারী' নামটি এই তিনটি অবস্থার জন্য সাধারণ হয়ে গেছে, তাই এ সম্পর্কে যা কিছু প্রশংসা ও নিন্দা বর্ণিত হয়েছে আমরা তা উল্লেখ করব। আমরা সঠিক পথ অনুসরণ করে এবং ভ্রান্ত পথগুলো পরিহার করে এর বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করব।
আমি এই গ্রন্থটিকে বারোটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি এবং আল্লাহই তাওফিকদাতা।
অধ্যায়সমূহের সূচি: প্রথম অধ্যায়: কিসসা ও ওয়াজের প্রশংসায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সর্বপ্রথম কে কিসসা বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনায়।
তৃতীয় অধ্যায়: কাদের কিসসা বর্ণনা করা উচিত তার বর্ণনায়।
চতুর্থ অধ্যায়: শাসকের অনুমতি ব্যতীত কিসসা বর্ণনা না করা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: মানুষের আগ্রহের সময়গুলোতে ওয়াজের ধারা বজায় রাখা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: কিসসাকারীদের নিকট যে সকল উচ্চপদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত হতেন তাদের বর্ণনায়।
সপ্তম অধ্যায়: কিসসাকারীদের জন্য যা থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক তার বর্ণনায়।
অষ্টম অধ্যায়: যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ দেয় কিন্তু নিজে তা পালন করে না, তার নিন্দায়।
নবম অধ্যায়: শ্রেষ্ঠ কিসসাকারী ও মুযাক্কিরদের (উপদেশদাতা) বর্ণনায়।
দশম অধ্যায়: এমন এক কওম সম্পর্কে সতর্কীকরণ যারা মুযাক্কিরদের সদৃশ রূপ ধারণ করে নতুন নতুন বিষয় ও বিদআতের উদ্ভব ঘটিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
حَتَّى أوجب فعلهم إِطْلَاق الذَّم للْقصَاص.
الْبَاب الْحَادِي عشر: فِي ذكر مَا ورد عَن السّلف من ذمّ الْقصاص وَبَيَان وُجُوه ذَلِك.
الْبَابُ الثَّانِي عَشَرَ: فِي ذِكْرِ تَعْلِيمِ الْقَاصِّ كَيفَ يقص.
এমনকি তাদের কর্মকাণ্ড কিসসা-কাহিনিকারদের প্রতি ঢালাওভাবে নিন্দা জ্ঞাপনকে অনিবার্য করে তুলেছে।
একাদশ অধ্যায়: সালাফ তথা পূর্বসূরিদের থেকে কিসসা-কাহিনি বর্ণনার নিন্দা বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিবরণ এবং এর কারণসমূহ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে।
দ্বাদশ অধ্যায়: একজন কিসসা-কাহিনিকারকে কীভাবে কাহিনি বর্ণনা করতে হবে, সেই শিক্ষা প্রদান প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الأول فِي مدح الْقَصَص والوعظ صلى الله عليه وسلم َ -
أَمَّا مِنْ حَيْثُ النَّقْلِ فَقَدْ قَالَ اللَّهُ عز وجل: (يعظكم الله) وَقَالَ لنَبيه: (وعظهم) وَقَالَ: (فاقصص الْقَصَص) وَقَالَ: (إِنَّمَا أَنْت مُذَكّر) وَقَالَ: (وَذكر فَإِن الذكرى تَنْفَع الْمُؤمنِينَ) .
وَكَانَ النَّبِي، يعظ أَصْحَابه وَيذكرهُمْ ويتخولهم بِالْمَوْعِظَةِ وَيُبَالِغُ فِي التَّخْوِيفِ كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ.
1 - أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ / بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي
আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন - প্রথম পরিচ্ছেদ: কাহিনী বর্ণনা এবং উপদেশের প্রশংসায়, আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন -
বর্ণিত দলিলের দিক থেকে বলতে গেলে, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: (আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন) এবং তিনি তাঁর নবীকে বলেছেন: (তাদের উপদেশ দাও) এবং তিনি বলেছেন: (সুতরাং তুমি কাহিনী বর্ণনা করো) এবং তিনি বলেছেন: (তুমি তো কেবল একজন উপদেশদাতা) এবং তিনি আরও বলেছেন: (আর তুমি উপদেশ দাও, কারণ নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে)।
আর নবী তাঁর সাহাবীদের উপদেশ দিতেন, নসিহত করতেন, তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে উপযুক্ত সময়ে ওয়াজ করতেন এবং সতর্ক করার ক্ষেত্রে এমন গুরুত্বারোপ করতেন যেন তিনি কোনো এক সেনাবাহিনীর সতর্ককারী।
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আলী আত-তামিমি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ثَوْر بن يزِيد قَالَ: حَدثنَا خَالِد ابْن معدان قَالَ: حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو والسلمي وَحُجْرُ بْنُ حُجْرٍ قَالَا: أَتَيْنَا الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَة فَقَالَ: صلى بِنَا رَسُول الله الصُّبْحَ ذَاتَ يَوْمٍ. ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا، فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً، ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ، وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ. فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ {كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ. فَمَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ فَقَالَ: " أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا. فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ. تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ} وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدعَة ضَلَالَة ".
وَكَانَ - صلى الله عَلَيْهِ - يُبَالِغُ فِي الْوَعْظِ حَتَّى أَنَّهُ يَعِظُ النِّسَاءَ.
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَزَّازُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَيْسَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ / قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَن عَطَاءٍ قَالَ: حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: شهِدت الْعِيد مَعَ رَسُول الله، فَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ.
وَكَانَ عليه السلام يَأْمُرُ عماله بالتذكرة.
তিনি বললেন: আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: আমাদের নিকট সাওর ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে মা’দান বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী এবং হুজর ইবনে হুজর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বললেন: আমরা ইরবায ইবনে সারিয়াহর নিকট আসলাম, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং আমাদের অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী নসিহত করলেন, যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! {মনে হচ্ছে এটি যেন কোনো বিদায়কালীন উপদেশ। সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে (নেতা) একজন হাবশী গোলাম হয়। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা মজবুতভাবে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে।} আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।"
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নসিহত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন, এমনকি তিনি নারীদেরকেও নসিহত করতেন।
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কায়সান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রাবী / তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালিক আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলের সাথে ঈদের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি মানুষকে নসিহত করলেন এবং তাদের উপদেশ দিলেন, এরপর তিনি নারীদের নিকট আসলেন এবং তাদের নসিহত করলেন ও উপদেশ দিলেন এবং তাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন।
এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিযুক্ত কর্মকর্তাদের নসিহত করার নির্দেশ দিতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
3 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدُوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُسَيَّبُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَيْفُ بْنُ عُمَرَ عَنْ سَهْلِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ سَهْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ صَخْرٍ وَكَانَ مِمِّنْ بَعَثَ النَّبِي مَعَ عُمَّالِهِ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ الله عُمَّالَ الْيَمَنِ جَمِيعًا، فَقَالَ: " تَعَاهَدُوا النَّاسَ بِالتَّذْكِرَةِ وأتبعوا الموعظة [بِالْمَوْعِظَةِ] ؛ فَإِنَّهُ أَقْوَى لِلْعَامِلِينَ عَلَى الْعَمَلِ بِمَا يُحِبُّ اللَّهُ عز وجل ".
৩ - মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাহল মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুসাইয়িব ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাইফ ইবনে উমর আমাদের নিকট সাহল ইবনে ইউসুফ ইবনে সাহল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে সাখর থেকে বর্ণনা করেন—আর তিনি (উবাইদ) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কর্মকর্তাদের সাথে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন—তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়ামানের সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করে বললেন: "তোমরা উপদেশের মাধ্যমে মানুষের খোঁজ-খবর নাও এবং এক উপদেশের পর অন্য উপদেশের অনুসরণ করো; কেননা এটি আমলকারীদের জন্য সেই আমল করার ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী মাধ্যম যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পছন্দ করেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
4 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ قَالَ: أخبرنَا عبد الْوَاحِد ابْن عَلِيٍّ الْعَلَّافُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنِ بْنُ إِدْرِيسَ / قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا صَدَقَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ فَإِذَا بِرَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ قَاعِدٍ يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ وَيُذَكِّرُهُمْ، وَالنَّاسُ مُقْبِلُونَ عَلَيْهِ بِوُجُوهِهِمْ. فَلَمَّا نظر الرجل إِلَى النَّبِي مُقْبِلًا قَطَعَ قَصَصَهُ وَقَامَ مِنْ مَجْلِسِهِ لِلنَّبِيِّ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ أَنِ اثْبُتْ مَكَانَكَ. وَجَلَسَ النَّبِي فِي أَدْنَى النَّاسِ، وَلَمْ يَتَخَطَّ أَحَدًا. فَلَمَّا فَرَغَ الرَّجُلُ مِنْ قَصَصِهِ قَامَ إِلَى النَّبِيِّ فَجَلَسَ إِلَيْهِ، والتفت النَّاس إِلَى النَّبِي فَإِذا هُوَ خَلفهم. فَقَالَ النَّبِي: " لَا تَقُمْ مِنْ مَجْلِسِكَ، وَلَا تَقْطَعْ قَصَصَكَ، فَإِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ". وَقَالَ: " لَأَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عز وجل مِنْ حِينِ يُصَلُّونَ الصُّبْحَ إِلَى أَنْ تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ مُؤْمِنَاتٍ مِنْ وَلَدِ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী আল-আল্লাফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আবিল ফাওয়ারিস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আব্বাস বিন আল-ফাদল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন ইদরিস / তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদাকাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আবিল আতিকাহ, তিনি আলী বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন, এমতাবস্থায় আনসারদের এক ব্যক্তিকে বসা অবস্থায় পেলেন যিনি মানুষের কাছে কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করছিলেন এবং তাদের উপদেশ দিচ্ছিলেন, আর মানুষ তাদের মুখমণ্ডল নিয়ে তাঁর দিকে নিবিষ্ট ছিল। যখন লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এগিয়ে আসতে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর বর্ণনা বন্ধ করে দিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে তাঁর মজলিস থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন যে, "তুমি তোমার স্থানে স্থির থাকো।" অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের একদম শেষ প্রান্তে বসে পড়লেন এবং কাউকে ডিঙিয়ে সামনে গেলেন না। যখন লোকটি তাঁর বর্ণনা শেষ করলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর কাছে বসলেন। মানুষ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরলেন এবং দেখলেন যে তিনি তাদের পেছনে অবস্থান করছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি তোমার মজলিস থেকে উঠে যেও না এবং তোমার কিচ্ছা বলা বন্ধ করো না; কেননা আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি নিজেকে ধৈর্যশীল রাখি ঐসব লোকদের সাথে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা কেবল আল্লাহর চেহারা কামনা করে।" এবং তিনি বললেন: "ফজরের সালাত আদায় করার সময় থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যারা মহান আল্লাহর জিকির করে, এমন কওমের সাথে নিজেকে ধৈর্যশীল রাখা আমার কাছে ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে চারজন মুমিন দাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়..."
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
إِسْمَاعِيلَ. وَلَأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عز وجل مِنْ حِينِ يُصَلُّونَ الْعَصْرَ إِلَى أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ / مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ. ".
5 - أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ قَالَ: أخبرنَا الْحسن بن عَليّ ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ بْنِ حَمْدَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْجَعْدِ يُحَدِّثُ عَنْ أبي أُمَامَة قَالَ: خرج رَسُول الله عَلَى قَاصٍّ يَقُصُّ، فَأَمْسَكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: " قُصَّ! فَلَأَنْ أَقْعُدَ إِلَى أَنْ تُشْرِقَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ ".
6 - وَقَالَ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا هَاشِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ كُرْدُوسَ بْنَ قَيْسٍ - وَكَانَ قَاصَّ الْعَامَّةِ بِالْكُوفَةِ - قَالَ:
ইসমাঈলের (বংশধর)। আর আসরের সালাত আদায় করার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মহান আল্লাহর যিকিরকারী একদল লোকের সাথে বসে থাকা আমার কাছে ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে চারজন দাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।
৫ - হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আবু আত-তায়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল জা'দকে আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন কাহিনীকারের নিকট আসলেন যখন তিনি বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি থেমে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি বর্ণনা চালিয়ে যাও! কেননা সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত (যিকিরে) বসে থাকা আমার কাছে চারজন দাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আর আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (বসে থাকা) আমার কাছে চারজন দাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।"
৬ - এবং আহমাদ বলেন: হাশেম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আব্দুল মালিক ইবনে মাইসারা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুরদুস ইবনে কায়সকে বলতে শুনেছি—যিনি কূফায় সাধারণ মানুষের নিকট কাহিনীকার ছিলেন—তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ بَدْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِي - يَقُولُ: " لَأَنْ أَقْعُدَ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَجْلِسِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ ". قَالَ شُعْبَة: فَقلت: أَي مجْلِس [تَعْنِي] ؟ فَقَالَ: كَانَ قَاصًّا.
7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ (بْنُ) نَاصِرٍ الْحَافِظُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْقُرَشِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدُوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: حَدَّثَنَا / مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا قَالَ: حَدثنَا أَبُو عمر الحوصي قَالَ: حَدَّثَنَا فُرَاتُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ زَعَمَ أَنَّ رَسُول [الله]- خَرَجَ مِنْ مَنْزِلِهِ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ يَقُصُّ عَلَى قَوْمٍ قَدِ اجْتَمعُوا إِلَيْهِ. فَأَتَاهُم النَّبِي فَقَعَدَ فِي طَرْفِ الْقَوْمِ، فَسَكَتَ عَبْدُ اللَّهِ. فَقَالَ النَّبِي: " اقْصُصْ أَيُّهَا الرَّجُلُ " {قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ تَقُصُّ} فَأَمَرَهُ مِرَارًا، فَلَمَّا قَصَّ وَفَرَغَ قَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يُذَكِّرُهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ. وَالَّذِي نَفْسِي بِيِدَهِ! لَأَنْ أَصْبِرَ عَلَى هَذَا طَرَفَيِ النَّهَارِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ مِنْ بَنِي إِسْمَاعِيلَ. وَبِهَذَا بُعِثْتُ وَبِهَذَا أُمِرْتُ. ".
বদর যুদ্ধের একজন সাহাবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি নবীকে বলতে শুনেছেন: "এই ধরণের মজলিশে বসা আমার কাছে চারটি দাস মুক্ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।" শুবা বললেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোন মজলিশ [উদ্দেশ্য করেছেন]? তিনি বললেন: সেখানে একজন নসীহতকারী ছিলেন।
৭ - হাফেজ মুহাম্মদ বিন নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাহল মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আল-কুরাইশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবন মারদুয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন যাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উমর আল-হাওসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুরাত ইবন সাইব মাইমুন ইবন মিহরান থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন দেখলেন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা একদল লোকের সামনে নসীহত করছেন যারা তাঁর কাছে সমবেত হয়েছিল। নবী তাদের কাছে আসলেন এবং লোকদের এক প্রান্তে বসলেন। তখন আবদুল্লাহ চুপ হয়ে গেলেন। নবী বললেন: "হে ব্যক্তি, তুমি নসীহত চালিয়ে যাও।" {বর্ণনাকারী বলেন: আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি কি নসীহত করছেন?} তিনি তাকে বারবার নির্দেশ দিলেন। যখন তিনি নসীহত শেষ করলেন, তখন নবী বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক রেখেছেন যারা তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়। যাঁর হাতে আমার প্রাণ! দিনের দুই প্রান্তে এই কাজে সবর করা আমার কাছে বনু ইসমাঈলের চারটি দাস মুক্ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়। আর এই উদ্দেশ্যেই আমি প্রেরিত হয়েছি এবং এই নির্দেশই আমাকে দেওয়া হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
8 - أَخْبَرَنَا ابْنُ نَاصِرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمد قَالَ: أخبرنَا الْحسن ابْن عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَرَجُ قَالَ: حَدَّثَنَا لُقْمَانُ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: مَا تَصَدَّقَ مُؤْمِنٌ قَطُّ بِصَدَقَةٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل مِنْ مَوْعِظَةٍ يَعِظُ بِهَا قَوْمًا، فَيَفْتَرِقُونَ قَدْ نَفَعَهُمُ اللَّهُ بِهَا.
9 - وَرَوَى / سَعْدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ. حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ أَنَّهُ أَتَى أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، فَقَالَ لِي: قُصَّ! فَقُلْتُ: كَيْفَ وَالنَّاسُ يَزْعُمُونَ أَنَّهُ بِدْعَةٌ؟ فَقَالَ: لَوْ كَانَ بِدْعَةً مَا أَمَرْنَاكَ بِهِ. فَقَصَصْتُ وَهُوَ يُؤَمِّنُ.
10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ: أخبرنَا عبد الْملك بن عمر الرزاز قَالَ: أخبرنَا ابْن شاهين قَالَ: أخبرنَا أَبُو عبد الله ابْن مَخْلَدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّوِريُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو
৮ - ইবনুন নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনুল আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আত-তামীমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লোকমান আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোনো মুমিন আল্লাহর (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) নিকট এমন কোনো সদকা কখনো দেয়নি যা এমন এক নসিহতের চেয়ে বেশি প্রিয়, যার মাধ্যমে সে কোনো সম্প্রদায়কে উপদেশ দেয়, অতঃপর তারা এমন অবস্থায় পৃথক হয় যে আল্লাহ এর মাধ্যমে তাদের উপকৃত করেছেন।
৯ - এবং সা'দ ইবনে মানসূর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাবীব ইবনে আবী হাবীব যিয়াদ আন-নুমাইরী থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট আসলেন, তখন তিনি (আনাস) আমাকে বললেন: "তুমি ওয়ায করো!" আমি বললাম: "কিভাবে করবো, অথচ মানুষ ধারণা করে যে এটি বিদআত?" তিনি বললেন: "যদি এটি বিদআত হতো তবে আমরা তোমাকে এর নির্দেশ দিতাম না।" অতঃপর আমি ওয়ায করলাম এবং তিনি আমীন বলছিলেন।
১০ - মুহাম্মাদ ইবনুন নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে উমর আর-রাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে শাহীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দূরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
بَكْرِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: أَتَيْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ لِأَنْظُرَ مَا عِلْمُهُ، فَإِذَا قَاصَّ {قُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: هَؤُلَاءِ فِي صَلَاةٍ.
11 - قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ الْأَسْوَدِ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ قَالَ: أَدْرَكْتُ هَذَا الْمَسْجِدَ، مَسْجِدَ الْبَصْرَةِ، وَمَا فِيهِ حَلْقَةٌ تُنْسَبُ إِلَى الْفِقْهِ إِلَّا حَلْقَةٌ وَاحِدَةٌ تُنْسَبُ إِلَى مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ. وَسَائِرُ الْمَسْجِدِ قُصَّاصٌ.
12 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارك الْحَافِظ قَالَ. أخبرنَا أَبُو الْحُسَيْن ابْن عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ: وَجَدْتُ فِي كِتَابِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الطَّنَاجِيرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ / بْنُ عُثْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: الْقَصَصُ بِدْعَةٌ، وَنِعْمَتِ الْبِدْعَةُ} كَمْ مِنْ دَعْوَةٍ مُسْتَجَابَةٍ، وَسُؤَالٍ مُعْطًى، وَأَخٍ مُسْتَفَادٍ، وَعِلْمٍ يُصَابُ!
13 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعُكْبَرِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُسْلِمٍ الْفَرَضِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَوْفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي نَوْفَلُ بْنُ عُمَارَةَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: إِنَّ
বকর ইবনে আবুল আসওয়াদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি, সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের কাছে এলাম তার ইলম দেখার জন্য, তখন সেখানে একজন কাহিনীকার উপস্থিত ছিলেন। {আমি বললাম: এটি কী? তিনি বললেন: এরা ইবাদতে রত।}
11 - আবু বকর বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ ইবনুল আসওয়াদ, ইবনে আউন থেকে, তিনি বলেন: আমি এই মসজিদটি অর্থাৎ বসরার মসজিদটি এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, সেখানে মুসলিম ইবনে ইয়াসারের সাথে সম্পৃক্ত একটি মজলিস ছাড়া ফিকহ শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত অন্য কোনো মজলিস ছিল না। আর মসজিদের অবশিষ্ট অংশ ছিল কাহিনীকারদের দখলে।
12 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল মুবারক আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন ইবনে আব্দুল জব্বার, তিনি বলেন: আমি হুসাইন ইবনে আলী আত-তানাজিরির কিতাবে পেয়েছি, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ / ইবনে উসমান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল হাসান ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আশহাব, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাহিনী বর্ণনা করা একটি বিদআত, তবে এটি কতই না চমৎকার বিদআত!} এর মাধ্যমে কত দোয়া কবুল হয়, কত যাচ্ঞা পূরণ করা হয়, কত ভ্রাতৃত্ব অর্জিত হয় এবং কত ইলম লাভ করা যায়!
13 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আলী আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর ইবনে আব্দুল আজিজ আল-উকবারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু মুসলিম আল-ফারাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুগিরা আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে সাঈদ আদ-দামেশকি, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যুবাইর ইবনে বাক্কার, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ আল-আওফি, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন নাওফাল ইবনে উমারা, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: নিশ্চয়ই
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
أَوَّلَ مَنْ أَيْقَظَنِي فِي هَذَا الشَّأْنِ مُزَاحِمٌ. حَبَسْتُ رَجُلًا فَجَاوَزْتُ فِي حَبْسِهِ الْقَدْرَ الَّذِي يَجِبُ عَلَيْهِ، فَكَلَّمَنِي فِي إِطْلَاقِهِ. فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِمُخْرِجِهِ حَتَّى أَبْلُغَ فِي الْحَيْطَةِ عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَكْثَرُ مِمَّا هُوَ عَلَيْهِ. فَقَالَ مُزَاحِمٌ: يَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ {إِنِّي أُحَذِّرُكَ لَيْلَةَ تَمَخُّضِ الْقِيَامَةِ فِي صَبِيحَتِهَا تَقُومُ السَّاعَةُ. يَا عُمَرُ} وَلَقَدْ كِدْتُ أَنْسَى اسْمَكَ مِمَّا أَسْمَعُ قَالَ الْأَمِيرُ وَقَالَ الْأَمِيرُ. فَوَاللَّهِ {مَا هُوَ إِلَّا أَنْ قَالَ ذَلِكَ فَكَأَنَّمَا كَشَفَ / عَنْ وَجْهِي غِطَاءً} فَذَكِّرُوا أنْفُسَكُمْ - رَحِمَكُمُ اللَّهُ - فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ {
14 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْقُرَشِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدُوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ السَّكَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ قَالَ: قِيلَ لِحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: مَا تَقُولُ فِي الْجُلُوسِ إِلَى الْقُصَّاصِ؟ قَالَ: اجْلِسْ حَيْثُ تَعْلَمُ أَنَّهُ أَرَقُّ لِقَلْبِكَ}
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ الْبَرْمَكِيُّ قَالَ: حَدثنَا عبد الْعَزِيز بن جَعْفَر الْفَقِيه فِيمَا أَجَازَ لَنَا قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَلَّالُ قَالَ: أَخَبْرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَنْبَلٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: قُلْتُ لِعَمِّي فِي الْقُصَّاصِ، فَقَالَ: القُصَّاصُ الَّذِينَ يذكرُونَ الْجنَّة،
এই বিষয়ে যিনি আমাকে প্রথম সচেতন করেছেন তিনি হলেন মুজাহিম। আমি এক ব্যক্তিকে বন্দি করেছিলাম এবং তার কারাবাসের ক্ষেত্রে তার প্রাপ্য সীমার চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে ফেলেছিলাম। অতঃপর সে তার মুক্তির ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলল। আমি বললাম: "আমি তাকে ততক্ষণ মুক্তি দেব না যতক্ষণ না আমি তার ব্যাপারে বর্তমানের চেয়ে আরও অধিক সতর্কতা অবলম্বন করি।" তখন মুজাহিম বললেন: "হে উমর বিন আব্দুল আজিজ, {আমি আপনাকে সেই রাতের ব্যাপারে সতর্ক করছি যা কিয়ামত প্রসব করবে এবং যার প্রভাতে কিয়ামত সংঘটিত হবে। হে উমর,} আমি আপনার নাম প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম কারণ আমি কেবল শুনতাম 'আমির বলেছেন' এবং 'আমির বলেছেন'।" আল্লাহর শপথ, {তিনি যখনই এই কথাটি বললেন, অমনি যেন আমার চেহারা থেকে একটি পর্দা উন্মোচিত হয়ে গেল।} সুতরাং আপনারা নিজেদের নসীহত করুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে। {
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন নাসির, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আল-কুরাশি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মারদুইয়াহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল বাকি বিন কানি', তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আস-সাকান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, তিনি সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুমায়দ বিন আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলো: নসীহতকারীদের (কুসসাস) মজলিসে বসার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: সেখানেই বসুন যেখানে বসলে আপনি জানেন যে তা আপনার হৃদয়ের জন্য অধিক কোমল হবে।}
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আল-কাযযায, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন উমর আল-বারমাকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন জাফর আল-ফকিহ যা তিনি আমাদের জন্য ইজাজত দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-খল্লাল, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা হাম্বল বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমি আমার চাচাকে নসীহতকারীদের (কুসসাস) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: নসীহতকারী তারাই যারা জান্নাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়,
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
وَالنَّارَ وَالتَّخْوِيفَ، وَلَهُمْ نِيَّةٌ وَصِدْقُ الْحَدِيثِ. فَأَمَّا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَحْدَثُوا وَضْعَ الْأَخْبَارِ وَالْأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَةِ، فَلَا أَرَاهُ.
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَلَوْ قُلْتُ: إِنَّ هَؤُلَاءِ أَيْضًا يَسْمَعُهُمُ / الْجَاهِلُ الَّذِي لَا يَعْلَمُ وَلَعَلَّهُ يَنْتَفِعُ بِكَلِمَةٍ أَوْ يَرْجِعُ عَن أَمر. كَأَن أَبَا عَبْدَ اللَّهِ كَرِهَ أَنْ يَمْنَعَهَا، وَقَالَ: رُبَّمَا جاؤوا بِالْأَحَادِيثِ الصِّحَاحِ.
قَالَ الْخَطِيبُ: رَأَيْتُ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ رِوَايَةً لِلْخَلَّالِ عَنِ ابْنِ حَنْبَلٍ هَذَا إِلَّا أَنَّهُ سَمَّاهُ عُبَيْدَ اللَّهِ.
16 - وَقَدْ رَوَى أَبُو بَكْرٍ الْخَلَّالُ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْصُورُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يُسْأَلُ عَنِ الْقَاصِّ. فَقَالَ: إِذَنْ مَا أَحْوَجَ النَّاسَ إِلَى قَاصٍّ صِدْقٍ {
17 - قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: يُعْجِبُنِي أَمْرُ الْقُصَّاصِ؛ لِأَنَّهُمْ يَذْكُرُونَ الْمِيزَانَ وَعَذَاب الْقَبْر.
قلت لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ: فَتَرَى الذَّهَابَ إِلَيْهِمْ؟ قَالَ: إِي لَعَمْرِي إِذَا كَانَ صَدُوقًا، لِأَنَّهُمْ يَذْكُرُونَ الْمِيزَانَ وَعَذَابَ الْقَبْرِ.
قَالَ: وَشَكَا رَجُلٌ إِلَى [أبي] عبد الله الوسوسة. فَقَالَ: عَلَيْك بِالْقصاصِ. مَا أَنْفَعَ مُجَالَسَتَهُمْ}
19 - قَالَ الْخَلَّالُ: وَأَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَكَرِيَّا التَّمَّارُ، سَمِعَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: أَنَا يُعْجِبُنِي الْقَاصُّ فِي هَذَا الزَّمَانِ؛ لِأَنَّهُ يَذْكُرُ الشَّفَاعَةَ / وَالصِّرَاطَ.
এবং জাহান্নাম ও ভীতিপ্রদর্শন; তাদের নিয়ত এবং সত্য কথা বলার প্রয়াস রয়েছে। তবে যারা সংবাদ জাল করা এবং বানোয়াট হাদিস তৈরি করা শুরু করেছে, আমি তাদের সমর্থন করি না।
আবু আবদুল্লাহ বলেন: আর আমি যদি বলি: এদের কথাও এমন মূর্খ ব্যক্তি শোনে যে জানে না, হতে পারে সে কোনো কথার দ্বারা উপকৃত হবে অথবা কোনো বিষয় থেকে ফিরে আসবে। মনে হচ্ছিল আবু আবদুল্লাহ তাদের নিষেধ করাকে অপছন্দ করছিলেন এবং তিনি বললেন: সম্ভবত তারা সহিহ হাদিসসমূহ নিয়ে আসে।
খতিব বলেন: আমি অন্য এক স্থানে ইবনুল হাম্বল থেকে খাল্লালের একটি বর্ণনা দেখেছি, তবে তিনি সেখানে তার নাম উবাইদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
১৬ - আবু বকর আল-খাল্লাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনুল ওয়ালিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলকে ওয়ায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি। তখন তিনি বললেন: বর্তমান সময়ে মানুষের একজন সত্যবাদী ওয়ায়েজের কতই না প্রয়োজন! {
১৭ - তিনি বলেন: এবং আমাদের আবু বকর আল-মারওয়াযী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: ওয়ায়েজদের বিষয়টি আমাকে আনন্দিত করে; কারণ তারা মিযান এবং কবরের আজাব সম্পর্কে আলোচনা করে।
আমি আবু আবদুল্লাহকে বললাম: আপনি কি তাদের নিকট যাওয়া সমীচীন মনে করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! যদি সে সত্যবাদী হয়, কারণ তারা মিযান এবং কবরের আজাব স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন: এক ব্যক্তি [আবু] আবদুল্লাহর কাছে কুমন্ত্রণার অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেন: তোমার ওয়ায়েজদের মজলিসে যাওয়া উচিত। তাদের সাহচর্য কতই না উপকারী!}
১৯ - খাল্লাল বলেন: এবং আমাকে আলী ইবনুল হাসান ইবনে সুলাইমান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে যাকারিয়া আত-তাম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: বর্তমান যুগে ওয়ায়েজের কথা আমাকে আনন্দ দেয়; কারণ সে শাফায়াত এবং সিরাত সম্পর্কে আলোচনা করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
20 - قَالَ الْخَلَّالُ: وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي هَارُونَ أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَهُمْ أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ ذَكَرَ الْقُصَّاصَ، فَقَالَ: مَا أَنْفَعَهُمْ لِلْعَامَّةِ وَإِنْ كَانَ عَامَّةُ مَا يُحَدِّثُونَ بِهِ كَذِبًا.
21 - قَالَ الْخَلَّالُ: وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي هَارُونَ أَنَّ أَبَا الْحَارِثِ حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ سُئِلَ عَنْ مُجَالَسَةِ الْقُصَّاصِ. فَقَالَ: إِذا كَانَ الْقَاص صَدُوقًا فَلَا أرى بمجالسته بَأْسا.
فصل فِي فَضِيلَةُ الْوَعْظِ مِنْ جِهَةِ الْمَعْنَى قَالَ الْمُصَنِّفُ: اعْلَمْ أَنَّ الطِّبَاعَ لَمَّا خُلِقَتْ مَائِلَةً إِلَى حُبِّ الشَّهَوَاتِ الْمُرْدِيَةِ، وَالْبَطَالَةِ الْمُؤْذِيَةِ، افْتَقَرَتْ إِلَى مُقَوِّمٍ، وَمُثَقِّفٍ، وَمُحَذِّرٍ يَرُدُّ. فَهِيَ فِي ضَرْبِ الْمَثَلِ كَالْمَاءِ يَجْرِي بِطَبْعِهِ. فَإِذَا رُدَّ بِسُكَرٍ وَقَفَ عَنْ جَرَيَانِهِ ثُمَّ أَخَذَ يَعْمَلُ فِي فَتْحِ طَرِيقٍ. فَكَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُتَعَاهَدَ ذَلِكَ السُّكَرُ بِالْإِحْكَامِ فَكَذَلِكَ يَنْبَغِي أَنْ تَتَعَاهَدَ الطِّبَاعُ بِالزَّوَاجِرِ. وَلَا يَنْبَغِي أَنْ يَطُولَ أَمَدُ التَّعَاهُدِ، فَإِنَّ عَمَلَ الْمَاءِ فِي بَاطِنِ السُّكَرِ دَائِمٌ وَإِنْ خُفِيَ. وَكَذَلِكَ الطِّبَاعُ فِي مَيْلِهَا إِلَى مَا يُؤْذِيهَا. وَلِهَذَا بُعِثَ الْأَنْبِيَاءُ بِالتَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ، وَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِمُ / الْكُتُبُ لِلتَّثْقِيفِ وَالتَّأْدِيبِ. فَمَا زَالُوا مبشرين ومنذرين. ثمَّ خَلفهم
২০ - আল-খাল্লাল বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবি হারুন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসহাক বিন ইবরাহিম তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ গল্পকথকদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সাধারণ মানুষের জন্য তারা কতই না উপকারী, যদিও তারা যা বর্ণনা করে তার অধিকাংশ মিথ্যা হয়ে থাকে।
২১ - আল-খাল্লাল বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবি হারুন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হারিস তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শুনেছেন আবু আব্দুল্লাহকে গল্পকথকদের মজলিসে বসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তিনি বললেন: যখন গল্পকথক সত্যবাদী হয়, তখন তার মজলিসে বসাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
তাত্ত্বিক দিক থেকে উপদেশের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ গ্রন্থকার বলেন: জেনে রাখুন যে, মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যখন ধ্বংসাত্মক লালসা এবং ক্ষতিকর অলসতার প্রতি অনুরাগী করে সৃষ্টি করা হয়েছে, তখন একে সংশোধনকারী, পরিশুদ্ধকারী এবং ফিরািয়ে রাখা ও সতর্ককারীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এটি উদাহরণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত পানির ন্যায়। যখন বাঁধের মাধ্যমে একে আটকে দেওয়া হয়, তখন তা তার প্রবাহ থেকে থেমে যায়, এরপর সে পুনরায় পথ খোলার চেষ্টা শুরু করে। সুতরাং যেভাবে সেই বাঁধটিকে মজবুত রাখার মাধ্যমে তদারকি করা উচিত, ঠিক তেমনি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকেও ভীতিপ্রদর্শন ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে তদারকি করা উচিত। আর এই তদারকির সময়কাল দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়, কারণ বাঁধের অভ্যন্তরে পানির ক্রিয়া সর্বদা বিদ্যমান থাকে, যদিও তা দৃশ্যমান না হয়। তদ্রূপ মানুষের স্বভাবও তার জন্য ক্ষতিকর বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রে এমনই। এই কারণেই নবীগণকে সুসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁদের নিকট কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে পরিশুদ্ধি ও শিষ্টাচার শিক্ষার জন্য। তাঁরা নিরন্তর সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অতঃপর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
الْعلمَاء وَقد كَانَ الْعُلَمَاءُ كُلُّهُمْ يُذَكِّرُونَ بِفَتَاوِيهِمْ وَعِلْمِهِمْ، غَيْرَ أَنَّ الْقُصَّاصَ وَالْوُعَّاظَ تَرَسَّمُوا بِهَذَا الْأَمْرِ لِخَطَابِ الْعَوَامِّ، فَالْعَوَامُّ يَنْتَفِعُونَ بِهِمْ مَا لَا يَنْتَفِعُونَ بِالْعَالِمِ الْكَبِيرِ. إِلَّا أَنَّهُ دَخَلَتْ عَلَى بَعْضِهِمْ آفَاتٌ. سنحذر مِنْهَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
উলামায়ে কেরাম। নিশ্চয়ই সমস্ত আলিমগণ তাদের ফতোয়া ও ইলমের মাধ্যমে নসিহত করতেন, তবে কিচ্ছাকার এবং ওয়ায়েজগণ সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার জন্য এই বিষয়টিকে নিজেদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কারণ সাধারণ মানুষ তাদের মাধ্যমে এমনভাবে উপকৃত হয়, যা বড় আলিমের মাধ্যমে হয় না। তবে তাদের কারও কারও মধ্যে কিছু বিচ্যুতি প্রবেশ করেছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করব।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَابُ الثَّانِي فِي ذِكْرِ أَوَّلِ مَنْ قَصَّ صلى الله عليه وسلم َ -
قَالَ الْمُصَنِّفُ: قَدْ ذَكَرْنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ خَرَجَ عَلَى النَّاسِ وَقَاصٌّ يَقُصُّ، وَأَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ يَقُصُّ، وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ نَادِرًا فَأَمَّا أَوَّلُ مَنِ انْتَدَبَ لَهُ.
22 - فَأَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُقَصُّ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله - وَلَا أَبِي بَكْرٍ. وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ قَصَّ تَمِيمٌ الدَّارِيُّ. اسْتَأْذَنَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَنْ يَقُصَّ عَلَى النَّاسِ قَائِمًا، / فَأَذِنَ لَهُ عُمَرُ.
23 - أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيِّ عَنْ أَبِي عُمَرَ بْنِ حَيُّوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَيُّوبَ الْجَلَّابُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম কে কিচ্ছা বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনায় -
গ্রন্থকার বলেন: আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের নিকট বের হলেন এমতাবস্থায় যে একজন কিচ্ছা বর্ণনাকারী কিচ্ছা বর্ণনা করছিলেন, এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহাকে কিচ্ছা বর্ণনা করতে শুনেছিলেন। তবে এটি ছিল বিরল ঘটনা। আর যিনি সর্বপ্রথম এই কাজের জন্য নিবেদিত হয়েছিলেন—
২২ - ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ বিন আবদে রাব্বিহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুবাইদী আমার নিকট যুহরী থেকে, তিনি সায়িব বিন ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকরের যুগে কোনো কিচ্ছা বর্ণনা করা হতো না। সর্বপ্রথম যিনি কিচ্ছা বর্ণনা করেন তিনি হলেন তামীম আদ-দারী। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট দাঁড়িয়ে মানুষের সামনে কিচ্ছা বর্ণনা করার অনুমতি চান, অতঃপর উমর তাকে অনুমতি দেন।
২৩ - আবু বকর বিন আবু তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারী থেকে, তিনি আবু উমর বিন হাইয়ুওয়াইহ থেকে, তিনি বলেন: আবু আইয়ুব আল-জাল্লাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হারিস বিন আবু...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
أُسَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَصَّ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ.
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْبَرْقَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمْ يُقَصَّ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ، وَلَا أَبِي بَكْرٍ، وَلَا عُمَرَ، وَلَكِنَّهُ شَيْءٌ أَحْدَثُوهُ، بَعْدَ عُثْمَانَ.
25 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقُورِ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مَرْدَكٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْأَثْرَمِ الْمُقْرِئُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمْ يُقَصَّ عَلَى / عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ وَلَا أَبِي بَكْرٍ، وَلَا عمر، وَإِنَّمَا
উসামাহ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে সর্বপ্রথম যিনি কাহিনী শুনিয়েছেন তিনি হলেন উবাইদ ইবনে উমাইর।
২৪ - আবু মনসুর আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-বারকানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুন্দার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমরের যুগে কোনো কাহিনী শোনানো হতো না; বরং এটি এমন একটি বিষয় যা তারা উসমানের পরে উদ্ভাবন করেছে।
২৫ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আন-নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মারদাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল আসরাম আল-মুকরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ আত-তারকুফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফিরইয়াবি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমরের যুগে / কাহিনী শোনানো হতো না, বরং কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
كَانَ الْقَصَصُ حِينَ كَانَتِ الْفِتْنَةُ.
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ قَالَ: أخبرنَا جدي أَبُو مَنْصُور بن عبد الرَّزَّاق قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَاقِلَّاوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بِشْرَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ الْقَاضِي قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ يَعْنِي ابْنَ سِيرِينَ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَصَّ الْحَرُورِيَّةُ أَوْ قَالَ: الْخَوَارِجُ.
قَالَ الْمُصَنِّفُ: إِنَّمَا أَشَارَ ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ سِيرِينَ إِلَى اشْتِهَارِ الْقَصَصِ وَكَثْرَتِهِ، وَإِلَّا فَقَدْ رَوَيْنَا أَنَّ عُمَرَ أَذِنَ لِتَمِيمٍ الدَّارِيّ فِي الْقَصَص.
ফিতনার সময় থেকেই কাহিনী বর্ণনার সূত্রপাত ঘটেছিল।
২৬ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আবু মানসুর ইবন আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন হাসান আল-বাকিল্লাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবন বিশরান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: দাল্লাজ ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ আল-কাদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু রাবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবন সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সর্বপ্রথম যারা কাহিনী বর্ণনা করেছিল তারা হলো হারুরিয়া, অথবা তিনি বলেছেন: খাওয়ারিজ সম্প্রদায়।
গ্রন্থকার বলেন: ইবন উমর এবং ইবন সিরীন মূলত কাহিনী বর্ণনার প্রসিদ্ধি ও এর আধিক্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন; নতুবা আমরা বর্ণনা করেছি যে, উমর (রা.) তামীম আদ-দারীকে কাহিনী বর্ণনার অনুমতি দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَابُ الثَّالِثُ فِي ذِكْرِ مَنْ يَنْبَغِي أَنْ يقص وَيذكر صلى الله عليه وسلم َ -
قَالَ الْمُصَنِّفُ: لَا يَنْبَغِي أَنْ يَقُصَّ عَلَى النَّاس إِلَّا الْعَالم المتقن فنون الْعُلُوم؛ لِأَنَّهُ يُسْأَلُ عَنْ كُلِّ فَنٍّ. فَإِنَّ الْفَقِيهَ إِذَا تَصَدَّرَ لَمْ يَكَدْ يُسْأَلُ عَنِ الْحَدِيثِ، وَالْمُحَدِّثُ لَا يَكَادُ يُسْأَلُ عَنِ الْفِقْهِ، وَالْوَاعِظُ يُسْأَلُ عَنْ كُلِّ عِلْمٍ /. فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ كَامِلًا.
27 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الصَّرَيْفِينِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَّانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبَغَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَلِيًّا عليه السلام مَرَّ بِقَاصٍّ، فَقَالَ: أَتَعْرِفُ النَّاسِخَ وَالْمَنْسُوخَ؟ قَالَ: لَا {قَالَ: هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ}
আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক - তৃতীয় অধ্যায়: যাদের ওয়াজ ও নসিহত করা উচিত তাদের বর্ণনায় - আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক -
গ্রন্থকার বলেন: বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী দক্ষ আলেম ব্যতীত অন্য কারো মানুষের সামনে ওয়াজ বা নসিহত করা উচিত নয়; কারণ তাকে জ্ঞানের প্রতিটি শাখা সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হয়। কেননা ফকিহ যখন আলোচনার জন্য বসেন, তখন তাকে সাধারণত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় না, আর মুহাদ্দিসকে সাধারণত ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় না। কিন্তু একজন ওয়াজকারীকে প্রতিটি শাস্ত্র বা ইলম সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হয়। তাই তাকে (জ্ঞানের সকল শাখায়) পূর্ণাঙ্গ হওয়া উচিত।
২৭ - আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মাদ আস-সারিফিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: উমর বিন ইবরাহিম আল-কাত্তানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল-বাগাউয়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: জুহাইর বিন হারব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: অকি' আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) জনৈক কিসসা বর্ণনাকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) এবং মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জানো?" সে উত্তর দিল: "না।" তিনি বললেন: "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
قَالَ الْمُصَنِّفُ: قُلْتُ: فَيَنْبَغِي لِلْوَاعِظِ أَنْ يَكُونَ حَافِظًا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ، عَارِفًا بِصَحِيحِهِ وَسَقِيمِهِ، وَمُسْنَدِهِ وَمَقْطُوعِهِ، وَمُعْضَلِهِ، عَالِمًا بِالتَّوَارِيخِ وَسِيَرِ السَّلَفِ، حَافِظًا لِأَخْبَارِ الزُّهَّادِ، فَقِيهًا فِي دِينِ اللَّهِ، عَالِمًا بِالْعَرَبِيَّةِ وَاللُّغَةِ، فَصِيحَ اللِّسَانِ. وَمَدَارُ ذَلِكَ كُلِّهِ عَلَى تَقْوَى اللَّهِ عز وجل وَأَنَّهُ بَقَدْرِ تَقْوَاهُ يَقَعُ كَلَامُهُ فِي الْقُلُوبِ.
وَقَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: إِنَّ الْمَوْعِظَةَ إِذَا خَرَجَتْ مِنْ قَلْبِ الصَّادِقِ وَقَعَتْ فِي الْقَلْبِ.
ثُمَّ يُصَحِّحُ قَصْدَهُ؛ فَإِنَّهُ إِذَا صَحَّ قَصْدُهُ صَرَفَ اللَّهُ الْقُلُوبَ إِلَيْهِ، ثُمَّ يُخْرِجُ مِنْ قَلْبِهِ الطَّمَعَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ.
28 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَمُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ قَالَا: أَخْبَرَنَا / أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْجَبَّارِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ التَّنُوخِيُّ قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ حَيُّوَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْأَنْبَارِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَدَائِنِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الرَّبْعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَطَّارُ قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ الْأَشْقَرُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ يَدْخُلُ السُّوقَ - وَبِيَدِهِ الدِّرَّةُ وَعَلَيْهِ عَبَاءٌ قَطْوَانِيٌّ قَدْ شُقَّ وَسَطُهُ وَكُفَّتْ حَاشِيَتَاهُ - يَقُولُ: يَا أَيُّهَا التُّجَّارُ خُذُوا الْحَقَّ وَأَعْطُوا الْحَقَّ، تَسْلَمُوا! لَا تَرُدُّوا قَلِيلَ
গ্রন্থকার বলেন: আমি বলছি: একজন ওয়াজের জন্য উচিত হলো আল্লাহর রাসূলের হাদীস মুখস্থ রাখা, হাদীসের সহীহ ও সাকিম (দুর্বল), মুসনাদ, মাকতু এবং মুদাল সম্পর্কে অবগত হওয়া, ইতিহাস ও সালাফদের জীবনী সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যাহিদদের (সংসারবিরাগীদের) ঘটনাবলী হিফজ রাখা, আল্লাহর দ্বীনে ফকীহ বা বিজ্ঞ হওয়া, আরবী ভাষা ও ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী হওয়া এবং মিষ্টভাষী হওয়া। আর এ সবকিছুর ভিত্তি হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর তাকওয়ার ওপর। তার তাকওয়া যতটুকু হবে, তার কথা মানুষের অন্তরে ততটুকুই প্রভাব ফেলবে।
এবং জনৈক সালাফ বলেছেন: নিশ্চয় নসিহত যখন সত্যবাদী ব্যক্তির অন্তর থেকে বের হয়, তখন তা (অন্যের) অন্তরে গিয়ে পতিত হয়।
এরপর সে তার উদ্দেশ্যকে সঠিক করবে; কেননা যখন তার উদ্দেশ্য সঠিক হবে, তখন আল্লাহ মানুষের অন্তরগুলোকে তার দিকে ফিরিয়ে দেবেন। অতঃপর সে তার অন্তর থেকে মানুষের সম্পদের প্রতি লোভ-লালসা দূর করবে।
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক ও মুহাম্মদ বিন নাসির, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারী ও আবুল কাসিম আত-তানূখী, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর বিন হাইয়ুওয়াইহি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আল-আনবারী, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-মাদায়িনী, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ফদল আর-রিবঈ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আত্তার, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-আশকার, তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আলী বিন আবী তালিব বাজারে প্রবেশ করতেন—তাঁর হাতে থাকত একটি চাবুক এবং গায়ে থাকত একটি কাতওয়ানী জুব্বা যার মাঝখানটি চেরা ছিল এবং যার কিনারাগুলো সেলাই করা ছিল—তিনি বলতেন: হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! তোমরা হক গ্রহণ করো এবং হক প্রদান করো, তবেই তোমরা নিরাপদ থাকবে! সামান্য কিছু ফিরিয়ে দিও না...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
الرِّبْحِ، تُحْرَمُوا كَثِيرَهُ {وَنَظَرَ إِلَى رَجُلٍ يَقُصُّ، فَقَالَ لَهُ: أتقص وَنحن قريبو عَهْدٍ بِرَسُولِ اللَّهِ؟ لَأَسْأَلَنَّكَ، فَإِنْ أَجَبْتَنِي وَإِلَّا خَفَقْتُكَ بِهَذِهِ الدِّرَّةِ. مَا ثَبَاتُ الدِّينِ وَزَوَالُهُ؟ قَالَ: أَمَّا ثَبَاتُهُ فَالْوَرَعُ، وَأَمَا زَوَالُهُ فَالطَّمَعُ. قَالَ: أَحْسَنْتَ} قُصَّ {فَمِثْلُكَ فَلْيَقُصَّ} .
29 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بن عبد الْبَاقِي قَالَ: أخبرنَا حمد بن أَحْمَدَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ / بْنِ سَالِمٍ الْخُتُّلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَبَّارُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَلِيٍّ رضي الله عنه فِي سُوقِ الْكُوفَةِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَاصٍّ يَقُصُّ. فَوَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَيُّهَا الْقَاصُّ {تَقُصُّ وَنَحْنُ قَرِيبُو الْعَهْدِ؟ أَمَا إِنِّي أَسْأَلُكَ، فَإِنْ خَرَجْتَ عَمَّا سَأَلْتُكَ وَإِلَّا أَدَّبْتُكَ. قَالَ الْقَاصُّ: سَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَمَّا شِئْتَ} فَقَالَ: مَا ثَبَاتُ الْإِيمَانِ وَزَوَالُهُ؟ فَقَالَ الْقَاصُّ: ثَبَاتُ الْإِيمَانِ الْوَرَعُ، وَزَوَالُهُ الطَّمَعُ. قَالَ عَلِيُّ: فَمِثْلُكَ يَقُصُّ.
30 - أَخْبَرَنَا الْمُحَمَّدَانِ ابْنُ نَاصِرٍ وَابْنُ عَبْدِ الْبَاقِي قَالَا: أَخْبَرَنَا حَمَدُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيم بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ قَالَ: قَالَ
মুনাফা, এর ফলে তোমরা এর আধিক্য থেকে বঞ্চিত হবে। {তিনি একজন কিচ্ছা বর্ণনাকারীর দিকে তাকালেন এবং তাকে বললেন: তুমি কি কিচ্ছা শোনাচ্ছ অথচ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের নিকটবর্তী সময়ে রয়েছি? আমি অবশ্যই তোমাকে প্রশ্ন করব, যদি তুমি উত্তর দিতে পার তবে ভালো, অন্যথায় আমি তোমাকে এই চাবুক দিয়ে আঘাত করব। দ্বীনের স্থায়িত্ব কিসে এবং এর বিনাশ কিসে? সে বলল: এর স্থায়িত্ব হলো পরহেজগারি, আর এর বিনাশ হলো লোভ। তিনি বললেন: তুমি সঠিক বলেছ।} কিচ্ছা বর্ণনা করো {তোমার মতো ব্যক্তিই কিচ্ছা শোনাবে}।
২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামাদ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাফর ইবনে সালিম আল-খুতুলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী আল-আব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে মাইসারা, শুরাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে কুফার বাজারে ছিলাম, এক পর্যায়ে তিনি একজন কিচ্ছা বর্ণনাকারীর নিকট পৌঁছালেন যে কিচ্ছা শোনাচ্ছিল। তিনি তার নিকট দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে কিচ্ছা বর্ণনাকারী! {তুমি কি কিচ্ছা শোনাচ্ছ অথচ আমরা যুগের নিকটবর্তী সময়ে রয়েছি? শোনো, আমি তোমাকে প্রশ্ন করব, যদি তুমি আমার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পার তবে ভালো, অন্যথায় আমি তোমাকে শাসন করব। কিচ্ছা বর্ণনাকারী বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার যা ইচ্ছা প্রশ্ন করুন।} তিনি বললেন: ঈমানের স্থায়িত্ব কিসে এবং এর বিনাশ কিসে? কিচ্ছা বর্ণনাকারী বলল: ঈমানের স্থায়িত্ব হলো পরহেজগারি, আর এর বিনাশ হলো লোভ। আলী বললেন: তোমার মতো ব্যক্তিই কিচ্ছা শোনাবে।
৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই মুহাম্মদ—ইবনে নাসির ও ইবনে আব্দুল বাকী, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামাদ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবুল হাওয়ারী, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
أَبُو سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيُّ: كَيْفَ يَتْرُكَ الدُّنْيَا مَنْ تأمرونه بترك الدِّينَار وَالدِّرْهَم، وهم إِذا ألقوها أخذتموها مِنْهُم؟
قَالَ الْمُصَنِّفُ: وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَقْصِدَ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى بِوَعْظِهِ.
31 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ قَالَ: أخبرنَا أَبُو بكر أَحْمد بن عَليّ بن ثَابِتٍ / قَالَ: أَخْبَرَنَا الْجَوْهَرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْمُنَادِي قَالَ: كَانَ أَبُو حَمْدُونَ الطَّيِّبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ مِنَ الزُّهَّادِ الْمُشْتَهَرِينَ بِالْقُرْآنِ. وَكَانَ يَقْصِدُ الْمَوَاضِعَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا أَحَدٌ يُقْرِئُ النَّاسَ، فَيُقْرِئُهُمْ حَتَّى إِذَا حَفِظُوا انْتَقَلَ إِلَى آخَرِينَ، وَكَانَ يَلْتَقِطُ الْمَنْبُوذَ.
وَقَالَ الْمُصَنِّفُ: وَيَنْبَغِي لِلْوَاعِظِ أَنْ يَتْرُكَ فُضُولَ الْعَيْشِ وَيَلْبَسَ مُتَوَسِّطَ الثِّيَابِ لَيُقْتُدَى بِهِ.
فَقَدْ كَانَ فِي إِزَارِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رِقَاعٌ عِدَّةٌ وَكَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ يَلْبَسُ دَنِيَّ الثِّيَابِ. فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ: يَقْتَدِي بِيَ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ.
وَهَذَا لِأَنَّ الطَّبِيبَ إِذَا احْتَمَى نَفَعَ وَصْفُهُ لِلْحِمْيَةِ، وَإِذَا خَلَطَ لَمْ يَنْفَعْ أَمْرُهُ بِالْحِمْيَةِ.
قَالَ أَبُو الْوَفَاء بن عقيل: لكل قوم زِيٌّ، وَكَمَا لَا يَحْسُنُ الْغِنَاءُ إِلَّا
আবু সুলাইমান আদ-দারানি বলেন: যাকে তোমরা দিনার ও দিরহাম ত্যাগের নির্দেশ দিচ্ছ, সে কীভাবে দুনিয়া ত্যাগ করবে, অথচ যখন তারা তা ছুড়ে ফেলে দেয়, তখন তোমরাই তা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করো?
গ্রন্থকার বলেন: ওয়াজকারীর উচিত তার উপদেশের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করা।
৩১ - আবু মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুনাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হামদুন আত-তইয়্যিব বিন ইসমাইল ছিলেন কুরআনের পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত জাহিদদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এমন সব স্থানে যাওয়ার সংকল্প করতেন যেখানে লোকেদের কুরআন পড়ানোর মতো কেউ নেই, অতঃপর তিনি তাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন; যখন তারা তা মুখস্থ করে ফেলত, তখন তিনি অন্যদের কাছে চলে যেতেন। তিনি কুড়িয়ে পাওয়া পরিত্যক্ত খাদ্যবস্তু সংগ্রহ করতেন।
গ্রন্থকার বলেন: ওয়াজকারীর উচিত বিলাসিতা পরিহার করা এবং মধ্যম মানের পোশাক পরিধান করা, যাতে লোকে তাকে অনুসরণ করতে পারে।
ওমর ইবনুল খাত্তাবের লুঙ্গিতে অনেকগুলো তালি লাগানো ছিল এবং আলী বিন আবি তালিব সাধারণ মানের পোশাক পরিধান করতেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: যাতে মুসলিম ব্যক্তি আমাকে অনুসরণ করতে পারে।
এর কারণ হলো, একজন চিকিৎসক যখন নিজে নিয়ম মেনে চলেন, তখন তার দেওয়া পথ্যের ব্যবস্থাপত্র কাজে আসে। কিন্তু যখন তিনি নিজেই নিয়ম ভঙ্গ করেন, তখন তার সংযম পালনের নির্দেশ কোনো উপকার বয়ে আনে না।
আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল বলেন: প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিজস্ব পোশাক রয়েছে; আর যেমন গান গাওয়া সুন্দর হয় না যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
مِنَ الْجَوَارِي الْخُرَّدِ، وَلَا الْغَزَلُ إِلَّا مِنْ عَاشِقٍ، وَلَا النَّوْحُ إِلَّا مِنْ ثَاكِلٍ، وَلَا ذِكْرُ الْأَوْطَانِ إِلَّا مِنْ غَرِيبٍ؛ فَكَذَلِكَ لَا يَعْمَلُ الْوَعْظُ إِلَّا مِنْ مُتَقَشِّفٍ، مُتَزَهِّدٍ، مُتَوَرِّعٍ، مِنْ وَرَاءِ مُدَرَّعَةِ صُوفٍ، وَنَظَافَةِ جِسْمٍ، وَتَقْلِيلِ قُوتٍ، / اشْتِغَالًا عَنِ الْبَدَنِ بِفَضَائِلِ النَّفْسِ كَالطَّبِيبِ الظَّاهِرِ الْحِمْيَةِ. فَأَمَّا مَنْ يَخْرُجُ بَطِينًا فَاخِرَ الثِّيَابِ مُدَاخِلًا لِلسَّلَاطِينِ، فَكَيْفَ تَسْتَجِيبُ لَهُ الْقُلُوبُ. إِنَّمَا يُسْمَعُ مِنْ هَؤُلَاءِ عَلَى سَبِيلِ الْفُرْجَةِ كَسَمَاعِ الْأَسْمَارِ مِنَ السُّمَّارِ. وَلَرُبَّمَا كَانَتِ الصِّوَرُ وَالسِّمَاتُ تُؤَثِّرُ أَكْثرَ مِنَ الْأَلْفَاظِ، وَقَدْ قِيلَ: مَنْ لَمْ تَنْفَعْكَ رُؤْيَتُهُ لَا تَنْفَعْكَ مَوْعِظَتُهُ. وَيَنْبَغِي لِلْوَاعِظِ أَنْ يَعْتَزِلَ الْعَوَامَّ لِيَكُونَ لِكَلَامِهِ وَقْعُ هَيْبَةٍ، لَا عَلَى وَجْهِ التَّصَنُّعِ بِالِانْقِطَاعِ.
...লজ্জাশীলা কুমারী দাসীদের থেকে, আর প্রেমসঙ্গীত তো কেবল প্রেমিকের পক্ষ থেকেই অর্থবহ হয়, বিলাপ কেবল প্রিয়জনহারা ব্যক্তির পক্ষ থেকেই হৃদয়স্পর্শী হয়, আর স্বদেশভূমির স্মৃতিচারণ কেবল প্রবাসীর পক্ষ থেকেই আবেগঘন হয়; তদ্রূপ নসিহতও কেবল সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকেই কার্যকর হয়, যিনি কৃচ্ছ্রসাধনকারী, দুনিয়াত্যাগী ও পরহেজগার; যিনি পশমি বস্ত্র পরিধান করেন, যাঁর শরীর পবিত্র এবং যাঁর আহার সীমিত, / যিনি শরীরের পরিবর্তে আত্মার উৎকর্ষ সাধনে আত্মনিয়োগ করেন, যেমন সেই চিকিৎসকের ন্যায় যাঁর সংযম প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি উদরপূর্তি করে দামী পোশাক পরিধানপূর্বক সুলতানদের দরবারে যাতায়াত করে বের হয়, তার আহবানে অন্তরসমূহ কীভাবে সাড়া দেবে? এদের কথা তো কেবল বিনোদনের ছলে শোনা হয়, যেমন নৈশকালীন গল্পকারদের থেকে রূপকথা শোনা হয়। আর সম্ভবত অবয়ব ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য শব্দের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে; যেমন বলা হয়ে থাকে: "যাঁর দর্শন তোমার উপকার করে না, তাঁর উপদেশও তোমার উপকারে আসবে না।" একজন উপদেশদাতার উচিত সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা নির্জনে থাকা, যাতে তাঁর কথার মাঝে এক ধরণের গাম্ভীর্য ও প্রভাব থাকে; তবে তা যেন লোকদেখানো বা কৃত্রিম বিচ্ছিন্নতা হিসেবে না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَابُ الرَّابِعُ فِي أَنَّهُ لَا يُقَصُّ إِلَّا بِإِذن الْأَمِير صلى الله عليه وسلم َ -
32 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْفَارِسِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي شُرَيْحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ صَاعِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزِيدٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي حَمَّادُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْخَوْلَانِيُّ الْقَاضِي قَالَ: أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيه عَن جده أَن رَسُول الله قَالَ: " لَا يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ ".
33 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ بْنُ النُّرْسِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْغَنْدَجَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ: قَالَ ابْنُ الْمُنْذِرِ: حَدَّثَنَا مَعْنٌ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَزْهَرَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ ذِي
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আমীরের (নেতা) অনুমতি ব্যতীত কোনো ওয়াজ-নসিহত করা যাবে না - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
৩২ - আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মাজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাজী হাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-খাওলানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমীর (নেতা), অথবা আমীর কর্তৃক আদিষ্ট ব্যক্তি, অথবা লোকদেখানো ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ মানুষের সামনে নসিহত বা ওয়াজ করবে না।"
৩৩ - মুহাম্মদ ইবনে আবি মনসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল গানায়েম ইবনুন নুরসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুহাম্মদ আল-গান্দজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাহল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইমাম বুখারী বলেছেন: ইবনুল মুনজির বলেছেন: মা'ন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আজহার ইবনে সাঈদ এর সূত্রে মুয়াবিয়া (রা.) থেকে শুনেছেন, তিনি যি...
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
الْكِلَاعِ قَالَ: كَانَ كَعْبٌ يَقُصُّ فِي إِمَارَةِ مُعَاوِيَةَ. فَقَالَ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ لِذِي الْكِلَاعِ: يَا أَبَا شُرَحْبِيلٍ! أَرَأَيْتَ ابْنَ عَمِّكَ؟ أَبِأَمْرِ الْأَمِير يقص؟ فَإِنِّي سَمِعت النَّبِي يَقُولُ: " الْقُصَّاصُ ثَلَاثَةٌ: أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ ".
فَمَكَثَ كَعْبٌ سَنَةً لَا يَقُصُّ حَتَّى أَرْسَلَ إِلَيْهِ مُعَاوِيَةُ فَأَمَرَهُ أَنْ يَقُصَّ.
وَقَدْ حَكَى أَبُو سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ عَنِ ابْنِ سُرَيْجٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ هَذَا فِي الْخُطْبَةِ.
কিলাঈ বলেন: কা'ব মুয়াবিয়ার শাসনামলে ওয়াজ করতেন। তখন আওফ বিন মালিক যু-কিলা'কে বললেন: হে আবু শারাহবিল! আপনি কি আপনার চাচাতো ভাইকে দেখেছেন? তিনি কি আমীরের নির্দেশে ওয়াজ করছেন? কেননা আমি নবীকে বলতে শুনেছি: "ওয়াজকারী হলো তিন প্রকার: আমীর, অথবা আদিষ্ট ব্যক্তি, অথবা দাম্ভিক লোক।"
ফলে কা'ব এক বছর ওয়াজ করা থেকে বিরত থাকলেন, যতক্ষণ না মুয়াবিয়া তাঁর কাছে লোক পাঠালেন এবং তাঁকে ওয়াজ করার আদেশ দিলেন।
আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী ইবনে সুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি খুতবার মধ্যে এটি বলতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
وَكَانَ الْأُمَرَاءُ يَلُونَ الْخُطَبَ فَيَعِظُونَ النَّاسَ، وَيُذَكِّرُونَهُمْ فِيهَا. فَالْمَأْمُورُ مَنْ يُقِيمُهُ الْإِمَامُ خَطِيبًا، فَيَعِظُ النَّاسَ وَيَقُصُّ عَلَيْهِمْ. وَالْمُخْتَالُ الَّذِي نَصَّبَ نَفْسَهُ لِذَلِكَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُؤْمَرَ بِهِ. فَهُوَ يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ طَلَبًا لِلرِّيَاسَةِ. فَهُوَ يُرَائِي بذلك / ويختال.
আর আমীরগণ খুতবা প্রদান করতেন, তাতে তাঁরা মানুষকে উপদেশ দিতেন এবং তাঁদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতেন। সুতরাং আদিষ্ট ব্যক্তি হলেন তিনি, যাঁকে ইমাম খতীব হিসেবে নিযুক্ত করেন; ফলে তিনি মানুষকে নসীহত করেন এবং তাদের কাছে বর্ণনা করেন। আর দাম্ভিক হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো নির্দেশ ব্যতিরেকেই নিজেকে এর জন্য নিয়োজিত করে। সে নেতৃত্বের লালসায় মানুষের নিকট বর্ণনা করে। এর মাধ্যমে সে লোকদেখানো কাজ করে এবং অহঙ্কার প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুসসাস ওয়াল মুজাক্কিরীন
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَابُ الْخَامِسُ فِي التَّعَاهُدِ بِالْمَوَاعِظِ وَقْتَ النَّشَاطِ لَهَا صلى الله عليه وسلم َ -
34 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُظَفَّرِ الدَّاوُدِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَعْيَنَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَرَبْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُذَكِّرُ النَّاسَ فِي كُلِّ خَمِيسٍ. فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ! لَوَدِدْتُ أَنَّكَ تُذَكِّرُنَا كُلَّ يَوْمٍ. قَالَ: إِنَّهُ مَا يَمْنَعُنِي مِنْ ذَلِكَ إِلَّا أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أُمِلَّكُمْ. وَإِنِّي أَتَخَوَّلُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَتَخَوَّلُنَا بِهَا مَخَافَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ.
35 - أَخْبَرَنَا ابْن الْحصين قَالَ: أخبرنَا ابْن الْمَذْهَب قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَابْنُ نُمَيْرٍ قَالَا: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عَلَى
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - পঞ্চম অধ্যায়: উপদেশ গ্রহণের আগ্রহ থাকাকালীন সময়ে উপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে যত্নশীল হওয়া প্রসঙ্গে - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুজাফফর আদ-দাউদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আইয়ুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফিরাবরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারির, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ প্রতি বৃহস্পতিবার মানুষকে উপদেশ দান করতেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুর রহমান! আমি একান্তই আকাঙ্ক্ষা করি যে আপনি যদি প্রতিদিন আমাদের উপদেশ দিতেন। তিনি বললেন: তোমাদের বিরক্ত করে তোলার আশঙ্কাই আমাকে প্রতিদিন উপদেশ দান থেকে বিরত রাখে। আর আমি তোমাদের নসিহত করার জন্য উপযুক্ত সময়ের অন্বেষণ করি, যেমনটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ওপর বিরক্তি আসার আশঙ্কায় নসিহত প্রদানের জন্য উপযুক্ত সময়ের অন্বেষণ করতেন। এটি বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।
৩৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মাজহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া এবং ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন শাকিক থেকে, তিনি বলেন: আমরা উপবিষ্ট ছিলাম...