(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام البخاري وفقه التراجم في جامعه الصحيح القسم: علوم الحديث
الكتاب: الإمام البخاري وفقه التراجم في جامعه الصحيح
المؤلف: نور الدين محمد عتر الحلبي
الناشر: مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية - الكويت. - عدد 4 - سنة 1406 هـ - 1985م
عدد الصفحات: 89
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1432
ইমাম বুখারী এবং তাঁর জামেউস সহীহ-এ অনুচ্ছেদ শিরোনামের ফিকহ (فقه التراجم) বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: ইমাম বুখারী এবং তাঁর জামেউস সহীহ-এ অনুচ্ছেদ শিরোনামের ফিকহ (فقه التراجم)
লেখক: নূরুদ্দীন মুহাম্মদ ইতর আল-হালাবী
প্রকাশক: মাজাল্লাতুশ শরীয়াহ ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়া - কুয়েত। - সংখ্যা ৪ - বছর ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯
মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الإمام البخاري وفقه التراجم في جامعه الصحيح]ـ
المؤلف: نور الدين محمد عتر الحلبي
الناشر: مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية - الكويت. - عدد 4 - سنة 1406 هـ - 1985م
عدد الأجزاء: 1.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
ـ[ইমাম বুখারী এবং তাঁর জামি' আস-সহীহ গ্রন্থে অধ্যায় শিরোনামের (تراجم) ফিকহ]ـ
লেখক: নূরুদ্দীন মুহাম্মদ ইতর আল-হালাবী
প্রকাশক: মাজাল্লাতুশ শরীয়াহ ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ - কুয়েত। - সংখ্যা ৪ - বছর ১৪০৬ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.
খণ্ডের সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ-এর জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা (حواشي) সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الإمام البخاري وفقه التراجم في جامعه الصحيح
الدكتور نور الدين عتر
مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية: 4 ربيع الأول 1406 هـ
شهرة " الجامع الصحيح " للإمام البخاري طبقت الآفاق، لغاية ما توفر فيه من الصحة والثبوت، حتى كان أصح كتاب بعد كتاب الله تعالى، وأقبل عليه الخاصة والعامة ينهلون من معينه الصافي النمير، من صحاح حديث النبي - عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَلَاةِ وَأَزْكَى السَّلَامِ -.
غير أن لهذا الكتاب خصوصية عَلَى غاية من الأهمية، ربما لا يعرفها إلا قليل من أهل الغوص عَلَى معاني الحديث والتفقه فيه. تلك هي عناية الامام البخاري بإبراز «فقه الحديث»، وبيان ما يدل عليه من الفوائد، حَتَّى إنه ليكرر الحديث أو يقطعه ويفرقه على الأبواب ليستنبط منه في كل باب فائدة جديدة أو حكمًا خَاصًّا بذلك الباب، وإن كان لا يكرر تِكْرَارًا حقيقيًا، لكونه يخرج الحديث في كل موضع من طريق أخرى لم يسبق من قبل (1).
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি এবং তাঁর আল-জামি আস-সহিহ গ্রন্থে পরিচ্ছেদের শিরোনামের ফিকহ (فقه التراجم)
ড. নুরুদ্দিন আতর
মাজাল্লাত আল-শরীয়াহ ওয়াদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়্যাহ: ৪ রবিউল আউয়াল ১৪০৬ হিজরি
ইমাম বুখারির "আল-জামি আস-সহিহ"-এর খ্যাতি দিগন্তবিস্তারী হয়েছে এর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং প্রামাণিকতার (ثبوت) সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় থাকার কারণে। এমনকি এটি মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বিদগ্ধজন ও সাধারণ মানুষ—সকলেই নবিজি —তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক—এর বিশুদ্ধ হাদিসের এই স্বচ্ছ ও নির্মল ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণে নিমগ্ন হয়েছেন।
তবে এই কিতাবটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষত্ব রয়েছে, যা হাদিসের অর্থের গভীরে নিমগ্ন হওয়া এবং এর ফিকহ (فقه) চর্চাকারীদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই সম্ভবত অবগত আছেন। সেটি হলো—'ফিকহুল হাদিস' (فقه الحديث) ফুটিয়ে তোলা এবং এর দ্বারা নির্দেশিত নানাবিধ শিক্ষণীয় দিকসমূহ বর্ণনার প্রতি ইমাম বুখারির বিশেষ যত্ন। এমনকি তিনি হাদিস পুনরাবৃত্তি করেন কিংবা তা খণ্ডিতাংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে (أبواب) বিন্যস্ত করেন, যাতে প্রতিটি অধ্যায় থেকে নতুন কোনো উপকারিতা অথবা ওই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট কোনো বিশেষ বিধান উদ্ভাবন (استنباط) করা যায়। যদিও তিনি বাস্তবিক অর্থে কোনো পুনরাবৃত্তি করেন না; কেননা তিনি প্রতিটি স্থানে এমন একটি ভিন্ন সূত্রের (طريق) মাধ্যমে হাদিসটি বর্ণনা (تخريج) করেন যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়নি (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
إلا أن البخاري لما كان يصنف كِتَابًا في رواية الحديث النبوي لا الفقه، ففَد سلك طَرِيقاً مُبْتَكَرًا وَطَرِيفًا، يُحَقِّقُ به هذا المقصد الجليل من غير أن يخرج عن سلك أهل الرواية في التصنيف، وذلك بأن توجه إلي عناوين الكتاب، ويسميها المحدثون " تراجم الكتاب " وأودع فيها تلك الفوائد والاستنباطات، وَتَفَنَّنَ في ذلك تَفَنُّنًا عَجِيبًا حَتَّى جاء [كِتَابُهُ] فَرِيدًا في منهجه هذا، كما جاء فَائِقًا في صحة مروياته.
وهكذا كان " الجامع الصحيح " للامام أبي عبد الله البخاري مُعَلِّمًا في الحديث والفقه، ومدرسة تعلم قارئه الاستنباط من الأحاديث النبوية بمختلف صنوف الاستنباطات، حتى أدهش العلماء وَحَيَّرَهُمْ في هذه الصنوف، واشتهر بينهم هذا القول العظيم المعنى شهرة الأمثال: " فِقْهُ البُخَارِي فِي تَرَاجِمِهِ ".
ولئن كانت الرواية للحديث هي سبيل الدراية في فقهه قضية مُسَلَّمَةً عند كل مَنْ يعقل العلم، كان من الأهمية بمكان كبير تَقْدِيم بحث عن هذه التراجم، وطرق الامام البخاري في التفقه فيها، لتذليل سبيل هذا الغرض الجليل، [وتقريبه] بإيجاز وإيضاح واستيفاء إلى قُرَّاءِ " صحيح الامام البخاري " خاصة، وَالسُنَّةَ عَامَّةً، لاسيما وأن كل ما صدر من طبعات الكتاب أغفل ناشروها في تعاريفاتهم بالكتاب وفاء هذا الجانب الخطير حقه!!
وقد مَهَّدْنَا للبحث بنبذة يسيرة عن حياة الامام البخاري، تبرز نبوغه، وتكامل تكوينه الفقهي، إلى جانب إمامته الكبرى في الحديث، ثم بوجازة عن " جامعه الصحيح " وطريقته فيه، لتكون مَدْخَلاً لبحث تراجمه.
ثم راعينا في بحثنا هذا تقسيم التراجم في إطار مُيَسَّرٍ للفهم، مع الاستعانة بالأمثلة الموضحة، والاستشهاد بأقوال أئمة العلم، وبيان ما يؤدي إليه البحث المُحَقَّقُ في مواضع الاشكال. كما يلحظه القارىء فيما يلي إن شاء الله تعالى. ومنه العون والتوفيق وله الحَمْدُ وَالمِنَّةُ.
তবে ইমাম বুখারি যেহেতু ফিকহ নয় বরং নববী হাদিসের বর্ণনা (رواية) বিষয়ক একটি গ্রন্থ সংকলন করছিলেন, তাই তিনি একটি অভিনব ও অনন্য পথ অবলম্বন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সংকলনের ক্ষেত্রে হাদিস বর্ণনাকারীদের (أهل الرواية) ধারা থেকে বিচ্যুত না হয়েও এই মহৎ উদ্দেশ্য হাসিল করেছেন। আর তা হলো গ্রন্থের শিরোনামগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করা, যাকে হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) "গ্রন্থের অধ্যায় শিরোনাম (تراجم الكتاب)" বলে অভিহিত করেন; তিনি সেখানে ঐ সকল সূক্ষ্ম জ্ঞান ও মাসআলা উদ্ভাবনসমূহ (استنباطات) সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি এক্ষেত্রে এমন বিস্ময়কর নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন যে, তাঁর এই [গ্রন্থটি] যেমন এর পদ্ধতিতে অনন্য হয়ে উঠেছে, তেমনি তার বর্ণিত হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতার (صحة) দিক থেকেও তা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
এভাবেই ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বুখারির "আল-জামি আস-সহিহ" হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের এক দিগদর্শক এবং এমন এক বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে যা এর পাঠককে নববী হাদিস থেকে বিভিন্ন পন্থায় মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) শিক্ষা দেয়। এমনকি এটি আলেম সমাজকে এই উদ্ভাবন শৈলীর মাধ্যমে বিস্মিত ও অভিভূত করেছে এবং তাঁদের মাঝে এই সুগভীর অর্থবহ উক্তিটি প্রবাদের ন্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: "বুখারির ফিকহ তাঁর অধ্যায় শিরোনামসমূহের (تراجم) মধ্যেই নিহিত।"
যেহেতু হাদিসের বর্ণনা (رواية) হলো তার ফিকহ বা মর্মার্থ অনুধাবনের (دراية) পথ—এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলে একটি স্বীকৃত বিষয়, তাই এই অধ্যায় শিরোনামসমূহ (تراجم) এবং এগুলোর মাধ্যমে ইমাম বুখারির ফিকহী মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতিগুলো নিয়ে একটি গবেষণা উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি এই মহান উদ্দেশ্যকে সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে এবং বিশেষ করে "সহিহ ইমাম বুখারি" ও সাধারণভাবে সুন্নাহর পাঠকদের নিকট সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গভাবে [উপস্থাপন] করার জন্য করা হয়েছে। বিশেষ করে যখন দেখা যায় যে, এই গ্রন্থের এ পর্যন্ত যতগুলো সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রকাশকরা গ্রন্থ পরিচিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির যথাযথ হক আদায়ে অবহেলা করেছেন!!
আমরা এই গবেষণার উপক্রমণিকা হিসেবে ইমাম বুখারির জীবনীর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছি, যা হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সুমহান ইমামতির পাশাপাশি তাঁর প্রতিভা এবং ফিকহী যোগ্যতার পূর্ণতাকে ফুটিয়ে তোলে। এরপর তাঁর "আল-জামি আস-সহিহ" এবং সেখানে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে, যেন তা তাঁর অধ্যায় শিরোনাম (تراجم) সংক্রান্ত গবেষণার প্রবেশদ্বার হতে পারে।
অতঃপর আমরা আমাদের এই গবেষণায় অধ্যায় শিরোনামগুলোকে (تراجم) সহজে বোধগম্য কাঠামোর ভিত্তিতে বিন্যস্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি এতে সুস্পষ্ট উদাহরণ পেশ করা হয়েছে, বিজ্ঞ ইমামগণের উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং অস্পষ্ট স্থানগুলোতে যাচাইকৃত (محقق) গবেষণালব্ধ ফলাফল বর্ণনা করা হয়েছে। পাঠক ইনশাআল্লাহ পরবর্তী অংশগুলোতে তা লক্ষ্য করবেন। আল্লাহর নিকটই সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, আর সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
التَّعْرِيفُ بِالإِمَامِ البُخَارِيِّ:هو محمد بن اسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَهْ الجُعَفِيِّ (1) مولاهم البخاري. ولد في بخاري سَنَةَ أربع وتسعين ومائة، وتوفي والده وهو صغير، فنشأ يتيما حيث كانت العناية تَحُفُّهُ وتحيط به من السماء (2).
طَلَبُهَ لِلْحَدِيثِ وَرِحْلَتِهِ:وَحُبِّبَ إليه العلم، فبدأ بطلب الحديث وحفظه وهو صبي (3) فحفظ حديث بلدته، ثم قرأ كتب ابن المبارك وقد طعن في السادسة عشرة، فرحل في هذه السن إلى الحجاز، ومكث ست سنوات يطلب الحديث في الحجاز؛ ثم تَنَقَّلَ في البلدان، فدخل الشام ومصر والجزيرة وبلاد العراق.
شُيُوخُ البُخَارِي:وقد كتب عن شيوخ تلك البلاد حتى كثر عددهم (4) وكان فيهم جملة وافرة ممن تقدم سماعه وعلا إسناده. ذكر منهم الحاكم ما يقارب التسعين (5) وسمع أئمة عصره
--------------------------------------------
ইমাম বুখারীর পরিচয়:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহীম ইবনে আল-মুগীরা ইবনে বারদিজবাহ আল-জু'ফী (১) তাঁদের মুক্তদাস (مولى), আল-বুখারী। তিনি ১৯৪ হিজরী সনে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন; এমতাবস্থায় আসমানি বিশেষ তত্ত্বাবধান তাঁকে বেষ্টন ও পরিবেষ্টিত করে রেখেছিল (২)।
তাঁর হাদিস অন্বেষণ ও সফর (رحلة):তাঁর অন্তরে ইলমের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়, ফলে তিনি বালক থাকাবস্থায়ই হাদিস অন্বেষণ ও তা মুখস্থকরণ (حفظ) শুরু করেন (৩)। তিনি নিজ শহরের হাদিসগুলো মুখস্থ করেন, এরপর যখন তাঁর বয়স ষোল বছরে উপনীত হয়, তখন তিনি ইবনুল মুবারকের কিতাবসমূহ পাঠ করেন। এই বয়সেই তিনি হিজাজের উদ্দেশ্যে সফর (رحلة) করেন এবং সেখানে ছয় বছর অবস্থান করে হাদিস অন্বেষণ করেন; অতঃপর তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন, ফলে তিনি সিরিয়া, মিশর, জাজিরা এবং ইরাকের শহরগুলোতে প্রবেশ করেন।
বুখারীর উস্তাদবৃন্দ (شيوخ):তিনি সেসব অঞ্চলের উস্তাদদের (شيوخ) নিকট থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন, এমনকি তাঁদের সংখ্যা অনেক হয়ে গিয়েছিল (৪)। তাঁদের মধ্যে এমন এক বিশাল জামাত ছিল যাদের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) ছিল অগ্রবর্তী এবং যাদের সনদ (إسناد) ছিল উচ্চ পর্যায়ের (علو)। আল-হাকিম তাঁদের মধ্য থেকে প্রায় নব্বই জনের কথা উল্লেখ করেছেন (৫) এবং তিনি তাঁর যুগের ইমামদের থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وأفاد منهم، فمن شيوخه: محمد بن يوسف الفِرْيَابِيُّ صاحب " المسند " (212 هـ)، وَعُبَيْدُ اللهِ بْنِ مُوسَى العَبْسِيِّ (123 هـ)، وأبو بكر عبد الله بن الزبير الحُمَيْدِيُّ صاحب " المسند " (219 هـ) (1)، ومنهم الإمام إسحاق بن إبراهيم المشهور بِابْنِ رَاهُوَيهْ، والإمام أحمد بن حنبل، وعلي بن المديني إمام عصره كافة، وقد أكثر عنه وَتَخَرَّجَ عليه، وغيرهم من الشيوخ لا يحصون كثرة.
تَفَقُّهُهُ:وقد اتجه منذ حداثته إلى الفقه، فقرأ فقه أهل الرأي، ثم أخذ - بَعْدُ - فقه الشافعي، وفقه الإمام مالك أَيْضًا (2). وكانت صلته بفقه الإمام أحمد بن حنبل متينة قوية، فجمع فقه المدارس الاجتهادية في عصره مِمَّا ساعده على الاستقلال برأيه. حيث انتفع كثيرًا من طريقة أهل الرأي في الاستنباط ودقة النظر، ثم باطلاعه على نقد أهل الحديث لهم على وفق الحديث، فكان ذلك تَمْهِيدًا للإمام البخاري أن يكون له نظر ممتاز وفقه اجتهادي، خصوصًا ولم يكن في ذلك العصر جمود المُقَلِّدِينَ لِلْمَذَاهِبِ، بل كانوا يتفقهون ويستدلون فيوافقون أو يخالفون.
وقد اشتهر البخاري بالفقه، واعترف له بالاجتهاد، حتى قال نعيم بن حماد: «مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمِاعِيلَ البُخَارِيُّ: فَقِيهُ هَذِهِ الأُمَّةِ»، وَسَمَّاهُ شيخه محمد بن بشار: «سَيِّدُ الفُقَهَاءِ» (3).
نُبُوغُهُ:وكان البخاري ذا مواهب عظيمة، فظهر علمه وفضله من وقت مبكر، فأخذ عنه
--------------------------------------------
তিনি তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের (শায়খদের) মধ্যে অন্যতম হলেন: "মুসনাদ" রচয়িতা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি (২১২ হি.), উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি (১২৩ হি.) এবং "মুসনাদ" রচয়িতা আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবাইর আল-হুমাইদি (২১৯ হি.) (১)। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইমাম ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম—যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে প্রসিদ্ধ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং আলী ইবনুল মাদিনি—যিনি তাঁর সময়ের সর্বজনমান্য ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (أكثر عنه) এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন (تخرج عليه)। এছাড়া তাঁর আরও অসংখ্য শিক্ষক রয়েছেন যাঁদের গণনা করা সম্ভব নয়।
তাঁর ফিকহী বুৎপত্তি:তিনি তাঁর শৈশব থেকেই ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন। প্রথমে তিনি আহলে রায়ের ফিকহ অধ্যয়ন করেন, পরবর্তীতে তিনি ইমাম শাফেয়ি এবং ইমাম মালিকের ফিকহও অর্জন করেন (২)। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের সাথে তাঁর সুগভীর ও মজবুত সম্পর্ক ছিল। এভাবে তিনি তাঁর সময়ের বিভিন্ন ইজতিহাদী ধারার ফিকহ একত্রিত করেন, যা তাঁকে নিজস্ব স্বতন্ত্র মতামতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করেছিল। তিনি মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) এবং সূক্ষ্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আহলে রায়ের পদ্ধতি থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাদিসের আলোকে আহলে রায়ের প্রতি আহলে হাদিসগণের সমালোচনাগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে ইমাম বুখারির জন্য এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ও ইজতিহাদী ফিকহ অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়। বিশেষ করে সেই যুগে মাযহাবগুলোর অন্ধ অনুসারীদের (مقلدون) স্থবিরতা ছিল না; বরং তাঁরা ফিকহ চর্চা করতেন এবং দলিল দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, যার মাধ্যমে তাঁরা কখনো একমত হতেন আবার কখনো দ্বিমত পোষণ করতেন।
ইমাম বুখারি ফিকহ শাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সক্ষমতা সকলে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এমনকি নুআইম বিন হাম্মাদ বলেছিলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি হলেন এই উম্মতের ফকিহ (فقيه)"। তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে বাশশার তাঁকে "সাইয়িদুল ফুকাহা" (ফকিহদের সর্দার) বলে অভিহিত করেছেন (৩)।
তাঁর প্রতিভা:ইমাম বুখারি ছিলেন অসাধারণ মেধার অধিকারী। খুব অল্প বয়সেই তাঁর জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন শুরু করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
الناس ولا زال شَابًّا لم تبقل لحيته (1) ثم اكتمل أمره، فتزاحم عليه الطلبة وعلماء الحديث زِحَامًا شَدِيدًا (2) وكثر تلاميذه و
الرواة عنه حتى لا يحصرون، ومنهم علماء أَجِلَاّءَ تَخَرَّجُوا عليه وكانوا أئمة كبارًا.
الرُوَّاةُ عَنْهُ:
فَمِمَّنْ روى عنه من شيوخه: إسحاق بن محمد الرمادي، وعبد الله بن محمد المُسْنَدِيِّ، ومحمد بن خلف بن قتيبة. ومن الأئمة: إبراهيم الحربي، ومحمد بن نصر المَرْوزِيِّ، وغيرهم كثير، من خاصتهم مسلم بن الحجاج، وأبو عيسي الترمذي، فقد تخرجا به وَأَكْثَرَا من الاعتماد عليه (3).
صِفَاتُهُ وَخُلُقُهُ:كذلك كان البخاري في غاية الفضل والكمال، لما تَحَلَّى به من كريم الخصال وجميل الصفات: فالبخاري سَخِيُّ النفس، يتفق ما يجده في وجوه الخير ولا يدخر، مُتَعَبِّدٌ، مُكْثِرٌ من تلاوة القرآن، وَرِعٌ في معاملاته، يتقي أَدْنَى شُبْهَةٍ. وكان شديد الاحَتَّىاط في حقوق العباد، حتى إنه قَلَّمَا يُصَرِّحُ بتجريح الرواة، وأكثر ما يقول: «مُنْكَرُ الحَدِيثِ، سَكَتُوا عَنْهُ»، «فِيهِ نَظَرٌ» حَتَّى كان هذا التعبير «مُنْكَرُ الحَدِيثِ» اصْطِلَاحًا خَاصًّا لَهُ (4).
فهو بحق فاضل العلماء وعالم الفضلاء (5).
--------------------------------------------
মানুষ এবং তিনি তখনও তরুণ ছিলেন, তখনও তাঁর দাড়ি ওঠেনি (১), অতঃপর তাঁর বিষয়টি পূর্ণতা পায়। ফলে ছাত্র ও হাদিস বিশারদগণ তাঁর নিকট প্রচণ্ড ভিড় জমাতেন (২)। তাঁর ছাত্র এবং তাঁর থেকে
বর্ণনাকারীদের (الرواة) সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায় যা গণনা করা সম্ভব ছিল না। তাঁদের মধ্যে এমন অনেক মহান আলেম ছিলেন যাঁরা তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং বড় ইমাম হিসেবে গণ্য হয়েছেন।
তাঁর থেকে বর্ণনাকারীগণ:
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক বিন মুহাম্মদ আল-রামানি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুসনাদি এবং মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন কুতাইবা। ইমামদের মধ্যে রয়েছেন: ইবরাহিম আল-হারবি, মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াজি এবং আরও অনেকে। তাঁদের বিশেষ শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ এবং আবু ঈসা আল-তিরমিজি; তাঁরা দুজনেই তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর ওপর প্রচুর নির্ভর করেছেন (৩)।
তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র:একইভাবে বুখারি ছিলেন শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার চূড়ান্ত পর্যায়ে, কারণ তিনি মহৎ গুণাবলি ও সুন্দর বৈশিষ্ট্যে অলঙ্কৃত ছিলেন। বুখারি ছিলেন অত্যন্ত উদারমনা, তিনি যা পেতেন তা কল্যাণের পথে ব্যয় করতেন এবং সঞ্চয় করতেন না। তিনি ছিলেন ইবাদতগুজার, অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াতকারী এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে পরহেজগার (ورع), তিনি সামান্যতম সন্দেহ থেকেও বেঁচে চলতেন। বান্দার হকের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, এমনকি তিনি বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনার (تجريح) ক্ষেত্রে খুব কমই সরাসরি মন্তব্য করতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: «হাদিস বর্ণনায় অগ্রহণযোগ্য (منكر الحديث)», «তাঁর ব্যাপারে তাঁরা নীরবতা অবলম্বন করেছেন (سكتوا عنه)», «তাঁর ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (فيه نظر)»; এমনকি এই «হাদিস বর্ণনায় অগ্রহণযোগ্য (منكر الحديث)» অভিব্যক্তিটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ পারিভাষিক শব্দ (اصطلاح) হিসেবে গণ্য হতো (৪)।
সুতরাং তিনি যথার্থই আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং গুণীজনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আলেম (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
حِفْظُهُ وَقُوَّةُ ذَاكِرَتِهِ:كان البخاري مَوْهُوبًا، مِمَّنْ اختصهم اللهُ بالحفظ وقوة الذاكرة، حَتَّى بلغ في ذلك أقصي غاية، وحتى عرف بذلك واشتهر، وكثرت أخباره واستفاضت.
قال محمد بن حُّمَوَيَهْ: سمعت البخاري يقول: «أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفَ حَدِيثٍ صَحِيحٍ، وَأَحْفَظُ مِائَتَيْ أَلْفَ حَدِيثٍ غَيْرَ صَحِيحٍ».
ومن أخبار حفظه الشهيرة: مسألة امتحانه لما قدم بغداد، فقد قلبوا له مائة حديث فجعلوا متن هذا الاسناد لإسناد آخر، وإسناد هذا المتن لمتن آخر، وألقوها عليه امتحانًا له فأعاد سَرْدَهَا كما سمعها، وعلى ترتيب سماعها. ثم رواها عَلَى الوجه الصحيح، فأعاد كل سند لمتنه، وكل متن لإسناده. فأقر الناس له بالحفظ وأذعنوا له بالفضل (1).
إِمَامَتُهُ فِي الحَدِيثِ:وقد أجمعت الأُمَّةُ عَلَى إمامة محمد بن إسماعيل البخاري في الحديث، وأثني عليه الناس، وكان رؤساء الحديث يقضون له عَلَى أنفسهم في النظر والمعرفة بالحديث.
قال الامام أحمد بن حنبل: «مَا أَخْرَجَتْ خُرَاسَانُ مِثْلَ مُحَمَّدٍ بْنِ إِسْمَاعِيلَ».
وقال له الامام مسلم بن الحجاج: «أَشْهَدُ أَنَّهُ لَيْسَ فِي الدُّنْيَا مِثْلُكَ».
وحسبنا قول الحاكم فيه: «هُوَ إِمَامُ أَهْلِ الحَدِيثِ بِلَا خِلَافٍ بَيْنَ أَهْلِ النَّقْلِ» (2).
--------------------------------------------
তাঁর মুখস্থশক্তি ও স্মৃতির প্রখরতা:বুখারি ছিলেন একজন প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব, যাঁকে আল্লাহ তাআলা মুখস্থ রাখার ক্ষমতা ও প্রখর স্মৃতিশক্তি দিয়ে বিশেষভাবে ধন্য করেছিলেন। এই ক্ষেত্রে তিনি চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন, এমনকি এ গুণের কারণে তিনি সুপরিচিত ও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন এবং এ সংক্রান্ত তাঁর সংবাদসমূহ বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ হয়ে পড়ে।
মুহাম্মাদ ইবনে হামাউইয়াহ বলেন: আমি বুখারিকে বলতে শুনেছি: «আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস মুখস্থ রাখি এবং দুই লক্ষ সহিহ নয় এমন (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ রাখি।»
তাঁর মুখস্থশক্তির প্রখরতার একটি বিখ্যাত ঘটনা হলো: বাগদাদে আগমনের সময় তাঁর পরীক্ষার বিষয়টি। তারা তাঁর কাছে একশটি হাদিস উলটপালট করে দেয়; অর্থাৎ একটি সনদের (إسناد) মতনকে (متن) অন্য সনদের (إسناد) সাথে এবং অন্য সনদের (إسناد) মতনকে (متن) অন্য মতনের (متن) সাথে জুড়ে দেয়। পরীক্ষা স্বরূপ তারা এগুলো তাঁর সামনে উপস্থাপন করে। তিনি সেগুলো যেভাবে শুনেছিলেন সেভাবেই এবং শোনার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী পুনরায় ব্যক্ত করেন। এরপর তিনি সেগুলো সঠিকরূপে বর্ণনা করেন এবং প্রতিটি সনদকে (إسناد) তার মতনের (متن) সাথে এবং প্রতিটি মতনকে (متن) তার সনদের (إسناد) সাথে ফিরিয়ে দেন। ফলে মানুষ তাঁর মুখস্থশক্তির স্বীকৃতি দেয় এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করে (১)।
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব):হাদিস শাস্ত্রে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির ইমামত (إمامة)-এর বিষয়ে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে এবং সকলে তাঁর প্রশংসা করেছেন। হাদিসের প্রথিতযশা ইমামগণ হাদিস বিচার ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজেদের তুলনায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: «খুরাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের মতো আর কাউকে জন্ম দেয়নি।’
ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, দুনিয়াতে আপনার মতো আর কেউ নেই।’
আমাদের জন্য আল-হাকিমের এই উক্তিটিই যথেষ্ট: «বর্ণনা বিশেষজ্ঞদের (أهل النقل) মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিনি হাদিস বিশারদদের ইমাম (إمام) (২)।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
أَثَرُهُ فِي عِلْمِ الحَدِيثِ:وقد كان له فضله الذي لا ينكر عَلَى الحديث وأهله - بما بذل من المجهود العلمي العظيم، فإنه أسهم في حركة النهضة الحديثية بسهم وافر، فوضع في الحديث وَعِلَلِهِ وَرِجَالِهِ مؤلفات كثيرة، تقدم فيها بهذه الفنون تقدما كَبِيرًا، وبلغ بها الغاية، وكانت عُمْدَةً لمن جاء بعده، وهي كثيرة وافرة، منها: " الجامع الصحيح "، والتواريخ الثلاثة: " الكبير "، و " الأوسط "، و " الصغير "، و" الضعفاء "، و" المتروكين "، وغيرها، وهي تزيد عَلَى عشرين مُؤَلَّفًا (1) طبع منها جملة تقارب العشرة.
وَفَاتُهُ:بهذا الجهد العلمي في خدمة الحديث النبوي كانت حياة البخاري كلها جهادًا وعَمَلاً وَتَحَمُّلاً للمصاعب وَصَبْرًا عَلَى المشاق، وقد امتُحِنَ في آخر عمره في مدينة نيسابور، حيث نُسِبَ إليه القول بخلق لفظنا بالقرآن، وما بهذا الرأي من عيب، ولكن القوم كانوا عَلَى عصبية شديدة وتهيب عظيم في هذا الموضوع، لما نال أَهْلَ السُنَّةِ وَالحَدِيثِ وإمامهم المقدم أحمد بن حنبل من الفتنة الشديدة، فشغب عليه الناس، وانفضوا عنه، وخشي البخاري على نفسه، فترك مدينة نيسابور (2) - وكان اسْتَقَرَّ بها زمانا - فذهب إلي بلدته بُخَارَى حيث اسْتُقْبِِلَ أحسن استقبال، ولكنه لم يلبث أَنْ اضْطُرَّ للخروج منها، فذهب إلي بَيِْكَنْدْ، ثم اتجه إلي مدينة سَمَرْقََنْدْ. ولكنه مرض في الطريق فلبث عند أقربائه بقرية (خَرْتَنْكْ)، حيث انتقل إلي جوار ربه رَاضِيًا
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর প্রভাব:হাদিস এবং হাদিস বিশারদদের ওপর তাঁর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে—যা তিনি তাঁর মহান ইলমি প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিবেদন করেছেন। তিনি হাদিস পুনর্জাগরণ আন্দোলনে এক বিশাল অংশীদারত্ব রেখেছেন। তিনি হাদিস, এর ত্রুটিসমূহ (علل) এবং বর্ণনাকারীগণের (رجال) বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি এসব বিদ্যায় ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেন এবং এর চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছান। এগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থসংখ্যা অনেক, যার মধ্যে রয়েছে: "আল-জামে আস-সহিহ", তিনটি ইতিহাসগ্রন্থ: "আল-কাবীর", "আল-আওসাত" ও "আস-সাগীর", এবং "আদ-দুয়াফা" (দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারী বিষয়ক গ্রন্থ), "আল-মাতরুকিন" (পরিত্যক্ত (المتروكين) বর্ণনাকারী বিষয়ক গ্রন্থ) এবং অন্যান্য। তাঁর রচনাবলি বিশটিরও অধিক (১), যার মধ্যে প্রায় দশটি মুদ্রিত হয়েছে।
তাঁর মৃত্যু:নববী হাদিসের খিদমতে এই ইলমি প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইমাম বুখারীর পুরো জীবনটাই ছিল জিহাদ, আমল, প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং কষ্টের ওপর ধৈর্যের এক মূর্ত প্রতীক। জীবনের শেষভাগে নিশাপুর শহরে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন হন, যেখানে তাঁর প্রতি "কুরআন পাঠের উচ্চারণ মাখলুক (সৃষ্ট)"—এই মতটি আরোপ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই মতের মধ্যে কোনো দোষ ছিল না, কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল হাদিস এবং তাঁদের অগ্রগণ্য ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ওপর দিয়ে যে ভয়াবহ ফিতনা অতিক্রান্ত হয়েছিল, সে কারণে এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে চরম গোঁড়ামি ও প্রবল ভীতি বিরাজ করছিল। ফলে লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করে। ইমাম বুখারী নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হলেন এবং নিশাপুর শহর ত্যাগ করলেন (২)—যেখানে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর নিজ শহর বুখারায় ফিরে গেলেন এবং সেখানে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু অচিরেই তিনি সেখান থেকেও বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি বয়কান্দে যান এবং এরপর সমরকন্দ শহরের দিকে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং 'খারতাঙ্ক' গ্রামে তাঁর আত্মীয়দের নিকট অবস্থান করেন। সেখানেই তিনি সন্তুষ্টচিত্তে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
مَرْضِيًّا، وذلك ليلة السبت ليلة عيد الفطر سَنَةَ ست وخمسين ومائتين (1) رضي الله عنه وَأَجْزَلَ مَثُوبَتَهُ -.
"
الجَامِعُ الصَّحِيحُ " وَطَرِيقَةُ البُخَارِيِّ فِيهِ:وأهم كُتُبِ الامام البخاري وأشهرها كتابه " الجامع الصحيح " الذي طبق صيته الآفاق. وهو أصح كُتُبِ السنة واسمه: " الجَامِعُ المُسْنَدُ الصَّحِيحُ المُخْتَصَرُ مِنْ أُمُورِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَنِهِ وَأَيَّامِهِ " (2) جمع فيه مما هو على شرطه من الحديث الصحيح، وقصد إلى استنباط الفوائد والأحكام من الأحاديث، فكانت طريقته في تصنيفه: أن وضعه على الفقه فجعله مُرَتَّبًا على الأبواب، وانتزع من أحاديثه الفوائد الفقهية والنكت الحكمية، وجعل ذلك تراجم بأقوال الصحابة ومن بعدهم مُسْتَدِلاًّ لَهَا أَوْ مُرَجِّحًا بعضها على بعض، أَوْ اسْتِئْنَاسًا لما اختاره وَارْتََآهُ، فكان كتابًا عظيمًا في أحاديثه الصحيحة عظيمًا في طريقته، حيث أَتَى بفقه الحديث، وجمع الآثار والأقوال، فجاء كِتَابًا حَافِلاً في الحديث والفقه وقد بهر ذلك الصنيع الأئمة من بعده فأثنوا عليه الثناء المستطاب.
وأجتزيء هنا في وصفه بكلمة الامام النووي في " شرحه الجامع " أقدم بها لدراسة موجزة عن طريقته في تراجم جامعة:
قال النووي (3) ليس مقصوده بهذا الكتاب الاقتصار على الحديث وتكثير المتون، بل مراده الاستنباط منها، والاستدلال لأبواب أرادها من الأصول والفروع والزهد
--------------------------------------------
সন্তুষ্টচিত্তে; আর তা ছিল ২৫৬ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের রাতে, শনিবার রাতে (১)—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর প্রতিদানকে সমৃদ্ধ করুন—।
"
আল-জামি আস-সহিহ " এবং এতে ইমাম বুখারীর কর্মপদ্ধতি:ইমাম বুখারীর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রসিদ্ধ হলো তাঁর কিতাব "আল-জামি আস-সহিহ", যার সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং এর নাম হলো: "আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি" (২)। এতে তিনি তাঁর শর্তানুসারে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন এবং হাদিসসমূহ থেকে ফায়দা (উপকারিতা) ও আহকাম (বিধান) উদ্ভাবনের সংকল্প করেছেন। কিতাবটি বিন্যাসে তাঁর পদ্ধতি ছিল: তিনি এটিকে ফিকহি আঙ্গিকে সাজিয়েছেন এবং অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন। তিনি হাদিসসমূহ থেকে ফিকহি মাসয়ালা ও হিকমতপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ বের করেছেন এবং সেগুলোকে সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীগণের বাণীর মাধ্যমে শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; কখনও সেগুলোর স্বপক্ষে দলিল হিসেবে, কখনও কোনো একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্য, আবার কখনও তাঁর পছন্দকৃত ও ইজতিহাদলব্ধ মতের সমর্থনে। ফলে এটি এর সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের দিক থেকেও যেমন মহান একটি কিতাব, তেমনি এর সংকলন পদ্ধতির দিক থেকেও শ্রেষ্ঠ, যেখানে তিনি হাদিসের ফিকহ নিয়ে এসেছেন এবং আসার (آثار) ও বাণীসমূহকে একত্রিত করেছেন। ফলে এটি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের এক সমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী ইমামগণ তাঁর এই কর্ম দেখে বিমোহিত হয়েছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এর বর্ণনায় আমি এখানে ইমাম নববীর "শারহুল জামি"-এর একটি বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যা তাঁর শিরোনাম রচনার পদ্ধতির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার ভূমিকা হিসেবে পেশ করছি:
ইমাম নববী (৩) বলেন: "এই কিতাব দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কেবল হাদিস বর্ণনা এবং মতন (متون) এর আধিক্য নয়; বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো হাদিস থেকে মাসয়ালা উদ্ভাবন করা এবং উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা মাসয়ালা) ও যুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা) সংক্রান্ত তাঁর অভীষ্ট অধ্যায়গুলোর জন্য দলিল পেশ করা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
والآداب والأمثال، وغيرها من الفنون. ولهذا المعنى أخلى كثيرًا من الأبواب عن إسناد الحديث واقتصر على قوله: فيه فلان الصحابي عن النبي صلى الله عليه وسلم أو فيه حديث فلان، ونحو ذلك
… وذكر في تراجم الأبواب آيات كثيرة من القرآن العزيز، وربما اقتصر في بعض الأبواب عليها، لا يذكر معها شيئًا أصلاً، وذكر أيضا في تراجم الأبواب أشياء كثيرة جدًا من فتاوى الصحابة والتابعين فمن بعدهم، وهذا يصرح لك بما ذكرناه. اهـ. ونفصل هذا الإجمال فيما يلي:
أَهَمِيَّةُ التَّبْوِيبِ:الترتيب والتنسيق أول ما يواجه قارىء الكتاب ويلفت نظرة وانتباهه، ويحكم منه على عقل المؤلف قبل أن يحكم على علمه، فطريقة العرض ووضع المعلومات في المؤلفات العلمية لها قيمة بالغة في رفع شأن الكتاب، وأثر عظيم في انتفاع القارىء به، فكم من كُتُبٍ ضَمَّتْ غَزِيرَ العِلْمِ نزلت رتبتها بسبب ضعف تبويبها، حيث يجد القارئنفسه محتاجا لقراءة جميع الكتاب في سبيل مسألة يطلبها منه.
فلحكمة جليلة نجد " صحيح البخاري " وسائر " الكتب الستة " الأصول قَدْ رُتِّبَتْ عَلَى الموضوعات، فجمع مؤلفوها الأحاديث المتعلقة بكل موضوع في مكان واحد، ثم أعلموا عليها بعناوين ترشد القارئ، فيما عدا مسلما فيما علمنا من صنيعه، أنه أخلى كتابه من التراجم مع أنه مرتب عَلَى الأبواب.
ذلك أن هذه الطريقة التي ساروا عليها تمتاز عن طريقة الترتيب على المسانيد، أو على حروف المعجم لأول كلمة في الحديث، أو غير ذلك من الطرق بفوائد مهمة منها:
1 - أن الانسان ربما لا يعرف رواي الحديث، لكنه يعرف المعنى الذي يطلب الحديث من أجله، فكم يحتاج من الجهد في سبيل العثور على ضالته.
2 - كذلك ربما لا يحفظ لفظ الحديث أو أول جملة منه، كما أن ألفاظ الحديث تختلف بحسب الروايات، فيكون أمرًا عسيرًا العثور على الحديث المطلوب.
أما إذا أثبتت الأحاديث في الأماكن التي هي دليل عليها من موضوعها، فإنه يكون
...এবং শিষ্টাচার, প্রবাদ-প্রবচন ও অন্যান্য শিল্পকলা। এই লক্ষ্যেই তিনি অনেক অধ্যায়কে হাদিসের সনদ (إسناد) থেকে খালি রেখেছেন এবং কেবল এইটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যে: 'এতে অমুক সাহাবি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন' অথবা 'এতে অমুক ব্যক্তির হাদিস রয়েছে', ইত্যাদি
… এবং তিনি অধ্যায়ের শিরোনামগুলোতে (تراجم الأبواب) পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত উল্লেখ করেছেন; কখনো কখনো কিছু অধ্যায়ে কেবল সেগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, সেখানে অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। অধ্যায়ের শিরোনামগুলোতে (تراجم الأبواب) তিনি সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের অনেক ফতোয়াও উল্লেখ করেছেন। এটি আমাদের আলোচনারই স্পষ্ট প্রমাণ। সমাপ্ত। আমরা এই সারসংক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরছি:
অধ্যায় বিন্যাসের (تبويب) গুরুত্ব:বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলতা হলো প্রথম বিষয় যা কিতাব পাঠকারীর সামনে আসে এবং তার দৃষ্টি ও মনোযোগ আকর্ষণ করে। এর মাধ্যমেই তিনি লেখকের জ্ঞান বিচার করার আগে তার প্রজ্ঞা বিচার করেন। বৈজ্ঞানিক রচনাবলীতে তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি ও তথ্যের বিন্যাসের গুরুত্ব কিতাবের মর্যাদা বৃদ্ধিতে অপরিসীম এবং পাঠকের উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে এর বিশাল প্রভাব রয়েছে। কত এমন কিতাব রয়েছে যা অগাধ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কেবল দুর্বল বিন্যাসের (تبويب) কারণে তার মান হারিয়েছে, যেখানে পাঠককে কাঙ্ক্ষিত একটি মাসআলা খোঁজার জন্য পুরো কিতাবটি পড়তে হয়।
এক মহান হিকমতের কারণেই আমরা দেখি যে, সহিহ বুখারি এবং অন্যান্য মূল কুতুবুস সিততাহ বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে এর সংকলকগণ প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোকে এক স্থানে জমা করেছেন, অতঃপর এমন শিরোনাম যুক্ত করেছেন যা পাঠককে পথনির্দেশ দেয়। তবে আমাদের জানামতে ইমাম মুসলিমের পদ্ধতি ভিন্ন; তিনি তাঁর কিতাবকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করলেও শিরোনাম (تراجم) থেকে খালি রেখেছেন।
এই পদ্ধতিটি মুসনাদ ভিত্তিক বিন্যাস কিংবা হাদিসের প্রথম শব্দের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অথবা অন্য সব পদ্ধতি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপযোগিতার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
1 - মানুষ হয়তো হাদিসের বর্ণনাকারীকে (راوي) চেনে না, কিন্তু সে যে উদ্দেশ্যে হাদিসটি খুঁজছে তার অর্থ জানে। সে ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে তাকে কতই না পরিশ্রম করতে হতো।
2 - একইভাবে, হয়তো তার হাদিসের শব্দ বা এর প্রথম বাক্যটি মুখস্থ নেই। তা ছাড়া বর্ণভেদে হাদিসের শব্দেও ভিন্নতা থাকে, ফলে কাঙ্ক্ষিত হাদিসটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি হাদিসগুলোকে সেগুলোর বিষয়বস্তুর আলোকে প্রাসঙ্গিক স্থানে স্থাপন করা হয়, তবে তা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الوصول إلى الحديث المطلوب أيسر وأدني إلى توفير جهد القارىء.
3 - تقريب الحديث من الفهم لأول وَهْلَةٍ، فإن الحديث إذا ورد في كتاب الصلاة علم الناظر فيه أن الحديث دليل ذلك الحكم، وأنه يتعلق بمسألة كذا، مما وضع عنوانًا على الحديث، فلا يحتاج لأن يفكر في ذلك، وهكذا تقوم الأبواب بِمُهِمَّةِ المُرْشِدِ الذي يوضح الطريق للسالك.
4 - تنشيط القارىء بانتقالة من وحدة موضوعية إلي وحدة أخرى، فإن ذلك يكسبه تركيزًا في الفكر ونشاطًا عند انتقالة إلى موضوع آخر.
ووضع الأبواب وعناوينها يكلف صاحب المؤلف مَجْهُودًا ذِهْنِيًّا وَتَفْكِيرًا عَمِيقًا، لذلك كانت دراسة تراجم أي كتاب في الحديث عَمَلاً مُهِمًّا لَا بُدَّ مِنْهُ لمن يريد دراسة الكتاب، ويشرح طريقته وفقهه، فإن العناوين والتراجم ليست دليلا على ذوق المؤلف فحسب، بل على فهمه، وفقهه، وعلى اختياره في المسألة التي تضمنها الحديث. كما قالوا: «فِقْهُ البُخَارِي فِي تَرَاجِمِهِ».
اعْتِنَاءُ العُلَمَاءِ بِدِارَسَةِ تَرَاجِمِ البُخَارِيِّ:وقد حظي " الجامع الصحيح " للإمام البخاري بعناية كبيرة من العلماء في دراسة تراجمه، لما عُرِفَ مِنْ دِقَّتِهِ في وضعها، ولما أودعه من العلم والفقه فيها، فتكلموا عليها في شروحهم " للجامع الصحيح "، وفي فصول عقدها بعضهم في مقدمات شروحهم. وليس هذا فحسب بل أفردها كثير من العلماء بتأليف مفرد، أفاد فيه وأجاد.
قال الحافظ ابن حجر (1): «وَقَدْ جَمَعَ العَلَاّمَةُ نَاصِرُ الدِّينِ [أَحْمَدُ] بْنُ المُنَيِّرْ خَطِيبُ الإسْكَنْدَرِيَّةِ مِنْ ذَلِك أَرْبَعمِائَة تَرْجَمَةٍ وَتَكَلَّمَ عَلَيْهَا وَلَخَّصَهَا القَاضِي بَدْرُ الدِّينِ بْنُ جَمَاعَةَ وَزَادَ عَلَيْهَا أَشْيَاءَ.
وَتَكَلَّمَ عَلَى ذَلِكَ أَيْضًا بَعْضُ المَغَارِبَةِ وَهُوَ مُحَمَّدٌ بْنُ مَنْصُورٍ بْنُ حَمَامَةَ السِّجِلْمَاسِيِّ وَلَمْ يُكْثِرْ مِنْ ذَلِكَ بَلْ جُمْلَةُ مَا فِي كِتَابِهِ نَحْوَ مِائَةَ تَرْجَمَةٍ وَسَمَّاهُ " فَكُّ
--------------------------------------------
কাঙ্ক্ষিত হাদিস খুঁজে পাওয়া সহজতর হয় এবং তা পাঠকের শ্রম লাঘব করে।
৩ - প্রথম দৃষ্টিতেই হাদিসটি অনুধাবনের নিকটবর্তী করে দেয়; কেননা হাদিসটি যখন সালাত অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়, তখন পাঠক বুঝতে পারেন যে হাদিসটি ঐ বিধানের দলীল এবং তা অমুক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যা হাদিসের শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে তাকে এ বিষয়ে চিন্তা করতে হয় না। এভাবে অধ্যায়গুলো একজন পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে, যে পথচারীর জন্য রাস্তা স্পষ্ট করে দেয়।
৪ - একটি বিষয়ভিত্তিক অধ্যায় থেকে অন্যটিতে যাওয়ার মাধ্যমে পাঠককে উজ্জীবিত করা; কারণ এটি তার চিন্তায় একাগ্রতা তৈরি করে এবং পরবর্তী বিষয়ে যাওয়ার সময় তার মাঝে উদ্দীপনা যোগায়।
অধ্যায় বিন্যাস এবং সেগুলোর শিরোনাম প্রদান লেখকের জন্য গভীর চিন্তা ও মানসিক পরিশ্রমের দাবি রাখে। একারণেই হাদিসের যেকোনো গ্রন্থের অধ্যায়-শিরোনামসমূহ (تراجم) নিয়ে গবেষণা করা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ঐ গ্রন্থটি অধ্যয়নকারী এবং এর পদ্ধতি ও ফিকহ (فقه) ব্যাখ্যা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। কেননা শিরোনাম ও অধ্যায়-বিন্যাস (تراجم) কেবল লেখকের রুচিরই পরিচয় দেয় না, বরং তা তাঁর বুঝ, ফিকহ (فقه) এবং হাদিস সংশ্লিষ্ট মাসআলায় তাঁর নিজস্ব পছন্দেরও প্রমাণ বহন করে। যেমনটি বলা হয়: "বুখারির ফিকহ (فقه) নিহিত রয়েছে তাঁর অধ্যায়-শিরোনামসমূহে (تراجم)"।
ইমাম বুখারির অধ্যায়-শিরোনামসমূহ (تراجم) গবেষণায় উলামায়ে কেরামের গুরুত্বারোপ:ইমাম বুখারির "আল-জামিউস সহিহ" গ্রন্থটি উলামায়ে কেরামের নিকট এর অধ্যায়-শিরোনামসমূহ (تراجم) গবেষণার ক্ষেত্রে প্রভূত গুরুত্ব লাভ করেছে। এর কারণ শিরোনাম নির্ধারণে তাঁর সূক্ষ্মতা এবং এর মাঝে তাঁর গূঢ় জ্ঞান ও ফিকহ (فقه) নিহিত থাকা। তাই তারা "আল-জামিউস সহিহ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে এবং কেউ কেউ তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকার অধ্যায়গুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কেবল তাই নয়, বরং অনেক আলেম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন, যেখানে তাঁরা অত্যন্ত সারগর্ভ ও চমৎকার আলোচনা উপস্থাপন করেছেন।
হাফিজ ইবনে হাজার (১) বলেন: "আলেকজান্দ্রিয়ার খতিব আল্লামা নাসিরুদ্দিন [আহমাদ] ইবনুল মুনাইয়্যির এ জাতীয় চারশ অধ্যায়-শিরোনাম (ترجمة) সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন। আর কাজী বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ তা সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন।
মাগরিবের জনৈক আলেম মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর ইবনে হামামাহ আস-সিজিলমাসিও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেননি, বরং তাঁর গ্রন্থে মোট অধ্যায়-শিরোনামের (ترجمة) সংখ্যা প্রায় একশটি এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন "ফাক্কু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
أَغْرَاضِ البُخَارِيِّ المُبْهَمَةِ فِي الجَمْعِ بَيْنَ الحَدِيثِ وَالتَرْجَمَةِ ".
وَتَكَلَّمَ أَيْضًا عَلَى ذَلِكَ زَيْنُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ المُنِير أَخُو الْعَلَاّمَةِ نَاصِرِ الدِّينِ فِي " شَرْحِهِ عَلَى البُخَارِيِّ " وَأَمْعَنَ فِي ذَلِكَ وَوَقَفْتُ عَلَى مُجَلَّدٍ مِنْ كِتَابٍ اسْمُهُ " تُرْجُمَانُ التَّرَاجِمِ " لأَبِي عَبْدِ اللهِ بْنِ رُشَيْدٍ السََّبْتِيِِّ يَشْتَمِلُ عَلَىَ هَذَا المَقْصَدِ وَصَلَ فِيهِ إِلَى كِتَابِ الصِّيَامِ وَلَوْ تَمَّ لَكَانَ فِي غَايَةِ الإِفَادَةِ وَأَنَّهُ لِكَثِيْرٍ الْفَائِدَةٌ [مَعَ نَقْصِهِ] وَاللهُ [تَعَالَىْ] المُوَفِّقُ». انتهي.
فقد ذكر الحافظ ابن حجر أربع مؤلفات مفردة، عثرنا منها على كتاب القاضي بدر الدين بن جماعة، مخطوطا في دارالكتب الوقفية بحلب، بعنوان " مناسبات تراجم البخاري "، وأخذنا منه في بحثنا هذا، ونضيف لما ذكره الحافظ ابن حجر العسقلاني الكتابين التاليين:
" شرح تراجم أبواب صحيح البخاري " [لِلْعلَاّمَةِ] شيخ مشايخ الهند، أحمد بن عبد الرحيم، المعروف بـ «شاه ولي الله الدهلوي»، وهي رسالة قَيِّمَةٌ طبعت في الهند.
و" فيض الباري " للشيخ المُحَدِّثُ العَلَاّمَةُ محمد أنور شاه الكشميري. وهو مرجع ضخم حافل.
أَنْوَاعُ التَّرَاجِمِ فِي " صَحِيحِ البُخَارِيِّ ":
ولدى الرجوع إلى تلك الدراسات لتراجم البخاري في " صحيحه " وجدنا جُهُودًا كبيرة ضخمة، دراسات مفصلة حافلة، قد تناولت تراجم الامام البخاري على سبيل التفصيل، ترجمة بعد ترجمة، لكن هذه الدراسات مع غزارة فائدتها لم تضبط تراجم البخاري بتقسيم يصنفها تصنيفا كاملاً، وليبين مسالك كل صنف منها، اللهم إلا محاولتين لضبط هذه التراجم وتصنيف أنواعها ألخصهما فيما يلي:
المحاولة الأولي: وهي للحافظ أحمد بن حجر العسقلاني في كتابة " هَدي الساري " (1) مقدمة " فتح الباري "، فقد تعرض لضبط تراجم " صحيح البخاري "، لمناسبة
--------------------------------------------
"বুখারীর হাদিস ও অধ্যায় শিরোনামের (ترجمة) সমন্বয়ের অস্পষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ"।
আল্লামা নাসিরুদ্দিনের ভাই জাইনুদ্দিন আলী ইবনুল মুনিরও তাঁর "শারহু আলাল বুখারী"-তে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেছেন। আমি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে রুশাইদ আস-সাবতির "তর্জুমানুত তারাজিম" নামক একটি বইয়ের একটি খণ্ড পেয়েছি যা এই উদ্দেশ্যটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এতে সিয়াম অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন। যদি এটি পূর্ণ হতো তবে তা চূড়ান্ত পর্যায়ের ফলপ্রসূ হতো। এর অপূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও এটি প্রচুর উপকারে আসে। আল্লাহ [তাআলা] তাওফিকদাতা।" সমাপ্ত।
হাফিজ ইবনে হাজার চারটি স্বতন্ত্র রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা এর মধ্য থেকে কাদি বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহর "মুনাসাবাতু তারাজিমিল বুখারী" শিরোনামের একটি পাণ্ডুলিপি সিরিয়ার হাল্লাবের ওয়াকফিয়া কুতুবখানায় পেয়েছি। আমরা আমাদের এই গবেষণায় তা থেকে তথ্য গ্রহণ করেছি। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি যে বইগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তার সাথে আমরা নিম্নলিখিত দুটি বই যোগ করছি:
ভারতের প্রখ্যাত আলেমদের শিক্ষক আল্লামা আহমদ বিন আব্দুর রহিম, যিনি "শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি" নামে পরিচিত, তাঁর রচিত "শারহু তারাজিমি আবওয়াবি সহিহ বুখারী"। এটি একটি মূল্যবান পুস্তিকা যা ভারতে মুদ্রিত হয়েছে।
এবং মুহাদ্দিস (محدث) আল্লামা মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরির "ফয়জুল বারী"। এটি একটি বিশাল ও তথ্যবহুল রেফারেন্স গ্রন্থ।
"সহিহ বুখারী"-তে অধ্যায় শিরোনামের (تراجم) প্রকারভেদ:
"সহিহ বুখারী"-র অধ্যায় শিরোনামসমূহ (تراجم) নিয়ে করা উক্ত গবেষণাগুলোর দিকে ফিরে তাকালে আমরা বিশাল ও ব্যাপক প্রচেষ্টা দেখতে পাই। সেগুলোতে ইমাম বুখারীর প্রতিটি শিরোনামকে (ترجمة) ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এই গবেষণাগুলো অত্যন্ত উপকারী হওয়া সত্ত্বেও এগুলো বুখারীর শিরোনামগুলোকে (تراجم) এমনভাবে সুশৃঙ্খল করেনি যা সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিবিন্যাসে বিভক্ত করবে এবং প্রতিটি শ্রেণির পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করবে। তবে এই শিরোনামগুলোকে (تراجم) সুশৃঙ্খল করা এবং সেগুলোর প্রকারভেদ করার দুটি প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা যায় যা আমি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:
প্রথম প্রচেষ্টা: হাফিজ আহমদ বিন হাজার আসকালানি তাঁর "হাদয়ুস সারী" গ্রন্থে (যা ফাতহুল বারীর ভূমিকা) এটি করেছেন। তিনি "সহিহ বুখারী"-র অধ্যায় শিরোনামসমূহকে (تراجم) সুশৃঙ্খল করার প্রয়াস পেয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
حديثه عن فضائل الجامع الصحيح فقال:
… ولنذكر ضَابِطًا يشتمل عَلَى بيان أنواع التراجم فيه، وهي ظاهرة وخفية.
أما الظاهرة فليس ذكرها من غرضنا هنا، وهي أن تكون الترجمة دالة بالمطابقة لما ورد في مضمنها، وإنما فائدتها الاعلام بما ورد في ذلك الباب من اعتبار لمقدار تلك الفائدة، كأنه يقول: هذا الباب الذي فيه كيت وكيت، أو باب ذكر الدليل عَلَى الحكم الفلاني مَثَلاً، وقد تكون الترجمة بلفظ المترجم له أو بصفة أو بمعناه، وهذا في الغالب قد يأتي من ذلك ما يكون في لفظ الترجمة احتمال لأكثر من معنى واحد، فيعين أحد الاحتمالين بما يذكر تحتها من الحديث، وقد يوجد فيه ما هو بالعكس من ذلك، بأن يكون الاحتمال في الحديث والتعيين في الترجمة، والترجمة هنا بيان لتأويل ذلك الحديث، نائبة مناب قول الفقيه مثلا: المراد بهذا الحديث العام الخصوص، أو بهذا الحديث الخاص العموم، إشعاراً بالقياس لوجود العلة الجامعة، أو أن ذلك الخاص المراد به ما هو أعم، مِمَّا يدل عليه ظاهره بطريق الأعلى أو الأدنى، ويأتي في المطلق والمقيد نظير ما ذكرنا في الخاص والعام، وكذا في شرح المشكل وتفسير الغامض، وتأويل الظاهر وتفصيل المجمل، وهذا الموضع هو معظم ما يُشْكِلُ من تراجم هذا الكتاب، ولهذا اشتهر من قول جمع من الفضلاء: «فِقْهُ البُخَارِي فِي تَرَاجِمِهِ»
… إلى آخر ما ذكره على هذا الأسلوب في العرض.
فقد قسم الحافظ ابن حجر التراجم إلى قسمين: ظاهرة وخفية، ثم مضى في الشرح عَلَى النحو الذي رأينا، ونلاحظ عليه ما يلي:
1 - أنه لَمْ يُعْنَ بالتفصيل للتراجم الظاهرة، وَلَا بَيَّنَ مسالك البخاري فيها، وما امتاز به منها.
2 - أنه تداخل معه بحث التراجم «الخَفِيَّةِ» بالتراجم «الظَّاهِرَةِ».
3 - أنه لم يستكمل كل أنواع التراجم، فلم يذكر النوع الثالث من تقسيمنا الذي أطلقنا عليه اسم «التَّرَاجِمَ المُرْسَلَةَ».
المحاولة الثانية: [لِلْعَلَاّمَةِ] مُحَدِّثُ الهِنْدِ وَلِيُّ اللهِ الدَّهْلَوِي في كتابه " شرح تراجم
সহীহ বুখারীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
... এবং আমরা এমন একটি মূলনীতি উল্লেখ করব যা এর অধ্যায় বিন্যাসের (تراجم) প্রকারভেদ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো—প্রকাশ্য (ظاهرة) এবং প্রচ্ছন্ন (خفية)।
প্রকাশ্য (ظاهرة) প্রকারটি উল্লেখ করা এখানে আমাদের উদ্দেশ্য নয়; আর তা হলো অধ্যায় বিন্যাসটি (ترجمة) এর বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। এর উপকারিতা হলো সেই অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত করা, যেন তিনি বলছেন: 'এটি এমন একটি অধ্যায় যাতে এই এই বিষয় রয়েছে', অথবা উদাহরণস্বরূপ 'অমুক বিধানের দলিল বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়'। কখনও অধ্যায় বিন্যাসটি (ترجمة) মূল পাঠের শব্দে, অথবা তার গুণাগুণ বা অর্থের মাধ্যমে হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত এমন হয় যে, অধ্যায় বিন্যাসের (ترجمة) শব্দে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে, তখন এর অধীনে বর্ণিত হাদিস দ্বারা সেই সম্ভাবনাগুলোর একটিকে নির্দিষ্ট করা হয়। আবার এর বিপরীতটিও পাওয়া যেতে পারে, যেখানে হাদিসের মধ্যে অস্পষ্টতা থাকে এবং অধ্যায় বিন্যাসের (ترجمة) মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট করা হয়। এখানে অধ্যায় বিন্যাসটি (ترجمة) সেই হাদিসের ব্যাখ্যা (تأويل) হিসেবে গণ্য হয়, যা একজন ফকিহ-এর বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন: 'এই সাধারণ (عام) হাদিসটি দ্বারা বিশেষ (خصوص) উদ্দেশ্য', অথবা 'এই বিশেষ (خاص) হাদিসটি দ্বারা ব্যাপকতা (عموم) উদ্দেশ্য', যা কিয়াস (قياس) করার প্রতি ইঙ্গিত দেয় যেহেতু এখানে একটি সাধারণ কারণ (علة جامعة) বিদ্যমান। অথবা সেই বিশেষ (خاص) বিষয়টি দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য যা তার বাহ্যিক অর্থের চেয়েও ব্যাপক, যা এর প্রকাশ্য রূপ থেকে উচ্চতর (أعلى) বা নিম্নতর (أدنى) পদ্ধতিতে নির্দেশিত হয়। আর নিঃশর্ত (مطلق) এবং শর্তযুক্ত (مقيد) বিষয়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য যা আমরা বিশেষ (خاص) ও সাধারণের (عام) ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। তেমনিভাবে জটিল (مشكل) বিষয়ের আলোচনা, অস্পষ্ট (غامض) বিষয়ের ব্যাখ্যা, প্রকাশ্য (ظاهر) বিষয়ের গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ এবং সারসংক্ষেপের (مجمل) বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই স্থানটিই এই কিতাবের অধ্যায় বিন্যাসের (تراجم) সবচেয়ে জটিল অংশ। এই কারণেই একদল বিদগ্ধ পণ্ডিতের এই উক্তিটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: «সহীহ বুখারীর ফিকহ তার অধ্যায় বিন্যাসের (تراجم) মধ্যে নিহিত»
... উপস্থাপনার এই শৈলীতে তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার অধ্যায় বিন্যাসকে (تراجم) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রকাশ্য (ظاهرة) এবং প্রচ্ছন্ন (خفية)। অতঃপর তিনি সেই পদ্ধতিতেই এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা আমরা দেখেছি। তাঁর এই আলোচনার ওপর আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করি:
1 - তিনি প্রকাশ্য অধ্যায় বিন্যাসগুলোর (تراجم ظاهرة) বিস্তারিত বিবরণ দেননি, আর না তিনি এতে ইমাম বুখারীর কর্মপন্থা এবং এর স্বাতন্ত্র্য বর্ণনা করেছেন।
2 - তাঁর বর্ণনায় প্রচ্ছন্ন (خفية) অধ্যায় বিন্যাসের আলোচনার সাথে প্রকাশ্য (ظاهرة) অধ্যায় বিন্যাসের আলোচনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।
3 - তিনি অধ্যায় বিন্যাসের (تراجم) সকল প্রকার পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেননি; ফলে তিনি আমাদের বিভাজনের তৃতীয় প্রকারটি উল্লেখ করেননি যাকে আমরা বিচ্ছিন্ন (مرسلة) অধ্যায় বিন্যাস (تراجم) হিসেবে নামকরণ করেছি।
দ্বিতীয় প্রচেষ্টা: [আল্লামা] ভারতের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী তাঁর কিতাব "শরহ তারাজিম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
أبواب البخاري " (1) صَدَّرَ بِهَا كَتَابَهُ هذا فقال:
«وجملة تراجم أبوابه تنقسم أَقْسَامًا:
منها: أنه يترجم بحديث مرفوع ليس على شرطه، ويذكر في الباب حديثًا شاهدًا له على شرطه.
ومنها: أنه يترجم بمسألة استنباطها من الحديث بنحو من الاستنباط من نصه أو إشارته أو عمومه أو إيمائه.
ومنها: أنه يترجم بمذهب ذُهب إليه قبل، ويذكر في الباب ما يدل عليه
… من غير قطع بترجيح ذلك المذهب، فيقول: «باب من قال كذا».
ومنها: أنه يترجم بمسألة اختلفت فيها الأحاديث، فيأتي بتلك الأحاديث على اختلافها، لِيُقَرِّبَ إِلَى الفَقِيهِ مِنْ بَعْدِهِ أَمْرَهَا، مثاله (بَابُ خُرُوجُ النِّسَاءِ إِلَى البُرَازِ) جمع فيه حديثين مختلفين.
ومنها: أنه قد تتعارض الأدلة ويكون عند البخاري وجه التطبيق بينهما، بحمل كل واحد على محمل، فيترجم بذلك المحمل إشارة إلى وجه التطبيق. مثاله: (بَابُ خَوْفِ المُؤْمِنِ أَنْ يُحْبَطَ عَمَلُهُ، وَمَا يُحْذَرُ مِنَ الاصْرَارِ عَلَى التَّقَاتُلِ وَالعِصْيَانِ)، ذكر فيه حديث: «سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَاله كُفْر».
ومنها: أنه قد يجمع في باب أحاديث كثيرة، كل واحد منها يدل على الترجمة، ثم يظهر له في حديث واحد فائدة أخرى سوى الفائدة المترجم عليها، وَيُعَلِّمَ على ذلك الحديث بِعَلَامَةِ الباب،
… ومنها: أنه قد يكتب لفظة (باب) مكان قول المُحَدِّثِينَ «وبهذا الإسناد». وذلك حيث جاء حديثان بإسناد واحد
… » إلى أخر ما ذكره على هذا النحو.
ونلاحظ على تقسيمه ما يلي:
1 - انه لم يضبط فنون التراجم بأنواع كما فعل الحافظ ابن حجر، بل راح يسرد صُوَرًا من التراجم يعدُّها أَقْسَامًا
--------------------------------------------
"বুখারীর অধ্যায়সমূহ" (১) তিনি তাঁর এই গ্রন্থের শুরুতে এগুলো উল্লেখ করে বলেছেন:
«তাঁর অধ্যায়সমূহের শিরোনামগুলোর (تراجم) সমষ্টি কয়েক ভাগে বিভক্ত:
এর মধ্যে একটি হলো: তিনি এমন একটি মারফু (مرفوع) হাদিস দ্বারা শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেন যা তাঁর শর্তের (شرط) অন্তর্ভুক্ত নয়, অথচ উক্ত অধ্যায়ে তিনি তাঁর শর্তের (شرط) অনুকূলে একটি সমর্থক (شاهد) হাদিস উল্লেখ করেন।
আরেকটি হলো: তিনি এমন কোনো মাসআলা দ্বারা শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেন যা তিনি হাদিসের পাঠ (نص), ইঙ্গিত (إشارة), ব্যাপকতা (عموم) অথবা ইশারার (إيماء) মতো কোনো একভাবে উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন।
আরেকটি হলো: তিনি এমন একটি মতাদর্শ (مذهب) দ্বারা শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেন যা পূর্বে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অধ্যায়ে এমন কিছু উল্লেখ করেন যা সেটির ওপর দলালত বা প্রমাণ পেশ করে... তবে সেই মতাদর্শটিকে (مذهب) প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারে কোনো অকাট্য সিদ্ধান্ত না দিয়েই তিনি বলেন: "পরিচ্ছেদ (باب): যারা এমনটি বলেছেন"।
আরেকটি হলো: তিনি এমন একটি মাসআলা দ্বারা শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেন যে বিষয়ে হাদিসসমূহের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। অতঃপর তিনি সেই ভিন্ন ভিন্ন হাদিসগুলো উপস্থাপন করেন যাতে পরবর্তী ফকিহগণের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ: (পরিচ্ছেদ: নারীদের উন্মুক্ত ময়দানে গমন), এখানে তিনি দুটি ভিন্নধর্মী হাদিস একত্রিত করেছেন।
আরেকটি হলো: কখনো দলিলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিতে পারে এবং বুখারীর নিকট সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার একটি পদ্ধতি থাকে, যেখানে তিনি প্রত্যেকটিকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করেন। অতঃপর তিনি সেই প্রয়োগের মাধ্যমেই শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেন যাতে সমন্বয়ের দিকটি ইঙ্গিত করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: (পরিচ্ছেদ: মুমিনের আমল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় এবং একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই ও পাপাচারের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে সতর্কতা), এতে তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি"।
আরেকটি হলো: তিনি কখনো একটি অধ্যায়ে অনেকগুলো হাদিস একত্রিত করেন যেগুলোর প্রত্যেকটি শিরোনামের (ترجمة) ওপর দলালত করে। অতঃপর কোনো একটি হাদিসে শিরোনামের (ترجمة) মূল উদ্দেশ্য ছাড়াও অন্য কোনো বিশেষ ফায়দা বা শিক্ষা তাঁর নিকট প্রকাশ পায়, তখন তিনি সেই হাদিসটিকে অধ্যায়ের চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেন...
আরেকটি হলো: তিনি কখনো মুহাদ্দিসগণের "এবং এই একই সনদে (إسناد)"- এই বক্তব্যের স্থলে "পরিচ্ছেদ (باب)" শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি তখন ঘটে যখন দুটি হাদিস একটি সনদে (إسناد) বর্ণিত হয়...» তাঁর উল্লিখিত আলোচনা এভাবেই শেষ হয়েছে।
তাঁর এই বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করি:
১ - তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের মতো শিরোনামের (تراجم) শিল্পকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করেননি, বরং তিনি শিরোনামের (تراجم) বিভিন্ন রূপ বর্ণনা করে গেছেন যেগুলোকে তিনি প্রকার (أقسام) হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
2 - أنه قد اندرجت عنده الأقسام مع الصور والمسالك التي تدخل تحت الأقسام.
3 - أنه لم يشمل بعض أنواع التراجم، وهو نوع «التَّرَاجِمُ المُفْرَدَةُ».
وهكذا كانت الحاجة مَاسَّةً لتقسيم حاصر، وتصنيف ضابط لأنواع فنون التراجم في " صحيح البخاري "، وقد توصلنا إلى تقسيم مبتكر لأنواع التراجم عند البخاري، واستقام لنا هذا التقسيم على أربعة أنواع من التراجم، اخترنا لكل نوع منها تسمية، نرجو أن تكون مَحَلَّ القَبُولِ لَدَى العُلَمَاءِ الأَفَاضِلِ، وهذه الأنواع هي التالية:
أَوَّلاً - التَّرَاجِمُ الظَّاهِرَةُ: وهي التي تطابق الأحاديث التي تخرج تحتها مطابقة واضحة جليلة، دون حاجة للفكر والنظر.
ثَانِيًا - التَّرَاجِمُ الاسْتِنْبَاطِيَّةُ: وهي التي تدرك مطابقتها لمضمون الباب بوجه من البحث والتفكير القريب أو البعيد.
ثَالِثًا - التَّرَاجِمُ المُرْسَلَةُ: وهي التي اكتفي فيها بلفظ (باب)، ولم يُعَنْوِنْ بشيء يدل على المضمون بل ترك ذلك العنوان.
رَابِعًا - التَّرَاجِمُ المُفْرَدَةُ: وهي تراجم لا يُخْرِجُ البخاري فيها شَيْئًا من الحديث للدلالة عليها.
أَوَّلاً - التَّرَاجِمُ الظَّاهِرَةُ:
وللبخاري مسالك متعددة من التراجم الظاهرة اشترك فيها مع غيره، وهي:
1 - الترجمة بصيغة خبرية عامة: وذلك بأن تكون الترجمة عبارة تدل على مضمون الباب بصيغة خبرية عامة تحتمل عدة أوجه، فتدل على محتوي الباب بوجه عام، ثم يتعين المراد بما يذكر من الحديث في الباب.
ومن الأمثلة في " الجامع الصحيح ":
قول البخاري: (بَابُ المَاءِ الدَّائِمِ) ثم أخرج فيه الحديث: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي المَاءِ الدَّائِمِ الذِي لَا يَجْرِي، ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ» (1).
--------------------------------------------
২ - তাঁর নিকট শ্রেণিগুলো (الأقسام) এমন কিছু রূপ ও পদ্ধতির (المسالك) সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে যা সেই শ্রেণিগুলোর (الأقسام) অধীনে আসে।
৩ - এটি কিছু প্রকারের শিরোনামকে (التراجم) অন্তর্ভুক্ত করেনি, আর তা হলো 'একক শিরোনাম' (التراجم المفردة) এর প্রকার।
এভাবেই সহিহ বুখারি-র শিরোনামের (التراجم) প্রকারভেদগুলোর জন্য একটি সুসংহত বিভাজন এবং সুনির্ধারিত বিন্যাসের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ছিল। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর শিরোনামগুলোর (التراجم) প্রকারভেদের ক্ষেত্রে আমরা একটি অভিনব বিভাজনে উপনীত হয়েছি। আমাদের নিকট এই বিভাজনটি চার প্রকার শিরোনামের (التراجم) ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রকারের জন্য একটি করে নামকরণ পছন্দ করেছি, যা সম্মানিত আলেমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা আশা রাখি। এই প্রকারগুলো হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত - প্রকাশ্য শিরোনাম (التراجم الظاهرة): এগুলো হলো সেই সব শিরোনাম যা এর অধীনে বর্ণিত হাদিসগুলোর সাথে কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা বা গভীর দৃষ্টিপাত ছাড়াই অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রকটভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত - গবেষণালব্ধ শিরোনাম (التراجم الاستنباطية): এগুলো হলো সেই সব শিরোনাম যেগুলোর সাথে অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্যতা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো প্রকার অনুসন্ধান ও চিন্তাশীলতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়।
তৃতীয়ত - বিচ্ছিন্ন শিরোনাম (التراجم المرسلة): এগুলো সেই শিরোনাম যাতে কেবল 'অধ্যায়' (باب) শব্দের ওপর ক্ষান্ত থাকা হয়েছে এবং বিষয়বস্তুর ওপর নির্দেশ করে এমন কোনো শিরোনাম উল্লেখ করা হয়নি, বরং সেই শিরোনামটি খালি রাখা হয়েছে।
চতুর্থত - একক শিরোনাম (التরাجم المفردة): এগুলো এমন কিছু শিরোনাম যার অধীনে ইমাম বুখারি (রহ.) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্দেশ করার জন্য কোনো হাদিস উল্লেখ করেননি।
প্রথমত - প্রকাশ্য শিরোনাম (التراجم الظاهرة):
প্রকাশ্য শিরোনামের (التراجم الظاهرة) ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি (রহ.)-এর একাধিক পদ্ধতি (مسالك) রয়েছে যাতে তিনি অন্যদের সাথেও অংশীদার হয়েছেন, আর সেগুলো হলো:
1 - সাধারণ বর্ণনামূলক বাক্য আকারে শিরোনাম: আর তা হলো শিরোনামটি এমন একটি বাক্য হওয়া যা সাধারণ বর্ণনামূলক (خبرية) ঢঙে অধ্যায়ের বিষয়ের ওপর নির্দেশ করে এবং যার একাধিক অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর ওপর সাধারণভাবে নির্দেশ করে, অতঃপর অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে উদ্দেশ্যটি সুনির্ধারিত হয়।
সহিহ বুখারি-র উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইমাম বুখারি (রহ.)-এর উক্তি: (বদ্ধ পানির অধ্যায়)। অতঃপর তিনি এতে হাদিস বর্ণনা করেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এমন বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সেখানে গোসল করে» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فبين أن المراد النهي عن البول فيه وعن الاغتسال منه إذا بال.
وفائدة هذه التراجم الإعلام الإجمالي بمضمون الباب ثم يدرك القارىء المعنى المقصود (1).
2 - الترجمة بصيغة خبرية خاصة بمسألة الباب، تحددها، دون أن يتطرق إليها الاحتمال: ومن الأمثلة في " كتاب البخاري ": قوله في الزكاة: «بَابُ فََرْضِ صَدَقَةَ الفِطْرِ، وَرَأَى أَبُو العَالِيَةِ، وَعَطَاءٌ، وَابْنُ سِيرِينَ «صَدَقَةَ الفِطْرِ فَرِيضَةً».
وأخرج فيه حديث ابن عمر قال: «فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الفِطْرِ [صَاعًا] مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ
… » الحديث (2).
وفائدة هذا المسلك: إفادة أن هذا الحديث فيه دليل لهذا الحكم، أو الفائدة التي أوضحتها الترجمة، وأن المؤلف قائل بها، مختار لها، إذا كانت المسألة خلافية بين العلماء.
3 - الترجمة بصيغة الاستفهام: وذلك بأن تكون ترجمة الباب مصوغة على عبارة من عبارات الاستفهام، وهذا المسلك عند البخاري أكثر وُجُودًا وَدِقَّةً مِنْ غَيْرِهِ.
والمقصود من الاستفهام ما يتوجه بعد في الباب من النفي أو الاثبات، وَعَبَّرَ بهذه الصيغة إثارة لانتباه الذهن وإعمال الفكر، وذلك:
إما لكون مسألة الباب موضع اختلاف تحتاج للبحث والترجيح كقول البخاري: (بَابُ هَلْ عَلَى مَنْ لَمْ يَشْهَدْ الجُمُعَةََ غُسْلٌ مِنَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ وَغَيْرِهِمْ).
وأخرج فيه أحاديث منها: حديث أبي هريرة وفيه: «حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، أَنْ يَغْتَسِلَ فِي كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا، يَغْسِلُ فِيهِ رَأْسَهُ وَجَسَدَهُ». وحديث ابن عمر: «مَنْ جَاءَ مِنْكُمُ الجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ» وحديث ابي سعيد الخُدرِي: «غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ» (3).
--------------------------------------------
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাতে পেশাব করতে এবং পেশাব করার পর সেই পানি থেকে গোসল করতে নিষেধ করা।
এই শিরোনামগুলোর (تراجم) লক্ষ্য হলো অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা প্রদান করা, যার ফলে পাঠক উদ্দিষ্ট অর্থ অনুধাবন করতে পারেন (১)।
২ - অধ্যায়ের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনামূলক শিরোনাম, যা কোনো প্রকার অস্পষ্টতা রাখা ছাড়াই বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়: "সহিহ বুখারি"-র উদাহরণের মধ্যে একটি হলো জাকাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: «অনুচ্ছেদ: সদকাতুল ফিতর ফরজ (فرض) হওয়া প্রসঙ্গে; আর আবুল আলিয়াহ, আতা এবং ইবনে সিরিন সদকাতুল ফিতরকে ফরজ (فريضة) হিসেবে গণ্য করেছেন।»
সেখানে তিনি ইবনে উমরের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের এক সা অথবা যবের এক সা হিসেবে সদকাতুল ফিতর ফরজ (فرض) করেছেন...» হাদিস (২)।
এই পদ্ধতির উপকারিতা হলো: এটি অবগত করা যে এই হাদিসটিতে উক্ত বিধানের (حكم) স্বপক্ষে দলিল (دليل) রয়েছে, অথবা শিরোনামের মাধ্যমে যে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে এটি তার সপক্ষে প্রমাণ; আর লেখক নিজেও এই মত পোষণ করেন এবং এটিই বেছে নিয়েছেন, বিশেষ করে যদি বিষয়টি আলেমদের মাঝে মতভেদের বিষয় হয়ে থাকে।
৩ - প্রশ্নবোধক শিরোনাম: অর্থাৎ অধ্যায়ের শিরোনামটি কোনো প্রশ্নবোধক বাক্যের আদলে গঠন করা। ইমাম বুখারির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি অন্যদের তুলনায় অধিক পরিলক্ষিত হয় এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে থাকে।
এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য হলো অধ্যায়ে বর্ণিত বিষয়ের নেতিবাচক বা ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা; তিনি এই রূপের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এবং চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য, আর তা হলো:
হয় অধ্যায়ের বিষয়টি মতভেদের ক্ষেত্র হওয়ায় সেখানে গবেষণা ও অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যেমন ইমাম বুখারির উক্তি: (অনুচ্ছেদ: যারা জুমুআর সালাতে উপস্থিত হয় না, যেমন নারী, শিশু ও অন্যান্য—তাদের ওপর কি গোসল করা আবশ্যক?)
সেখানে তিনি বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রার হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে: «প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এই অধিকার রয়েছে যে, সে প্রতি সাত দিনের একদিন গোসল করবে, যেদিন সে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে।» এবং ইবনে উমরের হাদিস: «তোমাদের মধ্যে যে জুমুআর সালাতে আসবে, সে যেন গোসল করে।» এবং আবু সাঈদ খুদরির হাদিস: «জুমুআর দিনের গোসল প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য অপরিহার্য (واجب)।» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
فاستعمل في الترجمة صيغة الاستفهام للاحتمال الواقع في حديث أبي هريرة، فإنه شامل للجميع من شهد الجمعة ومن لم يشهدها، وكذا حديث أبي سعيد، وفي حديث ابن عمر تقييد وجوب الغسل بالمجيء لصلاة الجمعة فيخرج من لم يجيء.
ومن ثم اختلف العلماء في غسل يوم الجمعة هل هو للصلاة أو لليوم؟ وَيَتَفَرَّعُ عَلَى الاختلاف إذا كان الغسل للصلاة، ومن الجميع إذا كان لليوم. والأحاديث ناظرة إلى كِلَا الاحْتِمَالَيْنِ، لأن حديث ابن عمر صحيح في أن الغسل للصلاة، والأحاديث الأخر ظاهرة في أنه لليوم (1).
وأما أن يعبر بالاستفهام في الترجمة على مسألة هي موضع اتفاق العلماء، ويكون المقصد إثارة الانتباه لمعرفة دليل هذه المسألة، أو أن ثمة تفضيلاً فيها بين العلماء، أو للاحتمال في الدليل الدال عليها. كقول البخاري في الجنائز (بَابُ هَلْ تُكَفَّنُ المَرْأَةُ [فِي] إِزَارِ الرَّجُلِ؟) (*).
وأخرج فيه حديث أُمَّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: «تُوُفِّيَتْ بِنْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ [لَنَا]: «اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا، أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، إِنْ رَأَيْتُنَّ، فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي»، فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ فَنَزَعَ مِنْ حِقْوِهِ إِزَارَهُ، وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ» (2). (**).
وقد نقل ابن بطّال اتفاق العلماء عَلَى جواز تكفين المرأة بإزار الرجل، لكن البخاري أشار بقوله: «هَلْ» إلى تردد في دلالة الحديث.
كما قال ابن حجر: «فَكَأَنَّهُ [أَوْمَأَ] إِلَى احْتِمَالِ اخْتِصَاصِ ذَلِكَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لأَنَّ الْمَعْنَى الْمَوْجُودُ فِيهِ مِنَ الْبَرَكَةِ وَنَحْوِهَا قَدْ لَا يَكُونُ فِي غَيْرِهِ، وَلَا سِيَّمَا مَعَ قُرْبِ عَهْدِهِ بِعَرْقِهِ الْكَرِيمِ»، وقد كان أطيب من ريح المسك صلى الله عليه وسلم (3). (
… )
فالخصوصية به محتملة ولذلك ترجم الباب - بـ «هَلْ» -، وإن كانت كما ذكر القسطلاني
--------------------------------------------
আবু হুরায়রার হাদিসে বিদ্যমান সম্ভাবনার (احتمال) কারণে তিনি শিরোনামে (ترجمة) প্রশ্নবোধক পদ (صيغة الاستفهام) ব্যবহার করেছেন। কেননা তা জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়া এবং উপস্থিত না হওয়া সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে আবু সাঈদের হাদিসটিও। তবে ইবনে উমরের হাদিসে গোসলের আবশ্যকতাকে (وجوب) জুমার নামাজে আসার সাথে শর্তযুক্ত করা (تقييد) হয়েছে, ফলে যে নামাজে আসবে না সে এর বহির্ভূত থাকবে।
এখান থেকেই ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে যে, জুমার দিনের গোসল কি নামাজের জন্য নাকি দিনের জন্য? এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে বিধান নির্গত হয় যে, যদি গোসল নামাজের জন্য হয় তবে (নামাজে উপস্থিত) সকলের জন্য, আর যদি দিনের জন্য হয় তবে (দিনের) সকলের জন্য। হাদিসগুলো উভয় সম্ভাবনার (احتمال) দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। কারণ ইবনে উমরের হাদিসটি এই ক্ষেত্রে সহিহ (صحيহ) যে গোসল নামাজের জন্য, আর অন্যান্য হাদিসগুলো এটি দিনের জন্য হওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট।
আর শিরোনামে (ترجمة) প্রশ্নবোধক পদ ব্যবহার করা ঐ সকল মাসআলার ক্ষেত্রেও হতে পারে যা ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয়, আর এর উদ্দেশ্য হতে পারে সেই মাসআলার দলিলের (دليل) প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা, অথবা ওলামায়ে কেরামের মাঝে এর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা অগ্রাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা থাকা, কিংবা এর স্বপক্ষে নির্দেশকারী দলিলে (دليل) কোনো সম্ভাব্যতা (احتمال) থাকা। যেমন জানাজা অধ্যায়ে বুখারির উক্তি: (অনুচ্ছেদ: নারীকে কি পুরুষের লুঙ্গিতে কাফন দেওয়া যাবে?)।
তিনি এতে উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা ইন্তেকাল করলে তিনি আমাদের বললেন: 'তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার বা তার চেয়ে বেশিবার ধৌত করো যদি প্রয়োজন মনে করো। যখন শেষ করবে তখন আমাকে জানিও।' যখন আমরা শেষ করলাম তখন তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর কোমর থেকে তাঁর লুঙ্গিটি খুলে দিলেন এবং বললেন: 'এটি তার শরীরের সাথে লাগিয়ে দাও'।"
ইবনে বাত্তাল নারীকে পুরুষের লুঙ্গিতে কাফন দেওয়ার বৈধতার (جواز) ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের ঐক্যমত (اتفاق) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বুখারি 'কি' শব্দের মাধ্যমে হাদিসটির নির্দেশনার (دلالة) ব্যাপারে দ্বিধা বা সংশয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
যেমন ইবনে হাজার বলেছেন: "যেন তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নির্দিষ্ট (اختصاص) হওয়ার সম্ভাবনার (احتمال) দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কারণ এতে বিদ্যমান বরকত (بركة) ও অনুরূপ বিষয় অন্য কারো মধ্যে নাও থাকতে পারে, বিশেষ করে তাঁর পবিত্র ঘামের স্পর্শ থাকার কারণে।" আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময় ছিলেন। (
… )
সুতরাং এটি তাঁর সাথে নির্দিষ্ট (خصوصية) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর এই কারণেই তিনি অনুচ্ছেদের শিরোনামে 'কি' শব্দ ব্যবহার করেছেন— যদিও বিষয়টি কাসতালানি যেমনটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
غير مسلمة (1).
3 - اقتباس الترجمة من حديث الباب: وذلك بأن يجعل لفظ الحديث المروي في الباب ترجمة له، كلَّه أو بَعْضًا منه. مثال ذلك في " كتاب البخاري ":
قوله في الطب (بَابُ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً [إِلَاّ أَنْزَلَ] لَهُ شِفَاءً) (*) وهو لفظ الحديث الذي أخرجه في الباب (2).
وقوله في الصلاة: (بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نُصِرْتُ بِالصَّبَا) وأخرج فيه عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ (**): أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «نُصِرْتُ بِالصَّبَا، وَأُهْلِكَتْ عَادٌ بِالدَّبُورِ» (3).
فالترجمة شطر الحديث، وَكَأَنَّ المؤلف في مثل هذه المواضيع يقول: باب هذا الحديث، وفائدة جعل لفظ الحديث أو بعضه ترجمة، إعلام أن المصنف قائل بذلك الحديث ذاهب إليه. وقد وجدت ذلك مستمرا في " صحيح البخاري "، ونص عليه الحافظ ابن حجر فقال في شرحه (4) «أَنَّ اِخْتِيَارَهُ يُؤْخَذ فِي العَادَة مِنْ الآثَار التِي يُودِعَهَا فِي التَّرْجَمَةِ» (
… ). اهـ.
مثال ذلك قوله في الايمان:
(بَابٌ: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5]) ثم أخرج فيه حديث [ابْنِ عُمَرَ] أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
«أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، [فَإِذَا] فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ، وَأَمْوَالَهُمْ، إِلَاّ بِحَقِّ الإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ» (5) (****). اهـ.
--------------------------------------------
অগ্রহণযোগ্য (غير مسلمة) (১)।
৩ - সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের হাদিস (حديث الباب) থেকে অধ্যায় শিরোনাম (ترجمة) গ্রহণ করা: আর তা হলো পরিচ্ছেদে বর্ণিত হাদিসের শব্দগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে সেই অধ্যায়ের শিরোনাম (ترجمة) হিসেবে নির্ধারণ করা। যেমন "সহীহ বুখারী"-তে রয়েছে:
চিকিৎসা অধ্যায়ে তাঁর উক্তি (পরিচ্ছেদ: আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিকার [অবতীর্ণ করা] ব্যতীত) (*) আর এটিই সেই হাদিসের শব্দ যা তিনি উক্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (২)।
এবং সালাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: (পরিচ্ছেদ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আমাকে পুবালি বাতাসের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে) এবং তিনি এতে ইবনে আব্বাস (**) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে পুবালি বাতাসের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে, আর আদ জাতিকে পশ্চিমী বাতাসের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে" (৩)।
এখানে শিরোনামটি হাদিসের অংশ (شطر الحديث), আর লেখক এই জাতীয় স্থানগুলোতে যেন বলতে চাচ্ছেন: "এটি এই হাদিসের পরিচ্ছেদ"। হাদিসের শব্দ বা তার অংশবিশেষকে শিরোনাম (ترجمة) বানানোর উপকারিতা হলো এটি অবগত করা যে, গ্রন্থকার সেই হাদিসের প্রবক্তা বা তিনি সেই মতটিই গ্রহণ করেছেন। আমি সহীহ বুখারীতে এটি ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্য করেছি। হাফেজ ইবনে হাজার এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (৪) বলেছেন, "সাধারণত তাঁর পছন্দ বা অভিমত সেই সকল আসার (الآثار) থেকে গ্রহণ করা হয় যা তিনি অধ্যায় শিরোনামে (الترجمة) সন্নিবেশিত করেন" (...) সমাপ্ত।
এর উদাহরণ ঈমান অধ্যায়ে তাঁর উক্তি:
(পরিচ্ছেদ: "অতঃপর তারা যদি তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও" [আত-তাওবাহ: ৫])। এরপর তিনি ইবনে উমর থেকে হাদিস বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, ইসলামের হক ব্যতিরেকে। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত» (৫) (****)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
فترجم بالآية لهذا الحديث إشارة إلى أن المُرَادَ بالتوبة في الآية هو التوبة عن الشرك، واستدل على ذلك بالحديث، ومقصود الباب كله الاستدلال على عصمة دم المسلم
… (1).
ومثل هذا المسلك كثير في " الجامع الصحيح ".
أن يأتي في الترجمة بحديث مرفوع ليس على شرطه وَيُخْرِجَ في الباب حَدِيثًا على شرطه شَاهِدًا له، أو يترجم بحديث قد خَرَّجَهُ في موضع آخر فيذكره مُعَلَّقًا اخْتِصَارًا.
ومن ذلك قوله: (بَابٌ: الأُمَرَاءُ مِنْ قُرَيْشٍ) وهو لفظ حديث يُروَي عن عَلِيٍّ رضي الله عنه (*) وليس على شرط البخاري، فأخرج فيه بسنده
حديث: «إِنَّ [هَذَا] الأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ، لَا يُعَادِيهِمْ أَحَدٌ إِلَاّ كَبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ» (**).
وحديث: «لَا يَزَالُ هَذَا الأَمْرُ فِي قُرَيْشٍ مَا بَقِيَ مِنْهُمُ اثْنَانِ» (2) (
… ).
فاستشهد بهما لحديث الترجمة وقواه، وأشار بذكره ترجمة إلى أنه المختار عنده في عنده في شرط الولاية.
4 - الإخبار عن بدء الحكم وظهور الشيء: وذلك أن البخاري يترجم في أول بعض الموضوعات ببدء ذلك الأمر أو بظهوره.
ومن أمثلة هذا اللون في " البخاري ":
قوله في أول " الجامع الصحيح ": (كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ (3) وقوله في الصلاة: (باب بدء الأذان) (4) (*****).
ولمثل هذا التنصيص فائدة كبيرة في تاريخ التشريع، وغير ذلك من الفوائد التي يستفيدها العلماء.
--------------------------------------------
তিনি এই হাদিসের জন্য আয়াতের মাধ্যমে শিরোনাম প্রদান করেছেন এটি নির্দেশ করতে যে, আয়াতে তওবা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক থেকে তওবা করা। তিনি হাদিসের মাধ্যমে এর সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। আর পুরো অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো মুসলিমের প্রাণের পবিত্রতার সপক্ষে দলিল পেশ করা
… (১)।
আর এ ধরনের কর্মপন্থা "আল-জামিউস সহিহ"-এ প্রচুর রয়েছে।
তা হলো তিনি শিরোনামে এমন একটি রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো (مرفوع) হাদিস নিয়ে আসেন যা তাঁর শর্তের (شرط) ওপর নয়, কিন্তু অধ্যায়ের ভেতরে তাঁর শর্তের (شرط) ওপর ভিত্তি করে একটি হাদিস বর্ণনা করেন যা পূর্বোক্ত হাদিসের জন্য সমর্থক (شاهد) হিসেবে কাজ করে। অথবা তিনি এমন হাদিসের মাধ্যমে শিরোনাম প্রদান করেন যা তিনি অন্য কোনো স্থানে বর্ণনা করেছেন, তাই সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এখানে তা অসম্পূর্ণ সূত্রযুক্ত (معلق) হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: (অধ্যায়: আমিরগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন)। এটি মূলত একটি হাদিসের শব্দ যা আলী (রা.) থেকে বর্ণিত (*) এবং তা বুখারির শর্তের (شرط) ওপর নয়। এরপর তিনি সেখানে তাঁর নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন
হাদিস: «নিশ্চয়ই [এই] বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যে থাকবে; যে কেউ তাদের সাথে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন» (**)।
এবং হাদিস: «এই বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তাদের মধ্যে দুইজন লোক অবশিষ্ট থাকবে» (২) (
… )।
তিনি এই দুটি হাদিসকে শিরোনামের হাদিসের জন্য সমর্থক (شاهد) হিসেবে পেশ করেছেন এবং সেটিকে শক্তিশালী করেছেন। আর শিরোনাম হিসেবে এটি উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতৃত্বের শর্তের (شرط) ব্যাপারে এটিই তাঁর নিকট পছন্দনীয় মত।
৪ - কোনো হুকুমের সূচনা এবং কোনো বিষয়ের প্রকাশ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া: ইমাম বুখারি কোনো কোনো বিষয়ের শুরুতে সেই বিষয়ের সূচনা বা প্রকাশের কথা দিয়ে শিরোনাম নির্ধারণ করেন।
সহিহ বুখারিতে এই ধরনের কিছু উদাহরণ হলো:
সহিহ বুখারির শুরুতে তাঁর উক্তি: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কীভাবে ওহী শুরু হয়েছিল? (৩) এবং সালাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: (অধ্যায়: আজানের সূচনা) (৪) (*****)।
এই ধরনের সুনির্দিষ্ট উল্লেখে বিধানের ইতিহাসের ক্ষেত্রে অনেক বড় উপকার রয়েছে, এছাড়াও অন্যান্য অনেক উপকারিতা রয়েছে যা থেকে আলেমগণ উপকৃত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
مسالك تفرد بها البخاري:
------------------------
ثم إن البخاري تفرد بمسالك كثيرة في تراجمه، لأنه قد أولى هذا الفن كل عنايته وأودعها علمه وفقهه، فكانت غزيرة الفوائد. قال شاه ولي الله الدهلوي في " شرح تراجم أبواب صحيح البخاري ": «وَقَدْ فَرَّقَ البُخَارِيُّ فِي تَرَاجِمِ الأَبْوَابِ عِلْمًا كَثِيرًا مِنْ شَرْحِ غَرِيبِ القُرْآنِ، وَذِكْرِ آثَارِ الصَّحَابَةِ، وَالأَحَادِيثِ المُعَلَّقَةِ
… ». اهـ.
وبذلك كانت صناعة التراجم خصيصة لهذا الكتاب، لا يساهمه فيها كتاب غيره، لكثرة تفننه فيها وعنايته بتنويع أساليبها وصيغها. فتفرد بكثير من المسالك لم يتطرق إليها مَن بعده ومن أهم ما تفرد به من المسالك في تراجمه الظاهرة:
1 - أن يترجم بآية قرآنية: فيجعل الآية عنوانًا للباب، والمقصود من ذلك تأويل الآية، أو الاستدلال بها لحكم من الأحكام، ثم تقوية هذا التأويل والاستدلال بما يخرج من الحديث.
2 - أن يأتي في الترجمة بالآثار عن الصحابة فمن بعدهم، كقوله في الصلاة:
(بَابٌ فِي كَمْ تُصَلِّي المَرْأَةُ فِي الثِّيَابِ، وَقَالَ عِكْرِمَةُ: «لَوْ وَارَتْ جَسَدَهَا فِي ثَوْبٍ لأَجَزْتُهُ») (*).
وقال: (باب الصلاة في السطوح والمنبر والخشب).
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «وَلَمْ يَرَ الحَسَنُ بَأْسًا أَنْ يُصَلَّى عَلَى الجُمْدِ وَالقَنَاطِرِ، وَإِنْ جَرَى تَحْتَهَا بَوْلٌ أَوْ فَوْقَهَا أَوْ أَمَامَهَا إِذَا كَانَ بَيْنَهُمَا سُتْرَةٌ» وَصَلَّى أَبُو هُرَيْرَةَ: «عَلَى سَقْفِ المَسْجِدِ بِصَلَاةِ الإِمَامِ» وَصَلَّى ابْنُ عُمَرَ: «عَلَى الثَّلْجِ». اهـ. (**).
وفائدة ذكر هذه النصوص من الآيات والأحاديث والآثار في التراجم الإشارة إلى اختياره في المسألة وترجيح ما دلت عليه.
3 - أن يترجم في أبوابه بما ذهب إليه بعض العلماء، ويذكر في الباب ما يدل عليه قائلا: (باب من قال كذا) دون أن يفصح برأيه فيه.
والمراد بذلك التنبيه على ثبوت ذلك.
مثاله:
قَوْلُهُ فِي الشُّرْبِ: (بَابُ مَنْ قَالَ: إِنَّ صَاحِبَ المَاءِ أَحَقُّ بِالْمَاءِ حَتَّى يَرْوَى، لِقَوْلِ
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি যেসব পদ্ধতিতে একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত:
------------------------
অতঃপর ইমাম বুখারি তাঁর অধ্যায় শিরোনামগুলোতে (تراجم) এমন অনেক অনন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা কেবল তাঁরই বৈশিষ্ট্য; কারণ তিনি এই শিল্পের প্রতি তাঁর পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং এতে তাঁর ইলম ও ফিকহের নির্যাস ঢেলে দিয়েছিলেন, যার ফলে তা অত্যন্ত ফায়দাজনক হয়েছে। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি "শারহু তারাজুমি আবওয়াবি সহিহিল বুখারি"-তে বলেছেন: «ইমাম বুখারি অধ্যায় শিরোনামগুলোর (تراجم الأبواب) মধ্যে কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা, সাহাবিদের বর্ণনা (آثار الصحابة) এবং ঝুলন্ত হাদিসসমূহ (الأحاديث المعلقة) উল্লেখ করার মাধ্যমে প্রচুর ইলম ছড়িয়ে দিয়েছেন...»। সমাপ্ত।
এর মাধ্যমে অধ্যায় বিন্যাস শিল্প (صناعة التراجم) এই কিতাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে, যাতে অন্য কোনো কিতাব তাঁর অংশীদার হতে পারে না। কারণ, তিনি এতে নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করেছেন এবং এর পদ্ধতি ও আঙ্গিক বৈচিত্র্যময় করার ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। তিনি এমন অনেক অনন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যার ধারেকাছে পরবর্তীকালে কেউ যেতে পারেনি। তাঁর সুষ্পষ্ট অধ্যায় শিরোনামগুলোর (تراجم) ক্ষেত্রে অবলম্বন করা উল্লেখযোগ্য কিছু অনন্য পদ্ধতি হলো:
১ - কোনো কুরআনি আয়াতকে অধ্যায় শিরোনাম (ترجمة) হিসেবে নির্ধারণ করা: তিনি আয়াতটিকে অধ্যায়ের শিরোনাম বানান। এর উদ্দেশ্য হলো আয়াতটির ব্যাখ্যা প্রদান করা অথবা তা থেকে কোনো বিধানের সপক্ষে দলিল পেশ করা এবং পরবর্তীতে বর্ণিত হাদিস দ্বারা সেই ব্যাখ্যা ও দলিলকে শক্তিশালী করা।
২ - অধ্যায় শিরোনামে (ترجمة) সাহাবি ও তাঁদের পরবর্তীগণের বর্ণনা (الآثار) নিয়ে আসা। যেমন সালাত অধ্যায়ে তাঁর উক্তি:
(পরিচ্ছেদ: নারী কতটি পোশাকে সালাত আদায় করবে? ইকরিমা বলেছেন: «যদি সে একটি কাপড় দিয়েও তার দেহ আবৃত করে ফেলে, তবে আমি তা জায়েজ মনে করব»)। (*).
তিনি বলেছেন: (পরিচ্ছেদ: ছাদ, মিম্বর ও কাঠের ওপর সালাত আদায় করা)।
আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারি) বলেছেন: «হাসান বসরি বরফ ও পুলের ওপর সালাত আদায় করাতে কোনো দোষ দেখতেন না, যদিও তার নিচে অথবা উপরে কিংবা সামনে দিয়ে প্রস্রাব প্রবাহিত হয়, যদি উভয়ের মাঝে কোনো আড়াল থাকে।» আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু: «মসজিদের ছাদে ইমামের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করেছেন» এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু: «বরফের ওপর সালাত আদায় করেছেন।» সমাপ্ত। (**).
অধ্যায় শিরোনামগুলোতে (تراجم) এই সকল আয়াত, হাদিস ও বর্ণনা (الآثار) উল্লেখ করার ফায়দা হলো উক্ত মাসআলায় তাঁর নিজস্ব পছন্দ ও সেই দলিলের প্রাধান্য নির্দেশ করা।
৩ - তাঁর অধ্যায়গুলোতে কোনো কোনো আলিমের অভিমতকে শিরোনাম (ترجمة) হিসেবে নির্ধারণ করা এবং সেই অধ্যায়ে এর সপক্ষে দলীল উল্লেখ করে বলা: (পরিচ্ছেদ: যারা এমনটি বলেছেন)। তবে সেখানে তিনি নিজের কোনো ব্যক্তিগত অভিমত স্পষ্ট করেন না।
এর উদ্দেশ্য হলো সেই বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা।
উদাহরণ:
পানীয় অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: (পরিচ্ছেদ: যারা বলেন: পানির মালিকই তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পানির অধিক হকদার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُمْنَعُ فَضْلُ المَاءِ» (*).
ثم أخرج فيه حديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لَا يُمْنَعُ فَضْلُ المَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الكَلأُ» (1) (**).
وقد نَبَّهَ البخاري على أنه قصد الاستدلال وإثبات هذا القول حيث قال: لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " لَا يُمْنَعُ فَضْلُ المَاءِ "».
ولكن ابن حجر - وَمِنْ بعده الدَّهًلَوِي - عَلَّلَ ذلك بأنه حيث لا يتجه للبخاري الجزم بأحد الاحتمالين (2).
ونحن نَرَى الصواب فيما قلناه أَوَّلاً، بدليل صيغة البخاري في الترجمة نفسها، ولأنه ترجم بهذه الصيغة في مسائل إجماعية، لا يَتَأَتَّى عدم الجزم فيها كقوله: (بَابُ مَنْ قَالَ لَمْ يَتْرُكِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَاّ مَا بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ) (3) (
… ) ولا يشك أحد في ثبوت ذلك، مِمَّا يدل على أن القصد هو التنبيه على الثبوت، وهذا رأي العَلَاّمَة رشيد أحمد الكنكوهي، في مقدمة " شرحه على البخاري " (4).
4 - أن يترجم بعبارة شرطية محذوقة الجواب فيقول: (باب إذا كان كذا
… ) ولا يذكر جواب الشرط. ومراده ما يتحصل بعد، وحذفه للعلم به من سياق الموضوع.
مثال ذلك قوله: (بَابُ إِذَا لَمْ يَكُنِ الإِسْلَامُ عَلَى الحَقِيقَةِ، وَكَانَ عَلَى الاسْتِسْلَامِ أَوِ الخَوْفِ مِنَ القَتْلِ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {قَالَتِ الأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات: 14] فَإِذَا كَانَ عَلَى الحَقِيقَةِ، فَهُوَ عَلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران: 19]).
أَخْرَجَ فِيهِ حَدِيثَ سَعْدٍ بْنَ أَبِي وَقَّاصَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَى رَهْطًا (5) وَسَعْدٌ جَالِسٌ، فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً هُوَ
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «অতিরিক্ত পানি যেন বাধাগ্রস্ত না করা হয়» (*)।
অতঃপর তিনি এতে আবু হুরাইরা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তৃণলতাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পানি যেন বাধাগ্রস্ত না করা হয়» (১) (**)।
আর ইমাম বুখারি এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যে, তিনি এই উক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ এবং এটি সাব্যস্ত করার ইচ্ছা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "অতিরিক্ত পানি যেন বাধাগ্রস্ত না করা হয়"।
কিন্তু ইবনে হাজার—এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে দেহলভি—এর কারণ বর্ণনা করেছেন এই যে, যেখানে ইমাম বুখারির পক্ষে দুটি সম্ভাবনার কোনো একটির ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত (الجزم) গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়নি (২)।
আমরা প্রথমে যা বলেছি সেটিকেই সঠিক মনে করি, যার প্রমাণ খোদ ইমাম বুখারির শিরোনামের (الترجمة) শব্দ গঠন (صيغة); আর যেহেতু তিনি এই শব্দ গঠনের (صيغة) মাধ্যমে এমন সব মাসআলাতেও শিরোনাম (ترجم) নির্ধারণ করেছেন যা সর্বসম্মত (إجماعية), যেখানে অকাট্য সিদ্ধান্তের (الجزم) অভাব হওয়া সম্ভব নয়। যেমন তাঁর উক্তি: (অনুচ্ছেদ: যারা বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই মলাটের মাঝে যা আছে তা ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি) (৩) (
… ) আর এর প্রমাণিত হওয়া (ثبوت) সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ নেই, যা প্রমাণ করে যে উদ্দেশ্য হলো প্রমাণিত হওয়ার (الثبوت) প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা। আর এটিই আল্লামা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহির অভিমত, তাঁর ‘সহিহ বুখারি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থের’ ভূমিকায় (৪)।
৪ - এমন একটি শর্তসূচক বাক্যের মাধ্যমে শিরোনাম (ترجم) নির্ধারণ করা যার ফলাফল (جواب الشرط) উহ্য। ফলে তিনি বলেন: (অনুচ্ছেদ: যদি এমন হয়
… ) এবং তিনি শর্তের উত্তর উল্লেখ করেন না। তাঁর উদ্দেশ্য হলো যা পরবর্তীতে অর্জিত হবে, এবং প্রসঙ্গের কারণে তা সুপরিচিত হওয়ার ফলে তিনি তা উহ্য রেখেছেন।
এর উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: (অনুচ্ছেদ: যখন ইসলাম প্রকৃত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হয় না, বরং তা হয় আনুগত্য বা হত্যার ভয়ে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {মরুবাসীরা বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন: তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা আনুগত্য স্বীকার করেছি} [হুজুরাত: ১৪]। আর যখন তা প্রকৃত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হবে, তখন তা মহান আল্লাহর বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯])।
তিনি এতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন: «রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল (৫) লোককে কিছু দান করলেন এবং সেখানে সাদ বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একজন লোককে বাদ দিলেন যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
أَعْجَبُهُمْ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلَانٍ؟! فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا، فَقَالَ: «أَوْ مُسْلِمًا؟» فَسَكَتُّ قَلِيلاً، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ، فَعُدْتُ لِمَقَالَتِي،
… وَعَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ: «يَا سَعْدُ، إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ، وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُ خَشْيَةَ أَنْ يَكُبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ». اهـ. (1).
قال الحافظ في " الفتح " (2) «حَذَفَ جَوَاب [قَوْله] " إِذَا " لِلْعِلْمِ بِهِ كَأَنَّهُ يَقُول: إِذَا كَانَ الإِِسْلَامُ كَذَلِكَ لَمْ يُنْتَفَع بِهِ فِي الآخِرَة. وَمُحَصَّلِ مَا ذَكَرَهُ وَاسْتَدَلَّ بِهِ أَنَّ الإِسْلَامَ يُطْلَق وَيُرَادُ بِهِ الْحَقِيقَةَ الشَّرْعِيَّةَ وَهُوَ الَّذِي يُرَادِف الإِيمَان وَيَنْفَع عِنْد اللهِ، وَعَلَيْهِ قَوْلُهُ تَعَالَى {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران: 19] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [الذاريات: 36]، وَيُطْلَق وَيُرَاد بِهِ الْحَقِيقَةَ اللُّغَوِيَّةَ وَهُوَ مُجَرَّدَ الانْقِيَاد وَالاسْتِسْلَام، فَالْحَقِيقَة فِي كَلَام الْمُصَنِّف هُنَا هِيَ الشَّرْعِيَّة، وَمُنَاسَبَة الْحَدِيث لِلتَّرْجَمَةِ ظَاهِرة مِنْ حَيْثُ إِنَّ الْمُسْلِمَ يُطْلَقُ عَلَى مَنْ أَظْهَر الإِسْلَامَ وَإِنْ لَمْ يُعْلَمْ بَاطِنهُ، فَلَا يَكُونُ مُؤْمِنًا لأَنَّهُ مِمَّنْ لَمْ تَصْدُقْ عَلَيْهِ الحَقِيقَةُ الشَّرْعِيَّةُ، وَأَمَّا اللُّغَوِيَّة فَحَاصِلَةٌ». اهـ.
ثَانِيًا - التَّرَاجِمُ الاِسْتِنْبَاطِيَّةَ:يضع المؤلفون العناوين لمسائل كتبهم للدلالة على مضمونها وموضوعها، وتوجيه ذهن القارئ إليها من أول الأمر، فالأصل في العناوين والتراجم أن تكون مطابقتها لمضمون الباب ظاهرة واضحة، لا تحتاج إلى قدح زناد الفكر.
فلماذا توضع التراجم الاستنباطية التي تحتاج إلى إعمال الفكر حتى نعرف مطابقتها لما وضعت له؟
نجيب عن هذا بأن المؤلف قد لا يقتصر عَلَى الفائدة السابقة، بل يلاحظ أُمُورًا أخرى أبعدَ منها؛ فيسلك طريق الاستنباط. ومن ذلك:
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে সে-ই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার কী অভিমত? আল্লাহর শপথ! আমি তাকে মুমিন (مؤمن) বলেই জানি। তিনি বললেন: «নাকি মুসলিম (مسلم)?» এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম, কিন্তু তার সম্পর্কে আমার জানা তথ্যগুলো আমাকে প্ররোচিত করল, ফলে আমি পুনরায় আমার কথাটিই বললাম,
… এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও পুনরায় বললেন: «হে সাদ! আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য কেউ আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়, কেবল এই ভয়ে যে আল্লাহ তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন (পাছে তার ঈমানে ঘাটতি থাকার কারণে সে পথভ্রষ্ট না হয়)»। সমাপ্ত। (১)।
হাফিজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারীতে বলেছেন (২): «তিনি [তার উক্তি] "যদি"-এর উত্তর উহ্য রেখেছেন তা স্পষ্ট হওয়ার কারণে। যেন তিনি বলছেন: যদি ইসলাম এমনই হয় তবে পরকালে তা ফলপ্রসূ হবে না। তিনি যা উল্লেখ করেছেন ও দলীল হিসেবে পেশ করেছেন তার সারমর্ম হলো— ইসলাম শব্দটি শরয়ী হাকীকত বা শরীয়তসম্মত প্রকৃত অর্থ (الحقيقة الشرعية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ঈমানের সমার্থক এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য; যেমন আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯] এবং আল্লাহর বাণী: {আমি সেখানে একটি মুসলিম (مسلمين) পরিবার ছাড়া আর কাউকে পাইনি} [আয-যারিয়াত: ৩৬]। আবার এটি আভিধানিক হাকীকত বা ভাষাগত প্রকৃত অর্থ (الحقيقة اللغوية) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ নিছক আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। এখানে লেখকের বক্তব্যে শরয়ী অর্থই উদ্দেশ্য। শিরোনামের (তর্জমাতুল বাব) সাথে হাদিসের প্রাসঙ্গিকতা এখানে স্পষ্ট, কারণ মুসলিম (مسلم) তাকেও বলা হয় যে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে যদিও তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা না থাকে। সেক্ষেত্রে সে মুমিন (مؤمن) হবে না কারণ তার ক্ষেত্রে শরয়ী হাকীকত (الحقيقة الشرعية) বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও আভিধানিক হাকীকত (الحقيقة اللغوية) বিদ্যমান রয়েছে»। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত - গবেষণাধর্মী বা রূপক শিরোনাম (التراجم الاستنباطية):লেখকগণ তাঁদের কিতাবের মাসআলাসমূহের জন্য এমন সব শিরোনাম নির্ধারণ করেন যা এর বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যবস্তুকে নির্দেশ করে এবং শুরু থেকেই পাঠকের চিন্তাকে সেদিকে ধাবিত করে। মূলত শিরোনাম এবং অনুচ্ছেদসমূহের (التراجم) বিধান হলো— বিষয়ের সাথে এর সামঞ্জস্য হবে সুস্পষ্ট, যাতে গভীর চিন্তার প্রয়োজন না পড়ে।
তাহলে কেন এমন গবেষণাধর্মী শিরোনাম (التراجم الاستنباطية) রাখা হয় যা এর উদ্দেশ্য বুঝতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার দাবি রাখে?
আমরা এর উত্তর দিয়ে থাকি যে, লেখক হয়তো কেবল পূর্বোক্ত উপকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তিনি আরও গভীর কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখেন; ফলে তিনি গবেষণালব্ধ বা উদ্ভাবনী পদ্ধতি (الاستنباط) অবলম্বন করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
1 - أن يريد مؤلف الكتاب الوصول بالقارئ إلى نتيجة لا تدل عليها أحاديث الباب التي بَيْنَ يديه بصورة مباشرة، فيضع له ما يرشده إليها في العنوان، ليصل إليها القارىء بِإِعْمَالِ فِكْرِهِ، ويعلم أنها المقصودة.
2 - أن يقصد المؤلف شَحْذَ ذِهْنِ الطَّالِبِ وتمرينه على التفهم والاستنباط، فيسلك طريق الإشارة ليتفكر القارىء فيها فيستيقظ عقله، ويكتسب تَفَقُّهًا وَتَعَمُّقًا في العلم.
ونستطيع أن نعتبر هذا الفن من التراجم خصوصيه لـ " الجامع الصحيح " للبخاري عَلَى وجه الجملة، قد يشاركة غيره في قدر قليل منه، ثم ينفرد الامام البخاري بألوان كثيرة منه، لها وهذه مسالكه نوضحها بالأمثلة فيما يلي:
1 - أن تتضمن الترجمة حُكْمًا زَائِدًا على مدلول الحديث، لوجود ما يدل على هذا الحكم من طريق آخر.
ومثاله عند " البخاري ": ما ذكر الامام بدر الدين بن جماعة في " مناسبات تراجم البخاري " (1) قال: «فَتَارَةً يَخْتَصِرُ الحَدِيثَ المُتَضَمِّنَ حُكْمَ تَرْجَمَةِ البَابِ، وَيُحِيلُ فَهْمَ ذَلِكَ عَلَى مَنْ يَعْرِفُهُ مِنْ أَهْلِ الحَدِيثِ، كَحَدِيثِ أَبِي سَلَمَةَ فِي الشِّعْرِ فَي المَسْجِدِ، فَإِنَّ الحَدِيثَ الذِي أَوْرَدَهُ لَيْسَ فِيهِ تَصْرِيحٌ بِالمَسْجِدِ، لَكِنَّهُ جَاءَ مُصَرِّحًا بِهِ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى، فَاكْتَفَى بالإِشَارَةِ فِي الحَدِيثِ إِحَالَةً عَلَى مَعْرِفَةِ أَهْلِهِ». اهـ. وَالحَدِيثُ المَذْكُورُ أَخْرَجَهُ البُخَارِيُّ فِي (الصَّلَاةِ)، قَالَ (2) «(بَاب الشِّعْرِ فِي الْمَسْجِدِ)، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ حَسَّانَ بْنَ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيَّ يَسْتَشْهِدُ أَبَا هُرَيْرَةَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ، هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «يَا حَسَّانُ أَجِبْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ؟» قَالَ: أَبُو هُرَيْرَةَ «نَعَمْ» اهـ.
2 - أن يكون تطابق الترجمة مع الباب بطريق الاستنتاج لعلاقة اللزوم مثلاً، وهو
--------------------------------------------
1 - লেখক এটি চান যে, পাঠক যেন এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যা সরাসরি তাঁর সম্মুখে বিদ্যমান অধ্যায়ের হাদিসসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় না; তাই তিনি শিরোনামে এমন কিছু উল্লেখ করেন যা পাঠককে সেই সিদ্ধান্তের দিকে পথপ্রদর্শন করে, যাতে পাঠক স্বীয় চিন্তাশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাতে পারেন এবং বুঝতে পারেন যে এটিই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য।
2 - লেখকের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর মেধা শাণিত করা এবং তাকে সঠিক অনুধাবন ও মাসয়ালা উদ্ঘাটন (استنباط)-এর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তাই তিনি ইঙ্গিতের (إشارة) পথ অবলম্বন করেন যাতে পাঠক তা নিয়ে চিন্তা করেন এবং তার প্রজ্ঞা জাগ্রত হয়, ফলে সে ইলমের ক্ষেত্রে গভীর বু্যত্পত্তি ও সূক্ষ্মদর্শিতা অর্জন করতে পারে।
অধ্যায় শিরোনামের (ترجمة) এই শিল্পকে আমরা সামগ্রিকভাবে ইমাম বুখারির "সহিহ আল-জামি" বা সহিহ বুখারি-এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করতে পারি। অন্য কেউ হয়তো এতে সামান্য পরিমাণে অংশগ্রহণ করে থাকতে পারেন, কিন্তু ইমাম বুখারি এর বহুবিধ বৈচিত্র্যের কারণে অনন্য। তাঁর এই কর্মপদ্ধতিসমূহ আমরা নিচে উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করছি:
1 - অধ্যায় শিরোনামে (ترجمة) হাদিসের সরাসরি অর্থের অতিরিক্ত কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকা; কারণ অন্য কোনো সূত্র থেকে এই বিধানের সপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান থাকে।
ইমাম বুখারির কিতাবে এর উদাহরণ: ইমাম বদরুদ্দীন বিন জামাআহ 'মুনাসাবাতু তারাজিমিল বুখারি' (১)-তে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: «কখনও তিনি সেই হাদিসটিকে সংক্ষেপ করেন যা অধ্যায় শিরোনামের (ترجمة) বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর বিষয়টি অনুধাবনের ভার অর্পণ করেন ওইসব হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) ওপর যারা তা অবগত। যেমন মসজিদে কবিতা আবৃত্তি সম্পর্কিত আবু সালামার হাদিসটি। কারণ তিনি যে হাদিসটি এখানে এনেছেন তাতে মসজিদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, কিন্তু অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তা স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই তিনি এই বিষয়ের বিজ্ঞজনদের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে হাদিসটিতে কেবল ইঙ্গিতের (إشارة) ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।» সমাপ্ত। উল্লিখিত হাদিসটি ইমাম বুখারি 'সালাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন (২) «(অনুচ্ছেদ: মসজিদে কবিতা আবৃত্তি), আমাদের নিকট আবু ইয়ামান আল-হাকাম বিন নাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের শুআইব যুহরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি হাসসান বিন সাবিত আনসারিকে আবু হুরায়রাকে সাক্ষী মানতে শুনেছেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "হে হাসসান, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ, তাকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল আ.) দ্বারা সাহায্য করুন?" আবু হুরায়রা বললেন: "হ্যাঁ"» সমাপ্ত।
2 - অনুমানের ভিত্তিতে শিরোনামের সাথে অধ্যায়ের মিল থাকা, যেমনটি হয়ে থাকে অপরিহার্য সম্পর্কের (لزوم) মাধ্যমে। এটি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
كثير في تراجمه.
مثاله في " الجامع الصحيح ": (بَاب أَهْلُ الْعِلْمِ وَالْفَضْلِ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ) أخرج فيه من طرق متعددة، بألفاظ متقاربة، حديث مرض النبي صلى الله عليه وسلم وإنابته أبابكر لِيُصَلِّي بالناس. وَفِيهِ قَوْلُ عَائِشَةَ: «إِنَّهُ رَجُلٌ رَقِيقٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ». قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ»
… فَقَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ
… » الحديث (1).
فقد قدمه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى من هو أجهر صَوْتًا وَأَقْوَى، ومعلوم أن أبابكر أعظم الصحابة عِلْمًا وًفَضْلاً، كما دلت الدلائل الأخرى في غير هذا المقام، فعلم أن التقدم للعلم والفضل كما ترجم البخاري.
3 - أَنَّ تطابق الترجمة للحديث بالعموم والخصوص: بأن يكون الحديث خَاصًّا والترجمة أعم منه، فيطابقها بتعميم معناه، أو يكون الحَدِيثُ عَامًّا وَالتَرْجَمَةُ خَاصَّةً فتدرج فيه.
ومن أمثلة ذلك عند أبي عبد الله البخاري:
(بَابُ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ أَخَاهُ يَوْمَ الجُمُعَةِ وَيَقْعُدُ فِي مَكَانِهِ) أخرج فيه حديث بْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما يَقُولُ: «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلُ أَخَاهُ مِنْ مَقْعَدِهِ وَيَجْلِسَ فِيهِ» (2).
والنهي مطلق يعم جميع الأوقات، منها يوم الجمعة الذي ترجم به البخاري.
4 - الترجمة بشيء بدهي قد يظنه قليل الجدوى، ثم بالبحث والاستقصاء تظهر له فائدة مجدية.
كما ترجم البخاري بـ (بَابُ الصَّلَاةِ عَلَى الحَصِيرِ) وَ ([بَاب] الصَّلَاةِ عَلَى الخُمْرَةِ) فِي كِتَابِهِ (3).
وَرُبَّمَا يُتَوَهَّمُ أَنَّ مثل هذه التراجم غير مُجْدِيَةٍ، لأن ما تضمنته أمر شائع معلوم لكنها في الحقيقة ذات فائدة، حيث إنها إشارة إلى الرَدِّ عَلَى مَنْ كَرِهَ ذلك، كابن الزبير وغيره.
وقال الحافظ أبوالفضل ابن حجر: «النُّكْتَةُ فِي تَرْجَمَةِ البَابِ - يعني الصلاة على
--------------------------------------------
তাঁর শিরোনামগুলোর (تراجم) মধ্যে এটি প্রচুর।
“আল-জামে আস-সহীহ”-তে এর উদাহরণ: (অধ্যায়: ইলম ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিগণই ইমামতির অধিক হকদার)। এতে তিনি বিভিন্ন সূত্রে, কাছাকাছি শব্দে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতা এবং মানুষের সালাত পড়ানোর জন্য আবু বকরকে স্থলাভিষিক্ত করার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উক্তি রয়েছে: «নিশ্চয়ই তিনি একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ, যখন তিনি আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন মানুষের সালাত পড়াতে সক্ষম হবেন না»। তিনি বললেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও যেন সে মানুষের সালাত পড়ায়»
… অতঃপর তিনি বললেন: «আবু বকরকে নির্দেশ দাও যেন সে মানুষের সালাত পড়ায়
… » হাদিস (১)।
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন ব্যক্তির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন যার কণ্ঠস্বর অধিক উচ্চ ও শক্তিশালী। আর এটি জানা কথা যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীদের মধ্যে জ্ঞান ও মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন, যেমনটি এই স্থান ছাড়াও অন্যান্য প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং জানা গেল যে, জ্ঞান ও মর্যাদার কারণেই অগ্রগণ্যতা পাওয়া যায়, যেমনটি বুখারি শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করেছেন।
৩ - হাদিসের সাথে শিরোনামের সামঞ্জস্যতা ব্যাপকতা (عموم) ও বিশেষত্বের (خصوص) ভিত্তিতে হওয়া: যেমন হাদিসটি বিশেষ (خاص) হওয়া এবং শিরোনামটি তার চেয়ে অধিক সাধারণ (أعم) হওয়া, ফলে এর অর্থের সাধারণীকরণের মাধ্যমে তা শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; অথবা হাদিসটি সাধারণ (عام) হওয়া এবং শিরোনামটি বিশেষ (خاص) হওয়া, যার ফলে হাদিসটি শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারির নিকট এর উদাহরণ হলো:
(অধ্যায়: জুমার দিন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে তার স্থান থেকে উঠিয়ে নিজে সেখানে বসবে না)। এতে তিনি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে সেখানে নিজে বসতে নিষেধ করেছেন» (২)।
আর এই নিষেধাজ্ঞাটি নিঃশর্ত (مطلق), যা সকল সময়কে শামিল করে; যার মধ্যে জুমার দিনও অন্তর্ভুক্ত, যে শিরোনামে (ترجمة) বুখারি এটি উল্লেখ করেছেন।
৪ - এমন স্বতঃসিদ্ধ বিষয় দিয়ে শিরোনাম (ترجمة) নির্ধারণ করা যা হয়তো কেউ সামান্য উপকারি মনে করতে পারে, কিন্তু অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তার কার্যকর উপকারিতা প্রকাশ পায়।
যেমন বুখারি শিরোনাম দিয়েছেন: (অধ্যায়: চাটাইয়ের ওপর সালাত আদায় করা) এবং ([অধ্যায়] ছোট মাদুরের ওপর সালাত আদায় করা) তাঁর কিতাবে (৩)।
হয়তো ধারণা হতে পারে যে এ ধরনের শিরোনামগুলো (تراجم) ফলপ্রসূ নয়, কারণ এর বিষয়বস্তু একটি প্রচলিত ও জানা বিষয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো অত্যন্ত উপযোগী, যেহেতু এগুলো ঐ সকল ব্যক্তিদের মত খণ্ডনের ইশারা যারা একে অপছন্দ করতেন, যেমন ইবনে যুবায়ের এবং অন্যান্যরা।
হাফিজ আবুল ফজল ইবনে হাজার বলেন: «অধ্যায়ের শিরোনামের (ترجمة) নিগুঢ় রহস্য - অর্থাৎ সালাত আদায় করা...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
الحصير - الإِشَارَةُ إِلَى مَا رَوَاهُ اِبْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَغَيْرُهُ مِنْ طَرِيقِ شُرَيْح بْنِ هَانِئٍ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ: " أَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الحَصِيرِ وَاللهُ يَقُول ({وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا؟} [الإسراء: 8]) " فَقَالَتْ: " لَمْ يَكُنْ يُصَلِّي عَلَى الْحَصِيرِ "، فَكَأَنَّهُ لَمْ يَثْبُت عِنْد الْمُصَنِّف أَوْ رَآهُ شَاذًّا مَرْدُودًا لِمُعَارَضَتِهِ مَا هُوَ أَقْوَى مِنْهُ
… » (1)
فظهر بذلك ما وراء هذه التراجم من الفوائد القيمة.
وفي الحقيقة أن ما نجده في كُتُبِ السُنَّةِ المُبَوَّبَةِ مِنَ التَّرَاجِمِ الاستنباطية ليس إلا طَرَفًا من فنون البخاري البديعة في تراجمه، فما أكثر تعمقه وما أبعد غوصه! ثم ما أكثر فنونه!. لقد:
أَعْيَا فُحُولَ العِلْمِ حَلَّ رُمُوزِ مَا *
… *
… * أَبْدَاهُ فِي الأَبْوَابِ مِنْ أَسْرَارِ
ونذكر فيما يلي بعض ما تميزت به تراجمه الاستنباطية مِمَّا ذكره الائمة، وَعَدَّدَهُ العلماء، لِنُبَيِّنَ هذه المزية في مقام إظهار الخصوصية، فمنها:
1 - أنه في استنباط الأحكام والفوائد في تراجمه يتصرف في الأحاديث على طريقة الفقهاء، من تأويل لنص وتفسير لمشكل (مَثَلاً) ويسلك في ذلك طريق الإشارة فيظن بعض الناس أنه ليس هناك ارتباط بين الحديث والترجمة، ولكن إذا تأمل وجد ارْتِبَاطًا قَوِيًّا، لأنها - كما قال الحافظ ابن حجر: «بيان لتأويل ذلك الحديث، نائبة مناب قول الفقهاء مثلاً: المراد بهذا الحديث العام الخصوص، أو بهذا الحديث الخاص العموم، إشعارًا بالقياس لوجود العلة الجامعة. أو أن ذلك الخاص المراد به ما هو أعم، مِمَّا يدل عليه ظاهره بطريق الأعلى، أو الأدنى ويأتي في المطلق والمقيد نظير ما ذكرنا في الخاص والعام. وكذا في شرح المشكل، وتفسير الغامض، وتأويل الظاهر، وتفصيل المجمل، وهذا النوع هو معظم ما يُشْكِلُ من تراجم هذا الكتاب، ولهذا اشتهر من قول جمع من الفضلاء «فِقْهُ البُخَارِي فِي تَرَاجِمِهِ». وأكثر ما يفعل البخاري ذلك إذا لم يجد حَدِيثًا على شرطه في الباب ظاهر المعنى في المقصد الذي ترجم به، ويستنبط الفقه منه، وقد يفعل ذلك لغرض شحذ الأذهان
… وكثيرًا ما يفعل ذلك - أي الأخير - حيث ذكر
--------------------------------------------
মাদুর - ইবনে আবি শায়বা এবং অন্যান্যরা শুরাইহ ইবনে হানি থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তিনি আয়েশাকে (রা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি মাদুরের ওপর সালাত আদায় করতেন, অথচ আল্লাহ বলেন ({এবং আমি জাহান্নামকে কাফিরদের জন্য কারাগার/বিছানা (হাসিরা) করেছি?} [আল-ইসরা: ৮])?" তিনি বললেন: "তিনি মাদুরের ওপর সালাত আদায় করতেন না।" সম্ভবত এটি গ্রন্থকারের নিকট সাব্যস্ত হয়নি অথবা তিনি একে একক ও বিচ্ছিন্ন (شاذًا) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردودًا) হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ এটি অধিকতর শক্তিশালী বর্ণনার পরিপন্থী
... » (১)
এর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদ শিরোনামগুলোর (তারাজিম) অন্তরালে থাকা মূল্যবান জ্ঞানগত উপকারিতাগুলো স্পষ্ট হলো।
প্রকৃতপক্ষে, সুন্নাহর সুবিন্যস্ত গ্রন্থসমূহে আমরা গবেষণালব্ধ অনুচ্ছেদ শিরোনামের (তারাজিম ইসতিনবাতিয়্যাহ) যা পাই, তা বুখারির অনুচ্ছেদ শিরোনামের চমৎকার শৈল্পিক নিপুণতার একটি অংশ মাত্র। তাঁর গভীরতা কতই না অগাধ এবং গবেষণার ডুবুরি হিসেবে তিনি কতই না সুদূরপ্রসারী! তাঁর শাস্ত্রীয় বৈচিত্র্য কতই না ব্যাপক! ইলমের জগতের দিকপালরা সেই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন... যা তিনি অনুচ্ছেদসমূহের মাঝে গোপন রহস্য হিসেবে প্রকাশ করেছেন।
ইমামগণ যা উল্লেখ করেছেন এবং উলামায়ে কেরাম যা গণনা করেছেন তা থেকে তাঁর গবেষণালব্ধ অনুচ্ছেদ শিরোনামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো, যাতে তাঁর এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট করা যায়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - তিনি তাঁর অনুচ্ছেদ শিরোনামগুলোতে আহকাম ও ফায়দা আহরণ করার ক্ষেত্রে ফকিহগণের পদ্ধতিতে হাদিসগুলো ব্যবহার করেন, যেমন কোনো নসের (মূল পাঠ) ব্যাখ্যা করা বা জটিল ও আপাতবিরোধী (مشكل) হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করা। এক্ষেত্রে তিনি ইঙ্গিতধর্মী পথ অবলম্বন করেন, যার ফলে কেউ কেউ মনে করেন যে হাদিস এবং অনুচ্ছেদ শিরোনামের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে সেখানে এক শক্তিশালী যোগসূত্র পাওয়া যায়। কারণ, হাফেজ ইবনে হাজার যেমনটি বলেছেন: «এটি সেই হাদিসের ব্যাখ্যার বর্ণনা, যা ফকিহগণের বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত। উদাহরণস্বরূপ: এই সাধারণ (عام) হাদিসটি দ্বারা বিশেষত্ব বা নির্দিষ্টকরণ (خصوص) উদ্দেশ্য, অথবা এই বিশেষ (خاص) হাদিসটি দ্বারা ব্যাপকতা (عموم) উদ্দেশ্য—সাদৃশ্যমূলক বিধানের (কিয়াস) দিকে ইঙ্গিত করার জন্য, যেহেতু সেখানে একটি অভিন্ন কারণ (علة) বিদ্যমান। অথবা সেই বিশেষ বিষয়টি দ্বারা তার চেয়েও ব্যাপক কোনো অর্থ উদ্দেশ্য যা তার বাহ্যিক শব্দ থেকে উচ্চতর বা নিম্নতর পদ্ধতিতে বোঝা যায়। আর শর্তহীন (مطلق) এবং শর্তযুক্ত (مقيد) বিষয়ের ক্ষেত্রেও আমরা বিশেষ ও সাধারণের ক্ষেত্রে যা বলেছি তারই অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একইভাবে জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা, অস্পষ্ট বিষয়ের বিশ্লেষণ, বাহ্যিক অর্থের ব্যাখ্যা এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়ের (مجمل) বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসৃত হয়। এই প্রকারটিই এই গ্রন্থের অনুচ্ছেদ শিরোনামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয়। একারণেই একদল মনীষীর মাঝে এই প্রবাদটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, 'বুখারির ফিকহ তাঁর অনুচ্ছেদ শিরোনামের (তারাজিম) মাঝে নিহিত।' ইমাম বুখারি সাধারণত তখনই এটি করেন যখন তিনি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে তাঁর শর্তানুযায়ী (شرطه) এমন কোনো হাদিস খুঁজে পান না যা সরাসরি সেই উদ্দেশ্যটি প্রকাশ করে যার ওপর তিনি শিরোনাম দিয়েছেন এবং যা থেকে ফিকহী মাসআলা আহরণ করা যায়। কখনও কখনও তিনি মেধা বিকাশের উদ্দেশ্যেও এমনটি করেন... এবং প্রায়শই তিনি এটি করেন - অর্থাৎ শেষেরটি - যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الحديث المفسر لذلك في موضع آخر متقدمًا أو متأخرًا فكأنه يحيل عليه» (1).
2 - ضَرْبٌ ذكره بدرالدين بن جماعة وهو: «كَوْنُ حُكْمِ الْتَّرْجَمَةِ أَوْلَى مِنْ حُكْمِ نَصِّ الحَدِيْثِ، كَحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ فِي (بَابُ إِذَا وَقَفَ فِي الطَّوَافِ)، لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَالَى بَيْنَ الطَّوَافِ وَالصَّلَاةِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَهُمَا مَعَ اخْتِلَافِ نَوْعَيْ العِبَادَةِ، فَلأَنْ لَا يُفَرِّقُ بَيْنَ أَشْوَاطِ الطَّوَافِ بِالوُقُوفِ وَنَحْوِهِ مَعَ اتِّحَادِ النَّوْعِ أَوْلَى» (2).
3 - قال ابن جماعة أيضا (3) «وَتَارَةً يَكُونُ حُكْمُ التَّرْجَمَةِ مَفْهُومًا مِنَ الحَدِيثِ، وَلَكِنْ بِطَرِيقٍ خَفِيٍّ وَفَهْمٍ دَقِيْقٍ، كَمَا فُهِمَ أَنَّ الأَعْمَالَ مِنَ الإِيمَانِ مِنْ قَوْلِ عَائِشَةَ (4) «وَكَانَ أَحَبُّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَا دَوَامَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ». وَجَّهَ فَهْمَهُ: أَنَّ أَحَبُّ أَفْعَلَ تَفْضِيلٍ يَقْتَضِي مَحْبُوبًا دُونَهُ، وَلَا يَكُونُ الدِّينُ مَحْبُوبًا وَأُحَبَّ مِنْهُ إِلَاّ بِاعْتِبَارِ الأَعْمَالِ، لأَنَّ اعْتِقَادَ الإِيمَانِ لَيْسَ فِيهِ مَحْبُوبٌ آَخَرَ أَحَبُّ، لأَنَّ اعْتِقَادَهُ غَيْرَ الإِيمَانِ كُفْرٌ
… » انْتَهَى.
وهذه الأنواع وسيعة في تراجم البخاري، أخذ بها الشُرَّاحُ في كثير من الموضع، كما سبق ذكر كلام ابن حجر في التنبيه عليها، وكذلك العَيْنِي أخذ بها في مواضع كثيرة مَثَلاً قال في حديث أبي موسي في (بابُ منْ أدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ العَصْرِ قَبْلَ الغُرُوبِ): «مُطَابَقَتُهُ لِلْتَّرْجَمَةِ بِطَرِيقِ الإِشَارَةِ لَا بِالتَّصْرِيحِ
… » وكذا قال في الباب الذي بعده (بَابُ وَقْتِ المَغْرِبِ) (5).
ثَالِثًا - التَّرَاجِمُ المُرْسَلَةُ:وهي التي اُرسِلَتْ فلم تُذْكَر لها عناوين، واكتفى عنها بكلمة العنوان (بَابٌ). وبالاستقراء لهذه الصيغة اتضح لنا:
أ - أن العنوان (بَابٌ) يستعمل على وجهين من التناسب
--------------------------------------------
সেই হাদিস যা এর ব্যাখ্যা প্রদান করে তা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অন্য কোনো স্থানে বর্ণিত হয়েছে, যেন তিনি সেটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন (১)।
২ - এক প্রকার যা বদরুদ্দীন ইবনুল জামাআহ উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো: পরিচ্ছেদের শিরোনামের বিধান হাদিসের মূল পাঠের (نص الحديث) বিধানের চেয়ে অধিক উপযোগী হওয়া; যেমন ইবনে উমরের হাদিস যা ‘তাওয়াফের মাঝে কেউ দাঁড়িয়ে পড়লে’ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ ও সালাতের মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেন এবং ইবাদতের ধরন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এ দুটোর মাঝে কোনো ব্যবধান করতেন না। সুতরাং, একই জাতীয় ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও তাওয়াফের চক্করগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে পড়া বা অনুরূপ কোনো কারণে ব্যবধান না করা অধিক যুক্তিযুক্ত (২)।
৩ - ইবনুল জামাআহ আরও বলেছেন (৩), “কখনো কখনো পরিচ্ছেদের শিরোনামের বিধানটি হাদিস থেকে বোধগম্য হয়, তবে তা অস্পষ্ট বা সূক্ষ্ম উপায়ে এবং গভীর অনুধাবনের মাধ্যমে। যেমন আয়েশা (রা.)-এর উক্তি (৪) ‘তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন (ইবাদত) ছিল যা এর পালনকারী নিয়মিত পালন করে’ থেকে এটি বোঝা যায় যে আমলসমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এই উপলব্ধির যৌক্তিকতা হলো: ‘আহাব্বু’ (অধিক প্রিয়) শব্দটি এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে যা অন্য কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হওয়ার দাবি রাখে। আর আমল বা কাজের মাধ্যম ছাড়া দ্বীন কারো কাছে প্রিয় বা অধিক প্রিয় হতে পারে না। কেননা ঈমানের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এমন অন্য কোনো পছন্দনীয় বিষয় নেই যা অধিক প্রিয় হতে পারে, কারণ ঈমান ছাড়া অন্য কিছুর বিশ্বাস হলো কুফর...” সমাপ্ত।
এই প্রকারগুলো বুখারির পরিচ্ছেদসমূহে ব্যাপক আকারে পাওয়া যায়। ব্যাখ্যাকারগণ অনেক স্থানে এগুলো গ্রহণ করেছেন, যেমন ইতিপূর্বে ইবনে হাজারের সতর্কবাণী উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে আইনিও অনেক স্থানে এগুলো গ্রহণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আবু মুসার হাদিস সম্পর্কে ‘সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেলে’ অনুচ্ছেদে তিনি বলেছেন: “পরিচ্ছেদের শিরোনামের সাথে এর সংগতি ইশারা বা ইঙ্গিতের (إشارة) মাধ্যমে, সুস্পষ্ট বিবৃতির (تصريح) মাধ্যমে নয়...” অনুরূপ কথা তিনি পরবর্তী অনুচ্ছেদ ‘মাগরিবের সময়’ সম্পর্কেও বলেছেন (৫)।
তৃতীয় - শিরোনামহীন (مرسل) পরিচ্ছেদসমূহ:আর এগুলো হলো সেই পরিচ্ছেদ যেগুলোকে শিরোনামহীনভাবে রাখা হয়েছে (مرسل), ফলে সেগুলোর কোনো শিরোনাম উল্লেখ করা হয়নি এবং শিরোনামের পরিবর্তে কেবল ‘অনুচ্ছেদ’ (বাব) শব্দটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতির অনুসন্ধানে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে:
ক - ‘অনুচ্ছেদ’ (বাব) শিরোনামটি সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে দুই ভাবে ব্যবহৃত হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
1 - أن يكون مضمون الباب مُتَّصِلاً بالباب السابق مُكَمِّلاً له، فيفصل لفائدة زائدة في مضمونه، فيكون بمنزلة الفصل من السابق.
ومن ذلك في " الجامع الصحيح " قول البخاري في الجنائز (1).
(بَابُ مَا يُكْرَهُ مِنَ النِّيَاحَةِ عَلَى المَيِّتِ) وأخرج فيه حديث المغيرة: «مَن نِيحَ عليه يُعَذّبُ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ)، وحديث عمر: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ».
ثم قال: (باب، وأخرج فيه حديث جابر في مقتل أبيه يوم أُحُد وفيه: «فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُفِعَ، فَسَمِعَ صَوْتَ صَائِحَةٍ، فَقَالَ: «مَنْ هَذِهِ؟» فَقَالُوا: ابْنَةُ عَمْرٍو - أَوْ أُخْتُ عَمْرٍو -. قَالَ: «فَلِمَ تَبْكِي؟ أَوْ لَا تَبْكِي، فَمَا زَالَتِ المَلَائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رُفِعَ».
فهذا الحديث أفاد كراهة النياحة على الميت، وتعليل ذلك بأن هذا الميت ظَلَّلَتْهُ الملائكة بأجنحتها، واكتنفته الرحمة، فهو في نعيم عظيم يوجب السرور له لا الحزن والنياحة، وذلك عن طريق آخر غير ما أفادته الأحاديث السابقة من علة النهي عن النياحة، فلذلك فصله في باب مستقل.
قال الحافظ ابن حجر (2): «فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْفَصْلِ مِنَ البَابِ الذِي قَبْلَهُ كَمَا تَقَدَّمَ تَقْرِيرُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ».
2 - والكثير الغالب أن يكون ضمن الباب فائدة تتصل بأصل الموضوع الذي عَنْوَنَ لَهُ (بأبواب) ويكون قد ذكره عقبه لهذه الملابسة.
ومن ذلك في " البخاري " قوله في (الحَرْثِ وَالمُزَارَعَةِ):
(بَابُ قَطْعِ الشَّجَرِ وَالنَّخْلِ) أخرج فيه حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّهُ حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ، وَقَطَعَ»
، ثم قال: (باب) وأخرج فيه حديث رافع بن خديج قال: «كنا أكثرَ أهل المدينة مُزْدَرَعا، كنا نُكْرِي الأرض بالناحية منها مُسَمّي لسيد الأرض، قال: فمما يُصابُ ذلك وتسلم الأرض، ومما
رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، قَالَ: «كُنَّا أَكْثَرَ أَهْلِ المَدِينَةِ مُزْدَرَعًا، كُنَّا نُكْرِي الأَرْضَ بِالنَّاحِيَةِ مِنْهَا مُسَمًّى لِسَيِّدِ الأَرْضِ»، قَالَ: «فَمِمَّا يُصَابُ ذَلِكَ وَتَسْلَمُ الأَرْضُ، وَمِمَّا
--------------------------------------------
1 - পরিচ্ছেদের (باب) বিষয়বস্তু পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের সাথে সংশ্লিষ্ট ও তার পরিপূরক হওয়া, ফলে অতিরিক্ত কোনো তাত্ত্বিক উপকারের জন্য বিষয়বস্তুটিকে পৃথক করা হয়, যা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদেরই একটি অনুচ্ছেদের (فصل) স্থলাভিষিক্ত হয়।
এরই একটি উদাহরণ হলো "আল-জামি আল-সহিহ" গ্রন্থে জানাজা অধ্যায়ে ইমাম বুখারীর বক্তব্য (১)।
(মৃত ব্যক্তির ওপর বিলাপ করা অপছন্দনীয় হওয়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (باب)) এবং এতে তিনি মুগীরা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: «যার ওপর বিলাপ করা হয়, তাকে তার ওপর কৃত বিলাপের কারণেই শাস্তি দেওয়া হয়», এবং উমর (রা.) বর্ণিত হাদিস: «মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার ওপর কৃত বিলাপের কারণে আজাব দেওয়া হয়»।
অতঃপর তিনি বলেছেন: (পরিচ্ছেদ (باب)), এবং এতে তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন জাবির (রা.)-এর পিতার শাহাদাত বরণ সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: «অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিলেন এবং তাকে তুলে নেওয়া হলো। তখন তিনি একজন বিলাপকারিণীর কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: "সে কে?" তারা বলল: আমরের কন্যা অথবা আমরের বোন। তিনি বললেন: "সে কেন কাঁদছে? সে কাঁদুক বা না কাঁদুক, তাকে উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে তাকে ছায়া দিচ্ছিল"»।
এই হাদিসটি মৃত ব্যক্তির ওপর বিলাপ করার অপছন্দনীয়তা প্রকাশ করেছে এবং এর কারণ বর্ণনাকরণ (تعليل) হিসেবে বলা হয়েছে যে, এই মৃত ব্যক্তিকে ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে ছায়া দিচ্ছিলেন এবং রহমত তাকে পরিবেষ্টন করে রেখেছিল; ফলে সে এমন এক মহান নিআমতের মধ্যে রয়েছে যা তার জন্য আনন্দের দাবি রাখে, শোক বা বিলাপের নয়। এটি বিলাপ নিষেধের কারণ (علة) সংক্রান্ত পূর্ববর্তী হাদিসগুলো যা প্রকাশ করেছে, তা থেকে ভিন্ন একটি দিক বুঝিয়েছে, তাই তিনি এটিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে (باب) পৃথক করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার (২) বলেন: «এটি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদেরই (باب) একটি অনুচ্ছেদ (فصل) স্বরূপ, যেমনটি ইতিপূর্বে একাধিকবার ব্যাখ্যা করা হয়েছে»।
2 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিচ্ছেদের (باب) অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি এমন কোনো বিশেষ তাত্ত্বিক উপকারিতা হয়ে থাকে যা মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার জন্য তিনি অনেকগুলো 'পরিচ্ছেদ' (أبواب) শিরোনাম দিয়েছেন এবং এই সংশ্লিষ্টতার কারণেই তিনি এটিকে এর পরপরই উল্লেখ করেছেন।
এরই একটি উদাহরণ "বুখারী" গ্রন্থে 'চাষাবাদ ও বর্গা চাষ' (المزارعة) অধ্যায়ে ইমাম বুখারীর বক্তব্য:
(গাছ ও খেজুর গাছ কাটা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (باب)) এতে তিনি নবী (সা.) থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: «তিনি বনু নাযীর গোত্রের খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং গাছ কেটে ফেলেছিলেন»
অতঃপর তিনি বলেছেন: (পরিচ্ছেদ (باب)) এবং এতে রাফে ইবনে খাদীজ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা মদিনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদকারী ছিলাম। আমরা জমির মালিকের জন্য জমির একটি নির্দিষ্ট অংশ ফসলের জন্য নির্ধারিত করে জমি বর্গা দিতাম। তিনি বলেন: ফলে কখনও সেই অংশ থেকে ফসল পাওয়া যেত আর বাকি জমি নিরাপদ থাকত, আবার কখনও...»
রাফে ইবনে খাদীজ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা মদিনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদকারী ছিলাম। আমরা জমির মালিকের জন্য জমির একটি নির্দিষ্ট অংশ ফসলের জন্য নির্ধারিত করে জমি বর্গা দিতাম»। তিনি বলেন: «ফলে কখনও সেই অংশ থেকে ফসল পাওয়া যেত আর বাকি জমি নিরাপদ থাকত, আবার কখনও...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
يُصَابُ الأَرْضُ وَيَسْلَمُ ذَلِكَ، فَنُهِينَا، وَأَمَّا الذَّهَبُ وَالوَرِقُ فَلَمْ يَكُنْ يَوْمَئِذٍ» (1).
والحديث مضمونه مزارعة الأرض، وليس له صلة خاصة بالباب السابق، وإنما يتصل به بالمناسبة لأصل الموضوع (الحَرْثِ وَالمُزَارَعَةِ) ومثل ذلك كثير في الكتاب، وربما تكلف الشراح عقد الصلة لهذا النوع من الأبواب بما قبلها. ولسنا نرى ذلك لأنه ما دام الباب مُنَاسِبًا للمبحث الذي عُقِدَ فيه كان ذلك كَافِيًا (2).
رَابِعًا - التَّرَاجِمُ المُفْرَدَةُ:التراجم المفردة: هي تراجم يجعلها البخاري في باب من الأبواب، ثُمَّ لَا يُخْرِجُ شَيْئًا من الحديث للدلالة عليها. لها مثال ذلك قوله في (الصَّلَاةِ):
(بَابُ يَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ القِبْلَةَ)، قَالَهُ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (3) وقوله: (بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا البَلَدَ آمِنًا
… ) (4) ثم لم يخرج فيهما شيئا من الحديث للدلالة على ما ترجم له.
قال الحافظ ابن حجر: «وَرُبَّمَا اكْتَفَى أَحْيَانًا بِلَفْظ التَّرْجَمَةِ الَّتِي هِيَ لَفْظُ حَدِيثٍ لَمْ يَصِحَّ عَلَى شَرْطِهِ وَأَوْرَدَ مَعَهَا أَثَرًا أَوْ آيَةً فَكَأَنَّهُ يَقُولُ لَمْ يَصِحَّ فِي البَابِ شَيْءٌ عَلَى شَرْطَي» (5).
وفي الختام: ونذكر تَفَنُّنَ البخاري في تراجمه، وأنه كَثِيرًا ما يجمع بين ألوان مِمَّا ذكرنا من فنونه وأساليبه، حَتَّى لنجد الترجمة في كتابه تمثل بَحْثًا قَائِمًا بنفسه، جمع العناوين
--------------------------------------------
«ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঐ অংশটি নিরাপদ থাকতে পারে, তাই আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল; আর স্বর্ণ ও রৌপ্যের (বিনিময়) সেই সময়ে প্রচলিত ছিল না» (১)।
এই হাদিসের বিষয়বস্তু হলো ভূমি বর্গা চাষ (مزارعة), আর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের সাথে এর কোনো বিশেষ সম্পর্ক নেই। বরং এটি মূল বিষয়ের (চাষাবাদ ও বর্গা চাষ) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। গ্রন্থে এরূপ উদাহরণ প্রচুর রয়েছে এবং সম্ভবত ব্যাখ্যাকারগণ এই ধরণের পরিচ্ছেদগুলোর সাথে তার পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের যোগসূত্র স্থাপনে অহেতুক কষ্ট করেছেন। আমরা একে সঙ্গত মনে করি না; কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত পরিচ্ছেদটি যে বিষয়ের অধীনে আনা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, ততক্ষণ সেটিই যথেষ্ট (২)।
চতুর্থ - একক শিরোনামসমূহ (التراجم المفردة):একক শিরোনামসমূহ (التراجم المفردة): এগুলো এমন সব শিরোনাম (ترجمة) যা ইমাম বুখারি কোনো পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই শিরোনামের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন না। এর উদাহরণ হলো সালাত অধ্যায়ে তার উক্তি:
(পরিচ্ছেদ: পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ কিবলার দিকে রাখা), এটি আবু হুমায়দ আস-সাঈদী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)। এবং তার উক্তি: (পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যখন ইব্রাহিম বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এই শহরকে নিরাপদ করুন … ) (৪)। এরপর তিনি এই দুই ক্ষেত্রে শিরোনামের (ترجمة) সপক্ষে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।
হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: «কখনও কখনও তিনি কেবল শিরোনামের (ترجمة) শব্দমালা দিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন, যা মূলত এমন একটি হাদিসের শব্দ যা তার শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়নি; তিনি এর সাথে কোনো বিবরণ (أثر) অথবা আয়াত উল্লেখ করেন। যেন তিনি বলতে চান: এই পরিচ্ছেদে আমার শর্তানুযায়ী কোনো কিছুই বিশুদ্ধ (صحيح) নয়» (৫)।
পরিশেষে: আমরা ইমাম বুখারির শিরোনাম নির্ধারণের শৈল্পিক নৈপুণ্য উল্লেখ করছি যে, তিনি প্রায়শই আমাদের বর্ণিত বিভিন্ন পদ্ধতি ও শৈলীর সমন্বয় ঘটান, এমনকি আমরা তার গ্রন্থের শিরোনামগুলোকে (ترجمة) একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গবেষণামূলক কাজ হিসেবে দেখতে পাই, যা শিরোনামগুলোকে একত্রিত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমামুল বুখারী ওয়া ফিকহুত তারাযিম ফী জামিইহিস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
والآيات والأحاديث ثم الآثار، والأحاديث تَدُلُّ على بعضها بالمطابقة الظاهرة، وعلي بعضها بالنظر والاستنباط، ومن هنا تكثر الأنواع والمسالك، حتى تبلغ العشرات. فلذلك أدهشت العلماء، وشغلت عنايتهم واهتمامهم، فأطالوا القول فيها والثناء عليها، حتى كان ذلك من أساليب تقديم الكتاب على غيره من الكتب. قال الحافظ ابن حجر: «كَذَلِكَ الجِهَةُ العُظْمَى الْمُوجِبَةُ تَقْدِيمَهُ، وَهِيَ: مَا ضَمَّنَهُ أَبْوَابَهُ مِنَ التَّرَاجِمِ التِي حَيَّرَتْ الأَفْكَارَ وَأَدْهَشَتْ العُقُولَ وَالأَبْصَارَ» (1).
--------------------------------------------
আয়াত, হাদিস এবং অতঃপর প্রাচীন বর্ণনা (الآثار); হাদিসসমূহ একে অপরের প্রতি প্রত্যক্ষ সামঞ্জস্যের মাধ্যমে কিংবা গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (الاستنباط) মাধ্যমে ইঙ্গিত প্রদান করে। এখান থেকেই এর প্রকারভেদ ও কর্মপন্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এমনকি তা কয়েক দশকে গিয়ে পৌঁছায়। একারণেই এটি আলেম সমাজকে বিস্মিত করেছে এবং তাঁদের পূর্ণ মনোযোগ ও গুরুত্ব কেড়ে নিয়েছে। ফলে তাঁরা এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশংসা করেছেন, এমনকি এটি এই গ্রন্থটিকে অন্যান্য গ্রন্থের ওপর অগ্রাধিকার প্রদানের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "অনুরূপভাবে এই গ্রন্থটিকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের অন্যতম প্রধান দিক হলো: তিনি এর অধ্যায়গুলোতে এমন সব শিরোনাম (التراجم) বিন্যস্ত করেছেন যা চিন্তাশক্তিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয় এবং বুদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তিকে বিমুগ্ধ করে দেয়" (১)।
--------------------------------------------