(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
اختصار الأخبار عما كان بثغر سبتة من سني الآثار القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: اخْتِصَارُ الأَخْبَار عما كَانَ بِثَغر سبتة مِن سَنِيّ الآثَار
المؤلف: محمد بن القاسم بن محمد بن أحمد بن عبد الملك الأنصاري المحتد السبتي (ت بعد 825هـ)
المحقق: عبد الوهاب بن منصور
الناشر: الرباط
الطبعة: الثانية، 1403 هـ - 1983 م
عدد الصفحات: 57
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1432
সেবতা সীমান্তের উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহের সংবাদের সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: সেবতা সীমান্তের উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহের সংবাদের সংক্ষিপ্তসার
লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল মালিক আল-আনসারি আল-মুহাততাদ আল-সাবতি (মৃত্যু ৮২৫ হিজরির পরে)
সম্পাদক: আব্দুল ওয়াহাব বিন মানসুর
প্রকাশক: রাবাত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله أجمعين
قال العبد المشفق من ذنبه، الراجي عفو الرحيم ربه، محمد بن القاسم بن محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الملك الأنصاري المحتد، السبتي الدار والنشأة والمولد من الله عليه بالإنابة، ووفقه في القول والفعل إلى الإصابة، بمنه وكرمه:
أحمد الله على كل حال، وأصلي على نبيه سيدنا محمد خاتم الأرسال، وعلى آله وصحبه الذين بذلوا دونه الأنفس والأموال، وأسلم كثيراً.
وبعد فهذا جزء جامع لما كان عليه ثغر سبتة من الله على المسلمين بفتحه من قبور أعلام الشرفاء، وجهابذة العلماء، وكبار الأولياء، ونساك الصلحاء، وبلغاء الخطباء، ونبغاء الأدباء، وما يناسب ذلك من معالم الدين وينخرط في سلكه من ذكر المساجد الشريفة السنية، والخزائن المتعددة الفنون العلمية، والزوايا والمداس، والروابط والمحارس، وسوى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
স্বীয় পাপের কারণে ভীত-সন্ত্রস্ত, দয়ালু রবের ক্ষমার আশাবাদী বান্দা—মুহাম্মাদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-আনসারী বংশীয়, সেবতা নগরীতে যাঁর আবাস, বেড়ে ওঠা ও জন্মস্থান; আল্লাহ যাকে তওবার মাধ্যমে ধন্য করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে কথা ও কাজে সঠিক পথ প্রাপ্তির তাওফিক দিয়েছেন—তিনি বলেন:
আমি সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নবী, রাসূলগণের সমাপ্তিকারী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের প্রতি দরুদ পেশ করছি, আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতিও, যাঁরা তাঁর জন্য নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন; সেই সাথে অঢেল সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এটি একটি সংকলিত পুস্তিকা যা সেবতা (সেউটা) সীমান্ত নগরীর সেই বিশেষত্বগুলো নিয়ে রচিত, যার বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের ধন্য করেছেন। এতে রয়েছে প্রথিতযশা শরীফগণ, প্রাজ্ঞ আলেমগণ, উচ্চমর্যাদাবান ওলি-আউলিয়া, পরম মুত্তাকী সালেহীন, বাগ্মী খতিব এবং প্রতিভাশালী সাহিত্যিকগণের কবরের বিবরণ; সেই সাথে দ্বীনি নিদর্শনাদির মধ্যে যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্ভুক্ত—যেমন বরকতময় সুন্নাহর অনুসারী মসজিদসমূহ, বিভিন্ন জ্ঞান-শাখার সমৃদ্ধ কুতুবখানা বা গ্রন্থাগারসমূহ, যাবিয়া ও মাদরাসাসমূহ, রিবাত ও প্রহরাকেন্দ্রসমূহ এবং এছাড়া অন্যান্য বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك من الأماكن المنبئة بما يدل على شماخة القطر وكثرة الوارد والسالك وما فيها من المضارب والمصايد، الكثيرة السمك الجمة الفائد، وأنبه على شرف القرية البنيونشية المشهورة في الآفاق بما لها من المحاسن الشاهدة بالفضل والمزية، حسبما جرد من تأليفي (الكواكب الوقادة) و (الأعلام) ليكون سهل المنال قريب المرام، وقدمته هدية لمن التزم واجب شكره، على جميل بره، وسميته (اختصار الأخبار، عما كان بثغر سبتة من سني الآثار) ومن الله أسال التوفيق والإرشاد، وعليه تعالى أتوكل في كل قصد ومراد، لا رب غيره ولا معبود سواه.
الأعيان المدفونون بسبتةعدد ما جمعه كتاب (الكواكب الوقادة)، من قبور أولئك الأئمة القادة، رحمة الله عليهم ورضوانه، مما تعرفناه
এটি সেই সকল স্থানের অন্তর্ভুক্ত যা এই ভূখণ্ডের সুউচ্চ মর্যাদা এবং এখানে আগন্তুক ও পথচারীদের আধিক্যের প্রমাণ বহন করে। সেই সাথে সেখানে রয়েছে প্রচুর মাছ ও বহুবিধ উপকার সমৃদ্ধ অনেক শিকার ক্ষেত্র ও জলাশয়। আমি এখানে দিগন্তবিখ্যাত বানিউনেশ গ্রামের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করছি, যার রূপ-মাধুর্য এর ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের সাক্ষ্য দেয়। এটি আমার রচিত গ্রন্থ 'আল-কাওয়াকিবুল ওয়াক্কাদাহ' এবং 'আল-আ'লাম' থেকে সংক্ষেপিত করা হয়েছে, যাতে এটি সহজে বোধগম্য ও অভীষ্ট লক্ষ্যের নিকটবর্তী হয়। আমি এটি উপহার হিসেবে তাঁর সমীপে পেশ করছি যাঁর সুন্দর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য। আমি এর নামকরণ করেছি 'ইখতিসারুল আখবার, আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিয়্যিল আসার' (সাবতাহ সীমান্তের গৌরবময় নিদর্শনাদির সংক্ষেপিত বিবরণ)। মহান আল্লাহর কাছেই আমি তাওফীক ও হেদায়াত প্রার্থনা করছি এবং প্রতিটি উদ্দেশ্য ও সংকল্পে আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি। তিনি ব্যতীত কোনো প্রভু নেই এবং তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই।
সাবতাহ নগরীতে সমাহিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ'আল-কাওয়াকিবুল ওয়াক্কাদাহ' গ্রন্থে সেই সকল ইমাম ও নেতৃবৃন্দের যতগুলো কবরের বিবরণ সংগৃহীত হয়েছে—তাঁদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক—যা আমরা অবগত হয়েছি...
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بمقبرات الثغر المذكور خل ما لم نتعرفه، اثنان
وثمانون قبرا، وبعض المزارات يحتوي على قبور عديدة ليست بداخلة في هذا العدد، وسأنبه على ذلك حين ذكرها إن شاء الله.
ومن أشهرها بمقبرة التوتة من الميناء شرقي المدينة:
قبر الولي أبي زرعة مزار مشهور، حكى الشيخ الصالح المحدث الراوية أحمد العزفي عن شيخه الشيخ الإمام المحدث الأشهر عبد الله بن عبيد الله الحجري أن أبا زرعة هذا هو الذي أدخل القرآن إلى المغرب والدعاء عند قبره مستجاب.
উল্লিখিত সীমান্ত শহরের কবরস্থানগুলোতে আমরা যা শনাক্ত করতে পারিনি তা বাদ দিলে বিরাশিটি কবর রয়েছে।
কিছু মাজার অনেকগুলো কবর সংবলিত যা এই গণনার অন্তর্ভুক্ত নয়; ইনশাআল্লাহ সেগুলো বর্ণনার সময় আমি তা উল্লেখ করব।
আর সেগুলোর মধ্যে শহরের পূর্ব দিকে বন্দর সংলগ্ন 'তুতাহ' কবরস্থানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধটি হলো:
অলি আবু যুরআ-র কবর, যা একটি সুপরিচিত মাজার। পুণ্যবান শায়খ, মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারী আহমাদ আল-আযফি তাঁর উস্তাদ প্রখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হাজারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আবু যুরআ-ই মাগরিবে কুরআন নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর কবরের নিকট দুআ কবুল হয়।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن أشهرها بالمقبرة الكبرى التي بسفح جبل الميناء المذكور:
قبر الشيخ الأستاذ العلامة المصنف، إمام النحويين، وأسوة الفرضيين عبيد الله بن أبي الربيع القرشي الأموي العثماني الأشبيلي نزيل سبتة.
قبر الرئيس المجاهد المحدث الأديب الماهر سعيد ابن حكم القرشي.
এবং উল্লিখিত আল-মিনা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বৃহত্তর কবরস্থানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শায়খ, উস্তাদ, আল্লামা, রচয়িতা, নাহুবিদদের ইমাম এবং ফারায়েজ শাস্ত্রবিদদের আদর্শ উবায়দুল্লাহ বিন আবি রবী আল-কুরাশি আল-উমাউয়ি আল-উসমানি আল-ইশবিলির কবর, যিনি সাবতার অধিবাসী ছিলেন।
নেতা, মুজাহিদ, মুহাদ্দিস ও সুদক্ষ সাহিত্যিক সাঈদ ইবনে হাকাম আল-কুরাশির কবর।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قبر الشيخ الفقيه الحاج التقي الخاشع محمد ابن معلى القيسي السبتي من أهل سبتة.
قبر الشيخ الأستاذ المقرئ الشريف الأشرف الصالح المعظم، أحمد الحسني من أهل سبتة.
قبر الشيخ الولي الكبير القدر في العلم والعمل والزهد في الدنيا والخشية لله عز وجل يحيى بن محمد ابن رزق من أهل سبتة.
قبر الشيخ الولي الزاهد المكاشف أحمد الدقاق من أصهار أسلافنا، والدعاء عند قبره مستجاب.
وكان هذا الشيخ من الزهاد في الدنيا وأهلها، ومن زهده أن العشب كان ينبت في صحن الدار التي كان يسكن بها، ومن باب الدار إلى البيت الذي كان يعمره منها طريق ظاهر لأجل
শায়খ, ফকিহ, হাজি, পরহেজগার, বিনয়ী মুহাম্মদ ইবন মুয়াল্লা আল-কাইসি আস-সাবতি-এর কবর, যিনি সাবতাহর অধিবাসী ছিলেন।
শায়খ, উস্তাদ, কারি, শরিফ, অতি সম্মানিত, পুণ্যবান, মহান ব্যক্তি আহমাদ আল-হাসানি-এর কবর, যিনি সাবতাহর অধিবাসী ছিলেন।
ইলম, আমল, দুনিয়াবিমুখতা এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি ভয়ের ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী শায়খ ও ওলি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ ইবন রিজক-এর কবর, যিনি সাবতাহর অধিবাসী ছিলেন।
শায়খ, ওলি, দুনিয়াত্যাগী, আধ্যাত্মিক রহস্য উন্মোচনকারী (মুকাশফি) আহমাদ আদ-দাক্কাক-এর কবর, যিনি আমাদের পূর্বসূরিদের বৈবাহিক আত্মীয় ছিলেন; তাঁর কবরের নিকট দোয়া কবুল হয়।
এই শায়খ দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের প্রতি বিরাগভাজন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর দুনিয়াবিমুখতার অবস্থা এমন ছিল যে, তিনি যে বাড়িতে বসবাস করতেন তার উঠানে ঘাস জন্মাত; আর বাড়ির দরজা থেকে শুরু করে ঘরের যে অংশে তিনি অবস্থান করতেন, কেবল সেটুকু পর্যন্ত চলাচলের জন্য একটি দৃশ্যমান পথ ছিল...
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اختلافه عليه، وليس في البيت إلا حصير ووسادة من دوم لا غير، وفقد رضي الله عنه في عشر ذي الحجة فلم يدر أهله أين ذهب، ثم أتى بعد ذلك فسئل فقال ذهبت لقضاء بعض شؤوني، فلما قدم الحاج سبتة أخبروا أن
الشيخ حج معهم تلك السنة، فمن ذلك اليوم لزم منزله وانقبض عن الناس إلى أن توفي وأوصى صهره أبا محمد العليلي في مرضه الذي مات منه بأشياء، ثم قال له انصرف وائتني صبيحة غد فإنك تجدني ميتاً، فكان كما قال، وكانت وفاته في حدود عام 748 وازدحم الناس على قبره، وقطعوا الحصير الذي جعل عليه تبركاً به، نفعنا الله بأوليائه.
قبر الشيخ الصالح الورع الحاج التقي الناسك، الكثير الخير والصدقة والإيثار المخلص في أقواله وأفعاله، إمام مسجد الحلفاويين من سبتة، أبي العباس بن أبي الخير الأنصاري جدنا من قبل الأم.
قبر الشيخ الأديب الفرضي العروضي التاريخي، إبراهيم المعروف بالتلمساني الأنصاري، صاحب رجز الفرائض، ونظم السير.
তাঁর কাছে মানুষের যাতায়াত ছিল, অথচ তাঁর ঘরে কেবল একটি মাদুর এবং খেজুরের আঁশ দিয়ে তৈরি একটি বালিশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। যিলহজ্জের দশ তারিখে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাঁর পরিবার জানত না তিনি কোথায় গিয়েছেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসলে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: "আমি আমার কিছু কাজ সম্পন্ন করতে গিয়েছিলাম।" যখন হাজীরা সিউটাতে ফিরে আসলেন, তারা জানালেন যে শায়খ সেই বছর তাঁদের সাথে হজ পালন করেছেন। সেই দিন থেকে তিনি নিজের ঘরে অবস্থান করতে লাগলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকলেন। তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁর জামাতা আবু মুহাম্মদ আল-আলিলিকে কিছু বিষয়ে ওসিয়ত করলেন এবং বললেন: "এখন ফিরে যাও এবং আগামীকাল সকালে এসো, তখন তুমি আমাকে মৃত অবস্থায় পাবে।" ঠিক তেমনটাই ঘটল যা তিনি বলেছিলেন। তাঁর মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল। তাঁর কবরের পাশে মানুষের প্রচুর ভিড় হয়েছিল এবং বরকত লাভের আশায় তারা তাঁর লাশের উপর রাখা মাদুরটি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে নিয়েছিল। আল্লাহ তাঁর অলীদের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন।
নেককার, পরহেজগার, হাজী, মুত্তাকী, ইবাদতগুজার, অধিক কল্যাণকামী, দানশীল ও ত্যাগী শায়খের কবর, যিনি তাঁর কথা ও কাজে একনিষ্ঠ ছিলেন; তিনি ছিলেন সিউটার হালফাউইয়্যিন মসজিদের ইমাম, আবুল আব্বাস বিন আবু আল-খায়ের আল-আনসারী, যিনি আমাদের মাতামহ।
সাহিত্যিক, ফরায়েজ বিশেষজ্ঞ, ছন্দশাস্ত্রবিদ ও ঐতিহাসিক শায়খের কবর; তিনি ইবরাহিম আত-তিলিমসানি আল-আনসারী নামে পরিচিত, যিনি 'রজজুল ফরায়েজ' এবং 'নাজমুস সিয়ার'-এর রচয়িতা।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قبر الشيخ النحوي الأديب الأنبل محمد ابن عبيدة شارح جمل أبي القاسم.
قبر الشيخ الراوية المحدث الحاج المرتحل الضابط الناقد قاسم التجيبي السبتي صاحب مستفاد الرحلة.
قبر صديقه الشيخ الفقيه الشروطي الأعرف المقيد المصحح للكتب العلمية أبي عبد الله بن العدبس الرعيني.
قبر ابنه الشيخ الفقيه القاضي الخطيب البليغ الفذ في عصره أبي الفضل عبد الرحمن.
قبر أخيه شقيقه وكبيره الشيخ النحوي العدل المبرز أبي القاسم أحمد.
قبر ابن عمهما الشيخ الخطيب، الصالح المنيب، المنقبض عن الناس، المتبرك به المعظم، محمد بن العدبس الملقب بالمحجوب لكونه أقام نحواً من أربعين سنة لا يخرج من منزله إلا لحضور صلاة الفريضة في الجماعة ثم يعود.
ব্যাকরণবিদ, সুসাহিত্যিক ও মহীয়ান শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদার কবর, যিনি আবু আল-কাসিম রচিত ‘জুমাল’ গ্রন্থের ভাষ্যকার।
বর্ণনাকারী, মুহাদ্দিস, দেশভ্রমণকারী হাজ্জি, সূক্ষ্ম সংগ্রাহক ও সমালোচক শাইখ কাসিম আত-তুজিবি আস-সাবতির কবর, যিনি ‘মুস্তাফাদ আল-রিহলা’ গ্রন্থের রচয়িতা।
তাঁর বন্ধু শাইখ, ফকিহ, দলিল বিশেষজ্ঞ, সুবিজ্ঞ, ইলমি কিতাবসমূহের অনুলিপিকারক ও সংশোধনকারী আবু আবদুল্লাহ বিন আল-আদবাস আর-রুআইনির কবর।
তাঁর পুত্র শাইখ, ফকিহ, কাযী, খতিব, সুবাগ্মী ও নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব আবু আল-ফজল আবদুর রহমানের কবর।
তাঁর সহোদর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শাইখ, ব্যাকরণবিদ, ন্যায়নিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য আবু আল-কাসিম আহমদের কবর।
তাঁদের চাচাতো ভাই শাইখ, খতিব, পুণ্যবান, আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট, নির্জনতাপ্রিয়, বরকতময় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ বিন আল-আদবাসের কবর; তিনি ‘আল-মাহজুব’ (আবৃত) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন, কেননা তিনি প্রায় চল্লিশ বছর যাবৎ জামাআতে ফরজ সালাত আদায় ব্যতীত ঘর থেকে বের হতেন না, সালাত শেষ করেই ঘরে ফিরে আসতেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قبر الشيخ الفقيه الحاج الولي المعروف بالكرامات والبركات محمد الوادلاوي
السعيدي، وقبره مزار مشهور.
قبر الشيخ الفقيه المفتي الصالح السديد الورع الجليل القدر المتبرك به، إمام الفريضة بجامع سبتة الأعظم علي ابن وشاش المجكسي رحمه الله.
قبر الشيخ الفقيه الإمام القاضي الخطيب الحافظ المتفنن الأعرف أبي محمد بن مسلم الأنصاري القصري.
قبر الشيخ المقرئ الصالح الصوفي المتبرك به المعظم محمد ابن عدل الكناني.
القبر الشاط سمي بذلك لطوله، يذكر أنه قبر سبت الذي اختط سبتة، وهو مزار معروف البركة على القدم.
শাইখ, ফকিহ, হাজি, কারামত ও বরকতের জন্য সুপরিচিত ওলি মুহাম্মদ আল-ওয়াদলাওয়ী
আল-সাঈদী-র কবর, এবং তাঁর কবরটি একটি সুপরিচিত মাজার।
শাইখ, ফকিহ, মুফতি, নেককার, সঠিক পথপ্রাপ্ত, পরহেজগার, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও বরকতময় ব্যক্তিত্ব, সাবতাহ্র প্রধান জামে মসজিদের ফরজ নামাজের ইমাম আলী ইবনে ওয়াশাশ আল-মাজকাসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-র কবর।
শাইখ, ফকিহ, ইমাম, কাজী, খতিব, হাফেজ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী ও সুবিজ্ঞ আবু মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-আনসারি আল-কাসরি-র কবর।
শাইখ, ক্বারী, নেককার, সুফি, বরকতময় ও সম্মানিত মুহাম্মদ ইবনে আদল আল-কিনানি-র কবর।
আশ-শাত কবর, এর দৈর্ঘ্যের কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে; উল্লেখ করা হয় যে, এটি সাবত-এর কবর, যিনি সাবতাহ নগরীর পত্তন করেছিলেন এবং এটি প্রাচীনকাল থেকেই বরকতের জন্য সুপরিচিত একটি মাজার।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن أشهرها بمقبرة المنارة:
قبر الولي العابد المعروف بالبركة المنقطع إلى الله تعالى المشهور الكرمات والمكاشفات، ريحان الأسود وقد ذكره ابن الزيات في (التشوف) من تأليفه، ويقال أن الدعاء عند قبره مستجاب، وهو من المزارات المشهورة بسبتة.
قبر زينب العابدة، والدعاء عند قبرها مستجاب، ويصعد منه النور في بعض الأحيان رحمة الله عليها.
قبر الشيخ الفقيه القاضي الخطيب البليغ الصالح الورع المحدث الراوية الناقد بقية المشايخ وآخر المسندين عبد الله بن عبيد الله الحجري.
قبر الشيخ الفقيه القاضي المحدث الكاتب الأديب الأبرع محمد ابن الدراج الأنصاري من أهل سبتة.
قبر الشيخ الصالح المجتهد الناسك أبي العباس بن الأزرق، ذكره ابن القيم.
আর মানারা কবরস্থানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বরকতপূর্ণ হিসেবে পরিচিত, মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ, কারামত ও আধ্যাত্মিক উন্মোচনের (মুকাশাফা) জন্য প্রসিদ্ধ ইবাদতগুজার ওলি রায়হান আল-আসওয়াদ-এর কবর। ইবনে আয-যাইয়াত তাঁর রচিত 'আত-তাশাওউফ' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর কবরের নিকট দুআ কবুল হয় এবং এটি সাবতাহ শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ যিয়ারতগাহ।
ইবাদতগুজার যয়নাবের কবর। তাঁর কবরের নিকট দুআ কবুল হয় এবং মাঝে মাঝে সেখান থেকে নূর বিচ্ছুরিত হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
শায়খ, ফকিহ, বিচারক, সুবক্তা খতিব, নেককার, পরহেযগার, মুহাদ্দিস, বর্ণনাকারী, সমালোচক, মাশায়েখদের অবশিষ্টাংশ এবং সর্বশেষ উচ্চ সনদধারী মুসনিদ আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হাজারীর কবর।
সাবতাহ নিবাসী শায়খ, ফকিহ, বিচারক, মুহাদ্দিস, লেখক এবং অত্যন্ত দক্ষ সাহিত্যিক মুহাম্মদ ইবনে আদ-দাররাজ আল-আনসারীর কবর।
নেককার শায়খ, মুজতাহিদ ও তপোনিষ্ঠ আবু আল-আব্বাস বিন আল-আযরাকের কবর, ইবনুল কায়্যিম তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২০)
قبر الشيخ اللغوي الحافظ الأنبل المتفنن في المعارف أوحد زمانه في ذلك، وإمام عصره، محمد بن عبد المنعم الصنهاجي من أهل سبتة.
قبر الشيخ الفقيه الحافظ المفتي الصالح الورع سعيد الأنجري إمام المدرسة
الجديدة.
قبر تفاحة العابدة السوداء رضي الله عنها.
ومن أشهرها بقبر الحافة:
قبور الشهداء، مزار مشهور بموضع متسع جامع لعدد كثير، قد حماه الله عز وجل بشوك السدرة، ونباتها هناك متصل بعضه ببعض، ومن أعجب الأشياء أن السدرة ليست بسبتة ولا بأحوازها إلا بهذا الموضع الشريف، فسبحان القادر على ما يشاء لا إله إلا هو.
ومن أشهرها بمقبرة زكلو:
قبر الشيخ الإمام، العالم المحدث الصالح الأتقى، أحمد العزفي اللخمي صاحب (الدر المنظم، في مولد النبي المعظم)، وقد مر ذكره.
ভাষা বিশেষজ্ঞ শায়খ, হাফেজ, শ্রেষ্ঠতম, বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী, নিজ সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং যুগের ইমাম, সেউতার অধিবাসী মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুনইম আস-সানহাজির কবর।
শায়খ, ফকিহ, হাফেজ, মুফতি, নেককার ও পরহেজগার সাঈদ আল-আনজারি, যিনি মাদরাসার ইমাম ছিলেন—
আল-জাদিদাহ।
কৃষ্ণাঙ্গ আবিদা (ইবাদতকারী) তুফফাহাহ (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কবর।
আর হাফাহ গোরস্তানের প্রসিদ্ধ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শহীদগণের কবরসমূহ; এটি একটি প্রশস্ত স্থানে অবস্থিত সুপ্রসিদ্ধ মাজার যা বহু সংখ্যক কবরের সমষ্টি। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী এটিকে সিদর (কুল) গাছের কাঁটা দ্বারা সুরক্ষিত রেখেছেন এবং সেখানকার গাছগুলো একে অপরের সাথে ঘনভাবে মিশে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেউতা বা তার পার্শ্ববর্তী কোনো এলাকায় এই সিদর গাছ নেই, কেবল এই বরকতময় স্থানটি ছাড়া। অতএব, সেই সত্তা পবিত্র যিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
আর জাকলু গোরস্তানের প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শায়খ, ইমাম, আলেম, মুহাদ্দিস, নেককার ও পরম খোদাভীরু আহমাদ আল-আজাফি আল-লাখমির কবর, যিনি ‘আদ-দুররুল মুনাজ্জাম ফি মাওলিদিন নাবিয়্যিল মুআজ্জাম’ গ্রন্থের রচয়িতা; ইতিপূর্বে তার উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومن أشهرها بمقبرة مسجد المحلة حيث نزل طارق بن زياد حين الفتح الأول:
قبر الشيخ الفقيه القاضي الحافظ المفتي المشهور بالولاية والزهد، محمد بن عبد الله الأموي السبتي من أشياخ القاضي عياض، مزار مشهور.
قبور الشهداء بالمسجد المنسوب إليهم.
قبر العجوز المسنة المسندة أم المجد مريم بالبقعة المحبسة على دفن من يموت من طلبة مدرسة والدها الشيخ الفقيه المحدث المسند المطلع على الفنون العلمية علي الغافقي المعروف بالشاري، وسيأتي ذكره.
ومن أشهرها بالربض الأسفل:
এবং সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো মাহাল্লা মসজিদের কবরস্থান, যেখানে প্রাথমিক বিজয়ের সময় তারিক বিন যিয়াদ অবস্থান নিয়েছিলেন:
শায়খ, ফকিহ, কাজি, হাফিজ ও মুফতি, যিনি বেলায়েত ও যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)-এর জন্য সুপ্রসিদ্ধ, সেই মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাবী আস-সাবতি-এর কবর। তিনি কাজি আয়াযের শায়খদের (শিক্ষক) অন্তর্ভুক্ত; এটি একটি সুপরিচিত মাজার।
শহীদদের কবরসমূহ, যা তাঁদের নামে নামাঙ্কিত মসজিদে অবস্থিত।
বয়োবৃদ্ধা মুসনিদাহ উম্মুল মাজদ মারিয়ামের কবর, যা এমন এক ভূখণ্ডে অবস্থিত যা তাঁর পিতার মাদরাসার শিক্ষার্থী যারা ইন্তেকাল করেন তাঁদের দাফনের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে। তাঁর পিতা হলেন শায়খ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ এবং বিভিন্ন ইলমি শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন আলী আল-গাফেকি, যিনি 'আশ-শারি' নামে সমধিক পরিচিত; অচিরেই তাঁর আলোচনা আসবে।
এবং নিম্নতর শহরতলির (আর-রাবাদ আল-আসফাল) সবচেয়ে প্রসিদ্ধগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২২)
قبر الشيخ الفقيه الخطيب المحدث الحافظ سليمان بن سبع العجميسي مؤلف (شفاء الصدور)، والقبر بصحن جامع التبّانين حيث تقام الجمعة.
قبر الشهيد الصالح الشهير أبي عبد الله بن خرزوزة قريباً بالصحن المذكور.
ومن أشهرها بمقبرة الشريعة من الربض الأوسط:
قبر الشيخ الصالح العابد السالك أبي عبد الله القرموني من أهل سبتة، ويصعد من قبره النور.
وبمقبرة الربض البراني داخل سور البحر من الموضع المعروف بمضرب الشبكة:
قبر الشيخ الفقيه المشاور الخطيب الزاهد الشهير المعروف البركة الذي تراب ضريحه شفاء لذوي العاهات والزمني، محمد بن مسعود العكي المعروف بابن الكنقز بنون بين الكاف والقاف.
قبر الشيخ الفقيه القاضي أبي الحسن ابن القاري. ومن أشهرها في زماننا بالمقبرة المذكورة:
শায়খ, ফকিহ, খাতিব, মুহাদ্দিস, হাফেজ সুলাইমান ইবনে সাব’ আল-আজমিসি-এর কবর, যিনি ‘শিফা আস-সুদুর’ গ্রন্থের রচয়িতা। কবরটি তাব্বানিন জামে মসজিদের চত্বরে অবস্থিত, যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসিদ্ধ নেককার শহীদ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে খারজুজার কবর উক্ত চত্বরের নিকটেই অবস্থিত।
মধ্য উপশহরের শরীয়াহ গোরস্থানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শায়খ, নেককার, আবেদ, সালিক আবু আব্দুল্লাহ আল-কারমুনি-এর কবর, যিনি সাবতার অধিবাসী ছিলেন; তাঁর কবর থেকে নূর বিচ্ছুরিত হয়।
সমুদ্রের প্রাচীরের অভ্যন্তরে বহিঃস্থ উপশহরের গোরস্থানে ‘মাদরাব আশ-শাবাকা’ নামক পরিচিত স্থানে রয়েছে:
শায়খ, ফকিহ, উপদেষ্টা, খাতিব, প্রখ্যাত জাহিদ এবং বরকতময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ আল-আক্কি, যিনি ইবনুল কানকাজ (কাফ ও কাফ-এর মাঝে ‘নুন’ সহ) নামে সমধিক পরিচিত—তাঁর কবর; যাঁর রওজার মাটি শারীরিক ত্রুটিযুক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের জন্য আরোগ্যস্বরূপ।
শায়খ, ফকিহ, কাজি আবুল হাসান ইবনুল ক্বারি-এর কবর। আমাদের সময়ে উক্ত গোরস্থানে প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قبر الشيخ الولي الإمام الصوفي العارف عبد الجليل الأوسي الأندلسي نزيل قصر كتامة، والناس ينسبونه إليه، صاحب (شعب الإيمان) مزار مشهور، والدعاء عند قبره مستجاب.
قبر الشيخ الولي الزاهد السائح في أقطار الأرض المشهور الحاج يحيى ابن الصائغ الأنصاري من أهل سبتة.
قبر الشيخ الفقيه القاضي المدرس الصالح الورع حافظ المغرب في وقته لمذهب مالك بلا مدافعة، علي المتيوي شارح رسالة عبد الله بن أبي زيد.
শায়খ, ওলি, ইমাম, সুফি ও আরিফ আব্দুল জলিল আল-আওসি আল-আন্দালুসির কবর, যিনি কাসরে কুতামার অধিবাসী ছিলেন এবং লোকসকল তাঁকে সেই স্থানের দিকেই সম্পর্কিত করে থাকে; তিনি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থের রচয়িতা। এটি একটি প্রসিদ্ধ মাজার এবং তাঁর কবরের নিকট দুআ কবুল হয়।
শায়খ, ওলি, যাহেদ এবং দেশ-বিদেশ ভ্রমণকারী হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ হাজ্জি ইয়াহইয়া ইবনে আস-সাইগ আল-আনসারির কবর, যিনি সেবতাহর অধিবাসী ছিলেন।
শায়খ, ফকিহ, কাজি, মুদাররিস, নেককার ও পরহেজগার আলি আল-মাতিউয়ির কবর, যিনি স্বীয় সময়ে মালেকি মাজহাবের ক্ষেত্রে মাগরিব অঞ্চলের অবিসংবাদিত হাফিজ ছিলেন এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যাইদ রচিত 'রিসালাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকারী।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قبر الشيخ الولي أحمد القنجائري
قبر الشيخ المحدث الصالح الكثير الاجتهاد في العبادة الذي لا يستطيع أحد أن يدرك شأوه في ذلك أبي عبد الله ابن أبي صالح التجيبي.
قبر الشيخ الصالح المنقطع إلى الله أبي عبد الله بن سنان الأستجي.
ومن أشهرها بمقبرة مضرب الشبكة البراني خارج الباب الأحمر، قبور الشرفاء الحسينيين وهم عدد كثير جمعتهم روضة واحدة، وكانوا رضي الله عنهم ونفعنا بمحبتهم أهل علم وصلاح ودين، ومن تلك القبور:
قبر الشيخ القاضي الشريف العالم الصالح الأشهر أبي الشرف رفيع الحسيني.
ওলি শায়খ আহমদ আল-কানজাইরির কবর।
নেককার মুহাদ্দিস শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবু সালেহ আত-তুজিবি-এর কবর, যিনি ইবাদতে অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ হওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত নেককার শায়খ আবু আবদুল্লাহ বিন সিনান আল-আসতাজি-এর কবর।
বাবে আহমারের বহির্ভাগে অবস্থিত মাদ্রাব আশ-শাবাকা আল-বাররানি কবরস্থানের অধিক প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে হুসাইনি শরীফদের কবরসমূহ। তাঁরা সংখ্যায় অনেক ছিলেন যাদেরকে একটি রওজায় সমাহিত করা হয়েছে। তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের প্রতি আমাদের মহব্বতের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন—ইলম, নেক আমল ও দ্বীনদারির অধিকারী ছিলেন। আর সেই কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অত্যন্ত প্রসিদ্ধ আলেম ও নেককার কাজী শায়খ আবুল শরাফ রাফি আল-হুসাইনি-এর কবর।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قبر ابنه القاضي الأعدل الأتقى الشريف أبي الحسن.
قبر الشيخ الشريف الكبير، الرئيس الشهير، الكاتب الأديب، التاريخي السخي الجواد الفذ في عصره وزمانه، أبي العباس الحسيني.
قبر الشاب الحافظ لكتاب الله تعالى، الكثير التلاوة له الحسن الهدي البار بالإخوان المطعم للطعام أبي الشرف رفيع الحسيني.
ومن أشهرها بمقبرة أحجار السودان - المقبرة الأولى:
قبر الولي الشهير صاحب الكرامات والمكاشفات عبد الملك بن محمد بن بشر القيسي اليجاسني ضريح مشهور، ويصعد منه النور.
قبر الشيخ الفقيه الخطيب المصقع المصنف الأديب الكاتب الأبرع، محمد ابن خميس الأنصاري الجزيري نزيل سبتة وخطيب جامعها الأعظم.
তাঁর পুত্র, সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ ও অতিশয় মুত্তাকী বিচারক, শরীফ আবুল হাসানের কবর।
মহান ও মর্যাদাবান শাইখ, সুপ্রসিদ্ধ নেতা, সুসাহিত্যিক লেখক, ইতিহাসবিদ, অত্যন্ত দানশীল ও উদার ব্যক্তিত্ব এবং আপন যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আবুল আব্বাস আল-হুসাইনীর কবর।
আল্লাহ তাআলার কিতাবের হাফেজ, পবিত্র কুরআনের অত্যধিক তিলাওয়াতকারী, সুন্দর আদর্শের অধিকারী, ভাইদের প্রতি সদাচারী ও মানুষকে অন্নদানকারী যুবক আবুশ শরাফ রফী‘ আল-হুসাইনীর কবর।
আর আহজার আস-সুদান গোরস্তানের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কবরগুলোর মধ্যে অন্যতম—প্রথম গোরস্তান:
সুপ্রসিদ্ধ ওলী, কারামত ও মোকাশাফাহর অধিকারী আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-কাইসী আল-ইয়াজাসিনীর কবর; এটি একটি বিখ্যাত মাজার এবং এখান থেকে নূর বিচ্ছুরিত হয়।
শাইখ, ফকীহ, বাগ্মী খতিব, গ্রন্থকার, সাহিত্যিক ও নিপুণ লেখক মুহাম্মদ ইবনে খামীস আল-আনসারী আল-জাযীরীর কবর, যিনি সাবতাহ শহরের অধিবাসী এবং সেখানকার প্রধান জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن أشهرها بمقبرة أحجار السودان - المقبرة الأخرى:
قبر الشيخ الصالح الصوفي العارف ذي المنظومات الربانية والتباينات الحسية الحاج الشهير الشهيد، يوسف المنصفي الأنصاري البلنسي نزيل سبتة.
ومن أشهر هذه المزارات بمقبرة الولجة أول قريتنا بزبج:
قبور الشرفاء الحسنيين، وهي نحو من اثني عشر قبراً بموضع واحد يصعد منها نور يبلغ عنان السماء مزار مشهور معروف البركة، وكيف لا يكون ذلك.
قبر الشيخ الخطيب الصالح الإمام المعلم لكتاب الله تعالى المتبرك به أبي عبد الله بن الحسن.
ومن أشهرها بمقبرة الظهر المشرف على السواني من عدوة علي من القرية المذكورة.
قبر الشيخ الشريف الصالح المعظم محمد ابن موسى الحسني.
وبمقبرة عنصر اللوز من قرية بنيونش جماعة من الشهداء في أربعة قبور استشهدوا يوم دخل النصارى القرية المذكورة، وكانت الدخلة المذكورة ضحى يوم الجمعة 3 شوال عام 818
এবং সেগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো ‘আহজার আস-সুদান’ কবরস্থানে - অন্য কবরস্থানটি:
পুণ্যবান শাইখ, সুফি, আরেফ, আধ্যাত্মিক কাব্য ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নিদর্শনাদির অধিকারী, প্রসিদ্ধ হাজি, শহীদ ইউসুফ আল-মানসাফি আল-আনসারি আল-বালানসি, যিনি সেউতা নগরীতে বসবাসকারী ছিলেন।
আমাদের গ্রাম বাজবাজের প্রবেশদ্বারে আল-ওয়ালজাহ কবরস্থানে অবস্থিত এসব মাজারের মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:
হাসানি শরীফদের কবরসমূহ; আর এগুলো একস্থানে অবস্থিত প্রায় বারোটি কবর। সেখান থেকে নূর বিচ্ছুরিত হয়ে আকাশের প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ এবং বরকতপূর্ণ হিসেবে পরিচিত মাজার; আর কেনই বা তা হবে না?
পুণ্যবান শাইখ, খতিব, ইমাম, আল্লাহর কিতাবের শিক্ষক এবং যার দ্বারা বরকত লাভ করা হয়, সেই আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসানের কবর।
এবং উল্লিখিত গ্রামের আদওয়াত আলি এলাকার আস-সাওয়ানি সংলগ্ন আজ-জাহর কবরস্থানের প্রসিদ্ধ কবরসমূহের মধ্যে হলো:
সম্মানিত পুণ্যবান শাইখ শরীফ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-হাসানির কবর।
বানিয়ুনিশ গ্রামের ‘আনসার আল-লাওজ’ কবরস্থানে চারটি কবরে একদল শহীদের দাফন করা হয়েছে। তারা সেই দিন শহীদ হয়েছিলেন যেদিন খ্রিস্টানরা উক্ত গ্রামে প্রবেশ করেছিল; আর সেই প্রবেশ ঘটেছিল ৮১৮ হিজরি সনের ৩ শাওয়াল শুক্রবার চাশতের সময়।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي هذا العام يوم الأربعاء منتصف جمادى الأخرى دخل ثغر سبتة وحوزها عنوة، واستولى عليه الطاغية شتت الله شملهم، ومن على المسلمين بعودته للإسلام بمنه وكرمه آمين.
ومن قبور الشهداء بمقبرة الجنتل من القرية المذكورة أيضاً ثلاثة قبور استشهد أهلها قبل الخلة المذكورة بسنين.
وفيما ذكرناه من مشاهير هؤلاء الفضلاء كفاية، إذ هم عدد كثير رضي الله عنهم أجمعين، ونفعنا بمحبتهم بمنه وفضله آمين.
المساجدوعدد المساجد ألف مسجد، من جملة العدد المدرستان: مدرسة الشيخ المحدث الراوية المعتني بالعلم وأهله، المنفق ماله في نشره واقتناء كتبه، أعجوبة زمانه في ذلك ووقته، علي الشاوي الغافقي السبتي المتقدم الذكر،
এবং এই বছরে বুধবার জুমাদাল উখরা মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেউটা সীমান্ত ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা জোরপূর্বক দখল করা হয়েছিল এবং স্বৈরাচারী শাসক তা করায়ত্ত করেছিল; আল্লাহ তাদের সংহতিকে ছিন্নভিন্ন করে দিন, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে একে ইসলামের নিকট ফিরিয়ে দিয়ে মুসলিমদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমিন।
এবং উল্লিখিত গ্রামের জান্তাল কবরস্থানের শহীদদের কবরের মধ্যে তিনটি কবর এমন রয়েছে যাদের অধিবাসীরা উল্লিখিত ঘটনার কয়েক বছর পূর্বে শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
এবং আমরা এই বরেণ্য গুণীজনদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি তা যথেষ্ট, কারণ তাদের সংখ্যা অনেক; আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমিন।
মসজিদসমূহমসজিদের সংখ্যা এক হাজার। এই মোট সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত হলো দুটি মাদ্রাসা: শায়খ, মুহাদ্দিস, বর্ণনাকারী এবং জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি যত্নশীল, যিনি জ্ঞান প্রচার ও কিতাব সংগ্রহে নিজ সম্পদ ব্যয় করতেন এবং এ ক্ষেত্রে যিনি তাঁর যুগের এক বিস্ময় ছিলেন—সেই পূর্বে উল্লিখিত আলী আশ-শাভি আল-গাফেকি আস-সাবতির মাদ্রাসা।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمدرسة الجديدة العظيمة البناء المتسعة الزوايا ذات الصنائع العجيبة وأعمدة الرخام وألواحه المتعددة الغالية الثمن التي ابتناها السلطان أبو الحسن مخلد الآثار، الدالة على شماخة الملك وعلو المقدار.
وأعظم هذه المساجد وأشرفها على التحقيق، المسجد الجامع العتيق، بلاطاته اثنان وعشرون بلاطاً وبقبلته شماسات من الزجاج الملون بصناعات شتى معقودة بالرصاص، والقنوات الفاصلة بين البلاطات ومجاري القسائم والميازيب من الرصاص كذلك، ودرجات المنبر اثنتا عشرة درجة، صنع في شعبان المكرم سنة 408 وتميز على سائر جوامع بلاد المغرب كلها بالبلاط الأوسط الضخم البناء المرتفع السمك، وبالمقصورة الهائلة الغريبة الشكل، كان صنعها في رجب الفرد
عام 428 وبه صحنان: أحد الصحنين أكبر من الآخر، وبكل واحد منهما جبان اثنان، وصومعته قديمة من بناء الأول، وقد استوعبنا وصف هذا الجامع وذكرنا ما ينبغي أن يذكر من تاريخ وخبر في (بغية السامع) من تأليفنا نفعنا الله بالقصد في ذلك.
আর বিশাল দালান ও প্রশস্ত কোণবিশিষ্ট চমৎকার শিল্পকর্ম খচিত নতুন মাদ্রাসাটি, যাতে রয়েছে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ এবং প্রচুর সংখ্যক মূল্যবান ফলক। এটি নির্মাণ করেছেন সুলতান আবুল হাসান, যাঁর কীর্তিসমূহ অক্ষয় হয়ে আছে এবং যা রাজকীয় আভিজাত্য ও সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়।
আর এই মসজিদগুলোর মধ্যে সুনিশ্চিতভাবে সবচাইতে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ হলো প্রাচীন জামে মসজিদটি। এর অভ্যন্তরীণ বারান্দা বা সারিগুলো সংখ্যায় বাইশটি। এর কিবলার দিকে সিসা দিয়ে আটকানো বিভিন্ন শৈলীর রঙিন কাঁচের ঝরোকা রয়েছে। সারিগুলোর মধ্যবর্তী নালাসমূহ, পানির প্রবাহপথ ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলোও সিসার তৈরি। মিম্বরের সিঁড়ি সংখ্যায় বারোটি। এটি ৪০৮ হিজরি সনের মুকাররম শাবান মাসে তৈরি করা হয়েছে। এই মসজিদটি তার বিশাল আকৃতির ও সুউচ্চ ছাদবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় বারান্দা এবং অদ্ভুত আকৃতির বিশাল 'মাকসুরা'র (বেষ্টনী) কারণে সমগ্র মাগরিব ভূখণ্ডের অন্যান্য সকল জামে মসজিদের চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এটি ৪২৮ হিজরির রজব মাসে নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে দুটি চত্বর রয়েছে, যার একটি অপরটির চেয়ে বড়। প্রতিটি চত্বরেই দুটি করে পানির কূয়া বা হাউজ রয়েছে। এর মিনারটি প্রাচীন এবং আদি নির্মাতাদের আমলের। আমরা এই জামে মসজিদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এর ইতিহাস ও ঘটনাবলী সম্পর্কে যা কিছু আলোচনা করা প্রয়োজন তা আমাদের রচিত 'বুগইয়াতুস সামি' গ্রন্থে সবিস্তারে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ আমাদের এই উদ্দেশ্যকে কবুল করে উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الخزائن العلميةوعدد الخزائن العلمية اثنتان وستون خزانة، كان منها في الزمن القديم بدور الأكابر وذوي الأقدار خمس وأربعون خزانة كبني العجوز كان جدهم الذي نوه بهم قد رحل إلى عبد الله بن أبي زيد بالقيروان وأخذ عنه جميع تواليفه وقرأ عليه تفقهاً وغيرهم كالقاضي محمد بن عيسى التميمي من أشياخ القاضي أبي الفضل عياض والفقيه القاضي الزاهد محمد بن عبد الله الأموي وقد مر ذكره في المزارات من أشياخه أيضاً، والفقيه المحدث الحسيب أحمد العزفي اللخمي وسواهم، وكان منها في زماننا سبع عشرة خزانة، تسع بدور الفقهاء والصدور، كبني القاضي الحضرمي، وبني ابن أبي حجة، وأشباههم، وثمان موقفة على طلاب العلم، أقدمها الخزانة الشهيرة ذات الأصول العتيقة، والمؤلفات الغريبة، خزانة الشيخ علي الشاري المذكور التي بالمدرسة المنسوبة إليه التي ابتناها من ماله، وهي أول خزانة وقفت بالمغرب على أهل العلم نفعه الله بها، وأعظمها إحدى خزانتي الجامع العتيق
জ্ঞানতাত্ত্বিক গ্রন্থাগারসমূহজ্ঞানতাত্ত্বিক গ্রন্থাগারসমূহের সংখ্যা ছিল বাষট্টিটি। তন্মধ্যে প্রাচীনকালে উচ্চপদস্থ ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গের গৃহে পঁয়তাল্লিশটি গ্রন্থাগার ছিল; যেমন বনু আজুজ—যাদের পূর্বপুরুষ তাঁদের খ্যাতিমান করেছিলেন এবং তিনি কায়রোয়ানের আব্দুল্লাহ ইবনে আবি জায়েদের নিকট সফর করে তাঁর সকল রচনাবলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। এ ছাড়াও অন্যান্যরা ছিলেন, যেমন কাজি আবু ফজল ইয়াজের অন্যতম উস্তাদ কাজি মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তামিমি এবং ফকিহ, জাহিদ কাজি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমায়ি, যাঁর কথা ইতিপূর্বে তাঁর উস্তাদদের বর্ণনাকালে মাযারসমূহের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আরও ছিলেন মর্যাদাবান ফকিহ ও মুহাদ্দিস আহমাদ আল-আজফি আল-লাখমি এবং তাঁদের সদৃশ ব্যক্তিবর্গ। আর আমাদের সময়ে গ্রন্থাগারের সংখ্যা সতেরোটি; যার মধ্যে নয়টি ফকিহ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের গৃহে অবস্থিত, যেমন কাজি আল-হাদরামি বংশীয়গণ, ইবনে আবি হিজ্জা বংশীয়গণ এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ। অবশিষ্ট আটটি গ্রন্থাগার ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াকফকৃত। এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম হলো সেই প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগারটি যা প্রাচীন মূল পাণ্ডুলিপি এবং দুর্লভ রচনাবলি সমৃদ্ধ; আর সেটি হলো উল্লিখিত শায়খ আলী আশ-শারির গ্রন্থাগার, যা তাঁর নামে নামাঙ্কিত মাদরাসায় অবস্থিত, যেটি তিনি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করেছিলেন। এটিই হলো মাগরিবের প্রথম গ্রন্থাগার যা উলামায়ে কেরাম ও জ্ঞানানুরাগীদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছিল, আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করুন। আর এগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ হলো ‘জামে আতিক’ বা প্রাচীন মসজিদের দু’টি গ্রন্থাগারের একটি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الكائنة بشرقي صحنه، وبازاء باب الشواشين أحد أبوابه، وكانت في الكثرة بحيث لم يشذ منها فن من الفنون ولا نوع من المعارف أصلاً مع تعدد مصنفات ذلك الفن وكثرة دواوينه، وباقي هذه الخزائن مفترق، منها بالمدرسة الجديدة خزانتان، وبمسجد القفال خزانة واحدة، وبمسجد مقبرة زكلو أخرى، وهو أكبر مساجد سبتة بعد المسجد الجامع الأعظم منها، بلاطات سبعة، وله صحنان وصومعة عجيبة من بناء الفقيه محمد العزفي صاحب سبتة،
وخزانة أخرى بجامع الربض الأسفل.
الربط والزواياوعدد الروابط والزوايا سبع وأربعون ما بين زاوية ورابطة محاذية للبحر من جانبي الجنوب والشمال داخل المدينة والأرباض وخارجاً عنها، أضخمها بناء وأعظمها هيكلاً
এর প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে এবং এর অন্যতম প্রবেশদ্বার 'বাব আশ-শাওয়াশিন'-এর বিপরীতে অবস্থিত। এটি পরিমাণে এতোটাই বিশাল ছিল যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো শাখাই তা থেকে বাদ পড়েনি, বরং প্রতিটি বিষয়ের বহুমুখী রচনা ও বিপুল পাণ্ডুলিপি সেখানে বিদ্যমান ছিল। এই পাঠাগারগুলোর অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে; যার মধ্যে মাদরাসা আল-জাদিদাতে দু’টি পাঠাগার, মসজিদ আল-কাফফালে একটি পাঠাগার এবং জাকলু কবরস্থান মসজিদে আরেকটি রয়েছে। এটি সেউতা শহরের বড় জামে মসজিদের পর বৃহত্তম মসজিদ; এতে সাতটি দীর্ঘ সারি বা ব্লক রয়েছে। এর দু’টি আঙিনা এবং একটি চমৎকার মিনার রয়েছে, যা সেউতার অধিপতি ফকিহ মুহাম্মদ আল-আজফি নির্মাণ করেছিলেন।
এবং নিচু উপশহরের জামে মসজিদে আরেকটি পাঠাগার রয়েছে।
রিবাত ও জাউইয়াগুলোশহরের ভেতরে, শহরতলিতে এবং এর বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় রিবাত ও জাউইয়ার সংখ্যা মোট সাতচল্লিশটি। এগুলোর মধ্যে যা নির্মাণশৈলীতে সর্ববৃহৎ এবং কাঠামোতে সবচেয়ে বিশাল...
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الرابطة المعروفة برابطة الصيد مربعة الشكل قائمة في الهواء على اثني عشر عموداً منها ثمانية من الرخام، سبعة ساطعة البياض وواحدها حالك السواد، مع بريق كأنه قطعة سبج، ويخرج منه في غالب الأوقات رشح شبه العرق، ويتقوى عند وضع اليد عليه، والأربعة الباقية مبنية بالآجر تحت معاقد أركان القبة، ولكل عمود منها خمسة أركان، واستدار بها ثمانية عشر شرجباً في أربعة بلاطات مشرفة على البحرين معاً، وبابها مبني بالكذان المنجور، وتتصل بها دار للقيم بخدمتها، وإلى جانبها رابطة أخرى على شكلها ومثالها، وفي وسط القبر المعروف بقبر صيدة جارية لأحد أمراء الموحدين، وعلى القبر قطعة من رخام أبيض في طول اثني عشر شبراً، وارتفاع خمسة أشبار أو ما يقرب منها، وبجوانبها الأربعة خمسة أدراج منجورة ظريفة الصنعة.
রাবিতাতুস সায়িদ নামে পরিচিত ইমারতটি বর্গাকার এবং শূন্যে বারোটি স্তম্ভের ওপর দণ্ডায়মান। এগুলোর মধ্যে আটটি মার্বেল পাথরের; সাতটি উজ্জ্বল সাদা এবং একটি কুচকুচে কালো, যার উজ্জ্বলতা যেন একখণ্ড কালো পাথর। সেই স্তম্ভটি থেকে অধিকাংশ সময় ঘামের মতো রস চুইয়ে পড়ে এবং এর ওপর হাত রাখলে তা আরও বৃদ্ধি পায়। অবশিষ্ট চারটি স্তম্ভ ইটের তৈরি যা গম্বুজের কোণগুলোর সংযোগস্থলের নিচে অবস্থিত এবং এগুলোর প্রতিটির পাঁচটি করে কোণ রয়েছে। একে আঠারোটি গবাক্ষ পরিবেষ্টন করে আছে যা চারটি চত্বরের মধ্যে উভয় সমুদ্রের দিকে মুখ করা। এর প্রবেশদ্বারটি খোদাইকৃত চুনাপাথরে তৈরি এবং এর সাথে খাদেমের জন্য একটি কক্ষ সংযুক্ত। এর পাশেই একই আকৃতি ও নমুনার অন্য একটি ইমারত রয়েছে। সেখানে সাইদা নামে পরিচিত একটি কবর রয়েছে, যিনি মুওয়াহহিদুন আমীরদের একজনের দাসী ছিলেন। কবরের ওপর বারো বিঘত দীর্ঘ এবং প্রায় পাঁচ বিঘত বা তার কাছাকাছি উচ্চতার একখণ্ড সাদা মার্বেল পাথর রয়েছে এবং এর চার পাশে নিপুণ কারুকার্যখচিত পাঁচটি ধাপ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ومن الزوايا الزاوية الكبرى التي ابتناها السلطان الأشهر أبو عنان بن أبي الحسن بخارج باب فاس أحد أبواب أفراك وأعدها هناك للغرباء ولمن اضطر إلى المبيت بها من التجار وغيرهم، مليحة البناء كثيرة الزخرفة والتنميق متسعة الساحة متعددة المساكن، وصومعتها من أبدع الصوامع بسبتة صنعة وأتمها إحكاماً، ولم تتخلص بعد إلى الآن.
المحارسوعدد المحارس ثمانية عشر محرساً من المدينة إلى اثني عشر ميلاً من خارجها
من ناحيتي البحرين، وما وراء ذلك إلى بلاد الريف وإلى طنجة ولم يدخل تحت هذا العدد، منها الطالع الكبير الفذ النظير: طالع سبتة الذي بأعلا جبل ميناءها المعروف عند الناس بالناظور الذي ابتنى المرابطون هنالك للناظر الراتب به حصناً، وبه قلهرة كبيرة، وبداخل القلهرة مسجد، وكان ذلك على يد القاضي أبي الفضل عياض رحمة الله عليهم أجمعين، وهذا الطالع من أعجب الطلائع
খানকাহসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘আয-যাবিয়াতুল কুবরা’ (বৃহত্তর খানকাহ), যা প্রখ্যাত সুলতান আবু ইনান বিন আবিল হাসান আফরাকের অন্যতম তোরণ ‘বাব ফাস’-এর বহির্ভাগে নির্মাণ করেছিলেন। তিনি এটি মুসাফির এবং যেসব বণিক ও অন্যদের সেখানে রাত্রিযাপনের প্রয়োজন হতো, তাদের বসবাসের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার, কারুকার্য ও অলঙ্করণে সুশোভিত, এর প্রাঙ্গণ প্রশস্ত এবং এতে বহুসংখ্যক কক্ষ রয়েছে। এর মিনারটি কারুকার্য ও সুদৃঢ় গাঁথুনির দিক থেকে সাবতাহর (সেউটা) অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিনার, যা আজ অবধি সম্পন্ন করা হয়নি।
পাহারা চৌকিগুলোশহর থেকে বাইরের দিকে বারো মাইল পর্যন্ত পাহারা চৌকির সংখ্যা আঠারোটি।
উভয় সমুদ্রের উপকূল থেকে শুরু করে রিফ অঞ্চল ও তানজাহ (তানজিয়ার) পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেই সুমহান ও অনন্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র: সাবতাহর (সেউটা) সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, যা এর বন্দর সংলগ্ন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এবং মানুষের নিকট ‘আন-নাযুর’ নামে পরিচিত। সেখানে আল-মুরাবিতুন শাসকগণ নিয়োজিত প্রহরীর জন্য একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। সেই দুর্গের অভ্যন্তরে একটি বিশাল সুউচ্চ মিনার (ক্বালহারা) রয়েছে এবং সেই মিনারের ভেতরে একটি মসজিদ আছে। এটি কাজী আবু ফজল ইয়াদ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল। আর এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসমূহের অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لكونه يكشف البرين ويشرف على العدوتين إلى بادس من بر الريف، وإلى طرف القسيس شرقاً من مالقة، وإلى ما وراء طريف غرباً إلى طرف شنيل من بر الأندلس، فلا يخفى عليه من الزقاق شيء ولكونه تحت أسوار وأبواب داخل المدينة وفي حكم أهلها إذا تقع فتنة أو يحصل حصار.
الأزقةوعدد الأزقة مائتا زقاق وخمسون زقاقاً سوى ما دثر منها، وهي أزقة الخندق الكبير الذي كان يعرف في القديم بخندق أيمن ويعرف اليوم بخندق الدجاج وجلها يشتمل على أزقة كثيرة من أشرفها الزقاق الأعظم زقاق ابن عيسى وهو القاضي محمد التميمي وقد تقدم ذكره، وهو زقاق الأكابر عند أهل سبتة، وبه يضربون المثل بينهم، متسع الساحة يحتوي على أزقة ودروب وقصور ملوكية ومصانع هائلة، وهو فاصل بين شطري المدينة، وفيه أربعة وعشرون حماماً، حمامان مبرزان، وباقي العدد بدور السادة من
যেহেতু এটি দুই ভূখণ্ডকে উন্মোচিত করে এবং দুই উপকূলের ওপর নজর রাখে; রিফ ভূখণ্ডের বাদিস থেকে শুরু করে মালাকার পূর্ব দিকে তারফে কাসিস পর্যন্ত, এবং পশ্চিমে তারিফের ওপারে আন্দালুস ভূখণ্ডের তারফে শানিল পর্যন্ত। ফলে সমুদ্রপ্রণালীর কোনো কিছুই তার দৃষ্টির আড়ালে থাকে না। আর যেহেতু এটি শহরের প্রাচীর ও ফটকসমূহের অভ্যন্তরে অবস্থিত এবং কোনো ফিতনা বা অবরোধ সৃষ্টি হলে এটি অধিবাসীদের কর্তৃত্বাধীন থাকে।
অলিগলি সমূহঅলিগলির সংখ্যা হলো দুইশত পঞ্চাশটি, সেগুলো ব্যতীত যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এগুলো হলো সেই বড় পরিখার অলিগলি যা প্রাচীনকালে 'আয়মান পরিখা' নামে পরিচিত ছিল এবং বর্তমানে 'মুরগি পরিখা' নামে পরিচিত। এর অধিকাংশ স্থান অনেক অলিগলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হলো 'মহান গলি', যা ইবনে ঈসার গলি নামে খ্যাত; আর তিনি হলেন কাজী মুহাম্মদ আত-তামীমী, যাঁর উল্লেখ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি সাবতাহর অধিবাসীদের নিকট অভিজাতদের গলি হিসেবে গণ্য এবং তারা নিজেদের মধ্যে এটি নিয়ে দৃষ্টান্ত পেশ করে। এর চত্বর প্রশস্ত এবং এটি অনেক অলিগলি, পথ, রাজকীয় প্রাসাদ ও বিশাল সব স্থাপনা ধারণ করে। এটি শহরের দুই অংশের মাঝে বিভাজক হিসেবে কাজ করে। এতে চব্বিশটি হাম্মাম রয়েছে, যার মধ্যে দুটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, আর অবশিষ্টগুলো হলো সর্দার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গৃহসমূহের অভ্যন্তরে...
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الشرفاء وبني العزفي وغيرهم من أعلام الفقهاء وأكابر التجار، وجل هذه الأزقة معروفة بأسماء من سكنها من العلماء كزقاق ابن عيسى هذا، وزقاق عياض، وهو القاضي، وزقاق أبي عبد الله القاضي الزاهد من أشياخ القاضي عياض وقد تقدم ذكره، وزقاق ابن يربوع، وزقاق العزفي هو أبو العباس وسواهم كأبي علي ابن الشراد والقاسم ابن الشماط، وكل زقاق من العدد المذكور تنغلق عليه دروب، وعلى تلك الدروب بيات تجري عليهم
الجرايات إلى غير ذلك.
الحماماتوعدد الحمامات المبرزة للناس اثنان وعشرون حماماً أعظمها هيكلاً وأشهرها ذكراً حمام القائد، وهو القائد أبو علي ناصح الذي كان بناؤه على يديه رحمة الله عليه، وهذا الحمام بلغ الغاية في الكبر، يسع المئين من الناس، مرتفع السمك طيب الهواء، قائم على أعمدة الرخام، مفروشة بألواحه الساطعة البياض، والمسلخ متسع الساحة له بابان اثنان، وسقفه قبة مرتبة متقنة على أربع حنيات، وبالصحن صهريج كبير مرتفع عن الأرض، وفي وسط الصهريج سارية
শরীফ পরিবার, বনী আল-আযফী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ফকীহ ও বড় বড় ব্যবসায়ীগণ। এই গলিগুলোর অধিকাংশই সেখানে বসবাসকারী আলেমদের নামে সুপরিচিত, যেমন এই ইবনে ঈসা গলি, এবং আয়ায গলি—যিনি হলেন কাজী (বিচারক)। এছাড়া কাজী আবু আবদুল্লাহর গলি—যিনি ছিলেন একজন মিতব্যয়ী ও তাপস বিচারক এবং কাজী আয়াযের উস্তাদদের একজন এবং যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইবনে ইয়ারবু গলি, আল-আযফী গলি—যিনি হলেন আবুল আব্বাস—এবং আবু আলী ইবনে আশ-শাররাদ ও কাসিম ইবনে আশ-শাম্মাত প্রমুখের গলি। উল্লিখিত প্রতিটি গলির ভেতরেই আরও কিছু উপ-গলি গিয়ে শেষ হয়েছে, এবং সেই উপ-গলিগুলোতে এমন সব বাড়ি রয়েছে যাদের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত ভাতা বা বরাদ্দ এবং আরও অনেক কিছু প্রদান করা হতো।
হাম্মামসমূহজনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হাম্মাম বা গোসলখানার সংখ্যা ছিল বাইশটি। এগুলোর মধ্যে কাঠামোর দিক থেকে সর্ববৃহৎ এবং খ্যাতির দিক থেকে সর্বাধিক পরিচিত ছিল 'কায়েদ হাম্মাম'। এটি কায়েদ আবু আলী নাসিহ-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। এই হাম্মামটি বিশালত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে শত শত মানুষের সংকুলান হতো। এর ছাদ ছিল সুউচ্চ এবং বাতাস ছিল নির্মল। এটি মার্বেল পাথরের স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এর মেঝে ছিল উজ্জ্বল সাদা মার্বেল পাথরের ফলক দিয়ে বাঁধানো। কাপড় ছাড়ার চত্বরটি ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত এবং এর দুটি দরজা ছিল। এর ছাদ ছিল সুনিপুণভাবে নির্মিত একটি গম্বুজ যা চারটি খিলানের ওপর স্থাপিত ছিল। এর প্রাঙ্গণে মাটি থেকে উঁচু একটি বিশাল জলাধার ছিল এবং সেই জলাধারের ঠিক মাঝখানে ছিল একটি স্তম্ভ।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مجوفة فوقها طيفور من الرخام الموصوف يصعد الماء في جوف السارية إلى أن يفور في الطيفور، وفيضه يملأ الصهريج، وقد استوعبنا وصفه في (الأعلام).
ومن الحمامات ذات الرخام سواه بسبتة حمام ابن عيسى، وهو أحد الحمامين المبرزين بزقاق ابن عيسى المذكور، وحمام اليانشتي، وحمام عيود بناحية الميناء، وهو نظير حمام القائد في الضخامة والهيكل، وبمسالخها طيافير من الرخام على سوار مجوفة أيضاً في وسط الصهاريج على نحو ما وصفناه.
وبالقصبة عشرة حمامات سوى العدد المذكور، أبدعها حمام القصر.
هذا وبكل دار من ديار سبتة حمام ومسجد إلا القليل، ولقد كان بمنزلنا حمامان اثنان ومسجد، طهر الله تلك المنازل من دنس عباد الأوثان والأصنام، وأعاد إليها بمنه وفضله ملة الإسلام.
এটি ফাঁপা, যার উপরে বর্ণিত শ্বেতপাথরের একটি পাত্র রয়েছে। পানি স্তম্ভের অভ্যন্তর দিয়ে উপরে ওঠে যতক্ষণ না তা পাত্রে উপচে পড়ে এবং এর উপচে পড়া পানি জলাধারটি পূর্ণ করে দেয়। আমরা 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে এর বর্ণনা বিস্তারিতভাবে দিয়েছি।
শ্বেতপাথর বিশিষ্ট অন্যান্য গোসলখানাগুলোর মধ্যে সেউতা শহরে ইবনে ঈসা গোসলখানা অন্যতম, যা উল্লিখিত ইবনে ঈসা গলির দুটি প্রসিদ্ধ গোসলখানার একটি। এছাড়াও রয়েছে আল-ইয়ানিশতি গোসলখানা এবং বন্দর এলাকায় অবস্থিত আয়ূদ গোসলখানা। আয়ূদ গোসলখানাটি বিশালতা ও কাঠামোর দিক থেকে কায়েদ গোসলখানার অনুরূপ। এগুলোর পোশাক পরিবর্তনের স্থানেও জলাধারগুলোর মাঝখানে ফাঁপা স্তম্ভের উপরে শ্বেতপাথরের পাত্র রয়েছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
কাসবায় উল্লিখিত সংখ্যা ছাড়াও দশটি গোসলখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্রাসাদের গোসলখানাটি সবচেয়ে চমৎকার।
এছাড়া সেউতার অল্প কিছু বাড়ি ছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি করে গোসলখানা ও একটি করে মসজিদ ছিল। আমাদের বাসভবনেও দুটি গোসলখানা ও একটি মসজিদ ছিল। আল্লাহ সেই ঘরগুলোকে মূর্তি উপাসকদের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় সেখানে ইসলামের আদর্শকে পুনরায় ফিরিয়ে আনুন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الأسواقوعدد الأسواق مائة وأربعة وسبعون سوقاً، تخص منها المدينة بمائة واثنين وأربعين سوقاً، والأرباض الثلاثة العامرة باثنين وثلاثين، ومن أشرفها قدراً
وأجملها مرأى سوق العطارين الأعظم، وسماط العدول الموثقين المتصل به حيث المدرسة الجديدة وكلاهما بجوفي الجامع الأعظم، والقيسارية خلف ذلك، ومن أسواق المأكول والمطعوم والفواكه والأدام وغير ذلك السوق الكبير، وسوق مقبرة زكلو من الجانب الشرقي من المدينة، ومن الأسواق المعلومة لتجارة الآنية الصفرية القوية الصبغة العجيبة الصنعة بسبتة دون غيرها سوق السقاطين، وما أدراك ما سوق السقاطين: رفاهية متجر، وكثرة أنواع، وحسن ترتيب ووضع، وقد بسطنا القول فيه في (الأعلام) ويحق له ذلك.
الحوانيتوعدد الحوانيت أربعة وعشرون ألفاً، وكانت في الزمن القديم أكثر من هذا العدد حسبما بينا ذلك في (الأعلام) أيضاً.
বাজারসমূহবাজারসমূহের সংখ্যা একশত চুয়াত্তরটি, যার মধ্যে মূল শহরের জন্য নির্ধারিত একশত বিয়াল্লিশটি বাজার এবং তিনটি জনাকীর্ণ শহরতলির জন্য বত্রিশটি। মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ
এবং দর্শনে সবচেয়ে সুন্দর হলো আতর বিক্রেতাদের প্রধান বাজার, এবং এর সাথে সংযুক্ত নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যদানকারী ও লেখ্যপ্রমাণকদের সারি, যেখানে নতুন মাদ্রাসাটি অবস্থিত। এই উভয়টিই জামে মসজিদের উত্তর অভ্যন্তরে অবস্থিত। কায়সারিয়া এর পেছনে অবস্থিত। ভক্ষ্যদ্রব্য, আহার্য, ফলমূল, তরকারি ও অন্যান্য সামগ্রীর বাজারের মধ্যে রয়েছে 'বড় বাজার' এবং শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত 'জাকলু' কবরস্থানের বাজার। সেউতা শহরের পিত্তলজাত পাত্রের বাণিজ্যের জন্য সুপরিচিত বাজারগুলোর মধ্যে—যা এর মজবুত রং এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে অনন্য—তা হলো 'সাক্কাতিন' বাজার। আর আপনি কি জানেন সাক্কাতিন বাজার কী? এটি বাণিজ্যের প্রাচুর্য, প্রকারভেদের আধিক্য এবং চমৎকার বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনার আধার। আমরা 'আল-আলাম' গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং বিষয়টি এর দাবি রাখে।
দোকানসমূহদোকানসমূহের সংখ্যা চব্বিশ হাজার। প্রাচীনকালে এর সংখ্যা এর চেয়েও অধিক ছিল, যেমনটি আমরা 'আল-আলাম' গ্রন্থেও বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
التربيعاتوعدد التربيعات المعلومة للحرارين والقزازين خاصة إذ هناك تربيعات غيرها داخلات في حكم الأسواق إحدى وثلاثون تربيعة مفترقات بالممرات والأسواق خلال الأطرزة من أول المدينة إلى آخرها، أعظمها التربيعة التي بأسفل زقاق خطاب سامية في الهواء كأنها معقل أو قلعة على ثلاث طباق وفي صحنها مسجد.
المنجراتوعدد المنجرات المعدة لعمل القسي أربعون منجرة، منها عشرون بالممر الأعظم، وعشرون بمنازل المعلمين والصناع كبني القنطري وبني العاقل وبني ابن غالب وغيرهم، وكان منها في زماننا خمس عشرة منجرة، وأدركنا جماعة من أشياخ الصناع المنجريين بسبتة منهم الشيخ الشريف المعظم
বর্গাকার চত্বরসমূহবিশেষ করে রেশম বয়নকারী এবং রেশম বণিকদের জন্য পরিচিত বর্গাকার চত্বরসমূহের সংখ্যা একত্রিশটি—যদিও বাজারের প্রশাসনিক আওতাভুক্ত আরও অন্যান্য চত্বর সেখানে রয়েছে—যা শহরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা জুড়ে গলি এবং বাজারগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো খাত্তাব গলির পাদদেশে অবস্থিত চত্বরটি, যা শূন্যে এমনভাবে মাথা উঁচিয়ে আছে যেন এটি একটি দুর্গ বা কেল্লা; এটি তিন তলা বিশিষ্ট এবং এর আঙিনায় একটি মসজিদ রয়েছে।
ধনুক তৈরির কারখানাসমূহধনুক তৈরির জন্য প্রস্তুতকৃত কারখানার সংখ্যা চল্লিশটি। এর মধ্যে বিশটি প্রধান যাতায়াত পথে অবস্থিত এবং বাকি বিশটি ওস্তাদ ও কারিগরদের বসতবাড়িতে অবস্থিত, যেমন বনু কানতারি, বনু আকিল, বনু ইবনে গালিব এবং অন্যান্যদের নিবাস। আমাদের সময়ে এর মধ্যে পনেরোটি কারখানা বিদ্যমান ছিল। আমরা সেউতা (সাবতা) শহরে ধনুক নির্মাতা ওস্তাদদের একটি দলের সাক্ষাৎ পেয়েছি, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান ও সম্মানিত শেখ...
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
محمد بن عبد الله الحسني، والشيخ الوجيه محمد الحسني ابنه، والشيخ المسن الصوفي المشهور بالتقدم في الصناعة في زمانه محمد المعروف بالعقدة، والشيخ الحسيب عبد الله ابن الدليل، والشيخ المتقدم الحسن الذات، الكثير المواعين والأدوات، أبو الحسن العبادي، في آخرين، ومن أنبل أشباههم الشاب المهذب الفاضل أوحد العصر وأعجوبة الزمان في المعرفة والأحكام، أبو عبد الله الشماني رحم الله جميعهم بمنه.
الفنادقوعدد الفنادق حسبما استفاض على ألسنة أهل البلد ثلاثمائة وستون فندقاً، أعظمها بناء وأوسعها ساحة الفندق الكبير المعد لاختزان الزرع، وهذا الفندق من بناء محمد (أبي القاسم) العزفي ومن آثاره الغريبة بسبتة، يحتوي على اثنين وخمسين مخزناً ما بين هري وبيت، تسع تلك المخازن من قفزان الزرع الآلاف العديدة التي لا تبلغ الحصر، ومن ضخامته أن له بابين: باب إلى صحنه والآخر إلى الشوارع المحملة الدائرة بالطبقة الثانية لكون الأرض مرتفعة من تلك الجهة تدخل على البابين الجمال بأحمالها مع الارتفاع والاتساع الكبير، فإذا أبصر الرائي ما يدخل منها على الباب الأعلى
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাসানি, এবং তাঁর পুত্র প্রথিতযশা শাইখ মুহাম্মদ আল-হাসানি, এবং বয়োবৃদ্ধ সুফি শাইখ যিনি নিজ সময়ের শিল্পকলায় অগ্রগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুহাম্মদ—যিনি আল-উকদাহ নামে প্রসিদ্ধ—এবং সম্ভ্রান্ত শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন আদ-দালিল, এবং অগ্রণী ও উত্তম স্বভাবের অধিকারী শাইখ, যাঁর নিকট প্রচুর সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ছিল, আবুল হাসান আল-আবাদি, এবং আরও অন্যান্যরা; আর তাঁদের সমপর্যায়ের মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভদ্র ও সচ্চরিত্র যুবক, নিজ যুগের অদ্বিতীয় এবং জ্ঞান ও আহকামের (বিধানের) ক্ষেত্রে সময়ের বিস্ময়, আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাম্মানি। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
সরাইখানা ও হোটেলসমূহশহরবাসীর মুখে মুখে প্রচলিত সংবাদ অনুযায়ী সরাইখানার সংখ্যা তিনশ ষাটটি। সেগুলোর মধ্যে নির্মাণশৈলীর দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আঙিনার দিক থেকে প্রশস্ততম হলো 'বড় সরাইখানা' (আল-ফুনদুক আল-কাবীর), যা শস্য মজুত করার জন্য নির্ধারিত। এই সরাইখানাটি মুহাম্মদ (আবুল কাসিম) আল-আযফির নির্মিত এবং সাবতাহ (সেউতা) শহরে তাঁর বিস্ময়কর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। এতে শস্যভাণ্ডার ও ঘর মিলিয়ে মোট বাহান্নটি গুদামঘর রয়েছে। এই গুদামঘরগুলোতে অসংখ্য হাজার হাজার 'কুফিজ' (পরিমাপক বিশেষ) শস্য ধারণ করা যায়, যা গণনা করা অসম্ভব। এর বিশালতার একটি প্রমাণ হলো এতে দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে: একটি এর আঙিনার দিকে এবং অন্যটি দ্বিতীয় তলার চারপাশের মালবাহী রাস্তার দিকে; কারণ সেই দিকের ভূমি উঁচুতে অবস্থিত। প্রবেশদ্বার দুটির উচ্চতা ও প্রশস্ততা এতটাই যে, বোঝা নিয়ে উট অনায়াসে উভয় প্রবেশদ্বার দিয়ে যাতায়াত করতে পারে। যখন কোনো দর্শক উপরের দরজা দিয়ে যা কিছু প্রবেশ করছে তা দেখে—
(খণ্ড: ১)
ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বিসাগরি সাবতাহ মিন সানিইল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ودورانها في تلك الشوارع بأقتابها وغرائر الزرع المحملة عليها هاله ذلك وتعجب منه. ويليه في الكبر من الفنادق المعدة لسكنى الناس من التجار وغيرهم الفندق المعروف بفندق غانم يشتمل على ثلاث طبقات وثمانين بيتاً وتسع مصريات، وهو قديم البناء أظنه من بناء المرابطين، وبابه
مناسب لهيكلة. وأبدعها صنعة فندق الواهرني، جمع هذا الفندق صنائع الجص والنجارة، وعلى بابه عقاب غريب الشكل مفقود النظير وقد بالغنا في وصفه في (الأعلام) فأنظره هنالك، وجملة من هذه الفنادق مشتملة على العدد الكثير من سواري الرخام وأعمدته.
الأفرانوعدد الأفران فيما يذكر أيضا أهل سبتة ويدور على السنة الناس كثيراً ثلاثمائة وستون فرنا كالفنادق، وشماخة البلد وعظمته يقطع بصحة ذلك، أكبرها الفرن الذي بأعلى زقاق ابن يربوع وهو من بناء بني العزفي، متسع الساحة، كبير البيت، مع حسن البناء ونظافته.
السقاياتوعدد السقايات خمس وعشرون سقاية، أبدعها صنعة ووضعا السقاية التي بطرف العطارين وأول سماط العدول
সেই রাস্তাগুলোতে প্যাক-স্যাডল এবং শস্যভর্তি বস্তা নিয়ে সেগুলোর পরিভ্রমণ তাকে স্তম্ভিত ও বিস্মিত করেছিল। ব্যবসায়ী ও অন্যদের আবাসের জন্য নির্ধারিত সরাইখানাগুলোর মধ্যে বিশালতায় পরবর্তীটি হলো 'ফান্দাক গানিম' নামে পরিচিত সরাইখানাটি; এটি তিন তলা বিশিষ্ট এবং এতে আশিটি কক্ষ ও নয়টি বড় হলঘর রয়েছে। এটি একটি প্রাচীন ইমারত, যা আমার ধারণা মুরাবিতুনদের নির্মাণশৈলী, আর এর প্রবেশদ্বারটি
এর কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারুকার্যে সবচেয়ে চমৎকার হলো 'ফান্দাক আল-ওয়াহরানি'; এই সরাইখানাটি প্লাস্টার ও কাঠের কাজের নিপুণতা একত্রিত করেছে। এর দরজায় রয়েছে এক অদ্ভুত আকৃতির ঈগল যার কোনো নজির নেই, আমি 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে এর দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছি, তাই সেখানে তা দেখে নিন। এই সরাইখানাগুলোর একটি বড় অংশ মার্বেল পাথরের অসংখ্য স্তম্ভ ও খাম্বার ওপর দণ্ডায়মান।
তন্দুর বা রুটি তৈরির চুলাসমূহসাবতাহর অধিবাসীদের বর্ণনা এবং লোকমুখে বহুল প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী সরাইখানাগুলোর মতো চুলা বা তন্দুরগুলোর সংখ্যাও তিনশত ষাটটি। শহরের গৌরব ও মহিমা এই তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করে। সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো ইবনে ইয়ারবু’ গলির উঁচুতে অবস্থিত চুলাটি, যা বনু আল-আযফি নির্মাণ করেছিল; এটি প্রশস্ত আঙিনা ও বিশাল ঘরবিশিষ্ট এবং এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার ও পরিচ্ছন্ন।
পানির ফোয়ারা বা পানশালাসমূহপানির ফোয়ারার সংখ্যা পঁচিশটি। কারুকার্য ও অবস্থানের দিক থেকে সবচাইতে সুন্দর হলো আতর বিক্রেতাদের (আল-আত্তারিন) প্রান্তের এবং সাক্ষী বা ন্যায়পরায়ণদের (সিমাত আল-আদুল) সারির শুরুতে অবস্থিত ফোয়ারাটি।